(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
المختصر من أخبار فاطمة بنت سيد البشر صلى الله عليه وآله وسلم   (إبراهيم بن عبد الله المديهش)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: المختصر من أخبار فاطمة بنت سيد البشر - صلى الله عليه وعلى آله وسلم -

المؤلف: إبراهيم بن عبد الله بن عبد الرحمن المديهش

الناشر: دار الآل والصحب الوقفية

الطبعة: الأولى، 1442 هـ

عدد الصفحات: 186

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 17 محرم 1442

মানবজাতির শ্রেষ্ঠতমের কন্যা ফাতিমার সংবাদ সংক্ষেপ   (ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-মুদাইহিশ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: মানবজাতির শ্রেষ্ঠতমের কন্যা ফাতিমার সংবাদের সংক্ষিপ্তসার - আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক -

লেখক: ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-মুদাইহিশ

প্রকাশক: দারুল আল ওয়াস সাহাব ওয়াকফিয়া

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪২ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৭ মুহাররাম ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌[المقدمة]

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِيْن، وَالصَّلَاةُ والسَّلَامُ عَلَى أَشْرَفِ الأَنْبِيَاءِ والمُرْسَلِيْنَ، نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأصحَابِهِ أَفْضَلُ الصَّلَاةِ وَأَتَمُّ التَّسْلِيْم

أما بعد

 

فإنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى مَنَّ عليَّ بتأليف مَعْلَمةٍ = مَوسوعَةٍ شامِلَةٍ عن فاطمة رضي الله عنها، أسميتُها: «فاطمة بنت النبي صلى الله عليه وسلم، سيرتها، فضائلها، مسندها رضي الله عنها ـ دراسة حديثية تاريخية موضوعية ـ»(1) ــ ولِلَّهِ الحمْدُ والفَضْلُ والمِنَّةُ ــ، حاولتُ الإحاطة بكل ما يتعلق بها: حديثياً، وعقدياً، ونَسَبِياً، وتاريخياً، وجغرافياً، وأدبياً، ومعارف أخرى، قصدتُ أن تكون مرجعاً مُغنياً للباحثين، وليست للقراءة التامة من أولها إلى آخرها.

الموسوعة في سبعة مجلدات، تَضمَّنَتْ (755) حديثَاً بدراسَةٍ عِلمِيَّة مفصَّلة.

جاءت في مقدمة، وتمهيد، وثلاثة أبواب، وملحق، وخاتمة، وفهارس.

استغرق المجلد الأول كاملاً المقدمةَ والتمهيدَ.

بيَّنتُ في التمهيد ما يتعلق بآل البيت، والكتبِ المؤلفة فيهم، وفي فاطمة، مع ترجمتها، وموقف بعض الفِرَق منها، وبعضِ المسائل المنهجية

--------------------------------------------

(1) صدرت عن «دار الآل والصحب الوقفية» في الرياض، في شهر ذي الحجة (1440 هـ).
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসুলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠের ওপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।

অতঃপর

 

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে একটি বিস্তৃত বিশ্বকোষ সংকলনের মাধ্যমে আমার ওপর অনুগ্রহ করেছেন, যার নামকরণ করেছি: «ফাতিমা বিনতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর জীবনী, তাঁর মর্যাদা ও তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ —একটি হাদিসতাত্ত্বিক, ঐতিহাসিক ও বিষয়ভিত্তিক পর্যালোচনা—»(১) —আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, অনুগ্রহ ও দান—। আমি তাঁর সাথে সম্পর্কিত হাদিসতাত্ত্বিক, আকিদাগত, বংশবৃত্তান্ত, ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাহিত্যিক এবং অন্যান্য বিষয়সহ সবকিছুকে বেষ্টন করার চেষ্টা করেছি। আমার উদ্দেশ্য ছিল এটি গবেষকদের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করবে, এটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটানা পড়ার মতো সাধারণ বই নয়।

বিশ্বকোষটি সাত খণ্ডে বিভক্ত, যার মধ্যে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনাসহ (৭৫৫) টি হাদিস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এটি একটি ভূমিকা, প্রারম্ভিকা, তিনটি পরিচ্ছেদ, পরিশিষ্ট, উপসংহার ও নির্ঘণ্টের সমন্বয়ে গঠিত।

প্রথম খণ্ডটি সম্পূর্ণভাবে ভূমিকা ও প্রারম্ভিকা নিয়ে গঠিত।

আমি প্রারম্ভিকায় আহলে বাইত সম্পর্কিত বিষয়াবলি, তাদের সম্পর্কে এবং ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে রচিত গ্রন্থাবলি, তাঁর জীবনী, তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন উপদলের অবস্থান এবং কিছু পদ্ধতিগত মাসআলা বর্ণনা করেছি।

--------------------------------------------

(১) এটি রিয়াদের «দারুল আল ওয়াস সাহাব আল-ওয়াকফিয়্যাহ» থেকে জিলহজ মাসে (১৪৪০ হিজরী) প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
في تناول أسانيد التاريخ.

تضَمَّنَ البابُ الأول: الأحاديثَ المروية في سيرة فاطمة رضي الله عنها، في خمسة فصول، تحت كل فصل عدة مباحث في حالها مع والدها صلى الله عليه وسلم، ومع زوجها، وابنيها الحسن والحسين رضي الله عنهما، وما يتعلق بوفاتها رضي الله عنها.

وتضَمَّنَ البابُ الثاني: الأحاديثَ المروية في فضائلها، في خمسة فصول، تحت كل فصل عدة مباحث، في منزلتها عند أبيها صلى الله عليه وسلم، ومنزلة أبيها عندها رضي الله عنها، ومنزلتها عند الشيخين أبي بكر وعمر رضي الله عنهما، ومنزلتها في العلم والعبادة وما فُضِّلَت به رضي الله عنها.

وتضَمَّنَ البابُ الثالث: مسندَها، أي الأحاديث التي روتْها عن أبيها صلى الله عليه وسلم، مع دراستها وتخريجها بتوسُّع.

وفي الخاتمة: أهم نتائج الموسوعة، ثم أوردتُ فهارس متنوعة تفصيلية.

أعتبر هذه الموسوعة = المعلَمة أوسعَ كتابٍ أُلِّف عن امرأة، فإني لا أعلمُ قبله كتاباً كبيراً في سيرة امرأة أكبر من مجلدين حقِيقَين ـ وللَّهِ الحمدُ والفضلُ والمِنَّة ـ.

وقد أعلنتُ في خاتمة الموسوعة عن هذا المختصر، الذي أقتصرُ فيه على المقبول، دون الإحالات والنقول، وربما أذكر يسيرَاً من المردود مع
ইতিহাসের সূত্রসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে।

প্রথম অধ্যায়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে: ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সীরাত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ, পাঁচটি পরিচ্ছেদে; প্রতিটি পরিচ্ছেদের অধীনে বেশ কিছু উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে তাঁর পিতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাঁর অবস্থা, তাঁর স্বামী ও তাঁর দুই পুত্র হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথে তাঁর অবস্থা এবং তাঁর ইন্তেকাল সংক্রান্ত বিষয়াবলির ওপর।

দ্বিতীয় অধ্যায়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে: তাঁর মর্যাদা ও ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ, পাঁচটি পরিচ্ছেদে; প্রতিটি পরিচ্ছেদের অধীনে বেশ কিছু উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে তাঁর পিতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর মর্যাদা, তাঁর নিকট তাঁর পিতার মর্যাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহা), শাইখাইন আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট তাঁর মর্যাদা এবং জ্ঞান ও ইবাদতে তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়াবলির ওপর।

তৃতীয় অধ্যায়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে: তাঁর 'মুসনাদ', অর্থাৎ সেই হাদীসসমূহ যা তিনি তাঁর পিতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর বিস্তারিত অধ্যয়ন ও উৎস নির্দেশসহ (তাখরীজ)।

এবং উপসংহারে: বিশ্বকোষের গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ, এরপর আমি বিভিন্ন ধরনের বিস্তারিত নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।

আমি এই বিশ্বকোষ বা সংকলনটিকে কোনো নারীর ওপর রচিত সবচেয়ে বিস্তৃত গ্রন্থ বলে মনে করি। কেননা, আমি ইতিপূর্বে কোনো নারীর সীরাত বা জীবনচরিতের ওপর বাস্তবসম্মত দুই খণ্ডের অধিক বড় কোনো গ্রন্থের কথা জানি না—আর সমস্ত প্রশংসা, শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ আল্লাহরই।

আমি বিশ্বকোষের উপসংহারে এই সংক্ষিপ্ত সারটি সম্পর্কে ঘোষণা দিয়েছিলাম, যাতে আমি কেবল গ্রহণযোগ্য বর্ণনাগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকব, কোনো প্রকার তথ্যসূত্র বা উদ্ধৃতি ছাড়াই; আর সম্ভবত আমি বর্জনীয় বর্ণনার অতি সামান্য কিছু অংশ উল্লেখ করব যার সাথে...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
بيانه، فهو مُختصرٌ لا يُغني طلبةَ العلم والباحثين عن الموسوعة، وفيه زياداتٌ عليها يسيرة، وتصحيحات.

 

هذا وقد انتظم المختصر في المعالم التالية:

 

1. عقيدة أهل السنة والجماعة بآل البيت، والعناية بهم عليهم السلام و رضي الله عنهم.

2. عناية أهل السنة والجماعة بفاطمة عليها السلام، ومحبة المسلمين لها رضي الله عنها، ولطائف في موضع ترجمتها وأبواب مناقبها ومسندها.

3. اسمُها عليها السلام وسبب التسمية.

4. نَسبُها رضي الله عنها.

5. كُنيَتُها عليها السلام.

6. لقَبُها رضي الله عنها.

7. العائلة: شَيءٌ من فضائلهم، وترتيبُ فاطمةَ بين إخوانها وأخواتها رضي الله عنهم.

8. مَولِدُها رضي الله عنها.

9. نَشأتُها عليها السلام.

10. هِجرَتُها رضي الله عنها.

11. زَواجُها، وحالُها مع زوجِها رضي الله عنهما.
এর ব্যাখ্যা হলো, এটি একটি সংক্ষিপ্ত সার যা ইলম অন্বেষণকারী এবং গবেষকদের জন্য মূল বিশ্বকোষের বিকল্প হতে পারে না, তবে এতে কিছু সামান্য সংযোজন ও সংশোধনী রয়েছে।

 

এই সংক্ষিপ্ত সারটি নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের আলোকে বিন্যস্ত হয়েছে:

 

১. আহলে বাইতের প্রতি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ এবং তাঁদের প্রতি বিশেষ যত্ন ও গুরুত্ব (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

২. ফাতিমা (আলাইহাস সালাম)-এর প্রতি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশেষ গুরুত্ব প্রদান, তাঁর প্রতি মুসলিমদের ভালোবাসা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন), এবং তাঁর জীবনী, মর্যাদার অধ্যায়সমূহ ও মুসনাদ সংক্রান্ত সূক্ষ্ম আলোচনা।

৩. তাঁর (আলাইহাস সালাম) নাম এবং নামকরণের কারণ।

৪. তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বংশপরিচয়।

৫. তাঁর (আলাইহাস সালাম) উপনাম।

৬. তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) উপাধি।

৭. পরিবার: তাঁদের মর্যাদার কিছু দিক এবং ভাই-বোনদের মধ্যে ফাতিমার (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ক্রমিক অবস্থান।

৮. তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) জন্ম।

৯. তাঁর (আলাইহাস সালাম) লালন-পালন ও বেড়ে ওঠা।

১০. তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হিজরত।

১১. তাঁর বিবাহ এবং স্বামীর সাথে তাঁর দাম্পত্য অবস্থা (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০)
12. أولادُها عليها السلام.

13. عقِبُها رضي الله عنها.

14. بَيتُها رضي الله عنها.

15. صفَتُها وشمائلُها عليها السلام.

16. حالُها مع والِدِها النبي صلى الله عليه وسلم: بِرُّها به، بِرُّها بوالدتها، نفقةُ النبيِّ صلى الله عليه وسلم عليها، وقيامُه عليها بالعدل، ومحبَّتُه لها واحتفاؤه بها، الزيارة بينهما، وغيرتُه عليها، وحِفظُها لسرِّهِ، وتعليمُه إياها.

17. مِن مناقبِها وخَصائِصها رضي الله عنها.

18. عِلْمُها، ومُسنَدُها عليها السلام.

19. علاقتها بأزواج النبي صلى الله عليه وسلم، وحثُّ النبي صلى الله عليه وسلم إياها على حُبِّ عائشة رضي الله عنهم.

20. مَوقِفُها من طلبِ أبي سفيان الشفاعة رضي الله عنهما.

21. مَوقِفُها مع أبي لبابة، وهل حلَّتْ عِقَالَه رضي الله عنهما؟

22. طلبُها الميراثَ من أبي بكر، وعلاقتها بالشيخين رضي الله عنهم.

23. هل لها مَوقفٌ من بَيعَةِ أبي بكر رضي الله عنهما؟

24. حُزنُها رضي الله عنها على وفاة أبيها صلى الله عليه وسلم.

25. وَصيَّتُها عليها السلام.
12. তাঁর (আলাইহাস সালাম) সন্তানাদি।

13. তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বংশধারা।

14. তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ঘর।

15. তাঁর (আলাইহাস সালাম) শারীরিক গঠন ও গুণাবলি।

16. পিতা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর অবস্থা: পিতার প্রতি তাঁর সদাচরণ, মাতার প্রতি তাঁর সদাচরণ, তাঁর প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যয়ভার বহন, তাঁর প্রতি তাঁর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, তাঁর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও সমাদর, তাঁদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ, তাঁর প্রতি তাঁর আত্মমর্যাদাবোধ, তাঁর গোপন রহস্য রক্ষা করা এবং তাঁকে শিক্ষা প্রদান।

17. তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যসমূহ।

18. তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহ (আলাইহাস সালাম)।

19. নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পত্নীগণের সাথে তাঁর সম্পর্ক এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে ভালোবাসার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক তাঁকে উৎসাহ প্রদান।

20. আবু সুফিয়ানের সুপারিশ প্রার্থনার বিষয়ে তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) অবস্থান।

21. আবু লুবাবার সাথে তাঁর অবস্থান এবং তিনি কি তাঁর বাঁধন খুলে দিয়েছিলেন? (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)।

22. আবু বকরের নিকট তাঁর উত্তরাধিকার (মিরাস) দাবি এবং শাইখাইনের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সাথে তাঁর সম্পর্ক।

23. আবু বকরের আনুগত্যের শপথের (বাইয়াত) ব্যাপারে তাঁর কি কোনো অবস্থান ছিল? (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)।

24. পিতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালে তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) শোক।

25. তাঁর (আলাইহাস সালাম) অসিয়তনামা।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১১)
26. وفَاتُها: متى تُوفِّيَت؟ ومَن غسَّلها وصَلَّى عليها رضي الله عنها؟

27. قبرُها رضي الله عنها.

28. منظومتان لترجمة فاطمة عليها السلام.

أسألُ اللَّهَ تبارك وتعالى أن يُبارِك بالمَوسُوعةِ الأصل وهذا المختصر، وأن يَنفعْ بهما الإسلامَ والمُسلِمين.

 

كتبه:

إبراهيم بن عبد الله بن عبد الرحمن المديهش

مدينة الرياض

(3 /رمضان 9/ 1441 هـ)

للتواصل: ibrahim.almdehesh@gmail.com
২৬. তাঁর ইন্তেকাল: তিনি কখন ইন্তেকাল করেন? এবং কে তাঁকে গোসল করিয়েছেন ও তাঁর জানাযার নামাজ পড়িয়েছেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)?

২৭. তাঁর কবর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)।

২৮. ফাতিমা (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর জীবনী বিষয়ক দুটি কাব্যগ্রন্থ।

আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি মূল বিশ্বকোষ এবং এই সংক্ষিপ্তসারটিতে বরকত দান করেন এবং এ দুটির মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন।

 

এটি লিখেছেন:

ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মুদাইহিশ

রিয়াদ শহর

(৩ রমজান ১৪৪১ হিজরি)

যোগাযোগের জন্য: ibrahim.almdehesh@gmail.com
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌[1] عقيدة أهل السنة والجماعة بآل البيت، والعناية بهم.

آلُ بَيْتِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وعلى آله وسلم - هُمْ: مَن تحرُم عليهم الصدقةُ، وهُمْ على الصحيح: أزواجُه، وذرِّيتُه، وأقاربُه المسلمون من بني هاشم بن عبد مناف. وقيل: وبَنِي المطلب بن عبد مناف أيضاً.

وقد دلَّ على فَضْلِهِم: الكتابُ، والسُّنَّةُ، وإجماعُ سلَفِ الأمَّةِ.

قال اللَّهُ تبارك وتعالى عن أُمَّهَاتِ المؤمنين:

{وَمَنْ يَقْنُتْ مِنْكُنَّ لِلَّهِ وَرَسُولِهِ وَتَعْمَلْ صَالِحًا نُؤْتِهَا أَجْرَهَا مَرَّتَيْنِ وَأَعْتَدْنَا لَهَا رِزْقًا كَرِيمًا (31) يَانِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا (33) وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا} (سورة الأحزاب، آية 31، 34).

فالآية في أمهات المؤمنين، ويدخل ضمن آية التطهير أيضاً ذرية النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنه تلاها في حديث الكساء الآتي.

عن عائشة رضي الله عنها: خرج النبي صلى الله عليه وسلم غداةً، وعليه مِرْطٌ مُرَحَّل، من شَعْرٍ أسود، فجاء الحسَنُ بنُ علي فأدخلَه، ثم جاءَ الحُسَين
[১] আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট নবী-পরিবার (আহলে বাইত) সংক্রান্ত আকিদা এবং তাদের প্রতি যত্ন.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লামের পরিবার (আহলে বাইত) হলেন তারা: যাদের জন্য সদকা গ্রহণ করা হারাম। বিশুদ্ধ মতানুসারে তারা হলেন: তাঁর পত্নীগণ, তাঁর বংশধর এবং বনু হাশিম ইবনে আবদে মানাফের অন্তর্ভুক্ত তাঁর মুসলিম নিকটাত্মীয়গণ। কেউ কেউ বলেছেন: বনু মুত্তালিব ইবনে আবদে মানাফও এর অন্তর্ভুক্ত।

তাদের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর দলিল বহন করে: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফদের ইজমা (ঐক্যমত)।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা মুমিনদের জননীদের সম্পর্কে বলেছেন:

{আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুগত হবে এবং সৎকাজ করবে, আমি তাকে তার প্রতিদান দুইবার দেব এবং আমি তার জন্য প্রস্তুত রেখেছি সম্মানজনক জীবিকা। (৩১) হে নবীর পত্নীগণ! তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও; যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তোমরা পরপুরুষের সাথে কথা বলার সময় কোমলতা অবলম্বন করো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে লালসা করে। আর তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বলো। (৩২) আর তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলিয়াতের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়িয়ো না। তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। হে নবীর পরিবার (আহলে বাইত)! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। (৩৩) আর তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমত পঠিত হয়, তা তোমরা স্মরণ রেখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সর্ববিষয়ে অবহিত।} (সূরা আল-আহজাব, আয়াত ৩১-৩৪)।

সুতরাং এই আয়াতটি মুমিনদের জননীদের শানে অবতীর্ণ হয়েছে, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধরগণও পবিত্রতার এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত; যেহেতু তিনি পরবর্তী 'হাদিসে কিসা'-তে এটি পাঠ করেছিলেন।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: একদা সকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন, এমতাবস্থায় তাঁর গায়ে কালো পশমের তৈরি একটি নকশা করা চাদর ছিল। তখন হাসান ইবনে আলী এলো, তিনি তাকে তার ভেতরে (চাদরের নিচে) প্রবেশ করালেন, এরপর হুসাইন এলো...
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
فدخل معه، ثم جاءت فاطمةُ فأدخلَها، ثم جاء عليُّ فأدخلَهُ، ثمَّ قال: {إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا}.

أخرجه: مسلم.

 

وعن زيد بن أرقم رضي الله عنه قال: قام رسول اللهِ صلى الله عليه وسلم يوماً فينا خطيباً، بماء يُدعى «خُمَّاً» بين مكة والمدينة، فحمدَ اللَّهَ وأثنى عليه، ووعظ وذَكَّر، ثم قال: «أما بعد، ألا أيها الناس فإنما أنا بَشَرٌ يُوشِكُ أن يأتي رسولُ ربي فأُجِيب، وأنا تاركٌ فيكم ثقَلَين: أولهما كتابُ الله فيه الهُدَى والنور، فخذوا بكتاب اللَّهِ، واستمسكوا به»، فحثَّ على كتَابِ اللَّهِ ورغَّبَ فيه، ثم قال: «وأهلُ بَيتِي أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ في أهلِ بَيتي، أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ في أهل بيتي، أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ في أهل بيتي». الحديث.

أخرجه: مسلم.

 

قوله: «أُذَكِّرُكُمُ اللَّهَ في أهل بيتي» أي: (اذكُرُوا اللهَ، اذكُرُوا خَوفَهُ وانتقَامَه إنْ أضعَتُم حقَّ آل البيت، واذكُروا رحمتَه وثوابَه إنْ قُمْتُمْ في حقِّهِم). قاله ابن عثيمين، وقال أيضاً: (اعرفوا لهم حقَّهم، ولا تظلموهم، ولا تعتدوا عليهم، هذا من باب التوكيد، وإلا فكُلُّ إنسانٍ مُؤمِنٍ له حقٌّ على أخيه، لا يحقُّ له أن يعتدِيَ عليه، ولا أنْ يَظلِمَهُ؛ لكِنْ لآلِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم حَقٌّ زَائِدٌ على حُقُوقِ غَيرِهِمْ مِن المسلمين).
অতঃপর তিনি তাঁর সাথে প্রবেশ করলেন, এরপর ফাতিমা আসলেন এবং তিনি তাকেও প্রবেশ করালেন, এরপর আলী আসলেন এবং তিনি তাকেও প্রবেশ করালেন। এরপর তিনি পাঠ করলেন: "হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।"

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

যায়েদ ইবনে আরকাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী 'খুম' নামক এক জলাধারের নিকট আমাদের সামনে ভাষণ দিতে দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ ও নসিহত করলেন। এরপর বললেন: "অতঃপর হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ, অচিরেই আমার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত দূত আসবে এবং আমি তাতে সাড়া দেব। আর আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী বস্তু রেখে যাচ্ছি: প্রথমটি হলো আল্লাহর কিতাব, যাতে রয়েছে হেদায়েত ও নূর। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরো এবং তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো।" এভাবে তিনি আল্লাহর কিতাবের প্রতি উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করলেন। এরপর বললেন: "আর আমার পরিবারবর্গ। আমি আমার পরিবারবর্গের ব্যাপারে তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমি আমার পরিবারবর্গের ব্যাপারে তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, আমি আমার পরিবারবর্গের ব্যাপারে তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।" (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

তাঁর বাণী: "আমি আমার পরিবারবর্গের ব্যাপারে তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি" এর অর্থ হলো: (আল্লাহকে স্মরণ করো, তাঁর ভয় এবং তাঁর শাস্তির কথা স্মরণ করো যদি তোমরা নবী-পরিবারের হক নষ্ট করো; আর তাঁর রহমত ও সওয়াবের কথা স্মরণ করো যদি তোমরা তাদের হক আদায় করো)। এটি ইবনে উসাইমিন বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন: (তোমরা তাদের মর্যাদা ও হক চিনে নাও, তাদের প্রতি জুলুম করো না এবং তাদের ওপর সীমালঙ্ঘন করো না। এটি গুরুত্ব প্রদানের অন্তর্ভুক্ত। নতুবা প্রত্যেক মুমিন মানুষেরই তার ভাইয়ের ওপর হক রয়েছে, যার ওপর সীমালঙ্ঘন করা বা জুলুম করা কারো জন্য বৈধ নয়; তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবারের জন্য অন্যান্য মুসলিমদের হকের অতিরিক্ত একটি বিশেষ হক রয়েছে)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال صديق خان: (فالمراد بالتذكير فيهم: حِفظُ رُتبَتهم في الإسلام، وتعظيمُهم، وحبُّهم في الدِّين، وصَونُ عظيمِ عِزِّهم في الأمة، وتقدِيمُهم على غيرِهم في: المجلس، والكلامِ، والخطابِ، والمشيِ، والقعودِ، والقيامِ؛ وبذلُ الأموال لهم، ونُصرَتُهم في مقابل أعدائهم، والتمسُّكُ بهم إنْ كانوا أهلَ العِلْمِ والتقوى).

فالحديث بمجموع رواياته (تضمَّن الحثَّ على المودَّةِ لهم، والإحسانِ إليهم، والمحافظةِ بهم، واحترامِهم، وإكرامِهم، وتأدِيَةِ حُقُوقِهِم الواجبة والمستحبَّة، فإنهم مِن ذُرِّيَّةٍ طَاهِرَةٍ، مِن أشرَفِ مَن وُجِد على وَجْهِ الأرضِ، فَخْرَاً وحَسَبَاً ونَسَبَاً، ولا سِيَّما إذا كانُوا متَّبعِينَ للسُّنَّة النبويَّةِ الصَحِيحَةِ الواضِحَةِ الجَلِيَّة، كما كَانَ علَيهِ سَلَفُهُم كالعبَّاسِ وبَنِيه، وعَليٍّ وآلِ بَيتِه وذَوِيْهِ رضي الله عنهم. ذكره السخاوي وبنحوه عند ابن كثير، زاد السخاوي: وكذا يَتضمَنُ تَقدِيمَ المتأهِّلِ مِنهُم لِلْوِلايَاتِ عَلى غَيرِهِ.).

 

هذا، وقَد اتَّبَعَ سلَفُ الأمة بدءاً من أبي بكر وعمر وعثمان وبقية الصحب الكرام رضي الله عنهم وصيةَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم بالعنايةِ والرِّعايةِ لآلِ البيتِ رضي الله عنهم.

فهذا خليفةُ رسُولِ اللهِ، الصِّدِّيقُ أبو بكر رضي الله عنه يقول: «ارْقُبُوا محمَّدَاً صلى الله عليه وسلم في أهلِ بَيْتِهِ».

أي: احفظُوه فيهم، فلا تُؤذُوهُمْ، ولا تُسِيؤوا إليهِم.
সিদ্দীক খান বলেন: (তাদের ব্যাপারে স্মরণের উদ্দেশ্য হলো: ইসলামে তাদের মর্যাদা রক্ষা করা, তাদের সম্মান করা, দ্বীনের খাতিরে তাদের ভালোবাসা, উম্মতের মাঝে তাদের সুমহান মর্যাদা সংরক্ষণ করা এবং মজলিস, কথা বলা, সম্বোধন, হাঁটা, বসা ও দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অন্যদের ওপর তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া; তাদের জন্য সম্পদ ব্যয় করা, শত্রুদের মোকাবিলায় তাদের সাহায্য করা এবং তারা যদি ইলম ও তাকওয়ার অধিকারী হন তবে তাদের আঁকড়ে ধরা)।

হাদিসটি তার সকল বর্ণনার সমষ্টিগতভাবে (তাদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের সাথে সদাচরণ, তাদের হেফাযত করা, তাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাদের ওয়াজিব ও মুস্তাহাব হকসমূহ আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করে। কারণ তারা এক পবিত্র বংশধারা থেকে আগত, যারা গৌরব, আভিজাত্য ও বংশমর্যাদার দিক থেকে এই পৃথিবীতে বিদ্যমান শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে যদি তারা সুস্পষ্ট ও জাজ্বল্যমান সঠিক সুন্নাহর অনুসারী হন, যেমনটা ছিলেন তাদের পূর্বসূরি আব্বাস ও তার সন্তানগণ এবং আলী ও তার পরিবার-পরিজন ও বংশধরগণ (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। সাখাওয়ী এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে কাসীরের কাছেও অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে। সাখাওয়ী আরও যোগ করেছেন: একইভাবে এটি তাদের মধ্য থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অন্যদের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়াকেও অন্তর্ভুক্ত করে)।

 

এছাড়া, আবু বকর, উমর, উসমান এবং অন্যান্য সম্মানিত সাহাবীগণ (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে শুরু করে উম্মতের সালাফগণ (পূর্বসূরিগণ) আহলে বাইতের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অসিয়ত অনুসরণ করেছেন।

এই তো রাসূলুল্লাহর খলিফা আবু বকর সিদ্দীক (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন: «তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তাঁর পরিবার-পরিজনের (আহলে বাইত) খেয়াল রেখো»।

অর্থাৎ: তাদের মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা রক্ষা করো; সুতরাং তাদের কষ্ট দিও না এবং তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করো না।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
ويقول أبو بكر رضي الله عنه: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَرَابَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَبُّ إِلَيَّ أَنْ أَصِلَ مِنْ قَرَابَتِي».

ثم خليفةُ خليفةِ رسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: الفاروقُ عُمرُ بنُ الخطاب رضي الله عنه اعتنى بآل البيت عنايةً فائقة، من ذلك: أنه بدأ بهم لمَّا وضَعَ الديوانَ للعطاء؛ مَحبَّةً لهم، واحتراماً وتقديراً ومعرفةً بمكانتهم، وامتثالاً لأمْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم برعايتهم.

وهكذا السلَفُ الصالحُ جيلاً بعد جيل، إلى زماننا هذا ــ ولله الحمدُ والمِنَّةُ على الهدايةِ والسُّنَّةِ ــ.

قال الشيخ: ابن سِعدي: (فمَحبَّةُ أهلِ بيتِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم وَاجِبةٌ من وُجُوهٍ، منها:

أولًا: لإسلامهم، وفضلهم وسوابقهم.

ومنها: لما تميَّزوا به من قُرْبِ النبي صلى الله عليه وسلم واتصالهم بنسبه.

ومنها: لما حثَّ عليه ورَغَّب فيه.

ولما في ذلك من علامة محبة الرسول صلى الله عليه وسلم).

قال محمد الحضرمي «بَحرَق»: (وإذا كانَتْ أبناءُ الرَّجُلِ الرئيس، بَلْ وعشيرَتُه، بَلْ وغِلْمَانُهُ وأتبَاعُهُ، بَلْ وقَبيلَتُهُ، بَلْ وأهلُ بَلَدِهِ، بَلْ وأهْلُ قُطْرِه، بَلْ وأهلُ عصرِهِ، قَدْ يَسُودُون بسيادتِه، ويشرُفونَ بِشَرَفِ رئاسَتِهِ، ويفتَخِرُونَ عَلى مَن سِوَاهُم بفَضلِهِ، ويعلُونَ بِعُلُوِّ مَنصِبِهِ ونُبْلِه، فهَل أحَدٌ أجَلُّ قَدرَاً، وأعظمُ مَرتَبَةً وفَخْرَاً ممن ينْتَسِبُ أهلُ البيتِ إليه؟ !
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: «সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা আমার নিজের আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রিয়»।

অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খলীফার খলীফা: আল-ফারুক উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আহলে বাইতের (নবী-পরিবার) প্রতি অত্যন্ত বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতেন; এর মধ্যে অন্যতম হলো: তিনি যখন ভাতা প্রদানের জন্য রেজিস্টার (দিওয়ান) তৈরি করেন, তখন তাদের মাধ্যমেই শুরু করেন; তাদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ থেকে এবং তাদের সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হওয়ার কারণে, আর তাদের দেখাশোনা করার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের আনুগত্য স্বরূপ।

এভাবেই সালাফে সালেহীন বা নেককার পূর্বসূরিগণ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত বিদ্যমান — আর হিদায়াত ও সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই প্রাপ্য —।

শায়খ ইবনে সাদী বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গের প্রতি ভালোবাসা রাখা বিভিন্ন কারণে ওয়াজিব বা আবশ্যক, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: তাদের ইসলাম গ্রহণ, তাদের ফযীলত এবং দ্বীনের পথে তাদের অগ্রণী ভূমিকার কারণে।

দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাদের নৈকট্য এবং তাঁর বংশের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার বৈশিষ্ট্যের কারণে।

তৃতীয়ত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে যে তাকিদ ও উৎসাহ প্রদান করেছেন তার কারণে।

এবং এর মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন নিহিত থাকার কারণে)।

মুহাম্মদ আল-হাদরামি «বাহরাক» বলেন: (যদি কোনো প্রধান ব্যক্তির সন্তানসন্ততি, বরং তার গোষ্ঠী, বরং তার সেবক ও অনুসারীবৃন্দ, বরং তার গোত্র, বরং তার শহরের মানুষ, বরং তার ভূখণ্ডের মানুষ, এমনকি তার সমসাময়িক যুগের মানুষও তার নেতৃত্বের কারণে নেতৃত্ব লাভ করে, তার নেতৃত্বের সম্মানে সম্মানিত হয়, অন্যদের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্বের কারণে গর্ব করতে পারে এবং তার পদমর্যাদা ও মহত্ত্বের কারণে উচ্চতা লাভ করে; তবে সেই সত্তার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান এবং সুমহান স্তর ও গৌরবের অধিকারী আর কে হতে পারে যাঁর সাথে আহলে বাইত সম্পৃক্ত? !
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
إلى أن قال: وقد كانت قلوبُ السلَفِ الأخيارِ، والعلماءِ الأحبَارِ، مجبولةً على حُبِّهِم واحتِرامِهِم، ومَعرِفَةِ ما يجِبُ لهم طبعاً، فمِصْدَاقُ ذلك تعظيمُ وحُبُّ كلِّ مَن يُنسَبُ إليه بقُربةٍ أو قَرَابَةِ أو صُحْبَةٍ، أو اتِّبَاعِ سُنَّةٍ؛ إذْ كُلُّ ما يُنسَبُ إلى المحبوبِ مَحبُوبٌ).

إنَّ أهلَ السُّنَّةِ والجماعةِ لَيرَونَ الحقَّ لآل البيت: حَقَّ الإيمان، والصُّحْبَةِ، وحَقَّ القَرَابَة والسَّبْقِ لِلْخَيرِ، ويُنزِلُونَهُم مَنزِلَتَهُم الحقيقية الشَّرعِيَّة.

يُحبُّونَهُمْ جميعاً، ويُوقِّرُونَهُم كلَّهم دُونَ إفرَاطٍ ولَا تَفرِيطٍ، فَهُمْ في هذا البابِ: «آل البيت» وَسَطٌ بين الفِرَقِ الضَّالة، بين طرفَين ضالَّين: غَالِينَ وجَافِينَ، بين مُفْرِطِينَ ومُفَرِّطِينَ:

1. الخوارج، والنواصب الذين كفَّروا أو فسَّقوا آلَ البَيْتِ عليهم السلام و رضي الله عنهم، وناصبُوهم العَدَاء.

2. الإمامية الذين غَلَوا في محبَّتِهِم لآلِ البيت، حتى اعتقَدُوا فيهم عِلْمَهُمْ الغَيْبَ! وعِصمَتَهُم من الخطأ! وسُؤالَهم مِن دُونِ اللَّهِ سبحانه وتعالى، وغَيْرَ ذلِكَ كَثِيرٌ.
তিনি আরও বলেন: (নিশ্চয়ই উত্তম সালাফ এবং বিজ্ঞ আলেমগণের অন্তরসমূহ তাঁদের ভালোবাসা ও সম্মানের ওপর এবং স্বভাবজাতভাবেই তাঁদের প্রাপ্য অধিকারসমূহ অনুধাবনের ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে। এর সত্যতা হলো তাঁর (রাসূলুল্লাহর) সাথে নৈকট্য, আত্মীয়তা, সাহচর্য কিংবা সুন্নাহর অনুসরণের মাধ্যমে সম্পৃক্ত প্রত্যেকের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও ভালোবাসা পোষণ করা; কেননা প্রিয়জনের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি বিষয়ই প্রিয়।)

নিশ্চয়ই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত আহলে বায়তের (রাসূলের পরিবার) হকের স্বীকৃতি প্রদান করে: ঈমানের হক, সাহচর্যের হক এবং আত্মীয়তা ও কল্যাণে অগ্রগামী হওয়ার হক। তারা তাঁদেরকে তাঁদের প্রকৃত শরয়ি মর্যাদায় আসীন করে।

তাঁরা তাঁদের সকলকেই ভালোবাসেন এবং কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি কিংবা ছাড়াছাড়ি ছাড়াই তাঁদের সকলকে সম্মান করেন। সুতরাং তাঁরা এই বিষয়ে অর্থাৎ ‘আহলে বায়ত’ প্রসঙ্গে পথভ্রষ্ট দলসমূহের মাঝে তথা দুই প্রান্তিক গোমরাহীর—বাড়াবাড়িকারী ও অবহেলাকারী এবং অতিরঞ্জনকারী ও শিথিলতাকারীদের—মাঝে মধ্যমপন্থী:

১. খাওয়ারিজ এবং নাওয়াসিবগণ, যারা আহলে বায়তকে (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) কাফের সাব্যস্ত করেছে অথবা ফাসেক বলেছে এবং তাঁদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করেছে।

২. ইমামিয়াহ সম্প্রদায়, যারা আহলে বায়তের প্রতি ভালোবাসায় অতিরঞ্জন করেছে, এমনকি তাঁরা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন বলে তারা বিশ্বাস করেছে! তাঁদের ভুলত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়ার আকিদা পোষণ করেছে! এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতিরেকে তাঁদের নিকট প্রার্থনা শুরু করেছে, এছাড়াও আরও অনেক কিছু।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
من عناية أهل السنة والجماعة بآل البيت:

تنوَّعت عناية المحدِّثين بمرويات وفضائل آل البيت، فمنهم مَن:

1. أفردَ فيهم كتاباً مستقلاً، في آل البيت عامة، أو في أزواج النبي صلى الله عليه وسلم، أو في ذريته، أو في بني هاشم.

2. ومنهم من ضمَّن كتابَه أبواباً خاصة فيهم، أورد فيها مروياتهم ــ مسندهم ــ أو المرويات فيهم.

 

‌‌فالخلاصة في هذا الموضوع:

1. آل البيت هم: أزواج النبي صلى الله عليه وسلم، وأولاده، وبنو هاشم.

2. الصحابة منهم، له ثلاثة حقوق: حق الإسلام، والصحبة، وآل البيت.

3. أهل السنة والجماعة يُوجِبُون محبة آل البيت، ويرون أنها من محبة النبي صلى الله عليه وسلم، ويتولَّونهم جميعاً، بخلاف الإمامية الذين يتوَلَّون بعض آل البيت، ويُكفِّرون ويُفسِّقُون آخرين، وكذا النواصب.

4. يرون موالاتِهم ونصرتَهم، ونَشْرَ فضائلِهم، والدفاعَ عنهم، والذبَّ عن أعراضهم.

5. يتبرأُ أهلُ السنة والجماعة من الجافين عن آل البيت، وهم: النواصب، والغالين وهم: الإمامية.
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পক্ষ থেকে নবী পরিবারের (আহলে বাইত) প্রতি যত্ন ও গুরুত্বারোপ:

আহলে বাইতের বর্ণিত হাদীস ও তাঁদের মর্যাদাহানি রোধে মুহাদ্দিসগণের মনোযোগ ছিল বহুমুখী। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ:

১. তাঁদের সম্পর্কে স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছেন; যা সাধারণভাবে আহলে বাইত সম্পর্কে, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র স্ত্রীগণ সম্পর্কে, অথবা তাঁর বংশধরদের সম্পর্কে কিংবা বনু হাশিম সম্পর্কে।

২. আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ স্বীয় কিতাবে তাঁদের জন্য বিশেষ পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেখানে তাঁদের বর্ণিত হাদীসসমূহ — মুসনাদ — অথবা তাঁদের মর্যাদা সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌এই প্রসঙ্গের সারসংক্ষেপ:

১. আহলে বাইত হলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র স্ত্রীগণ, তাঁর সন্তানগণ এবং বনু হাশিম।

২. তাঁদের মধ্যে যারা সাহাবী ছিলেন, তাঁদের তিনটি অধিকার রয়েছে: ইসলামের অধিকার, সাহাবী হওয়ার অধিকার এবং নবী পরিবারের (আহলে বাইত) সদস্য হওয়ার অধিকার।

৩. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত আহলে বাইতকে ভালোবাসা আবশ্যক মনে করেন এবং তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসারই অংশ। তাঁরা তাঁদের সকলের প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা পোষণ করেন; ইমামিয়াদের মতো নয়—যারা আহলে বাইতের কিছু সদস্যের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এবং অন্যদের কাফের বা ফাসেক বলে আখ্যায়িত করে। নাসেবিদের অবস্থাও তদ্রূপ।

৪. তাঁরা তাঁদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা ও সাহায্য করা, তাঁদের ফযীলত প্রচার করা এবং তাঁদের সম্মান ও মর্যাদার প্রতিরক্ষা করা ও তাঁদের প্রতি আনা অপবাদ প্রতিহত করাকে আবশ্যক মনে করেন।

৫. আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত আহলে বাইতের প্রতি বিরাগভাজন বা কঠোরতা প্রদর্শনকারী—অর্থাৎ নাসেবিদের থেকে এবং তাঁদের নিয়ে বাড়াবাড়িকারীদের—অর্থাৎ ইমামিয়াদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
6. يعتقد أهل السنة والجماعة أنَّ لآل البيت فضائل وخصائص وكرامة وشرفاً وسيادة، وليسوا بمعصومين كما تدَّعِيهِ الإمامية.

7. يعرفون لهم الفضائل والحقوق الواجبة من خُمُس الخُمُس من الفيء والغنيمة، والصلاة عليهم تبعاً للصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم.

8. يتولون أزواج النبي صلى الله عليه وسلم ويترضون عنهن جميعاً، فهُنَّ أزواجه في الدنيا والآخرة، ومن آلِ بيتِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم على الصحيح.

9. لا يُغالون في آل البيت، فلا يرفعونهم فوق قَدْرِهم المشروع، ولا يَدَّعون لهم العصمةَ، فهم بَشَرٌ يُصِيبُونَ ويُخطِئون، وفيهم البرُّ والفاجر، ويتولَّونَ كلاً منهم بحسب إيمانه وصلاحه واتِّبَاعه لسُنَّةِ النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يبخسونهم ما آتاهم اللَّهُ من فَضلِهِ.

10. تفضيلُ آلِ البيت تفضيلُ جملة، لا يعني فَضلُهم في جميع الأحوال، وعلى كُلِّ الأشخاص، فقد يُوجَد مِن غَيرِهم مَن هو أفضلُ منهم لاعتبَارَاتٍ أخرَى من الصلاح والتقوى والنفعِ للأمة.

 

‌‌العناية بآل البيت:

يسرُّني ما يسرُّها: أورد أبو الفرج الأصبهاني في «مقاتل الطالبيين» قصة، ونقلها عنه: السخاويُّ في «استجلاب ارتقاء الغُرَف بحُبِّ أقرباء الرسول وذوي الشرَف» أنَّ الخليفةَ عُمَر بنَ عبدالعزيز رحمه الله دخل عليه
৬. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বিশ্বাস করে যে, নবীপরিবার তথা আহলে বাইতের বিশেষ মর্যাদা, বৈশিষ্ট্য, সম্মান, আভিজাত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে; তবে ইমামিয়া সম্প্রদায়ের দাবি অনুযায়ী তারা মাসুম বা নিষ্পাপ নন।

৭. তারা তাদের মর্যাদা এবং প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে অবগত, যা হলো ফাই ও গণিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশের এক-পঞ্চমাংশ, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ পাঠের অনুবর্তী হিসেবে তাদের ওপরও দরুদ পাঠ করা।

৮. তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের ভালোবাসেন এবং তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। কেননা তারা ইহকাল ও পরকালে তাঁর স্ত্রী এবং বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

৯. তারা আহলে বাইতের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করেন না, ফলে তাদের শরিয়ত নির্ধারিত মর্যাদার ঊর্ধ্বে স্থান দেন না এবং তাদের জন্য নিষ্পাপ হওয়ার দাবিও করেন না। কারণ তারা মানুষ, তাদের দ্বারা সঠিক কাজও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে; তাদের মধ্যে পুণ্যবানও আছেন আবার পাপাচারীও আছেন। তারা তাদের প্রত্যেককে তাদের ঈমান, নেক আমল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণের মাত্রা অনুযায়ী ভালোবাসেন। আর আল্লাহ তাদের যে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন তা থেকে তাদের বঞ্চিত করেন না।

১০. আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্ব হলো সামগ্রিক শ্রেষ্ঠত্ব; এর মানে এই নয় যে তারা সকল অবস্থায় এবং সকল ব্যক্তির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কারণ সততা, তাকওয়া এবং উম্মতের উপকারের মতো অন্যান্য বিষয়ের বিবেচনায় তাদের বাইরেও এমন কেউ থাকতে পারেন যিনি তাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

 

‌‌আহলে বাইতের প্রতি যত্নশীল হওয়া:

যা তাকে আনন্দিত করে তা আমাকেও আনন্দিত করে: আবু আল-ফারাজ আল-আসবাহানি তার ‘মাকাতিলুত ত্বালিবিয়্যিন’ গ্রন্থে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আস-সাখাবি তার ‘ইস্তিজলাবু ইরতিকাউল গুরাফ বি-হুব্বি আকরাবাইর রাসুলি ওয়া যাউইশ শরাফ’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন যে, খলিফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এর নিকট প্রবেশ করলেন—
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
عبدُاللَّهِ بنُ حَسَن بنِ حسَن بنِ علي بن أبي طالب رحمه الله وهو حَدَثُ السِّنِّ، فأكرَمَه، وأقبل عليه، وقضى حوائجه فلامَه قومُه؛ لعنايته بحَدَثٍ، فقال عمر بن عبدالعزيز: إنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: «إنما فاطمةُ بَضْعَة مِنِّي، يسرُّني ما يَسرُّها».

وأنا أعلَمُ أنَّ فاطمةَ رضي الله عنها لو كانت حَيَّةً، لَسَرَّها ما فَعلْتُ بابنِها.
আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবু তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) তখন অল্পবয়স্ক ছিলেন। তখন ওমর ইবনে আবদুল আজিজ তাঁকে সম্মান করলেন, তাঁর প্রতি বিশেষ মনোনিবেশ করলেন এবং তাঁর প্রয়োজনসমূহ পূরণ করে দিলেন। ফলে তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা একজন অল্পবয়স্ক যুবকের প্রতি তাঁর এই বিশেষ মনোযোগের কারণে তাঁকে তিরস্কার করল। তখন ওমর ইবনে আবদুল আজিজ বললেন: নিশ্চয়ই নবী (আল্লাহ তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন) বলেছেন: "ফাতিমা আমারই একটি অংশ, যা তাঁকে আনন্দিত করে তা আমাকেও আনন্দিত করে।"

আর আমি জানি যে, ফাতিমা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) যদি আজ জীবিত থাকতেন, তবে আমি তাঁর সন্তানের সাথে যা করেছি তাতে তিনি অবশ্যই আনন্দিত হতেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌[2] عناية أهل السنة والجماعة بفاطمة، ومحبة المسلمين لها، ولطائف في موضع ترجمتها وأبواب مناقبها ومسندها رضي الله عنها -.

 

زيادة على الأبواب المفردة في فاطمة التي أوردها أهل السنة والجماعة في مؤلفاتهم: العقدية، والحديثية، والتاريخية، وبعضها أبواب واسعة كما عند: ابن سعد، وابن ناصر الدين، والصالحي، فقد أفرد فيها عدد من العلماء كتاباً مستقلاً، كابن شاهين، والحاكم، والسيوطي «الثغور الباسمة»، والأكواري «إتحاف السائل»، وعبدالستار الشيخ، وغيرهم، ثم كتابي الموسوعة عنها في (7) مجلدات، ومختصرها الكتاب الذي بين يديك ــ متَّعَك اللَّهُ به، وبهما ــ.

أهلُ السُّنَّة والجمَاعة يُحِبُّون فاطمةَ رضي الله عنها وبناتِ النبي صلى الله عليه وسلم، وآلَه، ولمْ أجدْ أحَداً طعَنَ أو تكلَّم أو أعرضَ عن فاطمة رضي الله عنها مِن أهل السنة والجماعة خاصة، ومن جميع الطوائف المنتسبة إلى الإسلام عامة كل ما وجدته: طعن بعض اليهود والنصارى من المستشرقين في فاطمة، وذمهم لها، وقد قُوبلوا بالإنكار من بعض إخوانهم المستشرقين

كذلك ممن طعن فيها بطريق غير مباشر: مَن غلا فيها غُلوَّاً مفرطاً، كما فَعَلَتْ الإسماعيليةُ، والإمامية، والنُّصَيريةُ، والصوفيةُ
[২] ফাতিমার (রা.) প্রতি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের যত্ন, তাঁর প্রতি মুসলিমদের ভালোবাসা এবং তাঁর জীবনী, গুণাবলি ও বর্ণিত হাদিসের অধ্যায়সমূহের সূক্ষ্ম দিকসমূহ।-.

 

ফাতিমাকে (রা.) কেন্দ্র করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত তাদের আকিদাহ, হাদিস এবং ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থসমূহে যে স্বতন্ত্র অধ্যায়গুলো উল্লেখ করেছেন তার অতিরিক্ত হিসেবে—যার মধ্যে কিছু অধ্যায় অত্যন্ত বিস্তারিত যেমন ইবনে সাদ, ইবনে নাসিরুদ্দিন এবং সালিহীর গ্রন্থে রয়েছে—অনেক আলেম এ বিষয়ে স্বতন্ত্র কিতাবও রচনা করেছেন। যেমন: ইবনে শাহীন, আল-হাকিম, সুয়ূতির ‘আস-সুগুর আল-বাসিমাহ’, আল-আকওয়ারীর ‘ইতহাফুস সায়িল’, আবদুস সাত্তার আশ-শায়খ এবং আরও অনেকে। এরপর এ বিষয়ে আমার সাত খণ্ডের একটি বিশ্বকোষ (মওসুআ) রয়েছে এবং তার সংক্ষেপিত রূপ হলো আপনার হাতে থাকা এই বইটি—আল্লাহ আপনাকে এটি এবং সেই উভয়টি দ্বারা উপকৃত করুন।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত ফাতিমা (রা.), নাবী (সা.)-এর অন্যান্য কন্যাগণ এবং তাঁর পরিবারকে (আহলে বাইত) ভালোবাসেন। আমি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিশেষ কেউ বা ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত সাধারণ কোনো ফিরকার কাউকে খুঁজে পাইনি যিনি ফাতিমা (রা.) সম্পর্কে কোনো কটূক্তি করেছেন, কটু কথা বলেছেন বা তাঁর দিক থেকে বিমুখ হয়েছেন। আমি যা পেয়েছি তা হলো: প্রাচ্যবিদদের মধ্য থেকে কিছু ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের পক্ষ থেকে ফাতিমা (রা.)-এর সমালোচনা ও নিন্দা, যদিও তাদেরই কিছু সহকর্মী প্রাচ্যবিদ এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

একইভাবে যারা পরোক্ষভাবে তাঁর সমালোচনা করেছেন, তারা হলেন তারাই যারা তাঁর ব্যাপারে সীমাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি (গুলু) করেছেন; যেমনটি করেছে ইসমাইলিয়া, ইমামিয়া, নুসাইরিয়া এবং সুফিয়া সম্প্রদায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২২)
هذا، وإن من عظيم محبة وإجلال أهل السنة والجماعة لفاطمة رضي الله عنها أن بدأوا بِذِكْر أحاديثها ـ مسندها ـ أو أبواب فضائلها قبل غيرها من النساء عامة أو مشارِكاتها في الاسم، وبدأوا بترجمتها أيضاً قبل غيرها، خالفوا الترتيب الذي يسيرون عليه؛ حُبَّاً في فاطمة وبنات النبي صلى الله عليه وسلم و رضي الله عنهن، كما في مسند الإمام أحمد، وفضائل الصحابة له، والبخاري، والترمذي، والطبراني، والآجري، وأبي نعيم، وغيرهم.

 

‌‌[3] اسمها وسبب التسمية.

اسمها فاطمة، مشتَقٌّ من (الفَطْمِ) وهو: القطْع، فطمتُ الصبي، وفطَمَتْهُ أمُّه تَفطِمه: إذا فصَلَتْه عن رضاعها. وغُلامٌ فَطِيم ومفطوم. وفطمتُ فلاناً عن عادته إذا قطعتها.

والاسم موجود قبلها، تسمَّى به عدد كثير، من ذلك جدَّةُ النبيِّ صلى الله عليه وسلم لأبيه: فاطمة بنت عمرو بن عائذ بن عمران بن مخزوم.

وقد ذكر العلماء الفواطم اللاتي ولَدْنَهُ صلى الله عليه وسلم وهُنَّ: قرشية، وقيسيتان، ويمانيتان.

وأما ما رُوي أنها سُمِّيَت بذلك؛ لأن اللَّهَ فطمَها ومحبيها عن النار، فكذبٌ لا يصح.
এটি উল্লেখ্য যে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার প্রতি অগাধ মহব্বত ও শ্রদ্ধার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হলো এই যে, তারা সাধারণ নারী কিংবা তাঁর সমনামীয় অন্যদের আলোচনার পূর্বে ফাতিমার হাদীসসমূহ — মুসনাদ — অথবা তাঁর মর্যাদার অধ্যায়সমূহ উল্লেখ করতে শুরু করেন। তাঁরা অন্যদের পূর্বে তাঁর জীবনী আলোচনাও শুরু করেন এবং এক্ষেত্রে তাঁরা তাঁদের সচরাচর অনুসৃত ধারাবাহিকতাও পরিবর্তন করেন; যা কেবল ফাতিমা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যাদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না) প্রতি ভালোবাসার কারণে। যেমনটি দেখা যায় ইমাম আহমদের মুসনাদ ও তাঁর ফাযাইলুস সাহাবা, বুখারী, তিরমিযী, তাবারানী, আজুররী, আবু নুআইম এবং অন্যদের গ্রন্থে।

 

‌‌[৩] তাঁর নাম ও নামকরণের কারণ.

তাঁর নাম ফাতিমা, যা 'আল-ফাতম' শব্দ থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ হলো: বিচ্ছিন্ন করা বা ছিন্ন করা। 'ফাতামতুস সাবি' (আমি শিশুটিকে দুধ ছাড়িয়েছি), অথবা তার মা তাকে দুধ ছাড়িয়েছে (ফাতামাতহু)—অর্থাৎ যখন সে তাকে স্তন্যপান থেকে বিচ্ছিন্ন করে। আর সেই বালককে 'ফাতীম' বা 'মাফতুম' (দুধ ছাড়ানো শিশু) বলা হয়। 'ফাতামতু ফুলানান আন আদাতিহি' অর্থ—আমি অমুককে তার অভ্যাস থেকে বিচ্ছিন্ন করেছি বা তা বন্ধ করে দিয়েছি।

এই নামটি তাঁর আগেও বিদ্যমান ছিল এবং অনেকের নামই এটি রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতৃপক্ষীয় দাদী: ফাতিমা বিনতে আমর ইবনে আইয ইবনে ইমরান ইবনে মাখযুম।

উলামায়ে কেরাম সেই সকল 'ফাতিমা'দের কথা উল্লেখ করেছেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদাত্রী পূর্বসূরী ছিলেন, তাঁরা হলেন: একজন কুরাইশী, দুইজন কায়সী এবং দুইজন ইয়ামানী।

আর এই মর্মে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর নাম এই কারণে রাখা হয়েছে যে আল্লাহ তাআলা তাঁকে এবং তাঁর মহব্বতকারীদের জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেছেন (বিচ্ছিন্ন করেছেন), তবে তা মিথ্যা এবং বিশুদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[4] نسبها.

 

فاطمة بنتُ رسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم محمد بن عبدِالله بن عبدالمطلب بن هاشم بن عبدمناف بن قُصَي بن كِلاب بن مُرَّة بن كعب بن لُؤي بن غالب بن فِهر بن مالك بن النَّضْر بن كِنانة بن خُزيمة بن مُدرِكة بن إلياس بن مُضَر بن نِزار بن مَعَدِّ بن عدنان.

إلى هنا متفق عليه عند العلماء، وما بعد عدنان إلى نبي الله وخليله: إبراهيم، ومنه إلى آدم ــ أيضاً ــ مختلف فيه كثيراً، وقد روي عن عدد من الصحابة والتابعين تخطئة من يرفع النسب بعد عدنان، أباً عن جَدٍّ.

مع الاتفاق على أنَّ عدنان من ولد إسماعيل بن إبراهيم عليهم السلام.

قال الذهبي: (والذي عليه أئمة هذا الشأن أنه: عدنان بن أدد بن مقوم بن ناحور بن تيرح بن يعرب بن يشجب بن نابت بن إسماعيل بن إبراهيم الخليل ابن آزر ــ واسمه تارح ــ بن ناحور بن ساروح بن راعو بن فالخ بن عيبر بن شالخ بن أرفخشذ بن سام بن نوح عليه السلام بن لامك بن متوشلخ بن خنوخ، وهو إدريس عليه السلام، بن يرد بن مهليل بن قينن بن يانش بن شيث بن آدم أبي البشر عليه السلام. قال ابن عبدالبر: وهذا الذي اعتمده محمد بن إسحاق في «السيرة»، وقد اختلف أصحابُ ابنِ إسحاق عليه في بعض الأسماء).
[৪] তাঁর বংশপরিচয়.

 

ফাতিমা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দু মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুআই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদর বিন কিনানাহ বিন খুযাইমাহ বিন মুদরিকা বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিযার বিন মাআদ বিন আদনান-এর কন্যা।

আলেমদের নিকট এ পর্যন্ত বংশপরম্পরা সর্বসম্মত। তবে আদনান থেকে আল্লাহর নবী ও খলীল ইবরাহীম পর্যন্ত এবং তাঁর থেকে আদম পর্যন্ত বংশলতিকার ক্ষেত্রেও অনেক মতভেদ রয়েছে। বেশ কিছু সংখ্যক সাহাবী ও তাবিঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা আদনানের ঊর্ধ্বে পিতা-পিতামহের ধারা উল্লেখ করে বংশপরিচয় বর্ণনা করাকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন।

তবে এ বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে যে, আদনান হলেন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম আলাইহিমাস সালাম-এর বংশধর।

যাহাবী বলেন: (এই শাস্ত্রের ইমামদের নিকট যা প্রতিষ্ঠিত তা হলো: আদনান বিন উদাদ বিন মুকাওবিম বিন নাহুর বিন তাইরাহ বিন ইয়ারুব বিন ইয়াশজুব বিন নাবিত বিন ইসমাঈল বিন ইবরাহীম আল-খলীল ইবনে আযার—তাঁর নাম ছিল তারাহ—বিন নাহুর বিন সারুহ বিন রাউ বিন ফালিজ বিন আইবার বিন শালিহ বিন আরফাখশাদ বিন সাম বিন নূহ আলাইহিস সালাম বিন লামাক বিন মাতুশালাখ বিন খানুখ—যিনি হলেন ইদ্রিস আলাইহিস সালাম—বিন ইয়ারদ বিন মাহলাইল বিন কাইনান বিন ইয়ানিশ বিন শীস বিন আদম আবুল বাশার আলাইহিস সালাম। ইবনে আব্দুল বার বলেন: মুহাম্মাদ বিন ইসহাক তাঁর ‘আস-সীরাহ’ গ্রন্থে এরই ওপর নির্ভর করেছেন, তবে ইবনে ইসহাকের ছাত্রগণ কিছু নামের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[5] كنيتها.

أمُّ أبِيها، وأمُّ الحسن، وأمُّ الحسنين رضي الله عنهم.

والعجيب: أن ابنَها الكبير: الحسن، ولم أجد مَن ذكر كُنيتَها: «أم الحسن»، إلا ابن حجر في «التقريب».

والأمرُ في باب الكنى عند العرب واسِعٌ جدَّاً.

 

‌‌[6] لقبها.

ذُكر لها رضي الله عنها أربعة ألقاب: السيِّدة(1)، والزَّهْرَاء، والبَتَوْل، والصِّدِّيقَة.

الأول: السَيِّدة، وهذا أصح لقب لها، مأخوذ من حديث النبي صلى الله عليه وسلم بأنها سيدة نساء هذه الأمة، سيدة نساء أهل الجنة.

الثاني: الزهراء، الأزهر: الأبيض المستنير، والزهر والزهرة: البياض النيِّر، وهو أحسن الألوان، والزهراء: المرأة المشرقة الوجه، والبيضاء المستنيرة المُشْرَبة بحمرة، ويقال: الليالي الزهر: أي الليالي البيض.

وجاء في صفة النبي صلى الله عليه وسلم أنه أزهر اللون، ليس بالأبيض الأمهق ولا بالآدم. وابنته فاطمة رضي الله عنها من أقرب الناس شبهاً به صلى الله عليه وسلم، وبِناءً عليه فإن معنى الزهراء في لقب فاطمة رضي الله عنها أي: المشرقة الوجه، البيضاء المستنيرة، المشربة بحمرة ـ والله أعلم ـ.

--------------------------------------------

(1) فاتني ذكر هذا اللقب في الموسوعة - ط. الأولى -، ضمن ألقابها.
[৫] তাঁর উপনাম.

উম্মু আবিহা (তাঁর পিতার মাতা), উম্মুল হাসান এবং উম্মুল হাসানাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)।

আশ্চর্যের বিষয় হলো: তাঁর বড় ছেলে হলেন হাসান, অথচ ইবনে হাজার আসকালানি 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে উল্লেখ করা ছাড়া আর কাউকে তাঁর উপনাম 'উম্মুল হাসান' উল্লেখ করতে দেখিনি।

আরবদের মাঝে উপনামের বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক।

 

[৬] তাঁর উপাধি.

তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) জন্য চারটি উপাধি উল্লেখ করা হয়েছে: আস-সাইয়্যিদাহ(১), আয-যাহরা, আল-বাতুল এবং আস-সিদ্দীকাহ।

প্রথমটি: আস-সাইয়্যিদাহ (নেত্রী); এটি তাঁর সর্বাধিক বিশুদ্ধ উপাধি। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস থেকে গৃহীত, যেখানে তিনি বলেছেন যে, তিনি এই উম্মতের নারীদের নেত্রী এবং জান্নাতবাসী নারীদের নেত্রী।

দ্বিতীয়টি: আয-যাহরা। 'আযহার' অর্থ হলো উজ্জ্বল শুভ্র। আর 'যাহর' ও 'যাহরাহ' অর্থ হলো জ্যোতির্ময় শুভ্রতা, যা বর্ণসমূহের মাঝে শ্রেষ্ঠ। আর 'যাহরা' হলো উজ্জ্বল মুখমণ্ডলের অধিকারিণী নারী, যে শুভ্র উজ্জ্বল এবং যার শুভ্রতার মাঝে লালিমা মিশে থাকে। বলা হয়ে থাকে: 'আল-লায়ালি আয-যুহর' অর্থাৎ চন্দ্রোজ্জ্বল রাতসমূহ।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলীতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ছিলেন উজ্জ্বল বর্ণের, তিনি ধবধবে ফ্যাকাশে সাদা ছিলেন না এবং শ্যামলা বর্ণের ছিলেন না। এবং তাঁর কন্যা ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ মানুষদের অন্তর্ভুক্ত। এর ভিত্তিতে ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহার উপাধি হিসেবে 'যাহরা' এর অর্থ হলো: উজ্জ্বল মুখমণ্ডলের অধিকারিণী, জ্যোতির্ময় শুভ্রতা বিশিষ্ট নারী যার মাঝে লালিমা মিশে রয়েছে—আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) বিশ্বকোষের (আল-মাওসুআহ) প্রথম মুদ্রণে তাঁর উপাধিসমূহের মধ্যে এই উপাধিটি উল্লেখ করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
وما قيل بأنها لُقِّبَتْ بالزهراء؛ لأنها لم ترَ دماً في حيض ولا نفاس، فغير صحيح، ولايثبت أنها لم ترَ ذلك.

وأول من وقفت عليه ذكر هذا اللقب: ابنُ حبان (ت 354 هـ)، ثم بعده عددٌ غفيرٌ من العلماء، وفي هذا القرن الرابع ذُكر في كتب الإمامية، ولا يُعلَم أيُّهم أوَّل.

وما دام أن أختَيها: رقية، وأم كلثوم رضي الله عنهما، ابنَتَي النبيِّ صلى الله عليه وسلم وُصِفَتا بالنُّورَين، في تلقيبِ الخليفة الراشد: عثمان بن عفان بِـ «ذي النورين» رضي الله عنه، وهو وَصْفٌ قديم مَشهُورٌ مجمع عليه؛ لأجلِ زواجِه بابنتَي النبيِّ صلى الله عليه وسلم واحدةً بعد الأخرى؛ فإن وصف فاطمة بالزهراء مثلهما، فالنور والزهر بمعنى واحد.

لذلك لا أرى بأساً بتلقيبها بالزهراء ــ واللَّهُ أعلَم ــ.

 

وأحسنُ منه وأصحُّ وأفضلُ: اللقب الثابت «السيدة» سيدة نساء هذه الأمة، وسيدة نساء أهل الجنة.

 

وأحسن من ذلك كلِّه قول:

فاطمةُ بنتُ النبيِّ - صلى الله عليه وعلى آله وسلم -؛ لنِسْبَتِهَا الشَّرِيفَةِ، وللصَّلَاةِ عَلى النبيِّ صلى الله عليه وسلم وآلِه.
আর যা বলা হয়েছে যে, তাঁকে 'আয-জাহরা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে কারণ তিনি ঋতুস্রাব বা প্রসব-পরবর্তী রক্ত দেখেননি, তা সঠিক নয়; এবং তিনি তা দেখেননি বলেও প্রমাণিত নয়।

এই উপাধির উল্লেখ করেছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে আমি প্রথম যাঁর সন্ধান পেয়েছি তিনি হলেন ইবনে হিব্বান (মৃত্যু ৩৫৪ হিজরি), অতঃপর তাঁর পরে বিপুল সংখ্যক আলেম এটি উল্লেখ করেছেন। আর এই চতুর্থ শতাব্দীতেই ইমামিয়াদের কিতাবসমূহেও এটি উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তাদের মধ্যে কোনটি আগে তা জানা যায় না।

যেহেতু তাঁর দুই বোন রুকাইয়াহ ও উম্মে কুলসুম (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—যাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কন্যা—খুলাফায়ে রাশেদীনের অন্যতম উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে 'যিন নূরাইন' (দুই জ্যোতির অধিকারী) উপাধি প্রদানের ক্ষেত্রে 'দুই জ্যোতি' হিসেবে বর্ণিত হয়েছেন; আর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের দুই কন্যাকে একের পর এক বিবাহ করার কারণে একটি প্রাচীন, প্রসিদ্ধ ও সর্বসম্মত বর্ণনা; তাই ফাতিমাকে 'আয-জাহরা' হিসেবে অভিহিত করাও তাঁদের মতোই, কারণ 'নূর' (জ্যোতি) এবং 'যাহর' (উজ্জ্বলতা) একই অর্থবহ।

তাই তাঁকে 'আয-জাহরা' উপাধিতে ভূষিত করার মধ্যে আমি কোনো সমস্যা দেখি না — আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

তবে এর চেয়েও উত্তম, অধিক বিশুদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ হলো সাব্যস্ত হওয়া সেই উপাধিটি: 'আস-সাইয়্যিদাহ' (নেত্রী), তথা এই উম্মতের নারীদের নেত্রী এবং জান্নাতবাসিনী নারীদের নেত্রী।

 

আর এই সবকিছুর চেয়েও উত্তম হলো এই বলা:

ফাতিমা বিনতুন্নবী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কন্যা); তাঁর সুউচ্চ বংশমর্যাদার কারণে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর পরিবারের প্রতি দরুদ পাঠের উদ্দেশ্যে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
الثالث: البَتول؛ لانقطاعها عن نساء زمانها في الفَضل والدِّين والنَّسَب والحسَبِ. وأولُ مَن وجدتُه وصفَها بذلك: أبو نعيم (ت 430 هـ)، وقد نص ابن العربي المالكي (ت 543 هـ) على أنه من محدثات الشيعة.

هذا، وقد كَثُرَ في كتابات المعاصرين وصْفُ فاطمةَ بِـ: البتول، والتبتل، والانقطاع للعبادة، والعزلة عن الناس.

أقول: لا شكَّ في عبادتها وصلاحها، لكن لم أجد في الآثار شيئاً يدلُّ على هذا الانقطاع والعزلة، وهي رضي الله عنها في غِنى كَبيرٍ عن الألقاب والأوصاف المحدَثة التي لا أصل لها، ولم أجد معنى صحيحاً يصدق عليه هذا اللقب؛ لذلك لا أرى صحتَه ولا استعماله، وإن ذكره عدد من العلماء ـ والله أعلم ـ.

الرابع: الصِّدِّيقَة، لا يثبت لقباً، وهو من محدثات الإمامية، ولا شك أنها صدِّيقة سيدة رضي الله عنها.

هذا، وتُوصف بالكبرى: فاطمة الكبرى؛ تمييزاً لها عن فاطمة الصغرى، والموصوفة بالصغرى ثنتان:

1 ــ بنت زوجها: فاطمة بنت علي بن أبي طالب.

2 ــ حفيدة الكبرى: فاطمة بنت الحسين بن علي.

فبنتُ عليٍّ تُوصَف بالصغرى في التراجم، وبنتُ الحسين يَردُ وصفُها بالصغرى في الأسانيد رضي الله عنهم.
তৃতীয়: আল-বাতুল; কেননা তিনি তাঁর সময়ের নারীদের থেকে শ্রেষ্ঠত্ব, দ্বীনদারি, বংশমর্যাদা ও আভিজাত্যে অনন্য ছিলেন। আমি সর্বপ্রথম যাঁকে তাঁকে এই বিশেষণে বিশেষিত করতে দেখেছি তিনি হলেন আবু নুআইম (মৃত ৪৩০ হিজরি), তবে ইবনুল আরাবি আল-মালিকি (মৃত ৫৪৩ হিজরি) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি শিয়াদের উদ্ভাবিত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমান সময়ের লেখকদের লেখায় ফাতিমাকে 'আল-বাতুল' বিশেষণে বিশেষিত করা এবং তাঁর 'তাবাত্তুল' (সংসারবিরাগ), ইবাদতের জন্য সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং মানুষের থেকে নির্জনতা অবলম্বন করার বিষয়টি প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়।

আমি বলি: তাঁর ইবাদত ও নেককার হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু আছার (বর্ণনা) সমূহে আমি এমন কিছু পাইনি যা এই ধরনের জনবিচ্ছিন্নতা বা নির্জনতা অবলম্বনের প্রমাণ দেয়। অথচ তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এই ধরনের ভিত্তিহীন ও নব-উদ্ভাবিত উপাধি ও গুণাবলির মুখাপেক্ষী নন। এছাড়া আমি এমন কোনো সঠিক অর্থ খুঁজে পাইনি যা এই উপাধির ওপর প্রযোজ্য হতে পারে; তাই আমি এর সঠিকতা বা ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা দেখি না, যদিও বেশ কিছু আলিম এটি উল্লেখ করেছেন—আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

চতুর্থ: আস-সিদ্দিকা, এটি উপাধি হিসেবে সাব্যস্ত নয় এবং এটি ইমামিয়া (শিয়া) সম্প্রদায়ের উদ্ভাবিত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি একজন সত্যবাদিনী (সিদ্দিকা) মহীয়সী নারী (রাদিয়াল্লাহু আনহা)।

এছাড়া তাকে 'আল-কুবরা' বা ফাতিমা আল-কুবরা বলা হয়; তাকে ফাতিমা আস-সুগরা থেকে আলাদা করার জন্য। আর সুগরা (ছোট) হিসেবে বিশেষিত ব্যক্তি দুইজন:

১. তাঁর স্বামীর কন্যা: ফাতিমা বিনতে আলী ইবনে আবি তালিব।

২. কুবরা (ফাতিমা)-এর নাতনি: ফাতিমা বিনতে হুসাইন ইবনে আলী।

সুতরাং আলীর কন্যাকে জীবনীগ্রন্থগুলোতে 'আস-সুগরা' হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং হুসাইনের কন্যার ক্ষেত্রে সনদগুলোর বর্ণনায় 'আস-সুগরা' বিশেষণটি আসতে দেখা যায় (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
[7]‌‌ العائلة(1)، شيء من فضائلهم، وترتيب فاطمة بين إخوانها وأخواتها.

والدُها: أفضلُ الخلق، سيدُ البشَر محمدُ بنُ عبدِالله صلى الله عليه وسلم.

 

والدتُها: من سيِّدَات نساءِ العالَمِين: أمُّ المؤمنين، أمُّ القاسم: خديجةُ بنتُ خويلد بنِ أسد بن عبد العزى بن قُصَيِّ بن كِلاب بن مُرَّة بن كَعْب بن لُؤي بن غالب بن فِهْر بن مالك بن النَّضْر بن كِنانة بن خُزيمة بن مُدرِكة بن إلياس بن مُضَر بن نِزار بن مَعَدِّ بن عدنان.

تلتقي بنسبها مع النبي صلى الله عليه وسلم في أبيه الخامس: قُصَي. وهو أبوها الرابع.

خديجة رضي الله عنها أمُّ أولادِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم كلِّهم إلا إبراهيم.

 

أولادُها منه صلى الله عليه وسلم: القاسمُ، ثم رقيةُ، ثم زينبُ، ثم أمُّ كلثوم، ثم فاطمةُ، ثم عبدُاللَّه ـ ويلقَّبُ بِـ: الطيِّب، والطاهر، على

--------------------------------------------

(1) لم أقل «الأسرة»؛ لأنها رُتبةٌ نسَبِية مع: «الفصيلة»، ولا تُطلق لغةً ولا نسَباً ولا عُرفاً عند السابقين على البيت الواحد، وإنما جاء إطلاقها على بيت السُّكنى بعد فترة الاستعمار الصليبي، بترجمة من جهلة المترجمين، وقد كتبتُ في ذلك بحثاً منشورَاً بعنوان: «ما معنى الأسرة؟ وهل تُطلق على الرجل مع زوجه وأولاده؟ ».
[৭]‌‌ পরিবার(১), তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের কিছু বর্ণনা এবং তাঁর ভাই-বোনদের মধ্যে ফাতিমার ক্রম.

তাঁর পিতা: সৃষ্টির সেরা, মানবজাতির নেতা মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

 

তাঁর মাতা: বিশ্বজগতের নারীগণের নেত্রীদের অন্যতম: উম্মুল মুমিনীন, উম্মুল কাসিম: খাদিজাহ বিনতে খুয়াইলিদ ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কা'ব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুযাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান।

তাঁর বংশধারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁর পঞ্চম ঊর্ধ্বপিতা কুসাই-এ গিয়ে মিলিত হয়েছে। আর তিনি (কুসাই) ছিলেন খাদিজার চতুর্থ ঊর্ধ্বপিতা।

খদজিাহ রাযিয়াল্লাহু আনহা ইবরাহীম ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল সন্তানের জননী।

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঔরসে তাঁর সন্তানগণ হলেন: কাসিম, অতঃপর রুকাইয়াহ, অতঃপর যাইনাব, অতঃপর উম্মু কুলসুম, অতঃপর ফাতিমাহ এবং অতঃপর আবদুল্লাহ—যাঁকে 'তাইয়িব' ও 'ত্বাহির' উপাধিতে ভূষিত করা হতো।

--------------------------------------------

(১) আমি 'আল-উসরাহ' শব্দটি ব্যবহার করিনি; কারণ এটি 'আল-ফাসিলাহ'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বংশতাত্ত্বিক স্তর। ভাষাগতভাবে, বংশগতভাবে কিংবা পূর্ববর্তীদের পরিভাষায় এটি একটি একক গৃহের অধিবাসীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতো না। বরং ক্রুসেডার ঔপনিবেশিক আমলের পর অজ্ঞ অনুবাদকদের অনুবাদের মাধ্যমে এটি একক বসতবাড়ির বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে প্রচলিত হয়েছে। আমি এ বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র লিখেছি যা প্রকাশিত হয়েছে, যার শিরোনাম: 'আল-উসরাহ শব্দের অর্থ কী? এবং এটি কি কোনো ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?'।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
الصحيح ــ.(1)

* للنبيِّ صلى الله عليه وسلم من مارية القبطية: إبراهيم، مات صغيراً، وهو آخرُ أولاده رضي الله عنهم و عليهم السلام.

أمُّ المؤمنين خديجة رضي الله عنها أوَّل مَن آمنَ به، وصدَّقَه قبلَ كُلِّ أحَدٍ، وثبَّتَتْ جَأشَهُ، ومضَتْ به إلى ابنِ عمِّها ورَقَة بنِ نَوفَل.

قال عِزُّ الدين ابن الأثير (ت 630 هـ): (اختلف العلماء في أول مَن أسلم، مع الاتِّفَاق على أنَّ خديجةَ أوَّلُ خَلْقِ اللَّهِ إسلاماً).

وذكر ابنُ حجر العسقلاني (ت 852 هـ) أن خديجة أول من صدَّقَت ببعثته مطلقاً.

وهي ممَّنْ كَمُل من النساء، كانت رضي الله عنها عَاقلةً، جَلِيلةً، ديِّنة، مَصُونةً، كريمةً، مِن أهل الجنة، وكان النبيُّ صلى الله عليه وسلم يُثني عليها، ويُفضِّلها على سائر أمهات المؤمنين، ويبالغ في تعظيمِها، بحيث إنَّ عائشة كانت تقول: ما غِرت من امرأة ما غِرت من خديجة، من كثرة ذِكْرِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم لها.

ومن كرامتِها عليه صلى الله عليه وسلم أنه لم يتزوَّجْ امرأةً قبلها، وجاءَهُ منها عِدةُ أولاد، ولم يتزوج عليها قط، ولا تسرَّى إلى أن قضَتْ نَحْبَها، فوَجَدَ لِفقدها، فإنها كانت نِعم القَرين.

--------------------------------------------

(1) وهو قَولُ أكثرِ أهلِ النَّسَب، والقاسمُ وعبدُالله ماتا صغارَاً.
বিশুদ্ধ মতানুসারে।(১)

মারিয়া আল-কিবতিয়ার গর্ভে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সন্তান: ইব্রাহিম; তিনি শৈশবেই মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি ছিলেন তাঁর সন্তানদের মধ্যে সর্বশেষ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)।

উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁর প্রতি ঈমান আনেন এবং অন্য সকলের পূর্বে তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেন। তিনি তাঁর মনোবল দৃঢ় করেন এবং তাঁকে তাঁর চাচাতো ভাই ওরাকা ইবনে নওফলের নিকট নিয়ে যান।

ইজ্জুদ্দীন ইবনুল আসির (মৃত্যু: ৬৩০ হিজরি) বলেন: (প্রথম কে ইসলাম গ্রহণ করেছেন সে বিষয়ে ওলামাগণ মতভেদ করেছেন, তবে এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে যে, খাদিজা হলেন আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী)।

ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি) উল্লেখ করেছেন যে, খাদিজা ছিলেন নিঃশর্তভাবে তাঁর নবুওয়াতকে প্রথম সত্য বলে স্বীকারকারিণী।

তিনি ছিলেন পূর্ণতা লাভকারী নারীদের অন্যতম। রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, মহীয়সী, ধর্মপ্রাণা, পবিত্রা, সম্মানিতা এবং জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁকে অন্যান্য উম্মুল মুমিনীনদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করতেন। তিনি তাঁর সম্মান প্রদর্শনে এতই গুরুত্ব দিতেন যে, আয়েশা বলতেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক খাদিজার অধিক আলোচনার কারণে আমি তাঁর প্রতি যতটা ঈর্ষা (সতীনসুলভ সংগত পরশ্রীকাতরতা) বোধ করতাম, অন্য কোনো নারীর প্রতি ততটা করতাম না।

তাঁর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ সম্মানের বহিঃপ্রকাশ ছিল এই যে, তিনি তাঁর পূর্বে কোনো বিবাহ করেননি, তাঁর গর্ভেই তাঁর একাধিক সন্তান জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর জীবদ্দশায় তিনি আর কোনো বিবাহ করেননি কিংবা কোনো দাসীও গ্রহণ করেননি। তাঁর মৃত্যুতে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন, কেননা তিনি ছিলেন এক অতি উত্তম জীবনসঙ্গিনী।

--------------------------------------------

(১) এটিই অধিকাংশ বংশবিদদের অভিমত। আর কাসিম ও আবদুল্লাহ শৈশবেই ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومناقبُها جَمَّةٌ، منها:

ما في «الصحيحين» من حديث عائشة رضي الله عنها أنَّ رسولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بشَّرَ خديجةَ ببيت في الجنة من قصَب، لا صخَب فيه ولا نصَب.

وفي «الصحيحين» من حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: سمعتُ رسولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يقول: «خَيرُ نسائها مريمُ بنت عمران، وخَيرُ نسائها خديجة بنت خويلد».

وفي «الصحيحين» من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أتاني جبريل، فقال: يا رسول الله، هذه خديجة أتتك ومعها إناءٌ فيه طعام وشراب، فإذا هي أتتك فاقرأ عليها من ربِّها السَّلامَ، ومِنِّي» الحديث.

وكانت مُوسِرَةً مُتَمَوِّلةً؛ عَرَضَتْ على النبيِّ صلى الله عليه وسلم ـ قبل النبوة ـ أن يخرج في مالها إلى الشام، فخرجَ مع مولاها ميسرة.

بنَى بها ولَه خمسٌ وعشرونَ سنةً. وكانَتْ أسنَّ منه بخمسَ عشرةَ سنة.

قال ابنُ إسحاق: تتابعَتْ على رسولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم المصائب بهلاك أبي طالب، وخديجة في عام واحد. وكانت خديجةُ وزيرةَ صِدق.

وعن عائشة: أن خديجةَ توفِّيَتْ قبل أن تُفرَض الصلاة.

وقال قتادة وعروة: ماتت قبل الهجرة بثلاث سنين ـ وهو الراجح ـ.
এবং তাঁর অসংখ্য গুণাবলী ও মর্যাদা রয়েছে, তন্মধ্যে:

‘সহীহাইন’-এ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজাকে জান্নাতে একটি মুক্তার তৈরি প্রাসাদের সুসংবাদ দিয়েছেন, যাতে কোনো শোরগোল নেই এবং কোনো ক্লান্তি নেই।

এবং ‘সহীহাইন’-এ আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “সেই সময়ের নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন ইমরানের কন্যা মারইয়াম এবং এই উম্মতের নারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন খুওয়াইলিদের কন্যা খাদিজা।”

এবং ‘সহীহাইন’-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জিবরাঈল আমার নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এই যে খাদিজা আপনার নিকট আসছেন, তাঁর সাথে একটি পাত্র রয়েছে যাতে খাদ্য ও পানীয় আছে। যখন তিনি আপনার নিকট আসবেন, তখন আপনি তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবেন” - হাদীসটি শেষ পর্যন্ত।

তিনি ধনী ও বিত্তশালী ছিলেন; নবুওয়াত লাভের পূর্বে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রস্তাব করেন যেন তিনি তাঁর সম্পদ নিয়ে সিরিয়া সফরে যান, ফলে তিনি তাঁর ভৃত্য মাইসারার সাথে বের হলেন।

পঁচিশ বছর বয়সে তিনি তাঁকে বিবাহ করেন। আর তিনি (খাদিজা) তাঁর চেয়ে পনের বছরের বড় ছিলেন।

ইবনে ইসহাক বলেন: আবু তালিব এবং খাদিজার ইন্তেকালের মাধ্যমে একই বছরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর একের পর এক বিপদ ও শোক আপতিত হতে থাকে। আর খাদিজা ছিলেন সত্যের এক নির্ভরযোগ্য পরামর্শদাত্রী ও মন্ত্রী।

আয়েশা থেকে বর্ণিত: নামাজ ফরয হওয়ার পূর্বেই খাদিজা ইন্তেকাল করেন।

কাতাদাহ এবং উরওয়াহ বলেন: তিনি হিজরতের তিন বছর পূর্বে ইন্তেকাল করেন - আর এটিই অধিক গ্রহণযোগ্য মত।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقيل: بأربع، وقيل: بخمس سنين.

وقال الواقديُّ: تُوفِّيَت لعشر خَلَونَ مِن رمضان، وهي بنتُ خمس وستين سنة رضي الله عنها.

 

إخوانها وأخواتها وترتيبها بينهم:

قال ابن كثير رحمه الله: (لا خلاف أنَّ جميعَ أولادِه صلى الله عليه وسلم من خديجة بنت خويلد رضي الله عنها سوى إبراهيم فمن مارية بنت شمعون القبطية).

وقال ابن القيم رحمه الله: (فَصلٌ في أولادِهِ صلى الله عليه وسلم.

أولهم: القاسم، وبه كان يُكنَى، مات طفلاً، وقيل: عاش إلى أن ركب الدابة وسار على النجيبة.

ثم زينب، وقيل: هي أسَنُّ من القاسم، ثم رقية، وأم كلثوم، وفاطمة.

وقد قيل في كل واحدة منهن: إنها أسنُّ من أختيها.

وقد ذُكر عن ابن عباس: أن رقية أسَنُّ الثلاث، وأم كلثوم أصغرهن.

ثم وُلِدَ له عبدُالله، وهل ولد بعد النبوة أو قبلها؟ فيه اختلاف، وصحَّح بعضهم أنه ولد بعد النبوة.

وهل هو الطيب والطاهر، أو هما غيره؟ على قولين. والصحيحُ أنهما لَقَبان له، واللَّهُ أعلَمُ.

وهؤلاء كلُّهم من خديجة، ولم يُولد له من زوجة غيرها.

ثم وُلِدَ لهُ إبراهيم بالمدينة من سُرِّيَّتِهِ «مَارِيَة القبطية»، سنة ثمانٍ من
এবং বলা হয়েছে: চার বছর বয়সে, আবার বলা হয়েছে: পাঁচ বছর বয়সে।

আল-ওয়াকিদি বলেন: তিনি রমজানের দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল পঁয়ষট্টি বছর, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন।

 

তাঁর ভাই-বোন এবং তাঁদের মাঝে তাঁর ক্রমবিন্যাস:

ইবনে কাসির (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) বলেন: (এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, ইব্রাহিম ব্যতীত আল্লাহর রাসুল (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সকল সন্তানই খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর গর্ভজাত। আর ইব্রাহিম ছিলেন মারিয়া বিনতে শামউন আল-কিবতিয়্যার গর্ভজাত)।

ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) বলেন: (আল্লাহর রাসুল (তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সন্তানদের বিষয়ে পরিচ্ছেদ।

তাঁদের প্রথম জন: আল-কাসিম, যাঁর মাধ্যমে তাঁর উপনাম রাখা হয়েছিল। তিনি শৈশবেই মারা যান, এবং বলা হয়েছে: তিনি পশুর পিঠে চড়তে পারা এবং দ্রুতগামী উটে আরোহণ করে পথ চলতে পারা পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।

এরপর যায়নাব, এবং বলা হয়েছে: তিনি আল-কাসিমের চেয়ে বড় ছিলেন। এরপর রুকাইয়্যাহ, উম্মু কুলসুম এবং ফাতিমা।

তাঁদের প্রত্যেকের ব্যাপারেই এমনটি বলা হয়েছে যে, তিনি তাঁর অপর দুই বোনের চেয়ে বড় ছিলেন।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: রুকাইয়্যাহ এই তিনজনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন এবং উম্মু কুলসুম ছিলেন তাঁদের মধ্যে সবার ছোট।

এরপর তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কি নবুয়ত লাভের পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন নাকি আগে? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, এবং কেউ কেউ এটিকে সঠিক বলেছেন যে তিনি নবুয়ত লাভের পরেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আর তিনি কি ‘আত-তাইয়্যিব’ ও ‘আত-তাহির’, নাকি তাঁরা অন্য কেউ? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। সঠিক মত হলো এই দুটি তাঁরই উপাধি ছিল, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর এঁরা সবাই খাদিজার গর্ভজাত, তাঁর অন্য কোনো স্ত্রীর গর্ভে কোনো সন্তান জন্ম নেয়নি।

এরপর হিজরি অষ্টম সনে মদীনায় তাঁর দাসী «মারিয়া আল-কিবতিয়্যা»-এর গর্ভে ইব্রাহিম জন্মগ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
الهجرة، وبشَّرَهُ بِه أبو رافع مولاه، فوهب له عبداً، ومات طفلاً قبل الفطام، واختُلِف هل صلَّى عليه أم لا؟ على قولين.

وكلُّ أولادِهِ تُوفي قبله إلا فاطمة، فإنها تأخرت بعده بستة أشهر، فَرفَعَ اللَّهُ لها بصبرها واحتسابها من الدرجات ما فَضَلَتْ به نساءَ العالمين.

وفاطمةُ أفضلُ بناتِه على الإطلاق، وقيل: إنها أفضلُ نساء العالمين، وقيل: بل أمها خديجة، وقيل: بل عائشة، وقيل: بل بالوقف في ذلك).

قلت: زينب أكبر أخواتها شِبه اتفاق بين العلماء، والراجح في ترتيب فاطمة بين أخواتها:

زينب، ثُمَّ رقية، ثُمَّ أم كلثوم، ثُمَّ فاطمة رضي الله عنهن.

زوجها، وأولادها: سيأتي ذكرهم.

 

‌‌[8] مولدها.

وُلِدَتْ فاطمة رضي الله عنها قبل مَبعث النبيِّ صلى الله عليه وسلم بخمس سنين، وعُمرُ النبيِّ صلى الله عليه وسلم خمس وثلاثون سنة. هذا هو الراجح.

وقيل: ولدت قبل المبعث بسنة أو سنتين.

وأمَّا يذكره بعض الصوفية من تحديد يومِ وشَهْرِ ولادتها، فكَذِب.

مكان مولدها: في «مكة»، في بيت النَّبيِّ - صلى الله عليه وعلى آله وسلم - وخديجة رضي الله عنها.

وكذا ما يذكره بعضُ الكتاب في القرون المتأخِّرة من آثار البيت،
হিজরতের [সময়], এবং তাঁর মুক্তদাস আবু রাফি তাঁকে এই সুসংবাদ দিয়েছিলেন, ফলে তিনি তাঁকে একজন দাস উপহার দেন। সে (শিশুটি) দুধ ছাড়ানোর পূর্বেই শৈশবে ইন্তেকাল করে। তাঁর জানাজার সালাত তিনি আদায় করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে দুটি অভিমত বা মতভেদ রয়েছে।

ফাতিমা ব্যতীত তাঁর সকল সন্তানই তাঁর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। ফাতিমা তাঁর ইন্তেকালের ছয় মাস পর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ধৈর্য এবং সওয়াব প্রত্যাশার কারণে তাঁর মর্যাদাকে এমন স্তরে উন্নীত করেছেন যে, তিনি বিশ্বজগতের নারীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন।

ফাতিমা তাঁর কন্যাদের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠ। বলা হয়েছে: তিনি বিশ্বজগতের সকল নারীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আবার বলা হয়েছে: বরং তাঁর মা খাদিজা। আবার বলা হয়েছে: বরং আয়েশা। আবার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে বিরত থাকার (ওয়াকফ) কথাও বলা হয়েছে।

আমি বলছি: বোনদের মধ্যে জয়নব সবার বড় হওয়ার বিষয়ে আলেমদের মাঝে প্রায় ঐকমত্য রয়েছে। বোনদের মাঝে ফাতিমার ক্রমবিন্যাসের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ মত হলো:

জয়নব, এরপর রুকাইয়্যাহ, এরপর উম্মু কুলসুম, এরপর ফাতিমা (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

তাঁর স্বামী এবং সন্তানদের আলোচনা সামনে আসবে।

 

‌‌[৮] তাঁর জন্ম

ফাতিমা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত লাভের পাঁচ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর। এটিই বিশুদ্ধ মত।

বলা হয়ে থাকে: তিনি নবুওয়াত লাভের এক বা দুই বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

আর কোনো কোনো সুফি তাঁর জন্মের দিন ও মাস নির্ধারণ করে যা উল্লেখ করেন, তা ভিত্তিহীন মিথ্যা।

তাঁর জন্মস্থান: মক্কায়, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) এবং খাদিজা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর ঘরে।

অনুরূপভাবে পরবর্তী শতাব্দীগুলোর কোনো কোনো লেখক ঘরের নিদর্শন সম্পর্কে যা বর্ণনা করেন,
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
فكذب لا يخفى على عاقل، فضلاً عن عاقل طالبِ عِلْم.

 

‌‌[9] نشأتها.

يكفي لمعرفة نشأتها معرفةً كامِلةً، أنْ تعلَمَ أنها نشأتْ في بيت والدِها رسولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، هذا يكفي لِيَعلمَ المرءُ عِلماً يقيناً لا شكَّ فيه مبلغَ العلم والهدى والعبادة والتربية والسكينة والخيرات المتعددة التي أكرم الله بها بنات النبي صلى الله عليه وسلم سواء قبل زواجهن في «مكة»، أو بعده في «المدينة النبوية».

فإذا أضفتَ إلى ذلك أن أُمَّهُنَّ السيدةَ الكاملةَ العاقلةَ الرزينة المؤمنة: أمَّ المؤمنين خديجة رضي الله عنها كان هذا خيراً على خير عظيم.

فإذا أضفت إلى ذلك ـ أيضاً ـ أن فاطمة من بين أخواتها كانت ملازمة للنبيِّ صلى الله عليه وسلم، شَهدَتْ مراحِلَ الدعوة كلَّها، وبعضَ غزواته، وكان بيتُها بعد زواجها مجاوراً لبيتِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم، وهي الوحيدة التي بقيت بعده، عَلِمْتَ أنها امتلأت حِكمةً وإيماناً وعِلماً وتَربية رضي الله عنهن.

قال الأديب: عباس العقاد: (لم تفتح عينَيها على غير بوادر ومقدمات الصلوات والتسبيحات والتألُّه من أبوين كريمين

إذا وُصِفت نشأةُ الزهراء بكلمة واحدة تُغني عن كلمات، فالجِدُّ هي تلك الكلمة الواحدة …
সুতরাং এটি এমন এক মিথ্যা যা কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে গোপন নয়, বিশেষ করে ইলম অন্বেষণকারী কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে তো নয়ই।

 

‌‌[৯] তাঁর বেড়ে ওঠা.

তাঁর বেড়ে ওঠা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আপনি জানবেন তিনি তাঁর পিতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে বেড়ে উঠেছেন। কোনো ব্যক্তির জন্য কোনো প্রকার সন্দেহাতীত নিশ্চিত জ্ঞান লাভের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, ইলম, হিদায়াত, ইবাদত, তারবিয়াত, প্রশান্তি এবং বহুমুখী কল্যাণ কোন স্তরে ছিল, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যাদের সম্মানিত করেছিলেন; চাই তা মক্কায় তাঁদের বিয়ের আগে হোক বা মদিনা মুনাওয়ারায় বিয়ের পরে হোক।

এর সাথে যদি আপনি এটি যোগ করেন যে, তাঁদের মাতা ছিলেন পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি সম্পন্ন, বুদ্ধিমতী, ধীরস্থির মুমিন নারী: উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা, তবে এটি ছিল মহৎ কল্যাণের ওপর আরও এক মহান কল্যাণ।

এর সাথে যদি আপনি আরও যুক্ত করেন যে, ফাতিমা তাঁর বোনদের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সর্বদাই সংযুক্ত থাকতেন, তিনি দাওয়াতের সমস্ত পর্যায় এবং তাঁর কিছু যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন, আর বিয়ের পর তাঁর ঘর ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরের পাশেই এবং তিনিই একমাত্র সন্তান যিনি তাঁর ইন্তেকালের পরেও জীবিত ছিলেন; তবে আপনি জানতে পারবেন যে তিনি প্রজ্ঞা, ঈমান, ইলম এবং তারবিয়াতে (শিষ্টাচার) পরিপূর্ণ ছিলেন, আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন।

সাহিত্যিক আব্বাস আল-আক্কাদ বলেছেন: (দুই সম্মানিত পিতামাতার পক্ষ থেকে সালাত, তাসবীহ এবং ইলাহী প্রেমের প্রাথমিক নিদর্শন ও ভূমিকা ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতি তিনি তাঁর চক্ষু উন্মীলন করেননি।

যদি যাহরার বেড়ে ওঠাকে এমন একটি শব্দের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয় যা অন্য সব শব্দের অভাব পূরণ করে দেবে, তবে সেই একটি শব্দ হলো 'নিষ্ঠা' …
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
نشأتْ في حَنانٍ جادٍّ رَصِين، ونكادُ نقول: بَلْ حَنْانٍ صَابِرٍ حَزينٍ نَشْأَةُ جِدِّ واعتكاف، ونَشْأةُ وقار واكتفاء.

لقد أوشكَت الزهراءُ أنْ تَنْشأَ نشأةَ الطفل الوحيد في دار أبويها؛ لأنها لم تجد معها غيرَ أُختٍ واحدةٍ ليست من سِنِّها، وغيرَ أخيها من أمها هند بنِ أبي هالة

وأوشَكَتْ عُزْلَةُ الطفلة الوحيدة أن تكبُرَ معها؛ لأنها لم تكُنْ تسمَعُ عن ذُكرَيات إخوتها الكبار إلا ما يُحزِن ويُشغِل: ماتوا صغاراً، وخلَّفوا في نفوس الأبوين لَوْعَةً كَامِنَةً، وصَبْرَاً مَرِيرَاً. مع زواج الأختين الكبيرتين

لقد لَقِيَتْ مِن والدِها حَنَانَاً كَبِيراً، والحَنَانُ على الصُّغْرَى مِن الذرِّيةِ بعد فِراقِ الذُّرِّيَةِ كلِّها بالموت أو بالرحلة، حَنَانٌ ـ لَعَمْرُ الحقِّ ـ صابرٌ حَزِيْنٌ.

ولقد نَعِمَت الزهراءُ بهذا الحنَانِ مِن قَلْبَيْنِ كَبِيْرَيْنِ، حَنَانٌ أحرَى بِهِ أنْ يُعَلِّمَ الوقَارَ، ولا يُعلِّمَ الخِفَّةَ والمَرَحَ والانْطِلاق).(1)

 

ووصفت الأديبة: عائشة بنت الشاطئ نشأتَها بأنها: هجَرَتْ في صِباها مَلاعِب أترَابها ولِدَاتِها، وأدركَتْ عِظَمَ مَسؤوليةِ والدِها صلى الله عليه وسلم بعد أنْ بعثَهُ اللَّهُ رحمَةً للعالَمين.

هجَرَتْ ملاعبَ الصِّبا، وانتبذَتْ مِن صَواحِبِهَا مَكَاناً قريباً من أبيها في

--------------------------------------------

(1) «فاطمة الزهراء» للعقاد، بتصرف يسير.
তিনি এক গম্ভীর ও সুদৃঢ় মমতার মাঝে বেড়ে উঠেছেন; আমরা প্রায় বলতে পারি: বরং এক ধৈর্যশীল ও বিষাদময় মমতায়। তাঁর বেড়ে ওঠা ছিল একাগ্রতা ও নির্জনবাসের, এবং গাম্ভীর্য ও তুষ্টির।

ফাতিমা আয-যাহরা তাঁর বাবা-মায়ের ঘরে প্রায় একমাত্র সন্তানের মতো বেড়ে ওঠার উপক্রম হয়েছিলেন; কারণ তিনি তাঁর সাথে নিজের সমবয়সী কোনো বোনকে পাননি, কেবল এমন একজন বড় বোনকে পেয়েছিলেন যিনি তাঁর সমবয়সী ছিলেন না এবং তাঁর মায়ের পক্ষীয় ভাই হিন্দ বিন আবি হালা ব্যতীত আর কাউকে পাননি।

আর সেই একমাত্র শিশুটির একাকীত্বও যেন তাঁর সাথে সাথে বড় হতে থাকল; কারণ তিনি তাঁর বড় ভাই-বোনদের স্মৃতি সম্পর্কে কেবল তাই শুনতেন যা দুঃখ দেয় এবং মনকে ভারাক্রান্ত করে: তাঁরা শৈশবেই মারা গিয়েছিলেন এবং বাবা-মায়ের অন্তরে এক সুপ্ত দহন ও তিক্ত সবর রেখে গিয়েছিলেন। সেই সাথে তাঁর বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছিল।

তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে এক বিশাল মমতা লাভ করেছিলেন; আর সমস্ত সন্তানের মৃত্যু অথবা প্রস্থানের মাধ্যমে বিচ্ছেদের পর কনিষ্ঠতম সন্তানের প্রতি সেই মমতা ছিল—সত্যের কসম—ধৈর্যশীল ও বিষাদময় এক মমতা।

আয-যাহরা দুটি মহৎ হৃদয়ের এই মমতা দ্বারা ধন্য হয়েছিলেন, যা চপলতা, হাসি-তামাশা কিংবা উচ্ছলতা শেখানোর পরিবর্তে গাম্ভীর্য ও মর্যাদা শেখানোর জন্যই অধিক উপযোগী ছিল।(১)

 

প্রখ্যাত সাহিত্যিক আয়েশা বিনতে শাতী তাঁর বেড়ে ওঠার বর্ণনা দিয়ে বলেন: তিনি তাঁর শৈশবে সমবয়সী ও খেলার সাথীদের খেলার মাঠ বর্জন করেছিলেন এবং আল্লাহ যখন তাঁর পিতাকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরণ করলেন, তখন তিনি তাঁর পিতার দায়িত্বের বিশালতা উপলব্ধি করেছিলেন।

তিনি শৈশবের ক্রীড়াভূমি ত্যাগ করেছিলেন এবং তাঁর সখীদের থেকে দূরে সরে গিয়ে তাঁর পিতার সন্নিকটে এক স্থান বেছে নিয়েছিলেন...

--------------------------------------------

(১) আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ রচিত ‘ফাতিমা আয-যাহরা’, সামান্য পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
قَلْبِ الميدان.

قال الأستاذ: عبدالستار الشيخ في وصف طفولتها: (وتَرَعْرَعَت الطفلةُ في أحضان النبوة وظِلال الوحي الذي يتنزَّل على أبيها صلى الله عليه وسلم غدوةً وعشيِّاً بآيات القرآن الحكيم، وتفتَّحَ قلبُها وعقلُها على معاني آياته الكريمة مشفوعاً بالهَدْي النبوي الرفيع الذي تعيشه غضَّاً طريِّاً في كلِّ ساعةٍ ومَوقفٍ وحادثَةٍ.

فكانت مَلَكَاتُها ومَدارِكُهَا تَشبُّ وتَنمُو بما يفوق جِسْمَها الضئيل، وسِنَّها الصغيرة؛ وهذا ما يُفسِّر لنا مواقِفَها الباهِرة، وجُرْأَتَها النادرة، ووعيَها الوقَّاد، مما يشهدُ به كثيرٌ من أحداث الدعوة في مكة والمدينة، والذي ترجمَتْ به السيدةُ الزهراءُ ثمرات تلك النشأة الفريدة في سِنيِّ طفولتها المبارَكة).

وقد رأت فاطمةُ رضي الله عنها الزهدَ والإقلالَ من الدنيا في حياةِ والدِها صلى الله عليه وسلم قبلَ الهِجرة وبعدَها، قال الأستاذ: عبدالستار الشيخ: (عاشَتْ في كنف أبيها دهرَاً لم ترَهُ يَتبسَّط من الدنيا، وأموالُ خديجة بين يديه. وفاطمة وعلي ــ لأنه عاش مع النبي صلى الله عليه وسلم ــ رأيَا الزهدَ والتقشُّفَ من النبيِّ صلى الله عليه وسلم، وكان يحبُّ الزهدَ لآل بيته، وقد قال: «اللهم اجعَلْ رِزْقَ آلِ محمَّد قُوتاً»).
ময়দানের কেন্দ্রস্থলে।

উস্তাদ আবদুস সাত্তার আশ-শাইখ তার শৈশবের বর্ণনায় বলেছেন: (এবং সেই মহীয়সী শিশুটি বেড়ে উঠেছেন নবুওয়তের কোলে এবং ওহীর ছায়াতলে, যা হিকমতপূর্ণ কুরআনের আয়াতসহ সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর পিতার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর অবতীর্ণ হতো। তাঁর হৃদয় ও মন প্রস্ফুটিত হয়েছে সেই সম্মানিত আয়াতসমূহের অর্থের ওপর, যার সাথে যুক্ত ছিল উন্নত নববী হিদায়াত; যা তিনি প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি অবস্থানে এবং প্রতিটি ঘটনায় সতেজ ও প্রাণবন্তভাবে প্রত্যক্ষ করতেন।

ফলে তাঁর মেধা ও বোধশক্তি তাঁর ক্ষুদ্র শরীর এবং অল্প বয়সের তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত বিকশিত ও সমৃদ্ধ হতো; আর এটিই আমাদের কাছে তাঁর বিস্ময়কর অবস্থানসমূহ, বিরল সাহসিকতা এবং প্রখর সচেতনতাকে ব্যাখ্যা করে, যার সাক্ষ্য মক্কা ও মদীনায় দাওয়াতি জীবনের বহু ঘটনা দেয়। এর মাধ্যমেই সাইয়্যেদাহ যাহরা তাঁর সেই অনন্য শৈশবের বরকতময় বছরগুলোর সুফলগুলোকে বাস্তবে রূপদান করেছিলেন)।

ফাতিমাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হিজরতের আগে এবং পরে তাঁর পিতার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনে দুনিয়াবিমুখতা ও পার্থিব সম্পদের প্রতি অনাসক্তি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। উস্তাদ আবদুস সাত্তার আশ-শাইখ বলেন: (তিনি দীর্ঘকাল তাঁর পিতার ছত্রচ্ছায়ায় বসবাস করেছেন অথচ তাঁকে দুনিয়ার ভোগবিলাসে মত্ত হতে দেখেননি, যদিও খাদিজার অগাধ সম্পদ তাঁর হাতের কাছেই ছিল। ফাতিমাহ এবং আলী —যেহেতু তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বসবাস করতেন— উভয়েই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে দুনিয়াবিমুখতা ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি তাঁর আহলে বায়তের জন্য দুনিয়াবিমুখতা পছন্দ করতেন এবং বলতেন: ‘হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের পরিজনের রিযিক প্রয়োজনমাফিক (পরিমিত) করে দাও’)।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌[10] هجرتها.

عُمرها عند هِجْرَتِها نحو ثمان عشرة سنة، بناءً على الراجح أنَّ مَولدَها قبل النبوة بخمس سنين.

هاجرت مع أختها أم كلثوم، وسودة زوج النبي صلى الله عليه وسلم مع زيد بن حارثة، وآل أبي بكر رضي الله عنهم، لم يختلِف في ذلك المؤرِّخون.

وكان هجرتهم بعد مَقدَمِ النبيِّ - صلى الله عليه وعلى آله وسلم - المدينة بنحو سبعة أشهر.

عن عائشة رضي الله عنها أنها سُئلتْ: متى بنَى بكِ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم؟

فقالت: لما هاجرَ رسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إلى المدينة، خلَّفَنَا وخَلَّفَ بَنَاتِهِ.

فلما قَدِمَ المدينةَ بعَثَ إلينا زيدَ بنَ حارثة، وبعثَ معَهُ أبا رافعٍ مَولاهُ، وأعطاهُمَا بَعِيرَيْنِ وخَمسمَئةِ درهم، أخذَهَا رسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم من أبي بكر، يشتريان بها ما يحتاجان إليه من الظهْر، وبعثَ أبو بكر معهما عبدَالله بن أُرَيْقِط الدِّيلي بِبَعِيرين أو ثلاثة، وكتبَ إلى عبدِالله بنِ أبي بَكر يأمرُهُ أنْ يحمِلَ أهلَه: أُمِّي أمَّ رُومَان، وأنَا، وأُخْتِي أسماء ــ امرأةَ الزبير ــ؛ فخَرجُوا مُصْطَحِبِينَ.
[১০] তাঁর হিজরত.

হিজরতের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় আঠারো বছর, এই প্রবল মতের ভিত্তিতে যে তাঁর জন্ম নবুওয়তের পাঁচ বছর পূর্বে হয়েছিল।

তিনি তাঁর বোন উম্মু কুলসুম, নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রী সাওদাহ, যায়িদ ইবনু হারিসাহ এবং আবু বকরের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) পরিবারের সাথে হিজরত করেন; ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত পোষণ করেননি।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় পৌঁছানোর প্রায় সাত মাস পর তাঁদের হিজরত সম্পন্ন হয়েছিল।

আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখন আপনার সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছিলেন?

তিনি বললেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তিনি আমাদের এবং তাঁর কন্যাদের পেছনে রেখে গিয়েছিলেন।

অতঃপর তিনি যখন মদীনায় পৌঁছালেন, তখন আমাদের নিকট যায়িদ ইবনু হারিসাহকে পাঠালেন এবং তাঁর সাথে তাঁর মুক্তদাস আবু রাফিকে প্রেরণ করলেন। তিনি তাঁদেরকে দুটি উট এবং পাঁচশ দিরহাম দিয়েছিলেন, যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু বকরের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন; যেন তারা তা দিয়ে প্রয়োজনীয় বাহন ক্রয় করতে পারে। আবু বকর তাঁদের সাথে আবদুল্লাহ ইবনু উরাইক্বিত আদ-দাইলিকে দুটি বা তিনটি উটসহ পাঠিয়েছিলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনু আবু বকরের নিকট এই মর্মে পত্র লিখেছিলেন যে, সে যেন তাঁর পরিবারকে সাথে নিয়ে আসে: (অর্থাৎ) আমার মা উম্মু রুমান, আমি এবং আমার বোন আসমা—যিনি যুবাইরের স্ত্রী ছিলেন। অতঃপর তাঁরা সবাই একসাথে বেরিয়ে পড়লেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার মিন আখবারি ফাতিমা বিনতি সাইয়িদিল বাশার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فلما انْتَهَوا إلى قُدَيْد اشتَرى زيدُ بنُ حَارثة بتلك الخمسمئة ثلاثةَ أَبعِرَة، ثمَّ رحَلُوا مِن مكة جميعاً.

وصَادَفُوا طلحةَ بنَ عُبَيدِالله يُريدُ الهجرَةَ بآلِ أبي بكر، فخرَجْنَا جميعاً.

وخرَجَ زيدُ بنُ حارِثةَ، وأبُو رافعٍ، بِفَاطِمَةَ وأُمِّ كُلثُومِ، وسَودَةَ بنتِ زَمعَةَ، وحمَلَ زيدٌ أمَّ أيمنَ، وأسامةَ بنَ زيد.

وخرَجَ عبدُاللَّه بنُ أبي بكر بأمِّ رُومَان وأُختَيْهِ، وخرَجَ طلحةُ بنُ عُبَيدِاللَّه، واصطَحَبَنَا جَميعَاً.

حتَّى إذا كُنَّا بِالبيضِ مِن تَمَن(1)، نَفَر بَعِيرِي ــ وأنا في مَحَفَّةٍ مَعِي فيها أُمِّي ــ، فجَعَلَتْ أُمِّي تقُولُ: وَابِنْتَاه، واعَرُوسَاه، حتَّى أُدْرِكَ بَعِيرُنا وقَد هَبَطَ مِن لَفْتٍ(2)، فسَلَّمَ اللَّهُ عز وجل.

ثم إنَّا قدِمنا المدينةَ فنزلتُ مع عيالِ أبي بكر، ونَزَلَ آلُ رسولِ اللَّهِ.

--------------------------------------------

(1) تَمَن: أرض مستوية بيضاء للبلادية، شرق الخريبة، إذا خرجتَ من «هرشى» شمالاً تجد «تمناً» على ثلاثة أكيال. ويسارك يظلِّلُكَ «العشي» جبال طوال «الطوال البيض». «معجم معالم الحجاز» د. عاتق البلادي.

(2) قال د. البلادي: تُعرَفُ اليوم باسم «الفَيْت» كانت تصل بين قُدَيد وخُلَيْص، تأتي خليصاً من الشمال، وعليها طريق القوافل، ثم سدَّتها الرمال في أول العهد السعودي، فتحول الطريق خُلَيص غرباً عنها، ولم تعد تُطرق).

من «مكة» إلى «خليص» (130 كلم)، ومن «مكة» إلى «قديد» (157 كلم)، ومن «مكة» إلى «الفَيْت» (140 كلم تقريباً).
যখন তারা কুদাইদ নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন যায়িদ ইবনে হারিসাহ সেই পাঁচশত দিরহাম দিয়ে তিনটি উট ক্রয় করলেন। এরপর তারা সকলে মক্কা থেকে যাত্রা করলেন।

পথিমধ্যে তারা তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহর দেখা পেলেন, তিনি আবু বকরের পরিবারকে সাথে নিয়ে হিজরতের ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। ফলে আমরা সকলে একত্রে বের হলাম।

যায়িদ ইবনে হারিসাহ এবং আবু রাফে ফাতিমা, উম্মে কুলসুম ও সাওদাহ বিনতে জাম’আহকে নিয়ে বের হলেন। আর যায়িদ উম্মে আয়মান ও উসামা ইবনে যায়িদকে বহন করলেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর তাঁর মা উম্মে রুমান এবং তাঁর দুই বোনকে নিয়ে বের হলেন। তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহও বের হলেন এবং তিনি আমাদের সকলের সঙ্গী হলেন।

অবশেষে যখন আমরা তামান-এর আল-বাইদ নামক স্থানে পৌঁছালাম, তখন আমার উটটি চমকে উঠে দ্রুত দৌড়াতে শুরু করল — আমি একটি শিবিকার মধ্যে ছিলাম এবং আমার মা-ও সেখানে আমার সাথে ছিলেন। তখন আমার মা বলতে লাগলেন: "হায় আমার কন্যা! হায় আমার কনে!" শেষ পর্যন্ত আমাদের উটটিকে ধরা সম্ভব হলো যখন সেটি লাফত নামক গিরিপথ থেকে নিচে নেমে গিয়েছিল। আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আমাদের রক্ষা করলেন।

এরপর আমরা মদীনায় পৌঁছালাম। আমি আবু বকরের পরিবারের সাথে অবস্থান করলাম এবং রাসূলুল্লাহর পরিবারও অবস্থান গ্রহণ করলেন।

--------------------------------------------

(১) তামান: এটি আল-বিলাদিয়্যাহর একটি সমতল শ্বেত ভূমি, যা আল-খুরাইবাহর পূর্বে অবস্থিত। আপনি যদি 'হারশা' থেকে উত্তর দিকে বের হন, তবে তিন কিলোমিটার দূরত্বে 'তামান' পাবেন। আপনার বাম পাশে 'আল-আশি' নামক দীর্ঘ শ্বেত পাহাড়গুলো আপনাকে ছায়া দেবে। ‘মু’জামু মা’আলিমিল হিজাজ’, ড. আতিক আল-বিলাদি।

(২) ড. আল-বিলাদি বলেন: এটি বর্তমানে ‘আল-ফায়ত’ নামে পরিচিত। এটি কুদাইদ ও খুলাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করত। এটি উত্তর দিক থেকে খুলাইসে আসত এবং এর ওপর দিয়েই কাফেলা চলাচলের পথ ছিল। পরবর্তীতে সৌদি শাসনামলের শুরুর দিকে বালুচাপা পড়ে এটি বন্ধ হয়ে যায়, ফলে পথটি খুলাইস থেকে পশ্চিম দিকে ঘুরে যায় এবং এটি আর ব্যবহৃত হয় না।

মক্কা থেকে খুলাইস (১৩০ কিমি), মক্কা থেকে কুদাইদ (১৫৭ কিমি) এবং মক্কা থেকে আল-ফায়ত (প্রায় ১৪০ কিমি)।