(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: -)
غرائب الاغتراب   (الألوسي، شهاب الدين)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: غرائب الاغتراب ونزهة الألباب في الذهاب والإقامة والإياب

المؤلف: شهاب الدين محمود بن عبد الله الحسيني الألوسي (ت 1270هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 222

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

গরাইবুল ইগতিরাব বা প্রবাসের বিস্ময়কর বিষয়াবলী   (আল-আলুসি, শিহাবউদ্দীন)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী


গ্রন্থ: গরাইবুল ইগতিরাব ওয়া নুযহাতুল আলবাব ফীয যাহাবি ওয়াল ইকামাত ওয়াল ইয়াব (প্রবাসের বিস্ময়কর ঘটনাবলী এবং গমন, অবস্থান ও প্রত্যাবর্তনে বুদ্ধিমানদের চিত্তবিনোদন)

লেখক: শিহাবউদ্দীন মাহমুদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হুসাইনি আল-আলুসি (মৃত্যু ১২৭০ হি.)

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২২

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌نص الكتاب

‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي أخذ بيدي فأوصلني على أكف الراحة إلى دار الخلافة وأعطاني ما قوى به خلدي فلم أضق ذرعاً فيما قطعته الرواسم من حدود المسافة والصلوة والسلام على سيدنا محمد الذي أشفر من سجف البطون ولا أثر يومئذ ولا عين فاستبشرت الأعيان الثابتة بأسفار فجر أسفار الظهور وسافر وقد هدأت العيون إلى مقام قاب قوسين فعاد وسهم الأمة من عوائد ذلك السفر موفور وعلى آله الذين اختيرت لهم طوالع السعد حلواً أو ارتحلوا وضربت عليهم قباب المجد أي بلدٍ دخلوا وأي منزل نزلوا.

وبعد فإنني خرجت من زوايا الزوراء منتهجاً أقوم طريق محمولاً من فضل الله تعالى على مطايا النعماء بأيدي رفيق التوفيق وذلك في غرة جمادى ستة من سنة سبع وستين من القرن الثالث عشر بعد هجرة سيد قرون الأولين والآخرين ولم أزل أطوي الفدافد وأنشر حسب الإمكان مطوي الفوائد مجتمعاً في كل بلد مع لبيدة وبليدة مستخبراً كل طالب علم عن طريفة وتليدة فوفقت في سيري حتى وقفت على أمور تحكي الصراط دقه واطلعت في سيري فاطلعت على أسرار تطيش لو قرنت بها في الميزان سجلات المشقة إلى أن نبذتني ويلمها نون سفينة الدخان بساحل خليج القسطنطينية وقد كادت) تبت يدا أبي لهبها (تريني النازعات لولا لطف الرحمن وبركة ما آتانيه تبارك اسمه من إخلاص النية وذلك في الثامن والعشرين من شهر رمضان السبع والستين وقد كنت كتبت بعض ما وفقت عليه قبل الوصول من غرائب محسوس وعجائب معقول إلا أني جاوزت في اختصار الكلام الحد حيث كان وقتي لاتساع دائرة الحزن بعد فراق العراق أضيق من خصر هند ودعد.

كأن الحزن دائرة بقلبي … فأوله وآخره سواء

ثم أني كتبت أيضاً ما اتفق لي في عودي إلى مسقط رأسي ومنبت عودي وسلكت في ذلك نحو ما سلكت أولاً من المسالك وأظنني أبدعت في كلا المسلكين وخفقت فيهما بأجنحة ما خفق بها أحد في الخافقين والعلة الحقيقية لهاتيك الكتابة القصد إلى مداواة ما بي من غلة علة الكآبة فإني قد ضاقت في فضاء تلك البوادي منافسي واتسعت في مضايق كربة الغرب وساوسي وعادتي أنه إذا ألم بي ألم أتداوى منه بعقاقير أرقام القلم وأسترقي برقي بحثه من شياطين الهموم وأبصل بطيب نفثه سحر النفاثات في عقد القوى من سحرة الغموم.
গ্রন্থের মূল পাঠ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমার হাত ধরেছেন, অতঃপর আমাকে অতি আরাম-আয়েশের সাথে খিলাফতের আবাসস্থলে পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমাকে এমন বিষয় দান করেছেন যা আমার অন্তরকে শক্তিশালী করেছে; ফলে দূরপাল্লার যাত্রায় দ্রুতগামী উটগুলো যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে, তাতে আমি বিন্দুমাত্র সংকীর্ণতা বা ক্লান্তি অনুভব করিনি। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি সেই সময় অদৃশ্যের পর্দা থেকে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন যখন কোনো চিহ্ন বা অস্তিত্ব ছিল না; অতঃপর তাঁর আবির্ভাবের ফজর উদিত হওয়ার সংবাদে স্থায়ী সারসত্তাগুলো (আইয়ানে সাবেতাহ) আনন্দিত হয়েছিল। তিনি এমন অবস্থায় ভ্রমণ করেছিলেন যখন জগতবাসী ঘুমে মগ্ন ছিল এবং তিনি ‘قاب قوسين’ (দুই ধনুকের ব্যবধান) মাকাম পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন; অতঃপর তিনি ফিরে এসেছেন এমনভাবে যে, সেই সফরের প্রাপ্তি থেকে উম্মতের জন্য রাখা অংশটি ছিল পরিপূর্ণ। আরও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি, যাঁদের জন্য সৌভাগ্যের উদয়কে নির্ধারিত করা হয়েছে—তাঁরা যেখানেই অবস্থান করুন বা যেদিকেই যাত্রা করুন না কেন; আর তাঁরা যে জনপদেই প্রবেশ করেছেন বা যে মঞ্জিলেই অবতরণ করেছেন, সেখানেই তাঁদের ওপর গৌরবের গম্বুজ স্থাপন করা হয়েছে।

অতঃপর, আমি আয-যাওরা (বাগদাদ)-এর নির্জন কোণ থেকে বের হয়েছি এবং আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে প্রাপ্ত নেয়ামতের সওয়ারিতে আরোহণ করে এবং তাওফীকের সুহৃদের সহায়তায় সরলতম পথ অনুসরণ করেছি। এটি ছিল পূর্বাপর সকল যুগের শ্রেষ্ঠ মানবের হিজরতের পর ত্রয়োদশ শতাব্দীর বারো শত সাতষট্টি (১২৬৭) হিজরি সালের জমাদিউল উলা মাসের শুরুতে। আমি ক্রমাগত মরুভূমি পাড়ি দিয়েছি এবং সাধ্যানুযায়ী জ্ঞানগর্ভ বিষয়গুলো প্রচার করেছি। প্রতিটি জনপদে আমি ছোট-বড় সাধারণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মিলিত হয়েছি এবং প্রত্যেক জ্ঞান অন্বেষণকারীর কাছ থেকে তার অর্জিত নতুন ও পুরাতন জ্ঞান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছি। আমার এই ভ্রমণে আমি সফল হয়েছি, এমনকি আমি এমন সব বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছি যা সূক্ষ্মতার দিক থেকে পুলসিরাতের ন্যায়। আমি আমার যাত্রাপথে এমন সব রহস্য অবগত হয়েছি যেগুলোর গুরুত্বের তুলনায় কষ্টের দীর্ঘ আমলনামাগুলো তুচ্ছ বলে গণ্য হবে। অবশেষে ধোঁয়া চালিত জাহাজের নূন (মাছ সদৃশ জলযান) আমাকে কনস্টান্টিনোপল (কুস্তুনতুনিয়া) উপসাগরের উপকূলে নিয়ে এল। ইঞ্জিনের আগুনের উত্তাপ এবং সফরের ভয়াবহতা প্রায় আমাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, যদি না পরম দয়াময় আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর বরকতময় নামের উসিলায় প্রাপ্ত আমার নিয়তের একনিষ্ঠতা আমাকে রক্ষা করত। এটি ছিল ১২৬৭ হিজরি সালের ২৮শে রমজান। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই আমি আমার দেখা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অদ্ভুত বিষয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আশ্চর্য বিষয়গুলোর কিছু অংশ লিখেছিলাম। তবে আমি বর্ণনায় অতিশয় সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছি, কারণ ইরাক ত্যাগের পর দুঃখের পরিধি এতটাই বিস্তৃত ছিল যে আমার সময়টি ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ।

দুঃখ যেন আমার হৃদয়ে একটি বৃত্তের মতো ... যার শুরু এবং শেষ উভয়ই সমান।

অতঃপর আমি আমার জন্মস্থান ও বেড়ে ওঠার স্থানে ফিরে আসার সময় যা ঘটেছিল তাও লিখেছি এবং এ ক্ষেত্রে আমি পূর্বের মতোই পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। আমার বিশ্বাস, আমি উভয় ক্ষেত্রেই মুন্সিয়ানা দেখিয়েছি এবং এমনভাবে অগ্রসর হয়েছি যা ইতিপূর্বে প্রাচ্য বা প্রতীচ্যের কেউ করতে পারেনি। এই গ্রন্থ রচনার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আমার ভেতরের বিষণ্ণতার যে তীব্রতা রয়েছে তার চিকিৎসা করা। কেননা সেই মরুভূমিগুলোর বিশালতায় আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল এবং প্রবাসের সংকীর্ণ ও কষ্টকর পরিবেশে আমার দুশ্চিন্তাগুলো বেড়ে গিয়েছিল। আর আমার অভ্যাস হলো, যখনই কোনো বেদনা আমাকে পেয়ে বসে, তখন আমি কলমের কালিরূপ ওষুধের মাধ্যমে তার চিকিৎসা করি। আমি আমার গবেষণার মন্ত্রের মাধ্যমে উদ্বেগের শয়তানগুলো থেকে মুক্তি খুঁজি এবং এর পবিত্র ফুৎকারের মাধ্যমে দুঃখের জাদুকরদের গিটগুলোতে থাকা জাদুকে অকেজো করে দেই।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২)
ولما قرت عيني بالإياب وفرت عني ولله الحمد آلام الاكتئاب وفزت برؤية الأهل والعيال وفريت بطن عادي الفراق بشفرة الوصال أحببت أن أفرد كتاباً أجمع فيه مجمل ما كان ذهاباً وإياباً وربما أحل في رحابه مشكلاً وأتصل في بعض أبوابه مجملاً وأستوفي حسب الإمكان ما كان لي في الإقامة معرضاً عن أشياء لم يمكنني ذكرها إلى يوم القيامة مترجماً بعض الأجلة مطلعاً في سمائه شموساً وبدوراً وأهله مبتدئاً بترجمة نفسي مع أني أحقر أبناء جنسي بل أهون من تبنه في لبنه ومن قلامه في قمامه ومن ذره بجنب دره ولكن قد تتقدم الخدم بين يدي السادة وتؤدي النافلة قبل فرض العبادة ومكان رقم الآحاد قبل مكان رقم عشرات الأعداد ولا يفسر الورد تأخره عن أغصانه ولا السنان كونه في أطراف مرانه مستطرداً سبب رحلتي وتحملي ما لاقيت في سباسب غربتي سالكاً في كل ذلك سبيل الاختصار والاقتصاد خوفاً من الملل الذي جبل عليه أكثر العباد وسميته " غرائب الاغتراب ونزهة الألباب في الذهاب والإقامة والإياب " سائلاً منه أن لا يذيق مقامي صاب الافتراء على بري ولا يريق مداد ذمي على أبيض الثياب نفي وهو سبحانه العاصم في الفواتح والخواتم وكأني بك تجده إن شاء الله تعالى كتاباً تشد إليه الرواحل وتطوي لنيل المنى من فصوله وأبوابه المنازل حيث تضمن مباحث لطيفة ومطالب شريفة ورسائل تقطر ظرفاً ومسائل ترشح لطفاً بنثر قرب حتى اطمع وبعد على المتناول حتى امتنع كأنه من شرخ الشباب مسروق ومن لذة وصال الأحباب مخلوق بل لعمري لو أن كلاماً أذيب به صخر أو أطفئ بما يرشح من أهابه جمر أو عوفي بمعانيه مريض أو أجبر بمبانيه مهيض لكان هو ذلك الكلام الذي يقود سامعيه من بني الآداب إلى السجود ويجري في شرايين قلب واعية من ذوي الألباب جري الماء في العود لكني لم ألتزم في جميعه هذا النثر وأي روض كله عطري الزهر وأصابع الكف غير متساوية في الوصف وليست كل آية أن تعي فاغرة فاها بفصاحة يا أرض ابلعي وما كل نجم سيار ولا جميع أجزاء الليل أسحار على أني كثيراً ما أترك النثر بالكلية وآتي بدله بعبارة أرجو أن تكون عند المنصف مرضية وذلك لتكون مائدتي للآذان ذات ألوان وأشربتي للأذهان ذوات خمور وألبان فالطعام الواحد يمل، وإن حلا وجل، وأكثر الأسماع اليوم طبيعتها إسرائيلية فهيهات أن تصبر على طعام واحد وإن كان من أطعمة شهية، هذا مع أن ذهني بأيدي التجليات، فربما لا تسلمه بيدي لأنسج به بعض الفقرات، وقد يشرد مني، ويكون مناط الثريا عني، فأضطر إلى كلام مغسول، لا أعقل فيه سوى أنه معقول، فرحم الله تعالى امرأً عذر وقنع مني بما حضر) ولنشرع بمقصود الكتاب (مما في نزهة الألباب متوكلين على مولى العباد، ومن منه تعالى المبدأ وإليه سبحانه المعاد) فأقول (خرج خالص لبن وجودي من بين فرث العدم ودم الإمكان، بيد حازب القدر إلى قعب عالم العيان، قبيل ظهر الجمعة رابع عشر من شعبان وذلك سنة سبع عشرة بعد المائتين والألف، من هجرة من لا يحيط بكماله نطاق وصف صلى الله تعالى عليه وسلم ما ولد مولود، وما وجد في عالم الكيان موجود، وقد أرخ عام ولادتي بكل من شطور بيتين تراهما عين الأديب لخد غانية الفصاحة كسالفين، الشاعر المجيد الأطرقجي الملا عبد الحميد فقال:

لقد أشرق البدر السماوي من بدا … سنا نوره عن مشرق لاح بالجود

أكمل الدين الحنيف مؤرخ … تكلمت العليا بميلاد محمود

যখন প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে আমার চক্ষু শীতল হলো এবং আল্লাহর প্রশংসায় আমার বিষণ্ণতার যাতনা দূরীভূত হলো, আর পরিবার-পরিজন দর্শনের মাধ্যমে আমি সফলকাম হলাম এবং মিলনের ক্ষুর দিয়ে বিচ্ছেদের শত্রুর পেট ফেড়ে ফেললাম, তখন আমি একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ সংকলন করতে মনস্থ করলাম, যেখানে যাওয়া এবং আসার মধ্যকার যাবতীয় ঘটনাপ্রবাহের সারসংক্ষেপ একত্রিত করব। এবং সম্ভবত এর পরিসরে আমি জটিল বিষয়াদির সমাধান করব, কিছু অধ্যায়ে সংক্ষেপে আলোচনা করব এবং অবস্থানকালীন আমার ঘটনাবলী সাধ্যমতো পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করব; তবে এমন কিছু বিষয় থেকে বিমুখ থাকব যা কিয়ামত পর্যন্ত আমার পক্ষে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। এতে আমি কতিপয় মহান ব্যক্তির জীবনী বর্ণনা করব, যার আকাশে সূর্য ও পূর্ণিমার চাঁদ এবং এর যোগ্য ব্যক্তিদের উদয় ঘটাব। আমি নিজের জীবনী দিয়েই শুরু করছি, যদিও আমি আমার শ্রেণির অধমতম ব্যক্তি, বরং আমি তার দুধে থাকা খড়কুটা থেকেও নগণ্য, তার আবর্জনার নখকাটা থেকেও তুচ্ছ এবং তার মুক্তার পাশে ধূলিকণা সদৃশ। তবে কখনো কখনো সেবকরা মনিবদের সম্মুখে অগ্রসর হয়, ফরজ ইবাদতের পূর্বে নফল আদায় করা হয় এবং এককের ঘরের সংখ্যা দশকের ঘরের সংখ্যার পূর্বে স্থান পায়। গোলাপ তার শাখা থেকে দেরিতে বের হওয়াকে দোষারোপ করে না, আর বর্শার ফলক তার অগ্রভাগে থাকাকে অপছন্দ করে না। আমি এতে আমার সফরের কারণ এবং পরবাসের মরুপ্রান্তরে যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি তা বিস্তারিত বর্ণনা করব। এই সবকিছুতেই আমি সংক্ষিপ্ত ও পরিমিত পথ অবলম্বন করেছি, পাছে পাঠকরা বিরক্ত না হয়ে পড়ে যা অধিকাংশ মানুষের মজ্জাগত স্বভাব। আমি এর নাম রেখেছি "প্রবাসের বিস্ময় ও গন্তব্য, অবস্থান ও প্রত্যাবর্তনে জ্ঞানীদের বিনোদন"। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার মর্যাদাকে আমার পুণ্যকর্মের ওপর মিথ্যারোপের তিক্ততা আস্বাদন না করান এবং আমার শুভ্র ও পবিত্র পোশাকে নিন্দার কালি না ছিটান। আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা আদি ও অন্তে রক্ষাকারী। আমার মনে হয়, ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি একে এমন এক কিতাব হিসেবে পাবেন যার উদ্দেশ্যে উট সাজিয়ে সফর করা যায় এবং এর পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়গুলো থেকে আকাঙ্ক্ষা অর্জনের জন্য মঞ্জিলসমূহ অতিক্রম করা হয়। কেননা এটি সূক্ষ্ম গবেষণা, উচ্চাঙ্গের উদ্দেশ্য, মাধুর্যপূর্ণ পত্রাবলী এবং ললিত সমস্যায় পরিপূর্ণ; এর গদ্যরীতি এতই নিকটবর্তী যে তা অর্জনের লোভ জাগায়, আবার হস্তগত করার জন্য এতই দূরবর্তী যে তা অসম্ভব মনে হয়। যেন এটি তারুণ্যের উন্মেষ থেকে চুরি করা এবং প্রিয়জনদের মিলনের স্বাদ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। বরং আমার জীবনের শপথ! যদি কোনো কথার মাধ্যমে পাথর গলানো যেত, কিংবা যার প্রবাহ থেকে নির্গত নির্যাস দ্বারা জ্বলন্ত অঙ্গার নিভিয়ে ফেলা যেত, অথবা যার অর্থের মাধ্যমে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থতা লাভ করত, কিংবা যার গাঠনিক সৌন্দর্যে কোনো ভগ্ন হৃদয় জোড়া লাগত—তবে তা অবশ্যই এই কালাম হতো; যা সাহিত্যমনা শ্রোতাদের সিজদা করতে বাধ্য করে এবং জ্ঞানীদের সচেতন হৃদয়ের ধমনীতে বৃক্ষের ভেতর পানির প্রবাহের ন্যায় প্রবাহিত হয়। কিন্তু আমি পুরো গ্রন্থে এই গদ্যরীতির অনুসরণ করিনি। কারণ এমন কোন বাগান আছে যার প্রতিটি ফুলই সুগন্ধিযুক্ত? হাতের সব আঙুলও বৈশিষ্ট্যে সমান নয়। আর প্রতিটি আয়াতই মুখগহ্বর উন্মুক্ত করে "হে জমিন! তুমি (পানি) গিলে ফেল" এমন অলঙ্কারপূর্ণ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ নয়। সব নক্ষত্রই বিচরণশীল নয় এবং রাতের সব অংশই শেষরাত নয়। তা সত্ত্বেও আমি অনেক সময় গদ্যরীতি পুরোপুরি ত্যাগ করেছি এবং তার পরিবর্তে এমন অভিব্যক্তি নিয়ে এসেছি যা আমি আশা করি ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির নিকট সন্তোষজনক হবে। যাতে শ্রবণেন্দ্রিয়ের জন্য আমার দস্তরখান হয় বৈচিত্র্যময় এবং মেধার জন্য পানীয় হয় জ্ঞান ও মাধুর্যের আধার। কারণ একঘেয়ে খাবার বিরক্তি সৃষ্টি করে, যদিও তা সুস্বাদু ও মহান হয়। আর বর্তমানে অধিকাংশ শ্রোতার প্রকৃতি হলো ইসরায়েলিদের মতো; তারা কখনোই এক প্রকার খাদ্যের ওপর ধৈর্য ধরতে পারে না, যদিও তা সুস্বাদু খাদ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর সাথে আমার মেধা হলো ঐশ্বরিক জ্যোতি বা তাজাল্লিয়াতের হাতে; সম্ভবত তারা আমার হাতে তা সমর্পণ করে না যাতে আমি কিছু অনুচ্ছেদ রচনা করতে পারি। কখনো কখনো তা আমার থেকে পলায়ন করে এবং সুরাইয়া নক্ষত্রের ন্যায় আমার নাগালের বাইরে চলে যায়। তখন আমি সাদাসিধে কথা বলতে বাধ্য হই, যার সম্পর্কে আমি এটুকু ছাড়া আর কিছু বুঝি না যে তা বোধগম্য। সুতরাং আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যে ওজর কবুল করে এবং আমার পক্ষ থেকে যা উপস্থিত হয়েছে তাতেই তুষ্ট থাকে। আসুন আমরা বান্দাদের প্রতিপালকের ওপর ভরসা করে 'নুযহাতুল আলবাব' কিতাবের উদ্দেশ্য শুরু করি। আল্লাহ তাআলার নিকট থেকেই সবকিছুর শুরু এবং তাঁর নিকটই প্রত্যাবর্তন। আমি বলছি: (তকদিরের ফয়সালাকারীর হাতে আমার অস্তিত্বের খাঁটি দুগ্ধ শূন্যতার গোবর এবং সম্ভাব্যতার রক্তের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান জগতের পেয়ালায় নির্গত হয়েছে, জুমার নামাজের কিঞ্চিৎ পূর্বে, ১২১৭ হিজরি সনের ১৪ই শাবান; যাঁর কামালের (পরিপূর্ণতা) পরিধি কোনো বর্ণনার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয় তাঁর হিজরতের বছর থেকে। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন যতক্ষণ কোনো নবজাতক জন্মগ্রহণ করে এবং যতক্ষণ এই মহাবিশ্বে কোনো অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে। একজন সুদক্ষ সাহিত্যিকের চোখে যা অলঙ্কারশাস্ত্রীয় রূপসীর গালের দুটি তিল সদৃশ মনে হবে, এমন দুটি পঙক্তির প্রতিটি চরণের মাধ্যমে আমার জন্মের বছরকে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ করেছেন প্রখ্যাত কবি আল-আত্বরাকজি মোল্লা আব্দুল হামিদ। তিনি বলেছেন:

আকাশের পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হয়েছে যখন তার আলোর ছটা … দানশীলতার উদয়াচল থেকে উদ্ভাসিত হলো

সুসংহত হানিফ দ্বীনের তারিখ রচয়িতা বলেছে … উচ্চতর জগত মাহমুদের জন্মে মুখরিত হয়েছে

(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ৩)
وأثر ما فطمت من ارتضاع الألبان، شرعت أتحسى در قراءة القرآن وبعيد ما حل عني بند قماط الطفولية، عقد على لواء حفظ المقدمة الأجرومية وريثما كسرت عني البيضة حبست في قفص مكتب الملا حسين الجبوري فأوفر من حسن تعليمه إياي الكتاب العظيم حبوري، وهو رجل قد كتب على أسارير جبهته الطلاح، ووفق للتقوى فرح على صفحات وجهه أنوار الفلاح، وكان مقيماً في مسجد قرب سوق حمادة، وقد أقام فيه رحمة الله تعالى عليه سوق العبادة، وقبل أن أبلغ من تسدية ما بين الدفتين الأمنية، طويت على نول قلبي رداء حفظ الأجرومية، وفي أثناء ذلك حفظت ألفية ابن مالك، وقرأت غاية الاختصار في فقه الشافعية، وحفظت في علم الفرائض المنظومة الرحبية، كل ذلك عند والدي أسكنه الله تعالى أعلى عليين، وكان قبل أن أبلغ من العمر سبع سنين، ثم أني لم أزل أقرأ عنده، وأحسو دره وشهده، حتى استوفيت الغرض من علم العربية وحصلت طرفاً جليلاً من فقهي الحنفية والشافعية، وأحطت خبراً ببعض الرسائل المنطقية، والكتب الشريفة الحديثية، وكان عليه الرحمة يزقني العلم ليلاً ونهاراً، ويزقني إن ونيت سراً وجهاراً، ولما بلغت من العمر عشراً، أذن لي بالقراءة عند غيره ولم يرهقني عسراً،) فقرأت (على أن عمي الأمجد) السيد علي بن السيد أحمد (شرح القوشجي للرسالة الوضعية العضدية، ووقفت والحمد لله تعالى على مضمراتها وإشاراتها الخفية) وقرأت (عليه أيضاً حواشيها، وأزلت بمراجعة الوالد عليه الرحمة غواشيها وهو رجل في بيتنا ربا، ولم يعرف غير أبي أباً، وأقرأه معظم العلوم القلية، وطرفاً يسيراً من العلوم العقلية، ومعظم قراءاته المعقول عند من تقصر عن طويل شرح حاله عبارتي) صبغة الله أفندي (بن الملا مصطفى العلي الزيارتي، ثم اضطره ضعف الحال، فسلك طريق الاكتساب لدفع ضرورة العيال، حتى أشكل عليه البديهي الأول، ولا يكاد يفهمه إياه إلا ابني أو ولي،) وقرأت (شرح آداب البحث المسمى بالحنفية على رجل يدعى) ملا درويش بن عرب خضر (في المدرسة الأحمدية وهو ممن أخذ العلم من العالم الرباني) الشيخ عبد الرحمن أفندي (المدرس الروزبهاني، خريج صبغة الله أفندي المذكور، ضوعفت لنا ولهم الأجور وذلك بعد أن قرأت منه درساً واحداً عند محمد أفندي بن أحمد أفندي مدرس السليمانية فلم أفهم منه ما قال كما لم يفهم مني ما قلت كأن بعضنا يتكلم بالعربية والآخر بالعبرانية،) وقرأت (حواشي الرسالة المذكورة، للفاضل مير أبو الفتح مع حواشيه المشهورة، وكذا آداب المسعودي والغ وعبد اللطيف وشرح السراجة في الفرائض للسيد الشريف، وأبعاض كتب عديدة ورسائل مفيدة، على ذي الأخلاق المستجادة) عبد العزيز أفندي شواف زادة (، وهو أيضاً ممن تخرج على الفاضل الأوحدي، الزيارتي، صبغة الله أفندي، وكان علم العلم ومناره، ومقتبس الفضل ومستناره شمائله معبرة عن لطف النسيم، ومحاوراته محدثة عن لذة التنسيم، ذا مزح أطيب من نفس الحبيب، وروح أخف من مغيب الرقيب.

ففيه مجال للتواضع والعلى … وفيه نصيب للفكاهة والجد
দুগ্ধপান থেকে বিরত হওয়ার পরপরই আমি কুরআন পাঠের মুক্তা আস্বাদন করতে শুরু করি। শৈশবের জড়ানো কাপড় খোলার অল্প সময় পরেই আল-মুকাদ্দিমাতুল আজরুমিয়্যাহ মুখস্থ করার ঝান্ডা আমার জন্য উত্তোলন করা হয়। আমি যখন ডিম্বাবরণ থেকে বেরিয়ে এলাম, তখন আমাকে মোল্লা হুসাইন আল-জুবুরীর মক্তবের খাঁচায় রাখা হলো। তাঁর উত্তম শিক্ষার মাধ্যমে মহান কিতাব (কুরআন) বিষয়ে আমার আনন্দ বহুগুণে বৃদ্ধি পেল; তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন যাঁর ললাটরেখায় মঙ্গলের চিহ্ন অঙ্কিত ছিল এবং তিনি তাকওয়ার তাওফীকপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে তাঁর চেহারা হতে কামিয়াবীর নূর বিচ্ছুরিত হতো। তিনি হামাদা বাজারের কাছের এক মসজিদে অবস্থান করতেন এবং সেখানে তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—ইবাদতের বাজার কায়েম করেছিলেন। কুরআন মাজীদ সমাপ্ত করার আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়ার পূর্বেই আমি আমার হৃদয়ের তাঁতে আজরুমিয়্যাহ মুখস্থ করার চাদর বুনে ফেলেছিলাম। এরই মাঝে আমি আলফিয়্যাতু ইবনি মালিক মুখস্থ করি এবং শাফেয়ী ফিকহের গয়াতুল ইখতিসার পাঠ করি। আর ফারায়েয শাস্ত্রে মানযুমাতুর রাহবিয়্যাহ মুখস্থ করি; এই সব কিছুই আমার পিতার নিকট সম্পন্ন হয়েছিল—আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইল্লিয়্যিনের সর্বোচ্চ স্থানে আসীন করুন। তখন আমার বয়স সাত বছর পূর্ণ হয়নি। এরপর আমি নিরন্তর তাঁর কাছে পড়তে থাকি এবং তাঁর জ্ঞানসমুদ্রের মুক্তা ও মধু আস্বাদন করতে থাকি, যতক্ষণ না আমি আরবি ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করি এবং হানাফী ও শাফেয়ী ফিকহে অগাধ পাণ্ডিত্য লাভ করি এবং তর্কবিদ্যার কিছু রিসালা ও হাদীস শাস্ত্রের মর্যাদাপূর্ণ কিতাবাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করি। তিনি—তাঁর ওপর রহমত বর্ষিত হোক—দিবারাত্র আমাকে ইলম দান করতেন এবং আমার অলসতার সময়ও গোপনে ও প্রকাশ্যে আমাকে জ্ঞান দানে সচেষ্ট থাকতেন। যখন আমার বয়স দশ বছর হলো, তিনি আমাকে অন্যের নিকট পড়ার অনুমতি দিলেন এবং আমার ওপর কোনো কঠোরতা আরোপ করলেন না। এরপর আমি (আমার সম্মানিত চাচা) সাইয়্যিদ আলী বিন সাইয়্যিদ আহমাদ-এর নিকট (রিসালাতুল ওয়াদয়্যিাহ আল-আদুদীয়্যাহর ওপর আল-কুশজীর শারহ পাঠ করি এবং আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি এর অন্তর্নিহিত ও সূক্ষ্ম বিষয়গুলো অবগত হই)। আমি (তাঁর কাছে এর হাশিয়াগুলোও পাঠ করি এবং আমার পিতার—তাঁর ওপর রহমত বর্ষিত হোক—সহায়তায় এর জটিল বিষয়গুলো নিরসন করি)। তিনি আমাদের ঘরেই লালিত-পালিত হয়েছিলেন এবং আমার পিতা ব্যতিরেকে অন্য কাউকে পিতা হিসেবে জানতেন না। পিতা তাঁকে অধিকাংশ নকলী (বর্ণনামূলক) শাস্ত্র এবং সামান্য আকলী (যুক্তিনির্ভর) শাস্ত্র পড়িয়েছিলেন। আর তাঁর অধিকাংশ আকলী শাস্ত্রের পাঠ যার কাছে সম্পন্ন হয়েছে—যাঁর গুণের কথা বর্ণনা করা আমার ভাষার অতীত—তিনি হলেন (সিবগাতুল্লাহ আফেন্দী বিন মোল্লা মুস্তফা আল-আলী আয-যিয়ারতী। পরবর্তীতে অবস্থার প্রতিকূলতায় তিনি জীবিকার পথে পা বাড়ান যাতে পরিবারের প্রয়োজন মেটানো যায়, যার ফলে তাঁর নিকট প্রাথমিক বিষয়গুলোও অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং আমার পুত্র বা কোনো অভিভাবক ছাড়া তাঁর পক্ষে তা বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল)। আর আমি (আদাবুল বাহাসের শারহ যা হানাফিয়্যাহ নামে পরিচিত তা জনৈক) মোল্লা দরবেশ বিন আরব খিজর-এর নিকট (আহমাদিয়া মাদরাসায় পাঠ করি। তিনি ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যাঁরা রব্বানী আলেম) শেখ আব্দুর রহমান আফেন্দী (মুদাররিস আল-রূযবেহানী)-র নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, যিনি উক্ত সিবগাতুল্লাহ আফেন্দীর ছাত্র ছিলেন; আল্লাহ আমাদের ও তাঁদের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিন। উল্লেখ্য যে, আমি পূর্বে মুহাম্মাদ আফেন্দী বিন আহমাদ আফেন্দী—যিনি সুলায়মানিয়ার মুদাররিস—তাঁর নিকট এর একটি দরস পাঠ করেছিলাম কিন্তু আমি তাঁর কথা বুঝতে পারিনি এবং তিনিও আমার কথা বুঝতে পারেননি; যেন আমাদের একজন আরবিতে আর অন্যজন হিব্রু ভাষায় কথা বলছিলাম। এবং আমি (উক্ত রিসালার হাশিয়াগুলো পাঠ করি যা ফাযেল মীর আবু ফাতহ-এর রচিত, সাথে তাঁর প্রসিদ্ধ হাশিয়াগুলোও। তদ্রূপ আদাবুল মাসউদী, আল-গ ও আব্দুল লতিফ এবং ফারায়েয শাস্ত্রের সাইয়্যিদ শরীফ কৃত শারহুস সিরাজিয়্যাহসহ অসংখ্য কিতাব ও উপকারী রিসালার অংশবিশেষ উত্তম চরিত্রের অধিকারী) আব্দুল আজীজ আফেন্দী শাওওয়াফ জাদা-র নিকট পাঠ করি। (তিনিও ফাযেল-ই-একক আয-যিয়ারতী সিবগাতুল্লাহ আফেন্দীর নিকট শিক্ষা সমাপন করেছিলেন। তিনি ছিলেন ইলমের ঝান্ডা ও মিনার, ফযীলতের উৎস ও আলো। তাঁর স্বভাব ছিল মৃদুমন্দ বাতাসের ন্যায় স্নিগ্ধ এবং তাঁর বাক্যালাপ ছিল জান্নাতের সুবাতাসের ন্যায় তৃপ্তিদায়ক। তাঁর রসিকতা ছিল প্রিয়জনের নিঃশ্বাসের চেয়েও উত্তম এবং তাঁর আত্মা ছিল প্রহরীর অন্তর্ধানে পাওয়া স্বস্তির চেয়েও হালকা।

তাঁর মাঝে বিনয় ও উচ্চমর্যাদার সমন্বয় ঘটেছিল … এবং তাঁর মাঝে কৌতুক ও গাম্ভীর্যের সঠিক অংশ বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ৪)
وكان عليه الرحمة مشهوراً بعلم العربية بين القاصي والداني حتى أنه كان يدعى لمهارته فيه بسيبويه الثاني، وقد قرأ ذلك على والده جليل الأوصاف الفقيه الشهير الملا محمود الشواف، وكان غواص تأمله يستخرج الدرر وقلما يجيب جواباً بأول النظر، ولا يأنف من قول لا أدري، ويجري مع الحق حيث يجري، وما رأيته غلظ في جواب، بل كان يسكت أو ينطق بالصواب، وكان أبعد العلماء من حمى المأثم، غير أنه للطفه يصحب الجنيد ويحيى بن أكثم، وغالب تدريسه في مسجد خال خاله ذي الصلاح، بل ولى الله تعالى بلا نزاع شيخ والدي الملا عبد الفتاح، وفي حجرته التي كان يدرس فيها دفن، فيا لها من مدفن بكل خير قمن، وسبب ذلك تعذر الوصول إلى المقابر لكثرة الماء وقلة الناصر، فقد طغى الماء ودخل البلد أيام الطاعون، وجرت من عيون السور على المطعونين عيون، ولا تكاد تجد لكثرة الموتى في الكرخ غير الشيخة الفانية والشيخ، ولذا كثر الدفن في المساجد والطرق والبيوت ومن الموتى من كان قبره جوف كلب أو بطن حوت، وكان ذلك من شهر شوال إلى غرة ذي الحجة الحرام، سنة ست وأربعين بعد المائتين والألف من هجرته عليه الصلوة والسلام،) وقرأت (من شرح الوضعية لمولانا عصام، إلى ما يعانق من الرسالة الختام، على ذي الفضل الجليل الجلي) السيد محمد أمين بن السيد علي الحلي (وكان رب فصاحة وبيان، يخيل منه إذا نطق أن كلاً من أعضائه لسان.

إذا ارتج الخطاب بدا خليج … بفيه كأنه بحر الكلام

كلام أم مدام أم نظام … من الياقوت أم حب الغمام

إلا أنه كان مولعاً بنقل الغريب، ولا يبالي إذا تكلم أيخطئ أم يصيب وقد كثر لغطه، فكثر غلطه، ولم ينق ما في سفطه، فسقط كلامه عن القبول، لوافر سقطه، مع أنه أذكى من أياس، وذهنه أضوأ من نبراس، وكان أكثر قراءته على الملا عبد العزيز أفندي المذكور، قرأ عليه علوم العربية لما أنه في إتقانها مشهور، وقرأ على ذي المقام العلا، علاء الدين مولانا علي أفندي الموصلي، ولم يتحمل لسع نحل أخلاقه، ولم يستطب طبعه واستبشع مر مذاقه، فترك درسه الذي ماله في الحلاوة ثاني، وقرأ على الفاضل) عبد الرحمن أفندي الروزبهاني (وقبل أن يتخرج خرجت إلى الملأ الأعلى روحه، وتوفي في الطاعون بعد أن برأت بمرهم منصب الإفتاء جروحه) ولما (انقضت ثلاث عشرة سنة من عمري، وأنا مهتم في التحصيل وإصلاح أمري،) شرعت (بالقراءة مع إخلاص النية، وافتتحت بالخاتمة من شرح عصام للرسالة الوضعية، عند واحد العلماء، وأوحد الفضلاء، الضارب في كل فن بسهم، والقارع صفاة كل قريحة وفهم، فارس ميدان المباحث والحبر الذي عزز العلامتان منه بثالث، ذي القدم الراسخة في جميع العلوم والرتبة الشامخة التي دون رفعتها النجوم، ذي القدر الأعلى) علاء الدين أفندي الموصلي (، ولم أزل أقرأ عنده، وأستنشق ريحه ورنده، إلى من تخرجت به وتأدبت بأدبه، وكان عليه الرحمة ذا ذهن يحل كل عويصة ضامن، ووقار كان ثبيراً فيه كامن، وأدب زرت على أعناق الإعجاز جيوبه، وهبت بغوالي غواني الإبداع صباه وجنوبه، إلى عبارات عذبة شريفة، وإشارات ظريفة لطيفة، وألفاظ رائقة، ومعان فائقة، والحق أنه كان في كل علم آية الله تعالى الكبرى، وجنته التي لا يجوع فيها طالب علم ولا يعرى.

هو الشمس علماً والجميع كواكب … إذا ظهرت لم يبق منهن كوكب

بيد أنه لضيق ذات يده ضاق صدره، ولمزيد كلف في نجم سعده كلف بدره ولذلك ساءت أخلاقه، وشائت فراقه رفاقه.

كان لا يدري مداراة الورى … ومداراة الورى أمر مهم
এবং তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, তিনি নিকট ও দূরের সবার মাঝে আরবী ভাষায় পাণ্ডিত্যের জন্য অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ছিলেন, এমনকি তাঁর অনন্য দক্ষতার কারণে তাঁকে 'দ্বিতীয় সিবওয়াইহ' বলে ডাকা হতো। তিনি এই শাস্ত্র তাঁর পিতা, সুমহান গুণাবলীর অধিকারী ও প্রখ্যাত ফকীহ মোল্লা মাহমুদ আল-শাওওয়াফের কাছে অধ্যয়ন করেছিলেন। তাঁর গভীর চিন্তাশক্তির ডুবুরি ইলমের মুক্তা আহরণ করত এবং তিনি গভীরভাবে চিন্তা না করে খুব কমই কোনো উত্তর দিতেন। তিনি 'আমি জানি না' বলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করতেন না এবং সত্য যেদিকে যেত তিনিও সেদিকেই চলতেন। আমি তাঁকে কখনও উত্তরের ক্ষেত্রে রূঢ় হতে দেখিনি, বরং তিনি হয় চুপ থাকতেন অথবা সঠিক কথাটি বলতেন। তিনি আলেমদের মধ্যে পাপের স্পর্শ থেকে সবচেয়ে দূরে ছিলেন, তবে তাঁর বিনম্র স্বভাবের কারণে তিনি জুনায়েদ বাগদাদী ও ইয়াহইয়া ইবনে আকসামের ন্যায় ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করতেন। তাঁর অধিকাংশ পাঠদান হতো তাঁর মামার 'মসজিদে খাল'-এ, যিনি ছিলেন একজন পুণ্যবান ব্যক্তি; বরং তিনি ছিলেন আমার পিতার শায়খ মোল্লা আবদুল ফাত্তাহ, যাঁর আল্লাহর ওলী হওয়ার বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। যে কক্ষে তিনি পাঠদান করতেন সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, কতই না উত্তম সমাধিস্থল তা! এর কারণ ছিল অতিরিক্ত লাশের ভিড় এবং সাহায্যকারীর অভাবের কারণে সাধারণ গোরস্থানে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। প্লেগের দিনগুলোতে পানি উপচে শহরে ঢুকে পড়েছিল, আর প্রাচীরের ঝর্ণাগুলো থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চোখের জল প্রবাহিত হচ্ছিল। কেরখ এলাকায় অধিক মৃত্যুর কারণে তখন বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ছাড়া আর কাউকেই খুঁজে পাওয়া যেত না। এ কারণে মসজিদ, রাস্তা এবং বাড়িঘরে দাফনের আধিক্য দেখা দিয়েছিল। এমনকি মৃতদের মধ্যে এমনও কেউ ছিল যার কবর হয়েছিল কুকুরের পেট বা মাছের পেট। এটি ছিল হিজরি ১২৪৬ সালের শাওয়াল মাস থেকে জিলহজ মাসের শুরু পর্যন্ত। আর আমি মাওলানা ইসামের 'শরহে ওয়াজিয়্যাহ' এর শুরু থেকে রিসালার সমাপ্তি পর্যন্ত পড়েছি সুমহান ফযিলতের অধিকারী জনাব সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমীন বিন সাইয়্যেদ আলী আল-হিল্লির কাছে। তিনি ছিলেন বাগ্মিতা ও সাবলীল বর্ণনার অধিপতি। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন মনে হতো তাঁর প্রতিটি অঙ্গ যেন একটি জবান বা জিব।

যখন বক্তব্য জটিল হয়ে পড়ে তখন তাঁর মুখে এক প্রবাহ দেখা দেয় … যেন তা কথার সমুদ্র।

এ কি কথা নাকি শরাব নাকি সুশৃঙ্খল মালা … ইয়াকুত পাথর নাকি মেঘের বৃষ্টিবিন্দু?

তবে তিনি দুর্লভ বিষয়গুলো উদ্ধৃত করার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন এবং কথা বলার সময় তা সঠিক হলো নাকি ভুল হলো সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করতেন না। তাঁর অনর্থক কথা অনেক ছিল, তাই তাঁর ভুলও ছিল অনেক। তিনি তাঁর ভাণ্ডারে জমা করা কথাগুলো পরিশোধন করতেন না, ফলে তাঁর কথার গ্রহণযোগ্যতা কমে গিয়েছিল তাঁর প্রচুর স্খলনের কারণে। যদিও তিনি ইয়াস আল-কাদীর চেয়েও মেধাবী ছিলেন এবং তাঁর প্রজ্ঞা প্রদীপের চেয়েও উজ্জ্বল ছিল। তাঁর অধিকাংশ পড়াশোনা ছিল উল্লিখিত মোল্লা আবদুল আজিজ আফেন্দির কাছে; তিনি তাঁর কাছে আরবী ভাষার জ্ঞান অর্জন করেছিলেন কারণ তিনি তাতে পারদর্শিতার জন্য সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী আলাউদ্দিন মাওলানা আলী আফেন্দি আল-মুসেলির কাছেও পড়েছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর উগ্র স্বভাবের তীক্ষ্ণতা সহ্য করতে পারেননি এবং তাঁর মেজাজকে প্রীতিকর মনে করেননি বরং তা তিক্ত লেগেছিল। তাই তিনি তাঁর সেই পাঠ ত্যাগ করেছিলেন যার মাধুর্যের কোনো দ্বিতীয় উদাহরণ নেই। এরপর তিনি বিদগ্ধ পণ্ডিত আবদুর রহমান আফেন্দি আল-রুজবাহানির কাছে পড়েন। কিন্তু তিনি পড়াশোনা শেষ করার আগেই তাঁর রূহ উর্ধ্বলোকে চলে যায়; প্লেগের সময় মুফতি পদের মলম দিয়ে তাঁর ক্ষত নিরাময় হওয়ার পরই তিনি ইন্তেকাল করেন। যখন আমার বয়সের তেরো বছর অতিবাহিত হলো এবং আমি ইলম অর্জন ও নিজের অবস্থার সংশোধনে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলাম, তখন আমি শুদ্ধ নিয়তে পড়াশোনা শুরু করলাম। আমি আলেমদের মধ্যে অদ্বিতীয় ও বিদগ্ধজনদের মধ্যে অনন্য, সকল শাস্ত্রে পারদর্শী, প্রতিটি মেধা ও প্রজ্ঞার কপাট উন্মোচনকারী, বিতর্ক ময়দানের অশ্বারোহী এবং সেই মহান পণ্ডিত যাঁর মাধ্যমে অপর দুই আল্লামার মহিমা পূর্ণতা লাভ করেছে, সেই ব্যক্তিত্বের কাছে মাওলানা ইসামের 'শরহে রিসালা আল-ওয়াজিয়্যাহ' এর সমাপনী অংশ দিয়ে পাঠ শুরু করলাম। তিনি ছিলেন সকল শাস্ত্রে সুদৃঢ় পদচারণার অধিকারী এবং সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী যাঁর মহিমার সামনে নক্ষত্ররাজি অতি নগণ্য; তিনি হলেন সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আলাউদ্দিন আফেন্দি আল-মুসেলি। আমি নিরবচ্ছিন্নভাবে তাঁর কাছেই পড়ছিলাম এবং তাঁর ইলমের সুবাস নিচ্ছিলাম যে পর্যন্ত না আমি তাঁর মাধ্যমেই পাঠ সম্পন্ন করি এবং তাঁর শিষ্টাচারে সুশোভিত হই। তিনি (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এমন এক তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন যা সব জটিল সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করত। তাঁর মাঝে এমন গাম্ভীর্য ছিল যেন তাতে সাবিরা পাহাড় লুকিয়ে আছে। তাঁর আদব ও শিষ্টাচার ছিল অতি চমৎকার, আর তাঁর সৃজনশীলতা ছিল সুগন্ধি মলয় বাতাসের মতো। তাঁর প্রকাশভঙ্গি ছিল অত্যন্ত সুমিষ্ট ও মার্জিত, ইঙ্গিত ছিল সূক্ষ্ম ও ললিত, শব্দাবলি ছিল মনোরম এবং অর্থ ছিল অতুলনীয়। সত্য বলতে, তিনি ছিলেন প্রতিটি শাস্ত্রে মহান আল্লাহর এক মহা নিদর্শন এবং তাঁর সেই জান্নাত স্বরূপ যেখানে ইলম অন্বেষণকারী কোনোদিন ক্ষুধার্ত বা বস্ত্রহীন থাকে না।

তিনি ইলমের সূর্য আর বাকি সবাই নক্ষত্র … যখন তিনি উদিত হন তখন কোনো নক্ষত্রই আর দৃশ্যমান থাকে না।

তবে চরম দারিদ্র্যের কারণে তাঁর মন সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং ভাগ্যের বিরূপ প্রভাবে তাঁর জীবন প্রদীপে অন্ধকার নেমে এসেছিল। সেই কারণে তাঁর স্বভাব কিছুটা রুক্ষ হয়ে গিয়েছিল এবং তাঁর সঙ্গীরা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চেয়েছিল।

তিনি মানুষের সাথে মানিয়ে চলতে পারতেন না … অথচ মানুষের সাথে মানিয়ে চলা একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ৫)
وعلى العلات أن حظه حطه، وأوفر من الحرمان قطه، وأعانه على ذلك الزمان المشوم، والدهر الجائر الغشوم، ومن العجيب أن داود باشا على فضله لم يعرف فضله، وأحله في غير محله وما أجله وذلك لأنه ما صانعه ولا داراً، ولم يكن في دفتره لما كان دفتر داراً، واتفق أن أمر له إذ ذاك ببرده، فأبى أن يقبل كرمه في المجلس ورده، فأضمر ذلك في نفسه حتى استوزر، فأظهر من سوء معاملته إياه ما أظهر، وكان يتتبع عثاره ويزيد بعثير الغارة عليه غباره، حتى أنه أمر بنفيه إلى الحدباء، فحدب عليه ورجا إثباته بعض أجلاء الزوراء، فأثبت ولكن في هم لا يحد، وبقي منكسر القلب إلى أن ضمه اللحد، وقد ضم في شهر ضم أباه، وكان تاريخ ذلك قولي) عنهما رضى الإله (ودرج على الأثر في الطاعون جميع أهله وبنيه وبقي بيته خالياً ليس سوى الصدا والحزن فيه.

أتى على القوم أمر لا مرد له … حتى قضوا فكأن القوم ما كانوا

وصار ما كان من علم ومن أدب … كما حكي عن خيال الطيف وسنان

ولم يتخرج عليه إلا جمع هم أقل من أنصاف الزمان، بل المتخرج إذا تتبعت واحد أو اثنان، وذلك لقلة تحمل الطلبة كثرة دله، وعدم وقوفهم على وافر فضله ولا ينقص العالم قلة طلبته، كما لا ينقص النبي عدم أمته، وأنا ولله تعالى الحمد صبرت على مره، وصيرت شغلي السعي في صفاء سره، وتأدبت معه غاية الأدب، وانتهى أداء رسم خدمتي إياه إلى حد العجب، وإني لأرجو أن أنال ببركة ذلك مزيد الآلاء، فبركة بركة خدمة الشيخ بحر لا تنزحه الدلاء) وكان له شعر (تحكيه غمزات الجفون الوطف، وتماثله إشارات البنان الذي يكاد ينعقد من اللطف، ويضاهيه السحر إلا أنه خال عن تعقيد العاقد ويشبهه الدر، إلا أنه كله فرائد، فمن فرائده المنظومة، ونوافج مسكه المختومة التي تغار منها درر الأسلاك، وتغور لحسنها دراري الأفلاك، قوله غمره إحسان الله تعالى وفضله:

لئن لم تشاهدني أخافش أعين … فلي من عيون الفضل شاهد رؤية

وإن أنكرتني الحاسدون تجاهلاً … كفاني عرفاني بقدري وقيمتي

يمثلني بالمد عين مكابر … وقد حكم الفضل اختلاف الحقيقة

فأيان شمس الاستواء من السهى … وأين زلال من سراب بقيعة

وليس الذي في الناس كالحي ميته … لفضل وأفضال كحي كميت

وقوله:

وبي أهيف حلو الدلال مهفهف … مليح التثني ساحر اللحظ أغيد

حكى قده سمر القنا وجفونه … حكي البيض والثغر الأقاح المنضد

ترقرق ماء الحضن في وجناته … على أن فيه جمرة تتوقد

كتمت هواه عن سواه فليس لي … به عاذل يرمي ولا لي مفند

وفي هذه الدنيا ملاح كثيرة … وليس كمثل السيد المتسود

قد امتزجت روحي قديماً بروحه … وقام لنا في عالم الذر مشهد

له مقلة تعطي الصبابة حقها … وأخرى حقوق الحسن ترعى فتجحد

ويعجبني منه إذا مر في ملا … يصد كما صد الغزال ويحرد

وإن خلوة حانت أبان دلاله … فنون ابتهاج هكذا الحب يحمد

أوحده في الحب فليشهد الورى … بأني في دين الغرام موحد

أجدد فيه كل يوم صبابة … بها يقتدي أني الإمام المجدد

وقوله:

ما غير ندب على الأيام ينتدب … ولا سوى نجب تخدي لها النجب

وليس كل فتى يدعى لحادثة … ولا بكل ملاذ تكشف الكرب

وليس يدفع من ضيم وينفع من … مؤمل قط إلا السرج والقتب

لا أكذبنك ما صبح كغاشية … ولا بمغن غناء الأثمد الترب

هذا الزمان لحاه الله همته … أن لا يرى عنده حاج ولا أرب

وفي ضمير الليالي أن تكلفني … خلق الذي أنا وهو الرأس والذنب

لا أسعد الله جدي إن أكن رجلاً … يشين عرض علاه الجاه والنسب

وزند فضلي يوماً أن قدحت به … زند اللئام فلا جافتني النوب

لا أرتقي الرتبة القعسا وسلمها … نقصي ولو خدمتني السبعة الشهب

أأبتغي عز نفسي في مذلتها … وأيمن الله هذا المطمع العجب

وأدعي المجد والعليا وتملكي … كف الأماني لعمري هكذا الكذب

على حرثي وبذلي في مواسمه … وما على إذا لم تسعد السحب
সর্বাবস্থায় তার ভাগ্য তাকে অবনমিত করেছে এবং বঞ্চনা থেকে তার অংশ ছিল অধিক। একে আরও ত্বরান্বিত করেছে অশুভ সময় এবং অত্যাচারী ও অবাধ্য কাল। বিস্ময়কর বিষয় এই যে, দাউদ পাশা অত্যন্ত গুণী হওয়া সত্ত্বেও তার মর্যাদা বুঝতে পারেননি এবং তাকে অনুপযুক্ত স্থানে নামিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তাকে যথাযোগ্য সম্মান দেননি, কারণ তিনি তার চাটুকারিতা বা তোষামোদ করেননি। এমনকি যখন দাউদ পাশা দপ্তারদার (হিসাবরক্ষক) ছিলেন, তখনও তার নাম খাতায় ছিল না। ঘটনাচক্রে একদা দাউদ পাশা তাকে একটি চাদর উপহার দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেই মজলিসে তার দান গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং তা ফিরিয়ে দেন। দাউদ পাশা মনে মনে এই ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন যতক্ষণ না তিনি উজির হলেন। উজির হওয়ার পর তিনি তার প্রতি চরম দুর্ব্যবহার প্রদর্শন করেন। তিনি সর্বদা তার ভুলত্রুটি অন্বেষণ করতেন এবং আক্রমণের ধুলোবালি ছড়িয়ে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করতেন। এমনকি তিনি তাকে ‘হাদবা’ (মসুল) অঞ্চলে নির্বাসনের আদেশ দেন। বাগদাদের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি তার প্রতি সদয় হয়ে তাকে সেখানে স্থায়ী করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন ঠিকই, কিন্তু এক সীমাহীন উদ্বেগের মধ্যে। এভাবেই তিনি ভগ্নহৃদয়ে দিনাতিপাত করেন এবং শেষ পর্যন্ত কবরের অন্ধকার তাকে গ্রাস করে। যে মাসে তার পিতা ইন্তেকাল করেছিলেন, সেই মাসেই তিনিও মৃত্যুবরণ করেন। তাদের উভয়ের মৃত্যু তারিখ সম্পর্কে আমার উক্তি হলো: ‘তাদের উভয়ের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক’। এরপর প্লেগ মহামারীতে তার সকল পরিজন ও সন্তানাদিও একে একে বিদায় নেন। তার বাড়িটি এখন জনশূন্য, সেখানে বিলাপের প্রতিধ্বনি আর বিষাদ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

জাতির ওপর এমন এক অমোঘ নির্দেশ এলো যার কোনো প্রতিকার নেই ... তারা বিদায় নিলেন যেন মনে হয় এই পৃথিবীতে তাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

জ্ঞান ও শিষ্টাচারের যা কিছু ছিল তা আজ বিলীন ... ঠিক যেন স্বপ্নচারীর দেখা কোনো ছায়ার কল্পনা।

তার কাছে অল্প সংখ্যক ছাত্রই শিক্ষা লাভ করেছে, যারা ছিল সমসাময়িক যুগের অর্ধেকেরও কম। বরং অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে ছাত্র মাত্র একজন বা দুইজন। এর কারণ ছিল ছাত্রদের ধৈর্যের অভাব এবং তার গভীর পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা। ছাত্রদের স্বল্পতার কারণে কোনো আলেমের মর্যাদা কমে যায় না, যেমন অনুসারীর অভাবে কোনো নবীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় না। আল্লাহর প্রশংসা যে, আমি তার কঠোর মেজাজের ওপর ধৈর্য ধারণ করেছি এবং তার সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেছি। আমি তার সাথে সর্বোচ্চ শিষ্টাচার বজায় রাখতাম এবং তার সেবায় আমার আত্মনিয়োগ বিস্ময়কর পর্যায়ে পৌঁছেছিল। আমি আশা করি এই বরকতে আমি প্রচুর নেয়ামত লাভ করব, কেননা শায়খের খেদমত হলো এমন এক বরকতময় সাগর যা বালতি দিয়ে সেচে শেষ করা যায় না। তার কিছু কাব্যও ছিল যা চোখের পলকের মতো ব্যঞ্জনাময় এবং আঙুলের ইশারার মতো সূক্ষ্ম ও কমনীয়। তার কাব্য যাদুর মতো হলেও তাতে কোনো জটিলতা ছিল না এবং তা মুক্তার মতো স্বচ্ছ ও অনন্য ছিল। তার সেই অনন্য ও সুবাসিত কাব্যগাঁথার মধ্য থেকে কিছু চয়ন করা হলো, যা আকাশের তারকারাজিকেও হার মানায়। আল্লাহ তাআলা তাকে তার অনুগ্রহ ও দয়া দিয়ে সিক্ত করুন। তিনি বলেছেন:

যদি তোমাদের ক্ষীণদৃষ্টির চোখগুলো আমাকে দেখতে না পায় ... তবে মর্যদার চোখগুলো আমার শ্রেষ্ঠত্ব দেখার সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট।

যদি হিংসুকরা অজ্ঞতাবশত আমাকে অস্বীকার করে ... তবে নিজের কদর ও মান সম্পর্কে আমার আত্মজ্ঞানই আমার জন্য যথেষ্ট।

কোনো এক দাম্ভিকের চোখে আমি সাধারণ হতে পারি ... কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠিতে বাস্তবতার পার্থক্য চিরস্থায়ী।

সুহা নক্ষত্র থেকে মধ্যগগণে উঠা সূর্যের দূরত্ব কতই না অধিক! ... আর মরুভূমির মরীচিকা থেকে সুপেয় পানির দূরত্বই বা কত!

মর্যাদা ও দানে মানুষের মাঝে জীবিত ও মৃত সমান নয় ... যেমন প্রাণহীন দেহ আর প্রাণবন্ত বীরের তুলনা হয় না।

তার আরও কিছু পংক্তি:

আমার এক পরম সুন্দরী ও লাবণ্যময়ী প্রেয়সী আছে ... যার চলন বঙ্কিম, চাউনি জাদুকরী আর গ্রীবা দীর্ঘ।

তার উন্নত দেহ যেন ঋজু বর্শা এবং চোখের পাতা যেন তলোয়ার ... আর দাঁতগুলো যেন সুবিন্যস্ত শুভ্র জুঁই ফুল।

তার গণ্ডদেশে লাবণ্যের আভা যেন পানির মতো বয়ে যায় ... যদিও তার মাঝে প্রেমের প্রজ্বলিত আগুন বিদ্যমান।

আমি অন্যের কাছে আমার প্রেম গোপন রেখেছি ... তাই আমার কোনো নিন্দুক নেই এবং আমাকে তিরস্কার করার কেউ নেই।

এই পৃথিবীতে অনেক সুন্দরী রূপসী রয়েছে ... কিন্তু আমার এই শ্রেষ্ঠ অধিপতির সমতুল্য আর কেউ নেই।

অনাদিকাল থেকেই আমার রূহ তার রূহের সাথে মিশে আছে ... আর রূহ জগতে (আলমে আরওয়াহ) আমাদের মিলনের দৃশ্য রচিত হয়েছে।

তার এক চোখ প্রেমের অধিকার আদায় করে ... আর অন্যটি সৌন্দর্যের হাক্ক আদায় করতে গিয়ে আমাকে প্রত্যাখ্যান করে।

জনসমক্ষে তার চলার ভঙ্গি আমাকে মুগ্ধ করে ... সে হরিণের মতো মুখ ফিরিয়ে নিয়ে দূরে সরে যায়।

আর যখন নির্জনতা আসে, তখন সে তার সকল লাবণ্য প্রকাশ করে ... আনন্দের এমন বিচিত্র রূপই তো প্রেমের সার্থকতা।

আমি তার প্রেমে অনন্য, জগতবাসী সাক্ষী থাকুক ... যে আমি প্রেমের ধর্মে একনিষ্ঠ একত্ববাদী।

প্রতিদিন আমি তার প্রতি নতুন অনুরাগ সৃষ্টি করি ... যে অনুরাগে সবাই আমাকে অনুসরণ করে, কারণ আমি প্রেমের ইমাম ও সংস্কারক।

তার আরও পংক্তি:

বিপদের দিন যোগ্য বীর ছাড়া আর কেউ ডাক পায় না ... যেমন দ্রুতগামী উট ছাড়া দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা যায় না।

সব যুবককে সংকটের সময় ডাকা হয় না ... আর সব আশ্রয়ে দুঃখ-কষ্ট লাঘব হয় না।

ঘোড়ার জিন আর পালান ছাড়া আর কিছুই নিপীড়ন রোধ করতে পারে না ... আর কোনো আশার আলো জ্বালাতে পারে না।

আমি তোমাকে মিথ্যা বলব না, ভোর কখনো অন্ধকার আবরণের মতো নয় ... আর সাধারণ ধুলোবালি কখনো সুরমার কাজ দিতে পারে না।

এই সময়ের ওপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক, এর লক্ষ্য হলো ... যেন কোনো অভাবী বা প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তি সফল হতে না পারে।

কালের গর্ভে আমাকে সেই চরিত্রের অধিকারী করার চেষ্টা চলছে ... যেখানে আমি এবং সে (অযোগ্য ব্যক্তি) মস্তক ও লেজের মতো সমান হয়ে যাই।

আল্লাহ আমার ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করবেন না যদি আমি এমন ব্যক্তি হই ... যে পদমর্যাদা আর বংশের অহংকারে তার সুউচ্চ সম্মানকে কলঙ্কিত করে।

যদি কোনোদিন আমার শ্রেষ্ঠত্বের চকমকি পাথর দিয়ে ... নীচ ব্যক্তিদের চকমকি পাথর জ্বালিয়ে দেই, তবে বিপদ যেন আমাকে ছেড়ে না যায়।

মর্যাদার উচ্চশিখরে আমি অবক্ষয়ের সিঁড়ি দিয়ে আরোহণ করতে চাই না ... যদিও সপ্তাকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি আমার সেবা করে।

আমি কি নিজের হীনতার মাঝে নিজের সম্মান খুঁজব? ... আল্লাহর কসম, এটি অত্যন্ত অদ্ভুত এক আকাঙ্ক্ষা।

আমি কি আভিজাত্য আর শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করব যখন আমার হাত হবে লালসার অধীন? ... আমার জীবনের শপথ, এ তো ডাহা মিথ্যা কথা।

আমার দায়িত্ব হলো সঠিক সময়ে চাষাবাদ ও পরিশ্রম করা ... মেঘ যদি বৃষ্টি না দেয়, তবে তাতে আমার কী দোষ?
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ৬)
فداء صان بوجه الماء مكسبه … غنى مال بماء الوجه يكتسب

ما ينقم الدهر مني حيث أهملني … لا عيب عندي إلا العلم والأدب

ولي فؤاد إذا حركت جانبه … لنحو ضيم ينادي الويل والحرب

ونفس حر إذا حدثتها لعلي … تقول لي في سوى الإذلال تصطحب

إن قمت يوماً على أعواد منبرها … فذيل فضلي على سحبان منسحب

إذا رأيت تساو ناقص وأخو … فضل لدي مجلس السليا فلا عجب

هذي الكواكب تبدو للعيون على … بعد سواء ولكن بينها رتب

فضائلي ما لهذا الدهر من سفه … لم يقض من حقكم ببعض الذي يحبب

حتى متى أنا في بؤس أكابده … أحشاء عيشي في كف العنا نهب

هل رحمة لفتى أودت شهامته … بقدره فرثاه الحزم والأدب

تهوى النوائب لقياه فيمنحها … وصلاً ويهوى سنا العليا فتحتجب

كأن بيني وبين الحادثات جرى … عقد الموالاة أم ما بيننا نسب

فكلما فارقته نكبة فرقا … أمدها للرزايا عسكر لجب

وقوله:

وزمان عدت علي لياليه … وقصت قوادمي وجناحي

ودعتني صروفه في شتات … وعناء وخيبة ونزاح

لا لذنب أتيته غير أن ال … فضل لم تلقه قرين نجاح

وإذا ما الصلاح فيكم فساد … ففسادي الذي لديكم صلاحي

وقوله:

قلما دعاني مشق قامة كاتب … ثلث الملاحة منه في الولدان

يرجو رقاعي الملام لعارض … نسخي هواه وليس ذاك بشأني

علقت قلوب الناس في تعليقه … حسناً وهمت بخطه الريحاني

وقوله:

شجاك من الربع اليمانين عينه … وأشجاك أن حث الرحيل ظعينه

هو الحين أما الهجر يذكو سعيره … وأما هو الأزماع يقضي طعينه

عدتك العوادي خل داعية الهوى … فمستوعر سهل الهوى وحزونه

أتدري بنات الحيف أي دم امرئ … أحلت ومن أدمت عليها شؤونه

وهل ذكرت وألبان آخر عهدنا … بها عهد صب أقسمت لا تخونه

وعيشاً قضيناه بمنعرج اللوى … ذوت بعد ذياك النضار غصونه

لها طلل بين العذيب وبارق … تفيئه والآن لا تستبينه

ونؤي عفاه الدهر بعد وضوحه … كما بان بعد الحك في الخط نونه

خيال لذات الخال شوش خاطري … وطيف بدا لي ثم أسرت ضعونه

تكلفني وجداً بنجد وإنما … هوى كل قلب حديث حل قرينه

مضت حجج والشأن في المط شأنها … وعندي شؤون الحفظ فيها شؤونه

كأنا تراهنا لعود فرهنها … فوأدي والطيف الخيال رهينه

ترى هل أتى تلك المليحة والهوى … أحاديث أن الصبر بان معينه

وهل جاءها والعشق ميل ونزعة … عن القلب أن لا يستفيق جنونه

على بها في الجزع أية وقفة … بها للهوى العذري تقضي ديونه

ونظرة مسنام يغار على الحمي … فطوراً يراعيه وطوراً يصونه

كفى حزناً أني أرى العيس ترتمي … بهودجها والبين حتى يقينه

وأبصر ربات الحجال تفرقت … أيادي سبا والربع خف قطينه

ولم أنسها يوماً بجمع وشملنا … بجمع ووجه الوصل زاه جبينه

تقول كأني بالخيام تقوضت … جميعاً وحادي الركب خفت لحونه

وظن بأني قد سلوت غرامها … فتى غير ديني في المحبة دينه

معاذ هواها من سلوي وأنني … بذاك بخيل لا يجوذ ضنينه

وقوله:

دعي ما كل ساجعة حمام … وما النخل السحوق هي الثمام

هي الأيام يوم عد عاماً … ويوم في الحساب يعد عام

لقد لهجت بذم الفضل قوم … له قمنا على قدم وناموا

يناظرني بهذا العصر ناس … أنا الألف القويم وهن لام

وشتان الذي صفع هواه … ومن بالعز لذله الغرام

رماني الحاسدون بكل أمر … به عرفت مكانتي الكرام

فقالوا حدة طوراً وحيناً … به كبر وطوراً لا يرام

وفي بغداد جثماني وفضلي … تراعي حقه حلب وشام

وفتية فرية قدحت بحقد … وغير الحزم ما ضم الحزام

وإن الجاهلين بكل عصر … لأهل الفضل أعداء عظام

فإن نبحت على أثري كلاب … فليس بمدركي نقص وذام
সে উৎসর্গিত হোক, যে আপন মর্যাদা রক্ষা করে স্বীয় উপার্জন সচল রাখে … আর সেই সম্পদ যা মান-সম্মান বিসর্জন দিয়ে অর্জিত হয় তা তো তুচ্ছ।

কালচক্র আমার কী-ই বা ক্ষতি করবে যখন সে আমাকে উপেক্ষা করেছে? … জ্ঞান ও শিষ্টাচার ব্যতীত আমার মাঝে অন্য কোনো দোষ নেই।

আমার এমন এক হৃদয় আছে, যার কোনো এক পার্শ্বে যদি আঘাত করা হয় … তবে তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধ্বংস ও যুদ্ধের আহ্বান জানায়।

আমার এমন এক স্বাধীন আত্মা আছে, যাকে যখন আমি উচ্চাভিলাষের কথা বলি, … তখন সে আমাকে বলে যে, লাঞ্ছনা ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে সে আমার সঙ্গী হবে।

যদি আমি কোনোদিন মিম্বরের কাষ্ঠাসনে দণ্ডায়মান হই, … তবে আমার শ্রেষ্ঠত্বের আভা সাহবানের বাগ্মিতাকেও ম্লান করে দেবে।

যদি কোনো উচ্চ সমাবেশে গুণহীন ব্যক্তি ও গুণী ব্যক্তিকে সমান দেখেন, … তবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

এই নক্ষত্ররাজি চোখের সামনে দূর থেকে সমান দেখায়, … কিন্তু বাস্তবে তাদের মাঝে অনেক স্তরভেদ রয়েছে।

আমার গুণাবলী—এই নির্বোধ যমানার কী হয়েছে যে, … সে আপনাদের হকের সেই কিঞ্চিৎ অংশও আদায় করছে না যা বাঞ্ছনীয় ছিল।

আর কতকাল আমি এই দুঃখ-কষ্ট সহ্য করব? … আমার জীবনের প্রতিটি অংশ যন্ত্রণার হাতের শিকারে পরিণত হয়েছে।

সেই যুবকের প্রতি কি কোনো দয়া হবে, যার বীরত্ব তার মর্যাদাকে ধ্বংস করেছে, … আর তার জন্য ধৈর্য ও সাহিত্য বিলাপ করেছে?

বিপদ-আপদ তার সাথে সাক্ষাৎ করতে চায় এবং সেও তাদের সান্নিধ্য দান করে, … আর উচ্চমর্যাদার আভা তাকে কামনা করে কিন্তু তা পর্দার আড়ালে থেকে যায়।

আমার আর এই দুর্ঘটনার মাঝে যেন বন্ধুত্বের কোনো চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, … নাকি আমাদের মাঝে কোনো বংশীয় সম্পর্ক রয়েছে!

যখনই কোনো বিপদ তাকে ছেড়ে চলে যায়, … তখনই মুসিবতের এক বিশাল বাহিনী তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে।

তাঁর উক্তি:

এমন এক যমানা যার রাত্রিগুলো আমার ওপর চড়াও হয়েছে, … আর আমার ডানার অগ্রভাগ ও পালকগুলো ছেঁটে দিয়েছে।

যমানার বিবর্তন আমাকে বিচ্ছিন্নতা, ক্লান্তি, … ব্যর্থতা এবং নির্বাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এটি আমার কোনো অপরাধের কারণে নয়, বরং শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণ … কখনো সফলতার সঙ্গী হিসেবে দেখা দেয় না।

যদি তোমাদের দৃষ্টিতে সততা বা সংশোধনই হয় ফাসাদ, … তবে আমার সেই ফাসাদই তোমাদের কাছে আমার সংশোধন।

তাঁর উক্তি:

খুব কমই কোনো লেখকের দীর্ঘদেহী অবয়ব আমাকে আকৃষ্ট করেছে, … যার সৌন্দর্যের এক-তৃতীয়াংশ কিশোরদের মাঝে বিদ্যমান।

সে তার বিরহ-বেদনার জন্য আমার নিন্দাসূচক পত্র আশা করে, … তার অনুরাগের প্রতিলিপি করা আমার কাজ নয়।

মানুষের হৃদয় তার সুললিত লিপিশৈলীর মোহে আটকে গেছে, … আর তারা তার রাইহানি হস্তাক্ষরের প্রেমে আত্মহারা হয়েছে।

তাঁর উক্তি:

ইয়ামানি বসতির সেই চোখ তোমাকে ব্যথিত করেছে, … আর পর্যটকদের প্রস্থানের প্রস্তুতি তোমাকে শোকাতুর করেছে।

এটাই তো নিয়তি; হয় বিচ্ছেদ তার অগ্নিশিখাকে প্রজ্জ্বলিত করবে, … নতুবা যাত্রার সংকল্প তার পথিককে বিদায় জানাবে।

বিপদসমূহ তোমাকে বাধা দিয়েছে, প্রেমের আহ্বান ত্যাগ করো, … কারণ প্রেমের সহজ ও কঠিন উভয় পথই দুর্গম।

অন্যায়ের কন্যারা কি জানে তারা কোন ব্যক্তির রক্তকে বৈধ করেছে, … আর কার চোখকে তারা রক্তাক্ত করেছে?

সে কি আমাদের শেষ বিদায়বেলার কথা স্মরণ করেছে, … যখন সে প্রেমিকের কাছে শপথ করেছিল যে সে কখনো বিশ্বাসঘতকতা করবে না?

সেই জীবন যা আমরা বালুকাময় বাঁকে অতিবাহিত করেছিলাম, … সেই সজীবতার পর আজ তার শাখাগুলো শুকিয়ে গেছে।

আজায়িব ও বারিকের মাঝে তার একটি ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, … যা তাকে ছায়া দিত, কিন্তু এখন তা আর স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।

একটি পরিখা যা কালের আবর্তে অস্পষ্ট হয়ে গেছে, … যেমন লিখনীর ঘর্ষণের পর ‘নুন’ বর্ণটি প্রকাশ পায়।

তিলধারী প্রিয়তমার কল্পনা আমার চিন্তা জগতকে এলোমেলো করে দিয়েছে, … আর এক ছায়া আমার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে আবার তার কাফেলা নিয়ে প্রস্থান করেছে।

সে আমাকে নজদের বিরহ-বেদনায় আচ্ছন্ন করে, অথচ … প্রতিটি হৃদয়ের ভালোবাসা তো এক নতুন ঘটনা যা তার সঙ্গীর সাথে মিলেমিশে থাকে।

বহু বছর অতিক্রান্ত হয়েছে এবং দীর্ঘসূত্রতাই এর বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, … আর আমার কাছে তা সংরক্ষণের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা যেন প্রত্যাবর্তনের জন্য বাজি ধরেছিলাম, আর তার বাজি ছিল আমার অন্তর, … আর সেই কাল্পনিক ছায়াটি ছিল তার কাছে বন্ধক।

কে জানে সেই রূপসীর কাছে প্রেমের এই সংবাদ পৌঁছেছে কি না, … যে ধৈর্য আজ তার সাহায্যকারীকে হারিয়েছে?

আর তার কাছে কি এই খবর পৌঁছেছে যে—প্রেম হৃদয়ের এক প্রবল ঝোঁক, … যার উন্মাদনা কখনো শেষ হওয়ার নয়?

উপত্যকায় আমার দাঁড়ানোটা এক বিশেষ অবস্থানের মতো, … যার মাধ্যমে পবিত্র প্রেমের ঋণ পরিশোধ করা হয়।

আর তীক্ষ্ণদৃষ্টিসম্পন্ন এক প্রেমিকের চাহনি যে তার প্রিয়তমার সীমানার ওপর ঈর্ষান্বিত, … কখনও সে তা পর্যবেক্ষণ করে, আবার কখনও তা রক্ষা করে।

এটিই বড় দুঃখ যে, আমি লালচে-সাদা উটগুলোকে তাদের হাওদাসহ ছুটে চলতে দেখছি, … আর বিচ্ছেদ এখন সুনিশ্চিত।

আমি পর্দানশীন নারীদের দেখছি যারা ‘আয়াদি সাবা’র মতো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে, … আর জনপদ আজ জনশূন্য হয়ে পড়েছে।

একত্রিত হওয়ার সেই দিনটিকে আমি ভুলিনি যখন আমাদের মিলন হয়েছিল, … আর মিলনের সেই ললাট ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল।

সে বলে: আমি যেন দেখছি তাবুগুলো সব গুটিয়ে ফেলা হয়েছে, … আর উষ্ট্রচালকের গানের সুর ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সে মনে করেছিল যে আমি হয়তো তার প্রেম ভুলে গেছি, … এমন এক যুবক যার প্রেমের আদর্শ আমার আদর্শের মতো নয়।

তার প্রেম ভুলে যাওয়া থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় চাই, আর আমি … সেই প্রেমের ব্যাপারে এতটাই কৃপণ যে তার কোনো তুলনা হয় না।

তাঁর উক্তি:

ছেড়ে দাও, সব কূজনকারী পাখিই কবুতর নয়, … আর সুউচ্চ খেজুর গাছ কখনো মরু-তৃণ নয়।

দিনগুলো এমনই; কোনো দিন এক বছরের সমান মনে হয়, … আবার কোনো বছর গণনায় একদিনের মতো মনে হয়।

একদল লোক গুণের নিন্দা করতে মত্ত হয়েছে, … যার জন্য আমরা আমাদের পায়ে দাঁড়িয়ে সংগ্রাম করেছি আর তারা ঘুমিয়ে ছিল।

এই যুগে কিছু মানুষ আমার সাথে বিতর্ক করে, … অথচ আমি হলাম ঋজু ‘আলিফ’ আর তারা হলো ‘লাম’।

আকাশ-পাতাল পার্থক্য তার মাঝে যে স্বীয় লালসায় চপেটাঘাত খেয়েছে, … আর সেই ব্যক্তির মাঝে যার কাছে প্রেমের লাঞ্ছনাই হলো সম্মান।

হিংসুকরা আমার দিকে প্রতিটি বিষয় নিক্ষেপ করেছে, … যার মাধ্যমে উচ্চমর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিরা আমার অবস্থান চিনতে পেরেছে।

তারা কখনও বলল সে অত্যন্ত উগ্র, আবার কখনও বলল … তার মাঝে অহংকার রয়েছে, আবার কখনও বলল সে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আমার দেহ বাগদাদে থাকলেও আমার শ্রেষ্ঠত্বের হক … আলেপ্পো ও সিরিয়া যথাযথভাবে রক্ষা করে।

মিথ্যা অপবাদ দানকারী যুবকরা হিংসার আগুন জ্বালিয়েছে, … অথচ দৃঢ় সংকল্প ব্যতীত অন্য কিছু কোমরবন্ধে বাঁধা হয়নি।

নিশ্চয়ই প্রতিটি যুগের মূর্খরা … গুণী ব্যক্তিদের জন্য বড় শত্রু হয়ে থাকে।

যদি আমার পদচিহ্নের ওপর কুকুররা চিৎকার করে, … তবে তাতে আমার কোনো ত্রুটি বা অপমান স্পর্শ করবে না।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ৭)
وكيف تنال أرجلنا بعيب … رؤوس خناً مطهرها الحسام

وقوله:

قيل لم همت في هوى ذي عذار … طرز الشعر منه حلة خده

قلت والعشق ذو فنون لكي يق … طع عني الرقيب أسباب صده

وكذا العاذلون تقصر عن لو … مي فيخلو لي الحبيب بوده

والجمال الذي به فتن الع … شاق ما له الزمان بفقده

أفتور بجفنه زال لا واله … ما زال أم رشاقة قده

خده خده وما ذاك العا … رض إلا دخان لهبة قده

وقوله:

وقالوا تأخرت في ذا الزمان ومنك التقدم حاز الرجال

فقلت يرى الصدر صفا أخيراً … إذا أولاً عد صف النعال

وقوله:

لعلة جسمك قلبي شكا … وعلة جسمي عندي أحب

لجسمك قلبي جسم غدا … وما صح جسم إذا اعتل قلب

وقوله:

أسفي على فضلي قضيت ولم أكن … أملي قضيت وللفنون ديون

وأخذت في كفني علو ما لم أجد … مستودعاً هي في الدفين دفين

وقوله مشطراً:

أسفي على فضلي قضيت ولم أكن … أبصرت عارف حقه فيبين

ومن العلوم الغامضات ورمزها … أملي قضيت وللفنون ديون

وأخذت في كفني علوماً لم أجد … من يخفظن حقوقها ويصون

ورقيق أسرار جعات لها الحشا … مستودعاً هي في الدفين دفين
আর কীভাবে আমাদের পা দোষ স্পর্শ করবে … অশ্লীলতার মস্তকসমূহ, যাকে তরবারি পবিত্র করে।

এবং তাঁর উক্তি:

বলা হয়েছিল, কেন আপনি গালপাট্টাওয়ালা (সুদর্শন কিশোর) এর ভালোবাসায় বিচরণ করলেন … যাঁর চুল তাঁর গালের পোশাককে নকশা করেছে।

আমি বললাম, প্রেম নানা কৌশলের অধিকারী যাতে … পর্যবেক্ষক আমার থেকে তাঁর বিমুখতার কারণগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

এবং একইভাবে নিন্দাকারীরা আমাকে তিরস্কার করতে … অক্ষম হয়, ফলে প্রিয়া আমার জন্য তাঁর ভালোবাসা নিয়ে একাকী হয়ে যান।

আর সেই সৌন্দর্য যাতে প্রেমিককুল … মোহগ্রস্ত, কাল বা সময় তা হারিয়ে ফেলে না।

তাঁর চোখের পাতার জড়তা কি চলে গেছে? না, আল্লাহর শপথ … তা বিলুপ্ত হয়নি, নাকি এটি তাঁর দৈহিক গঠনের কমনীয়তা?

তাঁর গাল তো তাঁর গালই, আর সেই গালপাট্টা (চুল) … তাঁর দেহের শিখার ধোঁয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।

এবং তাঁর উক্তি:

তারা বলল, আপনি এই যুগে পিছিয়ে পড়েছেন, অথচ আপনার কাছ থেকেই লোকেরা অগ্রসরতা লাভ করেছে।

আমি বললাম, উচ্চ আসনকে শেষ সারি হিসেবে দেখা হয় … যদি জুতার সারিকে প্রথম গণ্য করা হয়।

এবং তাঁর উক্তি:

আপনার দেহের অসুস্থতার জন্য আমার হৃদয় অভিযোগ … করেছে, আর আমার দেহের অসুস্থতা আমার কাছে অধিক প্রিয়।

আপনার দেহের জন্য আমার হৃদয় দেহ হয়ে … গেছে, আর কোনো দেহই সুস্থ থাকে না যখন হৃদয় অসুস্থ হয়।

এবং তাঁর উক্তি:

আফসোস আমার শ্রেষ্ঠত্বের ওপর, আমি বিদায় নিলাম অথচ … আমার আশা পূর্ণ করতে পারলাম না, আর শিল্প-জ্ঞানের কাছে রয়ে গেল ঋণ।

আর আমি আমার কাফনের সাথে এমন জ্ঞানসমূহ নিয়ে গেলাম যার কোনো … আধার খুঁজে পাইনি; সেগুলো দাফনকৃতের মাঝেই দাফন হয়ে গেল।

এবং দ্বিখণ্ডিত (মুশতাত্তার) অবস্থায় তাঁর উক্তি:

আফসোস আমার শ্রেষ্ঠত্বের ওপর, আমি বিদায় নিলাম অথচ … এর মর্যাদা জানে এমন কাউকে দেখলাম না যে তা ব্যক্ত করবে।

এবং জটিল জ্ঞানসমূহ ও তার রহস্যসমূহ থেকে … আমার আশা পূর্ণ করেছি, আর শিল্প-জ্ঞানের কাছে রয়ে গেল ঋণ।

আর আমি আমার কাফনের সাথে এমন জ্ঞানসমূহ নিয়ে গেলাম যার জন্য এমন কাউকে পেলাম না … যে এর অধিকারগুলো রক্ষা করবে ও সংরক্ষণ করবে।

আর সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ যার জন্য আমি অন্তঃকরণকে … আমানত রাখার স্থান বানিয়েছিলাম; সেগুলো দাফনকৃতের মাঝেই দাফন হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ৮)
إلى غير ذلك من شعره، وما ذكر زهرة من زهره، ومعظمه مما أنشده في مدينة السلام، وفيه أشعار بما أضربه من رخص أسعار فضله عند اللئام، والتشطير المذكور آخر شعر أحكم نظامه، والحمام قد نصب بباب داره خيامه، وكل أرويه عنه، وأدريه منه، وقد دفن عليه الرحمة في قبة حذاء قبة الشيخ عبد الله العيدروسي، في محلة حضرة الباز الأشهب أظلنا الله تعالى بظلال جناحه القدوسي،) وقرأت (شرح النخبة للهيكل النوراني، المحدث الحافظ ابن حجر العسقلاني، عند الفاضل الأوحدي) الشيخ علي أفندي السويدي (وكان ذا جاه كبير عند والي بغداد سليمان باشا الصغير، فكان لا يصدر إلا عن رأيه، وهو يسعى في نصحه غاية سعيه، وامتحن بعد قتله بسبب ذلك، وكان يهوى لولا بركة العلم في مهاوي المهالك، ومن الغريب أنه على كمال عقله وتنزه نفسه، ارتكب ما لا يكاد يرتكبه أبناء جنسه، حيث ذهب إلى البصرة محاسباً لواليها، ضابطاً رسم الكمرك الذي فيها، وكان ينسب إليه سيئ الإنكار، على أكثر الأولياء الكبار، وأنه وهابي العقيدة، وله فيها وله ومحبة شديدة، وأنه دعا إليها سليمان باشا، وملأ من علل الخروج على الدولة أهابه فخرج عليها، ولم يرسل شيئاً من خراج العراق إليها، فأثارت عشائر الأكراد وبعض الأعراب عليه، فتوجهوا في معية رئيسهم الداهية الهماء إليه، فخرج لقتالهم إذ قربوا من سور الزوراء، وقابلهم بجنود تغبر غيظاً من كثرتهم وجوه نجوم الخضراء حتى إذا التقى الجيشان، واعتدل الصفان، خانه رؤساء العسكر فبقي مع مثل عدة الأصابع ففر، ومر فاراً على قبيلة الدفافعة، فقطعوا عنه ماء الحيوة، وسدوا عنه مشارعه، والإنصاف أن السويدي لم يسود قلبه بعقائد جهلة الوهابية، وإنما عقده على العقائد السلفية الأحمدية ولعمري ولا حاجة إلى اليمين، أن ذلك ظاهر من درر كتابه العقد الثمين، وأن خروج ذلك الوزير إنما جر إليه أمر آخر لسوء التدبير) وبالجملة (كان ذلك الشيخ من كبار المتبعين، وحاشاه ثم حاشاه أن يكون من المبتدعين … وكان لأهل السنة برهاناً، وللعلماء المحدثين سلطاناً، ما رأيت أكثر منه حفظاً، ولا أعذب منه لفظاً، ولا أحسن منه وعظاً، ولا أفصح منه لساناً، ولا أوضح منه بياناً، ولا أكمل منه وقاراً، ولا آمن منه جاراً، ولا أكثر منه حلماً، ولا أكبر منه بمعرفة الرجال علماً، ولا أغزر منه عقلاً، ولا أوفر منه في فنه فضلاً، ولا ألين منه جانباً، ولا آنس منه صاحباً، ولولا ونيم ذباب الذهاب إلى كمرك البصرة على ثيابه لقلت هو في جمع المحاسن الغرد فرد أسلافه وأصحابه، اختارت روحه في دمشق الشام من الملأ الأعلى رفيقاً، وهو يقرأ قوله تعالى) أولئك الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقا (، وجاء تاريخ وفاته أسكنه الله تعالى أعلى جناته) إن المدارس تبكي عند فقد علي (وقد أوقفني على جميع إجازاته، وأجازني كأولاده بجميع مروياته،) وقرأت (مسألة الصفات من الخيالي، على حضرة مولى لا يصل إلى حقيقة فضائله خيالي، حضرة مولانا) ضياء الدين الشيخ خالد النقشبندي (، وهو صاحب الأحوال الباهر، والكرامات الظاهرة، والأنفاس الطاهرة، الذي تواتر حديث جلالته وأجمع المنصفون على ولايته، وعمت بركاته الحاضر والبادي، وانتشر صيته في ك وادٍ ونادي، بهر بجبل صفاته أطوار العقول، ونال منه تلامذته غاية الوصول، امتد في المقامات والأحوال باعه، وعمرت بالفضل والأفضال رباعه، كان حريصاً على سلوك طريق أهل السنة والجماعة، لا يصرف من أوقاته ساعة في غير حل دقيقة علم أو طاعة، حسن السمت والسيرة، نير القلب والسريرة، إن توجه إلى قلب مريد ملأه نوراً، أو ربط على إكرام معدم أفعم ناديه بأيدي أياديه سروراً.

الإمام الجليل غوث البرايا … غيثها المرتجى ندى إحسانه

ذو سجايا مثل الرياض سقاها … وابل القطر من ندى هتانه

بحر جود له جداول عشر … في يديه تدفقت من بنانه

سار في الخافقين ذكر علاه … وعلا قدره على كيوانه

فائض العلم عن روية فكر … كاد يجلو سر القضا بعيانه

ثابت الذهن كم خفايا علوم … قد جلاها بالكشف عن برهانه

فهو كشاف مشكلات معان … حل ألفاظها بديع بيانه
ইত্যাদি তাঁর কবিতা থেকে, এবং যা যোহরা তাঁর ফুল থেকে উল্লেখ করেছেন, যার অধিকাংশ তিনি শান্তির শহর বাগদাদে আবৃত্তি করেছিলেন। এতে এমন সব কবিতা রয়েছে যাতে তিনি নীচ লোকদের নিকট তাঁর ফযিলতের মূল্য হ্রাস পাওয়া সম্পর্কে আক্ষেপ করেছেন। উল্লিখিত কবিতাটি তাঁর শেষ কবিতা যা তিনি সুনিপুণভাবে বিন্যাস করেছিলেন। মৃত্যুর দূত ইতিমধ্যে তাঁর গৃহের দ্বারে তাবু গেঁড়েছিল। আমি তাঁর নিকট থেকে যা কিছু বর্ণনা করি তা তাঁর কাছেই পড়েছি এবং তাঁর নিকট থেকেই জেনেছি। তিনি শেখ আব্দুল্লাহ আল-আইদ্রুসের গম্বুজের নিকটবর্তী একটি গম্বুজে সমাহিত হন (তাঁর ওপর রহমত বর্ষিত হোক), যা হযরত বায আল-আশহাবের (বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহ.) এলাকায় অবস্থিত। আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র ছায়ার তলে আমাদের আশ্রয় দান করুন। আমি ফাযেল ও অদ্বিতীয় ব্যক্তি শেখ আলী আফন্দি আস-সুওয়াইদির নিকট হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির ‘শারহুন নুখবা’ পাঠ করেছি। বাগদাদের ওয়ালি ছোট সুলায়মান পাশার নিকট তাঁর অনেক প্রভাব ও মর্যাদা ছিল। পাশা তাঁর পরামর্শ ব্যতীত কোনো কাজ করতেন না এবং তিনিও পাশার কল্যাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন। পাশার হত্যার পর এই কারণে তাঁকে পরীক্ষায় পড়তে হয়েছিল এবং ইলমের বরকত না থাকলে তিনি ধ্বংসের গহ্বরে পতিত হতেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাঁর পূর্ণ প্রজ্ঞা ও পবিত্র আত্মা থাকা সত্ত্বেও তিনি এমন কাজ করেছিলেন যা তাঁর সমপর্যায়ের লোকেরা সচরাচর করে না; তিনি হিসাবরক্ষক হিসেবে বাসরা গমন করেন এবং সেখানকার কাস্টমসের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অনেক বড় বড় ওলিদের প্রতি তাঁর কঠোর অস্বীকৃতির কথা তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা হতো। বলা হতো যে, তিনি ওয়াহাবি আকিদার অনুসারী এবং এই আকিদার প্রতি তাঁর প্রচণ্ড আসক্তি ও ভালোবাসা ছিল। আরও বলা হতো যে, তিনি সুলায়মান পাশাকে এই আকিদার দিকে আহ্বান করেছিলেন এবং উসমানীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের প্ররোচনা দিয়ে তাঁর মন বিষিয়ে দিয়েছিলেন, যার ফলে পাশা বিদ্রোহ করেন এবং ইরাকের খাজনা পাঠানো বন্ধ করে দেন। এর ফলে কুর্দি গোত্রসমূহ ও কিছু আরব তাঁর বিরুদ্ধে উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং তারা তাদের ধূর্ত নেতার নেতৃত্বে তাঁর দিকে অগ্রসর হয়। তারা যখন জাওরা (বাগদাদ)-এর প্রাচীরের নিকটে পৌঁছাল, তখন তিনি তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য বের হলেন এবং এমন এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তাদের মোকাবিলা করলেন যারা তাদের আধিক্যের কারণে আকাশের নক্ষত্ররাজিকেও ধূলিমলিন করে দিচ্ছিল। যখন দুই বাহিনী মুখোমুখি হলো এবং কাতারসমূহ সোজা হলো, তখন সামরিক প্রধানগণ তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল এবং তিনি হাতেগোনা কয়েকজনের সাথে একাকী রয়ে গেলেন, ফলে তিনি পলায়ন করতে বাধ্য হলেন। পলায়নরত অবস্থায় তিনি দাফাফিআ গোত্রের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা তাঁর জীবনের পানির পথ রুদ্ধ করে দিল এবং তাঁর সব উপায় বন্ধ করে দিল। তবে ইনসাফ হলো এই যে, সুওয়াইদি তাঁর অন্তরকে মূর্খ ওয়াহাবিদের আকিদা দ্বারা কলুষিত করেননি, বরং তিনি তাঁর বিশ্বাসকে আহমদি সালাফি আকিদার ওপর দৃঢ় রেখেছিলেন। আমার জীবনের কসম—আর কসমের কোনো প্রয়োজন নেই—এটি তাঁর ‘আল-ইকদুত থামিন’ কিতাবের মুক্তাসম ইবারত থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। আর সেই উজিরের বিদ্রোহ মূলত ভুল পরিচালনার কারণে অন্য বিষয়ের দিকে মোড় নিয়েছিল। মোদ্দা কথা হলো, সেই শেখ ছিলেন বড় মাপের অনুসরণকারীদের একজন এবং তিনি বিদআতি হওয়া থেকে অনেক অনেক দূরে ছিলেন ... তিনি আহলুস সুন্নাহর জন্য ছিলেন এক অকাট্য প্রমাণ এবং মুহাদ্দিস উলামাদের সুলতান। আমি তাঁর চেয়ে অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, মিষ্টভাষী, উত্তম উপদেশদাতা, স্পষ্টভাষী, প্রাঞ্জল বর্ণনাকারী এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তি আর দেখিনি। তাঁর মতো নিরাপদ প্রতিবেশী, অধিক ধৈর্যশীল এবং রিজাল শাস্ত্রের (বর্ণনাকারীদের পরিচয়) অভিজ্ঞ আর কেউ ছিল না। তাঁর চেয়ে প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন, নিজ শাস্ত্রে অধিকতর শ্রেষ্ঠ, নম্র স্বভাবের এবং অমায়িক সঙ্গী আমি দেখিনি। বাসরা কাস্টমসে যাওয়ার কারণে তাঁর পোশাকে যদি মাছির দাগ না লাগত, তবে আমি বলতাম যে তিনি তাঁর পূর্বসূরি ও সমসাময়িকদের মধ্যে সমস্ত গুণের আধার হিসেবে অনন্য। সিরিয়ার দামেস্কে তাঁর পবিত্র আত্মা ঊর্ধ্বজগত থেকে পরম বন্ধুর সান্নিধ্য বেছে নেয়, যখন তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণী পাঠ করছিলেন: ‘এরাই তারা যাদের ওপর আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন—নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ; আর সঙ্গী হিসেবে তারা কত চমৎকার!’ আল্লাহ তাআলা তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকামে স্থান দান করুন। তাঁর মৃত্যুর তারিখ হলো: ‘নিশ্চয়ই আলী-র বিয়োগে মাদ্রাসাসমূহ ক্রন্দনরত।’ তিনি আমাকে তাঁর সকল ইজাযত দেখিয়েছেন এবং তাঁর সন্তানদের মতো আমাকেও তাঁর সকল বর্ণিত বিষয়ের ইজাযত প্রদান করেছেন। আমি খিয়ালির গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত মাসআলাটি মাওলানা যিয়াউদ্দিন শেখ খালিদ নকশবন্দীর নিকট পাঠ করেছি, যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রকৃত রূপ আমার কল্পনারও অতীত। তিনি উজ্জ্বল আধ্যাত্মিক অবস্থা, প্রকাশ্য কারামাত ও পবিত্র নিঃশ্বাসের অধিকারী। যাঁর মহান মর্যাদার কথা লোকমুখে প্রসিদ্ধ এবং ইনসাফকারীগণ যাঁর বেলায়েতের বিষয়ে একমত। যাঁর বরকত শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে এবং যাঁর সুখ্যাতি প্রতিটি উপত্যকা ও মজলিসে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি তাঁর গুণাবলির পাহাড় দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক স্তরসমূহকে অভিভূত করেছেন এবং তাঁর ছাত্রগণ তাঁর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর সৌভাগ্য লাভ করেছেন। মাকাম ও আধ্যাত্মিক অবস্থায় তাঁর বিচরণ ছিল সুদীর্ঘ এবং তাঁর আবাসস্থল ফযিলত ও শ্রেষ্ঠত্বে পরিপূর্ণ ছিল। তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পথ অনুসরণে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন এবং তাঁর সময়ের একটি মুহূর্তও ইলমের সূক্ষ্ম সমাধান অথবা ইবাদত ছাড়া অতিবাহিত করতেন না। তিনি ছিলেন সুন্দর স্বভাব ও চরিত্রের অধিকারী, যাঁর অন্তর ও আধ্যাত্মিকতা ছিল নূরে উদ্ভাসিত। তিনি যদি কোনো মুরিদের অন্তরের দিকে মনোনিবেশ করতেন, তবে তা নূর দ্বারা পূর্ণ করে দিতেন, অথবা কোনো নিঃস্ব ব্যক্তির প্রতি দয়া করতেন, তবে তাঁর দানশীলতার হাতে সেই মজলিস খুশিতে ভরিয়ে দিতেন।

মহান ইমাম, সৃষ্টির ত্রাণকর্তা ... তাঁর অনুগ্রহের বৃষ্টিই হলো সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি।

তিনি এমন এক স্বভাবের অধিকারী যা বাগানের মতো, যাকে সিক্ত করেছে ... তাঁর দানশীলতার মেঘ থেকে অবিরাম বর্ষিত ধারা।

তিনি এক দানশীলতার সমুদ্র, যাঁর দুই হাতে দশটি নহর ... তাঁর আঙুলগুলো থেকে প্রবাহিত হয়েছে।

পূর্ব ও পশ্চিমে তাঁর উচ্চ মর্যাদার কথা ছড়িয়ে পড়েছে ... আর তাঁর মর্যাদা শনি গ্রহের চেয়েও ঊর্ধ্বে।

গভীর চিন্তাপ্রসূত ইলমের এক প্রাচুর্য ... যা প্রায় তাঁর চাক্ষুষ দর্শনে তাকদীরের রহস্য উন্মোচন করে দেয়।

স্থির মস্তিষ্কের অধিকারী, কত যে ইলমের রহস্য ... তিনি তাঁর প্রমাণের কাশফের মাধ্যমে উন্মোচিত করেছেন।

তিনিই কঠিন অর্থসমূহের জট খুলেন ... যাঁর চমৎকার বর্ণনা শব্দসমূহের জটিলতা নিরসন করে।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ৯)
وبالجملة ما حوى أحد في عصرنا فضله، وأنا لم أر مثلاً له وأظن أنه هو أيضاً ما رأى مثله، وإنكار بعض الأجلة عليه، وتوجيههم سهام الطعن وحاشاه إليه، كان بعضه محض نفسانية، وبعضه الآخر كان من غير روية، ومن المتنكرين من كان كالبائل في بئر زمزم، أراد أن يشهر اسمه بالإنكار عليهم مثله، وتحملوا من معاصريهم حملاً ثقيلاً، وصبروا على ما نالوا من معاديهم صبراً جميلاً، تلك) سنة الله في الذين خلوا من قبل ولن تجد لسنة الله تبديلا (على أن ذلك إنما نقص قدر من آذاهم ولم ينقص قدر ذرة من شامخ علاهم.

من كان فوق محل الشمس رتبته … فليس يرفعه شيء ولا يضعه

وقد كان له قدس سره على شفقة شفيقه، وقد أمرني بالاشتغال بالعلم وضمن لي أن لا أحرم من بركة الطريقة، وها أنا إلى هذا الزمن منتظر تحقق ما ضمن، وكأني في بركة تلك البركة، أسبح إن شاء الله ولا سبح السمكة، وفد طارت روحه إلى حضيرة القدس في دمشق الشام، فحبست في أقفاص الأسى لطيرانه قلوب المسلمين والإسلام وقيل في تاريخ ذلك، غير ما قيل هنالك، ومنه قول السياه بوش من قصيدة مرثية، شرحتها شرحاً نفيساً سميته الروضة الأحمدية:

ولما هويت الحق قلت مؤرخاً … هوى للقاء الحق في القدس خالد

وحين بكت أهل الطريقة أرخوا … بكى فقدك الدرس الإلهي خالد

وحين نحوت القدس قلت مؤرخاً … دنى بازاء القدس في القرب خالد

وحين اتحدنا في الطريقة نسبة … وقد طهرت أعراقنا والمخالد

نبغت بصدق عن لساني أرخوا … مقامك صدق عند مولاي خالد

وأجازني بما تجوز له روايته، وصحت لديه درايته، جامع العلوم البعيدة والقريبة، والفنون المعروفة والغريبة، سيدي وأستاذي ملحق الأصاغر بالأكابر) الشيخ يحيى المزوري العمادي (وهو إمام علامة أشهر من أن ينبه عليه، وأجل من يعرف بالإشارة إليه، لا يجاذب رداء فضله، ولا تدور العين في أصحابه على مثله، حامل أعباء التدريس والمعول عليه في مذهب الإمام ابن إدريس، بل لعمري أنه كان واسطة قلادة علماء عصره، يعجز البليغ عن وصف فضله ولو بلغ النثرة بنثره، والشعري بشعره، كان عليه الرحمة للعلماء جمالاً، لكن إذا رأيته حسبته لعدم اعتنائه بنفسه حمالاً، ولسان الإنصاف يقول على لسانه لو تعي، نحو ما قاله في نفسه الإمام الشافعي:

على ثياب لو يباع جميعها … بفلس لكان الفلس منهن أكثرا

وفيهن نفس لو تباع بمثلها … نفوس الورى كانت أعز وأكبرا

توفي في بضع وخمسين بعد الألف والمائتين، من هجرة سيد المرسلين صلوات الله تعالى وسلامه عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، ودفن في مقبرة باب الأزج، لا زال لثرى قبره من غالية الرحمة أرج) وأجازني (أيضاً علماء أعلام، كل منهم في حلبة الفضل إمام، كالفاضل السري، محدث دمشق) الشيخ عبد الرحمن الكزبري (والسارح بقلبه في رياض الملكوت) الشيخ عبد اللطيف (ابن الشيخ علي مفتي بيروت، وقد كتبا لي بذلك من دمشق الشام، وصرحا فيما كتبا بعده إثبات لعلماء فخام ونظم في أثناء ما كتب الثاني، أبياتاً حسنة المباني والمعاني، فقال:

أحسن ببغداد التي … تحوي المكارم والكرام

فاقت على كل البلا … د بحسنها عند الأنام

فكم انتشى من عالم وكم انتشى فيها إمام

من حسنها أن قد غدت … دار المحاسن والسلام

وكأناس آخرين من علماء الآفاق … والفضلاء القاطنين في أرجاء العراق

قد انتظموا في سلك فضل قلادة … وكلهم وسطي فناهيك من عقد
সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমাদের যুগে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সমকক্ষ কেউ ছিল না। আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি এবং আমার ধারণা তিনিও তাঁর নিজের মতো কাউকে দেখেননি। তাঁর বিরুদ্ধে কিছু মহান ব্যক্তির আপত্তি এবং তাঁর প্রতি সমালোচনার তীর নিক্ষেপ—যা থেকে তিনি পবিত্র ছিলেন—তার কিছু ছিল নিছক ব্যক্তিগত বিদ্বেষপ্রসূত, আর কিছু ছিল অবিবেচনাপ্রসূত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল যমযম কূপে প্রস্রাবকারীর মতো, যারা তাঁর মতো মহান ব্যক্তির বিরোধিতা করে নিজেদের নাম প্রসিদ্ধ করতে চেয়েছিল। তারা সমসাময়িকদের কাছ থেকে ভারী বোঝা বহন করেছে এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে পাওয়া দুঃখ-কষ্টে সুন্দর ধৈর্য ধারণ করেছে। এটিই তাদের ক্ষেত্রে আল্লাহর রীতি যারা পূর্বে গত হয়েছে এবং আপনি আল্লাহর রীতিতে কোনো পরিবর্তন পাবেন না। তবে এই বিষয়টি কেবল তাদেরই মর্যাদা হ্রাস করেছে যারা তাদের কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার এক অণু পরিমাণও কমাতে পারেনি।

যার মর্যাদা সূর্যের অবস্থানেরও ঊর্ধ্বে … কোনো কিছুই তাকে উচ্চতায় নিতে পারে না এবং তাকে নিচে নামাতেও পারে না।

তাঁর (আল্লাহ তাঁর রহস্য পবিত্র করুন) প্রতি আমার ছিল অকৃত্রিম মমতা। তিনি আমাকে ইলম অর্জনে মগ্ন থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং আমার জন্য নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন যে আমি এই তরীকার বরকত থেকে বঞ্চিত হব না। আর আমি বর্তমান সময় পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুত বরকত পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় আছি। আমি যেন সেই বরকতের ঝরনায় সাঁতার কাটছি ইনশাআল্লাহ, কোনো মাছের সাঁতার কাটার মতো নয়। তাঁর রূহ দামেশক-শামের পবিত্র চত্বরে পাড়ি জমিয়েছে। তাঁর সেই উড্ডয়নে মুসলিমদের হৃদয় ও ইসলাম শোকের খাঁচায় বন্দি হয়েছে। তাঁর ওফাতের তারিখ সম্পর্কে সেখানে যা বলা হয়েছে তার বাইরেও অনেক কথা রয়েছে। তার মধ্যে কবি সিয়াহ পুশের শোকগাথা থেকে কিছু পঙক্তি রয়েছে, যা আমি 'আর-রওজাতুল আহমাদিয়া' নামক এক চমৎকার ব্যাখ্যাগ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছি:

যখন আমি সত্যের অনুরাগী হলাম, তখন তারিখ হিসেবে বললাম … খালেদ পবিত্র স্থানে সত্যের সাক্ষাতের জন্য অগ্রসর হলেন।

যখন তরীকার অনুসারীরা কেঁদে উঠল, তারা তারিখ হিসেবে লিখল … ইলাহি শিক্ষা তোমার বিচ্ছেদে কাঁদছে হে খালেদ।

যখন আমি পবিত্র স্থানের দিকে মনোনিবেশ করলাম, তারিখ হিসেবে বললাম … খালেদ নৈকট্যের ক্ষেত্রে পবিত্রতার সন্নিকটে পৌঁছেছেন।

যখন আমরা তরীকার সম্পর্কের মাধ্যমে এক হলাম … আর আমাদের বংশ ও স্বভাব পবিত্র হলো।

সত্যনিষ্ঠার সাথে আমার জবান থেকে প্রকাশ পেল, তারা তারিখ লিখল … আমার প্রতিপালকের নিকট খালেদের অবস্থান অতি সত্য ও চিরস্থায়ী।

তিনি আমাকে সেই সব বর্ণনার অনুমতি দিয়েছেন যা বর্ণনা করা তাঁর জন্য বৈধ ছিল এবং যার জ্ঞান তাঁর নিকট সঠিক প্রমাণিত হয়েছিল; তিনি ছিলেন দূরবর্তী ও নিকটবর্তী সকল ইলম এবং সুপরিচিত ও বিরল শাস্ত্রসমূহের সংগ্রাহক। তিনি আমার সাইয়্যিদ এবং উস্তাদ, যিনি ছোটদের বড়দের কাতারে শামিল করেন: শেখ ইয়াহইয়া আল-মাযুরি আল-ইমাদি। তিনি একজন এমন ইমাম ও আল্লামা যিনি সতর্ক করার চেয়েও বেশি প্রসিদ্ধ এবং ইঙ্গিতের মাধ্যমে পরিচয় করানোর চেয়েও মহৎ। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের চাদর নিয়ে কেউ কাড়াকাড়ি করতে পারে না এবং তাঁর সাথীদের মধ্যে তাঁর মতো কাউকে চোখ খুঁজে পায় না। তিনি পাঠদানের গুরুদায়িত্ব বহনকারী এবং ইমাম ইবনে ইদ্রিস-এর মাযহাবে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। বরং আমার জীবনের কসম, তিনি ছিলেন তাঁর যুগের উলামাদের কণ্ঠহারের মধ্যমণি। কোনো সুবক্তা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে অক্ষম, যদিও সে তার গদ্য ও পদ্যের চরম শিখরে পৌঁছায়। উলামাদের জন্য তিনি ছিলেন রহমতস্বরূপ এক সৌন্দর্য। কিন্তু তাঁকে দেখলে মনে হতো নিজের প্রতি অযত্নের কারণে তিনি একজন সাধারণ বাহক। ইনসাফের জবান তাঁর সম্পর্কে বলবে—যদি আপনি তা বুঝতে পারেন—যেমনটি ইমাম শাফেয়ী নিজের সম্পর্কে বলেছিলেন:

আমার গায়ে এমন কাপড় রয়েছে যার সবটুকু যদি … এক পয়সায় বিক্রি করা হয়, তবে সেই এক পয়সাই হবে তার চেয়ে বেশি মূল্যের।

কিন্তু সেই কাপড়ের ভেতরে এমন এক প্রাণ রয়েছে, যদি তার বিনিময়ে … সকল মানুষের প্রাণও বিক্রি করা হয়, তবে সেটিই হবে সর্বাপেক্ষা দামী ও মহান।

তিনি বারোশ পঞ্চাশের কিছু পরে রাসূলদের সর্দার (তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর হিজরতের সাল অনুসারে ওফাত পান। তাঁকে 'বাবুল আযজ' কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর কবরের মাটি সর্বদা রহমতের সুগন্ধিতে আমোদিত থাকুক। আমাকে আরও একদল প্রখ্যাত উলামা অনুমতি দিয়েছেন, যাঁদের প্রত্যেকেই শ্রেষ্ঠত্বের ময়দানে এক একজন ইমাম। যেমন: শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, দামেশকের মুহাদ্দিস শেখ আব্দুর রহমান আল-কুযবারী এবং যাঁর অন্তর মালেকূতের বাগিচায় বিচরণ করে, শেখ আব্দুল লতিফ (বৈরুতের মুফতি শেখ আলীর পুত্র)। তাঁরা দামেশক-শাম থেকে আমার কাছে এই মর্মে পত্র লিখেছিলেন এবং যা লিখেছিলেন তাতে প্রথিতযশা উলামাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন। দ্বিতীয়জন তাঁর পত্রের মাঝে চমৎকার গঠন ও অর্থবহ কিছু পঙক্তি রচনা করেছিলেন। তিনি বলেন:

কতই না সুন্দর বাগদাদ নগরী, যা … মহত্ত্ব ও মহৎ ব্যক্তিদের ধারণ করে আছে।

মানুষের কাছে এর সৌন্দর্যের কারণে এটি … সকল শহরের ঊর্ধ্বে স্থান পেয়েছে।

কতই না আলিম ও ইমাম সেখানে বিকশিত হয়েছেন।

এর অন্যতম সৌন্দর্য হলো এটি … সকল কল্যাণ ও শান্তির আলয়ে পরিণত হয়েছে।

আর দিগন্তের অন্যান্য উলামাবৃন্দ … এবং ইরাকের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ।

তাঁরা শ্রেষ্ঠত্বের কণ্ঠহারের সুতায় গেঁথে আছেন … এবং তাঁরা সবাই সেই হারের মধ্যমণি, সুতরাং সেই মণিহারের কথা বলাই বাহুল্য।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১০)
ولعلي أترجم الكل في كتاب، يكون إن شاء الله تعالى ثانياً لنزهة الباب) ولما (بلغت من العمر نحو إحدى وعشرين، جمع لشهود إجازتي علماء بلدتي شيخي علاء الدين، فكان يوم الجمع يوماً مشهوداً مشهوراً أفاض على العدو شروراً، وأغاض من الحاسد سروراً، وكان ذلك في المدرسة الخاتونية، قريباً من الحضرة القادرية، ونصبت يومئذ مدرساً في مدرسة الباجة جي الحاج نعمان، وهو جوار بيته قصر التماثيل متصلة بجدار البستان، في المحلة المشهورة اليوم بسبع بكار، وكانت من قبل مشهورة بمحلة نهر المعلى في الأقطار، وعندما نصبت تأججت نيران قلوب الأعداء فلم يطفها إلا خروجي فخرجت من هاتيك الأرجاء، ثم عمر الحاج أمين شقيق النعمان في محلة رأس القرية مدرسة وجامعاً مقدساً، فنصبت هنالك على رغم الحاسدين خطيباً وواعظاً ومدرساً، فصدعت بالخدمات الثلاث في ذلك المحل الأرفع، وصدحت على أفنانها بمرأى من العدو الشاني ومسمع، إلا أني عددت الخطابة نقمة، حيث أني أجهل خطباء العراق بأصول النغمة، والناس اليوم لا يسمعون خطيباً، ما لم يكن عندليباً، ولا يدخلون مسجداً، ما لم يكن خطيبه معبداً، ومعظم أهل العراق يكرهون الخطبا، إذا لم يغنوهم بنحو الحسيني والصبا، ويحسبون الإخلال بالألحان لحناً، وترك الأوزان العجمية في الدين وهناً، وكذا ثقل علي أن أعظ، لعلمي بأني غير متعظ.

وإني لأستحيي من الله كلما … راوني خطيباً واعظاً فوق منبر

ولست برياً بينهم فأفيدهم … إلا إنما تشفي المواعظ من بري

وكان يغص الجامع بالسامعين، وتشرق الجيوب والأكمام بدموع الباكين وربما أبقى في تفسير الآية الواحدة شهراً، وأنا كل يوم أتلو عليهم والحمد لله تعالى من أسرارها ذكراً، وشرعت في الوعظ وأنا ابن عشر سنين ووعظت في كثير من مساجد المسلمين، وأقرأت شاباً وكهلاً. وأنا ابن ثلاثة عشر حولاً، وتعلمت ضم الحرف إلى الحرف، وعمري نحو أصابع الكف، كل ذلك من فضل الله تعالى عليّ، ثم بركة دعاء والدي، حتى إذا جاء الطاعون، وسارت بعلماء الكرخ وسادته الظعون.

خلت الديار فسدت غير مسود … ومن الشقاء تفردي بالسؤدد

وتوفي إذ ذاك والأمر لله سبحانه والدي، ومن هو الله تعالى مساعدي، وفي تناول ما يصلح حالي زندي ومساعدي، سيدي وسندي) السيد عبد الله أفندي (تغمده الله برحمته، وأسكنه غرف كرامته في أعالي جنته، وكان عليه الرحمة ترشح بالصلاح جلدته، وتشرح الصدور رؤيته، ما رأته عيون الأسحار إلا قائماً، وما أبصرته مواسم الأبرار إلا صائماً، وما ابتسم ثغر فجر تحت أذيال دجاه، إلا وجده يبكي خشية بين يد مولاه جل علاه، وقد درس نحو أربعين سنة في الحضرة الأعظمية وكان يذهب إليها ماشياً إعظاماً لما ضمته من عظام محيي السنة الأحمدية وكان مع ذلك يدرس في مدرسة الموليخانه، التي جعلها داود باشا خاناً وسوقاً وبنى فيها لقهوة البن حانه، ونقل التدريس إلى بعض منها يسمى اليوم بالآصفية، ونصب فيها مدرسين للعلوم النقلية والعقلية، ودرس نحو أربع سنين في مدرسة الشهيد علي باشا التي أعدت لرئيس المدرسين، وهو عليه الرحمة ثالث مدرس درس بها، وكنت في أيامه محافظ كتبها، ووعظ وخل الشباب غير مماذق، في جامع محمد الفضل بن إسماعيل بن جعفر الصادق وكانت الطلبة تتبرك بالقراءة عليه، وتعد من أسباب الفتوح عليها تقبيل يديه وقد حج قبل أن يتزوج ثلاث مرات، وذهب إلى مصر لزيارة شقيقه السيد حسن فوجده يوم دخل قد مات) وينتهي نسبه الذكي الزكي إلى الريحانتين (فمن جهة أمه إلى الحسن ومن جهة أبيه إلى الحسين، ويحلق نسب أمه إلى ذلك بجناح الباز الأشهب، ومن نصب له وكر العناية الأزلية في حظائر الغيب الأغيب، قدس سره، وغمرنا بره، والأمر مفصل في حديقة الورود، فقد زهت فيها نظماً ونثراً أسماء الآباء والجدود، وكذا في شجرة الأنوار، ونوار الأزهار، التي ألفناها في إسلامبول، وجمعنا فيها ما شاء الله تعالى من ذرية الزهراء البتول، ولعمري أنه نسب يصلح أن يجعل تميمة فطيم، ويتخذ لبركة من حوى رقيمة سليم.

نسب كأن عليه من شمس الضحى … نوراً ومن فاق الصباح عموداً

فهو عليه الرحمة محبوك الطرفين، قد طابق شرفه في نفسه شرف الجدين فلا بدع أن نال بيد مجده الثريا، أو تفيء في الشرف مكاناً عليا.
সম্ভবত আমি এর সবকিছুই একটি কিতাবে অনুবাদ করব, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা ‘নুজহাতুল বাব’-এর দ্বিতীয় খণ্ড হবে। যখন আমার বয়স প্রায় একুশ বছর হলো, তখন আমার শায়খ আলাউদ্দীন আমার ইজাজত প্রদানের সাক্ষী হওয়ার জন্য আমার শহরের আলিমদের একত্রিত করলেন। সেই সমাবেশের দিনটি ছিল এক স্মরণীয় ও প্রসিদ্ধ দিন, যা শত্রুদের মনে দুঃখের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিল এবং হিংসুকদের আনন্দকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল। এটি ছিল কাদরিয়া দরবার শরীফের নিকটবর্তী খাতুনিয়া মাদরাসায়। সেদিন আমাকে হাজি নুমান বাজি-জি মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো, যা তাঁর ঘর ‘কসরুত তামাসিল’-এর পাশে এবং বাগানের প্রাচীর ঘেঁষে অবস্থিত ছিল। এটি বর্তমানে ‘সাবআ বাকার’ নামে পরিচিত মহল্লায় অবস্থিত, যা আগে বিভিন্ন দেশে ‘নহরে মুআল্লা’ মহল্লা হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল। যখন আমি সেখানে নিযুক্ত হলাম, তখন শত্রুদের অন্তরে আগুনের শিখা জ্বলে উঠল, যা আমার সেখান থেকে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনোভাবেই প্রশমিত হচ্ছিল না। ফলে আমি সেই এলাকা ত্যাগ করলাম। এরপর নুমানের ভাই হাজি আমিন ‘রাসুুল কারয়াহ’ মহল্লায় একটি মাদরাসা এবং একটি পবিত্র জামে মসজিদ নির্মাণ করলেন। সেখানে হিংসুকদের নাক কালো করে আমাকে খতিব, ওয়ায়েজ (ওয়াজকারী) এবং শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো। আমি সেই সুউচ্চ স্থানে এই তিনটি দায়িত্ব পালন করতে লাগলাম এবং শত্রুদের দেখা ও শোনার মধ্যেই আমার জ্ঞান বিতরণ করতে থাকলাম। তবে আমি খতিবের দায়িত্বকে একটি বিপদ মনে করতাম, কারণ আমি ইরাকের খতিবদের মতো সুরের তাল ও নিয়ম সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলাম। অথচ বর্তমান যুগের মানুষ কোনো খতিবের কথা শুনতে চায় না যতক্ষণ না সে বুলবুলি পাখির মতো সুমিষ্ট স্বরে কথা বলে। তারা কোনো মসজিদে প্রবেশ করে না যতক্ষণ না তার খতিব কোনো সুমিষ্ট গায়ক হয়। ইরাকের অধিকাংশ মানুষ খতিবদের অপছন্দ করে যদি না তারা তাদের ‘হুসাইনি’ এবং ‘সাবা’র মতো সুরে না শোনায়। তারা সুরের সামান্য ব্যত্যয়কে ভাষাগত ভুল মনে করে এবং দ্বীনের ক্ষেত্রে অনারব সুর ও ছন্দ ত্যাগ করাকে দুর্বলতা মনে করে। একইভাবে ওয়াজ করাও আমার কাছে ভারী মনে হতো, কারণ আমি জানি যে আমি নিজেই নসিহত গ্রহণকারী নই।

আমি আল্লাহর কাছে লজ্জিত হই যখনই … তারা আমাকে মিম্বারের ওপর খতিব ও ওয়ায়েজ হিসেবে দেখে।

আমি তাদের মাঝে এমন পুণ্যবান নই যে তাদের উপকার করব … তবে নসিহত কেবল পুণ্যবানের পক্ষ থেকেই ফলপ্রসূ হয়।

জামে মসজিদটি শ্রোতাদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে যেত এবং ক্রন্দনকারীদের চোখের পানিতে জামার পকেট ও হাতা ভিজে যেত। কখনো কখনো আমি একটি আয়াতের তাফসিরেই এক মাস কাটিয়ে দিতাম, আর প্রতিদিন তাদের সামনে আল্লাহর প্রশংসা সহকারে সেই আয়াতের রহস্যসমূহ আলোচনা করতাম। আমি মাত্র দশ বছর বয়স থেকে ওয়াজ শুরু করি এবং মুসলিমদের অনেক মসজিদে ওয়াজ করেছি। তেরো বছর বয়সেই আমি যুবক ও বৃদ্ধদের পাঠদান করেছি। যখন আমার বয়স হাতের আঙুলের সমান (অর্থাৎ পাঁচ বছর) ছিল, তখনই আমি অক্ষর জ্ঞান লাভ করি। এসবই আমার ওপর মহান আল্লাহর অনুগ্রহ এবং আমার পিতার দোয়ার বরকত। এরপর যখন প্লেগ মহামারি এলো এবং কারখের আলিম ও নেতৃবৃন্দ প্রস্থান করলেন...

জনপদ শূন্য হয়ে গেল, তাই আমি নেতা না হয়েও নেতৃত্বে আসীন হলাম … আর একাকী এই নেতৃত্বে থাকাটা আমার জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়।

সেই সময় আমার পিতা ইন্তেকাল করেন—সমস্ত বিষয় আল্লাহর হাতে—যিনি মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমার সাহায্যকারী ছিলেন এবং আমার অবস্থার সংশোধনে আমার শক্তি ও অবলম্বন ছিলেন। তিনি হলেন আমার সাইয়্যিদ ও ভরসাস্থল সাইয়্যিদ আবদুল্লাহ আফেন্দী। আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন এবং জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে স্থান দিন। তাঁর মধ্যে তাকওয়া ও পরহেজগারির নূর প্রকাশিত হতো এবং তাঁর দর্শনে অন্তর প্রশান্ত হতো। শেষ রাতের চোখগুলো তাঁকে সর্বদা দণ্ডায়মান (সালাতরত) অবস্থায় দেখেছে এবং পুণ্যবানদের মিলনমেলা তাঁকে সর্বদা রোজা রাখা অবস্থায় প্রত্যক্ষ করেছে। ভোরের আলো যখনই ফুটেছে, তখনই তাঁকে তাঁর মহান রবের দুই হাতের সামনে অত্যন্ত ভয়ে কাঁদতে দেখা গেছে। তিনি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ‘হাদরাত আল-আজমিয়া’-তে পাঠদান করেছেন। সুন্নতে আহমদিয়ার পুনর্জীবক ইমাম সাহেবের হাড়ের (মরদেহের) প্রতি সম্মানের খাতিরে তিনি সেখানে পায়ে হেঁটে যেতেন। এর পাশাপাশি তিনি ‘মৌলিখানা’ মাদরাসায় পাঠদান করতেন, যা দাউদ পাশা একটি সরাইখানা ও বাজারে পরিণত করেছিলেন এবং সেখানে কফি পানের আড্ডাখানা বানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে পাঠদান সেখানকার কিছু অংশে স্থানান্তরিত হয় যা বর্তমানে ‘আসিফিয়া’ নামে পরিচিত এবং সেখানে আকলি (বুদ্ধিবৃত্তিক) ও নাকলি (কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক) শাস্ত্রের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি প্রায় চার বছর শহীদ আলী পাশা মাদরাসায় পাঠদান করেন, যা প্রধান শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত ছিল। তিনি সেখানে পাঠদানকারী তৃতীয় শিক্ষক ছিলেন এবং সেই সময় আমি সেখানকার কুতুবখানার (লাইব্রেরি) তত্ত্বাবধায়ক ছিলাম। তিনি যৌবনকাল থেকেই কোনো কপটতা ছাড়াই মুহাম্মদ ফজল ইবনে ইসমাইল ইবনে জাফর আস-সাদিকের মসজিদে ওয়াজ করেছেন। ছাত্ররা তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করে বরকত লাভ করত এবং তাঁর হাত চুম্বন করাকে সফলতার অন্যতম মাধ্যম মনে করত। বিবাহের পূর্বে তিনি তিনবার হজ পালন করেন। তিনি তাঁর ভাই সাইয়্যিদ হাসানের সাথে দেখা করতে মিসর গিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখলেন তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর পবিত্র বংশধারা হাসনাইন পর্যন্ত পৌঁছেছে; তাঁর মায়ের দিক থেকে হাসান এবং পিতার দিক থেকে হুসাইন (রা.)-এর সাথে মিলিত হয়েছে। তাঁর মায়ের বংশধারা ‘আল-বাজ আল-আশহাব’-এর সাথে সম্পর্কিত, যাঁর জন্য অদৃশ্য জগতের নিভৃত কক্ষে অনাদি যত্নের নীড় তৈরি করা হয়েছে। আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং আমাদের তাঁর কল্যাণ দ্বারা ধন্য করুন। এ বিষয়টি ‘হাদিকাতুল উরুদ’ কিতাবে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে, সেখানে আমি পূর্বপুরুষদের নাম গদ্য ও পদ্যে অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলছি। একইভাবে ‘শাজরাতুল আনোয়ার’ এবং ‘নাওয়ারুল আজহার’ কিতাবেও তা রয়েছে, যা আমি ইস্তাম্বুলে রচনা করেছি। সেখানে আমি ফাতিমা আজ-জাহরার বংশধরদের সম্পর্কে যা আল্লাহ তাওফিক দিয়েছেন তা জমা করেছি। আমার জীবনের কসম, এটি এমন এক বংশধারা যা কোনো শিশুর তাবিজে ব্যবহারের যোগ্য এবং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য বরকত লাভের উপযুক্ত।

এমন এক বংশধারা যার ওপর ভোরের সূর্য থেকে নূর … এবং সুবহে সাদিকের স্তম্ভের চেয়েও অধিক দীপ্তি রয়েছে।

তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি উভয় কূল থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী বংশীয় সম্পর্কের অধিকারী, তাঁর নিজের সম্মান তাঁর দুই পিতামহের সম্মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে তাঁর মহানুভবতার হাত সুরাইয়া নক্ষত্র পর্যন্ত পৌঁছে গেছে অথবা তিনি সম্মানের সুউচ্চ মাকামে স্থান পেয়েছেন।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১১)
ما عذر من ضربت به أعراقه … حتى بلغن إلى النبي محمد

أن لا يمد إلى المكارم باعه … وينال غايات العلى والسؤدد

مترقياً حتى تكون ذيوله … أبد الزمان عمائماً للفرقد

وبالجملة كان نقي الذات، بهي الصفات، زكي الأعراق، ذكي الأخلاق، وافي الوفاء، لا يخل بحقوق الأخلاء، قد طهر الله تعالى سره، وأعلى لديه بطاعته قدره، فلو أقسم على الله سبحانه لأبره.

هذا أبي جامع ما قد سمعت به … هيهات ما للورى يا دهر مثل أبي

ولما توفي عليه الرحمة في الطاعون، وسارت معه من أهل البيت الظعون، لبس لي الزمان جلد النمر وجعل يكر عليّ ويفر، وجرت أمور منها السماء تمور، ووقعت مواد تشيب لذكرها لمم المداد.

رماني الدهر بالأرزاء حتى … فؤادي في غشاء من نبال

وصرت إذا أصابتني نبال … تكسرت النبال على النبال
যার বংশধারা বিস্তৃত হয়েছে … এমনকি তা নবী মুহাম্মদ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তার কী ওজর থাকতে পারে

যে সে মহানুভবতার দিকে স্বীয় হস্ত প্রসারিত করবে না … এবং উচ্চমর্যাদা ও নেতৃত্বের চরম শিখরে পৌঁছাবে না

সে ক্রমাগত উন্নত হতে থাকবে যতক্ষণ না তার উত্তরসূরিরা … অনন্তকাল ফারকাদ নক্ষত্রের শিরস্ত্রাণে পরিণত হয়

মোটের উপর তিনি ছিলেন নিষ্কলুষ সত্তার অধিকারী, দীপ্তিময় গুণাবলি সম্পন্ন, পবিত্র বংশোদ্ভূত, প্রখর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং অত্যন্ত বিশ্বস্ত। তিনি সুহৃদদের হকের বিষয়ে কোনো ত্রুটি করতেন না। আল্লাহ তাআলা তাঁর অন্তরকে পবিত্র করেছেন এবং তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট তাঁর মর্যাদা উচ্চ করেছেন; তিনি যদি আল্লাহর নামে শপথ করতেন, তবে আল্লাহ অবশ্যই তা পূর্ণ করতেন।

ইনিই আমার পিতা, যিনি তোমার শ্রুত সমস্ত গুণের আধার … হায় মহাকাল! সৃষ্টির মাঝে আমার পিতার সমতুল্য কেউ নেই

যখন তিনি (তাঁর ওপর রহমত বর্ষিত হোক) প্লেগ মহামারীতে ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁর সাথে পরিবার-পরিজনের কাফেলাও প্রস্থান করল, তখন কালচক্র আমার বিরুদ্ধে চিতার চর্ম পরিধান করল এবং আমার ওপর বারবার আক্রমণ ও আঘাত করতে লাগল। এমন সব বিষয় সংঘটিত হলো যাতে আকাশ প্রকম্পিত হয় এবং এমন সব ঘটনা ঘটল যার স্মরণে শিশুদের কেশরাজি শুভ্র হয়ে যায়।

মহাকাল আমাকে বিপদ-আপদ দ্বারা এমনভাবে বিদ্ধ করল যে … এমনকি আমার হৃদয় তীরের আবরণে ঢাকা পড়ে গেল

ফলে আমার অবস্থা এমন হলো যে, যখনই কোনো তীর আমাকে বিদ্ধ করত … তখন তীরের ওপর তীরের আঘাতে সেগুলো ভেঙে চূর্ণ হতো
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১২)
واضطررت إلى أن تركت سكنى داري، وارتكبت والأمر لله تعالى فراق سكني وجاري، وسكنت في ظل جناح باز الله الأشيب، عليه ما يبهر العقول من النور الشعشعاني الذي يحجب ولا يحجب قدس الله تعالى سره، وأعلى في حظائر القدس ذكره، حتى إذا كان رمضان سنة الخمسين، وهي مبدأ انحلال ما عقده القضاء علي من البين المبين، أمرني النقيب إذ ذاك بالوعظ في الحضرة الغوثية، فأجبته مكرهاً لاشتغال ذهني بأمور فاتفق أن ساق حسن القضاء، لاستماع وعظي الوزير الخطير) علي رضا (فسمعه فصلاً فصلاً، وفهم أسراره بلاً بلاً، فدهش واستغرب، وعجب غاية العجب وقال في مدحي ما قال، مما يضيق عن التلفظ به فم المقال، ثم أمر بأن أذهب إليه في العيد، والنقيب السابق ملقى السمع وهو شهيد، فضاق لذلك فسيح صدره، وندم على ما مر من أمره، فلما جاءه العيد، ذهب إلى سرايه فعايدته، وشاهدت من الإكرام ما لم أكن شاهدته، وأعاد ما كان من الوظائف علي، وكان أخذها مني، ورغبها عني، فكنت أشكل برؤيته العين، وأذهب غليه في الأسبوع مرة أو مرتين، وفي عيد الأضحى نصبني خطيب الأعظمية، وشغف بي، من بين صحبي، فجعلت أذهب مع الأعيان، كل جمعة للديوان، فأكون في الأغلب المخاطب له وحدي كأن لم يكن في الديوان غيري أفندي، وفي كل ليلة أجتمع معه، وأكاد أحيي ف مسامرته ليلي أجمعه، وفي هاتيك الأثناء شرحت البرهان في إطاعة الله ظل الله تعالى السلطان، فقدمته إليه، وعرضته عليه، لؤلؤه بوقف مرجان، وبجلب رتبة تدريس الأستانة من حضرة السامعين ثم نصبني مفتي الحنفية، وكان قد وعدني بذلك يوم سمع وعظي في الحضرة الغوثية) نعم (سعى غاية السعي في إنجاز ذلك الوعد، وأصر على عدم تأخيره من يوم إلى غد، ذو الهمة التي لا تجارى، والغيرة العمرية التي لا تبارى، من جرى وادي فضله فطم على القرى، حضرة مولاي) عبد الباقي أفندي العمري (، وكان لي سلمه الله تعالى في كل أموري مساعداً، ومتى عطلت يدي عن مصالحي كان لي يداً وساعداً، أدام الله تعالى حياته على رغم كل مبغض، ولم يزل ذلك الوزير يعلي لي الشأن، حتى قلدني من أيادي السلطان بنيشان، ولم يسبق ذلك لأحد من علماء البلد وذلك بعد أن وردت عدة أسئلة علمية من إيران، فأحجم عن جوابها قبلي فضلاء الزمان، وكل ذلك مفصل في ترجمتي حديقة الورود في مدائح أبي الثناء شهاب الدين محمود) حتى (إذا أراد الله تعالى فيه إظهار سابق علمه، وأوصله بلطفه الجزيل إلى آخر أيام حكمه، وجهت إيالة مدينة السلام) إلى محمد نجيب باشا (وإلى دمشق الشام، وأمر هو بالتوجه بدله إلى دمشق، فلم يسعه إلا الامتثال وإن شق، فلما جاء النجيب جعل حاله يتلون معي تلون الحرباء، فطوراً وصال وطوراً والعياذ بالله تعالى جفاء وأنا في كلتا الحالتين أطوع له من ظله، وأسرع في امتثال أمره من خاصة أهله، وكم صمم على عزلي وما عزل، حيث دفع بصدره عدم انتهاء الأجل، فقد قدر جل شأنه وعلا، لكل شيء حتى المناصب أجلا، فلما انتهى ما قدره، وقضى به في الأزل وقرره، أطاع اللاحي فعزلني عن منصبي، ففرحت بذلك كأنه غاية مطلبي، حيث كنت مشغولاً بإتمام تفسيري روح المعاني، وكان الاشتغال بالإفتاء قاضياً بتضييق زماني) نعم (رفع عني وقف مرجان، فأسبل علي بذلك سجف الأحزان، وقطع مني بشفرة إعراضه نياط قلبي، فصرت عثيثة أثاثي، وفويرة كتبي، حتى كدت آكل الحصير، وأشرب عليه مداد التفسير، وأرتقي هضبة عزلي، على وجه لم يحب إليه طفل عقلي، وذلك أني دعيت من قبل الدولة العلية أيدها وأبدها رب البرية، لحضور سور همايون، الذي هو بالخير مقرون، فبلاني من ذلك سرور، وضرب عليه من الكآبة سور، فأفهمني إشارة أني خرجت من البلد، أتردى بخنادق الكمد، ثم أشار علي بالاعتذار، وعرض تعذر السفر لبعد الدار، مع الاشتغال بالتفسير، والقيام بمصالح الوزير، فكتبت حسبما أشار، وكتب هو أيضاً ألا أنه أولج الليل في النهار، ومع ذا أوصل كتابي إلى حضرة شيخ الإسلام وولي النعم، الآخذ من مطايا الحق بمذود لا ومقود نعم على يد الباليون الفرنساوي، فأهوى بي لذلك إلى وخيم المهاوي، فكان ما كان، والله تعالى المستعان، فلم أر بداً من الارتحال، خشياً أن تغتالني غائلة العيال، وقلت لنفسي لا بد من السفر، وإن كانت قطعة من السقر، لأعرض حالي وعريض ما أنا فيه من البلية، على مراحم الدولة العلية العثمانية

আমি আমার বাড়িতে থাকা পরিত্যাগ করতে বাধ্য হলাম এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আমার বাসস্থান ও প্রতিবেশী ত্যাগের কষ্ট সহ্য করলাম। আমি আল্লাহর ধূসর বাজপাখির (বাজ আল্লাহ আল-আশহাব) ছায়াতলে বসবাস করতে শুরু করলাম, যাঁর ওপর রয়েছে এমন জ্যোতির্ময় নূর যা বিবেককে স্তব্ধ করে দেয়, যা আবরণ তৈরি করে আবার আবরণমুক্তও থাকে—আল্লাহ তায়ালা তাঁর রহস্যকে পবিত্র করুন এবং জান্নাতের সুউচ্চ উদ্যানে তাঁর আলোচনাকে সমুন্নত করুন। ১২৫০ হিজরি সনের রমজান মাস আসা পর্যন্ত আমি সেখানেই ছিলাম। এটি ছিল আমার ওপর তাকদিরের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সেই স্পষ্ট বিচ্ছেদের বন্ধনগুলো শিথিল হওয়ার শুরু। সেই সময় নকিব আমাকে গাউসিয়া দরবারে ওয়াজ করার নির্দেশ দিলেন। তখন বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তিত থাকায় আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাতে রাজি হলাম। ঘটনাক্রমে উত্তম তকদিরের ফয়সালায় গুরুত্বপূর্ণ উজির আলী রেজা আমার ওয়াজ শোনার জন্য আসলেন। তিনি তা প্রতিটি পরিচ্ছেদ অনুযায়ী শ্রবণ করলেন এবং এর রহস্যসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুধাবন করলেন। এতে তিনি অত্যন্ত অভিভূত ও আশ্চর্যান্বিত হলেন এবং আমার প্রশংসায় এমন সব কথা বললেন যা মুখে প্রকাশ করা কঠিন। এরপর তিনি আমাকে ঈদের দিন তাঁর নিকট যাওয়ার নির্দেশ দিলেন, আর পূর্ববর্তী নকিব তখন উপস্থিত থেকে সবকিছু শুনছিলেন। এতে নকিবের বিশাল অন্তর সংকুচিত হয়ে এল এবং তিনি তাঁর পূর্বের আচরণের জন্য অনুতপ্ত হলেন। ঈদের দিন যখন এল, আমি তাঁর প্রাসাদে গেলাম এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। সেখানে আমি এমন সম্মান প্রত্যক্ষ করলাম যা আগে কখনো দেখিনি। তিনি আমাকে সেই সব পদ ফিরিয়ে দিলেন যা আমার থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং আমার থেকে বিমুখ করা হয়েছিল। তাঁর দর্শনে আমার চক্ষু শীতল হতো এবং আমি সপ্তাহে এক বা দুইবার তাঁর কাছে যেতাম। ঈদুল আজহায় তিনি আমাকে আজমিয়ার খতিব হিসেবে নিযুক্ত করলেন এবং আমার সঙ্গীদের মধ্য থেকে আমাকেই বিশেষভাবে পছন্দ করে নিলেন। ফলে আমি প্রতি জুমায় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে রাজদরবারে যেতে শুরু করলাম। সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনিই একমাত্র আমার সাথে কথা বলতেন, মনে হতো রাজদরবারে আমি ছাড়া আর কোনো আফিন্দি নেই। প্রতি রাতে আমি তাঁর সাথে একত্রিত হতাম এবং তাঁর সাথে কথোপকথনের মাধ্যমে প্রায় সারা রাত জাগরণ করতাম। সেই সময়ে আমি 'আল্লাহর ছায়া সুলতানের আনুগত্যে আল্লাহর আনুগত্যের প্রমাণ' নামক গ্রন্থটি রচনা করি এবং তা তাঁর সামনে পেশ করি। তিনি আমাকে মারজান ওয়াকফ এবং শ্রোতামণ্ডলীর নিকট থেকে ইস্তাম্বুলে অধ্যাপনার পদমর্যাদা অর্জনের সুযোগ করে দেন। অতঃপর তিনি আমাকে হানাফি মাজহাবের মুফতি হিসেবে নিযুক্ত করেন। গাউসিয়া দরবারে যেদিন তিনি আমার ওয়াজ শুনেছিলেন, সেদিনই তিনি আমাকে এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হ্যাঁ, যাঁর হিম্মতের কোনো তুলনা নেই এবং যাঁর উমরসুলভ আত্মমর্যাদাবোধ অপ্রতিদ্বন্দ্বী, সেই মহান ব্যক্তি এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন এবং একদিনও দেরি না করার ওপর অটল ছিলেন। যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের নদী প্রবাহিত হয়ে জনপদসমূহ প্লাবিত করেছে, তিনি হলেন আমার মওলা আব্দুল বাকি আফিন্দি আল-উমরি। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে নিরাপদে রাখুন; তিনি আমার সকল বিষয়ে সাহায্যকারী ছিলেন। যখনই আমার হাত আমার স্বার্থ রক্ষায় অক্ষম হতো, তখন তিনিই আমার হাত ও শক্তিতে পরিণত হতেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর শত্রুদের অবজ্ঞায় তাঁর জীবনকে দীর্ঘায়িত করুন। সেই উজির সর্বদা আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করতে থাকেন, এমনকি তিনি সুলতানের পক্ষ থেকে আমাকে একটি রাজকীয় পদক প্রদান করেন। এই শহরের কোনো আলেম এর আগে এই সম্মান পাননি। এটি তখন ঘটেছিল যখন ইরান থেকে বেশ কিছু ইলমি প্রশ্ন এসেছিল এবং সমসাময়িক বিজ্ঞ ব্যক্তিরা তার উত্তর দিতে সক্ষম হননি। এই সব কিছুই আমার জীবনী গ্রন্থ 'হাদিকাতুল উরুদ ফি মাদায়েহ আবিস সানা শিহাবুদ্দিন মাহমুদ'-এ বিস্তারিত বর্ণিত আছে। পরিশেষে, যখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর অনাদি ইলম প্রকাশ করতে চাইলেন এবং তাঁর বিশাল করুণার মাধ্যমে তাঁকে তাঁর শাসনের শেষ দিনে পৌঁছে দিলেন, তখন বাগদাদের শাসনভার মুহাম্মদ নাজিব পাশার ওপর এবং দামেস্কের শাসনভার আলী রেজার ওপর অর্পিত হলো। আলী রেজাকে দামেস্কে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে কষ্টসাধ্য হওয়া সত্ত্বেও আনুগত্য করা ছাড়া তাঁর কোনো উপায় ছিল না। যখন নাজিব আসলেন, তখন আমার প্রতি তাঁর আচরণ গিরগিটির মতো রং বদলাতে লাগল। কখনও সদ্ভাব, আবার কখনও—আল্লাহর পানাহ—বিমুখতা। আমি উভয় অবস্থাতেই তাঁর ছায়ার চেয়েও বেশি অনুগত ছিলাম এবং তাঁর পরিবারের চেয়েও দ্রুত তাঁর নির্দেশ পালনে তৎপর ছিলাম। তিনি কতবার আমাকে বরখাস্ত করার সংকল্প করেছেন কিন্তু পারেননি, কারণ আয়ু শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা সম্ভব ছিল না। মহান আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য, এমনকি পদের জন্যও একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে রেখেছেন। যখন তাঁর নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এল এবং অনাদিকাল থেকে যা ফয়সালা ছিল তা বাস্তবায়িত হলো, তখন নিন্দুকদের কথায় তিনি আমাকে আমার পদ থেকে বরখাস্ত করলেন। এতে আমি এমনভাবে আনন্দিত হলাম যেন এটাই ছিল আমার পরম লক্ষ্য। কারণ আমি আমার তাফসির 'রুহুল মাআনি' সমাপ্ত করতে ব্যস্ত ছিলাম এবং ইফতা-এর কাজ আমার সময়কে সংকুচিত করে দিচ্ছিল। হ্যাঁ, আমার থেকে 'ওয়াকফে মারজান' কেড়ে নেওয়া হলো, যা আমাকে দুঃখের চাদরে আবৃত করল এবং তাঁর বিমুখতার ছুরিতে আমার হৃদপিণ্ডের ধমনী ছিন্ন হয়ে গেল। আমার আসবাবপত্র ও কিতাবসমূহ জরাজীর্ণ হয়ে পড়ল, এমনকি আমার অবস্থা এমন হলো যে ক্ষুধার তাড়নায় মাদুর খাওয়ার উপক্রম হলো এবং তার ওপর তাফসিরের কালি পান করার অবস্থা হলো। আমি আমার বরখাস্তের পাহাড়ের চূড়ায় এমনভাবে আরোহণ করলাম যা আমার শিশুসুলভ বুদ্ধিও কল্পনা করতে পারেনি। আর তা হলো এই যে, মহান উসমানীয় সাম্রাজ্যের (যাকে সৃষ্টিজগতের পালনকর্তা চিরস্থায়ী করুন) পক্ষ থেকে আমাকে রাজকীয় উৎসবে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলো। এটি একদিকে যেমন আমাকে আনন্দিত করল, অন্যদিকে এর চারপাশ বিষণ্নতার প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ছিল। আমাকে ইশারায় বুঝিয়ে দেওয়া হলো যে, আমি যেন শহর থেকে বেরিয়ে যাই এবং দুঃখের গর্তে পতিত হই। অতঃপর আমাকে ওজর পেশ করার পরামর্শ দেওয়া হলো এবং দূরত্বের কারণে ভ্রমণ করা অসম্ভব বলে জাহির করতে বলা হলো, সাথে তাফসিরের কাজে ব্যস্ততা এবং উজিরের কাজ আঞ্জাম দেওয়ার কথা উল্লেখ করতে বলা হলো। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী আমি লিখলাম এবং তিনিও লিখলেন, কিন্তু তিনি দিনকে রাতের সাথে মিলিয়ে ফেললেন (অর্থাৎ সত্য গোপন করলেন)। তা সত্ত্বেও তিনি আমার পত্রটি শাইখুল ইসলাম ও হিতৈষীর নিকট পৌঁছালেন, যিনি সত্যের বাহনসমূহের লাগাম শক্তভাবে ধারণ করেন। পত্রটি ফরাসি দূতের মাধ্যমে পাঠানো হলো, যা আমাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক খাদের কিনারে নিয়ে গেল। ফলে যা হওয়ার তা-ই হলো এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই। পরিবারের ভরণপোষণের দুশ্চিন্তায় পড়ে দেশান্তরী হওয়া ছাড়া আমি অন্য কোনো উপায় দেখলাম না। আমি মনে মনে বললাম, সফর অবশ্যই করতে হবে, যদিও তা কষ্টের অংশ হয়। যাতে আমি আমার অবস্থা এবং যে বিপদের মধ্যে আছি তা মহান উসমানীয় সাম্রাজ্যের করুণার দরবারে পেশ করতে পারি।

(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
أيدها وأبدها رب البرية، واتفق أن تم تأليف روح المعاني، فقلت نعمت الوسيلة هذه الأسفار للسفر إلى تلك المغاني، وصادف خروج خلف نجيب باشا حضرة عبد الكريم باشا الملقب بالنادر وبعبدي، ومعه من أحبابي مصطفى بك الربعي وسليمان بك أفندي، وذلك إلى آمد السوداء، حيث وجهت له إيالتها بدلاً عن إيالة الزوراء، فقلت لنفسي هذا الوزير نعم الرفيق وحبذاه صاحباً في ذلك الطريق، حيث أني من مخلصيه، الموالين لمن يواليه، والمعادين لمن يعاديه) فاستخرت (الله تعالى حسب المأثور ودعوته تعالى شأنه بالدعاء المشهور، ثم تفاءلت بكتاب رب العالمين مقلداً من قال لا بأس بذلك من العالمين، فنادتني غواني كواعب الآي من الخدور، وتلت علي) هو الذي جعل لكم الأرض ذلولاً فامشوا في مناكبها وكلوا من رزقه وإليه النشور (، واعلم أن الاستخارة مما درج عليه السلف، واتبع أثرهم فيه الخلف، والكلام عليها في فصول فاستمع هديت لما نقول.

‌‌الفصل الأول

‌‌في الأمور التي هي محل الاستخارة

اعلم أن من شأنه أن يراد ينقسم أولاً إلى ثلاثة أقسام: الأول ما يعلم كونه خيراً كالواجب المضيق، الثاني ما يعلم كونه شراً قطعاً كالمجرم المجمع على تحريمه، الثالث ما لا يعلم على القطع خيريته ولا شريته في وقت مخصوص كالواجب الموسع والمندوب كذلك والمندوب المضيق الذي يعارضه مندوب آخر في ذلك الوقت من غير ظهور رجحان لأحدهما والمباحات كلها. ولما كان معناها طلب خير الأمرين من الفعل في وقت معين أو تركه فيه لم يكن الأولان محلين لها إذ أولهما خير قطعاً فلا رخصة في تركه وثانيهما شر قطعاً فلا رخصة في فعله فليس محلاً لها، إلا الثالث فما يوهم العموم في بعض الأخبار وستطلع إن شاء الله تعالى عليه كالأمر في خبر جابر الآتي عام مخصص أو أن آل فيه للعهد فلا تغفل.

‌‌الفصل الثاني

‌‌في سرد بعض أحاديثها
সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক একে শক্তিশালী ও চিরস্থায়ী করুন। এটি কাকতালীয়ভাবে ঘটেছিল যে যখন 'রুহুল মা'আনি'র সংকলন সম্পন্ন হলো, তখন আমি বললাম যে সেই গন্তব্যগুলোতে ভ্রমণের জন্য এই গ্রন্থগুলো কতই না উত্তম মাধ্যম। নজীব পাশার উত্তরসূরি হিসেবে নাদির ও আবদি উপাধিতে ভূষিত হযরত আব্দুল কারিম পাশার প্রস্থানের সময় উপস্থিত হলো, আর তাঁর সাথে ছিলেন আমার প্রিয় বন্ধুদের মধ্য হতে মোস্তফা বেগ রুবায়ী এবং সুলায়মান বেগ এফেন্দি। তাঁরা কালো আমেদের (দিয়ারবাকির) অভিমুখে যাচ্ছিলেন, কারণ জাওরার পরিবর্তে সেখানকার শাসনভার তাঁকে অর্পণ করা হয়েছিল। আমি মনে মনে বললাম, এই উজির কতই না উত্তম সঙ্গী এবং সেই পথের সহযাত্রী হিসেবে তিনি কতই না চমৎকার; যেহেতু আমি তাঁর একনিষ্ঠ শুভাকাঙ্ক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত, তাঁর বন্ধুদের বন্ধু এবং তাঁর শত্রুদের শত্রু। অতঃপর আমি বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার কথা স্মরণ করে সেই প্রসিদ্ধ দোয়ার মাধ্যমে তাঁর নিকট প্রার্থনা করলাম। এরপর আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের কিতাব (কুরআন) দ্বারা শুভ লক্ষণ গ্রহণ করলাম, সেইসব আলেমদের অনুসরণ করে যারা এতে কোনো দোষ নেই বলে মত দিয়েছেন। তখন পর্দার আড়াল থেকে আয়াতরূপী অনিন্দ্য সুন্দরীগণ আমাকে ডাক দিল এবং আমার সামনে এই আয়াত পাঠ করল: "তিনিই তোমাদের জন্য জমিনকে অনুগত করে দিয়েছেন, অতএব তোমরা এর দিক-বিদিক বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিযিক হতে ভক্ষণ করো; আর তাঁর কাছেই হবে পুনরুত্থান।" জেনে রেখো যে, ইস্তিখারা করা সলফে সালেহীনদের অনুসৃত রীতি ছিল এবং পরবর্তীগণও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। এই প্রসঙ্গে আলোচনা কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত, সুতরাং তোমাকে যা বলা হচ্ছে তা হিদায়াত লাভের উদ্দেশ্যে শ্রবণ করো।

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

‌‌যেসব বিষয়ে ইস্তিখারা করতে হয়

জেনে রেখো যে, মানুষের ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ প্রাথমিকভাবে তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথমত, যা নিশ্চিতভাবে কল্যাণকর বলে জানা যায়, যেমন সংকীর্ণ সময়ের ওয়াজিব কাজ। দ্বিতীয়ত, যা নিশ্চিতভাবে অকল্যাণকর বা মন্দ বলে জানা যায়, যেমন সর্বসম্মতভাবে হারাম ঘোষিত অপরাধ। তৃতীয়ত, যার কল্যাণ বা অকল্যাণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিশ্চিতভাবে জানা যায় না, যেমন প্রশস্ত সময়ের ওয়াজিব কাজ এবং অনুরূপ নফল কাজ, কিংবা এমন সংকীর্ণ সময়ের নফল কাজ যার বিপরীতে অন্য একটি নফল কাজ উপস্থিত হয় এবং কোনোটিরই শ্রেষ্ঠত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না, আর সমস্ত মুবাহ বা সাধারণ বৈধ কাজ। যেহেতু ইস্তিখারার অর্থ হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি কাজ করা বা ছেড়ে দেওয়ার মধ্যে যেটি উত্তম সেটি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা, তাই প্রথম দুই প্রকার বিষয় ইস্তিখারার ক্ষেত্র নয়। কারণ প্রথমটি নিশ্চিতভাবেই কল্যাণকর, তাই তা বর্জনের কোনো অনুমতি নেই; আর দ্বিতীয়টি নিশ্চিতভাবেই অকল্যাণকর, তাই তা করারও কোনো অনুমতি নেই। সুতরাং এগুলো ইস্তিখারার ক্ষেত্র নয়। কেবল তৃতীয় প্রকারটিই এর ক্ষেত্র। কিছু হাদিসে যে ব্যাপকতা পরিলক্ষিত হয় (যা সামনে ইনশাআল্লাহ তুমি জানতে পারবে), যেমন জাবের (রাযিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত পরবর্তী হাদিসটি, সেটি হয় কোনো বিশেষ বিষয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অথবা সেখানে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে বোঝানো হয়েছে; সুতরাং এ বিষয়ে অসতর্ক থেকো না।

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

‌‌ইস্তিখারা সংক্রান্ত কিছু হাদিসের বর্ণনা প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
روى البخاري في باب ما جاء في التطوع مثنى مثنى من صحيحه عن جابر بن عبد الله قال كن رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا الاستخارة في الأمور كلها كما يعلمنا السورة من القرآن يقول إذا هم أحدكم بالأمر فليركع ركعتين من غير الفريضة ثم ليقل: اللهم إني أستخيرك بعلمك وأستقدر بقدرتك وأسألك من فضلك العظيم فإنك تقدر ولا أقدر وتعلم ولا أعلم وأنت علام الغيوب اللهم إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري) أو قال عاجل أمري وآجله (فاقدره لي ويسره لي ثم بارك لي فيه وإن كنت تعلم أن هذا الأمر شر لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري) أو قال في عاجل أمري وآجله (فاصرفه عني واصرفني عنه واقدر لي الخير حيث كان ثم رضني به قال ويسمي حاجته، وروى في كتاب الدعوات عن جابر أيضاً قال كان النبي صلى الله عليه وسلم يعلمنا الاستخارة في الأمور كلها كسورة من القرآن إذا هم أحدكم بالأمر فليركع ثم يقول اللهم إني أستخيرك وساق الدعاء وقال في آخره أيضاً ويسمي حاجته، وروي في كتاب التوحيد من الصحيح عنه أيضاً قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلم أصحابه الاستخارة في الأمور كلها كما يعلمهم السورة من القرآن يقول إذا هم أحدكم بالأمر فليركع ركعتين من غير الفريضة ثم ليقل اللهم إني أستخيرك بعلمك إلى قوله وأنت علام الغيوب ولم يقل العظيم اللهم فإن كنت تعلم هذا الأمر ثم يسميه بعينه خيراً لي في عاجل أمري وآجله قال) أو في ديني ومعاشي وعاقبة أمري (فاقدره لي ويسره لي ثم بارك لي فيه اللهم وإن كنت تعلم أنه شر لي في ديني ومعاشي وعاقبة أمري) أو قال في عاجل أمري وآجله (فاصرفني عنه واقدر لي الخير حيث كان ثم رضني به. وروى الطبراني في المعجم الصغير عن ابن مسعود قال كان رسول الله) صلى الله عليه وسلم (يعلمنا الاستخارة كما يعلمنا السورة من القرآن يقول إذا أراد أحدكم أمراً فليقل اللهم إني أستخيرك بعلمك وأستقدرك بقدرتك وأسألك من فضلك العظيم فإنك تقدر ولا أقدر وتعلم ولا أعلم وأنت علام الغيوب اللهم إن كان في هذا الأمر خير في ديني ودنياي وعاقبة أمري فاقدره لي وإن كان غير ذلك خيراً فسهل لي الخير حيث كان واصرف عني الشر حيث كان ورضني بقضائك، وروى في الكبير عنه أيضاً قال علمنا رسول الله) صلى الله عليه وسلم (الاستخارة فقال إذا أراد أحدكم أمراً فليقل اللهم إني أستخيرك بعلمك ولم يقل العظيم وقال فإن كان هذا الذي أريد خيراً في ديني وعاقبة أمري فيسره لي وإن كان غير ذلك خيراً لي فاقدر لي الخير حيث كان يقول ثم يعزم، وروى الحافظ نور الدين أبو الحسن علي بن أبي بكر في كتابه مورد الظمآن، إلى زوايد ابن حيان عن أبي أيوب رضي الله تعالى عنه أن رسول الله) صلى الله عليه وسلم (قال: اكتم الخطبة ثم توضأ فاحسن وضوءك ثم صل ما كتب الله لك ثم احمد ربك ومجده ثم قل اللهم إنك تقدر ولا أقدر وتعلم ولا أعلم وأنت علام الغيوب فإن رأيت لي فلانة) تسميها باسمها (خيراً لي في ديني ودنياي وآخرتي فاقدرها وإن كانت غيرها خيراً لي منها في ديني ودنياي وآخرتي فاقض لي ذلك.) وروي فيه أيضاً (عن أبي سعيد الخدري رضي الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله) صلى الله عليه وسلم (يقول إذا أراد أحدكم أمراً فليقل اللهم أستخيرك بعلمك وأستقدرك بقدرتك وأسألك من فضلك العظيم فإنك تقدر ولا أقدر وتعلم ولا أعلم وأنت علام الغيوب اللهم إن كان كذا وكذا خيراً لي في ديني ومعيشتي وعاقبة أمري فاقدره لي ويسره لي وأعني عليه وإن كان كذا وكذا) الأمر الذي يريد (شراً لي في ديني ومعيشتي وعاقبة أمري فاصرفه عني ثم اقدر لي الخير أينما كان ولا حول ولا قوة إلا بالله.) وروي فيه أيضاً (عن أبي هريرة قال قال رسول الله) صلى الله عليه وسلم (إذا أراد أحدكم أمراً فليقل اللهم إني أستخيرك بعلمك وأستقدرك بقدرتك وأسألك من فضلك فإنك تقدر ولا أقدر وتعلم ولا أعلم وأنت علام الغيوب اللهم إن كان كذا وكذا خيراً لي في ديني وخيراً لي في معيشتي وخيراً لي في عاقبة أمري فاقدره لي وبارك لي فيه وإن كان غير ذلك خيراً فاقدر لي الخير حيث كان ورضني بقدرك.) وروى الحافظ السخاوي (في كتاب الابتهاج بإذكار المسافر الحاج عن ابن السني من حديث إبراهيم بن البراء بن النظر بن أنس بن مالك عن أبيه عن جده أن رسول الله) صلى الله

বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'নফল নামাজ দুই রাকাত করে পড়া' পরিচ্ছেদে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সকল বিষয়ে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেমন তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের সংকল্প করে, সে যেন ফরজ ব্যতিরেকে দুই রাকাত নামাজ পড়ে, এরপর বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের উসিলায় আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের উসিলায় আপনার নিকট সামর্থ্য ভিক্ষা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আপনি সক্ষম, আমি অক্ষম; আপনি জানেন, আমি জানি না; এবং আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহের মহাজ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি আপনি জানেন যে এই কাজটি আমার দ্বীন, আমার জীবন ও আমার কর্মের পরিণামের জন্য (অথবা তিনি বললেন: আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য) কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করে দিন ও সহজ করে দিন এবং তাতে আমাকে বরকত দান করুন। আর যদি আপনি জানেন যে এই কাজটি আমার দ্বীন, আমার জীবন ও আমার কর্মের পরিণামের জন্য (অথবা তিনি বললেন: আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য) অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে ফিরিয়ে নিন এবং আমাকেও তা থেকে সরিয়ে রাখুন। আর যেখানেই হোক আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত করুন, এরপর তাতে আমাকে সন্তুষ্ট করুন। তিনি বলেন, এরপর সে যেন তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে।

তিনি (ইমাম বুখারী) 'কিতাবুদ দাওয়াত'-এ জাবির (রা.) থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সকল বিষয়ে কুরআনের সূরার মতো ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন: যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করে সে যেন নামাজ পড়ে, এরপর বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি... এবং তিনি পুরো দোয়াটি উল্লেখ করেন এবং শেষে বলেন, সে যেন তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে।

সহীহ বুখারীর 'কিতাবুত তাওহীদ'-এ তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সকল বিষয়ে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমন তিনি তাঁদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করে সে যেন ফরজ ব্যতিরেকে দুই রাকাত নামাজ পড়ে, এরপর বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের উসিলায় আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি... 'আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহের মহাজ্ঞানী' পর্যন্ত। তবে এখানে 'মহান' (আল-আজীম) শব্দটি বলেননি। এরপর বলতেন: হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়টি—এরপর সে সুনির্দিষ্টভাবে বিষয়টির নাম উল্লেখ করবে—আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য কল্যাণকর (অথবা তিনি বলেছেন: আমার দ্বীন, জীবন ও কর্মের পরিণামের জন্য), তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত ও সহজ করে দিন এবং তাতে আমাকে বরকত দিন। হে আল্লাহ! আর যদি আপনি জানেন যে এটি আমার দ্বীন, জীবন ও কর্মের পরিণামের জন্য অকল্যাণকর (অথবা তিনি বলেছেন: আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য), তবে আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে দিন এবং যেখানেই হোক আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত করুন, এরপর তাতে আমাকে সন্তুষ্ট করুন।

তাবারানী 'আল-মু'জাম আস-সাগীর'-এ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমন কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করলে সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের উসিলায় আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের উসিলায় আপনার নিকট সামর্থ্য ভিক্ষা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আপনি সক্ষম, আমি অক্ষম; আপনি জানেন, আমি জানি না; এবং আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহের মহাজ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি এই কাজে আমার দ্বীন, দুনিয়া ও কর্মের পরিণামে কল্যাণ থাকে, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন। আর যদি অন্য কিছু আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তবে যেখানেই হোক কল্যাণ আমার জন্য সহজ করে দিন এবং যেখানেই হোক মন্দ আমার থেকে ফিরিয়ে দিন এবং আমাকে আপনার ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট করুন।

তিনি 'আল-কাবীর'-এ তাঁর থেকেই আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের ইস্তিখারা শিক্ষা দিয়ে বলেছেন: তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করলে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের উসিলায় আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি... তবে এখানে 'মহান' (আল-আজীম) শব্দটি বলেননি। আর তিনি বলেছেন: আমি যা চাচ্ছি তাতে যদি আমার দ্বীন ও কর্মের পরিণামে কল্যাণ থাকে, তবে তা আমার জন্য সহজ করে দিন। আর যদি অন্য কিছু আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তবে যেখানেই হোক আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত করুন। তিনি বলেন, এরপর সে দৃঢ় সংকল্প করবে।

হাফেজ নুরুদ্দিন আবুল হাসান আলী বিন আবু বকর তাঁর 'মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনে হিব্বান' গ্রন্থে আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: বিয়ের প্রস্তাব গোপন রাখো, এরপর সুন্দরভাবে অজু করো, তারপর আল্লাহ তোমার জন্য যতটুকু লিখে রেখেছেন ততটুকু নামাজ পড়ো। এরপর তোমার রবের প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করো, অতঃপর বলো: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি সক্ষম, আমি অক্ষম; আপনি জানেন, আমি জানি না; এবং আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহের মহাজ্ঞানী। যদি আপনি অমুক নারীকে (তার নাম উল্লেখ করবে) আমার দ্বীন, দুনিয়া ও পরকালের জন্য কল্যাণকর মনে করেন, তবে তাকে আমার জন্য নির্ধারিত করুন। আর যদি অন্য কেউ তার চেয়ে আমার দ্বীন, দুনিয়া ও পরকালের জন্য বেশি কল্যাণকর হয়, তবে আমার জন্য তাই ফয়সালা করুন।

এতে আরও বর্ণিত হয়েছে আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করলে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার জ্ঞানের উসিলায় কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের উসিলায় আপনার নিকট সামর্থ্য ভিক্ষা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আপনি সক্ষম, আমি অক্ষম; আপনি জানেন, আমি জানি না; এবং আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহের মহাজ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি অমুক অমুক বিষয়টি আমার দ্বীন, জীবিকা ও কর্মের পরিণামের জন্য কল্যাণকর হয়, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত ও সহজ করে দিন এবং তাতে আমাকে সাহায্য করুন। আর যদি অমুক অমুক বিষয়টি—অর্থাৎ যে কাজটির সে ইচ্ছা করেছে—আমার দ্বীন, জীবিকা ও কর্মের পরিণামের জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে তা আমার থেকে ফিরিয়ে নিন। এরপর যেখানেই হোক আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত করুন। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই, কোনো ক্ষমতা নেই।

এতে আরও বর্ণিত হয়েছে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করলে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের উসিলায় আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের উসিলায় আপনার নিকট সামর্থ্য ভিক্ষা করছি এবং আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আপনি সক্ষম, আমি অক্ষম; আপনি জানেন, আমি জানি না; এবং আপনি অদৃশ্য বিষয়সমূহের মহাজ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি অমুক অমুক বিষয়টি আমার দ্বীন, জীবিকা ও কর্মের পরিণামের জন্য কল্যাণকর হয়, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন ও তাতে আমাকে বরকত দিন। আর যদি অন্য কিছুতে কল্যাণ থাকে, তবে যেখানেই হোক আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত করুন এবং আমাকে আপনার তকদিরে সন্তুষ্ট রাখুন।

হাফেজ সাখাভী তাঁর 'আল-ইবতিহাজ বি-আযকারিল মুসাফির আল-হাজ' গ্রন্থে ইবনুস সুন্নী থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন বারা বিন নজর বিন আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...

(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
عليه وسلم (قال لأنس رضي الله تعالى عنه إذا هممت بأمر فاستخر ربك فيه سبع مرات ثم انظر إلى الذي سبق إلى قلبك فإن الخيرة فيه وعزاه السيوطي إلى الديلمي في مسند الفردوس.) وذكر المجد الفيروز آبادي (في سفر السعادة عن الترمذي والحاكم عن سعد بن أبي وقاص رضي الله تعالى عنه مرفوعاً من سعادة ابن آدم استخارته الله ومن سعادة المرء رضاه بما قضى الله ومن شقاوة ابن آدم ترك استخارة الله ومن شقاوة ابن آدم سخطه بما قضى الله.) وروى الطبراني في الصغير (عن أنس مرفوعاً ما خاب من استخار وهو واهي الإسناد جداً. لكن قال ابن حجر في فتح الباري ضعفه منجبر بشواهده وذكر منها ما ذكر والله أعلم.

‌‌الفصل الثالث

المذكور في كثير من الكتب أن من أراد الاستخارة يصلي ركعتين من غير الفريضة ثم يدعو وهو المصرح به في حديث جابر. وقال الحافظ ابن حجر في فتح الباري قال النووي في الإذكار لو دعا بدءاً الاستخارة عقب راتبة الظهر مثلاً أو غيرها من الراتبة والمطلقة سواء اقتصر على ركعتين أو أكثر أجزأ كذا أطلق وفيه نظر. ويظهر أن يقال محله أن نوى تلك الصلوة بعينها وصلاة الاستخارة معاً بخلاف ما إذا لم ينووا تفارق تحية المسجد لأن المراد بها شغل البقعة بالصلوة. والمراد بصلوة الاستخارة أن يقع الدعاء عقبها إلى آخر ما قال انتهى. ثم أن ظاهر ما في حديث أبي أيوب ثم صل ما كتب الله لك أن الركعة الواحدة يحصل بها المقصود. وفي حاشية الإيضاح لابن حجر المكي أن الوجه عدم الحصول بها. وخبر ثم صل ما كتب الله لك يشملها وأكثر منها لكن استنبط معنى خصصه بغيرها ولا يخصصه حديث الركعتين لأنه من ذكر بعض أفراد العام الذي هو ما كتب الله لك وهو لا يخصص انتهى. وفيه إشارة إلى ما في قول الحافظ في فتح الباري من أن حديث الركعتين مقيد لحديث أبي أيوب. قال ويمكن الجمع بأن المراد أن لا يقتصر على ركعة واحدة للتنصيص على الركعتين ويكون ذكرها على سبيل التنبيه بالأدنى على الأعلى فلو صلى أكثر من ركعتين جاز انتهى. ثم اعلم أن الصلوة مطلقاً معتبرة في حصول الكمال فقد قال الشيخ أبو الحسن البكري في فتح المالك يشرح ضياء المسالك قال بعضهم لو تعذرت عليه صلوة الاستخارة اقتصر على الاستخارة بالدعاء انتهى. والظاهر أنه لا يشترط التعذر ولا التعسر فيحصل أصل الاستخارة بالدعاء وأكملها بالصلوة بنيتها ثم الدعاء. وفي خبر إذا أراد أحدكم أمراً فليقل الخ ما يشهد بحصول الاستخارة بلا صلوة انتهى كلام البكري) واعلم أيضاً (أن ظاهر الخبر أن الدعاء بعد فراغ المستخير من الصلوة فلا يجزى الإتيان في الأثناء. لكن في فتح الباري في قوله فليركع ركعتين ثم يقول اللهم الخ هو ظاهر في تأخير الدعاء عن الصلوة أي لمكان ثم قال فلو دعا به في أثناء الصلوة احتمل الأجزاء ويحمل الترتيب على تقديم الشروع في الصلوة قبل الدعاء فإن مواطن الدعاء في الصلوة السجود والتشهد انتهى. ولا يخفى ما فيه من ارتكاب خلاف الظاهر.

‌‌الفصل الرابع
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আনাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুকে বলেছেন: যখন তুমি কোনো বিষয়ের ইচ্ছা করো, তখন সে বিষয়ে তোমার রবের নিকট সাতবার ইস্তিখারা করো। অতঃপর তোমার অন্তরে যা প্রথমে আসে তা দেখো, কারণ তাতেই কল্যাণ রয়েছে। সুয়ূতী এটি দাইলামীর ‘মুসনাদুল ফিরদাউস’-এর বরাতে উল্লেখ করেছেন।) মাজদ আল-ফিরোজাবাদী (সাফরুস সাআদাহ গ্রন্থে তিরমিযী ও হাকিমের বরাতে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হতে মারফূ সূত্রে উল্লেখ করেছেন: আদম সন্তানের সৌভাগ্য হলো আল্লাহর কাছে তার ইস্তিখারা করা, আর ব্যক্তির সৌভাগ্য হলো আল্লাহর ফয়সালায় তার সন্তুষ্ট থাকা। পক্ষান্তরে আদম সন্তানের দুর্ভাগ্য হলো আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা ত্যাগ করা এবং আদম সন্তানের দুর্ভাগ্য হলো আল্লাহর ফয়সালায় তার অসন্তুষ্টি।) তাবারানী ‘আল-মুজামুস সাগীর’ গ্রন্থে (আনাস হতে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি ইস্তিখারা করে সে ব্যর্থ হয় না। তবে এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল। কিন্তু ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে বলেছেন, এর দুর্বলতা অন্যান্য সমার্থক বর্ণনার মাধ্যমে দূর হয়ে যায় এবং তিনি সেগুলোর কিছু উল্লেখ করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

অনেক কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইস্তিখারা করতে চায় সে ফরয ব্যতীত দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং এরপর দুআ করবে। জাবির (রা.)-এর হাদীসে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে বলেছেন, ইমাম নববী ‘আল-আযকার’ গ্রন্থে বলেছেন: যদি কেউ জোহরের সুন্নাত বা অন্য কোনো সুন্নাত কিংবা সাধারণ নফল সালাতের পর ইস্তিখারার দুআ করে, চাই তা দুই রাকাত হোক বা তার বেশি, তবে তা যথেষ্ট হবে। তিনি বিষয়টি এভাবে সাধারণভাবে উল্লেখ করেছেন, তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। প্রতীয়মান হয় যে, এর সঠিক প্রেক্ষিত হলো যখন সে ওই নির্দিষ্ট সালাত এবং ইস্তিখারার সালাত উভয়ের নিয়ত একত্রে করবে। এটি ‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’-এর বিপরীত, কারণ সেখানে উদ্দেশ্য হলো সালাতের মাধ্যমে স্থানটি আবাদ করা। আর ইস্তিখারার সালাতের উদ্দেশ্য হলো সালাতের পর দুআ করা—তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত। এরপর আবু আইয়ুব (রা.)-এর হাদীসে বর্ণিত ‘অতঃপর তুমি সালাত আদায় করো যা আল্লাহ তোমার জন্য নির্ধারণ করেছেন’—এর বাহ্যিক অর্থ হলো, এক রাকাতের মাধ্যমেই উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। ইবনে হাজার মাক্কী ‘হাশিয়াতুল ইদাহ’ গ্রন্থে বলেছেন যে, সঠিক মত হলো এর মাধ্যমে তা অর্জিত হবে না। আর ‘অতঃপর তুমি সালাত আদায় করো যা আল্লাহ তোমার জন্য নির্ধারণ করেছেন’—এই বর্ণনাটি এক রাকাত বা তার বেশিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু এমন এক অর্থ উদ্ভাবন করা হয়েছে যা এটিকে এক রাকাত ব্যতীত অন্য সংখ্যার সাথে নির্দিষ্ট করে দেয়। দুই রাকাতের হাদীস এটিকে নির্দিষ্ট করে না, কারণ এটি ব্যাপক নির্দেশনার (যা আল্লাহ তোমার জন্য নির্ধারণ করেছেন) একটি আংশিক বর্ণনা মাত্র, আর তা ব্যাপকতাকে নির্দিষ্ট করে দেয় না। সমাপ্ত। এতে হাফেজ (ইবনে হাজার)-এর ‘ফাতহুল বারী’র সেই উক্তির দিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, দুই রাকাতের হাদীসটি আবু আইয়ুবের হাদীসকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। তিনি বলেছেন: এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, উদ্দেশ্য হলো এক রাকাতে সীমাবদ্ধ না থাকা, যেহেতু দুই রাকাতের কথা স্পষ্টভাবে এসেছে। আর দুই রাকাতের উল্লেখ নিম্নতর সংখ্যার মাধ্যমে উচ্চতর সংখ্যার প্রতি সতর্ক করার জন্য হতে পারে; সুতরাং দুই রাকাতের বেশি পড়লেও তা জায়েয হবে। সমাপ্ত। অতঃপর জেনে রাখুন যে, পূর্ণতা অর্জনের জন্য সাধারণভাবে সালাত ধর্তব্য। শেখ আবু হাসান আল-বাকরী ‘ফাতহুল মালিক শারহু যিয়াউল মাসালিক’ গ্রন্থে বলেছেন: কেউ কেউ বলেছেন, যদি কারও জন্য ইস্তিখারার সালাত আদায় করা অসম্ভব হয়, তবে সে শুধু দুআর মাধ্যমে ইস্তিখারা করবে। সমাপ্ত। বাহ্যিক বিষয় হলো, অসম্ভব বা কষ্টসাধ্য হওয়া শর্ত নয়; বরং দুআর মাধ্যমে ইস্তিখারার মূল অংশ অর্জিত হয় এবং ইস্তিখারার নিয়তে সালাত আদায় করে এরপর দুআ করার মাধ্যমে তা পূর্ণতা পায়। ‘যখন তোমাদের কেউ কোনো বিষয়ের ইচ্ছা করে তখন সে যেন বলে...’—এই বর্ণনায় সালাত ছাড়াই ইস্তিখারা অর্জিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়—বকরীর বক্তব্য এখানেই শেষ।) আরও জেনে রাখুন যে, (বর্ণনার বাহ্যিক দিক হলো ইস্তিখারাকারীর সালাত শেষ করার পর দুআ করা, সুতরাং সালাতের মাঝখানে দুআ করা যথেষ্ট হবে না। তবে ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে ‘অতঃপর সে যেন দুই রাকাত পড়ে এবং এরপর বলে: হে আল্লাহ...’—এই উক্তির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এটি সালাতের পরে দুআ করার বিষয়ে সুস্পষ্ট, কারণ এখানে ‘অতঃপর’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এরপর তিনি বলেছেন, যদি কেউ সালাতের মাঝখানে এই দুআ করে তবে তা যথেষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ক্রমধারাটিকে দুআর পূর্বে সালাত শুরু করার ওপর প্রয়োগ করা হবে; কেননা সালাতে দুআ করার স্থান হলো সাজদাহ এবং তাশাহহুদ। সমাপ্ত। তবে এটি যে বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী তা স্পষ্ট।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
يسن كما قال ابن حجر المكي في حاشية الإيضاح نقلاً عن مصنفه افتتاح دعاء الاستخارة وختمه أي كسائر الأدعية بالحمد لله والصلوة على رسوله صلى الله عليه وسلم. وفي حديث أبي أيوب ما يشهد بالافتتاح بالتحميد والتمجيد في خصوص دعاء الاستخارة ومن الأدلة العامة الدالة على سنية الافتتاح بما ذكرنا مطلقاً ما عزاه السيوطي لأبي داود والترمذي وابن حبان والحاكم والبيهقي عن فضالة بن عبيد مرفوعاً إذا صلى أحدكم فليبدأ بتحميد الله والثناء عليه ثم ليصل على النبي صلى الله عليه وسلم ثم ليدع بما شاء. وأما البسملة فلم أقف على ما يدل على سنية افتتاح الأدعية بها. وحديث كل أمر ذي بال الخ ليس على عمومه بل هو خاص فيما لم يجعل له الشارع مبدءاً كالصلوة ولا يبعد نظم الدعاء في سلكها فتأمل.

‌‌الفصل الخامس

اختلفوا فيما يقرأ في ركعتي صلوة الاستخارة فأفاد النووي أنه يقرأ في الأولى الكافرون وفي الثانية الإخلاص أي بعد الفاتحة فقال الحافظ زين الدين العراقي لم أقف على دليل لذلك ولعله ألحقهما بركعتي الفجر والركعتين بعد المغرب ولهما مناسبة بالحال لما فيهما من الإخلاص والتوحيد والمستخير يحتاج لذلك. ثم قال ومن المناسب أن يقرأ فيهما مثل قوله تعالى) وربك يخلق ما يشاء ويختار (وقوله سبحانه) وما كان لمؤمن ولا مؤمنة إذا قضى الله ورسوله أمراً أن يكون لهم الخيرة من أمرهم (. وقال في فتح الباري والأكمل أن يقرأ في كل منهما السورة والآية الأوليتين في الأولى والآخرتين في الثانية. وفي أمالي الصابوني عن أبي جعفر محمد بن حسين عن أبيه زين العابدين على جدهم وعليهم الصلوة والسلام أنه كان يقرأ في صلوة الاستخارة بسورة الرحمن وسورة الحشر. قال الصابوني وأنا أقرأ فيهما بسبح اسم ربك الأعلى لأن فيها ونيسرك لليسرى وأقرأ والليل إذا يغشى لأن فيها فسنيسره لليسرى. وفيما ذكر ما يشعر بأن رعاية المناسبة مندوب إليها وهو كذلك فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث ليتمم مكارم الأخلاق وهي الآداب الشرعية الظاهرة والباطنة القولية والفعلية وهي أن يعامل كل شيء بما يليق به مما يحمده منك. فالأوضاع الشرعية كلها على المناسبة أما ظاهرة وأما خفية ولعل المناسبة فيما كان يقرأ زين العابدين أن في الأولى كل يوم هو في شأن وفي الثانية الأسماء الحسنى التي يدعى بها جل جلاله والله تعالى أعلم. فمغزى أهل البيت بعيد) وأقول (لا يبعد أن يعد من المناسب قراءة والضحى وألم نشرح لما في ذلك من التفاؤل كما لا يخفى.

‌‌الفصل السادس

من المقرر في محله أن كل صلوة لها سبب متقدم على فعلها أو مقارن لفعلها فهي لا تكره في الأوقات المكروهة وكل صلوة لا سبب لها أولها سبب متأخر فهي مكروهة. أو اختلف في صلوة الاستخارة فعن النووي أنه قال في شرح المهذب أنها ذات سبب متقدم وهو الهم بالأمر والعزم عليه كما يقتضيه قوله عليه الصلوة والسلام إذا هم أحدكم بالأمر فليركع ركعتين حيث وقع الأمر جزاء ومسبباً عن الهم الذي هو شرط. وقال الهيتمي في التحفة إنها ذات سبب متأخر ونوزع بأن السبب الإرادة لا الفعل ويرد بمنع ذليل هو السبب الأصلي والإرادة من ضروريات وقوعه انتهى. واعترض بأن قوله الفعل هو السبب الأصلي دعوى لم يثبتها وقوله والإرادة الخ لا تقريب فيه إذ لا منافاة بين كون الإرادة سبباً للصلوة وكونها من ضروريات الوقوع ولا يلزم كونها من ضروريات الوقوع أن يكون الفعل هو السبب الأصلي لا الإرادة فيحتاج إلى دليل يثبت مدعاه ولم يأت بشيء فتأمل وانصف.

‌‌الفصل السابع
ইবনু হাজার আল-মাক্কী তাঁর ‘হাশিয়াতুল ইদাহ’ গ্রন্থে উক্ত গ্রন্থের লেখকের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, অন্যান্য সমস্ত দোয়ার মতো ইস্তিখারার দোয়াও আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) এবং তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত (দরুদ) পাঠের মাধ্যমে শুরু ও শেষ করা সুন্নাত। আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বিশেষভাবে ইস্তিখারার দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনার প্রমাণ পাওয়া যায়। সাধারণভাবে দোয়ার শুরুতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার সুন্নাত হওয়ার সপক্ষে সুয়ূতী (রহ.) আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু হিব্বান, হাকিম ও বায়হাকীর বরাতে ফাদালাহ বিন উবাইদ (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: “যখন তোমাদের কেউ সালাত আদায় করে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি দিয়ে শুরু করে, এরপর নবীর ওপর সালাত পাঠ করে, তারপর যা ইচ্ছা প্রার্থনা করে।” তবে দোয়ার শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠের সুন্নাত হওয়ার ব্যাপারে আমি সুনির্দিষ্ট কোনো দলিলে পৌঁছাতে পারিনি। আর ‘প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহ ব্যতীত শুরু হয়...’ হাদিসটি এর ব্যাপক অর্থে প্রযোজ্য নয়, বরং এটি ঐসব বিষয়ের ক্ষেত্রে খাস বা নির্দিষ্ট যার জন্য শরিয়ত প্রবর্তক (আল্লাহ বা রাসুল) কোনো সূচনা নির্ধারণ করেননি, যেমন সালাত। দোয়ার বিন্যাসকে এই পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত করা অসম্ভব নয়, সুতরাং এটি নিয়ে চিন্তা করো।

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ

ইস্তিখারার দুই রাকাতে কী পাঠ করতে হবে সে বিষয়ে আলিমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম নববী (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, প্রথম রাকাতে (ফাতেহার পর) সূরা আল-কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-ইখলাস পড়তে হয়। হাফিজ জাইনুদ্দিন আল-ইরাকি বলেছেন: এর কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল আমি পাইনি; সম্ভবত তিনি একে ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত এবং মাগরিবের পরবর্তী দুই রাকাতের সাথে তুলনা করেছেন। এই দুই সূরার সাথে ইস্তিখারার অবস্থার একটি প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে, কারণ এতে ইখলাস (নিষ্ঠা) ও তাওহীদ (একত্ববাদ) রয়েছে, যা ইস্তিখারাকারীর জন্য প্রয়োজন। এরপর তিনি বলেন, এই সালাতে মহান আল্লাহর এই বাণীগুলো পাঠ করাও উপযুক্ত হবে: “এবং আপনার পালনকর্তা যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং মনোনীত করেন” এবং আল্লাহর বাণী: “আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোনো বিষয়ের ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকে না।” ফাতহুল বারীতে বলা হয়েছে যে, পূর্ণতা হলো উভয় রাকাতেই উক্ত সূরাদ্বয় এবং আয়াতদ্বয়ের মধ্যে প্রথম রাকাতে প্রথমোক্ত সূরা ও আয়াত এবং দ্বিতীয় রাকাতে শেষোক্ত সূরা ও আয়াত পাঠ করা। আস-সাবুনীর ‘আমালি’ গ্রন্থে আবু জাফর মুহাম্মদ বিন হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা জাইনুল আবিদীন থেকে এবং তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের (তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইস্তিখারার সালাতে সূরা আর-রহমান এবং সূরা আল-হাশর পাঠ করতেন। আস-সাবুনী বলেন, আমি এই দুই রাকাতে ‘সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা’ পড়ি কারণ এতে ‘আমি তোমার জন্য সহজ পথকে সহজতর করে দেব’ আয়াতটি রয়েছে, আর পড়ি ‘ওয়াল-লাইলি ইযা ইয়াগশা’ কারণ এতে ‘অচিরেই আমি তাকে সহজ পথের জন্য সুবিধাজনক করে দেব’ আয়াতটি রয়েছে। এই বর্ণনাগুলোতে এটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, পঠিত বিষয়ের সাথে উদ্দেশের প্রাসঙ্গিকতা রক্ষা করা মুস্তাহাব। আর বিষয়টি এমনই, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উত্তম চারিত্রিক গুণাবলী পূর্ণতা দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে, আর সেগুলো হলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ এবং বাচনিক ও প্রায়োগিক শরয়ি আদব। আর তা হলো প্রত্যেক বিষয়ের সাথে এমন আচরণ করা যা তার যোগ্য এবং যার কারণে তোমার প্রশংসা করা হয়। সুতরাং শরয়ি সমস্ত বিধানই কোনো না কোনো প্রাসঙ্গিকতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য। জাইনুল আবিদীন যা পাঠ করতেন তার প্রাসঙ্গিকতা সম্ভবত এই যে, প্রথম সূরায় (সূরা আর-রহমান) রয়েছে ‘তিনি প্রত্যেক দিন কোনো না কোনো কাজে ব্যস্ত’, আর দ্বিতীয় সূরায় (সূরা আল-হাশর) রয়েছে আল্লাহর ‘আসমাউল হুসনা’ (সুন্দর নামসমূহ), যার মাধ্যমে মহিমান্বিত আল্লাহকে আহ্বান করা হয়। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। আহলে বাইতের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অত্যন্ত গভীর। (আমি বলি) এটিও অসম্ভব নয় যে, প্রাসঙ্গিকতার খাতিরে সূরা আদ-দুহা এবং সূরা আলাম নাশরাহ পাঠ করাকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, কারণ এতে শুভলক্ষণ গ্রহণের (তাফাউল) অবকাশ রয়েছে যা স্পষ্ট।

‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

নিজ নিজ স্থানে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, প্রত্যেক সালাত যার কোনো পূর্ববর্তী কারণ বা সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কারণ রয়েছে, তা মাকরূহ ওয়াক্তসমূহে (নিষিদ্ধ সময়ে) আদায় করা মাকরূহ নয়। আর যে সালাতের কোনো কারণ নেই অথবা যার কারণ পরবর্তীতে ঘটবে, তা (মাকরূহ সময়ে আদায় করা) মাকরূহ। ইস্তিখারার সালাত নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম নববী (রহ.) ‘শারহুল মুহাযযাব’ গ্রন্থে বলেছেন যে, এটি পূর্ববর্তী কারণ বিশিষ্ট সালাত, আর তা হলো কোনো কাজের ইচ্ছা বা সংকল্প করা। যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী থেকে বোঝা যায়: ‘যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করে, সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় করে’। এখানে সালাত আদায়ের বিষয়টি সংকল্প বা ইচ্ছার প্রতিদান বা ফলাফল হিসেবে এসেছে, যা একটি শর্ত। আল-হাইতামি ‘তুহফা’ গ্রন্থে বলেছেন, এটি পরবর্তী কারণ বিশিষ্ট সালাত। তবে এর বিরোধিতা করে বলা হয়েছে যে, এর কারণ হলো ‘ইচ্ছা’, কাজ (ফে’ল) নয়। এর উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে ‘কাজ’ বা ‘কর্মই’ হলো মূল কারণ, আর ইচ্ছা হলো সেই কাজ সংঘটিত হওয়ার জন্য একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। এই মতের ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, তাঁর এই কথা—‘কাজই মূল কারণ’—এটি এমন একটি দাবি যা তিনি প্রমাণ করেননি। আর তাঁর কথা—‘ইচ্ছা হলো কাজ সংঘটিত হওয়ার অনুষঙ্গ’—এর মধ্যেও কোনো সামঞ্জস্য নেই, কারণ ইচ্ছা সালাতের কারণ হওয়া এবং তা কাজ সংঘটিত হওয়ার অনুষঙ্গ হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কোনো কিছু কাজ সংঘটিত হওয়ার অনুষঙ্গ হওয়ার মানে এই নয় যে, সেই কাজই মূল কারণ হবে, ইচ্ছা নয়। সুতরাং তাঁর এই দাবির সপক্ষে প্রমাণের প্রয়োজন ছিল যা তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি। অতএব বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করো এবং ইনসাফ করো।

‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
إذا فرغ المستخير من الدعاء فليمض كما قال النووي عليه الرحمة لما انشرح له صدره قال الهيتمي في حاشية الإيضاح فإن لم ينشرح صدره لشيء فالذي يظهر أنه يكرر الاستخارة بصلاتها ودعائها حتى ينشرح صدره لشيء وإن زاد على السبع. والتقييد بها في خبر أنس إذا هممت بامر فاستخر ربك فيه سبع مرات ثم انظر إلى الذي سبق إلى قلبك فإن الخير فيه. لعله جرى على الغالب إذ انشراح الصدر لا يتأخر عن السبع. على أن الخبر إسناده غريب ومن ثمة قيل الأولى قوله ابن عبد السلام أنه يفعل بعدها ما أراد إذ هو الخير لما مر في بعض الأخبار يقول أي الدعاء ثم يعزم أي على ما استخار عليه وهو أقوى من ذلك الخبر. وزعم بعضهم أن الاعتماد على ما ألقي في النفس إذا كان موافقاً للشرع فإنه إلهام حقاني. لكن ينبغي كما قال ابن جماعة أن يكون المستخير قد جاهد نفسه حتى لم يبق لها ميل إلى فعل ذلك الشيء ولا تركه وأن يكون محكم المراقبة لربه سبحانه من أول الصلوة إلى آخر الدعاء ولو فرض أنه لم ينشرح صدره لشيء كرر الصلوة والدعاء ولو فوق السبع كما يشعر به ما وقع للشافعي رحمه الله تعالى من أنه استخار في أمر سنة. فإن خاف الفوات وكرر ولم ينشرح صدره شرع فيما يسر الله تعالى له فالخير فيه إن شاء الله تعالى. وقال بعض الأجلة يمكن الجمع بين حديث أنس والخبر الذي فيه بعد دعائها ثم يعزم بأن الأول لمن يكون مراقباً لقلبه مميزاً بين خواطره ضابطاً يفرق بين الخاطر الأول وما بعده لا يلتبس عليه الأمر لكونه صافي القلب حاضراً مع الرب سبحانه فذاك الذي يعتمد الخاطر الأول الذي يسبق إلى القلب كما في ذلك الخبر. وقد قالت الصوفية الخاطر الرباني هو أولى الخواطر وهو لا يخطي. والخبر الثاني لمن ليس بمتمكن في المراقبة وضبط الخواطر ومعرفة السابق منها وغيره فذاك الذي يعزم بعد الاستخارة على الشروع فيما استخار له والله تعالى ييسر الخير ويصرف الشر وهو سبحانه الرؤوف الرحيم.

‌‌الفصل الثامن

ইস্তিখারাকারী যখন দুআ থেকে অবসর হবে, তখন ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) যেমনটি বলেছেন, তার বক্ষ যে বিষয়ের জন্য প্রশস্ত হয় সে অনুযায়ী সে অগ্রসর হবে। আল্লামা হাইতামী 'হাশিয়াতুল ইদাহ'-এ বলেন, যদি কোনো কিছুর জন্য তার বক্ষ প্রশস্ত না হয়, তবে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে, সে সালাত ও দুআর মাধ্যমে ইস্তিখারার পুনরাবৃত্তি করবে যতক্ষণ না কোনো কিছুর জন্য তার বক্ষ প্রশস্ত হয়, যদিও তা সাতবারের বেশি হয়। আনাস (রা.) বর্ণিত হাদীসে সাতবারের যে সীমাবদ্ধতা এসেছে— "যখন তুমি কোনো কাজের সংকল্প করবে তখন তাতে তোমার রবের কাছে সাতবার ইস্তিখারা করো, এরপর তোমার অন্তরে যা অগ্রগামী হয় তার দিকে তাকাও, কারণ তাতেই কল্যাণ রয়েছে"— তা সম্ভবত অধিকাংশ সময়ের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, কারণ বক্ষ প্রশস্ত হওয়া সাধারণত সাতবারের বেশি বিলম্বিত হয় না। তবে এই হাদীসের সনদ 'গরীব' (সূত্র বিরল), ফলে ইবন আব্দুস সালামের বক্তব্যই উত্তম বলা হয়েছে যে, এরপর সে যা ইচ্ছা করবে, কারণ সেটিই কল্যাণকর। কেননা কিছু বর্ণনায় এসেছে, সে দুআ করবে এরপর সংকল্প করবে (অর্থাৎ যে বিষয়ে ইস্তিখারা করেছে তাতে অগ্রসর হবে), এবং এই বর্ণনাটি আগের হাদীসটি অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী। কেউ কেউ মনে করেন যে, মনে যে বিষয়টি উদিত হয় তার ওপর নির্ভর করা যদি শরীয়তসম্মত হয়, তবে তা হাক্কানি ইলহাম বা সত্য অন্তপ্রেরণা। কিন্তু ইবন জামা'আ যেমন বলেছেন, ইস্তিখারাকারীর উচিত নিজের নফসের বিরুদ্ধে এমনভাবে সাধনা করা যাতে করে কাজটি করা বা না করার প্রতি তার কোনো ব্যক্তিগত ঝোঁক অবশিষ্ট না থাকে, এবং সালাতের শুরু থেকে দুআর শেষ পর্যন্ত যেন তার রবের প্রতি সুদৃঢ় মুরাকাবা বা ধ্যান বজায় থাকে। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে কোনো কিছুর জন্যই তার বক্ষ প্রশস্ত হয়নি, তবে সে সালাত ও দুআর পুনরাবৃত্তি করবে যদিও তা সাতবারের অধিক হয়, যেমনটি ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) এর ক্ষেত্রে জানা যায় যে, তিনি একটি বিষয়ে এক বছর পর্যন্ত ইস্তিখারা করেছিলেন। যদি বিষয়টি হাতছাড়া হওয়ার ভয় থাকে এবং পুনরাবৃত্তি করার পরও বক্ষ প্রশস্ত না হয়, তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য যা সহজ করে দেন তাতেই সে প্রবৃত্ত হবে, ইনশাআল্লাহ তাতেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে। কতিপয় শ্রেষ্ঠ আলিম বলেছেন, আনাস (রা.)-এর হাদীস এবং দুআর পর সংকল্প করার হাদীসটির মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব। সেটি এভাবে যে, প্রথম হাদীসটি (হৃদয়ে যা আসে তা অনুসরণ করা) তার জন্য যে নিজের অন্তরের মুরাকাবা করতে পারে, হৃদয়ে উদিত বিভিন্ন চিন্তার মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম, সুসংহত এবং প্রথম চিন্তা ও পরবর্তী চিন্তাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে যার কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট থাকে না। কারণ তার অন্তর স্বচ্ছ এবং সে মহান রবের দরবারে উপস্থিত চিত্ত; সুতরাং সে-ই হৃদয়ে অগ্রগামী প্রথম চিন্তার ওপর নির্ভর করবে যেমনটি উক্ত হাদীসে এসেছে। সূফীগণ বলেছেন, রব্বানি চিন্তা (আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা চিন্তা) হলো প্রথম উদিত চিন্তা এবং তা ভুল হয় না। আর দ্বিতীয় হাদীসটি (সংকল্প করা) তার জন্য যে মুরাকাবা, চিন্তার নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্রগামী চিন্তাকে চিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে পারদর্শী নয়। ফলে সে ইস্তিখারার পর যে বিষয়ে ইস্তিখারা করেছে তাতে প্রবৃত্ত হওয়ার সংকল্প করবে। আর আল্লাহ তাআলাই কল্যাণ সহজ করে দেন এবং অকল্যাণ দূর করেন। তিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু।

‌অষ্টম অধ্যায়
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
ذكر السهروردي قدس سره في عوارف المعارف أن من جلس بعد الصبح يذكر الله تعالى إلى طلوع الشمس وارتفاعها كرمح يصلي بعد ذلك ركعتين بنية الاستعاذة بالله من شرور يومه وليلته ثم ركعتين بنية الاستخارة لكل عمل يعمله في يومه ونيته. ثم قال وهذه تكون بمعنى الدعاء على الإطلاق وإلا فالاستخارة التي وردت بها الأخبار هي التي يفعلها أمام كل أمر يريد انتهى. وتعقبه الهيتمي في التحفة بأن ما ذكر صلوة مخترعة لا أصل لها في السنة. وألف الكوراني رسالة في رده سماها) الأسفار عن أصل استخارة أعمال الليل والنهار (وفيها ما يتعلق بما نحن فيه أنه قد تبين من السنة الصحيحة سنية الاستخارة في أمر معين بشرطه بلا خلاف فهي سنة في كل عمل هو محل لها فلا مانع أن يلاحظ بوجه كلي أعمال الليل والنهار ويقال في الدعاء اللهم إن كنت تعلم أن جميع ما أتحرك به أو أكتسبه فعلاً أو تركاً خير الخ. وقد ورد في أدعية الصباح والمساء ما فيه عموم نحو أسألك خير هذه الليلة وخير ما بعدها وأعوذ بك من شرها وشر ما بعدها ونحو اللهم أنجح الليلة كل حاجة لي ولا تزدني في دنياي ولا تنقصني في آخرتي وجاء أنه إذا أصبح قال مثل ذلك. وعلى هذا فالهم في أحاديثها يعم الهم بأمر معين والهم بأمور متصورة بعنوان كلي إجمالاً في مدة معينة وللمجد الفيروز آبادي في سفر السعادة وجمال الدين السمهودي في جواهر العقدين ما هو ظاهر في أن تلك الصلوة غي مخالفة لما ورد في السنة) وقال الشيخ الأكبر قدس سره (جربنا هذه الصلوة ورأينا عليها كل خير. وتمام الكلام في هذا المقام يطلب من هاتيك الرسالة وما ذكرناه بالنسبة إلى ما هناك أقل ذبالة) وبالجملة (أمر ما يفعلونه من تلك الصلوة هين بالنسبة إلى ما اعتادوه من الاعتماد على الرؤيا التي يرونها في النوم بعد الاستخارة إذ ليس في ظواهر الأخبار ما يؤيد) وذكر الكوراني (عليه الرحمة أن المقصود من الاستخارة أن يختار الله تعالى لعبده ما فيه الخير وإعلام الله سبحانه له درجات متفاوتة ومن درجاته الرؤيا فهي من قسم المضي لما ينشرح له الصدر المفسر به العزم لرجوعه إلى الانشراح بالخطاب الرباني الشامل لما يكون يقضة بالإلهام ولما يكون رؤيا وهو كما ترى فتأمل) نعم (هم القوم الواقفون مع الآداب الشرعية ظاهراً وباطناً فحسن الظن بهم أنهم لم يعتمدوا ذلك إلا لدليل يعتمد عليه وما يضرهم عدم علمنا به) فوق كل ذي علم عليم (.

‌‌الفصل التاسع
সুহরাওয়ার্দী (তাঁর গোপন রহস্য পবিত্র হোক) 'আওয়ারিফুল মাআরিফ'-এ উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি সুবহে সাদেকের পর সূর্য উদিত হওয়া এবং তা এক বল্লম পরিমাণ উঁচু হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার জিকিরে বসে থাকে, অতঃপর সে দিন ও রাতের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, তারপর তার দিনের প্রতিটি কাজ ও নিয়তের জন্য ইস্তিখারার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে। অতঃপর তিনি বলেন, এটি সাধারণভাবে দোয়ার অর্থে হবে; অন্যথায় যেসব হাদিস বর্ণিত হয়েছে তাতে ইস্তিখারা হলো তা-ই যা মানুষ কোনো কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করলে তার আগে আদায় করে। (সমাপ্ত) হাইতামী 'তুহফা' গ্রন্থে এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, যা উল্লেখ করা হয়েছে তা একটি উদ্ভাবিত নামাজ, সুন্নাহতে যার কোনো ভিত্তি নেই। আর আল-কুরানি এর প্রতিবাদে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন ‘আল-আসফার আন আসলি ইস্তিখারাতি আমালিল লাইলি ওয়ান নাহার’। সেখানে আমাদের আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রয়েছে যে, সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে ইস্তিখারা করা সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নত। সুতরাং এটি প্রতিটি কাজের জন্যই সুন্নত যেখানে তা প্রযোজ্য। তাই দিন ও রাতের সকল কাজকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করতে এবং দোয়ায় এটি বলতে কোনো বাধা নেই যে: ‘হে আল্লাহ, আপনি যদি জানেন যে আমার সমস্ত নড়াচড়া বা অর্জন, কাজ বা বর্জন মঙ্গলজনক...’ ইত্যাদি। সকাল-সন্ধ্যার দোয়াগুলোতেও এমন সাধারণ বিষয় বর্ণিত হয়েছে, যেমন: ‘আমি আপনার কাছে এই রাতের কল্যাণ এবং এর পরের সময়ের কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে এর অনিষ্ট ও এর পরের সময়ের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইছি।’ এবং যেমন: ‘হে আল্লাহ, আজ রাতে আমার প্রতিটি প্রয়োজন পূর্ণ করে দিন, আমার দুনিয়া বাড়িয়ে দেবেন না এবং আমার আখিরাত কমিয়ে দেবেন না।’ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন সকালে উপনীত হতেন তখনও অনুরূপ বলতেন। এর ভিত্তিতে, ইস্তিখারার হাদিসগুলোতে কোনো কাজের ‘ইচ্ছা’ (হম্ম) বলতে নির্দিষ্ট কোনো কাজের ইচ্ছাকেও বোঝায় আবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সামগ্রিকভাবে কল্পিত বিষয়গুলোর ইচ্ছাকেও বোঝায়। মাজদুদ্দীন ফিরোজাবাদী 'সিফরুস সাআদাত'-এ এবং জামালুদ্দীন সামহুদী 'জাওয়াহিরুল ইকদাইন'-এ যা বলেছেন, তা থেকে স্পষ্ট হয় যে এই নামাজ সুন্নাহতে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিপন্থী নয়। শাইখুল আকবর (তাঁর গোপন রহস্য পবিত্র হোক) বলেন: ‘আমরা এই নামাজের অভিজ্ঞতা লাভ করেছি এবং এতে সব ধরনের কল্যাণ দেখেছি।’ এই প্রসঙ্গের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা ওই পুস্তিকা থেকে অন্বেষণ করা উচিত, আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তা সেখানে যা আছে তার তুলনায় অতি নগণ্য। মোদ্দাকথা হলো, তাদের এই নামাজ আদায় করার বিষয়টি ইস্তিখারার পরে স্বপ্নের ওপর নির্ভর করার অভ্যাসের তুলনায় অনেক সহজ বা সাধারণ বিষয়; কারণ হাদিসের প্রকাশ্য ভাষ্যে এমন কিছু নেই যা একে সমর্থন করে। আল-কুরানি (তাঁর ওপর রহমত বর্ষিত হোক) উল্লেখ করেছেন যে, ইস্তিখারার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার জন্য যাতে কল্যাণ রয়েছে তা নির্বাচন করে দেবেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে অবগত করার বিভিন্ন স্তর রয়েছে। তার একটি স্তর হলো স্বপ্ন। এটি সেই সংকল্প বা দৃঢ় ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত যার জন্য বক্ষ উন্মোচিত হয়; যা মূলত ওই প্রশান্তির দিকেই প্রত্যাবর্তন করে যা রব্বানী সম্বোধনের মাধ্যমে অর্জিত হয়—চাই তা জাগ্রত অবস্থায় ইলহামের মাধ্যমে হোক কিংবা স্বপ্নের মাধ্যমে। এটি আপনি যেমন দেখছেন তেমনই, সুতরাং চিন্তা করুন। হ্যাঁ, তাঁরা হলেন এমন এক সম্প্রদায় যারা জাহিরি ও বাতিনি উভয় দিক থেকে শরয়ি আদবের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং তাঁদের প্রতি সুধারণা এটাই যে, তাঁরা কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল ছাড়া এর ওপর নির্ভর করেননি। আর আমাদের সে সম্পর্কে না জানা তাঁদের কোনো ক্ষতি করে না। প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন।

‌‌নবম পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
لهذه الاستخارة المنامية أدعية مختلفة. منها ما سمعته في الآثار. ومنها غير ذلك فقد رأيت في بعض الكتب أنه يقول بعد الصلوة والدعاء الوارد اللهم يا هادي اهدني ويا عليم علمني ويا مبين بين لي ويا خبير خبرني عن أمري ويسميه وينام على وضوء مستقبل القبلة وفي بعضها زيادة واضعاً خده على كف يده اليمنى وهو مما لا بأس به والاقتصار على الوارد أولى) نعم (الطامة الكبرى ما ذكره ابن خلدون في كتابه المشهور وسماه بحطومة الانطباع التام وذكر أنه يقرأ عند النوم بعد فراغ السر وصحة التية فيرى القارئ ما يرى وهو تماغس بعد أن يسوادد أغداس نوفنا تمادس. وذلك فإن هذه الأسماء مجهولة المعنى لم ترو قراءتها ولا الأمر بها عن المعصوم عليه الصلوة والسلام وقد صرحوا بحرمة قراءة مثل ذلك لعدم الأمن من تضمنه محظوراً ولا أقل من الكراهة وندب الترك لخبر يدع ما يريبك إلى ما يريبك) ومن الاستخارات الشائعة (الاستخارة بالقرآن ويسمونها تفاؤلاً ولهم فيها كيفيات شتى والظاهر أن ذلك مما لا دليل على مشروعيته. وفي شرح فقه الأكبر لعلي القارئ ما نصه ومن جملة علم الحروف فال المصحف حيث يفتحونه وينظرون في أول صفحة أي حرف وافقه وكذا في سابع الورقة السابعة فإذا جاء حرف من الحروف المركبة من تشخلا كم حكموا بأنه غير مستحسن وفي سائر الحروف بخلاف ذلك. وقد خرج ابن العجمي في منسكه قال ولا يؤخذ الفال من المصحف قال العلماء اختلفوا في ذلك فكرهه بعضهم وأجازه بعضهم ونص المالكية على تحريمه انتهى. ولعل من أجاز أو كره من اعتمد على المعنى ومن حرمه من اعتبر حروف المبنى فإنه في معنى الاستقسام بالأزلام انتهى كلام القاري. والذي أميل إليه الكراهة مطلقاً ولا يبعد القول بالحرمة كذلك فتأمل) ومن البدع (ما يستعمله الشيعة من التفاؤل بالسبحة ونحوها على سائر الكيفيات المعروفة بينهم وكذا ما يفعله كثير من الناس من التفاؤل بديوان الحافظ الشيرازي قدس سره وقد تفاؤل لي بعض أصحابي يوم عزيمتي على السفر فخرج قوله:

كل بر در ومي در كف ومعشوقة بكامست … سلطان جهانم بجينين روز غلامستِ

حافظ منشين بي مي معشوقة زماني … أيام كل وياسمين وعيد صيامست

) وللعوام تفاؤلات بغير ذلك (من أقدمها التفاؤل بالطيور وكانت الجاهلية تفاؤل بأسمائها وأصواتها وأحوالها وتتشاءم بذلك وعليه قول ذي الرمة:

رأيت غراباً ساقطاً فوق قضبة … من القضب لم ينبت لها ورق خضر

فقلت غراب لاغتراب وقضبة … لقضب النوى هذي العيافة والزجر

وهبت جنوب باجتنابك منهم … ونفح الصبا تلك الصبابة والهجر

وقول كثير عزة:

رأيت غراباً ساقطاً فوق بانة … ينتف أعلى ريشه ويطايره

فقلت ولو أني أشاء زجرته … بنفسي للنهدي فهل أنت زاجره

فقال غراب لاغتراب من النوى … وفي البان بين من حبيب تحاوره

فما أعيف النهدي لا در دره … وأزجره للطير لا عز ناصره

وقول بعضهم:

دعا صرد يوماً على غصن بانة … وصاح بذات البين منها غرابها

فقلت أتصريد وشحط وغربة … فهذا لعمري نأيها واغترابها

ومثل ذلك الطرق بالحصى والتشاؤم بالعطاس إلى أمور كثيرة من هذا الباب ولله تعالى در من قال:

لعمرك ما تدري الطوارق بالحصى … ولا زاجرات الطير ما الله صانع

وقال صابي بن الحرث البرجمي:

وما أنا ممن يزجر الطير همه … أصاح غراب أم تعرض ثعلب

ولا السانحات البارحات عشية … أمر سليم القرن أم مر أعضب

وقال شاعر قديم:

لا يمنعنك من بغاء الخ … ير تعقاد التمائم

ولا التشأم بالعطا … س ولا التيامن بالمقاسم

ولقد غدوت وكنت لا … أغدو على واق وحائم

فإذا الأشايم كالأيا … من والأيامن كالأشايم

وكذاك لا خير ولا ش … ر على أحد بدائم

قد خط ذلك في الزبو … ر الأوليات القدائم
স্বপ্নযোগে এই ইস্তিখারার বিভিন্ন দুআ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু আমি আসারে (বর্ণনায়) শুনেছি, আর কিছু এর বাইরে। আমি কোনো কোনো কিতাবে দেখেছি যে, সালাত ও বর্ণিত দুআর পর পাঠ করবে: "হে আল্লাহ! হে পথপ্রদর্শক, আমাকে পথপ্রদর্শন করুন; হে সর্বজ্ঞ, আমাকে শিক্ষা দিন; হে স্পষ্টকারী, আমার কাছে স্পষ্ট করে দিন; হে সম্যক অবহিত, আমার বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে খবর দিন" এবং বিষয়টি উল্লেখ করবে। এরপর অযু অবস্থায় কিবলামুখী হয়ে ঘুমাবে। কোনো কোনো বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে যে, নিজের ডান হাতের তালুর ওপর গাল রেখে শোবে। এতে কোনো সমস্যা নেই, তবে বর্ণিত পদ্ধতির ওপর সীমাবদ্ধ থাকাই উত্তম। হ্যাঁ, বড় বিপদ হলো যা ইবনে খালদুন তাঁর প্রসিদ্ধ কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং সেটিকে 'পুরিপূর্ণ ছাপের ধ্বংসাত্মক বিষয়' নামকরণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অন্তরের একাগ্রতা ও নিয়ত শুদ্ধির পর ঘুমের সময় এটি পাঠ করবে, তখন পাঠকারী যা দেখার তা দেখবে। আর তা হলো: 'তামাগিস বা'দা আন ইউসাওয়াদিদ আগদাস নুফনা তামাদাস'। প্রকৃতপক্ষে এই নামগুলোর অর্থ অজ্ঞাত, এগুলো পাঠ করার ব্যাপারে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না এবং মাসুম (নিষ্পাপ নবী) আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকেও এর কোনো নির্দেশ নেই। ফকীহগণ এ জাতীয় বিষয় পাঠ করা হারাম বলে স্পষ্ট করেছেন, কারণ এতে নিষিদ্ধ কোনো বিষয় থাকার আশঙ্কা থেকে তা নিরাপদ নয়। কমপক্ষে এটি মাকরুহ এবং বর্জন করা মুস্তাহাব; ওই হাদীসের ভিত্তিতে— "সন্দেহযুক্ত বিষয় ত্যাগ করে ওই বিষয়ের দিকে যাও যাতে সন্দেহ নেই।" প্রচলিত ইস্তিখারাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কুরআনের মাধ্যমে ইস্তিখারা, যেটিকে তারা 'তাফাউল' (শুভলক্ষণ গ্রহণ) বলে থাকে। এক্ষেত্রে তাদের নানাবিধ পদ্ধতি রয়েছে। বাহ্যত এর বৈধতার কোনো দলিল নেই। মোল্লা আলী কারী 'শরহে ফিকহুল আকবার'-এ যা বলেছেন তার পাঠ হলো: "বর্ণমালার জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হলো মুসহাফের (কুরআন) 'ফাল' (শুভ-অশুভ নির্ণয়), যেখানে তারা কুরআন খোলে এবং প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম অক্ষরটি দেখে কীসের সাথে মিলল, একইভাবে সপ্তম পৃষ্ঠার সপ্তম লাইনেও দেখে। যদি 'তাশখালা কাম' শব্দের অক্ষরগুলোর কোনোটি আসে, তবে তারা ফয়সালা করে যে এটি ভালো নয়, আর অন্য অক্ষরগুলোর ক্ষেত্রে এর বিপরীতটি মনে করে। ইবনুল আজমি তাঁর মানাসিকে উল্লেখ করেছেন যে, কুরআন থেকে 'ফাল' নেওয়া যাবে না। তিনি বলেন: উলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে ইখতিলাফ করেছেন; কেউ কেউ একে মাকরুহ বলেছেন, কেউ জায়েজ বলেছেন, আর মালিকী মাযহাবের ইমামগণ একে হারাম হওয়ার ওপর স্পষ্ট উক্তি করেছেন।" সমাপ্ত। সম্ভবত যারা জায়েজ বা মাকরুহ বলেছেন তারা অর্থের ওপর নির্ভর করেছেন, আর যারা হারাম বলেছেন তারা অক্ষর বিন্যাসকে বিবেচনা করেছেন, কারণ এটি ভাগ্য নির্ধারণী তীরের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ণয় করার সদৃশ। কারীর বক্তব্য সমাপ্ত। আমার ঝোঁক হলো এটি ঢালাওভাবে মাকরুহ হওয়ার দিকে, আর একে হারাম বলাও অসম্ভব নয়; সুতরাং চিন্তা করে দেখো। বিদআতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো শিয়াদের ব্যবহৃত তসবিহ বা এ জাতীয় জিনিসের মাধ্যমে বিভিন্ন পদ্ধতিতে শুভ-অশুভ নির্ণয় করা। তদ্রূপ অনেক মানুষ যা করে থাকে অর্থাৎ হাফিজ শিরাজীর (তার রহস্য পবিত্র হোক) দিওয়ানের মাধ্যমে শুভ-অশুভ নির্ণয় করা। আমার জনৈক বন্ধু সফরের সংকল্প করার দিন আমার জন্য এটি করেছিলেন, তখন এই কবিতাটি বেরিয়েছিল:

সব কল্যাণ দরজায় আর হাতে শরাব, প্রিয়ার আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হলো... জগতের সুলতান আজকের দিনে আমার দাসে পরিণত হলো।

হে হাফিজ, প্রিয়াকে ছাড়া এক মুহূর্তও শরাবহীন থেকো না... এটি গোলাপ, জুঁই এবং সিয়ামের ঈদের দিন।

সাধারণ মানুষের মাঝে এর বাইরেও শুভলক্ষণ গ্রহণের প্রথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাচীনতম হলো পাখির মাধ্যমে শুভ-অশুভ নির্ণয় করা। জাহেলী যুগে তারা পাখির নাম, ডাক ও অবস্থার মাধ্যমে শুভলক্ষণ গ্রহণ করত এবং অশুভ মনে করত। এ বিষয়ে যির রুম্মাহর উক্তি:

আমি দেখলাম একটি কাক একটি ডালের ওপর বসে আছে... যে ডাল থেকে কোনো সবুজ পাতা গজায়নি।

আমি বললাম: কাক মানে প্রবাস, আর ডাল মানে বিচ্ছেদ; এটিই তো গণক ও পাখি উড়িয়ে ভাগ্য গণনাকারীদের কাজ।

দক্ষিণা বাতাস বইল তোমাদের থেকে দূরে সরে যাওয়ার মাধ্যমে... আর পূবালি বাতাসের ঝাপটা বয়ে আনল সেই অনুরাগ ও বিরহ।

কুসাইয়ির আজ্জাহ-এর উক্তি:

আমি একটি কাককে বানা বৃক্ষের ওপর বসে থাকতে দেখলাম... সে তার উপরের পালক ছিঁড়ছে এবং ওড়াচ্ছে।

আমি বললাম, আমি যদি চাইতাম তবে তাকে তাড়িয়ে দিতাম... আমার প্রাণের কসম নহদী গোত্রের লোকের জন্য, তবে তুমি কি তাকে তাড়াবে?

সে বলল: কাক মানে দূরত্বের কারণে প্রবাস, আর বানা বৃক্ষে প্রিয়তমার বিদায় যা নিয়ে তুমি আলোচনা করছ।

নহদী গোত্রের গণক কতই না অদ্ভুত, তার কল্যাণ রহিত হোক... সে পাখিকে যেভাবে তাড়ায়, তার সাহায্যকারী যেন জয়ী না হয়।

অন্য একজনের উক্তি:

একদিন বানা বৃক্ষের ডালে ভরদ্বাজ পাখি ডাকল... আর সেখান থেকে বিরহের ঘোষণা দিল কাক।

আমি বললাম: এটি কি অভাব, কষ্ট ও পরবাস? আল্লাহর কসম, এটি তো তার বিচ্ছেদ ও প্রবাস।

তদ্রূপ কঙ্কর নিক্ষেপ এবং হাঁচির মাধ্যমে অশুভ লক্ষণ গ্রহণসহ এই অধ্যায়ের বহু বিষয় রয়েছে। যে ব্যক্তি বলেছে আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন:

তোমার জীবনের কসম! কঙ্কর নিক্ষেপকারী জানে না... না জানে পাখি উড়িয়ে ভাগ্য গণনাকারীরা যে আল্লাহ কী করতে চলেছেন।

সাবি বিন হারিস আল-বারজামি বলেছেন:

আমি ওই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত নই যাদের চিন্তাকে পাখির উড়া দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়... চাই কাক ডাকুক বা শিয়াল সামনে আসুক।

কিংবা সন্ধ্যায় ডান বা বাম দিক দিয়ে অতিক্রমকারী কোনো প্রাণী... চাই তার শিং অক্ষত থাকুক বা ভাঙ্গা থাকুক।

প্রাচীন এক কবি বলেছেন:

কল্যাণের অনুসন্ধান থেকে তোমাকে যেন বিরত না রাখে... তাবিজের গিট বাঁধা।

আর হাঁচির মাধ্যমে অশুভ লক্ষণ নেওয়া... কিংবা তীরের মাধ্যমে ভাগ্য বন্টন করাও যেন বাধা না দেয়।

আমি ভোরে বের হই এমন অবস্থায় যে, আমি পরোয়া করি না... কোনো ডানে বা বামে ওড়া পাখির।

কারণ অশুভ লক্ষণগুলো শুভ লক্ষণের মতোই... আর শুভ লক্ষণগুলো অশুভ লক্ষণের মতোই।

তদ্রূপ কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ... কারো জন্য স্থায়ী নয়।

এটি আদিম প্রাচীন... কিতাবসমূহে (যাবুর) লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২০)
وصح لا عدوى ولا طيرة. والطيرة على ما قال المناوي التشاؤم بالطيور والظاهر أن مثله التشاؤم بغيرها) نعم (في التشاؤم بالمرأة والدار والفرس خلاف وقد ذكر الجلال السيوطي في حاوي التاوي قد ورد في التشاؤم بالمرأة والدار والفرس الحديث واختلف العلماء هل ذلك على ظاهره أو مؤول والمختار أنه على ظاهره وهو ظاهر قول مالك انتهى. ثم أن التفاؤل بنحو سماع كلمة طيبة مما لا أرى فيه بأساً بل قد ورد أنه عليه الصلوة والسلام كان يحب الفأل فليحفظ. وكل هذا استطراد وتحقيق الكلام عليه في محله وليس الغرض إلا تحقيق الاستخارة التي ذكرها الفقهاء وذكر أني قد فعلتها فخار لي ربي عز وجل السفر) فخرجت يوم الخميس (لما أنه يوم مبارك وقد جاء في خبر اللهم بارك لأمتي في سبتها وخميسها وفي البخاري كان عليه الصلوة والسلام قلما يخرج إذا خرج في سفر إلا في يوم الخميس وفي رواية للشيخين ما كان يخرج) صلى الله عليه وسلم (إلا في يوم الخميس لكن ذكر غير واحد أنه) عليه الصلوة والسلام (خرج مرة يوم السبت وبكرت في الخروج لخبر اللهم بارك لأمتي في بكورها وفي رواية بزيادة لا سيما يوم الخميس. ثم أن في هذا اليوم تفاؤلاً من جهة أنه يوم بث الله تعالى فيه الدواب في أصل الخلق وأخرجها من العدم إلى الوجود وجعلها تسرح في رياض كرم وجود ومن جهة أنه خامس أيام الأسبوع بناء على ما اختاره من أن أوله الأحد لا السبت كما قاله جمع والخمسة عدد مآثر لا تعدم بضربها في نفسها وضرب الحاصل في نفسه وهكذا إلى ما لا يتناهى ومن جهة أن اسمه قبل مؤنس كما قيل:

أؤمل أن أعيش وأن يومي … بأول أو بأهون أو جبار

أو التالي دبار فإن انته … فمؤنس أو عروبة أو شيار

ومن هذا يعلم سائر أسماء الأسبوع من قبل وفي السفر فيه للغزو تفاؤل آخر من جهة أنه اسم للجيش ففيه تفاؤل على الظفر بالخميس أي الجيش لأنه عبارة عن مقدمة وقلب وميمنة وميسرة وسافة. وكان ذلك أول جمادى الآخرة وجمادى كحبارى معرفة مؤنثة تجمع على جماديات ويقال للأولى جمادى خمسة وللآخرة جمادى ستة نظراً إلى أن الأولى خامسة شهور السنة المفتتحة بالمحرم والآخرة سادستها وكانت تسمى زبى كزنى وكذا لغيرها من الشهور أسماء في الجاهلية غير المشهورة. فالمؤتمر للمحرم. وباجر لصفر. وخوان كشداد لشهر ربيع الأول. وبصان كغراب ورمان لشهر ربيع الثاني. وحنين كأمير وسكيت وباللام فيهما لجمادى الأولى والآخرة وما سمعت للآخرة فقط. والأصم لرجب. والعادل لشعبان. ونانق لرمضان والوعل لشوال. وورنه لذي القعدة. وبرك كزفر لذي الحجة.) واخترت (أولى المشهد لأنه أول أيام الليالي الغرر فلا يخلو ذلك عن تفاؤل لا سيما والقمر متوجه إلى الكمال. واعلم أن لكل ثلاث ليال من الشهر أسماء يخصها وقد نظم ذلك فقيل:

ثم ليالي الشهر قد ما عرفوا … كل ثلث بصفات تعرف

فغرر ونفل وتسع … وعشر فالبيض ثم الدرع

وظلم حنادس دآدي … ثم المحاق لانمحاقٍ بادي

) وكنت (قد التمست الرفيق قبل الطريق لخبر رافع بن خديج التمسوا الجار قبل الدار والرفيق قبل الطريق. لكن قال الكمال ابن أبي شريف أنه منكر وقد أشرت إلى الرفيق فيما مر) وأنا أقول (الآن هو حضرة الوزير والمشير الخطير) عبد الكريم باشا (دام بخير وعاشا يلقب بعبدي بين الأكابر والأصاغر. ولقبه حضرة السلطان عبد المجيد خان بالنادر جاء إلى بغداد مشير عساكر الحجاز والعراق فوقع بينه وبين واليها حضرة نجيب باشا سيء الشقاق وأنى يتصافى لا سيما في العراق عشاق هند وهل يجمع السيفان ويحك في غمد فعرض كل منهما للباب العالي شاكياً على صاحبه طالباً أن يسلب من يديه لحمة منصبه بقوى مخالبه فصادف ذلك انتهاء مدة الوالي في أم الكتاب فجاء البريد أسرع من رجع العطاس بفصله من جانب الباب وكان علاوة على ذلك نصب النادر بدله وتوجيه النيشان ذي الشأن له.

ما حيلة الرامي إذ التقت العدى … وأراد يرمي السهم فانقطع الوتر
এবং সহীহ প্রমাণিত হয়েছে যে, সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই এবং কুলক্ষণ গ্রহণ করাও নেই। আল-মুনাউয়ি যেমনটি বলেছেন, 'তিয়ারা' (কুলক্ষণ গ্রহণ) হলো পাখির গতিবিধির মাধ্যমে অশুভ মনে করা, আর প্রকাশ্যত অন্যান্য জিনিসের মাধ্যমে কুলক্ষণ গ্রহণ করাও এর অনুরূপ। হ্যাঁ, (নারী, ঘর এবং ঘোড়ার মাধ্যমে কুলক্ষণ গ্রহণের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। জালালুদ্দীন সুয়ূতী 'হাউয়ি লিল-ফাতাউয়ি'-তে উল্লেখ করেছেন যে, নারী, ঘর এবং ঘোড়ার মাধ্যমে অশুভ লক্ষণ দেখা দেওয়ার বিষয়ে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি তার বাহ্যিক অর্থের ওপর বহাল থাকবে নাকি এর ব্যাখ্যা (তাউয়িল) করা হবে। অধিক পছন্দনীয় মত হলো, এটি তার বাহ্যিক অর্থের ওপরই বহাল থাকবে, আর ইমাম মালিকের অভিমতও এটিই ছিল—সমাপ্ত)। অতঃপর, উত্তম বাক্য শ্রবণের ন্যায় কোনো কিছুর মাধ্যমে শুভলক্ষণ বা নেক ফাল গ্রহণ করাকে আমি দোষণীয় মনে করি না; বরং বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুভলক্ষণ পছন্দ করতেন। সুতরাং এটি স্মরণে রাখা কর্তব্য। আর এই সমস্ত আলোচনাই প্রাসঙ্গিকতাক্রমে এসেছে, এ বিষয়ে প্রকৃত আলোচনা যথাস্থানে করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য কেবল ফকীহগণ কর্তৃক বর্ণিত ইস্তিখারার স্বরূপ বর্ণনা করা এবং এটি উল্লেখ করা যে, আমি ইস্তিখারা করেছি এবং আমার রব মহান আল্লাহ আমার জন্য সফরের উত্তম সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। অতঃপর আমি বৃহস্পতিবার বের হলাম (যেহেতু এটি একটি বরকতময় দিন। বর্ণনায় এসেছে: হে আল্লাহ, আপনি আমার উম্মতের জন্য তাদের শনিবার ও বৃহস্পতিবারে বরকত দান করুন। বুখারীতে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্য দিনে খুব কমই বের হতেন। শাইখাইন বা বুখারী ও মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বৃহস্পতিবার ছাড়া অন্য দিনে বের হতেন না। তবে একাধিক আলিম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি একবার শনিবারও বের হয়েছিলেন)। এবং আমি খুব ভোরে যাত্রা শুরু করলাম, কারণ হাদীসে এসেছে: হে আল্লাহ, আপনি আমার উম্মতের জন্য তাদের ভোরের সময়ের মধ্যে বরকত দান করুন। এক বর্ণনায় অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে: বিশেষ করে বৃহস্পতিবার। অতঃপর এই দিনে শুভলক্ষণ গ্রহণের আরও কারণ হলো যে, এটি এমন একটি দিন যেদিন আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির শুরুতে ভূখণ্ডে প্রাণীকুলকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং তাদের অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছিলেন এবং তাদের তাঁর দান ও করুণার উদ্যানে বিচরণ করার সুযোগ দিয়েছিলেন। অন্য কারণ হলো, এটি সপ্তাহের পঞ্চম দিন, এই মতের ভিত্তিতে যে সপ্তাহের প্রথম দিন হলো রবিবার, শনিবার নয়—যেমনটি একদল আলিম বলেছেন। আর পাঁচ সংখ্যাটি এমন এক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যার গুণফল কখনও শেষ হয় না, যেমন একে নিজের সাথে গুণ করলে এবং প্রাপ্ত ফলকে আবার নিজের সাথে গুণ করলে এভাবে অনন্তকাল চলতে থাকে। আরেকটি কারণ হলো, জাহেলী যুগে এর নাম ছিল 'মুনিস', যেমনটি বলা হয়েছে:

আমি আশা করি বেঁচে থাকব, আর আমার দিনগুলো … আউয়াল বা আহওয়ান বা জাব্বারের মধ্য দিয়ে কাটবে

অথবা পরবর্তী দিবার; অতঃপর যখন তা শেষ হবে … তখন মুনিস বা আরুবাহ বা শিয়ার আসবে।

এর মাধ্যমে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর পূর্ববর্তী নামগুলোও জানা যায়। আর যুদ্ধের সফরের ক্ষেত্রে এতে আরও একটি শুভলক্ষণ রয়েছে এই দিক থেকে যে, এটি (খামিস) সেনাবাহিনীর একটি নাম; কারণ খামিস বলতে সেই বাহিনীকে বোঝায় যা অগ্রবর্তী দল, মধ্যভাগ, ডান পার্শ্ব, বাম পার্শ্ব এবং পশ্চাৎবর্তী দল—এই পাঁচ ভাগে বিভক্ত থাকে। আর এটি ছিল জুমাদাল আখিরার শুরু। জুমাদা শব্দটি 'হুবারা' এর মতো একটি স্ত্রীলিঙ্গ বিশিষ্ট বিশেষ্য যার বহুবচন হয় 'জুমাদিয়াত'। প্রথমটিকে 'জুমাদা খামসাহ' এবং দ্বিতীয়টিকে 'জুমাদা সিততাহ' বলা হয়, কারণ মহররম দিয়ে শুরু হওয়া বছরের পঞ্চম মাস হলো প্রথমটি এবং ষষ্ঠ মাস হলো দ্বিতীয়টি। জাহেলী যুগে একে 'যুবা' বলা হতো। একইভাবে অন্যান্য মাসেরও জাহেলী যুগে অপ্রসিদ্ধ নাম ছিল। মহররমের নাম ছিল 'মুতামির'। সফরের নাম 'বাজির'। রবিউল আউয়ালের নাম ছিল 'খাওয়ান'। রবিউস সানীর নাম 'বিসান'। জুমাদাল উলা ও উখরার নাম ছিল 'হানিন' এবং 'সাকিত', আলিফ-লাম যুক্ত করে; তবে আমি উখরার জন্য কেবল এটি শুনিনি। রজবের নাম 'আসাম্ম', শাবানের নাম 'আদিল', রমজানের নাম 'নানিক', শাওয়ালের নাম 'ওয়াল', যিলকদ মাসের নাম 'ওয়ারনাহ' এবং যিলহজ মাসের নাম ছিল 'বারাক'। আর আমি (মশহাদের প্রথম দিক বেছে নিয়েছি কারণ এটি উজ্জ্বল রাতগুলোর প্রথম দিন। তাই এটি শুভলক্ষণমুক্ত নয়, বিশেষ করে যখন চাঁদ পূর্ণতার দিকে ধাবিত হয়। জেনে রাখুন যে, মাসের প্রতি তিন রাতের আলাদা আলাদা নাম রয়েছে যা কবিতায় এভাবে বর্ণিত হয়েছে:

অতঃপর মাসের রাতগুলো সম্পর্কে যা জানা যায় … প্রতি তিন রাত বিশেষ বৈশিষ্ট্যে পরিচিত

প্রথম তিন রাত গুরার, তারপর নুফাল, তারপর তুসা … ও উশর; অতঃপর বীদ ও দুরা

যুলাম, হানাদিস, দাআদি … অতঃপর স্পষ্ট ক্ষয়ের কারণে মাহাক।

) এবং আমি (পথের আগে সঙ্গী খুঁজেছিলাম রাফে ইবনে খাদীজ বর্ণিত এই হাদীসের ভিত্তিতে: বাড়ির আগে প্রতিবেশী এবং পথের আগে সঙ্গী অন্বেষণ কর। তবে কামাল ইবনে আবি শরীফ বলেছেন যে এটি মুনকার হাদীস। আমি পূর্বে সঙ্গীর প্রতি ইঙ্গিত করেছি)। আর আমি বলছি (এখন তিনি হলেন মাননীয় মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ উপদেষ্টা) আব্দুল কারীম পাশা (তিনি কল্যাণের সাথে দীর্ঘজীবী হোন), ছোট-বড় সকলের কাছে তিনি 'আবদি' উপাধিতে পরিচিত। সুলতান আব্দুল মাজীদ খান তাঁকে 'নাদির' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তিনি হিজায ও ইরাকের প্রধান সেনাপতি হিসেবে বাগদাদে এসেছিলেন। এরপর তাঁর এবং তৎকালীন বাগদাদের ওয়ালী নাজীব পাশার মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়। বিশেষ করে ইরাকের মতো জায়গায় কি কখনো হৃদয়ের মিল সম্ভব? এক খাপে কি দুটি তলোয়ার রাখা যায়? তাদের প্রত্যেকেই উচ্চপর্যায়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করে অপরকে পদচ্যুত করার চেষ্টা করছিলেন। আর সেটি লওহে মাহফুজে ওয়ালীর মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ের সাথে মিলে গেল। ফলে সর্দি ঝাড়ার চেয়েও দ্রুত বেগে উচ্চপর্যায় থেকে তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে ডাকপিয়ন এসে হাজির হলো। তদুপরি, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে 'নাদির'-কে নিযুক্ত করা হলো এবং তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ রাজকীয় পদক প্রদান করা হলো।

তীরন্দাজের কী-ই বা করার আছে যখন শত্রু সামনে এসে পড়ে … আর সে তীর ছুড়তে চায় অথচ ধনুকের ছিলা ছিঁড়ে যায়।

(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২১)
فعلا النجيب من ذلك حزن عجيب وخرج من بغداد ملتفتاً إليها بقلب ذي وجيب ولم يسر النادر نصبه والياً وكان منصبه الأول في عينه وعينيك حالياً وكان يهوى قلبه البقاء في العسكرية وليس له وراءها إلى المنية أمنية لأنه نشأ فيها ووقف على جليها وخافيها فهي حبيبه الأول الذي لا ينتقل عنه ولا يتحول فلسان حاله يقول وتسمعه إذا صاخت إليه آذان العقول.

أتاني هواها قبل أن أعرف الهوى … فصادف قلباً خالياً فتمكنا

على أنه يعلم أن علم السياسة أدق من عمل الإكسير. والفتق الذي فتقه سلفه يعجز عن رتقه دقيق التدبير وأن ليس عنده من يحل رجل دجاجة أو يقضي له من حاجة أدنى حاجة وكان سلمه الله تعالى ذكي الأخلاق زكي الأعراق طاهر الثياب نقي الأهاب لين الجانب مكرم الصاحب إذا دقق بهر وإذا فكر شق الشعر يحب الكرم ويكره من ظلم لا يرتوي جواد ذهنه من حياض التفكر في عظمة ذي الكبرياء ولا يزال طرف طرفه سارحاً في رياض ملكوت السماء كلماته تعد وكمالاته لا تحد بيد أنه لا يلتزم لامرئ أمراً ولا يتجرع لشرب حلو مراً قد حول كل أمر إلى القدر فلا يغضب إن عصي إذا نهى أو أمر) وبالجملة (هو نادر الأمثال فيمن رأينا من الرجال ما أحسن صحبته وأجل لمن ليس له عنده أمل أسأل الله تعالى أن يديمه في سعود وصعود ويكفيه على ممر الزمان كيد كنود وحسود) والرفيق الثاني (الذي التمسته وأدركت منه اللطف من قبل وآنسته أخي الذي لم أزل معه ولم يزل معي) جناب مصطفى بك أفندي الربعي (وهو من قوم كانوا في بغداد أعيان مجد يشار إليه بالأصابع وأقران فضل لا طاعن فيه ولا مدافع.

إذا ركبوا زانوا المواكب هيبة … وإن جلسوا كانوا صدور المجالس

صار أبوه) علي بك (في بغداد قائمقام واليها سليمان باشا الكبير وكان عند الوالي المشار إليه ذا قدر على خطير ونصبه بعد متسلما في ماردين وهناك تسلمت الملائكة روحه فعرجوا بها إلى عليين وهو ابن عبد الله بك بن محمد أفندي دفتر دار بغداد المحمية وقد ورد دفتر دار إليها من جانب الدولة العلية وهو ابن علي باشا كان والياً في الحدباء أتاها من قبل الدولة سنة خمس وتسعين بعد الألف وحكم فيها ثلاث سنين على ما ذكره العمري في كتابه منهل الأولياء وذكر فيه أيضاً قصة غريبة لهذا المرحوم ونص على أن اسم أبيه عليه الرحمة قدوم وذريته تنكر ذلك الكلام وترفع رأسها إلى بعض الصدور العظام وتقول أن ذلك الصدر كان من رؤوس ربيعة وأنه كان صدراً عند حضرة السلطان مراد يوم جاء إلى بغداد فنال بفتحها الفخر جميعه وقد فاز عند الفتح بالشهادة وحاز بالرفع إلى عليين أعلى مراتب السعادة) وأنت تعلم (أن الناس مأمونون على أنسابهم كذباً أو صدقاً نعم يطالبون بحجة إذا ادعوا بها حقاً وأن التسامع في هذا المطلب نافع على أن النفس إذا كانت بأهلية لا يجديها نفعاً شرف الأنساب ولو كانت هاشمية.

ما تنفع الأنساب من هاشم … إن كانت الأنفس من باهلة

فبلال حبشي وأبو لهب قرشي ولله تعالى در من قال:

كن ابن من شئت واكتسب أدباً … يغنيك مضمونه عن النسب

إن الفتى من يقول هاأنا ذا … ليس الفتى من يقول كان أبي

ولعمري لا ينفع الحسب ما لم يكن بالمكتسب.

وما الحسب الموروث لا در دره … بمحتسب إلا بآخر مكتسب

إذ العود لم يثمر وإن كان شعبة … من المثمرات اعتاده الناس للحطب

والشرف النسبي في حكم النعت السببي ومن الجهل والغرور التعاظم بعظام في القبور ولله تعالى در ذي النظم الدري والنثر العبقري سلطان بني الآداب عبد الباقي أفندي العمري في قوله دام صيب فضله:

قل لمن ظهر التعاظم في الأرض … على الناس بالعظام الرميمة

لا تكن بالعظام كالكلب مغري … ليس في الكلب ويك في العظم قيمة

وقوله:

أقول لمن غدا في كل وقت … يباهينا بأسلاف عظام

أتقنع بالعظام وأنت تدري … بأن الكلب يقنع بالعظام

وقوله:

لم يجدك الحسب العالي بغير تقى … مولاك شيئاً فحاذر واتق الله

وابغ الكرامة في ترك الفخار به … فأكرم الناس عند الله أتقاها
বস্তুত নাজীব এতে এক অদ্ভুত বিষাদে আক্রান্ত হলেন এবং কম্পিত হৃদয়ে পেছনের দিকে তাকাতে তাকাতে বাগদাদ ত্যাগ করলেন। তার শাসক নিযুক্ত হওয়ার বিষয়টি তাকে আনন্দিত করতে পারেনি; তার নিকট তার পূর্ববর্তী পদটিই বর্তমানে মূল্যবান ছিল। তার মন সামরিক বাহিনীতে থাকতে চাইত এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেনাবাহিনী ব্যতীত তার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না। কারণ তিনি সেখানেই বেড়ে উঠেছেন এবং এর প্রকাশ্য ও গোপন সব বিষয়ে অবগত ছিলেন। এটিই ছিল তার প্রথম প্রিয় বস্তু যা থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি এবং হওয়ার ইচ্ছাও পোষণ করেননি। তার অবস্থার জবান এই কথাই বলছিল, আর আপনিও তা শুনতে পাবেন যদি বিচারবুদ্ধির কান সেদিকে ধাবিত হয়।

প্রেম চেনার আগেই তার প্রেম আমার নিকট উপস্থিত হলো … সে এক শূন্য হৃদয়ের দেখা পেল এবং সেখানে গেড়ে বসল।

যদিও তিনি জানতেন যে রাজনীতির জ্ঞান পরশপাথর তৈরির কৌশলের চেয়েও সূক্ষ্ম। আর তার পূর্বসূরিরা যে ফাটল ধরিয়েছেন, সূক্ষ্মতম পরিকল্পনার মাধ্যমেও তা মেরামত করা অসম্ভব। সেখানে এমন কেউ ছিল না যে একটি মুরগির পা খুলতে পারে বা তার সামান্যতম প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। তিনি—আল্লাহ তাকে নিরাপদ রাখুন—ছিলেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী, সচ্চরিত্রবান, পবিত্র পোশাকধারী, কলুষমুক্ত স্বভাবের, বিনয়ী এবং বন্ধুর প্রতি পরম শ্রদ্ধাশীল। যখন কোনো বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন তখন সবাইকে বিমোহিত করতেন, আর যখন চিন্তা করতেন তখন চুলের ন্যায় সূক্ষ্মতা বিশ্লেষণ করতেন। তিনি দানশীলতাকে ভালোবাসতেন এবং অবিচারকারীকে ঘৃণা করতেন। তার চিন্তাশীল মগজ মহান আল্লাহর মহিমার সাগরে ডুব দিয়ে তৃপ্ত হতো না এবং তার দৃষ্টি সর্বদা আসমানের রাজত্বের উদ্যানে বিচরণ করত। তার কথাগুলো গুনে শেষ করা যেত, কিন্তু তার পূর্ণতা ছিল সীমাহীন। তবে তিনি কারো জন্য কোনো প্রতিশ্রুতি দিতেন না এবং মিষ্ট পান করার জন্য তিক্ততা সহ্য করতেন না। তিনি সব বিষয় তাকদীরের ওপর সোপর্দ করেছিলেন; তাই কোনো আদেশ বা নিষেধ অমান্য করা হলে তিনি রাগান্বিত হতেন না। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমাদের দেখা পুরুষদের মধ্যে তিনি ছিলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তার সাহচর্য কতই না উত্তম এবং যার কোনো প্রত্যাশা নেই তার প্রতিও তিনি কতই না উদার! আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে সর্বদা সৌভাগ্য ও উন্নতির উচ্চ শিখরে রাখেন এবং কালপরিক্রমায় তাকে অকৃতজ্ঞ ও হিংসুকের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করেন। আর দ্বিতীয় সঙ্গী (যাকে আমি খুঁজে পেয়েছি এবং যার অনুগ্রহ আগে থেকেই লাভ করেছি ও যার সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছি, তিনি আমার ভাই যার সাথে আমি সর্বদা ছিলাম এবং তিনিও আমার সাথে ছিলেন) হলেন জনাব মোস্তফা বেগ এফেন্দি আল-রাবঈ। তিনি এমন এক গোত্রভুক্ত ছিলেন যারা বাগদাদের আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে আঙুল দিয়ে নির্দেশিত হতেন এবং শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে ছিলেন অতুলনীয়, যার বিরুদ্ধে কথা বলার বা প্রতিহত করার কেউ নেই।

যখন তারা সওয়ার হন তখন গাম্ভীর্যের মাধ্যমে কাফেলাকে সুশোভিত করেন … আর যখন মজলিসে বসেন তখন তারা আসরের প্রধান আসনে আসীন হন।

তার পিতা আলী বেগ বাগদাদের ওয়ালী সুলাইমান পাশা আল-কাবীরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। উক্ত ওয়ালীর নিকট তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি তাকে মার্দিনের মুতাসাল্লিম নিযুক্ত করেন এবং সেখানেই ফেরেশতারা তার রূহ কবজ করে উর্ধ্বজগতে নিয়ে যান। তিনি বাগদাদ আল-মাহমিয়ার দাফতারদার আব্দুল্লাহ বেগ বিন মুহাম্মদ এফেন্দির পুত্র ছিলেন। এই দাফতারদার রাষ্ট্রীয় উচ্চ পর্যায় থেকে সেখানে এসেছিলেন। তিনি ছিলেন আলী পাশার পুত্র, যিনি হাজবা-র ওয়ালী ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১০৯৫ হিজরীতে সেখানে আসেন এবং আল-উমারী তার ‘মানহালুল আউলিয়া’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী সেখানে তিন বছর শাসন করেন। সেই গ্রন্থে তিনি এই মরহুমের সম্পর্কে একটি অদ্ভুত ঘটনাও বর্ণনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে তার পিতার নাম ছিল ‘কাদুম’। কিন্তু তার বংশধররা এই কথা অস্বীকার করেন এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন। তারা বলেন যে, সেই ব্যক্তিটি রবীআ গোত্রের প্রধানদের একজন ছিলেন এবং যখন সুলতান মুরাদ বাগদাদে এসেছিলেন তখন তিনি তার দরবারের একজন প্রধান ব্যক্তি ছিলেন এবং বাগদাদ বিজয়ের মাধ্যমে তিনি পূর্ণ গৌরব অর্জন করেছিলেন। বিজয়ের সময় তিনি শাহাদাত লাভ করেন এবং সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়ে চরম সুখ অর্জন করেন। আর আপনি জানেন যে মানুষ তাদের বংশের বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত, চাই তা মিথ্যা হোক বা সত্য। তবে যদি তারা বংশের মাধ্যমে কোনো হকের দাবি করে তবে তাদের নিকট প্রমাণ চাওয়া হয়। এই বিষয়ে জনশ্রুতি ফলপ্রসূ। তবে বাস্তবতা হলো, মানুষের যদি নিজস্ব যোগ্যতা না থাকে, তবে বংশের শ্রেষ্ঠত্ব তাকে কোনো উপকার দিতে পারে না, এমনকি তা হাশেমী বংশের হলেও।

হাশেমী বংশের পরিচয় কোনো উপকারে আসবে না … যদি আত্মা বাহিলা গোত্রের মতো হয়।

কারণ বিলাল হলেন হাবশী আর আবু লাহাব হলেন কুরাইশী। আর সেই ব্যক্তির উক্তি কতই না চমৎকার যিনি বলেছেন:

তুমি যার ইচ্ছা সন্তান হও তবে আদব বা শিষ্টাচার অর্জন করো … যা তোমাকে বংশের পরিচয় দেওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী করবে।

প্রকৃত যুবক তো সেই যে বলে—এই যে আমি … সেই ব্যক্তি নয় যে বলে—আমার পিতা এমন ছিলেন।

আমার জীবনের শপথ, অর্জিত গুণাবলি ব্যতীত বংশীয় মর্যাদা কোনো উপকারে আসে না।

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আভিজাত্যের কোনো মূল্য নেই … যদি না তা পরবর্তী গুণাবলি দ্বারা সংরক্ষিত হয়।

কারণ কোনো শাখা ফলবতী গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও যদি সে নিজে ফল না দেয় … তবে মানুষ তাকে লাকড়ি হিসেবেই ব্যবহার করে।

আর বংশীয় মর্যাদা হলো পরোক্ষ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। কবরে শায়িত হাড়গোড় নিয়ে অহংকার করা মূর্খতা ও দম্ভের শামিল। সেই ছন্দময় ও গদ্যের জাদুকর সুলতান আব্দুল বাকী এফেন্দি আল-উমারীর উক্তি কতই না চমৎকার:

সেই ব্যক্তিকে বলো যে পৃথিবীর বুকে মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেখায় … গলিত হাড়গোড় নিয়ে দম্ভ করে।

তুমি হাড় নিয়ে কুকুরের মতো লালায়িত হয়ো না … কারণ কুকুরের মাঝে কোনো মূল্য নেই আর সেই হাড়ের কোনো দাম নেই।

তিনি আরও বলেন:

আমি সেই ব্যক্তিকে বলি যে প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে … তার মহান পূর্বপুরুষদের নিয়ে গর্ব করে।

তুমি কি কেবল হাড় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবে, অথচ তুমি জানো যে … কুকুরও হাড় নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে?

তিনি আরও বলেন:

তাকওয়া বা আল্লাহভীতি ছাড়া উচ্চ বংশীয় মর্যাদা তোমার মাওলার কাছে কোনো কাজেই আসবে না … সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো।

শ্রেষ্ঠত্ব অন্বেষণ করো বংশীয় অহংকার ত্যাগের মাধ্যমে … কারণ আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে সম্মানিত যে সবচেয়ে বেশি পরহেযগার।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২২)
والكلام في هذا الباب مما تضيق عنه صفحات هذا الكتاب وفيما ذكرنا غنية عن المزيد ويكفي من القلادة ما أحاط بالجيد على أن الأمر أوضح من صباح فأي حاجة إلى مصباح) ثم أني أقول (ويشهد لي بذلك عدول إن أباء الرفيق المومى إليه رحمة الله تعالى عليهم وعليه لا يختلف في جلالتهم اثنان ولا ينتطح في شرفهم كبشان وقد أراد هو أن يتسور ما تسوروا ويجسر على الكسر والجبر كما جسروا ويصل إلى ما وصلوا وينزل من العلياء حيثما نزلوا فجهد وجد لكن لم يساعده الجد.

إذا لم يكن للمرء جد مساعد … فلا جهده يغني ولا جده يجدي

وجد الفتى من غير جد يعينه … كسيف بلا حد وكف بلا زند

ونهاية امرأ أن مد الزمان له يداً فرفعه حتى جعله عند عبدي باشا في بغداد كدخدا إلا أنه لم يمهله أن يجبر كسراً أو يسر سراً أو يسدي يداً أو يرد على صديق ردي أو يبني كأسلافه مجداً أو يبقي بإحسانه على الأحرار لا خلافه عبداً حيث ضيق بواسع الحوادث صدره ونفث في عقد عقله فغير فكره ولم يزل يغريه بأشياء كان هو ينكرها على غيره ويحسن له أموراً كان يكرهها في سره وجهره وبذلك وجد عليه من وجد وثنى عنه عطفه بلا اكتراث معظم وجوه البلد وقبل أن تنجلي عنه غياهب المحن ويفطن لما غشه به غشاش الزمن صرحت الأقدار وصرحت الأخيار بعزل وزيره وحطه عن سريره وأمره بالذهاب إلى آمد السوداء وتوجيه أيالتها بدل أيالة الزوراء فعند ذلك عادت إليه أفكاره التي كانت له في الأصل وجادت بوصل حيث لا ينفع الوصل وقد كانت بيني وبينه رحمه الله تعالى محبة شديدة ومودة لم تزل على ممر الأيام أكيدة لا تكاد نفترق في أغلب الليالي والأيام إلا لحاجة ضرورية أو ضروري منام وكنت أوفر أخلائه نصيباً من وافر هممه وكان يذب عني ذب الغيور عن حرمه ومن كرامة نفسه أنه يغضب من غية بني جنسه بل يغضب من غيب أعدائه فضلاً عن أصدقائه وأحبائه وكان إذا نطق لا يتلعثم وكثيراً ما يضحك وهو يتكلم وله عقيدة أصفى من الحليب ومذهب السلف إليه أحب حبيب وكان معظماً بين الكوله مند حيث أن له ولاء يخفق لواؤه على فريقهم بنسائم عتق فعله الجد ولإثبات هذا الولاء في حق داود باشا تجشم السفر للأستانة العلية فسوعد وأثبت إلا أنه قبل أن يلوي عنان الرجعة لوت ساعد حياته المنية ويا سبحان الله تعالى كان بصدد أن يقبض أرث المشار إليه فقبضت روحه وبقصد أن يسكن ريح من يشق ذلك عليه فسكنت ريحه.

يرجى المرء ما أن لا يراه … ويعرض دون أدناه الخطوب

وقد لبس من الشهادة الحلة الفاخرة سنة تسع وستين ومائتين وألف تاسع جمادى الآخرة من الله تعالى عليه بالرحمة والغفران وأورثه بدل ما فاته من الإرث غرف الجنان.

) والرفيق الثالث (في هذا السفر الحادث) هو سليمان بك (بن ليث أوغا كدخدا بغداد سابقاً الحاج طالب أغا ارتضع در الفضل صغيراً وتقلد در الأفضال كبيراً عانى فن الكتابة فمهر في الإنشاء فهو اليوم ينظم الكواكب الدرية في سلك تحريراته التركية إن شاء.

عباراته في النظم والنثر كلها … غرائب تصطاد القلوب بدايع

فهن لأجياد المعالي قلائد … وهن لأجناد المعاني طلايع

أقرت له بارق كتاب الروم وقالت أنى لنا أن نقر بالرق سواري النجوم فيا له من كاتب جمع العجائب والغرائب.

إن هز أقلامه يوماً ليعملها … أنساك كل كمي هز عامله

وإن أقر على رق أنامله … أقر بالرق كتاب الأنام له

قد سخرت له جن المعاني المتعاصية على الأذهان ولا بدع إذا ما سخرت الجن لسليمان ولعمري لو صعد الذهن النظر في بلقيس كتبه وصوب لظهر له من معانيها وألفاظها غاية العجب.

معان كالعيون ملئن سحراً … وألفاظ موردة الخدود

ومع ذا إذا نظم أبدع وإذا تفتق نور شعره فالحسن بين مرصع ومصرع وينضم إلى ذلك لين جانب ورعاية صاحب وكرم أخلاق وحسن وفاق.

ولو أن المكارم صرن نفساً … لكان لها الضمائر والعيونا
এই অধ্যায়ের আলোচনা এতটাই বিস্তৃত যে এই বইয়ের পৃষ্ঠাসমূহ তা ধারণ করতে অক্ষম। যা আমি উল্লেখ করেছি, তা-ই বর্ধিত আলোচনার জন্য যথেষ্ট; হারের যতটুকু অংশ গলায় বেষ্টন করে থাকে, ততটুকুই সৌন্দর্যের জন্য যথেষ্ট। বিষয়টি সকালের আলোর চেয়েও স্পষ্ট, তাই এখানে প্রদীপের আর কী প্রয়োজন? অতঃপর আমি বলছি (এবং ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণ আমার পক্ষে এর সাক্ষ্য দেবেন) যে, ইশারা করা সেই বন্ধুর পিতৃপুরুষদের মর্যাদা—আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর এবং তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এমন সুউচ্চ যে, তাদের মহত্ত্বে দুইজন মানুষও দ্বিমত করবে না এবং তাদের সম্মানের বিষয়ে দুটি ভেড়াও পরস্পরকে গুঁতো দেবে না (অর্থাৎ কেউ বিতর্ক করবে না)। তিনি চেয়েছিলেন তাদের মতোই সুউচ্চ শিখরে আরোহণ করতে, তাদের মতোই ভাঙা-গড়ার কাজে সাহসী হতে, তারা যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন সেখানে পৌঁছাতে এবং সম্মানের যে উচ্চ শিখরে তারা অবস্থান করেছিলেন সেখানে অবস্থান করতে। তিনি আপ্রাণ চেষ্টা ও পরিশ্রম করেছিলেন, কিন্তু ভাগ্য তাকে সহায়তা করেনি।

যদি মানুষের অনুকূল ভাগ্য না থাকে … তবে তার শ্রম কোনো কাজে আসে না এবং তার প্রচেষ্টাও ফলপ্রসূ হয় না।

সহায়ক ভাগ্যহীন যুবকের চেষ্টা … ধারহীন তলোয়ার এবং মণিবন্ধহীন হাতের মতো।

পরিশেষে কালচক্র তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল এবং তাকে উন্নীত করল, এমনকি তাকে বাগদাদে আবদি পাশার নিকট 'কেতখুদা' (প্রশাসনিক কর্মকর্তা) হিসেবে নিযুক্ত করল। কিন্তু সময় তাকে কোনো ভাঙা জোড়া দেওয়ার, কোনো রহস্য প্রকাশ করার, কোনো অনুগ্রহ করার, কোনো বন্ধুর প্রত্যুপকার করার, তার পূর্বপুরুষদের মতো কোনো গৌরব অর্জনের অথবা তার ইহসানের মাধ্যমে মুক্ত মানুষদের কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করার সুযোগ দেয়নি। ঘটনাবলির সংকীর্ণতা তার প্রশস্ত বক্ষকে সংকুচিত করে ফেলল এবং তার বিচারবুদ্ধির গ্রন্থিতে ফুঁ দিল, ফলে তার চিন্তাধারা পরিবর্তিত হয়ে গেল। আর তাকে এমন সব জিনিসের প্রলোভন দেখাতে থাকল যা সে অন্যের ক্ষেত্রে অপছন্দ করত, এবং তার সামনে এমন সব বিষয়কে সুন্দর করে উপস্থাপন করল যা সে প্রকাশ্যে ও গোপনে ঘৃণা করত। এর ফলে যারা তার ওপর অসন্তুষ্ট হওয়ার তারা হলো, এবং শহরের অধিকাংশ গণ্যমান্য ব্যক্তি ভ্রুক্ষেপহীনভাবে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। বিপদের অন্ধকার দূর হওয়ার আগেই এবং সময়ের প্রতারক তাকে যে ধোঁকা দিয়েছে তা বোঝার আগেই, ভাগ্য এবং নেককার ব্যক্তিগণ তার উজিরকে বরখাস্ত করার, তাকে সিংহাসনচ্যুত করার এবং তাকে 'কাল-আমদ'-এ যাওয়ার ও 'যাওরা' (বাগদাদ)-এর পরিবর্তে সেই প্রদেশের শাসনভার গ্রহণের নির্দেশ জারি করল। তখন তার সেই আদি চিন্তাভাবনাগুলো ফিরে এল এবং এমন এক সংযোগের দ্বার উন্মোচিত হলো যখন সেই সংযোগের আর কোনো উপকারিতা নেই। আমার এবং তার মধ্যে—আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন—গভীর ভালোবাসা এবং এমন এক বন্ধুত্ব ছিল যা দিনাতিপাতের সাথে আরও দৃঢ় হয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন বা ঘুমের প্রয়োজন ছাড়া অধিকাংশ দিন ও রাতে আমরা প্রায় অবিচ্ছিন্ন থাকতাম। তার সুউচ্চ সংকল্পের কারণে আমি ছিলাম তার বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান এবং সে আমাকে রক্ষা করত যেমন একজন আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি তার পরিবারকে রক্ষা করে। তার মহানুভবতার একটি দিক ছিল এই যে, তিনি স্বজাতীয়দের বিচ্যুতিতে রাগান্বিত হতেন, এমনকি বন্ধু ও প্রিয়জনদের তো বটেই, শত্রুদের অগোচরে তাদের সমালোচনা শুনলেও তিনি ক্ষুব্ধ হতেন। কথা বলার সময় তিনি তোতলাতেন না এবং কথা বলার সময় প্রায়ই হাসতেন। তার আকিদা ছিল দুধের চেয়েও স্বচ্ছ এবং সালাফদের মাযহাব ছিল তার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তিনি 'কোলেমান'দের মধ্যে সম্মানিত ছিলেন, কারণ তাদের দলের ওপর তার আনুগত্যের পতাকা উড়ছিল যা তার পিতৃপুরুষদের বীরত্বের সুবাতাসে আন্দোলিত হতো। দাউদ পাশার প্রতি এই আনুগত্য প্রমাণের জন্য তিনি সুউচ্চ আস্তানা (ইস্তাম্বুল) সফরের কষ্ট স্বীকার করেছিলেন। তাকে সাহায্য করা হয়েছিল এবং তার পদমর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু ফেরার লাগাম টানার আগেই মৃত্যুর হাত তার জীবনের শক্তি ছিনিয়ে নিল। সুবহানাল্লাহ! তিনি যখন ইশারাকৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তার রুহ কবজ করা হলো। আর যার প্রতাপ নিবারণ করতে চেয়েছিলেন, অথচ তার নিজেরই প্রতাপ চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল।

মানুষ এমন কিছুর আশা করে যা সে দেখতে পায় না … অথচ তার অতি সন্নিকটেই বিপদসমূহ ওত পেতে থাকে।

তিনি ১২৬৯ হিজরি সালের ৯ই জমাদিউল আখিরাত শাহাদাতের গৌরবময় পোশাক পরিধান করেন। আল্লাহ তাআলা তার ওপর রহমত ও ক্ষমা বর্ষণ করুন এবং যা তিনি পার্থিব উত্তরাধিকার থেকে হারিয়েছেন তার বদলে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষসমূহ দান করুন।

আর (এই আকস্মিক সফরের) তৃতীয় সঙ্গী হলেন সুলাইমান বেগ (লাইস আঘা বিন হাজি তালিব আঘার পুত্র, যিনি পূর্বে বাগদাদের কেতখুদা ছিলেন)। তিনি শৈশবে শ্রেষ্ঠত্বের দুধ পান করেছেন এবং প্রাপ্তবয়স্ক হলে মহত্ত্বের অলঙ্কার পরিধান করেছেন। তিনি রচনাশৈলীতে সাধনা করেছেন এবং গদ্য রচনায় পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। আজ তিনি যদি ইচ্ছা করেন তবে তার তুর্কি লেখনীর সুতোয় উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজীকে গেঁথে দিতে পারেন।

কাব্য ও গদ্যে তার সকল অভিব্যক্তি … অদ্ভুত ও চমৎকার, যা মানুষের হৃদয় শিকার করে।

এগুলো শ্রেষ্ঠত্বের গ্রীবার জন্য কণ্ঠহার … আর ভাবার্থের সৈন্যদলের জন্য অগ্রগামী দল।

রোমের বিশিষ্ট লেখকগণ তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে, আমরা কীভাবে সেই নক্ষত্ররাজীর সমকক্ষ হওয়ার ঘোষণা দেব? তিনি এমন এক লেখক যিনি বিস্ময়কর ও চমৎকার বিষয়সমূহ একত্র করেছেন।

যদি তিনি কোনোদিন তার কলম চালনা করেন … তবে তা আপনাকে বীরের বর্শা চালনার কথা ভুলিয়ে দেবে।

আর যদি তিনি তার আঙুলগুলো কাগজের ওপর স্থাপন করেন … তবে পৃথিবীর সকল লেখক তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নেয়।

মেধাশক্তির জন্য যা দুঃসাধ্য ছিল, সেই ভাবার্থের জিনগুলো তার বশীভূত হয়েছে। আর সুলাইমানের জন্য যদি জিন বশীভূত হয় তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আমার জীবনের কসম! যদি বিচারবুদ্ধি তার রচিত 'বিলকিস' সদৃশ কিতাবগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করে এবং গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, তবে তার অর্থ ও শব্দশৈলীর চরম বিস্ময় ফুটে উঠবে।

এমন সব ভাবার্থ যা জাদুময় চোখের মতো … আর এমন সব শব্দ যা গোলাপি গালের মতো সুন্দর।

তদুপরি, তিনি যখন কাব্য রচনা করেন তখন চমৎকার করেন, আর যখন তার কবিতার আলো বিচ্ছুরিত হয় তখন তার সৌন্দর্য মণি-মুক্তা খচিত অলঙ্কারের মতো শোভা পায়। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তার নম্রতা, বন্ধুর প্রতি যত্নশীলতা, উন্নত চরিত্র এবং উত্তম সদ্ভাব।

যদি মহানুভবতা কোনো আত্মা হতো … তবে তিনি হতেন তার অন্তঃকরণ এবং চক্ষু।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
فهو الذي اجتهد في طلب الكمال ففاق وقلد بدور الأفضال سائر الأعناق فيا له من مجتهد مقلد ومسددٍ مسدد ما صحب ذا عقل من الوزراء إلا كان مقدم حزبه والمستولي على سمعه وبصره وقلبه كل ذلك لعلو همته ومزيد صدقه في خدمته لا يترك وإن ضاقت لسعة غائلته الأوقات الاشتغال بما عين له من النفي والإثبات ويميل في الاعتقاديات إلى مذهب الحلف وكم له في ذلك الميل من سلف ولا يرى في العمليات غير تقليد الإمام الأعظم وتعظيم سائر أئمة الدين عنده أمر ملتزم فكلهم درر مستجاده إلا أن الإمام الأعظم واسطة المقلادة ولله تعالى در شيخ الإسلام الكاشف بدراري حكمه عن جو سماء الحقيقة الظلام ذي الخلق العطر الندي أحمد عارف حكمت بك أفندي حيث يقول:

إن الأئمة عقد در فاخر … وأبا حنيفة درة التيجان

بعلومه تزهو الشريعة ما علت … زهر الربا بشقائق النعمان

ولقد أنصف بقوله دام فاضل فضله:

إن الأئمة كالمناهل في الهدى … والناس مثل الوارد الظمآن

والنفس إن رويت بأول منهل … غنيت بلا كره لشرب الثاني

يحيى من الرحمى موات قبورهم … صوب الغمام بوابل هان

) وأبو هذا المترجم (حفظه الله تعالى من كل ألم كان حسن السياسة ذا عفة وكياسة وكان محباً للعلماء ومحبوباً لجميع أهل الزوراء وهو من موالي حضرة الوزير أبي الوزراء سليمان باشا الكبير وليس لأحد على كاهل ولده لواء ولاء لعدم وجود الشرط الذي اعتبره في هذا المقام الفقهاء) وبالجملة (ما أدرك ذو حس مثل هذا الأب والابن وروح القدس غير أن هذا الابن فاق أباه وغدا أعرف في أمور أخراه وأولاه وهو في الدهاء بين كتاب الزمان أشبه رجل بكاتب الوحي معاوية ابن أبي سفيان وبين ما للأمراء من ذوي الاختصاص يحكي داهية العرب عمرو بن العاص فلعمري وعمره هو معاوية هذا الزمان وعمره جعله الله تعالى على المقام وأناله من حسن الآمال غاية المرام.

) واتفق (أن وافقنا في المسير غنياً عن رفاقه مأمور وأمير شامة وجنة الأحباب حضرة) إقبال الدولة (الشهير بالنواب وهو رجل من ملوك الهند سكن العراق ووافقه صباه وجنوبه غاية الوفاق وعرف الناس وعرفوه وألف الأخيار وألفوه حيث كان ذا خلق أرق من دمعة الصب وطبع ألطف من وابل غيث غب الجدب وله مع الأحبة منهاج لا تجد له ولو تتبعت من هاج ومزاج عير أجاج هو لمدام الأنس خير مزاج مع عراقة أصل ورجاحة عقل وكمال فضل يحب بشر أشره العترة الطاهرة وليس له رأس مال سوى ذلك في الآخرة ولا يقبل منقولاً ما لم يكن لديه معقولاً وله نظم في الفارسية الدرية رائق ونثر كالنجوم الدرية فائق والذي أوجب سفره حب رؤية سوق لم يسبق مثله أحدث في لوندره ومن عادته حب رؤية الغرائب ولو صرف لأجلها جل الرغائب على أن ما صرف ولو بلغ حد السرف قل من جل وغيض من فيض فقد يسر الله تعالى له تجارة رابحة وأتاه) من الكنوز ما إن مفاتحه (فليس عليه لأحد سوى الله تعالى منه ولا يرى محنة تعالج بمرهم الدراهم محنة ولقد آنسنا برفاقته لغاية لطفه ونجابته لا زال يسرح في رياض النعم محفوظاً من كل ألم بحرمة النبي صلى الله تعالى عليه وسلم.

) وعند (ما وضعت رجلي بالركاب وتنادت بالرحيل الأصحاب تشبث بأذيالي عيالي وأطفالي وقالت لا نطيق الفراق ولا نقدر على علاج آلامه ولو جئنا بألف راق ودونك فادفنا أحياء إن لم تجد في هذه الأحياء لداء حاجتنا دواء وجعلت تذري دموعاً حمراً وتذكي في كانون فؤادي عوفيت جمراً وكادت تصرخ بالويل وتشق الجيوب إلى الذيل فناديتها ودموعي كدموعها ذواري.

ذريني أن أسير ولا تنوحي … فإن الشهب أشرفها السواري

فشرعت تخوفني عجزاً وذله ما قد يحدث للغريب من سقام وعله:

فقلت أليس الموت إن لم ألاقه … أمامي أتتني خيله من ورائيا

فما عذر أهل العجز والكل تابع … جديساً وطمساً والقرون الخواليا

وهل منكر للضيم مات ولم يمت … رويبضة ما زال بالدار ثاويا

ومن لم يفارق منزل الذل الذي لم يرح … ويغدو إلا موجع القلب باكيا

ومن يبق في دار الهوان يعش بها … أخاً مضض لا يبرح الدهر شاكيا

عدمت يميني إن أقمت على القلى … نعم وتلتها عن قريب شماليا

فلما تحققت أفي لا أحول أنشدت تقول:
তিনি সেই ব্যক্তি যিনি পূর্ণতা অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তিনি স্বীয় অনুগ্রহের হার দ্বারা সকলের স্কন্ধ অলংকৃত করেছেন। তিনি একজন একনিষ্ঠ গবেষক এবং সঠিক পথের অনুসারী। জ্ঞানসম্পন্ন মন্ত্রীবর্গের মধ্যে যখনই তিনি কারো সান্নিধ্যে এসেছেন, তিনিই তাদের দলের অগ্রগণ্য এবং তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়ের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী হয়েছেন। এই সবকিছুই তাঁর সুউচ্চ হিম্মত এবং সেবার ক্ষেত্রে তাঁর অটল সততার কারণে। সময়ের সংকীর্ণতা বা সমস্যার আধিক্য সত্ত্বেও তিনি নফি (নাস্তিবোধক) ও ইসবাত (অস্তিবোধক) বিষয়ক তাঁর ওপর অর্পিত জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়গুলো নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকতে কখনো ছাড়েননি। আকিদাগত বিষয়ে তিনি পূর্বসূরিদের (সালাফ) মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে থাকেন এবং এ বিষয়ে তাঁর অনেক পূর্বসূরিও রয়েছেন। আমল বা ব্যবহারিক বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তিনি ইমামে আজমের (আবু হানিফা) অনুসরণ ছাড়া অন্য কিছু সমীচীন মনে করেন না এবং দ্বীনের অন্যান্য ইমামদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনকেও তিনি অপরিহার্য কর্তব্য মনে করেন। তাঁদের প্রত্যেকেই শ্রেষ্ঠ মণি-মুক্তা সদৃশ, তবে ইমামে আজম হচ্ছেন সেই মালার কেন্দ্রীয় রত্ন। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক শাইখুল ইসলামের ওপর, যিনি তাঁর হিকমতের আলোকবর্তিকা দ্বারা হাকিকতের আকাশের অন্ধকার দূর করেছেন; সুগন্ধি ও সতেজ চরিত্রের অধিকারী সেই আহমদ আরিফ হিকমত বে এফেন্দি, যেখানে তিনি বলেছেন:

নিশ্চয়ই ইমামগণ একটি চমৎকার মুক্তার মালার ন্যায় … আর আবু হানিফা সেই মুকুটের শ্রেষ্ঠ রত্ন।

তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে শরীয়ত সেভাবেই সুশোভিত হয়, যেভাবে নূমানি ফুলের মাধ্যমে পাহাড়ের উপরিভাগের পুষ্পরাজী বিকশিত হয়।

এবং তিনি যথার্থই বলেছেন (তাঁর মর্যাদা স্থায়ী হোক):

নিশ্চয়ই ইমামগণ হিদায়েতের ক্ষেত্রে প্রস্রবণের মতো … আর মানুষ হচ্ছে তৃষ্ণার্থ আগন্তুকের ন্যায়।

মন যদি প্রথম প্রস্রবণ থেকেই তৃপ্ত হয়ে যায় … তবে অনিচ্ছা সত্ত্বেও দ্বিতীয়বার পান করা থেকে সে অমুখাপেক্ষী থাকে।

রহমতের বারিধারায় তাদের কবরের মৃত ভূমি পুনর্জীবিত হোক … মেঘমালার সহজ ও অঝোর ধারায়।

) আর এই জীবনীকারের পিতা (আল্লাহ তাআলা তাঁকে সকল কষ্ট থেকে রক্ষা করুন) ছিলেন উত্তম রাজনৈতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ও অত্যন্ত বুদ্ধিমান। তিনি আলেমদের ভালোবাসতেন এবং ইরাকের সকল মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তিনি উজিরদের পিতা বা জ্যেষ্ঠ উজির সুলাইমান পাশা আল-কাবিরের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর সন্তানের ওপর কারও আনুগত্যের পতাকা নেই, কারণ ফকিহগণ এই ক্ষেত্রে যে শর্ত বিবেচনা করেছেন তা এখানে অনুপস্থিত।) মোটের ওপর (কোনো ইন্দ্রিয়সম্পন্ন ব্যক্তি এই পিতা ও পুত্রের মতো কাউকে দেখেনি; তবে এই পুত্র তাঁর পিতাকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ে অধিকতর বিজ্ঞ হয়েছেন। সমকালীন লেখকদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে তিনি ওহী লেখক মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের সদৃশ একজন ব্যক্তি। আর উচ্চপদস্থ আমীরদের বিশেষ ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি আরবের অত্যন্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তি আমর ইবনুল আসের প্রতিলিপি। আমার জীবনের কসম, তিনি এই জামানার মুয়াবিয়া। আল্লাহ তাআলা তাঁর আয়ু বৃদ্ধি করুন এবং তাঁকে তাঁর সুউচ্চ আশা-আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে দিন।

) এবং এটি একটি ঘটনা যে (আমাদের সফরের সঙ্গী হয়েছিলেন এমন এক ব্যক্তি যিনি সাথীদের থেকে অমুখাপেক্ষী ছিলেন, তিনি একাধারে নির্দেশদাতা ও আমীর, বন্ধুদের জান্নাততুল্য এবং সৌন্দর্যের প্রতীক) ইকবালুদ্দৌলা (যিনি নবাব নামে প্রসিদ্ধ)। তিনি ভারতের রাজন্যবর্গের অন্তর্ভুক্ত একজন ব্যক্তি যিনি ইরাকে বসবাস করতেন। ইরাকের আবহাওয়া তাঁর অত্যন্ত অনুকূলে ছিল। তিনি মানুষকে চিনতেন এবং মানুষও তাঁকে চিনত। তিনি সজ্জনদের ভালোবাসতেন এবং তাঁরাও তাঁকে ভালোবাসত। তাঁর চরিত্র ছিল প্রেমিকের অশ্রুর চেয়েও কোমল এবং তাঁর স্বভাব ছিল অনাবৃষ্টির পরের বৃষ্টির চেয়েও স্নিগ্ধ। বন্ধুদের সাথে তাঁর এমন এক পথ বা পদ্ধতি ছিল যা অনুসরণ করলেও অন্য কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাঁর মেজাজ বা স্বভাব যেন উত্তম সুধার সাথে লোনা পানির এক বিরল মিশ্রণ (তথা কঠোরতা ও কোমলতার সমন্বয়)। এর সাথে ছিল আভিজাত্য, বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং পূর্ণ মর্যাদা। তিনি পবিত্র আহলে বাইত বা বংশধরদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং পরকালের জন্য এটিই তাঁর একমাত্র সম্বল। তিনি কোনো বর্ণিত বিষয় ততক্ষণ গ্রহণ করেন না যতক্ষণ না তা তাঁর কাছে যুক্তিগ্রাহ্য হয়। ফারসি ভাষায় তাঁর অত্যন্ত চমৎকার কাব্য প্রতিভা রয়েছে এবং নক্ষত্ররাজির মতো শ্রেষ্ঠ গদ্য রচনা রয়েছে। তাঁর সফরের কারণ ছিল লন্ডনে নবনির্মিত এমন এক বাজার দেখার ইচ্ছা যার নজির আগে দেখা যায়নি। অজানাকে দেখার আগ্রহ তাঁর চিরকালীন স্বভাব, যদিও এর জন্য তিনি তাঁর অধিকাংশ সম্পদ ব্যয় করতেও কুণ্ঠাবোধ করেন না। যদিও যা ব্যয় হয় তা অপচয়ের সীমায় পৌঁছে গেলেও তা যেন নদী থেকে সামান্য পানি নেওয়ার মতো বা সমুদ্র থেকে এক ফোঁটার মতো। আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য এই লাভজনক সফরের পথ সুগম করেছেন এবং তাঁকে এমন সম্পদ দান করেছেন) যার চাবিকাঠি বহন করাও কঠিন (কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এই নেয়ামতের জন্য তিনি কারও কাছে ঋণী নন। তিনি সম্পদকে বিপদের সমাধান বা উপশমকারী মলম হিসেবে দেখেন না। তাঁর এই চমৎকার সৌজন্যবোধ এবং আভিজাত্যের কারণে আমরা তাঁর সাহচর্যে আনন্দিত হয়েছি। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানে তিনি যেন সর্বদা সকল প্রকার দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্ত হয়ে নেয়ামতের উদ্যানগুলোতে বিচরণ করতে পারেন।

) এবং যখন (আমি জিন-পোশাকে পা রাখলাম এবং সঙ্গীরা প্রস্থানের ডাক দিল, তখন আমার পরিবার ও শিশুরা আমার আঁচল টেনে ধরল এবং বলতে লাগল: আমরা বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারব না এবং এর ব্যথার প্রতিকার করতে পারব না, এমনকি আমরা যদি হাজার জন ঝাড়ফুঁককারীকেও নিয়ে আসি। যদি তুমি আমাদের এই ব্যথার কোনো প্রতিকার না পাও তবে আমাদের জীবিত কবর দিয়ে যাও। তারা লাল অশ্রু বিসর্জন দিতে লাগল এবং আমার হৃদয়ের অগ্নিকুণ্ডে যেন আগুন জ্বালিয়ে দিল। তারা বিলাপ করতে শুরু করল এবং জামার বুক থেকে নিচ পর্যন্ত ছিঁড়ে ফেলার উপক্রম করল। তখন আমি তাদের ডাকলাম আর আমার অশ্রুও তাদের অশ্রুর মতোই ঝরছিল।

আমাকে যেতে দাও এবং বিলাপ করো না … কারণ নক্ষত্রদের মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ যারা পরিভ্রমণ করে।

অতঃপর সে আমাকে অক্ষমতা ও হীনম্মন্যতার ভয় দেখাতে লাগল যে, প্রবাসে কত রোগ-শোক হতে পারে:

আমি বললাম, মৃত্যু যদি আমার সামনে না আসে তবে কি তার অশ্বারোহীরা পেছন দিক থেকে আসবে না?

তবে অক্ষম ব্যক্তিদের ওজর কী, যখন সকলেই ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি এবং গত হয়ে যাওয়া যুগের অনুসরণ করছে?

যে ব্যক্তি অপমানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে কি সেই তুচ্ছ ব্যক্তির মতো নয় যে ঘরে বসেই মরে যায়?

যে ব্যক্তি অপমানের আবাসভূমি ত্যাগ করে না, সে কখনো ব্যথিত ও ক্রন্দনরত অবস্থা ছাড়া সকাল-সন্ধ্যা কাটায় না।

যে ব্যক্তি অপমানের ঘরে থেকে যায়, সে আজীবন অভিযোগকারী এক যন্ত্রণাকাতর ভাই হয়েই বেঁচে থাকে।

আমার ডান হাত অবশ হয়ে যাক যদি আমি এই অপমানে স্থির থাকি … হ্যাঁ, এবং শীঘ্রই আমার বাম হাতও তার অনুগামী হোক।

যখন সে বুঝতে পারল যে আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে সরব না, তখন সে আবৃত্তি করতে লাগল:
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
هو الصبر والتسليم لله والرضى … إذا دهمتنا خطة لإنشاءها

فتركت الله تعالى الخليفة فيهم وسرت مع صحبي والله سبحانه وتعالى أعلم بما تضمنه قلبي:

هواي ورائي والمسير خلافه … فوجهي إلى بلخٍ وقلبي إلى الكرخ

وشيعني أحبه وقد اغرورقت منهم بالدمع عيون المحبة وآخرون قد خنقتهم حبال الغبرة وحرقتهم من خيال البين جمره حتى إذا ودعتهم ولله تعالى أودعتهم انفصمت منهم عرى الأجفان فجادت عزاليها بوابل هتان فسرت وإنسان عيني بالدمع غريق وبين حنايا ضلوعي من نيران الفراق حريق واعترتني دهشة وأضل طائر عقلي عشه فلم أدر أيمنة أضرب أم شامة ونجداً أقصد أم تهامة فلما اعتم الليل واعتم الجو بشملة الويل بت بليلة أنقد أرعى السهر والفرقد حتى إذا ذاب كحل الدجى بدمع فجره وآب أسير الضياء طليقاً من قيد أسره رأيت حولي ولدي عبد الباقي جعله الله تعالى راقياً أعلى المراقي فعقلت في الجملة نفسي وعلقت يدي بأذيال ما فارقني من حسي فسألته عن مذهبه وأمره الذي جاء به فأخبرني أنه لم يطق فراقي وأنه معي إلى انتهاء أيام سفري إن شاء الله تعالى باقي فحسنت له الرجوع إلى أمه والهجوع من أخيه وعمه فلم يكن يعقل ويعي وأبى إلا البقاء معي وحدست أن أمه سهلت عليه سلوك الفجاج وأرسلته ليكون رقيباً علي يمنعني مما عسى أن أهم به من الزواج فقدم حقوقها على حقوقي وقدم على تحمل مشاق السفر العقوقي فأذنت له بالبقاء لعلي أداوي به علل الأحزان وقلت لنفسي لا تيأسي فما شاء الله تعالى كان على أن وإن كنت في حب النكاح مشهوراً قد جعل الله تعالى اليوم بيني وبين ذلك إحجاباً مشتوراً حيث أجدني قد صرت مما عناني عنيناً وأظنك بعد أن ترني لو كشف لك الغطاء لم تزدد يقيناً فما أولاني في هذه الأوقات بقول عبد الرحيم قاضي هرات.

قالوا تزوج بأرض مرو … تعش أخاً غبطة وخير

فقلت أحسنتم ولكن … بأي مالٍ وأي أير

ولو رجعت إلى الجد لكنت من قبل الحرى بقول العلامة جار الله الزمخشري:

تزوجت لم أعلم وأخطأت لم أصب … فيا ليتني قد مت قبل التزوج

فوالله ما أبكي على ساكني الثرى … ولكنني أبكي على المتزوج

وعلى العلات بقي في معيتي وشغل بخدمته خدمتي عن خدمتي) ثم (إنا لم نزل نفري بطون الوهاد ونلطم وجه الصحصحان بأيدي الجياد حتى ارتضع صبي العين در الأنس من ثدي) أم الربيعين (فنزلنا عند جسرها حتى دعانا وردة زهرها ذو الذهن العبقري محمود أفندي العمري إلى بيته روضة الآداب وغيل ليوث أبناءه) أبي حفص عمر بن الخطاب رضي الله تعالى عنه (وهذا الفاضل فيلسوفي الفكر قد غاص غواص ذهنه في بحار الحقائق فاستخرج الدرر وله اطلاع على العلوم الغريبة وله بواسطتها سهام أخبار لهدف الصدق مصيبة قد جعل الفتوحات المكية ثاني قرآنه وزين بفصوص الحكم خواتم زمانه واستغنى بالتنزلات الموصلية عن الترفعات الدنيوية ومطالعة الكبريت الأحمر عن قدح زناد الفكر في تحصيل الذهب الأصفر يحب الشيخ الأكبر أكثر من نفسه وولده ولا كذلك أغلب خواص علماء بلده وله عقل يعقل به الفلك الدوار إن شاء ولا يغلبه في ميدان خصام أحد إلا القضاء ولقد شاع في علم الطب فضله حيث غدا تذكرة لصاحب القانون وحوى مالاً يسع الطبيب جهله) وبالجملة (قد غمس يد فكره في كل فن ولم يحد عن صوب الصواب كل ما خطر له وعن طالما ينادم خرائد الأفكار وراء أستار الخلوة وقلما يشافه غواني الأسرار على أرائك الجلوة وما ذلك إلا لكونه بالأفق الأعلى من الحكمة وبمقعد صدق من علو الهمة ولقد صحبته كثيراً في بلدتي وشفيت بمعجون ياقوت حكمه علتي:

وكانت بالعراق لنا ليالٍ … سرقناهن من أيدي الزمان

جعلناهن من تاريخ الليالي … وعنوان المسرّة والأمان
এটি হলো আল্লাহর প্রতি ধৈর্য, আত্মসমর্পণ এবং সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ … যখন আমাদের নিকট এটি নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়েছিল।

আমি আল্লাহ তাআলাকে তাদের মধ্যে স্থলাভিষিক্ত ও রক্ষক হিসেবে রেখে আমার সঙ্গীদের সাথে পথ চলতে শুরু করলাম; আর আমার অন্তরে যা নিহিত রয়েছে সে সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্যক অবগত:

আমার প্রবৃত্তি আমার পেছনে আর যাত্রা তার বিপরীতে … আমার মুখ বলখের দিকে আর অন্তর কারখের দিকে।

প্রিয়জনরা আমাকে বিদায় জানাল, ভালোবাসার চোখগুলো অশ্রুতে টলমল করছিল, আর অন্যরা বিচ্ছেদের ধূলিজালে শ্বাসরুদ্ধ এবং বিচ্ছেদের কাল্পনিক অগ্নিশিখায় দগ্ধ হচ্ছিল। পরিশেষে যখন আমি তাদের বিদায় জানালাম এবং আল্লাহ তাআলার কাছে তাদের সঁপে দিলাম, তখন তাদের চোখের বাঁধ ভেঙে গেল এবং মুষলধারে বৃষ্টির ন্যায় অশ্রু ঝরতে লাগল। আমি পথ চলতে লাগলাম অথচ আমার চোখের মণি অশ্রুতে নিমজ্জিত এবং পাঁজরের ভেতর বিচ্ছেদের অগ্নিকুণ্ড প্রজ্জ্বলিত। এক গভীর বিস্ময় আমাকে আচ্ছন্ন করল এবং আমার বুদ্ধি রূপী পাখিটি তার নীড় হারিয়ে ফেলল; আমি বুঝতে পারছিলাম না আমি কি ডানে যাব নাকি বামে, নজদ অভিমুখে যাব নাকি তিহামার দিকে। যখন রাত অন্ধকার হয়ে এল এবং আকাশ বিপদের চাদরে আচ্ছন্ন হলো, তখন আমি নির্ঘুম রাত কাটালাম এবং সুবহে সাদেকের প্রতীক্ষায় নক্ষত্ররাজি পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম। অবশেষে যখন ভোরের অশ্রুতে অন্ধকারের সুরমা ধুয়ে গেল এবং আলোর বন্দীটি তার কারাগার থেকে মুক্তি পেল, তখন আমি আমার পাশে আমার পুত্র আবদুল বাকিকে দেখতে পেলাম; আল্লাহ তাআলা তাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করুন। তখন আমি নিজেকে কিছুটা সামলে নিলাম এবং আমার হুঁশ যা অবশিষ্ট ছিল তা আঁকড়ে ধরলাম। আমি তাকে তার উদ্দেশ্য ও আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে জানাল যে, সে আমার বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারেনি এবং ইনশাআল্লাহ আমার সফরের শেষ দিন পর্যন্ত সে আমার সাথেই থাকবে। আমি তাকে তার মায়ের কাছে ফিরে যেতে এবং তার ভাই ও চাচার সান্নিধ্যে বিশ্রাম নিতে উৎসাহিত করলাম, কিন্তু সে তা বুঝতে চাইল না এবং আমার সাথে থাকা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করল না। আমি অনুমান করলাম যে, তার মা তার জন্য এই দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়া সহজ করে দিয়েছেন এবং তাকে আমার ওপর পাহারাদার হিসেবে পাঠিয়েছেন যেন আমি পুনরায় বিবাহ করার চিন্তা করলে তিনি আমাকে বাধা দিতে পারেন। এভাবে সে আমার হকের ওপর তার মায়ের হককে অগ্রাধিকার দিল এবং সফরের কষ্ট সহ্য করাকে অবাধ্যতার ওপর স্থান দিল। আমি তাকে সাথে থাকার অনুমতি দিলাম যেন তার মাধ্যমে আমি আমার দুঃখের ব্যাধির উপশম করতে পারি। আমি মনে মনে বললাম—হতাশ হয়ো না, আল্লাহ তাআলা যা চেয়েছেন তাই হয়েছে। যদিও আমি বিবাহ প্রিয় হিসেবে পরিচিত ছিলাম, তবে আল্লাহ তাআলা আজ আমার এবং তার মধ্যে এক দুর্ভেদ্য পর্দা ঝুলিয়ে দিয়েছেন; যেখানে আমি নিজেকে অক্ষম হিসেবে দেখতে পাচ্ছি। আমার ধারণা, যদি তোমার সামনে থেকে পর্দা সরিয়ে দেওয়া হয় তবে আমাকে দেখার পর তোমার দৃঢ় বিশ্বাসে কোনো কমতি হবে না। এই সময়ে হেরাতের বিচারক আবদুর রহীমের কথাটি আমার জন্য কতই না উপযুক্ত:

তারা বলল, মার্ভের ভূমিতে বিবাহ করো … সুখ ও কল্যাণের সাথে জীবন যাপন করো।

আমি বললাম, আপনারা ঠিকই বলেছেন কিন্তু … কোন অর্থ দিয়ে আর কোন পুরুষাঙ্গ দিয়ে?

আর আমি যদি গুরুত্বের সাথে বিষয়টি ভাবি, তবে আল্লামা জারুল্লাহ যামাখশারীর এই কথাটিই আমার জন্য অধিক প্রযোজ্য:

আমি না বুঝে বিবাহ করেছিলাম এবং ভুল করেছি, সঠিক কাজটি করিনি … হায়! বিবাহের আগেই যদি আমার মৃত্যু হতো।

আল্লাহর শপথ! আমি কবরে শায়িতদের জন্য ক্রন্দন করি না … বরং আমি বিবাহিতদের জন্য ক্রন্দন করি।

যাই হোক, সে আমার সাথেই রয়ে গেল এবং তার সেবা করতে গিয়ে আমার নিজের অনেক কাজ বাধাগ্রস্ত হলো। অতঃপর আমরা উপত্যকাগুলোর বুক চিরে এবং ঘোড়াগুলোর পা দিয়ে মরুভূমির বুক মাড়িয়ে চলতে থাকলাম, যতক্ষণ না চোখের তৃষ্ণা মেটাতে উম্মুর রাবিয়াইন (মসুল)-এর সান্নিধ্য লাভ করলাম। আমরা সেখানে একটি সেতুর কাছে অবতরণ করলাম, অতঃপর প্রখর মেধাবী মাহমুদ আফন্দি আল-উমারী আমাদের তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানালেন, যা ছিল সাহিত্যের উদ্যান এবং তার সন্তানদের রূপ সিংহদের আবাসস্থল। তিনি হলেন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর বংশধর। এই গুণী ব্যক্তি দার্শনিক চিন্তাসম্পন্ন; তার মেধার ডুবুরি হাকীকতের সমুদ্রে ডুব দিয়ে মুক্তা আহরণ করেছে। বিরল বিজ্ঞানসমূহে তার অগাধ জ্ঞান রয়েছে এবং তার মাধ্যমে তার সংবাদের তীরের লক্ষ্যভেদ নিখুঁত হয়। তিনি 'ফুতুহাতে মক্কিয়া'কে তার দ্বিতীয় কুরআন বানিয়ে নিয়েছেন এবং 'ফুসুসুল হিকাম' দিয়ে তার সময়ের আংটি সজ্জিত করেছেন। তিনি 'তানযিলাতুল মওসিলিয়্যাহ'র মাধ্যমে দুনিয়াবী আভিজাত্য থেকে এবং 'আল-কিবরিতুল আহমার' পাঠের মাধ্যমে স্বর্ণ লাভের চিন্তারূপ চকমকি পাথর ঘষা থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছেন। তিনি শাইখে আকবর (ইবনুল আরাবী)-কে নিজের প্রাণ ও সন্তানের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন, যা তার শহরের অধিকাংশ বিশিষ্ট আলিমের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। তার এমন এক বিবেক রয়েছে যা দিয়ে তিনি ইচ্ছা করলে ঘুর্ণায়মান আকাশকেও বুঝতে পারেন এবং বিবাদের ময়দানে তাকদীর ছাড়া আর কেউ তাকে পরাজিত করতে পারে না। চিকিৎসা শাস্ত্রে তার শ্রেষ্ঠত্ব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, যেন তিনি কানুন-প্রণেতার এক জীবন্ত স্মারক। তিনি এমন জ্ঞান অর্জন করেছেন যা একজন চিকিৎসকের জন্য অজানা থাকা অসম্ভব। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি তার চিন্তার হাত প্রতিটি শিল্প ও বিদ্যায় নিমজ্জিত করেছেন এবং তার মনে যা উদয় হয়েছে তা সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হয়নি। তিনি দীর্ঘ সময় নির্জনতার পর্দার আড়ালে সূক্ষ্ম চিন্তাগুলোর সাথে সময় কাটান এবং খুব কমই প্রকাশ্য আসরে রহস্যের সুন্দরীদের সাথে কথা বলেন। এটি কেবল এজন্য যে, তিনি হিকমতের সর্বোচ্চ দিগন্তে এবং সুউচ্চ সংকল্পের সত্যের আসনে অধিষ্ঠিত। আমি আমার শহরে দীর্ঘদিন তার সান্নিধ্যে ছিলাম এবং তার হিকমতের ইয়াকুত মিশ্রিত ওষুধ দ্বারা আমার রোগ নিরাময় হয়েছে:

ইরাকে আমাদের এমন কিছু রাত কেটেছে … যা আমরা মহাকালের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলাম।

আমরা সেগুলোকে রাতগুলোর ইতিহাসের অংশ বানিয়েছি … এবং আনন্দ ও নিরাপত্তার শিরোনাম করেছি।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وهو اليوم قد شرفت الزوراء بزورته ورشفت الأخلاء حمياً وصلته حيث رأى الحدباء قد ولى شبابها واحدودب ظهرها وكشر نابها ونكحت غير كفوها وجادت على كدر السيرة والسريرة بصفوها وقد حل في بيت أخيه الأوحدي آية الله تعالى الكبرى عبد الباقي أفندي ونحن ولله تعالى الحمد معهما في روض من الأنس أريض وركض في ميدان من الأدب طويل عريض تخطاهما كل سوء وعداهما ودانت لأقدامهما رؤوس عداهما ولا زالا في سماء الفضل فرقدين ولفلكي الحدباء والزوراء منطقتين) ولما (حللت في بيت المومى إليه لا زال ممدود الفضل مقصوداً عليه جاء لزيارتي علماء أعلام كل منهم في حلبة الرهان أمام أولهم وأولاهم وأفضلهم وأغلاهم الفاضل السري) عبد الله أفندي العمري (وهو نور الشجرة العمرية ونور فرق العصابة الفاروقية إليه انتهت رياسة العلماء وعليه حدبت طلبة العلم في الحدباء فعنه يروون ومن زلال فضله يرتوون جاء منذ ثلاثين سنة إلى بغداد وقرا فيها لأمرِ ما عند غرباء العلماء الأمجاد فأصلد القدر له زنداً ونادته غواني الاستفادة مكانك أن حراسنا أسداً وفي أثناء هاتيك الأوقات قرأت عليه بعض القراءات فهو أحد مشايخي في القرآن وأنا أفتخر به على سائر الأقران وقد تخرج على علامة عصره وعلامة الفضل في مصره حليف التدريس والإفادة علي أفندي محضر باشي زادة) وبالجملة (قد عدا فغدا للأمثال سباقاً وراق ففاق علماء بلده علماً وأخلاقاً) وسألني (جماعة بمحضره دام علاه عما يقوله الشيعة في) إلا تنصروه فقد نصره الله (فقلت راجعوا تفسيري روح المعاني فإني وإن كنت آلوسياً فأنا من مشقة الطريق عاني فأحضرت لهم التفسير ولم أكن حظرت فيه شيئاً من التقرير فرأوا فيه العجب العجاب وقالوا ما وجدنا هذا في غير هذا الكتاب وإن أحببت أن يكون ذلك لديك فاستمع الآن لما نتلوه عليك قد ذكرت في تفسير الآية ما ذكرت وحررت ما حررت ثم قلت فهي لعمري مما يدع الرافضي في جحر ضب أو مهامه قفر فإنها خرجت مخرج العتاب للمؤمنين ما عدا أبا بكر رضي الله تعالى عنه. فقد أخرج ابن عساكر عن سفيان بن عيينة قال عاتب الله سبحانه المسلمين جميعاً في نبيه صلى الله تعالى عليه وسلم غير أبي بكر وحده فإنه خرج من المعاتبة ثم قرأ الا تنصروه الآية. وأخرج الحكيم الترمذي عن الحسن قال عاتب الله تعالى جميع أهل الأرض غير أبي بكر فقال إلا تنصروه الآية. وأخرج ابن عساكر عن علي كرم الله تعالى وجهه بلفظ أن الله تعالى ذم الناس كلهم ومدح أبا بكر رضي الله تعالى عنه فقال إلا تنصروه فقد نصره الله الخ. وفيها النص على صحبته رضي الله تعالى عنه لرسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يثبت ذلك لأحد من الصحابة سواه وكونه المراد من الصاحب ما وقع عليه الإجماع ككون المراد من العبد بقوله تعالى سبحان الذي أسرى بعبده رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن هنا قالوا إن إنكار صحبته كفر مع ما تضمنته من تسلية النبي صلى الله تعالى عليه وسلم له بقوله لا تحزن وتعليل ذلك بمعية الله تعالى الخاصة المفادة بقوله أن الله معنا ولم يثبت مثل ذلك في غيره بل لم يثبت لنبي معية الله سبحانه له ولآخر من أصحابه وكأن في ذلك إشارةً إلى أنه ليس فيهم كأبي بكر الصديق رضي الله تعالى عنه وفي إنزال السكينة عليه بناءً على عود الضمير إليه مما يفيد السكينة في أنه هو هو رضي الله تعالى عنه ولعن بأغضيه وكذا في إنزالها على الرسول صلى الله عليه وسلم مع أن المنزعج صاحبه ما يرشد للمنصف إلى أنهما كالشخص الواحد وظهر من ذلك إشارة ما ذكر أن الحزن كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم ويشهد لذلك ما مر في حديث الشيخين وأنكر الرافضة دلالة الآية على شيء من الفضل في حق الصديق رضي الله تعالى عنه قالوا أن الدال على الفضل إن كان) ثاني اثنين (فليس فيه أكثر من كون أبي بكر متمماً للعدد) وإن كان إذ هما في الغار (فلا يدل على أكثر من اجتماع شخصين في مكان وكثيراً ما يجتمع فيه الصالح والطالح وإن كان) لصاحبه (فالصحبة تكون بين المؤمن والكافر كما في قوله تعالى) قال لصاحبه وهو يحاوره أكفرت بالذي خلقك (وقوله) وما صاحبكم بمجنون (و) يا صاحبي السجن (بل قد تكون بين من يعقل وغيره كقوله:

إن الحمار مع الحمير مطية … وإذا خلوت به فبئس الصاحب

আজ আল-জাওরা (বাগদাদ) তাঁর আগমনে ধন্য হয়েছে এবং সুহৃদগণ তাঁর সাক্ষাৎ ও সান্নিধ্য-সুধা পান করেছে। তিনি আল-হাদবা (মসুল)-কে এমন অবস্থায় দেখেছেন যে তার যৌবন বিদায় নিয়েছে, তার পিঠ কুঁজো হয়ে গেছে এবং তার বার্ধক্য প্রকাশ পেয়েছে। সে তার অনুপযুক্ত পাত্রে পরিণীতা হয়েছে এবং তার স্বচ্ছতা বিলিয়ে দিয়েছে মলিন চরিত্র ও অন্তরের অধিকারীদের ওপর। তিনি তাঁর অদ্বিতীয় ভ্রাতা, মহান আল্লাহর এক সুমহান নিদর্শন আব্দুল বাকি এফেন্দির গৃহে অবস্থান করছেন। আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁদের উভয়ের সাথে এক প্রাণবন্ত ও প্রফুল্ল বাগানে এবং সুদীর্ঘ ও প্রশস্ত এক সাহিত্যের ময়দানে অবস্থান করছি। সকল অমঙ্গল তাঁদের এড়িয়ে চলুক এবং তাঁদের শত্রুদের মস্তক তাঁদের পদতলে অবনত হোক। তাঁরা উভয়ে শ্রেষ্ঠত্বের আকাশে সর্বদা দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং হাদবা ও জাওরা অঞ্চলের দুই জ্যোতিষ্ক হয়ে বিরাজ করুন। যখন আমি উল্লিখিত ব্যক্তির গৃহে অবস্থান করছিলাম—যাঁর ওপর শ্রেষ্ঠত্বের ধারা সর্বদা প্রসারিত থাকুক—তখন আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে প্রখ্যাত উলামায়ে কেরাম আগমন করেন, যাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন। তাঁদের মধ্যে প্রথম, অগ্রগণ্য, শ্রেষ্ঠ এবং অতি মূল্যবান ব্যক্তি হলেন মহৎ ও গুণী আব্দুল্লাহ এফেন্দি আল-উমারি। তিনি উমারি বংশবৃক্ষের নূর এবং ফারুকে আজমের উত্তরসূরিদের মুকুটমণি। উলামাদের নেতৃত্ব তাঁর ওপরই শেষ হয়েছে এবং আল-হাদবায় ইলম অন্বেষণকারীরা তাঁর প্রতিই ঝুঁকে থাকে। তারা তাঁর নিকট থেকেই বর্ণনা গ্রহণ করে এবং তাঁর স্বচ্ছ ইলমের প্রস্রবণ থেকে তৃষ্ণা নিবারণ করে। তিনি ত্রিশ বছর আগে বাগদাদে এসেছিলেন এবং সেখানে কোনো এক বিশেষ কারণে প্রবাসী মহান আলেমদের নিকট পড়াশোনা করেছিলেন। নিয়তি তাঁর জন্য শ্রেষ্ঠত্বের দ্বার উন্মোচন করেছিল এবং জ্ঞানের আকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে আহ্বান করে বলেছিল, 'তোমার স্থানে অটল থাকো, কারণ আমাদের প্রহরীরা সিংহের মতো জাগ্রত।' সেই সময়ে আমি তাঁর নিকট কতিপয় কিরাত পাঠ করেছিলাম, তাই তিনি কুরআনের ক্ষেত্রে আমার অন্যতম উস্তাদ এবং আমি তাঁর কারণে অন্যান্য সমসাময়িকদের ওপর গর্ব করি। তিনি তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ আল্লামা এবং তাঁর শহরের ইলমের নিশানধারী, পাঠদান ও উপকারের সাথী আলী এফেন্দি মাহজার বাশযাদার নিকট শিক্ষা সমাপন করেছেন। মোদ্দাকথা, তিনি অগ্রসর হয়েছেন এবং সমসাময়িকদের মধ্যে অগ্রগামী হয়েছেন, জ্ঞান ও চরিত্রে তাঁর শহরের আলেমদের ছাড়িয়ে গেছেন। তাঁর উপস্থিতিতে—তাঁর মর্যাদা দীর্ঘস্থায়ী হোক—এক দল লোক আমাকে জিজ্ঞাসা করল যে, শিয়া সম্প্রদায় 'যদি তোমরা তাকে সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন'—এই আয়াতের বিষয়ে কী বলে? আমি বললাম, আপনারা আমার তাফসির 'রুহুল মাআনি' দেখে নিন। কারণ, আমি আলূসী হলেও পথের ক্লান্তিতে পরিশ্রান্ত। অতঃপর আমি তাদের সামনে তাফসিরটি পেশ করলাম, যদিও আমি তাতে আগে থেকে কোনো কিছু প্রস্তুত করে রাখিনি। তারা তাতে বিস্ময়কর বিষয়াবলি দেখতে পেল এবং বলল, 'আমরা এই কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও এমন তথ্য পাইনি।' আপনি যদি চান সেই বিষয়টি আপনার জানা থাকুক, তবে আমি যা তিলাওয়াত করছি তা শ্রবণ করুন। আমি এই আয়াতের তাফসিরে যা উল্লেখ করার করেছি এবং যা সংকলন করার করেছি, তারপর বলেছি: আমার জীবনের কসম! এটি এমন এক আলোচনা যা রাফেজিদের গুই সাপের গর্তে অথবা জনমানবহীন মরুভূমিতে নিক্ষেপ করবে। কেননা এই আয়াতটি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত সকল মুমিনদের প্রতি তিরস্কারস্বরূপ অবতীর্ণ হয়েছে। ইবনে আসাকির সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মহান আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিষয়ে আবু বকর ব্যতীত সকল মুসলিমকে তিরস্কার করেছেন। আবু বকর এই তিরস্কার থেকে মুক্ত। অতঃপর তিনি 'যদি তোমরা তাকে সাহায্য না করো'—আয়াতটি পাঠ করেন। হাকিম তিরমিজি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা আবু বকর ব্যতীত পৃথিবীর সকল অধিবাসীকে তিরস্কার করেছেন এবং বলেছেন, 'যদি তোমরা তাকে সাহায্য না করো'—শেষ পর্যন্ত। ইবনে আসাকির আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু থেকে বর্ণনা করেছেন এই শব্দে যে: আল্লাহ তাআলা সকল মানুষকে নিন্দা করেছেন এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, 'যদি তোমরা তাকে সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন'—ইত্যাদি। এই আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাঁর (আবু বকর) সাহচর্য বা সাথী হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট দলিল রয়েছে, যা অন্য কোনো সাহাবীর জন্য এমনভাবে সাব্যস্ত হয়নি। এখানে 'সাথী' বলতে যে তাঁকেই বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ঠিক যেমন 'সুবহানাল্লাজি আসরা বি-আবদিহি' আয়াতে 'বান্দা' বলতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বোঝানোর ওপর ইজমা হয়েছে। এই কারণেই উলামাগণ বলেছেন, তাঁর সাহচর্য অস্বীকার করা কুফরি। এর সাথে আয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে তাঁকে এই বলে সান্ত্বনা দেওয়া হয়েছে যে, 'চিন্তা করো না'। এর কারণ হিসেবে আল্লাহর বিশেষ সঙ্গকে উল্লেখ করা হয়েছে এই বলে যে, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন'। অন্য কারো ক্ষেত্রে এমনটি সাব্যস্ত হয়নি। এমনকি কোনো নবীর সাথে তাঁর কোনো সাথীর ক্ষেত্রেও আল্লাহর এমন সঙ্গ সাব্যস্ত হয়নি। সম্ভবত এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, তাঁদের মধ্যে আবু বকর সিদ্দিকের সমতুল্য আর কেউ নেই। আবার তাঁর ওপর 'সাকিনা' বা প্রশান্তি নাযিল হওয়ার বিষয়টি—যদি জমির বা সর্বনাম তাঁর দিকে ফেরে—তা থেকে প্রমাণিত হয় যে তিনিই সেই মহান ব্যক্তিত্ব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আর যে তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে তার ওপর অভিশাপ। একইভাবে যদি প্রশান্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর নাযিল হওয়া ধরা হয়—অথচ অস্থির ছিলেন তাঁর সাথী—তবে এটি ইনসাফপন্থীদের জন্য এই দিশা দেয় যে, তাঁরা উভয়ে যেন একই সত্তা। এর মাধ্যমে এই ইঙ্গিতও প্রকাশ পায় যে, সেই দুশ্চিন্তা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য। বুখারি ও মুসলিমের হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তা এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু রাফেজিরা সিদ্দিকের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মর্যাদার ক্ষেত্রে এই আয়াতের প্রমাণ্যতা অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, যদি 'দুইজনের দ্বিতীয়' কথাটি মর্যাদার দলিল হয়, তবে এতে আবু বকর কেবল সংখ্যা পূর্ণকারী ছাড়া আর কিছু নন। আর যদি 'যখন তারা উভয়ে গুহায় ছিল'—এটি দলিল হয়, তবে এটি এক স্থানে দুইজন ব্যক্তির একত্র হওয়া ছাড়া অন্য কিছু বোঝায় না; অথচ এক স্থানে নেককার ও বদকার উভয়ই একত্রিত হতে পারে। আর যদি 'তার সাথীর প্রতি'—এটি দলিল হয়, তবে সাথী হওয়া তো মুমিন ও কাফিরের মধ্যেও হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: 'তার সাথী তাকে কথোপকথন অবস্থায় বলল, তুমি কি সেই সত্তাকে অস্বীকার করছ যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন?' এবং আল্লাহর বাণী: 'তোমাদের সাথী (নবী) পাগল নন' এবং 'হে কারাগারের দুই সাথী'। বরং সাথী হওয়া বিবেকসম্পন্ন সত্তা এবং বিবেকহীন সত্তার মধ্যেও হতে পারে, যেমন কবি বলেছেন:

নিশ্চয়ই গাধা অন্যান্য গাধাদের সাথে একটি বাহন মাত্র... আর যদি তুমি তার সাথে একাকী থাকো তবে সে এক নিকৃষ্ট সাথী।
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
وإن كان) لا تحزن (فيقال لا يخلو أما أن يكون الحزن طاعة أو معصية لا جائز أن يكون طاعة وإلا لما نهى عنه صلى الله عليه وسلم فتعين أن يكون معصية لمكان النهي وذلك مثبت خلاف مقصودكم على أن فيه من الدلالة على الجبن ما فيه) وإن كان إن الله معنا (فيحتمل أن يكون المراد إثبات معية الله تعالى الخاصة له صلى الله عليه وسلم وحده لكن أتى بنا سداً لباب ألا يحاش ونظير ذلك الإتيان بأوفى قوله تعالى) وإنا وإياكم لعلى هدىً أو في ضلال مبين (وإن كان) فأنزل الله سكينته عليه (فالضمير فيه للنبي صلى الله عليه وسلم لئلا يلزم تفكيك الضمائر وحينئذ يكون في تخصيصه عليه الصلوة والسلام بالسكينة هنا مع عدم التخصيص في قوله) فأنزل سكينته على رسوله وعلى المؤمنين (إشارة إلى ضد ما ادعيتموه. وإن كان ما دلت عليه الآية من خروجه مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك الوقت فهو عليه الصلوة والسلام لم يخرجه معه إلا حذراً من كيده لو بقي مع المشركين بمكة وفي كون المجهز لهم بشراء الإبل علياً كرم الله تعالى وجهه إشارة لذلك وإن كان شيئاً وراء ذلك فبينوه لنتكلم عليه انتهى كلامهم) ولعمري (أنه أشبه شيء بهذيان المحموم أو عربدة السكران ولولا أن الله سبحانه حكى في كتابه الجليل عن اليهود والنصارى ما هو مثل ذلك ورده رحمة بضعفاء المؤمنين ما كنا نفتح في رده فماً أو نجري في ميدان تزييفه قلماً) لكني لذلك أقول (لا يخفى أن ثاني اثنين وكذا إذ هما في الغار إنما يدلان بمعونة المقام على فضل الصديق رضي الله تعالى عنه ولا ندعي دلالتهما مطلقاً ومعونة المقام أظهر من نار على علم ولا يكاد ينتطح كبشان في أن الرجل لا يكون ثانياً باختياره لآخر ولا معه في مكان إذا فرض عدو ما لم يكن معولاً عليه ومتحققاً صدقه لديه لا سيما وقد ترك الآخر لأجله أرضاً حلت فيه قوابله وحلت عنه بها تمائمه وفارق أحبابه وجفا أترابه وامتطى غارب سبسب يضل به القطا وتقتصر فيه الخطا) ومما (يدل على فضل تلك الاثنينية قوله صلى الله عليه وسلم مسكناً جاش أبي بكر ما ظنك باثنين الله ثالثهما والصحبة اللغوية وإن لم تدل بنفسها على المدعي لكنها تدل عليه بمعونة المقام أيضاً فإضافة صاحب إلى الضمير للعهد أي صاحبه الذي كان معه في وقت يجفو فيه الخليل خليله ورفيقه الذي فارق لمرافقته أهله وقبيله) وإن (لا تحزن ليس المقصود منه حقيقة النهي عن الحزن فإنه من الأمور التي لا تدخل تحت التكليف بل المقصود التسلية للصديق رضي الله تعالى عنه أو نحوها) وما ذكروه (من الترديد يجري مثله في قوله تعالى خطاباً لموسى وهارون عليهما السلام لا تخافا إنني معكما (وكذا في قوله سبحانه للنبي صلى الله عليه وسلم ولا يحزنك قولهم إن العزة لله جميعاً (إلى غير ذلك افترى أن الله سبحانه نهى عن طاعة أو أن أحداً من أولئك المعصومين عليهم السلام ارتكب معصية سبحانك هذا بهتان عظيم ولا ينافي كون الحزن من الأمور التي لا تدخل تحت التكليف بالنظر إلى نفسه أنه قد يكون مورداً للمدح والذم كالحزن على فوات طاعة فإنه ممدوح والحزن على فوات معصية فإنه مذموم لأن ذلك باعتبار آخر كما لا يخفى وما ذكر في حيز العلاوة من أن فيه من الدلالة على الجبن ما فيه من ارتكاب الباطل ما فيه) فإإنا (لا نسلم أن الخوف يدل على الجبن وإلا لزم جبن موسى وأخيه هارون عليهما السلام فما ظنك بالحزن وليس حزن الصديق بأعظم من الاختفاء بالغار ولا يظن مسلم أنه كان عن جبن أو يتصف بالجبن أشجع الخلق على الإطلاق صلى الله تعالى عليه وسلم ومن أنصف رأي أن تسليته عليه الصلوة والسلام لأبي بكر بقوله لا تحزن كما سلاه بقوله) لا يحزنك قولهم (مشيرة إلى أن الصديق رضي الله تعالى عنه عنده عليه الصلوة والسلام بمنزلته عنه ربه جل شأنه فهو حبيب له تعالى بل لو قطع النظر عن وقوع مثل هذه التسلية من الله تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم كان نفس الخطاب بلا تحزن كافياً في الدلالة على أنه رضي الله تعالى عنه حبيب رسول الله صلى الله عليه وسلم وإلا فكيف تكون محاورة الأحباء وهذا ظاهر إلا عند الأعداء. وما ذكر من أن المعية الخاصة كانت لرسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم وحده والإتيان بنا لسد باب الإيحاش من باب المكابرة الصرفة كما يدل عليه الخبر المار آنفاً على أنه إذا كان إشفاقاً على

আর যদি (চিন্তিত হইও না) বলা হয়, তবে উত্তর হলো—দুশ্চিন্তা বা দুঃখ প্রকাশ করা ইবাদত হবে অথবা পাপাচার হবে; এই দুই অবস্থার বাইরে কিছু হওয়া সম্ভব নয়। এটি ইবাদত হওয়া বৈধ নয়, অন্যথায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে নিষেধ করতেন না। সুতরাং নিষেধের কারণে এটি পাপাচার হওয়া নির্দিষ্ট হয়ে যায়। আর এটি আপনাদের উদ্দেশ্যের বিপরীত বিষয়কেই সাব্যস্ত করে। উপরন্তু এতে ভীরুতার যে প্রমাণ রয়েছে তা তো বলাই বাহুল্য।

আর যদি (নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন) বাক্যটি সম্পর্কে বলা হয়, তবে সম্ভাবনা আছে যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাআলার বিশেষ সান্নিধ্য কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যই সাব্যস্ত করা। কিন্তু মনঃক্ষুণ্ণ হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য ‘আমাদের’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর হয় আমরা অথবা তোমরা অবশ্যই হেদায়েতের ওপর আছি অথবা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে)।

আর যদি (অতঃপর আল্লাহ তাঁর প্রশান্তি তাঁর ওপর নাজিল করলেন) বাক্যটি সম্পর্কে বলা হয়, তবে এখানে সর্বনামটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরবে যাতে সর্বনামগুলোর ভিন্নতা না ঘটে। এমতাবস্থায় এখানে কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য প্রশান্তিকে নির্দিষ্ট করা—যেখানে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে কোনো বিশেষায়ন নেই যে, (অতঃপর তিনি তাঁর রাসুল এবং মুমিনদের ওপর তাঁর প্রশান্তি নাজিল করলেন)—তা আপনাদের দাবির বিপরীত বিষয়ের দিকে ইশারা করে।

আর যদি আয়াতটি সেই সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁর বের হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সাথে নিয়ে বের হয়েছিলেন কেবল মক্কায় মুশরিকদের সাথে থেকে গেলে তাঁর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায়। আর এই সফরে উট ক্রয় করে তাদের সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাবান করুন) হওয়ার মাঝেও এরই ইঙ্গিত রয়েছে। আর যদি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকে তবে তা বর্ণনা করুন যেন আমরা সে বিষয়ে আলোচনা করতে পারি—তাদের বক্তব্য এখানেই শেষ।

আমার জীবনের কসম! এটি জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রলাপ কিংবা মাতালের মাতলামির সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি তাঁর মহান কিতাবে ইয়াহুদি ও নাসারাদের থেকে এই জাতীয় বিষয় বর্ণনা না করতেন এবং দুর্বল ঈমানদারদের প্রতি দয়া স্বরূপ তার খণ্ডন না করতেন, তবে আমরা এর প্রতিবাদে মুখ খুলতাম না এবং এর অসারতা প্রমাণের ময়দানে কলম ধরতাম না।

কিন্তু আমি সেই কারণেই বলছি যে, এটি গোপন নয় যে ‘দুইজনের দ্বিতীয় জন’ এবং অনুরূপভাবে ‘যখন তারা দুইজন গুহার মধ্যে ছিল’—এগুলো প্রসঙ্গের আনুকূল্যে সিদ্দীক (রা.)-এর মর্যাদার ওপরই প্রমাণ বহন করে। আমরা এগুলোকে নিরঙ্কুশ প্রমাণ হিসেবে দাবি করছি না, তবে প্রসঙ্গের আনুকূল্য এখানে পাহাড়ের চূড়ায় প্রজ্বলিত আগুনের চেয়েও স্পষ্ট। কোনো বিবেকবান মানুষের কাছে এটি অস্পষ্ট থাকার কথা নয় যে, কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অন্য একজনের দ্বিতীয় জন হবে না এবং কোনো স্থানে তার সাথে থাকবে না যখন কোনো শত্রু বিদ্যমান থাকে, যতক্ষণ না সে তার ওপর নির্ভরশীল হয় এবং তার সত্যবাদিতা তার কাছে সুনিশ্চিত হয়। বিশেষ করে যখন অন্য ব্যক্তিটি তার কারণে এমন এক ভূমি ত্যাগ করেছেন যেখানে তাঁর নাড়ি কাটা হয়েছিল এবং যেখানে তাঁর গলার কবচ খোলা হয়েছিল, স্বজনদের ত্যাগ করেছেন, বন্ধুদের থেকে বিমুখ হয়েছেন এবং এমন দুর্গম মরুভূমি পাড়ি দিয়েছেন যেখানে চাতক পাখিও পথ হারায় এবং কদমগুলো থমকে যায়।

আর সেই দ্বিত্বের মর্যাদার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীও প্রমাণ বহন করে যা তিনি আবু বকরের অন্তরকে শান্ত করার জন্য বলেছিলেন: ‘সেই দুইজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী যাদের তৃতীয় জন হলেন আল্লাহ?’ আর ভাষাগত সাহচর্য যদিও নিজে থেকে দাবিকৃত বিষয়ের ওপর প্রমাণ দেয় না, কিন্তু প্রসঙ্গের আনুকূল্যে তাও এর ওপর প্রমাণ বহন করে। সুতরাং ‘সাথী’ বা ‘বন্ধু’ শব্দটিকে সর্বনামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা একটি বিশেষ সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করে; অর্থাৎ তাঁর সেই সাথী যিনি তাঁর সাথে এমন এক সময়ে ছিলেন যখন প্রিয় বন্ধু তার বন্ধুকে ত্যাগ করে এবং সেই সফরসঙ্গী যিনি তাঁর সঙ্গ দেওয়ার জন্য নিজের পরিবার ও গোত্রকে ত্যাগ করেছেন।

আর (চিন্তিত হইও না) বাক্যটির উদ্দেশ্য প্রকৃত অর্থে দুঃখ প্রকাশ থেকে নিষেধ করা নয়, কেননা এটি এমন বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত যা শরিয়তের আদেশের আওতাভুক্ত নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হলো সিদ্দীক (রা.)-কে সান্ত্বনা দেওয়া বা অনুরূপ কিছু।

আর তারা যে দ্বিধাবিভক্ত যুক্তির অবতারণা করেছে, তার অনুরূপ যুক্তি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতেও চলতে পারে যেখানে তিনি মুসা ও হারুন (আ.)-কে সম্বোধন করে বলেছেন: (তোমরা ভয় পেয়ো না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সাথে আছি)। অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীতেও: (তাদের কথা যেন তোমাকে চিন্তিত না করে, নিশ্চয়ই সকল সম্মান আল্লাহরই)। এছাড়াও অন্যান্য আয়াতেও এমন রয়েছে। আপনি কি তবে মনে করেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোনো আনুগত্যের কাজ থেকে নিষেধ করেছেন অথবা ঐসব নিষ্পাপ ব্যক্তিবর্গের কেউ কোনো পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিলেন? আপনি অতি পবিত্র, এটি তো এক মহা অপবাদ! আর দুঃখ বা চিন্তা নিজ সত্তার বিচারে শরিয়তের আদেশের আওতাভুক্ত না হওয়ার সাথে এর প্রশংসা বা নিন্দার ক্ষেত্র হওয়া সাংঘাশিক নয়। যেমন কোনো ইবাদত ছুটে যাওয়ার কারণে দুঃখিত হওয়া প্রশংসনীয় এবং কোনো পাপাচার করার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় দুঃখিত হওয়া নিন্দনীয়। কেননা তা অন্য একটি দিক বিবেচনা করে হয়ে থাকে, যা অস্পষ্ট নয়। আর এর সাথে অতিরিক্ত হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছে যে, এতে ভীরুতার যে প্রমাণ রয়েছে—তা বাতিল বিষয় গ্রহণ করার নামান্তর।

কেননা আমরা এটি মেনে নেই না যে, ভয় পাওয়া ভীরুতার প্রমাণ বহন করে। অন্যথায় মুসা এবং তাঁর ভাই হারুন (আ.)-এর ক্ষেত্রেও ভীরুতা অনিবার্য হয়ে পড়বে। সুতরাং দুঃখ বা চিন্তার বিষয়ে আপনার ধারণা কী হতে পারে? আর সিদ্দীক (রা.)-এর দুঃখ প্রকাশ করা গুহায় আত্মগোপন করার চেয়ে বড় কিছু ছিল না। কোনো মুসলমানই এমন ধারণা করে না যে, সেটি ভীরুতার কারণে ছিল। কিংবা সৃষ্টির মাঝে নিরঙ্কুশভাবে সবচেয়ে সাহসী ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কি ভীরুতার গুণে গুণান্বিত করা যাবে? আর যে ব্যক্তি ন্যায়নিষ্ঠার সাথে বিচার করবেন তিনি দেখবেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আবু বকরকে (চিন্তিত হইও না) বলে সান্ত্বনা দেওয়া ঠিক তেমনি যেমন আল্লাহ তাঁকে (তাদের কথা যেন তোমাকে চিন্তিত না করে) বলে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। এটি একথার দিকে ইশারা করে যে, সিদ্দীক (রা.) তাঁর নিকট ঠিক সেই অবস্থানে ছিলেন যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুমহান রবের নিকট ছিলেন। সুতরাং তিনি আল্লাহ তাআলার প্রিয়ভাজন। এমনকি যদি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেওয়া এই জাতীয় সান্ত্বনার বিষয়টি বিবেচনা না-ও করা হয়, তবে কেবল ‘চিন্তিত হইও না’ সম্বোধনটিই একথার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট যে, সিদ্দীক (রা.) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়ভাজন ছিলেন। অন্যথায় প্রিয়জনদের মাঝে কথোপকথন আর কেমন হয়? আর এটি শত্রুরা ছাড়া সবার কাছেই স্পষ্ট। আর এই যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশেষ সান্নিধ্য কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ছিল এবং ‘আমাদের’ শব্দটি আনা হয়েছিল কেবল মনঃক্ষুণ্ণ হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য—তা নিতান্তই হঠকারিতা। যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদিসটি প্রমাণ করে। উপরন্তু যদি এটি তাঁর প্রতি দয়া ও করুণার কারণে হয়ে থাকে...
(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم لا غير فأي إيحاش في قوله لا تحزن إن الله معي وإن كان إشفاقاً على الرسول وعلى نفسه رضي الله تعالى عنه لم يقع التعليل موقعه والجملة مسوقة له) ولو سلمنا (الإيحاش على الأول ووقوع التعليل موقعه على الثاني يكون ذلك الحزن دليلاً واضحاً على مدح الصديق رضي الله تعالى عنه) وإن كان (على نفسه فقد كما يزعمه ذو النفس الخبيثة لم يكن للتعليل معنى أصلاً وأي معنى لقولك لا تحزن على نفسك إن الله معي لا معك) على أنه (يقال للرافضي هل فهم الصديق من الآية ما فهمت من التخصيص وأن التعبير بنا كان سداً لباب الإيحاش أم لا. فإن كان الأول يحصل الإيحاش ولا بد فنكون قد وقعنا فيما فررنا عنه وإن كان الثاني فقد زعمت لنفسك رتبة لم تكن بالغها ولو زهقت روحك ولو زعمت المساواة في فهم عبارات القرآن الجليل وإشاراته لمصاقع أولئك العرب المشاهدين للوحي ما سلم لك أو تموت فكيف يسلم لك الامتياز على الصديق وهو وقد فهم من إشاراته صلى الله عليه وسلم من حديث التخيير ما خفي على سائر الصحابة حتى على علي كرم الله وجهه فاستغربوا بكاءه رضي الله عنه يومئذ. وما ذكر من التنظير في الآية مشير إلى التقية التي اتخذتها الرافضة ديناً وحرفوا لها الكلم عن مواضعها وقد أسلفنا لك الكلام في ذلك على أتم وجه فتذكره. وما ذكر في أمر السكينة فجوابه يعلم مما ذكرناه. وكون التخصيص مشيراً إلى إخراج الصديق رضي الله تعالى عنه عن زمرة المؤمنين كما رمز إليه الكلب عدو الله ورسوله صلى الله عليه وسلم لو كان ما خفي على أولئك المشاهدين للوحي الذين من جملتهم الأمير كرم الله وجهه فكيف مكنوه من الخلافة التي هي أخت النبوة عند الشيعة وهم الذين لا تأخذهم في الله لومة لائم وكون الصحابة قد اجتمعوا في ذلك على ضلالة والأمير كان مستضعفاً فيما بينهم أو مأموراً بالسكوت وغمد السيف إذ ذاك كما زعمه المخالف قد طوى بساط رده وعاد شذر مذر فلا حاجة إلى إتعاب القلم في تسويد وجه زاعمه. وما ذكر من أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يخرجه إلا حذراً من كيده. فيه أن الآية ليس فيها شائبة دلالة على إخراجه له أصلاً فضلاً عن كون ذلك حذراً من الكيد على أن الحذر لو كان في معيته له صلى الله عليه وسلم وأي فرصة تكون مثل الفرصة التي حصلت حين جاء الطلب لباب الغار فلو كان عند أبي بكر الصديق رضي الله تعالى عنه وحاشاه أدنى ما يقال لقال هلموا فهاهنا الغرض. ولا يقال أنه خاف على نفسه أيضاً لأنه يمكنه أن يخلصها منهم بأمور ولا أقل من أن يقول لهم خرجت لهذه المكيدة. وأيضاً لو كان الصديق كما يزعم الزنديق فأي شيء يمنعه من أن يقول لابنه عبد الرحمن أو ابنته أسماء أو مولاه عامر بن نهيرة فقد كانوا يترددون إليه في الغار كما أخرج ابن مردويه عن عائشة رضي الله تعالى عنها فيخبر أحدهم الكفار فكان رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم على أنه على هذا الزعم يجيء حديث التمكن وهو أقوى شاهد على أنه هو هو. وأيضاً إذا انفتح باب هذا الهذيان أمكن للناصبي أن يقول والعياذ بالله تعالى في علي كرم الله وجهه أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يأمره بالبيتوتة على فراشه الشريف ليلة هاجر إلا ليقتله المشركون ظناً منهم أنه النبي صلى الله عليه وسلم فيستريح منه وليس هذا القول بأعجب ولا أبطل من قول الشيعي أن إخراج الصديق إنما كان حذراً من شره. فليتق الله سبحانه من فتح هذا الباب المستهجن عند ذوي الألباب وزعم أن تجهيز الإمام كرم الله تعالى وجهه لهم بشراء الأباعر إشارة إلى ذلك. لا يشير إلى ذلك بوجه من الوجوه على أن ذلك وإن ذكرناه فيما قبل إنما جاء في بعض الروايات عن ابن عباس والمعول عليه عند المحدثين غير ذلك) ولا بأس (بإيراده تكميلاً للفائدة وتنويراً لفضل الصديق رضي الله عنه فنقول (أخرج عبد الرزاق وأحمد وعبد بن حميد والبخاري وابن المنذر وابن أبي حاتم من طريق الزهري عن عروة عن عائشة رضي الله تعالى عنها قالت لم أعقل أبوي قط إلا وهما يدينان الدين ولم يمرر علينا يوم إلا يأتينا فيه رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم طرفي النهار بكرة وعشية.) ولما (ابتلي المسلمون خرج أبو بكر مهاجراً قبل أرض الحبشة حتى إذا بلغ برك الغمار لقيه ابن الدغة وهو سيد القارة فقال ابن الدغنة أين تريد يا أبا بكر فقال أبو

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কেউ নন; অতএব তাঁর বাণী "চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার সাথে আছেন"-এর মধ্যে বিমর্ষ হওয়ার কী আছে? যদি এটি রাসূলুল্লাহ এবং তাঁর নিজের (আবূ বকর) প্রতি অনুকম্পা হিসেবে হয়ে থাকে—রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু—তবে কারণ দর্শানোটি যথোপযুক্ত হতো না, অথচ বাক্যটি তাঁর উদ্দেশ্যেই বলা হয়েছে।

আর যদি আমরা মেনে নেই (প্রথম মতানুসারে এটি বিমর্ষতা এবং দ্বিতীয় মতানুসারে কারণ দর্শানোর যথার্থতা), তবে সেই বিষাদ সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর প্রশংসারই এক সুস্পষ্ট দলিল হবে। আর যদি তা নিজের জীবনের আশঙ্কায় হয়ে থাকে—যেমনটি কোনো কলুষিত অন্তরের অধিকারী ব্যক্তি দাবি করে থাকে—তবে সেই কারণ দর্শানোর কোনো অর্থই থাকে না। তোমার এই কথার কী অর্থ হতে পারে যে, "তুমি নিজের জন্য বিষাদ করো না, কারণ আল্লাহ আমার সাথে আছেন, তোমার সাথে নন"?

তদুপরি, সেই রাফেযীকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে যে, সিদ্দীক কি এই আয়াত থেকে সেই বিশেষত্বই বুঝেছিলেন যা তুমি বুঝেছ? অর্থাৎ "না" (আমাদের) শব্দটি কি কেবল বিমর্ষতার পথ রুদ্ধ করার জন্যই ব্যবহার করা হয়েছিল নাকি অন্য কিছু? যদি প্রথমটি হয়, তবে বিমর্ষতা তো অবশ্যই ঘটবে, ফলে আমরা যা থেকে পলায়ন করতে চেয়েছিলাম তাতেই নিপতিত হলাম। আর যদি দ্বিতীয়টি হয়, তবে তুমি নিজের জন্য এমন এক মর্তবা দাবি করলে যা তুমি কখনোই অর্জন করতে পারবে না, এমনকি তোমার প্রাণ ওষ্ঠাগত হলেও। আর যদি তুমি মহিমান্বিত কুরআনের ভাষ্য ও ইঙ্গিতসমূহ বোঝার ক্ষেত্রে ওহীর প্রত্যক্ষদর্শী সেই বিশুদ্ধভাষী আরবদের সমকক্ষতা দাবি করো, তবে তোমার সেই দাবি গৃহীত হবে না যতক্ষণ না তুমি মৃত্যুবরণ করো। তবে সিদ্দীকের ওপর তোমার শ্রেষ্ঠত্ব কীভাবে স্বীকৃত হতে পারে? অথচ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইঙ্গিতসমূহ থেকে "পছন্দ করে নেওয়ার হাদীস" (হাদীসুত তাখয়ীর) সম্পর্কে এমন কিছু বুঝেছিলেন যা অন্যান্য সকল সাহাবীর কাছে অস্পষ্ট ছিল, এমনকি আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহুর কাছেও। তাই সেদিন তাঁর কান্নায় তাঁরা বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।

আর আয়াতে যে সাদৃশ্য বর্ণনা করা হয়েছে, তা সেই 'তাকিয়া'র দিকেই ইঙ্গিত করে যাকে রাফেযীরা দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং এর জন্য তারা শব্দসমূহকে তাদের স্বস্থান থেকে বিচ্যুত করেছে। আমরা ইতিপূর্বে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছি, অতএব তা স্মরণ করো। আর 'সাকীনাহ' (প্রশান্তি) সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার উত্তর আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনা থেকেই জানা যাবে। আর এই বিশেষত্ব দ্বারা সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে মুমিনদের জামাত থেকে বের করে দেওয়ার যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে—যেমনটি আল্লাহর ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শত্রু সেই কুত্তাটি ইশারা করেছে—তা যদি ওহীর প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে গোপন না থাকত (যাদের মধ্যে আমির আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহুও ছিলেন), তবে তারা কীভাবে তাঁকে সেই খিলাফতের দায়িত্বে অভিষিক্ত করলেন যা শিয়াদের মতে নবুওয়াতেরই সহোদর? অথচ তাঁরা আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করতেন না। আর সাহাবায়ে কেরাম এ বিষয়ে গোমরাহির ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন এবং আমির আলী তাঁদের মাঝে দুর্বল অবস্থায় ছিলেন কিংবা চুপ থাকার ও তলোয়ার কোষবদ্ধ রাখার জন্য আদিষ্ট ছিলেন—যেমনটি বিরোধীরা দাবি করে—তবে সেই দাবির অসারতা ইতিপূর্বেই প্রমাণিত হয়েছে এবং তা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। অতএব, এই দাবিদারদের মুখ চুন করার জন্য কলমকে কষ্ট দেওয়ার আর কোনো প্রয়োজন নেই।

আর এই যে দাবি করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ষড়যন্ত্রের ভয়েই তাঁকে সাথে নিয়ে বের হয়েছিলেন—এর উত্তরে বলা যায় যে, আয়াতে তাঁকে বের করে দেওয়ার ব্যাপারে সামান্যতম কোনো ইঙ্গিতও নেই, ষড়যন্ত্রের ভয়ে হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। তদুপরি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থাকাকালীন যদি তিনি ষড়যন্ত্রই করতে চাইতেন, তবে গুহার মুখে যখন কাফিররা তল্লাশি করতে এল, সেই সুযোগের চেয়ে বড় সুযোগ আর কী হতে পারে? যদি আবূ বকর সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর মধ্যে—তাঁর মর্যাদা এসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে—ন্যূনতম কোনো কুমন্ত্রণা থাকত, তবে তিনি বলতেন: "এদিকে এসো, শিকার এখানেই।" এ কথা বলা যাবে না যে তিনি নিজের জীবনের ভয়ও পাচ্ছিলেন, কারণ তিনি বিভিন্নভাবে নিজেকে তাদের হাত থেকে বাঁচাতে পারতেন; অন্তত এটুকু বলতে পারতেন যে, "আমি এই ষড়যন্ত্রের জন্যই বেরিয়েছি।"

এছাড়াও সিদ্দীক যদি তেমন হতেন যেমনটি সেই যিন্দীক দাবি করে, তবে তাঁর পুত্র আবদুর রহমান, কন্যা আসমা বা তাঁর মুক্তদাস আমির বিন ফুহাইরাকে খবর দিতে কে বাধা দিয়েছিল? তাঁরা তো গুহায় যাতায়াত করতেন, যেমনটি ইবনে মারদুওয়াইহ আয়েশা রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে তাদের কেউ কাফেরদের খবর দিয়ে দিতে পারত। অথচ এই দাবির বিপরীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই হাদীসটি আসে যা তাঁর বিশেষ মর্যাদার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ যে তিনি আসলে কে ছিলেন। তদুপরি, যদি এই প্রলাপ বকার দুয়ার খুলে দেওয়া হয়, তবে কোনো নাসিবী (আলী বিদ্বেষী) আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু সম্পর্কে—আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—এ কথা বলতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের রাতে তাঁকে তাঁর পবিত্র বিছানায় শুয়ে থাকার আদেশ দিয়েছিলেন কেবল এ জন্যই যাতে মুশরিকরা তাঁকে নবী মনে করে হত্যা করে এবং তিনি তাঁর থেকে নিষ্কৃতি পান! এই কথাটি শিয়াদের সেই কথার চেয়ে মোটেও বেশি আশ্চর্যজনক বা বাতিল নয় যে, সিদ্দীককে সাথে নেওয়া হয়েছিল তাঁর অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য।

অতএব বুদ্ধিমানদের কাছে অত্যন্ত ঘৃণ্য এই দুয়ার যে উন্মোচন করেছে, সে যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে ভয় করে। আর ইমাম আলী কাররামাল্লাহু তা'আলা ওয়াজহাহু উট ক্রয়ের মাধ্যমে তাঁদের সফরের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন—এই দাবির মধ্যে উক্ত বিষয়ের কোনো ইঙ্গিত নেই। এটি কোনোভাবেই সেদিকে ইশারা করে না। তাছাড়া আমরা ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি যে, এটি ইবনে আব্বাসের কিছু বর্ণনায় এসেছে, কিন্তু মুহাদ্দিসগণের নিকট নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অন্যটি। উপকারের পূর্ণতা এবং সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহুর শ্রেষ্ঠত্বের আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তা উল্লেখ করতে কোনো বাধা নেই। আমরা বলছি:

(আব্দুর রাজ্জাক, আহমাদ, আবদ বিন হুমাইদ, বুখারী, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবী হাতিম যুহরীর সূত্রে উরওয়া থেকে এবং তিনি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতামাতাকে সর্বদা এই দ্বীন পালনরত অবস্থাতেই দেখেছি। এমন কোনো দিন যায়নি যেদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের দুই প্রান্তে অর্থাৎ সকাল ও সন্ধ্যায় আমাদের নিকট আসতেন না।)

যখন মুসলিমরা বিপদে পড়লেন, তখন আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু হিজরতের উদ্দেশ্যে হাবশার দিকে বেরিয়ে পড়লেন। যখন তিনি বারকুল গিমাদ নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন ইবনুদ দাগিনাহর সাথে তাঁর দেখা হলো, যিনি কারাহ গোত্রের সর্দার ছিলেন। ইবনুদ দাগিনাহ জিজ্ঞেস করলেন: হে আবূ বকর, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তখন আবূ বকর বললেন...

(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
بكر أخرجني قومي فأريد أن أسيح في الأرض وأعبد ربي قال ابن الدغنة مثلك يا أبا بكر لا يخرج ولا يخرج إنك تكسب المعدوم وتصل الرحم وتحمل الكل وتقري الضيف وتعين على نوائب الحق فأنا لك جار فارجع فاعبد ربك ببلدك فارتحل ابن الدغنة. فرجع مع أبي بكر فطاف ابن الدغنة في كفار قريش فقال إن أبا بكر لا يخرج مثل ولا يخرج أتخرجون رجلاً يكسب المعدوم ويصل الرحم ويحمل الكل ويقري الضيف ويعين على نوائب الحق. فأنفذت قريش جوار ابن الدغنة وآمنوا أبا بكر وقالوا لابن الدغنة مر أبا بكر فليعبد ربه في داره وليصل فيها ما شاء وليقرأ ما شاء ولا يؤذينا ولا يستعلن بالصلوة والقراءة في غير داره ففعل) ثم (بدا لأبي بكر فابتنى مسجداً بفناء داره وكان يصلي فيه ويقرأ ويتقصف عليه نساء المشركين وأبناؤهم يعجبون منه وينظرون إليه وكان رجلاً بكاءاً لا يملك دمعه حين يقرأ القرآن فأفزع ذلك أشراف قريش فأرسلوا إلى ابن الدغنة فقدم عليهم فقالوا إنما أجرنا أبا بكر على أن يعبد ربه في داره وأنه جاوز ذلك فابتنى مسجداً بفناء داره وأعلن بالصلوة والقراءة وإنا خشينا أن يفتن نساءنا وأبناءنا فإن أحب أن يقتصر على أن يعبد ربه في داره فعل وإن أبى إلا أن يعلن ذلك فسله أن يرد إليك ذمتك فإنا قد كرهنا أن نحتقرك ولسنا مقرين لأبي بكر الاستعلان فأتى ابن الدغنة أبا بكر فقال يا أبا بكر قد علمت الذي عقد لك عليه فأما أن تقتصر على ذلك وأما أن ترد إلى ذمتي فإني لا أحب أن تسمع العرب أني أخفرت في عقد رجل عقدت له. فقال أبو بكر إني أرد إليك جوارك وأرضى بجوار الله تعالى وجوار رسوله صلى الله تعالى عليه وسلم ورسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة يومئذ قال للمسلمين قد أريت دار هجرتكم أريت سبخة ذات نخل بين لابتين وهما جرتان فهاجر من هاجر قبل المدينة إلى أرض الحبشة من المسلمين. وتجهز أبو بكر مهاجراً فقال له رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم على رسلك فإني أرجو أن يؤذن لي فقال أبو بكر وترجو ذلك بأبي أنت وأمي قال نعم فحبس أبو بكر نفسه على رسول الله صلى الله عليه وسلم لصحبته وعلف راحلتين كانتا عنده ورق السمر أربعة أشهر فبينما نحن جلوس في بيتنا في نحر الظهيرة قال قائل لأبي بكر هذا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقبلاً في ساعة لم يكن يأتينا فيها فقال أبو بكر فداه أبي وأمي إن جاء به في هذه الساعة إلا أمر فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فأستأذن من عندك فقال أبو بكر إنما هم أهلك بأبي أنت يا رسول الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فإنه قد أذن لي بالخروج فقال أبو بكر فالصحابة بأبي أنت يا رسول الله فقال رسول الله نعم فقال أبو بكر فخذ بأبي أنت يا رسول الله إحدى راحلتي هاتين فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم بالثمن. قالت عائشة فجهزناهما أحث الجهاز فصنعنا لهما سفرة في جراب فقطعت أسماء بنت أبي بكر من نطاقها فأوكت به الجراب فلذلك كانت تسمى ذات النطاق. ولحق رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر بغار في جبل يقال له ثور فمكثا فيه ثلاث ليال يبيت عندهما عبد الله بن أبي بكر وهو غلام شاب ثقف لقن فيخرج من عندهما سحراً فيصبح مع قريش بمكة كبات فلا يسمع أمراً يكادان به إلا وعاه حتى يأتيهما بخبر ذلك حتى يختلط الظلام ويرعى عليهما عامر بن فهيرة مولى لأبي بكر منيحة من غنم فيريحها عليهما حين يذهب بغلس ساعة من الليل فيبيتان في رسلهما حتى ينعق بها عامر في غلس يفعل ذلك كل ليلة من الليالي إلى الثلاث واستأجر رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلاً من الذئل ثم من بني عبد بن عدي هادياً خريتاً قد غمس يمين حلف في آل العاص بن وائل وهو على دين كفار قريش فآمناه فدفعا إليه راحلتيهما وواعداه غار ثور بعد ثلاث فأتاهما براحلتيهما صبيحة ثلاث ليال فأخذ بهم طريق إذ أخر وهو طريق الساحل الحديث بطوله. وفيه من الدلالة على فضل الصديق ما فيه وهو نص في أن تجهيزهما في بيت أبي بكر وأن الراحلتين كانتا له وذكر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يقبل أحدهما إلا بالثمن يرد على الرافضي زعم تهمة الصديقة وحاشاها في الحديث هذا. ومن أحاط خبراً بأطراف ما ذكرناه من الكلام في هذا المقام علم أن قوله وإن كان شيئاً وراء ذلك فبينوه لنا حتى نتكلم عليه ناش عن محض الجهل أو العناد) ومن يضلل الله فما له من هاد (

বকর (বললেন), আমার কওম আমাকে বের করে দিয়েছে, তাই আমি পৃথিবীতে বিচরণ করতে চাই এবং আমার রবের ইবাদত করতে চাই। ইবনুদ দাগিনাহ বললেন, হে আবু বকর, আপনার মতো ব্যক্তি নিজে বের হয় না এবং তাকে বেরও করে দেওয়া হয় না। আপনি নিঃস্বদের জন্য উপার্জন করেন, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, মেহমানদারি করেন এবং হকের পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন। তাই আমি আপনার আশ্রয়দাতা; আপনি ফিরে যান এবং নিজ শহরে আপনার রবের ইবাদত করুন। অতঃপর ইবনুদ দাগিনাহ রওনা হলেন। তিনি আবু বকরের সাথে ফিরে এলেন এবং কুরাইশ কাফেরদের মাঝে ঘুরে ঘুরে বললেন, আবু বকরের মতো ব্যক্তি নিজে বের হয় না এবং তাকে বেরও করা হয় না। আপনারা কি এমন এক ব্যক্তিকে বের করে দিচ্ছেন যিনি নিঃস্বদের জন্য উপার্জন করেন, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, মেহমানদারি করেন এবং হকের পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন? তখন কুরাইশরা ইবনুদ দাগিনাহর আশ্রয় কবুল করল এবং আবু বকরকে নিরাপত্তা দিল। তারা ইবনুদ দাগিনাহকে বলল, আবু বকরকে আদেশ দিন যেন তিনি তার ঘরেই তার রবের ইবাদত করেন এবং সেখানে যা ইচ্ছা সালাত আদায় করেন ও যা ইচ্ছা পাঠ করেন; তবে তিনি যেন আমাদের কষ্ট না দেন এবং ঘরের বাইরে উচ্চস্বরে সালাত ও তিলাওয়াত না করেন। তিনি তাই করলেন। অতঃপর (আবু বকরের মনে একটি চিন্তা উদয় হলো এবং) তিনি তার ঘরের আঙিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন। সেখানে তিনি সালাত আদায় করতেন এবং তিলাওয়াত করতেন। মুশরিকদের নারীরা ও তাদের সন্তানরা তার চারপাশে ভিড় করত; তারা তার প্রতি আশ্চর্যান্বিত হতো এবং তার দিকে তাকিয়ে থাকত। তিনি ছিলেন একজন অতিশয় ক্রন্দনশীল ব্যক্তি, কুরআন তিলাওয়াতের সময় তিনি নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারতেন না। এতে কুরাইশদের নেতারা ভীত হয়ে পড়ল এবং তারা ইবনুদ দাগিনাহর কাছে লোক পাঠাল। তিনি তাদের কাছে এলে তারা বলল, আমরা আবু বকরকে এই শর্তে আশ্রয় দিয়েছিলাম যে তিনি তার ঘরে রবের ইবাদত করবেন। কিন্তু তিনি তা লঙ্ঘন করে ঘরের আঙিনায় মসজিদ নির্মাণ করেছেন এবং প্রকাশ্যে সালাত ও তিলাওয়াত শুরু করেছেন। আমরা আশঙ্কা করছি যে তিনি আমাদের নারী ও সন্তানদের ফিতনায় ফেলবেন। যদি তিনি তার ঘরেই রবের ইবাদত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান তবে তা করতে পারেন, আর যদি তিনি তা প্রকাশ্যেই করতে চান তবে তাকে বলুন আপনার আশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে দিতে। কারণ আমরা আপনাকে তুচ্ছজ্ঞান করা অপছন্দ করি, আবার আবু বকরের প্রকাশ্যে ইবাদত করাও আমরা মেনে নিতে পারছি না। ইবনুদ দাগিনাহ আবু বকরের কাছে এসে বললেন, হে আবু বকর, আপনি তো জানেন আপনার সাথে আমি কী চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। হয় আপনাকে সেই সীমাবদ্ধতার ভেতর থাকতে হবে, না হয় আমার আশ্রয়ের দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে হবে। কারণ আমি চাই না আরবরা শুনুক যে আমি যার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম তার ব্যাপারে আমার চুক্তি ভঙ্গ করা হয়েছে। আবু বকর বললেন, আমি আপনার আশ্রয় আপনাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি এবং আমি মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশ্রয়েই সন্তুষ্ট। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় ছিলেন এবং তিনি মুসলিমদের বলেছিলেন, আমাকে তোমাদের হিজরতের স্থান দেখানো হয়েছে; আমাকে একটি লোনা ও খেজুর বাগান সমৃদ্ধ ভূমি দেখানো হয়েছে যা দুটি কৃষ্ণবর্ণ পাথুরে প্রান্তরের মাঝে অবস্থিত। অতঃপর যারা হিজরত করার তারা মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত করলেন এবং মুসলিমদের মধ্যে যারা আবিসিনীয় (হাবশা) ভূমিতে ছিলেন তারা ফিরে এলেন। আবু বকরও হিজরতের প্রস্তুতি নিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, একটু অপেক্ষা করো, আমি আশা করি আমাকেও অনুমতি দেওয়া হবে। আবু বকর বললেন, আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোন, আপনি কি তা আশা করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ফলে আবু বকর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গী হওয়ার আশায় নিজেকে আটকে রাখলেন এবং তার কাছে থাকা দুটি উটকে চার মাস ধরে বাবলা পাতা খাইয়ে পুষ্ট করতে লাগলেন। আয়েশা (রা.) বলেন, একদা দুপুরে আমরা যখন আমাদের ঘরে বসে ছিলাম, তখন একজন আবু বকরকে বলল, এই যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা ঢেকে এমন এক সময়ে আসছেন যে সময়ে তিনি সচরাচর আসতেন না। আবু বকর বললেন, আমার পিতা-মাতা তার জন্য উৎসর্গ হোন, এই অসময়ে তিনি অবশ্যই কোনো বিশেষ প্রয়োজনে এসেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে অনুমতি চাইলেন। আবু বকর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখানে শুধু আপনার পরিবারের লোকেরাই আছে, আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আবু বকর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোন, আমি কি আপনার সাথী হতে পারি? রাসূলুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ। আবু বকর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোন, এই দুটি উটের একটি আপনি গ্রহণ করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মূল্যের বিনিময়ে। আয়েশা (রা.) বলেন, আমরা তাদের সফরের সরঞ্জাম অত্যন্ত দ্রুত প্রস্তুত করে দিলাম এবং একটি চামড়ার থলিতে তাদের জন্য পাথেয় তৈরি করে দিলাম। আবু বকরের কন্যা আসমা তার কোমরের বন্ধনী ছিঁড়ে তা দিয়ে থলির মুখ বেঁধে দিলেন, এ কারণেই তাকে 'যাতুন নিতাক' (বন্ধনী বিশিষ্ট) বলা হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আবু বকর 'সওর' নামক পাহাড়ের এক গুহায় গিয়ে পৌঁছালেন এবং সেখানে তিন রাত অবস্থান করলেন। আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর তাদের সাথে রাত কাটাতেন, যিনি ছিলেন একজন চতুর ও অত্যন্ত বুদ্ধিমান যুবক। তিনি শেষ রাতে তাদের কাছ থেকে বের হয়ে ভোরে মক্কায় কুরাইশদের মাঝে এমনভাবে উপস্থিত হতেন যেন তিনি ওখানেই রাত কাটিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্তের কথা শুনলে তিনি তা মনে রাখতেন এবং অন্ধকার ঘনিয়ে এলে তাদের কাছে সংবাদ পৌঁছে দিতেন। আবু বকরের মুক্তদাস আমির বিন ফুহাইরা তাদের জন্য দুধের বকরি চরাতেন এবং রাতের কিছু অংশ পার হলে তাদের কাছে নিয়ে আসতেন। তারা দুধে তৃপ্ত হয়ে রাত কাটাতেন যতক্ষণ না আমির শেষ রাতে বকরিগুলো নিয়ে ফিরে যেতেন। তিন রাত পর্যন্ত তিনি প্রতি রাতেই এমনটি করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'দিল' গোত্রের বনু আবদ ইবনে আদি শাখার এক ব্যক্তিকে পথপ্রদর্শক হিসেবে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিযুক্ত করেছিলেন, যিনি পথ চেনায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তিনি আস ইবনে ওয়ায়েলের পরিবারের সাথে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন এবং কুরাইশ কাফেরদের ধর্মে দীক্ষিত ছিলেন। তারা তাকে বিশ্বস্ত মনে করে তাদের উট দুটি তাকে সঁপে দিলেন এবং তিন রাত পর সাওর গুহায় আসার প্রতিশ্রুতি নিলেন। তিন রাত পর ভোরে তিনি উট দুটি নিয়ে তাদের কাছে এলেন। তিনি তাদের নিয়ে উপকূলীয় পথ ধরে অগ্রসর হলেন এবং এভাবেই দীর্ঘ হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। এতে সিদ্দীকে আকবরের মর্যাদার ওপর অনেক প্রমাণ রয়েছে এবং এটি একটি স্পষ্ট দলিল যে তাদের সফরের প্রস্তুতি আবু বকরের ঘরেই হয়েছিল এবং উট দুটি তারই ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উট দুটি মূল্যের বিনিময়ে গ্রহণ করেছিলেন, তা রাফেযিদের সেই অপবাদের খণ্ডন করে যা তারা এই হাদিসের ব্যাপারে সিদ্দীকা (আয়েশা)-এর প্রতি আরোপ করে; আল্লাহ তাকে তা থেকে পবিত্র রাখুন। এই স্থানে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার আদ্যোপান্ত যারা অবগত হবে, তারা বুঝতে পারবে যে—"যদি এর বাইরে অন্য কিছু থাকে তবে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট করুন যেন আমরা সে বিষয়ে কথা বলতে পারি"—এই উক্তিটি নিছক অজ্ঞতা অথবা হঠকারিতা থেকে উদ্ভূত। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।

(খণ্ড: ১) গারায়িবুল ইগতিরাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
وبالجملة. أن الشيعة قد اجتمعت كلمتهم على الكفر بدلالة الآية على فضل الصديق رضي الله تعالى عنه. ويأبى الله تعالى إلا أن تكون) كلمة الذين كفروا السفلى وكلمة الله هي العليا (انتهى. ما روجع من روح المعاني وتلي على رؤوس الأشهاد في هاتيك المغاني) وبعد أن تم ذاك (طاف بنا المفتي عبد الرحمن أفندي الكلاك وهو رجل قد لبس كفن التماوت فوق ثيابه وأنعم من حب الحيوة الدنيا عيابه حتى غدت لا تنطبق شفاه عياً به قد جعل مسكنته حبة لفخه لكنه لم يصطد بها حتى طار طائر الشباب بفرخه وكان صيده جرادة الدنيا الدنية وحمامة إفتاء المستفتين من الحنفية وكم جاهل صاد ذلك بحبائل حيل نحو ما هنالك وأعانه عليه خوراً كثر العوام وجور معظم الحكام) نعم (له علم لكنه دون ما يدعيه وصلاح لكنه عملي وفيه ما فيه فهو على علاته أحسن ممن مد ذراع حيلته فنال ما نال وقدح زند مسكنته فأوري وهو من الجهال وقد دلت الآثار أن من إمارات الساعة إفتاء من ليس سوى بز الجهل بضاعة ولا شك أن قيام الساعة قريب فوقوع مثل ذلك غير عجيب وإلا فبين أهل الصدر الأول السادة الأمجاد كانت لا تمهر فتاة الإفتاء إلا بنقد الاجتهاد:

فتراخى الأمر حتى أصبحت … هملاً يطمع فيها من يراها

ولست أقول هذا من نفس واجدة لا والذي شقهن خمساً من واحدة كيف وأنا أحمد الله تعالى على أن خلصني من نصب منصب الإفتاء وشغلني برشف رضاب فتاة التدريس في الإصباح والإمساء وأنار ليلي بتوقد وجنات ليلي الدقائق ومن على سرح فكري برياض اللطائف وجنات الحقائق وهذه نعمة لا يبلغ طائر الشكر ذراها فكيف تقبل النفس أن تقبل شوهاء غداً وينم ذباب الجهل لعس شفاها وأعود فأقسم ممن أخرج العذق من الجريمة والنار من الوثيمة أني لفي نعمة من فضل ربي عز شأنه جليلة عظيمة يحق لي أن أقول غير مبال بحسود جهول:

سهري لتنقيح العلوم الذلي … من وصل غانية وطيب عناق

وتمايلي طرباً لحل عويصةٍ … في الدرس ابلغ من مدامة ساق

وصرير أقلامي على أوراقها … أشهى من الدوكاه والعشاق

وألذ من نقر الفتاة لدفها … نقري لألقي الرمل عن أوراقي

يا من يحاول بالأماني رتبتي … كم بين مستفل وآخر راق

أأبيت سهران الدجى وتبيته … نوماً وتبغي بعد ذلك لحاقي
সংক্ষেপে কথা হলো, শিয়ারা এই আয়াতের মাধ্যমে আস-সিদ্দিক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণের বিপরীতে কুফরির ওপর ঐক্যমত পোষণ করেছে। আর আল্লাহ তাআলা চান যে, কাফেরদের কথাই হেয় হোক এবং আল্লাহর বাণীই সর্বোচ্চ থাকুক। (সমাপ্ত)। ‘রুহুল মাআনি’ থেকে যা কিছু উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং সেই জনপদগুলোতে সবার সামনে পঠিত হয়েছে, তা এখানেই শেষ। এরপর (মুফতি আব্দুর রহমান আফেন্দি আল-কিলাক আমাদের কাছে আসলেন। তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি নিজের পোশাকের ওপর কৃত্রিম মরণশীলতার কাফন পরিধান করেছেন এবং দুনিয়ার জীবনের মহব্বতে নিজের থলে পূর্ণ করেছেন। এমনকি বাক্যহীনতার কারণে তার ঠোঁট দুটি আর মিলিত হয় না। তিনি নিজের বিনয়কে শিকারের ফাঁদ বানিয়েছিলেন, কিন্তু তার যৌবনের পাখি ছানাসহ উড়ে যাওয়া পর্যন্ত তিনি কিছুই শিকার করতে পারেননি। তার শিকার ছিল কেবল তুচ্ছ দুনিয়ার পঙ্গপাল আর হানাফি মাযহাবের ফতোয়া প্রার্থীদের কবুতর। কত কত অজ্ঞ লোক যে এই জাতীয় ছলচাতুরীর জালে আটকা পড়েছে! আর সাধারণ মানুষের মূর্খতা এবং অধিকাংশ শাসকের অবিচার তাকে এ কাজে সাহায্য করেছে।) হ্যাঁ (তার জ্ঞান আছে তবে তা তার দাবির চেয়ে কম; আর তার মধ্যে নেক আমল আছে কিন্তু তা কেবল বাহ্যিক এবং তাতে অনেক ত্রুটি রয়েছে। এতদসত্ত্বেও তিনি সেই ব্যক্তির চেয়ে উত্তম যে প্রবঞ্চনার হাত প্রসারিত করে তা হাসিল করেছে যা সে হাসিল করেছে, এবং বিনয়ের কাষ্ঠখণ্ডে ঘর্ষণ করে আগুন জ্বালিয়েছে অথচ সে মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত। বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো এমন ব্যক্তির ফতোয়া প্রদান করা যার মূর্খতার পোশাক ব্যতীত অন্য কোনো পুঁজি নেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে কিয়ামত সন্নিকটে, তাই এ জাতীয় ঘটনা ঘটা বিস্ময়কর নয়। অন্যথায় প্রথম যুগের মহান নেতৃবৃন্দের মাঝে ফতোয়া প্রদানের যোগ্যতা অর্জিত হতো না ইজতিহাদের পুঁজি ব্যতীত:

বিষয়টি শিথিল হতে হতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে … তা হয়ে পড়েছে পরিত্যক্ত, যা দেখলেই যে কেউ লালসা করে।

আমি কোনো ক্ষোভ থেকে এ কথা বলছি না, না—সেই সত্তার শপথ যিনি এক থেকে পাঁচকে বিদীর্ণ করেছেন। আমি কেন এমন করব যখন আমি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করছি যে, তিনি আমাকে ফতোয়া প্রদানের পদের ক্লান্তি থেকে মুক্তি দিয়েছেন এবং সকাল-সন্ধ্যায় শিক্ষকতার সুধা পানে আমাকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি আমার রাতকে সূক্ষ্ম তত্ত্বের লাবণ্যে আলোকিত করেছেন এবং আমার চিন্তাশক্তিকে সুক্ষ্মতা ও সত্যের বাগানে বিচরণ করার সুযোগ দিয়ে ধন্য করেছেন। এটি এমন এক নিআমত যার চূড়ায় শুকরিয়ার পাখি পৌঁছাতে পারে না। সুতরাং মন কীভাবে এমন এক কুৎসিত বিষয়কে গ্রহণ করতে পারে যার ঠোঁটের কালিমায় মূর্খতার মাছি খেলা করে? আমি পুনরায় সেই সত্তার শপথ করছি যিনি শুষ্ক ভূমি থেকে খেজুরের কাঁদি এবং পাথর থেকে আগুন বের করেছেন যে, আমি আমার মহান প্রভুর পক্ষ থেকে এক মহিমান্বিত ও বিশাল নিআমতের মধ্যে আছি। তাই কোনো মূর্খ হিংসুকের পরোয়া না করে আমার বলার অধিকার রয়েছে:

জ্ঞানবিজ্ঞানের সূক্ষ্মতা বিচারে আমার নির্ঘুম রাত কাটানো … সুন্দরী নারীর মিলন ও গাঢ় আলিঙ্গনের চেয়েও অধিক মিষ্ট।

পাঠদানকালে কোনো জটিল রহস্য সমাধানের আনন্দে আমার দোল খাওয়া … সাকির পরিবেশিত সুরার চেয়েও অধিক তৃপ্তিদায়ক।

কাগজের ওপর আমার কলমের খসখস শব্দ … গান ও বাদ্যের সুরের চেয়েও আমার কাছে অধিক প্রিয়।

যুবতীর দফ বাজানোর শব্দের চেয়েও আমার কাছে অধিক আনন্দদায়ক … কাগজের কালি শুকানোর বালু ঝেড়ে ফেলার শব্দ।

হে ঐ ব্যক্তি! যে কেবল অলীক আকাঙ্খার মাধ্যমে আমার মাকাম হাসিল করতে চাও … জেনে রেখো, অবনত আর উন্নত ব্যক্তির মাঝে কতই না ব্যবধান!

আমি রাত কাটাই জাগ্রত অবস্থায়, আর তুমি কাটাও … গভীর ঘুমে; এরপরও তুমি চাচ্ছ আমার সমকক্ষ হতে?