(খণ্ড: ১)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: -)
مناظرة أدبية بين المعلمي والشاعر الأديب علي بن محمد السنوسي - ضمن «آثار المعلمي» القسم: العروض والقوافي
الكتاب: مناظرة أدبية بين المعلمي والشاعر الأديب علي بن محمد السنوسي
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (20)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: أسامة بن مسلم الحازمي
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - محمد عزير شمس
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
আল-মুয়াল্লিমী এবং কবি ও সাহিত্যিক আলী বিন মুহাম্মদ আস-সানুসীর মধ্যে একটি সাহিত্যিক বিতর্ক - «আসারুল মুয়াল্লিমী»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ছন্দ ও অন্ত্যমিল
গ্রন্থ: আল-মুয়াল্লিমী এবং কবি ও সাহিত্যিক আলী বিন মুহাম্মদ আস-সানুসীর মধ্যে সাহিত্যিক বিতর্ক
[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানি-এর রচনাবলী (২০)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
সম্পাদক: উসামা বিন মুসলিম আল-হাজিমি
নিরীক্ষণ করেছেন: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - মুহাম্মদ উযায়ের শামস
প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়ায়িদ প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামেলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» সংস্থা, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলার প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৩)
الرسالة الحادية عشرة
مناظرة أدبية بين المعلمي والشاعر الأديب
علي بن محمد السنوسي ت (1363 هـ)
একাদশ পত্র
আল-মুআল্লিমি এবং সাহিত্যিক কবির মধ্যকার একটি সাহিত্যিক বিতর্ক
আলী বিন মুহাম্মদ আস-সানুসী (মৃত্যু ১৩৬৩ হি.)
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، وأشهد ألا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا رسول الله، اللهم فصلِّ على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم وبعد ..
فإنّه كان حضورُ الحقير حضرةَ مولانا أمير المؤمنين ــ أيّده الله تعالى ــ عَقِب عيد الفطر سنة 1337 هـ
(1) مع جماعة فيهم سيدي الفاضل السيد علي بن محمد السنوسي
(2) فأنشد السيِّدُ عليٌّ قصيدةَ
(3) تهنئةٍ بالعيد وزنها (فاعلاتن فاعلن فعلن) أربع مرّات، وأصل هذا الوزن من الضرب
(4)--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন। অতঃপর...
১৩৩৭ হিজরি সালের ঈদুল ফিতরের পর এই অধম আমাদের মাওলা আমীরুল মুমিনীন—আল্লাহ তাআলা তাঁকে সাহায্য করুন—এর দরবারে এক জামাতের সাথে উপস্থিত হয়েছিল, যাদের মধ্যে আমার সম্মানিত সায়্যিদ আলী ইবনে মুহাম্মদ আস-সানুসীও ছিলেন। সায়্যিদ আলী ঈদ উপলক্ষে একটি অভিনন্দনমূলক কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন যার ছন্দ ছিল (ফা-ইলাতুন ফা-ইলুন ফা-লুন) চারবার; আর এই ছন্দের মূল উৎস হলো আদ-দারব থেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৬)
الخامس من المديد
(1)، والمديدُ لا يستعمل إلا مجزوءًا
(2)،
وهذا الضرب كعروضه محذوفٌ مخبون
(3)، وبيته:
للفتى عَقْلٌ يعيشُ به
… حيثُ تهدي سَاقَه قَدمُهْ
(4)وكذا سُمِع عن العرب. فأمَّا تربيعُه كقصيدة السيّد علي فلا أعرفه إلا من استعمال بعض المتأخرين: كالتكريتي
(5)، والبرعي
(6) فيُلْحق
--------------------------------------------
মাদীদ ছন্দের পঞ্চম প্রকার
(১), আর মাদীদ ছন্দ কেবল মাজজু (সংক্ষিপ্ত) হিসেবেই ব্যবহৃত হয়
(২)।
এই দারবটি (কবিতার চরণের শেষাংশ) তার আরূদ-এর মতোই মাহযুফ ও মাখবুন
(৩)। এর উদাহরণমূলক কবিতা হলো:
যুবকের রয়েছে বুদ্ধি যা নিয়ে সে বেঁচে থাকে
… যেখানে তার পা তার নলিকে পথ দেখায়।
(৪)আরবদের থেকে এমনই শোনা গেছে। তবে সাইয়্যেদ আলীর কবিতার মতো এর 'তারবী' (চতুষ্পদীকরণ) সম্পর্কে আমি কেবল পরবর্তীকালের কিছু আলিমের ব্যবহার থেকেই জানি: যেমন তিকরিতী
(৫) এবং বুরাই
(৬); সুতরাং তা সংযোজিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৭)
بالموشحات
(1)، وهو ممّا يُلْتزم فيه أن تكون الثلاثة الأرباع الأولى على قافية واحدة، وكثيرًا ما يلتزم فيها التجنيس
(2)، كقول التكريتي:
بَدَرتْ من بَدْر جاريهْ
… ودموع العين جاريَهْ
ثم قالت وهي جاريه
أرْفقي يا هندُ بالرّجل
ثم تُلْتزم قافية الرُّبع الرابع إلى آخر القصيدة.
ولا يَبعد أن يُقاس على ما سُمِعَ من المسمطات
(3) في غير بحره.
كقول الشاعر:
--------------------------------------------
মুওয়াশশাহাত
(১)-এর মাধ্যমে, আর এটি এমন এক পদ্ধতি যাতে প্রথম তিন-চতুর্থাংশ একই অন্ত্যমিলে হওয়ার নিয়ম পালন করা হয়। এতে প্রায়শই তজনিস (শব্দালঙ্কার)
(২) ব্যবহার করা হয়, যেমন তিকরিতী বলেছেন:
পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় এক রূপসী প্রকাশিত হলো
… আর চোখের অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে
এরপর সে বলল যখন সে এক দাসী
হে হিন্দ, এই পা-টির প্রতি সদয় হও
এরপর কবিতার শেষ পর্যন্ত চতুর্থ চতুর্থাংশের অন্ত্যমিল বজায় রাখা হয়।
আর এর ছন্দ ছাড়া অন্য ছন্দে শোনা মুসাম্মাতাতের
(৩) সাথে একে তুলনা করা অসম্ভব নয়।
যেমন কবির উক্তি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৮)
وشَيْبةٍ كالقَسِمِ
… غيَّر سُودَ اللِّمَم
داويتُها بالكَتَمِ
زُورًا وبُهتانا
(1)وقولِ امرئ القيس:
خيالٌ هاجَ لي شجنا
… فبتُّ مكابدًا حَزَنا
عميدَ القَلْبِ مُرتَهَنا
بذكر اللَّهوِ والطربِ
(2)وقوله:
ألا يا عينُ فابكي
… على فقدي لملكي
وإتلافي لمالي
… بلا حرفٍ وجُهد
تخطيتُ بلادًا
… وضيّعتُ قلابا
وقد كنتُ قديمًا
أخا عزٍّ ومَجْد
--------------------------------------------
সাদা চুলগুলো ভোরের শুভ্রতার মতো … যা চুলের গোছার কৃষ্ণবর্ণকে বদলে দিয়েছে
আমি তা ‘কাতাম’ (রঞ্জক উদ্ভিদ) দিয়ে ঢেকেছি
মিথ্যা এবং অপবাদস্বরূপ
(১)এবং ইমরুল কায়েসের উক্তি:
একটি অলীক দৃশ্য আমার মাঝে ব্যথার উদ্রেক করল … ফলে আমি সারারাত দুঃখ-বেদনা সহ্য করে কাটালাম
ব্যথিত হৃদয়ে এবং বন্ধকী অবস্থায়
আমোদ-প্রমোদ এবং সংগীতের স্মরণে
(২)এবং তার উক্তি:
হে চক্ষু! তুমি রোদন করো … আমার রাজত্ব হারানোর বিয়োগে
এবং আমার ধন-সম্পদ বিনাশের কারণে … কোনো বাক্য ব্যয় বা প্রচেষ্টা ছাড়াই
আমি দেশ-দেশান্তর পাড়ি দিয়েছি … এবং আমি হৃদয়সমূহকে (অথবা কিলাব নামক স্থানকে) হারিয়েছি
অথচ প্রাচীন কাল থেকেই আমি ছিলাম
সম্মান এবং মহিমার সাথী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৯)
وقوله مسمَّطًا مُخمَّسًا:
ومُسْتَلْئِمٍ كشَّفْتُ بالرمح ذَيلَه
… أقمتُ بعَضْبٍ ذي سفاسق مَيْلَه
فجعْتُ به من ملتقى الحيِّ خَيْلَه
… تركتُ عتاقَ الطير تَحجُلُ حولَه
كأنَّ على سِرْباله نَضْحَ جريالِ
(1)وقوله الآخر:
إنَّ المرءَ في أكثر الأحوال مرتاعْ
ليتَ المرء لم يدخل الدنيا فما ارتاعْ
إنَّ العيشَ عيشُ الصِّبا إذْ ليس عَقْلُ
يَنْهى المرءَ عمَّا إليه المرءُ نزَّاعْ
نَعم قد سُمع المديدُ تامًّا شذوذاً، قال الدماميني
(2) في شرح الخزرجية
(3): أنشد ابن زيدان:
--------------------------------------------
এবং তাঁর উক্তি যা মুসাম্মাত মুখাম্মাস (পঞ্চপদী স্তবক) পদ্ধতিতে রচিত:
বর্ম পরিহিত অনেক যোদ্ধা, যার নিম্নাংশ আমি বর্শা দিয়ে উন্মোচিত করেছি
… আমি তার বক্রতাকে (ঔদ্ধত্যকে) কারুকার্যমণ্ডিত এক তীক্ষ্ণ তরবারি দিয়ে সোজা করে দিয়েছি
তার মাধ্যমে আমি গোত্রের মিলনস্থলের অশ্বারোহীদের শোকার্ত করেছি
… আমি তার লাশের চারপাশে শ্রেষ্ঠ শিকারি পাখিদের লাফাতে থাকা অবস্থায় ছেড়ে এসেছি
যেন তার জামার ওপর লাল মদের ছিটে লেগে আছে
(১)এবং তাঁর অন্য একটি উক্তি:
নিশ্চয় মানুষ অধিকাংশ অবস্থায় আতঙ্কিত থাকে
হায়! মানুষ যদি দুনিয়াতে না আসত, তবে সে আতঙ্কিত হতো না
প্রকৃত জীবন তো শৈশবের জীবন, যখন এমন কোনো বুদ্ধি থাকে না
যা মানুষকে এমন বিষয় থেকে বিরত রাখবে যার প্রতি মানুষ অত্যন্ত আসক্ত
হ্যাঁ, মাদিদ ছন্দটি ব্যতিক্রমীভাবে পূর্ণরূপে শোনা গিয়েছে। আদ-দামামিনি আল-খাজরাজিয়্যার ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: ইবনে যাইদান আবৃত্তি করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯০)
ليس من يشكو إلى أهله طول الكرى
… مثل من يشكو إلى أهله طول السهر
سحَّ لما نَفد الصبر منه أدمعًا
… كجُمانٍ خانه سِلْكُ عِقْدٍ فانتشرْ
لا تَلُمْهُ إنْ شكى ما يلاقي أو بكى
… وامتحِنْ باطنَه بالذي مِنْهُ ظَهَرْ
وقبلها:
إنَّه لو ذاق للحبِّ طعمًا ما هَجَرْ
… كل عِزٍّ في الهوى أنت منه في غَررْ
وقول السلكة ترثي ولدها ــ والظاهر أنها من مشطوره
(1) ــ:
طاف يبغي نجوةً
… من هلاكٍ فَهَلكْ
ليتَ شعري ضلةً
… أيُّ شيءٍ قتلكْ
أمريضٌ لم تُعَدْ
… أمْ عدوٌ خَتَلكْ
أمْ تولَّى بك ما
… غَال في الدهر السُّلَكْ
والمنايا رَصَدٌ
… للفتى حيث سَلَكْ
أيُّ شيءٍ حسنٍ
… لفتىً لم يكُ لَكْ
كلُّ شيءٍ قاتلٌ
… حينَ تلْقى أجَلكْ
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি তার পরিবারের কাছে দীর্ঘ ঘুমের অভিযোগ করে, সে ঐ ব্যক্তির মতো নয় যে তার পরিবারের কাছে দীর্ঘ রাত জাগার অভিযোগ করে।
ধৈর্য যখন ফুরিয়ে এল, তখন সে এমনভাবে অশ্রু বিসর্জন দিল যেন মালার সুতো ছিঁড়ে গিয়ে মুক্তোগুলো ছড়িয়ে পড়ছে।
সে যা কিছুর সম্মুখীন হচ্ছে সে বিষয়ে অভিযোগ করলে বা কাঁদলে তাকে তিরস্কার করবেন না; বরং যা প্রকাশিত হয়েছে তা দিয়ে তার অভ্যন্তরীণ অবস্থার পরীক্ষা করুন।
এবং এর আগে:
সে যদি ভালোবাসার স্বাদ আস্বাদন করত তবে বিচ্ছেদ করত না; মোহের প্রতিটি সম্মানে তুমি কেবল বিপদের আশঙ্কায় আছ।
আস-সুলকার উক্তি যখন তিনি তার পুত্রের শোকগাথা রচনা করছিলেন — এবং দৃশ্যত এটি এর মাশতুর (অর্ধ-ছন্দ) থেকে
(১) —:
সে ধ্বংস থেকে বাঁচার পথ খুঁজে বেড়াচ্ছিল, কিন্তু অবশেষে ধ্বংসই হয়ে গেল।
হায়! আমি যদি বিভ্রান্তির মাঝে জানতে পারতাম, কোন জিনিসটি তোমাকে হত্যা করেছে!
তুমি কি অসুস্থ ছিলে অথচ কেউ তোমাকে দেখতে আসেনি? নাকি কোনো শত্রু তোমাকে প্রতারণা করে হত্যা করেছে?
নাকি তোমার সাথেও তেমনটি ঘটেছে যা কালের আবর্তে সুলাক বংশীয়দের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল?
মৃত্যু ওত পেতে থাকে যুবকের জন্য, সে যে পথেই চলুক না কেন।
সেই যুবকের জন্য সুন্দর আর কী থাকতে পারে, যে তোমার ছিল না?
যখন তোমার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হবে, তখন প্রতিটি জিনিসই প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়াবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯১)
طال ما قد نلتَ في
… غيرِ كدٍّ أمَلَكْ
إنَّ أمْرًا فادحًا
… عن جوابي شَغَلكْ
سأُعزِّي النفس إذْ
… لم تُجِبْ مَن سَأَلكْ
ليتَ نفسي قُدِّمتْ
… للمنايا بَدَلكْ
ولْنرْجع إلى المقصود فنقول: وجعل السيّدُ عليٌّ قافيةَ الشطر الرابع لفظةً ملتزمة إلى آخر القصيدة: "يا ابنَ علي"، وربّما قال: "ابن عليّ"، وربَّما أبدل: "ابن" ملتزمًا لفظ: "علي" وليس ذلك من ضيق العطن، ولكنّه يَحسِبُ أنَّ ذلك حَسَن.
ثمَّ تعرَّض فيها للشكوى حيث يذكر أنَّ كثيرًا من أهل البلد أضرَّ بهم الجوعُ، وهذا عَجَبٌ منه! فإنَّ فَضْلَ مولانا قد غَمَر الداني والقاصي، وأرضى المطيع والعاصي وكانت الشكوى في بضعة أبيات فتخطاها لمَّا تنبَّه لخطاها، فلمَّا وصل إلى الدعاء كان منه ــ وأستغفر الله من حكايته ــ لفظ: "لا عداك السوءُ".
فقلتُ حينئذٍ: (لا) زائدةٌ.
فالْتَفَتَ إليَّ مغاضبًا!
وقال: بل نافيةٌ.
فقلتُ: زائدة.
فقال مولانا: إنَّها لدعوةٌ قبيحةٌ، ولكنَّ النية صالحة أو كما قال.
فقال المنشِدُ: "لا عَدتكَ"، معناها: لا أصابتْك.
দীর্ঘকাল আপনি বিনা শ্রমে
... আপনার আকাঙ্ক্ষা লাভ করেছেন।
নিশ্চয়ই কোনো এক গুরুতর বিষয়
... আপনাকে আমার উত্তর দান হতে বিরত রেখেছে।
আমি আমার মনকে সান্ত্বনা দেব যেহেতু
... আপনি আপনার নিকট সাহায্যপ্রার্থনাকারীকে উত্তর দেননি।
হায়! আমার প্রাণ যদি
... আপনার পরিবর্তে মৃত্যুর নিকট সমর্পিত হতো!
এখন আমরা মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি এবং বলি: সাইয়্যেদ আলী চতুর্থ চরণের অন্ত্যমিলকে কাসিদার শেষ পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট শব্দ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন: "হে আলীর পুত্র", এবং কখনো কখনো তিনি বলেছেন: "আলীর পুত্র", আবার কখনো "পুত্র" শব্দটি পরিবর্তন করে কেবল "আলী" শব্দটিকে অপরিহার্য রেখেছেন। এটি মেধার সংকীর্ণতার কারণে নয়, বরং তিনি মনে করেছেন যে এটি সুন্দর।
অতঃপর তিনি তাতে অভিযোগের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, শহরের বহু লোক ক্ষুধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি তার পক্ষ থেকে অত্যন্ত আশ্চর্যজনক একটি বিষয়! কেননা আমাদের মাওলার অনুগ্রহ নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং তা অনুগত ও অবাধ্য উভয়কেই সন্তুষ্ট করেছে। অভিযোগটি ছিল কয়েকটি পঙ্ক্তিতে, তাই তিনি যখন তার ভুল বুঝতে পারলেন তখন তা এড়িয়ে গেলেন। এরপর যখন তিনি প্রার্থনার অংশে পৌঁছালেন, তখন তার পক্ষ থেকে—আর আমি আল্লাহর কাছে তা বর্ণনা করা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি—এই শব্দসমূহ প্রকাশ পেল: "মন্দ যেন আপনাকে অতিক্রম না করে।"
তখন আমি বললাম: এখানে "লা" (না) শব্দটি অতিরিক্ত।
তখন তিনি রাগান্বিত হয়ে আমার দিকে তাকালেন!
এবং বললেন: বরং এটি না-বোধক।
আমি বললাম: এটি অতিরিক্ত।
তখন আমাদের মাওলা বললেন: এটি একটি কুৎসিত প্রার্থনা, তবে নিয়ত সৎ, অথবা যেমনটি তিনি বলেছেন।
আবৃত্তিদানকারী বললেন: "লা আদাতকা"-এর অর্থ হলো: "তা যেন আপনাকে আক্রান্ত না করে।"
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯২)
وأنشد بيت البردة:
عدتكَ حاليَ ....
(1)فقلتُ: معناه: أخطأتْكَ، وبعُدتْ عنك.
فقال: كلّا.
فإشفاقًا للمِراء بذلك المقام قلتُ: هذا المعروف المتبادر إلى الذهن.
فقال مولانا ــ أيَّده الله ــ: بل هو الحقُّ، وادّعاءُ غيره غلط، ووضَّح
ــ أيَّده الله ــ معنى البيت بلفظه، ثم أتمَّ المنشِدُ قصيدتَه.
وكنتُ قد قدّمتُ تهنئتي لمولانا ــ أيَّده الله ــ قبل ذلك، وكان ذلك المجلس أهلًا لأنْ تنشد فيه قصيدة. فقلتُ في نَفْسي ــ أوَّلًاـ: قد كفينا
(2).
فلمّا رأيتُ قصيدته وأثرها حاولتُ ارتجال أبيات مناسبة، فلم يَتَيسَّر إلا ثلاثة أبيات ــ ستأتي ــ فاستأذنتُ مولانا بقولي: ثلاثة أبيات حضرتْ.
فقال: فرَّطْتَ كما أفرطَ السيد علي؛ لأنَّ قصيدته زهاء الستين بيتاً، والبيتُ عبارة عن أربعة أشطر.
فقلتُ في نفسي: حسبك من القلادة ما أحاط بالعنق، وربَّ ليلةٍ خير من
--------------------------------------------
এবং বুরদার একটি পংক্তি আবৃত্তি করা হলো:
আমার অবস্থা তোমাকে অতিক্রম করেছে ....
(১)আমি বললাম: এর অর্থ হলো: এটি আপনাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছে এবং আপনার থেকে দূরে সরে গেছে।
তিনি বললেন: কখনোই নয়।
সেই মজলিসে তর্কের আশঙ্কায় আমি বললাম: এটিই প্রসিদ্ধ অর্থ যা সাধারণত মনে উদয় হয়।
মাওলানা —আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন— বললেন: বরং এটিই সত্য, আর এটি ছাড়া অন্য কিছু দাবি করা ভুল। এরপর তিনি ব্যাখ্যা করলেন
—আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন— পংক্তিটির শাব্দিক অর্থ, তারপর আবৃত্তিকারী তার কাসিদাটি সম্পন্ন করলেন।
আমি ইতিপূর্বেই মাওলানা —আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন— এর প্রতি আমার অভিনন্দন পেশ করেছিলাম। মজলিসটি কাসিদা আবৃত্তি করার উপযুক্ত ছিল। আমি মনে মনে —প্রথমে— বললাম: আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছে।
(২)যখন আমি তাঁর কাসিদা এবং এর প্রভাব দেখলাম, তখন আমি কিছু উপযুক্ত পংক্তি উপস্থিতভাবে রচনা করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু তিনটি পংক্তি ছাড়া সহজসাধ্য হলো না —যা সামনে আসবে—। ফলে আমি মাওলানার কাছে এই বলে অনুমতি চাইলাম: তিনটি পংক্তি উপস্থিত হয়েছে।
তিনি বললেন: তুমি অবহেলা করেছ যেমনটি সায়্যিদ আলী অবহেলা করেছেন; কারণ তাঁর কাসিদা প্রায় ষাট পংক্তির ছিল, আর প্রতিটি পংক্তি ছিল চার চরণের সমষ্টি।
আমি মনে মনে বললাম: হারের মধ্যে সেটুকুই তোমার জন্য যথেষ্ট যা ঘাড় বেষ্টন করে থাকে। আর কত রজনীই না এমন আছে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৩)
ألف شهر. ثم أنشدتُها، فحسب السيد علي أنّي أردتُ مباهاتَه والتشنيعَ عليه فخرجَ يراجعني في دعوته يُصوِّبُها.
فقلتُ له: آنفُ لِمثْلكَ أنْ تحاول تصويب مثل هذا، وإنَّما الإنسان محل النسيان، كان حَقُّكَ أن تقول: طغى الفكر والقلمُ، وتَعَضَّ على مسامحتك لنفسكَ بنانَ الندم.
فأصرَّ على مُدَّعاه، تارةً يقول: من العَدْوِ، وتارةً: من العدْي، وتارة: من العَدْوى.
فكتبت له اليوم الثاني كتابًا مضمونه:
"عبارة مختار الصحاح: عداه يعدوه عَدْوًا: جاوزه".
وأمَّا العَدْوُ بمعنى الجَرْي فهو لازمٌ، وليس هذا مَوْضعَهُ.
فإذا قلتَ: عداك السوء فالمعنى: جاوزك السوء أي: لا أصابك ــ كما قالوا ــ: عداك الذمُّ أي: جاوزك: أي لا ذمَّ عليك، وقالوا: عدا فلانٌ طوره أي: جاوزه. وإذا قلتَ: لا عداك السوء فالمعنى: لا جاوزك، وهو أبلغُ من قولك: أصابك كما لا يخفى
(1).
وأمَّا العدوى فالفعل منها: أعْدى يُعْدي ــ كما في كتب اللغة ــ وليس هذا موضعها مع أنَّها من المجاوزة أيضًا أي أنَّ الداءَ جاوز صاحبه إلى غيره فافهمْ".
--------------------------------------------
এক হাজার মাস। তারপর আমি তা আবৃত্তি করলাম, তখন সাইয়্যিদ আলী মনে করলেন যে আমি তাঁর সাথে গর্ব করতে চাচ্ছি এবং তাঁর নিন্দা করছি। ফলে তিনি আমার কাছে এসে তাঁর দাবিটি সংশোধন করার চেষ্টা করলেন।
আমি তাঁকে বললাম: আপনার মতো ব্যক্তির জন্য এমন বিষয় সংশোধন করার চেষ্টা করা অশোভন, কারণ মানুষ তো বিস্মৃতির আধার। আপনার জন্য উচিত ছিল এটা বলা যে: চিন্তা ও কলম বিচ্যুত হয়েছে, এবং আপনি নিজের এই শিথিলতার জন্য অনুশোচনায় আঙ্গুল কামড়াতেন।
কিন্তু তিনি তাঁর দাবিতে অটল থাকলেন; কখনো বললেন: এটি 'আদউ' থেকে এসেছে, কখনো বললেন: 'আদয়ি' থেকে, আবার কখনো বললেন: 'আদওয়া' থেকে।
পরদিন আমি তাঁর কাছে একটি পত্র লিখলাম যার বিষয়বস্তু ছিল:
"মুখতারুস সিহাহ-এর বক্তব্য হলো: 'আদাহু ইয়া'দুহু আদওয়ান' অর্থাৎ: সে তাকে অতিক্রম করেছে।"
আর 'আদউ' যখন 'দৌড়ানো' অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তা অকর্মক ক্রিয়া, আর এখানে তা ব্যবহারের ক্ষেত্র নয়।
সুতরাং যখন আপনি বলবেন: 'আদাকাস সু' (মন্দ আপনাকে অতিক্রম করেছে), তখন এর অর্থ হলো: মন্দ আপনাকে অতিক্রম করে চলে গেছে অর্থাৎ আপনাকে আক্রান্ত করেনি—যেমন তারা বলে থাকেন: 'আদাকাল যাম্মু' অর্থাৎ নিন্দা আপনাকে অতিক্রম করেছে, অর্থাৎ আপনার ওপর কোনো নিন্দা নেই। তারা আরও বলেন: 'অমুক ব্যক্তি তার সীমা অতিক্রম করেছে' অর্থাৎ সে তা পার হয়ে গেছে। আর আপনি যখন বলেন: 'লা আদাকাস সু' (মন্দ যেন আপনাকে অতিক্রম না করে), তখন এর অর্থ হলো: মন্দ যেন আপনাকে ছেড়ে না যায়, যা আপনার বক্তব্য 'আপনাকে আক্রান্ত করুক'-এর চেয়ে অধিক অলঙ্কারপূর্ণ, যেমনটি অস্পষ্ট নয়
(১)।
আর 'আদওয়া' (সংক্রমণ) এর ক্ষেত্রে এর ক্রিয়ারূপ হলো: 'আ'দা ইয়ু'দি'—যেমনটি অভিধান গ্রন্থসমূহে রয়েছে—এবং এটি এখানে ব্যবহারের ক্ষেত্র নয়, যদিও এটিও 'অতিক্রম করা' অর্থ থেকেই এসেছে; অর্থাৎ রোগ আক্রান্ত ব্যক্তিকে অতিক্রম করে অন্যের দিকে চলে গেছে। সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৪)
فأجابَ بما لفظه: "عداه يعدوه عَدْوًا أي: جَرْيًا وهو شدَّةُ السعي بقوةِ الإنسانية، وأمَّا لا عداه السوء أي: لا أصابه من باب العدي لا من باب العدو، تقول: أعدى فلانٌ فلانًا أي:
… كذا يعديه وأيضًا عداه السوء بمعنى: أصابه ومفهومٌ أنَّ العدوى من باب أفنى يقال: أفنى الناسَ الجوعُ أي: أصابهم وأهلكهم، ومنه أفناهم الوباءُ أو الموتُ أي: أصابهم وأمحقهم، فلتحرر غير ما بدا لك حتى ترشدني إلى الصواب".
فأجبتُ عليه بما مضمونه: "أمَّا عدا بمعنى جرى فهو لازم بنصوص كتب اللغة، ولا يختصُّ بالإنسان؛ فيقال: بقوة الإنسانية، وأمَّا العَدْي ــ بوزن الرَّمْي ــ فلم يُسمع، وليس منه ــ كما توهَّمت ــ: أعدى يُعدي، بل هي مِن العدو، وأصلها: أعْدَوَ يُعْدِوُ قُلبت في الأول ألفًا لتحركها وانفتاح ما قبلها، وقلبت الواو في الثاني ياءً لتطرُّفِها وانكسار ما قبلها.
وأمَّا عداه السوءُ بمعنى أصابه فغير مسموع، وقولك: العدوى من باب أفنى إنْ أردتَ أنْ يقال: أعدى يُعدي ــ كما يقال ــ: أفنى يُفْني، فأيُّ غرضٍ فيه؟ مع أن فَنِيَ يائيٌّ، وعدا واويٌّ، لا كما توهَّمتَ.
وإن أردتَ أنَّ المعنى واحدٌ فممنوع، ومَنْعُه واضحٌ، ولا غرضَ في تفسير أفنى، وزيادة الهمزة في (مَحَق) سَهْوٌ
(1).
وقولك: "فلتحرر غير ما بدا لك" سَهْوٌ أيضًا؛ فإنَّ ما بدا لك بمعنى ما ظهر لك، أو بمعنى ما نشأ لك من الرأي، أو بمعنى ما أردتَ، ولو حررتُ
--------------------------------------------
তিনি যা বলেছিলেন তার ভাষ্য ছিল: "সে দ্রুত চলল, সে দ্রুত চলে, দ্রুত চলা; অর্থাৎ: দৌড়ানো, যা হলো মানবীয় শক্তিতে প্রবল প্রচেষ্টা। আর 'মন্দ যেন তাকে স্পর্শ না করে' এর অর্থ হলো তাকে আক্রান্ত না করা; এটি 'আল-আদই' অধ্যায় থেকে এসেছে, 'আল-আদউ' থেকে নয়। আপনি বলবেন: অমুক ব্যক্তি অমুককে সংক্রামিত করেছে অর্থাৎ:
… এভাবে সে তাকে সংক্রামিত করে। এছাড়া 'মন্দের তাকে আক্রান্ত করা' অর্থ হলো তা তার কাছে পৌঁছানো। এটি বুঝা যাচ্ছে যে, 'সংক্রমণ' শব্দটি 'নিঃশেষ করা' (আফনা) এর পর্যায়ভুক্ত। বলা হয়: ক্ষুধা মানুষকে নিঃশেষ করে দিয়েছে অর্থাৎ: তাদের আক্রান্ত করেছে ও ধ্বংস করেছে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: মহামারি বা মৃত্যু তাদের নিঃশেষ করে দিয়েছে অর্থাৎ: তাদের আক্রান্ত করেছে এবং বিলুপ্ত করেছে। অতএব আপনার কাছে যা প্রকাশ পেয়েছে তা ছাড়া অন্য কিছু বিশ্লেষণ করুন যাতে আপনি আমাকে সঠিক বিষয়ের দিকে পথ দেখাতে পারেন।"
এর উত্তরে আমি যা লিখেছি তার সারমর্ম হলো: "দৌড়ানো অর্থে 'আদা' শব্দটি ভাষাগ্রন্থগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী একটি অকর্মক ক্রিয়া, এবং এটি মানুষের জন্য নির্দিষ্ট নয়; অথচ আপনি বলেছেন: মানবীয় শক্তিতে। আর 'আর-রামই' এর ছন্দে 'আল-আদই' শব্দটি (আরবদের থেকে) শোনা যায়নি। আর আপনার ধারণা অনুযায়ী 'সংক্রামিত করা' (আ’দা ইউ’দি) শব্দটি এখান থেকে আসেনি। বরং এটি 'আল-আদউ' (দৌড়ানো বা অতিক্রম করা) থেকে এসেছে। এর মূল রূপ ছিল: 'আ’দওয়া ইউ’দিউ'। প্রথমটিতে ওয়াও বর্ণটি হরকতবিশিষ্ট হওয়া এবং তার পূর্বের বর্ণ যবরযুক্ত হওয়ার কারণে আলিফ দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। আর দ্বিতীয়টিতে ওয়াও বর্ণটি শব্দের শেষে থাকা এবং তার পূর্বের বর্ণ যেরযুক্ত হওয়ার কারণে ইয়া দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে।
আর মন্দ তাকে আক্রান্ত করেছে অর্থে 'আদাহুস সুউ' শব্দটি প্রচলিত নয়। আর আপনার কথা: 'সংক্রমণ' শব্দটি 'নিঃশেষ করা' (আফনা) এর পর্যায়ভুক্ত; যদি আপনার উদ্দেশ্য হয় যে 'আ’দা ইউ’দি' বলা হবে যেমন 'আফনা ইউফনি' বলা হয়, তবে এতে উদ্দেশ্য কী? অথচ 'ফানিয়া' শব্দটি ইয়া-মূলীয়, আর 'আদা' শব্দটি ওয়াও-মূলীয়; এটি আপনার ধারণা অনুযায়ী নয়।
আর যদি আপনি বুঝাতে চান যে অর্থ একই, তবে তা অগ্রহণযোগ্য এবং এর অগ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট। আর 'আফনা' শব্দের ব্যাখ্যার কোনো প্রয়োজন নেই। আর 'মিটিয়ে দেওয়া' (মাহাকা) শব্দে হামযাহ্ বৃদ্ধি করা একটি ভুল
(১)।
এবং আপনার কথা: 'আপনার কাছে যা প্রকাশ পেয়েছে তা ছাড়া অন্য কিছু বিশ্লেষণ করুন'—এটিও একটি ভুল; কারণ 'যা প্রকাশ পেয়েছে' অর্থ হলো আপনার কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে, অথবা আপনার চিন্তায় যা উদ্ভূত হয়েছে, অথবা যা আপনি চেয়েছেন। আর যদি আমি বিশ্লেষণ করতাম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৫)
غير ذلك لكنتُ كاذبًا مخادعًا، بل معناها: فلتحرر غير ما بدا لك تحريرُه، أي: غير ما أردتَ تحريره، وهذه العبارةُ كما تراها، والأولى أن نحملها على زيادة "غير" كما حملنا: لا عداك على زيادة "لا".
وقولك: "أفنى الناسَ الجوعُ" كان الأولى أن تجعل بدله: أفنى الناسَ الجهلُ، وكفرانُ النعم؛ فإنَّ الناس لم يشموا رائحة الجوع، فضلًا عن أنْ يفنيَهم، فإنهم بنعمة الله تعالى في ظلِّ كرمِ عبده مولانا أمير المؤمنين الذي غمر القريب والبعيد.
فأجابَ بجواب آخر أشدّ تخبُّطًا؛ فحبًّا للحقِّ راجعته كرَّةً أخرى، فذهب إلى بعض الفضلاء مُسْتنصرًا، وكان الأولى أن يذهب مُسْتبصرًا، فلعله صادفَ ما قال المتنبي:
إنَّما تنجَح المقالةُ في المرْ
… ء إذا صَادفتْ هوىً في الفؤادِ
(1)فأوحى إليه جوابًا هذا رَسْمُه:
"قال الشاعر:
وقلْ لمن يدَّعي في العلم توسعةً
… علمت شيئًا وغابت عنك أشياءُ
(2)--------------------------------------------
অন্যথা আমি মিথ্যাবাদী ও প্রবঞ্চক হতাম। বরং এর অর্থ হলো: আপনি যা সংশোধন করার কথা ভেবেছিলেন তার পরিবর্তে অন্য কিছু সংশোধন করুন, অর্থাৎ: যা আপনি সংশোধন করতে চেয়েছিলেন তার বাইরে। এই বাক্যটি যেমন দেখছেন তেমনটাই; আর উত্তম হলো একে "গাইর" (ব্যতীত/অন্য) এর আধিক্য হিসেবে গণ্য করা, যেমনটি আমরা "লা আদাকা" এর ক্ষেত্রে "লা" (না) এর আধিক্য হিসেবে গণ্য করেছি।
আর আপনার বক্তব্য: "ক্ষুধা মানুষকে বিনাশ করেছে"—এর পরিবর্তে আপনার বলা উচিত ছিল: "মূর্খতা এবং নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা মানুষকে বিনাশ করেছে"; কেননা মানুষ ক্ষুধার ঘ্রাণও পায়নি, তাদের বিনাশ করা তো দূরের কথা। তারা মহান আল্লাহর অনুগ্রহে আমাদের নেতা আমীরুল মুমিনীনের মহানুভবতার ছায়াতলে রয়েছে, যার বদান্যতা নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকলকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে।
অতঃপর তিনি আরও বিভ্রান্তিকর উত্তর প্রদান করলেন। তাই সত্যের খাতিরে আমি পুনরায় তার সাথে আলোচনা করলাম। তখন তিনি সাহায্য কামনায় কিছু বিদ্বান ব্যক্তির কাছে গেলেন, অথচ তার উচিত ছিল অন্তর্দৃষ্টি অর্জনের জন্য যাওয়া। সম্ভবত তার অবস্থা মুতানাব্বির এই উক্তির সাথে মিলে গেছে:
বক্তব্য মানুষের ক্ষেত্রে তখনই সফল হয়
… যখন তা হৃদয়ে বিদ্যমান অনুরাগের সাথে মিলে যায়।
(১)অতঃপর তিনি তাকে একটি উত্তর শিখিয়ে দিলেন যার অনুলিপি হলো এটি:
"কবি বলেছেন:
আর তাকে বলুন যে জ্ঞানে প্রশস্ততার দাবি করে
… তুমি সামান্য কিছু জেনেছ, কিন্তু অনেক কিছু তোমার অগোচরে রয়ে গেছে।"
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৬)
عجبتُ من قائلٍ يدَّعي الكمال في علمه! "لا عداك السوء بمعنى: لا أصابك، فلم تنطق به العربُ" وكيف لا؟ وقد تكلَّم الإمام أمير المؤمنين علي بن أبي طالب ــ كرم الله وجهه ــ في خطبةٍ خطبها وهي هذه: "عبادَ الله أين الذين عُمِّروا فنَعِمُوا، وعُلِّموا ففَهِمُوا، وأُنْظِروا فَلَهُوا، وسَلِمُوا فَنسُوا، أُمْهِلوا طويلًا، ومُنِحُوا جميلًا؛ فعداهم الموتُ غِرًّا، واستاق عائلهم مرًا؛ فكانت عبرةً لمن خَلَف، وعِظَةً لمن سَلَف
… إلخ"
(1).
قال الشريف الرضي
(2): قوله فعداهم الموتُ أي: هَجَم عليهم وأفناهم، وبابُه: (جفا يجفو)، وقوله: غِرًّا أي: على حين غفلة.
وقال الإمام علي بن أبي طالب ــ كرم الله وجهه ــ في محلٍّ آخر يمدح الأنصار والمهاجرين: "ولا تعدو على عزيمةِ جِدِّهم بلادة الغفلات، ولا تنتضل في هِمَمهم خَدائع الشهوات فاتخذوا ذا العرش ذخيرةً ليومِ فاقَتِهم، ويمَّموه عند انقطاعهم
… إلخ"
(3).
قال الشريف الرضي: قوله: "ولا تعدو على عزيمةِ جِدِّهم بلادةُ الغفلات: أي: لا تصيبها، ولا تصحبها لعلوِّ شأنهم، وكثرة هِمَمهم العالية .. مع كلامٍ ذكره في نهج البلاغة.
--------------------------------------------
আমি এমন এক বক্তার কথায় বিস্মিত হই যে নিজের জ্ঞানে পূর্ণতার দাবি করে! "(সে দাবি করেছে যে) 'লা আদাকা আস-সূ' (মন্দ যেন তোমাকে স্পর্শ না করে) বাক্যটির অর্থ হলো: মন্দ যেন তোমাকে আক্রান্ত না করুক—আরবরা এটি ব্যবহার করেনি।" এটি কীভাবে সম্ভব? অথচ আমীরুল মুমিনীন ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব — কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু — একটি খুতবায় ভাষণ দিয়েছেন যা হলো: "হে আল্লাহর বান্দারা, তারা কোথায় যারা দীর্ঘায়ু লাভ করেছিল এবং সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল, তাদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল ফলে তারা বুঝতে পেরেছিল, তাদের অবকাশ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা খেলায় মেতে ছিল, তারা সুস্থ ছিল কিন্তু সবকিছু ভুলে গিয়েছিল, তাদের দীর্ঘ সময় দেওয়া হয়েছিল এবং অনেক উত্তম কিছু দান করা হয়েছিল; অবশেষে মৃত্যু অতর্কিতে তাদের গ্রাস করল এবং তাদের পরিবারকে তিক্ত অবস্থায় হাঁকিয়ে নিয়ে গেল; যা পরবর্তীদের জন্য শিক্ষা এবং পূর্ববর্তীদের জন্য উপদেশ হয়ে রইল
… ইত্যাদি"
(১).
শরীফ আর-রাজী
(২) বলেন: তাঁর কথা "ফাদা-হুমুল মাউত" অর্থ হলো: মৃত্যু তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাদের বিনাশ করল, আর এর ভাষাতাত্ত্বিক ধারা হলো: (জফা-ইয়াজফু)। আর তাঁর কথা "গিররান" অর্থ হলো: অসতর্ক অবস্থায়।
ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব — কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু — অন্য এক স্থানে আনসার ও মুহাজিরদের প্রশংসা করে বলেছেন: "গাফেলতির জড়তা তাদের কর্মতৎপরতার দৃঢ়তাকে স্পর্শ করতে পারে না, আর প্রবৃত্তির প্রতারণা তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে পরাস্ত করতে পারে না। তারা আরশের মালিককে তাদের অভাবের দিনের জন্য পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং নিঃস্ব অবস্থায় তাঁরই অভিমুখী হয়েছেন
… ইত্যাদি"
(৩).
শরীফ আর-রাজী বলেন: তাঁর কথা: "আর গাফেলতির জড়তা তাদের কর্মতৎপরতার দৃঢ়তাকে স্পর্শ করতে পারে না" অর্থ হলো: তাদের সুউচ্চ মর্যাদা এবং সুমহান হিম্মতের কারণে অলসতা তাদের সংকল্পকে আক্রান্ত করে না এবং তাদের সঙ্গী হয় না... নাহজুল বালাগায় বর্ণিত তাঁর বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৭)
وقال الإمام أيضًا في محل آخر للزبير حين نقض بيعته وخرج عليه بالعراق وجمع لقتاله: "تعرفني في الحجاز، وتنكرني في العراق، فما عدا ممَّا بدا"
(1).
قال الشريف الرضي: إنَّه أول ما سمعت منه هذه الكلمة، أعني: فما عدا ممَّا بدا
… " كلامُه.
وقوله: إنْ أخطأ الإمامُ فالحقير أقربُ إلى الخطأ فأنتم راجعوه، وبيّنوا له الصواب على غايةٍ من التعصّب بالدين، وعدم الرجوع إلى الحقِّ وإن ثبت دليلُه فهو مندرجٌ تحت قول العارفين: "قرأت العلم لغير الله فأبى العلم إلا لله"
(2).
وقوله في إنشاده الذي قصد به الإعجاز والمبادرة لمن ليس في شيءٍ من شأنه:
دعني من الغِيدِ ما للصّيد والغيدِ
… وقُمْ نهنّي إمام الحقِّ بالعيد
ليس على غاية من المدح بل فرَّط فيه، وقصَّر من حيث إنَّه ما مِن أحدٍ من الناس إلا ويُهَنَّأُ بالعيد حتّى العبد المملوك، ولا فَضْلَ يُرى للممدوح بذلك، بل المدحُ العالي أن يُهَنَّأَ العيدُ بإمام الحقِّ ــ الذي هو زينةُ الوجود
--------------------------------------------
ইমাম আরও এক স্থানে যুবায়েরকে বলেছিলেন—যখন তিনি তাঁর বায়আত ভঙ্গ করেছিলেন এবং ইরাকে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন ও তাঁর সাথে যুদ্ধের জন্য সৈন্য সংগ্রহ করেছিলেন: "তুমি আমাকে হিজাজে চিনতে, আর ইরাকে অস্বীকার করছ; তবে আগে যা প্রকাশ পেয়েছিল তার থেকে এখন কিসে পরিবর্তন ঘটাল?"
(১)।
শরীফ আর-রাজী বলেন: এটিই প্রথমবার যখন আমি তাঁর থেকে এই বাক্যটি শুনেছি, অর্থাৎ: 'তবে আগে যা প্রকাশ পেয়েছিল তার থেকে এখন কিসে পরিবর্তন ঘটাল' ... তাঁর কথা সমাপ্ত।
এবং তাঁর কথা: "যদি ইমাম ভুল করেন তবে নগণ্য ব্যক্তি ভুলের অধিক নিকটবর্তী, সুতরাং তোমরা তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তন করো এবং তাঁকে সঠিক বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দাও"—এটি চরম ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সত্যের দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও সত্যের দিকে ফিরে না আসার শামিল; যা তত্ত্বজ্ঞানীদের এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: "আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য ইলম অর্জন করেছি, কিন্তু ইলম আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য হতে অস্বীকার করল"
(২)।
এবং তাঁর সেই কাব্যগাঁথায়, যার মাধ্যমে তিনি অলৌকিকতা এবং এমন কারো প্রতি ক্ষিপ্রতা উদ্দেশ্য করেছেন যার তেমন কোনো মর্যাদা নেই:
কোমলতনু ললনাদের কথা ছাড়ো, শিকার ও ললনাদের সাথে আমার কী সম্পর্ক ... ওঠো, আমরা সত্যের ইমামকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই
এটি প্রশংসার উচ্চতর শিখর নয়, বরং তিনি এতে সীমা লঙ্ঘন করেছেন এবং ত্রুটিও করেছেন; কারণ মানুষের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয় না, এমনকি ক্রীতদাসকেও। এর মাধ্যমে প্রশংসিত ব্যক্তির কোনো বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় না। বরং উচ্চতর প্রশংসা হলো এটি বলা যে, সত্যের ইমামের মাধ্যমে ঈদকেই মোবারকবাদ জানানো হচ্ছে—যিনি হলেন অস্তিত্বের শোভা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৮)
وحُلَّة الشهود
(1)، ولا خفاءَ أنَّ العيدَ زينةُ يوم واحدٍ في السنة ــ هذا هو الحقُّ الذي لا محيص عنه، والله يقول الحقَّ، وهو يهدي السبيل، نعوذ بالله من الرياء والسمعة، وحُبِّ الجاه، وطلب الرفعة عند المخلوق دون الخالق، اللهمَّ أرنا الحقَّ حقًّا فارزقنا اتباعه، وأرنا الباطل باطلًا فارزقنا اجتنابه، وأنت على كلِّ شيءٍ قدير، وصلَّى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم".
فأجبتُ عليه بما مضمونه: "الحمد لله الواحد الأحد، وأصلّي وأسلم على رسوله محمد أمَّا بعد
…فإنَّ الحقير لا يدَّعي التوسعة في العلم، ولا يدَّعي علم جميع الأشياء، فإنَّما ذلك اللهُ سبحانه وتعالى، ولكنْ رُبَّ مخلوقٍ لا يعلم شيئًا ولا أشياء، وإني لجاهلٌ ولكنْ جهلًا بسيطًا، ورُبَّ جاهلٍ جهلًا مركبًا يسمع الحقَّ من فَمِ مَن لا يشكُّ أنَّه إمام نقَّاد من أهل النظر والاجتهاد فيصرُّ على العناد، فتلك مِنْ مِثْلي ومِثْلِكَ هي الجهلُ الأكبر، والذنب الذي لا يُغفر، والأولى أن يُنْشد
(2) ههنا قول القائل ــ وهو حسَّان ــ:
وإنَّما الشِّعْرُ عِرْض المرء يعرضه
… على الأنام فإنْ كَيْسًا وإنْ حَمَقا
وإنَّ أبلغَ بيتٍ أنتَ قائلُه
… بيتٌ يقال إذا أنشدته صَدَقَا
(3)--------------------------------------------
এবং সাক্ষ্যের পোশাক
(১), আর এটি স্পষ্ট যে ঈদ বছরে মাত্র একদিনের সৌন্দর্য—এটাই সেই সত্য যা থেকে কোনো নিষ্কৃতি নেই। আল্লাহ সত্য কথা বলেন এবং তিনি সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আমরা আল্লাহর নিকট রিয়া (লোকদেখানো ইবাদত), সুখ্যাতির মোহ, পদের আকাঙ্ক্ষা এবং স্রষ্টাকে ছেড়ে সৃষ্টির কাছে উচ্চ মর্যাদা কামনা করা থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ, আমাদের কাছে সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিভাত করুন এবং আমাদের তা অনুসরণের তাওফিক দান করুন, আর আমাদের কাছে মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে প্রতিভাত করুন এবং আমাদের তা বর্জনের তাওফিক দান করুন। আপনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।"
অতঃপর আমি এর উত্তরে যা লিখেছি তার সারমর্ম হলো: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি একক, অদ্বিতীয়। আমি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করছি। অতঃপর...
...নিশ্চয়ই এই অধম ইলমের ব্যাপকতার দাবি করে না, আর সে সমস্ত বিষয় অবগত হওয়ারও দাবি করে না; কেননা তা কেবল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার জন্যই। তবে কতই না সৃষ্টি আছে যারা কিছুই জানে না বা অনেক কিছুই জানে না। আমি অবশ্যই একজন অজ্ঞ ব্যক্তি, তবে তা সরল অজ্ঞতা। কিন্তু কতই না এমন জটিল অজ্ঞ ব্যক্তি রয়েছে যে এমন একজনের মুখ থেকে সত্য শোনে যার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি একজন বিচারবিশ্লেষণকারী ইমাম এবং গবেষণা ও ইজতিহাদ করার যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি, অথচ সে একগুঁয়েমির ওপর অটল থাকে। আমার ও তোমার মতো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটিই হলো সবচেয়ে বড় মূর্খতা এবং এমন এক গুনাহ যা ক্ষমা করা হয় না। এখানে কবি হাসসানের এই উক্তিটি আবৃত্তি করাই অধিক সমীচীন
(২):
কবিতা তো হলো মানুষের মান-সম্মান যা সে লোকসমাজে উপস্থাপন করে
... হোক তা বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক কিংবা বোকামির।
আর তোমার বলা শ্রেষ্ঠ পঙক্তি সেটিই
... যা পাঠ করলে বলা হয় যে সে সত্য বলেছে।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৯)
وقول الراجز ــ وهو الحطيئة:
الشعر صَعْبٌ وطويلٌ سلَّمُهْ
… إذا ارتقى فيه الذي لا يَعْلمهْ
زلَّتْ به إلى الحضيض قَدَمُه
… يُريد أنْ يُعْربَه فيعجمهْ
(1)أما خُطبُ مولانا أمير المؤمنين عليّ ــ عليه السلام ــ فقوله: "فعداهم الموتُ غرا" وأصلُه: عدا عليهم أي: وثب عليهم، والأصل تعديتها بـ على ــ كما في كتب اللغة ــ وإذا صحَّت نسبتها إلى أمير المؤمنين فلها سرٌّ جديرٌ أنْ لا يبلغَه فَهْمُ المستشهِد، وهو أنَّه ضمَّنَ (عدا) معنى أفنى فعدَّاها بنفسها ــ كما تُعدَّى أفنى وإليه أشار الرّضيُّ بقوله: "هجم عليهم وأفناهم" فقوله: "هجم عليهم
… " تفسيرٌ لأصل المعنى الذي عبَّر عنه في القاموس بـ (وثَب)
(2)، وقوله: "أفناهم" إشارة إلى اللفظ الذي ضُمِّنَتْ معناه بدليل تعدية الفعل بنفسه، والتضمين من أسرار العربية
(3).
وإليك عبارةَ ابن هشام في مغني اللبيب: "القاعدة الثالثة: قد يُشْرِبُون لفظًا معنى لفظٍ فيعطونه حكمه ويُسمَّى ذلك تضمينًا، وفائدة ذلك: أنْ تؤدّي
--------------------------------------------
এবং রাজায ছন্দ রচয়িতার বক্তব্য - আর তিনি হলেন আল-হুতাইআহ:
কাব্য কঠিন এবং তার সোপান দীর্ঘ
... যখন এমন কেউ তাতে আরোহণ করে যে তা জানে না
তার পা তাকে নিয়ে অতল গহ্বরে পিছলে যায়
... সে চাইল তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে, কিন্তু তা অস্পষ্ট করে ফেলল।
(১)পক্ষান্তরে আমাদের মাওলানা আমীরুল মুমিনীন আলী (আলাইহিস সালাম)-এর খুতবার বক্তব্য হলো: "মৃত্যু তাদের উপর অতর্কিত আক্রমণ করল"। আর এর মূল হলো: 'আদা আলাইহিম' অর্থাৎ: তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া বা আক্রমণ করা। আর মূল ব্যাকরণগত নিয়ম হলো একে 'আলা' অব্যয় দ্বারা সকর্মক করা—যেমনটি অভিধান গ্রন্থসমূহে রয়েছে। যদি আমীরুল মুমিনীনের প্রতি এই বক্তব্যের সম্বন্ধ সঠিক হয়, তবে এর মাঝে এমন এক গূঢ় রহস্য রয়েছে যা উদ্ধৃতিদাতার বোধগম্যতার নাগালের বাইরে থাকা সমীচীন; আর তা হলো, তিনি 'আদা' শব্দের অন্তর্ভুক্ত করেছেন 'আফনা' (ধ্বংস করা) অর্থকে, ফলে তিনি একে সরাসরি সকর্মক করেছেন—যেভাবে 'আফনা' সরাসরি সকর্মক হয়। আর আল-রাদী তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: "তাদের ওপর আক্রমণ করল এবং তাদের ধ্বংস করে দিল"। সুতরাং তার বক্তব্য: "তাদের ওপর আক্রমণ করল..." হলো মূল অর্থের ব্যাখ্যা, যা 'কামূস' অভিধানে 'ঝাঁপিয়ে পড়া' শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। এবং তার বক্তব্য: "তাদের ধ্বংস করে দিল" এটি সেই শব্দের প্রতি ইঙ্গিত যার অর্থ এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; আর এর প্রমাণ হলো ক্রিয়াটি সরাসরি সকর্মক হওয়া। আর 'তাদমীন' (এক শব্দের অর্থের মাঝে অন্য শব্দের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা) হলো আরবি ভাষার এক অনন্য রহস্য।
(৩)।
আর এই হলো 'মুগনী আল-লাবীব' গ্রন্থে ইবনে হিশামের বক্তব্য: "তৃতীয় নীতি: কখনও কখনও তারা একটি শব্দকে অন্য একটি শব্দের অর্থের রসে সিক্ত করেন, ফলে তারা তাকে ঐ শব্দের বিধান দান করেন এবং একেই 'তাদমীন' বলা হয়। আর এর উপকারিতা হলো: যেন আপনি আদায় করেন"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০০)
كلمةٌ مؤدَّى كلمتين، قال الزمخشري: ألا ترى كيف رجع معنى: {وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ
… } [الكهف: 28] إلى قولك: ولا تقتحم عيناك مجاوزتيْن
(1) إلى غيرهم، {وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَهُمْ إِلَى أَمْوَالِكُمْ
… } [النساء: 2] أي: ولا تضموها إليها آكلين"
(2). انتهى.
يقول كاتبُه
(3): لو قال في: "ولا تعدو عيناك عنهم
… " ضُمِّنَ (تعدو) معنى (تنبو) لكان أوضحَ من (تقتحمُ)، و (ينصرفُ) المذكورُ في الجلالين
(4)، قال ذو الرمة
(5):
نبت عيناك عن طَلَلٍ بحُزوى
… عَفَتْه الرّيحُ وامتنح القطارا
(6)قال ابن هشام: "ومِن مُثُلِ ذلك أيضًا قوله تعالى: {الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ} [البقرة: 187] ضمن الرفث معنى الإفضاء فعُدّي بـ (إلى) مثل: {وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ} [النساء: 21]، وإنَّما أصلُ الرفث أن يتعدَّى بالباء، يقال:
--------------------------------------------
একটি শব্দ যা দুটি শব্দের অর্থ বহন করে। যামাখশারী বলেন: "আপনি কি দেখেন না যে কীভাবে {আপনার চক্ষু যেন তাদের থেকে সরিয়ে না যায়...} [আল-কাহাফ: ২৮] আয়াতের অর্থ আপনার এই বক্তব্যের দিকে ফিরে যায়: 'আপনার চক্ষু যেন অন্যদের দিকে ধাবিত হওয়ার মাধ্যমে তাদের অতিক্রম
(১) না করে', এবং {আর তোমরা তাদের সম্পদ তোমাদের সম্পদের সাথে ভক্ষণ করো না...} [আন-নিসা: ২] অর্থাৎ: ভক্ষণকারী অবস্থায় তা তোমাদের সম্পদের সাথে যুক্ত করো না"
(২)। সমাপ্ত।
এর লেখক
(৩) বলেন: যদি তিনি "আপনার চক্ষু যেন তাদের থেকে সরিয়ে না যায়..."-এর ক্ষেত্রে বলতেন যে, 'তাদউ' (অতিক্রম করা) শব্দটি 'তানবু' (বিমুখ হওয়া) অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবে তা 'তাকতাহিমু' (জোরপূর্বক প্রবেশ করা) এবং জালালাইন
(৪)-এ উল্লিখিত 'ইয়ানসারিফু' (ফিরে যাওয়া) অপেক্ষা অধিক স্পষ্ট হতো। যু-রুম্মাহ
(৫) বলেছেন:
হুযওয়ার পরিত্যক্ত ভিটার দিক থেকে আপনার চক্ষু বিমুখ হয়েছে... বাতাস যাকে মুছে দিয়েছে এবং যা প্রচুর বৃষ্টিপাত লাভ করেছে
(৬)ইবনে হিশাম বলেন: "এর একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস (আর-রাফাস)} [আল-বাকারাহ: ১৮৭]। এখানে 'রাফাস' শব্দটি 'ইফদা' (একান্ত সান্নিধ্যে পৌঁছানো)-এর অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তাই এটি 'ইলা' (প্রতি/দিকে) অব্যয় দ্বারা কর্মে রূপান্তরিত হয়েছে যেমন: {অথচ তোমরা একে অপরের একান্ত সান্নিধ্যে পৌঁছেছ} [আন-নিসা: ২১]। অথচ মূলত 'রাফাস' শব্দটি 'বা' অব্যয় দ্বারা ব্যবহৃত হওয়ার কথা, বলা হয়ে থাকে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০১)
أرفثَ فلانٌ بامرأته.
وقوله تعالى: {وَمَا يَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ يُكْفَرُوهُ} [آل عمران: 115]
(1)، أي: فلن يُحْرَمُوه، أي: فلن يحرموا ثوابه؛ ولهذا عُدّي إلى اثنين لا إلى واحدٍ، وقوله تعالى: {وَلَا تَعْزِمُوا عُقْدَةَ النِّكَاحِ} [البقرة: 235]، أي: لا تَنْووا؛ ولهذا عُدّي بنَفْسه لابـ (على) وقوله تعالى: {لَا يَسَّمَّعُونَ إِلَى الْمَلَإِ الْأَعْلَى} [الصافات: 8]، أي: لا يُصغون، وقولهم: سَمِعَ الله لمن حمده أي: استجاب؛ فعدِّي (يسمع) في الأول بـ (إلى) وفي الثاني باللام، وإنّما أصله أن يتعدَّى بنَفْسه مثل: {يَوْمَ يَسْمَعُونَ الصَّيْحَةَ} [ق: 42]، وقوله تعالى: {لِلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ} [البقرة: 226]، أي: يمتنعون من وطءِ نسائهم بالحلف؛ فلهذا عُدّي بـ (مِنْ)، ولمَّا خَفِي التضمين على بعضهم في الآية، ورأى أنه لا يقال: حَلَف من كذا، بل حَلَف عليه قال: " (مِنْ) متعلقةٌ بمعنى (للذين) ــ كما تقول: لي منك مبرَّة، قال: وأمَّا قول الفقهاء: آلى من امرأته فغلَطٌ أوقعهم فيه عَدمُ فَهْم المتعلق في الآية.
--------------------------------------------
অমুক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে অশ্লীল কথা বলেছে।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যে কোনো ভালো কাজই করুক না কেন, তা কখনো অস্বীকার করা হবে না} [আল ইমরান: ১১৫]
(১), অর্থাৎ: তারা তা থেকে বঞ্চিত হবে না, অর্থাৎ: তারা তার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে না; এই কারণেই এটি একটির পরিবর্তে দুটি কর্মপদের দিকে পরিবাহিত হয়েছে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা বিবাহের সংকল্প করো না} [আল বাকারা: ২৩৫], অর্থাৎ: ইচ্ছা করো না; এ কারণেই এটি ‘আলা’ অব্যয় ছাড়াই সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {তারা উচ্চতর সভার কথা শুনতে পায় না} [আস-সাফফাত: ৮], অর্থাৎ: তারা কান পাতে না; আর তাদের কথা: ‘আল্লাহ তার কথা শোনেন যে তাঁর প্রশংসা করে’ অর্থাৎ: কবুল করেন; তাই প্রথমটিতে ‘শোনা’ ক্রিয়াটি ‘ইলা’ দ্বারা এবং দ্বিতীয়টিতে ‘লাম’ দ্বারা পরিবাহিত হয়েছে, যদিও এর মূল প্রকৃতি হলো কোনো অব্যয় ছাড়াই সরাসরি ব্যবহৃত হওয়া, যেমন: {যেদিন তারা প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পাবে} [কাফ: ৪২]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে সঙ্গত না হওয়ার শপথ করে} [আল বাকারা: ২২৬], অর্থাৎ: তারা শপথের মাধ্যমে তাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস থেকে বিরত থাকে; এ কারণেই এটি ‘মিন’ দ্বারা পরিবাহিত হয়েছে। আর যখন এই আয়াতের অন্তর্নিহিত অর্থ কারো কারো কাছে অস্পষ্ট ছিল এবং তারা দেখল যে ‘অমুক বিষয়ে শপথ করেছে’ বলার ক্ষেত্রে ‘মিন’ ব্যবহৃত হয় না বরং ‘আলা’ ব্যবহৃত হয়, তখন তারা বলল: ‘মিন’ অব্যয়টি ‘লিল্লাযিনা’ এর অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট—যেমন আপনি বলেন: ‘আপনার থেকে আমার প্রতি অনুগ্রহ রয়েছে’। তিনি বলেন: আর ফকিহদের কথা: ‘তিনি তার স্ত্রীর ব্যাপারে শপথ করেছেন’ বলাটি একটি ভুল, যাতে তারা নিপতিত হয়েছে আয়াতে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি বুঝতে না পারার কারণে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০২)
قال أبو كبير الهذلي
(1):
حَمَلتْ به في ليلةٍ مزءودةٍ
… كَرْهًا وعقد نطاقها لم يُحْلَل
وقال قبله:
ممَّا حملْنَ به وهُنَّ عواقدٌ
… حُبُك النطاق فشبَّ غير مُهبَّلِ
(2)مزءودةٍ أي: مذعورةٍ ويروى بالجرِّ صفة لليلة مثل: {وَاللَّيْلِ إِذَا يَسْرِ} [الفجر: 4]، وبالنصب حالًا من المرأةِ، وليس بقويٍّ مع أنَّه الحقيقةُ؛ لأن ذكر الليلة حينئذٍ لا كبير فائدة فيه، والشاهد فيهما أنَّه ضمَّن (حَمَل) معنى (عَلِق)، ولولا ذلك لعدّي بنفسه مثل: {حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا} [الأحقاف: 15].
وقال الفرزدق
(3):
كيف تراني قالبًا مِجَنّي
… قد قَتَل الله زيادًا عنّي
(4)--------------------------------------------
আবু কাবীর আল-হুযালী
(১) বলেছেন:
তিনি তাকে গর্ভধারণ করেছিলেন এক আতঙ্কিত রাতে... অনিচ্ছাসত্ত্বেও, অথচ তার কোমরের বন্ধনী খোলা হয়নি।
এবং এর আগে তিনি বলেছেন:
যাতে তারা গর্ভধারণ করেছিল যখন তারা বেঁধে রেখেছিল... কোমরের বন্ধনীর গিঁটগুলো; ফলে সে (সন্তান) সুস্থ ও শক্তিশালী হয়ে বেড়ে উঠল।
(২)'মাজউদা' অর্থ: আতঙ্কিত। এটি 'লাইলাতিন' (রাত) শব্দের গুণবাচক বিশেষণ হিসেবে 'জের' (কাসরা) যোগে বর্ণিত হয়েছে, যেমন: {শপথ রাতের যখন তা অপসৃত হয়} [আল-ফজর: ৪]। আবার এটি 'নসব' (ফাতহা) যোগে মহিলার অবস্থা (হাল) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে; তবে এটি শক্তিশালী মত নয়, যদিও এটিই প্রকৃত অবস্থা বুঝায়; কারণ সে ক্ষেত্রে 'রাত' শব্দের উল্লেখ খুব একটা অর্থবহ থাকে না। এই দুই পঙক্তিতে উদ্ধৃতিযোগ্য বিষয় হলো যে, তিনি 'হামালা' (বহন করা/গর্ভধারণ করা) ক্রিয়াটিকে 'আলিক্কা' (সংলগ্ন হওয়া/গর্ভধারণ করা) অর্থে ব্যবহার করেছেন। আর যদি তা না হতো, তবে এটি সরাসরি কর্মপদ গ্রহণ করত, যেমন: {তার মা তাকে কষ্টের সাথে গর্ভে ধারণ করেছেন} [আল-আহকাফ: ১৫]।
এবং আল-ফারাজদাক
(৩) বলেছেন:
তুমি আমাকে কীভাবে দেখছ যখন আমি আমার ঢাল উল্টে রেখেছি... নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে যিয়াদকে ধ্বংস করেছেন।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০৩)
أي: صَرَفَه عنّي بالقتل، وهو كثير.
قال أبو الفتح في كتاب التمام: "أحسب لو جُمِعَ ما جاء منه لجاء منه كتاب يكون مِئينَ أوراقًا
… "
(1) اهـ.
وقد استوفيت القاعدة إيثارًا للفائدة، والتضمين سماعيٌّ على الصحيح فلا يقاس عليه
(2).
ولا يكفي في السماع كلمةٌ واحدةٌ مُتَكلَّمٌ في نسبتها
(3)، ولو فرضنا
--------------------------------------------
অর্থাৎ: তাকে আমার কাছ থেকে হত্যার মাধ্যমে সরিয়ে দিয়েছেন, আর এটি প্রচুর (ব্যবহৃত)।
আবু ফাতহ তাঁর 'কিতাবুত তামাম'-এ বলেছেন: "আমি মনে করি, এ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা যদি একত্র করা হতো, তবে কয়েকশ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ হয়ে যেত..."
(১) সমাপ্ত।
উপকারের আধিক্যের কথা বিবেচনা করে আমি নিয়মটি বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, আর সঠিক মতানুসারে 'তাদমিন' (অন্তর্ভুক্তি) হলো শ্রুতি-নির্ভর (সামায়ী), তাই এর উপর ভিত্তি করে কিয়াস (অনুমান) করা যাবে না
(২)।
আর শ্রুতি-নির্ভর হওয়ার ক্ষেত্রে এমন একটি শব্দ যথেষ্ট নয় যার সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে
(৩), এমনকি আমরা যদি ধরেও নিই—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০৪)
صحة: "عداهم الموت" على التخريج المذكور، وصحة أنْ يقاس عليه لا عداك السوء، فأنت أيُّها السيد لم تستعملها على ذلك الوجه، وإنَّما هذيتَ بها جزافًا، وكلامُك يحضره مولانا ــ أيَّده الله ــ وأوراقك إليَّ شاهدة أنك لم تسمع بالتضمين فضلًا عن أنْ تعرفه، فضلًا عن أنْ تستعمله، فكيف وأنتَ لم تسمع بهذه اللفظة حتى أحيت إليك يومنا هذا، وقد روي عن أمير المؤمنين نفسه ــ عليه السلام ــ أنَّه كان يومًا يمشي مع جنازةٍ، فقال له رجلٌ: مَن المتوفِّي بصيغة اسم الفاعل؟
قال: اللهُ ــ عز وجل ــ.
فقال الرجل: إنَّما أردتُ من الميتُ؟
فقال له أمير المؤمنين: قل مَن المتوفَّى، أي بصيغة اسم المفعول
(1).
وكيف هذا؟ ! وأميرُ المؤمنين ــ عليه السلام ــ يقرأ: {وَالَّذِينَ يَتَوفَّون} ــ بصيغة المضارع المبني للفاعل
(2) ــ، ولكنَّه قرأ كذلك لسرٍّ يَعْلَمُ أنَّ ذلك السائل أبلدُ من أنْ يلاحظه في خطابه، وهو أنَّ الميت تَوَفَّى أي: استكمل
--------------------------------------------
বিশুদ্ধতা: উল্লেখিত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে "মৃত্যু তাদের অতিক্রম করে গেছে" কথাটি সঠিক, এবং এর ওপর ভিত্তি করে "মন্দ যেন তোমাকে অতিক্রম না করে" কথাটিকে অনুমান করাও সঠিক। কিন্তু হে জনাব, আপনি একে সেই অর্থে ব্যবহার করেননি, বরং আপনি লক্ষ্যহীনভাবে এটি প্রলাপ হিসেবে বকেছেন। আপনার বক্তব্য আমাদের মাওলা—আল্লাহ তাকে সাহায্য করুন—এর সামনে উপস্থিত এবং আমার কাছে থাকা আপনার পত্রগুলো সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আপনি 'তাদমিন' (শব্দের অন্তর্ভুক্তিকরণ) সম্পর্কে শোনেনইনি, এটি জানা বা ব্যবহার করা তো দূরের কথা। বিশেষ করে আপনি এই শব্দটি আজ পর্যন্ত শোনেননি যতক্ষণ না আজ এটি আপনার নিকট প্রকাশিত হয়েছে। আমিরুল মুমিনীন (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদিন তিনি একটি জানাজার সাথে হাঁটছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল: "মুতওয়াফ্ফি (মুত্যুদানকারী) কে?" (কর্তৃবাচক বিশেষ্য রূপে)।
তিনি বললেন: আল্লাহ—মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত।
তখন লোকটি বলল: আমি কেবল জানতে চেয়েছিলাম মৃত ব্যক্তি কে?
তখন আমিরুল মুমিনীন তাকে বললেন: বলো "মুতওয়াফ্ফা" (যার মৃত্যু হয়েছে) কে, অর্থাৎ কর্মবাচক বিশেষ্য রূপে
(১)।
এটি কীভাবে সম্ভব? অথচ আমিরুল মুমিনীন (আলাইহিস সালাম) পড়তেন: "আর যারা মৃত্যুবরণ করে" —কর্তৃবাচক বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া হিসেবে
(২)— কিন্তু তিনি এমনটি একটি রহস্যের কারণে পড়েছেন যা তিনি জানতেন, আর সেই প্রশ্নকারী তার সম্বোধনের ক্ষেত্রে সেটি লক্ষ্য করার চেয়েও বেশি স্থুলবুদ্ধিসম্পন্ন ছিল। আর তা হলো, মৃত ব্যক্তি "তাওয়াফ্ফা" করেছে অর্থাৎ সে পূর্ণ করেছে [তার মেয়াদ]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০৫)
عمره، وعمله ورزقه.
ولو فرضْنَا أنك استعملتها بنيّةِ التضمين، وصحَّ لك قياسها وصحَّتْ: "فعداهم الموتُ" عن أمير المؤمنين، فإنَّ معنى "فعداهم الموت": وثبَ عليهم وأفناهم، وكذا عداك السوء، فما يحملك على أن تخاطب إمام الزمان بنحو: لا وثب عليك السوء ولا أفناك، مع أنَّ: "لا عداك السوء" يعرف الصغير والكبير أنَّها دعاء على المخاطَب لا له، والتمحُّل لكونها دعاءً له كادِّعاءِ عيش الحوت في الخبوت، أو صيد الأسود بحبال العنكبوت.
ولو سُلِّمَ فكيف يدعو بها عاقلٌ يعلم أنَّ من أشدِّ العيوب إهمالَ الواو في المجيب: لا رحمك الله، إلا حيث قصد المواربة
(1) كقول الحافظ ابن حجر:
الدوادارُ
(2) قال لي
… سوف أقضي مآربَكْ
أفْرِغِ الكيسَ قلتُ لا
… حَفِظَ اللهُ جانِبَكْ
(3)--------------------------------------------
তার জীবনকাল, তার আমল এবং তার জীবিকা।
আর যদি আমরা ধরেও নেই যে, আপনি এটি অন্তর্ভুক্তিকরণের নিয়তে ব্যবহার করেছেন এবং আপনার কিয়াস (অনুমান) সঠিক হয়েছে এবং আমীরুল মুমিনীন থেকে বর্ণিত "ফাদা-হুমুল মাউত" (মৃত্যু তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল) বাক্যটিও ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ হয়েছে; তবে "ফাদা-হুমুল মাউত" এর অর্থ হলো: মৃত্যু তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং তাদের ধ্বংস করে দিয়েছে। তেমনিভাবে "আদাকা আস-সূ" (মন্দ তোমাকে আক্রমণ করুক)। এমতাবস্থায় আপনি কোন যুক্তিতে যামানার ইমামকে এভাবে সম্বোধন করবেন যে: "মন্দ যেন আপনার ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়ে এবং আপনাকে ধ্বংস না করে"? অথচ ছোট-বড় সকলেই জানে যে, "লা আদাকা আস-সূ" কথাটি সম্বোধিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি বদদোয়া, তার জন্য দোয়া নয়। আর এটিকে তার জন্য দোয়া হিসেবে প্রমাণ করার বৃথা চেষ্টা করাটা মরুভূমিতে মাছের বেঁচে থাকার দাবি করার মতো, অথবা মাকড়সার জাল দিয়ে সিংহ শিকার করার মতো হাস্যকর।
আর যদি এটি মেনেও নেওয়া হয়, তবুও একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি কীভাবে এই শব্দে দোয়া করতে পারেন, যিনি জানেন যে উত্তরদাতার ক্ষেত্রে 'ওয়াও' (এবং) বর্জন করা অন্যতম বড় ত্রুটি? যেমন: "না, আল্লাহ আপনাকে দয়া করুন" (উচিত ছিল: না, এবং আল্লাহ আপনাকে দয়া করুন)। তবে যদি দ্ব্যর্থবোধকতা
(১) বা কূটকৌশল অবলম্বন করা উদ্দেশ্য হয়, যেমন হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন:
দাওয়াদর আমাকে বললেন... আমি আপনার হাজত পূরণ করব
ব্যাগ খালি করুন; আমি বললাম না... আল্লাহ আপনার মর্যাদা রক্ষা করুন
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০৬)
وأمَّا قول مولانا أمير المؤمنين ــ عليه السلام ــ: "ولا تعدو على عزيمة جدهم بلادة الغفلات" فإيرادها من الغفلة؛ إذْ صرح فيها بـ (على) فليس فيها شبهة.
وأمَّا قوله: "فما عدا ممَّا بدا" فلـ (عدا) معانٍ كثيرة ــ كما في كتب اللغة
(1) ــ تارةً بمعنى (جدَّ في سعيه)، وتارة بمعنى ظلم، وتارة يقال: عدا اللصُّ على المال أي: سَرَقه، وتارة بمعنى (صرف)، وتارةً بمعنى (وثَبَ)، وتارة بمعنى (جاوز)، وتارة فعل استثناء، وتارة حرف جرٍّ فأيُّها أُريدَ في هذه العبارة
(2)؟
فإنْ زعمتَ أنَّها بمعنى (أصاب) فاجْعلْها مكانها لتعرف بيانها، والظاهر أنَّ (ما) استفهامية، و (عدا) بمعنى (صرف) وهي تتعدى إلى واحدٍ بنفسها، وثانٍ بـ (عن) وكلاهما محذوف للعلم به، والمعنى: ما صرفك عن طاعتي؟ و (مِنْ) تبعيضيّة و (ما) موصولة، و (بدا) بمعنى (نشأ) مِن الرأي، أو بمعنى (ظهر) فحينئذٍ يكون المعنى: ما صرفك عن طاعتي ممَّا نشأ لك من الرأي،
--------------------------------------------
আর আমাদের নেতা আমীরুল মুমিনীন—তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—এর বাণী: "গাফিলতির স্থবিরতা যেন তাদের সংকল্পের দৃঢ়তাকে অতিক্রম না করে," এটি উল্লেখ করা গাফিলতিরই অন্তর্ভুক্ত; কারণ তিনি এতে স্পষ্টভাবে 'আলা' (উপরে) অব্যয়টি ব্যবহার করেছেন, ফলে এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই।
আর তাঁর বাণী: "যা প্রকাশ পেয়েছে তা থেকে কী বিচ্যুত হয়েছে?" এক্ষেত্রে 'আদা' (عدا) শব্দের অনেক অর্থ রয়েছে—যেমনটি অভিধানের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। কখনো এর অর্থ হয় 'প্রচেষ্টায় সচেষ্ট হওয়া', কখনো 'অবিচার করা', কখনো বলা হয় 'চোর মালের ওপর আদা করেছে' অর্থাৎ 'চুরি করেছে', কখনো এর অর্থ হয় 'ফিরিয়ে দেওয়া' বা 'বিচ্যুত করা', কখনো 'লাফিয়ে পড়া', কখনো 'অতিক্রম করা', কখনো এটি ব্যতিরেকসূচক ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো অব্যয় হিসেবে। তাহলে এই বাক্যে কোনটি উদ্দেশ্য?
যদি আপনি দাবি করেন যে এটি 'আঘাত করা বা পৌঁছানো' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তবে এর সঠিক অর্থ স্পষ্ট করার জন্য শব্দটিকে তার স্থানে বসিয়ে দেখুন। আর দৃশ্যত এখানে 'মা' (ما) প্রশ্নবোধক এবং 'আদা' (عدا) শব্দটি 'বিচ্যুত করা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি সরাসরি একটি কর্মের (মাফউল) দিকে এবং 'আন' (عن) অব্যয়ের মাধ্যমে দ্বিতীয় একটি কর্মের দিকে ধাবিত হয়। কিন্তু এখানে উভয়টিই উহ্য রাখা হয়েছে কারণ তা সুপরিচিত। মূল অর্থ হলো: "কোন বিষয়টি তোমাকে আমার আনুগত্য থেকে বিচ্যুত করল?" আর 'মিন' (من) হলো অংশবাচক এবং 'মা' (ما) সম্বন্ধসূচক, আর 'বাদা' (بدا) অর্থ হলো মতামত 'তৈরি হওয়া' বা 'প্রকাশ পাওয়া'। এমতাবস্থায় অর্থ হবে: "তোমার মনে যে নতুন মত তৈরি হয়েছে, তার মধ্য থেকে কোন বিষয়টি তোমাকে আমার আনুগত্য থেকে বিচ্যুত করল?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০৭)
أو ممَّا ظهر منّي أيْ: أيُّ شيءٍ مما نشأ لك من الرأي، أو ممَّا ظهر منِّي صَرفَك عن طاعتي. وهي على كل تقدير بمعزل عن الاستدلال بها.
وأمَّا قولي: "راجعوا الإمام" فإنِّي لمَّا أردتُ أنْ أمحضَك النصيحة، وأردَّك إلى الاستعمالات الصحيحة تقاعسْتَ عن ذلك وطفقت تخبط خَبْط عشواء، وتعربد عربدة النشوى، وقد قيل في المثل: "آخر الداء الكيُّ"
(1).
وأمَّا التعصُّب بالدين فقال في القاموس: "وتعصَّب شدَّ العصابةَ، وأتى بالعصبية، وتقنَّع بالشيء ورضي به"
(2)، فأيُّ ملامةٍ عليَّ بأنْ أكونَ متعصبًا بالدين أي: معتمًّا وكوني متعصِّبًا به أي: متعزِّزًا، وكوني متعصِّبًا به أي: مُتقنِّعًا راضيًا به: (وتلك شَكاةٌ ظاهرٌ عنك عارها)
(3) وإنَّما اللومُ على مَنْ يتعصَّب على الدين، أو يتعصَّب فيه مع أنَّ الأولى في قضيتنا أن يُعبَّر بالحقِّ بدل الدين.
وأمَّا قولك: "وعدم الرجوع إلى الحقِّ
… إلخ" فأينَ الحقُّ الذي أرجع إليه؟
--------------------------------------------
অথবা আমার পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে; অর্থাৎ: আপনার মাঝে কোনো যে মতের উদয় হয়েছে, অথবা আমার পক্ষ থেকে যা প্রকাশ পেয়েছে তা আপনাকে আমার আনুগত্য থেকে বিমুখ করেছে। যাই হোক না কেন, এটি দলিল হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্র থেকে বহু দূরে।
আর আমার উক্তি: "ইমামের নিকট ফিরে যান" প্রসঙ্গে— আমি যখন আপনাকে একনিষ্ঠ নসিহত করতে চেয়েছিলাম এবং আপনাকে সঠিক প্রয়োগরীতির দিকে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলাম, তখন আপনি তাতে অনীহা প্রদর্শন করলেন এবং লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়াতে শুরু করলেন ও মত্ত ব্যক্তির ন্যায় আচরণ করতে লাগলেন। প্রবাদে বলা হয়েছে: "সর্বশেষ চিকিৎসা হলো দহন (সেঁক দেওয়া)"
(১)।
আর দ্বীনের ব্যাপারে 'তআচ্ছুব' বা পক্ষপাতিত্ব সম্পর্কে 'আল-কামুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "সে পাগড়ি বাঁধল, পক্ষপাতিত্ব করল, কোনো কিছু দ্বারা নিজেকে আবৃত করল এবং তাতে সন্তুষ্ট হলো"
(২)। সুতরাং দ্বীনের প্রতি অনুরাগী হওয়ার কারণে আমার ওপর কিসের নিন্দা? অর্থাৎ পাগড়ি পরিধান করা; এবং দ্বীনের মাধ্যমে আমার শক্তিশালী হওয়া; আর দ্বীনের মাধ্যমে নিজেকে আবৃত রাখা ও তাতে সন্তুষ্ট হওয়া: (এটি এমন এক অভিযোগ যার কলঙ্ক আপনার থেকে দূরে)
(৩)। মূলত নিন্দা তো তার প্রাপ্য যে দ্বীনের বিরুদ্ধে গোঁড়ামি করে অথবা দ্বীনের মধ্যে দলাদলি করে; অথচ আমাদের এই বিবাদের ক্ষেত্রে 'দ্বীন' শব্দের পরিবর্তে 'হক' বা 'সত্য' শব্দ ব্যবহার করাই অধিক যুক্তিযুক্ত ছিল।
আর আপনার উক্তি: "সত্যের দিকে ফিরে না আসা... ইত্যাদি"— তবে সেই সত্য কোথায় যার দিকে আমি ফিরে আসব?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০৮)
وأين الدليل الذي ثبت حتى أعوِّل عليه؟ بل
(1) قد ثبت على جهل المعاند.
وأمَّا قول العارفين: "قرأتُ العلم
… " إلخ، فإنَّما لفظه: "طلبنا العلم لغير الله فأبى العلم أن يكون إلا لله"، وهذا الشاهد لم يظهر لي وجه الاستشهاد به حتى أتكلَّم عليه.
وأمَّا قولك: "إني قصدتُ بإنشادي الإعجاز والمبارزة" فما قصدتُ به إلا تطهير المسامع عما قرعها، وتنشيط الرؤوس عمَّا صدَّعها، ومَحْوًا لما قد يتشاءم به.
وأمَّا كون أبياتي ليست على غايةٍ من المدح فهذا كلامُ حاسدٍ لا يبالي بما يقول.
وهذه أبياتي:
دَعْني من الغِيدِ ما للصِّيد والغيد
… وقُم نُهنِّي إمامَ الحقِّ بالعيدِ
مَولايَ يَهْنؤك العيد السعيدُ فَدُمْ
… في خير عَيشٍ بتوفيقٍ وتسديدِ
ودام سَعْدُكَ طولَ الدَّهرِ يَرْفُل في
… نَصْرٍ وفَتْحٍ وتمكينٍ وتأْييد
وقولك: "من حيث إنَّه ما مِن أحدٍ إلا ويُهنّى بالعيد حتى العبد المملوك، ولا فَضْلَ يُرى للممدوح بذلك"؛ فإنَّما التهنئة بالعيد تهنئةٌ بالعافية والسرور والحبور وامتداد العمر في طاعة الله فيه، والتهنئة بذلك أمرٌ لا ينكره ذو بصيرة، وكما أنَّ الدعاء بالعافية وسؤال العافية يستوي فيه الملوكُ
--------------------------------------------
আর এমন কোন দলিল কি সাব্যস্ত হয়েছে যার ওপর আমি নির্ভর করতে পারি? বরং
(১) এটি তো হঠকারীর মূর্খতার উপরেই সাব্যস্ত হয়েছে।
আর আরিফগণের (আধ্যাত্মিক জ্ঞানী) উক্তি: "আমি ইলম পাঠ করেছি..." ইত্যাদি সম্পর্কে কথা হলো, এর মূল শব্দ বিন্যাস হলো: "আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য ইলম অন্বেষণ করেছিলাম, কিন্তু ইলম আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও জন্য হতে অস্বীকার করল।" আর এই উদ্ধৃতিটি উপস্থাপনের কোনো যৌক্তিক দিক আমার নিকট স্পষ্ট হয়নি যে আমি এ বিষয়ে কিছু বলব।
আর আপনার উক্তি: "আমি কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে অলৌকিকত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের ইচ্ছা করেছি", তো আমি এর মাধ্যমে কর্ণকুহরকে শ্রুত কটু কথা থেকে পবিত্র করা, মস্তিষ্ককে অবসাদ থেকে চনমনে করা এবং যা অশুভ হতে পারে তা মুছে ফেলা ছাড়া আর কিছুই উদ্দেশ্য করিনি।
আর আমার পঙক্তিমালা প্রশংসার চরম শিখরে নেই—আপনার এই উক্তিটি একজন হিংসুকের কথা, যে কী বলছে সে বিষয়ে কোনো পরোয়া করে না।
এই হলো আমার পঙক্তিমালা:
আমাকে সুন্দরী রমণীদের কথা থেকে রেহাই দিন, শিকারী ও সুন্দরীদের মধ্যে কী সম্পর্ক! বরং উঠুন, আমরা সত্যের ইমামকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই।
হে আমার অভিভাবক! শুভ ঈদ আপনার জন্য আনন্দদায়ক হোক; অতএব আপনি তাওফিক ও সঠিক পথে অটল থেকে সর্বোত্তম জীবন যাপনে দীর্ঘজীবী হোন।
আর আপনার সৌভাগ্য চিরকাল সাহায্য, বিজয়, প্রতিষ্ঠা ও সমর্থনের পোশাকে সুশোভিত হয়ে অটুট থাকুক।
আর আপনার উক্তি: "যেহেতু ঈদের দিন ক্রীতদাস পর্যন্ত সবাইকেই শুভেচ্ছা জানানো হয়, তাই এর মাধ্যমে প্রশংসিত ব্যক্তির কোনো বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় না"; তো প্রকৃতপক্ষে ঈদের শুভেচ্ছা হলো নিরাপত্তা, আনন্দ, উল্লাস এবং তাতে আল্লাহর আনুগত্যে দীর্ঘায়ু লাভের দোয়া। আর এ বিষয়ে শুভেচ্ছা জানানো এমন একটি বিষয় যা কোনো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি অস্বীকার করেন না। আর ঠিক যেমন নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা এবং নিরাপত্তা কামনা করার ক্ষেত্রে রাজন্যবর্গও সমান পর্যায়ে থাকেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০৯)
والمملوك؛ فكذا التهنئة بها، على أنَّها ليست تهنئةً بلفظٍ عادي، وإنما هي بأبياتٍ لطيفة يعرفها مَن له ملكةٌ، ولا يعرف السبيلَ إلا مَن سلكه، ولا يعرف السالك السبيلَ إلا إذا كان على بصيرةٍ، وأمَّا مَنْ سلكه مُتَخبطًا، ولم يمشِ فيه على المنوال فهو سواء وسائرُ الجهَّال.
وقولك: "بل المدحُ العالي أن يُهَنَّأَ العيدُ بإمام الحقّ" فمَن هو العيدُ حتَّى تهنئَه؟ !
وإذْ لسْتَ ممن يفهم التصريح فَضْلًا عن التلميح فنقول: إنَّ العيد ليس بذي عَقْلٍ ووجدان وعيون وآذان حتى تهنئه، فلو أنَّ العيد يتصوّر إنسانًا لهنَّأناه، كما أنَّ اعتراضَك لو يتجسّد لكان أبلغَ دواءٍ للمحرورين
(1)، وأخشى أن يطلع عليه غير صفراوي فتصيبه البردة
(2).
على أنَّ أبياتي مرتجلةٌ بنتُ لحظةٍ، ولولا أنَّ ذلك المقام يشغل الفكر بهيبته لما اقتصرت على الثلاثة الأبيات وأنت تعرف ذلك قد لجلجك في الإنشاد، فكيف بي في الإنشاء؟ !
وأين مِنْ أبياتي قصيدتك بنت شهر، بوزنٍ قليل الاستعمال ملتزمًا في القوافي قولك: "يا ابن علي" مع التعرض بكفران النعمة من دعوى أنَّ الناس أفناهم الجوع، وقد أغناهم الله تعالى بفضل عبده مولانا ــ أيَّده الله ــ وبتيسيره سُبل الكسب، وأين ذلك من قول بعضهم في تهنئةِ عيد:
--------------------------------------------
এবং যা অধিকৃত; অনুরূপভাবে এর মাধ্যমে শুভেচ্ছা জ্ঞাপনও তেমনি, তবে এটি কোনো সাধারণ শব্দে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন নয়, বরং এটি ললিত পঙ্ক্তিমালা যা কেবল শিল্প-প্রতিভার অধিকারীরাই চিনে থাকে। আর যে পথ অতিক্রম করেছে সে ব্যতীত অন্য কেউ সেই পথ সম্পর্কে জানে না, আর পথচারী সেই পথ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে পারে না যতক্ষণ না সে অন্তর্দৃষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীনভাবে পথ অতিক্রম করে এবং যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে তাতে পথ চলে না, সে অন্যান্য মূর্খদের সমান।
এবং আপনার কথা: "বরং উচ্চ প্রশংসা হলো সত্যের ইমামের মাধ্যমে ঈদকে অভিনন্দন জানানো," এখন ঈদ কে যে আপনি তাকে অভিনন্দন জানাবেন?!
যেহেতু আপনি ইশারা-ইঙ্গিত তো দূরের কথা, স্পষ্ট বক্তব্যও বোঝার মতো লোকদের অন্তর্ভুক্ত নন, তাই আমরা বলছি: ঈদের কোনো বুদ্ধি, চেতনা, চক্ষু বা কর্ণ নেই যে তাকে আপনি অভিনন্দন জানাবেন। ঈদ যদি কোনো মানুষের রূপ ধারণ করত তবে আমরা তাকে অভিনন্দন জানাতাম, ঠিক যেমন আপনার এই আপত্তিটি যদি মূর্ত রূপ ধারণ করত তবে তা রোষানলে দগ্ধ ব্যক্তিদের জন্য এক অব্যর্থ মহৌষধ হতো
(১), আর আমি আশঙ্কা করি যে, পিত্তরোগী ব্যতীত অন্য কেউ যদি এটি প্রত্যক্ষ করে তবে সে অজীর্ণতায় আক্রান্ত হবে
(২)।
অধিকন্তু আমার কাব্যগুলো ছিল তাৎক্ষণিক ও উপস্থিত পরিস্থিতির ফসল। যদি সেই পরিস্থিতির গাম্ভীর্য চিন্তাশক্তিকে আচ্ছন্ন করে না রাখত, তবে আমি মাত্র তিনটি পঙ্ক্তিতে সীমাবদ্ধ থাকতাম না। আর আপনি তো জানেন যে, এটি পাঠ করতে গিয়েই আপনি তোতলামিতে আক্রান্ত হচ্ছিলেন, তাহলে আমার রচনার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কেমন ছিল তা ভাবুন?!
আর কোথায় আমার কবিতা আর কোথায় এক মাস ধরে প্রস্তুতকৃত আপনার সেই দীর্ঘ কবিতা, যা অত্যন্ত দুর্লভ ছন্দে রচিত এবং যার অন্ত্যমিলে আপনি "হে আলী-তনয়" বাক্যটি বজায় রেখেছেন। সাথে আপনি এই দাবি করে অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছেন যে, ক্ষুধা মানুষকে নিঃশেষ করে ফেলেছে, অথচ মহান আল্লাহ তাঁর বান্দা আমাদের অভিভাবকের—আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী করুন—কল্যাণে এবং উপার্জনের পথ সহজীকরণের মাধ্যমে তাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন। আর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে কারো নিম্নোক্ত বাণীর সাথে তার তুলনাই বা কোথায় হয়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩১০)
يا إمامَ الهدى وغوثَ اليتامى
… والمساكينِ رحمةَ الرحمنِ
زارك العيدُ وهو يحمل أعلا
… مَ التهاني لكم بِنَيلِ الأماني
فهنيئًا لك السرورُ بشوّا
… لٍ ونيل الأجور في رمضان
وما عسى أن يبلغه من يريد إساءة الإمام بعد مقابلته في تهنئةِ عيدٍ بمحضرٍ من الناس بنحو قوله: "أفنى الناسَ الجوعُ" وقوله: "لا عداك السوء"، فعدا أميرَ المؤمنين ومحبِّيه كلُّ سوء ولا عداك، ومَن أعديته من نباهتك سُوءًا فابنِ على زَعْمِكَ.
ولستُ أزعم أنّي متحرّز عن كلِّ خطأ، لكنّني لو نُبِّهْتُ على الخطأ لما تمحَّلْتُ لتصويبه، بل بادرتُ بسؤال العفو والإقرار بالقصور؛ لأنَّ الإنسان رهين النسيان ولا سيَّما إذا كان في درجتنا قصورًا وتقصيرًا. وقد يقال: كفارة الذنب الإقرار والندم والاستغفار. ومُغَلِّظُهُ الإنكار مع المحاجَّة والاعتذار، وذلك هو عينُ الإصرار، ومُسْقِطُ الأعذار من الاعتبار.
وأمَّا قولك: "في الرياء، والسمعةِ، وحبِّ الجاه وطلبِ الرِّفْعة" فالله تعالى أعلمُ بها على أنَّها أدواء القلب، وربَّما أصلحها صلاح النّية، كالذي يُصلّي ويحسِّنُ صلاته ليتعلم الناس كيفية الصلاة، ويطلب الجاه ليستعين به على طاعةٍ.
وقولك: "عند المخلوق دون الخالق" فالمخلوقون ليسوا سواءً؛ فإنَّ منهم من يكون حبُّه حبًّا لله، وبُغْضُه بغضًا لله، والتقرُّبُ إليه تقرُّبًا إلى الله، وأظنُّكَ لا تنكر أنَّ منهم مولانا أيَّده الله تعالى.
হে হেদায়েতের ইমাম এবং এতিমদের আশ্রয়স্থল
… ও মিসকিনদের জন্য দয়াময় আল্লাহর রহমতস্বরূপ।
ঈদ আপনার নিকট উপস্থিত হয়েছে এমতাবস্থায় যে তা বয়ে এনেছে সর্বোচ্চ
… অভিনন্দন, আপনাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের বারতা নিয়ে।
অতএব শাওয়ালে আপনার এই আনন্দ
… এবং রমজানে সওয়াব অর্জনে আপনাকে অভিনন্দন।
আর সে ব্যক্তি কী-ই বা অর্জন করতে চায়, যে মানুষের উপস্থিতিতে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় ইমামের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর অনিষ্ট করতে চায়—এই বলে যে: "ক্ষুধা মানুষকে নিঃশেষ করে দিয়েছে" এবং "মন্দ যেন আপনাকে অতিক্রম না করে"? সকল মন্দ আমীরুল মুমিনীন এবং তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের থেকে দূরে থাকুক, আপনার থেকে নয়। আর আপনি আপনার মেধার কারণে যাকে মন্দের শিকার করেছেন, তা আপনার ধারণা অনুযায়ীই ধরে নিন।
আমি এই দাবি করছি না যে আমি সকল ভুল থেকে মুক্ত, তবে আমাকে যদি কোনো ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করা হতো, তবে আমি তা সঠিক প্রমাণের জন্য অনর্থক অজুহাত খুঁজতাম না; বরং আমি ক্ষমা প্রার্থনা এবং নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতে দ্রুত সচেষ্ট হতাম। কারণ মানুষ বিস্মৃতির অধীন, বিশেষ করে যখন আমাদের স্তরে সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি বিদ্যমান। বলা হয়ে থাকে: পাপের কাফফারা হলো স্বীকারোক্তি, অনুশোচনা এবং ক্ষমা প্রার্থনা। আর তা অস্বীকার করে বিতর্ক ও অজুহাত পেশ করা অপরাধকে আরও গুরুতর করে তোলে, যা মূলত একগুঁয়েমি এবং অজুহাতকে গ্রহণযোগ্যতা থেকে বিচ্যুত করারই নামান্তর।
আর আপনার উক্তি: "রিয়া (লৌকিকতা), সুম'আ (যশলিপ্সা), পদের মোহ এবং উচ্চ মর্যাদা অন্বেষণ" প্রসঙ্গে কথা হলো—মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে সম্যক অবগত যে এগুলি অন্তরের ব্যাধি। কখনও কখনও নিয়তের বিশুদ্ধতা একে সংশোধন করে দেয়, যেমনটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে যে মানুষকে নামাযের পদ্ধতি শেখানোর জন্য সুন্দরভাবে নামায পড়ে, অথবা এমন ব্যক্তি যে পদের মর্যাদা কামনা করে যাতে তার মাধ্যমে কোনো ইবাদতের ক্ষেত্রে সাহায্য লাভ করা যায়।
আর আপনার উক্তি: "সৃষ্টিকর্তার পরিবর্তে সৃষ্টির নিকট" প্রসঙ্গে কথা হলো—সৃষ্টির সবাই সমান নয়। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যাকে ভালোবাসা মানেই আল্লাহকে ভালোবাসা, তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা মানেই আল্লাহর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা এবং তার নৈকট্য লাভ করা মানেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। আমি মনে করি আপনি এটি অস্বীকার করবেন না যে, আমাদের অভিভাবক—মহান আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন—তাদেরই একজন।
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩১১)
ولعلّي قد أسرفْتُ في القِصَاص، ولا أقول: البادئ أظَلْمُ، ولا الكلامُ أنثى، والجوابُ ذكر، ولكنِّي أسألك العفوَ، وأقسم لك بالله الذي لا إله إلا هو ما لي من قَصْدٍ إلا بيان الحق، وأَنْصحُك لله، ولجدِّك رسولِ الله أنْ تَثبَّتَ في الكلام، وتعلمَ أنك تخاطب إمامًا نقَّادًا مجتهدًا يجب على مخاطبه بما يزعم المخاطب أنه قد نقّحه التحرُّزُ، وإلا فكما قيل: (ترك الذنب أولى من طلب المغفرة)، وإذا أردتَ التحرُّزَ فخُذْ ما تعرفه يقينًا، ودَعْ ما تشكُّ فيه ــ وإنْ ترجَّح في ظنك شيءٌ ــ فإنَّما يوقع الإنسانَ في الغلط مسامحةُ النفس والعملُ بمجرَّد الظنَّ.
كلّا: مِثْلُ الشمس وإلا فدعْ هذا.
وإنَّما الفضل بالتقوى، وفَّقَنا اللهُ لأنْ نتمسَّك منها بالسبب الأقوى، وغَفَر لنا ولكم، وعفا عنّا وعنكم، وصلى الله على رسوله محمد وآله وصحبه وسلم.
فأعاد عليَّ جوابَ معتذرٍ، وأفاد أنَّه أرى السيّدَ العلَّامةَ صالح بن محسن الصيلمي جوابي، فقضى بما لا يخفى على مِثْلِه.
ثم كتب إليَّ السيدُ عليٌّ قصيدةً يعتذر [فيها] لم أرَ منها ما يليق ذكره فمن ظنَّ أنَّ هذا منِّي تعصُّب فها هي مُلْصقة بهذا
(1).
--------------------------------------------
সম্ভবত আমি প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি। আমি বলব না যে, 'যিনি শুরু করেছেন তিনিই অধিক জালিম', আর এ কথাও বলব না যে, 'কথা হলো নারী আর উত্তর হলো পুরুষ'। বরং আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং সেই আল্লাহর নামে কসম করছি—যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই—যে, সত্য প্রকাশ করা ছাড়া আমার অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। আমি আপনাকে আল্লাহর ওয়াস্তে এবং আপনার পূর্বপুরুষ আল্লাহর রাসূলের খাতিরে নসিহত করছি যে, কথা বলার ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত হবেন। জেনে রাখুন যে, আপনি একজন দক্ষ সমালোচক ও মুজতাহিদ ইমামের সাথে কথা বলছেন। যে ব্যক্তি এমন কাউকে সম্বোধন করে কথা বলে—যিনি দাবি করেন যে তিনি বিষয়টি সুচারুভাবে বিশ্লেষণ করেছেন—তবে সেই সম্বোধনকারীর উচিত সতর্কতা অবলম্বন করা। অন্যথায়, যেমনটি বলা হয়ে থাকে: 'পাপ বর্জন করা ক্ষমা প্রার্থনার চেয়ে উত্তম'। আপনি যদি সতর্কতা অবলম্বন করতে চান, তবে যা নিশ্চিতভাবে জানেন তা গ্রহণ করুন এবং যাতে আপনার সন্দেহ রয়েছে তা বর্জন করুন—যদিও আপনার ধারণায় সেটি প্রবল বলে মনে হয়। কেননা, মানুষকে ভুলের মধ্যে নিপতিত করে প্রবৃত্তির প্রতি শিথিলতা প্রদর্শন এবং নিছক ধারণার ওপর ভিত্তি করে কাজ করা।
মোটেই না: হয় সূর্যের ন্যায় সুস্পষ্ট হতে হবে, নতুবা এটি ত্যাগ করুন।
বস্তুত শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাকওয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আল্লাহ আমাদের তাকওয়ার সবচাইতে শক্তিশালী কারণটি আঁকড়ে ধরার তাওফিক দান করুন। তিনি আমাদের ও আপনাদের ক্ষমা করুন, এবং আমাদের ও আপনাদের মার্জনা করুন। আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর তিনি আমাকে একজন ক্ষমাপ্রার্থীর ন্যায় উত্তর দিলেন এবং জানালেন যে, তিনি বিজ্ঞ আল্লামা সায়্যিদ সালেহ বিন মুহসিন আস-সায়লামীকে আমার জবাবটি দেখিয়েছেন। এরপর তিনি (সায়লামী) এমন সিদ্ধান্ত দিলেন যা তাঁর ন্যায় ব্যক্তির নিকট অস্পষ্ট থাকার নয়।
এরপর সায়্যিদ আলী আমার নিকট একটি কবিতা লিখলেন যাতে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আমি তার মধ্যে এমন কিছু দেখিনি যা এখানে উল্লেখ করার মতো উপযোগী। কেউ যদি মনে করেন যে এটি আমার পক্ষ থেকে কোনো পক্ষপাতিত্ব, তবে কবিতাটি এই লেখার সাথেই সংযুক্ত করা হলো
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٠)
মুনাজারা আদাবিয়্যাহ বাইনাল মুয়াল্লিমী ওয়াশ শায়িরিল আদীব আলী বিন মুহাম্মাদ আস-সানুসী - যিমন আছারুল মুয়াল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩১২)
وطلب منّي إصلاح خللها، فرأيتُ الأمرَ بذلك يطول فأجبت عليه ارتجالًا بعشرةِ أبيات يراها المطَّلِعُ تحت قصيدته، وأوَّلُها:
يا فاضلٌ
(1) دَلْوُهُ بالمكرماتِ مَلي
… وقَدْره كاسْمِه بين الأنام علي
(2)--------------------------------------------
তিনি আমার কাছে এর ভুলত্রুটি সংশোধনের অনুরোধ করেন। আমি দেখলাম যে এতে বিষয়টি দীর্ঘ হয়ে যাবে, তাই আমি তাৎক্ষণিকভাবে দশটি পঙক্তির মাধ্যমে এর উত্তর দিয়েছি যা পাঠক তার কবিতার নিচেই দেখতে পাবেন। আর তার প্রথমটি হলো:
হে গুণী শ্রেষ্ঠ
(১) যার বালতি মহানুভবতায় পূর্ণ
… আর মানুষের মাঝে যার মর্যাদা তার নামের মতোই সুউচ্চ (আলী)
(২)--------------------------------------------