القسم: الأنساب
الكتاب: الأنساب = أنساب العرب = تَارِيخِ العَوْتَبِي
المؤلف: أبو المنذر سلمة بن مسلم بن إبراهيم الصحاري العوتبي (العُمَاني الإباضي) نسبة الى عَوْتَب وهي منطقة في صُحار كانت تسمى في القديم: عوتب الخيام (ت 511هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 287
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: বংশবৃত্তান্ত
বই: আল-আনসাব = আরবদের বংশবৃত্তান্ত = তারিখুল আউতাবি
লেখক: আবু আল-মুনজির সালামাহ বিন মুসলিম বিন ইবরাহিম আস-সাহারি আল-আউতাবি (ওমানি ইবাদি), আউতাবের সম্বন্ধযুক্ত যা সুহারের একটি অঞ্চল এবং প্রাচীনকালে একে 'আউতাব আল-খিয়াম' বলা হতো (মৃত্যু ৫১১ হিজরি)
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৭
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
আব্দুল্লাহ ইবনে মুয়াজ বর্ণনা করেন, যা আমরা আত-তাইমি পর্যন্ত পৌঁছাই, তিনি বলেন যে এক ব্যক্তি উকাজ বাজারে অবস্থান করছিলেন, এমন সময় দামরা গোত্রের এক ব্যক্তির দেখা মিলল যার আবাসস্থল ছিল ওমানের সুহার এবং তাকে আস-সুহারি বলা হতো। মানুষ চারপাশ থেকে তাকে ঘিরে ধরেছিল, তারা ভিড় জমাচ্ছিল এবং তাকে তাদের বংশপরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিল। তিনি তাদের কাছে তা ব্যাখ্যা করছিলেন—আর তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী। উতারিদ সেই অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি তার (সুহারির) অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তাকে জানানো হলো যে, তিনি দামরা গোত্রের একজন সুদূরপ্রসারী ব্যক্তি এবং তার আবাসস্থল সুহার; তাই তিনি তার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করতে চাইলেন। আস-সুহারি উতারিদকে দেখে তার বেশভূষায় মুগ্ধ হলেন এবং তাকে বললেন: "হে ব্যক্তি, আপনি কার থেকে (কোন বংশের)?" তিনি তাকে বললেন: "আপনি তো আমাকে চিনবেন না।" আস-সুহারি বললেন: "আপনি যদি আরবদের থেকে অথবা তাদের অভিজাতদের থেকে হন, তবে আমি আপনাকে চিনে নেব।" উতারিদ বললেন: "আমি আরবদের থেকেই।" আস-সুহারি বললেন: "তাদের মধ্যে আপনি কার অন্তর্ভুক্ত?" উতারিদ বললেন: "মুদার গোত্রের।" সুহারি মনে মনে বললেন: "আজ আমি এই মুদারি ব্যক্তিকে পরাস্ত করব।" অতঃপর আস-সুহারি বললেন: "আপনি কি আরজা (পার্শ্ববর্তী) থেকে নাকি ফুরসান (অশ্বারোহী) থেকে?" উতারিদ বললেন: "আমি বুঝতে পারলাম যে ফুরসান হলো কায়স গোত্র আর আরজা হলো ইলিয়াসের বংশধর।" উতারিদ বললেন: "আমি আরজা থেকে।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি খিনদাফের বংশধর।" উতারিদ বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আপনি কি আরমাহ থেকে নাকি জামাজিম থেকে?" উতারিদ বললেন: "আমি দীর্ঘক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইলাম, কোনো কথা বলতে পারলাম না। অতঃপর আমার বুদ্ধি ফিরে এল এবং আমি বুঝতে পারলাম যে আরমাহ হলো খুজাইমার বংশধর যারা কায়স, আর জামাজিম হলো আদ-এর বংশধর।" উতারিদ বললেন: "হ্যাঁ (জামাজিম থেকে)।" তিনি বললেন: "আপনি কি রওয়াবি থেকে নাকি সামিম থেকে?" উতারিদ বললেন: "আমি এক মুহূর্ত স্তব্ধ হয়ে রইলাম।" অর্থাৎ চুপ থাকলেন। "অতঃপর আমি বুঝতে পারলাম যে রওয়াবি হলো রিবাব গোত্র, আর সামিম হলো তামিম গোত্র।" উতারিদ বললেন: "না, বরং সামিম থেকে।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি বনু তামিম গোত্রের।" উতারিদ বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আপনি কি সংখ্যালঘুদের থেকে নাকি সংখ্যাগুরুদের থেকে, নাকি তাদের অন্য ভাই আমর বিন তামিমের বংশধরদের থেকে?" উতারিদ বললেন: "না, বরং সংখ্যাগুরুদের থেকে।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি ইয়াজিদের বংশধর।" উতারিদ বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আপনি কি জুরা (চূড়া) থেকে, নাকি থুমাল (আশ্রয়স্থল) থেকে, নাকি নুজুদ (উচ্চভূমি) থেকে?" উতারিদ বললেন: "আমি বুঝতে পারলাম যে জুরা হলো মালিক, নুজুদ হলো সাদ এবং থুমাল হলো ইমরুল কায়স।" উতারিদ বললেন: "জুরা থেকে।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি মালিকের বংশধর।" উতারিদ বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আপনি কি আনফ (নাসিকা) থেকে নাকি জানাব (লেজ) থেকে?" উতারিদ বুঝতে পারলেন যে আনফ হলো হানজালা আর জানাব হলো রাবিয়ার বংশধর। উতারিদ বললেন: "আনফ থেকে।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি হানজালার বংশধর।" উতারিদ বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আপনি কি ওয়াসাত (মধ্যম) থেকে নাকি ফুরসান (অশ্বারোহী) থেকে নাকি বুরুজ (দুর্গ) থেকে?" উতারিদ বুঝতে পারলেন যে ওয়াসিত হলো বারাজিম, ফুরসান হলো ইয়ারবু এবং বুরুজ হলো মালিক বিন হানজালা। উতারিদ বললেন: "না, বরং বুরুজ থেকে।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি মালিকের বংশধর।" উতারিদ বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আপনি কি সাহাব (মেঘ) থেকে, নাকি নুজুম (নক্ষত্র) থেকে, নাকি বুদুর (পূর্ণিমা) থেকে?" উতারিদ বুঝতে পারলেন যে সাহাব হলো বনু আদাবিয়্যাহ, নুজুম হলো বনু তাহিয়্যাহ এবং বুদুর হলো বনু দারিম। উতারিদ বললেন: "না, বরং বুদুর থেকে।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি বনু দারিমের অন্তর্ভুক্ত।" উতারিদ বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আপনি কি হিজাব (মালভূমি) থেকে, নাকি নাব (দন্ত) থেকে, নাকি শিহাব (উল্কা) থেকে?" উতারিদ বুঝতে পারলেন যে হিজাব হলো বনু মুজাশিয়া, নাব হলো বনু আব্দুল্লাহ ইবনে দারিম এবং শিহাব হলো বনু নাহশাল। উতারিদ বললেন: "না, বরং নাব থেকে।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি আব্দুল্লাহ ইবনে দারিমের বংশধর।" উতারিদ বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আপনি কি জওয়াফির থেকে নাকি নাবিত থেকে?" উতারিদ লক্ষ্য করে দেখলেন যে জওয়াফির হলো আহলাফ এবং নাবিত হলো জুরারা। উতারিদ বললেন: "না, বরং নাবিত থেকে।" তিনি বললেন: "তাহলে আপনি জুরারা ইবনে আদাস-এর বংশধর।" উতারিদ বললেন: "হ্যাঁ, আমি তাদেরই একজন।" তিনি বললেন: "আপনি তাদের মধ্যে কে?" উতারিদ বললেন: "আমি উতারিদ ইবনে হাজিব ইবনে জুরারা।" আস-সুহারি বললেন: "হে তামিমি, আপনি তো ভেবেছিলেন যে আমি বংশপরিচয় ভালো জানি না।" উতারিদ বললেন: "আমি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে কখনও দেখিনি।" তিনি বললেন: "আমিও আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে কখনও দেখিনি।"
সাহিত্য ও প্রজ্ঞার অধিকারী এবং মুরুওয়াত ও জ্ঞানের অধিকারীরা বংশপরিচয় শিক্ষা ও তা জানার প্রতি উৎসাহিত করেছেন: যাতে এর মাধ্যমে তারা তাদের বংশধারা রক্ষা করতে পারে, তাদের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারে এবং তাদের যা যা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে তা পালন করতে পারে। আর যাতে তারা মন্দ কাজ এবং অধম ও মূর্খদের পরিহার করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলতে পারে। আরবরা তাদের বংশধারা সেভাবেই রক্ষা করত যেভাবে তারা তাদের স্ত্রীদের (পরিবারকে) রক্ষা করত, যা অন্য কোনো জাতি কখনও করেনি। এমনকি তাদের কোনো ব্যক্তি তার সন্তানকে বংশপরিচয় শিক্ষা দিত যেমনটি সে তাকে তার প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় শিক্ষা দিত। এটি অনাদিকাল থেকেই তাদের রীতি ছিল: যাতে তাদের কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো কওমের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যায়, নিজের গোত্র ছাড়া অন্য গোত্রের সাথে সম্পর্ক স্থাপন না করে এবং নিজের গোষ্ঠী ছাড়া অন্য কোনো গোষ্ঠীর পরিচয় না দেয়। এর মাধ্যমে তারা তাদের আভিজাত্যকে বেষ্টন করে রেখেছে এবং তাদের বংশধারাকে সংরক্ষিত করেছে, যা অন্য কোনো জাতির মধ্যে দেখা যায় না। এমনকি অন্য জাতির কোনো ব্যক্তিকে যদি তার পিতার পরবর্তী ঊর্ধ্ব পুরুষ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে সে তা না জানার কারণে এবং পরিচয় দিতে না পারার কারণে লজ্জিত হয়ে পড়ে। আপনি কোনো আরবের মধ্যে এই অজ্ঞতা খুঁজে পাবেন না, কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া যে তার বংশ হারিয়ে ফেলেছে, নিচু ও মূর্খ মানুষের সাথে মিশেছে এবং যার স্বভাব-চরিত্র কলুষিত হয়ে গেছে, ফলে সে কোনটি তার করণীয় এবং কোনটি বর্জনীয় তা জানে না।নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর পরে তাঁর সাহাবীগণ বংশধারা শিক্ষা এবং আরবদের বংশপরিচয় জানার প্রতি উৎসাহিত করেছেন: যাতে এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর নির্দেশিত আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারে এবং আল্লাহর নিষেধকৃত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারে। ইতিপূর্বে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে সব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা এর পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। কিছু কবি এই বিষয়টি উপলব্ধি করে কবিতায় বলেছেন:শোন ওহে মানুষ, জ্ঞান যাদের ভূষণ ও বৈশিষ্ট্য … আর যা তাদের কঠিন সংকট সমাধানে সামর্থ্য জোগায়তোমরা সমস্ত গোত্রের বংশধারা জেনে নাও … মা'আদ এবং কাহতান, যাদের বংশমূল অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাবান।একটি পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত আছে যে: ইবলিসের সাথে থাকা ফেরেশতারা আদমের সৃষ্টি দেখে বিস্মিত হয়েছিল। আল্লাহর সৃষ্টিসমূহের মধ্যে এর আগে তারা এমন কিছুই দেখেনি যার সাথে এর সাদৃশ্য রয়েছে। ইবলিস আদমের চারপাশ দিয়ে ঘুরছিল এবং বলছিল: আমি এমন এক সৃষ্টিকে দেখছি যার একটি অবয়ব থাকবে। এরপর সে তার সাথে পৃথিবীতে থাকা ফেরেশতাদের বলল: তোমরা কি দেখেছ, সৃষ্টির মধ্যে যার কোনো সাদৃশ্য তোমরা দেখনি, তাকে যদি তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয় এবং তার আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে তোমরা কী করবে? তারা বলল: আমরা আমাদের রবের নির্দেশ মান্য করব এবং তিনি আমাদের যা আদেশ করবেন তা পালন করব। ইবলিস মনে মনে বিশেষ করে অবাধ্যতা গোপন করল এবং বলল: যদি তোমাকে আমার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয় তবে আমি তোমাকে ধ্বংস করব, আর যদি আমাকে তোমার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয় তবে আমি তোমার আনুগত্য করব না।
কালবী আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: ফেরেশতারা যখন আদমের অবয়ব দেখে বিস্মিত হলো, তখন ইবলিস তাদের বলল: তোমরা কি দেখেছ, এই সৃষ্টি যার রূপের মতো তোমরা আর দেখনি, তাকে যদি তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয় তবে তোমরা কী করবে? তারা বলল: আমরা আমাদের রবের নির্দেশ মান্য করব এবং তিনি আমাদের যা আদেশ করবেন তা পালন করব। তখন ইবলিস মনে মনে বলল: যদি তাকে আমার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয় তবে আমি তার আনুগত্য করব না, আর যদি আমাকে তার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয় তবে আমি তাকে ধ্বংস করব। তখন ফেরেশতারা তাদের মুখে যা প্রকাশ করেছিল এবং আল্লাহর শত্রু ইবলিস তার মনে আদমের প্রতি যে শত্রুতা গোপন করেছিল, আল্লাহ তা জেনে নিলেন।
যখন আল্লাহ আদমের অবয়ব তৈরি করলেন, তখন তার দৈর্ঘ্য ছিল পাঁচশত বছর—অন্য পাণ্ডুলিপিতে আছে পাঁচশত হাত—বলা হয় যে ইবলিস তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তার পিঠে ও পেটে আঘাত করল। সে একটি ঝনঝন শব্দ শুনতে পেল এবং বলল: এটি একটি দুর্বল সৃষ্টি যে পানাহার করবে, আর তার বিশেষ কিছু গুরুত্ব রয়েছে।
আরও বলা হয় যে, একদিন সে তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে তার পা দিয়ে লাথি মারল এবং তার উপর থুতু ফেলল। সেই থুতু তার পেটে পড়ল। তখন বলা হয় যে, আল্লাহ আদমের পেট থেকে ইবলিসের থুতু তুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন এবং তা খুঁচিয়ে বের করা হলো; আদমের পেটের যে স্থানে নাভি রয়েছে সেটিই সেই জায়গা।
বর্ণনাকারী বলেন, মুজাহিদ বলতেন: আদমের যে অংশটি প্রথম রূপদান করা হয়েছিল তা হলো লজ্জাস্থান। তখন তাকে বলা হলো: হে আদম, এটি একটি আমানত, তাই যেখানে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেই জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও একে রেখো না।
আবদুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আদমকে কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? তিনি বললেন: মহান আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন; তার মাথা ও কপাল সেই মাটি থেকে যা কাবার স্থান। তার স্তনদ্বয় বাইতুল মাকদিস থেকে, তার উরুদ্বয় ইয়ামেনের মাটি থেকে, তার নলাদ্বয় মিসরের মাটি থেকে, তার দুই পা হিজাজের মাটি থেকে, তার ডান হাত প্রাচ্যের মাটি থেকে, তার বাম হাত প্রতীচ্যের মাটি থেকে, তার দেহ তায়েফের মাটি থেকে, তার সম্মুখ ও পশ্চাৎভাগ সমভূমি ও পাহাড় থেকে, তার কলিজা ও হৃদয় মসুলের মাটি থেকে, এবং তার প্লীহা ও ফুসফুস জাযীরার মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহ জুমার দিন আসরের পর আদমকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাকে সমস্ত জমিনের উপরিভাগের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন—তার কালো, লাল, ভালো ও মন্দ মাটি থেকে। একারণেই তার সন্তানদের মধ্যে কেউ কালো, কেউ লাল, কেউ ভালো আর কেউ মন্দ হয়েছে। বলা হয়: তাকে 'আদম' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাকে জমিনের উপরিভাগ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এরপর আল্লাহ মহান আদমের মধ্যে চল্লিশ বছর পর রুহ ফুঁকে দিলেন। রুহ তার শরীরের যে অংশেই প্রবাহিত হয়েছে তা মাংস, রক্ত, রগ ও জোড়ায় পরিণত হয়েছে। যখন রুহ তার নাভি পর্যন্ত পৌঁছাল, তখন সে তাড়াহুড়ো শুরু করল এবং দাঁড়ানোর ও লাফানোর চেষ্টা করল। এ কারণেই আল্লাহ তাআলার বাণী: "মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে তাড়াহুড়ো প্রবণ করে" এবং "মানুষ অত্যন্ত ত্বরাপ্রিয়"। যখন রুহ তার পা পর্যন্ত পৌঁছাল, তখন সে সোজা হয়ে বসল এবং বলল: আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। অর্থাৎ: সেই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এটিই ছিল আদমের বলা প্রথম বাক্য। তখন তার প্রতিপালক সুবহানাহু তাকে উত্তর দিলেন: তোমার রব তোমার উপর দয়া করুন, এজন্যই আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি যাতে তুমি তাসবিহ ও পবিত্রতা বর্ণনা করো। আর তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের উপর প্রাধান্য পেল। তাই তিনি আদমের উপর তাঁর রহমত এবং ইবলিসের উপর তাঁর ক্রোধ নির্ধারিত করলেন।
একটি পাণ্ডুলিপিতে বলা হয়েছে: যখন আদমের মধ্যে প্রথম রুহ ফুঁকা হলো, তখন রুহ তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করল। মস্তিষ্ক থেকে রুহ তার দুই চোখে নামল এবং সে তা দিয়ে দেখতে পেল। তাকে বলা হলো: হে আদম, এটি তুমি যা আদিষ্ট হবে তার প্রমাণ। এরপর রুহ তার নাসারন্ধ্রে নামল এবং সে হাঁচি দিল। যখন সে হাঁচি শেষ করল এবং রুহ তার মুখে পৌঁছাল, সে কথা বলল। আল্লাহ তাকে ইলহাম করলেন: আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। সে তা বলল। তখন তার রব তাকে ইলহাম করলেন যে, "আমি তোমাকে আমার হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি যাতে তুমি আমার প্রশংসা করো।" এটিই সেই হাদিস যাতে উল্লেখ আছে যে আল্লাহ বলেন, "আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর জয়ী হয়েছে।" তিনি বলছেন, ইবলিসের উপর ক্রোধের আগে আদমের প্রতি আমার রহমত আগে পৌঁছেছে। এরপর রুহ তার বক্ষে নামল, তখন সে দাঁড়ানোর জন্য চেষ্টা করল। সেই বিষয়েই আল্লাহ বলেন, "মানুষ অত্যন্ত ত্বরাপ্রিয়।" এরপর রুহ তার পা পর্যন্ত নামল এবং সে সোজা হয়ে দাঁড়াল। সেই বিষয়েই আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি শ্রম ও কষ্টের মধ্যে।" অর্থাৎ সোজা হয়ে দাঁড়ানো অবস্থায়; সৃষ্টির মধ্যে আদম সন্তান ছাড়া আর সবাই উপুড় হয়ে থাকে। বলা হয় যে, আল্লাহ যখন আদমের সৃষ্টি পূর্ণ করলেন, তখন তাকে সম্মান জানানোর জন্য ফেরেশতাদের সেজদা করার নির্দেশ দিলেন, ইবাদত হিসেবে নয়। ইবলিসও তাদের সাথে এই নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু সে আদমের প্রতি হিংসাবশত অস্বীকার করল, অহংকার করল এবং তার রবের অবাধ্য হলো।