(খণ্ড: ১)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: -)
جواب الاستفتاء عن حقيقة الربا - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: جواب الاستفتاء عن حقيقة الربا
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (18)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
সুদের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসার উত্তর - «আসারুল মুয়াল্লিমি»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সুদের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসার উত্তর
[আসারু আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৮)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ উযাইর শামস
পুনরীক্ষণকারী: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশনী: দারু আলামিল ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযি
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামিলায় উপস্থাপনকারী: «আতাআতুল ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৭৫)
الرسالة الثامنة والعشرون
جواب الاستفتاء عن حقيقة الربا
অষ্টবিংশতম রিসালাহ
সুদের প্রকৃত স্বরূপ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসার উত্তর
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৭৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، وسلام على عباده الذين اصطفى.
قبل سنين نشر بعض الفضلاء في حيدراباد الدكن ــ إحدى مدن الهند ــ رسالة بعنوان "الاستفتاء في حقيقة الربا" أجلبَ فيها بخيله ورَجِلِه لتحليل ربا القرض. وأُرسِلتْ من طرف الصدارة العالية (مشيخة الإسلام) في حيدراباد إلى علماء الآفاق ليُبدوا رأيهم فيها، وأنا مطلع على المقصود من تأليفها ونشرها، ولا حاجة الآن إلى ذِكر ذلك.
وراجعتُ حينئذٍ مؤلفَها في بعض المباحث، وأردت أن أجمع جوابًا عنها. ثم وردتْ بعض الأجوبة من علماء الآفاق، وأجود ما اطلعت عليها جواب العلامة الجليل مولانا أشرف علي التهانوي
(1)، فاستغنيتُ بذلك. ثم تنبَّهت بعد ذلك لدقائق في أحكام الربا وحِكَمه، حتى وقفتُ أخيرًا على كلام للشاطبي في "موافقاته"، فاتَّجهتْ همتي إلى تقييد ما ظهر لي. وأسأل الله تبارك وتعالى التوفيق والهداية إلى سواء السبيل بمنّه وكرمه.
* * * *
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
কয়েক বছর আগে ভারতের অন্যতম শহর হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যের কিছু বিদ্বান ব্যক্তি "আল-ইস্তিফতা ফি হাকিকাতুর রিবা" শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে লেখক ঋণজনিত সুদ (ربا القرض) হালাল করার জন্য তাঁর সর্বশক্তি ও যাবতীয় উপায়-উপকরণ নিয়োগ করেছিলেন। হায়দ্রাবাদের 'সাদারাত আল-আলিয়া' (মাশায়িখুল ইসলাম) দপ্তর থেকে এটি বিভিন্ন প্রান্তের আলেমদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছিল যাতে তাঁরা এ বিষয়ে তাঁদের মতামত ব্যক্ত করেন। আমি এই পুস্তিকা রচনা ও প্রকাশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত আছি, তবে বর্তমানে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।
সেই সময় আমি এর কতিপয় আলোচ্য বিষয়ে গ্রন্থকারের সাথে আলোচনা করেছিলাম এবং এর একটি উত্তর সংকলন করতে চেয়েছিলাম। পরবর্তীতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের আলেমদের নিকট থেকে কিছু উত্তর আসে। আমি যেসব উত্তর দেখেছি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিল মহান আল্লামা মাওলানা আশরাফ আলী থানভী
(1)-এর উত্তর, ফলে এর মাধ্যমেই আমি অমুখাপেক্ষী হই (অর্থাৎ অন্য উত্তর লেখার প্রয়োজন বোধ করিনি)। এরপর সুদের বিধিবিধান (أحكام) ও এর রহস্য (حكم) সমূহের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো আমার নিকট প্রতিভাত হয়, এমনকি শেষ পর্যন্ত আমি ইমাম শাতিবীর "আল-মুয়াফাকাত" গ্রন্থে এ সংক্রান্ত কিছু আলোচনা পাই। তখন আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে তা লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করি। আমি মহামহিম আল্লাহর নিকট তাঁর কৃপা ও দয়ায় সঠিক পথের তাওফিক এবং হিদায়াত প্রার্থনা করছি।
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৭৮)
[ص 7] [
… ]
(1) يكون له حكمة واحدة [
… ] في إدراك الحكم، فقد يدرك أحدهم حكمة، وتخفى على غيره [وقد يدرك] الرجلان الحكمة، ولكن أحدهما أتم إدراكًا لها من الآخر، وذلك لكثرة ما يتفرغ [للبحث عنها].
ومثال ذلك أن من مفاسد الزنا الجهل بالأنساب، فالمفاسـ[ـد
] بالأنساب كثيرة، والناس متفاوتون في إدراكها، وعسى أن يكون منها ما [ما يظهر للناس، و] للزنا مفاسد أخرى قد تخفى على بعض الناس أو جميعهم، فالعدوى بـ[الأمراض الخبيثة لم تكن معلومة في الماضي،] وإنما علمت أخيرًا.
ومن الأحكام ما لا يدرك الناس له حكمة أصلًا.
وللبحث عن الحكم بواعث:
الأول: وهو أعظمها، بحث العلماء لأجل قياس ما لا نصَّ فيه على ما فيه نص، فإذا [وجد الحكمة] في شيء، ثم وجد تلك الحكمة بتمامها في شيء آخر غيرِ منصوصٍ حَكَم بتحريمه، وهكـ[ـذا].
الثاني: البحث ليتأكد الإيمان، وهذا محمود إذا كان الباحث راسخًا في الـ[ـعلم، فإنه إن] ظهرت له الحكمة زادته طمأنينة، وإن لم تظهر له أحال
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ৭] [
… ]
(১) এর একটি মাত্র প্রজ্ঞা (حكمة) থাকতে পারে [
… ] বিধান অনুধাবনের ক্ষেত্রে; হতে পারে তাদের কেউ একটি প্রজ্ঞা অনুধাবন করল, কিন্তু তা অন্যের কাছে অস্পষ্ট রয়ে গেল। [আবার হতে পারে] দুই ব্যক্তিই প্রজ্ঞা অনুধাবন করলেন, কিন্তু তাদের একজন অপরজনের চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গভাবে তা অনুধাবন করলেন। আর এটি হয় সেই প্রজ্ঞা [অনুসন্ধানের জন্য] অধিক সময় দেওয়ার কারণে।
এর উদাহরণ হলো—ব্যভিচারের অপকারিতাগুলোর (مفاسد) মধ্যে অন্যতম হলো বংশপরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞতা। বংশপরিচয় সংক্রান্ত অপকারিতাগুলো অনেক, এবং মানুষ তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ের হয়ে থাকে। সম্ভবত তার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা [মানুষের কাছে প্রকাশ পায়, আর] ব্যভিচারের আরও কিছু অপকারিতা রয়েছে যা কিছু মানুষের কাছে অথবা সবার কাছে অস্পষ্ট থাকতে পারে। যেমন—[বিপজ্জনক সংক্রামক ব্যাধিগুলো অতীতে জানা ছিল না,] বরং তা সাম্প্রতিককালে জানা গেছে।
আর কিছু বিধান এমন রয়েছে যার প্রজ্ঞা (حكمة) মানুষ মোটেও অনুধাবন করতে পারে না।
প্রজ্ঞা অনুসন্ধানের কিছু কারণ রয়েছে:
প্রথমত: এবং এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; আলেমগণ কোনো প্রজ্ঞা অনুসন্ধান করেন যেন যে বিষয়ে স্পষ্ট পাঠ (نص) নেই তাকে এমন বিষয়ের ওপর কিয়াস (قياس) করতে পারেন যাতে পাঠ (نص) বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং যখন কোনো বিষয়ে [প্রজ্ঞা পাওয়া যায়], অতঃপর সেই একই প্রজ্ঞা যদি পূর্ণাঙ্গভাবে পাঠহীন (غير منصوص) অন্য কোনো বিষয়ের মাঝে পাওয়া যায়, তবে তিনি তা হারাম হওয়ার বিধান প্রদান করেন, আর [এভাবেই চলতে থাকে]।
দ্বিতীয়ত: ঈমানকে সুদৃঢ় করার জন্য অনুসন্ধান করা। আর এটি প্রশংসনীয় যখন গবেষক জ্ঞানে সুগভীর (راسخ) হন। [কেননা যদি] তার কাছে প্রজ্ঞা (حكمة) প্রকাশ পায় তবে তা তার প্রশান্তি বৃদ্ধি করে, আর যদি তা প্রকাশ না পায় তবে তিনি তা সোপর্দ (أحال) করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৭৯)
ذلك على قصور فهـ[ـمه، وأحال الحكمة] إلى علم الشارع سبحانه وتعالى، وأنه من المعلوم المحقق أنه عز [وجل
… ] الحكم ما لا تصل إليه أفهام الناس.
الثالث: البحث ليزداد علمه، وهذا كالثاني، أو هو هو.
الرابع: البحث لترغيب الناس في الطاعات، وتحذيرهم من المعاصي [فإذا علموا] مصالح المأمور به، ومفاسد المنهي عنه، كان ذلك أدعى لانقياد [هم، فإن معرفة] الباعث من الحكماء الربانيين الذين يدركون حكمة الله تعالى في [الأمر والنهي] ينبغي أن يكون الإظهار.
فإنه إذا قال الواعظ: إن حكمة تحريم [الزنا الوقاية] من العدوى بالأمراض الخبيثة، أوشك أن يقول [
] وقد شهد لها الطبيب [
… ].
[ص 8] [
… ] إجلاله، فيعذبهم [
… ] الجهل بالأنساب [
… ] على أن لا يحملن [
… ] أولاد [
… ] بعلة التناسل يؤدي إلى ضعف [
… ].
ومن مفاسده [
… ] إما أن لا يتزوج [البتةَ] وإما أن يترك زوجته، ويذهب للزنا، وبذلك يفسد ما بين الزوجين [
… ] محل الوفاق، ويوشك أن يدع الرجل امرأته وأطفاله وأباه وأمه، [ويوشك أن
এটি তার বোধশক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে, এবং তিনি [হিকমত বা গূঢ় রহস্যের] বিষয়টি বিধানদাতা (الشارع) সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জ্ঞানের প্রতি সোপর্দ করেছেন। আর এটি সুনিশ্চিতভাবে জ্ঞাত ও প্রমাণিত যে, মহান আল্লাহ [ও তাঁর] বিধানের এমন অনেক রহস্য রয়েছে যা মানুষের বোধশক্তির নাগালের বাইরে।
তৃতীয়: স্বীয় জ্ঞান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান করা; আর এটি দ্বিতীয় প্রকারের মতো, অথবা এটিই মূলত সেটি।
চতুর্থ: মানুষকে আনুগত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য এবং পাপাচার থেকে সতর্ক করার জন্য অনুসন্ধান করা। [কেননা যখন তারা] আদেশকৃত বিষয়ের কল্যাণসমূহ এবং নিষিদ্ধ বিষয়ের অপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবে, তখন তা তাদের অনুগত্যের [প্রতি] অধিকতর উৎসাহী করবে। নিশ্চয়ই রব্বানি হেকিমদের পক্ষ থেকে যারা [আদেশ ও নিষেধের] ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তায়ালার হিকমত অনুধাবন করেন, [সেই] মূল কারণগুলো প্রকাশ করা বাঞ্ছনীয়।
কেননা কোনো ওয়ায়েজ (উপদেশদাতা) যদি বলেন: [ব্যভিচার] হারাম হওয়ার হিকমত হলো সংক্রামক ও ঘৃণ্য ব্যাধি থেকে [সুরক্ষা], তবে অচিরেই [হয়তো কেউ] বলবে [
] এবং চিকিৎসক এ বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন [
… ]।
[পৃষ্ঠা ৮] [
… ] তাঁর মহিমা, ফলে তিনি তাদের শাস্তি দেন [
… ] বংশপরিচয় সম্পর্কে অজ্ঞতা [
… ] এই শর্তে যে তারা বহন করবে না [
… ] সন্তানাদি [
… ] বংশবৃদ্ধির কারণ যা দুর্বলতার দিকে নিয়ে যায় [
… ]।
আর এর অপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে [
… ] হয় সে [একেবারেই] বিবাহ করবে না, অথবা সে তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করবে এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। আর এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার [
… ] সম্পর্কের অবনতি ঘটবে যা ছিল সম্প্রীতির ক্ষেত্র। আর অচিরেই লোকটি তার স্ত্রী, সন্তানাদি, পিতা ও মাতাকে ত্যাগ করবে, [এবং অচিরেই
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮০)
يدفع] ماله لإحدى البغايا، وعسى أن تقلده امرأته وبنوه وجيرانه.
ويسترسل [بحيث] يحيط بجميع صور الزنا.
ويختم بنحو ما بدأ به، فيذكر أنها قد بقيت حِكَم [، وأن هناك] حِكَمًا لا يعلمها، وأنّ المقصد الأعظم هو ابتلاء الله عز وجل لعباده ليظهر ما ينطوي [عليه القلب] من الإجلال والمحبة له، والخوف منه، أو عدم ذلك.
[وينبغي أن تعرف] الحكمة للرد على الطاعنين في الإسلام، كالطاعنين بتحريم لحم الخنزير، وإباحة الطلاق [والزواج] من أربع أزواج، وشرع الرق، ونحو ذلك.
[
… ] شرط أن يقرر المجيب أولًا أنه قد ثبت عندنا بالقواطع وجود الخالق عز وجل بصفاته [
… ] ونبوة محمد صلى الله عليه وآله وسلم، أن كل ما جاء به عن ربه فهو حقٌّ قطعًا، وأنه جاء بهذا الحكم [
… ] عن الله قطعًا، والله تعالى أحكم الحاكمين، المحيط بكل شيء علمًا.
فحرمة لحم الخنزير ثابت عن الله تعالى [، وحكمةُ] ذلك ابتلاء عبيده، فإذا لم يعرف البشر حكمة أخرى، فأين يكون علمهم من علم الخالق عز وجل.
[
… ] للطاعن أن يناظر علماء الإسلام في هذه المقدمات.
[
… ] التي بعدها إلى آخرها، فإنهم مستعدون لإثباتها بالقواطع، فإذا أثبتوها [
… ] أصله.
[
… ] لا يعلم مضرة في أكل لحم الخنزير، وإن لم تُقنِعه براهينهم على تلك المقدمات [
… ] أن يظهر أن في أكله مضرة أو
[তিনি] তাঁর সম্পদ কোনো এক বারবনিতাকে প্রদান করেন, আর হতে পারে যে তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও প্রতিবেশীরাও তাঁকে অনুকরণ করবে।
এবং তিনি বিশদভাবে আলোচনা করেন [যাতে] ব্যভিচারের সকল রূপ পরিবেষ্টন করা যায়।
এবং তিনি যেভাবে শুরু করেছিলেন সেভাবেই শেষ করেন, তিনি উল্লেখ করেন যে কিছু প্রজ্ঞা অবশিষ্ট রয়ে গেছে, [এবং সেখানে এমন কিছু] প্রজ্ঞা রয়েছে যা তিনি জানেন না। আর মহান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করা, যাতে তাঁর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা এবং তাঁর প্রতি ভয়, অথবা এর অভাব—যা [হৃদয়ে] নিহিত রয়েছে তা প্রকাশিত হয়।
[এবং ইসলামের প্রজ্ঞা জানা উচিত] ইসলাম বিদ্বেষীদের জবাব দেওয়ার জন্য, যেমন শুকরের গোশত হারাম করা, তালাক বৈধ করা, [এবং] চারজন পর্যন্ত স্ত্রী গ্রহণ এবং দাসপ্রথা প্রবর্তন ও এই জাতীয় বিষয়ের সমালোচকদের ক্ষেত্রে।
[
… ] শর্ত হলো যে উত্তরদাতাকে প্রথমেই এটি নির্ধারণ করতে হবে যে, আমাদের নিকট অকাট্য প্রমাণ (قواطع) দ্বারা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র অস্তিত্ব ও তাঁর গুণাবলী [
… ] এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা নিশ্চিতভাবেই সত্য এবং তিনি এই বিধানটি [
… ] নিশ্চিতভাবে (قطعاً) আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন। আর আল্লাহ তাআলা সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক, যিনি তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন।
শুকরের গোশত হারাম হওয়া আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাব্যস্ত (ثابت), [এবং এর] প্রজ্ঞা হলো তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করা। যদি মানুষ অন্য কোনো প্রজ্ঞা না জানে, তবে স্রষ্টা আজ্জা ওয়া জাল্লা-র জ্ঞানের তুলনায় তাদের জ্ঞান কোথায়?
[
… ] সমালোচকের জন্য অবকাশ রয়েছে যে তিনি এই ভূমিকাগুলোর বিষয়ে ইসলামের আলেমদের সাথে বিতর্ক করবেন।
[
… ] পরবর্তী থেকে শেষ পর্যন্ত, নিশ্চয়ই তাঁরা তা অকাট্য প্রমাণ (قواطع) দ্বারা সাব্যস্ত করতে প্রস্তুত। সুতরাং যখন তাঁরা তা সাব্যস্ত করবেন [
… ] এর মূল।
[
… ] শুকরের গোশত খাওয়ার মধ্যে কোনো ক্ষতিকর দিক তাঁর জানা নেই। আর যদি সেই ভূমিকাগুলোর ওপর তাঁদের প্রমাণসমূহ তাঁকে সন্তুষ্ট করতে না পারে [
… ] যে এটি খাওয়ার মধ্যে কোনো ক্ষতিকর দিক আছে কি না অথবা
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮১)
مضار.
[
… ] يذكر ما استطاع ذكره من المفاسد في أكل لحم الخنزير.
[
… ] مضرة أوأكثر، فقد لا تقنع الطاعن، فيبقى مصرًّا على زعمه أنه قد طعن في الإسلام.
[
… ] طلع على الطعن، والجواب من عوام المسلمين وغيرهم، قد لا يقنعه الجواب، فيقع [
… ] طعن متوجه، وأنه يدل على بطلان الإسلام. فليتنبه لهذا.
[ص 5] الثمن
(1) مكافئًا للمبيع، وخيرًا له منه، وإن المشتري كا [
… ].
وعلى هذا فإذا تحقق الرضا حكم بأن العوضين متكا [فئان
… ].
الثانية: أن ننظر إلى ما يقتضيه الحال و [
… ] بيد الرجل سلعة باعها بدون قيمة المثل لجهله بها مثلًا [
… ] حكم بأن العوضين غير متكافئين.
الثالثة: أن ننظر إلى ما هو أدق من هذا، فنقول: إذا كان لرجل أرض فزرعها [
… ] ثمرتها، فقد يقال: ينبغي أن يحسب قيمة البِذْر وأجرة العمل، ويحطّ من ذلك ما استفاده منها في أثناء
--------------------------------------------
ক্ষতিসমূহ।
[
… ] শূকরের মাংস ভক্ষণের ফলে যেসব অপকারিতা হতে পারে, তা তিনি সাধ্যমতো উল্লেখ করেন।
[
… ] এক বা একাধিক ক্ষতি, যা হয়তো আপত্তি উত্থাপনকারীকে (طاعن) সন্তুষ্ট করতে পারবে না, ফলে সে তার এই দাবিতে অটল থাকবে যে সে ইসলামের ওপর আপত্তি (طعن) উত্থাপন করেছে।
[
… ] আপত্তি এবং সাধারণ মুসলিম ও অন্যদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত উত্তর সম্পর্কে অবগত হওয়া; সম্ভবত উত্তরটি তাকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না, ফলে এটি একটি লক্ষ্যভেদী আপত্তি (طعن) হিসেবে পতিত হবে এবং তা ইসলামের অসারতা প্রমাণ করবে। অতএব এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।
[পৃষ্ঠা ৫] মূল্য
(১) বিক্রিত পণ্যের সমতুল্য এবং তার জন্য কল্যাণকর হতে হবে, আর ক্রেতা যদি... [
… ]।
এর ওপর ভিত্তি করে, যদি সন্তুষ্টি অর্জিত হয়, তবে এই মর্মে হুকুম (حكم) দেওয়া হবে যে বিনিময় দুটি সমত... [ল্য
… ]।
দ্বিতীয়ত: পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী লক্ষ্য করা এবং [
… ] কোনো ব্যক্তির নিকট এমন পণ্য আছে যা সে বাজারমূল্য সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করেছে [
… ] তবে এই মর্মে হুকুম (حكم) দেওয়া হবে যে বিনিময় দুটি সমতুল্য নয়।
তৃতীয়ত: এর চেয়েও সূক্ষ্ম বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করা, আমরা বলি: যদি কোনো ব্যক্তির জমি থাকে এবং সে তাতে চাষাবাদ করে [
… ] তার ফসল, তবে বলা যেতে পারে: বীজের মূল্য এবং শ্রমের মজুরি হিসাব করা উচিত এবং তা থেকে ওই পরিমাণ বাদ দেওয়া উচিত যা সে এর মধ্যবর্তী সময়ে লাভ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮২)
السنة، فما [بقي] فهو قيمة الثمرة، فليس له أن يبيعها بأكثر من ذلك، فإن اشتراها تاجر منه، وجلبها إلى بلد آخر، وأراد أن يبيعها، فإن كان اشتراها بالقيمة، فله أن يضم إليها مقدار أجرته في الابتياع والحمل والنقل [
… ] أكثر من ذلك.
وإن كان اشتراها بأنقص من القيمة [
… ] صاحب الزرع تبرع منه له، فلا يلزمه أن لا يحسبه.
ويمكن أن يقال: من تبرع [
… ] فعليه أن يتبرع به.
وإن كان اشتراها بأكثر من القيمة فتلك زيادة ظلم بها [
… ] غير من ظلمه.
فقد يظهر للناظر أن الطريق الثالث هي العدل المحض، وأن الثانية بعيدة عن العدل، وإن [
… ].
ولكن الثالثة يكثر فيها الخفاء وعدم الانضباط، وإناطة الحكم بها تؤدي إلى ضيق المعاملة [
… ] إلى رغبة النا [س عن الزراعة] والصناعة والتجارة، ويؤدي ذلك إلى تأخر الحضارة، بل ربما أدَّى إلى خراب الدنيا.
وهكذا الثانية، وإمكان الظهور والانضباط عليها يكون في شيء دون آخر.
فلهذا كان الحكمة حق الحكمة أن يناط الحكم بالتراضي، على أن في نوط الحكم به مصالح أخرى، منها: [
… ] وتربية العقول.
ولكن دلالة الرضا على المكافأة تختلف باختلاف العقول والأفهام،
সুন্নাহ (السنة); অতঃপর যা [অবশিষ্ট থাকে] তা-ই হলো ফলের মূল্য, সুতরাং তার জন্য এর চেয়ে অধিক মূল্যে তা বিক্রয় করা বৈধ নয়। যদি কোনো ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে তা ক্রয় করে এবং অন্য শহরে নিয়ে যায় এবং তা বিক্রয় করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যদি তা প্রকৃত মূল্যে ক্রয় করে থাকে, তবে তার জন্য তাতে নিজ পারিশ্রমিক, ক্রয় বাবদ খরচ, বহন ও স্থানান্তরের ব্যয় যুক্ত করার অধিকার রয়েছে [
… ] এর চেয়ে বেশি নয়।
আর যদি সে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে তা ক্রয় করে থাকে [
… ] তবে ফসলের মালিক তার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, ফলে তা হিসাব না করা তার জন্য আবশ্যক নয়।
এবং বলা যেতে পারে: যে ব্যক্তি অনুগ্রহ [
… ] তার কর্তব্য হলো তা অনুগ্রহ হিসেবেই প্রদান করা।
আর যদি সে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে তা ক্রয় করে থাকে, তবে সেটি এক প্রকার জুলুমের আধিক্য যা দ্বারা সে [
… ] যাকে সে জুলুম করেছে সে ছাড়া অন্য কেউ।
একজন পর্যবেক্ষকের নিকট প্রতীয়মান হতে পারে যে, তৃতীয় পদ্ধতিটিই হলো বিশুদ্ধ ন্যায়বিচার (عدل), এবং দ্বিতীয়টি ন্যায়বিচার (عدل) থেকে দূরবর্তী, যদিও [
… ]।
কিন্তু তৃতীয় পদ্ধতিতে অস্পষ্টতা ও শৃঙ্খলার অভাব (عدم الانضباط) অধিক হয়ে থাকে; আর এর ওপর বিধানকে (حكم) ন্যস্ত করা লেনদেনে সংকীর্ণতার সৃষ্টি করে [
… ] যা মানুষের কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রতি বিমুখতার কারণ হয় এবং এর ফলে সভ্যতা পশ্চাৎপদ হয়ে পড়ে, এমনকি সম্ভবত এটি পৃথিবীর ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
অনুরূপভাবে দ্বিতীয় পদ্ধতিটিও; তবে এতে স্পষ্টতা ও শৃঙ্খলার (انضباط) সম্ভাবনা একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে থাকলেও অন্যটির ক্ষেত্রে থাকে না।
এই কারণেই প্রকৃত প্রজ্ঞা এটাই যে, বিধানকে (حكم) পারস্পরিক সন্তুষ্টির (تراضي) সাথে সম্পৃক্ত করা হবে; কারণ বিধানকে (حكم) এর সাথে সম্পৃক্ত করার মধ্যে অন্যান্য কল্যাণ (مصالح) নিহিত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: [
… ] এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ।
কিন্তু বিনিময়ের ক্ষেত্রে সন্তুষ্টির (رضا) বহিঃপ্রকাশ বুদ্ধি এবং বোধশক্তির ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৩)
وذلك اختلاف لا ينفـ[ـي
… ] فنِيطَ الحكم بالبلوغ والعقل.
ومن العلماء من يضمُّ إلى ذلك أن لا يكون [المشتري] مضطرًّا إلى العوض كمن اشتد به الجوع، فاشترى رغيفًا بدينار، والحال أن [
… ] في تلك البقعة دانق مثلًا.
ومنهم من يستثني الغبن الفاحش فيرد به، ومنهم [
… ] المسترسل، وهو من يحسن الظن بصاحبه، فيرى أنه لن يحاول أن يغبنه، وقـ[ـد قيل:] "غَبْنُ المسترسل ربًا".
[ص 6] [
… ] عشرة دراهم من مال المشتري [
… ].
وباعتبار الثانية [
… ] هم من مال بالباطل.
وباعتبار الطريقة الأولى لم يأكل [
… ] {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ [بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً] عَنْ تَرَاضٍ}.
فأفهمت الآية أن [
… ].
الإجارة: يأتي فيها نحو ما تقدم في البيع.
ولننظر الآن في الربا، ونُقدِّم أشهر ما يطلق عليه ربا، وهو الزيادة المشروطة في القرض، [
… ] عشرة دراهم بشرط أن يقضي أحد عشر.
এবং এটি এমন এক মতভেদ যা [নাকচ (ينفي)
… ] করে না; ফলে বিধানটিকে সাবালকত্ব (بلوغ) এবং সুস্থ মস্তিষ্কের (عقل) সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
আলেমগণের মধ্য থেকে কেউ কেউ এর সাথে এটিও যোগ করেন যে, [ক্রেতা] যেন বিনিময়ের ক্ষেত্রে নিরুপায় না হয়; যেমন এমন ব্যক্তি যার প্রচণ্ড ক্ষুধা লেগেছে, ফলে সে একটি রুটি এক দিনারে ক্রয় করল, অথচ সেই স্থানে [
… ] উদাহরণস্বরূপ এক দানিক পরিমাণ ছিল।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ অস্বাভাবিক প্রতারণা (الغبن الفاحش) কে এর ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেন এবং এর কারণে (চুক্তি) বাতিল করা যায় বলে মনে করেন। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ [
… ] সরল বিশ্বাসী (المسترسل) ব্যক্তিকে এর অন্তর্ভুক্ত করেন। সে হলো এমন ব্যক্তি, যে তার সঙ্গীর প্রতি সুধারণা পোষণ করে এবং মনে করে যে সে তাকে ঠকানোর চেষ্টা করবে না। আর বলা হয়েছে: "সরল বিশ্বাসী ব্যক্তিকে ঠকানো হলো সুদ (ربا)"।
[পৃষ্ঠা ৬] [
… ] ক্রেতার সম্পদ থেকে দশ দিরহাম [
… ]।
আর দ্বিতীয় বিষয়টি বিবেচনায় [
… ] তারা অন্যায্যভাবে (بالباطل) সম্পদ ভক্ষণকারী।
প্রথম পদ্ধতি বিবেচনায় সে ভক্ষণ করেনি [
… ] {হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ [অন্যায়ভাবে (بالباطل) গ্রাস করো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে] হলে ভিন্ন কথা}।
সুতরাং আয়াতটি এ কথা বুঝিয়েছে যে [
… ]।
ইজারা (الإجارة): এতেও কেনা-বেচার ক্ষেত্রে যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে অনুরূপ বিষয়সমূহ প্রযোজ্য হবে।
এখন আমরা সুদ (الربا) সম্পর্কে আলোচনা করব। সুদের ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আমরা তা প্রথমে উল্লেখ করব, আর তা হলো ঋণের ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত অতিরিক্ত গ্রহণ; [
… ] যেমন এগারো দিরহাম পরিশোধ করার শর্তে দশ দিরহাম প্রদান করা।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৪)
فهذا الدرهم ظلم وباطل، ولا مُلْجِئ ههنا إلى اعتبار [
… ] إنما اعتبر في البيع للخفاء، وعدم الانضباط في الطريقين الأخريين، وما ينشأ عنهما من المفسدة [
… ] غير موجود في القرض.
[
… ] يحاول بها إثبات أن الربا ليس بظلم. [
… ] رضا، ويقول بعضهم: أرأيت لو وهب الرجل ماله لآخر، فأخذه، أيكون الأخذ ظلمًا؟
[والجـ]ـواب: أن الرضا هنا ليس كالرضا في الهبة، [ألا] ترى أن الرجل لا يأخذ بالربا إلا مضطرًّا، ولو وجد من يعطيه بغير ربًا لما أخذ من المُرِبي، ولو خيَّره [المـ]ـقرض بين أن يعطي ربًا أو لا يعطي، لاختار عدم الإعطاء.
فإن قيل: ولكن الرضا هنا كالرضا في البيع سواء، فإن البائع في المثال المتقدم لو خيَّر المشتري بين أن يعطي عشرة أو عشرين، لاختار العشرة، ولو خيّره المشتري بين أخذ عشرين أو ثلاثين، لاختار الثلاثين.
والجواب: أننا قد قررنا الفرق آنفًا، وهو أنه كان مقتضى العدل في البيع اعتبار الطريقة الثالثة، فإن لم تكن فالثانية، ولكن لخفائهما وعدمِ انضباطهما وما ينبني عليهما من المفاسد نِيطَ الحكم بالرضا. وهذا المعنى منتفٍ في القرض.
فإن قيل: فإنه يوجد في القرض ما يُشبِه هذا المعنى، وهو أن المنع من الربا يؤدي إلى امتناع الناس عن الإقراض.
قلنا: فقد مضت قرون زاهرة على المسلمين لم يمتنعوا فيها عن القرض بدون رِبا.
সুতরাং এই দিরহামটি জুলুম এবং বাতিল (باطل); আর এখানে [
… ] বিবেচনার কোনো আবশ্যকতা নেই। মূলত বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা এবং অপর দুটি পদ্ধতির ক্ষেত্রে নিয়মশৃঙ্খলার অভাব এবং তা থেকে উদ্ভূত অনিষ্টের কারণে [
… ] [সম্মতিকে] বিবেচনা করা হয়েছে, যা ঋণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেই।
[
… ] এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করতে চাচ্ছেন যে সুদ জুলুম নয়। [
… ] সম্মতি; এবং তাদের কেউ কেউ বলেন: আপনি কি মনে করেন যদি কোনো ব্যক্তি তার সম্পদ অন্য কাউকে দান করে এবং সে তা গ্রহণ করে, তবে কি সেই গ্রহণ করা জুলুম হবে?
জওয়াব হলো: এখানে সম্মতি আর দানের ক্ষেত্রে সম্মতি এক নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, মানুষ কেবল নিরুপায় হয়েই সুদে লিপ্ত হয়? সে যদি এমন কাউকে পেত যে তাকে সুদ ছাড়াই ঋণ দেবে, তবে সে সুদখোরের কাছ থেকে গ্রহণ করত না। আর যদি ঋণদাতা তাকে সুদ দেওয়া বা না দেওয়ার মাঝে পছন্দ বা ইখতিয়ার প্রদান করত, তবে সে অবশ্যই না দেওয়াকেই বেছে নিত।
যদি বলা হয়: কিন্তু এখানে সম্মতি আর বিক্রয়ের সম্মতি একদম সমান। কেননা পূর্বোক্ত উদাহরণে বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে দশ অথবা বিশ দেওয়ার মাঝে ইখতিয়ার দিত, তবে সে দশকেই বেছে নিত। আবার ক্রেতা যদি বিক্রেতাকে বিশ অথবা ত্রিশ নেওয়ার সুযোগ দিত, তবে সে অবশ্যই ত্রিশকেই বেছে নিত।
জওয়াব হলো: আমরা ইতিপূর্বেই এর পার্থক্য নির্ধারণ করেছি। আর তা হলো বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ন্যায়ের দাবি ছিল তৃতীয় পদ্ধতিটি বিবেচনা করা, আর তা সম্ভব না হলে দ্বিতীয়টি। কিন্তু সেই দুই পদ্ধতির অস্পষ্টতা, অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা এবং তা থেকে উদ্ভূত অনিষ্টের কারণে বিধানটিকে সম্মতির সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে। আর এই বিষয়টি ঋণের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
যদি বলা হয়: ঋণের ক্ষেত্রেও এমন একটি বিষয় পাওয়া যায় যা এই অর্থের সদৃশ, আর তা হলো সুদ নিষিদ্ধ করা হলে মানুষ ঋণ দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।
আমরা বলব: মুসলমানদের ওপর এমন অনেক স্বর্ণযুগ অতিবাহিত হয়েছে যখন তারা সুদ ছাড়াই ঋণ দান করা থেকে বিরত থাকেনি।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৫)
ولماذا يُؤثِر الرجل الممنوع من الربا كنزَ دراهمِه على دفعها لأخيه، ينتفع بها ويردها في وقتها، مع وثوق لدافع بالقضاء، كأن استوثق برهنٍ أو ضامنٍ، أو وثقَ بوفاء أخيه. مع ما يحصل في ذلك للمقرض من الأجر والشكر وغير ذلك من المنافع، كما سيأتي إن شاء الله تعالى.
على أن خشية امتناع الناس عن القرض لا يوازي خشية تقاعدهم عن الزراعة والصناعة والتجارة، وما يلزم من خفاء المناط، وعدم انضباطه في البيع من كثرة التشاجر والتنازع، وتحيُّر الحكام، وغير ذلك.
[ص 9] الشبهة الثانية: أن هناك فائدتين [تحصلان للمستقرض من القرض
… ] أو نحو ذلك [
] بذلك القرض [
… ].
الجواب عن الفائدة الأولى: أن ما حصل للمقرض من [النفع
] المال الذي استقرضه.
[وحينئذ] فالقضاء
… ] ولو فرض أنه صبر على الجوع والعري حتى وجد مالًا، [فإن
].
وجواب آخر: وهو أن دفع حاجة المضطر مما يوجبه الإسلام، وسائر الشرائع تقتضيه [
… ] إذا كان دفع حاجته لا يوجب نقصانًا ما على الدافع، وههنا كذلك، فإن الدافع إن كان يريد خَزْنَ ماله لو لم يقرض فهو عند المستقرض كأنه في خزانة، بل إن القرض أنفع للمستقرض كما سيأتي، وإن كان يريد أن يتجر فيه، فلا يدري أيربح فيه في مثل مدة القرض،
আর কেনই বা সুদ (ربا) থেকে নিষিদ্ধ ব্যক্তি তার ভাইকে দিরহাম প্রদানের পরিবর্তে তা সঞ্চয় করে রাখাকে প্রাধান্য দেবে? অথচ তার ভাই তা দ্বারা উপকৃত হতে পারে এবং যথা সময়ে তা ফেরত দিতে পারে; এমতাবস্থায় দাতার পরিশোধের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা (وثوق) থাকে, যেমন সে বন্ধক (رهن) বা জামিনদারের (ضامن) মাধ্যমে তা নিশ্চিত করল, অথবা তার ভাইয়ের ঋণ পরিশোধের সততার ওপর ভরসা করল। এর পাশাপাশি এতে ঋণদাতার জন্য যে সওয়াব, কৃতজ্ঞতা ও অন্যান্য উপকারিতা অর্জিত হয় তা তো রয়েছেই, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।
তাছাড়া মানুষের ঋণ দেওয়া থেকে বিরত থাকার আশঙ্কা, তাদের কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে বিমুখ হওয়ার আশঙ্কার সমতুল্য নয়; এবং এর ফলে ইল্লতের ভিত্তি (مناط) প্রচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া, ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অধিক ঝগড়া ও বিবাদের কারণে শৃঙ্খলার অভাব ঘটা, বিচারকদের বিভ্রান্ত হওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত।
[পৃষ্ঠা ৯] দ্বিতীয় সংশয় (شبهة): সেখানে দুটি উপকারিতা রয়েছে [যা ঋণ থেকে ঋণগ্রহীতা লাভ করে
… ] অথবা অনুরূপ কিছু [
] সেই ঋণের মাধ্যমে [
… ]।
প্রথম উপকারিতার উত্তর: ঋণদাতা [উপকার (نفع)
] হিসেবে যা লাভ করেছে তা হলো সেই সম্পদ যা সে ঋণ দিয়েছিল।
[এমতাবস্থায়] ঋণ পরিশোধ
… ] আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে, সে সম্পদ লাভ করা পর্যন্ত ক্ষুধা ও বস্ত্রহীনতায় ধৈর্য ধারণ করল, [তবে
]।
অন্য একটি উত্তর: আর তা হলো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির প্রয়োজন পূরণ করা এমন একটি বিষয় যা ইসলাম অপরিহার্য করেছে এবং অন্যান্য ধর্মবিধানসমূহ (شرائع) এর দাবি রাখে [
… ], যদি তার প্রয়োজন পূরণ দাতার কোনো প্রকার ঘাটতি তৈরি না করে। আর এখানে বিষয়টি তেমনই; কারণ দাতা যদি ঋণ না দিয়ে তার সম্পদ জমা করে রাখতে চাইত, তবে ঋণগ্রহীতার কাছে থাকা অবস্থায় তা যেন দাতার সিন্দুকেই রক্ষিত থাকল; বরং ঋণগ্রহীতার জন্য ঋণ গ্রহণ অধিকতর উপকারী যেমনটি সামনে আসবে। আর যদি সে তা দ্বারা ব্যবসা করতে চাইত, তবে সে জানত না যে ঋণের মেয়াদের সমপরিমাণ সময়ে সে তাতে লাভ করতে পারবে কি না।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৬)
أم يخسر؟ بل لعله يتلف المال في يده وضمانه. وإن كان يريد أن يصرفه في حوائجه فواضح أن إقراضه أنفع له؛ لأنه يبقى محفوظًا.
والجواب عن الفائدة الثانية: أنها خاصة بما إذا استقرض ليتجر.
ثم نقول: من المحتمل أن يربح أو أن يخسر، فإن رَبِح فهذا الربح في مقابل تعبه، وفي مقابل مخاطرته بأخذ ذلك المال، والتصرف فيه في ضمانه مع احتمال أن يتلف عليه، فيضيع تعبه، ويخيب أمله، ويضطر مع ذلك إلى أن يبيع حلي زوجته أو عقاره أو بيته ليوفي دينه.
وإن خسر فالأمر أوضح.
الشبهة الثالثة: أن هناك مضرّتينِ يتحملهما المقرض بسبب القرض:
الأولى: مخاطرته بإخراج ماله عن يده، وربما يتلف المال عند المستقرض، ويفلس ويموت، فيضيع المال.
الثانية: أن المقرض لو لم يُقرِض ذلك المال فربما اتَّجر فيه لنفسه وربح.
الجواب عن الأولى: أنه يمكن التخلص منها بأخذ رهنٍ، أو ضمانة، فإن أخذ ذلك زالت المخاطرة، وإن لم يأخذه وكان يمكنه ذلك فهو المقصِّر. وإن لم يكن يمكنه فإن كان يعلم أن للمستقرض أموالًا يمكن الأداء منها فلا مخاطرة، وإلا فهذه المخاطرة في مقابل مخاطرة المستقرض التي تقدمت.
وإذا وازنّا بينهما نجد مخاطرة المستقرض أشدَّ، لأنه مخاطر بضرورياته، كالعقار والبيت ونحوه، ومخاطرة المقرض قاصرة على المال
নাকি সে লোকসান (خسارة) করবে? বরং সম্ভাবনা রয়েছে যে, তার হাতে ও তার জিম্মায় (ضمان) সম্পদটি বিনষ্ট হবে। আর যদি সে তা নিজের প্রয়োজনে ব্যয় করতে চায়, তবে এটি স্পষ্ট যে তাকে ঋণ প্রদান (إقراض) করা তার জন্য অধিক উপকারী; কারণ তা সংরক্ষিত থাকে।
দ্বিতীয় উপকারের উত্তর হলো: এটি সেই অবস্থার সাথে সুনির্দিষ্ট যখন কেউ ব্যবসার উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ (استقرض) করে।
অতঃপর আমরা বলব: এতে লাভ (ربح) হওয়ার বা লোকসান (خسارة) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সে লাভবান হয়, তবে এই লাভ (ربح) তার পরিশ্রম এবং এই অর্থ গ্রহণ ও নিজ জিম্মায় (ضمان) তা ব্যবহারের ঝুঁকির বিপরীতে; যেখানে এটি বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে তার পরিশ্রম বৃথা যাবে, তার আশা ভঙ্গ হবে এবং এর সাথে সে তার স্ত্রীর অলঙ্কার, স্থাবর সম্পত্তি (عقار) অথবা ঘরবাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হবে যাতে সে তার ঋণ (دین) পরিশোধ করতে পারে।
আর যদি সে লোকসান (خسارة) করে তবে বিষয়টি আরও স্পষ্ট।
তৃতীয় সংশয় (شبهة): ঋণের (قرض) কারণে ঋণদাতা দুটি ক্ষতি বহন করে:
প্রথমটি: নিজের হাত থেকে সম্পদ বের করে দেওয়ার ঝুঁকি, এবং সম্ভবত ঋণগ্রহীতার কাছে সম্পদটি নষ্ট হয়ে যাবে, সে দেউলিয়া হবে অথবা মারা যাবে, ফলে সম্পদটি হারিয়ে যাবে।
দ্বিতীয়টি: ঋণদাতা যদি সেই অর্থ ঋণ (قرض) না দিত, তবে সম্ভবত সে নিজেই তা দিয়ে ব্যবসা করত এবং লাভ (ربح) করত।
প্রথমটির উত্তর হলো: বন্ধক (رهن) বা জামানত (ضمانة) গ্রহণের মাধ্যমে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। যদি তা গ্রহণ করা হয় তবে ঝুঁকি দূর হয়ে যায়। আর যদি সে তা গ্রহণ না করে অথচ তার সামর্থ্য ছিল, তবে সে নিজেই শৈথিল্যকারী। আর যদি তার সামর্থ্যে না থাকে, তবে যদি সে জানে যে ঋণগ্রহীতার এমন সম্পদ আছে যা থেকে ঋণ পরিশোধ সম্ভব, তাহলে কোনো ঝুঁকি নেই। অন্যথায়, এই ঝুঁকি হলো ঋণগ্রহীতার সেই ঝুঁকির বিপরীতে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর যদি আমরা এই দুটির মধ্যে তুলনা করি, তবে দেখতে পাই যে ঋণগ্রহীতার ঝুঁকি অধিকতর প্রবল; কারণ সে তার মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়াদি যেমন স্থাবর সম্পত্তি (عقار), ঘরবাড়ি এবং এই জাতীয় জিনিসের ক্ষেত্রে ঝুঁকির সম্মুখীন। পক্ষান্তরে ঋণদাতার ঝুঁকি কেবল সম্পদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৭)
الذي أقرضه، والغالب أنه يكون فاضلًا عن ضرورياته.
والجواب عن الثانية: أنه لا يخلو أن يكون المقرض يريد أن يتجر بذلك المال لو لم يقرضه، أو يريد أن يخزنه، فإن كان يريد أن يخزنه فلم يفته بالقرض ربحٌ أصلًا.
وإن كان يريد أن يتجر فيه فإنه يكون بالاتجار مخاطرًا بين أن يربح، وبين أن يضيع تعبه، ويخيب أمله، ويخسر من رأس المال، أو يتلف المال أصلًا.
[
… المقرض] من التعب، ومن المخاطرة، مع فوائد أخرى حصلت له كما سيأتي.
فليكن هذا [
… ].
[ص 10] [
… ] [من المستقرض وغيره].
4 - ما ينشأ عن ذلك من الجاه والقبول.
5 - ما يترتب عن ذلك من منافع لا تحصى.
6 - ربما يحتاج في مستقبله إلى الاستقراض [
… ].
7 - المال معرض للتلف، فإن بقي عنده وتلف لم يضمنه له أحد [
… المستقرض كان مضمونًا في ذمته].
8 - [
… ] تحت يد المقرض لوقع فيه يصرفه [
] كان محفوظًا عن ذلك.
যা তিনি ঋণ দিয়েছেন, এবং সাধারণত এটি তাঁর অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয়ে থাকে।
দ্বিতীয়টির উত্তর হলো: এটি দুই অবস্থার বাইরে নয়—ঋণদাতা যদি অর্থটি ঋণ না দিতেন, তবে হয় তিনি তা দিয়ে ব্যবসা করতে চাইতেন, অথবা তা সঞ্চয় করে রাখতে চাইতেন। যদি তিনি তা সঞ্চয় করে রাখতে চাইতেন, তবে ঋণ প্রদানের কারণে তিনি মোটেও কোনো মুনাফা হারাননি।
আর যদি তিনি তাতে ব্যবসা করতে চাইতেন, তবে সেই ব্যবসার ক্ষেত্রে তিনি ঝুঁকির সম্মুখীন হতেন—হয় তিনি লাভবান হতেন, নতুবা তাঁর শ্রম পণ্ড হতো, তাঁর আশা ভঙ্গ হতো এবং মূলধন হ্রাস পেত অথবা অর্থটি সমূলে বিনষ্ট হতো।
[
… ঋণদাতা] ক্লান্তি ও ঝুঁকি থেকে মুক্তি পেয়েছেন, সাথে অন্যান্য উপকারিতাও তাঁর অর্জিত হয়েছে যা সামনে বর্ণিত হবে।
সুতরাং এটি হোক [
… ]।
[পৃষ্ঠা ১০] [
… ] [ঋণগ্রহীতা ও অন্যদের পক্ষ থেকে]।
৪ - এর ফলে যে মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।
৫ - এর ফলে যে অগণিত কল্যাণ সাধিত হয়।
৬ - সম্ভবত ভবিষ্যতে তাঁর নিজেরও ঋণ গ্রহণের [
… ] প্রয়োজন হতে পারে।
৭ - সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় থাকে, তাই এটি যদি তাঁর কাছে থেকে নষ্ট হতো তবে কেউ এর জামানত (ضمان) দিত না [
… ঋণগ্রহীতার জিম্মায় (ذمة) এটি দায়বদ্ধ (مضمون) ছিল]।
৮ - [
… ] ঋণদাতার হাতে থাকলে তিনি হয়তো তা ব্যয় করে ফেলতেন [
] এটি তা থেকে সংরক্ষিত থাকল।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৮)
9 - كثيرًا ما يحتاج صاحب المال [
… ] [من سرقة أو نهب] أو غير ذلك، وإذا أودعه كان أمانة عند الوديع لا يضمنه إذا تلف [
… ] كان مضمونًا على المستقرض.
10 - إذا كان المال طعامًا فإنه يكثر أن يكون عتيقًا لو بقي بعينه لفسد أو تلف، وإذا أقرضه فإن لم يرد له المستقرض أجود منه فلا بد أن يرد مثله حين أخذه.
وهناك أمور أخرى تدرك بالتأمل، وفيما ذكر كفاية. والله أعلم.
* * * *
9 - অনেক সময়ই সম্পদের মালিক [চুরি বা লুণ্ঠন] অথবা অন্য কোনো কারণে [সুরক্ষার] প্রয়োজন বোধ করেন। এমতাবস্থায় তিনি যদি তা গচ্ছিত রাখেন, তবে তা আমানত গ্রহণকারীর নিকট আমানত (أمانة) হিসেবে থাকে এবং তা বিনষ্ট হলে তিনি দায়ী (ضامن) হন না; [পক্ষান্তরে তা ঋণ হিসেবে থাকলে] তা ঋণগ্রহীতার ওপর দায়বদ্ধ (مضمون) থাকে।
10 - সম্পদটি যদি খাদ্যদ্রব্য হয়, তবে তা দীর্ঘকাল পড়ে থাকলে প্রায়শই পুরনো হয়ে যায় এবং অবিকল অবস্থায় থাকলে নষ্ট বা ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমতাবস্থায় তিনি যদি তা ঋণ দেন এবং ঋণগ্রহীতা যদি তাকে এর চেয়ে উৎকৃষ্ট কিছু ফেরত নাও দেয়, তবে তাকে অবশ্যই গ্রহণের সময়ের অনুরূপ (مثله) ফেরত দিতে হবে।
এখানে আরও কিছু বিষয় রয়েছে যা গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে উপলব্ধি করা সম্ভব, এবং যা উল্লেখ করা হয়েছে তা-ই যথেষ্ট। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
* * * *
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৮৯)
مفاسد الرباتمهيد
المقصود من شرع الأحكام تطبيق العدل، ولكن الجزئيات لا تحصى ولا تتناهى، والحكمة المقتضية للحكم تختلف في الجزئيات، فتخفى في بعضها، وتظهر في أخر، [وتشتدُّ في بعضها، وتخِفُّ في أخر،] ولا ينضبط مقدارها.
مثال ذلك: الزنا، فإنه جرم يوجب العقوبة، ولكنه يكون تارة جرمًا شديدًا جدًّا، وتارة يكون أخفَّ.
فرجل شائب ضعيف الشهوة غني عَمَدَ إلى امرأة قبيحة لا يحبها، فسعى بعدها حتى زنى بها.
وآخر شابٌّ قوي الشهوة فقير، لا يجد من يُزوِّجه، عشق امرأة جميلة، فكان يتجنب لقاءها، فاتفق أن صادفها في مكان خالٍ، فلم يصبر أن وقع عليها.
فبين الجرمين بون بعيد، وبينهما درجات لا تحصى، وهكذا يزداد الاختلاف إذا نظرنا إلى ما ينشأ عن الزنا من إفساد المرأة، وإسقاط شرفها، وإلحاق العار بأهلها، وتضييع الولد، وما يخشى من انتشار الزنا في الناس، وغير ذلك.
فلو كُلِّف عاقل سَنَّ عقوبةٍ للزنا كان أمامه أربع طرق:
الأولى: أن يفصِّل القانون تفصيلًا بعدد ما يمكن من اختلاف الجزئيات.
সুদের (الربا) অপকারিতাপ্রারম্ভিকা
শরিয়তের বিধান (الأحكام) প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তবে বিধানের প্রয়োগিক ক্ষেত্রগুলো অগণিত ও অসীম। বিধানের পেছনে নিহিত প্রজ্ঞা (الحكمة) ক্ষেত্রবিশেষে ভিন্ন ভিন্ন হয়; কোনো ক্ষেত্রে তা অস্পষ্ট থাকে, আবার কোনো ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। [কোনো ক্ষেত্রে তা অত্যন্ত জোরালো হয়, আবার কোনো ক্ষেত্রে লঘু হয়,] এবং এর সঠিক মাত্রা নিরূপণ করা সম্ভব হয় না।
এর উদাহরণ হলো: ব্যভিচার (الزنا); এটি এমন একটি অপরাধ যা শাস্তির দাবি রাখে। তবে এটি কখনো অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, আবার কখনো তুলনামূলক লঘু হয়।
যেমন: একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি যার কামভাব ক্ষীণ এবং যে সম্পদশালী; সে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন এক কুৎসিত নারীর পেছনে প্রলুব্ধ হলো যাকে সে ভালোবাসে না, এবং শেষ পর্যন্ত তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো।
পক্ষান্তরে, অন্য একজন যুবক যার কামভাব প্রবল এবং যে দরিদ্র; সে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না। সে এক রূপবতী নারীর প্রেমে পড়েছিল এবং তার সাথে সাক্ষাৎ পরিহার করে চলত। কিন্তু দৈবক্রমে এক নির্জন স্থানে তার দেখা পেয়ে গেল এবং নিজেকে সংবরণ করতে না পেরে তার সাথে লিপ্ত হয়ে পড়ল।
এই দুই অপরাধের মধ্যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে এবং এই দুইয়ের মাঝেও রয়েছে অসংখ্য স্তর। এভাবে পার্থক্যের মাত্রা আরও বেড়ে যায় যখন আমরা ব্যভিচারের ফলে সৃষ্ট নারীর অবক্ষয়, তার সম্মানহানি, তার পরিবারের জন্য কলঙ্ক বয়ে আনা, সন্তান নষ্ট হওয়া এবং সমাজে ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করি।
যদি কোনো বিবেকবান ব্যক্তিকে ব্যভিচারের শাস্তি নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হতো, তবে তার সামনে চারটি পথ খোলা থাকত:
প্রথমটি: ঘটনার সম্ভাব্য প্রতিটি খুঁটিনাটি পার্থক্যের সংখ্যা অনুযায়ী বিস্তারিতভাবে আইন প্রণয়ন করা।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯০)
الثانية: أن يكِلَ الأمر إلى الحكام، ليقرر كل حاكم في الجزئية التي تعرض عليه ما يراه مناسبًا لها.
الثالثة: أن يقرِّر عقوبة تنطبق على أخفِّ الجزئيات جرمًا، أو أشدِّها، أو أوسطها، يطلقها في جميع الجزئيات.
الرابعة: أن يقرِّر عقوبة تنطبق على الغالب من الجزئيات [
… ].
[ص 11] فأما الأولى: فليست بممكنة:
أولًا: لكثرة الاختلاف بحيث يصعب [حصره].
ثانيًا: لأن من الأحوال التي يختلف مقدار الجرم باختلافها [
] ومقدار ما ينشأ عن الزنا من المضار [والمفاسد
… ] الأنبياء في الناس حتى يكونوا هم الحكام، ويوحي إليهم في كل [جزئية
… ].
وإما أن يوحي إلى رسوله كتابًا يحصي فيه وقائع الزنا إلى يوم القيامة باسم [الرجل
… ] بحيث لا تشتبه واقعة بأخرى.
فأما الأول: فكان ممكنًا، ولكنه ينافي ما [
] والاختبار، وغير ذلك، ولاسيما إذا علمنا أنه يقتضي أن يكون الناس كلهم أنبياء، لأنه [
… ] لأجل عقوبة الزنا، لزم اختياره لجميع الأحكام حتى التي يكون فيها كل إنسان حاكم نفسه [
… ].
দ্বিতীয়ত: বিষয়টি শাসকদের ওপর অর্পণ করা, যাতে প্রতিটি শাসক তাঁর নিকট উপস্থাপিত প্রতিটি আংশিক বিষয়ের ক্ষেত্রে যা উপযুক্ত মনে করেন সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন।
তৃতীয়ত: এমন একটি দণ্ড নির্ধারণ করা যা অপরাধের লঘুতম, গুরুতর কিংবা মধ্যম পর্যায়ের আংশিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং তা সকল আংশিক বিষয়ের ওপর সাধারণভাবে প্রয়োগ করা।
চতুর্থত: এমন একটি দণ্ড নির্ধারণ করা যা অধিকাংশ আংশিক বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে [
… ]।
[পৃষ্ঠা ১১] প্রথমটির ক্ষেত্রে বলা যায়: তা সম্ভবপর নয়:
প্রথমত: মতভেদের আধিক্যের কারণে, যার ফলে তা [সীমাবদ্ধ করা] দুঃসাধ্য।
দ্বিতীয়ত: কারণ এমন কিছু অবস্থা রয়েছে যেগুলোর পরিবর্তনের কারণে অপরাধের মাত্রাও পরিবর্তিত হয় [
] এবং ব্যভিচারের ফলে যে পরিমাণ ক্ষতিকর প্রভাব [ও অনিষ্ট
… ] সৃষ্টি হয়, (তা নিরূপণের জন্য প্রয়োজন) মানুষের মধ্যে নবিগণ যাতে তাঁরাই শাসক হন এবং প্রতিটি [আংশিক বিষয়ে
… ] তাঁদের প্রতি ওহি অবতীর্ণ করা হয়।
অথবা তাঁর রাসুলের নিকট ওহি হিসেবে এমন একটি কিতাব অবতীর্ণ করা যাতে কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য ব্যভিচারের সকল ঘটনা [ব্যক্তির
… ] নামসহ এমনভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে যেন একটি ঘটনার সাথে অন্যটি সংশয়পূর্ণ না হয়।
প্রথমটির ক্ষেত্রে বলা যায়: তা সম্ভব ছিল, কিন্তু তা [ ] এবং পরীক্ষা ও অন্যান্য বিষয়ের পরিপন্থী; বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে এটি দাবি করে যেন সকল মানুষই নবি হয়; কারণ [
… ] ব্যভিচারের দণ্ডের খাতিরে যদি তাকে মনোনীত করা হয়, তবে তাকে সকল বিধানের জন্যই মনোনীত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, এমনকি সেসব বিষয়ের ক্ষেত্রেও যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজেই নিজের বিচারক [
… ]।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯১)
وأما الثاني: فلأنه منافٍ للحكمة من وجوه، أقربها إلى الفهم اقتضاؤه أن يكون في عقوبة الزنا وحدها قرآن يبلغ آلافًا وملايينَ وأكثر من ذلك من المجلدات، فكيف يسهل نقله وحفظه وكشفه؟ وهكذا في كل حكم من الأحكام غير عقوبة الزنا.
وأما الطريقة الثانية ففيها:
أولًا: أنها لا تُغنِي، لخفاء بعض الصفات التي توجب اختلاف الجرم، كما تقدم.
وثانيًا: أنه فتحٌ لباب الظلم، وتلاعب الحكام، فهذا يداهن، وهذا يرتشي، وهذا تؤثر عليه الشفاعات، وهذا يخاف، وهذا يتهم، مع ما يلزمه من كثرة العمل الذي يكلف به الحاكم، فيستدعي ذلك كثرة الحكام، ولا سيما إذا علمنا أنه لو اختير ذلك في عقوبة الزنا انبغى أن يختار في غيرها من الأحكام، ومع ذلك فيصعب الفصل في القضايا ويتأخر، ويتعسَّر ويتعذَّر، وفي ذلك عين الفساد العام.
وأما الثالثة: فتعيين أخفِّ العقوبات لا يؤدي إلى المقصود من الزجر والتأديب، وتعيين أشدِّها قد يصادف أن يكون استحقاقه نادرًا، فيكون الغالب وقوع العقوبات على من لا يستحقُّها، وتعيين أوسطها قد يكون غلطًا، إذا فرض أن الغالب هو استحقاق الأشدِّ، أو استحقاق الأخفِّ.
وأما الرابعة: فهي العدل الممكن، ولكن يبقى معرفة الغالب، فإن العاقل قد يتردد فيه، وقد يغلط، وقد يخالفه غيره. ويبقى أيضًا تعيين العقوبة، ويبقى أيضًا أن تطبيق العقوبة على من كان من غير الغالب فيه إضرار به بغير استحقاق.
আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে: তা বেশ কিছু দিক থেকে হিকমতের পরিপন্থী; যার মধ্যে বোধগম্যতার নিকটতর দিকটি হলো, এর ফলে শুধুমাত্র ব্যভিচারের শাস্তির ক্ষেত্রেই এমন এক কুরআনের প্রয়োজন হতো যা হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ বা তার চেয়েও বেশি খণ্ডে বিস্তৃত হতো। এমতাবস্থায় তা সংবহন করা, মুখস্থ রাখা এবং প্রকাশ করা কীভাবে সহজ হতো? অনুরূপভাবে ব্যভিচারের শাস্তি ব্যতীত অন্য প্রতিটি বিধানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
আর দ্বিতীয় পদ্ধতির ক্ষেত্রে বিষয়গুলো নিম্নরূপ:
প্রথমত: এটি যথেষ্ট নয়, কারণ অপরাধের ভিন্নতা সৃষ্টি করে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অস্পষ্টতা রয়েছে, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: এটি জুলুমের দ্বার উন্মোচন করে এবং শাসকদের কারসাজির সুযোগ তৈরি করে; ফলে কেউ তোষামোদ করবে, কেউ ঘুষ গ্রহণ করবে, কারও ওপর সুপারিশ প্রভাব ফেলবে, কেউ ভয় পাবে, আবার কেউ অভিযুক্ত হবে। এর পাশাপাশি বিচারকের ওপর কাজের যে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হবে, তার জন্য বিপুল সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন পড়বে। বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে, যদি ব্যভিচারের শাস্তির ক্ষেত্রে এই পথ বেছে নেওয়া হতো, তবে অন্যান্য বিধানের ক্ষেত্রেও তা বেছে নেওয়া আবশ্যক হতো। এমতাবস্থায় মামলাসমূহের নিষ্পত্তি করা কঠিন হয়ে পড়ত এবং তাতে বিলম্ব ঘটত, আর তা দুষ্কর ও অসম্ভব হয়ে দাঁড়াত; আর এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত ব্যাপক ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা।
আর তৃতীয় পদ্ধতির ক্ষেত্রে: লঘুতম দণ্ড নির্ধারণ করা ধমক ও শাসনের উদ্দেশ্য হাসিল করে না। আর কঠোরতম দণ্ড নির্ধারণ করলে দেখা যেতে পারে যে, তার উপযুক্ততা খুবই বিরল; ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তিদের ওপর দণ্ড পতিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যারা তার উপযুক্ত নয়। আবার মধ্যম দণ্ড নির্ধারণ করা ভুল হতে পারে, যদি ধরে নেওয়া হয় যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কঠোরতর বা লঘুতর দণ্ডই উপযুক্ত ছিল।
আর চতুর্থ পদ্ধতির ক্ষেত্রে: এটিই হলো সম্ভাব্য ইনসাফ; কিন্তু অধিকাংশের অবস্থা নিরূপণের বিষয়টি বাকি থেকে যায়, কারণ একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি এ ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকতে পারেন, ভুল করতে পারেন অথবা অন্য কেউ তার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। অধিকন্তু, শাস্তি নির্ধারণের বিষয়টিও বাকি থাকে এবং এমন ব্যক্তির ওপর দণ্ড কার্যকর করার বিষয়টিও থেকে যায় যে কি না অধিকাংশের অন্তর্ভুক্ত নয়, যার ফলে তার প্রাপ্য নয় এমন ক্ষতি তার ওপর আপতিত হবে।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯২)
ولكنه إذا كان الشارع هو الله عز وجل تزول هذه النقائص كما ستراه.
[ص 12] [
… ] للرجل والمرأة، ومنع المرأة من الخروج، وذلك [كما قال تعالى: {وَاللَّاتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ] فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ فَإِنْ شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي [الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ] أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا (15) وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنْكُمْ فَآذُوهُمَا فَإِنْ [تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا] إِنَّ اللَّهَ كَانَ تَوَّابًا رَحِيمًا} [النساء 15 - 16].
واقعة
[
… ] السيد الإمام محمد بن علي بن إدريس رحمه الله أن يتلو كل يوم جزءًا من القرآن بتدبُّرٍ وتفكر، وكان [
… ] يشكل، فكان فيما تلاه يومًا هذه الآيات، ثم دعاني، فذكر لي تردده في معنى [قوله تعالى: ] {وَاللَّذَانِ} وأنه تأمل فيها، ثم راجع التفاسير ولم يطمئن قلبه إلى قول مما قالوه، لأن منهم من قال: المراد بهما الرجل والمرأة، قال: وهذا فيه بُعد، لأن المرأة قد سبق حكمها في قوله: {وَاللَّاتِي} وفيه مع ذلك التغليب، وهو خلاف الأصل.
ومنهم من قال: المراد بهما الفاعل والمفعول في اللواطة.
قال: وهذا أبعد؛ لأن اللواطة جرمٌ عظيمٌ، ولم يرد بعد ذلك من الشرع ما يقوى أن يكون ناسخًا لذلك.
وفيه مع ذلك أن تكون الآيات لم تتعرض لحكم الرجل الزاني.
কিন্তু যদি বিধাতা (الشارع) স্বয়ং আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা হন, তবে এই ত্রুটিসমূহ দূর হয়ে যায় যেমনটি আপনি দেখতে পাবেন।
[পৃষ্ঠা ১২] [
… ] পুরুষ ও নারীর জন্য, এবং নারীকে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত রাখা; আর তা [যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়] তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের মধ্য হতে চারজন সাক্ষী উপস্থিত কর; যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে তোমরা তাদের [ঘরে আটক রাখ যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু হয়] অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোনো পথ বের করেন। (১৫) আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা এতে লিপ্ত হয়, তোমরা তাদের উভয়কে শাস্তি দাও; অতঃপর যদি তারা [তওবা করে এবং সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে বিরত থাক;] নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} [আন-নিসা ১৫ - ১৬]।
একটি ঘটনা
[
… ] সাইয়্যেদ আল-ইমাম মুহাম্মদ বিন আলী বিন ইদ্রিস (রাহিমাহুল্লাহ) প্রতিদিন অত্যন্ত মনোযোগ ও চিন্তার সাথে কুরআনের এক পারা তিলাওয়াত করতেন এবং তাঁর নিকট [
… ] বিষয়গুলো অস্পষ্ট মনে হতো। একদিন তাঁর তিলাওয়াতের মধ্যে এই আয়াতগুলো আসলো, এরপর তিনি আমাকে ডাকলেন এবং [মহান আল্লাহর বাণী:] {এবং যে দু’জন} এর অর্থের ব্যাপারে তাঁর দ্বিধার কথা উল্লেখ করলেন। তিনি এ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছিলেন, এরপর তিনি তাফসিরসমূহ পর্যালোচনা করেছেন কিন্তু তাদের বক্তব্যের কোনোটিতেই তাঁর চিত্ত প্রশান্ত হয়নি। কারণ তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা পুরুষ ও নারীকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। তিনি বললেন: এটি যুক্তিগ্রাহ্য নয়, কারণ {ঐ সকল নারী} অংশে নারীর বিধান আগেই বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া এতে লিঙ্গীয় প্রাধান্য (التغليب) দেওয়া হয়েছে, যা মূলনীতির (الأصل) পরিপন্থী।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এর দ্বারা সমকামিতার ক্ষেত্রে কর্তা ও কর্মকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
তিনি বললেন: এটি আরও বেশি দূরবর্তী বিষয়; কেননা সমকামিতা একটি গুরুতর অপরাধ, এবং এরপর শরীয়ত থেকে এমন কিছু আসেনি যা একে রহিতকারী (ناسخ) হওয়ার মতো শক্তিশালী হতে পারে।
তদুপরি, আয়াতগুলোতে ব্যভিচারী পুরুষের বিধানের প্রসঙ্গটি আসেনি।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৩)
فبحثتُ معه رحمه الله بحثًا سأورده بنحو معناه، ولعل فيما أحكيه ههنا زيادة أو نقصًا.
قلت: أفلا يحتمل أن تكون هذه الآية في حكم الرجال الزناة خاصة، كما أن الأولى في حكم النساء خاصة؟
فقال السيد: لو أريد هذا لقيل: "والذين يأتونها .. "، فما وجه العدول عن ذلك إلى التثنية؟
فقلت: قد يقال: إنها باعتبار أن الرجال الزناة على نوعين: محصن وغير محصن، فثنِّي باعتبار النوعين.
فقال: وما الدليل على جواز مثل هذا؟
فذكرتُ قوله تعالى: {وَهُوَ الَّذِي مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ}، وقول الشاعر
(1):
عَيُّوا بأمرِهِمُ كما
… عَيَّتْ بِبَيضَتِها الحمامهْ
جَعلتْ لها عودَين من
… نَشَمٍ وآخرَ من ثُمامهْ
فقد فُسِّر الشعر بأن المعنى: أن فيهم حليمًا وسفيهًا، فسفيههم يُفسِد على حليمهم، كالحمامة إذا نسجت بيتها من عيدانٍ فيها القوي كالنشم، والضعيف كالثمامة. قالوا: والتقدير: جعلت لها عودين: عودًا من نشم، وآخر من ثمامة.
ومن المعلوم أن التثنية في المثل والممثَّل به إنما هي باعتبار النوعين،
--------------------------------------------
আমি তাঁর সাথে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) একটি বিষয়ে আলোচনা করেছি যা আমি তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম অনুযায়ী এখানে বর্ণনা করব। হতে পারে আমি যা বর্ণনা করছি তাতে কিছুটা বৃদ্ধি বা হ্রাস থাকতে পারে।
আমি বললাম: এই আয়াতটি কি বিশেষভাবে ব্যভিচারী পুরুষদের বিধানের ক্ষেত্রে হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না, যেভাবে প্রথম আয়াতটি বিশেষভাবে নারীদের বিধানের ক্ষেত্রে ছিল?
অতঃপর সায়্যিদ বললেন: যদি এটিই উদ্দেশ্য হতো তবে বলা হতো: "এবং যারা তাতে লিপ্ত হয়...", এমতাবস্থায় তা পরিহার করে দ্বিবচন (تثنية) ব্যবহারের কারণ কী?
আমি বললাম: বলা যেতে পারে যে, এটি এই বিবেচনায় যে ব্যভিচারী পুরুষ দুই প্রকার: বিবাহিত (محصن) এবং অবিবাহিত (غير محصن), তাই প্রকারদ্বয়ের বিবেচনায় দ্বিবচন (تثنية) ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি বললেন: এই ধরণের ব্যবহারের বৈধতার প্রমাণ (دليل) কী?
অতঃপর আমি মহান আল্লাহর বাণী উল্লেখ করলাম: {আর তিনিই সেই সত্তা যিনি দুই সমুদ্রকে সমান্তরালভাবে প্রবাহিত করেছেন}, এবং জনৈক কবির উক্তি
(১):
তারা তাদের বিষয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে যেমন... তার ডিম নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয় একটি কপোতী।
সে তার জন্য দু'টি কাষ্ঠখণ্ড গ্রহণ করল... একটি নাশাম কাঠের এবং অন্যটি থুমামাহ্ ঘাসের।
কবিতাটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে এর অর্থ হলো: তাদের মধ্যে সহনশীল এবং নির্বোধ উভয়ই রয়েছে, ফলে তাদের নির্বোধরা সহনশীলদের কাজ পণ্ড করে দেয়। যেমন কপোতী যখন তার বাসা বুনতে এমন সব ডালপালা ব্যবহার করে যার মধ্যে নাশামের মতো শক্তিশালী কাষ্ঠ এবং থুমামাহ্-এর মতো দুর্বল (ضعيف) উপাদান থাকে। তারা বলেন: এর প্রচ্ছন্ন রূপ বা তাকদীর (تقدير) হলো: সে তার জন্য দু'টি কাষ্ঠখণ্ড গ্রহণ করেছে: একটি নাশাম থেকে এবং অন্যটি থুমামাহ্ থেকে।
আর এটি সুবিদিত যে, উদাহরণ এবং উদাহৃত বিষয়ের ক্ষেত্রে দ্বিবচন (تثنية) কেবল প্রকারদ্বয়ের বিবেচনায় হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৪)
فلم يرد أن فيهم رجلًا واحدًا حليمًا، ورجلًا واحدًا سفيهًا، ولا أن الحمامة جعلت عودًا واحدًا من نشم، وآخر واحدًا من ثمامة.
فقال: هذا قريب، ولكن هل قال به أحد من المفسرين في هذه الآية؟
قلت: لا أدري. فراجعنا التفاسير فإذا في بعضها: عن مجاهد قال: هما الرجلان الزانيان
(1).
فقال السيد رحمه الله: قد راجعت أنا هذا التفسير اليوم، ومررت على [هذا] القول، ولكني لم ألتفت إليه، ولم يَعْلَقْ بذهني.
[أقول: ] ثم وقفتُ بعد ذلك على ما يؤيد ما ظهر لي، كقول الجبَّائي وغيره في قوله تعالى: {فَلَمَّا أَثْقَلَتْ [دَعَوَا اللَّهَ}].
[ص 13] ولكنه ترجح عندي في الآية ما قدمته، وهو [
… ] للرجل والمرأة، وأما إمساك المرأة في البيت، فليس [
] أن تجمع على المرأة عقوبتان. فتدبر.
ثم نزلت قوله تعالى: {الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ [وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ}]، فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "خذوا عني، خذوا عني، قد جعل الله لهن سبيلًا، البكر [بالبكر جَلْدُ مائةٍ وتغريبُ عام]، والثيب بالثيب جَلْدُ مائة والرجم" رواه مسلم
(2).
--------------------------------------------
সেখানে এমনটি বর্ণিত হয়নি যে, তাদের মাঝে একজনও ধৈর্যশীল পুরুষ ছিল, কিংবা একজনও নির্বোধ পুরুষ ছিল; আর কবুতরটি 'নাশম' কাঠের একটি কাঠি এবং 'ছুমামাহ'র অন্য একটি কাঠি গ্রহণ করেছিল—এমনটিও সেখানে নেই।
তিনি বললেন: এটি সংগতিপূর্ণ, তবে এই আয়াতের ক্ষেত্রে মুফাসসিরগণের মধ্যে কেউ কি এমনটি বলেছেন?
আমি বললাম: আমি জানি না। অতঃপর আমরা তাফসিরসমূহ পর্যালোচনা করলাম এবং দেখলাম যে, সেগুলোর কোনো কোনোটিতে মুজাহিদ থেকে বর্ণিত (عن) হয়েছে, তিনি বলেছেন: তারা উভয়ই ব্যভিচারী পুরুষ
(১)।
সায়্যিদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বললেন: আমি আজই এই তাফসিরটি পর্যালোচনা করেছি এবং এই বক্তব্যটি আমার নজরে এসেছিল, কিন্তু আমি সেদিকে লক্ষ্য করিনি এবং এটি আমার স্মৃতিতে গেঁথে থাকেনি।
[আমি বলছি: ] এরপর আমি এমন বিষয়ের সন্ধান পেলাম যা আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছিল তাকে সমর্থন করে, যেমন আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ক্ষেত্রে আল-জুব্বায়ী এবং অন্যদের বক্তব্য: {অতঃপর যখন সে ভারাক্রান্ত হলো [তারা উভয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করল]}।
[পৃষ্ঠা ১৩] তবে এই আয়াতের ক্ষেত্রে আমার নিকট সেটিই অগ্রগণ্য হয়েছে যা আমি পূর্বে উপস্থাপন করেছি, আর তা হলো [ … ] পুরুষ ও নারীর জন্য। আর নারীকে ঘরে আটকে রাখার বিষয়টি এমন নয় যে [
] নারীর ওপর দুটি শাস্তি একত্রিত করা হবে। অতএব চিন্তা করে দেখুন।
অতঃপর আল্লাহ তাআলার এই বাণী অবতীর্ণ হলো: {ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী—তাদের প্রত্যেককে একশত কশাঘাত করো [এবং আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তাদের প্রতি তোমাদের মনে যেন দয়ার উদ্রেক না হয়]}, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো, তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের জন্য একটি পথ করে দিয়েছেন। অবিবাহিত পুরুষের সাথে অবিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে একশ দোররা এবং এক বছরের নির্বাসন, আর বিবাহিত পুরুষের সাথে বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে একশ দোররা এবং পাথর নিক্ষেপ।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (رواه)
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৫)
جعل حد البكر خفيفًا؛ لأن الغالب أن يكون شابًّا شديد الشهوة، وحد [الثيب شديدًا]؛ لأن الغالب أن يكون متزوجًا أو شيخًا، ولم يعلّق الحكم بكونه ذا زوجة لحِكَمٍ:
منها: [أن لا] يودي حبُّ الزنا بالرجل إلى أن يفارق زوجته ليزني، وتخفّ عقوبته، وفي ذلك ما فيه من الفساد.
فإن قيل: إن الرجم أشدُّ العقوبات، وليس بأوسطها.
قلت: قد يقال: هو وسط في مقابل هذا الجرم الشنيع، كما قال بعض القدماء في بعض العقوبات: إن القتل لا يكفي عقوبةً لهذا الجرم، ولكن هو أقصى ما يمكن!
وفوق ذلك فإن الرب عز وجل يتمِّم العدل بقضائه وقدره، فيستر هذا، ويفضح هذا، ويزيد هذا تتمةَ ما يستحقُّه من العقوبة، ويعوِّض هذا فيما إذا كان الذي ناله من العقوبة أشدَّ مما يستوجبه جرمه، وهكذا .. وههنا حقائق ودقائق، ليس هذا موضع بسط ما ندركه فيها.
بقي أنه قد صح أن الله تعالى أنزل آية في الرجم، ثم نُسِخت تلاوتها
(1)، وهي: {الشيخ والشيخة إذا زنيا فارجموهما البتة
… }.
فهل كان نزولها عند نزول آية الجلد، فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "خذوا عني
… "، ويكون الشيخ والشيخة كناية عن الثيبين؟
أو كانت نزلتْ قبل نزول آية الرجم، وبعد نزول آية الإيذاء، فبينتْ سبيلًا
--------------------------------------------
অবিবাহিত (بكر) ব্যক্তির দণ্ডকে হালকা করা হয়েছে; কারণ সাধারণত তারা প্রবল কামভাব সম্পন্ন যুবক হয়ে থাকে। আর বিবাহিত (ثيب) ব্যক্তির দণ্ডকে কঠোর করা হয়েছে; কারণ সাধারণত তারা বিবাহিত অথবা বয়োজ্যেষ্ঠ হয়ে থাকে। এই বিধানটিকে শুধুমাত্র স্ত্রী বর্তমান থাকার বিষয়ের সাথে কয়েকটি হিকমতের (উদ্দেশ্য) কারণে সম্পৃক্ত করা হয়নি:
তন্মধ্যে একটি হলো: ব্যভিচারের প্রতি আসক্তি যেন কোনো ব্যক্তিকে এই প্ররোচনা না দেয় যে, সে ব্যভিচার করার উদ্দেশ্যে নিজ স্ত্রীকে পরিত্যাগ করবে যাতে তার দণ্ড লঘু হয়ে যায়। আর এতে নানাবিধ ফাসাদ (বিপর্যয়) নিহিত রয়েছে।
যদি বলা হয়: রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যু) তো কঠোরতম শাস্তি, এটি তো মধ্যমপন্থা নয়।
আমি বলি: একে এই জঘন্য অপরাধের বিপরীতে ভারসাম্যপূর্ণ বলা যেতে পারে; যেমনটি প্রাচীন কোনো কোনো মনীষী কিছু দণ্ডের ক্ষেত্রে বলেছেন: নিশ্চয়ই হত্যা এই অপরাধের দণ্ড হিসেবে পর্যাপ্ত নয়, কিন্তু এটিই সর্বোচ্চ যা প্রয়োগ করা সম্ভব!
তদুপরি প্রতিপালক মহান আল্লাহ তাঁর ফয়সালা ও তকদিরের মাধ্যমে ন্যায়বিচারকে পূর্ণতা দান করেন। ফলে তিনি কারো দোষ গোপন রাখেন, আবার কাউকে অপদস্থ করেন; কাউকে তার প্রাপ্য শাস্তির পূর্ণ অংশ প্রদান করেন, আবার কাউকে এমন ক্ষেত্রে প্রতিদান দেন যদি তার ভোগকৃত শাস্তি তার অপরাধের তুলনায় অধিক হয়ে যায়, এভাবেই চলতে থাকে... এখানে কিছু বাস্তবতা ও সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে যা বিস্তারিত আলোচনা করার স্থান এটি নয়।
অবশিষ্ট কথা হলো, এটি সহিহ (صحيح) সূত্রে প্রমাণিত যে, আল্লাহ তাআলা রজম সংক্রান্ত একটি আয়াত নাজিল করেছিলেন, যার তিলাওয়াত পরবর্তীতে রহিত (منسوخ) করা হয়েছে
(১), আর তা হলো: {বয়স্ক পুরুষ ও বয়স্ক নারী যখন ব্যভিচার করবে, তখন তাদের অবশ্যই রজম করো...}।
তবে কি এই আয়াতটি চাবুক মারার আয়াত নাজিল হওয়ার সময় নাজিল হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: "তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো...", এবং এখানে বয়স্ক পুরুষ ও নারী বলতে বিবাহিত (ثيب) ব্যক্তিদের রূপক অর্থে বোঝানো হয়েছে?
অথবা এটি কি রজম সংক্রান্ত আয়াতের পূর্বে এবং কষ্ট দেওয়ার বিধান সম্বলিত আয়াতের পরে নাজিল হয়েছিল, যা একটি পথ সুস্পষ্ট করেছিল?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৬)
للشيخ والشيخة، وترك التخفيف على الشبّان إلى أن نزلت آية الجلد، فنسخت آية الشيخ والشيخة وآية الإيذاء معًا بفرض الجلد على البكر، والرجم على الثيب؟
أو كان نزولها قبل آية الإيذاء أو معها، فكان الرجم على الشيخ والشيخة، والإيذاء خاصًّا بالشبان؟
الأشبه بسنة الله تعالى في تدريج الأحكام أن تكون نزلت بينهما، فشُرع أولًا الإيذاء فقط، لقرب العهد بالجاهلية، ثم شُرع رجم الشيخ والشيخة، وأُبقي حكم الشبان على الإيذاء، ثم تُرك اعتبار الشيخوخة والشباب، وأُبدل باعتبار الإحصان وعدمه، لأن المتزوج من الشبان في معنى الشيخ، وشُدِّد في الحد، والله أعلم.
وهذه المسألة تحتاج إلى بسطٍ أزيدَ من هذا، وفيما ذُكر كفاية، والمقصود أن الحكمة تقتضي أن يكون بناء الحكم على الغالب فقط.
أسباب التملك[
… ] أسباب التملك، فالغالب أن الابن يكون أحقَّ بمال أبيه [
… ] يكون مستحقًّا في نفس الأمر لما وهب له، ولكن قد يتفق أن يكون [
… ] أسباب حتى جمع أموالًا كثيرة، ويكون له ابن سفيه عاقٌّ [
… ] ونحو ذلك مما يضر الناس، ثم يموت الأب، فيرثه [
… ] يهب ماله لشخص سفيه [
… ] يرى أن استحقاق الابن أو الموهوب له لذلك المال فيه ما فيه، ومع ذلك فلو كان الربا مباحًا
… [
… ] الرجل يعطي المقلِّين من أهل
বয়স্ক পুরুষ ও বয়স্ক মহিলার জন্য, এবং যুবকদের ক্ষেত্রে শিথিলতা বজায় রাখা হয়েছিল যতক্ষণ না বেত্রাঘাতের (جلد) আয়াত অবতীর্ণ হয়। ফলে তা বয়স্ক পুরুষ ও মহিলার আয়াত এবং কষ্ট প্রদানের আয়াত উভয়কে রহিত (منسوخ) করে দেয় এবং অবিবাহিতদের জন্য বেত্রাঘাত (جلد) এবং বিবাহিতদের জন্য পাথর নিক্ষেপ (رجم) ফরজ করার মাধ্যমে?
অথবা এর অবতরণ কি কষ্ট প্রদানের আয়াতের পূর্বে ছিল না কি তার সাথে ছিল? ফলে পাথর নিক্ষেপ (رجم) কি কেবল বয়স্ক পুরুষ ও মহিলার জন্য নির্ধারিত ছিল এবং কষ্ট প্রদান কি কেবল যুবকদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল?
বিধানের পর্যায়ক্রমিক ধারার ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর সুন্নাহর সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এই দুইয়ের মাঝামাঝি সময়ে অবতীর্ণ হয়েছিল। ফলে জাহিলিয়াতের যুগের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে প্রথমে কেবল কষ্ট প্রদানের বিধান দেওয়া হয়েছিল। এরপর বয়স্ক পুরুষ ও বয়স্ক মহিলার জন্য পাথর নিক্ষেপের (رجم) বিধান প্রবর্তন করা হয় এবং যুবকদের ক্ষেত্রে কষ্ট প্রদানের বিধান বহাল রাখা হয়। এরপর বার্ধক্য ও যৌবনের বিষয়টি বিবেচনার বাইরে রাখা হয় এবং এর পরিবর্তে বিবাহিত (محصن) হওয়া বা না হওয়াকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কারণ যুবকদের মধ্যে যারা বিবাহিত, তারা হুকুমের ক্ষেত্রে বয়স্কদের পর্যায়ভুক্ত। আর এভাবেই দণ্ডবিধির (حد) ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করা হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
এই মাসআলাটি এর চেয়েও অধিক বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে, তবে যা উল্লেখ করা হয়েছে তাই যথেষ্ট। এখানে উদ্দেশ্য হলো এটি বোঝানো যে, হিকমাহ বা প্রজ্ঞা দাবি করে যে বিধানের ভিত্তি কেবল অধিকাংশ অবস্থার ওপরই হওয়া উচিত।
মালিকানা অর্জনের কারণসমূহ [
… ] মালিকানা অর্জনের কারণসমূহ; সাধারণত সন্তানই তার পিতার সম্পদের অধিক হকদার হয়ে থাকে [
… ] যা তাকে দান করা হয়েছে প্রকৃত অর্থে সে তার হকদার হয়ে থাকে। কিন্তু কখনও এমন হতে পারে যে [
… ] বিভিন্ন কারণে সে প্রচুর সম্পদ পুঞ্জীভূত করেছে, অথচ তার সন্তান নির্বোধ ও অবাধ্য [
… ] এবং এই জাতীয় বিষয় যা মানুষের ক্ষতি সাধন করে। এরপর পিতা মারা যান এবং সে তার উত্তরাধিকারী হয় [
… ] অথবা সে তার সম্পদ কোনো নির্বোধ ব্যক্তিকে দান করে [
… ] দেখা যায় যে, সেই সম্পদের ওপর সন্তানের বা যাকে দান করা হয়েছে তার অধিকারের বিষয়ে নানাবিধ সংশয় থেকে যায়। তা সত্ত্বেও, যদি সুদ (ربا) বৈধ হতো
… [
… ] ব্যক্তিটি অভাবীদের দান করত।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৭)
الجدّ والعمل ماله بالربا، فيسعى كل منهم ويتعنَّى، وينتفع الناس بسعيه.
فقد يربح ما يفي بالربا، ولا يزيد له إلّا شيء تافه، أو لا يزيد له شيء أصلًا، أو يربح ما ليس يفي بالربا، أو لا يربح شيئًا، فيضيع تعبه، ويَخِيب أمله، ويَغْرَم الربا من ماله، وربما ينقص عليه من رأس المال، أو يتلف عليه رأس المال كله، فيغرم رأسَ المال والربا، يبيع حلي أهله أو عقاره أو بيته، فإن لم يكن عنده شيء أُهِين وسُجن. ثم إن أُطلِق بقي كل يوم مروعًا، كلما كدَّ واجتهد فحصل له دريهمات قام الطلب يتقاضاه، ويُهِينه ويتوعده.
وهكذا يبقى المال الذي وصل إلى ذلك السفيه، وفيه ما فيه، يبقى سالمًا له، وهو يربح فيه كل شهر أموالًا يمتصُّها من دماء أهل الكد والعمل، ويترفَّه بها، ويُسرِف فيها بدون أن يكون منه حركة تنفع الناس، بل حركاته تضرهم، وتُفسِد أخلاقهم، وتُخرب بيوتهم.
والغالب أن الذين يتكسبون بالمراباة هم هؤلاء الذين يريدون أن يعيشوا في راحة ورفاهية، يمتصُّون دماء العمال بدون تعب ولا عناء، وتبقى رؤوس أموالهم محفوظة، بل يربحون فيها أرباحًا أوثق من أرباح التجارة.
ثم يوشك أن تعم البلوى، فكل من وقع بيده مال، قال: مالي وللمخاطرة برأس المال مع التعب والعناء بزراعة أو صناعة أو تجارة؟ هذا باب الربا يبقى فيه رأس المال محفوظًا غالبًا، ويحصل فيه ربح محقق، ولا تعب ولا عناء.
فيطبقون على ذلك، فلا يلبث أن تنحصر الأموال في أيدي السفهاء الذين لا شغل لهم إلَّا اللهو واللعب، ويصير أهل الجدّ والعمل عبيدًا لهم.
কঠোর পরিশ্রম ও কর্মতৎপর ব্যক্তির সম্পদ যখন সুদের (ربا) সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তখন তারা প্রত্যেকেই চেষ্টা ও কষ্ট করে এবং মানুষ তাদের প্রচেষ্টার দ্বারা উপকৃত হয়।
সেক্ষেত্রে কখনও সে সুদের (ربا) সমপরিমাণ মুনাফা অর্জন করে, যার ফলে তার হাতে যৎসামান্যই অবশিষ্ট থাকে অথবা কিছুই থাকে না; অথবা কখনও সে সুদের (ربا) চাহিদাও পূরণ করতে পারে না কিংবা একেবারেই কোনো মুনাফা করতে পারে না। ফলে তার শ্রম পণ্ড হয়, তার আশা ভঙ্গ হয় এবং তাকে নিজ সম্পদ থেকে সুদের (ربا) দণ্ড ভোগ করতে হয়। অনেক সময় তার মূলধন (رأس المال) হ্রাস পায় অথবা সমগ্র মূলধনই (رأس المال) নষ্ট হয়ে যায়। এমতাবস্থায় তাকে মূলধন (رأس المال) ও সুদ (ربا) উভয়ই পরিশোধ করতে হয়; সে তার পরিজনদের অলঙ্কার, স্থাবর সম্পত্তি কিংবা ঘরবাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হয়। আর যদি তার কাছে কিছুই না থাকে, তবে সে লাঞ্ছিত ও কারারুদ্ধ হয়। অতঃপর যদি সে মুক্তি পায়, তবুও প্রতিদিন সে আতঙ্কে দিন কাটায়। যখনই সে হাড়ভাঙা খাটুনি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যৎসামান্য অর্থ উপার্জন করে, তখনই পাওনাদাররা এসে তার কাছে তা দাবি করে, তাকে হীন প্রতিপন্ন করে এবং তাকে হুমকি প্রদান করে।
এভাবেই সেই নির্বোধের (سفيه) কাছে যে অর্থ পৌঁছেছিল—তাতে যা বিদ্যমান থাকার তা থাকুক—তা তার কাছে সুরক্ষিত থেকে যায়। সে প্রতি মাসে ওই সকল শ্রমজীবী ও মেহনতী মানুষের রক্ত চোষা সম্পদ দ্বারা মুনাফা অর্জন করে এবং তা দিয়ে বিলাসিতা ও অপচয় করে; অথচ তার পক্ষ থেকে জনহিতকর কোনো কর্ম সম্পাদিত হয় না। বরং তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানুষের ক্ষতি করে, তাদের চরিত্র কলুষিত করে এবং তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে।
সাধারণত যারা সুদভিত্তিক কারবারের (مراباة) মাধ্যমে সম্পদ উপার্জন করে, তারা মূলত আরাম-আয়েশ ও বিলাসিতার জীবন যাপন করতে ইচ্ছুক। তারা কোনো প্রকার ক্লান্তি ও ক্লেশ ছাড়াই শ্রমিকদের রক্ত চুষে নেয়। তাদের মূলধন (رؤوس أموالهم) সংরক্ষিত থাকে, বরং তারা এতে সাধারণ ব্যবসার তুলনায় অধিক নিশ্চিত মুনাফা লাভ করে।
অতঃপর যখন এই বিপর্যয় সাধারণ সমস্যায় (بلوى) পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়, তখন যার হাতেই অর্থ আসে সে বলে: 'কৃষি, শিল্প বা ব্যবসায় শ্রম ও ক্লেশ সহ্য করে মূলধনকে (رأس المال) ঝুঁকির মুখে ফেলার কী প্রয়োজন? সুদের (ربا) এই দ্বার তো উন্মুক্তই রয়েছে, যেখানে মূলধন (رأس المال) সাধারণত সুরক্ষিত থাকে এবং কোনো পরিশ্রম ও কষ্ট ছাড়াই নিশ্চিত মুনাফা অর্জিত হয়।'
অতঃপর তারা এই পদ্ধতিই অবলম্বন করে। ফলে অনতিবিলম্বে সকল সম্পদ সেই সব নির্বোধদের (سفهاء) হাতে কুক্ষিগত হয়ে যায়, যাদের আমোদ-প্রমোদ ও ক্রীড়া ব্যতিরেকে আর কোনো কাজ নেই; আর পরিশ্রমী ও কর্মতৎপর ব্যক্তিবর্গ তাদের দাসে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৮)
فمنعُ الربا يضطرُّ كلَّ فرد من الأفراد إلى أن يكون عضوًا عاملًا نشيطًا، ينفع الناس وينتفع، ويفتح باب الغنى لأهل الكد والعناء، ويستخرج الأموال من أيدي من لا يستحقها.
يقول الشرع لمن حصل في يده مال: كن رجلًا، فاعملْ وجِدَّ واجتهدْ، واطلب الربح، فإن أبيتَ فاكنِزْه وكلْ منه، وأدِّ كل سنة ضريبةً عليه (الزكاة) حتى يفنى. [وإن] أردتَ مع ذلك صنعَ الخير في الجملة، فأقرِض الناس قرضًا حسنًا.
[ص 15/ 1] إن قال قائل: قد بان الفرق بين البيع والربا، واتضح وجه إحلال البيع وتحريم الربا، لكن في الجملة، فأما التفصيل فبقي شيء، وهو أن الفقهاء يحللون بيع السلعة نَساءً بأكثر من ثمنها [ويحللون] السلم فيها إلى أجل يدفع أقلَّ من ثمنها عند العقد، وعند الأجل.
فيجوِّزون بيع عشرة آصُعٍ طعامًا بخمسة عشر درهمًا نَساءً، وإن كان قيمتها نقدًا عشرة [ويجوزون] أن يسلم الرجل عشرة دراهم في خمسة عشر صاعًا إلى الحصاد مثلًا، مع أن السعر حين العقد عشرة آصع [بعشرة] دراهم،، وقد يكون عند الحصاد اثنا عشر صاعًا بعشرة دراهم.
فما الفرق بين هاتين المسألتين، وبين إقراض عشرة آصع بشرط رد خمسة عشر، وإقراض عشرة دراهم بشرط رد خمسة عشر درهمًا.
فعن ذلك أجوبة:
الأول: أن الناس كما يحتاجون إلى شرع البيع نقدًا وشرع القرض، فكذلك إلى شرع البيع نَساءً وإلى السلم؛ لأن الإنسان كثيرًا ما يحتاج إلى
সূদ (الربا) নিষিদ্ধকরণ প্রত্যেক ব্যক্তিকে একজন সক্রিয় ও কর্মঠ সদস্য হতে বাধ্য করে, যে মানুষের উপকার করে এবং নিজেও উপকৃত হয়। এটি কঠোর পরিশ্রমী ও মেহনতি মানুষের জন্য সচ্ছলতার দ্বার উন্মোচন করে এবং সেই সব ব্যক্তির হাত থেকে অর্থ বের করে আনে যারা এর যোগ্য নয়।
শরিয়ত যার হাতে অর্থ রয়েছে তাকে বলে: মানুষ হও, কাজ করো, প্রচেষ্টা ও সাধনা করো এবং লভ্যাংশ তালাশ করো। যদি তুমি তা করতে অস্বীকার করো, তবে তা সঞ্চয় করে রাখো এবং সেখান থেকেই জীবনধারণ করো; আর প্রতি বছর তার ওপর যাকাত (الزكاة) আদায় করো যতক্ষণ না তা নিঃশেষ হয়ে যায়। এরপরও যদি তুমি সামগ্রিকভাবে কোনো কল্যাণকর কাজ করতে চাও, তবে মানুষকে উত্তম ঋণ (قرضًا حسنًا) প্রদান করো।
[পৃষ্ঠা ১৫/ ১] যদি কেউ বলে: ক্রয়-বিক্রয় (البيع) ও সূদ (الربا)-এর মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে এবং ক্রয়-বিক্রয় হালাল করা ও সূদ হারাম করার কারণও পরিষ্কার হয়েছে, তবে তা কেবল সামগ্রিকভাবে। বিস্তারিত আলোচনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় অবশিষ্ট রয়ে গেছে; আর তা হলো, ফকিহগণ কোনো পণ্য বাকিতে (نَساءً) তার স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে বিক্রয় করাকে বৈধ মনে করেন এবং অগ্রিম ক্রয় (السلم) পদ্ধতিতে কোনো পণ্যের লেনদেন এমন এক মেয়াদের জন্য বৈধ করেন যেখানে চুক্তির সময় এবং মেয়াদের শুরুতে পণ্যের মূল্যের চেয়ে কম অর্থ প্রদান করা হয়।
অতএব তারা বাকিতে (نَساءً) দশ সা (آصُعٍ) খাদ্যশস্য পনের দিরহামে বিক্রয় করা বৈধ মনে করেন, যদিও নগদে তার মূল্য দশ দিরহাম। আবার তারা কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ফসল কাটার মৌসুম পর্যন্ত মেয়াদে পনের সা খাদ্যের জন্য দশ দিরহাম অগ্রিম প্রদান (يسلم) করা বৈধ মনে করেন, অথচ চুক্তির সময় বাজারদর ছিল দশ দিরহামে দশ সা। এমনকি ফসল কাটার সময় হয়তো দশ দিরহামে বারো সা পাওয়া যাবে।
তাহলে এই দুটি মাসআলার সাথে দশ সা ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে পনের সা ফেরত পাওয়ার শর্তারোপ করা এবং দশ দিরহাম ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে পনের দিরহাম ফেরত পাওয়ার শর্তারোপ করার মধ্যে পার্থক্য কী?
এর উত্তরে কয়েকটি জবাব রয়েছে: প্রথমত: মানুষ যেভাবে নগদে ক্রয়-বিক্রয় (البيع) এবং ঋণ (القرض) সংক্রান্ত বিধানের মুখাপেক্ষী, তেমনি তারা বাকিতে (نَساءً) বিক্রয় এবং অগ্রিম ক্রয় (السلم) সংক্রান্ত বিধানের মুখাপেক্ষী; কারণ মানুষ প্রায়ই এমন বিষয়ের প্রয়োজন অনুভব করে...
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ২৯৯)
الطعام، وليس عنده ثمنه، ولا يجد من يُقرِضه، فيحتاج إلى اشترائه بنسيئة، وقد يحتاج إلى طعام مخصوص فلا يجده في السوق، فيحتاج أن يُسلِم فيه، ليذهب المُسلَم إليه، فيفتش عنه طمعًا في الربح، وقد يخشى أن يسبقه الناس إلى الطعام عند حصاده، ولاسيما التجار، فيبادر بالإسلام فيه، ليأمن أن يسبقه غيره، ويحتاج صاحب الأرض إلى دراهم فلا يجد من يُقرِضه، فيطلب من يُسلِم إليه في طعام إلى الحصاد.
فلو حُرِّم أن يباع الطعام وغيره من السلع نَسيئةً إلَّا بمثل ثمنه نقدًا، لامتنع الباعة من ذلك؛ لأن أحدهم يقول للطالب: هذه الآصُع العشرة التي تطلبها بعشرة دراهم نَساءً، يرغب فيها غيرك بعشرة دراهم نقدًا، فأي الأمرين أنفع إليَّ: أبيعها نقدًا بعشرة دراهم، ثم أشتري بالدراهم سلعة أخرى طعامًا أو غيره، ثم أبيع بربح، وهكذا .. فقد لا يجيء الحصاد إلا وقد ربحت في العشرة عشرة ربحًا حلالًا، أم أبيعك إياها بعشرة دراهم إلى الحصاد؟
ويقول صاحب الدراهم لصاحب الأرض: أيهما خير لي، أشتري بالعشرة الدراهم عشرة آصُعٍ نقدًا ثم أبيعها، ثم أشتري وأبيع، فقد لا يجيء الحصاد إلا وقد ربحت في العشرة عشرة ربحًا حلالًا، وحينئذٍ أشتري منك أو من غيرك بعشرة دراهم خمسة عشر صاعًا، أو أقل من ذلك وأكثر من عشرة، أم أُسلِمها إليك في عشرة آصُعٍ إلى الحصاد؟
أقول: فلو مُنِع من الزيادة أدى ذلك إلى انقطاع بيع النَساء والسلم، وفي ذلك من الضيق ما فيه، ولعلَّ الناس يضطرون حينئذٍ إلى ارتكاب ما حرمه الشرع، وارتكابُ حرامٍ واحدٍ يُجرِّئ على ارتكاب غيره، وفي ذلك من الفساد ما فيه.
খাদ্যের প্রয়োজন, অথচ তার নিকট এর বিনিময় মূল্য নেই এবং তাকে ঋণ প্রদান করার মতো কাউকে সে পাচ্ছে না, এমতাবস্থায় সে বাকিতে (نسيئة) তা ক্রয় করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। আবার কখনও তার বিশেষ কোনো খাদ্যের প্রয়োজন হয় যা বাজারে পাওয়া যায় না, তখন সে তাতে অগ্রিম মূল্য প্রদান বা সালাম (يُسلِم) করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, যাতে বিক্রেতা লাভের আশায় তা অনুসন্ধান করে। কখনও সে আশঙ্কা করে যে, ফসল কাটার সময় মানুষ—বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা—তার আগে খাদ্য সংগ্রহ করে ফেলবে, ফলে সে অগ্রিম মূল্য প্রদান বা সালাম (إسلام) করার দিকে ধাবিত হয় যাতে অন্য কেউ তার অগ্রবর্তী হতে না পারে। আর জমির মালিকের মুদ্রার প্রয়োজন হয় কিন্তু ঋণ প্রদান করার মতো কাউকে সে পায় না, তখন সে এমন কাউকে খোঁজে যে তাকে ফসল কাটার সময় খাদ্য প্রদানের শর্তে অগ্রিম মূল্য প্রদান (يُسلِم) করবে।
যদি খাদ্য এবং অন্যান্য পণ্য বাকিতে (نسيئة) বিক্রয় করার ক্ষেত্রে তার নগদ (نقدًا) মূল্যের সমপরিমাণ ব্যতীত অন্য কোনো মূল্যে (অতিরিক্ত মূল্যে) বিক্রয় করা হারাম (حُرِّم) করা হতো, তবে বিক্রেতারা তা থেকে বিরত থাকত। কারণ তাদের কেউ আবেদনকারীকে বলত: এই দশ সা‘ যা তুমি বাকিতে (نساءً) দশ দিরহামে চাইছ, অন্য কেউ তা নগদ (نقدًا) দশ দিরহামেই নিতে আগ্রহী। এমতাবস্থায় আমার জন্য কোনটি অধিক উপকারী: আমি কি তা দশ দিরহামে নগদে (نقدًا) বিক্রয় করব, তারপর সেই দিরহাম দিয়ে অন্য কোনো পণ্য—খাদ্য বা অন্য কিছু—ক্রয় করব, অতঃপর তা মুনাফার সাথে বিক্রয় করব, আর এভাবেই চলতে থাকবে... ফলে হয়তো ফসল কাটার সময় আসার আগেই আমি দশ দিরহামে আরও দশ দিরহাম হালাল মুনাফা (ربحًا حلالًا) অর্জন করে ফেলব; নাকি আমি তোমার নিকট তা দশ দিরহামে ফসল কাটা পর্যন্ত বাকিতে বিক্রয় করব?
এবং মুদ্রার মালিক জমির মালিককে বলবে: আমার জন্য কোনটি উত্তম—আমি দশ দিরহাম দিয়ে দশ সা‘ নগদে (نقدًا) ক্রয় করব এবং তা বিক্রয় করব, এরপর পুনরায় ক্রয়-বিক্রয় করব, যার ফলে হয়তো ফসল কাটার সময় আসার আগেই আমি দশ দিরহামে আরও দশ দিরহাম হালাল মুনাফা (ربحًا حلالًا) অর্জন করব এবং সেই সময় আমি তোমার থেকে বা অন্য কারও থেকে দশ দিরহামে পনের সা‘ বা তার কম-বেশি (যা দশের অধিক) ক্রয় করতে পারব; নাকি আমি তোমাকে ফসল কাটার সময় দশ সা‘ পাওয়ার শর্তে দিরহামগুলো অগ্রিম প্রদান (أُسلِمها) করব?
আমি বলি: যদি অতিরিক্ত মূল্য গ্রহণ করা থেকে নিষেধ (مُنِع) করা হয়, তবে তা বাকিতে ক্রয়-বিক্রয় (نساء) এবং সালাম বা অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় (سلم) বন্ধ হয়ে যাওয়ার দিকে ধাবিত করবে। আর এর মধ্যে চরম সংকীর্ণতা ও কষ্ট রয়েছে। সম্ভবত মানুষ তখন শরয়িভাবে যা নিষিদ্ধ (حرمه الشرع) তা করতে বাধ্য হবে; আর একটি হারাম (حرام) কাজে লিপ্ত হওয়া অন্য হারামে লিপ্ত হতে সাহসী করে তোলে, যার মধ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় (فساد) নিহিত।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০০)
فأما القرض فإن المنع فيه من الزيادة لا يؤدي إلى انقطاعه؛ لأن الناس حريصون على كنز ما تغلب الحاجة إلى إقراضه، وهو النقد والطعام.
والقرض مع التوثق أنفع لهم من الكنز، هذا مع ما يتبع [القرض] من الفوائد التي تقدم ذكرها.
الجواب الثاني: أن الربح الذي يُرجى للمقرض لو لم يقرض، وللبائع بنسيئةٍ لو باع بنقد، وللمُسلِم لو لم يُسلِم، إنما يُرجى لهم إذا اتَّجروا وباعوا واشتروا، فإذا أقرض ذاك، وباع [هذا] بنسيئة، وأسلم هذا، فمن يعلم أنهم لو لم يفعلوا ذلك [
… ] يتَّجرون ويبيعون ويشترون، أم يكنزون. [ص 15/ 2] ذلك غيب لا يعلمه إلا الله عز وجل، وأقرب ما يتصور أن يُناط به الحكم نيتهم، ولكن النية أمر خفي أيضًا؛ لأنه لا يُعلم إلا من جهتهم، ولا ينبغي تصديقهم؛ لأنهم يتّهمون، فقد يكون نية أحدهم الكنز، ولكن إذا علم أنه لا يحكم له بالزيادة إلا [
… ن] يريد أن يتجر ويبيع ويشتري، حملَه حبُّ الربح على دعوى ذلك.
فاقتـ[ـضى ذلك أن] يناط الحكم بضابط ظاهر يطلع عليه العاقدان والشهود والحكام وغيرهم، فكان أقرب ما يفي بهـ[ـذا
… ] اعتبار العوض، فإذا كان العوض من جنس المدفوع أو ما يقرب منه كان شرط الزيادة ربا؛ لأن تحري المعطي أن يكون العوض كذلك قرينة على أنه ينوي كنز هذا الجنس.
وإن كان العوض مباينًا للمدفوع كان الربح حلالًا؛ لانتفاء الضابط القائم مقام نية الكنز.
ঋণের (القرض) ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গ্রহণ নিষিদ্ধ করা এর ধারাবাহিকতা বিলুপ্তির কারণ হয় না; কারণ মানুষ সাধারণত সেই সকল বস্তু সঞ্চয় (الكنز) করে রাখতে আগ্রহী হয় যা ঋণ (القرض) হিসেবে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রবল থাকে, আর তা হলো নগদ অর্থ (النقد) ও খাদ্যদ্রব্য।
নিশ্চয়তা বা বন্ধকসহ ঋণ (القرض) প্রদান তাদের জন্য সম্পদ সঞ্চয় (الكنز) করে রাখার চেয়ে বেশি উপকারী; এটি ঋণের (القرض) সাথে সংশ্লিষ্ট সেই সকল উপযোগিতার অতিরিক্ত যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় উত্তর: ঋণদাতা যদি ঋণ (القرض) না দিতেন, কিংবা বাকিতে বিক্রেতা যদি নগদে (النقد) বিক্রি করতেন, অথবা অগ্রিম মূল্য প্রদানকারী (المسلم) যদি অগ্রিম ক্রয় (السلم) না করতেন—তবে তারা যে মুনাফার (الربح) প্রত্যাশা করতেন, তা কেবল তখনই সম্ভব হতো যদি তারা ব্যবসা করতেন এবং ক্রয়-বিক্রয় করতেন। সুতরাং যখন একজন ঋণ (القرض) দেয়, অন্যজন বাকিতে (النسيئة) বিক্রি করে এবং অপরজন অগ্রিম ক্রয় (السلم) করে, তখন কে জানে যে তারা যদি এগুলো না করত তবে তারা [
… ] ব্যবসা ও ক্রয়-বিক্রয় করত নাকি সম্পদ সঞ্চয় (الكنز) করত? [পৃষ্ঠা ১৫/২] এটি একটি অদৃশ্যের বিষয় (الغيب) যা আল্লাহ عز وجল ছাড়া কেউ জানেন না। বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সবচেয়ে নিকটবর্তী মনে হয় তা হলো তাদের নিয়ত (النية)। কিন্তু নিয়তও (النية) একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয়; কারণ এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ জানতে পারে না। আর এ ক্ষেত্রে তাদের কথা ঢালাওভাবে সত্য বলে মেনে নেওয়া সমীচীন নয়; কারণ তারা স্বার্থের কারণে অভিযুক্ত (التهمة) হতে পারে। হতে পারে তাদের কারও নিয়ত (النية) ছিল সঞ্চয় (الكنز) করা, কিন্তু যখন সে জানতে পারল যে ব্যবসা বা ক্রয়-বিক্রয়ের ইচ্ছা ছাড়া তার জন্য অতিরিক্ত লাভের বিধান দেওয়া হবে না, তখন মুনাফার (الربح) লোভ তাকে সেই মিথ্যা দাবি করতে প্ররোচিত করেছে।
ফলে [এটি আবশ্যক ছিল যে] বিধানটি এমন একটি প্রকাশ্য মানদণ্ডের (ضابط) ওপর নির্ভরশীল হবে যা চুক্তিকারী উভয় পক্ষ (العاقدان), সাক্ষী, বিচারক এবং অন্য সকলে অবগত হতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটায় এমন সবচেয়ে নিকটবর্তী বিষয়টি হলো বিনিময় (العوض) বিবেচনা করা। সুতরাং বিনিময় (العوض) যদি প্রদানকৃত বস্তুর সমজাতীয় (الجنس) বা তার কাছাকাছি হয়, তবে অতিরিক্ত প্রাপ্তির শর্তারোপ করা হবে সুদ (الربا); কারণ দাতার পক্ষ থেকে বিনিময়টি এমন হওয়ার চেষ্টা করা এই প্রমাণ (القرينة) বহন করে যে, সে মূলত এই জাতীয় (الجنس) সম্পদটি সঞ্চয় (الكنز) করার নিয়ত (النية) করেছে।
আর বিনিময় (العوض) যদি প্রদানকৃত বস্তু থেকে ভিন্নতর (المباينة) হয়, তবে মুনাফা (الربح) হালাল (حلال) হবে; কারণ এখানে সঞ্চয়ের নিয়তের (النية) স্থলাভিষিক্ত সেই মানদণ্ডটি (الضابط) অনুপস্থিত।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০১)
هذا إذا سارت المعاملة سيرًا طبيعيًّا، فأما إذا كانت لو جرت على طبيعتها لكانت من الأول، ولكن احتال العاقدان أو أحدهما حتى صوراها بصورة الثاني ــ كما يأتي في العِينة ــ فإنه يجب أن تردَّ إلى سواء الطريق، فيحكم فيها بحكم الأول.
وهكذا ينبغي في عكس ذلك إذا كانت هناك تهمة، كأن يَعْمِد وصيٌّ إلى سلعة من مال يتيمه فيبيعها، ثم يقرض ولده ثمنها إلى أجل، فينبغي أن يغرم ما نقص من ثمن السلعة لو باعها إلى مثل أجل القرض.
فأما حيث لا تهمةَ فلا، كأن يلتمس زيد من عمرو قرضًا، فيقول له: ارجع إليّ بعد ساعة، ثم يبيع سلعة من رجل ثالث بدراهم نقدًا، ويُسلِم الدراهم إلى زيد قرضًا حسنًا.
فإن سمِّيتْ هذه حيلةً فهي حيلة يقصد بها فعل الخير والمعروف، فلا ينبغي إبطالها.
فإن قلت: فإذا أقرض تاجرٌ رجلًا دراهم، وشرط عليه زيادة، والمقرض يدعي أنه كان يريد أن يتجر بدراهمه، واعترف المستقرض بذلك.
قلت: لا التفاتَ إلى اعتراف المستقرض؛ لأنه نفسه متهمٌ بأنه يُمهِّد باعترافه هذا لأن يقترض من صاحبه ثانيًا وثالثًا وهكذا، ويخاف إن لم يعترف له تلك المرة أن لا يقرضه مرة أخرى، وقد حرم الشارع الأخذ بالربا، كما حرم الإعطاء به، مع أن النية غيب لا يدركها المستقرض تحقيقًا، وإنما يمكن الاستدلال عليها بقرائن، وقد تكون تلك القرائن مصطنعة، والقرينة الواضحة نادرة.
এটি তখন প্রযোজ্য যখন লেনদেন স্বাভাবিক গতিতে চলে। কিন্তু যদি এটি তার প্রকৃত স্বভাবে চললে প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হতো, অথচ চুক্তি সম্পাদনকারী দ্বয় অথবা তাদের একজন কোনো কৌশলের (حيلة) আশ্রয় নেয় যাতে লেনদেনটি দ্বিতীয় প্রকারের রূপ ধারণ করে — যেমনটি 'ঈনাহ' (العينة) বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে — তবে সেটিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আবশ্যক এবং তাতে প্রথম প্রকারের বিধানই প্রয়োগ করা হবে।
অনুরূপভাবে বিপরীত ক্ষেত্রেও যদি সেখানে কোনো প্রকার সন্দেহ (تهمة) থাকে, তবে তা-ই হওয়া উচিত। যেমন কোনো অভিভাবক যদি তার ইয়াতীমের সম্পদ থেকে কোনো পণ্য বিক্রয় করার ইচ্ছা পোষণ করেন এবং পরে সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিজের সন্তানকে ঋণ হিসেবে প্রদান করেন; তবে সেক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদের ন্যায় মেয়াদে পণ্যটি বিক্রয় করলে দাম যা কম হতো, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া তার জন্য আবশ্যক।
তবে যেখানে কোনো সন্দেহ (تهمة) নেই সেখানে এমনটি হবে না। যেমন যায়েদ আমরের কাছে ঋণ প্রার্থনা করল, তখন আমর তাকে বলল: 'এক ঘণ্টা পর আমার কাছে এসো।' এরপর আমর অন্য এক ব্যক্তির কাছে নগদ দিরহামের বিনিময়ে একটি পণ্য বিক্রয় করল এবং সেই দিরহামগুলো যায়েদকে উত্তম ঋণ (قرضًا حسنًا) হিসেবে প্রদান করল।
যদি একে কৌশল (حيلة) হিসেবে অভিহিত করা হয়, তবে এটি এমন এক কৌশল যার উদ্দেশ্য হলো কল্যাণ ও পুণ্য কাজ করা; সুতরাং একে বাতিল করা সমীচীন নয়।
আপনি যদি বলেন: যদি কোনো ব্যবসায়ী কোনো ব্যক্তিকে দিরহাম ঋণ দেন এবং তার ওপর অতিরিক্ত প্রদানের শর্তারোপ করেন, আর ঋণদাতা দাবি করেন যে তিনি তার দিরহাম দিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন এবং ঋণগ্রহীতাও তা স্বীকার করেন (তবে কী হবে)?
আমি বলব: ঋণগ্রহীতার স্বীকৃতির প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হবে না; কারণ সে নিজেই এই বিষয়ে অভিযুক্ত (متهم) যে, সে তার এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভবিষ্যতে দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার এবং এভাবে বারবার ঋণ পাওয়ার পথ সুগম করছে। সে ভয় পায় যে, যদি এবার সে স্বীকার না করে তবে হয়তো তাকে পুনরায় ঋণ দেওয়া হবে না। অথচ শরীয়ত প্রণেতা সুদ (ربا) গ্রহণ করা যেমন হারাম করেছেন, তেমনি তা প্রদান করাও হারাম করেছেন। যদিও নিয়ত বা উদ্দেশ্য একটি অদৃশ্য (غيب) বিষয় যা ঋণগ্রহীতা নিশ্চিতভাবে অনুধাবন করতে পারে না; বরং কেবল কিছু আলামত বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (قرائن) মাধ্যমে সে বিষয়ে অনুমান করা সম্ভব। আর সেই প্রমাণগুলো কৃত্রিমও হতে পারে, আর সুস্পষ্ট প্রমাণ (القرينة الواضحة) পাওয়া দুষ্কর।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০২)
وفوق ذلك فالشارع قد عدل كما اقتضته الحكمة عن النية، وناط الحكم بصفة العوض كما علمت، فصار هو المعتبر كما تقرر في الأصول.
فالقصر في السفر الطويل حكمته المشقة، ولكن لعدم انضباطها نِيط الحكم بالسفر الطويل، فاستمر الحكم حتى في حق من سافر سفرَ رفاهيةٍ لا مشقةَ فيه.
وبهذا عُلم الجواب عما قد يتوهم أن المقرض بشرط زيادة إذا كان يعلم من نفسه أنه كان يريد أن يتجر بالدراهم، فربما يحل له أخذ الزيادة فيما بينه وبين الله، وإن لم يحل له في الحكم الظاهر.
فإن قيل: إذا صار المدار على صفة العوض، فلماذا تُبطِلون الحيل، كالعِينة وغيرها؟
فالجواب: أننا لم نُبطِلها لدلالتها على نية الكنز، وإنما أبطلناها لأنها فرار من حكم الشرع، واحتيال عليه، وعدول بالمعاملة عن مجراها الطبيعي بتكلف صورة مصطنعة، كل ذلك لهوى النفس، ولو أبيحت لتحرَّاها كل من يريد الربا، فيبقى الحكم الشرعي معطَّلًا عن غايته، معزولًا عن فائدته.
فأما النية وحدها فلم نعتدَّ بها، فإننا نقول فيمن كان عنده سلعة يريد أن يبيعها بعشرة نقدًا، ويكتنز العشرة: إنه لو وجد راغبًا في تلك السعلة بخمسة عشر نساءً، فباعها منه، لم يكن ذلك ربًا ولا حرامًا.
ونقول فيمن كانت عنده عشرة دراهم يريد اكتنازها، ثم جاءه راغب في السلم، فأسلمها إليه في [
… ] عن السعر الموجود حال العقد وعند الأجل، لم يكن ذلك ربًا ولا حرامًا.
তদুপরি, শরিয়ত প্রণেতা (الشارع) প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী নিয়ত (النية) থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছেন এবং বিধানকে (الحكم) বিনিময়ের (العوض) বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন যেমনটি আপনি অবগত হয়েছেন। ফলে উসুল (الأصول)-এ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেটিই বিবেচ্য (المعتبر) হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে।
দীর্ঘ সফরে কসর (القصر) করার হিকমত হলো কষ্ট (المشقة), কিন্তু কষ্টের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় বিধানটিকে (الحكم) দীর্ঘ সফরের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ফলে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এই বিধান (الحكم) অব্যাহত থাকবে যে আরামদায়ক সফরে বের হয়েছে এবং যাতে কোনো কষ্ট (المشقة) নেই।
এর মাধ্যমেই সেই কাল্পনিক সংশয়ের উত্তর জানা গেল যে, যদি কোনো ঋণদাতা (المقرض) অতিরিক্ত (زيادة) প্রদানের শর্তে ঋণ প্রদান করে এবং সে নিজের মনে এটি জানে যে সে এই দিরহাম দিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছিল, তবে হয়তো আল্লাহ ও তার মাঝে এই অতিরিক্ত (زيادة) গ্রহণ করা বৈধ হতে পারে—যদিও বাহ্যিক বিধান (الحكم الظاهر) অনুযায়ী তা বৈধ নয়।
যদি প্রশ্ন করা হয়: যদি মূল বিষয়টি বিনিময়ের (العوض) বৈশিষ্ট্যের ওপরই আবর্তিত হয়, তবে আপনারা কেন ঈনাহ (العينة) ও অন্যান্য অপকৌশল (الحيل) বাতিল গণ্য করেন?
উত্তর হলো: আমরা সেগুলোকে সম্পদ সঞ্চয়ের নিয়ত (النية) নির্দেশ করার কারণে বাতিল করিনি, বরং বাতিল করেছি কারণ সেগুলো হলো শরিয়তের বিধান (حكم الشرع) থেকে পলায়ন এবং তার সাথে প্রতারণা। এছাড়া কৃত্রিম রূপ অবলম্বনের মাধ্যমে লেনদেনকে তার স্বাভাবিক গতিপথ থেকে বিচ্যুত করা, যার সবই কুপ্রবৃত্তি (هوى النفس)-র কারণে করা হয়। যদি এগুলো বৈধ করে দেওয়া হতো, তবে সুদ (الربا) প্রত্যাশী প্রত্যেকেই এই পথ অবলম্বন করত, ফলে শরিয়তের বিধান (الحكم الشرعي) তার লক্ষ্য অর্জনে অকার্যকর হয়ে পড়ত এবং তার উপযোগিতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।
আর শুধু নিয়ত (النية)-এর কোনো গুরুত্ব আমরা দিই না। কারণ আমরা সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলি যার নিকট কোনো পণ্য আছে যা সে নগদে দশ টাকায় বিক্রি করে তা সঞ্চয় করতে চায়: সে যদি সেই পণ্যের জন্য এমন কোনো আগ্রহী ক্রেতা পায় যে বাকিতে (نساءً) পনেরো টাকায় ক্রয় করতে চায়, আর সে তার কাছে তা বিক্রি করে দেয়, তবে তা সুদ (الربا) বা হারাম (حرامًا) হবে না।
তেমনি আমরা সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বলি যার নিকট দশ দিরহাম আছে যা সে সঞ্চয় করতে চায়, অতঃপর তার নিকট সালাম (السلم) চুক্তিতে আগ্রহী কেউ আসলো এবং সে চুক্তিকালীন ও মেয়াদের সময়ের মূল্যের [
… ] ভিত্তিতে তা প্রদান করল, তবে তাও সুদ (الربا) বা হারাম (حرامًا) হবে না।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০৩)
[ص 15/ 3] وهذا كما تقرر في الشريعة أن قصر الصلاة لا يحل لمجرد المشقة بدون سفر. فتدبر!
فإن قيل: المقصود هو العدل، وهذا الحكم لا يفي به، فإن من كانت نيته التجارة، ولكنه آثر القرض لحاجة المستقرض حالًا هو في نفس الأمر مستحقّ للتعويض عما فاته من الربح، ومن كانت نيته الكنز ولكنه باع نساءً، أو أسلم طمعًا في الربح من هذه الجهة، لم يكن مستحقًّا للتعويض.
قلت: أما المقرِض؛ فإن لم يشترط زيادة فلا إشكال، فإنه قد رضي عوضًا عن ربحه الذي كان يرجوه بما حصل له من فوائد القرض التي تقدمت، ومنها الأجر، وصنع المعروف إلى المستقرض.
وإن اشترط الزيادة فإن كان قد علم بالحكم فحرمانه من الزيادة عقوبة له على مخالفة الشريعة، مع أنها لم تَحْتِمْ عليه أن يقرض، وإن كان لم يعلم فسيأتي جوابه.
وأما البائع نسيئةً، والمعطي سلمًا؛ فإن ما يناله من ربح يكون عوضًا عما يفوته من الربح في القرض، كما أن المقرض بزيادة جاهلًا بالحكم يحرم من الزيادة حكمًا، ويكون ذلك في مقابل ما يربحه إذا باع نَساءً أو أسلم، ولم يكن يريد التجارة.
فإن قلت: قد يكون الإنسان يُقرِض وهو يريد التجارة، ولا يُنسِئ ولا يُسلِم، وقد يكون يُنسِئ ويُسلِم مع أنه كان ينوي الكنز، ولا يُقرِض أبدًا، وقد يُقرِض مشرقيًّا، ويُنسِئ مغربيًّا، فكيف هذا؟
قلت: قد قرَّرنا سابقًا أن القوانين لابد أن تُناط بأمر ظاهر منضبط، ثم لا يضرها تخلُّفُ الحكمة في بعض الصور النادرة.
[পৃষ্ঠা ১৫/ ৩] এটি ঠিক তেমনি যেমনটি শরিয়তে সাব্যস্ত হয়েছে যে, সফর ব্যতীত কেবল কষ্টের কারণে সালাত কসর করা বৈধ নয়। অতএব গভীরভাবে চিন্তা করুন!
যদি বলা হয়: উদ্দেশ্য হলো ন্যায়বিচার, আর এই বিধান তা পুরোপুরি পালন করে না। কারণ, যার নিয়ত ছিল ব্যবসা করা, কিন্তু সে ঋণগ্রহীতার তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে ঋণ প্রদানকে প্রাধান্য দিয়েছে, সে প্রকৃতপক্ষে তার হারানো মুনাফার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য। আর যার নিয়ত ছিল সম্পদ সঞ্চয় করে রাখা, কিন্তু সে বাকিতে বিক্রয় করল অথবা এই দিক থেকে মুনাফার আশায় অগ্রিম ক্রয়চুক্তি করল, সে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য নয়।
আমি বলব: ঋণদাতার ক্ষেত্রে কথা হলো, যদি সে অতিরিক্ত মুনাফার শর্ত না করে, তবে কোনো সংশয় নেই। কারণ সে তার প্রত্যাশিত মুনাফার পরিবর্তে ঋণের সেই উপকারিতাগুলোতেই সন্তুষ্ট হয়েছে যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে; যার অন্তর্ভুক্ত হলো সওয়াব এবং ঋণগ্রহীতার প্রতি সদাচরণ।
আর যদি সে অতিরিক্তের শর্ত করে, তবে সে যদি বিধানটি সম্পর্কে অবগত থাকে, তবে তাকে অতিরিক্ত থেকে বঞ্চিত করা শরিয়ত লঙ্ঘনের কারণে তার জন্য একটি শাস্তি; যদিও শরিয়ত তার ওপর ঋণ দেওয়াকে আবশ্যক করেনি। আর সে যদি অবগত না থাকে, তবে তার উত্তর সামনে আসছে।
আর বাকিতে বিক্রেতা এবং অগ্রিম ক্রয়চুক্তি সম্পাদনকারীর ক্ষেত্রে কথা হলো, সে যে মুনাফা অর্জন করে তা ঋণের ক্ষেত্রে তার হারানো মুনাফার স্থলাভিষিক্ত হয়। যেমনটি বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে অতিরিক্তের শর্তে ঋণদাতা ব্যক্তি আইনগতভাবে অতিরিক্ত থেকে বঞ্চিত হয়; আর এটি সেই মুনাফার বিপরীতে গণ্য হয় যা সে অর্জন করত যদি সে বাকিতে বিক্রয় করত বা অগ্রিম ক্রয়চুক্তি করত অথচ তার ব্যবসার উদ্দেশ্য ছিল না।
যদি আপনি বলেন: এমন হতে পারে যে কোনো ব্যক্তি ব্যবসা করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ঋণ দেয়, অথচ সে বাকিতে বিক্রয় বা অগ্রিম ক্রয় করে না; আবার এমনও হতে পারে যে সে বাকিতে বিক্রয় বা অগ্রিম ক্রয় করে যদিও তার নিয়ত ছিল সম্পদ সঞ্চয় করে রাখা এবং সে কখনোই ঋণ দেয় না; আবার সে হয়তো কোনো প্রাচ্যবাসীকে ঋণ দেয় এবং কোনো পাশ্চাত্যবাসীর কাছে বাকিতে বিক্রয় করে, তবে এটি কীভাবে সম্ভব?
আমি বলব: আমরা ইতিপূর্বে সাব্যস্ত করেছি যে, বিধিবিধান অবশ্যই কোনো প্রকাশ্য ও সুশৃঙ্খল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হবে; অতঃপর কিছু বিরল ক্ষেত্রে হিকমতের অনুপস্থিতি তাতে কোনো ক্ষতি করে না।
(খণ্ড: ১৮)
জওয়াবুল ইস্তিফতা আন হাকীকাতির রিবা - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী
(পৃষ্ঠা: ৩০৪)
وهذا أمر معقول معمول به عند العقلاء، فالحكومات تعلن في أوقات الخوف منع الخروج ليلًا، ويعترف العقلاء بأن ذلك وفق المصلحة، ولا يمنعهم من ذلك احتمال أن يكون رجل قد ترك أطفاله جياعًا، وذهب يلتمس لهم طعامًا، فلم يظفر بالطعام حتى جنَّ عليه الليل وهو في بيت بعض معارفه، فيمنعه حكم الحكومة من الرجوع إلى بيته، وفي ذلك هلاك أطفاله. وقد يعم المنع الرجال والنساء، وتكون امرأة مرضع قد خرجت فجنَّ عليها الليل في بيت بعض معارفها، فيمنعها الحكم من الرجوع إلى بيتها، فيموت طفلها جوعًا.
وتعلن الحكومات في أوقات الخوف: أن من رآه الشرطة في الطرق ليلًا ينذرونه، فإن ارتابوا به ضربوه بالرصاص، فقد يصادف أن يكون رجل ضعيف مسالم، لكنه أصمُّ، ولم يعلم بالإعلان، فخرج يلتمس قوتًا لنفسه أو لأطفاله، فصاح عليه الشرطة، فلم يسمع لصممه. وأمثال هذا كثير.
بل في القوانين الفطرية ما هو بهذا المعنى، فالمطر ضروري لحياة العالم، وقد يهدم بيت العجوز، ويفسد بضاعة التاجر، ويقتل طفل المسافر، وأشباه ذلك.
لكننا قد قدَّمنا أن القوانين الشرعية يَجْبُر واضعها سبحانه وتعالى ما قد ينشأ عنها من خلل، فيقضي ويقدر ما يتم به العدل، وهو سبحانه المحيط بكل شيء علمًا وقدرةً، {إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (82) فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [يس 82 - 83].
এটি একটি যুক্তিসঙ্গত বিষয় যা বুদ্ধিমানদের নিকট প্রচলিত। যেমন, সরকার আশঙ্কাজনক সময়ে রাতে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং বুদ্ধিমানরা স্বীকার করেন যে এটি জনকল্যাণ (المصلحة) অনুযায়ী করা হয়। এ ক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনাও থাকে যে, কোনো ব্যক্তি তার ক্ষুধার্ত সন্তানদের বাড়িতে রেখে খাবারের সন্ধানে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু রাত হওয়ার আগে খাবার জোগাড় করতে পারেননি এবং পরিচিত কারো বাড়িতে রাত হয়ে যাওয়ায় সরকারি বিধিনিষেধের কারণে তিনি আর বাড়ি ফিরতে পারেননি, যার ফলে তার সন্তানদের জীবনহানি হতে পারে—কিন্তু এই সম্ভাবনা উক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। আবার এই নিষেধাজ্ঞা নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে; হয়তো কোনো দুগ্ধদানকারী মা বাইরে বেরিয়েছিলেন এবং পরিচিত কারো বাড়িতে থাকাকালীন রাত হয়ে যাওয়ায় আইন অনুযায়ী তিনি আর বাড়ি ফিরতে পারেননি, যার ফলে তার শিশুটি না খেয়ে মারা গেল।
সরকার আশঙ্কাজনক সময়ে ঘোষণা দেয় যে, পুলিশ রাতে রাস্তায় কাউকে দেখলে তাকে সতর্ক করবে এবং সন্দেহ হলে গুলি করবে। হতে পারে কোনো দুর্বল (ضعيف) ও নিরীহ ব্যক্তি বধির হওয়ার কারণে এই ঘোষণা সম্পর্কে জানতে পারেননি, ফলে তিনি নিজের বা সন্তানদের খাবারের সন্ধানে বাইরে বের হলেন, আর পুলিশ তাকে ডাকলেও তিনি কানে না শোনার কারণে সাড়া দিতে পারলেন না। এই ধরণের উদাহরণ প্রচুর রয়েছে।
এমনকি প্রাকৃতিক বা সৃষ্টিগত নিয়মের মাঝেও এমন উদাহরণ বিদ্যমান। যেমন, জগতের জীবনের জন্য বৃষ্টির পানি অপরিহার্য, অথচ এই বৃষ্টিই হয়তো কোনো বৃদ্ধার ঘর ভেঙে দেয়, ব্যবসায়ীর পণ্য নষ্ট করে ফেলে কিংবা মুসাফিরের শিশুর মৃত্যুর কারণ হয় এবং এ জাতীয় আরও অনেক কিছু ঘটে।
তবে আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, শরয়ি বিধানগুলোর প্রণেতা মহান আল্লাহ তাআলা এই বিধানগুলোর কারণে উদ্ভূত যেকোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি সংশোধন করে দেন। ফলে তিনি এমন ফয়সালা ও তকদির নির্ধারণ করেন যার মাধ্যমে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার পূর্ণতা পায়। তিনি জ্ঞান ও ক্ষমতার দিক থেকে সবকিছুর পরিবেষ্টনকারী। "নিশ্চয়ই তাঁর ব্যাপার এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে কেবল বলেন, 'হও', অমনি তা হয়ে যায়। অতএব পবিত্র সেই সত্তা, যাঁর হাতেই সবকিছুর সার্বভৌম ক্ষমতা এবং যাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।" [ইয়াসিন: ৮২-৮৩]