(খণ্ড: ১) কাদিয়্যাতুন ফী সুকুতিল মুদ্দাআ আলাইহি আনিল ইকরারি ওয়াল ইনকার - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
قضية في سكوت المدعى عليه عن الإقرار والإنكار - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: قضية في سكوت المدعى عليه عن الإقرار والإنكار

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (18)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

স্বীকারোক্তি ও অস্বীকৃতি সম্পর্কে বিবাদীর নীরবতার বিধান সংক্রান্ত মাসআলা - «আসারুল মুয়াল্লিমি»-এর অন্তর্ভুক্ত   (আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রীয় মাসায়েল


গ্রন্থ: স্বীকারোক্তি ও অস্বীকৃতি সম্পর্কে বিবাদীর নীরবতার বিধান সংক্রান্ত মাসআলা

[আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলী (১৮)]

লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ উজাইর শামস

পর্যালোচনায়: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমায়ের

প্রকাশক: দার আলাম আল-ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলা সংস্করণের উপস্থাপক: ‘আতাআত আল-ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৮) কাদিয়্যাতুন ফী সুকুতিল মুদ্দাআ আলাইহি আনিল ইকরারি ওয়াল ইনকার - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৫০৭)
الرسالة الحادية والثلاثون

قضية في سكوت المدعى عليه عن

الإقرار والإنكار
একত্রিশতম রিসালাহ

বিবাদীর নীরবতা অবলম্বন সংক্রান্ত একটি বিষয়

স্বীকৃতি (إقرار) ও অস্বীকার (إنكار) প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১৮) কাদিয়্যাতুন ফী সুকুতিল মুদ্দাআ আলাইহি আনিল ইকরারি ওয়াল ইনকার - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৫০৯)
الحمد لله.

مسألة: رجلان ادُّعي عليهما قتلُ آخر عمدًا وعدوانًا دعوى صحيحة، فأجابا أنهما هجما عليه لقصد ضربه لا قتله، وأخذا يضربانه، فاستلَّ سكينًا من حزام أحدهما، فأمسكا يده، وتجاذبا السكين، فوقعتْ به طعنة في جانب ظهره الأيسر. وكلٌّ منهما قال: لا أدري ممن الطعنة، ثم قال أحدهما: أنا القاتل، ثم روجع الآخر على أن يقر أو ينكر، فأصرَّ على قوله: لا أدري ممن.

قد تتبعت مظانَّ المسألة مما وجدته من كتب المذهب، فلم أظفر بها صريحةً، إلّا أنهم قسموا حالة المدعى عليه بعد الدعوى إلى قسمين: إقرار وإنكار. أما الإقرار فله باب مخصوص، وأما الإنكار فهو نقض إلزام الدعوى. وألحقوا به وبالنكول إصرار المدَّعى عليه على السكوت عن جواب الدعوى. والظاهر من عباراتهم أنه ليس مرادهم السكوت المطلق، وهو مقابل النطق، بل السكوت عن جواب الدعوى المفهوم من إطلاقه، أي الجواب بشرط صحته، حتى يدخل ما لو نطق بما لا يصح جوابًا، كقوله: يثبت ما يقول ونحوه، فلا يكتفى به، بل يلزمه أن يبيِّن إما بالإقرار بما ألزمته به الدعوى، وإما بالإنكار لذلك، أو التفصيل، وهو راجع إليهما. فإن بيَّن فالأمر واضح، وإلّا نُزِّل منزلةَ المنكر الناكل، وشرط كون الدعوى ملزمةً من فروعه أن ينسب القتل مثلًا إلى المدعى عليه نفسه، أو إلى مَن يلزمه بقتله شيء، وليس اللزوم. فلو قال: قتله أخوه، ولم يزد على ذلك ما يلزم، لم يسمع.

قال في «عماد الرضا»(1): «حُكي أن رجلين تقدما إلى قاضٍ، فقال

--------------------------------------------

(1) النقل من كلام المناوي في شرحه على «عماد الرضا» (1/ 350).
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

মাসআলা: দুইজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্য একজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে (عمدًا) এবং অন্যায়ভাবে (عدوانًا) হত্যা করার একটি সঠিক দাবি (دعوى) উত্থাপিত হয়েছে। তারা উত্তর দিল যে, তারা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রহার করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেছিল এবং তারা তাকে প্রহার করতে শুরু করেছিল। এরপর সে তাদের একজনের কোমরবন্ধনী থেকে একটি ছুরি বের করে নেয়, তখন তারা তার হাত ধরে ফেলে এবং ছুরিটি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়; ফলে তার পিঠের বাম পাশে একটি ছুরিকাঘাত লাগে। তাদের প্রত্যেকেই বলল: ‘কার পক্ষ থেকে আঘাত লেগেছে তা আমি জানি না।’ অতঃপর তাদের একজন বলল: ‘আমিই হত্যাকারী।’ এরপর অন্যজনের কাছে সে স্বীকৃতি প্রদান (إقرار) করবে নাকি অস্বীকার (إنكار) করবে তা জানতে চাওয়া হলে সে তার পূর্বের বক্তব্যেই অটল থাকল যে, ‘কার পক্ষ থেকে আঘাত লেগেছে তা আমি জানি না।’

আমি মাযহাবের (مذهب) গ্রন্থসমূহে এই মাসআলার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অনুসন্ধান চালিয়েছি, কিন্তু আমি এটি স্পষ্টভাবে পাইনি। তবে ফকীহগণ দাবি (دعوى) উত্থাপনের পর বিবাদীর অবস্থাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: স্বীকৃতি (إقرار) এবং অস্বীকার (إنكار)। স্বীকৃতির জন্য একটি নির্দিষ্ট অধ্যায় রয়েছে। আর অস্বীকার (إنكار) হলো দাবির বাধ্যবাধকতাকে খণ্ডন করা। তারা দাবির জবাব থেকে বিবাদীর মৌন থাকাকে অস্বীকার এবং জবাব দানে বিরত থাকা (نكول) এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাদের ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এখানে তাদের উদ্দেশ্য শর্তহীন মৌনতা নয়, যা বাকশক্তির বিপরীত; বরং তাদের উদ্দেশ্য হলো দাবির সঠিক জবাব প্রদান থেকে বিরত থাকা। অর্থাৎ জবাবটি সঠিক হওয়ার শর্তে হতে হবে; এমনকি এতে সেই পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত হবে যেখানে সে এমন কিছু বলল যা সঠিক জবাব বলে গণ্য হয় না, যেমন তার কথা: ‘সে যা বলছে তা প্রমাণিত হোক’ এবং এই জাতীয় শব্দ। এটি যথেষ্ট হবে না, বরং তার জন্য হয় দাবিকৃত বিষয়ের স্বীকৃতি (إقرار) প্রদান করা অথবা তা অস্বীকার (إنكار) করা অথবা বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া আবশ্যক, যা এই দুইটিরই অন্তর্ভুক্ত হবে। যদি সে বিষয়টি স্পষ্ট করে তবে বিষয়টি পরিষ্কার, অন্যথায় তাকে সেই অস্বীকারকারী ও বিরত থাকা ব্যক্তির (المنكر الناكل) স্থলাভিষিক্ত করা হবে। আর দাবি (دعوى) বাধ্যতামূলক হওয়ার একটি শর্ত বা শাখা হলো এই যে, হত্যাকে বিবাদীর নিজের দিকে অথবা এমন কারও দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতে হবে যার হত্যার কারণে কিছু আবশ্যক হয়। সুতরাং যদি সে বলে: ‘তার ভাই তাকে হত্যা করেছে’ এবং এর অতিরিক্ত এমন কিছু না বলে যা দ্বারা কিছু আবশ্যক হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

‘ইমাদ আল-রিদা’(1) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: ‘বর্ণিত আছে যে, দুই ব্যক্তি একজন বিচারকের কাছে এল, অতঃপর তিনি বললেন

--------------------------------------------

(1) এই উদ্ধৃতিটি মুনাওয়ীর বক্তব্য থেকে নেওয়া হয়েছে, যা তার ‘ইমাদ আল-রিদা’ (১/৩৫০) এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১৮) কাদিয়্যাতুন ফী সুকুতিল মুদ্দাআ আলাইহি আনিল ইকরারি ওয়াল ইনকার - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৫১০)
أحدهما: إن أخا هذا قتل أخي، فقال القاضي: ما تقول؟ فقال: إن أخا هذا قتله غيري. وهو جواب صحيح عن فساد الدعوى، وكان من صحتها أن أخاه قتلَ أخيِ وأنا وارثُه وهذا من عاقلته، لتتوجَّه له المطالبة». ومن المعلوم أن القصد من طلب الجواب من المدَّعى عليه الإقرار بما أُلزِم به أو إنكاره أو التفصيل، وهو راجع إليهما كما مرَّ. فلفظ «لا أدري» جوابًا عن الدعوى عليه أنه قتل مثلًا لا يكفي، لأنه لم يقرّ بما ألزمته الدعوى وهو القتل، ولا أنكر. وقد شرطوا في اليمين مطابقتها للإجابة، وقالوا في اليمين: لابدَّ أن يحلف بها في كلِّ يمين على فعله إثباتًا أو نفيًا، وكذا على إثبات فعلِ غيره وأما نفي فعل غيره فعلى نفي العلم. فلو اعتبرنا «لا أدري أني قتلتُه أو لا» جوابًا لزم أن نقول: يحلف طبقَه، وحلفه كذلك لا يُعتبر لأنه على نفي العلم في فعل نفسه، وإذا بطل اللازم بطل الملزوم، لأن الإجابة بغير الإقرار إن لم تكن بيِّنة فهي تقتضي اليمين.

وأما كون لفظة «لا أدري» في فعل نفسه يُعتبر إقرارًا فغير ظاهر، لأن مبنى الإقرار على اليقين، ولا نظير لها في باب الإقرار تقاس عليه، لكنها قد تؤدّي إلى ما هو في حكم الإقرار، بأن يصرّ المدعى عليه، فيحكم القاضي بأنه كالمنكر الناكل، ويحلف المدعي اليمين المردودة. وهل يسمع من قائلها الإنكار بعدُ أو لا؟(1).

--------------------------------------------

(1) هنا انتهى الموجود من المسألة.

উভয়টির মধ্যে একটি হলো: "এই ব্যক্তির ভাই আমার ভাইকে হত্যা করেছে।" তখন বিচারক (قاضي) বললেন: "তুমি কী বলো?" সে বলল: "এই ব্যক্তির ভাইকে আমি ছাড়া অন্য কেউ হত্যা করেছে।" এটি মামলার (دعوى) অসারতার বিপরীতে একটি সঠিক (صحيح) উত্তর। আর মামলার শুদ্ধতার জন্য এটি বলা আবশ্যক ছিল যে, তার ভাই আমার ভাইকে হত্যা করেছে এবং আমি তার উত্তরাধিকারী (وارث) এবং সে তার রক্তপণ পরিশোধকারী আত্মীয় (عاقلة), যাতে তার বিরুদ্ধে দাবি উত্থাপন করা যায়। এটা সুনিশ্চিত যে, বিবাদীর (مدعى عليه) নিকট জবাব চাওয়ার উদ্দেশ্য হলো—তার ওপর যা আরোপ করা হয়েছে তা স্বীকার (إقرار) করা, অথবা অস্বীকার (إنكار) করা, অথবা বিস্তারিত বর্ণনা করা; যা পূর্বোল্লিখিত দুই বিষয়ের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। অতএব, উদাহরণস্বরূপ—সে হত্যা করেছে—এই মর্মে তার বিরুদ্ধে আনীত মামলার জবাবে 'আমি জানি না' (لا أدري) শব্দটি যথেষ্ট নয়। কারণ, মামলার মাধ্যমে তার ওপর যা আবশ্যক করা হয়েছে—অর্থাৎ হত্যা—সে তা স্বীকারও (إقرار) করেনি, আবার অস্বীকারও (إنكار) করেনি। ফকিহগণ শপথের (يمين) ক্ষেত্রে উত্তরের সাথে তার সামঞ্জস্য থাকাকে শর্ত করেছেন। তাঁরা শপথের বিষয়ে বলেছেন: নিজের কাজের ক্ষেত্রে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিমূলক প্রতিটি শপথই সুনিশ্চিতভাবে হতে হবে। অনুরূপভাবে অন্যের কাজের স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও। তবে অন্যের কাজের অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে তা 'জ্ঞাত না থাকা'র (نفي العلم) ভিত্তিতে হতে হবে। যদি আমরা 'আমি তাকে হত্যা করেছি কি না তা জানি না' বাক্যটিকে উত্তর হিসেবে গণ্য করি, তবে এটি বলা আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, সে এই অনুরূপই শপথ করবে। কিন্তু তার এমন শপথ গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ এটি নিজের কাজের ক্ষেত্রে কেবল 'জ্ঞাত না থাকা'র (نفي العلم) ভিত্তিতে হচ্ছে। আর যখন আবশ্যক বিষয়টি (লাজিম) বাতিল হয়ে যায়, তখন মূল বিষয়টিও (মালযুম) বাতিল হয়ে যায়। কারণ স্বীকারোক্তি (إقرار) ব্যতীত অন্য কোনো জবাব যদি সুস্পষ্ট প্রমাণ (بينة) না হয়, তবে তা শপথের (يمين) দাবি রাখে।

আর নিজের কাজের ক্ষেত্রে 'আমি জানি না' (لا أدري) শব্দটি স্বীকারোক্তি (إقرار) হিসেবে গণ্য হওয়া স্পষ্ট নয়। কারণ স্বীকারোক্তির ভিত্তি হলো নিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) ওপর, আর স্বীকারোক্তির অধ্যায়ে এর এমন কোনো নজির নেই যার ওপর কিয়াস (قياس) করা যায়। তবে এটি এমন পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে যা স্বীকারোক্তির বিধানের অন্তর্ভুক্ত; যেমন বিবাদী (مدعى عليه) যদি তার অবস্থানে অটল থাকে, তবে বিচারক (قاضي) তাকে এমন অস্বীকারকারী (منكر) হিসেবে গণ্য করবেন যে শপথ করতে অস্বীকৃতি (ناكل) জানিয়েছে। এমতাবস্থায় বাদী (مدعي) প্রত্যাবর্তিত শপথ (اليمين المردودة) পাঠ করবেন। আর এই কথা ব্যক্তকারীর পক্ষ থেকে পরবর্তীতে কি অস্বীকার (إنكار) গ্রহণযোগ্য হবে কি না?(১).

--------------------------------------------

(১) মাসআলাটির বিদ্যমান অংশ এখানেই সমাপ্ত হয়েছে।