(খণ্ড: ১)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: -)
فاطمة بنت النبي - صلى الله عليه وسلم - سيرتها، فضائلها، مسندها - رضي الله عنها - القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: فاطمة بنت النبي - صلى الله عليه وسلم - سيرتها، فضائلها، مسندها - رضي الله عنها -
المؤلف: إبراهيم بن عبد الله بن عبد الرحمن المديهش
الناشر: دار الآل والصحب الوقفية، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1440 هـ
عدد الأجزاء: 7
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 ربيع الأول 1442
ফাতিমা বিন্তুন্নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - তাঁর জীবনী, তাঁর ফযীলতসমূহ, তাঁর মুসনাদ - রাযিয়াল্লাহু আনহা - বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: ফাতিমা বিন্তুন্নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - তাঁর জীবনী, তাঁর ফযীলতসমূহ, তাঁর মুসনাদ - রাযিয়াল্লাহু আনহা -
লেখক: ইবরাহীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-মুদাইহিশ
প্রকাশক: দারুল আল ওয়াস-সাহব আল-ওয়াকফিয়াহ, রিয়াদ - সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪০ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١)
فاطمة بنت النبي صلى الله عليه وسلم سيرتها، فضائلها، مسندها رضي الله عنها -
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা—তাঁর জীবনী, মর্যাদা ও মুসনাদ -
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢)
(ح) دار الآل والصحب الوقفية، ط. الأولى 1440 هـ
جميع الحقوق محفوظة للمؤلف
الطبعة الأولى
رمضان 1440 هـ
دار الآل والصحب الوقفية
في: الرياض/ المدينة/ الأحساء
المركز الرئيسي: الرياض: هاتف 920008637
الموقع الشبكي: www.alaalwalsahb.com
(স্বত্ব) দার আল-আল ওয়া আস-সাহাব ওয়াকফিয়্যাহ, ১ম সংস্করণ ১৪৪০ হিজরি
সকল স্বত্ব লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
রমজান ১৪৪০ হিজরি
দার আল-আল ওয়া আস-সাহাব ওয়াকফিয়্যাহ
অবস্থান: রিয়াদ/ মদিনা/ আল-আহসা
প্রধান কার্যালয়: রিয়াদ: ফোন ৯২০০MDg৬৩৭
ওয়েবসাইট: www.alaalwalsahb.com
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٣)
فاطمة بنت النبي صلى الله عليه وسلم سيرتها، فضائلها، مسندها رضي الله عنها
دراسة حديثية تاريخية موضوعية
تأليف
إبراهيم بن عبد الله المديهش
المجلد الأول
ফাতিমা বিনতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: তাঁর জীবনী, মর্যাদা ও মুসনাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)
হাদিসতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক ও বিষয়ভিত্তিক গবেষণা
রচনা
ইবরাহীম বিন আবদুল্লাহ আল-মুদাইহিশ
প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٤)
تقديم سماحة الوالد
ــ حفظه الله ورعاه، وجزاه خيرا ــ
إِلَى ابْنِي إبْرَاهِيْمَ
لَقَدْ سَرَّنِيْ كِتَابُكَ عَنْ فَاطِمَةَ رضي الله عنها، أَسْأَلُ الله العَظِيْمَ أَنْ يُبَارِكَ فِيْكَ، وَفِيْ الْكِتَابِ، وَأَنْ يَنْفَعَ بِكُمَا المسْلِمِيْنَ.
والدك
শ্রদ্ধেয় পিতার উপস্থাপনা
— আল্লাহ তাকে সংরক্ষণ ও হিফাযত করুন এবং তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন —
আমার পুত্র ইবরাহীমের প্রতি
ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে তোমার রচিত গ্রন্থটি আমাকে আনন্দিত করেছে। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তোমার মাঝে ও এই গ্রন্থের মাঝে বরকত দান করেন এবং তোমাদের উভয়ের দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করেন।
তোমার পিতা
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٥)
المقدمة: وفيها:
1 - أهمية الموضوع، وأسباب اختياره.
2 - أهداف الموضوع.
3 - حدود البحث.
4 - عدد الأحاديث.
5 - خطة البحث.
6 - منهج البحث.
7 - تنبيهات.
ভূমিকা: এতে রয়েছে:
১ - বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ।
২ - বিষয়ের উদ্দেশ্যসমূহ।
৩ - গবেষণার পরিধি।
৪ - হাদিসের সংখ্যা।
৫ - গবেষণার পরিকল্পনা।
৬ - গবেষণার পদ্ধতি।
৭ - সতর্কতাসমূহ।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
اللهم لك الحمدُ حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه، مِلءَ السماءِ، ومِلءَ الأرضِ، ومِلءَ ما بينهما، ومِلءَ ما شئتَ مِن شيءٍ بَعْدُ، أهلَ الثناءِ والمجْدِ، أحقُّ ما قال العَبدُ، وكلُّنا لكَ عَبْدٌ، لا مانِع لما أعطَيتَ، ولا مُعطِيَ لما مَنَعْتَ، ولا ينفعُ ذا الجَدِّ منكَ الجَدُّ.
اللهُمَّ لكَ الحمْدُ على الإعَانةِ والتوفيقِ، والسدادِ والتمامِ، ياربِّ ما بي مِن نعمة أو بأحَدٍ من خَلْقِكَ فمَنْكَ وحدَكَ لا شَرِيكَ لك، فلَكَ الحمدُ ولَكَ الشُّكْرُ.
اللهمَّ صلِّ على محمد، وآل محمَّدٍ، كما صَلَّيتَ على إبراهيم وآل إبراهيم، إنكَ حميدٌ مَجِيدٌ.
وبارِكْ عَلى محمَّدٍ، وآل محمَّدٍ، كما بارَكْتَ عَلى إبراهيم، وآلِ إبراهيم، إنَّك حميدٌ مَجِيدٌ.
أما بعد
فإنَّ إيمانَ المرءِ لا يكْمُلُ حتَّى يكونَ النبيُّ صلى الله عليه وسلم أحبَّ إليه من ولَدِهِ ووَالِدِهِ والنَّاسِ أجمعين، وحتَّى يحبَّه أكثرَ مِن حُبِّهِ لِنَفْسِهِ صلى الله عليه وسلم.
وفي الفطرة: مَن أحبَّ شيئاً أحبَّ مَن يوافِقُهُ، وما يُوافِقُهُ، ومِن هذه الفطرة الغريزية مَع التوجيهِ الشرعي بالعناية بآل البيت، تكمُل لآل البيت
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ, আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা; প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা; যা আসমানসমূহ পূর্ণ করে, জমিন পূর্ণ করে, এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা আরও কিছু চান তা পূর্ণ করে। আপনিই প্রশংসা ও মহত্ত্বের অধিকারী। একজন বান্দা যা বলে তার মধ্যে এটিই সর্বাধিক সত্য, আর আমরা সবাই আপনারই বান্দা। আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার নিকট কোনো উপকারে আসবে না।
হে আল্লাহ, আপনার জন্যই প্রশংসা—সাহায্য, তাওফিক, সঠিক পথ প্রাপ্তি এবং পূর্ণতা দানের জন্য। হে রব, আমার কাছে বা আপনার সৃষ্টির মধ্যে অন্য কারো কাছে যে নিয়ামতই আছে, তা একমাত্র আপনার পক্ষ থেকেই; আপনার কোনো শরিক নেই। সুতরাং আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা এবং আপনার জন্যই সমস্ত শুকরিয়া।
হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
এবং আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
অতঃপর
নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তির ঈমান ততক্ষণ পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার নিকট তার সন্তান, পিতা এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হন; এমনকি যতক্ষণ না তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার নিকট তার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয় হন।
আর স্বভাবজাত প্রবৃত্তি হলো: যে যাকে ভালোবাসে, সে তাকেও ভালোবাসে যে তার সাথে একমত পোষণ করে এবং যা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর আহলে বাইতের প্রতি যত্নশীল হওয়ার শরয়ি নির্দেশনার পাশাপাশি এই সহজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা পূর্ণতা পায়।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٨)
النبوي المحبةُ إجلالاً وتعظيماً وتقرباً إلى الله تعالى.
وعلماءُ أهل السنةِ والجماعةِ لِسانٌ واحد لا يتردَّدُ ولا يتذبذب، بل يُفصح ببيان، ويرفع بيانه بلا مواربة: أنَّ مِن عقيدة أهل السنة والجماعة محبةَ آل البيت النبوي وموالاتهم، ومعرفةَ فَضْلِهم، وحقِّهم على الأمة، وشَرَفِهم بانتسابهم للنبيِّ - صلى الله عليه وعلى آله وسلم -، وتحقيقِ وصيَّة النبيِّ صلى الله عليه وسلم بهم.
لذلك حفلَتْ كُتبُ اعتقادِ أهلِ السُّنَّة والجماعة ببيان حَقِّ آل البيت، وما يجب تجاههم.
وجاءت المؤلفات تترى ـ قديماً وحديثاً ـ في بيان فَضْلِهم ومَنَاقِبِهم عامة فيهم، وخاصة في عدد من أفرادهم.
(1)وما عَلِق كُرْهُ آلِ البيت بقَلْبِ أحَد إلا ساءَتْ حالُه، وتتابع الخزيُ عليه؛ لِنَقْصِ اعتقادِهِ، وتناقضِ ادِّعَائِه محبةَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم، ومخالَفَتِهِ له في وصَايَتِهِ بالعناية بآلِ بيتِهِ - صلى الله عليه وعلى آله وسلم -؛ لذا نرَى انقراضَ الفِرْقَةِ المرذولة المبتدعة «النواصب» من زمن بعيد
(2)، ولم ينبت لهم نابتة منذ قرون متطاولة إلى زماننا هذا ـ ولله الحمد ـ.
فالمسلمون أجمعون يحبُّونَ النبيَّ - صلى الله عليه وعلى آله وسلم -، ويحبُّونَ آلَ بيتِهِ، وتتهَلَّلُ أسارِيرُهُم، وتَطيبُ مجالِسُهُم بِذكرِهِمْ رضي الله عنهم.
--------------------------------------------
...নবী পরিবারের প্রতি ভালোবাসা হলো মহান আল্লাহর প্রতি সম্মান, মর্যাদা প্রদর্শন এবং তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম।
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলেমগণ একবাক্যে, কোনো দ্বিধা বা ইতস্তত না করে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং কোনো প্রকার রাখঢাক ছাড়াই ঘোষণা করেন যে: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার অন্যতম অংশ হলো নবী পরিবারকে ভালোবাসা, তাঁদের প্রতি আনুগত্য পোষণ করা, তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ও উম্মতের ওপর তাঁদের অধিকার সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে তাঁদের আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে তাঁদের মর্যাদা অনুধাবন করা এবং তাঁদের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওসিয়ত বা নির্দেশ পূর্ণ করা।
এ কারণেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার গ্রন্থসমূহ আহলে বাইতের অধিকার এবং তাঁদের প্রতি কী কর্তব্য রয়েছে তার বর্ণনায় পরিপূর্ণ।
তাঁদের সাধারণ মর্যাদা ও গুণাবলি এবং বিশেষভাবে তাঁদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কতিপয় ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় প্রাচীন ও আধুনিক কাল থেকে একের পর এক গ্রন্থ রচিত হয়ে আসছে।
(১)কারো অন্তরে নবী পরিবারের প্রতি বিদ্বেষ দানা বাঁধলে তার অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে এবং অপমান ও লাঞ্ছনা তার ওপর ক্রমাগত পতিত হয়; কারণ তার আকিদায় বিচ্যুতি রয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি তার ভালোবাসার দাবি স্ববিরোধী, যেহেতু সে তাঁর পরিবারের দেখাশোনা ও যত্নের ব্যাপারে নবীর উপদেশের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। একারণেই আমরা দীর্ঘকাল আগে থেকেই ঘৃণ্য বিদআতি দল ‘নাওয়াসিব’-এর বিলুপ্তি লক্ষ্য করি
(২) এবং দীর্ঘ বহু শতাব্দী ধরে আমাদের এ সময় পর্যন্ত তাদের কোনো অনুসারী আর মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেনি—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
বস্তুত সমস্ত মুসলিম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসেন এবং তাঁর পরিবারকেও ভালোবাসেন। তাঁদের বর্ণনায় মুসলমানদের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং তাঁদের স্মরণে মজলিসগুলো আনন্দপূর্ণ ও সুগন্ধময় হয়—আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٩)
ومِن أقربِ آل بيتِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم إليه: أولادُه، وأزواجُه رضي الله عنهم.
ولآلِ بيتِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم خصائصُ ومزايا، وفضائلُ عِدَّة، حَفِظَها أهلُ السنة والجماعة روايةً ودرايةً ورِعايةً وعملاً؛ استجابةً لوصية النبي - صلى الله عليه وعلى آله وسلم - بآل بيته، كما قال صلى الله عليه وسلم: «أُذَكِّرُكم الله في أهلِ بَيتِي، أُذَكِّرُكُم اللهَ في أهلِ بَيتِي، أُذَكِّرُكم اللهَ في أهلِ بيتي
… الحديث».
(1)ااومن أهل بيته، بل من أقربهم إليه: ذؤابةُ
(2) نساءِ هذه الأمة، بضعَتُهُ
(3)--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আহলে বাইতের মধ্যে তাঁর সর্বাধিক নিকটবর্তী হলেন: তাঁর সন্তানসন্ততি এবং তাঁর সহধর্মিণীগণ রাযিয়াল্লাহু আনহুম।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আহলে বাইতের জন্য বহু বৈশিষ্ট্য, বিশেষত্ব এবং অনেক ফযীলত রয়েছে, যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বর্ণনা, অনুধাবন, সংরক্ষণ ও আমলের মাধ্যমে হিফাযত করেছেন; এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের তাঁর আহলে বাইত সম্পর্কে প্রদত্ত ওসিয়তের প্রতি সাড়া দানস্বরূপ, যেমনটি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি... হাদীস»।
(১)আর তাঁর আহলে বাইতের মধ্য থেকে, বরং তাঁদের মাঝে তাঁর সর্বাধিক নিকটবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: এই উম্মতের নারীদের শিরোমণি
(২), তাঁর দেহের অংশ
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١٠)
التي قال عنها - صلى الله عليه وعلى آله وسلم -: «فَاطِمَةُ بَضْعَةٌ مِنِّي، فمَنْ أغْضَبَهَا فَقَدْ أغْضَبَنِي».
(1) فهي «سيدة نساء العالمين في زمانها، البَضْعَةُ النَّبَوِيَة، والجهَة المصطَفَوِيَّة، أُمُّ أَبِيْهَا، بنت سَيِّدِ الخلقِ رسُولِ الله صلى الله عليه وسلم
… وقد كان النبيُّ صلى الله عليه وسلم يُحبُّها، ويُكرِمُهَا، ويُسِرُّ إليها، ومناقبُهَا غَزيرَةٌ، وكانَت صَابِرةً، ديِّنَةً، خَيِّرَةً، صَيِّنةً، قَانِعَةً، شَاكِرَةً للَّهِ .. ».
(2) قال الحافظ أبو بكر الآجُرِّي (ت 360 هـ) رحمه الله: (اعلموا
… ـ رحمنا الله وإياكم ـ أنَّ فاطمة رضي الله عنها كَريمةٌ على الله عز وجل، وعلى رسولِه صلى الله عليه وسلم، وعند جميع المؤمنين، شَرَفُهَا عظيم، وفَضْلُهَا جَزيل، النبيُّ صلى الله عليه وسلم أبوها، وعليٌّ رضي الله عنه بَعْلُهَا، والحسن والحسين سيِّدا شباب أهل الجنة ولداها، وخديجة الكبرى أمُّهَا، قد جمع الله الكريم لها الشرف من كل جهة، مُهْجَةُ رسول الله صلى الله عليه وسلم، وثمرةُ فؤادِه، وقُرَّةُ عَيْنِهِ رضي الله عنها، وعَن بَعْلِهَا، وعن ذُرِّيَّتِها الطيبة المباركة، قال النبي صلى الله عليه وسلم: «فاطمة سيِّدةُ نساءِ عالَمِها».
--------------------------------------------
যার সম্পর্কে তিনি —সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম— বলেছেন: «ফাতিমা আমারই একটি অংশ, সুতরাং যে তাকে রাগান্বিত করল সে আমাকেই রাগান্বিত করল।»
(১) তিনি হলেন «তাঁর সময়ের বিশ্বনারীগণের নেত্রী, নববী সত্তার অংশ, মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতিচ্ছবি, তাঁর পিতার জননী, সৃষ্টিজগতের সরদার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা
… আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ভালোবাসতেন, তাঁকে সম্মান করতেন এবং তাঁর সাথে একান্তে কথা বলতেন। তাঁর গুণাবলি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং তিনি ছিলেন ধৈর্যশীল, ধর্মপ্রাণ, কল্যাণময়ী, সতী-সাধ্বী, অল্পে তুষ্ট ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ .. »।
(২) হাফিজ আবু বকর আল-আজুররি (মৃত্যু ৩৬০ হি.) রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (আপনারা জেনে রাখুন
… — আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের প্রতি রহম করুন — যে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অত্যন্ত মর্যাদাবান ও সকল মুমিনের নিকট অতি প্রিয়। তাঁর সম্মান মহান এবং তাঁর মর্যাদা সুপ্রচুর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পিতা, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর স্বামী, জান্নাতবাসী যুবকদের দুই সরদার হাসান ও হুসাইন তাঁর দুই সন্তান এবং খাদিজাতুল কুবরা তাঁর মাতা। মহান আল্লাহ তাঁর জন্য সকল দিক থেকে আভিজাত্যকে একত্রিত করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাণের স্পন্দন, তাঁর হৃদয়ের ফসল এবং তাঁর চোখের শীতলতা; আল্লাহ তাঁর প্রতি, তাঁর স্বামীর প্রতি এবং তাঁর পবিত্র ও বরকতময় বংশধরদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «ফাতিমা তাঁর জগতের নারীগণের নেত্রী»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١١)
وقال صلى الله عليه وسلم: «حسبك من نساء العالمين مريم بنت عمران، وخديجة بنت خويلد، وفاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم وآسية امرأة فرعون».
(1)إنَّ هذه السيدةَ الكريمةَ صاحبةُ «الأصل الشريف، والنسب المنيف، والفطرة الطاهرة، في الأسرة الفذَّة، قرآنٌ يُتلى، وحديثٌ نَبَويٌّ يتردَّدْ، وقُدوةٌ عليا، وتَربِيةٌ نبوية، وبيئةٌ جادَّة صارمة، ورسالةٌ سامية عالية
… هي بنتُ النبي صلى الله عليه وسلم في النسب الزَّكِيِّ، وبنتُه في الشمائل والأخلاق البهيَّة، وجلائلِ الأعمال الرضيَّة، كانت رضي الله عنها كما وصفها أبطن الناس بها عائشة رضي الله عنها، صورةٌ مقاربة لأبيها صلى الله عليه وسلم في كلامِه، وحَديثِه، وجِلْسَتِه، ومِشْيَتِهِ، وهَدْيِه، وسَمتِهِ، ودَلِّهِ، وسكينَتِه، ووقارِه، في شمائل ندية، وأوصاف عطرة زكية.
كانت فاطمة رضي الله عنها نعم البنت في نشأتها، ونعم البنت في آدابها وأخلاقها وأعمالها ومواقفها مع أبويها، ونعم الزوجة في رعايتِها وقيامِها بما يجب عليها، وصبرِها على ضيق العيش مع زوجها، ونِعْمَ الأم في عنايتها بأولادها وتربيتِهم على أخلاق أبويها، فكانوا خياراً من خيار.
عاشَتْ عابِدَةً، زاهِدةً، صابِرةً، راضِيةً، خدَمَتْ أبيها، وشهدت لحظاته
--------------------------------------------
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «বিশ্বের নারীদের মধ্যে তোমার জন্য যথেষ্ট হলো ইমরানের কন্যা মারইয়াম, খুওয়াইলিদের কন্যা খাদিজা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা এবং ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া।»
(১)নিশ্চয়ই এই সম্মানিত মহীয়সী নারী হলেন «অভিজাত মূল, উচ্চবংশ এবং পবিত্র স্বভাবের অধিকারিণী, এক অনন্য পরিবারের সদস্য। তাঁকে নিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, নববী হাদিস বারবার উচ্চারিত হয়; তিনি এক সর্বোচ্চ আদর্শ, নববী লালন-পালনের ফসল, এক গম্ভীর ও কঠোর পরিবেশ এবং এক সুউচ্চ ও মহান বার্তার অংশ
… তিনি পবিত্র বংশপরম্পরায় নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা এবং সুন্দর স্বভাব, উজ্জ্বল চরিত্র ও সন্তোষজনক মহান কর্মের বিচারেও তাঁরই কন্যা। তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ছিলেন এমন—যেমনটি তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো অবগত ব্যক্তি আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বর্ণনা করেছেন—তাঁর কথা, আলাপচারিতা, বসা, চলাফেরা, পথনির্দেশনা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, আচরণ, প্রশান্তি এবং গাম্ভীর্যের ক্ষেত্রে তাঁর পিতা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক নিকটতর প্রতিচ্ছবি; যা ছিল সজীব স্বভাব এবং সুগন্ধিময় পবিত্র বৈশিষ্ট্যে ভরপুর।
ফাতিমা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ছিলেন এক শ্রেষ্ঠ কন্যা, তাঁর আদব, চরিত্র, কর্ম এবং পিতামাতার সাথে তাঁর আচরণের ক্ষেত্রেও ছিলেন এক শ্রেষ্ঠ কন্যা। তিনি ছিলেন এক শ্রেষ্ঠ স্ত্রী তাঁর যত্নশীলতা, নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন এবং স্বামীর সাথে সংকীর্ণ জীবনযাপনের ওপর ধৈর্যের ক্ষেত্রে। আর তিনি ছিলেন এক শ্রেষ্ঠ মা তাঁর সন্তানদের প্রতি যত্ন এবং তাঁদেরকে পিতামাতার চরিত্রে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। ফলে তাঁরা হয়েছিলেন সেরাদের মধ্যে সেরা।
তিনি ইবাদতকারিণী, দুনিয়াবিমুখ, ধৈর্যশীলা ও সন্তুষ্টচিত্ত হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি তাঁর পিতার সেবা করেছেন এবং তাঁর শেষ মুহূর্তগুলোর সাক্ষী ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١٢)
كلها من قبيل البعثة إلى موته صلى الله عليه وسلم».
(1)رأت رضي الله عنها المصائب والمتاعب على أبيها صلى الله عليه وسلم، ورأت صبرَه ومجاهدتَه وعبادتَه، ابتُلِيَت بفقد أخواتها، وهِجرَتِها من بلدها، رأتْ ثِقَل الأمانة وهمَّ الرسالة على أبيها، مع قلة المعيشة، والرضا باليسير.
غادرَتْ الدنيا قريباً من منتصف العمر (29 سنة)، لم يُتَحْ لها في حياة أبيها أن تُحدِّثَ وتُعلِّمَ، ولم تمكث بعد وفاة أبيها - صلى الله عليه وعلى آله وسلم - إلا يسيراً (ستة أشهر)، وغادرت الدنيا، بمواقف وهدي وكفاح يقتدى به، لذا كانت سيدة نساء أهل الجنة، وكانت مثالاً للنساء على الصبر واليقين رضي الله عنها.
ومع مكانتها المرعية عند المسلمين، إلا أن بعض أهل الأهواء والبدع ممن يدَّعِي محبة آل البيت أكثرَوا من التصنيف في فضائلهم، وذِكْرِ ما استقرَّ في عقيدتهم من العداء بين الصحابة وآل البيت، ورواية المكذوبات من الأخبار عما جرى على فاطمة رضي الله عنها، وبالأخص ما رووه زوراً من ظلم أبي بكر، وإهانة عمر بن الخطاب لفاطمة رضي الله عنهم، وما فتئوا يذكرون افتخاراً عنايتهم بآل البيت، ويستدلون على أهل السُّنَّةِ بمَرويات وردَتْ في كتب أهل السنة والجماعة، ولو كان أهلُ السُّنَّة والجماعة أوردوها في كتب الموضوعات.
(2)--------------------------------------------
এগুলোর সবই তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি থেকে শুরু করে মৃত্যু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত সময়কালের অন্তর্ভুক্ত।
(১)তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর পিতার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর আপতিত বিপদ-আপদ ও কষ্ট-ক্লেশ দেখেছেন। তিনি তাঁর ধৈর্য, প্রচেষ্টা এবং ইবাদত প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি তাঁর বোনদের হারানো এবং নিজ দেশ থেকে হিজরতের মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়েছেন। তিনি তাঁর পিতার ওপর আমানতের গুরুভার ও রিসালাতের দুশ্চিন্তা প্রত্যক্ষ করেছেন, সেই সাথে ছিল জীবন যাপনের উপকরণের স্বল্পতা এবং অল্পে তুষ্টির দৃষ্টান্ত।
তিনি মধ্য বয়সের কাছাকাছি সময়ে (২৯ বছর বয়সে) পৃথিবী ত্যাগ করেন। তাঁর পিতার জীবদ্দশায় হাদীস বর্ণনা ও শিক্ষা দেওয়ার সুযোগ তাঁর হয়ে ওঠেনি। তাঁর পিতার—তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—মৃত্যুর পর তিনি খুব অল্প সময় (ছয় মাস) বেঁচে ছিলেন। তিনি এমন সব অবস্থান, আদর্শ ও সংগ্রামের স্মৃতি রেখে পৃথিবী বিদায় নিয়েছেন যা অনুসরণযোগ্য। এই কারণেই তিনি জান্নাতী নারীদের নেত্রী ছিলেন এবং ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য এক অনন্য আদর্শ ছিলেন (রাদিয়াল্লাহু আনহা)।
মুসলমানদের নিকট তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও, আহলে বাইতের ভালোবাসার দাবিদার কিছু প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদাতপন্থী লোক তাদের ফযীলত বর্ণনায় সীমালংঘন করেছে। তারা তাদের আকিদায় প্রোথিত সাহাবায়ে কেরাম ও আহলে বাইতের মধ্যকার শত্রুতার কথা উল্লেখ করে এবং ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র সাথে যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে বানোয়াট সংবাদ বর্ণনা করে। বিশেষ করে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে জুলুম এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে অপমান করার যে মিথ্যা বর্ণনা তারা দিয়ে থাকে তা উল্লেখযোগ্য। তারা দম্ভভরে আহলে বাইতের প্রতি তাদের যত্নের কথা উল্লেখ করে এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে এমন সব বর্ণনা পেশ করে যা আহলুস সুন্নাহর কিতাবসমূহে বিদ্যমান, যদিও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত সেগুলো কেবল বানোয়াট হাদীসের কিতাবসমূহে (মাওজুআত) উল্লেখ করেছেন।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ولأهمية إفرادِ موضوع فاطمة رضي الله عنها بالتأليف، تقريراً للصحيح، وبياناً للباطل والردئ، رغبت في كتابة هذه المعلمة الشاملة تجمع مسند فاطمة، والمرويات في سيرتها، وفضائلها رضي الله عنها، وقد اخترتُ لها العنوان التالي:
فاطمة بنت النبي - صلى الله عليه وعلى آله وسلم -
سيرتها ــ فضائلها ــ مسندها رضي الله عنها
دراسة حديثية تاريخية موضوعية
(1)--------------------------------------------
ফাতিমা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-র বিষয়টি পৃথকভাবে রচনার গুরুত্বের কারণে, সহীহ বিষয়কে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং বাতিল ও মন্দ বিষয়কে স্পষ্ট ও খণ্ডন করার লক্ষ্যে, আমি এই ব্যাপক বিশ্বকোষীয় গ্রন্থটি লেখার আকাঙ্ক্ষা করেছি যা ফাতিমার মুসনাদ, তাঁর জীবনী সংক্রান্ত বর্ণনা এবং তাঁর ফযীলতসমূহকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) একত্রিত করে। আমি এর জন্য নিম্নোক্ত শিরোনামটি নির্বাচন করেছি:
ফাতিমা বিনতে নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম -
তাঁর জীবনী — তাঁর ফযীলতসমূহ — তাঁর মুসনাদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা)
একটি হাদীসভিত্তিক, ঐতিহাসিক ও বিষয়ভিত্তিক গবেষণা
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١٤)
أهمية الموضوع، وأسباب اختياره:
1. المكانة الشرعية التي حظيت بها سيدة نساء المؤمنين فاطمة بنت النبي - صلى الله عليه وعلى آله وسلم -.
2. أن أحاديثها لم تُستوعب في موضع واحد، مع أهمية ذلك.
3. الحاجة إلى تمحيص مسند فاطمة، والمرويات في سيرتها وفضائلها، بتمييز صحيحها من ضعيفها، وبيان دلالتها الشرعية، وموقف أهل السنة والجماعة منها.
বিষয়ের গুরুত্ব এবং তা নির্বাচনের কারণসমূহ:
১. মুমিন নারীগণের নেত্রী এবং নবী -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম- এর কন্যা ফাতিমার অর্জিত শরয়ী মর্যাদা।
২. তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো একক কোনো স্থানে সংকলিত না হওয়া, অথচ এর গুরুত্ব অপরিসীম।
৩. 'মুসনাদে ফাতিমা' এবং তাঁর জীবনী ও ফজিলত সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজনীয়তা; যাতে সহিহ বর্ণনাগুলোকে জঈফ বর্ণনা থেকে পৃথক করা যায় এবং এগুলোর শরয়ী তাৎপর্য ও এ বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অবস্থান স্পষ্ট করা যায়।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١٥)
4. إظهار عناية أهلِ السُّنةِ والجماعة بشأن فاطمة رضي الله عنها، والأحاديث الواردة في سيرتها وفضائلها.
أهداف الموضوع:
1. جَمْعُ مُسنَدِ فاطمةَ بنتِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم، والمرويات في سيرتها وفضائلها.
2. تخريج الأحاديث، ودراستها دراسة حديثية، وبيان الصحيح من الضعيف من المكذوب.
3. دراسة المرويات في سيرتها وفضائلها دراسةً حديثية تاريخية موضوعية.
4. جمع كلام العلماء من المؤرِّخين وغيرِهم في ترجمة فاطمة، وما له علاقة بها.
5. بيان عقيدة أهل السنة والجماعة في آل بيت النبي صلى الله عليه وسلم، والرد على أهل الأهواء الذين يُلزمون أهل السنة والجماعة بمرويات ضعيفة أو موضوعة وردت في شأن فاطمة رضي الله عنها.
6. إظهار عناية أهلِ السُّنةِ والجماعة بشأن فاطمة رضي الله عنها.
7. الذب عن السيدة فاطمة رضي الله عنها مما لحق بها من الأكاذيب، والأحاديث الضعيفة ـ وهي كثيرة جداً ـ.
8. بيان موقف الرافضة، والإسماعيلية، والمستشرقين، والكتابات الصوفية المعاصرة، من فاطمة رضي الله عنها.
حدود الكتاب:أصول المباحث: كل حديث في كتب السنة المطبوعة المسندة يتعلق بفاطمة رضي الله عنها، في بيان سيرتها من ولادتها إلى وفاتها، وفضائلها، والأحاديث الواردة ضمن مسندها.
فمتون الكتاب من كتب السنة المشرفة المسندة، واستفدتُ في الترجمة، والدراسة الموضوعية من كتب السيرة، والتاريخ، وغيرها.
لذى جرى تحديد المباحث والفصول وفق المرويات المسندة، ومالم يرد مسنداً أدخلته في الدراسة الموضوعية للمباحث، ومالم يوجد له مبحث أو مدخل، وضعته ضمن ترجمتها في التمهيد: المبحث الثاني.
৪. ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের গুরুত্ব প্রদান এবং তাঁর জীবনী ও মর্যাদাবিষয়ক বর্ণিত হাদিসসমূহ ফুটিয়ে তোলা।
বিষয়টির উদ্দেশ্যসমূহ:
১. নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কন্যা ফাতিমার মুসনাদ (তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ) এবং তাঁর জীবনী ও মর্যাদা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সংকলন করা।
২. হাদিসগুলোর তাখরিজ করা, সেগুলোর হাদিসতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করা এবং সহিহ, জইফ ও বানোয়াট বর্ণনাগুলোকে পৃথক করা।
৩. তাঁর জীবনী ও মর্যাদা সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো হাদিসতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক ও বিষয়ভিত্তিক পন্থায় পর্যালোচনা করা।
৪. ফাতিমার জীবনী এবং তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইতিহাসবিদ ও অন্যান্য আলেমদের বক্তব্যসমূহ সংকলন করা।
৫. নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আহলে বাইত সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বর্ণনা করা এবং সেই সব প্রবৃত্তি পূজারীদের জবাব দেওয়া যারা ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে বর্ণিত জইফ বা বানোয়াট বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে অভিযুক্ত করতে চায়।
৬. ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের গুরুত্ব প্রদান করা।
৭. সায়্যিদাহ ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সাথে জুড়ে দেওয়া মিথ্যাচার ও জইফ হাদিসগুলো—যা সংখ্যায় অনেক—তা থেকে তাঁকে রক্ষা করা।
৮. ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে রাফেজি, ইসমাইলি, প্রাচ্যবিদ এবং সমকালীন সুফিবাদী লেখনীর অবস্থান পরিষ্কার করা।
গ্রন্থের পরিধি:আলোচনার মূল ভিত্তি: সনদযুক্ত সুন্নাহর ছাপানো কিতাবসমূহে ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সংক্রান্ত বর্ণিত প্রতিটি হাদিস, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনী, মর্যাদা এবং তাঁর মুসনাদভুক্ত হাদিসসমূহ।
গ্রন্থের মূল পাঠসমূহ সনদযুক্ত সম্মানিত সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে নেওয়া হয়েছে। আর জীবনী ও বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমি সিরাত, ইতিহাস ও অন্যান্য কিতাব থেকে সহায়তা নিয়েছি।
এজন্য আলোচনার বিষয়বস্তু ও অধ্যায়গুলো সনদযুক্ত বর্ণনার আলোকে বিন্যস্ত করা হয়েছে। যেসব বিষয় সনদবিহীন সেগুলোকে আলোচনার বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত করেছি। আর যেগুলোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদ বা প্রবেশদ্বার পাওয়া যায়নি, সেগুলোকে ভূমিকা ভাগের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তাঁর জীবনীর অংশ হিসেবে স্থান দিয়েছি।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١٦)
فائدة وتنبيه: إنَّ في كتبِ السُّنَّة المشرَّفَة مَوْرِدَاً عَذْبَاً، ورِيَّاً هَنِيَّاً، لمن أراد شيئاً عن الصحابة رضي الله عنهم ــ ومنهم آل البيت ــ، فهي أحسنُ علماً وأثاثاً ورِئياً من الكتب الإنشائية الأدبية المعاصرة التي لا يستقيم عودها إلا بزيادات تُكمل القصة، وتحسِّن سرد السيرة، سواء أضيفت من كتب وأخبار مكذوبة، أو افتعلها مؤلفها ليكتمل بناء كتابه القصصي، ألا فاحذَرْ من هذا النوع، وللأسف هو الذي يروج عند العامة، لمتعته، وبه ترسخ كثير من الأحاديث المنسوبة للنبي صلى الله عليه وسلم وهي باطلة، وكذا قصص السيرة والصحابة، وبالكاد تمحو هذه الأساطير من الأذهان، لقوة أثر القصص المشوِّقة الحديثة، ورواجها، واللهُ المستعان.
عدد الأحاديث:
- عدد الأحاديث إجمالاً: (755) سبعمئة وخمسة وخمسون حديثاً.
- عدد أحاديث الصحيحين أو أحدهما: (128) مئة وثمانية وعشرون حديثاً.
- عدد الأحاديث المكررة: (27) سبعة وعشرون حديثاً.
- عدد أحاديث «مسندِها»: (49) تسعة وأربعون حديثاً.
(1)- عدد الأحاديث بدون المكرر، وما في الصحيحين أو أحدهما: (600) ستمئة حديثٍ.
--------------------------------------------
উপকারিতা ও সতর্কবার্তা: নিশ্চয়ই সম্মানিত সুন্নাহর গ্রন্থসমূহের মাঝে রয়েছে একটি সুমিষ্ট উৎস এবং তৃপ্তিদায়ক পানীয় তাদের জন্য যারা সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) —যাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আহলে বাইত— সম্পর্কে কিছু জানতে চায়। ইলম, সমৃদ্ধি ও সৌন্দর্যের দিক থেকে এগুলো বর্তমান সময়ের সেই সব সৃজনশীল সাহিত্যিক বইপত্রের চেয়ে অনেক উত্তম, যেগুলোর ভিত্তি টিকে থাকে কেবল গল্প পূর্ণ করার জন্য যোগ করা অতিরিক্ত তথ্যের ওপর এবং সীরাত বর্ণনার প্রবাহ ঠিক রাখার ওপর; চাই সেগুলো মিথ্যা কিতাব ও সংবাদ থেকে যোগ করা হোক অথবা লেখক নিজেই তা উদ্ভাবন করুন তার গল্পের বইয়ের কাঠামো পূর্ণ করার জন্য। সাবধান! এই ধরনের বই থেকে সতর্ক থাকুন। পরিতাপের বিষয় হলো, এগুলোই সাধারণ মানুষের নিকট জনপ্রিয় কারণ তা আনন্দদায়ক। এর মাধ্যমেই নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে এমন অনেক হাদিস প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় যা আসলে বাতিল। তেমনিভাবে সীরাত ও সাহাবায়ে কেরামের গল্পের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে। আধুনিক আকর্ষণীয় গল্পের জোরালো প্রভাব ও প্রসারের কারণে মানুষের মন থেকে এই সব উপকথা মুছে ফেলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
হাদিস সংখ্যা:
- সর্বমোট হাদিস সংখ্যা: (৭৫৫) সাতশত পঞ্চান্নটি হাদিস।
- সহিহাইন বা এই দুটির কোনো একটিতে বর্ণিত হাদিস সংখ্যা: (১২৮) একশত আটাশটি হাদিস।
- পুনরাবৃত্ত হাদিস সংখ্যা: (২৭) সাতাশটি হাদিস।
- তাঁর «মুসনাদ»-এর হাদিস সংখ্যা: (৪৯) উনপঞ্চাশটি হাদিস।
(১)- পুনরাবৃত্তি এবং সহিহাইন বা এর কোনো একটিতে বর্ণিত হাদিস ব্যতীত অবশিষ্ট হাদিস সংখ্যা: (৬০০) ছয়শত হাদিস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١٧)
الدراسات السابقة، والمؤلفات المفردة في فاطمة:لم أقف ــ بعد البحث ــ على من جمع مسندها، والأحاديث الواردة في شأنها، معتنياً بوحداتها الموضوعية، وتمحيص المرويات: تخريجاً، ودراسةً علمَيَّةً مُفصَّلةً، مع دراسة موضوعية حديثية وتاريخية.
هذا، وبعد الاطلاع على دراسات أهل السُّنَّة والجماعَةِ عن فاطمة رضي الله عنها
(1)، وما دخلَ كثيراً منها من الأحاديث الضعيفة والموضوعة، وبعضِ دراسات الرافضة والإسماعيلية والمستشرقين عن فاطمة
(2)، وما ادَّعَتْه الرافضة من عنايتهم بسيرتها وأحاديثها، واستفادة المستشرقين والصوفية من بعض أفكار وكتابات الرافضة؛ لأجل ما سبق ظهرَتْ أهمية الكتابة العلمية في موضوع فاطمة رضي الله عنها، فهو بحاجة ماسَّة إلى جَمعٍ كل ما ورد في شأنها، مع العناية بمسندها، وتخريج ذلك تخريجاً علمياً، مع دراسة أسانيدها دراسة مفصلة، وترتيب أحاديث سيرتها وفضائلها ترتيباً موضوعياً رواية ودراية؛ وأيضاً جمع المنقولات التاريخية وتحريرها وبيان المقبول منها، مع ملاحظة الفرق بين منهج نقد الرواياتالحديثية ومنهج نقد الروايات
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী অধ্যয়নসমূহ এবং ফাতেমা সম্পর্কিত একক রচনাবলি:অনুসন্ধানের পর, আমি এমন কাউকে পাইনি যিনি ফাতেমার মুসনাদ এবং তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহকে তাঁর বিষয়ভিত্তিক এককত্বের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে এবং বর্ণনাসমূহকে যাচাই-বাছাই করে সংকলন করেছেন: যথা—উৎস নির্ণয় (তাখরিজ) ও বিস্তারিত ইলমি পর্যালোচনার মাধ্যমে, সেই সাথে হাদিস শাস্ত্রীয় ও ঐতিহাসিক বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনার মাধ্যমে।
তদুপরি, ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অধ্যয়নসমূহ দেখার পর এবং তাতে অনেক দুর্বল ও জাল হাদিস ঢুকে পড়া লক্ষ্য করে, সেই সাথে ফাতেমা সম্পর্কে রাফেযি, ইসমাইলি ও প্রাচ্যবিদদের কিছু অধ্যয়ন পর্যবেক্ষণ করে; এবং রাফেযিরা তাঁর জীবনী ও হাদিসসমূহের প্রতি যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি করে এবং প্রাচ্যবিদ ও সুফিদের রাফেযিদের কিছু চিন্তা ও লেখা থেকে উপকৃত হওয়া দেখে—উপরিউক্ত কারণে ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে ইলমি লেখনীর গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত সবকিছুর সংকলন, তাঁর মুসনাদের প্রতি বিশেষ যত্ন, তার বৈজ্ঞানিক উৎস নির্ণয় (তাখরিজ), তাঁর সনদসমূহের বিস্তারিত পর্যালোচনা এবং তাঁর জীবনী ও মর্যাদাপূর্ণ হাদিসসমূহকে রেওয়ায়েত (বর্ণনা) ও দেরায়েত (পাঠ্য বিশ্লেষণ) অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস করার তীব্র প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে। এছাড়াও ঐতিহাসিক তথ্যসমূহ সংগ্রহ ও সম্পাদনা করা এবং গ্রহণযোগ্য বর্ণনাগুলো সুস্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে; সেই সাথে হাদিস শাস্ত্রীয় বর্ণনা পর্যালোচনার পদ্ধতি এবং ঐতিহাসিক বর্ণনা পর্যালোচনার পদ্ধতির মধ্যকার পার্থক্য লক্ষ্য রাখা আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١٨)
التاريخية.
(1)وهذا كلُّه إعلاءً لشأن السيدة فاطمة بنتِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وشأنِ آلِ البيت، واستكمالاً لما بدأ به أئمة الإسلام من جمع لبعض فضائل فاطمة في كتبهم: الجوامع، والفضائل، والاعتقاد، والسير، والكتب المفردة
…ورَدَّاً على الشُّبَهِ المثارة من لدن الرافضة والإسماعيلية على أهل السنة والجماعة؛ وكذا شبه المستشرقين النصارى، وما أدخلته الصوفية في شأنها، وما درج في عبث المعاصرين.
لذا استعنتُ بالله وحدَه، فعقدت الكتابَ على الخطة التالية:
--------------------------------------------
ঐতিহাসিক।
(১)এবং এই সবকিছুই হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা সাইয়্যেদা ফাতিমার মর্যাদা এবং আহলে বাইতের মর্যাদাকে সমুন্নত করার জন্য, এবং ইসলামের ইমামগণ তাঁদের গ্রন্থসমূহ—জওয়ামে, ফাজায়েল, ইতিকাদ, সিয়ার এবং স্বতন্ত্র গ্রন্থাবলীতে ফাতিমার কিছু ফযীলত সংগ্রহের মাধ্যমে যা শুরু করেছিলেন, তার পূর্ণতা বিধানের লক্ষ্যে
…এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের বিরুদ্ধে রাফেযী ও ইসমাইলিদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সংশয়সমূহের জবাব স্বরূপ; একইভাবে খ্রিস্টান প্রাচ্যবিদদের সংশয়, তাঁর ব্যাপারে সূফীবাদ যা অনুপ্রবেশ করিয়েছে এবং সমসাময়িকদের অনর্থক কর্মকাণ্ডে যা প্রচলিত হয়েছে তার খণ্ডন স্বরূপ।
তাই আমি একমাত্র আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রন্থটি বিন্যস্ত করেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
خطة الكتابيشتمل الكتاب على: مقدمة، وتمهيد، وثلاثة أبواب، وخاتمة، وفهارس.
المقدمة:
فيها بيان أهمية الموضوع، وأسباب اختياره، وأهدافه، وحدود البحث، وعدد الأحاديث، وخطة البحث ومنهجه.
التمهيد: وفيه ستة مباحث:
المبحث الأول: المؤلفات في فاطمة رضي الله عنها ــ عرض ونقد ـ.
المبحث الثاني: ترجمة فاطمة رضي الله عنها.
المبحث الثالث: عقيدة أهل السنة والجماعة في آل بيت النبي صلى الله عليه وسلم.
المبحث الرابع: عناية أهل السنة والجماعة بجمع مرويات آل البيت وفضائلهم.
المبحث الخامس: فاطمة رضي الله عنها في كتب: الرافضة، والإسماعيلية، والمستشرقين.
المبحث السادس: تطبيق منهج النقد الحديثي على مرويات السيرة
… والروايات التاريخية.
গ্রন্থের পরিকল্পনাগ্রন্থটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে গঠিত: ভূমিকা, প্রারম্ভিকা, তিনটি অধ্যায়, উপসংহার এবং নির্ঘণ্টসমূহ।
ভূমিকা:
এতে রয়েছে বিষয়ের গুরুত্বের বর্ণনা, এটি নির্বাচনের কারণসমূহ, এর লক্ষ্যসমূহ, গবেষণার পরিধি, হাদিসের সংখ্যা এবং গবেষণার পরিকল্পনা ও পদ্ধতি।
প্রারম্ভিকা: এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বিষয়ক গ্রন্থাবলি — উপস্থাপন ও পর্যালোচনা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর জীবনী।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আহলে বাইত সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আহলে বাইতের বর্ণনা এবং তাঁদের মর্যাদা সংকলনে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিশেষ যত্ন।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রাফেযি, ইসমাইলি এবং প্রাচ্যবিদদের কিতাবসমূহে ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সিরাতের বর্ণনা
... এবং ঐতিহাসিক বর্ণনাসমূহের ওপর হাদিস শাস্ত্রীয় সমালোচনা পদ্ধতির প্রয়োগ।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الباب الأول: الأحاديث الواردة في سيرتها، وفيه خمسة فصول:
الفصل الأول: حالها مع أبيها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفيه سبعة مباحث:
المبحث الأول: ولادتها، وترتيبها بين أخواتها.
المبحث الثاني: تسميتها فاطمة، ونسبُها، وكنيتها، ولقبها.
المبحث الثالث: شبهها بأبيها محمد صلى الله عليه وسلم.
المبحث الرابع: نفقة النبي صلى الله عليه وسلم عليها.
المبحث الخامس: قيامه صلى الله عليه وسلم عليها بالعدل.
المبحث السادس: حالها في وفاة النبي صلى الله عليه وسلم.
المبحث السابع: طلبها ميراث أبيها صلى الله عليه وسلم.
الفصل الثاني: زواجها بعلي بن أبي طالب رضي الله عنه، وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: خطبتها، ومشاورة النبي صلى الله عليه وسلم لها في زواجها.
المبحث الثاني: مهرها.
المبحث الثالث: تجهيزها.
المبحث الرابع: البناء بها.
المبحث الخامس: وليمة عُرسها رضي الله عنها.
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জীবনী সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ, এবং এতে পাঁচটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: তাঁর পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর অবস্থা, এবং এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম এবং তাঁর বোনদের মধ্যে তাঁর ক্রম।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ফাতিমা নামকরণ, তাঁর বংশপরিচয়, তাঁর উপনাম ও তাঁর উপাধি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর পিতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর সাদৃশ্য।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভরণপোষণ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের সময় তাঁর অবস্থা।
সপ্তম অনুচ্ছেদ: তাঁর পিতা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরাধিকারের আবেদন।
দ্বিতীয় অধ্যায়: আলী ইবন আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে তাঁর বিবাহ, এবং এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর বিয়ের প্রস্তাব এবং তাঁর বিবাহের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে তাঁর সাথে পরামর্শ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর মোহর।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর বিবাহের সরঞ্জামাদি।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: দাম্পত্য জীবন শুরু।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: তাঁর বিবাহের ওলীমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الفصل الثالث: حالها مع زوجها علي بن أبي طالب رضي الله عنهما وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: غبطة الصحابة علي بن أبي طالب؛ لزواجه بفاطمة رضي الله عنهم.
المبحث الثاني: افتخاره بها.
المبحث الثالث: أنها أحد ركنيه.
المبحث الرابع: وقوع المغاضبة بينها وبين زوجها أحياناً.
المبحث الخامس: خدمتها لزوجها، وصبرها على ضيق العيش.
الفصل الرابع: حالها مع ابنيها الحسن والحسين رضي الله عنهم وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: ولادتهما.
المبحث الثاني: العقيقة، والصدقة عنهما.
المبحث الثالث: ملاطفتها لهما.
المبحث الرابع: طلبها من أبيها صلى الله عليه وسلم أن يورِّثهما.
الفصل الخامس: وفاتها رضي الله عنها وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: وقت وفاتها.
المبحث الثاني: وصيتها رضي الله عنها.
المبحث الثالث: الصلاة عليها ودفنها.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: স্বামী আলী ইবন আবী তালিবের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) সাথে তাঁর অবস্থা এবং এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ফাতিমার (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সাথে বিবাহের কারণে আলী ইবন আবী তালিবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) প্রতি সাহাবায়ে কিরামের সদুপলব্ধি (ঈর্ষা)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁকে নিয়ে আলীর গর্ববোধ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তিনি ছিলেন আলীর অন্যতম স্তম্ভ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মাঝে মাঝে তাঁর ও তাঁর স্বামীর মধ্যে মান-অভিমান সৃষ্টি হওয়া।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: স্বামীর সেবা এবং জীবনযাপনের সংকীর্ণতার উপর তাঁর ধৈর্য।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর দুই পুত্র হাসান ও হুসাইনের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সাথে তাঁর অবস্থা এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁদের জন্ম।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁদের পক্ষ থেকে আকীকা ও সদকা প্রদান।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁদের প্রতি তাঁর স্নেহ ও মমতা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁদের দুজনকে উত্তরাধিকারী করার জন্য তাঁর পিতার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট তাঁর আবেদন।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ইন্তেকাল এবং এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকালের সময়।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) অসিয়ত।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জানাযার নামায ও দাফন।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
الباب الثاني: الأحاديث الواردة في فضائلها، وفيه خمسة فصول:
الفصل الأول: منزلتها عند أبيها صلى الله عليه وسلم، وفيه سبعة مباحث:
المبحث الأول: محبة النبي صلى الله عليه وسلم لها، واحتفاؤه بها.
المبحث الثاني: زيارة النبي صلى الله عليه وسلم لها في بيتها.
المبحث الثالث: غيرةُ النبي صلى الله عليه وسلم عليها، وأنها بضعة منه.
المبحث الرابع: دخولها وزوجها وذريتها في آل النبيِّ صلى الله عليه وسلم.
المبحث الخامس: أن النبي صلى الله عليه وسلم سلم لمن سالمها وزوجها وولديها، وحرب لمن حاربهم.
المبحث السادس: اختياره صلى الله عليه وسلم لها الدار الآخرة.
المبحث السابع: حثُّ النبي صلى الله عليه وسلم فاطمةَ على حُبِّ عائشة رضي الله عنهن.
الفصل الثاني: منزلة أبيها صلى الله عليه وسلم عندها؛ وفيه مبحثان:
المبحث الأول: بِرُّها بهِ صلى الله عليه وسلم.
المبحث الثاني: حفظُها لِسِرِّ أبيها صلى الله عليه وسلم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তার ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহ, এবং এতে পাঁচটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: তার পিতা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার মর্যাদা, এবং এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহব্বত এবং তাকে সমাদর করা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তার গৃহে তাকে দেখতে যাওয়া।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মমর্যাদাবোধ এবং তিনি তাঁরই একটি অংশ হওয়া।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিজনের (আহলে বায়তের) মধ্যে তার, তার স্বামী ও তার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তার, তার স্বামী ও তার দুই সন্তানের সাথে যারা সন্ধি বজায় রাখে তাদের সাথে সন্ধি এবং যারা তাদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করা।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তার জন্য পরকালকে বেছে নেয়া।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর প্রতি মহব্বত রাখার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উৎসাহ প্রদান।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তার নিকট তার পিতা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদা; এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রতি তার সদাচার।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তার পিতার গোপনীয় বিষয় রক্ষা করা।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الفصل الثالث: منزلتها عند الشيخين أبي بكر وعمر رضي الله عنهم؛ وفيه مباحثان:
المبحث الأول: محبة أبي بكر ورعايته لها رضي الله عنهما.
المبحث الثاني: محبة عمر بن الخطاب لها رضي الله عنهما.
الفصل الرابع: منزلتها في العلم والعبادة، وما فُضِّلَتْ به؛ وفيه أحد عشر مبحثاً:
المبحث الأول: روايتها الأحاديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
المبحث الثاني: تعليم النبي صلى الله عليه وسلم إياها.
المبحث الثالث: صِدْقُ لهجتها رضي الله عنها.
المبحث الرابع: انفرادها بمعرفة جوابِ سؤالٍ للنبي صلى الله عليه وسلم.
المبحث الخامس: إقامتها الحدَّ على جارية لها قد زنت.
المبحث السادس: صَدَقَتُها رضي الله عنها على بني هاشم وبني المطلب.
المبحث السابع: تحرِّيها ساعة الإجابة يوم الجمعة.
المبحث الثامن: زيارتها قبر عمِّها حمزة، وأختها رقية رضي الله عنهم.
المبحث التاسع: غضبُ اللهِ - جل وعلا - لغضبها.
المبحث العاشر: أنَّ المهديَّ المنتظر مِن وَلدِها.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শাইখাইন আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর নিকট তাঁর মর্যাদা; এতে দুটি আলোচনা রয়েছে:
প্রথম আলোচনা: আবু বকরের ভালোবাসা এবং তাঁর প্রতি তাঁর যত্ন (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন)।
দ্বিতীয় আলোচনা: উমর ইবনুল খাত্তাবের ভালোবাসা তাঁর প্রতি (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জ্ঞান ও ইবাদতে তাঁর মর্যাদা এবং যা দ্বারা তিনি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন; এতে এগারোটি আলোচনা রয়েছে:
প্রথম আলোচনা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর হাদিস বর্ণনা।
দ্বিতীয় আলোচনা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁকে শিক্ষাদান।
তৃতীয় আলোচনা: তাঁর কথার সত্যবাদিতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)।
চতুর্থ আলোচনা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি প্রশ্নের উত্তর জানার ক্ষেত্রে তাঁর একক বৈশিষ্ট্য।
পঞ্চম আলোচনা: ব্যভিচার করা তাঁর এক দাসীর ওপর তাঁর হদ (শাস্তি) কার্যকর করা।
ষষ্ঠ আলোচনা: বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের ওপর তাঁর সদকা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)।
সপ্তম আলোচনা: জুমার দিনে দোয়া কবুলের মুহূর্তটি তালাশ করা।
অষ্টম আলোচনা: তাঁর চাচা হামজা এবং তাঁর বোন রুকাইয়্যাহর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) কবর জিয়ারত।
নবম আলোচনা: তাঁর রাগের কারণে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার রাগান্বিত হওয়া।
দশম আলোচনা: প্রতীক্ষিত মাহদী তাঁর সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
المبحث الحادي عشر: أمور خُصّت بها، وفيه مطلبان:
المطلب الأ ول: إ سرار النبي صلى الله عليه وسلم لها، بخبر موته وموتها.
المطلب الثاني: أن النبي صلى الله عليه وسلم عصبة لأولادها.
الفصل الخامس: منزلتها يوم القيامة، وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: أنها سيدة نساء أهل الجنة، وسيدة نساء العالمين.
المبحث الثاني: غَضُّ الخلائق أبصارهم يوم القيامة؛ لمرورها على الصراط.
المبحث الثالث: أنَّ فاطمة، وزوجها، وابنيها، في الجنة.
المبحث الرابع: جزاء من أحبها مع أبيها صلى الله عليه وسلم وابنيها.
المبحث الخامس: انقطاع الأنساب والأسباب يوم القيامة إلا سبب النبي صلى الله عليه وسلم ونسبه.
الباب الثالث: مسند فاطمة رضي الله عنها.
الخاتمة:
وتتضمن أهم نتائج الكتاب، والتوصيات.
الفهارس المتنوعة.
একাদশ পরিচ্ছেদ: সে সকল বিষয় যা দ্বারা তাঁকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করা হয়েছে, এবং এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর নিকট নিজের মৃত্যু এবং তাঁর (ফাতিমার) মৃত্যুর সংবাদ গোপনে প্রকাশ করা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সন্তানদের জন্য রক্তসম্পর্কীয় অভিভাবক (আসাবাহ্)।
পঞ্চম অধ্যায়: কিয়ামত দিবসে তাঁর মর্যাদা, এবং এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তিনি জান্নাতী নারীদের নেত্রী এবং বিশ্বজগতের নারীদের নেত্রী।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিয়ামত দিবসে যখন তিনি সিরাত পার হবেন তখন সৃষ্টিজগতের দৃষ্টি অবনত করা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ফাতিমা, তাঁর স্বামী এবং তাঁর দুই পুত্র জান্নাতে থাকবেন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি তাঁকে তাঁর পিতা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর দুই পুত্রের সাথে ভালোবাসবে তার প্রতিদান।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কিয়ামত দিবসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়তা ও বংশীয় সম্পর্ক ব্যতীত সকল সম্পর্ক ও বংশীয় ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া।
তৃতীয় ভাগ: ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার মুসনাদ।
উপসংহার:
এটি গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এবং সুপারিশসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।
বিবিধ নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
منهج البحث:
أولا: المنهج في البابين الأولين:
أ) منهج تخريج ودراسة أسانيد أحاديث الباب الأول والثاني المتعلقين بسيرة فاطمة وفضائلها:
1. أقتصرُ في تخريج أحاديث الصحيحين منهما، إلا لزيادة مؤثرة في المعنى.
2. أتوسَّعُ في تخريج أحاديث غير الصحيحين وِفق ما يحقق رقم (2) من منهج الدراسة الموضوعية الآتي ذكرها.
3. إذا كان الحديثُ في الصحيحين فإني أكتفي بعزوه إليهما عن دراسة إسناده.
4. إذا كان الحديثُ صحيحاً أو حسناً فأدرس إسناد اللفظ المختار بإيجاز، إلا الراوي موضع التحسين فأطيل في بيان حاله، وأما الحديث الضعيف فأذكرُ عِلَّة ضعفه في ضوء أقوال العلماء مع الترجيح والتعليل.
ب) منهج الدراسة الموضوعية:
1. أجمع أحاديث الموضوع، وأُبَيِّنُ وحدَتَها الموضوعية، وأُرَتِّبُها حسب دِلالَتها اتفاقاً واختلافاً.
2. أجمع ألفاظ الحديث ورواياته وزياداتها المساعدة في فهم الحديث
গবেষণার পদ্ধতি:
প্রথমত: প্রথম দুই পরিচ্ছেদের পদ্ধতি:
ক) ফাতিমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর জীবনী ও মর্যাদা সংশ্লিষ্ট প্রথম ও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের হাদিসসমূহের তাখরীজ ও সনদ পর্যালোচনার পদ্ধতি:
১. সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে আমি কেবল তাখরীজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব, যদি না অর্থে প্রভাব বিস্তারকারী কোনো অতিরিক্ত অংশ থাকে।
২. সহীহাইন বহির্ভূত হাদিসসমূহের তাখরীজের ক্ষেত্রে আমি নিচে বর্ণিত বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনার পদ্ধতির ২ নম্বর পয়েন্টের লক্ষ্য অর্জনের অনুকূলে বিস্তারিত আলোচনা করব।
৩. হাদিসটি যদি সহীহাইন-এ থাকে, তবে আমি এর সনদ পর্যালোচনার পরিবর্তে কেবল সেগুলোর দিকে সম্বন্ধ (হাওলা) করাকেই যথেষ্ট মনে করব।
৪. যদি হাদিসটি সহীহ বা হাসান হয়, তবে আমি নির্বাচিত পাঠের সনদ সংক্ষেপে পর্যালোচনা করব; তবে যে রাবীর কারণে হাদিসটি হাসান স্তরে পৌঁছেছে তার অবস্থা বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করব। আর যঈফ হাদিসের ক্ষেত্রে আলেমদের বক্তব্যের আলোকে প্রাধান্য দান ও কারণ দর্শানোর মাধ্যমে এর দুর্বলতার কারণ উল্লেখ করব।
খ) বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনার পদ্ধতি:
১. আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের হাদিসগুলো সংগ্রহ করব, সেগুলোর বিষয়ভিত্তিক ঐক্য স্পষ্ট করব এবং তাদের অর্থের মিল ও অমিল অনুযায়ী বিন্যস্ত করব।
২. আমি হাদিসের পাঠসমূহ, এর বর্ণনাগুলো এবং এমন অতিরিক্ত অংশসমূহ সংগ্রহ করব যা হাদিসটি বুঝতে সহায়ক হয়।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
وفقهه موضوعياً، وأعتني بأوفاها معنى، وأصرحها دلالة.
3. أعتني بخدمة المتن والتعليق عليه وتحريره وضبط مشكله.
4. أعتني بالربط الموضوعي بين أحاديث الباب، ودرء تعارضها، والجمع بين مشكلها.
5. أعتني بالاستشهاد بالآيات والآثار والأقوال الواردة في الباب، وربطها بدلالة الحديث الموضوعية.
6. أعتني بفقه أئمة الحديث وأقوال المحققين من العلماء المنصوص عليها، أو المترجم بها في مصنفاتهم، أو المنقول عنهم، مع العناية ـ أيضاً ـ بكلام المؤرِّخين.
7. أحاول استقصاء كل ما قيل في المبحث.
ثانيا: المنهج في الباب الثالث المتعلق بمسند فاطمة رضي الله عنها.
1. أُخرِّج الأحاديث من عامة كتب السنة المطهرة، حتى أحاديث الصحيحين، إلا أنَّ العزو إليهما يغني عن دراسة إسنادهما.
2. إذا كان الحديث في غير الصحيحين، فإني أعتمد أعلاها سنداً، مراعياً ترتيب الأسانيد، بحسب المتابعة التامة فالقاصرة، مع التوسع في تخريج الحديث ودراسته.
এবং এর বিষয়ভিত্তিক ফিকহ আলোচনা করেছি, আর আমি সবচেয়ে অর্থপূর্ণ এবং অত্যন্ত স্পষ্ট দলীল সমৃদ্ধ বর্ণনাগুলোর প্রতি যত্নশীল হয়েছি।
৩. আমি মূল পাঠের সেবা প্রদান, এর ওপর টিকা প্রদান, একে সংকলন এবং এর অস্পষ্ট বিষয়সমূহ সুস্পষ্ট করার প্রতি যত্নশীল হয়েছি।
৪. আমি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের হাদিসগুলোর মধ্যে বিষয়ভিত্তিক যোগসূত্র স্থাপন, সেগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য দূরীকরণ এবং জটিল বিষয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের প্রতি যত্নশীল হয়েছি।
৫. আমি অধ্যায়ে উল্লিখিত আয়াত, আসার এবং বাণীসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান এবং সেগুলোকে হাদিসের বিষয়ভিত্তিক অর্থের সাথে সম্পৃক্ত করার প্রতি যত্নশীল হয়েছি।
৬. আমি হাদিসের ইমামগণের ফিকহ এবং গবেষক আলেমদের সেসব উক্তি যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, অথবা তাদের গ্রন্থসমূহে শিরোনাম হিসেবে এসেছে, কিংবা তাদের থেকে বর্ণিত হয়েছে— সেগুলোর প্রতি যত্নশীল হয়েছি। পাশাপাশি ঐতিহাসিকদের বক্তব্যের প্রতিও আমি গুরুত্ব দিয়েছি।
৭. আমি এই গবেষণা বিষয়ে যা কিছু বলা হয়েছে তার সবটুকুই অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছি।
দ্বিতীয়ত: ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর মুসনাদ সংশ্লিষ্ট তৃতীয় অধ্যায়ের কর্মপদ্ধতি।
১. আমি পবিত্র সুন্নাহর সাধারণ কিতাবসমূহ থেকে হাদিসগুলো তাখরীজ করেছি, এমনকি সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর হাদিসগুলোও; তবে সহীহাইনের দিকে উদ্ধৃতি প্রদানই তাদের সনদের বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়।
২. যদি হাদিসটি সহীহাইনের বাইরে হয়, তবে আমি তার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত সনদের ওপর নির্ভর করেছি এবং পূর্ণাঙ্গ ও আংশিক মুতাবাআত (সমর্থক বর্ণনা) অনুযায়ী সনদসমূহের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি। পাশাপাশি হাদিসটির বিস্তারিত তাখরীজ ও গবেষণার প্রতি লক্ষ্য রেখেছি।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
3. إذا كان الحديث مختلفاً على بعض رواته، في السند والمتن، أو في أحدهما، فإني أُخرِّجه بحسب أوجه الاختلاف، ثم أُبيِّنُ الراجح منها وِفقَ كلام النقاد، وقرائن الترجيح.
4. إذا احتاج الحديث إلى شواهد عاضده، فإن أُخرِّج أقربها لِلَفْظِه، وأقواها درجةً، وأحكم عليها، مع الإشارة الإجمالية إلى أنَّ للحديثِ شواهدَ أخرى.
5. أراعي في تخريج المرويات عموماً، العناية ببيان الفروق المؤثرة بين ألفاظ الروايات، مع استعمال العبارات الاصطلاحية التي تدل على تلك الفروق.
6. إذا كان الراوي متفقاً على توثيقه أو تضعيفه، فأذكر من عناصر ترجمته ما يُميِّزه من: الاسم، والنسب، والكنية، واللقب، ثم أذكر ما يفيد خلاصة القول في توثيقه أو تضعيفه.
7. إذا كان الراوي مختلفاً فيه، فأذكر العناصر المميزة له كما سبق، وأعرض الأقوال المختلفة فيه دون تكريرٍ، ولا إخلالٍ بما لَه أثر في حال الراوي، ثم أذكر نتيجة دراسة حاله في ضوء قواعد الجرح والتعديل.
وأما إن كان الراوي المختلف فيه، مما اشتهر الكلام عنه، وطال فيه، فإني أذكرُ مجملَ الأقوال فيه، مع الترجيح في ضوء القواعد العلمية المعتبرة، ثم أحيل إلى الدراسات الموسَّعَةِ فيه.
3. যদি কোনো হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে এর সনদ ও মতন, অথবা এদের যেকোনো একটির ক্ষেত্রে মতভেদ থাকে, তবে আমি মতভেদের বিভিন্ন দিক অনুযায়ী তা তাখরিজ করি। এরপর সমালোচকগণের বক্তব্য এবং অগ্রাধিকার প্রদানের মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের মধ্য থেকে সঠিকটি স্পষ্ট করি।
4. হাদিসটি শক্তিশালী করার জন্য যদি সহায়ক বর্ণনার প্রয়োজন হয়, তবে আমি এর মূল পাঠের সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং মান বিচারে সবচেয়ে শক্তিশালী বর্ণনাটি তাখরিজ করি এবং সেটির ওপর হুকুম প্রদান করি। পাশাপাশি হাদিসটির আরও সহায়ক বর্ণনা রয়েছে বলে সংক্ষেপে ইঙ্গিত প্রদান করি।
5. সাধারণভাবে বর্ণনাগুলো তাখরিজের ক্ষেত্রে আমি বিভিন্ন বর্ণনার শব্দের মধ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো বর্ণনা করার প্রতি যত্নশীল থাকি এবং সেই পার্থক্যগুলো বুঝানোর জন্য পারিভাষিক শব্দাবলি ব্যবহার করি।
6. বর্ণনাকারী যদি সর্বসম্মতভাবে নির্ভরযোগ্য বা দুর্বল হন, তবে তাঁর জীবনীর এমন বিষয়গুলো উল্লেখ করি যা দিয়ে তাঁকে চেনা যায়; যেমন: নাম, বংশ, উপনাম ও উপাধি। এরপর তাঁর নির্ভরযোগ্যতা বা দুর্বলতার বিষয়ে সারকথা উল্লেখ করি।
7. যদি বর্ণনাকারীর বিষয়ে মতভেদ থাকে, তবে তাঁর পরিচয়মূলক বিষয়গুলো আগের মতোই উল্লেখ করি এবং তাঁর সম্পর্কে আসা বিভিন্ন উক্তিগুলো কোনো পুনরাবৃত্তি ছাড়াই উপস্থাপন করি। এক্ষেত্রে তাঁর অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে এমন কোনো বিষয় বাদ দেই না। এরপর জারহ ও তাদিল-এর মূলনীতির আলোকে তাঁর অবস্থা পর্যালোচনার ফলাফল উল্লেখ করি।
আর যে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে মতভেদ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ এবং দীর্ঘ আলোচনা বিদ্যমান, তাঁর সম্পর্কে আসা উক্তিগুলোর সারসংক্ষেপ উল্লেখ করি এবং নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক মূলনীতির আলোকে সঠিক মতটি তুলে ধরি। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার উৎস নির্দেশ করি।
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
8. إذا كان في الإسناد رَجُلٌ وضَّاعٌ، أو متروك؛ فإني أوجز في تراجم رجاله، استغناء بأقوى علل الإسناد عن التطويل في تراجم بقية الإسناد.
9. إذا تكرر الراوي، فإني أذكرُ اسمَه، ونسبَه، باختصار، ثم أذكر ماترجح لي من حاله فقط، وأُحيلُ إلى مَوضِعِ ترجمتِه المفصَّلَةِ في الكتاب.
10. أُترجِمِ للصحابي غَيرِ المشهور، أو مَن يستدعي المقام الحديثَ عنه.
11. أعزو الآيات القرآنية إلى مواضعها في المصحف الشريف،
… وأشرح الألفاظ الغريبة، وأُعرِّف بالأعلام والأماكن والفِرق غير المشهورة.
* * *
৮. যদি সনদে কোনো মিথ্যা বর্ণনাকারী (ওয়াযযা‘) অথবা পরিত্যক্ত (মাতরূক) রাবি থাকে, তবে আমি উক্ত সনদের রাবিদের জীবনবৃত্তান্ত সংক্ষেপে বর্ণনা করি। সনদের সবচেয়ে শক্তিশালী ত্রুটিটি বর্ণনাই অবশিষ্ট সনদের রাবিদের জীবনবৃত্তান্ত দীর্ঘায়িত করার অমুখাপেক্ষী করে তোলে।
৯. যদি কোনো রাবির পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে আমি তার নাম ও বংশপরিচয় সংক্ষেপে উল্লেখ করি। অতঃপর তার অবস্থা সম্পর্কে আমার নিকট যা অগ্রগণ্য মনে হয় কেবল তা-ই বর্ণনা করি এবং কিতাবে যেখানে তার বিস্তারিত জীবনবৃত্তান্ত রয়েছে সেখানে তা নির্দেশ করি।
১০. আমি অখ্যাত সাহাবী অথবা যাদের বিষয়ে আলোচনা করা প্রসঙ্গক্রমে আবশ্যক হয়ে পড়ে তাদের জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনা করি।
১১. আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে পবিত্র মাসহাফে তাদের মূল স্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট করি,
… এবং জটিল শব্দাবলির ব্যাখ্যা প্রদান করি এবং অখ্যাত ব্যক্তি, স্থান ও দলসমূহের পরিচয় পেশ করি।
* * *
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
تنبيهات:1. نظراً لوجود منهجين في العمل: الحديث الموضوعي، والدراسة والتخريج، وأن منهج الباب الثالث أوسع من البابَيْن الأَوَّلَين في موضوع التخريج ودراسة الأسانيد؛ فقد بدأتُ العمل به، لذا ستجد بعضَ الإحالات في البابَين الأوَّلَين للباب الثالث: مسند فاطمة.
2. أوردتُ بعض أقاويل الرافضة في الحاشية، لأني رأيت بعضها في كتابات صنفين: المستشرقين، والمعاصرين من الأدباء وغيرهم.
3. إن مباحث سيرة فاطمة في هذا الكتاب، تدور على المرويات فقط، فإن لم يرد مسنداً، وليس له موضع في الدراسات الموضوعية للمباحث، مثل: هجرتها، وموقفها مع أبي لبابة، وأبي سفيان رضي الله عنهم، وعقبها، وغير ذلك، فإني وضعته في ترجمتها في التمهيد: المبحث الثاني.
4. لا يخفى أنَّ أحاديث الأصول، وهي المتون المرقَّمة ـ يُتَوسَّعُ في تخريجها ودراستها والكلام حول غريبها، بخلاف الأحاديث الواردة في الشواهد والدراسة الموضوعية، ومع ذلك أحاول في الأخيرين أنْ أُوفي التخريجَ وإن لم يكن كالأصول، فقد ترد أحاديث معلة في الشواهد والدراسة، فأعرض طرقها وتخريجها بوضوح وأُبرِز أقوال الأئمة، بما يكفي لمعرفة الراجح في الحكم على الحديث، وعملي هذا زيادة على الواجب المتَّبَع في
সতর্কতাসমূহ:১. কাজের ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি বিদ্যমান থাকার কারণে: বিষয়ভিত্তিক হাদিস এবং গবেষণা ও তাখরিজ (উৎস যাচাই); আর সনদের পর্যালোচনা ও তাখরিজের বিষয়ে প্রথম দুটি অধ্যায়ের তুলনায় তৃতীয় অধ্যায়ের কর্মপদ্ধতি অধিক বিস্তৃত হওয়ার কারণে আমি এই অধ্যায় দিয়েই কাজ শুরু করেছি। ফলে আপনি প্রথম দুটি অধ্যায়ে তৃতীয় অধ্যায়ের (মুসনাদে ফাতিমা) কিছু উদ্ধৃতি বা রেফারেন্স পাবেন।
২. আমি পাদটীকায় রাফেজিদের কিছু উক্তি উল্লেখ করেছি, কারণ আমি সেগুলোর কিছু অংশ দুই শ্রেণির লেখায় দেখেছি: প্রাচ্যবিদ এবং সমকালীন সাহিত্যিক ও অন্যদের লেখায়।
৩. এই গ্রন্থে ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর সীরাত সংক্রান্ত আলোচনাগুলো কেবলমাত্র বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয়েছে। সুতরাং যা মুসনাদ (সনদযুক্ত) হিসেবে বর্ণিত হয়নি এবং বিষয়ভিত্তিক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়—যেমন: তাঁর হিজরত, আবু লুবাবা ও আবু সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সাথে তাঁর অবস্থান, তাঁর বংশধর এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো—সেগুলো আমি ভূমিকার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তাঁর জীবনী অংশে উল্লেখ করেছি।
৪. এটি অস্পষ্ট নয় যে, উসুল বা মূল হাদিসসমূহ—যা নম্বরযুক্ত মতন (মূল পাঠ) হিসেবে রয়েছে—সেগুলোর তাখরিজ, পর্যালোচনা এবং তাতে বিদ্যমান বিরল শব্দসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ‘শাওয়াাহিদ’ (সাক্ষ্য ও সমর্থনমূলক বর্ণনা) এবং বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় উল্লিখিত হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। তা সত্ত্বেও, শেষোক্ত দুই ক্ষেত্রেও আমি যথাযথভাবে তাখরিজ করার চেষ্টা করেছি, যদিও তা মূল হাদিসগুলোর মতো বিস্তারিত নয়। শাওয়াাহিদ ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় কিছু ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল) হাদিস আসতে পারে, সেক্ষেত্রে আমি সেগুলোর সূত্র ও তাখরিজ স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং ইমামগণের বক্তব্যসমূহও ফুটিয়ে তুলেছি, যা হাদিসের হুকুম বা মান নির্ণয়ে সঠিক মতটি জানার জন্য যথেষ্ট। আমার এই কাজ প্রচলিত নিয়মের অতিরিক্ত একটি...
(খণ্ড: ١)
ফাতিমা বিনতিন নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - সিরাতুহা, ফাযাইলুহা, মুসনাদুহা - রাযিয়াল্লাহু আনহা
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
الشواهد، وهو: ذكر بعض مَن أخرج الحديث، وحكم بعض الأئمة، وإحالة إلى بعض كتب التخريج والعلل.
5. المنهج العلمي يتطلب دراسة الأسانيد من المدار، ولا يُدرس ما قبله إلا للحاجة كالحديث المُعَلّ، وكذلك: لا يُترجَم إلا لمن يُحتاج إلى ترجمة، والبقية يشار إليهم إشارة، ويكون التخريج على المدار لا على المتابعات التامة فالقاصرة من أول الإسناد إلى آخره
…أما المنهج الأكاديمي في إعداد الرسالة الجامعية فهو بخلاف ذلك.
وعند تقديم الرسالة الجامعية الأكاديمية ـ أي رسالة ـ للطباعة يتطلب تحويلها لتكون وفق المنهج العلمي المعمول به عند العلماء السابقين واللاحقين، وقد تركتُ ذلك عند تقديمي رسالتي هذه الدكتوراه للطباعة؛ لثلاثة أمور:
1. أنَّ تحويلها بحذف تراجم عدد من الرجال، واختصار بعضهم، وقَصْرِ العمل دراسةً وتخريجاً على المدار، يتطلب وقتاً طويلاً وجهداً إضافياً، مما يتأخر معه خروج كتابي هذا ــ خاصةً أنَّ لَدَيَّ إضافاتٍ كثيرة لم أدخلها أصلاً في الرسالة، وأرجأتها إلى إعدادها الطباعة ــ؛ ولديَّ خوفٌ من التأخير الذي أراه منتشراً، وأعتبره من تلبيس إبليس على بعض طلبة العلم في إرجاء طباعة ونشر الرسالة، لأجل التعديل والتحويل، ثم يُسوِّف ولا تخرج، وقد كتبتُ في هذا الموضوع مقالاً مطولاً بعنوان: «التسويف في نشر الرسالة
শাওয়াহিদ (সাক্ষ্যপ্রমাণ); আর তা হলো: হাদীসটি যারা বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের উল্লেখ, কোনো কোনো ইমামের হুকুম (সিদ্ধান্ত) এবং তাখরিজ ও ইলাল বিষয়ক কিছু কিতাবের উদ্ধৃতি দেওয়া।
৫. ইলমী মানহাজ বা জ্ঞানতাত্ত্বিক পদ্ধতির দাবি হলো মাদার (হাদীস বর্ণনার কেন্দ্রবিন্দু) থেকে সনদসমূহ অধ্যয়ন করা। মাদারের পূর্বের অংশ কেবল প্রয়োজনে অধ্যয়ন করা হবে, যেমন মুয়াল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) হাদীসের ক্ষেত্রে। তদ্রূপ: কেবল যাদের জীবনী প্রয়োজন তাদের জীবনীই উল্লেখ করা হবে, আর বাকিদের ব্যাপারে কেবল ইঙ্গিত দেওয়া হবে। আর তাখরিজ হবে মাদারের ওপর ভিত্তি করে, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ বা অসম্পূর্ণ মুতাবায়াত (পারস্পরিক সমর্থনমূলক বর্ণনা)-এর ওপর ভিত্তি করে নয়
…পক্ষান্তরে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের থিসিস প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একাডেমিক মানহাজ বা পদ্ধতি এর বিপরীত।
আর যখন কোনো একাডেমিক থিসিস—যে কোনো থিসিসই হোক—মুদ্রণের জন্য পেশ করা হয়, তখন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণের অনুসৃত ইলমী মানহাজ অনুযায়ী তা রূপান্তর করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু আমি আমার এই পিএইচডি থিসিসটি মুদ্রণের জন্য পেশ করার সময় তিনটি কারণে তা পরিহার করেছি:
১. বেশ কিছু রাবীর জীবনী বাদ দিয়ে, কারো কারো জীবনী সংক্ষিপ্ত করে এবং গবেষণা ও তাখরিজের কাজকে কেবল মাদারের ওপর সীমাবদ্ধ রেখে একে রূপান্তর করা দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত পরিশ্রমের দাবি রাখে, যার ফলে আমার এই কিতাবটি প্রকাশ হতে বিলম্ব ঘটবে—বিশেষত আমার কাছে অনেক সংযোজনী রয়েছে যা আমি থিসিসে আদৌ অন্তর্ভুক্ত করিনি এবং তা মুদ্রণের সময় যুক্ত করার জন্য স্থগিত রেখেছিলাম—। তাছাড়া আমার মধ্যে সেই বিলম্বের ভয় কাজ করছে যা আমি ব্যাপকভাবে দেখতে পাচ্ছি এবং একে আমি কোনো কোনো ইলম অন্বেষীর ওপর ইবলিসের ধোকা (তালবিসে ইবলিস) বলে মনে করি, যারা সংশোধন ও রূপান্তরের অজুহাতে থিসিস মুদ্রণ ও প্রকাশ করতে বিলম্ব করে, তারপর গড়িমসি করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তা আর প্রকাশিত হয় না। আমি এই বিষয়ে একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছি যার শিরোনাম: «থিসিস প্রকাশে গড়িমসি»।