(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: -)
من أحكام الفقه الإسلامي وما جاء في المعاملات الربوية وأحكام المداينة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: من أحكام الفقه الإسلامي وما جاء في المعاملات الربوية وأحكام المداينة
المؤلف: عبد الله بن جار الله بن إبراهيم آل جار الله
الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة
الطبعة: الثالثة، 1409هـ/1989م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 67
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের কতিপয় বিধান এবং সুদি লেনদেন ও ঋণ আদান-প্রদান সংক্রান্ত আহকামসমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের কতিপয় বিধান এবং সুদি লেনদেন ও ঋণ আদান-প্রদান সংক্রান্ত আহকামসমূহ
লেখক: আবদুল্লাহ বিন জারুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল জারুল্লাহ
প্রকাশক: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৯ হিজরি/১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
من أحكام الفقه الإسلامي وما جاء في المعاملات الربوية وأحكام المداينة
جمع الفقير إلى الله تعالى الشيخ: عبد الله بن جار الله بن إبراهيم الجار الله
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أحلّ ما ينفعنا، وحرّم علينا ما يضرّنا في ديننا ودنيانا وآخرتنا، رحمةً بنا وإحسانا إلينا. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، الذي ما ترك خيرًا إلا دلّنا عليه، ولا شرًّا إلاّ نهانا عنه وحذّرنا منه. صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وأصحابه وأتباعه إلى يوم الدين.
وبعد:
فقد طلب مني بعض الإخوان أن أُفرد من كتابي "بهجة الناظرين فيما يصلح الدنيا والدين" ما يتعلّق بالمعاملات الربوبية التي وقع فيها كثيرٌ من الناس، وطرق الكسب الحرام، تحذيرًا منها ومن سوء عاقبتها، وما يتعلّق بالاقتصاد في النفقات وأحكام المدايَنة. فأجبتهم إلى ذلك.
سائلاً الله تعالى أن ينفع بها من قرأها أو سمعها، وأن يعظِّم الأجر والمثوبة لمن كتبها، أو طبعها، أو نشرها، أو عمل بها.
ইসলামী ফিকহ-এর বিধানাবলি এবং সুদী লেনদেন ও ঋণসংক্রান্ত বিধানসমূহ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
আল্লাহর মুখাপেক্ষী শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে জারুল্লাহ ইবনে ইবরাহিম আল-জারুল্লাহ কর্তৃক সংকলিত
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহস্বরূপ আমাদের দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতে যা আমাদের জন্য কল্যাণকর তা হালাল করেছেন এবং যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর তা হারাম করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি এমন কোনো কল্যাণ নেই যার দিকে আমাদের পথনির্দেশ করেননি এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে আমাদের নিষেধ ও সতর্ক করেননি। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
আমার কতিপয় ভাই আমার নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন যেন আমি আমার রচিত "বাহজাতুন নাযিরিন ফীমা ইউসলিহুদ দুনয়া ওয়াদ্দীন" গ্রন্থ থেকে সুদী লেনদেন—যাতে অনেক মানুষ লিপ্ত হয়ে পড়েছে—এবং উপার্জনের হারাম পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তা পৃথকভাবে সংকলন করি; যাতে এগুলো এবং এগুলোর অশুভ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা যায়। সেই সাথে ব্যয়ে মিতব্যয়িতা ও ঋণসংক্রান্ত বিধানাবলিও অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেছেন। আমি তাঁদের সেই অনুরোধ রক্ষা করেছি।
মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর মাধ্যমে পাঠক ও শ্রোতাকে উপকৃত করেন এবং এর লেখক, মুদ্রণকারী, প্রকাশক ও আমলকারীর জন্য মহান প্রতিদান ও সওয়াব বৃদ্ধি করে দেন।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
وهو حسبنا ونعم الوكيل. ولا حول ولا قوة إلا بالله العليّ العظيم.
المؤلف.
তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা এবং কোনো শক্তি নেই।
লেখক।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
من أحكام الفه الإسلامي…من أحكام الفقه الإسلامي
الفقه: في اللغة: الفهم. ومعناه شرعا: معرفة الأحكام الشرعيّة بأدلّتها من القرآن الكريم، والسنة المطهّرة، والإجماع، والقياس الصحيح.
والأحكام الشرعيّة خمسة:
1 الواجب، يُثاب فاعله ويعاقب تاركه مثل: الصلاة، والزكاة، والصوم، والحج، وبِرّ الوالدين، وصلة الأرحام، والإحسان إلى الجيران، والصدق في الحديث، وأداء الأمانة، ونحو ذلك.
2 الحرام ضدّه، يثاب تاركه ويعاقب فاعله مثل: الزنا، والسرقة، وشرب الخمر، وعقوق الوالدين، وقطيعة الأرحام، والمعاملة بالربا، وحلق اللحى، وشرب الدخان، وتصوير ذوات الأرواح من الأدميِّين والبهائم، ونحو ذلك كالأغاني.
3 المسنون، ومثله المستحب والمندوب، يثاب فاعله ولا يعاقب تاركه مثل: نوافل الصلاة، والصدقة، والصوم، والحج، والذكر، والدعاء، والاستغفار.
ইসলামি ফিকহের (الفقه) কিছু বিধিবিধান…ইসলামি ফিকহের (الفقه) বিধিবিধানসমূহ থেকে
ফিকহ (الفقه): শাব্দিক অর্থে: অনুধাবন করা। আর শরীয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হলো: পবিত্র কুরআন, পবিত্র সুন্নাহ, ঐকমত্য (الإجماع) এবং সঠিক কিয়াস বা অনুমানের (القياس الصحيح) দলিলের ভিত্তিতে শারয়ী বিধিবিধান (الأحكام الشرعية) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
শারয়ী বিধিবিধান (الأحكام الشرعية) পাঁচটি:
১. আবশ্যক (الواجب): এটি পালনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হয় এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয়। যেমন: নামাজ, জাকাত, রোজা, হজ, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার, কথায় সত্যবাদিতা, আমানত রক্ষা এবং এই জাতীয় কাজসমূহ।
২. নিষিদ্ধ (الحرام): এটি এর বিপরীত; অর্থাৎ এটি বর্জনকারী সওয়াব পায় এবং লিপ্ত ব্যক্তি শাস্তির সম্মুখীন হয়। যেমন: ব্যভিচার, চুরি, মদ্যপান, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, সুদ (الربا) ভিত্তিক লেনদেন, দাড়ি মুণ্ডন, ধূমপান, মানুষ ও পশুর প্রতিকৃতি অঙ্কন এবং এই জাতীয় বিষয় যেমন গান-বাজনা।
৩. সুন্নতসম্মত (المسنون): এরই অনুরূপ হলো পছন্দনীয় (المستحب) এবং প্রশংসনীয় (المندوب); এটি পালনকারী সওয়াব পায় কিন্তু বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয় না। যেমন: নফল (نوافل) নামাজ, দান-সদকা, রোজা, হজ, জিকির (الذكر), দোয়া (الدعاء) এবং ইস্তিগফার (الاستغفار)।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
4 المكروه ضده، يثاب تاركه ولا يعاقب فاعله مثل: تقديم اليسار عند دخول المسجد، واليمين عند دخول الحمّام، وفرقعة الأصابع في الصلاة وتشبيكها
5 المباح، فعله وتركه سواء مثل: فضول الأكل والشرب والنوم والمشي.
وينقسم الواجب إلى:
فرض عين: يطلب حصوله من كل مسلم بالغ عاقل. مثل: أصول الإيمان الستّة، وأركان الإسلام الخمسة.
وإلى فرض كفاية: يطلب حصوله من عموم المسلمين، إذا قام به بعضهم سقط الإثم عن الباقين، كتعلُّم العلوم والصناعات النافعة، والجهاد، والأذان، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وكلّ ما فيه مصلحة خالصة أو راجحة أمر به الإسلام، وكلّ ما فيه مفسدة خالصة أو راجحة نهى عنه.
وقد أباح الله لنا كلّ طيِّب نافع، وحرّم علينا كلّ خبيث أو ضار لأجسامنا وعقولنا وأموالنا؛ رحمةً بنا وإحسانا إلينا، قال الله تعالى في وصف نبينا محمد صلى الله عليه وسلم: {وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ} 1، وقال تعالى: {هُوَ
--------------------------------------------
৪ মাকরূহ (المكروه) তার বিপরীত; এর বর্জনকারী সওয়াবপ্রাপ্ত হয় এবং সম্পাদনকারী শাস্তিপ্রাপ্ত হয় না। যেমন: মসজিদে প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেওয়া এবং শৌচাগারে প্রবেশের সময় ডান পা আগে দেওয়া, সালাতে আঙুল ফোটানো এবং আঙুলসমূহ একে অপরের ভেতরে ঢোকানো (تشبيكها)।
৫ মুবাহ (المباح), যার করা এবং বর্জন করা সমান। যেমন: অতিরিক্ত পানাহার, নিদ্রা এবং চলাফেরা।
ওয়াজিব (الواجب) দুই ভাগে বিভক্ত:
ফরজে আইন (فرض عين): এটি প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলিমের নিকট থেকে ব্যক্তিগতভাবে কাম্য। যেমন: ইমানের ছয়টি মূল ভিত্তি এবং ইসলামের পাঁচটি রুকন।
এবং ফরজে কিফায়া (فرض كفاية): এটি মুসলিমদের সমষ্টির নিকট থেকে কাম্য; যদি তাদের একাংশ তা সম্পাদন করে, তবে অবশিষ্টদের ওপর থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যায়। যেমন: উপকারী জ্ঞান ও শিল্পকলা শিক্ষা করা, জিহাদ (الجهاد), আজান, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং এমন সব বিষয় যাতে নিরঙ্কুশ বা প্রবল কল্যাণ রয়েছে ইসলাম তার নির্দেশ দিয়েছে, আর যাতে নিরঙ্কুশ বা প্রবল অনিষ্ট রয়েছে তা থেকে নিষেধ করেছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতি রহমত ও অনুগ্রহস্বরূপ সকল পবিত্র ও উপকারী বস্তু আমাদের জন্য বৈধ (أباح) করেছেন এবং আমাদের শরীর, বুদ্ধি ও সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বা অপবিত্র সকল বস্তু আমাদের ওপর হারাম (حرّم) করেছেন। মহান আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনায় বলেন: {তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের ওপর হারাম করেন} ১। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তিনিই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً} 1، وقال: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَاشْكُرُوا لِلَّهِ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ} 2.
ويجب على كلِّ مسلم مكلّف: أن يتعلّم من الفقه كل ما يحتاج إليه في عباداته ومعاملاته، ليعبد الله على علم، وليكون على بصيرة من أمره، وليفهم كيف يصلِّي؟ وكيف يزكِّي؟، وكيف يصوم؟، وكيف يحج؟، وكيف يبيع؟، وكيف يشتري؟. فلا يُعذر أحدٌ بالجهل، لأن الله ركّب فينا العقول، وأرسل الرسول، وأنزل القرآن، وقامت حجة الله على عباده، ومن لا يستطيع أن يتعلّم فليسأل أهل العلم، قال تعالى: {فَاسْأَلوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُون} 3.
ويجب على المسلم أن يتعلّم العلم والفقه في دين الله، ثم يعمل به ويدعو إليه، ويصبر على ذلك. قال تعالى: {وَالْعَصْرِ إِنَّ الأِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ إِلاّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} .
وقال تعالى: {فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ
--------------------------------------------
{যিনি তোমাদের জন্য যমীনে যা কিছু আছে তার সবকিছু সৃষ্টি করেছেন} ১, এবং তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যে পবিত্র রিযিক দান করেছি তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো} ২।
প্রত্যেক দায়িত্বশীল মুসলিমের ওপর আবশ্যক: ফিকহ থেকে এমন সব বিষয় শিক্ষা করা যা তার ইবাদত ও লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়, যাতে সে ইলমের সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে এবং নিজ দ্বীনি বিষয়ের ওপর প্রজ্ঞাবান হতে পারে; আর সে বুঝতে পারে কীভাবে সালাত আদায় করবে? কীভাবে যাকাত প্রদান করবে? কীভাবে সিয়াম পালন করবে? কীভাবে হজ পালন করবে? কীভাবে বিক্রয় করবে এবং কীভাবে ক্রয় করবে? অজ্ঞতার ওজুহাতে কেউ দায়মুক্ত হবে না; কেননা আল্লাহ আমাদের মাঝে বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন, রাসূল পাঠিয়েছেন, কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর যে ব্যক্তি শিখতে সক্ষম নয়, সে যেন জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করে। মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} ৩।
একজন মুসলিমের ওপর আবশ্যক হলো দ্বীনের ইলম ও ফিকহ অর্জন করা, অতঃপর সে অনুযায়ী আমল করা, তার প্রতি দাওয়াত দেওয়া এবং সে বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করা। মহান আল্লাহ বলেন: {সময়ের কসম, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত; তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে}।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {কেন তাদের প্রতিটি বড় দল থেকে একটি অংশ বের হয় না...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} 1.
فالعلم بما يجب لله على عباده فرض عين، أما بقيّة أنواع العلوم كعلوم الصناعة والزراعة والطب والهندسة، وعلم القضاء والإفتاء؛ فهذه فرض كفاية، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "من يُرِدِ الله به خيرًا يفقِّهه في الدين" يعني: يوفِّقه للعلم والعمل به. والحديث متّفق عليه.
ومفهوم الحديث: أن من لم يُرِد الله به خيرًا أعرض عن طلب العلم النافع والعمل به، فأصبح من الخاسرين.
قال العلماء: "وطريقة التفقّه في الدّين: أن يحفظ الطالب في كل فنّ أصلاً يبني عليه، فأول ذلك: يفهم القرآن الكريم وما فيه من الأوامر فيمتثلها، والنواهي فيجتنبها، ثم السنة المطهّرة، يحفظ فيها مختصرًا ككتاب "عمدة الأحكام في أحاديث خير الأنام"، ثم يحفظ مختصرًا في الفقه، مثل: "عمدة الفقه" عند الحنابلة، و"قرة عيون الأبصار" عند الأحناف، و"مختصر خليل" عند المالكيّة، و "مختصر المزني" أو "منهاج الطالبين" للنووي عند الشافعية. ومورد هذه المذاهب وهذه
--------------------------------------------
{যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন (يتفقهوا) করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের নিকট ফিরে আসবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়।} ১।
বান্দাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে যা অবধারিত তা জানা ফরজ আইন (فرض عين), আর অন্যান্য জ্ঞান যেমন শিল্প, কৃষি, চিকিৎসা ও প্রকৌশল এবং বিচার ও ফতোয়া প্রদানের জ্ঞান হলো ফরজ কেফায়া (فرض كفاية)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (يفقِّهه) দান করেন।" অর্থাৎ: তাকে ইলম এবং সেই অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متّفق عليه)।
হাদিসের মর্মার্থ (مفهوم) হলো: আল্লাহ যার কল্যাণ চান না, সে উপকারী ইলম অর্জন ও তার ওপর আমল করা থেকে বিমুখ থাকে, ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
উলামায়ে কেরাম বলেছেন: "দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের (التفقّه) পদ্ধতি হলো: ছাত্র প্রতিটি শাস্ত্রে একটি মূল পাঠ (أصلاً) মুখস্থ করবে যার ওপর ভিত্তি করে সে ইলম গড়ে তুলবে। এর মধ্যে সর্বপ্রথম হলো: পবিত্র কুরআন এবং এর মধ্যকার আদেশসমূহ অনুধাবন করে তা পালন করা এবং নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকা। এরপর পবিত্র সুন্নাহ; এতে সে একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ (مختصرًا) মুখস্থ করবে যেমন: উমদাতুল আহকাম ফি আহাদিসি খাইরিল আনাম গ্রন্থটি। এরপর সে ফিকহ শাস্ত্রের একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ (مختصرًا) মুখস্থ করবে, যেমন: হাম্বলিদের নিকট উমদাতুল ফিকহ, হানাফিদের নিকট কুররাতু উয়ুনিল আবসার, মালিকিদের নিকট মুখতাসার খলিল এবং শাফেয়িদের নিকট মুখতাসার আল-মুযানী অথবা ইমাম নববীর মিনহাজুত তালিবীন। আর এই মাযহাবসমূহের উৎস এবং এই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الكتب واحد وهو القرآن والسنة، وغالبها متّفق عليه والحمد لله، وإنما اختلفوا في فهم بعض النصوص أو في صحّتها وضعفها، وكلهم مجتهدون، رحمهم الله تعالى وغفر لنا ولهم.
اللهم ربَّ جبريل وميكائيل وإسرافيل، فاطر السموات والأرض، عالِمَ الغيب والشهادة، أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون، اهدنا لِمَا اختُلف فيه من الحق بإذنك، إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم.
وصلى الله على عبده ورسوله محمد وعلى آله وصحبه وسلم
কিতাবসমূহ এক আর তা হলো কুরআন ও সুন্নাহ, এবং সেগুলোর অধিকাংশের ওপর সর্বসম্মত (متفق عليه) সিদ্ধান্ত রয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। তাঁরা কেবল কিছু নস বা পাঠ্যের মর্মার্থ অনুধাবনে অথবা তার বিশুদ্ধতা (صحيح) ও দুর্বলতা (ضعيف) বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁরা সকলেই ইজতিহাদকারী (مجتهد), মহান আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং আমাদের ও তাঁদের ক্ষমা করুন।
হে আল্লাহ, জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের প্রতিপালক, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগতের পরিজ্ঞাত, আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করত আপনিই তাঁদের মধ্যে সে বিষয়ে ফয়সালা করবেন। যে বিষয়ে সত্য নিয়ে মতভেদ ঘটেছে, সেখানে আপনার অনুমতিক্রমে আমাদের সত্যের দিশা দিন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।
আর আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الاقتصاد في النفقاتالتوسط والاعتدال في إنفاق النفقات خلق فاضل، بين خُلُقين مذمومين متطرِّفين، وهما: الإسراف والتبذير، والبخل، والشُّح، والتَّقْتير.
فإن الله تعالى امتنّ على العباد بالأموال ليشكروها باستعمالها في مرضاته، وليقوم بها أَوَدُهم1، ويُنفقوا منها في الواجبات والمستحبّات، وحرّم عليهم تبذيرها والإسراف في إنفاقها في غير الوجوه المشروعة، قال تعالى:
--------------------------------------------
ব্যয়ে মিতব্যয়িতাব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা ও পরিমিতিবোধ হলো একটি মহৎ গুণ, যা দুটি চরম ও নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্যের মধ্যবর্তী; আর তা হলো: অপব্যয় ও অপচয় এবং কৃপণতা, লালসা ও সংকীর্ণতা।
কেননা আল্লাহ তাআলা বান্দাদের ধন-সম্পদ দান করে অনুগ্রহ করেছেন যেন তারা তা তাঁর সন্তুষ্টির পথে ব্যবহারের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং এর দ্বারা যেন তাদের অভাব-অনটন১ দূর হয়, আর তারা তা ওয়াজিব ও মুস্তাহাব খাতে ব্যয় করে। আর তিনি তাদের জন্য শরিয়ত বহির্ভূত পথে সম্পদ অপচয় ও অপব্যয় করা হারাম করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
{وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} 1 وإذا كان لا يحبّهم فهو يبغضهم ويَمْقتهم.
والسرف: إما أن يكون بالزيادة على القدر الكافي، والسرف بالمأكولات التي تضرّ بالجسم. وإما أن يكون بزيادة الشَّرَه والتنوّع في المآكِل والمشارِب والملابس فوق الحاجة. وإما بتجاوز الحلال إلى الحرام.
فالسرف يبغضه الله، ويضر بدن الإنسان ومعيشته، حتى ربما أدّت به الحال إلى أن يعجز عن ما يجب عليه من النفقات.
وفي الحديث: " كلوا واشربوا والبسوا وتصدّقوا في غير إسراف ولا مخيلة " رواه أحمد والنسائي وابن ماجه والحاكم بإسناد صحيح.
وقد نعى الله على قوم تعجّلوا شهواتهم، وأذهبوا طيّباتهم في هذه الحياة، فقال: {أَذْهَبْتُمْ طَيِّبَاتِكُمْ فِي حَيَاتِكُمُ الدُّنْيَا وَاسْتَمْتَعْتُمْ بِهَا فَالْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَبِمَا كُنْتُمْ تَفْسُقُونَ} 2.
وقال تعالى: {إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ} 3 أي: أشباههم في السَّفَه، والتبذير، وترك
--------------------------------------------
{আর তোমরা পানাহার করো এবং অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।} ১ এবং যেহেতু তিনি তাদের পছন্দ করেন না, তাই তিনি তাদের ঘৃণা ও অপছন্দ করেন।
আর অপব্যয় (السرف): হয় প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণের মাধ্যমে, অথবা এমন সব আহার্য গ্রহণের মাধ্যমে যা শরীরের ক্ষতি করে। অথবা তা হতে পারে মাত্রাতিরিক্ত লালসা এবং প্রয়োজন ব্যতিরেকে পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছদে বৈচিত্র্য আনয়নের মাধ্যমে। অথবা বৈধতার সীমা অতিক্রম করে হারামের (নিষিদ্ধ) দিকে চলে যাওয়ার মাধ্যমে।
সুতরাং অপব্যয়কে আল্লাহ ঘৃণা করেন এবং এটি মানুষের শরীর ও জীবনযাত্রার ক্ষতি সাধন করে, এমনকি কখনো কখনো পরিস্থিতি তাকে তার ওপর অর্পিত আবশ্যকীয় ব্যয়ভার বহনে অক্ষম করে দেয়।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা পানাহার করো, পরিধান করো এবং দান করো; তবে তাতে যেন অপব্যয় (إسراف) এবং অহংকার (مخيلة) না থাকে।" এটি আহমদ, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ এবং হাকেম একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায়ের নিন্দা করেছেন যারা তাদের প্রবৃত্তিকে ত্বরান্বিত করেছিল এবং তাদের পবিত্র বস্তুসমূহ এই পার্থিব জীবনেই নিঃশেষ করে ফেলেছিল। তিনি বলেন: {তোমরা তোমাদের পার্থিব জীবনেই তোমাদের পবিত্র বস্তুসমূহ নিঃশেষ করে দিয়েছ এবং সেগুলো ভোগ করেছ। সুতরাং আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে, যেহেতু তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করতে এবং যেহেতু তোমরা পাপাচার করতে।} ২।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।} ৩ অর্থাৎ: নির্বুদ্ধিতা, অপচয় এবং বর্জনের ক্ষেত্রে তারা শয়তানেরই সদৃশ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
طاعة الله، وارتكاب معصيته. فإن الشيطان يدعو إلى كل خصلة ذميمة؛ فيدعو الإنسان إلى الشح، والبخل، والإمساك، فإنْ عصاه دعاه إلى الإسراف والتبذير، وإنفاق الأموال بالباطل والمحرّمات؛ كاشتراء الاسطوانات والبكمات والأشرطة التي سُجِّلت فيها الأغاني المحرّمة، واشتراء الصور ذوات الأرواح، وكإنفاق المال في الدخّان الخبيث الضار بالصحّة والاقتصاد. فكلّ ذلك وما في معناه فالنفقة فيه نفقة بغير حق، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنّ رجالاً يتخوّضون في مال الله بغير حقّ فلهم النار يوم القيامة" أخرجه البخاري.
وقد مدح الله المؤمنين بالعدل في إنفاقهم بقدر الحاجة، فقال: {وَالَّذِينَ إِذَا أَنْفَقُوا لَمْ يُسْرِفُوا وَلَمْ يَقْتُرُوا وَكَانَ بَيْنَ ذَلِكَ قَوَاماً} 1 أي: لم تصل نفقتهم إلى حدِّ السَّرَف، ولم تنقص إلى حد البُخل، وكان إنفاقهم بين البخل والتبذير بقدر ما تقوم به حاجتهم، وتندفع به ضروراتهم.
وقد حدَث التوسُّع الزائد في هذه الأوقات في النفقات والولائم والحفلات، حتى وصلت إلى حدِّ الإسراف والتبذير.
--------------------------------------------
আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর নাফরমানি করা। নিশ্চয়ই শয়তান প্রতিটি নিন্দনীয় আচরণের দিকে আহ্বান করে; সে মানুষকে চরম কার্পণ্য (الشح), কৃপণতা (البخل) এবং সম্পদ কুক্ষিগত করার (الإمساك) দিকে প্ররোচিত করে। অতঃপর যদি মানুষ তার অবাধ্য হয়, তবে সে তাকে অপচয় (الإسراف) ও অপব্যয়ের (التبذير) দিকে এবং অন্যায় ও হারাম পথে সম্পদ ব্যয় করার দিকে আহ্বান জানায়; যেমন—নিষিদ্ধ গান রেকর্ডকৃত ডিস্ক, গ্রামোফোন ও ক্যাসেট ক্রয় করা, প্রাণীর ছবি ক্রয় করা এবং স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর অপবিত্র ধূমপানে অর্থ ব্যয় করা। এ জাতীয় প্রতিটি ব্যয়ই হচ্ছে অন্যায় পথে ব্যয়। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিছু লোক আল্লাহর সম্পদে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ মুমিনদের ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের প্রশংসা করে বলেছেন: "এবং তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না, বরং তারা এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পন্থায় থাকে।" ১ অর্থাৎ: তাদের ব্যয় অপচয়ের (السرف) সীমায় পৌঁছায় না এবং কৃপণতার (البخل) স্তরেও নেমে যায় না; বরং তাদের ব্যয় ছিল কৃপণতা ও অপব্যয়ের মাঝামাঝি এমন পরিমিত পর্যায়ে, যা দ্বারা তাদের প্রয়োজন পূরণ হয় এবং অভাব দূর হয়।
বর্তমান সময়ে ব্যয়, ওয়ালিমা ও অনুষ্ঠানাদিতে মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি দেখা দিয়েছে, যা অপচয় (الإسراف) ও অপব্যয়ের (التبذير) পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وهذا ضررٌ عظيم مخالِفٌ للشرع، ومضارُّه شاملة للغني والفقير.
وقد جعل الله الأموال قياما للناس، تقوم بها المصالح والمنافع، فمن صرفها في غير وجهها الشرعي فقد ضيّع الأمانة المُلْقاة على عاتقه، وهذا النوع من النفقة لم يضمن الله للمنفق خلفها.
إنّ هذا التوسُّع يُرغم العاجزين ومن ليس لهم مقدرة بالتزام ذلك مجاراة للأغنياء والقادرين، فلو أن الرؤساء والأغنياء الذين هم قدوة لغيرهم التزموا الاقتصاد في النفقات، واتّفقوا عليه، لشكروا على ذلك، وكان فيه خير للمجتمع، قال تعالى في الحَثِّ على هذا السبيل: {وَلا تَجْعَلْ يَدَكَ مَغْلُولَةً إِلَى عُنُقِكَ وَلا تَبْسُطْهَا كُلَّ الْبَسْطِ فَتَقْعُدَ مَلُوماً مَحْسُوراً} 1 فإنك إن قصّرت بالنفقات، وبخلت بالواجبات؛ لامك الناس على الإمساك، ولاموك على البخل، وإن أسرفت في الإنفاق فوق طاقتك، نفد ما عندك، فأصبحت حاسر اليد فارغها. فالاقتصاد من أسباب بقاء المعيشة ودوامها فإنه "ما عالَ من اقتصد".
والسخاء المحمود شرعا: هو بذل ما يُحتاج إليه، وأن يوصل ذلك إلى مستحقّه بقدر الإمكان. وليس كما قيل: "حدّ
--------------------------------------------
এটি একটি বিশাল ক্ষতি যা শরীয়তের পরিপন্থী এবং এর অপকারিতা ধনী-দরিদ্র সবার জন্য অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ সম্পদকে মানুষের জীবনধারণের অবলম্বন করেছেন, যার মাধ্যমে বিভিন্ন স্বার্থ ও উপকারিতা সাধিত হয়। সুতরাং, যে ব্যক্তি একে শরীয়তসম্মত পথ ব্যতিরেকে অন্য পথে ব্যয় করে, সে তার ওপর অর্পিত আমানত বিনষ্ট করল। আর এই ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে আল্লাহ ব্যয়কারীর জন্য কোনো প্রতিদানের নিশ্চয়তা দেননি।
এই বিলাসিতা ও অপব্যয় অক্ষম এবং যাদের সামর্থ্য নেই তাদের ধনী ও সামর্থ্যবানদের সাথে তাল মেলাতে বাধ্য করে। যদি নেতৃবৃন্দ ও ধনী ব্যক্তিরা—যারা অন্যদের জন্য আদর্শ—ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা অবলম্বন করতেন এবং এ বিষয়ে একমত হতেন, তবে তারা এর জন্য প্রশংসিত হতেন এবং এতে সমাজের জন্য কল্যাণ নিহিত থাকত। মহান আল্লাহ এই পথের উৎসাহ দিয়ে বলেন: {তোমার হাত তোমার গ্রীবার সাথে আবদ্ধ করে রেখো না এবং তা সম্পূর্ণ প্রসারিতও করো না, তাহলে তুমি নিন্দিত ও নিঃস্ব হয়ে পড়বে} ১। কারণ তুমি যদি ব্যয়ে কৃপণতা করো এবং আবশ্যিক কার্যাবলীতে কার্পণ্য করো, তবে মানুষ কৃপণতার জন্য তোমাকে তিরস্কার ও দোষারোপ করবে; আর যদি তুমি তোমার সামর্থ্যের অতিরিক্ত অপব্যয় করো, তবে তোমার কাছে যা আছে তা ফুরিয়ে যাবে এবং তুমি রিক্তহস্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়বে। সুতরাং মিতব্যয়িতা জীবনযাত্রার স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতার অন্যতম কারণ, কেননা "যে মিতব্যয়ী হয় সে কখনো অভাবগ্রস্ত হয় না"।
আর শরীয়তের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয় বদান্যতা হলো—প্রয়োজনীয় বস্তু দান করা এবং যথাসম্ভব তা হকদারের নিকট পৌঁছে দেওয়া। এটি এমন নয় যা বলা হয়েছে: "সীমা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الجود بذل الموجود"، ولو كان كذلك لانتفى اسم السرف والتبذير، اللذين ورد الكتاب بذمّهما، وجاءت السنة بالنهي عنهما، فمن كان سخيا سمّي كريما مستوجبا للحمد، ومن قصَّر عنه سمّي بخيلاً مستوجبا للذم.
والسخيّ قريب من الله، قريب من خلقه، قريب من الجنة، بعيد من النار.
والبخيل بعيد من الله، بعيد من خلقه، بعيد من الجنة، قريب من النار1.
فجود الرجل يقرِّبه إلى أعدائه، وبخله يُبغضه إلى أولاده.
فالكريم المتصدِّق يعطيه الله ما لا يُعطي البخيل الممسك، ويوسِّع عليه في ذاته وخُلُقِه ورزقِه ونفسِه وأسباب معيشته جزاءً له من جنس عمله: {وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} 2.
وبالله التوفيق، وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه وسلم
نصيحة
أيها المسلم: أنت أخ كريم، أنت مسلم عاقل، تؤمن
--------------------------------------------
"দানশীলতা হলো যা বিদ্যমান তা বিলিয়ে দেওয়া।" যদি বিষয়টি কেবল এমনই হতো, তবে অপব্যয় (سرف) ও অপচয় (تبذير) শব্দ দুটির আর কোনো অবকাশ থাকত না, অথচ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এই দুটির নিন্দা করা হয়েছে এবং সুন্নাহ (سنة)-তে এ ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি দানশীল (سخي), তাকে মহৎ (كريم) হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং সে প্রশংসার যোগ্য হয়; আর যে ব্যক্তি এতে ত্রুটি করে তাকে কৃপণ (بخيل) বলা হয় এবং সে নিন্দার যোগ্য বিবেচিত হয়।
দানশীল (سخي) ব্যক্তি আল্লাহর নিকটবর্তী, তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী, জান্নাতের নিকটবর্তী এবং জাহান্নাম থেকে দূরবর্তী।
আর কৃপণ (بخيل) ব্যক্তি আল্লাহ থেকে দূরে, তাঁর সৃষ্টি থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী।১
বস্তুত মানুষের দানশীলতা তাকে তার শত্রুদের নিকটও প্রিয় করে তোলে, আর তার কার্পণ্য তাকে তার সন্তানদের নিকটও ঘৃণিত করে ফেলে।
অতএব, মহৎ দানকারী (متصدق)-কে আল্লাহ তাআলা এমন কিছু দান করেন যা তিনি কৃপণ ও সম্পদ কুক্ষিগতকারী ব্যক্তিকে প্রদান করেন না; এবং আল্লাহ তার সত্তা, চরিত্র, রিজিক, নফস ও জীবনোপকরণের উপায়-উপকরণসমূহে প্রশস্ততা দান করেন—তার কর্মের অনুরূপ প্রতিদান হিসেবে: "আর যাদেরকে হৃদয়ের কার্পণ্য হতে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম।"২
আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক প্রার্থনা করছি। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
উপদেশ
হে মুসলিম: আপনি একজন মহৎ ভাই, আপনি একজন বিবেকবান মুসলিম, আপনি বিশ্বাস করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بالله واليوم الآخِر، وتحب ما ينفع، وتكره ما يضر، وتحب الحلال، وتكره الحرام.
أسأل الله تعالى أن يكون كسبك حلالاً، ليكون عملك مقبولاً، ودعاؤك مستجابا.
أخي المسلم: أذكِّرك أن المعاملة بالربا حرام، سواء عن طريق بيع الجنس بجنسه مع الزيادة في أحدهما، أو بغير جنسه مؤجَّلاً، أو غير مقبوض، أو بأن يقرضه قرضا مقابل منفعة، فكل قرض جرَّ نفعا فهو ربا، أو عن طريق البنوك بإيداعٍ فيها وأخذ فوائد ربويّة، أو بالاستقراض منها بفوائد ربوبيّة، أو عن طريق المدايَنة مثلاً: العشر اثنا عشر، أو أقل أو أكثر، أو بقلب الدين على المعسر الواجب إنظارُه، أو يقول: استدن مني وأوفِني، أو يبيع سلعة إلى أَجل ثم يشتريها بأقلّ منه نقدًا.
فكلُّ هذه المعاملات من الربا المحرّم، الملعون فاعله، المتوعَّد عليه بأشد وعيد، لأن الربا من كبائر الذنوب، وقد أحلّ الله البيع وحرّم الربا.
عن جابر رضي الله عنه قال: "لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم آكِل الربا وموكِله وكاتبه وشاهديْه، وقال، "هم سواء" " رواه مسلم وغيره.
فاللعن معناه: الطرد والإبعاد عن رحمة الله، فكلُّ من
আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের প্রতি (বিশ্বাস রাখেন), এবং যা কল্যাণকর তা ভালোবাসেন ও যা ক্ষতিকর তা অপছন্দ করেন, এবং হালালকে (حلال) পছন্দ করেন ও হারামকে (حرام) ঘৃণা করেন।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন আপনার উপার্জন হালাল (حلال) হয়, যাতে আপনার আমল কবুল হয় এবং আপনার প্রার্থনা কবুল হয়।
হে আমার মুসলিম ভাই: আমি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, সুদের (الربا) কারবার হারাম (حرام); চাই তা সমজাতীয় পণ্যের বিনিময়ে কোনো একটির পরিমাণ বৃদ্ধির মাধ্যমে হোক, অথবা ভিন্ন জাতীয় পণ্যের বিনিময়ে বিলম্বে (مؤجَّلاً) পরিশোধের শর্তে হোক, অথবা হস্তগত (غير مقبوض) না করার মাধ্যমে হোক, অথবা কোনো উপকারের বিনিময়ে কাউকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে হোক। কেননা প্রত্যেক ঋণ যা কোনো উপকার বয়ে আনে তা-ই সুদ (الربا)। অথবা ব্যাংকে আমানত রেখে সুদি মুনাফা গ্রহণ, কিংবা ব্যাংক থেকে সুদে ঋণ গ্রহণ করা, অথবা লেনদেনের ক্ষেত্রে—যেমন দশের বিনিময়ে বারো, বা কম-বেশি গ্রহণ করা, অথবা সংকটাপন্ন ঋণী ব্যক্তি যাকে অবকাশ দেওয়া ওয়াজিব (الواجب), তার ঋণের বোঝা বৃদ্ধি করে দেওয়া, অথবা কাউকে বলা: ‘আমার থেকে ঋণ নাও এবং আমাকে (অতিরিক্তসহ) পরিশোধ করো’, অথবা কোনো পণ্য বাকিতে বিক্রি করে পুনরায় তা নগদে বিক্রীত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ক্রয় করা।
এই সমস্ত লেনদেনই নিষিদ্ধ (المحرم) সুদের অন্তর্ভুক্ত, যার লিপ্ত ব্যক্তি অভিশপ্ত এবং যার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে। কেননা সুদ কবিরা গুনাহের (كبائر الذنوب) অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল (حلال) করেছেন এবং সুদকে হারাম (حرام) করেছেন।
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) সুদ ভক্ষণকারী, সুদ দাতা, সুদের লেখক এবং তার দুই সাক্ষীর ওপর লানত করেছেন এবং বলেছেন, 'তারা সকলেই সমান'।" এটি মুসলিম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
অভিশাপ বা লানতের অর্থ হলো: আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত ও দূর করে দেওয়া। সুতরাং যে ব্যক্তিই
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يتعامل بالربا، وكل موظّف في بنك يتعامل بالربا، أو في متجر يتعامل بالربا؛ فإنه ملعون على لسان محمد صلى الله عليه وسلم.
وآكِل الربا والمتعامِل به محارب لله ورسوله صلى الله عليه وسلم، ومن حارب الله فهو مهزوم، وهو مجرّب لسوء الخاتمة نعوذ بالله من ذلك.
لذا يجب على المسلم أن يتّقيَ الله في نفسه، وأن يبتعد عن المعاملات الربويّة، وعن جميع أنواع الحرام ومكاسبه وطرقه، وأن يتوب إلى الله تعالى قبل أن يموت، فيندم حين لا ينفعه الندم.
اللهم تُب علينا إنك أنت التوّاب الرحيم، اللهم اكفنا بحلالك عن حرامك، وبطاعتك عن معصيتك، وبفضلك عمّن سواك.
وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
فائدة
أما المعاملات المشروعة التي هي حلال ومباحه فهي البيع والشراء بصدق وأمانة، والقرض بدون فائدة، وبيع السلم بأن تدفع نقودًا بسلعة معلومة إلى أجل معلوم.
ومن الجائز عند الجمهور أن تبيع سلعة بأكثر من ثمنها الحالي إلى أجل معلوم، وفي الحلال بركة وكفاية عن الحرام وبالله التوفيق
যে সুদের (ربা) কারবার করে, এবং ব্যাংকের প্রত্যেক কর্মচারী যারা সুদের (ربা) সাথে সম্পৃক্ত, অথবা দোকানে যারা সুদের (ربা) লেনদেন করে; সে মুহাম্মদ (সা.)-এর জবানিতে অভিশপ্ত।
সুদ গ্রহণকারী এবং সুদের (ربা) কারবারী আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করে সে পরাজিত হয় এবং সে অশুভ পরিণতির (سوء الخاتمة) আশঙ্কায় থাকে; আমরা এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।
তাই একজন মুসলিমের উচিত নিজের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা এবং সুদি (ربا) লেনদেনসহ সকল প্রকার হারাম উপার্জন ও পথ থেকে দূরে থাকা। তার উচিত মৃত্যুর পূর্বেই আল্লাহর নিকট তওবা করা, অন্যথায় সে এমন সময় অনুতপ্ত হবে যখন অনুশোচনা কোনো কাজে আসবে না।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের তওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের হারামের পরিবর্তে আপনার হালাল দ্বারা, আপনার অবাধ্যতার পরিবর্তে আপনার আনুগত্য দ্বারা এবং আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিন।
মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
জ্ঞাতব্য (فائدة)
আর যে সকল লেনদেন শরীয়তসম্মত যা হালাল ও বৈধ, তা হলো সততা ও আমানতদারিতার সাথে ক্রয়-বিক্রয় করা, সুদবিহীন ঋণ প্রদান করা এবং ‘সালাম’ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয় (سلم) করা—যা হলো নির্দিষ্ট মেয়াদে নির্দিষ্ট পণ্যের বিনিময়ে অগ্রিম নগদ অর্থ প্রদান করা।
অধিকাংশ আলিমের (جمهور) মতে, কোনো পণ্য তার বর্তমান মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে নির্দিষ্ট মেয়াদে বাকিতে বিক্রি করা জায়েজ। হারামের পরিবর্তে হালালের মধ্যেই বরকত ও পর্যাপ্ততা রয়েছে। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফীক অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
طرق الكسب الحرامقال الله تعالى: {وَلا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقاً مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْأِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} 1 أي: ولا تأخذوا أموالكم أي: أموال غيركم، أضافها إليهم لأنه ينبغي للمسلم أن يحب لأخيه ما يحب لنفسه، ويحترم ماله كما يحترم ماله، ولأنّ أكله لمال غيره يجرؤ غيره على أكل ماله عند القدرة.
ولَمّا كان أكلها نوعين: نوع بحق، ونوع بباطل، وكان المحرّم إنما هو أكلها بالباطل، قيّده تعالى بذلك، ويدخل في ذلك أكلها على وجه الغصب، والسرقة، والخيانة في وديعة، أو عارية، أو نحو ذلك، ويدخل فيه أيضا أخذها على وجه المعاوَضة بمعاوضة محرّمة كعقود الربا والقمار. كلها فإنها من أكل المال بالباطل، لأنه ليس في مقابلة عوض مباح. ويدخل في ذلك أخذها بسبب غِش في البيع والشراء ونحوها. ويدخل في ذلك استعمال الأجراء وأكل أجرتهم، وكذلك أخذهم أُجرة على عمل لم يقوموا بواجبه. ويدخل في ذلك أخذ
--------------------------------------------
হারাম উপার্জনের পদ্ধতিসমূহমহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায় (باطل) ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের ধন-সম্পত্তির কিয়দংশ জেনেশুনে অন্যায়ভাবে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের নিকট পেশ করো না} ১ অর্থাৎ: তোমরা তোমাদের সম্পদ তথা অন্যের সম্পদ গ্রহণ করো না। এখানে সম্পদকে তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে কারণ একজন মুসলমানের উচিত তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করা যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে এবং তার সম্পদের সম্মান করা তেমনিভাবে যেমন সে নিজের সম্পদের সম্মান করে। এছাড়া অন্যের সম্পদ ভক্ষণ করা অন্য কাউকেও সামর্থ্য থাকাকালীন তার সম্পদ ভক্ষণে দুঃসাহসী করে তোলে।
যেহেতু সম্পদ ভক্ষণ দুই প্রকার: এক প্রকার ন্যায্যভাবে এবং অন্য প্রকার অন্যায় (باطل) ভাবে; আর যেহেতু কেবল অন্যায়ভাবে তা ভক্ষণ করাই নিষিদ্ধ বা হারাম করা হয়েছে, তাই মহান আল্লাহ তাআলা একে উক্ত শর্তের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন। এর মধ্যে জবরদখল (غصب), চুরি (سرقة), আমানত (وديعة) বা ধারকৃত বস্তুর (عارية) ক্ষেত্রে খেয়ানত করা বা এই জাতীয় পন্থায় সম্পদ গ্রাস করা অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে নিষিদ্ধ বিনিময়ের ভিত্তিতে সম্পদ গ্রহণ করাও অন্তর্ভুক্ত, যেমন সুদ (ربا) ও জুয়ার (قمار) চুক্তি। এই সব কিছুই অন্যায় (باطل) ভাবে সম্পদ ভক্ষণের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এতে কোনো বৈধ (مباح) বিনিময়ের প্রতিদান নেই। এর মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় ও এই জাতীয় ক্ষেত্রে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ গ্রহণও অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত হলো শ্রমিকদের খাটিয়ে তাদের মজুরি আত্মসাৎ করা, এবং একইভাবে এমন কাজের বিনিময় গ্রহণ করা যার আবশ্যিক (واجب) দায়িত্বসমূহ তারা যথাযথভাবে পালন করেনি। এর মধ্যে গ্রহণ করাও অন্তর্ভুক্ত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الأُجرة على العبادات والقُرُبات التي لا تصحّ حتى يقصد بها وجه الله تعالى. ويدخل في ذلك الأخذ من الزكوات والصدقات والأوقاف والوصايا لمن ليس له حقا منها أو فوق حقّه.
فكلّ هذا ونحوه من أكل المال بالباطل، فلا يحل ذلك بوجه من الوجوه، حتى ولو حصل فيه النزاع والارتفاع إلى حاكم الشرع، وأدلى من يريد أكلها بالباطل بحجة غلبت حجة المُحِقّ، وحكم له الحاكم بذلك، فإنّ حكم الحاكم لا يبيح محرَّما ولا يُحِلُّ حراما، وإنما يحكم على نحوٍ ممّا يسمع، وإلا فحقائق الأمور باقية، فليس في حكم الحاكم للمبطل راحة ولا شبهة ولا استراحة، فمن أدلى إلى الحاكم بحجة باطلة وحُكِمَ له بذلك فإنه لا يحل له، ويكون آكِلاً لمال غيره بالباطل والإثم وهو عالم بذلك، فيكون أبلغ في عقوبته وأشدّ في نكاله. وعلى هذا فالوكيل إذا علِم أن موكِله مبطل في دعواه لم يحل له أن يخاصم عن الخائن، كما قال تعالى: {وَلا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيماً} 1 انتهى من تفسير ابن سِعدي2.
لذا حرّم الله تناوُل الحرام من أي وجه كان، سواء كان رشوة، أو سرقة، أو ربا، أو غلولاً، أو من قمار،
--------------------------------------------
সেই সমস্ত ইবাদত ও নৈকট্যমূলক কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা, যা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য ব্যতীত শুদ্ধ (صحيح) হয় না। এর অন্তর্ভুক্ত হলো যাকাত, সদকা, ওয়াকফ ও অসিয়ত থেকে এমন ব্যক্তির কিছু গ্রহণ করা যার তাতে কোনো অধিকার নেই অথবা তার প্রাপ্য হকের চেয়ে বেশি গ্রহণ করা।
এই সব এবং এই জাতীয় সবকিছুই অন্যায় বা বাতিল (باطل) পন্থায় সম্পদ গ্রাস করার অন্তর্ভুক্ত, যা কোনোভাবেই বৈধ নয়; এমনকি যদি এ বিষয়ে কোনো বিবাদ সৃষ্টি হয় এবং তা শরিয়তের বিচারকের নিকট উত্থাপিত হয়, আর যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে তা ভোগ করতে চায় সে এমন প্রমাণ উপস্থাপন করে যা হকপন্থীর প্রমাণের ওপর জয়ী হয়ে যায় এবং বিচারক তার পক্ষে রায় প্রদান করেন, তবুও তা বৈধ হবে না। কেননা বিচারকের রায় কোনো নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে না এবং কোনো হারামকে হালাল করে না। তিনি কেবল যা শুনেন তার ভিত্তিতেই রায় দেন, অন্যথায় বিষয়টির প্রকৃত বাস্তবতা অপরিবর্তিত থাকে। সুতরাং বাতিল (باطل) পন্থী ব্যক্তির পক্ষে বিচারকের রায়ের মাঝে কোনো স্বস্তি, সংশয় বা প্রশান্তি নেই। অতএব যে ব্যক্তি বিচারকের নিকট বাতিল (باطل) প্রমাণ পেশ করল এবং তার পক্ষে ফয়সালা হলো, তার জন্য তা হালাল হবে না; বরং সে জেনে-শুনে অন্যের সম্পদ অন্যায় (باطل) ও পাপের মাধ্যমে ভক্ষণকারী হিসেবে গণ্য হবে, যা তার শাস্তিকে আরও গুরুতর এবং তার আযাবকে আরও কঠোর করবে। এর ওপর ভিত্তি করে, কোনো উকিল যদি জানেন যে তার মক্কেল তার দাবিতে বাতিল (باطل) পন্থায় আছে, তবে তার জন্য সেই খিয়ানতকারীর পক্ষ হয়ে বিতর্ক করা বৈধ নয়। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তুমি খিয়ানতকারীদের পক্ষে বিতর্ককারী হয়ো না} ১—তাফসিরে ইবনে সাদি ২ থেকে সমাপ্ত।
এই কারণে আল্লাহ যেকোনো উপায়ে হারাম গ্রহণ করা নিষিদ্ধ করেছেন, তা ঘুষ, চুরি, সুদ, আত্মসাৎ বা জুয়া—যাই হোক না কেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أو غصب، أو اختلاس من وراء وظيفة، أو غش، أو قيمة شيء محرّم، أو أُجرته "كمهر البغيّ، وحُلوان الكاهن، وكثمن آلات اللهو، والصور المحرّمة، والكتب والمجلاّت والصحف المشتملة على الإلحاد أو الخلاعة، وكثمن الخمر والدخان، وكالأجرة على الرقص أو الغناء أو العزف، وعلى شهادة الزور، وما اقتطع بيمين كاذبة، أو أخذ بغير حق وإن كان حكم به القاضي، إلى غير ذلك من طرق الكسب الحرام.
روى البخاري من حديث خَوْلة الأنصاريّة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن رجالاً يتخوّضون في مال الله بغير حق فلهم النار يوم القيامة".
وروى الطبراني وأبو نُعيم، عن زيد بن أرقم عن أبي بكر رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "كلُّ جسد نبت من سُحْت فالنار أولى به".
وفي الحديث: "لا يدخل الجنّة جسد غُذِّي بالحرام". رواه الترمذي.
وروى البيهقي بإسناده إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن الله قَسَمَ بينكم أخلاقكم كما قسم بينكم أرزاقكم، وإن الله يعطي الدنيا من يحب ومن لا يحب، ولا يعطي الدين إلا من يحب، فمن أعطاه الله الدين فقد أحبّه، ولا يكسب عبد مالاً حراما فينفق منه فيبارك له فيه، ولا يتصدّق منه فيُقبل منه، ولا يتركه خلف ظهره إلا كان زاده
অথবা জবরদখল, কিংবা পদের অপব্যবহার করে আত্মসাৎ, অথবা প্রতারণা, কিংবা কোনো নিষিদ্ধ বস্তুর মূল্য বা তার পারিশ্রমিক—যেমন ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক, গণকের পারিতোষিক, বাদ্যযন্ত্রের মূল্য, নিষিদ্ধ ছবিসমূহ, নাস্তিকতা বা অশ্লীলতা সংবলিত বই, সাময়িকী ও সংবাদপত্র, মদ ও তামাকের মূল্য এবং নাচ, গান বা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর পারিশ্রমিক, মিথ্যা সাক্ষ্যের বিনিময় এবং যা মিথ্যা শপথের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, অথবা যা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা হয়েছে যদিও বিচারক তার অনুকূলে রায় প্রদান করেন—এই সবই উপার্জনের হারাম পন্থার অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম বুখারি খাওলা আনসারিয়্যা থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিছু মানুষ আল্লাহর সম্পদে অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত।"
তাবারানি ও আবু নুয়াইম জায়েদ ইবনে আরকাম-এর সূত্রে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "হারাম মাল থেকে বেড়ে ওঠা প্রতিটি শরীরের জন্য জাহান্নামই অধিক উপযুক্ত।"
হাদিসে এসেছে: "হারাম খাদ্যে লালিত-পালিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।
বাইহাকি তার সনদ (إسناد) সহ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের মাঝে তোমাদের চরিত্র বণ্টন করেছেন যেভাবে তোমাদের মাঝে তোমাদের রিজিক বণ্টন করেছেন। আল্লাহ দুনিয়া তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন না, কিন্তু দ্বীন কেবল তাকেই দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন। সুতরাং আল্লাহ যাকে দ্বীন দান করেছেন, তিনি তাকে ভালোবেসেছেন। কোনো বান্দা হারাম মাল উপার্জন করে তা থেকে ব্যয় করলে তাতে বরকত দেওয়া হয় না, এবং তা থেকে সদকা করলে তা কবুল করা হয় না, আর সে যা নিজের পেছনে রেখে যায় তা কেবল তার পাথেয়..."
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إلى النار، إن الله لا يمحو السيئ بالسيء، ولكن يمحو السيء بالحسن" 1.
وفي "صحيح مسلم" حين ذكر النبي صلى الله عليه وسلم "الرجل يطيل السفر، أشعث أَغْبَر، يَمُدُّ يديه إلى السماء: يارب يارب، ومطعمه حرام، ومشربه حرام، وملبسه حرام، وغُذِّيَ بالحرام، فأنّى يُستجاب لذلك".
ومن المحرّمات: أكل الميتة، والدم، ولحم الخنزير، وشرب الخمر، ونكاح المحارم، ولباس الحرير والذهب للرجال، ومثل الاكتساب المحرم: كالربا، والميسر، وثمن ما لا يحل بيعه، وأخذ الأموال المغصوبة بسرقة أو غصب، ونحو ذلك.
قال العلماء رحمهم الله: "ويدخل في هذا الباب: المكّاس، والخائن، والسارق، وآكل الربا وموكِله، وآكل مال اليتيم، وشاهد الزور، ومن استعار شيئا فجحده، وآكل الرشوة، ومنقص الكيل والوزن، ومن باع شيئا فيه عيب فغطّاه، والمقامِر، والساحر، والمنجِّم، والمصوِّر، والزانية، والنائحة، والدلاّل إذا أخذ أُجرته بغير إذن البائع" 2.
وما سوى ذلك فهو حلال، مثل: أكل الطيِّبات من الزروع والثمار وبهيمة الأنعام، وشرب الأشربة الطيِّبة، ولباس ما يُحتاج إليه من القطن والصوف وغيرهما ممّا أحلّ الله
--------------------------------------------
...জাহান্নামের আগুনের দিকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মন্দকে মন্দ দিয়ে মিটিয়ে দেন না, বরং তিনি মন্দকে ভালো দিয়ে মিটিয়ে দেন।" ১।
আর "সহীহ মুসলিম"-এ বর্ণিত হয়েছে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে, "সে দীর্ঘ সফর করে, তার চুলগুলো এলোমেলো এবং দেহ ধূলিমলিন, সে আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে ডাকতে থাকে: হে আমার রব! হে আমার রব! অথচ তার খাদ্য হারাম (حرام), তার পানীয় হারাম (حرام), তার পোশাক হারাম (حرام) এবং সে হারাম (حرام) দ্বারাই লালিত-পালিত হয়েছে; এমতাবস্থায় কীভাবে তার দুআ কবুল করা হবে?"
হারাম (المحرمات) বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: মৃত প্রাণী, রক্ত ও শূকরের মাংস ভক্ষণ, মদ পান, মাহরামদের সাথে বিবাহ, পুরুষদের জন্য রেশম ও স্বর্ণ পরিধান করা এবং অনদ্রুপ নিষিদ্ধ উপার্জন: যেমন সুদ (الربا), জুয়া (الميسر), যা বিক্রয় করা হালাল (يحل) নয় তার বিনিময় মূল্য এবং চুরি বা জবরদখলের মাধ্যমে অন্যের সম্পদ গ্রহণ ইত্যাদি।
উলামায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলো: অবৈধ শুল্ক আদায়কারী, খিয়ানতকারী, চোর, সুদ (الربا) ভক্ষণকারী ও সুদ প্রদানকারী, এতিমের মাল আত্মসাৎকারী, মিথ্যা সাক্ষী, যে ব্যক্তি কোনো কিছু ধার নিয়ে তা অস্বীকার করে, ঘুষখোর, পরিমাপে ও ওজনে কম প্রদানকারী, যে ব্যক্তি কোনো ত্রুটিযুক্ত পণ্য বিক্রি করার সময় তা গোপন করে রাখে, জুয়াড়ি, জাদুকর, জ্যোতিষী, চিত্রকর, ব্যভিচারিণী, বিলাপকারিণী এবং দালাল (الدلاّل) যখন সে বিক্রেতার অনুমতি ব্যতীত পারিশ্রমিক গ্রহণ করে।" ২।
এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা হালাল (حلال), যেমন: শস্য ও ফলমূলের পবিত্র বস্তুসমূহ এবং গবাদিপশু ভক্ষণ, পবিত্র পানীয়সমূহ পান করা এবং আল্লাহ যা হালাল (أحل) করেছেন সেই তুলা ও পশম ইত্যাদি থেকে তৈরি প্রয়োজনীয় পোশাক পরিধান করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
ورسوله صلى الله عليه وسلم، إذا إن اكتسابه بعقد صحيح، كالبيع، أو ميراث، أو هِبة، أو غنيمة.
فالحلال بيِّن، والحرام بيِّن، والحلال ما أحله الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، والحرام ما حرّمه الله ورسوله صلى الله عليه وسلم.
وقد أحل الله لنا الطيِّبات النافعة، وحرّم الخبائث الضارّة؛ رحمةً بنا، وإحسانا إلينا، وقد أنزل الله على نبيِّه الكتاب، وبيّن فيه للأمّة ما تحتاج إليه من حلال وحرام. كما قال تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ} 1، وما قُبض رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أكمل الله له ولأمته الدين، كما قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلامَ دِيناً} 2، فما ترك الله ورسوله صلى الله عليه وسلم حلالاً إلا مبيّنا، ولا حراما إلا مبيّنا. فلله الحمد على ذلك.
وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
فائدة
الحقوق المالية الواجبة لله تعالى أربعة أقسام:
أحدها: حقوق المال، كالزكاة. فهذا يثبت في الذمة بعد
--------------------------------------------
...এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম; যখন এর অর্জন কোনো সহিহ (صحيح) চুক্তির মাধ্যমে হয়, যেমন ক্রয়-বিক্রয়, অথবা উত্তরাধিকার, অথবা হেবা (দান), অথবা গণিমত।
সুতরাং হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট; আর যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হালাল করেছেন তাই হালাল, এবং যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম করেছেন তাই হারাম।
আল্লাহ আমাদের প্রতি রহমত ও অনুগ্রহস্বরূপ আমাদের জন্য পবিত্র ও উপকারী বস্তুসমূহ হালাল করেছেন এবং অপবিত্র ও ক্ষতিকর বস্তুসমূহ হারাম করেছেন। আল্লাহ তাঁর নবীর ওপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে উম্মতের প্রয়োজনীয় হালাল ও হারামের বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আমি আপনার ওপর কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা স্বরূপ} ১, আর আল্লাহ তাঁর জন্য ও তাঁর উম্মতের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ না করা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত হয়নি; যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} ২। সুতরাং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো হালালকেই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা ছাড়া এবং কোনো হারামকেও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা ছাড়া বাকি রাখেননি। এজন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই প্রাপ্য।
মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ফায়দা (উপকারিতা)
মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে ওয়াজিব (واجب) আর্থিক হকসমূহ চার প্রকার:
প্রথমটি: সম্পদের হক, যেমন যাকাত। এটি জিম্মায় (ذمة) সাব্যস্ত হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
التمكّن من أدائه، فلو عجز عنه بعد ذلك لم يسقط، ولم يثبت في الذمة إذا عجز عنه وقت الوجوب، وألحق بهذا زكاة الفطر.
القسم الثاني: ما يجب بسبب الكفّارة، ككفارة الأيمان، والظِّهار، والوطء في نهار رمضان، وكفّارة القتل. فإذا عجز عنها وقت انعقاد أسبابها ففي ثبوتها في ذمّته إلى المَيْسَرة أو سقوطها قولان مشهوران في مذهب الشافعي وأحمد 1.
القسم الثالث: ما فيه معنى ضمان المتلف، كجزاء الصيد. وألحق به: فدية الحلق والطيب واللِّباس في الإحرام، فإذا عجز عنه وقت وجوبه ثبت في ذمّته تغليبا لمعنى الغرامة، وجزاء المتلف، وهذا في الصيد ظاهر. وأما في الطيب وبابه فليس كذلك، لأنه ترفّه لا إتلاف، إذ الشعر والظفر ليسا بمتلفين، ولم تجب الفدية في إزالتها في مقابل الإتلاف، لأنها لو وجبت لكونها إتلافا لتقيّدت بالقيمة، ولا قيمة لها، وإنما هي من باب الترفّه المَحْض، كتغطية الرأس واللبس،
--------------------------------------------
এটি আদায় করার সক্ষমতা থাকা (শর্ত)। ফলে যদি এরপর সে অক্ষম হয়ে যায়, তবে তা রহিত হবে না। আর যদি ওয়াজিব হওয়ার সময় অক্ষম থাকে, তবে তা জিম্মায় (দায়ে) সাব্যস্ত হবে না। জাকাতুল ফিতরকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রকার: যা কাফফারার কারণে ওয়াজিব হয়, যেমন—কসমের কাফফারা, যিহারের কাফফারা, রমজানের দিনে সহবাসের কাফফারা এবং হত্যার কাফফারা। সুতরাং যদি এই ওয়াজিবের কারণগুলো সংঘটিত হওয়ার সময় সে অক্ষম থাকে, তবে সচ্ছলতা না আসা পর্যন্ত কি তা তার জিম্মায় সাব্যস্ত থাকবে নাকি রহিত হয়ে যাবে—এ বিষয়ে শাফেয়ী ও আহমাদ (রহ.)-এর মাজহাবে দুটি প্রসিদ্ধ (مشهور) মত রয়েছে ১।
第三 প্রকার: যাতে বিনষ্টকারী বস্তুর ক্ষতিপূরণের অর্থ নিহিত রয়েছে, যেমন শিকারের বিনিময়। আর এহরাম অবস্থায় মাথা মুণ্ডন, সুগন্ধি ব্যবহার ও পোশাক পরিধানের ফিদিয়াকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং ওয়াজিব হওয়ার সময় যদি সে অক্ষম হয়, তবে জরিমানা এবং বিনষ্ট বস্তুর বিনিময়ের দিকটিকে প্রাধান্য দিয়ে তা তার জিম্মায় সাব্যস্ত হবে। শিকারের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট। তবে সুগন্ধি ও এ জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়; কারণ এটি স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করা, কোনো কিছু বিনষ্ট করা নয়। যেহেতু চুল ও নখ বিনষ্টযোগ্য বস্তু নয় এবং এগুলো দূর করার ক্ষেত্রে ফিদিয়া বিনষ্ট করার বিনিময়ে ওয়াজিব হয়নি; কারণ যদি এগুলো বিনষ্ট হওয়ার কারণে ওয়াজিব হতো, তবে তা আর্থিক মূল্যের সাথে সীমাবদ্ধ হতো, অথচ এগুলোর কোনো (আর্থিক) মূল্য নেই। বরং এটি নিছক স্বাচ্ছন্দ্য ভোগের পর্যায়ভুক্ত, যেমন মাথা ঢাকা এবং পোশাক পরিধান করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فأي إتلاف ههنا؟.
وعلى هذا: فالراجح من الأقوال: أن الفدية في ذلك لا تجب مع النسيان والجهل.
القسم الرابع: دم النسك، كالمتعة والقِرَان. فهذه إذا عجز عنها وجب عنها بدلها من الصيام. فإن عجز عنه ترتّب في ذمّته أحدهما، فمتى قدر عليه لزمه. وهل الاعتبار بحال الوُجوب أو بأغلظ الأحوال؟، فيه خلاف.
وأما حقوق الآدميِّين فإنها لا تسقط بالعجز عنها، لكن إنْ كان عجزه بتفريط منه في أدائها طولِب بها في الآخرة، وأُخذ لأصحابها من حسناته، وإن كان عجزه من غير تفريط، كمن احترق ماله، أو غرق، أو كان الإتلاف خطأ، مع عجزه عن ضمانه. ففي إشغال ذمّته به وأخذ أصحابها من حسابه نظر. ولم أقف على كلام شافٍ للناس في ذلك.
والله تعالى أعلم 1.
فائدة
كفّارة اليمين: إطعام عشرة مساكين، أو كسوتهم، أو عتق رقبة فمن لم يجد فصيام ثلاثة أيّام. كما في سورة المائدة، آية رقم: 89.
--------------------------------------------
এখানে কী ধরনের ক্ষতিসাধন (إتلاف) হয়েছে?
সেই অনুযায়ী, মতামতগুলোর মধ্যে অধিকতর অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো: বিস্মৃতি ও অজ্ঞতার কারণে এক্ষেত্রে ফিদইয়া (الفدية) ওয়াজিব (تجب) হয় না।
চতুর্থ প্রকার: হজের দণ্ড বা কোরবানি (دم النسك), যেমন তামাত্তু (المتعة) এবং কিরান (القِرَان)। এগুলোর সামর্থ্য না থাকলে এর পরিবর্তে রোজা রাখা ওয়াজিব (وجب) হয়। যদি সেটিরও সামর্থ্য না থাকে, তবে তার জিম্মায় (ذمّته) দুটির যেকোনো একটি রয়ে যায়; যখনই সে সামর্থ্যবান হবে, তা আদায় করা তার জন্য আবশ্যক হবে। এক্ষেত্রে কি ওয়াজিব (الوجوب) হওয়ার সময়ের অবস্থা বিবেচনা করা হবে, নাকি সবচেয়ে কঠিন অবস্থা? এ বিষয়ে মতভেদ (خلاف) রয়েছে।
আর বান্দার হকের (حقوق الآدميِّين) বিষয়টি এমন যে, তা সামর্থ্যহীনতার কারণে বিলুপ্ত হয় না। তবে আদায়ে অবহেলার (بتفريط) কারণে যদি সে অক্ষম হয়ে থাকে, তবে পরকালে তাকে এ জন্য জবাবদিহি করতে হবে এবং তার নেক আমল (حسنات) থেকে পাওনাদারদের প্রদান করা হবে। আর যদি অবহেলা ছাড়া অক্ষম হয়ে থাকে—যেমন কারও সম্পদ পুড়ে যাওয়া, ডুবে যাওয়া অথবা ভুলবশত ক্ষতিসাধন (الإتلاف) হওয়া এবং তা ক্ষতিপূরণ (ضمان) দিতে অপারগ হওয়া—সেক্ষেত্রে তার জিম্মায় (ذمّته) সেটি থেকে যাওয়া এবং তার হিসাব থেকে পাওনাদারদের পরিশোধ করার বিষয়ে সংশয় (نظر) রয়েছে। এ বিষয়ে আমি আলেমদের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক বক্তব্য খুঁজে পাইনি।
আর মহান আল্লাহ তাআলাই অধিক পরিজ্ঞাত ১।
বিশেষ জ্ঞাতব্য
শপথের কাফফারা (كفّارة اليمين) হলো: দশজন মিসকিনকে খাদ্য দান করা, অথবা তাদের বস্ত্র দান করা, কিংবা একজন দাস মুক্ত করা; তবে যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখবে না, সে তিন দিন রোজা রাখবে। যেমনটি সূরা আল-মায়িদার ৮৯ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وكفّارة الظِّهار: عتق رقبة، فمن لم يجد فصيام شهرين متتابعين، فلم يستطع فإطعام ستِّين مسكينا. كما في سورة المجادلة، آية: 3 4، وهي كفّارة الجماع في نهار رمضان.
وكفّارة قتل الخطأ: عتق رقبة مؤمنة، فمن لم يجد فصيام شهرين متتابعين. كما في سورة النساء، آية: 92. وبالله التوفيق.
যিহারের (الظهار) কাফফারা (كفارة): একজন দাস মুক্ত করা, অতঃপর যে ব্যক্তি তা পাবে না সে একাধারে দুই মাস সিয়াম পালন করবে, আর যে তাতেও অক্ষম হবে সে ষাটজন মিসকিনকে খাবার খাওয়াবে। যেমনটি সূরা আল-মুজাদালাহর ৩-৪ নম্বর আয়াতে রয়েছে; আর এটিই রমজানের দিনের বেলা সহবাসের কাফফারা (كفارة)।
ভুলবশত হত্যার (قتل الخطأ) কাফফারা (كفارة): একজন মুমিন দাস মুক্ত করা, অতঃপর যে ব্যক্তি তা পাবে না সে একাধারে দুই মাস সিয়াম পালন করবে। যেমনটি সূরা আন-নিসার ৯২ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। আর আল্লাহর তাওফীকেই (التوفيق) সকল সাফল্য অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
التحذير من المعاملات الربويةمن عبد العزيز بن عبد الله بن باز، إلى من يراه من إخواننا المسلمين، وفّقني الله وإياهم لكل خير. آمين.
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
أما بعد:
فقد كثُرت الدعايات للمساهمة في البنوك الربوية في الصحف المحليّة والأجنبيّة، وإغراء الناس بإيداع أموالهم فيها، مقابل فوائد ربويّة صريحة معلَنة، كل بحسب الفترة الزمنيّة التي يبقى فيها ماله مودَعا في ذلك البنك.
ومن المعلوم من الدين بالضرورة: أن الفوائد التي يأخذها أرباب الأموال مقابل مساهمتهم، أو إيداعهم في تلك البنوك؛ حرامٌ سُحْت، وهي عين الربا الذي حرّمه الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، ومن كبائر الذنوب، ومما يمحق البركة، ويُفسد المال على صاحبه إذا خالطه، ويسبِّب عدم قَبول عمله.
وقد صحّ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إن الله تعالى طيِّب لا يقبل إلا طيِّبا، وإن الله أمر المؤمنين بما أمر به المرسلين، فقال تعالى: {يَا أَيُّهَا
সুদী লেনদেনের ব্যাপারে সতর্কীকরণআবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ বিন বাজের পক্ষ থেকে, আমার যে সকল মুসলিম ভাই এটি দেখবেন তাদের প্রতি; আল্লাহ আমাকে ও তাঁদেরকে সকল কল্যাণের তাওফিক দান করুন। আমিন।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
অতঃপর:
স্থানীয় ও বিদেশী সংবাদমাধ্যমগুলোতে সুদী ব্যাংকগুলোতে অংশীদার হওয়ার জন্য প্রচুর প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং মানুষকে তাদের অর্থ সেখানে জমা রাখার জন্য প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। বিনিময়ে সেখানে স্পষ্টভাবে ঘোষিত সুদী মুনাফা প্রদানের কথা বলা হচ্ছে, যা ওই ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার মেয়াদের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।
দ্বীনের আবশ্যকীয় বিষয়াবলি থেকে এটি সুপরিচিত যে, অর্থলগ্নিকারীরা তাদের অংশীদারিত্ব বা ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা রাখার বিনিময়ে যে মুনাফা গ্রহণ করে তা হারাম ও অবৈধ সম্পদ। আর এটিই হলো সেই সরাসরি সুদ যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষিদ্ধ করেছেন। এটি কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং বরকত বিনাশকারী বিষয়। এটি যখন সম্পদের সাথে মিশ্রিত হয়, তখন তা মালিকের সম্পদকে নষ্ট করে দেয় এবং তার আমল কবুল না হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত অন্য কিছু কবুল করেন না। আর আল্লাহ মুমিনদেরকে সেই বিষয়েরই নির্দেশ দিয়েছেন যার নির্দেশ তিনি রাসূলগণকে দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحاً} 1 وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} 2 "ثم ذكر الرجل يطيل السفر أشعث أغبر، يمدّ يديه إلى السماء: يا رب يا رب، ومطمعه حرام، ومشربه حرام، وملبسه حرام، وغُذِّيَ بالحرام، فأنّى يُستجاب له". رواه مسلم.
وليعلم كل مسلم أنه مسئول أمام ربّه عن ماله من أين اكتسبه، وفيم أنفقه؟. ففي الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لن تزول قدما عبدٍ يوم القيامة حتى يُسأل عن أربع: عن شبابه فيم أبلاه؟، وعن عمره فيم أفناه؟، وعن ماله من أين جمعه وفيم أنفقه؟، وعن علمه ماذا عمل به؟ " 3.
واعلم: أيها المسلم وفّقك الله: أن الربا كبيرة من كبائر الذنوب التي جاء تحريمها في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، بجميع أشكاله وأنواعه ومسمّياته. قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَأْكُلُوا الرِّبا أَضْعَافاً مُضَاعَفَةً وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} 4 وقال: {وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ رِباً لِيَرْبُوَ فِي
--------------------------------------------
{হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তুসমূহ হতে আহার করো এবং সৎকর্ম করো} ১ এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে আমি যে সব পবিত্র বস্তু দান করেছি তা থেকে আহার করো} ২ "অতঃপর তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফর করার কারণে আলুথালু বেশ ও ধূলিমলিন অবস্থায় আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে প্রার্থনা করে: হে আমার রব! হে আমার রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারাই পুষ্টি লাভ করেছে। সুতরাং তার প্রার্থনা কীভাবে কবুল হতে পারে?" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
প্রত্যেক মুসলমানের জানা উচিত যে, সে তার সম্পদের বিষয়ে তার রবের সামনে জিজ্ঞাসিত হবে—সে তা কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কিসে ব্যয় করেছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে তিনি বলেছেন: "কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার দুই পা সরবে না যতক্ষণ না তাকে চারটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে: তার যৌবনকাল সম্পর্কে যে তা কিসে অতিবাহিত করেছে? তার হায়াত (জীবনকাল) সম্পর্কে যে তা কিসে শেষ করেছে? তার সম্পদ সম্পর্কে যে তা কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে ও কিসে ব্যয় করেছে? এবং তার ইলম (জ্ঞান) সম্পর্কে যে তদানুযায়ী সে কী আমল করেছে?" ৩।
জেনে রাখুন: হে মুসলিম—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন—সুদ হলো কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি বড় গুনাহ, যার হারাম হওয়া আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর মাধ্যমে এর সকল রূপ, প্রকার ও নামে প্রমাণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} ৪ এবং তিনি আরও বলেন: {আর মানুষের ধন-সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা সুদে যা দিয়ে থাকো, তা মূলত...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أَمْوَالِ النَّاسِ فَلا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ} 1 وقال تعالى: {الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبا لا يَقُومُونَ إِلاّ كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ وَاللَّهُ لا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ} 2 وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُؤُوسُ أَمْوَالِكُمْ لا تَظْلِمُونَ وَلا تُظْلَمُونَ} 3 وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "اجتنبوا السبع الموبِقات" قالوا: يا رسول الله وما هن؟ قال: "الشرك بالله، والسحر، وقتل النفس التي حرّم الله إلا بالحق، وأكل الربا، وأكل مال اليتيم، والتولِّي يوم الزَّحْف وقذف المحصنات الغافلات المؤمنات" 4.
ومعنى "الموبقات": المُهْلكات. وقد عدّ الربا منهنّ.
وقال صلى الله عليه وسلم: " الربا ثلاثة وسبعون بابا، أيسرها مثل أن
--------------------------------------------
মানুষের ধন-সম্পদে (বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য), আল্লাহর নিকট তা বৃদ্ধি পায় না} ১ আর মহান আল্লাহ বলেন: {যারা সুদ খায়, তারা সে ব্যক্তির ন্যায় ছাড়া দাঁড়াবে না যাকে শয়তান তার স্পর্শ দ্বারা মোহাবিষ্ট করে দেয়। তা এই জন্য যে, তারা বলে: ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। সুতরাং যার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা হয়েছে তা তারই; আর তার বিষয়টি আল্লাহর এখতিয়ারে। আর যারা পুনরায় তা করবে, তারাই আগুনের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন। আর আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপীকে পছন্দ করেন না} ২ আর মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হও। আর যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও। আর যদি তোমরা তাওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না} ৩ আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শরিক করা, জাদু, আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা করা হারাম করেছেন সঙ্গত কারণ ছাড়া তা হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের মাল ভক্ষণ করা, রণক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং সতী-সাধ্বী মুমিন উদাসীন নারীদের প্রতি অপবাদ দেওয়া।" ৪.
আর "মুবিকাত" শব্দের অর্থ হলো: ধ্বংসাত্মক বিষয়সমূহ। আর সুদকে সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সুদের তেয়াত্তরটি স্তর রয়েছে, যার মধ্যে সহজতমটি হলো এমন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ينكح الرجل أمه" 1 وصحّ: أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لعن آكِل الرّبا وموكِله وكاتبه وشاهديْه، وقال: "هم سواء" 2، وقال صلى الله عليه وسلم: "الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، والبُر بالبُر، والتمر بالتمر، والشعير بالشعير، والملح بالملح، مِثْلاً بمثل، يدًا بيد، فمن زاد أو استزاد فقد أربى، الآخِذ والمعطي فيه سواء" رواه مسلم.
فهذه بعض الأدلة من كتاب الله وسنّة رسوله صلى الله عليه وسلم، تبيِّن تحريم الربا، وخطره على الفرد والأمة، وأن من تعامَل به وتعاطاه فقد أصبح محاربا لله ورسوله صلى الله عليه وسلم.
فنصيحتي لكل مسلم: أن يكتفي بما أباح الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، وأن يكفّ عمّا حرّمه الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، ففيما أباح الله كفاية وغنى عمّا حرّم، وألاّ يغترّ بكثرة بنوك الربا، وانتشار معاملاتها في كلِّ مكان، فإنّ كثيرًا من الناس لا يهتم بأحكام الإسلام، وإنما يهتمّ بما يدرّ عليه المال من أيّ طريق كان، وما ذلك إلا لضعف الإيمان، وقلّة الخوف من الله عز وجل، وغلبة حب الدنيا على القلوب. نسأل الله السلامة.
وهذا الواقع المؤلِم من الكثير من المسلمين يوجِب على المؤسّسات الخاصّة والجهات الرسمية وخواصّ التجّار بأن يتعاونوا جميعا على تعزيز
--------------------------------------------
"একজন পুরুষ তার নিজের মাতাকে বিবাহ করার সমান।" ১ এবং এটি বিশুদ্ধ (صحّ) বলে সাব্যস্ত হয়েছে যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার দুই সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন: "তারা সকলেই সমান।" ২ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রুপার বিনিময়ে রুপা, গমের বিনিময়ে গম, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, যবের বিনিময়ে যব এবং লবণের বিনিময়ে লবণ—সমান সমান এবং হাতে হাতে বিনিময় হতে হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি বেশি দিল বা বেশি চাইল, সে সুদে লিপ্ত হলো। এক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই সমান।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে এগুলো কিছু দলিল, যা সুদের অবৈধতা এবং ব্যক্তি ও জাতির ওপর এর ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। আর যে ব্যক্তি সুদের লেনদেন করে ও এতে লিপ্ত হয়, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণাকারী হিসেবে গণ্য হয়।
প্রত্যেক মুসলিমের প্রতি আমার নসিহত হলো: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বৈধ করেছেন তাতেই তুষ্ট থাকা এবং যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম করেছেন তা থেকে বিরত থাকা। কেননা আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারামের তুলনায় যথেষ্ট ও প্রাচুর্যময়। সুদী ব্যাংকের আধিক্য এবং সর্বত্র এর লেনদেনের বিস্তৃতিতে কেউ যেন প্রলুব্ধ না হয়; কারণ অনেক মানুষই ইসলামের বিধানের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না, বরং তারা কেবল যে কোনো উপায়ে সম্পদ উপার্জনের চিন্তায় মগ্ন থাকে। এটি মূলত ঈমানের দুর্বলতা, মহান আল্লাহর প্রতি ভীতির অভাব এবং অন্তরে দুনিয়ার ভালোবাসার আধিক্যের কারণেই হয়ে থাকে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি।
অনেক মুসলিমের এই বেদনাদায়ক বাস্তবতা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর এটি আবশ্যিক করে দেয় যে, তারা যেন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সকলে মিলে পরস্পর সহযোগিতা করে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المصارف الإسلاميّة، التي بدأت تظهر في بلاد المسلمين، وثبت نجاحها ولله الحمد، وأن يعمل الجميع على تحويل البنوك القائمة اليوم إلى بنوك إسلاميّة، تكون معاملاتها متمشِّية مع الشريعة الإسلاميّة، وخالية من الربا بجميع أنواع أشكاله وصوره.
كما إني أوجِّه نصيحتي إلى المسئولين في الصحف المحليّة خاصّة وفي صحف البلاد الإسلاميّة عامّة: أن يطهِّروا صحافتهم من نشر كلِّ ما يخالف شرع الله في أيِّ مجال من مجالات الحياة، كما آمُل من الجهات المسئولة التأكيد على رؤساء الصحف بأن لا ينشروا شيئا فيه مخالفة لدين الله وشرعه.
والله المسئول أن يوفِّق المسلمين عامّة ووُلاة أمورهم خاصّة للتمسّك بشرعه وتحكيم شريعته، وأن يأخذ بنواصيهم إلى ما فيه صلاح دينهم ودنياهم، وأن يجنِّبنا جميعا طريق المغضوب عليهم والضالين، إنه وليّ ذلك والقادر عليه.
وصلى الله وسلم على خير خلقه محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
الرئيس العام
لإدارات البحوث العلمية والإفتاء
والدعوة والإرشاد
ইসলামী ব্যাংকসমূহ, যা মুসলিম দেশগুলোতে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেছে এবং আল্লাহর অনুগ্রহে যার সফলতা প্রমাণিত হয়েছে; (আমি আহ্বান জানাই) যেন সকলে বর্তমান ব্যাংকগুলোকে ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে কাজ করেন, যেন সেগুলোর লেনদেন ইসলামী শরয়িআহ-এর সাথে সংগতিপূর্ণ হয় এবং সকল প্রকার ও রূপের সুদ থেকে মুক্ত থাকে।
একইভাবে আমি বিশেষভাবে স্থানীয় সংবাদপত্র এবং সাধারণভাবে মুসলিম দেশগুলোর সংবাদপত্রের দায়িত্বশীলদের প্রতি এই নসিহত করছি: যেন তারা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী সব কিছু প্রকাশ করা থেকে তাদের সংবাদপত্রকে পবিত্র রাখেন। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহের কাছেও এই আশা পোষণ করি যেন তারা সংবাদপত্রের সম্পাদকদের এই মর্মে তাকিদ দেন যে, তারা যেন এমন কিছু প্রকাশ না করেন যাতে আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর বিধানের অবমাননা বা বিরোধিতা হয়।
আর আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা, তিনি যেন সাধারণভাবে সকল মুসলিমকে এবং বিশেষভাবে তাদের শাসকবর্গকে তাঁর বিধানকে আঁকড়ে ধরার এবং তাঁর শরয়িআহ অনুযায়ী ফয়সালা করার তাওফিক দান করেন। তিনি যেন তাদের হাত ধরে এমন পথে পরিচালিত করেন যাতে তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তিনি যেন আমাদের সকলকে অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টদের পথ থেকে দূরে রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
আল্লাহর সর্বোত্তম সৃষ্টি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
মহাপরিচালক
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ইফতা বিভাগসমূহ
এবং দাওয়াহ ও নির্দেশনা
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
حكم البيع إلى أجل وبيع التورق والعينة والقرض بالفائدة1
للشيخ: عبد العزيز بن عبد الله بن باز
الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبي بعده، وآله وصحبه.
أما بعد:
فقد سُئِلت عن حكم بين كيس السكّر ونحوه بمبلغ مائة وخمسين ريالاً إلى أجل، وهو يساوي مبلغ مائة ريال نقدًا.
والجواب عن ذلك:
أن هذه المعاملة لا بأس بها، لأنّ بيع النقد غير بيع التأجيل، ولم يزل المسلمون يستعملون مثل هذه المعاملة، وهو كالإجماع منهم على جوازها، وقد شذّ بعض أهل العلم فمنع الزيادة لأجل الأجل، وظنّ ذلك من الربا، وهو قولٌ لا وجه له، وليس من الربا في شيء، لأن التاجر حين باع السلعة إلى أجلٍ إنّما وافق على التأجيل من
--------------------------------------------
বাকিতে (إلى أجل) বিক্রয়, তাওয়াররুক (التورق), আইনা (العينة) এবং সুদের (ربا) ভিত্তিতে ঋণের বিধান1
শায়খ: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজ
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর।
অতঃপর:
আমাকে এক বস্তা চিনি বা তদ্রূপ কোনো পণ্য বাকিতে (إلى أجل) একশত পঞ্চাশ রিয়ালে বিক্রয় করার বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, যার নগদ (نقدًا) মূল্য একশত রিয়াল।
এর উত্তর হলো:
এই লেনদেনে কোনো অসুবিধা নেই, কারণ নগদ বিক্রয় আর বাকিতে বিক্রয় এক নয়। মুসলিমগণ সর্বদা এ জাতীয় লেনদেন করে আসছেন এবং এটি এর বৈধতার ওপর তাদের ঐক্যমতের (إجماع) ন্যায়। কোনো কোনো আলেম বিচ্ছিন্ন (شذ) মত পোষণ করে মেয়াদের কারণে মূল্য বৃদ্ধি করাকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং একে সুদ (ربا) বলে ধারণা করেছেন। এটি একটি ভিত্তিহীন বক্তব্য এবং সুদের (ربا) সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ ব্যবসায়ী যখন পণ্যটি বাকিতে (إلى أجل) বিক্রয় করেন, তখন তিনি মূলত মেয়াদের কারণেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিন আহকামিল ফিকহিল ইসলামি ওয়া মা জাআ ফিল মুআমালাতির রিবাবিয়্যাহ ওয়া আহকামিল মুদায়ানাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أجل انتفاعه بالزيادة، والمشتري إنما رضيَ بالزيادة من أجل المُهْلَة وعجزه عن تسليم الثمن نقدًا، فكلاهما منتفع بهذه المعاملة.
وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم ما يدلّ على جواز ذلك، وذلك أنه صلى الله عليه وسلم أمر عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن يجهِّز جيشا، فكان يشتري البعير بالبعيرين إلى أجل.
ثم إنّ هذه المعاملة تدخل في عموم قول الله سبحانه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَدَايَنْتُمْ بِدَيْنٍ إِلَى أَجَلٍ مُسَمّىً فَاكْتُبُوهُ} 1، وهذه المعاملة من المدايَنات الجائزة الداخلة في الآية المذكورة، وهي من جنس معاملة بيع السَّلَم، فإن البائع في السلم يبيع من ذمّته حبوبا أو غيرها ممّا يصحّ السلم فيه بثمن حاضر، أقلّ من الثمن الذي يُباع به المسلم فيه وقت السلم، لكون المسلّم فيه مؤجّلاً والثمن معجّلاً، فهو عكس المسألة المسؤول عنها.
وهو جائز بالإجماع. وهو مثل البيع إلى أجلٍ في المعنى، والحاجة إليه ماسّة كالحاجة إلى السلم، والزيادة في السلم مثل الزيادة في البيع إلى أجل، سببها فيهما تأخير تسليم المبيع في مسألة السلم، وتأخير تسليم الثمن في مسألة البيع
--------------------------------------------
অতিরিক্ত মূল্যের (الزيادة) মাধ্যমে তাঁর উপকৃত হওয়ার নিমিত্তে, আর ক্রেতা মূল্য বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছেন মূলত সময় লাভ (المُهْلَة) এবং নগদে মূল্য পরিশোধে অক্ষমতার কারণে, ফলে এই লেনদেনের মাধ্যমে উভয় পক্ষই উপকৃত হয়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর বৈধতা (جواز) নির্দেশক প্রমাণ (ثبت) পাওয়া গেছে; তা হলো, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে একটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি একটি উটের বিনিময়ে দুটি উট নির্দিষ্ট সময়ের (أجل) ভিত্তিতে ক্রয় করতেন।
অতঃপর এই লেনদেনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণীর সাধারণ নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নির্দিষ্ট সময়ের (أجل) জন্য ঋণের (بدين) লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখো} ১। এই লেনদেনটি উক্ত আয়াতের অন্তর্ভুক্ত বৈধ (الجائزة) ঋণ-লেনদেনসমূহের (المداينات) অংশ। এটি অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় (السلم) লেনদেনের সমগোত্রীয়। কেননা সালাম পদ্ধতিতে বিক্রেতা তার জিম্মায় শস্য বা এমন কিছু বিক্রয় করে যাতে সালাম চুক্তি করা সঠিক (يصح) এবং তা নগদ মূল্যের (بثمن حاضر) বিনিময়ে হয়, যা সালামের চুক্তিকালীন মূল্যের চেয়ে কম। কারণ সালামের ক্ষেত্রে পণ্যটি বিলম্বিত (مؤجلاً) এবং মূল্যটি নগদ বা অগ্রিম (معجلاً) হয়। ফলে এটি জিজ্ঞাসিত মাসআলার বিপরীত।
এটি সর্বসম্মত ঐকমত্যের (بالإجماع) ভিত্তিতে বৈধ (جائز)। এটি অর্থের দিক দিয়ে বাকিতে বিক্রয় (البيع إلى أجل) পদ্ধতির মতো এবং সালামের ন্যায় এরও আবশ্যিক প্রয়োজন রয়েছে। সালামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হওয়াটা বাকিতে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হওয়ার মতোই, যার কারণ হলো সালামের ক্ষেত্রে বিক্রিত পণ্য হস্তান্তরে বিলম্ব এবং বাকিতে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মূল্য পরিশোধে বিলম্ব।
--------------------------------------------