(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
محمد بن عبد الوهاب داعية التوحيد والتجديد في العصر الحديث (محمد بهجة الأثري)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: محمد بن عبد الوهاب داعية التوحيد والتجديد في العصر الحديث
المؤلف: محمد بهجت الأثري بن محمود أفندي ابن عبد القادر بن أحمد بن محمود (ت 1416هـ)
الناشر: إدارة الثقافة والنشر، جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 45
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: আধুনিক যুগে তাওহিদ ও সংস্কারের দাওয়াতদানকারী (মুহাম্মদ বাহজাত আল-আসারী)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমষ্টি
বই: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: আধুনিক যুগে তাওহিদ ও সংস্কারের দাওয়াতদানকারী
লেখক: মুহাম্মদ বাহজাত আল-আসারী বিন মাহমুদ এফেন্দি ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে আহমদ ইবনে মাহমুদ (মৃত্যু ১৪১৬ হিজরি)
প্রকাশক: সংস্কৃতি ও প্রকাশনা বিভাগ, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة…تقديمالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه وبعد:حظيت دعوة الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب السلفية الإصلاحية باهتمام واسع من علماء العرب والمسلمين منذ قيامه بها، فتناولها المؤرخون والمفكرون، والباحثون، والكتاب، وما تزال دور النشر تدفع بنتاجها عن هذه الدعوة. وعلى الرغم من ذلك ستظل جوانب مهمة تحتاج إلى مزيد من البحث المتعمق، والتحليل الدقيق.وكثير مما كتب عنها تعوزه الدقة، وينقصه التحقيق والتجرد، ولعل مرد ذلك إلى أمور في مقدمتها:1- أنها بدأت في فترة بلغ فيها الانحطاط الفكري مبلغه في الأمة، واختطلت فيه السنن والبدع، وأشبعت النفوس بحب التقليد وتحكم فيها الجمود مع غياب السلطة الشرعية التي تسند الحق، وتدافع عنه. فجاءت هذه الدعوة لتقويض هذه الطرائق، وتصحيح العقائد وردها إلى مصدرها الأصيل: الكتاب والسنة، فأحدث ذلك نفرة لدى بعض أئمة هذه الطوائف، وتأثر بهم
ভূমিকা…উপস্থাপনাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও যারা তাঁর আনুগত্য করেছেন তাদের সবার প্রতি। অতঃপর:ইমাম শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সালাফী সংস্কারবাদী দাওয়াতটি তার সূচনালগ্ন থেকেই আরব ও মুসলিম আলিমদের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ইতিহাসবিদ, চিন্তাবিদ, গবেষক এবং লেখকরা এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং প্রকাশনা সংস্থাগুলো আজও এই দাওয়াত সম্পর্কে তাদের গবেষণালব্ধ বিষয়গুলো প্রকাশ করে যাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়ে গেছে যেগুলোর জন্য আরও গভীর গবেষণা এবং সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।এর ওপর যা কিছু লেখা হয়েছে তার অনেকগুলোতেই নির্ভুলতার অভাব রয়েছে এবং সেখানে সঠিক অনুসন্ধান ও নিরপেক্ষতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। সম্ভবত এর কারণ হলো কিছু বিষয়, যার শীর্ষে রয়েছে:১- এটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছিল যখন উম্মাহর মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক অধঃপতন চরম সীমায় পৌঁছেছিল, সুন্নাত ও বিদআত একে অপরের সাথে মিশে গিয়েছিল, মানুষের অন্তর অন্ধ অনুকরণের আসক্তিতে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং সত্যকে সমর্থন ও রক্ষা করার মতো শরয়ী কর্তপক্ষের অনুপস্থিতিতে স্থবিরতা তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তাই এই দাওয়াত এসেছিল এই ভুল পদ্ধতিগুলোকে নির্মূল করতে, আকিদাহ সংশোধন করতে এবং একে তার মূল উৎস—কিতাব ও সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে নিতে। এর ফলে এই দলগুলোর কিছু ইমামের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়েছিল এবং তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে...
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৪)
أتباعهم ومقلدوهم وصرفوا الناس عن تقبلها، بل تصدوا لمواجهتها، وتشويه حقيقتها، وتلفيق الدعاوي، والأكاذيب عليها، واستغلوا النفور السياسي في العالم الإسلامي حينذاك لترويج هذه الافتراءات، فتكون نتيجة لذلك رواسب ستزول آثارها إن شاء الله بعد أن تجلت الأمور، وانفتحت العقول، وتخلص المسلمون من قيود الاستعمار الفكري والتضليل الطائفي المنحرف.2- لم يكتب للدولة السعودية الأولى التي عضدت الدعوة ونشرتها بالقوة وحمت حماها على يد مؤسسها الأول الإمام محمد بن سعود رحمه الله لم يكتب لها التوسع السياسي خارج الجزيرة بحيث تجد الدعوة السلفية الإصلاحية مناخا صالحا لترسخ في نفوس الناس وتحفف من التأثر بالفلسفات والمذاهب السائدة حينذاك.2- جاءت الحملات المسلحة التي وجهت ضد الدولة السعودية فأضعفت السلطة المحلية التي تحميها، فانحسر المد الصحيح لهذه الدعوة، وشتت العلماء، فوجد أعداؤها من الخرافيين والقبوريين وغيرهم ما شجعهم على مواصلة محاربتها بكل الوسائل المتاحة لهم.وكتاب (محمد بن عبد الوهاب: داعية التوحيد والتجديد) للأستاذ محمد بهجة الأثري نمط جديد من الكتابة عن الإمام
তাদের অনুসারী ও অন্ধ অনুকরণকারীরা মানুষকে এটি গ্রহণ করা থেকে বিমুখ করেছিল, বরং তারা এর মোকাবিলায় লিপ্ত হয়েছিল, এর প্রকৃত রূপ বিকৃত করেছিল এবং এর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন দাবি ও মিথ্যাচার রটনা করেছিল। তারা তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক অনীহাকে এই অপবাদগুলো প্রচারের কাজে ব্যবহার করেছিল। এর ফলে কিছু অবশিষ্টাংশ তৈরি হয়েছে যার প্রভাব ইনশাআল্লাহ অচিরেই দূর হয়ে যাবে, যেহেতু এখন বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়েছে, বুদ্ধিবৃত্তিক দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে এবং মুসলমানরা বুদ্ধিবৃত্তিক উপনিবেশবাদ ও বিচ্যুত সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছে।২- প্রথম সৌদি রাষ্ট্র—যা এই দাওয়াতকে সমর্থন করেছিল, শক্তির মাধ্যমে একে প্রসারিত করেছিল এবং এর প্রথম প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাধ্যমে এর সীমানা রক্ষা করেছিল—তার জন্য জাজিরাতুল আরবের বাইরে এমন রাজনৈতিক বিস্তৃতি নির্ধারিত ছিল না যাতে এই সালাফি সংস্কারবাদী দাওয়াত মানুষের অন্তরে বদ্ধমূল হওয়ার মতো একটি অনুকূল পরিবেশ পায় এবং তৎকালীন প্রচলিত দর্শন ও মতাদর্শের প্রভাব কমিয়ে আনতে পারে।২- সৌদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত সশস্ত্র অভিযানগুলো এর হিফাজতকারী স্থানীয় ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছিল, ফলে এই দাওয়াতের সঠিক জোয়ার থমকে যায় এবং উলামায়ে কেরাম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এর ফলে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও কবরপূজারি সহ অন্যান্য শত্রুরা তাদের কাছে থাকা সকল উপায় অবলম্বন করে এই দাওয়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহ বোধ করে।এবং উস্তাদ মুহাম্মদ বাহজাত আল-আসারী রচিত 'মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: দাঈয়্যুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ' (মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: তাওহীদ ও সংস্কারের আহ্বানকারী) গ্রন্থটি ইমাম সম্পর্কে রচনার এক নতুন ধারা।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫)
محمد بن عبد الوهاب ودعوته، حيث لم يقم على السرد التاريخي المعتاد بل تعمق في حقيقة الدعوة، وأصولها، ومناهجها، وطرائق نشرها. والأستاذ عرف بنهجه السلفي، وبفكره الصافي واعتداله في آرائه، وأحكامه. وكتابه إضافة جميلة إلى ما سجل عن هذه الدعوة في الماضي والحاضر قد لا نجد مثلها في المنهج والأسلوب والعرض.ومن الوفاء لصاحب الدعوة، ولمن ساندها، وأيدها، وقام على نشرها أن تصدر الجامعة ـ ضمن سلسلة الكتب الدورية ـ هذا المؤلف القيم، وتعترف للأستاذ محمد بهجة الأثري بفضل الإسهام في ذلك حيث جاء مادة علمية متقنة في شكلها ومضمونها ونقدمه للعلماء والباحثين والقراء إشادة بالفضل لأهله وتنويها بما أحدثته هذه الدعوة في العالم من آثار حسنة نبهت الأمة ودلتها إلى الصراط المستقيم وأيقظت حسها إلى أن تعود لمصدر عزها ومجدها: الإسلام الصافي، والالتزام الثابت على الصراط، والمحجة البيضاء.. والله حسبنا ونعم الوكيل..وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.د. عبد الله بن عبد المحسن التركيمدير جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব এবং তাঁর দাওয়াত; যেখানে লেখক কেবল গতানুগতিক ঐতিহাসিক বর্ণনার ওপর নির্ভর করেননি, বরং দাওয়াতের হাকিকত বা বাস্তবতা, এর মূলনীতি, কর্মপদ্ধতি এবং প্রচারের মাধ্যমসমূহ নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছেন। অধ্যাপক তাঁর সালাফি মানহাজ, স্বচ্ছ চিন্তা এবং মতামত ও বিচারে মধ্যপস্থার জন্য পরিচিত। তাঁর এই বইটি এই দাওয়াত সম্পর্কে অতীতে এবং বর্তমানে যা কিছু লিপিবদ্ধ হয়েছে, তার মধ্যে একটি চমৎকার সংযোজন, যার সমতুল্য মানহাজ, শৈলী ও উপস্থাপনা সম্ভবত আর পাওয়া যাবে না।দাওয়াতের ইমামের প্রতি এবং যারা একে সমর্থন করেছেন, সহযোগিতা করেছেন এবং এর প্রসারে কাজ করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়—তার সাময়িক গ্রন্থ সিরিজের অন্তর্ভুক্ত করে—এই মূল্যবান গ্রন্থটি প্রকাশ করছে। এই ক্ষেত্রে অধ্যাপক মুহাম্মদ বাহজাত আল-আসারির অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করছে, কারণ এটি এর রূপ ও বিষয়বস্তুতে একটি নিপুণ বৈজ্ঞানিক উপাদান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। আমরা এটি আলেম, গবেষক এবং পাঠকদের কাছে পেশ করছি গুণীদের গুণের প্রশংসা করতে এবং বিশ্বে এই দাওয়াত যে সকল ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা উল্লেখ করতে; যা উম্মাহকে সতর্ক করেছে, তাদের সরল পথের দিশা দিয়েছে এবং তাদের বোধকে জাগ্রত করেছে যাতে তারা তাদের সম্মান ও গৌরবের উৎসে ফিরে আসে: অর্থাৎ স্বচ্ছ ইসলাম, সিরাত বা সরল পথের ওপর অবিচল থাকা এবং উজ্জ্বল রাজপথ (আল-মাহাজ্জাতুল বায়দা)। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাথীদের ওপর।ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কিইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله وحده، بيده ناصيتي، وله الأمر كله … والصلاة والسلام على خير خلقه محمد بن عبد الله، وعلى آله وصحابته ومن والاه.أما بعد،فقد دعتني رئاسة جامعة الإمام محمد ن سعود الإسلامية) لأشارك في هذا الأسبوع المحمودة مقاصده، مشكورة على حسن الظن، فتذكرت نبأ أمير مشرقي كان مولعا بالكتب، سمع بكتاب ألفه أديب في الأندلس، استحسنه الأدباء وقرظوه، فتاقت نفسه إليه، فلما حصل في يده لم يجد فيه ما لا يعرفه، فأطبق عليه دفتيه، وقال: "هذه بضاعتنا ردت إلينا"!.فقلت في نفسي: ليت شعري، ما الذي حدا بالقوم أن يدعوني إلى أمر، هم أهله، ومنهم يقتبس الحديث عنه؟ فما عسى أن أحمل إليهم من شيء يعلمون من ظاهره وخافيه ومن موارده ومصادره ما لا أعلمه؟ أآخذا بضاعتهم وأردها إليهم،؟ أأخلفت نخيل (هجر) ، فأحمل إليها تمرا من (العراق) ؟
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা কেবল এক আল্লাহর জন্য, তাঁর হাতেই আমার ললাট (ভাগ্য) এবং সকল কর্তৃত্ব তাঁরই … এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার, সাহাবীগণ ও যারা তাঁকে অনুসরণ করে তাদের ওপর।অতঃপর,ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আমাকে এই প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য সংবলিত সপ্তাহটিতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে; তাদের এই সুধারণার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তখন আমার প্রাচ্যের এক আমিরের কথা মনে পড়ল যিনি বইপত্রের প্রতি দারুণ অনুরাগী ছিলেন। তিনি আন্দালুসের এক সাহিত্যিকের লেখা একটি বইয়ের কথা শুনলেন যা সাহিত্যিকদের নিকট প্রশংসিত ও সমাদৃত হয়েছিল। তাই তিনি সেটি পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। কিন্তু যখন সেটি তাঁর হাতে এল, তখন তিনি সেখানে নতুন কিছুই পেলেন না। তখন তিনি কিতাবটি বন্ধ করে দিলেন এবং বললেন: "এ তো আমাদেরই পণ্য যা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে!"।তখন আমি মনে মনে বললাম: হায়! কিসে এই লোকজনকে উদ্বুদ্ধ করল আমাকে এমন একটি বিষয়ে আমন্ত্রণ জানাতে যাতে তারা নিজেরাই পারদর্শী এবং যে বিষয়ে আলোচনা তাদের থেকেই গ্রহণ করা হয়? আমি তাদের কাছে এমন কী নিয়ে যেতে পারি যার প্রকাশ্য ও গোপন দিক এবং যার উৎস ও মূলধারা সম্পর্কে তারা যা জানে আমি তা জানি না? আমি কি তাদেরই পণ্য গ্রহণ করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেব? (হাজার) এর খেজুর গাছগুলো কি ফলহীন হয়ে গিয়েছে যে, আমি (ইরাক) থেকে সেখানে খেজুর বয়ে নিয়ে যাব?
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
وهتف بي هاتف من النفس، يقول: أن لا، ليس الرأي ما تراه، فإن القوم كما تعرفهم أذكى من أن يذهب ذلك عنهم، وليس بنخيل (هجر) إخلاف.إنهم إنما دعوك، لتسمع منهم فتتعلم، فقلت له: إن هذا لهو حق اليقين، وإنه لجميل، فقال: وإذا نطقت لتسمعهم ما عندك، فَجُرْتَ أو أخطأتَ، سدّدوك. فقلت: وإن هذا والله لأجمل.فعزمت ولبيت ولساني يخاطب نفسي بما قال أبو العلاء:خذي رأيي، وحسبك ذاك مني…على ما فيّ من عوج وأمتٍوماذا يبتغي الجلساء مني؟…أرادوا منطقي، وأردت صمتي!وإن رجيتي، إذ أنطق بالذي دعيت له، أن لا أجامل فيغضَى على أمتٍ كان الصمت يستره.
আমার অন্তরাত্মা থেকে এক আহ্বানকারী আমাকে ডেকে বলল: না, তোমার অভিমত সঠিক নয়; কারণ এই লোকগুলো, যাদের তুমি চেনো, তারা এতই বুদ্ধিমান যে তাদের থেকে বিষয়টি অগোচরে থাকবে না, আর ‘হাজর’-এর খেজুর গাছে ফল আসার ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটে না।তারা তোমাকে কেবল এজন্যই ডেকেছে যাতে তুমি তাদের থেকে শ্রবণ করো এবং শিক্ষা গ্রহণ করো। তখন আমি তাকে বললাম: এটিই তো ধ্রুব সত্য এবং তা অত্যন্ত চমৎকার। সে বলল: আর তুমি যখন তোমার কাছে যা আছে তা তাদের শোনানোর জন্য কথা বলবে, তখন যদি তুমি সত্য বিচ্যুত হও অথবা ভুল করো, তবে তারা তোমাকে সংশোধন করে দেবে। আমি বললাম: আল্লাহর কসম, এটি তো আরও বেশি উত্তম।অতঃপর আমি সংকল্প করলাম এবং আহ্বানে সাড়া দিলাম, আর আমার জিহ্বা তখন আমার অন্তরাত্মার সাথে আবু আল-আলা যা বলেছেন তা দিয়ে কথা বলছিল:আমার অভিমত গ্রহণ করো, আর আমার পক্ষ থেকে এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট…আমার মাঝে যে বক্রতা ও অসঙ্গতি রয়েছে তা সত্ত্বেওআর মজলিসের সাথীরা আমার কাছে কী-ই বা চায়?…তারা আমার কথা শুনতে চাইল, আর আমি চেয়েছিলাম আমার নীরবতা!আর আমার প্রত্যাশা হলো—যখন আমি সেই বিষয়ে কথা বলব যার জন্য আমাকে ডাকা হয়েছে—আমি যেন মোসাহেবি বা তোষামোদ না করি, যার ফলে আমার এমন কোনো ত্রুটি বা অসঙ্গতি উপেক্ষা করা হয় যা নীরবতা ঢেকে রাখত।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
محمد بن عبد الوهاب داعية التوحيد والتجديد في العصر الحديث…محمد بن عبد الوهاب.عنوان الأسماء العالية في التاريخ العربي الإسلامي الحديث، كالشمس يذكر غير ملقب، لأنه يسمو على التلقيب بالألقاب، والتحلية بالنعوت.
মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: আধুনিক যুগে তাওহিদ ও সংস্কারের আহ্বানকারী…মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব।আধুনিক আরব-ইসলামী ইতিহাসের উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন নামগুলোর একটি শিরোনাম; সূর্যের মতো তিনি উপাধি ছাড়াই স্মরণীয়, কারণ তিনি বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত হওয়া বা বিশেষণে অলঙ্কৃত হওয়ার ঊর্ধ্বে।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৯)
إنه لا يعرف بها، ولكن هي تعرف به.وإن حلية مثله لفي عطله.والجواهر تذكر أسماء مجردة، ولا توصف؛ لأن معانيها هي أوصافها.ويقال "الشمس" و"القمر" ولا يحليان، لأن حليتهما في كمالهما وتمامهما.ما كلام الأنام في الشمس، إلا … أنها الشمس ليس فيها كلام!وقديما أنكرت طباع العرب أن يعرف المشهور في الأَملاء، فقال قائلهم:"قد عرفناه وهل يخفى القمر"؟وإن من الأسماء نكرات، مغرقة في التنكير، حليت بالألقاب، ورصّت لها ألفاظ التفخيم والتعظيم رصا سطورا بعد سطور، لتُعَرَّف فتُعرف فما زادتها إلا تنكيرا وضمورا وخفاء، ومات أصحابها وما ذكروا.وقد يموت أناس لا تحسّهم … كأنهم من هوان الخطب ما وجدوالقد نزعت الأصالة العربية إلى التجريد، وتعلقت بالجواهر والمعاني، فسمّت عظماءها أيام العزة بأسمائهم المجردة، ولم تغرقهم بالألقاب.
নিশ্চয়ই তিনি সেগুলোর দ্বারা পরিচিত হন না, বরং সেগুলোই তাঁর দ্বারা পরিচিতি পায়।আর তাঁর মতো সত্তার অলংকার হলো তাঁর অলংকারহীনতার মাঝেই।আর মূল নির্যাসসমূহকে নিছক নাম হিসেবেই উল্লেখ করা হয়, সেগুলোর কোনো বিশেষণ দেওয়া হয় না; কারণ সেগুলোর অর্থই হলো তাদের গুণাবলি।বলা হয়ে থাকে "সূর্য" ও "চন্দ্র", কিন্তু সেগুলোকে অতিরিক্ত বিশেষণে ভূষিত করা হয় না, কারণ তাদের সৌন্দর্য তাদের পূর্ণতা ও অখণ্ডতার মধ্যেই নিহিত।সূর্য সম্পর্কে মানুষের বক্তব্যের কী-ই বা আছে, শুধু এইটুকু ছাড়া যে … এটি সূর্য, এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমতের অবকাশ নেই!প্রাচীনকাল থেকেই আরবদের প্রকৃতি সুপরিচিত কোনো বিষয়কে বর্ণনার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করাকে অপছন্দ করেছে, তাই তাদের কবি বলেছেন:"আমরা তাকে চিনেছি, আর চাঁদ কি কখনো গোপন থাকে?"আর কিছু নাম এমন আছে যেগুলো অখ্যাত ও অজ্ঞাতসারে নিমজ্জিত, যেগুলোকে বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে এবং যেগুলোর জন্য সম্মান ও মহিমা প্রকাশক শব্দাবলি একের পর এক সারিবদ্ধভাবে সাজানো হয়েছে যাতে সেগুলো পরিচিতি লাভ করে; কিন্তু তা সেগুলোকে কেবল আরও বেশি অস্পষ্ট, শীর্ণ ও অপ্রকাশিতই করেছে। অবশেষে তাদের অধিকারীরা মৃত্যুবরণ করেছে এবং তারা আর স্মরণে আসেনি।আর এমন কিছু মানুষ মারা যায় যাদের তোমরা টেরও পাও না … যেন তাদের বিষয়ের তুচ্ছতার কারণে তাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।নিশ্চয়ই আরবীয় আভিজাত্য বিমূর্ততার দিকে ধাবিত হয়েছে এবং মূল নির্যাস ও ভাবার্থের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে। তাই তারা তাদের গৌরবের দিনগুলোতে তাদের মহান ব্যক্তিদের কেবল তাদের মূল নামেই অভিহিত করেছে এবং উপাধির আতিশয্যে তাদের ডুবিয়ে দেয়নি।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولما استحالت بعض الطباع، أيام تغلب البغاة الطغاة على ديار العرب والإسلام، استحلى المستدرجون المستكينون ما حلاّهم به المسيطرون من الألقاب البراقة، واستعذبوا ما أذاقوهم منحلاوات الرتب المعلية المدنية.وفي سمات أيام العزة جمال وجلال فطريان، عليهما من الصدق والصفاء رونق ورواء، وبالمعاني تشاد المعالي ويرفع البنيان..فلا عليّ أن أسمي "محمد بن عبد الوهاب" ولا ألقبه.إنه معنى كريم.. استقر في الضمائر، وليس جسدا تطوف حوله الأجساد. في حروف اسمه القلائل الصغار، خصال عبقرية كبار..ائتلفت فأنشأت مزاجا فردا، عجيبا في أخذه وعطائه.ذهنية عبقرية، في تكوين سوي، من طراز خارق للمألوف قياسا إلى العادة والزمان والمكان، وفي حاقِّ الجبلة والتكوين.وقوة نفسية وثقى، متوثبة ومتحدة.. تفرض الهزيمة على القوى المضادة فرضا، وتثبت ثبات طمّاح الذوائب الأشم بوجه الأعاصير، تتناوح من عن يمينه وشماله، ومن أمامه ومن خلفه، تريد زحزحته، فترتدّ عنه وتبيد، وهو (هو) غير مضارّ.
যখন আরব ও ইসলামি ভূখণ্ডে বিদ্রোহী জালেমদের আধিপত্যের দিনে কিছু স্বভাব পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল, তখন প্রলোভিত ও নতিস্বীকারকারীরা আধিপত্যবাদীদের দেওয়া চাকচিক্যময় উপাধিগুলো মিষ্ট মনে করতে শুরু করেছিল এবং তারা তাদের আস্বাদন করানো উচ্চতর নাগরিক পদমর্যাদার মাধুর্য উপভোগ করেছিল।সম্মানের দিনগুলোর বৈশিষ্ট্যে রয়েছে এক সহজাত সৌন্দর্য ও মহিমা, যার ওপর সত্য ও নির্মলতার জৌলুস ও উজ্জ্বলতা বিদ্যমান; আর মহান আদর্শের মাধ্যমেই উচ্চমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সৌধ সুউচ্চ হয়।সুতরাং আমি যদি "মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব"কে কেবল নামেই ডাকি এবং তাঁকে কোনো উপাধি না দিই, তবে তাতে আমার কোনো দায় নেই।তিনি এক মহান আদর্শ... যা অন্তরাত্মায় স্থির হয়েছে, কোনো দেহ নন যার চারপাশে দেহসমূহ তওয়াফ করবে। তাঁর নামের অল্প কয়েকটি অক্ষরের মাঝে রয়েছে সুমহান প্রতিভার গুণাবলি... যা সমন্বিত হয়ে এক অনন্য মেজাজ তৈরি করেছে, যা গ্রহণ ও বর্জনে বিস্ময়কর।এক প্রতিভাসম্পন্ন মেধা, সুঠাম গঠনশৈলী সম্পন্ন, যা প্রথা, কাল ও স্থানের তুলনায় প্রচলিত রীতির ঊর্ধ্বে এবং মজ্জাগত স্বভাব ও কাঠামোর দিক থেকে অনন্য।এবং এক সুদৃঢ় মানসিক শক্তি, যা তেজোদীপ্ত ও সংহত... যা বিরোধী শক্তিগুলোর ওপর পরাজয় অনিবার্য করে তোলে এবং ঘূর্ণিঝড়ের মুখে সুউচ্চ পর্বতশৃঙ্গের ন্যায় অটল থাকে; যা তাঁর ডানে-বামে, সামনে-পেছনে আঘাত হানে তাঁকে বিচ্যুত করার জন্য, কিন্তু তা তাঁর থেকে প্রতিহত হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়, আর তিনি (তিনিই) থাকেন অক্ষত।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقيم خلقية صافية صفاء ألق الضياء في يوم الصحو البهيج، ليس دونه حجاب.. ترفعت على شهوات النفس، وتحلت بالإيثار، يصرّفها عقل درّاك وقلب يقظ، وترفدها الركانة والزكانة، والتصور الشمولي الذي يخرج من دائرة الفكر المحدود ليبسط أبعاده على الآفاق.وقد يكون الإنسان صاحب ذهنية عبقرية، ولكنه لا يملك القوة النفسية المتوثبة المتحدية. فيكون منه صاحب تصورات فكرية، وليس صاحب قوة فاعلة، وقد يغني في مجال الفكر، ولا يغني في مجال الفعل.وقد يكون صاحب قوة نفسية، ولكنه لا يملك الذهنية العبقرية التي تصرف القوة على مسار السداد والتوفيق، فتتعطل قوته، فلا يأتي بأمر ذي بال.وقد يكون صاحب ذهنية عبقرية وقوة نفسية متوثبة، ولكنه يفتقد القيم الخلقية الرفيعة، فلا تجديه خاصيّتاه، أو يفتقد العقل الشمولي، فيحبس جهده على أفق خاص يدور في دائرته الضيقة، محدودا بحدودها، لا يخرج منها إلى ما وراءها من آفاق وأبعاد.. فلا يكون منه أمر كبير.ولقد جمع الله في (محمد بن عبد الوهاب) هذه الخصال جمعاء، متمازجة متحابة، ومترادفة، ليجيء منه الإنسان العظيم، الذي يصنع الصنع العظيم.
এবং নির্মল নৈতিক মূল্যবোধ, যা এক মেঘমুক্ত প্রফুল্ল দিনের দীপ্ত উজ্জ্বলতার ন্যায় স্বচ্ছ, যার সম্মুখে কোনো আবরণ নেই। যা নফসের কামনা-বাসনা থেকে ঊর্ধ্বে এবং পরার্থপরতায় বিভূষিত। একে পরিচালিত করে এক প্রখর বোধশক্তিসম্পন্ন বুদ্ধি ও জাগ্রত হৃদয় এবং একে সহায়তা করে গাম্ভীর্য ও প্রখর মেধা, আর সেই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি যা সীমাবদ্ধ চিন্তার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে দিগন্ত বিস্তৃত করে।হতে পারে কোনো ব্যক্তি এক প্রতিভাধর মেধার অধিকারী, কিন্তু তার সেই উদ্যমী ও হার না মানা মানসিক শক্তি নেই। ফলে সে হয় কেবল কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবনার অধিকারী, কার্যকরী শক্তির অধিকারী নয়। সে হয়তো চিন্তার জগতে অবদান রাখতে পারে, কিন্তু কর্মের ময়দানে পারে না।আবার এমনও হতে পারে যে, কেউ মানসিক শক্তির অধিকারী, কিন্তু তার সেই অসাধারণ ধীশক্তি নেই যা এই শক্তিকে সঠিক পথ ও সাফল্যের দিকে পরিচালিত করবে। ফলে তার শক্তি অকেজো হয়ে পড়ে এবং সে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করে যেতে পারে না।আবার এমনও হতে পারে যে, কেউ প্রতিভাধর মেধা ও উদ্যমী মানসিক শক্তির অধিকারী, কিন্তু তার উচ্চতর নৈতিক মূল্যবোধের অভাব রয়েছে। ফলে তার এই গুণদ্বয় কোনো কাজে আসে না। অথবা তার মাঝে সামগ্রিক চিন্তাশক্তির অভাব থাকে, ফলে সে তার প্রচেষ্টাকে একটি বিশেষ গণ্ডির মাঝে সীমাবদ্ধ করে ফেলে এবং তার সংকীর্ণ বৃত্তেই আবর্তিত হয়। তার সেই সীমাবদ্ধতার কারণে সে এর বাইরে কোনো দিগন্ত বা বিস্তৃতি লাভ করতে পারে না। ফলে তার দ্বারা বড় কোনো মহৎ কাজ সম্পাদিত হয় না।আর আল্লাহ তাআলা (মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব)-এর মধ্যে এই সমস্ত গুণের পূর্ণ সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন; যা ছিল সুসমন্বিত, সুসংগত ও পরিপূরক। যাতে করে তাঁর মাধ্যমে এমন এক মহান ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটে, যিনি এক মহান কীর্তি স্থাপন করবেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
وهنا يجيء السؤال الكبير:ما الصنع العظيم الذي صنعه (محمد بن عبد الوهاب) ؟الجواب عن هذا السؤال الكبير، يصوغه واقع التاريخ وحقائقه، ولست أنا من يصوغه.واقع التاريخ، يقرر في صراحة ووضوح أنه الرجل الذي أيقظ العملاق العربي المسلم من سبات في جزيرة العرب دام دهرا، وأشعره وجوده الحي الفاعل، وأعاد إليه دينه الصحيح، ودولته العزيزة المؤمنة، ودفعه إلى الحياة الفاعلة ليعيد سيرة الصدر الأول عزائم وعظائم وفتوحا.ويقرر غير منازع أنه رجل التوحيد والوحدة، والثائر الأكبر الذي رفض التفرق في الدين رفضا حاسما، فلم يكن من جنس من يأتون بالدعوات ليضيفوا إلى أرقام المذاهب والطرائق المزق رقما جديدا، يزيد العدد ويكثره، ولكنه أوجب إلغاء هذه الأرقام، ودعا لتحقيق "الرقم الفرد" وحده: الرقم الذي لا يقبل التجزئة كالجوهر الفرد، ألا وهو (الإسلام) .والإسلام، طريقه واحدة، لا تتفرع، ولا تتعدد.وقد جاءت البينات كفلق الصباح بأن هذا الرقم "الفرد" هو الذي استقام به أمر العرب، وكوّن الواحدة الكبرى،
এখানেই সেই বড় প্রশ্নটি আসে:(মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব) কী মহান কাজ সম্পন্ন করেছিলেন?এই বড় প্রশ্নের উত্তর ইতিহাসের বাস্তবতা ও এর সত্যসমূহ নির্ধারণ করে, আমি তা নির্ধারণকারী নই।ইতিহাসের বাস্তবতা অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রাঞ্জলভাবে সাব্যস্ত করে যে, তিনি সেই ব্যক্তি যিনি আরব উপদ্বীপে দীর্ঘকাল ধরে সুপ্ত থাকা মুসলিম আরব মহাশক্তিকে জাগ্রত করেছিলেন। তিনি তাকে তার জীবন্ত ও কার্যকর অস্তিত্বের অনুভূতি দান করেছিলেন এবং তার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তার সঠিক দ্বীন ও তার সম্মানিত মুমিন রাষ্ট্রকে। তিনি তাকে সক্রিয় জীবনের দিকে ধাবিত করেছিলেন, যাতে করে সে দৃঢ় সংকল্প, মহত্ত্ব ও বিজয়ের মাধ্যমে ইসলামের প্রথম যুগের ইতিহাস পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারে।আর এটি অবিসংবাদিতভাবে সাব্যস্ত যে, তিনি তাওহীদ ও ঐক্যের পতাকাবাহী পুরুষ এবং সেই মহান বিপ্লবী যিনি দ্বীনের ক্ষেত্রে বিভক্তিকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি সেই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা নতুন দাওয়াত নিয়ে এসে পূর্বের ছিন্নভিন্ন মাযহাব ও তরীকাগুলোর তালিকার সাথে নতুন কোনো সংখ্যা যোগ করে সংখ্যাবৃদ্ধি করেন; বরং তিনি এই সংখ্যাগুলো বাতিল করা আবশ্যক করেছিলেন এবং একমাত্র "একক সংখ্যা" অর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন: এমন সংখ্যা যা অবিভাজ্য একক সত্তার মতো বিভাজন গ্রহণ করে না, আর তা হলো (ইসলাম)।আর ইসলামের পথ তো একটাই, যা শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয় না এবং বহুবিধ হয় না।আর সকালের আলোর মতো সুস্পষ্ট প্রমাণাদি উপস্থিত হয়েছে যে, এই "একক সংখ্যা"র মাধ্যমেই আরবদের বিষয়াদি সুসংহত হয়েছিল এবং এক সুমহান ঐক্য গঠিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والدولة العظمى وقد انضوى تحت لوائها الخفاق أهل الأرض من كل جنس مال بين مشرق للشمس ومغيب، متآخين في الله، متساوين في الحقوق، لا فضل فيها لأحد على أحد إلا بتقواه، متعاونين على بناء حضارة أخلاقية جديدة تجمع إلى مطالب المادة مستشرفات الروح.فلما أفسد التوحيد، وزالت الوحدة، ذهب التفرق في العقيدة بهذا المجد العظيم..فجاء (محمد بن عبد الوهاب) داعيا للعودة إلى الأصل الذي قام عليه ذلك المجد وعلا سمكه وعز وطال، وقد حقق ما أرداه في جزيرة العرب، وأشاع اليقظة في العالم الإسلامي، وكان لفكره في كل صقع أثر مشهود.فهذا هو الصنع العظيم، الذي صنعه الرجل العظيم.***جاء (محمد بن عبد الوهاب) على فترة من المصلحين الكبار أصحاب الأصوات الجهيرة في الإصلاح والدعوة إلى التوحيد والوحدة، وحين ظنت الظنون بالعرب والمسلمين، إذ اكتنف الظلام جِواء العالم الإسلامي، وانبهمت المطامع، وركدت ريع العرب في ديارهم، وتفرقت كلمة المسلمين،
এবং সেই মহান রাষ্ট্র, যার উড্ডীন পতাকাতলে সূর্যের উদয়স্থল ও অস্তাচলের মধ্যবর্তী সকল জাতির পৃথিবীর অধিবাসীরা সমবেত হয়েছিল; যারা আল্লাহর জন্য ছিল পরস্পর ভাই-ভাই, অধিকারে সমমর্যাদাবান, যেখানে তাকওয়া ছাড়া একজনের ওপর অন্যজনের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব ছিল না। তারা এমন এক নতুন নৈতিক সভ্যতা বিনির্মাণে পরস্পরকে সহযোগিতা করত, যা বস্তুগত চাহিদার সাথে আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষার সমন্বয় ঘটাত।অতঃপর যখন তাওহীদকে কলুষিত করা হলো এবং ঐক্য বিলীন হলো, তখন আকিদাগত অনৈক্য এই সুমহান গৌরবকে ধূলিসাৎ করে দিল। ফলে (মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব) সেই মূল উৎসের দিকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান নিয়ে আসলেন যার ওপর ভিত্তি করে সেই গৌরব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সুউচ্চ ও সুসংহত হয়েছিল। তিনি আরব উপদ্বীপে তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করেছিলেন এবং মুসলিম বিশ্বে জাগরণ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। প্রতিটি জনপদেই তাঁর চিন্তাধারার এক দৃশ্যমান প্রভাব ছিল।এটিই হলো সেই মহৎ কীর্তি, যা এই মহান ব্যক্তি সম্পাদন করেছিলেন।***(মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব) এমন এক সময়ে আবির্ভূত হলেন যখন সংস্কার এবং তাওহীদ ও ঐক্যের দাওয়াতের ক্ষেত্রে সুউচ্চ কণ্ঠস্বর বিশিষ্ট মহান সংস্কারকদের এক দীর্ঘ বিরতি চলছিল। সেই সময়ে যখন আরব ও মুসলিমদের সম্পর্কে নানা সংশয় ও ধারণা করা হচ্ছিল, যখন মুসলিম বিশ্বের দিগন্তে অন্ধকার ছেয়ে গিয়েছিল, লক্ষ্যসমূহ অস্পষ্ট হয়ে পড়েছিল, নিজ ভূখণ্ডে আরবদের প্রভাব স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল এবং মুসলিমদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ضعفوا وهان شأنهم على الأقوياء، فطمع فيهم الطامعون من كل جنس، وبغت عليهم الأمم حتى الشراذم الصهيونية.وكان إشراق النور الجديد من قلب هذا الظلام، من الأرض القفرة، عجبا من العجب، ومثار دهشة الغرب خاصة، إذ كانت دوله بعد عصر (الرينصانص) والثورة الصناعية. تعد العدد، وتتآمر فيما بينها على العالم الإسلامي، وتتحالف للسيطرة على ينابيع ثرواته العظيمة..تغني بها فقرها.وكان قد استقر عند هذه الدول أن العالم الإسلامي قد صار جثة هامدة لا حراك بها، فلا بد من أن تكون هي وارثة أرضه وكنوزه ومعادنه وخيراته.فلما سمعت صيحة الإسلام الجديدة المدوية تنطلق من بين رمال الجزيرة دهشت، فأسرعت تراجع ظنونها الخائبة، وارتدت إلى أذهانها صيحة الإسلام الأولى وانبعاثه من هذه الجزيرة العربية نفسها كالأتيّ يتحدر دفّاقا من مخارم الجبال إلى أطراف المعمورة فتحا وإنشاءا وإعمارا، لا أجلّ منه ولا أروع.فانتصبت لهذا الأمر الجديد..ترصد أخباره، وتتعرف موارده ومصادره، وتتبين مبادئه وغاياته، عسى أن يكون فجره كاذبا، وأن يعود نشورة موتا.
তারা দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং শক্তিমানদের নিকট তাদের মর্যাদা তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল, ফলে সকল শ্রেণির লোভীরা তাদের প্রতি লালায়িত হয়ে উঠল এবং জাতিসমূহ তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করল, এমনকি ক্ষুদ্র জায়নবাদী গোষ্ঠীগুলোও।এই অন্ধকারের বুক থেকে, এই জনমানবহীন প্রান্তর থেকে নতুন নূরের উদ্ভাসন ছিল এক পরম বিস্ময় এবং বিশেষভাবে পশ্চিমাদের জন্য হতবাক হওয়ার বিষয়; কারণ রেনেসাঁ এবং শিল্পবিপ্লব পরবর্তী সময়কালে তাদের রাষ্ট্রগুলো সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল, মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে পরস্পরের মধ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছিল এবং তাদের বিপুল সম্পদভাণ্ডারের উৎসগুলো দখল করার জন্য জোটবদ্ধ হচ্ছিল, যাতে তারা নিজেদের দারিদ্র্য দূর করতে পারে।এই রাষ্ট্রগুলোর নিকট এটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে, মুসলিম বিশ্ব একটি নিথর ও প্রাণহীন লাশে পরিণত হয়েছে যার কোনো নড়াচড়া নেই; তাই তাদেরকেই এই ভূখণ্ড, এর ধনভাণ্ডার, খনিজ সম্পদ এবং প্রাচুর্যের উত্তরাধিকারী হতে হবে।অতঃপর যখন তারা জাজিরাতুল আরবের বালুরাশির মধ্য থেকে ইসলামের নতুন ও গগনবিদারী ধ্বনি উত্থিত হতে শুনল, তখন তারা বিস্মিত হয়ে গেল এবং দ্রুত তাদের ব্যর্থ ধারণাগুলো পর্যালোচনা করতে শুরু করল। তাদের স্মৃতিপটে ভেসে উঠল ইসলামের সেই আদি আহ্বান এবং এই আরব উপদ্বীপ থেকেই তার সেই প্রথম পুনর্জাগরণ, যা পাহাড়ের গিরিপথ থেকে প্রবল বেগে নেমে আসা বন্যার মতো পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল বিজয়, নতুন সৃষ্টি ও বিনির্মাণের বার্তা নিয়ে, যার চেয়ে মহান ও বিস্ময়কর আর কিছুই ছিল না।ফলে তারা এই নতুন বিষয়ের মোকাবিলায় তৎপর হয়ে উঠল... এর সংবাদ পর্যবেক্ষণ করতে লাগল, এর উৎস ও মূল শনাক্ত করতে শুরু করল এবং এর মূলনীতি ও লক্ষ্যসমূহ স্পষ্ট করতে চাইল; এই আশায় যে—হয়তো এর এই উষালগ্ন ক্ষণস্থায়ী প্রমাণিত হবে এবং এর এই পুনরুত্থান পুনরায় মৃত্যুতে পর্যবসিত হবে।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
حتى إذا كذب الواقع آمالها، طفقت تحاول إبطاله، فأوحت إلى وسائل إعلامها أن تلقي الشبهات عليه، وتشوه صورته، فرمته ورمت الناهض به بالعضائه، وخلّطت ما شاءت لها الأهواء أن تخلط مما يعرفه العارفون وما بنا حاجة إلى ترديده، وقلّصت الشأن كله حين وضعت هذا الأمر الجديد العظيم في بؤرة الطائفية التي تزيد أقام الطوائف رقما جديدا، أي عكست الحال، فنبزته بالوهابية "wahhabism" وأذاعت هذا النبز الأنباء الجوائب، فتلقفته الأسماع، وردّدته الألسنة، ودوّنته الصحف والمجلات والكتب ودوائر المعارف الكبرى بكل لسان.وراق الدولة العثمانية هذا النبز، فأجرته على ألسنة الدراويش ومرتزقة عاطم التكايا والزوايا من تنبلة السلطان، وأفرطت في إلقاء الشبهات عليه وتشويهه، ولا سيما بعد استفحال شأنه، وقيام الدولة العربية الإسلامية في جزيرة العرب على أساسه وقواعده، فلم يكن نبز أشنع من نبز الوهابية في طول ممالكها وعرضها، ودام ذلك أمدا، ووعينا إبان الطفولة وهو يقرن في بلادنا بما يسمونه "الفرمصونية" و"البرتكيشية" و"المسقوفية"، ويعنون "الماسونية" لكفرها، و"البرتغالية" لسوء أفعاله البرتغال إبان احتلالهم بلاد الخليج العربي
অবশেষে যখন বাস্তবতা তাদের আশাকে নস্যাৎ করে দিল, তখন তারা একে বাতিল করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত হলো। তারা তাদের প্রচারমাধ্যমগুলোকে প্ররোচিত করল যাতে এর ওপর সংশয় নিক্ষেপ করা হয় এবং এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়। ফলে তারা এই দাওয়াত এবং এর পতাকাবাহীদের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করল এবং তাদের প্রবৃত্তি যা চাইল তাই তারা এতে মিশ্রিত করল—যে সম্পর্কে জ্ঞানীরা অবগত আছেন এবং যা এখানে পুনরুক্তির প্রয়োজন নেই। তারা এই মহান নতুন বিষয়টি যখন সাম্প্রদায়িকতার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করল, তখন পুরো বিষয়টিকেই তারা সংকুচিত করে দিল; যা বিভিন্ন উপদলের সংখ্যার সাথে কেবল একটি নতুন সংখ্যাই যোগ করল। অর্থাৎ, তারা প্রকৃত অবস্থাকে উল্টে দিল এবং একে 'ওয়াহাবিবাদ' (wahhabism) বলে আখ্যায়িত করল। দেশ-বিদেশের সংবাদ সংস্থাগুলো এই গালি প্রচার করল; ফলে কানসমূহ তা লুফে নিল, জিহ্বাগুলো তা আওড়াতে থাকল এবং সংবাদপত্র, সাময়িকী, বইপত্র ও বড় বড় বিশ্বকোষগুলো সমস্ত ভাষায় তা লিপিবদ্ধ করল।উসমানীয় রাষ্ট্র এই বিদ্রূপাত্মক উপাধিটিকে বেশ পছন্দ করল এবং তা দরবেশদের জিহ্বায় এবং সুলতানের পক্ষ থেকে নির্ধারিত তেকিয়া ও জাউইয়াগুলোর রাজকীয় অনুদানভোগী অলসদের মাঝে প্রচলিত করে দিল। তারা এর ওপর সংশয়ারোপ এবং এর বিকৃতি সাধনে সীমালঙ্ঘন করল; বিশেষ করে এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার পর এবং এর মূলনীতি ও নিয়মের ওপর ভিত্তি করে আরব উপদ্বীপে ইসলামি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর। ফলে তাদের বিশাল সাম্রাজ্যের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ জুড়ে 'ওয়াহাবিবাদ' অপেক্ষা ঘৃণ্য কোনো গালি আর ছিল না। দীর্ঘকাল এটি অব্যাহত ছিল। এমনকি শৈশবে আমরা যখন সচেতন হলাম, তখন দেখলাম যে আমাদের দেশে একে তারা 'ফারমাসুনিয়া', 'ব্রাতকিশিয়া' ও 'মাসকুফিয়া'র সাথে যুক্ত করত। 'ফারমাসুনিয়া' দ্বারা তারা এর কুফরির কারণে 'ম্যাসোনারি' বুঝাত, আর 'পর্তুগিজ' (ব্রাতকিশিয়া) বুঝাত আরব উপসাগরীয় দেশগুলো দখল করার সময় পর্তুগিজদের জঘন্য কর্মকাণ্ডের সাথে তুলনা করে।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وعمان وغيرها، و"االروس" لحروبهم الدولة الإسلامية ومآتيهم المنكرة في هذه الحروب!.ذلك فعل السياسة، وفي مثله يستوي الطامعون من كل جنس وملة عند تساوي المقاصد والأغراض، والسياسة الفاسدة لا ضمير لها ولا خلق، ولطالما استعاذ بالله العقلاء من (ساس) ومشتقاته، ومن الجهل جنديةِ الأعمى البصيرة الذي يلقف ما تأفكه السياسة، ويرجف بما تلقيه إليه، ليذيعه غير عالم بالمقاصد والنيات والغايات.لقد نظرت السياسات إلى هذا الأمر الجديد في جزيرة العرب بمنظارها الخاص، ورصدته بعينها اليسرى العوراء، لا بعين الحقيقة الصحيحة، فصورته بما يحقق مقاصدها وأغراضها، ومن وراء ذلك يراد الذهاب بريح العرب، وهم مادة الإسلام.وكذلك وقف رؤساء بعض العصبيات، وهي مختلفة الألوان والمشارب، موقف هذه السياسات من هذا الأمر الجديد..إنهم تنكّروا له أشد التنكر، وأوحوا إلى أتباعهم أن يتنكروا له كذلك، ويذيعوا قول السوء عنه، فقالوا فيه، وهو النور الذي يهديهم، ما لم يقله (مالك) في الخمر، فكانوا أعوانا للسياسة في تشويهه وحربه، وقد امتزج في فكرهم
ওমান ও অন্যান্য অঞ্চল, এবং ইসলামী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ এবং এই যুদ্ধগুলোতে তাদের জঘন্য কর্মকাণ্ডের জন্য "রুশরা"!.এটি রাজনীতির কারসাজি, এবং এ জাতীয় বিষয়ে যখন উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অভিন্ন হয়, তখন সকল জাতি ও ধর্মের লোভীরা এক কাতারে এসে দাঁড়ায়। কলুষিত রাজনীতির কোনো বিবেক নেই এবং কোনো চরিত্র নেই। দীর্ঘকাল ধরে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা 'রাজনীতি' এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়াদি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। আর মূর্খতা হলো সেই দূরদৃষ্টিহীন ব্যক্তির অন্ধ আনুগত্য, যে রাজনীতির উদ্ভাবিত মিথ্যাগুলো লুফে নেয় এবং তার সামনে যা ছুড়ে দেওয়া হয় তা নিয়ে শোরগোল করে, যাতে সে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য, নিয়ত ও গন্তব্য সম্পর্কে অজ্ঞাত থেকেই তা প্রচার করতে থাকে।বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি আরব উপদ্বীপের এই নতুন বিষয়টি তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেছে এবং একে তাদের বাম কানা চোখ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছে, সত্যের সঠিক দৃষ্টিতে নয়। ফলে তারা এটিকে তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হাসিলের উপযোগী করে চিত্রায়িত করেছে। আর এর নেপথ্যে আরবদের শৌর্য-বীর্য ধূলিসাৎ করার হীন উদ্দেশ্য কাজ করেছে, অথচ আরবরাই হলো ইসলামের মূল উপাদান।অনুরূপভাবে বিভিন্ন গোত্রীয় সংকীর্ণমনা ও দলাদলির নেতারা—যাদের আদর্শ ও চিন্তাধারা ভিন্ন ভিন্ন—তারাও এই নতুন বিষয়ের প্রতি এই রাজনীতির অনুরূপ অবস্থান গ্রহণ করেছে।তারা একে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাদের অনুসারীদেরও তা প্রত্যাখ্যান করতে ও এর বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে প্ররোচিত করেছে। তারা এই নূরের (আলোর) ব্যাপারে—যা তাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করতে পারে—এমন সব জঘন্য কথা বলেছে যা ইমাম মালিক মদের ব্যাপারেও বলেননি। এভাবে তারা একে বিকৃত করার ও এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে রাজনীতির দোসর হিসেবে কাজ করেছে। তাদের চিন্তাধারায় মিশে গিয়েছিল...
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الحرص على الموروث من الآباء بالخوف من زوال زعاماتهم، وسقوط الامتيازات التي يتمتعون بها، هم وحدهم دون الأتباع الجهلاء المساكين المستضعفين المنقادين للرؤساء بأزمة الشعبذات، وبالشعبذات يُسحر الجهلاء غير واعين ولا دارين.شنشنة معهودة في مجتمعات الناس كافة، تقترن بانغلاق الأذهان، وتنطوي على حفظ المصالح والامتيازات الخاصة، ومنها ينشأ الصراع الدائم في كل زمان ومكان، وعند كل جيل وقبيل، في شرق وفي غرب، ولن تجد لسنة الله في خلقه تبديلا.وأعظم هذا الصراع في التاريخ العربي، هو ذلك الصراع الرهيب بين الإسلام والوثنية، وفي الإسلام الحياة والنور، وفي الوثنية الضمور والظلام.والغلب في نواميس التكوين، إنما يكون للأصلح دائما مع طول الجهاد والصبر، وهو قانون لا يتخلف إلا من علة غير منظورة.وواضح أن الطمع والحرص على احتواء النعم والامتيازات يلقيان في روع أصحاب السياسات والامتيازات ما ليس له وجود في الواقع، وهم حين يدعون إلى الإصلاح في أي شأن
পিতৃপুরুষদের থেকে প্রাপ্ত উত্তরাধিকার রক্ষার এই ব্যাকুলতা মূলত নিজেদের নেতৃত্ব হারানো এবং ভোগকৃত সুযোগ-সুবিধার পতনের আশঙ্কা থেকে উৎসারিত। এটি কেবল তাদেরই বৈশিষ্ট্য, সেই সব অজ্ঞ, নিঃস্ব, দুর্বল অনুসারীদের নয় যারা নেতাদের দ্বারা ভেলকিবাজির লাগামে আবদ্ধ হয়ে পরিচালিত হয়। এই ভেলকিবাজির মাধ্যমেই অজ্ঞদের মোহগ্রস্ত করা হয়, অথচ তারা সে সম্পর্কে অসচেতন ও অনবহিত।এটি সকল মানবসমাজে এক চিরাচরিত প্রথা, যা সংকীর্ণমনা চিন্তাধারার সাথে যুক্ত এবং বিশেষ স্বার্থ ও সুযোগ-সুবিধা সংরক্ষণের বিষয়টিকে ধারণ করে। এ থেকেই প্রতিটি যুগে ও স্থানে, প্রতিটি প্রজন্মে ও জনপদে, প্রাচ্যে ও পাশ্চাত্যে এক চিরন্তন সংঘাতের উৎপত্তি ঘটে। আর আপনি আল্লাহর সৃষ্টিগত রীতিতে কোনো পরিবর্তন পাবেন না।আরব ইতিহাসে এই সংঘাতের সবচেয়ে মহত্তম ও ভয়াবহ রূপটি ছিল ইসলাম ও পৌত্তলিকতার মধ্যকার সংগ্রাম। ইসলামের মাঝে রয়েছে জীবন ও জ্যোতি, আর পৌত্তলিকতার মাঝে রয়েছে ক্ষয় ও অন্ধকার।বিশ্বসৃষ্টির অমোঘ নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ধৈর্যের পর শ্রেষ্ঠত্ব সর্বদা যোগ্যতমেরই অর্জিত হয়। এটি এমন এক নিয়ম যার ব্যত্যয় ঘটে না, কেবল কোনো অদৃশ্য কারণ ব্যতীত।এটি সুস্পষ্ট যে, নিয়ামত ও সুযোগ-সুবিধা কুক্ষিগত করার লোভ ও লালসা রাজনীতি ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণির অন্তরে এমন কিছু অলীক ধারণার জন্ম দেয় যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। আর তারা যখন কোনো বিষয়ে সংস্কারের ডাক দেয়...
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
من شؤون الحياة، يتوهمون الخسران وضياع المكانات، وفقدان الامتيازت، فيقاومون ويقاتلون بغير عقل.ولننظر ماذا خسر رؤساء المشركين من العرب حين تركوا شركهم، ودخلوا في الإسلام..ألم ينتفعوا به هم والفقراء المستضعفون من أتباعهم في دنيا وفي دين؟ ألم يصبح خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام؟إن الحقيقة الأزلية الخالدة في نواميس الحياة، قد تصيبها السياسات والعصبيات بشيء من الضر، ولكنها في جميع الأحوال تعجز عن طمسها أو إزالة معالمها.. ثم هي، وأعني السياسات والعصبيات، لا تملك الفصل في شأنها، وليس ما تصوره تزيينا أو تقبيحا هو واقع الحقائق، وإنما يفصل فيها العلم وحده بتجرده المطلق ونزاهته وموضوعيته الخالصة من الشوائب والأهواء. إنه يعنيه من الأشياء في كل شان يعرض له، تعرّف الحقائق في عريها وسفورها كيفما كانت الحال، وفي أي صورة تكون عليها، وإذا كانت السياسات والعصبيات تبني أحكامها على الأهواء والأغراض الخاصة، لا تحيد عنها، فإن العلم يبني تصوراته وأحكامه على البيانات غير متحيز ولا متحرف، وهو يستمد هذه البينات من الوثائق الأصلية الصحيحة مما يدوّنه الإنسان بنفسه خاصة، لأنها فصل الخطاب
জীবনের নানা বিষয় নিয়ে তারা ক্ষতি, সামাজিক মর্যাদা হারানো এবং সুযোগ-সুবিধা বিলুপ্ত হওয়ার অমূলক ভয় পোষণ করে; ফলে তারা বিচারবুদ্ধিহীনভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে ও লড়াই করে।আর আমরা একটু দেখি, আরবের মুশরিক নেতারা যখন তাদের শিরক ত্যাগ করে ইসলামে দাখিল হলো, তখন তারা কী হারিয়েছিল? তারা নিজেরা এবং তাদের অনুসারী দুর্বল দরিদ্ররা কি এর দ্বারা দুনিয়া ও দ্বীন উভয় ক্ষেত্রে উপকৃত হয়নি? জাহেলিয়াত যুগে তাদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠ ছিল, তারাই কি ইসলামেও শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য হয়নি?নিশ্চয়ই জীবনের অমোঘ নিয়মে বিদ্যমান চিরন্তন ও শাশ্বত সত্য রাজনীতি এবং সংকীর্ণ গোষ্ঠীপ্রীতির দ্বারা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই এগুলো সেই সত্যকে মিটিয়ে দিতে বা তার চিহ্ন মুছে ফেলতে সক্ষম হয় না। অধিকন্তু, এই রাজনীতি ও গোষ্ঠীপ্রীতি সত্যের বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা দেওয়ার অধিকার রাখে না। তারা কোনো বিষয়কে সুন্দর বা কুৎসিত রূপে চিত্রিত করলেই তা প্রকৃত সত্য হয়ে যায় না; বরং কেবল জ্ঞানই তার পরম নিরপেক্ষতা, সততা এবং কলুষতা ও প্রবৃত্তিহীন বস্তুনিষ্ঠতার মাধ্যমে এ বিষয়ে ফয়সালা প্রদান করে। জ্ঞানের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি বিষয়ের প্রকৃত রূপটি তার উন্মুক্ত ও অনাবৃত অবস্থায় উদ্ঘাটন করা, পরিস্থিতি বা রূপ যাই হোক না কেন। রাজনীতি ও গোষ্ঠীপ্রীতি যদি প্রবৃত্তি ও হীন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং তা থেকে বিচ্যুত না হয়, তবে জ্ঞান তার ধারণা ও সিদ্ধান্তগুলো গড়ে তোলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে, কোনো প্রকার পক্ষপাত বা বিকৃতি ছাড়াই। আর জ্ঞান এই প্রমাণাদি সংগ্রহ করে মানুষের স্বহস্তে লিপিবদ্ধ করা সঠিক ও মূল নথিপত্র থেকে, কারণ তা-ই হলো চূড়ান্ত ফয়সালা।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والحجة البالغة. ومن هذه الوثائق الأصلية ونحوها يستنبط العلم التصورات، ويهتدي إلى مقاطع الحق فيوقن، ثم يرسل أحكامه التي تستؤنف ولا يميز كما يقول القضاة.***على هدي من هذا الفكر، التمست مقاطع الحق، في هذا الأمر الجديد وصاحبه، من معادنها، غير متأثر بسياسة من السياسات، أو عصبية من العصبيات.وبين كل أمر وصاحبه، تقوم علاقة وآصرة، وتعرّف صاحب الأمر يتقدم تعرف أمره؛ لأنه هو مصدره، وإليه يؤول.وقد تعرفت سيرة (محمد بن عبد الوهاب) في كتب المقربين إليه، والقريبين منه زمانا ومكانا، فهم أعرف به، ولم ألتمس شيئا من أمره في كتب مؤرخيه الثانويين ونحوهم.وتعرفت دعوته، والفكر الذي طبعت به، من مؤلفاته، وهي أنواع..سيرة نبوية، وتفسير، وحديث، وأحكام، وتوحيد، ومما هو أدل منها على طبيعة فكره واستقلال رأيه، أعني فتاواه ورسائله ومجادلاته ومراسلاته مع العلماء والرؤساء في جزيرة العرب وما وراء جزيرة العرب في شأن
এবং অকাট্য দলিল। এই সমস্ত মূল দলিল ও এ জাতীয় উৎসসমূহ থেকে জ্ঞান তার ধারণাগুলো আহরণ করে এবং সত্যের সন্ধিস্থলে উপনীত হয়, ফলে সে সুনিশ্চিত বিশ্বাস লাভ করে। এরপর সে তার সিদ্ধান্তগুলো জারি করে যা চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয় এবং যেগুলোর ওপর আর কোনো আপিল চলে না, যেমনটি বিচারকগণ বলে থাকেন।***এই চিন্তাধারার আলোকে, আমি এই নতুন বিষয় ও এর প্রবক্তা সম্পর্কে সত্যের স্বরূপটি তার মূল উৎস থেকে অনুসন্ধান করেছি, কোনো প্রকার রাজনীতি বা গোত্রীয় গোঁড়ামির দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে।যেকোনো বিষয় ও তার প্রবক্তার মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক ও বন্ধন বিদ্যমান থাকে। আর কোনো বিষয়কে জানার পূর্বে সেই বিষয়ের প্রবক্তাকে জানা অগ্রগণ্য; কেননা তিনিই হলেন এর উৎস এবং তাঁর দিকেই এটি প্রত্যাবর্তন করে।আমি (মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব)-এর জীবনী তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের লিখিত কিতাবসমূহ এবং কাল ও স্থানের দিক থেকে তাঁর নিকটবর্তী ব্যক্তিদের নিকট থেকে অবগত হয়েছি। কেননা তাঁরাই তাঁর সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত। আমি তাঁর জীবন-বৃত্তান্তের কোনো বিষয় পরবর্তী যুগের গৌণ ঐতিহাসিক বা এ জাতীয় ব্যক্তিদের কিতাব থেকে গ্রহণ করিনি।আমি তাঁর দাওয়াত এবং যে চিন্তাধারার ওপর ভিত্তি করে এটি রচিত হয়েছে, তা তাঁর নিজস্ব রচনাবলি থেকে জেনেছি। তাঁর এই রচনাবলি বিভিন্ন প্রকারের—যেমন সীরাতে নববী, তাফসীর, হাদীস, আহকাম এবং তাওহীদ। তবে তাঁর চিন্তাধারার প্রকৃত রূপ এবং মতামতের স্বকীয়তা প্রমাণের ক্ষেত্রে যা অধিকতর শক্তিশালী দলিল, তা হলো তাঁর ফতোয়া, পত্রাবলি, বাহাসসমূহ এবং জাজিরাতুল আরব ও তার বাইরের আলিম ও নেতৃবৃন্দের সাথে করা তাঁর চিঠিপত্রসমূহ, যা বিশেষ বিষয়ের ওপর...
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
دعوته مناشئها، ومبادئها، وغاياتها، وأصولها، وأدلتها، والمرء وما يقوله ويقره ويفصح عنه من نيته وفكره، لا ما يقوله خصومه فيه.وأشهد مخلصا أن بين سيرة (محمد بن عبد الوهاب) ودعوته، (ولأسمها: الدعوة التصحيحية) ، رحما واشجة، وآصرة وثيقة محكمة، يبدوان من غير تكلف للرؤية في هذا التطابق التام بين الفكر والتطبيق، وبين ضلاعة الدعوة وضلاعة صاحب الدعوة وشخصيته المتميزة بأنواع من الصفات الأصلية، ومنها ضلاعة تكوينه البدني، وضلاعة إيمانه، وصلابته، وتقواه.والآثار عامة، في حال قواتها أو ضعفها، نتيجة حال المؤثر ومزاجه كما هو معروف في مدركات العقل ومسلماته، وما خلا أدبنا العربي الأصيل من الإشارة إلى هذه الحقيقة المسلمة ومن ملحظ العلائق بين الإنسان وما يصدر عنه من شيء.ألم يقل أحمد بن الحسين أبو الطيب قبل ألف عام:على قدر أهل العزم تأتي العزائم … وتأتي على قدر الكرام المكارم؟
তাঁর দাওয়াতের উৎপত্তি, মূলনীতি, লক্ষ্যসমূহ, ভিত্তি ও প্রমাণাদি; আর মানুষ হচ্ছে তা-ই যা সে বলে, স্বীকার করে এবং নিজের নিয়ত ও চিন্তা থেকে প্রকাশ করে, তা নয় যা তার শত্রুরা তার সম্পর্কে বলে থাকে।আমি একনিষ্ঠভাবে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, (মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব)-এর জীবনী ও তাঁর দাওয়াতের (যাকে আমি বলব: সংস্কারমূলক দাওয়াত) মধ্যে অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক এবং এক সুদৃঢ় ও মজবুত বন্ধন বিদ্যমান। চিন্তা ও প্রয়োগের মধ্যবর্তী এই পূর্ণ সামঞ্জস্যের মাঝে কোনো প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়াই তা দৃষ্টিগোচর হয়। দাওয়াতের সুদৃঢ়তা এবং সেই দাওয়াতের প্রবক্তার বলিষ্ঠতা ও তাঁর বিশেষ ব্যক্তিত্বের মাঝেও এই সামঞ্জস্য বিদ্যমান, যা বিভিন্ন মৌলিক বৈশিষ্ট্যে অনন্য। যার মধ্যে রয়েছে তাঁর শারীরিক গঠনের দৃঢ়তা, তাঁর ঈমানের বলিষ্ঠতা, তাঁর অটলতা এবং তাঁর তাকওয়া।সাধারণভাবে সকল প্রভাবই—তা শক্তিশালী হোক বা দুর্বল—প্রভাব বিস্তারকারীর অবস্থা ও মেজাজেরই ফলাফল; যা যুক্তির উপলব্ধি ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের খাঁটি আরবি সাহিত্য এই স্বীকৃত সত্যটির প্রতি ইঙ্গিত প্রদান এবং মানুষ ও তার থেকে প্রকাশিত কার্যাবলির মধ্যকার সম্পর্কের পর্যালোচনার বাইরে নয়।এক হাজার বছর পূর্বে আহমদ বিন হুসাইন আবু তাইয়্যিব কি বলেননি:সংকল্পের অধিকারীদের সংকল্প অনুযায়ীই বড় কাজ সম্পাদিত হয় … আর মহান ব্যক্তিদের মহানুভবতা অনুযায়ীই সম্মানজনক কাজগুলো সম্পন্ন হয়?
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২১)
وضلاعة (محمد بن عبد الوهاب) في تكوينه الجسماني، وفي مواهبه وملكاته..عجب من العجب، فإن كل شيء فيه على غاية من القوة والبروز.ضلاعته في تكوينه الجسماني، تبدو في الرجولة الناضجة التي باكرت صباه، وفي الاحتلام الذي أسرع إليه قبل إكماله الثانية عشرة من عمره، فأُحصن من فور احتلامه.واقترنت بهذه الضلاعة الجسمانية ضلاعة نفسية بالغة، فإذا هو يتحمل تبعات الزوجية، ويتصرف بنفسه فردا في هذه السن الطفولية، فيعرَوْري فجاج الأرضين الموحشة البعيدة المنتأى بين العيينة ومكة المكرمة، فيؤدي فريضة الحج، ويؤم المدينة المنورة الميمونة المباركة، فيقيم بها شهرين متتابعين، مصليا بالمسجد النبوي طلبا للأجر المضاعف، ثم متشرفا بسنة زيارة: زيارة الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم، والسلام عليه، ومستنشقا أرَج النبوة من كثب، ومستفيدا من سماع الدروس في المسجد المبارك الأنور، ثم يعود إلى مسقط رأسه موفور الحظوظ من متع الروح والقلب، مزهوا بحجّه وصلواته وازدياره، وفرحا بما شاهد من منازل الوحي وبما سمع من علماء الحرمين.
মুহাম্মদ ইবন আবদুল ওয়াহহাবের শারীরিক গঠন এবং তাঁর প্রতিভা ও যোগ্যতার দৃঢ়তা এক বিস্ময়কর ব্যাপার; কেননা তাঁর প্রতিটি বৈশিষ্ট্য ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রোজ্জ্বল।তাঁর শারীরিক গঠনের এই দৃঢ়তা প্রকাশ পায় সেই পরিপক্ক পুরুষত্বের মাধ্যমে যা তাঁর শৈশবেই বিকশিত হয়েছিল এবং সেই দ্রুত বয়ঃসন্ধির মাধ্যমে যা তাঁর বারো বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ঘটেছিল। ফলে বয়ঃসন্ধির পরপরই তাঁর বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়।এই শারীরিক দৃঢ়তার সাথে যুক্ত হয়েছিল সুগভীর মানসিক দৃঢ়তা। ফলে তিনি এই শৈশবেই দাম্পত্য জীবনের দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং একাকী স্বাধীনভাবে চলাফেরা করেন। তিনি উয়ায়নাহ ও মক্কা মুকাররমার মধ্যবর্তী নির্জন ও সুদূর দুর্গম পথসমূহ পাড়ি দেন, হজের ফরজ পালন করেন এবং বরকতময় মদিনা মুনাওয়ারার দিকে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি একাধারে দুই মাস অবস্থান করেন এবং বহুগুণ সওয়াবের আশায় মসজিদে নববিতে সালাত আদায় করেন। এরপর তিনি যিয়ারতের সুন্নাহ পালনের মাধ্যমে সম্মানিত হন: অর্থাৎ সম্মানিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিয়ারত ও তাঁর প্রতি সালাম নিবেদন করেন এবং কাছ থেকে নবুওয়তের সৌরভ আস্বাদন করেন। সেই সাথে তিনি আলোকিত মোবারক মসজিদে ইলমি দরসসমূহ শ্রবণ করে উপকৃত হন। অতঃপর তিনি আত্মিক ও হৃদয়ের পরম তৃপ্তিতে ধন্য হয়ে স্বীয় জন্মভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন; আপন হজ, সালাত ও যিয়ারত নিয়ে প্রফুল্ল মনে এবং ওহীর অবতরণস্থলসমূহ দর্শন ও দুই হারামের আলেমদের নিকট থেকে যা শুনেছেন তাতে আনন্দিত হয়ে।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২২)
وإلى جانب هذه الضلاعة النفسية العجيبة، تبدت ضلاعته الذهنية في سرعة حفظه وحدّة فطنته ويقظة قلبه وعمق فهمه، ومن بينات ذلك أنه حفظ القرآن العظيم عن ظهر قلب قبل بلوغه العاشرة من العمر، فأدهش الناس من حوله، وقرأ الفقه على أبيه (القاضي عبد الوهاب بن الشيخ الفقيه سليمان التميمي) ، وأقبل على كتب التفسير والحديث والعقائد يلتهمها التهاما، وطالب العلم النجيب نهم لا يشبع، وفي اللغة العربية ما في عيون المها من السحر الحلال، وما يأخذ بمجامع الأفئدة من الإيقاع والفتون، وفي كتب التفسير والسنة الصحيحة المطهرة والفقه والتوحيد، الزاد الطيب الذي يغذي العقول، وينوّر البصائر، ويشرح الصدور، ويفقّه النفوس بما لها وما عليها، لتقول طيّبا، وتعمل صالحا، وفيها العلم العظيم الذي لا أجل منه في علوم فقه الحياة جمعاء.ومن هذا الفناء في العلم، في أصغر سن، بلغ الصبي العبقري ما لا يبلغه كبار السن في الأمد البعيد، وفاض على قلمه ما وعاه فؤاده، فإذا هو في سرعة الكتابة مثله في سرعة الحفظ: يكتب في المجلس الواحد كراسة من غير تعب، فما أشبهه في حالاته العجيبة بـ (تقي الدين بن تيمية) العظيم في طفولته في الخوارق النفسية والذهنية وسرعة
এই বিস্ময়কর মানসিক সক্ষমতার পাশাপাশি, তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা তাঁর মুখস্থ করার গতি, তীক্ষ্ণ মেধা, হৃদয়ের সতর্কতা এবং গভীর উপলব্ধির মধ্যে প্রকাশিত হয়েছিল। এর অন্যতম প্রমাণ হলো, তিনি দশ বছর বয়সে পদার্পণ করার পূর্বেই মহান কুরআন স্মৃতিস্থ করেছিলেন, যা তাঁর চারপাশের মানুষকে আশ্চর্যান্বিত করেছিল। তিনি তাঁর পিতা (কাজী আবদুল ওয়াহহাব ইবনে শায়খ আল-ফকিহ সুলাইমান আত-তামিমি)-র নিকট ফিকহ পাঠ করেন এবং তাফসির, হাদিস ও আকিদাহর কিতাবসমূহ গভীর আগ্রহের সাথে পাঠ করতে শুরু করেন। প্রকৃত মেধাবী জ্ঞানান্বেষী এমন এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি যার তৃপ্তি নেই। আরবি ভাষায় রয়েছে এক বৈধ জাদু যেমনটি থাকে হরিণীর চোখের জাদুতে, আর এতে রয়েছে এমন ছন্দ ও মাধুর্য যা হৃদয়কে বশীভূত করে। তাফসির, পবিত্র সহিহ সুন্নাহ, ফিকহ এবং তাওহীদের কিতাবসমূহে রয়েছে সেই পবিত্র পাথেয় যা বুদ্ধিকে পুষ্ট করে, অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করে, বক্ষকে উন্মোচিত করে এবং আত্মাকে তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে বিজ্ঞ করে তোলে; যাতে সে উত্তম কথা বলে এবং নেক আমল করে। এতে রয়েছে সেই মহান জ্ঞান, জীবন ঘনিষ্ঠ সকল বিজ্ঞানের মধ্যে যার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ আর কিছু নেই。অল্প বয়সেই ইলমের প্রতি এমন আত্মনিয়োগের ফলে, এই বিস্ময়কর বালক এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন যেখানে বয়োজ্যেষ্ঠরা দীর্ঘ সময়েও পৌঁছাতে পারে না। তাঁর অন্তর যা আয়ত্ত করেছিল তা তাঁর কলম থেকে ঝরে পড়ত; ফলে লেখার গতির ক্ষেত্রেও তিনি মুখস্থ করার গতির মতোই ছিলেন: তিনি এক আসনেই কোনো ক্লান্তি ছাড়াই একটি পূর্ণ খাতা লিখে ফেলতেন। তাঁর এই বিস্ময়কর অবস্থার দিক থেকে তিনি শৈশবে মহান (তাকীউদ্দীন ইবনে তাইমিয়া)-র সদৃশ ছিলেন, যাঁর ছিল অসাধারণ মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অলৌকিকতা এবং গতি...
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الكتابة وحدة الفطنة وكثرة الاستيعاب، الذي أدهش دنيا الشام من حوله، وصار مثلا مضروبا في عبقرية المواهب العالية، فلا تثريب على (عبد الوهاب) الفقيه القاضي وإمام الجماعة في بلده أن يطير سرورا وإعجابا بصبيه العبقري النجيب، وأن يتحدث لأصحابه عن مدركاته، وأن يعلن أنه استفاد منه فوائد في الأحكام قبل بلوغه، بل لا تثريب عليه أن رآه أهلا للصلاة بالجماعة، وهذه رجولته ومعرفته بالأحكام وحفظه وديانته وتقواه، فقدّمه إماما يؤم المصلين، فارتضوه معجبين.وما يلبث الصبي الرجل طالب العلم الناشئ أن يدفعه وعيه العميق إلى الموازنة بين ما يقرأ من مسائل التوحيد الخالص وما عليه الناس ببلده من مخالفة له في بعض تعبداتهم، ومن تعلقهم بالبدع ومحدثات الأمور، فيثور ثائره.. يردع العامة عن منكراتهم، وينكر على العلماء أنهم يرون الاعوجاج ولا يقومونه.كان ذلك بدء الإشارة إلى ما سيكون عليه شأنه في الإصلاح في مستقبله.وقد كبر على القوم نكيره، فضحكوا منه، فارتدّ إلى نفسه مفكرا في الأمر. فتحدثه أنه لن يتم له تغيير الحال في مثل سنه، وأنه لابد له من أشياء يحققها لتكون ظهيره:
লিখনশৈলী, মেধার তীক্ষ্ণতা এবং ধারণক্ষমতার প্রাচুর্য, যা তার চারপাশের শাম অঞ্চলকে বিস্মিত করেছিল এবং উচ্চতর প্রতিভার এক প্রবাদপ্রতিম দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছিল। সুতরাং নিজ জনপদের ফকিহ, বিচারক ও জামাতের ইমাম (আবদুল ওয়াহহাব)-এর জন্য তাঁর সেই প্রতিভাধর ও বুদ্ধিমান পুত্রকে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও অভিভূত হওয়া, বন্ধুদের নিকট তার বোধশক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা এবং এমনকি তার সাবালক হওয়ার পূর্বেই তার নিকট থেকে বিধিবিধান বা আহকামের বিষয়ে উপকৃত হওয়ার কথা ঘোষণা করাতে কোনো দোষ নেই। বরং তাকে জামাতের নামাজের যোগ্য মনে করাতেও কোনো দোষ নেই; আর এটিই ছিল তার পৌরুষত্ব, বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান, মুখস্থ শক্তি, দীনদারি ও তাকওয়া। তাই তিনি তাকে মুসল্লিদের ইমামতি করার জন্য সামনে এগিয়ে দিলেন এবং তাঁরাও মুগ্ধ হয়ে তাকে গ্রহণ করে নিলেন।অনতিবিলম্বে সেই বালক-সুলভ প্রৌঢ় ও উদীয়মান ইলম অন্বেষণকারীকে তার গভীর সচেতনতা ধাবিত করল বিশুদ্ধ তাওহিদের মাসআলাসমূহ—যা সে পাঠ করছিল—এবং তার জনপদের মানুষ তাদের ইবাদত-বন্দেগিতে এর যে বৈপরীত্য করছিল এবং বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের সাথে তাদের যে সংশ্লিষ্টতা ছিল, তার মধ্যে তুলনা করতে। ফলে তার ভেতর এক সংক্ষোভের সৃষ্টি হলো... সে সাধারণ মানুষকে তাদের গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখতে শুরু করল এবং আলেমদের এই বলে তিরস্কার করল যে, তাঁরা বিচ্যুতি বা বক্রতা দেখছেন অথচ তা সংশোধন করছেন না।ভবিষ্যতে সংস্কারের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কেমন হবে, এটি ছিল তারই প্রাথমিক ইঙ্গিত।লোকদের কাছে তার এই প্রতিবাদ অসহনীয় মনে হলো, ফলে তারা তাকে নিয়ে উপহাস করল। তখন সে নিজের অন্তঃস্থলে ফিরে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে লাগল। তার মন তাকে এই বার্তা দিল যে, তার বর্তমান বয়সে অবস্থার পরিবর্তন করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না এবং তাকে অবশ্যই এমন কিছু বিষয় অর্জন করতে হবে যা তার শক্তির উৎস বা সহায়ক হবে:
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من علم أوسع من العلم الذي ملك، وتجارب وحنكة ما ظفر منها بشيء بعد، وسن أكبر يطاع في مثلها إذا جهر بالحق وصدع به، فعزم أن يبدأ.إن مثل هذه الرؤية الصحيحة في هذه السن الصغيرة، لا تكون إلا من شيخ محنك حكيم، أو عبقري محدّث وملهم.. وقد كانه هذا الصبي الرجل!.ولكأنه في بؤرة تصوره العميق لحاضر أمره ومستقبله، قد حضرت ملكاته كلها، وظل الشأن موقوفا على إنفاذ العزم.فإذا عزيمته حاضرة عنده، تتوثب به، وتحدوه على المضي بدارا إلى غايته، وقد فعل.ومن المرجح أن ذلك كان قبل بلوغه العشرين.غادر مسقط رأسه إلى حيث يتاح له أن يعدّ نفسه إعدادا كاملا للاضطلاع بالأمر الكبير الذي ينوي تحقيقه.فإلى أي ناحية اتّجه ورحل؟قصر مؤرّخوه المقربون مواضع رحلته على البصرة والأحساء والحرمين، وأضاف مؤرخوه الثانويون أقطارا ومدنا كثيرة..أضافوا مصر والقدس ودمشق وحلب وإسلامبول وبغداد وكردستان وهمذان وأصفهان والريّ وقم، وسمعت بأخرة
এমন জ্ঞান যা তাঁর অধিকৃত জ্ঞানের চেয়েও প্রশস্ত, এমন অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতা যার কিছুই তিনি তখনো অর্জন করেননি, এবং এমন এক বয়সের প্রত্যাশায় যে বয়সে সত্য উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলে আনুগত্য লাভ করা যায়—এমন এক প্রস্তুতি নিয়ে তিনি কাজ শুরু করার সংকল্প করলেন।নিশ্চয়ই এত অল্প বয়সে এমন সঠিক অন্তর্দৃষ্টি কোনো অভিজ্ঞ প্রজ্ঞাবান বৃদ্ধ অথবা কোনো প্রতিভাধর ইলহামপ্রাপ্ত ও মুহাদ্দাস (যাঁর অন্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে কথা ঢেলে দেওয়া হয়) ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব। আর এই কিশোর-পুরুষটি তেমনই ছিলেন!যেন তাঁর বর্তমান ও ভবিষ্যতের গভীর উপলব্ধির কেন্দ্রে তাঁর সমস্ত মেধা ও প্রতিভা সমবেত হয়েছিল এবং পুরো বিষয়টি কেবল তাঁর সংকল্প বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করছিল।অতঃপর তাঁর সংকল্প তাঁর মধ্যে জাগ্রত হলো, যা তাঁকে চঞ্চল করে তুলল এবং লক্ষ্যের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে অনুপ্রাণিত করল; আর তিনি তাই করলেন।এবং এটিই অধিকতর শক্তিশালী মত যে, এটি ছিল তাঁর বিশ বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পূর্বের ঘটনা।তিনি যে মহান উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সংকল্প করেছিলেন, তার গুরুদায়িত্ব বহনের জন্য নিজেকে পূর্ণরূপে প্রস্তুত করতে তিনি তাঁর জন্মভূমি ত্যাগ করে এমন স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন যেখানে তার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে।তাহলে তিনি কোন দিকে অভিমুখ করলেন এবং কোথায় সফর করলেন?তাঁর নিকটবর্তী ইতিহাসবিদগণ তাঁর সফরের স্থানগুলোকে কেবল বসরা, আল-আহসা এবং হারামাইন শরিফাইনের (মক্কা ও মদিনা) মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তবে পরবর্তী স্তরের ইতিহাসবিদগণ এর সাথে আরও অনেক দেশ ও নগরের নাম যুক্ত করেছেন।তাঁরা মিশর, কুদস, দামেস্ক, আলেপ্পো, ইস্তাম্বুল, বাগদাদ, কুর্দিস্তান, হামদান, ইসফাহান, রায় এবং কোম নগরীকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন; আর আমি অতি সম্প্রতি শুনতে পেয়েছি...
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
من يقول إنه قرأ في كتاب مخطوط لشيخ من الموصل يقول فيه: إنه (أي محمد بن عبد الوهاب) أخذ عنه. والأدلة، لتصحيح هذه المضافات إلى الأقطار الثلاثة، ليست متوافرة.ويعنينا من هذه الرحلات أن نعرف ماذا أفاد من علم، واكتسب من تجارب، وخبر من أحوال هذه المجتمعات في شرقي جزيرة العرب وغربيها وشماليها، وما انعكس من هذا كله على فكره من تصورات، وارتسم في ذهنه من خطوط الإصلاح ومساره.وكانت هذه المدن التي رحل إليها طالبا للعلم، أكبر مباءات العلوم العربية والإسلامية في جزيرة العرب، يفد على مدارسها الطلاب من نجد ومن الأقطار الإسلامية.وفي البصرة، وقد أمّها مرتين وكانت إقامته فيها أطول إقامة قضاها خارج بلده، لقي جماعة من العلماء، سمّي منهم واحد وهو (الشيخ محمد المجموعي) ، تلقى عليهم النحو فأتقنه، ودرس الحديث والفقه، وفقه البصرة في الغالب فقه مدرسة أبي حنيفة.وفي الأحساء وجد فقهاء، منهم الحنبلي ومنهم المالكي ومنهم الشافعي، وهي نسب إلى مدارس سنية متشابهة، وليست مذاهب متدابرة، وعند بعض هؤلاء الفقهاء وجد
এমন ব্যক্তিও আছেন যিনি দাবি করেন যে তিনি মওসুলের একজন শায়খের একটি পাণ্ডুলিপিতে পড়েছেন, যাতে বলা হয়েছে যে তিনি (অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব) তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তবে এই তিনটি অঞ্চলের দিকে করা এই সম্বন্ধগুলোর সত্যতা প্রমাণের জন্য পর্যাপ্ত দলিল বা প্রমাণাদি লভ্য নয়।এই সফরগুলো থেকে আমাদের জানার উদ্দেশ্য হলো, তিনি কী পরিমাণ জ্ঞান অর্জন করেছেন, কী ধরনের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন এবং আরব উপদ্বীপের পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের সমাজগুলোর অবস্থা সম্পর্কে কী জানতে পেরেছেন। পাশাপাশি এসব বিষয় তাঁর চিন্তাধারায় কী ধরনের ধারণা প্রতিফলিত করেছে এবং তাঁর মনে সংস্কারের রূপরেখা ও এর গতিপথ কীভাবে অঙ্কিত হয়েছিল তা অনুধাবন করা।জ্ঞান অন্বেষণের জন্য তিনি যে শহরগুলোতে সফর করেছিলেন, সেগুলো ছিল আরব উপদ্বীপের আরবি ও ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। নজদ ও বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামি অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থীরা এসব শহরের মাদ্রাসাগুলোতে ভিড় জমাতো।বসরার কথা বলতে গেলে, সেখানে তিনি দুইবার গিয়েছিলেন এবং স্বদেশের বাইরে সেখানেই তিনি দীর্ঘতম সময় অবস্থান করেছিলেন। সেখানে তিনি একদল আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যাদের মধ্যে একজনের নাম পাওয়া যায়—তিনি হলেন শায়খ মুহাম্মদ আল-মাজমুয়ী। তাঁদের নিকট তিনি নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেন এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেন। এছাড়া তিনি হাদিস ও ফিকহ অধ্যয়ন করেন; আর বসরার ফিকহ ছিল মূলত ইমাম আবু হানিফার মাযহাব কেন্দ্রিক।আল-আহসায় তিনি বহু ফকিহের সন্ধান পান, যাদের মধ্যে হাম্বলি, মালিকি ও শাফেয়ি আলেমগণ ছিলেন। এগুলো মূলত পরস্পর সদৃশ সুন্নি ঘরানারই অন্তর্ভুক্ত, কোনো পরস্পরবিরোধী মাযহাব নয়। এই ফকিহদের কারো কারো নিকট তিনি পেয়েছিলেন
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
استقلالا في النظر، وصورة إلى الترجيح، وجراءة على الحكام المخالفين، ووجد عند آخر ميلا إلى كتابة التاريخ، كما وجد "من يفتي الرجل بقول إمام، والثاني بقول آخر، والثالث بخلاف القولين ويعد ذلك فضيلة وعلما، ويقال: هذا يفتي في مذهبين أو أكثر"، وينكر محمد بن عبد الوهاب ذلك ويقول فيه:"ومعلوم عند الناس أن مراد هذا الفقيه، هو العلو والرياء وأكل أموال الناس بالباطل".وقد اقتبس من خيار هؤلاء، وتذاكر معهم في شؤون من التفسير والحديث والتوحيد وأصول الإسلام، أخذا وعطاء.وفي المدينة المنورة، التي باكرها في صباه، وعرفها ملتقى طلاب العلم من الأقطار الإسلامية، رأى حياة تختلف عن حياة الناس في البصرة والأحساء، ووجد علماء يحسنون أنواعا من العلوم والفنون، وطرائق في الدروس والإقراء لا عهد له بمثلهم في بلده، وحضر دروس هؤلاء في المسجد النبوي، ونهل من موارد العلم الذي يفيضون فيه، ومن كل أفاد وانتفع، ولكنه اصطفى منهم عالمين اثنين انجذب إليهما طبعه وفكره، فوثّق من صلته بهما.أصاب عند هذه العالمين الفكر الإصلاحي، والدعوة
গবেষণায় স্বাধীনতা, অগ্রাধিকার প্রদানের স্বরূপ এবং ভিন্নমতাবলম্বী শাসকদের প্রতি সাহসিকতা। তিনি অন্য একজনের মাঝে ইতিহাস রচনার প্রতি ঝোঁক লক্ষ্য করলেন, যেমনটি তিনি এমন ব্যক্তিকেও পেয়েছিলেন "যে একজনকে এক ইমামের মত অনুযায়ী ফতোয়া দেয়, দ্বিতীয়জনকে অন্য ইমামের মত অনুযায়ী এবং তৃতীয়জনকে উভয় মতের বিপরীতে ফতোয়া দেয় এবং একেই ফজিলত ও ইলম বলে গণ্য করা হয়; আর বলা হয়: ইনি দুই বা ততোধিক মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া দেন"। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং এ সম্পর্কে বলেন:"মানুষের নিকট এটি সুবিদিত যে, এই ফকিহ্র উদ্দেশ্য হলো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, লোকদেখানো এবং অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ ভক্ষণ করা।"তিনি তাঁদের মধ্যকার মনোনীত ব্যক্তিদের থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন এবং তাঁদের সাথে তাফসির, হাদিস, তাওহিদ ও ইসলামের মূলনীতিসমূহ নিয়ে আদান-প্রদান ও আলোচনা করেছেন।মদিনা মুনাওয়ারায়—যেখানে তিনি তাঁর কৈশোরে পদার্পণ করেছিলেন এবং যাকে তিনি মুসলিম দেশসমূহ থেকে আগত ইলম অন্বেষণকারীদের মিলনস্থল হিসেবে জানতেন—তিনি বসরা ও আহসার মানুষের জীবন থেকে ভিন্ন এক জীবন দেখতে পান। সেখানে তিনি এমন সব আলেমদের দেখা পান যারা বিভিন্ন ধরনের ইলম ও শিল্পকলায় পারদর্শী ছিলেন, এবং পাঠদান ও পাঠগ্রহণের এমন সব পদ্ধতির সাথে পরিচিত হন যা তাঁর নিজের দেশে নজিরবিহীন ছিল। তিনি মসজিদে নববীতে তাঁদের পাঠে উপস্থিত হতেন এবং তাঁদের প্রবাহিত ইলমের ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান অর্জন করতেন। প্রত্যেকের থেকেই তিনি উপকৃত হয়েছিলেন, তবে তিনি তাঁদের মধ্য থেকে বিশেষভাবে দুইজন আলেমকে বেছে নিয়েছিলেন যাঁদের প্রতি তাঁর প্রকৃতি ও চিন্তা আকৃষ্ট হয়েছিল। ফলে তিনি তাঁদের সাথে তাঁর সম্পর্ক সুদৃঢ় করেছিলেন।এই দুই আলেমের নিকট তিনি সংস্কারবাদী চিন্তা এবং দাওয়াতের দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
إلى التوحيد الخالص والتزام عمود الكتاب والسنة، ورفض التفرق في العقيدة، وإبطال البدع والمحدثات التي تلصق بالإسلام، فتشوّه محاسنه وتبطل قوته، والإسلام منها بريء ولها منكر.وقد أفاد من أحدهما (وهو عبد الله بن إبراهيم بن سيف: عالم نجدي، آثرت أسرته المجاورة، فصار مدنيا) إرشاده إياه إلى مؤلفات تقي الدين بن تيمية علامة الإسلام المنقطع النظير، والمفكر الأصيل الكبير العقل الواسع الرواية والعميق الدراية، والثائر الأكبر على الفساد والانحراف، والمؤلف المبتكر الذي بلغت مؤلفاته نحوا من أربع مئة كتاب وفي كل كتاب من العلم والفكر والنظر الصادق ما لا يظفر بشبيه له أو قريب منه إلا عند كبار أصحابه وتلاميذه، وفي مقدمتهم شمس الدين ابن قيم الجوزية، وقد برع وفاق فكان قمة شامخة في العلم والفكر والنظر والإخلاص. وهكذا فتح له (ابن سيف) الطريق الأفيح إلى عباب المعارف، وقاده إلى النهل والعلّ من أصفى ينابيع المفاهيم الإسلامية، والتضلع من ريّها الشافي، ووصل أفقه بأفق الإصلاح الذي ينشده، وسدده على النهج القويم المستقيم.وأفاد من الآخر (وهو الشيخ محمد حياة السندي: عالم
বিশুদ্ধ তাওহীদ ও কিতাব ও সুন্নাহর স্তম্ভের প্রতি অবিচল থাকা, আকিদাগত বিভেদ বর্জন এবং ইসলামে প্রবিষ্ট বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি বাতিল করার প্রতি, যা ইসলামের সৌন্দর্যকে বিকৃত করে এবং এর শক্তিকে অকার্যকর করে দেয়; ইসলাম এসব থেকে মুক্ত এবং এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে।তিনি তাঁদের একজনের (তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাইফ: একজন নজদী আলেম, যাঁর পরিবার মদিনায় বসবাস বেছে নিয়েছিলেন, ফলে তিনি মদিনাবাসী হয়েছিলেন) মাধ্যমে উপকৃত হয়েছিলেন। তিনি তাঁকে ইসলামের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মহাবিদ্বান তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহর রচনার দিশা দিয়েছিলেন; যিনি ছিলেন এক অনন্য ও মহান চিন্তক, যাঁর বর্ণনার জ্ঞান ছিল সুবিস্তৃত এবং উপলব্ধিতে ছিল গভীরতা, যিনি ছিলেন দুর্নীতি ও বিচ্যুতি বিরোধী প্রধান বিপ্লবী এবং এমন এক সৃজনশীল লেখক যাঁর রচনাবলি প্রায় চারশ কিতাব পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তাঁর প্রতিটি কিতাবে এমন ইলম, চিন্তা ও সত্যনিষ্ঠ অন্তর্দৃষ্টি রয়েছে যার সমকক্ষ বা নিকটবর্তী কিছু তাঁর বিশিষ্ট সঙ্গী ও ছাত্ররা ব্যতীত অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর, যাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন শামসুদ্দীন ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ। তিনি পারদর্শিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন এবং জ্ঞান, চিন্তা, অন্তর্দৃষ্টি ও ইখলাসের ক্ষেত্রে এক সুউচ্চ শিখরে পরিণত হয়েছিলেন। এভাবে (ইবনে সাইফ) তাঁর জন্য জ্ঞানের বিশাল সমুদ্রের প্রশস্ত পথ উন্মুক্ত করে দেন এবং তাঁকে ইসলামী ধ্যান-ধারণার স্বচ্ছতম ঝরনাধারা থেকে তৃপ্ত হওয়ার দিকে পরিচালিত করেন এবং তাঁর অন্বেষিত সংস্কারের দিগন্তের সাথে তাঁর চিন্তাকে সংযুক্ত করেন এবং তাঁকে সঠিক ও সরল পথে পরিচালিত করেন।এবং তিনি অন্যজনের নিকট থেকে উপকৃত হন (যিনি হলেন শেখ মুহাম্মদ হায়াত সিন্ধি: একজন আলেম
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
نير العقل سديد الرأي، من أهل السنة) تبصيرا بالاستقلال في الفهم وجدواه، وتنفيرا من التقليد والتعصب لمذهب بعينه من هذه المذاهب الفقهية، أو المدارس الفقهية في الأصح، وإرشادا إلى الدوران مع الحق حيث كان، استدلالا عليه بالأدلة القواطع من صحيح النقل وصريح العقل، ذلك أن الله جل وعلا قد هدى التبصير والتفكر واستعمال العقل لتبين كل أمر، وبشر عباده الذين يستمعون القول فيتبعون أحسنه، ووصفهم بأنهم هم الذين هداهم الله وهم أولو الألباب.***تلك جمل من محصول (محمد بن عبد الوهاب) ، تصف ألوانا من المنازع العقلية والمعتقدات والمشارب، وقد أحاط بكل شيء منها علما، ووعيا عميقا، وتمثله فكره تمثلا تاما، فأفاد منها حظوظا من العلم والفكر والنظر الجديد..وانضاف إلى ذلك علم آخر من أحوال هذه المجتمعات، التي عاش فيها في شرقي جزيرة العرب، وغربيها وفي البصرة، وقد لابس فيها الناس، وبلا معتقداتهم وتعبداتهم، وما هم عليه من حق ومن باطل، ووجد البلوى ـ بلوى الانحراف عن أصول الإسلام الصحيح في المعتقدات والتعبدات والمعاملات، وفي النزوع إلى التجسيد، والتلبس بالبدع ومحدثات الأمور ـ
উজ্জ্বল বুদ্ধি ও সুদৃঢ় মতের অধিকারী, (আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি) উপলব্ধিতে স্বাধীনতা ও এর সুফল সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে, এবং এই ফিকহি মাজহাবসমূহ অথবা অধিকতর সঠিক শব্দে এই ফিকহি স্কুলসমূহের মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো মাজহাবের অন্ধ অনুসরণ ও গোঁড়ামি থেকে বিমুখ করে, এবং সত্য যেখানেই থাকুক তার সাথে আবর্তিত হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করে, বিশুদ্ধ বর্ণনা ও সুস্পষ্ট বিবেকের অকাট্য দলীলাদির মাধ্যমে সত্যের স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে। কারণ মহিয়ান ও গরীয়ান আল্লাহ প্রতিটি বিষয় স্পষ্ট করার জন্য অন্তর্দৃষ্টি, চিন্তা-গবেষণা এবং বিবেকের ব্যবহারের পথ দেখিয়েছেন, এবং তিনি তাঁর সেই বান্দাদের সুসংবাদ দিয়েছেন যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। তিনি তাদের এমন লোক হিসেবে বর্ণনা করেছেন যাদের আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং তারাই হলো বুদ্ধিমান।***এগুলি হলো (মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব)-এর অর্জিত বিষয়ের কিছু অংশ, যা বিভিন্ন ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ঝোঁক, বিশ্বাস এবং চিন্তাধারার বর্ণনা দেয়। তিনি এগুলোর প্রতিটি বিষয় জ্ঞান ও গভীর সচেতনতার সাথে আয়ত্ত করেছিলেন এবং তাঁর চিন্তা তা সম্পূর্ণরূপে ধারণ করেছিল। ফলে তিনি এর থেকে জ্ঞান, চিন্তা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গির বিশেষ অংশ লাভ করেছিলেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল সেই সমাজগুলোর অবস্থার অন্য এক জ্ঞান, যেখানে তিনি আরব উপদ্বীপের পূর্বে, পশ্চিমে এবং বসরায় বসবাস করেছিলেন। সেখানে তিনি মানুষের সাথে মেলামেশা করেছিলেন এবং তাদের বিশ্বাস ও ইবাদতসমূহ এবং তারা সত্য ও মিথ্যার যে অবস্থায় নিমজ্জিত ছিল তা পরীক্ষা করেছিলেন। সেখানে তিনি এক বিপর্যয় দেখতে পেয়েছিলেন—যা হলো বিশ্বাস, ইবাদত এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামের সঠিক মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার বিপর্যয়, এবং মূর্তরূপ প্রদানের প্রবণতা, বিদআত ও নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহে লিপ্ত হওয়ার বিপর্যয়।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بلوى عامة، وهي في البصرة والأحساء والحرمين مثلها في العيينة بلده.وكان قد حسب في صباه الشأن خاصا ببلده، فإذا هو أكبر مما كان يظن.وقد خرج من العيينة، ليعود إليها يصلح معتقدات ناسها، ويقيمهم على شرائع الإسلام الصحيح، ويقوّم المنآد المعوج من الأفكار والأعمال.ولكنه انتهى آخر الأمر، بفضل ما اكتسب في هذه الرحلات العلمية الواعية المستوعبة، إلى التفكير في إصلاح أهل (جزيرة العرب) أجمع، وبسط سلطان فكره على ما وراء جزيرة العرب من أوطان الإسلام.استصفى ذهنه الناقد الممحص المحض واللباب، وطرح الزؤان والزيف وشخّص الداء، وعيّن الدواء، وأوفى من ذلك على الغاية.ثم رسم الخطوط العريضة للإصلاح ومساراته على بينة من العلم ونهجه القويم، وقد وقر في قراراة نفسه أن يحقق في (جزيرة العرب) أمرين عظيمين متلازمين، لا ينفصم أحدهما من الآخر، ولا يقوم أحدهما بدون الآخر:
এটি ছিল একটি সাধারণ বিপর্যয়; বসরা, আল-আহসা এবং হারামাইন শারিফাইনেও পরিস্থিতি ছিল তাঁর নিজ শহর আল-উয়াইনাহর মতোই।শৈশবে তিনি মনে করেছিলেন যে বিষয়টি কেবল তাঁর নিজের শহরের সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট, কিন্তু পরে দেখা গেল তা তাঁর ধারণার চেয়েও অনেক বড়।তিনি আল-উয়াইনাহ থেকে বের হয়েছিলেন যেন পুনরায় সেখানে ফিরে এসে সেখানকার মানুষের আকিদাহ সংশোধন করতে পারেন, তাদেরকে ইসলামের সঠিক শরয়ি বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন এবং চিন্তা ও কর্মের যাবতীয় বিচ্যুতি ও বক্রতাকে সোজা করতে পারেন।কিন্তু পরিশেষে, এই সচেতন ও গভীর জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরগুলোর মাধ্যমে তিনি যা অর্জন করেছিলেন, তার বদৌলতে তিনি সমগ্র (আরব উপদ্বীপের) অধিবাসীদের সংস্কার করার এবং আরব উপদ্বীপের বাইরেও ইসলামের অন্যান্য ভূখণ্ডে নিজের চিন্তাধারার প্রভাব বিস্তার করার কথা চিন্তা করেন।তাঁর সমালোচনামূলক ও সূক্ষ্মদর্শী মেধা খাঁটি নির্যাস ও সারবস্তুকে বেছে নিল, আবর্জনা ও অসারতাকে বর্জন করল, রোগ নির্ণয় করল, তার মহৌষধ নির্দিষ্ট করল এবং এই উদ্দেশ্যে তিনি চূড়ান্তভাবে সফল হলেন।অতঃপর তিনি ইলম ও সঠিক পদ্ধতির সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সংস্কারের রূপরেখা ও এর গতিপথ অঙ্কন করেন। তাঁর অন্তরের গভীরে এই সংকল্প দৃঢ়তর হলো যে, তিনি (আরব উপদ্বীপে) এমন দুটি মহান ও অবিচ্ছেদ্য বিষয় বাস্তবায়ন করবেন, যার একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয় এবং একটি ছাড়া অন্যটি টিকে থাকতে পারে না:
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
إنشاء مجتمع إسلامي موحّد وموحِد، رفيع الفكر، صالح العمل، حي قوي دفاق، متحرك ومتوثب في سبيل الخير الإنساني العام، تطبق فيه أحكام الشريعة العادلة السمحة في جميع الحالات.وتكوين دولة مؤمنة عادلة قوية الشكيمة، تنتظم (جزيرة العرب) تحت راية القرآن، وتقضي على تعدد الإمارات والامتيازات، وتذيب الفروق، وتقيم الصلاح بالإسلام.:تحوط به المجتمع وترعاه أحسن ما تكون الحياطة والرعاية، صدقا وعدلا وإخلاصا وبرا وعملا، والدولة عنده الولاية، وسوف أذكر كلامه فيها.استوحى فكرة هذا من طبيعة الإسلام وتاريخه، ففكر ثم قدر ثم عمل، واتبع في مساره الفكري والعملي خطا الرسول الأعظم، صلى الله عليه وسلم، خطوة خطوة، وما حاد عن هذا المسار القويم قيد شعرة في شيء ما من عقيدته ومن عمله.إنه نظر إلى الإسلام في بدايته، وكيف صلح به الناس، وكيف قامت دولته العظمى الإنسانية العادلة الرحيمة في الأرض، لأول مرة في تاريخ البشرية المعروف.ثم نظر إلى ما صار إليه المسلمون من بعد، من التفرق
একটি ঐক্যবদ্ধ ও একত্ববাদী ইসলামী সমাজ গঠন করা, যা হবে উচ্চচিন্তাসম্পন্ন, সৎকর্মশীল, প্রাণবন্ত, শক্তিশালী ও প্রবাহমান; যা সাধারণ মানবিক কল্যাণের পথে সচল ও তৎপর থাকবে এবং যেখানে সর্বাবস্থায় ইনসাফপূর্ণ ও উদার শরীআতের বিধানসমূহ প্রয়োগ করা হবে।এবং একটি বিশ্বাসী, ন্যায়পরায়ণ ও সুদৃঢ় রাষ্ট্র গঠন করা, যা কুরআনের পতাকাতলে (আরব উপদ্বীপকে) সুসংগঠিত করবে, এবং যা বিভিন্ন ক্ষুদ্র আমিরাত ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধার অবসান ঘটাবে, বৈষম্য বিলোপ করবে এবং ইসলামের মাধ্যমে সংস্কার সাধন করবে। এই রাষ্ট্র সমাজকে বেষ্টন করে রাখবে এবং সর্বোত্তম পন্থায় তার রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করবে—সত্যতা, ন্যায়বিচার, একনিষ্ঠতা, পুণ্য ও কর্মতৎপরতার সাথে। তাঁর নিকট রাষ্ট্র হলো একটি 'বিলায়াত' (কর্তৃত্ব ও অভিভাবকত্ব), এবং আমি এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য সামনে উল্লেখ করব।তিনি এই চিন্তার অনুপ্রেরণা লাভ করেছিলেন ইসলামের প্রকৃতি ও ইতিহাস থেকে। অতঃপর তিনি চিন্তা করলেন, পরিকল্পনা করলেন এবং কাজ করলেন। তিনি তাঁর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পথচলায় মহান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন প্রতিটি পদক্ষেপে; এবং তাঁর আকিদা ও আমলের কোনো ক্ষেত্রেই তিনি এই সঠিক পথ থেকে চুল পরিমাণ বিচ্যুত হননি।তিনি ইসলামের প্রারম্ভিক অবস্থার প্রতি দৃষ্টিপাত করেছিলেন; কীভাবে এর মাধ্যমে মানুষের সংশোধন হয়েছিল এবং কীভাবে মানবজাতির পরিচিত ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যমীনে ইসলামের এক মহান, মানবিক, ন্যায়পরায়ণ ও দয়াময় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।অতঃপর তিনি পরবর্তীকালে মুসলমানদের যে দশা হয়েছিল—সেই অনৈক্যের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব দায়িয়াতুত তাওহীদ ওয়াত তাজদীদ ফিল আসরিল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والفساد وزوال السلطان، والتمس العلة في ذلك، فاستحال في عقله أن يكون من السبب الواحد مسببان متباينان: ارتقاء وهبوط، توحد وتفرق، عزة وذلة..إلى آخر ما هنالك من الأضداد، ووجد العلة كل العلة فيما تدلى إليه المسلمون كامنة في هذا الانحراف عن أصلي الإسلام العظيمين: كتاب الله، وسنة رسوله.تولى كبر جريمة هذا الانحراف أناس دخلوا في الإسلام ظاهرا، وأسرّوا الكيد له باطنا على غاية من سوء النية والمكر والدهاء، بعد أن عجزوا عن القضاء عليه مواجهة. وقد ذهب هؤلاء في أعمالهم الباطنة الرهيبة طرائق قددا، ولبسوا لبوسا متعددة الألوان والأسماء، ولكن المقاصدتحته واحدة.وتوصلوا على تراخي الزمن إلى ما أرادوه. لقد جعلوا القرآن عمود الإسلام الأكبر عضين، وأدخلوا إلى العقول فيما أدخلوه أنه ذو وجهين: وجه لفظي ظاهر غير مراد، ووجه معنوي باطن والواجب العمل به في المعتقد وفي التعبد، وتأولوا آياته بأهوائهم فصرفوا الألفاظ عن دلالاتها، وحرفوا وبدلوا، وبذروا بذور الشرك الخفي والعلني، فأبطلوا بذلك التوحيد الخالص وهو سر الوحدة والقوة والعزة، ووضعوا مقادير لا تحصى من الأحاديث المنكرة الواهية السخيفة، وعقل الرسول القرآني يجلّ عن مثلها، ودسوا الإسرائيليات وخرافات يهود
এবং বিশৃঙ্খলা ও ক্ষমতার বিলোপ। তিনি এর কারণ অনুসন্ধান করলেন, ফলে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিতে এটি অসম্ভব বলে প্রতিভাত হলো যে, একটিমাত্র কারণ থেকে দুটি ভিন্নধর্মী ফলাফল সৃষ্টি হবে: উত্থান ও পতন, ঐক্য ও বিভক্তি, মর্যাদা ও লাঞ্ছনা... এভাবে বিপরীতমুখী বিষয়গুলোর শেষ পর্যন্ত। তিনি মুসলমানদের এই অধঃপতনের মূল কারণ খুঁজে পেলেন ইসলামের মহান দুটি মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার মধ্যে: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ।এই বিচ্যুতিমূলক অপরাধের প্রধান দায়ভার বহন করেছে এমন একদল লোক যারা প্রকাশ্যে ইসলামে প্রবেশ করেছিল, কিন্তু অন্তরে চরম অসৎ উদ্দেশ্য, চক্রান্ত ও ধূর্ততার সাথে এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র গোপন রেখেছিল; যখন তারা সরাসরি মোকাবিলায় একে নির্মূল করতে ব্যর্থ হলো। তারা তাদের এই ভয়াবহ গোপন কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন পথে অগ্রসর হয়েছিল এবং বহুমুখী রঙ ও নামের পোশাক পরিধান করেছিল, কিন্তু এগুলোর পেছনের লক্ষ্যছিল অভিন্ন।সময়ের বিবর্তনে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে গেল। তারা ইসলামের প্রধান স্তম্ভ কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলল এবং মানুষের মস্তিষ্কে তারা যা ঢুকিয়ে দিয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম হলো এই যে, কুরআনের দুটি দিক রয়েছে: একটি বাহ্যিক শাব্দিক দিক যা উদ্দেশ্য নয়, এবং অপরটি অভ্যন্তরীণ আধ্যাত্মিক দিক—আকিদা ও ইবাদতের ক্ষেত্রে যার অনুসরণ করা ওয়াজিব। তারা নিজেদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী কুরআনের আয়াতগুলোর অপব্যাখ্যা করল, ফলে শব্দগুলোকে সেগুলোর মূল অর্থ থেকে সরিয়ে দিল এবং বিকৃতি ও পরিবর্তন সাধন করল। তারা গোপন ও প্রকাশ্য শিরকের বীজ বপন করল এবং এর মাধ্যমে বিশুদ্ধ তাওহীদকে বাতিল করে দিল, যা হলো ঐক্য, শক্তি ও মর্যাদার রহস্য। তারা অগণিত বানোয়াট, দুর্বল ও অসার হাদিস তৈরি করল, অথচ রাসূলের কুরআনিক প্রজ্ঞা এই জাতীয় বিষয় থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। তারা ইসরায়েলি বর্ণনা ও ইহুদিদের রূপকথাগুলো অনুপ্রবেশ করাল।