(খণ্ড: ১)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
رسالة في الكلام على أحكام خبر الواحد وشرائطه - ضمن «آثار المعلمي» القسم: علوم الحديث
الكتاب: رسالة في الكلام على أحكام خبر الواحد وشرائطه
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (19)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عبد الرحمن بن حسن بن قائد
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
একক সংবাদের (خبر الواحد) বিধান ও এর শর্তাবলি বিষয়ক রিসালাহ - «আসার আল-মুআল্লিমি»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
গ্রন্থ: একক সংবাদের (خبر الواحد) বিধান ও এর শর্তাবলি বিষয়ক রিসালাহ
[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৯)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক (المحقق): মুহাম্মাদ উজাইর শামস
পর্যবেক্ষণ করেছেন: মুহাম্মাদ আজমল আল-ইসলাহি - আবদুর রহমান বিন হাসান বিন কায়েদ
প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামেলায় পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» সংস্থা, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১২১)
الرسالة الثانية
رسالة في الكلام على أحكام خبر الواحد وشرائطه
দ্বিতীয় রিসালা
একক বর্ণনা (خبر الواحد)-এর বিধানসমূহ এবং এর শর্তাবলি সংক্রান্ত আলোচনা বিষয়ক রিসালা
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله حمدًا يوافي نِعمَه، ويكافئ مزيده، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، اللهم صلِّ على محمد وعلى آل محمد كما صليت على آل إبراهيم، وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على آل إبراهيم، إنك حميد مجيد، وسلِّمْ تسليمًا كثيرًا.
أما بعد، وجدتُ كلام المتقدمين في أحكام الجرح والتعديل قليلًا ومنتشرًا، وكلام من بعدهم مختلفًا غير وافٍ بالتحقيق. ورأيت لبعض المتأخرين كلامًا حاد فيه عن الصواب، ويُسِّر لي في تحقيق بعض المسائل ما لم أعثر عليه في كتب القوم ــ والله المستعان ــ؛ فأردت أن أقيِّدَ ذلك، ثم رأيت أن أضمَّ إلى ذلك شيئًا من الكلام على أحكام خبر الواحد وشرائطه، فجمعتُ هذه الرسالة، ورتبتُها على ثلاثة أبواب، ومِن الله تعالى أسأل الإعانة والتوفيق.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—এমন প্রশংসা যা তাঁর নেয়ামতের উপযুক্ত এবং তাঁর উত্তরোত্তর অনুগ্রহের সমতুল্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধরদের ওপর বর্ষণ করেছেন। আর আপনি মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেমনটি আপনি ইব্রাহিম (আ.)-এর বংশধরদের ওপর নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। এবং আপনি তাঁর ওপর অঢেল শান্তি বর্ষণ করুন।
অতঃপর, আমি জারহ ও তাদিল বা বর্ণনাকারী মূল্যায়ন (الجرح والتعديل)-এর বিধানাবলী সম্পর্কে পূর্বসূরি (المتقدمين) আলিমদের আলোচনা খুব সামান্য এবং বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পেয়েছি। আর তাঁদের উত্তরসূরি (المتأخرين) আলিমদের বক্তব্য ছিল মতভেদপূর্ণ এবং যথাযথ সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের (التحقيق) জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। আমি পরবর্তীকালের (المتأخرين) কিছু আলিমের এমন বক্তব্য দেখেছি যা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আমার জন্য কতিপয় বিষয়ের গবেষণায় এমন কিছু বিষয় সহজতর হয়েছে যা আমি এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কিতাবসমূহে খুঁজে পাইনি—আর আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল। তাই আমি সেগুলো লিপিবদ্ধ করার সংকল্প করলাম। এরপর আমি এর সাথে একক সংবাদ (خبر الواحد)-এর বিধান এবং এর শর্তাবলি (شرائط) সংশ্লিষ্ট কিছু আলোচনা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। অতঃপর আমি এই পুস্তিকাটি সংকলন করলাম এবং একে তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করলাম। মহান আল্লাহর কাছেই আমি সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
الباب الأولفي بعض ما يتعلق بخبر الواحدوفيه فصول:
الفصل الأولفي وجوب العمل بخبر الواحدهذا أمر مشروح في كتب أهل العلم، وإنما أنبه فيه على ما لم أقف عليه في كتبهم ابتداء، أو رأيتُه غير مستوفًى.
فأقول: أمر الله تبارك وتعالى بطاعة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم، والتحذير من معصيته في عدة آيات من كتابه:
منها قوله تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80]. ولا مخالفَ في ذلك من الأمة، والعرب لا تفرِّق في إطلاق الطاعة والمعصية بين أن يَثبُتَ الأمر عند المأمور يقينًا وأن يثبت ظنًّا، بل كما يقولون لمن واجهه أبوه بالأمر فامتثل: إنه أطاع أباه، وإن لم يمتثل: إنه قد عصى أباه؛ فكذلك يقولون لمن بلغه من وجهٍ يُوثَق به أن أباه أمره، كمن أخبره رجل ثقة عن أبيه، أو ثقة عن ثقة عن أبيه.
وهذا أمر لا يجهله من يعرف لسان العرب، بل والأمر كذلك في سائر الألسنة.
فإذا ثبت هذا ثبت وجوبُ العملِ بخبر الواحد المفيد للظن، وأن من بلغه من وجهٍ يفيد الظن، إن امتثل فقد أطاع، وإلا فقد عصى.
প্রথম পরিচ্ছেদএকক সংবাদ (خبر الواحد) সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের বর্ণনাএতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদএকক সংবাদের (خبر الواحد) ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গেএটি এমন একটি বিষয় যা জ্ঞানীদের কিতাবসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। আমি এখানে কেবল সেসব বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যা প্রাথমিকভাবে তাদের কিতাবসমূহে আমার নজরে পড়েনি অথবা যা অসম্পূর্ণ বলে আমার মনে হয়েছে।
আমি বলছি: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁর কিতাবের একাধিক আয়াতে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা করা থেকে সতর্ক করেছেন:
তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০]। এ ব্যাপারে উম্মতের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। আর আরবরা আনুগত্য ও অবাধ্যতা শব্দদ্বয় ব্যবহারের ক্ষেত্রে, কোনো নির্দেশ আদিষ্ট ব্যক্তির নিকট নিশ্চিতভাবে (يقيناً) প্রমাণিত হওয়া এবং প্রবল ধারণার (ظناً) ভিত্তিতে প্রমাণিত হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। বরং কোনো ব্যক্তির পিতা যদি তাকে সরাসরি কোনো নির্দেশ দেন এবং সে তা পালন করে, তবে তারা যেমন বলে থাকে যে, সে তার পিতার আনুগত্য করেছে; আর যদি পালন না করে তবে বলে যে, সে তার পিতার অবাধ্যতা করেছে; তেমনিভাবে তারা ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই কথা বলে যার কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যমে তার পিতার নির্দেশ পৌঁছেছে। যেমন কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি তাকে তার পিতার পক্ষ থেকে সংবাদ দিল, অথবা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি অন্য একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি থেকে তার পিতার পক্ষ থেকে সংবাদ দিল।
এটি এমন একটি বিষয় যা আরবি ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এমন কারো কাছে অজানা নয়; বরং অন্যান্য সকল ভাষার ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রূপ।
সুতরাং যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন প্রবল ধারণা (ظن) প্রদানকারী একক সংবাদের (خبر الواحد) ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়াও সাব্যস্ত হলো। অতএব, যার কাছে এমন কোনো মাধ্যমে সংবাদ পৌঁছাবে যা প্রবল ধারণা (ظن) সৃষ্টি করে, সে যদি তা পালন করে তবে সে আনুগত্য করল, অন্যথায় সে অবাধ্যতা করল।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
حجة أخرى: قال الله تبارك وتعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ وَلَا تَكُنْ لِلْخَائِنِينَ خَصِيمًا} [النساء: 105].
وواضح أن قوله: {بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ} معناه: بما عرَّفكه وفهَّمكه من الكتاب
(1).
وقد قال تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 79].
ونعت الله سبحانه التوراة بقوله: {تَفْصِيلًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [الأنعام: 154، الأعراف: 145]، ثم أنزل القرآن مهيمنًا على ما قبله.
وقال تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} [النساء: 59].
وقال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65].
[ص 2] وكل من له حظٌّ من العلم، يعلم أنه لا يمكن العالمَ أن يعرف من القرآن وحده، أو منه ومن السنن المتواترة جميع الأحكام التي يحتاج إليها الناس فيما يشجر بينهم، ويختلفون فيه، ويريدون العمل به.
وعُلِم كذلك أن محمدًا صلى الله عليه وآله وسلم خاتم الأنبياء، وشريعتهُ خالدةٌ إلى يوم القيامة، وأن الله تعالى لا يُخلِي الأرضَ عن الحجة
(2). وقد قال تعالى:
--------------------------------------------
অন্য একটি প্রমাণ: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি যথাযথভাবে কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে সে অনুযায়ী বিচার-মীমাংসা করেন যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন। আর আপনি বিশ্বাসভঙ্গকারীদের পক্ষাবলম্বনকারী হবেন না} [আন-নিসা: ১০৫]।
আর এটি স্পষ্ট যে, তাঁর বাণী: {যা আল্লাহ আপনাকে দেখিয়েছেন}-এর অর্থ হলো: কিতাব থেকে যা তিনি আপনাকে অবগত করেছেন এবং বুঝিয়েছেন
(১)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ} [আন-নাহল: ৭৯]।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা তাওরাতকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে গুণান্বিত করেছেন: {প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা} [আল-আনআম: ১৫৪, আল-আরাফ: ১৪৫], অতঃপর তিনি কুরআন অবতীর্ণ করেছেন পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সংরক্ষক ও শ্রেষ্ঠত্বদানকারী হিসেবে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখো} [আন-নিসা: ৫৯]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {অতএব আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে বিচারক মানে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫]।
[পৃষ্ঠা ২] আর যাঁরই ইলম (علم) বা জ্ঞানের সামান্য অংশ রয়েছে, তিনি জানেন যে, কোনো আলেম (عالم)-এর পক্ষে কেবল কুরআন থেকে, অথবা কুরআন ও মুতাওয়াতির (متواترة) সুন্নাহ থেকে মানুষের মধ্যে সংঘটিত বিবাদ, মতভেদ এবং যা তারা আমল করতে চায় তার যাবতীয় বিধানসমূহ (أحكام) জানা সম্ভব নয়।
অনুরূপভাবে এটিও জানা কথা যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম শেষ নবী এবং তাঁর শরীয়ত কিয়ামত পর্যন্ত শাশ্বত, আর আল্লাহ তাআলা জমিনকে হুজ্জাত (حجة) (দলীল) শূন্য করেন না
(২)। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
{إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحِجر: 9]، والذكر يشمل أحكام النبي صلى الله عليه وآله وسلم، إن لم يكن بلفظه فبمعناه، لأن المقصود من حفظ القرآن هو أن تبقى الحجة قائمة إلى يوم القيامة، وأحكامه صلى الله عليه وآله وسلم مما يُحتاج إليه في قيام الحجة في فروع الشريعة.
وقد قيل لابن المبارك: هذه الأحاديث المصنوعة؟ فقال: تعيش لها الجهابذة، {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9]
(1). فاحتج بالآية على أنه لا يمكن أن يُلْصَقَ بالشريعة ما ليس منها، بحيث لا يتيسر لعالم بيانُ أنه ليس منها. فكذلك يُحتجُّ بها على أنه لا يمكن أن يسقط من الشريعة شيء، بحيث لا يبقى لعالمٍ طريقٌ إلى إثبات أنه منها
(2).
فنحن نسأل المخالف أو المرتاب: هل كانت جميع الأحكام التي حكم بها النبي صلى الله عليه وآله وسلم مما ليس بظاهر لنا من القرآن خاصةً بأصحابه، أم عامةً لهم ولمن بعدهم؟
فإن قال: خاصة، فقد كابر وجحد ما هو معلوم من الإسلام بالضرورة.
وإن قال: ما ثبت ثبوتًا قطعيًّا فهو لازم لمن بعد الصحابة، وما لم يثبت
--------------------------------------------
{নিশ্চয় আমিই এই স্মরণিকা অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক} [আল-হিজর: ৯], আর স্মরণিকা বলতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিধিবিধানকেও অন্তর্ভুক্ত করে; যদি তা শব্দগতভাবে না-ও হয়, তবে অর্থগতভাবে অবশ্যই। কারণ কুরআন সংরক্ষণের উদ্দেশ্য হলো কিয়ামত পর্যন্ত দলিল (حجة) যেন সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিধিবিধান শরিয়তের শাখা-প্রশাখায় দলিল (حجة) স্থাপনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: এই যে বানোয়াট (مصنوعة) হাদিসগুলো রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপারে কী হবে? তিনি বললেন: এগুলোর স্বরূপ উন্মোচনের জন্য সুদক্ষ পণ্ডিতগণ জীবিত আছেন, {নিশ্চয় আমিই এই স্মরণিকা অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক} [আল-হিজর: ৯]
(১)। তিনি এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, শরিয়তের সাথে এমন কিছু জুড়ে দেওয়া সম্ভব নয় যা এর অংশ নয়, যাতে করে কোনো আলেমের পক্ষে এর অসারতা বর্ণনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনুরূপভাবে, এই আয়াত দ্বারা এটিও প্রমাণিত হয় যে, শরিয়ত থেকে কোনো কিছু বিলুপ্ত হওয়া সম্ভব নয়, যাতে কোনো আলেমের পক্ষে সেটি যে শরিয়তের অংশ তা প্রমাণের কোনো পথ অবশিষ্ট না থাকে
(২)।
আমরা বিরোধিতাকারী বা সংশয়বাদীদের নিকট জানতে চাই: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যেসব বিধান দিয়েছেন যা আমাদের নিকট কুরআন থেকে সরাসরি স্পষ্ট নয়, সেগুলো কি কেবল তাঁর সাহাবিদের জন্য বিশেষ (خاصة) ছিল, নাকি তাদের জন্য এবং তাদের পরবর্তী সকলের জন্য ব্যাপক ছিল?
সে যদি বলে: "বিশেষ (خاصة) ছিল", তবে সে হঠকারিতা করল এবং ইসলামের এমন বিষয়কে অস্বীকার করল যা অকাট্যভাবে (بالضرورة) সুপরিচিত।
আর সে যদি বলে: "যা অকাট্যভাবে (قطعيًّا) প্রমাণিত হয়েছে তা সাহাবিদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আবশ্যক, আর যা প্রমাণিত হয়নি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
كذلك فليس بلازم، سألناه عمَّا لم يثبت قطعًا: أمقطوعٌ عنده بكذبٍ كلُّ ما رُوِي من ذلك؟
فإن قال: نعم، كابر.
وإن قال: لا، بل منه ما هو صحيح في نفس الأمر.
قلنا: فما كان منه صحيحًا في نفس الأمر، هل كان من الشريعة في حق الصحابة الذين ثبت عندهم قطعًا لسماعهم من النبي صلى الله عليه وآله وسلم مواجهةً، وفي حق من تواتر عنده من التابعين، أو قَطَعَ بصحته لقرائنَ اقترنت بالخبر عنده؟
فإن قال: لا، كابر.
وإن قال: نعم.
قلنا: فهذه الأمور التي كانت من الشريعة لو لم تبقَ الآن من الشريعة لكانت الشريعة الآن ناقصة، ولكانت الحجة مفقودة في كثير من الأحكام التي يحتاج إليها الناس، وذلك خلاف وعد الله تبارك وتعالى، وخلاف حكمته في ختم النبوة ، وغير ذلك.
فإن قال: فما تقولون أنتم في الأحاديث الضعيفة؟
قلنا: ما كان ضعيفًا اتفاقًا وانفرد بأمر ليس عليه دليلٌ آخر تقوم به الحجة فذاك الضعيف باطلٌ قطعًا، وأحسن أحواله أن يكون: كان شيءٌ فَنُسِخَ؛ لأن ما تكفَّلَ به الرب عز وجل من حفظ الشريعة إنما يحصل المقصود منه بحفظ أحكامها حفظًا تقوم به الحجة، والضعيف لا تقوم به الحجة. وقد أوضحتُ هذا في رسالة "الكلام في العمل بالضعيف"
(1)، فليُطلَب تمامُه من هناك.
--------------------------------------------
একইভাবে এটিও আবশ্যক নয়। আমরা তাকে এমন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত (ثبت قطعًا) নয়: যা বর্ণিত (رُوِي) হয়েছে তার সবই কি তার নিকট মিথ্যা হিসেবে নিশ্চিত (مقطوع)?
তিনি যদি বলেন: 'হ্যাঁ', তবে তিনি হঠকারিতা করলেন।
আর যদি বলেন: 'না, বরং এর মাঝে এমন কিছু আছে যা প্রকৃত অর্থেই বিশুদ্ধ (صحيح)'।
আমরা বললাম: তবে যা প্রকৃত অর্থেই বিশুদ্ধ (صحيح), তা কি সেই সাহাবীদের ক্ষেত্রে শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত ছিল না—যাদের নিকট সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শোনার কারণে তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত (ثبت قطعًا) হয়েছিল এবং সেই তাবেঈদের ক্ষেত্রেও কি তা শরীয়ত ছিল না—যাদের নিকট তা নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে (تواتر) অথবা সংবাদের (خبر) সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামতের কারণে যা বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়ার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হয়েছিলেন?
তিনি যদি বলেন: 'না', তবে তিনি হঠকারিতা করলেন।
আর যদি বলেন: 'হ্যাঁ'।
আমরা বললাম: এই বিষয়গুলো যা শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেগুলো যদি এখন শরীয়তের অংশ হিসেবে না থাকে, তবে বর্তমান শরীয়ত অপূর্ণাঙ্গ হয়ে পড়বে। আর মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক বিধানের ক্ষেত্রে অকাট্য দলিল (حجة) হারিয়ে যাবে। এটি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী এবং নবুওয়াতের সমাপ্তির ক্ষেত্রে তাঁর হিকমতের বিরোধী, এছাড়াও আরও অনেক কারণে এটি অসম্ভব।
তিনি যদি বলেন: তবে দুর্বল (ضعيف) হাদিসগুলো সম্পর্কে আপনাদের অভিমত কী?
আমরা বললাম: যা সর্বসম্মতভাবে দুর্বল (ضعيف) এবং এমন কোনো বিষয় বর্ণনায় একক (انفرد) যার স্বপক্ষে অন্য কোনো প্রমাণ নেই যার মাধ্যমে দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে সেই দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাটি নিশ্চিতভাবেই অসার (باطل)। এর সর্বোত্তম অবস্থা হতে পারে এই যে: এটি পূর্বে বিদ্যমান ছিল, অতঃপর তা রহিত (نسخ) হয়ে গেছে। কারণ মহান রব শরীয়ত সংরক্ষণের যে দায়িত্ব নিয়েছেন, তার মূল উদ্দেশ্য তখনই সফল হয় যখন এর বিধানগুলো এমনভাবে সংরক্ষিত থাকে যার মাধ্যমে দলিল (حجة) সাব্যস্ত হয়। অথচ দুর্বল (ضعيف) বর্ণনার মাধ্যমে দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় না। আমি এই বিষয়টি 'আল-কালামু ফিল আমালি বিয-যায়িফ' নামক পুস্তিকায় স্পষ্ট করেছি, সুতরাং বিস্তারিত সেখান থেকে তালাশ করা উচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
حجة ثالثة:قال الله تبارك وتعالى: {يَاأَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ} [المائدة: 67]
(1).
وقد تواتر تواترًا معنويًّا أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم كان يكتفي في كثير من الأحكام بإخبار الواحد أو الاثنين، فلو كان خبر الواحد لا تقوم به الحجة لما حصل به مقصود التبليغ، إذ المقصود تبليغ يتيسَّرُ علم الناس به، ويُبلِّغه الحاضرُ الغائبَ، ثم يتناقله الناس إلى يوم القيامة؛ لما تقدم
(2). ولو كان كذلك
(3) لما اكتفى صلى الله عليه وآله وسلم بذلك، ولا أقرَّه ربه عز وجل عليه.
فإن قيل: فإن الذي سمع ذلك إن كان واحدًا أو اثنين قد يموت قبل أن يُخبر غيره، وقد ينسى، وقد يرتدُّ أو يَفسُق، فكيف يكتفي النبي صلى الله عليه وآله وسلم بإخباره؟
[ص 3] فالجواب: أنه صلى الله عليه وآله وسلم كان يعلم أن ربه عز وجل حافظ له، وحافظ لدينه، وأنه إن علم عز وجل من ذلك الرجل الذي بلَّغه شيئًا مما مرَّ لنبَّه سبحانه نبيَّه، وهداه إلى تبليغ غيره ممن يعلم أنه سيبلِّغ مَن بعده على وجهٍ تقوم به الحجة.
--------------------------------------------
তৃতীয় প্রমাণ:আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {হে রাসূল! আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন, তবে আপনি তাঁর রিসালাত (বার্তাপ্রেরণ) পৌঁছালেন না।} [আল-মায়িদাহ: ৬৭]
(১)।
এটি অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (تواتر معنوي) পর্যায়ের প্রসিদ্ধ যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম অনেক বিধানের ক্ষেত্রে একজনের বা দুজনের সংবাদের ওপর নির্ভর করতেন। যদি একক বর্ণনা (خبر الواحد) দ্বারা প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত না হতো, তবে প্রচারের মূল উদ্দেশ্য সফল হতো না। কেননা প্রচারের উদ্দেশ্য হলো এমনভাবে পৌঁছানো যা মানুষের জন্য জানা সহজসাধ্য হয় এবং উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়, এরপর মানুষ কিয়ামত পর্যন্ত তা পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করে যায়; যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে
(২)। যদি বিষয়টি এমন হতো
(৩), তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর সন্তুষ্ট থাকতেন না এবং তাঁর মহিমান্বিত প্রতিপালকও তাঁকে এর ওপর বহাল রাখতেন না।
যদি বলা হয়: যিনি তা শুনেছেন তিনি যদি একজন বা দুজন হন, তবে অন্যকে জানানোর পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে, অথবা তিনি ভুলে যেতে পারেন, অথবা তিনি ধর্মত্যাগী হতে পারেন কিংবা পাপাচারী (فاسق) হয়ে যেতে পারেন; এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কীভাবে তাঁর সংবাদের ওপর নির্ভর করতেন?
[পৃষ্ঠা ৩] এর উত্তর হলো: তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম জানতেন যে, তাঁর মহিমান্বিত প্রতিপালক তাঁর এবং তাঁর দ্বীনের হিফাযতকারী। আর আল্লাহ যদি সেই ব্যক্তির মধ্যে উল্লিখিত বিষয়গুলোর কোনোটি জানতেন যাকে তিনি (নবী) দ্বীনের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন, তবে সুবহানাহু ওয়া তাআলা অবশ্যই তাঁর নবীকে সতর্ক করতেন এবং অন্য কাউকে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পথ দেখাতেন যার ব্যাপারে তিনি জানেন যে, সে তার পরবর্তী ব্যক্তির কাছে এমনভাবে পৌঁছাবে যার দ্বারা প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
هذا، وفي كتب أهل العلم حجج كثيرة في هذه المسألة، وإنما نبَّهتُ على ما لا أعلمه في كتبهم مشروحًا، كما سلف، والله الموفق
(1).
فإن فُرِض أنه ليس في الحجج على وجوب العمل بخبر الواحد ما يفيد القطعَ بمفردها، فلا ريب أنها باجتماعها تفيد القطع، كما حققه الشاطبي في "الموافقات"
(2).
شبهة المخالف:
ذكروا أن بعض من خالف في هذا زعم أن العقل لا يُجوِّز أن يتعبد الله عز وجل عباده بخبر الواحد.
وظهور بطلان هذا أغناني عن البحث عن توجيه هذا القول، إلا أنه يخطر لي أن وجهه: أن الخبر قد يكون باطلًا، بأن يكون الراوي غلِطَ، أو يكون بخلاف ما ظهر لنا من ثقته فكذبَ، وإذا احتمل البطلان كان التعبد به في صورة بطلانه تعبدًا بالباطل، وذلك محال على الله عز وجل.
والجواب عن هذه الشبهة وغيرها: أنها في معارضة ما ثبت قطعًا، فلا يُعتدُّ بها، وإن كانت قد تُشكِّك الناظر حتى يكاد يرتاب في أن تلك الحجج تفيد القطع، فإن هذا شأن الشُّبه، كما رأينا السوفسطائية يثيرون شبهًا على
--------------------------------------------
এটি ছাড়াও, আলেমগণের কিতাবসমূহে এই মাসআলায় অনেক দলিল রয়েছে। আমি কেবল সেই বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি যা তাদের কিতাবসমূহে বিস্তারিতভাবে (আমার জানামতে) আলোচিত হয়নি, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আল্লাহই তাওফিকদাতা
(১).
যদি ধরে নেওয়া হয় যে, একক সংবাদের (خبر الواحد) ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে উপস্থাপিত দলিলগুলোর কোনটি এককভাবে নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) প্রদান করে না, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এগুলো সমষ্টিগতভাবে নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) প্রদান করে; যেমনটি শাতবি 'আল-মুয়াফাকাত' গ্রন্থে বিশ্লেষণ করেছেন
(২).
বিরোধীদের সংশয়:
তারা উল্লেখ করেছেন যে, যারা এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন তাদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের একক সংবাদের (خبر الواحد) মাধ্যমে ইবাদত করার নির্দেশ দেবেন—বিবেচনাপ্রসূতভাবে এটি সম্ভব নয়।
এই মতামতের অসারতা সুস্পষ্ট হওয়ার কারণে এর ব্যাখ্যার অনুসন্ধান করা থেকে আমি অমুখাপেক্ষী ছিলাম। তবে আমার মনে হয় এর কারণ হলো: সংবাদটি হয়তো ভিত্তিহীন হতে পারে, বর্ণনাকারী ভুল করার কারণে অথবা তার বাহ্যিক নির্ভরযোগ্যতার (ثقة) বিপরীতে তার মিথ্যা বলার কারণে। আর যখন সংবাদটি ভিত্তিহীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখন সেটি বাতিল হওয়ার সুরতে তার ওপর আমল করা বাতিলের মাধ্যমে ইবাদত করার নামান্তর হবে, যা আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে অসম্ভব।
এই সংশয় ও অন্যান্য সংশয়ের উত্তর হলো: এগুলো অকাট্যভাবে প্রমাণিত বিষয়ের পরিপন্থী, তাই এগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও এগুলো পর্যবেক্ষকের মনে এমন সন্দেহ তৈরি করতে পারে যে, তিনি সেই দলিলগুলো নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) প্রদানের ক্ষেত্রে প্রায় সংশয়ে পড়ে যান; আর এটাই হলো সংশয়ের বৈশিষ্ট্য, যেমনটি আমরা দেখেছি সোফিস্টরা নানা সংশয় উত্থাপন করে থাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
المحسوسات والمعقولات الأولية وغيرها مما هو من أجلى القطعيات، فإذا سمع الناظر تلك الشبهات تزلزلَ اعتقادُه قطعيةَ تلك القطعيات أو كاد يتزلزل. ولهذا كان حكماء الأئمة من سلف الأمة يتجنبون سماع الشبهات، وينهون الناس عن مخالطة أهلها وسماع كلامهم.
وحلُّ هذه الشبهة أن من أصل المخالف وغيره من مثبتي الحكمة: أنه لا يُعتدُّ بالشر القليل الناشئ عما ينشأ عنه الخير الكثير، ولا تُترك المصلحة الكبرى لانطوائها على مفسدة صغرى.
فالتعبد بخبر الواحد ــ بشرطه ــ فيه خير كثير ومصالح عظمى، فلا ينظر إلى احتمال أن يكون في بعض الجزئيات باطلًا. وأمثلة ذلك في خلق الله عز وجل معروفة مشهورة. وقد قال تعالى: {لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ} [الأعراف: 54]. وكذلك له أمثلة فيما اتفق عليه من أمره سبحانه، وهو الشريعة، كالتعبد بما يظهر للعالم من دلالة القرآن، وتعبُّدِ القاضي بأن يحكم بالاعتراف وشهادةِ عدلين، والتعبد بركوب البحر وغيره وإن احتمل أن يؤدي إلى الهلاك، وتعبُّدِ المرأة بتمكينها مَن عهدته زوجَها أو سيدَها، وإن احتمل أنه قد طلق أو أعتق، إلى غير ذلك.
ولو اشتُرِط في ذلك وأمثاله حصولُ القطع بالعلم اليقيني لفسدت الأرض، إلا أن يجعل الله عز وجل جميع بني آدم أنبياء يوحى إليهم في كل شيء، وذلك خلاف الحكمة في خلقهم، كما هو مقرر في موضعه.
على أننا لا نسلِّم أن العمل بخبر الواحد ــ الجامعِ للشروط ظاهرًا، الباطلِ باطنًا ــ ليس فيه مصلحة، بل فيه المصلحة العظمى، وهي طاعة الله
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহ, প্রাথমিক যৌক্তিক জ্ঞান এবং অন্যান্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট অকাট্য (قطعيات) বিষয়সমূহও এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যখন একজন পর্যবেক্ষক এ ধরণের সংশয়গুলো শ্রবণ করেন, তখন এসব অকাট্য (قطعيات) বিষয়ের প্রতি তার অকাট্য (قطعية) বিশ্বাস টলে যায় বা টলে যাওয়ার উপক্রম হয়। এই কারণেই উম্মতের পূর্বসূরি (سلف) ইমামগণের মধ্যে যারা প্রজ্ঞাবান ছিলেন, তারা সংশয় শ্রবণ করা পরিহার করতেন এবং মানুষকে সংশয়বাদীদের সাথে মেলামেশা ও তাদের কথা শোনা থেকে নিষেধ করতেন।
এই সংশয়ের সমাধান হলো—ভিন্নমত পোষণকারী এবং হিকমত বা প্রজ্ঞায় বিশ্বাসী অন্যদের মূলনীতি অনুসারে: অনেক বেশি কল্যাণের মধ্য থেকে যে সামান্য অকল্যাণ সৃষ্টি হয়, তাকে ধর্তব্য ধরা হয় না। আবার কোনো বড় কল্যাণ (مصلحة) বা স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়া হয় না এ কারণে যে, তার মধ্যে একটি ছোট অকল্যাণ (مفسدة) নিহিত রয়েছে।
সুতরাং একক বর্ণনা (خبر الواحد)—তার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে—অনুযায়ী ইবাদত করার মধ্যে প্রচুর কল্যাণ ও মহান স্বার্থ নিহিত রয়েছে। তাই কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ে এটি বাতিল (باطل) হওয়ার যে সম্ভাবনা থাকে, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। মহান আল্লাহর সৃষ্টিজগতের মাঝে এর উদাহরণসমূহ সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "সৃষ্টি এবং নির্দেশ তাঁরই" [সূরা আল-আ'রাফ: ৫৪]। ঠিক তেমনিভাবে মহান আল্লাহর নির্দেশাবলি যা শরিয়ত হিসেবে গণ্য, সেগুলোর সর্বসম্মত বিষয়গুলোর মধ্যেও এর উদাহরণ রয়েছে। যেমন—কুরআনের অর্থ বা নির্দেশক (دلالة) থেকে একজন আলেমের নিকট যা প্রতীয়মান হয় সে অনুযায়ী ইবাদত করা; বিচারকের নিকট স্বীকারোক্তি ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدلين) ব্যক্তির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদানের বিধান পালন করা; সমুদ্রযাত্রা বা অনুরূপ কাজ করার বিধান পালন করা যদিও তাতে ধ্বংসের সম্ভাবনা থাকে; এবং একজন নারীর তার স্বামী বা মনিব বলে পরিচিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশার বিধান পালন করা, যদিও সেখানে তালাক হয়ে যাওয়া বা মুক্ত করে দেওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকতে পারে—ইত্যাদি।
যদি এসব ক্ষেত্রে এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলোতে নিশ্চিত (يقيني) জ্ঞান দ্বারা অকাট্য (القطع) প্রমাণের শর্তারোপ করা হতো, তবে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি হতো; যদি না আল্লাহ তাআলা সমস্ত আদম সন্তানকে নবী বানাতেন যাদের নিকট প্রতিটি বিষয়ে ওহি নাযিল হতো। কিন্তু এটি তাদের সৃষ্টির হিকমতের পরিপন্থী, যেমনটি সংশ্লিষ্ট স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
উপরন্তু, আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে—প্রকাশ্যভাবে শর্ত পূরণকারী কিন্তু গোপনে বাতিল (باطل) এমন—একক বর্ণনা (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই; বরং এর মধ্যে মহান কল্যাণ নিহিত রয়েছে, আর তা হলো আল্লাহর আনুগত্য।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
ورسوله، وذلك هو العبادة التي خلق الله الخلق لأجلها، قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56]. فلا يضرُّها احتمالُ أن يكون الخبر في نفس الأمر باطلًا.
أوَلا ترى أن المرأة إذا مكَّنتْ من عهدته زوجَها أو سيدَها امتثالًا لأمر الله عز وجل، ثبت لها الأجر والثواب، حتى في صورة أن يكون ذلك البعل أو السيد لا يحلُّ لها في الباطن، كأن يكون قد طلق أو أعتق ولم تعلَمْ هي، وكأن يكون في نفس الأمر أخاها أو أباها أو ابنها وهي لا تعلم.
على أننا نقول: إن الله تبارك وتعالى رقيبٌ على كل حركة تقع في العالم، فيعدِل بقضائه وقدره ما عساه أن يقع من الخلل بسبب قواعد شريعته، وعلمه سبحانه محيط، وحكمته بالغة، وعلمنا وحكمتنا ناقصان محدودان، فإذا قامت الحجة الشرعية على شيء ولم نفهم وجه الحكمة فيه، أو رأينا أنه خلاف الحكمة فذلك ثمرة قصور علمنا، والله أعلم.
[ص 4] شبهة أخرى:
زعموا أن بعض الظاهرية زعم أن العمل بخبر الواحد وإن لم يمنعه العقل، فقد منع منه الشرع؛ لأنه إنما يفيد الظن
(1)، وقد قال الله عز وجل: {إِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا} [يونس: 36] وما في معناها من الآيات.
وأجيب عنه بأجوبة:
منها: أن الظن في الآيتين هو الخرص، كما قال تعالى: {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا
--------------------------------------------
এবং তাঁর রাসুলের; আর এটাই হলো সেই ইবাদত যার জন্য আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি" [আয-যারিয়াত: ৫৬]। সুতরাং বাস্তবে সংবাদটি (خبر) বাতিল (باطل) হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা (সেই ইবাদতের) কোনো ক্ষতি করে না।
আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, কোনো নারী যখন মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে নিজেকে তার স্বামী বা মুনিবের অধীনস্থ করে দেয়, তখন তার জন্য পুরস্কার ও সওয়াব নির্ধারিত হয়ে যায়; এমনকি বাস্তবে সেই স্বামী বা মুনিব তার জন্য হালাল না হলেও—যেমন সেই ব্যক্তি তাকে তালাক দিয়েছে বা মুক্ত করে দিয়েছে অথচ সে তা জানে না, কিংবা প্রকৃতপক্ষে সে ব্যক্তি তার ভাই, পিতা বা পুত্র এবং সে তা অবগত নয়।
তদুপরি আমরা বলি: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা জগতের প্রতিটি স্পন্দনের ওপর পর্যবেক্ষক। তিনি তাঁর ফয়সালা ও তকদিরের মাধ্যমে শরিয়তের নিয়মনীতির কারণে সম্ভাব্য যেকোনো ত্রুটিকে সংশোধন করে দেন। তাঁর জ্ঞান পরিব্যাপ্ত এবং তাঁর হিকমত বা প্রজ্ঞা সুদূরপ্রসারী; পক্ষান্তরে আমাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অপূর্ণ ও সীমাবদ্ধ। সুতরাং যখন কোনো বিষয়ের ওপর শরয়ী প্রমাণ (حجة شرعية) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আমরা তাতে হিকমতের দিকটি বুঝতে না পারি, অথবা মনে করি যে এটি হিকমতের পরিপন্থী, তবে তা আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতারই ফল। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
[পৃষ্ঠা ৪] অন্য একটি সংশয়:
তারা দাবি করে যে, কোনো কোনো যাহেরি মনে করেন যে একক সংবাদ (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করাকে বিবেক নিষিদ্ধ না করলেও শরিয়ত তা নিষিদ্ধ করেছে; কারণ এটি কেবল ধারণা (ظن) প্রদান করে। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই সত্যের বিপরীতে ধারণা (ظن) কোনো কাজে আসে না" [ইউনুস: ৩৬] এবং এ অর্থবোধক অন্যান্য আয়াতসমূহ।
এর উত্তরে বিভিন্ন জবাব দেওয়া হয়েছে:
তার মধ্যে একটি হলো: আয়াতে ধারণা (ظن) বলতে আন্দাজ বা অনুমান (خرص) বোঝানো হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "তারা তো কেবল অনুসরণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ} [الأنعام: 116]. وعلى ذلك يدُّل السياق في الآيتين، فإنهما في صدد إقامة الحجة على المشركين في قولهم: إن الملائكة بنات الله، وإنهن يشفعن عنده ويستحقِقْنَ العبادة. فإن هذا من الخرص الذي ينبني على خاطر تخيلي.
كمن يرى إنسانًا لم يره قبل ذلك، فيقع في نفسه أنه يريد به شرًّا، فإذا تدبَّر في سبب هذا الظن وجد أن قد كان ناله شرٌّ قبل مدة من إنسان يُشبِهه هذا في الصورة بعضَ الشبه، وإذا رجع إلى عقله علم أن مثل ذلك الشبه الصوري لا يلزم منه ما ظنه، وقد قال الله عز وجل: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ} [الحجرات: 12].
ومنها: أن الظن هنا المراد به الظن المعارض لما هو أرجح منه، فإنَّ ظن المشركين الذي نعاه الله تعالى عليهم في الآيتين معارض للقواطع.
ومنها: أن المراد به الظن فيما لا يكفي فيه إلا القطع، كما في ظن المشركين المنْعِيِّ عليهم في الآيتين، فإنه في العقائد.
وقد يُنظر في هذه الأجوبة بأنها تقتضي تخصيصَ الظن ببعض صوره لخصوص السبب، والمقرر في الأصول أن العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب.
ويجاب عن هذا بأن هذا من التخصيص بالسياق لا بالسبب، وعلى كلٍّ فدلالة العام ظنية، ولاسيما في مثل هذا. فيقال للمخالف: دلالة الآيتين على خصوص خبر الواحد ظنية، فالآيتان بعمومهما تقتضيان بطلانَ هذه الدلالة.
"...ধারণা (الظن) এবং তারা কেবল অনুমান (يخرصون) করে" [আল-আনআম: ১১৬]। আয়াতদ্বয়ের প্রেক্ষাপট (السياق) একথাই নির্দেশ করে; কেননা আয়াত দুটিতে মুশরিকদের এই দাবির বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপনের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে যে, ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা এবং তারা আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবে ও ইবাদতের যোগ্য। নিশ্চয়ই এটি সেই জল্পনা-কল্পনা বা অনুমানের (الخرص) অন্তর্ভুক্ত যা নিছক কাল্পনিক চিন্তার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
যেমন কোনো ব্যক্তি এমন কাউকে দেখল যাকে সে ইতিপূর্বে কখনো দেখেনি, অতঃপর তার মনে এই ধারণা হলো যে সে তার কোনো ক্ষতি করতে চায়। কিন্তু যখন সে এই ধারণার (الظن) কারণ নিয়ে চিন্তা করল, তখন দেখল যে ইতিপূর্বে এমন এক ব্যক্তির দ্বারা সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যার অবয়বের সাথে এই ব্যক্তির কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে। আর সে যখন তার বিচারবুদ্ধির প্রয়োগ ঘটাল, তখন বুঝতে পারল যে কেবল বাহ্যিক আকৃতির এই সাদৃশ্য তার ধারণাকে (ظنه) সত্য সাব্যস্ত করা আবশ্যক করে না। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ ধারণা (الظন) থেকে বেঁচে থাকো, নিশ্চয়ই কিছু ধারণা (الظن) তো পাপ" [আল-হুজুরাত: ১২]।
এর একটি উত্তর হলো: এখানে ধারণা (الظن) বলতে এমন ধারণাকে বোঝানো হয়েছে যা অপেক্ষাকৃত অধিকতর শক্তিশালী (أرجح) প্রমাণের পরিপন্থী। কেননা মুশরিকদের যে ধারণার (ظن) কথা আল্লাহ তাআলা আয়াতদ্বয়ে উল্লেখপূর্বক নিন্দা করেছেন, তা অকাট্য প্রমাণের (القواطع) বিপরীত।
আরেকটি উত্তর হলো: এখানে ধারণা (الظن) বলতে এমন বিষয়কে বোঝানো হয়েছে যেখানে অকাট্য নিশ্চয়তা (القطع) ব্যতীত অন্য কিছু যথেষ্ট নয়। যেমনটি আয়াতদ্বয়ে নিন্দিত মুশরিকদের ধারণার (ظن) ক্ষেত্রে হয়েছে, কারণ তা ছিল আকিদা (العقائد) সংক্রান্ত বিষয়ে।
এই উত্তরগুলোর বিষয়ে এমন আপত্তি তোলা যেতে পারে যে, এগুলো বিশেষ কারণের (خصوص السبب) প্রেক্ষিতে ধারণা (الظن) শব্দটিকে তার কয়েকটি বিশেষ রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ বা সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করাকে আবশ্যক করে। অথচ উসুল (الأصول) শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম হলো— 'বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দের ব্যাপকতা (عموم اللفظ), কারণের বিশেষত্ব (خصوص السبب) নয়'।
এর জবাবে বলা যায় যে, এটি কারণের (السبب) মাধ্যমে সুনির্দিষ্টকরণ নয়, বরং প্রেক্ষাপটের (السياق) মাধ্যমে সুনির্দিষ্টকরণ (التخصيص)। আর যাই হোক, ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের নির্দেশকতা (دلالة العام) হলো ধারণাপ্রসূত বা সম্ভাব্য (ظنية), বিশেষ করে এই জাতীয় ক্ষেত্রে। অতএব প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে বলা হবে: খবরুল ওয়াহিদ (خبر الواحد) এর ক্ষেত্রে এই আয়াতদ্বয়ের নির্দেশকতা (دلالة) হলো ধারণাপ্রসূত (ظنية); সুতরাং আয়াতদ্বয় তাদের সামগ্রিক ব্যাপকতার (عمومهما) দ্বারা এই নির্দেশকতার অসারতাকেই প্রমাণ করে।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
فإن قال: أما الدلالة الظنية من القرآن فقد قام الدليل على خروجها من ذلك العموم.
قلنا: وكذلك خبر الواحد قد ذكر أهل العلم عدة حجج على وجوب العمل به، وذكرنا بعض الحجج كما مر.
ومن الأجوبة: أن العمل بخبر الواحد ليس عملًا به من حيث هو خبر واحد، ولا من حيث إنه يفيد الظن، بل من حيث إن الشارع أمر بالعمل به، وذاك الأمر ثابت قطعًا بما ذكره أهل العلم من الحجج، وما قدّمتُه منها، فالعمل به اتباع للحق المقطوع به لا للظن.
وكذلك نقول في جميع الأدلة التي تفيد الظن وقام الدليل القاطع على وجوب العمل بها.
أوَلا ترى أنه إذا اعترف رجل بالغ عاقل مختار عند القاضي، ولم يكن هناك ما يدل على بطلان اعترافه ولا صحته، فقضى عليه بمجرد اعترافه؛ فقد قضى بما أنزل الله قطعًا؛ لأن وجوب الحكم بالاعتراف مقطوع به، وإن كان الاعتراف لا يفيد إلا الظن. وهكذا إذا قضى بشهادة شاهدين بشرطهما.
وعن ذلك صاروا إلى أن أصول الفقه قطعية، والأمر كذلك، إلا أن من الأصول ما يكون فرعًا لأصلٍ أعلى منه، فيكفي القطع للأصل الأعلى.
شبهة ثالثة:
عرف جماعة من العقلاء أن الطعن في وجوب العمل بخبر الواحد المستجمع للشروط مكابرة لا تُجدِي، فعدلوا إلى دعوى أن عامة الأخبار المروية عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم بطرق الآحاد غير مستجمعةٍ للشروط.
যদি কেউ বলে: পবিত্র কুরআনের ধারণাভিত্তিক নির্দেশনা (الدلالة الظنية) সম্পর্কে বলা যায় যে, সেগুলো উক্ত সাধারণ নির্দেশনার বাইরে থাকার পক্ষে দলিল বিদ্যমান।
আমরা বলি: একইভাবে একক বর্ণনা (خبر الواحد) সম্পর্কেও আলেমগণ এর ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে একাধিক দলিল উল্লেখ করেছেন এবং আমরাও ইতোপূর্বে কিছু দলিল উল্লেখ করেছি।
এর অন্যতম উত্তর হলো: একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করা কেবল একক বর্ণনা হওয়ার কারণে নয়, কিংবা এটি ধারণা (الظن) প্রদান করে বলেও নয়; বরং এজন্য যে, শরিয়ত প্রণেতা এর ওপর আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর আলেমগণের উল্লিখিত দলিলসমূহ এবং আমি ইতোপূর্বে যা বর্ণনা করেছি, তার মাধ্যমে সেই নির্দেশটি অকাট্যভাবে (قطعًا) প্রমাণিত। সুতরাং এর ওপর আমল করা মূলত অকাট্য হকের অনুসরণ, নিছক ধারণার (الظن) নয়।
একইভাবে আমরা সেই সকল দলিলের ক্ষেত্রেও একমত যা ধারণা (الظن) প্রদান করে এবং যার ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য দলিল (الدليل القاطع) বিদ্যমান।
আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক ও স্বাধীন ইচ্ছাসম্পন্ন ব্যক্তি বিচারকের নিকট স্বীকারোক্তি প্রদান করে এবং সেখানে তার স্বীকারোক্তির অসারতা বা সঠিকতার কোনো প্রমাণ না থাকে, আর বিচারক কেবল তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই রায় প্রদান করেন; তবে তিনি অকাট্যভাবে (قطعًا) আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ীই বিচার করলেন। কারণ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ফয়সালা করার আবশ্যকতা অকাট্যভাবে (مقطوع به) প্রমাণিত, যদিও সেই স্বীকারোক্তি কেবল ধারণা (الظن) প্রদান করে। অনুরূপভাবে শর্তসাপেক্ষে দুই সাক্ষীর সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে বিচার করার বিষয়টিও প্রযোজ্য।
একারণেই তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, উসুলুল ফিকহ বা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ (أصول الفقه) হলো অকাট্য (قطعية)। বিষয়টি তেমনই, তবে কিছু মূলনীতি (الأصول) এমন রয়েছে যা তার চেয়ে উচ্চতর কোনো মূলনীতির শাখা হিসেবে গণ্য; সেক্ষেত্রে উচ্চতর মূলনীতিটির অকাট্যতা (القطع) থাকাই যথেষ্ট।
তৃতীয় সংশয়:
একদল বুদ্ধিমান লোক বুঝতে পেরেছেন যে, শর্তাবলি পূরণকারী একক বর্ণনার (خبر الواحد) ওপর আমল করা আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে আপত্তি তোলা একটি নিরর্থক হঠকারিতা। তাই তারা এই দাবির দিকে ধাবিত হয়েছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একক সূত্রে (الآحاد) বর্ণিত সাধারণ হাদিসগুলো আমল করার শর্তসমূহ পূরণ করে না।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
فمن هؤلاء: كتّاب الإفرنج في العصور المتأخرة وأذنابهم.
وشبهتهم: أن المسلمين فشتْ فيهم من القرن الأول الأهواءُ السياسية، والحزبية، والمذهبية، والقومية، والوطنية، وغيرها. واستخدم كلٌّ منهم الأحاديث في ما يوافق هواه ويخالف خصمه، [ص 5] وكان فيهم من يضع الأحاديث احتسابًا، ومن يضعها لنصرة الحق في زعمه، ومن يضعها لترغيب العامة، دَعْ وضع الزنادقة المتظاهرين بالإسلام والزهد والتقوى، الساعين سرًّا في هدم الإسلام وتشويهه.
والجواب عن هذه الشبهة: أنها بمنزلة من يقول: إن الناس قد أكثروا من صنع ما يُشبِه المسك والعنبر، وتفننوا في ذلك كثيرًا، فلم يبقَ وثوقٌ بوجود مسك وعنبر حقيقي، وكذلك السمن والعسل، وكذلك الذهب والجواهر الثمينة. ولو خالط أهل الخبرة، وأطال مِن صحبتهم، لعلم أن عندهم من العلم والمعرفة والخبرة الفنية ما يميِّزون به بين الحقيقي من تلك الأشياء وبين غيره.
ومن أدوى الأدواء في كتّاب الإفرنج أنهم يقيسون أئمة المسلمين على أنفسهم، فكما يعلمون من أنفسهم أنهم لا يُحجِمون عن الكذب والافتراء إذا كان وسيلةً إلى تحصيل أغراضهم؛ يظنون أن أئمة المسلمين كذلك.
ولم يعلموا أن في المسلمين الآن رجالًا ــ رغمًا عن بُعدِهم من العهد النبوي، وتقصيرهم في الواجبات، وركوبهم لكثير من المحرمات ــ لأن يُلقَى أحدهم هو وولده وأهله وقبيلته في النار أحبُّ إليه من أن يكذِب على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم.
ومن ذاق طعم الإيمان، ومارس كتب الحديث والرجال، علم يقينًا أن في رجال الحديث عددًا لا يُحصى كانوا أحرصَ على الصدق منهم على الحياة،
এদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলেন: পরবর্তী যুগের ইউরোপীয় লেখকগণ এবং তাদের অনুসারীরা।
তাদের সংশয় হলো: প্রথম শতাব্দী থেকেই মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক, দলীয়, মাযহাবী, জাতিগত এবং আঞ্চলিক প্রবৃত্তির প্রসার ঘটেছিল। তাদের প্রত্যেকেই নিজের খেয়ালখুশির অনুকূলে এবং প্রতিপক্ষের প্রতিকূলে হাদিস ব্যবহার করেছিল। [পৃষ্ঠা ৫] তাদের মধ্যে এমন একদল ছিল যারা সওয়াবের উদ্দেশ্যে হাদিস জাল (وضع) করত, কেউ তার ধারণামতে সত্যকে সাহায্য করার জন্য জাল (وضع) করত, আবার কেউ সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য জাল (وضع) করত। এছাড়া সেই সব জিন্দিকদের (زنادقة) জাল করার বিষয়টি তো আছেই, যারা ইসলাম, যুহদ ও তাকওয়ার লেবাস ধারণ করে গোপনে ইসলাম ধ্বংস ও একে কলঙ্কিত করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।
এই সংশয়ের উত্তর হলো: এটি এমন এক ব্যক্তির কথার মতো, যে বলে যে মানুষ কস্তুরি ও আম্বরের মতো সদৃশ বস্তু তৈরি করা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাতে অনেক নিপুণতা দেখিয়েছে, ফলে এখন আর প্রকৃত কস্তুরি ও আম্বর পাওয়ার ব্যাপারে কোনো ভরসা নেই। ঘি, মধু, স্বর্ণ এবং মূল্যবান অলঙ্কারের ক্ষেত্রেও একই কথা। অথচ সে যদি বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা করত এবং দীর্ঘকাল তাদের সান্নিধ্যে থাকত, তবে সে জানতে পারত যে তাদের এমন জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং কারিগরি অভিজ্ঞতা রয়েছে যার মাধ্যমে তারা এসব জিনিসের আসলের সাথে নকলের পার্থক্য করতে সক্ষম।
ইউরোপীয় লেখকদের সবচেয়ে মারাত্মক ব্যাধিগুলোর একটি হলো তারা মুসলিম ইমামদের নিজেদের ওপর কিয়াস (قياس) করেন। তারা নিজেদের সম্পর্কে যেমন জানে যে, তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম হিসেবে মিথ্যা (كذب) এবং অপবাদ (افتراء) আরোপ করতে দ্বিধাবোধ করে না; তেমনি তারা মনে করে যে মুসলিম ইমামগণও এমনই ছিলেন।
তারা জানেনা যে বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে এমন সব লোক রয়েছে—নবুয়তের যুগ থেকে অনেক দূরে থাকা, ওয়াজিব পালনে অবহেলা এবং অনেক হারামে লিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও—যাদের কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর নামে মিথ্যা (كذب) বলার চেয়ে নিজেকে, নিজের সন্তান, পরিবার ও গোত্রকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়া অধিক পছন্দনীয়।
যে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছে এবং হাদিস ও বর্ণনাকারী (رجال) শাস্ত্রের কিতাবসমূহ চর্চা করেছে, সে নিশ্চিতভাবে জানে যে হাদিসের বর্ণনাকারীদের (رجال) মধ্যে এমন অগণিত ব্যক্তি ছিলেন যারা জীবনের চেয়েও সত্যবাদিতার (صدق) প্রতি অধিক যত্নশীল ছিলেন।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
وكانوا في البعد عن الكذب بحيث نرى أنه يستحيل عليهم أن يتعمَّدوه.
ومع ذلك، فإن أئمة الحديث كانوا لا يكادونَ يقنَعون بالعدالة الظاهرة حتى يسألوا عنه، ويتتبعوا سيرته. قال الحسن بن صالح
(1): [كنا إذا أردنا أن نكتب عن الرجل سألنا عنه حتى يقال لنا: أتريدون أن تزوِّجوه؟].
وإذا علموا حسن سيرته لم يكتفوا بذلك حتى يختبروا حديثه، فيسألونه عن الحديث مرة بعد أخرى. قال شعبة
(2): [سمعت من طلحة بن مصرّف حديثًا واحدًا، وكنتُ كلما مررتُ به سألته عنه. فقيل له: لِمَ يا أبا بسطام؟ قال: أردتُ أن أنظر إلى حفظه، فإن غيَّر فيه شيئًا تركتُه].
ثم لا يكتفون بذلك حتى يعتبروا حديثه، فلا يعتمدونه حتى يجدوا أن غيره من الثقات قد روى عن شيخه مثل ما روى، أو أن غير شيخه قد روى عن شيخ شيخه كما روى.
ثم لا يَقْنَعون بذلك في حديث أو حديثين، بل لا يُقنِعهم منه إلا أن يكون ذلك في أحاديث كثيرة، بحيث يستقر في أنفسهم أن الصدق والضبط ملكة له.
على أن غالب الأحاديث الصحيحة طرقها متعددة.
ومنهم: بعض الفرق الغالية، كالخوارج والروافض، فإن هؤلاء يزعمون أن مخالفيهم كفَّار؛ فلا تقبل روايتهم.
والجواب عن هذا معروف.
--------------------------------------------
তারা মিথ্যা থেকে এতই দূরে ছিলেন যে, আমরা মনে করি তাদের পক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলা অসম্ভব।
তা সত্ত্বেও, হাদিসের ইমামগণ কেবল বাহ্যিক ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) দ্বারা সন্তুষ্ট হতেন না, যতক্ষণ না তারা তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন এবং তার জীবনচরিত অনুসরণ করতেন। হাসান ইবনে সালিহ
(১) বলেন: [আমরা যখন কোনো ব্যক্তি থেকে হাদিস লিখতে চাইতাম, তখন তার সম্পর্কে এমনভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতাম যে আমাদের বলা হতো: তোমরা কি তাকে বিয়ে করাতে চাও?]।
আর যখন তারা তার উত্তম জীবনচরিত সম্পর্কে জানতেন, তখন তারা এতেই ক্ষান্ত হতেন না যতক্ষণ না তার হাদিস পরীক্ষা করতেন; তারা তাকে একই হাদিস বারবার জিজ্ঞাসা করতেন। শু'বাহ
(২) বলেন: [আমি তালহা ইবনে মুসাররিফ থেকে একটি হাদিস শুনেছিলাম। এরপর আমি যতবারই তার পাশ দিয়ে যেতাম, তাকে সেটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম। তাকে বলা হলো: কেন হে আবু বাস্তাম? তিনি বললেন: আমি তার মুখস্থশক্তি (حفظ) যাচাই করতে চেয়েছিলাম; যদি তিনি তাতে কোনো পরিবর্তন করতেন, তবে আমি তা বর্জন করতাম]।
এরপর তারা কেবল এতেই ক্ষান্ত হতেন না যতক্ষণ না তারা তার হাদিসকে অন্যান্য বর্ণনার সাথে যাচাই (اعتبار) করতেন। তারা ততক্ষণ পর্যন্ত তা গ্রহণ করতেন না যতক্ষণ না দেখতেন যে, অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীগণ তার উস্তাদ থেকে তদ্রূপ বর্ণনা করেছেন যা তিনি করেছেন, অথবা তার উস্তাদ ব্যতীত অন্য কেউ তার উস্তাদের উস্তাদ থেকে তদ্রূপ বর্ণনা করেছেন যা তিনি বর্ণনা করেছেন।
তারপর তারা কেবল একটি বা দুটি হাদিসের ক্ষেত্রে এতে তুষ্ট হতেন না, বরং প্রচুর সংখ্যক হাদিসের ক্ষেত্রে তদ্রূপ না হওয়া পর্যন্ত তারা সন্তুষ্ট হতেন না; যাতে তাদের মনে এই বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হয় যে, সত্যবাদিতা (صدق) এবং নির্ভুলতা (ضبط) তার মজ্জাগত গুণ।
উল্লেখ্য যে, অধিকাংশ সহিহ (صحيحة) হাদিসের সূত্র একাধিক।
তাদের মধ্যে রয়েছে: কিছু চরমপন্থী দল, যেমন খারিজি ও রাফেজি, তারা দাবি করে যে তাদের বিরোধীরা কাফির; তাই তাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হবে না।
আর এর উত্তর সুপরিচিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
ومنهم: أفراد من المعتزلة والجهمية، رأوا في الأحاديث ما يرد عليهم كثيرًا من آرائهم، ولم يقنعوا بما وافقهم عليه أهل الحديث من أن الحديث إذا خالف صريح العقل لا يقبل؛ لعلمهم بأن آراءهم التي تخالف السنن ليست مبنية على عقل صريح، بل ولا قريبٍ من الصراحة، وإنما هي شبهات مشكِّكة. فاحتاجوا إلى الطعن في الأحاديث، فعَمَدوا إلى الطعن في بعض الصحابة، ثم في أئمة الحديث، حتى حاول بعضهم الطعنَ في شعبة بأنه كثير الغلط، وفي حماد بن سلمة بأنه كان له ربيبٌ زنديق يدُسُّ في كتبه. وعَمَدوا إلى بعض الأحاديث التي ظاهرها الإشكال والتعارض، فجمعوها يشنِّعون بها على أهل الحديث.
وقد أجاب أهل الحديث عنها بأن منها ما لا يصح عندهم، فلا يحتاجون إلى الجواب عنه. [ص 6] ومنها ما ليس بمشكل وإن استشكله أهل الأهواء، وأمثلته في كتاب الله تعالى موجودة، وباقيها يوجد في كتاب الله عز وجل نظيره في أنه يظهر أنه مشكل أو معارض لغيره مما يثبت، فيفسَّر بنحو ما تُفسَّر نظائره من القرآن، ولا يدل ذلك على عدم صحته.
وأسرف بعض الجهمية فوضع أحاديث باطلة، ورواها عن أهل الحديث لما أعجزه أن يجد في صحاح الأحاديث وفي مرويات الأثبات ما يُعلم بطلانه قطعًا. ومن وضع أهل الأهواء حديث: "إن الله تعالى خلق الفرس ثم أجراه حتى عرِقَ، فخلق سبحانه نفسه من ذلك العرق"
(1).
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে রয়েছেন: মুতাজিলা ও জাহমিয়া সম্প্রদায়ের কিছু ব্যক্তি, তাঁরা হাদিসসমূহের মধ্যে এমন অনেক বিষয় দেখতে পান যা তাঁদের অধিকাংশ মতামতকে খণ্ডন করে। তাঁরা হাদিস বিশারদদের (আহলুল হাদিস) এই ঐকমত্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি যে, হাদিস যদি সুস্পষ্ট বিবেকের বিরোধী হয় তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ তাঁরা জানতেন যে, তাঁদের যেসব মতামত সুন্নাহর বিরোধী সেগুলো কোনো সুস্পষ্ট বিবেকের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, এমনকি তা স্পষ্টতার কাছাকাছিও নয়; বরং সেগুলো কেবলই বিভ্রান্তিকর সংশয়। ফলে তাঁরা হাদিসসমূহের ওপর অপবাদ আরোপ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তাই তাঁরা প্রথমে কিছু সাহাবীর ওপর, অতঃপর হাদিসের ইমামদের ওপর অপবাদ দিতে উদ্যত হন। এমনকি তাঁদের কেউ কেউ শু'বাহ (ইবনুল হাজ্জাজ)-এর ওপর এই বলে দোষারোপ করার চেষ্টা করেছেন যে, তিনি প্রচুর ভুলকারী (كثير الغلط) ছিলেন এবং হাম্মাদ বিন সালামাহ সম্পর্কে বলেন যে, তাঁর এক জিন্দিক (ধর্মদ্রোহী) সৎপুত্র ছিল যে তাঁর কিতাবসমূহের মধ্যে (ভুয়া বিষয়) ঢুকিয়ে দিত। তাঁরা এমন কিছু হাদিসের দিকে মনোনিবেশ করেন যার বাহ্যিক রূপ জটিলতা ও বৈপরীত্যপূর্ণ মনে হয়। অতঃপর তাঁরা সেগুলো একত্রিত করে হাদিস বিশারদদের কটু সমালোচনা করতে থাকেন।
হাদিস বিশারদগণ এর উত্তরে বলেন যে, এগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যা তাঁদের নিকট বিশুদ্ধ নয় (لا يصح), তাই সেগুলোর উত্তরের প্রয়োজন নেই। [পৃষ্ঠা ৬] আবার এগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যা আদতে সমস্যাসংকুল নয়, যদিও প্রবৃত্তি পূজারীরা সেগুলোকে সমস্যাসংকুল মনে করে। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহর কিতাবে এর অনুরূপ উদাহরণ পাওয়া যায় যা বাহ্যিকভাবে সমস্যাসংকুল বা সাব্যস্ত অন্য কোনো বিষয়ের বিরোধী বলে মনে হয়। ফলে সেটির ব্যাখ্যা সেভাবেই করা হয় যেভাবে কুরআনের অনুরূপ বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা করা হয়। আর এটি হাদিসটির নির্ভুলতা (صحة) না থাকার প্রমাণ নয়।
কিছু জাহমিয়া চরম বাড়াবাড়ি করে বাতিল (باطلة) হাদিস জাল করেছেন (وضع) এবং সেগুলো হাদিস বিশারদদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন; কারণ তারা বিশুদ্ধ (صحاح) হাদিসসমূহে এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الأثبات) বর্ণনায় এমন কিছু খুঁজে পেতে অপরাগ ছিল যার অসারতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়। প্রবৃত্তি পূজারীদের জালকৃত (وضع) একটি হাদিস হলো: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ ঘোড়া সৃষ্টি করলেন, অতঃপর সেটিকে দৌড় করালেন এমনকি সেটি ঘর্মাক্ত হলো। অতঃপর তিনি সেই ঘাম থেকে নিজেকে সৃষ্টি করলেন"
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
ومنهم: بعض الغلاة في الرأي، حاولوا أن يثبتوا أن في الأحاديث التي يصححها أهل الحديث ما هو معارض للقرآن، أو معارض للقواعد الشرعية.
ولم يصنعوا شيئًا.
وبالجملة، فهذه الأقوال الأخيرة ليست طعنًا في حجية خبر الواحد من حيث هو، وإنما هي محاولة توهينه في الجملة، ليسهُلَ على أولئك المحاولين ردُّ ما يخالف أهواءهم.
وحقيقة الحال أنهم يحاولون أن يزيدوا في شروط قبول خبر الواحد.
وذلك أن من الشروط المتفق عليها: أن لا يخالف صريح المعقول. وأهل الأهواء يحاولون زيادة: أن لا يخالف ما زعم أئمتهم ــ كجهم، والجبائي، وابن سينا، وأضرابهم ــ أنه معقول. حتى يحاول الأشاعرة أن لا يخالف قول الأشعري، ولا قول الباقلاني، إلى غير ذلك. وجرى مثل ذلك للمقلدين في الفروع.
ومن الشروط المتفق عليها في الجملة: أن لا يخالف نصًّا قطعيًّا من كتاب الله عز وجل. وبعض الفقهاء حاولوا توسيع دائرة القطعية في دلالة الكتاب، وللكلام معهم موضع آخر.
فأما النزاع في الجزئيات، كطعن بعض الجهمية في حماد بن سلمة؛ فليس هذا موضع الكلام فيه، ولكن هاهنا تنبيه كلي، وهو أن من هذا الضرب أن تكون أشعريًّا مثلًا، فتنظر في مسألة قد خُولِف فيها الأشاعرة، وأنت
এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন: রায়ের (মতামতের) ব্যাপারে কট্টরপন্থীদের একাংশ, যারা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, হাদিস বিশারদগণ যে হাদিসগুলোকে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন (يصححها), সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা কুরআনের পরিপন্থী অথবা শরিয়তের মূলনীতিসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক।
কিন্তু তারা বিশেষ কিছু করতে পারেনি।
মোটের উপর, এই শেষোক্ত উক্তিগুলো একাকী বর্ণনাকারীর সংবাদ (خبر الواحد)-এর প্রামাণিকতার মূল ভিত্তির ওপর কোনো আঘাত নয়, বরং এগুলো হচ্ছে সাধারণভাবে একে দুর্বল (توهينه) করার একটি অপপ্রয়াস, যাতে যারা এ চেষ্টা করছেন তাদের জন্য তাদের খেয়ালখুশির পরিপন্থী বিষয়গুলো প্রত্যাখ্যান (ردُّ) করা সহজ হয়ে যায়।
প্রকৃত অবস্থা এই যে, তারা একাকী বর্ণনাকারীর সংবাদ (خبر الواحد) গ্রহণের শর্তাবলি বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছেন।
আর বিষয়টি হলো, ঐকমত্যপূর্ণ শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: তা যেন স্পষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য বিষয়ের পরিপন্থী না হয়। আর প্রবৃত্তি পূজারীরা এই অতিরিক্ত শর্তারোপের চেষ্টা করেন যে: তা যেন তাদের ইমামগণের — যেমন জাহম, জুব্বাঈ, ইবনে সিনা এবং তাদের সমমনাদের — দাবিকৃত তথাকথিত যুক্তির বিরোধী না হয়। এমনকি আশআরিগণও চেষ্টা করেন যেন তা ইমাম আশআরি কিংবা বাকিল্লানির বক্তব্যের বিরোধী না হয়, ইত্যাদি। আর ফিকহি শাখা-প্রশাখার মাসআলার মুকাল্লিদদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিষয় ঘটেছে।
আর সাধারণভাবে ঐকমত্যপূর্ণ শর্তাবলির অন্যতম হলো: তা যেন মহান আল্লাহর কিতাবের কোনো অকাট্য (قطعيًّا) স্পষ্ট প্রমাণ বা নসের (نصًّا) পরিপন্থী না হয়। এবং কিছু ফকিহ কিতাবুল্লাহর নির্দেশনার ক্ষেত্রে অকাট্যতা (القطعية)-এর পরিধিকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন, যা নিয়ে আলোচনার ভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে।
পক্ষান্তরে আংশিক বা খুঁটিনাটি বিষয়ের বিতর্ক, যেমন হাম্মাদ ইবনে সালামার ব্যাপারে কিছু জাহমিয়ার আপত্তি; এটি তা আলোচনার স্থান নয়। তবে এখানে একটি সামগ্রিক সতর্কতা রয়েছে, আর তা হলো—এই পর্যায়ের একটি বিষয় হলো এই যে, উদাহরণস্বরূপ আপনি একজন আশআরি, অতঃপর আপনি এমন একটি মাসআলার দিকে দৃষ্টিপাত করলেন যাতে আশআরিদের মতের বিরোধিতা করা হয়েছে, এমতাবস্থায় আপনি...
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
تذهب إليها، وتجد مخالفيهم قد احتجوا بحديث، وأجاب بعض الأشاعرة بالطعن في بعض رواته، كحماد بن سلمة.
فحقُّك إن أردتَ الله والدار الآخرة أن تقوم للحق على نفسك، فتتدبر حجة الأشاعرة، فإذا وجدتها ليست بالقاطعة فرضتَ مسألة أخرى قد ذهب إليها الأشاعرة وخالفهم غيرهم، وليست حجة الأشاعرة بالقاطعة، ولكنهم احتجوا بحديث، فنظرتَ في رواية ذلك الحديث، فإذا هو من رواية ذلك الرجل أو مثله. ثم وازِنْ بين حالَيْك: حالك وأنت تنظر في حال ذلك الرجل بسبب روايته الحديث المخالف للأشاعرة، وحالك وأنت تنظر في حاله أو في حال نظيره بسبب روايته للحديث الموافق للأشاعرة.
فإذا وجدت نفسك تميل إلى توهينه في الأولى وتثبيته في الثانية، فاعلم أن لهوى نفسِك تأثيرًا شديدًا عليك، فاعرِفْه وجاهِدْ نفسك، فإن لم تستطع فعلى الأقل ينبغي أن تكُفَّ نفسك عن الكلام في مثل ذلك، وتَعذِرَ مخالفك عالمًا أنه أحد رجلين:
إما رجل بريء من الهوى، يتبيَّنُ الحقَّ من حيث يصدُّك هواك عن تبيُّنِه.
وإما رجل له هوى مخالفٌ لهواك، فحاله مثل حالك، فكما تجنَحُ إلى عذرِ نفسك ورجاءِ أن يُغفَر لك، وتقبيح شناعة من شنَّع عليك؛ فكذلك ينبغي أن ترى لمخالفك، فترجو له العذر والمغفرة، ولا ترضى بتشنيع عليه.
وفي الحديث: " [لا يؤمن أحدكم] حتى يحبَّ لأخيه ما يحبُّ لنفسه"
(1).
--------------------------------------------
আপনি যে মতের স্বপক্ষে অবস্থান করছেন, দেখবেন আপনার বিরোধীরা সেখানে একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছে এবং কিছু আশআরি (মতাবলম্বী) সেই হাদিসের কিছু বর্ণনাকারী (رواة), যেমন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-র সমালোচনা (طعن) করার মাধ্যমে এর জবাব দিয়েছেন।
এমতাবস্থায় আপনি যদি আল্লাহ এবং পরকাল প্রত্যাশা করেন, তবে আপনার কর্তব্য হলো নিজের নফসের বিরুদ্ধে সত্যের ওপর অটল থাকা। সুতরাং আপনি আশআরিদের সেই দলিলের ওপর চিন্তা-গবেষণা করুন। যদি দেখেন যে তা অকাট্য নয়, তবে অন্য এমন একটি মাসআলা কল্পনা করুন যা আশআরিরা গ্রহণ করেছেন এবং অন্যেরা তাদের বিরোধিতা করেছেন, অথচ সেখানেও আশআরিদের দলিল অকাট্য নয়; কিন্তু তারা একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এরপর আপনি সেই হাদিসের বর্ণনা (رواية) পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করলেন এবং দেখলেন যে সেটিও সেই একই ব্যক্তি বা তাঁর মতো কারো বর্ণনা (رواية)। অতঃপর আপনি আপনার দুটি অবস্থার মধ্যে তুলনা করুন: একটি হলো যখন আপনি আশআরিদের বিরোধী হাদিস বর্ণনা (رواية) করার কারণে সেই ব্যক্তির অবস্থার দিকে তাকাচ্ছেন; আর অন্যটি হলো যখন আপনি আশআরিদের অনুকূল হাদিস বর্ণনা (رواية) করার কারণে সেই ব্যক্তি বা তাঁর সমপর্যায়ের কারো অবস্থার দিকে তাকাচ্ছেন।
যদি আপনি দেখেন যে, আপনার মন প্রথম ক্ষেত্রে তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করার (توهين) দিকে এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার (تثبيت) দিকে ঝুঁকছে, তবে জেনে রাখুন যে আপনার প্রবৃত্তির কামনা-বাসনার আপনার ওপর প্রবল প্রভাব রয়েছে। সুতরাং একে চিনুন এবং নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন। যদি আপনি তা না পারেন, তবে অন্তত এ জাতীয় বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা এবং আপনার বিরোধীকে ওজর দেওয়া উচিত—এই বিশ্বাস রেখে যে সে দুই ব্যক্তির একজন:
হয় এমন এক ব্যক্তি যে প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে মুক্ত, যার কাছে সত্য স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে অথচ আপনার প্রবৃত্তি আপনাকে তা উপলব্ধি করতে বাধা দিচ্ছে।
অথবা এমন এক ব্যক্তি যার প্রবৃত্তি আপনার প্রবৃত্তির বিপরীত, ফলে তার অবস্থাও আপনার মতোই। সুতরাং আপনি যেভাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চান এবং নিজের জন্য ক্ষমা প্রত্যাশা করেন, আর আপনার প্রতি কারো অপবাদকে অত্যন্ত ঘৃণ্য মনে করেন; তেমনিভাবে আপনার বিরোধীর ক্ষেত্রেও আপনার অনুরূপ দেখা উচিত। অর্থাৎ আপনি তার জন্য ওজর ও ক্ষমা প্রার্থনা করবেন এবং তার প্রতি কোনো প্রকার কুৎসা রটনায় সন্তুষ্ট হবেন না।
আর হাদিসে এসেছে: "[তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না] যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে"
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
وإن من أبين الظلم وأشنعِه أن ترجو لنفسك العذر والمغفرة، وتأبى ذلك لمن حاله مثل حالك في الجملة. ومثل هذا الظلم واقع كثيرًا، وإظهار شناعته يحتمل كلامًا أكثر من هذا، ولكن لذلك موضع آخر.
وقد وجدتُ من نفسي ومن غيري دليلَ وجود الهوى المشار إليه. وحسبك أن تكون شافعيًّا مثلًا، فتجد الشافعيةَ قد احتجوا بحديث، ومخالفيهم كالحنفية قد احتجوا بآخر، وأنت تريد النظر في الحديثين، هل تجد نفسَك تتمنَّى أن تجد حديثَ أصحابك قويًّا وحديثَ مخالفيهم ضعيفًا؟ فإذا وجدتَها كذلك فهذا هو الهوى.
وقد ترى أنه لا يضرك وجوده، وقد أوافقك على هذا، لكنك إذا نظرت أثر ذلك الهوى في نظرك، فحملك على الطعن في حديث الحنفية بوجهٍ يوجد مثلُه أو أشدُّ منه في حديث أصحابك، وأنت تعمى أو تتعامى عنه في حديث أصحابك، أو تدفعه أو تتأوله بدافعٍ أو تأويلٍ قد يوجد مثله أو أقوى منه لحديث الحنفية، ولكنك تعمى عنه أو تتعامى أو لا تراه شيئًا.
هذا وقد انفتح لك الباب، فإن كنت تحبُّ الحق فأَنْعِم النظر واعملْ بما ينبغي.
وكذلك إذا كنت عثمانيًّا تميل إلى تفضيل عثمان رضي الله عنه، ثم وجدتَ حديثين، أحدهما فيه فضيلة لعثمان، والآخر فيه غضاضة عليه، فإنك قد تكتفي في الأول بأن أئمة الحديث صححوه، ثم لا تكتفي في الثاني بمثل ذلك، بل يبقى في نفسك منه حزازةٌ، فإذا نظرتَ في حال رواته وجدته ينفرد به رجل قد عُرِف بشيء من التشيع، فتقدح فيه بذلك، ولعلك تكتفي بذلك. ولعلك لو نظرت في رواة الأول لوجدته ينفرد به رجل كان فيه ميلٌ ما عن أهل البيت.
সবচেয়ে স্পষ্ট এবং জঘন্যতম জুলুম হলো নিজের জন্য ক্ষমা ও অজুহাত আশা করা, অথচ অন্যের জন্য তা অস্বীকার করা যার অবস্থা মূলত আপনার মতোই। এই ধরনের জুলুম প্রচুর ঘটে থাকে এবং এর জঘন্যতা প্রকাশের জন্য আরও দীর্ঘ আলোচনার অবকাশ রয়েছে, তবে এর জন্য অন্য ক্ষেত্র নির্ধারিত।
আমি নিজের মধ্যে এবং অন্যদের মধ্যেও উল্লিখিত প্রবৃত্তি বা খেয়ালখুশির (هوى) অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছি। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী হন, তবে দেখবেন যে শাফেয়ীগণ একটি হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করেছেন এবং তাদের বিরোধী পক্ষ যেমন হানাফীগণ অন্য একটি হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করেছেন। এখন আপনি যখন উভয় হাদিস পর্যালোচনা করতে চান, তখন কি আপনি মনে মনে এমনটি কামনা করেন যে আপনার পক্ষের লোকদের হাদিসটি শক্তিশালী (قوي) হোক এবং প্রতিপক্ষের হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) হোক? যদি এমনটি অনুভব করেন, তবে এটাই হলো প্রবৃত্তি (هوى)।
আপনি হয়তো মনে করতে পারেন যে এর অস্তিত্ব আপনার কোনো ক্ষতি করবে না, এবং আমি আপনার সাথে এ বিষয়ে একমত হতে পারি। কিন্তু আপনি যখন আপনার দৃষ্টিভঙ্গিতে সেই প্রবৃত্তির (هوى) প্রভাব লক্ষ্য করবেন, তখন দেখবেন এটি আপনাকে হানাফীদের হাদিসের ওপর এমন কোনো দিক থেকে সমালোচনা (طعن) উত্থাপন করতে প্ররোচিত করছে যার অনুরূপ বা তার চেয়েও তীব্র ত্রুটি আপনার নিজ পক্ষের হাদিসেও বিদ্যমান। অথচ আপনি নিজ পক্ষের হাদিসের ক্ষেত্রে তা দেখতে পান না বা দেখেও না দেখার ভান করেন, অথবা এমন কোনো যুক্তি বা ব্যাখ্যা দিয়ে তা প্রতিহত করেন যার অনুরূপ বা অধিক শক্তিশালী (أقوى) যুক্তি হানাফীদের হাদিসের পক্ষেও থাকতে পারে, কিন্তু আপনি তা থেকে অন্ধ হয়ে যান বা তা দেখেও না দেখার ভান করেন অথবা তাকে কোনো পাত্তাই দেন না।
এখন আপনার সামনে পথ উন্মোচিত হয়েছে; সুতরাং আপনি যদি সত্যকে ভালোবাসেন তবে গভীরভাবে চিন্তা করুন এবং যা করা উচিত সে অনুযায়ী আমল করুন।
তদ্রূপ, আপনি যদি উসমানী হন এবং উসমান রাযিআল্লাহু আনহু-কে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের দিকে ঝুঁকে থাকেন, অতঃপর দুটি হাদিস পান—যার একটিতে উসমান রাযিআল্লাহু আনহু-এর মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে এবং অন্যটিতে তাঁর প্রতি কিছুটা অবজ্ঞা বা বিমুখতা প্রকাশ পেয়েছে—তবে প্রথমটির ক্ষেত্রে আপনি হয়তো এ কথাতেই তুষ্ট হয়ে যাবেন যে হাদিস বিশারদগণ একে সঠিক সাব্যস্ত করেছেন (صححوه)। কিন্তু দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে আপনি তাতে তুষ্ট হবেন না, বরং আপনার মনে এক প্রকার সঙ্কোচ থেকে যাবে। এরপর যখন আপনি এর বর্ণনাকারীদের (رواة) অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং দেখবেন যে তা এমন একজন ব্যক্তি এককভাবে বর্ণনা (ينفرد) করেছেন যিনি শিয়া মতাদর্শের (تشيع) প্রতি কিছুটা ঝুঁকে থাকার জন্য পরিচিত, তখন আপনি সেই কারণে তাঁকে সমালোচনা (قدح) করবেন এবং হয়তো তাতেই ক্ষান্ত হবেন। অথচ আপনি যদি প্রথম হাদিসটির বর্ণনাকারীদের (رواة) প্রতি দৃষ্টিপাত করতেন, তবে হয়তো দেখতেন যে সেটিও এমন একজন ব্যক্তি এককভাবে বর্ণনা (ينفرد) করেছেন যার আহলে বাইতের প্রতি কিছুটা বিমুখতা ছিল।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
بل قد يغلو بك الهوى فتتلمس الاعتذار عن راوي الفضيلة، والطعن على راوي الغضاضة. بل وقد لا يكون راوي الغضاضة موصوفًا بالتشيع، فتحاول أنت أن تدلَّ على اتصافه بذلك بوجهٍ يمكن إثبات مثله أو أقوى منه في الدلالة على ميل راوي الفضيلة عن أهل البيت.
بل وقد تميل إلى الطعن في راوي الغضاضة لمجرد تفرده بذلك الحديث، وقد تحاول إبداء دلالةٍ على بُعْد أن يكون الحديث صحيحًا وينفرد به ذلك الرجل، ولا تلتفت إلى مثل ذلكَ أو أقوى منه في راوي الفضيلة.
وبالجملة فهذا باب واسع جدًّا، قد انفتح لمن يريد أن يناقش نفسَه الحسابَ، ويحرِص على نجاتها من العذاب، والتوفيق بيد الله سبحانه.
বস্তুত কখনো প্রবৃত্তি আপনাকে এমনভাবে মোহগ্রস্ত করতে পারে যে, আপনি ফজিলাত বা মর্যাদা বর্ণনাকারী (راوي) এর পক্ষে অজুহাত খুঁজতে শুরু করেন এবং দোষারোপকারী বর্ণনাকারী (راوي) এর ওপর সমালোচনা (الطعن) করতে সচেষ্ট হন। এমনকি দোষারোপকারী বর্ণনাকারী (راوي) হয়তো শিয়া মতাদর্শ (التشيع) দ্বারা বিশেষিত নন, কিন্তু আপনি তাকে এমন কোনো পন্থায় সেই বিশেষণে বিশেষিত করার চেষ্টা করেন, যে পন্থায় ফজিলাত বর্ণনাকারী (راوي) আহলে বাইত থেকে বিমুখ—এমনটি এর চেয়েও জোরালোভাবে প্রমাণ করা সম্ভব ছিল।
বরং কখনো আপনি দোষারোপকারী বর্ণনাকারী (راوي) এর সমালোচনা (الطعن) করার দিকে ঝুঁকে পড়েন শুধুমাত্র সেই হাদিসে তার একক বর্ণনা (تفرده) হওয়ার কারণে। আপনি হয়তো এটি দেখানোর চেষ্টা করেন যে, হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়া এবং কেবল সেই ব্যক্তির মাধ্যমে তা এককভাবে বর্ণিত হওয়া সুদূরপরাহত; অথচ ফজিলাত বর্ণনাকারী (راوي) এর ক্ষেত্রে আপনি এর সমপর্যায়ের বা এর চেয়েও শক্তিশালী বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না।
মোদ্দাকথা, এটি অত্যন্ত প্রশস্ত একটি ক্ষেত্র, যা তার জন্য উন্মুক্ত হয়েছে যে নিজের আত্মার হিসাব নিতে চায় এবং পরকালের আজাব থেকে মুক্তি পেতে সচেষ্ট। আর তাওফিক তো কেবল মহান আল্লাহর হাতেই।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
الفصل الثانيفيما يفيده خبر الواحدالجمهور على أن خبر الواحد المستجمع للشروط، وإن كان وجوب العمل به ثابتًا قطعًا، فدلالة اجتماع الشرائط على نسبته إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم ظنية قطعًا.
ونظير ذلك أذان المؤذن الثقة، وفتوى العالم الثقة، وشهادة العدلين؛ وجوب العمل بها ثابت قطعًا، وإن كان يمكن في هذا المؤذن أن يؤذن قبل دخول الوقت لغلطٍ أو غيره، وفي هذا العالم أن يفتي بغير الحق لغلطٍ أو غيره، وفي هذين الشاهدين أن يكونا شهدا بغير الحق كذلك.
ونُقِل عن بعض أهل العلم ــ كالإمام أحمد بن حنبل، والحسين الكرابيسي، والحارث المحاسبي ــ أنه يفيد العلم
(1).
وقد شنَّع بعض الناس على هذا القول، [ص 7] ولعل القائلين بأنه يفيد العلم لم يريدوا ما ظنَّه المشنِّع، وهناك معانٍ يمكن أنهم أرادوا واحدًا منها:
الأول: أنه يفيد العلم بلزوم الحكم الذي تضمَّنه لمن ثبت عنده.
وحاصل هذا أنك قد علمت أن الأدلة على وجوب العمل بخبر الواحد ــ بشرطه ــ قطعية، أي تفيد العلم، فعلى هذا أيُّ مجتهدٍ بلغه خبر واحد بشرطه فقد لزمه العمل به قطعًا. فذاك الخبر بمعونة الأدلة العامة يفيد العلم بأنه يلزم ذاك المجتهدَ الحكمُ بما تضمَّنه.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদআহাদ সংবাদ (خبر الواحد) যে অর্থ প্রদান করে (অর্থাৎ এর হুকুম) প্রসঙ্গেজমহুর (الجمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের অভিমত হলো, শর্তাবলি পূরণকারী আহাদ সংবাদ (خبر الواحد)-এর ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়াটা যদিও সুনিশ্চিতভাবে (قطعًا) প্রমাণিত, তথাপি সমস্ত শর্তের বিদ্যমানতা একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধিত করার ক্ষেত্রে অকাট্যভাবে ধারণাপ্রসূত (ظنية) নির্দেশ করে।
এর উদাহরণ হলো—একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) মুয়াজ্জিনের আজান, একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) আলেমের ফতোয়া এবং দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তির সাক্ষ্য; এগুলোর ওপর আমল করা ওয়াজিব হওয়াটা সুনিশ্চিতভাবে (قطعًا) প্রমাণিত, যদিও এই মুয়াজ্জিনের ক্ষেত্রে ভুলবশত বা অন্য কোনো কারণে ওয়াক্ত হওয়ার আগে আজান দেওয়া সম্ভব, আবার এই আলেমের ক্ষেত্রে ভুলবশত বা অন্য কারণে সত্যের বিপরীতে ফতোয়া দেওয়া সম্ভব এবং একইভাবে এই দুইজন সাক্ষীর ক্ষেত্রেও সত্যের বিপরীতে সাক্ষ্য দেওয়া সম্ভব।
কোনো কোনো আলেম থেকে—যেমন ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, হুসাইন আল-কারাবিসি এবং হারিস আল-মুহাসিবি—বর্ণিত হয়েছে যে, এটি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে।
কেউ কেউ এই মতের তীব্র সমালোচনা করেছেন [পৃষ্ঠা ৭], তবে সম্ভবত যারা এটি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে বলেছেন, তারা সমালোচনাকারীদের ধারণার মতো কিছু উদ্দেশ্য করেননি। এখানে এমন কিছু অর্থ থাকতে পারে যা তারা সম্ভবত উদ্দেশ্য করেছেন:
প্রথমত: যার কাছে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে, তার জন্য এই সংবাদের অন্তর্ভুক্ত বিধান মেনে চলা অপরিহার্য হওয়ার ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে।
এর সারকথা হলো, আপনি ইতিপূর্বেই অবগত হয়েছেন যে—শর্তসাপেক্ষে—আহাদ সংবাদ (خبر الواحد)-এর ওপর আমল ওয়াজিব হওয়ার দলিলসমূহ সুনিশ্চিত (قطعية), অর্থাৎ যা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে। সুতরাং সেই ভিত্তিতে, যে মুজতাহিদের (مجتهد) কাছে শর্তসাপেক্ষে কোনো আহাদ সংবাদ (خبر الواحد) পৌঁছাবে, তার ওপর এর দ্বারা আমল করা সুনিশ্চিতভাবে (قطعًا) আবশ্যক হয়ে যাবে। অতএব, সেই সংবাদটি সাধারণ দলিলসমূহের সহায়তায় ওই মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য এর অন্তর্ভুক্ত হুকুমটি আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
ونظيره: شهادة شاهدين مستجمعة للشرائط، بأن زيدًا هو قتل عمرًا المكافئ له عمدًا وعدوانًا. فإنه إذا طلب الورثة كلُّهم القصاص كانت تلك الشهادة بمعونة الحجة القاطعة على وجوب العمل بمثلها تفيد العلم بوجوب الحكم بقتل زيد، فتدبَّر.
الثاني: أنه يفيد العلم بالمعنى الذي يقوله متأخرو الحنفية، تبعًا لمشايخ العراق من متقدميهم، في نحو دلالة العموم الذي لم يخص من الكتاب أنها قطعية تفيد العلم.
ويُفسِّرون ذلك بأن احتمال خلافها احتمال غير ناشئ عن دليل. يريدون أن المجتهد إذا وقف على آية تفيد حكمًا عامًّا، وبحثَ فلم يجد ما يدل على أن ذاك عام مراد به الخصوص، أو عام مخصوص= لم يبقَ بينه وبين اليقين الباتِّ إلا احتمالُ أن يكون هناك دليل لم يقف عليه، أو لم يتنبه له. فلم يعتدُّوا بهذا الاحتمال، وقالوا: إن دلالة العموم حينئذٍ قطعية تفيد العلم.
فالحاصل أنهم أرادوا قطعًا وعلمًا غير المشهورينِ، ثم قالوا: لا يجوز تخصيصُ عامٍّ في القرآن بخبرِ واحدٍ؛ لأن خبر الواحد إنما يفيد الظن.
فكأن القائلين بأنه يفيد العلم أرادوا دفْعَ كلام أولئك، فقالوا: بل إن خبر الواحد ــ بشرطه ــ يفيد العلم، أي علمًا كالعلم الذي يفيده العموم.
وذلك أن وجوب العمل بخبر الواحد قطعي، وإنما لا يفيد هو اليقينَ لاحتمال أن بعض الرواة أخطأ أو غلط، وهذا احتمال غير ناشئ عن دليل، فكما لم يعتدُّوا بالاحتمال الناشئ عن غير دليل في دلالة العام، فكذلك في ثبوت خبر الواحد بشرطه. وتخصيص العمومات أكثر من غلط الثقات،
এবং এর সমান্তরাল উদাহরণ হলো: শর্তাবলি পূরণকারী দুইজন সাক্ষীর সাক্ষ্য (شهادة) প্রদান যে, জায়েদ তার সমপর্যায়ের আমরকে ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। এমতাবস্থায় যদি সকল উত্তরাধিকারী কিসাস (قصاص) দাবি করে, তবে সেই সাক্ষ্য—তার অনুরূপ বিষয়ের ওপর আমল করার আবশ্যকতার স্বপক্ষে অকাট্য প্রমাণের (الحجة القاطعة) সহায়তায়—জায়েদকে হত্যার বিধান প্রদানের আবশ্যকতা সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে; বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন।
দ্বিতীয়ত: এটি সেই অর্থে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে যা পরবর্তী যুগের হানাফী আলেমগণ ইরাকের পূর্ববর্তী মাশায়েখদের অনুসরণে বলে থাকেন; যেমন কুরআনের এমন সাধারণ অর্থবোধকতার (دلالة العموم) ক্ষেত্রে বলা হয় যা বিশেষায়িত করা হয়নি যে, তা সুনিশ্চিত (قطعية) এবং নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে।
তারা এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, এর বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা এমন এক সম্ভাবনা যার সপক্ষে কোনো দলীল নেই। তারা বোঝাতে চান যে, একজন মুজতাহিদ (مجتهد) যখন এমন কোনো আয়াতের সম্মুখীন হন যা সাধারণ (عام) বিধান প্রদান করে, এবং অনুসন্ধানের পর এমন কিছু না পান যা নির্দেশ করে যে সেই সাধারণ (عام) শব্দ দ্বারা বিশেষ (خصوص) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে অথবা তা বিশেষায়িত সাধারণ (عام مخصوص), তখন তার এবং চূড়ান্ত নিশ্চয়তার (اليقين البات) মাঝে কেবল এমন একটি সম্ভাবনা অবশিষ্ট থাকে যে হয়তো সেখানে কোনো দলীল রয়েছে যা তিনি পাননি অথবা লক্ষ্য করেননি। তারা এই সম্ভাবনাকে ধর্তব্য মনে করেন না এবং বলেন যে, এমতাবস্থায় সাধারণের অর্থবোধকতা (دلالة العموم) সুনিশ্চিত (قطعية), যা নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে।
সারকথা হলো, তারা এখানে সুনিশ্চিত হওয়া (قطع) এবং নিশ্চিত জ্ঞান (علم) বলতে প্রসিদ্ধ পরিভাষা দুটির বাইরের কিছু বুঝিয়েছেন। অতঃপর তারা বলেছেন: একক বর্ণনা (خبر واحد) দ্বারা কুরআনের কোনো সাধারণ (عام) বিধানকে বিশেষায়িত করা বৈধ নয়; কারণ একক বর্ণনা (خبر واحد) কেবল প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে।
সুতরাং যারা বলেন যে এটি নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে, তারা যেন ঐ ব্যক্তিদের বক্তব্য খণ্ডন করতে চেয়েছেন এবং বলেছেন: বরং একক বর্ণনা (خبر واحد)—তার শর্ত পূরণ সাপেক্ষে—নিশ্চিত জ্ঞান (علم) প্রদান করে, অর্থাৎ এমন জ্ঞান যা সাধারণ শব্দের (العموم) অর্থ থেকে প্রাপ্ত নিশ্চিত জ্ঞানের অনুরূপ।
আর তা একারণে যে, একক বর্ণনা (خبر واحد) অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা সুনিশ্চিত (قطعي)। তবে এটি সরাসরি চূড়ান্ত নিশ্চয়তা (يقين) দেয় না এই সম্ভাবনার কারণে যে কোনো বর্ণনাকারী (راو) হয়তো ভুল বা ভ্রান্তি করেছেন। আর এটি এমন এক সম্ভাবনা যার মূলে কোনো দলীল নেই। সুতরাং, তারা যেভাবে সাধারণের অর্থবোধকতার (دلالة العام) ক্ষেত্রে দলীলবিহীন সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেননি, শর্তানুযায়ী সাব্যস্ত হওয়া একক বর্ণনার (خبر واحد) ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। আর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) ভুলের চেয়ে সাধারণ বিধানসমূহের বিশেষায়ন (تخصيص العمومات) অধিক সংঘটিত হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
والمخالفون في حجية العام أكثر وأشهر من المخالفين في وجوب العمل بخبر الواحد.
الثالث: أنه يفيد العلم اليقيني في بعض الصور، كالمتلقَّى بالقبول، والمحتفَّةِ به قرائن. والله أعلم.
সাধারণ শব্দের (العام) প্রমাণযোগ্যতার বিষয়ে ভিন্নমত পোষণকারীরা একক বর্ণনাকারীর সংবাদের (خبر الواحد) ওপর আমল করার আবশ্যকতা নিয়ে ভিন্নমত পোষণকারীদের চেয়ে সংখ্যায় অধিক এবং প্রসিদ্ধ।
তৃতীয়ত: এটি কিছু ক্ষেত্রে সুনিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে, যেমন যা উম্মাহর নিকট গ্রহণযোগ্যতা প্রাপ্ত (المتلقَّى بالقبول) এবং যা পারিপার্শ্বিক আলামত (قرائن) দ্বারা পরিবেষ্টিত। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
[ص 8]
الفصل الثالثالمعنى الذي لأجله وجب العمل بخبر الواحدلا نزاعَ أن مدار وجوب العمل بخبر الواحد على إفادته الظن.
وقد دلَّ عليه قول الله عز وجل: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} [الحجرات: 6]. فعلّل وجوب التبيُّن في خبر الفاسق بأن العمل به بلا تبيُّن أخذٌ بجهالة، والجهالة عدم العلم، وهي هاهنا عدمُ العلم الذي هو الظن؛ لأن الآية قد دلّت على أنه لا يجب التبيُّن في خبر العدل، فدلَّ ذلك أن الأخذ به ليس أخذًا بجهالة، وقد عُلِم أنه يفيد الظن.
ولكن هنا احتمالان:
الأول: أن تكون إفادة الظن هي العلة.
الثاني: أن تكون هي الحكمة، والعلة ضابطها، وهو نفس إخبار الثقة.
وذكر بعض أهل العلم أن الأول قد يُنقَض بخبر بعض الصبيان المميّزين، وبعض الكفّار، وبعض الفسّاق. فقد يكون الصبي المميّز أديبًا ذكيًّا نشأ على الصدق والأمانة والتدين، يُعرف منه شدةُ الحرص على الصدق والتباعد عن الكذب. وكذلك بعض الفسّاق بنحو شرب الخمر، قد يكون معروفًا بالصدق، شديدَ الحرصِ عليه والتباعدِ عن الكذب في أمور الناس، فضلًا عن الكذب على النبي صلى الله عليه وآله وسلم. وكذلك بعض الكفار قد يكون معروفًا بتحرِّي الصدق وتجنُّب الكذب.
[পৃষ্ঠা ৮]
তৃতীয় অধ্যায়যে কারণে একক বর্ণনা (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করা আবশ্যকএ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, একক বর্ণনা (خبر الواحد) অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ভিত্তি হলো তা প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে।
মহান আল্লাহ তাআলার বাণী এর প্রমাণ বহন করে: {হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই (فتبينوا) করো, যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশত (بجهالة) কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত না করো, যার ফলে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।} [আল-হুজুরাত: ৬]। এখানে পাপাচারীর (فاسق) সংবাদের ক্ষেত্রে যাচাইকরণ (التبيُّن) আবশ্যক হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যাচাই ছাড়া সে অনুযায়ী আমল করা হলো অজ্ঞতার (جهالة) বশবর্তী হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। আর অজ্ঞতা (الجهالة) হলো জ্ঞানের অনুপস্থিতি, যা এখানে ওই জ্ঞানহীনতাকে নির্দেশ করে যা প্রবল ধারণা (الظن) স্বরূপ; কারণ আয়াতটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ন্যায়নিষ্ঠ (العدل) ব্যক্তির সংবাদের ক্ষেত্রে যাচাইকরণ (التبيُّن) আবশ্যক নয়। এটি প্রমাণ করে যে, ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণ করা অজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত নয়, এবং এটি সুনিশ্চিত যে তা প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করে।
তবে এখানে দু’টি সম্ভাবনা রয়েছে:
প্রথমত: প্রবল ধারণা (الظن) প্রদান করাই হলো মূল কারণ (العلة)।
দ্বিতীয়ত: এটি হলো হিকমত বা অন্তর্নিহিত রহস্য (الحكمة), আর এর নিয়ামক বা মূল কারণ (العلة) হলো স্বয়ং নির্ভরযোগ্য (الثقة) ব্যক্তির সংবাদ প্রদান।
কোনো কোনো আহলে ইলম উল্লেখ করেছেন যে, প্রথম সম্ভাবনাটি কিছু সমঝদার বালক (الصبي المميّز), কিছু কাফির এবং কিছু পাপাচারীর (الفساق) সংবাদের মাধ্যমে খণ্ডিত হতে পারে। কেননা কোনো সমঝদার বালক (الصبي المميّز) শিষ্টাচারসম্পন্ন ও মেধাবী হতে পারে যে সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও দ্বীনদারির ওপর বেড়ে উঠেছে, এবং যার মধ্যে সত্যের প্রতি প্রচণ্ড আগ্রহ ও মিথ্যা থেকে বিমুখ থাকার বিষয়টি সুপরিচিত। একইভাবে মদ্যপানের মতো পাপাচারে লিপ্ত কোনো ব্যক্তিও সত্যবাদিতার জন্য সুপরিচিত হতে পারে এবং মানুষের সাধারণ বিষয়ে তো বটেই, এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর মিথ্যা আরোপের ক্ষেত্রেও তার চরম সতর্কতা ও মিথ্যা থেকে দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি সুবিদিত হতে পারে। তদ্রূপ কোনো কোনো কাফিরও সত্যনিষ্ঠা ও মিথ্যা বর্জনের জন্য সুপরিচিত হতে পারে।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
وأجاب: بأن ردَّ خبر الصبي والفاسق والكافر مطلقًا من تخصيص العلة، وهو غير قادح عند جماعة من علماء الأصول، كما هو رأي الحنفية.
قال عبد الرحمن: الحق أن العلة لا بدَّ من سلامتها من النقض، لكن قد ينتفي الحكم مع وجودها، لفقد شرطٍ أو لوجود مانعٍ منعَ من تأثيرها. فإذا عُرِف في الصورة التي ينتفي فيها الحكم مع وجود العلة أنه انتفى فيها شرطٌ أو وُجِد مانع= لم يكن ذلك نقضًا. وذلك كالزوجية علة للإرث، ولا ينقضها أن أحد الزوجين إذا قتل الآخر لم يرِثْه، لأن ذاك لمانع، وهو القتل.
فأما أن تنتفي مع وجودها بشروطها وعدمِ مانعٍ، فلا يجوز. فإن اعتُرِض على علة بمثل هذا فهو قادح فيها البتةَ.
فإن كانت منصوصةً فلا تخلو عن وجوه:
أحدها: أن يكون هناك وصف لا بد أن يُضمَّ إليها، وهو غير موجود في صورة النقض.
الثاني: أن يكون لها شرط كذلك، أي غير موجود في صورة النقض.
الثالث: أن يكون في صورة النقض مانع.
وقبل أن يتبين واحد من هذه الثلاثة لا يمكن الجزمُ بأنها علة تامة.
وعلى هذا، فقد يجاب عن المذكور بجواب أصح مما ذكر:
فيقال: أما الصبي فلا نسلِّم أن خبره يفيد الظن في الأمور المهمة، وذلك أن المانع من الكذب إمّا خشية الله والخوف من عذاب الآخرة، وإمّا الخوف من الضعة عند الناس، والصبي خالٍ من الأول، لعلمِه أن القلم مرفوع عنه. وعن الثاني لأنه لم يبلغ المبلغ الذي يكون للشرف عند صاحبه
তিনি উত্তর দিয়েছেন: শিশু, পাপাচারী (فاسق) এবং অবিশ্বাসী (كافر)-এর সংবাদ (خبر) নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করা হলো ইল্লতের সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص العلة)-এর অন্তর্ভুক্ত। উসুল শাস্ত্রের একদল পণ্ডিতের মতে এটি ত্রুটিযুক্ত (قادح) নয়, যেমনটি হানাফি মাযহাবের অভিমত।
আবদুর রহমান বলেন: প্রকৃত সত্য হলো, ইল্লত বা কারণকে (العلة) অবশ্যই বৈপরীত্য (النقض) থেকে মুক্ত হতে হবে। তবে কখনো কখনো কারণ থাকা সত্ত্বেও বিধান (الحكم) অনুপস্থিত থাকতে পারে—কোনো শর্ত (شرط) না থাকা অথবা এমন কোনো প্রতিবন্ধক (مانع) উপস্থিত থাকার কারণে যা সেই ইল্লতের প্রভাব বিস্তারে বাধা দেয়। সুতরাং, যদি এমন কোনো ক্ষেত্র জানা যায় যেখানে ইল্লত থাকা সত্ত্বেও বিধান অনুপস্থিত এবং সেখানে কোনো শর্ত বিলুপ্ত হয়েছে অথবা কোনো প্রতিবন্ধক পাওয়া গেছে, তবে তাকে ইল্লতের বৈপরীত্য (نقض) বলা হবে না। উদাহরণস্বরূপ, বৈবাহিক সম্পর্ক হলো উত্তরাধিকারের (الإرث) জন্য একটি ইল্লত বা কারণ (علة); কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর একজন অন্যজনকে হত্যা করলে সে উত্তরাধিকার পায় না—এটি উক্ত ইল্লতকে নাকচ করে না। কারণ এখানে উত্তরাধিকার না পাওয়ার পেছনে একটি প্রতিবন্ধক (مانع) রয়েছে, আর তা হলো হত্যা।
পক্ষান্তরে শর্তাবলি বিদ্যমান থাকা এবং কোনো প্রতিবন্ধক না থাকা সত্ত্বেও ইল্লত থাকা অবস্থায় বিধান অনুপস্থিত থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কোনো ইল্লতের ক্ষেত্রে এমন আপত্তি তোলা হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবেই তাকে ত্রুটিযুক্ত (قادح) সাব্যস্ত করবে।
আর যদি ইল্লতটি নস দ্বারা সাব্যস্ত (منصوصة) হয়, তবে তা কয়েকটি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়:
প্রথমত: সেখানে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে যা এর সাথে যুক্ত হওয়া আবশ্যক, কিন্তু বৈপরীত্যের (النقض) ক্ষেত্রে সেটি বিদ্যমান নেই।
দ্বিতীয়ত: একইভাবে এর জন্য কোনো শর্ত (شرط) থাকতে পারে যা বৈপরীত্যের ক্ষেত্রে নেই।
তৃতীয়ত: বৈপরীত্যের চিত্রে কোনো প্রতিবন্ধক (مانع) থাকতে পারে।
এই তিনটি বিষয়ের কোনো একটি স্পষ্ট হওয়ার আগে এটিকে পূর্ণাঙ্গ ইল্লত (علة تامة) হিসেবে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এর ভিত্তিতে, উল্লিখিত বিষয়টি সম্পর্কে ইতিপূর্বে বর্ণিত উত্তরের চেয়ে অধিকতর সঠিক একটি উত্তর দেওয়া যেতে পারে:
বলা যেতে পারে: শিশুর ক্ষেত্রে আমরা এটি মেনে নিই না যে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার দেওয়া সংবাদ (خبر) প্রবল ধারণা (الظن) তৈরি করে। কারণ মিথ্যা থেকে বিরত থাকার কারণ হলো হয় আল্লাহভীতি ও পরকালের আজাবের ভয়, অথবা মানুষের কাছে মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ভয়। শিশুর মধ্যে প্রথম কারণটি অনুপস্থিত, কারণ সে জানে যে তার ওপর থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে। আর দ্বিতীয় কারণটিও নেই, কারণ সে এখনো সেই বয়সে পৌঁছায়নি যেখানে মানুষ নিজের আত্মমর্যাদা বা শরাফত নিয়ে সচেতন থাকে।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪৬)
قيمةٌ، بل يرى أنه إن تبيَّن كذبُه فالناس يعذرونه بالصغر.
وأما الفاسق فقد تبين بظهور فسقه ضعفُ خشيته من الله، وخوفِه من عذاب الآخرة، وضعفُ خوفه من الضعة عند الناس. ومع ذلك، فالفسق مانع من قبول خبره، زجرًا له وتنفيرًا له ولغيره عن الفسق؛ لأن الإنسان إذا رأى أن الفسق يحطُّه عن درجة من يُقبَل خبره كان ذلك مما يردعه ويزجره.
وأما الكافر فلا يصدُّه عن الكذب على المسلمين خشيةٌ من الله ولا من عذاب الآخرة.
وخشية الضعة عندهم إذا ظهر كذبه يعارضها رجاؤه الرفعةَ عند إخوانه من الكفار؛ لأنه هو وهم أعداء للإسلام وأهله، ومع ذلك فهذه العداوة مانع من قبول خبره، والمانع الذي ذكرناه في الفاسق قائم هنا أيضًا.
[ص 9] وقد يُخدَش في بعض هذا الجواب بما قد يمكن دفعه، وقد يُعترض بغير ما ذكر، وبسط ذلك يطول. وعلى كل حال، فلا يخلو الاحتمال الأول من خدشةٍ، فلننظر في الاحتمال الثاني.
فأقول: قد يشهد له ما عُرف من تفاوت درجات الظن، ومن ضبط الشارع له في الشهادة ضوابط مختلفة، تارة بأربعة رجال بشرطهم، وتارة برجلين كذلك، وتارة برجل وامرأتين، إلى غير ذلك.
وقد يُعترض عليه باتفاق أهل العلم في الجملة على رد بعض أخبار الثقات، والحكمِ عليها بأنها خطأ، وتوقفهم فيها، مع اختلافهم في ما علل بالمظنة، وهي ضابط الحكمة: هل يثبت الحكم مع ثبوته حتى في الصور التي يتبين فيها عدم الحكمة، كلحوق نسب ولد المرأة بزوجها الذي لم يجتمع بها قطعًا؟
মূল্যবান, বরং তিনি মনে করেন যে, যদি তার মিথ্যাচার প্রকাশ পায়, তবে মানুষ তাকে অল্প বয়সের কারণে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে।
আর পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির ক্ষেত্রে, তার পাপাচার প্রকাশের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি তার তাকওয়া বা ভীতির দুর্বলতা এবং পরকালের আযাবের ব্যাপারে তার আশঙ্কার অভাব প্রকাশ পায়, সেই সাথে মানুষের কাছে মর্যাদাহানির ব্যাপারেও তার ভীতি শিথিল হয়ে যায়। তদুপরি, পাপাচার তার সংবাদ বা বর্ণনা (خبر) কবুল করার ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধক, যাতে তাকে এবং অন্যদের পাপাচার থেকে নিবৃত্ত ও নিরুৎসাহিত করা যায়; কারণ মানুষ যখন দেখে যে পাপাচার তাকে গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারীর স্তর থেকে নামিয়ে দিচ্ছে, তখন তা তাকে পাপাচার থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হয়।
আর অবিশ্বাসী বা কাফির (كافر) ব্যক্তির ক্ষেত্রে, আল্লাহর ভয় বা পরকালের আযাবের আশঙ্কা তাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলা থেকে বিরত রাখে না।
আর যদি তার মিথ্যাচার প্রকাশ পায়, তবে তাদের (মুসলমানদের) কাছে হেয় হওয়ার যে ভয়, তার বিপরীতে সে তার সমমনা অন্যান্য কাফিরদের (كفار) কাছে উচ্চ মর্যাদা লাভের আশা পোষণ করে; কারণ সে এবং তারা উভয়েই ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু। অধিকন্তু, এই শত্রুতা তার বর্ণনা (خبر) কবুল করার ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধক, এবং পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির ক্ষেত্রে আমরা যে প্রতিবন্ধকের কথা উল্লেখ করেছি, তা এখানেও বিদ্যমান।
[পৃষ্ঠা ৯] এই উত্তরের কিছু অংশে এমন কিছু আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে যা নিরসন করা সম্ভব, আবার উল্লেখিত বিষয় ছাড়াও অন্যান্য আপত্তি আসতে পারে, যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দীর্ঘ হবে। যাই হোক, প্রথম সম্ভাবনাটি ত্রুটিমুক্ত নয়, তাই আসুন আমরা দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি বিবেচনা করি।
আমি বলছি: ধারণার (ظن) স্তরের ভিন্নতা এবং সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানদাতার (شارع) পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিভিন্ন নীতিমালা এর সপক্ষে প্রমাণ হতে পারে; যেমন কখনও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে চারজন পুরুষ, কখনও একইভাবে দুইজন পুরুষ, আবার কখনও একজন পুরুষ ও দুইজন নারী, ইত্যাদি।
তবে এর বিপরীতে আপত্তি তোলা যেতে পারে যে, নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের কিছু বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে আলেমগণ সাধারণভাবে একমত পোষণ করেছেন এবং সেগুলোকে ভুল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন অথবা সেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন। সেই সাথে ধারণার ভিত্তিতে যে বিষয়গুলোকে কারণ হিসেবে দর্শানো হয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও মতভেদ রয়েছে, যা হিকমতের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত: সেই কারণটি বিদ্যমান থাকলে কি বিধানটি সাব্যস্ত হবে, এমনকি এমন ক্ষেত্রেও যেখানে হিকমত বা যৌক্তিকতা অনুপস্থিত বলে প্রতীয়মান হয়? যেমন: স্ত্রীর সন্তানের বংশপরিচয় এমন স্বামীর সাথে যুক্ত করা যার সাথে তার মিলনের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪৭)
والجواب: أنه إن صح أن من المجتهدين من كان يجزم بهذه القاعدة بإطلاق، وهي أن العبرة بوجود الضابط، وإن علم انتفاء الحكمة قطعًا= فلعله غفل عن أصله هنا، أو رأى أن العلة هنا هي مجرد إفادة الظن، أو رأى زيادة وصف في الضابط، كأن يقال: خبر الثقة خبرًا لم يتبين خطؤه. وهذا معنى قول أهل الحديث: "من غير شذوذ ولا علة قادحة". فالشذوذ والعلة القادحة بمعنى قولي: "لم يتبين خطؤه". فالذي يتحرر رجحان الاحتمال الثاني، لكن بهذا القيد، والله الموفق.
উত্তর হলো: যদি এটি সঠিক হয় যে, মুজতাহিদগণের (المجتهدين) মধ্যে এমন কেউ ছিলেন যারা ঢালাওভাবে এই মূলনীতির (القاعدة) ওপর দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন যে, মানদণ্ড (الضابط) বিদ্যমান থাকাই ধর্তব্য, যদিও সেখানে হিকমত বা মূল রহস্যের (الحكمة) অনুপস্থিতি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে—তবে সম্ভবত তিনি এখানে তাঁর মূল আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন, অথবা মনে করেছেন যে এখানকার কার্যকর কারণ (العلة) কেবল প্রবল ধারণার উদ্রেক করা, অথবা তিনি মানদণ্ডের (الضابط) ক্ষেত্রে অতিরিক্ত একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেছেন। যেমনটি বলা হয়ে থাকে: নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর সংবাদ হলো এমন সংবাদ যার ভুল প্রকাশ পায়নি। আর এটিই হাদিস বিশারদগণের উক্তির মর্মার্থ: "অস্বাভাবিকতা (شذوذ) এবং দোষযুক্ত ত্রুটি (علة قادحة) মুক্ত হওয়া"। সুতরাং অস্বাভাবিকতা (شذوذ) ও দোষযুক্ত ত্রুটি (علة قادحة) আমার এই কথারই সমার্থক যে: "তার ভুল প্রকাশ পায়নি"। অতএব, যা নির্যাস হিসেবে বেরিয়ে আসে তা হলো দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিরই প্রাধান্য, তবে এই শর্তের সাথে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪৮)
الفصل الرابعالمقابلة بين الرواية والشهادةقد تقرر في الشهادة أنه لا يثبت الزنا إلا بأربعة شهود بشرطهم، وفي الدماء ونحوها برجلين بشرطهما، وفي الأموال برجلين أو رجل وامرأتين بشرطهم، واكتفى جماعة فيها برجل ويمين المدعي، واختلفوا في نحو الولادة، فاشترط بعضهم أربع نسوة بشرطهن، واكتفى بعضهم بامرأة واحدة بشرطها.
واستشكل بعضهم التخفيف في الرواية بالاكتفاء بخبر واحدٍ بشرطه: رجلٍ أو امرأةٍ، مع أن القياس عكسه؛ فإن الشهادة إنما تثبت بها قضية واحدةٌ، وأما الراوية فإنها تكون دينًا يُعمل به إلى يوم القيامة، في قضايا لا تحصى. ونقل عن بعض المتكلمين أنه يشترط في الرواية اثنان كما في الشهادة.
والجواب من أوجه:
الأول: أن الزنا ــ مثلًا ــ يتعارض فيه أمران:
الأول: اقتضاء الحكمة للزجر عنه.
الثاني: كراهية أن يُحدَّ من ليس بزانٍ.
فالأول يقتضي أن لا يُشترط في ثبوته القطعُ أو ما يقرب منه؛ لأنه إذا اشتُرِط ذلك لم يكد يقع حدٌّ في الأرض، ولم يحصل مقصود الزجر.
والثاني يقتضي الاحتياط في ثبوته، حتى لا يُحدَّ من ليس بزانٍ. وعلى هذا فقِسْ.
চতুর্থ অধ্যায়বর্ণনা (رواية) ও সাক্ষ্যের (شهادة) মধ্যে পারস্পরিক তুলনাসাক্ষ্য প্রদানের (شهادة) ক্ষেত্রে এটি সুনির্ধারিত যে, ব্যভিচার কেবল শর্ত সাপেক্ষে চারজন সাক্ষীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আর জীবনের নিরাপত্তা (রক্তপাত) ও তদ্রূপ বিষয়ে শর্ত সাপেক্ষে দুইজন পুরুষের মাধ্যমে, এবং ধন-সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে শর্ত সাপেক্ষে দুইজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। একদল ফকিহ এক্ষেত্রে একজন পুরুষ ও বাদীর শপথকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। সন্তান জন্মদানের মতো বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; তাঁদের কেউ কেউ শর্ত সাপেক্ষে চারজন নারীর উপস্থিতিকে শর্ত করেছেন, আবার কেউ কেউ শর্ত সাপেক্ষে কেবল একজন নারীকেই যথেষ্ট বলে গণ্য করেছেন।
বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে একজন বর্ণনাকারীর—তিনি পুরুষ হোন বা নারী—শর্ত সাপেক্ষে একক সংবাদের (خبر واحد) ওপর নির্ভর করার মাধ্যমে যে শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়েছে, সে বিষয়ে কেউ কেউ আপত্তি উত্থাপন করেছেন। অথচ যৌক্তিক অনুমান বা কিয়াস (قياس) এর বিপরীত হওয়ার কথা ছিল; কারণ সাক্ষ্যের (شهادة) মাধ্যমে কেবল একটি একক বিচার্য বিষয় প্রমাণিত হয়, পক্ষান্তরে বর্ণনার (رواية) বিষয়টি হলো এমন একটি দ্বীন যা কিয়ামত পর্যন্ত অগণিত বিষয়ে পালিত হতে থাকে। কিছু কালামশাস্ত্রবিদের (متكلمين) পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, সাক্ষ্যের (شهادة) মতোই বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রেও দুইজন বর্ণনাকারী হওয়া শর্ত।
এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যেতে পারে:
প্রথমত: উদাহরণস্বরূপ ব্যভিচারের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় পরস্পর বিরোধী অবস্থান নেয়:
প্রথম: একে দমনের জন্য প্রজ্ঞার দাবি।
দ্বিতীয়: ব্যভিচারী নয় এমন ব্যক্তিকে দণ্ড (حد) প্রদান করার প্রতি অনীহা।
প্রথম বিষয়টি দাবি করে যে, এটি প্রমাণের জন্য অকাট্য নিশ্চয়তা (القطع) বা তার নিকটবর্তী কিছু শর্ত করা যাবে না; কারণ যদি তা শর্ত করা হয়, তবে পৃথিবীতে দণ্ড (حد) কার্যকর হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যও সফল হবে না।
আর দ্বিতীয় বিষয়টি এটি প্রমাণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করাকে আবশ্যক করে, যাতে ব্যভিচারী নয় এমন কাউকে দণ্ড (حد) প্রদান করা না হয়। এর ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য বিষয়গুলো অনুমান করুন।
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৪৯)
وإذا نظرتَ وجدت أن هذين الأمرين المتعارضين ليسا على درجة واحدة في جميع الأمور. فأما في الزنا فالثاني أرجح من الأول؛ لأن المفسدة العظمى في الزنا إنما هي في المجاهرة به، فأما وقوعه في الجملة فهو وإن كان فسادًا إلا أنه لا ينافي حكمة الخلق، بل يوافقها.
ولما كان في ثبوته عند الحاكم وإقامةِ الحد إعلانٌ له صار ذلك في حكم المجاهرة، فاقتضت الحكمة المنعَ من ذلك ما لم تحصل المجاهرة بغيره. فاشتُرِط أربعة رجال بشرطهم؛ لأن الغالب أن الزانيين بموضع يحتمل أن يكون فيه أو يطرقه أربعة بتلك الشروط= قد جاهرا أو كادا.
وأما القتل ــ مثلًا ــ فالأول أرجح؛ إذ لو اشتُرِط في شهوده أن يكونوا أربعة مثلًا لعزَّ إثباتُ القتل، وإذا عزَّ إثباته والقصاص به استرسل الناس في القتل، وجرَّ القتل إلى القتل، وهكذا، وذلك أشدُّ من الاسترسال في الزنا، مع أن القتل أشدُّ من الزنا.
فلو فرضنا بلدين متساويين في السكّان وأخلاقهم وطباعهم، في أحدهما حاكم يُثبِت القتل بشاهدين ويُقيم به القصاص، وفي الآخر حاكم لا يُثبته إلّا بأربعة شهود، وأنه في سنة من السنين قُتل في البلد الأول عشرة، وثبَّت القاضي القصاصَ في سبع، وقع العفو في قضيتين، وأقيد خمسة. [ص 10] فكان مجموع من قُتِل في ذلك البلد خمسة عشر. ثم حدَسْنا كيف الحال في البلد الثاني= لظننا
(1) أنه وقع فيه من القتل عدوانًا أكثر من هذا، حتى لو قال قائل: لعله قُتِل فيه عدونًا أربعون أو خمسون لما أبعد.
وأما الأموال فالتظالم فيها أكثر من القتل، وقد يطول عليها العهد ويموت
--------------------------------------------
আপনি যদি লক্ষ্য করেন তবে দেখবেন যে এই দুটি বৈপরীত্যপূর্ণ বিষয় সকল ক্ষেত্রে একই স্তরের নয়। ব্যভিচারের ক্ষেত্রে প্রথমটির চেয়ে দ্বিতীয়টি অধিক যুক্তিযুক্ত; কারণ ব্যভিচারের সবচেয়ে বড় অপকারিতা হলো এটি প্রকাশ্যে করা। আর সাধারণভাবে এর সংঘটন যদি ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলাও হয়, তবুও তা সৃষ্টির প্রজ্ঞার (حكمة) পরিপন্থী নয়, বরং তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
যেহেতু বিচারকের কাছে এর প্রমাণ হওয়া এবং দণ্ডবিধি (حد) কার্যকর করার মধ্যে এর প্রচারণা নিহিত থাকে, তাই এটি প্রকাশ্যে করার বিধানের (حكم) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ফলে প্রজ্ঞা (حكمة) দাবি করে যে, অন্য কোনোভাবে এর প্রকাশ না ঘটা পর্যন্ত তা প্রতিহত করা হোক। এজন্য নির্ধারিত শর্তাবলীসহ চারজন পুরুষের সাক্ষ্য আবশ্যক করা হয়েছে; কারণ সাধারণত ব্যভিচারী যুগল এমন স্থানে অবস্থান করে যেখানে ওই শর্তাবলি পূরণকারী চারজন ব্যক্তির উপস্থিতি বা যাতায়াতের সম্ভাবনা থাকে, যা এটাই প্রমাণ করে যে তারা প্রকাশ্যে এই কাজ করেছে বা করার উপক্রম হয়েছে।
অন্যদিকে হত্যার ক্ষেত্রে—উদাহরণস্বরূপ—প্রথমটি অধিক যুক্তিযুক্ত; কেননা যদি এর সাক্ষীর ক্ষেত্রেও চারজন হওয়া শর্ত করা হতো, তবে হত্যার প্রমাণ হওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ত। আর যখন হত্যা প্রমাণ হওয়া এবং তজ্জন্য কিসাস (قصاص) গ্রহণ করা দুষ্কর হয়ে পড়বে, তখন মানুষ যথেচ্ছ হত্যায় মেতে উঠবে এবং একের পর এক হত্যাকাণ্ড চলতেই থাকবে। এটি ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার চেয়েও অধিক ভয়াবহ, যদিও হত্যার অপরাধ ব্যভিচারের চেয়ে গুরুতর।
আমরা যদি জনসংখ্যা, নৈতিকতা এবং স্বভাবের দিক থেকে সমান দুটি শহর কল্পনা করি, যেখানে একটির শাসক দুজন সাক্ষীর ভিত্তিতে হত্যা প্রমাণ করেন এবং কিসাস (قصاص) কার্যকর করেন, আর অন্যটির শাসক চারজন সাক্ষী ছাড়া তা প্রমাণ করেন না; এবং কোনো এক বছরে প্রথম শহরে দশজন নিহত হয়, বিচারক তাদের মধ্যে সাতজনের ক্ষেত্রে কিসাস (قصاص) সাব্যস্ত করেন, দুটিতে ক্ষমা করা হয় এবং পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। [পৃষ্ঠা ১০] ফলে ওই শহরে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল পনেরো। এরপর আমরা দ্বিতীয় শহরের অবস্থা অনুমান করলে আমাদের ধারণা (ظن)
(১) অনুযায়ী এটাই প্রতীয়মান হবে যে, সেখানে এর চেয়েও বেশি অন্যায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এমনকি কেউ যদি বলে যে, সেখানে সম্ভবত অন্যায়ভাবে চল্লিশ বা পঞ্চাশজন নিহত হয়েছে, তবে তা অবাস্তব হবে না।
আর সম্পদের ক্ষেত্রে পারস্পরিক জুলুম হত্যার চেয়েও বেশি ঘটে থাকে, আর এর ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হতে পারে এবং মানুষ মারা যেতে পারে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৯)
রিসালাতুন ফিল কালামি আলা আহকামি খাবারিল ওয়াহিদ ওয়া শারাইতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ১৫০)
بعض الشهود، مع أنه ليس هناك فرق كبير بين رجلين ورجل وامرأتين.
وإنما لم تُقبل شهادة النساء في الزنا والقتل ونحوه لقلة تثبتهن، وسرعة تأثرهن، وغير ذلك مما عبِّر عنه في الحديث بنقص عقولهن.
فأما الاكتفاء بشاهد ويمين المدعي فمختلف فيه، إلا أن ما عورض به الدليل على ذلك يختص بما إذا كان أحد الخصمين مدّعيًا والآخر منكرًا، فأما إذا تداعيا شيئًا ليس في يد أحدهما، فأقام أحدهما شاهدًا وأراد أن يحلف معه فالحكم بذلك قوي جدًّا.
فأما الرواية فالحاجة داعية إلى معرفة الحكم الشرعي للعمل به، وهذا يقتضي التوسعة في ما يُعرَف به. وعارض ذلك خشيةُ غلطِ الراوي، أو أن يكون في نفس الأمر بخلاف ما ظهر من عدالته، فيُخشى من التوسعة أن يدخل في الدين ما ليس منه، ويُخشى من التشديد أن يتعذر على كثير من الناس ثبوت الحكم الشرعي، فيلزمه الحكم بخلافه أو التوقف. والموازنة بين هذين مما يصعب على الناظر، فلا يسعُه إلا أن يَكِلَ الأمر إلى عالم الغيب والشهادة الحكيم الخبير.
[ص 11]
الوجه الثاني: أن العارف إذا نظر وتدبر تبين له أن الظن الحاصل بخبر الثقة الواحد الذي يقبله أئمة الحديث لا ينقص عن الظن الحاصل بشهادة العدلين التي تقضي بها الحكّام، بل لعله أقوى منه، وذلك لأمور:
الأول: أن الدواعي إلى الكذب أو التساهل في الحديث أقلُّ وجودًا وأضعف تأثيرًا في النفوس، ولاسيما نفوس من جمع شرائط القبول، بخلاف الدواعي إلى الكذب أو التساهل في الشهادة، فإنها كثيرة الوجود
কিছু সাক্ষী, যদিও দুজন পুরুষ এবং একজন পুরুষ ও দুজন মহিলার মধ্যে বড় কোনো পার্থক্য নেই।
ব্যভিচার, হত্যা এবং এই জাতীয় বিষয়ে নারীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি তাদের দৃঢ়তার (تثبت) অভাব, দ্রুত প্রভাবিত হওয়ার প্রবণতা এবং অন্যান্য কারণে, যে বিষয়টিকে হাদিসে তাদের বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে।
একজন সাক্ষী এবং বাদীর শপথের ওপর নির্ভর করার বিষয়টি মতভেদপূর্ণ, তবে এর বিপরীতে যে দলিল পেশ করা হয় তা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের একজন বাদী এবং অন্যজন অস্বীকারকারী হয়। কিন্তু যখন তারা এমন কোনো জিনিসের দাবি করে যা তাদের কারোরই দখলে নেই, এবং তাদের একজন সাক্ষী উপস্থাপন করে তার সাথে শপথ করতে চায়, তখন সেই অনুযায়ী ফয়সালা প্রদান অত্যন্ত শক্তিশালী (قوي) একটি মত।
পক্ষান্তরে বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে, আমল করার উদ্দেশ্যে শরয়ি বিধান জানার প্রয়োজনীয়তা বিদ্যমান, আর এটি সেই বিধান জানার মাধ্যমসমূহের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা দাবি করে। তবে এর বিপরীতে বর্ণনাকারীর (راوي) ভুল করার আশঙ্কা রয়েছে, অথবা এমন হতে পারে যে বাস্তবে বিষয়টি তার প্রকাশ্য ন্যায়নিষ্ঠতার (عدالة) বিপরীত। ফলে প্রশস্ততা অবলম্বন করলে দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ভয় থাকে যা তার অংশ নয়; আবার কঠোরতা অবলম্বন করলে অনেক মানুষের জন্য শরয়ি বিধান সাব্যস্ত হওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়ার ভয় থাকে, যার ফলে তাকে সেই বিধানের বিপরীতে ফয়সালা দিতে হয় অথবা সিদ্ধান্তহীনতায় (توقف) থাকতে হয়। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা একজন পর্যালোচনাকারীর জন্য অত্যন্ত কঠিন, তাই তার জন্য বিষয়টি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগতের পরিজ্ঞাতা প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
[পৃষ্ঠা ১১]
দ্বিতীয় দিক: একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি যখন গভীর দৃষ্টিতে চিন্তা ও গবেষণা করবেন, তখন তার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, হাদিসের ইমামগণ যে নির্ভরযোগ্য (ثقة) একক ব্যক্তির খবর গ্রহণ করেন, তা থেকে অর্জিত প্রবল ধারণা বিচারকদের ফয়সালাকৃত দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির (عدلين) সাক্ষ্য থেকে অর্জিত ধারণার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, বরং সম্ভবত তা তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী। আর এটি কয়েকটি কারণে:
প্রথমত: হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা বা শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শনের প্রেষণাগুলো মানুষের মনে অনেক কম থাকে এবং এর প্রভাবও অত্যন্ত দুর্বল, বিশেষ করে যারা গ্রহণযোগ্যতার (قبول) শর্তাবলি পূরণ করেছেন তাদের ক্ষেত্রে। এর বিপরীতে সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলা বা শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শনের প্রেষণাগুলো অনেক বেশি বিদ্যমান থাকে।