0/0
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: -)
إسعاف الأعيان في أنساب أهل عمان   (سالم السيابي)

القسم: الأنساب


الكتاب: إسعاف الأعيان في أنساب أهل عمان

المؤلف: سالم بن حمود السيابي الإباضي

وشاركه التأليف: إبراهيم بن سعيد العَبرِي (أدخل زيادات بنفس الكتاب وفي الهامش)

شرحه وعلق عليه: محمد سعيد الطنطاوي

(وقد ميزت حواشي إبراهيم العبري بـ (ص) «المصنف»، وحواشي التحقيق بـ (ش) «شرح»)

خرج أحاديثه: محمد ناصر الدين الألباني (في ملحق خاص بآخر الكتاب)

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

(تنبيه): سرد الناشر تصويبات لأخطاء طباعية آخر الكتاب، وقد أدرجناها في مواضعها في هذه النسخة الإلكترونية

عدد الصفحات: 217

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ওমানবাসীদের বংশবৃত্তান্ত বর্ণনায় গণ্যমান্যদের সাহায্য   (সালেম আল-সিয়াবি)

বিভাগ: বংশবৃত্তান্ত


গ্রন্থ: ওমানবাসীদের বংশবৃত্তান্ত বর্ণনায় গণ্যমান্যদের সাহায্য

লেখক: সালেম বিন হামুদ আল-সিয়াবি আল-ইবাদি

সহ-লেখক: ইব্রাহিম বিন সাইদ আল-আবরী (মূল গ্রন্থে এবং পার্শ্বটীকায় পরিবর্ধন যুক্ত করেছেন)

ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান করেছেন: মুহাম্মদ সাইদ আল-তান্তাবি

(ইব্রাহিম আল-আবরীর টীকাগুলোকে (স) «প্রণেতা», এবং তাহকিকের টীকাগুলোকে (শ) «ব্যাখ্যা» দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে)

হাদিসসমূহের তাখরিজ করেছেন: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি (গ্রন্থের শেষে একটি বিশেষ পরিশিষ্টে)

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - বৈরুত

(সতর্কবার্তা): প্রকাশক গ্রন্থের শেষে মুদ্রণজনিত ত্রুটিসমূহের সংশোধনী তালিকাভুক্ত করেছিলেন, আমরা সেগুলোকে এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে স্ব-স্ব স্থানে অন্তর্ভুক্ত করেছি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: 217

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১)
إسعاف الأعيان في أنساب أهل عمان

تأليف

سالم بن حمود السيابي

طبع على نفقة

صاحب السمو الشيخ أحمد بن الشيخ علي آل ثاني حفظهما الله

منشورات المكتب الإسلامي
ওমানবাসীদের বংশপরিচয় বর্ণনায় বিশিষ্টজনদের সহায়তা (ইসআফুল আইয়ান ফি আনসাব আহলি ওমান)

রচনায়

সালেম বিন হামুদ আস-সিয়াবী

যাঁর অর্থায়নে মুদ্রিত

মহামান্য শায়খ আহমদ বিন শায়খ আলী আল থানি (আল্লাহ তাঁদের উভয়কে হিফাজত করুন)

আল-মাকতাব আল-ইসলামী প্রকাশনী
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ২)
هذه النسخة

وقف لله تعالى

من

صاحب السمو الشيخ أحمد بن علي آل ثاني

حفظه الله
এই অনুলিপিটি

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ওয়াকফকৃত

পক্ষ থেকে

হিজ হাইনেস শেখ আহমদ বিন আলী আল থানি

আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৩)
- جـ -

 

‌‌مقدمة

بقلم

عبد البديع السيد صقر

مدير دار الكتب القطرية

الحمد لله الذي بفضله تتم الصالحات، والصلاة والسلام على سيدنا محمد صاحب المعجزات، وعلى آله وأصحابه الطيبين والطيبات.

أما بعد: فقد عُرض هذا الكتاب على المحب للعلم وأهله، الباذل في أبواب الخير ماله وجهده:

صاحب السمو الشيخ أحمد ابن الشيخ علي آل ثاني حفظه الله

فأمر بطبعه على نفقته تكريمًا منه لجهود المؤلفين، وخدمة لأهل عمان الذين تعود سموه أن يؤثرهم بعطفه ومساعدته.

وتنفيذا لأوامر سموه قمنا بمراجعة المخطوط الأصلي، وإجراء بعض التصحيحات والتعديلات اللازمة.

ونسأل الله أن ينفع به، وأن يجزي العاملين للخير خيرا.
- জ -

 

‌‌ভূমিকা

লেখনীতে

আবদুল বাদি আল-সাইয়্যেদ সাকর

পরিচালক, কাতার দারুল কুতুব

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয়। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুজিযাসমূহের অধিকারী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও পুণ্যবান সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর: এই কিতাবটি জ্ঞান ও জ্ঞানানুরাগীদের প্রতি অনুরাগী এবং কল্যাণের পথে নিজ সম্পদ ও শ্রম উৎসর্গকারী মহান ব্যক্তির নিকট পেশ করা হয়েছে:

হিজ হাইনেস শেখ আহমদ ইবনে শেখ আলী আল থানি, আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন

তিনি লেখকদের প্রচেষ্টার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ওমানবাসীদের সেবার লক্ষ্যে এটি নিজ ব্যয়ে ছাপানোর নির্দেশ প্রদান করেছেন, যাঁদের প্রতি তিনি সর্বদা তাঁর দয়া ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে অভ্যস্ত।

তাঁর নির্দেশের বাস্তবায়নে আমরা মূল পাণ্ডুলিপিটি পর্যালোচনা করেছি এবং প্রয়োজনীয় কিছু সংশোধন ও পরিমার্জন সম্পন্ন করেছি।

আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এর মাধ্যমে সকলে উপকৃত হয় এবং যারা কল্যাণের কাজ করে তাদের তিনি উত্তম প্রতিদান দান করেন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৫)
- هـ -

 

‌‌مقدمة الناشر

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.

أما بعد: فإن الله تعالى ميز المسلم وجعل له كيانًا واضح المعالم رفيع الشأن، حيث لا يلحق به لاحق، ولا يساميه كيان. وما ذل المسلمون حين ذلوا. وما تاهوا وضاعوا، إلا حين جهلوا أنفسهم، وتخلوا عن كيانهم، وأقاموا حياتهم على غير أسسهم.

لذلك كان مما نحرص عليه -حين نحب للمسلمين استعادة مجدهم، وعودتهم إلى محلهم- أن نعمل لتذكيرهم بكيانهم، وإشعارهم بتميزهم، ومما يساعد على ذلك، تعريفهم بأسلافهم، وتحليتهم بأنسابهم …

ونريد بهذا، أن نجد أمامنا القدوات الصالحة فنهتدي بخلائقها، ونقبس من فضائلها، ونستقيم على طريقها، ونكون بذلك خير خلف لخير سلف.

وهذا الكتاب الذي قمنا بنشره، محاولة في تبيين كياننا، وتوضيح أنسابنا، وتعريفنا بروابط جزء من أجزاء العالم الإسلامي، آملين أن ينهض فريق من أولي الكفاءة والخبرة بعبء دراسة أجزائه من حيث جغرافيته وتاريخه، وماضيه وحاضره، ومآسيه ومآثره.
- হ -

 

‌‌প্রকাশকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ এবং আমাদের কর্মসমূহের অকল্যাণ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

অতঃপর: মহান আল্লাহ মুসলিমকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছেন এবং তার জন্য এক সুস্পষ্ট রূপরেখাবিশিষ্ট ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন সত্তা দান করেছেন, যেখানে অন্য কেউ তাকে স্পর্শ করতে পারে না এবং কোনো সত্তাই তার সমকক্ষ হতে পারে না। মুসলিমরা যখনই লাঞ্ছিত হয়েছে, পথ হারিয়েছে কিংবা ধ্বংস হয়েছে, তা কেবল তখনই হয়েছে যখন তারা নিজেদের সম্পর্কে অজ্ঞ থেকেছে, নিজেদের আত্মপরিচয় বিসর্জন দিয়েছে এবং নিজেদের মৌলিক ভিত্তি ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর জীবন গড়ে তুলেছে।

সে কারণেই আমরা যখন মুসলিমদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং তাদের স্বীয় মর্যাদাপূর্ণ স্থানে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা করি, তখন আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকে তাদের স্বীয় সত্তা বা পরিচয় স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং তাদের অনন্য বৈশিষ্ট্যের অনুভূতি জাগ্রত করা। আর এতে সহায়ক বিষয়গুলোর অন্যতম হলো, তাদের পূর্বসূরীদের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাঁদের বংশমর্যাদা দ্বারা তাদের ভূষিত করা …

এর মাধ্যমে আমরা চাই আমাদের সামনে যেন নেককার আদর্শবান ব্যক্তিবর্গ বিদ্যমান থাকেন, যাঁদের চারিত্রিক গুণাবলি দ্বারা আমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হই, তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব থেকে আলো গ্রহণ করি এবং তাঁদের পথে অবিচল থাকি; আর এর মাধ্যমে আমরা যেন শ্রেষ্ঠ পূর্বসূরীদের যোগ্য উত্তরসূরী হতে পারি।

আমরা যে গ্রন্থটি প্রকাশ করেছি, তা আমাদের আত্মপরিচয় ফুটিয়ে তোলার, আমাদের বংশধারা স্পষ্ট করার এবং মুসলিম বিশ্বের একটি অংশের পারস্পরিক বন্ধনসমূহের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। আমরা আশা করি যে, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একদল ব্যক্তি এর ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, অতীত-বর্তমান এবং এর ট্র্যাজেডি ও কীর্তিগাথা অধ্যয়নের গুরুভার গ্রহণ করতে এগিয়ে আসবেন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৬)
- و -

 

وهذا الكتاب يسدّ -مؤقتًا- ثغرة لابد من سدها، ولو لم يكن له من شأن، إلا دفع ذوي الكفاءة لتأليف أفضل، وحثهم على الاهتمام لكفاه، والكمال إنما يأتي -غالبًا- بعد النقص، ولابد بعد ذلك في كل نتاج بشري من نقص.

وقد عانينا في قراءة خط الكتاب وتداخل كلماته وتراص أسطره .. ما عانينا وليس للكتاب سمة واحدة، بل يختلف فيه الأمر الواحد حينما يتكرر فيه على أشكال مختلفة، لا سيما ما هو مختلف فيه، (كقيس عيلان) مثلًا، الذي ينسبه البعض (قيس بن عيلان)، فترى المؤلف يذكره قيس بن عيلان أحيانًا، وقيس عيلان أحيانًا أخرى ..

هذا عدا أن الكتاب ليس على ما ينبغي من حيث التصنيف والترتيب، فلا يستطيع القارئ أن يخرج بصورة واضحة عن ارتباط هذه القبائل بعضها مع بعض، فتراه بعد قريش يذكر بطونًا من هوازن، لا سيما من عامر بن صعصعة، ثم ينتقل إلى غطفان، ليقفز بعدها إلى ربيعة، ثم يترك ربيعة ويعود إلى مضر، فيتحدث من جديد عن قبائل غطفان، ثم يرجع إلى عامر بن صعصعة مرة أخرى، ثم ربيعة .. وهكذا! وبالرغم من كل هذا فإنه -كما قلنا- خطوة طيبة في التعريف بهذا الجزء من الوطن وسكانه

ولا يسعنا ونحن نقدم الكتاب إلا أن نقدم الشكر لمن ألف الكتاب، ولمن سعى في نشره.

والكتاب تضافر عليه مؤلفان، المؤلف الأصلي وهو الشيخ سالم بن حمود السيّابي السمَائلي وانتهى منه في 25 شوال 1382 هـ، ثم الشيخ إبراهيم بن سعيد العَبرِي الذي كان يقوم بتصحيح بعض الألفاظ، وإضافة بعض الشروح والعبارات، في صلب المؤلف الأصلي حينًا، وعلى هامشه حينًا آخر. ولا ندري أكان الكتاب بخط المؤلف نفسه، أم كان دفعه إلى من نسخه له، إلا أن الواضح أن هناك اختلافًا بين خط
- ওয়াও -

 

এই গ্রন্থটি সাময়িকভাবে এমন একটি শূন্যস্থান পূরণ করছে যা পূরণ করা অপরিহার্য ছিল। যদি এর অন্য কোনো গুরুত্ব নাও থাকত, কেবল যোগ্য ব্যক্তিদের আরও ভালো রচনার দিকে ধাবিত করা এবং এ বিষয়ে তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা—তবে এটুকুই এর জন্য যথেষ্ট হতো। পূর্ণতা সাধারণত অসম্পূর্ণতার পরেই আসে, আর মানুষের প্রতিটি সৃষ্টিতেই কিছু না কিছু ত্রুটি থাকা অনিবার্য।

আমরা গ্রন্থটির হস্তলিপি পাঠ করতে, শব্দের পরস্পর মিশে যাওয়া এবং লাইনের ঘনবিন্যাসের কারণে যথেষ্ট কষ্ট সহ্য করেছি... আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এই গ্রন্থের কোনো একক বৈশিষ্ট্য নেই, বরং একই বিষয় যখন বারবার এসেছে তখন তা ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা গেছে। বিশেষ করে যেখানে মতভেদ রয়েছে; যেমন: (কায়স আয়লান) উদাহরণস্বরূপ, যাকে কেউ কেউ (কায়স বিন আয়লান) হিসেবে সম্বন্ধ করেন। দেখা যায় যে লেখক কখনো একে কায়স বিন আয়লান হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার কখনো কায়স আয়লান হিসেবে...

তদুপরি, বিন্যাস ও ক্রমবিন্যাসের দিক থেকে গ্রন্থটি যেমন হওয়া উচিত ছিল তেমনটি নয়। পাঠক এই গোত্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের ব্যাপারে কোনো স্বচ্ছ ধারণা লাভে সক্ষম হন না। দেখা যায়, কুরাইশ বংশের আলোচনার পর তিনি হাওয়াযিন গোত্রের কিছু শাখার কথা উল্লেখ করছেন, বিশেষ করে আমির বিন সা’সাআহ থেকে; এরপর তিনি গাতফানে চলে যান, তারপর সেখান থেকে লাফিয়ে রাবিআহতে পৌঁছান। পুনরায় রাবিআহ ছেড়ে মুদারে ফিরে আসেন এবং গাতফান গোত্রগুলো সম্পর্কে নতুন করে আলোচনা করেন, অতঃপর আবার আমির বিন সা’সাআহ এবং তারপর রাবিআহ-তে ফিরে যান... এভাবেই চলতে থাকে! এসব সত্ত্বেও, আমরা যেমনটি বলেছি—দেশের এই অংশ এবং এর অধিবাসীদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।

এই গ্রন্থটি পেশ করার সময় যারা এটি রচনা করেছেন এবং যারা এটি প্রকাশের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই।

গ্রন্থটির পিছনে দুইজন লেখকের অবদান রয়েছে; মূল লেখক হলেন শায়খ সালিম বিন হামুদ আস-সিয়াবি আস-সামাইলি, যিনি ১৩৮২ হিজরির ২৫ শে শাওয়াল এটি সম্পন্ন করেন। এরপর শায়খ ইবরাহিম বিন সাঈদ আল-আবরী, যিনি কিছু শব্দের সংশোধন এবং কিছু ব্যাখ্যা ও বাক্য যুক্ত করার কাজ করেন—কখনো মূল পাণ্ডুলিপির ভেতরে আবার কখনো এর পার্শ্বটীকায়। গ্রন্থটি লেখকের নিজস্ব হস্তলিপিতে ছিল কি না, নাকি তিনি এটি কাউকে প্রতিলিপি করার জন্য দিয়েছিলেন তা আমাদের জানা নেই, তবে এটি স্পষ্ট যে হস্তলিপির মাঝে পার্থক্য রয়েছে...
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৭)
- ز -

 

الكتاب وخط التعليق، وإن كان فشو الأخطاء النحوية والإملائية في الأصل أكبر وأكثر! فكنا نصحح بعضها، ونضرب أحيانًا عن ذلك فنتركه كما هو، لحرصنا على عدم مس الكتاب وتغير أسلوبه، فيدفعنا ترابط الكلام إلى تركه كما هو، كما قد نعجز أحيانًا عن فك رموز كلمة فنبقيها على صورتها، وقد قمنا بنسخ الكتاب من جديد، غير أن ذلك لم يساعدنا إلا في طبعه.

وقد مر الكتاب قبل أن يصل إلينا على مدير المكتبات في قطر الأستاذ الفاضل عبد البديع صقر. فأتى عليه بمرور سريع، وضع فيه علامات حمراء، بشكل فواصل ونقاط، كما قام بشكل وضبط لبعض الكلمات، وقد كشف عمله هذا عن علمه وفضله، لكنه دلّ أيضًا على أن قيامه بهذا العمل كان بسرعة، ربما ألجأه إليها ضيق وقته وكثرة عمله، واعتماده، على أن المكتب الإسلامي سوف يتم ما بدأ، ويراجع ما ترك -وهكذا كان-.

وقد قام بالإشراف على تصحيح الكتاب ووضع حواشيه وفهارسه الأخ الفاضل الأستاذ محمد سعيد الطنطاوي يساعده بعض الأساتذة المصححين.

وقد أشرنا في هامش الكتاب، ببعض التعليقات، إلى تصويب أسماء، أو شرح عبارات، أو تحقيق أنساب، أو التعريف بحوادث وحقائق، أو ملاحظات واستدراكات وقد ميزنا بين حواشي الشيخ العبري وحواشينا هذه، بحرف (ص) للأول نعني به المصنف، و (ش) للنوع الثاني، إشارة إلى أنه شرح قمنا به لهذه المواضع.

كما أننا في آخر الكتاب عزونا الآيات إلى مواضعها في الكتاب الكريم.

وطلبنا من أستاذنا محدث الشام الشيخ محمد ناصر الدين الألباني تخريج ما أورد المؤلف من أحاديث في الكتاب. وأضفنا فهرسًا ثالثًا لما مرّ من شعر فيه، وفهرسًا رابعًا بأسماء الكتب التي ورد ذكرها في الكتاب. ثم رتبنا كل المواضع والأمكنة والبلدان، التي عرضت في الكتاب، على الحروف الهجائية في فهرس خامس، وأتبعنا كل ذلك
- ঝ -

 

বইটি এবং তালীক লিপি, যদিও মূল পাণ্ডুলিপিতে ব্যাকরণগত এবং বানানজনিত ভুলের আধিক্য অনেক বেশি ও ব্যাপক ছিল! ফলে আমরা এর কিছু সংশোধন করেছি এবং কখনও কখনও তা থেকে বিরত থেকে সেটিকে তার নিজ অবস্থায় রেখে দিয়েছি; বইটির মূল পাঠ স্পর্শ না করা এবং এর শৈলী পরিবর্তন না করার প্রবল আগ্রহ থেকে। অনেক সময় বাক্যের পারম্পর্য আমাদের তা অবিকল অবস্থায় রাখতে বাধ্য করেছে। আবার কখনও কখনও কোনো শব্দের গূঢ় রহস্য বা পাঠোদ্ধার করতে আমরা অক্ষম হয়েছি, ফলে তা তার মূল রূপেই রেখে দিয়েছি। আমরা বইটি নতুন করে অনুলিপি করেছি, তবে তা কেবল মুদ্রণের ক্ষেত্রেই আমাদের সহায়ক হয়েছে।

বইটি আমাদের নিকট পৌঁছানোর পূর্বে কাতারের গ্রন্থাগারসমূহের পরিচালক শ্রদ্ধেয় উস্তাদ আব্দুল বাদী' সাকর-এর নিকট গিয়েছিল। তিনি এর ওপর দ্রুত এক নজর বুলিয়েছিলেন এবং তাতে বিরতি ও দাঁড়ি হিসেবে কিছু লাল চিহ্ন প্রদান করেছিলেন। এছাড়া তিনি কিছু শব্দের হরকত ও বিন্যাসও সম্পন্ন করেছিলেন। তাঁর এই কাজ তাঁর জ্ঞান ও মর্যাদাকে প্রকাশ করেছে, তবে এটি এও নির্দেশ করে যে, তাঁর এই কাজটি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পাদিত হয়েছিল। সম্ভবত সময়ের সংকীর্ণতা এবং কাজের আধিক্য তাঁকে এর দিকে ধাবিত করেছিল এবং তিনি এই ভরসাও রেখেছিলেন যে, 'আল-মাকতাবুল ইসলামী' তাঁর শুরু করা কাজ সম্পন্ন করবে এবং যা অবশিষ্ট রয়েছে তা পুনরায় পর্যালোচনা করবে—আর বাস্তবেও তাই হয়েছে।

বইটির সংশোধন তদারকি এবং এর পাদটীকা ও নির্ঘণ্টসমূহ বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করেছেন শ্রদ্ধেয় ভ্রাতা উস্তাদ মুহাম্মদ সাঈদ তানতাভী এবং তাঁকে কয়েকজন পাণ্ডুলিপি সংশোধক উস্তাদ সহায়তা করেছেন।

আমরা বইয়ের পাদটীকায় কিছু মন্তব্যের মাধ্যমে বিভিন্ন নাম সংশোধন, বাক্যাংশের ব্যাখ্যা, বংশপরিচয় যাচাই, বিভিন্ন ঘটনা ও তথ্যের পরিচিতি প্রদান অথবা পর্যবেক্ষণ ও পরিমার্জন নির্দেশ করেছি। আমরা শায়খ আল-ইবরীর টীকা এবং আমাদের এই টীকাগুলোর মাঝে পার্থক্য করার জন্য প্রথমটির ক্ষেত্রে 'সা' বর্ণ ব্যবহার করেছি যার দ্বারা আমরা লেখককে বুঝিয়েছি এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে 'শা' বর্ণ ব্যবহার করেছি এটি বুঝাতে যে এটি আমাদের তৈরিকৃত ব্যাখ্যা।

অনুরূপভাবে আমরা বইয়ের শেষে আয়াতগুলোকে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের সংশ্লিষ্ট স্থানের সাথে সম্পৃক্ত করেছি।

আমরা আমাদের উস্তাদ শামের মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানীকে অনুরোধ করেছিলাম লেখক বইটিতে যে সকল হাদীস উল্লেখ করেছেন সেগুলোর উৎস নির্দেশ বা তাখরীজ করার জন্য। আমরা এতে উল্লিখিত কবিতাগুলোর জন্য একটি তৃতীয় নির্ঘণ্ট এবং বইটিতে উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের নামের জন্য একটি চতুর্থ নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি। এরপর বইটিতে আলোচিত সকল স্থান ও জনপদসমূহকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়ে একটি পঞ্চম নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি এবং এই সবকিছুর অনুসরণ করেছি...
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৮)
- حـ -

 

بتصويب لأخطاء ندّت عن التصحيح في الطبع، أو أدركنا صحتها بعده.

وختمنا الكتاب بفهرس عام لمواضيع الكتاب.

والله نسأل أن يغفر لنا التقصير والخطأ، ويعصمنا من الزيغ والزلل، ويسدد خطانا إلى الحق والخير والصواب.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

 

بيروت

26 رمضان/1483 هـ

28 كانون الثاني/ 1965

الناشر
- ح -

 

মুদ্রণের সময় সংশোধন থেকে বাদ পড়ে যাওয়া ভুলগুলোর সংশোধনসহ, অথবা যেগুলোর সঠিক রূপ আমরা পরবর্তীকালে উপলব্ধি করেছি।

আমরা গ্রন্থের বিষয়বস্তুর একটি সাধারণ নির্ঘণ্টের মাধ্যমে কিতাবটি সমাপ্ত করেছি।

আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ত্রুটি ও ভুলসমূহ ক্ষমা করেন, আমাদের বিচ্যুতি ও পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন এবং সত্য, কল্যাণ ও সঠিকতার দিকে আমাদের পদক্ষেপসমূহকে সুদৃঢ় করেন।

আর আমাদের শেষ কথা হলো যে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

বৈরুত

২৬ রমাদান/১৪৮৩ হিজরি

২৮ জানুয়ারি/ ১৯৬৫

প্রকাশক
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: -)
إسعاف الأعيان في أنساب أهل عمان   (سالم السيابي)

القسم: الأنساب


الكتاب: إسعاف الأعيان في أنساب أهل عمان

المؤلف: سالم بن حمود السيابي الإباضي

وشاركه التأليف: إبراهيم بن سعيد العَبرِي (أدخل زيادات بنفس الكتاب وفي الهامش)

شرحه وعلق عليه: محمد سعيد الطنطاوي

(وقد ميزت حواشي إبراهيم العبري بـ (ص) «المصنف»، وحواشي التحقيق بـ (ش) «شرح»)

خرج أحاديثه: محمد ناصر الدين الألباني (في ملحق خاص بآخر الكتاب)

الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت

(تنبيه): سرد الناشر تصويبات لأخطاء طباعية آخر الكتاب، وقد أدرجناها في مواضعها في هذه النسخة الإلكترونية

عدد الصفحات: 217

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসআফুল আয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান   (সালিম আস-সিয়াবি)

বিভাগ: বংশবিদ্যা


বই: ইসআফুল আয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান

লেখক: সালিম বিন হামুদ আস-সিয়াবি আল-ইবাদি

সহ-লেখক: ইবরাহিম বিন সাঈদ আল-আবরী (যিনি বইয়ের মূল পাঠ্যে এবং টীকায় অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করেছেন)

ব্যাখ্যা ও টীকা প্রদান করেছেন: মুহাম্মদ সাঈদ আত-তান্তাভি

(ইবরাহিম আল-আবরীর টীকাগুলোকে (ص) «গ্রন্থকার», এবং তাহকিকের টীকাগুলোকে (ش) «ব্যাখ্যা»)

হাদিস তাখরিজ করেছেন: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি (বইয়ের শেষে একটি বিশেষ পরিশিষ্টে)

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামি - বৈরুত

(সতর্কতা): প্রকাশক বইয়ের শেষে মুদ্রণজনিত ত্রুটিগুলোর সংশোধন তালিকা প্রদান করেছেন, এবং আমরা এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে সেগুলোকে তাদের স্ব স্ব স্থানে অন্তর্ভুক্ত করেছি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৭

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تمهيد

لا يخفى على كل أديب أريب، أن علم الأَنساب من العلوم التي يحرص على اقتنائها أولو الأَلباب، وأَنها من الأُمور التي تتعلق بها أشياء كثيرة من معاني أحكام الشريعة الإسلامية، كالأَنكحة، من الولاية والكفاءَة والتحريم، وكالعقل، والموارثة، وغير ذلك مما يطول ذكره، قد حضّ الشارع على حفظ الأنساب، وحرَّم انتساب المَرْءِ إلى غير عشيرته، فمن لم يحفظ نَسَبَهُ لم يعرف نِسْبَتَهُ، ولعله ينتسب إلى قبيلة أخرى، للجهل بمعرفة أصل نسبه، فلهذا يجب صرف العناية إلى معرفة الأنساب، لكي يتمكن من الانتساب على الأمر الصواب، قال الله تعالى: (ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ)(1) والنسب من أعظم الأواصر الجامعة بين الناس، ومع ذلك فإننا لم نجد كتابًا جامعًا لأنساب قبائل عُمَان، على كثرتها وشهرتها، وذلك لصرف عناية علمائها وهممهم إلى ما هو الأَهمّ، ومن معرفة أصول الدين، وأحكام الحلال والحرام.

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب، الآية 5.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপক্রমণিকা

কোনো প্রাজ্ঞ ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, বংশবিদ্যা (ইলমুল আনসাব) এমন একটি জ্ঞান যা অর্জন করতে জ্ঞানীরা অত্যন্ত আগ্রহী থাকেন। আর এটি এমন একটি বিষয় যার সাথে ইসলামি শরীয়তের বিধানাবলির অনেক তাৎপর্য জড়িত, যেমন বিবাহ সংক্রান্ত অভিভাবকত্ব, সমতা ও বৈবাহিক নিষেধাজ্ঞা; এবং রক্তপণ (আকল), উত্তরাধিকারসহ আরও এমন অনেক বিষয় যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে। বিধানদাতা (শারী‘) বংশধারা সংরক্ষণের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং কোনো ব্যক্তির জন্য তার নিজ গোত্র ব্যতীত অন্য গোত্রের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করা হারাম করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তার বংশধারা সংরক্ষণ করল না, সে তার বংশপরিচয় জানল না; আর সম্ভবত তার বংশের মূল ভিত্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে সে নিজেকে অন্য কোনো গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত করে ফেলবে। এই কারণে বংশপরিচয় জানার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক, যাতে সঠিক পন্থায় বংশের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া সম্ভব হয়। মহান আল্লাহ বলেন: (তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো; এটিই আল্লাহর নিকট অধিক ন্যায়সঙ্গত)(১) আর বংশধারা হলো মানুষের মধ্যকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুদৃঢ় বন্ধন। তা সত্ত্বেও আমরা ওমানের গোত্রসমূহের আধিক্য ও প্রসিদ্ধি থাকা সত্ত্বেও তাদের বংশধারা সংক্রান্ত কোনো সুসংহত গ্রন্থ খুঁজে পাইনি; এর কারণ হলো সেখানকার ওলামায়ে কেরাম তাদের মনোযোগ ও সংকল্পকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে নিবদ্ধ করেছিলেন, যেমন দ্বীনের মূলনীতি এবং হালাল-হারামের বিধানাবলি জানা।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৫।

(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ২)
وما ذكره العلامة العَوتَبِي في تاريخه من أنساب قبائل عمان، لم يكن شاملًا لجميعها، بل ولا لأكثرها، وكذلك صاحب (كشف الغمّة)، لم يستوعب ذكر الأنساب، ولم يأت به على الوجه المراد، ثم لم يتعرض لذلك أحد من المؤلفين من بعدهم، حتى أتاح الله الكريم لهذا الشأن العظيم رغبة أخينا العلامة الجليل الباحث النبيل الشيخ سالم بن حمود بن شامس السِّيابي السَّمَائلي، فصرف عنايته إلى مطالعة الأنساب، ومراجعة الشيوخ، وكلّ من يعلم أن له إلمامًا ولو بالشيء اليسير من هذا الفن، حتى تَسَنَّى له إبراز هذا التأليف، الذي جمع به من نسب قبائل عمان كل لفيف، فهو أول كتاب برز من مخبَّآتِ إلى عالم الظهور، مُسْتَقِلٍّ في إيضاح أنساب القبائل العمانية، من العدنانية والقحطانية، وقد بذل المؤلِّف جهده في تطبيق هذه الأَنساب، وإلحاق بعض القبائل ببعض، مع بيان بعض مآثر القبائل وآثارها وذكر فضل بعض مشاهير القبيلة، وعلمائها، وخيارها.

وسوف يكون هذا السفر الجليل مع صغر حجمه مرجعًا لأهل عُمان في معرفة قبائلها، وأنسابها، ومفاخرها، وأحسابها.

وهو مع هذا كأنموذجِ من كتابه (العنوان الكافل بتاريخ عُمَان) وقد نوَّه به في مواضع من كتابه هذا، وأحال إليه كثيرًا من أحوال عمان، وذكر أخبارها، وتراجم أعيان رجالها.
আল্লামা আল-আওতাবী তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে ওমানের গোত্রসমূহের বংশপরম্পরা সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা সবগুলোর জন্য পূর্ণাঙ্গ ছিল না, এমনকি অধিকাংশের জন্যও নয়। একইভাবে (কাশফুল গুম্মাহ) গ্রন্থের লেখকও বংশপরম্পরা বর্ণনায় পূর্ণাঙ্গতা আনতে পারেননি এবং কাঙ্ক্ষিত উপায়ে তা উপস্থাপন করতে পারেননি। অতঃপর তাঁদের পরবর্তী কোনো লেখকই এ বিষয়ে মনোযোগ দেননি, যতক্ষণ না আল্লাহ কারীম এই মহান কাজের প্রতি আমাদের ভাই মহিমান্বিত আল্লামা, মহান গবেষক শায়খ সালিম বিন হামুদ বিন শামিস আস-সিয়াবী আস-সামাইলির হৃদয়ে আগ্রহ জাগিয়ে দিলেন। ফলে তিনি বংশবৃত্তান্ত অধ্যয়নে এবং প্রবীণ পণ্ডিতগণ ও এই বিদ্যায় সামান্যতম জ্ঞান রাখেন এমন প্রত্যেকের শরণাপন্ন হওয়ার পেছনে তাঁর মনোযোগ নিবদ্ধ করলেন, যতক্ষণ না তাঁর পক্ষে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করা সম্ভব হলো। এর মাধ্যমে তিনি ওমানের বিভিন্ন গোত্রসমূহের বংশবৃত্তান্তকে একত্রে সন্নিবেশিত করেছেন। এটিই প্রথম কিতাব যা অপ্রকাশিত অবস্থা থেকে আলোর মুখ দেখেছে এবং আদনানি ও কাহতানি নির্বিশেষে ওমানি গোত্রসমূহের বংশপরম্পরা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। লেখক এই বংশপরম্পরাগুলোর যথাযথ বিন্যাস এবং এক গোত্রকে অন্য গোত্রের সাথে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। সাথে সাথে তিনি গোত্রসমূহের কিছু কীর্তি ও নিদর্শনাদি বর্ণনা করেছেন এবং গোত্রগুলোর প্রখ্যাত ব্যক্তি, ওলামা ও নেককারদের ফযীলত উল্লেখ করেছেন।

এই মহান গ্রন্থটি তার ক্ষুদ্র কলেবর সত্ত্বেও ওমানবাসীদের জন্য তাদের গোত্রসমূহ, বংশবৃত্তান্ত, গৌরবগাঁথা এবং আভিজাত্য জানার ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হবে।

এটি তাঁর (আল-উনওয়ান আল-কাফিল বি-তারিখি ওমান) গ্রন্থের একটি নমুনাস্বরূপ। তিনি তাঁর এই গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে সেই বৃহৎ গ্রন্থের উল্লেখ করেছেন এবং ওমানের বহু অবস্থা, ঘটনাবলি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনীর জন্য সেটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৩)
وقد كنت أكبر مشجِّع له في إتمام هذا الكتاب، الخاص بذكر الأنساب، إجابة مني لما طلبه إليَّ صاحب الفضيلة الشيخ محمد بن سعيد بن غَبَّاش -نزيل قطر حالًا والقاضي السابق برأس الخيمة، ثم بالخُبَر للحكومة السعودية- فإنه ما زال يكتب إِلي أَن أُرسل إليه شيئًا من أنساب قبائل عمان، أَو كتاب العَوتَبي في التاريخ والأنساب(1) فرأيت الكتاب المذكور لا يطفئ غلته ولا يروي صداه، وأَنا لم يكن لديَّ من المصادر الكافية في هذا الشأن، فكان من حسن الصُدف والحظ، أَن اجتمعت بأخينا العلامة مؤلف هذا الإسعاف، فذكرت له ما طلبه المذكور، فأَخبرني بأَنَّه قد شرع في جمع هذه القبائل في سِفر مفرد، ولكنَّه صار يقدّم فيه رجلًا ويؤخر أخرى، فأَلححت عليه بأن يتمَّه، إسعافًا لطلب المذكور، فوعدني ثم ماطلني بالوفاء، ولست ألومه على ذلك، لأَن وضع هذا التأليف على هذا النسق، مع قلّة المادة وقلة المراجع الكافية، أَمر ليس بالهيّن، ولكني لم أقبل له عذرًا، ولم أترك له مُتَأَخَّرًا، وكان قدري عنده عظيمًا، فلم يسعه خلافي، ولم ير إلا إِسعافي، فأَرسله إِليّ في هذه الأيام، وطلب مني له التنقيح والتصحيح والإِتمام، ولكن بضاعتي في هذا الفنّ مزجاة، وليس عندي

--------------------------------------------

(1) للشيخ أبي مسلم العوتبي الصحاري. واسم كتابه: "موضّح الأنساب" ولا يزال مخطوطًا. (ص).

আর আমিই ছিলাম বংশপরম্পরা বিষয়ক এই গ্রন্থটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তার সবচেয়ে বড় উৎসাহদাতা; এটি ছিল ফযীলতমান শায়খ মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বিন গাব্বাশ—যিনি বর্তমানে কাতারের অধিবাসী এবং ইতিপূর্বে রাস আল-খাইমাহ ও পরবর্তীতে সৌদি সরকারের অধীনে আল-খুবায়ের কাজী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন—তার অনুরোধের প্রতি উত্তরস্বরূপ। কেননা তিনি ক্রমাগত আমার নিকট লিখে যাচ্ছিলেন যেন আমি ওমানের গোত্রসমূহের বংশপরম্পরা বিষয়ক কোনো কিছু অথবা ইতিহাস ও বংশপরম্পরা বিষয়ক আল-আওতাবীর গ্রন্থটি(১) তার নিকট প্রেরণ করি। কিন্তু আমি দেখলাম যে উক্ত গ্রন্থটি তার পিপাসা নিবারণ করতে পারবে না এবং তার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করার জন্য যথেষ্ট হবে না। উপরন্তু, এ বিষয়ে আমার কাছেও পর্যাপ্ত উৎস ছিল না। অতঃপর এটি ছিল এক সৌভাগ্যের ব্যাপার যে, আমি আমাদের ভাই আল্লামার সাথে সাক্ষাৎ করি যিনি এই 'আল-ইসআফ' গ্রন্থের রচয়িতা। আমি তার নিকট উক্ত ব্যক্তির অনুরোধের কথা উল্লেখ করি। তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি এই গোত্রগুলোর বর্ণনা একটি পৃথক গ্রন্থে একত্রিত করা শুরু করেছেন, তবে তিনি তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। আমি তাকে তা সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ পীড়াপীড়ি করলাম যেন উক্ত ব্যক্তির অনুরোধ পূরণ করা সম্ভব হয়। তিনি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিলেন কিন্তু তা পূর্ণ করতে দেরি করছিলেন। আর আমি এজন্য তাকে দোষারোপ করি না, কারণ তথ্যের অপ্রতুলতা এবং পর্যাপ্ত সূত্রের অভাবে এই বিন্যাসে এই গ্রন্থ রচনা করা কোনো সহজ কাজ নয়। কিন্তু আমি তার কোনো অজুহাত গ্রহণ করিনি এবং তাকে পিছু হটার কোনো সুযোগ দিইনি। তার নিকট আমার মর্যাদা ছিল অনেক, তাই তিনি আমার কথার অবাধ্য হতে পারলেন না এবং আমাকে সহায়তা করা ছাড়া অন্য কোনো পথ দেখলেন না। ফলে এই দিনগুলোতে তিনি তা আমার কাছে পাঠালেন এবং আমার নিকট এর পরিমার্জন, সংশোধন ও সম্পন্ন করার অনুরোধ জানালেন। অথচ এই বিদ্যায় আমার পুঁজি অত্যন্ত নগণ্য এবং আমার কাছে নেই

--------------------------------------------

(১) শায়খ আবু মুসলিম আল-আওতাবি আস-সুহারী রচিত। তার গ্রন্থের নাম: "মুওয়াদদিহুল আনসাব" এবং এটি এখনো পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে। (স)।

(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৪)
ما رامه مني، إلا أني لم أَستطع أَن أُخيب أَمله، فأدخلت في الكتاب زيادات لا تخلو من فوائد، فبعض الزيادات أَلحقتها بنفس الكتاب وجعلتها مع كلام المؤلف بحيث يحسبها الواقف عليها كأنها منه وإِنما دعاني لذلك، تفويضه لي في كتابة ما أَراه من زيادة أَو تغيير، وبعض تلك الزيادات جعلتها كالحاشية للكتاب مميزة عنه في حواشِيَ مَعنونة بلفظة قَوْله.

ومع كثرة اجتهاده وبذله وسعه في تخريج أنساب هذه القبائل العمانية، فقد أَهمل جملة من قبائلها المشهورة، كقبائل النعيم المشهورين بعمان، ولعلَّه اكتفى بما ثبت لهم من النسب في قبائل نجد، المذكورة في الكتاب الحافل ببيان القبائل النجدية، ولا شك أن هذه القبيلة من صميم قبائل العرب المعروفة، وفيها شعوب كثيرة تنضم إليها نسبًا وحلفًا، كالصلوف والخواطر وغيرهم، وقبيلة الشوامس وتسمى في بلاد الظاهر آل بوشامس، وبعضها في داخلية عمان مثل بلد فنجا من وادي سمائل وغيرها، وهي قبيلة مشهورة وفيها من رجال الفضل والبطولة جملة غير منكورة، وكذلك قبيلة بَنِي حِيَا فهي من أشهر القبائل كرمًا وحلمًا ونجدة، وأكثر هذه القبيلة في بلد ضنك، وبها الشيخ أحمد بن محمد اليحيايي، الذي يضرب به المثل في الجود والوفاء والإِصلاح بعمان، وبعضها ببلد بهلا من جوف عمان، وبعضها في بلد السيب من باطنة عمان، وما
তিনি আমার কাছ থেকে যা চেয়েছিলেন তা-ই (আমি করেছি), তবে আমি তাঁর আশা ভঙ্গ করতে পারিনি, তাই আমি কিতাবটিতে এমন কিছু সংযোজন অন্তর্ভুক্ত করেছি যা উপকারিতা বর্জিত নয়। কিছু সংযোজন আমি কিতাবের মূল পাঠের সাথেই যুক্ত করে দিয়েছি এবং সেগুলোকে লেখকের আলোচনার সাথে এমনভাবে মিলিয়ে দিয়েছি যাতে পাঠক সেগুলোকে লেখকের নিজের কথা বলেই মনে করেন। আমাকে এটি করতে উদ্বুদ্ধ করেছে তাঁর পক্ষ থেকে আমাকে দেওয়া সেই ক্ষমতা, যার মাধ্যমে তিনি আমাকে যা সমীচীন মনে হয় তা বৃদ্ধি বা পরিবর্তন করার অনুমতি দিয়েছেন। আর কিছু সংযোজন আমি কিতাবের টীকা হিসেবে রেখেছি এবং সেগুলোকে মূল পাঠ থেকে আলাদা করার জন্য 'কওলুহু' (তাঁর কথা) শিরোনাম দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

ওমানি এই গোত্রগুলোর বংশপরিচয় নির্ণয়ে তাঁর ব্যাপক পরিশ্রম এবং যথাসাধ্য প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি বেশ কিছু প্রসিদ্ধ গোত্র বাদ দিয়েছেন, যেমন ওমানের সুপরিচিত নুয়াইম গোত্রসমূহ। সম্ভবত তিনি নজদীয় গোত্রগুলোর বর্ণনায় সমৃদ্ধ কিতাবে উল্লিখিত নজদের গোত্রসমূহের মধ্যে তাদের যে বংশপরিচয় প্রমাণিত হয়েছে, তাতেই সন্তুষ্ট থেকেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই গোত্রটি আরবদের সুপরিচিত মূল গোত্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এতে অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে যা বংশগতভাবে বা মৈত্রীর মাধ্যমে তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে, যেমন সুলুফ, খাওয়াতির এবং অন্যান্যরা। আরও রয়েছে শাওয়ামিস গোত্র, যাদের জাহির অঞ্চলে 'আল বু শামিস' বলা হয়। তাদের একাংশ ওমানের অভ্যন্তরে যেমন সামায়িল উপত্যকার ফাঞ্জা অঞ্চল ও অন্যান্য স্থানে রয়েছে। এটি একটি প্রসিদ্ধ গোত্র এবং এতে মর্যাদা ও বীরত্বের অধিকারী এমন একদল লোক রয়েছেন যাদের অস্বীকার করার উপায় নেই। একইভাবে বনু হিয়া গোত্র; এটি দানশীলতা, সহনশীলতা ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রসিদ্ধ গোত্র। এই গোত্রের অধিকাংশ লোক দানক অঞ্চলে বাস করে এবং সেখানে শায়খ আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-ইয়াহইয়ায়ি রয়েছেন, ওমানে দানশীলতা, বিশ্বস্ততা ও সংশোধনের ক্ষেত্রে যাঁর উদাহরণ দেওয়া হয়। তাদের কেউ কেউ ওমানের কেন্দ্রস্থলের বাহলা শহরে এবং কেউ কেউ ওমানের বাতিনা অঞ্চলের সিব শহরে বসবাস করে। আর যা...
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৫)
أَظنه أَضرب عن ذكر هذه القبائل وغيرها ممن لم يذكره منها، إلا سهوًا وغفلة، وعسى أَن ينتبه لها فيذكرها استدراكًا، عفا الله عنه وجزاه عنا خيرًا، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.

 

إبراهيم بن سعيد العبري
আমি মনে করি, তিনি এই গোত্রসমূহ এবং অন্য যাদের কথা উল্লেখ করেননি, তাদের কথা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছেন কেবল বিস্মৃতি ও অসতর্কতাবশত। আশা করা যায় যে তিনি এ বিষয়ে সচেতন হবেন এবং পরবর্তীতে তা সংযোজনী হিসেবে উল্লেখ করবেন। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আর আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

ইব্রাহিম বিন সাঈদ আল-ইবরি
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي يقول في كتابه العزيز: (يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ)(1)، وصلى اللهُ على سيدنا محمد القائل لأصحابه: (تعلموا من الأنساب ما تعرفون به أصولكم وتصلون به أرحامكم، ولا تكونوا كنبط السواد، يسأل أحدهم فيقال له: ممن أنت؟ فيقول من قرية كذا)، وسلم عليه ما تليت أحاديثه الغرا، وسيره الزَّهرا، وعرفت بين العالمين أوامره ونواهيه فجاءت تترى، وعلى آله الحافظين لسياق أنسابهم، والآخذين بسلاسل سلالاتهم وآدابهم، وعلى أتباعه المدوِّنين لآثارهم إلى يوم الدين.

 

أما بعد: فهذه رسالة جمعت فيها من أنساب أهل عمان ما أمكنني جمعه، وسردت فيها من ذلك ما أمكنني سرده، إسعافًا لرغبة الطالب، وإن كان غير مرتب على وتيرة التصنيف، ولا مؤلف على طريقة التأليف، ولكنه مجموع تمكن مراجعته عند الحاجة إليه، وقد جعلته القسم الثالث من العنوان، وخصصته باسم:" إِسعاف الأَعيان في أَنساب أَهل عمان"، وأسال الله التوفيق لكل خير، والعون على كل مأمول، ونقدِّمه بـ:

--------------------------------------------

(1) سورة الحجرات الآية 13.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর সুমহান কিতাবে ইরশাদ করেন: (হে মানুষ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক আল্লাহভীরু)(১)। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি তাঁর সাহাবীগণকে বলেছিলেন: (তোমরা তোমাদের বংশধারা থেকে ততটুকু জ্ঞান অর্জন করো যা দিয়ে তোমরা তোমাদের মূল পরিচয় জানতে পারবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে পারবে। তোমরা সওয়াদের নাবাতীয়দের মতো হয়ো না, যাদের কাউকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়: তুমি কার বংশের? সে তখন বলে: আমি অমুক গ্রামের)। তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক যতক্ষণ তাঁর দীপ্তিমান হাদীসসমূহ ও প্রদীপ্ত সীরাত পঠিত হবে এবং জগতবাসীর নিকট তাঁর আদেশ ও নিষেধসমূহ পরিচিত থাকবে যা ধারাবাহিকভাবে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর যারা তাদের বংশধারা সংরক্ষণ করেছেন এবং তাদের বংশীয় শৃঙ্খলা ও শিষ্টাচার ধারণ করেছেন; আর তাঁর ঐ সকল অনুসারীদের ওপর যারা বিচার দিবস পর্যন্ত তাঁদের কীর্তিসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন।

 

অতপর: এটি এমন একটি পুস্তিকা যাতে আমি ওমানবাসীদের বংশধারা সম্পর্কে যতটুকু সম্ভব হয়েছে সংগ্রহ করেছি এবং তা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছি কোনো জ্ঞানপিপাসুর আকাঙ্ক্ষা পূরণার্থে। যদিও এটি কোনো সুশৃঙ্খল রচনারীতি বা সুবিন্যস্ত পদ্ধতিতে সংকলিত নয়, তবুও এটি একটি সংগ্রহ যা প্রয়োজনে রেফারেন্স হিসেবে দেখা যেতে পারে। আমি একে ‘আল-উনওয়ান’ গ্রন্থের তৃতীয় অংশ হিসেবে নির্ধারণ করেছি এবং এর বিশেষ নাম দিয়েছি: "ওমানবাসীদের বংশধারা বর্ণনায় গণ্যমান্যদের সাহায্যকারী"। আমি আল্লাহর কাছে সকল কল্যাণের তাওফীক এবং প্রতিটি প্রত্যাশিত বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করছি। আর আমরা এটি শুরু করছি:

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১৩।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة

في فضل العرب

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إذا سألتم الحوائج فاسألوا العرب)(1) رواه ابن مسعود رضي الله عنه، وفيه لأنها تعظم لثلاث خصال: كرم احسابها، واستحياء بعضها من بعض، والمواساة لله، أي لأنها خصت بهذا دون باقي الأمم. وهو عين الواقع في العصر العربي إن لم يخالطه دخيل أجنبي. وعنه صلى الله عليه وسلم: (من أبغض العرب أبغضه الله) " أي: لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون داخلا في بغض العرب.

وبغصه صلى الله عليه وسلم كفر عظيم، وعلى كل حال فإن الله يبغضه لذلك وعنه عليه الصلاة والسلام: (من أحب العرب فبحبي أحبهم) الحديث، وقال صلى الله عليه وسلم: (حب العرب آية الإيمان) الحديث، أو كما قال عليه الصلاة والسلام، وحسبهم بذلك فخرًا بين أعلام الأمم. " قال ابن الكلبي: " في العرب خاصة عشر خصال لم تكن لغيرهم من الأمم، خمس منها في الرأس، وخمس في باقي الجسد الحديث. قلت هي المسماة سنن الفطرة عند الفقهاء، وهي خصال جائت النبوة بها، ونوه الشارع عليه الصلاة والسلام بفضلها، قال: وفي العرب القيافة، ولم تكن في احد غيرهم وهي من عجائب المخلوقات، حيث يفرق القائف بين المرأة

--------------------------------------------

(1) تخريج هذا الحديث -وسائر أحاديث الكتاب- تجدها في ملحق خاص آخر الكتاب.
ভূমিকা

আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (যখন তোমরা তোমাদের প্রয়োজনসমূহ প্রার্থনা করবে, তখন আরবদের নিকট চাও)(১) ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এটি বর্ণনা করেছেন। এতে বলা হয়েছে যে, তারা তিনটি বৈশিষ্ট্যের কারণে মর্যাদা লাভ করে: তাদের বংশীয় আভিজাত্য, একে অপরের প্রতি তাদের লজ্জা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পারস্পরিক সহানুভূতি; অর্থাৎ অন্য কোনো জাতির পরিবর্তে তাদেরকেই এই বৈশিষ্ট্যগুলোর জন্য বিশেষত্ব দান করা হয়েছে। এটি আরব যুগের হুবহু বাস্তবতা, যদি তাতে বিজাতীয় কোনো অনুপ্রবেশ না ঘটে থাকে। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আরও বর্ণিত: (যে ব্যক্তি আরবদের ঘৃণা করল, আল্লাহ তাকে ঘৃণা করবেন)। অর্থাৎ: কারণ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরবদের প্রতি ঘৃণার অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েন।

আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি ঘৃণা পোষণ করা এক বিরাট কুফরি। সর্বাবস্থায়, আল্লাহ সেই কারণেই তাকে ঘৃণা করেন। তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) থেকে আরও বর্ণিত: (যে ব্যক্তি আরবদের ভালোবাসল, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল)—হাদিস। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আরবদের ভালোবাসা ঈমানের নিদর্শন)—হাদিস, অথবা তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যেমনটি বলেছেন। জাতিসমূহের মধ্যে তাদের গর্বের জন্য এটিই যথেষ্ট। ইবনুল কালবী বলেন: "বিশেষত আরবদের মধ্যে এমন দশটি স্বভাব রয়েছে যা অন্য কোনো জাতির মধ্যে নেই; তার মধ্যে পাঁচটি মাথায় এবং পাঁচটি দেহের অবশিষ্টাংশে"—হাদিস। আমি বলি, ফকিহগণের পরিভাষায় এগুলোকেই 'সুন্নাতুল ফিতরাত' (প্রকৃতিগত সুন্নাত) বলা হয়। এগুলো এমন বৈশিষ্ট্য যা নবুওয়াত নিয়ে এসেছে এবং শরীয়তপ্রণেতা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন: আরবদের মধ্যে 'কিয়াফাহ' (পদাঙ্ক বা অবয়ব দেখে পরিচয় শনাক্তকরণ বিদ্যা) রয়েছে, যা তারা ছাড়া অন্য কারো মধ্যে ছিল না। এটি সৃষ্টির বিস্ময়কর বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে একজন কিয়াফাহ-বিশেষজ্ঞ কোনো মহিলার...

--------------------------------------------

(১) এই হাদিসটির—এবং কিতাবের অন্যান্য সকল হাদিসের—তাকরিজ (উৎস ও প্রমাণাদি) কিতাবের শেষে একটি বিশেষ পরিশিষ্টে পাওয়া যাবে।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৮)
والرجل، والأبيض والأسود، والبكر والثيب، بمجرد وضع أقدامهم على الأرض، في أمور عدة. ومنها معرفة الطويل والقصير، والمهزول والسمين، ونحو ذلك فتراه يلحق الابن القصير بالأَب الطويل، وكذا العكس. ويعرف الغريب من الوطني، ليس ذلك إلا للعرب دون باقي الأمم مهما بلغت عقولهم، فإن ذلك أعظم من توليد المواد الكيمياوية، وتركيب المعادن الأرضية، ولله في خلقه أسرار. ولابن المقفع قال لبعض أعيان العز: أي الأمم أعقل؟ " فنظر بعضهم إلى بعض ثم قالوا: لعله أراد أصله وهو فارسي، فجروا بحسب ما تخيل لأحدهم، فقالوا: " فارس "، يقال: ليسوا بذلك، فإنهم ملكوا كثيرًا من الأرض، ووجدوا عظيمًا من الملك، وغلبوا على كثيرًا من الخلق، ولبث فيهم عقد الأمر، فما استنبطوا شيئًا بعقولهم، ولا ابتدعوا شيئًا كباقي انكم في تفوسهم، قالوا: " الروم "، قال: أصحاب صنعة، قالوا: " الصين "، قال: أصحاب طرفة، قالوا: " الهند "، قال: أصحاب فلسفة، قالوا: " السودان "، قال: شر خلق الله، قالوا: " الترك " قال: كلاب مختلسة، قالوا: " الخزر"، قال: بقر سائمة، فقالوا له: يقل، فقال: " العرب ". ثم قال: اما انني ما أردت موافقتكم ولكن إذا فاتني حظي من النسبة فلا يفوتني من المعرفة. أي إذا كنت أنا غير عربي فقد فاتني شرفي بالانتساب إليهم، فلا ينبغي علي أن يفوتتي العلم بأحوال الناس. ثم قال: إن العرب حكمت

এবং পুরুষ, শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ, কুমারী ও অকুমারী—শুধুমাত্র জমিনে তাদের পায়ের পাতা রাখার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লম্বা ও খাটো, কৃশ ও স্থূল সম্পর্কে জ্ঞান; ফলে আপনি তাকে লম্বা পিতার সাথে খাটো পুত্রকে সম্পর্কিত করতে দেখবেন এবং এর বিপরীতটাও। সে স্বদেশী থেকে আগন্তুককেও চিনে নেয়। এটি আরবদের বৈশিষ্ট্য, অন্য কোনো জাতির নয়, তাদের বুদ্ধি যতই প্রখর হোক না কেন। কারণ এটি রাসায়নিক পদার্থ তৈরি এবং পার্থিব খনিজ পদার্থের সংমিশ্রণ ঘটানোর চেয়েও মহত্তর। আর আল্লাহর সৃষ্টিতে বহু রহস্য নিহিত রয়েছে। ইবনুল মুকাফফা জনৈক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "কোন জাতি সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান?" তখন তারা একে অপরের দিকে তাকাল এবং বলল: "সম্ভবত তিনি তার নিজের মূল বংশের কথা বুঝিয়েছেন যেহেতু তিনি পারস্যের লোক।" তাই তাদের একজনের ধারণানুযায়ী তারা বলল: "পারস্য"। তখন বলা হলো: "তারা তেমনটি নয়; কারণ তারা পৃথিবীর বিশাল অংশের মালিক হয়েছিল, সুমহান রাজত্ব লাভ করেছিল এবং বহু সৃষ্টির ওপর বিজয়ী হয়েছিল। দীর্ঘকাল তাদের হাতে কর্তৃত্ব ছিল, তবুও তারা নিজেদের বুদ্ধি দিয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করেনি এবং তাদের অন্তরে অন্যদের মতো কোনো কিছু উদ্ভাবনের তাড়নাও ছিল না।" তারা বলল: "রোম", তিনি বললেন: "তারা কারিগরি বিদ্যার অধিকারী"। তারা বলল: "চীন", তিনি বললেন: "তারা সূক্ষ্ম কারুকার্যের অধিকারী"। তারা বলল: "ভারত", তিনি বললেন: "তারা দর্শনের অধিকারী"। তারা বলল: "সুদান", তিনি বললেন: "তারা আল্লাহর নিকৃষ্ট সৃষ্টি"। তারা বলল: "তুর্কি", তিনি বললেন: "তারা সুযোগসন্ধানী শিকারী কুকুরের ন্যায়"। তারা বলল: "খাজার", তিনি বললেন: "তারা বিচরণশীল গবাদি পশু"। অতঃপর তারা তাকে বলল: "তাহলে আপনিই বলুন", তিনি বললেন: "আরব জাতি"। এরপর তিনি বললেন: "আমি কেবল আপনাদের সাথে একমত হতে চাইনি, কিন্তু যদি বংশীয় সম্পর্কের দিক থেকে আমার সৌভাগ্য হাতছাড়া হয়েও থাকে, তবে জ্ঞানের দিক থেকে যেন তা না হারাই।" অর্থাৎ, যদি আমি আরব না হয়ে থাকি তবে তাদের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার গৌরব আমি হারিয়েছি, কিন্তু মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন থেকে পিছিয়ে থাকা আমার উচিত নয়। এরপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আরবরা শাসন করেছে..."

(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ৯)
على غير مثل لها، ولا آثار أثرت، بل هم أصحاب إبل وغنم، وسكان شعر وأدم، يجود أحدهم بقوته ولا يبالي، ويتفضل بمجهوده، ويشارك في ميسوره ومعسوره، ويصف الشيء بعقله فيكون قدوة، وبفعله فيصير حجة، ويحسن ما شاء فيحسن، ويقبح ما شاء فيقبح، أدبتهم أنفسهم، ورفعتهم هممهم، وأعلتهم قلوبهم وألسنتهم، فلم يزل حباء الله فيهم وحباؤهم في أنفسهم، حتى رفع لهم الفخر، وبلغ بهم أشرف الذكر، وختم لهم بملكهم الدنيا على الدهر، وافتتح دينه وخلافته بهم إلى الحشر، على الخير فيهم ولهم فقال: (إن الأرض لله يورثها من يشاء من عباده والعاقبة للمتقين).

فمن وضع حقهم خسر، ومن أنكر فضلهم خصم. ودفع الحق باللسان أكبت للجنان. انتهى كلام ابن المقفع، وناهيك بالمذكور أدبًا وفصاحة. وله بلاغة وردها من حياض العرب، فشربها بين أقرانه بأكف الأدب.

وجاءت فيهم آثار نبوية، وفي القرآن من صفات العرب ما لا يكون لغيرهم، فقد وصفهم بالكرم العظيم، والصبر الكامل، وذكر عنهم من الخصال ما لم يذكر مثله، أو قريب منه لباقي الأمم … وحسبك أنه اختارهم محطا لرحال دينه وحماة لشريعته، وأنصارًا لأوامره، وحفظه لنبيه وجوارًا وأهلًا
কোনো পূর্ব দৃষ্টান্ত ছাড়াই এবং কোনো অনুসৃত চিহ্ন ব্যতিরেকে তারা ছিল মূলত উট ও ভেড়ার মালিক এবং পশম ও চামড়ার তাঁবুর বাসিন্দা। তাদের একেকজন নিজের অন্ন বিলিয়ে দিত এবং সে ব্যাপারে পরোয়া করত না, নিজ সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে অনুগ্রহ করত এবং সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় অন্যকে শরিক করত। সে নিজ বুদ্ধিবলে কোনো বিষয়ের বর্ণনা দিত ফলে তা আদর্শে পরিণত হতো, আর নিজ কর্মের মাধ্যমে তা প্রমাণে পরিণত করত। সে যা চাইত তাকে সুন্দর বলত এবং তা সুন্দর হতো, আর যা চাইত তাকে মন্দ বলত এবং তা মন্দ হতো। তাদের আত্মা তাদেরকে শিষ্টাচার শিখিয়েছে, তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাদেরকে উচ্চাসনে বসিয়েছে এবং তাদের অন্তর ও জিহ্বা তাদেরকে উন্নত করেছে। ফলে তাদের মাঝে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাদের নিজেদের মাঝে আত্মমর্যাদাবোধ সর্বদা বিদ্যমান ছিল, যতক্ষণ না তিনি তাদের জন্য গৌরবকে সুউচ্চ করেন এবং তাদেরকে শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় পৌঁছান। তিনি চিরকালের জন্য পৃথিবীর রাজত্ব দিয়ে তাদের যুগ সমাপ্ত করেন এবং হাশর পর্যন্ত তাদের মাধ্যমে তাঁর দ্বীন ও খেলাফতের সূচনা করেন, যা তাদের মাঝে বিদ্যমান এবং তাদের অনুকূলে থাকা কল্যাণের ভিত্তিতে। তাই তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই পৃথিবী আল্লাহর। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী করেন এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য)।

অতএব, যে ব্যক্তি তাদের প্রাপ্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করল সে ক্ষতিগ্রস্ত হলো, আর যে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করল সে পরাজিত হলো। মুখে সত্যকে প্রতিহত করা অন্তরের জন্য অধিক লাঞ্ছনাকর। ইবনুল মুকাফ্ফা-এর বক্তব্য এখানেই শেষ। আদব ও অলঙ্কারশাস্ত্রে উক্ত ব্যক্তির কথা বলাই বাহুল্য। তাঁর এমন বাগ্মিতা ছিল যা তিনি আরবদের ঝরনাধারা থেকে আহরণ করেছিলেন এবং তাঁর সমসাময়িকদের মাঝে সাহিত্যের অঞ্জলি ভরে তা পান করেছিলেন।

আর তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন নববী বর্ণনা এসেছে এবং কুরআনে আরবদের এমন কিছু গুণ বর্ণিত হয়েছে যা অন্য কারো মাঝে নেই। তিনি তাদেরকে মহান উদারতা ও পূর্ণ ধৈর্য দ্বারা গুণান্বিত করেছেন এবং তাদের এমন সব বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন যার সমতুল্য বা কাছাকাছি কিছু অন্য কোনো জাতির জন্য উল্লেখ করা হয়নি … আপনার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তিনি তাদেরকে তাঁর দ্বীনের যাত্রাবিরতির কেন্দ্রস্থল, তাঁর শরীয়তের রক্ষক, তাঁর আদেশের সাহায্যকারী এবং তাঁর নবীর হিফাযতকারী, প্রতিবেশী ও পরিবার হিসেবে মনোনীত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১০)
لبيته، في عدة خصال، سوف نذكر منها إن شاء الله في ناريخ عمان ما يلائم الغرض.

وهل توجد امة من الأمم تعرف أصولها وفروعها، شعبًا وقبيلة وعمارة وبطنًا وفخذا وفصيلة إلى غير ذلك من بيوتاتها المعروفة، واحوالها المألوفة، ومكارمها العالية، وفضائلها السامية؟ فهم نجوم الأرض، وغيثها الذي تحيا به أجادبها. منها الخلفاءُ الراشدون، ومنها الأئمة المهتدون، وفيها العلماء العاملون، وإن كان يوجد في غيرهم فلهم الحظ الأوفر، ولهم النصيب الأكبر. فيهم الشجاعة التي لا يقاس عليها جاهلية وإسلامًا، ولملوكهم المفاخر التي لا تسامى. وعن ذي الرمة في العرب كلام جامع وذكر واسع، وقد سأل زيادٌ دُغْفَلًا النسابة عن فضائل العرب فقال: الجاهلية لليمن، الإسلام لمضر، والفتنة لربيعة، قال: فأخبرني عن مضر، أي أن خصالها الخاصة بها، فقال: فاخر بكنانة، وكابر بتميم، وحارب بقيس ففيها الفرسان والنجوم، وأما أسد ففيها ذل وكيد. (قال:) وسأل معاوية بن أبي سفيان دغفلًا فقال: ما تقول في بني أسد؟ فقال: عافة قافة فصحاء كافة، قال: فما تقول في بني تميم؟ فقال: حجر خشن، إن صادفته آذاك، وإن تركته أعفاك، قال: فما تقول في خزاعة؟ فقال: جوع وأحاديث، قال: فما تقول في اليمن؟ قال: فيهم مفاخر واسعة. ولليمن ربع البيت " (أي الركن اليماني)
তাঁর বংশের জন্য, বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যে, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা ওমানের ইতিহাসে তার মধ্য থেকে যা উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা উল্লেখ করব।

জাতিসমূহের মধ্যে এমন কোনো জাতি কি আছে যারা তাদের মূল ও শাখা, গোত্র ও উপজাতি, উপশাখা ও বংশধারা এবং তাদের অন্যান্য পরিচিত পরিবার, প্রচলিত অবস্থা, সুউচ্চ মর্যাদা ও মহৎ গুণাবলি সম্পর্কে জানে? তাঁরা পৃথিবীর নক্ষত্র এবং এর সেই বৃষ্টি যার মাধ্যমে অনুর্বর ভূমি পুনর্জীবিত হয়। তাঁদের মধ্য থেকেই খুলাফায়ে রাশেদীন, তাঁদের মধ্য থেকেই হিদায়াতপ্রাপ্ত ইমামগণ এবং তাঁদের মধ্যেই আমলকারী আলিমগণ রয়েছেন; যদিও অন্যদের মধ্যেও তা বিদ্যমান থাকে, তবে তাঁদের (আরবদের) ভাগ্যই সবচেয়ে প্রশস্ত এবং তাঁদের অংশই সবচেয়ে বেশি। জাহিলী ও ইসলামী উভয় যুগেই তাঁদের মধ্যে এমন সাহসিকতা বিদ্যমান যা অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না, এবং তাঁদের রাজন্যবর্গের এমন গৌরব রয়েছে যা অতুলনীয়। আরবদের সম্পর্কে যুর রুম্মাহর নিকট হতে সারগর্ভ কথা ও বিস্তৃত বর্ণনা রয়েছে। যিয়াদ বংশলতিকা বিশেষজ্ঞ দাগফালকে আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: জাহিলিয়্যাত হলো ইয়ামানের জন্য, ইসলাম হলো মুদারের জন্য এবং ফিতনা হলো রবীআহর জন্য। তিনি বললেন: আমাকে মুদার সম্পর্কে বলুন, অর্থাৎ তাদের বিশেষ গুণাবলি কী? তিনি বললেন: কিনানার মাধ্যমে গর্ব করো, তামীমের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দেখাও এবং কায়েসের মাধ্যমে যুদ্ধ করো, কারণ তাদের মধ্যে রয়েছে অশ্বারোহী বীর ও উজ্জ্বল নক্ষত্র; আর আসাদ গোত্রের মধ্যে রয়েছে হীনতা ও চক্রান্ত। (তিনি বলেন:) মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান দাগফালকে জিজ্ঞেস করলেন: বনু আসাদ সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: তারা পাখি উড়িয়ে শুভ-অশুভ নির্ণয়কারী, পদচিহ্ন বিশারদ এবং সকলে অত্যন্ত বিশুদ্ধভাষী। তিনি বললেন: বনু তামীম সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: এক রুক্ষ পাথর, যদি তুমি তার মুখোমুখি হও তবে সে তোমাকে কষ্ট দেবে, আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবে সে তোমাকে রেহাই দেবে। তিনি বললেন: খুযাআহ সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন: ক্ষুধা ও কিসসা-কাহিনী। তিনি বললেন: ইয়ামান সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন: তাদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক গৌরবগাথা। আর ইয়ামানের জন্য রয়েছে বাইতুল্লাহর এক চতুর্থাংশ (অর্থাৎ রুকনে ইয়ামানী)।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১১)
" ومنهم حاتم طي كريم العرب، ومنهم المهلب بن ابي صفرة القايد الكبير " قات " ولا أعدل بالأنصار أحدًا في هذه الخصال الحميدة كلها، فقد جمعوا الكرم والشجاعة والصبر واشياء لا يسعها المقام، قال دغفل: وفي النزار النبي المرسل، والخليفة المؤمل، والكتاب المنزل، وفي الأوس غسيل الملائكة حنظلة بن لراهب، وعاصم بن الأقلح(1) الذي حمت لحمه الدَّبْر، وذو الشهادتين خزيمة بن ثابت، والذي اهتز لموته العرش سعد بن معاذ، وفي الخزرج.

الأربعة الذين حفظوا القرآن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم زيد بن ثابت، وأبو زيد، ومعاذ بن جبل، وأبي بن كعب سيد القراء، والذي أيده الله بروح القدس حسان بن ثابت شاعر رسول الله صلى الله عليه وسلم ومناضل عنه.

وفي العرب البيوتات المشهورة كبيت بني معاوية الأكرمين في كندة، وبيت بني جشم بن بكر في تغلب، وبيت ابن ذي الجدين في بكر، وبيت زرارة بن عدس في تميم، وبيت بني بدر في قيس، وفبهم الأحرز بن مجاهد التغلبي الذي كان أعلم القوم. وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين سئل عن العرب: (كنانة جمجمتها، وفيها العينان، وأسد لسانها، وتميم كاهلها"). وقالوا: بيت

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل الأقلح كما ترى، وإنها هو كما تعلم؛ أبو الأقلح. وعاصم بن ثابت بن أبي الأقلح -واسم أبي الأقلح قيس- بن عصمة بن النعمان، الأنصاري من بني عمرو بن عوف، من كرام الأنصار، ومن أجلاء الصحابة، ومن الشجعان الرماة، استشهد يوم بئر معونة.
তাদের মধ্যে রয়েছেন আরবদের শ্রেষ্ঠ দাতা হাতিম তাঈ এবং মহান সেনাপতি মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরা। আমি বলি: এই সমস্ত প্রশংসনীয় গুণাবলির ক্ষেত্রে আমি আনসারদের সমান কাউকে মনে করি না; তাঁরা উদারতা, বীরত্ব, ধৈর্য এবং আরও এমন অনেক গুণাবলি একত্রিত করেছেন যা এই পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। দাগফাল বলেছেন: নিযার গোত্রে রয়েছেন প্রেরিত নবী, কাঙ্ক্ষিত খলিফা এবং অবতীর্ণ কিতাব। আর আউস গোত্রে রয়েছেন ফেরেশতা কর্তৃক গোসল করানো হানজালা ইবনে রাহিব এবং আসিম বিন আল-আকলাহ(১) যাঁর মরদেহকে ভ্রমর রক্ষা করেছিল, এবং যুশ-শাহাদাতাইন খুযাইমা ইবনে সাবিত ও সা’দ ইবনে মুআয, যাঁর মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল। আর খাযরাজ গোত্রে...

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে যে চারজন কুরআন সংরক্ষণ (হেফজ) করেছিলেন তাঁরা হলেন যায়িদ ইবনে সাবিত, আবু যায়িদ, মুআয ইবনে জাবাল এবং ক্বারিদের সর্দার উবাই ইবনে কাব। আরও রয়েছেন হাসসান ইবনে সাবিত, যাঁকে আল্লাহ পবিত্র আত্মা (জিবরাঈল) দ্বারা সাহায্য করেছিলেন এবং যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবি ও তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা প্রদানকারী।

আরবদের মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত সব উচ্চবংশ, যেমন কিন্দাহ গোত্রের পরম সম্মানিত বনু মুআবিয়া পরিবার, তাগলিব গোত্রের বনু জুশাম ইবনে বকর পরিবার, বকর গোত্রের ইবনে যিল জাদদাইন পরিবার, তামীম গোত্রের যুরারা ইবনে আদাস পরিবার এবং কায়স গোত্রের বনু বদর পরিবার। তাদের মধ্যে ছিলেন আহরায ইবনে মুজাহিদ আত-তাগলিবি, যিনি ছিলেন কওমের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন আরবদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "কিনানা হলো তাদের করোটি এবং এতে রয়েছে দুই চোখ, আসাদ হলো তাদের জিহ্বা এবং তামীম হলো তাদের কাঁধের উপরিভাগ।" তারা বলেন: ঘর...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে যেমন দেখছেন তেমনি 'আল-আকলাহ' রয়েছে, তবে যেমনটি আপনি জানেন এটি প্রকৃতপক্ষে হবে 'আবু আল-আকলাহ'। তিনি হলেন আসিম বিন সাবিত বিন আবি আল-আকলাহ—আবু আল-আকলাহ-এর নাম হলো কায়স—বিন আসমাহ বিন নুমান আল-আনসারি। তিনি বনু আমর ইবনে আওফ গোত্রের একজন সম্মানিত আনসারি এবং বিশিষ্ট সাহাবী ও দক্ষ তীরন্দাজ বীরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বির মাউনার যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১২)
تميم بنو عبد الله بن دارم، ومركزه بنو زراره، وبيت قيس فزارة، ومركزه بنو بدر، وبيت بكر بن وائل شيبان ومركزه بنو ذي الجدين.

وقال معاوية بن أبي سفيان للكلبي: أخبرني عن أعز العرب، فقال: حصن بن حذيفة بن بدر، قال: فأخبرني عن أترف بيت في العرب، قال: والله أني لأعرفه وأني لأبغضه، قال ومن هو؟ قال: بيت زرارة بن عدس، قال: فأخبرني عن افصح العرب، فقال: بنو أسد. وقيل: إن أشرف بيت في مضر غير مدافع في الجاهلية، بيت بهدلة بن عوف بن كعب بن سعد بن زيد مناة بن تميم.

وحضر عند المنذر بن ماء السماء وفود العرب ووجهها دعا ببردي محرق فقال: ليلبس هذين البردين أكرم العرب وأشرفهم حسبًا، وأعزلهم قبيلة، فأحجم الناس، وقام الأحيمر بن خلف بن بهدلة بن عوف بن كعب بن سعد بن زيد بن مناة بن تميم فقال أنا لهما، فائتزر بأحدهما، وارتدى بالأخر فقال له المنذر: وما حجتك فيما أدعيت؟ قال: الشرف من نزار كلها في مضر، ثم في تميم، ثم في سعد، ثم في كعب، ثم قي بهدلة. قال: هذا أنت في أصلك، فكيف أنت في عشيرتك؟ قال: أنا أبو عشرة، وعم عشرة، وأخو عشرة، وخال عشرة. قال: هذا في عشيرتك، فكيف أنت في نفسك؟ فقال: شاهد
তামিমে (র শ্রেষ্ঠ বংশ) হলো আবদুল্লাহ বিন দারিমের সন্তানগণ, এবং তাদের মূল কেন্দ্র হলো যুরারাহর সন্তানগণ। কাইসের (শ্রেষ্ঠ বংশ) হলো ফাযারাহ, এবং তাদের কেন্দ্র হলো বাদর-এর সন্তানগণ। বকর বিন ওয়াইলের (শ্রেষ্ঠ বংশ) হলো শায়বান এবং তাদের কেন্দ্র হলো যুল জাদ্দাইন-এর সন্তানগণ।

মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান কালবিকে বললেন: আমাকে আরবের সর্বাধিক সম্মানিত ও শক্তিশালী ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেন: হিসন বিন হুযাইফাহ বিন বাদর। তিনি বললেন: তবে আরবের সর্বাধিক সচ্ছল ও বিলাসবহুল পরিবার সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি তাদের চিনি এবং আমি তাদের ঘৃণা করি। তিনি বললেন: তারা কারা? তিনি বললেন: যুরারাহ বিন আদাস-এর পরিবার। তিনি বললেন: তবে আরবের সর্বাধিক স্পষ্টভাষী সম্পর্কে আমাকে বলুন। তিনি বললেন: বনু আসাদ। এবং বলা হয়ে থাকে যে, জাহিলিয়াহ যুগে মুদার গোত্রের মধ্যে কোনো প্রকার বিতর্ক ছাড়াই সর্বাধিক মর্যাদাবান পরিবার হলো বাহদালাহ বিন আউফ বিন কাব বিন সাদ বিন যাইদ মানাত বিন তামিমে-র পরিবার।

মুনযির বিন মাউস সামা-এর নিকট আরবের প্রতিনিধি দল ও তাদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হলেন। তিনি 'মুহরাক' নামক দুটি মূল্যবান চাদর আনালেন এবং বললেন: এই চাদর দুটি যেন আরবের সেই ব্যক্তি পরিধান করে যে সর্বাধিক সম্মানিত, বংশমর্যাদায় শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে প্রতাপশালী গোত্রের অধিকারী। এতে লোকেরা ইতস্তত করে পিছিয়ে গেল। তখন উহাইমির বিন খালাফ বিন বাহদালাহ বিন আউফ বিন কাব বিন সাদ বিন যাইদ বিন মানাত বিন তামিমি দাঁড়িয়ে বললেন: আমিই এর যোগ্য। অতঃপর তিনি একটি লুঙ্গি হিসেবে এবং অন্যটি চাদর হিসেবে পরিধান করলেন। মুনযির তাকে বললেন: তুমি যা দাবি করলে তার সপক্ষে তোমার প্রমাণ কী? তিনি বললেন: সমগ্র নিজার গোত্রের শ্রেষ্ঠত্ব মুদার-এর মধ্যে, অতঃপর তামিমে, অতঃপর সাদে, অতঃপর কাবে এবং অবশেষে বাহদালাহ-তে। তিনি (মুনযির) বললেন: এটি তোমার বংশীয় মূল পরিচয়, কিন্তু তোমার আত্মীয়বর্গের মধ্যে তোমার প্রভাব কী? তিনি বললেন: আমি দশজনের পিতা, দশজনের চাচা, দশজনের ভাই এবং দশজনের মামা। তিনি বললেন: এটি তোমার আত্মীয়বর্গের মধ্যে অবস্থান, কিন্তু তোমার নিজের সম্পর্কে কী বলবে? তিনি বললেন: প্রত্যক্ষ করুন...
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১৩)
العين شاهدي، ثم قام فوضع قدمه في الأرض، فقال: من أزالها فله من الإبل مائة فلم يقم إليه أحد، ولا تعاطى ذلك. ومن بيت بهدله بن عوف، كان الزربقان بن بدر وكان يسمى سعدالكرمين.

" قال:" وفيهم كانت الإفاضة في عطارد بن عوف ابن كعب بن سعد، ثم قي آل حرب بن صفوان بن عطارد، وكان إذا اجتمع الناس أيام منى قي الحج، لم يبرح احد حتى يجوز آل صفوان، ومن ورث ذلك عنهم، ثم تمر الناس إرسال. وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أني لاجد نفس ربكم من اليمن) وفي رواية: (إني لأجد نفس الرحمن) الحديث، وعنه صلى الله عليه وسلم: (الإيمان يمان والحكمة يمانية) "، وقال عليه الصلاة والسلام: (الأنصار شعار والناس دثار)، وقال عبد الله بن العباس رضي الله عنهما لبعض اليمن: لكم من السماء نجمها ومن الكعبة ركنها ومن الشرف صميمها، وقال أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه لبعض جلسائه: مَن أجود العرب؟ قالوا: حاتم طي، قال: فمن فارسها؟ قالوا عمرو بن معد يكرب، قال: فمن شاعرها؟ قالوا: امرؤ القيس بن حجر، قال: فأي سيوفها أقطع؟ قالوا: الصمصامة، قال: كفى بهذا فخرًا لليمن.

وقال أبو عبيدة: ملوك العرب حمير، ومقاولها غسان ولخم، وعددها وفرسانها الأزد، ولسانها مذحج، وريحانتها كندة، وقريشها
আল-আইন আমার সাক্ষী, তারপর তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর পা মাটিতে রাখলেন, অতঃপর বললেন: "যে এটি সরাতে পারবে তার জন্য একশ উট পুরস্কার।" কিন্তু কেউ তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়াল না এবং তা করার সাহস দেখাল না। আর বাহদালা বিন আউফের বংশ থেকে ছিলেন যারিবকান বিন বদর, তাকে 'সা'দ আল-কারামাইন' বলা হতো।

তিনি বলেন: "তাদের মধ্যেই ছিল 'ইফাজাহ' (হজের বিশেষ বিধান পরিচালনা) উতারিদ বিন আউফ ইবনে কাব ইবনে সা'দ-এর বংশে, তারপর হারব বিন সাফওয়ান বিন উতারিদের বংশে। হজের সময় মিনার দিনগুলোতে যখন মানুষ সমবেত হতো, সাফওয়ান বংশীয়রা এবং যারা তাদের থেকে এর উত্তরাধিকার লাভ করেছিল তারা অতিক্রম না করা পর্যন্ত কেউ প্রস্থান করত না, এরপর মানুষ দলে দলে চলে যেত। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'নিশ্চয়ই আমি ইয়ামেনের দিক থেকে তোমাদের রবের নিশ্বাস অনুভব করছি।' অন্য বর্ণনায় এসেছে: 'নিশ্চয়ই আমি রহমানের নিশ্বাস অনুভব করছি।' - আল-হাদিস। এবং তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম): 'ঈমান হলো ইয়ামেনি এবং প্রজ্ঞা হলো ইয়ামেনি।' এবং তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: 'আনসারগণ হলো অন্তর্বাস এবং অন্যান্য মানুষ বহির্বাস সদৃশ।' আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) ইয়ামেনের কিছু লোককে বলেছিলেন: 'আকাশ থেকে তোমাদের জন্য রয়েছে তার নক্ষত্র, কাবা থেকে রয়েছে তার রোকন (কোণ) এবং আভিজাত্য থেকে রয়েছে তার মূল নির্যাস।' আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মজলিসের সাথীদের বলেছিলেন: 'আরবদের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল কে?' তারা বলল: 'হাতিম তায়ি।' তিনি বললেন: 'তাদের শ্রেষ্ঠ বীর কে?' তারা বলল: 'আমর বিন মা'দিকারিব।' তিনি বললেন: 'তাদের শ্রেষ্ঠ কবি কে?' তারা বলল: 'ইমরুল কায়েস বিন হুজর।' তিনি বললেন: 'তাদের কোন তলোয়ারটি সবচেয়ে ধারালো?' তারা বলল: 'আস-সামসামাহ।' তিনি বললেন: 'ইয়ামেনের জন্য এই একটি গৌরবই যথেষ্ট।'

আবু উবায়দাহ বলেছেন: 'আরবদের রাজন্যবর্গ হলো হিমইয়ার, তাদের প্রতিনিধি হলো গাসসান ও লাখম, তাদের সংখ্যাধিক্য ও অশ্বারোহী বাহিনী হলো আযদ, তাদের ভাষা হলো মাজহিজ, তাদের সুগন্ধি ফুল হলো কিনদাহ এবং তাদের কুরাইশ হলো...'
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১৪)
الأنصار، " وأقول ": نعم الأنصار ونعم القوم هم، كنانة الإسلام، وسيوف الإيمان، وسور الشريعة، وأعمدة الإخلاص، أوفى العرب ذمة، وأكبر الناس همة، وأعز الناس أمة، وأكرم العرب أنفسًا، وأصدق العرب وعدًا. " قال ابن الكلبي ": حمير ملوك وأرداف الملوك، ولأزد أسد، ومذحج الطعان، وهمدان أحلاس الخيل، وغسان أرباب الملوك، " قلت ": وبصفة علمية فالعرب حماة الجار، ورعاة الذمار، وأسدالقفار، لهم الخصال الحميدة، والمكارم العديدة، ولا أريد أن أشرح هنا مكارمهم، فإنها شئ لا يسعه كتابنا هذا، ولكنا ذكرنا هذه الكلمات كالتعريف بهم.

 

‌‌بيان في أصول العرب

اعلم أن العرب كلهم، نزارهم ويمنهم، يرجعون إلى أصلين لا ثالث لهما، وهما عدنان وقحطان. ولذلك يعد العرب كلهم أخوة وبلاد العرب كلها بلد الكل، وأمة العرب في هذه المعموره كلها، أمة واحدة، متصلة الأنساب، متواجشة الأرحام، من شرق الأرض وغربها، وبها أعز الله دينه، وأقام دعائمه، وإذا ذهب حفظ الجوار، من العرب فلا يوجد في غيرهم، وعنه صلى الله عليه وسلم: " (إذا ذل العرب ذل الإسلام)، والواقع المشاهد بديهيًا هو هذا. ولما رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم الرايات تلمع في الأُفق في حرب
আনসারগণ, "এবং আমি বলি": আনসারগণ কতই না উত্তম এবং তারা কতই না চমৎকার কওম; তারা ইসলামের তূণীর, ঈমানের তলোয়ার, শরীয়তের প্রাচীর এবং ইখলাসের স্তম্ভ। তারা আরবদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি পালনে সবচেয়ে বিশ্বস্ত, মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, সবচেয়ে সম্মানিত জাতি, আরবদের মধ্যে সবচেয়ে উদারমনা এবং ওয়াদা পালনে সবচেয়ে সত্যবাদী। "ইবনুল কালবী বলেন": হিমইয়ার হলো রাজা এবং রাজাদের উত্তরসূরি, আযদ হলো সিংহ, মাযহিজ হলো দক্ষ যোদ্ধা, হামদান হলো নিপুণ অশ্বারোহী এবং গাসসান হলো রাজন্যবর্গের অধিপতি। "আমি বলি": বস্তুনিষ্ঠ বৈশিষ্ট্যের বিচারে আরবরা হলো প্রতিবেশীর রক্ষক, সম্মানের হেফাজতকারী এবং মরুভূমির সিংহ। তাদের বহু প্রশংসনীয় গুণাবলী এবং অসংখ্য মহত্ত্ব রয়েছে। আমি এখানে তাদের মহত্ত্বের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে চাই না, কারণ এটি এমন এক বিষয় যা আমাদের এই বইয়ে সংকুলান হবে না। তবে আমরা এই কথাগুলো তাদের পরিচিতি হিসেবে উল্লেখ করেছি।

 

‌‌আরবদের মূল বংশপরিচয়ের বর্ণনা

জেনে রাখুন যে, সমস্ত আরব—তারা নিযারি হোক কিংবা ইয়ামানি—দুটি মূল উৎসের দিকে ফিরে যায় যার তৃতীয় কোনোটি নেই; আর তা হলো আদনান এবং কাহতান। একারণেই সমস্ত আরব ভাই ভাই হিসেবে গণ্য এবং সমস্ত আরব ভূখণ্ড সবার দেশ। এই পৃথিবীতে আরব জাতি একটি একক জাতি, যারা বংশীয়ভাবে সংযুক্ত এবং আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ, তা পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তেরই হোক কিংবা পশ্চিম প্রান্তের। তাদের মাধ্যমেই আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করেছেন এবং এর স্তম্ভগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আর যদি আরবদের মধ্য থেকে প্রতিবেশী রক্ষার গুণটি হারিয়ে যায়, তবে তা অন্য কারো মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: "যখন আরবরা লাঞ্ছিত হবে, তখন ইসলাম লাঞ্ছিত হবে।" আর চাক্ষুষ বাস্তবতা স্বতঃসিদ্ধভাবেই এটি প্রমাণ করে। আর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের দিগন্তে পতাকাসমূহ চমকাতে দেখলেন...
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১৫)
الحرقة قال: لمن هذه الرايات؟ قالوا: لربيعة، قال صلى الله عليه وسلم: (لا يهزم الله جيشًا لواؤه بيد رجل من ربيعة).

ومن حيث إنا ذكرنا هذه النبذة مقدمة في هذا المقام الوجيز وقد آن لنا الشروع فيما نحن بصدده، والبدء بقريش، لقول صلى الله عليه وسلم: (قدموا قريشًا ولا تتقدموها)، فقد وجب أن نقدم نسب رسول الله صلى الله عليه وسلم تبركًا به وتشريفًا، الطاهر الأزهر فنقول: هو رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم بن عبد الله بن عبد المطلب ابن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر وهو قريش أي والنضر لقب قريش، وإليه تنسب هذه القبيلة، وبقية النسب موصول إلى عدنان، معروف عند أهل هذا الشأن.

 

ونهى صلى الله عليه وسلم أن يتجاوز بنسبة إلى ما فوق عدنان، لما روي عنه أنه قال: كذب الناسبون ما فوق عدنان فإن الله يقول: (وقرونًا بين ذلك كثيرًا)، وهنا نحن نضع أمام القارئ الكريم‌‌ من ينتسب إلى قريش بعمان فنقول:

 

‌‌آل الرحيل المعروفون في صحار

ممن ينتسب إلى قريش بعمان آل الرحيل بن سيف بن هبيرة بن أبي وهب بن عمرو بن عائد بن عمران بن مخزوم بن يقظة بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب.
আল-হারকাহ বলেন: এই পতাকাগুলো কাদের? তারা বলল: রাবিআহ গোত্রের জন্য। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: (আল্লাহ এমন কোনো বাহিনীকে পরাজিত করবেন না যার পতাকা রাবিআহ গোত্রের কোনো ব্যক্তির হাতে রয়েছে।)

যেহেতু আমরা এই সংক্ষিপ্ত স্থানে ভূমিকা স্বরূপ এই কিঞ্চিৎ বর্ণনা উল্লেখ করেছি এবং আমরা যে বিষয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি তা শুরু করার সময় হয়েছে, আর কুরাইশ দ্বারা শুরু করছি কারণ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা কুরাইশকে অগ্রগণ্য করো এবং তাদের আগে বেড়ে যেয়ো না)। অতএব বরকত ও সম্মানের উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই পবিত্র ও উজ্জ্বল বংশধারা অগ্রে উল্লেখ করা আবশ্যক হলো। আমরা বলছি: তিনি হলেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আবদে মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদর। আর তিনি (নাদর) হলেন কুরাইশ, অর্থাৎ নাদর হলো কুরাইশের উপাধি, এবং এই গোত্রটি তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত। বংশপরম্পরার অবশিষ্ট অংশ আদনান পর্যন্ত সংযুক্ত, যা এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের নিকট সুপরিচিত।

 

তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বংশপরিচয়কে আদনানের ঊর্ধ্বে নিয়ে যেতে নিষেধ করেছেন, কারণ তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আদনানের ঊর্ধ্বে বংশ গণনাকারীরা মিথ্যা বলেছে; কেননা আল্লাহ বলেন: (এবং এর মধ্যবর্তী সময়ে অনেক প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছে)। আর এখানে আমরা সম্মানিত পাঠকের সামনে ওমানে যারা কুরাইশ বংশের অন্তর্ভুক্ত তাদের কথা তুলে ধরছি এবং বলছি:

 

‌‌সুহারে সুপরিচিত আল-রাহিল পরিবার

ওমানে কুরাইশ বংশের সাথে সম্বন্ধযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আল-রাহিল বিন সাইফ বিন হুবায়রা বিন আবি ওয়াহাব বিন আমর বিন আইদ বিন ইমরান বিন মাخজুম বিন ইয়াকাজা বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن مخزوم، ذلك البطل الصنديد خالد بن الوليد، ومنهم سعيد بن المسيب التابعي المشهور، وبعمان من آل الرحيل، أولئك الأئمة الأعلام: محبوب بن الرحيل، وهو ولي رضي، عالم تقي، وهو المشهور في المذهب بأبي سفيان؟ وولده الإمام العلامة القدوة الجليل محمد بن محبوب، أكبر عالم في زمانه بعمان، وهو المراد عند الإطلاق في الأثر المشرقي بأبي عبد الله، وناهيك بمحمد بن محبوب أكبر علماء عمان، وأفضلهم شأنًا، وولده المكنى به عبد الله الفاضل التقي الزاهد، وولده الإمام الفاضل، السيد الحلاحل، أفضل إمام بعمان، سعيد بن عبد الله بن محمد بن محبوب بن الرحيل، وولده العالم بشير بن محمد بن محبوب، وهو صاحب كتاب المحاربة المشهور، وولده العالم محبر بن بشير بن محمد بن محبوب، وذراريهم المشهورة بالفضل الشامل والعلم الكامل.

ومنازلهم بصحار أشهر من نار على علم، من ذلك العهد إلى هذه الأيام الأخيرة. ومن بقية رجالهم البارزين بكل معنى الكلمة الشيخ محمد بن سيف، وعليه تتلمذ قاضي صحار الحالي الشيخ سعيد بن حمدان الريامي، وقد أخبرني الشيخ محمد بن سيف بن عبد الله السعدي عن هذا الشيخ الرحيلي بأخبار عطرة، ولا بدع، فإن الثمر دال على الشجر، والفرع لا يزال معروفًا بالأصل.
মাখজুম গোত্র থেকে রয়েছেন সেই অকুতোভয় বীর খালিদ বিন ওয়ালিদ, এবং তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত হলেন প্রখ্যাত তাবেয়ি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব। আর ওমানে আল-রাহীল পরিবারের বরেণ্য ইমামগণ রয়েছেন: মাহবুব বিন আল-রাহীল, যিনি একজন সন্তুষ্টচিত্ত ওলি এবং মুত্তাকি আলেম ছিলেন, মাযহাবের মধ্যে তিনি 'আবু সুফিয়ান' নামে সমধিক পরিচিত। আর তাঁর পুত্র হলেন ইমাম, মহাজ্ঞানী, মহিমান্বিত আদর্শ মুহাম্মদ বিন মাহবুব, যিনি তৎকালীন ওমানের সর্বশ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। মাশরিকি আছার বা বর্ণনাসমূহে নিঃশর্তভাবে কেবল 'আবু আবদুল্লাহ' বলা হলে তাকেই উদ্দেশ্য করা হয়। মুহাম্মদ বিন মাহবুবের মহিমা বুঝাতে এতটুকুই যথেষ্ট যে, তিনি ছিলেন ওমানের সর্বশ্রেষ্ঠ ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আলেম। তাঁর পুত্র হলেন ফাযিল, মুত্তাকি ও যাহিদ আবদুল্লাহ, যার নামে তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম রাখা হয়েছে। আর তাঁর পুত্র হলেন ওমানের সর্বশ্রেষ্ঠ ইমাম, ফাযিল ও মহান নেতা সাঈদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মাহবুব বিন আল-রাহীল। তাঁর পুত্র হলেন প্রখ্যাত আলেম বশীর বিন মুহাম্মদ বিন মাহবুব, যিনি প্রসিদ্ধ 'কিতাবুল মুহারাবাহ'র রচয়িতা। এবং তাঁর পুত্র হলেন আলেম মুহাব্বার বিন বশীর বিন মুহাম্মদ বিন মাহবুব; আর তাঁদের বংশধরগণ ব্যাপক শ্রেষ্ঠত্ব ও পরিপূর্ণ ইলমের জন্য সুপরিচিত।

সুহার অঞ্চলে তাঁদের আবাসস্থল সেই সুপ্রাচীন কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পাহাড়ের চূড়ায় প্রজ্বলিত আগুনের ন্যায় অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ। তাঁদের অবশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সকল অর্থেই বিশিষ্ট হলেন শেখ মুহাম্মদ বিন সাইফ, যাঁর নিকট সুহারের বর্তমান কাজী শেখ সাঈদ বিন হামদান আল-রিয়ামি শিক্ষালাভ করেছেন। শেখ মুহাম্মদ বিন সাইফ বিন আবদুল্লাহ আল-সাদি আমাকে এই রাহীলি শেখ সম্পর্কে সুবাসিত ও চমৎকার কিছু সংবাদ জানিয়েছেন। আর এতে বিস্ময়ের কিছু নেই, কেননা ফলই বৃক্ষের পরিচয় দেয় এবং শাখা সর্বদা তার মূলের মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করে।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌نسب بني سامة بن لؤي بن غالب بعمان

وممن ينتسب إلى قريش بعمان: بنو سامة. قال أبن هشام صاحب السيرة: قال ابن أسحاق: فأما سامة بن لؤي فخرج إلى عمان وكان بها " قال ": ويزعمون أن عامر بن لؤي أخرجه وذلك أنه كان بينهما شي، ففقأ سامة عين عامر بن لؤي، فاخافه عامر، فخرج إلى عمان " قال " فيزعمون أن سامة بن لؤي، بينا هو يسير على ناقته، إذ وضعت رأسها ترتعي، فأخذت حيه بمشفرها فهصرنها حتى وقعت الناقة على شقها، ثم نهشت سامة فقتلته، فأنشد سامة شعرًا ذكره أبن هشام، أعرضت عنه إذ لم يكن من صددنا " قال ابن هشام ": وبلغني أن بعض ولده أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم، فانتسب إليه، أي سامة بن لؤي، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (الشاعر)، كالمصدق له، فقال بعض أصحابه: أردت قوله:

رب كاس هرقت با ابنَ لؤيٍّ … حذر الموت لم تكن مهراقه

وذلك في جملة الشعر الذي رواه ابن هشام. (قلت:) ومسألة سامة بن لؤي وانتقاله إلى عمان أمر شهير لا ينكره أحد ممن له علم واطلاع بالتاريخ، وإن دفع هذا النسب بعض نسابة قريش فالحق غير مدفوع، والباطل غير مسموع، وبنو سامة بعمان معروفون، وفي التاريخ مذكورون، وبذلك النسب مَتُّوا
ওমানে সামা ইবনে লুয়াই ইবনে গালিবের বংশধারা

ওমানে কুরাইশ বংশের সাথে যাদের বংশীয় সম্পৃক্ততা রয়েছে, তারা হলো: বনু সামা। সীরাত রচয়িতা ইবনে হিশাম বলেন: ইবনে ইসহাক বলেছেন: সামা ইবনে লুয়াই ওমানে চলে গিয়েছিলেন এবং সেখানেই অবস্থান করতেন। "তিনি বলেন": তারা দাবি করে যে, আমির ইবনে লুয়াই তাকে বের করে দিয়েছিলেন, আর তা ছিল তাদের উভয়ের মাঝে কোনো এক দ্বন্দ্বের কারণে। সামা আমির ইবনে লুয়াইয়ের চোখ উপড়ে ফেলেছিলেন, ফলে আমির তাকে আতঙ্কিত করেন এবং তিনি ওমানে চলে যান। "তিনি বলেন": তারা ধারণা করে যে, সামা ইবনে লুয়াই যখন তার উটের পিঠে চড়ে যাচ্ছিলেন, তখন উটটি মাথা নিচু করে ঘাস খেতে লাগল। এমন সময় একটি সাপ উটের ঠোঁট কামড়ে ধরল এবং তাকে এমনভাবে চেপে ধরল যে উটটি তার এক পার্শ্বে পড়ে গেল। এরপর সাপটি সামাকে দংশন করল এবং তাকে মেরে ফেলল। অতঃপর সামা একটি কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন যা ইবনে হিশাম উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমাদের প্রসঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট না হওয়ায় আমি তা এড়িয়ে গেছি। "ইবনে হিশাম বলেন": আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তার (সামার) কোনো এক সন্তান আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে সামা ইবনে লুয়াইয়ের সাথে নিজের বংশীয় পরিচয় প্রদান করেন। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার কথার সত্যায়নকারী হিসেবে বললেন: (সেই) "কবি?", তখন তাঁর জনৈক সাহাবী বললেন: আপনি কি তার এই বাণীটি বুঝিয়েছেন:

হে লুয়াইয়ের পুত্র, মৃত্যুর ভয়ে তুমি কত পেয়ালাই না ঢেলে দিয়েছ … যা তোমার ঢালা উচিত ছিল না।

আর এটি ইবনে হিশাম বর্ণিত পূর্ণাঙ্গ কবিতারই অংশ। (আমি বলছি:) সামা ইবনে লুয়াইয়ের ওমানে চলে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ বিষয়, যার ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান ও অবগতি রয়েছে এমন কেউ এটি অস্বীকার করেন না। যদিও কুরাইশ বংশের কোনো কোনো বংশবিশারদ এই বংশধারাকে অস্বীকার করেছেন, কিন্তু সত্য অনস্বীকার্য এবং মিথ্যা অগ্রহণযোগ্য। বনু সামা ওমানে সুপরিচিত এবং ইতিহাসে তারা উল্লিখিত, আর এই বংশ পরিচয়ের মাধ্যমেই তারা পরিচিত।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১৮)
إلى محمد بن بور(1) إلى البحرين، فسار بهم إلى السلطان العباسي، وأعترف به أي بالنسب المذكور وأعانهم في حروبهم العمانية، والقضية مشهورة. وأرهاط سامة سوف تتلى على المسامع، ويتلقى حقائقها السامع، والتاريخ العربي شاهد، والسير العمانية معربة عنها، وقد تولوا ملك عمان عهدًا كبيرًا، لا محل لذكره هنا فان منهم أمراء في عمان، وزعماء لهم عظيم الشأن بين بني عدنان وقحطان، نأتي به إن شاء الله في تاريخ عمان.

 

‌‌نسب بني غافر بن سامة في عمان

ومن سامة بعمان بنو غافر، وإليهم يشير شاعر العرب أبو مسلم حيث يقول: ويا بني غافر عليا قريش لكم أصل وأنتم لنا كالأصل أغصان

فهم من سامة بن لؤي بن غالب، وغافر لقب جدهم الذي تفرع من شجرة سامة بن لؤي، ومنازلهم معروفة، وفي الظاهرة لهم اليد الطولى، ومقامانهم لم تنكر، وهم الآن رهط من أوفر قبائل عمان عددًا وعدة، ولهم في التاريخ ذكر حافل. ومن بلدانهم وادي بني غافر، وهو اسم يشمل قرى متعددة، وأشهرها خفدى لكونها مركز زعامتهم، ومرجع أمارتهم. ورؤساؤهم الآن:

--------------------------------------------

(1) قوله: بن بور، بالباء الموحدة، ولكن اسمه الحقيقي: محمد بن نور، بالنون. (ص).
মুহাম্মদ ইবন বূরের(১) নিকট বাহরাইনে; তিনি তাদের নিয়ে আব্বাসীয় সুলতানের নিকট গমন করলেন এবং উক্ত বংশপরিচয় স্বীকার করে নিলেন এবং ওমানের যুদ্ধে তাদের সহায়তা করলেন। এ বিষয়টি অত্যন্ত সুপরিচিত। সামার বংশধরদের কথা শীঘ্রই পাঠ করা হবে এবং শ্রোতারা এর প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন; আরব ইতিহাস এর সাক্ষী এবং ওমানি জীবনচরিতগুলো তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে। তারা দীর্ঘকাল ওমানের রাজত্ব পরিচালনা করেছেন, যার বিস্তারিত আলোচনার স্থান এখানে নয়। কারণ তাদের মধ্যে ওমানের আমির এবং আদনান ও কাহতান বংশীয়দের মাঝে সুউচ্চ মর্যাদাবান নেতৃবৃন্দ রয়েছেন। আল্লাহ চাহেন তো ওমানের ইতিহাসে আমরা তা উল্লেখ করব।

 

‌‌ওমানে সামা ইবন লুয়াইয়ের বংশধর বনু গাফিরের বংশপরিচয়

ওমানে বসবাসকারী সামার বংশধরদের একটি শাখা হলো বনু গাফির। তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে আরব কবি আবু মুসলিম বলেছেন: "হে বনু গাফির! কুরাইশদের উচ্চ মর্যাদা তোমাদের মূল ভিত্তি, আর আমাদের কাছে তোমরা সেই মূলের শাখা স্বরূপ।"

তারা সামা ইবন লুয়াই ইবন গালিবের বংশধর। গাফির হলো তাদের সেই পূর্বপুরুষের উপাধি যিনি সামা ইবন লুয়াইয়ের বংশবৃক্ষ থেকে উদ্ভূত হয়েছেন। তাদের আবাসস্থল সুপরিচিত এবং আজ-জাহির এলাকায় তাদের ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে। তাদের অবস্থান অনস্বীকার্য এবং বর্তমানে তারা জনবল ও যুদ্ধাস্ত্রের দিক থেকে ওমানের অন্যতম শক্তিশালী গোত্র। ইতিহাসে তাদের ব্যাপক উল্লেখ রয়েছে। তাদের অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ওয়াদি বনু গাফির; এটি একটি নাম যা একাধিক গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো খাফদা, কারণ এটি তাদের নেতৃত্বের কেন্দ্র এবং তাদের আমিরাতের প্রধান কার্যালয়। বর্তমানে তাদের প্রধানরা হলেন:

--------------------------------------------

(১) তাঁর উক্তি: ইবন বূর (বে বর্ণ সহযোগে), তবে তাঁর প্রকৃত নাম: মুহাম্মদ ইবন নূর (নূন বর্ণ সহযোগে)। (সা.)।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ১৯)
آل ناصر بن راشد بن حسين بن سعيد، والمقدم فيهم الآن: ناصر بن محمد بن ناصر بن راشد بن حسين وهو ولد جديد السن قريب العهد. ولهم الآن أمارة العينين والدربين من الظاهرة، وهما الآن بيد علي بن سعيد بن محمد بن سليمان، ومحمد بن سليمان المذكور هو الذي دمر فلج الغيي الواقع بين العراق وعبرى من الظاهرة وخربه ظلمًا وعدوانًا، والله سائله عنه يوم القيامه، وعما فعل في تلك البلدة الطيبة. وفي هذه الطائفة أعيان وأبطال، لهم ميزان بين قبائل الظاهرة، وفيهم أخيار؛ وناهيك بالشيخ الفقيه العالم خلف بن سنان، أحد علماء دولة اليعاربة، وأبلغ أدبائها، وله شعر جميل، له في البلاغة قدر جليل، وله مدائح في أئمة آل يعرب واسعة، وفي الجيش الذي خرج لفتح بنه من بلاد الهند، وله مكتبة مهمة، تجمع آلافًا من الكتب القيمة. وأحسب أن منهم شيخًا آخر، يقال له خلف بن سنان مساميًا لهذا، وهو الذي يحكم في أراضي الباطنة بعد الغرق الواقع عليها، أيام الإمام الصلت بن مالك الخروضي في أول القرن الرابع للهجرة أن تعمر، لما مر بها ورأى من سوء الحال ما رأى من أختلاط الأملاك وكثرة الدعايات والتعصبات، وبقيت الباطنة خرابًا مهجورة، فلا يسوغ أن تبقى هكذا مدة قرون طويلة حتى يحكم فيها هذا الشيخ وهو من أهالي القرن الحادي عشر والله أعلم.

আল নাসির বিন রাশিদ বিন হুসাইন বিন সাঈদ। বর্তমানে তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন: নাসির বিন মুহাম্মদ বিন নাসির বিন রাশিদ বিন হুসাইন, যিনি একজন অল্পবয়স্ক ও নবীন যুবক। বর্তমানে জাহিরা অঞ্চলের আইনাইন ও দারবাইন নামক স্থানের নেতৃত্ব তাদের কর্তৃত্বে রয়েছে। বর্তমানে এ দুটি স্থান আলি বিন সাঈদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর উল্লিখিত মুহাম্মদ বিন সুলাইমানই সেই ব্যক্তি, যে জাহিরা অঞ্চলের ইরাক ও ইবরির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ফালাজ আল-ঘাইয়ি ধ্বংস করেছিল এবং জুলুম ও শত্রুতা বশত তা বিরাণ করেছিল। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে এ বিষয়ে এবং সেই পবিত্র জনপদে সে যা কিছু করেছিল, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এই গোত্রে অনেক বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ও বীর পুরুষ রয়েছেন, জাহিরা অঞ্চলের গোত্রগুলোর মধ্যে যাদের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক পুণ্যবান লোকও রয়েছেন। আর ফকিহ আলেম শায়খ খালাফ বিন সিনান তো এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি ইয়ারিবা রাষ্ট্রের অন্যতম আলেম এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর চমৎকার কাব্যসংকলন রয়েছে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে। আল-ইয়ারুব বংশের ইমামগণের প্রশংসায় তাঁর দীর্ঘ প্রশস্তিগাথা রয়েছে এবং হিন্দুস্তানের বিন্নাহ বিজয়ে প্রেরিত বাহিনীর বীরত্বগাথা নিয়েও তাঁর রচনা রয়েছে। তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাগার রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার মূল্যবান কিতাব সংগৃহীত আছে। আমি মনে করি তাদের মধ্যে খালাফ বিন সিনান নামে আরও একজন শায়খ ছিলেন, যাঁর নাম এই ব্যক্তির নামের অনুরূপ। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর শুরুতে ইমাম আল-সলত বিন মালিক আল-খারুসি-এর আমলে সেখানে সংঘটিত বন্যার পর আল-বাতিনা অঞ্চলের ভূমিগুলো আবাদের জন্য ফয়সালা করেছিলেন। তিনি যখন সেখানে যান এবং সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিশৃঙ্খলা, নানাবিধ দাবি ও গোঁড়ামির ফলে উদ্ভূত শোচনীয় অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন, তখন আল-বাতিনা বিরান ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। তাই এটি সম্ভব নয় যে, এটি দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী যাবৎ এভাবে বিরান থাকবে যতক্ষণ না এই শায়খ এটি মীমাংসা করেন, অথচ তিনি হলেন একাদশ শতাব্দীর অধিবাসী। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌نسب آل العطابي في بني غافر

وممن ينتسب إلى قريش بعمان آل العطابي، وهذا اسم يقع على ذرية راشد بن حميد بن راشد بن ناصر بن محمد بن ناصر الغافري، الذي أفترقت عمان على يده، وخلف بن مبارك العنبوري الهنائي المعروف " بالقصير " جد أولاد هلال بن زاهر بن سعيد، وسوف نقف على سرد نسب المذكور في محله، والموجود الآن من هذه العائلة أولاد محمد بن ناصر بن حميد بن ناصر بن راشد ابن حميد بن محمد بن ناصر بن عامر بن رمثة بن حميس من بني سامة بن لؤي، ومن بيت العطابي هذا سيف بن مسلم بن سالم، المعروف بولد ابن رمثة في حوزة سرور، حتى انقرضوا في هذاالعهد القريب الذي نحن قيه، ولله الأمر، وقد ملك أولاد راشد ابن حميد حصون الظاهرة زمانًا طويلأ، وآخر ملكهم لبهلى وجبرين، وفيهما ناصر بن حميد الذي أخرجه منهما الإمام سالم بن راشد الخروصي رحمه الله تعالى يوم الثالث من شهر شعبان سنة 1334، وذرية ناصر بن حميد في بلد جبرين لا في حصنها، فأن الإمام المرحوم سالم بن راشد، أباح لهم حصن جبرين بعد خروجهم من بهلى، فنزعه الإمام الخليلي رحمه الله منهم بواسطة عامله على بهلى الشيخ أبي زيد، حين اختلفوا فيمن يكون الأمير لهذا الحصن، والآن بيد عمال السلطان تحت رئاسة والي بهلى بعد الفتح السلطاني لعمان.
বনি গাফিরের মধ্যে আল-আত্তাবি বংশের বংশলতিকা

ওমানে কুরাইশ বংশের সাথে সম্বন্ধযুক্তদের মধ্যে আল-আত্তাবি পরিবার অন্যতম। এই নামটি রাশিদ বিন হুমাইদ বিন রাশিদ বিন নাসির বিন মুহাম্মদ বিন নাসির আল-গাফিরির বংশধরদের ওপর প্রযোজ্য, যার হাতে ওমান বিভক্ত হয়েছিল। এছাড়া খালাফ বিন মুবারক আল-আনবুরি আল-হিনাই, যিনি "আল-কাসির" নামে পরিচিত এবং হিলাল বিন জাহির বিন সাঈদের সন্তানদের পিতামহ। আমরা উল্লিখিত ব্যক্তির বংশলতিকার বিস্তারিত বর্ণনা যথাস্থানে প্রদান করব। বর্তমানে এই পরিবারের যারা বিদ্যমান তারা হলেন মুহাম্মদ বিন নাসির বিন হুমাইদ বিন নাসির বিন রাশিদ বিন হুমাইদ বিন মুহাম্মদ বিন নাসির বিন আমির বিন রামথা বিন হুমাইসের সন্তানাদি, যারা বনি সামা বিন লুয়াই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর এই আত্তাবি পরিবার থেকেই ছিলেন সাইফ বিন মুসলিম বিন সালিম, যিনি সুরুর অঞ্চলে ইবনে রামথার পুত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন; শেষ পর্যন্ত এই বর্তমান নিকট অতীতে তারা বিলুপ্ত হয়ে গেছেন। সকল বিষয় আল্লাহরই ইখতিয়ারে। রাশিদ বিন হুমাইদের সন্তানরা দীর্ঘকাল যাবত 'জাহিরাহ' অঞ্চলের দুর্গগুলোর মালিকানায় ছিলেন এবং বাহলা ও জিবরিন ছিল তাদের শেষ রাজত্ব। সেখানে ছিলেন নাসির বিন হুমাইদ, যাকে ইমাম সালিম বিন রাশিদ আল-খারুসি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ১৩৩৪ হিজরি সনের ৩রা শাবান সেই স্থান দুটি থেকে বহিষ্কার করেন। নাসির বিন হুমাইদের বংশধররা জিবরিন জনপদে বসবাস করছেন, তবে জিবরিন দুর্গে নয়। কেননা মরহুম ইমাম সালিম বিন রাশিদ বাহলা থেকে তাদের প্রস্থানের পর জিবরিন দুর্গে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ইমাম আল-খালিলি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বাহলায় নিযুক্ত তার প্রতিনিধি শেখ আবু যাইদের মাধ্যমে সেটি তাদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নেন, যখন ওই দুর্গের আমির কে হবেন তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে ওমানে সুলতানি বিজয়ের পর এটি বাহলার ওয়ালির অধীনে সুলতানের কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসআফুল আইয়ান ফী আনসাবি আহলি উমান (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌نسب آل صالح بن علي في بني غافر

وممن ينتسب إلى قريش بعمان آل صالح بن علي بن ناصر بن عيسى بن صالح بن عيسى بن راشد بن سعيد بن سالم بن رجب، وأبناء عمهم آل حميد بن عبد الله بن سليمان بن محمد بن عيسى ابن صالح بن راشد بن سعيد بن سالم بن رجب. ومنهم الآن أولاد سليمان ابن عبد الله وآل حمدون بن حميد بن عبد الله، وآل حمد بن حميد ابن عبد الله، وآلهم، وهم رؤساء على البناوية وخصوصًا في الأطراف الشرقية من عمان، ومركز زعامتهم في هذه السنين الأخيرة القابل، ولهم السيادة على آل الحارث بن كعب بن اليحمد، ومن انضم إليهم من بادية الشرقية، كالمالكي والدويكي والشبلي ومن هو من لفيفهم. وآل الحارث الرهط الخاص، ولهم السيادة على سفالة أبرى ومن هم من أعمالها، ويرأسهم الآن الشيخ الشهم الأمير أحمد بن محمد بن عيسى بن صالح، بل يرأس الشرقية كلها في هذا الوقت، وهو الأمير المقدم على أمراء أهل عمان عند السلطان سعيد بن تيمور بعد فتح عمان. وصالح بن علي من فحول العلماء الذين لهم الحل والعقد، وعيسى بن صالح العلامة الثاني، من هذا البيت، فهو من أعلم أهل زمانه بعد الإمام الخليلي رحمهما الله تعالى، ولمحمد بن عيسى فقه وأدب، وهو من أنجاب الرجال.

وهؤلاء عائلة بارزة لها شخصيات يعتمد عليها، وناهيك
বনী গাফিরের মধ্যে আল সালেহ বিন আলীর বংশবৃত্তান্ত

ওমানের কুরাইশ বংশের সাথে সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আল সালেহ বিন আলী বিন নাসির বিন ঈসা বিন সালেহ বিন ঈসা বিন রাশিদ বিন সাঈদ বিন সালিম বিন রজব এবং তাদের চাচাতো ভাই আল হামিদ বিন আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সালেহ বিন রাশিদ বিন সাঈদ বিন সালিম বিন রজব। বর্তমানে তাদের অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন সুলাইমান বিন আবদুল্লাহর সন্তানগণ, আল হামদুন বিন হামিদ বিন আবদুল্লাহ, আল হামদ বিন হামিদ বিন আবদুল্লাহ এবং তাদের পরিবারবর্গ। তারা বানাবিয়া গোত্রের ওপর নেতৃত্ব দেন, বিশেষ করে ওমানের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের নেতৃত্বের কেন্দ্রস্থল হলো আল-কাবিল। আল হারিস বিন কাব বিন আল-ইয়াহমাদ এবং তাদের সাথে যুক্ত হওয়া শারকিয়ার মরুবাসী যেমন মালিকি, দুওয়াইকি, শিবলি ও তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের ওপরও তাদের প্রাধান্য ও নেতৃত্ব রয়েছে। আল হারিস হলো একটি বিশেষ আভিজাত্যপূর্ণ গোষ্ঠী; সাফালত ইবরা এবং এর অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর ওপর তাদের কর্তৃত্ব রয়েছে। বর্তমানে তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন অত্যন্ত সাহসী ও নীতিবান শেখ আমির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সালেহ। বরং তিনি বর্তমানে সমগ্র শারকিয়া অঞ্চলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওমান বিজয়ের পর সুলতান সাঈদ বিন তাইমুরের নিকট তিনি ওমানবাসীদের আমিরদের মধ্যে অগ্রগণ্য আমির হিসেবে পরিগণিত। সালেহ বিন আলী ছিলেন শীর্ষস্থানীয় আলেমদের একজন, যারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমস্যার সমাধানে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। আর এই পরিবারের দ্বিতীয় আল্লামা হলেন ঈসা বিন সালেহ; তিনি ইমাম খালিলীর (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) পরে তার সময়ের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীদের একজন ছিলেন। মুহাম্মদ বিন ঈসার ফিকহ ও সাহিত্যের ওপর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল এবং তিনি একজন অত্যন্ত উচ্চবংশীয় ও মহৎ ব্যক্তি।

আর তারা হলো একটি বিশিষ্ট পরিবার, যাতে এমন সব ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, এবং আপনার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।