(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنة القسم: علوم الحديث
الكتاب: مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنة
المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)
الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة
الطبعة: الثالثة، 1409هـ/1989م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 77
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবি বকর، জালালুদ্দিন আল-সুয়ুতী (ওফাত ৯১১ হিজরী)
প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়، মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪০৯ হিজরী/১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৭
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
مِفْتَاح الْجنَّة فِي الإحتجاج بِالسنةِ
تأليف: جلال الدّين السُّيُوطِيّ
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدّمَةالْحَمد لله رب الْعَالمين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على عَبده وَرَسُوله نَبينَا مُحَمَّد الصَّادِق الْأمين وعَلى آله وَأَصْحَابه وَالتَّابِعِينَ لَهُم بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين أما بعد: -
فَإِن سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَحي أوحاه الله إِلَى نبيه مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَهِي مَعَ كتاب الله الْعَزِيز أساس الدّين الإسلامي ومصدره وهما مَعًا متلازمان تلازم شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَشَهَادَة أَن مُحَمَّدًا رَسُول الله وَمن لم يُؤمن بِالسنةِ لم يُؤمن بِالْقُرْآنِ.
ومنذ أزمان غابرة حَتَّى يَوْمنَا هَذَا تتعرض السّنة لهجمات الْأَعْدَاء مِمَّن ينتمون إِلَى الْإِسْلَام وَمن غَيرهم.
وَمن الَّذين ذبوا عَن السّنة النَّبَوِيَّة وكشفوا عوار أعدائها الْحَافِظ جلال الدّين السيوطى فِي كِتَابه الْمُخْتَصر الْمُفِيد (مِفْتَاح الْجنَّة فِي الِاحْتِجَاج بِالسنةِ) وَيسر الجامعة
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাহ
রচনা: জালালুদ্দিন সুয়ূতী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ-এর ওপর, যিনি সত্যবাদী (الصادق) ও বিশ্বস্ত (الأمين), এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হলো ওহী, যা আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। এটি আল্লাহর মহিমান্বিত কিতাবের পাশাপাশি ইসলামী দ্বীনের ভিত্তি ও উৎস। এই দুটি বিষয় একে অপরের সাথে এমনভাবে অবিচ্ছেদ্য যেমনটি ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’ এবং ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল’—এই দুই সাক্ষ্য প্রদান করা একে অপরের সাথে যুক্ত। যে ব্যক্তি সুন্নাহর প্রতি ঈমান আনবে না, সে মূলত কুরআনের প্রতিও ঈমান আনবে না।
সুদূর অতীতকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সুন্নাহ ইসলামের অনুসারী দাবিদার এবং ইসলাম বহির্ভূত—উভয় শ্রেণীর শত্রুদের পক্ষ থেকে নানাবিধ আক্রমণের সম্মুখীন হয়ে আসছে।
যারা সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করেছেন এবং এর শত্রুদের অসারতা উন্মোচন করেছেন, হাফেজ (الحافظ) জালালুদ্দিন সুয়ূতী তাঁর সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ গ্রন্থ মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাহ-তে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত; এবং বিশ্ববিদ্যালয় সহজতর করেছে...
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
الإسلامية بِالْمَدِينَةِ المنورة أَن تنشر هَذَا الْكتاب وتوزعه بالمجان كَسَائِر مَا تطبعه دفاعا عَن سنة الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم وَنصحا لمن أحب لنَفسِهِ الْخَيْر والسعادة فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَة.
وَالله سُبْحَانَهُ الْمُوفق وَالْهَادِي إِلَى سَوَاء السَّبِيل
نَائِب رَئِيس الجامعة الإسلامية
عبد المحسن بن حمد الْعباد
فِي 1399هـ
মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় এই গ্রন্থটি প্রকাশ করতে এবং তাদের অন্যান্য প্রকাশনার ন্যায় এটিও বিনামূল্যে বিতরণ করতে ইচ্ছুক; যা মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর প্রতিরক্ষাস্বরূপ এবং যারা দুনিয়া ও আখেরাতে নিজের জন্য কল্যাণ ও সৌভাগ্য কামনা করেন তাদের জন্য সদুপদেশস্বরূপ।
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তাওফিকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর
আব্দুল মুহসিন বিন হামদ আল-আব্বাদ
১৩৯৯ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
مِفْتَاح الْجنَّة فِي الإحتجاج بِالسنةِ…بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمد لله وَبِه ثقتي، وَسَلام على عباده الَّذين اصْطفى.
اعلموا - يَرْحَمكُمْ الله - أَن من الْعلم كَهَيئَةِ الدَّوَاء. وَمن الآراء كَهَيئَةِ الْخَلَاء. لَا تذكر إِلَّا عِنْد دَاعِيَة الضَّرُورَة، وَأَن مِمَّا فاح رِيحه فِي هَذَا الزَّمَان وَكَانَ دارسا بِحَمْد الله تَعَالَى مُنْذُ أزمان، وَهُوَ أَن قَائِلا رَافِضِيًّا زنديقا أَكثر فِي كَلَامه أَن السّنة النَّبَوِيَّة وَالْأَحَادِيث المروية - زَادهَا الله علوا وشرفا - لَا يحْتَج بهَا، وَأَن الْحجَّة فِي الْقُرْآن خَاصَّة، وَأورد على ذَلِك حَدِيث: "مَا جَاءَكُم عَنى من حَدِيث فاعرضوه على الْقُرْآن، فَإِن وجدْتُم لَهُ أصلا فَخُذُوا بِهِ وَإِلَّا فَردُّوهُ" هَكَذَا سَمِعت هَذَا الْكَلَام بجملته مِنْهُ وسَمعه مِنْهُ خلائق غَيْرِي، فَمنهمْ من لَا يلقِي لذَلِك بَالا. وَمِنْهُم من لَا يعرف أصل هَذَا الْكَلَام وَلَا من أَيْن جَاءَ. فَأَرَدْت أَن أوضح للنَّاس أصل ذَلِك، وَأبين بُطْلَانه، وَأَنه من أعظم المهالك.
فاعلموا رحمكم الله أَن من أنكر كَون حَدِيث النَّبِي صلى الله عليه وسلم قولا كَانَ أَو فعلا بِشَرْطِهِ الْمَعْرُوف فِي الْأُصُول حجَّة، كفر وَخرج عَن دَائِرَة الْإِسْلَام وَحشر مَعَ الْيَهُود وَالنَّصَارَى، أَو مَعَ من شَاءَ الله من فرق الْكَفَرَة. روى الإِمَام الشَّافِعِي
মিফতাহুল জান্নাহ ফি আল-ইহতিজাজ বি-সুন্নাহ…বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর ওপরই আমার ভরসা, আর শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর।
জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন—নিশ্চয়ই কিছু জ্ঞান ওষুধের মতো এবং কিছু মতবাদ শৌচাগারের মতো, যা একান্ত প্রয়োজন ছাড়া উল্লেখ করা হয় না। বর্তমান সময়ে এমন একটি বিষয়ের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে যা আল্লাহর প্রশংসায় দীর্ঘকাল যাবৎ বিলুপ্ত ছিল। বিষয়টি হলো, এক রাফেজি জিন্দিক (زنديق) তার বক্তব্যে বারবার দাবি করছে যে, নবীজির সুন্নাহ (السنة) এবং বর্ণিত হাদিসসমূহ—আল্লাহ যাঁর মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করুন—দলিল (حجة) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না; বরং দলিল (حجة) কেবল কুরআনেই সীমাবদ্ধ। সে এর স্বপক্ষে এই হাদিসটি পেশ করেছে: "আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যে হাদিসই আসুক না কেন, তা কুরআনের সাথে মিলিয়ে দেখো; যদি তোমরা তার কোনো ভিত্তি পাও তবে তা গ্রহণ করো, অন্যথায় তা প্রত্যাখ্যান করো।" আমি নিজে তার মুখ থেকে এই পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যটি শুনেছি এবং আমার মতো আরও অনেকেই তা শুনেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ করেনি, আবার কেউ কেউ এই বক্তব্যের উৎস বা এটি কোথা থেকে এসেছে তা জানে না। তাই আমি মানুষের কাছে এর মূল বিষয়টি স্পষ্ট করতে এবং এর অসারতা বর্ণনা করতে চেয়েছি; আর এটি যে এক চরম ধ্বংসাত্মক পথ তাও পরিষ্কার করতে চেয়েছি।
সুতরাং জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন—উসুলে (الأصول) বর্ণিত সুপরিচিত শর্তানুযায়ী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী বা কর্ম সম্বলিত হাদিস দলিল (حجة) হওয়ার বিষয়টি যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, সে কুফরি করল এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে গেল। কিয়ামতের দিন তার হাশর হবে ইহুদি ও নাসারাদের সাথে অথবা আল্লাহ চাহেন তো অন্য কোনো কাফের সম্প্রদায়ের সাথে। ইমাম শাফেয়ি বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
رَضِي الله عَنهُ يَوْمًا حَدِيثا وَقَالَ إِنَّه صَحِيح فَقَالَ لَهُ قَائِل: أَتَقول بِهِ يَا أَبَا عبد الله؟، فاضطرب وَقَالَ: "يَا هَذَا أرأيتني نَصْرَانِيّا؟ أرأيتني خَارِجا من كَنِيسَة؟ أَرَأَيْت فِي وسطي زناراً؟ أروي حَدِيثا عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا أَقُول بِهِ".
وأصل هَذَا الرَّأْي الْفَاسِد أَن الزَّنَادِقَة وَطَائِفَة من غلاة الرافضة ذَهَبُوا إِلَى إِنْكَار الِاحْتِجَاج بِالسنةِ والاقتصار على الْقُرْآن وهم فِي ذَلِك مختلفو الْمَقَاصِد، فَمنهمْ من كَانَ يعْتَقد أَن النُّبُوَّة لعَلي وَأَن جِبْرِيل عليه السلام أَخطَأ فِي نُزُوله إِلَى سيد الْمُرْسلين صلى الله عليه وسلم، تَعَالَى الله عَمَّا يَقُول الظَّالِمُونَ علوا كَبِيرا، وَمِنْهُم من أقرّ للنَّبِي صلى الله عليه وسلم بِالنُّبُوَّةِ وَلَكِن قَالَ: إِن الْخلَافَة كَانَت حَقًا لعَلي فَلَمَّا عدل بهَا الصَّحَابَة عَنهُ إِلَى أبي بكر رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ قَالَ هَؤُلَاءِ المخذولون - لعنهم الله - كفرُوا حَيْثُ جاروا وَعدلُوا بِالْحَقِّ عَن مُسْتَحقّه، وكفَّروا - لعنهم الله - عليا رضي الله عنه أَيْضا لعدم طلبه حَقه فبنوا على ذَلِك رد الْأَحَادِيث كلهَا لِأَنَّهَا عِنْدهم بزعمهم من رِوَايَة قوم كفار فَإنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون، وَهَذِه آراء مَا كنت أستحل حكايتها لَوْلَا مَا دعت إِلَيْهِ الضَّرُورَة من بَيَان أصل هَذَا الْمَذْهَب الْفَاسِد الَّذِي كَانَ النَّاس فِي رَاحَة مِنْهُ من أعصار.
وَقد كَانَ أهل هَذَا الرَّأْي موجودين بِكَثْرَة فِي زمن الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة فَمن بعدهمْ، وتصدى الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة
তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একদিন একটি হাদিস বর্ণনা করলেন এবং বললেন যে এটি সহিহ (صحيح)। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি কি এই হাদিস অনুযায়ী মত প্রদান করেন?" এতে তিনি বিচলিত হয়ে বললেন: "হে লোক! তুমি কি আমাকে খ্রিস্টান মনে করো? তুমি কি আমাকে গির্জা থেকে বের হতে দেখেছ? তুমি কি আমার কোমরে যুননার (খ্রিস্টানদের বিশেষ কোমরবন্ধ) দেখেছ? আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করব অথচ তা মেনে নেব না?"
এই ভ্রান্ত মতবাদের মূল উৎস হলো, জিন্দিক সম্প্রদায় এবং চরমপন্থী রাফেজিদের একটি দল সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) করা অস্বীকার করে কেবলমাত্র কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার পথ বেছে নিয়েছে। এ বিষয়ে তাদের উদ্দেশ্য ছিল নানাবিধ; তাদের মধ্যে কেউ বিশ্বাস করত যে নবুয়ত মূলত আলীর প্রাপ্য ছিল এবং জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) ভুলবশত তা সাইয়্যিদুল মুরসালিন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে অবতরণ করেছেন—জালিমরা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অতি উচ্চ ও মহান। আবার তাদের মধ্যে কেউ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুয়ত স্বীকার করলেও বলত: খিলাফত মূলত আলীর অধিকার ছিল, কিন্তু যখন সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) তাঁকে বাদ দিয়ে আবু বকরের দিকে ফিরে গেলেন, তখন এই লাঞ্ছিতরা—আল্লাহ তাদের লানত করুন—দাবি করল যে তারা (সাহাবীগণ) সত্যকে তার হকদার থেকে বিচ্যুত করে অবিচার করার মাধ্যমে কুফরি করেছেন। এমনকি তারা—আল্লাহ তাদের লানত করুন—আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কেও কাফের আখ্যা দিল যেহেতু তিনি নিজের হক দাবি করেননি। অতঃপর তারা এর ওপর ভিত্তি করে সমস্ত হাদিস প্রত্যাখ্যান করল, কারণ তাদের ভ্রান্ত ধারণা মতে এগুলো একদল কাফেরের বর্ণনা (رواية)। আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই নিকট আমাদের ফিরে যেতে হবে। এগুলো এমন সব মত যা বর্ণনা করা আমি বৈধ মনে করতাম না, যদি না যুগ যুগ ধরে মানুষ যে ভ্রান্ত মতবাদ থেকে শান্তিতে ছিল, তার স্বরূপ উন্মোচনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত।
চার ইমাম এবং তাঁদের পরবর্তী সময়গুলোতে এই মতাবলম্বীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল এবং চার ইমাম তাঁদের মোকাবিলায় সচেষ্ট হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
وأصحابهم فِي دروسهم ومناظراتهم وتصانيفهم للرَّدّ عَلَيْهِم، وسأسوق إِن شَاءَ الله تَعَالَى جملَة من ذَلِك وَالله الْمُوفق.
قَالَ الإِمَام الشَّافِعِي رضي الله عنه فِي الرسَالَة وَنَقله عَنهُ الْبَيْهَقِيّ فِي الْمدْخل: قد وضع الله رَسُوله صلى الله عليه وسلم من دينه وفرضه وَكتابه الْموضع الَّذِي أبان جلّ ثَنَاؤُهُ أَنه جعله علما لدينِهِ. بِمَا افْترض من طَاعَته وَحرم من مَعْصِيَته وَأَبَان من فضيلته. بِمَا قرن بَين الْإِيمَان بِرَسُولِهِ الْإِيمَان بِهِ فَقَالَ تبارك وتعالى: {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلا تَقُولُوا ثَلاثَةٌ انْتَهُوا خَيْراً لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ} وَقَالَ عز وجل: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ} فَجعل كَمَال ابْتِدَاء الْإِيمَان الَّذِي مَا سواهُ تبع لَهُ الْإِيمَان بِاللَّه ثمَّ بِرَسُولِهِ مَعَه. قَالَ الشَّافِعِي: فَفرض الله على النَّاس اتِّباع وحيه وَسنَن رَسُوله، فَقَالَ فِي كِتَابه: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ} ، مَعَ آي سواهَا ذكر فِيهِنَّ الْكتاب وَالْحكمَة. قَالَ الشَّافِعِي: فَذكر الله الْكتاب وَهُوَ الْقُرْآن، وَذكر الْحِكْمَة، فَسمِعت من أرضاه من أهل الْعلم بِالْقُرْآنِ يَقُول: الْحِكْمَة سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا
এবং তাঁদের অনুসারীরা তাঁদের পাঠদান, বিতর্ক এবং রচনার মাধ্যমে তাঁদের খণ্ডন করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমি অচিরেই এর একটি বিবরণ তুলে ধরব এবং আল্লাহই তাওফিকদাতা।
ইমাম শাফেয়ী (রা.) আর-রিসালাহ গ্রন্থে বলেছেন এবং ইমাম বায়হাকী তাঁর আল-মাদখাল গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন: আল্লাহ তাঁর দ্বীন, তাঁর নির্ধারিত বিধান এবং তাঁর কিতাবে তাঁর রাসূল (সা.)-কে এমন এক সুউচ্চ অবস্থানে আসীন করেছেন, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি তাঁকে তাঁর দ্বীনের নিদর্শন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাঁর আনুগত্যকে আবশ্যিক করেছেন, তাঁর নাফরমানিকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে স্পষ্ট করেছেন। আল্লাহ স্বীয় রাসূলের ওপর ঈমান আনয়নকে নিজের প্রতি ঈমানের সাথে সংযুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনো এবং বোলো না যে 'তিন'। তোমরা বিরত থাকো, এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। আল্লাহ তো কেবল এক ইলাহ, তিনি পবিত্র-মহিমান্বিত, তাঁর কোনো সন্তান থাকবে এটা হতে পারে না।} এবং মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: {মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে এবং যখন তারা কোনো সামষ্টিক কাজে রাসূলের সাথে থাকে, তখন তারা তাঁর অনুমতি গ্রহণ না করে চলে যায় না।} সুতরাং তিনি ঈমানের মূল সূচনাকে—যার অনুগামী হয় অন্য সকল বিষয়—আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর সাথে তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানের ওপর নির্ভরশীল করেছেন। ইমাম শাফেয়ী বলেন: আল্লাহ মানুষের ওপর তাঁর ওহি এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنن) অনুসরণ করা আবশ্যক করেছেন। তিনি তাঁর কিতাবে ইরশাদ করেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল।}, এর সাথে আরও কিছু আয়াত রয়েছে যাতে তিনি কিতাব ও হিকমত উল্লেখ করেছেন। ইমাম শাফেয়ী বলেন: আল্লাহ কিতাব উল্লেখ করেছেন যা হলো কুরআন, এবং হিকমত উল্লেখ করেছেন। আমি কুরআন সম্পর্কে বিজ্ঞ এমন আলেমদের (যাঁদের বক্তব্যে আমি সন্তুষ্ট) বলতে শুনেছি যে: হিকমত হলো আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ (سنة)। তিনি আরও বলেছেন: {হে...
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} فَقَالَ بعض أهل الْعلم: أولو الْأَمر: أُمَرَاء سَرَايَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، {فَإِنْ تَنَازَعْتُم} : يعْنى اختلفتم فِي شَيْء، يَعْنِي - وَالله تَعَالَى أعلم - هم وأمراؤهم الَّذين أُمروا بطاعتهم، {فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} : يعْنى - وَالله تَعَالَى أعلم - إِلَى مَا قَالَ الله وَالرَّسُول ثمَّ سَاق الْكَلَام إِلَى أَن قَالَ: فأعلمهم أَن طاعةَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم طاعتُه فَقَالَ: {فَلا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} وَاحْتج أَيْضا فِي فرض اتِّبَاع أمره بقوله: {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذاً فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} وَقَوله: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} وَغَيرهَا من الْآيَات الَّتِي دلّت على اتِّبَاع أمره، وَلُزُوم طَاعَته فَلَا يسع أحدا رد أمره لفرض الله طَاعَة نبيه.
قَالَ الْبَيْهَقِيّ بعد إحكامه هَذَا الْفَصْل: وَلَوْلَا ثُبُوت الْحجَّة بِالسنةِ لما قَالَ صلى الله عليه وسلم فِي. خطبَته بعد تَعْلِيم من شهده أَمر دينهم: "أَلا فليبلغ الشَّاهِد مِنْكُم الْغَائِب، فَرب مبلّغ أوعى من سامع"، ثمَّ أورد حَدِيث: "نضر الله امْرَءًا سمع منا حَدِيثا
"হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলিল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদেরও। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" কোনো কোনো বিজ্ঞ আলেম বলেছেন: 'উলিল আমর' হলেন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত বাহিনীর প্রধানগণ (আমির)। "অতঃপর যদি তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও": অর্থাৎ কোনো বিষয়ে মতভেদ করো—আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—এর অর্থ হলো তারা এবং তাদের সেই সকল নেতৃবৃন্দ যাদের আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। "তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও": অর্থাৎ—আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—আল্লাহ ও রাসুল যা বলেছেন তার দিকে ফিরিয়ে দাও। অতঃপর তিনি আলোচনা প্রলম্বিত করে বলেন: আল্লাহ তাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করা। অতঃপর তিনি বলেছেন: "তোমার প্রতিপালকের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে তোমাকে বিচারক মানবে, অতঃপর তোমার মীমাংসার বিষয়ে তাদের মনে কোনো দ্বিধা থাকবে না এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে।" তিনি তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করা যে অবশ্যপালনীয় (فرض) সে বিষয়ে এই আয়াতের মাধ্যমেও দলিল (حجة) পেশ করেছেন: "তোমরা রাসুলের ডাককে তোমাদের একে অপরের ডাকের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে যারা একে অন্যের আড়ালে চুপিচুপি সটকে পড়ে। সুতরাং যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা (فتنة) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আসবে।" এবং আল্লাহর বাণী: "রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" এ ছাড়া অন্যান্য আয়াত যা তাঁর নির্দেশ অনুসরণ এবং তাঁর আনুগত্যের আবশ্যকতা প্রমাণ করে। সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীর আনুগত্য করা অবশ্যপালনীয় (فرض) হওয়ার কারণে কারো পক্ষেই তাঁর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার কোনো অবকাশ নেই।
ইমাম বায়হাকি এই পরিচ্ছেদটি সুসংহত করার পর বলেন: সুন্নাহ (سنة) দ্বারা দলিল (حجة) প্রমাণিত না হলে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ব্যক্তিদের দ্বীনি বিষয়াবলি শিক্ষা দেওয়ার পর তাঁর ভাষণে বলতেন না: "সাবধান! তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে (বার্তা) পৌঁছে দেয়; কারণ অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" এরপর তিনি একটি হাদিস উল্লেখ করেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও প্রফুল্ল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শ্রবণ করেছে..."
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
فأداه كَمَا سَمعه، فَرب مبلغ أوعى من سامع " وَهَذَا الحَدِيث متواتر كَمَا سأبينه. قَالَ الشَّافِعِي: فَلَمَّا ندب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى اسْتِمَاع مقَالَته وحفظها وأدائها دلّ1 على أَنه لَا يَأْمر إِن يؤدَّى عَنهُ إلَاّ مَا تقوم بِهِ الْحجَّة على من أدَّى إِلَيْهِ، لِأَنَّهُ إِنَّمَا يؤدَّى عَنهُ حَلَال يُؤْتى وَحرَام يجْتَنب وحدّ يُقَام، وَمَال يُؤْخَذ وَيُعْطى ونصيحة فِي دين وَدُنْيا.
ثمَّ أورد الْبَيْهَقِيّ من حَدِيث أبي رَافع قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "لَا ألفيَنَّ أحدكُم مُتكئا على أريكته يَأْتِيهِ الْأَمر من أَمْرِي مِمَّا أمرت بِهِ أَو نهيت عَنهُ يَقُول: لَا أَدْرِي2 مَا وجدنَا فِي كتاب الله اتَّبعنَا" أخرجه أَبُو دَاوُد وَالْحَاكِم، وَمن حَدِيث الْمِقْدَام بن معدي كرب أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم حرّم أَشْيَاء يَوْم خَيْبَر مِنْهَا الْحمار الأهلي وَغَيره، ثمَّ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "يُوشك أَن يقْعد الرجل على أريكته يحدث بحديثي فَيَقُول بيني وَبَيْنكُم كتاب الله فَمَا وجدنَا فِيهِ حَلَالا استحللناه، وَمَا وجدنَا فِيهِ حَرَامًا حرمناه، أَلا وَإِن مَا حرَّم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مثل مَا حرَّم الله"، قَالَ الْبَيْهَقِيّ: وَهَذَا خبر من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَمَّا يكون بعده من رد المبتدعة حديثَه فَوجدَ تَصْدِيقه فِيمَا بعده، ثمَّ أخرج الْبَيْهَقِيّ بِسَنَدِهِ عَن شبيب بن أبي فضَالة
--------------------------------------------
অতঃপর সে তা সেভাবেই পৌঁছে দিল যেভাবে সে তা শুনেছিল। কারণ অনেক সময় যাকে সংবাদ পৌঁছানো হয় সে সরাসরি শ্রবণকারীর তুলনায় অধিক স্মৃতিধর হয়ে থাকে। আর এই হাদিসটি মুতাওয়াতির (متواتر), যা আমি সামনে স্পষ্ট করব। ইমাম শাফিঈ বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁর বাণী শ্রবণ, তা সংরক্ষণ এবং তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন, তখন তা একথাই নির্দেশ করে যে, তিনি কেবল তা-ই পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন না যার মাধ্যমে পৌঁছানো ব্যক্তির ওপর হুজ্জত (حجة) বা দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। কারণ তাঁর পক্ষ থেকে কেবল তা-ই পৌঁছে দেওয়া হয় যা পালনীয় হালাল, বর্জনীয় হারাম, কার্যকরযোগ্য দণ্ডবিধি (حد), গ্রহণীয় বা প্রদানযোগ্য সম্পদ এবং দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে নসিহত।
অতঃপর বায়হাকী আবু রাফে (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার নির্দেশসমূহের মধ্য হতে এমন কোনো বিষয় আসে যা আমি করার আদেশ দিয়েছি কিংবা যা থেকে নিষেধ করেছি, আর তখন সে বলে: 'আমি জানি না; আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি আমরা কেবল তারই অনুসরণ করেছি'।" এটি আবু দাউদ ও আল-হাকিম বর্ণনা করেছেন। এবং মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খয়বরের দিন কিছু বিষয় হারাম ঘোষণা করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল গৃহপালিত গাধা ও অন্যান্য। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং আমার হাদিস বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে: 'আমার ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব রয়েছে; তাতে যা হালাল পাব আমরা তাকেই হালাল গণ্য করব এবং যা হারাম পাব তাকেই হারাম গণ্য করব।' জেনে রেখো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের অনুরূপ।" বায়হাকী বলেন: এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে তাঁর পরবর্তী সময়ে বিদআতিদের পক্ষ থেকে তাঁর হাদিস প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে একটি খবর (خبر), যা পরবর্তী সময়ে বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে। অতঃপর বায়হাকী তাঁর সনদে (بسند) শাবিব ইবনে আবি ফাদালাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
الْمَكِّيّ: "أَن عمرَان بن حُصَيْن رضي الله عنه ذكر الشَّفَاعَة فَقَالَ رجل من الْقَوْم: يَا أَبَا نجيد إِنَّكُم تحدثونا بِأَحَادِيث لم نجد لَهَا أصلا فِي الْقُرْآن، فَغَضب عمرَان وَقَالَ للرجل: قَرَأت الْقُرْآن؟ قَالَ: نعم، قَالَ: فَهَل وجدت فِيهِ صَلَاة الْعشَاء أَرْبعا وَوجدت الْمغرب ثَلَاثًا والغداة رَكْعَتَيْنِ وَالظّهْر أَرْبعا وَالْعصر أَرْبعا؟ قَالَ: لَا: قَالَ. فَعَن من أَخَذْتُم ذَلِك، ألستم عَنَّا أخذتموه وأخذناه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم؟ أوجدتم فِيهِ من كل أَرْبَعِينَ شَاة شَاة وَفِي كل كَذَا بَعِيرًا كَذَا وفى كل كَذَا درهما كَذَا. قَالَ: لَا. قَالَ فَعَن من أَخَذْتُم ذَلِك؟ ألستم عَنَّا أخذتموه وأخذناه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم؟ وَقَالَ: أوجدتم فِي الْقُرْآن: {وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ} أوجدتم فِيهِ فطوفوا سبعا واركعوا رَكْعَتَيْنِ خلف الْمقَام، أَو وجدْتُم فِي الْقُرْآن: لَا جلب وَلَا جنب وَلَا شغار فِي الْإِسْلَام؟ أما سَمِعْتُمْ الله قَالَ فِي كِتَابه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} قَالَ عمرَان: فقد أَخذنَا عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَشْيَاء لَيْسَ لكم بهَا علم.
ثمَّ قَالَ الْبَيْهَقِيّ: والْحَدِيث الَّذِي روى فِي عرض الحَدِيث على الْقُرْآن بَاطِل لَا يَصح، وَهُوَ ينعكس على نَفسه بِالْبُطْلَانِ، فَلَيْسَ فِي الْقُرْآن دلَالَة على عرض الحَدِيث على الْقُرْآن، انْتهى كَلَام الْبَيْهَقِيّ فِي الْمدْخل الصَّغِير. وَهُوَ
মাক্কী বর্ণনা করেন: "ইমরান ইবনুল হুসাইন (রা.) সুপারিশ (শাফায়াত) সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল: 'হে আবু নুজাইদ, আপনারা আমাদের কাছে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেন যেগুলোর কোনো ভিত্তি (أصل) আমরা কুরআনে পাই না।' এতে ইমরান (রা.) রাগান্বিত হয়ে লোকটিকে বললেন: 'তুমি কি কুরআন পড়েছ?' সে বলল: 'হ্যাঁ।' তিনি বললেন: 'তুমি কি তাতে এশার নামাজ চার রাকাত, মাগরিব তিন রাকাত, ভোরের নামাজ দুই রাকাত এবং জোহর চার রাকাত ও আসর চার রাকাত হওয়ার কথা পেয়েছ?' সে বলল: 'না।' তিনি বললেন: 'তাহলে তোমরা কার থেকে এগুলো গ্রহণ করেছ? তোমরা কি আমাদের থেকে তা গ্রহণ করোনি? আর আমরা তা গ্রহণ করেছি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নিকট থেকে। তুমি কি তাতে প্রতি চল্লিশটি ছাগলে একটি ছাগল এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক উটে নির্ধারিত পরিমাণ জাকাত এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ দিরহামে নির্ধারিত পরিমাণ জাকাত প্রদানের বিধান পেয়েছ?' সে বলল: 'না।' তিনি বললেন: 'তাহলে তোমরা কার থেকে এগুলো গ্রহণ করেছ? তোমরা কি আমাদের থেকে তা গ্রহণ করোনি? আর আমরা তা গ্রহণ করেছি নবী (সা.)-এর নিকট থেকে।' তিনি আরও বললেন: 'তোমরা কি কুরআনে পেয়েছ— {আর তারা যেন প্রাচীন গৃহের তাওয়াফ করে}? তুমি কি সেখানে এ কথা পেয়েছ যে সাতবার তাওয়াফ করতে হবে এবং মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে দুই রাকাত নামাজ পড়তে হবে? অথবা তোমরা কি কুরআনে পেয়েছ যে ইসলামে জাকাতের পশু অন্য স্থানে সরিয়ে রাখা (জালাব), জাকাত সংগ্রাহক থেকে দূরে অবস্থান করা (জানাব) এবং মোহরবিহীন বিনিময় বিয়ে (শিগার) নিষিদ্ধ? তোমরা কি আল্লাহর কিতাবে তাঁর এই বাণী শোননি: {রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}?' ইমরান (রা.) বললেন: 'আমরা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে এমন অনেক বিষয় গ্রহণ করেছি যে সম্পর্কে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই।'"
অতঃপর বাইহাকী বলেন: "কুরআনের কাছে হাদিস পেশ করার বিষয়ে যে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে তা বাতিল (باطل) ও বিশুদ্ধ নয় (لا يصح)। এটি অসারতা হিসেবে নিজেই নিজের ওপর আপতিত হয়, কেননা কুরআনের কাছে হাদিস পেশ করার বিষয়ে কুরআনে কোনো প্রমাণ নেই।" আল-মাদখাল আস-সগীর গ্রন্থে বাইহাকীর বক্তব্য এখানেই শেষ। আর এটি...
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
الْمدْخل إِلَى دَلَائِل النُّبُوَّة، وَقد ذكر الْمَسْأَلَة فِي الْمدْخل الْكَبِير وَهُوَ الْمدْخل إِلَى السّنَن بأبسط من هَذَا فَقَالَ: بَاب تَعْلِيم سنَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وفرضِ اتباعِها، قَالَ تَعَالَى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ} إِلَى قَوْله: {وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} قَالَ الشَّافِعِي: "سَمِعت مَن أَرضى مِن أهل الْعلم بِالْقُرْآنِ يَقُول: الْحِكْمَة سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم".
ثمَّ أخرج بأسانيده عَن الْحسن وَقَتَادَة وَيحيى بن أبي كثير أَنهم قَالُوا: "الْحِكْمَة فِي هَذِه الْآيَة السّنة"، ثمَّ أورد بِسَنَدِهِ عَن الْمِقْدَام بن معدي كرب عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: "أَلا إِنِّي أُوتيت الْكتاب وَمثله مَعَه، أَلا إِنِّي أُوتيت الْقُرْآن وَمثله، أَلا يُوشك رجل شبعان على أريكته، يَقُول: عَلَيْكُم بِهَذَا الْقُرْآن فَمَا وجدْتُم فِيهِ من حَلَال فأحلُّوه، وَمَا وجدْتُم فِيهِ من حرَام فحرِّموه، أَلا لَا يحل لكم الْحمار الأهلي وَلَا كل ذِي نَاب من السبَاع وَلَا لقطَة مَال معاهد" الحَدِيث، ثمَّ أورد من طَرِيق آخر عَن الْمِقْدَام بن معدي كرب قَالَ: "حرم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَشْيَاء يَوْم خَيْبَر من الْحمار الأهلي وَغَيره فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: يُوشك أَن يقْعد الرجل مِنْكُم على أريكته يحدث بحديثي فَيَقُول: بيني وَبَيْنكُم كتاب الله فَمَا وجدنَا فِيهِ حَلَالا استحللناه وَمَا وجدنَا فِيهِ حَرَامًا حرَّمناه، وَإِنَّمَا حرَّم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مثل مَا حرَّم الله".
‘দালাইলুন নুবুওয়াহর ভূমিকা’ (আল-মাদখাল ইলা দালাইলিন নুবুওয়াহ), এবং তিনি বিষয়টি ‘আল-মাদখাল আল-কাবীর’-এ উল্লেখ করেছেন যা মূলত ‘সুনান’-এর ভূমিকা; সেখানে তিনি এর চেয়েও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ শিক্ষা দান এবং তা অনুসরণ করার আবশ্যকতা সম্পর্কিত অধ্যায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন} ... {এবং তিনি তাদের কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেন} পর্যন্ত। ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেছেন: "কুরআন বিষয়ে বিজ্ঞ আলিমদের মধ্যে যাদের আমি সন্তোষজনক (أرضى) মনে করি, তাদের আমি বলতে শুনেছি যে: হিকমাহ হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ।"
অতঃপর তিনি হাসান, কাতাদাহ এবং ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে তার সনদসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যে তারা বলেছেন: "এই আয়াতে হিকমাহ অর্থ হলো সুন্নাহ।" এরপর তিনি তার সনদের (سند) মাধ্যমে মিকদাম ইবনে মাদিকারিব থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী বর্ণনা করেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু দেওয়া হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন কোনো তৃপ্ত ব্যক্তি তার আসনে হেলান দিয়ে বসে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকেই অনুসরণ করো, এতে যা হালাল পাবে তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করবে এবং যা হারাম পাবে তা-ই হারাম হিসেবে গণ্য করবে। খবরদার! তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধা, দাঁতাল হিংস্র পশু এবং চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের হারানো সম্পদ হালাল নয়" - হাদিসটির শেষ পর্যন্ত। এরপর তিনি মিকদাম ইবনে মাদিকারিব থেকে অন্য একটি সূত্রের (طريق) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধা ও অন্যান্য কিছু নিষিদ্ধ করেছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: অচিরেই তোমাদের মধ্য থেকে কোনো এক ব্যক্তি তার আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার কাছে আমার কোনো হাদিস বর্ণনা করা হলে সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট; সেখানে যা হালাল পাব তা-ই হালাল গণ্য করব এবং যা হারাম পাব তা-ই হারাম গণ্য করব। অথচ আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ।"
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ بِإِسْنَاد صَحِيح أخرجه أَبُو دَاوُد فِي سنَنه، قلت: وَأخرجه أَيْضا الْحَاكِم، ثمَّ أورد الْبَيْهَقِيّ أَيْضا بِسَنَدِهِ عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " إِنِّي قد خلفت فِيكُم شَيْئَيْنِ لن تضلوا بعدهمَا أبدا: كتاب الله وسنتي، وَلنْ يفترقا حَتَّى يردا عليَّ الْحَوْض" أخرجه الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك، وَأورد بِسَنَدِهِ عَن ابْن عَبَّاس: "أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خطب النَّاس فِي حجَّة الْوَدَاع فَقَالَ: يَا أَيهَا النَّاس إِنِّي قد تركت فِيكُم مَا إِن اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تضلوا أبدا: كتاب الله وسنتي" أخرجه الْحَاكِم أَيْضا، وَأورد بِسَنَدِهِ أَيْضا عَن عُرْوَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم خطب فِي حجَّة الْوَدَاع فَقَالَ: "إِنِّي قد تركت فِيكُم مَا إِن اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تضلوا أبدا، أَمريْن اثْنَيْنِ: كتاب الله وَسنة نَبِيكُم. أَيهَا النَّاس اسمعوا مَا أَقُول لكم تعيشوا بِهِ" وَأخرج بِسَنَدِهِ عَن ابْن وهب قَالَ: سَمِعت مَالك بن أنس يَقُول: "الزم مَا قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي حجَّة الْوَدَاع: أَمْرَانِ تركتهما فِيكُم لن تضلوا مَا تمسكتم بهما: كتاب الله وَسنة نبيه صلى الله عليه وسلم"، وَأخرج بِسَنَدِهِ عَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة قَالَ: "صلى بِنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ذَات يَوْم ثمَّ أقبل علينا فوعظنا موعظة بليغة ذرفت مِنْهَا الْعُيُون ووجلت مِنْهَا الْقُلُوب فَقَالَ قَائِل: يَا رَسُول الله كَأَنَّهَا موعظة مودِّع فَمَاذَا تعهد إِلَيْنَا؟ قَالَ: أوصيكم بتقوى الله والسمع وَالطَّاعَة، وَإِن تأمّر عَلَيْكُم عبد
ইমাম বায়হাকী একটি সহীহ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যা আবু দাউদ তার সুনানে সংকলন করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি হাকেমও সংকলন করেছেন। অতঃপর ইমাম বায়হাকী পুনরায় তার সনদে (سند) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে দুটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, যার পর তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ (سنة); এই দুটি কখনোই বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না তারা হাউজে কাউসারে আমার নিকট উপস্থিত হয়।" হাকেম এটি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে সংকলন করেছেন। তিনি তার সনদে (سند) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: হে লোকসকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাহ (سنة)।" এটিও হাকেম সংকলন করেছেন। তিনি তার সনদে (سند) উরওয়াহ থেকেও বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছিলেন: "আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না, দুটি বিষয়: আল্লাহর কিতাব এবং তোমাদের নবীর সুন্নাহ (سنة)। হে লোকসকল! আমি তোমাদের যা বলছি তা শোনো, তবেই তোমরা এর মাধ্যমে সার্থক জীবন লাভ করবে।" তিনি তার সনদে (سند) ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জে যা বলেছেন তা আবশ্যক করে নাও: দুটি বিষয় আমি তোমাদের মাঝে রেখে গিয়েছি, যতক্ষণ তোমরা তা মজবুতভাবে ধারণ করবে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة)।" তিনি তার সনদে (سند) ইরবাজ ইবনে সারিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, তারপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন এবং আমাদের একটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী উপদেশ দান করলেন, যাতে চোখসমূহ অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন একজন বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি যেন বিদায়ী উপদেশ, সুতরাং আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া (تقوى) অবলম্বন করার এবং শ্রবণ ও আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও তোমাদের ওপর কোনো ক্রীতদাসকেও আমির নিযুক্ত করা হয়।"
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
حبشِي كَأَن رَأسه زبيبة، فَإِنَّهُ من يَعش مِنْكُم بعدِي فسيرى اخْتِلَافا كثيرا، فَعَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين تمسكوا بهَا: وعضوا عَلَيْهَا بالنواجذ: وَإِيَّاكُم ومحدثات الْأُمُور، فَإِن كل محدثة بِدعَة، وكل بِدعَة ضَلَالَة"، قلت: هَذَا الحَدِيث أخرجه أَبُو دَاوُد وَابْن ماجة وَالْحَاكِم فِي مُسْتَدْركه وَأخرج بِسَنَدِهِ عَن عَائِشَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "سِتَّة لعنهم الله وكل نَبِي مجاب الدعْوَة: الزَّائِد فِي كتاب الله، والمكذب بِقدر الله المتسلط بالجبروت ليذل بذلك من أعز الله ويعز من أذلّ الله، والمستحلّ لحرم الله والمستحلّ من عِتْرَتِي مَا حرم الله، والتارك لسنتي" قلت أخرجه أَيْضا الطَّبَرَانِيّ وَالْحَاكِم وَصَححهُ وَأخرج بِسَنَدِهِ عَن ابْن عَمْرو أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِن لكل عمل شِرة1 وَلكُل شرة فَتْرَة2 فَمن كَانَت فترته إِلَى سنتي فقد اهْتَدَى، وَمن كَانَت إِلَى غير ذَلِك فقد هلك" وَأخرج بِسَنَدِهِ عَن أنس بن مَالك أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "من أَحْيَا سنتي فقد أَحبَّنِي، وَمن أَحبَّنِي كَانَ معي فِي الْجنَّة"، قلت: أخرجه أَيْضا التِّرْمِذِيّ. وَأخرج بِسَنَدِهِ عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله عليه الصلاة والسلام: "الْقَائِم بِسنتي عِنْد فَسَاد أمتِي لَهُ أجر مائَة شَهِيد"، قلت: أخرجه أَيْضا الطَّبَرَانِيّ، ثمَّ قَالَ الْبَيْهَقِيّ فِي بَاب
--------------------------------------------
...হাবশী (ক্রীতদাস) যার মাথা যেন কিসমিস। নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত ও সঠিক পথপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয়াবলী হতে সাবধান থাকবে; কেননা প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।” আমি বলছি: এই হাদিসটি আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং আল-হাকিম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার সনদ (سند) সহ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “ছয় ব্যক্তি এমন যাদেরকে আল্লাহ লানত করেছেন এবং প্রত্যেক নবী যার দোয়া কবুল হয় তিনিও লানত করেছেন: আল্লাহর কিতাবে কোনো কিছু বৃদ্ধিকারী, আল্লাহর তাকদির (قدر) অস্বীকারকারী, জবরদস্তি ও অহংকারের সাথে প্রভাব বিস্তারকারী শাসক—যাতে সে এর মাধ্যমে আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেছেন তাকে লাঞ্ছিত করতে পারে এবং আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেছেন তাকে সম্মানিত করতে পারে, আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালালকারী, আমার বংশধরদের (আহলে বাইত) ব্যাপারে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল গণ্যকারী এবং আমার সুন্নাত বর্জনকারী।” আমি বলছি: এটি তাবারানি ও আল-হাকিমও বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন। তিনি তার সনদ (سند) সহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: “নিশ্চয়ই প্রতিটি আমলের একটি উদ্দীপনা (شِرة) থাকে, আর প্রতিটি উদ্দীপনার একটি শিথিলতা (فترة) থাকে। সুতরাং যার শিথিলতা আমার সুন্নাতের অনুগামী হয়, সে সুপথ প্রাপ্ত হলো। আর যার শিথিলতা এর বিপরীত অন্য কিছুর দিকে হয়, সে ধ্বংস হলো।” তিনি তার সনদ (سند) সহ আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে পুনরুজ্জীবিত করল, সে আমাকেই ভালোবাসল। আর যে আমাকে ভালোবাসল, সে জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে।” আমি বলছি: এটি তিরমিজিও বর্ণনা করেছেন। তিনি তার সনদ (سند) সহ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আমার উম্মতের বিশৃঙ্খলার সময়ে যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরে থাকবে, তার জন্য একশত শহীদের সওয়াব রয়েছে।” আমি বলছি: এটি তাবারানিও বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বায়হাকী উক্ত অধ্যায়ে বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
بَيَان وُجُوه السّنة: قَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه: وَسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من ثَلَاثَة أوجه، أَحدهَا: مَا أنزل الله فِيهِ نَص كتاب فسن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم. بِمثل نَص الْكتاب. وَالثَّانِي: مَا أنزل الله فِيهِ جملَة كتاب فَبين عَن الله معنى مَا أَرَادَ بِالْجُمْلَةِ، وأوضح كَيفَ فَرضهَا عَاما أَو خَاصّا، وَكَيف أَرَادَ أَن يَأْتِي بِهِ الْعباد. وَالثَّالِث: مَا سنّ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مِمَّا لَيْسَ فِيهِ نَص كتاب، فَمنهمْ من قَالَ جعله الله لَهُ. بِمَا افْترض من طَاعَته وَسبق فِي علمه من توفيقه لرضاه أَن يسن فِيمَا لَيْسَ فِيهِ نَص كتاب. وَمِنْهُم من قَالَ لم يسن سنة قطّ إِلَّا وَلِهَذَا أصل فِي الْكتاب كَمَا كَانَت سنته، كتبيين عدد الصَّلَاة وعملها على أصل جملَة فرض الصَّلَاة، وَكَذَلِكَ مَا سنّ فِي الْبيُوع وَغَيرهَا من الشَّرَائِع، لِأَن الله تَعَالَى ذكره قَالَ: {لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَاّ أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ} وَقَالَ: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا} فَمَا أحل وَحرم فَإِنَّمَا بيَّن فِيهِ عَن الله كَمَا بَين فِي الصَّلَاة وَمِنْهُم من قَالَ: بل جَاءَتْهُ بِهِ رِسَالَة الله فأثبتت سنته بِفَرْض الله تَعَالَى وَمِنْهُم من قَالَ: ألْقى فِي رُوعه كل مَا سنّ وسنته الْحِكْمَة الَّتِي ألقيت فِي رُوعه عَن الله تَعَالَى. انْتهى بِلَفْظِهِ.
ثمَّ أخرج الْبَيْهَقِيّ بِسَنَدِهِ عَن عمر بن الْخطاب أَنه قَالَ على الْمِنْبَر: يَا أَيهَا النَّاس إِن الرَّأْي إِنَّمَا كَانَ من
সুন্নাহর প্রকারভেদ বর্ণনা: ইমাম শাফিঈ (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ তিন প্রকারের। প্রথমটি: যাতে আল্লাহ কিতাবের সুস্পষ্ট পাঠ (نص) অবতীর্ণ করেছেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) কিতাবের সেই সুস্পষ্ট পাঠের অনুরূপ সুন্নাহ সাব্যস্ত করেছেন। দ্বিতীয়টি: যাতে আল্লাহ কিতাবের সারসংক্ষেপ (جملة) অবতীর্ণ করেছেন, অতঃপর তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই সারসংক্ষেপের গূঢ় অর্থ বর্ণনা করেছেন এবং এটি সাধারণভাবে (عام) নাকি বিশেষভাবে (خاص) ফরজ করেছেন তা স্পষ্ট করেছেন, আর বান্দারা কীভাবে তা পালন করবে তাও বর্ণনা করেছেন। তৃতীয়টি: রাসূলুল্লাহ (সা.) যা সুন্নাহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন অথচ সে বিষয়ে কিতাবের কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (نص) নেই। এ বিষয়ে কেউ কেউ বলেন যে, আল্লাহ তাঁর আনুগত্য ফরজ করার কারণে এটি তাঁর জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং আল্লাহর ইলমে এটি পূর্ব থেকেই ছিল যে, তিনি তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে তাওফীক প্রদানের মাধ্যমে এমন বিষয়ে সুন্নাহ প্রবর্তন করবেন যাতে কিতাবের কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (نص) নেই। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, তিনি কখনোই এমন কোনো সুন্নাহ প্রবর্তন করেননি যার মূল ভিত্তি (أصل) কিতাবে বিদ্যমান নেই; যেমন নামাজের ফরজ হওয়ার সারসংক্ষেপের (جملة) ভিত্তিতে নামাজের রাকাত সংখ্যা ও কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করা। অনুরূপভাবে ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে তিনি যা সুন্নাহ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তাও কিতাবের ভিত্তিতেই। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা" এবং তিনি বলেছেন: "আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন"। সুতরাং তিনি যা হালাল বা হারাম করেছেন, তা মূলত নামাজের বর্ণনার মতোই আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নিকট বার্তা (رسالة) এসেছে, ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আরোপিত বিধানের মাধ্যমে তাঁর সুন্নাহ সাব্যস্ত হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন: তিনি যা সুন্নাহ হিসেবে প্রবর্তন করেছেন তা তাঁর অন্তরে ইলহাম করা হয়েছে, আর তাঁর সুন্নাহ হলো সেই হিকমত (حكمة) যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর অন্তরে অর্পণ করা হয়েছে। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
অতঃপর ইমাম বায়হাকী তাঁর সনদ (سند) সহ উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বললেন: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই অভিমত (رأي) তো ছিল...
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مصيبا لِأَن الله تَعَالَى كَانَ يرِيه، وَإِنَّمَا هُوَ منا الظَّن والتكلف. وَأخرج بِسَنَدِهِ عَن الشّعبِيّ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يقْضِي بِالْقضَاءِ وَينزل الْقُرْآن بِغَيْر مَا قضى فيستقبل حكم الْقُرْآن وَلَا يرد قَضَاءَهُ الأول. وَاحْتج من ذهب إِلَى أَنه لم يسن إِلَّا بِأَمْر الله إِمَّا بِوَحْي ينزله عَلَيْهِ فيتلى على النَّاس، أَو برسالة ثَابِتَة عَن الله أَن افْعَل كَذَا بقوله صلى الله عليه وسلم فِيمَا رَوَاهُ الشَّيْخَانِ فِي قصَّة الزَّانِي: "لأقضين بَيْنكُم بِكِتَاب الله" ثمَّ قضى بِالْجلدِ والتغريب وَلَيْسَ التَّغْرِيب فِي الْقُرْآن، وَبِمَا أخرجه الشَّيْخَانِ عَن يعلى بن أُميَّة: "أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ بالجعرانة1 فَجَاءَهُ رجل عَلَيْهِ جُبَّة متضمِّخ2 بِطيب وَقد أحرم بِعُمْرَة فَقَالَ: يَا رَسُول الله كَيفَ ترى فِي رجل أحرم بِعُمْرَة فِي جُبَّة بَعْدَمَا تضمخ بِطيب؟ فَنظر إِلَيْهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم سَاعَة ثمَّ سكت فَجَاءَهُ الْوَحْي فَأنْزل الله: {وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّه} ِ ثمَّ سرى3 عَنهُ فَقَالَ: "أَيْن الَّذِي سَأَلَني عَن الْعمرَة آنِفا؟ أما الطّيب الَّذِي بك فاغسله ثَلَاث مَرَّات، وَأما الْجُبَّة فانزعها ثمَّ اصْنَع فِي عمرتك مَا تصنع فِي حجك".
ثمَّ أخرج الْبَيْهَقِيّ بِسَنَدِهِ عَن طَاوس "أَن عِنْده كتابا من
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সা.) সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতেন, কারণ মহান আল্লাহ তাঁকে তা দেখাতেন; পক্ষান্তরে আমাদের পক্ষ থেকে তা কেবল ধারণা ও কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টা। তিনি তাঁর সূত্র (سند)-এর মাধ্যমে শাবি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো বিষয়ে ফয়সালা প্রদান করতেন, এরপর তাঁর ফয়সালার ভিন্নরূপে কুরআন অবতীর্ণ হতো। তখন তিনি কুরআনের বিধান গ্রহণ করতেন এবং তাঁর পূর্ববর্তী ফয়সালা বাতিল করতেন না। যারা এই মত পোষণ করেন যে, নবী (সা.) আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোনো সুন্নাত প্রবর্তন করতেন না—তা হয় অবতীর্ণ ওহী (وحي)-এর মাধ্যমে যা মানুষের সামনে তিলাওয়াত করা হতো, অথবা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনিশ্চিত বার্তার মাধ্যমে যে 'তুমি এমনটি করো'—তারা ব্যভিচারীর ঘটনায় শায়খাইন কর্তৃক বর্ণিত নবী (সা.)-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: "আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব।" এরপর তিনি বেত্রাঘাত ও নির্বাসনের দণ্ড প্রদান করেন, অথচ নির্বাসনের কথা কুরআনে নেই। এছাড়া শায়খাইন কর্তৃক ইয়ালা ইবনে উমাইয়াহ থেকে বর্ণিত এই হাদীসের মাধ্যমেও তারা দলিল পেশ করেন যে: "নবী (সা.) জিরানাতে ছিলেন, তখন তাঁর কাছে এক ব্যক্তি আসলেন যার পরনে ছিল একটি জুব্বা এবং তিনি সুগন্ধিতে মাখামাখি (متضمخ) ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এমন ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী যে সুগন্ধি মাখার পর জুব্বা পরিহিত অবস্থায় উমরার ইহরাম বেঁধেছে? নবী (সা.) কিছুক্ষণ তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন, তারপর নীরব থাকলেন। এরপর তাঁর কাছে ওহী (وحي) আসলো এবং আল্লাহ নাযিল করলেন: {আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা পূর্ণ করো}। অতঃপর তাঁর থেকে ওহীর প্রভাব দূর হলো এবং তিনি বললেন: 'একটু আগে উমরা সম্পর্কে প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি কোথায়? তোমার গায়ে যে সুগন্ধি লেগে আছে তা তিনবার ধুয়ে ফেলো, আর জুব্বাটি খুলে ফেলো; এরপর তোমার উমরাতে তাই করো যা তুমি তোমার হজে করে থাকো'।"
এরপর বায়হাকী তাঁর সূত্র (سند)-এর মাধ্যমে তাউস থেকে বর্ণনা করেন যে, "নিশ্চয়ই তাঁর কাছে একটি কিতাব রয়েছে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الْعُقُول نزل بِهِ الْوَحْي وَمَا فرض رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من صَدَقَة وعقول1 فَإِنَّمَا نزل بِهِ الْوَحْي". وَأخرج بِسَنَدِهِ عَن حسان ابْن عَطِيَّة قَالَ: "كَانَ جِبْرِيل عليه السلام ينزل على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِالسنةِ كَمَا ينزل عَلَيْهِ بِالْقُرْآنِ يُعلمهُ إِيَّاهَا كَمَا يُعلمهُ الْقُرْآن" أخرجه الدَّارمِيّ، وَأخرج بِسَنَدِهِ من طَرِيق الْقَاسِم ابْن مخيمرة عَن طَلْحَة بن فَضِيلَة قَالَ: "قيل لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي عَام سَنَة2 سعّر لنا يَا رَسُول الله، قَالَ: "لَا يسألني الله عَن سُنَّة أحدثتها فِيكُم لم يَأْمُرنِي بهَا، وَلَكِن اسألوا الله من فَضله" وَأخرج بِسَنَدِهِ عَن الْمطلب بن حنْطَب أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا تركت شَيْئا مِمَّا أَمركُم الله بِهِ إِلَّا وَقد أَمرتكُم بِهِ، وَلَا تركت شَيْئا مِمَّا نهاكم الله عَنهُ إِلَّا وَقد نَهَيْتُكُمْ عَنهُ، وَأَن الرّوح الْأمين قد نفث فِي رُوعي أَنه لن تَمُوت نفس حَتَّى تستوفي رزقها فَاتَّقُوا الله وأجملوا فِي الطّلب" قَالَ الشَّافِعِي: وَلَيْسَ تعدو السّنَن كلهَا وَاحِدًا من هَذِه الْمعَانِي الَّتِي وضعت باخْتلَاف من حكيت عَنهُ من أهل الْعلم وكل مَا سنّ فقد ألزمنا الله تَعَالَى اتِّبَاعه، وَجعل فِي اتِّبَاعه
--------------------------------------------
'উকুল' (রক্তপণ) সংক্রান্ত বিধান ওহী যোগে অবতীর্ণ হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাকাত ও রক্তপণ সংক্রান্ত যা কিছু ফরয করেছেন, তা ওহী যোগেই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি তাঁর সনদ (سند) সহ হাসসান ইবনে আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সুন্নাহ নিয়ে অবতরণ করতেন যেভাবে তিনি কুরআন নিয়ে অবতরণ করতেন। তিনি তাঁকে তা (সুন্নাহ) শিক্ষা দিতেন যেভাবে তিনি কুরআন শিক্ষা দিতেন।" এটি দারেমী বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর সনদ (سند) সহ কাসেম ইবনে মুখাইমিরাহ-এর সূত্র (طريق) ধরে তালহা ইবনে ফাদিলাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক দুর্ভিক্ষের বছরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলা হলো, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য মূল্য নির্ধারণ করে দিন।' তিনি বললেন: 'আল্লাহ তাআলা আমাকে এমন কোনো রীতি (সুন্নাহ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না যা আমি তোমাদের মাঝে প্রবর্তন করেছি অথচ তিনি আমাকে তা করার আদেশ দেননি; বরং তোমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো'।" তিনি আল-মুত্তালিব ইবনে হানতাব থেকে তাঁর সনদ (سند) সহ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদের যা কিছু আদেশ করেছেন, তার মধ্য থেকে আমি এমন কিছুই বাদ দেইনি যার আদেশ আমি তোমাদের করেছি। আর আল্লাহ যা কিছু তোমাদের নিষেধ করেছেন, তার মধ্য থেকে আমি এমন কিছুই বাদ দেইনি যা থেকে আমি তোমাদের নিষেধ করেছি। রূহুল আমীন (জিবরাঈল) আমার হৃদয়ে ওহী ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণ ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না যতক্ষণ না সে তার নির্ধারিত রিযিক পূর্ণরূপে গ্রহণ করবে। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং জীবিকা অন্বেষণে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো।" ইমাম শাফেয়ী বলেন: "সুন্নাহর সকল প্রকারের মূল নির্যাস এই অর্থগুলোর কোনো একটির বাইরে নয়, যা ইলমের অধিকারী ব্যক্তিবর্গের বর্ণনার ভিন্নতা সত্ত্বেও নির্ধারণ করা হয়েছে। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা কিছু সুন্নাহ হিসেবে প্রবর্তন করেছেন, আল্লাহ তাআলা তা অনুসরণ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য করে দিয়েছেন এবং এর অনুসরণের মধ্যে রেখেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
طَاعَته، وفى العنود1 عَن اتِّبَاعه مَعْصِيَته الَّتِي لم يعْذر بهَا خلقا وَلم يَجْعَل لَهُ من اتِّبَاع سنَن نبيه مخرجا.
ثمَّ قَالَ الْبَيْهَقِيّ: بَاب مَا أَمر الله بِهِ من طَاعَة رَسُوله صلى الله عليه وسلم، وَالْبَيَان أَن طاعتَه طاعتُه قَالَ الله تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ فَمَنْ نَكَثَ فَإِنَّمَا يَنْكُثُ عَلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أَوْفَى بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْراً عَظِيماً} وَقَالَ: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّه} قَالَ الشَّافِعِي رضي الله عنه:. فأعلمهم أَن بيعةَ رَسُوله بيعتُه وَأَن طاعتَه طاعتُه فَقَالَ: {فَلا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} ، قَالَ الشَّافِعِي: " (فِيمَا بلغنَا وَالله تَعَالَى أعلم) 2 نزلت هَذِه الْآيَة فِي رجل خَاصم الزبير فِي أَرض فَقضى النَّبِي صلى الله عليه وسلم بهَا للزبير وَهَذَا الْقَضَاء سنة من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا حكم مَنْصُوص فِي الْقُرْآن. أخرج الشَّيْخَانِ عَن عبد الله بن الزبير: "أَن رجلا من الْأَنْصَار خَاصم الزبير فِي شراج الْحرَّة3 الَّتِي يسقون بهَا النّخل فَقَالَ الْأنْصَارِيّ:
--------------------------------------------
তাঁর আনুগত্য, আর তাঁর অনুসরণ থেকে বিমুখ হওয়ার (عنود)
১ মধ্যে রয়েছে এমন অবাধ্যতা যার জন্য কোনো সৃষ্টিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি এবং তাঁর নবীর সুন্নাতসমূহ (سنن) অনুসরণ করা ছাড়া তার জন্য অন্য কোনো পথ রাখা হয়নি।
অতঃপর ইমাম বায়হাকি বলেন: পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাঁর রাসূলের আনুগত্যের যে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এই বর্ণনা যে, তাঁর (রাসূলের) আনুগত্য করাই তাঁর (আল্লাহর) আনুগত্য করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় যারা আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহরই বায়আত গ্রহণ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের ওপর। এরপর যে ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, সে তো নিজের ক্ষতির জন্যই তা করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, আল্লাহ তাকে শীঘ্রই মহাপুরস্কার দান করবেন।} এবং তিনি বলেন: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।} ইমাম শাফেয়ি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: অতঃপর তিনি (আল্লাহ) তাদের জানিয়ে দিলেন যে, তাঁর রাসূলের বায়আত গ্রহণ করা মানে তাঁরই বায়আত গ্রহণ করা এবং তাঁর (রাসূলের) আনুগত্য করা মানে তাঁরই আনুগত্য করা। এরপর তিনি বললেন: {অতএব তোমার রবের কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে তোমাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়, এরপর তুমি যে ফয়সালা দাও সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়।} শাফেয়ি বলেন: "(আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে এবং আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন)
২ এই আয়াতটি জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যে একটি জমি নিয়ে যুবায়েরের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুবায়েরের পক্ষে ফয়সালা দেন। আর এই ফয়সালাটি ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি সুন্নাত (سنة), যা কুরআনে সরাসরি বর্ণিত কোনো বিধান (حكم منصوص) নয়।" দুই শায়খ বর্ণনা (أخرج) করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের থেকে: "জনৈক আনসারী ব্যক্তি হাররাহ-এর নালা (شراج الحرة)
৩ নিয়ে যুবায়েরের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল যা দিয়ে তারা খেজুর গাছে পানি সেচ দিতেন। তখন আনসারী ব্যক্তি বলল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
سرِّح المَاء يمرّ فَأبى عَلَيْهِ الزبير فاختصما إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: اسْقِ يَا زبير ثمَّ أرسل المَاء إِلَى جَارك، فَقَالَ الْأنْصَارِيّ: يَا رَسُول الله أَن كَانَ ابْن عَمَّتك، فتلوّن وَجه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا زبير اسْقِ ثمَّ احْبِسْ المَاء حَتَّى يرجع إِلَى الْجدر"، فَقَالَ الزبير: وَالله إِنِّي لأحسب أَن هَذِه الْآيَة نزلت فِي ذَلِك {فَلا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ} الْآيَة". وَأخرج الشَّيْخَانِ عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "من أَطَاعَنِي فقد أطَاع الله، وَمن عَصَانِي فقد عصى الله"، وَأخرج البُخَارِيّ عَن جَابر بن عبد الله قَالَ: "جَاءَت مَلَائِكَة إِلَى نَبِي الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ نَائِم فَقَالَ بَعضهم: إِنَّه نَائِم، وَقَالَ بَعضهم: إِن الْعين نَائِمَة وَالْقلب يقظان، فَقَالُوا: إِن لصاحبكم هَذَا مثلا فاضربوا لَهُ مثلا، فَقَالَ بَعضهم: إِنَّه نَائِم، وَقَالَ بَعضهم إِن الْعين نَائِمَة وَالْقلب يقظان، فَقَالُوا: مثله كَمثل رجل بنى دَارا وَجعل فِيهَا مأدبة وَبعث دَاعيا فَمن أجَاب الدَّاعِي دخل الدَّار وَأكل من المأدبة، وَمن لم يجب الدَّاعِي لم يدْخل الدَّار وَلم يَأْكُل من المأدبة فَقَالُوا: أوِّلوها لَهُ: يفقهها، فَقَالَ بَعضهم: إِنَّه نَائِم وَقَالَ بَعضهم: إِن الْعين نَائِمَة وَالْقلب يقظان، فَقَالُوا: فالدار الْجنَّة، والداعي مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَمن أطَاع مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فقد أطَاع الله وَمن عصى مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فقد عصى الله،
পানি প্রবাহিত হতে দাও যেন তা বয়ে যেতে পারে, কিন্তু জুবাইর (রা.) তা করতে অস্বীকার করলেন। ফলে তাঁরা উভয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বিবাদ নিয়ে আসলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "হে জুবাইর! তুমি সেচ করো, এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি পাঠিয়ে দাও।" তখন আনসারী ব্যক্তিটি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! সে আপনার ফুফাতো ভাই হওয়ার কারণে কি (আপনি এমনটি বললেন)?" এতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি বললেন: "হে জুবাইর! তুমি সেচ করো, অতঃপর পানি আটকে রাখো যতক্ষণ না তা আইল পর্যন্ত পৌঁছে যায়।" জুবাইর (রা.) বলেন: "আল্লাহর কসম! আমি মনে করি এই আয়াতটি এ বিষয়েই অবতীর্ণ হয়েছে— {অতঃপর না, তোমার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদমান বিষয়ে তোমাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে...} আয়াতাংশ।" শায়খাইন আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হলো, সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্য হলো।" এবং বুখারি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিদ্রিত থাকা অবস্থায় তাঁর নিকট একদল ফেরেশতা আসলেন। তাঁদের কেউ কেউ বললেন: তিনি ঘুমিয়ে আছেন। আবার কেউ কেউ বললেন: চক্ষু ঘুমন্ত হলেও অন্তর সজাগ। তাঁরা বললেন: তোমাদের এই সঙ্গীর জন্য একটি উপমা রয়েছে, সুতরাং তাঁর জন্য একটি উপমা পেশ করো। তাঁদের কেউ কেউ বললেন: তিনি তো ঘুমন্ত। আবার কেউ কেউ বললেন: চক্ষু ঘুমন্ত হলেও অন্তর সজাগ। অতঃপর তাঁরা বললেন: তাঁর উপমা হলো সেই ব্যক্তির ন্যায় যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তাতে ভোজসভার আয়োজন করল এবং একজন আহ্বানকারী পাঠাল। যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিল, সে ঘরে প্রবেশ করল এবং ভোজ গ্রহণ করল। আর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দিল না, সে ঘরে প্রবেশ করল না এবং ভোজও গ্রহণ করল না। তাঁরা (ফেরেশতাগণ) বললেন: তোমরা তাঁর জন্য এর ব্যাখ্যা (تأويل) প্রদান করো যেন তিনি তা অনুধাবন করতে পারেন। তখন তাঁদের কেউ কেউ বললেন: তিনি তো ঘুমিয়ে আছেন। আবার কেউ কেউ বললেন: চক্ষু ঘুমন্ত হলেও অন্তর সজাগ। অতঃপর তাঁরা বললেন: ঘরটি হলো জান্নাত এবং আহ্বানকারী হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে ব্যক্তি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অবাধ্য হলো, সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্য হলো।"
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وَمُحَمّد صلى الله عليه وسلم فرق بَين النَّاس"، وَأخرج البُخَارِيّ عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "كل أمتِي يدْخلُونَ الْجنَّة إِلَّا من أَبى، قَالُوا يَا رَسُول الله وَمن يَأْبَى؟ قَالَ: من أَطَاعَنِي دخل الْجنَّة وَمن عَصَانِي فقد أَبى". قَالَ الشَّافِعِي رحمه الله: وَقَالَ تَعَالَى: {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً} إِلَى قَوْله {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} ، أخرج الْبَيْهَقِيّ عَن سُفْيَان فِي قَوْله {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ} قَالَ يطبع الله على قُلُوبهم: قَالَ الشَّافِعِي: وَأمرهمْ بِأخذ مَا أَتَاهُم والانتهاء عَمَّا نَهَاهُم عَنهُ فَقَالَ: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} . أخرج الشَّيْخَانِ عَن ابْن مَسْعُود أَنه قَالَ: لعن الله الْوَاشِمَات وَالْمُسْتَوْشِمَات وَالْمُتَنَمِّصَات وَالْمُتَفَلِّجَات1 للحُسن المغيِّرات خلقَ الله تَعَالَى فَبلغ ذَلِك امْرَأَة يُقَال لَهَا: أم يَعْقُوب فَجَاءَت فَقَالَت: إِنَّه بَلغنِي أَنَّك قلت كَيْت وَكَيْت، فَقَالَ: مَالِي لَا ألعن من لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي كتاب الله، فَقَالَت: لقد قَرَأت مَا بَين اللَّوْحَيْنِ فَمَا وجدته قَالَ: إِن كنت قرأتيه
--------------------------------------------
এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের মধ্যে পার্থক্যকারী। বুখারি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের সকলেই জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যতীত যে অস্বীকার করে।" তারা জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে?" তিনি বললেন, "যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে আমার অবাধ্য হলো সে-ই অস্বীকার করল।" ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো মনে করো না}—তাঁর এই বাণী পর্যন্ত—{অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা বা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।} বাইহাকি সুফিয়ান থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন (أخرج): {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে}—তিনি (সুফিয়ান) বলেছেন: "আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন।" ইমাম শাফেয়ী বলেন: "তিনি (আল্লাহ) তাদের যা রাসূল নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করতে এবং যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।" অতঃপর তিনি বলেন: {রাসূল তোমাদের যা দান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।} শাইখাইন ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন উল্কি অংকনকারিণীদের ওপর, যারা উল্কি অংকন করায়, যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং সৌন্দর্যের জন্য যারা দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে—যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে।" এই সংবাদটি উম্মে ইয়াকুব নাম্নী এক মহিলার কাছে পৌঁছালে তিনি এসে বললেন, "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি এমন এমন কথা বলেছেন।" তিনি (ইবনে মাসউদ) বললেন, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যাকে অভিসম্পাত করেছেন আমি কেন তাকে অভিসম্পাত করব না? অথচ তা আল্লাহর কিতাবে রয়েছে।" মহিলাটি বললেন, "আমি তো দুই মলাটের মাঝের সবকিছু (পুরো কুরআন) পড়েছি কিন্তু কোথাও তো তা পাইনি।" তিনি বললেন, "যদি আপনি তা পাঠ করতেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
فقد وجدتيه أما قرأتِ: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} قَالَت: بلَى قَالَ: فَإِنَّهُ نهى عَنهُ، قَالَ الشَّافِعِي: وَأَبَان أَنه يهدي إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم فَقَالَ: {وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُوراً نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ صِرَاطِ اللَّهِ هـ} قَالَ الشَّافِعِي: وَكَانَ فَرْضه على من عاين رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمن بعده إِلَى يَوْم الْقِيَامَة وَاحِدًا فِي أَن على كلٍّ طاعتُه، ثمَّ أخرج الْبَيْهَقِيّ بِسَنَدِهِ عَن مَيْمُون بن مهْرَان فِي قَوْله: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} قَالُوا: الرَّد إِلَى الله: إِلَى كِتَابه، وَالرَّدّ إِلَى الرَّسُول صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وَآله وَسلم إِذا قبض: إِلَى سنته. ثمَّ أورد الْبَيْهَقِيّ من حَدِيث أبي دَاوُد عَن أبي رَافع قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "لَا أَلفَيْنِ أحدا مُتكئا على أريكة يَأْتِيهِ الْأَمر من أَمْرِي مِمَّا أمرت بِهِ أَو نهيت عَنهُ فَيَقُول: لَا نَدْرِي مَا وجدنَا فِي كتاب الله اتبعناه" قَالَ الشَّافِعِي وَفِي هَذَا تثبيت الْخَبَر عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وإعلامهم أَنه لَازم لَهُم، وَإِن لم يَجدوا فِيهِ نصا فِي كتاب الله. ثمَّ أورد الْبَيْهَقِيّ حَدِيث أَبى دَاوُد أَيْضا عَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة قَالَ: "نزلنَا مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم خَيْبَر وَمَعَهُ من مَعَه من أَصْحَابه، وَكَانَ صَاحب خَيْبَر رجلا مارداً مُنْكرا، فَأقبل إِلَى النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا مُحَمَّد ألكم أَن تذبحوا حمرنا، وتأكلوا ثمرنا، وتضربوا
অবশ্যই তুমি তা খুঁজে পেতে। তুমি কি পড়নি: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো [সূরা আল-হাশর: ৭]}? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি (ইবনে মাসউদ রা.) বললেন: তবে নিশ্চয়ই তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) তা থেকে নিষেধ করেছেন। ইমাম শাফিঈ রহ. বলেন: আর আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) সরল পথের দিশা দেন; তিনি ইরশাদ করেছেন: {কিন্তু আমি একে নূর করেছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা পথ দেখাই। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথনির্দেশ করেন—আল্লাহর পথ... [সূরা আশ-শূরা: ৫২-৫৩]}।
ইমাম শাফিঈ রহ. বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যারা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাঁর পরে কিয়ামত পর্যন্ত যারা আসবেন, তাদের সকলের জন্য তাঁর আনুগত্য করা একইভাবে ফরজ (আবশ্যক) ছিল। অতঃপর ইমাম বায়হাকী তাঁর সনদ (سند)-এর মাধ্যমে মায়মুন বিন মিহরান থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও [সূরা আন-নিসা: ৫৯]}। তাঁরা বলেন: আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো তাঁর কিতাবের দিকে; আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর তাঁর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো তাঁর সুন্নাহর দিকে।
এরপর বায়হাকী সুনান আবু দাউদ থেকে আবু রাফে রা.-এর সূত্রে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকে তার পালঙ্কে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় এমন না পাই যে, আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ—যার আমি আদেশ দিয়েছি বা যা থেকে নিষেধ করেছি—তা তার নিকট পৌঁছাল আর সে বলতে লাগল: 'আমরা জানি না, আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি আমরা কেবল তারই অনুসরণ করব'।" ইমাম শাফিঈ রহ. বলেন: এর মধ্যে রয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত সংবাদ (الخبر)-এর প্রামাণিকতা প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের জানিয়ে দেওয়া যে, তা পালন করা তাদের জন্য আবশ্যিক, যদিও তারা আল্লাহর কিতাবে এ সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (نص) না পায়।
অতঃপর বায়হাকী পুনরায় সুনান আবু দাউদ হতে ইরবাজ বিন সারিয়াহ রা.-এর সূত্রে হাদিস উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খায়বারে উপনীত হলাম এবং তাঁর সাথে তাঁর সাহাবীগণের যারা থাকার তারা ছিলেন। খায়বারের প্রধান ছিল এক উদ্ধত ও অবাধ্য ব্যক্তি। সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অগ্রসর হয়ে বলল: হে মুহাম্মাদ! আপনাদের জন্য কি আমাদের গাধাগুলো যবেহ করা, আমাদের ফলমূল ভক্ষণ করা এবং আমাদের প্রহার করা বৈধ?"
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
نِسَاءَنَا؟ فَغَضب النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقَالَ: يَا ابْن عَوْف اركب فرسك ثمَّ نَاد أَن اجْتَمعُوا للصَّلَاة، فَاجْتمعُوا فصلى النَّبِي عليه الصلاة والسلام ثمَّ قَامَ فَقَالَ: أيحسب أحدكُم مُتكئا على أريكته لَا يظنّ أَن الله لم يحرم شَيْئا إِلَّا مَا فِي هَذَا الْقُرْآن أَلا إِنِّي وَالله قد أمرت ووعظت ونهيت عَن أَشْيَاء إِنَّهَا لمثل الْقُرْآن أَو أَكثر، وَإِن الله عز وجل لم يحل لكم أَن تدْخلُوا بيُوت أهل الْكتاب إِلَّا بِإِذن، وَلَا ضرب نِسَائِهِم، وَلَا أكل ثمارهم إِذا أعطوكم الَّذِي عَلَيْهِم".
ثمَّ قَالَ الْبَيْهَقِيّ: بَاب بَيَان بطلَان مَا يحْتَج بِهِ بعض من رد الْأَخْبَار من الْأَخْبَار الَّتِي رَوَاهَا بعض الضُّعَفَاء فِي عرض السّنة على الْقُرْآن. قَالَ الشَّافِعِي: احتجَّ على بعض من رد الْأَخْبَار بِمَا رُوي أَن النَّبِي عليه الصلاة والسلام قَالَ: "مَا جَاءَكُم عني فاعرضوه على كتاب الله فَمَا وَافقه فَأَنا قلته وَمَا خَالفه فَلم أَقَله". فَقلت لَهُ. مَا روى هَذَا أحد يثبت حَدِيثه فِي شَيْء صَغِير وَلَا كَبِير وَإِنَّمَا هِيَ رِوَايَة مُنْقَطِعَة عَن رجل مَجْهُول، وَنحن لَا نقبل مثل هَذِه الرِّوَايَة فِي شَيْء.
قَالَ الْبَيْهَقِيّ: أَشَارَ الإِمَام الشَّافِعِي إِلَى مَا رَوَاهُ خَالِد بن أبي كَرِيمَة عَن أَبى جَعْفَر: "عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه دَعَا الْيَهُود فَسَأَلَهُمْ فحدثوه حَتَّى كذبُوا على عِيسَى عليه السلام، فَصَعدَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَر فَخَطب النَّاس فَقَالَ: "إِن الحَدِيث
আমাদের নারীদের? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "হে ইবনে আওফ, তোমার ঘোড়ায় আরোহণ করো এবং ঘোষণা করে দাও যেন সকলে সালাতের জন্য একত্রিত হয়।" অতঃপর তারা সমবেত হলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে এমন মনে করে যে, আল্লাহ এই কোরআনে যা আছে তা ছাড়া অন্য কিছু হারাম করেননি? জেনে রেখো, আল্লাহর কসম! আমি অনেক বিষয়ে আদেশ দিয়েছি, উপদেশ দিয়েছি এবং নিষেধ করেছি, যা কোরআনের অনুরূপ কিংবা তার চেয়েও বেশি। আর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তোমাদের জন্য আহলে কিতাবদের ঘরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা বৈধ করেননি, আর না তাদের নারীদের প্রহার করা এবং না তাদের ফলমূল ভক্ষণ করা—যখন তারা তোমাদের নিকট তাদের ওপর অর্পিত পাওনা (জিজিয়া) প্রদান করে।"
অতঃপর বায়হাকি বলেন: অধ্যায়: যারা হাদিসসমূহ (الأخبار) প্রত্যাখ্যান করে তাদের উপস্থাপিত দলিলের অসারতা বর্ণনা প্রসঙ্গে; যা মূলত সুন্নাহকে কোরআনের ওপর পেশ করার বিষয়ে কিছু দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত হাদিসসমূহ (الأخبار)। শাফেঈ বলেন: আমি এমন এক ব্যক্তির সাথে বিতর্ক করেছি যে হাদিসসমূহ (الأخبار) প্রত্যাখ্যান করে ঐ বর্ণনার ভিত্তিতে যা বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা পৌঁছে তা আল্লাহর কিতাবের ওপর পেশ করো; যদি তা তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তা আমি বলেছি, আর যদি তা তার বিরোধী হয় তবে তা আমি বলিনি।" তখন আমি তাকে বললাম: এটি এমন কেউ বর্ণনা করেনি যার হাদিস সামান্য বা অধিক কোনো কিছুতেই প্রমাণিত, বরং এটি একজন অপরিচিত (مجهول) ব্যক্তি থেকে বর্ণিত একটি বিচ্ছিন্ন (منقطعة) বর্ণনা। আর আমরা এমন বর্ণনা কোনো বিষয়েই গ্রহণ করি না।
বায়হাকি বলেন: ইমাম শাফেঈ সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন যা খালিদ বিন আবি করিমা আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইহুদিদের ডাকলেন এবং তাদের নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করলেন। তারা তাঁর কাছে বর্ণনা করতে করতে ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে মিথ্যাচার করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে বললেন: নিশ্চয়ই হাদিস...
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
سيفشو عني، فَمَا أَتَاكُم يُوَافق الْقُرْآن فَهُوَ عني، وَمَا أَتَاكُم عني يُخَالف الْقُرْآن فَلَيْسَ عني" قَالَ الْبَيْهَقِيّ: خَالِد مَجْهُول، وَأَبُو جَعْفَر لَيْسَ بصحابي، فَالْحَدِيث مُنْقَطع. وَقَالَ الشَّافِعِي وَلَيْسَ يُخَالف الحَدِيث الْقُرْآن، وَلَكِن حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يبين معنى مَا أَرَادَ خَاصّا وعاما: وناسخا ومنسوخا ثمَّ يلْزم النَّاس مَا سنّ بِفَرْض الله فَمن قبل عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَعَن الله قبل.
قَالَ الْبَيْهَقِيّ: وَقد رُوي الحَدِيث من أوجه أُخر كلهَا ضَعِيفَة، ثمَّ أخرج من طَرِيق ابْن وهب عَن عَمْرو بن الْحَارِث عَن الْأصْبع بن مُحَمَّد بن أبي مَنْصُور أَنه بلغه: أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "الحَدِيث على ثَلَاث: فأيما حَدِيث بَلغَكُمْ عني تعرفونه بِكِتَاب الله فاقبلوه، وَأَيّمَا حَدِيث بَلغَكُمْ عني لَا تَجِدُونَ فِي الْقُرْآن مَوْضِعه وَلَا تعرفُون مَوْضِعه فَلَا تقبلوه، وَأَيّمَا حَدِيث بَلغَكُمْ عني تقشعر مِنْهُ جلودكم وتشمئز مِنْهُ قُلُوبكُمْ وتجدون فِي الْقُرْآن خِلَافه فَردُّوهُ" قَالَ الْبَيْهَقِيّ: وَهَذِه رِوَايَة مُنْقَطِعَة عَن رجل مَجْهُول.
ثمَّ أخرج بِسَنَدِهِ من طَرِيق عَاصِم بن أبي النجُود عَن زر بن حُبَيْش عَن عَليّ بن أبي طَالب قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: " إِنَّهَا تكون بعدِي رُوَاة يروون عني الحَدِيث فاعرضوا حَدِيثهمْ على الْقُرْآن، فَمَا وَافق الْقُرْآن فَحَدثُوا بِهِ
"আমার পক্ষ থেকে (কথা) ছড়িয়ে পড়বে; সুতরাং যা তোমাদের কাছে পৌঁছাবে এবং কুরআনের সাথে মিলবে, তা আমার পক্ষ থেকেই। আর যা তোমাদের কাছে পৌঁছাবে কিন্তু কুরআনের পরিপন্থী হবে, তা আমার পক্ষ থেকে নয়।" ইমাম বায়হাকী বলেন: খালিদ হলেন অজ্ঞাত (مجهول), আর আবু জাফর সাহাবী নন, সুতরাং হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)। ইমাম শাফেয়ী বলেন: হাদিস কুরআনের বিরোধী হয় না; বরং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস আল্লাহর উদ্দেশ্য—তা বিশেষ (خاص) হোক বা সাধারণ (عام), রহিতকারী (ناسخ) হোক বা রহিত (منسوخ)—তার অর্থ বর্ণনা করে। অতঃপর আল্লাহর ফরযকৃত বিধান অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ যা সুন্নত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন তা মেনে চলা মানুষের জন্য আবশ্যক। সুতরাং যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকেই তা গ্রহণ করল।
ইমাম বায়হাকী বলেন: হাদিসটি অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল (ضعيفة)। অতঃপর তিনি ইবনে ওয়াহাব-এর সূত্রে আমর ইবনুল হারিস থেকে এবং আসবাগ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি মনসুর থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হাদিস তিন প্রকার: আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যে হাদিস পৌঁছাবে এবং তোমরা আল্লাহর কিতাবে তার সমর্থন পাবে, তা গ্রহণ করো। আর আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যে হাদিস পৌঁছাবে কিন্তু কুরআনে তার কোনো ভিত্তি খুঁজে পাবে না এবং তা চিনতে পারবে না, তা গ্রহণ করো না। আর আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যে হাদিস পৌঁছাবে যার কারণে তোমাদের চামড়া শিউরে উঠবে, তোমাদের অন্তর সংকুচিত হবে এবং কুরআনে তার বিপরীতে কিছু পাবে, তবে তা প্রত্যাখ্যান করো।" ইমাম বায়হাকী বলেন: এটি একজন অজ্ঞাত (مجهول) ব্যক্তি থেকে বর্ণিত একটি বিচ্ছিন্ন (منقطعة) বর্ণনা।
অতঃপর তিনি আসিম ইবনে আবি নাজুদ-এর সূত্রে যির ইবনে হুবাইশ থেকে এবং তিনি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে তাঁর সনদ (سند) সহ বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার পরে এমন বর্ণনাকারীদের উদ্ভব ঘটবে যারা আমার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করবে; সুতরাং তাদের বর্ণিত হাদিসকে কুরআনের সামনে পেশ করো। অতঃপর যা কুরআনের অনুকূলে হবে, তা বর্ণনা করো।"
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَمَا لم يُوَافق الْقُرْآن فَلَا تَأْخُذُوا بِهِ". قَالَ الْبَيْهَقِيّ: قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ: هَذَا وهم وَالصَّوَاب عَن عَاصِم عَن زيد بن عَليّ مُنْقَطِعًا1، قَالَ بِسَنَدِهِ من طَرِيق بشر بن. نمير عَن حُسَيْن بن عبد الله عَن أَبِيه عَن جده عَن عَليّ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِنَّه سَيَأْتِي نَاس يحدثُونَ عني حَدِيثا فَمن حَدثكُمْ حَدِيثا يضارع الْقُرْآن فَأَنا قلته، وَمن حَدثكُمْ حَدِيثا لَا يضارع الْقُرْآن فَلم أَقَله" قَالَ الْبَيْهَقِيّ: هَذَا إِسْنَاد ضَعِيف لَا يحْتَج بِمثلِهِ، حُسَيْن بن عبد الله بن ضميرَة قَالَ فِيهِ ابْن معِين: لَيْسَ بِشَيْء، وَبشر بن. نمير لَيْسَ بِثِقَة. ثمَّ أخرج بِسَنَدِهِ من طَرِيق صَالح بن مُوسَى عَن عبد الْعَزِيز بن رفيع عَن أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّه سَيَأْتِيكُمْ مني أَحَادِيث مُخْتَلفَة فَمَا أَتَاكُم مُوَافقا لكتاب الله وسنتي فَهُوَ مني، وَمَا أَتَاكُم مُخَالفا لكتاب الله وسنتي فَلَيْسَ مني" قَالَ الْبَيْهَقِيّ: تفرد بِهِ صَالح بن مُوسَى الطلحي وَهُوَ ضَعِيف لَا يحْتَج بحَديثه، قلت: وَمَعَ ذَلِك فَالْحَدِيث لنا لَا علينا، أَلا ترى إِلَى قَوْله: "مُوَافقا لكتاب الله وسنتي".
ثمَّ أخرج الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق يحيى بن آدم عَن ابْن. أبي ذِئْب عَن سعيد المَقْبُري عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
"আর যা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তা তোমরা গ্রহণ করো না।" আল-বাইহাকী বলেন: আদ-দারাকুতনী বলেছেন: এটি একটি বিভ্রম, আর সঠিক হলো আসিম থেকে, তিনি জায়েদ ইবনে আলীর সূত্রে বিচ্ছিন্ন (منقطعا) ১ ভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশর ইবনে নুমাইরের সূত্রে হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে এবং তিনি আলী (রা.) থেকে তার সনদে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এমন কিছু লোক আসবে যারা আমার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তোমাদের কাছে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবে যা কুরআনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, তা আমিই বলেছি। আর যে ব্যক্তি তোমাদের কাছে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবে যা কুরআনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, তা আমি বলিনি।" আল-বাইহাকী বলেন: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ, যার মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা যায় না। হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দুমাইরা সম্পর্কে ইবনে মাইন বলেছেন: তিনি কিছুই নন (ليس بشيء), আর বিশর ইবনে নুমাইর নির্ভরযোগ্য (ثقة) নন। অতঃপর তিনি সালেহ ইবনে মুসার সূত্রে আব্দুল আজিজ ইবনে রাফি থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে তার সনদে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে বিভিন্ন হাদিস পৌঁছাবে। সুতরাং যা আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা আমার পক্ষ থেকে। আর যা আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহর পরিপন্থী হবে, তা আমার পক্ষ থেকে নয়।" আল-বাইহাকী বলেন: সালেহ ইবনে মুসা আত-তালহী এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি দুর্বল (ضعيف), তার হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না। আমি (গ্রন্থকার) বলি: তা সত্ত্বেও এই হাদিসটি আমাদের পক্ষেই যায়, আমাদের বিপক্ষে নয়। আপনি কি তাঁর এই বাণীর দিকে লক্ষ্য করছেন না: "আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ"?
অতঃপর আল-বাইহাকী ইয়াহইয়া ইবনে আদমের সূত্রে ইবনে আবু জিব থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
قَالَ: "إِذا حدثتم عني حَدِيثا تعرفونه وَلَا تُنْكِرُونَهُ قلته أَو لم أَقَله فصدِّقوا بِهِ فَإِنِّي أَقُول مَا يعرف وَلَا يُنكر، وَإِذا حدثتم عني حَدِيثا تُنْكِرُونَهُ وَلَا تعرفونه فَلَا تصدّقوا بِهِ فَإِنِّي لَا أَقُول مَا يُنكر وَلَا يعرف". قَالَ الْبَيْهَقِيّ: قَالَ ابْن خُزَيْمَة: "فِي صِحَة هَذَا الحَدِيث مقَال لم نر فِي شَرق الأَرْض وَلَا غربها أحدا يعرف خبر ابْن أبي ذِئْب من غير رِوَايَة يحيى بن آدم وَلَا رَأَيْت أحدا من عُلَمَاء الحَدِيث يثبت هَذَا عَن أبي هُرَيْرَة". قَالَ الْبَيْهَقِيّ: وَهُوَ مُخْتَلف على يحيى بن آدم فِي إِسْنَاده وَمَتنه اخْتِلَافا كثيرا يُوجب الِاضْطِرَاب، مِنْهُم من يذكر أَبَا هُرَيْرَة، وَمِنْهُم من لَا يذكرهُ وَيُرْسل الحَدِيث. وَمِنْهُم من يَقُول فِي مَتنه: "إِذا رويتم الحَدِيث عني فاعرضوه على كتاب الله"، وَقَالَ البُخَارِيّ فِي تَارِيخه: "ذِكرُ أبي هُرَيْرَة فِيهِ وهم". ثمَّ أخرج الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق الْحَارِث بن نَبهَان عَن مُحَمَّد بن عبد الله الْعَرْزَمِي عَن عبد الله بن سعيد بن أبي سعيد عَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا بَلغَكُمْ عني من حَدِيث حسن لم أَقَله فَأَنا قلته". قَالَ الْبَيْهَقِيّ: هَذَا بَاطِل، والْحَارث والعرزمي مَتْرُوكَانِ، وَعبد الله بن سعيد عَن أبي هُرَيْرَة مُرْسل فَاحش، قَالَ: وَقد روى عَن أبي هُرَيْرَة مَا يضاد بعض هَذَا.
ثمَّ أخرج من طَرِيق أبي معشر السندي عَن سعيد
তিনি বলেন: "যখন তোমরা আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করো যা তোমরা চিনতে পারো এবং অস্বীকার করো না, তখন আমি তা বলি বা না বলি, তোমরা তা সত্য বলে গ্রহণ করো। কেননা আমি এমন কথাই বলি যা পরিচিত এবং যা অস্বীকার করা যায় না। আর যখন তোমরা আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করো যা তোমরা অস্বীকার করো এবং চিনতে পারো না, তখন তা সত্য বলে গ্রহণ করো না। কেননা আমি এমন কিছু বলি না যা অস্বীকারযোগ্য এবং অপরিচিত।" বায়হাকি বলেন: ইবনে খুজায়মাহ বলেছেন: "এই হাদিসটির বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। আমরা পৃথিবীর পূর্বে বা পশ্চিমে এমন কাউকে দেখিনি যিনি ইয়াহইয়া ইবনে আদমের বর্ণনা ব্যতীত ইবনে আবি যি’বের এই বর্ণনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন। হাদিস বিশারদদের কাউকেই আমি আবু হুরায়রা থেকে এটি সাব্যস্ত করতে দেখিনি।" বায়হাকি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আদম থেকে বর্ণিত এই হাদিসটির সনদ (إسناد) ও মূল পাঠের (متن) মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে যা এতে অসংলগ্নতা (اضطراب) সৃষ্টি করে। বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ আবু হুরায়রার কথা উল্লেখ করেন, আবার কেউ কেউ তাঁর কথা উল্লেখ করেন না এবং হাদিসটিকে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর মূল পাঠে (متن) বলেন: "যখন তোমরা আমার থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করবে, তখন তা আল্লাহর কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখো।" ইমাম বুখারি তাঁর তারিখ-এ বলেছেন: "এতে আবু হুরায়রার উল্লেখ থাকাটি একটি ভ্রম (وهم)।" এরপর বায়হাকি হারিস ইবনে নাবহান-এর সূত্রে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আরযামি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যে উত্তম (حسن) হাদিস পৌঁছেছে যা আমি বলিনি, আমিই তা বলেছি।" বায়হাকি বলেন: এটি ভিত্তিহীন (باطل), হারিস এবং আরযামি উভয়েই পরিত্যাজ্য (متروكان), আর আবু হুরায়রা থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদের বর্ণনাটি চরমভাবে বিচ্ছিন্ন (مرسل فاحش)। তিনি বলেন: আবু হুরায়রা থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা এর আংশিক বিরোধী।
এরপর তিনি আবু মা’শার আস-সিন্দি থেকে, তিনি সাঈদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
المَقْبُري عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "لَا أَلفَيْنِ أحدا مُتكئا على أريكته يَأْتِيهِ الحَدِيث من حَدِيثي فَيَقُول: اتل عليَّ قُرْآنًا، مَا أَتَاكُم من خير عني قلته أَو لم أَقَله فَأَنا أقوله، وَمَا أَتَاكُم عني من شَرّ فَإِنِّي لَا أَقُول الشَّرّ"، قَالَ الْبَيْهَقِيّ: صدرُ هَذَا الحَدِيث مُوَافق للأحاديث الصَّحِيحَة فِي قبُول الْأَخْبَار، وَقَوله: "قلته أَو لم أَقَله" فِي هَذِه الْأَحَادِيث مَالا يَلِيق بِكَلَام النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلَا يشبه المقبول.
ثمَّ أخرج من طَرِيق عبد الرَّحْمَن بن سلمَان بن عَمْرو مولى الْمطلب عَن أبي الْحُوَيْرِث عَن مُحَمَّد بن جُبَير بن مطعم أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا حدثتم عني مِمَّا تعرفُون فصدقوا، وَمَا حدثتم عني مِمَّا تنكرون فَلَا تصدقوا، فَإِنِّي لَا أَقُول الْمُنكر وَلَيْسَ مني"، قَالَ الْبَيْهَقِيّ: وَهَذَا مُنْقَطع، قَالَ: وأمثلُ إِسْنَاد رُوي فِي هَذَا الْمَعْنى مَا رَوَاهُ ربيعَة عَن عبد الْملك بن سعيد بن سُوَيْد عَن أبي حميد أَو أبي أسيد قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "إِذا سَمِعْتُمْ الحَدِيث عني تعرفه قُلُوبكُمْ وتلين لَهُ أَشْعَاركُم وَأَبْشَاركُمْ وترون أَنه مِنْكُم قريب فَأَنا أَوْلاكم بِهِ، وَإِذا سَمِعْتُمْ الحَدِيث عني تنكره قُلُوبكُمْ وتنفر مِنْهُ أَشْعَاركُم وَأَبْشَاركُمْ وترون أَنه مِنْكُم بعيد فَأَنا أبعدكم مِنْهُ". ثمَّ أخرج من طَرِيق بكير عَن عبد الْملك بن سعيد عَن ابْن عَبَّاس بن سهل عَن أُبي قَالَ: "إِذا بَلغَكُمْ عَن رَسُول
আল-মাকবুরি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকেও তার আরামকেদারায় হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদিস পৌঁছল আর সে বলল: ‘আমার কাছে কুরআন পাঠ করো’। আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যে কল্যাণকর কথা পৌঁছায়, তা আমি বলে থাকি বা না-ই বলি, আমিই তা বলে থাকি। আর আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যে মন্দ কথা পৌঁছায়, আমি কখনোই মন্দ কথা বলি না।" আল-বাইহাকি বলেন: এই হাদিসের প্রথমাংশ সংবাদসমূহ (الأخبار) কবুল করার ক্ষেত্রে সহিহ (الصحيحة) হাদিসসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ। তবে এই হাদিসগুলোতে তাঁর এই উক্তি: "আমি তা বলি বা না বলি"—এটি নবী (সা.)-এর বাণীর মর্যাদার সাথে মানানসই নয় এবং তা গ্রহণযোগ্য (المقبول) বাণীর সদৃশ নয়।
এরপর তিনি মুত্তালিবের মুক্তদাস আবদুর রহমান ইবনে সালমান ইবনে আমর-এর সূত্রে, তিনি আবু আল-হুয়াইরিস থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতইম থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করা হয় এবং তোমরা যা (শরয়ি মানদণ্ডে) চিনতে পারো, তা সত্য বলে বিশ্বাস করো। আর আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা বর্ণনা করা হয় এবং তোমরা যা অস্বীকার করো, তা সত্য বলে বিশ্বাস করো না। কারণ আমি প্রত্যাখ্যাত (المنكر) কিছু বলি না এবং তা আমার পক্ষ থেকে নয়।" আল-বাইহাকি বলেন: এই বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)। তিনি আরও বলেন: এই মর্মে বর্ণিত সবচেয়ে উত্তম সনদ (إسناد) হলো যা রাবিয়া, আবদুল মালিক ইবনে সাঈদ ইবনে সুওয়াইদ থেকে, তিনি আবু হুমাইদ অথবা আবু উসায়দ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা যখন আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস শোনো যা তোমাদের অন্তর চিনতে পারে, তোমাদের লোম ও ত্বক তার প্রতি কোমল হয় এবং তোমরা মনে করো যে তা তোমাদের নিকটবর্তী, তবে আমিই তার জন্য তোমাদের চেয়ে অধিক যোগ্য। আর যখন তোমরা আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস শোনো যা তোমাদের অন্তর প্রত্যাখ্যান করে, তোমাদের লোম ও ত্বক তা থেকে সংকুচিত হয়ে যায় এবং তোমরা মনে করো যে তা তোমাদের থেকে দূরে, তবে আমি তোমাদের চেয়েও তা থেকে অনেক বেশি দূরে।" এরপর তিনি বুকাইর-এর সূত্রে, তিনি আবদুল মালিক ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস ইবনে সাহল থেকে, তিনি উবাই (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: "যখন তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ থেকে...
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
الله صلى الله عليه وسلم مَا يُعرف وتلين لَهُ الْجُلُود فقد يَقُول النَّبِي صلى الله عليه وسلم الْخَيْر وَلَا يَقُول إِلَّا الْخَيْر" قَالَ الْبَيْهَقِيّ: قَالَ البُخَارِيّ: وَهَذَا أصح - يَعْنِي أصح من رِوَايَة من رَوَاهُ عَن أبي حميد أَو أبي أسيد - وَقد رَوَاهُ ابْن لَهِيعَة عَن بكير بن الْأَشَج عَن عبد الْملك بن سعيد عَن الْقَاسِم بن سُهَيْل عَن أبي بن كَعْب قَالَ ذَلِك بِمَعْنَاهُ فَصَارَ الحَدِيث الْمسند معلولا، وعَلى الْأَحْوَال كلهَا حَدِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الثَّابِت عَنهُ قريب من الْعُقُول مُوَافق لِلْأُصُولِ لَا يُنكره عقلُ من عقلَ عَن الله الْموضع الَّذِي وضع بِهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من دينه وَمَا افْترض على النَّاس من طَاعَته، وَلَا ينفر مِنْهُ قلب من اعْتقد تَصْدِيقه فِيمَا قَالَ واتباعه فِيمَا حكم بِهِ، وكما هُوَ جميل حسن من حَيْثُ الشَّرْع جميل فِي الْأَخْلَاق حسن عِنْد أولي الْأَلْبَاب. هَذَا هُوَ المُرَاد مِمَّا عَسى يَصح من أَلْفَاظ هَذِه الْأَخْبَار.
ثمَّ أخرج بِسَنَدِهِ عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: "إِذا حدثتكم بِحَدِيث عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَلم تَجدوا تَصْدِيقه فِي الْكتاب أَو هُوَ حسن فِي أَخْلَاق النَّاس فَأَنا بِهِ كَاذِب"، وَأخرج عَن عَليّ: "فَإِذا حدثتم عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم شَيْئا فظُنوا بِهِ الَّذِي هُوَ أهْدى وَالَّذِي هُوَ أهنأ وَالَّذِي هُوَ أتقى". قلت: والمعوَّل عَلَيْهِ فِي معنى الحَدِيث المورد أَن تثبت مَا أَشَارَ إِلَيْهِ الإِمَام الشَّافِعِي مِمَّا سبق أَن السّنة الثَّابِتَة لَيست منافرة
আল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যা পরিচিত এবং যাতে চামড়া বিগলিত হয়; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল কল্যাণকর কথাই বলতেন এবং তিনি কল্যাণ ব্যতিরেকে অন্য কিছু বলতেন না।" ইমাম বায়হাকি বলেন: ইমাম বুখারি বলেছেন: "এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) — অর্থাৎ এটি আবু হুমাইদ বা আবু আসাইদ থেকে বর্ণিত বর্ণনার চেয়েও অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) —।" আর ইবনে লাহিয়া এটি বুকাইর বিন আশাজ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক বিন সাইদ থেকে, তিনি কাসিম বিন সুহাইর থেকে এবং তিনি উবাই ইবনে কাব থেকে হাদিসটি সমার্থবোধক শব্দে বর্ণনা করেছেন। ফলে মুসনাদ হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (معلول) হয়ে পড়েছে। তবে সব অবস্থাতেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সুসাব্যস্ত (ثابت) হাদিসসমূহ বিবেচনাবোধের নিকটবর্তী এবং মূলনীতির (أصول) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যে ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দ্বীনের যে সুউচ্চ আসনে আসীন করা হয়েছে এবং মানুষের ওপর তাঁর আনুগত্য যে ফরজ করা হয়েছে তা উপলব্ধি করে, তার বিবেক একে অস্বীকার করে না। আর যে ব্যক্তি তাঁর কথায় বিশ্বাস স্থাপন এবং তাঁর প্রদত্ত ফয়সালার অনুসরণের আকীদা পোষণ করে, তার অন্তরও এ থেকে বিমুখ হয় না। শরিয়তের দিক থেকে এটি যেমন চমৎকার ও উত্তম (حسن), তেমনি এটি নৈতিকতার দিক থেকেও সুন্দর এবং জ্ঞানবানদের নিকট পছন্দনীয়। এসব বর্ণনার (أخبار) শব্দাবলির মধ্য থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) হতে পারে, তার মর্মার্থ এটাই।
অতঃপর তিনি নিজের সনদ (سند) সহকারে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন আমি তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদিস বর্ণনা করি এবং তোমরা কিতাবুল্লাহর মধ্যে তার সত্যায়ন খুঁজে না পাও অথবা তা মানুষের সুন্দর (حسن) আচরণের পরিপন্থী হয়, তবে আমি তার ব্যাপারে মিথ্যাবাদী (كاذب)।" তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেছেন: "যখন তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করা হয়, তখন তোমরা তাঁর প্রতি এমন ধারণা পোষণ করো যা অধিক হিদায়াতপূর্ণ, অধিকতর সুখকর এবং অধিকতর তাকওয়াপূর্ণ।" আমি বলি: বর্ণিত হাদিসের অর্থের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বিষয় হলো সেই কথার সত্যতা নিশ্চিত করা যার দিকে ইমাম শাফিঈ পূর্বে ইঙ্গিত করেছেন যে, সুসাব্যস্ত (ثابت) সুন্নাহ কখনো সত্যবিমুখ বা সাংঘর্ষিক হয় না।
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
لِلْقُرْآنِ بل معاضدة لَهُ، وَإِن لم يكن فِيهِ نَص صَرِيح بلفظها فَإِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم يفهم من الْقُرْآن مَالا يفهمهُ غَيره، وَقد قَالَ لما سُئِلَ عَن الحُمُر: " مَا أنزل فِيهَا شَيْء إِلَّا هَذِه الْآيَة الفاذة الجامعة، {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْراً يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرّاً يَرَهُ} " فَانْظُر أَخذ حكمهَا من أَيْن؟ وَقَالَ ابْن مَسْعُود فِيمَا أخرجه ابْن أبي حَاتِم: "مَا من شَيْء إِلَّا بُين لنا فِي الْقُرْآن وَلَكِن فهمنا يقصر عَن إِدْرَاكه، فَلذَلِك قَالَ تَعَالَى: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} " فَانْظُر هَذَا الْكَلَام من ابْن مَسْعُود أحد أجلاء الصَّحَابَة وأقدمهم إسلاما.
قَالَ بَعضهم: السّنة شرح لِلْقُرْآنِ، وَقد ألف ابْن برَّجان كتابا فِي معاضدة السّنة لِلْقُرْآنِ: أخرج الشَّافِعِي. وَالْبَيْهَقِيّ من طَرِيق طَاوس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِنِّي لَا أحل إِلَّا مَا أحل الله فِي كِتَابه، وَلَا أحرم إِلَّا مَا حرم الله فِي كِتَابه" قَالَ الشَّافِعِي: وَهَذَا مُنْقَطع، وَكَذَلِكَ صنع صلى الله عليه وسلم وَبِذَلِك أَمر. وافترض عَلَيْهِ أَن يتبع مَا أُوحِي إِلَيْهِ ونشهد أَن قد اتبعهُ وَمَا لم يكن فِيهِ وَحي فقد فرض الله فِي الْوَحْي اتِّبَاع سنته، فَمن قبل عَنهُ فَإِنَّمَا قبل بِفَرْض الله، قَالَ الله تَعَالَى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ} قَالَ الْبَيْهَقِيّ: وَقَوله "فِي كِتَابه" إِن صحت هَذِه اللَّفْظَة فَإِنَّمَا أَرَادَ فِيمَا أُوحِي إِلَيْهِ، ثمَّ مَا أُوحِي إِلَيْهِ نَوْعَانِ: أَحدهمَا وَحي
কোরআনের জন্য, বরং এটি তার পরিপূরক ও সমর্থন (معاضدة)। যদিও এতে এর শব্দচয়নসহ কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص صريح) নেই, তবুও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরআন থেকে এমন সব বিষয় অনুধাবন করেন যা অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না। যখন তাকে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: "এই অনন্য ও ব্যাপক (جامعة) আয়াতটি ব্যতীত এ বিষয়ে অন্য কিছুই অবতীর্ণ হয়নি: 'অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ মন্দকর্ম করলে তাও দেখবে'।" সুতরাং লক্ষ্য করুন, তিনি এর বিধান (حكم) কোত্থেকে গ্রহণ করেছেন? ইবনে আবি হাতিম যা বর্ণনা (أخرج) করেছেন তাতে ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: "এমন কোনো বিষয় নেই যা কোরআনে আমাদের জন্য স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়নি, কিন্তু আমাদের প্রজ্ঞা তা উপলব্ধি করতে অপর্যাপ্ত। এ কারণেই মহান আল্লাহ বলেছেন: 'যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে'।" সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং ইসলাম গ্রহণে অগ্রগণ্য ইবনে মাসউদ (রা.)-এর এই উক্তিটি গভীরভাবে লক্ষ্য করুন।
কেউ কেউ বলেছেন: সুন্নাহ হলো কোরআনের ব্যাখ্যা (شرح)। ইবনে বাররাজান কোরআনের সমর্থনে (معاضدة) সুন্নাহর ভূমিকা বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইমাম শাফেয়ী এবং বায়হাকী তাউসের সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কেবল তা-ই হালাল করি যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে হালাল করেছেন এবং তা-ই হারাম করি যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে হারাম করেছেন।" ইমাম শাফেয়ী বলেন: এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপই আমল করেছেন এবং তাকে এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রতি যা ওহী (وحي) করা হতো তা অনুসরণ করা তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তিনি তা অনুসরণ করেছেন। আর যে বিষয়ে সরাসরি কোনো ওহী (وحي) ছিল না, সে ক্ষেত্রে আল্লাহ ওহীর মাধ্যমেই তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের বিধান করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর কাছ থেকে কোনো বিধান গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহরই ফরজ (فرض) বিধান গ্রহণ করল। মহান আল্লাহ বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" বায়হাকী বলেন: তাঁর এই উক্তি "তাঁর কিতাবে" - যদি এই শব্দচয়নটি সঠিক (صحت) হয়ে থাকে, তবে তিনি এর দ্বারা তাঁর প্রতি যা ওহী (أوحي) করা হয়েছে তা-ই বুঝিয়েছেন। অতঃপর তাঁর প্রতি যা ওহী (أوحي) করা হয়েছে তা দুই প্রকার: একটি হলো ওহী (وحي)
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
يُتْلَى، وَالْآخر وَحي لَا يُتْلَى، وَقد احْتج ابْن مَسْعُود من الْآيَة الَّتِي احْتج بهَا الشَّافِعِي. بِمثل مَا احْتج بِهِ فِي أَن من قبل عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فبكتاب الله قبله فَإِن حكمه فِي وجوب اتِّبَاعه حكم مَا ورد بِهِ الْكتاب، ثمَّ أورد الحَدِيث السَّابِق فى لعن الْوَاشِمَات.
ثمَّ قَالَ الْبَيْهَقِيّ: بَاب فِيمَا ورد عَن الْخُلَفَاء الرَّاشِدين وَغَيرهم من الصَّحَابَة من الرُّجُوع إِلَى خَبره، أخرج فِيهِ عَن قبيصَة بن ذُؤَيْب قَالَ: "جَاءَت الْجدّة إِلَى أبي بكر الصّديق رضي الله عنه لتسأله مِيرَاثهَا. فَقَالَ لَهَا أَبُو بكر: مَالك فِي كتاب الله شَيْء وَمَا أعلم لَك فِي سنة نَبِي الله صلى الله عليه وسلم شَيْئا، فارجعي حَتَّى أسأَل النَّاس، فَسَأَلَ النَّاس فَقَالَ لَهُ الْمُغيرَة بن شُعْبَة: حضرت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهَا السُّدس، فَقَالَ أَبُو بكر. هَل مَعَك غَيْرك: فَقَامَ مُحَمَّد بن مسلمة الْأنْصَارِيّ فَقَالَ مثل مَا قَالَ، فأنفذه لَهَا أَبُو بكر".
وَأخرج عَن ابْن الْمسيب أَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه كَانَ يَقُول: "الدِّيَة لِلْعَاقِلَةِ، وَلَا تَرث الْمَرْأَة من دِيَة زَوجهَا شَيْئا حَتَّى أخبرهُ الضَّحَّاك بن سُفْيَان أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كتب إِلَيْهِ أَن يُورث1 امْرَأَة أشْيَم الضبابِي من دِيَته
--------------------------------------------
একটি পাঠ করা হয়, এবং অন্যটি এমন ওহী যা পাঠ করা হয় না। ইমাম শাফেঈ যে আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, ইবনে মাসউদও সেই একই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তিনি যেভাবে দলিল পেশ করেছেন তার সারকথা হলো—যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করল, সে মূলত আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমেই তা গ্রহণ করল। কারণ তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব (আবশ্যক) হওয়ার বিধানটি আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত বিধানের মতোই। অতঃপর তিনি উল্কি অঙ্কনকারিণী নারীদের অভিশাপ দেওয়া সংক্রান্ত পূর্ববর্তী হাদিসটি উল্লেখ করেন।
অতঃপর বায়হাকী বলেন: অনুচ্ছেদ: খুলাফায়ে রাশেদীন এবং অন্যান্য সাহাবীগণ থেকে তাঁর খবরের (خبر) দিকে ফিরে আসার বর্ণনাসমূহ। এতে তিনি ক্বাবিসাহ ইবনে যুআইব থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: "এক দাদী আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট তাঁর মিরাস (উত্তরাধিকার) প্রার্থনা করতে আসলেন। আবু বকর তাঁকে বললেন: আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই নেই এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহতেও তোমার জন্য আমি কিছু আছে বলে জানি না। সুতরাং তুমি ফিরে যাও যতক্ষণ না আমি লোকদের জিজ্ঞাসা করি। অতঃপর তিনি লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন। তখন মুগীরাহ ইবনে শু'বাহ তাঁকে বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি তাঁকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছেন। আবু বকর বললেন: তোমার সাথে কি অন্য কেউ আছে? তখন মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ আনসারী দাঁড়িয়ে তাঁর অনুরূপ কথা বললেন। অতঃপর আবু বকর তা তাঁর জন্য কার্যকর করলেন।"
এবং তিনি ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "দিয়াত (دية) কেবল আকিলাহ-এর (عاقلة) জন্য বরাদ্দ, আর স্ত্রী তার স্বামীর দিয়াত থেকে কোনো উত্তরাধিকার পাবে না।" পরিশেষে দাহহাক ইবনে সুফিয়ান তাঁকে অবহিত করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে এই মর্মে লিখেছিলেন যে, তিনি যেন আশইয়াম আদ-দিবাবীর স্ত্রীকে তার স্বামীর দিয়াত থেকে মিরাস প্রদান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
فَرجع إِلَيْهِ عمر"، أخرجه أَبُو دَاوُد. وَأخرج عَن طَاوس أَن عمر قَالَ: "أذكِّر الله امْرَءًا سمع من النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الْجَنِين شَيْئا فَقَامَ حمل بن مَالك بن النَّابِغَة قَالَ كنت بَين جاريتين لي - يَعْنِي ضرتين - فَضربت إِحْدَاهمَا الْأُخْرَى بمسطح فَأَلْقَت جَنِينا مَيتا فَقضى فِيهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بغرّة، فَقَالَ عمر: لَو لم نسْمع هَذَا لقضينا فِيهِ بِغَيْر هَذَا، إِن كدنا نقضي فِيهِ برأينا".
وَقَالَ الْبَيْهَقِيّ: قَالَ الشَّافِعِي: قد رَجَعَ عمر عَمَّا كَانَ يقْضِي فِيهِ بِحَدِيث الضحّاك إِلَى أَن خَالف حكم نَفسه، وَأخْبر فِي الْجَنِين أَنه لَو لم يسمع هَذَا لقضى بِغَيْرِهِ. وَقَالَ: إِن كدنا نقضي فِيهِ برأينا.
وَأخرج الشَّيْخَانِ من طَرِيق ابْن شهَاب عَن عبد الله ابْن عَامر بن ربيعَة: "أَن عمر خرج إِلَى الشَّام فَلَمَّا جَاءَ سرغ1 بلغه أَن الوباء قد وَقع بِالشَّام فَأخْبرهُ عبد الرَّحْمَن بن عَوْف أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِذا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْض فَلَا تقدمُوا عَلَيْهِ، وَإِذا وَقع بِأَرْض وَأَنْتُم بهَا فَلَا تخْرجُوا فِرَارًا"، فَرجع عمر من سرغ". قَالَ ابْن شهَاب: وَأَخْبرنِي سَالم بن عبد الله بن عمر أَن عمر إِنَّمَا انْصَرف بِالنَّاسِ من حَدِيث عبد الرَّحْمَن ابْن عَوْف.
--------------------------------------------
"অতঃপর উমর সেদিকে ফিরে আসলেন", এটি আবু দাউদ সংকলন (أخرجه) করেছেন। এবং তাউস থেকে বর্ণনা (أخرج) করা হয়েছে যে উমর বলেছিলেন: "আমি সেই ব্যক্তিকে আল্লাহর কসম দিয়ে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে নবী (সা.)-এর নিকট থেকে ভ্রূণ সম্পর্কে কোনো কিছু শুনেছে।" তখন হামাল ইবনে মালিক ইবনে আন-নাবিগাহ দাঁড়িয়ে বললেন, "আমি আমার দুই স্ত্রীর মধ্যে ছিলাম—অর্থাৎ সতীনের মধ্যে—তাদের একজন অপরজনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করল, ফলে সে একটি মৃত ভ্রূণ প্রসব করল। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) সে বিষয়ে ক্ষতিপূরণ (গুররাহ) প্রদানের ফয়সালা দেন।" উমর বললেন: "যদি আমরা এটি না শুনতাম, তবে এ বিষয়ে ভিন্ন ফয়সালা দিতাম। আমরা তো প্রায় আমাদের নিজস্ব রায় অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান করতে যাচ্ছিলাম।"
বায়হাকী বলেন: শাফিঈ বলেছেন: উমর যিহাক-এর হাদিসের প্রেক্ষিতে নিজের পূর্বের ফয়সালা থেকে ফিরে এসেছিলেন, এমনকি তিনি নিজের হুকুমের বিরোধিতা করেছেন। আর ভ্রূণ সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন যে, যদি তিনি এটি না শুনতেন তবে ভিন্ন ফয়সালা দিতেন। তিনি বলেছিলেন: "আমরা প্রায় আমাদের নিজস্ব রায় অনুযায়ী ফয়সালা দিতে যাচ্ছিলাম।"
শায়খাইন ইবনে শিহাবের সূত্র (طريق) থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রাবিয়াহ থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে: "উমর সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন। যখন তিনি সারগ নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে সিরিয়ায় মহামারি দেখা দিয়েছে। অতঃপর আব্দুর রহমান ইবনে আউফ তাঁকে জানালেন যে নবী (সা.) বলেছেন: 'যখন তোমরা কোনো ভূমিতে মহামারির কথা শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করবে না। আর যদি তোমরা যে ভূমিতে আছ সেখানে মহামারি দেখা দেয়, তবে সেখান থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে বের হবে না।' অতঃপর উমর সারগ থেকে ফিরে আসলেন।" ইবনে শিহাব বলেন: "সالم ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আমাকে জানিয়েছেন যে, উমর মূলত আব্দুর রহমান ইবনে আউফের হাদিসের কারণেই লোকদের নিয়ে ফিরে এসেছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وَأخرج البُخَارِيّ عَن عَائِشَة قَالَت: "لم يكن عمر أَخذ الْجِزْيَة من الْمَجُوس حَتَّى شهد عبد الرَّحْمَن بن عَوْف أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَخذهَا من مجوس هجر".
وَأخرج الْبَيْهَقِيّ عَن زَيْنَب بنت كَعْب بن عجْرَة: "أَن الفريعة بنت مَالك بن سِنَان - وَهِي أُخْت أبي سعيد الْخُدْرِيّ - أخْبرتهَا أَنَّهَا جَاءَت إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لتسأله أَن ترجع إِلَى أَهلهَا فِي بني خدرة فَإِن زَوجهَا خرج فِي طلب أعبُد لَهُ أَبقوا حَتَّى إِذا كَانَ بِطرف الْقدوم لحقهم فَقَتَلُوهُ. فسألتُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن أرجع إِلَى أَهلِي فَإِن زَوجي لم يتركني فِي مسكن يملكهُ، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "امكثي فِي بَيْتك حَتَّى يبلغ الْكتاب أَجله"، قَالَت: فاعتددت فِيهِ أَرْبَعَة أشهر وَعشرا، قَالَت: فَلَمَّا كَانَ عُثْمَان بن عَفَّان أرسل إليَّ فَسَأَلَنِي عَن ذَلِك فَأَخْبَرته فَاتبعهُ وَقضى بِهِ"، وَأخرج عَن عَليّ ابْن أبي طَالب رضي الله عنه قَالَ: "كنت إِذا سَمِعت من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَدِيثا نَفَعَنِي الله مِنْهُ بِمَا شَاءَ أَن يَنْفَعنِي، وَإِذا حَدثنِي أحد من أَصْحَابه اسْتَحْلَفته فَإِذا حلف لي صدّقته، وَأَنه حَدثنِي أَبُو بكر - وَصدق أَبُو بكر - أَنه سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: "مَا من عبد موقن يُذنب ذَنبا فيتطهر فَيحسن الطّهُور ويستغفر الله إِلَّا غفر لَهُ" أخرجه أَحْمد.
وَأخرج الشَّيْخَانِ عَن ابْن عَبَّاس: "أَن زيد بن ثَابت
ইমাম বুখারি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উমর (রা.) মজুসদের নিকট থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেননি যতক্ষণ না আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) সাক্ষ্য দিলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরের মজুসদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছিলেন।"
ইমাম বায়হাকি জয়নব বিনতে কাব ইবনে উজরা থেকে বর্ণনা করেছেন: "মালিক ইবনে সিনানের কন্যা ফুরাইআ —যিনি আবু সাইদ আল-খুদরির বোন— তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আবেদন করতে এসেছিলেন যেন তিনি বনু খুদরায় তাঁর পরিবারের নিকট ফিরে যেতে পারেন। কেননা তাঁর স্বামী তাঁর কয়েকজন পলাতক ক্রীতদাসের সন্ধানে বের হয়েছিলেন, অবশেষে ক্বাদূম নামক স্থানে তাদের নাগাল পেলে তারা তাঁকে হত্যা করে। (ফুরাইআ বলেন) অতঃপর আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আবেদন করলাম যে আমি যেন আমার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারি, কেননা আমার স্বামী তাঁর মালিকানাধীন কোনো বাসস্থানে আমাকে রেখে যাননি। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'তোমার ঘরেই অবস্থান করো যতক্ষণ না নির্ধারিত বিধান (الكتاب) তার পূর্ণতায় পৌঁছায়।' তিনি বলেন: অতঃপর আমি সেখানে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করলাম। তিনি বলেন: উসমান ইবনে আফফানের শাসনামলে তিনি আমাকে লোক পাঠিয়ে ডেকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি তা অনুসরণ করলেন এবং সেই অনুযায়ী ফয়সালা দিলেন।" এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে কোনো হাদিস শুনতাম, আল্লাহ আমাকে তা দিয়ে যতটুকু ইচ্ছা উপকৃত করতেন। আর যখন তাঁর সাহাবিদের মধ্যে কেউ আমাকে কোনো হাদিস শোনাতেন, আমি তাঁকে শপথ করতে বলতাম; অতঃপর সে শপথ করলে আমি তাকে সত্য বলে গ্রহণ করতাম। আর আমাকে আবু বকর (রা.) একটি হাদিস শুনিয়েছেন —এবং আবু বকর সত্য বলেছেন— যে তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: 'এমন কোনো দৃঢ় বিশ্বাসী (موقن) বান্দা নেই যে কোনো পাপ করে, অতঃপর উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেন'।" এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।
এবং শাইখাইন ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই জায়েদ ইবনে সাবিত...
(খণ্ড: ১)
মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
قَالَ لَهُ: أتفتي أَن تصدُر الْحَائِض قبل أَن يكون آخر عهدها بِالْبَيْتِ؟ فَقَالَ ابْن عَبَّاس: أما لَا، فَسَأَلَ فُلَانَة الْأَنْصَارِيَّة، هَل أمرهَا بذلك رَسُول الله صلى الله عليه وسلم؟، فَرجع زيد بن ثَابت يضْحك وَيَقُول: مَا أَرَاك إِلَّا قد صدقت". قَالَ الشَّافِعِي: فَسمع زيد النَّبِي صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا أفتى ابْن عَبَّاس بالصدر أنكرهُ عَلَيْهِ فَلَمَّا أخبر عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رأى عَلَيْهِ حَقًا أَن يرجع عَن خلاف ابْن عَبَّاس1. وَأخرج الشَّيْخَانِ عَن سعيد بن جُبَير قَالَ: "قلت لِابْنِ عَبَّاس: إِن نوفلا الْبكالِي يزْعم أَن مُوسَى صَاحب الْخضر لَيْسَ بمُوسَى بني إِسْرَائِيل، فَقَالَ: كذب عَدو الله، أَخْبرنِي أبي بن كَعْب قَالَ: خَطَبنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: فَذكر حَدِيث مُوسَى وَالْخضر"، قَالَ الشَّافِعِي: ابْن عَبَّاس مَعَ فقهه وورعه كذَّب امْرأ من الْمُسلمين وَنسبه إِلَى عَدَاوَة الله لما أخبرهُ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم من خلاف قَوْله. وَأخرج الْبَيْهَقِيّ وَالْحَاكِم عَن هِشَام بن جُبَير قَالَ: "كَانَ طَاوس
--------------------------------------------
তিনি তাকে বললেন: "আপনি কি এই ফতোয়া দিচ্ছেন যে, ঋতুবতী নারী বায়তুল্লাহর সাথে শেষ সাক্ষাৎ (বিদায়ী তাওয়াফ) করার পূর্বেই প্রস্থান করতে পারবে?" ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন: "না (তা নয়), বরং আপনি অমুক আনসারি নারীকে জিজ্ঞাসা করুন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি তাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন?" অতঃপর জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) হাসতে হাসতে ফিরে এলেন এবং বলতে লাগলেন: "আমি দেখছি আপনি সত্য (صدق) বলেছেন।" ইমাম শাফেয়ী বলেন: জায়েদ (রা.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর (সাধারণ) নির্দেশটি শুনেছিলেন। ফলে যখন ইবনে আব্বাস (রা.) প্রস্থানের ফতোয়া দিলেন, তখন তিনি তা অস্বীকার করলেন। কিন্তু যখন তাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে (বিশেষ নির্দেশ সম্পর্কে) অবহিত করা হলো, তখন ইবনে আব্বাসের বিরোধিতার অবস্থান থেকে ফিরে আসা তিনি নিজের ওপর অর্পিত হক বা কর্তব্য বলে মনে করলেন। শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি ইবনে আব্বাসকে বললাম: নওফ আল-বিকারি দাবি করে যে, খিজিরের সঙ্গী মুসা বনী ইসরাঈলের মুসা নন। তিনি (ইবনে আব্বাস) বললেন: আল্লাহর শত্রু মিথ্যা (كذب) বলেছে। উবাই ইবনে কাব (রা.) আমাকে জানিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন এবং মুসা ও খিজিরের হাদিস উল্লেখ করলেন।" ইমাম শাফেয়ী বলেন: ইবনে আব্বাস তাঁর ফিকহ (فقه) ও তাকওয়া (ورع) থাকা সত্ত্বেও একজন মুসলিম ব্যক্তিকে মিথ্যাবাদী (كذب) সাব্যস্ত করেছেন এবং তাকে আল্লাহর শত্রুতার দিকে নিসবত করেছেন, কারণ সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সংবাদের বিপরীতে কথা বলেছিল। বায়হাকি ও হাকেম হিশাম ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তাউস ছিলেন...
--------------------------------------------