(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة في أصول الفقه - ضمن «آثار المعلمي» القسم: أصول الفقه
الكتاب: رسالة في أصول الفقه
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (19)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عبد الرحمن بن حسن بن قائد
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) বিষয়ক রিসালাহ - ‘আসারুল মুয়াল্লিমি’-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)
গ্রন্থ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) বিষয়ক রিসালাহ
[আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলী (১৯)]
লেখক: আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ উযাইর শামস
পর্যবেক্ষণ করেছেন: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - আব্দুর রহমান ইবনে হাসান ইবনে কাইদ
প্রকাশক: দার আলাম আল-ফাওয়াইদ প্রকাশনী ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামিলা লাইব্রেরিতে পেশ করেছে: ‘আতাউতিল ইলম’ সংস্থা, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৫)
الرسالة الرابعة
رسالة في أصول الفقه
চতুর্থ রিসালাহ
ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক একটি রিসালাহ
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي هدانا لدينه الذي ارتضاه، وعلَّمنا من أصول الفقه ما أوضح لنا سبيلَ هداه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله وسلم وبارك عليه وعلى آله وصحبه.
أما بعد، فإني ممن عُدَّ لقلة العلماء عالمًا، فصار ينتابني بعض طلبة العلم، فلا يَسَعُني إلا أن أُسعِفهم بمرادهم، لا على أنني عالم معلِّمٌ، بل على أنِّي طالبُ علمٍ من جملتهم، أذاكرهم على حسب وُسْعي.
ومن جملة ما التمس مني القراءة في علم أصول الفقه، فوجدتُ الكتب التي بين أيدي الناس في هذا العلم على ضربين:
الضرب الأول: كتب الغزالي ومن بعده.
الضرب الثاني: بعض مختصرات لمن قبله، كاللمع للشيخ أبي إسحاق، والورقات للجويني.
فأما الضرب الأول فإنه قد مُزِجَ بمباحثَ كثيرةٍ من علم الكلام والأصول المنطقية. وأنا وإن كان لا يتعسَّر عليَّ فهمُ كثيرٍ من هذين الفنين راغبٌ بنفسي عنهما، متحرِّجٌ من الخوض فيهما.
وأما الضرب الثاني فإنه بغاية الاختصار، ولا يخلو مع ذلك عن تعقيد.
فرأيتُ أن أجمع رسالة، أعدُّها لمن يرغب من طلبة العلم في مطالعة هذا العلم معي، أُسهِّل فيها أمهاتِ المطالب بقدر ما أستطيع، معرضًا عن كثير من الاصطلاحات والتدقيقات، مقتصرًا من المباحث الكلامية على ما
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর মনোনীত দ্বীনের দিকে পরিচালিত করেছেন এবং আমাদের উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) শিক্ষা দিয়েছেন যা আমাদের জন্য তাঁর হিদায়াতের পথকে স্পষ্ট করেছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।
অতঃপর, আলিমদের স্বল্পতার কারণে আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি যাদের আলিম হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে কতিপয় ইলম অন্বেষী (طلبة العلم) শিক্ষার্থী আমার নিকট আসা-যাওয়া শুরু করেছে। এমতাবস্থায় তাদের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তা করা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই; তবে আমি কোনো বিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে নয়, বরং তাদেরই মতো একজন ইলম অন্বেষী (طلبة العلم) ছাত্র হিসেবে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সাথে পাঠ আলোচনা করি।
তারা আমার নিকট যেসব বিষয় পড়ার আবেদন করেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্র। আমি এই শাস্ত্রে মানুষের কাছে প্রচলিত কিতাবসমূহকে দুই শ্রেণিতে বিভক্ত পেয়েছি:
প্রথম শ্রেণি: ইমাম গাজালি ও তাঁর পরবর্তী আলিমদের রচিত কিতাবসমূহ।
দ্বিতীয় শ্রেণি: তাঁর পূর্ববর্তীদের রচিত কিছু সংক্ষিপ্তসার (مختصرات), যেমন শেখ আবু ইসহাকের আল-লুমা এবং জুয়াইনির আল-ওয়ারাখাত।
প্রথম শ্রেণির কিতাবগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, এতে ইলমুল কালাম (علم الكلام) এবং যুক্তিশাস্ত্রীয় মূলনীতির (الأصول المنطقية) বহু বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। যদিও এই দুই শাস্ত্রের অনেক বিষয় অনুধাবন করা আমার জন্য দুঃসাধ্য নয়, তবুও আমি ব্যক্তিগতভাবে সেগুলো থেকে বিমুখ এবং এগুলোতে গভীরভাবে নিমগ্ন হতে কুণ্ঠাবোধ করি।
আর দ্বিতীয় শ্রেণির কিতাবগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, তথাপি সেগুলো জটিলতামুক্ত নয়।
তাই আমি একটি পুস্তিকা সংকলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা আমি সেই সকল ইলম অন্বেষী (طلبة العلم) শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুত করব যারা আমার সাথে এই শাস্ত্রটি অধ্যয়ন করতে আগ্রহী। এতে আমি যথাসম্ভব সহজভাবে মূল বিষয়সমূহ (أمهات المطالب) উপস্থাপন করব এবং বহু কারিগরি পরিভাষা (اصطلاحات) ও সূক্ষ্ম চুলচেরা বিশ্লেষণ (تدقيقات) এড়িয়ে চলব; আর ইলমুল কালাম সংশ্লিষ্ট আলোচনা (المباحث الكلامية) থেকে কেবল সেইটুকুই গ্রহণ করব যা...
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৮)
لا بدَّ منه، سالكًا ــ على قلَّة بضاعتي ــ مسلكَ التحقيق.
وأنا أنصح طلبة العلم دائمًا أن لا يعدُّوني عالمًا، وأن لا يعتمدوا على قولي، إلا أنني أقول لهم: من اختبرني منكم زمانًا، ثم رأى من قولي ما هو موافق لإمام من أئمة العلم، وفهم الدليلَ، وقوِيَ في نظره= فلا حرجَ عليه إن شاء الله تعالى من اعتماده، وأسأل الله تعالى لي ولهم التوفيق.
এটি অপরিহার্য, এবং আমার জ্ঞানের স্বল্পতা সত্ত্বেও আমি অনুসন্ধানের (تحقيق) পথ অবলম্বন করেছি।
আমি ইলম অন্বেষণকারীদের সর্বদা এই নসিহত করি যে, তারা যেন আমাকে আলেম মনে না করেন এবং আমার কথার ওপর নির্ভর না করেন; তবে আমি তাদের বলি: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি দীর্ঘ সময় আমাকে যাচাই করেছে, অতঃপর আমার কোনো বক্তব্য ইলমের ইমামদের মধ্য হতে কোনো ইমামের মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেয়েছে এবং এর প্রমাণ (دليل) বুঝতে পেরেছে ও তার নিকট তা শক্তিশালী বলে প্রতীয়মান হয়েছে—তবে ইনশাআল্লাহ সেটি গ্রহণ করতে তার কোনো বাধা নেই। আর আমি মহান আল্লাহর কাছে আমার ও তাদের জন্য তাওফীক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ২৯৯)
المقدمة
وفيها فصول:
الفصل الأولفي معنى قولهم: "أصول الفقه"
فيه خمس
(1) مباحث:
الأول
العلم في أصل الوضع العربي هو المعرفة القطعية
مثال ذلك: أن تُسأل في أواخر النهار: هل غَرَبتِ الشمسُ؟ فتكون قد رأيتها بعينك تغربُ، أو تراها لم تغربْ، أو ترى شعاعَها الذي لا مِريةَ فيه، فأنت هنا عالم بغروبها أو بعدم غروبها. ووراء ذلك حالان:
الأولى: أن لا تكون رأيتَها تغرب، ولا أنت بحيث تراها، ولكن ترى من حال الجوّ ظلمةً وإنارةً ما يُرجِّح في ظنِّك غروبَها أو عدمَ غروبها، أو يخبرك ثقةٌ بأنها غربت أو أنها لم تغرب، أو تكون عندك ساعةٌ فتستدلُّ بها على الغروب أو عدمه. فالحكم الذي في نفسك في هذه الحال يُسمى "ظنًّا"، ومقابله يُسمى "وهمًا".
الثانية: أن لا يحصل لك ما يوجب علمًا ولا ظنًّا، وتكون مترددًا، وهذا يسمى "شكًّا" و"جهلًا".
--------------------------------------------
ভূমিকা
এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদতাদের উক্তি: "উসূলে ফিকহ" এর অর্থ প্রসঙ্গেএতে পাঁচটি
(১) গবেষণা বিষয় রয়েছে:
প্রথমত
আরবি ভাষার আদি ব্যবহার অনুযায়ী 'ইলম' (জ্ঞান) বলতে সুনিশ্চিত পরিচয় (المعرفة القطعية) বোঝায়।
এর উদাহরণ হলো: দিনের শেষ ভাগে আপনাকে প্রশ্ন করা হলো—সূর্য কি ডুবেছে? এমতাবস্থায় আপনি নিজ চোখে তা ডুবতে দেখেছেন, অথবা দেখেছেন যে তা এখনো ডোবেনি, অথবা এর এমন আলোকচ্ছটা দেখেছেন যাতে কোনো সংশয় নেই; এখানে আপনি সূর্য ডোবা বা না ডোবা সম্পর্কে সুনিশ্চিতভাবে অবগত। এর বাইরে দুটি অবস্থা হতে পারে:
প্রথমটি: আপনি সূর্য ডুবতে দেখেননি এবং দেখার মতো অবস্থায়ও আপনি নেই, কিন্তু আবহাওয়ার অন্ধকার বা আলোর অবস্থা দেখে আপনার মনে প্রবল ধারণা (ظن) তৈরি হলো যে তা ডুবেছে বা ডুবেনি; অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি আপনাকে সংবাদ দিল যে সূর্য ডুবেছে বা ডুবেনি; অথবা আপনার কাছে কোনো ঘড়ি আছে যা দ্বারা আপনি সূর্যাস্ত হওয়া বা না হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ গ্রহণ করলেন। এই অবস্থায় আপনার মনের সিদ্ধান্তকে "প্রবল ধারণা (ظن)" বলা হয় এবং এর বিপরীত অবস্থাকে "ক্ষীণ ধারণা (وهم)" বলা হয়।
দ্বিতীয়টি: আপনার এমন কোনো অবস্থা অর্জিত হলো না যা সুনিশ্চিত জ্ঞান (علم) কিংবা প্রবল ধারণা (ظن) নিশ্চিত করে, বরং আপনি দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন; একে "সন্দেহ (شك)" এবং "অজ্ঞতা (جهل)" বলা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০০)
*
فوائد:الأولى: قد يطلق العلم على ما يعمُّ الظنَّ.
الثانية: ينقسم العلم إلى قسمين:
الأول: ما لا يقبل تشكيكًا البتةَ، مثل العلم بأنَّ الاثني عشر إذا قُسِّمتْ بين اثنين على السواء بدون تكسير كان لكل منهما ستة، أو بين ثلاثةٍ كان لكل منهم أربعة، أو بين أربعةٍ كان لكل منهم ثلاثة، أو بين ستةٍ كان لكل منهم اثنان، أو بين خمسة أو سبعة أو تسعة لم تنقسم.
الثاني: ما يقبل التشكيك في الجملة، كمن يرى الشمسَ رائعةَ النهار، فيقال له: لعلك مسحور، فأنت تتوهم أنك ترى الشمس توهُّمًا، أو لعلك مُصابٌ في عقلك، فإنَّ المصاب في عقله يتراءى له ما لا حقيقة له، ولا يشعر بأنه مصاب.
وأمثال هذه التشكيكات لا تقدح في القطع.
قال الله تبارك وتعالى: {وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَابًا مِنَ السَّمَاءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ (14) لَقَالُوا إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَسْحُورُونَ} [الحجر: 14، 15]، أخبر سبحانه وتعالى بأنَّ هذا التشكُّك عِنادٌ منهم وحمقٌ وجهلٌ.
الفائدة الثالثة: كثيرًا ما يشتبه الظن بالعلم، كأن تُحضِر بدويًّا لم يسمع بالحاكي "الفونغراف"، ولا المذياع "الراديو"، وتُقعِده عند باب حجرة فيها مذياع فيسمعه، فإنه يقطع بأنَّ في الحجرة إنسانًا يتكلَّم.
ومن تفكَّر في هذا وأمثاله خاف أن يكون كثير من الأمور التي يقطع بها
ফায়দাহ বা শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:প্রথম: কখনও কখনও ইলম বা জ্ঞান শব্দটি এমন ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয় যা প্রবল ধারণাকেও (ظن) অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয়: ইলম বা জ্ঞান দুই প্রকার:
প্রথম: যা একেবারেই কোনো সংশয় বা দ্বিধা গ্রহণ করে না; যেমন এই জ্ঞান যে, যখন বারোকে কোনো ভগ্নাংশ ছাড়াই সমানভাবে দুই ভাগে ভাগ করা হয় তখন প্রতি ভাগে ছয় পড়ে, অথবা তিন ভাগে ভাগ করলে প্রতি ভাগে চার পড়ে, অথবা চার ভাগে ভাগ করলে প্রতি ভাগে তিন পড়ে, অথবা ছয় ভাগে ভাগ করলে প্রতি ভাগে দুই পড়ে। কিন্তু পাঁচ, সাত বা নয় ভাগে ভাগ করলে তা নিঃশেষে বিভাজ্য হয় না।
দ্বিতীয়: যা সাধারণভাবে সংশয় গ্রহণ করতে পারে; যেমন কেউ তপ্ত দুপুরে প্রখর সূর্য দেখল, অতঃপর তাকে বলা হলো: "হয়তো তোমার ওপর জাদু করা হয়েছে, তাই তুমি সূর্য দেখছ বলে অলীক ধারণায় (توهم) নিমজ্জিত আছো; অথবা সম্ভবত তোমার মস্তিকে কোনো বিকৃতি ঘটেছে, কারণ মস্তিস্ক বিকৃত ব্যক্তি এমন কিছু দেখে যার কোনো বাস্তবতা নেই এবং সে নিজেও বুঝতে পারে না যে সে অসুস্থ।"
এই জাতীয় সংশয়সমূহ সুনিশ্চিত জ্ঞানের (قطع) ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা এরশাদ করেছেন: "আর যদি আমি তাদের জন্য আকাশের কোনো দরজা খুলে দিতাম এবং তারা তাতে আরোহণ করতে থাকত, তবুও তারা বলত: আমাদের দৃষ্টি আচ্ছন্ন করে দেওয়া হয়েছে; বরং আমরা এক জাদুগ্ৰস্ত সম্প্রদায়।" [সূরা আল-হিজর: ১৪-১৫]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা সংবাদ দিয়েছেন যে, এই ধরনের সংশয় পোষণ করা তাদের পক্ষ থেকে একগুঁয়েমি, নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞতা মাত্র।
তৃতীয় ফায়দাহ: অনেক সময় প্রবল ধারণা (ظن) সুনিশ্চিত জ্ঞানের সাথে গুলিয়ে যায়। যেমন— আপনি যদি এমন একজন গ্রাম্য বেদুইনকে নিয়ে আসেন যে কখনও ‘ফোনোগ্রাফ’ কিংবা ‘রেডিও’র কথা শোনেনি, আর তাকে এমন একটি কক্ষের দরজায় বসিয়ে দেন যেখানে রেডিও বাজছে; তবে সে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত (قطع) গ্রহণ করবে যে কক্ষের ভেতরে কোনো মানুষ কথা বলছে।
যে ব্যক্তি এই উদাহরণ এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করবে, সে এই আশঙ্কা করবে যে, হয়তো এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলোকে সে সুনিশ্চিত (قطع) বলে মনে করে...
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০১)
ويرى أنه عالمٌ بها، إنما هي ظنونٌ قد تتخلف. وطريق الخلاص من هذا مشروحةٌ في موضع آخر.
[ص 2] الفائدة الرابعة: حكم الذهن الجازم يسمَّى "اعتقادًا"، وقد يكون عن علمٍ، وقد يكون عن ظنٍّ غالبٍ.
والفصل بينهما أنَّ الحكم إن كان خطأً فهو عن ظنٍّ، وهذا هو الذي يُسمَّى بالجهل المركب؛ لأنَّ صاحبه يجهل، ويجهل أنه يجهل، أي لا يعلم حقيقة الحال، ويرى أنه عالمٌ. وأما الجهل البسيط فهو أن يجهل حقيقة الحال، ويعلم أنه جاهل بها.
وإن كان الحكم صوابًا، فللمعتقد حالان:
الأول: أن يكون بنى اعتقاده على دليل يفيد العلم؛ سواءٌ أكان دليلًا معيَّنًا، أم مجموعَ أمورٍ إنما يفيد كلٌّ منها بانفراده ظنًّا ما، ولكنها بمجموعها تفيد القطع، وسواءٌ استطاع المعتقد أن يُعبِّر عن ذلك الدليل أم لم يستطع، وهذا كله علم.
الحال الثانية: أن يكون بنى اعتقاده على دليل يجوز أن يتخلَّف، ولكنه لم يشعر بجواز تخلُّفه؛ كالبدوي الذي تقدم آنفًا، إذا وَقَفْتَه قريبًا من حجرة يسمع فيها غناءً، فإنه يقطع أنَّ فيها إنسانًا يُغنِّي. ودليله قد يتخلَّف كما مر، فهذا اعتقادٌ ليس بعلم، وإن صادف الواقع.
الفائدة الخامسة: كثيرًا ما يطلق الظنّ على الخرْص والتخمين، وهو ما يُبنَى فيه الحكم على أمارة ضعيفة محتملةٍ للتخلُّف احتمالًا ظاهرًا.
والعاقل لا يبني على مثله إلَّا حيث لا خطر، ولكن كثيرًا ما يتقوَّى مثل
এবং তিনি মনে করেন যে তিনি সে বিষয়ে অবগত, অথচ এগুলো কেবলই ধারণা (ظنون) যা ভুল প্রমাণিত হতে পারে। এ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায় অন্য স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে।
[পৃষ্ঠা ২] চতুর্থ ফায়দা: মনের দৃঢ় সিদ্ধান্তকে "বিশ্বাস (اعتقاد)" বলা হয়; এটি কখনো জ্ঞান (علم) থেকে হতে পারে, আবার কখনো প্রবল ধারণা (ظن غالب) থেকে হতে পারে।
এ দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো—সিদ্ধান্তটি যদি ভুল হয়, তবে তা ধারণা (ظن) থেকে উদ্ভূত, আর একেই বলা হয় "জটিল মূর্খতা (الجهل المركب)"; কারণ এর ধারক অজ্ঞ এবং সে যে অজ্ঞ সে সম্পর্কেও সে অজ্ঞ। অর্থাৎ সে বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা জানে না অথচ নিজেকে বিজ্ঞ বলে মনে করে। আর "সরল মূর্খতা (الجهل البسيط)" হলো বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা না জানা এবং নিজে যে এ বিষয়ে অজ্ঞ তা অবগত থাকা।
আর যদি সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়, তবে বিশ্বাসীর ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা হতে পারে:
প্রথমত: সে তার বিশ্বাসের ভিত্তি এমন দলিলের (دليل) ওপর রেখেছে যা জ্ঞান (علم) প্রদান করে; চাই সেটি কোনো নির্দিষ্ট দলিল হোক কিংবা এমন কতিপয় বিষয়ের সমষ্টি হোক যার প্রতিটি পৃথকভাবে কেবল একপ্রকার ধারণা (ظن) প্রদান করে কিন্তু সামগ্রিকভাবে তা সুনিশ্চিত জ্ঞান (القطع) প্রদান করে। বিশ্বাসী সেই দলিলটি ব্যক্ত করতে সক্ষম হোক বা না হোক, এর পুরোটাই জ্ঞান (علم)।
দ্বিতীয় অবস্থা: সে তার বিশ্বাসের ভিত্তি এমন দলিলের ওপর রেখেছে যা ভ্রান্ত হওয়ার অবকাশ রাখে, কিন্তু সে এর ভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনুভব করেনি। যেমন পূর্বে উল্লিখিত সেই বেদুইনের উদাহরণ—তাকে যদি কোনো কক্ষের কাছে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় যেখান থেকে গান শোনা যাচ্ছে, তবে সে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেবে যে ভেতরে কোনো মানুষ গান গাইছে। কিন্তু পূর্বেই যেমন অতিক্রান্ত হয়েছে, তার দলিলটি ভুল হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; সুতরাং এটি বিশ্বাস (اعتقاد), কিন্তু জ্ঞান (علم) নয়—যদিও তা বাস্তবের সাথে মিলে যায়।
পঞ্চম ফায়দা: অনেক সময় ধারণা (الظن) শব্দটি অনুমান (الخرص) এবং আন্দাজ (التخمين) অর্থে ব্যবহৃত হয়; আর এটি হলো এমন বিষয় যেখানে সিদ্ধান্তকে এমন কোনো দুর্বল (ضعيفة) নিদর্শনের ওপর ভিত্তি করা হয় যার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট।
আর বুদ্ধিমান ব্যক্তি ঝুঁকির ক্ষেত্র ছাড়া এমন কিছুর ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না, তবে অনেক সময় এই জাতীয় বিষয় শক্তিশালী (يتقوى) হয়...
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০২)
هذا الأمر بجهل الخطر، ثم بهوًى أو عصبية، فيمنع صاحبه بحرصه عليه عن أن يسمح لنفسه بالتشكك فيه، فيُبنَى عليه أمرٌ عظيم الخطر، فيسمَّى "اعتقادًا".
الفائدة السادسة: كثيرًا ما يطلق العلم ويراد به الفن، يقال: هذا الكتاب في علم المعاني، أي: في فن المعاني.
* * * *
المبحث الثانيالأصول جمع أصل، وأصل الشيء ما يقوم أي ينبني عليه؛ كأصل الشجرة، وهو جُرثومتها النابتة في الأرض، وأصل الجدار، وهو أساسه.
قال الراغب
(1): "أصل الشيء: قاعدته التي لو توهمت مرتفعةً لارتفع بارتفاعه سائره لذلك، قال تعالى: {أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ} [إبراهيم: 24] ".
* * * *
المبحث الثالثالفقه في اللغة: العلم وحسن الفهم.
قال الراغب
(2): "هو التوصل إلى علم غائب بعلمٍ شاهد، وهو أخصُّ من العلم، قال: {لَا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا} [النساء: 78] ".
--------------------------------------------
এই বিষয়টি বিপদের ব্যাপারে অজ্ঞতার কারণে ঘটে, এরপর প্রবৃত্তি বা অন্ধ পক্ষপাতিত্বের কারণে। ফলে এর প্রতি অতি আগ্রহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের মনে সন্দেহ পোষণ করা থেকে বিরত রাখে। অতঃপর এর ওপর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কোনো বিষয় গড়ে ওঠে, আর একেই "বিশ্বাস (اعتقاد)" বলা হয়।
ষষ্ঠ উপকারিতা: অনেক সময় জ্ঞান (علم) শব্দটি ব্যবহার করা হয় এবং এর দ্বারা শাস্ত্র (فن) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। বলা হয়: "এই কিতাবটি মা'আনি জ্ঞান (علم) বিষয়ক," অর্থাৎ: মা'আনি শাস্ত্র (فن) বিষয়ক।
* * * *
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদউসুল হলো মূল (أصل) শব্দের বহুবচন। কোনো বস্তুর মূল (أصل) হলো তা, যার ওপর অন্য কিছু দাঁড়িয়ে থাকে বা নির্মিত হয়; যেমন বৃক্ষের মূল (أصل), যা মাটির নিচে প্রোথিত তার শিকড়, এবং দেয়ালের মূল (أصل), যা তার ভিত্তি।
রাগিব বলেন: "কোনো বস্তুর মূল (أصل) হলো তার এমন ভিত্তি (قاعدة) যা অপসারিত হয়েছে বলে কল্পনা করলে তার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য সবকিছুও অপসারিত হয়ে যায়। এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যার মূল (أصل) সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে বিস্তৃত} [ইব্রাহিম: ২৪]।"
* * * *
তৃতীয় পরিচ্ছেদফিকহ আভিধানিক অর্থে: জ্ঞান (علم) এবং উত্তম অনুধাবন।
রাগিব বলেন: "তা হলো দৃশ্যমান জ্ঞানের (علم) মাধ্যমে কোনো অদৃশ্য জ্ঞান (علم) অর্জন করা। এটি সাধারণ জ্ঞানের (علم) চেয়ে অধিক বিশেষ। তিনি বলেন: {তারা কোনো কথা (হাদিস) অনুধাবন করার নিকটবর্তী হয় না} [নিসা: ৭৮]।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৩)
والفقه في العرف: العلم بالأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية.
قالوا: والمراد بالعلم هنا ما يشمل الظن؛ لأنَّ غالب أدلَّة الأحكام الشرعية ظني.
تنبيه: عُلِم مما ذُكِر أنَّ الفقيه هو المجتهد، فالمقلِّد ليس بفقيه، ولكن الفقه كثيرًا ما يطلق على كلام المجتهد، وما بُنِي عليه. فإذا عرف المقلِّد ذلك قيل له: "فقيه"؛ بمعنى أنه عارف بما حصل عن فقه المجتهد.
فائدة: الدليل فعيل بمعنى فاعل، مِن "دلَّ على كذا" أي: أوصل إلى معرفته. ومنها: دللتُ فلانًا على الطريق، والدخان يدلُّ على النار، وعرضُ القفا يدلُّ على البلادة.
وقد تكون الدلالة قاطعة، وقد تكون ظنية، وتخصيص بعضهم الدليلَ بما يُعطِي القطعَ اصطلاح.
* * * *
المبحث الرابع
قولهم: "أصول الفقه"، معناه: الأشياء التي ينبني عليها الفقه.
والفقه ينبني على أمور:
أولها: أصول الدين.
ثانيها: علم اللسان.
ثالثها: الكتاب والسنة وما دلَّا عليه من الأدلة الإجمالية، وما اشتمل عليه ذلك من الأدلة التفصيلية.
পরিভাষায় ফিকহ হলো: বিস্তারিত দলিলসমূহ (الأدلة التفصيلية) থেকে আহরিত ব্যবহারিক শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কিত জ্ঞান।
আলেমগণ বলেন: এখানে জ্ঞান দ্বারা এমন বিষয় উদ্দেশ্য যা প্রবল ধারণা (الظن)-কেও অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ শরয়ি বিধানাবলির অধিকাংশ দলিলই ধারণাপ্রসূত (ظني)।
সতর্কবার্তা: যা উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ফকিহ হলেন মূলত মুজতাহিদ (المجتهد), সুতরাং মুকাল্লিদ (المقلد) ফকিহ নন। তবে ফিকহ শব্দটি প্রায়শই মুজতাহিদের বক্তব্য এবং যার ওপর ভিত্তি করে তা গড়ে উঠেছে তার ওপর প্রয়োগ করা হয়। অতএব, মুকাল্লিদ যখন তা অবগত হন, তখন তাকে 'ফকিহ' বলা হয়; এই অর্থে যে তিনি মুজতাহিদের ফিকহ থেকে যা লব্ধ হয়েছে সে সম্পর্কে পরিজ্ঞাত।
জ্ঞাতব্য: 'দলিল' (الدليل) শব্দটি 'কর্তা' বা ফায়িল (فاعل) এর অর্থে ব্যবহৃত 'ফায়িল' (فعيل) ওজনের শব্দ, যা 'কোনো কিছুর পথ নির্দেশ করা' ধাতু থেকে আগত, অর্থাৎ: যা কোনো কিছুর জ্ঞানের দিকে পৌঁছে দেয়। এর প্রয়োগ হিসেবে বলা হয়: আমি অমুককে পথের দিশা দিয়েছি, ধোঁয়া আগুনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে এবং ঘাড়ের প্রশস্ততা স্থূলবুদ্ধির পরিচয় দেয়।
আর নির্দেশিকা বা প্রমাণ্যতা কখনো নিশ্চিত (قاطعة) হতে পারে, আবার কখনো ধারণাপ্রসূত (ظنية) হতে পারে। আর কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের পক্ষ থেকে দলিল (الدليل) শব্দটিকে কেবল নিশ্চিত (القطع) ফল দানকারী প্রমাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা একটি পারিভাষিক বিষয়।
* * * *
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
তাদের উক্তি: "উসুলুল ফিকহ", এর অর্থ হলো: সেই সকল বিষয় যার ওপর ফিকহ ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
আর ফিকহ কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:
প্রথমত: দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (أصول الدين)।
দ্বিতীয়ত: ভাষা বিজ্ঞান (علم اللسان)।
তৃতীয়ত: কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহ এবং এ দুটির নির্দেশিত সামগ্রিক দলিলসমূহ (الأدلة الإجمالية) এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিস্তারিত দলিলসমূহ (الأدلة التفصيلية)।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৪)
رابعها: قواعد كلية يتوقَّف عليها فهم الأحكام من الأدلة التفصيلية. وهذه هي
(1) أصول الفقه اصطلاحًا، وذلك كقولنا: "ظاهر القرآن حجة"، و"الأمر يقتضي الوجوب"، و"النهي يقتضي التحريم"، و"الخاصّ يخصُّ العام"، و"العامُّ حجة فيما بقي"، وأشباه ذلك.
* * * *
المبحث الخامس
(2)قد عُرِف مما تقدَّم معنى قولهم: "علم أصول الفقه"، فلا نُطيل ببيانه.
--------------------------------------------
চতুর্থটি: সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ (قواعد كلية) যার ওপর বিস্তারিত দলিলসমূহ (الأدلة التفصيلية) থেকে বিধানাবলি অনুধাবন করা নির্ভর করে। আর এগুলোই হলো
(১) পারিভাষিক উসূলে ফিকহ (أصول الفقه اصطلاحًا); যেমন আমাদের এই কথা বলা: "কুরআনের প্রকাশ্য রূপ (ظاهر) একটি দলিল (حجة)", "নির্দেশ (الأمر) আবশ্যকতা (الوجوب) প্রদান করে", "নিষেধাজ্ঞা (النهي) হারাম হওয়া (التحريم) দাবি করে", "বিশেষ (الخاص) সাধারণকে (العام) সুনির্দিষ্ট করে", "সাধারণ (العام) অবশিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য", এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
* * * *
পঞ্চম পরিচ্ছেদ (المبحث الخامس)
(২)ইতোপূর্বে যা অতিবাহিত হয়েছে তা থেকে তাদের ব্যবহৃত পরিভাষা "ইলমুল উসূলে ফিকহ" (علم أصول الفقه)-এর অর্থ জানা গেছে, তাই এর বর্ণনায় আমরা দীর্ঘসূত্রতা করব না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৫)
الفصل الثانيفي أنَّ أصول الفقه لا بدَّ أن تكون قطعيةً (1)شاع بين أهل العلم أنَّ أصول الفقه لا يكفي فيها غلبةُ الظن، بل لا يصحُّ البناء عليها حتى تكون قطعية. ونازع فيه بعض أهل العلم؛ بأنَّ كثيرًا من القواعد التي تُذكَر في أصول الفقه ظنّي.
[ص 3] كيف وغالبها مختلف فيه بين أهل العلم، ونجد العالم منهم إنما يحتج لقوله بحجة ظنية، وكثيرًا ما يعبِّرون بما يفيد أنه ليس عندهم إلَّا الظن، كقولهم: الأصح، الظاهر، الراجح، وغير ذلك.
وقد أُجيب بأنَّ من القواعد ما هو قطعي بمجموع أدلّةٍ كلٌّ منها بانفراده
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদউসুলুল ফিকহ অবশ্যই অকাট্য (قطعية) হওয়া প্রসঙ্গে (১)আলেমদের মাঝে এটি সুপ্রসিদ্ধ যে, উসুলুল ফিকহের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা (غلبة الظن) যথেষ্ট নয়; বরং যতক্ষণ পর্যন্ত তা অকাট্য (قطعية) না হয়, ততক্ষণ এর ওপর কোনো বিধানের ভিত্তি স্থাপন করা শুদ্ধ নয়। তবে কোনো কোনো আলেম এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন এই যুক্তিতে যে, উসুলুল ফিকহে উল্লিখিত অনেক মূলনীতিই (قواعد) ধারণাভিত্তিক (ظني)।
[পৃষ্ঠা ৩] তা কীভাবে (অকাট্য হয়), যেখানে এগুলোর অধিকাংশ বিষয়েই আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে? আমরা দেখতে পাই যে, তাদের মধ্যকার কোনো আলেম তার মতের সপক্ষে কেবল ধারণাভিত্তিক (ظنية) দলিল (حجة) দ্বারাই প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তারা প্রায়শই এমন শব্দ ব্যবহার করেন যা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাদের নিকট কেবল প্রবল ধারণাই (الظن) রয়েছে; যেমন তাদের উক্তি: অধিকতর শুদ্ধ (الأصح), সুস্পষ্ট (الظاهر), অগ্রগণ্য (الراجح) ইত্যাদি।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, মূলনীতিগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা এমন কতগুলো দলিলের সমষ্টির মাধ্যমে অকাট্য (قطعي) হয়েছে যার প্রতিটি এককভাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৬)
ظني؛ فيعترض بعضُ الناس كلَّ دليلٍ منها بانفراده، فيتوهم أن تلك القاعدة ظنية.
وهذا جواب قد يصحُّ في بعض القواعد لا جميعها، فإنَّ كثيرًا منها لا ترتفع دلالةُ أدلتِه بمجموعها عن الظن.
وقد يجاب بأن تلك القواعد وإن لم تكن قطعية في صحتها، فهي قطعية في وجوب الأخذ بها.
فقولنا: "الأمر يقتضي الوجوب" إذا لم يتيسَّر للمجتهد القطعُ بصحتها، فإنه قد يتتبع عدةَ أوامرَ خاليةٍ عن القرينة المقتضية للوجوب والصارفة عنه، فيستظهر اقتضاءها الوجوبَ، وأنَّ اقتضاء الوجوب مقتضَى الأمر، فيلزمه قطعًا الأخذُ بذلك؛ لاندراجه تحت أصل قطعي، وهو وجوب حمل الكلام على ظاهره ما لم يَصرِفْ عنه صارف. ولا شك أن المراد بالظاهر هنا ما يشمل الظاهر للمجتهد: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا} [الطلاق: 7].
وقد يُقدَح في هذا الجواب بوجهين:
الأول: أن ظاهر عبارات مشترطي قطعية الأصول، وصريحَ كلام بعضهم أنَّ مرادهم قطعية الصحة، لا قطعية وجوب الأخذ.
الوجه الثاني: أن قطعية وجوب الأخذ عامة في جزئيات الشريعة، فلا وجه لتخصيص الأصول منها.
وبيانه أنه ليس للمجتهد أن يقول في الدين إلا بما رآه دليلًا شرعيًّا، والأخذ بما رآه دليلًا شرعيًّا واجب قطعًا. فيقول في كل جزئية: أرى هذا دليلًا شرعيًّا، والأخذ بما أراه دليلًا شرعيًّا واجبٌ عليّ قطعًا.
ধারণাপ্রসূত (ظني); ফলে কিছু লোক এর প্রতিটি দলিলকে পৃথকভাবে আপত্তি জানায় এবং ধারণা করে যে, সেই মূলনীতিটি ধারণাপ্রসূত (ظني)।
এটি এমন একটি উত্তর যা কিছু মূলনীতির ক্ষেত্রে সঠিক হতে পারে, তবে সবগুলোর ক্ষেত্রে নয়; কারণ অনেক মূলনীতির দলিলের সামগ্রিক নির্দেশিকা ধারণার (ظن) ঊর্ধ্বে উন্নীত হয় না।
আবার এভাবেও উত্তর দেওয়া যেতে পারে যে, এই মূলনীতিগুলো যদিও তাদের বিশুদ্ধতার দিক থেকে নিশ্চিত (قطعية) নয়, তবুও তা গ্রহণ করার আবশ্যিকতার দিক থেকে নিশ্চিত (قطعية)।
যেমন আমাদের বক্তব্য: "আদেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে"—যখন কোনো মুজতাহিদের পক্ষে এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) অর্জন করা সম্ভব হয় না, তখন তিনি এমন অনেকগুলো আদেশ অনুসন্ধান করতে পারেন যা ওয়াজিব সাব্যস্তকারী কিংবা ওয়াজিব থেকে বিচ্যুতকারী কোনো আলামত থেকে মুক্ত। ফলে তার কাছে এর ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় এবং এটি প্রতীয়মান হয় যে, ওয়াজিব হওয়াই আদেশের দাবি। এমতাবস্থায় এটি গ্রহণ করা তার জন্য নিশ্চিতভাবে আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ এটি একটি নিশ্চিত মূলনীতি (أصل قطعي)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা হলো: কোনো বক্তব্যকে তার বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব যতক্ষণ না কোনো প্রমাণ তা থেকে বিচ্যুত করে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এখানে বাহ্যিক অর্থ বলতে মুজতাহিদের কাছে যা বাহ্যিক বা প্রকাশ্য তা-ও অন্তর্ভুক্ত: {আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা দেন না যা তিনি তাকে দিয়েছেন} [আত-তালাক: ৭]।
এই উত্তরের ওপর দুটি দিক থেকে আপত্তি তোলা যেতে পারে:
প্রথমত: উসুলের ক্ষেত্রে নিশ্চিত (قطعية) হওয়ার শর্ত যারা আরোপ করেছেন তাদের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক এবং কারো কারো সুস্পষ্ট বক্তব্য এটাই প্রমাণ করে যে, তাদের উদ্দেশ্য হলো বিশুদ্ধতার নিশ্চিত হওয়া (قطعية الصحة), আমল করার আবশ্যিকতার নিশ্চিত হওয়া (قطعية وجوب الأخذ) নয়।
দ্বিতীয় দিক: আমল করার আবশ্যিকতা নিশ্চিত (قطعية) হওয়ার বিষয়টি শরয়ি সকল খুঁটিনাটি বিষয়েই সাধারণ, তাই উসুল বা মূলনীতিগুলোকে এর জন্য নির্দিষ্ট করার কোনো বিশেষ কারণ নেই।
এর ব্যাখ্যা হলো: একজন মুজতাহিদের জন্য দ্বীনের বিষয়ে এমন কিছু বলা সমীচীন নয় যা তিনি শরয়ি দলিল (دليل شرعي) হিসেবে দেখেন না, আর যা তিনি শরয়ি দলিল (دليل شرعي) হিসেবে দেখেন তা অনুসরণ করা নিশ্চিতভাবে ওয়াজিব। সুতরাং তিনি প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে বলবেন: আমি একে শরয়ি দলিল (دليل شرعي) মনে করি, আর যা আমি শরয়ি দলিল (دليل شرعي) মনে করি তা অনুসরণ করা আমার ওপর নিশ্চিতভাবে ওয়াজিব।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৭)
نعم، قد يستفاد من هذا جواب آخر، وهو أنَّ القواعد التي تُذكر في أصول الفقه على ضربين:
الأول: الأصول الحقَّة.
الثاني: ضوابط تحيط بجزئياتٍ تندرج تحت أصل من الضرب الأول؛ فكما أنَّ المجتهد إذا سمع قول الله تعالى: {وَالَّذِينَ يَبْتَغُونَ [الْكِتَابَ]
… } [النور: 33]. فرأى أنَّ ظاهر الكلام وجوب المكاتبة بشرطها، لزمه القول بها قطعًا؛ للقطع بوجوب حمل الكلام على ظاهره ما لم يصرف عنه صارف.
فقد وجب الأخذ هنا قبل استحضار قولنا: "الأمر يقتضي الوجوب"، غاية الأمر أنه قد يتبع عدة أوامر إلى آخر ما تقدم، فيضع هذا الضابط: "الأمر يقتضي الوجوب".
وعلى هذا فتسمية هذه الضوابط أصولًا لا يخلو من تسمُّح.
[ص 4] ويجاب بأنَّ كثيرًا من القواعد إنما هي ضوابط لجزئيات كثيرة تندرج كلها في أصول قطعية.
فمن هذا قولهم: "الأمر يقتضي الوجوب"، و"النهي يقتضي التحريم"؛ فإنَّ الجزئيات التي تدخل تحت كل منهما تدخل تحت أصل "الكلام محمول على ظاهره ما لم يَصرِفْ عنه صارف". ولا ريب أنَّ الظاهر هنا يشمل الظاهر عند المجتهد ــ وقد خالفه غيره ــ، ويشمل الظاهر عنده ظنًّا، {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا مَا آتَاهَا}.
فإذا نظر المجتهد في نص فيه أمرٌ، فوجد الظاهر اقتضاء الوجوب، علم أنَّ تلك الجزئية داخلة في أصل "الكلام محمول على ظاهره
… إلخ"، فلزمه
হ্যাঁ, এখান থেকে অন্য একটি উত্তরও লাভ করা যেতে পারে, আর তা হলো উসুলুল ফিকহে (أصول الفقه) উল্লিখিত নিয়মাবলি দুই প্রকার:
প্রথমত: যথার্থ মূলনীতিসমূহ (الأصول الحقة)।
দ্বিতীয়ত: এমন সব বিধিবিন্যাস (ضوابط) যা প্রথম প্রকারের কোনো মূলনীতির (أصل) অন্তর্ভুক্ত শাখা-বিষয়গুলোকে পরিবেষ্টন করে থাকে; যেমন একজন মুজতাহিদ (المجتهد) যখন আল্লাহ তাআলার বাণী শোনেন: {আর তোমাদের মালিকানাধীনদের মধ্যে যারা মুক্তিপণ চুক্তির [الْكِتَابَ]
… } [নূর: ৩৩]। তিনি যদি মনে করেন যে, বাক্যের বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) শর্ত অনুযায়ী মুক্তিপণ চুক্তির (المكاتبة) আবশ্যকতা বুঝাচ্ছে, তবে অকাট্যভাবে (قطعًا) সেটি মেনে নেওয়া তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে; কারণ কোনো বিচ্যুতকারী প্রমাণ না থাকা পর্যন্ত বাক্যকে তার বাহ্যিক অর্থের (ظاهر) ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি অকাট্য।
সুতরাং আমাদের এই উক্তি: "আদেশ আবশ্যকতা (الوجوب) দাবি করে" — এটি স্মরণ করার আগেই এখানে তা গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। বড়জোর বিষয়টি এমন যে, কেউ পূর্ববর্ণিত বিষয়ের শেষ পর্যন্ত একাধিক আদেশ অনুসরণ করেন, অতঃপর এই বিধানটি (الضابط) নির্ধারণ করেন: "আদেশ আবশ্যকতা (الوجوب) দাবি করে"।
আর এই ভিত্তিতে, এই বিধানগুলোকে (الضوابط) মূলনীতি (أصول) হিসেবে নামকরণ করা শিথিলতা বর্জিত নয়।
[পৃষ্ঠা ৪] এর উত্তরে বলা যায় যে, অনেক নিয়মই মূলত এমন সব বিধান (ضوابط) যা বহু শাখা-বিষয়ের জন্য প্রযোজ্য এবং তার সবই অকাট্য মূলনীতিসমূহের (أصول قطعية) অন্তর্ভুক্ত।
এরই উদাহরণ হলো তাদের এই উক্তি: "আদেশ আবশ্যকতা (الوجوب) দাবি করে" এবং "নিষেধ হারাম হওয়া (التحريم) দাবি করে"; কেননা এই দুটির প্রত্যেকটির অধীনে যেসব শাখা-বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়, সেগুলো এই মূলনীতির (أصل) অন্তর্ভুক্ত যে, "বাক্যকে তার বাহ্যিক অর্থের (ظاهر) ওপর ততক্ষণ প্রয়োগ করা হবে যতক্ষণ না অন্য কোনো বিচ্যুতকারী (صارف) প্রমাণ থাকে।" এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এখানে বাহ্যিক অর্থ বা জাহের (الظاهر) বলতে মুজতাহিদের নিকট যা সুস্পষ্ট তাও অন্তর্ভুক্ত —যদিও অন্য কেউ তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারে— এবং তার নিকট প্রবল ধারণা (ظنًّا) হিসেবে যা সুস্পষ্ট তাও এর অন্তর্ভুক্ত, {আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তিনি তাকে দিয়েছেন}।
অতএব মুজتাহিদ (المجتهد) যখন এমন কোনো পাঠ বা নস (نص) নিয়ে গবেষণা করেন যাতে কোনো আদেশ রয়েছে এবং তিনি দেখতে পান যে বাহ্যিকভাবে তা আবশ্যকতা (الوجوب) দাবি করছে, তখন তিনি বুঝতে পারেন যে সেই শাখা-বিষয়টি এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত যে "বাক্যকে তার বাহ্যিক অর্থের (ظاهر) ওপর
… ইত্যাদি" প্রয়োগ করা হবে, ফলে এটি তার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৮)
القول فيها بالوجوب. ثم ينظر في أوامر أخرى فكذلك، فينظر في سبب ظهور اقتضاء الوجوب في تلك النصوص، فيجده الأمر، فينتظم له ضابطُ: "الأمر يقتضي الوجوب". فإن تيسر القطع في هذا فذاك، وإلَّا كفى فيه الظن.
وقِسْ على هذا قولهم: "النهي يقتضي التحريم".
وربما يندرج تحت الأصل القطعي قاعدة، وتندرج تحت هذه القاعدة قاعدة أخرى، وقد تتعدَّدُ الوسائط.
এতে ওয়াজিব হওয়ার (وجوب) কথা বলা হয়েছে। অতঃপর অন্যান্য নির্দেশের (أوامر) প্রতি লক্ষ করলে সেখানেও অনুরূপ দেখা যায়; ফলে সেই নসসমূহে (نصوص) ওয়াজিব হওয়ার (وجوب) অপরিহার্যতা প্রকাশ পাওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হয় এবং দেখা যায় যে তা হলো নির্দেশ (الأمر)। এভাবে তার নিকট একটি নীতিমালা (ضابط) বিন্যস্ত হয় যে: "নির্দেশ (الأمر) ওয়াজিব হওয়াকে (وجوب) অবধারিত করে"। যদি এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) অর্জন সম্ভব হয় তবে সেটিই উত্তম, অন্যথায় প্রবল ধারণাই (الظن) এতে যথেষ্ট।
আর তাদের এই উক্তিকে এর ওপর কিয়াস বা তুলনা (قس) করুন যে: "নিষেধ (النهي) হারাম হওয়ার (التحريم) দাবি রাখে"।
কখনও কখনও কোনো অকাট্য মূলনীতির (الأصل القطعي) অধীনে একটি সাধারণ মূলনীতি (قاعدة) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সেই মূলনীতির অধীনে অন্য একটি মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত হয়; এভাবে মধ্যবর্তী মাধ্যমসমূহ (الوسائط) একাধিক হতে পারে।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩০৯)
[ص 5]
الفصل الثاني(1)في الأحكامالحكم في الأصل: القضاء، والمراد به هنا: قضاء الله تعالى على عباده إيجابًا أو تحريمًا أو غيرهما مما يأتي.
* والأحكام على ضربين:
الضرب الأول: التكليفي: وهو خمسة:
الأول: الوجوب، وهو الأمر المحتَّم، على معنى أنه إن لم يفعل كان عاصيًا.
الثاني: الندب، وهو المرغَّب فيه، على أنه إن فعل فقد أحسن، وإلَّا فليس بعاصٍ.
الثالث: الإباحة، وهو الإذن على وجهٍ يُعلَم به استواءُ الفعل والترك.
الرابع: الكراهية، وهي التنفير عن الفعل، على أنَّه إن فعل فقد أساء، ولم يبلغ أن يكون عاصيًا.
الخامس: التحريم، وهو حظر الفعل، على أنَّه إن فعل فهو عاصٍ.
وهنا مسائل:
الأولى: لا خلاف أن الوجوب له درجات، يتفاوت بها ما للعامل من الأجر، وما على التارك من الوزر. فوجوب ردِّ السلام ليس كوجوب الصلوات الخمس.
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ৫]
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ(১)বিধানসমূহ (الأحكام) প্রসঙ্গেবিধান (الحكم) শব্দের মূল অভিধানিক অর্থ হলো: ফয়সালা বা সিদ্ধান্ত। আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: বান্দাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার ফয়সালা—আবশ্যকীকরণ (إيجاب) বা নিষিদ্ধকরণ (تحريم) অথবা এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা সামনে আসছে।
* আর বিধানসমূহ (الأحكام) দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: দায়িত্বারোপকারী (التكليفي) বিধান: এটি পাঁচ প্রকার:
প্রথম: আবশ্যকতা (الوجوب), এটি হলো অবধারিত নির্দেশ, এই অর্থে যে—যদি এটি পালন না করা হয় তবে সে পাপিষ্ঠ (عاصي) হবে।
দ্বিতীয়: পছন্দনীয়তা (الندব), এটি হলো উৎসাহব্যঞ্জক বিষয়, এই অর্থে যে—যদি সে এটি পালন করে তবে সে উত্তম কাজ করল, অন্যথায় সে পাপিষ্ঠ (عاصي) হবে না।
তৃতীয়: বৈধতা (الإباحة), এটি হলো এমন অনুমতি যার মাধ্যমে কোনো কাজ করা বা না করার সমতা জানা যায়।
চতুর্থ: অপছন্দনীয়তা (الكراهية), এটি হলো কোনো কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করা, এই অর্থে যে—যদি সে এটি করে তবে সে মন্দ কাজ করল, তবে তা পাপিষ্ঠ (عاصي) হওয়ার স্তরে পৌঁছাবে না।
পঞ্চম: নিষিদ্ধকরণ (التحريم), এটি হলো কোনো কাজ নিষিদ্ধ করা, এই অর্থে যে—যদি কেউ এটি করে তবে সে পাপিষ্ঠ (عاصي) হবে।
এখানে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:
প্রথমত: এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, আবশ্যকতা (الوجوب)-এর বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যার ভিত্তিতে আমলকারীর সওয়াব এবং বর্জনকারীর গুনাহের ক্ষেত্রে তারতম্য ঘটে। যেমন সালামের উত্তর দেয়ার আবশ্যকতা (وجوب) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আবশ্যকতার (وجوب) মতো নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩১০)
والفرض والوجوب يتواردان على معنى واحد، إلَّا أنَّ الفرض يُشعِر بتأكد الوجوب. وقد اصطلح الحنفية على تخصيص الفرض لما ثبت بدليل قاطع، والواجب لما ثبت بدليل ظني. كذا نُقل عنهم، ولهم تفصيل، قيل: والخلاف لفظي.
أقول: لكنه يتعلق به خلاف معنوي، سنُلِمُّ به في محله إن شاء الله تعالى.
المسألة الثانية: الوجوب منه عيني؛ وهو ما لا يسقط الحرج عن المكلَّف بفعل غيره له. وإما كفائي؛ وهو ما يطلب حصوله، فإذا قام به بعض المكلَّفين لم يأثم الباقون بتركه.
المسألة الثالثة: ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب، وذلك كغسل شيء من حدود الوجه مع الوجه، والسفر لأداء الحج، وتحصيل ما يستر العورة وسترها للصلاة، ونحو ذلك.
فإنَّ الرجل إذا كان هو وولده خارجَ حجرةٍ مقفلةٍ فيها مصحف، وهو يعلم ذلك كله، وقال لولده: ناوِلْني المصحف؛ عُلِم من هذا الأمر أمرُه بالحركة إلى الحجرة وفتحها ونحو ذلك مما لا بدَّ منه للتوصُّل إلى مناولة المصحف.
فأما ما لا يتم الوجوب إلَّا به فلا يجب؛ فالتوبة من الذنب واجبة، ولا يتم وجوبها إلَّا بإتيان الذنب، وليس بواجب. وقضاء الدين واجب، ولا يتمُّ وجوبه إلَّا بأخذ الدين، وليس بواجب. وهكذا تحصيل النصاب للزكاة، وغيره.
ফরজ (الفرض) এবং ওয়াজিব (الوجوب) শব্দ দুটি একই অর্থের ওপর আবর্তিত হয়, তবে ফরজ (الفرض) শব্দটি ওয়াজিবের গুরুত্বের ওপর অধিকতর তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদান করে। হানাফীগণ পরিভাষা হিসেবে যা অকাট্য দলিল (دليل قاطع) দ্বারা সাব্যস্ত তাকে ফরজ (الفرض) এবং যা ধারণামূলক দলিল (دليل ظني) দ্বারা সাব্যস্ত তাকে ওয়াজিব (الواجب) হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে এমনটিই বর্ণিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে; বলা হয়েছে যে, এই মতভেদটি কেবল শব্দগত (لفظي)।
আমি বলি: তবে এর সাথে অর্থগত (معنوي) মতভেদও জড়িত রয়েছে, আমরা যথাস্থানে সে সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ তাআলা আলোচনা করব।
দ্বিতীয় মাসআলা: ওয়াজিব (الوجوب) এর মধ্য থেকে কিছু আছে ব্যক্তিগত (عيني); যা অন্য কেউ পালন করলে আদিষ্ট ব্যক্তির (مكلف) ওপর থেকে দায়ভার রহিত হয় না। আর কিছু হলো সামষ্টিক (كفائي); যার উদ্দেশ্য হলো কেবল কাজটি সম্পন্ন হওয়া, সুতরাং যদি কিছুসংখ্যক আদিষ্ট ব্যক্তি (مكلف) তা পালন করে, তবে বাকিরা তা বর্জন করার কারণে গুনাহগার হবে না।
তৃতীয় মাসআলা: ওয়াজিব (الواجب) যে মাধ্যম ব্যতীত পূর্ণ হয় না, সেই মাধ্যমটিও ওয়াজিব (واجب)। যেমন চেহারার সীমানার অংশবিশেষ চেহারার সাথেই ধৌত করা, হজ পালনের জন্য সফর করা এবং নামাজের জন্য সতর ঢাকার সরঞ্জাম সংগ্রহ করা ও সতর ঢাকা ইত্যাদি।
কারণ একজন ব্যক্তি যদি তার সন্তানসহ এমন একটি বন্ধ কক্ষের বাইরে অবস্থান করে যেখানে একটি পবিত্র কুরআন রয়েছে এবং সে সে সম্পর্কে অবগত থাকে, এরপর সে তার সন্তানকে বলে: 'আমাকে কুরআনটি দাও'; তবে এই নির্দেশ থেকে তাকে কক্ষের দিকে অগ্রসর হওয়া, দরজা খোলা এবং এই জাতীয় অন্যান্য কাজেরও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে, যা কুরআনটি হাতে পাওয়ার জন্য অপরিহার্য।
পক্ষান্তরে যার ওপর ভিত্তি করে ওয়াজিব (الوجوب) সাব্যস্ত হয় (কিন্তু যা ওয়াজিবের শর্ত নয়), তা ওয়াজিব নয়। যেমন পাপ থেকে তওবা করা ওয়াজিব, আর তওবা করার বিষয়টি পাপ করা ছাড়া সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়, তবে পাপ করা ওয়াজিব নয়। ঋণ পরিশোধ করা ওয়াজিব, কিন্তু ঋণ গ্রহণ ছাড়া পরিশোধের বিষয়টি আসে না, তবে ঋণ গ্রহণ করা ওয়াজিব নয়। একইভাবে জাকাতের জন্য নিসাব (نصاب) পরিমাণ সম্পদ অর্জন করা এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩১১)
المسألة الرابعة: الواجب المخيَّر، يكفي المكلَّفَ أن يأتي بواحدٍ مما خُيِّر فيه، وهذا مقطوعٌ به متّفق عليه.
واختلف في الثواب والعقاب إذا فعل اثنين منها فأكثر معًا، أو تركها كلها.
ومما يدل على الحق فيها: أنه لو أتلف زيد سلعةً لعمرو تساوي عشرة دراهم مثلًا، وكان عمرو محتاجًا إلى سكنى دارٍ لزيد، وأجرتها في الشهر نحو ثلاثة عشر درهمًا، وكان الصرف: الدينار
(1) باثني عشر درهمًا = جاز أن يقول الحاكم لزيد: أَسكِنْ عمرًا دارَك شهرًا، أو ادفَعْ إليه دينارًا أو عشرة دراهم. فلا ريب أنَّ الواجب في نفس الأمر هو عشرة دراهم أو ما يعدِلُها، والتخيير بين ذلك وبين ما زاد عليه هو على طريق الفضل، فإذا لم يفعل شيئًا مما ذُكِر لم يكن عليه إثم إلا بمقدار عشرة دراهم، كما لا يخفى.
المسألة الخامسة: الندب تختلف درجاته في التأكيد وعدمه، وهو والمسنون والمستحبُّ والمرغَّب فيه بمعنى.
واصطلح الحنفية على تخصيص كل منها بدرجة، ولا يتعلَّق بذلك خلافٌ معنوي فيما أعلم.
المسألة السادسة: المكروه تختلف درجاته، وكثيرًا ما يطلق على الحرام، ويميِّزون بينهما بقولهم: "مكروه تنزيهًا" و "مكروه تحريمًا".
وفي المنقول عن السلف ما يقتضي أنهم إنما يطلقون المكروه بمعنى الحرام حيث لم يكن التحريم منصوصًا؛ يتباعدون عن مقتضى قوله تعالى:
--------------------------------------------
চতুর্থ মাসয়ালা: ঐচ্ছিক ওয়াজিব (الواجب المخيَّر), যার মধ্যে তাকে পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে তার যেকোনো একটি পালন করাই মুকাল্লাফের জন্য যথেষ্ট এবং এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত ও সর্বসম্মত (متّفق عليه)।
যদি সে এগুলোর মধ্যে দুটি বা তার বেশি একসাথে পালন করে অথবা সবগুলোই বর্জন করে, তবে সেক্ষেত্রে সওয়াব ও শাস্তির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
এই বিষয়ে যা সত্যের পথনির্দেশ করে তা হলো: উদাহরণস্বরূপ, জায়েদ যদি আমরের এমন একটি পণ্য নষ্ট করে যার মূল্য দশ দিরহাম, আর আমরের জায়েদের একটি বাড়িতে থাকার প্রয়োজন হয় যার মাসিক ভাড়া প্রায় তেরো দিরহাম এবং মুদ্রার বিনিময় হার ছিল: এক দিনার
(১) সমান বারো দিরহাম; এমতাবস্থায় বিচারকের জন্য জায়েদকে বলা বৈধ যে: তুমি আমরকে এক মাস তোমার বাড়িতে থাকতে দাও, অথবা তাকে এক দিনার দাও অথবা দশ দিরহাম দাও। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে ওয়াজিব (الواجب) হলো দশ দিরহাম অথবা তার সমমূল্যের কিছু। আর এর সাথে অতিরিক্ত বিষয়ের মধ্যে পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয়েছে অনুগ্রহ হিসেবে। সুতরাং সে যদি উল্লিখিত কোনোটিই না করে তবে তার ওপর দশ দিরহামের সমপরিমাণ ছাড়া অতিরিক্ত কোনো গুনাহ হবে না, যা স্পষ্ট।
পঞ্চম মাসয়ালা: নদব (الندب)-এর গুরুত্বের তাকীদ থাকা বা না থাকার দিক থেকে বিভিন্ন স্তর রয়েছে; আর এটি এবং মাসনুন (المسنون), মুস্তাহাব (المستحب) ও মুরাগগাব ফিহ (المرغَّب فيه) সমার্থক।
হানাফীগণ এগুলোর প্রত্যেকটিকে আলাদা স্তরে নির্দিষ্ট করার পরিভাষা গ্রহণ করেছেন, তবে আমার জানামতে এতে কোনো অর্থগত বিরোধ নেই।
ষষ্ঠ মাসয়ালা: মাকরুহ (المكروه)-এর বিভিন্ন স্তর রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি হারাম (الحرام) অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাঁরা এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেন এভাবে: "মাকরুহ তানজিহি (مكروه تنزيها)" এবং "মাকরুহ তাহরিমি (مكروه تحريما)"।
সালাফদের (السلف) থেকে বর্ণিত (المنقول) বিষয়াদির মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, তাঁরা কেবল তখনই হারাম অর্থে মাকরুহ শব্দটি ব্যবহার করতেন যখন হারাম হওয়ার বিষয়টি সরাসরি নস বা উদ্ধৃতি দ্বারা প্রমাণিত হতো না; তাঁরা মহান আল্লাহর বাণীর দাবি থেকে দূরে থাকার জন্য এটি করতেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফী উসুলিল ফিকহ - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩১২)
{وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ} الآية [النحل: 116].
المسألة السابعة: الحرمة تختلف درجاتها، ويقسم في الجملة إلى قسمين: لَمَم أو صغائر، وكبائر. وجاء في بعض الذنوب أنها من أكبر الكبائر.
المسألة الثامنة: في التحريم المخيَّر، هناك ثلاث صور:
الأولى: ما يحدث بتعاطي أحد الشيئين مفسدةٌ في تعاطي الآخر، كالمرأة وابنتها في النكاح؛ فإنه إذا نكح البنتَ حرمتْ عليه الأم، وإذا نكح الأم ودخل بها حرمتْ عليه البنتُ.
الصورة الثانية: ما تكون المفسدة في الجمع، كالأختين في النكاح.
ومعلوم في هاتين الصورتين أنه قبلَ تعاطِي أحدِ الأمرين يكون تعاطِيْ كلٍّ منهما حلالًا.
{তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করার কারণে তোমরা বলো না যে, 'এটি হালাল এবং এটি হারাম'} [সূরা আন-নাহল: ১১৬]।
সপ্তম মাসআলা: নিষিদ্ধতার (حرمة) বিভিন্ন স্তর রয়েছে এবং সাধারণভাবে একে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: ছোট গুনাহ (لمم বা صغائر) এবং কবিরা গুনাহ (كبائر)। আর কিছু গুনাহের ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে, সেগুলো বড় কবিরা গুনাহের (أكبر الكبائر) অন্তর্ভুক্ত।
অষ্টম মাসআলা: ঐচ্ছিক নিষিদ্ধকরণের (التحريم المخيَّر) ক্ষেত্রে তিনটি রূপ রয়েছে:
প্রথমত: দুটি বিষয়ের একটি গ্রহণ করার ফলে অন্যটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে মফাসাদাহ (مفسدة) বা ক্ষতিকর দিক তৈরি হয়, যেমন বিবাহের ক্ষেত্রে কোনো নারী ও তার কন্যা; কেননা সে যদি কন্যাকে বিবাহ করে তবে মা তার জন্য হারাম হয়ে যায়, আর যদি মাকে বিবাহ করে তার সাথে সহবাস করে তবে কন্যা তার জন্য হারাম হয়ে যায়।
দ্বিতীয় রূপ: যেখানে দুটি বিষয়কে একত্রে জমা করার মধ্যে মফাসাদাহ (مفسدة) রয়েছে, যেমন বিবাহে দুই বোনকে একত্র করা।
আর এই উভয় রূপের ক্ষেত্রে এটি সুপরিচিত যে, দুটির কোনো একটি গ্রহণ করার আগে প্রত্যেকটি গ্রহণ করাই হালাল ছিল।