(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফী সাবিয়ইয়াইনি মুসলিমাইনি আখাযাহুমা রইসুল কানিসাহ ফানাসায়া আলা দীনিহি ওয়া বালাগয়া আলাইহি ওয়া তাযাওওয়াজা, ছুম্মা আসলামা - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
مسألة في صبيين مسلمين أخذهما رئيس الكنيسة فنشآ على دينه وبلغا عليه وتزوجا، ثم أسلما - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مسألة في صبيين مسلمين أخذهما رئيس الكنيسة فنشآ على دينه وبلغا عليه وتزوجا، ثم أسلما
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (18)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
দুইজন মুসলিম বালক সম্পর্কিত মাসআলা যাদেরকে গির্জার প্রধান নিয়ে গিয়েছিল, অতঃপর তারা তার ধর্মে বেড়ে উঠেছে, প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে ও বিয়ে করেছে এবং পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছে - 'আসারুল মুয়াল্লিমি'-র অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
কিতাব: দুইজন মুসলিম বালক সম্পর্কিত মাসআলা যাদেরকে গির্জার প্রধান নিয়ে গিয়েছিল, অতঃপর তারা তার ধর্মে বেড়ে উঠেছে, প্রাপ্তবয়স্ক হয়েছে ও বিয়ে করেছে এবং পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছে
[আসারু আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৮)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
মুহাক্কিক: মুহাম্মদ উজাইর শামস
নিরীক্ষণ করেছেন: মুহাম্মদ আকমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দারু আলমিল ফাওয়ায়িদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি
শামিলা লাইব্রেরির জন্য পেশ করেছেন: 'আতাআতুল ইলম' সংস্থা، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপার অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুন ফী সাবিয়ইয়াইনি মুসলিমাইনি আখাযাহুমা রইসুল কানিসাহ ফানাসায়া আলা দীনিহি ওয়া বালাগয়া আলাইহি ওয়া তাযাওওয়াজা, ছুম্মা আসলামা - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৫৭)
الرسالة السابعة والثلاثون
مسألة
في صبيين مسلمين أخذهما رئيس الكنيسة
فنشآ على دينه وبلغا عليه وتزوجا ثم أسلما
সপ্তত্রিংশতিতম পত্র
মাসয়ালা
দুইজন মুসলিম বালক প্রসঙ্গে, যাদের গির্জার প্রধান নিয়ে গিয়েছিল
অতঃপর তারা তার ধর্মাদর্শে বেড়ে ওঠে, সেই অবস্থাতেই বয়ঃপ্রাপ্ত হয় ও বিবাহ করে এবং পরবর্তীতে তারা ইসলাম গ্রহণ করে
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুন ফী সাবিয়ইয়াইনি মুসলিমাইনি আখাযাহুমা রইসুল কানিসাহ ফানাসায়া আলা দীনিহি ওয়া বালাগয়া আলাইহি ওয়া তাযাওওয়াজা, ছুম্মা আসলামা - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৫৯)
الحمد لله.
مسألة
(1)صبي وصبية من أولاد المسلمين الصومال، أخذهما رئيس الكنيسة بِعَدَن وربَّاهما، فنشآ على دينه وبلغا عليه، فعقد لهما عقد النكاح كما يعقده بين أهل ملته، واستمرا كذلك حتى وُلِد لهما أولاد. ثم إن المرأة أسلمت فتبعها الرجل قبل انقضاء العدة، فما حكم ذلك؟
الجوابإن لهذين الصبيين خمس حالات:الأولى: حالة صغرهما قبل دخولهما الكنيسة.
الثانية: حالة دخولهما والتلبس بالنصرانية.
الثالثة: حالة بلوغهما على ذلك.
الرابعة: حالة عقد الزواج بينهما.
الخامسة: حالة عودهما إلى الإسلام.
فأما حالة صغرهما فإن حكمهما يُعلم من قول «المنهاج» مع شرحه
(2): «(فإذا كان أحد أبويه مسلمًا وقت العلوق فهو) أي الصبي أي الصغير الشامل للأنثى والخنثى (مسلم) بإجماع، وتغليبًا للإسلام، ولا يضر ما يطرأ بعد
--------------------------------------------
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
মাসআলা (مسألة)
(১)সোমালি মুসলিমদের সন্তান এক বালক ও এক বালিকা, এডেনের গির্জার প্রধান তাদের গ্রহণ করেন এবং লালন-পালন করেন। ফলে তারা তার ধর্ম অনুযায়ী বেড়ে ওঠে এবং সেই অবস্থাতেই বয়ঃপ্রাপ্ত হয়। এরপর তিনি তাদের মধ্যে তাঁর ধর্মের অনুসারীদের রীতি অনুযায়ী বিবাহের চুক্তি (عقد النكاح) সম্পন্ন করেন এবং এভাবেই তারা বসবাস করতে থাকে, এমনকি তাদের সন্তানাদিও জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর সেই নারী ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইদ্দত (عدة) শেষ হওয়ার পূর্বেই পুরুষটিও তাঁর অনুসরণ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। এমতাবস্থায় এর বিধান কী?
উত্তরএই দুই সন্তানের পাঁচটি অবস্থা রয়েছে:প্রথম: গির্জায় প্রবেশের পূর্বে তাদের শৈশবকাল।
দ্বিতীয়: তাদের গির্জায় প্রবেশ এবং খ্রিস্টধর্মে লিপ্ত হওয়ার অবস্থা।
তৃতীয়: এই অবস্থাতেই তাদের বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার অবস্থা।
চতুর্থ: তাদের মধ্যে বিবাহের চুক্তি (عقد النكاح) সম্পাদনের অবস্থা।
পঞ্চম: তাদের ইসলামে ফিরে আসার অবস্থা।
তাদের শৈশবকালের বিধান সম্পর্কে 'মিনহাজ' ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح)
(২) থেকে জানা যায়: "যদি গর্ভধারণের সময় তার পিতামাতার কোনো একজন মুসলিম হন, তবে সেই সন্তান অর্থাৎ শিশুটি (যা বালিকা ও উভয়লিঙ্গ ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে) ঐক্যমত্য (إجماع) অনুযায়ী এবং ইসলামের প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে মুসলিম (مسلم) হিসেবে গণ্য হবে। পরবর্তীতে যা ঘটবে তা এর জন্য ক্ষতিকর হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুন ফী সাবিয়ইয়াইনি মুসলিমাইনি আখাযাহুমা রইসুল কানিসাহ ফানাসায়া আলা দীনিহি ওয়া বালাগয়া আলাইহি ওয়া তাযাওওয়াজা, ছুম্মা আসলামা - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৬০)
العلوق منهما ــ أي من الأبوين ــ من ردّة».
وهذان الصبيان لم يزل آباؤهما مسلمين حال العلوق وبعده، فهما أولى بما ذُكر في الصورة الأولى فضلًا عن الثانية، فحكمهما أنهما مسلمان إجماعًا.
وأما حالة دخولهما الكنيسة وتلبسهما بالنصرانية فإن حكمهما يعلم من قول «المنهاج» وشرحه
(1): «(ولا تصحُّ ردّةُ صبي) ولو مميزًا (و) لا ردّة (مجنون) لعدم تكليفهما، فلا اعتداد بقولهما واعتقادهما».
ومنه علم أن تلبس الصبيين بالنصرانية حالَ صغرهما لغو، لا ينافي دوام الحكم بإسلامهما.
وأما حالة بلوغهما ودوامهما على التلبس بالنصرانية فإن حكمهما يعلم من قول «المنهاج» وشرحه
(2): «(فإن بلغ) الصغير المسلم بالتبعية لأحد أبويه (ووصف كفرًا) بأن أعرب به عن نفسه كما في «المحرر» (فمرتد) لأنه مسلم ظاهرًا وباطنًا».
ومنه يُعلَم أن دوام هذين الصبيين على النصرانية بعد بلوغهما ردّة، فهما في تلك الحالة مرتدَّان.
والردة على ثلاث صور:
أحدها: قطع البالغ العاقل للإسلام بعد أن تلبس به مباشرة في حال كماله.
--------------------------------------------
«তাদের অর্থাৎ পিতামাতা উভয়ের পক্ষ থেকে ধর্মত্যাগ (ردة) অবস্থায় গর্ভধারণ।»
এই দুই বালকের পিতামাতা গর্ভধারণের সময় এবং তার পরেও মুসলিম ছিলেন। সুতরাং প্রথম সুরতের (অবস্থার) তুলনায় তারা এতে অধিকতর হকদার, দ্বিতীয় সুরতের কথা তো বলাই বাহুল্য। অতএব তাদের বিধান হলো, তারা সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) মুসলিম।
আর তাদের গির্জায় প্রবেশ এবং খ্রিস্টধর্ম পালনের অবস্থার বিধান 'মিনহাজ' ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ
(১) থেকে জানা যায়: «(এবং শিশুর ধর্মত্যাগ (ردة) সঠিক নয়) যদিও সে সমঝদার (مميز) হয়, (এবং) কোনো পাগল (مجنون)-এর ধর্মত্যাগ (ردة) [সঠিক নয়]; যেহেতু তারা শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য (تكليف) নয়। সুতরাং তাদের কথা এবং বিশ্বাসের কোনো নির্ভরযোগ্যতা (اعتداد) নেই।»
এ থেকে জানা গেল যে, শৈশবে এই দুই বালকের খ্রিস্টধর্ম পালন নিরর্থক (لغو), যা তাদের ওপর মুসলিম হওয়ার বিধান অব্যাহত থাকার পরিপন্থী নয়।
আর তাদের প্রাপ্তবয়স্ক (بلوغ) হওয়া এবং খ্রিস্টধর্মে অবিচল থাকার অবস্থার বিধান 'মিনহাজ' ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ
(২) থেকে জানা যায়: «(অতঃপর যদি) কোনো শিশু যে তার কোনো এক পিতামাতার অনুসরণে (تبعية) মুসলিম ছিল, সে (প্রাপ্তবয়স্ক (بلغ) হয় এবং কুফরের বর্ণনা দেয়), অর্থাৎ সে নিজের পক্ষ থেকে তা প্রকাশ করে যেমনটি 'আল-মুহাররার' গ্রন্থে রয়েছে, (তবে সে ধর্মত্যাগী (مرتد)); কারণ সে বাহ্যত (ظاهرًا) ও অভ্যন্তরীণভাবে (باطنًا) মুসলিম ছিল।»
এ থেকে জানা যায় যে, এই দুই বালকের প্রাপ্তবয়স্ক (بلوغ) হওয়ার পর খ্রিস্টধর্মে অবিচল থাকা হলো ধর্মত্যাগ (ردة)। এমতাবস্থায় তারা ধর্মত্যাগী (مرتد)।
ধর্মত্যাগ (ردة) তিন প্রকার:
তার মধ্যে একটি হলো: কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের (عاقل) প্রাপ্তবয়স্ক (بالغ) ব্যক্তি ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার পর তার পূর্ণতার অবস্থায় সরাসরি তা ছিন্ন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুন ফী সাবিয়ইয়াইনি মুসলিমাইনি আখাযাহুমা রইসুল কানিসাহ ফানাসায়া আলা দীনিহি ওয়া বালাগয়া আলাইহি ওয়া তাযাওওয়াজা, ছুম্মা আসলামা - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৬১)
الثانية: قطع البالغ العاقل إسلامه اللازم له بالتبعية، كمسألتنا.
الثالثة: ذكرها شيخ الإسلام بقوله
(1): «(أو) أصوله (مرتدون فمرتد) تبعًا، لا مسلم ولا كافر أصلي، فلا يسترقّ ولا يُقتل حتى يبلغ ويستتاب، فإن لم يتب قُتل».
ولم يفرق أصحابنا بين هذه الأقسام في شيء من الأحكام، وقد صرَّحوا في الصورة الثالثة بما ترى، فلم يجعلوه كافرًا أصليًّا، مع أنه خُلِق من الكفر ووُلِد فيه ونشأ عليه، فأولى منه الصورة الثانية التي عليها واقعة الحال. ولا فرق بين أن يكون الصبي في دار الإسلام وأن يكون في غيرها كما هو ظاهر. وقد يصر على ذلك. غاية الأمر أن الذي في دار الإسلام تحت سطوتنا، بحيث يمكننا تنفيذ الأحكام عليه، والذي في غيرها لا يمكننا ذلك، وهذا لا يُسقط الأحكام، بل إن تمكنَّا في الدنيا أجريناها، وإن لم نتمكن فيوم الفصل أمامنا.
والحاصل أن حكم هذين الصوماليين في الحالة الثالثة أنهما مرتدان، تجري عليهما أحكام الردة المعروفة.
وأما الحالة الرابعة ــ وهي حالة عقد النكاح بينهما ــ فإن حكمها يُعلم من قول «المنهاج» وشروحه
(2): «ولا تحل مرتدة لأحدٍ، لا من المسلمين لأنها كافرة لا تقر، ولا من الكفار لبقاء عُلقة الإسلام فيها، ولا لمرتد مثلها، لأنهما لا دوام لهما».
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: প্রাপ্তবয়স্ক (بالغ) ও বুদ্ধিমান (عاقل) ব্যক্তির তার অনুবর্তী হওয়ার মাধ্যমে আবশ্যক হওয়া ইসলাম ছিন্ন করা, যেমন আমাদের আলোচ্য মাসআলাটি।
তৃতীয়: শাইখুল ইসলাম এটি তাঁর নিম্নোক্ত উক্তির মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন
(১): “(অথবা) যদি তার পূর্বপুরুষরা ধর্মত্যাগী (مرتد) হয়, তবে সেও অনুবর্তী হিসেবে ধর্মত্যাগী (مرتد) বলে গণ্য হবে; সে মুসলিমও নয় এবং জন্মগত কাফির (كافر أصلي) নয়। সুতরাং তাকে দাস বানানো হবে না এবং হত্যাও করা হবে না যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক (بالغ) হয় এবং তাকে তওবা করতে বলা (استتابة) হয়। অতঃপর যদি সে তওবা না করে, তবে তাকে হত্যা করা হবে।”
আমাদের (মাযহাবের) ফকিহগণ বিধানের কোনো ক্ষেত্রেই এই প্রকারগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। তারা তৃতীয় সুরত সম্পর্কে যা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন তা আপনি দেখছেন, সেখানে তারা তাকে জন্মগত কাফির (كافر أصلي) হিসেবে গণ্য করেননি, যদিও সে কুফরির মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, তাতে জন্মগ্রহণ করেছে এবং তার ওপরই বেড়ে উঠেছে। সুতরাং দ্বিতীয় সুরতটি এর চেয়েও অধিক অগ্রগণ্য, যার ওপর বর্তমান পরিস্থিতি প্রযোজ্য। শিশুটি দারুল ইসলাম (دار الإسلام) এ থাকুক বা এর বাইরে থাকুক—উভয় ক্ষেত্রেই কোনো পার্থক্য নেই, যেমনটি স্পষ্ট। বিষয়টি এভাবেই হতে পারে। মূল কথা হলো, যে ব্যক্তি দারুল ইসলাম (دار الإسلام) এ রয়েছে সে আমাদের শাসনের অধীনে, ফলে আমরা তার ওপর বিধান কার্যকর করতে সক্ষম; আর যে এর বাইরে রয়েছে, তার ক্ষেত্রে আমরা তা পারি না। তবে এটি বিধানকে বাতিল করে দেয় না; বরং দুনিয়ায় যদি আমরা সক্ষম হই তবে তা কার্যকর করব, আর সক্ষম না হলে ফয়সালার দিন তো আমাদের সামনেই রয়েছে।
সারকথা হলো, তৃতীয় অবস্থার প্রেক্ষিতে এই দুই সোমালি ব্যক্তির বিধান হলো যে তারা উভয়েই ধর্মত্যাগী (مرتد), তাদের ওপর ধর্মত্যাগের (ردة) সুপরিচিত বিধানসমূহ কার্যকর হবে।
আর চতুর্থ অবস্থা—যা হলো তাদের উভয়ের মধ্যকার বিবাহের আকদ (عقد النكاح) করার অবস্থা—তার বিধান 'মিনহাজ' এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
(২) থেকে জানা যায়: “কোনো ধর্মত্যাগী (مرتدة) নারী কারো জন্যই বৈধ নয়; মুসলিমদের জন্য নয়, কারণ সে এমন এক কাফির যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না (لا تقر); কাফিরদের জন্যও নয়, কারণ তার মধ্যে ইসলামের বন্ধন অবশিষ্ট রয়েছে; এবং তার মতো কোনো ধর্মত্যাগীর (مرتد) জন্যও নয়, কারণ তাদের উভয়ের বৈবাহিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব নেই।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুন ফী সাবিয়ইয়াইনি মুসলিমাইনি আখাযাহুমা রইসুল কানিসাহ ফানাসায়া আলা দীনিহি ওয়া বালাগয়া আলাইহি ওয়া তাযাওওয়াজা, ছুম্মা আসলামা - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৬২)
وقال محمد رملي
(1) عند ذكر ولاية الكافر: «وأما المرتد فلا يلي بحالٍ، ولا يزوِّج أمته، ولا يتزوج».
وبه يعلم أن عقد النكاح المعقود بين الصوماليين في حالة الردة باطل، ولا أثر لكونهما حالَ العقد كانا مرتدين معًا كما مر. وقد ذكر في «المنهج»
(2) الزوجين المسلمين ارتدَّا معًا ....
وإنما كان هذا العقد باطلًا للمانع القائم بين الزوجين، حتى لو كان العاقد إمام المسلمين أو قاضيهم. وليس بطلانه لوقوعه على يد رئيس الكنيسة، فإن عقود رئيس الكنيسة بين أهل ملته الأصليين صحيحة، كعقود سائر أهل الديانات الأخرى، كما أجمع عليه المسلمون أو كادوا.
وقد ذكر في «المنهج» وشرحه
(3): «
… أسلم على كتابية تَحِلُّ دام نكاحه، أو غيرها وتخلفت أو أسلمت وتخلف، فإن كان ذلك قبل الدخول وما في معناه فكردَّةٍ.
ثم قال: «(أو أسلما معًا) قبل الدخول أو بعده (دام) نكاحهما لخبر صحيح فيه، ولتساويهما في الإسلام المناسب للتقرير، بخلاف ما لو ارتدَّا معًا كما مر (والمعية) في الإسلام (بآخر لفظ) لأن به يحصل الإسلام لا بأوله ولا بأثنائه، وسواء فيما ذكر أكان الإسلام [استقلالًا أم تبعيَّةً].
وقوله: «وسواء فيما ذكر
… إلخ» يوهم ما ذكرناه أنه لا فرق بين أقسام
--------------------------------------------
মুহাম্মদ রামলি
(1) কাফিরের অভিভাবকত্ব আলোচনার সময় বলেন: «আর ধর্মত্যাগী (مرتد) ব্যক্তির ক্ষেত্রে কথা হলো, সে কোনো অবস্থাতেই অভিভাবক হতে পারবে না, সে তার দাসীকে বিবাহ দিতে পারবে না এবং নিজেও বিবাহ করতে পারবে না»।
এর মাধ্যমে জানা যায় যে, ধর্মত্যাগের (ردة) অবস্থায় সোমালিদের মধ্যে সম্পাদিত বিবাহ চুক্তি বাতিল (باطل), এবং তারা উভয়ে চুক্তির সময় একত্রে ধর্মত্যাগী (مرتد) থাকা সত্ত্বেও ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়মানুযায়ী তা কোনো প্রভাব ফেলবে না। আর 'মানহাজ'
(2) গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো মুসলিম দম্পতি যদি একত্রে ধর্মত্যাগ (مرتد) করে...
এই বিবাহ চুক্তিটি শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতার কারণেই বাতিল (باطل) গণ্য হবে, এমনকি বিবাহ সম্পাদনকারী যদি মুসলিমদের ইমাম বা তাদের কাজিও হন। এটি গির্জার প্রধানের হাতে সম্পাদিত হওয়ার কারণে বাতিল (باطل) নয়; কেননা গির্জার প্রধানের নিজ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিগুলো সঠিক (صحيح), যেমনটি অন্যান্য সকল ধর্মাবলম্বীদের চুক্তির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যে বিষয়ে মুসলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন বা কাছাকাছি পৌঁছেছেন।
'মানহাজ' ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে
(3) উল্লেখ করা হয়েছে: «
… যদি কোনো ব্যক্তি এমন একজন কিতাবী মহিলার উপস্থিতিতে ইসলাম গ্রহণ করে যার সাথে বিবাহ বৈধ, তবে তার বিবাহ বহাল থাকবে। অথবা অন্য কোনো মহিলা যদি ইসলাম গ্রহণে পিছিয়ে থাকে বা মহিলাটি ইসলাম গ্রহণ করে আর স্বামী পিছিয়ে থাকে, তবে সহবাস বা অনুরূপ বিষয়ের আগে এমনটি ঘটলে তা ধর্মত্যাগের (ردة) মতো গণ্য হবে।
এরপর তিনি বলেন: «(অথবা তারা উভয়ই একত্রে ইসলাম গ্রহণ করলে) সহবাসের আগে বা পরে হোক, তাদের বিবাহ বহাল থাকবে। কারণ এ বিষয়ে একটি সঠিক (صحيح) বর্ণনা রয়েছে এবং ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের উভয়ের সমতা বহাল রাখার জন্য উপযোগী। এর বিপরীত হলো যদি তারা একত্রে ধর্মত্যাগ (مرتد) করে যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে 'একত্রে হওয়া' বিচার করা হবে শেষ শব্দের মাধ্যমে, কারণ এর মাধ্যমেই ইসলাম সাব্যস্ত হয়, শুরুর বা মধ্যবর্তী অংশের মাধ্যমে নয়। আর উল্লিখিত বিষয়ে ইসলাম গ্রহণ স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে হোক কিংবা অন্য কারো অনুগামী হিসেবে হোক, উভয়ই সমান।
এবং তার কথা: «উল্লিখিত বিষয়ে সমান … ইত্যাদি» এই ধারণা প্রদান করে যে, আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুন ফী সাবিয়ইয়াইনি মুসলিমাইনি আখাযাহুমা রইসুল কানিসাহ ফানাসায়া আলা দীনিহি ওয়া বালাগয়া আলাইহি ওয়া তাযাওওয়াজা, ছুম্মা আসলামা - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৬৩)
الردة.
وأما الحالة الخامسة ــ وهي حالة توبتهما فعلينا أن نُعلِمهما بأن عقد النكاح الذي عُقد بينهما في حالة الردة لم يكن صحيحًا، ونجهد أن نعقد بينهما عقدًا صحيحًا، لأنه أولى من التفرقة، ولاسيما لمكان الأولاد، مع وجوب التأليف، ولاسيما حيث لم يزالا في دارٍ غير دار الإسلام. ويجوز العقد بينهما بلا عدّة. وإن قيل بأن الوطء في حال الردة وطء شبهة، لأنه هو صاحب العدة، ولا مانع.
هذا ما تيسَّر كتابته مع القصور وعدم الكتب في الحال، وبالله التوفيق، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.
ধর্মত্যাগ।
আর পঞ্চম অবস্থা সম্পর্কে—যা হলো তাদের উভয়ের তওবা করার অবস্থা—আমাদের কর্তব্য হলো তাদের জানানো যে, ধর্মত্যাগের অবস্থায় তাদের মধ্যে যে নিকাহর চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল তা সঠিক (صحيح) ছিল না। আমাদের প্রচেষ্টা করতে হবে যেন আমরা তাদের মধ্যে একটি সঠিক (صحيح) চুক্তি সম্পাদন করি; কেননা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার চেয়ে এটিই অধিকতর শ্রেয়, বিশেষত সন্তানদের কারণে এবং তাদের অন্তর জয়ের আবশ্যকতা হেতু, বিশেষ করে যেহেতু তারা তখনও ইসলামি ভূখণ্ড ব্যতীত অন্য কোনো রাষ্ট্রে অবস্থান করছে। কোনো ইদ্দত পালন ছাড়াই তাদের মধ্যে পুনরায় বিবাহের চুক্তি করা জায়েজ। আর যদি বলা হয় যে, ধর্মত্যাগের অবস্থায় কৃত সহবাস 'সন্দেহযুক্ত সহবাস' হিসেবে গণ্য, তবে তাতে কোনো বাধা নেই; কেননা ব্যক্তি নিজেই ইদ্দতের অধিকারী।
সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনীয় কিতাবপত্রের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও এই সামান্য অংশটুকুই লেখা সম্ভব হয়েছে। আল্লাহই তাওফিকদাতা। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।