القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: تاج المفرق في تحلية علماء المشرق
المؤلف: خالد بن عيسى بن أحمد بن إبراهيم بن أبي خالد البلوي، أبو البقاء (ت بعد 767هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 148
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী
বই: তাজুল মাফরাক ফি তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক
লেখক: খালিদ বিন ঈসা বিন আহমদ বিন ইবরাহিম বিন আবি খালিদ আল-বালাউয়ি, আবু আল-বাকা (মৃত্যু ৭৬৭ হিজরীর পর)
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৮
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
অতঃপর আমি তাঁর আবাসে অবতরণ করলাম এবং দীর্ঘকাল তা উপভোগ করলাম। আমি দিন, রাত ও মাসব্যাপী সেখানে তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান করলাম। আল্লাহ তাআলা এই শাইখের সাহচর্যের মাধ্যমে আমাকে উপকৃত ও প্রসিদ্ধ হওয়ার তাওফিক দান করলেন। এই মহান ব্যক্তির সুদূরপ্রসারী খ্যাতি এবং সুদীর্ঘ প্রভাব ছিল; তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ ও নির্জনতাপ্রিয়, আল্লাহর বান্দাদের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী এবং তাদের মধ্যকার দুর্বলদের প্রতি মমত্বশীল। যমীনে তাঁর জন্য সর্বজনগ্রাহ্যতা দান করা হয়েছিল, ফলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে কোনো দুইজন ব্যক্তিও দ্বিমত পোষণ করেননি। তাঁর পক্ষ থেকে আমি এমন এক কল্যাণ লাভ করেছি যা আমি কেবল সামান্য মনে করি না; আশা করি আল্লাহ এর দ্বারা উপকার করবেন।
আর দ্বিতীয় ব্যক্তি (মর্যাদা, বেলায়াত, প্রশস্ত ইলম ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে) হলেন প্রাজ্ঞ শাইখ, জামে আযমের খতিব, এবং যিনি সত্যনিষ্ঠার পদক্ষেপে ও তাঁর সুউচ্চ মিনারার শিখরে আরোহণকারী, সম্মানিত আবু আবদুল্লাহ বিন আবদুস সাত্তার—আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে কল্যাণ দান করুন। তিনি ফুরু (ফিকহ) ও তাফসীরের ইমামগণের মধ্যে একজন ইমাম এবং ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে অনুসরণযোগ্য এক প্রদীপ। তিনি মর্যাদার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন এবং এর গভীর সমুদ্রে অবগাহন করেছেন, কোনো অগভীর জলাশয়ে নয়। তিনি বাগ্মিতার জগতে এক সন্তোষজনক উচ্চাসন অধিকার করেছিলেন। তাঁর মারেফাতের নূরে জনপদসমূহ আলোকিত হয়েছে। তাঁর সুউচ্চ ইলমি দরবারে ইলম অন্বেষণকারীদের ভিড় ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর সম্মান ও জ্যোতি উচ্চকিত হয়েছে। দ্বীনি জ্ঞান ও মর্যাদাপূর্ণ নববী হাদিসসমূহ আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যে পৌঁছেছেন। তাঁর ছিল অগ্রগামী হওয়ার গৌরব, বেলায়াত ও সত্যনিষ্ঠার গাম্ভীর্য এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির নিকট কবুলিয়তের মর্যাদা। তিনি দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ ও এর চাকচিক্য থেকে বিমুখ ছিলেন এবং এর অন্বেষণকারীদের থেকে দূরে থাকতেন। তিনি কুতুবিয়্যিন মাদরাসায় জ্ঞান দান করতেন, যেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। আমি তাঁর নিকট প্রচুর তাফসীর, হাদিস, ফুরু, উসুল ও অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছি। আমি তাঁর সান্নিধ্যে থাকতাম ও তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছি। আমি তাঁর এমন সব কারামত ও আধ্যাত্মিক মাকাম প্রত্যক্ষ করেছি যা কেবল তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব অথবা তাঁর পূর্ববর্তী ওলিদের মাধ্যমেই প্রকাশ পাওয়া সম্ভব।
তিনি আল্লাহর পবিত্র ঘরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন এবং আল্লাহর রাসুলের (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক) রওজা জিয়ারত করলেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করলেন এবং তাঁর সকল প্রার্থনা ও আশার পূর্ণতা পেলেন। তাঁর সম্পর্কে বহুলভাবে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন সফরে আদায়কৃত তাঁর সমস্ত নামাজ পুনরায় আদায় করলেন। কেননা তাঁর নির্মল ইবাদত ও উন্নত চরিত্রের মানদণ্ডে সেই নামাজগুলো সন্তোষজনক ছিল না। এখন তিনি বয়োবৃদ্ধ হয়েছেন এবং তাঁর বয়স নব্বই পার হয়েছে, তবুও ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর শক্তি ও প্রেরণা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায়নি এবং তাঁর সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তার নিয়মিত কার্যক্রম থেকে কখনো বিরত হয়নি। সেখান থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো: ওয়াকিদি খলিফা মামুনের কাছে একটি আবেদন পেশ করলেন যাতে তিনি ঋণের আধিক্য এবং ধৈর্যের অভাবের কথা অভিযোগ করেছিলেন। খলিফা তাতে লিখে দিলেন: আপনি এমন এক ব্যক্তি যার মধ্যে দুটি গুণ রয়েছে—বদান্যতা ও লজ্জা। বদান্যতাই আপনার হাতের ধন-সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে, আর লজ্জাশীলতাই আপনাকে এই বর্তমান অবস্থায় নিয়ে এসেছে। আমরা আপনার জন্য দুই লক্ষ দিরহাম মঞ্জুর করলাম। যদি আমরা আপনার ইচ্ছানুযায়ী দিয়ে থাকি, তবে আপনার হাত আরও প্রসারিত করুন (দান বাড়িয়ে দিন)। আর যদি আমরা আপনার চাহিদা পূরণ করতে না পারি, তবে তা আপনার নিজের ওপর আপনারই অবিচার। কারণ আপনিই হারুনুর রশিদের বিচারক থাকাকালীন আমাকে হাদিস শুনিয়েছিলেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুবাইরকে বলেছিলেন: রিজিকের চাবিকাঠিগুলো আরশের সম্মুখে থাকে। আল্লাহ বান্দাদের জন্য তাদের ব্যয়ের পরিমাণ অনুযায়ী রিজিক অবতীর্ণ করেন। সুতরাং যে ব্যক্তি বেশি খরচ করে, তাকে বেশি দেওয়া হয়; আর যে কম খরচ করে, তাকে কম দেওয়া হয়। ওয়াকিদি বললেন: আমি এই হাদিসটি ভুলে গিয়েছিলাম, তাই তাঁর আমাকে এটি স্মরণ করিয়ে দেওয়াটা তাঁর পুরস্কারের চেয়েও আমার কাছে অধিক প্রিয় মনে হলো। তাঁদের মধ্যে আরও মর্যাদাবান হলেন দুনিয়ার ইমাম, উচ্চ শিখরে সমাসীন, চূড়ান্ত লক্ষ্যের অগ্রগামী, আলেম শায়খ, ইমামদের আদর্শ এবং উম্মতের অনন্য সনদধারী আবু আবদুল্লাহ বিন বাররাল (আল্লাহ তাআলা তাঁর বরকত জারি রাখুন)। তিনি এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব দান করেছেন এবং তাঁর কাছে এর জ্ঞানের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এটি সঠিক পদ্ধতিতে পাঠ করার তৌফিক তাঁকে দান করেছেন এবং তিনি তা লাভে ধন্য হয়েছেন। ফলে মানুষ তাঁর কাছে সমবেত হতো এবং কুরআনের দক্ষ কারীগণ তাঁর থেকে ইলম অর্জনের জন্য ব্যাকুল থাকত। অন্যান্যদের ছেড়ে তারা তাঁর দিকেই ছুটে আসত, ফলে তাঁর জ্ঞানের বাজার সরগরম হয়ে উঠল। তাঁর সুখ্যাতি বিশেষজ্ঞ মহলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে প্রতিষ্ঠিত করল এবং সকলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে একমত হলো। এই শায়খকে কুরআন তিলাওয়াতের এমন সুন্দর বাচনভঙ্গি দান করা হয়েছিল, যা এই যুগে পৃথিবীতে জীবিত আর কাউকে দেওয়া হয়নি—এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য রয়েছে। আমি রমজান মাসের রাতে তাঁর ইমামতিতে নফল নামাজে উপস্থিত হয়েছি। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ তাঁর তিলাওয়াত শোনার জন্য আসত। আমি তাঁর কণ্ঠের চেয়ে সুন্দর, তাঁর তিলাওয়াতের চেয়ে মধুর, তাঁর উপস্থাপনার চেয়ে উত্তম, তাঁর গতির চেয়ে স্বচ্ছন্দ, তাঁর আহকামের চেয়ে বিস্ময়কর এবং তাঁর তারতিলের চেয়ে চমৎকার কোনো তিলাওয়াত কখনো শুনিনি। আমার হৃদয়ের কঠোরতা ও বুদ্ধির জড়তা সত্ত্বেও তাঁর কিরাত শোনার সময় আমি আত্মহারা হয়ে যেতাম। তিউনিসের জামে মসজিদ মুসল্লিতে পরিপূর্ণ হয়ে যেত এবং ভিড়ে ঠাসা থাকত। সেখানে কেউ রোদনরত, কেউ দোয়ারত, কেউ বিনম্র অবস্থায় থাকত, আবার কেউবা দাঁড়ানো থেকে পড়ে যেত। তাঁর তিলাওয়াতের সত্যতা সবার ওপর প্রভাব বিস্তার করত, তাঁর কথা তাদের শান্ত করত এবং তাঁর সুরের মাধুর্য তাদের বিমোহিত করত। আমি তাঁর কাছে এক খতমের মাধ্যমে সাত কিরাতে পূর্ণ কুরআন মজিদ পড়েছি এবং আবু আমর বিন আল-আলার রেওয়ায়াতে ‘ইদগামে কাবির’ ও আবু আমর আদ-দানির সূত্রে ‘আহলুর রাক্কাহ’র পদ্ধতিতে হামজা বর্জন করে পড়েছি। তিনি ছিলেন সেই প্রথিতযশা ইমাম ও শিক্ষকদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি যার কাছে আমি সাত কিরাত পড়েছি, যাদের মোট সংখ্যা বারো জন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই আমি সাত কিরাত পৃথকভাবে এবং একত্রে অথবা পৃথকভাবে পড়েছি। তাঁদের মধ্যে প্রথম হলেন আমার মরহুম পিতা, যিনি আমার শৈশবে আমার লালন-পালনের দায়িত্বশীল ছিলেন এবং শুরুতেই আমাকে জ্ঞান দান করেছিলেন—আমার পিতা ঈসা (রাজিআল্লাহু আনহু)। তিনি কাতুরিয়া শহরের কাজী ও খতিব ছিলেন এবং দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে সেখানকার সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেছেন। আমি তাঁর কাছে সাত কিরাত পড়েছি, আর তিনি তাঁর পিতা আমার দাদা উস্তাদ খতিব হাজি জাহেদ আবু জাফর আহমদের কাছে সাত কিরাত পড়েছিলেন। আমার দাদা আবার এক জামায়াতের কাছে সাত কিরাত পড়েছিলেন যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তাঁর পিতা সৎ খতিব আবু ইসহাক ইবরাহিম। তিনিও একইভাবে এক জামায়াতের কাছে সাত কিরাত পড়েছিলেন যাদের মধ্যে ছিলেন তাঁর পিতা ফকিহ আবু জাফর আহমদ বিন আলি বিন আবি খালিদ। আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। এভাবে এই সাত কিরাতের সিলসিলা বা পরম্পরা আমার সপ্তম দাদা পর্যন্ত পৌঁছেছে, আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা। আমার এই শায়খ আমাকে আরও জানিয়েছেন যে, তিনি সাত কিরাত পৃথকভাবে আবু আমর বিন আল-আলার রেওয়ায়াতে ‘ইদগামে কাবির’ ও ‘আহলুর রাক্কাহ’র পদ্ধতিতে হামজা বর্জন করে পড়েছেন এবং পরে এক খতমে সাত কিরাত পূর্ণ করেছেন। তিনি ফকিহ কারী সালেহ আবু আব্বাস আহমদ বিন মুসা বিন ঈসা বিন আবুল ফাতহ আনসারি (যিনি আল-বাতারনি নামে পরিচিত) এর কাছে আবু মুহাম্মদ ইয়াকুব আল-হাদরামির কিরাত পড়েছেন। তিনি (বাতারনি) তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি ফকিহ কারী খতিব কাজী আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আবি বকর বিন আবদুল আলা আল-মাগাফেরি আস-সাবরাতির কাছে নাফে-এর কিরাত পৃথকভাবে ও একত্রে এবং বাকি সাত কিরাত খতমের মাধ্যমে পড়েছেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে পূর্ণ এক খতমে ‘ইদগামে কাবির’ সহ সাত কিরাত একত্রে সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, আমি পূর্ব আন্দালুসের শ্রেষ্ঠ কারী আবু জাফর আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন আউনিল্লাহ আল-হাসসারের কাছে নাফে-এর কিরাত পৃথকভাবে ও একত্রে পড়েছি এবং এক খতমে সাত কিরাত সম্পন্ন করেছি। যেভাবে আমি ফকিহ জাহেদ আবু হাসান এর কাছে পৃথকভাবে ও একত্রে ‘ইদগামে কাবির’ সহ সাত কিরাত পড়েছি।
যেন দুনিয়ার সৌন্দর্য সেখানে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জান্নাতের প্রতিচ্ছবি সেখানে খোদাই করা হয়েছে। এর নক্ষত্র জাগ্রত, আকাশ মেঘমুক্ত, কঙ্করগুলো রত্নতুল্য, বাতাস সুগন্ধিময় এবং এর মাটি তীব্র মৃগনাভির ন্যায় সুবাসিত। এর দিন হচ্ছে সকালবেলার মতো নির্মল এবং রাত হচ্ছে সুবেহ সাদিকের মতো স্নিগ্ধ। বান্দাদের কর্মতৎপরতায় এর রাতও দিনের ন্যায় হওয়া এবং সন্ধ্যারও সকালের মতো পুনরাবৃত্তি হওয়া একে অনন্য বৈশিষ্ট্য দান করেছে, যা সচরাচর দেখা যায় না। এটি কি সেই 'ইরাম জাতুল ইমাদ' নয়, যার সমতুল্য কোনো নগরী দুনিয়াতে সৃষ্টি করা হয়নি? মহান আল্লাহর বাণী "ইরাম জাতুল ইমাদ" প্রসঙ্গে মুফাসসিরগণ উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এটি হলো আলেকজান্দ্রিয়া। এটি বিস্ময়কর শহরগুলোর অন্যতম এবং এতে রয়েছে বিস্ময়কর স্থাপত্য। ভূগোলের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, এটি তিনশ বছর ধরে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং এর শুভ্রতার তীব্রতার কারণে দৃষ্টি হারিয়ে ফেলার ভয়ে এর অধিবাসীরা সত্তর বছর পর্যন্ত দিনের বেলা চোখে কালো কাপড় না বেঁধে সেখানে চলাফেরা করতে পারত না। এর বাতিঘরের (মিনারের) ওপর মার্বেল পাথরের একটি কাঁকড়া রয়েছে এবং মিনারটি চারটি স্তম্ভের ওপর অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য তিনশ হাত। শহরের প্রাচীর ও বেষ্টনী মার্বেল পাথরের তৈরি। এতে একটি গম্বুজ ছিল যা ফেরাউনের এবং এতে সুলায়মানের প্রাসাদ ছিল যা ধ্বংস হয়ে গেছে কিন্তু তার ধ্বংসাবশেষ এখনও বিদ্যমান। এতে একটি স্তম্ভ রয়েছে যা মহাকালব্যাপী আবর্তিত হয়। প্রাচীনকালে এর মিনারের ওপর বিজ্ঞজনদের তৈরি একটি বিশাল আয়না ছিল, যার মাধ্যমে কনস্টান্টিনোপল ও রোম সাম্রাজ্যের দেশসমূহ পর্যবেক্ষণ করা যেত; যতক্ষণ না কৌশল করে তা নামিয়ে ফেলা হয় এবং এরপর কেউ তা পুনরায় স্থাপনে সক্ষম হয়নি। এর নির্মাণশৈলীর একটি বিস্ময়কর দিক হলো, মাটির নিচে এর গাঁথুনি মাটির ওপরের নির্মাণের মতোই, বরং আরও প্রাচীন ও মজবুত। কারণ নীল নদের পানি মাটির নিচ দিয়ে এর সমস্ত ঘরবাড়ি ও অলিগলি অতিক্রম করে, ফলে কূপগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং একে অপরকে পানি সরবরাহ করে। আমি সেখানে মার্বেল পাথরের স্তম্ভ ও ফলকের এমন প্রাচুর্য, উচ্চতা ও সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করেছি যা কল্পনা করাও কঠিন। আমরা সেখানে এমন সব স্তম্ভ পেয়েছি যা আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যার অর্থ বা কেন সেগুলো স্থাপন করা হয়েছিল তা জানা যায় না। উল্লেখ করা হয় যে, প্রাচীনকালে এগুলোর ওপর দার্শনিক ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ভবন ছিল, আল্লাহই ভালো জানেন। এর সবচেয়ে বিস্ময়কর ও মহান নিদর্শন হলো 'আমুদুস সাওয়ারি' (স্তম্ভের স্তম্ভ)। এটি একটি বর্গাকার ভিত্তির ওপর দণ্ডায়মান। আমি এর একপাশে এগারো বিঘতেরও বেশি গুনেছি। কোনো কোনো গ্রন্থে আমি পড়েছি যে, এটি দুনিয়ার বুকে সর্ববৃহৎ স্তম্ভ যা কোনো এক গুপ্তধনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর দৈর্ঘ্য বড় হাতের উনপঞ্চাশ হাত, যার এক হাত সাধারণ দুই হাতের সমান। সুউচ্চ পর্বতমালা এর ওপর ভেঙে পড়লেও এটি নিজ স্থান থেকে নড়বে না। আলেকজান্দ্রিয়ার বিস্ময়সমূহের মধ্যে মিনারটিও অন্যতম, যা শহরের বাইরে সুউচ্চ দুর্গের মতো আকাশের দিকে উঠে গেছে। এর পুরো ভিত্তি সীসা দিয়ে জমাটবদ্ধ এবং এর নির্মাণশৈলী খোদাইকৃত ভারী পাথর দিয়ে যা উচ্চতায় আকাশছোঁয়া। মহান আল্লাহ একে তাঁর অনুগত বান্দার হাতের মাধ্যমে দূরদৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য নিদর্শন এবং মুসাফিরদের জন্য হিদায়েত হিসেবে স্থাপন করেছেন, যার সাহায্যে তারা সমুদ্রপথে আলেকজান্দ্রিয়ার তীরের সন্ধান পায়। এটি সত্তর মাইলেরও বেশি দূর থেকে দৃশ্যমান হয়। এর চার পাশের এক একটির প্রস্থ পঞ্চাশ বাহুর বেশি এবং এর দৈর্ঘ্য একশ পঞ্চাশ কদমেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য কিছু কিতাবে আমি পেয়েছি যেখানে বলা হয়েছে: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, দুনিয়ার বিস্ময়কর বস্তু চারটি। এক: আলেকজান্দ্রিয়ার মিনারের আয়না, যার নিচে বসে মানুষ কনস্টান্টিনোপল দেখতে পেত, অথচ তাদের মাঝে সমুদ্রের বিশাল দূরত্ব ছিল। দুই: আন্দালুস ভূমির একটি তামার ঘোড়া যার হাতগুলো প্রসারিত এবং হাতের তালু দুটি মুখোমুখি। অর্থাৎ, আমার পেছনে কোনো পথ নেই; ফলে কেউ সেই পথে কদম রাখত না, পাছে তাকে পিঁপড়ে গিলে ফেলে। তিন: আদ-এর ভূমিতে তামা নির্মিত একটি মিনার যার ওপর তামা নির্মিত একজন আরোহী রয়েছে; যখন হারাম মাসগুলো আসত তখন সেখান থেকে পানি বর্ষিত হতো, ফলে মানুষ সেখান থেকে পানি পান করত এবং গবাদি পশুকে পান করাত এবং হাউজগুলো পূর্ণ করত। আর হারাম মাস শেষ হলে সেই পানি আসাও বন্ধ হয়ে যেত। চার: রোম ভূমিতে একটি তামা নির্মিত গাছ যার ওপর একটি কালো তামা নির্মিত পাখি রয়েছে; যখন জলপাই পাকার সময় হতো, তখন সেই তামার পাখিটি শিস দিত এবং রোমবাসীরা সেখান থেকে সারা বছরের প্রয়োজনীয় যয়তুনের তেল সংগ্রহ করত। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস যা উল্লেখ করেছেন তা প্রখ্যাত সংবাদ যা প্রাজ্ঞদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান। বিশেষ করে আলেকজান্দ্রিয়ার মিনারের আয়নার খবরটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত। রোমানরা কেবল এর ভয়েই এটি ধ্বংস করার চক্রান্ত করেছিল। এই শহরে এত মাদরাসা ও মসজিদ রয়েছে যা বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। হারওয়ি তার কোনো এক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আলেকজান্দ্রিয়া শহরে বারো হাজার মসজিদ ছিল। আবু রাবী ইবনে সালিম আল-কালাই তার 'আল-ইকতিফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: আমর ইবনুল আস যখন আলেকজান্দ্রিয়া জয় করেন তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট লিখেছিলেন— অতঃপর, আমি এমন একটি শহর জয় করেছি যার বিবরণ আমি দিতে পারব না। তবে এতে আমি চার হাজার গোসলখানা বিশিষ্ট চার হাজার অট্টালিকা, জিজিয়া প্রদানকারী চল্লিশ হাজার ইহুদি এবং রাজন্যবর্গের চারশ বিনোদন কেন্দ্র পেয়েছি। আবু কাবীল থেকে বর্ণিত, আমর ইবনুল আস যখন আলেকজান্দ্রিয়া জয় করেন তখন সেখানে বারো হাজার সবুজ শাকসবজি বিক্রেতা পেয়েছিলেন। এ ছাড়াও সেখানে আরও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা, গৌরবোজ্জ্বল কীর্তি, দর্শনীয় স্থান ও নিদর্শনাদি রয়েছে। এতে কিছু নবি (আ.) এবং কিছু তাবিঈ (রা.)-এর কবর রয়েছে। আমি তাঁদের সকলের যিয়ারত সম্পন্ন করেছি এবং তাঁদের পবিত্র কবরস্থানে বারবার যাতায়াত করেছি। এরপর আমি আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য ফিরে আসি।
সাধারণ মানুষের তাঁর কাছে গমনের এবং প্রত্যাবর্তনের পথ উন্মুক্ত ছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে অনুসারীরা প্রত্যাবর্তনের আকুলতা প্রকাশ করত এবং বয়োবৃদ্ধরা যৌবনের স্মৃতিচারণে আনন্দ পেত। তিনি একদল শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাশীল ব্যক্তির নিকট ক্বিরাত গ্রহণ করেছেন এবং উচ্চ সনদে বরেণ্য ব্যক্তিদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। এমনকি তিনি তাঁদের প্রথম সারির মর্যাদায় উন্নীত হয়েছেন এবং ইলমের প্রতি যত্ন ও উচ্চ শিখরে আরোহণের পথ অবলম্বন করেছেন। তাঁর গুণাবলি ভোরের আলোর ন্যায় দিগন্তকে উদ্ভাসিত করেছে এবং তাঁর প্রভাব নক্ষত্রের পতনের পর সুপ্রভাতের ন্যায় আবির্ভূত হয়েছে। আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর দরসে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাঁর নিকট প্রচুর হাদীস শ্রবণ করেছি। আমি বারবার তাঁর কাছে যাতায়াত করেছি এবং তাঁর দ্বারা প্রভূত উপকৃত হয়েছি। আমি তাঁর নিকট যে হাদীসগুলো শ্রবণ করেছি, তার মধ্যে তিরমিযীর রুবাইয়াত (চার বর্ণনাকারী বিশিষ্ট হাদীস) থেকে সংকলিত ছয়টি হাদীসের একটি সংকলন ছিল। তাতে একটি সুলাসী (তিন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট) হাদীসও ছিল, যা আস-সাইয়িদ আশ-শরীফ তাজউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আবুল হাসান আলী বিন আবুল আব্বাস আহমদ আল-কুরাফী আল-হাসানী-এর তাখরীজকৃত। তিনি এটি শায়খ শরফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল খালিক বিন তরখান আল-কুরাশী আল-আমূরীর নিকট পাঠ করে শ্রবণ করেছেন। তিনি (ইবনে তরখান) সম্পূর্ণ তিরমিযী গ্রন্থটি আবুল হাসান আলী বিন আবুল মাকারিম নাসর বিন আল-মুবারক—যিনি ইবনুল বান্না নামে পরিচিত—তাঁর নিকট শ্রবণ করেছেন। তিনি (ইবনুল বান্না) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আব্দুল মালিক বিন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন আবু সাহল বিন আবুল কাসিম আল-কারদুখাী তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তিন জন শায়খ—আবু আমির মাহমুদ বিন আবুল কাসিম আল-আযদি, আবু বকর আহমদ বিন আব্দুস সামাদ আল-গাওজী এবং আবু নাসর আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মদ আত-তিরইয়াকী। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল জাব্বার বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল জাররাহ আল-জাররাহী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাহবুব আল-মাহবুবী আল-মারওয়াযী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা আত-তিরমিযী। আমি তাঁর নিকট নিজ কণ্ঠে যা পাঠ করেছি, তার মধ্যে হাফেজ আবুুল গানায়িম মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাইমুন আন-নাসরী আল-কূফী রচিত 'কাদাউ হাওয়ায়েজিল ইখওয়ান ওয়া ইগাসাতুল লাহফান' নামক সম্পূর্ণ পুস্তিকাটিও ছিল। এটি আমি উক্ত শরীফ আবুল হাসান আলী বিন আবুল আব্বাস আহমদ আল-কুরাফীর নিকট তাঁর শ্রবণের সনদে পাঠ করেছি, যে সনদটি উক্ত পুস্তিকার পৃষ্ঠে আমার নিজ হাতের লেখায় অঙ্কিত এবং আমি যথাসাধ্য এই গুণী শায়খের নিকট তা সংশোধন করে নিয়েছি। তিনি আমাকে পূর্ণাঙ্গ, নিঃশর্ত ও সাধারণ ইজাযত (অনুমতি) প্রদান করেছেন এবং নিজ হাতে তা লিখে দিয়েছেন। তাঁর জন্ম ৬৬৩ হিজরীতে মিশরের ফুসতাতে। তাঁর শায়খদের এক বিরাট দল রয়েছে, যাঁদের মধ্যে উল্লিখিত আবু আব্দুল্লাহ বিন তরখান অন্যতম। আরও আছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আদ-দাহহান, শায়খ মুকরি সালেহ মাকীনুদ্দীন আব্দুল্লাহ আল-আসমার বিন মানসুর আল-উমারী, শায়খ কামালুদ্দীন আবুল যিকর বিন আব্দুল কাদির আদ-দাহরাবী এবং আরও অনেকে যাঁদের নাম উল্লেখ করলে দীর্ঘ হয়ে যাবে। আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের ভালোবাসা ও তাঁদের প্রতি রহমতের দোয়ার মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। আমি যেসব প্রাজ্ঞ আলেম ও হাফেজ গ্রন্থকারদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাঁদের অন্যতম হলেন: শায়খ ও মুসান্নিফ নূরুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন ইউনুস বিন আব্দুল্লাহ আল-হাওয়ারী আত-তূনিসী। তিনি ইলম ও আভিজাত্যের শিখরে আরোহণ করেছেন এবং বিশিষ্ট ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিদের মাঝে তাঁর মর্যাদা অতি মহান। জ্ঞান অন্বেষণের পরিশ্রমে তিনি ছিলেন অটল ও ধৈর্যশীল। তিনি রাত জেগে সাধনা করেছেন এবং জ্ঞানের পুষ্পসমূহ চয়ন করেছেন, যতক্ষণ না তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সলিলে পূর্ণরূপে সিক্ত হয়েছেন এবং ইলমের ভাণ্ডারে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা স্বীকৃত হয়েছে। অতঃপর তিনি ফলদান করেছেন ও পল্লবিত হয়েছেন, পশ্চিমে ও পূর্বে বিচরণ করেছেন, সংকলন ও বিশ্লেষণ করেছেন এবং ইলমের নানা শাখায় গভীরভাবে নিমগ্ন হয়েছেন। তিনি দিগন্তে নতুন চাঁদের ন্যায় উদিত হয়েছেন কারণ তাঁর উত্থান ছিল পশ্চিম (মাগরিব) থেকে এবং মানুষের অন্তরে তাঁর স্থান ও মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছে। তিনি নিজ পদক্ষেপে গৌরবের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছেন এবং তাঁর কলম তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের রহস্যকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। তিনি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফযীলতসমূহকে একত্রিত করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের পতাকা উড্ডীন করেছেন। তিনি উচ্চতার সূর্যকে সেই দিগন্তে অবলোকন করেছেন এবং এর উদয়কালে প্রাচ্য থেকে এর ঔজ্জ্বল্য প্রত্যক্ষ করেছেন। আল্লাহর কসম! তিনি ছিলেন মুক্তাতুল্য জ্ঞানের এক সমুদ্র যা কান পেতে শোনার মতো, এবং এমন এক পুষ্পোদ্যান যার সৌরভ নয়ন জুড়িয়ে দেয়। তাঁর সাথে সাক্ষাতের চেয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত আর কিছু নেই, তাঁর জ্ঞান বিতরণের চেয়ে উত্তম কিছু নেই, তাঁর আচরণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু নেই, তাঁর সৌজন্যের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই এবং তাঁর আলাপচারিতার চেয়ে মিষ্ট ও তাঁর আলোচনার চেয়ে উজ্জ্বল আর কিছু হতে পারে না। তিনি বরেণ্য শায়খদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং কিতাব ও কলমের মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। আমি প্রায়শই তাঁর গুণের কথা স্মরণ করতাম এবং এমন প্রশংসার কথা ভাবতাম যা তাঁর যোগ্য হতে পারে। আমি দ্বিধায় ছিলাম আমার কলম নিয়ে তাঁর দানশীলতার মজলিসে নাকি ইলমের সেজদাগাহে উপস্থিত হব। অতঃপর আমি শব্দরাজিকে সমবেত করলাম এবং তাঁর প্রশংসায় এমনভাবে দাঁড়িয়েছি যেমন উকাযের মেলায় কাস বিন সাঈদা আইয়াদী ভাষণ দিতেন। আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাঁর মুখে আবু যাইদ আল-ফাযারীর 'বিংশতি কবিতা'র ওপর আবু মুহীবের কৃত 'তাখমীস' (পঞ্চপদী বিন্যাস)-এর একটি অংশ শুনেছি। আমি তাঁর হাত থেকে সম্পূর্ণ তাখমীসটি গ্রহণ করেছি। তিনি এটি আমার কাছে উস্তাদ আবুল আব্বাস আন-নীলীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন তাঁর নিকট সম্পূর্ণটি শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি (নীলী) এটি মূল রচয়িতা উক্ত ইবনে মুহীবের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁর নিকট ইমাম শিহাবুদ্দীন আল-কুরাফীর 'আত-তানকীহ' কিতাবের কিছু অংশ ফিকহী পর্যালোচনাসহ শ্রবণ করেছি। তিনি গ্রন্থকার উক্ত শিহাবুদ্দীনের পক্ষ থেকে আরযের মাধ্যমে সম্পূর্ণ কিতাবটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁর নিকট ইবনুল হাজিবের মূল কিতাবের ওপর তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং 'তানকীহ'-এর ওপর তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থের কিছু অংশ শ্রবণ করেছি এবং তিনি আমাকে এই দুটির ইজাযত দিয়েছেন। তিনি আমাকে তাঁর নিকট থেকে এই দুটি বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন এবং তাঁর অন্যান্য সকল রচনা এবং তাঁর জ্ঞাত ও বর্ণিত সমস্ত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ, নিঃশর্ত ও সাধারণ ইজাযত দান করেছেন এবং নিজ হাতে তা লিখে দিয়েছেন। তাঁর জন্ম ৬৬৮ হিজরীর যিলহজ্জ মাসে। যাঁদের মাধ্যমে আমি উপকৃত হয়েছি এমন বিশ্বস্ত ও মুত্তাকী বর্ণনাকারীদের মধ্যে শায়খ ফকীহ ন্যায়পরায়ণ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ বিন শায়খ ইমাম আল্লামা মুফতী...