(খণ্ড: ১)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
الفوضى الدينية وتعدد الزوجات - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الفوضى الدينية وتعدد الزوجات
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (18)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা ও বহুবিবাহ - «আল-মুয়াল্লিমীর রচনাবলি»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা ও বহুবিবাহ
[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৮)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মাদ উযাইর শামস
নিরীক্ষণ: মুহাম্মাদ আজমল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযি
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি
শামেলা সংস্করণে পেশ করেছেন: ‘আতাআত আল-ইলম’ ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৩৫)
الرسالة الخامسة والثلاثون
الفوضى الدينية وتعدُّد الزوجات
পঁয়ত্রিশতম পত্র
ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা ও বহুবিবাহ
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৩৭)
كثر هذه الأيام تحكُّكُ المتفرنجين بالمسائل الدينية وتوثُّبُهم عليها، والذي يسوء الحق إنما هو أن يتصدى الإنسان للتحكُّم في فنٍّ هو فيه أمّي أو تلميذ صغير. إن العاقل الذي لا حظَّ له من الطب إلا مطالعة بعض الكتب، لَيحجزه عقلُه عن التطبب، وهكذا عامةُ الفنون يمتنع العاقل أن يتحكم في فنٍّ منها ليس فنَّه. ولكن الدين شذَّ عن هذه الكلية، فلا تكاد تجد أحدًا يعترف أو يعرف أنه ليس ممن يحقُّ لهم الكلامُ فيه.
يقولون: إنها حرية الفكر! حبَّذا حرية الفكر، ولكن أَمِن حرية الفكر أن يصمد الإنسان لقضيةٍ لم يُتقِن أصولَها، ولا أسبابها وعللها، ولا غوامضها ودقائقَها، فيعبّر فيها على ما خيلت؟ إن حقًّا على العاقل إذا أحبَّ أن يكون حرَّ الفكر أن يختار له موضوعًا ينفذ فكرُه إلى أعماقه، ويتغلغل في دقائقه.
افرِضْ أنك طبيب، وأنه اعترضك بدويٌّ يناقشك في أصول الطب، أو أنك عارف بعلم الفلك الحديث، وعرضَ لك عاميٌّ ينازعك فيه، وكلاهما ــ البدوي والعامي ــ لا يُصغِي إليك حتى توضح له الحجج، أو لا يستطيع في حاله الراهنة أن يفهمها، لأنه لم يتعلم مقدمات ذلك الفن، ولكنه مع ذلك يجزم بما ظهر له، ويرميك بالجهل والغفلة، فهل تعدُّه حرَّ الفكر؟
لقد بلغ بالناس حبُّ الاشتهار بحرية الفكر إلى أن أغفلوا النظر في صواب الفكر وخطائه، وأصبحت حرية الفكر مرادفةً للخروج عما كان عليه الآباء والأجداد. ولقد يعلم أحدهم أن ما كان عليه آباؤه وأجداده هو الصواب، ولكن شغفه بأن يقال حرَّ الفكر يضطرُّه إلى مخالفته. فهل يستحق مثل هذا أن يقال له حرَّ الفكر؟
অধুনা ধর্মীয় বিষয়ে পাশ্চাত্যমনাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং এগুলোর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সত্যের জন্য যা পীড়াদায়ক তা হলো, কোনো ব্যক্তি এমন একটি শাস্ত্রের কর্তৃত্ব গ্রহণ করতে সচেষ্ট হওয়া যাতে সে নিছক নিরক্ষর কিংবা এক নগণ্য ছাত্র মাত্র। একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি, যার চিকিৎসাশাস্ত্রে কিছু গ্রন্থ পাঠ করা ব্যতীত কোনো দখল নেই, তার কাণ্ডজ্ঞানই তাকে চিকিৎসার কাজ থেকে বিরত রাখে। এভাবেই সাধারণ সকল শাস্ত্রের ক্ষেত্রেই একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি সেই শাস্ত্রে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকেন যা তার নিজস্ব ক্ষেত্র নয়। কিন্তু দ্বীন বা ধর্ম এই সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে; আপনি এমন কাউকে খুব কমই পাবেন যে এটা স্বীকার করে বা জানে যে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যাদের এই বিষয়ে কথা বলার অধিকার রয়েছে।
তারা বলে: এটি চিন্তার স্বাধীনতা! চিন্তার স্বাধীনতা অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু চিন্তার স্বাধীনতা কি এটাই যে, কোনো ব্যক্তি এমন এক বিষয়ের ওপর অটল থাকবে যার মূলনীতি (أصول) সে আয়ত্ত করেনি, না জানে তার কারণসমূহ ও ত্রুটিসমূহ (علل), আর না বুঝে তার অস্পষ্টতা ও সূক্ষ্মতা? এরপর সে তার কল্পনাপ্রসূত মত প্রকাশ করবে? একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য এটা আবশ্যক যে, সে যদি চিন্তার স্বাধীনতায় আগ্রহী হয়, তবে সে যেন নিজের জন্য এমন একটি বিষয় বেছে নেয় যার গভীরতম প্রদেশে তার চিন্তা প্রবেশ করতে পারে এবং তার সূক্ষ্ম বিষয়সমূহে বিচরণ করতে পারে।
মনে করুন আপনি একজন চিকিৎসক, এমতাবস্থায় এক বেদুইন আপনার সামনে এসে চিকিৎসাশাস্ত্রের মূলনীতি (أصول) নিয়ে আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হলো। অথবা আপনি আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে পারদর্শী, আর একজন সাধারণ অজ্ঞ ব্যক্তি এই বিষয়ে আপনার সাথে বিবাদে জড়ালো। তারা উভয়েই—সেই বেদুইন এবং সাধারণ লোক—ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার কথা শুনবে না যতক্ষণ না আপনি তার কাছে প্রমাণসমূহ স্পষ্ট করবেন; অথবা বর্তমান অবস্থায় সে তা বুঝতেও সক্ষম হবে না, কারণ সে সেই শাস্ত্রের ভূমিকা বা প্রাথমিক বিষয়াদি শেখেনি। তদুপরি সে তার কাছে যা প্রকাশ্য হয়েছে তা দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে দিচ্ছে এবং আপনাকে অজ্ঞতা ও অসতর্কতার অপবাদ দিচ্ছে। এমতাবস্থায় আপনি কি তাকে চিন্তার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী বলে গণ্য করবেন?
মানুষের মাঝে চিন্তার স্বাধীনতায় খ্যাতি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা এতটাই প্রকট হয়েছে যে, তারা চিন্তার শুদ্ধতা ও ভুলের দিকে নজর দিতেই ভুলে গেছে। বর্তমানে চিন্তার স্বাধীনতা পূর্বপুরুষদের অনুসৃত পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি তাদের কেউ কেউ হয়তো জানে যে, তার পূর্বপুরুষরা যে পথের ওপর ছিলেন তাই সঠিক ছিল, কিন্তু 'মুক্তচিন্তক' হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা তাকে তাদের বিরোধিতা করতে বাধ্য করে। এমন ব্যক্তি কি আদৌ 'মুক্তচিন্তক' বা চিন্তার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হওয়ার যোগ্য?
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৩৮)
وكثير منهم يدع تقليد أسلافه ويقلِّد بعض الملحدين، فهل خرج هذا من الرقِّ إلى الحرّية؟ كلَّا، بل خرج من رقٍّ إلى رقٍّ.
حرُّ الفكر هو الذي يُطلِق فكره حيث يستطيع الانطلاق ويكفُّه حيث يحبّ الانكفاف.
حرُّ الفكر هو الذي يحرِصُ على الحق أينما كان، فإذا ظهر أن الحق هو ما كان عليه أسلافه لزِمَه، ولم يُبالِ بأن يقال: جامد مقلِّد.
حرُّ الفكر هو الذي يحرِص على الثبات على المبدأ الذي كان عليه أسلافه، حتى تقهره الحجة الواضحة.
أمامنا من تلك المسائل مسألة تعدد الزوجات، مسألة معلومة من دين الإسلام بالضرورة، بل ومن الفطرة ومن المصلحة، ثم لا يزال بين حينٍ وآخر يخوض فيها عاشق من عشاق الشهرة بحرية الفكر، وهو عبد من عبيد الإفرنجيّات، اللاتي تُؤثِر إحداهن أن يبقى بَعلُها مضطرًّا إلى مخادنة العواهر، حتى يضطر إلى السماح لها بمخادنة الفجار، وترى أنه لو أبيح له تعدد الزوجات قد يستغني عن الزنا، فلا يبقى مانعٌ يمنعه من مراقبتها ومنعها عن الفجور بمقتضى الغيرة الطبيعية. كما أن رجال الإفرنج بعد أن ألِفوا الزنا يُعادون تعددَ الزوجات، لعلمهم أن القانون إذا أباح التعدُّدَ قلَّ أنصار الزنا وكثُر خصومُه، وضعفت الشبهات التي بُني عليها إباحتُه وإباحةُ مقدماته من الرقص والخلوة والاختلاط المريب.
ولقد يكتب الكاتب خلاف تعدد الزوجات، لعداوته للدين أو لعداوته للأمة، فهو لا يحب لها شرفَ الأخلاق، أو ليرخّص بذلك المتبرِّجات من النساء ليكون له نصيبٌ من قلوبهن ثم مِن
…
তাদের অনেকেই তাদের পূর্বসূরিদের অনুকরণ (تقليد) বর্জন করে এবং কতিপয় নাস্তিকের অনুকরণ (تقليد) করে। তবে সে কি দাসত্ব থেকে স্বাধীনতার দিকে বেরিয়ে এসেছে? কখনোই না, বরং সে এক দাসত্ব থেকে অন্য দাসত্বের দিকে বেরিয়ে এসেছে।
মুক্ত চিন্তার অধিকারী সেই ব্যক্তি, যে তার চিন্তাকে সেখানে পরিচালিত করে যেখানে তা চলা সম্ভব এবং সেখান থেকে বিরত রাখে যেখান থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
মুক্ত চিন্তার অধিকারী সেই ব্যক্তি, যে সত্যের সন্ধানে সচেষ্ট থাকে তা যেখানেই থাকুক না কেন। অতঃপর যদি প্রকাশ পায় যে সত্য তার পূর্বসূরিদের আদর্শের মধ্যেই রয়েছে, তবে সে তা আঁকড়ে ধরে এবং তাকে স্থবির অনুসারী (جامد مقلّد) বলা হলেও সে তাতে ভ্রুক্ষেপ করে না।
মুক্ত চিন্তার অধিকারী সেই ব্যক্তি, যে তার পূর্বসূরিদের মূলনীতির (مبدأ) ওপর অবিচল থাকতে সচেষ্ট হয়, যতক্ষণ না কোনো অকাট্য দলিল (حجة) তাকে পরাভূত করে।
আমাদের সামনে থাকা এই বিষয়গুলোর মধ্যে বহুবিবাহের বিষয়টি অন্যতম। এটি ইসলাম ধর্মের একটি স্বতঃসিদ্ধ (معلوم من الدين بالضرورة) বিষয়, অধিকন্তু এটি স্বভাবজাত প্রকৃতি এবং জনকল্যাণেরও (مصلحة) অনুকূল। তা সত্ত্বেও মাঝেমধ্যেই মুক্ত চিন্তার নাম করে খ্যাতিলোভীদের কেউ না কেউ এতে লিপ্ত হয়। প্রকৃতপক্ষে সে হচ্ছে ইউরোপীয় প্রথার একজন দাস, যাদের নারীরা তাদের স্বামীর ব্যভিচারিণীদের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়, যাতে করে সেই স্বামী তাকে পাপাচারীদের সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়ার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়। সেই নারী মনে করে যে, যদি পুরুষের জন্য বহুবিবাহ বৈধ করে দেওয়া হয়, তবে সে ব্যভিচার (زنا) থেকে বিমুখ হয়ে পড়বে। তখন ওই নারীর ওপর নজরদারি করতে এবং প্রাকৃতিক আত্মমর্যাদাবোধের (غيرة) তাগিদে তাকে পাপাচার থেকে বিরত রাখতে সেই পুরুষের আর কোনো বাধা থাকবে না। একইভাবে ইউরোপীয় পুরুষরা ব্যভিচারে অভ্যস্ত হওয়ার পর বহুবিবাহের বিরোধিতা করে; কারণ তারা জানে যে যদি আইন বহুবিবাহকে বৈধতা দেয়, তবে ব্যভিচারের (زنا) সমর্থক কমে যাবে এবং এর বিরোধীরা বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে যেসব সংশয়ের (شبهات) ওপর ভিত্তি করে ব্যভিচার এবং এর প্রাথমিক ধাপগুলো যেমন নাচ, নির্জনে অবস্থান (خلوة) এবং সন্দেহজনক মেলামেশা (اختلاط) বৈধ করা হয়েছে, তাও দুর্বল হয়ে পড়বে।
অনেক লেখক ধর্মের প্রতি বিদ্বেষবশত অথবা উম্মাহর প্রতি শত্রুতার কারণে বহুবিবাহের বিরুদ্ধে লিখে থাকেন। তারা এই জাতির জন্য চারিত্রিক মর্যাদা পছন্দ করে না। অথবা তারা এর মাধ্যমে বেপর্দা নারীদের ছাড় দিতে চায় যাতে তাদের হৃদয়ে নিজের স্থান করে নিতে পারে এবং পরবর্তীতে
…
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৩৯)
وأخفُّهم ذنبًا مَن يكون قليل المعرفة بالدين، قاصر النظر في مصالح العباد، ضعيف الباه، فينظر هذا إلى ما في تعدد الزوجات من النقائص، ولا يلتفت إلى ما في منعه من المفاسد.
تعدد الزوجات في الدين:
جواز التعدد معلوم من دين الإسلام بالضرورة، ولكن أثار بعض المتأخرين شبهة، وهي أن الله عز وجل قال: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً} [النساء: 3]، وقال في موضع آخر: {وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ} [النساء: 129].
فالآية الأولى ألزمت المسلم إذا خاف عدمَ العدل أن يقتصر على واحدةٍ. وعُلِم بالآية الثانية أن كلَّ مسلم مصدِّقٍ بخبر الله عز وجل يعلم أنه لا يستطيع العدل، فأنَّى يتصور أن لا يخاف عدم العدل؟
والجواب عن ذلك أنه لو فرِض صحةُ دلالة الآيتين على المنع لم يجز العمل بهذه الدلالة، لِما تواتر قطعًا أن أصحاب النبي صلى الله عليه وآله وسلم كانوا يجمعون مثنى وثلاث ورباع بعد نزول الآية، مع علمه صلى الله عليه وآله وسلم وإقراره، ثم لم يزل العمل على ذلك إلى الآن، وأطبقت عليه الأمة، ولم يخالف في ذلك أحدٌ البتةَ. وهذا المعنى حجة قطعية لا يخدِش فيه ظاهرُ القرآن.
مع أن الصواب أن ظاهر القرآن لا يدل على المنع، بل يدلُّ على الجواز، ودونك البيان:
قال الله عز وجل: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ
এবং তাদের মধ্যে পাপে লঘুতর হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে দ্বীন সম্পর্কে অল্প জ্ঞান রাখে, বান্দাদের কল্যাণের বিষয়ে যার দৃষ্টি সীমাবদ্ধ এবং যে শারীরিক সক্ষমতায় দুর্বল (ضعيف); তাই সে বহুবিবাহের ত্রুটিগুলোর দিকে তাকায়, কিন্তু এটি নিষিদ্ধ করার ফলে যে অনিষ্ট ঘটে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না।
দ্বীনে বহুবিবাহ:
বহুবিবাহের বৈধতা ইসলাম ধর্মে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে জ্ঞাত বিষয়, কিন্তু পরবর্তীকালের (متأخرون) কেউ কেউ একটি সংশয় উত্থাপন করেছেন। তা হলো, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {তবে যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে বিবাহ করো} [আন-নিসা: ৩], এবং অন্য স্থানে বলেছেন: {আর তোমরা চাইলেও কখনও স্ত্রীদের মাঝে পূর্ণ ন্যায়বিচার করতে পারবে না} [আন-নিসা: ১২৯]।
প্রথম আয়াতটি একজন মুসলিমকে কেবল একজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য করেছে যদি সে ন্যায়বিচার না করার আশঙ্কা করে। আর দ্বিতীয় আয়াতের মাধ্যমে জানা গেছে যে, আল্লাহর বাণীতে বিশ্বাসী প্রত্যেক মুসলিমই জানে সে ন্যায়বিচার করতে সক্ষম নয়। এমতাবস্থায় সে ন্যায়বিচার না করার আশঙ্কা করবে না—এমনটি কীভাবে কল্পনা করা যায়?
এর উত্তর হলো—যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এই আয়াতদ্বয়ের অর্থ বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হওয়া নির্দেশ করে, তবুও এই অর্থের ওপর আমল করা বৈধ হবে না। কারণ এটি অকাট্যভাবে মুতাওয়াতির (متواتر) যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ এই আয়াত নাজিল হওয়ার পর দুই, তিন বা চারজন স্ত্রী একত্রে রাখতেন এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তা জানতেন ও তাতে সম্মতি (إقرار) দিয়েছিলেন। অতঃপর আজ পর্যন্ত এর ওপর আমল অব্যাহত রয়েছে এবং উম্মত এ বিষয়ে একমত হয়েছে; এতে কেউ বিন্দুমাত্র দ্বিমত পোষণ করেননি। আর এই বিষয়টি একটি অকাট্য দলিল (حجة قطعية), যা কুরআনের প্রকাশ্য অর্থকে (ظاهر القرآن) ক্ষুণ্ন করে না।
যদিও সঠিক কথা হলো, কুরআনের প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر القرآن) এটি নিষিদ্ধ হওয়া নির্দেশ করে না, বরং এটি বৈধ হওয়ার প্রমাণ দেয়। এর ব্যাখ্যা নিচে প্রদান করা হলো:
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {আর যদি তোমরা ইয়াতিম মেয়েদের ক্ষেত্রে ইনসাফ করতে না পারার আশঙ্কা করো, তবে তোমাদের পছন্দমতো নারীদের মধ্য থেকে বিবাহ করো...
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৪০)
النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً} [النساء: 3].
في «الصحيحين»
(1) وغيرهما عن أم المؤمنين عائشة ما حاصله: أن المراد باليتامى في الآية اليتامى من النساء، تكون اليتيمة في حجْرِ الرجل ولها مال، فيتزوجها لأجل مالها، وليس لها من قلبه شيء، فلا يُقسِط لها، فنُهوا عن ذلك، وتقدير الآية هكذا: «وإن خفتم ألا تقسطوا في اليتامى من النساء اللاتي في حجوركم إذا نكحتموهن، فلا تنكحوهن، وانكحوا ما طاب لكم من النساء
… ». والمراد بالطيب أن تكون المرأة محبوبة له لنفسها لا لمالها، فإنه إذا تزوج مَن يحبّها كان أحرى أن يُقسِط لها.
وقوله: (تعدلوا) فعل، والفعل في قوة النكرة كما نصُّوا عليه، فقولك: «لم يعدلْ زيد» في قوة قولك: «لم يقع من زيدٍ عدلٌ»، والنكرة في سياق النفي تعمُّ كما نصُّوا عليه. إذا قلتَ: «ما جاءني اليومَ رجلٌ» كان في قوة قولك: «ما جاءني اليومَ زيد ولا عمرو ولا خالد ولا بكرٌ
… » حتى يستوعب جميع أفراد الرجال.
فقوله: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا} في قوة قولك: «فإن خفتم أن لا يقع منكم ما يصحّ أن يقال له عدلٌ». ولو كان بيد الرجل تمرتان لا فضلَ لإحداهما على الأخرى، فقال لزوجتيه: لتأخذْ كلٌّ منكما واحدةً= لكان هذا عدلًا، فخوف الرجل أن لا يقع منه بين زوجتيه أو زوجاته شيءٌ يُسمَّى عدلًا مما لا يكاد يتحقق.
ومما يؤيد أن المراد هذا المعنى ما تقرر في المعاني أن وضع «إن»
--------------------------------------------
{...নারীদের মধ্য হতে (যাদের তোমাদের পছন্দ হয়) দুই, তিন অথবা চারজনকে; অতঃপর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে সুবিচার (عدل) করতে পারবে না, তবে একজনকে।} [আন-নিসা: ৩]।
সহিহাইন
(১) এবং অন্যান্য গ্রন্থে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনার সারকথা হলো: আয়াতে এতিম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নারীদের মধ্য থেকে যারা এতিম; যারা কোনো ব্যক্তির অভিভাবকত্বে থাকে এবং তাদের সম্পদ থাকে। এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি তাকে কেবল তার সম্পদের লোভে বিবাহ করে, কিন্তু তার অন্তরে সেই নারীর প্রতি কোনো অনুরাগ থাকে না। ফলে সে তার প্রতি ন্যায়বিচার (قسط) করে না। তাই তাদের এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আয়াতের ব্যাখ্যা হবে এরূপ: "আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, তোমাদের অভিভাবকত্বে থাকা এতিম নারীদের বিবাহ করলে তাদের প্রতি ন্যায়বিচার (قسط) করতে পারবে না, তবে তাদের বিবাহ করো না; বরং নারীদের মধ্যে যাদের তোমাদের ভালো লাগে তাদের বিবাহ করো..."। এখানে 'তৈয়ব' বা পছন্দ হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নারীটি যেন তার নিজের গুণের কারণে ব্যক্তির নিকট প্রিয় হয়, তার সম্পদের জন্য নয়। কারণ, স্বামী যদি এমন কাউকে বিবাহ করে যাকে সে ভালোবাসে, তবে তার প্রতি ন্যায়বিচার (قسط) করার সম্ভাবনা অধিক থাকে।
এবং তাঁর বাণী: (তোমরা সুবিচার করতে পারবে না - تعدلوا) হলো একটি ক্রিয়া (فعل); আর বিশেষজ্ঞগণ যেমনটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ক্রিয়া অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة)-এর সমপর্যায়ভুক্ত। সুতরাং আপনার কথা: "জায়েদ সুবিচার করেনি" এর অর্থ হলো: "জায়েদের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার সুবিচার (عدل) সংঘটিত হয়নি"। আর না-বোধক বাক্যের প্রেক্ষিতে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة) ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে, যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন। যদি আপনি বলেন: "আজ আমার কাছে কোনো লোক আসেনি", তবে তা আপনার এই কথার সমপর্যায়ভুক্ত হবে যে: "আজ আমার কাছে জায়েদ, আমর, খালিদ বা বকর—কেউই আসেনি..." যতক্ষণ না তা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির সকল ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
সুতরাং তাঁর বাণী: {যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে সুবিচার (تعدلوا) করতে পারবে না}—এর অর্থ হলো: "যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তোমাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো কিছু প্রকাশ পাবে না যাকে যথাযথভাবে সুবিচার (عدل) বলা যায়"। যদি কোনো ব্যক্তির কাছে দুটি খেজুর থাকে যেগুলোর একটি অন্যটির চেয়ে কোনো অংশে শ্রেষ্ঠ নয়, আর সে তার দুই স্ত্রীকে বলে: 'তোমরা প্রত্যেকে একটি করে নাও'—তবে এটিও সুবিচার (عدل) হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার স্ত্রী বা স্ত্রীদের মধ্যে এমন সামান্যতম বিষয়ও প্রকাশ পাবে না যাকে সুবিচার (عدل) বলা যায়—এমন আশঙ্কা হওয়া প্রায় অসম্ভব।
আর এই অর্থটি যে কাঙ্ক্ষিত, তা ইলমুল মা'আনি-তে স্বীকৃত এই নিয়ম দ্বারাও সমর্থিত যে, 'ইন' (إن) অক্ষরের প্রয়োগ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৪১)
الشرطية لفرض الممتنع وما قرب منه.
ويؤيده أيضًا أنه لو كان المراد: «وإن خفتم أن لا يقع منكم العدل الكامل» لما بقي لقوله: {مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ} معنًى، لأن العدل الكامل ممتنع كما دلَّ عليه قوله: {وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا
… } الآية، فإن المراد بالعدل فيها العدل الكامل، وهاك تقرير ذلك:
قال تعالى: {وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا .... (128) وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ وَإِنْ تُصْلِحُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا} [النساء: 128 - 129].
قوله: {تَعْدِلُوا} فعل في سياق النفي، فهو من هذه الجهة يصدُق بالخفيف والشديد، ولكن هنا أدلة أن المراد: عدلًا كاملًا.
الدليل الأول: الحسّ والمشاهدة، فإننا نعلم أن الرجل يستطيع أن يعدِل أنواعًا من العدل بين ألف زوجة، فضلًا عن ثنتين أو ثلاث أو أربع، وذلك كأن يقسم بينهن تمرًا أو نحوه مرةً واحدةً أو مرتين أو مرارًا. وقد تقرر في الأصول أن النصّ الشرعي إذا كان بظاهره مخالفًا للواقع وجبَ تقدير ما يجعله مطابقًا له.
الدليل الثاني: الأوامر [القاضية]
(1) بالعدل بين الزوجات، ومنها قوله في هذه الآية نفسها: {فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ}
--------------------------------------------
অসম্ভব (ممتنع) এবং এর নিকটবর্তী বিষয়কে সাব্যস্ত করার জন্য শর্তবাচকতা (الشرطية)।
এ বিষয়টি এটিও সমর্থন করে যে, যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতো: «আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তোমাদের পক্ষ থেকে পূর্ণ ন্যায়বিচার (العدل الكامل) সংঘটিত হবে না», তবে মহান আল্লাহর বাণী: {দুই, তিন ও চার}—এর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকত না। কারণ পূর্ণ ন্যায়বিচার (العدل الكامل) অসম্ভব (ممتنع), যেমনটি তাঁর এই বাণী দ্বারা প্রমাণিত: {আর তোমরা কখনোই সক্ষম হবে না...} আয়াতাংশটি। কেননা এখানে ন্যায়বিচার (العدل) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পূর্ণ ন্যায়বিচার (العدل الكامل); এর বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি কোনো নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তারা নিজেদের মধ্যে কোনো মীমাংসা করলে তাতে তাদের কোনো গুনাহ নেই... (১২৮) আর তোমরা স্ত্রীদের মধ্যে কখনো ন্যায়বিচার (تعدلوا) করতে সক্ষম হবে না, যদিও তোমরা তা প্রবলভাবে কামনা করো। অতএব, তোমরা কোনো একজনের দিকে পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে অন্যজনকে তোমরা ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে দাও। আর যদি তোমরা নিজেদের সংশোধন করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।} [আন-নিসা: ১২৮-১২৯]।
তাঁর বাণী: {ন্যায়বিচার করা (تعدلوا)} শব্দটি না-বোধক (النفي) প্রেক্ষাপটে একটি ক্রিয়া (فعل), তাই এই দিক থেকে এটি সামান্য এবং কঠোর—উভয় প্রকারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কিন্তু এখানে এমন কিছু দলিল রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: পূর্ণ ন্যায়বিচার (عدلًا كاملًا)।
প্রথম দলিল: ইন্দ্রিয়জাত অনুভব ও পর্যবেক্ষণ। কেননা আমরা জানি যে, একজন পুরুষ হাজার জন স্ত্রীর মাঝেও বিভিন্ন প্রকারের ন্যায়বিচার (العدل) করতে সক্ষম, দুই, তিন বা চারজন তো দূরের কথা। যেমন তাদের মাঝে একবার, দুবার অথবা একাধিকবার খেজুর বা এই জাতীয় কিছু সমানভাবে বণ্টন করা। আর উসুল বা মূলনীতিতে (الأصول) এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, শরয়ি টেক্সট (النص الشرعي) যদি বাহ্যিকভাবে বাস্তবতার পরিপন্থী মনে হয়, তবে এমন কিছু অর্থ অনুমিত রাখা ওয়াজিব যা একে বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে।
দ্বিতীয় দলিল: স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার (العدل) করার নির্দেশনাসমূহ [ফয়সালাকারী]
(১), যার অন্তর্ভুক্ত হলো এই আয়াতেরই তাঁর বাণী: {অতএব তোমরা পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যাতে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফেলে রাখো।}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৪২)
ولو كان العدل بينهن ممتنعًا قليلُه وكثيره لما كان لتلك الأوامر فائدة.
الدليل الثالث: قوله: {وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا} فإن قوله: {وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ} يدل أن النشوز والإعراض محتملٌ فقط، لأنه فُرِض الخوف منه فرضًا. و «امرأة» في الآية عام، لأنها نكرة في سياق الشرط، يتناول من كان لها ضرة ومَن لا ضرة لها. وتعقيب هذه الآية بقوله: {وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا} الآية يدل على تناول «امرأة» لمن كان لها ضرة أو ضرائر، ويدل على ذلك سبب النزول، فقد جاء أنه قصة أم المؤمنين سودة
(1). ولو كان العدل ممتنعًا البتة لكان النشوز والإعراض متحققًا، وقد عُلِم من أول الآية أنه محتمل فقط.
فإن قيل: فقد اعترفت أن العدل الكامل ممتنع، وحينئذٍ فلابد أن يقع نشوزٌ ما أو إعراضٌ ما، فكيف يكون هذا محتملًا فقط؟
قلت: قد يكون النشوز والإعراض خفيًّا بحيث لا يظهر للمرأة، وعليه فيمكن أن لا تخاف نشوزًا ولا إعراضًا.
الدليل الرابع: قوله في الآية السابقة: {فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا}، والعدل فيها عام كما تقدم، وقد فُرِض امتناع الخوف من عدمه فرضَ المحتمل البعيد، وذلك ينفي أن يكون متحققًا حتمًا.
فهذه أربعة أدلة تُقابل الأربع الزوجات، وثَمَّ أدلة أخرى لا حاجة إلى ذكرها.
--------------------------------------------
আর তাদের মধ্যে সুবিচার করা যদি অল্প বা বিস্তর—সর্বাবস্থায় অসম্ভব হতো, তবে সেই আদেশগুলোর কোনো উপযোগিতা থাকতো না।
তৃতীয় দলিল: আল্লাহর বাণী: {আর যদি কোনো নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে নাফরমানি (نشوز) কিংবা বিমুখতার (إعراض) আশঙ্কা করে}। এখানে {যদি কোনো নারী আশঙ্কা করে} বাক্যটি প্রমাণ করে যে, নাফরমানি ও বিমুখতা কেবল একটি সম্ভাবনা মাত্র; কারণ এখানে আশঙ্কা থাকাকে একটি অনুমান হিসেবে ধরা হয়েছে। আর এই আয়াতে "নারী" শব্দটি ব্যাপক (عام), কারণ এটি শর্তের প্রেক্ষাপটে একটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, যা সপত্নী থাকা বা না থাকা—উভয় প্রকার নারীকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এই আয়াতের পরপরই আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা কখনোই সক্ষম হবে না...} এর উল্লেখ থাকা প্রমাণ করে যে, "নারী" শব্দটি সপত্নী বা একাধিক সপত্নী রয়েছে এমন নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। শানে নুযূল (سبب النزول) বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটও এর স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়; কেননা বর্ণিত আছে যে, এটি উম্মুল মুমিনীন সাওদাহ
(১)-এর ঘটনা। যদি সুবিচার করা একেবারেই অসম্ভব হতো, তবে নাফরমানি ও বিমুখতা সুনিশ্চিত বিষয় হতো; অথচ আয়াতের শুরু থেকেই জানা যাচ্ছে যে এটি কেবল একটি সম্ভাবনা মাত্র।
যদি প্রশ্ন করা হয়: আপনি তো স্বীকার করেছেন যে পূর্ণাঙ্গ সুবিচার অসম্ভব, আর সেক্ষেত্রে কোনো না কোনো নাফরমানি বা বিমুখতা তো ঘটবেই, তাহলে এটি কেবল সম্ভাবনা হয় কীভাবে?
আমি বলব: নাফরমানি ও বিমুখতা কখনো কখনো সূক্ষ্ম হতে পারে যা নারীর নিকট প্রকাশ পায় না; ফলে এমতাবস্থায় তার পক্ষে নাফরমানি বা বিমুখতার আশঙ্কা না করা সম্ভব।
চতুর্থ দলিল: পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহর বাণী: {তবে তোমরা যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না}, এখানে সুবিচার শব্দটি পূর্বের ন্যায় ব্যাপক (عام) অর্থে ব্যবহৃত। আর এখানে আশঙ্কার থাকা না থাকাকে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা হিসেবে ধরা হয়েছে, যা বিষয়টিকে অবধারিতভাবে ঘটা বা সুনিশ্চিত হওয়াকে নাকচ করে দেয়।
এই হলো চার স্ত্রীর বিপরীতে চারটি দলিল, আর এ ছাড়াও আরও অনেক দলিল রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৪৩)
فإن لم تطمئن نفسك إلى عموم العدل في الآية الأولى، وزعمتَ أن المراد العدل المعروف لا العدل الكامل ولا نوع من العدل، فلنا أن نسلِّم لك ذلك ثم نقول: قوله: {فَانْكِحُوا} صيغة أمر، وليس للوجوب قطعًا، فيُحمَل على الاستحباب؛ لأنه أقرب المحتملات إلى الحقيقة المتعذرة، وهي الوجوب. وإذا ثبت هذا ثبت مثلُه في قوله: {فَوَاحِدَةً}، أي فانكحوا واحدةً. فتوضيح الآية هكذا: المستحب لكم أن تنكحوا اليتامى اللاتي في حجوركم إلّا أن تخافوا أن لا تُقسِطوا إليهن، فالمستحب لكم أن تنكحوا غيرهن من النساء مثنى وثلاث ورباع، إلَّا أن تخافوا أن لا تعدلوا بين الزوجات العدلَ المعروف، فالمستحبّ لكم أن تنكحوا واحدةً فقط.
فغاية ما في الآية أنه عند الخوف لا يستحب نكاحُ أكثر من واحدة، وعدم الاستحباب لا يستلزم عدم الإباحة. فأما غير الإسلام من الأديان فحسبُك أن إبراهيم خليل الله عليه الصلاة والسلام كان له عدة زوجات، كما تعترف به التوراة. والله أعلم.
تعدد الزوجات والفطرة:1 - المقصود الأصلي من الزواج هو التناسل، والمرأة لا تستطيع أن تَحْبَل إلا مرة واحدة في السنة تقريبًا، والرجل يستطيع أن يُحبِل في ليلة واحدة عدة نساء. وقد نُقل عن عمر بن عبيد الله بن معمر أنه جامع في ليلةٍ سبعَ عشرة مرةً، وحُكي أن إفرنجيًّا وحبشيًّا تباريا، فلم يستطيع الإفرنجي إلّا ثلاث مرات بعد الجهد، وأتمَّ الحبشي ثلاثين مرة.
2 - مصلحة الطفل تقتضي أن لا ترضعه إلَّا أمُّه، وإذا جومعت أو حملت
যদি আপনার মন প্রথম আয়াতের ন্যায়বিচারের (العدل) ব্যাপকতার প্রতি আশ্বস্ত না হয়, এবং আপনি দাবি করেন যে এখানে প্রচলিত ন্যায়বিচারই (العدل) উদ্দেশ্য, পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার (العدل الكامل) বা বিশেষ কোনো প্রকারের ন্যায়বিচার নয়, তবে আমরা তা মেনে নিতে পারি এবং বলতে পারি: তাঁর (আল্লাহর) বাণী: {فَانْكِحُوا} আদেশের (أمر) শব্দরূপ, এবং এটি নিশ্চিতভাবেই আবশ্যকতার (وجوب) জন্য নয়, বরং একে পছন্দনীয়তার (استحباب) অর্থে গ্রহণ করা হবে; কারণ এটিই অসম্ভব মূল অর্থের—অর্থাৎ আবশ্যকতার (وجوب)—সবচেয়ে নিকটবর্তী সম্ভাবনা। আর যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন তাঁর বাণী: {فَوَاحِدَةً} এর ক্ষেত্রেও অনুরূপ প্রমাণিত হলো, অর্থাৎ 'তবে তোমরা একজনকে বিবাহ করো'। সুতরাং আয়াতের ব্যাখ্যা হবে এই: তোমাদের জন্য পছন্দনীয় (مستحب) হলো তোমাদের তত্ত্বাবধানে থাকা সেই এতিম নারীদের বিবাহ করা, যদি না তোমরা তাদের প্রতি ইনসাফ (أقسطوا) না করার ভয় পাও। আর তোমাদের জন্য পছন্দনীয় (مستحب) হলো অন্যান্য নারীদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চারজনকে বিবাহ করা, যদি না তোমরা স্ত্রীদের মাঝে প্রচলিত ন্যায়বিচার (تعدلوا/العدل) করতে না পারার ভয় পাও। এমতাবস্থায় তোমাদের জন্য পছন্দনীয় (مستحب) হলো কেবল একজনকে বিবাহ করা।
সুতরাং আয়াতের চূড়ান্ত কথা হলো, ভয়ের সময় একজনের অধিক বিবাহ করা পছন্দনীয় (مستحب) নয়। আর পছন্দনীয় (مستحب) না হওয়া মানেই বৈধতা (إباحة) না থাকা নয়। ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্মগুলোর ক্ষেত্রে আপনার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আল্লাহর খলিল ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর একাধিক স্ত্রী ছিল, যেমনটি তাওরাতও স্বীকার করে। আল্লাহই ভালো জানেন।
বহুবিবাহ ও ফিতরাত বা মানবপ্রকৃতি:১ - বিবাহের মূল উদ্দেশ্য হলো বংশবিস্তার। একজন নারী বছরে সাধারণত একবারই গর্ভধারণ করতে পারেন, অথচ একজন পুরুষ এক রাতেই একাধিক নারীকে গর্ভবতী করতে সক্ষম। ওমর ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে মা'মার সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এক রাতে সতেরো বার সহবাস করেছিলেন। বর্ণিত আছে যে, একজন ইউরোপীয় এবং একজন আবিসিনীয় (হাবশি) প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছিল; তাতে ইউরোপীয় ব্যক্তিটি কঠোর প্রচেষ্টার পর মাত্র তিনবার সক্ষম হয়েছিল, আর আবিসিনীয় ব্যক্তিটি ত্রিশবার পূর্ণ করেছিল।
২ - শিশুর কল্যাণ দাবি করে যে, তার মা ছাড়া অন্য কেউ তাকে দুগ্ধদান করবে না, আর যদি (দুগ্ধদানকালে) সহবাস করা হয় বা সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৪৪)
قبلَ الرضاع أضرَّ ذلك بالطفل، ولاسيما إذا حملت. وأما الرجل فلا شأن له بذلك، أي أن جِماعه لامرأة في حالِ أن امرأة أخرى تُرضِع ولده لا يضرُّ بالطفل.
روى أبو داود
(1) بسند صحيح عن الربيع بن أبي مسلمة عن مولاته عن أسماء بنت يزيد قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: «لا تقتلوا أولادكم سرًّا، فإن الغَيْلَ يُدرِك الفارسَ فيُدَعْثِره».
وهذا الحديث إذا صحَّ فلابدَّ أن يكون متأخرًا عن قوله صلى الله عليه وآله وسلم في الغِيْلة: «لو كان ذلك ضارًّا ضرَّ فارسَ والرومَ»، وقوله: «لقد هممتُ أن أنهى عن الغِيْلة، فنظرتُ في الروم وفارس، فإذا هم يُغِيلون أولادهم، فلا يضرُّ أولادهم ذلك شيئًا» رواهما مسلم
(2).
والدليل على تأخر حديث النهي أن قوله في الحديث الثالث: «لقد هممتُ أن أنهى» صريح في أنه لم يتقدم منه نهيٌ، والحديث الأول نهيٌ صريح.
ودليل آخر، وهو أن الحديثين الأخيرين كانا عن اجتهادٍ وظنٍّ كما هو واضح، وحديث النهي جزمٌ بالضرر ولو بعد حينٍ، وظاهرٌ أن مثله لا يقوله صلى الله عليه وآله وسلم إلا عن وحي.
فإذا التزم الرجل والمرأة ترك الغيلة كان حاصل ذلك أن الرجل يجامع مرةً للغرض الأصلي وهو النسل، ثم يبقى نحو ثلاث سنين معطلًا إذا لم
--------------------------------------------
স্তন্যদানের পূর্বে এটি শিশুর জন্য ক্ষতিকারক, বিশেষ করে যদি সে (মা) গর্ভবতী হয়ে পড়ে। আর পুরুষের ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব নেই, অর্থাৎ তার অন্য কোনো স্ত্রীর সাথে সহবাস করা—যখন অপর কোনো স্ত্রী তার সন্তানকে স্তন্যদান করছেন—তা শিশুর কোনো ক্ষতি করে না।
আবু দাউদ
(১) একটি সহিহ (صحيح) সনদে (سند) রবী ইবনে আবি মাসলামা থেকে, তিনি তার আযাদকৃত দাসী থেকে, তিনি আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমরা তোমাদের সন্তানদের গোপনে হত্যা করো না, কারণ 'গায়ল' (স্তন্যদানকালীন সহবাস) অশ্বারোহীকেও ধরে ফেলে এবং তাকে ঘোড়া থেকে ফেলে দেয় (অর্থাৎ পরবর্তীতে তাকে দুর্বল করে দেয়)»।
আর এই হাদিসটি যদি সহিহ (صحيح) হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই গায়লা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত বাণীর পরবর্তী সময়ের হবে: «যদি তা ক্ষতিকারক হতো, তবে তা পারস্য ও রোমবাসীদের ক্ষতি করত»; এবং তার এই বাণী: «আমি গায়লা নিষিদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম, কিন্তু আমি রোম ও পারস্যের দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, তারা তাদের সন্তানদের স্তন্যদানকালে সহবাস করে এবং এতে তাদের সন্তানদের কোনো ক্ষতি হয় না»। মুসলিম
(২) এই দুটি বর্ণনা করেছেন।
নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদিসটি পরবর্তী সময়ের হওয়ার দলিল হলো—তৃতীয় হাদিসে তার উক্তি: «আমি নিষিদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম» এটি স্পষ্ট (صريح) যে এর আগে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসেনি, আর প্রথম হাদিসটি একটি স্পষ্ট (صريح) নিষেধাজ্ঞা।
অন্য একটি দলিল হলো, শেষোক্ত হাদিস দুটি ইজতিহাদ (اجتهاد) ও ধারণার (ظن) ওপর ভিত্তি করে ছিল—যেমনটি স্পষ্ট; আর নিষেধাজ্ঞার হাদিসটি ক্ষতির ব্যাপারে নিশ্চিত বার্তা দেয়, যদিও তা কিছুকাল পরে প্রকাশ পায়। আর এটি সুস্পষ্ট যে, এই ধরণের কথা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম ওহি (وحي) ব্যতীত বলতেন না।
সুতরাং যদি স্বামী ও স্ত্রী গায়লা বর্জন করে চলে, তবে এর ফলাফল দাঁড়াবে এই যে, পুরুষ বংশবৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্যে একবার সহবাস করবে, এরপর প্রায় তিন বছর পর্যন্ত তা থেকে বিরত থাকবে যদি না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৪৫)
يكن له زوجة أخرى.
3 - كثيرًا ما تَعرِض للنساء الأمراضُ التي تمنع الحمل أو تُورِث الإسقاط، وقلّما يعرِض للرجل العقمُ. والمرأة بعد الخمسين من عمرها تيأس من الحمل، بخلاف الرجل فإنه تبقى له قوة التوليد إلى آخر عمره. وعلى هذا فإما أن يبقى الرجل مع هذه المدة معطَّلًا عن التوليد بتعطُّلها، وإما أن يطلِّقها عندما يشعر بذلك منها، وإما أن يتزوج غيرها، فأيُّ هذه أولى؟
4 - ومن مقاصد النكاح التعفُّف، والمرأة تحيض وتمرض وتحبل وتلد وترضع، ويرغب عنها الزوج، فماذا يصلح .... ـلم في هذه الأحوال: أيطلِّقها ليتزوج غيرها، أم يزني، أم يتزوج عليها؟ أيُّ هذه [أولى]؟ أما المرأة إذا عرض لزوجها ما جعله قاصرًا عن إعفافها فلا مَخلَصَ لها إلّا بسؤال الطلاق، إذ لا مخلصَ غيره إلّا الزنا أو ما قد يتخيله بعض السفهاء من إباحة أن تجمع بين زوجين، فتختلط الأنساب، وتذهب الشفقة والرحمة، ويضيع الأطفال، إلى غير ذلك من المفاسد العظيمة.
تعدد الزوجات والمصالح:1 - من مقاصد النكاح الارتباط بين العائلتين، وقد يحتاج الرجل إلى الارتباط بعائلتين فأكثر، ولا يتم له ذلك إلّا بأن يتزوج امرأةً من هذه العائلة وامرأةً من الأخرى.
2 - ومن مقاصد النكاح قيام الرجل بنفقة المرأة، ولا تطيب نفسُ الإنسان غالبًا بأن يقوم بنفقة امرأةٍ لا علاقة له بها.
3 - ومن مقاصده قيام الرجل بحماية المرأة، وقلما يهتم الرجل بحماية غير زوجته أو ذات رحمه.
তার অন্য কোনো স্ত্রী ছিল না।
৩ - নারীদের প্রায়শই এমন সব ব্যাধি দেখা দেয় যা গর্ভধারণে বাধা প্রদান করে অথবা গর্ভপাত ঘটায়, অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্ব খুব কমই দেখা যায়। আর পঞ্চাশ বছর বয়সের পর নারী সন্তান ধারণের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ে, পক্ষান্তরে পুরুষের শেষ বয়স পর্যন্ত প্রজনন ক্ষমতা অবশিষ্ট থাকে। এই অবস্থায়, হয় পুরুষটিকে এই দীর্ঘ সময় স্ত্রীর অক্ষমতার কারণে প্রজনন থেকে বিরত থাকতে হবে, নতুবা যখন সে স্ত্রীর মাঝে এই অবস্থা অনুভব করবে তখন তাকে তালাক দিতে হবে, অথবা সে অন্য কাউকে বিবাহ করবে। এখন এগুলোর মধ্যে কোনটি অধিকতর উত্তম?
৪ - বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জন করা। কিন্তু নারী ঋতুবতী হয়, অসুস্থ হয়, গর্ভধারণ করে, সন্তান জন্ম দেয় এবং শিশুকে দুগ্ধদান করে; এমতাবস্থায় স্বামী তার প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে কী করা সমীচীন হবে: সে কি তাকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিবাহ করবে, নাকি ব্যভিচারে লিপ্ত হবে, নাকি তার বর্তমান স্ত্রীর পাশাপাশি অন্য কাউকে বিবাহ করবে? এগুলোর মধ্যে কোনটি [অধিকতর উত্তম]? পক্ষান্তরে, যদি স্বামীর এমন কোনো সমস্যা দেখা দেয় যা তাকে স্ত্রীর চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষায় অক্ষম করে তোলে, তবে তালাক প্রার্থনা করা ছাড়া স্ত্রীর আর কোনো উপায় থাকে না। কারণ তালাক ব্যতীত অন্য পথ হলো ব্যভিচার, অথবা কোনো কোনো নির্বোধ ব্যক্তি যা কল্পনা করতে পারে অর্থাৎ একজন নারীর জন্য একই সাথে দুই স্বামী রাখা বৈধ করা। এতে বংশপরিচয় সংকর হয়ে যাবে, দয়া-মায়া ও মমতা বিলীন হবে, শিশুরা ধ্বংস হবে এবং আরও অনেক বড় ধরনের অনিষ্ট সাধিত হবে।
বহুবিবাহ ও এর কল্যাণসমূহ:১ - বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দুই পরিবারের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা। কখনও কখনও একজন পুরুষের দুই বা ততোধিক পরিবারের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে এবং এক পরিবারের একজন নারীকে ও অন্য পরিবারের আরেকজন নারীকে বিবাহ করা ছাড়া এটি সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।
২ - বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পুরুষের মাধ্যমে নারীর ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করা। সাধারণত কোনো মানুষের মন এমন নারীর ভরণপোষণ বহন করতে সায় দেয় না যার সাথে তার কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক নেই।
৩ - বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পুরুষের মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা প্রদান করা। খুব কম পুরুষই তার স্ত্রী বা রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় ছাড়া অন্য কারো নিরাপত্তার ব্যাপারে যত্নশীল হয়।
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৪৬)
4 - ومنها قيام المرأة بتدبير منزل الرجل، وإذا كان الرجل غنيًّا كثير المال لم تكفِ المرأة الواحدة لتدبير منزله، فيضطر على اتخاذ الخدم، والخدم لا يهتمون بمصالحه كما تهتم زوجته.
مفاسد تعدد الزوجات:أعظم مفاسده أنه معيبٌ عند الإفرنج، وقد كاد ينعقد الإجماع أن من تظاهر من المسلمين بموافقة الإفرنج في قضيةٍ منحه المتعلمون ذلك الوسام المحبوب وسامَ حرية الفكر، وهو في الحقيقة إما منافق ساقط الهمة ضعيف الإرادة خسيس النفس، وإما رِقُّ الفكر في أسفل درجات الرق. لأنه إذا كان يعلم الحقيقة، ولكنه تظاهر بمخالفتها ليقال حرّ الفكر، ورجَّح هذا الغرض الأدنى على الحق الديني الفطري المصلحي، الذي يحقّ أن يفتخر أسلافه وقومه بموافقته= فهو من الضرب الأول. وإن كان يجهل الحق، واغترَّ بعظمة الإفرنج الصورية، وتوهَّم أن ما عابوه يكون معيبًا في نفس الأمر= فهو من الضرب الثاني.
1 - تضرُّر المرأة بمشاركة غيرها لها في نفس زوجها وماله.
2 - ما يُخشى من تعادي المرأتين الذي ربما جرَّ إلى تعادي عائلتيهما.
3 - إذا ولد للرجل أولاد من هذه وأولاد من هذه اختصموا بعد موته، ومزَّقوا تركته، [بخلاف ما إذا كانوا]
(1) كلهم أبناء امرأة واحدة، ربما اتفقوا وأبقَوا التركة محفوظة مشتركة.
--------------------------------------------
৪ - এর মধ্যে একটি হলো স্বামীর ঘর পরিচালনায় নারীর ভূমিকা; আর স্বামী যদি ধনাঢ্য ও প্রচুর সম্পদের অধিকারী হন, তবে কেবল একজন নারী তার ঘর পরিচালনার জন্য যথেষ্ট হয় না। ফলে তিনি ভৃত্য নিয়োগ করতে বাধ্য হন, অথচ ভৃত্যরা তার স্বার্থের প্রতি সেভাবে যত্নবান হয় না যেভাবে তার স্ত্রী হয়ে থাকেন।
বহুবিবাহের অপকারিতা:এর সবচেয়ে বড় অপকারিতা (তথা কথিত) এই যে, এটি ইউরোপীয়দের নিকট নিন্দনীয়। এটি প্রায় সর্বজনীন রূপ ধারণ করতে চলেছে যে, মুসলিমদের মধ্য থেকে যারা কোনো বিষয়ে ইউরোপীয়দের সাথে একমত হওয়ার ভান করে, তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ তাদেরকে 'চিন্তার স্বাধীনতা' নামক সেই কাঙ্ক্ষিত খেতাব দান করে। অথচ বাস্তবে সে হয় একজন হীনবল, নিচু মানসিকতাসম্পন্ন ও দুর্বল ইচ্ছাশক্তির অধিকারী মুনাফিক (منافق), অথবা সে বুদ্ধিবৃত্তিক দাসত্বের সর্বনিম্ন স্তরে নিমজ্জিত। কেননা, সে যদি সত্য জানার পরও কেবল 'মুক্তচিন্তক' হিসেবে পরিচিত হওয়ার জন্য সত্যের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং এই হীন উদ্দেশ্যকে ধর্মীয়, সহজাত ও কল্যাণকর সত্যের ওপর প্রাধান্য দেয়—যে সত্যের কারণে তার পূর্বপুরুষ ও স্বজাতির গর্বিত হওয়া উচিত ছিল—তবে সে প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি সে সত্য সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে এবং ইউরোপীয়দের বাহ্যিক চাকচিক্যে বিভ্রান্ত হয়ে ধারণা করে যে, তারা যেটিকে দোষণীয় মনে করে তা বাস্তবেও দোষণীয়, তবে সে দ্বিতীয় দলের অন্তর্ভুক্ত।
১ - স্বামীর সান্নিধ্য ও সম্পদে অন্য নারীর অংশীদারিত্বের কারণে স্ত্রীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
২ - দুই স্ত্রীর পারস্পরিক শত্রুতার আশঙ্কা, যা সম্ভবত তাদের উভয় পরিবারকেও বিবাদের দিকে ধাবিত করে।
৩ - যদি কোনো ব্যক্তির এই স্ত্রীর পক্ষ থেকে কিছু সন্তান এবং অন্য স্ত্রীর পক্ষ থেকে কিছু সন্তান থাকে, তবে তার মৃত্যুর পর তারা বিবাদে লিপ্ত হয় এবং তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার সম্পদ ছিন্নভিন্ন করে ফেলে; [পক্ষান্তরে যদি তারা] সবাই এক স্ত্রীর সন্তান হতো, তবে হয়তো তারা ঐক্যবদ্ধ থাকতো এবং সম্পদকে সংরক্ষিত ও যৌথ মালিকানায় টিকিয়ে রাখতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৪৭)
4 - إذا كان للرجل عدة زوجات احتاج إلى نفقة كثيرة، وهذا مخلٌّ بالاقتصاد.
5 - ربما تتبَّع الغني النساء الحسان فيُحرَم منهن من يهواهن ويهوينه، وإذا مُنع من التعدد لم يتمكن من ذلك إلَّا في امرأة واحدة.
6 - إذا كان للرجل زوجة واحدة حَرَصَتْ على حفظ ماله، لعلمها أنه آئلٌ إلى أولادها، وإذا كان له زوجتان أو أكثر أخذت كلُّ واحدة تُبذِّر في المال، لعلمها أنه آئلٌ إلى أولاد عدوّتها.
7 - إذا كان للرجل زوجتان فأكثر احتاج إلى معاشرتهن كلهن، فيضرُّ ذلك بصحته.
8 - إذا كان للرجل زوجة واحدة تأكَّدت المودَّة بينهما، لعلْمِ كلٍّ منهما أنه لصاحبه وصاحبه له، وأما إذا كان له زوجتان فأكثر فإن المودة تضعف.
هذه هي المفاسد التي أتصورها. وأنت إذا قابلتَ بينها وبين فوائد التعدد وجدتَ هذه لا تخدِش في الثلاثة الأوجه الأولى من الأوجه الفطرية، وربما تعارض الرابع، وقد سبق جواب ذلك. ولكنها تُعارض الأوجه المصلحية، والترجيح يختلف باختلاف الأشخاص، فكم من شخص غني مُغرم بالنساء إذا كان عنده زوجة واحدة لا يستغني بها، فإذا مُنِع من التزوج عليها فإما أن يطلِّقها ويتزوج غيرها، وإما أن يقع في الزنا، فإن طلَّقها وتزوَّج غيرها وقعت مفاسد أشدُّ من المفسدة الأولى والثانية والرابعة، وحصلت المفاسد الثالثة والخامسة.
4 - যদি কোনো ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকে, তবে তার অধিক ব্যয়ের প্রয়োজন হয়, যা মিতব্যয়িতার পরিপন্থী।
5 - সম্ভবত কোনো ধনী ব্যক্তি সুন্দরী নারীদের অনুসরণ করে, ফলে যারা তাদের ভালোবাসে এবং তারা যাদের ভালোবাসে, তাদের থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়। আর যদি বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়, তবে সে কেবল একজন মহিলার ক্ষেত্রেই তা করতে সক্ষম হবে।
6 - যদি কোনো ব্যক্তির একজন স্ত্রী থাকে, তবে সে তার সম্পদ সংরক্ষণে সচেষ্ট থাকে; কারণ সে জানে যে এই সম্পদ তার সন্তানদের প্রাপ্য। কিন্তু যদি তার দুই বা ততোধিক স্ত্রী থাকে, তবে প্রত্যেকে সম্পদ অপচয় করতে শুরু করে; কারণ সে জানে যে এই সম্পদ তার সতিনের সন্তানদের কাছে যাবে।
7 - যদি কোনো ব্যক্তির দুই বা ততোধিক স্ত্রী থাকে, তবে তার সবার সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজন হয়, যা তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
8 - যদি একজন ব্যক্তির একজন স্ত্রী থাকে, তবে তাদের মধ্যে ভালোবাসা সুদৃঢ় হয়; কারণ তাদের প্রত্যেকেই জানে যে সে তার সঙ্গীর জন্য এবং তার সঙ্গী তার জন্য। কিন্তু যদি তার দুই বা ততোধিক স্ত্রী থাকে, তবে ভালোবাসা দুর্বল হয়ে পড়ে।
এগুলোই হলো সেই অনিষ্টসমূহ (مفاسد) যা আমি ধারণা করছি। আপনি যখন এগুলোর সাথে বহুবিবাহের উপকারিতাগুলোর তুলনা করবেন, তখন দেখবেন যে এগুলো প্রথম তিনটি প্রাকৃতিক দিকের কোনো ক্ষতি করে না, তবে সম্ভবত চতুর্থটির পরিপন্থী হতে পারে, যার উত্তর ইতিপূর্বেই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এগুলো কল্যাণমূলক দিকগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক, আর এর অগ্রাধিকার ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। অনেক ধনী ব্যক্তি যারা নারীদের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত, এক স্ত্রীতে তাদের তৃপ্তি হয় না। এমতাবস্থায় তাকে যদি পুনরায় বিবাহ করতে বাধা দেওয়া হয়, তবে সে হয় তাকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিবাহ করবে, অথবা ব্যভিচারে (زنا) লিপ্ত হবে। যদি সে তাকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিবাহ করে, তবে প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ অনিষ্টের চেয়েও গুরুতর অনিষ্ট (مفسدة) সাধিত হবে এবং তৃতীয় ও পঞ্চম অনিষ্টগুলোও সংঘটিত হবে।
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৪৮)
فأما السادسة والثامنة فإنهما حاصلتان قبل الطلاق، لأن المرأة تكون دائمًا على خطر أن يطلِّقها وينكح غيرها. وقد لاحظت بعض القوانين هذا المعنى وحده فحظرت الطلاق، فترتَّب على ذلك مفاسد أعظم، منها: وقوع الرجل في الزنا واستحكام العداوة بينه وبين المرأة، لأنها (غلّ قمل)، فيظلمها ويضطهدها إلى أن يحتاج إلى الوقوع في الزنا أيضًا. ولذلك أصبحت النساء يطالبن بشرْع الطلاق، بل ربما سعت المرأة في قتل زوجها أو سعى في قتلها، ليتمكن كلٌّ منهما من الزواج، وكلٌّ منهما قبل الموت على خطر أن يموت فيذهب الآخر فيتزوج، ولعل بُغْضها يمنع الرجل أن يتزوج بعد موت زوجته. فنشأت عن ذلك مفاسد شديدة. ولتخفيف تلك المفاسد شرع وثنيُّوا الهند أن الزوج إذا مات فعند ما تُحرق جثته يُؤتى بامرأته، فتُحرق معه حتى تموت.
وأما إن عدل الزوج عن الطلاق ووقع في الزنا فإنها تحصل مفاسد أشد من المفاسد الثمان:
أما الأولى فإن المرأة تشعر بأن عددًا غير محصور من البغايا يشاركنها في نفس زوجها وماله بغير حق شرعي.
وأما الثانية فإن الرجل يصير عدوًّا لزوجته، فيجرُّ ذلك إلى تعادي عائلتيهما.
وأما الثالثة فإن الرجل يمزِّق تركته قبل موته في الفجور.
وأما الرابعة فإن ما يحتاجه الرجل لاسترضاء البغايا أكثر مما يحتاجه لنفقة زوجة شرعية.
ষষ্ঠ ও অষ্টম বিষয় দুটি তালাকের পূর্বেই বিদ্যমান থাকে, কারণ নারী সর্বদা এই আশঙ্কায় থাকে যে স্বামী তাকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিবাহ করবে। কিছু আইন কেবল এই দিকটি লক্ষ্য করে তালাক নিষিদ্ধ করেছে, যার ফলে আরও গুরুতর অনিষ্টের সৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: পুরুষের ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া এবং তার ও তার স্ত্রীর মাঝে চরম শত্রুতা দানা বাঁধা, কারণ সে (স্ত্রী) তখন তার কাছে একটি 'অসহ্য গলার বেড়ি' (غلّ قمل) সদৃশ হয়ে যায়; ফলে সে তার ওপর জুলুম ও নিপীড়ন চালায় যতক্ষণ না সে নিজেও ব্যভিচারে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়। এই কারণেই মহিলারা তালাকের বিধান দাবি করতে শুরু করেছে, এমনকি কখনও কখনও নারী তার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করে অথবা স্বামী তাকে হত্যার চেষ্টা করে, যাতে তাদের প্রত্যেকেই বিবাহের সুযোগ পায়। তাদের উভয়ের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এই ভয় থাকে যে একজন মারা গেলে অন্যজন গিয়ে বিবাহ করবে, আর সম্ভবত স্ত্রীর প্রতি চরম বিদ্বেষ স্বামীকে তার মৃত্যুর পর বিবাহ করা থেকে বিরত রাখবে। ফলে এর থেকে ভয়াবহ অনিষ্টের সৃষ্টি হয়। এই অনিষ্ট লাঘব করার জন্য ভারতের মূর্তিপূজকরা নিয়ম করেছিল যে, স্বামী মারা গেলে যখন তার মৃতদেহ পোড়ানো হবে, তখন তার স্ত্রীকে নিয়ে আসা হবে এবং তাকেও তার সাথে পুড়িয়ে মারা হবে।
পক্ষান্তরে, স্বামী যদি তালাক প্রদান না করে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তবে সেই আটটি অনিষ্টের চেয়েও অধিক গুরুতর অনিষ্ট সাধিত হয়:
প্রথমত, স্ত্রী অনুভব করে যে অসংখ্য বারবনিতা কোনো শরয়ি অধিকার ছাড়াই তার স্বামীর সান্নিধ্য ও সম্পদের অংশীদার হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, স্বামী তার স্ত্রীর শত্রুতে পরিণত হয়, যা তাদের উভয় পরিবারকে শত্রুতার দিকে টেনে নিয়ে যায়।
তৃতীয়ত, স্বামী তার মৃত্যুর পূর্বেই পাপাচারের মাধ্যমে তার উত্তরাধিকার সম্পদ তছনছ করে ফেলে।
চতুর্থত, বারবনিতাদের তুষ্ট করতে পুরুষের যা প্রয়োজন হয়, তা একজন বৈধ স্ত্রীর খোরপোষের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি।
(খণ্ড: ১৮)
আল-ফাওদাদ দীনিয়্যাহ ওয়া তায়াদ্দুদুজ জাওজাত - দিমনু আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৫৪৯)
وأما الخامسة فإن الغني الزاني يتتبع [النساء الجميلات]
(1) فيُفسِدهن وإن كن مزوَّجات.
وأما السادسة فإن المرأة تعلم أن زوجها يبذِّر ماله في [الفجور]
(2)، فتشرع هي تبذِّر أيضًا، لأنها ترى الحفظ متعذرًا.
وأما السابعة فالضرر الذي يلحق صحةَ الرجل إذا اعتاد الفجور أشد مما يلحقه في تعدد الزوجات.
وأما الثامنة فأنَّى تبقى مودةٌ من المرأة لزوجها الذي يدعها ويذهب إلى الفجور.
ووراء ذلك مفاسد أخبث وأخبث من فساد الأخلاق وخراب الدين وغير ذلك.
--------------------------------------------
আর পঞ্চম বিষয়টি হলো, সম্পদশালী ব্যভিচারী [সুন্দরী নারীদের] অন্বেষণ করে এবং তাদেরকে কলুষিত করে, যদিও তারা বিবাহিতা হয়ে থাকে।
আর ষষ্ঠ বিষয়টি হলো, স্ত্রী যখন জানতে পারে যে তার স্বামী [পাপাচারের] পথে সম্পদ অপচয় করছে, তখন সে নিজেও অপব্যয় করতে শুরু করে; কারণ সে সম্পদ সংরক্ষণ করা অসম্ভব মনে করে।
আর সপ্তম বিষয়টি হলো, কোনো পুরুষ পাপাচারে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে তার স্বাস্থ্যের যে ক্ষতি হয়, তা বহুবিবাহের ফলে হওয়া ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর।
আর অষ্টম বিষয়টি হলো, যে স্বামী স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে পাপাচারের দিকে ধাবিত হয়, তার প্রতি স্ত্রীর ভালোবাসা কীভাবে অবশিষ্ট থাকতে পারে?
এর পেছনে চারিত্রিক কলুষতা, দীনের বিনাশ ও এ জাতীয় আরও জঘন্য থেকে জঘন্যতর বহু অনিষ্ট নিহিত রয়েছে।
--------------------------------------------