(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
محاسن الشريعة ومساويء القوانين الوضعية القسم: أصول الفقه
الكتاب: محاسن الشريعة ومساويء القوانين الوضعية
المؤلف: عطية بن محمد سالم (ت 1420هـ)
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: العدد الأول - السنة السادسة - 1393هـ - 1973م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 55
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শরীয়তের সৌন্দর্য ও মানব রচিত আইনের অপকারিতা বিভাগ: উসূল আল-ফিকহ
গ্রন্থ: শরীয়তের সৌন্দর্য ও মানব রচিত আইনের অপকারিতা
লেখক: আতিয়্যাহ বিন মুহাম্মদ সালিম (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)
প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: প্রথম সংখ্যা - ষষ্ঠ বর্ষ - ১৩৯৩ হিজরি - ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
محَاسِن الشَّرِيعَة:للشَّيْخ: عَطِيَّة مُحَمَّد سَالم
لَيْسَ من السهل على أَي إِنْسَان أَن يبين محَاسِن الشَّرِيعَة وَلَا أَن يعدد جَوَانِب الْإِحْسَان فِيهِ لِأَنَّهَا شَرِيعَة الْإِحْسَان كَمَا قَالَ صلى الله عليه وسلم: "إِن الله كتب الْإِحْسَان على كل شَيْء وكل شَيْء لم يخرج مِنْهُ وَلَا شَيْء حَتَّى فِي حَالَة الْقَتْل وإزهاق الرّوح فَلَا بُد من الْإِحْسَان وَفِي ذبح الْحَيَوَان وَفِي المحلات الَّتِي لَا يتَذَكَّر الْإِنْسَان فِيهَا معنى للإحسان. فَإِذا قتلتم فَأحْسنُوا القتلة وَإِذا ذبحتم فَأحْسنُوا الذبْحَة" إِلَى آخر الحَدِيث.
ثمَّ لَو ذَهَبْنَا نتبع مرافق الْحَيَاة كلهَا لوجدنا الْإِحْسَان يتوجها بل إِن الْغَايَة من خلق الْإِنْسَان وإماتته وإحيائه لم يكن لشَيْء إِلَّا للإحسان: {تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ. الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ
শরিয়তের সৌন্দর্যসমূহ:শায়খ আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিমের লেখনী থেকে
যেকোনো মানুষের পক্ষে শরিয়তের সৌন্দর্যসমূহ ফুটিয়ে তোলা কিংবা এর মধ্যস্থিত ইহসান বা নিষ্ঠার দিকগুলো গণনা করা সহজ নয়; কারণ এটি হলো ইহসানেরই শরিয়ত, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেকটি বিষয়ের ওপর ইহসান বা সর্বোত্তমভাবে সম্পাদন করাকে বিধিবদ্ধ করেছেন। কোনো কিছুই এর আওতা বহির্ভূত নয়, এমনকি হত্যা এবং প্রাণ হরণের ক্ষেত্রেও ইহসান বজায় রাখা আবশ্যক। তেমনিভাবে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে এবং এমন সব পরিস্থিতিতেও যেখানে মানুষ ইহসানের কোনো তাৎপর্য খুঁজে পায় না। সুতরাং যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করো এবং যখন তোমরা জবাই করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে জবাই করো।" — হাদিসের শেষ পর্যন্ত।
অতঃপর আমরা যদি জীবনের সকল অনুষঙ্গ পর্যবেক্ষণ করি, তবে দেখতে পাব যে ইহসান সেগুলোকে মুকুটের ন্যায় শোভিত করে রেখেছে। বরং মানুষের সৃষ্টি, মৃত্যু ও পুনর্জীবনের লক্ষ্যই ছিল কেবল ইহসান বা উত্তম আমল পরীক্ষা করা: "বরকতময় তিনি যাঁর হাতে রাজত্ব এবং তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে, তোমাদের মধ্যে কে..."
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أَحْسَنُ عَمَلاً} . {إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الأَرْضِ زِينَةً لَهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلاً} .
وَفِي الحَدِيث بعد بَيَان الْإِسْلَام ثمَّ يتدرج إِلَى الْإِيمَان ثمَّ يتوج الْجَمِيع بِالْإِحْسَانِ إِنَّهَا صبغة الله {صِبْغَةَ اللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً وَنَحْنُ لَهُ عَابِدُونَ} .
وَلَو ذَهَبْنَا نعدد جَوَانِب الْإِحْسَان وَلَو على سَبِيل الْإِجْمَال نجد ابْتِدَاء من القَوْل بِاللِّسَانِ نجد قَوْله تَعَالَى: {وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} حَتَّى فِي الْجِدَال: {وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} ..وَفِي الدعْوَة إِلَى الله: {بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} ..حَتَّى مَعَ الْمُسِيء: {ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ السَّيِّئَةَ} . {وَلا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} ..
وَفِي الْعشْرَة الزَّوْجِيَّة إِذا لم تدم: {فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ} . .وَمَعَ الْوَالِدين: {وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً} .. إِلَى مَا لَا نِهَايَة لَهُ.. وأخيرا وَمن الْعُمُوم: {وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} ..
وَهَذَا أَمر من الله تَعَالَى بِعُمُوم الْإِحْسَان مَقْرُونا بِالْعَدْلِ: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالأِحْسَانِ} . إِنَّهَا شَرِيعَة الله أنزلت فِي كتاب أحكمت آيَاته ثمَّ فصلت من لدن حَكِيم خَبِير على من اصطفاه الله من خلقه وَخَاتم رسله بِالْمُؤْمِنِينَ رؤوف رَحِيم. لخير أمة أخرجت للنَّاس تَأمر بِالْمَعْرُوفِ وتنهى عَن الْمُنكر وتؤمن بِاللَّه..
إِنَّهَا الشَّرِيعَة الَّتِي ارتضاها الله فأتمها وأكملها: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلامَ دِيناً} ..
لقد كَانَت شرائع من قبل وَكَانَت أَدْيَان لمن قبلنَا نزلت بهَا كتب وَبعثت بهَا رسل. فَجَاءَت هَذِه الشَّرِيعَة أكملها وَهَذَا الدّين أتمهَا وَالْكتاب الَّذِي أنزل
...সর্বোত্তম আমল}। {নিশ্চয় আমি জমিনের ওপর যা কিছু রয়েছে তাকে তার জন্য শোভা করেছি, যাতে আমি তাদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে আমলে কে শ্রেষ্ঠ}।
এবং হাদিসে ইসলামের বর্ণনার পর পর্যায়ক্রমে ইমানের স্তরে এবং পরিশেষে ইহসান দ্বারা বিষয়টিকে ভূষিত করা হয়েছে; যা মূলত আল্লাহর রঙ {আল্লাহর রঙ, আর আল্লাহর রঙের চেয়ে উত্তম রঙ আর কার হতে পারে? আর আমরা তাঁরই ইবাদতকারী}।
যদি আমরা ইহসানের দিকগুলো গণনা করতে চাই—এমনকি তা সংক্ষেপেই হোক না কেন—তবে কথার মাধ্যমে সূচনার ক্ষেত্রে আমরা মহান আল্লাহর বাণী পাই: {আর আমার বান্দাদের বলে দিন তারা যেন এমন কথা বলে যা অতি উত্তম}। এমনকি বিতর্কের ক্ষেত্রেও: {এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন উত্তম পন্থায়}। আর আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে: {প্রজ্ঞা ও সদুপদেশের মাধ্যমে}। এমনকি মন্দ আচরণকারীর সাথেও: {মন্দের মোকাবিলা করুন ঐ পন্থায় যা সর্বোত্তম}। {আর ভালো ও মন্দ সমান হতে পারে না। আপনি মন্দের মোকাবিলা করুন সর্বোত্তম পন্থায়}।
আর দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে যদি তা বজায় না থাকে: {হয় বিধিসম্মতভাবে রাখা, না হয় ইহসানের সাথে বিদায় দেওয়া}। আর পিতা-মাতার সাথে: {এবং পিতা-মাতার সাথে ইহসান করা}... যার কোনো শেষ নেই। পরিশেষে ব্যাপক অর্থে: {আর তোমরা ইহসান করো, নিশ্চয় আল্লাহ ইহসানকারীদের ভালোবাসেন}।
এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের পাশাপাশি সাধারণ ইহসানের এক নির্দেশ: {নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়বিচার ও ইহসানের নির্দেশ দিচ্ছেন}। এটি আল্লাহর শরিয়ত যা এমন এক কিতাবে অবতীর্ণ হয়েছে যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত, অতঃপর তা প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত সত্তার পক্ষ থেকে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত এবং সর্বশেষ রাসুলের ওপর, যিনি মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত মমতাশীল ও পরম দয়ালু। এটি সেই শ্রেষ্ঠ উম্মতের জন্য যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে, যারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও মন্দ কাজের (منكر) নিষেধ করে এবং আল্লাহর ওপর ইমান রাখে।
এটি সেই শরিয়ত যা আল্লাহ পছন্দ করেছেন এবং তাকে পূর্ণতা ও সমাপ্তি দান করেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম}।
আমাদের পূর্ববর্তীদের জন্যও বিভিন্ন শরিয়ত ও ধর্ম ছিল যা কিতাবসহ অবতীর্ণ হয়েছিল এবং যার জন্য রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন। অতঃপর এই শরিয়তটি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং এই দ্বীনটি সবচেয়ে পরিপূর্ণ হিসেবে এসেছে এবং যে কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
بهَا مُصدق لما بَين يَدَيْهِ ومهيمن عَلَيْهِ. وَالرَّسُول صلى الله عليه وسلم أرسل بهَا خَاتم الرُّسُل وأفضلهم وارتضاها الله لمن اصطفاه من خلقه لخير أمة أخرجت للنَّاس فَهِيَ خير مَا أنزل على خير من أرسل لخير من أنزل إِلَيْهِم فَهِيَ الْخَيْر أجمع.
وَمن نَاحيَة أُخْرَى: إِنَّهَا وَحي من الله بِكَلَام الله فلهَا ارتباط بِصفة من صِفَات الله. وَكَمَال صِفَاته سُبْحَانَهُ فرع عَن كَمَال ذَاته.. {وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقاً وَعَدْلاً لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} . وَهَذَا النُّور الَّذِي أخرج الله بِهِ النَّاس من الظُّلُمَات إِلَى النُّور: {مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ فِيهَا مِصْبَاحٌ الْمِصْبَاحُ فِي زُجَاجَةٍ الزُّجَاجَةُ كَأَنَّهَا كَوْكَبٌ دُرِّيٌّ يُوقَدُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ زَيْتُونَةٍ لَا شَرْقِيَّةٍ وَلا غَرْبِيَّةٍ يَكَادُ زَيْتُهَا يُضِيءُ وَلَوْ لَمْ تَمْسَسْهُ نَارٌ نُورٌ عَلَى نُورٍ يَهْدِي اللَّهُ لِنُورِهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَضْرِبُ اللَّهُ الأَمْثَالَ لِلنَّاسِ وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} ..
এটি (শরীয়াহ) তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর তদারককারী ও রক্ষক। আর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন যিনি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাদের মনোনীত করেছেন, সেই শ্রেষ্ঠ উম্মতের জন্য এটি পছন্দ করেছেন যা মানুষের কল্যাণে প্রকাশ করা হয়েছে। সুতরাং এটি শ্রেষ্ঠ বিষয় যা প্রেরিতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং যাদের প্রতি এটি অবতীর্ণ হয়েছে তারা শ্রেষ্ঠ জাতি; এটিই হলো পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ।
অন্য দিক থেকে: এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি (وحي) ও তাঁর কালাম বা বাণী, তাই এটি আল্লাহর গুণাবলির একটির সাথে সংশ্লিষ্ট। আর তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) গুণাবলির পূর্ণতা হলো তাঁর পবিত্র সত্তার পূর্ণতারই প্রতিফলন। {আপনার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ। তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।}। আর এটিই সেই নূর যার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন: {তাঁর জ্যোতির উদাহরণ হলো যেন একটি কুলুঙ্গি, যার মধ্যে একটি প্রদীপ রয়েছে; প্রদীপটি একটি কাঁচের আবরণের মধ্যে অবস্থিত; কাঁচের আবরণটি যেন একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র; এটি বরকতময় জয়তুন বৃক্ষের তেল দ্বারা প্রজ্বলিত হয়, যা পূর্ব দিকের নয় এবং পশ্চিম দিকের নয়; এর তেল যেন অগ্নি স্পর্শ না করলেও আলোকিত হওয়ার উপক্রম হয়। জ্যোতির ওপর জ্যোতি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর জ্যোতির দিকে পথপ্রদর্শন করেন। আল্লাহ মানুষের জন্য দৃষ্টান্তসমূহ বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত}।।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أسس الْإِحْسَان: وَمن أسس الْإِحْسَان فِيهَا عناصر ثَلَاثَة:
1 - الْكَمَال. 2_ الشُّمُول. 3_ السماحة. 4_الْبَقَاء.
أما الْكَمَال فَلِأَنَّهَا من الله وبكلمات الله: {وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقاً وَعَدْلاً} وبالحق أَنزَلْنَاهُ وبالحق نزل {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلامَ دِيناً} وَفِي الحَدِيث: "مَا تركت شَيْئا يقربكم إِلَى الله إِلَّا بَينته لكم وأمرتكم بِهِ وَلَا شَيْئا يباعدكم عَن الله إِلَّا بَينته لكم ونهيتكم عَنهُ"..وَعَلِيهِ قَالَ مَالك بن أنس رحمه الله: من سنّ سنة وَزعم أَنَّهَا حَسَنَة فقد زعم أَن مُحَمَّدًا خَان الرسَالَة لِأَن الله أخبر بِأَنَّهُ أكمل لنا الدّين وَمَا كَانَ كَامِلا لَا يحْتَمل زِيَادَة. وَمن أَرَادَ الزِّيَادَة فقد زعم فِيهِ النَّقْص حَتَّى يتمه هُوَ وَلنْ يكون.
فَهَذِهِ النُّصُوص وأمثالها صَرِيحَة فِي كَمَال الشَّرِيعَة..
ইহসানের মূলভিত্তি: আর ইহসানের মূলভিত্তিসমূহের মধ্যে তিনটি উপাদান রয়েছে:
১ - পূর্ণতা। ২_ ব্যাপকতা। ৩_ উদারতা। ৪_ স্থায়িত্ব।
পূর্ণতার বিষয়টি এ কারণে যে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে নির্ধারিত: {আপনার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে পূর্ণ হয়েছে}, {আমি তা সত্যসহ নাযিল করেছি এবং তা সত্যসহই নাযিল হয়েছে} এবং {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিআমতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম}। আর হাদিসে এসেছে: "আমি এমন কোনো কিছু বাকি রাখিনি যা তোমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করবে অথচ আমি তা তোমাদের নিকট বর্ণনা করিনি এবং তোমাদেরকে তার নির্দেশ দিইনি; আর এমন কোনো কিছু বাকি রাখিনি যা তোমাদেরকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেবে অথচ আমি তা তোমাদের নিকট বর্ণনা করিনি এবং তোমাদেরকে তা থেকে নিষেধ করিনি।" এর ভিত্তিতে ইমাম মালিক বিন আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নতুন কোনো রীতির (سنة) প্রচলন করল এবং দাবি করল যে তা উত্তম (حسنة), সে যেন এই দাবি করল যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের দায়িত্বে খেয়ানত করেছেন। কারণ আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন। আর যা পূর্ণ, তা কোনো অতিরিক্ত সংযোজন গ্রহণ করে না। যে ব্যক্তি এতে নতুন কিছু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন এতে অপূর্ণতা থাকার দাবি করল যাতে সে নিজেই তা পূর্ণ করতে পারে; অথচ তা কখনোই সম্ভব নয়।"
সুতরাং এই সকল দলিলসমূহ (نصوص) এবং এই জাতীয় অন্যান্য প্রমাণাদি শরীয়তের পূর্ণতার বিষয়ে সুস্পষ্ট...
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
التطبيق الْفعْلِيّ لكَمَال الشَّرِيعَة
مدْخل…وَمن النَّاحِيَة الفعلية للشريعة نجد فِي مقاصدها الْبُرْهَان الْقَائِم على ذَلِك للأن جَمِيع حكماء الْعَالم يَقُولُونَ مَقَاصِد الْعُقَلَاء فِي أَمريْن: جلب النَّفْع وَدفع الضّر..
والشريعة جَاءَت بتحقيق هذَيْن المطلبين وزادت مطلبا ثَالِثا: وَهُوَ الْحَث على مَكَارِم الْأَخْلَاق ومحاسن الْعِبَادَات.
শরীয়তের পূর্ণাঙ্গতার ব্যবহারিক প্রয়োগভূমিকা…শরীয়তের ব্যবহারিক দিকের ক্ষেত্রে আমরা এর উদ্দেশ্যসমূহের (মাকাসিদ) মধ্যে এর সপক্ষে বিদ্যমান প্রমাণাদি দেখতে পাই; কেননা বিশ্বের সকল প্রাজ্ঞ ব্যক্তি একমত যে, বুদ্ধিমানদের উদ্দেশ্যসমূহ দুটি বিষয়ের ওপর আবর্তিত: কল্যাণ আনয়ন এবং অকল্যাণ দূরীকরণ...
আর শরীয়ত এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের নিমিত্তে অবতীর্ণ হয়েছে এবং তৃতীয় একটি লক্ষ্য এতে যুক্ত করেছে: আর তা হলো সচ্চরিত্রের মহিমা এবং ইবাদতের সৌন্দর্যের প্রতি উৎসাহিত করা।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
جلب الْمَنَافِع: فَمن جلب الْمَنَافِع إِبَاحَة جَمِيع مَا فِي الأَرْض وتسخير كل الْقُوَّة لخدمة الْإِنْسَان وَالْقَاعِدَة فِي ذالك عِنْد الْفُقَهَاء: الأَصْل فِي الْأَشْيَاء الْإِبَاحَة حَتَّى يَأْتِي الْحَضَر. وَعَلِيهِ قَوْله تَعَالَى: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً} – {اللَّهُ الَّذِي سَخَّرَ لَكُمُ الْبَحْرَ لِتَجْرِيَ الْفُلْكُ فِيهِ بِأَمْرِهِ وَلِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} . {وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً مِنْهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لآياتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} ..
وَقد شرعت الْعُقُود لتناول هَذِه الْمَنَافِع من بيع وإيجار وَشركَة وَغير ذَلِك مِمَّا يجلب النَّفْع على الْفَرد وعَلى الْجَمَاعَة..وأقيمت على أسس قويمة وَلم تتْرك لتراضي الْمُتَعَاقدين حسب أهوائهم بل لاضرر وَلَا ضرار. وَالْغُرْم بالغلم وكل شَرط لَيْسَ فِي كتاب الله فَهُوَ بَاطِل وَإِن كَانَ مائَة شَرط، لاكما يَقُول المقننون: (العقد شرعة الْمُتَعَاقدين) . لِأَن العقد أَحْيَانًا يكون بَين قوي وَضَعِيف أَو غَنِي وفقير فَيَقَع الحيف....
কল্যাণ আহরণ (جلب المنافع): কল্যাণ আহরণের (جلب المنافع) অন্তর্ভুক্ত হলো পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সবকিছুর বৈধতা (إباحة) এবং মানুষের সেবায় সকল শক্তিকে নিয়োজিত করা। এ বিষয়ে ফকিহদের (فقهاء) নিকট মূলনীতি (قاعدة) হলো: বস্তুর ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো বৈধতা (إباحة), যতক্ষণ না নিষেধাজ্ঞা (حظر) আসে। এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।} – {আল্লাহই সমুদ্রকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন যাতে তাঁর আদেশে তাতে জলযান চলাচল করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পারো আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।}। {আর তিনি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন; নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।}..
ব্যক্তি ও সমাজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে এমন সব উপযোগিতা গ্রহণের নিমিত্তে বিভিন্ন চুক্তি (عقود) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যেমন: ক্রয়-বিক্রয় (بيع), ইজারা (إجارة), অংশীদারিত্ব (شركة) এবং অন্যান্য। এগুলো সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে এবং চুক্তিকারী পক্ষদ্বয়ের খেয়ালখুশিমতো কেবল তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি; বরং মূলনীতি হলো: ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না (لا ضرر ولا ضرار)। লোকসান বা ঝুঁকি গ্রহণের বিনিময়েই লাভ নির্ধারিত হয় (الغرم بالغنم) এবং আল্লাহর কিতাবে (বিধানে) নেই এমন প্রতিটি শর্তই বাতিল (باطل), যদিও তা একশত শর্ত হয়। আইনপ্রণেতারা যেমনটি বলেন তেমনটি নয় যে: (চুক্তিই চুক্তিকারীদের জন্য আইন)। কারণ চুক্তি কখনো সবল ও দুর্বলের মধ্যে অথবা ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সম্পাদিত হয়, ফলে সেখানে অবিচার (حيف) ঘটার সম্ভাবনা থাকে।....
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أمادفع المضار…أما دفع المضار: فقد دفعت عَمَّا يُسمى بالضروريات بِقصد حمايتها وَهِي الضروريات لكل مُجْتَمع وَقد جَاءَت جَمِيع الْأَدْيَان بحمايتها لِأَنَّهُ لاحياة بِدُونِهَا وَلَا اسْتِقْرَار وَلَا أَمن وَلَا طمأنينة وَهِي:
1 - الْأَدْيَان 2 - الْأَنْفس 3 - الْعُقُول 4 - الْأَنْسَاب 5 - الْأَعْرَاض 6 - الْأَمْوَال.
অনিষ্ট প্রতিহতকরণ প্রসঙ্গে…অনিষ্ট প্রতিহতকরণের বিষয়টি হলো: এটি সুরক্ষার উদ্দেশ্যে তথাকথিত অপরিহার্য বিষয়সমূহ থেকে অনিষ্ট প্রতিহত করেছে। এগুলো প্রতিটি সমাজের জন্য অপরিহার্য এবং সকল ধর্মই এগুলো সুরক্ষার বিধান নিয়ে এসেছে; কারণ এগুলো ব্যতীত জীবন, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও প্রশান্তি সম্ভব নয়। আর সেগুলো হলো:
১ - ধর্ম ২ - জীবন ৩ - বিবেক-বুদ্ধি ৪ - বংশধারা ৫ - মান-সম্মান ৬ - সম্পদ।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أما الْأَدْيَان: فضرورة اجتماعية فَلَا تُوجد أمة بِدُونِ تدين سَوَاء كَانَ دينهَا صَحِيحا أَو فَاسِدا فَإِذا كَانَ من عِنْد الله وَجب حفظه. لِأَن بِهِ نظام الْمُجْتَمع وارتباطه. وَعَلِيهِ أَمر الله الْمُسلمين بِقِتَال الْمُشْركين {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ} وَقَالَ: {تُقَاتِلُونَهُمْ أَوْ يُسْلِمُونَ} والْحَدِيث: "أمرت أَن أقَاتل النَّاس حَتَّى يشْهدُوا أَن لَا إِلَه إِلَّا الله ".. إِلَى آخر الحَدِيث..
فَإِذا أسلم العَبْد وَجب الْحفاظ على دينه فشرع قتل الْمُرْتَد وتتمة لذَلِك حرم الابتداع فِي الدّين وَحرمت الزندقة وَفسق المبتدع وَقتل الزنديق.
ধর্মের প্রসঙ্গে: এটি একটি সামাজিক প্রয়োজনীয়তা, তাই ধর্মপরায়ণতা ব্যতীত কোনো জাতির অস্তিত্ব পাওয়া যায় না, তাদের ধর্ম বিশুদ্ধ (صحيح) হোক বা ভ্রান্ত (فاسد)। সুতরাং যদি তা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তবে তা সংরক্ষণ করা আবশ্যক। কারণ এর মাধ্যমেই সমাজের শৃঙ্খলা ও সংহতি বজায় থাকে। আর এরই ভিত্তিতে আল্লাহ মুসলিমদেরকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা (فتنة) দূরীভূত হয় এবং দ্বীন পূর্ণাঙ্গভাবে আল্লাহর জন্য হয়ে যায়}। এবং তিনি বলেছেন: {তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে অথবা তারা ইসলাম গ্রহণ করবে}। আর হাদিস হলো: "আমি মানুষের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই..." হাদিসের শেষ পর্যন্ত।
যখন কোনো বান্দা ইসলাম গ্রহণ করে, তখন তার দ্বীন রক্ষা করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। একারণেই ধর্মত্যাগী (مرتد) ব্যক্তিকে হত্যার বিধান দেওয়া হয়েছে এবং এর পরিপূরক হিসেবে দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবন (ابتداع) নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেইসাথে ধর্মদ্রোহিতা (زندقة) হারাম করা হয়েছে এবং বিদআতকারীকে (مبتدع) পাপাচারী (فاسق) সাব্যস্ত করা হয়েছে ও ধর্মদ্রোহীকে (زنديق) হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَأما حفظ الْعقل: فَلِأَنَّهُ هُوَ عَامل التَّمْيِيز ومناط التَّكْلِيف فَهُوَ أعز منال وَسبب التكريم فَلَزِمَ الْحفاظ عَلَيْهِ حفظا لما أنيط بِهِ وَقد عقد بعض الأدباء مناظرة بَين الْعقل والحلم ليظْهر فِيهَا فضل الْعقل وَنعمته فَقَالَ:
فبالعقل تتمثل الْأَوَامِر وتجتنب النواهي فَحرم الله كل مُسكر ومفتر وَجعل حد السكر بِالْجلدِ. وَحرم الْقَلِيل من الْمُسكر وَإِن لم يسكر.. فَقَالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ} وَبَين مفاسد الْمُسكر بقوله تَعَالَى {إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ} .
আর বুদ্ধিবৃত্তির (আকল) সংরক্ষণ প্রসঙ্গে: কেননা এটিই হলো পার্থক্য নিরূপণের মানদণ্ড এবং শরয়ী বিধানের (تكليف) ভিত্তি। এটি অত্যন্ত মূল্যবান অর্জন এবং (মানুষের) মর্যাদাপ্রাপ্তির মূল কারণ; তাই এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির সুরক্ষার্থে এর যথাযথ সংরক্ষণ আবশ্যক। কতিপয় সাহিত্যিক আকল (বুদ্ধি) ও হিলম (ধৈর্য)-এর মধ্যে একটি বিতর্কের অবতারণা করেছেন যাতে আকলের শ্রেষ্ঠত্ব ও নেয়ামত প্রকাশ পায়, সেখানে বলা হয়েছে:
আকলের মাধ্যমেই আদেশসমূহ পালন করা হয় এবং নিষেধসমূহ বর্জন করা হয়। এজন্যই আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মাদক ও শিথিলতা আনয়নকারী বস্তু হারাম করেছেন এবং নেশাগ্রস্ত হওয়ার জন্য বেত্রাঘাতের নির্ধারিত শাস্তি (حد) ধার্য করেছেন। এছাড়া তিনি মাদকের সামান্য পরিমাণও হারাম করেছেন, যদিও তা মত্ততা তৈরি না করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীর—এসবই শয়তানের কাজ ও অপবিত্র বস্তু। অতএব তোমরা এসব বর্জন করো।} আর তিনি মাদকের অপকারিতা বর্ণনা করে বলেন: {শয়তান তো কেবল এটাই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে।}।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَفِي النّسَب: الَّذِي هُوَ رِبَاط الأسرة وعامل تكوينها فقد أحيط بسياج من الْحفاظ عَلَيْهِ بِتَحْرِيم الزِّنَا وَوُجُوب الْعدة عِنْد الْفرْقَة. وَشرع حد الزِّنَا جلدا أَو رجما _ وَحرم على التَّأْبِيد المتزوجة فِي الْعدة. وتتمة لحفظ النّسَب من الزِّنَا حرم الْخلْوَة الأجنبيات.
এবং বংশধারার (النسب) ক্ষেত্রে: যা পরিবারের বন্ধন এবং এর গঠনের মূল উপাদান, একে ব্যভিচার (الزنا) হারাম করা এবং বিচ্ছেদের (الفرقة) সময় ইদ্দত (العدة) পালন বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে সংরক্ষণের এক সুদৃঢ় বেষ্টনী দিয়ে পরিবেষ্টিত করা হয়েছে। ব্যভিচারের (الزنا) জন্য বেত্রাঘাত (جلد) অথবা পাথর নিক্ষেপের (رجم) নির্ধারিত দণ্ড (حد) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং ইদ্দত (العدة) চলাকালীন বিবাহ করাকে স্থায়ীভাবে হারাম করা হয়েছে। ব্যভিচার (الزنا) থেকে বংশধারা (النسب) সংরক্ষণের পূর্ণতা স্বরূপ অপরিচিত নারীদের (الأجنبيات) সাথে নির্জনবাস (الخلوة) নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَفِي الْعرض: الَّذِي هُوَ مدَار الْمُرُوءَة والكرامة والعفة والنزاهة. حرم الْقَذْف وَشرع حد الْقَذْف بِالْجلدِ وتتمة لذَلِك حرم الْغَيْبَة والنميمة. الْمُسلم لَيْسَ بسباّب وَلَا لعاّن: {وَلا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ وَلا تَنَابَزُوا بِالأَلْقَابِ بِئْسَ الاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الأِيمَانِ وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} .
এবং সম্মান (عرض) রক্ষার ক্ষেত্রে: যা হলো ব্যক্তিত্ববোধ (مروءة), মর্যাদা, চারিত্রিক পবিত্রতা ও কলঙ্কমুক্ত থাকার মূল ভিত্তি। (শরিয়তে) অপবাদ (قذف) প্রদানকে হারাম করা হয়েছে এবং অপবাদের জন্য বেত্রাঘাতের নির্ধারিত দণ্ড (حد) বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এরই পরিপূরক হিসেবে পরনিন্দা (غيبة) ও চোগলখুরি (نميمة) হারাম করা হয়েছে। একজন মুসলিম গালিগালাজকারী কিংবা অভিশাপ প্রদানকারী হয় না: {তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ উপাধিতে ডেকো না; ঈমান আনার পর পাপাচার (فسوق) কতই না মন্দ নাম। আর যারা তওবা করে না, তারাই জালেম (ظالمون)}।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَالْمَال: وَهُوَ قوام الْحَيَاة حثت الشَّرِيعَة على جمعه من الْحَلَال وَحرم التكسب غير الْمَشْرُوع وَقَالَ تَعَالَى: {وَلا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقاً مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالأِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} ..وَحرم الْغِشّ والتدليس وَالسَّرِقَة وَجعل حد السّرقَة قطع يَد السَّارِق وَقد جَاءَ فِي الحَدِيث بأصولها: "أَلا إِن دماءكم وَأَمْوَالكُمْ وَأَعْرَاضكُمْ عَلَيْكُم حرَام كَحُرْمَةِ يومكم هَذَا فِي شهركم هَذَا".. الحَدِيث.
وَمثله حَدِيث: "الْمُسلم على الْمُسلم حرَام دَمه وَمَاله وَعرضه"..
এবং সম্পদ: এটি হলো জীবনের মূল চালিকাশক্তি; শরিয়ত হালাল উপায়ে সম্পদ সংগ্রহের প্রতি উৎসাহিত করেছে এবং অবৈধ উপার্জন নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের সম্পদের একাংশ পাপের মাধ্যমে জেনে-বুঝে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে বিচারকদের নিকট পেশ করো না}। তিনি প্রতারণা, কারসাজি (التدليس) এবং চুরি হারাম করেছেন এবং চুরির দণ্ড হিসেবে চোরের হাত কাটার বিধান নির্ধারণ করেছেন। হাদিসে এর মৌলিক নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে: "শুনে রাখো! তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিনটি তোমাদের এই মাসে..." হাদিস।
অনুরূপ একটি হাদিস হলো: "এক মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের রক্ত, সম্পদ এবং সম্মান হারাম।"
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أما مَكَارِم الْأَخْلَاق:فقد كَانَ عنوانها فِي شخصية الرَّسُول صلى الله عَلَيْهِ سلم فِي قَوْله تَعَالَى عَنهُ: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} وشرحت عَائِشَة رضي الله عنها هَذَا بقولِهَا: "كَانَ خلقه الْقُرْآن ".. وَقد أَمر الْمُسلمُونَ بالإقتداء والتأسي بِهِ صلى الله عليه وسلم: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} .. فجَاء ببر الْوَالِدين وَحسن الْعشْرَة وَحسن الجيرة وَصدق القَوْل. وَالْوَفَاء بالوعد وَحفظ الْعَهْد وَنَحْو ذَلِك مِمَّا لَا يُحْصى. وَقد أُشير إِلَيْهِ فِي قَوْله تَعَالَى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ} . {وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلا تَنْقُضُوا الأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلاً إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ} .
উত্তম চরিত্রের ক্ষেত্রে:নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্বে এর প্রতিফলন ঘটেছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী}। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "তাঁর চরিত্র ছিল আল-কুরআন।" আর মুসলমানদের তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণ ও অনুকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ}। সুতরাং তিনি পিতামাতার প্রতি সদাচরণ, উত্তম সামাজিক মেলামেশা, উত্তম প্রতিবেশীসুলভ আচরণ এবং সত্য কথা বলার শিক্ষা নিয়ে এসেছেন। সেই সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা, অঙ্গীকার পালন এবং এ জাতীয় আরও অগণিত চারিত্রিক গুণাবলি নিয়ে এসেছেন যা গণনা করা সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর এই বাণীতে ইঙ্গিত করা হয়েছে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচরণ এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ (منكر) ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করছেন; তিনি তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো}। {আর তোমরা যখন অঙ্গীকার করো, তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং শপথ দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না, অথচ তোমরা আল্লাহকে তোমাদের ওপর জামিন নিযুক্ত করেছ; নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন}।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَفِي وقْعَة: ذهب أحد المقاتلين بعد المعركة يبْحَث عَن أَخ لَهُ وَمَعَهُ قدح من مَاء لَعَلَّه يسعفه بِهِ فَلَمَّا وجده وَقدم إِلَيْهِ الْقدح فَأَهوى بِهِ إِلَى فَمه سمع أنينا بجواره فَأَشَارَ إِلَى أَخِيه أَن اذْهَبْ بِالْمَاءِ إِلَيْهِ لَعَلَّه أحْوج إِلَيْهِ مني فَلَمَّا وَصله وأهوى بالقدح إِلَى فِيهِ سمع هُوَ أَيْضا أنينا بجواره فَقَالَ لَهُ اذْهَبْ بِهِ إِلَيْهِ لَعَلَّه أحْوج إِلَيْهِ مني. فَلَمَّا وصل إِلَيْهِ وجده قد فَارق الْحَيَاة فَعَاد إِلَى الثَّانِي فَوجدَ روحه قد فاضت فَعَاد إِلَى أَخِيه فَإِذا بِهِ قد استسلم وَبَقِي الْقدح على يَدَيْهِ وَمَات ثَلَاثَتهمْ ظمأ إيثارا للْغَيْر على النَّفس فِي أحْوج المواقف وَأَشد الْحَاجة.
وَفِي الْإِحْسَان إِلَى الْمُسِيء الصُّور العديدة وَمن أوضحها مَا حُكيَ عَن زين العابدين ابْن الْحسن بن عَليّ رضي الله عنهم أَن جَارِيَة كَانَت تصب عَلَيْهِ المَاء فَسقط مِنْهَا الإبريق فآذاه. فَنَظَرت إِلَيْهِ فِي إشفاق وَقَالَت: يَا يسدي الله تَعَالَى يَقُول: {وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ} فَقَالَ لَهَا كظمت غيظي، ثمَّ قَالَت {وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ} . فَقَالَ لَهَا عَفَوْت عَنْك، فطمعت وَقَالَت {وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} قَالَ: اذهبي فَأَنت حرَّة لوجه الله
…وَمِمَّا يدل فِي هَذَا المجال التَّوْجِيه إِلَى مَا هُوَ أفضل وَأحسن والانطلاق إِلَى الْفَضَائِل وَالْإِحْسَان سَوَاء فِي الْعِبَادَات والقرب إِلَى الله أَو فِي الْمُعَامَلَات وَحُقُوق الْإِنْسَان.
এক যুদ্ধে: যুদ্ধের পর এক যোদ্ধা তাঁর ভাইয়ের সন্ধানে বের হলেন, তাঁর সাথে ছিল এক পেয়ালা পানি, যাতে সম্ভবত তিনি তাকে তা দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। যখন তিনি তাকে খুঁজে পেলেন এবং তাঁর সামনে পেয়ালাটি পেশ করলেন এবং তিনি তা পান করতে উদ্যত হলেন, তখন তিনি তাঁর পার্শ্ববর্তী কোনো এক ব্যক্তির আর্তনাদ শুনতে পেলেন। তখন তিনি তাঁর ভাইয়ের দিকে ইঙ্গিত করলেন যে, পানিটি তাঁর কাছে নিয়ে যাও, সম্ভবত তিনি আমার চেয়েও বেশি এর মুখাপেক্ষী। যখন সে তাঁর কাছে পৌঁছাল এবং পেয়ালাটি তাঁর মুখের কাছে ধরল, তিনিও তাঁর পাশে অন্য এক আর্তনাদ শুনতে পেলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, এটি তাঁর কাছে নিয়ে যাও, সম্ভবত তিনি আমার চেয়েও বেশি এর মুখাপেক্ষী। যখন সে তাঁর কাছে পৌঁছাল, তাকে মৃত অবস্থায় পেল। এরপর সে দ্বিতীয় ব্যক্তির কাছে ফিরে এল এবং দেখল যে তাঁরও প্রাণবায়ু বের হয়ে গেছে। অতঃপর সে তাঁর ভাইয়ের কাছে ফিরে এল এবং দেখল তিনিও মৃত্যুবরণ করেছেন। পানির পেয়ালাটি তাঁর হাতেই রয়ে গেল এবং তাঁরা তিনজনই অতিশয় সংকটের মুহূর্তে এবং তীব্র প্রয়োজনে নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলেন।
অপরাধীর প্রতি মহানুভবতা প্রদর্শনের বহু চিত্র রয়েছে এবং তাঁর মধ্যে সবচাইতে স্পষ্ট হলো যা জয়নুল আবেদিন ইবনে হাসান বিন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, এক দাসী তাঁর ওপর পানি ঢালছিল, তখন তাঁর ওপর পাত্রটি পড়ে গিয়ে তাঁকে আঘাত করল। তখন দাসীটি করুণ চোখে তাঁর দিকে তাকাল এবং বলল: হে আমার মনিব! আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী}। তখন তিনি তাকে বললেন: আমি আমার ক্রোধ সংবরণ করলাম। এরপর সে বলল: {এবং যারা মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল}। তখন তিনি তাকে বললেন: আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। অতঃপর সে আরও আশান্বিত হয়ে বলল: {এবং আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন}। তিনি বললেন: যাও, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তুমি মুক্ত
…এই ক্ষেত্রে যা কিছু ইঙ্গিত প্রদান করে তা হলো যা অধিক উত্তম ও শ্রেষ্ঠ তার দিকে দিকনির্দেশনা প্রদান এবং যাবতীয় মহৎ গুণাবলি ও সৌজন্যের পথে ধাবিত হওয়া, চাই তা ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে হোক অথবা পারস্পরিক লেনদেন ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে হোক।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فَمن الْعِبَادَات فِي الصَّوْم {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ} فالحد الْأَدْنَى للفدية عَن الْيَوْم طَعَام مِسْكين. ثمَّ نَدبه إِلَى الزِّيَادَة فِي الْخَيْر وَمن تطوع خيرا فَهُوَ خير لَهُ..
সাওম বা রোজা পালনের ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো— {আর যারা এটি পালনে অত্যন্ত কষ্টবোধ করে, তাদের কর্তব্য হলো এর পরিবর্তে ফিদইয়া হিসেবে একজন মিসকিনকে অন্নদান করা; অতঃপর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো সৎকাজ করে, তা তার জন্য কল্যাণকর}। সুতরাং প্রতিদিনের ফিদইয়ার সর্বনিম্ন সীমা হলো একজন মিসকিনকে অন্নদান করা। অতঃপর তাকে কল্যাণের পথে উত্তরোত্তর বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে; আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সৎকাজ করে, তা তার জন্য কল্যাণকর।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَمن الْمُعَامَلَات: أَولا فِي الدّين الْحَد الْأَدْنَى إنظار الْمُعسر: {وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ} ثمَّ يندبه إِلَى مَا هُوَ أحسن: {وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ} .. وَفِي تنصيف الصَدَاق الْمُسلم إِذا وَقعت الْفرْقَة قبل الدُّخُول فتنصيفه حد أدنى: {فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ} ..ثمَّ يندبه إِلَى الْأَحْسَن: {إِلا أَنْ يَعْفُونَ أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} .. وَهَذَا كثير وَسَيَأْتِي بَيَانه فِي الحكم وَالْقَضَاء. وَلَعَلَّ فِيمَا تقدم من بَيَان جلب الْمَنَافِع وَدفع المضار والحث على مَكَارِم الْأَخْلَاق مَا يَكْفِي لإِثْبَات كَمَال الشَّرِيعَة بِجَانِب مَا قدمنَا من النُّصُوص الصَّرِيحَة فِي ذَلِك..
وَإِن من أكمل الْأَدِلَّة على كمالها لوجودها مُنْذُ تشريعها بكمالها. لم تحتج إِلَى مَا يكملها وَلم يطْرَأ عَلَيْهَا مَا ينقصها، فقد سايرت السنين والقرون وَلم يسْتَطع معاند أَو موَالِي أَن يسْتَدرك على مَا فِيهَا وَمَا تجرأ إِنْسَان على معارضتها إِلَّا مكابر ومعاند وَهُوَ بمعارضته يعلن عَن جَهله وقصور نظره وَهُوَ فِي عمله أصدق مَا يكون عَلَيْهِ قَول الشَّاعِر: _
كناطح صَخْر يَوْمًا ليوهنها
… فَلم يَضرهَا وأوهى قرنه الوعل
بل إِن القوانين الوضعية مَا تمت وَلَا تطورت إِلَّا بِمِقْدَار مَا اقْتَرَبت مِنْهَا واقتبست عَنْهَا. كَمَا فِي أصل نشأة القانون الجرماني فقد كَانَ مِنْهُ قانون العوائد أَخذ من عادات الشّعب الإسباني من بقايا الْفِقْه الْمَالِكِي..
লেনদেন (معاملات) সংক্রান্ত বিষয়ের মধ্যে: প্রথমত ঋণের ক্ষেত্রে, অসচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ প্রদান করা হলো ন্যূনতম সীমা: {আর যদি ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি অভাবী হয়, তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দাও}। অতঃপর তাকে এর চেয়েও উত্তম বিষয়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে: {আর যদি তোমরা সদকা করে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকর}। তদ্রূপ মোহরানা অর্ধেক করার বিষয়ে, যদি মিলনের পূর্বেই বিচ্ছেদ ঘটে তবে তা অর্ধেক করা একটি ন্যূনতম সীমা: {তবে তোমরা যা নির্ধারণ করেছ তার অর্ধেক (দিতে হবে)}। অতঃপর তাকে আরও উত্তমের দিকে উৎসাহিত করা হয়েছে: {যদি না তারা (স্ত্রীরা) ক্ষমা করে দেয় অথবা সে ব্যক্তি ক্ষমা করে দেয় যার হাতে বিয়ের বন্ধন রয়েছে। আর তোমাদের ক্ষমা করে দেওয়াটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী}। এ ধরণের দৃষ্টান্ত অনেক রয়েছে এবং বিচার ও ফয়সালা (القضاء) অধ্যায়ে এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে। জনকল্যাণ সাধন, অকল্যাণ দূরীকরণ এবং মহৎ চরিত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা শরিয়তের পূর্ণতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট; এর পাশাপাশি আমরা ইতিপূর্বে এ বিষয়ে কিছু সুস্পষ্ট দলিল (نصوص) পেশ করেছি।
শরিয়তের পূর্ণতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রমাণ হলো, প্রবর্তনের শুরু থেকেই এটি পূর্ণাঙ্গ রূপে বিদ্যমান। একে পূর্ণ করার জন্য অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী হতে হয়নি এবং এতে কোনো হ্রাস বা ঘাটতিও পরিলক্ষিত হয়নি। এটি যুগ ও শতাব্দীকাল ধরে অটুটভাবে টিকে আছে; কোনো বিদ্বেষী বা অনুসারী এর ওপর কোনো সংশোধনী (استدراك) আনতে সক্ষম হয়নি। কোনো অহংকারী বা হঠকারী ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ এর বিরোধিতা করার দুঃসাহস দেখায়নি। সে তার বিরোধিতার মাধ্যমে মূলত নিজের অজ্ঞতা ও সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই প্রকাশ করে। তার এই কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কবির সেই উক্তিটিই সর্বাপেক্ষা সত্য: _
পাহাড়কে দুর্বল করার জন্য তাকে শিং দিয়ে আঘাতকারী সেই বনছাগলের মতো
… যে পাহাড়ের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজের শিংই ভেঙেছে।
বস্তুত মানবরচিত আইনগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণতা পায়নি বা বিকশিত হয়নি, যতক্ষণ না সেগুলো শরিয়তের নিকটবর্তী হয়েছে এবং তা থেকে নির্যাস গ্রহণ করেছে। যেমন জার্মান আইনের উৎপত্তির মূলে ছিল প্রথাগত আইন, যা স্প্যানিশ জনগণের রীতিনীতি থেকে সংগৃহীত হয়েছিল এবং যা মালিকি ফিকহ-এর অবশিষ্টাংশ থেকে নেওয়া।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وهاهي ذِي الحكومات فِي الدول الأوروبية تبدأ تَأْخُذ تشريعات للأسرة من نِكَاح وَطَلَاق وميراث.
আর এই তো ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকারসমূহ বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত পারিবারিক বিধিবিধান গ্রহণ করতে শুরু করেছে।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أما الشُّمُول: فقد شملت هَذِه الشَّرِيعَة جَمِيع الطَّبَقَات والطوائف والأفراد وَالْجَمَاعَات. ونظمت علاقَة الْخلق بالخالق وَالْحَاكِم بالمحكوم فِيمَا بَينهم.
فاشتملت على التشريع الديني فِي الْعِبَادَات والدنيوي فِي الْمُعَامَلَات والأخروي فِي طرق اكْتِسَاب الْحَسَنَات وَاجْتنَاب السَّيِّئَات.. فَهِيَ شَرِيعَة الدّين وَالدُّنْيَا أَو كَمَا يُقَال: الدّين والدولة. وكل شَيْء كَمَا قَالَ تَعَالَى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} ..
وَمن أوسع مَعَاني الشُّمُول فِيهَا أَنَّهَا شملت كل أمة من عرب وَمن عجم وجمعت بَينهم سواسية وسايرت كل زمَان وَمَكَان.. فَهِيَ شَامِلَة لكل النَّاس على اخْتِلَاف أجناسهم صَالِحَة لكل زمَان قَدِيما وحديثا وَلكُل مَكَان حَاضِرَة وبادية..
وَمن آثَار هَذَا الشُّمُول وَذَاكَ الْكَمَال فَهِيَ تساير الدُّنْيَا إِلَى أَن يَرث الله الأَرْض وَمن عَلَيْهَا بِخِلَاف الشَّرِيعَة الْمُتَقَدّمَة عِنْد الْيَهُود حينما قست قُلُوبهم وغلبتهم ماديتهم مالوا بهَا إِلَى المَال بِكُل حِيلَة وَاسْتَحَلُّوا لكل غَايَة كل وَسِيلَة حَتَّى استحلوا مَا حرم الله عَلَيْهِم من الصَّيْد يَوْم السبت وَأكل الشحوم بِالْبيعِ وَأكل الثّمن..
فَجَاءَت الدّيانَة للمسيحيين تخفف من مادية الْيَهُود فمالوا إِلَى الرهبانية. فَلم تأخذها الْيَهُود وَلم يَأْخُذ المسيحيون بِمَا عِنْد الْيَهُود من تشريع للمعاملات وَأخذُوا يشرعون لأَنْفُسِهِمْ تَتِمَّة لما تشمله تشريعاتهم..
ব্যাপকতার (الشمول) ক্ষেত্রে: এই শরিয়ত সমস্ত স্তর, গোষ্ঠী, ব্যক্তি ও সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এটি স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির এবং শাসক ও শাসিতের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক সুসংগঠিত করেছে।
সুতরাং এটি ইবাদাতের (العبادات) ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান, মুয়ামালাতের (المعاملات) ক্ষেত্রে পার্থিব বিধান এবং পুণ্য অর্জন ও পাপ বর্জনের উপায়ের ক্ষেত্রে পরকালীন বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে এটি হলো দ্বীন ও দুনিয়ার শরিয়ত, অথবা যেমনটি বলা হয়ে থাকে: ধর্ম ও রাষ্ট্র। আর প্রতিটি বিষয়ই এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি এই কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি}।
এর ব্যাপকতার (الشمول) অন্যতম বিস্তৃত অর্থ হলো যে, এটি আরব ও অনারব নির্বিশেষে প্রতিটি জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং তাদের মাঝে সমতা বিধান করেছে। আর এটি প্রতিটি কাল ও স্থানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। সুতরাং এটি জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য ব্যাপক, যা প্রাচীন ও আধুনিক সকল সময়ের জন্য এবং শহর ও গ্রাম নির্বিশেষে সকল স্থানের জন্য উপযোগী।
এই ব্যাপকতা (الشمول) ও পূর্ণতার (الكمال) অন্যতম প্রভাব হলো, আল্লাহ তাআলা পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হওয়া পর্যন্ত এটি জাগতিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে; যা ইহুদিদের পূর্ববর্তী শরিয়তের বিপরীত। যখন তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের ওপর বস্তুবাদিতা প্রবল হয়েছিল, তখন তারা নানাবিধ কৌশলের (حيلة) আশ্রয় নিয়ে সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল এবং যেকোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সকল পন্থাকে বৈধ করে নিয়েছিল। এমনকি তারা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়গুলোকেও বৈধ (استحلوا) করে নিয়েছিল, যেমন—শনিবারের মৎস্য শিকার এবং চর্বি বিক্রি করে তার মূল্য ভক্ষণ করা।
অতঃপর খ্রিস্টানদের ধর্ম এসে ইহুদিদের বস্তুবাদিতা লাঘব করতে চাইল, ফলে তারা বৈরাগ্যবাদের (الرهبانية) দিকে ঝুঁকে পড়ল। ইহুদিরা তা গ্রহণ করেনি, আবার খ্রিস্টানরাও ইহুদিদের কাছে থাকা মুয়ামালাতের (المعاملات) বিধানসমূহ গ্রহণ করেনি; বরং তারা নিজেদের শরিয়তকে পূর্ণতা দিতে নিজেরাই আইন প্রণয়ন করতে শুরু করল।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أما هَذِه الشَّرِيعَة فَجَاءَت كَمَا قُلْنَا للدّين وَالدُّنْيَا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسَعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ. فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} .
{مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً} إِلَى آخر السُّورَة..
আর এই শরীয়ত, আমরা যেমনটি বলেছি, দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের জন্যই এসেছে: {হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং কেনাবেচা পরিত্যাগ করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে। অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} .
{মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। তুমি তাদের রুকু ও সিজদারত অবস্থায় দেখতে পাবে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে} সূরার শেষ পর্যন্ত..
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أما السماحة فِي الشَّرِيعَة: فَهِيَ صفتهَا الْخَاصَّة كَمَا فِي الحَدِيث بعثت بالحنيفية السمحة. وَمن سماحتها أَن الله لم يَجْعَل فِيهَا من حرج فِي التَّكْلِيف كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} . . وَقَوله {مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُمْ مِنْ حَرَجٍ وَلَكِنْ يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ} وَلم يُكَلف نفسا إِلَّا وسعهَا: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلا وُسْعَهَا} ..
শরিয়তে উদারতা (سماحة) প্রসঙ্গে: এটি হলো এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "আমি একনিষ্ঠ (حنيفية) ও উদার (سمحة) আদর্শ নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।" আর এর উদারতার একটি দিক হলো যে, আল্লাহ তাআলা এতে দায়িত্বারোপের (تكليف) ক্ষেত্রে কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি, যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি}। এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান}। আর তিনি কোনো প্রাণীর ওপর তার সাধ্যাতীত বোঝা অর্পণ করেননি: {আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্বারোপ (تكليف) করেন না} ..
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَمن قواعدها: إِن كل مشقة تجلب التَّيْسِير. وَمن هَذَا الْبَاب جَمِيع الرُّخص فِي الشَّرِيعَة.. وَمن السماحة عدم الْمُؤَاخَذَة فِي حَالَة النسْيَان أَو الْخَطَأ أَو الْإِكْرَاه.. وَقد كَانَ إصرا على من كَانُوا قبلنَا فحط الله عَنَّا وَفِي الحَدِيث: "عُفيَ لي عَن أمتِي الْخَطَأ وَالنِّسْيَان وَمَا اسْتكْرهُوا عَلَيْهِ".. وَمَفْهُوم عُفيَ لي أَنه لم يعف لغيره كَمَا أعْطى صلى الله عليه وسلم خمْسا لم يُعْطهنَّ أحد قبله كَمَا فِي الحَدِيث "نصرت بِالرُّعْبِ مسيرَة شهر وَأحلت لي الْغَنَائِم وَأعْطيت الشَّفَاعَة وَكَانَ الرجل يبْعَث إِلَى قومه خَاصَّة فَبعثت إِلَى النَّاس كَافَّة. وَجعلت لي الأَرْض مَسْجِدا وَطهُورًا".. فقد خص بِمَا لم يخص بِهِ غَيره صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِم أَجْمَعِينَ. وَفِي قَوْله {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ} .. إِلَى قَوْله تَعَالَى: {أَنْتَ مَوْلانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} .. فَيَقُول الله تَعَالَى عِنْد كل دُعَاء قد فعلت.
এর অন্যতম মূলনীতি হলো: নিশ্চয়ই প্রতিটি কষ্টই সহজতা আনয়ন করে। আর শরীয়তের সমস্ত সহজ সুযোগ বা ছাড় এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। ইসলামের উদারতার একটি বৈশিষ্ট্য হলো—বিস্মৃতি, ভুল কিংবা বাধ্য হওয়ার অবস্থায় কোনো জবাবদিহিতা বা পাকড়াও না করা। পূর্ববর্তীদের ওপর যা কঠোর বোঝা হিসেবে অবধারিত ছিল, আল্লাহ তাআলা আমাদের থেকে তা লাঘব করেছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "আমার খাতিরে আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং যে কাজের জন্য তাদের বাধ্য করা হয়েছে, তা ক্ষমা করা হয়েছে।" "আমার জন্য ক্ষমা করা হয়েছে" কথাটির মর্মার্থ হলো, এটি অন্য কারো জন্য ক্ষমা করা হয়নি; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে যা তাঁর পূর্বে অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি। যেমন হাদিসে এসেছে: "এক মাসের পথ দূরত্ব পর্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী ভীতির মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে, আমার জন্য গনিমতের মাল হালাল করা হয়েছে, আমাকে সুপারিশের অধিকার প্রদান করা হয়েছে; ইতিপূর্বে নবীদের কেবল তাঁদের বিশেষ সম্প্রদায়ের নিকট পাঠানো হতো, আর আমাকে সমগ্র মানবজাতির নিকট পাঠানো হয়েছে। এবং আমার জন্য সমগ্র জমিনকে সিজদাহর স্থান ও পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে।" সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এবং তাঁদের সকলকে এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দ্বারা বিশিষ্ট করা হয়েছে যা অন্যদের দেওয়া হয়নি। আর মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "রাসূল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও..." মহান আল্লাহর বাণী— "আপনিই আমাদের অভিভাবক, সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন" পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা তখন প্রতিটি প্রার্থনার প্রেক্ষিতে বলেন: "আমি তা কবুল করলাম।"
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وَمن السماحة: التَّيْسِير: {فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْراً. َإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْراً} .
وَلنْ يغلب عسر يسرين.. أما مَا يتَعَلَّق بِخُصُوص الحكم من هَذَا كُله_ من الْكَمَال والشمول والسماحة فكالآتي:
উদারতা ও সহনশীলতার (السماحة) অন্তর্ভুক্ত হলো: সহজীকরণ (التيسير): {নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।}।
আর একটি কষ্ট কখনোই দুটি স্বস্তির ওপর প্রবল হতে পারবে না... আর এই সবকিছুর মধ্য থেকে পূর্ণতা (الكمال), ব্যাপকতা (الشمول) এবং উদারতা (السماحة) সংক্রান্ত বিশেষ বিধানের (الحكم) সাথে যা সংশ্লিষ্ট, তা নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الْكَمَال فِي الْقَضَاء الإسلامي
مدْخل…وَالْوَاقِع أَن النّظر فِي كَمَال الْقَضَاء يكون فِي جانبين _ فِي شكله وَفِي مَعْنَاهُ.
1 - والجانب الأول مَا يعرف الْآن بالجانب الإداري الَّذِي يخْتَص بإدارة المحكمة وترتيب القضايا فِي مواعيد محددة.
وَمن هَذَا قبيل التَّخْصِيص بِالْمَكَانِ أَو النَّوْع أَو الْمِقْدَار.. وَقد وجد النَّوْع الثَّانِي وَهُوَ التَّخْصِيص فِي زمن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم حَيْثُ أرسل صلى الله عليه وسلم عليا وَأَبا مُوسَى إِلَى الْيمن وخصص كلا مِنْهُمَا بِجَانِب مِنْهُ.
ইসলামী বিচারব্যবস্থায় পূর্ণতাভূমিকা…বাস্তবতা হলো, বিচারব্যবস্থার পূর্ণতা পর্যালোচনার বিষয়টি দুটি দিক থেকে হয়ে থাকে—তার কাঠামোগত দিক এবং তার অর্থগত দিক।
1 - প্রথম দিকটি বর্তমানে প্রশাসনিক দিক হিসেবে পরিচিত, যা আদালত পরিচালনা এবং নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী মামলাসমূহের বিন্যাস করার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।
স্থান, প্রকারভেদ কিংবা পরিমাণের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্টকরণ এই পর্যায়ের বিষয়... আর দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ সুনির্দিষ্টকরণের বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেই বিদ্যমান ছিল, যখন তিনি আলী এবং আবু মুসা (রা.)-কে ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁদের প্রত্যেককে তার একটি নির্দিষ্ট অংশের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أما النَّوْع والمرتبة: فَقَالَ كل من ابْن قدامَة فِي الْمُغنِي1 وَالْقَاضِي أَبُو الْحسن الْمَاوَرْدِيّ أَنه يجوز للْوَلِيّ أَن يولي القَاضِي ولَايَة عَامَّة فِي عُمُوم الْحُقُوق فتعم من حَيْثُ الزَّمَان وَالْمَكَان والأقضية. أَو عَامَّة فِي خَاص أَي عُمُوم الْأَقْضِيَة فِي خُصُوص بَلْدَة. أَو خَاصَّة فِي خَاص أَي فِي نوع من الْأَقْضِيَة فِي بَلْدَة وَله أَن يحدد مبلغا لَا يتعداه. وَفِي الْمُوَطَّأ لمَالِك: أَنه مرّ بقاضي السُّوق فَقَالَ لَهُ: لَا تكْثر لِئَلَّا تخطئ. فَكَانَ للسوق قَاض. وَقَالَ عبد الله الزبيرِي لم تزل الْأُمَرَاء عندنَا بِالْبَصْرَةِ بُرْهَة من الدَّهْر يستقضون قَاضِيا على الْمَسْجِد الْجَامِع يسمونه قَاضِي الْمَسْجِد يحكم فِي مِائَتي دِرْهَم وَفِي عشْرين دِينَارا فَمَا دونهَا وتفرض النَّفَقَات وَلَا يتَعَدَّى مَوْضِعه وَلَا مَا قدره لَهُ.
প্রকার ও বিন্যাস প্রসঙ্গে: ইবনে কুদামা তার আল-মুগনি ১ গ্রন্থে এবং আল-কাদি আবুল হাসান আল-মাওয়ার্দি উভয়ই উল্লেখ করেছেন যে, অভিভাবক বা শাসকের জন্য বিচারককে সকল প্রকার অধিকার ও বিষয়ের ওপর সাধারণ কর্তৃত্ব প্রদান করা বৈধ, যা সময়, স্থান এবং বিচারিক বিষয়াবলির দিক থেকে সাধারণ বা ব্যাপক হবে। অথবা কোনো বিশেষ অঞ্চলের সকল বিচারিক কার্যের ওপর সাধারণ কর্তৃত্ব প্রদান করা যেতে পারে। অথবা কোনো বিশেষ অঞ্চলের বিশেষ কোনো প্রকার বিচারিক কাজের জন্য বিশেষ কর্তৃত্ব প্রদান করা যেতে পারে এবং শাসক তার জন্য এমন একটি আর্থিক সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারেন যা তিনি অতিক্রম করবেন না। মালেকের মুওয়াত্তায় বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বাজারের বিচারকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বলেছিলেন: "অত্যাধিক ফয়সালা করো না, পাছে ভুল করে ফেলো।" সুতরাং বাজারের জন্য আলাদা বিচারক নির্ধারিত ছিল। আব্দুল্লাহ আল-যুবাইরি বলেন, বসরায় দীর্ঘকাল ধরে আমাদের শাসকরা জামে মসজিদে একজন বিচারক নিয়োগ করতেন যাকে তারা ‘মসজিদের বিচারক’ বলতেন; তিনি দুইশ দিরহাম ও বিশ দিনার বা তার কম অংকের আর্থিক মামলা এবং ভরণপোষণ নির্ধারণের বিচার করতেন। তিনি তার নির্ধারিত স্থান এবং ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করতেন না।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
سلم المحاكم: وَهُوَ مَا يعرف بالتقسيم الحالي: محكمَة مستعجلة وَأُخْرَى كبرى ثمَّ اسْتِئْنَاف. فَهُوَ نوع من التَّخْصِيص وَزِيَادَة فِي مَوْضُوع الِاسْتِئْنَاف. فقد وجدنَا من يَنْفِي وجوده فِي تَارِيخ الْقَضَاء الإسلامي. وَالْحق أَنه مَوْجُود بِأَصْلِهِ فِي زمن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَكَانَ ذَلِك فِي قَضِيَّة عرضت على عَليّ رضي الله عنه بِالْيمن وَهِي كَمَا سَاقهَا وَكِيع وفيهَا عَن أَحْمد فِي قَضَاء عَليّ عَنهُ قَالَ: بَعَثَنِي النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيمن فأزي النَّاس زيية الْأسد فَأَصْبحُوا ينظرُونَ إِلَيْهِ وَقد وَقع فِيهَا فتدافعوا حول الزيية فَخر فِيهَا رجل فَتعلق بِالَّذِي يَلِيهِ. وَتعلق آخر بآخر حَتَّى خر فِيهَا أَرْبَعَة. فجرحهم الْأسد فتناوله رجل بِرُمْح فطعنه وَأخرج الْقَوْم مِنْهَا. فماتوا كلهم. فَقَالَت قبائل الثَّلَاثَة لقبيلة الأول: هاتوا دِيَة الثَّلَاثَة فَإِنَّهُ لَوْلَا صَاحبكُم لم يسقطوا فَقَالُوا: إِنَّمَا تعلق صاحبنا بِوَاحِد فَنحْن نُؤَدِّي دِيَة وَاحِد فَاخْتَلَفُوا حَتَّى أَرَادوا الْقِتَال بَينهم فسر رجل مِنْهُم إليّ وهم غير بعيد مني فأتيتهم فَقلت لَهُم: تُرِيدُونَ أَن تقتلُوا أَنفسكُم
বিচারব্যবস্থার সোপান: এটি বর্তমানে যেভাবে পরিচিত: জরুরি আদালত, উচ্চ আদালত এবং পরবর্তীতে আপিল (استئناف)। এটি এক প্রকার বিশেষীকরণ এবং আপিল (استئناف) সংক্রান্ত বিষয়ে এক সংযোজন। আমরা এমন কাউকে পেয়েছি যারা ইসলামী বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এর অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। তবে প্রকৃত সত্য হলো, এর মূল ভিত্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেই বিদ্যমান ছিল। এটি ইয়ামেনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে উপস্থাপিত একটি ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত, যা ওয়াকি' বর্ণনা করেছেন। এতে আহমাদ বর্ণিত আলীর বিচার (قضاء) সংক্রান্ত বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন। তখন মানুষ সিংহের জন্য একটি গর্ত খনন করেছিল। তারা সেটির দিকে তাকাচ্ছিল এমতাবস্থায় সিংহটি তাতে পড়ে গেল। গর্তটির চারপাশে তারা একে অপরকে ঠেলাঠেলি করছিল, ফলে এক ব্যক্তি তাতে পড়ে গেল এবং তার পাশের জনকে জাপটে ধরল। এরপর অন্যজন আরেকজনকে ধরল, এভাবে চারজন তাতে পড়ে গেল। সিংহটি তাদের জখম (جرح) করল। তখন এক ব্যক্তি সিংহটিকে বর্শা দিয়ে আঘাত করল এবং লোকজন তাদের সেখান থেকে বের করে আনল। পরিশেষে তারা সবাই মারা গেল। তখন তিন ব্যক্তির গোত্র প্রথম ব্যক্তির গোত্রকে বলল: তিনজনের রক্তপণ (دية) প্রদান করো; কারণ তোমাদের সঙ্গী না থাকলে তারা পড়ে যেত না। তারা বলল: আমাদের সঙ্গী তো কেবল একজনকে জাপটে ধরেছিল, তাই আমরা একজনেরই রক্তপণ (دية) দেব। এভাবে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিল এমনকি তারা একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাইল। এমতাবস্থায় তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দ্রুত আমার কাছে আসল—তারা আমার থেকে খুব দূরে ছিল না—আমি তাদের কাছে গেলাম এবং বললাম: তোমরা কি নিজেদের প্রাণ সংহার করতে চাও?
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَيّ وَأَنا إِلَى جنبكم إِنِّي قَاض بَيْنكُم بِقَضَاء فَإِن رضيتموه فَهُوَ نَافِذ بَيْنكُم وَإِن لم ترضوه فَهُوَ حاجز بَيْنكُم فَمن جاوزه فَلَا حق لَهُ حَتَّى يَأْتِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَهُوَ أعلم بِالْقضَاءِ مني فرضوا بذلك فَأَمرهمْ أَن يجمعوا دِيَة كَامِلَة مِمَّن حَضَرُوا الْبِئْر وَنصف دِيَة وَثلث دِيَة. وَربع دِيَة، فَقضى أَن يُعْطي الْأَسْفَل ربع الدِّيَة. من أجل أَنه هلك فَوْقه ثَلَاثَة. وَيُعْطِي الَّذِي يَلِيهِ الثُّلُث من أجل أَنه هلك فَوق اثْنَان وَيُعْطِي الَّذِي يَلِيهِ النّصْف من أجل أَنه هلك فَوْقه وَاحِد. وَيُعْطِي الْأَعْلَى الدِّيَة كَامِلَة لِأَنَّهُ لم يهْلك فَوْقه أحد.
فَمنهمْ من رَضِي وَمِنْهُم من كره، فَقَالَ تمسكوا بقضائي حَتَّى تَأْتُوا رَسُول اله صلى الله عليه وسلم بِالْمَوْسِمِ فَيَقْضِي بَيْنكُم فَوَافَقُوا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عِنْد مقَام إِبْرَاهِيم فَسَارُوا إِلَيْهِ فحدثوه بِحَدِيثِهِمْ. وَهُوَ محتب بِبرد عَلَيْهِ فَقَالَ: إِنِّي أَقْْضِي بَيْنكُم إِن شَاءَ الله. فَقَالَ رجل من أقْصَى الْقَوْم: إِن عَليّ ابْن أبي طَالب قد قضى بَيْننَا قَضَاء بِالْيمن، فَقَالَ: وَمَا هُوَ؟ فقصوا عَلَيْهِ الْقِصَّة، فَأجَاز رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْقَضَاء كَمَا قضى عَليّ بَينهم.
فَفِي هَذِه الْقِصَّة يتَحَقَّق معنى الِاسْتِئْنَاف الْمَعْرُوف حاليا أَو التَّمْيِيز الَّذِي هُوَ عبارَة عَن رفع الْقَضِيَّة بعد صُدُور الحكم الأول فِيهَا إِلَى جِهَة أَعلَى مِنْهَا للنَّظَر فِي سَيرهَا ومطابقة حكمهَا لواقعها. لِأَن عليا رضي الله عنه قَالَ: فَإِن رَضِيتُمْ فقضائي وَإِلَّا فَهُوَ حاجز بَيْنكُم حَتَّى تَأْتُوا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَهُوَ أعلم بِالْقضَاءِ مني. فَرضِي الْبَعْض وَلم يرض الْبَعْض الآخر. وَهَذَا هُوَ عين مَا يعرف بتقرير عدم القناعة ثمَّ رفع الْقَضِيَّة بِتَمَامِهَا، وَمن جِهَة أُخْرَى فقد تقرر مبدأ عدم نظر الْقَضِيَّة إِذا كَانَت نظرت من قَاض آخر لِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما سمع الْقَائِل يَقُول: قضى فِيهَا عَليّ بِنَا بِالْيمن توقف عَن الْقَضَاء
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবিত আছেন এবং আমি আপনাদের পাশেই রয়েছি। আমি আপনাদের মাঝে একটি বিচারিক ফয়সালা করছি; যদি আপনারা তাতে সন্তুষ্ট হন তবে তা আপনাদের মাঝে কার্যকর (نافذ) হবে, আর যদি আপনারা সন্তুষ্ট না হন তবে তা আপনাদের মাঝে একটি প্রতিবন্ধক (حاجز) হিসেবে থাকবে। যে ব্যক্তি এটি লঙ্ঘন করবে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসার পূর্ব পর্যন্ত তার কোনো অধিকার থাকবে না; কারণ তিনি বিচারকার্যে আমার চেয়ে অধিক বিজ্ঞ। তারা এতে সন্তুষ্ট হলো। অতঃপর তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা কূপে উপস্থিত ব্যক্তিদের নিকট থেকে একটি পূর্ণ রক্তপণ (دية), অর্ধেক রক্তপণ, এক-তৃতীয়াংশ এবং এক-চতুর্থাংশ রক্তপণ সংগ্রহ করে। তিনি ফয়সালা দিলেন যে, সবচেয়ে নিচে পতিত ব্যক্তিকে এক-চতুর্থাংশ রক্তপণ প্রদান করা হবে, যেহেতু তার উপরে তিনজন মারা গিয়েছিল। তার নিকটবর্তী ব্যক্তিকে এক-তৃতীয়াংশ দেওয়া হবে, যেহেতু তার উপরে দুইজন মারা গিয়েছিল। তার পরবর্তী ব্যক্তিকে অর্ধেক দেওয়া হবে কারণ তার উপরে একজন মারা গিয়েছিল। আর সবার উপরের ব্যক্তিকে পূর্ণ রক্তপণ দেওয়া হবে, যেহেতু তার উপরে কেউ মারা যায়নি।
তাদের মধ্যে কেউ সন্তুষ্ট হলো এবং কেউ অপছন্দ করল। তিনি বললেন, তোমরা আমার ফয়সালা আঁকড়ে ধরো যতক্ষণ না তোমরা হজের মৌসুমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হও এবং তিনি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করেন। তারা মাকামে ইবরাহিমের নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ পেল। তারা তাঁর অভিমুখে গিয়ে তাদের বিষয়টি সবিস্তারে বর্ণনা করল। তখন তিনি চাদর জড়িয়ে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেন: "ইনশাআল্লাহ, আমি তোমাদের মাঝে ফয়সালা করব।" তখন কাফেলার প্রান্তদেশ থেকে এক ব্যক্তি বলল: "আলী ইবনে আবি তালিব ইয়ামেনে আমাদের মাঝে একটি ফয়সালা করেছেন।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তা কী ছিল?" তখন তারা তাঁর নিকট পুরো ঘটনা বর্ণনা করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই ফয়সালাকে অনুমোদন (أجاز) দিলেন, যেমনটি আলী তাদের মাঝে ফয়সালা করেছিলেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে বর্তমানে প্রচলিত আপিল (استئناف) বা পুনর্বিবেচনা (تمييز)-এর স্বরূপ প্রতিফলিত হয়, যার অর্থ হলো কোনো মামলায় প্রাথমিক রায় প্রকাশের পর তা উচ্চতর কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট উত্থাপন করা, যেন এর বিচারিক প্রক্রিয়া এবং বাস্তবতার সাথে রায়ের সামঞ্জস্যতা পর্যবেক্ষণ করা যায়। কেননা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন: "যদি তোমরা সন্তুষ্ট হও তবে এটিই আমার ফয়সালা, অন্যথায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত এটি একটি প্রতিবন্ধক (حاجز) হয়ে থাকবে, কারণ বিচারকার্যে তিনি আমার চেয়ে অধিক বিজ্ঞ।" এতে কিছু লোক সন্তুষ্ট হলো এবং অন্যরা হলো না। এটিই হুবহু তা যাকে অসন্তোষ প্রকাশ এবং এরপর মামলাটি পূর্ণাঙ্গভাবে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করা বলা হয়। অন্যদিকে, এখানে এই মূলনীতিও সাব্যস্ত হয়েছে যে, কোনো মামলা যদি ইতিপূর্বে অন্য কোনো বিচারক কর্তৃক পর্যালোচিত হয়ে থাকে তবে তা পুনরায় বিচার করা হবে না; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শুনলেন যে জনৈক ব্যক্তি বলছে: "আলী ইয়ামেনে আমাদের মাঝে ফয়সালা করেছেন", তখন তিনি রায় দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
حَتَّى سمع الحكم الأول فأقره وَهَذَا بِعَيْنِه هُوَ سلم المحاكم ومراتبها: مستعجلة_ كبرى _ اسْتِئْنَاف. وَفِي النّظم الْأُخْرَى: محكمَة الصُّلْح _ محكمَة أولية _ محكمَة اسْتِئْنَاف _ وتوجد محكمَة النَّقْض والإبرام. وَيُوجد مَا يقابلها باسم مجْلِس الْقَضَاء الْأَعْلَى قد ينظر الْقَضِيَّة بَين محكمَة التَّمْيِيز وَبَعض المحاكم الْكُبْرَى.
وَمنع عمر الْأُمَرَاء أَن يقيموا حكم الْقَتْل حَتَّى يعرض عَلَيْهِ. وَهُوَ مَا عَلَيْهِ الْعَمَل الْآن من تَصْدِيق الْملك أَو الرئيس على الحكم فِي الْقَتْل.
أما التَّرْتِيب الأول فَهُوَ سير المحكمة والمحاكمة فَهَذَا الشكل لم يكن مَعْرُوفا من قبل لِأَنَّهُ لم تكن لَهُ حَاجَة تَدْعُو إِلَيْهِ. وَقد تأثرت بمؤثرات الْحَيَاة وتطورات الْمُجْتَمع.
এমনকি তিনি প্রথম রায়টি শ্রবণ করলেন এবং তা অনুমোদন করলেন। আর এটিই মূলত আদালতের সোপান ও এর স্তরবিন্যাস: জরুরি আদালত, উচ্চ আদালত এবং আপিল আদালত। অন্যান্য বিচার ব্যবস্থায় রয়েছে: সালিশি আদালত, প্রাথমিক আদালত, আপিল আদালত এবং উচ্চতর আপিল ও চূড়ান্ত আদালত বিদ্যমান রয়েছে। এর সমপর্যায়ে ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল’ নামে একটি পরিষদ রয়েছে, যা কখনো কখনো আপিল আদালত এবং কিছু উচ্চ আদালতের মধ্যবর্তী মামলাগুলো পর্যালোচনা করে থাকে।
উমর (রা.) গভর্নরদেরকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে নিষেধ করেছিলেন যতক্ষণ না তা তাঁর নিকট পেশ করা হয়। বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের রায়ে রাজা বা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের যে নিয়ম প্রচলিত রয়েছে, এটি তারই অনুরূপ।
প্রথম বিন্যাসের ক্ষেত্রে বলা যায়, এটি আদালত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি ধারা; এই রূপটি ইতিপূর্বে পরিচিত ছিল না, কারণ তখন এর কোনো আবশ্যকতা ছিল না। মূলত জীবনযাত্রার প্রভাব ও সমাজের বিবর্তনের ফলেই এটি প্রভাবিত ও বিকশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ماكان الْوَضع زمن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم…مَا كَانَ عَلَيْهِ الْوَضع زمن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: وَالَّذِي كَانَ عَلَيْهِ الْوَضع زمن الرَّسُول صلى الله عليه وسلم هُوَ صُورَة من صور الْمُسلمين الْأَوَّلين فِي بساطتهم وَصدق كلمتهم وقصدهم إِلَى الْحق وَلم على أنفسهم. فَكَانُوا يعتبرون الْقَضَاء إِبْرَاء للذمة وخروجا من الْعهْدَة حَتَّى أَن أحدهم كماعز والغامدية إِذا ارْتكب حدا يَأْتِي إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يطْلب إِقَامَة الْحَد عَلَيْهِ.
فَلم تكن قضايا أمثالهم تتطلب أَكثر من التشبث مِنْهُ فِي إِقْرَاره كَمَا فعل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَعَ مَاعِز: أبِكَ جُنُون؟ لَعَلَّك قبلت. لَعَلَّك فاخذت
…الخ.
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে জালকরণের (الوضع) অবস্থা…রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে জালকরণের (الوضع) বিষয়টি যেমন ছিল: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে জালকরণের (الوضع) যে পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল, তা মূলত প্রথম যুগের মুসলিমদের সারল্য, তাদের বাণীর সত্যবাদিতা, সত্যের প্রতি তাদের সংকল্প এবং নিজেদের বিরুদ্ধে হলেও সত্যকে গ্রহণ করার একটি প্রতিচ্ছবি। তারা বিচারিক ফয়সালাকে দায়মুক্তি ও জিম্মাদারি থেকে নিষ্কৃতি লাভের উপায় হিসেবে গণ্য করতেন। এমনকি মায়িজ এবং গামিদিয়ার মতো কোনো ব্যক্তি যখন হদ (حد) যোগ্য কোনো অপরাধে লিপ্ত হতেন, তখন তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে নিজের ওপর হদ (حد) কার্যকরের দাবি জানাতেন।
তাদের মতো ব্যক্তিদের বিষয়গুলো তাদের স্বীকারোক্তির (إقرار) বিষয়ে অধিক যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন রাখত না, যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সা.) মায়িজের ক্ষেত্রে করেছিলেন: "তুমি কি পাগল হয়েছ? সম্ভবত তুমি কেবল চুম্বন করেছ। সম্ভবত তুমি কেবল উরুস্পর্শ করেছ..." ইত্যাদি।
…ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১)
মাহাসিনুশ শারীয়াহ ওয়া মাসাউউল কাওয়ানীনিল ওয়াদয়িয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقصة العسيف الَّذِي زنا بِامْرَأَة من يعْمل عِنْده فَأتيَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَحدهمَا يَا رَسُول الله أقض بَيْننَا بِكِتَاب الله وَقَالَ الآخر وَهُوَ أفقههما: أجل فَاقْض بَيْننَا بِكِتَاب الله وَأذن لي فِي أَن أَتكَلّم فَقَالَ: تكلم. قَالَ: إِن ابْني كَانَ عسيفا على هَذَا فزنى بامرأته فَأخْبرت أَن على ابْني الرَّجْم، فَافْتَدَيْت مِنْهُ بِمِائَة شَاة وبجارية لي ثمَّ إِنِّي سَأَلت أهل الْعلم فَأَخْبرُونِي أَن مَا على ابْني جلد مائَة وتغريب عَام. وأخبروني إِنَّمَا الرَّجْم على امْرَأَته. فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "أما وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لأقضين بَيْنكُمَا بِكِتَاب الله. أما غنمك وجاريتك فَرد عَلَيْك وَجلد ابْنه مائَة جلدَة وغربة عَام ". وَأمر أنيس الْأَسْلَمِيّ أَن يَأْتِي امْرَأَة الآخر فَإِن اعْترفت رَجمهَا فَاعْترفت فرجمها. فَمَا كَانَا إِلَّا مستفتيان. وَقد أخبرا من قبل مجيئهما الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وسألا أهل الْعلم لمعْرِفَة الْحق وَفِي الْأَمْوَال كَذَلِك. كَمَا فِي حَدِيث الرجلَيْن اللَّذين اخْتَصمَا فِي مَوَارِيث بَينهمَا درست معالمهما وَلَا بَيِّنَة عِنْدهمَا فَقَالَ صلى الله عليه وسلم أَنكُمْ تختصمون إِلَيّ فأقضي لكم على نَحْو مَا أسمع فَلَعَلَّ أحدكُم أَلحن بحجته من صَاحبه فَمن قضيت لَهُ شَيْئا من حق أَخِيه فَلَا يَأْخُذهُ فَإِنَّمَا أقطع لَهُ قِطْعَة من النَّار. فتراجع كل مِنْهُمَا وَبكى وَقَالَ: حَقي لصاحبي. فَلم يتشاحا أَو يتلاحيا وأرشدهم النَّبِي صلى الله عليه وسلم لإكمال اللَّازِم بأنفسهما من الاقتسام والإسهام والتسامح.
আর সেই মজুরের ঘটনা, যে তার নিয়োগকর্তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করেছিল। অতঃপর তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলে তাদের একজন বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করে দিন।’ অন্যজন, যিনি তাদের মধ্যে অধিক বিজ্ঞ ছিলেন, তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আমাকে কথা বলার অনুমতি দিন।’ তিনি বললেন: ‘বলো।’ সে বলল: ‘আমার ছেলে এই ব্যক্তির কাছে মজুর হিসেবে কাজ করত এবং সে তার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করেছে। আমাকে জানানো হয়েছিল যে আমার ছেলের ওপর পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (رجم) প্রযোজ্য। ফলে আমি এর বিনিময়ে একশটি ভেড়া ও আমার একটি দাসী মুক্তিপণ হিসেবে প্রদান করেছিলাম। এরপর আমি বিজ্ঞ আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করলে তারা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের শাস্তি হলো একশ দোররা এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন। আর তারা আরও জানালেন যে, পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (رجم) কেবল ওই মহিলার ওপর প্রযোজ্য।’ তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘সাবধান! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব। তোমার ভেড়া ও দাসী তোমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো।’ অতঃপর তিনি তার ছেলেকে একশ দোররা ও এক বছরের নির্বাসনের দণ্ড দিলেন। এরপর তিনি উনাইস আসলামি (রা.)-কে নির্দেশ দিলেন সেই ব্যক্তির স্ত্রীর নিকট যেতে; সে যদি অপরাধ স্বীকার করে তবে তাকে যেন পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (رجم) দেওয়া হয়। সে অপরাধ স্বীকার করলে তাকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (رجم) প্রদান করা হলো। মূলত তারা উভয়ই ছিলেন ফতোয়া অন্বেষণকারী। তারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসার পূর্বেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন এবং সত্য জানার জন্য বিজ্ঞ আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করেছিলেন; আর সম্পদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। যেমনটি সেই দুই ব্যক্তির হাদিসে এসেছে, যারা একটি উত্তরাধিকার নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল যার কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল না এবং তাদের নিকট কোনো প্রমাণ (بينة) ছিল না। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে আসো, আর আমি যা শ্রবণ করি তার আলোকেই তোমাদের মাঝে ফয়সালা করি। হতে পারে তোমাদের কেউ তার অপর সাথীর তুলনায় দলীল (حجة) উপস্থাপনে অধিক বাকপটু বা পারদর্শী। সুতরাং আমি যদি কারও জন্য তার ভাইয়ের হকের কোনো অংশ ফয়সালা করে দিই, তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে; কারণ আমি তার জন্য আগুনের একটি টুকরোই নির্ধারণ করে দিচ্ছি।’ তখন তাদের প্রত্যেকেই ফিরে এল এবং কাঁদতে কাঁদতে বলল: ‘আমার প্রাপ্য অধিকার আমার সাথীর জন্য।’ তারা একে অপরের সাথে কোনো প্রকার বিবাদ বা তর্কে লিপ্ত হলো না এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদেরকে নিজেদের মাঝে বণ্টন, লটারি এবং সহনশীলতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার দিকনির্দেশনা প্রদান করলেন।