القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: نفاضة الجراب في علالة الاغتراب
المؤلف: لسان الدين بن الخطيب، محمد بن عبد الله (ت 776هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 116
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণবৃত্তান্ত
বই: নুফাদাতুল জিরাব ফি আলালাতিল ইগতিরাব
লেখক: লিসানুদ্দিন বিন আল-খাতিব, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (মৃ. ৭৭৬ হি.)
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১১৬
শামেলার প্রকাশনা তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
অতঃপর শালার সম্মানিত রাজকীয় সমাধিস্থলে সফর শুরু হলো। সেখানে আমি অবস্থান গ্রহণ করলাম, আসবাবপত্র নামালাম, পরিকল্পনা স্থির করলাম এবং বিসমিল্লাহর পর দাতা মনিবকে যে ভাষায় সম্বোধন করলাম তার পাঠ ছিল নিম্নরূপ:
হে আমার মনিব, যাঁর কাছে অনুগ্রহ পূর্ণ করার, নিয়ামতের ধারা বজায় রাখার এবং গৌরব অর্জনের আশা ও প্রত্যাশা করা হয়। আল্লাহ আপনাকে এমনভাবে দীর্ঘজীবী করুন যেন সদাচরণ, সন্তুষ্টি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষায় আপনি প্রবাদপুরুষে পরিণত হন। আপনার পদচুম্বনকারী এবং আপনার পরম শ্রদ্ধেয় পিতার সমাধিস্থলে একনিষ্ঠভাবে অবস্থানকারী ইবনুল খতিব— শালার পবিত্র মাজার থেকে, যেখানে পবিত্র গম্বুজের নিচে আশার তরী ভিড়িয়েছি, পবিত্র মৃত্তিকার কাছে আশ্রয় নিয়েছি এবং মুবারক সফর ও অভীষ্ট রিবাত এবং মহিমান্বিত কবরসমূহ জিয়ারত শেষে প্রত্যাবর্তনের সময় আপনার মহান পিতার কবরের পাশে বসেছি। আর আমি সংকল্প করেছি যে, যতক্ষণ না আপনার উচ্চ মকাম থেকে এই মহামান্য ও পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের কবরের পাশে বিনম্র অবস্থানের উপযুক্ত সাড়া আসবে, ততক্ষণ আমি স্বেচ্ছায় এই মর্যাদাপূর্ণ সান্নিধ্য ত্যাগ করব না, যিনি জগদ্বাসীর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। অতঃপর আপনার কাছে এমন এক বিষয়ে তাঁর সুপারিশ কামনা করছি যা আপনার জন্য সহজ হবে, যাতে কোনো অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না, কোনো বিপদের ঝুঁকি থাকবে না এবং কোনো জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে না। এটি কেবল সামান্য বাক্যালাপ, লেখনীর চালনা, সংকল্পের প্রয়োগ এবং এর বিনিময়ে গৌরব ও সওয়াব অর্জন এবং সুখ্যাতি বিস্তারের বিষয়।
আর বিষয়টি হলো, এই দাস আপনার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার দিন আপনাকে জানিয়েছিল যে, সে আপনার পক্ষ থেকে আপনার পবিত্র মরহুম পিতার কাছে বাচনিক ভাষায় আপনার বার্তা পৌঁছে দেবে যা আল্লাহ তাকে তৌফিক দান করেন; অতঃপর তাঁর পক্ষ থেকে আপনার জন্য আধ্যাত্মিক ভাষায় প্রাপ্ত উত্তরটি আপনার কাছে পৌঁছে দেবে। আপনার রাষ্ট্রের স্তম্ভ, আপনার একান্ত বিশ্বস্ত এবং আপনার মহান পিতারও একান্ত অনুগত জনাব আল-খতিব (অর্থাৎ ইবনে মারজুক—আল্লাহ আপনার সৌভাগ্য ও দীর্ঘায়ুর মাধ্যমে তাঁর আশা পূর্ণ করুন) আমাকে বলেছিলেন: "হে অমুক, আল্লাহর প্রশংসা যে আপনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদের পক্ষ থেকে এই দুটি উদ্দেশ্য পালনের বিশ্বস্ততা অনস্বীকার্য।" এবং আপনার পক্ষ থেকে যে আনন্দ, কবুলিয়াত ও অনুগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে তা অভাবনীয়, আল্লাহ আপনাকে নেককারদের উত্তম প্রতিদান দিন। আপনার কাছে ইতিপূর্বেই জানানো হয়েছে যে, আপনার দাস আপনার পক্ষ থেকে পবিত্র সমাধিস্থলে বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কতটুকু নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে, যা সেখানে উপস্থিত আপনার খাদেমরা বর্ণনা করেছেন।
আর এখন দাস আপনার সামনে সেই উত্তরটি উপস্থাপন করছে, তা হলো: যখন আমি জনসমক্ষে এবং বিশাল সমাবেশে তাঁর সাথে কথোপকথন শেষ করলাম, তখন আমি সেই সম্মানিত কবরের ওপর দোয়া ও মিনতি সহকারে ঝুঁকে পড়লাম। আমি কবরের পাশে আমার কর্ণ পাত করলাম এবং আমার অন্তর তাঁর আধ্যাত্মিক ভাষার সেই বার্তাগুলো গ্রহণ করতে শুরু করল। যেন তিনি আমাকে বলছেন: "তুমি তোমার মনিবকে অর্থাৎ আমার সন্তান ও নয়নমণিকে বলো, যে আমার সন্তুষ্টি ও সদাচরণে ধন্য, যে আমার মর্যাদা রক্ষা করেছে, আমার রাজত্ব পুনরুদ্ধার করেছে, আমার পরিবারকে সুরক্ষিত করেছে, আমার কাজগুলোকে সম্মান দিয়েছে এবং আমার কর্মধারা অব্যাহত রেখেছে—আমি তোমাকে সালাম জানাচ্ছি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করছি তিনি যেন তোমার ওপর সন্তুষ্ট হন এবং তোমার প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। দুনিয়া হলো ধোকার ঘর, আর পরকাল পরহেজগারদের জন্য শ্রেয়। আর মানুষ তো কেবল নশ্বর এবং নশ্বরের সন্তান।"
তুমি তোমার কৃতকর্ম ছাড়া আর কিছুই পাবে না যা ক্ষমা ও মার্জনা দাবি করে, অথবা এমন প্রশংসা যা রহমতের দোয়া বয়ে আনে। আর তোমার মতো ব্যক্তিকেই স্মরণ করিয়ে দিলে সে উপদেশ গ্রহণ করে এবং সত্য চিনিয়ে দিলে তা অস্বীকার করে না। আর এই ইবনুল খাতিব আমার কবরের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং আমার জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়েছে। সে আমার শোকগাথা রচনায় মানুষের অগ্রগামী হয়েছে, আমার জন্য কবিতা পাঠ করেছে, আমার মহিমা বর্ণনা করেছে, আমার জন্য কেঁদেছে, দোয়া করেছে এবং আমার পরিণাম তোমার দিকে হওয়ায় আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। সে আমার কবরের মাটিতে নিজের মুখ ঘষেছে এবং যখন মানুষের পক্ষ থেকে আমার সকল আশা ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, তখন সে আমার প্রতি আশা পোষণ করেছে। হে আমার সন্তান! আমি যদি জীবিত থাকতাম, তবে আমার মর্যাদার উপযুক্ত তার সাথে আচরণ করা ছাড়া আমার উপায় ছিল না; তার জন্য যা-ই করতাম তাকে সামান্যই মনে করতাম এবং বড় কিছুকেও তুচ্ছ জ্ঞান করতাম। কিন্তু যেহেতু আমি তাকে প্রতিদান দিতে অক্ষম, তাই হে আমার হৃদয়ের প্রিয়! আমি তাকে তোমার কাছে সোপর্দ করলাম এবং তোমার ওপরই তার দায়িত্ব অর্পণ করলাম।
সে আমাকে জানিয়েছে যে, সে সম্পদহীন, বৃহৎ পরিবারবিশিষ্ট এবং শারীরিকভাবে দুর্বল; বার্ধক্যের ছাপ তার উদ্যমহীনতায় প্রকাশ পেয়েছে। সে আশা পোষণ করেছে যে, সে আমার সান্নিধ্যে নিভৃতে থাকবে, আমার আশ্রয়ে ও সেবায় আত্মগোপন করবে এবং তার পাওনা ও আমার পূর্বসূরি যারা আমার পাশে শায়িত আছেন তাদের সম্মান তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে; এবং সে তোমার ও আমার মর্যাদার ছত্রছায়ায় আল্লাহর ইবাদত করবে। আমি জীবিত অবস্থায় তাকে নিয়োগ করতে আগ্রহী ছিলাম, যা আমাদের পরম প্রিয় বন্ধু, মহান গুণসম্পন্ন ও দীর্ঘদিনের নিকটবর্তী বাগ্মী আবু আবদুল্লাহ বিন মারজুক জানেন। তুমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তোমাকে স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং তার কাছে জানতে চাইলে তিনি তোমাকে জানাবেন। অতএব আমি আজ চাচ্ছি যে, এই ব্যক্তি মৃত্যুর পর আমার খাদেম হয়ে থাকুক যতক্ষণ না আমরা সকলে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর সেই রহমতের সাথে মিলিত হই যা সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।
হে আমার সন্তান! তার একটি ক্ষীণকায় পুত্র আছে যে তোমার দরবারে সেবা করে এবং তোমার লেখকদের দপ্তরে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করে। তোমার গৃহেই তার আবাস নির্ধারিত হয়েছে এবং তোমার আদেশে তার বেতন ও পোশাক নির্দিষ্ট হয়েছে। ফলে বৃদ্ধ (পিতা) বৃদ্ধের (আমার) খাদেম হবে আর যুবক (পুত্র) যুবকের (তোমার) খাদেম হবে। এটাই তোমার কাছে আমার আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজন। জেনে রেখো, এই ঘটনাটি দুনিয়ায় এবং রাজা ও বড়দের মাঝে অবশ্যই আলোচিত হবে। সুতরাং তুমি এমন কাজ করো যার গৌরব তোমার জন্য অবশিষ্ট থাকে এবং যার চর্চা চিরস্থায়ী হয়। সে আমার কবরের পাশে অবস্থান করছে এবং আমার সামনে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করছে; সে তোমার পক্ষ থেকে আগত সংবাদের অপেক্ষায় আছে এবং তার সম্পদ উদ্ধারের প্রচেষ্টার খবর আমাকে পড়ে শোনাবে। এই অসিলায় তার ক্ষতিপূরণ হবে এবং তোমার পক্ষ থেকে মর্যাদা, সম্মান ও অনুগ্রহের যে ধারা প্রবাহিত হওয়া উচিত তা জারি হবে। অতএব হে ইব্রাহিম! আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। তার ব্যাপারে তুমি এমন কাজ করো যা আমার ও তোমার পক্ষ থেকে প্রশংসিত হবে; আর অবস্থার ভাষা কথার ভাষার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাবশালী। সমাপ্ত।
হে আমার মুনিব! এই গোলাম তাঁর (মৃতের) এবং তাঁর পূর্বসূরিদের মর্যাদার অধীনে অবস্থান করছে এবং আপনার পক্ষ থেকে তার প্রয়োজন পূরণের অপেক্ষায় রয়েছে। আপনি জেনে রাখুন এবং নিশ্চিত হোন যে, আমি যদি অপরাধও করতাম, সম্পদ লুণ্ঠন করতাম, রক্তপাত করতাম এবং মাওরাউন্নাহারের তাতারদের রাজা, সমুদ্রের ওপারের রোমানদের রাজা কিংবা মরুভূমির ওপারের আবিসিনিয়ার রাজাদের আক্রোশ কুড়াতাম, আর কোনো চুক্তি ছাড়াই আল্লাহ যদি তাদের আমার ওপর ক্ষমতা দিতেন—অতঃপর তারা যদি এই আশ্রিত ব্যক্তির সাথে আমার সম্পর্ক এবং এই সম্মানিত কবরগুলোর মাঝে আমার অবস্থানের কথা জানতে পারত, তবে মৃত ও জীবিতদের প্রতি লজ্জা ও লোকভয়ের কারণে এবং বড়দের প্রতি বড়দের প্রাপ্য অধিকার প্রদানের খাতিরে তাদের কারোরই উদারতা প্রদর্শন ছাড়া কোনো উপায় থাকত না; এমন উদারতা যার পেছনে কৃপণতা নেই এবং এমন ক্ষমা যা তিরস্কারে কলুষিত হয় না।
বিশেষ করে আন্দালুসের সুলতান—আল্লাহ তাঁকে আপনাদের আনুগত্যের মাধ্যমে সৌভাগ্যবান করুন—তিনি একজন গুণী ব্যক্তি এবং গুণী রাজাদের সন্তান। তাঁর চারপাশে এমন সব বুদ্ধিমান ব্যক্তি রয়েছেন যাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে আপনাদের এবং আপনাদের পূর্বসূরিদের মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ; বিশেষ করে আমার মুনিব আপনার পিতা, যাঁর অসিলা নিয়ে আমি আপনাদের ও তাঁদের কাছে মিনতি করছি। তিনি আমার মুনিব আবু আল-হাজ্জাজকে পুত্রের মতো লালন করতেন, তাঁকে নিজের ছায়ায় আগলে রাখতেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ডাকে সাড়া দিতেন এবং তাঁকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাজত্ব আপনাদের হাতে ন্যস্ত করেছেন, আর বংশ ও সত্তার দিক থেকে আপনারা তো অনন্য। হে আমার মুনিব! এই মাররাকেশ ভূখণ্ডে আপনাদের বিশাল বাহিনী, অসংখ্য সৈন্য, অফুরন্ত সম্পদ ও যুদ্ধের সাজ-সরঞ্জামের প্রাচুর্য দেখে এই গোলামের চোখ জুড়িয়ে গেছে। আল্লাহ আপনাদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিন।
কোনো বুদ্ধিমানের কাছে এতে সন্দেহ নেই যে, যদি আপনাদের প্রত্যাশার বন্ধন ঢিলে হয়ে যায় অথবা আপনারা সেই ভূখণ্ড থেকে বিমুখ হন, তবে শত্রুর হাত তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। সম্মানিত রাজন্যবর্গ—যাদের সামনে মুকুটসমূহ অবনত হয়—তাদের কাছে আমার আত্মনিবেদন এবং রাজাদের পিতা পুণ্যবান রাজা আমার মুনিব আপনার পিতার আশ্রয় আঁকড়ে ধরা সর্বজনবিদিত। আর 'শালা'র পবিত্রতা ও মর্যাদার খ্যাতি তো সুপরিচিত। আল্লাহর শপথ, আন্দালুসবাসী কখনোই তা নষ্ট করবে না। এখন পর্যন্ত এর অসিলা দিয়ে তাদের কাছে কিছু চাওয়া হয়নি, আর তারা এই বিরল ফযিলত অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া করার মতো অজ্ঞ নয়। আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা হলো, আপনাদের পক্ষ থেকে একজন খাদেমকে একটি সম্মানিত পত্রসহ পাঠানো হোক, যাতে আমার কাছ থেকে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ থাকবে। সেই খাদেম আমার অবস্থানের জায়গায় এসে আপনার পিতার কবরের ওপর নিজেকে সমর্পণ করবে এবং এই সমর্পণের কারণে আপনার ওপর এবং আপনার বংশধররা যেখানেই থাকুক না কেন তাদের ওপর যে গুরুত্বপূর্ণ আবশ্যকতা ও মহান দায়িত্ব অর্পিত হয়, তা ঘোষণা করবে। আপনারা এই সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাঁদের কাছে আপনাদের সেই চিরন্তন উদারতা প্রার্থনা করবেন।
এটি সর্বজনবিদিত যে, আমি যদি এই অসিলাগুলোর মাধ্যমে তাঁদের মূল সম্পদও দাবি করতাম, তবে যুক্তিগত বিচারে এই বংশ ও এই ভূখণ্ডের সম্মান রক্ষা করা ছাড়া তাঁদের কোনো উপায় থাকত না। কারণ এই সম্মানিত কবরের খাতিরে লজ্জা ও মর্যাদা আমাকে ফিরিয়ে দিতে বাধা দেবে। আপনারা আমাকে এই মুনিবের সেবা, যিয়ারত ও দেখাশোনার কাজে এবং তাঁর সান্নিধ্যে ঈদে মিলাদুন্নবীর রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা গীতি গাওয়ার কাজে সাহায্য করবেন। এটি একটি বিরল উদ্দেশ্য যা তাঁর প্রতি আপনাদের সদাচরণের সাথে সংগতিপূর্ণ; যতক্ষণ না আমি আপনাদের মর্যাদার বদৌলতে আল্লাহর ঘরে হজ আদায় করি এবং ফিরে এসে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করি। আর আমি আন্দালুসের আশ্রয়ের পরিবর্তে এই রিবাতের আশ্রয়কে গ্রহণ করে নিচ্ছি।
এবং তিনি অর্বাচীনদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাসউদকে উজির মনোনীত করলেন সেই মুরুবিয়ি ছাগলের প্রতি দলপ্রীতির কারণে, যা তার হাতের নাগালে শিকার হয়েছিল। এবং তাকে সেই নম্রতার ওপর নিযুক্ত করলেন যা তার সন্তুষ্টির পথে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে সে সেখান থেকে উঠে দাঁড়াল উন্মাদের মতো, টেরা চোখ এবং বন্য দৃষ্টি নিয়ে। সন্তুষ্টির অবস্থাতেও তাকে রাগান্বিত বলে মনে হয়। তার পিত্তরস যখন উত্তেজিত হয়, তখন সে দীর্ঘ সময় ধরে তার শয্যার পর্দার আড়ালে অবস্থান করে। তার গৃহের প্রাঙ্গণে উন্মুক্ত স্থানে যাওয়ার ভয়ে এবং তার পরিবার ও সন্তানদের কাছ থেকে তার বন্য আচরণের আশঙ্কায় তার নিকট মলমূত্রের পাত্র নিয়ে যাওয়া হয়, যতক্ষণ না তার পিত্তরসের উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং তার অবস্থা স্বাভাবিক হয়। যৌবনের চাদর সরে যাওয়ার সাথে সাথেই সে তার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল এবং কুচিন্তা প্রসূত প্ররোচনার কারণে বিদ্বেষপূর্ণ আকাঙ্ক্ষাকে পূর্ণ করেছিল। আমরা আল্লাহর কাছে তার অনিষ্টের বালা-মুসিবত থেকে পানাহ চাই। অতঃপর সে ফজল বিন সাহল, ইয়াহইয়া বিন খালিদ এবং তাদের ন্যায় ব্যক্তিদের প্রজ্ঞার সাহায্য গ্রহণ করল। আল্লাহ তাআলা তাঁর দয়ায় ইসলামের শেষ শ্বাসটুকু রক্ষা করুন। আর সেই ধ্বংসপ্রাপ্তের লেখককে তার কুপ্রবৃত্তিতে নিমজ্জিত হওয়ার কারণে এবং ইতর মজলিস ও অধমদের ক্রীড়াক্ষেত্রে অবস্থানের দরুন তার পদে বহাল রাখা হলো; যা মিম্বারের খুতবা দ্বারা সুসংহত হয়েছিল, যেখানে সে প্রস্তুতির নির্জনতা থেকে বেরিয়ে আসত। তার কলম ইসলামের চাদরে সুরক্ষিত নেয়ামতসমূহ থেকে রক্ত ঝরাচ্ছিল। ঘরবাড়িতে লুটতরাজ এবং ধন-সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে সে হয়ে উঠেছিল বিপর্যস্ত। সে বিদ্বেষপূর্ণ উপহাসের পথে তুচ্ছ কারুকার্য এবং দুর্বল অন্ত্যমিল প্রয়োগ করেছিল। আর সে সেই সব বিষয়ে প্ররোচনা দিচ্ছিল যা মন্দের আধিপত্য এবং জুলুমের পথ সুগম করে। তোমাদের ইমামগণই তোমাদের সুপারিশকারী।
এবং বিচারের দায়িত্বে আমাদের শায়খ কাজী আবুল বারাকাতকে মনোনীত করা হলো, যিনি বার্ধক্য এবং প্রাচুর্যের সময় দুনিয়া দ্বারা পরীক্ষিত হয়েছেন। আল্লাহ তার প্রতি অনুগ্রহ করুন এবং রহমতের দৃষ্টিতে তাকে লক্ষ্য করুন।
এবং বিপর্যয়ের দিনে সেই ধ্বংসপ্রাপ্তের চাচা এবং তার নামধারী ইসমাইল বিন আমিরুল মুসলিমীন আবুল ওয়ালিদ বিন নাসর পলায়ন করলেন। তিনি তার ভাইয়ের শাসনকালে মৃত্যুর প্রহরায় সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তার শয্যা ছিল চামড়ার আসন এবং তার ছায়া ছিল উন্মুক্ত তলোয়ার। তার পাহারার জন্য দিনে কয়েকবার তাকে হত্যা করার সংকল্প করা হতো, যতক্ষণ না তিনি ক্ষমতায় আসীন হলেন। এরপর আমার ইঙ্গিতে তাকে শালুবানিয়াহ-তে প্রেরণ করা হলো, যেখানে তার জন্য এর বাইরে চলাফেরার অনুমতি ছিল এবং তাকে সুলতানের প্রাসাদে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখান থেকে অর্জিত সম্পদের একটি বড় অংশ তার জন্য বৈধ করা হয়েছিল। ফলে তার অবস্থার উন্নতি হলো এবং সুলতান তার সাথে তার কন্যার বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করলেন। যখন চূড়ান্ত সময় উপস্থিত হলো এবং তার ভাইয়ের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরিত হলো, তখন তিনি তাকে এক শুভ দিনে উপস্থিত করলেন, যেখানে সুলতানের মা এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট নারীরা তাদের ভূষণ ও সজ্জার চূড়ান্ত রূপ নিয়ে বের হয়েছিলেন: দ্রুতগামী বাহনসমূহ, ভারী অলঙ্কারাদি, স্বর্ণখচিত পালকি এবং কারুকার্যময় গম্বুজ। তাকে শহরের রউসা গলিতে অবস্থিত আমার মার্বেল পাথরের তৈরি প্রাসাদে রাখা হলো।
সুলতানের কন্যার স্বামী যখন আন্দালুস থেকে ফিরে আসছিলেন, তখন তার নিকট সংবাদ পাঠানো হয়েছিল এই ধারণায় যে সে বৈবাহিক চুক্তি ছিন্ন করতে সম্মত হবে। কিন্তু সে অনড় থাকল এবং বার্তাবাহককে বিলম্বিত করতে থাকল যতক্ষণ না আমরা তাদের পাপাচারী শাসনের সীমানা অতিক্রম করলাম। অতঃপর সেই ক্ষমতা দখলকারীর পক্ষ থেকে তার ভাইয়ের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার এবং তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হলো শত্রুতা ও উপহাসের উদ্দেশ্যে। যেহেতু এটি ছিল কেবল একটি নিস্তেজ লালসা, তাই বৈবাহিক চুক্তির স্থায়িত্ব, সময়ের নিকটবর্তিতা, গৃহের নৈকট্য এবং ভরণপোষণের সক্ষমতার কারণে তা কঠিন হয়ে পড়ল। তখন তাদের কাজী—যিনি দ্বীন ও বিচারের ক্ষেত্রে শিথিল, স্নায়বিক ও আদর্শিক বন্ধনহীন, চটুলতা ও সাধারণ বিষয়ে নিমজ্জিত এবং ঘুষের জন্য সুপরিচিত, যার নাম এবং শাসন অদ্ভুত—সেই শায়খ এবং তাদের অন্যান্য শায়খদের নিয়োগ দেওয়া হলো। তারা মাকড়সার জালের মতো কিছু সংশয় তৈরি করল যার মাধ্যমে তারা সেই সুদৃঢ় বৈবাহিক চুক্তি ছিন্ন করার দায়িত্ব নিল। ধর্মের মূল স্তম্ভের বিরোধিতা করা তাদের স্বভাব, যা তারা তাদের মধ্যকার নির্লজ্জ ব্যক্তিদের স্বেচ্ছাচারী মতামতের মাধ্যমে করে থাকে এমন একটি বিধানের ক্ষেত্রে যা অবতীর্ণ হয়েছে প্রচণ্ড শক্তিশালী সত্তার পক্ষ থেকে, সেই সত্তার ওপর যিনি নিজের খেয়ালখুশি থেকে কথা বলেন না। এটি করা হয়েছিল তার মায়ের অপসারণের ক্ষেত্রে তার স্বেচ্ছাচারী আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং পরকালীন শাস্তিকে সন্দেহ করার কারণে। ফলে তারা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাল এবং সেই ক্ষমতা দখলকারীর জন্য নিষিদ্ধ মিলনকে হালাল করে দিল। অথচ আল্লাহ তাআলা এটি বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং মোহরানা প্রদানের পূর্বেই নগদে তার রক্ত প্রবাহিত করলেন। তিনি পবিত্র, বিচারকদের বিচারক এবং জালেমদের দমনকারী। আর আল্লাহ যাকে লানত করেন, আপনি তার জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবেন না। তাকে মালাকার উপকণ্ঠে পলায়নরত অবস্থায় পাওয়া গেল, অতঃপর তাকে গ্রেপ্তার করা হলো এবং সমুদ্রে সেবতার দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। সে তার গোপন দান-সদকার ছায়াতলে ছিল। সে ছিল একজন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি, দীর্ঘ কারাবাসের কারণে যার স্বভাব মার্জিত হয়েছিল। সে মন্দ থেকে দূরে থাকত, সর্বদা ঘরের কোণে অবস্থান করত, যার মধ্যে বীরত্ব ও গাম্ভীর্য প্রকাশ পেত। তার বিছানাপত্র ও আসবাবপত্র ছিল রুচিসম্মত, খাদ্য ছিল উৎকৃষ্ট এবং অভিজ্ঞতার অভাব থাকা সত্ত্বেও সে ছিল মহৎ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। পরিশেষে সে সুলতানের দরবারে একজন শান্তিকামী সাথী হিসেবে স্থায়ী হলো এবং অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার করে চলল। আল্লাহ তার সহায় হোন।