(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুল ওয়াকফি ফী মারাদিল মাওত - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: -)
مسألة الوقف في مرض الموت - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مسألة الوقف في مرض الموت
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (18)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
মরণব্যাধি অবস্থায় ওয়াকফ সংক্রান্ত মাসয়ালা - «আছারুল মুয়াল্লিমী»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহি মাসয়ালাসমূহ
বই: মরণব্যাধি অবস্থায় ওয়াকফ সংক্রান্ত মাসয়ালা
[আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানির রচনাবলী (১৮)]
লেখক: আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ উযাইর শামস
নিরীক্ষক: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহী - সুলাইমান ইবনে আবদুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাউযী
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামেলায় উপস্থাপন: ‘আতাআত আল-ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুল ওয়াকফি ফী মারাদিল মাওত - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৫২৭)
الرسالة الرابعة والثلاثون
مسألة الوقف في مرض الموت
চৌত্রিশতম রিসালা
মৃত্যুশয্যায় ওয়াকফ সংক্রান্ত মাসআলা
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুল ওয়াকফি ফী মারাদিল মাওত - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৫২৯)
[في «تحفة المحتاج»
(1): (فرع) يقع لكثيرين أنهم يقفون أموالهم في صحتهم على ذكور أولادهم قاصدين بذلك] حرمان
(2) إناثهم، وقد تكرر من غير واحدٍ الإفتاء ببطلان الوقف حينئذٍ، وفيه نظر ظاهر، بل الوجه الصحة
… إلخ.
وفي الحاشية
(3): «قوله (في صحتهم) أي أما في حال المرض فلا يصح إلا بإجازة الإناث، لأن التبرع في مرض الموت على بعض الورثة يتوقف على رضا الباقين. قوله: (وقد تكرر من غير واحد) عبارة «النهاية»: والأوجه الصحة، وإن نُقِل عن بعضهم القولُ ببطلانه».
وفي القليوبي
(4) عند قول المتن (ولوارث): «تنبيه، شملت الوصية للوارث ما لو كانت بعين ولو مثلية، ولو قدر حصته، لكن مع تمييز حصة كلٍّ منهم، وكالوصية في اعتبار الإجازة إبراؤه والهبة له والوقف عليه. نعم لو وقف عليه ما يخرج من الثلث على قدر نصيبه لم يحتج إلى إجازة، وليس له إبطاله، كما لو كان له دار قدر ثلث ماله، فوقف ثلثيها على ابنه وثلثها على ابنته، ولا وارث غيرهما
… » إلخ.
وفي حاشية الشيخ عميرة
(5): «(فرع) لو وقف ما يخرج من ثلثه على ورثته بقدر أنصبائهم في مرض الموت صحَّ، من غير احتياج إلى الإجازة.
--------------------------------------------
[«তুহফাতুল মুহতাজ»
(১)-এ বর্ণিত: (শাখা মাসআলা) অনেকের ক্ষেত্রেই এটি ঘটে যে, তারা সুস্থ অবস্থায় তাদের সম্পদ পুত্র সন্তানদের জন্য ওয়াকফ করে দেন এবং এর মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য থাকে] কন্যা সন্তানদের বঞ্চিত
(২) করা; এমতাবস্থায় ওয়াকফ বাতিল (بطلان) হওয়ার ব্যাপারে একাধিক মুফতির পক্ষ থেকে বারবার ফতোয়া এসেছে। তবে এতে সুস্পষ্ট আপত্তি রয়েছে, বরং গ্রহণযোগ্য মত হলো এটি সঠিক (صحة) হওয়া … ইত্যাদি।
এবং এর টিকায় (হাশিয়া)
(৩) রয়েছে: «তাঁর উক্তি (সুস্থ অবস্থায়) অর্থাৎ মৃত্যুরোগের অবস্থায় হলে তা কন্যাদের অনুমতি ব্যতীত সঠিক (يصح) হবে না। কারণ মৃত্যুরোগে কোনো ওয়ারিশের অনুকূলে দান করা অন্য ওয়ারিশদের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল। তাঁর উক্তি: (একাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে বারবার এসেছে) «নিহায়াহ»-র ভাষ্য হলো: বিশুদ্ধতর (الأوجه) মত হলো এটি সঠিক (صحة), যদিও কারো কারো পক্ষ থেকে এটি বাতিল (بطلان) হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে।»
এবং কলয়ুবি
(৪)-তে মূল পাঠের (এবং ওয়ারিশের জন্য) অংশের ব্যাখ্যায় রয়েছে: «সতর্কবার্তা: ওয়ারিশের জন্য অসিয়তের বিধান সেই ক্ষেত্রকেও শামিল করে যখন অসিয়ত নির্দিষ্ট কোনো বস্তু দ্বারা হয়, যদিও তা সমজাতীয় (مثلية) বস্তু হয় এবং তার হিসসা পরিমাণ হয়, তবে শর্ত হলো প্রত্যেকের হিসসা পৃথক করে দিতে হবে। আর অনুমতির প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে ঋণমুক্তি (ইবরা), হেবা এবং ওয়াকফও অসিয়তের মতোই গণ্য হবে। হ্যাঁ, যদি কেউ তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে সংকুলান হয় এমন পরিমাণ সম্পদ তার ওয়ারিশের জন্য তাদের প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী ওয়াকফ করে, তবে সেক্ষেত্রে অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং তার তা বাতিল (إبطال) করার অধিকারও নেই; যেমন কারো যদি এমন একটি ঘর থাকে যা তার মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ, অতঃপর সে তার দুই-তৃতীয়াংশ তার ছেলের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ তার মেয়ের জন্য ওয়াকফ করল, অথচ তারা দুজন ব্যতীত আর কোনো ওয়ারিশ নেই … » ইত্যাদি।
এবং শায়খ উমাইরাহ-র টিকায় (হাশিয়া)
(৫) রয়েছে: «(শাখা মাসআলা) যদি কেউ মৃত্যুরোগের সময় তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে সংকুলান হয় এমন পরিমাণ সম্পদ তার ওয়ারিশদের জন্য তাদের প্রাপ্য হিসসা অনুযায়ী ওয়াকফ করে, তবে তা অনুমতি ছাড়াই সহিহ (صحَّ) হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুল ওয়াকফি ফী মারাদিল মাওত - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৫৩০)
ذكره الزركشي
… » إلخ.
وفي حاشية عميرة
(1) في الوقف عند قول المتن: (شرطنا القبول أم لا): «(فرع) وقف على ابنه دارًا هي قدر ثلث ماله، وكان ذلك في مرض موته، فهو وصية، ولا ترتد بردِّ الولد، ويحتاج إلى إجازة. كذا في الزركشي نقلًا عن الشيخين».
وفي حاشية الشرقاوي على «شرح التحرير»
(2) عند قول المتن في الوصايا: (ولوارث إن أجاز باقي الورثة المطلقين التصرف، حتى لو أوصى لكلٍّ من بنيه بعين بقدر نصيبه صحت). وفي الشرح: بشرط الإجازة لاختلاف الأغراض في الأعيان ومنافعها. قال الشرقاوي: قوله «إن أجاز» كالوصية للوارث إبراؤه من الدين وهبته والوقف عليه. نعم لو وقف عليهم ما يخرج من الثلث على قدر نصيبهم نفذ من غير إجازة، فليس لهم نقضه، ولابدّ لصحة الإجازة من معرفة قدر المجاز فيه أو عينه. أفاده محمد رملي.
وفي «التحرير»
(3) في باب الوقف: التبرع وصية وهبة وعتق وإباحة ووقف
… إلخ.
فكل هذه النقول قاضية بما أجيب به، ولم تكن إطالة النقل عبثًا، إلّا لما رأيته في «حاشية القليوبي
(4) على المحلي» في باب الوقف عند قول المتن:
--------------------------------------------
যারকাশী এটি উল্লেখ করেছেন
… ইত্যাদি।
এবং ‘হাশিয়াতু উমাইরা’
(১)-তে ওকফ (وقف) অধ্যায়ে মূল পাঠের (متن) উক্তি: (আমরা কবুল করার শর্তারোপ করি কি না) এর ব্যাখ্যায় রয়েছে: «(শাখা মাসআলা (فرع)) কেউ তার ছেলের জন্য এমন একটি বাড়ি ওকফ (وقف) করল যা তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের সমান, এবং তা ছিল তার মৃত্যুশয্যায় (مرض الموت), তবে তা অসিয়ত (وصية) হিসেবে গণ্য হবে। ছেলের প্রত্যাখ্যানে (رد) তা বাতিল হবে না এবং এর জন্য (অন্যান্য ওয়ারিশদের) অনুমতির (إجازة) প্রয়োজন হবে। যারকাশী ‘দুই শায়খ’ (الشيخين) থেকে উদ্ধৃত করে এভাবেই উল্লেখ করেছেন»।
এবং ‘শারহুত তাহরীর’-এর ওপর ‘হাশিয়াতুশ শারকাওয়ী’
(২)-তে অসিয়ত (وصية) অধ্যায়ে মূল পাঠের (متن) উক্তি: (এবং ওয়ারিশের (وارث) জন্য যদি অবশিষ্ট পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী ওয়ারিশগণ অনুমতি (إجازة) প্রদান করে, এমনকি যদি সে তার প্রত্যেক ছেলের জন্য তাদের প্রাপ্য অংশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো বস্তুর অসিয়ত (وصية) করে তবে তা সহীহ (صحيح) হবে) এর ব্যাখ্যায়। আর ব্যাখ্যায় (شرح) বলা হয়েছে: অনুমতি (إجازة) প্রদানের শর্তে; কারণ নির্দিষ্ট বস্তু এবং তার উপযোগিতার ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের ভিন্নতা থাকে। শারকাওয়ী বলেন: তাঁর উক্তি «যদি তারা অনুমতি (إجازة) দেয়»—ওয়ারিশের জন্য অসিয়ত (وصية) করার মতো, যেমন তাকে ঋণমুক্ত করা, তাকে কোনো কিছু দান (هبة) করা এবং তার অনুকূলে ওকফ (وقف) করা। হ্যাঁ, যদি সে তাদের জন্য এমন কিছু ওকফ (وقف) করে যা এক-তৃতীয়াংশ থেকে তাদের অংশ অনুযায়ী বের হয়, তবে তা অনুমতি (إجازة) ছাড়াই কার্যকর (نفذ) হবে, সুতরাং তাদের জন্য তা ভঙ্গ (نقض) করার অধিকার নেই। আর অনুমতি (إجازة) সহীহ (صحيহ) হওয়ার জন্য যে বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তার পরিমাণ বা নির্দিষ্ট সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এটি মুহাম্মদ রামলী বর্ণনা করেছেন।
এবং ‘আত-তাহরীর’
(৩) কিতাবের ওকফ (وقف) অধ্যায়ে বলা হয়েছে: স্বতঃস্ফূর্ত দান (تبرع) হলো—অসিয়ত (وصية), দান (هبة), দাসমুক্তি (عتق), বৈধকরণ (إباحة) এবং ওকফ (وقف)
… ইত্যাদি।
সুতরাং এই সমস্ত উদ্ধৃতি সেই উত্তরকেই সাব্যস্ত করে যা প্রদান করা হয়েছে। উদ্ধৃতি দীর্ঘ করা বৃথা ছিল না, বরং আমি ‘আল-মাহাল্লী’-র ওপর ‘হাশিয়াতুল কলয়ুবী’
(৪)-তে ওকফ (وقف) অধ্যায়ে মূল পাঠের (متن) উক্তিতে যা দেখেছি তার কারণে এটি করা হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুল ওয়াকফি ফী মারাদিল মাওত - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৫৩১)
(وأن الوقف على معين يشترط قبوله، ولو ردّ بطل حقه) ما نصُّه: قوله «يشترط فيه قبوله» هو المعتمد، ومنه ولد الواقف، كوقفتُ على ولدي فلان. نعم، لو وقف في مرض موته على ورثته الحائزين ثلث ماله بعدد حصصهم، أو على أحد ورثته عينًا قدر ثلث ماله نفذَ قهرًا عليهم، ولا يرتدُّ بردّهم فيهما، فإن زاد على الثلث توقف على إجازتهم كالوصية.
فأما الصورة الأولى فهي موافقة للنقول السابقة، وأما الثانية فمشكل، وقد نقلها عنه الشرقاوي في «حواشي التحرير»
(1)، فقال عند قول المتن في الحَجْر (وحجر مرض في الثلثين مع غير الورثة إذا تصرّف فيهما بلا عوض، وفي كل المال مع الورثة): قوله «وفي كل المال» أي كلّ جزء منه ولو دون الثلث مع الوارث، وهذا في غير الوقف، أما هو كأن وقفَ شيئًا يخرج من الثلث على بعض الورثة، فلا يحتاج إلى إجازة بقيتهم، بخلاف الوصية. والفرق أن الملك في الأول لله تعالى، وفي الثانية للموصى له. وكالوصية الإبراء، فيتوقف على إجازة بقية الورثة. أفاده القليوبي. وذكر البرماوي على الغزّي أن الوقف كغيره، فراجع ذلك.
أقول: ما ذكره القليوبي رحمه الله ونقله الشرقاوي مشكل، على أنه ليس في حاشيته على المحلي إلّا ما نقلتُه، اللهم إلَّا أن يكون في موضع آخر. وسواء كان المفرق هو الناقل أو المنقول عنه فالفرق غير معتبر، لأننا نقول أولًا: إن في ملك الموقوف خلافًا، الثالث في المذهب أنه للموقف عليه، وهو مذهب الإمام أحمد كما صرحوا به. سلَّمنا أن الملك لله تعالى كما هو
--------------------------------------------
(এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর ওয়াকফ করার জন্য তার পক্ষ থেকে তা কবুল করা শর্ত, আর যদি সে তা প্রত্যাখ্যান করে তবে তার অধিকার বাতিল হয়ে যাবে) এর মূল ভাষ্য হলো: তাঁর উক্তি "এতে তার কবুল করা শর্ত" এটিই নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত। ওয়াকফকারীর সন্তানও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন কেউ বলল: "আমি আমার অমুক সন্তানের ওপর ওয়াকফ করলাম।" হ্যাঁ, যদি কেউ মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তির অধিকারী ওয়ারিশদের ওপর তাদের হিস্যা অনুযায়ী ওয়াকফ করে, অথবা তার কোনো একজন নির্দিষ্ট ওয়ারিশের ওপর তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ ওয়াকফ করে, তবে তা তাদের ওপর বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর হবে। উক্ত উভয় অবস্থায় তাদের প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তা বাতিল হবে না। তবে যদি তা এক-তৃতীয়াংশের বেশি হয়, তবে তা অসিয়তের মতো তাদের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হবে।
প্রথম অবস্থাটি পূর্ববর্তী বর্ণনাসমূহের (نقول) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কিন্তু দ্বিতীয়টি জটিল (مشكل)। শারকাওয়ি 'হাওয়াশি আত-তাহরির' গ্রন্থে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা (نقل) করেছেন
(১)। তিনি 'হাজর' (ব্যয়কুণ্ঠতা বা সীমাবদ্ধতা) অধ্যায়ে মূল পাঠের বর্ণনায় বলেন (এবং ওয়ারিশ নয় এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদের ওপর মৃত্যুশয্যাকালীন সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে যখন সেগুলোতে কোনো বিনিময় ছাড়া দান বা ব্যয় করা হয়, আর ওয়ারিশদের ক্ষেত্রে তা পুরো সম্পদের ওপর প্রযোজ্য): তাঁর উক্তি "এবং পুরো সম্পদের ক্ষেত্রে" এর অর্থ হলো সম্পদের প্রতিটি অংশ, যদিও তা ওয়ারিশের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশের কম হয়। আর এটি ওয়াকফ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু ওয়াকফের বিষয়টি এমন যে, যদি কেউ এমন কিছু ওয়াকফ করে যা এক-তৃতীয়াংশের ভেতর থেকে কিছু ওয়ারিশের ওপর হয়, তবে অন্য ওয়ারিশদের অনুমতির প্রয়োজন নেই, যা অসিয়তের বিপরীত। আর পার্থক্যটি হলো প্রথমটিতে মালিকানা মহান আল্লাহর জন্য, আর দ্বিতীয়টিতে যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে তার জন্য। আর দায়মুক্তি অসিয়তের মতো, তাই এটি বাকি ওয়ারিশদের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল। কালইউবি এটি উল্লেখ করেছেন। বিরমাওয়ি 'আল-গাজ্জি'র ওপর তাঁর টীকায় উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াকফ অন্যান্য বিষয়ের মতোই, সুতরাং বিষয়টি দেখে নিন।
আমি বলছি: কালইউবি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) যা উল্লেখ করেছেন এবং শারকাওয়ি যা বর্ণনা (نقل) করেছেন তা জটিল (مشكل); কেননা আল-মাহাল্লির ওপর তাঁর হাশিয়া বা টীকাগ্রন্থে আমি যা বর্ণনা (نقلت) করেছি তা ছাড়া আর কিছু নেই, তবে যদি তা অন্য কোনো স্থানে থেকে থাকে। আর পার্থক্যকারী ব্যক্তি বর্ণনাকারী (ناقل) হোন অথবা যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে (منقول عنه) হোন না কেন, এই পার্থক্যটি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ আমরা প্রথমত বলি: ওয়াকফকৃত মালের মালিকানার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। মাযহাবের তৃতীয় মতটি হলো এটি যার অনুকূলে ওয়াকফ করা হয়েছে তার মালিকানা, আর এটিই ইমাম আহমদের মাযহাব যেমনটি তাঁরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আমরা যদি মেনেও নেই যে মালিকানা আল্লাহর জন্য, যেমনটি বলা হয়ে থাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুল ওয়াকফি ফী মারাদিল মাওত - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৫৩২)
الأظهر، فذلك الملك ليس إلا في الرقبة، وأما المنافع فهي للموقوف عليه قطعًا، والمنافع هي المقصودة، فإنما تُقصَد العين لأجل منافعها.
على أن في «التحفة»
(1) عقب قول المتن (ولوارث) في الوصايا: أنه لو علَّق عتق عبده بخدمة بعض أولاده فإنه يحتاج للإجازة، لأن المنفعة المصروفة للمخدوم من جملة التركة.
فعبارة القليوبي تفيد أن الوقف مطلقًا بنصّه من الثلث، لأنه تبرع لغير الوارث وإن كان عليه نظر إلى أن الأظهر أن الملك في الرقبة لله تعالى، لكن ضعف ذلك ظاهر، إذ شرط العين الموقوفة دوام الانتفاع ولو بالنسبة، ولا تقصد العين إلا للمنفعة، فأيّ فائدة في رقبتها مسلوبة المنفعة؟
ثم رأيت في حاشية الشيخ عميرة
(2) عند ذكر الوصية بالمنافع أبدًا على قول المتن (وأنه يبقى ملك الرقبة للوارث) ما لفظه: قال الشيخ عز الدين بن عبد السلام: ما زلتُ أستشكل ملك الرقبة دون المنفعة، وأقول: ما الذي يستفيده ويحصل له من ملكها؟ حتى رأيتُ قائلًا في النوم يقول: لو ظهر في الأرض معدن ملكه مالك الرقبة دون المنفعة.
وفي «المنهاج»
(3) في الوصية بالمنافع: وإن أبّد فالأصح أنه يصحّ بيعه للموصى له دون غيره، وأنه تعتبر قيمة العبد كلها من الثلث إن أوصى بمنفعته أبدًا.
--------------------------------------------
সর্বাধিক স্পষ্ট মত (الأظهر) অনুযায়ী, সেই মালিকানা কেবল মূল সত্তার (الرقبة) ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ; আর উপযোগ বা মুনাফা (المنافع) নিশ্চিতভাবেই যার অনুকূলে ওয়াকফ করা হয়েছে (الموقوف عليه) তার জন্য। মূলত মুনাফাই উদ্দেশ্য, কারণ মূল বস্তু (العين) তো তার মুনাফার উদ্দেশ্যেই অন্বেষণ করা হয়।
অধিকন্তু, তুহফাহ গ্রন্থে অসিয়ত অধ্যায়ে মূল পাঠের (المتن) বক্তব্য "এবং ওয়ারিশের জন্য" (ولوارث) এর পরে উল্লেখ করা হয়েছে যে: যদি কেউ তার দাসের মুক্তিকে তার কোনো সন্তানের খিদমতের সাথে শর্তযুক্ত করে, তবে সেক্ষেত্রে (অন্যান্য ওয়ারিশদের) অনুমতির (الإجازة) প্রয়োজন হবে। কারণ, যাকে খিদমত করা হচ্ছে তার অনুকূলে ব্যয়িত এই মুনাফা বা উপযোগ সামগ্রিক ত্যাজ্য সম্পত্তির (التركة) অন্তর্ভুক্ত।
কালয়ুবি-এর বক্তব্য থেকে বুঝা যায় যে, ওয়াকফ তার স্পষ্ট ভাষ্যমতে নিঃশর্তভাবে (مطلقًا) মোট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (الثلث) থেকে কার্যকর হবে। কেননা এটি ওয়ারিশ ব্যতীত অন্য কারো জন্য একটি অনুদান (تبرع)। যদিও এক্ষেত্রে এই আপত্তির অবকাশ রয়েছে যে, সর্বাধিক স্পষ্ট মত (الأظهر) অনুযায়ী মূল সত্তার (الرقبة) মালিকানা মহান আল্লাহর। কিন্তু এই মতের দুর্বলতা (ضعف) স্পষ্ট। কারণ, ওয়াকফকৃত বস্তুর (العين الموقوفة) শর্ত হলো তার উপযোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা, যদিও তা আপেক্ষিক হয়। আর মূল বস্তু তো কেবল মুনাফার উদ্দেশ্যেই অন্বেষণ করা হয়; সুতরাং মুনাফাহীন মূল সত্তার কী-ই বা উপযোগিতা থাকতে পারে?
অতঃপর আমি শায়খ উমায়রাহ-এর টীকাগ্রন্থে (حاشية) চিরস্থায়ীভাবে মুনাফার অসিয়ত প্রসঙ্গে মূল পাঠের (المتن) বক্তব্য "এবং মূল সত্তার মালিকানা ওয়ারিশের জন্য অবশিষ্ট থাকবে" (وأنه يبقى ملك الرقبة للوارث) এর ব্যাখ্যায় যা পেয়েছি তা হলো: শায়খ ইযযুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম বলেছেন: মুনাফা ব্যতিরেকে কেবল মূল সত্তার (الرقبة) মালিকানার বিষয়টি আমি সবসময়ই জটিল মনে করতাম। আমি বলতাম: এর মালিকানা থেকে সে কী লাভ বা ফলাফল পাবে? শেষ পর্যন্ত স্বপ্নে একজনকে বলতে শুনলাম: যদি জমিতে কোনো খনিজ (معدن) প্রকাশ পায়, তবে তার মালিকানা মূল সত্তার মালিকেরই হবে, মুনাফার মালিকের নয়।
মিনহাজ গ্রন্থে মুনাফার অসিয়ত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: যদি তা চিরস্থায়ী হয়, তবে বিশুদ্ধতর মত (الأصح) হলো, যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে (الموصى له) তার কাছে এটি বিক্রি করা বৈধ, অন্য কারো কাছে নয়। আর যদি কেউ চিরস্থায়ীভাবে দাসের মুনাফার অসিয়ত করে, তবে সেই দাসের সম্পূর্ণ মূল্যই এক-তৃতীয়াংশ (الثلث) থেকে হিসাব করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
মাসআলাতুল ওয়াকফি ফী মারাদিল মাওত - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৫৩৩)
وفي «التحفة»
(1) وغيرها التعليل بأن الموصي حالَ بين الوارث وبين المنفعة، ويتعذر تقويم المنفعة للجهالة. قال في «التحفة»: «فيتعيَّن تقويم الرقبة مع منفعتها، فإن احتملها الثلث لزمت الوصية في الجميع، وإلا ففيما يحتمله، فلو ساوى العبد بمنافعه مئةً وبدونها عشرةً، اعتبرت المئة كلها من الثلث، فإن وفى بها فواضح، وإلّا كأن لم يفِ إلا بنصفها صار نصف المنفعة للوارث، والذي يتجه في كيفية استيفائها أنهما يتهايآنها»
(2).
فالمنفعة هي المقصودة، وأما العين فليست إلّا آلةً لها ووسيلةً إليها، فهاهم أقاموا المنفعة مقامها مع الرقبة، حتى قوَّموها بقيمة الرقبة والمنفعة، ولم ينظروا إلى الرقبة إذ لا فائدة فيها. فلتُعتبر في الوقف المنفعة لا الرقبة. وإذا رأيت مسألة «التحفة» في تعليق عتق العبد بخدمة بعض الأولاد، وأن ذلك يحتاج إلى الإجازة= علمتَ أن هذا أولى وأحرى.
والمقصود من الوقف ليس هو حبس الرقبة عن أن يتصرف فيها، وإنما المقصود هو الصدقة الجارية كما توضِّحه نصوصهم، وبه فسَّروا الحديث، ولا يخفى أن الصدقة الجارية إنما تحصل بالمنفعة، وحبس العين وسيلة لها. ولو سلَّمنا صحة الفرق فكيف نصنع بما تقتضيه النقول السابقة، ولاسيَّما ما ذكره الشيخ عميرة عن الزركشي عن الشيخين بقوله «فرع».
وقد أطنبنا في الكلام لاقتضاء المقام، فإن مثل ذلك الإمام يتمسك بعبارته الخاص والعام، وهذا معروض على نظر سادتنا العلماء الأعلام، وعليهم الاهتمام وتوضيح المقام، والسلام.
--------------------------------------------
«তুহফাহ»
(১) এবং অন্যান্য গ্রন্থে এর যৌক্তিক কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, অসিয়তকারী (الموصي) উত্তরাধিকারী এবং উপযোগিতার (المنفعة) মধ্যে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছেন, আর অজ্ঞতার (جهالة) কারণে এই উপযোগিতার (المنفعة) মূল্যায়ন করা অসম্ভব। «তুহফাহ» গ্রন্থে বলা হয়েছে: «দাসের মূল সত্তার (الرقبة) সাথে তার উপযোগিতার (المنفعة) মূল্যায়ন করা আবশ্যক। যদি সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (الثلث) তা বহন করতে পারে, তবে সম্পূর্ণ অসিয়ত কার্যকর হবে; অন্যথায় যতটুকু বহন করতে পারে ততটুকু কার্যকর হবে। সুতরাং, যদি উপযোগিতাসহ একজন দাসের মূল্য একশ হয় এবং তা ছাড়া দশ হয়, তবে সম্পূর্ণ একশই এক-তৃতীয়াংশ (الثلث) থেকে গণ্য হবে। যদি তা পর্যাপ্ত হয় তবে তো স্পষ্ট; আর যদি তা পর্যাপ্ত না হয়—যেমন মাত্র অর্ধেকের জন্য পর্যাপ্ত হয়—তবে অর্ধেক উপযোগিতা (المنفعة) উত্তরাধিকারীর হবে। এই উপযোগিতা আদায়ের পদ্ধতির ক্ষেত্রে যা সমীচীন তা হলো, তারা পালাক্রমে তা ব্যবহার (التهايؤ) করবে»
(২)।
মূলত উপযোগিতাই (المنفعة) এখানে উদ্দেশ্য, আর মূল সত্তা (العين) কেবল তার একটি মাধ্যম ও উপায় মাত্র। তাই তারা মূল সত্তার (الرقبة) সাথে উপযোগিতাকে (المنفعة) তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন, এমনকি তারা মূল সত্তা (الرقبة) ও উপযোগিতার (المنفعة) সমন্বিত মূল্যে তার মূল্যায়ন করেছেন। তারা কেবল মূল সত্তার (الرقبة) দিকে তাকাননি, কারণ তাতে কোনো ফায়দা নেই। সুতরাং ওয়াকফের ক্ষেত্রেও উপযোগিতাকেই (المنفعة) গণ্য করা উচিত, মূল সত্তাকে (الرقبة) নয়। আর যখন আপনি কোনো দাসের মুক্তিকে সন্তানদের খেদমতের সাথে ঝুলিয়ে রাখার বিষয়ে «তুহফাহ»-এর মাসআলাটি দেখবেন—যেখানে এটি অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল—তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে এটি আরও বেশি যুক্তিযুক্ত ও অগ্রাধিকারযোগ্য।
ওয়াকফের উদ্দেশ্য মূল সত্তাকে (الرقبة) কেবল আটকে রাখা নয় যাতে তাতে হস্তক্ষেপ করা না যায়; বরং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো সদকায়ে জারিয়া, যা তাদের প্রদত্ত সুস্পষ্ট পাঠসমূহ (نصوص) স্পষ্ট করে দেয় এবং এর মাধ্যমেই তারা হাদিসের ব্যাখ্যা করেছেন। এটি অস্পষ্ট নয় যে, সদকায়ে জারিয়া কেবল উপযোগিতার (المنফعة) মাধ্যমেই অর্জিত হয়, আর মূল সত্তাকে (العين) আটকে রাখা তার একটি মাধ্যম মাত্র। আমরা যদি পার্থক্যের সত্যতা মেনেও নিই, তবে পূর্ববর্তী উদ্ধৃতিগুলোর চাহিদার ক্ষেত্রে আমরা কী করব? বিশেষ করে শায়খ উমাইরাহ ইমাম যারকাশি থেকে এবং শায়খাইন থেকে যা 'শাখা মাসআলা' (فرع) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রসঙ্গের প্রয়োজনে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি, কারণ সর্বস্তরের মানুষ এমন ইমামের বক্তব্যকেই আঁকড়ে ধরেন। এটি আমাদের বরেণ্য আলেমদের সদয় বিবেচনার জন্য উপস্থাপিত হলো, তাঁদের কর্তব্য হলো এ বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান ও বিষয়টি স্পষ্ট করা। ওয়াসসালাম।
--------------------------------------------