(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
مع صاحب الفضيلة والدنا الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله   (عطية سالم)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: مع صاحب الفضيلة والدنا الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله

المؤلف: عطية بن محمد سالم (ت 1420هـ)

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة السادسة - العدد الثالث - رجب 1394هـ - فبراير 1974م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 56

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মহামান্য আমাদের পিতা শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে   (আতিয়াহ সালিম)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস


বই: মহামান্য আমাদের পিতা শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে

লেখক: আতিয়াহ বিন মুহাম্মদ সালিম (মৃত্যু ১৪২০ হি.)

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ষষ্ঠ বর্ষ - তৃতীয় সংখ্যা - রজব ১৩৯৪ হি. - ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ খ্রি.

[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৫৬

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌مدْخل

…

مَعَ صَاحب الْفَضِيلَة والدنا الشَّيْخ مُحَمَّد الْأمين الشنقيطي رحمه الله

بقلم: الشَّيْخ عطيه مُحَمَّد سَالم القَاضِي بالمحكمة الشَّرْعِيَّة بِالْمَدِينَةِ

الْحَمد لله الْمُسْتَحق لصفات الْجلَال وَكَمَال الْأَسْمَاء، المتفرد بالدوام وبالبقاء. خلق الْخلق من عدم وَقضى عَلَيْهِم بِالْمَوْتِ والفناء. وَجعل الدُّنْيَا مزرعة الْآخِرَة، حصادها الثَّوَاب وَالْجَزَاء. وَاخْتَارَ من عباده رسلًا يبلغون عَنهُ فهم بَينه وَبَين خلقه وسطاء. وَاصْطفى خاتمهم مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَهُوَ صفوة الأصفياء، بَعثه رَحْمَة للْعَالمين فجَاء بالحنيفية السمحاء. أطل فجرها بِمَكَّة من قمة حراء.

وأشرقت شمس نَهَارهَا بِطيبَة الفيحاء. ظلت مهَاجر صَحبه فِي ألفة ووفاء فَتحمل الصحب الْكِرَام تراثه. مَا ورثوه مِنْهُ هِدَايَة وضياء. وورثوه من بعدهمْ تَوْرِيث الْآبَاء للأبناء. وغدت الْمَدِينَة مشرقة أنوارها يشع مِنْهَا للْعَالم نور وسناء. وتوالت الأجيال تلو أجيال إنتاجها للْعَالم صفوة الْعلمَاء، مِمَّن قَامُوا لله حَقًا وَأَخْلصُوا لله صدقا ونشروا الْعلم فِي عفة وإباء. نَهِلُوا من المنهل الصافي من منبعه قبل أَن يخالطه الترب أَو تكدره الدلاء. فِي مهبط الْوَحْي محط رحالهم. وَفِي الرَّوْضَة غدوهم ورواحهم فِي غِبْطَة وهناء.

درسوا كتاب الله حكما وَحِكْمَة حَتَّى غَدَتْ آيَاته لمرضى الصُّدُور شِفَاء، وتكشفت حجب الْمعَانِي فانجلت من تحتهَا أشمس وضياء.

وترسموا سنَن النَّبِي مُحَمَّد، وكذاك سنة الْخُلَفَاء، وَكَذَا الصَّحَابَة والتابعون
ভূমিকা

…

সম্মানিত শায়খ, আমাদের পিতা মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শিনকীতি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর সান্নিধ্যে

লেখনীতে: শায়খ আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিম, মদিনার শরিয়া আদালতের বিচারক

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহত্ত্বের গুণাবলি ও নামসমূহের পূর্ণতার যোগ্য, যিনি চিরন্তন ও অবিনশ্বরতায় অদ্বিতীয়। তিনি সৃষ্টিজগতকে অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের মৃত্যু ও বিলুপ্তির ফয়সালা করেছেন। তিনি দুনিয়াকে আখেরাতের শস্যক্ষেত্র বানিয়েছেন, যার ফসল হলো সওয়াব ও প্রতিদান। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে এমন রসূলদের মনোনীত করেছেন যারা তাঁর পক্ষ থেকে দ্বীন পৌঁছে দেন, ফলে তাঁরা তাঁর ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে মধ্যস্থতাকারী। তিনি তাঁদের সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নির্বাচিত করেছেন, যিনি মনোনীতদের মাঝে সর্বোত্তম। তিনি তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন, ফলে তিনি একনিষ্ঠ ও উদার দ্বীন নিয়ে আগমন করেছেন। মক্কায় হেরা পর্বতের চূড়া থেকে তার প্রভাত উদিত হয়েছিল।

এবং সুপ্রশস্ত তাইবার (মদিনার) বুকে তার দিনের সূর্য উদ্ভাসিত হয়েছে। তাঁর সাহাবীদের হিজরতস্থল হৃদ্যতা ও আনুগত্যে অটল ছিল, ফলে সম্মানিত সাহাবীগণ তাঁর ঐতিহ্য বহন করেছেন। তাঁরা তাঁর নিকট থেকে যা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছেন তা হলো হেদায়েত ও নূর। আর তাঁরা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা হস্তান্তর করেছেন যেভাবে পিতারা সন্তানদের নিকট উত্তরাধিকার প্রদান করেন। মদিনা তার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে, যা থেকে বিশ্বময় নূর ও জ্যোতি বিচ্ছুরিত হয়। এরপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে যারা বিশ্বকে উপহার দিয়েছে একদল শ্রেষ্ঠ আলেম, যাঁরা আল্লাহর জন্য যথাযথভাবে দণ্ডায়মান হয়েছেন, একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য কাজ করেছেন এবং আত্মমর্যাদা ও চারিত্রিক পবিত্রতার সাথে ইলম প্রচার করেছেন। তাঁরা নির্মল ঝরনাধারা থেকে তার উৎসস্থলেই পান করেছেন, তাতে মাটি মিশ্রিত হওয়ার বা বালতি দ্বারা তা ঘোলাটে হওয়ার পূর্বেই। ওহী অবতরণের স্থলেই ছিল তাঁদের গন্তব্য। আর রওজায় ছিল তাঁদের সকাল-সন্ধ্যার যাতায়াত, অত্যন্ত আনন্দ ও সুখে।

তাঁরা আল্লাহর কিতাবকে বিধান ও প্রজ্ঞা হিসেবে অধ্যয়ন করেছেন, ফলে তার আয়াতসমূহ অন্তরের ব্যাধিগ্রস্তদের জন্য আরোগ্য হয়ে উঠেছে, এবং অর্থের পর্দাগুলো উন্মোচিত হয়ে তার তলদেশ থেকে সূর্য ও আলোর দ্যুতি প্রকাশিত হয়েছে।

তাঁরা নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহসমূহ এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করেছেন, তদ্রূপ সাহাবী ও তাবেয়ীগণ অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
فَإِنَّهُم لَهُم بهم أُسْوَة واقتداء. فهم النُّجُوم فِي ليل السرى، وهم الهداة لطَالب الْهدى وأدلاء، وهم الْأَئِمَّة قدوة الْأمة وعَلى الدّين أُمَنَاء.

وَنحن بِالْمَدِينَةِ وَفِي هَذَا الْجوَار الْكَرِيم أَشد إحساساً بمكانة الْعلم ومنزلة الْعلمَاء، وأسرع فَرحا بهم وَأَشد حزنا على مَوْتهمْ وألماً لفراقهم، إِن فِي موت الْعلمَاء لغربة للغرباء.

وَلَا شكّ أَن هَذِه الآلام تزداد وَهَذَا الْحزن يشْتَد أَكثر وَأكْثر حينما نَكُون قد عرفنَا هَذَا الْعَالم أَو عاصرناه ولمسنا فَضله واستفدنا علمه.

وَهَذَا الْقدر كلنا فِيهِ سَوَاء نَحْو عُلَمَاء الْمُسلمين عَامَّة وَشَيخنَا الْأمين خَاصَّة.

وَإِنِّي كَأحد أبنائه وَمن جملَة تلاميذه أَقف الْيَوْم معزيا متعزياً. ومترجماً مترحماً وَقد عظم الْمُصَاب وَعز فِيهِ العزاء.

وَلَو اسْتحق أحد التَّعْزِيَة لشخصه لاستحقها ثَلَاثَة أشخاص: الشَّيْخ عبد الْعَزِيز بن باز لزمالته 21 سنة وَمَاله عِنْده من منزلَة، وَالشَّيْخ عبد الْعَزِيز بن صَالح أول من عرفه وتسبب فِي جُلُوسه، وَصَاحب السمو الملكي الْأَمِير عبد الله بن عبد الرَّحْمَن لمحبته وَتَقْدِيره.

نعم أَقف معزيا متعزياً مترجماً مترحماً كَمَا قَالَ القَاضِي عِيَاض عَن بعض مشايخه "مَا لكم تأخذون الْعلم عَنَّا وتستفيدون منا، ثمَّ تذكروننا فَلَا تترحمون علينا"، إِنَّه ربط أصيل بَين الْعلم والعالم وتنبيه أكيد على أَن الِاعْتِرَاف بِفضل الْعَالم شكر وَتَقْدِير لنَفس الْعلم. رحم الله شَيخنَا رَحْمَة وَاسِعَة ورحم الله عُلَمَاء الْمُسلمين فِي كل زمَان وَمَكَان.

وَقد قَامَ الْخلف بِحَق السّلف فِي حفظ تاريخهم بالترجمة لَهُم خدمَة لتراثهم وإحياء لذكرهم وَمَا أثر عَن السخاوي أَنه قَالَ: "من ورخ مُؤمنا فَكَأَنَّمَا أَحْيَاهُ". أَي من ترْجم لَهُ وأرخه وَهَا هم عُلَمَاء الْأمة يعايشون كل جيل بسيرتهم وتاريخهم فِي أُمَّهَات الْكتب.
কারণ তারা তাদের জন্য অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয় আদর্শ। তারা অন্ধকার রাতের যাত্রায় নক্ষত্রতুল্য, হিদায়েত অন্বেষণকারীর জন্য তারা পথপ্রদর্শক ও দিশারি এবং তারা হলেন ইমাম, উম্মতের আদর্শ এবং দ্বীনের বিশ্বস্ত আমানতদার।

আমরা মদীনায় এবং এই সম্মানিত সান্নিধ্যে থেকে ইলমের মর্যাদা ও আলেমদের উচ্চস্থান সম্পর্কে অধিকতর সচেতন, তাদের উপস্থিতিতে আমরা দ্রুত আনন্দিত হই এবং তাদের মৃত্যুতে আমরা চরম শোকাহত ও বিচ্ছেদে ব্যথিত হই। নিঃসন্দেহে আলেমদের মৃত্যু প্রবাসীদের জন্য এক ধরনের একাকিত্ব ও নিঃসঙ্গতা।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বেদনা ও শোক আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায় যখন আমরা সেই আলেমকে চিনি অথবা তার সমসাময়িক হই এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করি ও তার ইলম থেকে উপকৃত হই।

আর এই অনুভূতির ক্ষেত্রে আমরা সবাই সমান; সাধারণ মুসলিম আলেমদের ক্ষেত্রে এবং বিশেষভাবে আমাদের শায়খ আল-আমীনের ক্ষেত্রে।

তার অন্যতম সন্তান এবং তার ছাত্রদের একজন হিসেবে আজ আমি শোক প্রকাশকারী ও শোকাতুর অবস্থায় দাঁড়িয়েছি। আমি তার জীবনী রচয়িতা ও তার জন্য রহমত কামনাকারী; এই বিপদ অত্যন্ত গুরুতর এবং এতে সান্ত্বনা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

যদি ব্যক্তিগতভাবে কেউ শোকবার্তার দাবিদার হতেন, তবে তিনজন ব্যক্তি এর সর্বাধিক হকদার হতেন: শায়খ আব্দুল আজীজ বিন বায—তার একুশ বছরের সহকর্মী হওয়ার কারণে এবং শায়খের নিকট তার বিশেষ মর্যাদার জন্য; শায়খ আব্দুল আজীজ বিন সালেহ—যিনি তাকে প্রথম চিনেছিলেন এবং তার শিক্ষকতায় নিযুক্ত হওয়ার কারণ হয়েছিলেন; এবং মহামান্য রাজপুত্র আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান—তার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের কারণে।

হ্যাঁ, আমি শোকাতুর অবস্থায় তার জীবনী ও রহমত কামনার জন্য দাঁড়িয়েছি, যেমনটি কাজী আয়াজ তার কোনো এক উস্তাদ সম্পর্কে বলেছিলেন, "তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আমাদের থেকে ইলম গ্রহণ করো এবং আমাদের থেকে উপকৃত হও, কিন্তু যখন আমাদের কথা স্মরণ করো তখন আমাদের জন্য রহমতের দোয়া করো না!" এটি ইলম ও আলেমের মাঝে এক সুদৃঢ় বন্ধন এবং একটি জোরালো সতর্কবার্তা যে, আলেমের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করা মূলত ইলমেরই কৃতজ্ঞতা ও মূল্যায়ন। আল্লাহ আমাদের শায়খকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং সর্বকালের ও সর্বস্থানের মুসলিম আলেমদের ওপর রহম বর্ষণ করুন।

পরবর্তী প্রজন্ম তাদের উত্তরসূরিদের ইতিহাস সংরক্ষণ ও তাদের জীবনী রচনার মাধ্যমে পূর্বসূরিদের হক আদায় করেছেন, যা তাদের ঐতিহ্যের সেবা এবং তাদের স্মৃতিকে পুনর্জীবিত করার নামান্তর। আল-সাখাভী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করল, সে যেন তাকে জীবিত করল।" অর্থাৎ যে ব্যক্তি তার জীবনী ও ইতিহাস লিখল। আর এভাবেই উম্মতের আলেমগণ তাদের সীরাত ও ইতিহাসের মাধ্যমে মূল গ্রন্থসমূহে প্রতিটি প্রজন্মের সাথে বেঁচে আছেন।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وَإِنِّي لاعتقد حَقًا أَن تراجم الرِّجَال مدارس الأجيال أَي فِي علومهم ومعالم حياتهم.

وَإِن مثل شَيخنَا الْأمين رَحْمَة الله لحقيق بتخليده بترجمته والاستفادة من مَنْهَج حَيَاته فِي تعلمه وتعليمه.

وَإِنِّي لأستعين الله فِيمَا أقدم وأستلهمه فِيمَا أَقُول:
এবং আমি বাস্তবিকই বিশ্বাস করি যে, বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী হলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পাঠশালা; অর্থাৎ তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং জীবনের দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে।

আর আমাদের শায়খ আল-আমিন (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতো ব্যক্তিত্ব তো তাঁর জীবনীর মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে থাকার এবং তাঁর শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের জীবনপদ্ধতি থেকে উপকৃত হওয়ার যোগ্যতম ব্যক্তি।

আর আমি যা উপস্থাপন করছি সে বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং যা বলছি তাতে তাঁরই নিকট থেকে সঠিক পথের অনুপ্রেরণা কামনা করছি:
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌إِلَى رَحْمَة الله وَحسن جواره

فقيد الْعلم يَا علم الرِّجَال، نعاك الْعلم فِي حلق السُّؤَال. نعم فقيد الدَّرْس يَا علم الرِّجَال، نعاك الدَّرْس فِي فصل الْمقَال.

انْتقل إِلَى رَحْمَة الله وَحسن جواره صَاحب الْفَضِيلَة وَعلم الْأَعْلَام الشَّيْخ الْجَلِيل وَالْإِمَام الْهمام زكي النَّفس رفيع الْمقَام كريم السجايا ذُو الْخلق الرزين، عف الْمقَال حميد الْخِصَال، التقي الْأمين والدنا الشَّيْخ مُحَمَّد الْأمين الشنقيطي. توفّي ضحى يَوْم الْخَمِيس 17 - 12 - 93هـ وَكَانَت وَفَاته بِمَكَّة المكرمة مرجعه من الْحَج وَدفن بمقبرة المعلاة وَصلى الله عَلَيْهِ سماحة رَئِيس الجامعة الإسلامية فَضِيلَة الشَّيْخ عبد الْعَزِيز بن عبد الله بن باز فِي الْحرم الْمَكِّيّ مَعَ من حضر من الْمُسلمين بعد صَلَاة الظّهْر من ذَلِك الْيَوْم.

وَفِي لَيْلَة الْأَحَد 20 - 12 أُقِيمَت عَلَيْهِ صَلَاة الْغَائِب بِالْمَسْجِدِ النَّبَوِيّ وَصلى عَلَيْهِ صَاحب الْفَضِيلَة الشَّيْخ عبد الْعَزِيز بن صَالح آل صَالح إِمَام وخطيب الْمَسْجِد النَّبَوِيّ وَرَئِيس الدَّوَائِر الشَّرْعِيَّة بِالْمَدِينَةِ ومحاكم منْطقَة الْمَدِينَة بعد صَلَاة الْعشَاء مُبَاشرَة وَصلى عَلَيْهِ من حضر من الْحجَّاج مَا لَا يُحصى عددا. وَمن غَرِيب الصدف وَحسن التفاؤل أَن يقْرَأ الإِمَام فِي صَلَاة الْعشَاء قَوْله تَعَالَى {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلاً خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلاً} إِلَى آخر السُّورَة، وَفِي الرَّكْعَة الثَّانِيَة {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدّاً} .
আল্লাহর রহমত ও তাঁর উত্তম সান্নিধ্যে

ইলমের বিরহে শোকাতুর রত্ন, হে শ্রেষ্ঠ পুরুষদের নিশান, জিজ্ঞাসার মজলিসগুলোতে ইলম আজ আপনার মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করছে। হ্যাঁ, পাঠদানের বিয়োগব্যথায় শোকাতুর হে শ্রেষ্ঠ পুরুষদের নিশান, চূড়ান্ত মীমাংসার অধ্যায়ে পাঠদান আজ আপনার শোকগাথা গাইছে।

আল্লাহর রহমত ও তাঁর উত্তম সান্নিধ্যে পাড়ি জমিয়েছেন মহৎ ব্যক্তিত্ব, বরেণ্যদের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন, সুমহান শায়খ ও প্রভাবশালী ইমাম, পবিত্র আত্মার অধিকারী, সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, উদার স্বভাব ও গাম্ভীর্যপূর্ণ চরিত্রের অধিকারী, পরিশীলিত ভাষী ও প্রশংসিত গুণাবলির আধার, পরম খোদাভীরু ও আমানতদার—আমাদের পিতা শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতী। তিনি ১৩৯৩ হিজরির ১২ই জিলহজ বৃহস্পতিবার চাশতের সময় ইন্তেকাল করেন। হজ সম্পাদন করে ফেরার পথে মক্কাতুল মোকাররমায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁকে মুআল্লা কবরস্থানে দাফন করা হয়। মক্কার হারাম শরিফে সেদিন জোহরের নামাজের পর উপস্থিত মুসলমানদের নিয়ে তাঁর জানাজা পড়ান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামান্য প্রধান শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজ।

২০শে জিলহজ রবিবার রাতে মসজিদে নববীতে তাঁর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এশার নামাজের পরপরই জানাজা পড়ান মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব এবং মদিনার শরয়ি বিভাগ ও মদিনা অঞ্চলের আদালতসমূহের প্রধান শায়খ আবদুল আজিজ বিন সালেহ আল সালেহ। অগণিত হাজি ও মুসল্লি তাঁর জানাজায় শরিক হন। এক চমৎকার কাকতালীয় ঘটনা ও শুভ লক্ষণ হলো যে, ইমাম সাহেব এশার নামাজে মহান আল্লাহর এই বাণী তেলাওয়াত করেন: "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে তারা অন্য কোথাও স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না" - সূরার শেষ পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় রাকাতে তেলাওয়াত করেন: "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, পরম দয়াময় আল্লাহ শীঘ্রই তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন।"
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَقد سَأَلت فضيلته عَن هَذِه الْقِرَاءَة أهوَ قَاصد لهَذِهِ الْآيَات ومختار لَهَا أم جَاءَت عفوا، فَقَالَ حفظه الله بل عفوا فَمَا الملاحظة عَلَيْهَا؟ قلت إِنَّهَا من أغرب الصدف لِأَنَّك صليت على الشَّيْخ الْأمين رحمه الله بعْدهَا فَظَنَنْت أَنَّك قصدت إِلَيْهَا، وَلكنه من المناسبات الْحَسَنَة تغمد الله الفقيد برحمته وَأَسْكَنَهُ فسيح جنته إِنَّه جواد كريم رؤوف رَحِيم، كَمَا صلي عَلَيْهِ بالجامعة الإسلامية وَفِي مَسَاجِد الدوادمي.

مَاتَ رَحمَه الله تَعَالَى بعد أَن أَحْيَا علوماً درست، وَخلف تراثاً بَاقِيا، وربى أَفْوَاجًا متلاحقة تعد بالآلاف من خريجي كليات ومعاهد الإدارة الْعَامَّة بالرياض والجامعة الإسلامية بِالْمَدِينَةِ المنورة.

مَا مَاتَ إِلَّا بعد أَن أصبح لَهُ فِي كل دَائِرَة من دوائر الْحُكُومَة فِي أنحاء الْبِلَاد ابْنا من أبنائه، وَفِي كل قطر إسلامي بعثة من البعثات الإسلامية لمنح الجامعة الإسلامية التعليمية بِالْمَدِينَةِ المنورة.

مَا مَاتَ إِلَّا بعد أَن ترك فِي كل مكتبة وَفِي كل منزل (أضواء الْبَيَان) تبدد الظلام وتهدي السَّبِيل.

فَلَا يبعد وَلَا يغالي من يَقُول مَا مَاتَ من خلف هَذَا التراث وَأدّى تِلْكَ الرسَالَة فِي حَيَاته يبْقى أثرا خَالِدا لَهُ على مر الأجيال والقرون.

لقد أدّى رِسَالَة عظمى وانتقل إِلَى الرفيق الْأَعْلَى، ليحصد مَا زرع ويجني ثمار مَا غرس وينعم بِمَا قدم رحمه الله رَحْمَة وَاسِعَة.

لقد عَاشَ رحمه الله فِي هَذِه الْبِلَاد مُنْذُ سِنِين حِين قدم لأَدَاء فَرِيضَة الْحَج ثمَّ اعتزم الْمقَام وَعمل فِي كبريات معاهد الْعلم وجامعاته وَألف وحاضر وَلم تُكتب عَنهُ كلمة وَلم يكن يرضى بِالْكِتَابَةِ عَنهُ. لقد كَانَت أَعماله تترجم عَنهُ ومؤلفاته تعرف بِهِ حَتَّى عرفه الصَّغِير وَالْكَبِير والقاصي والداني والعالم والعامي، فَلم تكن وَفَاته رزءاً على فَرد أَو أسرة أَو جمَاعَة أَو قطر وَلَكِن على الْعَالم الإسلامي كُله.
আমি তাঁর মহোদয়কে এই তিলাওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, তিনি কি এই আয়াতগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে বেছে নিয়েছিলেন নাকি এমনিতেই এসেছিল? তিনি (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) বললেন, বরং এমনিতেই এসেছিল; এই বিষয়ে কী মন্তব্য আছে? আমি বললাম, এটি এক অদ্ভুত কাকতালীয় বিষয়, কারণ এরপরই আপনি শেখ আল-আমীন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর জানাজা পড়িয়েছেন, তাই আমি ভেবেছিলাম আপনি সম্ভবত এটি উদ্দেশ্য করেই তিলাওয়াত করেছেন। তবে এটি একটি উত্তম মিল। আল্লাহ মৃত ব্যক্তিকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন এবং তাঁকে প্রশস্ত জান্নাতে স্থান দিন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা, অতি দয়ালু ও পরম করুণাময়। তাঁর ওপর মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং দাওয়াদমীর মসজিদসমূহেও জানাজার সালাত আদায় করা হয়েছিল।

তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) এমন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন যখন তিনি বিলুপ্ত হতে বসা জ্ঞানসমূহ পুনরুজ্জীবিত করেছেন, এক চিরস্থায়ী ঐতিহ্য রেখে গেছেন এবং রিয়াদ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইনস্টিটিউট ও মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার গ্র্যাজুয়েটের ধারাবাহিক কাফেলা গড়ে তুলেছেন।

তিনি কেবল তখনই ইন্তেকাল করেছেন যখন দেশের প্রতিটি সরকারি দপ্তরে তাঁর কোনো না কোনো ছাত্র (সন্তানতুল্য) রয়েছে এবং মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বৃত্তির মাধ্যমে প্রতিটি মুসলিম ভূখণ্ডে এক একটি ইসলামী প্রতিনিধি দল তৈরি হয়েছে।

তিনি কেবল তখনই ইন্তেকাল করেছেন যখন তিনি প্রতিটি লাইব্রেরি এবং প্রতিটি ঘরে 'আদওয়াউল বায়ান' রেখে গেছেন, যা অন্ধকার দূর করে এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করে।

সুতরাং যারা বলেন যে, যিনি এই ঐতিহ্য রেখে গেছেন এবং স্বীয় জীবনে সেই সুমহান দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি আসলে মারা যাননি, বরং যুগ ও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাঁর এই চিরস্থায়ী প্রভাব অক্ষয় থাকবে—তাদের এই কথাটি অযৌক্তিক বা অতিরঞ্জিত নয়।

নিশ্চয়ই তিনি এক মহান দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে চলে গেছেন, যাতে তিনি যা বপন করেছেন তা সংগ্রহ করতে পারেন, যা রোপণ করেছেন তার ফল ভোগ করতে পারেন এবং যা অগ্রিম পেশ করেছেন তার নেয়ামত লাভ করতে পারেন; আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) হজ পালনের উদ্দেশ্যে এসে অনেক বছর ধরে এই দেশে বসবাস করেছেন, এরপর এখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন এবং বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কাজ করেছেন। তিনি রচনা করেছেন ও বক্তব্য দিয়েছেন, অথচ তাঁর সম্পর্কে একটি শব্দও কোথাও লেখা হয়নি এবং তিনি নিজের সম্পর্কে কিছু লেখা হোক তাও পছন্দ করতেন না। তাঁর কর্মসমূহ এবং তাঁর গ্রন্থগুলোই ছিল তাঁর সার্থক পরিচয়, যার ফলে ছোট-বড়, দূর-নিকট, আলেম ও সাধারণ মানুষ—সবাই তাঁকে চিনেছিল। তাই তাঁর মৃত্যু কেবল কোনো ব্যক্তি, পরিবার, গোষ্ঠী বা ভূখণ্ডের জন্য শোকের কারণ ছিল না, বরং তা ছিল সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য এক শোকাবহ ও বেদনাদায়ক বিষয়।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَمَا كتبت عَنهُ سوى كلمة موجزة استقيتها مِنْهُ رحمه الله عِنْد طبع أول محاضرة لَهُ بالجامعة الإسلامية فِي آيَات الصِّفَات وطبعت فِي مقدمتها.

وَمَات رحمه الله وَلم تكْتب عَنهُ أَيْضا إِلَّا تَعْرِيف موجز بالنشأة والمولد وَمَا إِلَى ذَلِك.

والآن وَقد تحتمت الْكِتَابَة عَنهُ لَا تعريفاً بِهِ فَهُوَ أعرف من أَن يُعرف فَهُوَ الْعلم الخفاق والطود الأشم وَالشَّمْس المشرقة فَلَيْسَتْ الْكِتَابَة للتعريف وَلَكِن لرسم خطاه وَبَيَان منهجه مِمَّا سَمِعت مِنْهُ رحمه الله ولمسته من حَياتِي مَعَه الْمدَّة الطَّوِيلَة، وَإِنِّي لأسجل هَذَا عَنهُ رحمه الله للقريب والبعيد لكل من عرفه عَالما وَلم يعرفهُ طَالبا، أَو عرفه هُنَا وَلم يعرفهُ هُنَاكَ فِي بِلَاده فَأَقُول أَولا: إِنِّي لَا أَسْتَطِيع إِيفَاء الْمقَام حَقه لعظم مقَامه رحمه الله وكبير مَنْزِلَته وَإِن كل كِتَابَة عَن أَي شخص تعْتَبر ذَات جانبين:

جَانب تَرْجَمَة لَهُ وَبَيَان لحقيقته وتعريف بشخصه ومنزلته، وجانب سيرته ومنهجه بِمَا يُمكن أَن يكون نهجاً يُسار عَلَيْهِ ومنهجاً يُقتدى بِهِ ومؤثر يُؤثر على غَيره مِمَّن أَرَادَ السّير فِي سَبيله والنسج على منواله والاستفادة من أَقْوَاله وأفعاله.

وَالْكِتَابَة عَن أَي شخص من هذَيْن الْجَانِبَيْنِ تعْتَبر بِمَثَابَة شخصيته فِي إبراز صورته وَبَيَان مكانته وفيهَا تقييمه فِي عَظمته أَو توسطه أَو غير ذَلِك، وَأي عَالم أَو طَالب علم فَإِن لَهُ شخصية مزدوجة فِي حَيَاته الْعَامَّة وسلوكه الْعَام، وحياته الْخَاصَّة فِي طلب الْعلم ومنهجه فِي تَحْصِيله ونشره وَالْكِتَابَة بِهَذَا الِاعْتِبَار تكون عَن التَّرْجَمَة الشخصية، والسيرة العلمية.

وَقد ملئت المكتبات الإسلامية بتراجم وسير الْأَعْلَام من الرِّجَال من عصر الصَّحَابَة رضي الله عنهم إِلَى عصور التدوين وامتدت إِلَى الْيَوْم حفظا للتراث الإسلامي وتسجيل للرعيل الأول، وَلم تكن الْكِتَابَة عَن أَي شخص وافية كَامِلَة إِلَّا بِتَعَدُّد الْكتاب عَنهُ، وتستخلص الْحَقِيقَة من مَجْمُوع مَا كُتب عَنهُ لِأَن كل كَاتب عَن أَي شخص لن يَخْلُو من أحد أُمُور ثَلَاثَة:
আমি তাঁর সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু কথা ছাড়া আর কিছুই লিখিনি, যা আমি তাঁর (আল্লাহ তাঁকে দয়া করুন) কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলাম যখন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিফাতের আয়াতসমূহের ওপর তাঁর প্রথম বক্তৃতা মুদ্রিত হয়েছিল এবং তা সেটির ভূমিকায় ছাপা হয়েছিল।

তিনি (আল্লাহ তাঁকে দয়া করুন) ইন্তেকাল করেছেন এবং তাঁর সম্পর্কেও তাঁর বেড়ে ওঠা, জন্ম এবং এই জাতীয় বিষয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ছাড়া আর কিছু লেখা হয়নি।

আর এখন তাঁর সম্পর্কে লেখা অবধারিত হয়ে পড়েছে, তাঁকে পরিচিত করার জন্য নয়; কারণ তিনি পরিচিত হওয়ার চেয়েও অনেক বেশি সুপরিচিত। তিনি উড্ডীয়মান পতাকা, সুউচ্চ পর্বত এবং প্রদীপ্ত সূর্য। সুতরাং এই লেখা পরিচয়ের জন্য নয়, বরং তাঁর পদচিহ্ন অঙ্কন করা এবং তাঁর মানহাজ (পদ্ধতি) বর্ণনা করার জন্য, যা আমি তাঁর (আল্লাহ তাঁকে দয়া করুন) কাছ থেকে শুনেছি এবং দীর্ঘকাল তাঁর সাথে আমার জীবনে উপলব্ধি করেছি। আর আমি তাঁর (আল্লাহ তাঁকে দয়া করুন) সম্পর্কে এটি কাছের ও দূরের সবার জন্য লিপিবদ্ধ করছি—যারা তাঁকে আলেম হিসেবে চিনেছেন কিন্তু ছাত্র হিসেবে চিনতেন না, অথবা যারা তাঁকে এখানে চিনেছেন কিন্তু সেখানে তাঁর দেশে চিনতেন না। তাই আমি প্রথমে বলি: তাঁর মর্যাদার বিশালতা এবং সুউচ্চ অবস্থানের কারণে আমি এই বিষয়ের যথাযথ হক আদায় করতে সক্ষম নই। আর যে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে যে কোনো লেখা দুটি দিক বহন করে বলে বিবেচিত হয়:

এক দিক হলো তাঁর জীবনী এবং তাঁর প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদার পরিচয়। আর অন্য দিকটি হলো তাঁর সীরাত (জীবনচরিত) ও মানহাজ (পদ্ধতি), যা এমন এক পথ হতে পারে যার ওপর চলা যায়, এমন এক পদ্ধতি যা অনুসরণ করা যায় এবং এমন এক প্রভাব যা অন্য ব্যক্তিদের প্রভাবিত করে যারা তাঁর পথে চলতে চায়, তাঁর অনুকরণ করতে চায় এবং তাঁর কথা ও কাজ থেকে উপকৃত হতে চায়।

এই দুই দিক থেকে যে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে লেখাকে তাঁর ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তোলা এবং তাঁর অবস্থান বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিত্বের স্থলাভিষিক্ত বিবেচনা করা হয়, এবং এর মধ্যে তাঁর মহত্ত্ব, মধ্যমপন্থা বা অন্য কিছুর মূল্যায়ন নিহিত থাকে। আর যে কোনো আলেম বা ইলম অন্বেষণকারীর তাঁর সাধারণ জীবন ও সাধারণ আচরণের ক্ষেত্রে এবং ইলম অন্বেষণে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও তা অর্জন ও প্রসারের পদ্ধতির ক্ষেত্রে এক দ্বৈত ব্যক্তিত্ব থাকে। এই বিবেচনায় লেখাটি হয় ব্যক্তিগত জীবনী এবং ইলমী সীরাত সম্পর্কে।

ইসলামি লাইব্রেরিগুলো সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) যুগ থেকে শুরু করে গ্রন্থ সংকলনের যুগ এবং আজ অবধি বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী ও সীরাত দ্বারা পরিপূর্ণ হয়েছে, যা ইসলামি ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য এবং প্রথম প্রজন্মের মহান ব্যক্তিদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে লেখাই পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হয় না যতক্ষণ না তাঁর সম্পর্কে একাধিক লেখক লিখছেন। আর তাঁর সম্পর্কে লিখিত সবকিছুর সমষ্টি থেকে সত্য উদ্ঘাটিত হয়, কারণ যে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে প্রত্যেক লেখক তিনটি বিষয়ের কোনো একটি থেকে মুক্ত নন:
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
1 - إِمَّا موَالٍ متأثر: فقد يَقع تَحت تَأْثِير العاطفة فَينْظر من زَاوِيَة وَاحِدَة، فَيُقَال فِيهِ "وَعين الرِّضَا عَن كل عيب كليلة".

2 - وَإِمَّا معاد منفعل: فَيَقَع تَحت طائلة الانفعال فَيصدق عَلَيْهِ تَتِمَّة الْبَيْت السَّابِق "كَمَا أَن عين السخط تبدي المساويا".

3 - وَإِمَّا بعيد معتدل: يرغب التقييم بميزان الِاعْتِدَال، وَمثل هَذَا قد يفوتهُ مَا لم يكن حَرِيصًا عَلَيْهِ بِدُونِ تَقْصِير.

وَمن هُنَا لم تكن كِتَابَة كَاتب عَن إِنْسَان مَا مُطَابقَة كل التطابق ومكتملة غَايَة الاكتمال.

وَقد يتحرج الأصدقاء مَخَافَة التُّهْمَة والتأثر بالألفة أَو يتَوَقَّف الْأَعْدَاء مكتفين بالإغضاء، أَو يتَرَدَّد الْآخرُونَ خشيَة التَّقْصِير، وَلِهَذَا فقد تذْهب الشخصية الفذة دون كِتَابَة عَنْهَا فيفتقده الْحَاضِرُونَ ويفقد سيرته القادمون، علما بِأَن سيرة الرِّجَال مدرسة الأجيال.

وفضيلة الْوَالِد الشَّيْخ مُحَمَّد الْأمين رحمه الله لَهُ شخصية متميزة وسيرة وَاضِحَة يعرفهَا كل من لقِيه أَو حضر مَجْلِسه أَو اسْتمع درسه أَو قَرَأَ كتبه أَو حَتَّى سمع عَنهُ، وَقد طبقت شهرته الْآفَاق.

وَإِن الْكِتَابَة عَن مثله رحمه الله لمن أشق مَا يكون لتَعَدد جَوَانِب الشخصية وانفساح مجالاته العلمية، وَالْحَال أَنه لَا مرجع لمن يكْتب عَنهُ إِلَّا الْخلطَة وَطول الْعشْرَة وتصيد الْأَخْبَار من ذويه الأخيار.

وَحَيْثُ أَن أَحَق النَّاس بِالْكِتَابَةِ عَنهُ هم تلاميذه وأبناؤه، وَإِنِّي وَإِن كنت قد أكرمني الله بِصُحْبَتِهِ وَطول ملازمته ليل نَهَار وَكَثْرَة مرافقته فِي الظعن والأسفار، دَاخل وخارج المملكة، وَسمعت مِنْهُ رحمه الله الشَّيْء الْكثير وَالْكثير جدا فَإِنِّي لأجدني تتجاذبني عوامل الْإِقْدَام والإحجام، فَإِذا استحضرت كل مَا سمعته مِنْهُ وتصورت كل مَا لمسته فِيهِ أجدني أَحَق النَّاس بِالْكِتَابَةِ عَنهُ.

وَإِذا تذكرت مكانته وتراءت لي مَنْزِلَته وأحسست تَأْثِيره على نَفسِي
১ - হয় সে একজন আবেগপ্রবণ অনুসারী: সে আবেগের বশবর্তী হয়ে কেবল একদিক থেকে লক্ষ্য করে, যার সম্পর্কে বলা হয় "সন্তুষ্টির চোখ সকল দোষত্রুটি দেখতে অক্ষম"।

২ - অথবা সে একজন উত্তেজিত শত্রু: সে উত্তেজনার শিকলবন্দী হয়ে পড়ে, ফলে তার ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত কবিতার চরণের বাকি অংশটি প্রযোজ্য হয় "তেমনিভাবে অসন্তুষ্টির চোখ কেবল মন্দ দিকগুলোই প্রকাশ করে"।

৩ - অথবা সে একজন ভারসাম্যপূর্ণ দূরবর্তী ব্যক্তি: যে ইনসাফের মানদণ্ডে মূল্যায়ন করতে চায়; এই ধরণের ব্যক্তি অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলতে পারে যদি না সে গুরুত্বের সাথে অন্বেষণে সচেষ্ট হয়।

আর এখান থেকেই বোঝা যায় যে, কোনো মানুষ সম্পর্কে কোনো লেখকের লেখা পুরোপুরি হুবহু এবং পরিপূর্ণভাবে ত্রুটিমুক্ত হয় না।

কখনো বন্ধুরা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ বা ঘনিষ্ঠতার প্রভাবে পড়ার ভয়ে জড়তাবোধ করে, অথবা শত্রুরা উপেক্ষা করে ক্ষান্ত থাকে, আবার অন্য কেউ কেউ যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারার ভয়ে দ্বিধাগ্রস্ত হয়। এই কারণে অনেক অনন্য ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কোনো কিছু লেখা ছাড়াই তারা চলে যান, ফলে বর্তমান প্রজন্ম তাদের হারায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের জীবনী থেকে বঞ্চিত হয়; যদিও মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী হলো প্রজন্মের জন্য একটি পাঠশালা।

শ্রদ্ধেয় পিতা শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং সুস্পষ্ট জীবনীর অধিকারী, যা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকারী, তাঁর মজলিসে উপস্থিত হওয়া ব্যক্তি, তাঁর দরস শ্রবণকারী, তাঁর কিতাব পাঠকারী অথবা এমনকি তাঁর সম্পর্কে শ্রবণকারী সকলেই জানেন। তাঁর খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল।

তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) মতো ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে লেখা অত্যন্ত কঠিন কাজ, কারণ তাঁর ব্যক্তিত্বের বহুমুখী দিক এবং তাঁর ইলমি অঙ্গনের ব্যাপকতা ছিল বিশাল। অথচ তাঁর সম্পর্কে যে লিখবে, তার জন্য দীর্ঘদিনের মেলামেশা, দীর্ঘ সাহচর্য এবং তাঁর সৎ স্বজনদের কাছ থেকে সংবাদ সংগ্রহ করা ছাড়া আর কোনো উৎস নেই।

যেহেতু তাঁর সম্পর্কে লেখার সবচেয়ে বেশি হকদার তাঁর ছাত্র এবং সন্তানরা, আর আল্লাহ আমাকে তাঁর সাহচর্য এবং দিন-রাত দীর্ঘ সময় তাঁর সাথে থাকার ও দেশে-বিদেশে সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য দান করেছেন এবং আমি তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) নিকট থেকে অনেক অনেক কিছু শুনেছি; তাই আমি নিজেকে অগ্রসর হওয়া ও পিছু হটার এক টানাপোড়েনের মাঝে খুঁজে পাচ্ছি। যখন আমি তাঁর থেকে শোনা বিষয়গুলো স্মরণ করি এবং তাঁর মধ্যে যা কিছু প্রত্যক্ষ করেছি তা কল্পনা করি, তখন আমি নিজেকেই তাঁর সম্পর্কে লেখার সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পাই।

আর যখন আমি তাঁর মর্যাদা স্মরণ করি, তাঁর সুউচ্চ অবস্থান আমার সামনে ভেসে ওঠে এবং আমার নিজের ওপর তাঁর প্রভাব অনুভব করি...
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
تلاشت من ذهني كل مَعَاني الْكِتَابَة أَمَام تِلْكَ الشخصية المثالية تراجعت بَعيدا عَن ميادين الْكِتَابَة عَنهُ.

وَلَكِن إِذا كَانَ كل كَاتب لَا يَسْتَطِيع تقييم كل شخصية تقييماً حَقِيقِيًّا يدل على الشَّخْص دلَالَة مطابقية وَفِي أسلوب الْمُسَاوَاة، لَا موجزاً وَلَا مطنباً، إِذا كَانَ هَذَا حَال كل كَاتب مَعَ كل شخص.

وَإِذا كَانَ تلميذ الشَّيْخ أَحَق بِالْكِتَابَةِ عَنهُ فَمَالِي لَا أدلي بدلوي بالدلاء وأعمل قلمي مَعَ الأقلام، وأبدي مَا عِنْدِي سَوَاء مَا سمعته مِنْهُ مُبَاشرَة أَو عَنهُ بِوَاسِطَة، أَو لمسته من جَوَانِب حَيَاته وَسيرَته.

دون انطلاق مَعَ العاطفة إِلَى حد الإطناب، وَدون إحجام مَعَ الوجل والتهيب والوجل إِلَى حد الإيجاز. إِنَّه لشيخي وأعز عَليّ من وَالِدي.

إِنَّه حَقًا وَالِدي حسا وَمعنى لقد عِشْت فِي كنفه سنوات مَعَه فِي بَيته وَقد يظلنا سقف وَاحِد فِي غرفَة وَاحِدَة أمداً طَويلا.

وَقد وجدت مِنْهُ رَحْمَة الله الْعِنَايَة وَالرِّعَايَة كَأحد أبنائه كأشد مَا يرْعَى الْوَالِد وَلَده، وَقد أجد مِنْهُ الإيثار على نَفسه فِي كثير من أحيانه مِمَّا يطول ذكره وَلَا يُنسى فَضله.

وأعز من الإيثار مَا منحني من الْعُلُوم والْآثَار، والتوجيه الأدبي وَالْفضل الخلقي والسمو النَّفْسِيّ فِي مجالسه وَأَحَادِيثه ودروسه من غير مَا حد وَبِدُون تقيد بِوَقْت إِذْ كَانَ رحمه الله كل مجالسه مجَالِس علم وكل أَحَادِيثه أَحَادِيث أدب وتوجيه، وَلم يكن يحْتَاج إِلَى تحضير لدرس وَلَا مُرَاجعَة لجواب على سُؤال.

وَلم يكن لي مَعَه رحمه الله من وَقت معِين مَعَ كَثْرَة الإخوان الدارسين عَلَيْهِ المقيمين مَعَه فِي بَيته إِلَّا وَقت وَاحِد هُوَ مَا بَين الْمغرب وَالْعشَاء لمُدَّة سنتَيْن دراسيتين وَنحن بالرياض، قَرَأت فِي خلالها تَفْسِير سُورَة الْبَقَرَة.

كَانَت تِلْكَ الدراسة عَلَيْهِ رحمه الله هِيَ رَأس مَالِي فِي جلّ تحصيلي وَعَلَيْهَا أساس دراستي الْحَقِيقِيَّة سَوَاء فِي المقررات أَو غَيرهَا، لِأَن فِيهَا جَمِيع أَبْوَاب
সেই আদর্শ ব্যক্তিত্বের সামনে আমার মন থেকে রচনার সমস্ত অর্থ বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং তাঁর সম্পর্কে লেখার ময়দান থেকে আমি অনেক দূরে সরে গিয়েছি।

কিন্তু যদি প্রত্যেক লেখকের পক্ষেই প্রতিটি ব্যক্তিত্বের এমন যথাযথ মূল্যায়ন করা সম্ভব না হয় যা সেই ব্যক্তিকে হুবহু চিত্রিত করে এবং যা সংক্ষিপ্তও নয় আবার অতিবিস্তৃতও নয় বরং ভারসাম্যপূর্ণ হয়; যদি প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রত্যেক লেখকের অবস্থা এমনই হয়ে থাকে...

আর যদি শাইখের ছাত্রই তাঁর সম্পর্কে লেখার অধিক হকদার হয়, তবে কেন আমি অন্যদের ন্যায় আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব না এবং অন্যান্য কলমের সাথে আমার কলমকেও সচল করব না? আর আমার কাছে যা রয়েছে তা প্রকাশ করব—চাই তা আমি সরাসরি তাঁর থেকে শুনে থাকি কিংবা অন্যের মাধ্যমে, অথবা তাঁর জীবন ও সীরাতের বিভিন্ন দিক থেকে যা আমি উপলব্ধি করেছি।

আবেগের বশবর্তী হয়ে অতিশয় দীর্ঘ না করে, আবার ভয় ও সংকোচের কারণে অতি সংক্ষিপ্তও না করে। তিনি নিশ্চয়ই আমার শাইখ এবং আমার পিতার চেয়েও অধিক প্রিয়।

তিনি প্রকৃতপক্ষেই ইন্দ্রিয়গত ও আত্মিক—উভয় দিক থেকেই আমার পিতা। আমি দীর্ঘ বছর তাঁর সান্নিধ্যে তাঁর বাড়িতে অতিবাহিত করেছি এবং দীর্ঘকাল আমরা একই ছাদের নিচে একই কামরায় অবস্থান করেছি।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, আমি তাঁর নিকট থেকে তাঁর নিজ সন্তানদের ন্যায় যত্ন ও তত্ত্বাবধান পেয়েছি, যেমন একজন পিতা তাঁর সন্তানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আগলে রাখেন। আমি অনেক ক্ষেত্রে তাঁর মধ্যে নিজের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেওয়ার গুণ প্রত্যক্ষ করেছি, যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে এবং তাঁর এই অনুগ্রহ বিস্মৃত হওয়ার নয়।

আর সেই আত্মত্যাগের চেয়েও অধিক মূল্যবান হলো তিনি তাঁর মজলিস, কথোপকথন ও পাঠদানের মাধ্যমে আমাকে যে ইলম, আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা), আদব সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা, চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং আত্মিক মহত্ত্ব দান করেছেন—যার কোনো সীমা ছিল না এবং যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সীমাবদ্ধ ছিল না। কেননা আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর প্রতিটি মজলিসই ছিল ইলমী মজলিস এবং তাঁর প্রতিটি কথাই ছিল আদব ও হেদায়েতপূর্ণ। পাঠদানের জন্য তাঁর কোনো পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন হতো না এবং কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য কিতাব দেখার প্রয়োজন পড়ত না।

তাঁর নিকট অধ্যয়নরত এবং তাঁর বাড়িতে অবস্থানরত অসংখ্য শিক্ষার্থী ভাইদের ভিড়ে তাঁর সাথে (রহিমাহুল্লাহ) আমার কোনো নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ ছিল না; কেবল একটি সময় ব্যতীত, আর তা হলো মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়। রিয়াদে থাকাকালীন দীর্ঘ দুই শিক্ষাবর্ষ ধরে আমি এই সময়ে তাঁর কাছে সূরা আল-বাকারার তাফসীর পাঠ করেছি।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর কাছে সেই পাঠ গ্রহণই ছিল আমার অর্জিত ইলমের মূল পুঁজি এবং এর ওপরই আমার প্রকৃত পড়াশোনার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে, চাই তা পাঠ্যক্রমভুক্ত বিষয় হোক বা অন্য কিছু; কারণ এতে সমস্ত অধ্যায়...
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الْفِقْه، وعَلى مباحثها تنطبق جلّ قَوَاعِد الْأُصُول، وَلَا يبعد من يَقُول إِن مَا بعْدهَا من السُّور يُعتبر تَفْسِيرا لَهَا أَو أَن من أتقن تَفْسِيرهَا سهل عَلَيْهِ تَفْسِير مَا بعْدهَا، وَقد كَانَت دراستها سَببا فِي تأليف كتابي دفع إِيهَام الِاضْطِرَاب، وأضواء الْبَيَان، وكل مِنْهُمَا إِثْر سُؤال وَجَوَاب.

مَعَ مَا درست من الْأُصُول ومبادئ فِي الْمنطق ودقائق فِي البلاغة وَغير ذَلِك.

لقد وجدت مِنْهُ رحمه الله مَا لم أَجِدهُ من غَيره على الْإِطْلَاق كَمَا وأظن أَن أحدا لم يجد مِنْهُ مَا وجدته أَنا مِنْهُ، فلئن شرفت بخدمته فَلَقَد حظيت بِصُحْبَتِهِ فجزاه الله عني أحسن الْجَزَاء.

وَإِن صَاحب مثل هَذِه العلاقة مَعَ مثل هَذِه الشخصية ليحس بثقل دُيُونه على كَاهِله ويلمس عظم الْمِنَّة تطوق عُنُقه، فَهَل أَسْتَطِيع تَوْفِيَة هَذَا الْجَانِب فَحسب فضلا عَن الجوانب الْعَامَّة الَّتِي هِيَ مَوْضُوع التَّرْجَمَة والسيرة، وَهل يَتَأَتَّى مني الإحجام عَن الْكِتَابَة وَأَنا مَدين بِمثل تِلْكَ الدُّيُون مكبل بِتِلْكَ المنن مِمَّا يَجْعَلنِي أَحَق بقول الْقَائِل:

كليني لَهُم يَا أُمَيْمَة ناصب … وليل أقاسيه بطيئ الْكَوَاكِب

تطاول حَتَّى قلت لَيْسَ بمنقص … وَلَيْسَ الَّذِي يرْعَى النُّجُوم بآيب

وَصدر أراح اللَّيْل عَازِب همه … تضَاعف فِيهِ الْحزن من كل جَانب

عَليّ لعمر نعْمَة بعد نعْمَة … لوالده لَيست بِذَات عقارب

وَلَئِن قيل:

وتجلدي للشامتين أريهمو … أَنِّي لريب الدَّهْر لَا أتضعضع

فَإِنِّي لأقول:

وتجلدي للسامعين أريهمو … شمس الْحَقِيقَة من سناه تطلع

وَإِنِّي مُلْزم بِالْكِتَابَةِ وَلَو تأثرت بالعاطفة فَإِنِّي مَعْذُور:

وَإِن قصرت عَن حَقه فَلَا عذر لي فِي التَّقْصِير.
ফিকহ, এবং এর আলোচ্য বিষয়সমূহের উপর উসুলের অধিকাংশ নিয়মাবলী প্রযোজ্য হয়। যারা বলেন যে, এর পরবর্তী সূরাসমূহকে এরই ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য করা হয়, অথবা যারা এর তাফসিরে পারদর্শী হন তাদের জন্য পরবর্তী সূরাগুলোর তাফসির সহজ হয়ে যায়, তাদের কথা অবাস্তব নয়। আর এটি অধ্যয়নই ছিল ‘দাফউ ইহামিল ইদতিরাব’ এবং ‘আদওয়াউল বায়ান’ গ্রন্থ দুটি রচনার কারণ; এবং এর প্রতিটিই ছিল সওয়াল-জওয়াব তথা প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক।

এর সাথে আমি উসুল, যুক্তিবিদ্যার মূলনীতি, অলঙ্কারশাস্ত্রের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়াদি এবং আরও অন্যান্য বিষয় অধ্যয়ন করেছি।

আমি তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) কাছ থেকে যা পেয়েছি, তা অন্য কারও কাছ থেকে একেবারেই পাইনি। আমার মনে হয়, আমি তাঁর থেকে যা লাভ করেছি তা অন্য কেউ লাভ করতে পারেনি। আমি যদি তাঁর খেদমত করার গৌরব অর্জন করে থাকি, তবে তাঁর সাহচর্য লাভের সৌভাগ্যও আমি পেয়েছি। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

এমন ব্যক্তিত্বের সাথে যার এই ধরণের সম্পর্ক থাকে, সে নিজ স্কন্ধে ঋণের বোঝা অনুভব করে এবং তার ঘাড়ে অনুগ্রহের এক বিশাল বেষ্টনী অনুভব করে। এমতাবস্থায়, জীবনী ও জীবনচরিতের বিষয়বস্তু হিসেবে যেসব সাধারণ দিক রয়েছে সেগুলো তো পরের কথা, আমি কি কেবল এই ব্যক্তিগত দিকটিই পুরোপুরি আদায় করতে সক্ষম হবো? আর আমার পক্ষে কি লেখালেখি থেকে বিরত থাকা সম্ভব যখন আমি এমন সব ঋণে ঋণী এবং অনুগ্রহের জালে বন্দি? যা আমাকে কবির এই কথার অধিক হকদার করে তোলে:

হে উমাইমাহ, আমাকে ক্লান্তিকর উদ্বেগের সাথে থাকতে দাও … এবং এমন এক রাতের সাথে যা আমি অতিবাহিত করছি যার নক্ষত্ররাজি ধীরগতি সম্পন্ন

তা দীর্ঘায়িত হলো যতক্ষণ না আমি বললাম যে এটি শেষ হবার নয় … আর যে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করছে সে ফিরে আসার নয়

এবং এমন এক বক্ষ যেখানে রাত তার দূরবর্তী দুশ্চিন্তাগুলোকে ফিরিয়ে আনে … সেখানে চারপাশ থেকে দুঃখ-বেদনা বহুগুণ বেড়ে যায়

আমার জীবনের কসম, তাঁর পিতার পক্ষ থেকে একের পর এক নিয়ামত আমার ওপর রয়েছে … যাতে কোনো অনিষ্ট বা তিক্ততা নেই

আর যদি বলা হয়:

নিন্দুকদের কাছে আমি আমার ধৈর্য প্রকাশ করি যেন তারা দেখে … যে কালের বিবর্তনে আমি বিচলিত হই না

তবে আমি বলি:

শ্রোতাদের কাছে আমি আমার ধৈর্য প্রকাশ করি যেন তারা দেখে … সত্যের সূর্য তাঁর দীপ্তি থেকেই উদিত হয়

আমি লিখতে বাধ্য, আর যদি আমি আবেগের বশবর্তী হই তবে আমি ক্ষমার যোগ্য:

কিন্তু আমি যদি তাঁর হকের ব্যাপারে কোনো ত্রুটি করি, তবে সেই ত্রুটির জন্য আমার কোনো অজুহাত নেই।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَإِنِّي لأعتبر مَا أقدمه بداية لَا نِهَايَة وَتَذْكِرَة للآخرين من حاضرين وغائبين لَعَلَّهُم يتمون مَا بَقِي، ويكملون مَا نقص.

وَإِذا كَانَت التراجم وَالسير تَنْقَسِم إِلَى ذاتية وَغير ذاتية، والذاتية هِيَ مَا يَكْتُبهَا الشَّخْص عَن نَفسه من طفولته إِلَى رجولته، ويسجل مَا جرى لَهُ وَعَلِيهِ، وَهِي أصدق مَا تكون إِن كَانَ صَاحبهَا معتدلاً أَمينا.

وَقد ترْجم بعض الْعلمَاء والفلاسفة لأَنْفُسِهِمْ مِنْهُم:

1 - ابْن سينا الْمُتَوفَّى سنة 428 كَانَت تَرْجَمته لنَفسِهِ مرجعاً لكل من كتب عَنهُ من تلاميذه.

2 - والعماد الْأَصْفَهَانِي الْمُتَوفَّى سنة 597 فِي مُقَدّمَة كِتَابه (الْبَرْق الشَّامي) .

3 - وَابْن الْخَطِيب الْمُتَوفَّى سنة 776.

4 - وَابْن خلدون، الْمُتَوفَّى 805، والسيوطي وَغَيرهم.

والترجمة غير الذاتية مَا يكْتب غَيره عَنهُ.

وَإِن مَا أقدمه فِي هَذَا المجال ليجمع بَين الْقسمَيْنِ الذاتي وَغير الذاتي لِأَنَّهُ يشْتَمل على مَا قَالَه هُوَ عَن نَفسه وسمعته مِنْهُ مُبَاشرَة، كَمَا تشْتَمل على مَا عَرفته ولمسته من حَيَاته مُدَّة صحبتي لَهُ.

وَالله أسأَل أَن يَجْعَل من سيرته خير قدوة لتلامذته، وَأَن يَجْعَل فِي ولديه خير خلف لخير سلف، وَأَن يأجرنا فِي مُصِيبَتنَا ويخلفنا خيرا مِنْهَا، ونسأله تَعَالَى أَن يتغمده بوافر رَحمته ويسكنه فسيح جنته وَأَن يجزل لَهُ الْعَطاء ويجزيه أحسن الْجَزَاء عَمَّا بذله من جهد، وَخَلفه من علم. إِنَّه جواد كريم (إِن أول مَا يبْدَأ بِهِ فِي مثل هَذَا الْمقَام لَهو الِاسْم واللقب وَالنّسب والنشأة والموطن) …الخ.
আমি যা পেশ করছি তাকে শেষ নয় বরং শুরু এবং উপস্থিত ও অনুপস্থিত অন্যদের জন্য একটি স্মারক হিসেবে গণ্য করি, যাতে তারা অবশিষ্টটুকু সম্পন্ন করতে পারে এবং যা অপূর্ণ রয়েছে তা পূর্ণ করতে পারে।

জীবনী ও জীবনবৃত্তান্ত যদি আত্মজীবনীমূলক এবং অ-আত্মজীবনীমূলক এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়; তবে আত্মজীবনী হলো তা-ই যা কোনো ব্যক্তি শৈশব থেকে যৌবন পর্যন্ত নিজের সম্পর্কে লেখেন এবং তার অনুকূলে ও প্রতিকূলে যা ঘটেছে তা লিপিবদ্ধ করেন। এটি সর্বাধিক সত্যনিষ্ঠ হয় যদি এর লেখক ভারসাম্যপূর্ণ ও বিশ্বস্ত হন।

কিছু আলেম ও দার্শনিক নিজেদের জীবনী নিজেরাই লিখেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - ইবনে সিনা (মৃত্যু ৪২৮ হিজরি), তার নিজের লেখা জীবনীটি তার সম্পর্কে লেখা তার সকল ছাত্রের জন্য একটি উৎস বা রেফারেন্স ছিল।

২ - ইমাদ আল-আসবাহানি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি), তার ‘আল-বারক আশ-শামি’ গ্রন্থের ভূমিকায়।

৩ - ইবনুল খাতিব (মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি)।

৪ - ইবনে খালদুন (মৃত্যু ৮০৫ হিজরি), সুয়ূতী ও অন্যান্য।

আর অ-আত্মজীবনীমূলক জীবনী হলো তা, যা অন্য কেউ তার সম্পর্কে লেখে।

আমি এই ক্ষেত্রে যা পেশ করছি তা মূলত আত্মজীবনীমূলক এবং অ-আত্মজীবনীমূলক—এই উভয় প্রকারের সমন্বয়। কারণ এটি তার নিজের সম্পর্কে তার বলা কথাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে যা আমি সরাসরি তার থেকে শুনেছি, তেমনি এটি তার জীবনের সেই বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে যা আমি তার সান্নিধ্যে থাকাকালীন জেনেছি ও প্রত্যক্ষ করেছি।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তার জীবনীকে তার ছাত্রদের জন্য উত্তম আদর্শ বানান এবং তার দুই সন্তানকে এক নেককার পূর্বসূরির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে কবুল করেন। আল্লাহ যেন আমাদের এই বিপদে প্রতিদান দান করেন এবং এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাকে তার অঢেল রহমতে সিক্ত করেন, জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করেন এবং তার প্রচেষ্টা ও রেখে যাওয়া ইলমের জন্য তাকে পরিপূর্ণ ও সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দাতা ও মহানুভব। (এ জাতীয় ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যা দিয়ে শুরু করা হয় তা হলো নাম, উপাধি, বংশপরিচয়, বেড়ে ওঠা এবং জন্মস্থান) …ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌وَهَذِه تَرْجَمته رحمه الله كَمَا سَمعتهَا مِنْهُ مُبَاشرَة:

الِاسْم: هُوَ مُحَمَّد الْأمين، وَهُوَ علم مركب من اسْمَيْنِ وَذكر مُحَمَّد تبرك.

واللقب: آبا. بِمد الْهمزَة وَتَشْديد الْبَاء من الإباء.
এটি তাঁর জীবনী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), যেমনটি আমি সরাসরি তাঁর নিকট হতে শ্রবণ করেছি:

নাম: তিনি হলেন মুহাম্মাদ আল-আমিন। এটি দুটি নামের সমন্বয়ে গঠিত একটি নাম এবং বরকতের উদ্দেশ্যে মুহাম্মাদ নামটি উল্লেখ করা হয়েছে।

উপাধি: আ-ব্বা। হামজাকে দীর্ঘ করে এবং 'ইবা' (অস্বীকৃতি বা আত্মমর্যাদা) শব্দ হতে 'বা' বর্ণে তাশদীদ যোগে।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَاسم أَبِيه: مُحَمَّد الْمُخْتَار بن عبد الْقَادِر بن مُحَمَّد بن أَحْمد نوح بن مُحَمَّد بن سَيِّدي أَحْمد ابْن الْمُخْتَار من أَوْلَاد أَوْلَاد الطَّالِب أوبك وَهَذَا من أَوْلَاد أَوْلَاد كرير بن الموافي بن يَعْقُوب بن جاكن الابر جد الْقَبِيلَة الْكَبِيرَة الْمَشْهُورَة الْمَعْرُوفَة بالجكنيين. ويُعرفون بتجكانت.

نسب الْقَبِيلَة: وَيرجع نسب هَذِه الْقَبِيلَة إِلَى حمير، كَمَا قَالَ الشَّاعِر الموريتاني مُحَمَّد فال ولد الْعَينَيْنِ مستدلا بفصاحتهم على عروبتهم:

إِنَّا بَنو حسن دلّت فصاحتنا … أَنا إِلَى الْعَرَب الأقحاح ننتسب

إِن لم تقم بَيِّنَات أننا عرب … فَفِي (اللِّسَان) بَيَان أننا عرب

أنظر إِلَى مَا لنا من كل قافية … لَهَا تذم شذور الزبرج القشب

وبيّن شَاعِر آخر مرجع تِلْكَ الْقَبِيلَة إِلَى حمير بقوله:

يَا قَائِلا طاعناً فِي أننا عرب … قد كذبتك لنا لسن وألوان

وسم الْعرُوبَة بادٍ فِي شَمَائِلنَا … وَفِي أوائلنا عز وإيمان

أساد حمير والأبطال من مُضر … حمر السيوف فَمَا ذلوا وَلَا هانوا

لقد كَانَت خَصَائِص الْعرُوبَة ومميزاتها موفورة لَدَى الشَّيْخ رحمه الله ولدى أَهله وَذَوِيهِ فِي النّظم وَفِي النثر، كَمَا توفرت الْعُلُوم والفنون فِي بَيته وقبيلته: وَقد بيّن أحد شعرائهم أَصَالَة الْعرُوبَة فيهم وارتضاعهم إِيَّاهَا من أمهاتهم فِي قَوْله يُخَاطب من ينكرها عَلَيْهِم:

لنا الْعرُوبَة الفصحى وَإِنَّا … أَحَق الْعَالمين بهَا اضطلاعا

عَن الْكتب اقتبستموها انتفاعا. … بِمَا فِيهَا ونرضعها ارتضاعا

المولد: ولد رحمه الله فِي عَام 1325هـ.

الموطن: كَانَ مسْقط رَأسه رحمه الله عِنْد مَاء يُسمى (تَنْبه) من أَعمال مديرية (كيفا) من الْقطر الْمُسَمّى بشنقيط وَهُوَ دولة موريتانيا الإسلامية الْآن
এবং তাঁর পিতার নাম: মুহাম্মদ আল-মুখতার বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ নূহ বিন মুহাম্মদ বিন সিদি আহমদ ইবনুল মুখতার, যিনি তালিব আউবাক-এর বংশধরদের বংশধর। আর তালিব আউবাক হলেন কারীর বিন আল-মুওয়াফি বিন ইয়াকুব বিন জাকিন আল-আবর-এর বংশধরদের বংশধর, যিনি সেই বৃহৎ ও প্রসিদ্ধ গোত্রের পূর্বপুরুষ যারা 'জাকানিউন' নামে পরিচিত এবং তারা 'তাজাকান্ত' নামেও পরিচিত।

গোত্রের বংশপরিচয়: এই গোত্রের বংশধারা 'হিমইয়ার' পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে, যেমনটি মৌরিতানীয় কবি মুহাম্মদ ফাল ওলদ আল-আইনাইন তাদের ভাষার প্রাঞ্জলতাকে তাদের আরবীয় পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে পেশ করে বলেছেন:

আমরা তো হাসানের সন্তান, আমাদের প্রাঞ্জলতাই প্রমাণ করে যে … আমরা বিশুদ্ধ আরবদের সাথে সম্পৃক্ত।

যদি আমরা আরব হওয়ার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান না থাকে … তবে ভাষার মাঝেই সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে আমরা আরব।

আমাদের প্রতিটি ছন্দের কবিতার দিকে তাকাও … যার সামনে জাঁকজমকপূর্ণ নতুন অলঙ্কারও তুচ্ছ হয়ে যায়।

অন্য একজন কবি সেই গোত্রের মূল শিকড় 'হিমইয়ার'-এর দিকে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি এভাবে বর্ণনা করেছেন:

হে আমাদের আরব হওয়ার ব্যাপারে কটাক্ষকারী! … আমাদের ভাষা এবং গায়ের বর্ণ তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।

আরবীয় বৈশিষ্ট্যের ছাপ আমাদের চালচলনে দৃশ্যমান … আর আমাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে ছিল সম্মান ও ঈমান।

হিমইয়ারের সিংহ এবং মুদারের বীরেরা … লাল তলোয়ারধারী যোদ্ধা; তারা কখনও লাঞ্ছিত বা অপদস্থ হয়নি।

শায়খের (রহ.) মাঝে এবং তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মাঝে কবিতা ও গদ্যে আরবীয় বৈশিষ্ট্যাবলি ও গুণাবলি প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান ছিল। একইভাবে তাঁর ঘরে ও গোত্রে বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলাও পর্যাপ্ত ছিল। তাদের মধ্য থেকে একজন কবি তাদের আরবীয় আভিজাত্য এবং তা মায়েদের কাছ থেকে শৈশবে গ্রহণ করার বিষয়টি এভাবে বর্ণনা করেছেন, যারা তাদের আরব হওয়াকে অস্বীকার করে তাদের সম্বোধন করে:

আমাদেরই রয়েছে বিশুদ্ধতম আরব্য ভাষা এবং আমরাই … বিশ্ববাসীর মধ্যে এর ভার বহনের সবচেয়ে বেশি যোগ্য।

তোমরা কিতাব থেকে উপকারের জন্য তা আহরণ করেছ … আর আমরা তা মায়ের দুধের মতো শৈশব থেকেই পান করেছি।

জন্ম: তিনি (রহ.) ১৩২৫ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন।

স্বদেশ: তাঁর (রহ.) জন্মস্থান ছিল 'তানবা' নামক একটি জলাধারের নিকটবর্তী স্থানে, যা 'কিফা' জেলা প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত এবং 'শানকিত' নামক অঞ্চলের অন্তর্গত, যা বর্তমানে আধুনিক ইসলামিক রাষ্ট্র মৌরিতানিয়া।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
علما بِأَن كلمة شنقيط كَانَت وَلَا تزَال اسْما لقرية من أَعمال مديرية أطار فِي أقْصَى موريتانيا فِي الشمَال الغربي.

نشأته رحمه الله: وَقبل الحَدِيث عَن نشأته يحسن إيجاز نبذة عَن البيئة فِي تِلْكَ الْبِلَاد:

تعْتَبر الْحَيَاة الاجتماعية فِي تِلْكَ الْبِلَاد بِحَسب المواطنين قسمَيْنِ عرب وعجم والعربية لُغَة الْجَمِيع، أما الْعَمَل فالعجم أَكثر أَعْمَالهم الزِّرَاعَة والصناعة وسلالتهم من الزنوج.

وَأما الْعَرَب فقسمان: طلبة وَغير الطّلبَة، والطلبة من يغلب عَلَيْهِم طلب الْعلم وَالتِّجَارَة وَغَيرهم من يغلب عَلَيْهِم التِّجَارَة والإغارة. وهم قبائل عدَّة وَمن الْقَبَائِل من يغلب عَلَيْهَا الطّلب وَمِنْهَا من يغلب عَلَيْهَا الإغارة والقتال.

وقبيلة الجكنيين خَاصَّة قد جمعت بَين طلب الْعلم وفروسية الْقِتَال مَعَ عفة عَن أَمْوَال النَّاس، وَفِي هَذَا الجو كَانَ طلب الْعلم على قدم وسَاق سَوَاء فِي حلهم أَو ترحالهم كَمَا قَالَ بعض مشايخهم الْعَلامَة الْمُخْتَار بن بونا:

وَنحن ركب من الْأَشْرَاف مُنْتَظم. … أجل ذَا الْعَصْر قدرا دون أدنانا

قد اتخذنا ظُهُور العيس مدرسة … بهَا نبين دين الله تبيانا

أما كرم الطَّبْع فَهَذَا سجية فِي جَمِيعهم وَأمر يشب فِيهِ الصَّغِير ويشيب عَلَيْهِ الْكَبِير، وَقد ألفوا الضَّيْف لنجعة مَنَازِلهمْ وَمن عاداتهم إِذا نزل وَفد على بَيت فَإِن أهل هَذَا الْمنزل يرسلون لأهل بَيت المضيف مِمَّا عِنْدهم قل أَو كثر مُشَاركَة فِي قرى الضَّيْف وتعاوناً مَعَ المضيف حَتَّى لَو كَانَ معدماً غَدا واجداً ويرحل الْوَفْد وَهُوَ فِي غَايَة الرِّضَا. وَهَكَذَا دواليك.

وَفِي هَذَا الجو وَتلك البيئة نَشأ رحمه الله كَمَا سمعته يَقُول: "توفّي وَالِدي وَأَنا صَغِير أَقرَأ فِي جُزْء عمّ وَترك لي ثروة من الْحَيَوَان وَالْمَال، وَكَانَت سكناي
অবগত হওয়া প্রয়োজন যে, শিনকীত শব্দটি উত্তর-পশ্চিম মৌরিতানিয়ার একদম প্রান্তে অবস্থিত আতার প্রদেশের একটি গ্রামের নাম হিসেবে পরিচিত ছিল এবং এখনও রয়েছে।

তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বেড়ে ওঠা: তাঁর বেড়ে ওঠার বিষয়ে আলোচনার পূর্বে সেই অঞ্চলের পরিবেশ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা সমীচীন মনে করছি:

সেই অঞ্চলের সামাজিক জীবন নাগরিকদের বৈচিত্র্য অনুযায়ী দুই ভাগে বিভক্ত: আরব এবং আজম (অনারব), তবে আরবি সবারই ভাষা। পেশার ক্ষেত্রে আজমদের অধিকাংশের কাজ হলো কৃষি এবং শিল্প, আর তাদের বংশধরগণ নিগ্রো বা কৃষ্ণাঙ্গ জাতিভুক্ত।

আর আরবগণ দুই ভাগে বিভক্ত: তলবে (জ্ঞানান্বেষী) এবং অ-তলবে। তলবে তারাই যাদের মধ্যে ইলম অর্জন ও ব্যবসা প্রাধান্য পায়, আর অন্য পক্ষ হলো তারা যাদের ওপর ব্যবসা ও আক্রমণ (যুদ্ধবিগ্রহ) প্রাধান্য পায়। তারা অনেক গোত্রে বিভক্ত; কিছু গোত্রে ইলম চর্চা বেশি থাকে, আবার কিছু গোত্রে আক্রমণ ও যুদ্ধ প্রাধান্য পায়।

বিশেষ করে জাকানি গোত্র ইলম অর্জন এবং বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের পাশাপাশি মানুষের সম্পদের ব্যাপারে পবিত্রতা বা নির্লোভ মানসিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছিল। এই পরিবেশে তাদের অবস্থানকালেও হোক কিংবা সফরের অবস্থায়—সর্বদাই ইলম অর্জন পূর্ণ উদ্যমে চলত, যেমনটি তাদের অন্যতম শাইখ আল্লামা মুখতার ইবনে বুনা বলেছেন:

আমরা এক সুশৃঙ্খল সম্ভ্রান্ত আরোহী দল। … এই যুগের সর্বাধিক মর্যাদাবান ব্যক্তিও আমাদের সাধারণের চেয়ে নিম্নস্তরের।

আমরা উটের পিঠকে মাদরাসা বানিয়ে নিয়েছি, যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর দ্বীনকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলি।

স্বভাবজাত উদারতা তাদের সকলেরই প্রকৃতি এবং এটি এমন একটি বিষয় যাতে ছোটরা বেড়ে ওঠে এবং বড়রা বার্ধক্যে উপনীত হয়। তারা তাদের আবাসে মেহমানদের আগমনে অভ্যস্ত। তাদের অন্যতম প্রথা হলো, যখন কোনো কাফেলা বা মেহমান কোনো বাড়িতে অবস্থান নেয়, তখন সেই ঘরের প্রতিবেশীরা মেজবানের বাড়িতে তাদের সাধ্য অনুযায়ী কম বা বেশি খাবার পাঠিয়ে দেয় মেহমানদারিতে শরিক হওয়ার জন্য এবং মেজবানকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে। ফলে মেজবান যদি রিক্তহস্তও হয়, তবে সে সচ্ছল হয়ে যায় এবং মেহমান পূর্ণ সন্তুষ্টি নিয়ে বিদায় নেয়। আর এভাবেই তাদের জীবনযাত্রা চলতে থাকে।

এই আবহে এবং এই পরিবেশে তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বেড়ে উঠেছেন, যেমনটি আমি তাকে বলতে শুনেছি: "আমার পিতা যখন ইন্তেকাল করেন, আমি তখন ছোট ছিলাম এবং আম্মাপারা (জুজ আম্মা) পড়ছিলাম। তিনি আমার জন্য গবাদি পশু ও ধন-সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন। আমার বাসস্থান ছিল..."
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
فِي بَيت أخوالي وَأمي ابْنة عَم أبي وحفظت الْقُرْآن على خَالِي عبد الله بن مُحَمَّد الْمُخْتَار بن إِبْرَاهِيم بن أَحْمد نوح جد الْأَب الْمُتَقَدّم".

طلبه للْعلم: حفظ الْقُرْآن فِي بَيت أَخْوَاله على خَاله عبد الله كَمَا تقدم وعمره عشر سنوات.

قَالَ رحمه الله: "ثمَّ تعلمت رسم الْمُصحف العثماني (الْمُصحف الْأُم) على ابْن خَالِي سَيِّدي مُحَمَّد بن أَحْمد بن مُحَمَّد الْمُخْتَار، وقرأت عَلَيْهِ التجويد فِي مقرأ نَافِع بِرِوَايَة ورش من طَرِيق أبي يَعْقُوب الْأَزْرَق وقالون من رِوَايَة أبي نشيط وَأخذت عَنهُ سنداً بذلك إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَذَلِكَ وعمري سِتَّة عشر سنة".

أَنْوَاع الدراسة فِي الْقُرْآن: تعْتَبر الدراسة فِي عُلُوم الْقُرْآن منهجاً متكاملاً لَا تقتصر على الْحِفْظ وَالْأَدَاء بل تتَنَاوَل معرفَة رسم الْمُصحف أَي نوع كِتَابَته مَا كَانَ مَوْصُولا أَو مَفْصُولًا وَمَا رسم فِيهِ الْمَدّ أَو كَانَ يمد بِدُونِ وجود حرف الْمَدّ وَقد يكون حرفا صَغِيرا أَو نَحْو ذَلِك.

ثمَّ ضبط مَا فِيهِ من منشأيه فِي الرَّسْم أَو التِّلَاوَة وَمن الْمَشْهُور عِنْدهم فِي هَذَا الرجز (مُحَمَّد ابْن بِوَجْه) الْمَشْهُور الْمَعْرُوف بالبحر تعرض فِيهِ لكل كلمة جَاءَت فِي الْقُرْآن مرّة وَاحِدَة أَو مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاث مَرَّات إِلَى سبع وَعشْرين مرّة أَي من الْكَلِمَات المشتبهة وأفرد كل عدد بفصل فمثلاً: كلمة (أَعينهم) بِالرَّفْع جَاءَت ثَلَاث مَرَّات قَالَ فِيهَا:

أَعينهم بِالرَّفْع من غير حُضُور … من بعد كَانَت وتولت وتدور

وَمن الثنائي: كلمة (الأشياع) بِالْعينِ قَالَ فِيهِ:

أشياع بِالْعينِ فَهَل من مدكر … فِي سبأ من قبل بِأَنَّهُم ذكر

وَقد درس هَذَا كُله فِي طفولته وَكَانَت لَهُ زِيَادَة نظم على ذَلِك تذييلا لزِيَادَة الْفَائِدَة كَمَا قَالَ: على الْبَيْت الْأَخير مُبينًا حركاته وَإِعْرَابه:
আমার মামাদের ঘরে এবং আমার মা আমার বাবার চাচাতো বোন ছিলেন। আমি আমার মামা আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুখতার ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আহমদ নূহ—যিনি পূর্বে উল্লেখিত দাদার পূর্বপুরুষ—তার কাছে কুরআন হিফজ করেছি।

তার জ্ঞান অন্বেষণ: পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি দশ বছর বয়সে তার মামাদের বাড়িতে তার মামা আবদুল্লাহর কাছে কুরআন হিফজ করেন।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: "এরপর আমি আমার মামাতো ভাই সিদি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুখতারের কাছে উসমানি মুসহাফের (মূল পাণ্ডুলিপি) লিখনরীতি শিখেছি। তার কাছে আমি নাফে'র কিরাত অনুযায়ী আবু ইয়াকুব আল-আজরাকের সূত্রে ওয়ারশের বর্ণনা এবং আবু নাশিতের সূত্রে কালুনের বর্ণনায় তাজবিদ পড়েছি। এ বিষয়ে আমি তাঁর কাছ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত একটি সনদ লাভ করেছি, আর তখন আমার বয়স ছিল ষোলো বছর।"

কুরআনের পাঠ্যক্রমের ধরন: কুরআনুল কারীমের ইলমসমূহের চর্চাকে একটি পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা কেবল হিফজ এবং তিলাওয়াতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে মুসহাফের লিখনরীতি তথা লেখার ধরন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন- কোন শব্দটি যুক্ত অবস্থায় লেখা হয়েছে আর কোনটি বিচ্ছিন্ন অবস্থায়, কোথায় মাদ্দ (দীর্ঘস্বর) অংকন করা হয়েছে অথবা মাদ্দের হরফ ছাড়াই মাদ্দ করা হয়েছে, যা হয়তো ছোট হরফ হিসেবে ছিল অথবা অনুরূপ অন্য কিছু।

এরপর লিখনরীতি বা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে উদ্ভূত বিষয়গুলোর নির্ভুল বিন্যাস করা। এ বিষয়ে তাদের মধ্যে 'মুহাম্মদ ইবনে বি-ওয়াজহ' নামক বিখ্যাত রজজ (কবিতা) প্রচলিত, যা 'আল-বাহর' নামে পরিচিত। এতে কুরআনে একবার, দুবার বা তিনবার থেকে শুরু করে সাতাশবার পর্যন্ত এসেছে এমন প্রতিটি শব্দ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে—অর্থাৎ সদৃশ শব্দগুলো। প্রতিটি সংখ্যার জন্য পৃথক অধ্যায় নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: পেশযুক্ত 'আ'ইউনাহুম' শব্দটি তিনবার এসেছে, এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন:

হাজিরা (উপস্থিতি) বিহীন রফ' (পেশ) যুক্ত 'আ'ইউনাহুম' … 'কানাত' এবং 'তাওয়াল্লাত' ও 'তাদুর'-এর পর।

আর দ্বিত্ব (যা দুবার এসেছে) শব্দের মধ্যে: 'আইন' বর্ণযুক্ত 'আল-আশয়া' শব্দটি, সে সম্পর্কে তিনি বলেন:

'আইন' বর্ণসহ 'আশয়া', সুতরাং কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি? … সাবা সূরায়, এর আগে 'বি-আন্নাহুম' উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি শৈশবেই এই সবকিছু অধ্যয়ন করেছিলেন এবং অধিকতর উপকারের লক্ষ্যে এতে বাড়তি ছন্দ যোগ করেছিলেন; যেমনটি তিনি শেষ পঙক্তির ওপর এর হরকত এবং ই'রাব (ব্যাকরণিক অবস্থান) স্পষ্ট করার জন্য বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
فِي سُورَة الْقَمَر خَاطب وانصبا … وجره وغيبنه فِي سبا

أَي فِي سُورَة الْقَمَر تكون تلاوتها الْخطاب وَالنّصب {وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا أَشْيَاعَكُمْ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ} .

وَفِي سُورَة سبأ تكون تلاوتها بالغيبة والجر {كَمَا فُعِلَ بِأَشْيَاعِهِمْ} وَهَذِه دراسة لَا تكَاد تُوجد إِلَّا مَا شَاءَ الله وَهِي من المهام العلمية لحفظها رسم الْقُرْآن من التَّغْيِير والتبديل وَهِي من أثار تعهد الله بِحِفْظ هَذَا الْقُرْآن الْمنزل من عِنْده سُبْحَانَهُ.

ثمَّ قَالَ رحمه الله: وَفِي أثْنَاء هَذِه الْقِرَاءَة درست بعض المختصرات فِي فقه مَالك كرجز الشَّيْخ ابْن عَاشر وَفِي أَثْنَائِهَا أَيْضا درست دراسة وَاسِعَة فِي الْأَدَب على زَوْجَة خَالِي أم ولد الْخَال أَي أَن ولد خَاله يُعلمهُ الْعُلُوم الْخَاصَّة بِالْقُرْآنِ وَأمه تعلمه الْأَدَب قَالَ أخذت عَنْهَا مبادئ النَّحْو كالأجرومية وتمرينات ودروس وَاسِعَة فِي أَنْسَاب الْعَرَب وأيامهم والسيرة النَّبَوِيَّة ونظم الْغَزَوَات لِأَحْمَد البدوي الشنقيطي وَهُوَ يزِيد على 500 بَيْتا وشروحه لِابْنِ أُخْت الْمُؤلف الْمَعْرُوف بحماد ونظم عَمُود النّسَب للمؤلف وَهُوَ يعد بالآلاف وَشَرحه لِابْنِ أُخْته الْمَذْكُور على خُصُوص العدنانيين لِأَنَّهُ مَاتَ قبل شرح مَا يتَعَلَّق بالقحطانيين.

هَذِه دراسته فِي عُلُوم الْقُرْآن وَالْأَدب وَالسير والتاريخ كَانَت فِي بَيت أَخْوَاله على أَخْوَاله وَأَبْنَاء أَخْوَاله وزوجات أَخْوَاله أَي كَانَ بَيت أَخْوَاله الْمدرسَة الأولى إِلَيْهِ، أما بَقِيَّة الْفُنُون فَقَالَ:

1 - أَولا الْفِقْه الْمَالِكِي وَهُوَ الْمَذْهَب السائد فِي الْبِلَاد درست مُخْتَصر خَلِيل بَدَأَ دراسته فِيهِ على الشَّيْخ مُحَمَّد بن صَالح إِلَى قسم الْعِبَادَات ثمَّ درس عَلَيْهِ النّصْف من ألفية ابْن مَالك، ثمَّ أخذت بَقِيَّة الْفُنُون على مَشَايِخ مُتعَدِّدَة، فِي فنون مُخْتَلفَة وَكلهمْ من الجكنيين وَمِنْهُم مشاهير الْعلمَاء فِي الْبِلَاد مِنْهُم:

1 - الشَّيْخ مُحَمَّد بن صَالح الْمَشْهُور بِابْن أَحْمد الأفرم.

2 - وَالشَّيْخ أَحْمد الأفرم بن مُحَمَّد الْمُخْتَار.
সূরা আল-কামারে সম্বোধনসূচক ও নসব (যবর) সহকারে পড়ুন … আর সাবা সূরায় একে যার (জের) ও নামপুরুষ হিসেবে পড়ুন।

অর্থাৎ, সূরা আল-কামারে এর তিলাওয়াত সম্বোধন ও নসব সহকারে হবে: "অবশ্যই আমি তোমাদের সমমনাদের ধ্বংস করেছি, তবে কি কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে?"।

আর সূরা সাবা-তে এর তিলাওয়াত নামপুরুষ ও যার সহকারে হবে: "যেমনটি তাদের সমমনাদের সাথে করা হয়েছিল"। এ ধরনের জ্ঞানচর্চা আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত সচরাচর দেখা যায় না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলমি বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি কুরআনের লিখনরীতিকে (রাসম) পরিবর্তন ও পরিবর্ধন থেকে রক্ষা করে। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত এই কুরআন সংরক্ষণের সেই প্রতিশ্রুতিরই বহিঃপ্রকাশ, যা তিনি (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) নিজে গ্রহণ করেছেন।

অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই কিরাআত পাঠ চলাকালে আমি মালিকি ফিকহের কিছু সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থ অধ্যয়ন করি, যেমন শায়খ ইবনে আশিরের কাব্যগ্রন্থ। এই সময়েই আমি আমার মামাতো ভাইয়ের মায়ের নিকট সাহিত্যের ওপর ব্যাপক পড়াশোনা করি। অর্থাৎ, তার মামাতো ভাই তাকে কুরআন সংশ্লিষ্ট বিশেষ জ্ঞানসমূহ শিক্ষা দিতেন এবং তার মা তাকে সাহিত্য শিক্ষা দিতেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর নিকট নাহু বা ব্যাকরণের প্রাথমিক পাঠ যেমন 'আল-আজরুমিয়া' এবং অনুশীলন গ্রহণ করি। এছাড়া আরবদের বংশপরিচয়, তাদের ঐতিহাসিক যুদ্ধসমূহ, সীরাতুন্নবী এবং আহমাদ আল-বাদাউয়ি আশ-শিনকিতি রচিত যুদ্ধের কাব্যগ্রন্থ (নাযম আল-গাজাওয়াত) এর ওপর বিস্তারিত পাঠ গ্রহণ করি। এটি ৫০০টিরও বেশি শ্লোক সম্বলিত। এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন লেখকের ভাগ্নে, যিনি হাম্মাদ নামে পরিচিত। আরও ছিল লেখকের রচিত বংশপরিচয় বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ 'আমূদ আন-নাসাব', যার শ্লোক সংখ্যা হাজার হাজার। এর ব্যাখ্যাগ্রন্থও লিখেছেন পূর্বোক্ত ভাগ্নে, বিশেষ করে আদনানি বংশধারার ওপর, কারণ তিনি কাহতানি বংশধারা সম্পর্কিত অংশের ব্যাখ্যা রচনার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন।

উলূমুল কুরআন, সাহিত্য, সীরাত এবং ইতিহাসের ওপর তাঁর এই শিক্ষা ছিল তাঁর মামাদের বাড়িতে—তাঁর মামাদের নিকট, মামাতো ভাইদের নিকট এবং মামাদের স্ত্রীদের নিকট। অর্থাৎ মামার বাড়িই ছিল তাঁর প্রথম শিক্ষালয়। আর অন্যান্য শাস্ত্র সম্পর্কে তিনি বলেন:

১ - প্রথমত মালিকি ফিকহ, যা এই অঞ্চলে প্রচলিত মাযহাব। আমি 'মুখতাসার খলীল' অধ্যয়ন করি। শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহের নিকট এর ইবাদত অধ্যায় পর্যন্ত শুরু করি। অতঃপর তাঁর নিকট ইবনে মালিকের আলফিয়ার অর্ধেক পাঠ করি। এরপর আমি বিভিন্ন শায়খদের নিকট বিবিধ শাস্ত্রে বাকি বিদ্যা অর্জন করি। তাঁদের সকলেই ছিলেন জাকানি গোত্রের এবং তাঁদের মধ্যে দেশের প্রসিদ্ধ উলামায়ে কিরাম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যেমন:

১ - শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ, যিনি ইবনে আহমাদ আল-আফরাম নামে প্রসিদ্ধ।

২ - শায়খ আহমাদ আল-আফরাম বিন মুহাম্মদ আল-মুখতার।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
3 - وَالشَّيْخ الْعَلامَة أَحْمد بن عمر

4 - والفقيه الْكَبِير مُحَمَّد النِّعْمَة بن زَيْدَانَ

5 - والفقيه الْكَبِير أَحْمد بن مُودْ

6 - والعلامة المتبحر فِي الْفُنُون أَحْمد فال بن آدُه

وَغَيرهم من الْمَشَايِخ الجكنيين.

قَالَ رحمه الله: "وَقد أَخذنَا عَن هَؤُلَاءِ الْمَشَايِخ كل الْفُنُون: النَّحْو وَالصرْف وَالْأُصُول والبلاغة، وَبَعض التَّفْسِير والْحَدِيث.

أما الْمنطق وآداب الْبَحْث والمناظرة فقد حصلناه بالمطالعة".

هَذَا مَا أملاه عَليّ رحمه الله وسجلته عَنهُ.

علما بِأَن الْفَنّ الَّذِي درسه على الْمَشَايِخ أَو مطالعة من الْكتب لم يقْتَصر فِي تَحْصِيله على دراسته بل كَانَ دَائِما يديم النّظر ويواصل التَّحْصِيل حَتَّى غَدا فِي كل مِنْهُ كَأَنَّهُ متخصص فِيهِ بل وَله فِي كل مِنْهُ اجتهادات ومباحث مبتكرة سنلم بهَا إِن شَاءَ الله عِنْد إِيرَاد الْمنْهَج العلمي لدراسته وآثاره العلمية.
৩ - এবং শাইখ আল্লামা আহমাদ বিন উমর

৪ - এবং প্রখ্যাত ফকিহ মুহাম্মাদ আন-নি'মাহ বিন যায়দান

৫ - এবং প্রখ্যাত ফকিহ আহমাদ বিন মুদ

৬ - এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে অগাধ পণ্ডিত আল্লামা আহমাদ ফাল বিন আদুহ

এবং অন্যান্য জাকানি শাইখগণ।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমরা এই শাইখদের নিকট থেকে সকল শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেছি: নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দরূপ), উসুল (নীতিমালা) ও বালাগাত (অলংকারশাস্ত্র), এবং তাফসির ও হাদিসের কিছু অংশ।

আর মানতিক (তর্কশাস্ত্র) এবং গবেষণা ও বিতর্কের শিষ্টাচার আমি ব্যক্তিগত অধ্যয়নের মাধ্যমে অর্জন করেছি।"

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে যা শ্রুতলিপি দিয়েছেন এবং আমি তাঁর থেকে যা লিপিবদ্ধ করেছি তা এই।

উল্লেখ্য যে, তিনি শাইখদের নিকট থেকে যে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন বা বইপত্র থেকে যা অধ্যয়ন করেছেন, তা কেবল সাধারণ পাঠ গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তিনি সর্বদা গভীর মনোনিবেশ করতেন এবং জ্ঞান অন্বেষণ অব্যাহত রাখতেন, ফলে প্রতিটি শাস্ত্রেই তিনি এমন দক্ষ হয়ে ওঠেন যেন তিনি সেই শাস্ত্রের এক বিশেষ বিশেষজ্ঞ। এমনকি প্রতিটি শাস্ত্রেই তাঁর নিজস্ব ইজতিহাদ (গবেষণালব্ধ মত) এবং উদ্ভাবনী আলোচনা রয়েছে, যা আমরা ইনশাআল্লাহ তাঁর শিক্ষা পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড এবং তাঁর ইলমি অবদানসমূহ আলোচনার সময় উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌منهجه العلمي فِي الدراسة:

وَقبل إِيرَاد الْمنْهَج العلمي لَهُ رحمه الله فِي دراسته نلم بالمنهج الْعَام السائد فِي بِلَاده لكافة طلبة الْعلم وَطَرِيقَة تَحْصِيله.

تعْتَبر طَريقَة الدراسة فِي تِلْكَ الْبِلَاد جُزْءا من حَيَاة الْبَوَادِي حلا وارتحالاً. وَإِذا أَقَامَ أحد الْمَشَايِخ فِي مَكَان توافد عَلَيْهِ الطلاب للدراسة عَلَيْهِ وَمكث حَتَّى يَأْخُذُوا عَنهُ وَقد يُقيم بِصفة دائمة لدوام الدراسة عَلَيْهِ ويُقال لَهُ (المرابط) نظرا لإقامته الدائمة لنشر الْعلم.

وَلَا يَأْخُذ المرابط من طلابه شَيْئا وَإِن كَانَ ذَا يسَار ساعد المحتاجين من طلابه وَقد يساعد أهل ذَاك الْمَكَان الغرباء من الطلاب.

فينزلون حول بَيته ويبنون لَهُم خياماً أَو مسَاكِن مُؤَقَّتَة، وَيكون لَهُم مجْلِس علم للدرس والمناقشة والاستذكار.
তাঁর ইলমি পাঠদান পদ্ধতি:

রহিমাহুল্লাহ-এর পাঠদানের ইলমি পদ্ধতি বর্ণনা করার পূর্বে, তাঁর দেশের ইলম অন্বেষণকারী সকল ছাত্রদের মাঝে প্রচলিত সাধারণ পদ্ধতি ও তা অর্জনের পন্থা সম্পর্কে আমরা সংক্ষেপে আলোকপাত করব।

সেই দেশগুলোতে পড়াশোনার পদ্ধতিকে যাযাবর জীবনের বসতি স্থাপন ও স্থানান্তরের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। যখন কোনো শায়খ কোনো স্থানে অবস্থান করতেন, ছাত্ররা তাঁর নিকট থেকে পাঠ গ্রহণের জন্য দলে দলে সেখানে উপস্থিত হতো এবং তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন না করা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করত। ইলম প্রচারের লক্ষ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থানের কারণে অনেক সময় তিনি সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন এবং তাঁর স্থায়ী অবস্থানের কারণে তাঁকে 'মুরাবিত' বলা হতো।

মুরাবিত তাঁর ছাত্রদের কাছ থেকে কোনো বিনিময় গ্রহণ করতেন না। তিনি স্বচ্ছল হলে তাঁর অভাবী ছাত্রদের সাহায্য করতেন এবং কখনও কখনও স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রবাসী ছাত্রদের সহায়তা করত।

তারা শায়খের বাড়ির আশেপাশে তাঁবু বা অস্থায়ী আবাস নির্মাণ করে অবস্থান করত এবং পাঠ গ্রহণ, আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য তাদের একটি ইলমি মজলিস থাকত।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَقد يكون المرابط مُخْتَصًّا بفن وَاحِد وَقد يدرس عدَّة فنون، فَإِذا كَانَ مُخْتَصًّا بفن وَاحِد فَإِن دروسه تكون فِي هَذَا الْفَنّ موزعة فِي عدَّة أَمَاكِن مِنْهُ بِحَسب مجموعات الطلاب فقد تكون مَجْمُوعَة فِي الْبِدَايَة مِنْهُ ومجموعة فِي النِّهَايَة وَأُخْرَى فِي أَثْنَائِهِ وَهَكَذَا.. فتتقدم كل مَجْمُوعَة على حِدة فتدرس على الشَّيْخ ثمَّ تَأتي الْمَجْمُوعَة الْأُخْرَى وَهَكَذَا.

وَإِذا كَانَ يدرس عدَّة فنون فَإِنَّهُ يقسم طلاب كل فن على النَّحْو الْمُتَقَدّم.

إِفْرَاد الْفُنُون: وَلَا يحِق لطَالب أَن يجمع بَين فنين فِي وَقت وَاحِد بل يدرس فَنًّا حَتَّى يكمله كالنحو مثلا ثمَّ يبْدَأ فِي البلاغة حَتَّى يكملها وَهَكَذَا يبْدَأ مثلا فِي الْفِقْه حَتَّى يفرغ مِنْهُ ثمَّ يبْدَأ فِي الْأُصُول حَتَّى يكمله، سَوَاء درسها على عدَّة مَشَايِخ أَو على شيخ وَاحِد.

طَريقَة الدراسة اليومية: يبْدَأ الطَّالِب بِكِتَابَة الْمَتْن فِي اللَّوْح الخشبي فَيكْتب قدر مَا يَسْتَطِيع حفظه ثمَّ يمحوه ثمَّ يكْتب قدرا أخر حَتَّى يحفظ مقرأ من الْفَنّ حسب التَّقْسِيم الْمَعْهُود فمثلاً النَّحْو تعْتَبر الألفية أَرْبَعَة مقارئ وَيعْتَبر متن خَلِيل فِي الْفِقْه نَحوا من ذَلِك.

فَإِذا حفظ الطَّالِب مقرأ من الْفَنّ تقدم للدراسة فيشرحه لَهُ الشَّيْخ شرحاً وافياً بِقدر مَا عِنْده من تَحْصِيل دون أَن يفتح كتابا أَو يحضر فِي مرجع ثمَّ يقوم هَؤُلَاءِ للاستذكار فِيمَا بَينهم ومناقشة مَا قَالَه الشَّيْخ وَقد يَأْخُذُونَ بعض الشرّاح لمقابلته على مَا سَمِعُوهُ أَو يرجعُونَ إِلَى بعض الْحَوَاشِي وَلَا يجتازون ذَاك الْمَكَان من الدَّرْس حَتَّى يرَوا أَنهم قد حصلوا كل مَا فِيهِ، وَلَيْسَ عَلَيْهِم من سرعَة أَو إنهاء كتاب بِقدر مَا عَلَيْهِم من فهم وَتَحْصِيل مَا فِي الْبَاب وَقد ذكرُوا عَن بعض الطلاب مِمَّن عرفُوا بالذكاء وَالْقُدْرَة على التَّحْصِيل أَنه كَانَ لَا يزِيد فِي متن خَلِيل على سطرين فَقَط فَقيل لَهُ: "لمَ لَا تزيد وَأَنت قَادر على التَّحْصِيل" فَقَالَ: "لأنني عجلَان لأعود إِلَى أَهلِي". فَقَالُوا لَهُ إِن العجلان يزِيد فِي حِصَّته. فَقَالَ: "أُرِيد أَن أتقن مَا أَقرَأ حَتَّى لَا أحتاج إِلَى إِعَادَة دراسته فأتأخر".
একজন মুরাবিত (শিক্ষক) কোনো একটি শাস্ত্রের ওপর বিশেষজ্ঞ হতে পারেন অথবা তিনি একাধিক শাস্ত্রও পাঠদান করতে পারেন। তিনি যদি একটি শাস্ত্রেরই বিশেষজ্ঞ হন, তবে শিক্ষার্থীরা যে স্তরে রয়েছে সেই অনুযায়ী তার পাঠসমূহ উক্ত শাস্ত্রের বিভিন্ন স্থানে বিন্যস্ত থাকে। যেমন—একদল শিক্ষার্থী শাস্ত্রটির শুরুতে থাকতে পারে, একদল শেষে এবং আরেকটি দল মধ্যভাগে; এভাবেই বিন্যাসটি হয়ে থাকে। ফলে প্রতিটি দল স্বতন্ত্রভাবে অগ্রসর হয় এবং শাইখের কাছে পাঠ গ্রহণ করে, এরপর অপর একটি দল আসে; এভাবেই শিক্ষাদান প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

আর তিনি যদি একাধিক শাস্ত্র পাঠদান করেন, তবে তিনি প্রতিটি শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের উল্লিখিত পদ্ধতিতেই বিন্যস্ত করে থাকেন।

শাস্ত্রসমূহের একমুখিতা: একজন শিক্ষার্থীর জন্য একই সময়ে দুটি শাস্ত্র একত্রে গ্রহণ করা বৈধ নয়। বরং সে একটি শাস্ত্র পাঠ করবে যতক্ষণ না তা সমাপ্ত হয়, যেমন—নাহু (ব্যাকরণ)। এরপর সে বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) শুরু করবে যতক্ষণ না তা সম্পন্ন হয়। একইভাবে উদাহরণস্বরূপ সে ফিকহ শুরু করবে এবং তা সমাপ্ত হলে উসুল শুরু করবে; চাই সে এগুলো একাধিক শাইখের কাছে পাঠ করুক কিংবা একজন শাইখের কাছে।

দৈনিক পাঠদান পদ্ধতি: শিক্ষার্থী কাঠের তক্তায় মূল পাঠ (মাতন) লেখার মাধ্যমে পড়া শুরু করে। সে তার মুখস্থ করার সামর্থ্য অনুযায়ী লেখে, এরপর তা মুছে ফেলে পুনরায় অন্য অংশ লেখে; যতক্ষণ না সে প্রচলিত বিভাজন অনুযায়ী শাস্ত্রটির একটি নির্দিষ্ট অংশ (মুকরা) মুখস্থ করে ফেলে। উদাহরণস্বরূপ—নাহু শাস্ত্রের ‘আলফিয়্যাহ’-কে চারটি ‘মুকরা’ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ফিকহ শাস্ত্রের ‘মুখতাসারু খলিল’-কেও অনুরূপ বিবেচনা করা হয়।

যখন শিক্ষার্থী শাস্ত্রটির একটি ‘মুকরা’ মুখস্থ করে ফেলে, তখন সে পাঠ গ্রহণের জন্য অগ্রসর হয়। তখন শাইখ কোনো কিতাব খোলা বা কোনো মূলগ্রন্থের সাহায্য ছাড়াই তার নিজস্ব জ্ঞানভাণ্ডার থেকে তার সামনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে পড়া মুখস্থ করা এবং শাইখ যা বলেছেন তা নিয়ে পর্যালোচনার জন্য উঠে দাঁড়ায়। তারা শাইখের কাছ থেকে যা শুনেছে তার সাথে মিলিয়ে দেখার জন্য কোনো কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) গ্রহণ করতে পারে অথবা কোনো কোনো পার্শ্বটীকা (হাশিয়া) দেখতে পারে। তারা পাঠের সেই অংশটি ততক্ষণ অতিক্রম করে না যতক্ষণ না তারা অনুভব করে যে, তারা এর অন্তর্ভুক্ত যাবতীয় বিষয় পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করেছে। তাদের কাছে দ্রুত পড়ার চেয়ে বা কোনো কিতাব তাড়াতাড়ি শেষ করার চেয়ে অধ্যায়ের বিষয়বস্তু অনুধাবন ও তা অর্জন করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। জনৈক প্রখর মেধাবী ও পারদর্শী শিক্ষার্থী সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, সে ‘মুখতাসারু খলিল’ থেকে মাত্র দুই লাইনের বেশি পাঠ গ্রহণ করত না। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনি পারদর্শী হওয়া সত্ত্বেও কেন আরও বেশি পড়েন না?" সে বলল, "কেননা আমি দ্রুত আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চাই।" তারা তাকে বলল যে, যে ব্যক্তি দ্রুত শেষ করতে চায় সে তো তার পাঠের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়। সে উত্তর দিল, "আমি যা পড়ছি তা মজবুতভাবে আয়ত্ত করতে চাই যাতে পুনরায় তা পড়ার প্রয়োজন না হয়, অন্যথায় তা আমাকে পিছিয়ে দেবে।"
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الْحَيَاة الدراسية:

دراسة الشَّيْخ رحمه الله: على هَذَا الْمنْهَج كَانَت دراسة الشَّيْخ رحمه الله إِلَّا أَنه تميز بِبَعْض الْأُمُور قل أَن كَانَت لغيره. نوجز مِنْهَا الْآتِي:

1 - فِي مبدأ دراسته: تقدم أَنه أتيح لَهُ فِي بادئ دراسته مَا لم يتح لغيره حَيْثُ كَانَ بَيت أَخْوَاله مدرسته الأولى، فَلم يرحل فِي بادئ أمره للطلب، وَكَانَ وحيد وَالِديهِ فَكَانَ فِي مَكَان التدلل والعناية.

2 - قَالَ رحمه الله كنت أميل إِلَى اللّعب أَكثر من الدراسة حَتَّى حفظت الْحُرُوف الهجائية وبدأوا يقرئونني إِيَّاهَا بالحركات: با فَتْحة با بِي كسرة بِي بُ ضمة بو وَهَكَذَا ث د ث. فَقلت لَهُم أَو كل الْحُرُوف هَكَذَا قَالُوا نعم فَقلت كفى إِنِّي أَسْتَطِيع قرَاءَتهَا كلهَا على هَذِه الطَّرِيقَة كي يتركونني. فَقَالُوا اقرأها فَقَرَأت بِثَلَاثَة حُرُوف أَو أَرْبَعَة وتنقلت إِلَى آخرهَا بِهَذِهِ الطَّرِيقَة فعرفوا أَنِّي فهمت قاعدتها واكتفوا مني بذلك وتركوني، وَمن ثمَّ حُببت إِلَيّ الْقِرَاءَة.

3 - وَقَالَ رحمه الله: وَلما حفظت الْقُرْآن وَأخذت الرَّسْم العثماني وتفوقت فِيهِ على الأقران عُنيت بِي والدتي وأخوالي أَشد عناية وعزموا على تَوَجُّهِي للدراسة فِي بَقِيَّة الْفُنُون، فجهزتني والدتي بجملين أَحدهمَا عَلَيْهِ مركبي وكتبي، وَالْآخر عَلَيْهِ نفقتي وزادي، وصحبني خَادِم وَمَعَهُ عدَّة بقرات وَقد هيئت لي مركبي كأحسن مَا يكون من مركب وملابس كأحسن مَا تكون فَرحا بِي وترغيباً لي فِي طلب الْعلم، وَهَكَذَا سلكت سَبِيل الطّلب والتحصيل.

تقوم الْحَيَاة الدراسية على أساس منع الكلفة وَتَمام الألفة سَوَاء بَين الطلاب أنفسهم أَو بَينهم وَبَين شيخهم مَعَ كَمَال الْأَدَب ووقار الحشمة، وَقد تتخللها الطّرف الأدبية والمحاورات الشعرية وَمن ذَلِك مَا حَدَّثَنِيهِ رحمه الله قَالَ: قدمت على بعض الْمَشَايِخ لأدرس عَلَيْهِ وَلم يكن يعرفنِي من قبل فَسَأَلَ عني من أكون وَكَانَ فِي ملإ من تلامذته فَقلت مرتجلا:
শিক্ষা জীবন:

শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শিক্ষা সফর: শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শিক্ষা জীবন এই পাঠ্যক্রমের আলোকেই পরিচালিত হয়েছিল, তবে তিনি এমন কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যে অনন্য ছিলেন যা অন্যদের মাঝে খুব কমই দেখা যেত। আমরা সেগুলোর সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরছি:

১ - তাঁর শিক্ষা জীবনের শুরুতে: পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে যে, তাঁর শিক্ষা জীবনের প্রারম্ভে এমন কিছু সুযোগ-সুবিধা তাঁর জন্য সহজলভ্য হয়েছিল যা অন্য কারো ভাগ্যে জোটেনি। তাঁর মামার বাড়ি ছিল তাঁর প্রথম শিক্ষা নিকেতন। ফলে ইলম অন্বেষণের প্রারম্ভিক পর্যায়ে তাঁকে জ্ঞানার্জনের জন্য সফর করতে হয়নি। তিনি তাঁর পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান হওয়ায় অত্যন্ত আদর-সোহাগ ও নিবিড় যত্নের মাঝে বড় হয়েছেন।

২ - তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি পড়াশোনার চেয়ে খেলাধুলার প্রতি বেশি আসক্ত ছিলাম। এমনকি যখন আমি বর্ণমালা মুখস্থ করলাম এবং তাঁরা আমাকে হারাকাত বা স্বরচিহ্নসহ সেগুলো পড়াতে শুরু করলেন: বা-ফাতহায় 'বা', বা-কাসরায় 'বি', বা-দাম্মায় 'বু' এবং একইভাবে সা, দাল, সা। তখন আমি তাঁদের বললাম, সব বর্ণই কি এই নিয়মে? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তবে যথেষ্ট হয়েছে, আমি এই পদ্ধতি অনুসরণ করে সবগুলোই পড়তে পারব। এটি মূলত আমি এই উদ্দেশ্যে বলেছিলাম যাতে তাঁরা আমাকে অব্যাহতি দেন। তাঁরা বললেন, তবে পড়ে শোনাও। তখন আমি তিন-চারটি বর্ণ পড়লাম এবং এই পদ্ধতি অনুসরণ করে একদম শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম। তখন তাঁরা বুঝতে পারলেন যে আমি এর মূল সূত্রটি ধরে ফেলেছি এবং তাঁরা এতেই সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে ছেড়ে দিলেন। এর পর থেকেই আমার নিকট পাঠাভ্যাস ও অধ্যয়ন প্রিয় হয়ে উঠল।

৩ - তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: যখন আমি কুরআন হিফজ করলাম এবং উসমানি লিপিশৈলীতে পারদর্শিতা অর্জন করে সহপাঠীদের ছাড়িয়ে গেলাম, তখন আমার মা ও মামারা আমার প্রতি গভীর মনোনিবেশ করলেন এবং আমাকে অন্যান্য জ্ঞানশাখায় উচ্চতর শিক্ষার জন্য পাঠানোর সংকল্প করলেন। আমার মা আমাকে দুটি উটের ব্যবস্থা করে দিলেন; যার একটিতে ছিল আমার সওয়ারি ও কিতাবপত্র এবং অন্যটিতে ছিল আমার পাথেয় ও ভরণপোষণের সামগ্রী। আমার সাথে একজন সেবক পাঠালেন যার সাথে কয়েকটি গাভি ছিল। আমার জন্য অত্যন্ত চমৎকার সওয়ারি ও সুন্দর পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এটি ছিল মূলত আমার সাফল্যে তাঁদের আনন্দ প্রকাশ এবং আমাকে জ্ঞান অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ করার একটি মাধ্যম। এভাবেই আমি ইলম অর্জন ও জ্ঞানান্বেষণের পথে পদার্পণ করি।

তৎকালীন শিক্ষা জীবন লৌকিকতাহীনতা এবং গভীর হৃদ্যতার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, চাই তা ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে হোক কিংবা ছাত্র ও শাইখের মধ্যে; তবে তা ছিল পূর্ণ আদব ও গাম্ভীর্যের সাথে। কখনো কখনো এর মাঝে সাহিত্যিক কৌতুক ও কাব্যিক বাক্যালাপও চলত। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনা শুনিয়েছিলেন, তিনি বলেন: আমি একবার জনৈক শাইখের কাছে পড়তে গেলাম, তিনি ইতিপূর্বে আমাকে চিনতেন না। তিনি তাঁর ছাত্রদের মজলিসে আমার পরিচয় জানতে চাইলেন। তখন আমি তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে বললাম:
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
هَذَا فَتى من بني جاكان قد نزلا … بِهِ الصِّبَا عَن لِسَان الْعَرَب قد عدلا

رمت بِهِ همة علياء نحوكم … إِذْ شام برق عُلُوم نوره اشتعلا

فجَاء يَرْجُو ركاماً من سحائبه … تكسو لِسَان الْفَتى أزهاره حللا

إِذْ ضَاقَ ذرعاً بِجَهْل النَّحْو ثمَّ أَبَا … أَلا يُمَيّز شكل الْعين من فعلا

قد أَتَى الْيَوْم صبا مُولَعا كلفا … بِالْحَمْد لله لَا أبغي لَهُ بَدَلا

يُرِيد دراسة لامية الْأَفْعَال:

وَقد مضى رحمه الله فِي طلب الْعلم قُدماً وَقد ألزمهُ بعض مشايخه بِالْقُرْآنِ، أَي أَن يقرن بَين كل فنين حرصاً على سرعَة تَحْصِيله وتفرساً لَهُ فِي الْقُدْرَة على ذَلِك، فَانْصَرف بهمة عالية فِي درس وَتَحْصِيل.

وَقد خاطبه بعض أقرانه فِي أَمر الزواج فَقَالَ فِي ذَلِك وَفِي الْحَث على طلب الْعلم:

دَعَاني الناصحون إِلَى النِّكَاح … غَدَاة تزوجَتْ بيض الملاح

فَقَالُوا لي تزوج ذَات دلّ … خلوب اللحظ جائلة الوشاح

تَبَسم عَن نوشرة رقاق … يمج الراح بِالْمَاءِ القراح

كَأَن لحاظها رشقات نبل … تذيق الْقلب آلام الْجراح

وَلَا عجب إِذا كَانَت لحاظ … لبيضاء المحاجر كالرماح

فكم قتلا كميّا ذَا ولاحى … ضعيفات الجفون بِلَا سلا

فَقلت لَهُم دَعونِي إِن قلبِي … من العي الصراح الْيَوْم صاحي

ولي شغل بأبكار عذارى … كَأَن وجوهها ضوء الصَّباح

أَرَاهَا فِي المهارق لابسات … براقع من مَعَانِيهَا الصِّحَاح.

أَبيت مفكراً فِيهَا فتضحى … لفهم الفدم خافضة الْجنَاح

أبحت حريمها جبرا عَلَيْهَا … وَمَا كَانَ الْحَرِيم بمستباح.
বনি জাকান গোত্রের এক যুবক এসেছে … যার শৈশব তাকে আরবেদের ভাষা থেকে বিচ্যুত করেছিল।

এক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাকে আপনাদের অভিমুখে নিয়ে এসেছে … যখন সে বিদ্যার বিজলি চমকাতে দেখল যার আলো প্রজ্জ্বলিত হয়েছিল।

ফলে সে তার মেঘমালা থেকে বারিবর্ষণের প্রত্যাশায় এসেছে … যা এই যুবকের জিহ্বাকে চমৎকার অলংকারে সজ্জিত করবে।

যেহেতু সে ব্যাকরণ শাস্ত্রের অজ্ঞতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল, অতপর সে প্রত্যাখ্যান করল … 'ফাআলা' ক্রিয়ার 'আইন' অক্ষরের হরকতকে চিনতে না পারাকে।

আজ সে এক অনুরাগী ও একনিষ্ঠ অনুরাগী হিসেবে এসেছে … আল্লাহর প্রশংসা করছি, আমি এর কোনো বিকল্প চাই না।

সে লামিয়াতুল আফআল অধ্যয়ন করতে চায়:

আল্লাহ তাকে রহম করুন, তিনি ইলম অন্বেষণে সামনের দিকে এগিয়ে চললেন। তার কোনো কোনো শিক্ষক তাকে 'কিরান' (দুই বিষয় একত্রে পড়া) করতে বলেছিলেন, অর্থাৎ জ্ঞান দ্রুত অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় এবং তার সামর্থ্যের ব্যাপারে সুগভীর পর্যবেক্ষণ থেকে প্রতিটি দুটি শাস্ত্রকে একত্রে মিলিয়ে পড়া। ফলে তিনি উচ্চ মনোবল নিয়ে পাঠ ও জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করলেন।

তার সমসাময়িকদের কেউ তাকে বিয়ের ব্যাপারে সম্বোধন করলে, তিনি সে বিষয়ে এবং জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বলেছিলেন:

হিতাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে বিবাহের আহ্বান জানাল … সেই ভোরে যখন সুন্দরী রূপসীরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছিল।

তারা আমাকে বলল, এমন এক লাবণ্যময়ীকে বিয়ে করো … যার চাহনি মোহনীয় এবং যার অলঙ্কার দোদুল্যমান।

সে যখন মুচকি হাসে তখন শুভ্র ও সূক্ষ্ম দন্তরাজি প্রকাশিত হয় … যেন সে স্বচ্ছ পানির সাথে সুরা মিশ্রিত করছে।

তার কটাক্ষ যেন নিক্ষিপ্ত তীরের ফলক … যা হৃদয়ে জখমের যন্ত্রণা আস্বাদন করায়।

এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যদি উজ্জ্বল চোখবিশিষ্টদের চাহনি … বর্শার মতো তীক্ষ্ণ হয়।

অস্ত্র ছাড়াই এই কোমল চোখের পল্লবগুলো … কতই না বীর ও সাহসী যোদ্ধাদের কুপোকাত করেছে!

আমি তাদের বললাম, আমাকে ছেড়ে দাও; নিশ্চয়ই আমার হৃদয় … আজ স্পষ্ট জড়তা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

আমার ব্যস্ততা এমন কিছু কুমারী (গূঢ় জ্ঞান) নিয়ে … যাদের মুখমণ্ডল যেন সকালের শুভ্র আলো।

আমি তাদের কাগজের পাতায় … তাদের বিশুদ্ধ অর্থসমূহের নেকাব পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাই।

আমি রাত কাটাই তাদের নিয়ে চিন্তা করে, ফলে তারা সকালবেলায় … স্থূলবুদ্ধি সম্পন্নদের কাছেও বিনম্র ও সহজবোধ্য হয়ে যায়।

আমি তাদের সংরক্ষিত মহলে একপ্রকার জোর করেই অধিকার লাভ করেছি … যদিও সেই সংরক্ষিত মহলটি সকলের জন্য লভ্য ছিল না।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
نعم إِنَّه كَانَ يبيت فِي طلب الْعلم مفكراً وباحثاً حَتَّى يذلل الصعاب وَقد طابق القَوْل الْعَمَل.

حَدثنِي رحمه الله قَالَ: جِئْت للشَّيْخ فِي قراءتي عَلَيْهِ فشرح لي كَمَا كَانَ يشْرَح وَلكنه لم يشف مَا فِي نَفسِي على مَا تعودت وَلم يرو لي ظمئي، وَقمت من عِنْده وَأَنا أجدني فِي حَاجَة إِلَى إِزَالَة بعض اللّبْس وإيضاح بعض الْمُشكل وَكَانَ الْوَقْت ظهرا فَأخذت الْكتب والمراجع فطالعت حَتَّى الْعَصْر فَلم أفرغ من حَاجَتي فعاودت حَتَّى الْمغرب فَلم أنته أَيْضا فَأوقد لي خادمي أعواداً من الْحَطب أَقرَأ على ضوئها كعادة الطلاب وواصلت المطالعة وأتناول الشاهي الْأَخْضَر كلما مللت أَو كسلت وَالْخَادِم بِجوَارِي يُوقد الضَّوْء حَتَّى انبثق الْفجْر وَأَنا فِي مجلسي لم أقِم إِلَّا لصَلَاة فرض أَو تنَاول طَعَام وَإِلَى أَن ارْتَفع النَّهَار وَقد فرغت من درسي وَزَالَ عني لبسي وَوجدت هَذَا الْمحل من الدَّرْس كَغَيْرِهِ فِي الوضوح والفهم فَتركت المطالعة ونمت وأوصيت خادمي أَن لَا يوقظني لدرسي فِي ذَلِك الْيَوْم اكْتِفَاء بِمَا حصلت عَلَيْهِ واستراحة من عناء سهر البارحة.

فقد بَات مفكراً فِيهَا فأضحت … لفهم الفدم خافضة الْجنَاح

وَإِن هَذَا لدرس لأبنائه ومنهج لطلاب الْعلم فِي الصَّبْر والدأب والمثابرة وَقد نَفَعَنِي الله بِهَذِهِ الْحَادِثَة فِي دراستي وتدريسي وخاصة فِي صُورَة مشابهة فِي الْفَرَائِض لم أكن درستها على أحد وَكَانَ الِاخْتِيَار فِي المقروء لَا فِي الْمُقَرّر.

وَتلك هِيَ آفَة الدراسة النظامية الْيَوْم وَكنت كلما ضجرت فِي تحقيقها تذكرت قصَّته رحمه الله فَصَبَرت حَتَّى حصلتها وَللَّه الْحَمد والْمنَّة وَكَانَ من بعد الظّهْر إِلَى هزيع من اللَّيْل، وَلَكِن كم كَانَت لذتي وارتياحي.

وَمَعَ هَذِه الشاعرية الرقراقة والمعاني الْعَذَاب الفياضة والأسلوب السهل الجزل فقد كَانَ يتباعد رحمه الله عَن قَول الشّعْر مَعَ وفرة حفظه إِيَّاه وَله فِي ذَلِك أَبْيَات يَقُول فِيهَا:
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি ইলম অন্বেষণে চিন্তা ও গবেষণায় রাত্রি অতিবাহিত করতেন যতক্ষণ না কঠিন বিষয়গুলো সহজ হয়ে যেত। আর তাঁর কাজ তাঁর কথার সাথে মিলে যেত।

আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন: "আমি শাইখের নিকট পড়ার জন্য আসলাম। তিনি আমাকে ব্যাখ্যা করে দিলেন যেভাবে তিনি সচরাচর ব্যাখ্যা করতেন, কিন্তু তা আমার অভ্যস্ত তৃপ্তির অভাব পূরণ করল না এবং আমার পিপাসা মেটাল না। আমি তাঁর নিকট থেকে চলে আসলাম কিন্তু অনুভব করলাম যে, কিছু সংশয় দূর করা এবং কিছু জটিল বিষয় স্পষ্ট করা আমার জন্য জরুরি। তখন ছিল জোহরের সময়। আমি কিতাবাদি ও তথ্যসূত্রগুলো গ্রহণ করলাম এবং আসর পর্যন্ত মুতালাআ (অধ্যয়ন) করলাম, কিন্তু আমার প্রয়োজন শেষ হলো না। আমি মাগরিব পর্যন্ত পুনরায় চেষ্টা করলাম কিন্তু তবুও শেষ হলো না। তখন আমার খাদেম আমার জন্য কিছু কাঠের লাঠি জ্বালাল যাতে আমি এর আলোতে পড়তে পারি—যেমনটা তালিবে ইলমদের (শিক্ষার্থীদের) অভ্যাস ছিল। আমি মুতালাআ চালিয়ে গেলাম এবং যখনই আমি ক্লান্ত বা অলস বোধ করতাম, তখনই সবুজ চা পান করতাম। খাদেম আমার পাশেই ছিল আলো জ্বালানোর জন্য, যতক্ষণ না ফজর উদিত হলো। আমি আমার আসনেই বসেছিলাম, শুধু ফরয সালাত আদায় করা বা খাবার খাওয়া ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনে উঠিনি। দিনের আলো ফুটে ওঠা পর্যন্ত আমি আমার পাঠ শেষ করলাম এবং আমার সংশয় দূর হলো। আমি পাঠের এই অংশটিকে স্বচ্ছতা ও বোঝার ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ের মতোই সাবলীল পেলাম। এরপর আমি মুতালাআ ত্যাগ করে ঘুমিয়ে পড়লাম এবং আমার খাদেমকে নির্দেশ দিলাম যেন সে আমাকে সেই দিনের পাঠের জন্য না জাগায়, কারণ আমি যা অর্জন করেছি তা-ই যথেষ্ট ছিল এবং গত রাতের বিনিদ্র রজনীর ক্লান্তি দূর করার প্রয়োজন ছিল।"

তিনি সেই বিষয়ে চিন্তা করে রাত কাটিয়েছেন, ফলে তা এমন হয়েছে যে … নির্বোধের বোঝার জন্যও তা সহজসাধ্য হয়ে গেছে।

নিশ্চয়ই এটি তাঁর সন্তানদের জন্য একটি শিক্ষা এবং ধৈর্য, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ক্ষেত্রে ইলম অন্বেষীদের জন্য একটি কর্মপন্থা। আল্লাহ আমাকে এই ঘটনার দ্বারা আমার অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার ক্ষেত্রে উপকৃত করেছেন, বিশেষ করে ফারায়েযের (উত্তরাধিকার আইন) একটি সদৃশ মাসআলার ক্ষেত্রে যা আমি কারো কাছে পড়িনি। আর সেই পাঠ্য বিষয়টি ছিল ব্যক্তিগত পছন্দের, কোনো নির্ধারিত সিলেবাসের অংশ ছিল না।

আর এটিই হলো বর্তমান যুগের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটি ত্রুটি। যখনই আমি কোনো বিষয় তাহকীক (গবেষণা) করতে গিয়ে ক্লান্তিবোধ করতাম, তখন তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই গল্পের কথা স্মরণ করতাম এবং ধৈর্য ধারণ করতাম যতক্ষণ না তা অর্জন করতাম। আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ। এটি জোহরের পর থেকে রাতের এক প্রহর পর্যন্ত চলত, কিন্তু আমার কতই না তৃপ্তি ও প্রশান্তি অনুভূত হতো!

এই স্বচ্ছ কাব্যিক প্রতিভা, সুমিষ্ট ও প্রবহমান অর্থ এবং সাবলীল অথচ বলিষ্ঠ গদ্যশৈলী থাকা সত্ত্বেও তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—প্রচুর কবিতা মুখস্থ থাকা সত্ত্বেও নিজে কবিতা বলা থেকে দূরে থাকতেন। এই বিষয়ে তাঁর কিছু পঙ্ক্তি রয়েছে যাতে তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
أنقذت من دَاء الْهوى بعلاج … شيب يزين مفارقي كالتاج

قد صدني حلم الأكابر عَن لمي … شفة الفتاة الطفلة المغناج

ماءُ الشبيبة زارع فِي صدرها … رمانتي روض كحق العاج

وَكَأَنَّهَا قد أدرجت فِي برقع … يَا ويلتاه بهَا شُعَاع سراج

وكأنما شمس الْأَصِيل مذابة … تنساب فَوق جبينها الْوَهَّاج.

يعلى لموقع جنبها فِي خدرها … فَوق الحشية ناعم الديباج.

لم يبك عَيْني بينُ حَيّ جيرة … شدوا الْمطِي بأنسع الأحداج

نادت بأنغام اللحون حداتهم … فتزيلوا وَاللَّيْل أليل داجي

لَا تصطبيني1 عاتق فِي دلّها … رقت فراقت فِي رقاق زجاج

مخضوبة مِنْهَا بنان مديرها … إِذْ لم تكن مقتولة بمزاج

طابت نفوس الشّرْب حَيْثُ أدارها … رشأ رمى بلحاظ طرف ساجي

أَو ذَات عود أنطقت أوتارها … بِلُحُونِ قَول للقلوب شواجي

فتخال رنات المثاني أحرفاً … قد رددت فِي الْحلق من مهتاج

وَقد سَأَلت رحمه الله عَن تَركه الشّعْر مَعَ قدرته عَلَيْهِ وإجادته فِيهِ فَقَالَ: "لم أره من صِفَات الأفاضل. وخشيت أَن أشتهر بِهِ وتذكرت قَول الشَّافِعِي فِيمَا ينْسب إِلَيْهِ:

وَلَوْلَا الشّعْر بالعلماء يزري … لَكُنْت الْيَوْم أشعر من لبيد

وَلِأَن الشَّاعِر يَقُول فِي كل مجَال، وَالشعر أكذبه أعذبه، فَلم أَكثر مِنْهُ لذَلِك".

وَمَعَ هَذَا فقد كَانَت لَهُ رحمه الله عدَّة مؤلفات نظماً فِي عدَّة فنون سَيَأْتِي بَيَانهَا إِن شَاءَ الله.

--------------------------------------------

1 - أَي لَا تستميلني.
আমি আসক্তির ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছি এমন এক চিকিৎসার মাধ্যমে … বার্ধক্যের শুভ্রতা যা মুকুটের মতো আমার সিঁথিকে শোভিত করছে।

বড়দের গাম্ভীর্য আমাকে নিবৃত্ত করেছে চোষণ করা থেকে … লাস্যময়ী কিশোরী বালিকার ওষ্ঠাধর।

যৌবনের সজীবতা তার বক্ষে রোপণ করেছে … গজদন্তের কৌটার ন্যায় এক বাগানের দুটি ডালিম।

মনে হয় যেন তাকে নেকাবে আবৃত করা হয়েছে … হায় পরিতাপ! এতে রয়েছে প্রদীপের এক আলোক রশ্মি।

যেন অপরাহ্ণের সূর্য গলিত হয়ে … তার উজ্জ্বল ললাটের ওপর গড়িয়ে পড়ছে।

তার অন্তঃপুরে শয্যা পার্শ্বের মর্যাদা সুউচ্চ … কোমল রেশমি গালিচার ওপর।

প্রতিবেশীদের গোত্রের বিচ্ছেদ আমার চোখকে কাঁদায়নি … যারা হাওদার রশি দিয়ে বাহনগুলোকে শক্ত করে বেঁধেছে।

তাদের উট-চালকরা সুমধুর সুরে আহ্বান জানাল … ফলে তারা প্রস্থান করল যখন রাত ছিল ঘুটঘুটে অন্ধকার।

কোনো কিশোরীর লাস্যময়ী ঢং আমাকে মোহিত করে না … যা স্বচ্ছ কাঁচের পাত্রে সূক্ষ্ম ও মনোলোভা রূপ ধারণ করেছে।

পরিবেশনকারীর আঙুলগুলো তাতে রঞ্জিত … যখন একে কোনো মিশ্রণ দিয়ে হালকা করা হয়নি।

পানকারীদের মন প্রফুল্ল হয়ে উঠল যেখানে তা পরিবেশন করছিল … এক হরিণশাবক, যে শান্ত দৃষ্টির পলক নিক্ষেপ করছিল।

অথবা কোনো বীণা-বাদিনী যে তার তারগুলোকে কথা বলিয়েছিল … হৃদয়ে শোক জাগানিয়া সুর ও বাণীর মাধ্যমে।

তুমি দ্বৈত তারের ঝঙ্কারকে মনে করবে কিছু অক্ষর … যা কোনো আবেগপ্লুত ব্যক্তির কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হচ্ছে।

আমি তাঁকে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) কাব্যচর্চায় পারদর্শিতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন করার কারণ জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: "আমি একে গুণী ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করিনি। আমি এতে প্রসিদ্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেছি এবং শাফেয়ীর প্রতি নিসবতকৃত উক্তিটি আমার স্মরণে এল:

যদি কবিতা আলেমদের জন্য মর্যাদাহানিকর না হতো … তবে আজ আমি লাবীদের চেয়েও বড় কবি হতাম।

তাছাড়া কবি প্রতিটি বিষয়েই কথা বলে, আর কবিতার যা সবচেয়ে বেশি মিথ্যা, তাই সবচেয়ে বেশি মধুর; এই কারণেই আমি অধিক কাব্যচর্চা করিনি।"

তা সত্ত্বেও, বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বেশ কিছু কাব্যিক রচনা রয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আসবে।

--------------------------------------------

১ - অর্থাৎ, আমাকে প্রলুব্ধ বা মোহিত করে না।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌أَعماله فِي الْبِلَاد:

كَانَت أَعماله رحمه الله كعمل أَمْثَاله من الْعلمَاء: الدَّرْس والفتيا وَلكنه كَانَ قد اشْتهر بِالْقضَاءِ وبالفراسة فِيهِ وَرَغمَ وجود الْحَاكِم الفرنسي إِلَّا أَن المواطنين كَانُوا عظيمي الثِّقَة فِيهِ فيأتونه للْقَضَاء بَينهم ويفدون إِلَيْهِ من أَمَاكِن بعيدَة أَو حَيْثُ يكون نازلاً.
দেশে তাঁর কার্যাবলী:

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর কার্যাবলী ছিল তাঁর সমপর্যায়ের আলেমদের কার্যাবলীর মতোই: পাঠদান ও ফতোয়া প্রদান। তবে তিনি বিচারকার্য এবং তাতে প্রখর প্রজ্ঞার (ফিরাাসাত) জন্য সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। ফরাসি শাসকের উপস্থিতি সত্ত্বেও নাগরিকদের তাঁর ওপর অগাধ আস্থা ছিল, তাই তারা তাদের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার জন্য তাঁর নিকট আসত এবং দূর-দূরান্ত থেকে অথবা তিনি যেখানে অবস্থান করতেন সেখানেই তাঁর কাছে আগমন করত।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌طَرِيقَته فِي الْقَضَاء:

كَانَ إِذا أَتَى إِلَيْهِ الطرفان استكتبهما رغبتهما فِي التقاضي إِلَيْهِ وقبولهما مَا يقْضِي بِهِ ثمَّ يسْتَكْتب الْمُدَّعِي دَعْوَاهُ جَوَاب الْمُدَّعِي عَلَيْهِ أَسْفَل كِتَابَة الدَّعْوَى وَيكْتب الحكم مَعَ الدَّعْوَى والإجابة وَيَقُول لَهما اذْهَبَا بهَا إِلَى من شئتما من الْمَشَايِخ أَو الْحُكَّام، أما الْمَشَايِخ فَلَا يَأْتِي أحدهم قَضِيَّة قَضَاهَا إِلَّا صدقُوا عَلَيْهَا، وَأما الْحُكَّام فَلَا تصلهم قَضِيَّة حكم فِيهَا إِلَّا نفذوا حكمه حَالا، وَكَانَ يقْضِي فِي كل شَيْء إِلَّا فِي الدِّمَاء وَالْحُدُود، وَكَانَ للدماء قَضَاء خَاص.
বিচারকার্যে তাঁর পদ্ধতি:

যখন তাঁর নিকট বিবদমান দুই পক্ষ আসত, তিনি তাদের নিকট থেকে তাঁর নিকট বিচারপ্রার্থনার ইচ্ছা এবং তিনি যা ফয়সালা করবেন তা মেনে নেওয়ার অঙ্গীকারনামা লিখিয়ে নিতেন। অতঃপর তিনি বাদীর নিকট থেকে তার দাবি এবং দাবিনামার নিচে বিবাদীর জবাব লিখিয়ে নিতেন। তিনি দাবি ও জবাবের সাথে রায় লিখে দিতেন এবং তাদের বলতেন, "তোমরা এটি নিয়ে মাশায়েখ অথবা শাসকদের মধ্যে যার কাছে ইচ্ছা যাও।" মাশায়েখদের অবস্থা ছিল এই যে, তাঁর ফয়সালাকৃত কোনো বিষয় তাঁদের কোনো একজনের নিকট আসলে তারা তা সত্যায়ন করতেন। আর শাসকদের অবস্থা ছিল এই যে, তাঁর ফয়সালাকৃত কোনো বিচার তাঁদের নিকট পৌঁছালে তাঁরা অবিলম্বে তাঁর রায় কার্যকর করতেন। তিনি রক্তপাত এবং হুদুদ ব্যতীত সকল বিষয়ে বিচার করতেন। আর রক্তপাত সংক্রান্ত বিষয়ের জন্য বিশেষ বিচারব্যবস্থা ছিল।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌قَضَاء الدِّمَاء:

كَانَ الْحَاكِم الفرنسي فِي الْبِلَاد يقْضِي بِالْقصاصِ فِي الْقَتْل بعد محاكمة ومرافعة وَاسِعَة النطاق وَبعد تمحيص الْقَضِيَّة وإنهاء المرافعة وصدور الحكم يعرض على عَالمين جليلين من عُلَمَاء الْبِلَاد ليصادقوا عَلَيْهِ ويسمي العلمين لجنة الدِّمَاء وَلَا ينفذ حكم الإعدام فِي الْقصاص إِلَّا بعد مصادقتهما عَلَيْهِ. وَقد كَانَ رحمه الله أحد أَعْضَاء هَذِه اللجنة وَلم يخرج من بِلَاده حَتَّى علا قدره وَعظم تَقْدِيره وَكَانَ علما من أعلامها وَمَوْضِع ثِقَة أَهلهَا وحكامها ومحكومها.
হত্যার বিচার:

দেশের ফরাসি শাসক একটি ব্যাপক বিচারিক প্রক্রিয়া ও দীর্ঘ সওয়াল-জওয়াবের পর হত্যার অপরাধে কিসাসের রায় প্রদান করতেন। বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই, শুনানি সম্পন্ন এবং রায় জারির পর তা দেশের দুজন বিজ্ঞ আলেমের নিকট পেশ করা হতো যেন তাঁরা তা অনুমোদন করেন। এই দুই আলেমকে ‘রক্ত বিষয়ক কমিটি’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। তাঁদের উভয়ের অনুমোদন ব্যতীত কিসাস হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো না। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ছিলেন এই কমিটির অন্যতম সদস্য। নিজ দেশ ত্যাগ করার পূর্বেই তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছিল এবং তিনি অশেষ সম্মানের অধিকারী হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সেদেশের প্রথিতযশা ব্যক্তিদের অন্যতম এবং দেশবাসী, শাসক ও শাসিত সকলের নিকট তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আস্থার পাত্র।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌خُرُوجه من بِلَاده رحمه الله:

كَانَ خُرُوجه من بِلَاده لأَدَاء فَرِيضَة الْحَج وعَلى نِيَّة العودة وَكَانَ سَفَره برا كتب فِيهِ رحْلَة ضمنهَا مبَاحث جليلة كَانَ آخرهَا مَبْحَث القضايا الموجهة فِي الْمنطق مَعَ عُلَمَاء أم درمان بالمعهد العلمي بالسودان.

وَبعد وُصُوله إِلَى هَذِه الْبِلَاد تَجَدَّدَتْ نِيَّة بَقَائِهِ، وَلَعَلَّ من الْخَيْر وَبَيَان الْوَاقِع ذكر سَبَب بَقَائِهِ: لقد كَانَ فِي بِلَاده كَغَيْرِهِ يسمع الدعاية ضد هَذِه الْبِلَاد باسم الوهابية إِلَّا أَن بعض الصدف قد تغير من وجهات النّظر (وَإِذا أَرَادَ الله
তাঁর নিজ দেশ থেকে প্রস্থান (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন):

হজের ফরজ বিধান পালন এবং পুনরায় ফিরে আসার নিয়তেই তিনি নিজ দেশ ত্যাগ করেছিলেন। তাঁর সফর ছিল স্থলপথে। এই সফর সম্পর্কে তিনি একটি ভ্রমণবৃত্তান্ত লিখেছিলেন যাতে তিনি বেশ কিছু উচ্চতর গবেষণামূলক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এর সর্বশেষ অংশটি ছিল সুদানের ওমদুরমান সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউটে ওমদুরমানের আলেমদের সাথে যুক্তিবিদ্যার 'মডাল প্রপোজিশন' (আল-কাদায়া আল-মুওয়াজ্জাহাহ) সংক্রান্ত আলোচনা।

এই দেশে পৌঁছানোর পর তাঁর এখানে অবস্থান করার নতুন সঙ্কল্প জাগ্রত হয়। তাঁর থেকে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করা সম্ভবত কল্যাণকর এবং বাস্তবতার সঠিক বহিঃপ্রকাশ হবে: তিনি তাঁর নিজ দেশে থাকাকালীন অন্যদের মতোই ওহাবিবাদের নামে এই দেশের বিরুদ্ধে নানাবিধ অপপ্রচার শুনতেন। তবে কিছু আকস্মিক ঘটনা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে দেয় (আর যখন আল্লাহ ইচ্ছা করেন...
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌أَولا فِي الْمَسْجِد النَّبَوِيّ:

يعْتَبر التدريس فِي الْمَسْجِد النَّبَوِيّ من أهم التدريس فِي كبريات جامعات الْعَالم فِي نشر الْعلم، وَهُوَ الجامعة الأولى للتشريع الإسلامي مُنْذُ عهد النُّبُوَّة وَحين كَانَ جِبْرِيل عليه السلام يَأْتِي لتعليم الْإِسْلَام فِي مجَالِس الرَّسُول صلى الله عليه وسلم، ومنذ كَانَت مجَالِس الْخُلَفَاء الرَّاشِدين وعلماء الصَّحَابَة رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ، إِذْ كَانَت الْمَدِينَة العاصمة العلمية، وظلت مُحَافظَة على مركزها العلمي وَلم تخل فِي زمن من الْأَزْمَان من عَالم يقوم بِحَق الله فِيهَا.

وَقبل مَجِيء الشَّيْخ رحمه الله كَانَ قبله الشَّيْخ الطّيب رحمه الله نفع الله بِهِ كثيرا وَتُوفِّي سنة 1363هـ فَكَانَ جُلُوس الشَّيْخ رحمه الله للتدريس فِي الْمَسْجِد النَّبَوِيّ امتداداً لما كَانَ قبله مَعَ من كَانَ من الْعلمَاء بِالْمَسْجِدِ النَّبَوِيّ آنذاك من تلاميذ الشَّيْخ الطّيب وَغَيرهم، وَكَانَ درس الشَّيْخ فِي التَّفْسِير ختم الْقُرْآن مرَّتَيْنِ.
প্রথমত মসজিদে নববীতে:

মসজিদে নববীতে শিক্ষাদান জ্ঞান প্রচারের ক্ষেত্রে বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাদানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। এটি নবুওয়াতের যুগ থেকেই ইসলামি শরীয়তের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, যখন জিবরীল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মজলিসগুলোতে ইসলাম শিক্ষা দিতে আসতেন; এবং যখন খুলাফায়ে রাশিদীন ও সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) আলেমগণের মজলিসসমূহ বিদ্যমান ছিল। যেহেতু মদিনা ছিল ইলমি রাজধানী, তাই এটি সর্বদা তার ইলমি কেন্দ্রিকতা বজায় রেখেছে এবং কোনো যুগই এমন কোনো আলেম থেকে শূন্য ছিল না, যিনি সেখানে আল্লাহর দ্বীনের যথাযথ হক আদায় করতেন।

শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর আগমনের পূর্বে সেখানে শাইখ আত-তাইয়িব (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন, আল্লাহ যার মাধ্যমে বহু মানুষকে উপকৃত করেছেন এবং তিনি ১৩৬৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। সুতরাং মসজিদে নববীতে শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর শিক্ষাদানের জন্য উপবেশন করা ছিল তাঁর পূর্বসূরি এবং তৎকালীন মসজিদে নববীর অন্যান্য আলেমদের—যাঁরা শাইখ আত-তাইয়িবের ছাত্র বা অন্য কেউ ছিলেন—তাদেরই একটি ধারাবাহিকতা। তাফসীর বিষয়ে শাইখের দরসে পূর্ণ কুরআন দুইবার খতম করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌منهجه فِي درسه:

من الْمَعْلُوم أَن التَّفْسِير لَا ينْحَصر فِي مَوْضُوع فَهُوَ شَامِل عَام بشمول الْقُرْآن وعمومه، فَكَانَ الْمنْهَج أَولا بَيَان الْمُفْردَات ثمَّ الْإِعْرَاب والتصريف ثمَّ البلاغة مَعَ إِيرَاد الشواهد على مَا يُورد.

ثمَّ يَأْتِي إِلَى الْأَحْكَام إِن كَانَ مَوْضُوع الْآيَة فقهاً فيستقصي باستنتاج الحكم وَبَيَان الْأَقْوَال وَالتَّرْجِيح لما يظْهر لَهُ، ويدعم ذَلِك بالأصول وَبَيَان الْقُرْآن وعلوم الْقُرْآن من عَام وخاص وَمُطلق ومقيد وناسخ ومنسوخ وَأَسْبَاب نزُول وَغير ذَلِك.

وَإِذا كَانَت الْآيَة فِي قصَص أظهر العبر من الْقِصَّة وَبَين تاريخها وَقد يرْبط الْحَاضِر بالماضي كربط تكشف النِّسَاء الْيَوْم بفتنة إِبْلِيس لحواء فِي الْجنَّة ينْزع عَنْهُمَا لباسهما ليريهما سوآتهما، وفتنته للجاهلية حِين طافوا بِالْبَيْتِ عرايا رجَالًا وَنسَاء وهاهو يستدرجهن فِي التكشف شَيْئا فَشَيْئًا، بَدَأَ بكشف الْوَجْه ثمَّ الرَّأْس
তাঁর পাঠদানের পদ্ধতি:

এটি সুবিদিত যে, তাফসীর কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কুরআনের ব্যাপকতা ও সাধারণত্বের ন্যায় এটিও ব্যাপক ও সাধারণ। তাই পদ্ধতিটি ছিল প্রথমে শব্দ বিশ্লেষণ, এরপর ব্যাকরণ ও শব্দরূপ, অতঃপর অলঙ্কারশাস্ত্র বর্ণনা করা এবং যা কিছু উল্লেখ করা হতো তার স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করা।

এরপর তিনি বিধানের আলোচনায় আসতেন। যদি আয়াতের বিষয়বস্তু ফিকহ (আইনতত্ত্ব) সংক্রান্ত হতো, তবে তিনি বিধান আহরণ, বিভিন্ন মতামতের বিশ্লেষণ এবং তাঁর নিকট যা অগ্রগণ্য মনে হতো তা নির্বাচনের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করতেন। তিনি একে মূলনীতি, কুরআনের বর্ণনা এবং উলূমুল কুরআন—যেমন: সাধারণ ও বিশেষ, শর্তহীন ও শর্তযুক্ত, রহিতকারী ও রহিত, অবতরণের প্রেক্ষাপট এবং অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমে সুদৃঢ় করতেন।

আর আয়াতটি যদি কাহিনী নির্ভর হতো, তবে তিনি সেই কাহিনী থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো ফুটিয়ে তুলতেন এবং এর ইতিহাস বর্ণনা করতেন। কখনো কখনো তিনি বর্তমানকে অতীতের সাথে সম্পৃক্ত করতেন; যেমন বর্তমানকালে নারীদের আব্রুহীনতাকে জান্নাতে হাওয়ার প্রতি ইবলিসের প্ররোচনার সাথে সম্পৃক্ত করা, যেখানে সে তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশের উদ্দেশ্যে তাদের পোশাক হরণ করেছিল। অনুরূপভাবে জাহেলি যুগে নারী-পুরুষের উলঙ্গ অবস্থায় কাবা ঘর তাওয়াফ করার ফিতনার সাথেও তিনি একে তুলনা করতেন। আর এভাবেই সে (শয়তান) তাদের ধাপে ধাপে আব্রুহীনতার দিকে প্রলুব্ধ করছে; যার সূচনা হয়েছিল মুখমণ্ডল উন্মোচনের মাধ্যমে, অতঃপর মাথা...
(খণ্ড: ১) মাআ সাহিবিল ফাদিলাহ ওয়ালিদিনাশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি রাহিমাহুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌آثاره فِي الرياض:

كَانَت مُدَّة اخْتِيَاره للتدريس بالرياض عشر سنوات دراسية يعود لقَضَاء العطلة بِالْمَدِينَةِ وَمَا كَانَ عمله فِي التدريس بالمعهد والكلية
রিয়াদে তাঁর অবদানসমূহ:

রিয়াদে শিক্ষকতা করার জন্য তাঁর নির্বাচনের সময়কাল ছিল দশটি শিক্ষাবর্ষ; তিনি ছুটি কাটানোর জন্য মদিনায় ফিরে যেতেন। আর ইনস্টিটিউট ও কলেজে তাঁর শিক্ষকতার কাজ ছিল...