(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
علاقة المعسكر النصراني الصليبي بالمسلمين عبر التاريخ ومنطلقاتها الأساسية القسم: كتب عامة
الكتاب: علاقة المعسكر النصراني الصليبي بالمسلمين عبر التاريخ ومنطلقاتها الأساسية
المؤلف: زهير الخالد
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السابعة - العدد الثاني شوال 1394 هـ 1974 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 120
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইতিহাসের পরিক্রমায় মুসলিমদের সাথে খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের সম্পর্ক এবং এর মৌলিক ভিত্তি বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: ইতিহাসের পরিক্রমায় মুসলিমদের সাথে খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের সম্পর্ক এবং এর মৌলিক ভিত্তি
লেখক: যুহাইর আল-খালিদ
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সপ্তম বর্ষ - দ্বিতীয় সংখ্যা, শাওয়াল ১৩৯৪ হিজরি - ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
مدْخل…علاقَة المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي بِالْمُسْلِمين عبر التَّارِيخ ومنطلقاتها الأساسية
بقلم: فَضِيلَة الشَّيْخ زُهَيْر الخالد
الْمدرس بالمعهد الثانوي بالجامعة
إِن الْحَمد لله نحمده ونستعينه وَنَسْتَغْفِرهُ ونعوذ بِاللَّه من شرور أَنْفُسنَا وسيئات أَعمالنَا.
من يهد الله فَلَا مضل لَهُ وَمن يضلل فَلَا هادي لَهُ.
وَأشْهد أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم.
أما بعد:
لقد قَامَت - عبر التَّارِيخ - علاقَة بَين الْمُسلمين وَبَين المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي فعلى أَي أساس قَامَت هَذِه العلاقة؟
هَل قَامَت على أساس الْمحبَّة والإخاء فِي الإنسانية كَمَا يُقَال: وعَلى التعاون الْمُشْتَرك على مَا ينفع الطَّرفَيْنِ بِلَا أحقاد وَلَا أضغان وَلَا استغلال وَلَا استعمار، على اعْتِبَار أَن بَيْننَا وَبينهمْ صَعِيدا مُشْتَركا من الْإِيمَان بِاللَّه تَعَالَى وَالدَّار الْآخِرَة - كَمَا يَقُولُونَ -؟
أم قَامَت على أساس العداء والكره والتعصب والأحقاد والحروب الدامية؟
ভূমিকা…ইতিহাসের পরিক্রমায় মুসলিমদের সাথে খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের সম্পর্ক এবং এর মৌলিক উৎসসমূহ
লেখনীতে: ফযীলাতুশ শাইখ জুহাইর আল-খালিদ
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষক
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।
আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর:
ইতিহাসের পরিক্রমায় মুসলিম ও খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল; তবে কোন ভিত্তির ওপর এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত ছিল?
এটি কি মানবিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল—যেমনটি বলা হয়ে থাকে? এবং কোনো বিদ্বেষ, ক্ষোভ, শোষণ বা উপনিবেশবাদ ছাড়াই কি উভয় পক্ষের পারস্পরিক কল্যাণে সহযোগিতার ভিত্তিতে হয়েছিল? এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে যে, আমাদের ও তাদের মাঝে মহান আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসের একটি অভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে—যেমনটি তারা বলে থাকে?
নাকি এটি শত্রুতা, ঘৃণা, গোঁড়ামি, বিদ্বেষ এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল?
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮০)
وَمَا هِيَ الْأَسْبَاب الجوهرية لتِلْك الحروب الدامية الَّتِي كَانَت بَيْننَا وَبينهمْ؟
وَهل هَذِه الْأَسْبَاب أصيلة أم عرضية يُرْجَى زَوَالهَا؟
أم قَامَت على هَذَا تَارَة وعَلى ذَاك تَارَة أُخْرَى؟ أم على غير ذَلِك كُله؟
ثمَّ مَا هِيَ الْحَال الَّتِي آلت إِلَيْهَا هَذِه العلاقة الْيَوْم؟ وَهل هِيَ متأثرة فِيمَا كَانَ بَيْننَا وَبينهمْ فِي الْمَاضِي؟ وَمَا هُوَ مدى تأثرها؟ أم أَنَّهَا بنت الْيَوْم لَا أثر للماضي فِيهَا وَلَا سُلْطَان لَهُ عَلَيْهَا؟
ثمَّ مَا هِيَ نظرة المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي الْيَوْم لنا، وَمَا هِيَ منطلقاتها الأساسية؟ وَهل تستوي دوله وشعوبه وهيئاته ومؤسساته وكنائسه ورؤوسه فِي نظرتهم إِلَيْنَا أم يَخْتَلِفُونَ؟ وَإِذا اخْتلفُوا فَمَا هُوَ السِّرّ فِي ذَلِك؟
هَذَا مَا سأحاول الْإِجَابَة عَلَيْهِ - إِن شَاءَ الله تَعَالَى - فِي محاضرتي هَذِه موجزاً مَا أمكنني الإيجاز، وَإِن كَانَ من عادتي - وَللَّه الْحَمد - أَن لَا أتولى الْإِجَابَة بنفسي، وَإِنَّمَا أدع الْحَقَائِق الَّتِي استخلصها من أصدق المصادر الَّتِي لَا يتَطَرَّق إِلَيْهَا شكّ هِيَ الَّتِي تتولى الْإِجَابَة فِي مثل هَذِه الموضوعات الشائكة الَّتِي تشكل مجالاً كَبِيرا لاخْتِلَاف الاجتهادات والمذاهب، وَكَذَلِكَ الآراء الشخصية والرغبات الذاتية لَهَا أَثَرهَا الْوَاضِح وَحَتَّى الْأَهْوَاء والأغراض تتْرك عَلَيْهَا بصماتها.. مِمَّا يكون لهَذَا كُله أَثَره العميق فِي حجب الرُّؤْيَة الصَّحِيحَة وتشويش الصُّورَة الْحَقِيقِيَّة أَو طمس معالمها فِي الأذهان.. وَلَكِن أذهان من؟ إِنَّهَا أذهان الْمُسلمين وحدهم - وللأسف الشَّديد - إِلَّا من رحم رَبك وَقَلِيل مَا هم بِالنِّسْبَةِ لعامة الْمُسلمين وذراريهم..
আমাদের ও তাদের মাঝে সংঘটিত সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর মৌলিক কারণগুলো কী ছিল?
আর এই কারণগুলো কি মৌলিক নাকি আপতকালীন, যা বিলুপ্ত হওয়ার আশা করা যায়?
নাকি তা কখনো এর ওপর ভিত্তি করে, আবার কখনো ওর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল? অথবা এ সবের বাইরে অন্য কিছুর ওপর?
অতঃপর, এই সম্পর্ক আজ কোন অবস্থায় উপনীত হয়েছে? অতীতে আমাদের ও তাদের মাঝে যা ছিল, তার দ্বারা কি বর্তমান সম্পর্ক প্রভাবিত? সেই প্রভাবের মাত্রা কতটুকু? নাকি এটি সম্পূর্ণ বর্তমানেরই সৃষ্টি, যাতে অতীতের কোনো প্রভাব নেই এবং এর ওপর অতীতের কোনো কর্তৃত্বও নেই?
তারপর, আমাদের প্রতি বর্তমান খ্রিষ্টান ক্রুসেডার শিবিরের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন এবং এর মূল ভিত্তিগুলোই বা কী? আমাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে তাদের রাষ্ট্রসমূহ, জাতিসমূহ, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, গির্জা এবং নেতৃবৃন্দ কি সমান, নাকি তাদের মাঝে পার্থক্য রয়েছে? আর যদি তারা ভিন্নমত পোষণ করে, তবে এর রহস্য কী?
আমি আমার এই বক্তৃতায় ইনশাআল্লাহ যথাসম্ভব সংক্ষেপে এসব প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। যদিও আমার অভ্যাস হলো—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য—নিজে উত্তর প্রদান না করে বরং সন্দেহাতীত ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ থেকে আমি যে সত্যগুলো আহরণ করি, সেগুলোকেই এই ধরনের জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়ে উত্তর দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। কারণ এসব বিষয় ইজতিহাদ ও মতাদর্শগত পার্থক্যের একটি বিশাল ক্ষেত্র তৈরি করে; একইভাবে ব্যক্তিগত মতামত ও আত্মকেন্দ্রিক আকাঙ্ক্ষারও এখানে সুস্পষ্ট প্রভাব থাকে, এমনকি খেয়াল-খুশি ও হীন উদ্দেশ্যও এর ওপর ছাপ রেখে যায়। আর এসব কিছু সঠিক (صحيح) দৃষ্টিভঙ্গি আড়াল করতে এবং প্রকৃত চিত্রটিকে বিকৃত করতে কিংবা মানুষের মন থেকে এর বৈশিষ্ট্যগুলো মুছে ফেলতে গভীর প্রভাব ফেলে। কিন্তু কাদের মনে? অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এটি কেবল মুসলমানদের মনে—তবে আপনার প্রতিপালক যাদের ওপর দয়া করেছেন তারা ছাড়া, আর সাধারণ মুসলিম ও তাদের বংশধরদের তুলনায় তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮০)
المصادر الَّتِي اعتمدها:لقد قلت إِنَّنِي لَا أُجِيب بنفسي وَإِنَّمَا أدع الْحَقَائِق الَّتِي أستخلصها من أصدق المصادر الَّتِي لَا يتَطَرَّق إِلَيْهَا شكّ هِيَ الَّتِي تتولى الْإِجَابَة، فَمَا هِيَ هَذِه المصادر؟
গৃহীত উৎসসমূহ:আমি বলেছি যে, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো উত্তর দিচ্ছি না; বরং আমি সেই সকল ধ্রুব সত্যকে উপস্থাপন করছি যা আমি সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য (أصدق) উৎসসমূহ থেকে আহরণ করেছি, যেগুলোর ব্যাপারে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই। মূলত এই উৎসগুলোই উত্তর প্রদানের দায়িত্ব পালন করছে। তবে সেই উৎসগুলো কী কী?
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮১)
إِنَّهَا مصدران اثْنَان، هما: الْوَحْي الإلهي فِي الْكتاب وَالسّنة ثمَّ الْوَاقِع التاريخي.
الْمصدر الأول: الْوَحْي الإلهي فِي الْكتاب وَالسّنة:
إِن وَحي الله عز وجل سَوَاء كَانَ فِي الْقُرْآن الْكَرِيم، أَو على لِسَان الرَّسُول الْكَرِيم، مُحَمَّد بن
عبد الله - صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِ - هُوَ أوثق المصادر على الْإِطْلَاق، فَهُوَ الَّذِي لَا يرقى إِلَيْهِ شكّ وَلَا يَأْتِيهِ الْبَاطِل من بَين يَدَيْهِ وَلَا من خَلفه لِأَنَّهُ تَنْزِيل من حَكِيم حميد. قَالَ تَعَالَى: {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ لَا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} فصلت: 42. وَمن ثمَّ فَإِن تقريراته منزّهة عَمَّا تتعرض لَهُ تقريرات الْبشر واستنباطاتهم من نتائج مَا فطروا عَلَيْهِ من جهل وقصور بشري، ورغبات فِي النَّفْع الذاتي ومحاباة لِذَوي السُّلْطَان والنفوذ وَالْمَال والجاه، أَو مجاراة للتيارات السائدة، وَالسَّعْي وَرَاء الْأَغْرَاض والأهواء، وَكَذَلِكَ مُرَاعَاة لجماهير الْأمة ومحاولات استرضائها والتقرب إِلَيْهَا.. وَمن ثمَّ فَالْقيمَة الْعُظْمَى والكبرى للتقريرات الربانية فِي الْكتاب وَالسّنة.
الْمصدر الثَّانِي: الْوَاقِع التاريخي:
وأعني بالواقع التاريخي: الْأَحْدَاث التاريخية كَمَا حدثت وَوَقعت بِالْفِعْلِ بأشخاصها ودوافعهم الْحَقِيقِيَّة، وأغراضهم وأهدافهم الْخَاصَّة والعامة. وَقد جَاءَ الْوَاقِع التاريخي مُصدقا ومترجماً للتقريرات الربانية، وَهَذَا أَمر بديهي بل أَكثر من البديهي إِن صَحَّ هَذَا التَّعْبِير لِأَن الْمُقَرّر هُوَ الله سبحانه وتعالى الَّذِي يَسْتَوِي لعلمه الْحَاضِر الْمشَاهد والماضي السحيق، والمستقبل الْغَائِب.
هَذَا الَّذِي أعنيه بالواقع التاريخي وَلَيْسَت كتب التَّارِيخ وَمَا كتب فِيهَا جملَة وحوته بَين صفحاتها..لِأَن هُنَاكَ فرقا كَبِيرا جدا وبونًا شاسعاً بَين الْوَاقِع التاريخي كَمَا وَقع وَحدث بِالْفِعْلِ وَبَين مَا كتب عَنهُ وسجل فِي كتب التَّارِيخ،
নিশ্চয়ই এগুলো হলো দুটি উৎস, যথা: কিতাব ও সুন্নাহর মাঝে বিদ্যমান খোদায়ী ওহি এবং তারপর ঐতিহাসিক বাস্তবতা।
প্রথম উৎস: কিতাব ও সুন্নাহর মাঝে বিদ্যমান খোদায়ী ওহি:
মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ওহি, চাই তা পবিত্র কুরআনে হোক অথবা রাসূল কারীম মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ —তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক— এর যবান মুবারক থেকে নিঃসৃত হোক, তা হলো নিঃসন্দেহে সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য (أوثق) উৎস। এটি এমন এক উৎস যার প্রতি কোনো সন্দেহ পোষণ করা যায় না এবং এর সামনে বা পেছন কোনো দিক থেকেই কোনো মিথ্যা এতে প্রবেশ করতে পারে না; কেননা এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কিতাব। এর সামনে কিংবা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা এতে প্রবেশ করতে পারে না। এটি প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} (সূরা ফুসসিলাত: ৪২)। অতএব, এর সিদ্ধান্তসমূহ মানুষের স্বভাবজাত অজ্ঞতা ও সীমাবদ্ধতা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি, সম্পদ ও আভিজাত্যের অধিকারীদের প্রতি পক্ষপাতিত্বের ন্যায় মানবীয় সিদ্ধান্ত ও ইস্তিনবাত (استنباط) থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তেমনিভাবে এটি প্রচলিত মতাদর্শের অনুগামী হওয়া, হীন উদ্দেশ্য ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ কিংবা জনসাধারণের সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের প্রচেষ্টা থেকেও পবিত্র। সুতরাং কিতাব ও সুন্নাহর ঐশী সিদ্ধান্তসমূহের গুরুত্ব ও মর্যাদা হলো অপরিসীম।
দ্বিতীয় উৎস: ঐতিহাসিক বাস্তবতা:
ঐতিহাসিক বাস্তবতা বলতে আমি বুঝি: ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহ প্রকৃতপক্ষে যেভাবে সঙ্ঘটিত হয়েছে; এর সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গ, তাদের প্রকৃত প্রেষণা এবং তাদের বিশেষ ও সাধারণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহসহ। আর এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা ঐশী সিদ্ধান্তসমূহের সত্যয়নকারী ও ব্যাখ্যাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়, বরং অভিব্যক্তির সুযোগ থাকলে বলা যায় এটি স্বতঃসিদ্ধর চেয়েও বড় সত্য; কারণ এই সিদ্ধান্ত প্রদানকারী স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, যাঁর জ্ঞানের কাছে বর্তমান চাক্ষুষ বিষয়, সুদূর অতীত এবং অনাগত ভবিষ্যৎ সমান।
ঐতিহাসিক বাস্তবতা বলতে আমি এটিই বুঝিয়েছি, ইতিহাসের কিতাবসমূহ এবং এর পাতায় সামগ্রিকভাবে যা কিছু লিপিবদ্ধ হয়েছে তা নয়। কেননা প্রকৃতপক্ষে যা সঙ্ঘটিত হয়েছে সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং যা ইতিহাসের কিতাবসমূহে বর্ণিত ও নথিবদ্ধ করা হয়েছে, এই দুইয়ের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান ও যোজন যোজন পার্থক্য বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮২)
لَا سِيمَا الَّتِي بَين أَيدي أَبْنَائِنَا وَالَّتِي كتبت خصيصاً لأبناء الْمُسلمين فِيمَا أُعِيد كِتَابَته من تراثنا الإسلامي وبأيدي المستشرقين النَّصَارَى وَالْيَهُود أَو تَحت إشرافهم وبتوجيه دوائرهم حِين بدأوا غزونا الفكري وسأتعرض لهَذَا الْمَوْضُوع إِن شَاءَ الله عز وجل فِي نِهَايَة هَذِه المحاضرة.
إننا كثيرا مَا نجد فِي هَذَا النَّوْع المبثوث بَين أَيدي أَبْنَائِنَا من كتب التَّارِيخ لَا أصل لَهَا أَو حوادث أخذت يَد التَّغْيِير والتبديل تلعب فِيهَا وتدس عَلَيْهَا حَتَّى طمستها ومسخت حَقِيقَتهَا، وشوهت صورتهَا وأعطت عَنْهَا صُورَة أُخْرَى تغير حَقِيقَتهَا كل الْمُغَايرَة، كالافتراءات على الصَّحَابَة - رضوَان الله تعلى عَلَيْهِم - خير أجيال البشرية بعد أَنْبيَاء الله وَرُسُله عَلَيْهِم - الصَّلَاة وَالسَّلَام - الَّذين اخْتَارَهُمْ الله تَعَالَى لحمل أكمل دين أنزلهُ، ولصحبه خير نَبِي أرْسلهُ - عَلَيْهِ أفضل الصَّلَاة وَالسَّلَام -. كَمَا نجد فِيهَا بطولات مختلقة لَا أصل لَهَا تنتحل للطوائف غير الْمسلمَة فِي عَالم الْمُسلمين، فِي الْوَقْت الَّذِي نجد فِيهِ طمساً لبطولات الْمُسلمين تشويهاً لَهَا بِأَن يَجْعَل الْبَاعِث عَلَيْهَا هُوَ طلب الدُّنْيَا ومتاعها، أَو تستند لغير الْمُسلمين وبشكل خَبِيث وَمَا كرّ بِأَن يَجْعَل امْرَأَة أَو أحد أَفْرَاد الطوائف غير الْمسلمَة وَرَاء أبطال الْمُسلمين الَّذين يقومُونَ بهَا، كَمَا يفعل الْكَاتِب النَّصْرَانِي الحاقد جُرجي زَيْدَانَ، فِي رِوَايَات الْهلَال، وَغَيره كثير.
كَمَا نشاهد أَن كتب التَّارِيخ الَّتِي قررت فِي مدارس الْمُسلمين وَفِي بِلَادهمْ قد أغفلت ذكر حوادث ووقائع تاريخية على الرغم من شهرتها ووضوحها وَذَلِكَ مُرَاعَاة لفئةٍ أَو طائفةٍ أَو خدمَة لغرضٍ فِي نفس الْمُؤلف أَو سواهُ. وَمن هَذَا الْقَبِيل إغفال ذكر كل صدام وَقع بَين الْمُسلمين وَبَين الطوائف غير الْمسلمَة وإغفال وقُوف الطوائف غير الْمسلمَة إِلَى جَانب الصليبيين والتتار الوثنيين ضد الْمُسلمين وَذَلِكَ إِلَى جَانب الإستعمار الأوربي فِي الْعَصْر الحَدِيث ثمَّ الزَّعْم بعد هَذَا أَنهم أَصْحَاب بطولات وطنية وَحرب على الاستعمار وهم الضالعون مَعَه.
فَهَذَا شَاعِر نَصْرَانِيّ مثلا يُسَمِّي المستعمرين الفرنسيين بالفاتحين ويتحمس
বিশেষ করে সেই বইগুলো যা আমাদের সন্তানদের হাতে রয়েছে এবং যা আমাদের ইসলামী ঐতিহ্যের পুনর্লিখন হিসেবে মুসলিম সন্তানদের জন্য বিশেষভাবে রচিত হয়েছে। এগুলো খ্রিস্টান ও ইহুদি প্রাচ্যবিদদের হাতে কিংবা তাদের তত্ত্বাবধানে এবং তাদের সংস্থাগুলোর নির্দেশনায় রচিত হয়েছে যখন তারা আমাদের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন শুরু করেছিল। ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান), আমি এই আলোচনার শেষে এই বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করব।
আমাদের সন্তানদের মাঝে ছড়িয়ে থাকা এই ধরণের ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে আমরা প্রায়শই এমন বর্ণনা পাই যার কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل لها), অথবা এমন সব ঘটনা পাই যেখানে পরিবর্তন ও পরিমার্জনের হাত কাজ করেছে এবং সেগুলোতে মিথ্যা বিষয় অনুপ্রবিষ্ট (دس) করানো হয়েছে যা সেগুলোর প্রকৃত রূপকে বিলুপ্ত ও বিকৃত করে দিয়েছে। এগুলো বাস্তবতাকে কলঙ্কিত করেছে এবং এমন এক চিত্র উপস্থাপন করেছে যা মূল সত্য থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেমন—সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ওপর অপবাদ আরোপ করা, যারা আল্লাহর নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) পর মানবজাতির শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম; যাঁদের মহান আল্লাহ তাঁর অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ দ্বীন বহনের জন্য এবং তাঁর প্রেরিত শ্রেষ্ঠ নবীর (আলাইহি আফদালুস সালাতি ওয়াস সালাম) সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন। একইভাবে আমরা সেগুলোতে এমন সব বানোয়াট বীরত্বগাথা পাই যার কোনো ভিত্তি নেই (لا أصل لها), যা মুসলিম বিশ্বের অমুসলিম গোষ্ঠীগুলোর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। ঠিক একই সময়ে আমরা মুসলমানদের প্রকৃত বীরত্বগাথা বিলুপ্ত করার অপচেষ্টা দেখতে পাই এবং সেগুলোকে এভাবে কলঙ্কিত করা হয় যে, এগুলোর নেপথ্য প্রেরণা ছিল পার্থিব স্বার্থ ও ভোগবিলাস। অথবা অত্যন্ত খবিস ও ধূর্ত কৌশলে এই বীরত্বকে অমুসলিমদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যেন কোনো একজন অমুসলিম নারী বা অমুসলিম গোষ্ঠীর কোনো সদস্য সেসব বীর মুসলিমদের নেপথ্য কারিগর ছিল যারা এই বীরত্ব প্রদর্শন করেছিলেন। যেমনটি হিংসুক খ্রিস্টান লেখক জর্জি জায়দান তার 'রিওয়ায়াতুল হিলাল' ও অন্যান্য বইয়ে করেছেন এবং তার মতো আরও অনেকেই এটি করে থাকেন।
তেমনি আমরা লক্ষ্য করি যে, মুসলিম দেশগুলোর বিদ্যালয়সমূহে পাঠ্য হিসেবে নির্ধারিত ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ও বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যদিও সেগুলো অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও সুস্পষ্ট। এটি করা হয়েছে কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর প্রতি লক্ষ্য রেখে অথবা লেখক বা অন্য কারও কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। এই পর্যায়ভুক্ত একটি কাজ হলো মুসলিম ও অমুসলিম গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘটিত প্রতিটি সংঘাতের কথা এড়িয়ে যাওয়া এবং ক্রুসেডার ও পৌত্তলিক তাতারদের পাশে দাঁড়িয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অমুসলিম গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানের বিষয়টি গোপন করা। আধুনিক যুগে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের সাথে তাদের সহযোগিতার বিষয়টিও একইভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপরও দাবি করা হয় যে, তারা ছিল জাতীয় বীর এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যুদ্ধের অগ্রসৈনিক, অথচ তারাই ছিল সাম্রাজ্যবাদের প্রকৃত সহযোগী।
উদাহরণস্বরূপ, জনৈক খ্রিস্টান কবি ফরাসি উপনিবেশবাদীদের 'বিজয়ী' হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং অত্যন্ত উৎসাহের সাথে...
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
لَهُم حِين يدْخلُونَ بعض الْبِلَاد الْعَرَبيَّة وَيطْلب أهل مِلَّته بالتعصب لَهُم فَيَقُول:
وتعصبوا للفاتحين نكايةً
… بِالْمُسْلِمين الْعَرَب وَالْإِسْلَام!
كَذَلِك نجد فِيهَا تفسيرات وتوجيهات للحوادث التاريخية، الَّتِي يَسْتَحِيل طمسها، بعد مسخها، كالحروب الصليبية فقد مسخت حَتَّى حصرت بحدود قرنين من الزَّمَان هما السَّادِس وَالسَّابِع الهجريان، وَلَيْسَ هَذَا فَحسب بل حصرت بعدة حملات صليبية جَاءَت على شريط ضيق على السَّاحِل السوري والمصري فَقَط، ثمَّ لما اطمأنوا إِلَى أَن عملية المسخ هَذِه انطلت على الْكثير من الْمُسلمين مسخوها كُلية فَقَالُوا: إِنَّهَا لَيست صليبية فِي حَقِيقَتهَا وَإِنَّمَا هِيَ حروب استعمارية اقتصادية وسياسية وَلكنهَا جَاءَت تَحت شعار الصَّلِيب وباسم الدّين، لِأَن العصور الْوُسْطَى هِيَ عصور دينية، وَبعد هَذَا المسخ المتواصل لَا تكَاد تَجِد لَهَا بحثا فِي هَذَا النَّوْع من كتب التَّارِيخ، وَإِنَّمَا مُجَرّد ذكر هُوَ للْإِشَارَة أقرب مِنْهُ للبحث.
كَمَا نجد تفسيرات متعسفة وتوجيهات لأحداث تاريخية هَامة انتصاراً لفكرة فَاسِدَة وتأييداً لمَذْهَب بَاطِل..إِلَى آخر مَا هُنَالك من صور التشويه والدس على تَارِيخ الْمُسلمين مِمَّا لَا يُمكن حصره فِي هَذِه الْمُقدمَة لهَذِهِ المحاضرة..إِلَّا أَن الَّذِي أُرِيد أَن أقوله: إِن هَذَا النَّوْع المشوه من كتب التَّارِيخ قد كثر كَثْرَة فَاحِشَة فِي هَذِه الْأَيَّام، مِمَّا بَات مَعَه من الضَّرُورِيّ جدا أَن ينْهض الْمُسلمُونَ لكتابة تاريخهم من جَدِيد، فَإِن التَّارِيخ الإسلامي، لم يكْتب بعد كَمَا يجب أَن يكْتب، وَلم ينل الْعِنَايَة الكافية من أبنائه، بل لعلّي لَا أبالغ إِذا قلت أَن تاريخنا الإسلامي الْيَوْم لم ينل الْحَد الْأَدْنَى من الْعِنَايَة بِهِ من الْمُسلمين، وَمن ثمَّ لَا يُوجد أمامنا مِنْهُ سوى المؤلفات الضخمة الَّتِي وَضعهَا عُلَمَاؤُنَا الأفذاذ على طريقتهم الَّتِي لَا تصل إِلَّا للمختصين والباحثين، كَمَا سنشير بعد قَلِيل إِن شَاءَ الله تَعَالَى. وَنَوع آخر من كتب التَّارِيخ وَهُوَ مَا عنيته بِالذكر مِمَّا كتبه المستشرقون أَو تَحت إشرافهم الْمُبَاشر أَو غير الْمُبَاشر وبتوجيه من دوائرهم بشتى طرق التَّوْجِيه الَّتِي أقلهَا أَلا يصبر المؤرخ الْمُحدث على المؤلفات الْقَدِيمَة أَو لَا يحسن الْبَحْث فِيهَا، فَلَا يجد مرجعاً لَهُ سوى مَا وَضعه المبشرون ومؤسساتهم فيعتمدها وَمن ثمَّ تتسرب
যখন তারা কিছু আরব দেশে প্রবেশ করে এবং তাদের নিজ ধর্মাবলম্বীদের তাদের প্রতি গোঁড়ামি প্রদর্শন করার আহ্বান জানায়, তখন সে বলে:
...এবং আরব মুসলিম ও ইসলামের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তারা বিজয়ীদের পক্ষ নিয়ে গোঁড়ামি প্রদর্শন করেছে!
অনুরূপভাবে আমরা এতে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর এমন ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দেখতে পাই, যা বিকৃত করার পর পুরোপুরি মুছে ফেলা অসম্ভব। যেমন ক্রুসেড যুদ্ধসমূহ, একে এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছে যে একে ষষ্ঠ ও সপ্তম হিজরি শতকের মাত্র দুই শতাব্দীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বরং একে সিরিয়া ও মিশরের উপকূলীয় সংকীর্ণ ভূখণ্ডের মাত্র কয়েকটি ক্রুসেড অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। অতঃপর যখন তারা নিশ্চিত হলো যে, এই বিকৃতির প্রক্রিয়াটি অনেক মুসলিমকে বিভ্রান্ত করেছে, তখন তারা একে পুরোপুরি বিকৃত করে বলল: এটি আসলে প্রকৃতগতভাবে ক্রুসেড ছিল না, বরং এগুলো ছিল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঔপনিবেশিক যুদ্ধ; তবে এগুলো ক্রুশের ব্যানারে এবং ধর্মের নামে পরিচালিত হয়েছিল, কারণ মধ্যযুগ ছিল ধর্মীয় চেতনার যুগ। এই অবিরাম বিকৃতির ফলে এই ধরনের ইতিহাস গ্রন্থগুলোতে আপনি এ বিষয়ে কোনো গবেষণার অস্তিত্ব পাবেন না, বরং সেখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা গবেষণার চেয়ে নিছক ইঙ্গিতেরই নামান্তর।
একইভাবে আমরা কোনো ভ্রান্ত (فاسد) ধারণাকে বিজয়ী করতে এবং কোনো বাতিল (باطل) মতাদর্শকে সমর্থন করতে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর উদ্দেশ্যমূলক ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দেখতে পাই। মুসলিম ইতিহাসের বিকৃতি ও মিথ্যা অনুপ্রবেশের (الدس) এমন অসংখ্য রূপ রয়েছে যা এই আলোচনার ভূমিকায় লিখে শেষ করা সম্ভব নয়। তবে আমি যা বলতে চাই তা হলো: বর্তমানে ইতিহাস গ্রন্থের এই বিকৃত রূপটি অত্যন্ত ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে মুসলমানদের জন্য নতুন করে তাদের ইতিহাস লিখতে সচেষ্ট হওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। কেননা ইসলামী ইতিহাস এখনো সেভাবে লেখা হয়নি যেভাবে লেখা উচিত ছিল এবং এর উত্তরসূরীদের কাছ থেকে এটি যথাযথ মনোযোগ পায়নি। এমনকি আমি হয়তো অতিরঞ্জন করছি না যদি বলি যে, আমাদের ইসলামী ইতিহাস আজ মুসলমানদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম গুরুত্বও পাচ্ছে না। ফলে আমাদের সামনে আমাদের প্রথিতযশা আলেমদের রচিত বিশাল বিশাল গ্রন্থগুলো ছাড়া আর কিছু নেই, যা তাদের নিজস্ব শৈলীতে রচিত এবং যা কেবল বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের পক্ষেই বুঝা সম্ভব, যেমনটি আমরা কিছুক্ষণ পরেই উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ তায়ালা। আর অন্য ধরনের ইতিহাস গ্রন্থ হলো—যার কথা আমি বিশেষভাবে বলতে চেয়েছি—যা প্রাচ্যবিদরা লিখেছেন অথবা তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং তাদের বিভিন্ন মহলের নির্দেশনায় রচিত হয়েছে। এসব নির্দেশনার একটি ন্যূনতম দিক হলো এই যে, আধুনিক ইতিহাসবিদরা প্রাচীন মূল গ্রন্থগুলোর ওপর ধৈর্য ধরতে পারেন না অথবা সেগুলোতে যথাযথভাবে অনুসন্ধান করতে পারদর্শী নন। ফলস্বরূপ, তারা মিশনারি ও তাদের সংস্থাগুলোর রচিত গ্রন্থগুলো ছাড়া আর কোনো তথ্যসূত্র খুঁজে পান না এবং সেগুলোকেই নির্ভরযোগ্য মনে করেন, আর এভাবেই অনুপ্রবেশ ঘটে...
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
توجيهاتهم وأغراضهم إِلَى مَا يكْتب ويؤرخ، ويستنتج ويقرر، والأمثلة كَثِيرَة على هَذِه الْأَنْوَاع كلهَا..
أَمَام هَذِه الافتراءات على التَّارِيخ تَارَة، والتنكر لحوادثه والتغيير وَالْمَسْخ فِي حقائقه تَارَة أُخْرَى والتفسيرات المتعسفة لوقائعه وَالْعرض الماكر لأحداثه تَارَة ثَالِثَة نجد أَنْفُسنَا مضطرين للتمييز بَين الْوَاقِع التَّارِيخ كَمَا حدث وَوَقع بِالْفِعْلِ وَبَين مَا كتب عَنهُ وَسمي تَارِيخا!.
إِلَّا أننا نجد أَنْفُسنَا أَمَام سُؤال يطْرَح نَفسه وَهُوَ: كَيفَ السَّبِيل للوصول إِلَى الْوَاقِع التاريخي كَمَا حدث وَوَقع بِالْفِعْلِ؟
إِن الْوُصُول للْوَاقِع التاريخي كَمَا حدث وَوَقع - بِالْفِعْلِ - أَيهَا الْأُخوة لَيْسَ مستحيلاً.. بل هُوَ مُمكن إِذا صحت الْعَزِيمَة وصدقت النِّيَّة وتوفرت الإمكانات، إِذْ أَن سَبيله قَائِمَة، وأولها: الْوَحْي الإلهي فِي الْكتاب وَالسّنة، كَمَا ذكرنَا حَيْثُ يشكل نورا يستضيء بِهِ المؤرخ الْمُسلم فِي بَحثه عَن الْوَاقِع التاريخي. وَثَانِيها: أُمَّهَات كتب التَّارِيخ الَّتِي ألفها عُلَمَاؤُنَا الأفذاذ كالطبري وَابْن كثير وَابْن الْأَثِير وَغَيرهم كثير، وَقد امتازت كتبهمْ بِذكر السَّنَد فِي الرِّوَايَة التاريخية مِمَّا يُمكن المؤرخ المتتبع الْيَوْم من تحري الْحَادِثَة التاريخية كَمَا وَقعت بدراسة سندها على طَريقَة عُلَمَاء الحَدِيث فِي الْجرْح وَالتَّعْدِيل وَكَذَلِكَ تمحيص متن الرِّوَايَة التاريخية على ضوء الْكتاب وَالسّنة لاسيما إِذا كَانَت تتَعَلَّق بالصحابة - رضوَان الله تَعَالَى عَلَيْهِم - وتتعرض لعدالة أحد مِنْهُم.. الخ. وَبِذَلِك يتَمَكَّن المؤرخ من تحري الْوَاقِعَة التاريخية، وإبعاد مَا تعرض لنسيان الرَّاوِي - زِيَادَة كَانَ أَو نقصا - أَو مَا تعرض مِنْهَا لتشيع الرَّاوِي أَو غير ذَلِك من الشوائب الَّتِي تنقص من قيمَة الْوَاقِعَة التاريخية. بل إِن بعض مؤرخينا الأفذاذ سَارُوا على هَذِه الطَّرِيقَة فِي تَجْرِيد بعض الرِّوَايَات وَترك الْأُخْرَى جَريا على عَادَتهم فِي جمع كل مَا يصلونَ إِلَيْهِ من رِوَايَات التَّارِيخ دون تمحيص تاركين لمن يَأْتِي بعدهمْ أَن يقوم بِهَذِهِ المهمة، بعد أَن مهدوا لَهُ الطَّرِيق بِذكر سَنَد الرِّوَايَة التاريخية. جزاهم الله تَعَالَى عَن الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين خيرا.
তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্দেশ্যসমূহ যা কিছু লেখা ও ইতিহাস হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়, যা থেকে ফলাফল বের করা হয় ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে; আর এই সব ধরণের উদাহরণের সংখ্যা অনেক...
ইতিহাসের ওপর এই অপবাদসমূহ, কখনো এর ঘটনাবলিকে অস্বীকার করা, আবার কখনো এর সত্যকে পরিবর্তন ও বিকৃত করা এবং কখনো এর ঘটনাবলির জবরদস্তিমূলক ব্যাখ্যা ও চাতুর্যপূর্ণ উপস্থাপনার সামনে আমরা প্রকৃত ঐতিহাসিক বাস্তবতা—যা প্রকৃতপক্ষে ঘটেছিল—এবং যা ইতিহাস হিসেবে লেখা ও নামকরণ করা হয়েছে, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে বাধ্য হই।
তবে আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন উদয় হয়, তা হলো: প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতায় পৌঁছানোর পথ কী?
হে ভ্রাতৃগণ, প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতায় পৌঁছানো অসম্ভব নয়... বরং সংকল্প দৃঢ় হলে, নিয়ত স্বচ্ছ থাকলে এবং প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ বিদ্যমান থাকলে এটি সম্ভব। কারণ এর পথ উন্মুক্ত রয়েছে; তার মধ্যে প্রথমটি হলো: কুরআন ও সুন্নাহর ঐশী ওহি, যা আমরা উল্লেখ করেছি; এটি এমন এক নূর যা একজন মুসলিম ইতিহাসবিদকে ঐতিহাসিক বাস্তবতা অনুসন্ধানে পথ দেখায়। দ্বিতীয়ত: ইতিহাসের মূল উৎস গ্রন্থসমূহ যা আমাদের অনন্য সাধারণ উলামায়ে কেরাম রচনা করেছেন, যেমন তাবারী, ইবনে কাসির, ইবনুল আসির এবং আরও অনেকে। তাদের গ্রন্থগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ঐতিহাসিক বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে সনদ (السند) উল্লেখ করা। ফলে বর্তমানের একজন অনুসন্ধানী ইতিহাসবিদ হাদিস বিশারদগণের জারহ ও তাদিল (الجرج والتعديل) পদ্ধতির অনুসরণে বর্ণনার সনদ (السند) পর্যালোচনার মাধ্যমে ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঠিক যেভাবে ঘটেছিল তা যাচাই করতে সক্ষম হন। একইভাবে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঐতিহাসিক বর্ণনার (الرواية) মতন (متن) যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়, বিশেষ করে যদি তা সাহাবায়ে কেরাম—রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুম—এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয় এবং তাদের কারো ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বিষয়ে তর্কের অবকাশ তৈরি করে... ইত্যাদি। এর মাধ্যমে ইতিহাসবিদ ঐতিহাসিক ঘটনাটি যথাযথভাবে যাচাই করতে পারেন এবং বর্ণনাকারীর (الراوي) বিস্মৃতিজনিত ত্রুটি—তা বৃদ্ধি হোক বা হ্রাস হোক—কিংবা বর্ণনাকারীর (الراوي) শিয়াতী মতাদর্শের প্রভাব অথবা ঐতিহাসিক ঘটনার মান কমিয়ে দেয় এমন অন্যান্য কলুষতা থেকে একে মুক্ত করতে পারেন। এমনকি আমাদের কিছু অনন্য ইতিহাসবিদ কিছু বর্ণনাকে (الرواية) বিশুদ্ধকরণ এবং অন্যগুলো বর্জনের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। যদিও তাদের সাধারণ রীতি ছিল যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাদের কাছে পৌঁছানো ইতিহাসের সব বর্ণনা (الرواية) সংগ্রহ করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এই দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া, যেহেতু তারা বর্ণনার সনদ (السند) উল্লেখের মাধ্যমে তাদের জন্য পথ সুগম করে দিয়ে গেছেন। আল্লাহ তাআলা ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
لَا شكّ أَن هَذَا عمل لَيْسَ من السهولة بِحَيْثُ يَسْتَطِيع الْقيام بِهِ رجل وَاحِد أَو رجلَانِ لَا سِيمَا إِذا كَانَ مَشْغُولًا بالسعي لطلب الرزق لَهُ وَلمن يعول. بل لَا بُد من توافر جهود المثير من الْمَعْنيين بدراسة التَّارِيخ مِمَّن عِنْدهم الاستعداد النَّفْسِيّ والوعي الفكري والثقافي، والنضج العلمي، وتفريغهم لهَذَا الْعَمَل الْهَام جدا، وَالَّذِي ستتعمق معرفتنا لأهميته كلما أدركنا مدى خطورته بِالنِّسْبَةِ لنا ولمستقبل أمتنَا..وَلَيْسَ من الضَّرُورِيّ طبعا أَن يجْتَمع الْعدَد الْمَطْلُوب فِي مَكَان وزمان وَاحِد، فَإِن حصل هَذَا فَذَلِك غَايَة النهى فِي هَذَا الْمطلب الْعَزِيز، وَإِن لم يتوفر فحسبنا أَن نشق الطَّرِيق أَو نمشي بضع خطوَات أَو نقطع مرحلة مِنْهُ تاركين لمن يَأْتِي بَعدنَا مُتَابعَة السّير فِي طَرِيق شقّ وبدئ السّير فِيهِ حَتَّى يصل الْمُسلمُونَ بِإِذن الله - تَعَالَى - إِلَى هَذِه الْغَايَة المرجوة من كِتَابَة تاريخهم الإسلامي وتاريخ الْعَالم كَمَا يجب أَن يكْتب بأيدي مسلمة أمينة وَاعِيَة. وأليس تقصيراً من الْمُسلمين يخْشَى أَن يَكُونُوا آثمين فِيهِ أَن ينْهض أعداؤهم لكتابة تاريخهم الإسلامي وصياغته وفْق أغراضهم، والمسلمون ينظرُونَ، أَو يقتفون آثَارهم وتنطبع فِي أذهان أبنائهم وأجيالهم وذراريهم الصُّور المشوهة الَّتِي أرادها أعداؤنا عَن سلفنا الصَّالح وعظمائنا، مِمَّا دفع الْكثير من أَبنَاء الْمُسلمين أَن يستحيوا من الانتساب إِلَى تاريخهم وسلفهم الصَّالح ويتجملوا بتقليد أعدائهم؟.
إِن إِعَادَة كِتَابَة تاريخنا الإسلامي أَمر يحْتَاج إِلَى جهود ضخمة، هَذَا صَحِيح وَلَكِن أَي جهد صَادِق واع خلص لله - سُبْحَانَهُ - يبْذل فِيهِ لَا بُد أَن يُؤْتِي ثماره الطّيبَة بِإِذن الله تَعَالَى وَلَو بعد حِين.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি এমন কোনো সহজ কাজ নয় যা একজন বা দুজন ব্যক্তির পক্ষে সম্পন্ন করা সম্ভব; বিশেষ করে যখন তারা নিজেদের এবং তাদের ওপর নির্ভরশীলদের জীবিকা অন্বেষণে ব্যস্ত থাকেন। বরং এর জন্য ইতিহাস অধ্যয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন বহু ব্যক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন যাদের মানসিক প্রস্তুতি, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিপক্কতা রয়েছে; এবং এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য তাদের একাগ্রভাবে নিয়োজিত করা আবশ্যক। এই কাজের গুরুত্ব ও স্পর্শকাতরতা আমাদের জন্য এবং আমাদের উম্মাহর ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে কতটা গভীর, তা আমরা যত বেশি উপলব্ধি করব, এই কাজের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান ততটাই সুদৃঢ় হবে। অবশ্যই এটি প্রয়োজনীয় নয় যে, কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক ব্যক্তিকে একই স্থান ও সময়ে সমবেত হতে হবে। যদি তা সম্ভব হয়, তবে এই মহৎ উদ্দেশ্য সাধনে তা হবে চরম প্রাপ্তি। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে আমাদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমরা পথ উন্মোচন করব কিংবা কয়েক কদম অগ্রসর হব অথবা এই পথের কোনো একটি পর্যায় অতিক্রম করব; যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই পথে চলা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয় যা ইতিপূর্বে উন্মোচিত হয়েছে এবং যেখানে পথচলা শুরু হয়েছে। এর ফলে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় মুসলমানরা তাদের ইসলামি ইতিহাস ও বিশ্ব ইতিহাস রচনার সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে, যা মুসলিমদের বিশ্বস্ত ও সচেতন হাতের মাধ্যমে রচিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। মুসলমানদের পক্ষ থেকে এটি কি এমন এক অবহেলা নয়—যার কারণে তারা গুনাহগার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—যেখানে তাদের শত্রুরা তাদের ইসলামি ইতিহাস রচনা ও তা নিজেদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী সাজাতে উদ্যত হবে, আর মুসলমানরা কেবল নির্বাক দর্শক হয়ে থাকবে অথবা তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করবে? ফলে আমাদের নেককার পূর্বসূরি ও মহাপুরুষদের সম্পর্কে আমাদের শত্রুরা যে বিকৃত চিত্র ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে, তা আমাদের সন্তানদের, পরবর্তী প্রজন্মের ও বংশধরদের মনে গেঁথে যাবে; যার ফলে অনেক মুসলিম সন্তান তাদের ইতিহাস ও নেককার পূর্বসূরিদের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে লজ্জাবোধ করছে এবং শত্রুদের অনুকরণ করে নিজেদের সুশোভিত করতে চাইছে?
আমাদের ইসলামি ইতিহাসের পুনর্লিখন এমন একটি বিষয় যার জন্য বিশাল প্রচেষ্টার প্রয়োজন, এটি সত্য; কিন্তু মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয়িত যেকোনো আন্তরিক ও সচেতন প্রচেষ্টা ইনশাআল্লাহ অচিরেই তার সুমিষ্ট ফল দান করবে, যদিও তা কিছুকাল পরে হয়।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
مَاذَا نعني بمصطلح معسكر؟
إِن الدارس لأحوال النَّاس الدِّينِيَّة والاجتماعية والفكرية يلحظ ظَاهِرَة هَامة جدا فِي حَيَاة النَّاس وَهِي: أَن النَّاس يَجْتَمعُونَ بِنَاء على اتِّفَاقهم فِي الدّين والعقيدة والفكرة وَالْمذهب.. ويفترقون إِذا اخْتلفُوا فِيهَا.. وَلَيْسَت هَذِه الظَّاهِرَة إِلَّا تَرْجَمَة لما فطر عَلَيْهِ جنس الْإِنْسَان وَهُوَ الارتياح إِلَى من يشاركونه
আমরা ‘মুআসকার’ (معسكر) পরিভাষাটি দ্বারা কী বোঝাতে চাই?
নিশ্চয়ই মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থাসমূহ পাঠকারী বা পর্যালোচনাকারী ব্যক্তি মানবজীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য করেন, যা হলো: মানুষ তাদের দ্বীন (دين), আকিদাহ (عقيدة), আদর্শ ও মাযহাব (مذهب)-এর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই একত্রিত হয় এবং এসব বিষয়ে ভিন্নমত হলে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই বিষয়টি মূলত মানবজাতির সেই স্বভাবজাত প্রকৃতিরই প্রতিফলন যার ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে; আর তা হলো—যাঁরা তার মতাদর্শের অংশীদার, তাদের সান্নিধ্যে স্বস্তি অনুভব করা।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
فِي الدّين والعقيدة، والفكرة وَالْمذهب والميل إِلَيْهِم وموالاتهم والاندفاع لمناصرة قضاياهم والتحمس لَهَا. وَبِالْعَكْسِ من ذَلِك فَإِنَّهُ لَا يرتاح إِلَى من يخالفونه فِي ذَلِك ويشعر بغربة دينهم، وينفر مِنْهُم، بل ويحاربهم إِذا اقْتضى الْأَمر مهما تكن الروابط المادية بَينه وَبينهمْ، وَمَا ذَلِك إِلَّا لِأَن الآصرة الَّتِي يجْتَمع عَلَيْهَا النَّاس ويفترقون، هِيَ الدّين والعقيدة، أَو الفكرة وَالْمذهب وَلَيْسَت اتِّحَاد الْجِنْس وَالنّسب أَو الِاشْتِرَاك فِي الأَرْض وَالْحُدُود الجغرافية أَو السياسية وَلَيْسَت هِيَ الْمصَالح وَالْمَنَافِع الْقَرِيبَة.. فَهَذِهِ كلهَا أُمُور عرضية لَا علاقَة لَهَا بجوهر الْإِنْسَان الْكَرِيم..
أَلا ترى إِلَى الْيَهُودِيّ كَيفَ يتحمس لقضايا الْيَهُود فِي الْعَالم ويناصرها، ويوالي قيادتهم وَلَا يطمئن إِلَّا لِلْيَهُودِيِّ وَقد كشف الْقُرْآن الْكَرِيم لنا كَيفَ يُوصي بَعضهم بَعْضًا وَيَقُولُونَ: {وَلا تُؤْمِنُوا إِلَاّ لِمَنْ تَبِعَ دِينَكُمْ} (آل عمرَان: 73)
وَكَذَلِكَ الماركسي (شيوعياً كَانَ أَو اشتراكياً) هَوَاهُ مَعَ الْعَالم الماركسي ودوله وأحزابه الشيوعية والاشتراكية، فيهتم لأخبارهم ويناصر قضاياهم ويدافع عَن موقفهم وقضاياهم ويبرر أخطاءهم حَتَّى وَلَو كَانَت ضد شعبه هُوَ أَو ضد بَلَده وقضاياه..
وَقل مثل ذَلِك عَن النَّصْرَانِي والوثني.
أما شَأْن الْمُسلم فَهُوَ أَكثر وضوحاً فَهُوَ يهتم لأمر الْمُسلمين، فيحزن لما أَصَابَهُم ويفرح لما نالوه من خير فِي مَشَارِق الأَرْض وَمَغَارِبهَا، فَإِن لم يجد مثل هَذَا الشُّعُور فَهُوَ دَلِيل الْمَرَض فِي قلبه، والضعف فِي إيمَانه، وَمَا أصدق وأعمق دلَالَة هَذَا الْأَثر: "من لم يهتم بِأَمْر الْمُسلمين فَلَيْسَ مِنْهُم".. بل إِن الْمُسلم مَأْمُور بِنَصّ كتاب الله - تَعَالَى - وَسنة رَسُوله عليه الصلاة والسلام أَن لَا يوالي بعد الله - سُبْحَانَهُ - وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم غير الْمُسلمين الملتزمين بِإِسْلَامِهِمْ الَّذين لم يخلطوا مَعَه مبدءًا أَو مذهبا أَو شعاراً آخر لَيْسَ من الْإِسْلَام. قَالَ تعلى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ
দীন ও আকিদা, চিন্তা ও মাযহাব এবং তাদের প্রতি ঝোঁক, তাদের সাথে বন্ধুত্ব এবং তাদের ইস্যুগুলো সমর্থনে এগিয়ে আসা ও সেগুলোর ব্যাপারে উৎসাহী হওয়া। এর বিপরীতে, সে তাদের কাছে স্বস্তি পায় না যারা তার সাথে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে এবং সে তাদের দীনের ব্যাপারে পরকীয়তা বোধ করে, তাদের থেকে দূরে থাকে, এমনকি প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও করে, তাদের মাঝে বস্তুগত সম্পর্ক যাই হোক না কেন। এর কারণ কেবল এই যে, যে বন্ধনের ভিত্তিতে মানুষ একত্রিত হয় ও বিচ্ছিন্ন হয়, তা হলো দীন ও আকিদা, অথবা চিন্তা ও মাযহাব; তা জাতি ও বংশের ঐক্য নয়, কিংবা ভূখণ্ড ও ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক সীমানার অংশীদারিত্ব নয় এবং তা তাৎক্ষণিক কোনো স্বার্থ বা লাভও নয়। এ সবই হলো আপতিত বিষয়, যার সাথে সম্মানিত মানুষের মৌলিক সত্তার কোনো সম্পর্ক নেই।
আপনি কি দেখেন না একজন ইহুদি কীভাবে বিশ্বে ইহুদিদের ইস্যুগুলোর ব্যাপারে উৎসাহী হয় এবং সেগুলোকে সমর্থন করে, তাদের নেতৃত্বের অনুগত থাকে এবং ইহুদি ব্যতীত অন্য কারো ওপর আশ্বস্ত হয় না? পবিত্র কুরআন আমাদের সামনে উন্মোচন করে দিয়েছে যে তারা একে অপরকে কীভাবে উপদেশ দেয় এবং বলে: "তোমরা কেবল তাদেরকেই বিশ্বাস করো যারা তোমাদের দীনের অনুসরণ করে।" (আল ইমরান: ৭৩)
অনুরূপভাবে একজন মার্ক্সবাদী (সে সাম্যবাদী হোক বা সমাজতন্ত্রী) তার ঝোঁক থাকে মার্ক্সবাদী বিশ্ব, তাদের রাষ্ট্র এবং তাদের সাম্যবাদী ও সমাজতন্ত্রী দলগুলোর প্রতি। সে তাদের খবরাখবরের গুরুত্ব দেয়, তাদের ইস্যুগুলোকে সমর্থন করে, তাদের অবস্থান ও বিষয়গুলোর পক্ষে প্রতিরক্ষা করে এবং তাদের ভুলগুলোর সাফাই গায়, এমনকি যদি তা তার নিজের জাতি বা নিজের দেশ ও স্বার্থের বিরুদ্ধেও হয়।
খ্রিস্টান ও মূর্তিপূজকদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
পক্ষান্তরে একজন মুসলিমের বিষয়টি আরও বেশি স্পষ্ট। সে মুসলিমদের বিষয়ের গুরুত্ব দেয়; ফলে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে তারা কোনো বিপদে পড়লে সে ব্যথিত হয় এবং কোনো কল্যাণ লাভ করলে সে আনন্দিত হয়। যদি সে তার মাঝে এই অনুভূতি না পায়, তবে তা তার অন্তরের ব্যাধি এবং তার ঈমানের দুর্বলতা (ضعف)-র প্রমাণ। এই বর্ণনা (أثر)-টির ইঙ্গিত কতই না সত্য ও গভীর: "যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিষয়ের গুরুত্ব দেয় না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।" বরং একজন মুসলিম আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী এ বিষয়ে আদিষ্ট যে, সে মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর কেবল সেই সব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মুসলিমদেরই বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, যারা ইসলামের সাথে এমন কোনো নীতি, মতবাদ বা স্লোগান মিশ্রিত করেনি যা ইসলামি নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না; তারা একে অপরের বন্ধু..."
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ، فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشَى أَنْ تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ فَعَسَى اللَّهُ أَنْ يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِنْ عِنْدِهِ فَيُصْبِحُوا عَلَى مَا أَسَرُّوا فِي أَنْفُسِهِمْ نَادِمِينَ} .. الْآيَات.
ثمَّ يَقُول تَعَالَى: {إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ، وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ} (الْمَائِدَة: 51 - 52 - 55 - 56) .
وَهَكَذَا وبسبب هَذِه الْفطْرَة وَكَون العقيدة هِيَ جَوْهَر الْإِنْسَان، فَإِن الْإِنْسَان يجد مَعَ الَّذين يشاركونه فِي الدّين والعقيدة، والفكرة وَالْمذهب، وحدة آمال وأهداف، وأفراح وأتراح وبواعث ومواقف، وَيشكل مَعَهم كتلة وَاحِدَة، وجبهة وَاحِدَة أَو معسكراً وَاحِدًا.. فالمعسكر إِذن هُوَ: أَتبَاع الدّين الْوَاحِد أَو العقيدة الْوَاحِدَة أَو الْمَذْهَب الْوَاحِد.. الخ. وَمَا ينشأ عَن هَذَا الْإِيمَان من مشاعر وعواطف وانفعالات ومواقف متشابهة أَو وَاحِدَة، وَكَذَلِكَ من عمل وسعي لمناصرة قضاياه وموالاة قياداته ورؤوسه.
هَذَا وَإِن دراسة وَاعِيَة للتاريخ والحاضر تكشف لنا أَن أَتبَاع الدّين أَو الْمَذْهَب أَو الفكرة الْوَاحِدَة الَّذين يعْملُونَ لَهَا ويناصرون قضاياها ويتخذونها قضاياً لَهُم، ويجعلونها مُنْطَلقًا أساسياً لَهُم فِي موقفهم من غَيرهم ومعاملتهم.. يشكلون فِيمَا بَينهم معسكراً وَاحِدًا على اخْتِلَاف مستوياتهم ورقعة الأَرْض الَّتِي يسكنونها وَكَذَلِكَ - ولعلنا لَا نبالغ - إِذا قُلْنَا مَعَ اخْتِلَاف أزمانهم..فالواقع التاريخي إِذن يثبت هَذَا الَّذِي نَذْهَب إِلَيْهِ.
وَبِنَاء على هَذَا فاليهود على اخْتِلَاف أجناسهم وهيئاتهم وجماعاتهم ومؤسساتهم يشكلون معسكرًا وَاحِد هُوَ المعسكر الْيَهُودِيّ الصهيوني..
وَكَذَلِكَ النَّصَارَى يشكلون معسكراً وَاحِدًا هُوَ المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي.
والشيوعيون والاشتراكيون الماركسيون يشكلون المعسكر الماركسي الملحد.
...একে অপরের বন্ধু (أولياء)। আর তোমাদের মধ্যে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না। সুতরাং আপনি তাদের দেখবেন যাদের হৃদয়ে ব্যাধি রয়েছে, তারা তাদের মাঝে (বন্ধুত্ব স্থাপনে) দ্রুত ধাবিত হয়; তারা বলে, 'আমরা আশঙ্কা করছি যে কোনো বিপদ আমাদের আক্রান্ত করবে।' কিন্তু সম্ভবত আল্লাহ বিজয় দান করবেন অথবা তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো ফয়সালা দেবেন, ফলে তারা তাদের অন্তরে যা গোপন করেছিল সে জন্য লজ্জিত হবে।} .. আয়াতসমূহ।
অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের বন্ধু (ولي) তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনগণ—যারা নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে এবং তারা আল্লাহর প্রতি বিনত। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদের বন্ধুরূপে (يتول) গ্রহণ করে, তবে আল্লাহর দলই (حزب الله) হবে বিজয়ী।} (আল-মায়িদাহ: ৫১ - ৫২ - ৫৫ - ৫৬)।
এভাবেই এবং এই স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (فطرة) এবং আকিদাহ (عقيدة) বা বিশ্বাসই মানুষের মূল সত্তা হওয়ার কারণে, মানুষ যারা তার সাথে দ্বীন, আকিদাহ, চিন্তা ও মাজহাবের (مذهب) অংশীদার হয়, তাদের সাথে অভিন্ন আশা-আকাঙ্ক্ষা, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, আনন্দ-বেদনা, প্রেরণা এবং অবস্থানের ঐক্য খুঁজে পায়। সে তাদের সাথে মিলে একটি সুসংহত দল, একটি ফ্রন্ট বা একটি শিবিরে পরিণত হয়। সুতরাং 'শিবির' (معسكر) হলো: একই দ্বীন, একই আকিদাহ অথবা একই মাজহাবের অনুসারীবৃন্দ... ইত্যাদি। আর এই ঈমান থেকে যে অনুভূতি, আবেগ, প্রতিক্রিয়া এবং অভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়, পাশাপাশি নিজ আদর্শের সপক্ষে কাজ করা ও প্রচেষ্টা চালানো এবং এর নেতৃত্ব ও প্রধানদের প্রতি আনুগত্য (موالاة) প্রদর্শনের ফলেই এটি গড়ে ওঠে।
ইতিহাস ও বর্তমানের একটি সচেতন অধ্যয়ন আমাদের সামনে এটি উন্মোচিত করে যে, কোনো ধর্ম, মাজহাব বা মতাদর্শের অনুসারীরা—যারা সেই আদর্শের জন্য কাজ করে, তার উদ্দেশ্যগুলোকে সমর্থন করে এবং সেগুলোকে নিজেদের মৌলিক লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, আর অন্যদের সাথে তাদের আচরণ ও অবস্থানের ক্ষেত্রে একেই মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে—তারা পরস্পর মিলে একটি শিবিরে (معسكر) পরিণত হয়; তাদের স্তর বা ভৌগোলিক অবস্থানের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও। এমনকি—আমরা সম্ভবত বাড়িয়ে বলছি না—যদি বলি তাদের সময়ের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও। সুতরাং ঐতিহাসিক বাস্তবতা আমাদের এই অভিমতকেই প্রমাণ করে।
এর ওপর ভিত্তি করে, ইহুদিরা তাদের বংশ, অবয়ব, দল ও সংস্থাগুলোর ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও একটি ঐক্যবদ্ধ শিবিরে পরিণত হয়, যা হলো 'ইহুদি জায়নবাদী শিবির' (المعسكر اليهودي الصهيوني)।
অনুরূপভাবে খ্রিস্টানরা একটি শিবিরে পরিণত হয়, যা হলো 'খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবির' (المعسكر النصراني الصليبي)।
এবং কমিউনিস্ট ও মার্ক্সবাদী সমাজতন্ত্রীরা 'নাস্তিক মার্ক্সবাদী শিবির' (المعسكر الماركسي الملحد) গঠন করে।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
والوثنيون يشكلون المعسكر الوثني الْمُشرك..
وَهَذِه المعسكرات كلهَا تشكل فِيمَا بَينهَا وعَلى اختلافها حزباً وَاحِدًا هُوَ حزب الشَّيْطَان..
وَلما كَانَت هَذِه المعسكرات لَا تهتدي بِهَدي الله تَعَالَى وَلَا تحكم شَرِيعَته - سُبْحَانَهُ -
وَلما كَانَت الْجَاهِلِيَّة هِيَ كل حَالَة أَو وضع لَا يَهْتَدِي بِهَدي الله تَعَالَى وَلَا يحكم شَرِيعَته - سُبْحَانَهُ - وَلَيْسَت فَتْرَة زمنية محدودة1، فوصف الْجَاهِلِيَّة يشملهم جَمِيعًا، فهم إِذن معسكرات جَاهِلِيَّة وأممهم أُمَم جَاهِلِيَّة، بل كَافِرَة ومشركة. وَقد نَص الْقُرْآن الْكَرِيم وَالسّنة المطهرة على كفرهم جَمِيعًا الْيَهُود وَالنَّصَارَى وَالْمُشْرِكين والملحدين. وَالْكفْر يشكل بَينهم عَاملا مُشْتَركا "الْكفْر مِلَّة وَاحِدَة".
أما الْمُسلمُونَ فَإِنَّهُم يشكلون فِيمَا بَينهم وَمن دون النَّاس جَمِيعًا أمة وَاحِدَة هِيَ الْأمة الْمسلمَة أَو الإسلامية، ومعسكراً وَاحِدًا هُوَ المعسكر الإسلامي، وحزباً وَاحِدًا هُوَ حزب الله تَعَالَى مَا داموا مُتَمَسِّكِينَ بِكِتَاب الله تَعَالَى وَسنة - رَسُوله صلى الله عليه وسلم.
من هَذَا الْوَاقِع وَهُوَ كَون المعسكرات الْجَاهِلِيَّة كلهَا كَافِرَة، وَكَون الْمُسلمين يشكلون أمة من دون النَّاس، من هَذَا الْوَاقِع نشأت علاقَة غير الْمُسلمين بِالْمُسْلِمين وتحدد نوعها وَهُوَ العداء. عداؤهم لنا وَقد كشف الْقُرْآن الْكَرِيم عَنْهَا بقوله تَعَالَى: {إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوّاً مُبِيناً} (النِّسَاء:101) .
وَفِي الْقُرْآن الْكَرِيم آيَات أُخْرَى وَردت كهذه الْآيَة الْكَرِيمَة، بصيغ نهائية قَطْعِيَّة
--------------------------------------------
মূর্তিপূজারীরা অংশীবাদী (مشرك) পৌত্তলিক শিবিরের অন্তর্ভুক্ত..
এবং এই সমস্ত শিবিরগুলো নিজেদের মধ্যকার ভিন্নতা সত্ত্বেও সমষ্টিগতভাবে একটি একক দল গঠন করে, আর তা হলো শয়তানের দল..
যেহেতু এই শিবিরগুলো মহান আল্লাহর হেদায়েত দ্বারা পরিচালিত হয় না এবং তাঁর—তিনি পবিত্র—শরিয়ত অনুযায়ী শাসন পরিচালনা করে না—
আর যেহেতু জাহেলিয়াত হলো এমন প্রতিটি অবস্থা বা পরিস্থিতি যা মহান আল্লাহর হেদায়েত অনুযায়ী চলে না এবং তাঁর—তিনি পবিত্র—শরিয়ত দ্বারা শাসিত হয় না, এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়কাল নয়¹, তাই জাহেলিয়াতের বিবরণ তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং তারা জাহেলি শিবির এবং তাদের জাতিসমূহ জাহেলি জাতি, বরং তারা অবিশ্বাসী (كافر) ও অংশীবাদী (مشرك)। পবিত্র কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহ (سنة) ইহুদি, খ্রিস্টান, অংশীবাদী (مشرك) ও নাস্তিকদের কুফরের (كفر) ওপর সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) প্রদান করেছে। আর কুফর (كفر) তাদের মধ্যে একটি সাধারণ বিষয় হিসেবে কাজ করে; "কুফর এক অভিন্ন আদর্শ (ملة)"।
পক্ষান্তরে মুসলিমরা সকল মানুষের বিপরীতে নিজেদের মধ্যে একটি একক উম্মাহ গঠন করে, যা হলো মুসলিম উম্মাহ বা ইসলামি উম্মাহ; এবং একটি একক শিবির গঠন করে, যা হলো ইসলামি শিবির; এবং একটি একক দল গঠন করে, যা হলো আল্লাহর দল—যতক্ষণ পর্যন্ত তারা মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর (سنة) ওপর অবিচল থাকে।
এই বাস্তবতা থেকেই—অর্থাৎ সমস্ত জাহেলি শিবিরগুলো অবিশ্বাসী (كافر) হওয়া এবং মুসলিমরা অন্য মানুষদের বিপরীতে একটি স্বতন্ত্র উম্মাহ গঠন করার কারণে—অমুসলিমদের সাথে মুসলিমদের সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছে এবং এর ধরন নির্ধারিত হয়েছে, যা হলো শত্রুতা। আমাদের প্রতি তাদের এই শত্রুতার কথা পবিত্র কুরআন আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে উন্মোচন করেছে: "নিশ্চয়ই কাফিররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু" (আন-নিসা: ১০১)।
পবিত্র কুরআনে এই আয়াতের মতো আরও অনেক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে, যা চূড়ান্ত ও অকাট্য (قطعي) শব্দশৈলীতে বর্ণিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
مِمَّا يُفِيد أَن عداوتهم لَيست عرضية زائلة بل هِيَ أصيلة طَوِيلَة الأمد لَا يُرْجَى لَهَا زَوَال مَا دَامَ على الأَرْض كفر وكفار.
هَذَا وَقد نَشأ عَن هَذَا العداء الْأَصِيل للْمُسلمين من قبل غَيرهم حقيقتان تاريخيتان هما:
الأولى: اسْتِحَالَة الْمصلحَة والتعايش بِسَلام دَائِم بَين الْمُسلمين وَأي من المعسكرات الْجَاهِلِيَّة سَوَاء كَانُوا الصهاينة أَو الصليبيين أَو الْمُلْحِدِينَ أَو الوثنيين، وَقد بيّن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اسْتِحَالَة هَذَا اللِّقَاء والتعايش واستحالة الْمُصَالحَة بَين الْمُؤمنِينَ والكافرين بقوله: "لَا ترَاءى ناراهما".
وَإِذن لَا يُمكن أَن يتعايش الْمُؤْمِنُونَ الْمُسلمُونَ مَعَ الْكَافرين أياً كَانَ دينهم ومعسكرهم إِلَّا إِذا أمكن أَن يعِيش الْإِيمَان إِلَى جَانب الْكفْر فِي قلب رجل وَاحِد، وَهَذَا مُسْتَحِيل، نعم مُسْتَحِيل لِأَن المعركة قَائِمَة مُنْذُ بَدْء الْحَيَاة البشرية إِلَى مَا يَشَاء الله تَعَالَى بَين الْإِيمَان وَالْكفْر، وَبَين الْإِسْلَام والجاهلية بَين الْهدى والضلال بَين الْحق وَالْبَاطِل، بَين التَّوْحِيد والشرك.. وَمن ثمَّ فالمعركة قَائِمَة ومستمرة بَين الْمُؤمنِينَ الْمُسلمين أَتبَاع الْحق وَالْهدى، أهل التَّوْحِيد وَبَين الْكَافرين أَتبَاع الْبَاطِل والضلال أهل الشّرك والوثنيات..
أما سَبَب هَذِه المعركة الطَّوِيلَة الأمد وسرها فَهُوَ الْخلاف الْأَصِيل والمناقضة التَّامَّة بَين الْإِسْلَام وطبيعته وَمَا يهدف إِلَيْهِ فِي حَيَاة الْبشر، وَبَين الْكفْر وطبيعته وَمَا يهدف إِلَيْهِ فِي حَيَاة الْبشر..
الْإِسْلَام بِمَا فِي طَبِيعَته من حق يُرِيد تَحْرِير النَّاس من الْعُبُودِيَّة لغير الله تبارك وتعالى أياً كَانَ شكل هَذِه الْعُبُودِيَّة وصورتُها، وَيُرِيد إخلاصها لله - تَعَالَى - وَحده، فَلَا يعبد غير الله - تَعَالَى - مَعَه أَو دونه.
أما الْكفْر فبمَا فِي طَبِيعَته من بغي (ممثلاً بإبليس عَلَيْهِ لعنة الله - وجنده وأوليائه) فيريد فتْنَة النَّاس عَن دين الله تبارك وتعالى وتعبيدهم لغير الله - سُبْحَانَهُ -.
যা থেকে বোঝা যায় যে, তাদের শত্রুতা সাময়িক ও বিলীন হওয়ার মতো নয়, বরং এটি একটি মৌলিক ও দীর্ঘমেয়াদী শত্রুতা। পৃথিবীতে যতক্ষণ কুফর ও কাফির বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ এর অবসানের কোনো আশা নেই।
অমুসলিমদের পক্ষ থেকে মুসলমানদের প্রতি এই মৌলিক শত্রুতার ফলে দুটি ঐতিহাসিক সত্যের উদ্ভব হয়েছে, তা হলো:
প্রথমত: মুসলমান এবং যেকোনো জাহেলী শিবিরের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও সহাবস্থান বজায় রাখা অসম্ভব; তারা জায়নবাদী, ক্রুসেডার, নাস্তিক বা মূর্তিপূজক যাই হোক না কেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুমিন ও কাফিরদের মধ্যে এই সাক্ষাৎ ও সহাবস্থান এবং সমঝোতার অসম্ভবতাকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: "উভয়ের আগুন যেন একে অপরকে না দেখে।"
সুতরাং, মুমিন মুসলমানগণ কাফিরদের সাথে সহাবস্থান করতে পারে না—তাদের ধর্ম বা শিবির যা-ই হোক না কেন—যদি না একজনের হৃদয়ে একই সাথে ঈমান ও কুফরের সহাবস্থান সম্ভব হয়। আর এটি অসম্ভব; হ্যাঁ, এটি অসম্ভব কারণ মানবজীবনের শুরু থেকে আল্লাহ তাআলা যতদিন ইচ্ছা করেন ততদিন পর্যন্ত ঈমান ও কুফর, ইসলাম ও জাহেলিয়াত, হিদায়াত ও পথভ্রষ্টতা, সত্য ও মিথ্যা এবং তাওহীদ ও শিরকের মধ্যকার এই লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ফলস্বরূপ, সত্য ও হিদায়াতের অনুসারী তাওহীদী মুমিন মুসলমান এবং মিথ্যার অনুসারী শিরক ও মূর্তিপূজারী কাফিরদের মধ্যে এই লড়াই বিদ্যমান এবং চলমান।
আর এই দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের কারণ ও রহস্য হলো ইসলামের প্রকৃতি ও মানবজীবনে এর লক্ষ্য এবং কুফরের প্রকৃতি ও মানবজীবনে এর লক্ষ্যের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য ও পূর্ণ বৈপরীত্য।
ইসলাম তার সত্য প্রকৃতির মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্য সব কিছুর দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে চায়, সেই দাসত্বের ধরণ ও রূপ যা-ই হোক না কেন। এবং ইসলাম সেই আনুগত্যকে কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য একনিষ্ঠ করতে চায়, যাতে তাঁর সাথে বা তাঁকে ছেড়ে অন্য কারো ইবাদত করা না হয়।
পক্ষান্তরে, কুফর তার অবাধ্য প্রকৃতির মাধ্যমে (যার প্রতিনিধিত্ব করে ইবলিস—তার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক—এবং তার বাহিনী ও অনুসারীবৃন্দ) মানুষকে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে চায় এবং তাদেরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্যের দাসে পরিণত করতে চায়।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯০)
{قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ، ثُمَّ لآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ} (الْأَعْرَاف 16 - 17) .
{وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا أَيُّهَا الْمَلأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرِي} (الْقَصَص: 38)
وهدّد فِرْعَوْن مُوسَى عليه الصلاة والسلام قَائِلا: {لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَهاً غَيْرِي لأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ} (الشُّعَرَاء: 29) . فَهُوَ لَا ترضيه السيطرة على أوضاع النَّاس بل يطغى للسيطرة على عُقُولهمْ وَقُلُوبهمْ فَلَا تَنْشَرِح لشَيْء إِلَّا بعد اسْتِئْذَانه وَلَو كَانَ الْإِيمَان بِاللَّه تَعَالَى. قَالَ فِرْعَوْن لسحرته حِين أَسْلمُوا وَلم يستأذنوه بانشراح صُدُورهمْ للْإيمَان بِاللَّه تَعَالَى وتغيير معتقدهم الْبَاطِل، وتصديق مُوسَى عليه الصلاة والسلام {قَالَ آمَنْتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ} (طه 71) . إِنَّهَا بِنَظَر الْكفْر هِيَ الجريمة الْكُبْرَى الَّتِي يسْتَحقُّونَ عَلَيْهَا الْقَتْل والصلب وتقطيع الْأَيْدِي والأرجل من خلاف فهددهم قَائِلا: {فَلأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ مِنْ خِلافٍ وَلأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ} .
وَالْإِسْلَام بِمَا فِي طَبِيعَته من طهر ونظافة يُرِيد تَطْهِير النَّاس وضمائرهم وَبُيُوتهمْ وواقعهم من لوثات الْكفْر وَالْفِسْق والعصيان.
وَلَكِن الْكفْر بِمَا فِي طَبِيعَته من انحراف وفجور ورجس: {إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} (بَرَاءَة 28) يكره هَذَا الَّذِي يُريدهُ الْإِسْلَام للنَّاس وينقم عَلَيْهِ، لِأَنَّهُ يُرِيد لَهُم الانحراف وَاتِّبَاع الشَّهَوَات.
قَالَ تَعَالَى: {وَاللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوا مَيْلاً عَظِيماً} (النِّسَاء26) .
وَالْإِسْلَام بِمَا فِي طَبِيعَته من حيوية وحركة وجد ينْطَلق يُجَاهد الْكفْر أنّى وُجد ويطارده من الْقُلُوب والعقول، وَمن وَاقع النَّاس وأنظمتهم.. وَقد ظهر إِصْرَار الْإِسْلَام، على مطاردة الْكفْر، فِي انطلاقه خطْوَة بعد خطْوَة، وغزوة بعد غَزْوَة، ومرحلة بعد مرحلة، يطارد الْكفْر ويحطم قواه الَّتِي بهَا يصول
{ইবলিস বলল, ‘যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তাই অবশ্যই আমি তাদের জন্য আপনার সরল পথে ওত পেতে বসে থাকব। অতঃপর আমি তাদের নিকট আসব তাদের সম্মুখ থেকে, তাদের পিছন থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।’} (আল-আরাফ ১৬ - ১৭)।
{আর ফিরআউন বলল, ‘হে পারিষদবর্গ, আমি তোমাদের জন্য আমি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ আছে বলে জানি না।’} (আল-কাসাস: ৩৮)
ফিরআউন মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে হুমকি দিয়ে বলেছিল: {‘যদি তুমি আমাকে ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ গ্রহণ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাকে বন্দিদের অন্তর্ভুক্ত করব।’} (আশ-শুআরা: ২৯)। সে কেবল মানুষের পার্থিব অবস্থার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেই সন্তুষ্ট নয়, বরং সে তাদের বুদ্ধি ও হৃদয়ের ওপর কর্তৃত্ব করার জন্য সীমালঙ্ঘন করে। ফলে তার অনুমতি ছাড়া কোনো বিষয়ের প্রতিই যেন তাদের হৃদয় উন্মুক্ত না হয়, এমনকি তা যদি মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনাও হয়। ফিরআউন তার জাদুকরদের বলেছিল যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতে ও তাদের বাতিল (باطل) আকিদা পরিবর্তন করতে এবং মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে সত্যায়ন করতে তার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেনি: {সে বলল, ‘আমি তোমাদের অনুমতি দেওয়ার আগেই কি তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে?’} (তহা ৭১)। কুফরের দৃষ্টিতে এটিই হলো সেই মহাপরাধ, যার জন্য তারা মৃত্যুদণ্ড, শূলে চড়ানো এবং বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলার যোগ্য। তাই সে তাদের হুমকি দিয়ে বলল: {‘অবশ্যই আমি তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং আমি তোমাদের খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়াব।’}
আর ইসলাম তার স্বভাবজাত পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার দ্বারা মানুষের বিবেক, ঘরবাড়ি ও বাস্তবতা থেকে কুফর, পাপাচার (فسق) ও অবাধ্যতার পঙ্কিলতা দূর করতে চায়।
কিন্তু কুফর তার স্বভাবজাত বিচ্যুতি, পাপাচার ও অপবিত্রতার কারণে—{‘নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র’} (বারাআত ২৮)—ইসলাম মানুষের জন্য যা চায় তা অপছন্দ করে এবং তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, কারণ কুফর তাদের জন্য বিচ্যুতি ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণই কামনা করে।
মহান আল্লাহ বলেন: {‘আর আল্লাহ চান তোমাদের ক্ষমা করতে, আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে, তোমরা ভীষণভাবে বিচ্যুত হও।’} (আন-নিসা ২৬)।
আর ইসলাম তার স্বভাবজাত প্রাণচঞ্চলতা, গতিশীলতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে যেখানেই কুফর পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে জিহাদ করতে অগ্রসর হয় এবং মানুষের অন্তর ও মগজ থেকে এবং মানুষের বাস্তবতা ও সমাজব্যবস্থা থেকে কুফরকে তাড়িয়ে বেড়ায়। কুফরকে নির্মূল করার ক্ষেত্রে ইসলামের দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ পেয়েছে তার ধাপে ধাপে অগ্রযাত্রা, একের পর এক যুদ্ধ এবং এক পর্যায়ের পর অন্য পর্যায়ের মাধ্যমে; যা কুফরকে তাড়িয়ে বেড়ায় এবং এর সেই শক্তিকে চূর্ণ করে দেয় যার দ্বারা সে দাপট দেখায়।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯১)
ويجول، ويزيل أنظمته وأوضاعه الْجَاهِلِيَّة الَّتِي يعبد بهَا النَّاس لغير رَبهم - سُبْحَانَهُ - ويفتنهم عَن دين الله تَعَالَى وهداه.1
وَأما الْكفْر فَهُوَ الآخر بِمَا فِي طَبِيعَته من طغيان يعْمل على محاربة الْإِسْلَام وملاحقته والصد عَنهُ مَا واتته الفرصة من ليل أَو نَهَار، وَقد ظهر إِصْرَار الْكفْر على محاربة الْإِسْلَام ومحاولات رد الْمُسلمين عَن دينهم فِي ظاهرتين اثْنَتَيْنِ:
الظَّاهِرَة الأولى: مسارعة رُؤُوس الْكفْر وأئمة الضلال فِي قوم كل نَبِي يُرْسِلهُ الله - تَعَالَى - للوقوف فِي وَجه نَبِيّهم عليه الصلاة والسلام والصد عَن دين الله - تَعَالَى - وفتنة الْمُؤمنِينَ بِهِ.
الظَّاهِرَة الثَّانِيَة: مسارعة المعسكرات الْجَاهِلِيَّة لنقض عهودها مَعَ الْمُسلمين حالما تلوح لَهُم فرْصَة ضعف الْمُسلمين وعجزهم عَن تَأْدِيب ناقضي الْعَهْد مَعَهم.
وَهَكَذَا نجد أَن كلا من الْإِسْلَام وَالْكفْر يعْمل بإصرار على إِزَالَة الآخر من الْعُقُول والضمائر والقلوب وَمن حَيَاة النَّاس وأوضاعهم وأنظمتهم، لِأَنَّهُ لَا يُوجد أَحدهمَا إِلَّا حَيْثُ يخسر الآخر وينسحب، وَلَا وجود لأَحَدهمَا إِلَّا على حِسَاب الآخر، وَأَن بداية أَحدهمَا فِي عقل أَو ضمير أَو قلب، أَو وضع أَو نظام أَو مَكَان هِيَ بداية النِّهَايَة للْآخر..
قَالَ تَعَالَى: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ} (الْأَنْفَال:39) .
وَقَالَ تَعَالَى: {وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً} (التَّوْبَة: 36) .
وَقَالَ تَعَالَى: {وَلا يَزَالُونَ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّى يَرُدُّوكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا} (الْبَقَرَة: 217) .
--------------------------------------------
এবং বিচরণ করে, এবং জাহেলিয়াতপূর্ণ ব্যবস্থা ও পরিস্থিতিকে নির্মূল করে যার মাধ্যমে মানুষ তাদের প্রতিপালক -সুবহানাহু- ব্যতীত অন্যের ইবাদত করত এবং যা তাদেরকে মহান আল্লাহর দ্বীন ও হেদায়েত থেকে বিচ্যুত করত।১
আর কুফর প্রসঙ্গে বলা যায়, এটি তার স্বভাবজাত অবাধ্যতার কারণে ইসলামকে প্রতিহিত করতে, এর পিছু নিতে এবং দিন-রাত যখনই সুযোগ পায় একে বাধা দিতে সচেষ্ট থাকে। ইসলামের বিরুদ্ধে কুফরের এই অনড় অবস্থান এবং মুসলিমদের তাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার অপপ্রয়াস দুটি বিষয়ের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে:
প্রথম বিষয়: আল্লাহ তাআলা যে জাতির নিকটেই কোনো নবী প্রেরণ করেছেন, সেই জাতির কুফরের মূলহোতা এবং বিভ্রান্তির অগ্রনায়কদের তাদের নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে, আল্লাহর দ্বীন থেকে বাধা প্রদানে এবং মুমিনদের ফিতনায় ফেলার ক্ষেত্রে ত্বরিত তৎপর হওয়া।
দ্বিতীয় বিষয়: জাহেলিয়াতপূর্ণ শিবিরগুলো যখনই মুসলিমদের দুর্বলতার কোনো সুযোগ পায় এবং তারা চুক্তি ভঙ্গকারীদের শাস্তি দিতে অক্ষম হয়, তখনই দ্রুততার সাথে মুসলিমদের সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার বা চুক্তি ভঙ্গ করা।
এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে, ইসলাম এবং কুফর উভয়ই মানুষের বিবেক, প্রজ্ঞা, অন্তর এবং তাদের জীবনব্যবস্থা ও নিয়ম-নীতি থেকে অপরটিকে নির্মূল করার জন্য দৃঢ়তার সাথে কাজ করে। কারণ, এদের একটির অস্তিত্ব তখনই সম্ভব যখন অপরটি পরাজিত ও অপসৃত হয়; একটির অস্তিত্ব থাকে অন্যটির বিনাশের বিনিময়ে। কোনো বিবেক, প্রজ্ঞা, অন্তর, অবস্থা, ব্যবস্থা বা স্থানে কোনো একটির যাত্রা শুরু হওয়া মানেই হলো অন্যটির সমাপ্তির সূচনা...
আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়} (আল-আনফাল: ৩৯)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তোমরা সকলে মিলে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যেমন তারা সকলে মিলে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে} (আত-তাওবাহ: ৩৬)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর তারা সর্বদাই তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে যে পর্যন্ত না তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দেয়, যদি তারা সক্ষম হয়} (আল-বাকারা: ২১৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯২)
2 - أما الْحَقِيقَة التاريخية الثَّانِيَة فَهِيَ تعاون القوى الْكَافِرَة ومعسكراتها ضد الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين.. وَهَذَا مَا كشف عَنهُ الْكتاب وَالسّنة أَيْضا فِي أَكثر من آيَة وَحَدِيث.. وبأكثر من أسلوب تَصْرِيحًا وتلميحاً.. من ذَلِك جمع الْكفَّار كلهم فِي سِيَاق آيَة وَاحِدَة، والْحَدِيث عَن مُرَادهم فِي الْمُسلمين وموقفهم مِنْهُ مِمَّا يدل على وحدة بواعثهم وأهدافهم تجاه الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين، وَكَذَلِكَ وحدة مواقفهم كَقَوْلِه تَعَالَى - على سَبِيل الْمِثَال لَا الْحصْر: {مَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلا الْمُشْرِكِينَ أَنْ يُنَزَّلَ عَلَيْكُمْ مِنْ خَيْرٍ مِنْ رَبِّكُمْ} (الْبَقَرَة: 105) 1.
أما الْوَاقِع التاريخي فقد ترْجم هَذِه الْحَقِيقَة وأظهرها خلال الْأَرْبَعَة عشر قرنا من الزَّمَان {لمن كَانَ لَهُ قلب أَو القي السّمع وَهُوَ شَهِيد} وَمَا يزَال يظهرها الْيَوْم ويبينها أجلى مَا يكون بَيَانا..
وَهَذِه الْحَقِيقَة التاريخية وسابقتها تحْتَاج إِلَى محاضرة مُسْتَقلَّة إِن لم يكن أَكثر من محاضرة، وَأَرْجُو أَن أوفق لذَلِك فِي الْمُسْتَقْبل بِإِذن الله تَعَالَى. وَهَذِه إشارات خاطفة على سَبِيل الْمِثَال لَا الْحصْر:
أَيهَا الْأُخوة: كلنا يعلم الحروب الطَّوِيلَة الأمد الَّتِي كَانَت بَين الْفرس وَالروم، وَأَن هَذِه الحروب توقفت فَجْأَة بِظُهُور الْإِسْلَام وتحولت القوتان المتخاصمتان دهراً طَويلا إِلَى قوتين متعاونتين ضد الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين..فحارب الْمُسلمُونَ على الجبهتين الفارسية والرومية فِي وَقت وَاحِد ونصرهم الله تَعَالَى عَلَيْهِمَا..
كَذَلِك إِن الَّذِي يدرس تَارِيخ الحروب الصليبية وغزو التتار لبلاد الْمُسلمين يعلم السفارات الَّتِي كَانَت تتبادل بَين دوَل المعسكر الصليبي وإماراته ورؤوسه وَبَين التتار فِي بِلَادهمْ قبل بدئهم بغزو الْعَالم الإسلامي، وَلما جَاءُوا إِلَى بِلَاد
1 - وَكَقَوْلِه صلى الله عليه وسلم: "يُوشك أَن تداعى عَلَيْكُم الْأُمَم كَمَا تداعى الْأكلَة إِلَى قصعتها".. الحَدِيث..
২ - দ্বিতীয় ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুফরি শক্তি ও তাদের শিবিরের পারস্পরিক সহযোগিতা। কুরআন ও সুন্নাহর একাধিক আয়াত ও হাদিসে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন শৈলীতে এই বিষয়টি উন্মোচিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—একই আয়াতের প্রেক্ষাপটে সমস্ত কাফিরদের একত্রিত করা এবং মুসলমানদের ব্যাপারে তাদের কুচিন্তা ও অবস্থানের বর্ণনা দেওয়া; যা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি তাদের অভিন্ন প্রেরণা ও লক্ষ্যের প্রমাণ দেয়। পাশাপাশি এটি তাদের অবস্থানের ঐক্যেরও প্রমাণ দেয়। উদাহরণস্বরূপ মহান আল্লাহর বাণী (এটি কেবল উদাহরণ, সীমাবদ্ধ কোনো তালিকা নয়): {আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে, তারা এটি পছন্দ করে না যে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর কোনো কল্যাণ অবতীর্ণ হোক।} (আল-বাকারা: ১০৫)। ১।
ঐতিহাসিক বাস্তব প্রেক্ষাপট বিগত চৌদ্দশ বছর ধরে এই সত্যটিকেই চিত্রায়িত ও প্রকাশ করেছে—তার জন্য "যার হৃদয় আছে অথবা যে উপস্থিত হয়ে একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করে।" আজও এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশিত ও সুপ্রমাণিত হচ্ছে।
এই ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং এর পূর্ববর্তী বিষয়টি আলোচনার জন্য এক বা একাধিক স্বতন্ত্র বক্তৃতার প্রয়োজন। আমি আশা করি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় ভবিষ্যতে এর তাওফিক লাভ করব। এগুলো উদাহরণস্বরূপ দেওয়া কিছু সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত মাত্র:
হে ভাইয়েরা: আমরা সবাই পারস্য ও রোমের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সম্পর্কে অবগত। ইসলামের আবির্ভাবে এই যুদ্ধগুলো হঠাৎ থেমে গিয়েছিল এবং দীর্ঘকালের এই দুই চিরশত্রু শক্তি ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরস্পর সহযোগী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। ফলে মুসলমানরা একই সাথে পারস্য ও রোম—উভয় রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাদের উভয় শক্তির ওপর মুসলমানদের বিজয় দান করেছিলেন।
একইভাবে, যারা ক্রুসেড যুদ্ধ এবং মুসলিম ভূখণ্ডে তাতারদের আক্রমণের ইতিহাস অধ্যয়ন করবেন, তারা মুসলিম বিশ্বে তাতারদের আক্রমণের পূর্বে তাতার দেশ এবং ক্রুসেডার শিবিরের রাষ্ট্রসমূহ, তাদের রাজন্যবর্গ ও নেতাদের মধ্যে যে কূটনৈতিক দূত বিনিময় হয়েছিল, সে সম্পর্কে জানতে পারবেন। এবং যখন তারা ভূখণ্ডগুলোতে এসেছিল...
১ - যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "শীঘ্রই বিভিন্ন জাতি তোমাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে, যেভাবে ভক্ষণকারীরা তাদের খাবারের পাত্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।"— হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
الْإِسْلَام انْضَمَّ إِلَيْهِم غير الْمُسلمين من الطوائف الْأُخْرَى فِي بَغْدَاد وبلاد الشَّام وَغَيرهمَا وتعاونوا مَعَهم، بل إِن النَّصَارَى هللوا وَاسْتَبْشَرُوا بقدوم التتار الوثنيين واعتبروا غزوهم لبلاد الْمُسلمين حَملَة صليبية جَدِيدَة جَاءَت من الشرق بَدَلا من أَن تَأتي من الغرب، وَقد رَأينَا كَيفَ أَنه لم ينج من مذبحتهم الرهيبة فِي بَغْدَاد إِلَّا هَؤُلَاءِ الَّذين تعاونوا مَعَهم من الطوائف غير الْمسلمَة، ومنحهم الْغُزَاة قُصُور الْمُسلمين وأمرائهم الَّذين ذَبَحُوا مِنْهُم من ذَبَحُوا، وفر مِنْهُم من اسْتَطَاعَ الْفِرَار، واختفى الْبَاقُونَ فِي الأقنية والسراديب، فَلَمَّا خَرجُوا لقوا حتفهم بِسَبَب الْمَرَض الَّذِي فتك بهم.
أما تعاون القوى الْكَافِرَة والمعسكرات الْجَاهِلِيَّة فِيمَا بَينهَا الْيَوْم ضد الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين وقضاياهم فَهِيَ أوضح من أَن تحْتَاج إِلَى بَيَان فِي فلسطين وباكستان الشرقية والفلبين والحبشة بل فِي إفريقيا كلهَا وَفِي كل قَضِيَّة يكون الْمُسلمُونَ طرفا فِيهَا..
أَيهَا الْأُخوة: إِن إدراكنا لهَذَا الْوَاقِع، وَهُوَ كَون الْمُسلمين أمة من دون النَّاس، وَكَون الْكفْر عَاملا مُشْتَركا بَين سَائِر المعسكرات الْجَاهِلِيَّة "الْكفْر مِلَّة وَاحِدَة"..
وَإِن إدراكنا لسر الصراع الطَّوِيل الأمد بَين الْحق وجنده، وَبَين الْبَاطِل وجنده.. إِن هَذَا يمكننا من إِدْرَاك عدَّة أُمُور هَامة جدا فِي حياتنا الْيَوْم، يجب أَن تبحث وتفصل حَتَّى يعرفهَا شبابنا وأبناؤنا ليكونوا على بَصِيرَة بعصرهم هَذَا الَّذِي أَقبلت فِيهِ الْفِتَن كَقطع اللَّيْل المظلم، وَركب بَعْضهَا بَعْضًا، وَأخذ بَعْضهَا برقاب بعض، بِحَيْثُ تدع الْحَلِيم حيراناً، فَمَا بالك بِغَيْر الْحَلِيم؟! ..
وَمن هَذِه الْأُمُور: انه يمكننا من فهم طبيعة الْجِهَاد فِي سَبِيل الله - تَعَالَى - وبواعث الْمُجَاهدين من سلفنا الصَّالح ولماذا كَانُوا لَا يقتلُون إِلَّا المقاتلين الَّذين لَا يرْمونَ السِّلَاح وَهُوَ يمكننا من فهم أَسبَاب الحروب الطَّوِيلَة الَّتِي شنتها المعسكرات الْجَاهِلِيَّة على الْمُسلمين فِي كل مَكَان غلب فِيهِ الْمُسلمُونَ على أَمرهم، وَكَذَلِكَ لماذا كَانَت حروبهم مَعنا وَلنَا حَرْب إبادة واستئصال؟
বাগদাদ, শাম দেশ এবং অন্যান্য অঞ্চলে অমুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের (তাতারদের) সাথে যোগ দিয়েছিল এবং তাদের সহযোগিতা করেছিল। বরং নাসারাগণ মূর্তিপূজারী তাতারদের আগমনে আনন্দধ্বনি ও উল্লাস প্রকাশ করেছিল এবং মুসলিম ভূখণ্ডে তাদের আক্রমণকে একটি নতুন ক্রুসেড হিসেবে গণ্য করেছিল, যা পশ্চিমের পরিবর্তে পূর্ব দিক থেকে ধেয়ে এসেছে। আমরা দেখেছি কীভাবে বাগদাদের সেই ভয়াবহ গণহত্যা থেকে কেবল তারাই রক্ষা পেয়েছিল যারা অমুসলিম সম্প্রদায়গুলোর মধ্য থেকে তাদের সাথে সহযোগিতা করেছিল। দখলদাররা তাদেরকে মুসলমানদের এবং তাদের সেইসব আমিরদের প্রাসাদগুলো অর্পণ করেছিল যাদের অনেককেই তারা হত্যা করেছিল। আর যারা সক্ষম ছিল তারা পালিয়ে গিয়েছিল এবং অবশিষ্টরা নালা ও সুড়ঙ্গে আত্মগোপন করেছিল; কিন্তু তারা যখন বের হলো, তখন মহামারীর প্রকোপে তারা মৃত্যুর মুখে পতিত হলো।
বর্তমানে ফিলিস্তিন, পূর্ব পাকিস্তান, ফিলিপাইন, হাবশা এবং সমগ্র আফ্রিকাসহ প্রতিটি ইস্যুতে যেখানে মুসলমানরা একটি পক্ষ হিসেবে রয়েছে, সেখানে ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কুফরি শক্তি ও জাহেলি শিবিরের পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না।
হে ভ্রাতৃমণ্ডলী! এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা—অর্থাৎ মুসলমানরা অন্য সমস্ত মানুষের চেয়ে আলাদা একটি স্বতন্ত্র উম্মত এবং কুফর হলো সমস্ত জাহেলি শিবিরের মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র, কেননা "কুফর হলো একই মিল্লাত"...
সত্য ও তার বাহিনী এবং মিথ্যা ও তার বাহিনীর মধ্যকার এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের রহস্য উপলব্ধি করা আমাদের বর্তমান জীবনের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সক্ষম করে। এগুলো নিয়ে আলোচনা ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ হওয়া প্রয়োজন যাতে আমাদের যুবসমাজ ও সন্তানরা সচেতন হতে পারে এবং তারা তাদের এই যুগ সম্পর্কে পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) লাভ করতে পারে। এমন এক যুগ যেখানে অন্ধকার রাত্রির খণ্ডের ন্যায় একের পর এক ফিতনা (فتنة) ধেয়ে আসছে, যে ফিতনাগুলো একটির উপর অন্যটি চড়াও হচ্ছে এবং একটি অপরটির টুঁটি চেপে ধরছে; যা ধৈর্যশীল ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিকেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা তো বলাই বাহুল্য!
এই বিষয়গুলোর অন্যতম হলো: এটি আমাদের আল্লাহর পথে জিহাদ (جهاد)-এর প্রকৃত প্রকৃতি এবং আমাদের পুণ্যবান পূর্বসূরি বা সালাফদের সংগ্রামের উদ্দেশ্য বুঝতে সাহায্য করে; কেন তারা কেবল সেই যোদ্ধাদের ব্যতীত অন্য কাউকে হত্যা করতেন না যারা অস্ত্র ত্যাগ করেনি। এটি আমাদের সেই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণগুলো বুঝতেও সাহায্য করে যা জাহেলি শিবিরগুলো সেই সব অঞ্চলের মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করেছে যেখানে মুসলমানরা বিজয়ী হয়েছিল। একইভাবে কেন আমাদের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ ছিল এক সর্বাত্মক বিনাশ ও সমূলে উচ্ছেদের যুদ্ধ?
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
وَهُوَ يمكننا من فهم أسرار الطغيان وعمليات السحق الوحشية لشباب الْمُسلمين والفتك بعلمائهم وقادة فكرهم على أَيدي الأنظمة الْجَاهِلِيَّة وأوضاعها، ومطاردتهم وتشريدهم؟ !
وَهُوَ يمكننا كَذَلِك من فهم الصمت المطبق فِي وَسَائِل الْإِعْلَام العالمية حِين تكون الضحية مسلمة والقضية إسلامية، والضجة الْكُبْرَى حِين يُوَجه إِيذَاء لغير الْمُسلمين أَو يمْنَعُونَ من ممارسة شعائرهم أَو نشاطاتهم؟ 1
كَمَا أَنه يمكننا من إِدْرَاك حَقِيقَة العلاقة الَّتِي قَامَت عبر التَّارِيخ وَتقوم الْآن بَيْننَا وَبَين المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي هُوَ أحد معسكرات الْكفْر، وَمن ثمَّ فعلاقته بِنَا إِذن تنبثق من العداء الْأَصِيل بَين الْحق وَأَهله وَبَين الْبَاطِل وَأَهله، وَأَن كل مَا بَين الْإِسْلَام وَالْكفْر من عداء وإصرار كل مِنْهُمَا على ملاحقة الآخر وَتعقب آثاره لتصفيته من دنيا النَّاس وواقعهم وَقُلُوبهمْ وضمائرهم هُوَ قَائِم بَين الْمُؤمنِينَ الْمُسلمين وَبَين المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي.
قَالَ تَعَالَى: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلا بِالْيَوْمِ الآخِرِ وَلا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} (التَّوْبَة: 29) .
وَقَالَ تَعَالَى: {وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ} (الْبَقَرَة: 120)
وَهَذَا مَا تَرْجمهُ الْوَاقِع التاريخي طوال الْأَرْبَعَة عشر قرنا من الزَّمَان..
أَيهَا الْأُخوة: لقد قُلْنَا: من وَاقع كَون الْمُسلمين أمة من دون النَّاس جَمِيعًا، وَكَون المعسكرات الْجَاهِلِيَّة كلهَا كَافِرَة نشأت علاقَة غير الْمُسلمين بِالْمُسْلِمين
1 - انْظُر الْكتاب الْقيم (فِي ظلال الْقُرْآن) للْعَالم الشَّهِيد سيد قطب رَحمَه الله تَعَالَى. ج
এটি আমাদের সক্ষম করে জুলুমের রহস্য এবং মুসলিম যুবকদের ওপর চালানো বর্বরোচিত নিষ্পেষণ প্রক্রিয়া, আর জাহেলিয়াত (جاهلية) শাসনব্যবস্থা ও তাদের পরিস্থিতির মাধ্যমে আলেম সমাজ ও চিন্তাবিদদের হত্যা, এবং তাদের পশ্চাদ্ধাবন ও বিতাড়িত করার বিষয়টি বুঝতে? !
তেমনিভাবে এটি আমাদের সক্ষম করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সেই ঘনীভূত নিস্তব্ধতাকে বুঝতে, যখন ভুক্তভোগী হয় মুসলিম এবং বিষয়টি হয় ইসলাম সংশ্লিষ্ট; অথচ যখন অমুসলিমদের কোনো ক্ষতি করা হয় কিংবা তাদের ধর্মীয় আচার বা কর্মকাণ্ড পালনে বাধা দেওয়া হয়, তখন সৃষ্টি হয় বিশাল শোরগোল? ১
পাশাপাশি এটি আমাদের সেই সম্পর্কের স্বরূপ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে, যা ইতিহাসের পরিক্রমায় আমাদের এবং খ্রিষ্টান ক্রুসেডার শিবিরের মধ্যে বিদ্যমান ছিল এবং বর্তমানেও রয়েছে; যা মূলত কুফর (كفر) শিবিরগুলোরই একটি। ফলে আমাদের সাথে তাদের সম্পর্ক সত্য ও সত্যের অনুসারী এবং বাতিল (باطل) ও বাতিলের অনুসারীদের মধ্যকার চিরন্তন শত্রুতা থেকে উৎসারিত। আর ইসলাম ও কুফর (كفر)-এর মধ্যকার যে শত্রুতা এবং একে অপরকে নিশ্চিহ্ন করার ও মানুষের বাস্তব জগত, অন্তর ও বিবেক থেকে মুছে ফেলার যে নিরন্তর প্রচেষ্টা, তা মুমিন (مؤمن) মুসলিম এবং খ্রিষ্টান ক্রুসেডার শিবিরের মধ্যে বিদ্যমান।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে ঐ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান (إيمان) আনে না, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম (حرام) করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন (دين الحق) কবুল করে না; যতক্ষণ না তারা বিনীতভাবে নিজ হাতে জিজিয়া (جزية) প্রদান করে।} (আত-তাওবাহ: ২৯)।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের আদর্শ (ملة) অনুসরণ করেন।} (আল-বাকারাহ: ১২০)
আর এটিই সেই বাস্তবতা যা বিগত চৌদ্দ শতাব্দীর ইতিহাস আমাদের সামনে তুলে ধরেছে...
হে ভাইয়েরা! আমরা বলেছি: মুসলিমরা অন্য সব মানুষের চেয়ে এক স্বতন্ত্র জাতি (أمة) এবং জাহেলিয়াত (جاهلية) শিবিরগুলো সবই কাফের (كافر) হওয়ার কারণেই মূলত অমুসলিম ও মুসলিমদের মধ্যকার এই সম্পর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
১ - দেখুন শহীদ আলেম সাইয়্যেদ কুতুব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মূল্যবান গ্রন্থ ফি জিলালিল কুরআন।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
وتحدد نوعها وَهُوَ عداؤهم لنا عداء أصيلاً مستمراً لَا يُرْجَى لَهُ زَوَال مَا دَامَ على الأَرْض كفر وكفار أَو يتَحَوَّل الْمُسلمُونَ عَن دينهم إِلَى الْكفْر - وَالْعِيَاذ بِاللَّه تَعَالَى -، وَأَن الْقُرْآن الْكَرِيم كشف عَن هَذَا بقوله تَعَالَى: {إِنَّ الْكَافِرِينَ كَانُوا لَكُمْ عَدُوّاً مُبِيناً} هَذَا من جِهَة، وَمن جِهَة أُخْرَى: فَإِن الْإِسْلَام بِمَا فِيهِ من حق وطهر وحيوية وحركة لَا بُد وَأَن ينْطَلق يحرر النَّاس ويطارد الْكفْر بشتى صوره، ويحطم قواه الَّتِي يصول بهَا ويجول ويزيل أنظمته الْجَاهِلِيَّة وأوضاعه الَّتِي يفتن بهَا النَّاس عَن دين الله - تَعَالَى - ويصدهم عَنهُ.. وَكَانَ بديهياً ومنتظراً أَن يصطدم بالمعسكر النَّصْرَانِي الصليبي القابع فِي شمال الجزيرة الْعَرَبيَّة - بِاعْتِبَارِهِ أحد معسكرات الْكفْر - وَالَّذِي بَدَأَ يَتَحَرَّك ويتحفز للانقضاض على الْمُسلمين مُنْذُ أَن أصبح لَهُم دولة وَقُوَّة فِي هَذِه الْمَدِينَة المنورة، ويترجم بذلك خوف الْكفْر وحذره من انطلاق الْإِسْلَام وإصراره على حَرْب الْإِسْلَام ومحاولات الْقَضَاء عَلَيْهِ، ومدفوعاً بطغيان الْكفْر وبغيه وَكَرِهَهُ لِلْإِسْلَامِ.. فَكَانَت غَزْوَة مُؤْتَة وَكَانَت غَزْوَة تَبُوك، وَغَيرهمَا..
هَذَا بعض مَا كَانَ مِنْهُ، أَو بَدَأَ بِهِ، أما مَا كَانَ من الْإِسْلَام.. فَإِن الْإِسْلَام مَا أَن أخضع الجزيرة الْعَرَبيَّة واستخلصها لنَفسِهِ قَاعِدَة لَهُ لَا يُشَارِكهُ فِيهَا دين آخر " لَا يجْتَمع فِي جَزِيرَة الْعَرَب دينان" حَتَّى بَدَأَ بالزحف على المعسكر النَّصْرَانِي فِي انطلاقه الْعَام لتحرير النَّاس كلهم وتعبيدهم لخالقهم وَحده، فَكَانَت اليرموك وَكَانَ غَيرهَا..وَاسْتمرّ الصراع حَتَّى الْيَوْم، لم يهدأ، وَلم يفتر، بل كثرت ألوانه وأساليبه، وَترك بصماته قَوِيَّة على مكانة الْعَالم النَّصْرَانِي العالمية، وأحدث تغييراً كَبِيرا فِي خارطته وأوضاع الشعوب الَّتِي كَانَت تخضع لَهُ، مِمَّا كَانَ لَهُ تَأْثِيره العميق على تفكيره ونفسيته، واتصالاته بِنَا وتجاربه الَّتِي خرج بهَا خلال هَذِه الْقُرُون الْأَرْبَعَة عشر، فَنَشَأَتْ من ذَلِك أُمُور أخذت مَعَ الزَّمن تترسم فِي أذهان قادته ورؤوسه من ملوكه وأمرائه وَرِجَال كنيسته وتترسخ فِي قُلُوبهم ومشاعرهم وتشكل منطلقات أساسية لنظرتهم إِلَيْنَا وعلاقتهم بِنَا، لَا يَسْتَطِيعُونَ فكاكاً مِنْهَا، وَلَا تخلصاً من ضغطها بل التحمت بلحمهم وعظمهم، وسرت روحاً فِي كيانهم لَا تفارقهم لَحْظَة من ليل أَو نَهَار.. وَقد كَانَت أولى هَذِه الْأُمُور:
এবং এর ধরন নির্ধারিত হয়, আর তা হলো আমাদের প্রতি তাদের শত্রুতা—একটি মৌলিক ও নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা যা দূর হওয়ার কোনো আশা নেই যতক্ষণ পৃথিবীতে কুফর ও কাফিররা বিদ্যমান থাকবে অথবা মুসলিমরা তাদের দ্বীন থেকে কুফরের দিকে ফিরে যাবে—আল্লাহ তাআলার কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই—। আর পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তা উন্মোচন করেছে: "নিশ্চয়ই কাফিররা তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।" এটি এক দিক থেকে, আর অন্য দিক থেকে: ইসলাম তার সত্যতা, পবিত্রতা, প্রাণশক্তি ও গতিশীলতার কারণে মানুষকে মুক্ত করতে এবং কুফরকে তার বিভিন্ন রূপে বিতাড়িত করতে অবশ্যই এগিয়ে যাবে। ইসলাম কুফরের সেই শক্তিকে চূর্ণ করবে যার মাধ্যমে সে দাপট দেখায় এবং তার সেই জাহেলি ব্যবস্থা ও পরিস্থিতিকে নির্মূল করবে যা মানুষকে মহান আল্লাহর দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে এবং তাতে বাধা প্রদান করে। আর এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত ছিল যে, ইসলাম আরব উপদ্বীপের উত্তরে অবস্থানরত খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে—কুফরের অন্যতম শিবির হিসেবে—যারা এই মদিনা মুনাওয়ারায় মুসলিমদের রাষ্ট্র ও শক্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তৎপরতা ও প্রস্তুতি শুরু করেছিল। এর মাধ্যমে কুফরের সেই ভয় ও সতর্কতা ফুটে ওঠে যা ইসলামের অগ্রযাত্রা নিয়ে তাদের মনে ছিল, এবং ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ও একে নির্মূল করার প্রচেষ্টায় তাদের অনমনীয়তা প্রকাশ পায়, যা কুফরের অবাধ্যতা, জুলুম ও ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ দ্বারা তাড়িত ছিল। ফলে সংঘটিত হয়েছিল মুতার যুদ্ধ, তাবুকের যুদ্ধ এবং আরও অন্যান্য যুদ্ধ।
এটি ছিল তাদের পক্ষ থেকে ঘটা বা শুরু করা কিছু বিষয়। আর ইসলামের পক্ষ থেকে যা ছিল তা হলো—ইসলাম যখন আরব উপদ্বীপকে পদানত করল এবং একে নিজের জন্য এমন একটি ঘাঁটিতে পরিণত করল যেখানে অন্য কোনো ধর্ম অংশীদার থাকবে না—"আরব উপদ্বীপে দুটি ধর্ম একত্রিত হতে পারে না"—তখন থেকেই ইসলাম সকল মানুষকে মুক্ত করার এবং তাদেরকে একমাত্র তাদের স্রষ্টার ইবাদতে নিবিষ্ট করার সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে খ্রিস্টান শিবিরের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করল। ফলে ইয়ারমুকের যুদ্ধ ও আরও অন্যান্য যুদ্ধ সংঘটিত হলো। আর এই সংঘর্ষ আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে; এটি স্তিমিত হয়নি এবং শিথিলও হয়নি। বরং এর ধরন ও পদ্ধতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি খ্রিস্টান বিশ্বের বৈশ্বিক অবস্থানের ওপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছে। এটি তাদের মানচিত্রে এবং তাদের অধীনে থাকা জাতিগুলোর অবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যা গত চৌদ্দ শতাব্দী ধরে তাদের চিন্তাভাবনা, মানসিকতা, আমাদের সাথে যোগাযোগ এবং তাদের অর্জিত অভিজ্ঞতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে এমন কিছু বিষয় তৈরি হয়েছে যা সময়ের সাথে সাথে তাদের রাজা, আমীর ও গির্জার যাজকদের মতো নেতৃবৃন্দের মনে অঙ্কিত হয়ে গেছে এবং তাদের হৃদয়ে ও অনুভূতিতে প্রোথিত হয়ে গেছে। এগুলো আমাদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমাদের সাথে তাদের সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যা থেকে তারা মুক্ত হতে পারে না এবং এর চাপ থেকে নিষ্কৃতি পায় না। বরং এটি তাদের রক্ত-মাংসের সাথে মিশে গেছে এবং তাদের অস্তিত্বে এমন এক সত্তা হিসেবে প্রবহমান যা দিন-রাতের কোনো মুহূর্তেই তাদের ছেড়ে যায় না। আর এই বিষয়গুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো:
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
روحاً صليبية حاقدة..فَمَا هِيَ الرّوح؟ وَكَيف تشكلت عبر التَّارِيخ؟ وَمَا هُوَ مدى تأثيرها على نظرتهم إِلَيْنَا وعلاقتهم بِنَا؟
هَذَا مَا أبدأ الْإِجَابَة عَلَيْهِ (بِإِذن الله تعلى) .
একটি বিদ্বেষপ্রসূত ক্রুসেডার মানসিকতা... তবে সেই মানসিকতা বা চেতনাটি আসলে কী? ইতিহাসের পরিক্রমায় এটি কীভাবে রূপ পরিগ্রহ করেছে? আমাদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমাদের সাথে তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাবের পরিধিই বা কতটুকু?
মহান আল্লাহর ইচ্ছায় আমি এগুলোরই উত্তর প্রদান করা শুরু করছি।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
الرّوح الصليبية ونشأتها:1 - لقد كَانَ عِيسَى بن مَرْيَم عليه الصلاة والسلام آخر الرُّسُل قبل سيدهم وخاتمهم مُحَمَّد بن عبد الله صلوَات الله وَسَلَامه عَلَيْهِ وَعَلَيْهِم أَجْمَعِينَ.
وَمن ثمَّ كَانَ حواريوه من بعده هم أساتذة الْعَالم ومرشدي الْأُمَم..
لَكِن المسيحية أَصَابَهَا انحراف كَبِير وخطير نقلهَا من ديانَة توحيدية سهلة إِلَى ديانَة وثنية معقدة وَذَلِكَ فِي عهدها الباكر، وَفِي منتصف الْقرن المسيحي الأول على يَد الْيَهُودِيّ الماكر (بولس) . إِلَّا أَن النَّصَارَى ممثلين بِرِجَال كنيستهم ظلوا يمنحون أنفسهم وكنيستهم ذَلِك الِاعْتِبَار الَّذِي كَانَ لحواريي عِيسَى عليه الصلاة والسلام وحواريوه - رَحِمهم الله تَعَالَى - وعَلى الرغم من إمعانهم فِي تَحْرِيف مَا ورثوه من هَذِه النَّصْرَانِيَّة المحرفة وحشوها بالخرافات والأضاليل الكنسية، حَتَّى ظُهُور الْإِسْلَام، وَحَتَّى يَوْمنَا هَذَا..
فَلَمَّا ظهر الْإِسْلَام بتوحيده الصافي وَحقه الْمُبين، كشف انحراف النَّصْرَانِيَّة وَبطلَان مَا آلت إِلَيْهِ وَأظْهر ضلال رجال كنيستها وأتباعها وأقصاهم عَمَّا زعموه لأَنْفُسِهِمْ من أستاذية الْعَالم وهدايته، وآلت الصدارة لِلْإِسْلَامِ وَغدا الْمُسلمُونَ هم أساتذة الْعَالم وَهُدَاة البشرية وقادة الْأُمَم ومرشدي النَّاس إِلَى الْحق وَالْهدى، وانتزعوا تِلْكَ المكانة من النَّصَارَى (كَمَا انتزعوها من الْيَهُود فِي هَذِه الْمَدِينَة المنورة بعد الْهِجْرَة إِلَيْهَا) .
وَقضى الْمُسلمُونَ على مَا كَانَ لرجال الْكَنِيسَة من سلطة ومصالح، وَمَا
ক্রুসেডীয় মানসিকতা ও এর উদ্ভব:১ - ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ছিলেন তাঁদের নেতা ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পূর্বে প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল (الرسل)।
ফলে তাঁর পরবর্তী সময়ে তাঁর হাওয়ারীগণই (حواريوه) ছিলেন বিশ্বের শিক্ষক ও জাতিসমূহের পথপ্রদর্শক।
কিন্তু খ্রিস্টধর্ম এক বিশাল ও ভয়াবহ বিচ্যুতির শিকার হয়, যা একে একটি সহজ তাওহীদী (توحيدية) ধর্ম থেকে একটি জটিল পৌত্তলিক ধর্মে রূপান্তরিত করে। এটি ঘটেছিল এর প্রারম্ভিক যুগে, প্রথম খ্রিস্টীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ধূর্ত ইয়াহুদি (পলস)-এর হাতে। তবে খ্রিস্টানরা, তাদের গির্জার যাজকদের মাধ্যমে, নিজেদের এবং তাদের গির্জাকে সেই মর্যাদা প্রদান করতে থাকে যা ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর হাওয়ারীগণের (حواريوه) —আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি রহম করুন— প্রাপ্য ছিল। যদিও তারা এই বিকৃত খ্রিস্টধর্ম থেকে যা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল তা আরও বিকৃত করতে এবং গির্জার নানা রূপকথা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে তা পূর্ণ করতে লিপ্ত ছিল; যা ইসলামের আবির্ভাব পর্যন্ত এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অতঃপর যখন ইসলাম তার স্বচ্ছ তাওহীদ (توحيد) ও সুস্পষ্ট সত্য নিয়ে আবির্ভূত হলো, তখন তা খ্রিস্টধর্মের বিচ্যুতি ও এর বর্তমান অবস্থার অসারতা উন্মোচন করে দিল। এটি গির্জার যাজক ও তাদের অনুসারীদের পথভ্রষ্টতা প্রকাশ করল এবং তারা নিজেদের জন্য বিশ্ব-শিক্ষকতা ও হেদায়েতের যে দাবি করত, তা থেকে তাদের অপসারিত করল। নেতৃত্বের স্থান ইসলামের অধিকারে এল এবং মুসলিমরাই হলেন বিশ্বের শিক্ষক, মানবতার দিশারি, জাতিসমূহের নেতা এবং মানুষকে সত্য ও সঠিক পথের দিকে আহ্বানকারী। তারা খ্রিস্টানদের থেকে সেই মর্যাদা ছিনিয়ে নিলেন (ঠিক যেভাবে হিজরতের পর এই মদিনা মুনাওয়ারায় তারা ইয়াহুদিদের থেকে তা ছিনিয়ে নিয়েছিলেন)।
আর মুসলিমরা গির্জার যাজকদের কর্তৃত্ব ও স্বার্থের অবসান ঘটালেন এবং যা
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
زعموه لأَنْفُسِهِمْ من وصاية على الْبشر وأوضاعهم وعَلى عُقُولهمْ وأرواحهم، وَمَا فرضوه عَلَيْهِم من حق السخرة وَمَا ابتزوه من أَمْوَالهم ضريبة يؤدونها إِلَى رجال الْكَنِيسَة دون تلكؤ أَو تردد أَو مُرَاجعَة أَو استفسار.. وَهَذَا كُله عدا تعبيدهم لَهُم من دون الله تبارك وتعالى..
قَالَ تَعَالَى: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ} .
وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "إِنَّهُم حرمُوا عَلَيْهِم الْحَلَال، وَأَحلُّوا لَهُم الْحَرَام، فاتبعوهم، فَذَلِك عِبَادَتهم إيَّاهُم".
فَكَانَت ذَلِك سَببا أصيلاً وعميقاً فِي كَرَاهِيَة النَّصَارَى - لاسيما رجال كنيستهم - لِلْإِسْلَامِ وَالْمُسْلِمين، وَكَانَ وَرَاء ذَلِك محاولاتهم المستمرة للصد عَن الْإِسْلَام ورد الْمُسلمين عَن دينهم أَو الْقَضَاء عَلَيْهِم وعَلى إسْلَامهمْ..
قَالَ تَعَالَى: {وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ} (الْبَقَرَة: 120) .
وَقَالَ تَعَالَى: {وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّاراً حَسَداً مِنْ عِنْدِ أَنْفُسِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقّ} (الْبَقَرَة: 109) .
2 - ثمَّ نَشأ سَبَب آخر زَاد فِي عمق وتأصيل كَرَاهِيَة النَّصَارَى - لَا سِيمَا رؤوسهم من رجال كنيستهم وملوكهم - لِلْإِسْلَامِ وَالْمُسْلِمين، والجهد فِي حَرْب المعسكر الإسلامي.. هَذَا السَّبَب هُوَ: انطلاق الْإِسْلَام فِي الأَرْض لتحرير النَّاس من الْعُبُودِيَّة لله تعلى وَحده ولإخراجهم من ضيق الدُّنْيَا إِلَى سَعَة الْآخِرَة وَمن جور الْأَدْيَان إِلَى عدل الْإِسْلَام.. واصطدامه بالمعسكر النَّصْرَانِي الصليبي وتحطيمه جيوشه وأنظمته.. والفتوحات الَّتِي أحرزها فِي الْعَالم النَّصْرَانِي نَفسه، وانتزاعه مِنْهُ بِلَاد الشَّام ومصر وشمال إفريقيا، ووثبته على الأندلس وتوغله فِي أوربا من الغرب حَتَّى شَاءَ الله - تَعَالَى - أَن يقف الْمُسلمُونَ فِي تِلْكَ الجولة قَرِيبا من (باريس) عَاصِمَة فرنسا، ثمَّ دُخُوله أوروبا
মানুষের ওপর, তাদের জীবনযাত্রা, বুদ্ধি ও আত্মার ওপর তারা নিজেদের জন্য যে অভিভাবকত্বের দাবি করেছিল, আর তাদের ওপর যে বাধ্যতামূলক শ্রমের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল এবং কোনো প্রকার দ্বিধা, সংকোচ বা জিজ্ঞাসা ছাড়াই গির্জার যাজকদের দেওয়ার জন্য কর হিসেবে তাদের যে সম্পদ তারা লুণ্ঠন করেছিল... এ সবই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ছাড়া তাদের দাসত্বে পরিণত করার শামিল।
মহান আল্লাহ বলেন: "তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে।"
আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তারা তাদের জন্য হালালকে হারাম করে দিয়েছিল এবং হারামকে হালাল করে দিয়েছিল, অতঃপর তারা তাদের অনুসরণ করেছিল; আর এটাই ছিল তাদের ইবাদত।"
ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি খ্রিস্টানদের—বিশেষ করে তাদের ধর্মযাজকদের—বিদ্বেষের এটিই ছিল একটি মৌলিক ও গভীর কারণ। এর পেছনেই নিহিত ছিল ইসলাম থেকে মানুষকে বিরত রাখার এবং মুসলিমদের তাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার অথবা তাদের এবং তাদের ইসলামকে নির্মূল করার লক্ষ্যে তাদের ক্রমাগত প্রচেষ্টা...
মহান আল্লাহ বলেন: "আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা আপনার প্রতি কখনোই সন্তুষ্ট হবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের আদর্শ অনুসরণ করবেন।" (সুরা বাকারা: ১২০)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আহলে কিতাবদের অনেকেই চায়, যদি সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তারা তাদের অন্তরের বিদ্বেষবশত তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় কাফির বানিয়ে দিতে পারত।" (সুরা বাকারা: ১০৯)।
২ - অতঃপর অন্য একটি কারণ উদ্ভূত হলো যা খ্রিস্টানদের—বিশেষ করে তাদের প্রধান ধর্মযাজক ও রাজাদের—ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষকে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করল এবং ইসলামী শিবিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রচেষ্টাকে বেগবান করল। সেই কারণটি হলো: মানুষকে শুধুমাত্র এক আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে মুক্ত করতে, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে আখেরাতের প্রশস্ততায় এবং বিভিন্ন ধর্মের অবিচার থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে বের করে আনতে পৃথিবীতে ইসলামের অগ্রযাত্রা... এবং খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের সাথে এর সংঘাত ও তাদের সেনাবাহিনী ও শাসনব্যবস্থাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা... এবং খোদ খ্রিস্টান বিশ্বে ইসলামের বিজয় অর্জন, তাদের কাছ থেকে সিরিয়া, মিসর ও উত্তর আফ্রিকা ছিনিয়ে নেওয়া, আন্দালুসিয়ায় ইসলামের পদার্পণ এবং পশ্চিম দিক থেকে ইউরোপে অনুপ্রবেশ করা, এমনকি আল্লাহ তাআলা চাইলেন যে সেই অভিযানে মুসলিমরা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের নিকটবর্তী স্থানে গিয়ে পৌঁছেছিল, অতঃপর ইউরোপে ইসলামের প্রবেশ...
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
مرّة أُخْرَى من الشرق وانتزاعه مِنْهُ الأناضول والبلقان، وقضاؤه على الإمبراطورية البيزنطية وفتحه عاصمتها الْقُسْطَنْطِينِيَّة وَتَحْوِيلهَا إِلَى عَاصِمَة الْإِسْلَام (إِسْلَام بَوْل) وتوغله بعْدهَا فِي قلب أوروبا حَتَّى شَاءَ الله عز وجل أَن يقف فِي هَذِه الجولة عِنْد أسوار فيينا عَاصِمَة النمسا. وَكَذَلِكَ صُعُوده على أوروبا من الْجنُوب من إيطاليا حَتَّى دق أَبْوَاب روما وهدد دولة الفاتيكان. ثمَّ صُعُوده على روسيا القيصرية وانتزاعه مِنْهَا أطرافها الجنوبية والشرقية..
وجد المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي نَفسه أَمَام عملاق قوي خرج من هَذِه الْمَدِينَة المنورة، فحطم لَهُ قواه وجيوشه الَّتِي كَانَ بهَا يصول ويجول وَيحكم بهَا نصف الْعَالم، وطارده حَتَّى حصره فِي أوروبا وَحدهَا بل فِي جُزْء مِنْهَا وطوقه من الشرق والغرب بذراعين قويتين يهدده بهما صباح مسَاء..
فَكَانَ هَذَا، أَيْضا، سَببا فِي تأصيل كَرَاهِيَة المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي وعدائه لِلْإِسْلَامِ وَالْمُسْلِمين وتعميق هَذِه الْعَدَاوَة والكراهية وامتزاجها بلحنه وَدَمه وعظمه وعصبه، وغدوها جُزْءا من تركيبه وتحولها إِلَى روح خبيثة من الحقد الدفين الَّذِي أُترع بِهِ قلبه، وامتلأ بهَا صَدره وأكلت كبده، فظهرت على أَلْسِنَة رؤوسه وَرِجَاله {وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ} (آل عمرَان: 119) .
هَذِه الرّوح الحاقدة على الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين هِيَ الرّوح الصليبية..
فالروح الصليبية إِذن: هِيَ روح العداء والحقد والكراهية لِلْإِسْلَامِ وَالْمُسْلِمين فِي نفوس رُؤُوس المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي، من رجال كنيسته وملوكه، وَمن والاهم وأطاع أوامرهم وخضع لَهُم وَعمل بتوجيهاتهم واقتفى أَثَرهم فِي كره الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين وحربهم والحقد عَلَيْهِم..
لقد سرت هَذِه الرّوح فِي جسم المعسكر الصليبي - بِفعل رؤوسه - حَتَّى كَادَت تَشْمَل كيانه وتتغلغل فِي أَجْزَائِهِ وتشمل شعوبه وجماعاته وطوائفه وأفراده لَوْلَا وجود مجموعات أَو طوائف بَدَت مِنْهُم الْمَوَدَّة لِلْإِسْلَامِ وَالْمُسْلِمين، بِسَبَب بقائهم أَو قربهم من التَّوْحِيد الَّذِي جَاءَ بِهِ عِيسَى عليه الصلاة والسلام -
প্রাচ্য থেকে পুনরায় আক্রমণ এবং তাদের কাছ থেকে আনাতোলিয়া ও বলকান অঞ্চল ছিনিয়ে নেওয়া, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতন ঘটানো এবং এর রাজধানী কনস্টান্টিনোপল জয় করে তাকে ইসলামের রাজধানীতে (ইসলামবুল) রূপান্তর করা; এরপর ইউরোপের প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশ করা, যতক্ষণ না মহান আল্লাহ চাইলেন যে এই অভিযান অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার দেয়ালের কাছে এসে থামবে। একইভাবে দক্ষিণ দিক থেকে ইতালির মধ্য দিয়ে ইউরোপে আরোহণ করা, এমনকি রোমের দরজায় কড়া নাড়া এবং ভ্যাটিকান রাষ্ট্রকে হুমকির মুখে ফেলা। অতঃপর জার-শাসিত রাশিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়া এবং তাদের কাছ থেকে এর দক্ষিণ ও পূর্ব প্রান্তগুলো ছিনিয়ে নেওয়া...
খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবির নিজেকে এমন এক শক্তিশালী দানবের সামনে দেখতে পেল যা এই মদীনা মুনাওয়ারা থেকে বের হয়েছে; এটি তাদের সেই শক্তি ও বাহিনীকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল যার মাধ্যমে তারা দাপিয়ে বেড়াত এবং বিশ্বের অর্ধেক শাসন করত। এটি তাদের তাড়া করে এমনকি শুধু ইউরোপের মধ্যে, বরং ইউরোপের একটি অংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিল এবং পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে দুটি শক্তিশালী বাহু দিয়ে তাদের ঘিরে ফেলল, যা তাদের সকাল-সন্ধ্যা হুমকি দিতে থাকল...
এটিও খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের মনে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি ঘৃণার গোড়াপত্তন এবং শত্রুতা সৃষ্টির একটি কারণ ছিল। এই শত্রুতা ও ঘৃণা আরও গভীর হয় এবং তা তাদের রক্ত-মাংস, হাড় ও স্নায়ুর সাথে মিশে যায়। এটি তাদের অস্তিত্বের অংশে পরিণত হয় এবং একটি লুকায়িত হিংসার এক নোংরা আত্মায় রূপান্তরিত হয়, যা দিয়ে তাদের অন্তর ভরে গিয়েছিল, তাদের বক্ষ পূর্ণ হয়েছিল এবং তাদের কলিজা দগ্ধ করেছিল। ফলে তাদের নেতাদের ও ব্যক্তিদের মুখে তা প্রকাশ পায়: "আর তাদের অন্তর যা গোপন রাখে তা আরও ভয়ংকর" (আল ইমরান: ১১৯)।
ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি এই বিদ্বেষপূর্ণ আত্মাই হলো ক্রুসেডার চেতনা...
সুতরাং ক্রুসেডার চেতনা হলো: খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের নেতাদের—গির্জার ব্যক্তিবর্গ ও রাজাদের—এবং তাদের বন্ধু, তাদের আজ্ঞাবহ, তাদের অনুগত এবং ইসলাম ও মুসলমানদের ঘৃণা করা, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ও তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণে যারা তাদের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে ও পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তাদের মনের শত্রুতা, হিংসা ও ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ...
এই চেতনা ক্রুসেডার শিবিরের দেহে—তাদের নেতাদের প্ররোচনায়—এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, তা প্রায় তাদের অস্তিত্বকে গ্রাস করে ফেলেছিল, তাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছিল এবং তাদের জাতি, গোষ্ঠী, দল ও ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। যদি না এমন কিছু দল বা গোষ্ঠী থাকত যারা ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সৌহার্দ্য প্রদর্শন করত, তাদের তাওহীদের ওপর অটল থাকা বা তার কাছাকাছি থাকার কারণে, যা নিয়ে ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এসেছিলেন—
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
وَلذَا بقيت بمنأى عَن التلوث بِهَذِهِ الرّوح الخبيثة، الَّتِي دأب رجال الْكَنِيسَة وسواهم من رُؤُوس المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي على غرسها وإحيائها فِي شعوبهم وأتباعهم تضليلاً لَهُم وحقداً على الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين، وَمن ثمَّ دخلت مجموعات من هَذِه الطوائف فِي الْإِسْلَام حِين وَصلهَا وعرفته، كَمَا فعلت طَائِفَة مِنْهُم كَانَت فِي إقليم (البوسنة) تدعى (طَائِفَة البوغوميل) (رفضوا عبَادَة السيدة مَرْيَم، وأبوا نظام التعميد، وأنكروا الصَّلِيب رمزاً دينياً، واعتبروا الانحناء أَمَام الصُّور الدِّينِيَّة والتماثيل إِنَّمَا هُوَ ضرب من عبَادَة الْأَصْنَام، وكرهوا نواقيس الْكَنَائِس وأطلقوا عَلَيْهَا أبواق الشَّيَاطِين، وَكَانَت دور صلَاتهم على دَرَجَة كَبِيرَة من البساطة والبعد عَن الزِّينَة والزخارف على عكس الْكَنَائِس الكاثوليكية الَّتِي كَانَت تتَمَيَّز بالزخارف الزاهية.. وَفَوق هَذَا كُله كَانَ أَفْرَاد هَذِه الطَّائِفَة يَعْتَقِدُونَ أَن الْمَسِيح نَفسه عليه الصلاة والسلام لم يصلب وَلَكِن حل مَحَله شبح آخر، وهم يتفقون مَعَ الْآيَة الْكَرِيمَة الَّتِي جَاءَ فِيهَا {وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ} (النِّسَاء: 157) وَكَانُوا يحرمُونَ على أنفسهم شرب الْخمر ويحرصون على أَن يكون سلوكهم الْخَارِجِي وعلاقاتهم الاجتماعية مبرأة من الْعُيُوب الَّتِي حفلت بهَا المجتمعات المسيحية فِي أوروبا فِي ذَلِك الْوَقْت.
"وَكَانَ من الطبيعي أَن تنظر الْكَنِيسَة شذراً إِلَى هَذِه الطَّائِفَة ودعت البابوية إِلَى شن حملات صليبية عَلَيْهِم، وَقد تعرضوا لموجات من الاضطهاد العنيف على يَد مُلُوك البوسنة الَّذين كَانُوا يستجيبون إِلَى توجيهات البابوية فِي روما. واستغاثت أَفْرَاد هَذِه الطَّائِفَة بالأتراك العثمانيين فِي الْقرن الْخَامِس عشر لتخليصهم مِمَّا هم فِيهِ من اضطهاد وبؤس وشقاء. وَلما غزا السُّلْطَان مُحَمَّد الفاتح البوسنة فِي سنة 1464م انضمت طَائِفَة البوغوميل إِلَى الفاتحين، وَاسْتولى الْجَيْش العثماني فِي خلال أُسْبُوع وَاحِد على مُعظم مدن البوسنة، وعَلى إِثْر الْفَتْح العثماني دخل البوغوميل فِي الْإِسْلَام أَفْوَاجًا بمحض إرادتهم، إِذْ وجدوا الفروق ضئيلة جدا بَين مَذْهَبهم وَبَين تعاليم الْإِسْلَام. أما الْبَقِيَّة الْبَاقِيَة من أَفْرَاد هَذِه الطَّائِفَة فقد
তাই এটি সেই কলুষিত ও অশুভ মানসিকতা থেকে মুক্ত ছিল, যা চার্চের পাদ্রি এবং খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের অন্যান্য প্রধানরা তাদের জাতি ও অনুসারীদের মধ্যে রোপণ ও পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল তাদের বিভ্রান্ত করা এবং ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা। ফলে, এই সম্প্রদায়গুলোর বিভিন্ন গোষ্ঠী যখন ইসলামের দাওয়াত পেল এবং একে জানতে পারল, তখন তারা ইসলাম গ্রহণ করল। যেমনটি করেছিল বসনিয়া অঞ্চলের ‘বোগোমিল’ নামক একটি সম্প্রদায়। (তারা মারিয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর ইবাদত করা প্রত্যাখ্যান করেছিল, বাপ্তিস্ম পদ্ধতি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং ক্রুশকে ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে অস্বীকার করেছিল। তারা ধর্মীয় ছবি ও মূর্তির সামনে মস্তক অবনত করাকে এক প্রকার মূর্তিপূজা হিসেবে গণ্য করত। তারা গির্জার ঘণ্টাধ্বনি অপছন্দ করত এবং সেগুলোকে শয়তানের শিঙা বলে অভিহিত করত। তাদের উপাসনালয়গুলো ছিল অত্যন্ত সাদামাটা এবং সাজসজ্জা ও অলঙ্করণ বর্জিত, যা ছিল জাঁকজমকপূর্ণ অলঙ্করণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ক্যাথলিক গির্জাগুলোর সম্পূর্ণ বিপরীত। এর চাইতেও বড় কথা হলো, এই সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে, স্বয়ং মসিহ (আলাইহিস সালাম) ক্রুশবিদ্ধ হননি, বরং তাঁর পরিবর্তে অন্য এক সদৃশ ব্যক্তিকে রাখা হয়েছিল। তারা পবিত্র কুরআনের এই আয়াতের সাথে ঐকমত্য পোষণ করত: {তারা তাকে হত্যা করেনি এবং ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য (অন্য একজনকে) তার সদৃশ করা হয়েছিল} (সূরা আন-নিসা: ১৫৭)। তারা নিজেদের জন্য মদ্যপান নিষিদ্ধ করেছিল এবং তাদের বাহ্যিক আচরণ ও সামাজিক সম্পর্কগুলোকে তৎকালীন ইউরোপের খ্রিস্টান সমাজে প্রচলিত কলুষতা থেকে মুক্ত রাখতে সচেষ্ট ছিল।
"আর এটা স্বাভাবিক ছিল যে, চার্চ এই সম্প্রদায়কে অবজ্ঞার চোখে দেখবে এবং পোপতন্ত্র তাদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড পরিচালনার আহ্বান জানাবে। তারা বসনিয়ার সেই রাজাদের হাতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, যারা রোমের পোপতন্ত্রের নির্দেশ মেনে চলত। এমতাবস্থায়, পঞ্চদশ শতাব্দীতে এই সম্প্রদায়ের লোকেরা উসমানীয় তুর্কিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, যাতে তারা এই নিপীড়ন, দুর্দশা ও কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। যখন সুলতান মুহাম্মদ আল-ফাতিহ ১৪৬৪ খ্রিস্টাব্দে বসনিয়া জয় করেন, তখন বোগোমিল সম্প্রদায় বিজয়ীদের সাথে একাত্ম হয়। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে উসমানীয় বাহিনী বসনিয়ার অধিকাংশ শহর জয় করে নেয়। উসমানীয় বিজয়ের পর বোগোমিলরা দলে দলে স্বতস্ফূর্তভাবে ইসলাম গ্রহণ করে; কারণ তারা তাদের নিজস্ব মতাদর্শ ও ইসলামের শিক্ষার মধ্যে পার্থক্য অত্যন্ত নগণ্য খুঁজে পেয়েছিল। আর এই সম্প্রদায়ের অবশিষ্ট যারা ছিল, তারা..."
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০০)
أَسْلمُوا تدريجياً. وَبَقِي الكاثوليك من أهالي البوسنة على ديانتهم وآثروا الْهِجْرَة إِلَى النمسا والمجر "1.
وَلَعَلَّ هَؤُلَاءِ النَّصَارَى (طَائِفَة البوغوميل وأمثالهم) كأولئك الَّذين وجدوا فِي عصر الدعْوَة الإسلامية الأول وَلم يَجدوا فِي نُفُوسهم مَا وجد غَيرهم من الْكبر الَّذِي يصدهم عَن الْإِسْلَام فأسلموا.. لَعَلَّ هَؤُلَاءِ وَأُولَئِكَ هم المعنيون بقول الله تَعَالَى: {لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَوَدَّةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَى ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَاناً وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ. وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ. وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَمَا جَاءَنَا مِنَ الْحَقِّ وَنَطْمَعُ أَنْ يُدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصَّالِحِينَ. فَأَثَابَهُمُ اللَّهُ بِمَا قَالُوا جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ. وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ} (الْمَائِدَة: 82 - 86) .
وَهَكَذَا نجد أَن الرّوح الصليبية نشأت مُنْذُ وجد لِلْإِسْلَامِ كيان ودولة فِي هَذِه الْمَدِينَة المنورة وانتزع من النَّصَارَى مَا زعموه لأَنْفُسِهِمْ من مكانة دينية، ثمَّ تَفَجَّرَتْ وغلى مرجلها بعد الصدام المسلح الَّذِي وَقع بَين الْمُسلمين والدولة البيزنطية لَا سِيمَا بعد معركة اليرموك الظافرة الَّتِي لقِيت فِيهَا جيوشهم هزيمَة نكراء تحطمت فِيهَا قواهم وَخرج بعْدهَا رَأْسهمْ هِرقل إمبراطور الدولة الرومانية من بِلَاد الشَّام هَارِبا والأسى والحزن يعصر قلبه عصراً، وَقد عبر عَن ذَلِك حِين ركب الْبَحْر واستقل السَّفِينَة وَألقى نظرات الْوَدَاع الْأَخِيرَة على شواطئ سورية الجميلة فَلم يملك نَفسه أَن أطلق صرخة أودعها كل مَا عِنْده من أسى وحزن وكمد فصاح قَائِلا: الْوَدَاع، الْوَدَاع، إِلَى الْأَبَد يَا سورية، وداعاً لَا لِقَاء بعده. وَقد كَانَ كَذَلِك وَللَّه الْحَمد
…--------------------------------------------
তারা ধীরে ধীরে ইসলাম গ্রহণ করেন। আর বসনিয়ার অধিবাসী ক্যাথলিকরা তাদের নিজ ধর্মে অবিচল থাকে এবং অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরিতে হিজরত করাকে অগ্রাধিকার দেয় "১।
সম্ভবত এই খ্রিস্টানরা (বোগোমিল সম্প্রদায় ও তাদের সমগোত্রীয়রা) সেই সব লোকদের মতো ছিল যারা ইসলামের প্রাথমিক দাওয়াত যুগে বর্তমান ছিলেন এবং তাদের অন্তরে এমন অহংকার ছিল না যা অন্যদেরকে ইসলাম থেকে বিরত রেখেছিল, তাই তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। সম্ভবত এই উভয় শ্রেণির লোকরাই মহান আল্লাহর বাণীর লক্ষ্যবস্তু: {তুমি মুমিনদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইহুদি ও মুশরিকদেরকেই সবচেয়ে কঠোর পাবে। আর মুমিনদের প্রতি বন্ধুত্বে তাদেরকেই সবচেয়ে নিকটতর পাবে যারা বলে, ‘আমরা খ্রিস্টান’। তা এ কারণে যে, তাদের মধ্যে অনেক আলেম ও দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না। আর যখন তারা রাসুলের প্রতি অবতীর্ণ বাণী শ্রবণ করে, তখন তুমি দেখবে সত্য উপলব্ধির কারণে তাদের চক্ষু দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। তারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আপনি আমাদেরকে সাক্ষ্যদানকারীদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করুন। আর আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা আল্লাহ ও আমাদের নিকট আসা সত্যের প্রতি ঈমান আনব না? অথচ আমরা প্রত্যাশা করি যে, আমাদের রব আমাদেরকে নেককার লোকদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।’ অতঃপর তাদের এই উক্তির কারণে আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কারস্বরূপ এমন জান্নাত দান করবেন যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আর এটিই হচ্ছে সৎকর্মশীলদের বিনিময়। আর যারা কুফরি করে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী।} (সূরা আল-মায়েদাহ: ৮২-৮৬)।
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, ক্রুসেডীয় মনোভাব তখন থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল যখন এই মদিনা মুনাওয়ারায় ইসলামের একটি সত্তা ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং খ্রিস্টানদের নিকট থেকে তাদের দাবিকৃত ধর্মীয় মর্যাদা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এরপর সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে এবং তার উত্তাপ তীব্রতর হয় যখন মুসলমানদের সাথে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়, বিশেষ করে বিজয়ী ইয়ারমুকের যুদ্ধের পর, যেখানে তাদের সেনাবাহিনী শোচনীয় পরাজয় বরণ করে এবং তাদের শক্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এরপর রোমান সাম্রাজ্যের অধিপতি হেরাক্লিয়াস সিরিয়া থেকে অত্যন্ত বিষণ্ন ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে পলায়ন করেন। সমুদ্রপথে জাহাজে আরোহণের সময় সিরিয়ার মনোরম উপকূলের দিকে শেষ বিদায়ী দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তিনি তার সেই দুঃখ ও বেদনা প্রকাশ করেছিলেন; তখন তিনি নিজেকে সামলাতে না পেরে অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে আর্তনাদ করে বলেছিলেন: ‘বিদায়, হে সিরিয়া, চিরদিনের জন্য বিদায়! এমন এক বিদায় যার পর আর কোনোদিন দেখা হবে না।’ আর আল্লাহর প্রশংসায় তা-ই হয়েছে
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০১)
لقد نشأت هَذِه الرّوح مُنْذُ ذَلِك الْحِين ثمَّ مَا زادتها الْأَيَّام والأحداث إِلَّا اشتعالاً واتقاداً وتفجراً وغلياناً، إِذْ دأب رجال الْكَنِيسَة إِلَى إبْقَاء جذوتها متقدة متوهجة، منتهزين كل انتصار يحرزه الْمُسلمُونَ ليسهل عَلَيْهِم تسخيرها فِي أَي وَقت لدفع الكتل البشرية النَّصْرَانِيَّة فِي موجات تخريبية من الْغَزْو الصليبي المدمر، والفتك بِالْمُسْلِمين كلما قدرُوا عَلَيْهِم.. وَلَيْسَ هَذَا فَحسب بل أَرَادَ رُؤُوس المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي أَن يجْعَلُوا هَذِه الرّوح الحاقدة تقليداً لأتباعهم وشعوبهم وطقساً من طقوسهم يشيب عَلَيْهَا الْكَبِير، وينشأ عَلَيْهَا الصَّغِير، ويرضعها الْوَلِيد مَعَ لبن أمه.. وَذَلِكَ حَتَّى يُمْسِي التَّخَلُّص من الْإِسْلَام ورد الْمُسلمين عَنهُ أَو إبادتهم هُوَ الشّغل الشاغل لكل نَصْرَانِيّ على وَجه الأَرْض وَلَيْسَ فَقَط لرؤوس المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي..
وَهَكَذَا نجد أَن الرّوح الصليبية ذَات تَأْثِير عميق جدا على نظرة المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي إِلَيْنَا وَمن ثمَّ علاقتهم بِنَا، إِلَى دَرَجَة أَنَّهَا تشكل شطر منطلق على نظرة المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي إِلَيْنَا أما الشّطْر الآخر لهَذَا المنطلق فقد نَشأ من نفس الظروف والأحداث الَّتِي نشأت عَنْهَا الرّوح الصليبية.. هَذَا الشّطْر الآخر: هُوَ الثأر الْقَدِيم الَّذِي يشْعر بِهِ المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي تجاه الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين..
এই চেতনা তখন থেকেই সৃষ্টি হয়েছে, এরপর দিন এবং ঘটনাবলি একে কেবল প্রজ্জ্বলিত, উদ্দীপ্ত, বিস্ফোরিত ও উত্তালই করেছে। কেননা গির্জার যাজকগণ এর শিখাকে সদা জাগ্রত ও প্রদীপ্ত রাখতে সচেষ্ট ছিলেন; তারা মুসলিমদের অর্জিত প্রতিটি বিজয়কে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন যাতে যে কোনো সময় খ্রিস্টান জনতাকে ধ্বংসাত্মক ক্রুসেডীয় আক্রমণের জোয়ারে ধাবিত করার মাধ্যমে তাদের ব্যবহার করা সহজ হয় এবং যখনই তারা সক্ষম হয় মুসলিমদের নিধন করা যায়। কেবল এটাই নয়, বরং খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের নেতৃবৃন্দ এই বিদ্বেষী চেতনাকে তাদের অনুসারী ও জাতিগোষ্ঠীর একটি ঐতিহ্যে এবং তাদের ধর্মীয় রীতির একটি অংশে পরিণত করতে চেয়েছিলেন; যাতে বৃদ্ধরা এর ওপরই বার্ধক্যে উপনীত হয়, ছোটরা এর ওপরই বেড়ে ওঠে এবং নবজাতক তার মায়ের দুধের সাথে এটিই পান করে। আর তা এই উদ্দেশ্যে, যাতে ইসলাম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া এবং মুসলিমদের ধর্মচ্যুত করা অথবা তাদের সমূলে বিনাশ করাই পৃথিবীর প্রতিটি খ্রিস্টানের প্রধান চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, যা কেবল ক্রুসেডার শিবিরের নেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে।
এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে, ক্রুসেডীয় চেতনা আমাদের প্রতি খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ফলশ্রুতিতে আমাদের সাথে তাদের সম্পর্কের ওপর অত্যন্ত গভীর প্রভাব বিস্তারকারী। এমনকি এটি আমাদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির গতিপথের একটি অর্ধাংশ গঠন করে; আর এই গতিপথের অপর অর্ধাংশটি সেই একই পরিস্থিতি ও ঘটনাবলি থেকে উদ্ভূত হয়েছে যা থেকে ক্রুসেডীয় চেতনার জন্ম হয়েছিল। এই অপর অংশটি হলো সেই প্রাচীন প্রতিহিংসা, যা খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবির ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি অনুভব করে।
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০১)
الثأر الْقَدِيم:أَيهَا الْأُخوة: فقد قُلْنَا إِن المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي وجد نَفسه أَمَام عملاق خرج من هَذِه الْمَدِينَة المنورة فَانْتزع مِنْهُ مكانة الأستاذية والإرشاد فِي الْعَالم، وَمَا زَعمه لنَفسِهِ من مكانة دينية فِي غَفلَة من النَّاس وبعدهم عَن دين الله تَعَالَى.. وانتزع مِنْهُ شعوباً وأمماً كَانَت تخضع لَهُ وَتَدين لملوكه وكنيسته بِالطَّاعَةِ فَأَصْبَحت من جند الْإِسْلَام المخلصين تحمله وتفتح بِهِ الْبِلَاد وتهدي الْعباد بِإِذن الله تَعَالَى..
وانتزع مِنْهُ أَيْضا أراضٍ واسعةٍ وبلاداً شَتَّى كَانَ ينْفَرد وَحده باستغلال خيراتها لَا يُشَارِكهُ فِيهَا أحد من النَّاس..
পুরনো প্রতিশোধ:হে ভ্রাতৃবৃন্দ: আমরা বলেছি যে, খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবির নিজেকে এমন এক মহাশক্তির সম্মুখীন হতে দেখেছে যা এই মদিনা মুনাওয়ারা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ফলে তা তাদের নিকট থেকে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব ও নির্দেশনার মর্যাদা ছিনিয়ে নিয়েছে এবং মানুষের উদাসীনতা ও মহান আল্লাহর দ্বীন থেকে তাদের দূরত্বের সুযোগে তারা নিজের জন্য যে ধর্মীয় অবস্থানের দাবি করেছিল তাও কেড়ে নিয়েছে... আর তাদের নিকট থেকে এমন সব জাতি ও উম্মতকে ছিনিয়ে নিয়েছে যারা তাদের বশীভূত ছিল এবং তাদের রাজন্যবর্গ ও গির্জার প্রতি আনুগত্যে নিবেদিত ছিল। অতঃপর তারা ইসলামের একনিষ্ঠ সৈনিকে পরিণত হয়ে তা (ইসলামকে) ধারণ করছে, এর মাধ্যমে দেশসমূহ জয় করছে এবং মহান আল্লাহর নির্দেশক্রমে বান্দাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করছে...
আর তাদের নিকট থেকে আরও ছিনিয়ে নিয়েছে সুবিস্তৃত ভূখণ্ড ও বিভিন্ন জনপদ, যার সম্পদরাজি তারা একচেটিয়াভাবে ভোগ করত এবং তাতে অন্য কোনো মানুষের অংশীদারিত্ব ছিল না...
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০২)
وانتزع كَذَلِك أَربع مدن رئيسية من أعز خمس مدن عَلَيْهِ فِي الْعَالم وَهِي: (الْقُدس، وإنطاكية، ونيقيه، والقسطنطينية) وَبَات يهدد الْخَامِسَة بِالْفَتْح وَهِي (روما) .
وَفَوق هَذَا كُله فقد قضى على إمبراطوريته البيزنطية الَّتِي كَانَ يعْتَبر إمبراطورها رَأْسا للْعَالم النَّصْرَانِي، ونائباً عَن الله تبارك وتعالى عَن ذَلِك علوا كَبِيرا.
وَهَكَذَا وجد المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي نَفسه أَمَام عَدو طعنه طعنات نجلاء، وجرحه جروحاً غائرة لَا تندمل، وَلَا يُمكن أَن تندمل حَتَّى يثأر لنَفسِهِ مِنْهُ، وَيسْتَرد - بِزَعْمِهِ وتصوره - مكانته
وَسَائِر مَا انتزعه الْإِسْلَام مِنْهُ من الْبِلَاد والعباد، وهداها الله تَعَالَى بِهِ..
إِلَّا أَن أَشد مَا أثار المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي وأقامه وَلنْ يقعده هُوَ فتح الْإِسْلَام لبلاد الشَّام وفيهَا (الْقُدس) وَقد رَأينَا حسرته ولوعته الَّتِي بَدَت بصرخة رَأس من رؤوسه وَهُوَ هِرقل حِين خرج مِنْهَا وَهُوَ يَقُول: "الْوَدَاع. الْوَدَاع يَا سورية. وداعاً لَا لِقَاء بعده". وَكَذَلِكَ فتح الْإِسْلَام للقسطنطينية وَتَحْوِيلهَا إِلَى دَار إِسْلَام (إِسْلَام بَوْل) .
إِن اهتمام المعسكر النَّصْرَانِي الصليبي بالقدس والقسطنطينية جعله يجْهد بدأب واستمرار وعَلى كَافَّة المستويات مُنْذُ فتحهما الله تَعَالَى على يَد الْمُسلمين وَحَتَّى اللحظة الْحَاضِرَة لانتزاعهما من أَيدي الْمُسلمين وإعادتهما مركزين أوليين من مراكز الصَّلِيب.. وَإِن أَيَّة دراسة وَاعِيَة للحروب الصليبية تكشف لنا أَن انتزاع (الْقُدس) من أَيدي الْمُسلمين هُوَ فِي رَأس الْقَائِمَة1 قَائِمَة
--------------------------------------------
একইভাবে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রিয় পাঁচটি শহরের মধ্যে চারটি প্রধান শহর তাদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, সেগুলো হলো: (জেরুজালেম, আন্তাকিয়া, নিসিয়া এবং কনস্টান্টিনোপল) এবং তিনি পঞ্চম শহরটি অর্থাৎ (রোম) বিজয়ের হুমকি দিচ্ছিলেন।
সর্বোপরি, এটি তার বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, যার সম্রাটকে খ্রিস্টান জগতের প্রধান এবং আল্লাহ তাবারক ওয়া তাআলার প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হতো—আল্লাহ তাদের এই দাবি থেকে বহু ঊর্ধ্বে।
এভাবে খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবির নিজেকে এমন এক শত্রুর মুখোমুখি দেখতে পেল, যে তাদের ওপর মারাত্মক আঘাত হেনেছে এবং এমন গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে যা শুকায় না; আর যতক্ষণ না তারা এর প্রতিশোধ নিচ্ছে এবং তাদের দাবি ও কল্পনা অনুযায়ী নিজেদের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধার করছে, ততক্ষণ এই ক্ষত শুকানো সম্ভব নয়।
এবং ইসলাম তাদের থেকে যেসব জনপদ ও জনবল ছিনিয়ে নিয়েছিল এবং আল্লাহ তাআলা যেগুলোকে ইসলামের মাধ্যমে হেদায়েত দান করেছিলেন...
তবে খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরকে সবচেয়ে বেশি যা উত্তেজিত ও বিচলিত করেছিল এবং যা তাদের স্থিতি কেড়ে নিয়েছিল, তা হলো ইসলামের মাধ্যমে শাম (সিরিয়া) বিজয়, যেখানে (জেরুজালেম) অবস্থিত। আমরা তাদের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হেরাক্লিয়াসের সেই হাহাকার দেখেছি, যখন তিনি সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বলছিলেন: "বিদায়, হে সিরিয়া, তোমাকে বিদায়! এমন বিদায় যার পরে আর কখনো দেখা হবে না।" একইভাবে ইসলামের মাধ্যমে কনস্টান্টিনোপল বিজয় এবং সেটিকে ইসলামের আবাসস্থলে (ইসলামবুল) রূপান্তর করাও তাদের বিচলিত করেছিল।
জেরুজালেম এবং কনস্টান্টিনোপলের প্রতি খ্রিস্টান ক্রুসেডার শিবিরের এই গভীর গুরুত্বারোপ তাদেরকে এই শহর দুটি মুসলিমদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে এবং সেগুলোকে ক্রুশের দুটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত করতে সব পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালাতে উদ্বুদ্ধ করেছে—সেই তখন থেকে যখন আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের হাতে এগুলোর বিজয় দান করেছিলেন এবং তা বর্তমান মুহূর্ত পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। ক্রুসেড যুদ্ধের যেকোনো সচেতন অধ্যয়ন আমাদের সামনে উন্মোচিত করে যে, মুসলিমদের হাত থেকে (জেরুজালেম) ছিনিয়ে নেওয়া ছিল তাদের তালিকার শীর্ষে১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আলাকাতুল মুআসকারিন নাসরানিস সলীবী বিল মুসলিমীনা আবরাত তারীখ ওয়া মুনতালাকাতিহাল আসাসিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
أهدافهم ونشاطاتهم وحروبهم الَّتِي يَعْتَقِدُونَ بقدسيتها وَالَّتِي يَعْتَقِدُونَ أَنَّهَا لَا تَنْتَهِي وَلنْ تَنْتَهِي مَا دَامَت الْقُدس بأيدي الْمُسلمين، كَمَا صرح بذلك الجنرال الإنكليزي (أللنبي) حِين دخل الْقُدس فِي الْحَرْب العالمية الأولى وَظن أَنهم انتزعوها من أَيدي الْمُسلمين فَقَالَ: (الْآن انْتَهَت الحروب الصليبية) .. فَلَمَّا عَادَتْ للْمُسلمين رجعت المحاولات تبذل من جَدِيد وَلم يتَغَيَّر فِيهَا إِلَّا الشكل وَالِاسْم.. كَانَت من قبل صَرِيحَة وَاضِحَة هَكَذَا.. يُرِيدُونَ انتزاع الْقُدس من أَيدي الْمُسلمين الَّذين يسمونهم كفرة. قَالَ رَأس من رؤوسهم وَهُوَ البابا أوروبا الثَّانِي منفذ فكرة الحروب الصليبية المقدسة الْمَعْرُوفَة بِهَذَا الِاسْم وَالَّذِي بَدَأَ بِدفع الكتل البشرية الأوروبية إِلَى بِلَاد الشَّام ومصر ثمَّ استمرت بعده طوال قرنين من الزَّمَان.. قَالَ: "..فاتخذوا محجة الْقَبْر الْمُقَدّس، وخلصوا الْأَرَاضِي المقدسة من أَيدي المختلسين الْكفَّار (يقْصد الْمُسلمين)
…"1 أما الْيَوْم
--------------------------------------------
তাদের লক্ষ্যসমূহ, তাদের কর্মকাণ্ড এবং তাদের যুদ্ধসমূহ যেগুলোর পবিত্রতায় তারা বিশ্বাস করে এবং তারা বিশ্বাস করে যে এগুলো শেষ হয়নি এবং শেষ হবেও না যতক্ষণ পর্যন্ত জেরুজালেম মুসলমানদের অধিকারে থাকবে। যেমনটি ইংরেজ জেনারেল (অ্যালেনবি) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জেরুজালেমে প্রবেশের সময় স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছিলেন এবং ভেবেছিলেন যে তারা এটি মুসলমানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে, ফলে তিনি বলেছিলেন: (এখন ক্রুসেড যুদ্ধ সমাপ্ত হলো)। অতঃপর যখন তা পুনরায় মুসলমানদের কাছে ফিরে এল, তখন পুনরায় নতুন করে প্রচেষ্টা শুরু হলো এবং এতে রূপ ও নাম ব্যতীত আর কিছুই পরিবর্তিত হয়নি। পূর্বে এটি ছিল এমনই সুস্পষ্ট ও প্রকট। তারা মুসলমানদের হাত থেকে জেরুজালেম ছিনিয়ে নিতে চায়, যাদেরকে তারা কাফের বলে অভিহিত করে। তাদের অন্যতম প্রধান নেতা পোপ আরবান দ্বিতীয়—যিনি এই নামে পরিচিত পবিত্র ক্রুসেড যুদ্ধের ধারণার বাস্তবায়নকারী এবং যিনি সিরিয়া ও মিশরের দিকে ইউরোপীয় জনস্রোতকে ধাবিত করতে শুরু করেছিলেন যা তার পরবর্তী দুই শতাব্দীকাল যাবত অব্যাহত ছিল—তিনি বলেছিলেন: "..পবিত্র সমাধিস্থলের তীর্থপথ অনুসরণ করুন এবং পবিত্র ভূমিকে কাফের আত্মসাৎকারীদের (উদ্দেশ্য হলো মুসলমান) হাত থেকে মুক্ত করুন...
…"১ কিন্তু আজ
--------------------------------------------