0/0
(খণ্ড: ১) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
صيام ستة أيام من شوال - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: صيام ستة أيام من شوال

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (18)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

শাওয়ালের ছয়টি রোজা - «আসারুল মুয়াল্লিমি»-এর অন্তর্ভুক্ত   (আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: শাওয়ালের ছয়টি রোজা

[আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলী (১৮)]

লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মাদ উযাইর শামস

পর্যালোচনা: মুহাম্মাদ আজমল আল-ইসলাহি - সুলায়মান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দার আলামুল ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযী

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» সংস্থা, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপানো কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১৯)
الرسالة السابعة والعشرون

صيام ستة أيام من شوال
সাতাশতম রিসালা

শাওয়ালের ছয়টি রোজা
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২১)
[ص 1] بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

الحمد لله رب العالمين حمدًا يُوافي نِعَمَه ويكافئ مزيدَه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله وسلم وبارك عليه وعلى آله وصحبه.

أما بعد، فإنني سُئلتُ عن صيام ستة أيام من شوال، وذُكِر لي عن رجلٍ من ذوي الفضل والصلاح أنه يقول: إن صيامها بدعة، وإن حديثها موضوع، لأنه تفرد به سعد بن سعيد الأنصاري، وقد طعن فيه أئمة الحديث.

فأقول: أما قوله: "إن صيامها بدعة" فيُبطله ما ستعلمه من صحةِ الحديث وعملِ بعض الصحابة والتابعين به، وإطباقِ المذاهب على استحباب صيامها.

وأما قوله: "إن الحديث موضوع" فعجيب، فإن أئمة الحديث منهم من صرَّح بصحته، ومنهم مَن عمل به وأفتى واقتضى ذلك تصحيحَه له، ومنهم من رواه ووثَّق رواته، ومنهم من بلغه ذلك ولم يأتِ عنه إنكارٌ له، اللهم إلّا عبارة لمالك رحمه الله يُعلَم بتدبُّرها أنها لا تُخالف ذلك. ولم أر في كتب فقه الحديث نقلًا عن أحدٍ من أهل العلم أنه أنكر صحةَ الحديث فضلًا عن القول بأنه ضعيف، إلَّا أن يتردّد فيه بعضهم بالنظر إلى طُرقه. نعم قال التقي السبكي: "قد طعن في هذا الحديث مَن لا فهمَ له، مغترًّا بقول الترمذي: إنه حسن". ذكره في "سبل السلام"(1)، ثم قال: فوجهُ الاغترار أن الترمذي لم

--------------------------------------------

(1) (2/ 167) ط. دار الفكر.
[পৃষ্ঠা ১] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতের সমতুল্য এবং তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধির উপযোগী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল; তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আমাকে শাওয়ালের ছয় রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। আমার কাছে ফজল ও নেককার হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বলেন: এই রোজা রাখা একটি বিদআত (بدعة), আর এর হাদিসটি জাল (موضوع); কারণ এটি সাদ বিন সাঈদ আল-আনসারি এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন এবং হাদিসের ইমামগণ তাঁর সমালোচনা (طعن) করেছেন।

আমি বলব: তাঁর এই উক্তি— "এই রোজা বিদআত (بدعة)"—একে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة), কতিপয় সাহাবী ও তাবিঈর আমল এবং এই রোজা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে মাযহাবগুলোর ঐকমত্য বাতিল করে দেয়।

আর তাঁর এই উক্তি— "হাদিসটি জাল (موضوع)"—এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর। কেননা হাদিস বিশারদ ইমামদের মধ্যে কেউ কেউ স্পষ্টভাবে এর বিশুদ্ধতা (صحة) বর্ণনা করেছেন, কেউ কেউ এর ওপর আমল করেছেন এবং ফতোয়া দিয়েছেন যা হাদিসটির বিশুদ্ধকরণকে (تصحيح) নির্দেশ করে। আবার কেউ কেউ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য (وثَّق) বলেছেন। তাঁদের মধ্যে এমনও আছেন যাদের কাছে এটি পৌঁছেছে কিন্তু তারা এর কোনো প্রতিবাদ করেননি; তবে ইমাম মালিক (রহ.)-এর একটি বক্তব্য ছাড়া, যা গভীরভাবে চিন্তা করলে বোঝা যায় যে তা এর বিরোধী নয়। আমি হাদিস শাস্ত্রের ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থাবলীতে এমন কোনো আলেমকে পাইনি যিনি এই হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) অস্বীকার করেছেন, একে দুর্বল (ضعيف) বলা তো দূরের কথা; তবে কিছু আলেম এর সূত্রসমূহ (طرق) বিবেচনা করে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। হ্যাঁ, তাকিউদ্দীন আস-সুবকি বলেছেন: "যার সঠিক বুঝ নেই সে এই হাদিসের সমালোচনা (طعن) করেছে, ইমাম তিরমিযীর একে হাসান (حسن) বলার মাধ্যমে বিভ্রান্ত হয়ে।" এটি "সুবুলুস সালাম"(১) গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন: এই বিভ্রান্তির কারণ হলো তিরমিযী...

--------------------------------------------

(১) (২/ ১৬৭) তাবা. দারুল ফিকর।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২২)
يصفه بالصحة بل بالحسن، وكأنه في نسخةٍ، والذي رأيناه في "سنن الترمذي": " … حديث أبي أيوب حديث حسن صحيح"(1).

أقول: وهكذا هو في النسخ المطبوعة على اختلاف طبعها: "حسن صحيح". والظاهر اتفاق النسخ على ذلك. وكأنَّ المغترَّ إنما بنى اغتراره على ما قيل: إن كلمة "حسن صحيح" دون كلمة "صحيح" فقط، والصواب أنها مثلها بل أعلى منها. وتقرير ذلك له موضع آخر.

فأما القول بأنه موضوع فلا يُتصوَّر أن يصدر عن عارفٍ بالحديث، وأعجب من ذلك توجيه وضعه بأنه تفرد به سعد بن سعيد. وستعلم حالَ سعد وتعلم طرقَ الحديث.

فأقول: قد رُوي هذا الحديث عن جماعة من الصحابة رضي الله عنهم عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وقفتُ على رواية عشرةٍ منهم، وهم: أبو أيوب الأنصاري، وثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وأبو هريرة حافظ الأمة، وجابر بن عبد الله، والبراء بن عازب، وابن عمر، وابن عباس، وغنَّام والد عبد الرحمن بن غنّام، ورجل لم يُسمَّ، وأم المؤمنين عائشة. وأرتِّب الكلام على فصول:

--------------------------------------------

(1) "سبل السلام" (ج 1 ص 236). [المؤلف].
তিনি এটিকে সহিহ (صحيح) হওয়ার বরং হাসান (حسن) হওয়ার গুণ দান করেছেন, সম্ভবত এটি কোনো পাণ্ডুলিপিতে ছিল। আর আমরা 'সুনান আত-তিরমিযী'-তে যা দেখেছি তা হলো: " … আবু আইয়ুবের হাদিসটি একটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস"(১)।

আমি বলছি: মুদ্রিত কপিগুলোতে তাদের বিভিন্ন সংস্করণ থাকা সত্ত্বেও এভাবেই রয়েছে: "হাসান সহিহ (حسن صحيح)"। আর বাহ্যত সকল পাণ্ডুলিপি এ বিষয়ে একমত। মনে হচ্ছে, বিভ্রান্ত ব্যক্তিটি তার বিভ্রান্তির ভিত্তি গড়ে তুলেছেন এই কথার ওপর যে: "হাসান সহিহ (حسن صحيح)" শব্দটি কেবল "সহিহ (صحيح)" শব্দের চেয়ে নিম্নমানের; অথচ সঠিক কথা হলো এটি তার সমপর্যায়ের বরং তার চেয়েও উন্নত। এর বিস্তারিত বর্ণনা অন্য একটি স্থানে রয়েছে।

আর এটি জাল (موضوع) হওয়ার দাবি কোনো হাদিস বিশারদ থেকে প্রকাশ পাওয়া কল্পনাতীত। এর চেয়েও আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এটি জাল হওয়ার স্বপক্ষে এই যুক্তি দেওয়া যে সাদ ইবনে সাইদ এটি এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন। আপনি অচিরেই সাদের অবস্থা এবং হাদিসটির সূত্রগুলো (طرق) জানতে পারবেন।

আমি বলছি: এই হাদিসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে একদল সাহাবীর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। আমি তাদের মধ্য থেকে দশজনের বর্ণনার কথা জানতে পেরেছি, তারা হলেন: আবু আইয়ুব আল-আনসারি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর মুক্তদাস সাওবান, উম্মতের হাফেজ আবু হুরায়রা, জাবির বিন আবদুল্লাহ, বারা বিন আজিব, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস, আবদুর রহমান বিন গান্নামের পিতা গান্নাম, জনৈক ব্যক্তি যার নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং উম্মুল মুমিনীন আয়েশা। আমি আলোচনাটি বিভিন্ন পরিচ্ছেদে সাজাচ্ছি:

--------------------------------------------

(১) "সুবুলুস সালাম" (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩৬)। [লেখক]।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২৩)
‌‌الفصل الأول

في حديث أبي أيوب

قال الإمام مسلم بن الحجاج في "صحيحه"(1): حدثنا يحيى بن أيوب وقتيبة بن سعيد وعلي بن حُجر جميعًا عن إسماعيل، قال ابن أيوب: حدثنا إسماعيل بن جعفر أخبرني سعد بن سعيد بن قيس عن عمر بن ثابت بن الحارث الخزرجي عن أبي أيوب الأنصاري رضي الله عنه أنه حدَّثه أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: "من صام رمضان ثم أَتبعَه ستًّا من شوال كان كصيام الدهر".

وحدثنا ابن نمير حدثنا أبي حدثنا سعد بن سعيد أخو يحيى بن سعيد أخبرنا عمر بن ثابت أخبرنا أبو أيوب الأنصاري رضي الله عنه قال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول بمثله.

وحدثناه أبو بكر بن أبي شيبة حدثنا عبد الله بن المبارك عن سعد بن سعيد قال: سمعت عمر بن ثابت قال: سمعتُ أبا أيوب رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بمثله(2).

أقول: أما عمر بن ثابت فتابعي، ولد في عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وهو ثقة باتفاقهم. والحديث متواتر إلى سعد، قال السبكي: "وقد اعتنى شيخنا أبو محمد الدمياطي بجمع طُرقه، فأسنده عن بضعة وعشرين رجلًا رووه عن

--------------------------------------------

(1) رقم (1164).

(2) "صحيح مسلم" طبعُ العامرة بإسلامبول تحت نظر نظارة المعارف (ج 3 ص 169). [المؤلف].
প্রথম পরিচ্ছেদ

আবু আইয়ুব (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস প্রসঙ্গে

ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে বলেছেন(১): আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব, কুতাইবা বিন সাঈদ এবং আলী বিন হুজর সকলে ইসমাইল থেকে। ইবনে আইয়ুব বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন জাফর, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাদ বিন সাঈদ বিন কাইস, তিনি উমর বিন সাবিত বিন হারিস আল-খাজরাজি থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে বলেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা এর অনুগামী করল, তা যেন সারা বছর রোজা রাখার সমান।"

এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে নুমাইর, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদের ভাই সাদ বিন সাঈদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর বিন সাবিত, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আইয়ুব আনসারি (রা.), তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এর অনুরূপ বলতে শুনেছি।

এবং আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি শাইবা, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুবারক, সাদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি বলেন: আমি উমর বিন সাবিতকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু আইয়ুব (রা.)-কে বলতে শুনেছি: রাসুলুল্লাহ (সা.) এর অনুরূপ বলেছেন(২)।

আমি বলছি: উমর বিন সাবিত হলেন একজন তাবেয়ি (تابعي), তিনি নবী (সা.)-এর যুগে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তিনি তাঁদের সর্বসম্মতিক্রমে নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আর হাদিসটি সাদ পর্যন্ত মুতাওয়াতির (متواتر)। সুবকি বলেছেন: "আমাদের শাইখ আবু মুহাম্মদ আদ-দামিয়াতি এর সূত্রগুলো সংগ্রহের ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন এবং তিনি বিশের অধিক ব্যক্তির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন যারা এটি বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) নম্বর (১১৬৪)।

(২) "সহিহ মুসলিম", ইস্তাম্বুলের আমেরাহ মুদ্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে (৩য় খণ্ড, ১৬৯ পৃষ্ঠা)। [লেখক]।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২৪)
سعد بن سعيد، وأكثرهم حفَّاظ ثقات، منهم السفيانان"(1).

[ص 2] وأما سعد بن سعيد فتابعي، احتج به أئمة عصره الذين عرفوه وصحبوه، منهم الإمام الجليل عبد الله بن المبارك، روى عنه هذا الحديث كما تقدم، وذهب إليه وأفتى به كما يأتي عن الترمذي. ومنهم الإمام الكبير أبو الجرح والتعديل المعروف بالتشدد في نقد الرجال إلى حدّ التعنت شعبة بن الحجاج، روى عنه مع ما عُرِف عنه أنه لا يروي إلّا عن ثقة، أي فإذا روى عن ضعيف بيَّن حاله. وبهذا يندفع تشكيك السخاوي(2).

وقد سمع من سعد جماعةٌ من الأئمة، وأخذوا عنه هذا الحديث وغيره وحدَّثوا بذلك، ولم يطعن فيه أحدٌ منهم. وأما الذين لم يدركوه فقد وثَّقه منهم جماعة(3): منهم الإمام أحمد بن عبد الله بن صالح العجلي، ذكره عباس الدوري فقال: كنا نعدُّه مثل أحمد ويحيى بن معين(4). ومنهم محمد بن عبد الله بن عمار الذي كان الإمام علي بن المديني يقدِّمه، وقال بعض الحفاظ: هو مثل علي ابن المديني(5). ومنهم محمد بن سعد صاحب "الطبقات"، وهو من الأئمة الثقات. وينبغي أن يُعدَّ منهم من صحَّح حديثه كمسلم والترمذي.

--------------------------------------------

(1) "سبل السلام" (ج 1 ص 236). [المؤلف]. وهو في طبعة دار الفكر (2/ 167).

(2) في "فتح المغيث" (ص 134) [المؤلف]. انظر طبعة الجامعة السلفية (2/ 42).

(3) راجع "تهذيب التهذيب" (3/ 470، 471).

(4) "تذكرة الحفاظ" (ج 2 ص 127). [المؤلف]. انظر الطبعة التي بتحقيق المؤلف (2/ 561).

(5) راجع "تهذيب التهذيب" (ج 9 ص 265). [المؤلف]. والنص في (9/ 266).
সাদ বিন সাঈদ, এবং তাঁদের অধিকাংশ হাফেজ (حفاظ) ও নির্ভরযোগ্য (ثقات), তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই সুফিয়ান"(1).

[পৃষ্ঠা ২] আর সাদ বিন সাঈদের কথা বললে, তিনি হলেন একজন তাবেয়ি (تابعي), তাঁর যুগের ঐ সকল ইমামগণ তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتج به) করেছেন যারা তাঁকে চিনতেন এবং তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহান ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক; তিনি তাঁর থেকে এই হাদিস বর্ণনা করেছেন যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং তিনি এর মত গ্রহণ করেছেন ও সে অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন যেমনটি তিরমিযি থেকে সামনে আসবে। তাঁদের মধ্যে আরও আছেন 'জারহ ওয়া তাদিল' (الجرح والتعديل)-এর মহান ইমাম, যিনি বর্ণনাকারীদের মূল্যায়নের (نقد الرجال) ক্ষেত্রে কঠোরতার (تشدد) জন্য সুপরিচিত, এমনকি তা কঠোরতা প্রদর্শনের (تعنت) সীমা পর্যন্ত পৌঁছায়—শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ। তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেন না; অর্থাৎ যদি তিনি কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেন, তবে তার অবস্থা স্পষ্ট করে দেন। এর মাধ্যমে সাখাওয়ির সংশয় নিরসন হয়(2).

ইমামদের একটি জামাত সাদ থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর থেকে এই হাদিস ও অন্যান্য হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং তা বর্ণনা করেছেন; তাঁদের কেউই তাঁর ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (طعن) করেননি। আর যারা তাঁর সাক্ষাৎ পাননি, তাঁদের মধ্য থেকে একটি দল তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثَّقه)(3): তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন সালিহ আল-ইজলি; আব্বাস আদ-দাওরি তাঁর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: "আমরা তাঁকে আহমদ ও ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের সমতুল্য গণ্য করতাম"(4). তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আম্মার, যাঁকে ইমাম আলী ইবনুল মাদিনি অগ্রাধিকার দিতেন; এবং জনৈক হাফেজ (حفاظ) বলেছেন: তিনি আলী ইবনুল মাদিনির মতো(5). তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন 'তাবাকাত'-এর গ্রন্থকার মুহাম্মদ বিন সাদ, যিনি নির্ভরযোগ্য ইমামদের (الأئمة الثقات) অন্যতম। আর যারা তাঁর হাদিসকে সহিহ বলেছেন (صحَّح), যেমন মুসলিম ও তিরমিযি, তাঁদেরকেও এই তালিকায় গণ্য করা উচিত।

--------------------------------------------

(1) "সুবুলুস সালাম" (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৬)। [লেখক]। এটি দারুল ফিকর সংস্করণ (২/ ১৬৭)-এ রয়েছে।

(2) "ফাতহুল মুগিস" (পৃষ্ঠা ১৩৪) [লেখক]। জামিয়া সালাফিয়া সংস্করণ (২/ ৪২) দেখুন।

(3) দেখুন "তাহজিবুত তাহজিব" (৩/ ৪৭০, ৪৭১)।

(4) "তাযকিরাতুল হুফফাজ" (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১২৭)। [লেখক]। লেখকের নিজস্ব তাহকিককৃত সংস্করণ (২/ ৫৬১) দেখুন।

(5) দেখুন "তাহজিবুত তাহজিব" (খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ২৬৫)। [লেখক]। মূল পাঠটি (৯/ ২৬৬) পৃষ্ঠায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২৫)
وليَّنه منهم جماعة. قال أبو محمد عبد الرحمن بن أبي حاتم الرازي في كتاب "الجرح والتعديل"(1): "نا صالح بن أحمد قال قال أبي: سعد بن سعيد أخو يحيى بن سعيد ضعيف(2). ذكره أبي عن إسحاق بن منصور عن يحيى بن معين أنه قال: سعد بن سعيد صالح(3). سمعتُ أبي يقول: سعد بن سعيد الأنصاري مؤدّي. قال أبو محمد: يعني أنه كان لا يحفظ، يؤدّي ما سمع"(4).

وذكر في "التهذيب"(5) قول أحمد "ضعيف" ثم قال: "وكذا قال ابن معين في رواية، وقال في رواية أخرى: صالح. وقال النسائي: ليس بالقوي … وقال ابن أبي حاتم: سمعتُ أبي يقول: سعد بن سعيد الأنصاري يؤدي، يعني أنه كان لا يحفظ ويؤدي ما سمع. وقال ابن عدي: له أحاديث صالحة تقرب من الاستقامة، ولا أرى بحديثه بأسًا بمقدار ما يرويه. وذكره ابن حبان في "الثقات" وقال: كان يخطئ".

زاد ابن حجر: "وزاد ــ يعني ابن حبان ــ لم يفحش خطاؤه، فلذلك

--------------------------------------------

(1) (4/ 84).

(2) في النسخة هنا زيادة "نا عبد الرحمن قال". وهي من زيادة الراوي عن المؤلف. عبد الرحمن هو المؤلف. [المعلمي].

(3) وضع المؤلف هنا وفي موضع الحاشية السابقة نفس الرقم للإشارة إلى أن التعليق في الموضعين واحد.

(4) نسخة في دائرة المعارف مأخوذة بالتصوير الشمسي عن نسخة بإسلامبول. [المؤلف].

(5) (3/ 470). وانظر "الثقات" (4/ 298 و 6/ 379).
তাদের একটি দল তাকে শিথিল (ليّنه) সাব্যস্ত করেছেন। আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে আবি হাতিম আল-রাজি 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল'(১) গ্রন্থে বলেন: "সালেহ ইবনে আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সা'ঈদের ভাই সা'দ ইবনে সা'ঈদ দুর্বল(২) (ضعيف)। আমার পিতা ইসহাক ইবনে মানসুরের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: সা'দ ইবনে সা'ঈদ যোগ্য(৩) (صالح)। আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: সা'দ ইবনে সা'ঈদ আল-আনসারি একজন বর্ণনাকারী (مؤدي)। আবু মুহাম্মদ বলেন: অর্থাৎ তিনি মুখস্থ রাখতেন না, যা শুনতেন তাই বর্ণনা করতেন"(৪).

এবং 'আত-তাহজিব'(৫) গ্রন্থে আহমদের উক্তি "দুর্বল (ضعيف)" উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর বলা হয়েছে: "ইবনে মাঈনও এক বর্ণনায় অনুরূপ বলেছেন, আর অন্য বর্ণনায় বলেছেন: যোগ্য (صالح)। আন-নাসায়ি বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي) … এবং ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: সা'দ ইবনে সা'ঈদ আল-আনসারি একজন বর্ণনাকারী (مؤدي), অর্থাৎ তিনি মুখস্থ রাখতেন না এবং যা শুনতেন তা বর্ণনা করতেন। ইবনে আদি বলেন: তাঁর কিছু গ্রহণযোগ্য (صالح) হাদিস রয়েছে যা সঠিকতার কাছাকাছি, এবং তিনি যা বর্ণনা করেন সেই অনুযায়ী তাঁর হাদিসে আমি কোনো সমস্যা (لا بأس) দেখি না। আর ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ভুল করতেন।"

ইবনে হাজার আরও যোগ করেছেন: "তিনি—অর্থাৎ ইবনে হিব্বান—আরও বাড়িয়ে বলেছেন: তাঁর ভুলগুলো মাত্রাতিরিক্ত ছিল না, তাই..."

--------------------------------------------

(১) (৪/ ৮৪)।

(২) পাণ্ডুলিপির এখানে "আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন" বাক্যটি অতিরিক্ত রয়েছে। এটি লেখক থেকে বর্ণনাকারীর করা একটি সংযোজন। আব্দুর রহমান হলেন খোদ লেখক। [আল-মুয়াল্লিমি]।

(৩) লেখক এখানে এবং পূর্ববর্তী টীকা প্রদানের স্থানে একই নম্বর ব্যবহার করেছেন এটি নির্দেশ করার জন্য যে, উভয় স্থানের মন্তব্য একই।

(৪) দায়িরাতুল মাআরিফে রক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি যা ইস্তাম্বুলের একটি পাণ্ডুলিপি থেকে ফটোকপি করা হয়েছে। [লেখক]।

(৫) (৩/ ৪৭০)। এবং দেখুন 'আস-সিকাত' (৪/ ২৯৮ এবং ৬/ ৩৭৯)।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২৬)
سلكناه مسلكَ العدول .... وقال ابن أبي حاتم في "الجرح والتعديل": ذكر أبي عن إسحاق بن منصور عن يحيى بن معين أنه قال: سعد بن سعيد الأنصاري مؤدي. قال أبو الحسن ابن القطان الفاسي: اختُلِف في ضبط هذه اللفظة، فمنهم من يُخفِّفها أي هالك، ومنهم من يشدِّدها أي حسن الأداء. وقال الترمذي: تكلموا فيه من قبل حفظه"(1).

أقول: أما قول أحمد "ضعيف" فيحتمل أنه أراد الضعف النسبي، أي بالنسبة إلى أخيه يحيى، فإن يحيى أوثق وأثبت. وقد قال السخاوي: "ومما يُنبَّه عليه أنه ينبغي أن تُتأمَّل أقوال المزكّين ومخارجها، فقد يقولون: فلان ثقة أو ضعيف، ولا يريدون أنه ممن يُحتجُّ بحديثه ولا ممن يُردُّ، وإنما ذلك بالنسبة لمن قُرِن معه". ثم ذكر شاهدًا لذلك(2).

وعلى هذا يُحمل قول ابن معين مرةً "ضعيف" بدليل قوله مرةً "صالح"، والحمل هنا أظهر، فقد قال السخاوي بعد ما تقدم(3): "وعلى هذا يُحمَل أكثرُ ما ورد من اختلاف كلام أئمة الجرح والتعديل ممن وثَّق رجلًا في وقتٍ وجرحه في آخر".

وأما قول أبي حاتم "مؤدي" فقد فسَّرها ابنُه كما سمعتَ بما يفيد التوثيق مع تليينٍ يسير لا يضرُّ. وتفسيرُ ابنه لها بذلك صريح في أنه سمعها من أبيه بهمزة مفتوحة ودالٍ مشدَّدة. وبذلك يُرَدُّ على ما قاله الذهبي في "الميزان"،

--------------------------------------------

(1) "تهذيب التهذيب" (ج 3 ص 470 - 471). [المؤلف].

(2) "فتح المغيث" (ص 163). [المؤلف]. انظر طبعة الجامعة السلفية (2/ 127، 128).

(3) المصدر السابق.
আমরা তাকে ন্যায়পরায়ণদের (العدول) পথেই পরিচালিত করেছি... এবং ইবনে আবি হাতিম 'আল-জারহ ওয়া আল-তাদিল' গ্রন্থে বলেছেন: আমার পিতা ইসহাক ইবনে মানসুর থেকে এবং তিনি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: সা’দ ইবনে সাঈদ আল-আনসারি হলেন একজন বর্ণনাকারী (مؤدي)। আবু আল-হাসান ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি বলেছেন: এই শব্দটির উচ্চারণে মতভেদ রয়েছে; তাদের কেউ কেউ একে লঘুভাবে পড়েন অর্থাৎ ধ্বংসপ্রাপ্ত (هالك), আবার কেউ কেউ একে গুরুত্ব দিয়ে বা তাসদিদযুক্ত পড়েন অর্থাৎ উত্তমরূপে আদায়কারী (حسن الأداء)। আর তিরমিযি বলেছেন: "তারা তার মুখস্থশক্তির কারণে তার সমালোচনা করেছেন।"(1).

আমি বলছি: আহমাদ-এর উক্তি "দুর্বল (ضعيف)"-এর ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি আপেক্ষিক দুর্বলতা বুঝিয়েছেন, অর্থাৎ তার ভাই ইয়াহইয়ার তুলনায়; কারণ ইয়াহইয়া অধিকতর নির্ভরযোগ্য (أوثق) এবং অধিকতর সুদৃঢ় (أثبت)। সাখাভি বলেছেন: "একটি বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন যে, যারা সত্যায়ন করেন (المزكين) তাদের উক্তি এবং তার প্রেক্ষাপটসমূহ গভীরভাবে অনুধাবন করা উচিত; কারণ তারা হয়তো বলেন: অমুক ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقة) অথবা দুর্বল (ضعيف), অথচ তারা এটি বোঝান না যে তিনি এমন ব্যক্তি যার হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج به) কিংবা যার হাদিস বর্জনীয় (يرد), বরং এটি তার সাথে যাকে তুলনা করা হয়েছে তার সাপেক্ষে বলা হয়।" এরপর তিনি এর একটি প্রমাণ উল্লেখ করেছেন(2).

আর এর ওপর ভিত্তি করেই ইবনে মাঈন-এর এক সময়ের উক্তি "দুর্বল (ضعيف)"-কে ব্যাখ্যা করা হয়, যার প্রমাণ হলো অন্য সময়ে তার উক্তি "উপযোগী (صالح)"। এখানে এই ব্যাখ্যাটি অধিক স্পষ্ট। কেননা সাখাভি পূর্বোক্ত আলোচনার পর বলেছেন(3): "আর এর ওপর ভিত্তি করেই সমালোচনা ও গুণগান (الجرح والتعديل)-এর ইমামদের বক্তব্যের অধিকাংশ বৈচিত্র্য ব্যাখ্যা করা হবে, যারা কোনো ব্যক্তিকে এক সময়ে নির্ভরযোগ্য (وثق) বলেছেন এবং অন্য সময়ে তার সমালোচনা (جرحه) করেছেন।"

আর আবু হাতিম-এর উক্তি "বর্ণনাকারী (مؤدي)"-এর ব্যাখ্যা তার পুত্র দিয়েছেন যেমনটি আপনি শুনেছেন, যা সামান্য শিথিলতা (تليين) সহ নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) নির্দেশ করে যা ক্ষতিকর নয়। আর তার পুত্রের এই ব্যাখ্যাটি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট যে তিনি এটি তার পিতার নিকট থেকে হামযার ওপর ফাতহা এবং দাল-এর ওপর তাসদিদ সহ শুনেছেন। এর মাধ্যমেই 'আল-মিযান' গ্রন্থে আয-যাহাবি যা বলেছেন তার উত্তর প্রদান করা হয়।

--------------------------------------------

(1) "তাহযিব আল-তাহযিব" (৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৭০ - ৪৭১)। [লেখক]।

(2) "ফাতহুল মুগিস" (পৃষ্ঠা ১৬৩)। [লেখক]। জামিয়া সালাফিয়া সংস্করণ দেখুন (২/ ১২৭, ১২৮)।

(3) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২৭)
قال: "قال أبو حاتم: سعد بن سعيد مود، قال شيخنا ابن دقيق العيد: اختُلِف في ضبط مود، فمنهم من خفَّفها أي هالك، ومنهم من شدَّدها أي حسن الأداء"(1).

[ص 3] وقد علمتَ أن أبا حاتم إنما قالها مشدَّدة، بدليل تفسير ابنه الذي سمعها منه وحكاها عنه. فأما ما زاده ابن حجر على أصل "التهذيب" بقوله: "وقال ابن أبي حاتم في "الجرح والتعديل": ذكر أبي عن إسحاق بن منصور عن يحيى بن معين أنه قال: سعد بن سعيد الأنصاري مؤدي"= فليس هذا في "الجرح والتعديل"، ولا نقله عنه أحدٌ ممن تقدم ابنَ حجر، مع نقْلهم عنه غير هذه العبارة كما تقدم. فقد راجعوا هذه الترجمة فيه، فكيف يُهملون(2) عبارة مهمة كهذه لو كانت فيه؟ وإنما نقلوا هم "مؤدي" أو "يؤدي" على أنها من قول أبي حاتم، كما تقدم عن "الميزان" وأصل "التهذيب". فكأنه كان في نسخة ابن حجر من "الجرح والتعديل" سقطٌ، كأنه كان فيها: "ذكره أبي عن إسحاق بن منصور عن يحيى بن معين أنه قال: سعد بن سعيد (سقط) الأنصاري مؤدي". فسقط بعد "سعيد" العبارة الآتية: "صالح. سمعتُ أبي يقول: سعد بن سعيد". والعبارة مظِنَّة السقط بانتقال النظر من "سعد بن سعيد" إلى مثلها. ويؤيد ذلك أن كلمة "صالح" هي من رواية أبي حاتم عن إسحاق بن منصور عن يحيى بن معين، فلو كان عند إسحاق عن ابن معين كلمة أخرى مخالفة لها لكان الظاهر أن يقرنهما فيقول: قال يحيى مرةً "صالح" ومرةً "مؤدي"، أو على الأقل يقرنهما أبو حاتم.

فإن قلت: لو كان في نسخة ابن حجر العسقلاني سقطٌ كما ذكرتَ

--------------------------------------------

(1) "الميزان" طبع مصر (ج 1 ص 372). [المؤلف]. انظر طبعة البجاوي (2/ 120).

(2) في الأصل "يعملون" سهوًا.
তিনি বলেন: "আবু হাতিম বলেছেন: সাদ ইবনে সাঈদ হলেন 'মুওয়াদ'। আমাদের শায়খ ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেন: 'মুওয়াদ' শব্দটির নির্ভুল উচ্চারণে (ضبط) মতভেদ রয়েছে। তাদের কেউ একে লঘুভাবে পড়েছেন যার অর্থ ধ্বংসপ্রাপ্ত (هالك), আবার কেউ একে তাশদীদসহ পড়েছেন যার অর্থ উত্তমরূপে আদায়কারী (حسن الأداء)"(১).

[পৃ. ৩] আপনি অবগত হয়েছেন যে, আবু হাতিম মূলত এটি তাশদীদসহই বলেছিলেন, যার প্রমাণ হলো তাঁর পুত্রের ব্যাখ্যা, যিনি এটি তাঁর থেকে শুনেছেন এবং বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে হাজার আল-তাহযীব-এর মূল পাঠের ওপর যা বাড়িয়ে বলেছেন যে: "ইবনে আবি হাতিম আল-জারহ ওয়াত তাদীল গ্রন্থে বলেছেন: আমার পিতা ইসহাক ইবনে মানসুরের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: সাদ ইবনে সাঈদ আল-আনসারী হলেন 'মুয়াদ্দি'"—প্রকৃতপক্ষে এটি আল-জারহ ওয়াত তাদীল গ্রন্থে নেই। এবং ইবনে হাজারের পূর্ববর্তী কেউ এটি তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেননি, যদিও তারা এটি ছাড়া অন্যান্য বক্তব্য তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। তারা তো এতে এই জীবনী (ترجمة) পর্যালোচনা করেছেন, তবে এতে যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো বক্তব্য থাকত, তবে তারা কীভাবে তা উপেক্ষা করবেন?(২) তারা মূলত "মুয়াদ্দি" বা "ইউয়াদ্দি" শব্দটিকে আবু হাতিমের বক্তব্য হিসেবেই উদ্ধৃত করেছেন, যেমনটি মিজান এবং আল-তাহযীব-এর মূল পাঠ থেকে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। সুতরাং মনে হচ্ছে ইবনে হাজারের আল-জারহ ওয়াত তাদীল-এর পাণ্ডুলিপিতে একটি বিচ্যুতি (سقط) ছিল। যেন সেখানে এমন ছিল: "আমার পিতা ইসহাক ইবনে মানসুরের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: সাদ ইবনে সাঈদ (বিচ্যুতি) আল-আনসারী মুয়াদ্দি"। ফলে "সাঈদ" শব্দের পর পরবর্তী বাক্যটি বাদ পড়ে গেছে: "গ্রহণযোগ্য (صالح)। আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: সাদ ইবনে সাঈদ"। আর এই অংশটি বিচ্যুতি (سقط) ঘটার প্রবল ক্ষেত্র, কারণ দৃষ্টি "সাদ ইবনে সাঈদ" থেকে তার পরবর্তী অনুরূপ শব্দে চলে গিয়েছে। এর স্বপক্ষে যুক্তি হলো, "গ্রহণযোগ্য" (صالح) শব্দটি ইসহাক ইবনে মানসুরের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে আবু হাতিমের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। যদি ইসহাকের কাছে ইবনে মাঈন থেকে এর বিপরীত অন্য কোনো শব্দ থাকত, তবে সম্ভবত তিনি উভয়টি একত্রে উল্লেখ করতেন এবং বলতেন: ইয়াহইয়া একবার বলেছেন "গ্রহণযোগ্য" (صالح) এবং অন্যবার বলেছেন "মুয়াদ্দি", অথবা অন্তত আবু হাতিম তা একত্রে উল্লেখ করতেন।

যদি আপনি বলেন: ইবনে হাজার আল-আসকালানির পাণ্ডুলিপিতে যদি আপনার উল্লেখ করা বিচ্যুতি (سقط) থেকেই থাকে...

--------------------------------------------

(১) "মিজান" মিশরীয় মুদ্রণ (খণ্ড ১, পৃ. ৩৭২)। [লেখক]। আল-বিজাউয়ী সংস্করণ (২/১২০) দেখুন।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে অসাবধানতাবশত "يعملون" (কাজ করে) লিখিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২৮)
لاعترض على العبارة التي في أصل "التهذيب"، بأن يقول: لم أرها في كتاب ابن أبي حاتم.

قلت: اكتفى بالإشارة إلى ذلك لاحتمال السقط(1)، واحتمال أن تكون العبارة التي في أصل "التهذيب" منقولةً عن كتاب آخر غير "الجرح والتعديل". فتدبَّرْ.

على أننا لو فرضنا أن العبارة التي ذكرها ابن حجر هي ثابتة في "الجرح والتعديل" وسقطت من نسختنا، فإننا نقول: اختيار أبي حاتم تلك الكلمة الغريبة "مود" إنما يكون حينئذٍ اتباعًا لابن معين. وقد عرفت أن أبا حاتم قالها بالهمزة المفتوحة وتشديد الدال، فيظهر بذلك أنه سمعها من إسحاق بن منصور كذلك، وأن إسحاق سمعها من ابن معين كذلك. وهذا هو المتعيِّن على فرض صحتها عن ابن معين، فإنه قد قال مرةً "صالح"، وبين هذه الكلمة وبين "مُوْدي" ــ بسكون الواو أي هالكٌ بمرَّةٍ ــ بونٌ بعيد، ولم يُنقَل عن أحدٍ أنه قال في سعد مثلَ ذلك ولا قريبًا منه. فتدَّبْر، وقد مرَّت عبارة "الجرح والتعديل".

وأما الترمذي فإنما قال(2): "وقد تكلَّم بعضُ أهل الحديث في سعد بن سعيد من قِبَلِ حفظه" كما يأتي. وبين العبارتين فرقٌ، مع أنه صحَّح الحديث وثبَّته، فدلَّ ذلك أنه لا يرى في كلام من تكلَّم ما يقدح في ثقة الرجل.

هذا، وفي "سبل السلام" عن ابن دِحْية: "وقال أبو حاتم: لا يجوز

--------------------------------------------

(1) الكلام الذي بعده في ركن صفحة أخرى.

(2) عقب الحديث رقم (759).
"আত-তাহজিব"-এর মূল পাঠে থাকা বাক্যটির ব্যাপারে আপত্তি জানানো হয়েছে এই বলে যে: আমি এটি ইবনে আবি হাতেমের কিতাবে খুঁজে পাইনি।

আমি বলি: পাঠ বিচ্যুতি (السقط) ঘটার সম্ভাবনা(1) এবং "আত-তাহজিব"-এর মূল পাঠে থাকা বাক্যটি "আল-জারহ ওয়াত তাদিল" ব্যতীত অন্য কোনো কিতাব থেকে উদ্ধৃত হওয়ার সম্ভাবনার কারণে তিনি কেবল সেদিকে ইশারা করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। সুতরাং বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন।

তবে আমরা যদি ধরেও নিই যে, ইবনে হাজার যে বাক্যটি উল্লেখ করেছেন তা "আল-জারহ ওয়াত তাদিল"-এ সাব্যস্ত ছিল এবং আমাদের কপি থেকে তা বাদ পড়ে (سقطت) গেছে, তবে আমরা বলব: আবু হাতেম কর্তৃক সেই অপরিচিত শব্দ "মু'আদ্দিন" (مود) এর চয়ন মূলত ইবনে মুঈনের অনুসরণে হয়েছে। অথচ আপনি জেনেছেন যে, আবু হাতেম শব্দটি জবরযুক্ত হামজা এবং দাল-এর তাশদিদ সহকারে উচ্চারণ করেছেন; এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এটি ইসহাক ইবনে মানসুরের নিকট থেকে এভাবেই শুনেছেন এবং ইসহাকও এটি ইবনে মুঈনের নিকট থেকে এভাবেই শুনেছেন। আর ইবনে মুঈন থেকে এটি প্রমাণিত হওয়ার ক্ষেত্রে এটাই সুনিশ্চিত পাঠ, কারণ তিনি একবার তাকে 'উপযুক্ত (صالح)' বলেছেন; অথচ এই শব্দের সাথে 'মুওদি' (مُوْدي) —ওয়াও সাকিন সহকারে যা 'একেবারে ধ্বংসপ্রাপ্ত (هالك)' বুঝায়— এর মাঝে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। সাদ সম্পর্কে অন্য কারো পক্ষ থেকে এমন বা এর কাছাকাছি কোনো কথা বর্ণিত হয়নি। বিষয়টি ভেবে দেখুন, আর "আল-জারহ ওয়াত তাদিল"-এর উদ্ধৃতিটি আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর ইমাম তিরমিজি তো কেবল এটুকুই বলেছেন(2): "হাদিস বিশারদদের কেউ কেউ সাদ ইবনে সাঈদের মুখস্থশক্তির (حفظه) দিক থেকে তাঁর সমালোচনা করেছেন", যেমনটি সামনে আসবে। তবে এই দুই বাক্যের মাঝে পার্থক্য রয়েছে, বিশেষ করে তিনি যখন হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন (صحَّح) এবং একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, যারা সমালোচনা করেছেন তাদের বক্তব্যে তিনি এমন কিছু পাননি যা লোকটির নির্ভরযোগ্যতা (ثقة)-কে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

এ ছাড়া, "সুবুলুস সালাম"-এ ইবনে দিহইয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আবু হাতেম বলেছেন: এটি জায়েজ নয়...

--------------------------------------------

(1) এর পরবর্তী কথাগুলো পৃষ্ঠার অন্য এক কোণে রয়েছে।

(2) হাদিস নং (৭৫৯)-এর পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২৯)
الاشتغال بحديث سعد بن سعيد"(1).

أقول: ابن دِحْية اسمه عمر بن الحسن، له ترجمة في "الميزان" و"لسانه"(2). قال الذهبي: "متَّهم في نقله. وجرحَه الحافظ الضياء. وقال ابن واصل: كان ابن دحية مع فرط معرفته بالحديث وحفظه الكثير له متَّهمًا بالمجازفة في النقل". ثم ذكر قصةً تدلُّ على ذلك. والكلام فيه كثير(3).

وأما قول النسائي "ليس بالقوي" فهذه الكلمة أرفع من كلمة "ضعيف" كما لا يخفى، وقد نصُّوا عليه(4). وقد يقال: إن كلمة "ضعيف" ونحوها جرح غير مفسَّر، والمرجَّح عندهم أنه لا يُقبَل إذا عارضه توثيق كما هنا. والحقُّ أنه مفسَّر، ومعنى هذه الكلمة ونحوها عند الإطلاق ضعفُ الحفظ والضبط، وقد بيَّن ذلك هنا قولُ أبي حاتم بتفسير ابنه وقول الترمذي وقول ابن حبان وقول ابن عدي.

وهؤلاء المليِّنون لسعدٍ كلُّهم لم يصحبوه ولا أدركوه، وإنما وُلِدوا بعد وفاتِه بمدة، فغايةُ ما عندهم أنهم تتبعوا رواياته واعتبروها بروايات الثقات الأثبات، فظهر لهم أن في رواياته خطأ، وقد اختلف اجتهادهم كما رأيتَ. وخالفهم معاصروهم من الموثِّقين، وتأيَّد قولُ الموثِّقين بما قدَّمنا عن أئمة عصره الذين صحبوه وعرفوه وأخذوا عنه.

--------------------------------------------

(1) "سبل السلام" (ج 1 ص 136). [المؤلف]. وطبعة دار الفكر (2/ 167).

(2) "الميزان" (3/ 186 - 189) و"لسان الميزان" (6/ 80 - 88) ط. أبي غدة.

(3) راجع "لسان الميزان" (ج 4 ص 292 - 298). [المؤلف].

(4) انظر "الجرح والتعديل" (2/ 37) و"الكفاية" (ص 23) و"علوم الحديث" (ص 113) و"الميزان" (1/ 4).
"সা'দ ইবনে সাঈদের হাদিস নিয়ে চর্চা করা"(1)।

আমি বলছি: ইবনে দিহ্ইয়ার নাম উমর ইবনুল হাসান, 'মিযান' ও 'লিসান'-এ তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে(2)। যাহাবী বলেছেন: "তিনি তাঁর বর্ণনার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত (متهم)। হাফিজ যিয়া তাঁর সমালোচনা (جرح) করেছেন। ইবনে ওয়াসিল বলেন: ইবনে দিহ্ইয়া হাদিস বিষয়ে তাঁর অগাধ জ্ঞান ও বিপুল মুখস্থশক্তি থাকা সত্ত্বেও বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জনের দায়ে অভিযুক্ত (متهم) ছিলেন।" এরপর তিনি এমন একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন যা এর প্রমাণ দেয়। তাঁকে নিয়ে প্রচুর আলোচনা রয়েছে(3)।

আর নাসায়ীর উক্তি—"তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)"—এই শব্দটি "দুর্বল (ضعيف)" শব্দের চেয়েও উন্নত স্তরের, যা সুষ্পষ্ট; এবং ইমামগণও এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন(4)। বলা হয়ে থাকে যে: "দুর্বল (ضعيف)" এবং এর সমপর্যায়ভুক্ত শব্দগুলো হলো অস্পষ্ট সমালোচনা (جرح غير مفسر), আর তাঁদের নিকট অগ্রগণ্য মত হলো—এটি গ্রহণ করা হবে না যদি তার বিপরীতে কোনো নির্ভরযোগ্য ঘোষণা (توثيق) থাকে, যেমনটি এখানে ঘটেছে। তবে প্রকৃত সত্য হলো এটি একটি স্পষ্ট সমালোচনা (جرح مفسر), এবং সাধারণভাবে এই শব্দ বা এর অনুরূপ শব্দগুলোর অর্থ হলো মুখস্থশক্তি ও সংরক্ষণের (ضبط) দুর্বলতা। আবু হাতিমের উক্তি (তাঁর পুত্রের ব্যাখ্যাসহ), তিরমিযী, ইবনে হিব্বান ও ইবনে আদীর উক্তি এখানে বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে।

সা'দ-এর ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারী (الملينون) এই আলিমদের কেউই তাঁর সংস্পর্শে আসেননি এবং তাঁকে পাননি; বরং তাঁরা তাঁর ইন্তেকালের দীর্ঘ সময় পর জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা হলো এই যে, তাঁরা তাঁর বর্ণনাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (الثقات الأثبات) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে সেগুলোকে যাচাই করেছেন। ফলে তাঁদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, তাঁর বর্ণনায় ভুল রয়েছে, আর আপনি যেমনটি দেখেছেন—তাঁদের গবেষণায় মতভেদ ঘটেছে। তাঁদের সমসাময়িক নির্ভরযোগ্য ঘোষণাকারী (الموثقون) আলিমগণ তাঁদের বিরোধিতা করেছেন। আর সেইসব নির্ভরযোগ্য ঘোষণাকারীদের (الموثقون) মতটিই সেইসব ইমামদের বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থিত হয়, যাঁরা সা'দ-এর সমসাময়িক ছিলেন, তাঁর সংস্পর্শ লাভ করেছিলেন, তাঁকে চিনতেন এবং তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন।

--------------------------------------------

(1) "সুবুলুস সালাম" (খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩৬)। [লেখক]। এবং দারুল ফিকর সংস্করণ (২/ ১৬৭)।

(2) "মিযান" (৩/ ১৮৬ - ১৮৯) এবং আবু গুদ্দাহ সম্পাদিত "লিসানুল মিযান" (৬/ ৮০ - ৮৮)।

(3) দেখুন "লিসানুল মিযান" (খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯২ - ২৯৮)। [লেখক]।

(4) দেখুন "আল-জারহ ওয়াত তা'দীল" (২/ ৩৭), "আল-কিফায়াহ" (পৃষ্ঠা ২৩), "উলুমুল হাদিস" (পৃষ্ঠা ১১৩) এবং "মিযান" (১/ ৪)।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩০)
‌‌الفصل الثاني

في حكم الحديث

قد صحَّحه مسلم والترمذي وغيرهما، ومقتضى النظر أن يقال: إذا ثبت رجحانُ التوثيق فلا كلامَ في صحته، وإذا بقي التردُّد لموضع التليين فصنيعُ أئمة الحديث يقتضي أنه بعد النظر في جميع ما قيل في سعد ينبغي أن يُنظَر في الحديث، فإذا كان له متابعات وشواهد صحَّ، وإلَّا بانَ [أنه] انفرد به، فإن قامت قرينة على خطائه ضُعِّف الحديث، وإن قامت قرينة على صحته صحّ، وإلّا حُكِم بحسنه، وقد يتوقف فيه بعضهم.

فعلى فرض أن سعدًا تفرد بهذا الحديث فلم تقُمْ قرينة على خطائه فيه، وقد أيَّده أهل العلم بوجوهٍ سوى المتابعات. ساقه الترمذي ثم قال(1): "قال أبو عيسى: حديث أبي أيوب حديث حسن صحيح. قد استحبَّ قوم صيامَ ستة أيام من شوال بهذا الحديث. قال ابن المبارك: هو حسن، هو مثل صيام ثلاثة أيام من كل شهر. قال ابن المبارك: ويُروى في بعض الحديث: "ويُلْحق هذا الصيام برمضان". واختار ابن المبارك أن تكون ستة أيام من أول الشهر. وقد رُوي عن ابن المبارك أنه قال: إن صام ستة أيام من شوال متفرقًا فهو جائز. قال: وقد روى عبد العزيز بن محمد عن صفوان بن سُليم وسعد بن سعيد عن عمر بن ثابت عن أبي أيوب عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم هذا. وروى شعبة عن ورقاء بن عمر عن سعد بن سعيد هذا. وقد تكلم بعض أهل

--------------------------------------------

(1) عقب الحديث رقم (759).
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

হাদিসের বিধান প্রসঙ্গে

ইমাম মুসলিম, তিরমিজি এবং অন্যান্যরা একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন। পর্যালোচনার দাবি হলো—এটি বলা যে: যখন বর্ণনাকারীর নির্ভরযোগ্যতার (توثيق) প্রাধান্য প্রমাণিত হয়ে যায়, তখন এর সহিহ (صحة) হওয়ার বিষয়ে আর কোনো কথা থাকে না। আর যদি বর্ণনাকারীর মধ্যে কিছুটা দুর্বলতার (تليين) অবকাশ থাকার কারণে সংশয় থেকে যায়, তবে হাদিস বিশারদ ইমামগণের কর্মপদ্ধতি এটিই দাবি করে যে, সা’দ সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তা পর্যালোচনার পর হাদিসটির প্রতিও নজর দেওয়া উচিত। সুতরাং যদি এর কোনো সমান্তরাল বর্ণনা (متابعات) এবং সমর্থক বর্ণনা (شواهد) থাকে, তবে তা সহিহ (صح) হবে; অন্যথায় এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে তিনি এটি বর্ণনায় একক (انفراد) হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় যদি তার ভুলের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে হাদিসটিকে জয়িফ (ضعيف) গণ্য করা হবে; আর যদি এর শুদ্ধতার পক্ষে কোনো প্রমাণ থাকে, তবে তা সহিহ (صح) হবে। অন্যথায় একে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করা হবে। অবশ্য কোনো কোনো ইমাম এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা (توقف) প্রকাশ করেছেন।

এই ধারণা অনুযায়ী যে, সা’দ এই হাদিসটি এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন, কিন্তু এখানে তার ভুলের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদুপরি ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞগণ সমান্তরাল বর্ণনা (متابعات) ছাড়াও অন্য নানাবিধ দিক থেকে একে সমর্থন করেছেন। ইমাম তিরমিজি এটি উদ্ধৃত করে বলেন(১): "আবু ঈসা বলেন: আবু আইয়ুবের হাদিসটি একটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস। একদল আলিম এই হাদিসের ভিত্তিতে শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখাকে মুস্তাহাব বলেছেন। ইবনুল মুবারক বলেন: এটি হাসান (حسن), এটি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখার মতোই। ইবনুল মুবারক আরও বলেন: কোনো কোনো হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: 'এই রোজাকে রমজানের সাথে যুক্ত করা হবে'। ইবনুল মুবারক মাসের শুরু থেকে ছয় দিন রোজা রাখাকে পছন্দ করেছেন। ইবনুল মুবারক থেকে এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: যদি শাওয়ালের ছয়টি রোজা বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হয়, তবে তাও জায়েজ। তিনি বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ এটি সফওয়ান ইবনে সুলাইম ও সা’দ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি উমর ইবনে সাবিত থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। শু’বাও ওয়ারকা ইবনে উমর থেকে, তিনি সা’দ ইবনে সাঈদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইলমের অধিকারী কতিপয় ব্যক্তি..."

--------------------------------------------

(১) হাদিস নং (৭৫৯) এর পর।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩১)
الحديث في سعد بن سعيد [من] قِبَلِ حفظه"(1).

فأيَّد صحةَ الحديث باحتجاج قوم من أهل العلم به، وخاصة ابن المبارك، فإنه ــ مع علمه وفقهه وتثبُّتِه ونقده وجلالته وإمامته ــ ممن صحب سعدًا وخَبَرَه، وسمع منه هذا الحديث وغيره كما مرَّ.

ثم أيَّده بمتابعة صفوان، وستأتي.

[ص 4] وأيَّده برواية شعبة عن ورقاء عن سعد له، مع أن شعبة على جلالته وشدة نقده ومعرفته قد روى عن سعد نفسه، ثم روى هذا الحديث عن رجلٍ عنه. ورواية شعبة هذه في "مسند أحمد"، قال: "ثنا محمد بن جعفر ثنا شعبة قال: سمعتُ ورقاء يحدِّث عن سعد بن سعيد … "(2).

وذكر الطحاوي رواية شعبة هذه ثم قال: "فكان هذا الحديث مما لم يكن بالقوي في قلوبنا من سعد بن سعيد مثله في الرواية عند أهل الحديث ومن رغبتهم عنه، حتى وجدناه قد أخذه عنه من قد ذكرنا أخْذَه إياه عنه من أهل الجلالة في الرواية والتثبت"(3).

ثم قال: "وممن حدَّث به عنه أيضًا: قرة بن عبد الرحمن، وعسى أن يكون سنّه كسنّه … وممن حدَّث به عنه سفيان بن عيينة".

--------------------------------------------

(1) "سنن الترمذي" طبع مصر سنة 1292 (ج 1 ص 146). [المؤلف]. وانظر (3/ 132 - 133) بتحقيق محمد فؤاد عبد الباقي.

(2) "مسند أحمد" (ج 5 ص 419). [المؤلف]. رقم (23556) ط. الرسالة. وبهذا الطريق أخرجه النسائي في "الكبرى" (2877) والطحاوي في "مشكل الآثار" (2340) والطبراني في "الكبير" (3903).

(3) "مشكل الآثار" (ج 3 ص 117). [المؤلف]. وانظر (6/ 121) ط. الرسالة.
সাদ বিন সাঈদ সম্পর্কে হাদিসটির (সমস্যা) তার মুখস্থশক্তির (حفظ) দিক থেকে।"(1).

সুতরাং তিনি একদল আহলে ইলম কর্তৃক এটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) মাধ্যমে হাদিসটির বিশুদ্ধতাকে (صحة) সমর্থন করেছেন, বিশেষ করে ইবনুল মুবারক; কারণ তিনি—তার জ্ঞান, ফিকহ, সতর্কতা (تثبت), সমালোচনা (نقد), মহত্ত্ব এবং ইমামত সত্ত্বেও—তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা সা’দের সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং তাকে পরীক্ষা করেছেন, এবং তার থেকে এই হাদিস ও অন্যান্য হাদিস শুনেছেন যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

অতঃপর তিনি সফওয়ানের অনুসরণমূলক বর্ণনার (متابعة) মাধ্যমে এটিকে সমর্থন করেছেন, যা সামনে আসবে।

[পৃষ্ঠা ৪] এবং তিনি এটিকে ওরকা-এর সূত্রে সাদ থেকে শু’বাহর বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে সমর্থন করেছেন; অথচ শু’বাহ তার মহত্ত্ব, কঠোর সমালোচনা (نقد) এবং জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও খোদ সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তার থেকে এক ব্যক্তির সূত্রে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। শু’বাহর এই বর্ণনাটি "মুসনাদ আহমাদ"-এ রয়েছে, তিনি বলেন: "মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শু’বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওরকাকে সাদ বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি…"(2).

তহাবি শু’বাহর এই বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন এবং অতঃপর বলেছেন: "সাদ বিন সাঈদের পক্ষ থেকে এই হাদিসটি আমাদের অন্তরে তদ্রূপ শক্তিশালী (قوي) ছিল না যেমনটি মুহাদ্দিসগণের নিকট বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে এবং তার প্রতি তাদের অনাগ্রহের কারণে ছিল, যতক্ষণ না আমরা তাকে পেলাম যে, এমন ব্যক্তি তার থেকে এটি গ্রহণ করেছেন যাকে আমরা বর্ণনার ক্ষেত্রে মহত্ত্ব এবং সতর্কতার (تثبت) অধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছি।"(3).

অতঃপর তিনি বলেন: "তার থেকে যারা এটি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন: কুররাহ বিন আব্দুর রহমান, সম্ভবত তার বয়স তার বয়সের সমান… এবং তার থেকে যারা এটি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ।"

--------------------------------------------

(1) "সুনান তিরমিজি" মিশর সংস্করণ ১২৯২ (খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৪৬)। [লেখক]। এবং দেখুন (৩/ ১৩২ - ১৩৩) মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির সম্পাদিত সংস্করণ।

(2) "মুসনাদ আহমাদ" (খণ্ড ৫ পৃষ্ঠা ৪১৯)। [লেখক]। নম্বর (২৩৫৫৬) আর-রিসালা সংস্করণ। এবং এই সূত্রেই এটি নাসায়ি "আল-কুবরা" (২৮৭৭), তহাবি "মুশকিলুল আসার" (২৩৪০) এবং তাবারানি "আল-কাবির" (৩৯০৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(3) "মুশকিলুল আসার" (খণ্ড ৩ পৃষ্ঠা ১১৭)। [লেখক]। এবং দেখুন (৬/ ১২১) আর-রিসালা সংস্করণ।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩২)
ثم ذكر رواية حفص بن غياث، ثم ذكر المتابعات والشواهد، وستأتي.

وقال السبكي: "وقد اعتنى شيخنا أبو محمد الدمياطي بجمع طرقه، فأسنده عن بضعة وعشرين رجلًا رووه عن سعد بن سعيد، وأكثرهم حفَّاظ ثقات، منهم السفيانان"(1).

أقول: وموضع التأييد في رواية الحفّاظ الأثبات أنهم من أئمة النقد والمعرفة بالرجال والحديث وعلله، وقد كان من عادة كثير منهم الامتناع عن أن يحدِّث بالحديث إذا خاف أن يكون خطأً، يَعرف ذلك مَن مارسَ كتب الرجال. فاتفاقُهم على رواية هذا الحديث عن هذا الرجل وسكوتُهم عن بيان الطعن فيه أو الشك ــ بل مع تصريح بعضهم بالاحتجاج به ــ يدلُّ دلالةً واضحةً أنهم لم يشكُّوا في الحديث ولم يستنكروه، فاتفاقُهم على ذلك فيه تأييد واضح.

--------------------------------------------

(1) "سبل السلام" (ج 1 ص 236). [المؤلف]. وطبعة دار الفكر (2/ 167).
এরপর তিনি হাফস বিন গিয়াস-এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, তারপর মুতাবাহ (متابعات) ও শাহিদ (شواهد) সমূহ উল্লেখ করেছেন, যা সামনে আসবে।

আস-সুবকি বলেন: "আমাদের শায়খ আবু মুহাম্মদ আদ-দিময়াতি এর বর্ণনাপথসমূহ (طرق) সংগ্রহের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি এটিকে বিশ জনেরও অধিক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন যারা সা’দ বিন সা’ঈদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তাদের অধিকাংশ ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقات) হাফেজ (حفاظ), যাদের মধ্যে দুই সুফিয়ানও রয়েছেন।"(1).

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: সুদৃঢ় (أثبات) হাফেজদের বর্ণনার দ্বারা সমর্থিত হওয়ার বিষয়টি হলো যে, তারা সমালোচনাবিদ্যা (نقد), বর্ণনাকারী (رجال), হাদিস এবং এর সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) বিষয়ক জ্ঞানের ইমাম ছিলেন। তাদের অনেকেরই রীতি ছিল কোনো হাদিসে ভুলের আশঙ্কা থাকলে তা বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকা; যারা রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ (كتب الرجال) চর্চা করেছেন তারা এটি জানেন। সুতরাং এই ব্যক্তির নিকট থেকে এই হাদিসটি বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের ঐকমত্য এবং এর ত্রুটিারোপ (طعن) বা সন্দেহ প্রকাশ থেকে নীরব থাকা—বরং তাদের কারো কারো একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার (احتجاج) সুস্পষ্ট ঘোষণা—একথা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তারা হাদিসটি নিয়ে সন্দেহ করেননি এবং এটিকে মুনকার (منكر) গণ্য করেননি। সুতরাং এ বিষয়ে তাদের ঐকমত্য একটি স্পষ্ট সমর্থন।

--------------------------------------------

(1) "সুবুলুস সালাম" (১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩৬)। [লেখক]। এবং দারুল ফিকর সংস্করণ (২/ ১৬৭)।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩৩)
‌‌الفصل الثالث

في المتابعات

قد ذكر الترمذي كما تقدم عنه متابعة صفوان بن سليم، وأخرجه أبو داود في "سننه": "حدثنا النُّفيلي نا عبد العزيز بن محمد عن صفوان بن سليم وسعد بن سعيد عن عمر بن ثابت … "(1).

وقال السبكي: "وتابعَ سعدًا على روايته أخواه يحيى وعبد ربه وصفوان بن سليم وغيرهم"(2).

وذكر الطحاوي هؤلاء وزاد: زيد بن أسلم ومحمد بن عمرو بن علقمة. قال: "ووجدنا هذا الحديث أيضًا قد حدَّث به عن عمرو بن ثابت صفوانُ بن سليم وزيد بن أسلم، كما حدثنا يوسف بن يزيد قال: ثنا سعيد بن منصور قال: ثنا عبد العزيز بن محمد قال: أخبرني صفوان بن سليم وزيد بن أسلم عن عمرو بن ثابت … "(3).

كذا يقع في كتابه "عمرو"(4)، وإنما هو "عمر". وفي "التهذيب" أنه وقع كذلك في بعض الطرق عند النسائي، قال: "ونبَّه على أنه خطأ، قال:

--------------------------------------------

(1) "سنن أبي داود" طبعة المطبع الفاروقي بدهلي الهند سنة 1272. [المؤلف]. رقم (2433).

(2) "سبل السلام" (ج 1 ص 236). [المؤلف]. وطبعة دار الفكر (2/ 167).

(3) "مشكل الآثار" (ج 3 ص 118). [المؤلف]. وطبعة الرسالة (6/ 122).

(4) في طبعة الرسالة "عمر" على الصواب هنا وفي جميع المواضع الآتية.
‌‌তৃতীয় অধ্যায়

সমর্থনমূলক বর্ণনা (المتابعات) প্রসঙ্গে

ইমাম তিরমিজি ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তিনি সাফওয়ান বিন সুলাইমানের সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعة) উল্লেখ করেছেন; আর আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন: "আমাদের নিকট নুফাইলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান বিন সুলাইমান ও সাদ বিন সাঈদ থেকে, তাঁরা উমর বিন সাবিত থেকে … "(১)।

আর সুবকি বলেছেন: "সাদকে তাঁর বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে তাঁর দুই ভাই ইয়াহইয়া ও আবদ রাব্বিহি, এবং সাফওয়ান বিন সুলাইমানসহ আরও অনেকে সমর্থন করেছেন (تابع)"(২)।

ইমাম তাহাভি এদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং জায়েদ বিন আসলাম ও মুহাম্মদ বিন আমর বিন আলকামা-কে বর্ধিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "আমরা এই হাদিসটি আমর বিন সাবিত থেকে সাফওয়ান বিন সুলাইমান ও জায়েদ বিন আসলামকেও বর্ণনা করতে দেখেছি, যেমনটি ইউসুফ বিন ইয়াজিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সাঈদ বিন মানসুর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে সাফওয়ান বিন সুলাইমান ও জায়েদ বিন আসলাম আমর বিন সাবিত থেকে সংবাদ দিয়েছেন … "(৩)।

তাঁর কিতাবে এভাবেই 'আমর'(৪) শব্দটি এসেছে, অথচ এটি আসলে 'উমর' হবে। আর আত-তাহজিব গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, নাসাঈর নিকট কিছু সূত্রে (الطرق) একইভাবে (ভুলটি) ঘটেছে। তিনি বলেন: "তিনি এটি যে ভুল সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) "সুনান আবু দাউদ", ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে (১২৭২ হিজরি) ভারতের দিল্লির মাতবা আল-ফারুকি থেকে প্রকাশিত সংস্করণ। [লেখক]। নম্বর (২৪৩৩)।

(২) "সুবুলুস সালাম" (১ম খণ্ড, ২৩৬ পৃষ্ঠা)। [লেখক]। এবং দারুল ফিকর সংস্করণ (২/১৬৭)।

(৩) "মুশকিলুল আসার" (৩য় খণ্ড, ১১৮ পৃষ্ঠা)। [লেখক]। এবং আর-রিসালাহ সংস্করণ (৬/১২২)।

(৪) আর-রিসালাহ সংস্করণে এখানে এবং পরবর্তী সকল স্থানে সঠিকভাবে 'উমর' ছাপা হয়েছে।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩৪)
والصواب عمر بن ثابت"(1).

قال(2): "وكما حدثنا أحمد بن عبد الله البرقي ثنا الحميدي قال ثنا عبد العزيز بن محمد الدراوردي عن صفوان بن سليم وسعد بن سعيد عن عمرو بن ثابت … ".

وقال الدارمي: "حدثنا نعيم بن حماد ثنا عبد العزيز بن محمد ثنا صفوان وسعد بن سعيد عن عمرو بن ثابت … " فذكره(3).

قال الطحاوي(4): "ووجدنا ممن رواه عن عمرو بن ثابت: يحيى بن سعيد الأنصاري، كما حدثنا أحمد بن شعيب ــ هو الإمام النسائي ــ قال: ثنا هشام بن عمار عن صدقة ثنا عُتبة(5) حدثني عبد الملك بن أبي بكر حدثني يحيى بن سعيد عن عمرو بن ثابت قال: غزونا يعني مع أبي أيوب الأنصاري، فصام رمضان وصمنا، فلما أفطرنا قام في الناس فقال: إني

--------------------------------------------

(1) "تهذيب التهذيب" (ج 8 ص 10). [المؤلف]. وانظر "السنن الكبرى" رقم (2875) حيث نبَّه على ذلك النسائي. ونبَّه عليه أيضًا الدارقطني في "العلل" (6/ 109).

(2) أي الطحاوي في "مشكل الآثار" رقم (2344). وهو في "مسند الحميدي" برقم (381).

(3) "مسند الدارمي" طبع دمشق (ج 2 ص 21). [المؤلف]. رقم (1761) طبعة عبد الله هاشم اليماني، وفيها "عمر" على الصواب.

(4) "مشكل الآثار" (6/ 123، 124) والحديث في "السنن الكبرى" للنسائي (2879) بهذا الإسناد.

(5) في الأصل "عبيد" تحريف. والتصويب من "مشكل الآثار" طبعة الرسالة. وهو عتبة بن أبي حكيم. قال النسائي في "الكبرى" (2879): عتبة بن أبي حكيم هذا ليس بالقوي.
"আর সঠিক হলো উমর ইবনে সাবিত"(১).

তিনি(২) বলেন: "এবং যেমনটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-বারকি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুমাইদি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আদ-দারাওয়ার্দি, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম ও সাদ ইবনে সাঈদ থেকে, তারা আমর ইবনে সাবিত থেকে … "।

এবং আদ-দারিমি বলেন: "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নুআইম ইবনে হাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাফওয়ান ও সাদ ইবনে সাঈদ, তারা আমর ইবনে সাবিত থেকে … " অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন(৩)।

আত-তহাবি(৪) বলেন: "এবং আমর ইবনে সাবিত থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে আমরা ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারিকে পেয়েছি, যেমনটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে শুআইব — তিনি হলেন ইমাম আন-নাসায়ি — তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে আম্মার, সাদাকাহ থেকে, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উতবাহ(৫), তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল মালিক ইবনে আবি বকর, তিনি বলেন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, তিনি আমর ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা আবু আইয়ুব আল-আনসারির সাথে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলাম, অতঃপর তিনি রমজানের রোজা রাখলেন এবং আমরাও রোজা রাখলাম, অতঃপর যখন আমরা রোজা শেষ করলাম, তিনি লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন: নিশ্চয়ই আমি...

--------------------------------------------

(১) "তাহজীবুত তাহজীব" (খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১০)। [লেখক]। এবং দেখুন "আস-সুনানুল কুবরা" নম্বর (২৮৭৫) যেখানে আন-নাসায়ি এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আর আদ-দারাকুতনিও "আল-ইলাল" (৬/১০৯) গ্রন্থে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

(২) অর্থাৎ আত-তহাবি "মুশকিলুল আসার" নম্বর (২৩৪৪) গ্রন্থে। আর এটি "মুসনাদু হুমাইদি" তে ৩৮১ নম্বরে রয়েছে।

(৩) "মুসনাদ আদ-দারিমি" দামেস্ক মুদ্রণ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২১)। [লেখক]। নম্বর (১৭৬১) আবদুল্লাহ হাশিম আল-ইয়ামানি সংস্করণ, আর তাতে সঠিক হিসেবে "উমর" রয়েছে।

(৪) "মুশকিলুল আসার" (৬/১২৩, ১২৪) এবং হাদিসটি আন-নাসায়ির "আস-সুনানুল কুবরা" (২৮৭৯) গ্রন্থে এই সনদ (إسناد)-সহ রয়েছে।

(৫) মূল পাঠে "উবাইদ" রয়েছে যা একটি বিকৃতি (تحريف)। সংশোধনটি "মুশকিলুল আসার" আর-রিসালাহ সংস্করণ থেকে নেওয়া। তিনি হলেন উতবাহ ইবনে আবি হাকিম। আন-নাসায়ি "আস-সুনানুল কুবরা" (২৮৭৯) গ্রন্থে বলেন: এই উতবাহ ইবনে আবি হাকিম শক্তিশালী (قوي) নন।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩৫)
سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: من صام رمضان … ".

قال(1): "ووجدنا ممن رواه أيضًا عن عمرو هذا عبد الله (كذا)(2) بن سعيد الأنصاري، كما حدثنا أحمد بن شعيب قال: ثنا محمد بن عبد الله بن عبد الحكم قال ثنا أبو عبد الرحمن المقرئ قال ثنا شعبة بن الحجاج عن عبد ربه بن سعيد عن عمرو بن ثابت عن أبي أيوب الأنصاري ــ ولم يرفعه ــ أنه قال: من صام … ".

وذكر الطحاوي(3) قبل ذلك متابعة محمد بن عمرو من طريقين: الأولى ابن خزيمة عن [ص 5] حجاج بن المنهال، والثانية إبراهيم بن مرزوق عن حبَّان بن هلال، كلاهما عن أبي سلمة حماد بن سلمة عن محمد بن عمرو عن عمرو بن ثابت قال: ولم يذكر سعدًا.

وذكر في موضع آخر(4) أن محمد بن عمرو رواه مرةً عن سعد بن سعيد عن عمر بن ثابت.

فأما صفوان وزيد بن أسلم فتابعيان ثقتان مأمونان، والثناء عليهما كثير،

--------------------------------------------

(1) "مشكل الآثار" (6/ 124). والحديث في "السنن الكبرى" للنسائي (2878) بهذا الإسناد.

(2) من المؤلف، إشارة إلى أنه خطأ في طبعة دائرة المعارف من "مشكل الآثار"، والصواب "عبد ربه" كما سيأتي في الإسناد. وهو على الصواب في طبعة الرسالة.

(3) "مشكل الآثار" رقم (2338، 2339). اختصر المؤلف الطريقين، وسعد غير مذكور في الطريق الثاني فقط، أما الطريق الأول فحجاج بن المنهال ذكر سعدًا، وهو كذلك من طريقه عند الطبراني في "الكبير" (3904).

(4) "مشكل الآثار" (6/ 121) إشارةً إلى طريق الحجاج بن المنهال السابق.
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল … "।

তিনি(১) বলেছেন: "আমরা আমরের থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে আবদুল্লাহ (অনুরূপ)(২) বিন সাঈদ আল-আনসারিকেও পেয়েছি। যেমন আমাদের কাছে আহমদ বিন শুআইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদিল হাকাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু আবদুর রহমান আল-মুকরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে শুবা বিন আল-হাজ্জাজ আবদ রাব্বিহি বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর বিন সাবিত থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারি থেকে —এবং তিনি এটিকে মারফু (مرفوع) করেননি— যে তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি রোজা রাখল … "।

তহাবি(৩) এর পূর্বে মুহাম্মদ বিন আমরের মুতাবাআত (متابعة) দুটি সূত্রের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: প্রথমটি ইবনে খুজাইমা থেকে [পৃষ্ঠা ৫] হাজ্জাজ বিন আল-মিনহালের সূত্রে, এবং দ্বিতীয়টি ইব্রাহিম বিন মারজুক থেকে হাব্বান বিন হিলালের সূত্রে। তাঁরা উভয়ই আবু সালামাহ হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আমর থেকে, তিনি আমর বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: তিনি সা'দের কথা উল্লেখ করেননি।

তিনি অন্য স্থানে(৪) উল্লেখ করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন আমর এটি একবার সা'দ বিন সাঈদ থেকে, তিনি উমর বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন।

পক্ষান্তরে সাফওয়ান এবং জায়েদ বিন আসলাম—তাঁরা দুজনেই তাবেয়ী (تابعي), নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون); এবং তাঁদের অনেক প্রশংসা করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) "মুশকিলুল আসার" (৬/ ১২৪)। আর হাদিসটি এই সনদ (إسناد) সহ নাসাঈর "আস-সুনানুল কুবরা" (২৮৭৮)-তে বর্ণিত হয়েছে।

(২) লেখকের পক্ষ থেকে, যা ইঙ্গিত করে যে "মুশকিলুল আসার"-এর দায়িরাতুল মাআরিফ সংস্করণে এটি একটি ভুল; সঠিক হবে "আবদ রাব্বিহি", যেমনটি পরবর্তী সনদে (إسناد) আসবে। আর রিসালাহ সংস্করণে এটি সঠিকভাবে রয়েছে।

(৩) "মুশকিলুল আসার" নং (২৩৩৮, ২৩৩৯)। লেখক সূত্র দুটি সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন; সা'দ শুধুমাত্র দ্বিতীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়নি। প্রথম সূত্রে হাজ্জাজ বিন আল-মিনহাল সা'দের নাম উল্লেখ করেছেন এবং তাবারানির "আল-মু'জামুল কাবির" (৩৯০৪)-এ তাঁর সূত্র থেকেও এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

(৪) "মুশকিলুল আসার" (৬/ ১২১), যা হাজ্জাজ বিন আল-মিনহালের পূর্বোক্ত সূত্রের প্রতি ইঙ্গিত।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩৬)
وهما أكبر سنًّا وأقدم وفاةً من سعد، ولم يذكروا لهما سماعًا، فلا يقال: لعلهما إنما سمعا هذا الحديث منه.

هذا، مع أن صفوان لم يوصف بتدليس البتَّةَ، وزيد كذلك، إلّا أن ابن حجر ذكر قصة قال: إنها تُشعر بأنه دلَّس حديثًا(1). وليس ذلك بالبيِّن. والرواية إلى الراوي عنهما ــ وهو عبد العزيز بن محمد الدراوردي ــ بغاية الصحة.

وأما عبد العزيز فقد روى عنه شعبة والثوري وابن مهدي والشافعي. وروى ابن أبي حاتم(2) بأسانيده الصحيحة عن مصعب الزبيري قال: مالك بن أنس يوثِّق الدراوردي. وعن يحيى بن معين أنه قال: الدراوردي أثبت من فليح وابن أبي الزناد وأبي أويس. وعنه أيضًا: عبد العزيز الدراوردي صالح ليس به بأس. وعن أحمد بن حنبل أنه سئل عن عبد العزيز الدراوردي فقال: معروف بالطلب، وإذا حدَّث من كتابه فهو صحيح، وإذا حدَّث من كتب الناس وَهِم، كان يقرأ من كتب الناس فيخطئ، وربما قلب [حديث] عبد الله بن عمر العمري يرويه عن عبيد الله بن عمر. قال ابن أبي حاتم: سئل أبي عن عبد العزيز بن محمد ويوسف بن الماجشون فقال: عبد العزيز محدث، ويوسف شيخ. سمعتُ أبا زرعة يقول: عبد العزيز الدراوردي سيئ الحفظ، فربما حدَّث من حفظه الشيء فيخطئ.

--------------------------------------------

(1) "تعريف أهل التقديس" (ص 81) تحقيق المباركي.

(2) في "الجرح والتعديل" (5/ 395، 396).
তাঁরা উভয়েই সায়াদ অপেক্ষা বয়সে বড় এবং মৃত্যুতেও অগ্রগামী ছিলেন, আর জীবনীকারগণ তাঁদের উভয়ের ব্যাপারে তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ (سماع) করার কথা উল্লেখ করেননি। সুতরাং এ কথা বলা যাবে না যে: সম্ভবত তাঁরা উভয়েই তাঁর থেকে এই হাদিসটি শ্রবণ করেছিলেন।

তা সত্ত্বেও, সাফওয়ানকে কখনোই তাদলিস (تدليس) করার গুণে অভিহিত করা হয়নি এবং যায়িদও তদ্রূপ; তবে ইবনে হাজার একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি ইঙ্গিত দেয় যে তিনি একটি হাদিসে তাদলিস (دلس) করেছেন। কিন্তু বিষয়টি স্পষ্ট নয়। আর তাঁদের উভয়ের নিকট থেকে বর্ণনাকারী—যিনি হলেন আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আদ-দারাওয়ার্দি—পর্যন্ত বর্ণনাটি অত্যন্ত বিশুদ্ধ (الصحة) পর্যায়ের।

আর আবদুল আজিজের ব্যাপারে কথা হলো, তাঁর থেকে শু'বাহ, সাওরি, ইবনুল মাহদি এবং শাফিয়ি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি হাতিম তাঁর সহিহ (الصحيحة) সনদসমূহের মাধ্যমে মুসআব আজ-জুবাইরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক বিন আনাস আদ-দারাওয়ার্দিকে নির্ভরযোগ্য (يوثق) মনে করতেন। আর ইয়াহইয়া বিন মাইন থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আদ-দারাওয়ার্দি ফুনাইহ, ইবনে আবুয যিনাদ এবং আবু উয়াইস অপেক্ষা অধিক নির্ভরযোগ্য (أثبت)। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে: আবদুল আজিজ আদ-দারাওয়ার্দি সৎ ও যোগ্য (صالح), তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)। ইমাম আহমদ বিন হাম্বলকে আবদুল আজিজ আদ-দারাওয়ার্দি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তিনি ইলম অন্বেষণে সুপরিচিত; যখন তিনি নিজের কিতাব থেকে বর্ণনা করেন তখন তা সহিহ (صحيح), কিন্তু যখন অন্যদের কিতাব থেকে বর্ণনা করেন তখন তিনি বিভ্রান্ত (وهم) হন। তিনি অন্যদের কিতাব থেকে পড়তেন এবং ভুল করতেন; মাঝেমধ্যে তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর আল-উমারির হাদিসকে ওবায়দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণিত বলে উলটপালট (قلب) করে ফেলতেন। ইবনে আবি হাতিম বলেন: আমার পিতাকে আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ এবং ইউসুফ বিন আল-মাজিশুন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আবদুল আজিজ হলেন একজন হাদিস বিশারদ (محدث), আর ইউসুফ হলেন একজন শায়খ (شيخ)। আমি আবু জুরআকে বলতে শুনেছি: আবদুল আজিজ আদ-দারাওয়ার্দি দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيئ الحفظ); তিনি যখন নিজের স্মৃতি থেকে কিছু বর্ণনা করতেন তখন প্রায়ই ভুল করতেন।

--------------------------------------------

(১) "তারিফ আহলুত তাকদিস" (পৃষ্ঠা ৮১) আল-মুবারকি কর্তৃক সম্পাদিত।

(২) "আল-জারহ ওয়াত তাদিল" গ্রন্থে (৫/ ৩৯৫, ৩৯৬)।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩৭)
ونحو هذا في "التهذيب"(1)، وزاد عن ابن معين: ثقة حجة. وعن النسائي ليس بالقوي، وفي موضع آخر: ليس به بأس، وحديثه عن عبيد الله بن عمر منكر. وعن ابن سعد: كان ثقة كثير الحديث يغلط. وذكر أن ابن حبان ذكره في "الثقات"(2) وقال: كان يخطئ. وقال العجلي: هذا ثقة. وقال الساجي: كان من أهل الصدق والأمانة، إلَّا أنه كثير الوهم. انتهى. وذكروا أنه كان يلحن.

وذكره الحافظ في "مقدمة الفتح"(3)، وذكر أن ابن المديني وثقه، وأن أبا حاتم قال: لا يُحتج به.

وقال الذهبي في "الميزان"(4): قال أحمد بن حنبل: "إذا حدَّث من حفظه يهم ليس بشيء، وإذا حدَّث من كتابه فنعم، وإذا حدَّث جاء ببواطيل". وقال: وأما ابن المديني فقال: ثقة ثبت.

هذا، واحتجَّ به مسلم في "صحيحه"، وأخرج له البخاري في "صحيحه" مقرونًا بغيره ومفردًا بصيغة التعليق في المتابعات، واحتج به الباقون. كذا في "مقدمة الفتح".

أقول: أما العدالة والصدق والأمانة فثابتة لهذا الرجل اتفاقًا. وأما الحفظ والضبط فما رواه من كتابه فلا شكَّ فيه، وما قرأه من كتاب غيره يُخشَى فيه التصحيف والتحريف، كان يقرأ "عبد الله" "عبيد الله" وشِبْه ذلك.

--------------------------------------------

(1) "تهذيب التهذيب" (6/ 354، 355).

(2) (7/ 116).

(3) "هدى الساري" (ص 420).

(4) (2/ 633، 634).
"তাহজীব"-এ(১) অনুরূপ আলোচনা রয়েছে এবং সেখানে ইবনে মাঈন থেকে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও প্রামাণ্য (حجة)। নাসায়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)। অন্য স্থানে বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس); তবে উবায়দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে তার বর্ণিত হাদিস মুনকার (منكر)। ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও অধিক হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন, তবে ভুল করতেন। উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইবনে হিব্বান তাকে "আস-সিকাত"(২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি ভুল করতেন। আল-ইজলী বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)। সাজী বলেছেন, তিনি সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার অধিকারী ছিলেন, তবে তিনি অধিক মতিভ্রমকারী (كثير الوهم) ছিলেন। (এখানে উদ্ধৃতি শেষ)। আর তারা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ব্যাকরণগত ভুল (লাহন) করতেন।

হাফেজ (ইবনে হাজার) তাকে "মুকাদ্দিমাতুল ফাতহ"(৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আল-মাদিনী তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, আর আবু হাতিম বলেছেন যে, তার দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না (لا يُحتج به)।

যাহাবী "আল-মিজান"(৪) গ্রন্থে বলেছেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন, "যখন তিনি নিজের মুখস্থ থেকে বর্ণনা করেন, তখন বিভ্রমে পতিত হন (يهم) এবং সেটি উল্লেখযোগ্য কিছু নয় (ليس بشيء); আর যখন তিনি নিজের কিতাব থেকে বর্ণনা করেন, তখন তা গ্রহণযোগ্য। আর যখনই তিনি (অন্যের থেকে) বর্ণনা করতেন, ভিত্তিহীন বর্ণনা (بواطيل) নিয়ে আসতেন।" তিনি আরও বলেন: আর ইবনে আল-মাদিনী বলেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت)।

যাই হোক, ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে তার দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে অন্যদের সাথে মিলিতভাবে (مقرونا) তার হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং মুতাবাআত (متابعات) এর ক্ষেত্রে এককভাবে মুআল্লাক (تعليق) হিসেবে তার বর্ণনা এনেছেন। বাকি ইমামগণও তার দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। "মুকাদ্দিমাতুল ফাতহ"-এ এমনই রয়েছে।

আমি (লেখক) বলছি: এই ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা (عدالة), সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা সর্বসম্মতিক্রমে প্রমাণিত। আর তার মুখস্থশক্তি (حفظ) ও সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) প্রসঙ্গে বলা যায়, তিনি নিজের কিতাব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি যখন অন্যের কিতাব থেকে পাঠ করতেন, তখন সেখানে শব্দের বিকৃতি (تصحيف) এবং শব্দ বা অর্থের বিকৃতির (تحريف) আশঙ্কা থাকত। তিনি "আবদুল্লাহ" কে "উবায়দুল্লাহ" বা এই জাতীয় ভুল পাঠ করতেন।

--------------------------------------------

(১) "তাহজীবুত তাহজীব" (৬/ ৩৫৪, ৩৫৫)।

(২) (৭/ ১১৬)।

(৩) "হুদাস সারি" (পৃষ্ঠা ৪২০)।

(৪) (২/ ৬৩৩, ৬৩৪)।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩৮)
وربما حدَّث من حفظه الشيء فيُخطئ، كما قال أبو زرعة. وعلى هذا يُحمل كلام من أطلق، كابن سعد والنسائي وغيرهما.

وأما ما في "الميزان" عن أحمد فلا أدري أيصحُّ أم لا، لأن صاحب "التهذيب" لم يذكرها، إنما ذكر ما أسنده ابن أبي حاتم، فالله أعلم.

وبالجملة فإطلاق إمام الجرح والتعديل يحيى بن معين أنه ثقة حجة، وإطلاق ابن المديني حافظ عصره أنه ثقة ثبت= يدلُّ على أحد أمرين: إما أن عبد العزيز كان لا يكاد يُحدِّث من حفظه، وإما أنه كان إذا حدَّث من حفظه لا يكثر وهمه، وإنما كان ربما وهم. وعبارة أبي زرعة صريحة في الأول، فإنه قال: "فربما حدَّث من حفظه"، فدلَّ أن ذلك قليل، والغالب أنه لا يحدِّث إلَّا من كتاب.

[ص 6] وإذا ثبت أنه كان لا يحدِّث من حفظه إلا قليلًا فالغالب أنه حدَّث بهذا الحديث من كتاب، فإن كان من كتابه فلا كلام، وإن كان من كتاب غيره فكذلك، لأنه ليس مظنَّة التصحيف والتحريف. ويؤكِّد هذا أن الذين رووه عنه أئمة حفَّاظ متثبتون(1):

منهم: ابن المبارك(2)، على ما يظهر من عبارة الترمذي وقد مرَّت. وابن

--------------------------------------------

(1) ممن رواه عنه ولم يذكره المؤلف: أحمد بن عبدة عند ابن خزيمة (2114)، وإسحاق بن إبراهيم (ابن راهويه) عند ابن حبان (3634)، وخلاد بن أسلم عند النسائي في "الكبرى" (2876)، ومحمد بن عباد عند الهيثم بن كليب الشاشي في "مسنده" (1143)، ويحيى الحماني وضرار بن صُرَد عند الطبراني في "الكبير" (3911).

(2) أخرجه ابن أبي شيبة في "المصنف" (3/ 97) ومسلم (2/ 822) رقم (1164) من طريق ابن المبارك عن سعد بن سعيد به. وليس عن عبد العزيز.
মাঝে মাঝে তিনি তার স্মৃতি (حفظ) থেকে কিছু বর্ণনা করতেন এবং ভুল করতেন, যেমনটি আবু যুরআহ বলেছেন। আর যারা নিঃশর্তভাবে মন্তব্য (أطلق) করেছেন, যেমন ইবনে সাদ, নাসায়ী এবং অন্যান্যরা, তাদের বক্তব্য এই প্রসঙ্গের ওপরই প্রয়োগ করা হবে।

আর 'মিযান' গ্রন্থে ইমাম আহমাদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা সঠিক (يصح) কি না আমি জানি না; কারণ 'তাহযিব' গ্রন্থের লেখক তা উল্লেখ করেননি। তিনি কেবল ইবনে আবি হাতিম যা সনদসহ বর্ণনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

সারকথা হলো, জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের তাকে নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য দলিল (ثقة حجة) বলা এবং নিজ যুগের হাফেজ ইবনুল মাদিনির তাকে নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (ثقة ثبت) বলা দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির প্রতি ইঙ্গিত করে: হয় আবদুল আজিজ তার স্মৃতি (حفظ) থেকে প্রায় বর্ণনা করতেনই না, অথবা তিনি যখন তার স্মৃতি (حفظ) থেকে বর্ণনা করতেন তখন তার বিভ্রম (وهم) খুব বেশি হতো না, বরং মাঝেমধ্যে বিভ্রম (وهم) হতো। আবু যুরআহ-এর উক্তিটি প্রথম বিষয়ের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট, কেননা তিনি বলেছেন: "মাঝেমধ্যে তিনি তার স্মৃতি (حفظ) থেকে বর্ণনা করতেন", যা প্রমাণ করে যে সেটি ছিল খুব সামান্য, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি কিতাব ছাড়া অন্য কিছু থেকে বর্ণনা করতেন না।

[পৃষ্ঠা ৬] যখন এটি প্রমাণিত হলো যে তিনি তার স্মৃতি (حفظ) থেকে খুব কমই বর্ণনা করতেন, তখন প্রবল ধারণা এই যে তিনি এই হাদিসটি কিতাব থেকেই বর্ণনা করেছেন। যদি এটি তার নিজস্ব কিতাব থেকে হয়ে থাকে তবে তো কোনো কথাই নেই, আর যদি অন্যের কিতাব থেকেও হয় তবুও একই কথা, কারণ এখানে শব্দগত বিকৃতি (تصحيف) বা অর্থগত বিকৃতির (تحريف) কোনো সম্ভাবনা নেই। এর সত্যতা নিশ্চিত করে এটি যে, যারা তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন তারা সবাই ইমাম, হাফেজ (حفاظ) ও সুক্ষ্মদর্শী (متثبتون)(১):

তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনুল মুবারক(২), যেমনটি তিরমিযীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে এবং তা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এবং ইবনে

--------------------------------------------

(১) যারা তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন কিন্তু লেখক তাদের উল্লেখ করেননি: ইবনে খুজাইমা (২১১৪)-এর নিকট আহমদ বিন আবদাহ, ইবনে হিব্বান (৩৬৩৪)-এর নিকট ইসহাক বিন ইব্রাহিম (ইবনে রাহওয়াইহি), নাসায়ীর 'আল-কুবরা' (২৮৭৬)-তে খাল্লাদ বিন আসলাম, হাইসাম বিন কুলাইব আশ-শাশীর 'মুসনাদ' (১১৪৩)-এ মুহাম্মদ বিন আব্বাদ, এবং তাবারানির 'আল-কাবীর' (৩৯১১)-এ ইয়াহইয়া আল-হিমানি ও দিরার বিন সুরাদ।

(২) এটি ইবনে আবি শায়বা তার 'আল-মুসান্নাফ' (৩/৯৭) গ্রন্থে এবং মুসলিম (২/৮২২) নম্বর (১১৬৪)-এ ইবনুল মুবারকের সূত্রে সাদ বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি আবদুল আজিজের সূত্রে নয়।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩৯)
المبارك ابن المبارك.

ومنهم: النفيلي عند أبي داود(1) كما مرَّ، واسمه عبد الله بن محمد بن علي بن نفيل، كان يُقرَن بأحمد، وكان أحمد يعظِّمه. وقال أبو داود: ما رأيت أحفظ منه(2).

ومنهم: الحميدي عند الطحاوي(3) كما مرَّ، واسمه عبد الله بن الزبير بن عيسى. قال أحمد: الحميدي عندنا إمام. وقال يعقوب بن سفيان: ما لقيتُ أنصحَ للإسلام وأهله منه(4).

ومنهم: نعيم بن حماد عند الدارمي(5) كما مرَّ. ونعيم إمام في السنة، ثقة له أوهام(6). وهذا من صحيح حديثه.

هؤلاء كلهم رووه عن عبد العزيز عن صفوان وسعد.

ورواه سعيد بن منصور(7) عن عبد العزيز عن صفوان وزيد بن أسلم. وسعيد إمام، كان أحمد يُحسِن الثناء عليه ويُفخّم أمره. وقال أبو حاتم: ثقة، من المتقنين الأثبات(8).

--------------------------------------------

(1) رقم (2433).

(2) انظر "تهذيب التهذيب" (6/ 17).

(3) في "مشكل الآثار" (2344). وهو في "مسند الحميدي" (381).

(4) انظر "تهذيب التهذيب" (5/ 215).

(5) في "سننه" (1761).

(6) انظر "تهذيب التهذيب" (10/ 458 وما بعدها).

(7) كما في "مشكل الآثار" (2343).

(8) انظر "تهذيب التهذيب" (4/ 89).
আল-মুবারক ইবনুল মুবারক।

তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: আবু দাউদে বর্ণিত আন-নুফাইলি(১) যেমনটি অতিবাহিত হয়েছে; তাঁর নাম আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন নুফাইল। তাঁকে আহমাদ (ইবনে হাম্বল)-এর সমকক্ষ গণ্য করা হতো এবং আহমাদ তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করতেন। আবু দাউদ বলেন: আমি তাঁর চেয়ে অধিক স্মৃতিশক্তিধর (أحفظ) আর কাউকে দেখিনি(২)।

তাঁদের মাঝে আরও রয়েছেন: তহাবিতে বর্ণিত আল-হুমাইদি(৩) যেমনটি অতিবাহিত হয়েছে; তাঁর নাম আবদুল্লাহ বিন আয-যুবাইর বিন ঈসা। আহমাদ বলেন: আল-হুমাইদি আমাদের নিকট একজন ইমাম (إمام)। ইয়াকুব বিন সুফিয়ান বলেন: আমি তাঁর চেয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি অধিক হিতাকাঙ্ক্ষী (أنصح) আর কাউকে দেখিনি(৪)।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: দারিমিতে বর্ণিত নুআইম বিন হাম্মাদ(৫) যেমনটি অতিবাহিত হয়েছে। নুআইম সুন্নাহর ক্ষেত্রে একজন ইমাম (إمام), তিনি নির্ভরযোগ্য তবে তাঁর কিছু বিভ্রম ঘটে (ثقة له أوهام)(৬)। আর এটি তাঁর সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

তাঁরা সকলেই এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল আজিজ থেকে, তিনি সাফওয়ান ও সাদ থেকে।

আর এটি বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন মানসুর(৭) আবদুল আজিজ থেকে, তিনি সাফওয়ান ও যাইদ বিন আসলাম থেকে। সাঈদ একজন ইমাম (إمام); আহমাদ তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর মর্যাদাকে উচ্চকিত করতেন। আবু হাতিম বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), অত্যন্ত নিপুণ ও সুদৃঢ় (المتقنين الأثبات) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত(৮)।

--------------------------------------------

(১) নং (২৪৩৩)।

(২) দেখুন "তাহযীবুত তাহযীব" (৬/ ১৭)।

(৩) "মুশকিলুল আসার"-এ (২৩৪৪)। এবং এটি "মুসনাদে হুমাইদি"-তে (৩৮১) রয়েছে।

(৪) দেখুন "তাহযীবুত তাহযীব" (৫/ ২১৫)।

(৫) তাঁর "সুনান"-এ (১৭৬১)।

(৬) দেখুন "তাহযীবুত তাহযীব" (১০/ ৪৫৮ এবং পরবর্তী অংশ)।

(৭) যেমনটি "মুশকিলুল আসার"-এ (২৩৪৩) রয়েছে।

(৮) দেখুন "তাহযীবুত তাহযীব" (৪/ ৮৯)।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪০)
وبالجملة فصاحبا الصحيح البخاري ومسلم قد عرفا حال عبد العزيز، وعرفا ما قيل فيه، فاتفقا على الإخراج له في الصحيح. أما مسلم فيحتج به مطلقًا، وأما البخاري فيقرِنه بغيره، ويُفرِده في المتابعات والشواهد، وحديثه هذا متابعة.

وأما متابعة يحيى بن سعيد الأنصاري(1) لأخيه سعد فقد يقال: لعله إنما سمعه من سعد فدلَّسَه(2)، وفيه نظر لوجهين:

الأول: أن يحيى لم يشتهر بالتدليس، وإن كان قد نُسِب إليه.

الثاني: أن في روايته زيادةً على الرواية المتواترة عن أخيه، كما يُعلم بمقابلتهما.

وأما متابعة عبد ربه بن سعيد(3) لأخيه فهي بغاية الصحة، لأنها من رواية شعبة عن عبد ربه، وعبد ربه مع ثقته لم يُنسَب إلى تدليس البتَّةَ، وليس فيها إلّا أنه لم يصرِّح بالرفع إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وهذا لا يضرُّ هنا، لأنّ مثل هذا لا يمكن أن يقوله أبو أيوب رضي الله عنه برأيه، فهو مرفوع حكمًا. نعم رواه الطحاوي(4) من طريق ابن لهيعة عن عبد ربه عن أخيه سعد بسنده، ورفعه.

--------------------------------------------

(1) أخرجها الحميدي في "مسنده" (382) والنسائي في "الكبرى" (2879) والطحاوي في "مشكل الآثار" (2346) والطبراني في "الكبير" (3914، 3915).

(2) مما يدلُّ على أن يحيى سمعه من أخيه سعد: أن الطبراني أخرجه في "الكبير" (3912) و"الأوسط" (4976) من طريق حفص بن غياث عن يحيى بن سعيد الأنصاري عن سعد بن سعيد به.

(3) أخرجها النسائي في "الكبرى" (2878) والطحاوي في "مشكل الآثار" (2347).

(4) في "مشكل الآثار" (2337).
সংক্ষেপে, সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের সংকলনদ্বয় আবদুল আজিজের অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তাও জানতেন। তা সত্ত্বেও তাঁরা সহিহ গ্রন্থে তাঁর হাদিস গ্রহণ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে ইমাম মুসলিম তাঁর বর্ণিত হাদিসকে নিঃশর্তভাবে দলিলযোগ্য (يحتج به) হিসেবে গ্রহণ করেন। আর ইমাম বুখারি তাঁকে অন্য বর্ণনাকারীর সাথে যুক্ত করে আনেন এবং সহায়ক বর্ণনা (متابعات) ও সাক্ষী বর্ণনা (شواهد) হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেন। তাঁর এই হাদিসটি একটি সহায়ক বর্ণনা (متابعة)।

আর ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী কর্তৃক তাঁর ভাই সা'দের বর্ণনার সহায়ক বর্ণনা (متابعة) প্রদানের ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, সম্ভবত তিনি এটি সা'দ থেকেই শুনেছেন কিন্তু তা তাদলীস বা গোপন (دلَّسَه) করেছেন। তবে এ বিষয়ে দুটি কারণে আপত্তির অবকাশ আছে:

প্রথমত: ইয়াহইয়া তাদলীস (تدليس) করার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন না, যদিও তাঁর প্রতি এ অভিযোগ আরোপ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: তাঁর বর্ণনায় (رواية) তাঁর ভাইয়ের নিকট থেকে বর্ণিত বহুসূত্রে বর্ণিত (متواترة) বর্ণনার ওপর অতিরিক্ত অংশ রয়েছে, যা উভয় বর্ণনার তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা যায়।

পক্ষান্তরে আপন ভাই সা'দের বর্ণনার বিপরীতে আবদে রাব্বিহি ইবনে সাঈদের সহায়ক বর্ণনাটি (متابعة) অত্যন্ত বিশুদ্ধ (صحيح); কারণ এটি শু'বা-এর সূত্রে আবদে রাব্বিহি থেকে বর্ণিত। আর আবদে রাব্বিহি নির্ভরযোগ্য (ثقة) হওয়া সত্ত্বেও তাঁর প্রতি কখনোই তাদলীস (تدليس) করার অপবাদ দেওয়া হয়নি। তাঁর এই বর্ণনায় কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের দিকে মারফু (رفع) করার বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ নেই। তবে এটি এখানে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না, কারণ আবু আইয়ুব রদিয়াল্লাহু আনহু-এর মতো ব্যক্তি এ ধরনের কথা নিজের রায় বা মত থেকে বলতে পারেন না; সুতরাং এটি হুকমান মারফু (مرفوع حكمًا)। হ্যাঁ, ইমাম তহাবি এটি ইবনে লাহিয়া-এর সূত্রে আবদে রাব্বিহি থেকে, তিনি তাঁর ভাই সা'দ থেকে স্বীয় সনদসহ বর্ণনা করেছেন এবং এটিকে মারফু (رفع) করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি হুমায়দি তাঁর মুসনাদ-এ (৩৮২), নাসায়ি আল-কুবরা-তে (২৮৭৯), তহাবি মুশকিলুল আসার-এ (২৩৪৬) এবং তাবারানি আল-কাবীর-এ (৩৯১৪, ৩৯১৫) বর্ণনা করেছেন।

(২) ইয়াহইয়া যে তাঁর ভাই সা'দ থেকে এটি শুনেছেন তার প্রমাণ হলো: তাবারানি এটি আল-কাবীর (৩৯১২) ও আল-আওসাত (৪৯৭৬) গ্রন্থে হাফস ইবনে গিয়াসের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী থেকে, তিনি সা'দ ইবনে সাঈদ থেকে এই সনদে বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি নাসায়ি আল-কুবরা-তে (২৮৭৮) এবং তহাবি মুশকিলুল আসার-এ (২৩৪৭) বর্ণনা করেছেন।

(৪) মুশকিলুল আসার গ্রন্থে (২৩৩৭)।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪১)
وابن لهيعة ضعيف لا يعتمد عليه.

وأما متابعة محمد بن عمرو(1) ففيها نظر، فإن محمدًا قد لُيِّن. والراوي عنه حماد بن سلمة، وقد قيل: إن حفظه ضعُفَ بأَخَرةٍ. ومع ذلك فقد روى محمد الحديث مرةً عن سعد(2). والله أعلم.

تتمة:

يتلخص مما تقدم ثبوت صحة الحديث كما حكم به الإمام مسلم بن الحجاج والترمذي وغيرهما.

--------------------------------------------

(1) أخرجها الطحاوي في "مشكل الآثار" (2339).

(2) كما في "المعجم الكبير" للطبراني (3904) و"مشكل الآثار" (2338) و"مسند الهيثم بن كليب الشاشي" (1142، 1145).
ইবনে লাহিয়াহ দুর্বল (ضعيف), তাঁর ওপর নির্ভর করা যায় না।

আর মুহাম্মদ বিন আমর-এর অনুসৃতি (متابعة)-এর বিষয়ে কিছুটা পর্যবেক্ষণ (نظر) রয়েছে, কেননা মুহাম্মদকে কিছুটা দুর্বল (لُيِّن) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তাঁর থেকে বর্ণনাকারী হলেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, এবং বলা হয়ে থাকে যে, শেষ বয়সে তাঁর মুখস্থশক্তি দুর্বল (ضعف) হয়ে পড়েছিল। তা সত্ত্বেও, মুহাম্মদ একবার সাদ থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।

পরিশিষ্ট:

পূর্বালোচনার সারসংক্ষেপ এই যে, হাদিসটির বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণিত, যেমনটি ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ, তিরমিজি এবং অন্যান্যরা সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) তহাবি এটি মুশকিলুল আসার (২৩৩৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(২) যেমনটি তাবারানির আল-মুজামুল কবির (৩৯০৪), মুশকিলুল আসার (২৩৩৮) এবং মুসনাদ আল-হাইসাম বিন কুলাইব আল-শাশি (১১৪২, ১১৪৫) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪২)
‌‌الفصل الرابع

حديث ثوبان

قال الدارمي: حدثنا يحيى بن حسّان ثنا يحيى بن حمزة ثنا يحيى بن الحارث الذِّماري عن أبي أسماء الرحبي عن ثوبان أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: "صيام شهرٍ بعشرة أشهرٍ، وستةُ أيام بعدهن بشهرين، فذلك تمام سنة" يعني شهر رمضان وستة أيام بعده(1).

ثوبان صحابي جليل.

وأبو أسماء الرحبي اسمه عمرو بن مرثد، قال العجلي: شامي تابعي ثقة. وذكره ابن حبان في "الثقات"(2). وأخرج له مسلم وابن خزيمة وابن حبان في صحاحهم، ولم يقدح فيه أحد(3).

ويحيى بن الحارث الذِّماري تابعي أيضًا، روى عن واثلة بن الأسقع رضي الله عنه، وقرأ عليه القرآن. ووثقه ابن معين ودُحيم. وقال أبو داود: كان ثقةً عالمًا بالقراءة. وأخرج له ابن خزيمة وابن حبان في صحيحهما، ولم يقدح فيه أحد(4).

--------------------------------------------

(1) "مسند الدارمي" (ج 2 ص 21). [المؤلف]. برقم (1762). وأخرجه أيضًا من طريق يحيى بن حمزة: البزار في "مسنده" (4178) والنسائي في "الكبرى" (2873) وابن خزيمة (2115) والطحاوي في "مشكل الآثار" (2348) والبيهقي في "السنن الكبرى" (4/ 293) والخطيب في "تاريخ بغداد" (2/ 362).

(2) (5/ 179).

(3) انظر "تهذيب التهذيب" (8/ 99).

(4) المصدر السابق (11/ 193، 194).
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ

সাওবান (রা.)-এর হাদিস

দারেমি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আল-হারিস আজ-জিমারি থেকে, তিনি আবু আসমা আর-রাহবি থেকে, তিনি সাওবান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এক মাসের রোজা দশ মাসের (রোজার) সমান, আর এরপর ছয় দিনের রোজা দুই মাসের সমান; আর এভাবেই পুরো বছর পূর্ণ হয়।" অর্থাৎ রমজান মাস এবং এর পরবর্তী ছয় দিন(১)।

সাওবান (রা.) একজন মহান সাহাবি (صحابي)।

আবু আসমা আর-রাহবির নাম আমর ইবনে মারসাদ। আজলি বলেছেন: তিনি একজন শামি তাবেয়ি (تابعي) এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة)। ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন(২)। মুসলিম, ইবনে খুজাইমাহ এবং ইবনে হিব্বান তাঁদের সহিহ গ্রন্থসমূহে তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং কেউ তাঁর সমালোচনা করেননি(৩)।

ইয়াহইয়া ইবনে আল-হারিস আজ-জিমারিও একজন তাবেয়ি (تابعي)। তিনি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর নিকট কুরআন পাঠ করেছেন। ইবনে মাঈন ও দুহাইম তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) হিসেবে অভিহিত করেছেন। আবু দাউদ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং কিরাতশাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন। ইবনে খুজাইমাহ এবং ইবনে হিব্বান তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং কেউ তাঁর সমালোচনা করেননি(৪)।

--------------------------------------------

(১) "মুসনাদ আদ-দারেমি" (২য় খণ্ড, ২১ পৃষ্ঠা)। [লেখক]। হাদিস নম্বর (১৭৬২)। ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ-এর সূত্রে এটি আরও বর্ণনা করেছেন: আল-বাজার তাঁর 'মুসনাদ'-এ (৪১৭৮), আন-নাসায়ি 'আল-কুবরা'-তে (২৮৭৩), ইবনে খুজাইমাহ (২১১৫), আত-তহাবি 'মুশকিলুল আসার'-এ (২৩৪৮), আল-বায়হাকি 'আস-সুনান আল-কুবরা'-তে (৪/ ২৯৩) এবং আল-খাতিব 'তারিখু বাগদাদ'-এ (২/ ৩৬২)।

(২) (৫/ ১৭৯)।

(৩) দেখুন "তাহজিবুত তাহজিব" (৮/ ৯৯)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (১১/ ১৯৩, ১৯৪)।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৩)
[ص 7] ويحيى بن حمزة وثقه ابن معين ودحيم والعجلي وأبو داود والنسائي ويعقوب بن شيبة، ولم يقدح في روايته أحدٌ، وإنما نُسِب إلى القدر(1)، ولا يقدح ذلك في روايته، فقد نُسِب إلى القدر جماعة من أئمة السلف وأركان السنة المجمع عليهم، كقتادة وحسان بن عطية وسعيد بن أبي عروبة وعبد الوارث وغيرهم. وقد تابعه جماعة كما يأتي.

ويحيى بن حسّان هو التنِّيسي، من رجال الصحيحين، وثَّقه أحمد والعجلي والنسائي ومطيَّن وابن يونس وغيرهم(2). ويروي الإمام الشافعي عن الثقة عن الليث بن سعد، فقال الربيع بن سليمان صاحب الشافعي: يعني الشافعي بالثقة يحيى بن حسَّان(3).

المتابعات:

تابع يحيى بن حمزة جماعةٌ رووه عن يحيى بن الحارث:

منهم: محمد بن شعيب بن شابور، قال الطحاوي: حدثنا أحمد بن شعيب قال: أخبرني محمود بن خالد قال: ثنا محمد بن شعيب بن شابور قال: أنا يحيى بن الحارث حدثنا أبو أسماء الرحبي عن ثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "جعل الله الحسنة بعشرٍ، فشهرٌ بعشرة أشهر، وستة أيام بعد الفطر تمام السنة"(4).

--------------------------------------------

(1) انظر "تهذيب التهذيب" (11/ 200، 201).

(2) المصدر السابق (11/ 197).

(3) انظر "فتح المغيث" (2/ 37) و"تدريب الراوي" (1/ 312).

(4) "مشكل الآثار" (ج 3 ص 119). [المؤلف]. انظر طبعة الرسالة برقم (2349). والحديث في "السنن الكبرى" للنسائي (2874).
[পৃ. ৭] ইয়াহইয়া ইবনে হামযাহ-কে ইবনে মাঈন, দুহাইম, ইজলি, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইয়াকুব ইবনে শাইবাহ নির্ভরযোগ্য (وثقه) হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তাঁর বর্ণনার (روايته) বিষয়ে কেউ সমালোচনা করেননি। কেবল তাঁর দিকে কাদর (القدر) মতবাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে(১); তবে তা তাঁর বর্ণনার (روايته) ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না। কেননা সালাফদের একদল ইমাম এবং সুন্নাহর সুপ্রতিষ্ঠিত স্তম্ভ হিসেবে সর্বসম্মত একদল ব্যক্তিকে কাদর (القدر) মতবাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, যেমন— কাতাদাহ, হাসান ইবনে আতিয়্যাহ, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ, আব্দুল ওয়ারিস এবং আরও অনেকে। আর একদল বর্ণনাকারী তাঁর সমর্থনমূলক বর্ণনা (تابعه) করেছেন যা সামনে আসবে।

আর ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান হলেন আত-তিননিসি; তিনি সহীহাইন-এর বর্ণনাকারীদের (رجال) অন্তর্ভুক্ত। ইমাম আহমাদ, ইজলি, নাসাঈ, মুতাইয়্যান, ইবনে ইউনুস এবং অন্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন(২)। ইমাম শাফেয়ী 'নির্ভরযোগ্য (الثقة)' জনৈক ব্যক্তির সূত্রে লাইস ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা (يروي) করেন; এ প্রসঙ্গে শাফেয়ীর ছাত্র রাবি ইবনে সুলাইমান বলেছেন: শাফেয়ী 'নির্ভরযোগ্য (الثقة)' বলতে ইয়াহইয়া ইবনে হাসসানকে বুঝিয়েছেন(৩)।

সমর্থনমূলক বর্ণনা (المتابعات):

একদল বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবনে হামযাহ-এর সমর্থনে ইয়াহইয়া ইবনে আল-হারিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (رووه):

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মাদ ইবনে শুয়াইব ইবনে শাবুর। ইমাম ত্বহাবী বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমাদ ইবনে শুয়াইব, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني) মাহমুদ ইবনে খালিদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (ثنا) মুহাম্মাদ ইবনে শুয়াইব ইবনে শাবুর, তিনি বলেন: আমাকে জানিয়েছেন (أنا) ইয়াহইয়া ইবনে আল-হারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আসমা আল-রাহবি, তিনি বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস সাওবান (রা.) থেকে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "আল্লাহ তাআলা নেক কাজকে দশ গুণ করেছেন; সুতরাং এক মাস দশ মাসের সমান এবং ঈদুল ফিতরের পর ছয় দিন রোজা রাখা পুরো বছরের সমান।"(৪).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "তাহযিব আত-তাহযিব" (১১/ ২০০, ২০১)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (১১/ ১৯৭)।

(৩) দেখুন: "ফাতহুল মুগিস" (২/ ৩৭) এবং "তাদরিবুর রাবি" (১/ ৩১২)।

(৪) "মুশকিলুল আসার" (খণ্ড ৩, পৃ. ১১৯)। [লেখক]। দেখুন: আর-রিসালাহ সংস্করণ, নম্বর (২৩৪৯)। হাদিসটি নাসাঈ-এর "আস-সুনান আল-কুবরা" (২৮৭৪)-তে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৪)
أحمد بن شعيب هو الإمام النسائي صاحب "السنن".

ومحمود بن خالد ثقةٌ رِضًا متفق على توثيقه(1).

ومحمد بن شعيب بن شابور روى عنه ابن المبارك ووثَّقه، وكذا وثَّقه غيره، إلّا أن ابن معين قال: كان مرجئًا، وليس به في الحديث بأس(2).

أقول: الإرجاء الذي يُنسَب إلى علماء السلف خفيف لا يقدح في الرواية، كما هو مقرر في موضعه.

ومنهم: إسماعيل بن عياش، قال الإمام أحمد: ثنا الحكم بن نافع ثنا ابن عياش عن يحيى بن الحارث الذماري عن أبي أسماء الرحبي عن ثوبان عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "من صام رمضان فشهر بعشرة أشهر، وصيام ستة أيام بعد الفطر فذلك تمام صيام السنة"(3).

الحكم بن نافع هو من رجال الصحيحين متفق على توثيقه، إلَّا أنه قيل: إنه روى كتاب شعيب بن أبي حمزة بالإجازة، وذلك إن صحَّ لا يضرّ، ولهذا اتفق الأئمة على تصحيح حديثه عن شعيب وغيره(4).

وإسماعيل بن عياش ثقة جليل يُحتج به إذا حدَّث عن أهل الشام، وذلك أنها بلده، حفظ حديث أهلها وأتقنه، فأما إذا روى عن غيرهم ففيه

--------------------------------------------

(1) انظر "تهذيب التهذيب" (10/ 61).

(2) المصدر السابق (9/ 223).

(3) "مسند أحمد" (ج 5 ص 280). [المؤلف]. رقم (22412). وأخرجه أيضًا الطبراني في "مسند الشاميين" (903) من طريق إسماعيل بن عياش به.

(4) انظر "تهذيب التهذيب" (2/ 441، 442).
আহমদ বিন শুআইব হলেন ইমাম নাসায়ি, যিনি 'সুনান'-এর রচয়িতা।

এবং মাহমুদ বিন খালিদ একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও পছন্দনীয় (رضا) ব্যক্তি, যাঁর নির্ভরযোগ্যতার ওপর সর্বসম্মত ঐক্যমত (متفق على توثيقه) রয়েছে(১)।

আর মুহাম্মদ বিন শুআইব বিন শাবুর থেকে ইবনুল মুবারাক বর্ণনা করেছেন এবং তাঁকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন (وثقه), একইভাবে অন্যরাও তাঁকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন (وثقه); তবে ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি মুরজিয়া (مرجئا) মতাদর্শী ছিলেন, কিন্তু হাদিস বর্ণনায় তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به في الحديث بأس)(২)।

আমি (লেখক) বলছি: সালাফদের আলেমদের দিকে যে ইরজা (الإرجاء) মতাদর্শটি সম্পৃক্ত করা হয়, তা ছিল লঘু প্রকৃতির; এটি বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে কোনো দোষ সৃষ্টি করে না, যেমনটি সংশ্লিষ্ট স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইসমাইল বিন আইয়াশ। ইমাম আহমদ বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাকাম বিন নাফি, তিনি ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন হারিস আদ-জিমারি থেকে, তিনি আবু আসমা আর-রাহাবি থেকে, তিনি সাওবান (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, তা দশ মাসের সমান; আর ঈদুল ফিতরের পর ছয়টি রোজা রাখা পুরো বছরের রোজা পূর্ণ করার শামিল"(৩)।

হাকাম বিন নাফি হলেন সহিহাইন-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, যাঁর নির্ভরযোগ্যতার ওপর সর্বসম্মত ঐক্যমত (متفق على توثيقه) রয়েছে। তবে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি শুআইব বিন আবু হামজার কিতাব ইজাজতের (بالإجازة) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর যদি এটি সঠিকও হয়, তবে তা কোনো ক্ষতি করে না; এই কারণেই ইমামগণ শুআইব ও অন্যদের থেকে বর্ণিত তাঁর হাদিসগুলো সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) ব্যাপারে একমত হয়েছেন(৪)।

আর ইসমাইল বিন আইয়াশ একজন মহান নির্ভরযোগ্য (ثقة جليل) ব্যক্তি। তিনি যখন সিরিয়াবাসীদের (আহলে শাম) থেকে বর্ণনা করেন, তখন তিনি দলিলে পেশযোগ্য (يحتج به); কারণ সেটি ছিল তাঁর নিজ শহর, তিনি সেখানের অধিবাসীদের হাদিসগুলো মুখস্থ করেছিলেন এবং তাতে পারদর্শী ছিলেন। তবে তিনি যখন অন্যদের থেকে বর্ণনা করেন, তখন তাতে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন 'তহজীবুত তহজীব' (১০/ ৬১)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৯/ ২২৩)।

(৩) 'মুসনাদে আহমদ' (৫ম খণ্ড, পৃ. ২৮০)। [লেখক]। নম্বর (২২৪১২)। তাবারানিও 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন'-এ (৯০৩) ইসমাইল বিন আইয়াশের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) দেখুন 'তহজীবুত তহজীব' (২/ ৪৪১, ৪৪২)।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৫)
لين، لأنه لم يُتقِنه، فكان يهم فيه(1). وحديثُه هذا شامي، لأن يحيى بن الحارث شامي.

ومنهم: صدقة بن خالد، قال ابن ماجه: ثنا هشام بن عمّار ثنا بقية ثنا صدقة بن خالد ثنا يحيى بن الحارث الذماري قال: سمعت أبا أسماء الرحبي عن ثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: "من صام ستة أيام بعد الفطر كان تمام السنة، {مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا} [الأنعام: 160] "(2).

هشام بن عمار من شيوخ البخاري، وثَّقه ابن معين وغيره. وغمزَه أبو داود وغيره بأنه لما كبر كان يُلقَّن فيتلقن(3).

وبقية هو ابن الوليد، من رجال مسلم، وفيه كلام طويل. والمحققون [على] أنه ثقة في نفسه لكنه يدلِّس عن الضعفاء، فإذا صرَّح بالسماع فهو حجة(4). وقد صرَّح هنا بالسماع.

أما صدقة بن خالد فمن رجال البخاري، وثَّقه أحمد وابن معين وجماعة، ولم يُقدح فيه بشيء(5).

[ص 8] ومنهم: الوليد بن مسلم، قال ابن حبّان في "صحيحه": أخبرنا

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (1/ 321 وما بعدها).

(2) "سنن ابن ماجه" طبع مصر (ج 1 ص 269). [المؤلف]. رقم (1715).

(3) انظر "تهذيب التهذيب" (11/ 52 وما بعدها).

(4) انظر المصدر السابق (1/ 474 وما بعدها).

(5) المصدر السابق (4/ 414، 415).
শিথিল (لين), কারণ তিনি এটি সুচারুভাবে আয়ত্ত করতে পারেননি, তাই তিনি এতে ভ্রম (يهم) করতেন(১)। তার এই হাদিসটি সিরীয় (শামি), কারণ ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস ছিলেন সিরীয়।

তাদের মধ্যে রয়েছেন: সাদাকা ইবনে খালিদ, ইবনে মাজাহ বলেন: আমাদের নিকট হিশাম ইবনে আম্মার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সাদাকা ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস আদ-জিমারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আসমা আল-রাহাবিকে সাওবান (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত দাস) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের পর ছয় দিন রোজা রাখবে, তা পূর্ণ বছরের (রোজার) সমতুল্য হবে। {যে ব্যক্তি একটি সৎকাজ করবে, সে তার দশগুণ প্রতিদান পাবে} [সূরা আল-আনআম: ১৬০]"(২)।

হিশাম ইবনে আম্মার ইমাম বুখারীর শায়খদের অন্তর্ভুক্ত, ইবনে মাঈন ও অন্যান্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقة) বলে অভিহিত করেছেন। তবে আবু দাউদ ও অন্যরা তার সমালোচনা করেছেন এই বলে যে, তিনি যখন বার্ধক্যে উপনীত হন, তখন তাকে যা তালকিন করা হতো, তিনি তা গ্রহণ (يُلقن فيتلقن) করতেন(৩)।

আর বাকিয়্যাহ হলেন ইবনুল ওয়ালিদ, তিনি ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, তাকে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে। গবেষকদের মতে তিনি সত্তাগতভাবে নির্ভরযোগ্য (ثقة), কিন্তু তিনি দুর্বল (ضعفاء) বর্ণনাকারীদের থেকে তাদলিস (تدليس) করতেন। সুতরাং তিনি যখন শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ (صرح بالسماع) করেন, তখন তিনি দলিলযোগ্য (حجة)(৪)। আর এখানে তিনি শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

সাদাকা ইবনে খালিদ ইমাম বুখারীর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, আহমদ, ইবনে মাঈন ও একদল আলেম তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقة) বলেছেন এবং তার ব্যাপারে কোনো নেতিবাচক সমালোচনা করা হয়নি(৫)।

[পৃষ্ঠা ৮] তাদের মধ্যে রয়েছেন: ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম, ইবনে হিব্বান তার "সহীহ" গ্রন্থে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৩২১ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ)।

(২) "সুনানে ইবনে মাজাহ" মিশরীয় সংস্করণ (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৬৯)। [লেখক]। নম্বর (১৭১৫)।

(৩) দেখুন "তাহজিবুত তাহজিব" (১১/ ৫২ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ)।

(৪) দেখুন পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৪৭৪ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (৪/ ৪১৪, ৪১৫)।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৬)
الحسين بن إدريس الأنصاري ثنا هشام بن عمَّار حدثنا الوليد بن مسلم ثنا يحيى بن الحارث الذِّماري عن أبي أسماء الرحَبي عن ثوبان عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: "من صام رمضان وستًّا من شوال فقد صام السنة"(1).

الحسين بن إدريس له ترجمة في "تذكرة الحفاظ"(2)، روى له ابن حبان في "صحيحه" كما رأيت، وذكره في "الثقات" وقال: كان ركنًا من أركان السنة في بلده(3). ووثَّقه الدارقطني. وقال ابن ماكولا: كان من الحفَّاظ المكثرين(4).

وهشام بن عمار تقدم.

والوليد بن مسلم إمام يدلِّس(5)، وقد صرَّح بالسماع.

فهؤلاء خمسة رووه عن يحيى بن الحارث الذماري: يحيى بن حمزة ومحمد بن شعيب بن شابور، وإسماعيل بن عياش، وصدقة بن خالد، والوليد بن مسلم. ولعلَّك لو فتَّشتَ وجدتَ غيرهم(6).

--------------------------------------------

(1) "موارد الظمآن إلى زوائد ابن حبان" (نسخة قلمية بالمكتبة الآصفية، ص 170). [المؤلف]. وهو في المطبوعة برقم (928)، وفي "صحيح ابن حبان" بترتيب ابن بلبان برقم (3635).

(2) (2/ 238). [المؤلف]. وهو في الطبعة التي بتحقيق المعلمي (2/ 695).

(3) "الثقات" (نسخة قلمية للمكتبة الآصفية). [المؤلف]. وهو في المطبوعة (8/ 193).

(4) راجع "لسان الميزان" (ج 2 ص 272). [المؤلف]. وطبعة أبي غدة (3/ 147، 148).

(5) انظر "تعريف أهل التقديس" (ص 170).

(6) منهم ثور بن يزيد، أخرجه الطبراني في "المعجم الكبير" (1451) من طريقه.
আল-হুসাইন ইবনে ইদ্রিস আল-আনসারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস আজ-জিমারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আসমা আর-রাহাবি থেকে, তিনি সাওবান থেকে, তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।"(1).

আল-হুসাইন ইবনে ইদ্রিসের জীবনী "তাজকিরাতুল হুফফাজ"-এ(2) বর্ণিত হয়েছে। আপনি যেমন দেখেছেন, ইবনে হিব্বান তাঁর "সহিহ"-এ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং "আত-থিকাত"-এ তাঁর উল্লেখ করে বলেছেন: তিনি তাঁর শহরে সুন্নাহর অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন(3)। আদ-দারাকুতনি তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইবনে মাকুলা বলেছেন: তিনি অধিক হাদিস বর্ণনাকারী হাফেজদের (الحفاظ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন(4)।

আর হিশাম ইবনে আম্মারের আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম একজন ইমাম (إمام), তবে তিনি তাদলিস (يدلس)(5) করতেন; তবে তিনি সরাসরি শোনার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

এই পাঁচজন বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবনুল হারিস আজ-জিমারি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ, মুহাম্মদ ইবনে শুয়াইব ইবনে শাবুর, ইসমাইল ইবনে আইয়াশ, সাদাকা ইবনে খালিদ এবং আল-ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম। আপনি যদি আরও অনুসন্ধান করেন, তবে সম্ভবত তাদের ছাড়া অন্যদেরও খুঁজে পাবেন(6)।

--------------------------------------------

(1) "মাওয়ারিদুজ জামআন ইলা যাওয়াইদি ইবনি হিব্বান" (মাকতাবাতুল আসিফিয়াহ-এর পাণ্ডুলিপি, পৃষ্ঠা ১৭০)। [লেখক]। এটি মুদ্রিত সংস্করণে (৯২৮) নম্বরে এবং ইবনে বালবানের বিন্যাস অনুযায়ী "সহিহ ইবনে হিব্বান"-এ (৩৬৩৫) নম্বরে রয়েছে।

(2) (২/২৩৮)। [লেখক]। এটি মুয়াল্লিমি-র তাহকিককৃত সংস্করণে (২/৬৯৫)।

(3) "আত-থিকাত" (মাকতাবাতুল আসিফিয়াহ-এর পাণ্ডুলিপি)। [লেখক]। এটি মুদ্রিত সংস্করণে (৮/১৯৩)।

(4) দেখুন "লিসানুল মিজান" (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭২)। [লেখক]। এবং আবু গুদ্দাহ-এর সংস্করণ (৩/১৪৭, ১৪৮)।

(5) দেখুন "তারিফু আহলিত তাকদিস" (পৃষ্ঠা ১৭০)।

(6) তাদের মধ্যে রয়েছেন থাওর ইবনে ইয়াজিদ; তাবারানি তাঁর সূত্রে "আল-মুজামুল কাবির"-এ (১৪৫১) এটি সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৭)
وتابع يحيى بن حسَّان عبدُ الله بن يوسف عند البيهقي(1)، رواه بسند صحيح عن عبد الله بن يوسف عن يحيى بن حمزة بسنده.

وعبد الله بن يوسف من شيوخ البخاري، متفق على أنه ثقة ثبت(2).

وممن تابع الدارميَّ ــ وإن كان غنيًّا عن المتابعة ــ: سليمان بن شعيب الكيساني، قال الطحاوي: حدثنا سليمان بن شعيب الكيساني قال: ثنا يحيى بن حسَّان …(3).

سليمان بن شعيب ذكره ابن السمعاني وقال: مولده بمصر سنة 184، وتوفي في صفر سنة 273، وكان ثقة(4).

ومنهم: سعد بن عبد الله بن عبد الحكم والحسين بن نصر بن المعارك المصري، أخرجه عنهما إمام الأئمة محمد بن إسحاق بن خزيمة في "صحيحه"(5) كلاهما عن يحيى بن حسَّان.

فأما سعد فقال ابن أبي حاتم: سمعتُ منه بمكة وبمصر، وهو

--------------------------------------------

(1) "سنن البيهقي" (ج 4 ص 293). [المؤلف]. وأخرجه البزار في "مسنده" (4178) من طريق يحيى بن حسان وعبد الله بن يوسف كلاهما عن يحيى به.

(2) هو التنِّيسي، انظر "تهذيب التهذيب" (6/ 86 - 88).

(3) "مشكل الآثار" (ج 3 ص 119). [المؤلف]. في طبعة الرسالة برقم (2348).

(4) "الأنساب" (الورقة 493 الوجه الأول). [المؤلف]. هو في طبعة الهند (11/ 195).

(5) رقم (2115): وفيه "سعيد بن عبد الله" وهو تصحيف. وفيه: " … بن المبارك"، وهو أيضًا تحريف. وفي الأصل: "نصير" بدل "نصر" تصحيف. وفيما يلي مصادر ترجمتهما.
ইয়াহইয়া ইবনে হাসসানকে অনুসরণ (متابعة) করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, যা বাইহাকির বর্ণনায় রয়েছে(১); তিনি এটি ইয়াহইয়া ইবনে হামজা থেকে তার সনদে একটি সহিহ সনদে (بسند صحيح) বর্ণনা করেছেন।

আর আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইমাম বুখারির শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত, তিনি যে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت), সে বিষয়ে সকলে একমত(২)।

আর যারা দারেমিকে অনুসরণ (متابعة) করেছেন—যদিও তিনি অনুসরণের (متابعة) মুখাপেক্ষী নন—তারা হলেন: সুলাইমান ইবনে শুআইব আল-কাইসানি। তাহাবি বলেন: সুলাইমান ইবনে শুআইব আল-কাইসানি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন …(৩)।

সুলাইমান ইবনে শুআইব সম্পর্কে ইবনুস সামআনি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তার জন্ম মিসরে ১৮৪ হিজরিতে এবং মৃত্যু ২৭৩ হিজরির সফর মাসে, আর তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة)(৪)।

তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন: সাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল হাকাম এবং হুসাইন ইবনে নাসর ইবনে আল-মাআরিক আল-মিসরি। ইমামুল আইম্মাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা তার "সহিহ" গ্রন্থে তাদের উভয়ের সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন(৫)।

সাদের ব্যাপারে ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আমি তার থেকে মক্কায় এবং মিসরে শুনেছি, আর তিনি...

--------------------------------------------

(১) "সুনানুল বাইহাকি" (৪র্থ খণ্ড, ২৯৩ পৃষ্ঠা)। [লেখক]। এবং আল-বাজার তার "মুসনাদ"-এ (৪১৭৮) ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান ও আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ উভয়ের সূত্রে ইয়াহইয়া থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) তিনি হলেন আত-তিননিসি, দেখুন "তাহজিবুত তাহজিব" (৬/ ৮৬-৮৮)।

(৩) "মুশকিলুল আসার" (৩য় খণ্ড, ১১৯ পৃষ্ঠা)। [লেখক]। রিসালাহ সংস্করণে নম্বর (২৩৪৮)।

(৪) "আল-আনসাব" (পত্র নং ৪৯৩, প্রথম পৃষ্ঠা)। [লেখক]। এটি ভারতীয় সংস্করণে (১১/ ১৯৫)।

(৫) নম্বর (২১১৫): এতে "সাঈদ ইবনে আবদুল্লাহ" রয়েছে যা একটি শব্দবিকৃতি (تصحيف)। এতে "... ইবনুল মুবারাক" রয়েছে যা-ও একটি বিকৃতি (تحريف)। এবং মূলে "নাসর"-এর পরিবর্তে "নাসির" রয়েছে যা শব্দবিকৃতি (تصحيف)। নিম্নে তাদের জীবনীর উৎসসমূহ দেওয়া হলো।
(খণ্ড: ১৮) সিয়ামু সিত্তাতি আইয়ামিন মিন শাওয়াল - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪৮)
صدوق … سئل أبي عنه فقال: صدوق(1).

وأما الحسين فقال ابن أبي حاتم: سمعتُ منه، ومحلُّه الصدق(2). وذكره ابن حبان في "الثقات" وقال: حدثنا عنه ابن خزيمة، وزعم أنه كان صدوقًا(3).

حكم الحديث:

حديث ثوبان صححه ابن خزيمة وابن حبان وغيرهما، وصحته واضحة جليَّة، والحمد لله.

--------------------------------------------

(1) كتاب ابن أبي حاتم (نسخة محفوظة بدائرة المعارف، تقدمت الإشارة إليها). [المؤلف]. وهو في المطبوعة (4/ 92).

(2) كتاب ابن أبي حاتم (نسخة … ). [المؤلف]. وهو في المطبوعة (3/ 66).

(3) "الثقات" (نسخة قلمية). [المؤلف]. وهو في المطبوعة (8/ 192). وله ترجمة في "تاريخ بغداد" (8/ 143).
সত্যবাদী (صدوق) … আমার পিতাকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: সত্যবাদী (صدوق)(1).

আর হুসাইন সম্পর্কে ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: আমি তাঁর থেকে শ্রবণ করেছি এবং তাঁর অবস্থান সত্যবাদিতার (الصدق)(2) স্তরে। এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে আস-সিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ইবনে খুজাইমাহ তাঁর থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি সত্যবাদী (صدوقًا)(3) ছিলেন।

হাদিসের হুকুম (حكم الحديث):

সাওবানের হাদিসটি ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন এবং এর বিশুদ্ধতা (صحته) অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও প্রোজ্জ্বল, আলহামদুলিল্লাহ।

--------------------------------------------

(1) কিতাব ইবনে আবি হাতিম (দাইরাতুল মাআরিফ-এ সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি, যার কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে)। [লেখক]। এটি মুদ্রিত সংস্করণের (৪/৯২) পৃষ্ঠায় রয়েছে।

(2) কিতাব ইবনে আবি হাতিম (পাণ্ডুলিপি … )। [লেখক]। এটি মুদ্রিত সংস্করণের (৩/৬৬) পৃষ্ঠায় রয়েছে।

(3) "আস-সিকাত" (হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি)। [লেখক]। এটি মুদ্রিত সংস্করণের (৮/১৯২) পৃষ্ঠায় রয়েছে। এবং "তারিখ বাগদাদ" (৮/১৪৩) গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে।