(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: -)
سبع مسائل في علم الخلاف   (عبد العزيز القارئ)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: سبع مسائل في علم الخلاف

المؤلف: أبو مجاهد، عبد العزيز بن عبد الفتاح بن عبد الرحيم بن الملاَّ محمد عظيم القارئ المدني

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: السنة السادسة - العدد الثاني - رجب 1393 هـ - أغسطس 1973 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 86

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মতভেদ শাস্ত্রের সাতটি মাসআলা (علم الخلاف)   (আবদুল আজিজ আল-ক্বারী)

বিভাগ: ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


গ্রন্থ: মতভেদ শাস্ত্রের সাতটি মাসআলা (علم الخلاف)

লেখক: আবু মুজাহিদ، আবদুল আজিজ বিন আবদিল ফাত্তাহ বিন আবদির রাহিম বিন আল-মুল্লা মুহাম্মদ আজিম আল-ক্বারী আল-মাদানি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: ষষ্ঠ বর্ষ - দ্বিতীয় সংখ্যা - রজব ১৩৯৩ হিজরি - আগস্ট ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৬

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭০)
سبع مسَائِل فِي علم الْخلاف

الِاخْتِلَاف بَين عُلَمَاء الْمُسلمين مَوْضُوع جسيم وفن مُسْتَقل عَظِيم لَا تَكْفِي عجالة قَصِيرَة لتفصيله وَاسْتِيفَاء حَقه، لكنني سأشير إِلَى مسَائِل أساسية تتَعَلَّق بِهِ لَا يجوز لأي متعلم أَن ينظر فِي قضايا الشَّرْع وعلومه إِذا كَانَت خافية عَلَيْهِ، بل يجب حِينَئِذٍ أَن ينحى عَن هَذَا الْمقَام ويحشر مَعَ الجهلة والعوام.

‌‌الْمَسْأَلَة الأولى:

هُنَاكَ قضايا شَرْعِيَّة وقواعد دينية انْقَطع فِيهَا الْخلاف وَوَجَب التَّسْلِيم وَهِي ـ القطعيات ـ أَي الْأُمُور الَّتِي ثبتَتْ ثبوتاً قَطْعِيا وَأجْمع عَلَيْهَا عُلَمَاء الْمُسلمين: كأركان الْإِسْلَام الْخَمْسَة وأركان الْإِيمَان السِّتَّة وَوُجُوب الْإِيمَان بهَا، وكعدد الصَّلَوَات الْخَمْسَة، وَعدد ركعاتها، وكتحريم الزِّنَا، والربا، وَالْخمر، وَقتل النَّفس الَّتِي حرم الله، وَكَذَلِكَ مَا أجمع عَلَيْهِ الْعلمَاء من قَوَاعِد الشَّرْع الْمُعْتَبرَة فِي أَحْكَامه مثل: لَا ضَرَر وَلَا ضرار، وَالْحُدُود تدرأ بِالشُّبُهَاتِ، وَرفع الْحَرج، وجلب التَّيْسِير وَنَحْو ذَلِك، فَتبين بِهَذَا أَن ـ القطعيات ـ تكون من الْأَنْوَاع الثَّلَاثَة: العقائد، وَالْفُرُوع، وَالْقَوَاعِد الْأُصُولِيَّة.

فَهَذِهِ كلهَا لَا اجْتِهَاد فِيهَا وَلَا مجَال للرأي وَالْخلاف، بل هِيَ أسس وقواعد
মতপার্থক্য শাস্ত্রের (علم الخلاف) সাতটি মাসআলা

মুসলিম পণ্ডিতদের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য (الخلاف) একটি বিশাল বিষয় এবং এক সুমহান স্বতন্ত্র শাস্ত্র, যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও যথাযথ হক আদায়ের জন্য সংক্ষিপ্ত কোনো আলোচনা যথেষ্ট নয়। তবে আমি এ সংক্রান্ত কিছু মৌলিক বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করব, যা কোনো শিক্ষার্থীর কাছে অস্পষ্ট থাকলে শরয়ি বিষয়াদি ও এর ইলম নিয়ে গবেষণা করা তার জন্য বৈধ নয়; বরং এমতাবস্থায় তার জন্য এই উচ্চতর অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানো এবং অজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের কাতারে শামিল হওয়াই আবশ্যক।

‌‌প্রথম মাসআলা:

এমন কিছু শরয়ি বিষয় ও ধর্মীয় মূলনীতি রয়েছে যেখানে মতপার্থক্যের (الخلاف) অবসান ঘটেছে এবং সেগুলোর প্রতি আত্মসমর্পণ করা ওয়াজিব। আর এগুলো হলো সুনিশ্চিত বিষয় (القطعيات); অর্থাৎ এমন বিষয় যা অকাট্যভাবে (ثبوتاً قطعياً) প্রমাণিত এবং মুসলিম পণ্ডিতগণ সে বিষয়ে ঐক্যমত (أجمع) পোষণ করেছেন। যেমন: ইসলামের পাঁচটি রুকন, ঈমানের ছয়টি রুকন এবং এগুলোর প্রতি ঈমান আনার আবশ্যকতা; তদ্রূপ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এর রাকাত সংখ্যা এবং জিনা, সুদ, মদ্যপান ও আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ প্রাণ হত্যা হারাম হওয়া। একইভাবে বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে শরয়ি স্বীকৃত যেসব মূলনীতির ওপর ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত (أجمع) হয়েছেন, যেমন: 'ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না', 'সন্দেহের কারণে দণ্ডবিধি স্থগিত হয়', কষ্ট লাঘব করা এবং সহজসাধ্যতা আনয়ন ইত্যাদি। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, সুনিশ্চিত বিষয়গুলো (القطعيات) তিন ধরনের হয়ে থাকে: আকাইদ (বিশ্বাস), ফুরু (শাখা-প্রশাখা) এবং উসুলি মূলনীতি (القواعد الأصولية)।

এগুলোর কোনোটিতেই ইজতিহাদ (اجتهاد) করার সুযোগ নেই এবং নিজস্ব মতামত বা মতপার্থক্যের (الخلاف) কোনো অবকাশ নেই; বরং এগুলো হলো ভিত্তি ও মূলনীতি।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭১)
لهَذَا الشَّرْع الْعَظِيم لَا تَتَغَيَّر بِتَغَيُّر الزَّمَان وَلَا بِتَغَيُّر الْمَكَان وَمن تردد فِي التَّسْلِيم بهَا أَو شكّ فِي أمرهَا فقد شَذَّ عَن الْملَّة وشق عَصا الْمُسلمين فَقَوله مَرْدُود وخلافه بَاطِل..

أما مَا سوى القطعيات من مسَائِل الشَّرْع وَقد يسميها بَعضهم ـ الظنيات ـ فَهِيَ مَحل للِاخْتِلَاف ومجال للِاجْتِهَاد، تتنوع فِيهَا الأفهام وتختلف الآراء، وَقد دَعَا الشَّرْع إِلَى إِعْمَال الْفِكر وَاسْتِعْمَال الْعقل فِي إِدْرَاك مَعَانِيهَا واستخراج أَحْكَامهَا وعللها وأوجهها ومراميها، وَفتح الْبَاب لأهل النّظر وَفِي الْفِكر وَذَوي الْعُقُول والألباب ليجتهد كل حسب مَا أُوتِيَ فَإِن شرعنا الْعَظِيم جَاءَ لتحرير الْعقل من الأغلال الَّتِي كَانَ يرزح تحتهَا ومنحبساً فِي سردابها، وَأول قيد حطمه ـ الجمود والتقليد ـ فشنع على كل من عطل عقله وَأسلم قياده لَهما قَالَ تَعَالَى: {لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلّ} الْأَعْرَاف ـ 179.

وَهل أنزل الْقُرْآن وفُصلت الْآيَات وضُربت الْأَمْثَال إِلَّا ليتفكر النَّاس ويستعملوا عُقُولهمْ، قَالَ تَعَالَى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} النَّحْل ـ 44.

وَقَالَ: {كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الآياتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ} الْبَقَرَة ـ 219.

وَقَالَ: {وَتِلْكَ الأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} الْحَشْر ـ 21.

وَقد حث الْقُرْآن على التفكير وذم الجمود وتعطيل الْعقل وَوَصفه بالعمى: {قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَفَلا تَتَفَكَّرُونَ} الْأَنْعَام ـ 50.

وشنع على التَّقْلِيد الَّذِي يمْنَع الْإِنْسَان من قبُول الْحق ويعطل فهمه وفكره وَقد كَانَ ذَلِك من أعظم أَسبَاب ضلال الْكفَّار وعنادهم {وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إِلَاّ قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ} الزخرف ـ 23.
এই মহান শরিয়তের এই বিধানসমূহ কাল ও স্থানের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয় না। যে ব্যক্তি এতে আত্মসমর্পণ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয় অথবা এর বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে, সে মিল্লাত থেকে বিচ্যুত (شاذ) হলো এবং মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট করল; সুতরাং তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যাত (مردود) এবং তার বিরোধিতা বাতিল।

পক্ষান্তরে, শরিয়তের অকাট্য (قطعي) বিষয়াদি ব্যতীত অন্য মাসআলাগুলো—যাকে কেউ কেউ ধারণামূলক (ظني) বলে অভিহিত করেন—তা মতপার্থক্যের স্থান এবং গবেষণার (اجتهاد) ক্ষেত্র। সেখানে উপলব্ধির ভিন্নতা ও মতের বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়। শরিয়ত এর মর্মার্থ অনুধাবন এবং এর বিধান, কারণসমূহ (علل), দিকসমূহ ও লক্ষ্যসমূহ নিরূপণে চিন্তাশক্তি ও বিবেক ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। এটি গবেষক (أهل النظر) ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের জন্য চিন্তার দুয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে যেন প্রত্যেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী গবেষণা (اجتهاد) করতে পারে। কেননা আমাদের মহান শরিয়ত এসেছে বিবেককে সেই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে যার নিচে সে নিষ্পেষিত এবং যে সুড়ঙ্গে সে অবরুদ্ধ ছিল। এটি সর্বপ্রথম যে বেড়ি ভেঙেছে তা হলো—স্থবিরতা ও অন্ধ অনুকরণ (تقليد)। যে ব্যক্তি নিজের বিবেককে অকেজো করে এই দুটির হাতে সঁপে দেয়, শরিয়ত তাকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {তাদের অন্তর রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তারা তার চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট} আল-আরাফ — ১৭৯।

আর কুরআন কি অবতীর্ণ হয়েছে, আয়াতসমূহ কি বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং দৃষ্টান্তসমূহ কি পেশ করা হয়েছে কেবল মানুষ যেন চিন্তা-ভাবনা করে এবং তাদের বিবেক ব্যবহার করে সে জন্য নয়? আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন এবং যেন তারা চিন্তা-ভাবনা করে} আন-নাহল — ৪৪।

তিনি আরও বলেন: {এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যেন তোমরা চিন্তা-ভাবনা করো} আল-বাকারাহ — ২১৯।

তিনি আরও বলেন: {আর এসব দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্য পেশ করি যেন তারা চিন্তা-ভাবনা করে} আল-হাশর — ২১।

কুরআন চিন্তা-ভাবনা করার প্রতি উৎসাহিত করেছে এবং স্থবিরতা ও বিবেকের অকার্যকারিতাকে নিন্দা করেছে এবং একে অন্ধত্বের সাথে তুলনা করেছে: {বলুন, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তবে কি তোমরা চিন্তা-ভাবনা করবে না?} আল-আনআম — ৫০।

এবং এটি সেই অন্ধ অনুকরণের (تقليد) কঠোর নিন্দা করেছে যা মানুষকে সত্য গ্রহণে বাধা দেয় এবং তার বোধ ও চিন্তাশক্তিকে অকেজো করে দেয়। কাফিরদের পথভ্রষ্টতা ও হঠকারিতার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এটি: {অনুরূপভাবে, আপনার পূর্বে আমি যখনই কোনো জনপদে সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিলাসপ্রিয় লোকেরা বলেছে: ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণকারী (مقتدون)’} আজ-জুখরূফ — ২৩।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭২)
‌‌الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة:

من لَوَازِم فتح الْبَاب للفكر وَالنَّظَر وَالِاجْتِهَاد أَن يَقع الِاخْتِلَاف بَين ذَوي الْعُقُول وَأَصْحَاب التفكير وَأهل الِاجْتِهَاد لِأَن من سنَن الله عز وجل فِي خلقه أَنه لم يسوِّ بَين الأفهام والمدارك والعقول حَتَّى تتفق على عقل وَاحِد أَو فهم وَاحِد، بل تخْتَلف الأفهام وتتنوع الآراء تبعا لاخْتِلَاف دَرَجَات الْعُقُول والمدارك قُوَّة وضعفاً وانغلاقاً وانفتاحاً قَالَ تَعَالَى: {نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَنْ نَشَاءُ وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ} يُوسُف ـ 76.

وَلذَلِك نجد الشَّرْع لم يشنع على الِاخْتِلَاف الَّذِي هُوَ من هَذَا الْبَاب بل أتاح المجال كَمَا سبق بَيَانه، إِلَّا أَنه أدْرك الْأمة رَحْمَة بهَا فَبين لَهُم مَاذَا يصنعون إِذا اخْتلفُوا وَأي سَبِيل يسلكون حَتَّى لَا ينحرفوا وَيخرج بهم الِاخْتِلَاف عَن الجادة..

قَالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأََمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} .

فَفِي هَذِه الْآيَة إِشَارَة إِلَى أَن التَّنَازُع بَين الْمُؤمنِينَ المتصفين بِالطَّاعَةِ لله وَلِلرَّسُولِ ولأولي الْأَمر لَا مفر من وُقُوعه وَلَا ضَرَر إِذا اتّفق المتنازعون على الحَكَم الَّذِي يحتكمون إِلَيْهِ وَلَا يخرجُون عَن سُلْطَانه..

وَمثل الْآيَة فِي مدلولها قَوْله صلى الله عليه وسلم: "إِذا اجْتهد الْحَاكِم فَأصَاب فَلهُ أَجْرَانِ وَإِذا اجْتهد فَأَخْطَأَ فَلهُ أجر" 1.

إِذْ لَيْسَ معنى وجود مجتهدين وَوُجُود مُصِيب ومخطئ إِلَّا إِقْرَار وُقُوع الِاخْتِلَاف فِي فهم مسَائِل الشَّرْع.

هَذَا مَعَ أَن المتتبع لما ورد عَنهُ صلى الله عليه وسلم من الْآثَار الصَّحِيحَة يجد

--------------------------------------------

1 مُتَّفق عَلَيْهِ.
দ্বিতীয় মাসআলা (আলোচ্য বিষয়):

চিন্তা, গবেষণা ও ইজতিহাদের (اجتهاد) দ্বার উন্মুক্ত করার একটি অনিবার্য দাবি হলো জ্ঞানী, চিন্তাশীল এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হওয়া। কেননা সৃষ্টির মাঝে মহান আল্লাহর একটি সুন্নাহ বা রীতি হলো—তিনি সকলের বোধশক্তি, উপলব্ধি ও মেধাকে এক সমান করেননি যাতে করে সকলে একটি মাত্র মেধা বা একটি মাত্র উপলব্ধির ওপর একমত হতে পারে। বরং মেধা ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা এবং সংকীর্ণতা ও প্রশস্ততার ভিন্নতার কারণে মানুষের উপলব্ধি ও মতামতেও বৈচিত্র্য দেখা দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আমরা যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি, আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে রয়েছেন এক মহাজ্ঞানী} (ইউসুফ: ৭৬)।

এ কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, শরিয়ত এই পর্যায়ের মতভেদকে নিন্দা করেনি, বরং ইতিপূর্বে যেমন বর্ণিত হয়েছে—এর ক্ষেত্র প্রশস্ত রেখেছে। তবে উম্মতের প্রতি করুণাবশত তিনি তাদের জন্য এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তারা মতভেদ দেখা দিলে কী করবে এবং কোন পথ অবলম্বন করবে, যাতে তারা সত্যপথ থেকে বিচ্যুত না হয় এবং মতভেদ যেন তাদের মূল লক্ষ্যপথ থেকে বিচ্যুত না করে।

মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে উলিল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।}

এই আয়াতে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহ, রাসূল এবং উলিল আমরের অনুগত মুমিনদের মাঝেও বিবাদ বা মতভেদ হওয়া অনিবার্য। আর এতে কোনো ক্ষতি নেই যদি বিবাদমান পক্ষসমূহ এমন একজন বিচারকের সিদ্ধান্তে একমত হয় যার ফয়সালা তারা মেনে নেবে এবং যার কর্তৃত্বের বাইরে তারা যাবে না।

উক্ত আয়াতের মর্মার্থের অনুরূপ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: "যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তখন তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। আর যখন তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে গিয়ে ভুল করেন, তখন তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।" ১।

কেননা, একাধিক মুজতাহিদ (مجتهد) থাকা এবং তাদের মধ্যে কেউ সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া আর কেউ ভুল করার অর্থই হলো শরিয়তের মাসআলাসমূহ বুঝার ক্ষেত্রে মতভেদের বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়া।

এর সাথে সাথে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ (صحيح) আছারসমূহ অনুসন্ধান করেন তারা দেখতে পাবেন—

--------------------------------------------

১ সর্বসম্মত (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
أَن ذَلِك وَقع بَين يَدَيْهِ صلى الله عليه وسلم وَأقرهُ فالصحابة اخْتلفُوا فِي فهم أوامره وأقواله أفهاماً مُتَغَايِرَة فَلم يعنف عَلَيْهِم وَلم يوبخهم بل كَانَ يسكت أَحْيَانًا ويعينهم على فهم المُرَاد أَحْيَانًا وأوضح دَلِيل على ذَلِك حَدِيث الصَّلَاة فِي بني قُرَيْظَة1 وَحَدِيث عدي بن حَاتِم فقد فَهِم من قَوْله تَعَالَى: {حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأََبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ} ظَاهر اللَّفْظ فَاتخذ خيطين فِي وسادته أَبيض وأسود فَلم يزدْ صلى الله عليه وسلم على أَن قَالَ لَهُ: "إِن وِسَادَتك إِذا لَعَرِيض إِنَّمَا هُوَ سَواد اللَّيْل وَبَيَاض النَّهَار" 2.

وَإِنَّمَا ورد عَنهُ صلى الله عليه وسلم التعنيف على من تعرض للِاجْتِهَاد بِغَيْر علم وَأفْتى بِغَيْر بَصِيرَة وَلم يتثبت كَمَا قَالَ صلى الله عليه وسلم فِي الَّذين أفتوا المشجوج فِي رَأسه بِوُجُوب الْغسْل فَمَاتَ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم لما بلغه ذَلِك: "قَتَلُوهُ قَتلهمْ الله هلا سَأَلُوا إِذا لم يعلمُوا إِنَّمَا شِفَاء العيّ السُّؤَال" 3.

وكل مَا ورد من النُّصُوص فِي ذمّ الِاخْتِلَاف فَالْمُرَاد بِهِ الَّذِي يخرج عَن حُدُود الشَّرْع وآدابه، وَلَا يكون الْمَقْصُود بِهِ الْحق بل الْهوى والعصبية، وَكَذَلِكَ كل خلاف يتمرد على الحَكَم الَّذِي أوجب الشَّرْع الرُّجُوع إِلَيْهِ، أَو المُرَاد بِهِ الِاخْتِلَاف فِي أصل العقيدة، وَمَا أخبر بِهِ صلى الله عليه وسلم من وُقُوع الِاخْتِلَاف فِي أمته فَهُوَ التَّفَرُّق والانقسام، وَلذَلِك حذَّر مِنْهُ، وَكَذَلِكَ الْفرق الثَّلَاثَة وَالسَّبْعُونَ الَّتِي ذكر أَنَّهَا كلهَا فِي النَّار إِلَّا وَاحِدَة، فَإِن المُرَاد بهَا الِاخْتِلَاف فِي العقائد وَفِيمَا أجمع عَلَيْهِ الْمُسلمُونَ وَلذَلِك عبر بقوله (سَتَفْتَرِقُ) وَلم يقل (ستختلف) لِأَن مُطلق الِاخْتِلَاف وَقع حَتَّى بَين أَصْحَابه، وَلَعَلَّ بعض

--------------------------------------------

1 مُتَّفق عَلَيْهِ.

2 رَوَاهُ البُخَارِيّ.

3 ابْن مَاجَه وَأَبُو دَاوُد وَأحمد والدارمي وَالدَّارقطني.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে এসব বিষয় সংঘটিত হয়েছে এবং তিনি তা অনুমোদন করেছেন। সাহাবীগণ তাঁর নির্দেশ ও বাণী অনুধাবনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন, তবে তিনি তাঁদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেননি এবং তাঁদের তিরস্কারও করেননি। বরং তিনি কখনো নীরব থাকতেন, আবার কখনো তাঁদের কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অনুধাবনে সহায়তা করতেন। এর সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ হলো বনী কুরাইজায় সালাত আদায় সংক্রান্ত হাদিস এবং আদি ইবনে হাতিমের হাদিস। তিনি আল্লাহ তাআলার বাণী: "যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়" এর বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেছিলেন এবং নিজের বালিশের নিচে একটি সাদা ও একটি কালো সুতা রেখেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে কেবল এটুকু বলেছিলেন: "তোমার বালিশ তো তবে অত্যন্ত প্রশস্ত; এটি তো আসলে রাতের অন্ধকার আর দিনের শুভ্রতা।"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে তিরস্কার কেবল তাদের জন্যই বর্ণিত হয়েছে যারা জ্ঞান ব্যতীত ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে উদ্যত হয়েছে এবং সঠিক প্রজ্ঞা ছাড়াই ফতোয়া প্রদান করেছে ও বিষয়টি যাচাই করেনি। যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের সম্পর্কে বলেছিলেন যারা মাথায় জখমপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে গোসল করা আবশ্যক বলে ফতোয়া দিয়েছিল এবং ফলে সে মারা যায়। এ সংবাদ যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: "তারা তাকে হত্যা করেছে, আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন। তারা যখন জানত না, তখন কেন জিজ্ঞাসা করল না? অজ্ঞতার নিরাময় তো কেবল জিজ্ঞাসা করা।"

মতপার্থক্য (اختلاف) নিন্দার বিষয়ে যেসব দলিল বর্ণিত হয়েছে, তার দ্বারা সেই বিভেদ উদ্দেশ্য যা শরিয়তের সীমা ও শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং যার লক্ষ্য সত্য অন্বেষণ নয় বরং প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামি। একইভাবে সেই বিরোধও এর অন্তর্ভুক্ত যা এমন বিচারকের অবাধ্যতা করে যার কাছে প্রত্যাবর্তন করা শরিয়ত আবশ্যক করেছে। অথবা এর দ্বারা আকিদাগত মূল বিষয়ে মতভেদ (اختلاف) উদ্দেশ্য। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতের মাঝে যে মতভেদের কথা জানিয়েছেন, তা হলো বিচ্ছিন্নতা ও বিভাজন, আর এ কারণেই তিনি তা থেকে সতর্ক করেছেন। একইভাবে তিয়াত্তরটি দলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যাদের একটি ব্যতীত সবকটি জাহান্নামী হবে, এর দ্বারাও আকিদাগত এবং মুসলমানদের ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়ের মতভেদকে বোঝানো হয়েছে। একারণেই তিনি 'বিচ্ছিন্ন হবে' (ستفترق) শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং 'মতভেদ করবে' (ستختلف) বলেননি। কারণ সাধারণ মতপার্থক্য তো এমনকি তাঁর সাহাবীদের মধ্যেও সংঘটিত হয়েছিল, সম্ভবত কিছু...

--------------------------------------------

1 সর্বসম্মত (متفق عليه)।

2 বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

3 ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, আহমদ, দারেমি এবং দারা কুতনি।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
وَأما مَا وَقع من تفرق المقلدين فِي العصور الْمُتَأَخِّرَة الَّتِي هِيَ عصور الانحطاط فَإِنَّهُ لَا يعيب أصل مَا ذهب إِلَيْهِ أُولَئِكَ الْأَئِمَّة المرضيون من الِاخْتِلَاف إِنَّمَا يَقع الْعَيْب فِيهِ على هَؤُلَاءِ الأتباع الجهلة المتعصبين..

فَإِن اخْتِلَاف الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَالْأَئِمَّة المرضيين وَمِنْهُم الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وَاقع كُله ضمن حمى الشَّرْع وداخل أسواره، وَإِنَّمَا خرج عَن ذَلِك الْحَد إِلَى خَارج أسوار الْإِسْلَام أَمْثَال الْخَوَارِج وَالرَّوَافِض والجهمية وأشباههم مِمَّن تكلمُوا بالشبه فِي ـ قطعيات ـ الدّين.
পরবর্তী যুগগুলোতে, যা মূলত অবনতির যুগ ছিল, অনুসারীদের (مقلدين) মধ্যে যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছিল, তা ওই সকল বরেণ্য ইমামগণের মতপার্থক্যের (اختلاف) মূল সত্তাকে কলঙ্কিত করে না। বরং এর দায়ভার কেবল সেই সকল মূর্খ ও চরমপন্থী অনুসারীদের ওপরই বর্তায়।

নিশ্চয়ই সাহাবী (صحابة), তাবিঈ (تابعين) এবং বরেণ্য ইমামগণ—যাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন চার ইমাম—তাঁদের মধ্যকার মতপার্থক্য (اختلاف) সম্পূর্ণরূপে শরিয়তের সীমানা এবং এর গণ্ডির ভেতরেই ছিল। মূলত এই সীমা অতিক্রম করে ইসলামের গণ্ডির বাইরে গিয়েছিল খাওয়ারিজ, রাফেজি, জাহমিয়্যাহ এবং তাদের ন্যায় ওই সকল দল, যারা দ্বীনের সুনিশ্চিত বিষয়গুলোতে (قطعيات) সংশয় নিয়ে আলোচনা করেছিল।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
‌‌الْمَسْأَلَة الثَّالِثَة:

عُلَمَاء الْإِسْلَام المرضيون عَلَيْهِم رَحْمَة الله ورضوانه من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وتابعيهم فِي كل عصر لَا يَخْتَلِفُونَ إِلَّا بِدَلِيل أَو تَأْوِيل، وَلَا يتَصَوَّر أَن أحدا مِنْهُم يُخَالف النَّص مُعْتَمدًا أَو بِغَيْر دَلِيل.

وأخص بِالذكر الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة: أَبَا حنيفَة ومالكاً وَالشَّافِعِيّ وَأحمد لشهرتهم فِي هَذَا المجال وانتشار مذاهبهم فِي الدُّنْيَا.

فَكل من لَهُ علم وتتبع أَقْوَالهم وفتاويهم وَتَأمل استدلالهم وأصولهم العلمية يجد مصداق ذَلِك.

وَمَا طعن فِي وَاحِد مِنْهُم طَاعن إِلَّا عَن عصبية أَو جهل بقدرهم، إِذْ قد يتَبَادَر إِلَى ذهن الْقَاصِر عِنْدَمَا يرى كَثْرَة اخْتلَافهمْ ويعظم عَلَيْهِ ذَلِك وَلَا يتحمله ذكاؤه، إِذْ ينظر إِلَى ظَاهر هَذَا الِاخْتِلَاف دون أَن يُكَلف نَفسه الغوص بنظره وفكره فِي الْوُجُوه الَّتِي بنوا عَلَيْهَا أَقْوَالهم فيتبادر إِلَى ذهنه أَنهم يصادمون النَّص.

قَالَ شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية فِي رفع الملام1: "الْأَئِمَّة المقبولون الْمجمع
তৃতীয় মাসয়ালা:

সাহাবী, তাবিঈ এবং প্রত্যেক যুগের তাঁদের অনুসারীদের মধ্য থেকে ইসলামের গ্রহণযোগ্য আলেমগণ—আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক—দলিল (دليل) কিংবা ব্যাখ্যা (تأويل) ব্যতিরেকে মতভেদ করেন না। এটি কল্পনা করাও অসম্ভব যে, তাঁদের কেউ জেনেশুনে কিংবা দলিল (دليل) ছাড়াই নস (نص)-এর বিরোধিতা করবেন।

আমি বিশেষভাবে চার ইমাম—আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমদ—এর কথা উল্লেখ করছি, কারণ এই ময়দানে তাঁদের প্রসিদ্ধি এবং বিশ্বে তাঁদের মাযহাবসমূহের ব্যাপক প্রসার রয়েছে।

যাঁরই ইলম আছে এবং যিনি তাঁদের বক্তব্য ও ফতোয়াগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তাঁদের দলিলের প্রয়োগ (استدلال) ও ইলমি মূলনীতিসমূহ (أصول) নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছেন, তিনি এর সত্যতা খুঁজে পাবেন।

কোনো সমালোচক তাঁদের কারও সম্পর্কে যে সমালোচনা করেছেন, তা কেবল গোঁড়ামি অথবা তাঁদের মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণেই করেছেন। কেননা, কোনো স্বল্পপ্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তি যখন তাঁদের মতভেদের আধিক্য দেখেন, তখন তা তাঁর কাছে গুরুতর মনে হয় এবং তাঁর মেধা তা ধারণ করতে পারে না। তিনি এই মতভেদের কেবল বাহ্যিক রূপটিই দেখেন, কিন্তু যে সকল দিক বা প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা তাঁদের মতামত প্রদান করেছেন, সেগুলোর গভীরে নিজের দৃষ্টি ও চিন্তাকে নিমগ্ন করার শ্রমটুকু স্বীকার করেন না। ফলে তাঁর মনে এই ধারণার উদয় হয় যে, তাঁরা নস (نص)-এর বিরোধিতা করছেন।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘রাফউল মালাম’ গ্রন্থে বলেছেন: “ঐ সকল গ্রহণযোগ্য ইমামগণ, যাঁদের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ (مجمع)...
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
على إمامتهم من الْأمة لَا يَقُولُونَ فِي مَسْأَلَة إِلَّا عَن دَلِيل ظهر لَهُم وَإِن تبادر إِلَى ذهن الْمُبْتَدِئ أَنهم فِي اخْتلَافهمْ جانبوا الدَّلِيل". اهـ.

قلت: وَإِلَيْك مِثَالا على ذَلِك مَا رُوِيَ عَن عبد الْوَارِث بن سعيد قَالَ: " قدمت مَكَّة وَفِي رِوَايَة ـ الْكُوفَة ـ فَوجدت أَبَا حنيفَة وَابْن أبي ليلى وشبرمة فَسَأَلت أَبَا حنيفَة قلت: مَا تَقول فِي رجل بَاعَ بيعا وَشرط شرطا؟

قَالَ: البيع بَاطِل وَالشّرط بَاطِل، ثمَّ أتيت ابْن أبي ليلى فَسَأَلته فَقَالَ: البيع جَائِز وَالشّرط بَاطِل، ثمَّ أتيت ابْن شبْرمَة فَسَأَلته فَقَالَ: البيع جَائِز وَالشّرط جَائِز، فَقلت: سُبْحَانَ الله ثَلَاثَة من فُقَهَاء الْعرَاق اخْتلفُوا عليّ فِي مَسْأَلَة وَاحِدَة! فَأتيت أَبَا حنيفَة فَأَخْبَرته فَقَالَ: لَا أَدْرِي مَا قَالَا حَدثنِي عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده رضي الله عنه "أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نهى عَن بيع وَشرط"، البيع بَاطِل وَالشّرط بَاطِل. ثمَّ أتيت ابْن أبي ليلى فَأَخْبَرته فَقَالَ: لَا أَدْرِي مَا قَالَا حَدثنِي هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَ: "أَمرنِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن أَشْتَرِي بَرِيرَة وَأَشْتَرِط فَأعْتقهَا"، البيع جَائِز وَالشّرط بَاطِل. ثمَّ أتيت ابْن شبْرمَة فَأَخْبَرته فَقَالَ: لَا أَدْرِي مَا قَالَا حَدثنِي مسعر بن كدام عَن محَارب بن دثار عَن جَابر بن عبد الله قَالَ: "بِعْت النَّبِي صلى الله عليه وسلم نَاقَة وشرطت حملانها إِلَى الْمَدِينَة"، البيع جَائِز وَالشّرط جَائِز"2. وَسبب الِاخْتِلَاف بَين الْأَئِمَّة مَعْرُوف مشروح فِي أَكثر من كتاب وَمن أحسن من ألّف فِي ذَلِك وَبسط القَوْل فِيهِ شيخ الْإِسْلَام ابْن تَيْمِية فِي رفع الملام عَن الْأَئِمَّة الْأَعْلَام، وَمُحَمّد بن عبد الله بن مُحَمَّد بن السَّيِّد البطليوسي الأندلسي المتوفي سنة 521هـ فِي كِتَابه الْإِنْصَاف فِي التَّنْبِيه على الْأَسْبَاب الَّتِي أوجبت الِاخْتِلَاف بَين الْمُسلمين..

--------------------------------------------

1 الْفَتَاوَى 20 ـ 250.

2 رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَذكره الهيثمي فِي مجمع الزَّوَائِد 4ـ84 وَقَالَ: طَرِيق عبد الله بن عَمْرو فِيهَا مقَال وَذكره السُّيُوطِيّ فِي تبييض الصَّحِيفَة فِي مَنَاقِب أبي حنيفَة ط حيدر آباد 1380: 40 قَالَ: رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط قَالَ حَدثنَا عبد الله بن أَيُّوب القزي ثَنَا مُحَمَّد بن سُلَيْمَان الذهلي ثَنَا عبد الْوَارِث بن سعيد.
উম্মতের মাঝে তাঁদের ইমামতের বিষয়ে; তাঁরা কোনো মাসআলায় এমন কোনো প্রমাণ (دليل) ব্যতীত কথা বলেন না যা তাঁদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে, যদিও কোনো নবীন শিক্ষার্থীর মনে হতে পারে যে তাঁরা তাঁদের মতভেদের ক্ষেত্রে প্রমাণকে (دليل) পরিহার করেছেন।" সমাপ্ত।

আমি বলছি: এখানে এর একটি উদাহরণ তুলে ধরা হলো যা আব্দুল ওয়ারিস বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি মক্কায় আসলাম—অন্য বর্ণনায় (رواية) কুফায়—সেখানে আমি আবু হানিফা, ইবনে আবি লায়লা এবং ইবনে শুবরুমাহকে পেলাম। আমি আবু হানিফাকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম: 'এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী যে কোনো কিছু বিক্রয় করল এবং একটি শর্ত জুড়ে দিল?'

তিনি বললেন: 'বিক্রয় বাতিল (باطل) এবং শর্ত বাতিল (باطل)'। এরপর আমি ইবনে আবি লায়লার কাছে আসলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: 'বিক্রয় বৈধ (جائز) এবং শর্ত বাতিল (باطل)'। এরপর আমি ইবনে শুবরুমাহর কাছে আসলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: 'বিক্রয় বৈধ (جائز) এবং শর্ত বৈধ (جائز)'। আমি বললাম: 'সুবহানাল্লাহ! ইরাকের তিনজন ফকিহ একটি মাসআলাতেই আমার কাছে ভিন্ন ভিন্ন মত দিলেন!' তখন আমি আবু হানিফার কাছে ফিরে গিয়ে তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন: 'তারা দু’জন কী বলেছে আমি জানি না। আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) যে, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিক্রয় ও শর্ত থেকে নিষেধ করেছেন", সুতরাং বিক্রয় বাতিল (باطل) এবং শর্ত বাতিল (باطل)।' এরপর আমি ইবনে আবি লায়লার কাছে গিয়ে তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন: 'তারা কী বলেছে আমি জানি না। হিশাম ইবনে উরওয়াহ তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বারীরাকে ক্রয় করতে এবং শর্তারোপ করে তাকে মুক্ত করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন", সুতরাং বিক্রয় বৈধ (جائز) এবং শর্ত বাতিল (باطل)।' এরপর আমি ইবনে শুবরুমাহর কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন: 'তারা কী বলেছে আমি জানি না। মিসআর ইবনে কিদাম মুহারিব ইবনে দিসার থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) যে, "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একটি উট বিক্রি করেছিলাম এবং মদিনা পর্যন্ত সেটির পিঠে চড়ার শর্ত করেছিলাম", সুতরাং বিক্রয় বৈধ (جائز) এবং শর্ত বৈধ (جائز)।' ইমামগণের মধ্যে মতভেদের কারণসমূহ সুপরিচিত এবং একাধিক কিতাবে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে যারা কিতাব রচনা করেছেন এবং বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, তাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ তাঁর 'রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম' কিতাবে এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাইয়্যিদ আল-বাতালইউসি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৫২১ হিজরি) তাঁর 'আল-ইনসাফ ফিত তানবিহি আলাল আসবাবিল্লাতি আওজাবাতিল ইখতিলাফা বাইনাল মুসলিমিন' কিতাবে।

--------------------------------------------

১. আল-ফাতাওয়া ২০ - ২৫০।

২. তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) এবং হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ-এর ৪-৮৪ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের সূত্রটিতে (طريق) সমালোচনা (مقال) রয়েছে।" সুয়ূতী এটি তাবয়িদুস সাহিফা ফি মানাকিবি আবি হানিফা (হায়দ্রাবাদ সংস্করণ ১৩৮০: ৪০) কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাবারানি এটি আল-আওসাত-এ বর্ণনা করেছেন (رواه)। তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আইয়ুব আল-কাযযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আদ-দুহলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا), আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا)।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
وَمُلَخَّص هَذِه الْأَسْبَاب:

1 ـ عدم بُلُوغ النَّص للْإِمَام.

2 ـ الِاخْتِلَاف فِي قبُول الحَدِيث من نَاحيَة الْإِسْنَاد وَاخْتِلَاف أصولهم فِي ذَلِك.

3 ـ اخْتلَافهمْ فِي كَونه مَنْسُوخا أَو لَا.

4 ـ اخْتلَافهمْ فِي فهم المُرَاد من النَّص.

هَذَا مَعَ أَنه يَنْبَغِي أَن نعلم أَن الْأَلْفَاظ الْعَرَبيَّة تخْتَلف مَعَانِيهَا ومدلولاتها فَيكون لَهَا فِي بعض الأحيان معانٍ مُشْتَركَة وأوجه مُخْتَلفَة واستعمالات مُتعَدِّدَة، وَأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم كَانَ يتَكَلَّم بجوامع الْكَلم، يفصل أَحْيَانًا ويجمل أَحْيَانًا، وَكَذَلِكَ الْقُرْآن، وَرُبمَا سكتا عَن مسَائِل كَثِيرَة وتركا تفصيلها لاجتهاد الْمُجْتَهدين فيُعلم أَن فِيهَا سَعَة من جِهَة النّظر، وفيهَا مجَال للِاجْتِهَاد..
এই কারণগুলোর সারসংক্ষেপ:

১. ইমামের নিকট মূল বক্তব্য বা দলিল (النص) না পৌঁছানো।

২. সনদ (الإسناد)-এর দিক থেকে হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে ভিন্নতা এবং এ বিষয়ে তাঁদের মূলনীতিসমূহের (أصول) পার্থক্য।

৩. সেটি রহিত (منسوخ) হওয়া বা না হওয়ার ব্যাপারে তাঁদের মধ্যে মতভেদ।

৪. মূল বক্তব্য বা দলিল (النص) থেকে উদ্দেশ্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে তাঁদের মতপার্থক্য।

এর পাশাপাশি আমাদের জেনে রাখা উচিত যে, আরবি শব্দাবলির অর্থ ও দ্যোতনা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে; ফলে কখনো কখনো এগুলোর একাধিক অর্থ (مشتركة), বিভিন্ন দিক এবং বহুমুখী ব্যবহার থাকে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যন্ত সারগর্ভ বা অল্প কথায় অধিক অর্থবহ (جوامع الكلم) বক্তব্য প্রদান করতেন; তিনি কখনো বিস্তারিত বর্ণনা (يفصل) করতেন, আবার কখনো সংক্ষেপে (يجمل) বলতেন। কুরআনের বিষয়টিও অনুরূপ। অনেক সময় অনেক বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহ নীরবতা অবলম্বন করেছে এবং সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ মুজতাহিদগণের (المجتهدين) গবেষণার (اجتهاد) ওপর ছেড়ে দিয়েছে; যাতে এটা প্রতীয়মান হয় যে, এর মাঝে চিন্তাগত প্রশস্ততা রয়েছে এবং এতে গবেষণার (الاجتهاد) অবকাশ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
‌‌الْمَسْأَلَة الرَّابِعَة:

يَنْبَغِي أَن نعلم أَنه كَانَت هُنَاكَ مدرستان للسلف واتجاهان فِي طَريقَة تحمل الْعلم وتبليغه: الأولى مدرسة المحدّثين، وَالْأُخْرَى مدرسة الْفُقَهَاء، قَالَ ابْن الْقيم فِي التَّعْرِيف بِهَاتَيْنِ المدرستين1: الْعلمَاء منقسمون إِلَى قسمَيْنِ: حفاظ الحَدِيث وجهابذته القادة الَّذين هم أَئِمَّة الْأَنَام وزوامل الْإِسْلَام الَّذين حفظوا على الْأمة معاقد الدّين ومعاقله وحموا من التكدير والتغيير موارده ومناهله حَتَّى ورد من سبقت لَهُ من الله الْحسنى تِلْكَ المناهل صَافِيَة من الأدناس لم تشبها الآراء تغييراً، ووردوا فِيهَا عينا يشرب بهَا عباد الله يفجرونها تفجيراً..

وفقهاء الْإِسْلَام: من دارت الْفتيا على أَقْوَالهم بَين الْأَنَام الَّذين خُصّوا

--------------------------------------------

1 إِعْلَام الموقعين 1ـ9.
চতুর্থ মাসয়ালা:

আমাদের অবগত হওয়া প্রয়োজন যে, ইলম অর্জন ও তা প্রচারের পদ্ধতিতে সালাফদের মাঝে দুটি শিক্ষা-ধারা এবং দুটি দৃষ্টিভঙ্গি বিদ্যমান ছিল: প্রথমটি মুহাদ্দিসগণের মাদ্রাসা এবং অপরটি ফকিহগণের মাদ্রাসা। ইবনুল কায়্যিম এই দুটি মাদ্রাসার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন১: "উলামাগণ দুই ভাগে বিভক্ত: একদল হলেন হাদিসের হাফেজ (حفاظ) ও এর সূক্ষ্মদর্শী বিশেষজ্ঞ (جهابذة) নেতৃবৃন্দ, যাঁরা মানবজাতির ইমাম এবং ইসলামের ভারবাহক। তাঁরা উম্মতের জন্য দ্বীনের সুদৃঢ় রজ্জু ও দুর্গসমূহ হিফাজত করেছেন এবং এর উৎস ও ঝরনাধারাগুলোকে পঙ্কিলতা ও পরিবর্তন থেকে রক্ষা করেছেন। ফলে যাঁদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বেই কল্যাণ নির্ধারিত হয়েছে, তাঁরা সেই উৎসগুলোতে স্বচ্ছ ও নিষ্কলুষ অবস্থায় উপনীত হতে পেরেছেন; কোনো ব্যক্তিগত মতামত সেখানে পরিবর্তনের ছোঁয়া দিয়ে কোনো কলুষতা ঘটাতে পারেনি। তাঁরা এমন এক প্রস্রবণে উপনীত হয়েছেন যা থেকে আল্লাহর বান্দারা পান করেন এবং তাঁরা তা যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করেন..."

আর ইসলামের ফকিহগণ: মানুষের মাঝে ফতোয়া প্রদানের বিষয়টি যাঁদের বক্তব্যের ওপর আবর্তিত হয়, যাঁরা বিশেষভাবে মনোনীত হয়েছেন...

--------------------------------------------

১ ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন ১/৯।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭৭)
باستنباط الْأَحْكَام وعنُوا بضبط قَوَاعِد الْحَلَال وَالْحرَام فهم فِي الأَرْض بِمَنْزِلَة النُّجُوم فِي السَّمَاء بهم يَهْتَدِي الحيران فِي الظلماء وحاجة النَّاس إِلَيْهِم أعظم من حَاجتهم إِلَى الطَّعَام وَالشرَاب، وطاعتهم أفرض عَلَيْهِم من طَاعَة الْأُمَّهَات والآباء بِنَصّ الْكتاب قَالَ الله تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأََمْرِ مِنْكُمْ} قَالَ ابْن عَبَّاس: "أولو الْأَمر هم الْعلمَاء". اهـ.

قلت: فالمحدّثون اشتغلوا بِرِوَايَة السّنة وَنقد الْأَسَانِيد وَمَعْرِفَة الرِّجَال فحفظوا بذلك هَذَا الأَصْل الْعَظِيم مِمَّا دَاخله من دسائس الوضاعين وغفلات الصَّالِحين، وتخصصهم بِهَذَا الشَّأْن وتفرغهم لَهُ شغلهمْ عَن الاستنباط وَالْفِقْه وَلذَلِك تَجِد مشاهير الْمُحدثين كَابْن معِين وَابْن أبي حَاتِم وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهم مقلين فِي مجَال الْفِقْه..

وَالْفُقَهَاء اشتغلوا بدراسة النُّصُوص وفحص مَعَانِيهَا واستخراج عللها ومراميها، وَالْجمع بَينهَا أَو التَّرْجِيح، وَمَعْرِفَة ناسخها ومنسوخها وَوَضَعُوا الْأُصُول وَالْقَوَاعِد الَّتِي بهَا تُفهم النُّصُوص وتُستخرج الْأَحْكَام وَيعرف الْحَلَال وَالْحرَام، وانتصبوا للْفَتْوَى فَأَكْثرُوا مِنْهَا، وتعرضوا للْقِيَاس والتفريع فتوسعوا فيهمَا، فَصَارَت لَهُم بذلك مَذَاهِب متكاملة، ومناهج متمايزة، واشتهرت مِنْهَا الْمذَاهب الْأَرْبَعَة الَّتِي تعْتَبر كل وَاحِدَة مِنْهَا مدرسة مكتملة الْمنْهَج بأصولها وقواعدها وفروعها..

وتخصص الْفُقَهَاء بِهَذَا الشَّأْن وتفرغهم لَهُ شغلهمْ عَن الرِّوَايَة والإسناد فَكَانُوا فِي الْغَالِب مقلين فِيهَا، وقلما تَجِد إِمَامًا جمع بَيت التَّوَسُّع والتبحر فِي مجالي الرِّوَايَة وَالْفِقْه كَمَا يُقَال فِي الإِمَام أَحْمد رحمه الله.

أما أَبُو حنيفَة فقد كَانَ مقلاً فِي الراوية، إِلَّا أَن ذَلِك لَا يَعْنِي عدم حفظه للْحَدِيث إِذْ مَا جَاءَ بالفقه إِلَّا من النّظر فِي كَلَام الله وَكَلَام رَسُوله صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا شُغل بالاستنباط عَن رِوَايَة مَا بلغه من الحَدِيث، وَمن تتبع عناية هَذَا الإِمَام بالأدلة عرف ذَلِك..
আহকাম (أحكام) উদ্ভাবন (استنباط) এবং হালাল ও হারামের নিয়মাবলী সুসংহত করার বিষয়ে তারা যত্নশীল ছিলেন। পৃথিবীতে তারা আকাশের নক্ষত্ররাজিতুল্য; যাদের মাধ্যমে পথহারা মানুষ অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে দিশা পায়। মানুষের জন্য তাদের প্রয়োজনীয়তা খাদ্য ও পানীয়ের প্রয়োজনের চেয়েও অধিক। কিতাবের (কুরআন) অকাট্য বর্ণনা অনুযায়ী তাদের আনুগত্য করা পিতা-মাতার আনুগত্যের চেয়েও বেশি আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে উলিল আমর (أولي الأمر)-দের।" ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "উলিল আমর হলেন ওলামায়ে কেরাম।" সমাপ্ত।

আমি বলি: মুহাদ্দিসগণ সুন্নাহর বর্ণনা (رواية), সনদের পর্যালোচনা (نقد الأسانيد) এবং রাবীদের পরিচয় (معرفة الرجال) নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এর মাধ্যমে তারা এই মহান মূল উৎসটিকে জালিয়াতদের (وضاعين) কারসাজি এবং নেককারদের অসতর্কতা থেকে রক্ষা করেছেন। এই বিষয়ে তাদের বিশেষায়ন এবং একাগ্রতা তাদেরকে মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) ও ফিকহ থেকে বিরত রেখেছিল। এই কারণেই আপনি ইবনে মাইন, ইবনে আবি হাতিম, বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্য প্রখ্যাত মুহাদ্দিসদের ফিকহের ক্ষেত্রে স্বল্প ব্যাপৃত থাকতে দেখবেন।

আর ফকিহগণ নصوص (মূল পাঠ) অধ্যয়ন, সেগুলোর অর্থ বিশ্লেষণ, ইল্লত (علل) ও উদ্দেশ্য নিরূপণ, একাধিক বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধন কিংবা তারজিহ (ترجيح) এবং নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ) নিরূপণে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁরা এমন সব উসুল (أصول) ও কাওয়াইদ (قواعد) প্রণয়ন করেছেন যার মাধ্যমে নصوص (মূল পাঠ) বোঝা যায়, আহকাম (أحكام) উদ্ভাবন করা যায় এবং হালাল ও হারাম চেনা যায়। তাঁরা ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রচুর ফতোয়া দিয়েছেন। তাঁরা কিয়াস (قياس) ও তাফরী' (تفريع) নিয়ে কাজ করেছেন এবং এগুলোতে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছেন। ফলে তাঁদের সুসংহত মাযহাব এবং স্বতন্ত্র মানহাজ (পদ্ধতি) তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে চারটি মাযহাব প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যার প্রতিটিই নিজস্ব উসুল, কাওয়াইদ এবং ফুরু’ (শাখা বিধান) সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা-ধারা হিসেবে গণ্য।

ফকিহগণের এই বিষয়ে বিশেষায়ন এবং এতে আত্মনিয়োগ তাদেরকে বর্ণনা (رواية) ও ইসনাদ (إسناد) থেকে বিমুখ রেখেছিল, তাই তারা সাধারণত এ ক্ষেত্রে স্বল্প ব্যাপৃত ছিলেন। এমন ইমাম খুব কমই পাওয়া যায় যিনি বর্ণনা (رواية) এবং ফিকহ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপকতা ও গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন, যেমনটি ইমাম আহমাদ (রহ.) সম্পর্কে বলা হয়।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে স্বল্পতাপ্রবণ ছিলেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁর হাদিস মুখস্থ ছিল না। কেননা তিনি আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূল (সা.)-এর কালামের গভীর পর্যবেক্ষণ থেকেই ফিকহ আহরণ করেছেন। মূলত তিনি তাঁর কাছে পৌঁছানো হাদিস বর্ণনার (رواية) চেয়ে তা থেকে মাসআলা উদ্ভাবনের (استنباط) কাজে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। যে ব্যক্তি দলিলের প্রতি এই ইমামের গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি অনুসন্ধান করবেন, তিনি তা উপলব্ধি করতে পারবেন।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭৮)
هَذَا إِذا عرفنَا أَنه كَانَ بِالْكُوفَةِ وَالْبَصْرَة زمن أبي حنيفَة أَكثر من مائَة وَعشْرين صحابياً، وَإِذا عرفنَا انه أَخذ وَسمع من أَكثر من أَرْبَعَة وَسبعين من الْمُحدثين وَالْفُقَهَاء عدّ مِنْهُم الْحَافِظ الْمزي عددا وَمن أشهرهم: طَاوس بن كيسَان، وَالشعْبِيّ، وَعبد الله بن دِينَار، وَعبد الرَّحْمَن بن هُرْمُز، وَعَطَاء، وَقَتَادَة بن دعامة السدُوسِي، وَالزهْرِيّ، وَهِشَام بن عُرْوَة وَغَيرهم، وَإِذا عرفنَا أَيْضا أَنه كَانَ من تلاميذه كبار الْمُحدثين والحفاظ كَعبد الله بن الْمُبَارك، وَأبي يُوسُف، وَزفر بن الْهُذيْل وَغَيرهم: تَيَقنا أَن مذْهبه كَانَ نابعاً من الْأَثر، ومستقياً من السّنة بِوَاسِطَة هَذِه الروافد..

روى ابْن أبي رزمة أَنه كَانَ إِذا قدم الْكُوفَة أحد من الْمُحدثين يَقُول أَبُو حنيفَة لأَصْحَابه: "انْظُرُوا هَل عِنْده من الحَدِيث شَيْء لَيْسَ عندنَا؟ "1.

فَمن يتَصَوَّر مَعَ هَذَا أَن أَبَا حنيفَة فَقِيه لَا يحفظ الحَدِيث2 وَكَيف يصير الرجل إِمَامًا فِي الْفِقْه وَهُوَ لَيْسَ بحافظ للْحَدِيث.. لذَلِك ترى الْمُحدثين مثل أبي دَاوُد وَابْن حجر لما ترجما لأبي حنيفَة ـ وَفِيه دارت الْأَقَاوِيل ـ اكتفيا بِالْإِشَارَةِ إِلَى إِمَامَته فَقَالَ أَبُو دَاوُد: "أَبُو حنيفَة إِمَام"، وَقَالَ ابْن حجر: "أَبُو حنيفَة الإِمَام الْمَشْهُور".
এটি তখনই (সুস্পষ্ট হয়) যখন আমরা জানতে পারি যে ইমাম আবু হানিফার যুগে কুফা ও বসরায় একশ বিশ জনেরও বেশি সাহাবী (صحابي) বিদ্যমান ছিলেন এবং যখন আমরা জানতে পারি যে তিনি চুয়াত্তর জনেরও বেশি হাদিস বিশারদ (محدثين) ও ফকিহ (فقهاء) থেকে জ্ঞান আহরণ ও শ্রবণ করেছেন। হাফিজ (حافظ) আল-মিযযী তাঁদের একটি সংখ্যা গণনা করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন: তাউস ইবনে কাইসান, আশ-শা'বী, আবদুল্লাহ ইবনে দীনার, আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ, আতা, কাতাদা ইবনে দিয়ামাহ আস-সাদুসী, আজ-জুহরি, হিশাম ইবনে উরওয়াহ প্রমুখ। তদুপরি যখন আমরা এটিও জানতে পারি যে তাঁর ছাত্রদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আবু ইউসুফ, জুফার ইবনুল হুযাইল প্রমুখের ন্যায় প্রথিতযশা হাদিস বিশারদ (محدثين) ও হাফিজ (حافظ) গণ ছিলেন, তখন আমরা দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হই যে তাঁর মাযহাব আসার (الأثر) থেকে উৎসারিত এবং এই সকল প্রবাহের মাধ্যমে সুন্নাহ (السنة) থেকে সিঞ্চিত ছিল।

ইবনে আবি রাযমাহ বর্ণনা করেছেন যে, যখনই কোনো হাদিস বিশারদ (محدثين) কুফায় আসতেন, আবু হানিফা তাঁর সাথীদের বলতেন: "দেখো, তাঁর কাছে এমন কোনো হাদিস আছে কি না যা আমাদের কাছে নেই?" ১।

এর সাথে কে এটি কল্পনা করতে পারে যে আবু হানিফা এমন একজন ফকিহ (فقيه) ছিলেন যিনি হাদিস মুখস্থ রাখতেন না? আর একজন ব্যক্তি কীভাবে ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের ইমাম (إمام) হতে পারেন যখন তিনি হাদিসের হাফিজ (حافظ) নন? এজন্যই আপনি দেখতে পাবেন যে, আবু দাউদ ও ইবনে হাজারের মতো হাদিস বিশারদগণ (محدثين) যখন আবু হানিফার জীবনী বর্ণনা করেছেন—যাঁকে নিয়ে নানা সমালোচনা বা উক্তি আবর্তিত হয়েছে—তখন তাঁরা কেবল তাঁর ইমামতি (إمامة)-র প্রতি ইঙ্গিত করাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। আবু দাউদ বলেছেন: "আবু হানিফা হলেন একজন ইমাম (إمام)", এবং ইবনে হাজার বলেছেন: "আবু হানিফা হলেন সুপ্রসিদ্ধ ইমাম (إمام)"। ২।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭৮)
‌‌الْمَسْأَلَة الْخَامِسَة:

على كل متعلم أَن يعلم أَن رِوَايَة الحَدِيث يجب أَن يَنْضَم إِلَيْهَا الْفِقْه وَمَعْرِفَة اخْتِلَاف الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَالْأَئِمَّة المرضيين وَإِلَّا مَا اسْتَطَاعَ أَن يدْرك شَيْئا من الْأَحْكَام، لِأَن الْمَعْنى الظَّاهِر وَحده لَيْسَ هُوَ الْفِقْه، بل الْفِقْه فِي الاستنباط وَمَعْرِفَة الْمَقَاصِد والعلل، والناسخ والمنسوخ بِجَمِيعِ أنواعهما، وَلذَلِك كَمَا سبق فِي الْمَسْأَلَة الرَّابِعَة كَانَ كثير من كبار الْمُحدثين وَعُظَمَاء الْحفاظ غير مشهورين

--------------------------------------------

1 تبييض الصَّحِيفَة فِي مَنَاقِب أبي حنيفَة للسيوطي.

2 وَقد عده بعض الْمُحدثين كالذهبي من كبار الْحفاظ كَمَا أَن بعض الْمُحدثين طعن فِي حفظه.
পঞ্চম মাসআলা:

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জানা আবশ্যক যে, হাদিস বর্ণনার (رواية) সাথে ফিকহ এবং সাহাবী, তাবেয়ী ও মনোনীত ইমামগণের মতভেদ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। অন্যথায় সে শরীয়তের বিধিবিধানের কোনো কিছুই উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে না। কারণ কেবল প্রকাশ্য অর্থই ফিকহ নয়, বরং ফিকহ হলো মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط), শরীয়তের লক্ষ্য ও কার্যকারণ (علل) এবং সকল প্রকার রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ) পরিচ্ছেদসমূহ অনুধাবনের নাম। একারণেই চতুর্থ মাসআলায় যেমনটি বর্ণিত হয়েছে, অনেক প্রথিতযশা মুহাদ্দিস ও মহান হাফেজগণ (حفاظ) প্রসিদ্ধ ছিলেন না।

--------------------------------------------

১. সুয়ূতী রচিত তাবিইদুস সাহিফা ফি মানাকিবি আবি হানিফা।

২. ইমাম যাহাবীর মতো কোনো কোনো মুহাদ্দিস তাঁকে শ্রেষ্ঠ হাফেজদের (حفاظ) অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যদিও কোনো কোনো মুহাদ্দিস তাঁর মুখস্থশক্তির (حفظ) বিষয়ে সমালোচনা (طعن) করেছেন।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৭৯)
بالفقه مَعَ شهرتهم فِي علم الحَدِيث وَرِوَايَته، وشأن الْعلمَاء المنصفين الِاعْتِرَاف لأهل كل اخْتِصَاص باختصاصهم فَهَذَا الشَّافِعِي رحمه الله يبين هَذِه الاختصاصات فَيَقُول1: "من أَرَادَ أَن يتبحر فِي الْفِقْه فَهُوَ عِيَال على أبي حنيفَة كَانَ أَبُو حنيفَة مِمَّن وفْق لَهُ الْفِقْه، وَمن أَرَادَ أَن يتبحر فِي الشّعْر فَهُوَ عِيَال على زُهَيْر بن أبي سلمى، وَمن أَرَادَ أَن يتبحر فِي الْمَغَازِي فَهُوَ عِيَال على مُحَمَّد بن إِسْحَاق، وَمن أرد أَن يتبحر فِي النَّحْو فَهُوَ عِيَال على الْكسَائي، وَمن أَرَادَ أَن يتبحر فِي التَّفْسِير فَهُوَ عِيَال على مقَاتل بن سُلَيْمَان". اهـ.

وَقَالَ ابْن الْمَاجشون: "كَانُوا يَقُولُونَ لَا يكون إِمَامًا فِي الْفِقْه من لم يكن إِمَامًا فِي الْقُرْآن والْآثَار وَلَا يكون إِمَامًا فِي الْآثَار من لم يكن إِمَامًا فِي الْفِقْه. فَانْظُر كَيفَ توهم قوم بعد ذَلِك أَن الِاشْتِغَال بالرواية يَكْفِي لمعْرِفَة الْأَحْكَام وَكَيف فصلوا بَين الْفِقْه والأثر".

يجب على المتعلم مَعَ الِاشْتِغَال بِالْحَدِيثِ وَالرِّوَايَة أَن يعرف مَذَاهِب الْفُقَهَاء وَاخْتِلَافهمْ حَتَّى يكْسب ملكة الاستنباط..

قَالَ صلى الله عليه وسلم: "رب حَامِل فقه غير فَقِيه، وَرب حَامِل فقه إِلَى من هُوَ أفقه مِنْهُ". فَبين بذلك أَن الحَدِيث فقه وَأَن مُجَرّد حمله لَا يَعْنِي كَون حامله فَقِيها..

وَالنَّاس يتفاوتون فِي الْفِقْه نتيجة لاختلافهم فِي الأفهام، وَالْفِقْه هُوَ الْفَهم فبعض الْأَئِمَّة فِي الْجُمْلَة أفقه من بعض وَبَعْضهمْ فِي مَسْأَلَة أفقه من بعض وَمن أفقه الْأَئِمَّة أَبُو حنيفَة إِن لم يكن أفقههم، رُوِيَ عَن ابْن الْمُبَارك قَوْله: "إِن كَانَ الْأَثر قد عرف واحتيج إِلَى الرَّأْي فرأي مَالك وسُفْيَان الثَّوْريّ وَأبي حنيفَة. وَأَبُو حنيفَة أحْسنهم وأدقهم فطنة وأغوصهم على الْفِقْه وَهُوَ أفقه الثَّلَاثَة"2. وَإِلَيْك مِثَالا يبين لَك كَيْفيَّة تفَاوت الْفُقَهَاء فِي فهم الْمَسْأَلَة الْوَاحِدَة:

--------------------------------------------

1 الانتقاء لِابْنِ عبد الْبر: 31.

2 تَارِيخ بَغْدَاد 3 ـ 343.
হাদিস শাস্ত্র ও এর বর্ণনা (رواية) এর ক্ষেত্রে সুপ্রসিদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে তাঁরা ফিকহ শাস্ত্রেও দক্ষ ছিলেন। আর ন্যায়নিষ্ঠ আলেমদের বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিটি বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের সেই বিষয়ের বিশেষ মর্যাদা স্বীকার করে নেওয়া। তাই ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) এই বিশেষ ক্ষেত্রগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন১: "যে ব্যক্তি ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী হতে চায়, সে আবু হানিফার মুখাপেক্ষী। কেননা আবু হানিফাকে ফিকহ শাস্ত্রের বিশেষ তাওফিক দান করা হয়েছিল। আর যে ব্যক্তি কবিতায় পারদর্শী হতে চায়, সে জুহাইর ইবনে আবি সুলমার মুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ে পারদর্শী হতে চায়, সে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের মুখাপেক্ষী। যে ব্যক্তি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে পারদর্শী হতে চায়, সে কিসাঈর মুখাপেক্ষী। আর যে ব্যক্তি তাফসির শাস্ত্রে পারদর্শী হতে চায়, সে মুকাতিল ইবনে সুলাইমানের মুখাপেক্ষী।" (সংক্ষেপিত)

ইবনুল মাজিশুন বলেন: "তাঁরা বলতেন, ঐ ব্যক্তি ফিকহ শাস্ত্রের ইমাম হতে পারবে না যে কুরআন ও আসার (آثار) বিষয়ে ইমাম নয় এবং ঐ ব্যক্তি আসার (آثار) বিষয়ে ইমাম হতে পারবে না যে ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম নয়। অতএব দেখুন, এর পরে একটি দল কীভাবে ধারণা করেছিল যে হুকুম-আহকাম জানার জন্য কেবল বর্ণনা (رواية) নিয়ে ব্যস্ত থাকাই যথেষ্ট এবং কীভাবে তারা ফিকহ ও আসারের (أثر) মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছে।"

হাদিস ও বর্ণনা (رواية) চর্চার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীর জন্য ফকিহদের মাযহাব ও তাঁদের মতপার্থক্য সম্পর্কে জানাও আবশ্যক, যাতে সে ইস্তিনবাত (استنباط) বা মাসআলা আহরণের যোগ্যতা অর্জন করতে পারে।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অনেক ফিকহ বহনকারী এমন আছেন যিনি নিজে ফকিহ নন, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন আছেন যিনি তাঁর চেয়ে বড় ফকিহ’র কাছে তা পৌঁছে দেন।" এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, হাদিস হলো ফিকহ এবং কেবল তা বহন করাই একজন বহনকারীকে ফকিহ হিসেবে গণ্য করার জন্য যথেষ্ট নয়।

মানুষের অনুধাবন ক্ষমতার ভিন্নতার কারণে ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও তাঁদের মাঝে তারতম্য দেখা দেয়। আর ফিকহ হলো মূলত অনুধাবন বা বুঝ। সাধারণভাবে কোনো কোনো ইমাম অন্যের চেয়ে বেশি ফকিহ, আবার কোনো কোনো মাসআলায় কোনো ইমাম অন্যের চেয়ে বেশি দক্ষ। ফকিহ ইমামদের মধ্যে আবু হানিফা অন্যতম, বরং তিনি যদি তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকিহ হন (তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই)। ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: "যদি আসার (أثر) জানা থাকে এবং রায় (رأي) এর প্রয়োজন পড়ে, তবে মালেক, সুফিয়ান সাওরী ও আবু হানিফার রায় (رأي) অনুসরণীয়। তবে আবু হানিফা তাঁদের মাঝে শ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে সূক্ষ্ম প্রজ্ঞাবান এবং ফিকহ শাস্ত্রে সবচেয়ে গভীর ইলমের অধিকারী; তিনি এই তিনজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফকিহ"২। নিচে একটি উদাহরণ দেয়া হলো যা একক কোনো মাসআলায় ফকিহদের বুঝের তারতম্য স্পষ্ট করবে:

--------------------------------------------

১. আল-ইনতিকা লি-ইবনি আবদিল বার: ৩১।

২. তারিখ বাগদাদ ৩/৩৪৩।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮০)
رُوِيَ عَن إِسْمَاعِيل بن حَمَّاد قَالَ: شَككت فِي طَلَاق امْرَأَتي فَسَأَلت شَرِيكا فَقَالَ: "طَلقهَا وَأشْهد على رَجعتهَا"، ثمَّ سَأَلت سُفْيَان الثَّوْريّ فَقَالَ: "اذْهَبْ فَرَاجعهَا فَإِن كنت قد طَلقتهَا فقد راجعتها"، ثمَّ سَأَلت زفر بن الْهُذيْل فَقَالَ لي: "هِيَ امْرَأَتك حَتَّى تتيقن طَلاقهَا"، فَأتيت أَبَا حنيفَة فَقَالَ: "أما سُفْيَان فأفتاك بالورع وَأما زفر فأفتاك بِعَين الْفِقْه وَأما شريك فَهُوَ كَرجل قلت لَهُ: لَا أَدْرِي أصَاب ثوبي بَوْل أم لَا؟ فَقَالَ لَك: بُلْ على ثَوْبك ثمَّ اغسله".اهـ

فَيَنْبَغِي على كل متعلم أَن يعتني بِمَعْرِِفَة الْوُجُوه الْمُخْتَلفَة والاستدلالات ويطلع على اخْتِلَاف الْمذَاهب وَلَا يَكْتَفِي بِوَجْه وَاحِد أَو يعْتَمد على عَالم وَاحِد فَإِن مثل من يعْتَمد على عَالم وَاحِد مثل الَّذِي لَهُ امْرَأَة وَاحِدَة إِن حَاضَت بَقِي1 وَهَذَا هُوَ الْمَقْصُود من قَول الْأَئِمَّة بِأَن من لم يعرف الْخلاف لم يشم رَائِحَة الْفِقْه.
ইসমাইল ইবন হাম্মাদ থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি আমার স্ত্রীর তালাকের ব্যাপারে সংশয়ে নিপতিত হলাম। অতঃপর আমি শারিককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: 'তাকে তালাক দিয়ে দাও এবং তার প্রত্যাবর্তনের ওপর সাক্ষী রাখো।' এরপর আমি সুফিয়ান আস-সাওরিকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: 'যাও এবং তাকে ফিরিয়ে নাও; যদি তুমি তাকে তালাক দিয়ে থাকো, তবে তোমার ফিরিয়ে নেওয়া সম্পন্ন হলো।' তারপর আমি যুফার ইবনুল হুযাইলকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে বললেন: 'তালাকের ব্যাপারে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সে তোমার স্ত্রী হিসেবেই গণ্য হবে।' অতঃপর আমি আবু হানিফার নিকট আসলাম। তিনি বললেন: 'সুফিয়ান তোমাকে পরহেজগারির ভিত্তিতে ফতোয়া দিয়েছেন; আর যুফার তোমাকে ফিকহের নিগূঢ় তত্ত্ব অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন। কিন্তু শারিক হলো সেই ব্যক্তির ন্যায় যাকে তুমি বললে— আমি জানি না আমার কাপড়ে প্রস্রাব লেগেছে কি না? আর সে তোমাকে বলল— তোমার কাপড়ে প্রস্রাব করো এবং এরপর তা ধুয়ে ফেলো'।"—উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

অতএব প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য বাঞ্ছনীয় যে, সে যেন বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও দলীল-প্রমাণাদি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে যত্নশীল হয় এবং মাযহাবসমূহের মতপার্থক্য সম্পর্কে অবগত হয়। কেবল একটি মাত্র দৃষ্টিভঙ্গির ওপর তুষ্ট থাকা কিংবা একজন মাত্র আলেমের ওপর নির্ভর করা সমীচীন নয়। কেননা যে ব্যক্তি কেবল একজন আলেমের ওপর নির্ভর করে, তার উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যার মাত্র একজন স্ত্রী আছে; যখন সে ঋতুবতী হয়, তখন সে (সঙ্গীহীন অবস্থায়) রয়ে যায়। আর ইমামগণের এই বাণীর উদ্দেশ্যও এটাই যে: "যে ব্যক্তি মতভেদ সম্পর্কে অবগত নয়, সে ফিকহের ঘ্রাণও পায়নি।"
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮০)
‌‌الْمَسْأَلَة السَّادِسَة:

طَبَقَات النَّاس بِالنِّسْبَةِ للْعلم وَعَدَمه ثَلَاثَة كَمَا رُوِيَ عَن عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه: "عَالم رباني، ومتعلم على سَبِيل نجاة، وهمج رعاع أَتبَاع كل ناعق لم يستضيئوا بِنور الْعلم وَلم يلجئوا إِلَى ركن وثيق".

أما الْعلمَاء الربانيون فَهَؤُلَاءِ هم المجتهدون من أمة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فِي كل زمَان وَمَكَان، بهم يقوم الدّين، وهم وَسِيلَة الْمُسلمين إِلَى معرفَة الْأَحْكَام وَفهم الْحَلَال وَالْحرَام وَلَيْسَ لنا مطمع فِي معرفَة الشَّرْع بدونهم وَلَا فِي إِدْرَاك الْكتاب وَالسّنة بِغَيْر واسطتهم فَتلك مزية كَانَت للصحابة وَلَيْسَت لغَيرهم2. فَلَا بُد لكل من أَرَادَ أَن يفهم الشَّرْع وَيدْرك علم الْكتاب وَالسّنة أَن يتَوَصَّل إِلَى ذَلِك بهم، وَكلما كَانَ هَؤُلَاءِ المجتهدون إِلَى زمن الصَّحَابَة أقرب كَانَ الصَّوَاب لديهم أغلب.

--------------------------------------------

1 جَامع بَيَان الْعلم 1 ـ 130.

2 إِعْلَام الموقعين.
ষষ্ঠ মাসআলা:

জ্ঞান অর্জন ও বর্জনের প্রেক্ষিতে মানুষের স্তর তিনটি, যেমনটি আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "একদল হলেন রব্বানি আলিম (عالم رباني), দ্বিতীয় দল মুক্তির পথে থাকা শিক্ষার্থী (متعلم على سبيل نجاة), আর তৃতীয় দল হলো লক্ষ্যহীন সাধারণ মানুষ (همج رعاع), যারা প্রতিটি আহ্বানকারীর অনুসারী হয়; তারা ইলমের আলোয় আলোকিত হয়নি এবং কোনো শক্তিশালী স্তম্ভের আশ্রয় গ্রহণ করেনি।"

পক্ষান্তরে রব্বানি আলিমগণ (العلماء الربانيون) হলেন উম্মতে মুহাম্মাদীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিটি যুগ ও স্থানের মুজতাহিদ (المجتهدون) ব্যক্তিবর্গ। তাদের মাধ্যমেই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং তারাই মুসলিমদের জন্য আহকাম (বিধান) জানা এবং হালাল ও হারাম বোঝার মাধ্যম। তাদেরকে ছাড়া শরীয়ত সম্পর্কে জানার কোনো উপায় আমাদের নেই এবং তাদের মধ্যস্থতা ব্যতীত কিতাব ও সুন্নাহ অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এটি এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য যা কেবল সাহাবীগণের জন্য ছিল এবং অন্য কারো জন্য নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি শরীয়ত বুঝতে এবং কিতাব ও সুন্নাহর ইলম হাসিল করতে চায়, তাকে অবশ্যই তাদের মাধ্যমেই সেখানে পৌঁছাতে হবে। আর এই মুজতাহিদগণ (المجتهدون) সাহাবীগণের যুগের যত নিকটবর্তী হবেন, তাদের নিকট সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি প্রবল হবে।

--------------------------------------------

১ জামিউ বায়ানিল ইলম, ১/১৩০।

২ ইলামুল মুয়াক্কিঈন।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮১)
فالمجتهدون من التَّابِعين لَا بدّ أَن يعرفوا مَذَاهِب الصَّحَابَة وَلَا يتجاوزونها والمجتهدون من تَابِعِيّ التَّابِعين لَا بُد أَن يعرفوا مَذَاهِب الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَهَكَذَا دواليك حَتَّى إِذا وصلنا إِلَى مجتهدي زَمَاننَا قُلْنَا: لَا بُد أَن يعرفوا مَذَاهِب جَمِيع السّلف الَّذين يعْتد بمذاهبهم..

أَلا ترى أَبَا حنيفَة رحمه الله يَقُول: "إِذا لم أجد فِي كتاب الله وَلَا فِي سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أخذت بقول أَصْحَابه آخذ بقول من شِئْت وأدع قَول من شِئْت وَلَا أخرج من قَوْلهم"1.

وكل من خَالف السّلف فِيمَا ذَهَبُوا إِلَيْهِ وَأَجْمعُوا عَلَيْهِ أَو جَاءَ بِمَا لم يذكروه أَو يشيروا إِلَيْهِ اعتبروه شاذاً لَا يُؤْخَذ قَوْله وَلَا يعْتد بِرَأْيهِ..

وَمَا من مَسْأَلَة إِلَّا وَفِي الشَّرِيعَة حكمهَا إِمَّا على وَجه الْعُمُوم أَو على وَجه التَّفْصِيل وَمَا علينا فِيمَا يجدُّ علينا من أُمُور إِلَّا أَن نقيس النَّظَائِر والأشباه ونَرُدَّ الْفُرُوع إِلَى الْأُصُول ونستعين بِاجْتِهَاد السّلف وآرائهم..

قَالَ مُحَمَّد بن الْحسن: "الْعلم على أَرْبَعَة أوجه: مَا كَانَ من كتاب الله النَّاطِق وَمَا أشبهه، وَمَا كَانَ فِي سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَمَا أشبههَا، وَمَا كَانَ فِيمَا أجمع عَلَيْهِ الصَّحَابَة رحمهم الله وَمَا أشبهه، وَكَذَلِكَ مَا اخْتلفُوا فِيهِ لَا يخرج عَن جَمِيعه فَإِن أوقع الِاخْتِيَار فِيهِ على قَول فَهُوَ علم تقيس عَلَيْهِ مَا أشبه وَمَا استحسنه عَامَّة فُقَهَاء الْمُسلمين وَمَا أشبهه وَكَانَ نظيراً لَهُ"2.

قلت: وَالْعُلَمَاء الربانيون هم أهل الذّكر الَّذين ذكرهم الله عز وجل فِي كِتَابه فَقَالَ: {فَاسْأَلوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} .

وهم أهل الاستنباط الَّذين ذكرهم فَقَالَ: {وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} النِّسَاء ـ 83.

--------------------------------------------

1 الانتقاء لِابْنِ عبد الْبر: 142.

2 إِعْلَام الموقعين 2 ـ 26.
তাবিয়ীগণের মধ্য থেকে যাঁরা মুজতাহিদ (مجتهد), তাঁদের জন্য সাহাবীগণের মাযহাব বা পথ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা অপরিহার্য এবং তাঁরা তা অতিক্রম করবেন না। একইভাবে তাবি-তাবিয়ীগণের মধ্য থেকে যাঁরা মুজতাহিদ (مجتهد), তাঁদের জন্য সাহাবী ও তাবিয়ীগণের মাযহাবসমূহ জানা আবশ্যক। এভাবে এই ধারাটি চলতে থাকবে যতক্ষণ না আমরা আমাদের সময়ের মুজতাহিদদের (مجتهد) নিকট পৌঁছাই; আমরা বলি: তাঁদের জন্য সেই সকল সালাফ বা পূর্বসূরিদের মাযহাব জানা আবশ্যক যাঁদের মাযহাব গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য হয়।

আপনি কি দেখেন না যে, ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন: "যখন আমি আল্লাহর কিতাবে এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর (سنة) মধ্যে কোনো সমাধান খুঁজে পাই না, তখন আমি তাঁর সাহাবীগণের বক্তব্য গ্রহণ করি। আমি তাঁদের মধ্য থেকে যাঁর বক্তব্য ইচ্ছা গ্রহণ করি এবং যাঁর বক্তব্য ইচ্ছা বর্জন করি, কিন্তু তাঁদের সামগ্রিক বক্তব্যের বাইরে আমি যাই না।"১

সালাফগণ যে বিষয়ের দিকে গিয়েছেন এবং যে বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন, তার যে কেউ বিরোধিতা করবে অথবা এমন কিছু নিয়ে আসবে যা তাঁরা উল্লেখ করেননি বা যার দিকে তাঁরা ইঙ্গিত করেননি, তবে তাঁরা তাকে শায (شاذ) বা বিচ্ছিন্ন হিসেবে গণ্য করতেন; যার বক্তব্য গ্রহণ করা হয় না এবং যার রায় বা অভিমত বিবেচনাযোগ্য নয়।

এমন কোনো মাসআলা নেই যার বিধান শরীআতে বিদ্যমান নেই—হয় সামগ্রিকভাবে অথবা বিস্তারিতভাবে। আমাদের সামনে নতুন কোনো বিষয় উপস্থিত হলে আমাদের দায়িত্ব হলো সদৃশ বিষয়গুলোর সাথে তুলনা বা কিয়াস (قياس) করা এবং শাখা-প্রশাখাগুলোকে (فروع) মূলনীতির (أصول) দিকে ফিরিয়ে আনা এবং সালাফদের ইজতিহাদ (اجتهاد) ও তাঁদের মতামতের সাহায্য নেওয়া।

মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (রহ.) বলেন: "ইলম বা জ্ঞান চার প্রকার: যা আল্লাহর সুস্পষ্ট কিতাব এবং এর সদৃশ বিষয় থেকে প্রাপ্ত; যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ (سنة) এবং এর সদৃশ বিষয় থেকে প্রাপ্ত; যা সাহাবীগণ (রা.) ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন এবং এর সদৃশ বিষয়; একইভাবে যে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন তা তাঁদের সামগ্রিক বক্তব্যের বাইরে যায় না। যদি তাঁদের কোনো একটি বক্তব্যের ওপর সিদ্ধান্ত স্থির হয়, তবে সেটিই এমন জ্ঞান যার ওপর ভিত্তি করে আপনি সদৃশ বিষয়গুলোর কিয়াস (قياس) করবেন এবং যা সাধারণ মুসলিম ফকিহগণ উত্তম বা ইসতিহসান (استحسان) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং যা এর সদৃশ ও অনুরূপ ছিল।"২

আমি বলছি: রব্বানী উলামাগণই হলেন 'আহলে জিকর' বা জ্ঞানের অধিকারী, যাঁদের কথা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: {যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করো}।

আর তাঁরাই হলেন গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম (استنباط) ব্যক্তি, যাঁদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {যদি তারা তা রাসূল এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমর বা দায়িত্বশীলদের কাছে ফিরিয়ে দিত, তবে তাদের মধ্যে যারা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত নিতে (يستنبطونه) সক্ষম তারা তা জানতে পারত} (সূরা আন-নিসা: ৮৩)।

--------------------------------------------

১. আল-ইনতিকা লি-ইবনি আবদিল বার: ১৪২।

২. ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন ২/২৬।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮২)
وَلَيْسَ كل متعلم يقدر على الاستنباط حَتَّى يملك أدواته وَيحصل ملكته قَالَ ابْن الْقيم رحمه الله:

"الاستنباط اسْتِخْرَاج الْأَمر الَّذِي من شَأْنه أَن يخفى على غير مستنبطه وَمِنْه استنباط المَاء من الْبِئْر وَالْعين وَمن هَذَا قَول عَليّ بن أبي طَالب وَقد سُئِلَ: "هَل خصكم رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِشَيْء دون النَّاس؟ ". قَالَ: "لَا، وَالَّذِي فلق الْحبَّة وبرأ النَّسمَة إِلَّا فهما يؤتيه الله عبدا فِي كِتَابه". وَمَعْلُوم أَن هَذَا الْفَهم قدر زَائِد على معرفَة مَوْضُوع اللَّفْظ وعمومه أَو خصوصه فَإِن هَذَا قدر مُشْتَرك بَين سَائِر من يعرف كَلَام الْعَرَب"1.

قلت: أما المتعلم على سَبِيل النجَاة الَّذِي لم يبلغ دَرَجَة الاستنباط فَيتبع الْعلمَاء ويتأمل أَقْوَالهم وفتاويهم، ويشتغل بالترجيح بَين أدلتهم إِن كَانَ من أهل التَّرْجِيح وَإِلَّا اتبعهم فِيمَا ذَهَبُوا إِلَيْهِ وَلَا ينْتَظر حَتَّى يبلغ دَرَجَة مَا، إِذْ لَا مفر من أَن يلْتَزم المتعلم أحد الْمذَاهب الْمَشْهُورَة المعتد بهَا الَّتِي اعْترفت بهَا الْأمة تكون كمنطلق لَهُ فِي دراسته للشَّرْع الحنيف، فيعتني بِمَعْرِِفَة أصُول هَذَا الْمَذْهَب وفروعه، ويعتني بالأدلة ويحترس من التَّقْلِيد لِأَنَّهُ شَأْن الْعَوام، ويحذر من التعصب فَإِنَّهُ من طبائع أهل الْبدع والأهواء.

وَلَا يَنْبَغِي للمتعلم أَن يبْقى طليقاً يتتبع الرُّخص والشواذ ويخبط فِي الْأَحْكَام على غير بَصِيرَة وَعلم، فَإِن ذَلِك خطر جسيم عَلَيْهِ وعَلى النَّاس إِن كَانَ يُفتي لَهُم..

وَلكُل متعلم أَن يُقَلّد فِي الْمسَائِل الَّتِي قصرت همته عَن بحثها أَو خفيت عَلَيْهِ يُقَلّد من قبله من عُلَمَاء السّلف المرضيين أَو الإِمَام الَّذِي الْتزم مذْهبه وَذَلِكَ حَتَّى يَتَّضِح لَهُ الدَّلِيل، وَلَا مفر من ذَلِك لِأَنَّهُ لَا يُمكنهُ أَن يكف عَن الْعَمَل فِي كل مَسْأَلَة حَتَّى يَتَّضِح أَو يتَرَجَّح فِي ذهنه الْقَاصِر فِيهَا علم.. وَمَا رَأَيْت أحدا من أهل الْعلم إِلَّا وَهُوَ مقلد فِي بعض الْمسَائِل شعر بذلك أم لم يشْعر لِأَنَّهُ لَيْسَ بمقدور

--------------------------------------------

1 إِعْلَام الموقعين 1 ـ 228.
এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের (استنباط) যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সে এর প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহের অধিকারী হয় এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করে। ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ (استنباط) হলো এমন একটি বিষয় বের করা, যা সাধারণত গবেষক ব্যতীত অন্যদের কাছে অস্পষ্ট থাকে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কূপ বা ঝরনা থেকে পানি উত্তোলন (استنباط) করা। এ থেকেই আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর সেই উক্তিটি এসেছে, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি আপনাদেরকে সাধারণ মানুষের বাইরে বিশেষ কিছু দান করেছেন?' তিনি বললেন: 'না, সেই সত্তার কসম যিনি শস্যদানা বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন! তবে আল্লাহ কোনো বান্দাকে তাঁর কিতাব সম্পর্কে যে প্রজ্ঞা (فهم) দান করেন, তা স্বতন্ত্র।' এটি সুবিদিত যে, এই প্রজ্ঞা (فهم) হলো শব্দের শাব্দিক অর্থ এবং তার ব্যাপকতা (عموم) বা বিশেষত্ব (خصوص) জানার চেয়েও অতিরিক্ত এক বিশেষ ক্ষমতা। কারণ ভাষাগত এই জ্ঞানটুকু তো সেই সমস্ত ব্যক্তির মাঝেও বিদ্যমান থাকে, যারা আরবদের ভাষা সম্পর্কে অবগত।"১

আমি বলি: মুক্তির পথে চলা যে শিক্ষার্থী এখনো গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের (استنباط) স্তরে পৌঁছায়নি, সে আলেমদের অনুসরণ করবে এবং তাঁদের বক্তব্য ও ফাতাওয়াসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সে যদি প্রাধান্য নিরূপণ (ترجيح) করার যোগ্যতাসম্পন্ন হয়, তবে তাঁদের দলিলসমূহের মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণের (ترجيح) কাজে লিপ্ত হবে; নতুবা তাঁরা যে মত গ্রহণ করেছেন সেক্ষেত্রেই তাঁদের অনুসরণ করবে। সে কোনো একটি স্তরে পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। কারণ শিক্ষার্থীর জন্য এটি অপরিহার্য যে, সে উম্মাহ কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রসিদ্ধ মাযহাবগুলোর (مذاهب) কোনো একটির অনুসরণ করবে, যা তার শরীয়াহর জ্ঞানার্জনের প্রারম্ভবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। অতঃপর সে সেই মাযহাবের মূলনীতি (أصول) ও শাখা-প্রশাখাগুলো (فروع) জানার প্রতি যত্নশীল হবে এবং দলিলের প্রতি গুরুত্বারোপ করবে। সে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ এটি সাধারণ মানুষের কাজ। আর সে গোঁড়ামি (تعصب) থেকে সতর্ক থাকবে, কারণ এটি বিদআতপন্থী (بدع) ও কুপ্রবৃত্তি (أهواء) অনুসারীদের বৈশিষ্ট্য।

শিক্ষার্থীর জন্য এটি সমীচীন নয় যে, সে লাগামহীনভাবে বিচরণ করবে এবং কেবল সহজ সুযোগগুলো (رخص) ও বিরল মতামতগুলো (شواذ) খুঁজে বেড়াবে এবং সঠিক অন্তর্দৃষ্টি ও জ্ঞান ব্যতিরেকেই বিধানের বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়াবে। কেননা এটি তার নিজের জন্য এবং মানুষের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, যদি সে তাদের ফাতাওয়া প্রদান করে থাকে...

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সেই সমস্ত মাসআলায় অনুসরণ (تقليد) করার অবকাশ রয়েছে, যেগুলোতে সে গভীর গবেষণা করতে সক্ষম হয়নি অথবা যেগুলো তার নিকট অস্পষ্ট থেকে গেছে। সেক্ষেত্রে সে তার পূর্ববর্তী নেককার পূর্বসূরি (سلف) আলেমদের অথবা সেই ইমামের অনুসরণ (تقليد) করবে যার মাযহাব সে অনুসরণ করছে, যতক্ষণ না দলিল তার কাছে স্পষ্ট হয়। এটি করা ছাড়া কোনো উপায় নেই, কারণ তার পক্ষে তো প্রতিটি মাসআলায় আমল করা স্থগিত রাখা সম্ভব নয় যতক্ষণ না তা তার সীমাবদ্ধ জ্ঞানে স্পষ্ট হয় বা প্রাধান্য (ترجيح) পায়... আর আমি আলেমদের মাঝে এমন কাউকে দেখিনি যিনি কোনো না কোনো মাসআলায় অনুসরণকারী (مقلد) নন, চাই তিনি তা অনুভব করুন বা না করুন; কারণ এটি আয়ত্ত করা সাধ্যাতীত...

--------------------------------------------

১ ইলামুল মুয়াক্কিঈন ১/২২৮।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮৩)
أحد أَن يجْتَهد فِي كل مَسْأَلَة.. لَو تتبعت أَخْبَار السّلف لوجدتهم يعتمدون ويلجأون فِي الْمسَائِل الَّتِي تخفى عَلَيْهِم إِلَى من هُوَ أفقه مِنْهُم مِمَّن سبقهمْ أَو عاصرهم وَالشَّيْء الْمَحْذُور هُوَ التعصب الَّذِي يعمي قلب صَاحبه عَن النّظر ويمنعه من اتِّبَاع الْحق1. أما الْعَوام فيقلدون أهل الْعلم الْمَوْجُودين بَينهم وَلَيْسَ لوَاحِد مِنْهُم أَن يلْتَزم مذهبا أَو يَدعِي الانتماء إِلَى أحد..

لَكِن بتأمل معنى ـ العامية ـ نجد أَنَّهَا على نَوْعَيْنِ: فهناك الْعَاميّ الْمُطلق وهم الدهماء الَّذين لَا يملكُونَ من أدوات الْعلم شَيْئا أَو هم الْجُهَّال فَهَؤُلَاءِ يقلدون الْمُفْتِينَ..

وَقد ذكر الْعلمَاء أَنه عِنْد عدم الْمُفْتِي الْمُجْتَهد الَّذِي يطمئن الْإِنْسَان إِلَى علمه وورعه لَهُ أَن يُقَلّد لنَفسِهِ وَلَا يُفْتِي بِمَا قلد.

وَهَذَا هُوَ الْحق إِن شَاءَ الله وَإِلَّا لوقع النَّاس فِي أحد أَمريْن:

1 ـ فِي الْحَرج والشدة إِذا كلفنا كل مُسلم أَن ينظر فِي الْأَدِلَّة ويجتهد فيتخبط النَّاس فِي الْأَحْكَام مَا بَين مَحل ومحرم ويجترئون على الْفَتْوَى وَالِاجْتِهَاد بِغَيْر علم وَلَا بَصِيرَة، ويغلبهم علم الِاخْتِلَاف فيضلون لعدم معرفتهم لطريقه وإدراكهم لأسراره أَو قدرتهم على الغوص فِي بحاره..

2 ـ أَو يتْرك النَّاس الْعَمَل بِكَثِير من الْأَحْكَام ويهملونها، تَحت وَطْأَة وهم الِانْتِظَار حَتَّى يتَرَجَّح الدَّلِيل وتتضح الْآثَار.. ونتيجة لعدم المبالاة بِمَا ذهب إِلَيْهِ السّلف وَقَالَهُ الْعلمَاء..
কারো পক্ষে প্রতিটি মাসআলায় ইজতিহাদ (اجتهاد) করা সম্ভব নয়... আপনি যদি সালাফদের জীবনকাল পর্যালোচনা করেন, তবে দেখবেন যে, তাদের নিকট যেসব মাসআলা অস্পষ্ট থাকত, সেগুলোর ক্ষেত্রে তারা তাদের পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক অধিকতর প্রাজ্ঞ ফকিহদের ওপর নির্ভর করতেন এবং তাদের শরণাপন্ন হতেন। আর যে বিষয়টি বর্জনীয় তা হলো সেই অন্ধ গোঁড়ামি যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্তরকে সত্য অবলোকন থেকে অন্ধ করে দেয় এবং তাকে সত্য অনুসরণে বাধা প্রদান করে। আর সাধারণ মানুষ তাদের মাঝে বিদ্যমান আলেমদের অনুসরণ করবে এবং তাদের কারো জন্যই নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করা বা কারো প্রতি সম্পৃক্ততার দাবি করা আবশ্যক নয়।

কিন্তু 'সাধারণ অবস্থা' বা আমীয়াহ-এর অর্থ নিয়ে চিন্তা করলে আমরা দেখতে পাই যে তা দুই প্রকার: প্রথমত, নিরঙ্কুশ সাধারণ মানুষ—যারা সাধারণ জনতা এবং যাদের কাছে ইলমের কোনো সরঞ্জাম নেই কিংবা যারা অজ্ঞ; তারা মুফতিদের অনুসরণ করবে।

ওলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন যে, যখন এমন কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) মুফতি পাওয়া যায় না যার ইলম ও আল্লাহভীতির প্রতি মানুষ আশ্বস্ত হতে পারে, তখন সে নিজের জন্য কাউকে অনুসরণ করতে পারবে, তবে সে যা অনুসরণ করছে সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করবে না।

আর ইনশাআল্লাহ এটিই সঠিক পথ; অন্যথায় মানুষ দুটি বিষয়ের কোনো একটিতে নিপতিত হবে:

১. সংকীর্ণতা ও কাঠিন্যের মধ্যে: যদি আমরা প্রত্যেক মুসলিমকে দলিলের চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে বাধ্য করি, তবে মানুষ হালাল ও হারামের বিধানের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিতে পড়বে এবং তারা ইলম ও অন্তর্দৃষ্টি ব্যতিরেকেই ফতোয়া ও ইজতিহাদ (اجتهاد) করার দুঃসাহস দেখাবে। মতপার্থক্যের ইলম তাদের ওপর প্রবল হয়ে উঠবে এবং তারা এর সঠিক পদ্ধতি না জানা, এর রহস্য অনুধাবন না করা অথবা এর গভীর সমুদ্রে অবগাহন করতে অক্ষম হওয়ার কারণে পথভ্রষ্ট হবে।

২. অথবা মানুষ অনেক বিধানের ওপর আমল করা ছেড়ে দেবে এবং দলিল শক্তিশালী হওয়া ও আসার (آثار) স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় থাকার ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে সেগুলোকে অবহেলা করবে; যা হবে সালাফদের অনুসৃত পথ ও ওলামাদের বক্তব্যের প্রতি উদাসীনতার ফলস্বরূপ।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮৩)
‌‌الْمَسْأَلَة السَّابِعَة:

وَذكر الْعلمَاء أَن الْفَتْوَى وَالِاجْتِهَاد دَرَجَة من الْعلم يَنْبَغِي أَن تكون مَوْجُودَة فِي كل زمَان وَمَكَان فِي أمة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم حَتَّى تقوم الْحجَّة

--------------------------------------------

1 رَاجع كَلَام ابْن الْقيم فِي طَبَقَات الْمُفْتِينَ فِي إِعْلَام الموقعين 4 ـ 270.
সপ্তম মাসআলা (مسألة):

উলামায়ে কিরাম উল্লেখ করেছেন যে, ফতোয়া (فتوى) এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) ইলমের এমন একটি স্তর যা উম্মতে মুহাম্মাদীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মাঝে প্রতিটি যুগে এবং প্রতিটি স্থানে বিদ্যমান থাকা আবশ্যক, যাতে করে প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত থাকে।

--------------------------------------------

১. ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ৪/২৭০ পৃষ্ঠায় 'তাবাকাতুল মুফতীয়ীন' অংশে ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্য দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮৪)
بِالدّينِ، ويستقيم أَمر الْمُسلمين، وَالله عز وجل يقيض فِي كل عصر من يفصل الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة ويستنبط للحوادث من الْكتاب وَالسّنة وَيرد الْفُرُوع إِلَى الْأُصُول.

وَلَو تتبعت عصور الْإِسْلَام لوجدت فِي كل عصر مصداق ذَلِك، ولوجدت أَنه فِي الْأَزْمَان الَّتِي كَانَ الِاجْتِهَاد فِيهَا مزدهراً كَانَت تعْتَبر عصور الْعلم الذهبية الَّتِي يبلغ الْمُسلمُونَ فِيهَا أوج قوتهم ونهضتهم، وَفِي العصور الَّتِي غلب عَلَيْهَا الكسل وتعطل فِيهَا الِاجْتِهَاد كَانَت تعْتَبر عصور الانحطاط الْمظْلمَة، والتخلف العلمي، وَلَك أَن تلحظ ذَلِك بِعَين الْمُشَاهدَة فِيمَا صنف فِي هَذِه العصور من متون وشروح وحواش..

لَكِن مَا هِيَ الأدوات الَّتِي تؤهل المتعلم لهَذِهِ الدرجَة الْعَظِيمَة، وَمَتى يجوز لَهُ الانتصاب لَهَا وادعاؤها، فلننظر إِلَى السّلف مَاذَا قَالُوا:

1 ـ الْأَثر: قَالُوا لَا بُد أَن يتضلع مِنْهُ بأكبر قدر مُمكن، وَمن حدده بِخَمْسِمِائَة حَدِيث أَو بِأَكْثَرَ أَو بِأَقَلّ فَإِنَّهُ لم يدقق فِي الْمَسْأَلَة وَإِنَّمَا أَرَادَ أَن يضْرب مثلا يقرب الْأَمر إِلَى الأذهان، وَقد سُئِلَ الإِمَام أَحْمد: "إِذا حفظ الرجل مائَة ألف حَدِيث يكون فَقِيها؟ ". قَالَ: "لَا". قيل: "فمائتي ألف؟ ". قَالَ: "لَا". قيل: "فثلاثمائة ألف؟ ". قَالَ: "لَا".. وَلَعَلَّ الإِمَام أَحْمد رحمه الله أَرَادَ الْإِشَارَة إِلَى أَمريْن: أَحدهمَا أَن حفظ الحَدِيث وَحده لَا يَعْنِي الْفِقْه وَالْقُدْرَة على الْفَتْوَى، وَالْآخر أَنه يجب على الْفَقِيه الْمُفْتِي أَن يحْتَاط لنَفسِهِ وَلَا يستهين بِهَذَا الشَّأْن الْعَظِيم.

2 ـ الرَّأْي: لَا بُد أَن يتفقه بمذاهب أهل الْفِقْه ويطلع على آرائهم قَالَ عَليّ ابْن شَقِيق: "سَمِعت ابْن الْمُبَارك يُسأل: "مَتى يسع الرجل أَن يُفْتِي؟ " قَالَ: "إِذا كَانَ عَالما بالأثر بَصيرًا بِالرَّأْيِ"1.

3 ـ وَعَلِيهِ أَن يلم بعلوم الشَّرِيعَة وقواعدها الَّتِي تنبني عَلَيْهَا وَلَا تفهم الْأَحْكَام بِدُونِهَا فمثلاً:

--------------------------------------------

1 جَامع بَيَان الْعلم لِابْنِ عبد الْبر 1 ـ 31.
দ্বীনের মাধ্যমে, এবং মুসলিমদের বিষয়াদি সুসংহত হয়। আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা প্রত্যেক যুগে এমন ব্যক্তিদের মনোনীত করেন যারা শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) বিশ্লেষণ করেন এবং কিতাব ও সুন্নাহ থেকে উদ্ভূত ঘটনাবলির সমাধান উদ্ভাবন করেন এবং শাখা-প্রশাখাগুলোকে (الفروع) মূলনীতির (الأصول) দিকে প্রত্যাবর্তন করান।

আপনি যদি ইসলামের যুগসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন তবে প্রতি যুগেই এর সত্যতা খুঁজে পাবেন। আপনি দেখতে পাবেন যে, যে সময়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) সমৃদ্ধ ছিল, সেগুলোকে ইলমের স্বর্ণযুগ হিসেবে গণ্য করা হতো যাতে মুসলিমরা তাদের শক্তি ও জাগরণের চরম শিখরে পৌঁছেছিল। আর যেসব যুগে অলসতা জেঁকে বসেছিল এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) অচল হয়ে পড়েছিল, সেগুলোকে অন্ধকার পতন ও ইলমি পশ্চাৎপদতার যুগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই যুগগুলোতে রচিত মূল পাঠ (متون), ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شروح) এবং টীকাগুলোর (حواش) দিকে দৃষ্টিপাত করলেই আপনি তা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন...

কিন্তু সেই উপকরণগুলো কী যা একজন শিক্ষার্থীকে এই মহান মর্যাদার যোগ্য করে তোলে, আর কখন তার জন্য এই পদে আসীন হওয়া বা এর দাবি করা বৈধ হয়? চলুন আমরা দেখি সালাফগণ এ বিষয়ে কী বলেছেন:

১- বর্ণনা (أثر): তাঁরা বলেছেন যে, তাকে এর যথাসম্ভব বড় একটি অংশে পারদর্শী হতে হবে। যারা একে পাঁচশ হাদিস বা তার চেয়ে কম-বেশিতে সীমাবদ্ধ করেছেন, তারা বিষয়টি সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেননি, বরং তারা কেবল বিষয়টি বুঝানোর জন্য একটি উদাহরণ পেশ করতে চেয়েছেন। ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "যদি কোনো ব্যক্তি এক লক্ষ হাদিস মুখস্থ করে, তবে কি সে ফকিহ (فقيه) হবে?" তিনি বললেন: "না।" বলা হলো: "তবে দুই লক্ষ?" তিনি বললেন: "না।" বলা হলো: "তবে তিন লক্ষ?" তিনি বললেন: "না।" সম্ভবত ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) দুটি বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন: একটি হলো কেবল হাদিস মুখস্থ করা মানেই ফিকহ (فقه) এবং ফতোয়া (فتوى) প্রদানের সক্ষমতা নয়। অন্যটি হলো ফকিহ (فقيه) মুফতির (مفتي) উচিত নিজের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং এই মহান বিষয়টিকে তুচ্ছজ্ঞান না করা।

২- রায় (رأي): তাকে অবশ্যই ফকিহদের (أهل الفقه) মাযহাবসমূহ সম্পর্কে ব্যুৎপত্তি লাভ করতে হবে এবং তাদের মতামতের (آراء) ব্যাপারে অবগত হতে হবে। আলী ইবনে শাকিক বলেন: "আমি ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি: 'কখন একজন ব্যক্তির জন্য ফতোয়া (فتوى) প্রদান বৈধ হয়?' তিনি বললেন: 'যখন সে বর্ণনার (أثر) ব্যাপারে আলেম (عالم) হবে এবং রায়ের (رأي) ব্যাপারে বিচক্ষণ হবে'।"১

৩- এছাড়াও তাকে শরয়ি ইলমসমূহ এবং এর মূলনীতিসমূহ (قواعد) সম্পর্কে অবগত হতে হবে যার ওপর ভিত্তি করে শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام) প্রতিষ্ঠিত এবং যা ছাড়া বিধানগুলো অনুধাবন করা সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ:

--------------------------------------------

১ জামে বয়ানিল ইলম লি ইবনি আবদিল বার ১ - ৩১।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮৫)
قَالَ الشَّافِعِي: "لَا يحل لأحد أَن يُفْتِي فِي دين الله إِلَّا رجلا عَارِفًا بِكِتَاب الله، بناسخه ومنسوخه ومحكمه ومتشابهه، وَيعرف من الحَدِيث مَا عرف من الْقُرْآن، وَيكون بَصيرًا بالشعر بَصيرًا باللغة وَمَا يحْتَاج إِلَيْهِ من السّنة وَالْقُرْآن وَيسْتَعْمل مَعَ هَذَا الْإِنْصَاف وَيكون بعد هَذَا مشرفاً على اخْتِلَاف أهل الْأَمْصَار وَتَكون لَهُ قريحة بعد هَذَا، فَإِذا كَانَ هَكَذَا فَلهُ أَن يتَكَلَّم ويفتي فِي الْحَلَال وَالْحرَام وَإِذا لم يكن هَكَذَا فَلَيْسَ لَهُ أَن يُفْتِي"1.

وَقَالَ أَحْمد بن حَنْبَل: "يَنْبَغِي للرجل إِذا حمل نَفسه على الْفتيا أَن يكون عَالما بِوُجُوه الْقُرْآن عَالما بِالْأَسَانِيدِ"2.

وَقَالَ يحيى بن أَكْثَم: "لَيْسَ من الْعُلُوم كلهَا علم أوجب على الْعلمَاء والمتعلمين وعَلى كَافَّة الْمُسلمين من علم نَاسخ الْقُرْآن ومنسوخه".

وروى ابْن سِيرِين عَن حُذَيْفَة أَنه قَالَ: "إِنَّمَا يُفْتِي النَّاس أحد ثَلَاثَة: من يعلم مَا نسخ من الْقُرْآن، أَو أَمِير لَا يجد بدا، أَو أَحمَق متكلف". قَالَ ابْن سِيرِين: "فلست بِوَاحِد من هذَيْن وَلَا أحب أَن أكون الثَّالِث"3.

قَالَ ابْن الْقيم رحمه الله: "مُرَاده وَمُرَاد السّلف بالناسخ والمنسوخ رفع الحكم بجملته تَارَة وَهُوَ اصْطِلَاح المتأخيرن، وَرفع دلَالَة الْعَام وَالْمُطلق وَالظَّاهِر وَغَيرهَا تَارَة إِمَّا بتخصيص أَو تَقْيِيد أَو حمل مُطلق على مُقَيّد وَتَفْسِيره وتبيينه حَتَّى إِنَّهُم ليسمون الاستثاء وَالشّرط وَالصّفة نسخا". اهـ.

قلت: وَيَنْبَغِي على كل متعلم أَن يعلم أَن مرتبَة الْفَتْوَى لم تكن لجَمِيع الصَّحَابَة رضوَان الله تَعَالَى عَلَيْهِم مَعَ أَن جَمِيعهم فِي اللُّغَة أفْصح من فصحاء عصرنا، هَذَا مَعَ كَونهم امتازوا بالصحبة وبمشاهدة التَّنْزِيل إِنَّمَا كَانَ الْمَشْهُور

--------------------------------------------

1 الْفَقِيه والمتفقه للخطيب الْبَغْدَادِيّ.

2 إِعْلَام الموقعين 1 ـ 36.

3 نفس الْمصدر.
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "আল্লাহর দ্বীনে কারো জন্য ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয় কেবল এমন ব্যক্তি ছাড়া যিনি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ; এর রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), সুষ্পষ্ট (محكم) ও রূপক (متشাবেহ) আয়াতসমূহ সম্পর্কে অবগত। আর কুরআনের যতটুকু জ্ঞান তিনি রাখেন, হাদিস সম্পর্কেও যেন তদ্রূপ জ্ঞান রাখেন। তিনি যেন কাব্য ও ভাষা সম্পর্কে পারদর্শী হন এবং কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) প্রয়োজনে যা কিছু আবশ্যক সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত হন। এর পাশাপাশি তাকে ইনসাফের পথ অবলম্বন করতে হবে এবং বিভিন্ন অঞ্চলের পণ্ডিতদের মতপার্থক্য সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে। তদুপরি তার মধ্যে এক প্রকার সহজাত প্রজ্ঞা থাকতে হবে। যখন এই গুণাবলি অর্জিত হবে, তখনই কেবল তিনি কথা বলতে পারবেন এবং হালাল (حلال) ও হারাম (حرام) বিষয়ে ফতোয়া দিতে পারবেন। আর যদি এমনটি না হয়, তবে তার জন্য ফতোয়া দেওয়ার অবকাশ নেই।"1.

এবং আহমদ বিন হাম্বল বলেছেন: "একজন ব্যক্তি যখন নিজেকে ফতোয়া প্রদানের কার্যে নিয়োজিত করবেন, তখন তার জন্য কুরআনের নানাবিধ প্রেক্ষাপট ও অর্থ সম্পর্কে এবং সনদসমূহ (أسانيد) সম্পর্কে অভিজ্ঞ হওয়া আবশ্যক।"2.

ইয়াহইয়া বিন আকসাম বলেছেন: "সকল প্রকার জ্ঞানের মধ্যে আলেম, শিক্ষার্থী এবং সকল মুসলিমের জন্য কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ক জ্ঞানের চেয়ে অধিক আবশ্যক অন্য কোনো জ্ঞান নেই।"

ইবনে সিরিন হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "লোকদের কেবল তিন শ্রেণির কোনো এক ব্যক্তি ফতোয়া দিয়ে থাকে: যে কুরআনের রহিতকৃত (نسخ) বিষয়াদি সম্পর্কে জানে, অথবা এমন শাসক যার এছাড়া কোনো উপায় নেই, অথবা এমন নির্বোধ যে সাধ্যাতীত কাজের দায়িত্ব নেয়।" ইবনে সিরিন বলেন: "আমি প্রথম দুইজনের কেউ নই এবং তৃতীয়জন হওয়াও পছন্দ করি না।"3.

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন: "রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বলতে তাঁর এবং পূর্বসূরীদের উদ্দেশ্য হলো: কখনো কোনো বিধানকে সম্পূর্ণরূপে রহিত করা—যা পরবর্তী যুগের পরিভাষা; আবার কখনো ব্যাপক (العام), নিরঙ্কুশ (المطلق), প্রকাশ্য (الظاهر) ইত্যাদির অর্থগত ব্যাপ্তি সংকুচিত করা, যেমন কোনো বিষয়কে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص), শর্তযুক্তকরণ (تقييد), অথবা কোনো নিরঙ্কুশ (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (مقيد) বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা এবং এর ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণ প্রদান করা। এমনকি তারা ব্যতিক্রম (الاستثناء), শর্ত (الشرط) এবং গুণাবলীকেও (الصفة) রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে অভিহিত করতেন।" সমাপ্ত।

আমি বলি: প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জানা উচিত যে, ফতোয়া প্রদানের এই সুউচ্চ মর্যাদা সকল সাহাবীর (রা.) ছিল না, যদিও তারা ভাষাগত দিক থেকে আমাদের যুগের যে কোনো সাবলীল বক্তার চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল ছিলেন। এটি ছিল তাদের সাহচর্য লাভের মর্যাদা এবং ওহী অবতীর্ণ হওয়ার প্রত্যক্ষদর্শীর সম্মানের পাশাপাশি। তবে প্রসিদ্ধ ছিল যে

--------------------------------------------

1 আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ, খতিব আল-বাগদাদী।

2 ইলামুল মুওয়াক্কিইন ১/৩৬।

3 একই উৎস।
(খণ্ড: ১) সাবউ মাসাইল ফী ইলমিল খিলাফ (পৃষ্ঠা: ৮৬)
بالفتوى مِنْهُم سَبْعَة، وَكَانَ هُنَاكَ متوسطون ومقلون فِي الْفَتْوَى ومجموع أهل الْفَتْوَى مِنْهُم مائَة ونيف وَثَلَاثُونَ نفسا.. كَمَا فصل ذَلِك الْحَافِظ ابْن الْقيم رحمه الله فِي كِتَابه الْعَظِيم إِعْلَام الموقعين.

فعلى كل من رشح نَفسه ووطد عزمه على النّظر فِي الْأَحْكَام وَمَعْرِفَة الْحَلَال وَالْحرَام، وعَلى الانتصاب للْفَتْوَى وَالِاجْتِهَاد، أَن يُعِدَ هَذِه الأدوات وَيحصل هَذِه المؤهلات، ويشمر عَن ساعد الْجد، ويشحذ الْعَزِيمَة ويسهر اللَّيَالِي.. وَيسْأل ربه عز وجل على الدَّوَام أَن يَجْعَل لَهُ نورا، فَإِن الْعلم نور يقذفه الله فِي الْقلب كَمَا قَالَ الإِمَام مَالك رحمه الله:

"إِن الْعلم لَيْسَ بِكَثْرَة الرِّوَايَة وَلكنه نور يَجعله الله تَعَالَى فِي الْقُلُوب". وَإِنَّمَا سطرت هَذِه الأسطر فِي هَذَا الشَّأْن الخطير وَالْأَمر الْعَظِيم بِقصد استنفار الهمم لعلم الشَّرِيعَة وَالْفِقْه، ولفت الأنظار إِلَى المصدرين الأساسيين لذَلِك الْكتاب وَالسّنة، وتنبيه الأفكار لطريقة الْوُرُود والاستقاء، وَالْأَخْذ والإعطاء.

وَبعد ذَلِك كُله الشَّفَقَة على نَفسِي وعَلى المتعلمين من أَن ينطبق على حَالنَا قَول إمامنا الْأَعْظَم صلى الله عليه وسلم:

"إِن الله لَا يقبض الْعلم انتزاعاً ينتزعه من الْعباد وَلَكِن يقبض الْعلمَاء حَتَّى إِذا لم يُبق عَالما اتخذ النَّاس رؤوساً جُهَّالًا فسُئلوا فأفتوا بِغَيْر علم فضلوا وأضلوا" 1.

--------------------------------------------

1 رَوَاهُ البُخَارِيّ.
তাদের মধ্যে সাতজন ফতোয়া প্রদানে প্রসিদ্ধ ছিলেন, আর সেখানে মধ্যম পর্যায়ের (متوسطون) এবং স্বল্প সংখ্যক (مقلون) ফতোয়া প্রদানকারীও ছিলেন। ফতোয়া প্রদানকারীদের (أهل الفتوى) মোট সংখ্যা ছিল একশ ত্রিশ জনের কিছু বেশি... যেমনটি হাফিজ (حافظ) ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর মহান গ্রন্থ ইলামুল মুওয়াক্কিঈন-এ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং যে ব্যক্তি নিজেকে ফতোয়া প্রদানের জন্য মনোনীত করেছেন এবং আহকাম (বিধানাবলী) অনুধাবন ও হালাল-হারাম চেনার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করেছেন, এবং ফতোয়া প্রদান ও ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, তার উচিত এই সরঞ্জামগুলো প্রস্তুত করা এবং এই যোগ্যতাগুলো অর্জন করা। তাকে কঠোর পরিশ্রমের জন্য সচেষ্ট হতে হবে, সংকল্পকে শাণিত করতে হবে এবং রাত জেগে সাধনা করতে হবে... এবং সর্বদা তার প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা-র কাছে প্রার্থনা করতে হবে যেন তিনি তাকে নূর (আলো) দান করেন। কারণ ইলম হলো এক প্রকার নূর যা আল্লাহ অন্তরে ঢেলে দেন, যেমনটি ইমাম মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"নিশ্চয়ই ইলম অধিক বর্ণনার (رواية) নাম নয়, বরং এটি একটি নূর যা আল্লাহ তাআলা অন্তরে দান করেন।" আমি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও মহান কাজ সম্পর্কে এই পঙক্তিগুলো লিখেছি কেবল শরিয়াহ এবং ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি হিম্মত জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে, এবং এর মূল দুটি উৎস—কুরআন ও সুন্নাহর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং ইলম গ্রহণের পদ্ধতি ও জ্ঞান আহরণের পদ্ধতির প্রতি চিন্তাশীলদের সতর্ক করার জন্য।

আর এই সবকিছুর পর নিজের প্রতি এবং শিক্ষার্থীগণের প্রতি করুণাবশত এই সতর্কতা, পাছে আমাদের অবস্থার ওপর আমাদের মহান ইমাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি প্রযোজ্য না হয়ে যায়:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের মধ্য থেকে টেনে নিয়ে ইলম তুলে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের (علماء) উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম তুলে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম (عالم) অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ জাহেলদের (جهال) নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের নিকট ফতোয়া চাওয়া হবে এবং তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।" ১।

--------------------------------------------

১ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি।