(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: -)
منهج الأشاعرة في العقيدة - الكبير   (سفر الحوالي)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: منهج الأشاعرة في العقيدة - الكبير

المؤلف: سفر بن عبد الرحمن الحوالي

الناشر: دار منابر الفكر

عدد الصفحات: 214

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকিদাহর ক্ষেত্রে আশআরিদের মানহাজ - বৃহৎ সংস্করণ   (সফর আল-হাওয়ালি)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডনসমূহ


বই: আকিদাহর ক্ষেত্রে আশআরিদের মানহাজ - বৃহৎ সংস্করণ

লেখক: সফর বিন আব্দুর রহমান আল-হাওয়ালি

প্রকাশক: দার মানাবির আল-ফিকর

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل الله فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

وبعد:

فإن العالم البشري كله يشهد في هذا العصر من الاضطراب والضياع والفوضى، وسواد المستقبل، وتجهم المصير ما يرعب القلوب، ويزلزل الأفكار، فهو أشبه ما يكون بسفينة مهترئة تتقاذفها أمواجٌ متلاطمةٌ في غمرات بحر لُجِّيٍّ لا تجد مِن اجتيازها مناصًا، ولا من سطوته خلاصًا.

وقد أمسك بزمامها أمم كافرة عملاقة (تستعمل قوة العفاريت بعقول الأطفال) - كما قال (جود) -، ويحفزها التنافس الضاري إلى مزيد من الصراع والتهور والاندفاع، وتأتي أمم الكفر الأقل شأنًا، فتحاول أن تثِبَ وَثَبَاتٍ كبرى؛ لتصل إلى مستوى الصراع مع العمالقة المسيطرين، وتبحث لنفسها عن موضع قدم في هذه السفينة الهائجة، وأصبح التفكير في هذا الواقع الأسوَد والمصير الكالح هو الشغل الشاغل للمفكرين والمتعقِّلين في الغرب وغيره، بل أصبح بفعل التدفق الإعلامي الهائل من الهموم اليومية لرجل الشارع - كما يسمونه -، إذ ما?
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল।

অতঃপর:

বর্তমান যুগে সমগ্র মানববিশ্ব এমন অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা, অন্ধকারের পূর্বাভাস এবং অশুভ পরিণতির সম্মুখীন, যা হৃদয়কে আতঙ্কিত করে এবং চিন্তাজগতকে প্রকম্পিত করে। এর উপমা অনেকটা সেই জরাজীর্ণ নৌকার মতো, যা এক অতল গভীর সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে দিগ্বিদিক আছাড় খাচ্ছে, যা অতিক্রম করা ছাড়া যেমন কোনো উপায় নেই, তেমনি এর করাল গ্রাস থেকে নিষ্কৃতিরও কোনো পথ নেই।

পরাক্রমশালী কাফের জাতিগোষ্ঠীগুলো এর লাগাম আঁকড়ে ধরে আছে (যারা শিশুদের ন্যায় অপরিণত বুদ্ধি দিয়ে দানবীয় শক্তি প্রয়োগ করছে) - যেমনটি জোড (Joad) বলেছিলেন। আর তাদের এই হিংস্র প্রতিযোগিতা তাদেরকে আরও বেশি সংঘাত, হঠকারিতা ও অবিমৃষ্যকারিতার দিকে প্ররোচিত করছে। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত নিম্নস্তরের কুফরি জাতিগুলোও বড় বড় উল্লম্ফনের চেষ্টা করছে, যাতে তারা প্রভাবশালী পরাশক্তিগুলোর সাথে সংঘাতের স্তরে পৌঁছাতে পারে এবং এই উত্তাল জাহাজে নিজেদের জন্য একটুখানি জায়গা করে নিতে পারে। এই অন্ধকার বাস্তবতা ও বিবর্ণ ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা আজ পশ্চিমা বিশ্ব ও অন্যান্য অঞ্চলের চিন্তাবিদ ও প্রাজ্ঞজনদের প্রধান চিন্তার বিষয়ে পরিণত হয়েছে; বরং গণমাধ্যমের ব্যাপক প্রবাহের কারণে এটি তথাকথিত সাধারণ মানুষেরও দৈনন্দিন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেহেতু...
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৪)
من نشرة أخبار يسمعها، أو صحيفة يطالعها، إلا ويجد فيها النذر الصارخة بهذا المصير، فأخبار الحروب والفتن، والانفجارات والانهيارات، والزلازل والانقلابات، والجفاف والفيضانات، والكوارث والانتحارات … إلخ، أصبحت من كثرة ما ترددت في ذهنه مثل أخبار الرياضة وأحوال الطقس!.

ومع سباق التسلح الرهيب، والتنافس في نشر أسلحة الفتك المبيد، أحس الناس حقيقةً بالهلع الذي يقضّ المضاجع، وهرع الفلاسفة والمفكرون إلى التنقيب عن حلٍّ للمعضلة الإنسانية الكبرى، وتلمسوا أي مخرج للانعتاق من الظلمة الكثيفة التي غطت وجه الأرض وردمت الإنسان في المفاوز المهلكة، والأحراج الشائكة.

ووصل الأمر بكثيرٍ منهم إلى الاقتناع المطلق بأن خلاص هذا العالم - إن قدر له الخلاص - لن يكون من داخله، وأن السفينة الهاوية إلى أعماق المحيط لن ينتشلها من هو قابعٌ في داخلها.

ومع هذا لم يظهر - مع الأسف الشديد - ما يدل على أوبةٍ صادقةٍ إلى الله، واستجابةٍ لدينه الحق الوحيد الذي مازال غضًّا طريًّا في مسمع الدنيا ومرآها.

بل دفعت عوامل أخرى - ولا مجال هنا لتفصيلها، ولبيان ذنبنا نحن المسلمين فيها - إلى أن قامت كل أمة من الأمم تشحذ همتها، وتقدح زناد فكرها، وتستلهم من عتيق حضارتها وماضي أسلافها، فمع إفلاس المذاهب الوضعية الحديثة ارتد الناس قرونًا إلى الوراء، وبدأوا يستعرضون الذاكرة البشرية على ما فيها من قَتَمٍ وغبشٍ وإسفاف، لعل?
কোনো সংবাদ বুলেটিন যা সে শোনে, অথবা কোনো সংবাদপত্র যা সে পাঠ করে, তাতে এই পরিণতির সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা খুঁজে পায় না—এমনটি হয় না। যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ফিতনা-ফ্যাসাদ, বিস্ফোরণ ও ধস, ভূমিকম্প ও রাষ্ট্রবিপ্লব, খরা ও বন্যা এবং দুর্যোগ ও আত্মহত্যার খবরসমূহ … ইত্যাদি তার মস্তিষ্কে এত অধিকবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে যে, এগুলো এখন ক্রীড়া সংবাদ কিংবা আবহাওয়া বার্তার মতোই সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে!

ভয়াবহ অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবং মরণঘাতী মারণাস্ত্র বিস্তারের প্রতিযোগিতার মুখে মানুষ প্রকৃতপক্ষেই সেই আতঙ্কে শিউরে উঠেছে যা আরামের ঘুম কেড়ে নেয়। দার্শনিক ও চিন্তাবিদগণ মানবজাতির এই বৃহৎ সংকটের সমাধানের সন্ধানে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা সেই ঘন অন্ধকার থেকে মুক্তির কোনো পথ খুঁজছেন যা আজ ধরণীর বুক আচ্ছন্ন করে রেখেছে এবং মানুষকে ঠেলে দিয়েছে ধ্বংসাত্মক মরুপ্রান্তর ও কন্টকাকীর্ণ অরণ্যে।

তাঁদের অনেকের অবস্থা এখন এমন এক নিরঙ্কুশ প্রত্যয়ে পৌঁছেছে যে, এই পৃথিবীর মুক্তি—যদি তার ভাগ্যে মুক্তি লেখা থাকে—তবে তা তার ভেতর থেকে আসবে না। সমুদ্রের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়া জাহাজকে সেই ব্যক্তি উদ্ধার করতে পারবে না যে নিজেই তার ভেতরে অবস্থান করছে।

এতদসত্ত্বেও—অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে—আল্লাহর দিকে আন্তরিকভাবে ফিরে আসার কিংবা তাঁর একমাত্র সত্য দ্বীনের প্রতি সাড়া দেওয়ার কোনো লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়নি, যে দ্বীন আজও বিশ্ববাসীর শ্রবণ ও দর্শনে সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে আছে।

বরং অন্যান্য কারণ—এখানে যার বিস্তারিত বর্ণনার কিংবা তাতে আমাদের মুসলমানদের ত্রুটি বিশ্লেষণের সুযোগ নেই—প্রতিটি জাতিকে এই পথে পরিচালিত করেছে যে, তারা তাদের হিম্মতকে শাণিত করে, তাদের চিন্তার স্ফুরণ ঘটায় এবং তাদের প্রাচীন সভ্যতা ও পূর্বপুরুষদের অতীত থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে। আধুনিক মানবরচিত মতবাদসমূহের দেউলিয়াত্বের ফলে মানুষ কয়েক শতাব্দী পেছনে ফিরে গিয়েছে এবং মানবস্মৃতিতে যা কিছু অন্ধকার, অস্পষ্টতা ও তুচ্ছতা রয়েছে তা-ই তারা হাতড়াতে শুরু করেছে, যেন?
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৫)
في متاهات الماضي ما يقيهم شر غوائل المستقبل، ولعل في خبايا القرون الخوالي كوة صغيرة ينفذ منها اللاهثون العصريون إلى بر الأمان.

لقد كانت أوروبا القرن التاسع عشر تدين بالعقلانية، والإطلاق بعقلانية لا تتردد في تفسير أي شيء، وإطلاق لا يستثني من قواعده الصارمة شيئًا، فلما صدمتها السنن الربانية الثابتة، وعصفت بها التحولات الخطيرة حتى أشرفت على الهاوية، عادت إلى مذاهب (اللامعقول) (1)، التي يرفض أن يضبطه شيء، والنسبية التي تأبى كل أحكام العموم والإطلاق، حتى أن مذهبًا إطلاقيًّا حتمًا - كالشيوعية - تراجع من الحلم بالسيطرة على معظم العالم في الستينيات يصبح في نهاية الثمانينيات رأسمالية حمراء.

وبتبني اللامعقول، والنسبية؛ انتكست أوروبا من جديد، وأعلنت - وهي في قمة السيادة الحضارية - إفلاسها وانهيارها، واختبأ روائيوها وشعراؤها وعامة أبطال فكرها وفنّها في أقبية الجاهلية اليونانية الهالكة، يحتمون بظلامها وظلالها من لظى الأفكار المادية المهترئة، والشعارات المجدبة، وسعير التطبيقات الرعناء لآراء وضعها في القرن الماضي جهلاء ارْتَدُوا زِيّ الحكماء.

--------------------------------------------

(1) أو (اللاعقلي)، ومن مذاهبه: الروحية (برجسون)، والوجودية (سارتر)، والعبثية (ألبير كامو)، واتجاهات أخرى كالرمزية والسوريالية، وكثير من المدارس النفسية والاجتماعية.
অতীতের গোলকধাঁধায় এমন কিছু রয়েছে যা তাদের ভবিষ্যতের বিপর্যয়ের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে পারে। হয়তো বিগত শতাব্দীগুলোর রহস্যের মাঝে একটি ছোট গবাক্ষ রয়েছে, যার মধ্য দিয়ে আধুনিক যুগের ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত মানুষেরা নিরাপদ তীরে পৌঁছাতে পারে।

উনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপ ছিল যুক্তিবাদ ও পরমবাদে বিশ্বাসী। এমন এক যুক্তিবাদ যা কোনো কিছু ব্যাখ্যা করতে দ্বিধা করত না এবং এমন এক পরমবাদ যা তার কঠোর নিয়মের বাইরে কিছুই রাখত না। অতঃপর যখন তারা অটল ঐশ্বরিক বিধানের ধাক্কা খেল এবং এমন সব বিপজ্জনক রূপান্তরের সম্মুখীন হলো যা তাকে ধ্বংসের অতল গহ্বরের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেল, তখন সে পুনরায় ‘অযৌক্তিকতাবাদ’ (১)-এর দিকে ফিরে গেল, যা কোনো কিছুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে অস্বীকার করে এবং ফিরে গেল সেই আপেক্ষিকতাবাদের দিকে যা সর্বজনীনতা ও পরমতার সকল সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি সাম্যবাদের মতো একটি অনিবার্য পরমবাদী মতাদর্শও—যা ষাটের দশকে বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের স্বপ্ন দেখত—আশির দশকের শেষে ‘লাল পুঁজিবাদে’ পরিণত হয়।

অযৌক্তিকতা ও আপেক্ষিকতাবাদ গ্রহণের ফলে ইউরোপ পুনরায় পতনের শিকার হলো এবং সভ্যতাগত শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে অবস্থান করেই তারা তাদের দেউলিয়া হওয়া ও ধসে পড়ার ঘোষণা দিল। তাদের ঔপন্যাসিক, কবি এবং চিন্তা ও শিল্পের সাধারণ নায়কেরা প্রাচীন গ্রিক জাহিলিয়াতের ভূগর্ভস্থ প্রকোষ্ঠে লুকিয়ে পড়ল। তারা জরাজীর্ণ বস্তুবাদী চিন্তার দহন, নিস্ফলা স্লোগান এবং বিগত শতাব্দীতে জ্ঞানীর ছদ্মবেশধারী মূর্খদের প্রবর্তিত মতামতের অবিবেচনাপ্রসূত প্রয়োগের দাবদাহ থেকে বাঁচতে সেই অন্ধকার ও ছায়ার আশ্রয় নিল।

--------------------------------------------

(১) অথবা ‘যুক্তিহীনতাবাদ’। এর অন্তর্ভুক্ত কতিপয় মতবাদ হলো: আধ্যাত্মবাদ (বার্গঁসঁ), অস্তিত্ববাদ (সার্ত্রে), অসারতাবাদ (আলবেয়ার কামু) এবং অন্যান্য ধারা যেমন প্রতীকবাদ ও পরাবাস্তববাদ এবং মনোস্তাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক অনেক ঘরানা।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৬)
ومع عودة سيدة الحضارة العجوز وانتكاستها عادت الأمم التابعة تلهث في الطريق نفسه.

فانتفضت الصين على (ماو)، وحطمت تماثيله على يد الجماهير الكادحة التي كانت تصرخ منذ سنوات ليست بالكثيرة: (ماو ماو! رب الكادحين)، وعانت بلهفة وشوق إلى (كونفشيوس) الدفين منذ آلاف السنين في أعماق الذاكرة الصينية.

وبدأت الهند في ترميم أصنامها العتيقة بعد أن أصبحت تستقبل من الغربيين اللاهثين بحثًا عن (بوذا)، و (كرشنا) أكثر مما تستقبل من الإرساليين الكنسيين الطامعين في إدخال الهنود إلى دين (بولس) (1) وبابواته.

وتفوقت اليابان على أمريكا في كثير من مجالات التكنولوجيا - أو نافستها - في حين أنه ما يزال الإمبراطور منسوبًا إلى سلالة الآلهة، وكأن اليابانيين قد اقتنعوا - أمام عودة الغرب الحائرة - بأن التقدم التكنولوجي لا يزيد هذا النسب الإلهي إلا عراقةً ورسوخًا.

وظهرت في أمريكا الجنوبية واستراليا دعاوى عريضة بأن لها حضارات ماضية، وأمجادًا وطنيةً غابرة.

ومهما قيل عن عدم مطابقتها للحقيقة؛ فالغرض المهم هو: أنها

--------------------------------------------

(1) المؤسس للدين المعروف حاليًا باسم (المسيحية)، واسمه الأصلي (شاؤل) اليهودي، وهو النموذج الذي احتذا حذوه عبد الله بن سبأ اليهودي لإفساد الإسلام، فأسس دين التشيع وفروعه. انظر مقدمة منهاج السنة.
প্রাচীন সভ্যতার কর্ত্রীর প্রত্যাবর্তন এবং তার অধঃপতনের সাথে সাথে অনুসারী জাতিগুলোও একই পথে হাঁপাতে হাঁপাতে ফিরে এসেছে।

চীন (মাও)-এর বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে এবং সেই মেহনতি জনতা তার মূর্তিগুলো ভেঙে চুরমার করেছে যারা মাত্র কয়েক বছর আগেও চিৎকার করে বলত: (মাও মাও! মেহনতিদের রব), এবং তারা চীনা স্মৃতির গভীরে হাজার বছর ধরে সমাহিত (কনফুসিয়াস)-এর প্রতি তীব্র ব্যাকুলতা ও আকাঙ্ক্ষায় ফিরে গেছে।

ভারত তার প্রাচীন মূর্তিগুলো সংস্কার করতে শুরু করেছে, কারণ তারা এখন (বুদ্ধ) ও (কৃষ্ণ)-এর সন্ধানে হন্যে হয়ে আসা পশ্চিমাদের এমন এক সংখ্যায় অভ্যর্থনা জানাচ্ছে, যা (পল)-এর ধর্ম (১) ও তার পোপদের অধীনে হিন্দুদের দীক্ষিত করতে আসা উচ্চাভিলাষী চার্চ মিশনারিদের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।

জাপান প্রযুক্তির অনেক ক্ষেত্রে আমেরিকাকে ছাড়িয়ে গেছে - অথবা তার সাথে পাল্লা দিচ্ছে - অথচ এখনও সম্রাটকে দেববংশীয় বলে গণ্য করা হয়। মনে হয় যেন জাপানিরা পাশ্চাত্যের এই বিভ্রান্তিকর প্রত্যাবর্তনের মুখে নিশ্চিত হয়েছে যে, প্রযুক্তিগত উন্নতি এই ঐশ্বরিক বংশমর্যাদাকে আরও সুপ্রাচীন ও সুদৃঢ়ই করে তুলেছে।

দক্ষিণ আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াতেও এই মর্মে ব্যাপক দাবি উত্থাপিত হয়েছে যে, তাদেরও অতীত সভ্যতা এবং প্রাচীন জাতীয় গৌরব ছিল।

এগুলোর সত্যতা নিয়ে যাই বলা হোক না কেন, গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো এই যে: তারা...

--------------------------------------------

(১) বর্তমানে (খ্রিস্টধর্ম) নামে পরিচিত ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা, যার আসল নাম ছিল ইহুদি (শৌল)। তিনি সেই আদর্শ যাকে অনুসরণ করেছিল ইহুদি আবদুল্লাহ ইবনে সাবা ইসলামকে কলুষিত করার জন্য, ফলে সে শিয়া মতবাদ ও তার শাখা-প্রশাখা প্রতিষ্ঠা করে। দেখুন: মিনহাজুস সুন্নাহ-এর ভূমিকা।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৭)
إعلانٌ للعودة وللتوقف عن السير وراء الضائعين في الغرب المفلس.

لقد أخذت كل أمة من الأمم تبحث في مجاهل تاريخها عن فيلسوفٍ قديم، أو شاعرٍ غابر، أو مصلحٍ سالف؛ لتقدمه للبشرية على أنه منقذ جديد، وأن في (إلهاماته) ما ينير الطريق لإنسان القرن العشرين الحائر المضطرب، وأصبحت الميادين الكبرى في عواصم هذه الأمم معابد عصرية تتوسطها تماثيل أولئك الغابرين.

وهكذا برزت ظاهرة إنسانية كبرى هي ظاهرة (العودة إلى الماضي)، التي هي تعبيرٌ صارخٌ عن عدم الثقة في الحاضر، والتي لا تعدو في مقاييسنا الإسلامية أن تكون عرضًا من أعراض الخسران الأكبر، والإفلاس الماحق لقوم كفروا بالله ورسله {ادَّارَكَ عِلْمُهُمْ فِي الْآخِرَةِ بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ مِنْهَا بَلْ هُمْ مِنْهَا عَمُونَ} [النمل: (66)].

ومع بروز هذه الظاهرة - عالميًّا - بدأ التيار التغريبي العلماني في العالم الإسلامي يتردد، بل ينحسر ويندحر، وبدأت جَمْع جُمَّة من القطيع السائر خلفه تتوقف وترعوي، وانكسرت حدة الانبهار بالغرب الكافر لدى عددٍ لا يستهان به، وتنادوا - لا سيما الشباب منهم - بالعودة لماضينا الذي ليس ماضي سائر الأمم بأولى منه.

وفي وسط طريق العودة التقى هذا الرافد العالمي العصري بالرافد الأصلي الذي ظل في غمرات القرون مستقيمًا، لم يشذّ مستعليًا، ولم ينبهر، أَلَا وهو بقايا الخير في هذه الأمة من رجال ما تزعزع يقينهم لحظةً واحدةً في أنه لا يَصلُح هذا العالم إلا بهذه الأمة، وأنه لا يصلح آخرُ
দেউলিয়া পাশ্চাত্যের পথভ্রষ্টদের পদাঙ্ক অনুসরণ বন্ধ করার এবং (মূলের দিকে) প্রত্যাবর্তনের একটি ঘোষণা।

বর্তমান বিশ্বের প্রতিটি জাতি তাদের ইতিহাসের গহীনে কোনো প্রাচীন দার্শনিক, বিস্মৃত কোনো কবি কিংবা পূর্বসূরি কোনো সংস্কারকের সন্ধান করতে শুরু করেছে; যাতে তাকে মানবতার সামনে এক নতুন ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় এবং দাবি করা যায় যে, বিংশ শতাব্দীর বিভ্রান্ত ও অস্থির মানুষের জন্য তার 'দিব্যজ্ঞানে' পথনির্দেশনা রয়েছে। ফলে এই জাতিগুলোর রাজধানীর প্রধান চত্বরগুলো আধুনিক উপাসনালয়ে পরিণত হয়েছে, যেগুলোর ঠিক মাঝখানে সেই অতীত ব্যক্তিদের মূর্তি শোভা পাচ্ছে।

এভাবেই একটি বৃহৎ মানবিক প্রপঞ্চের উদয় হয়েছে, যা হলো 'অতীতের দিকে প্রত্যাবর্তন'। এটি বর্তমানের প্রতি চরম আস্থাহীনতার এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। আমাদের ইসলামি মানদণ্ডে এটি সেই চরম ক্ষতি এবং ধ্বংসাত্মক দেউলিয়াত্বেরই একটি উপসর্গ, যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের অস্বীকারকারী জাতির ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। এরশাদ হয়েছে: {বরং পরকাল সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়েছে; অধিকন্তু তারা এ বিষয়ে সন্দেহে রয়েছে; বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ।} [আন-নামল: ৬৬]

বিশ্বব্যাপী এই প্রপঞ্চের উত্থানের সাথে সাথে মুসলিম বিশ্বে সেক্যুলার পাশ্চাত্যমুখী ধারাটি দ্বিধান্বিত হতে শুরু করেছে, এমনকি তা সংকুচিত ও পরাজিত হচ্ছে। এই ধারার অনুসারী পালের এক বিরাট অংশ এখন থমকে দাঁড়িয়ে সংযত হতে শুরু করেছে। কাফের পাশ্চাত্যের প্রতি মোহগ্রস্ত হওয়ার তীব্রতা এক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মধ্যে ভেঙে পড়েছে। তারা—বিশেষ করে যুবসমাজ—আমাদের সেই অতীতের দিকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, যে অতীত অন্য সকল জাতির অতীতের চেয়ে বহুগুণ শ্রেষ্ঠ।

প্রত্যাবর্তনের এই পথের মাঝে, আধুনিক এই বৈশ্বিক ধারাটির সাথে সেই মূল ধারার মিলন ঘটেছে যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির মাঝেও অবিচল ছিল; তা না কখনো সত্য বিচ্যুত হয়ে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে, না কখনো মোহাচ্ছন্ন হয়েছে। আর এই মূল ধারাটি হলো এই উম্মতের মাঝে অবশিষ্ট থাকা সেই কল্যাণকামী ব্যক্তিবর্গ, যাদের এই দৃঢ় বিশ্বাস এক মুহূর্তের জন্যও বিচলিত হয়নি যে, এই উম্মত ছাড়া এই জগতের সংস্কার সম্ভব নয় এবং এই উম্মতের পরবর্তী প্রজন্মের সংশোধনও সম্ভব নয়...
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৮)
هذه الأمة إلا بما صلح به أولها.

وبدأ هذان الرافدان في تشكيل نهرٍ لا بد أن يصبح في يوم من الأيام تيارًا، ومن ثم يجتاح ما على هذه الأرض من الشرور والأدران والأوثان، كما وعد الله وبشَّرَ رسول الله صلى الله عليه وسلم.

لكن الشيطان الذي تعهد بإضلال بني آدم إلى يوم يبعثون، وأعوانه بل أقرانه الذين ما فتئ الشيطان يتعلم منهم فنون المكر والتآمر، عمدوا إلى إحباط هذا الأمل العظيم من طريقين:

الأولى: تضخيم هذه العودة الإسلامية البريئة - بل الساذجة في كثير من مظاهرها - وتسميتها (يقظة العملاق)، و (قوة الغد)، و (صحوة الإسلام)، ونحو ذلك مما هو إغراءٌ صارخٌ للقوى العالمية ووكلائها المحليين باستئصال هذه النبتات الغضة في مهدها، مع أن الحقيقة أنه حتى هذه اللحظة ما تزال ظاهرة العودة في العالم الإسلامي متأخرة عمليًّا عمَّا وصلت إليه في البلاد الأخرى، حيث وصلت هناك إلى دفة الحكم أو قاربت!!.

إن الإعلام الغربي لا يستكثر على (الدالاي لاما) المطالبة بدولة بوذية مستقلة عن الصين، بل لم يستكثر على الهندوس المتعصبين أن يحكموا الهند، وإنما يستكثر على أمة الإسلام العظيمة الممتدة من المحيط الهادي إلى المحيط الأطلسي أن يكون في بعض جامعاتها شباب متدينون، ويستغرب وجود جامعات غير مختلطة، أو جامعيات غير متبرجات، مع أن ذلك لا يمثل إلا نسبة ضئيلة من الانتشار السكاني الهائل للأمة.
এই উম্মাহর শেষাংশের সংশোধন কেবল তা দিয়েই সম্ভব, যা দ্বারা এর প্রথমাংশের সংশোধন হয়েছিল।

এবং এই দুটি উৎসধারা একটি নদী গঠনে প্রবৃত্ত হয়েছে, যা একদিন অবশ্যই একটি প্রবল স্রোতধারায় পরিণত হবে। অতঃপর এটি এই পৃথিবী থেকে সকল অনিষ্ট, আবিলতা ও মূর্তিপূজার গ্লানিকে ঝরিয়ে নিয়ে যাবে, যেমনটি আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) সুসংবাদ প্রদান করেছেন।

কিন্তু শয়তান, যে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আদম সন্তানকে পথভ্রষ্ট করার অঙ্গীকার করেছে, এবং তার সেই সহযোগীরা বরং তার সমকক্ষরা, যাদের কাছ থেকে শয়তান নিজেও চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের কলাকৌশল শিখতে বিরত থাকে না; তারা এই মহান প্রত্যাশাকে নস্যাৎ করার জন্য দুটি পথ অবলম্বন করেছে:

প্রথমটি হলো: এই নিষ্পাপ ইসলামি প্রত্যাবর্তনকে—যা এর অনেক বহিঃপ্রকাশে বরং বেশ সরল—অতিরঞ্জিত করা এবং একে 'দানবের জাগরণ', 'আগামীর শক্তি', 'ইসলামের নবজাগরণ' ও এই জাতীয় নামে অভিহিত করা। এটি মূলত বিশ্বশক্তি এবং তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের জন্য একটি প্রকাশ্য প্ররোচনা, যাতে তারা এই কচি চারাগুলোকে অঙ্কুরেই বিনাশ করে দেয়। অথচ বাস্তবতা হলো, বর্তমান মুহূর্ত পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বে প্রত্যাবর্তনের এই প্রবণতা অন্যান্য দেশের তুলনায় কার্যকরভাবে অনেক পিছিয়ে রয়েছে, যেখানে তারা ইতোমধ্যে ক্ষমতার মসনদে আরোহণ করেছে বা তার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে!!

নিশ্চয়ই পশ্চিমা মিডিয়া 'দালাই লামা' কর্তৃক চীন থেকে স্বাধীন বৌদ্ধ রাষ্ট্রের দাবি করাকে মাত্রাতিরিক্ত মনে করে না, এমনকি উগ্র হিন্দুদের ভারত শাসন করাকেও তারা বড় কিছু মনে করে না; বরং তারা প্রশান্ত মহাসাগর থেকে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এই মহান মুসলিম উম্মাহর জন্য কেবল এটুকুই বেশি মনে করে যে, তাদের কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মপ্রাণ যুবক থাকবে। তারা সহশিক্ষা-মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা পর্দানাশিন ছাত্রীদের উপস্থিতিতে বিস্ময় প্রকাশ করে, যদিও উম্মাহর বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় তা অতি নগণ্য একটি অংশ মাত্র।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৯)
يستكثرون ذلك ويستغربونه، ويتابعهم عليه في بلاد الإسلام من يتابعهم، مع أن الأصل في الأمة الإسلامية ألا تنحرف ولا تنبهر، مع أن الأصل في المسلم إذا انحرف وعصى أن يتوب ويستقيم.

إن الأصنام العصرية الكبرى تعرضت لنسف تماثيل (لينين)، و (ستالين)، وتماثيل (ماو)، وتماثيل (شاوسكو) بمباركة الغرب إلا صنمًا واحدًا يحرسه الإعلام الغربي أكثر مما يحرس تماثيل المسيح عليه السلام، ذلك هو صنم (أتاتورك)!!.

تمامًا مثلما ضاقت باريس (عاصمة النور والحرية عند كثير من المخدوعين) بغطاء رأس فتاة مسلمة من بين ألوف الأزياء والموضات!!.

ومثلما ضاقت دولة الحياد والكرامة الإنسانية و .. (سويسرا)!!.

في نظر الغرب لا ضير في عودة الملايين إلى أسفار (فيدا)، وتعاليم (بوذا)، أما عودة بعض أمة الإسلام إلى نور القرآن وهدي محمد صلى الله عليه وسلم فهي وحدها نذير الشؤم، وداعية الويل والثبور، وعظائم الأمور!!.

وليس أعجب حالًا من هؤلاء إلا من يصدقهم ويجاريهم من أبناء جلدتنا المستغربين، أو من يأخذه الغرور بقولهم من التائبين العائدين.

نعم إن إفلاس المذاهب الأرضية في العالم الإسلامي وسقوط ممثليها أصبح حقيقة ثابتة وقد جرى ذلك وفق سنة إلهية ثابتة.

ولكن رجوع المسلمين إلى الإسلام ما يزال في أول بشائره، وأمامه عقبات كبرى ذاتية وخارجية، كما أن له سنته الإلهية الأخرى
তারা একে অতিশয়োক্তি মনে করে এবং এতে বিস্ময় প্রকাশ করে; আর মুসলিম দেশসমূহে তাদের অনুসারীরা এক্ষেত্রে তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে। অথচ মুসলিম উম্মাহর মূল বৈশিষ্ট্য হলো পথচ্যুত না হওয়া এবং প্রলুব্ধ না হওয়া; আর একজন মুসলিমের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো—সে যদি পথভ্রষ্ট হয় কিংবা পাপে লিপ্ত হয়, তবে তওবা করে পুনরায় সত্যপথে অবিচল হওয়া।

আধুনিক যুগের বড় বড় প্রতিমাগুলো পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন ও সহযোগিতায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েছে—যেমন লেনিন, স্ট্যালিন, মাও এবং চাউসেস্কুর মূর্তি—তবে একটি বিগ্রহ ব্যতীত, যাকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মূর্তির চেয়েও বেশি রক্ষণাবেক্ষণ করে; আর তা হলো ‘আতাতুর্ক’-এর মূর্তি!!

ঠিক যেমন প্যারিস (যা অনেক বিভ্রান্তের নিকট আলো ও স্বাধীনতার রাজধানী) হাজার হাজার পোশাক ও ফ্যাশনের ভিড়ে একজন মুসলিম তরুণীর মাথার সামান্য হিজাবটুকুও সহ্য করতে পারেনি!!

আর ঠিক তেমনিভাবে সংকীর্ণ হয়ে পড়ল নিরপেক্ষতা ও মানবিক মর্যাদার দেশ... (সুইজারল্যান্ড)!!

পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টিতে লক্ষ লক্ষ মানুষের ‘বেদ’-এর মন্ত্র কিংবা ‘বুদ্ধ’-এর শিক্ষার দিকে প্রত্যাবর্তন করাতে কোনো ক্ষতি নেই; কিন্তু মুসলিম উম্মাহর কিয়দাংশের কুরআনের আলো এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হেদায়েতের দিকে ফিরে আসাটাই কেবল তাদের নিকট অশুভ সংকেত, ধ্বংস ও বিপর্যয়ের বার্তাবাহী এবং এক গুরুতর অপরাধ!!

এদের অবস্থার চেয়েও অধিক বিস্ময়কর হলো আমাদের স্বজাতির সেই সব ‘পাশ্চাত্যমনস্ক’ ব্যক্তিদের অবস্থা, যারা এদের কথাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং তাদের অনুকরণ করে; অথবা সেই সব তওবাকারী ও দ্বীনের পথে প্রত্যাবর্তনকারীদের অবস্থা, যারা তাদের এসব কথায় বিভ্রান্ত হয়।

হ্যাঁ, মুসলিম বিশ্বে মানবরচিত মতবাদসমূহের দেউলিয়াত্ব এবং তাদের প্রবক্তাদের পতন আজ এক সুনিশ্চিত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে, যা একটি অমোঘ ঐশী বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ইসলামের পথে মুসলমানদের এই ফিরে আসা এখনো তার প্রাথমিক শুভলক্ষণসমূহ প্রকাশ করছে মাত্র; এর সম্মুখে এখনো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বহু বড় বড় প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান, যেমন এর সাফল্যের জন্যও রয়েছে আল্লাহর স্বতন্ত্র ঐশী নিয়ম।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১০)
التي ما لم نرعها ونسير بمقتضاها فلن نصل أبدًا.

الثاني: استنفار أفاعي (الطابور الخامس) من قطاع الطريق إلى الله الذين عملوا منذ عهد عبد الله بن سبأ، والجعد بن درهم، وبِشر المريسي، والنظَّام (1) … إلخ لنسف القلعة الإسلامية من داخلها، وإجهاض كل محاولة لرفع هذه الأمة إلى القمة التي أراد الله أن تكون عليها.

فأما العدو الخارجي؛ فللحديث عنه مواضعه الأخرى، وما عداؤه لنا، واستعداؤه علينا بجديد، وما هو بالذي يحسب له كل هذا الحساب لو كنا في أنفسنا أمة تعيش وتسير كما أمر الله، فالله تعا لى يقول: {وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لَا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئًا} [آل عمران: 120]. ونحن قد فقدنا الخصلتين كلتيهما إلا من رحم الله.

وأما قطَّاع الطريق؛ فهم لَعَمْرُ الله آفة هذه الأمة قديمًا وحديثًا، وهم (حصان طروادة) الذي ما دخلت إلينا الأفكار الغربية قديمها وحديثها إلا من خلاله وبآثاره.

ولن نستعرض تاريخهم القديم، وهل في الإمكان استعراض المحيط الزاخر؟ ولكننا نشير بإجمال إلى دورهم في ركوب موجة التوبة الجماعية التي نسميها - ولو على سبيل التفاؤل - (الصحوة الإسلامية)!!.

--------------------------------------------

(1) ذكر الذهبي في ترجمته في سير أعلام النبلاء ((10) / (542)) أنه كان برهميًّا، فأراد أن يبرهم الإسلام عن طريق الاعتزال، كم أراد عبد الله بن سبأ أن يهوِّده عن طريق التشيع!!.
যা আমরা যদি লালন না করি এবং এর দাবি অনুযায়ী না চলি, তবে আমরা কখনোই পৌঁছাতে পারব না।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহর পথের সেই সব দস্যু তথা (পঞ্চম বাহিনী) নামক সর্পদের প্ররোচিত করা, যারা আবদুল্লাহ ইবনে সাবা, জা’দ ইবনে দিরহাম, বিশর আল-মারিসি এবং নাজ্জাম (১) ... ইত্যাদির যুগ থেকে ইসলামি দুর্গটিকে ভেতর থেকে ধ্বংস করার জন্য এবং এই উম্মাহকে আল্লাহপ্রদত্ত উচ্চতম শিখরে উন্নীত করার প্রতিটি প্রচেষ্টাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার জন্য তৎপর রয়েছে।

পক্ষান্তরে বাহ্যিক শত্রু প্রসঙ্গে আলোচনার অবকাশ ভিন্ন। আমাদের প্রতি তাদের বৈরিতা এবং আমাদের বিরুদ্ধে তাদের উসকানি কোনো নতুন বিষয় নয়। আমরা যদি নিজেরা এমন এক জাতি হতাম যারা আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী জীবনযাপন করে ও পরিচালিত হয়, তবে তাদের এই ষড়যন্ত্র নিয়ে এত উৎকণ্ঠার প্রয়োজন হতো না। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না" [আলে ইমরান: ১২০]। বস্তুত আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত স্বল্পসংখ্যক লোক ব্যতীত আমরা এই উভয় গুণই হারিয়ে ফেলেছি।

আর সেই দস্যুদের কথা বলতে গেলে—আল্লাহর কসম—তারা অতীতে এবং বর্তমানে এই উম্মাহর জন্য এক মহামারি স্বরূপ। তারা হলো সেই 'ট্রোজান হর্স' (Trojan Horse), যার মাধ্যমে এবং যার প্রভাবে প্রাচীন ও আধুনিক পাশ্চাত্য চিন্তাধারা আমাদের মাঝে অনুপ্রবেশ করেছে।

আমরা তাদের প্রাচীন ইতিহাসের বিস্তারিত পর্যালোচনা করব না—কারণ সুবিস্তৃত কোনো মহাসমুদ্র কি পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করা সম্ভব? তবে আমরা সংক্ষেপে সেই গণ-তওবার জোয়ারে তাদের ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করব, যাকে আমরা—অন্তত আশাবাদের জায়গা থেকে—'ইসলামি জাগরণ' বলে অভিহিত করি!!

--------------------------------------------

(১) ইমাম আয-যাহাবি তাঁর 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (১০/৫৪২) গ্রন্থে তার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, সে মূলত একজন ব্রাহ্মণ ছিল এবং সে মুতাজিলা মতবাদের আড়ালে ইসলামকে ব্রাহ্মণবাদে রূপান্তর করতে চেয়েছিল; ঠিক যেভাবে আবদুল্লাহ ইবনে সাবা শিয়া মতবাদের আড়ালে ইসলামকে ইহুদিবাদে রূপান্তর করতে চেয়েছিল!!
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১১)
لقد أراد كل كمين من هذه السبل المتفرقة التي نهى الله عن اتباعها أن يستغل بواكير هذه الصحوة، ويستغفل شبابها الغض، فيلقي عليهم ثوب بدعته، ويقنعهم بقناع مذهبه حتى تصبح الأمة العائدة - وهي التي أراد الله لها، ونريد لها أن تكون أمةً واحدةً على المنهج الأبلج النقي - - تصبح شيعًا وأحزابًا، كما كان حالها أيام الزحف التتري أو الصليبي.

فأحدهم (صوفي) لا يعرف من التدين إلا الطبل والمزمار، والحضرة والتواجد … يندس في الصفوف العائدة رافعًا راية التصوف - أو خرقته -، ساعيًا بأقصى جهده إلى تصويف المسيرة كلها.

وذاك رافضيٌّ خبيثٌ يتقمَّص شخصية الدجال تحت عمامة المجدد، ويلوح للجموع الباحثة عن الطريق: أن تعالوا إلى الإسلام، وما غايته إلا ترفيض القافلة بأجمعها.

وذلك مستشرق عربي! غذَّاه المستشرقون الغربيون بما استطاعت عقولهم الضحلة أن تلتقطه من فتات أفكار الفرق البائدة، وأظهروا أمامه التباكي على تراثها الإسلامي المفقود، وكنوزه الضائعة، واستحثوه أن يشتغل بالتنقيب عنها ونشرها (1)، فجاء المخدوع أو المتآمر ينبش رميم الباطنية والحلولية، وينفض الغبار عن هرطقة الفلاسفة والمعتزلة، ويحقق كتب البدع والفرقة، تحت ستار إحياء التراث والتحقيق العلمي

--------------------------------------------

(1) انظر على سبيل المثال تقديم المستشرق (ألفرد جيوم) لكتاب المعتزلة لزهدي جار الله، وكلام المستشرق (اربري) في مقدمة كتاب التوحيد لأبي منصور الماتريدي، تحقيق فتح الله خليفة. أما جهد (ماسينيون) و (نيكسون) لإحياء الفكر الصوفي، وما بذله تلامذتهم الشرقيون، فلا تحتاج إلى تمثيل.
আল্লাহ যে ভিন্ন ভিন্ন পথগুলো অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন, সেগুলোর প্রতিটি ওত পেতে থাকা ফাঁদ এই নবজাগরণের প্রারম্ভিক অবস্থাকে কাজে লাগাতে এবং এর কোমলমতি তরুণদের অসতর্কতার সুযোগ নিতে চেয়েছে। তারা তাদের ওপর নিজেদের বিদআতের পোশাক চাপিয়ে দিতে এবং স্বীয় মতবাদের মুখোশ পরিয়ে দিতে চায়, যাতে এই প্রত্যাবর্তনকারী উম্মাহ—যাকে আল্লাহ এক উম্মাহ হিসেবে দেখতে চেয়েছেন এবং আমরাও চাই তারা স্পষ্ট ও বিশুদ্ধ মানহাজের ওপর এক থাকুক—তা বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে; যেমনটি তাতার বা ক্রুসেডার আক্রমণের দিনগুলোতে হয়েছিল।

তাদের মধ্যে কেউ একজন (সুফি), যে ঢোল-বাঁশি এবং 'হাজরা' ও আধ্যাত্মিক আবেশ ছাড়া দ্বীনদারির আর কিছুই চেনে না... সে তাসাউউফের ঝাণ্ডা—বা তার জীর্ণ আলখাল্লা—উত্তোলন করে এই প্রত্যাবর্তনকারী কাতারগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়ছে এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় এই পুরো পরিক্রমাকেই 'সুফি' বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে।

আবার কেউ একজন হলো এক খবিস রাফেজি, যে সংস্কারকের পাগড়ির নিচে দাজ্জালের চরিত্র ধারণ করে আছে। সে পথসন্ধানী জনতার উদ্দেশ্যে ইশারা করছে: 'এসো ইসলামের দিকে', অথচ তার একমাত্র লক্ষ্য হলো এই পুরো কাফেলাকেই রাফেজি আকিদায় দীক্ষিত করা।

আর অন্যজন হলো একজন আরব প্রাচ্যবিদ! পশ্চিমা প্রাচ্যবিদরা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ফিরকাগুলোর চিন্তাধারার যে উচ্ছিষ্ট তাদের অগভীর মস্তিস্কে সংগ্রহ করতে পেরেছিল, তা দিয়েই তাকে পুষ্ট করেছে। তারা তার সামনে ওইসব ফিরকার হারানো ইসলামি ঐতিহ্য ও হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের জন্য কৃত্রিম বিলাপ প্রদর্শন করেছে এবং তাকে সেগুলো অনুসন্ধান ও প্রকাশ করার জন্য প্ররোচিত করেছে (১)। ফলে সেই প্রতারিত অথবা ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তি বাতিনিয়্যাহ ও হুলুলিয়্যাহর পচা অবশেষ খুঁড়ে বের করতে এসেছে; সে দার্শনিক ও মুতাজিলাদের ধর্মদ্রোহিতার ধুলো ঝাড়ছে এবং ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার আড়ালে বিদআত ও বিভেদের কিতাবসমূহ সম্পাদনা করছে।

--------------------------------------------

(১) উদাহরণস্বরূপ দেখুন, জুহদি জারুল্লাহর 'আল-মুতাজিলা' গ্রন্থে প্রাচ্যবিদ (আলফ্রেড গুইলাম)-এর ভূমিকা এবং ফাতহুল্লাহ খলিফা কর্তৃক সম্পাদিত আবু মনসুর আল-মাতুরিদির 'কিতাবুত তাওহিদ'-এর ভূমিকায় প্রাচ্যবিদ (আরবেরি)-র বক্তব্য। আর সুফি চিন্তাধারা পুনরুজ্জীবনে (মাসিনিয়ন) ও (নিকোলসন)-এর প্রচেষ্টা এবং তাদের প্রাচ্যদেশীয় শিষ্যদের অবদান তো কোনো উদাহরণেরই অপেক্ষা রাখে না।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১২)
النزيه … وما الغرض إلا تمزيق طريق العودة، وتشتيته ذات اليمين وذات الشمال، وإذكاء القروح الميتة في كبد الأمة الجريحة، وأقلّ ما فيه صرف النظر عن الكنوز الحقيقية التي ليست مجرد تراث!! بل هي منبع الحياة الفكرية، ومعالم على طريق المنهج القويم. وجاءت سبل وطوائف أخرى … وتكدست في المكتبة الإسلامية.

وفي أخطر ركن فيها - وهو ركن العقيدة - صحائف سود، لا أعني سواد مدادها ولكن سواد فكرها، واستشرت ظلمات بدعتها حتى ظهرت على صفحات المجلات والجرائد، فأخرجوها من دوائر المتخصصين إلى متناول العوام المساكين.

وهذه الكتب والمقالات قد تبدو للناظر أول وهلة وكأنها هي مجرد امتداد للفرق المنحرفة القديمة، ولا دافع لها إلا التعصب لتلك الفرق والمذاهب، والواقع أن وراء تلك الأكمة ما وراءها، وأن هذه النظرة إن صدقت على بعضهم لا تصدق على كلهم، فهي لا تهدف للتعصب للماضي بقدر ما هي تخطط وتبرمج للمستقبل، مستغلةً سذاجة غالب شباب الصحوة كما أسلفنا.

ومن الأدلة على ذلك: ما يفتعله أصحاب هذا الاتجاه البدعي المقنع حين ينشرون أفكارهم وكتبهم على الملأ، ويحثون الشباب على قراءتها، ثم لا يفوتهم أن يقرنوا ذلك بالتباكي على ما تعيشه أمة الإسلام من تفرق وتمزق، وأنها ما تزال تبحث مسألة (أين الله)، ومسألة (القرآن مخلوق أم قديم)، و (قضايا الفلاسفة والمعتزلة والصوفية والأشاعرة … إلخ).
নির্ভেজাল … আর এর উদ্দেশ্য হলো প্রত্যাবর্তনের পথকে ছিন্নভিন্ন করা, তাকে ডানে ও বামে বিক্ষিপ্ত করে দেওয়া এবং এই ক্ষতবিক্ষত উম্মাহর কলিজায় মৃত ক্ষতগুলোকে পুনরায় জাগিয়ে তোলা। এর ন্যূনতম ক্ষতি হলো সেই প্রকৃত ধনভাণ্ডার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়া যা কেবল ঐতিহ্য নয়!! বরং তা হলো বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনের উৎস এবং সঠিক পদ্ধতির পথের দিশারি। আরও কিছু পথ ও গোষ্ঠী এসেছে … এবং ইসলামি লাইব্রেরিতে স্তূপাকার হয়েছে।

আর এর সবচেয়ে বিপজ্জনক কোণে—যা হলো আকিদার ক্ষেত্র—রয়েছে কিছু কালো অধ্যায়। আমি কালির কালোর কথা বলছি না, বরং তাদের চিন্তার কৃষ্ণতার কথা বলছি। তাদের বিদআতের অন্ধকার এতটাই বিস্তার লাভ করেছে যে, তা সাময়িকী ও সংবাদপত্রের পাতায় দৃশ্যমান হয়েছে; ফলে তারা একে বিশেষজ্ঞদের গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ অসহায় মানুষের নাগালে নিয়ে এসেছে।

এই বই ও নিবন্ধগুলো প্রথম দর্শনে পর্যবেক্ষকের কাছে মনে হতে পারে যে, এগুলো কেবল প্রাচীন পথভ্রষ্ট দলগুলোরই একটি সম্প্রসারণ মাত্র, এবং সেসব দল ও মাযহাবের প্রতি অন্ধ পক্ষপাত ছাড়া এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দৃশ্যপটের অন্তরালে আরও গভীর কিছু রয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি যদি কারো কারো ক্ষেত্রে সত্য হয়ও, তবে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তাদের লক্ষ্য অতীতের প্রতি গোঁড়ামি প্রদর্শন করা নয়, বরং তারা ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নির্ধারণ করছে; আর এক্ষেত্রে তারা জাগরণকামী অধিকাংশ যুবকদের সরলতাকে কাজে লাগাচ্ছে, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

এর অন্যতম প্রমাণ হলো: এই ছদ্মবেশী বিদআতি ধারার অনুসারীরা যখন জনসমক্ষে তাদের চিন্তাধারা ও বইপত্র প্রচার করে এবং যুবকদের তা পড়তে উৎসাহিত করে, তখন তারা একটি অপকৌশল অবলম্বন করে। তারা এসব প্রচারের পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি ও ছিন্নভিন্ন অবস্থার জন্য কৃত্রিম শোক প্রকাশ করতেও ভুলে যায় না। তারা আক্ষেপ করে বলে যে, এই উম্মাহ এখনো 'আল্লাহ কোথায়', 'কুরআন কি মাখলুক (সৃষ্ট) নাকি কদীম (অনাদি)' এবং দার্শনিক, মুতাজিলা, সুফি ও আশআরিদের বিভিন্ন মাসআলা … ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পড়ে আছে।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
في حين أن العدو يحتل أراضيها ويهدد كيانها، ولا يفرق بين أحدٍ منها، فهلا انصرف المسلمون لمحاربة الشيوعية، ومقاومة الخطط الصهيونية، وتركوا هذه الخلافات!!.

يتباكون على هذا، وهم يقدمون للشباب مؤلفات كلها تفلسف وتجهم واعتزال وتصوف وتشعر … الخ.

وأشهد أن بعضهم - إن لم أقل كثيرًا منهم - قد كتب الكثير من المؤلفات في الطعن على السلف، والنيل من عقيدتهم، والدعوة الصريحة إلى البدعة التي هي أصل الانقسام والفُرقة، وما كتب حرفًا واحدًا قط عن الشيوعية والصهيونية، بل إن واقع حاله يدل على أن تضليل - أو تكفير - أئمة عقيدة السلف أولى عنده وأهم من محاربة الشيوعية أو الصهيونية.

وأخطر من هؤلاء: طائفة من القطاع هالها كساد سوقها، وتكدس مصنفاتها البدعية، فعمدت إلى أسلوب أمكر وأخبث، وهو انتحال مذهب السلف الصالح ظاهرًا، وادعاء أنه ومذهبها سواء، وزعمت أنها بذلك تخدم مصلحة الإسلام، وتسعى لجمع المسلمين، فبعثروا المعالم والمعايير أمام الشباب الحائر، فلم يعد يدري كيف يسير.

هذا الأسلوب بدأه الرافضة منذ مطلع القرن العشرين بما أسموه (التقريب بين المذاهب الإسلامية)، ثم تبعتهم الفرق البدعية الأخرى تحت شعار (توحيد الصفوف)، فقدموا للشباب الذهب مع البهرج والحجارة والنحاس، وقالوا: لا بد من صهر الجميع في بوتقة واحدة، ولا عليك إن اخترت منها ما شئت، فالكل يسمى معدنًا.
যখন শত্রু তাদের ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে এবং তাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে, আর তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করছে না, তখন কি মুসলিমদের উচিত ছিল না কমিউনিজম মোকাবিলায় এবং জায়নবাদী পরিকল্পনার প্রতিরোধে মনোনিবেশ করা এবং এই মতভেদগুলো পরিহার করা!!

তারা এই বিষয়ে কান্নাকাটি করে, অথচ তারাই তরুণ প্রজন্মের সামনে এমন সব রচনাবলি পেশ করছে যা দর্শন, জাহমিয়্যাত, ইতিযাল (মুতাজিলা মতবাদ), তাসাউফ এবং আশআরী মতবাদে ভরপুর … ইত্যাদি।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ—যদি অনেকে না বলি—সালাফদের সমালোচনা করে, তাঁদের আকিদাকে হেয় করে এবং সুস্পষ্টভাবে বিদআতের দিকে আহ্বান জানিয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা অনৈক্য ও বিভক্তির মূল উৎস। তারা কমিউনিজম ও জায়নবাদ সম্পর্কে কখনো একটি অক্ষরও লেখেনি। বরং তাদের বাস্তব অবস্থা এটাই প্রমাণ করে যে, সালাফী আকিদার ইমামদের পথভ্রষ্ট সাব্যস্ত করা—অথবা কাফির বলা—তাদের নিকট কমিউনিজম বা জায়নবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারযোগ্য।

এদের চেয়েও ভয়ংকর হলো এমন একদল লোক, যারা তাদের মতবাদের মন্দা বাজার এবং বিদআতী কিতাবসমূহের স্তূপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। ফলে তারা আরও ধূর্ত ও জঘন্য এক পন্থা অবলম্বন করেছে; আর তা হলো—প্রকাশ্যে সালাফে সালেহীনের মাযহাবের ছদ্মবেশ ধারণ করা এবং দাবি করা যে তাদের মাযহাব ও সালাফদের মাযহাব একই। তারা দাবি করে যে, এর মাধ্যমে তারা ইসলামের স্বার্থরক্ষা করছে এবং মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছে। এভাবে তারা বিভ্রান্ত তরুণদের সামনে সত্যের পথনির্দেশ ও মানদণ্ডসমূহকে ওলটপালট করে দিয়েছে, ফলে তারা এখন আর জানে না কোন পথে চলতে হবে।

এই পদ্ধতির সূচনা করেছিল রাফেযীরা বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, যাকে তারা ‘ইসলামী মাযহাবসমূহের মধ্যে সমন্বয়’ (তাকরীব) বলে অভিহিত করেছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য বিদআতী দলগুলোও ‘ঐক্যবদ্ধ সারি’ স্লোগানের আড়ালে তাদের অনুসরণ করে। তারা তরুণদের সামনে সোনার সাথে মেকি চাকচিক্য, পাথর ও তামা মিশিয়ে পেশ করেছে এবং বলেছে: “সবকিছুকে এক পাত্রে গলিয়ে একীভূত করা আবশ্যক, আর তুমি এখান থেকে যা খুশি গ্রহণ করো তাতে কিছু যায় আসে না, কারণ সবকটিই তো ধাতু হিসেবে গণ্য।”
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
وإن مما يدمي القلب أن كثيرًا من شباب الصحوة خدعته هذه الدعاوى الزائفة، وعصبت عينيه عن رؤية الحق الصراح، فتطوعوا بخدمة قطاع الطريق الماكرين، حتى أن بعض المراكز الإسلامية في الغرب وغيره أصبحت أوكارًا للرافضة وغيرها، وانتعشت البدع والشركيات حتى صرح بعض سدنة الأضرحة أن إقبال الشباب عليهم في زيادة مستمرة، وأن المريدين أخذت أعدادهم في السنوات الأخيرة تتضاعف، وكلما سمعت أو رأيت شيئًا من هذه الظواهر المرعبة أسأل نفسي بحق: هذه الصحوة الإسلامية التي نبتهج ببشائرها، ونتطلع إلى بواكيرها، أهي صحوة فعلًا، أم هي - عياذًا بالله - انتكاسة جديدة إلى موروثات الوثنية الإغريقية، والصوفية الهندية؟.

أم أن الخمرة المسكرة الوحيدة في نظر بعضنا، هي خمرة الافتتان بالغرب وأفكاره ونظمه، ومن صحا منها فلا عليه أن يسكر بخمرة الوجد والفناء، أو نبيذ البدع والأهواء، فلا يصحو إلى يوم يُبعَثون؟!.

وأسأل نفسي أيضًا: لماذا يرفض شباب الإسلام الفكرة الواحدة نفسها إن كان سندها - مثلًا -: (ماركس) عن (هيجل) عن (أرسطو)، ويعدها كفرًا وإلحادًا، ويقبلها ويتعصب لها - بذاتها - إذا كان سندها: الرازي عن ابن سينا عن أرسطو؟!.

أم أن عداوتنا أصبحت كعداوة الثور للون الأحمر فقط، فنعادي الباطل؛ لأنه منقولٌ عن الغرب وأذنابه، لا لأنه باطل يجب معاداته أينما وجد في واقع أنفسنا، أو في صفحات تاريخنا، أو موروثات مجتمعاتنا ومذاهبنا.
হৃদয়বিদারক বিষয় হলো যে, ইসলামি জাগরণের অনেক যুবক এই মিথ্যা দাবিগুলোর দ্বারা প্রতারিত হয়েছে, যা তাদের চোখ থেকে সুস্পষ্ট সত্য দেখার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। ফলে তারা ধূর্ত পথভ্রষ্টকারীদের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছে। এমনকি পশ্চিমা বিশ্বসহ অন্যান্য স্থানের কিছু ইসলামি কেন্দ্র রাফেজি ও অন্যদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। বিদআত ও শিরক এতটাই চাঙ্গা হয়েছে যে, মাজারগুলোর কিছু খাদেম প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে যে, তাদের কাছে যুবকদের আগমন ক্রমাগত বাড়ছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুরিদদের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে শুরু করেছে। যখনই আমি এই ভয়াবহ রূপগুলোর কিছু শুনি বা দেখি, তখন নিজেকে যথার্থই প্রশ্ন করি: এই যে ইসলামি জাগরণ যার শুভ সংবাদে আমরা আনন্দিত হই এবং যার প্রারম্ভিক সুফলের প্রতীক্ষা করি, এটি কি আসলেই কোনো জাগরণ, নাকি—আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই—এটি গ্রিক পৌত্তলিকতা এবং ভারতীয় সুফিবাদী ঐতিহ্যের দিকে এক নতুন পশ্চাদপসরণ?

নাকি আমাদের কারও কারও দৃষ্টিতে একমাত্র মত্তকারী পানীয় হলো কেবল পশ্চিমা বিশ্ব এবং তার ধ্যান-ধারণা ও ব্যবস্থার প্রতি মোহাচ্ছন্নতা? আর যে ব্যক্তি তা থেকে সজাগ হয়, তার জন্য কি ‘ওয়াজদ’ ও ‘ফানা’র সুধায় মাতাল হওয়া কিংবা বিদআত ও প্রবৃত্তির মদে মগ্ন হওয়া অনিবার্য, যাতে কিয়ামত পর্যন্ত তার আর হুঁশ না ফেরে?!

আমি নিজেকে আরও প্রশ্ন করি: কেন মুসলিম যুবকেরা একই ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে যদি তার সূত্র হয়—উদাহরণস্বরূপ—অ্যারিস্টটল থেকে হেগেল, আর হেগেল থেকে মার্ক্স; এবং তাকে কুফর ও নাস্তিকতা বলে গণ্য করে, অথচ সেই একই ধারণাকে গ্রহণ করে এবং তার স্বপক্ষে গোঁড়ামি প্রদর্শন করে যদি তার সূত্র হয়—অ্যারিস্টটল থেকে ইবনে সিনা, আর ইবনে সিনা থেকে রাজি?!

নাকি আমাদের শত্রুতা কেবল লাল রঙের প্রতি ষাঁড়ের শত্রুতার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে? ফলে আমরা বাতিলকে ঘৃণা করি কেবল এই কারণে যে, তা পশ্চিম ও তাদের অনুচরদের থেকে বর্ণিত হয়েছে; এই কারণে নয় যে, তা মূলত বাতিল এবং তার বিরোধিতা করা আবশ্যক—তা আমাদের নিজেদের বাস্তবতায়, আমাদের ইতিহাসের পাতায় কিংবা আমাদের সমাজ ও মাযহাবের ঐতিহ্যের যেখানেই বিদ্যমান থাকুক না কেন।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
واسم (الإسلام) يطلق على:

(1) - المنتحلون لمذهب السلف اسمًا، والمخالفون له سلوكًا وفهمًا.

(2) - عموم الاسم لكل مسلم لم ينتسب لعقيدة بدعية، وظلَّ على الإيمان المجمل الصحيح، أو أيًّا كان تخصصه العلمي؛ فقيهًا، محدثًا، لغويًّا، مؤرخًا، شاعرًا، بل العامي من المسلمين يطلق عليه ذلك.

وأما كلمة (أهل السنة والجماعة) فهو مصطلحٌ عزيز، وشعارٌ عظيم، وكيف لا وهو يعبر عن حقيقة الإسلام الصافية النقية التي لا شائبة فيها ولا زيغ، وهو منارٌ وعَلَمٌ على الفرقة الناجية من أمة الإجابة، تلك الفرقة التي تمسكت بما كان عليه صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وصبرت عليه، وجاهدت في سبيله، فكانوا كما قال بعض السلف: (أهل السنة في الإسلام كأهل الإسلام في سائر الملل).

والتفرق والاختلاف من البلاء الذي لم يرفعه الله عن هذه الأمة منذ أن قتلت خليفتها الثالث عثمان بن عفان رضي الله عنه ظلمًا وعدوانًا، كما أشار حديث حذيفة في الفتن التي تموج موج البحر (1).

فهو في حقيقته عقوبة جرى بها القدر المحكم، تحقيقًا لقوله تعالى {قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِنْ فَوْقِكُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُمْ بَاسَ بَعْضٍ} [الأنعام: (65)].

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم ((44) (1)).
'ইসলাম' নামটির প্রয়োগ ক্ষেত্রসমূহ:

(১) - যারা কেবল নামেই সালাফদের মতাদর্শের দাবিদার, কিন্তু আচরণ ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে তার বিরোধী।

(২) - এমন প্রত্যেক মুসলিমের ক্ষেত্রে এই নামের সাধারণ প্রয়োগ, যারা কোনো বিদআতি আকিদার সাথে সম্পৃক্ত নয় এবং সঠিক ও সামগ্রিক ঈমানের ওপর অটল রয়েছে; চাই তাদের জ্ঞানগত বিশেষত্ব যাই হোক না কেন—ফকিহ, মুহাদ্দিস, ভাষাবিদ, ইতিহাসবিদ কিংবা কবি; এমনকি সাধারণ মুসলিমদের ওপরও এই নামের প্রয়োগ হয়।

আর 'আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত' শব্দটি একটি মর্যাদাপূর্ণ পরিভাষা এবং এক মহান প্রতীক। কেনই বা তা হবে না, অথচ এটি ইসলামের সেই স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ হাকিকতকে প্রকাশ করে যাতে কোনো প্রকার মিশ্রণ বা বিচ্যুতি নেই। এটি উম্মতে ইজাবাহর (রাসূলের আহ্বানে সাড়া দানকারী উম্মত) মধ্য থেকে সেই মুক্তিপ্রাপ্ত দলের (ফিরকা নাজিয়াহ) জন্য এক আলোকবর্তিকা ও নিদর্শন, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে, তার ওপর ধৈর্য ধারণ করেছে এবং তার পথে সংগ্রাম করেছে। তারা ছিলেন ঠিক তেমনই, যেমনটি কোনো কোনো সালাফ বলেছেন: "অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝে মুসলিমদের যে অবস্থান, ইসলামের ভেতরে আহলুস সুন্নাহর অবস্থান ঠিক তদ্রূপ।"

দলাদলি ও মতবিরোধ হলো সেই পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তাআলা এই উম্মত থেকে সরিয়ে নেননি—যখন থেকে তাদের তৃতীয় খলিফা উসমান ইবন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে অন্যায় ও জুলুমের মাধ্যমে শহীদ করা হয়েছে। যেমনটি হুজাইফা বর্ণিত হাদিসে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ধেয়ে আসা ফিতনাসমূহের ব্যাপারে ইঙ্গিত করা হয়েছে (১)।

বস্তুত এটি এক শাস্তি যা সুনির্ধারিত তাকদির অনুযায়ী কার্যকর হয়েছে, মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতাস্বরূপ: {বলুন, তিনিই সক্ষম তোমাদের ওপর তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে আজাব পাঠাতে, অথবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দ্বন্দ্বে লিপ্ত করতে এবং তোমাদের একে অপরকে অন্যের সংঘাতের স্বাদ আস্বাদন করাতে।} [সূরা আল-আনআম: (৬৫)]।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ((৪৪) (১))।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
على ما فسرتها به الأحاديث الصحيحة (1)، ولله في ذلك الحكمة البالغة، وما أصاب المسلمين عامة من مصيبة فبما كسبت أيديهم ويعفو عن كثير، وليس بخارج عن سنة الله أن يبتليهم بما لم يبتل به أمم الكفر، أو يذيقهم من البأس ما لم يذقها.

وليس عجيبًا في سنة الله أن يأتي عصر يقلّ فيه أهل السنة والجماعة ويستضعفون، ويعلو فيه أهل البدعة والفرقة ويسيطرون، فهذا أيضًا من الابتلاء - ابتلاء التمحيص والرفع - الذي هو سنة الله في الأنبياء من قبل: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا} [الفرقان: 31].

{وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لِيَقُولُوا أَهَؤُلَاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْنِنَا أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ} [الأنعام: 53].

ولكن العجب المستنكر أن تطغى البدع حتى يبلغ من جرأة أصحابها أن يدّعوا أنهم هم أهل السنة والجماعة، وأن أهل السنة والجماعة هم أهل الضلالة والفرقة!.

أو يضيع الحق بين تفريط أهل السنة والجماعة وتلبيس أهل الضلالة والفرقة، فيقال: إن هؤلاء من هؤلاء، وأن الفرقتين سواء - دون نكير ولا اعتراض -.

--------------------------------------------

(1) وهي أحاديث كثيرة، جمعها الحافظ ابن كثير رحمه الله، انظر الطبعة المحققة من تفسيره (3/ 264 - 272).
সহীহ হাদীসসমূহ যেভাবে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছে (১), এবং এতে আল্লাহর জন্য রয়েছে সুগভীর প্রজ্ঞা। সাধারণভাবে মুসলিমদের ওপর যে বিপদ আপতিত হয়, তা তাদের কৃতকর্মের কারণেই, অথচ তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন। কাফির জাতিসমূহকে আল্লাহ যে পরীক্ষার সম্মুখীন করেননি, তদ্রূপ পরীক্ষার মাধ্যমে মুসলিমদের পরীক্ষা করা অথবা তাদেরকে এমন কষ্টের স্বাদ আস্বাদন করানো যা অন্যদের করাননি, তা আল্লাহর সুন্নাহ বা নিয়মের বহির্ভূত নয়।

আর আল্লাহর নিয়মে এটি কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয় যে, এমন এক সময় আসবে যখন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অনুসারীরা সংখ্যায় কমে যাবে এবং তারা দুর্বল হয়ে পড়বে, আর বিদআত ও অনৈক্য সৃষ্টিকারীরা শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং প্রভাব বিস্তার করবে। এটিও এক ধরণের পরীক্ষা—শোধন ও মর্যাদা বৃদ্ধির পরীক্ষা—যা পূর্ববর্তী নবীদের ক্ষেত্রেও আল্লাহর সুন্নাহ ছিল: "আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়েছি। আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার পালনকর্তাই যথেষ্ট।" [আল-ফুরকান: ৩১]।

"আর এভাবেই আমি তাদের একজনকে অন্যজনের মাধ্যমে পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা বলে: 'আমাদের মধ্যে কি এদের ওপরই আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন?' আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সম্যক অবগত নন?" [আল-আন'আম: ৫৩]।

তবে বিস্ময়কর ও নিন্দনীয় বিষয় হলো, বিদআতের এতোটা প্রাদুর্ভাব ঘটা যে, এর ধারকদের দুঃসাহস এই পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে তারা নিজেদেরকেই 'আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত' বলে দাবি করে বসে এবং প্রকৃত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে ভ্রষ্ট ও অনৈক্য সৃষ্টিকারী বলে আখ্যায়িত করে!

অথবা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের শিথিলতা এবং পথভ্রষ্ট ও অনৈক্য সৃষ্টিকারীদের প্রতারণার মাঝে সত্য বিলুপ্ত হয়ে যায়, তখন বলা হয়: এরাও তাদেরই অংশ এবং উভয় দলই সমান—কোনরূপ প্রতিবাদ বা আপত্তি ব্যতিরেকেই।

--------------------------------------------

(১) এ সম্পর্কিত বহু হাদীস রয়েছে, যা হাফেয ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) সংকলন করেছেন; দেখুন তাঁর তাফসীরের তাহকীককৃত সংস্করণ (৩/ ২৬৪-২৭২)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
فهذا - حسب التشبيه المأثور في حال أهل السنة بين أهل الإسلام - مثلما لو ادعى عدوٌ للإسلام أن أهل الإسلام بين أهل الأديان قليلٌ؛ كالشعرة البيضاء في الثور الأسود، ورتب على هذا أنهم شذَّاذ لا اعتداد بخلافهم، ولا اعتبار لدينهم الذي خالفوا به سائر أمم الأرض.

فهذا ادعاءٌ لا يستحق كبير اهتمام، ولا يبعث كثير عجب، ولكن لو ادعى هذا العدو أن اليهود والنصارى هم المسلمون المتمسكون بما كان عليه الأنبياء جميعًا، وأنهم هم الأمة المصطفاة التي أورثها الله الكتاب، وأن المسلمين هم المخالفون لمنهج الأنبياء، وهم أولى أن يسموا بكل اسم سمي به أعداء الأنبياء ومخالفوهم، وسمَّاهم هذا العدو (المشركين أو الصابئين) (1)، أو نحو ذلك.

فهذا ما لا يملك أي مسلم يعرف حقيقة دينه أن يسكت عليه؛ لأنه قَلْبٌ للحقائق، ومكابرةٌ للعقول، ولو شاع مثل هذا الادعاء وسكت عليه المسلمون أو أقروه - كلهم أو بعضهم - حتى أصبح مصطلح (المشركين) أو (الصابئين) يعنيهم عند الإطلاق، ومصطلح (المسلمين) يعني اليهود أو النصارى أو المشركين … لكان هذا خرقًا فظيعًا عما استقرت عليه الأفهام، وأجمعت عليه العقول، وتعارف عليه التاريخ المتواتر.

والمؤلم حقًّا أن هذا الذي لا يصدقه العقل بالنسبة للإسلام مع الملل قد أصبح - إلى حد ما - حقيقةً واقعةً بالنسبة لأهل السنة والجماعة مع الفرق!.

--------------------------------------------

(1) كما كانت قريش تسمي النبي صلى الله عليه وسلم والمؤمنين معه (الصباة).
সুতরাং এটি—ইসলামের অনুসারীদের মাঝে আহলে সুন্নাতের অবস্থান সম্পর্কে বর্ণিত প্রসিদ্ধ উপমা অনুযায়ী—তেমনই, যেমনটি ইসলামের কোনো শত্রু যদি দাবি করত যে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের তুলনায় মুসলিমদের সংখ্যা অতি সামান্য; যেমন একটি কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা লোম। আর এই দাবির ওপর ভিত্তি করে সে যদি সিদ্ধান্ত নিত যে তারা মূলধারা থেকে বিচ্যুত একদল মানুষ যাদের ভিন্নমতের কোনো গুরুত্ব নেই, আর তাদের সেই ধর্মেরও কোনো মর্যাদা নেই যার মাধ্যমে তারা পৃথিবীর অন্যান্য জাতি থেকে স্বতন্ত্র হয়েছে।

এই দাবিটি তেমন বিশেষ কোনো গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য নয় এবং খুব বেশি আশ্চর্যের উদ্রেকও করে না। কিন্তু সেই শত্রু যদি দাবি করত যে ইয়াহুদি ও নাসারারাই মূলত সেই মুসলিম যারা সকল নবীদের আদর্শকে আঁকড়ে ধরে আছে, এবং তারাই সেই মনোনীত জাতি যাদেরকে আল্লাহ কিতাবের উত্তরাধিকার দান করেছেন; পক্ষান্তরে মুসলিমরাই নবীদের মানহাজ বা পদ্ধতির বিরুদ্ধাচরণকারী এবং নবীদের শত্রু ও বিরোধীদের যেসব নামে ডাকা হয়, মুসলিমরাই সেই নামে অভিহিত হওয়ার অধিক যোগ্য; আর সেই শত্রু যদি তাদেরকে (মুশরিক বা সাবেয়ি) (১) অথবা এজাতীয় কোনো নামে অভিহিত করত।

তবে নিজের ধর্মের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অবগত কোনো মুসলিমের পক্ষেই এমন বিষয়ে চুপ থাকা সম্ভব নয়; কারণ এটি হলো সত্যের অপলাপ এবং বিবেক-বুদ্ধির সাথে ধৃষ্টতা। আর যদি এই দাবিটি ছড়িয়ে পড়ত এবং মুসলিমরা—সকলে বা তাদের একাংশ—এর ব্যাপারে নীরবতা পালন করত অথবা একে মেনে নিত, এমনকি শেষ পর্যন্ত সাধারণ প্রয়োগে ‘মুশরিক’ বা ‘সাবেয়ি’ পরিভাষাটি যদি তাদেরকেই বোঝাত এবং ‘মুসলিম’ পরিভাষাটি ইয়াহুদি, নাসারা কিংবা মুশরিকদের বোঝাতে ব্যবহৃত হতো … তবে তা হতো মানুষের প্রতিষ্ঠিত বোধশক্তি, সর্বজনীন বুদ্ধিবৃত্তি এবং ইতিহাসের অকাট্য ও নিরবচ্ছিন্ন ধারার এক ভয়াবহ লঙ্ঘন।

প্রকৃতপক্ষে যন্ত্রণাদায়ক বিষয় হলো এই যে, অন্যান্য ধর্মের মোকাবিলায় ইসলামের ক্ষেত্রে যা বিবেক-বুদ্ধির কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়, বিভিন্ন ফিরকা বা উপদলের মোকাবিলায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ক্ষেত্রে তা—কিছুটা হলেও—বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে!

--------------------------------------------

(১) যেমন কুরাইশরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাথে থাকা মুমিনদের ‘সাবেয়ি’ (স্বধর্মত্যাগী) বলে ডাকত।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد يكون سبب ذلك أن بعض أهل السنة والجماعة لا يعرفون المضمون الكامل، والمنهج الشامل الذي يحويه مدلول (أهل السنة والجماعة)، ولا يدركون حقيقة مناهج الفرق البدعية وأصولها، ومن ثم كانت الخسارة الكبرى لأهل السنة والجماعة، لا أعني خسارة الأتباع، ولكن اضمحلال الشعار، وضياع الحقيقة في ركام الزيف، وفقدان المنهج المتميز في زحمة المناهج.

وقد ركَّب الله تعالى في نفوس بني آدم كافة من معرفة العدل ما ينكرون به أن يتقمص اللص شخص الحارس، وأن ينتحل الفاجر شخصية التقي، وأن يدعي الشيطان حقيقة المَلَك.

وعن هذا عبَّر شاعر المعرَّة بقوله:

فوا عجبًا يدّعي الفضل ناقص ** ووا أسفا كم يُظهر النقص فاضل

إذا وصف الطائيَّ بالبخل مادرٌ ** وعيّر قسًّا بالفهاهة باقل

وقال السهى: يا شمسُ أنتِ خفية ** وقال الدجى: يا صبح لونك حائل

وطاولت الأرضُ السماءَ سفاهة ** وفاخرت الشهبَ الحصى والجنادلُ

فيا موت زر إن الحياة ذميمة ** ويا نفس جدّي إن دهرك هازل

إن الله سبحانه وتعالى أخبرنا عن أصحاب جهنم أنهم يقولون: {لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ} [الملك: (1).]. فنفهم من هذا: أن الكفار لا سمع لهم ولا عقل، وأن المؤمنين أهل السنة والجماعة هم أصحاب السمع الصحيح، والعقل الكامل؛ من جهة أنهم يتلقون عن القرآن
এর কারণ সম্ভবত এই যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের কতিপয় লোক ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ পরিভাষার পূর্ণাঙ্গ মর্মার্থ এবং এর অন্তর্ভুক্ত সামগ্রিক মানহাজ বা কর্মপন্থা সম্পর্কে অবগত নয়। তারা বিদআতি দলসমূহের মানহাজ ও তাদের মূলভিত্তিগুলোর স্বরূপ অনুধাবন করতে পারে না। ফলে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের জন্য এক বড় ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। আমি অনুসারীদের সংখ্যা কমে যাওয়াকে ক্ষতি বলছি না, বরং তা হলো এই আদর্শিক নিশান বা শ্লোগানের ম্লান হয়ে যাওয়া, মিথ্যার জঞ্জালে সত্যের হারিয়ে যাওয়া এবং বহুবিধ মানহাজের ভিড়ে এই স্বতন্ত্র মানহাজটির বিলুপ্তি ঘটা।

আল্লাহ তাআলা বনী আদমের অন্তরে ন্যায়ের এমন এক সহজাত বোধ সঞ্চার করেছেন, যার মাধ্যমে তারা চোর কর্তৃক পাহারাদারের ছদ্মবেশ ধারণ করা, পাপাচারী কর্তৃক পরহেজগার বা মুত্তাকীর রূপ নেয়া এবং শয়তানের ফেরেশতা হওয়ার দাবি করাকে প্রত্যাখ্যান করে।

এ বিষয়ে কবি আল-মাআররী তার কবিতায় বলেছেন:

কতই না আশ্চর্যের বিষয় যে, কোনো অপূর্ণ ব্যক্তি পূর্ণতার দাবি করে; আর বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, কতই না পূর্ণবান মানুষ নিজের দোষ প্রকাশ করেন!

যখন কোনো কৃপণ ব্যক্তি দানশীল হাতেম তাই-কে কৃপণতার অপবাদ দেয়, আর কোনো জড়ভাষী ব্যক্তি বাগ্মী কুস বিন সায়েদাহ-র বাকপটুতা নিয়ে উপহাস করে!

যখন সুহা নামক অতি ক্ষুদ্র নক্ষত্র সূর্যকে বলে: "হে সূর্য, তুমি তো অদৃশ্য!", আর অন্ধকার বলে: "হে প্রভাত, তোমার বর্ণ তো ম্লান!"

যখন জমিন মূর্খতাবশত আসমানের উচ্চতার সাথে পাল্লা দেয়, আর নড়িপাথর ও কঙ্কররা নক্ষত্ররাজির উপর শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করে!

হে মৃত্যু, তুমি এসো, কারণ এই জীবন এখন নিন্দনীয় হয়ে পড়েছে; হে নফস, তুমি সংকল্পবদ্ধ হও, কারণ তোমার সময় তোমার সাথে পরিহাস করছে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের জাহান্নামীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা বলবে: {যদি আমরা শুনতাম অথবা আকল প্রয়োগ করতাম, তবে আমরা প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী হতাম না} [সূরা মুলক: ১০]। এর থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, কাফেরদের প্রকৃত শ্রবণশক্তি ও আকল বা বুদ্ধি নেই; পক্ষান্তরে মুমিনগণ তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হলেন সঠিক শ্রবণশক্তি ও পূর্ণাঙ্গ আকলের অধিকারী। কারণ তারা সরাসরি কুরআন থেকে হিদায়াত লাভ করেন।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
والسنة الصحيحة، ويستخدمون قوة العقل، وملكة الفهم للتمييز بين الحق والباطل، وأن أصحاب البدع أصحاب فساد في السمع وخلل في العقل.

ومن فساد السمع التلقي عن الدجالين والكهان والمشعوذين، أو الفلاسفة والملاحدة والصابئين، والاستشهاد بالروايات الموضوعة والواهية.

ومن فساد العقل عندهم: تحريف معاني النصوص الصحيحة، والتأويلات الباطلة، وضرب الوحي بعضه ببعض من أجل تغيير البدعة التي لا أصل لها فيه.

فللمعرفة إذن مصدران لا ثالث لهما:

(1) - إما الوحي، والعقل السليم، والفطرة المستقيمة، كلٌّ منها يصدق الآخر، وهذا من نصيب أهل السنة والجماعة دون سائر الفرق والملل.

(2) - وإما الأساطير والأوهام والتخرصات والخيالات والوساوس، وهذه تسميها كل ملة منحرفة باسم تزعمه: فالكفار أصحاب النظريات الكونية والنفسية المخالفة للوحي يسمونها (حقائق علمية)، وهؤلاء كذبهم الله تعالى وهدم منهجهم بآيةٍ واحدةٍ من كتابه: {مَا أَشْهَدْتُهُمْ خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنْفُسِهِمْ وَمَا كُنْتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّينَ عَضُدًا} [الكهف: 51].

والفلاسفة ومن حذا حذوهم من المتكلمين المنتسبين للإسلام
এবং সহীহ সুন্নাহ। তারা সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করার জন্য বিচারবুদ্ধির শক্তি ও অনুধাবন ক্ষমতা ব্যবহার করেন। আর বিদআতপন্থীরা হলো শ্রবণেন্দ্রিয়ের কলুষতা ও বিচারবুদ্ধির বিকৃতির শিকার।

শ্রবণেন্দ্রিয়ের কলুষতার অন্তর্ভুক্ত হলো দাজ্জাল, গণক ও জাদুকরদের কাছ থেকে অথবা দার্শনিক, নাস্তিক ও সাবেয়ীদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং জাল ও ভিত্তিহীন বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা।

তাদের নিকট বিচারবুদ্ধির বিকৃতি হলো: বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলোর অর্থের বিকৃতি সাধন করা, বাতিল ব্যাখ্যা প্রদান করা এবং এমন বিদআত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওহীর এক অংশকে অন্য অংশের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো, যার কোনো ভিত্তি ওহীতে নেই।

অতএব, জ্ঞানের উৎস দুটি, যার তৃতীয় কোনোটি নেই:

(১) - হয় ওহী, সুস্থ বিবেক এবং সঠিক স্বভাবজাত প্রকৃতি (ফিতরাত), যার প্রতিটি অন্যটিকে সত্যায়ন করে। আর এটি অন্যান্য সকল দল ও মতাদর্শ বাদ দিয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বৈশিষ্ট্য।

(২) - অথবা উপকথা, অলীক কল্পনা, মনগড়া অনুমান, কল্পনাপ্রসূত চিন্তা ও কুমন্ত্রণা। প্রতিটি পথভ্রষ্ট জাতি তাদের দাবি অনুযায়ী এগুলোর একেকটি নাম দেয়: যেমন কাফেররা, যারা ওহী-বিরোধী মহাজাগতিক ও মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্বের অনুসারী, তারা সেগুলোকে 'বৈজ্ঞানিক সত্য' বলে অভিহিত করে। অথচ মহান আল্লাহ তাদেরকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করেছেন এবং তাঁর কিতাবের মাত্র একটি আয়াতের মাধ্যমেই তাদের মানহাজ বা পদ্ধতিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছেন: "আসমান ও জমিনের সৃষ্টিলগ্নে আমি তাদেরকে উপস্থিত রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টির সময়েও নয়; আর আমি পথভ্রষ্টকারীদের সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণকারী নই।" [সূরা আল-কাহাফ: ৫১]

আর দার্শনিকগণ এবং ইসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের মধ্যে যারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে...
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২০)
يسمونها (البراهين) أو (القواطع العقلية)، وهؤلاء ساروا على المنهج الإبليسي في معارضة الوحي بالرأي: {قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} [الأعراف: (12)].

والمشعوذون والدجالون وغلاة الصوفية المنتسبون للإسلام يسمونها (كشفًا وفيضًا ووجدًا وذوقًا …). وهؤلاء اتبعوا ما تتلو الشياطين على ملك سليمان، وما ورثوه من تعاليم هاروت وماروت، وسحرة الفراعنة، وكهان الهندوس، وأصحاب البدود (1)، كما كانوا يسمونهم.

هذا ونحن نقدم للقراء الكرام كتاب الأشعرية الكبير بعد نفاد الطبعة الأولى من الصغير، نرجو أن ينفع الله بها.

--------------------------------------------

(1) وهم البوذيون، فأصل الكلمة واحد (بوذا) أو (بذ) ومعناها: العارف.
তারা একে ‘প্রমাণ’ অথবা ‘অকাট্য যৌক্তিক দলিল’ বলে অভিহিত করে। এরা ওহীর বিপরীতে নিজস্ব অভিমত বা রায় প্রদানের ক্ষেত্রে ইবলিসি মানহাজ বা পথ অনুসরণ করেছে: {সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদা থেকে’} [আল-আরাফ: ১২]।

আর ইসলামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত ভণ্ড, প্রতারক ও চরমপন্থী সুফীরা একে ‘কাশফ’ (উন্মোচন), ‘ফায়জ’ (আধ্যাত্মিক বিচ্ছুরণ), ‘অজদ’ (ভাবাবেগ) এবং ‘জাওক’ (আধ্যাত্মিক স্বাদ) ... ইত্যাদি বলে অভিহিত করে। এরা সেইসব বিষয়ের অনুসরণ করেছে যা সুলায়মানের রাজত্বকালে শয়তানরা পাঠ করত এবং যা তারা হারুত ও মারুতের শিক্ষা, ফেরাউনের যাদুকরদের বিদ্যা, হিন্দু পুরোহিতদের তন্ত্রমন্ত্র এবং ‘আসহাবুল বুদুদ’ (১)—যেমনটি তারা তাদের সম্বোধন করত—তাদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছে।

এমতাবস্থায়, আমরা সম্মানিত পাঠকদের সামনে আশআরিয়াহ বিষয়ক এই বৃহৎ গ্রন্থটি উপস্থাপন করছি—এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণের প্রথম মুদ্রণ নিঃশেষ হওয়ার পর। আমরা আশা করি আল্লাহ এর মাধ্যমে উপকার দান করবেন।

--------------------------------------------

(১) তারা হলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়। শব্দটির মূল উৎস এক অর্থাৎ ‘বুদ্ধ’ বা ‘বুদ’, যার অর্থ হলো: মহাজ্ঞানী বা পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌أول واجب على المكلف

من البدهيات في التصور الإسلامي - وهو الذي عليه عقيدة السلف - أن أول ما بجب على المكلف: هو توحيد الله عز وجل وعبادته وحده، كما تضمنته كلمة التوحيد (شهادة أن لا إله إلا الله)، وهذه المعاني انتظمتها روايات حديث معاذ رضي الله عنه حين بعثه النبي صلى الله عليه وسلم: إلى أهل الكتاب باليمن، وبيَّن له أول ما يدعوهم إليه؛ ففي رواية: (أن يوحدوا الله)، وفي أخرى: (عبادة الله)، وفي ثالثة: (أن يشهدوا أن لا إله إلا الله وأني رسول الله) (1).

على أن أولية هذه القضية لا تختص بالابتداء بها قبل كل قضية، بل تعني ما هو أهم، وهو أنها أهم وآكد القضايا.

أما وجوده سبحانه وتعالى وأنه خالق الكون؛ فأمر فطري ضروري مركوز في النفوس البشرية جيعها، وإن كابر فيه من كابر.

هذا هو اعتقاد أهل السنة والجماعة.

أما الأشاعرة فإن مذهبهم هو عين مذهب المعتزلة المتابعين لأسلافهم من الفلاسفة المثبتين، الذين جعلوا غاية الإيمان ومحصِّله هو (العلم بحدوث العالم وقدم الصانع).

ولما كانت وسيلة هذا العلم عندهم هي العقل وحده فقد دخلوا في متاهة فلسفية، من جهة أن أول ما يتوقف عليه حصول هذا العلم

--------------------------------------------

(1) الروايات جميعها صحيحة. انظر الفتح ((3) / (357)، 361) (13/ (347)).
মুকাল্লাফের ওপর সর্বপ্রথম ওয়াজিব

ইসলামী জীবনদর্শনের অন্যতম স্বতঃসিদ্ধ বিষয়—যা সালাফদের আকিদাহরও অন্তর্ভুক্ত—তাহলো একজন মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) ওপর সর্বপ্রথম যা ওয়াজিব হয়, তা হলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করা; যেমনটি তাওহীদের কালিমাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই—এই সাক্ষ্য প্রদান) দ্বারা সুনিশ্চিত হয়েছে। মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসের বর্ণনাসমূহে এই মর্মার্থগুলো সুবিন্যস্তভাবে এসেছে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইয়ামেনের আহলে কিতাবদের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তাদের সর্বপ্রথম কিসের দিকে দাওয়াত দিতে হবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। এক বর্ণনায় এসেছে: "তারা যেন আল্লাহর তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করে"; অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "আল্লাহর ইবাদত করা"; এবং তৃতীয় বর্ণনায় এসেছে: "তারা যেন সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল" (১)।

তবে এই বিষয়ের 'অগ্রাধিকার' বা 'প্রথম হওয়ার' বিষয়টি কেবল অন্য সব বিষয়ের আগে এটি শুরু করার সাথেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অর্থ বহন করে; আর তা হলো—এটিই সকল বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সুনিশ্চিত বিষয়।

আর মহান আল্লাহর অস্তিত্ব এবং তিনি যে মহাবিশ্বের স্রষ্টা—এই বিষয়টি একটি ফিতরাতগত ও অত্যাবশ্যকীয় বিষয় যা সকল মানবাত্মার গভীরে প্রোথিত, যদিও কোনো হঠকারী ব্যক্তি এ নিয়ে হঠকারিতা প্রদর্শন করে থাকুক না কেন।

এটিই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের বিশ্বাস।

পক্ষান্তরে আশায়েরা সম্প্রদায়ের মাযহাব হলো হুবহু মুতাযিলাদের মাযহাবের অনুরূপ, যারা তাদের পূর্বসূরি 'ইসবাত' (অস্তিত্ব প্রমাণকারী) দার্শনিকদের অনুসারী ছিল। তারা ঈমানের চরম লক্ষ্য ও অর্জিত নির্যাস হিসেবে নির্ধারণ করেছে: "জগত যে নশ্বর এবং এর স্রষ্টা যে অনাদি—তা জানা"।

যেহেতু তাদের নিকট এই জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম ছিল কেবল বুদ্ধি বা যুক্তি, তাই তারা এক দার্শনিক গোলকধাঁধায় নিপতিত হয়েছে; কারণ এই জ্ঞান অর্জন সর্বপ্রথম যার ওপর নির্ভর করে—

--------------------------------------------

(১) সকল বর্ণনা সহীহ। দেখুন: ফাতহুল বারী ((৩)/(৩৫৭), ৩৬১), (১৩/(৩৪৭))।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২২)
بجب أن يكون هو أول واجب.

فذهب بعضهم إلى أن أول واجب هو النظر.

وذهب آخرون إلى أنه القصد إلى النظر.

وقال بعضهم: إنه إرادة النظر.

وقال بعضهم: إن أول واجب هو أول جزء من النظر.

وقال بعضهم: أول واجب هو اعتقاد وجوب النظر.

وقال بعضهم: بل الشك هو أول واجب؛ لأنه الذي يدفع للقصد إلى النظر.

إلى آخر ما قالوا من التكلف والتعمق فيما لا طائل فيه!!.

وأصل البلاء: هو إنكارهم للمعرفة الفطرية، بل تصريحهم بأن وجود الله تعالى غير معلوم بالاضطرار، وإنما يعلم بالنظر والاستدلال.

وهذا ما قرره وصرح به القاضي المعتزلي عبد الجبار (1)، وتبعه القاضي الأشعري الباقلاني الذي قال ضمن ما يجب على كل أحدٍ اعتقاده، ولا يجوز الجهل به: «وأن يعلم أن أول ما فرض الله عز وجل على جميع العباد النظر في آياته … لأنه سبحانه غير معلوم باضطرار،

--------------------------------------------

(1) قال في كتابه (شرح الأصول الخمسة) الذي حققه الدكتور عبد الكريم عثمان (ص (39)) وهي الأولى من متن الكتاب: «إن سأل سائل فقال: ما أول ما أوجب الله عليك؟ فقل: النظر المؤدي إلى معرفة الله تعالى؛ لأنه تعالى لا يعرف ضرورة ولا بالمشاهدة، فيجب أن نعرفه بالتفكر والنظر» اهـ.
এটিকে প্রথম ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্য হতে হবে।

ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, প্রথম ওয়াজিব হলো তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ (নজর)।

অন্যরা মনে করেন যে, এটি হলো তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের সংকল্প করা।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের ইচ্ছা পোষণ করা।

কারো মতে: প্রথম ওয়াজিব হলো তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের প্রথম অংশ।

কেউ কেউ বলেছেন: প্রথম ওয়াজিব হলো তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের আবশ্যিকতায় বিশ্বাস স্থাপন করা।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: বরং সন্দেহ পোষণ করাই হলো প্রথম ওয়াজিব; কারণ এটিই তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের সংকল্পের দিকে ধাবিত করে।

এভাবে তারা অনর্থক বিষয়ে অহেতুক পাণ্ডিত্য ও কৃত্রিমতার আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন!!

মূলত এই সমস্ত বিভ্রান্তির মূলে রয়েছে তাদের পক্ষ থেকে সহজাত জ্ঞানের (ফিতরি মা'রিফাত) অস্বীকৃতি, বরং তাদের এই সুস্পষ্ট ঘোষণা যে, মহান আল্লাহর অস্তিত্ব স্বতঃসিদ্ধভাবে (জরুরি জ্ঞানে) জানা যায় না, বরং তা কেবল তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ ও যুক্তি-প্রমাণের মাধ্যমেই জানা সম্ভব।

আর এটিই সেই বিষয় যা মুতাযিলি কাজী আবদুল জব্বার (১) স্থির করেছেন এবং স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন; তাকে অনুসরণ করেছেন আশআরি কাজী আল-বাকিলানি, যিনি প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যা বিশ্বাস করা অপরিহার্য এবং যে বিষয়ে অজ্ঞ থাকা বৈধ নয় তার অন্তর্ভুক্ত করে বলেছেন: "এবং এটি জানা যে, মহান আল্লাহ সমস্ত বান্দার ওপর সর্বপ্রথম যা ফরয করেছেন তা হলো তাঁর নিদর্শনাবলির ওপর তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ চালানো... কারণ মহান সত্তা স্বতঃসিদ্ধভাবে পরিচিত নন,"

--------------------------------------------

(১) তিনি তাঁর ‘শারহুল উসুলিল খামসাহ’ গ্রন্থে বলেছেন, যা ডক্টর আবদুল করিম উসমান কর্তৃক সম্পাদিত (পৃ. ৩৯) এবং এটি মূল গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠা: "যদি কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করে: আল্লাহ তোমার ওপর সর্বপ্রথম কী ফরয করেছেন? তবে বলো: এমন তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ যা মহান আল্লাহর পরিচয়ের (মারিফাত) দিকে নিয়ে যায়; কারণ মহান আল্লাহকে অপরিহার্যভাবে বা সরাসরি প্রত্যক্ষণের মাধ্যমে জানা যায় না, তাই চিন্তা ও তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁকে জানা আবশ্যক।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولا مشاهد بالحواس، وإنما يعلم وجوده وكونه على ما تقتضيه أفعاله بالأدلة القاهرة، والبراهين الباهرة.

والثاني من فرائض الله عز وجل على جميع العباد: الإيمان به، والإقرار بكتبه ورسله …» (1) اهـ.

ومعلومٌ من صريح القرآن أن هذا الثاني هو المطلوب الأول الذي دعت إليه رسل الله صلوات الله وسلامه عليهم، وأن وجوده تعالى مما أقرَّ به الكفار المكذبون للرسل، ولا جدال في حض القرآن على النظر والفكر والتدبر، ولكن الكلام هنا في أول واجب، وكونه طريق الإيمان والتوحيد.

ويذهب الجويني إلى أبعد من ذلك، وهو أن أول واجب ليس النظر، بل القصد إلى النظر، قال: «أول ما يجب على العاقل البالغ باستكمال سن البلوغ أو الحُلُم شرعًا: القصد إلى النظر الصحيح المفضي إلى العلم بحدوث العالم» (2) أي: حدوثه.

ثم يدخل في مسائل محيرة ذكرها في (الشامل).

مثل مسألة ما إذا بلغ إنسان ثم اخترمته المنية وهو في أثناء النظر،

--------------------------------------------

(1) الإنصاف (ص (22))، مع أن الجويني في الشامل (ص121) تحقيق النشار وتبعه المتأخرون: ذهب إلى أن مذهب القاضي هو أن أول واجب هو أول جزء من النظر.

(2) الإرشاد (ص (3))، وانظر المواقف (ص (32)).

على أن الجويني في الشامل (ص120) ذكر الأقوال، وانتهى إلى أن النزاع لفظي، ما عدا القول بالشك فهو باطل.
তিনি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষযোগ্য নন; বরং তাঁর অস্তিত্ব এবং তাঁর কার্যাবলির দাবি অনুযায়ী তাঁর স্বরূপ কেবল অকাট্য দলিল ও উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমেই জানা সম্ভব।

আর সকল বান্দার ওপর মহান আল্লাহর দ্বিতীয় ফরজ দায়িত্ব হলো: তাঁর ওপর ঈমান আনা এবং তাঁর কিতাবসমূহ ও রাসুলগণের প্রতি স্বীকৃতি প্রদান করা ...» (১) সমাপ্ত।

কুরআনের সুস্পষ্ট বক্তব্য থেকে এটি সর্বজনবিদিত যে, এই দ্বিতীয় বিষয়টিই হলো সেই প্রথম কাম্য বস্তু যার দিকে আল্লাহর রাসুলগণ (সালাত ও সালাম তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক) দাওয়াত দিয়েছেন। আর মহান আল্লাহর অস্তিত্ব এমন একটি বিষয় যা রাসুলদের অস্বীকারকারী কাফেররাও স্বীকার করত। কুরআনে তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ, চিন্তাভাবনা ও গবেষণার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই; তবে এখানে আলোচনার বিষয় হলো প্রথম আবশ্যিক কর্তব্য এবং ঈমান ও তাওহিদের পথ হিসেবে এর অবস্থান কী তা নিয়ে।

জুওয়াইনি এর চেয়েও অগ্রসর হয়ে মত পোষণ করেছেন যে, প্রথম ওয়াজিব বা কর্তব্য তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ নয়, বরং পর্যবেক্ষণের সংকল্প করা। তিনি বলেন: «শরিয়তের দৃষ্টিতে সাবালকত্ব বা বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্ণতায় বুদ্ধিমান ব্যক্তির ওপর প্রথম যা ওয়াজিব হয় তা হলো: সঠিক তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের সংকল্প করা যা জগতের নশ্বরতা বিষয়ক জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায়» (২) অর্থাৎ: এর নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া।

অতঃপর তিনি 'আশ-শামিল' গ্রন্থে উল্লিখিত কিছু জটিল মাসয়ালায় প্রবেশ করেন।

যেমন সেই ব্যক্তির মাসয়ালা, যে সাবালক হলো এবং এরপর তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণের মাঝপথেই মৃত্যু তাকে গ্রাস করল,

--------------------------------------------

(১) আল-ইনসাফ (পৃ. ২২), যদিও জুওয়াইনি 'আশ-শামিল' গ্রন্থে (পৃ. ১২১, আন-নাশার সম্পাদিত) উল্লেখ করেছেন এবং পরবর্তীকালের আলেমগণ তাঁর অনুসরণ করেছেন যে: কাজীর মাযহাব হলো প্রথম ওয়াজিব হলো পর্যবেক্ষণের প্রথম অংশ।

(২) আল-ইরশাদ (পৃ. ৩), এবং দেখুন: আল-মাওয়াকিফ (পৃ. ৩২)।

উল্লেখ্য যে, জুওয়াইনি 'আশ-শামিল' গ্রন্থে (পৃ. ১২০) বিভিন্ন মত উল্লেখ করেছেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সংশয়বাদের মতটি বাতিল হওয়া ছাড়া বাকি মতভেদগুলো কেবল শাব্দিক।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৪)
فهل يعد مؤمنًا أم لا؟ (1) ونحوها مما يجزم المطَّلع عليها بأنها تكلفات محدثة لا أصل هنا ولا دليل.

وقد نقل الحافظ ابن حجر رحمه الله كلام الجويني وغيره في شرحه لكتاب الإيمان من الفتح، ورد عليه قائلًا: «ومع ذلك فقول الله تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا} [الروم: (30)]، وحديث: (كل مولود يولد على الفطرة) ظاهران في دفع هذه المسألة من أصلها».

ثم قال: «وقد نقل القدوة أبو محمد بن أي جمرة عن أبي الوليد الباجي عن أبي جعفر السمناني - وهو من كبار الأشاعرة - أنه سمعه يقول: إن هذه المسألة من مسائل المعتزلة بقيت في المذهب. والله المستعان» (2).

كما أورد الحافظ في أول كتاب التوحيد من الفتح كلامًا طويلًا جدًّا في هذه المسألة، ذكر فيه - ضمن ما ذكر - كلام أئمة الأشاعرة؛

--------------------------------------------

(1) الشامل (ص122). ومثلها عن المعاصرين ما قاله سعيد حوى: «لقد نص فقهاء الحنفية على أن بنت المسلم إذا تزوجت قبل البلوغ من مسلم فإن الزواج صحيح، ويحكم بإسلامها تبعًا لأبويها، فإذا بلغت وسئلت عن الإسلام فلم تعرف أن تصفه، فإن العقد يعتبر لاغيًا بسبب تبين عدم إسلامها .. وعلى هذا فإن فقهاء الحنفية يعتبرون عدم معرفة الإسلام كفرًا ..» في آفاق التعاليم (ص (93)).

(2) فتح الباري ((1) / (70) -71). على أنها ليست المسألة الوحيدة، بل صرَّح الدكتور النشار مع تعصبه الشديد للأشاعرة أنهم لم يخالفوا المعتزلة في الأصول، وإنما في فهم هذه الأصول. انظر مقدمة الشامل (ص (77)).
তাহলে কি তাকে মুমিন হিসেবে গণ্য করা হবে কি না? (১) এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়াদি দেখে পর্যালোচনা কারী নিশ্চিত হন যে, এগুলো নবউদ্ভাবিত কষ্টকল্পনা ছাড়া কিছুই নয়, যার কোনো ভিত্তি বা দলিল নেই।

হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারিতে 'কিতাবুল ইমান'-এর ব্যাখ্যায় আল-জুওয়াইনি ও অন্যদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন এবং তার প্রতিবাদে বলেছেন: «এতদসত্ত্বেও মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তুমি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখো। এটিই আল্লাহর ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন} [সুরা আর-রুম: ৩০], এবং হাদিস: (প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মলাভ করে) — এ দুটি বিষয় মূলত এই মাসআলাটিকেই গোড়া থেকে খণ্ডন করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট।»

অতঃপর তিনি বলেন: «পথপ্রদর্শক আবু মুহাম্মদ ইবনে আবি জামরা, আবুল ওয়ালিদ আল-বাজির সূত্রে আবু জাফর আস-সিমনানি — যিনি আশআরিদের অন্যতম বড় ইমাম — থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: নিশ্চয়ই এই মাসআলাটি মুতাযিলাদের মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা মাযহাবের মধ্যে রয়ে গেছে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি» (২)।

একইভাবে হাফেজ 'ফাতহুল বারি'-র 'কিতাবুত তাওহিদ'-এর শুরুতে এই মাসআলাটি নিয়ে অত্যন্ত দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, সেখানে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে আশআরি ইমামদের বক্তব্যও রয়েছে;

--------------------------------------------

(১) আশ-শামিল (পৃ. ১২২)। সমসাময়িকদের মধ্যে সাইদ হাওয়া যা বলেছেন তা-ও এর অনুরূপ: «হানাফি ফকিহগণ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন যে, কোনো মুসলিমের মেয়ে বালেগ হওয়ার আগে কোনো মুসলিমের সাথে বিবাহিত হলে সেই বিবাহ সহিহ হবে এবং তার বাবা-মায়ের অনুগামী হিসেবে তাকে মুসলিম গণ্য করা হবে। তবে সে যখন বালেগ হবে এবং তাকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, আর সে যদি ইসলামের বর্ণনা দিতে না জানে, তবে তার ইসলাম না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কারণে সেই বিবাহ চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে... এর ওপর ভিত্তি করে হানাফি ফকিহগণ ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতাকে কুফর হিসেবে গণ্য করেন...» আফাকুত তায়ালিম গ্রন্থে (পৃ. ৯৩)।

(২) ফাতহুল বারি (১/ ৭০-৭১)। তা ছাড়া এটিই একমাত্র মাসআলা নয়; বরং ডক্টর আন-নাশার, আশআরিদের প্রতি তাঁর তীব্র পক্ষপাত থাকা সত্ত্বেও স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তাঁরা উসুল বা মূলনীতির ক্ষেত্রে মুতাযিলাদের বিরোধিতা করেননি, বরং এই উসুলগুলোর উপলব্ধির ক্ষেত্রে করেছেন। দেখুন: আশ-শামিলের ভূমিকা (পৃ. ৭৭)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৫)
كالباقلاني، والجويني، وابن فورك، والإسفرائيني، ثم قال بعد ذكر كلامهم واختلافاتهم: «وقد ذكرت في كتاب الإيمان من أعرض عن هذا من أصله، وتمسك بقوله تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا}». ثم ذكر الآية والحديث السابقين، وأعاد نقل اعتراف السمناني قائلًا: «وقد وافق أبو جعفر السمناني وهو من رؤوس الأشاعرة على هذا، وقال: إن هذه المسألة بقيت في مقالة الأشعري من مسائل المعتزلة» (1).

أما مسألة أن (أول واجب هو الشك) فلم أجد من نص عليه من الأشاعرة نصًّا، بل نقلوه عن أبي هاشم الجبائي المعتزلي، ولكن القرطبي (2) - وهو أشعري - قال عن توبة الجويني التي فيها: «ركبت البحر الأعظم، وغُصت في كل شيء نهى عنه أهل العلم في طلب الحق، فرارًا من التقليد، والآن فقد رجعت واعتقدت مذهب السلف». قال: «إن قوله: (ركبت البحر الأعظم) إشارة إلى هذا المذهب، أي مذهب الشك» (3).

ولكن واقع حال أئمة الأشاعرة يدل على أن أول طريق اليقين عندهم هو البدء من الشكِّ، وهذا ما ينطبق على كلام الجويني، وأصرح

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (13/ 349).

(2) هو أبو العباس صاحب (المفهم) وهو شيخ المفسر الأشعري أبي عبد الله صاحب (الجامع لأحكام القرآن) الذي وصفه شيخ الإسلام بأنه من أكابر علماء الأشعرية. انظر التسعينية (ص244).

(3) انظر فتح الباري (13/ 350).
যেমন বাকিল্লানি, জুওয়ায়নি, ইবনে ফুরাক এবং ইসফারাইনি; অতঃপর তিনি তাদের বক্তব্য ও মতপার্থক্য উল্লেখ করার পর বলেন: «আমি ‘কিতাবুল ঈমান’-এ তাদের কথা উল্লেখ করেছি যারা এই বিষয়টি থেকে এর মূলসহ বিমুখ হয়েছেন এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর অটল থেকেছেন: {অতএব আপনি একনিষ্ঠ হয়ে দীনের দিকে মনোনিবেশ করুন}»। এরপর তিনি পূর্বোক্ত আয়াত ও হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং আস-সামনানির স্বীকারোক্তি পুনরায় উদ্ধৃত করে বলেন: «আবু জাফর আস-সামনানি—যিনি আশআরিদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব—এ বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং বলেছেন: এই মাসআলাটি মুতাজিলাদের মাসআলাসমূহের মধ্য থেকে আশআরির মতবাদে রয়ে গেছে» (১)।

আর এই মাসআলা যে (প্রথম ওয়াজিব হলো সন্দেহ করা), আমি কোনো আশআরি পণ্ডিতের পক্ষ থেকে এর কোনো সুস্পষ্ট নস (পাঠ) পাইনি, বরং তারা এটি মুতাজিলা আবু হাশিম আল-জুব্বাই থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু কুরতুবি (২)—যিনি একজন আশআরি—আল-জুওয়ায়নির তাওবা সম্পর্কে বলেছেন যাতে বর্ণিত হয়েছে: «আমি মহাসমুদ্রে পাড়ি জমিয়েছিলাম এবং সত্য অন্বেষণে আলেমগণ যা কিছু নিষেধ করেছেন তার সবকিছুর গভীরে নিমজ্জিত হয়েছিলাম কেবল অন্ধ অনুকরণ থেকে পলায়ন করার উদ্দেশ্যে; আর এখন আমি ফিরে এসেছি এবং সালাফদের মাযহাব গ্রহণ করেছি»। তিনি বলেন: «তাঁর এই উক্তি: (আমি মহাসমুদ্রে পাড়ি জমিয়েছিলাম) এই মাযহাব তথা সন্দেহের মাযহাবের দিকেই ইঙ্গিত» (৩)।

কিন্তু আশআরি ইমামদের বাস্তব অবস্থা একথাই প্রমাণ করে যে, তাদের নিকট দৃঢ় বিশ্বাসের প্রথম পথ হলো সন্দেহ থেকে শুরু করা। আর এটিই জুওয়ায়নির বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, এবং অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে...

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (১৩/ ৩৪৯)।

(২) তিনি হলেন ‘আল-মুফহিম’ গ্রন্থের রচয়িতা আবু আব্বাস, যিনি আশআরি মুফাসসির আবু আব্দুল্লাহ (আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন-এর রচয়িতা)-এর উস্তাদ; যাঁকে শায়খুল ইসলাম আশআরিদের অন্যতম প্রধান আলেম হিসেবে অভিহিত করেছেন। দেখুন আত-তিসয়িনিয়্যাহ (পৃ. ২৪৪)।

(৩) দেখুন ফাতহুল বারী (১৩/ ৩৫০)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৬)
من ذلك ما فعله الغزالي الذي عاش تجربة الشك، ثم انتهى به الأمر إلى اختيار طريق الصوفية، وقد تحدث بنفسه عن هذه التجربة في كتابه الذي أسماه (المنقذ من الضلال) وغيره.

وقريبٌ منه قول الرازي في توبته: «إني كنت رجلًا محبًّا للعلم، فكنت أكتب من كل شيءٍ شيئًا لأقف على كميته وكيفيته، سواء كان حقًّا أو باطلًا».

إلى أن يقول: «ولقد اختيرت الطرق الكلامية، والمناهج الفلسفية، فما رأيت فيها فائدةً تساوي الفائدة التي وجدتها في القرآن» (1).

وهذا حال كثيرٍ منهم لما رفضوا ما أسموه (إيمان العوام)، أو (التقليد) تاهوا وتحيروا، وشكوا وترددوا، ونقبوا في كل سبيل، وبحثوا عن كل مصدر، وأخيرًا عاد من عاد منهم، وأخذ يضرع إلى الله أن يميته على دين العجائز.

وذِكْرُ حَيرتهم وتوبة من تاب منهم يطول شرحه، وإنما المقصود بيان ما أوجبوه وألزموا به الأمة من واقع حالهم هم بأنفسهم.

وأصل البلاء في هذه المسألة ونحوها: هو الإصابة بعدوى الفلسفة الوثنية الإغريقية، التي ترجمت زمن المأمون ومن بعده، والتي تنكر الوحي وتجعل العقل هو وحده الحكم والمعيار ومصدر التلقي في كل شيء، وكان مذهب فلاسفتها إخضاع المعتقدات والأديان كلها للنظر العقلي.?

--------------------------------------------

(1) طبقات الشافعية (8/ 85).
এর মধ্যে ইমাম গাজ্জালীর কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত, যিনি সংশয় ও সন্দেহের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছিলেন, অতঃপর বিষয়টি তাঁকে সুফিবাদের পথ বেছে নেওয়ার দিকে নিয়ে যায়। তিনি নিজেই তাঁর 'আল-মুনকিজ মিনাদ দালাল' (ভ্রান্তি থেকে মুক্তি) নামক কিতাবে এবং অন্যান্য স্থানে এই অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন।

এর কাছাকাছি হলো ইমাম রাজীর তাওবা প্রসঙ্গে তাঁর উক্তি: «আমি জ্ঞানানুরাগী এক ব্যক্তি ছিলাম। তাই আমি প্রতিটি বিষয় থেকে কিছু না কিছু লিখতাম যাতে সেটির পরিমাণ ও ধরন সম্পর্কে অবগত হতে পারি, তা সত্য হোক বা মিথ্যা হোক»।

পরিশেষে তিনি বলেন: «আমি ইলমুল কালামের পথ এবং দর্শনের পদ্ধতিগুলো পরীক্ষা করেছি; কিন্তু আমি সেগুলোতে এমন কোনো উপকার দেখতে পাইনি যা কুরআনে পাওয়া উপকারের সমতুল্য» (১)।

তাঁদের অনেকের অবস্থাই এমন ছিল যখন তাঁরা যেটিকে 'সাধারণ মানুষের ঈমান' বা 'তাকলীদ' বলে অভিহিত করতেন তা প্রত্যাখ্যান করলেন, তখন তাঁরা পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত হলেন, সন্দেহ ও দ্বিধায় নিমজ্জিত হলেন, প্রতিটি পথে অনুসন্ধান চালালেন এবং প্রতিটি উৎসে তালাশ করলেন। অবশেষে তাঁদের মধ্যে যাঁরা ফিরে আসার তাঁরা ফিরে এলেন এবং আল্লাহর কাছে এই বলে আকুতি করতে লাগলেন যেন তিনি তাঁদের সাধারণ বৃদ্ধা নারীদের দ্বীনের ওপর মৃত্যু দান করেন।

তাঁদের বিভ্রান্তি এবং তাঁদের মধ্যে যাঁরা তাওবা করেছেন তাঁদের বিবরণ দীর্ঘ। এখানে উদ্দেশ্য হলো তাঁদের নিজেদের বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা উম্মতের ওপর যা আবশ্যক ও বাধ্যতামূলক করেছিলেন তা স্পষ্ট করা।

এই মাসআলা ও অনুরূপ বিষয়গুলোতে মূল বিপর্যয়ের কারণ হলো গ্রিক পৌত্তলিক দর্শনের সংক্রমণ, যা আল-মামুন ও তাঁর পরবর্তী সময়ে অনূদিত হয়েছিল। এই দর্শন ওহীকে অস্বীকার করে এবং কেবল বিবেক-বুদ্ধিকে সবকিছুর বিচারক, মানদণ্ড এবং জ্ঞান আহরণের উৎস হিসেবে সাব্যস্ত করে। এর দার্শনিকদের নীতি ছিল সমস্ত বিশ্বাস ও ধর্মকে বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যালোচনার অধীন করা।?

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ (৮/ ৮৫)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৭)
فلما وافقهم المصابون بدائها من المتكلمين المنتسبين للإسلام على هذا - بغض النظر عن حسن النية وسلامة الدافع لدى بعضهم - وأدخلوا الإسلام ضمن المعتقدات القابلة للنظر والنقد، وفتحوا باب المعارضة المفتعلة بين المعقول والمنقول، وجعلوا المعقول المزعوم هو الأصل (1)؛ حصل بذلك من الضلالات والانحرافات والنكبات في دين الأمة ودنياها ما يعجز التاريخ عن حصره.

هكذا سلَّم الأشاعرة تبعًا للمعتزلة أن الإيمان بالله ورسوله بدون النظر العقلي - على الصفة التي اشترطوها - إنما هو تقليدٌ محضٌ، حتى صرح أبو حامد الغزالي - وهو من أخفِّهم في القضية - أن (جميع عقائد العوام مباديها التلقين المجرد، والتقليد المحض) (2).

ثم قالوا: كيف يصح التقليد في العقيدة وهي أصل الدين؟. وقالوا: بماذا ندفع قول الفلاسفة المعطلين - القائلين بقدم العالم - في قولهم: إن المسلم لو ولد في دار النصرانية لكان نصرانيًّا، ولو ولد في دار المجوسية لكان مجوسيًّا، لكن لما ولد في دار الإسلام صار مسلمًا، وإنما آمن كل واحدٍ بما وجد عليه قومه، وإن المسلم إذا واجهته الأدلة العقلية ربما كفر أو شك؟.

من هذا الموقف الانهزامي الدفاعي، ومن اعتبار قضية إثبات

--------------------------------------------

(1) انظر تقرير هذا الموضوع في فصل (مصدر التلقي) الآتي.

(2) إحياء علوم الدين (1/ 162) طبعة الشعب، وكلامه في الحقيقة متناقض مع أنه مناقض لما ذكره في (ص148) من الكتاب نفسه.
যখন ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত ইলমুল কালামবিদদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাঁদের সাথে একমত হলেন—তাঁদের কারো কারো সদিচ্ছা ও উদ্দেশ্যের বিশুদ্ধতা সত্ত্বেও—এবং ইসলামকে বিচার-বিশ্লেষণ ও সমালোচনার যোগ্য বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত করলেন, আর যুক্তি (আকল) ও ওহীর (নাকল) মধ্যে একটি কৃত্রিম বিরোধের দ্বার উন্মোচন করলেন এবং তথাকথিত যুক্তিকেই মূল ভিত্তি সাব্যস্ত করলেন (১); এর ফলে উম্মাহর দ্বীন ও দুনিয়াতে এমন বিভ্রান্তি, বিচ্যুতি ও বিপর্যয় দেখা দিল যা গণনা করা ইতিহাসের পক্ষে অসম্ভব।

এভাবেই আশআরিগণ মুতাযিলাদের অনুসরণে মেনে নিয়েছেন যে, যৌক্তিক বিচার-বিশ্লেষণ ব্যতীত—তাঁদের নির্ধারিত শর্তানুসারে—আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা নিছক অন্ধ অনুসরণ মাত্র। এমনকি আবু হামিদ আল-গাজালি—যিনি এই বিষয়ে তাঁদের মধ্যে তুলনামূলক নমনীয় ছিলেন—তিনিও স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, (সাধারণ মানুষের সকল আকীদার ভিত্তি হলো নিছক তালকিন এবং খাঁটি অন্ধ অনুসরণ) (২)।

এরপর তাঁরা বললেন: আকীদার ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসরণ কীভাবে সঠিক হতে পারে, অথচ এটি দ্বীনের মূল ভিত্তি? তাঁরা আরও বললেন: জগত অনাদি হওয়ার দাবিদার নাস্তিক দার্শনিকদের এই বক্তব্যেরই বা আমরা কী জবাব দেব—যেখানে তারা বলে: একজন মুসলিম যদি খ্রিস্টান প্রধান জনপদে জন্মগ্রহণ করত তবে সে খ্রিস্টানই হতো, আর যদি সে অগ্নিপূজকদের জনপদে জন্মগ্রহণ করত তবে সে অগ্নিপূজকই হতো; কিন্তু যেহেতু সে মুসলিম প্রধান জনপদে জন্মগ্রহণ করেছে তাই সে মুসলিম হয়েছে। মূলত প্রত্যেকেই তা-ই বিশ্বাস করেছে যা সে তার গোত্রের মধ্যে পেয়েছে। আর একজন মুসলিম যদি যৌক্তিক প্রমাণের মুখোমুখি হয়, তবে সম্ভবত সে কুফরি করবে অথবা সন্দেহে নিপতিত হবে?

এই পরাজয়ী ও আত্মরক্ষামূলক অবস্থান থেকে, এবং সাব্যস্ত করার বিষয়টিকে গণ্য করা থেকে...

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা সামনে আগত (জ্ঞানের উৎস) অধ্যায়ে দেখুন।

(২) ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন (১/ ১৬২) আশ-শা’ব সংস্করণ। প্রকৃতপক্ষে তাঁর এই বক্তব্য স্ববিরোধী, কারণ এটি একই কিতাবের (১৪৮ পৃষ্ঠায়) তাঁর বর্ণিত বক্তব্যের বিপরীত।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৮)
حدوث العالم وقِدم الصانع أساس كل قضية كما سبق، جعلوا أول واجب على المكلف هو النظر أو مقدماته، إذ بواسطته - بزعمهم - يدفع الإنسان الشكوك ويقاوم الشبهات، فيؤمن عن اقتناعٍ لا عن تقليد.

فلما تقرر هذا لديهم نظروا إلى عوام المسلمين الذين لم يعرفوا هذه المقدمات النظرية، فحاروا في حكمهم واختلفوا:

فمنهم من كفّرهم.

ومنهم من فسّقهم.

ومنهم من فصّل بحسب أهلية النظر وغيرها.

ومنهم من حكم بإيمانهم، لكن جعل النظر شرط كمال، لا شرط صحة.

إلى آخر مذاهبهم وأقوالهم التي نشير الآن إلى شيءٍ منها للاختصار:

ففي (شرح الكبرى) للسنوسي نقل الأقوال في إيمان المقلد، وأرجعها إلى ثلاثة: أنه كافر، وأنه عاصٍ، وأنه مؤمن. واختار السنوسي القول الأول (1).

والعجيب أنه ذكر ضمن ذلك عدم الاعتداد بخلاف من أسماهم (الحشوية)!.

وقال صاحب (الجوهرة):

إذ كل من قلّد في التوحيد … إيمانه لم يخل من ترديد?

--------------------------------------------

(1) شرح الكبرى مع الحواشي (ص39). وعدم تصحيح إيمان المقلّد هو وحده الذي نسبه الكوثري إلى مذهب الأشعري. مقدمة الإنصاف (ص12).
বিশ্বের নশ্বরতা এবং স্রষ্টার অনাদিত্ব হলো প্রতিটি বিষয়ের মূলভিত্তি যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। তারা মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর ওপর প্রথম ওয়াজিব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন 'নজর' (তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ) বা তার ভূমিকাগুলোকে। কারণ তাদের ধারণা মতে, এর মাধ্যমেই মানুষ সন্দেহ দূর করে এবং সংশয় প্রতিহত করে, ফলে সে অন্ধ অনুকরণের পরিবর্তে দৃঢ় বিশ্বাসের ভিত্তিতে ঈমান আনে।

যখন তাদের নিকট এটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তারা সাধারণ মুসলমানদের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন যারা এই তাত্ত্বিক ভূমিকাগুলো সম্পর্কে জ্ঞাত নয়। ফলে তাদের হুকুমের ব্যাপারে তারা দ্বিধাগ্রস্ত হলেন এবং মতভেদ করলেন:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁদের কাফির সাব্যস্ত করেছেন।

কেউ কেউ তাঁদের ফাসিক বলেছেন।

আবার কেউ কেউ পর্যবেক্ষণ বা নজরের যোগ্যতা ও অন্যান্য বিষয়ের নিরিখে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আবার কেউ কেউ তাঁদের ঈমানের ফয়সালা দিয়েছেন, তবে নজরকে ঈমান শুদ্ধ হওয়ার শর্ত হিসেবে নয়, বরং পূর্ণতার শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন।

তাদের অন্যান্য মাযহাব ও অভিমতগুলোর শেষ পর্যন্ত, যেগুলোর কিছু অংশ আমরা সংক্ষেপের খাতিরে এখন উল্লেখ করছি:

সানুসীর 'শারহুল কুবরা' গ্রন্থে মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী)-এর ঈমানের ব্যাপারে অভিমতগুলো উদ্ধৃত করা হয়েছে এবং সেগুলোকে তিনটিতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে: সে কাফির, সে গুনাহগার এবং সে মুমিন। সানুসী প্রথম অভিমতটিই গ্রহণ করেছেন (১)।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি এর মধ্যে তাদের বিরোধিতাকে আমলযোগ্য মনে না করার কথা উল্লেখ করেছেন যাদের তিনি 'হাশাবিয়া' নামে অভিহিত করেছেন!

এবং 'জাওহারা' গ্রন্থের লেখক বলেন:

কেননা তাওহীদের বিষয়ে যে ব্যক্তিই অন্ধ অনুকরণ করল … তার ঈমান সংশয়মুক্ত হলো না।

--------------------------------------------

(১) শারহুল কুবরা মাআল হাওয়াশি (পৃ. ৩৯)। আর মুকাল্লিদের ঈমান সহীহ না হওয়াকেই কাওসারী আশআরি মাযহাবের প্রতি নিসবত করেছেন। মুকাদ্দিমাতুল ইনসাফ (পৃ. ১২)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ২৯)
ففيه بعض القوم يحكي الخُلفا … وبعضهم حقق فيه الكشفا

فقال إن يجزم بقول الغير … كفى وإلا لم يزل في الضير

 

وفي (شرح الجوهرة) للباجوري أو (البيجوري) نقل الأقوال أيضًا، ومنها: القول بالتكفير، قال: «فيكون المقلد كافرًا، وعليه السنوسي في الكبرى» (1).

أما الدسوقي في (شرح أم البراهين) فقد أطال جدًّا، واستغرق في ذكر أقوال أئمة المذهب بدءًا بأبي الحسن الأشعري الذي ينقل عنه أنه يرى عدم صحة إيمان المقلد، ومرورًا بالقاضي، وأبي المعالي، وابن العربي، وسائر أتباعهم ممن يطول ذِكرُه ونَقْلُ كلامه، ومن أراد الاستقصاء والتفصيل فليراجعها هنالك (2)، هذا مع النقول المستفيضة التي أوردها الحلافظ عنهم في كتاب التوحيد من الفتح وتقدمت الإشارة إليها.

وقال صاحب (المواقف): «فرعٌ: إن قلنا الواجب النظر، فمن أمكنه زمان يسع النظر التام ولم ينظر فهو عاصٍ، ومن لم يمكنه أصلًا فهو كالصبي، ومن أمكنه ما يسع بعض النظر دون تمامه ففيه احتمال، والأظهر عصيانه، كالمرأة تصبح طاهرةً فتفطر ثم تحيض فإنها عاصية، وإن ظهر أنها لم يمكنها إتمام الصوم» (3).?

--------------------------------------------

(1) (ص32) فما بعدها، وقد ذكر عنهم ستة أقوال في حكم إيمان المقلد، واثني عشر قولًا في أول الواجبات.

(2) انظر من (ص54 - 70) مع دقة الحروف وتقارب الأسطر.

(3) (ص33).
এ বিষয়ে কতিপয় লোক মতভেদ বর্ণনা করেন … এবং তাদের কেউ কেউ এতে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করেছেন

তিনি বলেছেন, যদি সে অন্যের কথার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে … তবে তাই যথেষ্ট, অন্যথায় সে ক্ষতির মধ্যেই রয়ে যাবে

 

বাজুরী বা (বাইজুড়ী) প্রণীত (শরহুল জাওহারা)-তেও বিভিন্ন মতামত উদ্ধৃত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: তাকফীরের (কাফির সাব্যস্ত করার) অভিমত। তিনি বলেন: «এমতাবস্থায় মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) কাফির গণ্য হবে, আর ইমাম সানুসী তাঁর ‘কুবরা’ গ্রন্থে এই মতটিই গ্রহণ করেছেন» (১)।

পক্ষান্তরে দাসুকী (শরহু উম্মিল বারাহীন) গ্রন্থে বিষয়টি অত্যন্ত দীর্ঘায়িত করেছেন এবং মাযহাবের ইমামগণের মতামত বর্ণনায় ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন; যার শুরু হয়েছে আবুল হাসান আশআরী থেকে—যাঁর সম্পর্কে উদ্ধৃত করা হয় যে তিনি মুকাল্লিদের ঈমান সহীহ না হওয়ার প্রবক্তা ছিলেন—এবং ধারাবাহিকভাবে কাযী, আবুল মাআলী, ইবনুল আরাবী ও তাঁদের অন্যান্য অনুসারীদের বর্ণনা এসেছে যাঁদের কথা ও উদ্ধৃতি উল্লেখ করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। যারা পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও বিস্তারিত তথ্য চান তারা সেখানে দেখে নিতে পারেন (২)। এর সাথে হাফিয (ইবনে হাজার) ‘ফাতহুল বারী’-র কিতাবুত তাওহীদে তাঁদের থেকে যেসব বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেছেন তা-ও যুক্ত হবে যা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

(আল-মাওয়াতিফ) গ্রন্থের লেখক বলেছেন: «একটি শাখা মাসআলা: যদি আমরা বলি যে নযর (যৌক্তিক অনুসন্ধান) ওয়াজিব, তবে যাকে পূর্ণাঙ্গ নযরের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে কিন্তু সে নযর করেনি, সে পাপিষ্ঠ (গুনাহগার)। আর যে মোটেও সক্ষম নয়, সে শিশুর পর্যায়ভুক্ত। আর যে আংশিক নযরের সময় পেয়েছে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নয়, তার ব্যাপারে সম্ভাবনা রয়েছে; তবে স্পষ্টতর মত হলো সে পাপিষ্ঠ হবে। যেমন সেই নারী যে পবিত্র অবস্থায় ভোর অতিবাহিত করল কিন্তু রোযা ভেঙে ফেলল এবং এরপর তার ঋতুস্রাব শুরু হলো, তবে সে পাপিষ্ঠ হিসেবে গণ্য হবে, যদিও পরবর্তীতে প্রতীয়মান হয়েছে যে রোযা পূর্ণ করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না» (৩)।?

--------------------------------------------

(১) (পৃ. ৩২) ও পরবর্তী অংশ; তিনি সেখানে মুকাল্লিদের ঈমানের বিধান সম্পর্কে ছয়টি অভিমত এবং প্রথম ওয়াজিবের বিষয়ে বারোটি অভিমত উল্লেখ করেছেন।

(২) (পৃ. ৫৪ - ৭০) পর্যন্ত দ্রষ্টব্য, যেখানে সূক্ষ্ম অক্ষর এবং অত্যন্ত ঘন পঙক্তি রয়েছে।

(৩) (পৃ. ৩৩)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩০)
قال البغدادي في (أصول الدين): «قال أصحابنا: كل من اعتقد أركان الدين تقليدًا من غير معرفةٍ بأدلتها ننظر فيه: فإن اعتقد مع ذلك جواز ورود شبهة عليها وقال: لا آمن أن يَرِدَ عليها من الشبه ما يفسدها (؟). فهذا غير مؤمنٍ بالله ولا مطيع، بل هو كافر، وإن اعتقد الحق ولم يعرف دليله، واعتقد مع ذلك أنه ليس في الشبه ما يفسد اعتقاده، فهو الذي اختلف فيه أصحابنا:

فمنهم من قال: هو مؤمنٌ، وحكم الإسلام له لازمٌ، وهو مطيعٌ لله تعالى باعتقاده وسائر طاعاته، وإن كان عاصيًا بتركه النظر والاستدلال المؤدي إلى معرفة أدلة قواعد الدين.

قال: وبه نقول.

ومنهم من قال: إن معتقِد الحق قد خرج باعتقاده عن الكفر؛ لأن الكفر واعتقادَ الحق في التوحيد والنبوات ضدان لا يجتمعان، غير أنه لا يستحق اسم المؤمن إلا إذا عرف الحق - في حدوث العالم وتوحيد صانعه، وفي صحة النبوة - ببعض أدلته، سواءً أحسن صاحبها العبارة عن الدلالة، أو لم يحسنها.

وهذا اختيار الأشعري، وليس المعتقد للحق بالتقليد عنده مشركًا، ولا كافرًا، وإن لم يسمّه الإطلاق مؤمنًا» (1).

فالبغدادي كما ترى ينقل أن رأي الأشعري: هو أن العامي المقلد ليس كافرًا ولا مؤمنًا، فهي إذن المنزلة بين المنزلتين التي ذهب إليها?

--------------------------------------------

(1) أصول الدين (ص254 - 255)، طبعة استانبول (1346هـ).
আল-বাগদাদী (উসুলুদ দ্বীন) গ্রন্থে বলেন: «আমাদের ইমামগণ বলেছেন: যে ব্যক্তি দ্বীনের মৌলিক স্তম্ভসমূহ সেগুলোর দলীল সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছাড়াই কেবল অন্ধ অনুসরণের (তাকলীদের) মাধ্যমে বিশ্বাস করে, আমরা তার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব: যদি সে এর পাশাপাশি এ বিশ্বাসের ওপর সংশয় আসার সম্ভাবনাকেও স্বীকার করে এবং বলে: ‘আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত নই যে এমন কোনো সংশয় আসবে কি না যা একে বিনষ্ট করে দেবে (?)’; তবে সে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী (মুমিন) নয় এবং আনুগত্যশীলও নয়, বরং সে কাফির। আর যদি সে সত্য বিশ্বাস করে কিন্তু এর দলীল না জানে, এবং একই সাথে বিশ্বাস করে যে এমন কোনো সংশয় নেই যা তার বিশ্বাসকে বিনষ্ট করতে পারে, তবে তার ব্যাপারেই আমাদের ইমামগণ মতভেদ করেছেন:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: সে মুমিন এবং ইসলামের বিধান তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সে তার বিশ্বাস ও অন্যান্য আনুগত্যের মাধ্যমে মহান আল্লাহর প্রতি অনুগত; যদিও দ্বীনের মূলনীতিসমূহের দলীল জানার জন্য প্রয়োজনীয় যৌক্তিক চিন্তা ও প্রমাণ অন্বেষণ বর্জন করার কারণে সে গুনাহগার বা অবাধ্য।

তিনি (বাগদাদী) বলেন: আমাদের মতও এটিই।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: সত্যে বিশ্বাসী ব্যক্তি তার বিশ্বাসের মাধ্যমেই কুফর থেকে মুক্ত হয়ে গেছে; কারণ কুফর এবং তাওহীদ ও নবুওয়াতের ক্ষেত্রে সত্য বিশ্বাস হলো পরস্পর বিরোধী দুটি বিষয় যা একত্রে সহাবস্থান করতে পারে না। তবে সে মুমিন নামের যোগ্য হবে না যতক্ষণ না সে সত্যকে—অর্থাৎ মহাবিশ্বের নশ্বরতা, এর স্রষ্টার একত্ববাদ এবং নবুওয়াতের সত্যতা সম্পর্কে—ন্যূনতম কিছু দলীলসহ জানবে; চাই সে ব্যক্তি সেই দলীল সঠিকভাবে ব্যক্ত করতে পারুক বা না পারুক।

আর এটিই হলো আশআরীর পছন্দকৃত মত। তাঁর মতে তাকলীদের মাধ্যমে সত্য বিশ্বাসকারী ব্যক্তি মুশরিকও নয় এবং কাফিরও নয়, যদিও সাধারণভাবে তাকে মুমিন নাম দেওয়া যাবে না» (১)।

সুতরাং আপনি যেমন দেখছেন, বাগদাদী বর্ণনা করছেন যে ইমাম আশআরীর অভিমত হলো: অন্ধ অনুসারী সাধারণ মানুষ কাফিরও নয় আবার মুমিনও নয়; তাহলে কি এটি সেই ‘দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী এক অবস্থান’ (আল-মানজিলা বাইনাল মানজিলাতাইন) যার দিকে তিনি গিয়েছেন?

--------------------------------------------

(১) উসুলুদ দ্বীন (পৃষ্ঠা ২৫৪ - ২৫৫), ইস্তাম্বুল সংস্করণ (১৩৪৬ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল আশাঈরাহ ফিল আকিদাহ - আল কাবীর (পৃষ্ঠা: ৩১)
المعتزلة، وفي هذا تصديق لما قاله أبو جعفر السمناني الذي نقلنا كلامه من قبل.

على أن تكفير العوام ليس هو اللازم الوحيد لهذا القول، بل ذلك ليشمل السلف أيضًا من الصحابة والتابعين؛ إذ إن إيمانهم لم يكن قطعًا على الكيفية التي رتبوها وقرروها، وحسْبُك تكفير أكمل الخلق إيمانًا دليلًا على بطلان هذا المذهب، وعلى قول من لم يكفِّر المقلد منهم، أليس الحكم بفسقهم وأنهم عاصون - كما في (المواقف) - أمرًا خطيرًا؟.

وهذا ما جعل بعض الأشاعرة - مثل السمناني السابق ذكره، وأبي المظفر ابن السمعاني، وأبي حامد الغزالي، ونحوهم - ينتقدون المذهب في هذه المسألة، وبعضهم - كالقرطبي - صرَّح بتكفير من جعل الشك أول واجب، ومن اعتقد كفر من لم يعرف الله على طريقته الكلامية (1).

وقد سبقت الإشارة إلى أن أبا حامد من أخفِّهم في المسألة؛ إذ نسبوا إليه أنه لا يرى النظر شرط صحة، بل شرط كمال (2)، وقد اعترف في (الإحياء) بخطأ منهج أصحابه في القضية، ومما قاله: «فقس عقيدة

--------------------------------------------

(1) انظر الفتح كتاب التوحيد (13/ 349 - 352). ومن ذلك أن ابن تومرت - تلميذ الغزالي - ألف (المرشدة) على هذا الاعتقاد، وقال: «يجب على كل أحدٍ أن يعتقدها». وقال بعض أتباعه: من لم يقرأها فهو كافر!. انظر مجموعة الفتاوى.

(2) أم البراهين بشرح الدسوقي (ص57).
মুতাজিলাগণ; আর এটি আবু জাফর আস-সিমনানি যা বলেছেন তারই সত্যায়ন, যার বক্তব্য আমরা ইতিপূর্বে উদ্ধৃত করেছি।

তবে সাধারণ মানুষকে কাফির বলা এই মতবাদের একমাত্র অনিবার্য ফলাফল নয়, বরং এটি সাহাবী ও তাবিঈগণের মতো সালাফদেরও অন্তর্ভুক্ত করে; কেননা তাদের ঈমান নিশ্চিতভাবেই সেই পদ্ধতিতে বিন্যস্ত ও নির্ধারিত ছিল না যা তারা (কালামবিদরা) নির্ধারণ করেছেন। ঈমানের দিক থেকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিদের কাফির সাব্যস্ত করা এই মতবাদের অসারতার প্রমাণ হিসেবে আপনার জন্য যথেষ্ট। আর তাদের মধ্য থেকে যারা অন্ধ অনুসারীকে (মুকারলিদ) কাফির বলেন না, তাদের মতে তাদের ফাসিক ও পাপী হওয়ার বিধান দেওয়া কি—যেমনটি 'আল-মাওয়াকিফ' গ্রন্থে এসেছে—একটি গুরুতর বিষয় নয়?

আর এটিই পরবর্তীকালে কিছু আশআরি আলিমকে—যেমন ইতিপূর্বে উল্লিখিত আস-সিমনানি, আবু মুজাফ্ফার ইবনে আস-সামআনি, আবু হামিদ আল-গাজালি এবং তাদের অনুরূপ ব্যক্তিগণ—এই মাসআলায় মাযহাবটির সমালোচনা করতে বাধ্য করেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ—যেমন আল-কুরতুবি—সুস্পষ্টভাবে তাকে কাফির বলেছেন যে সংশয়কে (শাক) প্রথম ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত করেছে এবং যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, কালামশাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে আল্লাহকে না চিনলে সে কাফির হয়ে যাবে (১)।

ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এই মাসআলায় আবু হামিদ তাদের মধ্যে সবচেয়ে নমনীয় ছিলেন; কেননা তারা তাঁর প্রতি এই মতটি আরোপ করেছেন যে, তিনি তাত্ত্বিক গবেষণাকে (নাযার) ঈমান সহীহ হওয়ার শর্ত মনে করেন না, বরং এটি পূর্ণতার শর্ত (২)। তিনি 'আল-ইহয়া' গ্রন্থে এই বিষয়ে তাঁর সহচরদের পদ্ধতির ভুল স্বীকার করেছেন, এবং তিনি যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: «সুতরাং আকিদাকে তুলনা করুন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ফাতহ, কিতাবুত তাওহিদ (১৩/ ৩৪৯-৩৫২)। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো, গাজালির ছাত্র ইবনে তুমারত এই আকিদার ওপর ভিত্তি করে 'আল-মুরশিদা' রচনা করেছেন এবং বলেছেন: «প্রত্যেকের জন্য এটি বিশ্বাস করা ওয়াজিব»। তার কিছু অনুসারী বলেছে: যে এটি পড়বে না সে কাফির! দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া।

(২) উম্মুল বারাহিন, আদ-দুসুকির ব্যাখ্যাসহ (পৃষ্ঠা ৫৭)।