القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: حادي الأظعان النجدية إلى الديار المصرية
المؤلف: أبو الفضل محب الدين محمد بن أبى بكر تقى الدين بن داود المحبى الحموى الدمشقي الحنفي (ت 1016هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 34
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণবৃত্তান্ত
বই: মিশরীয় ভূখণ্ডের অভিমুখে নজদী কাফেলার চালক
লেখক: আবু আল-ফজল মুহিব্বুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবু বকর তকিউদ্দীন বিন দাউদ আল-মুহিব্বী আল-হামাউয়ী আদ-দিমাশকী আল-হানাফী (মৃ. ১০১৬ হিজরি)
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
আমি সৌন্দর্যের সমষ্টিকে জিললাকের জামে মসজিদে পুঞ্জীভূত দেখি … এবং এর বক্ষে লাবণ্যের সারমর্ম ব্যাখ্যায়িত।
যদি কোনো সম্প্রদায় তাদের জামে মসজিদ নিয়ে অহংকার করে … তবে তাদের বলে দাও, যিয়ারতের দরজা তো খোলাই আছে।
তখন সেই মিশরীয় ব্যক্তিটি আপত্তি তুলল এবং নিজেকে তীরের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দাঁড় করাল। সে বলল: হে আমাদের মাওলানা, 'জিললাক' শব্দটি তো কেবল জীম বর্ণে পেশ এবং লাম বর্ণে জবর দিয়ে উচ্চারিত হয়। আমি তাকে বললাম: বিষয়টি তোমার ধারণার মতো নয়; বরং সঠিক বিষয়টি তোমার উপলব্ধির বিপরীত। কেননা ভাষাবিদগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং তাঁদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ ও সংকলন করেছেন যে, 'জিললাক' শব্দের জীম ও লাম উভয় বর্ণে কাসরা (যের) হওয়া নিয়ে কোনো মতভেদ নেই। কিন্তু সে এমন সব কথা বলছিল যা তৃষ্ণা মেটায় না। ভাষাবিদদের উদ্ধৃতি দেওয়ার পরও সে অধমের কাছে প্রমাণ দাবি করল এবং বলল: এটি তো সাধারণ মানুষের মুখে প্রচলিত উচ্চারণের পরিপন্থী। আমি তাকে বললাম: হ্যাঁ, এটি তোমার মতো সাধারণ ও মূর্খদের করা ভুলগুলোর একটি। এরপর সে তার গাধা থেকে নামল এবং সেটিকে নিজের সামনে হাঁকিয়ে নিল এবং নিজের ভুল কথাকেই সঠিক প্রমাণ করার চেষ্টা করতে লাগল। তখন আমাদের মাওলানা মুফতি সাহেব তাকে উপহাস ও তিরস্কার করার ইচ্ছা করলেন। তিনি তাকে নম্রভাবে তার গাধার সাথে সংশ্লিষ্ট করে নিরুত্তর করে দিতে চাইলেন এবং বললেন: মাওলানা যা বলেছেন তা অনস্বীকার্য এবং তাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তোমার ভুলের দৃষ্টান্ত তো কেবল ওই গাধার (হিমার) মতোই। কেননা সাধারণ মানুষ 'হিমার' শব্দের 'হা' বর্ণে পেশ (হুমার) দিয়ে উচ্চারণ করে, অথচ আসলে তাতে কাসরা (যের) হবে। এই জাতীয় প্রচলিত ভুল অনেক রয়েছে। অধম তাঁর এই উদাহরণের প্রশংসা করল এবং তাঁকে বলল: হে আমার মহানুভব প্রভু! আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। তিনি যে শ্লেষাত্মক মিল (ইযতিওয়াজ) তৈরি করতে চেয়েছেন তা আমি বুঝতে পারলাম এবং ইঙ্গিতে তাঁকে ইশারা করলাম। এতে আমাদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে গেল। যখন আমরা লক্ষ করলাম যে, মাওলানা মুফতি সাহেবের এই উদাহরণের কারণে উক্ত ব্যক্তিটি ব্যথিত হয়েছে এবং তার মেজাজ বিগড়ে গেছে ও সে রাগান্বিত হয়েছে, তখন আমরা তাকে প্রবোধ দেওয়ার জন্য বললাম: নিশ্চয়ই আল্লাহ (কোনো সত্য বর্ণনায়) মশা বা তার চাইতেও তুচ্ছ কিছুর উদাহরণ দিতে লজ্জাবোধ করেন না। ইতোমধ্যে আমরা রাতের শেষাংশে পৌঁছে গিয়েছিলাম, তাই বিশ্রামের উদ্দেশ্যে আমরা আমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করলাম। আমরা উক্ত ব্যক্তির প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করলাম এবং উদার ব্যক্তিদের মতো তার সাথে আচরণ করলাম। আমরা সুশীতল ছায়াযুক্ত বৃক্ষরাজির নিচে আশ্রয় নিলাম এবং এই দুআ পাঠ করলাম—হয়তো আমাদের প্রতিপালক আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন। সেই ব্যক্তির সাথে আমরা দীর্ঘ সময় বসে থাকলাম এবং তার সেই তীরের জখমগুলো উপশম করার চেষ্টা করতে লাগলাম যাতে সে বিদ্বেষী হয়ে না ওঠে। আমাদের সেই সান্নিধ্যের আলাপ-চারিতায় আমরা ফিরে এলাম এবং তার সাথে বিনয় ও কৌতুকপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে আলোচনার মোড় ঘুরালাম; কেননা এই ধরণের আচরণের মাধ্যমেই সফরের ক্লান্তি দূর হয় এবং কষ্ট ও দুশ্চিন্তার অবসান ঘটে। এরপর আমরা আমাদের সঙ্গী ফযিলতের আধার শেখ আলী মালিকীর দিকে কোমল ভাষায় দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললাম: এই শেখ আপনার স্বদেশী, আর ঘরের মালিকই ভালো জানেন ঘরের ভেতর কী আছে। আপনি আমাদের কাছে এই উপাধির (আল-জামাল) রহস্য উন্মোচন করুন এবং বর্তমানে আমাদের এমন কিছু শোনান যা আমাদের বিস্মিত করবে। তিনি বললেন: হে আমাদের মুরুব্বিগণ! যা আমার জন্য আবশ্যক নয় তার জন্য আমাকে বাধ্য করবেন না। আর যা আমি জানি না তা বলার জন্য আমাকে কষ্ট দেবেন না। তবে বাস্তবতা হলো, অনেক সময় নাম রাখার ক্ষেত্রে তার উপযুক্ততার বিষয়টি উপেক্ষিত হতে পারে এবং এই ঘটনাটিকেও সেই পর্যায়ভুক্ত করা উচিত। ইসলামে এটিই প্রথম ভেঙে যাওয়া কাঁচের পাত্র (ভুল) নয়; কেননা এই নামটির একটি নামধারী (ব্যক্তি বা বস্তু) দামেস্কেও রয়েছে। আমরা তাঁকে বললাম: হে আমাদের মাওলানা! আপনি যা বলেছেন তা অত্যন্ত তুক্ষ্ম কথা। তবে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য এই যে, ওইটি বিশিষ্ট (মু কাইয়াদ) এবং এটি অনির্দিষ্ট বা সাধারণ (মুতলাক)। যখন আমরা এই 'বিশিষ্ট' শব্দের মাঝে এমন এক চমৎকার ইঙ্গিত দেখতে পেলাম যা একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে গোপন নয়, তখন অধম সেই অবস্থার প্রেক্ষিতে তিনটি পঙক্তি রচনা করল:জিললাকের সেই 'জামাল' (উট)-কে আলীর মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে … যা মিশরে উট হিসেবে পরিচিত, কিন্তু বাস্তবে এর মাঝে পার্থক্য বিদ্যমান।
নিশ্চয়ই সিরিয়ার সেই উটটি তবল বা ঢাকের সাথে আবদ্ধ (মু কাইয়াদ) হিসেবে পরিচিত … আর এইটি (মিশরীয় ব্যক্তিটি) সম্পূর্ণ লাগামহীন (মুতলাক)।
শব্দের প্রভাব তখনই সবচেয়ে জোরালো হয় যখন তাতে … কোনো সূক্ষ্ম রহস্যের কারণে বিশেষত্ব বিদ্যমান থাকে।
সম্ভবত এই অবস্থাটি এমন স্থানে ঘটেছে যেখানে তার স্থানান্তরের অবকাশ নেই। আর এটিই হলো তার সঙ্গীর জন্য অকাট্য ও বিশিষ্ট অবস্থা। সুবহানাল্লাহ! একটি জিনিসের আলোচনা থেকে অন্যটির আলোচনা চলে আসে।অতঃপর এই সময়ের মধ্যে এই ঘটনা ঘটল যে, উল্লিখিত ফুওয়াহ বিচারবিভাগের অন্তর্ভুক্ত ‘আওকাফুদ দাশিশাহ’ এর এলাকা পরিদর্শনের জন্য একটি রাজকীয় আদেশ জারি হলো। এই আদেশটি ফুওয়াহর কাজী, আলেকজান্দ্রিয়ার কাজী, রশীদের কাজী এবং দামানহুরের কাজীর প্রতি সম্বোধন করে দেওয়া হয়েছিল। তখন আমাদের ও তাঁদের মাঝে এক মহান ও বিস্ময়কর বিতর্ক এবং অদ্ভুত সব বিষয় ও ইলমী আলোচনা সংঘটিত হলো। আমরা তাঁদের কারো কারো মধ্যে ছন্দোবদ্ধ বাক্যপ্রয়োগ প্রত্যক্ষ করলাম। এই অধমের কাছে মনে হলো যে, তা তার মহান অধিপতির সমীপে পেশ করা উচিত, যাঁর উচ্চ মর্যাদা সর্বদা সমুন্নত থাকুক, যাতে তিনি এর বিস্ময়কর দিকগুলো থেকে কৌতুক অনুভব করতে পারেন।
রশীদের কাজীর কথা যদি বলি, তিনি তো ‘কেমন’ (কাইফিয়াত) এবং ‘কোথায়’ (আইন) ছাড়াই নেশাজাতীয় বস্তু (কাইফ) ব্যবহারে মগ্ন থাকতেন; তাকে সর্বদা মুখ খোলা আর চোখ বন্ধ অবস্থাতেই দেখা যেত। আমাদের সাথে তাঁর মেলামেশার শুরুতেই তিনি প্রশ্ন করলেন: “আপনারা কেন উল্লিখিত দুই নায়েবকে (প্রতিনিধি) বরখাস্ত করলেন?” আমি তাকে বললাম: “প্রথমত, শরীয়ত অনুযায়ী তারা নায়েব নয়। দ্বিতীয়ত, স্বভাবগতভাবেই তারা অত্যন্ত কষ্টদায়ক ব্যক্তি। তৃতীয়ত, রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ যদি জানতে পারেন যে আমরা চারজন নায়েব নিয়োগ দিয়েছি, তবে সম্ভবত তারা আমাদের নির্বুদ্ধিতা ও সঠিক পথে না থাকার অপবাদ দেবেন। অথচ সুরক্ষিত মিসর শহরের (কায়রো) আদালতেও চারজন শাফেয়ী নায়েব নেই।”
অতঃপর আমাদের মাঝে আলাপচারিতা দীর্ঘ হলো, এমনকি সেই সময়ের পরিস্থিতি এই রিসালাহটি রচনার দাবি রাখল, যার কিছু অংশ আমাদের মহান অধিপতির সমীপে পেশ করা হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁর ছায়া দীর্ঘায়িত করুন। বিসমিল্লাহর পর এর রূপরেখা ছিল নিম্নরূপ:
“সমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য হে মহান সত্তা, যিনি ন্যায়ের জন্য কাজীগণকে নিযুক্ত করেছেন এবং যখন মূর্খদের লাঞ্ছিত করেছেন তখন তাঁদের পদমর্যাদাকে সুউচ্চ করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর, যিনি তাঁর কথাবার্তায় সুদৃঢ় ও সাহায্যপ্রাপ্ত, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর এবং তাঁদের যথাযথ অনুসারীগণের ওপর, যতদিন সত্যের আলো উদ্ভাসিত হবে এবং এর প্রমাণ প্রকাশ পাবে, আর বাতিলের সংশয় দূরীভূত হবে এবং এর অগ্নি নির্বাপিত হবে।
অতঃপর, এটি একটি বিতর্ক যা এই নগণ্য অধম এবং রশীদের কাজীর—আল্লাহ তাকে প্রতিটি সঠিক বিষয়ের তাওফীক দান করুন—মাঝে সংঘটিত হয়েছে। ঘটনাটি এই যে, ফুওয়াহর কাজী যখন সেখানকার অধিবাসীদের ওপর রাগান্বিত হয়ে এবং বিচারকের দায়িত্ব পরিত্যাগ করে চলে গেলেন—বলা হয়ে থাকে যে তিনি পলায়ন করেছেন অথবা যমীনে কোনো উপায় অন্বেষণের জন্য গিয়েছেন—তখন মহামান্য উজির এবং মহান সেনাপতি সিনান পাশা—আল্লাহ তাআলা তাঁর সাহায্যকারীদের শক্তিশালী করুন—যিনি খলিফার প্রতিনিধি এবং যাঁর সালতানাত আল্লাহ সুদৃঢ় করুন ও ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করুন, তিনি ফুওয়াহ শহরের বিচারকার্য এই অভাবী বান্দার ওপর অর্পণ করলেন, যে তার মহান রবের রহমতের প্রত্যাশী। তিনি তাকে শরয়ী বিচার এবং দ্বীনী বিষয়াদি দেখার জন্য মৌখিক অনুমতি প্রদান করলেন।
সেখানে গিয়ে তিনি (অধম) দুইজন নায়েব দেখতে পেলেন যাদের আচরণ সম্পর্কে প্রজাদের অভিযোগ বারবার আসছিল এবং তাদের কথা ও কাজে কোনো স্থিরতা ছিল না। তদুপরি, পূর্ববর্তী কাজী তাদেরকে তাঁর বিচারিক এলাকার বাইরে এবং তাঁর নিয়োগ ও কার্যকারিতা শুরুর পূর্বেই নিয়োগ দিয়েছিলেন। এই নগণ্য অধম তাঁদের বিষয়টি মহামান্য উজিরের কাছে পেশ করলেন। তখন তাঁর উচ্চ পর্যায় থেকে তাঁদের বরখাস্ত করার আদেশ জারি হলো, কারণ তাঁদের ওপর স্পষ্ট জুলুমের অভিযোগ ছিল এবং কাজীর জন্য তাঁর কর্মস্থলের বাইরে থাকা অবস্থায় নায়েব নিয়োগ করা সঠিক নয়। যেমনটি ফতোয়ার কিছু কিতাবে বলা হয়েছে: ‘কোনো মাওলা (বিচারক) তার কর্মস্থলে পৌঁছানোর পূর্বে কাজী হিসেবে গণ্য হন না।’ সুতরাং এর সারকথা হলো, কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগে উপঢৌকন গ্রহণ বৈধ হতে পারে কিন্তু নায়েব নিয়োগ করা বৈধ নয়।
তখন রশীদের কাজী—আল্লাহ তাআলা তাকে সঠিক পথের দিশা দিন—বললেন: ‘বরং তাঁর নায়েব নিয়োগ সঠিক হয়েছে, কারণ আমাদের কাজীদের রীতি হলো নায়েব নিয়োগের জন্য পত্র পাঠানো।’ আমি তাকে বললাম: ‘হে আমাদের মওলানা, আপনি ফয়সালা এবং যুক্তি উভয় ক্ষেত্রেই ভুল করেছেন। আপনি বিস্তারিত বা সামগ্রিকভাবে সঠিক কিছু বলেননি। আপনার এই কথা প্রত্যাখ্যানযোগ্য এবং আপনি যা দিয়ে দলিল দিচ্ছেন তা নিজেই বিবাদের বিষয়।’
এরপর রশীদের কাজী আরও বিতর্ক করলেন—আল্লাহ তাকে শুভবুদ্ধি দান করুন—এবং দাবি করলেন যে, উজির পাশার পক্ষ থেকে এই অধমের নিয়োগ সঠিক হয়নি। আমি তাঁর কথায় ভুল ধরে তা প্রত্যাখ্যান করলাম এবং তাকে বললাম: ‘বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি আপনি দাবি করছেন এবং বলছেন। আপনার কথার বিপরীতে বহু বর্ণনা বিদ্যমান। আপনার এই কথাটি নিছক ভুল বৈ কিছু নয়। আপনি যদি ‘আল-মুলতাকাত’ কিতাবের বক্তব্যের ওপর অবগত হতেন যেখানে বলা হয়েছে: ‘যে আমির কাজী নিয়োগ দেন তাঁর বিচারকার্য পরিচালনা করা জায়েজ, তেমনি কাজীর কাছে তাঁর পত্র পাঠানোও জায়েজ, যদি না কাজী খলিফার পক্ষ থেকে সরাসরি নিযুক্ত হন’, তবে আপনি এমন দাবি এবং অসার কথা থেকে বিরত থাকতেন।’
পরবর্তী যুগের জনৈক গবেষক আলেম ফতোয়া দিয়েছেন যে, মিসরের সুলতান কর্তৃক নিযুক্ত বিচারকের উপস্থিতিতে মিসরের পাশা কর্তৃক কোনো বিচারকার্য পরিচালনার জন্য অন্য কাউকে কাজী নিযুক্ত করা বাতিল বা অবৈধ, কারণ তাকে সেই ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। এই কথার মর্মার্থ সামান্যতম জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও অস্পষ্ট নয়। সুতরাং যে ব্যক্তির সামান্যতম মেধা আছে সে ফুওয়াহ শহরে কোনো কাজী না থাকার কারণে এই অধমের প্রতি পাশার দেওয়া নিয়োগের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ করবে না, যা উক্ত মুফতির ফতোয়ার মর্মার্থ থেকেই বোঝা যায়। আর এই ধরনের বিশেষ বিষয়ে উজির যে খলিফার প্রতিনিধি তা তো একটি জানা কথা। বরং আমরা আরও উচ্চতর কথা এই বলতে পারি যে, যদি কোনো গোলামকেও সুলতানের প্রতিনিধিত্বে কাজী নিয়োগ করা হয়, তবে তার বিচারকার্য পরিচালনা করা জায়েজ, যা বিজ্ঞ ইমামগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তাহলে সুলতানের উজির, তাঁর নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং সাহায্যকারীর নিয়োগের বিষয়ে কী বলার থাকে?! এটিই বিজ্ঞ ও সূক্ষ্মদর্শী আলেমগণ বর্ণনা করেছেন। আর জাহেল বা হঠকারী ব্যতীত কেউ এটি অস্বীকার করে না। আমরা জাহেলদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। সমস্ত প্রশংসা কেবল এক আল্লাহর জন্য।”
অতঃপর আমি এটি তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিলাম এবং তাকে বললাম: “আপনার এই প্রসিদ্ধ অজ্ঞতা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য এই রিসালাহটি একটি অভিযোগসহ মহামান্য উজিরের সমীপে পাঠানো আবশ্যক।” এরপর দ্বিতীয় দিন তিনি কিছুটা সংবিৎ ফিরে পেলেন এবং এই অধমের বাসভবনে এসে সাধ্যমতো ওজর পেশ করলেন। তিনি আমাদের কাছে এটি পেশ না করার অনুরোধ করলেন, তাই আমরা তাকে ক্ষমা করে দিলাম। তিনি সন্ধি কামনা করলেন, তখন আমরা পাঠ করলাম: “সুতরাং কোনো দোষ নেই।”