(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: -)
تاج المفرق في تحلية علماء المشرق   (خالد البلوي)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: تاج المفرق في تحلية علماء المشرق

المؤلف: خالد بن عيسى بن أحمد بن إبراهيم بن أبي خالد البلوي، أبو البقاء (ت بعد 767هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 148

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাজুল মাফরাক ফি তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক   (খালিদ আল-বালাউয়ি)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: তাজুল মাফরাক ফি তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক

লেখক: খালিদ বিন ঈসা বিন আহমদ বিন ইবরাহিম বিন আবি খালিদ আল-বালাউয়ি, আবু আল-বাকা (মৃত্যু ৭৬৭ হিজরীর পর)

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৮

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌الجزء الأول

‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌وصلاة على سيدنا وعلى آله وصحبه

قال عبيد الله سبحانه، الراجي عفوه وغفرانه، خالد بن عيسى ابن أحمد بن إبراهيم بن أحمد بن علي بن خالد البلوى، لطف الله به وأخذ بيده وبرحمته آمين.

الحمد للذي فرض حج البيت على من استطاع إليه سبيلا، وجعله تأسيس إبراهيم خليلا، وقال وإذ جعلنا البيت مثابة للناس وأمنا، ومن أصدق من الله قبلا، وجعل جزاء الحج المبرور الجنة، وأصحاب الجنة يومئذ خير مستقرا وأحسن مقيلا، نحمده على نعمه التي قدمها ظلا ظليلا، وأولاها مقاما ورحيلا، ونصلي على نبيه محمد الذي بعثه بالحق رسولا، وفضله على جميع مخلوقاته تفضيلا، وأنزل عليه الكتاب تبيانا لكل شيء وتفصيلا، وعلى آله وأصحابه الذين سلكوا سبل نصرته وخدا وذميلا، وذللوا بين يديه أعناق الجبابرة تذليلا، وجردوا الإماطة صدأ الدين عضبا صقيلا، ومهدوا سنة الله التي قد خلت من قبل، ولن تجد لسنة الله تبديلا، ونستوهب من الله سبحانه لأملاكنا الكرام من آل نصر الذين تبوأنا في أيامهم من العدل كل وثير المهاد، وجمعنا بفضل مساعيهم المبرورة، وتحت رايتهم المنشورة المنصورة بين الحج والجهاد، أن يجدد الرحمة على من قضى منهم وسلف، ويتم النعم على من خلف، ويخص بالتأييد والحسنى والمزيد، رافع رايات فخرهم، والقائم بأعباء نصرهم، والمجدد لآثارهم ومآثرهم، والمحيي لمكارمهم ومفاخرهم، فخر الملوك الجلة، وناصر الملة، والبدر الذي زان أفق الملك من أبنائه السعداء والأمراء بالنجوم والأهلة، إمام الهدى، وغمام الندى، وحسام الله المسلول على العدى مولانا السلطان أمير المسلمين وناصر الدين، أبا الحجاج يوسف بن مولانا السلطان هازم أحزاب المشركين وقد جاشت، ومسلط سيوفه العضاب على عاتي تلك الرقاب فما استنت ولا حاشت، أمير المسلمين المقدس السعيد الشهيد، أبى الوليد ابن نصر، وصل الله لهم عادة تأييده وعضده، وحباهم بكل نعمة من عنده.

هذا تقييد، أطلعه عون من الله وتأييد، قصدت به ضبط موارد الرحلة الحجازية، وذكر معاهد الوجهة المشرقية، جعلها الله تعالى في ذاته وابتغاء مرضاته، بمنه وكرمه، وألممت مع ذلك بذكر بعض الشيوخ من العلماء الفضلاء الذين يطئون ذيول البلاغة، ويجرون فضول البراعة، ولهم كلام يتألق منه شعاع الشرق، ويترقرق عليه صفاء العقل، وينبث فيه فرند الحكمة، ويعرض على حلى البيان، وينقش في فص الزمان، ويحفظ على وجه الدهر، ويفضح عقائل الدر، ويخجل نور الشمس والبدر وألمعت بذكر نبذ من فوائدهم، واختيار طرف من أناشيدهم، ومزجتها بما جرت إليه العبارة، وحسنت فيه الإشارة، من قطع الشعر المناسبة قطع النور، المنتظمة من جواهر اللفظ، البعيدة الغور، الغريبة الحفظ، الآخذة من الحسن باوغر الحظ، مقتديا في ذلك كله بقول القائل:

قالوا خذ العين من كل فقلت لهم

في العين فضل ولكن ناظر العين

حرفان في ألف طومارمسودة

وربما لم تجد في الألف حرفين

ولما بوبت ما ألفت، ورصعت ما جمعت، وشعشعت ما وضعت، فجاء كما تراه حسن الزي، عذب الري، عالي القدر، غالي الدر، مسبوك الحلية والتبر، فيه للمسمع مراد، وللفكر معاد، وللألباب مسرح ومرتاد. سميته: بتاج المفرق، في تحلية علماء المشرق. ودعوت الله تعالى في مواطن الإجابة، أن يوفقني فيه للإجادة والإصابة، وأن ينفع به كل من يلتمس النفع به في المطالعة أو الكتابة، وهو سبحانه سميع الدعاء، مجيب النداء، محقق الرجاء، وهو حسبي ونعم الوكيل. فأقول مستعينا بالله سبحانه: أني خرجت قاصدا للحج، وطالبا للعلم من بلدي قتورية: البلد الذي طال سناه، وطاب مغناه، وانتطق بالجوزاء، وناجت أبراجه بروج السماء، فكأنه في الحصانة جبل منيع، وفي الحسن ربيع بديع:

بلد صحبت به الصبابة والصبا

ولبست ثوب العيش وهو جديد

فإذا تمثل في الضمير رأيته

وعليه أغصان الشباب تميد

فوقع اتفاق الخروج من صحوة يوم السبت، الثامن عشر لصفر من عام ستة وثلاثين وسبعمائة، مودعا لجميع الأهل، ومتجرعا من ذلك ما ليس بالعذب ولا بالسهل:

ودعت قلبي يوم ودعتهم … وقلت يا قلبي عليك السلام

وقلت للنوم انصرف راشدا … فان عيني بعدهم لا تنام
‌প্রথম অংশ

‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

‌আমাদের নেতা, তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নগণ্য বান্দা, তাঁর ক্ষমা ও মার্জনাপ্রত্যাশী খালিদ বিন ঈসা বিন আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন আহমাদ বিন আলী বিন খালিদ আল-বালাবি বলছেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন এবং স্বীয় রহমতে তাঁর হাত ধরুন, আমীন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সামর্থ্যবানদের ওপর বায়তুল্লাহর হজ ফরজ করেছেন এবং একে ইবরাহিম খলিলের প্রতিষ্ঠিত ভিত্তির ওপর স্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন, "আর যখন আমি এ ঘরকে মানুষের জন্য মিলনস্থল ও নিরাপদ স্থান বানালাম।" আর আল্লাহর চেয়ে সত্যবাদী আর কে হতে পারে? তিনি কবুল হজের প্রতিদান জান্নাত নির্ধারণ করেছেন; আর জান্নাতবাসীরা সেদিন অতি উত্তম আবাসন ও বিশ্রামস্থলে থাকবে। আমরা তাঁর সেইসব নেয়ামতের জন্য প্রশংসা করি যা সুশীতল ছায়া হয়ে নেমে আসে এবং যা প্রবাসে ও আবাসে সর্বোত্তম পাথেয়। আমরা দরুদ পাঠ করি তাঁর নবী মুহাম্মাদের ওপর, যাকে তিনি সত্যসহ রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, তাঁকে তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তাঁর ওপর এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা স্বরূপ। আরও দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর, যারা তাঁকে সাহায্য করার পথে দ্রুত ও ক্ষিপ্রতার সাথে চলেছেন, তাঁর সামনে স্বৈরাচারীদের অহংকারী ঘাড় অবনত করেছেন এবং দ্বীনের মরিচা দূর করতে ধারালো ও উজ্জ্বল তরবারি কোষমুক্ত করেছেন। তাঁরা আল্লাহর সেই সুন্নাতকে সুগম করেছেন যা পূর্বকাল থেকেই প্রচলিত, আর আপনি আল্লাহর সুন্নাতের কোনো পরিবর্তন পাবেন না। আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে আমাদের সম্মানিত বাদশাহগণ তথা নাসর পরিবারের জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করছি, যাঁদের ইনসাফের যুগে আমরা সুখের শয্যায় অবস্থান করছি। যাঁদের উত্তম প্রচেষ্টার বদৌলতে এবং যাঁদের উড্ডীন ও সাহায্যপ্রাপ্ত পতাকাতলে আমরা হজ ও জিহাদ উভয়কে একত্রে পালন করতে পেরেছি। আল্লাহ যেন তাঁদের মধ্য থেকে যারা গত হয়েছেন তাঁদের ওপর রহমত নবায়ন করেন এবং যারা অবশিষ্ট আছেন তাঁদের ওপর নেয়ামত পূর্ণ করেন। বিশেষত তিনি যেন সাহায্য, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি দান করেন তাঁকে—যিনি তাঁদের গৌরবের পতাকাকে সমুন্নত রেখেছেন, তাঁদের বিজয়ের দায়িত্বভার বহন করছেন, তাঁদের কীর্তিগাথা ও নিদর্শনসমূহকে নবায়ন করছেন এবং তাঁদের মহত্ত্ব ও মর্যদাকে পুনরুজ্জীবিত করছেন; তিনি মহান রাজাদের অহংকার, মিল্লাতের সাহায্যকারী। তিনি সেই পূর্ণিমা চাঁদ, যিনি স্বীয় সৌভাগ্যবান সন্তান ও রাজপুত্ররূপী নক্ষত্র ও উদিত চাঁদের মাধ্যমে রাজত্বের দিগন্তকে সুশোভিত করেছেন। তিনি হেদায়েতের ইমাম, বদান্যতার মেঘমালা, শত্রুদের ওপর আল্লাহর কোষমুক্ত তরবারি, আমাদের নেতা সুলতান, মুসলিমদের আমির ও দ্বীনের সাহায্যকারী, আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে মাওলানা সুলতান; যিনি মুশরিকদের দলগুলোকে পরাজিত করেছেন যখন তারা উদ্ধত হয়েছিল, এবং অবাধ্যদের গর্দানে নিজের ধারালো তরবারি এমনভাবে প্রয়োগ করেছেন যে তা কোনো বিচ্যুতি বা শৈথিল্য দেখায়নি। তিনি পবিত্র, সৌভাগ্যবান ও শহীদ আমিরুল মুমিনীন আবু আল-ওয়ালিদ ইবনে নাসরের সুযোগ্য সন্তান। আল্লাহ তাঁদের জন্য তাঁর সাহায্য ও সমর্থনের ধারা অব্যাহত রাখুন এবং নিজের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতিটি নেয়ামত দ্বারা ধন্য করুন।

এটি একটি সংকলন, যা আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থনে সংকলিত হয়েছে। এর মাধ্যমে আমি হিজাজ সফরের ঘটনাবলি এবং প্রাচ্যের গন্তব্যসমূহের স্মৃতিচিহ্নগুলো লিপিবদ্ধ করার সংকল্প করেছি। আল্লাহ তাআলা একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করুন। এর সাথে আমি এমন কিছু শ্রেষ্ঠ আলেম ও মনীষীর কথা উল্লেখ করেছি, যারা অলঙ্কারশাস্ত্রের উচ্চশিখরে আরোহণ করেছেন এবং যাদের পাণ্ডিত্যের প্রভাব সুবিস্তৃত। তাঁদের এমন বাণী রয়েছে যা থেকে প্রাচ্যের আভা বিচ্ছুরিত হয়, যার ওপর বুদ্ধির স্বচ্ছতা খেলা করে এবং যার মধ্যে প্রজ্ঞার সারবস্তু ছড়িয়ে আছে। তাঁদের সেই কথাগুলো বর্ণনার অলঙ্কারে সজ্জিত, যা কালের ললাটে খোদিত হয়ে থাকবে এবং মহাকালের পাতায় সংরক্ষিত থাকবে। তা মণি-মুক্তার শ্রেষ্ঠত্বকেও হার মানায় এবং সূর্য ও চন্দ্রের আলোকেও ম্লান করে দেয়। আমি তাঁদের জ্ঞানগর্ভ আলোচনার কিয়দাংশ এবং তাঁদের কিছু কাব্য চয়ন করেছি। সেগুলোকে আমি প্রাসঙ্গিক বর্ণনার সাথে মিশিয়ে দিয়েছি এবং যেখানে ইশারা সুন্দর মনে হয়েছে সেখানে উপযুক্ত কবিতা যুক্ত করেছি—যা আলোর ন্যায় উজ্জ্বল, শব্দের মুক্তোর মতো সুবিন্যস্ত, সুগভীর অর্থবহ, বিরল স্মৃতিবিজড়িত এবং সৌন্দর্যের পূর্ণ অংশীদার। এই সব ক্ষেত্রে আমি সেই প্রবাদবাক্যের অনুসরণ করেছি:

তারা বলেছিল, প্রতিটি জিনিসের নির্যাস গ্রহণ করো, আমি বললাম:

নির্যাসের শ্রেষ্ঠত্ব আছে বটে, কিন্তু তা দেখার জন্য স্বচ্ছ দৃষ্টি প্রয়োজন।

এক হাজার কালো পাতায় হয়তো মাত্র দুটি অর্থবহ অক্ষর পাওয়া যায়,

আর কখনো হয়তো হাজার পাতাতেও সেই দুটি অক্ষরের দেখা মেলে না।

যখন আমি আমার এই সংকলিত বিষয়গুলোকে অধ্যায়ভুক্ত করলাম, মণি-মুক্তা দিয়ে সজ্জিত করলাম এবং উপস্থাপনাকে উজ্জ্বল করলাম, তখন তা এমন রূপে প্রকাশিত হলো যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন—চমৎকার সজ্জা, তৃপ্তিদায়ক সুধা, উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন, মহামূল্যবান মুক্তাতুল্য এবং স্বর্ণালঙ্কারের ন্যায় নিপুণভাবে নির্মিত। এতে শ্রোতার জন্য কাঙ্ক্ষিত বস্তু, চিন্তাশীলদের জন্য খোরাক এবং বুদ্ধিমানদের জন্য বিচরণ ক্ষেত্র রয়েছে। আমি এর নামকরণ করেছি: 'তাজুল মাফরিক ফি তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক' (প্রাচ্যের আলেমদের অলঙ্করণে শিরোভূষণ)। আমি দোয়া কবুলের স্থানগুলোতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি তিনি যেন আমাকে এতে সঠিক ও নিপুণতা দান করেন এবং এর পাঠ ও লেখনীর মাধ্যমে যারা উপকার খুঁজবে তাদের সবাইকে উপকৃত করেন। তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী, ডাক কবুলকারী এবং আশা পূরণকারী। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমি বলছি: আমি হজ পালন এবং ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে আমার নিজ শহর কান্টোরিয়া থেকে বের হলাম; এমন এক শহর যার মহিমা সুদীর্ঘ, যার আবাসস্থল অত্যন্ত মনোরম, যা নক্ষত্রপুঞ্জ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং যার সুউচ্চ মিনারগুলো আকাশের নক্ষত্রের সাথে কথা বলে। সুরক্ষার দিক থেকে এটি যেন এক দুর্ভেদ্য পাহাড় এবং সৌন্দর্যের দিক থেকে এক অপূর্ব বসন্ত:

এটি এমন এক শহর যেখানে আমি যৌবন ও কৈশোর কাটিয়েছি,

এবং জীবনের নতুন পোশাক পরিধান করেছি।

যখনই হৃদয়ে এর স্মৃতি ভেসে ওঠে, আমি একে দেখতে পাই,

আর তার ওপর যৌবনের শাখাগুলো দুলতে থাকে।

আমার প্রস্থান ঘটেছিল ৭৩৬ হিজরি সনের ১৮ সফর, শনিবারের সকালে। আমি আত্মীয়-স্বজন সবাইকে বিদায় জানালাম এবং সেই বিচ্ছেদের এমন এক তিক্ততা আস্বাদন করলাম যা সহজ বা মধুর ছিল না:

যেদিন তাদের বিদায় জানালাম, সেদিন আমার হৃদয়কেও বিদায় জানালাম … এবং বললাম, হে আমার হৃদয়! তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

আর আমি ঘুমকে বললাম, তুমি প্রস্থান করো … কারণ তাদের বিরহে আমার চোখে আর ঘুম আসবে না।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২)
محرم يا عين أن ترقدي … وليس في العالم نوم حرام

وكان لذلك الوداع موقف مشهور مشهود، نثر فيه من جمان الدمع لؤلؤ منظوم منضود، وفيه قلت:

موقف للفراق أرخص فيه … كل در لنا وكل عقيق

بجموع كوجدنا في اجتماع … ودموع كالشمل في التفريق

وقد أعدت الركاب، وطاشت الألباب، وحضر للوداع جميع الأحباب، وأنا أصبر كصبر ميت على النزاع، وأقول ما خلق الله من عذاب أشد من وقفة الوداع، أعالج السياق، وأعاين المنايا بين أخفاف النياق:

أقول لصحبي حين ساروا، ترفقوا … لعلي أرى من بالجناب الممنع

والثم أرضا ينبت العز تربها … وأسقى ثراها من سحائب أدمعي

وينظر طرفي أين أترك مهجتي … فقد أقسمت أن لا تسير غدا معي

وما أنا ان خلفتها متأسفا … عليها وقد حلت باكرم موضع

ولما تبرأ التابع من المتبوع، وطفئت نيران الوداع بمياه الدموع، وعطف المودعين لي بالعودة لقطرهم والرجوع، وهم بين راجع بالجسم وهو لي بالقلب مصطحب، وضاحك بما يرجوه لي وهو على وداعي منتحب، أخذت في الارتحال، وأنشدت بلسان الارتجال، بل بلسان الحال:

ليت شعري أنلتقي بعد هذا … أم وداعا يكون هذا اللقاء

فاذكروني وزودوني دعاء … خير زاد تزودوني الدعاء

ثم امطيت الطرق طريقه، ولم أبلعه في الأناة ريقه، والفراق يردى فريقه، وقلت:

أأذهبت، أيام الشبيبة والنوى … وأتلفت باقي العمر؟ يا ضحوة السبت

فقل لجديد العيش: لا بد من بلى … وقل لاجتماع الشمل: لابد من شت

وسرت بعزمة لا يفل حدها، ولا يتجاوز حدها، وخرمة لا يثنى رسنها، ولا يلم بعين وسنها، وأخلقنا في السير شباب ذلك النهار، وجاريت بدموعي جريان تلك الأنهار، وبت بساحة واد حللنا به بين ظفر التوحش ونابه، أكن الوجد ما غاية الثكلى ان تكنه، وأجن من الحنين ما لا تطبق الجوانح أن تجنه، وأردد:

أهذا ولما تمضي للبين ليلة؟ … فكيف إذا مرت عليك شهور!

حتى إذا بقى من الليل حد الوصية من المال، قضينا على معزول السرى بالاستعمال، وسرت أحمل أنفاس الصبا حقائب الوجد، وأتمتع من شميم عرار نجد، فما طلع من الغد وجه النهار، ولا بدا فيه حاجب الأسفار، إلا وقد أشرفنا على) المرية (، تتلع إلينا أجياد قصابها وغرفاتها وتبتسم عن ثغور أسوارها، وبلج شرفاتها، كالعذارى شددن مناطفا، وتوجن بالأكيل مفارقا، كأن ترابها عنبر، وحصاها عقيق، وهواها نسيم وماءها رحيق، مغان لها عندي معان وأماكن، فسكانها للنفوس سواكن.

دمن طالما التقت ادمع الح … زن عليها وادمع العشاق

فهناك شاهدت الظباء مختلطة بالآرام، والغزالة أنيسة النفور والشادي يبادر بالسلام، والعطف من العطف لا يخلو، والحقف بحمل الغصن يمر في كل حين وكلما مريحلو، فحمدنا عند الصباح السرى ودخلنا المدينة أم تلك القرى:

ألوى الضلوع من الولوع بخطرة … من شيم برق أو شميم عرار

وأنيخ حيث دموع عيني منهل … يروي وحيث حشاي موقد نار

وعند دخولنا إليها مررنا على بعض البساتين المجاورة لها، فحيانا بوجه مشرق، وحبانا من مذانبه برواء مغدق.

ودولاب إذا أن … يزيد القلب أشجانا

سقى الغصن وغناه … فما يبرح نشوانا

فدخلت المدينة بقلب غير داخل، وتلقيت المنام بطرف شحيح بالكرى باخل، وكلما فتشت للأوطان في فكري ذنبا، اجعله سببا للسلو، أو عيبا أركن به إلى الراحة والهدوء، قال الاختبار لا سبيل إلى ذلك، وجعل يعرض علي من حسناتها ما جلا به ظلام الليل الحالك، ولولا أني رجعت إلى جميل الصبر بعد الذهاب، وعللت الروح التي راح سرها لقرب الإياب، لأمسيت أثرا بعد عين، ولكنت أحد من قتله يوم البين:

البين جرعني نقيع الحنظل … والبين أثكلني وان لم أثكل

ما حسرتي! ان كنت أقضي إنما … حسرات نفسي أنني لم أفعل

نقل فؤادك حيث شئت من الهوى … ما الحب إلا للحبيب الأول

كم منزل في الأرض يألفه الفتى … وحنينه أبدا لأول منزل
হে চক্ষু, তোমার জন্য ঘুমানো হারাম ... অথচ পৃথিবীতে ঘুম হারাম নয়।

সেই বিদায়ক্ষণটি ছিল এক প্রসিদ্ধ ও প্রত্যক্ষ মুহূর্ত, যাতে সুবিন্যস্ত ও লহরীবদ্ধ মুক্তার ন্যায় অশ্রুবিন্দু ঝরে পড়ছিল। সেই ক্ষণ নিয়ে আমি বলেছিলাম:

বিরহের এমন এক মুহূর্ত যাতে আমাদের নিকট তুচ্ছ হয়ে গেল ... আমাদের সকল মুক্তা ও সকল আকিক পাথর।

মিলনকালে আমাদের ব্যাকুলতার মতো জনসমাবেশ ... আর বিচ্ছেদকালে ছিন্নভিন্ন অবস্থার মতো অশ্রুধারা।

সওয়ারি প্রস্তুত করা হলো, বুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল এবং বিদায় জানাতে সকল প্রিয়জন উপস্থিত হলেন। আমি তখন প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়া মৃতব্যক্তির ন্যায় ধৈর্য ধারণ করছিলাম এবং বলছিলাম যে, আল্লাহ তাআলা বিদায়বেলায় দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে কঠিনতর কোনো আজাব সৃষ্টি করেননি। আমি বিচ্ছেদের যন্ত্রণা সহ্য করছিলাম এবং উষ্ট্রীর ক্ষুরের নিচে নিজের মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করছিলাম:

আমার সঙ্গীরা যখন যাত্রা শুরু করল, আমি তাদের বললাম: তোমরা একটু দয়া করো ... যেন আমি সেই সংরক্ষিত ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অবস্থানকারীকে একবার দেখতে পাই।

এবং আমি সেই ভূমিকে চুম্বন করি যার মাটি সম্মান উৎপাদন করে ... আর তার ধূলিকণাকে আমার অশ্রুমেঘ দিয়ে সিক্ত করি।

আমার দৃষ্টি খুঁজে ফিরছে কোথায় আমি আমার প্রাণকে রেখে যাব ... কেননা সে (আমার প্রাণ) শপথ করেছে যে, আগামীকাল সে আমার সাথে সফর করবে না।

যদি আমি তাকে পিছনে ফেলে যাই তবে আমি অনুতপ্ত নই ... কারণ সে অতি সম্মানিত এক স্থানেই আশ্রয় নিয়েছে।

যখন অনুসারী তার অনুসৃত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো এবং বিদায়ের অগ্নি অশ্রুর বারিবিন্দুতে নির্বাপিত হলো, তখন বিদায়দানকারীরা তাদের অঞ্চলের দিকে ফিরে চলল। তাদের কেউ সশরীরে ফিরে গেলেও হৃদয়ে আমার সহগামী ছিল, আবার কেউ আমার জন্য শুভকামনা করে হাসিমুখে ছিল অথচ আমার বিদায়ের বেদনায় মনে মনে বিলাপ করছিল। আমি যাত্রা শুরু করলাম এবং তাৎক্ষণিক মুখে, বরং উপস্থিত অবস্থার ভাষায় আবৃত্তি করলাম:

হায়! যদি আমি জানতাম এরপর কি আমাদের দেখা হবে ... নাকি এই দেখাই হবে শেষ বিদায়।

সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ রেখো এবং পাথেয় হিসেবে দোয়া দিও ... সর্বোত্তম পাথেয় যা তোমরা আমাকে দিতে পারো তা হলো দোয়া।

অতঃপর আমি পথের পর পথ পাড়ি দিতে লাগলাম, ধীরস্থিরভাবে শ্বাস নেওয়ার অবকাশটুকুও পেলাম না। বিচ্ছেদ তার দলবলকে ধ্বংস করে দিচ্ছিল, আর আমি বলছিলাম:

হে শনিবারের প্রভাত! তুমি কি যৌবনের দিনগুলো ও বিচ্ছেদের যাতনাকে নিঃশেষ করে দিয়েছ ... এবং জীবনের অবশিষ্ট অংশকেও ধ্বংস করে দিয়েছ?

জীবনের নতুন দিনগুলোকে বলো: জীর্ণতা অনিবার্য ... আর মহামিলনকেও বলো: বিচ্ছেদ অনিবার্য।

আমি এমন এক দৃঢ় সংকল্প নিয়ে পথ চললাম যার ধার কখনও কমে না এবং যার সীমানা কেউ অতিক্রম করতে পারে না। এমন এক একাগ্রতা নিয়ে চললাম যার লাগাম কেউ টানতে পারে না এবং যার চোখে তন্দ্রা স্পর্শ করে না। সেই দিনের তারুণ্যকে আমরা চলার গতিতে হার মানালাম, আমার অশ্রুধারাকে সেই নদীগুলোর প্রবাহের সাথে পাল্লা দেওয়লাম। আমরা এক নির্জন প্রান্তরে রাত কাটালাম যেখানে আমরা একাকীত্ব ও নিঃসঙ্গতার থাবার মধ্যে পড়েছিলাম। আমি সেই শোককে লুকিয়ে রাখলাম যা সন্তানহারা জননীও লুকাতে পারে না, এবং বিরহের এমন হাহাকার হৃদয়ে পোষণ করলাম যা পাঁজরের হাড়গুলো ধরে রাখতে অক্ষম। আমি বারবার বলছিলাম:

বিচ্ছেদের মাত্র এক রাত কাটতেই কি এই অবস্থা? ... তবে যখন তোমার ওপর দিয়ে মাসের পর মাস অতিবাহিত হবে তখন কী হবে!

যখন রাতের কেবল শেষাংশটুকু অবশিষ্ট রইল, তখন আমরা বিশ্রাম ত্যাগ করে পুনরায় পথ চলা শুরু করলাম। আমি ভোরের হাওয়ার সুবাসকে বিরহের থলিতে ভরে বহন করছিলাম এবং নজদ অঞ্চলের আরার ফুলের সুঘ্রাণ উপভোগ করছিলাম। পরদিন দিনের আলো ফুটে ওঠার আগেই এবং সফরের লক্ষণগুলো স্পষ্ট হওয়ার আগেই আমরা 'আল-মারিয়া' (আলমেরিয়া) শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছে গেলাম। তার প্রাসাদ ও কক্ষগুলোর গম্বুজ আমাদের দিকে উঁকি দিচ্ছিল এবং তার প্রাচীর ও অলিন্দগুলোর বুক চিরে হাসছিল; যেন সেগুলো এমন কুমারী যারা কোমরবন্ধ বেঁধেছে এবং মাথায় মুকুট পরেছে। তার মাটি যেন অম্বর, কঙ্করগুলো আকিক পাথর, তার বাতাস সুশীতল সমীরণ এবং তার পানি সুপেয় সুধা। সেই জনপদগুলোর সাথে আমার অনেক স্মৃতি ও তাৎপর্য জড়িয়ে আছে, তার অধিবাসীরা আমার প্রাণের প্রশান্তি।

এটি এমন এক ধ্বংসাবশেষ যেখানে দীর্ঘকাল ধরে বেদনার অশ্রু ... এবং প্রেমিকদের অশ্রু একত্রে মিশে গেছে।

সেখানে আমি বনছাগলদের হরিণদের সাথে মিশে থাকতে দেখলাম, চঞ্চল হরিণও সেখানে শান্ত, আর গায়ক সেখানে সালামের মাধ্যমে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে। স্নেহ ও মমতার অভাব নেই সেখানে, আর সুগন্ধি বৃক্ষের ছায়া সব সময় প্রশান্তি দেয়। সকালবেলা আমরা আমাদের রাতের সফরের সার্থকতা খুঁজে পেলাম এবং সেই জনপদগুলোর জননীস্বরূপ শহরে প্রবেশ করলাম:

বিদ্যুতের চমক বা আরার ফুলের সুঘ্রাণে ... অনুরাগের আতিশয্যে হৃদয়ের পাঁজরগুলো দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে।

আমি সেখানে অবস্থান গ্রহণ করলাম যেখানে আমার নয়ন-অশ্রুর ঝর্ণাধারা ... তৃষ্ণা মেটায়, আর যেখানে আমার কলিজা অগ্নিদগ্ধ হয়।

শহরে প্রবেশের সময় আমরা তার নিকটবর্তী কিছু বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, যা আমাদের উজ্জ্বল হাসিমুখে অভ্যর্থনা জানাল এবং তার ঝর্ণাধারা থেকে আমাদের প্রচুর পানি উপহার দিল।

আর সেই জলচক্র (সেচযন্ত্র) যখন কাতরায় ... তখন তা হৃদয়ের শোককে বাড়িয়ে দেয়।

সে বৃক্ষশাখাকে পানি পান করায় এবং তার উদ্দেশ্যে গান গায় ... ফলে সে শাখাটি সর্বদা মাতোয়ারা থাকে।

অতঃপর আমি এক অন্যমনস্ক হৃদয়ে শহরে প্রবেশ করলাম, আর তন্দ্রাহীন কৃপণ চোখে ঘুমকে বরণ করলাম। যখনই আমি আমার মনে স্বদেশের কোনো দোষ খুঁজছিলাম—যাতে সেটিকে ভুলে যাওয়ার বা দূরে থাকার অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে পারি—তখনি আমার অভিজ্ঞতা বলে উঠল: এর কোনো পথ নেই। শহরটি তার এমন সব গুণাবলি আমার সামনে তুলে ধরতে লাগল যা নিকষ কালো অন্ধকারকে বিদূরিত করে দেয়। যদি আমি সেই বিচ্ছেদের পর সুন্দর ধৈর্যের দিকে ফিরে না আসতাম এবং শীঘ্রই ফিরে আসার প্রত্যাশায় মনকে প্রবোধ না দিতাম, তবে আমি চোখের পলকে বিলীন হয়ে যেতাম এবং বিরহের দিনে নিহত ব্যক্তিদের একজন হতাম:

বিচ্ছেদ আমাকে তিক্ত হরিতকীর রস পান করিয়েছে ... এবং বিচ্ছেদ আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে যদিও আমি সন্তানহারা নই।

আমার আক্ষেপ এটাই! আমি যদি মৃত্যুবরণ করতাম তবে আক্ষেপ থাকত না ... বরং আমার প্রাণের আক্ষেপ এই যে আমি কেন মৃত্যুবরণ করলাম না।

তোমার মনকে ভালোবাসার যেদিকে ইচ্ছা ধাবিত করো ... কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা কেবল প্রথম প্রিয়তমের জন্যই।

পৃথিবীতে কত ঘর আছে যেগুলোর সাথে মানুষ পরিচিত হয় ... কিন্তু তার চিরন্তন হাহাকার সেই প্রথম ঘরের জন্যই থাকে।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ৩)
فحللت منها المحل المودود، وحللت بها المشدود والمعقود، وجددت بعلمائها العهود، وأقمت الازم منها معهدا مألوفا، ومشهدا بالحبائب محفوفا، إلى أن تهيأ غراب دار الصنعة، وتيسر اندفاعه في يوم الجمعة، فجددت الوداع، وشاع خبر الجواز وذاع، وفارقت من فارقت لا عن ملالة، وودعت من ودعت لا عن تعويض، وركبت فيه بباب الديوان في يوم الأحد، السابع لجمادى الأولى من العام المذكور ثم وقفت ماشيا على الماء وقفة المتسلم، وودعت الأندلس وداع المتأمل المتألم، وأنشدت:

خليلي هذا موقف من متيم … فعوجا قليلا وانظراه يسلم

وسرنا في أطيب هواء، واحسن استواء، إلى أن وافينا) مرسى هنين (فنزلنا بها ضحوة يوم الثلاثاء، التاسع لجمادى الأولى المذكور، فرأيت بليدة نضيرة، لا كبيرة ولا صغيرة، جميلة المنظر، متوسطة بين الصغر والكبر، موضوعة أسفل جبلين، بين بحر وشجر، يخفضها ارتفاع قلعة، دار صنعة، وأسواق موفورة، ومساجد معمورة، ولقربها من الأندلس هي مذكورة، لقيت بها الخطيب، أبا عبد الله بن جابر، فجبر الوحشة بالإيناس وأنشدني لبعض الناس:

أبشر بخير عاجل … تنسى به ما قد مضى

فرب أمر مسخط … لك في عواقبه الرضى

ثم خرجت منها صبيحة يوم الخميس، الحادي عشر لجمادى الأولى المذكورة وسرنا نلتهم الأرض التهام الضمير نرتبط بالجد ارتباط الفعل بالضمير، إلى أو وافينا مدينة) تلمسان (، فحللنا به ضحوة يوم الجمعة، الثاني عشر من الشهر المذكور، فرأيت مدينة قل مثلها، وجل عرارها وبانها واثلها، بطاح وادواح، وربى ملاح، وضياء وانشراح، وبسيط له اتساع وانفساح، ومياه لها على در الحصا انسحاب وانسياح، وروضات يعتري ويعترض إليها اهتزاز وارتياح، وجنات ريقها ندى وثغورها اقاح، فسيحة الأرجاء، صحيحة الهواء، ممتدة الغاية في الحسن والانتهاء، جوها صقيل، مجتلاها جميل، ونشرها أريج النفس عليل.

وأرض من الحصباء بيضاء قد جرت … جداول ماء فوقها تتفجر

كما سبحت تبغي النجاة أراقم … على روضة فيها الأقاح منور

وكم للعباد من أطراد مذانبها واخضرار جوانبها، من نفحات رحمة، وبيضاء تربى على كل مستحمة، تحييك بالوجه الوسيم، وترى الغصن يصلى بتحيات النسيم، فنزلت منها بالمحلة المنصورة، الحاضرة للمدينة المذكورة، محلة السلطان العادل، الهمام الباسل، ملك الإسلام والمسلمين وناصر الدنيا والدين، أبى الحسن بن السلطان الفاضل الغمام الهاطل، أمير المسلمين، نخبة الملوك والسلاطين، أبى سعيد العابد، المرابط المجاهد أمير المسلمين، المجاهد في سبيل رب العالمين، أبى يوسف يعقوب بن عبد الحق المرينى، أيدهم الله تعالى وأسعدهم، فما حططنا الركاب، ولا وضعنا الاقتاب إلا والشمس يتبين زوالها، وطهارة المكتوبة يتعين استعمالها فأمطنا وعثاء السفر، وأخذنا في غسل الجمعة بالأثر، ثم تمتعنا بالخطبة والخطيب، بعد أن أخذنا بحظ وافر من الطيب، والعود الرطيب، وند ما له ند، تعاطيه من السنة، إذا أدخلته النار حكى رائحة الجنة، وجلنا في المحلة، وهي روض يثمر خيلا وأعنة، وبحر يزخر قنا وأسنة، وذوائب الأعلام تخفق، وألسنة عذباتها تكاد بالنصر تنطق، والأحوال قد استقامت، والأخبية على القاعدين فيها قد قامت، وهي مبيضة كسقيط الثلج، مصطفة كبيوت الشطرنج، وقد أشرق الجو بإشراق الخمائل والنبات وأشرف على مدينة أحدقت بها الأزهار والأنهار من جميع الجهات، فأقمنا هنالك درر الأنباء، ونحتلب در النعماء، وأنا امرح في جهاتها، مرح العين في منتزهاتها، حتى تمتعت في ذلك الجمع الحافل، بلقاء جماعة من الأفاضل، وأنشدني بعضهم لبعض أهلها وهو الكاتب أبو بكر بن الخطاب، رحمه الله تعالى، وهو مع سائر نظمه عندي بالإجازة عن الشيخ الخطيب المحدث الحاج الفاضل أبى عبد الله محمد بن عمر بن محمد بن عمر بن رشيد الفهري رحمه الله، قال أنشدنا شيخنا الكاتب الأديب البليغ أبو بكر بن خطاب بتلمسان لنفسه:

سرى البدر فارتاع الفؤاد لومضه … فبت وجفني لم يذق طعم غمضه

تبدى كعرق في الغمامة نابض … يدل على سقمي تواتر نبضه

سجدت له لما تراءى يمانيا … وأكملت من دمعي طهوري لفرضه

وقضيت من حق الصبابة واجبا … برئت من العشاق ان لم أقضه
সেখানে আমি কাঙ্ক্ষিত স্থানে উপনীত হলাম, দৃঢ় ও নিবদ্ধ বন্ধনসমূহ মোচন করলাম, এবং সেখানকার ওলামাদের সাথে নতুন করে অঙ্গীকার নবায়ন করলাম। আমি প্রয়োজনীয় স্থানগুলোকে পরিচিত আবাসস্থলে এবং প্রিয়জনবেষ্টিত মিলনস্থলে পরিণত করলাম। অবশেষে যখন নির্মাণশালার জাহাজ প্রস্তুত হলো এবং জুমার দিনে তার যাত্রা সুগম হলো, তখন আমি বিদায় সম্ভাষণ জানালাম। প্রস্থানের সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। আমি যাদের ছেড়ে এসেছি কোনো বিরক্তির কারণে নয়, আর যাদের বিদায় জানিয়েছি কোনো বিনিময় লাভের আশায় নয়। আমি উক্ত বছরের জুমাদাল উলা মাসের সাত তারিখ, রবিবার দিন দিউয়ান ঘাটে জাহাজে আরোহণ করলাম। অতঃপর পানির উপর পদব্রজে চলা ব্যক্তির ন্যায় শান্তভাবে দাঁড়ালাম। আমি গভীর চিন্তা ও ব্যথিত হৃদয়ে আন্দালুসকে বিদায় জানালাম এবং আবৃত্তি করলাম:

হে আমার প্রিয় বন্ধু, এটি এক প্রেমিকের দাঁড়িয়ে থাকার স্থান … তাই তোমরা কিছুটা পথ ঘুরে তাকাও এবং তাকে সালাম জানাও।

আমরা অত্যন্ত মনোরম আবহাওয়া এবং চমৎকার স্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে পথ চললাম, যতক্ষণ না আমরা হুনাইন বন্দরে পৌঁছলাম। সেখানে আমরা উল্লিখিত জুমাদাল উলা মাসের নয় তারিখ, মঙ্গলবার চাশতের সময় অবতরণ করলাম। আমি সেখানে একটি সজীব ছোট শহর দেখলাম; যা খুব বড়ও নয় আবার খুব ছোটও নয়। দৃশ্যটি অত্যন্ত সুন্দর, আয়তনে মাঝারি। শহরটি দুটি পাহাড়ের পাদদেশে এবং সমুদ্র ও বনরাজির মাঝে অবস্থিত। একটি দুর্গের উচ্চতা তাকে নিচু করে রেখেছে, সেখানে একটি নির্মাণশালা, সমৃদ্ধ বাজার এবং জনাকীর্ণ মসজিদ রয়েছে। আন্দালুসের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এটি বেশ পরিচিত। সেখানে আমার খতিব আবু আব্দুল্লাহ বিন জাবেরের সাথে সাক্ষাৎ হলো। তিনি হৃদ্যতাপূর্ণ আলাপের মাধ্যমে আমার একাকিত্বের বেদনা দূর করলেন এবং জনৈক কবির এই কবিতাটি আমাকে শোনালেন:

আসন্ন কল্যাণের সুসংবাদ গ্রহণ করো … যার মাধ্যমে তুমি যা গত হয়েছে তা ভুলে যাবে।

অনেক অপ্রীতিকর বিষয় রয়েছে … যার পরিণামে তোমার জন্য সন্তুষ্টি নিহিত থাকে।

অতঃপর উল্লিখিত জুমাদাল উলা মাসের এগারো তারিখ, বৃহস্পতিবার সকালে আমি সেখান থেকে যাত্রা করলাম। আমরা অত্যন্ত দ্রুতবেগে পথ অতিক্রম করতে লাগলাম, যেন ক্রিয়ার সাথে সর্বনামের গভীর সম্পর্ক। অবশেষে আমরা তিলিমসান শহরে পৌঁছলাম এবং উল্লিখিত মাসের বারো তারিখ, শুক্রবার চাশতের সময় সেখানে অবস্থান গ্রহণ করলাম। আমি এমন এক শহর দেখলাম যার তুলনা মেলা ভার। তার সুগন্ধি বৃক্ষরাজি এবং প্রাচীন বৃক্ষসমূহ অত্যন্ত মহিমান্বিত ও স্পষ্ট। সেখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ প্রান্তর, বিশাল বৃক্ষরাজি, মনোরম টিলা, উজ্জ্বলতা এবং চিত্তের প্রসন্নতা। উন্মুক্ত বিশাল ময়দান, আর নুড়িপাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ পানির ধারা। সেখানে রয়েছে আন্দোলিত ও আনন্দদায়ক উদ্যানসমূহ। এমন বাগান যার ওস হলো শিশির এবং যার মুখচ্ছবি হলো গুলবাহার ফুল। তার চারপাশ প্রশস্ত, আবহাওয়া স্বাস্থ্যকর এবং সৌন্দর্যের চরম সীমায় পৌঁছেছে। তার আকাশ স্বচ্ছ, দৃশ্যপট মনোরম এবং তার সুগন্ধি আতুর হৃদয়ের জন্য সঞ্জীবনী স্বরূপ।

সাদা নুড়িপাথরের এক ভূমি, যার ওপর দিয়ে … পানির নহরসমূহ প্রবাহিত হচ্ছে।

যেন রক্ষা পাওয়ার আশায় সর্পসমূহ সন্তরণ করছে … এমন এক বাগানে যেখানে গুলবাহার ফুল প্রস্ফুটিত।

বান্দাদের জন্য সেখানে নহরসমূহের প্রবহমানতা এবং চারপাশের শ্যামলিমায় কতই না রহমতের স্নিগ্ধতা রয়েছে! এমন এক শুভ্র ভূমি যা প্রতিটি সজীব উদ্যানকে হার মানায়; যা তোমাকে সুন্দর চেহারায় অভিবাদন জানায় এবং তুমি দেখতে পাবে যে বৃক্ষশাখাগুলো মৃদু বাতাসের পরশে দোলা খাচ্ছে। আমি সেখানে মানসুরা নামক সেনানি বাসে অবতরণ করলাম, যা উক্ত শহরের রাজধানী। এটি সেই ন্যায়পরায়ণ সুলতান, সাহসী বীর, ইসলাম ও মুসলিমদের অধিপতি, দুনিয়া ও দ্বীনের সাহায্যকারী আবুল হাসান বিন সুলতান ফাদিল—যিনি বর্ষণমুখর মেঘের ন্যায় দানশীল, মুসলিমদের আমির, রাজা ও সুলতানদের শ্রেষ্ঠ নির্যাস, আবিদ ও মুজাহিদ আবু সাঈদ, জগতসমূহের রবের পথে জিহাদকারী আবু ইউসুফ ইয়াকুব বিন আব্দুল হক আল-মারিনির রাজধানী। আল্লাহ তাআলা তাদের শক্তিশালী করুন এবং সৌভাগ্যবান করুন। আমরা যখন সওয়ারি থেকে নামলাম এবং হাওদাগুলো রাখলাম, তখন সূর্য ঢলে পড়া স্পষ্ট হয়ে উঠল এবং জুমার নামাজের জন্য পবিত্রতা অর্জন আবশ্যক হয়ে পড়ল। আমরা সফরের ক্লান্তি দূর করলাম এবং সুন্নাত অনুযায়ী জুমার গোসল সম্পন্ন করলাম। অতঃপর সুগন্ধি ও চন্দন কাঠের ঘ্রাণে নিজেদের সুরভিত করে খুতবা ও খতিবের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করলাম। এমন এক সুগন্ধি যার কোনো তুলনা নেই, যা সুন্নাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যখন তাকে আগুনে দেওয়া হয় তখন তা জান্নাতের ঘ্রাণের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা সেনানি বাসে বিচরণ করলাম, যা এমন এক উদ্যান যেখানে ঘোড়া ও লাগাম উৎপন্ন হয় এবং এমন এক সমুদ্র যা বল্লম ও বর্শায় উথালপাথাল। ঝাণ্ডার প্রান্তগুলো পতপত করে উড়ছিল এবং তার অগ্রভাগ যেন বিজয়ের বার্তা দিচ্ছিল। অবস্থা স্থিতিশীল ছিল এবং সেখানে অবস্থানকারীদের তাবুসমূহ দণ্ডায়মান ছিল। সেগুলো তুষারপাতের মতো ধবধবে সাদা এবং দাবার ঘরের মতো সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধ ছিল। বনভূমি ও উদ্ভিদের উজ্জ্বলতায় আকাশ উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল এবং তা এমন এক শহরকে তদারকি করছিল যাকে সবদিক থেকে ফুল ও নহরসমূহ ঘিরে রেখেছে। আমরা সেখানে অবস্থান করে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদসমূহ বিনিময় করলাম এবং নেয়ামতের সুধা পান করলাম। আমি তার চারদিকে এমনভাবে ঘুরে বেড়ালাম যেমন কোনো প্রমোদ উদ্যানে দৃষ্টি বিচরণ করে। এমনকি সেই জনাকীর্ণ সমাবেশে একদল গুণী ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করে ধন্য হলাম। তাদের কেউ কেউ সেখানকার এক অধিবাসী, লেখক আবু বকর বিন খাত্তাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর কিছু কবিতা আমাকে শোনালেন। তাঁর অন্যান্য কাব্যসহ এই কবিতাটি আমি প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও খতিব হাজি ফাদিল আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন উমর বিন রশিদ আল-ফিহরি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর অনুমতিতে লাভ করেছি। তিনি বলেছেন: আমাদের শায়খ, সাহিত্যিক ও বাগ্মী লেখক আবু বকর বিন খাত্তাব তিলিমসানে নিজের রচিত এই কবিতাটি আমাদের শুনিয়েছেন:

পূর্ণিমা রাতে চাঁদ উদিত হলো, তার চমকে হৃদয় শঙ্কিত হলো … আমি রাত কাটালাম অথচ আমার চোখের পাতা ঘুমের স্বাদ পায়নি।

মেঘের আড়ালে তা স্পন্দিত ধমনীর মতো প্রকাশ পেল … যা তার ক্রমাগত স্পন্দনের মাধ্যমে আমার অসুস্থতার সাক্ষ্য দিচ্ছিল।

যখন সে ইয়েমেনিদের মতো প্রকাশ পেল তখন আমি তাকে সম্মান জানালাম … এবং তার সেই নির্ধারিত হকের জন্য আমার অশ্রু দিয়ে পবিত্রতা পূর্ণ করলাম।

আমি প্রেমের হকের ওয়াজিব আদায় করলাম … আমি প্রেমিকদের দল থেকে বিচ্যুত হয়ে যাব যদি আমি তা পূর্ণ না করি।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ৪)
وذكرني عصر الشباب وطيبه … وعيشا تحلينا مليا بغضه

وعهدا شددنا عقده بيد الوفا … فلا بطشت كف تمد لنقضه

فيا ساري البرق الذي ضاعف الأسى … على دنف ما زال يشقى بنضه

أعندك من أهل العقيق رسالة … أقارضك عن إبلاغها خير قرضه

وإلا فبلغهم تحية موجع … يعاني الذي ينهد رضوى لبعضه

وجرد على واديهم ذيل ديمة … تنمنم بالأزهار صفحة أرضه

حنيني إلى الوادي لأجل جوارهم … مجاورة المخفوض تعدى بخفضه

ثم زرت تربة ولي الله تعالى ابن مدين مرة أولى وثانية، وأقمت بالمحلة أياما ثمانية، وكان خروجي منها ورحيلي عنها في صبيحة يوم السبت، الموفى عشرين جمادى الأولى المذكور، ولم نزل نقطع مهامه قفار، ونجوز في أودية وبحار، ونشاهد من الأرض والسماء كل نهر سائل وغيم مدرار، إلى أن وردنا) مدينة الجزائر (، في آخر يوم الخميس الثاني لجمادى الثانية من العام المذكور والليل قد غول، والنهار قد تحول، والقلب لا يصبو إلا لأول منزل، ولا يحن إلا إلى الحبيب الأول، ولما طرزت طرة الظلام يد إلا صباح، وأرسل الفجر في رداء السحر خيط الصباح أسرعنا مبادرين، وبادرنا مسرعين، وتفرقنا في سكك المدينة أجمعين، فرأيت محيا صبيحا وتربا مليحا ومسجدا عتيقا، وبناء أنيقا، وأناسا قد سلكوا إلى الحسن والإحسان طريقا، من مدينة أقسمت بعلو هضابها إلا بفوز مبسم الثريا برشف رضابها، فلا ترتقيها إلا الظنون، وكأنها ضب ومن يطمع فيها نون، قد أحاط بها البحر إحاطة السوار بالزناد فألبس ذلك الجسم روح المجد، وركب خلائق الوهد على ذلك النجد، فأقمنا بها نحكم في حزن الأنس وسهله، حكم الصبي على أهله، حتى قرب أمد الرحيل، وغلب واجبه على المستحيل، فعزمت على الخروج، وسرت على بياض ذلك الساحل وخضرة تلك المروج.

يا بياضا أدرى دموعي حتى … عاد منها سواد عيني عقيقا

وخرجنا في صبيحة يوم الاثنين السادس لجمادى الثانية المذكورة فدخلنا في أمر عظيم، وطريق غير مستقيم، وعذاب يوم عظيم، نصعد على التهائم ونغور في النجود ونسلك كل مخدع لم يكن بالمألوف ولا بالعهود. ولا كان مسلكا إلا للذئاب واللصوص والأسود، إلى شعراء بالخوف مشعرة، وأرض خالية مقفرة، وجبال منخرقة في الجو وعرة، تقطع الأسباب، وتخلع الألباب، وتذكر الصراط والميزان والحساب، وأظن الخطابي إياها عنى بقوله:

سلكت عقابا في طريقي كأنها … صياصي ديوك أو أكف عقاب

وما ذاك إلا أن ذنبي أحاط بي … فكان عقابي في سلوك عقاب
যৌবনকাল ও তার সুঘ্রাণ আমাকে মনে করিয়ে দেয় … এবং এমন এক জীবন যার প্রতিটি মুহূর্ত আমরা সজীবতায় কাটিয়েছি

এবং এমন এক অঙ্গীকার যা আমরা বিশ্বস্ততার হাতে সুদৃঢ় করেছি … যা ছিন্ন করার জন্য প্রসারিত হাত যেন কখনও সফল না হয়

হে ধাবমান বিদ্যুৎ! যা সেই পীড়িত ব্যক্তির শোক বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় … যে তার দুর্বলতায় অনবরত কষ্ট পাচ্ছে

তোমার কাছে কি আকিকের অধিবাসীদের কোনো বার্তা আছে? … আমি কি তার বিনিময়ে তোমাকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করব?

আর যদি না থাকে, তবে তাদের কাছে এক ব্যথিত হৃদয়ের সালাম পৌঁছে দিও … যে এমন যাতনা ভোগ করছে যার ভারে রাযওয়া পাহাড়ও চূর্ণ হয়ে যেত

তাদের উপত্যকায় বর্ষণের আঁচল বিছিয়ে দাও … যা তার ভূমির উপরিভাগকে পুষ্পরাজিতে সুশোভিত করবে

সেই উপত্যকার প্রতি আমার ব্যাকুলতা তাদের সান্নিধ্যের কারণে … যেমন পদের সান্নিধ্য পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে

অতঃপর আমি আল্লাহ তাআলার ওলি ইবনে মাদীন-এর মাজার প্রথম ও দ্বিতীয়বার জিয়ারত করলাম এবং মহল্লায় আট দিন অবস্থান করলাম। সেখান থেকে আমার প্রস্থান ও যাত্রা ছিল বর্ণিত জুমাদাল উলা মাসের বিশ তারিখ শনিবার সকালে। আমরা অনবরত মরুপ্রান্তর পাড়ি দিতে থাকলাম এবং উপত্যকা ও সমুদ্র অতিক্রম করতে থাকলাম। আমরা জমিন ও আসমানের প্রতিটি প্রবহমান নদী ও অবিরাম বর্ষণকারী মেঘমালা প্রত্যক্ষ করলাম, যতক্ষণ না বর্ণিত বছরের জুমাদাস সানি মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবারের শেষ ভাগে আমরা আলজিয়ার্স শহরে উপনীত হলাম। তখন রাত ঘনীভূত হয়েছে এবং দিন অপসৃত হয়েছে। আর অন্তর তো প্রথম আবাসের জন্যই ব্যাকুল হয় এবং প্রথম বন্ধুর জন্যই কাঁদে। যখন প্রভাতের আলো অন্ধকারের ললাটদেশ সুশোভিত করল এবং ভোরের সুতো ভোরের চাদরে ছড়িয়ে পড়ল, তখন আমরা দ্রুতবেগে অগ্রসর হলাম এবং শহরের প্রতিটি গলিতে ছড়িয়ে পড়লাম। আমি সেখানে উজ্জ্বল মুখমণ্ডল, মনোরম সহযাত্রী, প্রাচীন মসজিদ, সুনিপুণ স্থাপত্য এবং এমন কিছু মানুষ দেখলাম যারা সৌন্দর্য ও সদাচরণের পথ অবলম্বন করেছে। এমন এক শহর যার সুউচ্চ টিলাগুলোর শপথ করে বলা যায়, সুরাইয়া নক্ষত্র যেন তার ওষ্ঠাধর চুম্বনে ধন্য হয়েছে। সেখানে কল্পনা ছাড়া আর কেউ আরোহণ করতে পারে না, আর তা যেন এক গুইসাপ যার ওপর মীন নক্ষত্র লোভ করে। সমুদ্র তাকে এমনভাবে বেষ্টন করে আছে যেমন কবজিকে কঙ্কণ বেষ্টন করে থাকে, যা সেই দেহের ওপর গৌরবের রুহ পরিধান করিয়েছে। আর নিচু ভূমির স্বভাবকে সেই উচ্চভূমির ওপর স্থাপন করেছে। আমরা সেখানে আনন্দের কঠিন ও সহজ অবস্থায় এমনভাবে অবস্থান করলাম যেমন একটি শিশু তার পরিবারের মাঝে থাকে। শেষ পর্যন্ত যাত্রার সময় ঘনিয়ে এল এবং এর আবশ্যকতা অসম্ভবকে জয় করল। অতঃপর আমি প্রস্থানের সংকল্প করলাম এবং সেই উপকূলের শুভ্রতা ও তৃণভূমির সবুজ শ্যামলিমার ওপর দিয়ে চলতে থাকলাম।

হে সেই শুভ্রতা যা আমার অশ্রু ঝরিয়েছে, এমনকি … আমার চোখের মণি তার কারণে আকিক পাথরের ন্যায় লাল হয়ে গেছে

আমরা বর্ণিত জুমাদাস সানি মাসের ছয় তারিখ সোমবার সকালে বের হলাম এবং এক মহাসংকটে ও অসমতল পথে প্রবেশ করলাম, যা যেন এক মহা দিবসের আজাব। আমরা টিলাগুলোতে আরোহণ করছিলাম এবং নিচুভূমিতে তলিয়ে যাচ্ছিলাম। আমরা এমন প্রতিটি সংকীর্ণ পথ অতিক্রম করছিলাম যা পরিচিত ছিল না এবং যার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। তা ছিল কেবল নেকড়ে, চোর এবং সিংহদের বিচরণস্থল। এমন বনাঞ্চল যা ভীতি সঞ্চার করে, বিজন মরুভূমি এবং আকাশে বিদীর্ণ হওয়া দুর্গম পাহাড়। যা সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়, বুদ্ধি লোপ করে দেয় এবং পুলসিরাত, মিযান ও হিসাবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমার ধারণা আল-খাত্তাবি তার এই বাণীর মাধ্যমে এটিই বুঝিয়েছেন:

আমি আমার পথে এমন গিরিপথ অতিক্রম করেছি যা যেন … মোরগের নখ বা ঈগলের থাবা

আর তা কেবল একারণেই যে আমার পাপ আমাকে ঘিরে ধরেছে … তাই গিরিপথ পাড়ি দেওয়াটাই ছিল আমার জন্য শাস্তি
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ৫)
فبقينا نكابد عظيم ذلك الأمر، ونسير ولا نفارق ساحل البحر، ونرقى العنق التي تقربنا من السماك وتدنينا من النسر، وقد اشتد البرد، وبلغ الجد، وفرع الجهد، ووقع الثلج، وعمى النهج، وابتلى به الفج والمرج، فتصبح وصباحنا أبيض، وجناحنا لا ينهض، والعروق لا تنبض، والبروق لا تومض، والخيام لجمودها واقفة على غير عمودها، والنيران مقرورة، وشفاه الجليد مطرورة، والزناد كابية، والصعاد نابية، والوجوه في عبوس، والوجود في بوس، وقد جمدنا كأننا بلا نفوس، فنبت الأيدي على ان تبطش، والأقدام عن أن تنهض، وأسود يومي منه وان كان به أبيض، وجاءت السماء بسيل عرم، ولهب قر يضطرم، وقد صوب الغمام سهامه، ولبس الجو لحرب المحل لامه، فلم يبق قطر إلا وقد نفدت فيه تلك السهام، ولا أفق إلا وعلاه من خيوط الودق المحتبسة مثل القتام، فلا أحد إلا وجد من ذلك ما أقلقه، وأحرق قلبه بتواليه وان كان في الحقيقة أغرقه، وسرنا والعناء قد بلغ منا الغاية وانتهى بنا إلى النهاية، حتى وصلنا إلى) بجاية (، فدخلناها في يوم الاثنين الثالث عشر لجمادى الثانية) المذكور (بلدة قدرها خطير، وذكرها في كل زمن يطير، وخطابها من الملوك كثير، ومحلها من النفوس أثير، فكم هاجت من كفاح، وملت عليها في بيض وصفاح، يمتد أمامها بسيط أخضر، مد البصر قد أجرى الله فيه مذانب الماء تسقيه، وتضرب في نواحيه، كأنها سبائك اللجين ممدودة في بساط الزبرجد، محفوفة بالزمرد والعسجد، والبساتين ملتفة الأشجار، يانعة الثمار، والنهر الأعظم ينساب بين يديها قد انعطف عليها انعطاف السوار، والحدائق تنتظم بحافيته، وتفيء ظلالها الوارفة عليه، فهي النضيرة الدوح، العذبة الأنهار، الطيبة الهواء المشرقة الأضواء، التي اجتمعت عليها الأمراء، وسلم لها الهواء، وشيد فيها البناء، وبعد لها الصيت المدود والثناء، انتظم فيها من الوادي والبحر، قلادتان على ذلك النحر، قد حلينا ذلك البلد، وتجلينا كوالد وما ولد، قد مرجها الله بحرين يلتقيان، بينهما برزخ لا يبغيان، فإذا ضاحكتهما الشمس أنعكس الضياء، وزاد الاحتفال في النور والأفياء، إلى حدائق قد انتظمت انتظام الأحباب، وشقائق ترفل في أثواب الشباب، وتسدل أذيالها بين تلك القباب.

ورياض كأنما نثرت فو … ق ثراها حريرة خضراء

أعين النرجس الجنى نجوم … واخضرار الرياض منها سماء

للثرى تحتها شيات وللما … غطيط وللغصون لقاء

فأول من لقيته من أرباب المحابر، وركاب أعواد الكراسي والمنابر، فاضل الأفاضل وكبير الأكابر، الشيخ العالم المحدث، أبو عبد الله محمد بن جعفر رحمه الله، قصدت لقاءه والأخذ عنه وقدمته وكنت أسمع من ملفوظ حامده، ومحفوظ محامده، ما هو بغية السامع وحلية للمسامع، فلما رويت من مكارمه ما رويت، استصغرت ما سمعت لعظيم ما رأيت واستقللت ما سمعت أذناي، لما عاينته عيناي، وأنشدت لنجم الدين بن مهذب الدين:

كانت محادثة الركبان تخبرني … عن مجدكم وسناكم أطيب الخبر

حتى التقينا فلا والله ما سمعت … أذني بأحسن مما قد رأى بصري

فأنزلني بمنزله الكريم، وقابلني بالترفيع والتكريم، وأقمت معه فيه يفيض على من كرمه بحرا زاخرا، ويفاوضني من علمه منهلا لا أجد له أخرا، ويرويني بمسوغاته الفاضلة، ويرويني من مسوعاته الحافلة، فلا أدري من أي بحريه أعجب، ولا أيهما أروى وأعذب، حتى قلت له:

أبكيت عين الغيث لما فته … كرما فثغر البرق منه يضحك

فارتاح وتهلل، وأكثر من الأفضل وما قلل، وجرى على عادته في المكارم والانطباع فأنشدته:

ولو صورت نفسك لم تزدها … على ما فيك من كرم الطباع
আমরা সেই মহান বিপদের ধকল সইতে থাকলাম এবং সমুদ্র উপকূল ত্যাগ না করে পথ চলতে থাকলাম। আমরা এমন এক উঁচু স্থানে আরোহণ করলাম যা আমাদের সিমান নক্ষত্রের নিকটবর্তী এবং নাসর নক্ষত্রের কাছে নিয়ে আসছিল। প্রচণ্ড শীত জেঁকে বসল, চরম কষ্টের সৃষ্টি হলো, সমস্ত প্রচেষ্টা নিঃশেষ হতে থাকল এবং তুষারপাত শুরু হলো। পথ রুদ্ধ হয়ে গেল, আর গিরিপথ ও প্রান্তর তাতে আক্রান্ত হলো। ফলে সকাল হলো এবং আমাদের সকাল ছিল শ্বেতশুভ্র তুষারে আবৃত, আমাদের ডানা যেন আর উঠতে পারছিল না, ধমনিগুলো স্পন্দিত হচ্ছিল না, বিদ্যুৎ আর চমকাচ্ছিল না। তাবুগুলো জমে যাওয়ার কারণে খুঁটি ছাড়াই দাঁড়িয়ে রইল। আগুনগুলো শীতল হয়ে গেল, বরফের ধারালো প্রান্ত যেন চুঁইয়ে পড়ছিল। চকমকি পাথর নিভে গেল, বর্শাগুলো অকেজো হয়ে পড়ল, মুখমণ্ডলগুলো মলিন হয়ে গেল এবং অস্তিত্ব চরম দুর্দশায় পড়ল। আমরা এমনভাবে জমে গেলাম যেন আমাদের মাঝে কোনো প্রাণ নেই। হাতগুলো কিছু আঁকড়ে ধরতে অক্ষম হয়ে গেল এবং পাগুলো উঠে দাঁড়াতে পারল না। দিনটি যদিও শুভ্র ছিল, কিন্তু আমার জন্য তা অন্ধকার হয়ে উঠল। আকাশ প্রবল ঢল নামাল এবং এক প্রজ্বলিত শীতল আগুনের শিখা নেমে এল। মেঘ তার বাণ বর্ষণ করল এবং আকাশ যেন দুর্ভিক্ষের যুদ্ধের জন্য তার বর্ম পরিধান করল। প্রতিটি বিন্দুই যেন সেই বাণের লক্ষ্যভেদ করল, আর প্রতিটি দিগন্ত রুদ্ধ বৃষ্টির ধারায় ধূলিময় আঁধারে ছেয়ে গেল। এমন কেউ ছিল না যে এর দ্বারা অস্থির হয়ে ওঠেনি, এবং যদিও তা তাকে ডুবিয়ে দিচ্ছিল, তবুও একের পর এক বিপদে তার অন্তর পুড়ে যাচ্ছিল। আমরা চলতে থাকলাম আর ক্লান্তি আমাদের চরমে পৌঁছে দিল এবং আমাদের শেষ সীমায় নিয়ে গেল, অবশেষে আমরা বেজায়ায় পৌঁছলাম। আমরা সেখানে সোমবার, তেরই জুমাদাল আখিরাতে প্রবেশ করলাম। এটি এমন এক শহর যার মর্যাদা সুমহান, যার খ্যাতি সর্বকালে বিস্তৃত, রাজাদের কাছে এর কদর অনেক, এবং মানুষের অন্তরে এর বিশেষ স্থান রয়েছে। কত সংগ্রাম একে আলোড়িত করেছে, কত তরবারি ও বর্ম এর ওপর ঝুঁকে পড়েছে। এর সামনে বিস্তৃত এক সবুজ প্রান্তর দিগন্ত পর্যন্ত প্রসারিত, যেখানে আল্লাহ পানির নালাসমূহ প্রবাহিত করেছেন যা একে সিক্ত করে এবং এর চারপাশ দিয়ে বয়ে চলে। যেন সেগুলো ফিরোজা গালিচায় বিছানো রূপার পাত, যা পান্না ও স্বর্ণ দিয়ে ঘেরা। বাগানগুলো ঘন বৃক্ষরাজিতে ঘেরা, যার ফলসমূহ সুপক্ক। সুবৃহৎ নদীটি এর সামনে দিয়ে বয়ে চলেছে, যেন তা শহরের ওপর কঙ্কনের মতো পেঁচিয়ে আছে। উদ্যানগুলো তার তীরে সুশৃঙ্খলভাবে সজ্জিত এবং তাদের সুশীতল ছায়া তার ওপর পড়ে আছে। সেটি সুনিবিড় বনানী, সুমিষ্ট নদী, নির্মল বায়ু এবং উজ্জ্বল আলোয় ঘেরা এমন এক স্থান, যেখানে আমিররা সমবেত হন, আবহাওয়া যেখানে শান্ত, অট্টালিকা যেখানে সুউচ্চ এবং যার সুখ্যাতি ও প্রশংসা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। উপত্যকা এবং সমুদ্র থেকে যেন দুটি হার সেই কণ্ঠদেশে শোভা পাচ্ছে। আমরা সেই জনপদে অবস্থান করলাম এবং সেখানে প্রস্ফুটিত হলাম। আল্লাহ যেন দুটি সমুদ্রকে মিলিত করেছেন যাদের মাঝে এক অন্তরাল রয়েছে যা তারা অতিক্রম করে না। যখন সূর্য তাদের দিকে হাসে, তখন আলো প্রতিফলিত হয় এবং আলো ও ছায়ার খেলা বৃদ্ধি পায়। উদ্যানগুলো সেখানে বন্ধুদের মতো সুশৃঙ্খলভাবে সজ্জিত, আর লাল ফুলগুলো যেন যৌবনের পোশাকে গর্বিতভাবে বিচরণ করছে এবং সেই গম্বুজগুলোর মাঝে তাদের আঁচল ঝুলিয়ে দিচ্ছে।

আর সেইসব কানন, যেন তাদের মাটির ওপর … সবুজ রেশমি বস্ত্র বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাজা নার্গিসের চোখগুলো যেন নক্ষত্ররাজি … আর বাগানের সবুজায়ন যেন তাদের আকাশ।

নিচের মাটির রয়েছে বিচিত্র বর্ণ, পানির রয়েছে … কলতান, আর ডালপালার রয়েছে একে অপরের সাথে আলিঙ্গন।

কালি ও কলমের মালিকদের মধ্যে এবং মিম্বর ও মসনদের আরোহীদের মধ্যে প্রথম যাঁর সাথে আমি সাক্ষাৎ করলাম, তিনি হলেন শ্রেষ্ঠদের শ্রেষ্ঠ এবং বড়দের বড়, প্রাজ্ঞ আলেম ও মুহাদ্দিস আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন জাফর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁর থেকে ইলম অর্জনের ইচ্ছা পোষণ করলাম এবং তাঁকে অগ্রাধিকার দিলাম। আমি তাঁর প্রশংসাকারীদের মুখে এবং সংরক্ষিত প্রশংসাবাক্যে এমন কিছু শুনেছিলাম যা শ্রবণকারীর আকাঙ্ক্ষা এবং কানের ভূষণ। যখন আমি তাঁর মহানুভবতা থেকে যা অর্জন করার ছিল তা অর্জন করলাম, তখন আমি যা দেখেছিলাম তার বিশালতার কাছে যা শুনেছিলাম তাকে তুচ্ছ মনে হলো। আমার চোখ যা প্রত্যক্ষ করল, তার সামনে আমার কান যা শুনেছিল তা নগণ্য মনে হলো। আমি নাজমুদ্দিন বিন মুহাজ্জিবুদ্দিনের এই কবিতাটি আবৃত্তি করলাম:

আরোহীদের কথোপকথন আমাকে আপনাদের … গৌরব ও মর্যাদার বিষয়ে চমৎকার সংবাদ দিচ্ছিল।

পর্যন্ত যখন আমরা মিলিত হলাম, তখন আল্লাহর কসম, … আমার কান আমার চোখের দেখা সৌন্দর্যের চেয়ে উত্তম কিছু শোনেনি।

তিনি আমাকে তাঁর সম্মানিত গৃহে স্থান দিলেন এবং অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার সাথে গ্রহণ করলেন। আমি তাঁর সাথে সেখানে অবস্থান করলাম। তিনি তাঁর মহানুভবতা থেকে আমার ওপর উত্তাল সমুদ্রের মতো দান বর্ষণ করছিলেন এবং তাঁর জ্ঞান থেকে এমন এক প্রস্রবণ নিয়ে আলোচনা করছিলেন যার কোনো শেষ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তিনি আমাকে তাঁর শ্রেষ্ঠ গুণাবলি দিয়ে সিক্ত করছিলেন এবং তাঁর সমৃদ্ধ শ্রবণীয় জ্ঞান দ্বারা পরিতৃপ্ত করছিলেন। আমি জানতাম না তাঁর কোন সমুদ্রটি নিয়ে আমি বিস্ময় প্রকাশ করব, আর কোনটি অধিক তৃপ্তিদায়ক ও সুমিষ্ট। এমনকি আমি তাঁকে বললাম:

আপনি বৃষ্টির চোখকে কাঁদিয়েছেন যখন আপনি উদারতায় তাকে … ছাড়িয়ে গেছেন, ফলে বিদ্যুতের হাসি তার মাঝে প্রকাশিত হচ্ছে।

এতে তিনি আনন্দিত ও প্রফুল্ল হলেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব আরও বাড়িয়ে দিলেন, তাতে কোনো কমতি করলেন না। তাঁর স্বভাবজাত উদারতা ও চরিত্রের মাধুর্য অনুযায়ী তিনি আচরণ করতে থাকলেন, তখন আমি আবৃত্তি করলাম:

যদি আপনি নিজের প্রতিকৃতি তৈরি করতেন, তবে আপনার মাঝে … যে উদার স্বভাব রয়েছে, তার চেয়ে বেশি কিছু আর যোগ করতে পারতেন না।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ৬)
سمعت عليه تصانيف كثيرة، وأجازني وكتب لي بخطه، وكان رحمه الله إمام هدى وعدالة، ووحيد معارف وجلالة، حالي الرواية، كامل المعرفة والدراية، رصين العقل، إماما في التحديث والنقل، متفاوت الكرم، بعيد الهمم زكي الشيم، حسن المفازع، مليح المبادئ والمقاطع، واقعا من النفس أحلى المواقع، ذكر لي: قال ذكر لي الشيخ القاضي أبو العباس الرندى قال: كنا جلوسا بحضرة تونس مع القاضي بها أبى العباس ابن الغماز لارتقاب شهر شوال، وإذا بطفل صغير وسيم قد نظر ورآه قبلنا فقال القاضي ابن الغماز: كنا جلوسا مع الشيخ أبى الربيع بن سالم الكلاعى بمدينة بلنسية لارتقاب هلال شوال فأول من رآه غلام وضئ الوجه من قرابة الشيخ، فارتجل الشيخ ساعتئذ:

توارى هلال الأفق عن أعين الورى … وغطى بسجف الغيم زهوا محياه

فلما أتى) شقيقه (ليزوره … تبدى له دون الأنام فحياه

ومما أنشدته فاستغربه وحفظه وكتبه، ما أنشدني الشيخ الخطيب المحدث الحاج الفاضل أبو عبد الله محمد بن عمر بن رشيد إجازة قال أنشدني ناصر الدين نصير بن أحمد بن علي المصري المناوي الحمامي بحمامة بمصر لنفسه في فتى اسمه فرج الله على طريق التورية.

أقول لقلبي وقد ذاب في … هوى شادن حاز حسنا غريبا

تصبر إذا كنت في شدة … عسى فرج الله يأتي قريبا

وأنشدني لبعضهم عند الوداع:

يا راحلا ودموع العين تسبقه … هل من سبيل إلى لقياك تتفق

ما أنصفتك جفوني وهي دامية … ولا وفى لك قلبي وهو محترق

وقد أفادني من فرائد الفوائد، ما لا يفيده إلا فرائد العلماء إلا ما جد، كانت مجالستي إياه ببجاية آخر العهد به فأنه توفي بعد انفصالي منها ونزوحي عنها على أحسن ما أجرى الله حاله عليه من حسن السيرة وخلوص السريرة، جدد الله عليه من الرحمة والمغفرة، وجعله من الذين قال الله فيهم وجوه يومئذ مسفرة، ثم لقيت بها جملة من الفضلاء وجلة من العلماء قد ضمهم الولاء في فلكه:

لهم همم كما شمخت جبال … وأخلاق كما هشت بطاح

ترى بهم النجوم، ولا ظلام … واوضاح النهاو ولا صباح

قصدت الرؤية لهم والرواية عنهم، فنحوا نحوه، وحذوا حذوه، واقتدوا بفعله، وان لم يدركوا شأوه:

يا بارقا بأعالي الرقمتين بدا … لقد حكيت ولكن فاتك الشنب

ثم أخذت في حركة الخروج من ذلك القطر الذي هو حاضرة البحر ونادرة الدهر، وموطن الفضلاء من أهل العصر الذين طبق ذكرهم تطبيق الغمائم ونم كما نمت بأزاهرها الكمائم، ولهم مآثر بتعاطي الركب حمياها، ويتعاطى نوافح رياها:

وما أراني بمستوف مناقبهم … ولو نظمت لهم زهر النجوم حلا

ففارقت الصبر عند مفارقة تلك المنازع، وودعت الجلد عند وداعي لذلك المسجد الجامع. وسرت وقلبي في تلك التلاع وتلك الاجارع، وقد خامرني الفرق، واستولى على جفني الأرق، وأولعت بما يولع به المشفق. وأنفقت دمعي وكل امرئ مما عنده ينفق، ورحم الله زهيرا المهلبي، فعن حالي عبر بقوله:

إلى كم جفوني بالدموع قريحة … وحتى م قلبي بالتفرق خافق

ففي كل يوم لي حنين مجدد … وفي كل أرض لي حبيب مفارق

ومن خلقي أني ألوف وانه … يطول التفاتي للذين أفارق

وأقسم ما فارقت في الأرض موضعا … ويذكر إلا والدموع سوابق

فيممت خير ميمم وفارقت غير مذمم، وخرجت منها في صبيحة يوم الأحد الحادي عشر لرجب الفرد، من العام المذكور، على ضفة الوادي الكبير بين المنازل والقصور:

يا وادي القصر نعم القصر والوادي … من منزل حاضر ان شئت أو بادي

ترى قرى قرة والعيس واقفة … والضب والنون والملاح والحادي

فعبرت من الوادي الصغير بمثل ما أجرته جفوني من الدموع، وخطرت من الرشة على ما أبرزته من الربيع والربوع، واجتزت على الربيع الرفيع، وحررت بالبديع البديع، وسلكت على تلك المرابع الرائقة بالنزهة والتوديع.

ولقد وقفت بها وكف ربيعها … في نسج حلة نورها يتأنق

وسدا خيوط المزن يرسلها الحيا … أبدا وأكمام النبات تفتق

والروض تولاه الولي ووسمه الوسمى وجشمته نسمات الرياح، وأظللته رايات الصباح، وغازلت كواكب الفجر عيون نرجسه الوقاح، وباكرت الصبا تقبيل ثنايا غوره الوضاح:
আমি তাঁর নিকট অনেকগুলো গ্রন্থ পাঠ করেছি, তিনি আমাকে ইজাজত প্রদান করেছেন এবং নিজ হস্তাক্ষরে আমার জন্য লিখেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি ছিলেন হিদায়াত ও ন্যায়বিচারের ইমাম, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্বে অনন্য, বর্ণনার ক্ষেত্রে উচ্চমর্যাদার অধিকারী এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় পূর্ণাঙ্গ। তিনি ছিলেন সুস্থ বিবেকের অধিকারী, হাদিস বর্ণনা ও রিওয়ায়াতের ক্ষেত্রে একজন ইমাম, অনন্য দানশীল এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পবিত্র চরিত্রের অধিকারী। তাঁর আশ্রয়স্থল ছিল অতি উত্তম, তাঁর প্রারম্ভ ও সমাপ্তি ছিল চমৎকার এবং তিনি অন্তরের গভীরে অতি মধুর স্থান দখল করে নিয়েছিলেন। তিনি আমার কাছে উল্লেখ করেছেন: শায়খ কাজী আবুল আব্বাস আর-রুন্দি আমাকে বলেছেন যে, আমরা তিউনিসিয়ায় কাজী আবুল আব্বাস ইবনুল গাম্মাজের উপস্থিতিতে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার জন্য বসেছিলাম। এমতাবস্থায় একজন সুন্দর চেহারার ছোট বালক আমাদের সবার আগে চাঁদ দেখে ফেলল। তখন কাজী ইবনুল গাম্মাজ বললেন: আমরা শায়খ আবু রাবি ইবনে সালিম আল-কালাঈর সাথে বালেন্সিয়া শহরে শাওয়ালের চাঁদ দেখার জন্য বসেছিলাম, তখন শায়খের এক নিকটাত্মীয় সুন্দর চেহারার বালক প্রথম চাঁদ দেখতে পায়। সে মুহূর্তে শায়খ তাৎক্ষণিকভাবে এই কবিতাটি আবৃত্তি করেন:

দিগন্তের বাঁকা চাঁদ সৃষ্টিজগতের চোখের আড়ালে বিলীন হলো … এবং সগৌরবে মেঘের আবরণে তার মুখমণ্ডল ঢেকে নিল।

অতঃপর যখন তার সহোদর (সুদর্শন বালক) তাকে দেখতে এল … তখন সে অন্য সবার অলক্ষ্যে তার কাছে প্রকাশিত হলো এবং তাকে অভিবাদন জানাল।

আমি তাঁকে এমন কিছু কবিতা শুনিয়েছিলাম যা শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন এবং তা মুখস্থ ও লিপিবদ্ধ করেছিলেন। খতিব, মুহাদ্দিস ও ফাজিল হাজি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর বিন রাশিদ ইজাজতসূত্রে আমাকে শুনিয়েছেন যে, নাসিরুদ্দিন নাসির বিন আহমদ বিন আলী আল-মিসরি আল-মুনাওয়ি আল-হাম্মামি মিসরের এক হাম্মামে (গোসলখানায়) ফরাজ আল্লাহ নামক এক যুবকের স্মরণে শ্লেষাত্মক (তাওরিয়াহ) ভঙ্গিতে নিজের রচিত এই কবিতাটি আমাকে শুনিয়েছেন:

আমি আমার হৃদয়কে বলছি—যা এক হরিণশাবকের (সুদর্শন যুবক) প্রেমে বিগলিত হয়েছে … যে এক অদ্ভুত সৌন্দর্যের অধিকারী।

তুমি বিপদে ধৈর্য ধারণ করো … সম্ভবত আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তি (ফরাজ আল্লাহ) শীঘ্রই আসবে।

বিদায়বেলায় তিনি আমাকে কারো কারো এই কবিতাটি শুনিয়েছিলেন:

হে প্রস্থানকারী! চোখের পানি যার আগে আগে বইছে … তোমার সাথে কি সাক্ষাতের কোনো পথ মিলবে?

আমার রক্তিম অক্ষিপল্লব তোমার প্রতি সুবিচার করেনি … এবং আমার দগ্ধ হৃদয়ও তোমার প্রতি অনুগত থাকতে পারেনি।

তিনি আমাকে এমন কিছু দুর্লভ জ্ঞান দান করেছেন যা কেবলমাত্র বরেণ্য বিদ্বানরাই দান করতে পারেন। বেজায়াতে থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে আমার শেষ বৈঠক হয়েছিল, কারণ সেখান থেকে আমার প্রস্থানের পর তিনি ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাঁর অবস্থার ওপর উত্তম ধারা জারি রেখেছিলেন, তাঁর জীবন ছিল সুন্দর এবং অন্তর ছিল কলুষমুক্ত। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও মাগফিরাত নবায়ন করুন এবং তাঁকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন—সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল। অতঃপর আমি সেখানে একদল গুণী ও মহান আলেমদের দেখা পেয়েছি যাদের আনুগত্য ও শ্রদ্ধা তাঁর কক্ষপথেই আবর্তিত হতো:

তাদের সংকল্প পাহাড়ের মতো সুউচ্চ … আর চরিত্র প্রশস্ত উপত্যকার ন্যায় স্নিগ্ধ।

তাদের মাঝে নক্ষত্ররাজির দেখা মেলে অথচ কোনো অন্ধকার নেই … এবং বুদ্ধিবৃত্তিক শুভ্রতা পরিলক্ষিত হয় অথচ তখনো প্রভাত হয়নি।

আমি তাদের দর্শন লাভ ও রিওয়ায়াত সংগ্রহের ইচ্ছা করেছিলাম; তারা তাঁর পথই অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যদিও তারা তাঁর উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেননি:

হে উচ্চ ভূমিতে উদিত বিজলী! … তুমি তো অনেকটা হুবহু অনুকরণ করেছ, কিন্তু দন্তের সেই শুভ্র জ্যোতি তুমি পাওনি।

অতঃপর আমি সেই অঞ্চল থেকে প্রস্থানের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলাম যা সাগরের উপকণ্ঠ এবং কালের এক অনন্য নির্দশন। এটি সমসাময়িক গুণীজনদের আবাসস্থল, যাদের খ্যাতি মেঘমালার ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুষ্পপল্লবের সুবাসের মতো বিকশিত হয়েছে। তাঁদের এমন সব কীর্তি রয়েছে যার সুধাপানে কাফেলা মত্ত থাকে এবং যার সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে:

আমি মনে করি না যে আমি তাদের গুনাগুন বর্ণনা করে শেষ করতে পারব … যদি আমি নক্ষত্ররাজি দিয়েও তাদের জন্য অলঙ্কার গেঁথে দিই।

সেই সব প্রিয় স্থান ত্যাগের সময় আমি ধৈর্যহারা হয়ে পড়লাম এবং সেই জামে মসজিদকে বিদায় জানানোর সময় সহনশীলতাকে বিদায় দিলাম। আমি পথ চলতে লাগলাম অথচ আমার হৃদয় পড়ে রইল সেই টিলা ও প্রান্তরগুলোতে। বিচ্ছেদের ভয় আমাকে আচ্ছন্ন করল, অনিদ্রা আমার চোখে ভর করল এবং আমি এক বিচলিত হৃদয়ের অনুরাগী হয়ে পড়লাম। আমি আমার চোখের পানি অকাতরে ব্যয় করলাম, আর প্রত্যেকে তাই ব্যয় করে যা তার কাছে সঞ্চিত থাকে। আল্লাহ যুহাইর আল-মুহাল্লাবিকে রহম করুন, তিনি আমার অবস্থাটি তাঁর কবিতায় এভাবে ব্যক্ত করেছেন:

আর কতকাল আমার চোখের পাতা চোখের পানিতে রক্তাক্ত হবে … এবং আর কতদিন বিরহের ব্যথায় আমার হৃদয় স্পন্দিত হবে?

প্রতিদিন আমার এক নতুন হাহাকার জন্মে … এবং প্রতিটি জনপদে আমার এক একজন প্রিয়জন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

আমার স্বভাব এই যে আমি অতিশয় আসক্ত … তাই যাদের ছেড়ে যাই তাদের দিকে বারবার ফিরে তাকাই।

আমি কসম খেয়ে বলছি, জমিনের এমন কোনো স্থান আমি ত্যাগ করিনি … যা স্মরণ করার সময় আমার চোখের পানি ঝরেনি।

অতঃপর আমি এক শ্রেষ্ঠ গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হলাম এবং এক অনিন্দনীয় স্থান ত্যাগ করলাম। উল্লিখিত বছরের রজব মাসের ১১ তারিখ রবিবার সকালে আমি সেখান থেকে যাত্রা শুরু করলাম; বড় নদীর তীর দিয়ে ঘরবাড়ি ও প্রাসাদের মাঝখান দিয়ে আমার পথ চলা ছিল:

হে প্রাসাদের উপত্যকা! কতই না চমৎকার এই প্রাসাদ ও উপত্যকা … তা তুমি শহরের আবাস হিসেবে চাও কিংবা মরু প্রান্তরের।

সেখানে তুমি দেখতে পাবে নয়নজুড়ানো জনপদসমূহ এবং দাঁড়িয়ে থাকা উটের কাফেলা … আর দেখতে পাবে গুইসাপ, মাছ, নাবিক ও উষ্ট্রচালক।

আমি ছোট নদীটি অতিক্রম করলাম যা আমার চোখের পানির মতোই প্রবাহিত ছিল। আমি বসন্তের সমারোহে সজ্জিত ভূমি দিয়ে পথ চললাম, আর সেই মনোরম ও চিত্তাকর্ষক প্রান্তরগুলোতে ভ্রমণ ও বিদায়ের মধ্য দিয়ে পথ অতিক্রম করলাম।

আমি সেখানে দাঁড়িয়েছিলাম যখন বসন্তের হস্ত … তার পুষ্পশোভিত পোশাক বুননে ছিল অতি নিপুণ।

মেঘের সুতাগুলো বৃষ্টির ধারায় অবিরাম নেমে আসছিল … আর উদ্ভিদের কলিগুলো প্রস্ফুটিত হচ্ছিল।

বাগানটির দায়িত্ব নিয়েছিল মেঘমালা এবং প্রথম বৃষ্টি তাকে সিক্ত করেছে, বাতাসের হিল্লোল তাকে প্রকম্পিত করেছে, আর ভোরের আলো তাকে ছায়া প্রদান করেছে। ভোরের নক্ষত্ররাজি নার্গিস ফুলের সলজ্জ চোখের দিকে ইশারা করছিল, আর পুবালি বাতাস খুব ভোরে উপত্যকার সেই উজ্জ্বল শুভ্রতাকে চুম্বন করছিল।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ৭)
من قبل أن ترشف شمس الضحى … ريق الغوادي من ثغور الأقاح

والأرض قد أخذت زخرفها وآزينت، وبينت من حكمة الله سبحانه ما بينت ورباها قد تعممت بملونات الأزهار، وأراقم المذانب قد انسابت في مغائر الأنهار، والزمان قد استقبل اذاره، وخلع عذاره:

فالنور عقد والغصون سوالف … والجزع زند والسرى سوار

رقص القضيب بها وقد شرب الثرى … وشدا الحمام وصفق التيار

ثم جزنا الوادي الكبير وهو بحر عباب، وفي كل رقعة من أثوابنا ميزات. وسرنا والموج غمر، وذلك الماء على الأجساد ثلج وفي أكبادنا جمر، والريح ترمي بحاصب، والودق يأتي من كل جانب، والدوافع ترعب، والمذانب تتعب، والقطر قد ملأ كل خرق وسبسب، وورد آتيه من كل آتي ومذهب، وجاء بكل صبح وغيهب. ولم تزل الأمطار تتوالى وتنزل:

كأن السحاب دوين السما … نعام تعلق بالأرجل

فادمعها سح وسكب وديمة … ورش وتوكاف وتنهملان

فسرنا على تلك الحال، ونحن من طوفان تلك السحائب في أعظم الأوحال، وقد أعيا الركوبة ما أدهى حمله من مستنقع الأثقال، حتى وصلنا إلى) قسطنطينة (والركاب فاشلة، والنفوس ذاهلة، والتلاع سائلة، وجفون السحاب هاملة هاطلة، والشآبيب مستمرة، وحلاوة العيش ممرة، والأوحال تمنع من خروج يعيد الأبدان معفرة، والثياب معصفرة، فحللنا منها في حصن حصين، ومكان مكين، وربوة ذات قرار ومعين، وقاعدة أمن وتأمين، وتمهيد وتسكين، صحيحة الهوى، بعيدة المهوى وبسبب ذلك تنسب إلى الهوى المقصور، فيقال: قسطنطينة الهوى، ناهيك من مدينة تحوم حول سحاب القطر، وتسوم بارتفاعها مراقي الكواكب الزهر، وتصون بامتناعها من حدثان الدهر، وتصول ببساط الملك وبسيط الزهر، وتروق بناعم الروض وهامر النهر، وتفخر بجمال المحاسن كل الفخر، ويخترق بطاحها نهر ينساب فيها انسياب الأرقم، ويدور بها دور السوار بالمعصم، ويغوص ببعض حافاتها فيغيب عن العين، ثم يبدو بخارجها كأنه سبائك اللجين، فيسيل على تلك البطاح سيلا، ويتخللها جداوله فتجر بها ذيلا، وتعمها شربا، وتسقي منه بماء واحد ورياه تعود منه بما شئت من صلة وعائد:

نهر يهيم بحسنه من لم يهم … ويجيد فيه الشعر من لم يشعر

ما آصفر وجه الشمس عند غروبها … لا لفرقة حسن ذاك المنظر

بها تتوفر الأرباح، وبأعلاها تتبارى الرياح، وبشتى أقطارها يتلاقى التاجر والفلاح، ويعتز الساكن منها في الحصن الأحمى، والموطن الأسمى، والمحل الأسنى، والعيش الأهنى، ويمسك له في خزائنه الواسعة من ياقوت القوت ما يفنى الدهر وهو لا يفنى، تهابه النفس عند موافاته وتأوي الفتح الكواسر بأدنى حافاته، وتزل أقدام الصاعدين إليه على أكثر صفاته، وتعجز أوصاف الواصفين عن بعض صفاته:

يأوي إليه كل أحور ناعب … وتهب فيه كل ريح صرصر

ويكاد من يرقى إليه مرة … من دهره يشكو انقطاع الابهر

وبادرت فدخلناها في يوم الجمعة السادس عشر لرجب المذكور. وبادرت إلى لقاء الفضلاء، ومباحثة النبلاء، اجتلى واجتنى ولا اجتنب، وأنا والطرس في ملأ انتقى منهم وانتخب. فمما أنشدني المنزل، رب المنزل الشيخ الإمام الرواية الحاج الفاضل المتفضل: أبو الحسن علي بن عبيد الله لبعضهم:

ما رأينا ما سمعنا … كزمان نحن فيه

كل من تلقى تراه … يشتكي ما تشتكيه

وذكر لي قال كتب بعض السؤال إلى بعض أهل هذه المدينة يستجديه ويستحثه بقوله:

ماذا أقول إذا سئلت وقيل لي … ماذا لقيت من الجواد المفضل

ان قلت: أعطاني، كذبت، وأن أقل: … يخل الجواد بما له لم يجمل

فاختر لنفسك ما أقول، فأنني … لا بد أخبرهم وان لم أسئل

فأجابه المسئول بقوله:

أعجلتنا، فأتاك عاجل برنا … قلا، ولو أمهلتنا لم نقلل

فخذ القليل وكن كأنك لم تقل، … ونكون نحن كأننا لم نسأل

وأخبرني قال: أقبل أعرابي إلى داوود بن المهلب فقال له: أني مدحتك فاسمع. فقال على رسلك، ثم دخل بيته وتقلد سيفه وخرج فقال: قل، فان أحسنت حكمناك، وان لم تحسن قتلناك فانشأ يقول:

أمنت بداود وجود يمينه … من الحدث المغشى والبؤس والفقر

فأصبحت لا أخشى بداود نبوة … من الحدثان ان شددت به أزري
চাশতের সূর্য ভোরে মেঘমালার লালা (শিশির) ডেইজি ফুলের মুখ থেকে শুষে নেওয়ার আগেই ... পৃথিবী তার রূপসজ্জা গ্রহণ করেছে এবং সুশোভিত হয়েছে। মহান আল্লাহর হিকমত যা প্রকাশ করার তা সে প্রকাশ করেছে। ভূমির উঁচু অংশগুলো রঙিন পুষ্পরাজির উষ্ণীষ পরিধান করেছে। খালের প্রবাহগুলো নদীর গুহায় সাপের মতো এঁকেবেঁকে প্রবেশ করছে। সময় তার বসন্তকালকে বরণ করে নিয়েছে এবং তার আবরণ উন্মোচন করেছে:

পুষ্প যেন গলার হার, আর ডালপালা যেন কানের পাশের অলক ... চকমকি পাথর যেন কবজি, আর রাতের ভ্রমণ যেন হাতের কঙ্কণ।

মাটি পানি পান করার পর সরু ডালগুলো তাতে নেচে উঠল ... কবুতর গান ধরল আর জলস্রোত তালি বাজাল।

তারপর আমরা বৃহৎ উপত্যকাটি অতিক্রম করলাম, যা ছিল একটি উত্তাল সমুদ্রের ন্যায়। আমাদের পোশাকের প্রতিটি অংশে ভিন্ন ভিন্ন ছাপ পড়েছিল। আমরা ঢেউয়ের মাঝে পথ চলছিলাম। সেই পানি শরীরের জন্য ছিল বরফশীতল, অথচ আমাদের কলিজার ভেতরে ছিল আগুনের অঙ্গার। ঝোড়ো বাতাস নুড়ি পাথর ছুড়ে মারছিল, আর সব দিক থেকে বৃষ্টি আসছিল। পানির স্রোত আতঙ্কিত করছিল, নালাগুলো ক্লান্ত করে দিচ্ছিল। বৃষ্টির ফোঁটা প্রতিটি ফাটল ও প্রান্তর পূর্ণ করে দিয়েছিল। চারদিক থেকে প্লাবন আসছিল এবং তা সব উজ্জ্বলতা ও অন্ধকারকে আচ্ছন্ন করে নিচ্ছিল। বিরামহীনভাবে বৃষ্টি বর্ষিত হচ্ছিল:

আকাশের নিচে মেঘগুলো যেন ... পা দিয়ে ঝুলন্ত উটপাখি।

তার অশ্রুধারা প্রবল বর্ষণ, মুষলধারে পতন ও অবিরাম বারিধারা ... তা ছিটেফোঁটা, টুপটুপ বিন্দু এবং প্রবহমান ধারা।

আমরা এই অবস্থায় পথ চললাম, আর সেই মেঘমালার প্লাবনে আমরা গভীর কাদার মধ্যে নিমজ্জিত ছিলাম। ভারি বোঝার কারণে আরোহীর বাহনগুলো শ্রান্ত হয়ে পড়েছিল। অবশেষে আমরা কুসতান্তিনা (কনস্টানটাইন) শহরে পৌঁছালাম; তখন উটগুলো ক্লান্ত, প্রাণগুলো দিশেহারা, গিরিপথগুলো প্লাবিত, মেঘের পলকগুলো অবিরত বর্ষণরত, বারিধারা ছিল অবিরাম এবং জীবনের মাধুর্য ছিল তিক্ত। কাদার কারণে বের হওয়া অসম্ভব ছিল, যা শরীরকে ধূলিমলিন এবং কাপড়কে কুসুম রঙের মতো বিবর্ণ করে দেয়। আমরা সেখানে একটি সুরক্ষিত দুর্গে, সুদৃঢ় স্থানে, স্থির ও প্রস্রবণযুক্ত উঁচু ভূমিতে এবং নিরাপত্তা ও প্রশান্তির আধারে অবস্থান নিলাম। এর আবহাওয়া নির্মল, এর গভীরতা সুদূরপ্রসারী; এ কারণে একে 'হাওয়া-ই মাকসুর' (সীমিত আসক্তি) এর সাথে সম্পর্কিত করা হয় এবং বলা হয়: কুসতান্তিনাতুল হাওয়া। এমন এক শহর যা বৃষ্টির মেঘের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, তার উচ্চতার মাধ্যমে সে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের সোপানে পৌঁছাতে চায়। কালের আবর্তনে ধ্বংস হওয়া থেকে সে নিজেকে রক্ষা করে। রাজকীয় গালিচা এবং বিস্তৃত পুষ্পরাজির মাধ্যমে সে তার প্রভাব বিস্তার করে। তার কোমল উদ্যান এবং প্রবহমান নদী চিত্তাকর্ষক। সৌন্দর্যের মহিমায় সে পূর্ণ গর্বিত। তার সমতল ভূমিতে একটি নদী সাপের মতো এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয় এবং কবজিতে কঙ্কণের মতো চারপাশ ঘিরে থাকে। নদীর কোনো এক প্রান্তে তা ডুব দিয়ে চোখের আড়ালে চলে যায়, আবার বাইরে এমনভাবে দৃশ্যমান হয় যেন তা গলিত রূপার পাত। এরপর সেই সমতল ভূমিতে তা বয়ে চলে এবং শাখা নদীগুলো তার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আঁচল টেনে যায়। এটি সবখানে পানি সরবরাহ করে এবং একই পানি দিয়ে সিঞ্চিত করে, আর এর সুগন্ধি তোমার কাম্য অনুযায়ী সংযোগ ও প্রতিদান বয়ে আনে:

এমন এক নদী, যার সৌন্দর্যে সে-ও মোহিত হয় যে কখনো মোহিত হয়নি ... আর যে কবিতা বোঝে না, সে-ও এর প্রশংসায় চমৎকার কবিতা রচনা করে।

সূর্যাস্তের সময় সূর্যের চেহারা যে হলুদাভ হয়ে যায় ... তা কেবল সেই সুন্দর দৃশ্যের বিচ্ছেদের কারণেই।

সেখানে মুনাফা প্রচুর, তার উচ্চশিখরে বাতাসেরা প্রতিযোগিতা করে। এর বিভিন্ন প্রান্তে বণিক ও কৃষকদের মিলন ঘটে। এর অধিবাসীরা সুরক্ষিত দুর্গে, সর্বোচ্চ আবাসে, সর্বশ্রেষ্ঠ স্থানে এবং পরম স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করে। এর বিশাল ভাণ্ডারে এমন জীবনোপকরণ সঞ্চিত থাকে যা কাল ফুরিয়ে গেলেও ফুরায় না। সেখানে উপস্থিত হলে মন ভয়ে আড়ষ্ট হয়, আর এর নিকটবর্তী প্রান্তরে শিকারি পাখিরা আশ্রয় নেয়। এর আরোহীদের পদযুগল এর বহু বৈশিষ্ট্যের কারণে পিছলে যায়, আর বর্ণনাকারীদের বর্ণনা এর কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতেও অক্ষম হয়ে পড়ে:

সেখানে প্রতিটি দীর্ঘ গ্রীবা বিশিষ্ট শুভ্র পাখি আশ্রয় নেয় ... আর সেখানে প্রতিটি প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।

যে ব্যক্তি একবার সেখানে আরোহণ করে ... সে যেন সারাজীবন মহাধমনী ছিঁড়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত থাকে।

আমি দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়ে উল্লিখিত রজব মাসের ষোলো তারিখ জুমআর দিনে সেখানে প্রবেশ করলাম। আমি গুণীজনদের সাথে সাক্ষাৎ এবং মহান ব্যক্তিদের সাথে জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনায় লিপ্ত হলাম; আমি সেখান থেকে জ্ঞান আহরণ ও চয়ন করলাম, কোনো কিছুই বর্জন করলাম না। আমি এবং আমার কাগজ এমন এক জনসমষ্টির মাঝে ছিলাম যাদের মধ্য থেকে আমি সেরাটি বেছে নিয়েছিলাম। গৃহকর্তা, ইমাম, বর্ণনাকারী, দানশীল ও বিশিষ্ট শায়খ আবু হাসান আলী বিন উবায়দুল্লাহ আমাকে জনৈক কবির এই কবিতাটি শোনালেন:

আমরা যা দেখেছি এবং যা শুনেছি ... তার মধ্যে বর্তমান সময়ের মতো কাল আর দেখিনি।

যার সাথেই তোমার দেখা হবে, দেখবে সে ... তুমি যে কষ্টে অভিযোগ করছ, সে-ও সেই একই অভিযোগ করছে।

তিনি আমাকে আরও বললেন যে, কোনো এক যাঞ্চাকারী এই শহরের জনৈক ব্যক্তির কাছে কিছু সাহায্য চেয়ে এবং তাকে উৎসাহিত করে লিখে পাঠালেন:

আমাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হবে এবং বলা হবে ... সেই দানশীল ও মহানুভব ব্যক্তির কাছ থেকে তুমি কী পেয়েছ, তখন আমি কী বলব?

আমি যদি বলি: তিনি আমাকে দিয়েছেন, তবে মিথ্যা বলা হবে; আর যদি বলি: ... দানশীল ব্যক্তি কার্পণ্য করেছেন, তবে তা শোভন হবে না।

অতএব আমি কী বলব তা আপনিই নিজের জন্য বেছে নিন; কারণ আমি ... আমাকে জিজ্ঞাসা করা না হলেও অবশ্যই তাদের জানাব।

তখন সেই ব্যক্তি উত্তরে তাকে বললেন:

তুমি আমাদের তাড়া দিয়েছ, তাই আমাদের পক্ষ থেকে এই সামান্য দান দ্রুত তোমার কাছে পৌঁছেছে ... তুমি যদি আমাদের সময় দিতে, তবে আমরা এত অল্প দিতাম না।

সুতরাং এই সামান্যটুকু গ্রহণ করো এবং এমন হয়ে যাও যেন তুমি কিছু বলোনি ... আর আমরাও যেন এমন হয়ে যাই যেন আমাদের কাছে কিছু চাওয়া হয়নি।

তিনি আমাকে আরও সংবাদ দিলেন যে, এক বেদুইন দাউদ বিন মুহাল্লাবের কাছে এসে বলল: আমি আপনার প্রশংসা করেছি, তা শ্রবণ করুন। তিনি বললেন: একটু অপেক্ষা করো। তারপর তিনি ঘরে প্রবেশ করে তরবারি ধারণ করে বেরিয়ে এসে বললেন: বলো, যদি তুমি ভালো বলতে পারো তবে তোমাকে পুরস্কৃত করব, আর যদি ভালো না হয় তবে তোমাকে হত্যা করব। তখন বেদুইন বলতে শুরু করল:

আমি দাউদ এবং তার ডান হাতের দানশীলতার মাধ্যমে ... আপতিত বিপদ, দুর্গতি ও দারিদ্র্য থেকে নিরাপদ হয়েছি।

দাউদের কারণে আমি এখন ভাগ্যের কোনো বিপর্যয়কে ভয় করি না ... যদি আমি তার মাধ্যমে আমার শক্তি মজবুত করি।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ৮)
له حكم لقمان وصورة يوسف … وحكم سليمان وعدل أبى بكر

فقال له: قل قد حكمناك، فان شئت على قدرنا وان شئت على قدرك. قال:) بل على قدري (فأعطاه خمسين ألفا، فقال له جلساؤه: هلا احتكمت على قدرة الأمير؟ فقال لهم: لم يكن في ماله ما يفي بقدره، فقال له داود: أنت في هذه أشعر منك في شعرك، وأمر له بمثل ما أعطاه.

وأنشدني أيضا قصائد تقيدت في غير هذا، واجازني جميع مروياته، فهو روضة الأدب الناعمة الغضة، وصحيفة الرواية النقية المبيضة، وحامل المكارم المنقضة والمحامد المرفضة، وجامع المحاسن التي بها أدمع الصبابة منفضة، ألسنا لمن وأخاه، السنى في كل ما يتوخاه، العاكف على ما يحمد عقباه. العارف بما رواه ورواه، الحفى بمن آتاه المنيب إلى أواه، الخاشع لمولاه، أبو الحسن بن عبيد الله، تغمده الله برحماه، وجعل الجنة نزله ومثواه، برحمته، ولم أزل أو إلى أهل الولا، واختص بذوي السؤدد والملا، حتى جاء الفراق، ومارق ولا راق، فأنشدتهم وقد قوى العزم، لأبى المغيرة بن حزم:

واجد بالخليل من برحاء الشو … ق وجدان غيره بالحبيب

ان قلبي لكم كالكبد الحرى … وقلبي لغيركم كالقلوب

وخرجت منها ضحوة يوم الأحد الثامن عشر من رجب المذكور في جمع وافر، ذي خف وحافر، سرنا نقتفي البيداء، ونغتدى في كل ثنية جرداء، قد دأبنا على الترحال، وركبنا متون الوحال، سمونا على الماء كسمو حبابه حالا على حال، إلى أن وافينا بلد العناب،) وتسمى أيضا بونة (وصلناها أيضا بيمن الله على أفضل الأحوال، ودائرة البيضاء يمنى مركز الزوال، فدخلناها في يوم الجمعة الثالث والعشرين لرجب المذكور، فرأيت مدينة مكينة، وقلعة حصينة شهيرة الامتناع، بائنة الارتفاع، ومعدومة الشبيه والنظير في القلاع، تنزهت حصانة أن ترام أو تستطاع قاعدة كبيرة ومائدة من الأرض مستديرة، سامية الأرجاء، واسعة الفناء، موضوعة على نسبة حسنة في الاعتدال والاستواء، والمدينة العجيبة كالعروس في ناديها قد رفلت في درع واديها، وامتنعت بحسامه المسلول من غير الأيام وعواديها، فأخذت به من المطالب معتصما، وتجلت في سواره معصما فبكل مسقط نظرة ما اشتهت الأنفس من نعيم ونضرة، نهر هتان، يحفه بستان، ومرآي لخواطر الأدباء فتان:

نهر يسيل كما يذوب نضار … وتدور في أيدي السقاة عقار

فإذا استقام فصارم دامي الظبا … وإذا انحنى جزع به فسوار

مغرورق التيار، ملتطم كما … خفقت بظهر مهب ريح نار

فاحمر وأخضر النبات بشطه … فكأن ذا خد وذاك عذار
তাঁর কাছে লোকমানের প্রজ্ঞা এবং ইউসুফের অবয়ব রয়েছে … আর রয়েছে সুলাইমানের বিচারবুদ্ধি ও আবু বকরের ন্যায়পরায়ণতা।

অতঃপর তিনি তাকে বললেন: "বলো, আমরা তোমাকে ফয়সালা করার ভার দিয়েছি; তুমি চাইলে আমাদের মর্যাদা অনুযায়ী অথবা চাইলে তোমার মর্যাদা অনুযায়ী ফয়সালা করো।" সে বলল: "বরং আমার মর্যাদা অনুযায়ী।" তখন তিনি তাকে পঞ্চাশ হাজার প্রদান করলেন। তাঁর সঙ্গীরা তাকে বলল: "তুমি কেন আমিরের সামর্থ্য অনুযায়ী ফয়সালা চাইলে না?" সে তাদের বলল: "তাঁর ধনসম্পদে এমন কিছু নেই যা তাঁর মর্যাদার সমতুল্য হতে পারে।" তখন দাউদ তাকে বললেন: "তুমি তোমার কবিতার চেয়ে এই কথায় অধিক বড় কবি।" এরপর তিনি তাকে যা দিয়েছিলেন তার সমপরিমাণ আবারও প্রদানের আদেশ দিলেন।

তিনি আমাকে আরও কিছু কাসিদা শুনিয়েছেন যা অন্যত্র লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং তিনি আমাকে তাঁর বর্ণিত সকল বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেছেন। তিনি সাহিত্যের এক পেলব ও সজীব কানন, বর্ণনার এক পরিচ্ছন্ন ও ধবল পাণ্ডুলিপি, সুউচ্চ মহানুভবতা ও বিচ্ছুরিত প্রশংসার ধারক এবং সেই সকল সুন্দরের সংকলক যার মাধ্যমে বিরহের অশ্রু বিগলিত হয়। তিনি তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিমদের জন্য এক উজ্জ্বল ভাষা স্বরূপ, তাঁর সকল অভীষ্ট লক্ষ্যে অত্যুজ্জ্বল, শুভ পরিণামদায়ক কর্মে মগ্ন। তিনি যা বর্ণনা করেছেন ও অন্যের থেকে শুনেছেন সে বিষয়ে সম্যক অবগত, আগন্তুকদের প্রতি পরম হিতৈষী, আল্লাহর অভিমুখী ও বিনয়ী, তাঁর মওলার প্রতি অনুগত—তিনি হলেন আবু আল-হাসান বিন উবায়দুল্লাহ। আল্লাহ তাকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন এবং স্বীয় দয়ায় জান্নাতকে তাঁর নিবাস ও আশ্রয়স্থল বানান। আমি সর্বদা আনুগত্যশীলদের আশ্রয় নিয়েছি এবং সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিশেষ সান্নিধ্যে থেকেছি, যতক্ষণ না বিচ্ছেদ উপস্থিত হলো—যা অসহনীয় ও অম্লান। সংকল্প যখন দৃঢ় হলো, তখন আমি আবু আল-মুগিরা বিন হাজমের এই কবিতাটি তাদের শুনিয়েছি:

বন্ধুর বিচ্ছেদে আমার অন্তরে যে তীব্র ব্যাকুলতা … তা অন্যের প্রিয়ার প্রতি অনুরাগের চেয়েও অধিক।

নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আমার অন্তর দগ্ধ কলিজার ন্যায় … আর অন্যদের জন্য আমার অন্তর সাধারণ হৃদয়ের মতোই।

উল্লিখিত রজব মাসের আঠারো তারিখ রবিবার পূর্বাহ্নে আমি সেখান থেকে এক বিশাল কাফেলা নিয়ে বের হলাম, যাদের সাথে প্রচুর উট ও ঘোড়া ছিল। আমরা মরুভূমির পথ অনুসরণ করে চলতে লাগলাম এবং প্রতিটি বৃক্ষহীন গিরিপথ অতিক্রম করতে থাকলাম। আমরা ভ্রমণে ক্লান্তিহীন ছিলাম এবং কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিচ্ছিলাম। আমরা জলের উপরে জলতরঙ্গের মতো এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় সগৌরবে চলছিলাম, যতক্ষণ না আমরা ইন্নাব শহরে পৌঁছালাম (যাকে বুনাও বলা হয়)। আল্লাহর বরকতে আমরা সর্বোত্তম অবস্থায় সেখানে পৌঁছালাম, যখন সূর্যের তেজ মধ্যাহ্ন থেকে ঢলে পড়ছিল। আমরা উল্লিখিত রজব মাসের তেইশ তারিখ জুমার দিনে সেখানে প্রবেশ করলাম। অতঃপর আমি এক সুদৃঢ় শহর এবং এক শক্তিশালী দুর্গ দেখলাম যা অপরাজেয় হিসেবে খ্যাত, সুউচ্চ এবং দুর্গসমূহের মধ্যে অতুলনীয় ও নজিরবিহীন। এর অভেদ্যতা এতটাই যে তা জয় করা বা আয়ত্তে আনা সাধ্যাতীত। এটি একটি বিশাল ভিত্তি এবং ভূমির একটি গোলাকার দস্তরখানের মতো, যার দিগন্ত সুউচ্চ এবং প্রাঙ্গণ প্রশস্ত। এটি ভারসাম্য ও সমতল হওয়ার ক্ষেত্রে এক সুন্দর অনুপাতে নির্মিত। এই বিস্ময়কর শহরটি তার মজলিসে এক নববধূর মতো যে তার উপত্যকারূপ বর্ম পরিধান করে দম্ভভরে চলছে, এবং কালের বিবর্তন ও বিপদাপদ থেকে তার উন্মুক্ত তলোয়ার দিয়ে নিজেকে রক্ষা করছে। শহরটি তার মাধ্যমে সকল লক্ষ্য অর্জনের এক আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এবং তার কঙ্কণরূপ বলয়ে যেন এক কবজি প্রতিভাত হয়েছে। যেখানেই দৃষ্টিপাত করা হয়, সেখানেই আত্মা যা কামনা করে এমন সব নেয়ামত ও সজীবতা বিদ্যমান। সেখানে রয়েছে অবিরাম বর্ষণকারী নদীর ন্যায় জলধারা, যা বাগান দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং যা সাহিত্যিকদের অন্তরের জন্য এক মুগ্ধকর দৃশ্য:

নদীটি এমনভাবে প্রবাহিত হচ্ছে যেন গলিত স্বর্ণ গলে পড়ছে … আর সাকিদের হাতে সুরা আবর্তিত হচ্ছে।

যখন তা সোজা হয় তখন মনে হয় তীক্ষ্ণ ধারের রক্তমাখা তলোয়ার … আর যখন তা বাঁক নেয় তখন তা যেন এক মণি-খচিত কঙ্কণ।

এর স্রোতধারা টইটম্বুর, যা এমনভাবে আছড়ে পড়ছে … যেন বাতাসের ঝাপটায় আগুনের শিখা দাউদাউ করে জ্বলে উঠছে।

এর তীরে গাছপালা লাল ও সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে … যেন লাল অংশটি গাল আর সবুজ অংশটি দাড়ি।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ৯)
لها أرض تقتنص النظر بتدييج أزهارها، وأطراد أنهارها، وتؤمن الراكض بها من هفوة غبارها، وكبوة عثارها، كأنما نسج أديمها منسج، واستوت أطرافها وأوساطها فجوها سجسج، ومتى تكلمت الفصول أعاد الله شبابها، فأنشأها خلقا جديدا، وجعل عودها مثمرا وظلها ظليلا مديدا، فيالله اتساع ظواهرها وبواديها، والحسن البادي ببحرها وبواديها، وارتفاع تلك القلعة والحصن، وما أوتي من النعمة والحسن، قد عمرت نجاده وغيطانه، واستقر بين خصب الوادي، ورحب النادي ثواؤه واستيطانه صعدت إليه فرأيت حصنا مستقلا، وكثيرا من الحسن لا مقلا، بل معقل الحسن ومستقره، ومجاز الأنس وممره، قلعة قد عقد الجبل حبوتها، وأزلق العراب أن تطأ ذروتها، وعصم سوار الوادي الملوي معصمها، وحمت غرر دهمائها أدهمها، فالخيل تصعد منها أنجما في فلك، بين طالع كطالعها أو غارب كغاربها، والأرجل منها على كرة لا تستقر بأخمص راجلها ولا بحافر فرس راكبها وكأنها قد اعتزت لولا ما جعل الله الأرض ذلولا، وأمر أهلها أن يمشوا في مناكبها، فمشيت منها في مركب سام، وألف بالنجوم مسام، ثم خرجت من المدينة في صبيحة يوم الأحد الخامس والعشرين لرجب المذكور سالكا سبيل جبل الحفاء، ومالكا من الرجاء ما برح به الخفاء، من جبل يقرع الواصل إليه سن الندم، ولا يكاد يشرب الماء إلا من قليب دم، قد أفرط في الجفا، واشتهر بالحفا، وجمع بين غلظ الشعراء والأرض الوعراء، فسلكنا منه في عقاب كفى بسلوكها للمجرمين من عقاب، نكتنف الفزع ونلتحف الجزع، إلى أن جزمتنا عوامله بالحذف، ومنعتها علاته من الصرف، وأسفر لنا وجهه العبوس ومحياه الذي في مشاهدته البوس، عن قطعة من العرب كقطع الليل، حملت علينا حمل السيل، فكان زوال كل ما ملكناه أسرع من لحسة الكلب أنفه، وناهيك عن صبيحة ذلك اليوم فجاءة حال، وسرعة انتقال " وإذا أراد الله بقوم سوءا فلا مرد له، وما لهم من دونه من وال ".

لقونا فضموا جانبينا بصادق … من الطعن مثل النار في الحطب اليبس

وانقلبت اعدى من جام ونجوت برأس طمرة ولجام، منهزما مكلما، يثعب جرحي دما، وصحابي قد منحوا الأكتاف والرقاب، ودماؤهم تسيل على الأعقاب،

وتركتهم تعس الرماح ظهورهم … من بين مقتول وآخر مسند

ولم نزل نخوض أحشاء كل واد كالثعبان، نتلقف نفس الجريء فكيف بالجبان، فكأن تلك الأودية سيوف لقتل الأنس مسلولة، ولولا زرقة ألوانها لقلت دماء مطلولة، خاتم نظامها ومسك ختامها، ومنتهى كمالها وتمامها، وآخر عذابها وانتقامها يسمى) أبو جردة (قيل لأنه يجرد الإيمان من قلب شاربه، كفاك هذا من أوصافه ومناقبه، وهو على أثنى عشر ميلا من الحضرة، لم تنبت قط حوله عشبة نضرة، ترابه قد أسود، وماؤه قد أظلم، ويقال أنه من أودية جهنم، تعذر علينا جوازه في القارب فما توسطته راكبا إلا والمركب قد غمرته المياه وحملتني وإياه، وكنا من المغرقين لولا ان رحم الله، ثم خرجت سابحا، وقد ذهب الوادي بأكثر القوم، بسبب ما أنعم الله به علي من معرفة السباحة والعوم، وحصلت على ساحل النجاة ولا شيء إلا مبلولا، ولا شد إلا محلولا آو محمولا.

لا تحسب المجد تمرا أنت آكله … لن تبلغ المجد حتى تلعق الصبرا

فوصلت إلى) حضرة تونس المحروسة (في ليلة يوم السبت أول من شعبان المكرم من العام المذكور بعد اللتيا والتي، وانضاء جسمي ومطيتي، وأخلاق البيتين اللذين لم أخلهما عن فكري ورويتي.

يقولون تونس مصر عظيم … وأرجاؤها جنة زاهرة

نعم هي مصر لأربابها … وللواردين هي القاهرة

فأرحت الراحلة من الرحل، واستبشرت بالخصب بعد المحل، ولابد دون الشهد من أبر النحل، فبتنا بها جيران دولاب يهدل، وأغصان تثني وتعتدل، وستر الظلام ينسدل، وتلك الحضرة تتلفع بثمارها تلفع الكاعب بخضرة خمارها، قد سلت على بساط الروض من المذانب حساما، وضحكت ثغور شرفاتها ابتساما، والدولاب بندب من الزهر الذاوي هديلا، ويتوسل للروض بدموعه فيخلف له بديلا، فبت أجاوب أنين ذلك الدولاب، وأجري بدمعي دمعه في الانسكاب، وأنشد فيه لبعض الأعراب:

باتت تحن وما بها وجدي … واحن من طرب إلى نجدي

فدموعها تحيا الرياض بها … ودموع عيني أحرقت خدي
এর এমন এক ভূমি রয়েছে যা তার পুষ্পশোভিত কারুকার্য ও প্রবহমান নদ-নদীর দ্বারা দৃষ্টি কেড়ে নেয় এবং সেখানে বিচরণকারীকে ধূলিকণার বিড়ম্বনা ও হোঁচট খাওয়া থেকে নিরাপদ রাখে। যেন এর উপরিভাগ কোনো বয়ন যন্ত্রে অত্যন্ত নিপুণভাবে বোনা হয়েছে। এর প্রান্ত ও মধ্যভাগগুলো সমতল ও সুবিন্যস্ত, ফলে এর আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম। যখনই ঋতুসমূহ কথা বলে ওঠে, আল্লাহ এর যৌবনকে পুনরায় ফিরিয়ে দেন; ফলে তিনি একে এক নতুন সৃষ্টি হিসেবে গড়ে তোলেন, এর বৃক্ষসমূহকে ফলবান করেন এবং এর ছায়াকে করেন সুনিবিড় ও সুদীর্ঘ। আল্লাহর শপথ! এর উন্মুক্ত প্রান্তর ও মরুভূমির প্রশস্ততা কতই না বিস্ময়কর! এর সাগর ও মরুপ্রান্তরে প্রকাশিত সৌন্দর্য এবং সেই দুর্গ ও কেল্লার উচ্চতা কতই না চমৎকার! তাকে যে নেয়ামত ও রূপ দান করা হয়েছে তা অতুলনীয়। এর উচ্চভূমি ও নিম্নভূমি আবাদ করা হয়েছে। উর্বর উপত্যকা ও প্রশস্ত মজলিসের মাঝে এর নিবাস ও বসতি সুসংহত হয়েছে। আমি সেখানে আরোহণ করলাম এবং একটি স্বতন্ত্র দুর্গ দেখতে পেলাম, যেখানে প্রচুর সৌন্দর্য বিদ্যমান, কোনো কমতি নেই। বরং এটি সৌন্দর্যের আশ্রয়স্থল ও আবাস এবং হৃদ্যতার পথ ও পারাপার। এটি এমন এক দুর্গ যার চারপাশ পর্বতমালা বেষ্টন করে আছে এবং এর উচ্চতা এতই দুর্গম যে তা আরোহণ করা অত্যন্ত কঠিন। উপত্যকার বাঁকানো প্রবাহ এর কবজিকে সুরক্ষা দিচ্ছে। ঘোড়াগুলো সেখান থেকে আকাশের নক্ষত্রের মতো আরোহণ করে, যার কোনোটি উদিত নক্ষত্রের মতো আবার কোনোটি অস্তমিত নক্ষত্রের মতো দেখায়। মানুষের পা সেখানে স্থির থাকে না এবং ঘোড়ার খুরও সেখানে স্থির হতে পারে না। মনে হয় যেন এটি গর্বে আকাশে উঠে যেত, যদি না আল্লাহ জমিনকে অনুগত করে দিতেন এবং এর অধিবাসীদের এর পার্শ্বদেশে বিচরণ করার নির্দেশ দিতেন। আমি সেখানে এক সুউচ্চ যানে চড়ে চললাম যা নক্ষত্রপুঞ্জের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর আমি উল্লিখিত রজব মাসের পঁচিশ তারিখ রবিবার সকালে সেই শহর থেকে বের হলাম। আমি জাবালুল হাফার পথ ধরলাম এবং এমন সব আশা পোষণ করলাম যা শেষ পর্যন্ত নিরাশায় পর্যবসিত হলো। এটি এমন এক পর্বত যার কাছে পৌঁছানো ব্যক্তি অনুশোচনায় হাত কামড়ায় এবং রক্তের কূপ ছাড়া অন্য কোথাও পানি পান করতে পারে না। এটি অত্যন্ত রুক্ষ এবং বন্ধুর পথ হিসেবে পরিচিত। এটি ঘন বনজঙ্গল ও দুর্গম ভূমির এক সংমিশ্রণ। আমরা সেখানে এমন সব গিরিপথ দিয়ে চললাম যা অপরাধীদের শাস্তির জন্য যথেষ্ট। আমরা ভীতির মাঝে ছিলাম এবং উদ্বেগকে চাদর হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম। পরিশেষে এর রুক্ষতা আমাদের নিঃশেষ করে দিল এবং এর বন্ধুর পথ আমাদের গতিরোধ করল। আমাদের সামনে এক বিষণ্ণ ও দুর্দশাগ্রস্ত চেহারা উন্মোচিত হলো। আরবের একদল লোক রাতের অন্ধকারের টুকরোর মতো প্লাবনের বেগে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমাদের মালিকানাধীন যা কিছু ছিল তার বিলীন হওয়া কুকুরের নাক চাটার চেয়েও দ্রুত ছিল। সেই সকালের আকস্মিক অবস্থা এবং দ্রুত পরিবর্তনের কথা আর কী বলব! "আর আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়ের অমঙ্গল চান, তখন তা রদ করার কেউ নেই এবং তিনি ছাড়া তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই।"

তারা আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করল এবং প্রচণ্ড বর্শার আঘাতে আমাদের দুই পাশকে বিদ্ধ করল, যা ছিল শুষ্ক কাষ্ঠে প্রজ্জ্বলিত অগ্নির ন্যায়।

আমি এক দ্রুতগামী ঘোড়া ও লাগাম নিয়ে পলায়ন করে কোনোমতে প্রাণ বাঁচালাম। আমি আহত অবস্থায় পলায়ন করলাম এবং আমার ক্ষত থেকে রক্ত ঝরছিল। আমার সঙ্গীরা তাদের পিঠ ও ঘাড় শত্রুর কাছে সঁপে দিয়েছিল এবং তাদের গোড়ালি বেয়ে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল।

আমি তাদের এমন অবস্থায় রেখে এলাম যে বর্শাগুলো তাদের পিঠে বিদ্ধ হচ্ছিল; তাদের কেউ ছিল নিহত আর কেউবা মৃতপ্রায়।

আমরা সর্পের ন্যায় প্রতিটি উপত্যকার অভ্যন্তরে চলতে থাকলাম। আমরা সাহসীদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছিলাম, সেখানে কাপুরুষদের অবস্থা তো বলাই বাহুল্য! মনে হচ্ছিল সেই উপত্যকাগুলো যেন মানুষের প্রাণ সংهارের জন্য উন্মুক্ত তলোয়ার। যদি সেগুলোর রঙ নীল না হতো, তবে আমি বলতাম এগুলো ঝরানো রক্ত। সেই যাত্রার সমাপ্তি এবং চূড়ান্ত পরিণতি ছিল এক কঠিন আজাব ও প্রতিশোধ, যার নাম "আবু জর্দা"। বলা হয় যে, এটি পানকারীর অন্তর থেকে ঈমান ছিনিয়ে নেয়। এর নেতিবাচক গুণাগুণ ও পরিচয়ের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। এটি রাজধানী থেকে বারো মাইল দূরে অবস্থিত। এর আশপাশে কখনো কোনো সবুজ ঘাস জন্মায়নি। এর মাটি কালো এবং পানি অন্ধকারাচ্ছন্ন। বলা হয়ে থাকে যে, এটি জাহান্নামের উপত্যকাগুলোর একটি। নৌকা নিয়ে এটি পাড়ি দেওয়া আমাদের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছিল। আমি যখনই আরোহী অবস্থায় এর মাঝে প্রবেশ করলাম, তখনই পানি আমাদের গ্রাস করে নিল। আল্লাহর রহমত না থাকলে আমরা অবশ্যই নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। এরপর আমি সাঁতরে তীরে উঠলাম, যদিও উপত্যকার স্রোত অধিকাংশ লোককে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। আমি বেঁচে ফিরলাম কারণ আল্লাহ আমাকে সাঁতারের জ্ঞান দান করেছিলেন। আমি মুক্তির উপকূলে পৌঁছলাম কিন্তু আমার পরনের কাপড় ভেজা ছাড়া আর কিছুই ছিল না, সবকিছুই হয় হারিয়ে গেছে নয়তো ধ্বংস হয়ে গেছে।

মর্যাদাকে তুমি এমন খেজুর মনে করো না যা তুমি অনায়াসেই খেয়ে ফেলবে; তিতকুটে ধৈর্য আস্বাদন না করা পর্যন্ত তুমি কখনোই সুউচ্চ মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না।

অবশেষে নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এবং আমার শরীর ও বাহন জীর্ণ হওয়ার পর, উল্লিখিত বছরের সম্মানিত শাবান মাসের প্রথম শনিবার রাতে আমি সুরক্ষিত তিউনিস নগরীতে পৌঁছলাম। সেই সময় দুটি কাব্য পঙক্তি আমার চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছিল যা আমি মন থেকে সরাতে পারছিলাম না:

লোকে বলে তিউনিস হলো এক মহান নগরী, যার চারপাশ এক প্রস্ফুটিত জান্নাত।

হ্যাঁ, এটি এর অধিবাসীদের জন্য এক সমৃদ্ধ নগরী, আর আগন্তুকদের জন্য এটি এক বিজয়ী শহর।

আমি বাহন থেকে জিন নামিয়ে বিশ্রাম নিলাম এবং দুর্ভিক্ষের পর উর্বরতার সুসংবাদ পেলাম। মধুর প্রত্যাশা করলে মৌমাছির হুল সহ্য করতেই হয়। আমরা সেখানে এক জলচক্রের পাশে রাত কাটালাম যা করুণ সুরে শব্দ করছিল, যেখানে বৃক্ষশাখাগুলো নুয়ে পড়ছিল ও দুলছিল এবং অন্ধকারের পর্দা চারদিকে ঝুলে ছিল। সেই নগরীটি তার ফলমূল দিয়ে এমনভাবে আবৃত ছিল যেমন কোনো কিশোরী তার সবুজ ওড়না দিয়ে নিজেকে ঢেকে রাখে। বাগানের গালিচার ওপর দিয়ে নালাগুলো তলোয়ারের মতো বয়ে যাচ্ছিল এবং দুর্গের অলিন্দগুলো হাসিমুখে উজ্জ্বল ছিল। জলচক্রটি শুকিয়ে যাওয়া ফুলের জন্য বিলাপ করছিল এবং তার চোখের পানি বাগানের জন্য উৎসর্গ করছিল। আমি সেই জলচক্রের কান্নার জবাব দিচ্ছিলাম এবং আমার চোখের পানি তার ধারার সাথে মিলিয়ে দিচ্ছিলাম। এই প্রসঙ্গে আমি জনৈক বেদুইনের কবিতা আবৃত্তি করছিলাম:

সে সারারাত বিলাপ করে অথচ তার মনে আমার মতো বিরহ নেই; আর আমি আমার স্বদেশের প্রতি অনুরাগে বিলাপ করি।

তার চোখের পানিতে বাগানগুলো জীবন ফিরে পায়, আর আমার চোখের পানি আমার গালকে দগ্ধ করে দেয়।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১০)
ولما تفرى عن وجنة الأفق عذار العيهب، وتتوج كسرى المشرق بالتاج المذهب، طفقت أتمشى في الأماكن المكينة، وأتخلل سكك المدينة وأتعجب من محاسنها المستبينة، ووضوح قدمها ورسوخ قدمها وبهجتها وانفراجها، وانفساح رباها وأبراجها، ورونق رياضها، وتذلل الهموم لفرجتها وارتياضها، واتساع جنباتها وإفنائها، وكما لها في البلاد البحرية وغنائها، وإيناع حدائقها المحدقات، وإحرام حجيج الأنس في ذلك الميقات، فدخلت منها جنة حفت من طرقها بالمكاره، وعقيلة عقلت قلب الطائع والكاره، فهي الدمية الغراء، والقبة اللعساء، والخريدة العيناء، تزهى بها المحافل، ويحتقبها الطالع والآفل ولله در القائل:

لتونس تؤنس من جاءها … وتودعه لوعة حيث سار

فيغدو ولوحل أرض العراق … يحن إليها حنين الحوار

ويأمل عودا ويشتاقه … اشتياق الفرزدق عود النوار

فالتاح بتونس الأنس، وانشرحت النفس، وصلحت الحال واللبس، ووجدتها كما قال أبو الحسن المري:

تؤنس بالغرب خير دار … تؤنس من حلها غريبا

حللت عقد البعاد لما … حللت من أهلها قريبا

وظللت ألقى أكابر الأولياء، وآخذ عن العلماء الأتقياء، فأول من لقيته بها من الأولياء والأفراد، والعلماء الزهاد، السيخ العالم الولي لله تعالى، أبو الحسن علي، المشتهر بالمنتصر، أفاض الله علينا من بركاته. هو صدر من صدور أئمة الدين، وكبير من كبراء الأولياء المهتدين، وقدوة في أفراد العلماء الزاهدين، حامل لواء المعارف، ومحرز التالد منها والطارف، وحافظ للكتاب والسنة، ومحافظ على اتباع الشريعة والملة، قائم بأعباء صلاح الأمة، باسط للضعفاء وذوي الحاجات جناح الرأفة والرحمة، كثير الصيام والقيام، دائم الخلوات ومستجاب الدعوات وقورا صموتا، مهابا معظما:

قابلته فملئت منه مهابه … شغلت علي فصاحتي وبياني

ولثمت قرب فنائه فكأنما … قبلت من طرب خدود غواني

رحل إلى المشرق قديما ووعى الكثير، وشأنه كبير، وله من المكاشفات وإجابة الدعوات ما هو أشهر من أن يذكر، حللت بحلاله، وانضويت إلى جلاله، وخيمت بسوارف ظلاله، فألقيت فيه ركنا عظيما ومأوى كريما وابابرا رحيما وإماما أوسعني إفادة ونصحا وتعليما، وسبب ذلك أن أخي أبا بكر محمدا لما خرج إلى وجهته الحجازية، وعلم الله تعالى منه صلاح النية وخلوص الطوية، وانتهى إلى الحضرة التونسية، جملته عوارف الألطاف الخفية، وعطفته عواطف القدرة الربانية، إلى لقاء شيخنا هذا والتبرك به، وطلب الدعاء منه فتفرس رضي الله عنه فيه مخايل النجابة ولاحت له عليه دلائل الصدق والإنابة، فضمه إلى جانبه الشامخ القواعد، وكفله كفول الوالدة والوالد، حتى جعل تحت حرمته، واختص بصحبته، وظهر فيه صدق فراسته وبركة دعوته، ثم ارتحل عنه مشرقا بعد تراخي المدة، وتوالي الأيام والأشهر الممتدة، قرير العين، ملي اليدين، فائزا بحظوة الدارين وحين وردت موارده، وحضرت معاهده، وسألت عن مطلع شمسه، مسير يومه وأمسه، فأخبرت أن الذي نعنيه بالسؤال، قد بانت برحيله الرحال، سقطت على التراب معفرا، وأفضت فأنشدت حين سرى:

ماذا وقوفك والركاب تساق … أين الجوى والمدمع المهراق

الغير هذا اليوم يخبأ أو ترى … بخلت عليك بمائها الأماق

حتى لقد رحلوا بقلبك والكرى … ان النواظر لا الدموع تراق
যখন দিগন্তের গণ্ডদেশ থেকে অন্ধকারের আবরণ উন্মোচিত হলো এবং প্রাচ্যের সম্রাট সূর্য স্বর্ণমুকুট পরিধান করল, তখন আমি সুদৃঢ় স্থানগুলোতে বিচরণ করতে শুরু করলাম। আমি শহরের গলিগুলোতে প্রবেশ করলাম এবং এর সুস্পষ্ট সৌন্দর্য, সুপ্রাচীন ঐতিহ্য, দৃঢ় ভিত্তি, কমনীয়তা ও প্রসন্নতা দেখে অভিভূত হলাম। এর উচ্চভূমি ও মিনারগুলোর প্রশস্ততা, বাগিচাসম্মূহের লাবণ্য এবং এর মনোরম পরিবেশে দুঃখ-বেদনার অবসান দেখে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম। সমুদ্র উপকূলীয় শহরগুলোর মধ্যে এর পূর্ণতা ও সমৃদ্ধি এবং এর সুসজ্জিত বাগানগুলোর ফলবান হওয়া লক্ষ্য করলাম। সেই শুভক্ষণে মানুষের দল সেখানে ইহরামবদ্ধ হজ পালনকারীর মতো সমবেত হচ্ছিল। আমি সেখানে এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করলাম যার পথসমূহ অপ্রীতিকর বস্তু দ্বারা ঘেরা, আর তা এমন এক সুন্দরী যা অনুগত ও অনিচ্ছুক—উভয় হৃদয়কেই জয় করে নেয়। তা যেন এক উজ্জ্বল প্রতিমা, লাবণ্যময় গম্বুজ এবং প্রশস্ত নয়না এক রূপসী কুমারী, যার মাধ্যমে মজলিসসমূহ সুশোভিত হয় এবং আগত ও প্রস্থানকারী সকলে তাকে পরম যত্নে স্মরণ করে। কবির উক্তি কতই না চমৎকার:

তিউনিস তার নিকট আগমনকারীকে আনন্দ দান করে... এবং সে যেখানেই যাক না কেন, তার হৃদয়ে বিরহের দহন রেখে যায়।

সে যদি ইরাকের মাটিতেও অবস্থান করে... তবুও সে তিউনিসের প্রতি উটের বাচ্চার ব্যাকুলতার ন্যায় ব্যাকুল হয়ে ওঠে।

সে পুনরায় ফিরে আসার আশা পোষণ করে এবং তার প্রতি তদ্রূপ তৃষ্ণা বোধ করে... যেমনটি আল-ফারাযদাক তার প্রিয়তমা নাওয়ারের কাছে প্রত্যাবর্তনের জন্য তৃষ্ণার্ত হয়েছিলেন।

তিউনিসে চিত্তের প্রশান্তি অর্জিত হলো, প্রাণ প্রফুল্ল হলো এবং অবস্থা ও বেশভূষার উন্নতি ঘটল। আমি তাকে তেমনই পেলাম যেমনটি আবু আল-হাসান আল-মাররি বলেছিলেন:

পাশ্চাত্যের এই শ্রেষ্ঠ আবাসস্থলটি আনন্দ দান করে... যে এখানে আগন্তুক হয়ে আসে তাকেও সে আপন করে নেয়।

আমি যখন এর অধিবাসীদের নিকটবর্তী হলাম... তখন আমার দূরত্বের সকল গ্রন্থি উন্মোচিত হয়ে গেল।

আমি সেখানে বড় বড় আউলিয়াদের সাক্ষাৎ পেতে থাকলাম এবং ধর্মপ্রাণ আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করতে লাগলাম। সেখানে আউলিয়া, অনন্য ব্যক্তিত্ব এবং যাহিদ আলেমদের মধ্যে যাঁর সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হলো, তিনি হলেন আল্লাহ তাআলার প্রিয় ওলী, প্রাজ্ঞ আলিম শেখ আবু আল-হাসান আলী, যিনি আল-মুনতাসির নামে প্রসিদ্ধ। আল্লাহ আমাদের তাঁর বরকত দ্বারা সিক্ত করুন। তিনি ছিলেন দ্বীনের ইমামদের অগ্রগণ্য, হেদায়েতপ্রাপ্ত আউলিয়াদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সংসারত্যাগী অনন্য আলেমদের জন্য আদর্শ। তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক জ্ঞানের পতাকাবাহী, প্রাচীন ও আধুনিক সর্বপ্রকার ইলম অর্জনকারী, কিতাব ও সুন্নাহর হাফেজ এবং শরীয়ত ও মিল্লাতের অনুসরণে সদা সচেষ্ট। উম্মতের সংস্কার সাধনের গুরুদায়িত্ব পালনকারী, দুর্বল ও অভাবী মানুষের প্রতি দয়া ও করুণার ছায়া বিস্তারকারী। তিনি অধিক রোজা ও নফল নামাজ পালনকারী ছিলেন, সর্বদা নির্জনতায় রত থাকতেন এবং তাঁর দোয়া কবুল হতো। তিনি অত্যন্ত গম্ভীর, স্বল্পভাষী এবং মহিমান্বিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন:

আমি যখন তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তাঁর গাম্ভীর্যে আমি অভিভূত হয়ে গেলাম... যা আমার বাগ্মিতা ও সাবলীলতাকে স্তব্ধ করে দিল।

আমি তাঁর আঙিনার সন্নিকটে চুম্বন করলাম, তখন আমার মনে হলো... যেন আমি আনন্দের আতিশয্যে সুন্দরী রমণীদের গণ্ডদেশ চুম্বন করেছি।

তিনি অনেক আগে প্রাচ্য দেশে ভ্রমণ করেছিলেন এবং প্রচুর জ্ঞান আহরণ করেছিলেন। তাঁর মর্যাদা অতি উচ্চ। তাঁর কাশফ এবং দোয়া কবুল হওয়ার ঘটনাসমূহ বর্ণনাতীতভাবে প্রসিদ্ধ। আমি তাঁর সান্নিধ্যে ধন্য হলাম, তাঁর মহত্ত্বের ছায়াতলে আশ্রয় নিলাম এবং তাঁর স্নেহের শামিয়ানায় অবস্থান করলাম। আমি তাঁর মধ্যে এক মহান আশ্রয়, সম্মানিত আস্তানা, দয়ালু অভিভাবক এবং এক শ্রেষ্ঠ ইমামকে পেলাম, যিনি আমাকে শিক্ষা ও সদুপদেশ দিয়ে সমৃদ্ধ করলেন। এর কারণ ছিল এই যে, যখন আমার ভাই আবু বকর মুহাম্মদ হিজাজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর সদিচ্ছা ও অন্তরের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জানতেন, তখন তিনি তিউনিস দরবারে উপস্থিত হলেন। মহান আল্লাহর গুপ্ত অনুগ্রহসমূহ তাঁকে পরিবেষ্টন করল এবং রব্বানী কুদরতের করুণাধারা তাঁকে আমাদের এই শাইখের সাক্ষাতে ও তাঁর বরকত লাভে এবং দোয়ার আর্জি পেশ করার দিকে ধাবিত করল। শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) তাঁর মধ্যে আভিজাত্যের চিহ্নসমূহ দেখতে পেলেন এবং তাঁর মধ্যে সত্যবাদিতা ও আনুগত্যের প্রমাণসমূহ প্রকাশ পেল। ফলে তিনি তাঁকে তাঁর সুউচ্চ আশ্রয়ে গ্রহণ করলেন এবং পিতা-মাতার ন্যায় লালন-পালন করলেন। এমনকি তাঁকে তাঁর একান্ত সান্নিধ্য দান করলেন এবং সেখানে তাঁর দূরদর্শিতার সত্যতা ও দোয়ার বরকত প্রকাশ পেল। অতঃপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর এবং দিন ও মাসের ব্যবধানে তিনি প্রশান্ত চিত্তে ও পূর্ণ পাথেয় নিয়ে ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য অর্জন করে প্রাচ্যের দিকে রওনা হলেন। যখন আমি তাঁর অবতরণ স্থলে পৌঁছালাম এবং তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ দেখলাম, আর তাঁর অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন আমাকে জানানো হলো যে, আমি যাঁর সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি, তিনি অনেক আগেই প্রস্থান করেছেন। আমি তখন ধূলিমলিন হয়ে মাটিতে পড়ে গেলাম এবং বিলাপ করতে করতে এই কবিতাটি আবৃত্তি করলাম:

যখন কাফেলা চলে যাচ্ছে তখন কেন তোমার এই দাঁড়িয়ে থাকা?... কোথায় তোমার সেই মনের দহন আর ঝরানো অশ্রু?

এই দিনের জন্যই কি তুমি অশ্রু জমা করে রেখেছিলে? নাকি আজ তোমার চোখের পাতা জল দিতে কার্পণ্য করছে?

এমনকি তারা তোমার হৃদয় ও ঘুম নিয়েই চলে গেল... অশ্রু নয়, আজ যেন চোখ দুটোই ঝরে পড়ছে।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১১)
ثم نزلت منازله، فتمتعت بها دهورا، وأقمت ألازمها ليالي وأياما وشهورا، وجعل الله لي بصحبة هذا الشيخ انتفاعا وظهورا، ولهذا الرجل الصيت البعيد، والباع المديد، زهدا وانقباضا، ونصيحة لعباد الله تعالى وحدبا على ضعفائهم، ووضع له القبول في الأرض فلم يختلف اثنان في فضله، ولي منه حظ لا أعده به حظا عسى الله ان ينفع به) وثانيه (في الفضل والولاية، والعلم المتسع والدراية، الشيخ العالم خطيب الجامع الأعظم، والراقي بقدم الصدق وذروة مناره، المعظم، أبو عبد الله بن عبد الستار، نفع الله تعالى به إمام من أئمة الفروع والتفسير، وسراج يقتدى به في ظلمات الدياجير، انتهى من الفضل إلى أقصى أمده، وكرع في بحره لا في تمده وحل منزلة مقنعة من عالم اللسان، ونظرت به عين التعين كالإنسان، أضاء بأنوار معارفه البلاد، وترادف على محله العلي العلمي القصاد، وعلا سنه وسناه، وبلغ من وعي المعارف الدينية والأحاديث الكريمة النبوية قصده ومناه، له جلالة السبق، ومهابة الولاية والصدق، ومكانة القبول عند الخالق الخلق، ذو في الدنيا وأغراض عن زهرتها، وعزوف عن طلابها، وكان يدرس العلوم في مدرسة الكتبيين التي استوطنها، فسمعت عليه كثيرا من التفسير والحديث والفروع والأصول وغير ذلك، ولازمته وانتفعت به، وشاهدت له كرامات ومقامات تصدر إلا من مثله أو من الولي الذي من قبله.

অতঃপর আমি তাঁর আবাসে অবতরণ করলাম এবং দীর্ঘকাল তা উপভোগ করলাম। আমি দিন, রাত ও মাসব্যাপী সেখানে তাঁর সান্নিধ্যে অবস্থান করলাম। আল্লাহ তাআলা এই শাইখের সাহচর্যের মাধ্যমে আমাকে উপকৃত ও প্রসিদ্ধ হওয়ার তাওফিক দান করলেন। এই মহান ব্যক্তির সুদূরপ্রসারী খ্যাতি এবং সুদীর্ঘ প্রভাব ছিল; তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ ও নির্জনতাপ্রিয়, আল্লাহর বান্দাদের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী এবং তাদের মধ্যকার দুর্বলদের প্রতি মমত্বশীল। যমীনে তাঁর জন্য সর্বজনগ্রাহ্যতা দান করা হয়েছিল, ফলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে কোনো দুইজন ব্যক্তিও দ্বিমত পোষণ করেননি। তাঁর পক্ষ থেকে আমি এমন এক কল্যাণ লাভ করেছি যা আমি কেবল সামান্য মনে করি না; আশা করি আল্লাহ এর দ্বারা উপকার করবেন।

আর দ্বিতীয় ব্যক্তি (মর্যাদা, বেলায়াত, প্রশস্ত ইলম ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে) হলেন প্রাজ্ঞ শাইখ, জামে আযমের খতিব, এবং যিনি সত্যনিষ্ঠার পদক্ষেপে ও তাঁর সুউচ্চ মিনারার শিখরে আরোহণকারী, সম্মানিত আবু আবদুল্লাহ বিন আবদুস সাত্তার—আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে কল্যাণ দান করুন। তিনি ফুরু (ফিকহ) ও তাফসীরের ইমামগণের মধ্যে একজন ইমাম এবং ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে অনুসরণযোগ্য এক প্রদীপ। তিনি মর্যাদার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন এবং এর গভীর সমুদ্রে অবগাহন করেছেন, কোনো অগভীর জলাশয়ে নয়। তিনি বাগ্মিতার জগতে এক সন্তোষজনক উচ্চাসন অধিকার করেছিলেন। তাঁর মারেফাতের নূরে জনপদসমূহ আলোকিত হয়েছে। তাঁর সুউচ্চ ইলমি দরবারে ইলম অন্বেষণকারীদের ভিড় ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর সম্মান ও জ্যোতি উচ্চকিত হয়েছে। দ্বীনি জ্ঞান ও মর্যাদাপূর্ণ নববী হাদিসসমূহ আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যে পৌঁছেছেন। তাঁর ছিল অগ্রগামী হওয়ার গৌরব, বেলায়াত ও সত্যনিষ্ঠার গাম্ভীর্য এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির নিকট কবুলিয়তের মর্যাদা। তিনি দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ ও এর চাকচিক্য থেকে বিমুখ ছিলেন এবং এর অন্বেষণকারীদের থেকে দূরে থাকতেন। তিনি কুতুবিয়্যিন মাদরাসায় জ্ঞান দান করতেন, যেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। আমি তাঁর নিকট প্রচুর তাফসীর, হাদিস, ফুরু, উসুল ও অন্যান্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছি। আমি তাঁর সান্নিধ্যে থাকতাম ও তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছি। আমি তাঁর এমন সব কারামত ও আধ্যাত্মিক মাকাম প্রত্যক্ষ করেছি যা কেবল তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব অথবা তাঁর পূর্ববর্তী ওলিদের মাধ্যমেই প্রকাশ পাওয়া সম্ভব।

(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১২)
رحل إلى بيت الله الحرام، وزيارة قبر النبي عليه أفضل الصلاة وأزكى السلام، ففاز من ذلك بغاية سوله، ونهاية مطلبه ومأموله، وتواتر عنه أنه لما عاد إلى وطنه، أعاد جميع صلواته التي كان صلاها في سفره، إذ لم ترتضها عبادته النزيهة ومعالي سيره، وها هو قد طعن في السنين، ونيف على التسعين، فما ضعفت له قط موارد العبادة، ولا تعطلت منه تلك المدرسة عن الدول المعتادة ومما تقلت منها: ان الواقدى رفع إلى المأمون قصة يشكى فيها غلبة الدين وقلة الصبر، فوقع عليها، أنت رجل فيك خلتان، السخاء والحياء، فأما السخاء فهو الذي أطلق ما في يدك، وأما الحياء فهو الذي بلغ بك ما أنت عليه، وقد أجزنا ذلك بمائتي ألف درهم، فان كنا أصبنا إرادتك فأزدد في بسط يديك وأن كنا لم نصبها فجنايتك على نفسك، فأنت كنت حدثتني وأنت على قضاء الرشيد ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال للزبير: ان مفاتيح الأرزاق بازاء العرش ينزل الله للعباد أرزاقهم على قدر نفقاتهم فمن كثر كثر له، ومن قلل قلل له، قال الواقدى: وكنت أنسيت هذا الحديث فكانت مذاكرته إياي به أعجب إلى من صلته. وأعززهما بإمام الدنيا ومتبوئ الذرة العليا، وسابق الغاية القصيا، والشيخ العالم، قدوة الأئمة وواحد أسانيد الأمة أبو عبد الله بن برال أبقى الله تعالى بركته، رجل أتاه الله تعالى كتابه وفتح عليه فيه أبوابه، ووفقه في أدائه إلى الصواب فأصابه، فاجتمع الناس إليه وتناغى المجودون من أهل القرآن في التلقف منه، وانثالوا إليه عمن سواه فقامت له سوق، وأجلى خبره عن تقديم أمثل الخبرة، وأطباقهم على تفضيله، وكان هذا الشيخ قد أوتي من حسن اللفظ بالقرآن ما لم يؤته أحد ممن بقى على الأرض في هذا الوقت بإجماع، حضرت قيامه في ليالي رمضان بالاشفاع وانتدب الناس إسماعه من النواحي والبقاع فما قرع سمعي ولا وقع في أذن قلبي، أحسن منه صوتا ولا أحلى تلاوة، ولا أطيب إيرادا، ولا أعذب مساقا، ولا أعجب أحكاما، ولا أغرب ترتيلا، ولا أجمل جملة وتفصيلا. ولقد كنت في حين قراءته على قساوة قلبي، وغباوة لبى أتغاشى وأتلاشى ويضج جامع تونس باهله، ويغص جمعه، فبين باك وداع وخاشع وساقط من القيام، وعادم وجوده في ذلك المقام، كلهم يفعل فيه صدقه، ويسكنهم نطقه، ويسكرهم ذوقه، قرأت عليه القرآن العظيم بالقراءات السبع جمعا في ختمة واحدة والإدغام الكبير في رواية أبى عمرو بن العلاء وترك الهمز من طريق أهل الرقة، بطريق أبى عمرو الداني رحمه الله تعالى وهو آخر من قرأت عليه السبع من الأئمة المقرئين والأساتذة المبرزين عددهم اثنا عشر شيخا ما منهم إلا من قرأت عليه القرآن العظيم بالقراءات السبع إفرادا وجمعا أو أفرادا، أولهم الأب المرحوم ناجلى، الكفيل بتربيتي في نشأتي وناحلى أول موهبة من تدريبي في بدأتي والدي عيسى رضي الله عنه قاضي بلدة قتورية وخطيبها ووالي كافة أمورها مدة من أربعين سنة قرأت عليه بالقراءات السبع على والده جدي الأستاذ الخطيب الحاج الزاهد أبى جعفر أحمد، وقرأ والده جدي بالقراءات السبع على جماعة منهم والده الخطيب الصالح أبو إسحاق إبراهيم وقرأ والده جد والذي بالقراءات السبع كذلك على جماعة منهم والده الفقيه أبو جعفر أحمد بن علي بن أبى خالد رحمة الله على جميعهم، وهكذا تتصل لي هذه السلسلة بالقراءة السبع إلى سابع جد ولله الحمد، وحدثني شيخي هذا انه قرأ بالقراءات السبع أفرادا مع الإدغام الكبير في رواية أبى عمرو بن العلاء وترك الهمز من طريق أهل الرقة ثم جمع السبع في ختمة كاملة، وقرأ قراءة أبى محمد يعقوب الحضرمي على الشيخ الفقيه المقرئ الصالح الرواية أبى العباس أحمد بن موسى بن عيسى بن أبى الفتح الأنصاري المشتهر بالبطرنى وحدثه أنه قرأ بالسبع القراءات على الشيخ الفقيه المقرئ الخطيب القاضي أبى محمد عبد الله بن يوسف بن أبى بكر بن عبد الأعلى المغافري السبرتى بقراءة نافع أفرادا وجمعا وباقي السبع ختمة جمعا لكل إمام ثم جمع عليه السبع في ختمة كاملة مع الإدغام الكبير، قال قرأت على خاتمة المحققين بل المقرئين بشرق الأندلس أبى جعفر أحمد بن يحيى بن عون الله الحصار بقراءة نافع إفرادا وجمعا وجمعت عليه السبع في ختمة كاملة كما قرأت بالقراءات السبع بالأفراد والجمع مع الإدغام الكبير فيهما على الشيخ الفقيه الزاهد أبى الحسن

তিনি আল্লাহর পবিত্র ঘরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন এবং আল্লাহর রাসুলের (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক) রওজা জিয়ারত করলেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করলেন এবং তাঁর সকল প্রার্থনা ও আশার পূর্ণতা পেলেন। তাঁর সম্পর্কে বহুলভাবে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন সফরে আদায়কৃত তাঁর সমস্ত নামাজ পুনরায় আদায় করলেন। কেননা তাঁর নির্মল ইবাদত ও উন্নত চরিত্রের মানদণ্ডে সেই নামাজগুলো সন্তোষজনক ছিল না। এখন তিনি বয়োবৃদ্ধ হয়েছেন এবং তাঁর বয়স নব্বই পার হয়েছে, তবুও ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর শক্তি ও প্রেরণা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায়নি এবং তাঁর সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি তার নিয়মিত কার্যক্রম থেকে কখনো বিরত হয়নি। সেখান থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে একটি হলো: ওয়াকিদি খলিফা মামুনের কাছে একটি আবেদন পেশ করলেন যাতে তিনি ঋণের আধিক্য এবং ধৈর্যের অভাবের কথা অভিযোগ করেছিলেন। খলিফা তাতে লিখে দিলেন: আপনি এমন এক ব্যক্তি যার মধ্যে দুটি গুণ রয়েছে—বদান্যতা ও লজ্জা। বদান্যতাই আপনার হাতের ধন-সম্পদ অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে, আর লজ্জাশীলতাই আপনাকে এই বর্তমান অবস্থায় নিয়ে এসেছে। আমরা আপনার জন্য দুই লক্ষ দিরহাম মঞ্জুর করলাম। যদি আমরা আপনার ইচ্ছানুযায়ী দিয়ে থাকি, তবে আপনার হাত আরও প্রসারিত করুন (দান বাড়িয়ে দিন)। আর যদি আমরা আপনার চাহিদা পূরণ করতে না পারি, তবে তা আপনার নিজের ওপর আপনারই অবিচার। কারণ আপনিই হারুনুর রশিদের বিচারক থাকাকালীন আমাকে হাদিস শুনিয়েছিলেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুবাইরকে বলেছিলেন: রিজিকের চাবিকাঠিগুলো আরশের সম্মুখে থাকে। আল্লাহ বান্দাদের জন্য তাদের ব্যয়ের পরিমাণ অনুযায়ী রিজিক অবতীর্ণ করেন। সুতরাং যে ব্যক্তি বেশি খরচ করে, তাকে বেশি দেওয়া হয়; আর যে কম খরচ করে, তাকে কম দেওয়া হয়। ওয়াকিদি বললেন: আমি এই হাদিসটি ভুলে গিয়েছিলাম, তাই তাঁর আমাকে এটি স্মরণ করিয়ে দেওয়াটা তাঁর পুরস্কারের চেয়েও আমার কাছে অধিক প্রিয় মনে হলো। তাঁদের মধ্যে আরও মর্যাদাবান হলেন দুনিয়ার ইমাম, উচ্চ শিখরে সমাসীন, চূড়ান্ত লক্ষ্যের অগ্রগামী, আলেম শায়খ, ইমামদের আদর্শ এবং উম্মতের অনন্য সনদধারী আবু আবদুল্লাহ বিন বাররাল (আল্লাহ তাআলা তাঁর বরকত জারি রাখুন)। তিনি এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব দান করেছেন এবং তাঁর কাছে এর জ্ঞানের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এটি সঠিক পদ্ধতিতে পাঠ করার তৌফিক তাঁকে দান করেছেন এবং তিনি তা লাভে ধন্য হয়েছেন। ফলে মানুষ তাঁর কাছে সমবেত হতো এবং কুরআনের দক্ষ কারীগণ তাঁর থেকে ইলম অর্জনের জন্য ব্যাকুল থাকত। অন্যান্যদের ছেড়ে তারা তাঁর দিকেই ছুটে আসত, ফলে তাঁর জ্ঞানের বাজার সরগরম হয়ে উঠল। তাঁর সুখ্যাতি বিশেষজ্ঞ মহলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে প্রতিষ্ঠিত করল এবং সকলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে একমত হলো। এই শায়খকে কুরআন তিলাওয়াতের এমন সুন্দর বাচনভঙ্গি দান করা হয়েছিল, যা এই যুগে পৃথিবীতে জীবিত আর কাউকে দেওয়া হয়নি—এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য রয়েছে। আমি রমজান মাসের রাতে তাঁর ইমামতিতে নফল নামাজে উপস্থিত হয়েছি। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ তাঁর তিলাওয়াত শোনার জন্য আসত। আমি তাঁর কণ্ঠের চেয়ে সুন্দর, তাঁর তিলাওয়াতের চেয়ে মধুর, তাঁর উপস্থাপনার চেয়ে উত্তম, তাঁর গতির চেয়ে স্বচ্ছন্দ, তাঁর আহকামের চেয়ে বিস্ময়কর এবং তাঁর তারতিলের চেয়ে চমৎকার কোনো তিলাওয়াত কখনো শুনিনি। আমার হৃদয়ের কঠোরতা ও বুদ্ধির জড়তা সত্ত্বেও তাঁর কিরাত শোনার সময় আমি আত্মহারা হয়ে যেতাম। তিউনিসের জামে মসজিদ মুসল্লিতে পরিপূর্ণ হয়ে যেত এবং ভিড়ে ঠাসা থাকত। সেখানে কেউ রোদনরত, কেউ দোয়ারত, কেউ বিনম্র অবস্থায় থাকত, আবার কেউবা দাঁড়ানো থেকে পড়ে যেত। তাঁর তিলাওয়াতের সত্যতা সবার ওপর প্রভাব বিস্তার করত, তাঁর কথা তাদের শান্ত করত এবং তাঁর সুরের মাধুর্য তাদের বিমোহিত করত। আমি তাঁর কাছে এক খতমের মাধ্যমে সাত কিরাতে পূর্ণ কুরআন মজিদ পড়েছি এবং আবু আমর বিন আল-আলার রেওয়ায়াতে ‘ইদগামে কাবির’ ও আবু আমর আদ-দানির সূত্রে ‘আহলুর রাক্কাহ’র পদ্ধতিতে হামজা বর্জন করে পড়েছি। তিনি ছিলেন সেই প্রথিতযশা ইমাম ও শিক্ষকদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি যার কাছে আমি সাত কিরাত পড়েছি, যাদের মোট সংখ্যা বারো জন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই আমি সাত কিরাত পৃথকভাবে এবং একত্রে অথবা পৃথকভাবে পড়েছি। তাঁদের মধ্যে প্রথম হলেন আমার মরহুম পিতা, যিনি আমার শৈশবে আমার লালন-পালনের দায়িত্বশীল ছিলেন এবং শুরুতেই আমাকে জ্ঞান দান করেছিলেন—আমার পিতা ঈসা (রাজিআল্লাহু আনহু)। তিনি কাতুরিয়া শহরের কাজী ও খতিব ছিলেন এবং দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে সেখানকার সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেছেন। আমি তাঁর কাছে সাত কিরাত পড়েছি, আর তিনি তাঁর পিতা আমার দাদা উস্তাদ খতিব হাজি জাহেদ আবু জাফর আহমদের কাছে সাত কিরাত পড়েছিলেন। আমার দাদা আবার এক জামায়াতের কাছে সাত কিরাত পড়েছিলেন যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তাঁর পিতা সৎ খতিব আবু ইসহাক ইবরাহিম। তিনিও একইভাবে এক জামায়াতের কাছে সাত কিরাত পড়েছিলেন যাদের মধ্যে ছিলেন তাঁর পিতা ফকিহ আবু জাফর আহমদ বিন আলি বিন আবি খালিদ। আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। এভাবে এই সাত কিরাতের সিলসিলা বা পরম্পরা আমার সপ্তম দাদা পর্যন্ত পৌঁছেছে, আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা। আমার এই শায়খ আমাকে আরও জানিয়েছেন যে, তিনি সাত কিরাত পৃথকভাবে আবু আমর বিন আল-আলার রেওয়ায়াতে ‘ইদগামে কাবির’ ও ‘আহলুর রাক্কাহ’র পদ্ধতিতে হামজা বর্জন করে পড়েছেন এবং পরে এক খতমে সাত কিরাত পূর্ণ করেছেন। তিনি ফকিহ কারী সালেহ আবু আব্বাস আহমদ বিন মুসা বিন ঈসা বিন আবুল ফাতহ আনসারি (যিনি আল-বাতারনি নামে পরিচিত) এর কাছে আবু মুহাম্মদ ইয়াকুব আল-হাদরামির কিরাত পড়েছেন। তিনি (বাতারনি) তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি ফকিহ কারী খতিব কাজী আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আবি বকর বিন আবদুল আলা আল-মাগাফেরি আস-সাবরাতির কাছে নাফে-এর কিরাত পৃথকভাবে ও একত্রে এবং বাকি সাত কিরাত খতমের মাধ্যমে পড়েছেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে পূর্ণ এক খতমে ‘ইদগামে কাবির’ সহ সাত কিরাত একত্রে সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, আমি পূর্ব আন্দালুসের শ্রেষ্ঠ কারী আবু জাফর আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন আউনিল্লাহ আল-হাসসারের কাছে নাফে-এর কিরাত পৃথকভাবে ও একত্রে পড়েছি এবং এক খতমে সাত কিরাত সম্পন্ন করেছি। যেভাবে আমি ফকিহ জাহেদ আবু হাসান এর কাছে পৃথকভাবে ও একত্রে ‘ইদগামে কাবির’ সহ সাত কিরাত পড়েছি।

(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১৩)
علي بن محمد بن علي بن هذيل البنسى، قال قرأت جميع ذلك على الشيخ الفقيه المقرئ أبى داود سليمان بن نجاح الأموي، قال، قرأت جميع ذلك على الإمام الحافظ أبى عمرو وعثمان بن سعيد بن عثمان الدانى بسنده في كتاب التيسير، وقد قرأت جميعه عليه وقرأت عليه جميع القصيدة اللامية المسماة بحرز الأماني التي من نظم الإمام أبى القاسم بن فيرة الشاطبى رحمه الله قراءة تثبيت وتبيين لمعانيها وإعراب لمشكلها، وإيضاح لأسرارها، واستخراج لغوامضها وجميع عقيلة أتراب القصائد من نظم الشاطبى أيضا وحدثني بجميع ذلك عن شيخه أبى العباس البطرنى المذكور، ولشيخي هذا أسانيد غيرها، وسماع وتبتل، وانقطاع ومواصلة للقرآن واعتناء بذلك الشأن فجمع بين علو الإسناد، والسلسلة الذهبية وتوسع كثيرا في اللغة العربية. وتتبع أنواعا من هذه الطريقة الأدبية يعمر بها مجالسه أنشدني لبعض الشعراء:

أني غريب بأرض لا كرام بها … كغربة الشعرة السوداء في الشمط

لا أطلق العين في شيء أسر به … ولا أنال الرضى إلا على سخط

وأنشدني لبعضهم:

ان الليالي للأنام مناهل … تطوي وتنشر بينها الأعمار

فقصارهن مع الهموم طويلة … وطوالهن مع السرور قصار

وأنشدني لبعضهم:

تمتع بالرقاد على الشمال … فسوف يطول نومك باليمين

ومتع من يحبك باجتماع … فأنت من الفراق على يقين

وكان رضي الله عنه رقيق الاشادات، طيع العبارات، حلو الحكايات، عالي الروايات، تبهجك طلاقته ويرضيك بشره مع مروؤة ظاهرة، وتمام خلقة، وهدى وسمت ووقار لأكفاء له، إلى حسن البيان وعذوبة اللسان.

ملح كالرياض غازلت الشم … س رباها وافتر عنها الربيع

فهي للعين منظر مؤلف الحس … ن وفي النفس سئودد مجموع

ذكر لي قال دخل بعض الملوك على جارية له، وقد دهن شعره بدهن بيضه به، فقال يخاطبها:

كل البياض مليح … لا شيء في الحسن بعده

فأجابته:

أهواه من كل شيء … إلا من الشيب وحده

فاستحسن جوابها، وأحسن ثوابها، وأخبرني، قال دخل بعض الشعراء على بعض الكبراء مادحا له بشعر قاله فيه فوجد عنده حجاما قد قص من شعره وأجزل له في العطاء ولم يعط الشاعر فقال مرتجلا:

أرى من جاء بالموسى مواسي … وراحة ذي القريض تروح صفرا

فهذا منجح ان قص شعرا … وهذا مخفق ان نص شعرا

وأخبرني قال: مدح أبو الحسن بن الفضل أحد الوزراء بمراكش وكان أقرع فلم يثبه، فقال:

أهديت مدحي للوزير الذي … دعا به المجد فلم يسمع

فحامل الشعر إليه كمن … يهدي به مشطا إلى أقرع

وأخبرني قال: أهدى سالم بن قاسم من بني مهنا الحسنيين لصلاح الدين ابن أيوب مروحة بيضاء وفيها مكتوب بالأحمر بيتين وهما هذه:

أنا من نخلة تجاور قبرا … ساد من فيه سائر الخلق طرا

شملتني سعادة القبر حتى … صرت في راحة أبن أيوب أقرأ
আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হুযাইল আল-বালানসি বলেন, আমি এই সমস্ত কিছু ফকীহ এবং ক্বারী শায়খ আবু দাউদ সুলায়মান বিন নাজাহ আল-উমাওয়ীর কাছে পাঠ করেছি। তিনি বলেন, আমি এ সব কিছু ইমাম হাফিজ আবু আমর উসমান বিন সাঈদ বিন উসমান আদ-দানির নিকট তাঁর সনদে 'কিতাবুত তাইসীর' থেকে পাঠ করেছি। আমি তাঁর (আবু দাউদ) নিকট এর সম্পূর্ণটি পাঠ করেছি এবং তাঁর নিকট পূর্ণাঙ্গ লামিয়্যাহ কাসীদা পাঠ করেছি যা 'হিরযুল আমানি' নামে পরিচিত এবং যা ইমাম আবুল কাসিম বিন ফিরা আশ-শাতিবি (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনা। আমি এটি পাঠ করেছি পাঠের দৃঢ়তা ও অর্থের স্পষ্টতা নিশ্চিত করে, এর কঠিন শব্দসমূহের ব্যাকরণ বিশ্লেষণ করে, এর রহস্যসমূহ উন্মোচন করে এবং এর গূঢ় তত্ত্বসমূহ উদ্ধারের মাধ্যমে। সেই সাথে শাতীবির রচিত পূর্ণাঙ্গ 'আকীলাত আতরাব আল-কাসাইদ'ও পাঠ করেছি। তিনি আমাকে তাঁর শায়খ উল্লিখিত আবুল আব্বাস আল-বাতারনির সূত্রে এ সবই বর্ণনা করেছেন। আমার এই শায়খের আরও অনেক সনদ রয়েছে এবং তাঁর শ্রবণ, ইবাদতে একাগ্রতা, নির্জনতা, কুরআনের সাথে অবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক এবং এই বিষয়ের প্রতি প্রগাঢ় যত্ন ছিল সুবিদিত। তিনি উচ্চতর সনদ এবং স্বর্ণালী ধারার সমন্বয় ঘটিয়েছেন এবং আরবি ভাষায় ব্যাপক পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। তিনি এই সাহিত্যিক ধারার বিভিন্ন দিক অনুসরণ করতেন যার মাধ্যমে তিনি তাঁর মজলিসসমূহকে প্রাণবন্ত রাখতেন। তিনি জনৈক কবির নিম্নোক্ত কবিতা আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

নিশ্চয়ই আমি এমন এক ভূমিতে আগন্তুক যেখানে কোনো মহানুভব ব্যক্তি নেই … ঠিক যেমন শুভ্র চুলের মাঝে একটি কালো চুলের নিঃসঙ্গতা।

আমি এমন কিছুর দিকে চোখ তুলি না যা আমাকে আনন্দ দেয় … আর অসন্তুষ্টি ছাড়া আমি তুষ্টি অর্জন করি না।

তিনি আমাকে আরও কয়েকজনের কবিতা শুনিয়েছেন:

নিশ্চয়ই রাতগুলো মানুষের কাছে পানপাত্রের ন্যায় … যার মাঝে আয়ু সংকুচিত হয় এবং বিস্তারিত হয়।

দুশ্চিন্তার সময় ছোট রাতগুলোও দীর্ঘ মনে হয় … আর আনন্দের সময় দীর্ঘ রাতগুলোও ছোট হয়ে যায়।

তিনি আমাকে আরও কয়েকজনের কবিতা শুনিয়েছেন:

বাম পাশে শয়ন করে ঘুম উপভোগ করে নাও … কারণ শীঘ্রই ডান পাশে তোমার দীর্ঘ নিদ্রার সময় আসবে।

যে তোমাকে ভালোবাসে তার সঙ্গ দিয়ে তাকে আনন্দিত করো … কেননা বিচ্ছেদ যে ঘটবেই তা নিশ্চিত।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) ছিলেন সূক্ষ্ম ইঙ্গিত প্রদানকারী, প্রাঞ্জল ভাষার অধিকারী, সুমিষ্ট গল্পের কথক এবং উচ্চমার্গীয় বর্ণনার বাহক। তাঁর বাচনভঙ্গি আপনাকে মুগ্ধ করবে এবং তাঁর সদালাপ ও চারিত্রিক মাধুর্য আপনাকে সন্তুষ্ট করবে। তাঁর মধ্যে ছিল স্পষ্ট পৌরুষত্ব, দৈহিক পূর্ণতা, সঠিক দিকনির্দেশনা, গাম্ভীর্য এবং সমমর্যাদাবানদের প্রতি শ্রদ্ধা, সেই সাথে ছিল সুন্দর বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষার মিষ্টতা।

মনোমুগ্ধকর বিষয়গুলো যেন বাগিচার মতো যার টিলাগুলোর সাথে সূর্য খেলা করে … এবং বসন্ত যার মাধ্যমে প্রস্ফুটিত হয়।

এটি চোখের জন্য সুসংহত সৌন্দর্যের এক দৃশ্য … আর মনের জন্য এক পুঞ্জীভূত আভিজাত্য।

তিনি আমার কাছে উল্লেখ করেছেন যে, জনৈক বাদশাহ তাঁর এক দাসীর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তাঁর চুলে এমন কিছু মেখেছিলেন যাতে তা সাদা দেখাচ্ছিল। তিনি তাকে সম্বোধন করে বললেন:

সমস্ত শুভ্রতাই সুন্দর … সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে এর চেয়ে উত্তম কিছু নেই।

তখন সে (দাসী) উত্তর দিল:

আমি সকল কিছুর শুভ্রতা পছন্দ করি … কেবল বার্ধক্যের শুভ্রতা (পাকা চুল) ব্যতীত।

বাদশাহ তার উত্তরের প্রশংসা করলেন এবং তাকে উত্তম পুরস্কার দিলেন। তিনি আমাকে আরও জানিয়েছেন যে, জনৈক কবি একজন পদস্থ ব্যক্তির কাছে তাঁর প্রশংসামূলক কবিতা নিয়ে গেলেন। তিনি সেখানে একজন নাপিতকে দেখতে পেলেন যে তাঁর চুল ছাঁটছিল। তিনি (পদস্থ ব্যক্তি) নাপিতকে প্রচুর দান করলেন কিন্তু কবিকে কিছুই দিলেন না। তখন কবি তাৎক্ষণিকভাবে বললেন:

আমি দেখছি যে ক্ষুর নিয়ে এসেছে সে দান পাচ্ছে … আর পদ্যকারের হাত রিক্ত হয়ে ফিরে যাচ্ছে।

এ তো সফল হলো যদি চুল ছাঁটে (শৃঙ্গার করে) … আর ও ব্যর্থ হলো যদি কবিতা (শৃঙ্গার) পেশ করে।

তিনি আমাকে আরও জানিয়েছেন: আবুল হাসান বিন ফযল মারাক্কাসের জনৈক উজিরের প্রশংসা করলেন। উজির ছিলেন টেকো (মাথায় চুল ছিল না), ফলে তিনি তাকে কোনো পুরস্কার দিলেন না। তখন কবি বললেন:

আমি আমার প্রশংসা সেই উজিরকে উপহার দিয়েছি যাকে … আভিজাত্য আহ্বান করেছে কিন্তু সে শোনেনি।

তার কাছে কবিতা বহন করে নিয়ে যাওয়া যেন … জনৈক টেকো ব্যক্তিকে চিরুনি উপহার দেওয়ার মতো।

তিনি আমাকে আরও জানিয়েছেন: বনী মুহান্না হাসানি বংশের সালিম বিন কাসিম সুলতান সালাহউদ্দীন ইবনে আইয়ুবকে একটি সাদা হাতপাখা উপহার দিয়েছিলেন এবং তাতে লাল রঙে এই দুটি পঙক্তি লেখা ছিল:

আমি এমন এক খেজুর গাছ থেকে এসেছি যা সেই কবরের পাশে অবস্থিত … যার অধিবাসী সমগ্র সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন।

কবরের সেই বরকত আমাকে এমনভাবে ঘিরে নিয়েছে যে … এখন আমি ইবনে আইয়ুবের হাতের তালুতে দোল খাচ্ছি।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد كان الرسول بها قال لصلاح الدين، خذ هذه فما أهدى لك ولا لبيك قط مثلها، فغضت السلطان من هذا الكلام فقال الرسول لا تعجل وانظر ما فيها من الكلام، فلما نظرها وقرأ البيتين قبلهما ووضعهما على رأسه وقال: صدق الشريف ما وصلتني قط هدية مثل هذه. وقرأت عليه من كتب القراءات والحديث وغيرها تصانيف كثيرة، استوفيتها بأسانيدها في برنامج رواياتي، وأجازني إجازة تامة، مطلقة عامة، وكتب لي بخطه، ومولده عام ثمانية وستين وستمائة.

وأشفعهم بأوحد الزمان، وفريد البيان والتبيان، العديم النظراء والأقران، والمرتقى درجة الاجتهاد بالدليل والبرهان، الشيخ العالم المشاور أبو عبد ابن الحباب، حبر، بحر، حافظ لافظ، ذو أبهة وبهاء وحبوة مملوءة من علم، خالية من ازدهاء، برع بأحسن الصورة، في مطالع الحسنى إلى أنهى كمال وأكمل انتهاء، برع بأحسن الصورة، وفرع من الجمال أرفع السورة فبسق بسوق الغصن الناضر وأضحت حدائق محاسنه نزهة الأحداق والنواظر، انفرد بفنى المعقولات والمقولات، واتحد في علمي اللسان والبيان فما يجارى، في شيء من ذلك ولا يبارى، وهو فيما عدا ذلك من الفنون يفوق القدور ويفيض على مزاحمة البحور، ويحلى من فوائده الطلا والنحور، وله تآليف وتصانيف فيها للعلوم صنوف، وهي في الأذان شنوف، ولها ظهور على غيرها وشفوف، وقلائد قصائد تنجلي بجمالها الخرائد، وتحسد حسنها النيرات الفراقد ونشربل نور، أو أنجم زهر، أو لجين أو تبر، أو يواقيت أو در، أو حصباء بللها نهر أو شذور رصعت فشطر وشطر:

نظم ونثر في رياض بلاغة … سجد الربيع لبردها الرفراف

لم أدر من عجب بها وتعجب … أنظام در أو نظام قواف

كان زمن شبابه، وتعلقه بطلب العلم واستفتاح بابه، رئيس إنشاء الدولة الحفصية، والمستقل بحمل الراية التونسية، فملا الدلو ومد الرشاء، وأنال الإنشاء ما شاء، وأزال عن جفون الطريقة الأدبية العماية والعشاء، فلما أحرز في ذلك الفن قصب السبق وحازه، وقطع فيه صدر العمر واستقبل إعجازه، عطف إلى تعليم العلوم، وعكف على تدريب تدريس المعدوم منها والمعلوم، فأفاد الأفذاذ، والأفراد وأمتع الجهابذة والنقاد، وأسمع الأسماع ما اشتهى كل منها وأراد، إلا أنه كثير الأنس مؤثر لراحة النفس، قلما ينضبط لطالب، ولا يغتبط إلا بذي فهم ثاقب، وسهم في العلوم مسدد صائب، فمجالسه مجالس علم وإيناس، وتقريب لأناس، وتبعيد لأناس، وكنت بحمد الله من الفريق الأول لا بالمشكوك فيه ولا بالمتأول، فسمعت وأخذت وأجازني الإجازة التامة، وكتب لي بخطه أنشدني لبعض المشارقة يعرض بآخر ينعت بسراج الدين، وكانت قبيلته بجيلة فضمنها البيتين وهما:

لنا في البيت من خزف سراج … عراقي فتيلته نحيلة

يضيء لمن تعاهده بدهن … فلا كان السراج ولا الفتيلة

وأنشدني لسراج الدين الآمدي:

بني أفدى بالكتاب العزيز … وراح إليه سريعا وراجا

فما قال لي أف مذكان لي … لكوني أباه وكوني سراجا
সেই সংবাদবাহক যখন এটি নিয়ে এলেন, তিনি সালাহউদ্দীনকে বললেন, এটি গ্রহণ করুন, কারণ আপনার জন্য বা আপনার পিতার জন্য এর আগে কখনো এমন কোনো উপহার দেওয়া হয়নি। সুলতান এই কথায় কিছুটা বিরক্ত হলেন। তখন সংবাদবাহক বললেন, তাড়াহুড়ো করবেন না এবং এর ভেতরে কী লেখা আছে তা দেখুন। অতঃপর তিনি যখন এটি দেখলেন এবং এর মধ্যকার দুটি পঙ্ক্তি পাঠ করলেন, তখন তা গ্রহণ করে নিজের মাথায় রাখলেন এবং বললেন: শরীফ সত্যই বলেছেন, আমার কাছে এর আগে কখনো এমন উপহার আসেনি। আমি তাঁর নিকট কিরাআত ও হাদীসের অনেক কিতাব এবং অন্যান্য বহু রচনা পাঠ করেছি, যা আমি আমার বর্ণনার তালিকায় (বারনামাজ) সনদসহ বিস্তারিত উল্লেখ করেছি। তিনি আমাকে পূর্ণাঙ্গ, নিরঙ্কুশ ও সাধারণ অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেন এবং নিজ হাতে তা লিখে দেন। তাঁর জন্ম ছিল ৬৬৮ হিজরীতে।

অতঃপর আমি তাঁদের সাথে যুক্ত করছি সমকালের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, বর্ণনা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের অনন্য প্রতিভা, যাঁর কোনো সমকক্ষ বা জোড় নেই, যিনি দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হয়েছেন; তিনি হলেন আলেম ও পরামর্শক শেখ আবু আবদ ইবনুল হুবাব। তিনি ছিলেন এক বিশাল পাণ্ডিত্যপূর্ণ সাগর, প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী এবং বাগ্মী। তিনি এমন গাম্ভীর্য, মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী ছিলেন যা ইলমে ভরপুর এবং অহংকারমুক্ত। তিনি অত্যন্ত সুন্দর অবয়বে এবং পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের শিখরে পৌঁছেছিলেন। তিনি নবীন বৃক্ষপল্লবের মতো সজীব ও সতেজ হয়ে বেড়ে উঠেছিলেন এবং তাঁর গুণের বাগানগুলো দর্শকদের চোখের জন্য আনন্দদায়ক ছিল। তিনি আকলী ও নকলী বিদ্যায় একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন এবং ভাষাতত্ত্ব ও অলঙ্কারশাস্ত্রে ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। অন্য সকল বিদ্যায় তিনি সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যেতেন এবং সমুদ্রের ন্যায় জ্ঞানের প্রবাহ দান করতেন। তাঁর ইলম থেকে কণ্ঠহার ও বক্ষ-অলঙ্কার সদৃশ জ্ঞানরাশি আহরণ করা যেত। বিভিন্ন জ্ঞানশাস্ত্রে তাঁর এমন সব রচনা ও সংকলন রয়েছে যা কর্ণের অলঙ্কারস্বরূপ এবং অন্য সবকিছুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রভাব বিস্তারকারী। তাঁর কাসিদাসমূহ যেন অলঙ্কৃত কণ্ঠহার, যার সৌন্দর্যে রূপবতী রমণীরাও উদ্ভাসিত হয় এবং উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি যার সৌন্দর্যকে ঈর্ষা করে। তাঁর রচনাগুলো যেন নূর, প্রস্ফুটিত নক্ষত্র, রৌপ্য বা স্বর্ণ, অথবা ইয়াকুত ও মুক্তা, কিংবা নদীর সিক্ত বালুকণা অথবা সুবিন্যস্ত মণি-মাণিক্য:

অলঙ্কারশাস্ত্রের উদ্যানে এমন গদ্য ও পদ্য … যার পতপত করে উড়া বসন দেখে বসন্তও সিজদাবনত হয়।

বিস্ময় ও অভিভূত অবস্থায় আমি বুঝতে পারিনি … এটি কি মুক্তার মালা নাকি কবিতার অন্তমিল?

তাঁর যৌবনকালে যখন তিনি ইলম অন্বেষণে মগ্ন ছিলেন এবং এর দ্বার উন্মোচন করেছিলেন, তখন তিনি হাফসী সালতানাতের লিপি বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং তিউনিসিয়ার পতাকাবাহী হিসেবে স্বাধীন দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি তাঁর বালতি পূর্ণ করেছিলেন এবং রশি প্রসারিত করেছিলেন, অর্থাৎ তিনি লিখনশৈলীকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সাজিয়েছিলেন। তিনি সাহিত্যিক পদ্ধতির চোখের অন্ধকার ও অস্পষ্টতা দূর করেছিলেন। যখন তিনি এই শিল্পে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে পৌঁছালেন এবং জীবনের প্রথমার্ধ এতে ব্যয় করলেন, তখন তিনি ইলম শিক্ষাদানে মনোনিবেশ করলেন এবং দুষ্প্রাপ্য ও পরিচিত সকল বিষয়ে পাঠদানে ব্রতী হলেন। তিনি প্রখর মেধাবী ও অনন্য ব্যক্তিদের উপকৃত করেছেন এবং গবেষক ও সমালোচকদের তৃপ্ত করেছেন। প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী তিনি তাঁদের শ্রবণেন্দ্রিয়কে জ্ঞান দান করেছেন। তবে তিনি ছিলেন অত্যন্ত নির্জনতাপ্রিয় এবং মানসিক প্রশান্তিকে প্রাধান্য দিতেন। খুব কম ছাত্রই তাঁর সান্নিধ্য লাভে সক্ষম হতো, আর তিনি কেবল প্রখর বুদ্ধিমান ও বিদ্যায় পারদর্শী মেধাবীদের সান্নিধ্যেই আনন্দিত হতেন। তাঁর মজলিসগুলো ছিল জ্ঞান ও হৃদ্যতার মজলিস, যেখানে কোনো মানুষের ঘনিষ্ঠতা লাভ হতো আবার কারো দূরত্ব তৈরি হতো। আল্লাহর প্রশংসায়, আমি ছিলাম প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত, এতে কোনো সন্দেহ বা ব্যাখ্যার অবকাশ নেই। আমি তাঁর নিকট শ্রবণ করেছি ও গ্রহণ করেছি এবং তিনি আমাকে পূর্ণাঙ্গ ইজাজাহ প্রদান করেছেন। তিনি নিজ হাতে লিখে আমাকে প্রাচ্যের জনৈক ব্যক্তির কবিতা শুনিয়েছেন, যিনি সিরাজুদ্দীন নামধারী অন্য এক ব্যক্তির সমালোচনা করছিলেন; তাঁর গোত্র ছিল বাজিলাহ, তাই তিনি এই দুই পঙ্ক্তিতে তার উল্লেখ করেছেন:

আমাদের ঘরে মাটির তৈরি একটি প্রদীপ আছে … যা ইরাকী এবং এর সলতেটি খুবই পাতলা।

এটি কেবল তাকেই আলো দেয় যে তেল দিয়ে এর যত্ন নেয় … এমন প্রদীপ বা সলতের কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি আমাকে সিরাজুদ্দীন আল-আমিদীর এই কবিতাটিও শুনিয়েছেন:

আমার পুত্র, যাকে আমি মহাগ্রন্থ কুরআনের বিনিময়ে উৎসর্গ করি … সে দ্রুতগতিতে তার গন্তব্যে চলে গেল।

সে জন্মানোর পর থেকে আমাকে কখনো 'উফ' বলেনি … কারণ আমি তার পিতা এবং আমিই তার প্রদীপ (সিরাজ)।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১৫)
ويتلوه البحر المتلاطم الأمواج، والمنهل الذي نروى بعذبه بقاع الوهاد وتلاع الفجاج، والمجموع الذي نزلت بساحته مفنرقات العلوم نزول الماء الثجاج قاضي القضاة وإمام الفقهاء والنحاة ورب العقل الوافر والحصاة، الشيخ العالم العلامة قطي الشورى وعماد الفتيا، قدوة علماء الإسلام، أبو عبد الله بن عبد السلام رضي الله عنه، رجل نشأ في العفة والصيانة وتبوأ ذروة الطهارة والديانة، وصعد من هضبة التقى على أعلى المكانة، فلم تعرف له قط صبوة ولا حلت له على غير الطاعة حبوة، على ان المسهب في الأوصاف الكريمة، والمشيد بالمناقب المشيدة، سكيت مع سبقه ومسيء في إحسانه، وقاصر عن إدراكه، وهيهات يضرب في حديد بارد، ويطلب ما ليس له بواجد، من رام بيده لمس الشمس، وتعاطى برجله لحاق البرق، صرف همته العلية، وفكرته الوفادة الزكية، إلى انتحال فنون العلوم، وافتتاح المعكوم منها والمختوم، ملك أعنتها، وقاد أزمتها، وأوضح أشكالها، ووسم إغفالها، وحل أقفالها وتلقى بالسهل والرجب آنثيالها عليه واقبالها، فهو اليوم وحيد الأوان، وعلامة الزمان، والمشار إليه بالبنان والبيان ما قرن به فاضل من العلماء الارحجه، ولا ألقى إليه مبهم من العلم إلا كشفه وأوضحه، عدلا في أحكامه، جزلا في إقدامه مراقبا لله في فعله وكلامه، له صادقات عزائم، لا تأخذه معها في الله لومة لائم، إلى نزاهة عن الدنيا، وهمة نيطت بالثريا، ولهجة فيها ترقرق ماء البشر فأحيا وحيا.

يقابلني له خلق وضيء … يصدق بشره خلق رضى

حضرت مغتنما وملتزما تدريسه الذي هو ضالة الناشئ الناشد، وبغية القاصي والقاصد وحديقة الرأي الرائد، وحقيقة الفوائد، فسمعت وانتفعت وأخذت عنه شرحه لكتاب ابن الحاجب الفرعى فقرات وكتبت وأجازني في غير ما مرة، وكتب لي بخطه ومولده سنة ست وسبعين وستمائة وسمعت منه بمنزله من تونس جميع موطا الإمام مالك بن أنس رضي الله عنه في مجالس كثيرة آخرها ضحوة يوم الجمعة الثالث عشر لصفر من عام أربعين وسبعمائة وأذن لي في روايته عنه وحدثني أنه قرأه أجمع بلفظه على الأستاذ المقرئ أبى العباس المشتهر بالبطرنى المتقدم الذكر بسنده فيه وقرأه كذلك أيضا على الشيخ المحدث الرواية المعمر أبى محمد عبد الله بن هارون الطاءي، وحدثه به عن القاضي أبى القاسم أحمد بن يزيد بن عبد الرحمن بن بقى قراءة لبعضه وسماعا لسائره بمدينة قرطبة أعاداها الله دار اسلام عن أبي عبد الله محمد بن عبد الحق الخزرجي قراءة عليه عن أبي عبد الله محمد بن فرج الفقيه مولى الطلاع سماعا عليه قال سمعته على القاضي أبي الوليد يونس بن عبد الله أبن المغيث عن أبي عيسى يحيى بن عبد الله أبن يحيى بن يحيى عن عم أبيه عبيد الله بن يحيى بن يحيى عن مال بن أنس رضي الله عنه ورحمهم وهذا السند لا يوجد مثله بالمغرب علوا واتصالا بالقراءة والسماع، وقرأته أيضا عام ثلاثين وسبعمائة على والدي وأخبرني أنه قرأ منه جميع كتاب الصلاة عرضا عن ظهر قلب على والده جدى عن جماعة جلة منهم والده الخطيب أبو إسحاق وغيره وقرأته بالمسجد من مدينة مالقة المحروسة عام ثلاثة وعشرين وسبعمائة على الشيخ الخطيب الزاهد الولي الله تعالى أبى عبد الله محمد بن أحمد الهاشمي الطنجالي بسنده فيه وقد قرأته وسمعته بالأندلس وبغرب العدوة على غير من ذكرته رضى الله عن جميعهم. وقد آن أن يبرز فارس ميدان التسجيل المتميز في عناق تلك الحلبة بالغرة والتحجيل المحرز فضل السبق الموجب للتعظيم والتبجيل الشيخ العالم المتصوف أبو عبد الله بن عمر أرضاه الله تعالى، علم الجماعة، وقلم التأييد والاستطاعة، ورب الفكرة المطاعة، ومن له في النظم والنثر القلم الأعلى، والقدم الأولى، واللفظ الأجلى، والقدح المعلى، والبدائع التي تستفاد وتستعاد وتستحلى، وله في الطريقة الصوفية مقام عال، واشتات معال، وخاطر يجول بين واسع مجال فيبرز نفائس لئال وعرائس جمال ويأتي بسحر حلال، وبحر زلال بين بديهة وارتجال، ووخذ وارقال وانحفاز واستعجال.

مكارم مثل الحصا كثرة … وخاطر يغرف من كل بحر
ويتلوه البحر المتلاطم الأمواج، والمنهل الذي نروى بعذبه بقاع الوهاد وتلاع الفجاج، والمجموع الذي نزلت بساحته مفنرقات العلوم نزول الماء الثجاج قاضي القضاة وإمام الفقهاء والنحاة ورب العقل الوافر والحصاة، الشيخ العالم العلامة قطي الشورى وعماد الفتيا، قدوة علماء الإسلام، أبو عبد الله بن عبد السلام رضي الله عنه، رجل نشأ في العفة والصيانة وتبوأ ذروة الطهارة والديانة، وصعد من هضبة التقى على أعلى المكانة، فلم تعرف له قط صبوة ولا حلت له على غير الطاعة حبوة، على ان المسهب في الأوصاف الكريمة، والمشيد بالمناقب المشيدة، سكيت مع سبقه ومسيء في إحسانه، وقاصر عن إدراكه، وهيهات يضرب في حديد بارد، ويطلب ما ليس له بواجد، من رام بيده لمس الشمس، وتعاطى برجله لحاق البرق، صرف همته العلية، وفكرته الوفادة الزكية، إلى انتحال فنون العلوم، وافتتاح المعكوم منها والمختوم، ملك أعنتها، وقاد أزمتها، وأوضح أشكالها، ووسم إغفالها، وحل أقفالها وتلقى بالسهل والرجب آنثيالها عليه واقبالها، فهو اليوم وحيد الأوان، وعلامة الزمان، والمشار إليه بالبنان والبيان ما قرن به فاضل من العلماء الارحجه، ولا ألقى إليه مبهم من العلم إلا كشفه وأوضحه، عدلا في أحكامه، جزلا في إقدامه مراقبا لله في فعله وكلامه، له صادقات عزائم، لا تأخذه معها في الله لومة لائم، إلى نزاهة عن الدنيا، وهمة نيطت بالثريا، ولهجة فيها ترقرق ماء البشر فأحيا وحيا.

আমার সামনে উদ্ভাসিত হয় তাঁর এক উজ্জ্বল চরিত্র … যাঁর প্রফুল্লতা তাঁর সন্তোষজনক স্বভাবের সাক্ষ্য দেয়।

আমি সুযোগ অন্বেষণকারী ও তাঁর পাঠদানে অবিচল ছাত্র হিসেবে উপস্থিত হয়েছি, যা উদীয়মান জ্ঞানপিপাসুদের পরম প্রাপ্তি, দূর-দূরান্তের সত্যান্বেষীদের লক্ষ্যস্থল, সঠিক পথপ্রদর্শকের চিন্তার উদ্যান এবং প্রকৃত উপকারের বাস্তবতা। আমি তাঁর নিকট ইবনে হাজিবের ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবের ব্যাখ্যা শুনেছি এবং উপকৃত হয়েছি; আমি তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছি এবং তা লিখে নিয়েছি। তিনি আমাকে একাধিকবার অনুমতি (ইজাযাহ) প্রদান করেছেন এবং নিজ হাতে লিখে দিয়েছেন যে তাঁর জন্ম বছর ছিল ছয়শত ছিয়াত্তর হিজরি। আমি তিউনিসে তাঁর বাসভবনে তাঁর নিকট থেকে ইমাম মালিক বিন আনাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর সম্পূর্ণ মুয়াত্তা অনেকগুলো মজলিসে শ্রবণ করেছি, যার সর্বশেষটি ছিল সাতশত চল্লিশ হিজরির সফর মাসের তেরো তারিখ শুক্রবার চাশতের সময়। তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন এবং আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এটি সম্পূর্ণ নিজ শব্দে হাফেজ ও কারী আবুল আব্বাস আল-বাতারনি (যাঁর কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে)-এর নিকট তাঁর পূর্ণ সনদসহ পাঠ করেছেন। তিনি এটি আরও পাঠ করেছেন প্রবীণ মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারী আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন হারুন আত-তায়ি-এর নিকট। তিনি এটি তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন বিচারপতি আবুল কাসিম আহমদ বিন ইয়াযিদ বিন আব্দুর রহমান বিন বাকি-এর নিকট থেকে (কিছু অংশ পাঠ এবং বাকি অংশ শ্রবণ করে) কর্ডোভা শহরে—আল্লাহ তা পুনরায় ইসলামের আবাসভূমি হিসেবে কবুল করুন। তিনি এটি বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল হক আল-খাজরাজি-এর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ফারাজ আল-ফকিহ মাওলা আত-তিলা-এর নিকট শোনার মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমি এটি শুনেছি বিচারপতি আবুল ওয়ালিদ ইউনুস বিন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুগীস-এর নিকট। তিনি আবু ঈসা ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে। তিনি তাঁর পিতার চাচা উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে। তিনি মালিক বিন আনাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে। মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা ও আন্দালুস) অঞ্চলে উচ্চতা এবং পঠন ও শ্রবণের নিরবচ্ছিন্নতার দিক থেকে এই সনদের সমতুল্য আর কিছু পাওয়া যায় না। আমি এটি সাতশত ত্রিশ হিজরিতে আমার পিতার নিকটও পাঠ করেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এর 'সালাত' অধ্যায়টি সম্পূর্ণ তাঁর পিতা তথা আমার দাদার নিকট মুখস্থ শুনিয়েছেন। আমার দাদা এটি তাঁর পিতা খতিব আবু ইসহাকসহ একদল মহান আলেমদের নিকট পাঠ করেছেন। আমি এটি সাতশত তেইশ হিজরিতে সুরক্ষিত মালাগা শহরের মসজিদে খতিব, যাহিদ ও আল্লাহর ওলি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-হাশেমি আত-তানজালি-এর নিকট তাঁর সনদসহ পাঠ করেছি। আমি এটি আন্দালুসে এবং মাগরিবের অন্যান্য স্থানেও অনেকের নিকট পাঠ করেছি ও শুনেছি (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন)। এখন সময় হয়েছে সেই অশ্বারোহীকে সামনে আনার, যিনি এই ময়দানে শ্রেষ্ঠত্বের উজ্জ্বল চিহ্নের মাধ্যমে বিশিষ্ট হয়ে আছেন এবং যিনি সম্মান ও শ্রদ্ধার উচ্চাসনে আসীন। তিনি হলেন প্রাজ্ঞ আলেম ও সুফি আবু আব্দুল্লাহ বিন উমর (আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)। তিনি জামাতের নিশান, ঐশী সাহায্য ও সামর্থ্যের কলম, এবং মান্যবর চিন্তার অধিকারী। গদ্য ও পদ্যে তাঁর কলম সর্বোচ্চ এবং তাঁর অবস্থান সর্বাগ্রে। তাঁর শব্দাবলি অত্যন্ত প্রাঞ্জল এবং তিনি সর্বোচ্চ সাফল্যের অধিকারী। তাঁর এমন সব অনবদ্য সৃষ্টি রয়েছে যা থেকে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে এবং যা বারবার পঠনযোগ্য ও অত্যন্ত মধুর। সুফি ত্বরীকায় তাঁর রয়েছে উচ্চ মাকাম এবং বিবিধ সুউচ্চ গুণাবলি। তাঁর চিন্তাধারা প্রশস্ত ময়দানে বিচরণ করে এবং মহামূল্যবান মুক্তা ও সৌন্দর্যমন্ডিত নববধূর ন্যায় জ্ঞানকে উদ্ভাসিত করে। তিনি যেন বৈধ যাদু এবং স্বচ্ছ সমুদ্রের ন্যায় জ্ঞান নিয়ে আসেন, যা তাঁর তাৎক্ষণিক বুদ্ধি, দ্রুততা ও নিপুণতার এক অপূর্ব প্রকাশ।

তাঁর মহানুভবতা বালুকণার ন্যায় অগণিত … আর তাঁর মেধা যেন প্রতিটি সাগর থেকে জ্ঞান আহরণ করে।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১৬)
رحل إلى المغرب والمشرق فعلت روايته وعظمت آياته، وكثرت مبالاته بالعلم وعنايته، فبدأ في سماء المعالي بل المعارف شمسا تتجلى بزهر هدايته مشكلاتها، ولاح في جيد العوارف سلكا تتحلى بذر كفايته لباتها، وأقام مشتغلا بالعلم سنين، وانعقد النكاح بينه وبين عقائل الآداب بالرفاء والبنين، فيلد من مخلدات فكره خرائد تتهاداها الملوك وفرائد تزدان بها التيجان والسلوك، تحلت به الدولة الأندلسية كما تجلت عنه الخضرة التونسية فهو الآن متولي ديوان إنشائها ومدلى أشطان رشائها قد استقر عنه من عرف له شانه وعاف بعده وشانه واقتنى نظمه فزانه وأذخر مرجان نثره وجمانه. دخلت الحضرة المذكورة على حين أخذ مني البين أخذته وفلذ من فؤادي فلذته، فتفرست أدبه الرائق ومذهبه الواضح الطرائق فكان جنابه العلي مطمح نفسي ومسرح أنسي ومصلح ما نضى من لبسي، وانضى من عنسي فكانت فراسة لاح صدقها، وأومض برقها سحابها، وهمل ودقها، ولما عجت إليه وقصدت منزله للسلام عليه، أنشدت بيتين اثنين استأذنته بهما وهما:

ببابك يا مولى الكتابة كاتب … أتاك بقلب من أسى البين مفجوع

وحاجته تقبيل يمناك، أنها … تؤمن من خوف وتسمن من جوع

فارتاح إليهما ارتياح الصداق لبليل القبول، ومد لهما يمين اليمن والقبول، ودارت بيننا المخاطبات نظما وتكررت بيننا المراسلات والمراجعات قلا وكثرا، ولم أزل مدة إقامتي بتلك الحضرة تحت ظله الوارف وفضله المحمود المطارف خرج مستريحا في بعض أزمنته الطيبة إلى بعض جناته التي هي منى النواظر، وملعب الغصون النواضر ومهب الأنفاس العواطر وراحة الأبدان والخواطر، حلال الحلل التي توشيها أيدي الغمائم المواطر، فما ألم بها حتى وجه إلى مع بعض خدامه مركوبا من عتاق الخيل، جامعا لضياء الصباح وغسق الليل نقلني إليه، وأحلني لديه، فوافيت والربيع قد أهدى نوافحه، وأسدى لواقحه، وأسدل ملاحفه وأسبل مطارفه، وألان معاطفه وأفاض معارفه، ومد بروده، وأمال قدوده، وحشد جنوده، وحشر بيضه وسوده، ونشر ألويته وبنوده، وملأ تهامته ونجوده، ونظم جواهره وعقوده، ورقم صحائفه وعقوده، وأعطى مواثيقه وعقوده، والغمام قد بكى على ميت الروض فأحيا نوره وأضحك ثغره وحدق أحداقه، وأرضى أوراقه، وأصفى ملبسه، ووشى سندسه، والنسيم قد جر على بساط البسيطة ذيوله، وأجال بملعبه خيوله، واستنطق أطياره، وشق أنواره، وأفشى أسراره، وأذاع شيحه وعراره، وفضض أنواره، وذهب أزهاره، ونثر درهمه وديناره، وحيا ورده وبهاره، وصافح آسه وجلناره، وأطاب ثناياه وأخباره، والمذانب تسل السيوف، وترى لنفسها على الأنهار الشفوف، وتخترق من مكللات الثمار الصفوف، وتدور على سوق الغصون كالخلاخل، وتلتوي بها التواء اللسان المجادل، وتلك السواقي تحن حنين الحوار، وتضرم في القلب المشوق حر الأوار، وتهيج لوعة الصب المغترب النازح الدار، وتفجر من بين أضلاعها أمثال الشفار، كما قال الرئيس أبو عبد الله بن أبى الحسين:

ومحنية الأصلاب تحنو على الثرى … وتسقي بنات الترب در الترائب

تعد من الأفلاك أن مياهها … نجوم لرجم المحل ذات ذوائب

وأطربها رقص الغصون ذوابلا … فدارت بأمثال السيوف القواضب

وما خلتها تشكو بتحنانها الصبا … ومن بين مثليها أطراد المذائب

فخذ من مجاريها ودهمة لونها … بياض العطايا في سواد المطالب

فحللت منها شرفا، وتبوأت عرفا، واجتنيت تحفا وطرفا، وأقمنا فيها ليالي وأياما أمنين، تغازلنا أعين النرجس وتقابلنا خدود الورد وتصافحنا أكف الياسمين:

في رياض من الشقائق أضحت … يتهادى بها نسيم الرياح

زرتها والغمام يجلد منها … زهرات تفوق لون الراح

قلت وما ذنبها فقال مجيبا … سرقت حمرة الخدود الملاح

ومما أنشدني هناك لنفسه:

حسن المرية ريح … جرى عليها فعما

فكل وجه تراه … تراه بدارا أتما
তিনি মাগরিব ও মাশরিক সফর করেছেন, ফলে তাঁর বর্ণনা উচ্চমর্যাদা লাভ করেছে এবং তাঁর নিদর্শনসমূহ মহান হয়েছে। ইলমের প্রতি তাঁর মনোযোগ ও যত্ন বৃদ্ধি পেয়েছে। অতঃপর তিনি উচ্চমর্যাদার আকাশে, বরং মা'রিফাতের আকাশে এক সূর্যের ন্যায় উদিত হলেন, যার হিদায়াতের আলোতে সমস্ত জটিলতা উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। এবং জ্ঞানীদের গ্রীবায় তিনি এমন এক হারের ন্যায় প্রতীয়মান হলেন যার পর্যাপ্ততার অলঙ্কারে তাদের বক্ষদেশ সুশোভিত হয়। তিনি দীর্ঘ বছর ইলম চর্চায় রত ছিলেন এবং তাঁর ও সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদসমূহের মধ্যে এমন এক বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হয়েছিল যা ছিল সৌভাগ্য ও প্রাচুর্যে ভরপুর। ফলে তাঁর কালজয়ী চিন্তা থেকে এমন সব অনুপম রত্ন জন্ম লাভ করে যা রাজন্যবর্গ একে অপরকে উপহার দেন এবং যা মুকুট ও কণ্ঠহারকে সুশোভিত করে। আন্দালুসিয়া রাষ্ট্র তাঁর দ্বারা অলঙ্কৃত হয়েছিল, যেমনটি তিউনিসিয়ার শ্যামলতা তাঁর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। বর্তমানে তিনি রচনার কার্যালয়ের (দিওয়ানুল ইনশা) দায়িত্বে নিয়োজিত এবং এর উন্নতির মূল চালিকাশক্তি। যাঁর কাছে তাঁর মর্যাদা স্পষ্ট হয়েছে তিনি সেখানে স্থির হয়েছেন, আর যে ব্যক্তি তাঁর সান্নিধ্য ত্যাগ করেছে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যে ব্যক্তি তাঁর কাব্য সংগ্রহ করেছে তা তাকে অলঙ্কৃত করেছে এবং যে তাঁর গদ্যের মুক্তা ও মণিমাণিক্য সঞ্চয় করেছে সে সমৃদ্ধ হয়েছে। আমি উক্ত দরবারে এমন এক সময়ে প্রবেশ করলাম যখন বিচ্ছেদ আমাকে কাতর করে ফেলেছিল এবং আমার হৃদয়কে ব্যথিত করেছিল। আমি তাঁর চমৎকার সাহিত্য প্রতিভা এবং সুস্পষ্ট পথ ও মতাদর্শ প্রত্যক্ষ করলাম। তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সান্নিধ্য ছিল আমার প্রাণের আকাঙ্ক্ষা, আমার প্রশান্তির ক্ষেত্র এবং আমার ক্লান্ত জীবনের সংস্কারক ও আমার বাহনের বিশ্রামের স্থান। এটি ছিল এমন এক দূরদর্শিতা যার সত্যতা প্রকাশিত হয়েছিল এবং যার মেঘমালার বিদ্যুৎ চমকানোর পর বারিবর্ষণ শুরু হয়েছিল। যখন আমি তাঁর পানে ছুটে গেলাম এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে তাঁর বাসস্থানে উপস্থিত হলাম, তখন আমি তাঁর অনুমতি প্রার্থনা করে এই দুটি পঙক্তি পাঠ করলাম:

হে রচনার অধিপতি, আপনার দ্বারে এক লেখক উপস্থিত … যে আপনার নিকট এসেছে বিচ্ছেদের শোকে ব্যথিত হৃদয় নিয়ে।

তার একমাত্র প্রার্থনা আপনার ডান হাত চুম্বন করা, যা … ভয় থেকে নিরাপত্তা দান করে এবং ক্ষুধা নিবারণ করে।

তিনি এই পঙক্তি দুটিতে অত্যন্ত আনন্দিত হলেন, যেমন আনন্দিত হয় কোনো বন্ধু স্নিগ্ধ কবুলিয়াত লাভে; তিনি বরকত ও কবুলিয়াতের ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমাদের মধ্যে পদ্য ও গদ্যে কথোপকথন চলল এবং বারংবার পত্রবিনিময় ও আলোচনা দীর্ঘ ও সংক্ষেপে চলতে থাকল। আমি উক্ত দরবারে অবস্থানকালীন সময়ে তাঁর সুশীতল ছায়া এবং প্রশংসনীয় অনুগ্রহের নিচেই ছিলাম। এক সুন্দর সময়ে তিনি তাঁর কোনো এক উদ্যানে বিশ্রামের জন্য বের হলেন, যা ছিল নয়নভিরাম, নবীন পল্লবধারী শাখাগুলোর ক্রীড়াক্ষেত্র, সুগন্ধি বায়ুর বিচরণস্থল এবং দেহ ও মনের প্রশান্তি। সেই উদ্যান ছিল মেঘমালার বারিধারায় অলঙ্কৃত এক বসন। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি তাঁর এক দাসের সাথে আমার নিকট এক উন্নতজাতের ঘোড়া পাঠালেন, যা ছিল সকালের শুভ্রতা ও রাতের অন্ধকারের সংমিশ্রণ। সেটি আমাকে তাঁর নিকট নিয়ে গেল এবং তিনি আমাকে তাঁর কাছে স্থান দিলেন। আমি যখন পৌঁছলাম তখন বসন্ত তার সুবাস উপহার দিচ্ছিল, তার প্রজনন শক্তি বিস্তার করছিল, তার চাদর বিছিয়ে দিচ্ছিল এবং তার অলঙ্কৃত পোশাক পরিধান করাচ্ছিল। বসন্ত তার শাখাগুলোকে নমনীয় করেছিল, তার জ্ঞানরাশি ছড়িয়ে দিচ্ছিল, তার পশমি বস্ত্র প্রসারিত করেছিল, তার দেহ সৌষ্ঠবকে বিনম্র করেছিল এবং তার সৈন্যবাহিনী সমবেত করেছিল। সে তার সাদা ও কালো বর্ণকে একত্রিত করেছিল, তার পতাকা ও নিশানসমূহ উন্মোচন করেছিল, তার সমতল ও উচ্চভূমি পূর্ণ করেছিল, তার মণি-মুক্তা ও কণ্ঠহার সুবিন্যস্ত করেছিল, তার লিপিসমূহ অলঙ্কৃত করেছিল এবং তার অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করেছিল। মেঘমালা যখন বাগানের মৃতপ্রায় বৃক্ষরাজির ওপর ক্রন্দন করল (বৃষ্টি বর্ষালো), তখন তার জ্যোতি পুনরুজ্জীবিত হলো এবং তার মুখমণ্ডল হাস্যোজ্জ্বল হলো; সে তার চোখ মেলে তাকালো, তার পাতাগুলোকে তৃপ্ত করল, তার পোশাককে নির্মল করল এবং তার রেশমি বস্ত্রকে কারুকার্যখচিত করল। সমতল ভূমির গালিচায় মলয় বাতাস তার আঁচল টেনে নিয়ে গেল এবং তার ক্রীড়াক্ষেত্রে তার অশ্বসমূহ চালনা করল; সে পক্ষীসমূহকে বাকপটু করল, তার আলো বিদীর্ণ করল, তার রহস্য ফাঁস করল এবং তার সুগন্ধি ছড়িয়ে দিল। সে তার জ্যোতিকে রূপালী বর্ণ দিল, তার ফুলগুলোকে স্বর্ণালী করল, তার দিরহাম ও দিনার (পুষ্পরেণু) ছড়িয়ে দিল এবং গোলাপ ও বসন্তের ফুলকে অভিবাদন জানাল। সে ঝাউগাছ ও ডালিম ফুলের সাথে করমর্দন করল এবং তার সংবাদ ও সুগন্ধিকে মনোমুগ্ধকর করল। জলাশয়গুলো যেন তাদের তলোয়ার কোষমুক্ত করল এবং নদীগুলোর ওপর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখতে পেল; তারা ফলভারাবনত বৃক্ষরাজির সারির মধ্য দিয়ে পথ করে নিল এবং শাখাগুলোর গোড়ায় নূপুরের ন্যায় ঘুরতে থাকল, আর তা তার সাথে এমনভাবে পেঁচিয়ে থাকল যেন কোনো তার্কিকের জিহ্বা। সেই নালাগুলো উটের বাচ্চার ন্যায় করুণ সুরে ডাকছিল এবং বিরহী হৃদয়ে যন্ত্রণার আগুন প্রজ্বলিত করছিল; তা প্রবাসী গৃহত্যাগী প্রেমিকের বিরহ বেদনাকে জাগিয়ে দিচ্ছিল এবং তার পাঁজরের মাঝখান থেকে তলোয়ারের ফলার মতো জলধারা প্রবাহিত করছিল, যেমনটি প্রধান আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল হুসাইন বলেছেন:

নুয়ে পড়া পৃষ্ঠদেশগুলো মাটির দিকে ঝুঁকে পড়ে … আর মাটির কন্যাদের (উদ্ভিদকে) বুকের দুধের ন্যায় পানি পান করায়।

আকাশ থেকে মনে হয় যে তাদের পানি … যেন দুর্ভিক্ষের শয়তানকে তাড়ানোর জন্য লেজবিশিষ্ট অগ্নিপিণ্ড।

শাখাগুলোর দোদুল্যমান নাচ তাদের আনন্দিত করে … ফলে সেগুলো ধারালো তলোয়ারের ন্যায় চারদিকে ঘুরতে থাকে।

আমি মনে করিনি যে সেগুলো তাদের আর্তনাদে পুবাল বাতাসের কাছে অভিযোগ করছে … বরং দুই পাহাড়ের মাঝখান থেকে গলিত ধাতুর প্রবাহ বইছে।

অতএব তার প্রবাহধারা এবং তার বর্ণের শ্যামলতা থেকে গ্রহণ করো … কৃষ্ণবর্ণের চাহিদার মাঝে শুভ্র দানসমূহ।

আমি সেখানে এক সম্মানিত স্থানে অবতরণ করলাম এবং এক সুপরিচিত স্থানে আশ্রয় নিলাম; সেখান থেকে আমি বহু উপঢৌকন ও দুর্লভ বস্তু আহরণ করলাম। আমরা সেখানে রাত ও দিনগুলো শান্তিতে অতিবাহিত করলাম, যেখানে নার্গিস ফুল আমাদের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছিল, গোলাপের গাল আমাদের মুখোমুখি ছিল এবং জুঁই ফুলের হাত আমাদের সাথে করমর্দন করছিল:

এমন এক টিউলিপের বাগানে যেখানে … বসন্তের বাতাস একে অপরকে উপহার দেওয়া হয়।

আমি তা পরিদর্শন করলাম যখন মেঘমালা সেখান থেকে আঘাত করছিল … এমন সব ফুল যা সুরার রঙকেও হার মানায়।

আমি বললাম, এদের অপরাধ কী? সে উত্তর দিল … এরা সুন্দরী নারীদের গালের লাল আভা চুরি করেছে।

সেখানে তিনি নিজের রচিত যে কবিতাটি আমাকে শুনিয়েছিলেন তার মধ্যে রয়েছে:

সুন্দর এক দৃশ্য, যা বায়ুপ্রবাহে … তার ওপর দিয়ে বয়ে গেল এবং তা পূর্ণ হলো।

যেকোনো মুখমণ্ডলই তুমি দেখবে … তা পূর্ণিমার চাঁদের মতোই পূর্ণ দেখতে পাবে।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأنشدني وقال لي: أنشدني الحاج الفاضل أبو زكرياء بن واش الفاسي، وقال أنشدني بعض الشيوخ المجاورين البغداديين وقد مر به بحرم مكة، شرفها الله تعالى، الفقيه أبو جعفر بن شيخنا الإمام رضي الدين الطبري، وهو إذ ذاك فتى، فقال له الشيخ،) ما الذي تقرأ وبم تشتغل من الكتب (، فقال له الفتى،) بالتنبيه (فأنشد الشيخ بديهة.

ومهفهف الأعطاف ساج طرفه … يغدو على الفقهاء للتعليم

شغلوه بالتنبيه جهلا منهم … لو انصفوا شغلوه بالتنويم

وأنشدني وقال لي، دخل الأديب الشهير أبو بكر بن قزمان، رحمه الله تعالى، على بعض البلاد فأعطى نعله ليصلح له، وهو مستوفز قد نفد ما عنده، فخاطب في الحال بعض الناس من أهل البلد بقوله:

دفعت قرقي لقراق يصلحه … وفد تعذر قيراط من الثمن

فامنن على شاعر خفت مؤونته … قدر السؤال بقدر الناس والزمن

وأنشدني لبعضهم:

خبت نار العلى بعد اشتعال … ونادى الجود حي على الزوال

فقدنا الجود إلا في حديث … وإلا في الدفاتر والآمال

ولو أني ملكت الأمر يوما … لما حاربت إلا بالسؤال

لأن الناس ينهزمون منه … وقد ثبتوا لا لأطراف العوالي

وقرأت وسمعت عليه جميع صحيح مسلم بن الحجاج، رحمه الله تعالى، فكمل لي جميعه عليه ما بين قراءة وسماع بحق قراءته لجميعيه، بالحرم الشريف تجاه الكعبة المعظمة، سنة ثلاث عشرة وسبعمائة على الشيخ الإمام الخليل عليه السلام رضي الدين أبى أحمد إبراهيم بن محمد الطبري المكي الشافعي، قال: قرأته أجمع بالحرام الشريف اتجاه الكعبة المعظمة، سنة خمس وسبعين وستمائة على الشيخ الأوحد شمس الدين أبى عبد الله محمد بن النعمان بحق قراءته، على الشيخ أبى الفضل محمد بن أبى المعالي بن الجياب السعدي، على الشيخ الشريف أبى المفاخر سعيد بن الحسين الماموني، عن الشيخ أبى عبد الله محمد بن الفضل الصاعدي الفراوي، عن الشيخ أبى الحسين عبد الغافر بن محمد الفارسي، عن الشيخ بن أحمد بن عيسى الجلودى، عن أبى إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان النيسابوري، عن الإمام، أبى الحسين مسلم بن الحجاج القشيرى، قال: " وقال الشيخ أبو أحمد إبراهيم بن محمد رضي الدين الطبري، وأخبرني به، أعلى من هذا الشيخ المحدث أمين الدين عبد الصمد بن عبد الوهاب بن عساكر الدمشقي، قراءة عليه وأنا أسمع، بالحرم الشريف تجاه الكعبة المعظمة سنة تسع وخمسين وستمائة قال: أخبرنا به الشيخ أبو الحسن المؤيد الطوسي، اجارة عن الإمام أبى عبد الله محمد بن الفضل الصاعدي الفراوى، وبسنده المذكور ". وقد أجازني الإجازة التامة، وكتب لي بخطه.
তিনি আমাকে আবৃত্তি করে শোনালেন এবং বললেন: আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন পুণ্যবান হাজি আবু জাকারিয়া বিন ওয়াশ আল-ফাসি। তিনি বললেন, আমাকে বাগদাদের জনৈক প্রতিবেশী শাইখ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন—ঘটনাটি তখন ঘটেছিল যখন মক্কার পবিত্র হারামে (আল্লাহ তাআলা একে সম্মানিত করুন) আমাদের শাইখ ইমাম রাযিউদ্দিন আত-তাবারির পুত্র ফকিহ আবু জাফর তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবু জাফর তখন কিশোর ছিলেন। শাইখ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কী পড়ছো এবং কোন কিতাব নিয়ে ব্যস্ত আছো?" কিশোর উত্তর দিল, "আত-তানবিহ (গ্রন্থ) নিয়ে।" তখন শাইখ তাৎক্ষণিকভাবে এই কবিতাটি আবৃত্তি করলেন:

কোমল তনুধারী সেই কিশোর, যার দৃষ্টি শান্ত … ইলম অর্জনের তরে ফকিহদের কাছে প্রাতে গমন করে।

তারা তাদের অজ্ঞতাবশত তাকে 'তানবিহ' (সতর্কীকরণ) নিয়ে ব্যস্ত রেখেছে … তারা যদি ন্যায়বিচার করত, তবে তাকে 'তানউইম' (নিদ্রা বা প্রশান্তি) নিয়ে ব্যস্ত রাখত।

তিনি আমাকে আরও আবৃত্তি করে শোনালেন এবং বললেন, বিখ্যাত সাহিত্যিক আবু বকর বিন কুজমান (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) কোনো এক শহরে প্রবেশ করলেন। তিনি তাঁর জুতোটি মেরামতের জন্য দিলেন, এমতাবস্থায় তিনি বিচলিত ছিলেন কারণ তাঁর কাছে যা ছিল সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। তখন তিনি তাৎক্ষণিক সেই শহরের এক ব্যক্তিকে সম্বোধন করে বললেন:

আমি আমার জুতোটি একজন মুচির কাছে দিয়েছি মেরামতের জন্য … কিন্তু পারিশ্রমিক হিসেবে একটি কিরাতও আমার কাছে নেই।

অতএব এই কবির প্রতি অনুগ্রহ করুন যার পাথেয় ফুরিয়ে এসেছে … সাহায্যের পরিমাণ হোক মানুষের মর্যাদা ও সময়ের অবস্থা অনুযায়ী।

তিনি আমাকে অন্যদের রচিত কবিতাও আবৃত্তি করে শোনালেন:

প্রজ্জ্বলিত হওয়ার পর আভিজাত্যের অগ্নি আজ নির্বাপিত … আর দানশীলতা আজ বিলুপ্তির ঘোষণা দিচ্ছে।

আমরা দানশীলতাকে হারিয়েছি, এখন তা কেবল লোকগাথায় আছে … আর আছে কিতাবের পাতায় ও দুরাশার মাঝে।

যদি কোনোদিন আমার হাতে ক্ষমতা থাকত … তবে আমি কেবল সাহায্য প্রার্থনার মাধ্যমেই যুদ্ধ করতাম।

কারণ মানুষ তা থেকেই পলায়ন করে … অথচ তারা বর্শার ফলার মুখেও অটল থাকে।

আমি তাঁর কাছে ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজের (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) পূর্ণাঙ্গ সহিহ মুসলিম পাঠ করেছি এবং শ্রবণ করেছি। পাঠ এবং শ্রবণ—উভয় মাধ্যমেই তাঁর কাছে গ্রন্থটির পূর্ণাঙ্গতা লাভ করেছি যা তাঁর বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। এটি মক্কার পবিত্র হারামে, সম্মানিত কাবার সম্মুখে, ৭১৩ হিজরি সনে শাইখ ইমাম খলিলুল্লাহ রাযিউদ্দিন আবু আহমাদ ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ আত-তাবারী আল-মক্কি আল-শাফেয়ি এর নিকট সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেছেন: আমি এটি পূর্ণাঙ্গ পাঠ করেছি মক্কার পবিত্র হারামে কাবা শরীফের সম্মুখে, ৬৭৫ হিজরি সনে অনন্য শাইখ শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-নুমান এর নিকট, যা তিনি বর্ণনা করেছেন শাইখ আবু আল-ফজল মুহাম্মাদ বিন আবি আল-মাআলি বিন আল-জইয়াব আল-সাদি থেকে, তিনি শরিফ শাইখ আবু আল-মাফাখির সাঈদ বিন আল-হুসাইন আল-মামুনি থেকে, তিনি শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-ফজল আল-সায়িদি আল-ফারাউয়ি থেকে, তিনি শাইখ আবু আল-হুসাইন আব্দুল গাফির বিন মুহাম্মাদ আল-ফারিসি থেকে, তিনি শাইখ বিন আহমাদ বিন ঈসা আল-জুলুদি থেকে, তিনি আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন সুফিয়ান আল-নাইসাবুরি থেকে, তিনি ইমাম আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল-কুশাইরি থেকে। তিনি (শাইখ ইবরাহিম) আরও বলেন: "শাইখ আবু আহমাদ ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ রাযিউদ্দিন আত-তাবারী আমাকে জানিয়েছেন, এই শাইখের চেয়েও উচ্চতর সনদে মুহাদ্দিস শাইখ আমিনুদ্দিন আব্দুল সামাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন আসাকির আল-দিমাশকি আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁর কাছে পাঠ করেছি এবং তিনি শ্রবণ করেছেন মক্কার পবিত্র হারামে কাবা শরীফের সম্মুখে, ৬৫৯ হিজরি সনে। তিনি বলেছেন: আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু আল-হাসান আল-মুয়াইয়াদ আল-তুসি, তিনি ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-ফজল আল-সায়িদি আল-ফারাউয়ি এর ইজাজতক্রমে এবং তাঁর উল্লেখিত সনদে।" আর তিনি (শাইখ) আমাকে পূর্ণাঙ্গ ইজাজত প্রদান করেছেন এবং স্বহস্তে আমার জন্য লিখে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১৮)
) وآخر سبعهم (، وموثر شفعهم، إمام المعارف، وروضة الآداب الناعمة الأفنان، الرائقة المطارف، الفائزة من المجد الموثل بالتالد والطارف، الشيخ العالم الولي: أبو عبد الله لبن حريز فرع الأصل الغزير، وطبع الأدب المخجل أسلاك الدر وسبائك الإبريز، والمعترف له في ميدان البلاغة وفرسان البراعة بالسبق والتبريز، سبق في شجرة قرشية أموية كريمة الأعراق، ساطعة الإشراق طيبة الأثمار والأوراق، وتفتح نور بيانه في جنان جنانه، فاجتنى لسانه، واجتلى كالزهر في آداره ونيسانه، وترقى بإجادته وإحسانه، من رجل برع في الطرق الأدبية الصوفية، ونبغ في العلوم العقلية والنقلية، وفرغ لها بالنفس العاصفية، والهمة الأوسية والفكرة الأياسية، فخلق فيها رجوما رافقت الأنكدار، وبدورا فارقت الأبدار، وشموسا على كسوفها من الزمان ما دار، فعلا بعدهم قدمه، وأضحى وجمهور العالم حوله وخدمه، فاقتصر في منزله الكريم على عبادة ربه، وإفادة صحبه، سارحا من فنون علوية، في روضات جنات، ودرجات مقامات، وسائحا من عيون مجلداته في بحر أمهات، وفيض ملمهات، منقبضا عن الناس إلا عن المحتاجين إلى مواساته، والمفتقرين إلى إفادته ومؤانسته، فترى تراكم الخلق عليه تراكم الجراد المنتشر، فمجلسه في داره بتونس مجتمع إليه فيه أصناف أهل العلم، وطوائف أولى التقى والفهم، وهو اليوم هناك كعبة العلوم يحج إليها، وعمدة المحاسن يعول عليها، قد جعله الله تعالى محيا للأنفس، وسببا للتأنس، وأودع فيه من صدق المصاحبة، وحسن المداعبة، وكثرة الخشية لله تعالى والمراقبة، ما سلكه على أحسن أسلوب، وملكه الأنفس وحب القلوب، فهو كما كان محمد بن سيرين رضي الله عنه، يداعب ويضحك حتى يسيل لعابه، فإذا أردته على شيء من دينه كانت الثريا أقرب إليك من ذلك.

سماحة لا تبارى الريح غايتها … جودا ولا تتعاطى شأوها السحب

وهيبة لو رآها الدهر ماثلة … ولي وللرعب في أحشائه صخب

إلى ما رزقه الله تعالى من القريحة الوقادة، والفطنة النقادة، والخوض في بحور العلوم الشرعية والطبيعية، والورود من مشارع الكمالات النفسية، والمشارب الذوقية الوجدانية، والعنايات السلطانية والحمايات العامة والعطايا الحاتمية، والرتب العليه، والزهد في الدنيا الدنية، وبعد الهمة والمشاركة للخاصة والعامة، من هذه الأمة، وإجابة الدعوة، والخلو من الزهو والنخوة، وأنا من رأيت نجاح دعواته، وصلاح حالي بالتماس بركاته، ولازمته وتردد إليه كثيرا فكنت أجد في مجالسته فوائد تنسي الأوطان، وأرد في موانسته موارد تحيي الهائم الظمئان، قلت له يوما، يا سيدي علم الله تعالى أني أحبك فقال لي: ابشر أني رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في النوم، فقال لي:) يا محمد رزقك الله التقوى وحببك إلى خلقه وجعل من يحبك من عبادة المؤمنين قال رضي الله عنه: فمن علمت أنه يحبني علمت أنه من عباده المؤمنين (سمعت من لفظه رضي الله عنه جميع تآليفه البديع المزري بروض الربى وزهر الربيع الذي سماه مهب نواسم المدائح، ومصب غمائم المنائح، في مدح أحد حجاب، الخلافة الحفصية، ونقلته من خطه وصححته عليه، وسمعت وقرأت عليه، وأجازني وكتب لي بخطه، ومولده في الثاني عشر لشهر ربيع الثاني عام اثنين وثمانين وستمائة، وأخبرني رضي الله عنه قال: حضرت محتفلة عند بعض الأصحاب انشد فيه المسمع قصيدة ابن صردر العراقي فأعجبت بها، وما أتمها إلا وقد أشربت فؤادي من سمعة واحدة، وعرضتها في الحين على من حضر وهي:

لحاجة نفس ما يفيق غرورها … وحاجة صب ليس يفضي يسيرها

أكفكفها هطلا على كل منزل … فلو أنها أرض لغارت بحورها

وما ينفع العين التسهد والبكا … أذن تعرفا لي مقلة أستعيرها

وقفنا صفوفا بالديار كأنها … أهذي التي تهوى فقلت نظيرها

لئن أشبهت أجيادها وعيونها … لقد خالفت أعجازها وصدورها

ووالله ما أدري غداة رمينى … أتلك سهام أو كئوس تديرها؟

فان كن من نبل فأين حفيفها … وان كن من خمر فأين سرورها؟

وان قلتما لي ليس في الأرض جنة … أما هذه فوق الركائب حورها

يعز على الهيم الخوانس وردها … إذا كان ما بين الشفاه غديرها!
(এবং তাদের সপ্তকের সর্বশেষ), এবং তাদের যুগলের অগ্রাধিকার প্রদানকারী, মারেফাতের ইমাম, সূক্ষ্ম শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট শিষ্টাচারের উদ্যান, উজ্জ্বল আচ্ছাদনধারী, প্রাচীন ও আধুনিক আভিজাত্যের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত সম্মানে বিজয়ী, আলিম ওলী শায়খ: আবু আব্দুল্লাহ ইবনে হারিয। তিনি প্রভূত মূলের শাখা, এমন সাহিত্যিক স্বভাবের অধিকারী যা মুক্তার মালা ও খাঁটি স্বর্ণের পাতকে লজ্জিত করে। সাবলীলতা ও বাগ্মিতার ময়দানে শ্রেষ্ঠত্ব ও নৈপুণ্যের জন্য তিনি স্বীকৃত। তিনি এক অভিজাত কুরাইশী উমাইয়া বংশের বৃক্ষে প্রস্ফুটিত হয়েছেন, যার শেকড় অতি মর্যাদাপূর্ণ, যার দীপ্তি অত্যন্ত প্রখর এবং যার ফল ও পত্র অত্যন্ত পবিত্র। তাঁর হৃদয়ের উদ্যানে তাঁর বর্ণনার নূর প্রস্ফুটিত হয়েছে, ফলে তাঁর জিহ্বা তা আহরণ করেছে এবং তাঁর বসন্তকালীন দিনগুলোতে তা ফুলের মতো বিকশিত হয়েছে। তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও ইহসানের মাধ্যমে উন্নতি লাভ করেছেন; তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি আদব ও সূফি তরিকায় পারদর্শিতা অর্জন করেছেন, আকলি (বিবেচনাপ্রসূত) ও নাকলি (ঐতিহ্যগত) ইলমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং প্রবল প্রাণশক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও তীক্ষ্ণ চিন্তার মাধ্যমে নিজেকে এর জন্য নিবেদিত করেছেন। তিনি সেখানে এমন সব প্রদীপ তৈরি করেছেন যা নক্ষত্রের পতনের সঙ্গী হয়েছে, এমন পূর্ণিমা সৃষ্টি করেছেন যা সাধারণ পূর্ণিমাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং এমন সূর্য তৈরি করেছেন যার ওপর সময়ের কোনো গ্রহণ লাগেনি। ফলে তাঁদের পর তাঁর মাকাম সুউচ্চ হয়েছে এবং সমগ্র বিশ্ব ও তার অধিবাসীরা তাঁর চারপাশ ঘিরে থেকেছে ও তাঁর খিদমত করেছে। তিনি তাঁর সম্মানিত আবাসে রবের ইবাদত এবং সঙ্গীদের উপকারের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তিনি উচ্চতর শাস্ত্রসমূহ হতে জান্নাতের বাগিচায় ও মাকামাতসমূহের সোপানে বিচরণ করেন এবং তাঁর বিশাল গ্রন্থরাজির উৎস হতে মৌলিক কিতাবসমূহের সমুদ্রে ও অনুপ্রেরণার প্রবাহে অবগাহন করেন। তিনি মানুষের সংস্রব এড়িয়ে চলতেন, কেবল তাদের ছাড়া যাদের তাঁর সহমর্মিতার প্রয়োজন ছিল কিংবা যারা তাঁর জ্ঞান ও সাহচর্যের মুখাপেক্ষী ছিল। আপনি তাঁর কাছে মানুষের ভিড়কে পঙ্গপালের পালের মতো পুঞ্জীভূত হতে দেখবেন। তিউনিসে তাঁর গৃহের মজলিস ছিল ইলম অন্বেষণকারী এবং তাকওয়া ও প্রজ্ঞার অধিকারীদের মিলনস্থল। আজ তিনি সেখানে ইলমের কাবাস্বরূপ যেখানে মানুষ হজ্জের মতো ছুটে আসে এবং সৌন্দর্যের স্তম্ভস্বরূপ যার ওপর মানুষ নির্ভর করে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে প্রাণের সঞ্জীবন এবং হৃদ্যতার মাধ্যম বানিয়েছেন। তাঁর মধ্যে সত্যনিষ্ঠ বন্ধুত্ব, উত্তম রসিকতা এবং আল্লাহ তাআলা প্রতি প্রগাঢ় ভয় ও সদা-সতর্কতা গচ্ছিত রেখেছেন, যা তাঁকে সর্বোত্তম পথে পরিচালিত করেছে এবং তাঁকে মানুষের অন্তর ও হৃদয়ের ভালোবাসা জয় করতে সাহায্য করেছে। তিনি ছিলেন ঠিক তেমনই যেমন মুহাম্মাদ ইবনে সিরিন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন—তিনি এমনভাবে রসিকতা করতেন ও হাসতেন যে তাঁর লালা ঝরে পড়ত, কিন্তু আপনি যদি তাঁর দ্বীনের কোনো বিষয়ে তাঁকে টলাতে চাইতেন, তবে আপনার কাছে সপ্তর্ষিমণ্ডল তার চেয়েও নিকটবর্তী মনে হতো।

এমন উদারতা যে বাতাসও তার সমকক্ষ হতে পারে না … দানে, আর মেঘমালাও তার উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে না

গাম্ভীর্য এমন যে কাল যদি তাকে মূর্ত দেখত … তবে ভয়ে ফিরে যেত এবং তার অন্তরে আতঙ্কের শোরগোল শুরু হতো

এর সাথে আল্লাহ তাআলা তাঁকে দান করেছিলেন প্রখর প্রতিভা, সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি, শরয়ি ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের সমুদ্রে অবগাহন এবং আত্মিক পূর্ণতার ঝর্ণাধারা ও আধ্যাত্মিক মাকামাত হতে পান করার তাওফিক। সেই সাথে ছিল রাজকীয় অনুগ্রহ, সাধারণ নিরাপত্তা, হাতেমীয় দানশীলতা, উচ্চ মর্যাদা, এই নশ্বর দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং উম্মতের বিশিষ্ট ও সাধারণ মানুষের প্রতি সম্পৃক্ততা। তিনি দাওয়াত কবুল করতেন এবং অহংকার ও আত্মগরিমা থেকে মুক্ত ছিলেন। আমি স্বয়ং তাঁর দোয়ার সফলতা দেখেছি এবং তাঁর বরকত কামনার মাধ্যমে আমার অবস্থার সংশোধন প্রত্যক্ষ করেছি। আমি তাঁর সান্নিধ্যে থাকতাম এবং প্রায়ই তাঁর কাছে যাতায়াত করতাম। তাঁর মজলিসে বসে আমি এমন সব জ্ঞানগর্ভ উপকারিতা পেতাম যা স্বদেশকে ভুলিয়ে দিত এবং তাঁর সাহচর্যে এমন সব ঝর্ণাধারার সন্ধান পেতাম যা তৃষ্ণার্ত বিবাগী আত্মাকে পুনর্জীবিত করত। আমি একদিন তাঁকে বললাম, হে আমার সাইয়্যিদ! আল্লাহ জানেন যে আমি আপনাকে ভালোবাসি। তখন তিনি আমাকে বললেন: সুসংবাদ গ্রহণ করো! আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি, তিনি আমাকে বললেন: (হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ তোমাকে তাকওয়া দান করুন, তাঁর সৃষ্টির কাছে তোমাকে প্রিয় করুন এবং তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্য হতে তাদের মনোনীত করুন যারা তোমাকে ভালোবাসবে। তিনি রাযিয়াল্লাহু আনহু বলতেন: সুতরাং আমি যখন জানতে পারি যে কেউ আমাকে ভালোবাসে, তখন আমি বুঝতে পারি যে সে আল্লাহর মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত)। আমি তাঁর পবিত্র মুখ থেকে তাঁর চমৎকার সব রচনাবলী শুনেছি যা পাহাড়ের উদ্যান ও বসন্তের ফুলকেও হার মানায়। এর মধ্যে একটির নাম দিয়েছেন 'মাহাব্বু নাওয়াসিমিল মাদায়েহ ওয়া মাসাব্বু গামায়িমিল মানায়েহ', যা হাফসি খিলাফতের জনৈক পদস্থ ব্যক্তির প্রশংসায় রচিত। আমি তাঁর পাণ্ডুলিপি থেকে তা নকল করেছি এবং তাঁর উপস্থিতিতেই তা সংশোধন করেছি। আমি তাঁর কাছে শ্রবণ করেছি ও পাঠ করেছি, এবং তিনি আমাকে ইজাযত দিয়েছেন ও নিজ হাতে আমার জন্য তা লিখে দিয়েছেন। তাঁর জন্ম ৬৮২ হিজরীর ১২ই রবিউস সানি। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি জনৈক বন্ধুর এক মাহফিলে উপস্থিত ছিলাম যেখানে গায়ক ইবনে সরদার আল-ইরাকির একটি কাসিদা পাঠ করছিলেন। কাসিদাটি আমার খুব পছন্দ হলো। তিনি শেষ করার আগেই একবার শুনেই তা আমার অন্তরে গেঁথে গেল এবং আমি তৎক্ষণাৎ উপস্থিত সবার সামনে তা আবৃত্তি করলাম, যা হলো:

নফসের এমন প্রয়োজনের জন্য যার মোহ দূর হয় না … এবং এমন প্রেমিকের আকুলতা যার সামান্যটুকুও ফুরায় না

আমি প্রতিটি আবাসে অশ্রু ঝরিয়ে তাকে শান্ত করি … যদি তা পৃথিবী হতো তবে তার সমুদ্রগুলো ডুবে যেত

রাত্রি জাগরণ ও ক্রন্দন চোখের কী উপকারে আসবে … যদি আমার পরিচিত কেউ থাকত যার কাছ থেকে একটি আঁখি ধার নিতে পারতাম!

আমরা গৃহগুলোর প্রাঙ্গণে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম যেন … এগুলোই কি তারা যাদের তুমি ভালোবাস? আমি বললাম: এগুলো তাদেরই প্রতিরূপ

যদিও এদের ঘাড় ও চোখ তাদের মতো … কিন্তু এদের পশ্চাদদেশ ও বক্ষদেশ ভিন্নতর

আল্লাহর কসম! যখন তারা আমাকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করল, আমি জানতাম না … ওগুলো কি তীর ছিল নাকি মদের পেয়ালা যা তারা ঘুরিয়ে দিচ্ছিল?

যদি ওগুলো তীর হতো তবে তার শনশন শব্দ কোথায়? … আর যদি শরাব হতো তবে তার আনন্দ কোথায়?

তোমরা যদি আমাকে বলো যে পৃথিবীতে কোনো জান্নাত নেই … তবে বাহনের ওপর উপবিষ্ট এই হুররা কারা?

তৃষ্ণার্ত হরিণদের জন্য সেই ঘাটে পৌঁছানো বড় কঠিন … যখন ঠোঁটের মাঝখানেই পানির প্রস্রবণ বিদ্যমান!
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ১৯)
أراكد الحما قل لي بأي وسيلة … توسلت حتى قبلتك ثغورها

تنال الذي ما شئت منها وتشتهي … فصف لي ريا منها فأنت خبيرها

ومالي بها علم فهل أنت عالم … أأفواها أولى بها لأم نحورها؟

يفوح النسيم الرطب من كل منزل … وما كل أرض يستطاب عبيروها

وان فروع البان من بطن وجرة … شهي إلينا ظللها وحرورها

ألذ من العذب الجنى عرارها … وأشهى من الشهد المصفى رحيقها؟

على رسلكم في الحب أنا جماعة … إذا ظفرت بالحب عف ضميرها

لعمرك ما سحر الغواني بقادر … على ذات نفس والمشيب نذيرها

وما الشعرات البيض إلا كواكب … مطالعها رأس وفي القلب نورها

هكذا أملاها على بلفظه، رضي الله عنه، وقرأتها عليه بلفظي مصححها لها مرة ثانية وأنشدني أيضا قال هما لأبي الحسن أبن الزقاق رضي الله عنه.

وحبب يوم السبت عندي أنه … ينادمني فيه الذي أنا أحببت

ومن أعجب الأشياء أني مسلم … حنيف ولكن خير أيامي السبت

فهؤلاء سبعة الدرارى في علو المقام، أو كسبعة الأيام المحيطة بأزمان أكوان الأنام، آثرت ذكرهم انتقاء من أولئك الجهابذة الأعلام، واقتصرت في عددهم على احب الأوتاد إلى الملك العلام، ولما أراد الله سبحانه ان يسعدني بالأخذ عنهم، ويسعفني في الاستفادة منهم، قيض أول من علم غيبة، ووفر جوده وسيبه، ولطائفه الخفية، وعوارفه الالاهية، صديقا في المحبة، وموافقا على الصحبة، حافظا في الصخور والغيبة،

خير أخوانك المشارك في المر … وأين الشريك في المرأينا؟

الذي ان حضرت سرك بالود … وان غبت كان أذنا وعينا!

هو الشيخ الفقيه العالم أبو العباس النقارسى، نفع الله بمودته، حافظ مجيد، وحامل مجيد، وناقل سديد وناقد شديد، وعالم فريد، ومدرس مقيد، له طبع حل فيه الذكاء والنبل، وقل فيه لوابل كرمه الطل والوبل، ان وأخاك رأيت الأنس قد ارتدت ذواهبه، وعادت مذاهبه، ووجدت الزمان قد لانت صعابه، وبانت شعابه، وأولاك ودادا أخلصت سريرته، وحمدت في شرعة الوفاء سيرته، فلا حمد إلا ما قد تصفحته له صفحات الفلا، ولا عهد إلا ما حفظه وإلا فلا،

وحسن الوفاء مرشح بخلائق … تجري مع الماء الزلال إذا جرى

رحل من بلدة تلمسان قبل أن يلم بها الحصار، ويلقى ريحها الإعصار، ويشرب الزمان صفوها بالأكدار ويحكم فيها الخطوب والأقدار، ويدير عليها من البلاء والمحنة ما أدار، فكانت منه فعلة سنية ونقلة سرية، وفراسة اياسية، والماعية عباسية، فدخل الحضرة مشمرا عن ساعد الجد، ومقتادا بقائد الجد، فطلع في آفاقها كوكبا، ورسى في ساحتها كبكبا وجال في ميدانها ركضا وخببا، وتعلق بعروتها الوثقى سببا فسببا، ولم يزل يفحص في هذه المسالك على الكمال، ويستقي من مناهلها العذبة السلسل الزلال إيثارا للرتب المنيفة، واستطلاعا للمقامات الشريفة، فبلغ المنتهى، وخول ما اشتهى، وحل في الحظوة فوق السهى، فهو الآن أحد المدرسين الأعلام، وأوحد من برع في علمي البيان والكلام، وأوجد الناس للدر إذا خاض بحر العلوم بسوابح الأقلام، أديب العصر ونحويه، وعرضيه وبيانيه، وحكميه ومنطقيه، وعددية وفرضية، وأصولية وجدلية، وتعاليجية وأرتماطيقية، جمع أشتات هذه الفضائل وكان فيها صائلا ليس بضائل، وعلم اللغات وسائرها، وفك الأعاريض ودوائرها، إلى إحاطة بعلم التفسير والحديث، وسلاطة على المطالعة والمذاكرة في القديم والحديث، أما الفروع والأصول فبه كنت فيهما أصول، ولم ترعيني قط شرقا وغربا أسرع منه نسخا وكتبا، ولا أقرأ لكل خط ما عسى أن يكون صعبا، على جودة خطه وصحة نقله وضبطه، وإتيانه للسحر الحلال بأي شيء أخذ من الأرض لا يميل بشقه ولا يفطه.

كالحية الرقشاء إلا انه … يستنزل الاروى إليه تلطفا

يهفو به قلم يمج لعابه … فيعود سيفا صارما ومثقفا
হে কপোতবাসী, আমায় বলো কোন উপায়ে তুমি সওয়াল করলে যে তাদের অধর তোমায় চুম্বন করলো?

তুমি তাদের থেকে যা চাও ও আকাঙ্ক্ষা করো তা পাও, তাই আমায় তাদের সুবাসের বর্ণনা দাও, যেহেতু তুমি এ বিষয়ে অভিজ্ঞ।

তাদের সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই, তবে তুমি কি জানো? তাদের মুখমণ্ডল কি এর অধিক যোগ্য নাকি কণ্ঠদেশ?

প্রত্যেক আবাস থেকেই স্নিগ্ধ মলয় সমীরণ প্রবাহিত হয়, কিন্তু সব ভূমির সুগন্ধিই প্রীতিকর হয় না।

ওয়াজরার উদরদেশ হতে উত্থিত উইলোর শাখাগুলোর ছায়া ও উত্তাপ আমাদের নিকট আনন্দদায়ক।

এর বুনো ফুল কি সতেজ মধুর চেয়েও সুস্বাদু, আর এর নির্যাস কি পরিশ্রুত মধুর চেয়েও অধিক কাম্য?

প্রেমে ধৈর্য ধরো, আমরা এমন এক দল যে যখন প্রেমে বিজয়ী হয়, তখন তার বিবেক পবিত্র থাকে।

তোমার জীবনের শপথ, সুন্দরী রমণীদের জাদু সেই আত্মার ওপর কার্যকর নয় যার বার্ধক্যের শুভ্রতা সতর্কবার্তা দিচ্ছে।

পক্ব কেশরাশি তো কেবল নক্ষত্র সদৃশ, যার উদয়স্থল হলো মস্তক আর যার জ্যোতি হলো হৃদয়ে।

তিনি আমাকে নিজ মুখে এভাবেই এটি পাঠ করে শুনিয়েছেন, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন। আমি পুনরায় সংশোধন করার জন্য তাঁর কাছে এটি পাঠ করেছি এবং তিনি আমাকে আরও দুটি চরণ শুনিয়েছেন। তিনি বললেন, এ দুটি আবু আল-হাসান ইবনে আল-জাক্কাক (রা.)-এর।

শনিবারের দিনটি আমার নিকট প্রিয় হয়ে উঠেছে কারণ এতে আমার প্রিয়জন আমার সাথে সুরা পান করে।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো আমি একজন একনিষ্ঠ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও আমার শ্রেষ্ঠ দিন হলো শনিবার।

এঁরা হলেন উচ্চ মর্যাদায় আসীন সেই সাতটি উজ্জ্বল নক্ষত্র, অথবা মানবজাতির যুগের পরিবেষ্টনকারী সাতটি দিনের ন্যায়। আমি সেই সকল মহান পণ্ডিতদের মধ্য হতে নির্বাচন করে তাঁদের কথা উল্লেখ করা পছন্দ করেছি। তাঁদের সংখ্যার ক্ষেত্রে আমি মহাজ্ঞানী অধিপতির নিকট প্রিয় ‘আওতাদ’ (স্তম্ভ)-দের সংখ্যার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে আমাকে সৌভাগ্যবান করতে চাইলেন এবং তাঁদের থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দিলেন, তখন তিনি এমন একজনকে পাঠালেন যিনি প্রথম অদৃশ্যের জ্ঞান লাভ করেছিলেন এবং যাঁর দান, অনুগ্রহ, সূক্ষ্ম কৃপা ও ঐশী প্রজ্ঞা ছিল অঢেল। তিনি প্রেমে একজন অকৃত্রিম বন্ধু, সাহচর্যে একনিষ্ঠ সঙ্গী এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে রক্ষক।

তোমার ভাইদের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ যে তিক্ততায় অংশীদার হয়; কিন্তু তিক্ততায় ভাগীদার হওয়ার মতো ব্যক্তি কোথায়, ওগো কোথায়?

তুমি উপস্থিত থাকলে তিনি ভালোবাসায় তোমার অন্তরকে আনন্দিত করেন, আর তুমি অনুপস্থিত থাকলে তিনি তোমার কান ও চোখ হয়ে থাকেন!

তিনি হলেন শায়খ, ফকিহ, আলিম আবু আল-আব্বাস আন-নাক্কারসি, আল্লাহ তাঁর মহব্বত দ্বারা উপকৃত করুন। তিনি এক অনন্য হাফিজ, সুনিপুণ বাহক, সঠিক বর্ণনাকারী ও কঠোর সমালোচক, এক অনন্য পণ্ডিত এবং প্রাজ্ঞ শিক্ষক। তাঁর এমন এক স্বভাব রয়েছে যাতে বুদ্ধি ও আভিজাত্য বিদ্যমান। তাঁর উদারতার বৃষ্টির কাছে সাধারণ বৃষ্টি অতি সামান্য। যখন আমি দেখলাম যে মানুষের সাহচর্যের মাধুর্য চলে গেছে এবং পথগুলো পাল্টে গেছে, তখন দেখলাম যুগ তার কঠোরতা শিথিল করেছে এবং তার পথগুলো উন্মুক্ত হয়েছে। তিনি এমন এক নিখাদ বন্ধুত্ব প্রদান করেছেন যার অভ্যন্তরীণ দিকটি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং আনুগত্যের বিধানে যার চরিত্র প্রশংসিত। মরুভূমির প্রান্তরসমূহ যা প্রত্যক্ষ করেছে সেই প্রশংসা ছাড়া আর কোনো প্রশংসা নেই, এবং তিনি যা রক্ষা করেছেন সেই অঙ্গীকার ছাড়া আর কোনো অঙ্গীকার নেই।

উত্তম বিশ্বস্ততা এমন স্বভাব দ্বারা অলংকৃত যা নির্মল পানির ন্যায় প্রবাহিত হয় যখন তা বয়ে যায়।

তিনি তিলিমসান নগরী অবরোধের কবলে পড়ার আগে, ঝঞ্ঝাবায়ুর আঘাতে বিদ্ধ হওয়ার আগে এবং কালের কলুষতা এর স্বচ্ছতাকে গ্রাস করার আগে এবং বিপদ ও ভাগ্য একে গ্রাস করার আগে সেখান থেকে প্রস্থান করেন। তাঁর এই প্রস্থান ছিল এক মহৎ কাজ এবং এক রহস্যময় হিজরত, যা আইয়াসের দূরদর্শিতা এবং আব্বাসের প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে রাজদরবারে প্রবেশ করেন এবং সৌভাগ্যের পথে চালিত হন। তিনি সেই দিগন্তে নক্ষত্র হিসেবে উদিত হলেন এবং তার আঙিনায় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেন। তিনি এর ময়দানে দ্রুত বেগে বিচরণ করলেন এবং একের পর এক দৃঢ় রজ্জু ধারণ করলেন। তিনি পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে নিরন্তর এই পথে সন্ধান চালিয়ে গেছেন এবং উচ্চ মর্যাদা প্রাপ্তি ও সম্মানিত মাকামগুলো দেখার অভিপ্রায়ে এই সুপেয় সলিলধারা থেকে পান করেছেন। ফলে তিনি চরম শিখরে পৌঁছেছেন এবং যা আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন তা তাঁকে দান করা হয়েছে। তিনি এখন সেই উচ্চতায় আসীন যা সুহা নক্ষত্রকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি এখন অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং অলঙ্কারশাস্ত্র ও কালামশাস্ত্রে পারদর্শী এক অনন্য ব্যক্তি। যখন তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে ইলমের সমুদ্রে ডুব দেন, তখন তিনি দুষ্প্রাপ্য মুক্তা আহরণ করেন। তিনি সমকালীন সাহিত্যিক, ব্যাকরণবিদ, ছন্দবিদ, অলঙ্কারবিদ, প্রজ্ঞাবান দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ফারাইযবিদ, উসুলবিদ এবং তার্কিক। তিনি এই সকল বিভিন্ন গুণের সমাবেশ ঘটিয়েছেন এবং সেখানে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি ভাষাবিজ্ঞান ও এর সকল শাখা সম্পর্কে অবগত, ছন্দের জটিলতা ও বৃত্তসমূহ উন্মোচনে পারদর্শী। সেই সাথে তাফসির ও হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এবং প্রাচীন ও আধুনিক কিতাবাদি অধ্যয়ন ও আলোচনায় তাঁর প্রখর বাকপটুতা রয়েছে। আর ফিকহের শাখা ও মূলনীতির ক্ষেত্রে আমি তাঁর কাছেই শিক্ষা গ্রহণ করতাম। আমি প্রাচ্য বা পাশ্চাত্যে তাঁর চেয়ে দ্রুত অনুলিপি তৈরি ও কিতাব লিখতে কাউকে দেখিনি। তাঁর হস্তাক্ষরের সৌন্দর্য, নির্ভুল বর্ণনা ও সূক্ষ্মতা এবং তাঁর জাদুমাখা লেখনীর কারণে যে কোনো কঠিন লেখা পড়তে তাঁর কোনো বেগ পেতে হতো না; তিনি জমিনের যে অংশ থেকেই যা গ্রহণ করতেন তাতে কোনো বিচ্যুতি বা ত্রুটি থাকত না।

চিত্রবিচিত্র সর্পের ন্যায়, কিন্তু তা তার কোমলতা দিয়ে বুনো ছাগলকেও বশ করে ফেলে।

তাঁর হাতে কলম চঞ্চল হয়ে ওঠে যা কালিরূপী লালা নির্গত করে, অতঃপর তা এক ধারালো ও সুতীক্ষ্ণ তলোয়ারে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২০)
دخلت الحضرة وقد كساني البين تلك الغمرة، فنبهني منه أخ شقيق وفرج به عني أزمة وضيق، وقد كان يتشوقني على السماع، وينشط للاتصال له والاجتماع، فلما علم بوصولي وصل في لمة من اخوانه الأعلام، وأعيان ذلك الصقع المتصلين بالسؤدد اتصال الألف بالام، فالتقينا هنالك التقاء النفس والأمل، وانتظمنا انتظام القول والعمل، وأقمت معه في منزل واحد، وأمل وافد، لا يستأثر أحدنا بمقسوم، ولا ينفرد عن الآخر بمكتوم ولا مختوم، وهو في كل ذلك يؤنسني غاية الإيناس، ويأخذ بضبعي إلى معرفة أكابر الناس، ويفيدني بأجل الفوائد، ويأتي من مرسوم فضائله بالزوائد، الخارقة للعوائد، وكثيرا ما كنت أعجب من تطلعه إلى المعالي وتحصيله، وأنجب باحتذائي حدوه في جملته وتفصيله، واقتفائي سننه في دقيق الأمر وجليله، والمرء على دين خليله وما زلنا بتلك الحاضرة، نتجلى أنوار المحاضرة، ونجتني نوار المذاكرة، إلى أن جاء يوم الفراق، باخترام ذلك التلاق، واحتدام ذلك الأعلاق، فسبحان من أوجد العهود ثم أعدمها، ووصل تلك الأسباب ثم حذفها، وهذه شيمة الليالي في أعقاب تجميعها بتفريقها وإشراقها كل نفس بريقها، لا تجمع شملا إلا شتته، ولا تصل حبلا إلا بتته، من أطاعها عصته ومن أدناها أقصته ومن وصلها قطعته، ومن نزع إليها نزعته، ومن أرضاها أغضبته وأحرجته، ومن سكن دارها أزعجته وأخرجته، والغبطة بها مع ذلك شديدة، والآمال فيها على أنها دار البلاء جديدة، حتى كأن حقيقة ما يعلم من استحالتها ارتياب، والرحلة عندها إياب، لقد حق أن يرفضها البصير، ويعد لما إليه تصير، ويسئل الله في أمره فنعم المولى ونعم النصير، ألهمنا الله تعالى طريق إرشادنا، وأعاننا على الأعداد لمعادنا، وقضى في العاجل والآجل بإسعادنا، أنه على ذلك قدير، وبالإجابة جدير، وارجع إلى تتميم ما بدأت عن الأعلام بفضل هذا الفاضل وجلالته، والالماع من ذكر روايته والرواية عنه بما لا يخشى من ملالته، فأقول: أني قرأت عليه جميع تآليفه في العروض الذي سماه بالروض الاريض في علم القريض، وجميع تآليفه في الأدب الذي لخص فيه رسالة أحكام صنعة الكلام من إنشاء الوزير الكاتب أبى عبد الله ابن عبد الغفور، وكتبها لي بخطه، وأجاز لي جميع ما رواه وألفه من تآليفه التي أبدع فيها تلخيص مشكل الحديث لابن فورك، وكتاب حديقة الناظر في تلخيص المثل السائل في علم البيان، وشرح كتاب المصباح لابن مالك، وكتاب إيضاح السبيل والقصد الجليل في علم الخليل في شرح قصيدة ابن الحاجب العروضية، وله تآليف غيرها مما عرف بحمد الله قدرها، وأشتهر على الألسنة ذكرها،

وسارت مسير الشمس في كل بلدة … وهبت هبوب الريح في البر والبحر

وأنشدني وقال: أنشدني الشيخ الإمام الأوحد أبو عبد الله محمد بن راشد، رحمه لله تعالى، قال: أنشدني لنفسه معين الدين ابن تولواء التوزى، رحمه الله تعالى ورضى عنه:

يا أهل مصر رأيت أيديكم … عن بسطها للنوال منقبضة

لما فقدت القرى بأرضكم … أكلت كتبي كأنني أرضة

وأنشدني لغيره:

لحا الله مصر وسكانها … وفتت أكبادهم بالحسد

متى يرتجى مفلس عندهم … غني، وعلى كل فلس أسد

وأنشدني الشيخ المحدث الفاضل فتح الدين بن عمر بن سيد الناس رحمه الله تعالى:

بالله ان جزت بواد الأراك … وقبلت عيدانه الخضر فاك

فأبعث إلى المملوك من بعضها … فأنني والله مالي سواك

وأنشدني لبعضهم:

جعلت هديتي لكم سواكا … ولم أقصد به أحد سواك

بعثت إليك عودا من أراك … رجاء أن أعود وأن أراكا

وأنشدني قال أنشدني الشيخ الإمام الأوحد ناصر الدين أبو علي منصور بن عبد الحق المشذلى رحمه الله، قال أنشدني أبو عبد الله بن أبى الفضل السلمى المرسي لنفسه:

عابوا الجهالة وازدروا بحقوقها … وتهاونوا بحديثها في المجلس

وهي التي ينقاد في يدها الغنى … وتجيئها الدنيا برغم المعطس

ان الجهالة للغنى جذابة … جذب الحديد حجارة المغنطس

وأنشدني له أيضا:

تنقل فلذات الهوى في التنقل … ورد كل صاف لا تقف عند منهل

وان سار من تهوى فسر عن جنابه … ولا تسكبن دمعا على مترحل
আমি সেই রাজধানীতে প্রবেশ করলাম এমতাবস্থায় যে, বিচ্ছেদ আমাকে সেই বিষাদে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। অতঃপর একজন সহোদর সদৃশ ভাই আমাকে তা থেকে সচেতন করলেন এবং আমার সংকট ও সংকীর্ণতা দূর করলেন। তিনি শ্রবণের (সামা) প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং সাক্ষাত ও সমাবেশের ব্যাপারে উদ্দীপনা প্রদর্শন করতেন। যখন তিনি আমার আগমনের কথা জানতে পারলেন, তখন তিনি তাঁর একদল বিশিষ্ট আলিম ভাই এবং সেই অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে উপস্থিত হলেন, যাদের আভিজাত্যের সাথে সংশ্লিষ্টতা যেন আলিফের সাথে লামের সংশ্লিষ্টতা। সেখানে আমাদের মিলন হলো যেন প্রাণের সাথে আশার মিলন, এবং আমাদের মধ্যে সংহতি তৈরি হলো যেন কথা ও কাজের সংহতি। আমি তাঁর সাথে একই আবাসস্থলে এবং একই প্রত্যাশা নিয়ে অবস্থান করলাম। আমাদের কেউই প্রাপ্ত অংশে অন্যকে বঞ্চিত করতাম না, কিংবা কোনো গোপন বা মোহরাঙ্কিত বিষয়ে অন্যজন থেকে বিচ্ছিন্ন হতাম না। এই পুরো সময়টিতে তিনি আমাকে চরমভাবে আশ্বস্ত করতেন, বড়দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার হাত ধরতেন, আমাকে অত্যন্ত মূল্যবান উপকার প্রদান করতেন এবং তাঁর স্বভাবজাত শ্রেষ্ঠত্বের এমন সব নতুন নতুন দিক উপহার দিতেন যা সাধারণ অভ্যাসের ঊর্ধ্বে। আমি প্রায়ই তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং তা অর্জনের প্রচেষ্টায় বিস্মিত হতাম, এবং তাঁর সামগ্রিক ও বিস্তারিত পথ অনুসরণে গৌরব বোধ করতাম। তাঁর সূক্ষ্ম ও স্থূল প্রতিটি বিষয়ে আমি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতাম; আর মানুষ তো তার বন্ধুর আদর্শেরই অনুসারী হয়। আমরা সেই রাজধানীতে অবস্থান করতে থাকলাম, আলোচনার নূর প্রত্যক্ষ করতে থাকলাম এবং জ্ঞানচর্চার পুষ্প আহরণ করতে থাকলাম, যতক্ষণ না বিদায়ের দিন সেই মিলনের ধারা ছিন্ন করতে এবং সেই নিবিড় সম্পর্ককে দগ্ধ করতে উপস্থিত হলো। মহিমান্বিত সেই সত্তা যিনি অঙ্গীকারসমূহ সৃষ্টি করেন অতঃপর তা বিলুপ্ত করেন, এবং সেই কারণসমূহ যুক্ত করেন অতঃপর তা ছিন্ন করেন। আর এটিই তো রাতগুলোর চরিত্র যে, তারা একত্র করার পর বিচ্ছিন্ন করে এবং প্রতিটি প্রাণের জ্যোতিকে তার ঔজ্জ্বল্য দিয়ে বিভাসিত করে। এটি কোনো ঐক্যকেই একত্রিত করে না যতক্ষণ না তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে, কোনো রশিকেই যুক্ত করে না যতক্ষণ না তাকে ছিঁড়ে ফেলে। যে তার আনুগত্য করে তাকে সে অবজ্ঞা করে, যে তাকে নিকটে টানে তাকে সে দূরে সরিয়ে দেয়, যে তাকে যুক্ত করে তাকে সে বিচ্ছিন্ন করে, যে তার দিকে ঝোঁকে তাকে সে উপড়ে ফেলে, যে তাকে সন্তুষ্ট করে তাকে সে ক্রুদ্ধ ও সংকটাপন্ন করে, আর যে তার ঘরে বসতি স্থাপন করে তাকে সে অস্থির করে সেখান থেকে বের করে দেয়। এতৎসত্ত্বেও এর প্রতি আসক্তি তীব্র, এবং যদিও এটি পরীক্ষার ঘর, তবুও এতে আশাগুলো চিরনবীন; এমনকি এর অসারতা সম্পর্কে যা জানা আছে তা যেন সংশয়ে রূপ নেয় এবং এখান থেকে প্রস্থান যেন ফিরে আসা মনে হয়। বস্তুত চক্ষুষ্মান ব্যক্তির পক্ষে একে প্রত্যাখ্যান করাই সংগত, এবং এর পরিণতির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাই সমীচীন। আর আল্লাহর কাছেই তাঁর বিষয়ের সাহায্য চাওয়া উচিত, কারণ তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক পথের দিশা দান করুন, আমাদের পরকালের পাথেয় সংগ্রহের তৌফিক দিন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের সৌভাগ্য নির্ধারণ করুন। নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে সক্ষম এবং দুআ কবুলের উপযুক্ত। এখন আমি এই গুণী ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে যা শুরু করেছিলাম তা পূর্ণ করার দিকে ফিরে যাচ্ছি এবং তাঁর বর্ণনা ও তাঁর থেকে বর্ণিত বিষয়গুলো বিরক্তিহীনভাবে উল্লেখ করছি। আমি বলছি: আমি তাঁর কাছে ইলমে আরূয (ছন্দতত্ত্ব) বিষয়ে তাঁর সমস্ত রচনাবলী পড়েছি, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘আর-রওযুল আরীয ফি ইলমিল কারীয’। এছাড়া আদব (সাহিত্য) বিষয়ে তাঁর সমস্ত রচনাবলী পড়েছি, যেখানে তিনি উজির কাতিব আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল গফুর বিরচিত ‘আহকামু সানআতিল কালাম’ নামক রিসালাহটিকে সারসংক্ষেপ করেছেন। তিনি এটি তাঁর নিজ হাতে আমার জন্য লিখে দিয়েছেন। তিনি তাঁর বর্ণিত এবং রচিত সকল বিষয়ের অনুমতি (ইজাযত) আমাকে দিয়েছেন, যার মধ্যে তিনি চমৎকারভাবে ইবনে ফুরাকের ‘মুশকিলুল হাদিস’ এর সারসংক্ষেপ করেছেন। এছাড়া ইলমে বয়ানে ‘আল-মাসালুস সায়ির’ এর সারসংক্ষেপ ‘হাদিকাতুন নাযির’ কিতাবটি, ইবনে মালিকের ‘আল-মিসবাহ’ কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এবং ইবনে হাজিবের আরূয বিষয়ক কবিতার ব্যাখ্যায় রচিত ‘ঈযাহুস সাবীল ওয়াল কাসদুল জলীল ফি ইলমিল খলীল’ কিতাবটিও রয়েছে। এছাড়াও তাঁর আরও অনেক রচনাবলী রয়েছে যেগুলোর কদর আল্লাহর প্রশংসায় সুপরিচিত এবং মানুষের মুখে মুখে তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে,

আর তা প্রতিটি জনপদে সূর্যের ন্যায় বিচরণ করেছে ... এবং স্থলে ও জলে বাতাসের ন্যায় প্রবাহিত হয়েছে।

তিনি আমাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন এবং বলেছেন: আমাকে শায়খ ইমাম অনন্য ব্যক্তিত্ব আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন রাশিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মুঈনুদ্দিন ইবনে তাওলাওয়া আত-তাউযী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাকে তাঁর নিজের রচিত এই পঙক্তিগুলো শুনিয়েছেন:

হে মিসরবাসী! আমি তোমাদের হাতগুলো দেখেছি ... দান-দক্ষিণা করার ক্ষেত্রে তা সংকুচিত হয়ে আছে।

যখন তোমাদের ভূমিতে আতিথেয়তা খুঁজে পেলাম না ... তখন আমি উইপোকার মতো নিজের কিতাবগুলোই খেতে শুরু করলাম।

তিনি আমাকে অন্য এক কবির কবিতা শুনিয়েছেন:

আল্লাহ মিসর ও তার অধিবাসীদের ধ্বংস করুন ... আর তাদের কলিজাগুলো হিংসায় চূর্ণবিচূর্ণ করে দিন।

তাদের কাছে কোনো রিক্তহস্ত ব্যক্তি কখন ধনাঢ্য হওয়ার আশা করতে পারে ... যেখানে তারা প্রতিটি পয়সার ওপর সিংহের মতো বসে থাকে!

শায়খ মুহাদ্দিস গুণী ফাতহুদ্দিন বিন উমর বিন সাইয়িদুন নাস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাকে শুনিয়েছেন:

আল্লাহর কসম, তুমি যদি আরাক বৃক্ষের উপত্যকা দিয়ে অতিক্রম করো ... আর তার সবুজ ডালগুলোকে তোমার মুখ দিয়ে চুম্বন করো।

তবে তোমার এই দাসের জন্য তার কিছু অংশ পাঠিয়ে দিও ... কারণ আল্লাহর কসম, তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই।

তিনি আমাকে অন্য একজনের কবিতা শুনিয়েছেন:

আমি তোমাদের জন্য মিসওয়াক উপহার হিসেবে পাঠালাম ... আর তুমি ছাড়া অন্য কাউকে এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য করিনি।

আমি তোমার কাছে আরাক বৃক্ষের ডাল পাঠালাম ... এই আশায় যে, আমি আবার ফিরে আসব এবং তোমাকে দেখতে পাব।

তিনি আমাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন এবং বলেছেন: শায়খ ইমাম অনন্য ব্যক্তিত্ব নাসিরুদ্দিন আবু আলী মনসুর বিন আব্দুল হক আল-মাশযালী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ বিন আবিল ফযল আস-সুলামী আল-মুরসী আমাকে তাঁর নিজের রচিত পঙক্তিগুলো শুনিয়েছেন:

তারা মূর্খতাকে দোষারোপ করে এবং এর অধিকারকে তুচ্ছ জ্ঞান করে ... আর মজলিসে তারা এ সম্পর্কে অবজ্ঞার সাথে কথা বলে।

অথচ এই মূর্খতার হাতেই তো সম্পদ অনুগত থাকে ... আর দুনিয়া তার কাছে নাসিকা মর্দন করে (অনিচ্ছা সত্ত্বেও) পদানত হয়।

নিশ্চয়ই মূর্খতা সম্পদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় ... যেমন চুম্বক পাথর লোহাকে আকর্ষণ করে।

তিনি আমাকে তাঁর আরও কিছু পঙক্তি শুনিয়েছেন:

ভালোবাসার মাধুর্য তো কেবল স্থানান্তরের মাঝেই নিহিত ... প্রতিটি নির্মল ঝরনায় অবগাহন করো, কোনো এক ঘাটে থমকে থেকো না।

তোমার প্রিয়জন যদি প্রস্থান করে, তবে তুমিও তাঁর সান্নিধ্য থেকে প্রস্থান করো ... আর প্রস্থানকারীর জন্য অশ্রু বিসর্জন দিও না।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২১)
ولا تلتفت قول امرئ القيس انه … ضليل ومن ذا يهتدي بمضل

ففي الأرض أحباب وفيها منازل … فلا تبك من ذكرى حبيب ومنزل

وأنشدني للقاضي الخطيب العالم أبى عمر بن إدريس، أخي بني بحر صفوان بن إدريس. في أبى العباس الفضل بن أحمد بن الفضل، أحد علماء مرسية ووزرائها، وكان أوحد زمانه في حسن الصورة.

أطاع فؤادي حبه وعصى العدلا … وذاق الهوى مرا، ولكنه استحلا

يقولون أقصر، وأنس فضلا ولم اكن … لا فعل هذا، ساء قولهم فعلا

يكلفني العذال ما لا يحل لي … أأنسى؟ وقال الله لا تنسوا الفضلا

وأنشدني له أيضا:

واغيد حظي منه ما اختلس الطرف … يميل بقلبي نحوه الحسن والظرف

غزال ضعيف اللحظ ويحي وإنما … جنى ضعف صبري في الهوى ذلك الضعف

هو الخشف إلا أنه كلما رنا … جزعت وفي المعتاد أن يجزع الخشف

أرى هجره وقفا علي فهل غدا … جزاء على أني على حبه وقف

سلوه برفق هل جنيت جناية … فان قال أي فاسألوه عسى يعفو

ويصرفني من جوره نحو عدله … فها أنا لا عدل على ولا صرف

سأتنيه نحوي بالقوافي فأنها … نسيم ويحكي الغصن لي ذلك العطف

قنعت بأن يهدى إلى سلامه … إذا لم يكن زهر من الروض فالعرف

وأنشدني لابن الربيع سليمان بن أحمد اليبنى، أندلسي استوطن المشرق ومدح الملك الكامل:

لولا تحديه بآية سحره … ما كنت ممتثلا شريعة أمره

رشأ أصدقه وكاذب وعده … يبرى لعاشقه أدلة عذره

ظهرت نبوة حسنه في فترة … من جفنه وضلالة من شعره

وأنشدني عند الوداع لعلي بن هاشم المروزي:

يا موقد النار يدكيها فيحمدها … قر الشتاء بأرواح وأمطار

قم فاصطلي النار من قلبي مضرمة … بالشوق من مهجتي، يا موقد النار

ويا أخا الذود قد طال الظلماء بها … ما يعرف الرى من جذب واقفار

رد بالعطاش على عيني ومحجرها … تروي العطاش بدمع وأكب جار

يا مزمع البين لا كان الرحيل فان … كان الرحيل فأني غير صبار

ان غاب شخصك عن عيني فلم تره … فان ذكرك مقرون باضمار
ইমরাউল কায়েসের কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করো না যে সে … অত্যন্ত পথভ্রষ্ট, আর পথভ্রষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে কে-ই বা সঠিক পথ পেতে পারে?

পৃথিবীতে অনেক প্রিয়জন এবং অনেক আবাসস্থল রয়েছে … অতএব প্রিয়জন ও আবাসের স্মৃতিতে ক্রন্দন করো না।

কাজী খতিব আলেম আবু উমর বিন ইদ্রিস, যিনি বনু বাহর সাফওয়ান বিন ইদ্রিসের ভ্রাতা, তিনি আবু আব্বাস ফাদল বিন আহমদ বিন ফাদল সম্পর্কে আমাকে নিম্নোক্ত কবিতাটি শুনিয়েছেন। ফাদল ছিলেন মুর্সিয়ার অন্যতম আলেম ও উজির, এবং তিনি তাঁর সময়ে রূপ-সৌন্দর্যে অনন্য ছিলেন।

আমার হৃদয় তাঁর ভালোবাসার আনুগত্য করেছে এবং উপদেশদাতাদের অবাধ্য হয়েছে … সে প্রেমের তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করেছে, তবুও তা তার কাছে মধুর মনে হয়েছে।

লোকেরা বলে, "সংক্ষিপ্ত করো এবং ফাদলকে ভুলে যাও," অথচ আমি … এমন কাজ করার লোক নই; তাদের কথাটি কর্ম হিসেবে খুবই মন্দ।

নিন্দুকেরা আমার ওপর এমন বিষয়ের ভারারোপ করে যা আমার জন্য বৈধ নয় … আমি কি তাকে ভুলে যাব? অথচ আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা ফাদল (অনুগ্রহ) ভুলে যেও না।"

তিনি আমাকে তাঁর আরও কিছু কবিতা শুনিয়েছেন:

সেই লাবণ্যময়ী, যার থেকে আমার প্রাপ্তি কেবল আড়চোখে তাকানো … তার রূপ ও লাবণ্য আমার হৃদয়কে তার দিকে ধাবিত করে।

এক মায়াবী হরিণ-শাবক যার চাহনি অতি কোমল, হায় আমার দুর্ভোগ! … প্রেমে আমার ধৈর্যের দুর্বলতাই সেই কোমল চাহনিকে জয়ী করেছে।

সে যেন এক কচি মৃগশাবক, কিন্তু যখনই সে তাকায় … আমি ভীত হয়ে পড়ি, অথচ নিয়ম হলো মৃগশাবকই ভীত হবে।

আমি দেখছি তার বিচ্ছেদ যেন আমার জন্য অবধারিত হয়ে আছে, তবে কি এটি … সেই প্রতিদান যে আমি তার ভালোবাসার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি?

তাকে নম্রভাবে জিজ্ঞেস করো, আমি কি কোনো অপরাধ করেছি? … সে যদি বলে "হ্যাঁ", তবে তাকে অনুরোধ করো যেন সে ক্ষমা করে দেয়।

সে যেন তার জুলুম থেকে আমাকে তার ন্যায়ের দিকে ফিরিয়ে নেয় … কেননা আমি এমন অবস্থায় আছি যেখানে আমার ওপর কোনো ইনসাফ বা বিনিময় কাজ করছে না।

আমি কাব্যের ছন্দে তাকে আমার দিকে ফিরিয়ে আনব, কেননা কবিতা হলো … বসন্তের মলয় বাতাস, আর সেই নমনীয়তা আমার কাছে বৃক্ষশাখার নমনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

আমি কেবল তার সালামটুকু পেলেই তুষ্ট … যদি বাগান থেকে ফুল পাওয়া না যায়, তবে তার সুবাসই যথেষ্ট।

ইবনুর রবি সুলাইমান বিন আহমদ আল-ইয়াবনি আমাকে শুনিয়েছেন, তিনি ছিলেন একজন আন্দালুসীয় যিনি প্রাচ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন এবং সুলতান আল-মালিক আল-কামিলের প্রশংসা করেছিলেন:

যদি সে তার জাদুকরী নিদর্শনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ না করত … তবে আমি তার আদেশের বিধানের অনুগত হতাম না।

এমন এক হরিণ-শাবক যাকে আমি সত্যবাদী মনে করি অথচ তার প্রতিশ্রুতি মিথ্যা … সে তার প্রেমিকের কাছে তার ওজরের অজুহাতগুলো তুলে ধরে।

তার সৌন্দর্যের নবুওয়াত প্রকাশিত হয়েছে তার চোখের পাতার … বিরতি থেকে এবং তার চুলের বিভ্রান্তি থেকে।

বিদায়লগ্নে আলী বিন হাশিম আল-মারওয়াজি আমাকে শুনিয়েছেন:

হে অগ্নি প্রজ্বলনকারী, যে আগুন জ্বালায় এবং তার প্রশংসা করে … বাতাসের ঝাপটা আর বৃষ্টির মাঝে শীতের তীব্রতা যখন চরমে।

ওঠো এবং আমার হৃদয়ে প্রজ্বলিত অগ্নির উত্তাপ নাও … যা আমার প্রাণের ব্যাকুলতায় জ্বলছে, হে অগ্নি প্রজ্বলনকারী।

হে উষ্ট্র পালের সাথী, অন্ধকার অনেক দীর্ঘ হয়েছে … যেখানে তৃপ্তি আর অনাবৃষ্টির কোনো পার্থক্য চেনা যায় না।

তৃষ্ণার্তদের আমার চোখ এবং তার কোটরের দিকে ফিরিয়ে দাও … যা অশ্রু আর প্রবহমান রক্ত দিয়ে তৃষ্ণার্তদের তৃষ্ণা মেটাবে।

হে বিচ্ছেদের সংকল্পকারী, বিদায় যেন না হয়, আর যদি … বিদায় নিতেই হয়, তবে আমি মোটেই ধৈর্যশীল থাকতে পারব না।

যদি তোমার দেহ আমার দৃষ্টি থেকে অদৃশ্য হয় এবং তাকে না দেখি … তবে তোমার স্মৃতি আমার অন্তরের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে থাকবে।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২২)
ثم تهيأ زادي، وكمل للسفر استعدادي، وخرجت بعد الاستخارة المشهورة، ومن حضرة تونس المذكورة في صبيحة يوم السبت السابع عشر شهر ربيع الثاني عام سبعة وثلاثين وسبعمائة، وقد نثر المركب بنوده، وقلد شراعه وأحكم شدوده، فركبت في اليوم المذكور، ثم أحصى الراكبون فكمل في المركب منهم نحو ألف راكب، ثم رفع الشراع وسرنا خارجين من المرسى إلى ان جزنا جزيرة) قوسرة (ووصلنا إلى جزيرة) ملطة (، ثم هبت ريح اقتلعتنا واسرعتنا، واشتدت وحامت فروعتنا وأزعجتنا، حتى أدخلتنا مرسى جزيرة) أفريطش (فأقمنا فيها خمسة أيام، وهي جزيرة للروم، وطولها نحو ثلاثمائة ميل ثم خرجنا منها فلما توسطنا المواسط اشتدت الريح المختلفة، وعظمت الأمواج المضطربة، وأتت الأنواء من كل جانب، وجاءنا الموج من كل مكان أمثال الجبال السائرة، فاظلم الجو وتراكم النوء، وارتفع الصحو، وتبدل بالكدر الصفو، واهتاج البحر اهتياجا، واربدت الآفاق سوادا، وانتشرت الرياح عصوفا، وتدفقت الأمواج، وعظم الارتجاج، وهمى الغمام، واستشعر الحمام، وأرسلت شئاييب الأمطار كأنها السهام، وكان ذلك الخطب أعظم من ان يحيط به الوصف، فرجفت القلوب، وخرست الألسن، وجرت الرياح بما لا تشتهيه السفن، واتصلت الحال في الزيادة إلى أن قربنا) من جزر الرومانية (، وتفاقم الأمر وتعاظم حتى انتهينا إلى جزيرة) أشقرباطة (فركبنا إلى مرساها، وأرسينا به فتزايد الأمر وعظم، حتى قطع المراسي جملة واحدة، وخرج المركب رغما على الأنواف واستقبل عظيم تلك البحار فأيقنا بالهلاك، وغلب اليأس على الأمل، وقلت) أنا الغريق فما خوفي من البلل (وكم يسير بنا في غير طريق، والهول يزيد ويعظم، حتى تفتح المركب من جميع جهاته وصار الماء يدخله من كل جانب حتى ملاء الجو الأسفل واستوى على ظهر الطبقة الثانية من المركب، وتزايد فيها حتى قرب من الطبقة العليا، فاستغاث الناس ولم يبق شك في الهلاك، وإذا بالرئيس والبحريين قد أقبلوا عليهم وقالوا ما بقي في الحياة من طمع إلا ان قدرتم على ميح الماء ورمى الوسق، فقام الخلق بأجمعهم كبيرا وصغيرا وذلك بين العشائين، وأقبلوا على الميح والرمى، فلما رجع أحد عن رمي ما قام في وجهه شيء كان، ما عدا النفس خاصة، والقليل من الشدائد يصير عند المشاهدة له كثيرا، كما ان الكثير من الشدائد يصير عند سماعه قليلا، وأهوال البحر لا تحصى ولا تحصر، والشيء يسمع فيحقر حتى يبصر:

هو البحر حدث عنه غير مكذب … فما تنقضي آياته وعجائبه

فأقاموا كذلك حتى ظهرت) جزيرة قبرس (وهي جزيرة كبيرة معمورة بالنصارى كالجزر التي قبلها، فما انفصلنا عنها إلا وقد أدركهم الجهد والإعياء، ولحقهم العطش الشديد والعناء، وقد كانوا رموا جميع ما كان بقي لهم من الماء المعد للشرب فطلبت قطرة من الماء توجد، فما رض ضلوعي ولا فض دموعي إلا أطفال يضطربون بالبكاء ويستغيثون من العطش ومن الماء حتى أشرف الناس على الهلاك بالعطش، وتجزع بعضهم من ماء البحر فكنت أراهم مطروحين يعالجون سكرات الموت، فعند ذلك قام صاحب المركب إلى شيء يسير كان بقى له ولرجاله من الماء لشربهم، وحضره إلى ناحية وأحصى جميع ما كان في المركب اسما وعينا بالزمام، وصار يدفع لهم جرعة واحدة ظهر كل يوم قدرها نحو ثلاث أواقى، فبينما يتمسكون بتلك العلالة، ويترمقون بتلك المصة والبلالة، التي كان الناس يتجرعونها، كرها، والعطش أشهى للنفس منها، إذ أمر الله تعالى الرياح ان تسكن. والبحار أن تبيض، فلم تتحرك فيها للنسيم حركة:

وقد كان بحرا قبل ذلك زاخرا … فغدا بذلك، وهو بر مقفر
অতঃপর আমার পাথেয় প্রস্তুত হলো এবং আমার সফরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলো। আমি সুপ্রসিদ্ধ ইস্তিখারা করার পর তিউনিস শহর থেকে সাতশ সাইত্রিশ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের সতেরো তারিখ শনিবার সকালে যাত্রা করলাম। জাহাজ তখন তার নিশানগুলো উড়িয়েছে, পালগুলো ঝুলিয়েছে এবং এর বন্ধনীগুলো মজবুত করেছে। আমি উল্লেখিত দিনেই জাহাজে আরোহণ করলাম। অতঃপর আরোহীদের গণনা করা হলো এবং দেখা গেল জাহাজে প্রায় এক হাজার আরোহী পূর্ণ হয়েছে। এরপর পাল তোলা হলো এবং আমরা বন্দর থেকে বের হয়ে যাত্রা শুরু করলাম, যতক্ষণ না আমরা কুসরা দ্বীপ অতিক্রম করলাম এবং মাল্টা দ্বীপে পৌঁছালাম। এরপর এমন এক প্রবল বাতাস বইতে শুরু করল যা আমাদের পথচ্যুত ও অতি দ্রুত ধাবিত করল। বাতাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পেল এবং তা আমাদের ঘিরে ফেলে আতঙ্কিত ও অস্থির করে তুলল, এমনকি তা আমাদের আফরিতশ দ্বীপের বন্দরে নিয়ে গেল। আমরা সেখানে পাঁচ দিন অবস্থান করলাম। এটি রোমকদের একটি দ্বীপ এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় তিনশ মাইল। অতঃপর আমরা সেখান থেকে বের হলাম। যখন আমরা মাঝসমুদ্রে পৌঁছালাম, তখন প্রতিকূল বাতাস তীব্র হলো এবং বিক্ষুব্ধ ঢেউগুলো বিশাল আকার ধারণ করল। চতুর্দিক থেকে তুফান আসতে লাগল এবং চলমান পাহাড়ের ন্যায় বিশালাকার ঢেউ সব দিক থেকে আমাদের দিকে ধেয়ে এল। ফলে আকাশ অন্ধকার হয়ে গেল, দুর্যোগ ঘনীভূত হলো এবং আকাশ মেঘমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা চলে গেল। স্বচ্ছতা ঘোলাটে রূপ নিল, সমুদ্র প্রচণ্ডভাবে বিক্ষুব্ধ হলো এবং দিগন্ত কালো রঙে ঢেকে গেল। ঝড়ো বাতাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল, ঢেউগুলো উপচে পড়তে লাগল এবং প্রচণ্ড কম্পন শুরু হলো। মেঘ থেকে বৃষ্টি ঝরতে লাগল এবং কবুতরগুলো আসন্ন মৃত্যুর আশঙ্কা করল। বৃষ্টির ধারা তীরের মতো নিক্ষিপ্ত হতে লাগল। সেই বিপদ এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে তা বর্ণনা করা অসম্ভব। ফলে অন্তরগুলো কেঁপে উঠল, জিহ্বাগুলো স্তব্ধ হয়ে গেল এবং জাহাজটি যেদিকে যেতে চাচ্ছিল না বাতাস সেদিকেই বইতে লাগল। পরিস্থিতির ক্রমাবনতি হতে থাকল যতক্ষণ না আমরা রোমান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী হলাম। বিষয়টি আরও গুরুতর ও ভয়াবহ হয়ে উঠল যতক্ষণ না আমরা আশকারবাতা দ্বীপে পৌঁছালাম। আমরা এর বন্দরে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে নোঙর করলাম। কিন্তু বিপদ আরও বাড়ল এবং পরিস্থিতি এতোটাই সঙ্গিন হলো যে নোঙরের সমস্ত রশি একসাথে ছিঁড়ে গেল। জাহাজটি অনিচ্ছাসত্ত্বেও সামনে এগিয়ে গেল এবং সেই উত্তাল সমুদ্রের সম্মুখীন হলো। তখন আমরা ধ্বংস নিশ্চিত জেনে নিলাম এবং আশার ওপর নিরাশা জয়ী হলো। আমি তখন বললাম, "আমি তো ডুবন্ত ব্যক্তি, আমার আর ভেজার ভয় কী?" জাহাজটি কত যে অজানাপথে চলতে লাগল, আর আতঙ্ক ও ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেতে লাগল। একপর্যায়ে জাহাজের সব দিক ফেটে গেল এবং সব পাশ দিয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করল, যতক্ষণ না তা নিচের অংশ পূর্ণ করল এবং জাহাজের দ্বিতীয় স্তরের ওপর উঠে এল। পানি বাড়তে বাড়তে উপরের স্তরের নিকটবর্তী হলো। মানুষ তখন আর্তনাদ শুরু করল এবং ধ্বংসের ব্যাপারে আর কোনো সন্দেহ রইল না। এমন সময় জাহাজের প্রধান ও নাবিকগণ তাদের নিকট এসে বলল, 'বেঁচে থাকার আর কোনো আশা নেই, যদি না তোমরা সেচ দিয়ে পানি বের করতে এবং জাহাজের মালপত্র ফেলে দিতে সক্ষম হও।' অতঃপর মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে ছোট-বড় সকল মানুষ দাঁড়িয়ে গেল এবং পানি সেচ দেওয়া ও মালামাল ফেলার কাজে আত্মনিয়োগ করল। কেউ যখন মালামাল ফেলে দিচ্ছিল, তখন তার সামনে যা কিছু আসছিল তার কিছুই অবশিষ্ট রাখা হচ্ছিল না, কেবল প্রাণটুকু ছাড়া। সামান্য বিপদও চাক্ষুষ দেখার সময় অনেক বড় মনে হয়, যেমন অনেক বড় বিপদও শ্রবণে সামান্য মনে হয়। সমুদ্রের ভয়াবহতা অগণিত ও অসীম। মানুষ কোনো কিছু শুনে তুচ্ছ জ্ঞান করে যতক্ষণ না সে তা চোখে দেখে:

এটিই সেই সমুদ্র, এর সম্পর্কে যা-ই বলো মিথ্যা হবে না … এর নিদর্শন ও বিস্ময়কর বিষয়ের কোনো শেষ নেই

তারা এভাবেই অবস্থান করছিল যতক্ষণ না সাইপ্রাস দ্বীপ দৃষ্টিগোচর হলো। এটি একটি বড় দ্বীপ এবং আগের দ্বীপগুলোর ন্যায় এটিও খ্রিস্টান অধ্যুষিত। আমরা যখন সেখান থেকে বিচ্ছিন্ন হলাম, তখন সবাই প্রচণ্ড ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছিল এবং তাদের ওপর তীব্র তৃষ্ণা ও কষ্ট চেপে বসেছিল। তারা পান করার জন্য রাখা অবশিষ্ট সমস্ত পানিও ফেলে দিয়েছিল। তখন এক ফোঁটা পানির সন্ধান করা হচ্ছিল। যা আমার পাজর গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল এবং আমার অশ্রু ঝরাচ্ছিল তা হলো সেই শিশুদের কান্না, যারা তৃষ্ণায় ছটফট করছিল এবং পানির জন্য আর্তনাদ করছিল। এমনকি মানুষ তৃষ্ণায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। কেউ কেউ তৃষ্ণার তাড়নায় সমুদ্রের পানি পান করে ফেলেছিল; আমি তাদের মাটিতে পড়ে মৃত্যুর যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখছিলাম। এমতাবস্থায় জাহাজের মালিক তার ও তার সঙ্গীদের জন্য রাখা সামান্য পানির কাছে গেল এবং তা একপাশে নিয়ে এল। সে জাহাজে থাকা প্রত্যেকের নাম ও পরিচয় তালিকাভুক্ত করল এবং প্রতিদিন দুপুরে প্রত্যেককে মাত্র এক ঢোক (প্রায় তিন আউন্স পরিমাণ) পানি দিতে শুরু করল। মানুষ যখন এই সামান্য পানীয় আঁকড়ে ধরে প্রাণটুকু রক্ষার চেষ্টা করছিল, যা মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও কোনোমতে গলায় নামাচ্ছিল কিন্তু তৃষ্ণা এর চেয়েও বেশি কষ্টদায়ক ছিল, ঠিক তখনই আল্লাহ তাআলা বাতাসকে থেমে যাওয়ার এবং সমুদ্রকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দিলেন। ফলে সেখানে বাতাসের সামান্য প্রবাহও আর অবশিষ্ট রইল না:

যেখানে এর আগে ছিল উত্তাল সমুদ্র … তা এখন জনমানবহীন এক বিশাল প্রান্তরের ন্যায় নিথর হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২৩)
فتمكن اليأس، وعظم البأس، وسقط في أيدي الناس، فضجوا بالدعاء، ونقص لهم النصف من تلك الجرعة التي كانوا يأخذونها من الماء، واختلفت إليهم أنواع الهلاك والبلاء، فلما رأيت تلك الشدة، جمعت الأصحاب من قراء القرآن فاجتمع منهم نحو الثلاثين رجلا، فقلت لهم ما لنا إلا اللجوء إلى الله عزل وجل، وأتوسل إليه بكتابه وبرسوله فصلينا العشاء الأخيرة وقسمت عليهم القرآن مجزئا، وأقمنا على التلاوة والقراءة ليلتنا تلك فلم يكن إلا أمد يسير وشفع الله فينا كتابه العظيم، ونبيه الكريم، وهبت ريح سرنا بها حتى أنعم الله سبحانه وظهر منار الإسكندرية فأعلم الناس بذلك، فضجوا سرورا بالدعاء والبكاء، وأعلنوا بالحمد والشكر لله تعالى والثناء، وكادوا أن يقضي عليهم ذلك الأمل ومن فرح النفس ما يقتل.

خفقت قلوبهم سرورا بعدما … باتوا بأفئدة يراع خوافق

فما رأيت قبلها بشارة أحلى في النفوس، أوقع في القلوب، ولا أعظم سرورا من سرور الخلق بها في تلك الساعة، وما ظنك بساعة أعلنت بالكرم والجود، وأعلمت بالخروج من العدم إلى الوجود، وفيها نطق لسان الشكر بما تيسير على الفكر فقلت:

بشراكم لاح المنار إلا سعد … ودنا على اليأس المرام إلا بعد

وتنفس الكرب الذي كنا به … في حالة البلوى نقوم ونقعد

وافتر من إسكندرية ثغرها … قد أخصب المرعى وطاب المورد

واستقبلوا النعم العظام بشكرها … فبشكرها أبدا لكم تتزيد

ما خاب قصدكم وطبية قصدكم … وشفيعكم خير الأنام محمد

فوصلنا وجفن الظلام قد انطلق على عين الشمس، ومضى اليوم مضي الأمس، ودخلنا المرسى بقرب المنار، في ليلة الجمعة الثالث عشر لجمادى الأخرى من عام سبعة وثلاثين المذكور، ولما بدأ من الفجر سفور، ونثر الصبح كافور، وركبت إلينا زوارق المدينة، وخرج الناس لمشاهدتنا في أحسن الزينة، نزلنا البر لا نلوي على جريج ولا نصبر ريثما يسكن البحر من ماء وريح، وأقبلنا الساحل قاصدين تائبين من ركوب البحر أبد الآبدين فلما وطيئنا الرمل وسلمنا على الأخوان احتضنا بالشرط والاهوان، وحملنا بأجمعنا إلى الديوان هناك شاهدنا الحساب وأرينا العذاب، وملئوا منا البيوت والرحاب ثم أمرت اليد على القليل الكثير، والحقير والنقير، والدفتر والقطمير، والرفيع الوضيع والغني والفقير، وفتشت الأوساط، وعم الزحام والاختلاط، وكثر الهياط والمياط، حتى خرج المخزون والموزن، وبرز المعكوم والمختوم، وعند الله تجمع الخصوم، فأخذ من كل عشرة دنانير ديناران ومن كل عشرة دراهم درهمان، ظلما وعدوانا وجورا وطغيانا فاستشعرت الأسف، ونسيت كل رزء سلف، وودت للنزر الحاضر لو كان مع الشيء الآخر ذهب وتلف وجعلت أنشد:

رمى بي البحر درا في بلادكم … لكنني لم أصادف فيكم صدفا

أصبحت بين أناس ضعت بينهم … كالزهر في كف مزكزم فوا أسفا

وبعد مرارة تلك المواقف المهينة، أعقبت حلاوة تلك المدينة:

فنسينا ما لقينا … وكأنا ما شقينا

وخلصت من حجر الأسى لمسرة … فتنت بها الأبصار والأسماع

وظفرت من زمني بحظ لم يزل … بيني وبين الدهر فيه نزاع

فانتظم الشمل بقصر الموضوع، بديع المجموع، يعجب بقطعه المتجاورات، وحدائق فيها من كل الثمرات ونخل كالكتائب قابلت الكتائب، والعذارى أرخين الذوائب، فيها قنوان من البسر وألوان تعدى على العسر، وتهدى إلى اليسر فلم أر مدينة أحسن منها وضعا ولا أبدع ربعا، ولا أسع مسالك ولا أعلى مباني ولا أسمى مراقى، ولا أجمل مراسم، ولا أوضح معالم، ولا أملح أزقة، ولا أعجب رونقا ورقة، ولا أحسن تفصيلا وجملة.

هي القصور البيض لا ما حدثوا … عن أرم وغيرها من البنا

تخطف الأبصار من لالائها … والليل قد ألقى القناع الادكنا
তখন নিরাশা জেঁকে বসল, দুর্দশা চরম আকার ধারণ করল এবং মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল। তারা রোনাজারি ও দোয়ায় উচ্চকিত হলো; তাদের পানীয় জলের যে সামান্য বরাদ্দ ছিল, তাও অর্ধেকে নেমে এল। নানা প্রকার ধ্বংস ও বিপদ তাদের ঘিরে ধরল। আমি যখন এই কঠিন অবস্থা দেখলাম, তখন কুরআন তিলাওয়াতকারীদের মধ্য থেকে প্রায় ত্রিশজন সাথীকে একত্রিত করলাম। আমি তাদের বললাম, "মহিমান্বিত আল্লাহর দরবারে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই। আমি তাঁর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের অসীলায় তাঁরই সমীপে প্রার্থনা করছি।" অতঃপর আমরা শেষ এশার নামাজ আদায় করলাম এবং আমি তাদের মধ্যে কুরআনকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে দিলাম। আমরা সেই সারা রাত তিলাওয়াত ও পাঠে অতিবাহিত করলাম। এরপর অল্প সময়ও পার হয়নি যে, আল্লাহ আমাদের জন্য তাঁর মহান কিতাব ও তাঁর সম্মানিত নবীকে সুপারিশকারী হিসেবে কবুল করলেন। এমন এক অনুকূল বাতাস বইতে শুরু করল যাতে আমরা চলতে লাগলাম, এমনকি আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করলেন এবং আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর দৃশ্যমান হলো। লোকজনকে যখন তা জানানো হলো, তখন তারা আনন্দে রোনাজারি ও দোয়ায় উচ্চকিত হলো। তারা মহান আল্লাহর হামদ, শুকরিয়া ও প্রশংসা প্রকাশ করল। সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার আনন্দে তাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, কারণ মনের অতি আনন্দও অনেক সময় মানুষকে মেরে ফেলে।

তাদের অন্তরগুলো খুশিতে নেচে উঠল... তারা আতঙ্কিত হৃদয়ে রাত অতিবাহিত করার পর।

এর আগে মানুষের মনে এমন মধুর সুসংবাদ, অন্তরে এমন গভীর প্রভাব এবং এর মতো এত বিশাল আনন্দ আমি আর কখনো দেখিনি। সেই মুহূর্তের কথা আপনি কী ভাবছেন, যখন করুণা ও বদান্যতা ঘোষিত হয়েছিল এবং অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে ফেরার বার্তা জানানো হয়েছিল? সেখানে কৃতজ্ঞতার ভাষা চিন্তার গভীরে যা সহজলভ্য ছিল তা প্রকাশ করে বলছিল:

তোমাদের জন্য সুসংবাদ, বাতিঘর দৃশ্যমান হয়েছে—এ তো সৌভাগ্য... নিরাশার ওপর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে—এ তো বহুদূরের বিষয় ছিল।

যে কঠিন যাতনায় আমরা ছিলাম, তা প্রশমিত হলো... বিপদের সেই অবস্থায় আমরা দাঁড়িয়ে ও বসে (অস্থিরতায়) দিন কাটাচ্ছিলাম।

আলেকজান্দ্রিয়ার সেই মুখচ্ছবি আজ হাস্যোজ্জ্বল... এর চারণভূমি উর্বর হয়েছে এবং পানীয়ের উৎস মনোরম হয়েছে।

বিশাল এই নেয়ামতসমূহকে শুকরিয়ার সাথে গ্রহণ করো... কারণ শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমেই তোমাদের নেয়ামত সর্বদা বৃদ্ধি পাবে।

তোমাদের উদ্দেশ্য এবং তোমাদের উদ্দেশ্যের পবিত্রতা ব্যর্থ হয়নি... কারণ সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ তোমাদের সুপারিশকারী।

অতঃপর আমরা যখন পৌঁছালাম, তখন অন্ধকারের পর্দা সূর্যের চোখের ওপর নেমে এসেছে, অর্থাৎ দিনটি গতকালের মতো গত হয়ে গেছে। আমরা সেই উল্লেখিত সাতশ সাঁইত্রিশ হিজরি সনের জুমাদাল উখরা মাসের তেরো তারিখ শুক্রবার রাতে বাতিঘরের নিকটবর্তী বন্দরে প্রবেশ করলাম। যখন ভোরের আলো উন্মোচিত হলো এবং সকাল তার কর্পূর-শুভ্র আভা ছড়িয়ে দিল, তখন শহরের নৌকাগুলো আমাদের দিকে আসতে লাগল। লোকজন আমাদের দেখার জন্য অতি চমৎকার সাজে বের হয়ে এল। আমরা কূলে নামলাম, কোনো জখমের দিকে দৃকপাত করলাম না এবং সমুদ্রের পানি ও বাতাসের শান্ত হওয়ার জন্য বিন্দুমাত্র অপেক্ষা করলাম না। আমরা উপকূলে এমনভাবে উপস্থিত হলাম যে, চিরদিনের জন্য সমুদ্রযাত্রা থেকে তওবা করার সংকল্প করেছিলাম। যখন আমরা বালুকাময় ভূমিতে পা রাখলাম এবং ভাইদের সালাম দিলাম, তখন আমাদের শর্ত ও নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ করা হলো। আমাদের সবাইকে 'দিওয়ান'-এ (প্রশাসনিক কার্যালয়) নিয়ে যাওয়া হলো। সেখানে আমরা হিসাব-নিকাশ প্রত্যক্ষ করলাম এবং আযাব (কঠোরতা) দেখলাম। তারা আমাদের দিয়ে ঘর ও আঙিনা পূর্ণ করে ফেলল। এরপর অল্প-বেশি, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, খাতা-পত্র, ছোট-বড়, উচ্চ-নীচ এবং ধনী-দরিদ্র সবার ওপর আধিপত্য বিস্তার করা হলো। মধ্যম স্তরের আসবাবপত্র তন্নতন্ন করে খোঁজা হলো, ভিড় ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ল, এবং হট্টগোল ও বাদানুবাদ বেড়ে গেল। এমনকি গচ্ছিত ও ওজনি মালপত্র বের করে আনা হলো, আর গিঁট দেওয়া ও মোহরযুক্ত মালপত্র দৃশ্যমান হলো; আর আল্লাহর দরবারেই বিবাদকারীরা একত্রিত হবে। অতঃপর তারা প্রতিটি দশ দিনারের বিপরীতে দুই দিনার এবং প্রতিটি দশ দিরহামের বিপরীতে দুই দিরহাম গ্রহণ করল—অন্যায়, শত্রুতা, জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে। আমি অত্যন্ত মর্মাহত হলাম এবং অতীতের সকল বিপদ ভুলে গেলাম। আমি মনে মনে কামনা করলাম, এই উপস্থিত সামান্য মালটুকুও যদি আগের জিনিসগুলোর মতো সমুদ্রে হারিয়ে যেত বা নষ্ট হয়ে যেত! আমি বলতে লাগলাম:

সমুদ্র মুক্তা হিসেবে আমাকে তোমাদের দেশে নিক্ষেপ করেছে... কিন্তু আমি তোমাদের মাঝে কোনো ঝিনুকের (মূল্যদানকারী) দেখা পেলাম না।

আমি এমন সব মানুষের মাঝে উপস্থিত হয়েছি যাদের মাঝে আমি হারিয়ে গেছি... যেমন ঘ্রাণশক্তিহীন ব্যক্তির হাতের ফুল; আক্ষেপ! কতই না আক্ষেপ!

সেই অপমানজনক পরিস্থিতির তিক্ততার পর, ওই শহরের মিষ্টতা আমাদের ধরা দিল:

অতঃপর আমরা যা সহ্য করেছি তা ভুলে গেলাম... যেন আমরা কখনও দুর্ভাগ্যের শিকার হইনি।

শোকের পাথর থেকে আমি এমন এক আনন্দের দিকে মুক্তি পেলাম... যা চোখ ও কানকে মোহিত করে দেয়।

আমি আমার সময় থেকে এমন এক সৌভাগ্যের অংশ জয় করে নিলাম... যা নিয়ে আমার ও কালের মধ্যে দীর্ঘ বিবাদ ছিল।

অতঃপর কাসরুল মাউজু নামক স্থানে আমাদের সম্মিলন সুসংহত হলো, যা এক অপূর্ব সমাবেশ; এর পাশাপাশি অবস্থিত ভূখণ্ডগুলো এবং বাগানসমূহ দর্শককে মুগ্ধ করে, যেখানে রয়েছে সব ধরনের ফলমূল। আর সেনাদলের মতো সারিবদ্ধ খেজুর গাছগুলো যেন অপর এক সেনাদলের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে; কুমারী কন্যারা যেন তাদের কেশরাশি এলিয়ে দিয়েছে। সেখানে রয়েছে কাঁচা খেজুরের থোকা এবং নানাবিধ ফল যা দুঃখকে বিদায় জানায় এবং স্বস্তির দিকে নিয়ে যায়। আমি আলেকজান্দ্রিয়ার চেয়ে সুন্দর বিন্যাসের কোনো শহর দেখিনি, না দেখেছি এর চেয়ে চমৎকার কোনো আবাসন, না এর চেয়ে প্রশস্ত পথঘাট, না উচ্চতর অট্টালিকা, না শ্রেষ্ঠতর সোপান, না সুন্দরতর রীতি-নীতি, না স্পষ্টতর নিদর্শন, না চমৎকার কোনো অলিগলি, না অধিকতর বিস্ময়কর উজ্জ্বলতা ও লাবণ্য, আর না এর চেয়ে সুন্দর কোনো বিশদ ও সামগ্রিক রূপ।

এগুলোই সেই শুভ্র প্রাসাদ, ইরাম বা অন্য কোনো অট্টালিকার কথা তারা যা বলে তা নয়...

এর চাকচিক্য দৃষ্টিকে কেড়ে নেয়... যখন রাত তার ঘন কালো পর্দা ফেলে দেয়।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২৪)
فكأن محاسن الدنيا فيها مفروشة، وصورة الجنة فيها منقوشة، كوكبها يقظان، وجوها عريان، وحصاها جوهر ونسيمها عطر، وترابها مسك أذفر، ويومها غداة، وليلها سحر، وكفاها ان ليلها كالنهار في تصرف العباد، وإعادة مسائها كصباحها، وهو غير المعتاد، وهل هي الاذات العماد التي لم يخلق مثلها في البلاد، ذكر المفسرون عن أبى ابن كعب في قوله تعالى أرم ذات العماد: إنها الإسكندرية، فهي من أعجب البلدان، وفيها بنيان عجيب، ذكر صاحب الجغرافيا أنها بنيت في ثلاثمائة سنة، وان أهلها مكثوا سبعين سنة ألا يمشون فيها بالنهار إلا معصبين الأعين بخرق سود، خوفا على أبصارهم من شدة بياضها، وعلى منارها سرطان من رخام، والمنار على أربعة أساطين، وطوله ثلاثمائة ذراع وحيطان المدينة وسورها من رخام، فيها قبة كانت لفرعون، وفيها قصر سليمان قد نهدم وبقيت أثاره، وبها أسطوانة تستدير الدهر كله، وكان في القديم على منارها مرآة كبيرة، صنعها الحكماء، يتطلع بها على القسطنطينية وبلاد الروم حتى احتيل في إنزالها، فلم يستطع أحد على صرفها بهذا انتهى، ومن عجيب صنعها أن بناءها تحت الأرض كبنائها فوقها، بل أعتق وأمتن، لان الماء من النيل يخترق جميع ديارها ويتخلل جميع أزقتها تحت الأرض، فتتصل الآبار بعضها ببعض ويمد بعضها بعضا، وعاينت فيها من سوارى الرخام وألواحه كثرة وعلوا واسعا وحسنا ما لا يتخيل بالوهم، ولقد نلقي فيها سوارى يقصد الجو بها لا يدري معناها، ولا لما كان أصل وضعها، ويذكر انه كان عليها في الزمن القديم مبان الفلاسفة ولأهل الرياسة والله اعلم، ومن أعجبها وأعظمها عمود السوارى، له قاعدة مربعة هو عليها، عددت في أحد جوانبها نيفا على أحد عشر شبرا، وطالعت في بعض التآليف أنه أعظم عمود على وجه الأرض واقف على كنز من الكنوز، وان طوله تسع وأربعون ذارعا بالذراع الكبيرة التي فيها ذراعان، وانه لا يتزحزح عن موضعه ولو تساقطت عليه الجبال الشم، ومن عجائب الإسكندرية أيضا المنار، وهو بخارجها قد صعد كالبرج الأعظم في عنان السماء أساسه كله معقود بالرصاص، وبنيانه بالحجر المنجور الجافي يزاحم السماء سموا وارتفعا قد وضعه الله تعالى على يد من سخره لذلك آية للمتوسمين، وهداية للمسافرين يهتدون به في البحر إلى بر الإسكندرية، ويظهر على أزيد من سبعين ميلا، عرض أحد جوانبه الأربع ينيف على خمسين باعا، ويذكر أن في طوله أزيد من مائة وخمسين قامة، وألفيت في بعض التآليف المعتمدة ما نصه: وذكر من عبد الله بن عمرو ابن العاص أنه قال عجائب الدنيا أربعة مرآة منار الإسكندرية كان الناس يجلسون تحتها فيرون من القسنطينة وبينهما عرض البحر، وفرس من نحاس بأرض الأندلس باسط يديه مقابل بكفييه أي، ليس خلفي مسلك فلا مسلك فلا يطأ أحد تلك الأرض إلا ابتلعته النمل، ومنارة من نحاس عليها راكب من نحاس بأرض عاد، فإذا كانت الأشهر الرحم هطل منها الماء فشرب الناس واستقوا وصبوا في الحياض فان انقطعت الأشهر الحرم انقطع ذلك الماء إلى آخر، وشجرة من نحاس بأرض رومة عليها زرزور من نحاس سودانية فإذا كان أوان الزيتون صفرت تلك السودانية من النحاس فيعصر أهل رومة ما يكفيهم من الزيت لادمهم وسرجهم في كنائسهم إلى عام قابل، هذا الذي ذكره عبد الله بن عمرو بن العاص خبر مشهور موجود في كتب الحكماء، والمرآة التي كانت بمنار الإسكندرية صح خبرها بالتواتر خاصة، وإنما عمل الروم في إفسادها خوفا منها، ولهذه المدينة من المدارس والمساجد ما لا يستوفيه وصف ذكر الهروى في بعض تآليفه أن مدينة الإسكندرية احتوت على أثني عشر ألف مسجد، وذكر أبو الربيع بن سالم الكلاعي في كتاب الاكتفاء له قال: كتب عمرو بن العاص إلى عمر بن الخطاب رضي الله عنه حين فتح الإسكندرية، أما بعد فأني فتحت مدينة لا أصف ما فيها غير أني أصبت فيها أربعة آلاف منية بأربعة آلاف حمام، وأربعين ألف يهودي عليهم الجزية، وأربعمائة حلة للملوك، وعن أبى قبيل، ان عمرو بن العاص لما فتح الإسكندرية وجد فيها أثنى عشر ألف بقال يبيعون البقل الأخضر) انتهى (، إلى غير ذلك من المعاهد والمفاخر والمشاهد والمآثر، وفيها تربة بعض الأنبياء عليهم السلام، وتربة بعض التابعين رضوان الله عليهم أجمعين، استوفيت زيارة جميعهم وتردد إلى مبارك بقيعهم، ثم عدت إلى لقاء العلماء والأخذ

যেন দুনিয়ার সৌন্দর্য সেখানে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জান্নাতের প্রতিচ্ছবি সেখানে খোদাই করা হয়েছে। এর নক্ষত্র জাগ্রত, আকাশ মেঘমুক্ত, কঙ্করগুলো রত্নতুল্য, বাতাস সুগন্ধিময় এবং এর মাটি তীব্র মৃগনাভির ন্যায় সুবাসিত। এর দিন হচ্ছে সকালবেলার মতো নির্মল এবং রাত হচ্ছে সুবেহ সাদিকের মতো স্নিগ্ধ। বান্দাদের কর্মতৎপরতায় এর রাতও দিনের ন্যায় হওয়া এবং সন্ধ্যারও সকালের মতো পুনরাবৃত্তি হওয়া একে অনন্য বৈশিষ্ট্য দান করেছে, যা সচরাচর দেখা যায় না। এটি কি সেই 'ইরাম জাতুল ইমাদ' নয়, যার সমতুল্য কোনো নগরী দুনিয়াতে সৃষ্টি করা হয়নি? মহান আল্লাহর বাণী "ইরাম জাতুল ইমাদ" প্রসঙ্গে মুফাসসিরগণ উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এটি হলো আলেকজান্দ্রিয়া। এটি বিস্ময়কর শহরগুলোর অন্যতম এবং এতে রয়েছে বিস্ময়কর স্থাপত্য। ভূগোলের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, এটি তিনশ বছর ধরে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং এর শুভ্রতার তীব্রতার কারণে দৃষ্টি হারিয়ে ফেলার ভয়ে এর অধিবাসীরা সত্তর বছর পর্যন্ত দিনের বেলা চোখে কালো কাপড় না বেঁধে সেখানে চলাফেরা করতে পারত না। এর বাতিঘরের (মিনারের) ওপর মার্বেল পাথরের একটি কাঁকড়া রয়েছে এবং মিনারটি চারটি স্তম্ভের ওপর অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য তিনশ হাত। শহরের প্রাচীর ও বেষ্টনী মার্বেল পাথরের তৈরি। এতে একটি গম্বুজ ছিল যা ফেরাউনের এবং এতে সুলায়মানের প্রাসাদ ছিল যা ধ্বংস হয়ে গেছে কিন্তু তার ধ্বংসাবশেষ এখনও বিদ্যমান। এতে একটি স্তম্ভ রয়েছে যা মহাকালব্যাপী আবর্তিত হয়। প্রাচীনকালে এর মিনারের ওপর বিজ্ঞজনদের তৈরি একটি বিশাল আয়না ছিল, যার মাধ্যমে কনস্টান্টিনোপল ও রোম সাম্রাজ্যের দেশসমূহ পর্যবেক্ষণ করা যেত; যতক্ষণ না কৌশল করে তা নামিয়ে ফেলা হয় এবং এরপর কেউ তা পুনরায় স্থাপনে সক্ষম হয়নি। এর নির্মাণশৈলীর একটি বিস্ময়কর দিক হলো, মাটির নিচে এর গাঁথুনি মাটির ওপরের নির্মাণের মতোই, বরং আরও প্রাচীন ও মজবুত। কারণ নীল নদের পানি মাটির নিচ দিয়ে এর সমস্ত ঘরবাড়ি ও অলিগলি অতিক্রম করে, ফলে কূপগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং একে অপরকে পানি সরবরাহ করে। আমি সেখানে মার্বেল পাথরের স্তম্ভ ও ফলকের এমন প্রাচুর্য, উচ্চতা ও সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করেছি যা কল্পনা করাও কঠিন। আমরা সেখানে এমন সব স্তম্ভ পেয়েছি যা আকাশের দিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যার অর্থ বা কেন সেগুলো স্থাপন করা হয়েছিল তা জানা যায় না। উল্লেখ করা হয় যে, প্রাচীনকালে এগুলোর ওপর দার্শনিক ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ভবন ছিল, আল্লাহই ভালো জানেন। এর সবচেয়ে বিস্ময়কর ও মহান নিদর্শন হলো 'আমুদুস সাওয়ারি' (স্তম্ভের স্তম্ভ)। এটি একটি বর্গাকার ভিত্তির ওপর দণ্ডায়মান। আমি এর একপাশে এগারো বিঘতেরও বেশি গুনেছি। কোনো কোনো গ্রন্থে আমি পড়েছি যে, এটি দুনিয়ার বুকে সর্ববৃহৎ স্তম্ভ যা কোনো এক গুপ্তধনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এর দৈর্ঘ্য বড় হাতের উনপঞ্চাশ হাত, যার এক হাত সাধারণ দুই হাতের সমান। সুউচ্চ পর্বতমালা এর ওপর ভেঙে পড়লেও এটি নিজ স্থান থেকে নড়বে না। আলেকজান্দ্রিয়ার বিস্ময়সমূহের মধ্যে মিনারটিও অন্যতম, যা শহরের বাইরে সুউচ্চ দুর্গের মতো আকাশের দিকে উঠে গেছে। এর পুরো ভিত্তি সীসা দিয়ে জমাটবদ্ধ এবং এর নির্মাণশৈলী খোদাইকৃত ভারী পাথর দিয়ে যা উচ্চতায় আকাশছোঁয়া। মহান আল্লাহ একে তাঁর অনুগত বান্দার হাতের মাধ্যমে দূরদৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য নিদর্শন এবং মুসাফিরদের জন্য হিদায়েত হিসেবে স্থাপন করেছেন, যার সাহায্যে তারা সমুদ্রপথে আলেকজান্দ্রিয়ার তীরের সন্ধান পায়। এটি সত্তর মাইলেরও বেশি দূর থেকে দৃশ্যমান হয়। এর চার পাশের এক একটির প্রস্থ পঞ্চাশ বাহুর বেশি এবং এর দৈর্ঘ্য একশ পঞ্চাশ কদমেরও বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য কিছু কিতাবে আমি পেয়েছি যেখানে বলা হয়েছে: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, দুনিয়ার বিস্ময়কর বস্তু চারটি। এক: আলেকজান্দ্রিয়ার মিনারের আয়না, যার নিচে বসে মানুষ কনস্টান্টিনোপল দেখতে পেত, অথচ তাদের মাঝে সমুদ্রের বিশাল দূরত্ব ছিল। দুই: আন্দালুস ভূমির একটি তামার ঘোড়া যার হাতগুলো প্রসারিত এবং হাতের তালু দুটি মুখোমুখি। অর্থাৎ, আমার পেছনে কোনো পথ নেই; ফলে কেউ সেই পথে কদম রাখত না, পাছে তাকে পিঁপড়ে গিলে ফেলে। তিন: আদ-এর ভূমিতে তামা নির্মিত একটি মিনার যার ওপর তামা নির্মিত একজন আরোহী রয়েছে; যখন হারাম মাসগুলো আসত তখন সেখান থেকে পানি বর্ষিত হতো, ফলে মানুষ সেখান থেকে পানি পান করত এবং গবাদি পশুকে পান করাত এবং হাউজগুলো পূর্ণ করত। আর হারাম মাস শেষ হলে সেই পানি আসাও বন্ধ হয়ে যেত। চার: রোম ভূমিতে একটি তামা নির্মিত গাছ যার ওপর একটি কালো তামা নির্মিত পাখি রয়েছে; যখন জলপাই পাকার সময় হতো, তখন সেই তামার পাখিটি শিস দিত এবং রোমবাসীরা সেখান থেকে সারা বছরের প্রয়োজনীয় যয়তুনের তেল সংগ্রহ করত। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস যা উল্লেখ করেছেন তা প্রখ্যাত সংবাদ যা প্রাজ্ঞদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান। বিশেষ করে আলেকজান্দ্রিয়ার মিনারের আয়নার খবরটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত। রোমানরা কেবল এর ভয়েই এটি ধ্বংস করার চক্রান্ত করেছিল। এই শহরে এত মাদরাসা ও মসজিদ রয়েছে যা বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়। হারওয়ি তার কোনো এক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আলেকজান্দ্রিয়া শহরে বারো হাজার মসজিদ ছিল। আবু রাবী ইবনে সালিম আল-কালাই তার 'আল-ইকতিফা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: আমর ইবনুল আস যখন আলেকজান্দ্রিয়া জয় করেন তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট লিখেছিলেন— অতঃপর, আমি এমন একটি শহর জয় করেছি যার বিবরণ আমি দিতে পারব না। তবে এতে আমি চার হাজার গোসলখানা বিশিষ্ট চার হাজার অট্টালিকা, জিজিয়া প্রদানকারী চল্লিশ হাজার ইহুদি এবং রাজন্যবর্গের চারশ বিনোদন কেন্দ্র পেয়েছি। আবু কাবীল থেকে বর্ণিত, আমর ইবনুল আস যখন আলেকজান্দ্রিয়া জয় করেন তখন সেখানে বারো হাজার সবুজ শাকসবজি বিক্রেতা পেয়েছিলেন। এ ছাড়াও সেখানে আরও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা, গৌরবোজ্জ্বল কীর্তি, দর্শনীয় স্থান ও নিদর্শনাদি রয়েছে। এতে কিছু নবি (আ.) এবং কিছু তাবিঈ (রা.)-এর কবর রয়েছে। আমি তাঁদের সকলের যিয়ারত সম্পন্ন করেছি এবং তাঁদের পবিত্র কবরস্থানে বারবার যাতায়াত করেছি। এরপর আমি আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য ফিরে আসি।

(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২৫)
عن الفضلاء فأول من لقيته بها من الأئمة وحاملي الآثار والسنة الشيخ الفقيه الإمام قاضي المالكية الأحق بالرتبة السامية السنية، وجيه الدين أبو زكرياء يحيى بن محمد بن يحيى بن عبد الله بن الأمان بن خليفة بن أبى أرضين ابن تقين بن تامشت بن علي بن رجاء بن عبد المؤمن بن ذي حي الصنهاجي اليزيدي المالكي، هكذا أملى علينا نسبه ومولده في الثالث من شهر ربيع الأول سنة سبع وستين وستمائة إمام الفروع والأحكام، والعالم بالحلال والحرام، والمهتم بطلب العلم أعظم الاهتمام له رحلة قديمة وعي فيها الكثير ولقى الصدور الأكابر، وحج نحو العشر حجج وجاور سنين وشغل زمانه بالعلم فاستفاد وأفاد، فيه يقول صاحبنا ورفيقنا الكاتب البليغ الحافل الفاضل أبو إسحاق ابن الحاج وأنشده إياهما بمحضري:

أضحى وجيه الدين أسبق سابق … في العلم والعلياء والخلق النزيه

عجب الورى من سبقه وتعجبوا … فأجبتهم لا تنكروا سبق الوجيه

وهو رجل قد أجزل الله تعالى له الحظين: كمال الخلقة ووفور القوة، وسعة الدنيا، ومتانة الدين، سرى وسيم، مسكي النسيم، زكي المناسم في المبدأ والقسيم، طلق أسرة الوجه دمث جناب البر رقيق حاشية الطبع، حسن الأخلاق، وحسن الهيئة، جميل اللباس، سمح اللقاء مليح التأنيس، حلو المحاضرة، ذكي المعاني، نبيل المقاصد، سهل الحجاب، لين الجانب، يقظ، حاضر الذهن كأن خاطره جمرة تقد، سمعت عليه تآليف كثيرة بمنزله من الإسكندرية وأجازني الإجازة التامة المطلقة العامة وكتب لي بخطه. . . وجرت المحاضرة عنده فأجرى خيله، وجر الحديث على المذكرة ذيله فأخبرته ان في كتاب سحر الشعر. . . من لا يجد انفعالا عند سماع قول ابن عبد ربه القرطبي.

أشكو إليك قلا دعائي يسمع … يا من يضر بناظريه وينفع

للورد حين ليس يطلع دونه … وأراه عندك كل حين يطلع

من لي باحور ما يلين كلامه … خجلا وسيف جفونه ما يقلع

منع الكلام سوى إشارة لحظه … منها يخاطبني وعنها يسمع

فليتهم مزاجه وليبادر علاجه " وفي كتاب " الأشعار بهزات الأشعار " قول ابن عبد ربه ":

يا لؤلؤا يسبي العقول أنيقا … ورشا بتعذيب القلوب خليقا

ما ان رأيت ولا سمعت بمثله … درا يعود من الحياء عقيقا

وإذا نظرت إلى محاسن وجهه … أبصرت وجهك في سناه غريقا

يا من تقطع خصره من ورقة … ما بال قلبك لا يكون رقيقا

وفي كتاب " المطمح " ان أبا الوليد بن عتال لما انصرف من الحج اجتمع بأبي الطيب في مسجد عمرو بن العاص بمصر ففاوضه قليلا ثم قال له أنشدني لمليح الأندلس، يعني ابن عبد ربه فأنشده هذه الأبيات، فلما أكمل إنشادها استعادها ثم صفق بيده وقال: يا ابن عبد ربه لقد تأتيك العراق حبوا فتناقلتها عني بالألسن الأقلام، وكانت سببا لتأنيسى بأولئك الجلة الأعلام.
গুণীজনদের বর্ণনায়, আমি সেখানে ইমাম এবং আসার ও সুন্নাহর বাহকদের মধ্যে প্রথম যাঁর সাক্ষাৎ পেয়েছি, তিনি হলেন সম্মানিত ও সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী শায়খ, ফকিহ, ইমাম এবং মালিকি মাজহাবের কাজি (বিচারক) ওয়াজিউদ্দিন আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আমান বিন খলিফা বিন আবি আরদিন ইবনে তাকিন ইবনে তামাশত বিন আলী বিন রাজা বিন আব্দুল মুমিন বিন জি হাই আস-সানহাজি আল-ইয়াজিদি আল-মালিকি। তিনি আমাদের নিকট তাঁর বংশপরিচয় এবং ৬৬৭ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের তিন তারিখে তাঁর জন্মের কথা এভাবেই লিপিবদ্ধ করিয়েছেন। তিনি ছিলেন ফিকহ শাস্ত্রের খুঁটিনাটি ও বিধানাবলীর ইমাম, হালাল-হারাম বিষয়ে অভিজ্ঞ আলেম এবং জ্ঞান অন্বেষণে অত্যন্ত যত্নশীল এক ব্যক্তিত্ব। তাঁর দীর্ঘ জ্ঞানসফর ছিল যাতে তিনি প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং বড় বড় নেতৃস্থানীয় মনীষীদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি প্রায় দশবার হজ পালন করেছেন এবং বেশ কয়েক বছর মক্কায় অবস্থান করেছেন। তিনি তাঁর সময়কে জ্ঞানচর্চায় অতিবাহিত করেছেন, ফলে তিনি যেমন উপকৃত হয়েছেন, তেমনি অন্যকেও উপকৃত করেছেন। তাঁর সম্পর্কে আমাদের বন্ধু ও সাথী, বিশিষ্ট অলঙ্কারবিদ ও প্রাজ্ঞ লেখক আবু ইসহাক ইবনুল হাজ্জ তাঁর রচিত নিম্নোক্ত পঙ্ক্তি দুটি আমার উপস্থিতিতে পাঠ করেছেন:

ওয়াজিউদ্দিন অগ্রগামীদের মাঝে অগ্রগামী হয়ে উঠেছেন … জ্ঞান, উচ্চমর্যাদা এবং নিষ্কলুষ চরিত্রে।

মানুষ তাঁর এই অগ্রগামিতায় বিস্ময় প্রকাশ করল … আমি তাদের উত্তরে বললাম: ওয়াজিউদ্দিনের অগ্রগামিতাকে অস্বীকার করো না।

তিনি এমন এক ব্যক্তি যাঁকে আল্লাহ তাআলা উভয় প্রকার সৌভাগ্য দান করেছেন: দৈহিক পূর্ণতা ও অফুরন্ত শক্তি, এবং পার্থিব প্রাচুর্য ও ধর্মীয় দৃঢ়তা। তিনি ছিলেন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, সুদর্শন, কস্তুরীর ন্যায় সুগন্ধযুক্ত স্বভাবের অধিকারী এবং সূচনালগ্ন থেকেই পবিত্র স্বভাবের। তিনি প্রফুল্ল চেহারার অধিকারী, অত্যন্ত বিনয়ী, মার্জিত স্বভাবের, সচ্চরিত্রবান, সুন্দর অবয়বসম্পন্ন এবং চমৎকার পোশাক পরিধানকারী ছিলেন। তাঁর সাথে সাক্ষাৎ ছিল আনন্দদায়ক, তিনি ছিলেন অমায়িক ও মিষ্টভাষী, গভীর অর্থবোধক কথার অধিকারী, মহৎ উদ্দেশ্যসম্পন্ন এবং অত্যন্ত সহজলভ্য ও নম্র মেজাজের মানুষ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সজাগ ও প্রখর মেধার অধিকারী, যেন তাঁর চিন্তা ছিল প্রদীপ্ত অগ্নিশিখা। আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর নিজগৃহে আমি তাঁর নিকট অনেক গ্রন্থ পাঠ করেছি এবং তিনি আমাকে পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করেছেন এবং নিজ হাতে তা লিখে দিয়েছেন। সেখানে তাঁর সাথে আলাপচারিতার সময় তিনি তাঁর পাণ্ডিত্যের তলোয়ার চালিয়েছিলেন এবং স্মৃতিচারণের মাধ্যমে আলোচনার রেশ দীর্ঘ করেছিলেন। তখন আমি তাঁকে জানালাম যে, 'সিহরুশ শির' কিতাবে এমন কিছু কথা রয়েছে যা শুনে ইবনে আবদে রাব্বিহি আল-কুরতুবির নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিগুলোর প্রভাব কেউ এড়াতে পারবে না:

আমি তোমার নিকট এমন এক যন্ত্রণার অভিযোগ করছি যা আমার দোয়া শুনতে দেয় না … হে সেই সত্তা, যে তাঁর দৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতিও করে আবার উপকারও করে।

গোলাপের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে যখন সে প্রস্ফুটিত হয় না … কিন্তু আমি দেখি তোমার নিকট সে সর্বদা প্রস্ফুটিত থাকে।

কে আছে আমার সেই কৃষ্ণনয়ন সুন্দরের জন্য যার কথা লজ্জায় কোমল হয় না … আর যার চোখের পাতার তলোয়ার কখনো কোষবদ্ধ হয় না।

পলকের ইশারা ছাড়া সকল কথা বন্ধ হয়ে গেছে … সে ইশারার মাধ্যমেই আমার সাথে কথা বলে এবং তা থেকেই শুনে নেয়।

অতএব তাঁর মেজাজ যেন সুস্থ থাকে এবং তাঁর দ্রুত চিকিৎসা করা হয়। আর 'আল-আশআরু বি-হাজ্জাতিল আশআর' কিতাবে ইবনে আবদে রাব্বিহির এই পঙ্ক্তিগুলো রয়েছে:

হে চমৎকার মুক্তা যা বুদ্ধি হরণ করে … আর হে সেই হরিণশাবক যে হৃদয়কে দগ্ধ করার যোগ্য।

আমি এর মতো কোনো কিছু দেখিওনি এবং শুনিওনি … এমন এক মুক্তা যা লজ্জায় লাল চুনিতে পরিণত হয়।

তুমি যখন তাঁর চেহারার সৌন্দর্যের দিকে তাকাবে … তখন তাঁর নূরের মাঝে তোমার নিজের চেহারাই নিমজ্জিত দেখতে পাবে।

হে সেই জন যার কোমর পাতলা পাতায় ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম … তোমার হৃদয়ের কী হলো যে তা কোমল হয় না?

'আল-মুতমাহ' কিতাবে বর্ণিত আছে যে, আবুল ওয়ালিদ ইবনে আত্তাল যখন হজ থেকে ফিরছিলেন, তখন মিশরের আমর ইবনুল আস মসজিদে আবু তাইয়িবের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। তিনি তাঁর সাথে কিছুক্ষণ আলোচনা করার পর বললেন, 'আন্দালুসের চমৎকার কবি ইবনে আবদে রাব্বিহির কবিতা আমাকে শোনাও।' তখন তিনি তাঁকে এই পঙ্ক্তিগুলো শোনালেন। পাঠ শেষ হলে তিনি তা পুনরায় শুনতে চাইলেন এবং হাততালি দিয়ে বললেন, 'হে ইবনে আবদে রাব্বিহি! ইরাক তো তোমার নিকট হামাগুড়ি দিয়ে আসবে।' আমি এই বিজ্ঞ ও বিশিষ্ট ইমামদের নিকট থেকে এই বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করেছি এবং তাঁদের সাথে আমার পরিচয়ের এটিই ছিল মূল উপলক্ষ।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২৬)
وممن لقيته بها من الأمجاد، والعلماء النقاد، الشيخ العدل شرف الدين أبو البركات محمد بن الشيخ الإمام العدل المرحوم فخر الدين أبو بكر محمد بن الشيخ الإمام العالم المصنف شهاب الدين أبى محمد عبد الكريم ابن عطاء الله الجذامى الإسكندري، له حسب صميم، وسلف في العلم قديم ومنهج على السنة قويم، وبيت له للعلم والدين تعظيم وتفخيم، فلله ما هنالك من خيم، ومنادى لا يدخله ترخيم، ومنتهى لا يعرف نحوه إلا منطق دلق ولفظ رخيم. فهو كريم النجار، كبير الكبار، خير الأخيار، طاهر اللذات، فاضل الذات، كامل الأدوات، كثير الآيات، عالي الروايات، عالم بالشرعيات، واقف على الطبيعيات، عف السريرة، حسن الصورة والسيرة، طريف المنازع، ذكي المبادئ والمقاطع، سهل العبارة نبيه التنبيه والإشارة، كأنه لطيمة مسك أو شهدة مشتارة. ذاكر الحديث والفروع، سالك على ألسن المشروع، عارف بعقد الشروط ناظم لتلك السموط، عاقد مجيد، باحث مفيد، إمام مفتي عالم مدرك عدل مبرز.

من معشر أوصافهم … كالمسك لذ لمن نشق

فحديث آخرهم زكا … وحديث أولهم عبق

لقيته بدكانه من الشهود بالإسكندرية، وجالسته كثيرا مغتنما لفوائد مجالسته، متنعما في حدائق مؤانسته، وسمعت عليه وأجازني إجازة تامة مطلقة عامة، وكتب لي بخطه.

وممن لقيته بها من العلماء المسندين والأولياء المهتدين: الشيخ العالم شرف الدين أبو العباس أحمد بن أبى الحسن علي) بن عبد العزيز ابن عبد الله الكتامى الشافعي، الشهير بابن المصفى أرضاه الله تعالى: شيخ المعارف والفضائل وإمام الأكابر، وصدر المجالس والمحافل، بدر الإشارة لسرى القوافل، له المناقب الثواقب والمواهب السواكب، والفوائد الفرائد، والمناهج المباهج وله بالعلم عناية، تكشف العماية، ونباهة تكشف النزاهة، دراية تعضد الرواية فكلامه تنثر طرفه وتتهادى تحفه فارق لين المهاد، ورافق العبادة والاجتهاد، وانعطفت قناته وهبت بحركاته سكناته، ذو خشبة لله ومراقبة له كثير الدعاء دائم الصبرة شديد التواضع عالم صالح فاضل.

محامد فاز في الدنيا بعاجلها … وفي القيامة أجر غير ممنون

لقيته بمنزلة من الإسكندرية، فسمعت عليه تصانيف جملة، وتلقيت منه فوائد جمة، وقرأت عليه بلفظي جميع كتاب الشهاب للقضاعي رحمه الله تعالى، وحدثني به عن شيخه سعد الدين عبد الرحمن بن حسن بن حمزة لجميعه من لفظه وسنده في برنامج روايتي وحدثني به أيضا عن الشيخ أبى البركات هبة الله بن زوير الأزدي الإسكندري إجازة ان لم يكن سماعا قال أخبرنا الشيخ أبو القاسم بن حمزة بن موقى السعدي الأنصاري سماما عليه من المدارك سماعا عن المؤلف سماعا، وسمعت عليه جزءا وافرا من كتاب موطأ الإمام مالك بن أنس رضي الله عنه، وتناولته أجمع من يده المباركة، وله فيه علو زائد، وألبسني خرقة التصوف، وأخبرني انه لبسها عن الشيخ الإمام القدرة شمس الدين أبى عبد الله محمد بن موسى بن النعمان الهذلي بسنده فيها، وقرأت عليه بلفظي جميع الجزء المسمى تنبيه المذنب بالطير والحوت قبل ان يموت تأليف شمس الدين أبى عبد الله بن النعمان المذكور، وحدثني به عنه سماعا عليه، ومما انفرد بالعلو فيه سماعه غير مرة لجميع القصيدة الفقهية في الحجة والزورة المحمدية على ناظمها الشيخ الإمام الصالح مجد الدين أبى عبد الله محمد بن أبى بكر البغدادي الواعظ رحمه الله تعالى وأولها:

أيا عذبات البان من أيمن الحمى … رعى الله عيشا في حماك رعيناه

سرقناه من ريب الزمان وصرفه … ولما سرقنا العيش منه سرقناه

وجاءت جيوش البين يقدمها القضا … فبدد شملا بالحجاز نظمناه

وسماعه كذلك لجميع القصائد الوترية المضمنة مدح أشرف البرية لناظمها مجد الديد وأولها:

أصلي صلاة تملأ والسماء … على من له أعلى العلا متبوأ

أقيم مقاما لم يقم فيه مرسل … وأمست له حجب الجلال توطأ

إلى العرش والكرسي أحمد قد دنا … ونورهما من نوره يتلألأ

وقد قرأت جميع ذلك كله عليه بلفظي بمنزله المذكور، وقرأت وسمعت عليه ذلك وأجازني وكتب لي بخطه ومولده في شعبان سنة تسع وأربعين وستمائة، وأنشدني في غير مرة، وقال: أنشدني الشيخ أبو عبد الله محمد بن أبى بكر الواعظ المذكور لنفسه:
আলেকজান্দ্রিয়ায় আমি যেসব মহৎ ব্যক্তি ও সূক্ষ্মদর্শী আলেমদের সাক্ষাৎ পেয়েছি, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ন্যায়পরায়ণ শায়খ শরাফউদ্দীন আবু আল-বারাকাত মুহাম্মাদ। তিনি ন্যায়পরায়ণ শায়খ, ইমাম ও মরহুম ফখরউদ্দীন আবু বকর মুহাম্মাদের পুত্র, যিনি ইমাম, আলেম ও প্রসিদ্ধ গ্রন্থকার শিহাবউদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল কারীম ইবনে আতাউল্লাহ আল-জুজামি আল-ইস্কান্দারির পুত্র। তাঁর বংশমর্যাদা অত্যন্ত খাঁটি, ইলমি ক্ষেত্রে তাঁর পূর্বপুরুষগণ অতি প্রাচীন এবং তাঁর অনুসৃত পথ সুন্নাহর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। তাঁর পরিবার ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্মানিত ও মহিমান্বিত। আল্লাহর কসম! সেখানে কতই না উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। তাঁর আহ্বান অত্যন্ত স্পষ্ট, আর তাঁর বাগ্মিতার চূড়ান্ত সীমা কেবল সাবলীল বাকপটুতা ও শ্রুতিমধুর শব্দপ্রয়োগের মাধ্যমেই অনুধাবন করা যায়। তিনি অত্যন্ত উন্নত বংশজাত, মহান ব্যক্তিদের মাঝেও শ্রেষ্ঠ, নেককারদের মাঝেও সর্বোত্তম, পবিত্র রুচির অধিকারী, মহৎ সত্তা এবং সকল যোগ্যতায় পরিপূর্ণ। তিনি অনেক নিদর্শনের অধিকারী এবং তাঁর বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহ উচ্চমানের। তিনি শরয়ি জ্ঞানে পণ্ডিত এবং প্রাকৃতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে সম্যক অবগত। তাঁর অন্তঃকরণ পবিত্র, তাঁর অবয়ব ও জীবন চরিত অত্যন্ত সুন্দর। তাঁর যুক্তিগুলো অভিনব, প্রারম্ভ ও উপসংহার অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত। তাঁর বর্ণনাশৈলী সহজ এবং তাঁর সংকেত ও ইঙ্গিতসমূহ অত্যন্ত প্রখর; যেন তা মিশকের সুঘ্রাণ কিংবা সদ্য সংগৃহীত মধু। তিনি হাদিস ও ফিকহের ফুরুআত (শাখাগত মাসয়ালা) সম্পর্কে সদা সচেতন এবং শরয়ি পন্থার একনিষ্ঠ অনুসারী। তিনি দলিলের শর্তাবলি সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং সেগুলোকে সুনিপুণভাবে বিন্যাসকারী। তিনি একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক, উপকারী গবেষক এবং একজন ইমাম, মুফতি, আলেম ও অনন্য ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি।

এমন এক জনসমষ্টি যাদের গুণাবলি … ঘ্রাণ গ্রহণকারীর কাছে মিশকের ন্যায় সুগন্ধিময়

তাদের শেষ প্রজন্মের কথা পবিত্র … আর তাদের প্রথম প্রজন্মের কথা সুবাসিত

আলেকজান্দ্রিয়ায় সাক্ষীদের কর্মস্থলে আমি তাঁর দেখা পাই এবং তাঁর মজলিসের ফায়দা লুফে নিতে তাঁর সাথে অনেকবার বসি। তাঁর সাহচর্যের উদ্যানে আমি আনন্দিত হয়েছি এবং তাঁর নিকট পাঠ শ্রবণ করেছি। তিনি আমাকে পূর্ণাঙ্গ, নিরঙ্কুশ ও সাধারণ ইজাজত প্রদান করেছেন এবং স্বহস্তে আমার জন্য লিখে দিয়েছেন।

সেখানে আমি যেসকল সনদধারী আলেম এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ওলিদের সাক্ষাৎ পেয়েছি, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন: শায়খ, আলেম শরাফউদ্দীন আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কুতামি আশ-শাফেয়ি, যিনি ইবনে আল-মুসাফফা নামে প্রসিদ্ধ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তিনি মারেফাত ও ফজিলতের শায়খ, মহৎ ব্যক্তিদের ইমাম এবং বিভিন্ন মজলিস ও মাহফিলের মধ্যমণি। আধ্যাত্মিক কাফেলা সমূহের গোপন রহস্যের জন্য তিনি ইশারার পূর্ণিমা স্বরূপ। তাঁর রয়েছে উজ্জ্বল গুণাবলি, বিরামহীন দান, অনন্য সব জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এবং আনন্দদায়ক কর্মপন্থা। ইলমের প্রতি তাঁর এমন প্রগাঢ় মনোযোগ রয়েছে যা মূর্খতার অন্ধকার দূর করে দেয় এবং এমন প্রজ্ঞা রয়েছে যা কলুষতা হরণ করে। তাঁর গভীর বুৎপত্তি তাঁর বর্ণিত রেওয়ায়েতকে শক্তিশালী করে। তাঁর বক্তব্যে চমৎকার সব অলঙ্কার ফুটে ওঠে এবং তাঁর উপহারসমূহ বিনিময়ের যোগ্য। তিনি আরামদায়ক শয্যা ত্যাগ করেছেন এবং ইবাদত ও কঠোর সাধনাকে সঙ্গী করেছেন। তিনি আল্লাহর ভয়ে সদা বিনম্র এবং আল্লাহর পর্যবেক্ষণে সর্বদা সজাগ। তাঁর প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা আল্লাহর স্মরণে নিবেদিত। তিনি অধিক দোয়াশীল, সর্বদা ধৈর্যশীল, অত্যন্ত বিনয়ী, একনিষ্ঠ আলেম ও মহৎ ব্যক্তি।

এমন প্রশংসা যার আশু পুরস্কার তিনি দুনিয়াতে পেয়েছেন … আর কিয়ামতের ময়দানে পাবেন অফুরন্ত প্রতিদান

আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর বাসভবনে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করি। তাঁর কাছে আমি অনেকগুলো গ্রন্থ শ্রবণ করি এবং প্রচুর জ্ঞান অর্জন করি। আমি নিজ মুখে তাঁর সামনে কুজায়ি (রহ.) রচিত 'কিতাবুশ শিহাব' সম্পূর্ণ পাঠ করি। তিনি তাঁর শায়খ সাদউদ্দীন আব্দুর রহমান ইবনে হাসান ইবনে হামজা-এর সূত্রে তাঁর নিজের মুখে পঠিত শব্দ ও তাঁর সনদে আমার বর্ণনাপত্রের অন্তর্ভুক্ত করে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি আমাকে শায়খ আবু আল-বারাকাত হিবাতুল্লাহ ইবনে জুয়াইর আল-আজদি আল-ইস্কান্দারি থেকে ইজাজত সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, যদি তা সরাসরি শ্রবণ না-ও হয়ে থাকে। তিনি বলেছেন, শায়খ আবুল কাসিম ইবনে হামজা ইবনে মুকা আস-সাদি আল-আনসারি সরাসরি শ্রবণ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যা তিনি মুদরিক থেকে এবং মুদরিক সরাসরি গ্রন্থকার থেকে শুনেছেন। আমি তাঁর কাছে ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রা.)-এর 'মুয়াত্তা' কিতাবের একটি বড় অংশ শ্রবণ করেছি এবং তাঁর বরকতময় হাত থেকে কিতাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে তাঁর সনদ অত্যন্ত উচ্চ স্তরের। তিনি আমাকে তাসাউউফের খিরকা পরিধান করিয়েছেন এবং আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এটি শায়খ, ইমাম ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুসা ইবনে নুমান আল-হুজালি থেকে তাঁর সনদে পরিধান করেছেন। আমি নিজ মুখে তাঁর সামনে 'তানবিহুল মুজনিব বিত-তাইরি ওয়াল হুতি কবলা আন ইয়ামুত' নামক সম্পূর্ণ কিতাবটি পাঠ করি, যা উক্ত শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে নুমান-এর রচনা। তিনি তাঁর কাছে শ্রবণ করার সূত্রে আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর অনন্য উচ্চ সনদের একটি হলো, তিনি শায়খ, ইমাম, সালেহ মাজদুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আল-বাগদাদি আল-ওয়ায়েজ (রহ.)-এর নিকট তাঁর রচিত হজ্জ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জিয়ারত বিষয়ক ফিকহী কাসিদাটি একাধিকবার শুনেছেন। কাসিদাটির শুরু হলো:

হে আয়মান আল-হিমার বানের ডালপালাসমূহ … আল্লাহ সেই জীবনকে রক্ষা করুন যা আমরা তোমার আশ্রয়ে কাটিয়েছি

আমরা তা সময়ের বিপর্যয় ও বিবর্তন থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলাম … আর যখন আমরা তা থেকে জীবন ছিনিয়ে নিলাম, আমরাই তা জয় করলাম

অতঃপর ভাগ্যের লেখনীতে বিচ্ছেদের বাহিনী এল … এবং হিজাজে আমাদের গড়া মিলনমেলা ছিন্নভিন্ন করে দিল

অনুরূপভাবে তাঁর উচ্চ সনদের অন্তর্ভুক্ত হলো শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি (রাসুলুল্লাহ সা.)-এর প্রশংসায় উক্ত মাজদুদ্দীন রচিত সম্পূর্ণ 'বিতরিয়্যাহ' কাসিদাসমূহ, যার প্রারম্ভ হলো:

আমি এমন সালাত পেশ করছি যা আকাশ ও জমিন পূর্ণ করে দেয় … তাঁর প্রতি যার জন্য সর্বোচ্চ সুউচ্চ স্থান নির্ধারিত

তিনি এমন এক স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন যেখানে কোনো রাসুল দাঁড়াননি … এবং তাঁর জন্য মহিমার পর্দাগুলো বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল

আরশ এবং কুরসির দিকে আহমাদ নিকটবর্তী হলেন … আর সেই দুইয়ের নূর তাঁরই নূর থেকে ঝিলমিল করছিল

আমি তাঁর উক্ত বাসভবনে নিজ মুখে তাঁর সামনে এই সব কিছু পাঠ করেছি। আমি তাঁর নিকট এগুলো পাঠ করেছি ও শ্রবণ করেছি এবং তিনি আমাকে ইজাজত দিয়েছেন ও স্বহস্তে আমার জন্য লিখে দিয়েছেন। তাঁর জন্ম ৬৪৯ হিজরির শাবান মাসে। তিনি আমাকে একাধিকবার কবিতা শুনিয়েছেন এবং বলেছেন: উক্ত শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আল-ওয়ায়েজ নিজের রচিত কবিতা আমাকে শুনিয়েছেন:
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২৭)
حضرت فكنت في بصري مقيما … وغبت فكنت في أقصى الفؤاد

وما شطت بنا دار ولكن … نقلت من السواد إلى السواد

وممن لقيته بها من أهل المجادة، والعلم والعبادة، الشيخ العالم، المسند سديد الدين أبو عبد الله محمد بن الشيخ العدل المرحوم عز الدين أبى القاسم عبد الرحمن بن الشيخ شهاب الدين أبى محمد عبد الوهاب بن الشيخ رضي الدين أبى عبد الله محمد بن الشيخ الإمام الأوحد مفتي المسلمين جمال الدين أبى الماضي عطية بن المسلم بن رجا بن منصور بن جامع بن الحسن بن علي التنوخي اللخمى الإسكندري المالكي، المشهور بابن عطية، أوحد من برع في العبادة والزهد، وفرع ذروة العلم والمجد فجمع الله له بين العلم والعمل، ومنحه من كل فضل بلوغ الغاية التي لا يقال معها لشيء كمل لو أن ذا كمل، ووهبه شرف الخلال لجميع خلال الشرف، وجعل سرفه في الخير حجة على من قال لا خير في السرف.

بيته أحد البيوت الرفيعة بالإسكندرية، وله بها مزية الرفعة المزية، عمر بالحسنات إناءه، وتتبع بالقربات آباءه بانيا كما بنوا، بل زائدا على ما أتوا، وبادئا من حيث انتهوا، فهو حبر الأكارم، وبحر المكارم، وتاج المفاخر، وحجة المفاخر، فقد رأى وشاهد، وحمد ذلك المجد المشاهد، ويا طالما لازمته فاجتليت شمسه العلية طالعة من شرقها، وأنوارها الجلية ساطعة في أفقها، ولكم أقمت بها خطيبا وأرجت من ثنائها طيبا:

فآنثنى والثناء بأرج من عطفيه … طيبا لم يرض بالند ندا

لقيته بمنزله من الإسكندرية، وسمعت منه حديث) الرحمة (المسلسل بشرطه، وحدثني فيه في غير هذا، وقد أخذت، حديث) الرحمة (هذا عن جماعة كبيرة من أهل الأندلس وغرب العدوة وغيرهم، وخرجت سندي فيه عنهم في مجموع كبير. سمعت عليه حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أجزاء كثيرة منها جزء فيه مجلس من أمالى الحافظ أبى القاسم إسماعيل بن أحمد بن عمر السمرقندي، وجزء فيه ثلاثة عشر حديثا مخرجه من كتاب للترمذي، وجميع ما تضمنته الأربعون الكبرى الصحابية، للحافظ أبى الحسن المقدسي من الأحاديث النبوية بأسانيدها والكلام عليها، وهي سبعة أجزاء يجمعها مجلد واحد، وجميع الأربعين حديثا على أربعين شيخا، في أربعين بابا، لأربعين صحابيا، وقد استوفيت جميع أسانيد ذلك كله في برنامج روايتي فذلك موضوعها. وأجازني إجازة تامة مطلقة عامة، وكتب لي بخطه، ومولده رضي الله عنه خمسين وستمائة.

ومنن لقيته بها من كبار المقرئين، وخيار عباد الله الصالحين، الشيخ المقري الصالح فخر الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبى الحسين يحيى بن السيورى أبقى الله بركته فخر السنة والملة، وإمام الأئمة الجلة، ولي الله الكريم عليه، المنقطع إليه، المشفع بالقراءة والتلاوة بين يديه، مجد في الزهادة، متفرغ للعبادة متوكف ما وعد الله سبحانه للذين أحسنوا من الحسنى والزيادة، نشأ على عفة وصيانة، وأمانة وديانة، فعظم الله شأنه، ورفع بالعلم والعمل مكانته ومكانه، وأعلى منار الهداية ورزق الناس الانتفاع به في البداية والنهاية، فازدحموا على مورده والمورد العذب كثير الزحام، والتأموا بمعهده، وحيث الحب يزدحم الحمام، وأنشدوا لدى يديه:

لقد حسنت بك الأوقات حتى … كأنك في فم الزمن ابتسام
তুমি উপস্থিত হলে আমার দৃষ্টিজুড়ে বিরাজমান থাকতে … আর অদৃশ্য হলে তুমি হৃদয়ের গহীন কোণে আশ্রয় নিতে।

আমাদের আবাসস্থল আমাদের থেকে দূরে সরে যায়নি, তবে … আমি কেবল চোখের মণি থেকে হৃদয়ের মণিকোঠায় স্থানান্তরিত হয়েছি।

আলেকজান্দ্রিয়ায় যাদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে, যারা শ্রেষ্ঠত্ব, জ্ঞান ও ইবাদতে ঋদ্ধ ছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রাজ্ঞ শায়খ, আলিম এবং মুসনিদ সাদীদউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ। তিনি ইনসাফগার শায়খ, মরহুম ইযযুদ্দীন আবু কাসিম আব্দুর রহমানের পুত্র; যিনি শিহাবুদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাবের পুত্র; যিনি রাযীউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদের পুত্র; যিনি অদ্বিতীয় ইমাম, মুসলিমদের মুফতি জামালুদ্দীন আবুল মাযী আতিয়্যাহ বিন মুসলিম বিন রাজা বিন মানসূর বিন জামি বিন হাসান বিন আলী আত-তানূখী আল-লাখমী আল-ইসকান্দারী আল-মালিকীর পুত্র। তিনি ইবনে আতিয়্যাহ নামেই প্রসিদ্ধ। ইবাদত ও যুহদ (সংসারবিরাগ)-এ তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং জ্ঞান ও গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণকারী। আল্লাহ তার মাঝে জ্ঞান ও আমলের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন এবং তাকে এমন প্রতিটি ফজিলত দান করেছিলেন যার মাধ্যমে তিনি এমন এক পূর্ণতায় পৌঁছেছিলেন যেখানে কোনো অপূর্ণতার অবকাশ নেই। আল্লাহ তাকে সমস্ত প্রশংসনীয় গুণের মাধ্যমে বিভূষিত করেছিলেন এবং কল্যাণের পথে তার অতিব্যয়কে তাদের জন্য প্রমাণস্বরূপ রেখেছিলেন যারা বলত যে দান-সদকায় অতিব্যয়ে কোনো কল্যাণ নেই।

আলেকজান্দ্রিয়ায় তার পরিবার ছিল অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন। সেখানে তার আভিজাত্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি পুণ্যকর্মের মাধ্যমে নিজ পাত্রকে পূর্ণ করেছিলেন এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে পূর্বপুরুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিলেন। তারা যেভাবে নেক কাজসমূহ নির্মাণ করেছিলেন তিনিও সেভাবেই নির্মাণ করেছিলেন, বরং তারা যা করেছিলেন তিনি তার চেয়েও বেশি করেছেন এবং তারা যেখানে শেষ করেছিলেন তিনি সেখান থেকে শুরু করেছিলেন। তিনি শ্রেষ্ঠজনদের প্রধান আলেম, উদারতার সমুদ্র, গৌরবের মুকুট এবং শ্রেষ্ঠত্বের দলিল। তিনি সেই চাক্ষুষ গৌরব প্রত্যক্ষ করেছেন। দীর্ঘ সময় আমি তার সাহচর্যে থেকেছি এবং তার সুউচ্চ সূর্যকে উদয়াচল থেকে উদিত হতে ও তার উজ্জ্বল নূরের প্রভাকে দিগন্তে বিকিরিত হতে দেখেছি। আমি সেখানে খতিব হিসেবে কত সময় অতিবাহিত করেছি এবং তার প্রশংসার সুগন্ধ ছড়িয়েছি:

প্রশংসা তার শরীরের দুপাশ থেকে সুবাস ছড়িয়ে ফিরে এলো … এমন এক সুগন্ধি যা উত্তম চন্দনকেও প্রতিদ্বন্দী হিসেবে গ্রহণ করতে নারাজ।

আলেকজান্দ্রিয়ায় তার নিজ বাসভবনে আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আমি তার নিকট থেকে শর্ত অনুযায়ী মুসালসাল হিসেবে 'হাদিসুর রাহমাহ' (করুণার হাদিস) শ্রবণ করেছি। এছাড়াও তিনি অন্য অনেক হাদিস আমাকে শুনিয়েছেন। আমি এই 'হাদিসুর রাহমাহ' আন্দালুস ও মাগরিবের (আফ্রিকার উত্তরাঞ্চল) এক বিশাল জামাতের নিকট থেকেও লাভ করেছি এবং তাদের সনদে আমার একটি বিশাল সংকলন তৈরি করেছি। আমি তার নিকট থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস সংবলিত পুস্তিকা শ্রবণ করেছি। তার মধ্যে হাফেজ আবু কাসিম ইসমাঈল বিন আহমদ বিন উমর আস-সামারকান্দীর 'আমালী'র একটি মজলিস সংবলিত পুস্তিকা এবং তিরমিযীর কিতাব থেকে সংকলিত তেরটি হাদিসের একটি পুস্তিকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও হাফেজ আবু হাসান আল-মাকদিসী সংকলিত 'আল-আরবাউনাল কুবরা আস-সাহাবিয়্যাহ'র অন্তর্ভুক্ত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল হাদিস সনদ ও ব্যাখ্যাসহ শ্রবণ করেছি। এটি সাতটি পুস্তিকায় বিভক্ত যা একটি খণ্ডে সংগৃহীত। এছাড়া চল্লিশজন শায়খের নিকট থেকে চল্লিশটি অধ্যায়ে বর্ণিত চল্লিশজন সাহাবীর বর্ণিত চল্লিশটি হাদিসের সংকলনও শ্রবণ করেছি। আমার বর্ণনার সূচিপত্রে আমি এগুলোর সকল সনদ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি। তিনি আমাকে পূর্ণাঙ্গ, নিরবচ্ছিন্ন ও সাধারণ ইজাযত প্রদান করেছেন এবং নিজ হাতে তা লিখে দিয়েছেন। শায়খ (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) ৬৫০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন।

সেখানে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে প্রখ্যাত ক্বারী এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ একজনের সাথে। তিনি হলেন সালেহ ক্বারী শায়খ ফখরুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবুল হুসাইন ইয়াহইয়া বিন আস-সিয়ূরী। আল্লাহ তার বরকত জারি রাখুন। তিনি সুন্নাহ ও মিল্লাতের গৌরব এবং শ্রেষ্ঠ ইমামগণের ইমাম। তিনি আল্লাহর সম্মানিত অলি, যিনি আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ এবং আল্লাহর দরবারে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শাফায়াতপ্রার্থী। তিনি যুহদ পালনে অত্যন্ত যত্নশীল এবং ইবাদতের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা নেককারদের জন্য যে পুরস্কার ও অতিরিক্ত অনুগ্রহের ওয়াদা করেছেন তিনি তারই অপেক্ষায় থাকতেন। তিনি চারিত্রিক পবিত্রতা, সুরক্ষা, আমানতদারী ও দীনদারীর মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। ফলে আল্লাহ তার মর্যাদাকে মহান করেছেন এবং জ্ঞান ও আমলের মাধ্যমে তার অবস্থানকে উচ্চতর করেছেন। আল্লাহ হিদায়াতের মিনারকে সুউচ্চ করেছেন এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষকে তার মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার তৌফিক দিয়েছেন। ফলে পিপাসার্ত মানুষ যেমন সুপেয় পানির নহরের কাছে ভিড় জমায়, মানুষও তার নিকট তেমনই ভিড় করত। যেখানে ভালোবাসা থাকে সেখানে যেমন কপোতরা দল বাঁধে, মানুষও তার সান্নিধ্যে সেভাবে সমবেত হতো। তারা তার সামনে আবৃত্তি করত:

তোমার সান্নিধ্যে সময়গুলো এত চমৎকার হয়ে উঠেছে যে … মনে হয় যেন তুমি মহাকালের মুখে এক অনাবিল হাসি।
(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২৮)
وللجمهور بالانسياح إليه والانسياب، لهج الغياب بالإياب، وطرب الشيب لذكر الشباب، أخذ القراءة عن جماعة جلة وسمع الحديث على رجال بأسانيد علية، حتى انتهى رتبة أوائلها، وانتهج طرق اعتنائها واعتلائها، وفضائله كالصبح جلا الأفاق، والنجم أعقب الإخفاق لقيته بموضوع إقرائه من الإسكندرية فسمعت عليه من الحديث كثيرا، وترددت إليه فانتفعت به انتفاعا كبيرا، ومما سمعت عليه جزأ فيه ستة أحاديث منتحبة من رباعيات الترمذي، وفيها حديث واحد ثلاثي تخريج السيد الشريف تاج الدين أبى الحسن علي بن أبى الحسن علي ابن أبى العباس أحمد القرافي الحسنى بسماعه له قراءة مخرجه المذكور على الشيخ شرف الدين أبى عبد الله محمد بن عبد الخالق بن طرخان القرشى الأمورى بسماعه بجميع كتاب الترمذي من أبى الحسن علي بن أبى المكرم نصر بن المبارك المعروف بابن البناء قال أخبرنا أبو الفتح عبد المالك بن أبى القاسم عبد الله بن أبى سهل بن أبى القاسم الكردوخى سماعا عليه، قال: أخبرنا المشائخ الثلاثة أبو عامر محمود بن أبى القاسم الأزدي وأبو بكر أحمد بن عبد الصمد الغوجي وأبو نصر عبد العزيز بن محمد الترياقى قالوا: أخبرنا أبو محمد عبد الجبار بن عبد الله بن أبى الجراح الجراحي قال: أخبرنا أبو عباس محمد ابن أحمد بن محبوب المحبوبى المروزي قال: أخبرنا أبو عيسى الترمذي، ومما قرأت عليه بلفظي جميع الجزء المسمى " بقضاء حوائج الأخوان وإغاثة اللهفان " تأليف الحافظ أبى الغنائم محمد بن علي بن ميمون النسري الكوفي، بحق سماعه على الشريف أبى الحسن علي بن أبى العباس أحمد القرافى المذكور، بسنده المرسوم على ظهر الجزء المذكور المنتسخ بخطى، المصحح على هذا الشيخ الفاضل جهدي، وإجازني إجازة تامة مطلقة عامة، وكتب لي بخطه، ومولده سنة ثلاث وخمسين وستمائة بمصر بالفسطاط وأشياخه جملة منهم: أبو عبد الله بن طرخان المذكور، ومنهم الإمام أبو عبد الله محمد بن الدهان، والشيخ المقرئ صالح مكين الدين عبد الله الأسمر بن منصور العمري، ومنهم الشيخ كمال الدين أبو الذكر بن عبد القادر الدحراوى، وغيرهم ممن يطول ذكرهم، رضي الله عن جميعهم، ونفع بحبهم والترحم عليهم. وممن لقيته من العلماء المتجرين والحفاظ المصنفين: الشيخ المصنف نور الدين أبو الحسن علي بن يونس بن عبد الله الهواري التونسي حل كتف العلم والعلاء، وجل قدره في الجلة الفضلاء، ولم يزل على كد الطلب أصبر من عود يجنيه جلب فقطع الليالي ساهرا، وقطف من العلم ازاهر، حتى ارتوى من المعارف سجله، وعرف مكانه من العلم وفضله، فأثمروا وأورق، وغرب وشرق، وجمع وفرق، وتوغل في فنون العلم واستغرق، طلع على الأبصار هلالا لأن الغرب مطلعه، وسما في النفوس موضعه وموقعه، وأدرك غاية المجد بقدمه، وأفصح عن سر فضله لسان قلمه، فجمع أشتات الفضائل، ورفع ألوية الفواضل واجتلى شمس العلى بتلك الآفاق، وشاهد في طلوعها من مشرقها ما لها من الإشراق، فلله دره بحرا لدرره الأسماع ملتقطة، وروضا بزهره الأجفان مغتبطة، فلا أزين من لقائه ولا أحسن من إلقائه، ولا أفضل من معاملته، ولا اجمل من مجاملته، ولا أحلى من محادثته، ولا أجلى من مناقشته، لقي الشيوخ الأكابر، وبقي حمده متعرفا من بطون الكتب والسنة الأقلام وأفواه المحابر كثيرا ما كنت أذكر بأوصافه، وأفكر في حمد يقوم بأوصافه ولم ادر أرد أم أرود، وافد بقلمي على مجالس جود أو مجال سجود، فأحشر إليه الألفاظ، وأقوم بها في مدحه أخطب من قس أياد بعكاظ لقيته بالإسكندرية فسمعت من لفظه جملة من تخميس أبى مهيب لعشرينيات أبى زيد الفزارى وتناولت جميع التخميس من يده، وحدثني به عن الأستاذ أبى العباس النيلى سماعا لجميعه عليه، حدثه به عن الناظم ابن مهيب المذكور وسمعت عليه تفقها بعض كتاب التنقيح للإمام شهاب الدين القرافى، وحدثني به عن المؤلف شهاب الدين المذكور عرضا مني لجميعه عليه وتفقها، وسمعت منه بعض شرحه لكتاب ابن الحاجب الأصلي وبعض شرحه للتنقيح وأجازهما لي، وأذن لي في روايتهما عنه، وأجازني سائر تئاليفه وجميع ما يعلمه ويرويه إجازة تامة مطلقة عامة وكتب بخطه، ومولده في ذي الحجة من عام ثمانية وستين وستمائة، وممن نفته بها من الرواة المتقين الله حق الثقاة الشيخ الفقيه العدل شمس الدين أبو عبد الله بن الشيخ الإمام العلامة مفتي

সাধারণ মানুষের তাঁর কাছে গমনের এবং প্রত্যাবর্তনের পথ উন্মুক্ত ছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে অনুসারীরা প্রত্যাবর্তনের আকুলতা প্রকাশ করত এবং বয়োবৃদ্ধরা যৌবনের স্মৃতিচারণে আনন্দ পেত। তিনি একদল শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাশীল ব্যক্তির নিকট ক্বিরাত গ্রহণ করেছেন এবং উচ্চ সনদে বরেণ্য ব্যক্তিদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। এমনকি তিনি তাঁদের প্রথম সারির মর্যাদায় উন্নীত হয়েছেন এবং ইলমের প্রতি যত্ন ও উচ্চ শিখরে আরোহণের পথ অবলম্বন করেছেন। তাঁর গুণাবলি ভোরের আলোর ন্যায় দিগন্তকে উদ্ভাসিত করেছে এবং তাঁর প্রভাব নক্ষত্রের পতনের পর সুপ্রভাতের ন্যায় আবির্ভূত হয়েছে। আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর দরসে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাঁর নিকট প্রচুর হাদীস শ্রবণ করেছি। আমি বারবার তাঁর কাছে যাতায়াত করেছি এবং তাঁর দ্বারা প্রভূত উপকৃত হয়েছি। আমি তাঁর নিকট যে হাদীসগুলো শ্রবণ করেছি, তার মধ্যে তিরমিযীর রুবাইয়াত (চার বর্ণনাকারী বিশিষ্ট হাদীস) থেকে সংকলিত ছয়টি হাদীসের একটি সংকলন ছিল। তাতে একটি সুলাসী (তিন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট) হাদীসও ছিল, যা আস-সাইয়িদ আশ-শরীফ তাজউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আবুল হাসান আলী বিন আবুল আব্বাস আহমদ আল-কুরাফী আল-হাসানী-এর তাখরীজকৃত। তিনি এটি শায়খ শরফুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল খালিক বিন তরখান আল-কুরাশী আল-আমূরীর নিকট পাঠ করে শ্রবণ করেছেন। তিনি (ইবনে তরখান) সম্পূর্ণ তিরমিযী গ্রন্থটি আবুল হাসান আলী বিন আবুল মাকারিম নাসর বিন আল-মুবারক—যিনি ইবনুল বান্না নামে পরিচিত—তাঁর নিকট শ্রবণ করেছেন। তিনি (ইবনুল বান্না) বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আব্দুল মালিক বিন আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন আবু সাহল বিন আবুল কাসিম আল-কারদুখাী তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তিন জন শায়খ—আবু আমির মাহমুদ বিন আবুল কাসিম আল-আযদি, আবু বকর আহমদ বিন আব্দুস সামাদ আল-গাওজী এবং আবু নাসর আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মদ আত-তিরইয়াকী। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল জাব্বার বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল জাররাহ আল-জাররাহী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মাহবুব আল-মাহবুবী আল-মারওয়াযী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা আত-তিরমিযী। আমি তাঁর নিকট নিজ কণ্ঠে যা পাঠ করেছি, তার মধ্যে হাফেজ আবুুল গানায়িম মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাইমুন আন-নাসরী আল-কূফী রচিত 'কাদাউ হাওয়ায়েজিল ইখওয়ান ওয়া ইগাসাতুল লাহফান' নামক সম্পূর্ণ পুস্তিকাটিও ছিল। এটি আমি উক্ত শরীফ আবুল হাসান আলী বিন আবুল আব্বাস আহমদ আল-কুরাফীর নিকট তাঁর শ্রবণের সনদে পাঠ করেছি, যে সনদটি উক্ত পুস্তিকার পৃষ্ঠে আমার নিজ হাতের লেখায় অঙ্কিত এবং আমি যথাসাধ্য এই গুণী শায়খের নিকট তা সংশোধন করে নিয়েছি। তিনি আমাকে পূর্ণাঙ্গ, নিঃশর্ত ও সাধারণ ইজাযত (অনুমতি) প্রদান করেছেন এবং নিজ হাতে তা লিখে দিয়েছেন। তাঁর জন্ম ৬৬৩ হিজরীতে মিশরের ফুসতাতে। তাঁর শায়খদের এক বিরাট দল রয়েছে, যাঁদের মধ্যে উল্লিখিত আবু আব্দুল্লাহ বিন তরখান অন্যতম। আরও আছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আদ-দাহহান, শায়খ মুকরি সালেহ মাকীনুদ্দীন আব্দুল্লাহ আল-আসমার বিন মানসুর আল-উমারী, শায়খ কামালুদ্দীন আবুল যিকর বিন আব্দুল কাদির আদ-দাহরাবী এবং আরও অনেকে যাঁদের নাম উল্লেখ করলে দীর্ঘ হয়ে যাবে। আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদের ভালোবাসা ও তাঁদের প্রতি রহমতের দোয়ার মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন। আমি যেসব প্রাজ্ঞ আলেম ও হাফেজ গ্রন্থকারদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাঁদের অন্যতম হলেন: শায়খ ও মুসান্নিফ নূরুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন ইউনুস বিন আব্দুল্লাহ আল-হাওয়ারী আত-তূনিসী। তিনি ইলম ও আভিজাত্যের শিখরে আরোহণ করেছেন এবং বিশিষ্ট ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তিদের মাঝে তাঁর মর্যাদা অতি মহান। জ্ঞান অন্বেষণের পরিশ্রমে তিনি ছিলেন অটল ও ধৈর্যশীল। তিনি রাত জেগে সাধনা করেছেন এবং জ্ঞানের পুষ্পসমূহ চয়ন করেছেন, যতক্ষণ না তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সলিলে পূর্ণরূপে সিক্ত হয়েছেন এবং ইলমের ভাণ্ডারে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা স্বীকৃত হয়েছে। অতঃপর তিনি ফলদান করেছেন ও পল্লবিত হয়েছেন, পশ্চিমে ও পূর্বে বিচরণ করেছেন, সংকলন ও বিশ্লেষণ করেছেন এবং ইলমের নানা শাখায় গভীরভাবে নিমগ্ন হয়েছেন। তিনি দিগন্তে নতুন চাঁদের ন্যায় উদিত হয়েছেন কারণ তাঁর উত্থান ছিল পশ্চিম (মাগরিব) থেকে এবং মানুষের অন্তরে তাঁর স্থান ও মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছে। তিনি নিজ পদক্ষেপে গৌরবের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছেন এবং তাঁর কলম তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের রহস্যকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। তিনি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফযীলতসমূহকে একত্রিত করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের পতাকা উড্ডীন করেছেন। তিনি উচ্চতার সূর্যকে সেই দিগন্তে অবলোকন করেছেন এবং এর উদয়কালে প্রাচ্য থেকে এর ঔজ্জ্বল্য প্রত্যক্ষ করেছেন। আল্লাহর কসম! তিনি ছিলেন মুক্তাতুল্য জ্ঞানের এক সমুদ্র যা কান পেতে শোনার মতো, এবং এমন এক পুষ্পোদ্যান যার সৌরভ নয়ন জুড়িয়ে দেয়। তাঁর সাথে সাক্ষাতের চেয়ে সৌন্দর্যমণ্ডিত আর কিছু নেই, তাঁর জ্ঞান বিতরণের চেয়ে উত্তম কিছু নেই, তাঁর আচরণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু নেই, তাঁর সৌজন্যের চেয়ে সুন্দর কিছু নেই এবং তাঁর আলাপচারিতার চেয়ে মিষ্ট ও তাঁর আলোচনার চেয়ে উজ্জ্বল আর কিছু হতে পারে না। তিনি বরেণ্য শায়খদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং কিতাব ও কলমের মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। আমি প্রায়শই তাঁর গুণের কথা স্মরণ করতাম এবং এমন প্রশংসার কথা ভাবতাম যা তাঁর যোগ্য হতে পারে। আমি দ্বিধায় ছিলাম আমার কলম নিয়ে তাঁর দানশীলতার মজলিসে নাকি ইলমের সেজদাগাহে উপস্থিত হব। অতঃপর আমি শব্দরাজিকে সমবেত করলাম এবং তাঁর প্রশংসায় এমনভাবে দাঁড়িয়েছি যেমন উকাযের মেলায় কাস বিন সাঈদা আইয়াদী ভাষণ দিতেন। আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাঁর মুখে আবু যাইদ আল-ফাযারীর 'বিংশতি কবিতা'র ওপর আবু মুহীবের কৃত 'তাখমীস' (পঞ্চপদী বিন্যাস)-এর একটি অংশ শুনেছি। আমি তাঁর হাত থেকে সম্পূর্ণ তাখমীসটি গ্রহণ করেছি। তিনি এটি আমার কাছে উস্তাদ আবুল আব্বাস আন-নীলীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন তাঁর নিকট সম্পূর্ণটি শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি (নীলী) এটি মূল রচয়িতা উক্ত ইবনে মুহীবের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁর নিকট ইমাম শিহাবুদ্দীন আল-কুরাফীর 'আত-তানকীহ' কিতাবের কিছু অংশ ফিকহী পর্যালোচনাসহ শ্রবণ করেছি। তিনি গ্রন্থকার উক্ত শিহাবুদ্দীনের পক্ষ থেকে আরযের মাধ্যমে সম্পূর্ণ কিতাবটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি তাঁর নিকট ইবনুল হাজিবের মূল কিতাবের ওপর তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং 'তানকীহ'-এর ওপর তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থের কিছু অংশ শ্রবণ করেছি এবং তিনি আমাকে এই দুটির ইজাযত দিয়েছেন। তিনি আমাকে তাঁর নিকট থেকে এই দুটি বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন এবং তাঁর অন্যান্য সকল রচনা এবং তাঁর জ্ঞাত ও বর্ণিত সমস্ত বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ, নিঃশর্ত ও সাধারণ ইজাযত দান করেছেন এবং নিজ হাতে তা লিখে দিয়েছেন। তাঁর জন্ম ৬৬৮ হিজরীর যিলহজ্জ মাসে। যাঁদের মাধ্যমে আমি উপকৃত হয়েছি এমন বিশ্বস্ত ও মুত্তাকী বর্ণনাকারীদের মধ্যে শায়খ ফকীহ ন্যায়পরায়ণ শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ বিন শায়খ ইমাম আল্লামা মুফতী...

(খণ্ড: ১) তাজুল মুফরাক ফী তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক (পৃষ্ঠা: ২৯)
المسلمين كمال الدين أبى عبد الله محمد بن محمد عبد الرحمن القرشي الإسكندري حامي المجيزيين، وحامل لواء العدول المبرزين، ومجدد ملابس الثناء الثمين، ومحرز عرائس الألفاظ لحفظ ذمم العالمين، ذخر الدهر، فخر القطر، وسر العدا، وآفة الجزر، ومالك بيض الطروس وسمر السطور، وبالبيض والسمر، وقار ما مثله وقار، ومآثر كأنها علم في رأسه نار، مفاخر طوالعها صبح ونهار، وشيم تتضاءل لها قطع الرياض، وتحدث ولا حرج عن بحر الكرم الفياض، وسجايا عريقة المجد، ما جدة الأعراق، خليقة بالمجد حميدة الأخلاق، قد سقته العلوم زلالها، ومدت عليه العدالة ظلالها، وأحلته الجلالة جلالها، وأرشفته الأصالة عذبها وسلسالها فعلا قدرا ولاح في سماء السناء بدرا، وصار لأولئك الصدور صدرا، وحق لمن أعلقت بهذا الشرف حبالته ان توارى أنوار الغزالة ذبالته:

شرف يطل على السماك وسؤد … كالصبح لا يسع العدا إنكاره

لقيته بالإسكندرية بحانوت الوثيقة، وحيث تأثلت معارفه تأثل الروضة الأنيقة، فسمعت عليه أجزاء كثيرة وكبيرة، ومنها جزء انتقى من الأخبار لأبي بكر محمد بن القاسم الأنباري وسنده فيه مقيد في أوله ومن أصله نقلته، وعليه صححته، وقد قرأته على غيره وسمعته، وأذن لي هو في روايته وأجازني جميع ما يحمله ويرويه إجازة تامة مطلقة عامة، وكتب لي بخطه، ومولده أول ساعة يوم الأربعاء ثاني جمادى الأولى سنة سبع وسبعين وستمائة، وأنشدني لأمير المؤمنين علي بن أبى طالب رضي الله عنه:

إنما للناس منا … حسن خلق ومزاح

ولنا ما كان فينا … من فساد وصلاح

وممن تدمجت معه وتمتعت به فيها صاحبنا الشيخ الفقيه المحدث تقي الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن أبى بكر بن عوام الربعي الشافعي، سبط الشيخ الولي الشهير أبى الحسن الشاذلي نفع الله تعالى به، هو من كبار الطلبة الفضلاء، وخيار السادة الفقهاء، وسليل الكرام والأكابر والأولياء صالح أراك سيرة سلفه، وأعفاك من كبره وصلفه، واقتفى سنن مجده، واقتدى في حمل الفضائل بأبيه وجده، إمام مدرسا وعدلا مبرزا، ذاكرا للعرب وأنسابها، حافظا لغاتها وآدابها، جذب من العربية أوفر نصيب، وضرب في الحديث والفروع بسهم مصيب، وشارك في جمل فضائل وجمل مسائل، وحصل من كرم الطبع وطبع الكرم على طائل، مع إفادته طلبته في تدريسه، ونصيحته لمستفيده وجليسه، فلا فضيلة إلا وفضل بحملها وحمل فضلها، وكان أحق بها وأهلها، وأخاني وصافاني فتجاذبنا المذاكرة، وتعاهدنا المراوحة للشيوخ والمباكرة، وأفاد كل واحد منا صاحبه بما تجلبه المذاكرة من وجه الإفادات وتفضل من المشاركة المباركة وبذل الجد والمياسرة في لقاء أولئك الأفاضل، والأخذ عنهم بما أوجب على ذكره معهم وإلحاقه بهم وإضافته إلى جملتهم:

حفظا على السؤدد الممنوع جانبه … من أن يضام وإشفاقا على الكرم

وسمعت عليهم بقراءته كثيرا، وتحصل لي منهم بدلالته حفظا كبيرا، وأجازني الإجازة التامة وكتب لي بخطه وأنشدني أناشيد كثيرة تقيدت في غير هذا، ومن ذلك ما أنشدني، وقال: أنشدنا شيخنا بخطه: أثير الدين أبو حيان محمد بن يوسف بن حيان بلفظه، قال: أنشدنا الفقيه الإمام الأديب البارع، شمس الدين أبو عبد الله محمد بن ختام الدين دانيال بن يوسف بن معتوق الخزاعي الموصلي لنفسه:

ألا أن أرض الغرب أفضل موطن … تساق إليه الواخذات النجائب
মুসলমানদের কামালুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান আল-কুরাইশী আল-ইসকান্দারী; যিনি অনুমতি প্রদানকারীদের (মুজিজীন) রক্ষক, শ্রেষ্ঠ ন্যায়পরায়ণদের পতাকাবাহী, প্রশংসার মহামূল্যবান বসনের নবায়নকারী, সৃষ্টির সম্মান রক্ষার্থে বাণীরূপী নববধূর সংরক্ষণকারী, কালের সঞ্চয়, ভূখণ্ডের গর্ব, শত্রুদের জন্য রহস্য এবং সমুদ্রের ভাটার আপদ; যিনি সাদা কাগজের মালিক ও কালো অক্ষরের বিন্যাসকারী; তরবারি ও কলমের অধিকারী; যার গাম্ভীর্যের সমতুল্য কোনো গাম্ভীর্য নেই, আর যাঁর কীর্তিসমূহ যেন পাহাড়ের চূড়ায় প্রজ্জ্বলিত আগুন; এমন এক গর্ব যার উদয়কাল সকাল ও দিনের মতো স্পষ্ট; যাঁর স্বভাবের কাছে উদ্যানের শোভাও ম্লান হয়ে যায়; যাঁর অবারিত দানশীলতার সমুদ্র সম্পর্কে যত খুশি বলা যায়; যাঁর আভিজাত্য অতি প্রাচীন ও মর্যাদাবান, আভিজাত্যের উচ্চতায় যিনি মহিমান্বিত এবং যাঁর চরিত্র অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জ্ঞান-বিজ্ঞান তাঁকে সুপেয় পানি পান করিয়েছে, ন্যায়বিচার তাঁর ওপর ছায়া বিস্তার করেছে, মহিমা তাঁকে আপন মহিমায় অভিষিক্ত করেছে এবং মৌলিকত্ব তাঁকে আপন মাধুর্য ও স্বচ্ছতা আস্বাদন করিয়েছে। ফলে তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছে এবং তিনি শ্রেষ্ঠত্বের আকাশে পূর্ণিমার চাঁদের মতো দীপ্তিমান হয়েছেন। তিনি সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের শিরোমণি হয়েছেন। এই সম্মানের সাথে যাঁর সম্পর্ক যুক্ত হয়েছে, তাঁর প্রদীপের শিখার সামনে সূর্যের আলোও ঢাকা পড়ে যাওয়া বাঞ্ছনীয়:

এমন এক সম্মান যা আকাশের নক্ষত্ররাজিকেও ছাড়িয়ে যায় এবং এমন এক নেতৃত্ব … যা সকালের ন্যায় স্পষ্ট, শত্রুদের পক্ষেও যা অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় দলিলাদি বা নথিপত্রের দোকানে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করি। যেখানে তাঁর জ্ঞান-ভাণ্ডার একটি চমৎকার বাগানের মতো সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমি তাঁর কাছে অনেকগুলো বড় বড় সংকলন শ্রবণ করেছি। তার মধ্যে একটি সংকলন হলো আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আল-কাসিম আল-আনবারী কর্তৃক সংগৃহীত সংবাদ বা হাদিসসমূহ, যার সনদ এর শুরুতে নিবদ্ধ রয়েছে এবং আমি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে তা নকল করেছি এবং তাঁর কপির সাথে মিলিয়ে তা সংশোধন করেছি। আমি এটি অন্য উস্তাদদের কাছেও পড়েছি এবং শুনেছি। তিনি আমাকে তাঁর বর্ণনাকৃত সকল বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ, নিঃশর্ত ও সাধারণ অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেন এবং নিজ হাতে আমার জন্য তা লিখে দেন। তাঁর জন্ম ৬৭৭ হিজরির জমাদিউল উলা মাসের দ্বিতীয় দিন, বুধবারের প্রথম প্রহরে। তিনি আমাকে আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর এই কবিতাটি শুনিয়েছেন:

আমাদের পক্ষ থেকে মানুষের জন্য রয়েছে কেবল … সুন্দর চরিত্র ও সদালাপ

আর আমাদের যা কিছু অর্জন, তা আমাদের ভেতরকার … মন্দ ও ভালোর প্রতিফল

সেখানে যাঁর সাথে আমার গভীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল এবং যাঁর সাহচর্যে আমি ধন্য হয়েছিলাম, তিনি হলেন আমাদের সঙ্গী শাইখ, ফকীহ ও মুহাদ্দিস তাকিউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আওয়াম আল-রাবয়ী আল-শাফেয়ী। তিনি প্রসিদ্ধ ওলী শাইখ আবুল হাসান আল-শাযিলী (আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বারা উপকৃত করুন) এর দৌহিত্র। তিনি উচ্চপদস্থ জ্ঞানপিপাসু ও মর্যাদাশীলদের অন্তর্ভুক্ত এবং ফকীহদের মধ্যে সর্বোত্তম। তিনি মহৎ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের এবং ওলীদের বংশধর। তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য আপনাকে তাঁর পূর্বসূরিদের জীবনস্মৃতি মনে করিয়ে দেবে এবং আপনাকে তাঁর অহংকার ও দম্ভ থেকে মুক্ত রাখবে। তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের গৌরবের পথ অনুসরণ করেছেন এবং জ্ঞান ও ফযীলত অর্জনে তাঁর পিতা ও পিতামহকে আদর্শ মেনেছেন। তিনি একজন ইমাম, শিক্ষক এবং শ্রেষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি; যিনি আরব জাতি ও তাদের বংশবৃত্তান্ত সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং তাদের ভাষা ও সাহিত্যে পারদর্শী। তিনি আরবি ভাষা থেকে প্রচুর অংশ গ্রহণ করেছেন এবং হাদিস ও ফিকহের শাখাসমূহে সফলতার সাক্ষর রেখেছেন। তিনি বহুবিধ মর্যাদা ও জ্ঞানীয় মাসআলায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং চারিত্রিক উদারতা ও দাক্ষিণ্য থেকে বড় সম্পদ অর্জন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি তাঁর পাঠদানে ছাত্রদের উপকৃত করতেন এবং তাঁর কাছে জ্ঞান অন্বেষণকারী ও তাঁর মজলিসে উপবিষ্টদের সদুপদেশ দিতেন। এমন কোনো শ্রেষ্ঠ গুণ নেই যার ধারক তিনি নন এবং যার শ্রেষ্ঠত্বের হকদার তিনি নন। তিনি আমার সাথে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন, ফলে আমরা পরস্পর জ্ঞান চর্চা করতাম এবং সকাল-সন্ধ্যায় উস্তাদদের কাছে যাতায়াত করতাম। আমাদের প্রত্যেকেই জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে লব্ধ নতুন নতুন বিষয়গুলো দিয়ে অপরকে উপকৃত করতাম এবং সেই বরকতময় অংশীদারিত্বে ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একে অপরকে সাহায্য করতাম। সেইসব মহান ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করা এবং তাঁদের কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ করার ফলে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো তাঁদের সাথে তাঁর নাম উল্লেখ করা এবং তাঁদের কাতারেই তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা:

সেই সুরক্ষিত আভিজাত্যকে রক্ষা করার জন্য যাতে … এর ওপর কোনো আঘাত না আসে এবং উদারতার প্রতি মমতা প্রদর্শন স্বরূপ।

আমি তাঁর উপস্থিতিতে তাঁর পাঠ করা অনেক কিতাব শ্রবণ করেছি এবং তাঁর দিকনির্দেশনায় আমি অনেক বড় বড় জ্ঞান স্মৃতিস্থ করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি আমাকে পূর্ণাঙ্গ অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন এবং নিজ হাতে আমার জন্য তা লিখে দিয়েছেন। তিনি আমাকে অনেক কবিতা শুনিয়েছেন যা আমি অন্য স্থানে লিপিবদ্ধ করেছি। তার মধ্যে একটি হলো যা তিনি আমাকে শুনিয়েছেন এবং বলেছেন: আমাদের শাইখ আসীরুদ্দীন আবু হাইয়্যান মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে হাইয়্যান নিজ হাতে লিখেছেন এবং আমাদের পড়ে শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের শুনিয়েছেন ফকীহ, ইমাম, সাহিত্যিক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে খাতামুদ্দীন দানিয়াল ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতুক আল-খুজায়ী আল-মাওসিলী তাঁর নিজের রচিত এই কবিতাটি:

জেনে রেখো, পশ্চিমের ভূমিই হলো সর্বোত্তম আবাসভূমি … যার দিকে শ্রেষ্ঠ ও দ্রুতগামী উটগুলো পরিচালিত হয়।