0/0
(খণ্ড: ১) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: -)
مسائل القراءة في الصلاة، والرد على أحد شراح الترمذي - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: مسائل القراءة في الصلاة، والرد على أحد شراح الترمذي

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (18)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

সালাতে তিলাওয়াত সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ এবং তিরমিযীর জনৈক ব্যাখ্যাকারীর খণ্ডন - «আসারুল মুয়াল্লিমি»-এর অন্তর্ভুক্ত   (আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহি মাসয়ালাসমূহ


কিতাব: সালাতে তিলাওয়াত সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ، এবং তিরমিযীর জনৈক ব্যাখ্যাকারীর খণ্ডন

[আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৮)]

লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

মুহাক্কিক (সম্পাদনা/গবেষণা): মুহাম্মাদ উযাইর শামস

পর্যালোচনা করেছেন: মুহাম্মাদ আজমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ লিন-নাশর ওয়াত-তাউযি

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৪)
الرسالة الخامسة والعشرون

مسائل القراءة في الصلاة

والرد على أحد شرَّاح الترمذي
পঁচিশতম পত্র

নামাজে তিলাওয়াত সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ

এবং তিরমিজি-র একজন ব্যাখ্যাকারীর প্রতি খণ্ডন
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له ولا معين، وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله إلى الناس أجمعين، صلى الله وسلم وبارك عليه، وعلى آله وأصحابه والتابعين بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد؛ فإني وقفت على شرح لبعض أجلة علماء العصر من الحنفية لـ "جامع الترمذي"، اعتنى فيه بالمسائل الخلافية، وسرد الأدلة وتنقيحها رواية ودراية، ولم يتقيَّد بأقوال المتقدمين في طرق التأويل والاستدلال، وإن تقيَّد بمذهبه في الأحكام.

وقد طالعت منه من أوله إلى أواخر كتاب الصلاة، وكان يظهر لي عند المطالعة مواضع تحتمل التعقب والمناقشة؛ فقيَّدتُ بعض ذلك.

ثم رأيت أنَّ الكلام في مسائل القراءة في الصلاة يطول؛ فأفردته مرتبًا في هذه الورقات، وقد علمت أنَّ التآليف في هذه المسائل كثيرة، وأنَّ من لم يعرف مقدار حسن ظن الإنسان بنفسه وبتأليفه وشعره لابد أن يُسدِّد إليَّ وإلى أمثالي سهام الملام. ولكني أرجو أن لا أَعدَمَ مَنْ عسى أن يَعْذِرني؛ بل أكاد أجزم أنَّ من طالع رسالتي هذه اضطرَّه الإنصافُ إلى أن يشكرني.

وإلى الله تعالى أَضْرَع أن يُطهِّر قلبي من الهوى والعصبية، ويخلص عملي كلَّه لوجهه الكريم ونصرةِ شريعته المرضية، وهو حسبي ونعم الوكيل.

[ ............................................................... ](1)

--------------------------------------------

(1) سقط من هنا إحدى عشرة صفحة.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং কোনো সাহায্যকারী নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা এবং সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত রাসূল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারীদের ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।

অতঃপর, আমি বর্তমান যুগের হানাফি মাযহাবের জনৈক প্রথিতযশা আলেমের লেখা 'জামে তিরমিযী'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) অধ্যয়ন করেছি। এতে তিনি মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বর্ণনা (رواية) ও বিচার-বিশ্লেষণ (دراية) উভয় দিক থেকে দলীলসমূহ উপস্থাপন ও সেগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন। বিধানগত (আহকাম) বিষয়ে নিজ মাযহাবের অনুসারী হলেও, ব্যাখ্যাদান ও দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি পূর্বসূরি (متقدمين) পণ্ডিতদের অনুসরণে সীমাবদ্ধ থাকেননি।

আমি গ্রন্থটির শুরু থেকে 'নামাজ অধ্যায়' (কিতাবুস সালাত)-এর শেষ পর্যন্ত পাঠ করেছি। অধ্যয়নকালে আমার কাছে এমন কিছু স্থান দৃষ্টিগোচর হয়েছে যা পর্যালোচনা ও আলোচনার দাবি রাখে; তাই আমি তার কিছু অংশ লিপিবদ্ধ করেছি।

এরপর আমি দেখলাম যে, নামাজে কিরাত (কুরআন পাঠ) সংক্রান্ত মাসআলাগুলোর আলোচনা দীর্ঘ হবে; তাই আমি সেগুলোকে সুবিন্যস্তভাবে এই পৃষ্ঠাগুলোতে আলাদাভাবে সংকলন করেছি। আমি জানি যে, এই বিষয়গুলোতে রচিত গ্রন্থের সংখ্যা অনেক। আর যে ব্যক্তি নিজের প্রতি, নিজের রচনার প্রতি এবং নিজের কবিতার প্রতি মানুষের সুধারণার মাত্রা সম্পর্কে অবগত নয়, সে অবশ্যই আমার ও আমার মতো ব্যক্তিদের দিকে নিন্দার তীর নিক্ষেপ করবে। তবে আমি আশা করি যে, এমন কেউ বাদ থাকবেন না যিনি আমাকে ক্ষমা করবেন; বরং আমি প্রায় নিশ্চিত যে, যিনি আমার এই রিসালাহ (প্রবন্ধ) পাঠ করবেন, ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠা তাকে আমাকে ধন্যবাদ জানাতে বাধ্য করবে।

আমি মহান আল্লাহর দরবারে বিনীত প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার অন্তরকে প্রবৃত্তি ও গোঁড়ামি থেকে পবিত্র করেন এবং আমার সকল আমলকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য ও তাঁর পছন্দনীয় শরীয়তের সাহায্যের জন্য একনিষ্ঠ করেন। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

[ ............................................................... ](১)

--------------------------------------------

(১) এখান থেকে এগারো পৃষ্ঠা বিলুপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৬)
[ص 12] فإن كان الواقع هو الأول فقد ثبتت الفاتحة نصًّا، وإن كان الثاني فتثبت استدلالًا، لما عُرِف(1) أنَّ هذا الحديث إنما اشتمل على الواجبات، وليس بين تكبيرة الإحرام وقراءة ما تيسَّر حمد وثناء وتمجيد يحتمل الوجوب إلَاّ الفاتحة، وهذا ظاهر.

ومما يؤيده: حديث مسلم(2) وغيره، عن أبي هريرة رضي الله عنه: سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: قال الله تعالى: "قَسَمْتُ الصلاةَ بيني وبين عبدي نصفين، ولعبدي ما سأل؛ فإذا قال العبد: الحمد لله رب العالمين، قال الله تعالى: حمِدَني عبدي، وإذا قال: الرحمن الرحيم، قال الله تعالى: أثنى عليَّ عبدي، وإذا قال: مالك يوم الدين، قال: مجَّدني عبدي .. " الحديث.

نصَّ فيه على أنَّ الفاتحة: حمد وثناء وتمجيد.

وجاء في حديث رفاعة(3) تارة الأمر بالفاتحة، وتارة الأمر بالحمد والثناء والتمجيد، فتدبَّر.

وقد وجدت متابعًا لمحمد بن عمرو(4)، وهو: بُكَير بن عبد الله بن الأشجّ، رواه عن علي بن يحيى، أخرجه البخاري في "جزء القراءة"(5)،

--------------------------------------------

(1) تحتمل: "كما عرف".

(2) رقم (395). وأخرجه أيضًا مالك في "الموطأ" (1/ 84، 85) وأبو داود (821) والترمذي (2953) والنسائي (2/ 135، 136).

(3) أخرجه أحمد في "المسند" (18995) وأبو داود (861) والترمذي (302) والنسائي (2/ 193) وغيرهم.

(4) الكلام متعلق بحديث المسيء صلاته من رواية محمد بن عمرو، عن علي بن يحيى بن خلَّاد، عن رفاعة بن رافع. وقد أخرجه أحمد في "مسنده" (18995).

(5) (ص 234 - 236) بتعليقه "تحفة الأنام" ط. الهند.
[পৃষ্ঠা ১২] যদি বাস্তবতা প্রথমটি হয়, তবে সূরা ফাতিহা স্পষ্ট বর্ণনা (نصًّا) দ্বারা প্রমাণিত হলো, আর যদি দ্বিতীয়টি হয়, তবে তা যুক্তিনির্ভর প্রমাণের (استدلالًا) মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। কারণ এটি জানা কথা(১) যে, এই হাদিসটি কেবল ওয়াজিব বিষয়াবলিকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর তাকবিরে তাহরিমা এবং সাধ্যমতো কিরাত পাঠের মাঝখানে সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কোনো প্রশংসা, গুণকীর্তন ও মহিমা ঘোষণা নেই যা ওয়াজিব হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; আর এটি সুস্পষ্ট।

আর একে সমর্থন করে: সহিহ মুসলিম(২) ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি, আর আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই পাবে। বান্দা যখন বলে: 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' (সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য), তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল'। বান্দা যখন বলে: 'আর-রাহমানির রাহিম' (পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু), তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার গুণকীর্তন করল'। আর যখন সে বলে: 'মালিকি ইয়াওমিদ্দিন' (বিচার দিবসের মালিক), তখন আল্লাহ বলেন: 'আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করল'..." হাদিসটি শেষ পর্যন্ত।

এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ফাতিহা হলো: প্রশংসা, গুণকীর্তন ও মহিমা ঘোষণা।

রিফায়াহর হাদিসে(৩) কখনো সূরা ফাতিহার নির্দেশ এসেছে, আবার কখনো প্রশংসা, গুণকীর্তন ও মহিমা ঘোষণার নির্দেশ এসেছে, অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন।

আমি মুহাম্মাদ বিন আমরের(৪) একজন সমান্তরাল বর্ণনাকারী (متابعًا) পেয়েছি, আর তিনি হলেন: বুকাইর বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আশাজ। তিনি এটি আলী বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, যা ইমাম বুখারি "জুযউল কিরাত"(৫) গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত পাঠটি হবে: "যেমনটি জানা গেছে"।

(২) হাদিস নং (৩৯৫)। এটি মালিক তাঁর "মুওয়াত্তা" (১/ ৮৪, ৮৫), আবু দাউদ (৮২১), তিরমিজি (২৯৫৩) এবং নাসায়ি (২/ ১৩৫, ১৩৬) গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি আহমাদ তাঁর "মুসনাদ" (১৮৯৯৫), আবু দাউদ (৮৬১), তিরমিজি (৩০২), নাসায়ি (২/ ১৯৩) এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

(৪) এই বক্তব্যটি রিফায়াহ বিন রাফি থেকে আলী বিন ইয়াহইয়া বিন খাল্লাদ, তাঁর সূত্রে মুহাম্মাদ বিন আমরের বর্ণিত 'সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির' (المسيء صلاته) হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট। আহমাদ এটি তাঁর "মুসনাদ" (১৮৯৯৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৫) (পৃষ্ঠা ২৩৪ - ২৩৬), ভারত থেকে প্রকাশিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ "تحفة الأنام" (তুহফাতুল আনাম) দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৭)
وسنده على شرط الصحيح، إلَاّ عبد الله بن سُويد، وهو صدوق كما قال أبو زرعة(1)، وذكره ابن حبان في "الثقات"(2)، ولا مخالفَ لهما.

ولكن فيه: عن علي بن يحيى، عن أبي السائب ــ رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وآله وسلم ــ وفيه: "ابدأ فكبِّر، وتحمد الله، وتقرأ بأم القرآن، ثم تركع" الحديث.

وذكر الحافظ في "الإصابة"(3) أنَّ ابن منده ذكر أبا السائب هذا في الصحابة، وقال: عداده في أهل المدينة.

قال الحافظ: "وتعقبه أبو نعيم(4) بأنَّ المحفوظ رواية إسحاق بن عبد الله … وغيرهم كلهم عن علي بن يحيى عن أبيه عن عمه رفاعة بن رافع. انتهى، ولا يمتنع أن يكون لعلي بن يحيى فيه شيخان".

أقول: فعلى هذا، هذه رواية صحابي ثالث مصرِّحة بالفاتحة بلا خلاف.

وأقوى الأجوبة بعد هذا: احتمال النسخ؛ فإنَّ الأحاديث الصريحة في إيجاب الفاتحة منها ما صرَّح فيه أبو هريرة بسماعه من النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وكان إسلام أبي هريرة سنة سبع. وقصة المسيء صلاته كانت قبل ذلك ببضع سنوات، أي قبل غزوة بدر؛ لأنَّ صاحب القصة مدني أنصاري بدري

--------------------------------------------

(1) انظر "الجرح والتعديل" (5/ 66).

(2) (8/ 343).

(3) (12/ 284). وانظر "معرفة الصحابة" لابن منده (2/ 905).

(4) في "معرفة الصحابة" له (4/ 492).
এবং এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح)-এর শর্তানুযায়ী, তবে আব্দুল্লাহ ইবনে সুওয়াইদ ব্যতীত; তিনি সত্যবাদী (صدوق) যেমনটি আবু জুর'আ বলেছেন(১) এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে আত-থিকাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন(২), আর তাঁদের দুজনের কোনো বিরোধিতাকারী নেই।

কিন্তু এতে রয়েছে: আলী ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবুস সাইব থেকে—যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের (صحابة) মধ্যে একজন ব্যক্তি—আর এতে রয়েছে: "শুরু করো এবং তাকবির দাও, আল্লাহর প্রশংসা করো, উম্মুল কুরআন পাঠ করো, তারপর রুকু করো" হাদিসটি।

হাফিজ ইবনে হাজার আল-ইসাবাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে মানদাহ এই আবুস সাইবকে সাহাবীদের (صحابة) মধ্যে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর গণনা মদিনাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।

হাফিজ বলেন: "আবু নুয়াইম(৪) তাঁর পর্যালোচনা করে বলেছেন যে, সংরক্ষিত (محفوظ) হলো ইসহাক ইবনে আব্দুল্লাহর বর্ণনা... এবং অন্য সকলে আলী ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর চাচা রিফায়া ইবনে রাফে' থেকে বর্ণনা করেছেন। (হাফিজের উদ্ধৃতি) সমাপ্ত, আর আলী ইবনে ইয়াহইয়ার ক্ষেত্রে এই বর্ণনায় দুইজন শাইখ (شيخان) থাকা অসম্ভব নয়।"

আমি বলছি: সুতরাং এর ভিত্তিতে, এটি হলো কোনো মতভেদ ছাড়াই স্পষ্টভাবে ফাতিহা পাঠের উল্লেখ সম্বলিত তৃতীয় একজন সাহাবীর (صحابي) বর্ণনা।

এর পরে সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর হলো: রহিতকরণের (نسخ) সম্ভাবনা; কেননা ফাতিহা ওয়াজিব (إيجاب) হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট হাদিসসমূহের মধ্যে এমন বর্ণনা রয়েছে যেখানে আবু হুরায়রা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে সরাসরি শোনার কথা স্পষ্ট করেছেন। আর আবু হুরায়রার ইসলাম গ্রহণ ছিল সপ্তম হিজরিতে। অন্যদিকে সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির ঘটনাটি ছিল এর কয়েক বছর আগে অর্থাৎ বদর যুদ্ধের পূর্বে; কারণ এই ঘটনার নায়ক ছিলেন একজন মদিনাবাসী, আনসারি এবং বদরি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-জারহ ওয়াত তা'দিল (৫/ ৬৬)।

(২) (৮/ ৩৪৩)।

(৩) (১২/ ২৮৪)। এবং দেখুন ইবনে মানদাহ কৃত মা'রিফাতুস সাহাবাহ (২/ ৯০৫)।

(৪) তাঁর মা'রিফাতুস সাহাবাহ গ্রন্থে (৪/ ৪৯২)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৮)
اتفاقًا(1)، ومثل هذا لا يُعقل أن يبقى مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم؛ يجالسه، ويصلي معه، ويغزو معه سنة أو سنتين ولا يُحسِن الصلاة، فضلًا عن ست أو سبع سنوات!

وهذا واضح جدًّا، مستغنٍ عن قول ابن الكلبي: إن صاحب القصة استشهد ببدر(2).

وإذا صحَّ النسخ فكأنه قبل الأمر بالفاتحة كان الواجب الحمد والثناء والتمجيد مطلقًا، ثم قراءة ما تيسَّر من القرآن؛ على ظاهر رواية إسحاق بن أبي طلحة(3). ثم جمع الله تعالى لهم الأمرين في الفاتحة.

ولما علم رفاعة أو من بعده ذلك عبَّر تارةً بأصل الحديث، وتارةً بما آل إليه الأمر من فرض الفاتحة، وإنما زاد: "ثم اقرأ ما شئت" ظنًّا أنَّ الفاتحة إنما جاءت بدلًا عن الحمد والثناء والتمجيد.

وقد بيَّنت الأحاديث الأخرى الثابتة في الاقتصار على الفاتحة أنَّ الفاتحة جامعة للأمرين: الحمد والثناء والتمجيد، والقراءة.

ومما يبيِّن ما قدَّمناه: أنَّ أبا هريرة ــ راوي الحديث ــ مذهبه الذي كان يفتي به أنَّ الفاتحة بعينها واجبة، ولا يجب غيرها.

--------------------------------------------

(1) هو خلَّاد بن رافع، كما في "الفتح" (2/ 277). وانظر "الإصابة" (3/ 311).

(2) انظر "نسب معد واليمن الكبير" (1/ 424). قال الحافظ في "الإصابة" (3/ 310): لم يذكره في شهداء البدريين غيره.

(3) التي أخرجها البخاري في "جزء القراءة" (ص 245) وأبو داود (858) والنسائي (2/ 225، 226) وابن ماجه (460) وغيرهم.
সর্বসম্মতভাবে (اتفاقًا)(১), এবং এটি ধারণাতীত যে কোনো ব্যক্তি নবী (সা.)-এর সাথে এক বা দুই বছর অতিবাহিত করবেন; তাঁর সাথে বসবেন, তাঁর সাথে সালাত আদায় করবেন এবং তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন, অথচ তিনি সুন্দরভাবে সালাত আদায় করতে পারবেন না, ছয় বা সাত বছরের কথা তো বলাই বাহুল্য!

এটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং ইবনুল কালবীর এই বক্তব্যের মুখাপেক্ষী নয় যে, এই ঘটনার বর্ণনাকারী বদর যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেছিলেন(২)।

যদি রহিতকরণ (النسخ) সঠিক হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি এমন যে—সূরা ফাতিহার আদেশ প্রদানের পূর্বে সাধারণভাবে হামদ, সানা ও প্রশংসা করা এবং এরপর কুরআন থেকে যতটুকু সম্ভব পাঠ করা ওয়াজিব ছিল; যেমনটি ইসহাক ইবনে আবু তালহার বর্ণনার (رواية)(৩) বাহ্যিক পাঠ থেকে বোঝা যায়। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এই উভয় বিষয়কে সূরা ফাতিহার মধ্যে একত্রিত করে দিয়েছেন।

যখন রিফায়াহ অথবা তাঁর পরবর্তী কেউ বিষয়টি জানতে পারলেন, তখন তিনি কখনও মূল হাদিসের শব্দে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন, আবার কখনও সূরা ফাতিহা ফরজ হওয়ার পরবর্তী হুকুম অনুযায়ী তা ব্যক্ত করেছেন। আর তিনি "অতঃপর তোমার ইচ্ছামতো পাঠ করো" অংশটুকু কেবল এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যুক্ত করেছেন যে, সূরা ফাতিহা কেবল হামদ, সানা ও প্রশংসার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এসেছে।

কেবল সূরা ফাতিহার ওপর সীমাবদ্ধ থাকার ব্যাপারে সাব্যস্ত (الثابتة) অন্যান্য হাদিসগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সূরা ফাতিহা উভয় বিষয়ের ধারক: হামদ, সানা ও প্রশংসা এবং তিলাওয়াত।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তার একটি প্রমাণ হলো—এই হাদিসের বর্ণনাকারী (راوي) আবু হুরায়রা (রা.)-এর মাযহাব বা অভিমত, যা অনুযায়ী তিনি ফতোয়া দিতেন, তা হলো নির্দিষ্টভাবে সূরা ফাতিহা পাঠ করাই ওয়াজিব, এ ছাড়া অন্য কিছু ওয়াজিব নয়।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন খাল্লাদ ইবনে রাফি, যেমনটি ফাতহুল বারি (২/২৭৭) গ্রন্থে রয়েছে। আরও দেখুন আল-ইসাবাহ (৩/৩১১)।

(২) দেখুন নাসাবু মা'আদ ওয়াল ইয়ামান আল-কাবির (১/৪২৪)। হাফেজ আল-আসকালানি আল-ইসাবাহ (৩/৩১০) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ছাড়া অন্য কেউ তাকে বদর যুদ্ধে শহীদদের তালিকায় উল্লেখ করেননি।

(৩) যা বুখারি জুজউল কিরাআত (পৃ. ২৪৫), আবু দাউদ (৮৫৮), নাসাঈ (২/২২৫, ২২৬), ইবনে মাজাহ (৪৬০) এবং অন্যরা বর্ণনা (أخرجها) করেছেন।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৯)
[ص 13] وفي "الصحيحين"(1) وغيرهما عنه: "وإن لم تَزِدْ على أمِّ القرآن أجزأتْ، وإن زدتَ فهو خير".

وفي "سنن أبي داود"(2) وغيره عن أبي هريرة أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أمره فنادى: "أن لا صلاة إلَّا بفاتحة الكتاب فما زاد".

وهذا مما يقوي احتمال النسخ؛ إلَاّ أنَّ في سنده جعفر بن ميمون، مختلف فيه، وقال العقيلي(3) في حديثه هذا: "لا يتابع عليه".

وسيأتي ــ إن شاء الله تعالى ــ الكلام على قوله: "فما زاد"، وأنها لا تدلُّ على وجوب الزيادة.

فأما الجواب باحتمال أنَّ النبي صلى الله عليه وآله وسلم قد كان علم أنَّ الرجل لا يحفظ الفاتحة فليس بذاك، وإن ساعده لفظ "معك".

ولما كان النزاع إنما هو مع الحنفية، والحديث وارد عليهم، كما هو وارد علينا فلا حاجة إلى التطويل، وفيما قدمناه كفاية لطالب الحق إن شاء الله تعالى.

[ص 14] سؤالان وجوابهما:

الأول: وقع في بعض روايات حديث رفاعة(4) الصحيحة: فقال النبي

--------------------------------------------

(1) البخاري (772) ومسلم (396).

(2) رقم (820). وأخرجه أيضًا أحمد في "المسند" (9529) والدارقطني (1/ 321) والحاكم في "المستدرك" (1/ 239) والبيهقي (2/ 37).

(3) في "الضعفاء الكبير" (1/ 190).

(4) أخرجه أبو داود (857) والنسائي (2/ 193) وأحمد (18997) وغيرهم.
[পৃ. ১৩] এবং "সহীহাইন"(১) ও অন্যান্য কিতাবে তার থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যদি তুমি উম্মুল কুরআনের (সূরা ফাতিহা) অতিরিক্ত কিছু না পড়ো তবে তা যথেষ্ট হবে, আর যদি অতিরিক্ত পড়ো তবে তা উত্তম।"

এবং "সুনানে আবু দাউদ"(২) ও অন্যান্য কিতাবে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নির্দেশ দিলে তিনি ঘোষণা করেন: "ফাতিহাতুল কিতাব এবং তার অতিরিক্ত কিছু ছাড়া সালাত হয় না।"

এটি রহিত হওয়ার (মানসুখ) সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করে; তবে এর সনদে (سند) জাফর বিন মাইমুন রয়েছেন, যিনি মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه), এবং আল-উকাইলি(৩) তার এই হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: "এটি সমর্থিত নয় (لا يتابع عليه)।"

ইনশাআল্লাহ তাআলা—তার বাণী "এবং যা অতিরিক্ত" এর ব্যাপারে আলোচনা সামনে আসবে এবং এটি অতিরিক্ত পাঠ ওয়াজিব হওয়ার ওপর দلالত করে না।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) হয়তো জানতেন যে ওই ব্যক্তি সূরা ফাতিহা মুখস্থ জানে না—এই সম্ভাবনার মাধ্যমে যে উত্তর দেওয়া হয় তা সঠিক নয়, যদিও "তোমার সাথে যা আছে" শব্দটির দ্বারা তা সমর্থন পায়।

যেহেতু বিতর্কটি হানাফিদের সাথে এবং এই হাদিসটি তাদের বিপক্ষেও প্রযোজ্য যেমনটি আমাদের বিপক্ষে, তাই দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই। সত্য অনুসন্ধানীর জন্য আমরা যা পেশ করেছি তা-ই যথেষ্ট ইনশাআল্লাহ তাআলা।

[পৃ. ১৪] দুটি প্রশ্ন এবং তাদের উত্তর:

প্রথম: রিফায়া’র(৪) হাদিসের কিছু সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় (روايات) এসেছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৭৭২) ও মুসলিম (৩৯৬)।

(২) নম্বর (৮২০)। এছাড়া আহমদ এটি "মুসনাদ" (৯৫২৯), দারাকুতনি (১/ ৩২১), হাকিম "মুসতাদরাক" (১/ ২৩৯) এবং বায়হাকি (২/ ৩৭)-এ বর্ণনা করেছেন।

(৩) "আদ-দুয়াফাউল কাবির" (১/ ১৯০) গ্রন্থে।

(৪) আবু দাউদ (৮৫৭), নাসায়ি (২/ ১৯৩), আহমদ (১৮৯৯৭) এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১০)
- صلى الله عليه وآله وسلم: "إنه لا تتمُّ صلاةٌ لأحدٍ من الناس حتى يتوضأ" وذكر الحديث، وفي آخره ــ في رواية(1) ــ: "فإذا فعل ذلك فقد تمَّتْ صلاته".

وفي رواية(2): "لا تتمُّ صلاةُ أحدِكم حتى يفعلَ ذلك".

وفي أخرى(3): "فإذا لم يفعلْ هكذا لم تَتِمَّ صلاتُه".

وفي أخرى(4): "فإذا صنعتَ ذلك فقد قضيتَ صلاتك، وما انتقصتَ من ذلك فإنما تَنقُصُه من صلاتك".

وفي رواية يحيى بن علي بن يحيى عن جده عن رفاعة بن رافع: "أنَّ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بينما هو جالس في المسجد يومًا ــ قال رفاعة: ونحن معه ــ إذ جاء رجلٌ كالبدوي، فصلَّى فأخفَّ صلاته"، ثم ساق الحديث، إلى أن قال: "فخاف الناس، وكَبُر عليهم أن يكون من أخفَّ صلاته لم يُصلِّ"، ثم ذكر الحديث، وقال في آخره: "فإذا فعلتَ ذلك فقد تمَّتْ صلاتك، وإن انتقصْتَ منه شيئًا انتقصْتَ من صلاتك". قال: "وكان هذا أهونَ عليهم من الأول: أنه مَن انتقصَ من ذلك شيئًا انتقص من صلاته، ولم تذهبْ كلها".

رواه الترمذي(5)، وقال عقبه: حديث رفاعة حديث حسن.

وقد روي عن رفاعة هذا الحديث من غير وجهٍ(6).

--------------------------------------------

(1) هي رواية أبي داود (857).

(2) عند أبي داود (858).

(3) عند النسائي (2/ 226).

(4) عند النسائي (2/ 193).

(5) رقم (302).

(6) انظر تعليق المحققين على "المسند" (18995).
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে কারও সালাত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে পূর্ণরূপে অজু করে।" তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এর শেষে—একটি বর্ণনায় (رواية)(১)—রয়েছে: "অতঃপর সে যখন এটি করবে, তখন তার সালাত পূর্ণ হবে।"

অন্য একটি বর্ণনায় (رواية)(২) রয়েছে: "তোমাদের কারও সালাত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে এমনটি করবে।"

আরও একটি বর্ণনায়(৩) রয়েছে: "যদি সে এমনটি না করে, তবে তার সালাত পূর্ণ হবে না।"

আরও একটি বর্ণনায়(৪) রয়েছে: "তুমি যখন তা করলে, তখন তোমার সালাত পূর্ণ করলে; আর যা তুমি তা থেকে কম করলে, তা মূলত তোমার সালাত থেকেই হ্রাস করলে।"

ইয়াহইয়া ইবনে আলি ইবনে ইয়াহইয়া তার পিতা ও তার দাদা থেকে, তিনি রিফাহ ইবনে রাফে থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে বসা ছিলেন—রিফাহ বলেন: আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম—এমন সময় এক ব্যক্তি এল যে দেখতে ছিল বেদুইনের মতো; সে সালাত আদায় করল এবং অত্যন্ত সংক্ষেপে সালাত সম্পন্ন করল।" তারপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন, এক পর্যায়ে বললেন: "এতে মানুষ ভীত হয়ে পড়ল এবং বিষয়টি তাদের নিকট অত্যন্ত গুরুতর মনে হলো যে, যে ব্যক্তি সালাত সংক্ষেপ করল সে যেন সালাতই আদায় করল না।" এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন এবং এর শেষে বললেন: "যখন তুমি তা করলে, তখন তোমার সালাত পূর্ণ হলো; আর যদি তুমি তা থেকে কিছু কমিয়ে ফেলো, তবে তা তোমার সালাত থেকেই হ্রাস পেলে।" তিনি বলেন: "এটি তাদের নিকট প্রথমটির চেয়ে সহজতর মনে হলো যে, যে ব্যক্তি এর থেকে কিছু অংশ কম করল সে তার সালাত থেকেই কম করল, এবং তার পুরো সালাতটিই বিফলে গেল না।"

তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন(৫) এবং এর পরপরই বলেছেন: রিফাহ বর্ণিত হাদিসটি উত্তম (حسن) হাদিস।

আর রিফাহ থেকে এই হাদিসটি একাধিক সূত্রে (وجه)(৬) বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদের বর্ণনা (৮৫৭)।

(২) আবু দাউদে রয়েছে (৮৫৮)।

(৩) নাসায়িতে রয়েছে (২/২২৬)।

(৪) নাসায়িতে রয়েছে (২/১৯৩)।

(৫) নং (৩০২)।

(৬) "মুসনাদ"-এর ওপর গবেষকদের (محققين) টীকা দেখুন (১৮৯৯৫)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال في "الفتح"(1): "وقع في حديث رفاعة بن رافع عند ابن أبي شيبة في هذه القصة: دخل رجلٌ، فصلَّى صلاةً خفيفةً، لم يتم ركوعها ولا سجودها".

فقد يقال: إنما قال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "لا تتمُّ صلاة لأحدٍ"، ولم يقل: "لا تصحُّ"، وقال له: "وإن انتقصتَ منه شيئًا انتقصتَ من صلاتك" أو نحوه؛ فهذا يدلُّ على أنَّ فيما أمره به أشياء تصحُّ الصلاة بدونها. وقد فهم الصحابة ذلك؛ كما صرَّح به في رواية يحيى بن علي بن يحيى.

ويؤخذ من قوله: "فأخفَّ صلاته"، وقوله: "وكبُر عليهم أن يكون من أخفَّ صلاتَه لم يُصَلِّ" أنَّ تلك الأشياء هي ما كان من قبيل التخفيف؛ فيدخل فيها تخفيف القيام بتقصير القراءة، وتخفيف الركوع والسجود بعدم الاطمئنان. وفي رواية ابن أبي شيبة ما يظهر منه التخفيف في الركوع والسجود.

الجواب: أما رواية يحيى بن علي فلا تقوم بما زاده فيها حجة؛ لجهالته، ولا يُلتفت إلى أنَّ ابن حبَّان ذكره في "الثقات"(2)؛ لأنَّ من أصل ابن حبَّان إيراد المجاهيل فيها. والترمذي إنما حسَّن الحديث من حيث هو، وأشار إلى ذلك بقوله: "وقد رُوي من غير وجهٍ"، ولا يلزم من هذا توثيق يحيى بن علي. والزيادة إنما تقبل من الثقة الضابط.

وأما قوله: "إنه لا تتمُّ" وما يُشبِه ذلك، فإنه يقال لمن صلَّى من الظهر ثلاث ركعات، ثم قطع الصلاة عمدًا: إنه لم يُتِمَّ صلاته. ويقال لمن صلَّى

--------------------------------------------

(1) (2/ 277). والحديث في "المصنف" (1/ 287).

(2) (7/ 612).
وقال তিনি "আল-ফাতহ"(১) গ্রন্থে বলেছেন: "ইবনে আবি শায়বার নিকট রিফাহ ইবনে রাফে-এর হাদিসে এই ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে: এক ব্যক্তি প্রবেশ করলেন, অতঃপর সংক্ষেপে সালাত আদায় করলেন, তিনি তার রুকু ও সিজদা পূর্ণ করেননি।"

বলা যেতে পারে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কেবল বলেছেন: "কারো সালাত পূর্ণ হবে না", তিনি বলেননি: "সঠিক (صحيح) হবে না", এবং তাকে বলেছিলেন: "আর তুমি যদি তা থেকে কিছু কম করো, তবে তোমার সালাত থেকেই তা হ্রাস পাবে" বা এই জাতীয় কিছু; এটি প্রমাণ করে যে, তিনি তাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন তার মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা ছাড়াও সালাত সঠিক (صحيح) হয়। সাহাবায়ে কেরামও তেমনটিই বুঝেছিলেন; যেমনটি ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়ার বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর তাঁর উক্তি: "সে তার সালাত সংক্ষেপ করল", এবং তাঁর উক্তি: "তাদের কাছে এটি কঠিন মনে হলো যে, যে ব্যক্তি সালাত সংক্ষেপ করেছে সে যেন সালাতই পড়েনি"—এসব থেকে বোঝা যায় যে, সেই বিষয়গুলো সংক্ষেপ করার পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল; ফলে এর মধ্যে কিরাত সংক্ষেপ করার মাধ্যমে কিয়াম সংক্ষেপ করা এবং স্থিরতা (اطمئنان) না রাখার মাধ্যমে রুকু ও সিজদা সংক্ষেপ করা অন্তর্ভুক্ত। আর ইবনে আবি শায়বার বর্ণনায় রুকু ও সিজদায় সংক্ষেপ করার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

উত্তর: ইয়াহইয়া ইবনে আলী যে অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করেছেন তা দলিল হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ তার অজ্ঞাত অবস্থা (جهالة)। আর ইবনে হিব্বান তাকে "আত-সিকাত"(২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন বলে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা হবে না; কারণ ইবনে হিব্বানের মূলনীতি হলো সেখানে অজ্ঞাত বর্ণনাকারীগণ (المجاهيل)-কে অন্তর্ভুক্ত করা। আর ইমাম তিরমিজি হাদিসটিকে সামগ্রিক দিক থেকে হাসান (حسن) বলেছেন এবং তিনি তাঁর "এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে" উক্তির মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন; আর এটি থেকে ইয়াহইয়া ইবনে আলীর নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق) আবশ্যক হয় না। আর অতিরিক্ত বর্ণনা কেবল নির্ভরযোগ্য ও স্মৃতিমান (الثقة الضابط) রাবির পক্ষ থেকেই গ্রহণযোগ্য হয়।

আর তাঁর উক্তি: "নিশ্চয়ই তা পূর্ণ হবে না" এবং এর অনুরুপ শব্দাবলি সম্পর্কে বলা যায় যে, যে ব্যক্তি জোহরের তিন রাকাত সালাত আদায় করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ছেড়ে দিল, তার ক্ষেত্রেও বলা হয়: সে তার সালাত পূর্ণ করেনি। আর যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল

--------------------------------------------

(১) (২/ ২৭৭)। এবং হাদিসটি "আল-মুসান্নাফ" (১/ ২৮৭) গ্রন্থে রয়েছে।

(২) (৭/ ৬১২)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১২)
وترك بعض المستحبَّات: لم يُتِمَّ صلاته. ويظهر لي أنَّ المعنى الأول هو المتبادر.

وأما قوله: "وما انتقصتَ من ذلك فإنما تنقُصُه من صلاتك" فهي عند النسائي من رواية ابن عجلان عن علي بن يحيى، وابن عجلان يدلِّس؛ كما يأتي بيان ذلك في حديث الإنصات. فيُخشى أن يكون سمع الحديث بهذه الزيادة من يحيى بن علي، وقد مرَّ ما فيه.

وعلى فرض ثبوت هذه الزيادة فالانتقاص مقابل لعدم الإتمام، وقد مرَّ ما فيه.

وعلى فرض أنَّ قوله: "لا تتمُّ"، وقوله: "فإنما تنقصه من صلاتك" ــ على فرض ثبوتها ــ يُشِعر أو يدلُّ على أنه إذا ترك شيئًا مما أمره به لا تبطل صلاته، فيجب إلغاء هذا الإشعار؛ لأنه قد أمره ــ في جملة ما أمره به ــ بالفرائض القطعية إجماعًا، ومن انتقص شيئًا منها فصلاته باطلة قطعًا.

ودعوى حمل هذا على ما كان من قبيل التخفيف مردودة فإنه ساق تحت قوله: "لا تتمُّ صلاة أحدٍ منكم حتى … " جميع الأعمال، واسم الإشارة في قوله "وما انتقصت من ذلك" يعود إلى جميع الأعمال.

وإذا قلنا: إنَّ الذي أساء فيه هذا الرجل هو عدم الاطمئنان في الركوع والسجود، بدليل رواية ابن أبي شيبة= وجب أن لا يدخل ذلك فيما يشعر به قوله: "لا يتم"، وقوله: "تنقصه من صلاتك"؛ لأنه قد قال له باتفاق الروايات كلها: "ارجعْ فصَلِّ فإنك لم تصلِّ". ونفيُ الشارع للصلاة صريح في نفي وجودها الشرعي، وهو إنما يكون بصحتها. والله أعلم.
এবং কিছু মুস্তাহাব (مستحبات) ত্যাগ করা: তার অর্থ সে তার সালাত পূর্ণ করেনি। আর আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, প্রথম অর্থটিই অধিক স্পষ্ট।

আর তাঁর বাণী: "তুমি এর থেকে যা কম করবে, তা তোমার সালাত থেকেই কম করা হবে" - এই অংশটি নাসায়িতে ইবনে আজলান থেকে বর্ণিত হয়েছে, যিনি আলি ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আজলান তাদলীস (يدلس) করতেন; যেমনটি 'চুপ থাকা' সংক্রান্ত হাদিসে বিস্তারিত আসবে। সুতরাং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, তিনি এই অতিরিক্ত (زيادة) অংশসহ হাদিসটি ইয়াহইয়া ইবনে আলির নিকট থেকে শুনেছেন, আর তাঁর সম্পর্কে যা বলার তা পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

যদি এই অতিরিক্ত (زيادة) অংশটি সাব্যস্ত বলে ধরে নেওয়া হয়, তবে ঘাটতি হওয়াটি পূর্ণ না হওয়ার বিপরীত অর্থ বহন করে; এবং এই বিষয়ে যা বলার তা অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে, তাঁর বাণী: "পূর্ণ হবে না" এবং "তুমি যা কম করবে তা তোমার সালাত থেকেই কম হবে" - যদি এগুলি সাব্যস্ত হয় - তবে তা এমন ইঙ্গিত বা প্রমাণ দেয় যে, তাকে যা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা থেকে কোনো কিছু ছেড়ে দিলে তার সালাত বাতিল (باطلة) হবে না; এমতাবস্থায় এই ইঙ্গিতটি বাতিল করা আবশ্যক। কারণ তিনি তাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন তার মধ্যে সর্বসম্মতভাবে অকাট্য ফরজসমূহ (الفرائض القطعية) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর কেউ যদি সেই ফরজগুলোর কোনো কিছু কম করে, তবে তার সালাত নিশ্চিতভাবেই বাতিল (باطلة)।

আর একে সহজীকরণের ওপর প্রয়োগ করার দাবিটি প্রত্যাখ্যাত (مردودة); কারণ তিনি তাঁর বাণী: "তোমাদের কারো সালাত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না … "-এর অধীনে সমস্ত আমল উল্লেখ করেছেন এবং "এর থেকে যা কম করবে" বাক্যে ব্যবহৃত ইশারাটি সকল আমলের দিকেই ফিরছে।

আর যদি আমরা বলি যে, এই ব্যক্তি যে বিষয়ে ভুল করেছিল তা ছিল রুকু ও সিজদায় স্থিরতা অবলম্বন না করা - যেমনটি ইবনে আবি শায়বার বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত - তবে তা "সালাত পূর্ণ হবে না" বা "তুমি সালাত থেকে কম করলে" কথাগুলো থেকে পাওয়া ইঙ্গিতের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া আবশ্যক। কারণ সমস্ত বর্ণনার ঐকমত্যে তিনি তাকে বলেছিলেন: "ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো, কেননা তুমি সালাত আদায় করোনি।" আর শরিয়ত প্রণেতা কর্তৃক সালাতকে অস্বীকার করা তার শরয়ী অস্তিত্বকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট, যা কেবল তার বিশুদ্ধতা বা সহিহ হওয়ার বিষয়টি নাকচ করার মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৩)
[ص 15] السؤال الثاني:

إذا كانت الصلاة الأولى التي صلاها هذا الرجل باطلة فلمَ لمْ يبيِّن له النبي صلى الله عليه وآله وسلم في أثنائها؟ وكيف تركه يتعبد عبادة باطلةً؟

وهكذا يقال في الثانية والثالثة، بل أولى.

أَوَ لا يكون إقرار النبي صلى الله عليه وآله وسلم إياه على الاستمرار فيها دالًّا على صحتها؟

الجواب: هذا سؤال لا يخلو من صعوبة، وقد ذكر الحافظ في "الفتح"(1) أجوبة:

منها: قول ابن دقيق العيد: "ليس التقرير بدليل على الجواز مطلقًا؛ بل لا بد من انتفاء الموانع، ولا شكَّ أنَّ في زيادة قبول المتعلِّم ما يُلقى إليه بعد تكرار فعله واستجماعِ نفسه وتوجُّهِ سؤاله مصلحةً مانعةً من وجوب المبادرة إلى التعليم؛ لاسيَّما مع عدم خوف الفوات؛ إما بناءً على ظاهر الحال، وإما بوحي خاص".

أقول: أما دلالته على الجواز فلا مفرَّ منها؛ ولكن لا يلزم من الدلالة على الجواز الدلالةُ على الصحة، وشاهده ما في "الصحيحين"(2) عن ابن المنكدر قال: رأيت جابر بن عبد الله يحلف بالله أنَّ ابن الصيَّاد الدجال، قلت: تحلف بالله؟! قال: إني سمعت عمر يحلف على ذلك عند النبي صلى الله عليه وآله وسلم؛ فلم ينكره النبي صلى الله عليه وآله وسلم.

--------------------------------------------

(1) (2/ 281). وكلام ابن دقيق العيد في "الإحكام" (2/ 11).

(2) البخاري (7355) ومسلم (2929).
[পৃষ্ঠা ১৫] দ্বিতীয় প্রশ্ন:

যদি এই ব্যক্তি কর্তৃক আদায়কৃত প্রথম সালাতটি বাতিল (باطلة) হয়ে থাকে, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কেন তার মাঝখানেই তা তাকে স্পষ্ট করে দিলেন না? এবং কেন তিনি তাকে একটি বাতিল (باطلة) ইবাদত সম্পাদন করতে দিলেন?

অনুরূপভাবে দ্বিতীয় এবং তৃতীয়বারের ক্ষেত্রেও বলা যায়, বরং তা অধিক প্রযোজ্য।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর তাকে সালাত চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মৌনসম্মতি (إقرار) প্রদান করা কি এর বিশুদ্ধতার (صحتها) ওপর প্রমাণবাহী (دالًّا) নয়?

উত্তর: এই প্রশ্নটি জটিলতামুক্ত নয়। হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারিতে(১) কয়েকটি উত্তর উল্লেখ করেছেন:

তন্মধ্যে একটি হলো ইবনে দাকীকুল ঈদ-এর উক্তি: "মৌনসম্মতি (التقرير) সর্বাবস্থায় বৈধতার (الجواز) দলিল (بدليل) নয়; বরং এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকসমূহ না থাকাও আবশ্যক। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শিক্ষার্থীর নিজের কাজটির পুনরাবৃত্তি হওয়ার পর এবং নিজের একাগ্রতা ও প্রশ্নের প্রতি মনোযোগ আসার পর তাকে যা শেখানো হবে, তা গ্রহণ করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার মাঝে এমন এক কল্যাণ (مصلحة) নিহিত রয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা প্রদানের আবশ্যকতাকে প্রতিহত করে; বিশেষ করে যখন সময় অতিক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে না; তা বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই হোক কিংবা বিশেষ ওহির মাধ্যমে হোক।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বৈধতার (الجواز) ওপর এর প্রমাণবাহী হওয়ার বিষয়টি অনস্বীকার্য; কিন্তু বৈধতার (الجواز) প্রমাণ হওয়া থেকে বিশুদ্ধতার (الصحة) প্রমাণ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে না। আর এর সাক্ষী হলো সহিহাইন(২)-এ বর্ণিত ইবনুল মুনকাদির থেকে পাওয়া একটি বর্ণনা। তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে আল্লাহর নামে শপথ করে বলতে দেখেছি যে, ইবনে সাইয়্যাদই হলো দাজ্জাল। আমি বললাম: আপনি কি আল্লাহর নামে শপথ করছেন?! তিনি বললেন: আমি উমরকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শপথ করতে শুনেছি; কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তা অস্বীকার (ينكره) করেননি।

--------------------------------------------

(১) (২/ ২৮১)। আর ইবনে দাকীকুল ঈদ-এর বক্তব্যটি আল-ইহকাম গ্রন্থে (২/ ১১) রয়েছে।

(২) বুখারি (৭৩৫৫) এবং মুসলিম (২৯২৯)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد صحَّ عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أنه كان أولًا يشكُّ في ابن صيَّاد أهو الدجال أم لا(1).

فأقول: إنَّ العبادة الباطلة إنما يكون التلبُّس بها معصيةً إذا علم المتلبِّس بها أنها باطلة، ولم يتحقَّق هذا في المسيء صلاته؛ فلذلك أقرَّه النبي صلى الله عليه وآله وسلم على التلبُّس بها، ثم بيَّن له بطلانها.

فالتقرير مجمل؛ لأنه يحتمل أن يكون لأنها صحيحة، ويحتمل أن يكون لما ذكرنا. وتأخير بيان مثل هذا جائز، والحجج عليه كثيرة، ولم يأت من نازع فيه بحجة.

وهكذا قوله صلى الله عليه وآله وسلم: "صلِّ فإنك لم تصلِّ" مجمل؛ لأنه لم يبيِّن فيه وجه البطلان، ثم بيَّنه أخيرًا.

فإن قيل: فهلَاّ بيَّن له أوَّل مرَّة؟

قلت: في الأجوبة التي نقلها في "الفتح"(2): أجاب المازري بأنه أراد استدراجه بفعل ما يجهله مرَّات؛ لاحتمال أن يكون فعله ناسيًا أو غافلًا؛ فيتذكَّره فيفعله من غير تعليم، وليس ذلك من باب التقرير على الخطأ؛ بل من باب تحقُّق الخطأ.

وقال النووي(3) نحوه، قال: وإنما لم يعلِّمه أولًا ليكون أبلغ في تعريفه وتعريف غيره بصفة الصلاة المُجزِئة.

--------------------------------------------

(1) هنا في الهامش عبارة بخط دقيق أصابها طمس.

(2) (2/ 281).

(3) "شرح صحيح مسلم" (4/ 109).
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صحَّ) হয়েছে যে, তিনি প্রাথমিকভাবে ইবনে সাইয়্যাদের ব্যাপারে সংশয়ে ছিলেন যে সে-ই দাজ্জাল কি না(1)।

অতএব আমি বলব: কোনো বাতিল (باطلة) ইবাদতে লিপ্ত হওয়া কেবল তখনই গুনাহ (معصية) হিসেবে গণ্য হয় যখন তাতে লিপ্ত ব্যক্তি অবগত থাকে যে এটি বাতিল (باطلة)। আর সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন ছিল না; সেই কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তাকে ওই কাজে লিপ্ত থাকা অবস্থায় মৌন সম্মতি (أقرَّ) দিয়েছিলেন, অতঃপর তার নিকট এর অসারতা বর্ণনা করেছিলেন।

সুতরাং এই মৌন সম্মতি (التقرير) হলো সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (مجمل); কারণ এতে সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি সঠিক (صحيحة) হওয়ার কারণে হয়েছে, আবার আমরা যা উল্লেখ করেছি সে কারণেও হতে পারে। আর এই ধরণের বিষয়ে বর্ণনা প্রদানে বিলম্ব করা বৈধ (جائز), এর সপক্ষে প্রচুর দলিল রয়েছে, এবং যারা এর বিরোধিতা করেছেন তারা কোনো অকাট্য দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি।

একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তুমি সালাত আদায় করো, কেননা তুমি সালাত আদায় করোনি"—এটিও সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (مجمل); কেননা তিনি এতে বাতিল বা অসার (البطلان) হওয়ার কারণ স্পষ্ট করেননি, বরং পরবর্তীতে তা স্পষ্ট করেছেন।

যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন তিনি তাকে প্রথমবারেই তা স্পষ্ট করে দিলেন না?

আমি বলব: "ফাতহুল বারী"-তে উদ্ধৃত উত্তরগুলোর মধ্যে(2) আল-মাযিরী উত্তর দিয়েছেন যে, তিনি চেয়েছিলেন তাকে দিয়ে অজানা কাজটি বারবার করানোর মাধ্যমে ধাপে ধাপে শেখাতে; কারণ হতে পারে সে ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত এমনটি করেছে, যাতে সে নিজে থেকেই তা স্মরণ করতে পারে এবং শিক্ষা দেওয়া ছাড়াই সঠিকভাবে আদায় করতে পারে। এটি ভুলের ওপর মৌন সম্মতি (التقرير) প্রদানের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং ভুলটি নিশ্চিত হওয়ার একটি প্রক্রিয়া মাত্র।

ইমাম নববীও(3) অনুরূপ কথা বলেছেন, তিনি বলেছেন: তিনি তাকে প্রাথমিকভাবে শিক্ষা দেননি যেন তাকে এবং অন্যদের পর্যাপ্ত সালাতের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করাটা অধিকতর কার্যকর হয়।

--------------------------------------------

(1) এখানে মার্জিনে সূক্ষ্ম লিপিতে একটি বাক্য ছিল যা অস্পষ্ট হয়ে গেছে।

(2) (২/ ২৮১)।

(3) "শরহুল সহিহ মুসলিম" (৪/ ১০৯)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال ابن الجوزي(1): يحتمل أن يكون ترديده لتفخيم الأمر وتعظيمه عليه، ورأى أنَّ الوقت لم يَفُتْه فرأى إيقاظ الفطنة للمتروك.

وقال ابن دقيق العيد: ....(2).

وقال التوربشتي: إنما سكت عن تعليمه أولًا لأنه لما رجع لم يستكشف الحال من مورد الوحي، وكأنه اغترَّ بما عنده من العلم، فسكت عن تعليمه؛ زجرًا له وتأديبًا وإرشادًا إلى استكشاف ما استبهم عليه، فلما طلب كشف الحال من مورده أرشد إليه.

أقول: أما المرة الأولى فلِمَا قال المازري.

وأما في الثانية والثالثة فلِمَا قاله النووي وابن الجوزي وابن دقيق العيد، ولما قاله التوربشتي معًا، والله أعلم.

وقد خلط الشارح الكلام على مسألة ركنية الفاتحة بالكلام على وجوب الزيادة عليها مع الكلام على ركنيتها على المأموم، وسألخِّص هنا ما يتعلَّق بهذه المسألة خاصة:

زعم أنَّ زيادة "فصاعدًا" في حديث عبادة ثابت، وأنه يقتضي ركنية الزيادة. ثم كرَّ على هذا الحديث بأنه متروك العمل باتفاق، وأن ترك العمل به دليل [على] نسخه، أو على خطأ وقع من بعض رواته، وكأنه يريد أنَّ ذلك دليل على نسخ ركنية الفاتحة.

والجواب: أنَّ زيادة "فصاعدًا" غير ثابت، ولو ثبت لم يدلَّ على وجوب

--------------------------------------------

(1) "كشف مشكل الصحيحين" (1/ 939).

(2) هكذا بيَّض المؤلف لكلام ابن دقيق العيد. وقد نقله فيما مضى.
وقال ابن الجوزي(১): সম্ভবত তাঁর (রাসূল ﷺ-এর) এই পুনরাবৃত্তি ছিল বিষয়টির গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলা এবং তার নিকট একে মহিমান্বিত করার জন্য। তিনি দেখলেন যে সময় এখনও পার হয়ে যায়নি, তাই তিনি যিনি (সঠিক পদ্ধতি) বর্জন করেছেন (المتروك) তার মেধা জাগ্রত করা সমীচীন মনে করলেন।

وقال ابن دقيق العيد: ....(২).

এবং আত-তূরবিশতী বলেন: তিনি তাকে প্রথমে শিক্ষা দেওয়া থেকে নীরব ছিলেন কারণ সেই ব্যক্তি যখন ফিরে আসল, সে ওহীর উৎস থেকে প্রকৃত অবস্থা অনুসন্ধানের চেষ্টা করেনি। মনে হচ্ছিল সে তার নিজের কাছে থাকা জ্ঞানের ব্যাপারে আত্মতৃপ্ত ছিল। তাই তিনি তাকে শিক্ষা দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন তাকে সতর্ক করার জন্য, শিষ্টাচার শেখানোর জন্য এবং যা তার কাছে অস্পষ্ট ছিল তা উদ্ঘাটনের পথ দেখানোর জন্য। অতঃপর যখন সে ওহীর উৎসের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করার আবেদন জানাল, তখন তিনি তাকে সঠিক পথ নির্দেশ করলেন।

আমি বলি: প্রথমবারের কারণ হলো যা আল-মাযেরী বলেছেন।

আর দ্বিতীয় ও তৃতীয়বারের কারণ হলো যা আন-নববী, ইবনুল জাওযী, ইবনু দাকীকুল ঈদ এবং আত-তূরবিশতী একত্রে বলেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

ব্যাখ্যাকারী সূরা ফাতিহার রুকন হওয়ার মাসআলাটির সাথে এর অতিরিক্ত অংশ পড়ার ওয়াজিব হওয়া এবং মুক্তাদীর ওপর ফাতিহার রুকন হওয়ার আলোচনার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ফেলেছেন। আমি এখানে বিশেষভাবে এই মাসআলাটি সম্পর্কে যা সংশ্লিষ্ট তা সারসংক্ষেপ করব:

তিনি দাবি করেছেন যে, উবাদাহ (রাযি.)-এর হাদিসে "অতঃপর তার অতিরিক্ত" শব্দটির বৃদ্ধি সাব্যস্ত (ثابت), এবং এটি অতিরিক্ত অংশের রুকন হওয়ার দাবি রাখে। অতঃপর তিনি এই হাদিসটির ওপর আক্রমণ করে বলেন যে এটি সর্বসম্মতিক্রমে আমল অযোগ্য (متروك العمل), এবং এর ওপর আমল না করা এর রহিত (نسخ) হওয়ার প্রমাণ, অথবা এর কোনো বর্ণনাকারীর ভুলের প্রমাণ। মনে হচ্ছে তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন যে এটি সূরা ফাতিহার রুকন হওয়ার বিষয়টি রহিত (نسخ) হওয়ার দলিল।

উত্তর হলো: "অতঃপর তার অতিরিক্ত" শব্দটির বৃদ্ধি সাব্যস্ত (ثابت) নয়। আর যদি তা সাব্যস্ত (ثابت) হতোও, তবে তা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ বহন করত না।

--------------------------------------------

(১) "কাশফুল মুশকিল আস-সাহীহাইন" (১/ ৯৩৯)।

(২) এভাবেই লেখক ইবনু দাকীকুল ঈদের বক্তব্যের জন্য জায়গা খালি রেখেছেন। অথচ ইতিপূর্বে তিনি তা উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৬)
الزيادة، ولو دلَّ على وجوب الزيادة فقد قال بذلك بعضُ أهل العلم كما يأتي، نعم ذاك متروك باتفاق الحنفية والشافعية، ولكنَّ المتروك هو الزيادة فقط. فترك الأخذ بها إنما يدلُّ على الخطأ فيها خاصة، وإن دلَّ على نسخٍ فلها خاصة، ودلالته على الخطأ أولى؛ لأنَّ ثَمَّ دلائل أخرى على الخطأ؛ كما يأتي إن شاء الله تعالى.

وقد ادعى الشارحُ أنَّ الزيادة نُسِخَت أولًا، وهذا اعتراف بأنَّ نسخ الزيادة لا يلزم منه نسخ المزيد عليه.

ثم لو فُرِضَ سقوط الاحتجاج على وجوب الفاتحة بحديث عبادة فالأحاديث على وجوبها كثيرة، على أنَّ زَعْم الاتفاق على عدم وجوب الزيادة غير مسلَّم؛ فقد حكاه الحافظ في "الفتح"(1) عن بعض الصحابة وغيرهم، وهو رواية في مذهب أحمد؛ بل هو قول الحنفية، وإن لم يجعلوه فرضًا.

--------------------------------------------

(1) (2/ 243).
অতিরিক্ত অংশ; আর যদি এটি অতিরিক্ত অংশের আবশ্যকতার (وجوب) ওপর দলিল প্রদান করে, তবে কিছু আলেম তা বলেছেন যেমনটি সামনে আসছে। হ্যাঁ, হানাফি ও শাফিয়িগণের ঐক্যমতে সেটি পরিত্যক্ত (متروك), তবে কেবল অতিরিক্ত অংশটুকুই পরিত্যক্ত (متروك)। সুতরাং সেটি গ্রহণ বর্জন করা কেবল সেই নির্দিষ্ট অংশেই ভুল হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর যদি তা রহিতকরণের (نسخ) ওপর প্রমাণ পেশ করে তবে তাও কেবল সেই অংশের জন্যই। তবে একে ভুল সাব্যস্ত করাই অধিকতর শ্রেয়; কারণ সেখানে ভুল হওয়ার ব্যাপারে অন্যান্য দলিল রয়েছে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

ব্যাখ্যাকার দাবি করেছেন যে, অতিরিক্ত অংশটি প্রথমেই রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে। এটি একটি স্বীকৃতি যে, অতিরিক্ত অংশ রহিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, যার ওপর বৃদ্ধি করা হয়েছিল (মূল অংশ) তাও রহিত হয়ে যাবে।

অতঃপর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, উবাদাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস দ্বারা সূরা ফাতিহার আবশ্যকতার (وجوب) ওপর দলিল পেশ করার সুযোগ নেই, তবুও এর আবশ্যকতার (وجوب) স্বপক্ষে অনেক হাদিস রয়েছে। তদুপরি, অতিরিক্ত অংশ আবশ্যক (وجوب) না হওয়ার ব্যাপারে যে ঐকমত্যের দাবি করা হয়েছে তা সর্বজনস্বীকৃত নয়; হাফিজ 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে কয়েকজন সাহাবী ও অন্যান্যদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি ইমাম আহমদের মাযহাবের একটি বর্ণনা; বরং এটি হানাফিদেরও অভিমত, যদিও তারা একে ফরজ (فرض) হিসেবে গণ্য করেননি।

--------------------------------------------

(১) (২/ ২৪৩)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৭)
[ص 16] واستدلَّ الشارحُ على نسخ ركنية الفاتحة بحديث المسيء صلاته، وقد مرَّ الكلام عليه، وبيَّنا أن تلك القصة كانت قبل بدر، وأحاديث إيجاب الفاتحة متأخرة عن هذا التاريخ، وأنَّ في بعض طرقه تعيين الفاتحة، فإن ثبَّتنا تلك الزيادة فذاك، وإن ادَّعينا النسخَ فأحاديث إيجاب الفاتحة هي الناسخة لتأخرها.

ثم قال الشارح: (وأيضًا يدلُّ عليه ما رواه مسلمٌ(1) بسند صحيح عن أبي هريرة: "لا صلاة إلَاّ بقراءة").

أقول: هو مرفوع، وغاية ما فيه أنه مطلقٌ وأحاديث إيجاب الفاتحة تُقيِّده.

فإن زعم زاعمٌ أنه إنما يقول بالتقييد في مثل هذا إذا كان متصلًا، فإن لم يكن متصلًا فالمتأخر ناسخٌ، فإن جُهل التاريخ فالترجيح.

قلنا له: مذهب أبي هريرة تعيين الفاتحة، وذلك يدلُّ إنْ كان نسخٌ على أنَّ المطلق هو المنسوخ.

ويؤكِّد هذا أننا لو قلنا: إنَّ المطلق هو الناسخ لزم من يحتجُّ بالإطلاق في حديث المسيء صلاته أنَّ الحكم كان على الإطلاق، ثم نُسخ بتعيين الفاتحة، ثم نسخ تعيين الفاتحة بالإطلاق. ومثل هذا إن وُجِد في الشريعة فنادر، والحمل على الغالب أولى.

ثم قال: (وأيضًا روى مسلمٌ(2) عن أبي هريرة قال: "في كل صلاةٍ

--------------------------------------------

(1) رقم (396/ 42).

(2) رقم (396/ 44).
[পৃষ্ঠা ১৬] ভাষ্যকার সূরা ফাতিহা রুকন হওয়া রহিতকরণের (نسخ) স্বপক্ষে 'সালাতে ভুলকারী' (মুসিউস সালাত) ব্যক্তির হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা হয়েছে এবং আমরা স্পষ্ট করেছি যে, সেই ঘটনাটি বদর যুদ্ধের পূর্বের, আর ফাতিহা ওয়াজিব করার (إيجاب) হাদিসগুলো এই তারিখের পরের। এছাড়া এর কোনো কোনো সূত্রে (طرق) ফাতিহাকে নির্দিষ্ট করার বিষয়টিও রয়েছে। যদি আমরা সেই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) সাব্যস্ত করি তবে তো ভালোই, আর যদি আমরা রহিতকরণের (نسخ) দাবি করি, তবে ফাতিহা ওয়াজিব করার হাদিসগুলোই পরবর্তী হওয়ার কারণে রহিতকারী (ناسخة) হিসেবে গণ্য হবে।

অতঃপর ভাষ্যকার বলেন: (এছাড়াও মুসলিম একটি সহিহ সনদে (سند صحيح) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাও এর প্রমাণ দেয়: "কিরাত ব্যতীত কোনো সালাত নেই")।

আমি বলি: এটি মারফু (مرفوع), আর এর সর্বোচ্চ পর্যায় হলো এটি একটি সাধারণ বা শর্তহীন (مطلق) বর্ণনা, এবং ফাতিহা ওয়াজিব করার হাদিসগুলো একে সুনির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ (تقييد) করে।

যদি কোনো দাবিদার দাবি করেন যে, এই ধরনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টকরণ (تقييد) তখনই বলা যাবে যখন তা সংশ্লিষ্ট হবে; আর যদি সংশ্লিষ্ট না হয় তবে পরবর্তীটি হবে রহিতকারী (ناسخ)। আর যদি তারিখ বা ইতিহাস জানা না থাকে তবে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার নীতি অবলম্বন করতে হবে।

আমরা তাকে বলি: আবু হুরায়রা (রা.)-এর মাযহাব হলো ফাতিহাকে নির্দিষ্ট করা। আর এটি প্রমাণ করে যে, যদি রহিতকরণ (نسخ) হয়েই থাকে তবে সেই সাধারণ বা শর্তহীন (مطلق) বর্ণনাটিই হলো রহিত (منسوخ)।

এটি এই বিষয়টিকে আরও সুদৃঢ় করে যে, আমরা যদি বলি সাধারণ বা শর্তহীন (مطلق) বর্ণনাটিই রহিতকারী (ناسخ), তবে যারা 'সালাতে ভুলকারী'র হাদিসে সাধারণত্বের (إطلاق) ওপর দলিল পেশ করেন তাদের কথা অনুযায়ী এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে—প্রথমে বিধানটি সাধারণ ছিল, তারপর ফাতিহা নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে তা রহিত হয়, এরপর পুনরায় ফাতিহা নির্দিষ্ট করার বিষয়টি সাধারণ বিধানের মাধ্যমে রহিত হয়ে যায়। শরয়ি বিধানে এমন উদাহরণ বিরল; তাই যা সচরাচর ঘটে (গ্যালিব) তাকে গ্রহণ করাই শ্রেয়।

অতঃপর তিনি বলেন: (অনুরূপভাবে মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "প্রত্যেক সালাতেই...

--------------------------------------------

(১) নম্বর (৩৯৬/ ৪২)।

(২) নম্বর (৩৯৬/ ৪৪)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৮)
قراءةٌ، ومن قرأ بأم القرآن أجزأتْ عنه" لعلَّه أراد: أجزأت عن قراءة القرآن، وفتوى الراوي خلاف روايته دليلٌ على نسخ روايته).

أقول: لفظ مسلم: "قال أبو هريرة: في كل صلاةٍ قراءة؛ فما أسْمَعَنا النبي صلى الله عليه وآله وسلم أسمَعْناكم، وما أخفَى منا أخفيناه منكم، ومن قرأ بأم الكتاب فقد أجزأتْ عنه، ومن زاد فهو أفضل".

وكأنَّ مراد الشارح أنَّ قوله: "في كل صلاة قراءة" يدلُّ على أنَّه يُجزئ ما يحصل به اسم القراءة؛ لأنَّ لفظ "قراءة" مطلقٌ، وأنَّ قوله: "ومن قرأ بأم الكتاب فقد أجزأتْ عنه" لا ينافي الإطلاق.

وإنما المعنى: أنه يحصل بها ما يسمَّى "قراءة" كما يحصل بغيرها، وهذا قريب؛ ولكن قوله: "ومن زاد فهو أفضل" يُبطِل هذا الاحتمال، وإنما وِزانُه وِزانُ قولك لخادمك: اشترِ لنا فاكهة العنب وحده يكفي، وإن زدتَ فهو أحسن. فمدلول هذا الكلام: أنَّ العنب لا بد منه على كل حال، ويحسنُ زيادة فاكهة أخرى معه.

وتحريره: أنَّ النكرة قد ترِدُ للإطلاق، وقد تردُ للإبهام. وقولك: "اشترِ لنا فاكهة" مبهم فسَّرته بآخر كلامك؛ فكذا لفظ "قراءة" في كلام أبي هريرة.

ومع ذلك فمذهب أبي هريرة في تعيين الفاتحة مشهور، فإذا ورد عنه فتوى [ص 17] بصورة الإطلاق وجب تقييدها بما عُرِفَ من مذهبه.

ثم ذكر الشارح قول ابن حجر: إنَّ أقوى أجوبة الشافعية عن حديث المسيء صلاته حملُه على العاجز عن تعلُّم الفاتحة؛ جمعًا بينه وبين حديث: "لا تُجزِئ صلاةٌ لا يَقرأ الرجل فيها بأمِّ القرآن"(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن خزيمة (490) وابن حبان (1789، 1794) وغيرهما من حديث أبي هريرة.
"কিরাত (পঠন), আর যে ব্যক্তি উম্মুল কুরআন পাঠ করল তা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হলো" - সম্ভবত তিনি এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন: এটি পূর্ণ কুরআন পাঠের পরিবর্তে যথেষ্ট হয়েছে। আর বর্ণনাকারীর ফতোয়া তার বর্ণিত হাদিসের বিপরীত হওয়া তার বর্ণিত বিষয়টি রহিত (نسخ) হওয়ার প্রমাণ।

আমি বলব: মুসলিম-এর শব্দগুলো হলো: "আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: প্রত্যেক সালাতে কিরাত রয়েছে; সুতরাং নবী (সা.) আমাদের যা শুনিয়েছেন আমরাও তোমাদের তা শুনিয়েছি এবং তিনি আমাদের নিকট যা গোপন (নীরব) রেখেছেন আমরাও তোমাদের নিকট তা গোপন রেখেছি। আর যে ব্যক্তি উম্মুল কিতাব পাঠ করল তা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হলো, আর যে ব্যক্তি আরও বৃদ্ধি করল তা অধিক উত্তম।"

মনে হচ্ছে ব্যাখ্যাকারীর উদ্দেশ্য হলো যে, তাঁর উক্তি: "প্রত্যেক সালাতে কিরাত রয়েছে" এটি নির্দেশ করে যে, যার মাধ্যমে কিরাতের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় তাই যথেষ্ট হবে; কারণ "কিরাত" শব্দটি এখানে নিঃশর্ত (مطلق)। আর তাঁর উক্তি: "যে ব্যক্তি উম্মুল কিতাব পাঠ করল তা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হলো" এটি উক্ত নিঃশর্ত প্রয়োগের (إطلاق) সাথে সাংঘর্ষিক নয়।

বরং এর অর্থ হলো: এর মাধ্যমে তা অর্জিত হয় যাকে "কিরাত" বলা হয়, যেমনটি অন্য কিছুর মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে। এই ব্যাখ্যাটি যুক্তিযুক্ত; তবে তাঁর উক্তি: "যে ব্যক্তি বৃদ্ধি করল তা অধিক উত্তম" এই সম্ভাবনাকে বাতিল করে দেয়। এর উপমা হলো তোমার খাদেমকে বলা: "আমাদের জন্য ফল ক্রয় করো, শুধু আঙ্গুরই যথেষ্ট হবে, তবে যদি আরও বৃদ্ধি করো তবে তা উত্তম।" এই কথার নির্যাস হলো: আঙ্গুর তো যেকোনো অবস্থাতেই অপরিহার্য, আর এর সাথে অন্য ফল বৃদ্ধি করা উত্তম।

এর বিশ্লেষণ হলো: অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة) কখনো নিঃশর্ত প্রয়োগের (إطلاق) জন্য আসে, আবার কখনো অস্পষ্টতা (إبهام) বুঝাতে আসে। তোমার কথা: "আমাদের জন্য ফল ক্রয় করো" এটি অস্পষ্ট (مبهم), যা তুমি তোমার শেষ উক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করেছ। আবু হুরায়রা (রা.)-এর কথায় "কিরাত" শব্দটিও তদ্রূপ।

তদুপরি সূরা ফাতিহা নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রা.)-এর মাযহাব বা অভিমত সুপ্রসিদ্ধ। সুতরাং যদি তাঁর থেকে কোনো নিঃশর্ত (إطلاق) ফতোয়া বর্ণিত হয় [পৃষ্ঠা ১৭], তবে তাঁর সুপরিচিত মাযহাবের আলোকে সেটিকে শর্তযুক্ত (تقييد) করা আবশ্যক।

অতঃপর ব্যাখ্যাকারী ইবনে হাজারের উক্তি উল্লেখ করেছেন: সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির (মুসিউস সালাত) হাদিসের বিপরীতে শাফেয়ীদের সবচেয়ে শক্তিশালী জবাব হলো, এটিকে সূরা ফাতিহা শিখতে অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা; যাতে উক্ত হাদিস এবং "যে সালাতে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করে না তা যথেষ্ট হবে না" এই হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায়।(1)

--------------------------------------------

(1) এটি ইবনে খুজাইমা (৪৯০) ও ইবনে হিব্বান (১৭৮৯, ১৭৯৪) এবং অন্যান্যগণ আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ১৯)
ثم اعترضه الشارح بأنه لا يتعيَّن ذلك، قال: (ويمكن أن يكون الأمر كما قلنا: إنَّ ركنية الفاتحة وضمِّ شيءٍ معها من القرآن كان في أول الأمر، وفيه حديث: "لا تجزيء صلاةٌ لا يَقرأ الرجل فيها بأم القرآن"، وغيره من الأحاديث التي تدلُّ بهذا المعنى. ثم لمَّا وقعت المنازعة مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم والمخالجة في قراءته صلى الله عليه وآله وسلم أمر النبي صلى الله عليه وآله وسلم بترك السورة والاكتفاء على الفاتحة. ثم لما نزلت: {وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ … } إلخ [الأعراف: 204] أمر النبي صلى الله عليه وآله وسلم بترك القراءة مطلقًا. وعلى هذا تتوافق جميع الأحاديث بدون تعارضٍ فيها، والتوافق هو المتعيِّن عند التعارض لو يمكن. ومن هذا الوقت نُسِخت فرضية الفاتحة لما نزل فيه: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} [المزمل: 20])، فأمر النبي صلى الله عليه وآله وسلم بعده للمسيء: "واقرأ ما تيسَّر معك من القرآن").

[ص 18] أقول: أما حديث المسيء صلاته فقد مرَّ الكلام عليه بما يغني، والحمد لله.

وأما ما أبداه الشارح من التوفيق فأقلُّ ما فيه أنه (لَخْبطة).

فإنه زعم أنَّ ترتيب نزول الأحكام هكذا: أحاديث وجوب الفاتحة وشيءٍ معها، ثم أحاديث نهي المأموم عن الزيادة، ومنها حديث عمران(1) وأبي هريرة في المخالجة والمنازعة، ثم نزول آية الإنصات، ثم نهي النبي صلى الله عليه وآله وسلم المأموم عن القراءة مطلقًا، ثم نزول آية القراءة، ثم قصة المسيء صلاته.

والترتيب الصحيح الثابت بالأدلة العلمية هكذا:

آية القراءة؛ فإنها من سورة المزَّمل، وسورة المزَّمل مكية اتفاقًا.

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل، ولعل الصواب "عبادة".
এরপর ব্যাখ্যাকারী (الشارح) তার ওপর এই বলে আপত্তি করেছেন যে, বিষয়টি এমন হওয়া অবধারিত নয়। তিনি বলেন: (এবং সম্ভবত বিষয়টি এমন হতে পারে যেমনটি আমরা বলেছি: সুরা ফাতিহার স্তম্ভ হওয়া (ركنية) এবং তার সাথে কুরআনের অতিরিক্ত কিছু অংশ মেলানো ইসলামের প্রাথমিক যুগের বিষয় ছিল। এ প্রসঙ্গে হাদিস রয়েছে: "সেই ব্যক্তির সালাত যথেষ্ট হবে না, যে তাতে উম্মুল কুরআন পাঠ করে না" এবং এ জাতীয় অর্থ নির্দেশকারী অন্যান্য হাদিস। এরপর যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কিরাত পাঠ নিয়ে বিবাদ ও বিভ্রান্তি (المخالجة) দেখা দিল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সুরা পাঠ ত্যাগ করে কেবল ফাতিহার ওপর ক্ষান্ত থাকার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর যখন নাযিল হলো: {আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়...} ইত্যাদি [আরাফ: ২০৪], তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সাধারণভাবে কিরাত ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করলেন। আর এর ওপর ভিত্তি করেই সকল হাদিসের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য (تعارض) ছাড়াই সামঞ্জস্য তৈরি হয়; আর যখন সম্ভব হয়, তখন বৈপরীত্যের (تعارض) ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যবিধান (التوافق) করাই অবধারিত। আর এই সময় থেকেই সুরা ফাতিহা ফরজ হওয়া (فرضية) রহিত (نسخت) হয়ে যায়, যখন এই আয়াত নাযিল হলো: {অতএব কুরআন থেকে যা সহজ হয় তা পাঠ করো} [মুযাম্মিল: ২০]); এরপরেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সালাতে ভুলকারী ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন: "এবং তোমার সাথে কুরআনের যা সহজ হয় তা পাঠ করো")।

[পৃষ্ঠা ১৮] আমি বলি: সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিসের ব্যাপারে পর্যাপ্ত আলোচনা ইতিবাহিত হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

আর ব্যাখ্যাকারী (الشارح) সামঞ্জস্যবিধানের (التوفيق) যে প্রয়াস দেখিয়েছেন, সে সম্পর্কে ন্যূনতম কথা হলো এটি একটি "বিশৃঙ্খলা (لخبطة)"।

কেননা তিনি ধারণা করেছেন যে, বিধানাবলি অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমধারা নিম্নরূপ: সুরা ফাতিহা ও তার সাথে অতিরিক্ত কিছু পাঠ ওয়াজিব হওয়া (وجوب) সংক্রান্ত হাদিসসমূহ, এরপর অতিরিক্ত পাঠ থেকে মুক্তাদিকে নিষেধ করার হাদিসসমূহ; যার মধ্যে রয়েছে বিভ্রান্তি ও বিবাদ সংক্রান্ত ইমরান(১) ও আবু হুরায়রার হাদিস, এরপর চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে শোনা (الإنصات) সংক্রান্ত আয়াত অবতরণ, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক মুক্তাদিকে সাধারণভাবে কিরাত পাঠে নিষেধ করা, এরপর কিরাতের আয়াত নাযিল হওয়া এবং সবশেষে সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির ঘটনা।

অথচ ইলমি দলিলের ভিত্তিতে প্রমাণিত সঠিক (صحيح) ক্রমধারা হলো নিম্নরূপ:

কিরাতের আয়াত; কারণ এটি সুরা মুযাম্মিলের অন্তর্ভুক্ত এবং সুরা মুযাম্মিল সর্বসম্মতিক্রমে মক্কী সুরা।

--------------------------------------------

(১) মূলে এভাবেই আছে, সম্ভবত সঠিক (صواب) পাঠ হবে "উবাদাহ"।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২০)
وفي "الإتقان"(1) عن جابر بن زيد: "أنَّ أول ما نزل (اقرأ)، ثم (ن والقلم)، ثم المزمل، ثم المُدثِّر، ثم الفاتحة"، ثم ذكر ثلاثًا وثلاثين سورة، ثم قال: "ثم الأعراف"، وذكر الباقي.

وفي "الصحيحين"(2) عن جابر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "إني جاورتُ بحراءَ؛ فلما قضيتُ جِواري نزلتُ، فاستبطنتُ الوادي، فنظرت أمامي وخلفي، وعن يميني وشمالي، ثم نظرت إلى السماء؛ فإذا هو ــ يعني: جبريل ــ فأخذتْني رجفةٌ، فأتيت خديجة، فأمرتُهم فدثَّروني؛ فأنزل الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (1) قُمْ فَأَنْذِرْ} [المدثر: 1، 2] ".

وهذا ظاهر أنَّ سورة المدثر نزلت في أوائل النبوَّة، وقد قال جابر بن زيد: "إنَّ سورة المزمِّل نزلت قبل سورة المدَّثر".

وفي "صحيح مسلم" و"مسند أحمد"(3) وغيرهما عن عائشة: ذكرتْ سورة المزمِّل، ثم قالت: "فإنَّ الله افترض قيام الليل في أول هذه السورة؛ فقام نبي الله وأصحابه حولًا، وأمسك الله خاتمتها اثني عشر شهرًا في السماء، حتى أنزل الله تعالى في آخر السورة التخفيف، وصار قيام الليل تطوُّعًا".

وقد زعم بعضهم أنَّ آية القراءة وما بعدها مدنيٌّ؛ ذكره الحافظ في "الفتح"(4) في أول كتاب الصلاة، وردَّه، فإن شئت فارجع إليه.

--------------------------------------------

(1) (1/ 168).

(2) البخاري (4922، 4924) ومسلم (161/ 257).

(3) "صحيح مسلم" (746) و"المسند" (24269). وانظر تعليق المحققين عليه.

(4) (1/ 465).
এবং "আল-ইতকান"(১) গ্রন্থে জাবির ইবনে যাইদ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো (ইকরা), এরপর (নূন ওয়াল কলম), এরপর আল-মুজ্জাম্মিল, এরপর আল-মুদ্দাসসির, এরপর আল-ফাতিহা।" এরপর তিনি তেত্রিশটি সূরার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন: "এরপর আল-আ’রাফ," এবং অবশিষ্টগুলোর কথা উল্লেখ করেন।

এবং "সহীহাইন"(২)-এ জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি হেরা গুহায় অবস্থান করছিলাম; যখন আমার অবস্থানের মেয়াদ শেষ হলো, আমি নিচে নেমে এলাম এবং উপত্যকার সমতলে পৌঁছালাম। তখন আমি আমার সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে তাকালাম। এরপর আকাশের দিকে তাকালাম; হঠাৎ দেখি তিনি—অর্থাৎ জিবরাঈল। তখন আমি প্রচণ্ডভাবে প্রকম্পিত হলাম। আমি খাদিজার কাছে ফিরে এলাম এবং তাদেরকে (কাপড় জড়িয়ে দিতে) আদেশ করলাম, ফলে তারা আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত করল। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {হে চাদরাবৃত! (১) উঠুন এবং সতর্ক করুন} [আল-মুদ্দাসসির: ১, ২]।"

এটি স্পষ্ট যে, সূরা আল-মুদ্দাসসির নবুওয়াতের প্রাথমিক যুগে অবতীর্ণ হয়েছে। আর জাবির ইবনে যাইদ বলেছেন: "নিশ্চয়ই সূরা আল-মুজ্জাম্মিল সূরা আল-মুদ্দাসসিরের আগে অবতীর্ণ হয়েছে।"

এবং "সহীহ মুসলিম" ও "মুসনাদ আহমাদ"(৩) এবং অন্যান্য গ্রন্থে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: তিনি সূরা আল-মুজ্জাম্মিল সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা এই সূরার শুরুতে রাতের কিয়াম (সালাত) ফরজ করেছিলেন; ফলে আল্লাহর নবী ও তাঁর সাহাবীগণ এক বছর পর্যন্ত তা পালন করেন। আল্লাহ বারো মাস পর্যন্ত এই সূরার শেষাংশ আসমানে স্থগিত রাখেন, অবশেষে আল্লাহ তাআলা সূরার শেষে সহজীকরণ অবতীর্ণ করেন এবং রাতের কিয়াম নফল (تطوُّعًا) হিসেবে গণ্য হয়।"

এবং কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, কিরাআতের (পড়ার) আয়াত এবং তার পরবর্তী অংশ মাদানি (مدني); হাফিজ (ইবনে হাজার) এটি "ফাতহুল বারী"(৪) গ্রন্থের সালাত অধ্যায়ের শুরুতে উল্লেখ করেছেন এবং তা খণ্ডন করেছেন। আপনি চাইলে সেখানে দেখে নিতে পারেন।

--------------------------------------------

(১) (১/ ১৬৮)।

(২) বুখারী (৪৯২২, ৪৯২৪) এবং মুসলিম (১৬১/ ২৫৭)।

(৩) "সহীহ মুসলিম" (৭৪৬) এবং "আল-মুসনাদ" (২৪২৬৯)। এর ওপর মুহাক্কিকগণের টীকা দ্রষ্টব্য।

(৪) (১/ ৪৬৫)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২১)
ثم بعدها آية الإنصات؛ لأنها من سورة الأعراف، وهي متأخرة عن سورة المزمل بكثير، على ما تقدَّم عن جابر بن زيد. واحتمالُ أن يكون ترتيب نزول الآيتين على عكس ترتيب نزول السورتين فيه بُعدٌ. والذي لا نشكُّ فيه أنَّ آية الإنصات مكيَّة اتفاقًا، وسيأتي إيضاح ذلك في مسألة قراءة المأموم، إن شاء الله تعالى.

ثم آية القنوت، وحديث المسيء صلاته.

أما آية القنوت فلِما يأتي في الكلام على آية الإنصات. ولم يذكر الشارح آية القنوت، وإنما زدتها تتميمًا للفائدة.

وأما قصة المسيء صلاته فإنها وقعت قبل بدر؛ كما مرَّ تحقيقه، ولم يتبيَّن لي أيُّ هذين كان قبلُ: آية القنوت أم قصة المسيء صلاته؟ فالله أعلم.

ثم أحاديث إيجاب الفاتحة وبقية الأحاديث، ولم يقم عندي دليل على ترتيبها. ولعلَّ من أحاديث وجوب الفاتحة ما تقدَّم على قصة المسيء صلاته؛ بناءً على صحَّة [ص 19] زيادة الأمر بالفاتحة بعينها في حديث المسيء صلاته، ويمكن خلاف ذلك؛ على ما قدَّمناه في الكلام على حديث المسيء صلاته.

والذي لا نشكُّ فيه أنَّ حديث أبي هريرة في وجوب الفاتحة متأخر؛ لأنَّ إسلامه كان سنة سبعٍ أيامَ خيبر، وقد صرَّح بالسماع.

ولفظه عند البيهقي(1) من طريق إسحاق بن راهويه والحميدي عن ابن

--------------------------------------------

(1) في "السنن الكبرى" (2/ 38).
এরপর মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করার আয়াত (আয়াতুল ইনসাত); কেননা এটি সূরা আল-আরাফ-এর অন্তর্ভুক্ত, যা জাবির ইবনে যায়িদ থেকে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী সূরা আল-মুযাম্মিল-এর অনেক পরে অবতীর্ণ। আর সূরা দুটির অবতীর্ণ হওয়ার ক্রমের বিপরীতে এই আয়াত দুটির অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আমরা এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করার আয়াতটি সর্বসম্মতভাবে মক্কী (مكية), আর ইনশাআল্লাহ তাআলা মুক্তাদীর কিরাত পড়ার মাসআলায় এর বিশদ ব্যাখ্যা সামনে আসবে।

এরপর কুনুতের আয়াত এবং ভুলভাবে নামাজ আদায়কারীর হাদিস।

কুনুতের আয়াতের বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করার আয়াতের আলোচনার সময় আসবে। ভাষ্যকার কুনুতের আয়াতটি উল্লেখ করেননি, বরং আমি ফায়দা পূর্ণ করার লক্ষ্যে তা বৃদ্ধি করেছি।

আর ভুলভাবে নামাজ আদায়কারীর ঘটনাটি বদর যুদ্ধের পূর্বে সংঘটিত হয়েছিল, যেমনটি ইতিপূর্বে গবেষণালব্ধ পর্যালোচনার (تحقيق) মাধ্যমে অতিক্রান্ত হয়েছে। আমার নিকট এটি স্পষ্ট নয় যে, এই দুটির মধ্যে কোনটি আগে ছিল: কুনুতের আয়াত নাকি ভুলভাবে নামাজ আদায়কারীর ঘটনা? আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

এরপর সূরা ফাতিহা ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত হাদিসসমূহ এবং অন্যান্য হাদিসসমূহ। তবে এগুলোর ক্রমবিন্যাসের বিষয়ে আমার নিকট কোনো দলিল উপস্থাপিত হয়নি। সম্ভবত সূরা ফাতিহা ওয়াজিব হওয়ার কিছু হাদিস ভুলভাবে নামাজ আদায়কারীর ঘটনার পূর্বেকার; যদি ভুলভাবে নামাজ আদায়কারীর হাদিসে বিশেষভাবে সূরা ফাতিহার আদেশের অতিরিক্ত অংশটির বিশুদ্ধতা (صحة) [পৃষ্ঠা ১৯] প্রমাণিত হয়। তবে এর বিপরীত হওয়াও সম্ভব, যেমনটি আমরা ভুলভাবে নামাজ আদায়কারীর হাদিসের আলোচনায় পূর্বে উল্লেখ করেছি।

আর আমরা এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে, সূরা ফাতিহা ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত আবু হুরাইরাহ (রাযি.)-এর হাদিসটি পরবর্তী সময়ের; কেননা তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল সপ্তম হিজরীতে খায়বার যুদ্ধের দিনগুলোতে, এবং তিনি সরাসরি শোনার (السماع) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

বায়হাকীর নিকট এর শব্দাবলি রয়েছে(১) যা ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এবং হুমায়দী-এর সূত্রে ইবনে... থেকে বর্ণিত।

--------------------------------------------

(১) আস-সুনানুল কুবরা (২/ ৩৮) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২২)
عيينة بسنده عن أبي هريرة قال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "كل صلاةٍ لا يُقرأ فيها بأمِّ الكتاب فهي خِداجٌ، ثم هي خِداجٌ، ثم هي خِداجٌ". فقال: يا أبا هريرة! فإني أكون أحيانًا وراء الإمام؟ ، قال: يا فارسي! اقرأ بها في نفسك؛ فإني سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: قال الله عز وجل: "قَسَمتُ الصلاةَ بيني وبين عبدي، ولعبدي ما سأل؛ فإذا قال العبد: الحمد لله رب العالمين، قال الله: حمدني عبدي". وذكر الحديث، وهو في "صحيح مسلم"(1).

وفي حديث أبي داود(2) وغيره من طريق جعفر بن ميمون عن أبي عثمان النهدي عن أبي هريرة قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "اخرُجْ، فنادِ في المدينة أنه لا صلاةَ إلَاّ بقرآنٍ، ولو بفاتحة الكتاب فما زاد".

وفي روايةٍ لأبي داود(3): "أمرني رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أن أناديَ أنه لا صلاة إلَاّ بقراءة فاتحة الكتاب فما زاد".

وجعفر بن ميمون مختلفٌ فيه.

وفي "الصحيحين"(4) وغيرهما عن عبادة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "لا صلاة لمن لم يقرأ بأم القرآن".

وفي روايةٍ لابن حبان(5) وغيره: "لا تُجزِئ صلاةٌ لا يُقرأ فيها بفاتحة

--------------------------------------------

(1) رقم (395).

(2) رقم (819).

(3) رقم (820).

(4) البخاري (756) ومسلم (394).

(5) رقم (1789، 1794). وأخرجه ابن خزيمة (490) وغيره.
উয়াইনাহ তার সনদের (سند) মাধ্যমে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে সালাতে উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ করা হয় না, তা ত্রুটিপূর্ণ (خداج), পুনরায় তা ত্রুটিপূর্ণ (خداج), পুনরায় তা ত্রুটিপূর্ণ (خداج)।" তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু হুরায়রা! আমি তো কখনো কখনো ইমামের পেছনে থাকি? তিনি বললেন: হে পারস্যবাসী! তুমি তা নিজের মনে মনে পাঠ করো; কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেন: "আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে বণ্টন করেছি, আর আমার বান্দা যা চাইবে তা-ই পাবে; সুতরাং বান্দা যখন বলে: ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’, তখন আল্লাহ বলেন: ‘আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল’।" এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এটি সহীহ মুসলিম-এ রয়েছে।(1).

আর সুনান আবু দাউদ ও অন্যান্যদের কিতাবে জাফর ইবনে মাইমুনের সূত্র (طريق) ধরে আবু উসমান আন-নাহদি থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন: "বের হও এবং মদিনায় ঘোষণা করে দাও যে, কুরআন পাঠ ব্যতীত কোনো সালাত নেই, যদিও তা সূরা ফাতিহা এবং তার অতিরিক্ত অংশ হয়।"

সুনান আবু দাউদ-এর এক বর্ণনায় (رواية): "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি ঘোষণা করি যে, সূরা ফাতিহা এবং তার অতিরিক্ত অংশ পাঠ করা ব্যতীত কোনো সালাত নেই।"

আর জাফর ইবনে মাইমুন-এর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে (مختلف فيه)।

সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে উবাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি উম্মুল কুরআন পাঠ করল না, তার সালাত নেই।"

ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যদের এক বর্ণনায় (رواية): "সেই সালাত যথেষ্ট (تجزئ) হয় না যাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা হয় না..."

--------------------------------------------

(1) নম্বর (395)।

(2) নম্বর (819)।

(3) নম্বর (820)।

(4) বুখারী (756) এবং মুসলিম (394)।

(5) নম্বর (1789, 1794)। ইবনে খুজাইমাহ (490) এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৩)
الكتاب".

وفي روايةٍ لأبي داود والترمذي وأحمد وابن حبان في "صحيحه"(1)، عن عبادة قال: "كنا خلف رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم في صلاة الفجر؛ فقرأ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فثقلت عليه القراءة؛ فلما فرغ قال: "لعلكم تقرءون خلف إمامكم؟ ! " قلنا: نعم هَذًّا يا رسول الله، قال: "لا تفعلوا إلَاّ بفاتحة الكتاب؛ فإنه لا صلاة لمن لم يقرأ بها".

وفي روايةٍ لأبي داود(2) وغيره: " … هل تقرءون إذا جهرتُ بالقراءة؟ فقال بعضنا: إنا نصنع ذلك، قال: "فلا، وأنا أقول: مالي ينازعني القرآن، فلا تقرؤوا بشيءٍ من القرآن إذا جهرتُ إلَاّ بأم القرآن".

وفي "سنن أبي داود"(3) وغيره: عن أبي هريرة قال: "صلَّى بنا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم صلاةً نظنُّ أنها الصبح؛ فلما قضاها قال: "هل قرأ منكم أحد؟ " فقال رجلٌ: نعم أنا يا رسول الله، فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "إني أقول مالي أُنازَع القرآن".

وذكر البيهقي(4) عن سفيان: فنظرت في شيءٍ عندي؛ فإذا هو: "صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم صلاة الصبح"؛ بلا شكٍّ.

--------------------------------------------

(1) أبو داود (823) والترمذي (311) وأحمد (22745، 22746، 22750) وابن حبان (1785، 1792، 1848).

(2) رقم (824) وأخرجه البيهقي في "السنن الكبرى" (2/ 164).

(3) رقم (827).

(4) "السنن الكبرى" (2/ 157).
কিতাব।"

আবু দাউদ, তিরমিজি, আহমাদ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে বর্ণিত একটি বর্ণনায় (رواية)(১) উবাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা ফজরের সালাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কিরাত পাঠ করলেন এবং কিরাত তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ল। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন তখন বললেন: 'সম্ভবত তোমরা তোমাদের ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ করছ?' আমরা বললাম: 'হ্যাঁ, দ্রুততার সাথে, হে আল্লাহর রাসূল।' তিনি বললেন: 'সূরা ফাতিহা ব্যতীত এমনটি করো না; কেননা যে ব্যক্তি এটি পাঠ করে না, তার কোনো সালাত নেই'।"

আবু দাউদ(২) এবং অন্যদের একটি বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: "...আমি যখন সশব্দে কিরাত পাঠ করি, তখন কি তোমরাও কিরাত পাঠ করো? আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল: 'আমরা তা করে থাকি।' তিনি বললেন: 'না (এমন করো না), আর আমি মনে মনে বলছিলাম: কেন আমার সাথে কুরআনের কিরাত নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে! সুতরাং আমি যখন সশব্দে কিরাত পাঠ করি, তখন উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) ব্যতীত কুরআনের কোনো কিছুই পাঠ করো না'।"

"সুনানে আবু দাউদ"(৩) এবং অন্যান্য গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে এমন একটি সালাত আদায় করলেন যা আমরা ফজরের সালাত বলে মনে করেছিলাম। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: 'তোমাদের মধ্যে কেউ কি কিরাত পাঠ করেছ?' এক ব্যক্তি বলল: 'হ্যাঁ, আমি, হে আল্লাহর রাসূল।' তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'আমি মনে মনে বলছিলাম, কেন আমার সাথে কুরআনের কিরাত নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে'।"

বায়হাকি(৪) সুফিয়ান থেকে উল্লেখ করেছেন: "আমি আমার নিকট রক্ষিত একটি নথিতে লক্ষ্য করলাম; সেখানে নিসন্দেহে এটি ছিল: 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করেছেন'।"

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (৮২৩), তিরমিজি (৩১১), আহমাদ (২২৭৪৫, ২২৭৪৬, ২২৭৫০) এবং ইবনে হিব্বান (১৭৮৫, ১৭৯২, ১৮৪৮)।

(২) নম্বর (৮২৪) এবং বায়হাকি এটি "আস-সুনানুল কুবরা" (২/১৬৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(৩) নম্বর (৮২৭)।

(৪) "আস-সুনানুল কুবরা" (২/১৫৭)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৪)
[ص 20] والحفَّاظ يرون أنَّ حديث عبادة الذي في الصحيحين وغيرهما مختصر من حديثه الذي ذكر فيه القصة.

وقد قيل: إنَّ حديث أبي هريرة في المنازعة هو في واقعة حديث عبادة بعينها؛ لاتفاقهما في أكثر الأمور. ويشهد لذلك مذهب أبي هريرة في وجوب قراءة الفاتحة على المأموم في الجهرية وغيرها، وهذه القرائن كافية في إفادة الظنِّ عند أهل العلم، فلا التفاتَ إلى قول الشارح: "لا نسلِّم".

فعلى ما تقدَّم يكون حديث عبادة متأخرًا عن حديث المسيء صلاته جزمًا؛ لأنَّ أبا هريرة شهد القصة.

وفي الاتحاد نظر؛ كما سيأتي إن شاء الله تعالى.

ولكن سيأتي في المسألة الرابعة حديث عبد الله بن عمرو بن العاص قال: "صلَّينا مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم؛ فلما انصرف قال: "هل تقرءون إذا كنتم معي في الصلاة؟ "، قلنا: نعم، قال: "فلا تفعلوا إلَاّ بأم القرآن"(1). وإسلام عبد الله بن عمرو بن العاص متأخر، والظاهر أنَّ قصته هي قصة عبادة، وذلك كافٍ في الدلالة على تأخُّر حديث عبادة.

وحديث عبادة وحديث أبي هريرة أشهر الأحاديث في وجوب الفاتحة. وبقيتْ أحاديث أخرى عن جماعة من الصحابة قد جمع أكثرها البخاري رحمه الله تعالى في "جزء القراءة".

فقد ثبت أنَّ أحاديث وجوب الفاتحة متأخرة عن الآيات الثلاث: آية القراءة، وآية الإنصات، وآية القنوت، ومتأخرة عن حديث المسيء صلاته.

--------------------------------------------

(1) "جزء القراءة" للبخاري (ص 174 - 176).
[পৃষ্ঠা ২০] হাদিস বিশারদগণ (الحفاظ) মনে করেন যে, উবাদাহ-এর হাদিস যা সহিহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তা তাঁর সেই হাদিস থেকে সংক্ষিপ্ত (مختصر) করা হয়েছে যেখানে ঘটনার বিবরণ রয়েছে।

বলা হয়ে থাকে যে: কিরাত নিয়ে বিতর্ক (المنازعة) সংক্রান্ত আবু হুরাইরার হাদিসটি মূলত উবাদাহ-এর হাদিসের সেই একই ঘটনা; কারণ অধিকাংশ বিষয়ে উভয়টির মধ্যে মিল রয়েছে। আর আবু হুরাইরার মাযহাবও এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয় যে, সজোরে কিরাত পাঠের (الجهرية) নামাজ ও অন্যান্য নামাজে মুক্তাদির (المأموم) জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব (وجوب)। আর আলেমদের নিকট প্রবল ধারণা (الظن) সৃষ্টির জন্য এই সকল আলামত (القرائن) যথেষ্ট। সুতরাং ব্যাখ্যাকারীর (الشارح) এই উক্তির প্রতি ভ্রূক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই যে: "আমরা এটি স্বীকার করি না"।

সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে, উবাদাহ-এর হাদিসটি নিশ্চিতভাবে (جزمًا) নামাজে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিসের পরবর্তী সময়ের; কেননা আবু হুরাইরা সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।

তবে উভয়টি একই ঘটনা হওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে; যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।

কিন্তু চতুর্থ মাসআলায় আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর হাদিস আসবে, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামাজ আদায় করলাম; তিনি নামাজ শেষে ফিরে বললেন: 'তোমরা কি আমার সাথে নামাজে থাকা অবস্থায় কিরাত পাঠ করো?' আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: 'উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) ব্যতীত এমনটি করো না'(১)। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর ইসলাম গ্রহণ ছিল পরবর্তী সময়ের। আর বাহ্যত (الظاهر) প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর বর্ণিত ঘটনাটি উবাদাহ-এর বর্ণিত ঘটনাটিই, যা উবাদাহ-এর হাদিসটি পরবর্তী সময়ের হওয়ার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।

সূরা ফাতিহা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার বিষয়ে উবাদাহ ও আবু হুরাইরার হাদিসদ্বয় সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হাদিস। এ বিষয়ে একদল সাহাবির নিকট থেকে আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যার অধিকাংশ ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর "জুযউল কিরাত" গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, সূরা ফাতিহা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার হাদিসগুলো তিনটি আয়াতের (কিরাত সংক্রান্ত আয়াত, মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করার আয়াত এবং কুনুত সংক্রান্ত আয়াত) পরবর্তী সময়ের এবং নামাজে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিসেরও পরবর্তী সময়ের।

--------------------------------------------

(১) বুখারির "জুযউল কিরাত" (পৃষ্ঠা ১৭৪ - ১৭৬)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৫)
فلم يبق بيد الشارح ما يستدلُّ به على نسخ أحاديث فرضية الفاتحة، وقد تقدَّم الجواب عن حديث مسلم: "لا صلاة إلَاّ بقراءة"؛ فثبتت فرضية الفاتحة على الإطلاق.

فأما أحاديث المخالجة والمنازعة وما ورد في نهي المأموم عن القراءة، فسنتكلَّم عليها في مسألة قراءة المأموم، إن شاء الله تعالى.

ثم إنَّ الشارح لم تطب نفسه بما كانت سمحت به من الاعتراف بأنَّ حديث عبادة يدلُّ على الركنية، فقال: (يحتمل حديث: "لا صلاة إلَاّ بفاتحة الكتاب" معنى غير معنى الركنية؛ كما في حديث عائشة الذي رواه مسلم(1)، قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "لا صلاةَ بحضرة الطعام، ولا وهو يدافعه الأخبثانِ". وفي "الشرح الكبير"(2): قال ابن عبد البر: أجمعوا على أنه لو صلَّى بحضرة الطعام فأكمل صلاته أنَّ صلاته تُجزِئه، كذلك إذا صلَّى حاقنًا).

أقول: لفظ الحديث عند الترمذي(3): "لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب".

ثم اعلم أنه لا يرتاب مسلمٌ أنَّ كلمة التوحيد (لا إله إلَاّ الله) صريحةٌ في نفي وجود إله غير الله تعالى، وقوله: "لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب" مثلها؛ فهي صريحةٌ في نفي وجود صلاة لمن لم يقرأ الفاتحة.

--------------------------------------------

(1) رقم (560).

(2) للشمس المقدسي (3/ 595). وانظر "التمهيد" (22/ 206) و"الاستذكار" (6/ 206).

(3) رقم (247).
সূরা ফাতিহা পাঠের আবশ্যকতা (فرضية) বিষয়ক হাদিসসমূহ রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার স্বপক্ষে ভাষ্যকারের কাছে আর কোনো দলিল অবশিষ্ট থাকল না। মুসলিম-এ বর্ণিত "কুরআন পাঠ ব্যতীত কোনো সালাত নেই" শীর্ষক হাদিসটির উত্তর আগেই দেওয়া হয়েছে; সুতরাং নিঃশর্তভাবে ফাতিহা পাঠের আবশ্যকতা (فرضية) প্রমাণিত হলো।

আর কিরাআত নিয়ে বিবাদ ও বিতর্ক (المخالجة والمنازعة) সম্পর্কিত এবং মুক্তাদির কিরাআত পাঠের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, সে সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা মুক্তাদির কিরাআত পাঠের মাসআলায় আলোচনা করব।

অতঃপর উবাদাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসটি যে রুকন হওয়া (ركنية) নির্দেশ করে—ভাষ্যকার ইতোপূর্বে তা স্বীকার করে নিলেও এখন তাতে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না। তিনি বললেন: ("সুরা ফাতিহা ছাড়া সালাত হয় না" হাদিসটি রুকন হওয়া (ركنية) ব্যতীত অন্য অর্থের সম্ভাবনা রাখে; যেমন আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন(১), তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "খাবার উপস্থিত থাকা অবস্থায় এবং মল-মূত্রের বেগ নিয়ে সালাত হবে না"। আর শারহুল কাবীর-এ(২) আছে: ইবনে আব্দুল বার বলেন: তারা ঐকমত্য (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, যদি কেউ খাবার উপস্থিত থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করে এবং তা পূর্ণ করে, তবে তার সালাত যথেষ্ট (تجزئه) হবে। মল-মূত্রের বেগ নিয়ে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা।)

আমি বলি: তিরমিজি-তে হাদিসটির শব্দ হলো(৩): "যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার সালাত নেই"।

অতঃপর জেনে রাখুন যে, কোনো মুসলিমের এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে তাওহীদের বাণী (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্যের অস্তিত্বকে সুস্পষ্টভাবে নাকচ (نفي) করে। আর তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা পাঠ করল না তার সালাত নেই" - এটিও অনুরূপ; সুতরাং এটি ফাতিহা পাঠ না করা ব্যক্তির সালাতের অস্তিত্ব নাকচ (نفي) করার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট (صريحة)।

--------------------------------------------

(১) নং (৫৬০)।

(২) শামস আল-মাকদিসি রচিত (৩/ ৫৯৫)। আরও দেখুন আত-তামহিদ (২২/ ২০৬) এবং আল-ইস্তিজকার (৬/ ২০৬)।

(৩) নং (২৪৭)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن توهَّم أنَّ نفي وجود الصلاة بدون الفاتحة لا يصحُّ وإن قلنا بأنها ركنٌ، لأنها قد توجد في الخارج بدون الفاتحة وإن كانت باطلة= فقد غفل غفلةً شديدة؛ لأنَّ الصلاة في لسان الشارع إنما تصدُق على الصحيحة [ص 21]، وهذا إجماع.

حتى قال الحنفية: إنَّ نهي الشارع عن صلاة مخصوصة يقتضي صحتها؛ لأنها لو كانت لا تصحُّ لما قدر المكلَّف على تحصيلها، فكيف ينهى عنها؟

فقيل لهم: إنما نهى الشارع عن الصورة الظاهرة من الصلاة الباطلة، وهو قادرٌ على تحصيلها. فردُّوه بأنَّ الصلاة في لسان الشارع محمولة على الصحيحة، هذه حقيقتها، فلا يجوز صرفها عنها بغير حجة.

إذا تقرَّر هذا ثبت أنَّ وجود الصورة الباطلة لا يقدح في نفي وجود الصلاة، وهذا واضحٌ جدًّا.

فحديث عبادة صريح في نفي وجود الصلاة بدون قراءة فاتحة الكتاب، وذلك صريح في أنها ركنٌ فيها، لا تصحُّ بدونها.

وهكذا نقول في حديث: "لا صلاة بحضرة الطعام، ولا وهو يدافعه الأخبثان" بأنه صريح في أنَّ الصلاة لا تصحُّ في هذين الموضعين. وإنما لم يعملوا بهذا الحديث لقيام الإجماع القطعي عندهم على خلافه؛ فقالوا: إنَّ الإجماع يدلُّ على نسخ الحديث، أو على أنَّ النبي صلى الله عليه وآله وسلم لما تكلَّم به كانت هناك قرائن فهم منها السامعون صرف اللفظ عن حقيقته.

ولا يرتاب ذو علم أنَّ الكلمة إذا صُرِفت عن حقيقتها لدليل ثم وقعت تلك الكلمة بعينها في كلام آخر لا يسوغ صرفها عن حقيقتها فيه لغير دليل،
আর যে ব্যক্তি মনে করে যে, সুরা ফাতিহা ব্যতীত সালাতের অস্তিত্ব নাকচ করা সঠিক নয়—যদিও আমরা বলি যে এটি একটি স্তম্ভ (ركن)—এই কারণে যে বাহ্যিকভাবে সুরা ফাতিহা ছাড়াও সালাত বিদ্যমান হতে পারে যদিও তা অসার (باطلة) হয়; তবে সে এক গুরুতর গাফিলতির পরিচয় দিয়েছে। কেননা শরীয়ত প্রণেতার পরিভাষায় সালাত কেবল বিশুদ্ধ (صحيحة) সালাতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয় [পৃষ্ঠা ২১], এবং এটি একটি সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع)।

এমনকি হানাফিগণও বলেছেন: শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ সালাত থেকে নিষেধ করা তার বিশুদ্ধতাকেই (صحتها) দাবি করে; কারণ যদি তা বিশুদ্ধ (تصح) না হতো, তবে শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি (مكلف) তা সম্পাদন করতেই সক্ষম হতো না, এমতাবস্থায় কীভাবে তা থেকে নিষেধ করা হতে পারে?

তাদের প্রতি উত্তরে বলা হয়েছে: শরীয়ত প্রণেতা কেবল অসার (باطلة) সালাতের বাহ্যিক রূপটি থেকেই নিষেধ করেছেন, যা সম্পাদন করতে সে সক্ষম। তারা এর প্রত্যুত্তরে বলেছেন যে, শরীয়ত প্রণেতার পরিভাষায় সালাত বলতে বিশুদ্ধ (صحيحة) সালাতকেই বোঝানো হয়, এটাই এর প্রকৃত রূপ, সুতরাং অকাট্য প্রমাণ (حجة) ব্যতীত তা থেকে অন্য অর্থে বিচ্যুত হওয়া জায়েজ নয়।

এটি যখন স্থিরীকৃত হলো, তখন প্রমাণিত হলো যে অসার রূপের বিদ্যমান থাকা সালাতের অস্তিত্বহীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, এবং এটি অত্যন্ত স্পষ্ট।

সুতরাং উবাদাহ বর্ণিত হাদিসটি সুরা ফাতিহা পাঠ ব্যতীত সালাতের অস্তিত্ব নাকচ করার ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থহীন, এবং এটি স্পষ্ট যে ফাতিহা সালাতের একটি স্তম্ভ (ركن), যা ব্যতীত সালাত বিশুদ্ধ (تصح) হয় না।

একইভাবে আমরা এই হাদিসের ক্ষেত্রেও বলি: "খাদ্যের উপস্থিতিতে কোনো সালাত নেই, এবং যা দুই অপবিত্র বস্তু নির্গমনের বেগকে দমন করে," এটি স্পষ্ট করে যে এই দুই অবস্থায় সালাত বিশুদ্ধ (تصح) হয় না। তারা কেবল এই হাদিস অনুযায়ী আমল করেননি কারণ তাদের নিকট এর বিপরীতে সুনিশ্চিত ঐকমত্য (إجماع قطعي) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; ফলে তারা বলেছেন: ঐকমত্য (إجماع) হাদিসটি রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার প্রমাণ দেয়, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম যখন এটি বলেছিলেন, তখন এমন কিছু পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহ (قرائن) ছিল যার মাধ্যমে শ্রোতারা শব্দটিকে তার প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন।

আর কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তি এ বিষয়ে সংশয় পোষণ করেন না যে, কোনো শব্দ যদি প্রমাণের (دليل) কারণে তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়, অতঃপর সেই একই শব্দ যদি অন্য কোনো বক্তব্যে হুবহু আসে, তবে কোনো প্রমাণ (دليل) ব্যতীত তাকে তার প্রকৃত অর্থ থেকে বিচ্যুত করা সংগত নয়।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ولو ساغ ذلك لسقطت ظواهر الكلام كلها؛ لأنه ما من كلمة إلَاّ وقد استعملت أو يجوز استعمالها في خلاف ظاهرها مع نصب القرينة على ذلك، ولا يقول بذلك مسلمٌ، بل ولا عاقلٌ.

على أنَّ حديث: "لا صلاة بحضرة الطعام" قد ورد بلفظ: "لا يصلي أحدكم بحضرة الطعام" إلخ. كذا هو في "صحيح ابن حبان"(1)، ذكره الحافظ في "الفتح"(2) ثم قال: "أخرجه مسلمٌ من طريق حاتم بن إسماعيل وغيره عن يعقوب بن مجاهد عن القاسم. وابن حبان من طريق حسين بن علي وغيره عن يعقوب به. وأخرج له ابن حبان(3) أيضًا شاهدًا من حديث أبي هريرة بهذا اللفظ". يعني بلفظ: "لا يصلي أحدكم".

وقوله: "لا يصلي" إما نهي وإما نفي بمعنى النهي، فلا يكون صريحًا في البطلان، بل يدلُّ عند الحنفية على الصحة، ويحمل عليه لفظ: "لا صلاةَ بحضرة الطعام" جمعًا بين الروايات. بخلاف "لا صلاة بفاتحة الكتاب"، فإنه صريحٌ في النفي المقتضي للبطلان اتفاقًا. ولم يقم دليلٌ يُسوِّغ صرفَه عن ظاهره إلى معنى النهي، والله أعلم.

وقد زعم بعضهم أنَّ نفي الشيء شاع استعماله في المجاز، وهو نفي الكمال؛ حتى صار هذا المجاز حقيقة عرفية، وهذا بهتان عظيم! وكيف يجعل الله تبارك وتعالى (لا إله إلَاّ الله) عنوان التوحيد إذا كان ظاهرها لا يفيد التوحيد

--------------------------------------------

(1) رقم (2074).

(2) (2/ 242).

(3) رقم (2072). وفيه: "لا يُصلِّ" بصيغة النهي.
যদি এটি বৈধ হতো, তবে শব্দের সমস্ত প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) অকার্যকর হয়ে যেত; কারণ এমন কোনো শব্দ নেই যা তার প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়নি অথবা প্রমাণ সাপেক্ষে তার প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে ব্যবহার করা বৈধ নয়। কোনো মুসলিম, এমনকি কোনো বিবেকবান ব্যক্তিও এমন কথা বলেন না।

অধিকন্তু, "খাবার উপস্থিত থাকলে কোনো সালাত নেই" শীর্ষক হাদিসটি "তোমাদের কেউ যেন খাবার উপস্থিত থাকাকালীন সালাত আদায় না করে" ইত্যাদি শব্দে বর্ণিত হয়েছে। সহিহ ইবনে হিব্বান গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে, হাফিজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "মুসলিম এটি হাতেম বিন ইসমাইল ও অন্যদের সূত্রে ইয়াকুব বিন মুজাহিদ থেকে, তিনি কাসেম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে হিব্বান এটি হুসাইন বিন আলী ও অন্যদের সূত্রে ইয়াকুব থেকে একই সনদে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও ইবনে হিব্বান আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে এই শব্দে একটি সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (شاهدًا) উদ্ধৃত করেছেন।" অর্থাৎ: "তোমাদের কেউ যেন সালাত আদায় না করে" এই শব্দে।

আর তাঁর কথা: "সালাত আদায় করবে না" এটি হয় নিষেধ (نهي) অথবা নিষেধের অর্থে না-বোধক (نفي)। সুতরাং এটি স্পষ্টভাবে বাতিল (باطل) হওয়া বোঝায় না, বরং হানাফিদের নিকট এটি বৈধতার (صحة) ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে "খাবার উপস্থিত থাকলে কোনো সালাত নেই" শব্দটিকে এর ওপর প্রয়োগ করা হয়। পক্ষান্তরে, "সুরা ফাতিহা ছাড়া কোনো সালাত নেই" এর বিষয়টি ভিন্ন; কারণ এটি সর্বসম্মতভাবে বাতিল (باطل) হওয়া দাবি করে এমন না-বোধক (نفي) অর্থে স্পষ্ট। আর একে তার প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) থেকে সরিয়ে নিষেধের অর্থে গ্রহণ করার মতো কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আল্লাহই ভালো জানেন।

কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, কোনো কিছুর না-বোধক (نفي) ব্যবহার রূপক অর্থে বহুল প্রচলিত, যা দ্বারা মূলত পূর্ণতা অস্বীকার (نفي الكمال) করা বোঝায়; এমনকি এই রূপক অর্থটি একটি প্রথাগত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এটি এক মহাপাপ! মহান আল্লাহ কীভাবে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ"-কে তাওহিদের মূলমন্ত্র বানাতেন যদি এর প্রকাশ্য অর্থ (ظاهر) তাওহিদ প্রকাশ না করত?

--------------------------------------------

(1) নম্বর (২০৭৪)।

(2) (২/ ২৪২)।

(3) নম্বর (২০৭২)। এতে নিষেধ (نهي) সূচক শব্দে "সে যেন সালাত আদায় না করে" বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৮)
على زعم ذلك القائل؟ ونعوذ بالله من حبٍّ للمذهب يؤدِّي إلى مثل هذا.

على أنَّ مذهب أبي حنيفة رحمه الله تعالى أنَّ الحقيقة المستعملة أولى من المجاز المتعارف الأسبق منها، ذكروه في أصولهم(1).

فإن قيل: إنَّ عموم الحديث مخصوص اتفاقًا، فإنَّ الأبكم ومن لا يُحسِن الفاتحة تصحُّ صلاتهما بدونها، وجمهور العلماء يقولون: إنَّ من أدرك الإمام راكعًا تصحُّ ركعته مع أنه لم يقرأ. وقال الشافعية: إنَّ ذلك قد يتفق في الصلاة كلها، وتصوير ذلك موجود في كتبهم.

وكثير من العلماء أو أكثرهم يقولون: لا قراءة على المأموم في جهرية الإمام. وطائفة منهم قالوا: لا قراءة على المأموم مطلقًا. ودلالة العموم المخصوص على بقية أفراده ضعيفة [ص 22] حتى ردَّها بعض النظَّار.

قلت: أما دعوى أنَّ المأموم لا قراءة عليه مطلقًا أو في ما جهر به الإمام فلا نسلِّمه، وسيأتي بيان هذه المسألة، إن شاء الله تعالى.

وأما المسبوق فقد اختار الإمام البخاري رحمه الله تعالى، ونقله عن بعض الصحابة: أنه لا يدرك الركعة. وهو قول جماعة من أصحابنا الشافعية، وبه أعمل(2).

ومع ذلك فالقائلون بسقوط القراءة عن المأموم مطلقًا أو في ما جهر به الإمام يرون أنَّ قراءة الإمام الفاتحةَ أجزأتْ عن ذلك المأموم، وعلى هذا فيصدق على صلاة هذا المأموم أنه قرأ فيها بفاتحة الكتاب؛ فلا يكون هذا

--------------------------------------------

(1) نصَّ عليه ابن الهمام في "التحرير". انظر "تيسير التحرير" لأمير بادشاه (2/ 57).

(2) للمؤلف رسالة في هذا الباب نُشِرت ضمن هذه المجموعة (1/ 101 - 133).
সেই প্রবক্তার ধারণা অনুযায়ী? আর আমরা মাযহাবের প্রতি এমন অন্ধ ভালোবাসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই যা এই ধরনের পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

অথচ ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মাযহাব হলো, ব্যবহৃত হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ তার পূর্বে প্রচলিত মাজায বা রূপক অর্থের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য; এটি তাঁরা তাঁদের উসুল (মূলনীতিসমূহ)-এ উল্লেখ করেছেন(১)।

যদি বলা হয় যে, হাদিসের ব্যাপকতা (عموم) সর্বসম্মতভাবে নির্দিষ্টকৃত (مخصوص); কারণ বোবা এবং যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা সুন্দরভাবে পড়তে পারে না, ফাতিহা ছাড়াই তাদের সালাত সহিহ (صحيح) হয়। আর জমহুর আলেম বলেন: যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পায়, তার সেই রাকাত সহিহ (صحيح) হবে, যদিও সে তিলাওয়াত করেনি। শাফেয়িগণ বলেন: এটি পুরো সালাতের ক্ষেত্রেই ঘটতে পারে এবং এর রূপরেখা তাঁদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান।

অনেক আলেম বা তাঁদের অধিকাংশ বলেন: ইমামের উচ্চস্বরে তিলাওয়াতের সময় মুক্তাদীর ওপর কোনো কিরাত নেই। তাঁদের একটি দল বলেছেন: সাধারণভাবে (مطلقاً) মুক্তাদীর ওপর কোনো কিরাত নেই। আর নির্দিষ্টকৃত সাধারণ শব্দের (العموم المخصوص) এর অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ওপর দালালাত বা প্রমাণযোগ্যতা হলো দুর্বল (ضعيف) [পৃষ্ঠা ২২], এমনকি কোনো কোনো গবেষক একে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আমি বলি: মুক্তাদীর ওপর কিরাত সাধারণভাবে (مطلقاً) নেই অথবা ইমাম যেখানে উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করেন সেখানে নেই—এই দাবির সাথে আমরা একমত নই। ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে এই মাসআলার বিস্তারিত বর্ণনা আসবে।

আর মাসবূক সম্পর্কে ইমাম বুখারি (রহ.) এই মত গ্রহণ করেছেন এবং কোনো কোনো সাহাবী থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন যে, সে সেই রাকাত পায়নি বলে গণ্য হবে। এটি আমাদের শাফেয়ি সাথীদের একটি দলের অভিমত এবং আমি এর ওপরই আমল করি(২)।

তা সত্ত্বেও, যারা মুক্তাদীর ওপর কিরাত সাধারণভাবে (مطلقاً) অথবা ইমামের উচ্চস্বরে কিরাতের সময় রহিত হওয়ার কথা বলেন, তাঁরা মনে করেন যে ইমামের সূরা ফাতিহা পাঠ সেই মুক্তাদীর পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়েছে। এই হিসেবে সেই মুক্তাদীর সালাত সম্পর্কে এটি সত্য হবে যে, সে তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করেছে; ফলে এটি...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল হুমাম ‘আত-তাহরীর’ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। দেখুন আমীর বাদশাহ রচিত ‘তায়সীরুত তাহরীর’ (২/ ৫৭)।

(২) এই বিষয়ে লেখকের একটি রিসালাহ (পুস্তিকা) রয়েছে যা এই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে (১/ ১০১ - ১৩৩)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ২৯)
تخصيصًا للحديث، وإنما فيه لزوم تأويل "يقرأ" في الحديث بما يعمُّ قراءته بنفسه وما يقوم مقامها من قراءة إمامه، وهذا تأويل للفظ "يقرأ"، لا تخصيص للعموم.

وأما الأبكم ومن لا يُحسِن الفاتحة فإنهما مُستثنيان بالعقل، لامتناع تكليف ما لا يُطاق، وقد قال الله تعالى: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 286].

وحقَّق صدر الشريعة من أئمة الحنفية أنَّ التخصيص بالعقل لا يُضعف دلالة العام. وعبارته في "التنقيح" و"توضيحه"(1): "لكن يجب هناك فرق؛ وهو أنَّ المخصوص بالعقل ينبغي أن يكون قطعيًّا؛ لأنه في حكم الاستثناء، لكنه حذف الاستثناء مُعْتَمِدًا على العقل، على أنه مفروغ عنه(2)، حتى لا نقول: إنَّ قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ} [المائدة: 6] ونظائرَه دليلٌ فيه شبهة، وهذا فرق قد تفرَّدتُ به، وهو واجب الذكر؛ حتى لا يُتوهَّم أنَّ خطابات الشرع التي خصَّ منها الصبي والمجنون بالعقل دليل فيه شبهةٌ؛ كالخطابات الواردة بالفرائض، فإنه يكفر جاحدها مع كونها مخصوصة عقلًا، فإنَّ التخصيص بالعقل لا يورث شبهة، فإنَّ كل ما يوجب العقلُ تخصيصَه يخصُّ، وما لا فلا".

فإن قلت: العقل إنما يدلُّ على أنَّ العاجز لا تلزمه الفاتحة، ولا يدلُّ على صحة صلاته، لأن كونه لا تلزمه الفاتحة يصدق بأحد حكمين: إما أن

--------------------------------------------

(1) (1/ 44).

(2) في الأصل: "مفرغ فيه". والتصويب من المصدر المذكور.
এটি হাদিসের জন্য কোনো সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) নয়, বরং এতে হাদিসে বর্ণিত "পড়বে" শব্দটির এমন ব্যাখ্যার (تأويل) আবশ্যকতা রয়েছে যা তার নিজের পাঠ এবং যা তার স্থলাভিষিক্ত হয় (অর্থাৎ ইমামের পাঠ) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটি "পড়বে" শব্দটির একটি ব্যাখ্যা (تأويل), ব্যাপকতা (عموم)-এর সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) নয়।

আর বাকপ্রতিবন্ধী এবং যারা সুরা ফাতিহা ভালোভাবে পড়তে পারে না, তারা বিচারবুদ্ধির (عقل) নিরিখে ব্যতিক্রম। কারণ সাধ্যাতীত কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া অসম্ভব। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না} [আল-বাকারা: ২৮৬]।

হানাফি ইমামদের মধ্য থেকে সদরুশ শরীয়াহ এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, বিচারবুদ্ধির (عقل) মাধ্যমে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) সাধারণ বোধক (عام) শব্দের নির্দেশক শক্তিকে (دلالة) দুর্বল করে না। আত-তানকিহ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আত-তাওদিহ-এ তার বক্তব্য হলো(১): "তবে এখানে একটি পার্থক্য থাকা আবশ্যক; আর তা হলো, বিচারবুদ্ধি (عقل) দ্বারা যা সুনির্দিষ্ট (مخصوص) করা হয়েছে তা অকাট্য (قطعي) হওয়া বাঞ্ছনীয়। কারণ এটি মূলত ব্যতিক্রমের (استثناء) হুকুমে পড়ে; কিন্তু বিচারবুদ্ধির ওপর নির্ভর করে ব্যতিক্রমটিকে উহ্য রাখা হয়েছে, যেন এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ (مفروغ عنه) বিষয়(২)। এমনকি আমরা এটিও বলি না যে, মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হও} [আল-মায়িদাহ: ৬] এবং এর সদৃশ আয়াতসমূহ এমন কোনো প্রমাণ (دليل) যাতে সংশয় (شبهة) রয়েছে। আর এটি এমন এক পার্থক্য যা আমি এককভাবে উপস্থাপন করেছি এবং এটি উল্লেখ করা আবশ্যক; যাতে এই ভ্রম না হয় যে, শরয়ি সম্বোধনসমূহ থেকে শিশু ও পাগলকে বিচারবুদ্ধির (عقل) কারণে সুনির্দিষ্ট (مخصوص) করায় সেই প্রমাণে (دليل) সংশয় (شبهة) সৃষ্টি হয়েছে; যেমন ফরজ (فرائض) বিধানে বর্ণিত সম্বোধনসমূহ। কারণ ফরজ অস্বীকারকারী কাফির হয়ে যায়, যদিও তা বিচারবুদ্ধির নিরিখে সুনির্দিষ্ট (مخصوص)। কেননা বিচারবুদ্ধির (عقل) মাধ্যমে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) কোনো সংশয় (شبهة) তৈরি করে না। কারণ বুদ্ধি যা সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করা আবশ্যক করে তা সুনির্দিষ্ট (يخص) হবে, আর যা করে না তা হবে না।"

যদি আপনি বলেন: বিচারবুদ্ধি (عقل) কেবল এটিই প্রমাণ করে যে, অক্ষম ব্যক্তির ওপর ফাতিহা পাঠ আবশ্যক নয়, কিন্তু তার সালাত সহিহ হওয়ার প্রমাণ দেয় না। কারণ তার ওপর ফাতিহা আবশ্যক না হওয়া বিষয়টি দুটি বিধানের (حكم) যেকোনো একটির মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে: হয়

--------------------------------------------

(১) (১/ ৪৪)।

(২) মূল পাঠে রয়েছে: "মুফরাগুন ফিহি" (مفرغ فيه)। আর সংশোধনটি উল্লিখিত মূল উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩০)
تصحَّ صلاته بدونها، وإما أن لا تلزمه الصلاة أصلًا.

قلت: الاحتمال الثاني كان منتفيًا عند الصحابة الذين خُوطبوا بالحديث، وكذا عند غيرهم من الأمة؛ بما علموه من القاعدة الشرعية المقرَّرة للصلاة؛ وهي أنَّ من عجز عن شيءٍ من أركانها كان عليه أن يصلِّي، ويأتي بما قدر عليه. وإذا كان هذا مقرَّرًا عندهم فهو في قوَّة الاستثناء؛ لأنه دليل مقارن للنص، فهو كالعقل فيما ذكره صدر الشريعة.

[ص 23] وقد حاول بعضهم(1) أن يجيب عن حديث أبي هريرة، فقال: إنَّ الخِداج معناها الناقصة، ويوضِّح ذلك تفسيره بقوله: "غير تمام"، وهذا يدلُّ أنها صحيحة.

والجواب: أنَّ الخِداج عند أهل اللغة: إلقاء الناقة ولدها لغير تمام الأيام، وإن كان تامَّ الخلق. وقيل: إلقاؤها إياه ناقصًا قبل الوقت. وقيل: إلقاؤها إياه دمًا. وقيل: إلقاؤها إياه أملطَ، لم ينبتْ عليه شعر. قال الأزهري(2): ويقال إذا ألقتْه دمًا: قد خَدجتْ وهو خِداج.

وعلى كل حال فالمعنى: إلقاؤها إياه ميتًا، ولم يصرِّحوا فيما رأيت بقولهم "ميتًا" لأنَّ الإلقاء يدلُّ عليه؛ فإنهم لا يقولون: ألقتْ ولدها إلَاّ إذا كان ميتًا. وفي "اللسان"(3): "أجهضت الناقةُ إجهاضًا وهي مُجهِضٌ: ألقت

--------------------------------------------

(1) انظر "فتح الملهم" للشيخ شبير أحمد العثماني (3/ 252) ط. دار إحياء التراث العربي.

(2) "تهذيب اللغة" (7/ 45).

(3) "لسان العرب" (8/ 400، 401).
তার সালাত এটি (সূরা ফাতিহা) ব্যতীত সহিহ (صحيح) হবে, অথবা তার ওপর মূলত সালাতই আবশ্যক হবে না।

আমি বলছি: দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি সেই সব সাহাবীর নিকট নাকচকৃত ছিল যাদের প্রতি হাদিসটি সম্বোধন করা হয়েছে, এবং উম্মতের অন্যদের নিকটও তা-ই; যা তারা সালাত সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠিত শরয়ি মূলনীতি (قاعدة شرعية) থেকে জানতেন। আর তা হলো: যে ব্যক্তি সালাতের কোনো রুকন (ركن) পালন করতে অক্ষম হবে, তার ওপর সালাত আদায় করা এবং যতটুকু সামর্থ্য আছে তা পালন করা আবশ্যক। আর বিষয়টি যখন তাদের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত, তখন তা একটি ব্যতিক্রমের (استثناء) ন্যায় শক্তিশালী; কেননা এটি নসের (نص) সাথে সংশ্লিষ্ট একটি দলিল, ফলে সদরুশ শারিয়াহ যা উল্লেখ করেছেন তার প্রেক্ষিতে এটি আকল বা যুক্তির (عقل) ন্যায়।

[পৃষ্ঠা ২৩] তাদের মধ্যে কেউ কেউ(১) আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই 'খিদাজ' শব্দের অর্থ হলো ত্রুটিপূর্ণ (ناقصة), আর এটি তার "অসম্পূর্ণ" (غير تمام) ব্যাখ্যার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়; যা নির্দেশ করে যে তা সহিহ (صحيح)।

উত্তর হলো: ভাষাবিদদের মতে 'খিদাজ' শব্দের অর্থ হলো: উষ্ট্রী কর্তৃক পূর্ণ সময় হওয়ার পূর্বেই বাচ্চা প্রসব করা, যদিও তার শারীরিক গঠন পূর্ণাঙ্গ হয়ে থাকে। কেউ কেউ বলেছেন: সময়ের পূর্বে অসম্পূর্ণ (ناقص) অবস্থায় তা প্রসব করা। আবার বলা হয়েছে: রক্তপিণ্ড হিসেবে প্রসব করা। আরও বলা হয়েছে: লোমহীন অবস্থায় প্রসব করা। আল-আজহারি(২) বলেন: যখন উষ্ট্রী রক্তপিণ্ড প্রসব করে তখন বলা হয় 'খাদাজাত' এবং তা হলো 'খিদাজ'।

যাই হোক, এর অর্থ হলো: মৃত অবস্থায় প্রসব করা। আমি যতটুকু দেখেছি তাতে তারা স্পষ্ট করে 'মৃত' শব্দ ব্যবহার করেননি, কারণ প্রসব করা শব্দটিই তা নির্দেশ করে; কেননা তারা 'বাচ্চা প্রসব করেছে' শব্দটি কেবল তখনই ব্যবহার করে যখন সেটি মৃত হয়। "লিসানুল আরব"(৩) গ্রন্থে আছে: "উষ্ট্রী গর্ভপাত ঘটিয়েছে, আর সে হলো গর্ভপাতকারিণী: সে প্রসব করল...

--------------------------------------------

(১) দেখুন শেখ শাব্বির আহমদ উসমানি রচিত "ফাতহুল মুলহিম" (৩/ ২৫২), প্রকাশনী: দার ইহয়াউত তুরাস আল-আরাবি।

(২) "তহজীবুল লুগাহ" (৭/ ৪৫)।

(৩) "লিসানুল আরব" (৮/ ৪০০, ৪০১)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩১)
ولدها لغير تمام … أبو زيد: إذا ألقت الناقة ولدها قبل أن يستبين خلقُه قيل: أجهضت. وقال الفرَّاء: خِدْجٌ، وخَدِيجٌ، وجِهْضٌ، وجَهِيضٌ: للمُجْهَض".

وفيه(1): "أسقطت المرأة ولدها إسقاطًا، وهي مُسقِط: ألقتْه لغير تمام … وأسقطت الناقةُ وغيرها: إذا ألقت ولدها".

وفيه(2): "أَزلقَتِ الفرسُ والناقةُ: أسقطتْ، وهي مُزْلِق: ألقتْه لغير تمام".

وفيه(3): "غَضَنتِ الناقةُ بولدها وغضَّنَتْ: ألقتْه لغير تمام، قبل أن ينبت الشعر عليه ويستبينَ خلقُه".

وقولهم: "وإن كان تامَّ الخلق" لا ينافي الموت كما لا يخفى. فأما إذا كان حيًّا فإنما يقولون: ولدتْ، وضعتْ.

وفي "جزء القراءة" للبخاري(4): "قال أبو عبيد: يقال: أخدجت الناقةُ: إذا أسقطتْ، والسقط ميت، لا ينتفع به".

فحاصل الحديث: أنَّ الصلاة التي لا تقرأ فيها الفاتحة مثل السقط المُلقَى ميتًا، ولا يرتاب منصفٌ أنَّ حياة الصلاة هي صحتها. فأما على ما قاله الأزهري من أنَّ الخداج "إلقاؤها إياه دمًا" فدلالته على البطلان أصرح وأوضح. فأما قوله: "غير تمام" فهو مجملٌ؛ لأنه يقال لمن صلَّى من الظهر

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (9/ 188).

(2) المصدر نفسه (12/ 10).

(3) المصدر نفسه (17/ 190).

(4) (ص 362). وانظر "غريب الحديث" لأبي عبيد (1/ 66).
...তার শাবক অপূর্ণ অবস্থায় … আবু যাইদ বলেন: যখন উষ্ট্রী তার শাবকের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হওয়ার পূর্বেই তা প্রসব করে দেয়, তখন বলা হয়: সে গর্ভপাত করেছে। আর আল-ফাররা বলেন: ‘খিদ্জ’, ‘খাদীজ’, ‘জিহদ’ এবং ‘জাহীদ’ শব্দগুলো গর্ভপাতকৃত শাবকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

এবং তাতে(১) রয়েছে: “নারী তার সন্তানকে গর্ভপাত করার মাধ্যমে ভূমিষ্ঠ করেছে, আর সে হলো গর্ভপাতকারিণী; অর্থাৎ সে তাকে অপূর্ণ অবস্থায় প্রসব করেছে … আর উষ্ট্রী ও অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রে ‘আসকাতাত’ বলা হয় যখন সে তার শাবক প্রসব (গর্ভপাত) করে।”

এবং তাতে(২) রয়েছে: “ঘোড়া ও উষ্ট্রী ‘আযলাকাত’ করেছে মানে হলো গর্ভপাত করেছে, আর সে হলো গর্ভপাতকারিণী; অর্থাৎ সে তাকে অপূর্ণ অবস্থায় প্রসব করেছে।”

এবং তাতে(৩) রয়েছে: “উষ্ট্রী তার শাবককে ‘গাদানাত’ বা ‘গাদ্দানাত’ করেছে: অর্থাৎ সে শাবকের লোম গজানোর এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পষ্ট হওয়ার পূর্বেই তাকে অপূর্ণ অবস্থায় প্রসব করেছে।”

আর তাদের উক্তি: “যদিও তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণ থাকে”—এটি যে মৃত্যুর পরিপন্থী নয়, তা অস্পষ্ট নয়। তবে যদি শাবকটি জীবিত ভূমিষ্ঠ হয়, তবে তারা বলে: সে জন্ম দিয়েছে বা প্রসব করেছে।

এবং বুখারী রচিত জুযউল কিরাআত-এ(৪) রয়েছে: “আবু উবাইদ বলেছেন: বলা হয়, উষ্ট্রী ‘আখদাজাত’ করেছে যখন সে গর্ভপাত করে; আর সেই গর্ভপাতকৃত মৃত শাবক কোনো উপকারে আসে না।”

সুতরাং হাদিসের সারকথা হলো: যে সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা হয় না, তা মৃত অবস্থায় নিক্ষিপ্ত গর্ভপাতকৃত শাবকের মতো। আর কোনো ইনসাফকারী ব্যক্তি এতে সন্দেহ করবেন না যে, সালাতের জীবন হলো তার শুদ্ধতা (صحة)। আর আল-আযহারী যা বলেছেন যে, ‘খিদাজ’ হলো ‘রক্তপিণ্ড অবস্থায় প্রসব করা’, তবে সে অনুযায়ী সালাত বাতিল (بطلان) হওয়ার বিষয়টি আরও অধিকতর স্পষ্ট ও প্রকাশ্য। আর তাঁর কথা ‘অপূর্ণ’ হওয়া বিষয়টি হলো অস্পষ্ট (مجمل); কেননা এটি তার ক্ষেত্রেও বলা হয় যে যোহরের সালাত আদায় করেছে...

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (৯/১৮৮)।

(২) একই উৎস (১২/১০)।

(৩) একই উৎস (১৭/১৯০)।

(৪) (পৃ. ৩৬২)। এবং দেখুন আবু উবাইদ রচিত গারীবুল হাদিস (১/৬৬)।
(খণ্ড: ১৮) মাসাইলুল কিরাআতি ফিস সালাতি ওয়ার রাদ্দু আলা আহাদি শুররাহিত তিরমিযী - দিমনু আসারিল মুআল্লিমী (পৃষ্ঠা: ৩২)
ثلاث ركعاتٍ ثم قطعَها: لم يتمَّ صلاته، ومنه حديث "الصحيحين"(1): "فما أدركتم فصلُّوا، وما فاتكم فأتمُّوا". ويقال لمن صلَّى وترك بعض السنن: لم يُتِمَّ صلاتَه. وعلى هذا فلا ينافي ما اقتضاه قوله: "فهي خداج" من معنى البطلان؛ بل يجب حمله على المعنى الموافق لذلك.

وفي "جزء القراءة"(2) للبخاري: عن عائشة قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "من صلَّى صلاةً لم يقرأ فيها بأمِّ القرآن فهي خداج، فهي خداج".

وفيه(3): عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جدِّه: أنَّ النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "كل صلاة لم يقرأ فيها بأم الكتاب فهي مُخدِجة".

ليس في روايتهما "غير تمام". وكذا في بعض روايات حديث أبي هريرة ليس فيها "غير تمام". فيحتمل ــ والله أعلم ــ أنَّ يكون أبو هريرة زادها مرَّةً تفسيرًا، وقد عُلِمَ مذهبه في وجوب الفاتحة، والله أعلم.

وحديثه الآخر في قول الله تعالى: "قَسَمتُ الصلاةَ بيني وبين عبدي" صريح في الركنية؛ لأنه جعل الفاتحة هي الصلاة، وهو يقتضي أنَّ الفاتحة أعظم ما في الصلاة، ولهذا أكّد به أبو هريرة الحديث الأول، والله أعلم.

ولعلَّ قائلًا يقول: لكن لفظ "صلاة" في كلام الشارع يُحمَل على الصحيحة.

فأقول: أرأيتَ لو قال: "هذه صلاة باطلة" أتحتجُّ بذلك على صحتها؟

--------------------------------------------

(1) البخاري (636، 908) ومسلم (602) من حديث أبي هريرة.

(2) (ص 173).

(3) (ص 67، 68).
তিন রাকাত আদায় করার পর তা বিচ্ছিন্ন করে দিলে: সে তার সালাত পূর্ণ করেনি। এর প্রমাণ হিসেবে রয়েছে 'সহীহাইন'-এর হাদিস: "তোমরা (জামাতের) যতটুকু অংশ পাও তা আদায় করো, আর যা তোমাদের থেকে ছুটে গেছে তা পূর্ণ করো।" আর যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল কিন্তু কিছু সুন্নাত বর্জন করল, তার সম্পর্কেও বলা হয়: সে তার সালাত পূর্ণ করেনি। এর ওপর ভিত্তি করে এটি তার এই বাণীর পরিপন্থী নয়: "তা অসম্পূর্ণ (خداج)"; যা বাতিলের অর্থ বহন করে; বরং একে ওই অর্থের অনুকূলেই গ্রহণ করা ওয়াজিব (واجب)।

এবং বুখারীর 'জুযউল কিরাআত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি এমন কোনো সালাত আদায় করল যাতে উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করল না, তা অসম্পূর্ণ (خداج), তা অসম্পূর্ণ (خداج)।"

এবং তাতে বর্ণিত হয়েছে: আমর ইবনে শুআইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "প্রতিটি সালাত যাতে উম্মুল কুরআন পাঠ করা হয়নি, তা ত্রুটিযুক্ত (مُخدِجة)।"

তাদের উভয়ের বর্ণনায় "পূর্ণতা ব্যতীত (غير تمام)" শব্দগুলো নেই। অনুরূপভাবে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসের কিছু বর্ণনায় "পূর্ণতা ব্যতীত (غير تمام)" কথাটি নেই। তবে সম্ভাবনা রয়েছে—আল্লাহই ভালো জানেন—যে, আবু হুরায়রা (রা.) এটি কোনো এক সময় ব্যাখ্যা (تفسيرًا) হিসেবে বৃদ্ধি করেছেন। আর সূরা ফাতিহা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে তার মাযহাব বা অবস্থান সম্পর্কে জানা গেছে, আল্লাহই ভালো জানেন।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে বিভক্ত করেছি" সংক্রান্ত তার অপর হাদিসটি রুকন হওয়ার (الركنية) বিষয়ে সুস্পষ্ট দলিল; কারণ তিনি সূরা ফাতিহাকেই 'সালাত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর এটি দাবি করে যে, সূরা ফাতিহা সালাতের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ। এজন্যই আবু হুরায়রা (রা.) প্রথম হাদিসটিকে এর মাধ্যমে জোরালো করেছেন, আল্লাহই ভালো জানেন।

সম্ভবত কোনো বক্তা বলতে পারেন: কিন্তু শারীআতের পরিভাষায় 'সালাত' শব্দটি সহীহ (صحيحة) বা সঠিক সালাতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

আমি বলব: আপনার কী অভিমত, তিনি যদি বলতেন: "এটি বাতিল (باطلة) সালাত", তবে কি আপনি তার দ্বারা এর শুদ্ধতার (صحتها) সপক্ষে দলিল পেশ করতেন?

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৬৩৬, ৯০৮) ও মুসলিম (৬০২), আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে।

(২) (পৃ. ১৭৩)।

(৩) (পৃ. ৬৭, ৬৮)।