(খণ্ড: ১)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
أسئلة وأجوبة في المعاملات - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أسئلة وأجوبة في المعاملات
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (17)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর - «আসারুল মুয়াল্লিমী»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর
[আব্দুর রহমান ইবন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী-এর রচনাবলি (১৭)]
লেখক: আব্দুর রহমান ইবন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ উজাইর শামস
পর্যালোচনা করেছেন: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহী - সুলাইমান ইবন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দার আলমুল ফাওয়াইদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি
শামেলা সংস্করণের জন্য উপস্থাপনায়: ‘আতাউতুল ইলম’ «ফাউন্ডেশন», আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৬৯)
الرسالة الثانية والعشرون
أسئلة وأجوبة في المعاملات
দ্বাবিংশতম রিসালাহ
লেনদেন সংক্রান্ত প্রশ্ন ও উত্তর
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৭১)
بسم الله الرحمن الرحيم
س: ما تعريف البيع؟
ج: البيع لغة: إعطاء شيء وأخذ شيء.
وشرعًا: مبادلة مالٍ ــ ولو في الذمة ــ أو منفعةٍ مباحة بمثل أحدهما، للمِلْك على التأبيد.
وفي "العمدة"
(1): معاوضة مالٍ بمالٍ.
س: ما الذي يجوز بيعه، وما الذي لا يجوز بيعه؟
ج: يجوز بيع كل مملوكٍ فيه نفع مباح، غير الكلب، ولا يجوز بيع الكلب، ولا ما لا نفع فيه، كالحشرات، ولا ما نفعه محرم، كالخمر والميتة، ولا بيع الإنسان ما لا يملكه إلا بإذنٍ من مالكه، أو دلالةٍ عليه، ولا بيعُ معدومٍ، كما ستُثمِره شجرته، ولا مجهولٍ كالحمل، والغائب الذي لم تتقدم رؤيته إلا ما يأتي في السَّلَم، ولا بيعُ غيرِ معين، كشاةٍ من قطيع، إلا ما تتساوى أجزاؤه، كصاعٍ من صُبْرةٍ معينة، ولا بيع ما يَعْجِز البائعُ عن تسليمه، كالآبق، والشارد، والطير في الهواء، والسمك في الماء، ولا بيع المغصوب إلا لغاصبه أو لمن يقدر على أخذه من الغاصب.
س: لماذا لا يجوز بيع الكلب مع أن فيه نفعًا مباحًا؟
ج: لأن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن ثمن الكلب
(2).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রশ্ন: ক্রয়-বিক্রয়ের সংজ্ঞা কী?
উত্তর: আভিধানিক অর্থে ক্রয়-বিক্রয় হলো: কোনো কিছু প্রদান করা এবং অন্য কিছু গ্রহণ করা।
আর শরয়ি পরিভাষায়: মালিকানা চিরস্থায়ী করার উদ্দেশ্যে কোনো সম্পদের বিনিময়—তা যিম্মায় (দায়বদ্ধতায়) থাকলেও—কিংবা কোনো বৈধ উপকারের বিনিময়, অনুরূপ দুটির কোনো একটির মাধ্যমে সম্পাদন করা।
আর "আল-উমদাহ" গ্রন্থে
(১) বলা হয়েছে: সম্পদের বিনিময়ে সম্পদ বিনিময় করা।
প্রশ্ন: কোন জিনিসের ক্রয়-বিক্রয় বৈধ এবং কোনটি বৈধ নয়?
উত্তর: কুকুর ব্যতীত এমন প্রতিটি মালিকানাধীন বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ যাতে বৈধ উপকার রয়েছে। তবে কুকুর বিক্রয় করা বৈধ নয়, এবং যাতে কোনো উপকার নেই যেমন পোকামাকড়, তাও বৈধ নয়। যার উপকার হারাম যেমন মদ ও মৃত প্রাণী, তাও বৈধ নয়। কোনো ব্যক্তির জন্য তার মালিকানাধীন নয় এমন বস্তু বিক্রয় করা বৈধ নয়, তবে মালিকের অনুমতি বা তার পক্ষ থেকে নির্দেশ থাকলে তা ভিন্ন কথা। অস্তিত্বহীন বস্তু যেমন কোনো গাছের সম্ভাব্য ফল, তা বিক্রয় করা বৈধ নয়। তেমনি অজ্ঞাত (مجهول) বস্তু যেমন গর্ভস্থ ভ্রূণ, এবং এমন অনুপস্থিত বস্তু যা ইতিপূর্বে দেখা হয়নি তাও বৈধ নয়, তবে 'সালাম' পদ্ধতির ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তা এর ব্যতিক্রম। অনির্দিষ্ট কোনো বস্তু যেমন একটি পালের মধ্য থেকে একটি ছাগল বিক্রয় করা বৈধ নয়, তবে যার প্রতিটি অংশ সমান যেমন নির্দিষ্ট স্তূপ থেকে এক সা পরিমাণ বস্তু, তা বৈধ। বিক্রেতা যা হস্তান্তরে অক্ষম তা বিক্রয় করা বৈধ নয়, যেমন পলায়নকৃত দাস, নিখোঁজ পশু, বাতাসের পাখি এবং পানির মাছ। জবরদখলকৃত বস্তু বিক্রয় করা বৈধ নয়, তবে যদি জবরদখলকারীর কাছে বা এমন ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করা হয় যে তা উদ্ধার করতে সক্ষম, তবে তা বৈধ।
প্রশ্ন: কুকুরে বৈধ উপকার থাকা সত্ত্বেও কেন এর ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়?
উত্তর: কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুরের মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৭২)
س: فإن أتلف الإنسانُ كلبَ غيره الذي فيه نفع مباح، مثل: كلب الصيد، ألا يُغرم ثمنه؟
ج: ليس عليه غُرمُ ثمنهِ؛ للنهي عن ثمن الكلب مطلقًا.
[ص 2] فصل
س: هل ثَمَّ بيوعٌ منهيٌّ عنها؟ وما هي؟
ج: نهى النبي صلى الله عليه وسلم عن بيوع:
الأول: بيع الملامسة.
الثاني: بيع المنابذة.
الثالث: بيع الحصاة.
الرابع: بيع الرجل على بيع أخيه.
الخامس: بيع حاضرٍ لبادٍ.
السادس: النَّجَش.
السابع: بيعتان في بيعة.
الثامن: تلقِّي السِّلَع.
التاسع: بيع المشتري للطعام قبل أن يستوفيه.
العاشر: الربا.
س: ما تفسير هذه البيوع؟
ج: الملامسة: أن يقول: أيّ ثوب لمستَه فهو لك بكذا.
والمنابذة: أن يقول: أيّ ثوب نبذتَه إليَّ فهو عليّ بكذا.
প্রশ্ন: যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের এমন কোনো কুকুর ধ্বংস করে যাতে বৈধ উপকার রয়েছে, যেমন: শিকারি কুকুর, তবে কি তাকে এর বিনিময় মূল্য দিতে হবে না?
উত্তর: তার ওপর এর কোনো বিনিময় মূল্য প্রদান করা আবশ্যক নয়; কারণ সাধারণভাবে কুকুরের মূল্য গ্রহণ বা প্রদানের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
[পৃষ্ঠা ২] পরিচ্ছেদ
প্রশ্ন: সেখানে কি এমন কোনো ক্রয়-বিক্রয় রয়েছে যা নিষিদ্ধ? এবং সেগুলো কী কী?
উত্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দিষ্ট কিছু ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন:
প্রথম: মুলামাসাহ (স্পর্শের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়)।
দ্বিতীয়: মুনাবাযাহ (পণ্য নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়)।
তৃতীয়: হাসাত (পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়)।
চতুর্থ: কোনো ব্যক্তির তার ভাইয়ের দরদামের ওপর দরদাম করা।
পঞ্চম: শহুরে ব্যক্তি কর্তৃক গ্রাম্য ব্যক্তির পণ্য বিক্রয় করে দেওয়া।
ষষ্ঠ: নাজাশ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে বলা)।
সপ্তম: এক চুক্তির অধীনে দুই বিক্রয়।
অষ্টম: পণ্যবাহী কাফেলা বাজারে পৌঁছানোর আগেই তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে পণ্য কিনে নেওয়া।
নবম: খাদ্যদ্রব্য পূর্ণরূপে হস্তগত করার আগে ক্রেতা কর্তৃক তা পুনরায় বিক্রয় করা।
দশম: সুদ।
প্রশ্ন: এই ক্রয়-বিক্রয়গুলোর ব্যাখ্যা কী?
উত্তর: মুলামাসাহ হলো: বিক্রেতার এ কথা বলা যে, "তুমি যে কাপড়ই স্পর্শ করবে, তা তোমার জন্য এত দামের বিনিময়ে নির্ধারিত হবে।"
এবং মুনাবাযাহ হলো: বিক্রেতার এ কথা বলা যে, "তুমি আমার দিকে যে কাপড়ই ছুঁড়ে দেবে, তা আমার ওপর এত দামের বিনিময়ে সাব্যস্ত হবে।"
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৭৩)
وبيع الحصاة: أن يقول: ارْمِ هذه الحصاة، فأي ثوب وقعت عليه فهو لك بكذا. أو: ارْمِ بهذه الحصاة، فما بلغَتْه من أرضي هذه فهو لك بكذا.
والبيع على بيع أخيه
(1):
وبيع الحاضر للبادي: أن يجيء البدوي ببضاعةٍ فيكون الحضري سمسارًا له، أي دلَّالًا.
والنَّجَش: أن يزيد في السِّلعة من لا يريد شراءها.
والبيعتان في بيعة: أن يقول: بعتك هذا بعشرةٍ من هذا النقد، أو خمسة عشر من هذا النقد الآخر. أو: بعتك هذا على أن تبيعني هذا، أو تشتري منه هذا.
وتلقِّي السِّلَع: أن يخرج إلى خارج البلدة يتلقَّى القادمين [ص 3] بالسلع، يشتريها منهم قبل أن يُورِدوها السوقَ.
وبيع الطعام قبل أن يستوفيه: أن يشتريه ثم يبيعه قبل أن يقبضه.
وأما الربا فسيأتي.
--------------------------------------------
পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে বিক্রয় (بيع الحصاة): বিক্রেতা বলবে: "এই পাথরটি নিক্ষেপ করো, এটি যে কাপড়ের ওপর পড়বে তা তোমার জন্য এত মূল্যে সাব্যস্ত।" অথবা: "এই পাথরটি নিক্ষেপ করো, আমার এই জমির যতটুকু পর্যন্ত এটি পৌঁছাবে তা তোমার জন্য এত মূল্যে নির্ধারিত।"
এবং নিজের ভাইয়ের বিক্রয়ের ওপর বিক্রয় (البيع على بيع أخيه) করা
(1):
এবং শহরবাসীর পক্ষ থেকে মরুবাসীর পণ্য বিক্রয় করা (بيع الحاضر للبادي): কোনো মরুবাসী পণ্য নিয়ে আসলে শহরবাসী তার মধ্যস্থতাকারী (سمسار) বা দালাল (دلال) হিসেবে কাজ করা।
এবং দালালি বা কৃত্রিম মূল্য বৃদ্ধি (النجش): পণ্য ক্রয়ের ইচ্ছা নেই এমন ব্যক্তির পণ্যের দাম বাড়িয়ে বলা।
এবং এক বিক্রয়ের মধ্যে দুই বিক্রয় (البيعتان في بيعة): বিক্রেতা বলবে: "আমি তোমার কাছে এটি এই মুদ্রায় দশ টাকায় অথবা অন্য মুদ্রায় পনের টাকায় বিক্রয় করলাম।" অথবা: "আমি তোমার কাছে এটি এই শর্তে বিক্রয় করলাম যে, তুমি আমার কাছে এটি বিক্রয় করবে অথবা তুমি তার থেকে এটি ক্রয় করবে।"
এবং বাজারে পৌঁছানোর আগেই ব্যবসায়ীদের পথিমধ্যে আটকানো বা সাক্ষাৎ করা (تلقي السلع): শহরের বাইরে গিয়ে পণ্য নিয়ে আগমনকারীদের [পৃষ্ঠা ৩] সাথে সাক্ষাৎ করা এবং তারা বাজারে পৌঁছানোর আগেই তাদের থেকে পণ্য ক্রয় করে নেওয়া।
এবং খাদ্যদ্রব্য পূর্ণ হস্তগত করার পূর্বে তা বিক্রয় করা: কোনো কিছু ক্রয় করার পর তা হস্তগত বা কবজা (قبض) করার পূর্বেই পুনরায় বিক্রয় করা।
আর সুদ (الربا) সংক্রান্ত আলোচনা সামনে আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৭৪)
باب الرباس: ما تعريف الربا؟
ج: الربا لغةً: الزيادة. وشرعًا: زيادة مخصوصة.
س: ما هي الأموال الربوية بالنص؟
ج: الذهب، والفضة، والبر، والشعير، والتمر، والملح.
س: كيف الربا فيها؟
ج: أن يباع شيء منها بجنسه، كذهب بذهب، وبُرّ ببرّ، نسيئةً، أو بتفاوتٍ، كأُوقيةٍ بأوقيةٍ وربع، وصاع بصاع وربع. أو يباع الذهب بالفضة نسيئةً، أو أحد الأربعة الأُخر بآخر منها نسيئةً.
ولا يحرم مثل هذا نقدًا بالتفاوت؛ لحديث: "الذهب بالذهب، والفضة بالفضة، والبر بالبر، والشعير بالشعير، والتمر بالتمر، والملح بالملح، سواء بسواء، فإذا اختلفت هذه الأجناس فبيعوا كيف شئتم إذا كان يدًا بيد، فمن زاد أو استزاد فقد أربَى"
(1).
س: فهل يُلحَق بهذه الأموال غيرُها؟ وما هو؟
ج: يُلحَق بالنقدين كلُّ ما يُوزن، وبالأربعة الباقية كلُّ ما يُكال.
[ص 4] س: فهل يحِلُّ في التماثل أن يباع الذهب أو غيره مما يُوزن بمثله كيلًا نقدًا؟ أو يباع البرُّ أو غيره مما يُكال بمثله وزنًا نقدًا؟
ج: لا يحِلُّ، وإنما المعتبر التماثل وزنًا فيما يوزن، وكيلًا فيما يكال.
--------------------------------------------
রিবা (সুদ) অধ্যায়প্রশ্ন: রিবা-র সংজ্ঞা কী?
উত্তর: রিবা শাব্দিক অর্থে: বৃদ্ধি। আর শরয়ি পরিভাষায়: বিশেষ ধরনের বৃদ্ধি।
প্রশ্ন: নস বা টেক্সট অনুযায়ী রিবায়ী সম্পদগুলো কী কী?
উত্তর: স্বর্ণ, রৌপ্য, গম, যব, খেজুর এবং লবণ।
প্রশ্ন: এগুলোর মধ্যে রিবা কীভাবে হয়?
উত্তর: এগুলোর কোনো একটিকে তার সমজাতীয় জিনিসের বিনিময়ে বিক্রি করা, যেমন স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, গমের বিনিময়ে গম; বিলম্বে, অথবা কম-বেশি করে, যেমন এক আউন্সের বিনিময়ে সোয়া আউন্স, বা এক সা’-এর বিনিময়ে সোয়া সা’। অথবা স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য বিলম্বে বিক্রি করা, কিংবা অবশিষ্ট চারটির কোনো একটির বিনিময়ে অন্যটি বিলম্বে বিক্রি করা।
আর এই ধরনের বিনিময় নগদে কম-বেশি করে করা হারাম নয়; কারণ হাদিসে এসেছে: "স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবণের বিনিময়ে লবণ—সমান সমান; সুতরাং যখন এই শ্রেণিগুলো ভিন্ন হবে তখন তোমরা যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করো যদি তা হাতে হাতে হয়। অতঃপর যে ব্যক্তি বৃদ্ধি করল বা বৃদ্ধি চাইল, সে অবশ্যই সুদে লিপ্ত হলো"
(১)।
প্রশ্ন: তবে কি এই সম্পদগুলোর সাথে অন্য কিছুকেও যুক্ত করা হবে? আর সেগুলো কী?
উত্তর: স্বর্ণ ও রৌপ্যের সাথে ওজনযোগ্য সকল বস্তু যুক্ত হবে এবং অবশিষ্ট চারটির সাথে পরিমাপযোগ্য সকল বস্তু যুক্ত হবে।
[পৃষ্ঠা ৪] প্রশ্ন: সমজাতীয়তার ক্ষেত্রে কি স্বর্ণ বা অন্য কোনো ওজনযোগ্য বস্তু নগদে পরিমাপের মাধ্যমে সমপরিমাণে বিক্রি করা বৈধ? অথবা গম বা অন্য কোনো পরিমাপযোগ্য বস্তু নগদে ওজনের মাধ্যমে সমপরিমাণে বিক্রি করা কি বৈধ?
উত্তর: এটি বৈধ নয়; বরং যা ওজনযোগ্য তার ক্ষেত্রে ওজন এবং যা পরিমাপযোগ্য তার ক্ষেত্রে পরিমাপের সমতাই ধর্তব্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৭৫)
س: إذا تبايع اثنان بيعًا يُشترط فيه أن يكون نقدًا، فتبايعَا على أنه نقد، ولكنهما تفرقا قبل أن يتقابضا، فما الحكم؟
ج: ما اشترط فيه النقد فلا بدَّ من أن يتقابضا قبل التفرُّق، فإذا تفرقا قبل أن يقبض كل منهما الذي له، أو بعد قبض أحدهما وقبل قبض الآخر= بطل البيع.
س: عرفنا أنه يجوز بيع البرِّ بالشعير متفاضلًا نقدًا، فهل يجوز بيع نوع من التمر بنوع آخر منه متفاضلًا نقدًا؟
ج: التمر بأنواعه كلها جنس واحد، لا يجوز بيع نوع منه بآخر إلا متماثلًا.
وهكذا غيره، كنوع من البر بنوع آخر، ونوع من الأرز بنوع آخر، بل "كل شيئين جمعهما اسم خاصٌّ فهما جنس واحد".
س: فما الحكم في دقيقِ بُرٍّ بدقيق شعيرٍ، هل يُعدَّانِ جنسًا واحدًا، لأن كل
(1) منهما دقيق؟ أم جنسين باعتبار أصلهما؟
ج: المعتبر في الفروع أصولها، فدقيق البر ودقيق الشعير جنسان، وهكذا الأدهان وغيرها.
[ص 5] س: فإذا كان الشيئان من جنس واحد، لكن أحدهما أخضر والآخر يابس، كعنب وزبيب، أو أحدهما خالص والآخر ممزوج، أو أحدهما نِيْءٌ
(2) والآخر مطبوخ؟
--------------------------------------------
প্রশ্ন: যদি দুই ব্যক্তি এমন কোনো ক্রয়-বিক্রয়ে লিপ্ত হয় যাতে নগদ (نقدًا) লেনদেন শর্ত থাকে এবং তারা নগদ (نقدًا) লেনদেনের শর্তেই চুক্তিবদ্ধ হয়, কিন্তু একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে পণ্য বা মূল্য হস্তগত না করে, তবে এর বিধান কী?
উত্তর: যাতে নগদ (نقدًا) লেনদেন শর্ত করা হয়েছে, সেখানে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই উভয় পক্ষ কর্তৃক তা হস্তগত করা আবশ্যক। সুতরাং তারা যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রাপ্য বুঝে নেওয়ার আগে অথবা একজন বুঝে নেওয়ার পর ও অন্যজন বুঝে নেওয়ার আগে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে উক্ত ক্রয়-বিক্রয় বাতিল (بطل) হয়ে যাবে।
প্রশ্ন: আমরা জেনেছি যে, যবের বিনিময়ে গম নগদ (نقدًا) ও পরিমাণে কম-বেশি (متفاضلًا) করে বিক্রি করা বৈধ। তাহলে এক প্রকার খেজুরের বিনিময়ে অন্য প্রকার খেজুর নগদ (نقدًا) ও পরিমাণে কম-বেশি (متفاضلًا) করে বিক্রি করা কি বৈধ?
উত্তর: সব ধরণের খেজুরই একই জাতীয় (جنس واحد)। তাই সমান সমান (متماثلًا) পরিমাণ ব্যতীত এক প্রকারের বিনিময়ে অন্য প্রকার বিক্রি করা বৈধ নয়।
অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রেও বিধান একই; যেমন এক প্রকার গমের বিনিময়ে অন্য প্রকার গম, অথবা এক প্রকার চালের বিনিময়ে অন্য প্রকার চাল। বরং "যে দুটি বিষয় একটি বিশেষ নামের অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়, তারা একই জাতীয় (جنس واحد) হিসেবে গণ্য"।
প্রশ্ন: তাহলে যবের আটার বিনিময়ে গমের আটার বিধান কী? উভয়ই আটা হওয়ার কারণে তারা কি একই জাতীয় (جنس واحد) হিসেবে গণ্য হবে? যেহেতু তাদের প্রতিটিই
(১) আটা? নাকি তাদের মূল উৎসের বিবেচনায় তারা ভিন্ন দুই জাতীয়?
উত্তর: শাখা বা উদ্ভূত দ্রব্যের ক্ষেত্রে মূল উৎসই বিবেচ্য। সুতরাং গমের আটা ও যবের আটা ভিন্ন ভিন্ন জাতীয়। তেল ও অন্যান্য জিনিসের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম।
[পৃষ্ঠা ৫] প্রশ্ন: যদি দুটি বস্তু একই জাতীয় (جنس واحد) হয়, কিন্তু তাদের একটি সতেজ এবং অন্যটি শুকনো হয়—যেমন আঙ্গুর ও কিসমিস; অথবা একটি খাঁটি এবং অন্যটি মিশ্রিত; অথবা একটি কাঁচা
(২) এবং অন্যটি রান্না করা হয় (তবে বিধান কী)?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৭৬)
ج: لا يجوز البيع في مثل هذا أصلًا، إلا العرايا، وهو شراء الرطب في رؤوس النخل بخرْصِه تمرًا، بشرط كونه دون خمسة أوسُقٍ.
* * * *
উত্তর: এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় মূলত আদৌ বৈধ নয়, কেবল ‘আরাইয়া’ (العرايا) ব্যতীত। তা হলো খেজুর গাছের মাথায় থাকা কাঁচা খেজুর অনুমানের (خرص) ভিত্তিতে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে ক্রয় করা, এই শর্তে যে তার পরিমাণ পাঁচ ওয়াসাকের (أوسق) কম হতে হবে।
* * * *
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৭৭)
باب بيع الأصول والثمارس: ما الحكم في بيع الأشجار المثمرة؟
ج: في الحديث: "من باع نخلًا بعد أن تُؤبَّر ــ أي: تُلقَّح ــ فثمرتُها للبائع إلا أن يشترطَها المبتاع"
(1). وفُهِم منه أنه إذا باعها قبل التأبير فالثمرة للمشتري.
فأما غير النخل مما ثمره ظاهر، فالمدار على ظهور الثمرة، فإن لم تكن ظهرت فهي للمشتري، وإن كانت قد ظهرت فهي للبائع إلا أن يشترطها المشتري.
س: فما الحكم في بيع أرضٍ فيها نبات؟
ج: إن كان النبات مما لا يُحصَد إلا مرةً، كالزرع والبصل ونحوه، فهو للبائع ما لم يشترطه المبتاع، وإن كان مما يُجَزُّ مرةً بعد أخرى كالكرَّاث، فالأصول للمشتري، والجزَّة الظاهرة حينَ البيع للبائع إلا أن يشترطها المشتري.
فصل
س: هل يجوز بيع الثمرة وحدها على شجرها؟
ج: يجوز إذا كان قد بدا صلاحُها، ولا يجوز قبل ذلك. ففي الحديث: "نهى النبي صلى الله عليه وآله وسلم عن بيع الثمرة حتى يبدُوَ صلاحُها"
(2).
--------------------------------------------
মূল সম্পদ (الأصول) ও ফল বিক্রয় পরিচ্ছেদস: ফলবান বৃক্ষ বিক্রয় করার বিধান কী?
জ: হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি পরাগায়ন (تُؤبَّر)—অর্থাৎ নিষেচন (تُلقَّح)—করার পর খেজুর গাছ বিক্রি করল, তবে তার ফল বিক্রেতার প্রাপ্য হবে, যদি না ক্রেতা (المبতাউ/المبتاع) তা শর্ত হিসেবে যুক্ত করে।"
(১) এর থেকে বোঝা যায় যে, যদি পরাগায়ন করার আগে তা বিক্রি করা হয়, তবে ফল ক্রেতার প্রাপ্য হবে।
খেজুর গাছ ব্যতীত অন্য গাছ যেগুলোর ফল দৃশ্যমান হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে ভিত্তি হলো ফলের আবির্ভাব হওয়া। যদি ফল প্রকাশ না পায় তবে তা ক্রেতার প্রাপ্য, আর যদি ফল প্রকাশ পেয়ে যায় তবে তা বিক্রেতার প্রাপ্য, যদি না ক্রেতা তা শর্ত হিসেবে যুক্ত করে।
স: এমন ভূমি বিক্রয় করার বিধান কী যাতে উদ্ভিদ রয়েছে?
জ: উদ্ভিদ যদি এমন হয় যা একবারই সংগ্রহ করা হয়, যেমন শস্য, পেঁয়াজ ও তদ্রূপ বস্তু, তবে তা বিক্রেতার প্রাপ্য হবে যতক্ষণ না ক্রেতা (المبتاع) তা শর্ত হিসেবে যুক্ত করে। আর যদি এমন উদ্ভিদ হয় যা বারবার কাটা হয় যেমন কুঁই (الكرَّاث), তবে এর মূল (الأصول) ক্রেতার জন্য এবং বিক্রয়ের সময় দৃশ্যমান অংশ বিক্রেতার প্রাপ্য হবে, যদি না ক্রেতা তা শর্ত হিসেবে যুক্ত করে।
পরিচ্ছেদ
স: গাছে থাকা অবস্থায় কি ফল এককভাবে বিক্রয় করা জায়েজ?
জ: যদি ফলের পরিপক্কতা বা উপযুক্ততা (بدا صلاحُها) প্রকাশ পায় তবে তা জায়েজ, আর তার আগে জায়েজ নয়। হাদিসে এসেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফলের পরিপক্কতা বা উপযুক্ততা (بدؤ صلاحها) প্রকাশ পাওয়ার আগে তা বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।"
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৭৮)
س: وما حدُّ الصلاح؟
ج: صلاح ثمر النخل أن يحمرَّ أو يصفرَّ، وصلاح ثمر العنب أن يتموَّه، وسائر الثمر بأن يبدو فيه النضج ويطيب أكله.
[ص 6] س: قد تُباع الثمرة لتقطع حالًا، وقد تُباع لتقطع وقتَ الجذاذ، فما الحكم؟
ج: كلاهما جائز.
س: فإن باعها على أن تبقى إلى الجذاذ، فأصابتها جائحة (الجائحة: الآفة السماوية، كالبَرَد والجراد) أتلفت الثمرَ أو بعضَه، فما الحكم؟
ج: إن أصابتها جائحة رجع بها على البائع؛ لحديث: "لو بِعْتَ من أخيك ثمرًا، فأصابتْه جائحةٌ، فلا يحلُّ لك أن تأخذ منه شيئًا، بِمَ تأخذُ مالَ أخيك بغير حق؟ "
(1).
* * * *
--------------------------------------------
প্রশ্ন: পরিপক্বতার (صلاح) সীমা কী?
উত্তর: খেজুরের পরিপক্বতা (صلاح) হলো তা লাল বা হলুদ হওয়া; আঙুরের পরিপক্বতা (صلاح) হলো তা স্বচ্ছ ও রসালো হওয়া; আর অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রে পরিপক্বতা (صلاح) হলো তাতে পাক ধরার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া এবং তা খাওয়ার উপযোগী হওয়া।
[পৃষ্ঠা ৬] প্রশ্ন: ফল কখনো তৎক্ষণাৎ কাটার জন্য বিক্রি করা হয়, আবার কখনো তা ফসল সংগ্রহের (جذاذ) সময় কাটার জন্য বিক্রি করা হয়; এর বিধান কী?
উত্তর: উভয়টিই বৈধ (جائز)।
প্রশ্ন: যদি কেউ ফল ফসল সংগ্রহের (جذاذ) সময় পর্যন্ত গাছে রাখার শর্তে তা বিক্রি করে, অতঃপর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ (جائحة) (প্রাকৃতিক দুর্যোগ (جائحة): আসমানি বিপদ, যেমন শিলাবৃষ্টি ও পঙ্গপাল) ফল বা ফলের একাংশ নষ্ট করে দেয়, তবে এর বিধান কী?
উত্তর: যদি ফল প্রাকৃতিক দুর্যোগ (جائحة) দ্বারা আক্রান্ত হয়, তবে ক্রেতা লোকসানের দায় বিক্রেতার নিকট সোপর্দ করবে; কারণ হাদিস রয়েছে: "তুমি যদি তোমার ভাইয়ের নিকট কোনো ফল বিক্রি করো এবং তা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ (جائحة) দ্বারা আক্রান্ত হয়, তবে তোমার জন্য তার থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা বৈধ হবে না। কেন তুমি তোমার ভাইয়ের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করবে?"
(১).
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৭৯)
باب الخيارس: ما هو الخيار؟
ج: الخيار: أن يكون العاقد مخيَّرًا، إن شاء أمضى العقدَ وإن شاء فسخَه.
س: كم أقسام الخيار؟ وما هي؟
ج: أقسام الخيار سبعة:
خيار المجلس، وخيار الشرط، وخيار العيب، وخيار التدليس، وخيار الغلط ونحوه في المرابحة، وخيار الاختلاف في قَدْر الثمن، وخيار الغَبْن الفاحش.
س: ما هو خيار المجلس؟ وما حكمه؟
ج: هو الخيار في مجلس العقد، فيثبت لكلٍّ من المتبايعَينِ ما لم يتفرقا بأبدانهما، وينتهي بالتفرق.
س: وما خيار الشرط؟ وما حكمه؟
ج: هو أن يشترطا أو أحدهما الخيارَ مدةً معلومة، وينتهي بأن يُسقِطه الذي [اشترطه].
[ص 7] س: ما هو خيار العيب؟ وما حكمه؟
ج: هو أن يجد أحدهما بما اشتراه عيبًا لم يعلمه، فيكون له أن يفسخ العقد، أو يطالب بأَرْشِ العيب، وهو ما ينقص بسببه من الثمن.
فإن تَلِفَت السِّلعة أو عُتِقَ العبد أو تعذَّر الردُّ، فله المطالبة بأَرْشِ العيب.
ক্রয়-বিক্রয়ের ইখতিয়ার বা অধিকার পরিচ্ছেদ (باب الخيار)প্রশ্ন: ইখতিয়ার (الخيار) কী?
উত্তর: ইখতিয়ার (الخيار) হলো: চুক্তিকারীর এই এখতিয়ার থাকা যে, সে চাইলে চুক্তিটি কার্যকর রাখবে অথবা চাইলে তা বাতিল (فسخ) করবে।
প্রশ্ন: ইখতিয়ার (الخيار) এর প্রকার কয়টি? আর সেগুলো কী কী?
উত্তর: ইখতিয়ার (الخيار) এর প্রকার সাতটি:
মজলিসের ইখতিয়ার (خيار المجلس), শর্তের ইখতিয়ার (خيار الشرط), ত্রুটিজনিত ইখতিয়ার (خيار العيب), প্রতারণামূলক ইখতিয়ার (خيار التدليس), মুরাবাহার ক্ষেত্রে ভুল ও অনুরূপ বিষয়ের ইখতিয়ার (خيار الغلط ونحوه في المرابحة), মূল্যের পরিমাণ নিয়ে মতভেদের ইখতিয়ার (خيار الاختلاف في قدر الثمن) এবং চরম প্রতারণা বা ঠকে যাওয়ার ইখতিয়ার (خيار الغبن الفاحش)।
প্রশ্ন: মজলিসের ইখতিয়ার (خيار المجلس) কী? আর এর বিধান কী?
উত্তর: এটি হলো চুক্তি সম্পাদনের মজলিসে প্রাপ্ত ইখতিয়ার (الخيار), যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্য সাব্যস্ত হয় যতক্ষণ না তারা শারীরিকভাবে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং স্থান ত্যাগের মাধ্যমে এটি সমাপ্ত হয়।
প্রশ্ন: আর শর্তের ইখতিয়ার (خيار الشرط) কী? আর এর বিধান কী?
উত্তর: এটি হলো ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় বা তাদের কোনো একজনের নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ইখতিয়ারের (الخيار) শর্ত করা এবং যে শর্ত করেছিল সে তা বর্জন (إسقاط) করলে এটি সমাপ্ত হয়।
[পৃষ্ঠা ৭] প্রশ্ন: ত্রুটিজনিত ইখতিয়ার (خيار العيب) কী? আর এর বিধান কী?
উত্তর: এটি হলো ক্রেতা কর্তৃক ক্রয়কৃত বস্তুতে এমন কোনো ত্রুটি (عيب) পাওয়া যা সম্পর্কে সে জানত না। এমতাবস্থায় তার অধিকার থাকবে চুক্তি বাতিল (فسخ) করার অথবা ত্রুটির ক্ষতিপূরণ বা আরশ (أرش العيب) দাবি করার। আর আরশ (أرش) হলো ত্রুটির কারণে পণ্যের মূল্যের যে অংশ হ্রাস পায়।
যদি পণ্যটি বিনষ্ট হয়ে যায় কিংবা ক্রীতদাস মুক্ত হয়ে যায় অথবা পণ্য ফেরত দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে সে ত্রুটির ক্ষতিপূরণ বা আরশ (أرش العيب) দাবি করতে পারবে।
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৮০)
س: ما هو خيار التدليس؟
ج: هو أن يدلِّس البائع بإيهام أن لها صفةً ليست لها، كتصرية الناقة أو الشاة، وهو أن يترك البائع حلبها مدةً، فيجتمع اللبن في ضرعها، فيظن المشتري أن ذلك عادة لها، ويُحمِّر وجهَ الجارية أو يُسوِّد شعرها أو يُجعِّده، فيظن المشتري أن تلك صفتها من غير تصنُّع، وكأن يَعْمِد إلى الرحى التي تدور بالماء فيحبس الماء من فوقها، ثم يرسله عند عرضها على المشتري، فتدور بشدَّة، فيحسب تلك عادتها، وكذلك أن يصف البائع السلعةَ بصفة من شأنها أن تزيد في الثمن، فتبيَّن عدمُها، كأن يزعم أن العبد صانع أو كاتب، أو أن الدابة هِمْلاجةٌ ــ أي سريعة ــ، أو أن الفهد صَيُود أو معلَّم، أو أن الطائر مصوِّت، ونحو ذلك.
س: فما الحكم في ذلك؟
ج: إن علم بالتصرية قبل الحلب كان له ردُّها وفسخُ العقد، وله ردُّ غيرها مما وقع فيه التدليس.
[ص 8] س: ما هو خيار الغلط ونحوه في المرابحة؟
ج: المرابحة: أن يكون الرجل قد اشترى سِلعةً، فيأتيه آخر فيطلبها منه، على أن يُربحه عشرةً في المائة مثلًا، فإذا قال المشتري الأول: اشتريتها بخمسين، فاشتراها الثاني منه بخمسة وخمسين، ثم تبين أن الأول إنما اشتراها بأربعين.
فإذا كان الأول كذب كان للثاني الرجوعُ بالزيادة وحَطُّها من الربح، ففي المثال: يرجع بأحد عشر.
প্রশ্ন: ধোঁকা প্রদানের ইখতিয়ার (خيار التدليس) কী?
উত্তর: এটি হলো বিক্রেতা কর্তৃক প্রতারণা (تدليس) করে এমন কোনো গুণের বিভ্রম তৈরি করা যা পণ্যের মাঝে নেই। যেমন—উট বা বকরির ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা (تصرية); আর তা হলো বিক্রেতা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দোহন না করা, ফলে ওলানে দুধ জমা হয় এবং ক্রেতা মনে করে যে এটি তার অভ্যাসগত বিষয়। অথবা দাসীর চেহারায় কৃত্রিম লালিমা আনা, চুল কালো করা বা কোঁকড়ানো করা, ফলে ক্রেতা ধারণা করে যে এটি কোনো প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়াই তার স্বাভাবিক রূপ। অথবা পানি দ্বারা চালিত যাঁতাকলের ক্ষেত্রে এমন করা যে, উপরের পানি আটকে রাখা এবং ক্রেতার সামনে তা ছেড়ে দেওয়া, যাতে তা দ্রুত ঘোরে এবং ক্রেতা মনে করে এটিই তার স্বাভাবিক গতি। একইভাবে বিক্রেতা যদি পণ্যের এমন কোনো গুণের বর্ণনা দেয় যা সাধারণত মূল্য বৃদ্ধি করে, কিন্তু পরবর্তীতে তা অনুপস্থিত পাওয়া যায়; যেমন—দাবি করা যে গোলামটি কারিগর বা লেখক, অথবা পশুটি দ্রুতগামী (هملاجة), অথবা চিতাটি শিকারি বা প্রশিক্ষিত, অথবা পাখিটি সুকণ্ঠী ইত্যাদি।
প্রশ্ন: এক্ষেত্রে বিধান কী?
উত্তর: যদি দোহনের পূর্বেই ওলানে দুধ জমিয়ে রাখার (تصرية) বিষয়টি জানা যায়, তবে তার জন্য সেটি ফেরত দেওয়া এবং চুক্তি বাতিল (فسخ) করার সুযোগ থাকবে। একইভাবে অন্য যেসব ক্ষেত্রে প্রতারণা (تدليس) করা হয়েছে, সেগুলোও সে ফেরত দিতে পারবে।
[পৃষ্ঠা ৮] প্রশ্ন: মুরাবাহা (مرابحة) কেনাবেচায় ভুল বা এই জাতীয় ক্ষেত্রে ইখতিয়ার কী?
উত্তর: মুরাবাহা (مرابحة) হলো: কোনো ব্যক্তি একটি পণ্য ক্রয় করল, এরপর অন্য কেউ এসে সেটি তার নিকট থেকে এই শর্তে কিনতে চাইল যে, সে তাকে উদাহরণস্বরূপ শতকরা দশ ভাগ লাভ দেবে। এমতাবস্থায় প্রথম ক্রেতা যদি বলে: আমি এটি পঞ্চাশ টাকায় কিনেছি, আর দ্বিতীয় জন তার থেকে সেটি পঞ্চান্ন টাকায় কিনে নেয়, কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পায় যে প্রথম ব্যক্তি আসলে সেটি চল্লিশ টাকায় ক্রয় করেছিল।
এক্ষেত্রে প্রথম ব্যক্তি যদি মিথ্যা বলে থাকে, তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির অতিরিক্ত অংশ ফেরত নেওয়ার এবং তা লাভ থেকে কর্তন করার অধিকার থাকবে। উল্লিখিত উদাহরণে সে এগারো টাকা ফেরত পাবে।
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৮১)
وإن كان الأول غلِطَ غلطًا كان الخيار له، إن شاء فسخ العقد وإن شاء دفع الزيادة وحطَّها من الربح، وإن بان أن الثمن الأول مؤجل ولم يبين الأول تأجيله.
س: ما هو خيار الاختلاف في قدر الثمن؟ وما حكمه؟
ج: إذا وقع الشراء، ثم اختلفا، فقال البائع: الثمن عشرون، وقال المشتري: بل خمسة عشر، أو نحو ذلك من الاختلاف، ولا بيّنةَ؛ فإنهما يتحالفان، فيحلف كل منهما على دعواه.
فإن حلف أحدهما وأبى الآخر حُكِمَ للحالف، وإن حلف هذا وحلف هذا فلكلٍّ منهما الخيار، إن شاء أمضى العقد بالقدر الذي قاله الآخر، وإن شاء فسخ.
ففي المثال: إن رضي البائع أمضى البيعَ بخمسة عشر، وإن رضي المشتري أمضى العقدَ بعشرين. وإن لم يرضَ أحدهما كان له أن يفسخ.
س: ما هو خيار الغبن الفاحش؟
ج: هو أن يتبين أن أحدهما غُبِنَ غبنًا فاحشًا لم تَجْرِ به العادة، فيكون له أن يفسخ.
* * * *
যদি প্রথম পক্ষ ভুল করে থাকে, তবে তার জন্য এখতিয়ার (خيار) থাকবে; সে চাইলে চুক্তিটি বাতিল (فسخ) করতে পারে, অথবা অতিরিক্ত মূল্য প্রদান করে তা লভ্যাংশ থেকে কর্তন করতে পারে। আর যদি এটি প্রতীয়মান হয় যে, পূর্বমূল্যটি বাকিতে পরিশোধের শর্তে ছিল কিন্তু প্রথম পক্ষ তা ব্যক্ত করেনি।
প্রশ্ন: মূল্যের পরিমাণের ক্ষেত্রে মতপার্থক্যের এখতিয়ার (خيار الاختلاف) বলতে কী বোঝায়? এবং এর বিধান (حكم) কী?
উত্তর: যখন ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে উভয়ের মাঝে মতভেদ দেখা দেয়; যেমন বিক্রেতা বলল: মূল্য বিশ, আর ক্রেতা বলল: বরং পনেরো, অথবা এই জাতীয় কোনো মতবিরোধ হয় এবং কোনো প্রমাণ (بينة) না থাকে; তবে তারা পরস্পর শপথ (تحالف) করবে। তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ দাবির সপক্ষে শপথ করবে।
যদি তাদের একজন শপথ করে এবং অপরজন তা করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে শপথকারীর পক্ষে ফয়সালা প্রদান করা হবে। আর যদি উভয়ই শপথ করে, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য এখতিয়ার (خيار) থাকবে; সে চাইলে অপর পক্ষের দাবিকৃত মূল্যে চুক্তিটি বহাল রাখতে পারে, অথবা চাইলে তা বাতিল (فسخ) করতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ: বিক্রেতা সম্মত হলে পনেরো মূল্যে বিক্রয়টি কার্যকর হবে, আর যদি ক্রেতা সম্মত হয় তবে বিশ মূল্যে চুক্তিটি বহাল থাকবে। আর যদি তাদের কেউ রাজি না হয়, তবে তার জন্য চুক্তিটি বাতিল (فسخ) করার অধিকার থাকবে।
প্রশ্ন: চরম প্রতারণার এখতিয়ার (خيار الغبن الفاحش) কী?
উত্তর: তা হলো এই যে, যখন স্পষ্ট হয় যে তাদের একজন অস্বাভাবিকভাবে চরম প্রতারণার (غبن فاحش) শিকার হয়েছে যা সচরাচর ঘটে না, এমতাবস্থায় তার জন্য চুক্তিটি বাতিল (فسخ) করার অধিকার থাকবে।
* * * *
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৮২)
باب السَّلمس: ما هو السَّلم؟
ج: السَّلم ــ ويقال له: السلف، أيضًا ــ: بيعٌ عُجِّلَ ثمنُه وأُجِّلَ مثمنُه.
س: ما حكمه؟
ج: حكمه الجواز، بشروطٍ معروفة؛ لحديث: "من أسلفَ في تمرٍ فلْيُسْلِفْ في كيلٍ معلوم أو وزنٍ معلوم إلى أجلٍ معلوم"
(1).
س: وما هي الشروط؟
ج: الشرط الأول: أن يكون فيما ينضبط بالصفة، فيضبط بها، كالتمر.
الثاني: أن يُذكر قدْرُه بما يُقدَّر به، ككيلٍ ووزنٍ.
الثالث: أن يكون إلى أجل معلوم.
الرابع: قبض الثمن في مجلس العقد قبل أن يتفرقَا.
س: فهل يجوز السَّلم إلى أجلين فأكثر؟
ج: إذا عُيِّنت الأجزاء والآجال، كأن قيل: نصفه إلى شهر، ونصفه الآخر إلى شهرين= جاز.
س: فهل يجوز السَّلم في شيئين؟
ج: يجوز السَّلم في شيئين إذا عَيَّن لكل منهما ثمنًا، فأمّا بثمن واحد فلا.
--------------------------------------------
সালাম (অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয়) অধ্যায়প্রশ্ন: সালাম কী?
উত্তর: সালাম — একে 'সালাফ'ও বলা হয় — এটি এমন এক ধরণের বিক্রয় যেখানে মূল্য অগ্রিম প্রদান করা হয় এবং পণ্য হস্তান্তরের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: এর বিধান কী?
উত্তর: সুপরিচিত কিছু শর্তসাপেক্ষে এর বিধান হলো বৈধতা (الجواز); হাদিসের কারণে: "যে ব্যক্তি খেজুরের ক্ষেত্রে অগ্রিম প্রদান করবে, সে যেন নির্ধারিত পরিমাপ অথবা নির্ধারিত ওজন এবং নির্ধারিত মেয়াদের ভিত্তিতে তা করে।"
(১)প্রশ্ন: শর্তগুলো কী কী?
উত্তর: প্রথম শর্ত: পণ্যটি এমন হতে হবে যার বৈশিষ্ট্য সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব, এবং সে অনুযায়ী তা নির্ধারণ করতে হবে, যেমন: খেজুর।
দ্বিতীয়: এর পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে যা দ্বারা এটি পরিমাপ করা হয়, যেমন: মাপন বা ওজন।
তৃতীয়: এটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য হতে হবে।
চতুর্থ: চুক্তি সম্পন্নকারী পক্ষদ্বয় পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই চুক্তিকালীন মজলিসে মূল্য গ্রহণ (قبض) করতে হবে।
প্রশ্ন: সালাম কি দুই বা ততোধিক মেয়াদের জন্য করা বৈধ?
উত্তর: যদি পণ্যের অংশ এবং মেয়াদের সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়, যেমন বলা হলো: এর অর্ধেক এক মাস মেয়াদে এবং বাকি অর্ধেক দুই মাস মেয়াদে= তবে তা বৈধ (جاز)।
প্রশ্ন: দুটি জিনিসের ক্ষেত্রে কি সালাম বৈধ?
উত্তর: দুটি জিনিসের ক্ষেত্রে সালাম বৈধ হবে যদি সেগুলোর প্রত্যেকটির জন্য আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হয়, তবে একক মূল্যে তা হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৮৩)
س: فإذا انعقد السَّلم ثم أراد المشتري التصرفَ في المبيع ببيعٍ ونحوه، فهل يجوز؟
[ص 10] ج: لا يجوز للمشتري التصرفُ في المُسْلَم فيه ببيعٍ أو حوالة أو غيرهما، حتى يقبضه.
نعم تجوز الإقالة فيه أو في بعضه.
* * * *
প্রশ্ন: যখন সালাম (السلم) চুক্তি সম্পাদিত হয়, অতঃপর ক্রেতা যদি বিক্রয় বা অনুরূপ উপায়ে বিক্রয়কৃত বস্তুর (المبيع) ওপর কোনো প্রকার মালিকানাস্বত্ব প্রয়োগ (التصرف) করতে চান, তবে কি তা বৈধ (جائز) হবে?
[পৃষ্ঠা ১০] উত্তর: ক্রেতার জন্য সালাম চুক্তিকৃত পণ্যের (المسلم فيه) ক্ষেত্রে বিক্রয়, দায় স্থানান্তর (حوالة) বা অন্য কোনো উপায়ে মালিকানাস্বত্ব প্রয়োগ (التصرف) করা বৈধ (جائز) নয়, যতক্ষণ না তিনি তা কবজ (القبض) বা হস্তগত করেন।
হ্যাঁ, উক্ত চুক্তির পূর্ণ বা আংশিক বাতিলকরণ (الإقالة) বৈধ (جائز)।
* * * *
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৮৪)
باب القرضس: ما هو القرض؟
ج: القرض ــ ويقال له: السلف، أيضًا ــ: دفع مالٍ لمن ينتفع به، ويردُّ مثلَه.
س: إذا أقرض رجل رجلًا مالًا إلى أجل، فهل له مطالبته قبل الأجل؟
ج: له ذلك؛ فإن القرض لا يتأجل.
س: هل للمُقرِض أن يشترط شيئًا ينتفع به غير رد المثل؟
ج: ليس له أن يشترط شيئًا، إلا أن يشترط رهنًا أو كفيلًا.
س: فهل يجوز أن يرد المقترض أكثر مما أخذ أو أجود، أو نحو ذلك؟
ج: يجوز ذلك، إذا لم يكن مشروطًا عليه، وكان تبرعًا منه بطيب نفس؛ لحديث: "خير الناس أحسنهم قضاءً"
(1).
س: فإذا أهدى المقترض للمُقرِض هديةً، أو دعاه إلى طعام، أو نحو ذلك، فهل يجوز القبول؟
ج: إذا علم أن الهدية والدعوة ليست توسلًا إلى إمهاله، بل كانت عادةً بينهما قبل القرض؛ جاز القبول، وإلا فلا.
* * * *
--------------------------------------------
ঋণ (القرض) অধ্যায়প্রশ্ন: ঋণ (القرض) কী?
উত্তর: ঋণ (القرض) — যাকে অগ্রিম (السلف)ও বলা হয় — হলো এমন কাউকে সম্পদ প্রদান করা, যে তা থেকে উপকৃত হবে এবং তার অনুরূপ ফিরিয়ে দেবে।
প্রশ্ন: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণ প্রদান করে, তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কি সে তা দাবি করতে পারবে?
উত্তর: তার সেই অধিকার রয়েছে; কারণ ঋণ নির্দিষ্ট মেয়াদে সময়বদ্ধ হয় না।
প্রশ্ন: ঋণদাতার জন্য কি অনুরূপ ফিরিয়ে দেওয়া ব্যতীত অতিরিক্ত কোনো বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়ার শর্তারোপ করা বৈধ?
উত্তর: বন্ধক (رهن) অথবা জামিনদার (كفيل) ছাড়া অন্য কোনো কিছুর শর্ত করা তার জন্য বৈধ নয়।
প্রশ্ন: ঋণগ্রহীতা কি যা গ্রহণ করেছে তার চেয়ে বেশি অথবা উন্নতমানের কিছু কিংবা অনুরূপ কিছু ফিরিয়ে দিতে পারবে?
উত্তর: যদি তা তার ওপর শর্তারোপ করা না হয় এবং সে নিজ সন্তুষ্টিতে স্বেচ্ছায় তা প্রদান করে, তবে তা বৈধ; হাদিসের কারণে: "মানুষের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যে ঋণ পরিশোধে সবচাইতে ভালো।"
(১)।
প্রশ্ন: ঋণগ্রহীতা যদি ঋণদাতাকে কোনো উপহার দেয় অথবা খাবারের দাওয়াত দেয় কিংবা অনুরূপ কিছু করে, তবে কি তা গ্রহণ করা বৈধ হবে?
উত্তর: যদি এটি নিশ্চিতভাবে জানা থাকে যে, উপহার বা দাওয়াতটি সময় বাড়িয়ে নেওয়ার কৌশল নয়, বরং ঋণের আগেও তাদের মাঝে এমন আদান-প্রদানের রীতি বিদ্যমান ছিল, তবে তা গ্রহণ করা বৈধ, অন্যথায় নয়।
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৮৫)
باب أحكام الدَّينس: إذا كان لرجل دينٌ على آخر إلى أجل، فهل له أن يطالبه قبل ذلك؟
ج: أما القرض فقد تقدم أنه لا يتأجل، وأما غيره، كثمنٍ اتفق [ص 11] المتبايعان على تأجيله إلى أجل معلوم، فليس للدائن المطالبةُ به قبل حلول أجله.
س: فهل للدائن المطالبة بالحَجْرِ على المديون إذا خشي أن يَتْلَفَ ماله قبل حلول الأجل؟
ج: لما لم يكن له المطالبة بالدين نفسه، فليس له المطالبة بالحَجْر لأجله.
س: فإذا حُجِر على رجل بديون حالَّة، وكان عليه دين مؤجل، فهل يحلُّ؛ ليشارك صاحبه بقية الدائنين في ماله؟
ج: لا يحل، بل ليس له المطالبة به حتى يحل.
س: فإذا مات المدين قبل حلول الدين، أفلا يحل الدين؟
ج: لا يحلُّ، ولكن له مطالبة الورثة بأن يوثقوه برهنٍ أو كفيلٍ.
س: فإذا كان على الرجل دينٌ إلى أجل، وأراد أن يسافر قبلَ حلوله، فهل يحل الدين؟
ج: لا يحلُّ الدين، ولكن للدائن المطالبةُ بمنع المدين من السفر، أو يوثق برهنٍ أو كفيلٍ.
ঋণ (الدين) সংক্রান্ত বিধিবিধানের অধ্যায়প্রশ্ন: যদি কোনো ব্যক্তির অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (أجل) জন্য ঋণ (دين) থাকে, তবে কি মেয়াদের আগে তা দাবি করার অধিকার তার আছে?
উত্তর: কর্জের (القرض) ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, তা বিলম্বিত হয় না। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে, যেমন কোনো পণ্যের মূল্য যা ক্রেতা ও বিক্রেতা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (أجل معلوم) জন্য বিলম্বিত করতে সম্মত হয়েছে [পৃষ্ঠা ১১], পাওনাদারের জন্য নির্ধারিত মেয়াদের আগে তা দাবি করার অধিকার নেই।
প্রশ্ন: পাওনাদার কি ঋণগ্রহীতার (المديون) ওপর লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা (الحجر) আরোপ করার দাবি জানাতে পারবে, যদি সে আশঙ্কা করে যে মেয়াদের আগেই তার সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর: যেহেতু পাওনাদারের মূল ঋণ (الدين) দাবি করারই অধিকার নেই, তাই সে কারণে নিষেধাজ্ঞা (الحجر) দাবি করারও তার কোনো অধিকার নেই।
প্রশ্ন: যদি কোনো ব্যক্তির ওপর তাৎক্ষণিক প্রদেয় (حالة) ঋণের (ديون) কারণে লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা (حجر) আরোপ করা হয় এবং তার ওপর কোনো মেয়াদী (مؤجل) ঋণও (دين) থাকে, তবে কি সেটিও পরিশোধযোগ্য (يحل) হয়ে যাবে; যাতে ঐ পাওনাদার অন্যান্য পাওনাদারদের সাথে তার সম্পদে অংশীদার হতে পারে?
উত্তর: না, তা পরিশোধযোগ্য (يحل) হবে না; বরং মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার তা দাবি করার অধিকার নেই।
প্রশ্ন: যদি ঋণগ্রহীতা (المدين) ঋণের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যুবরণ করে, তবে কি সেই ঋণটি পরিশোধযোগ্য (يحل) হবে না?
উত্তর: না, তা পরিশোধযোগ্য (يحل) হবে না, তবে পাওনাদারের অধিকার রয়েছে উত্তরাধিকারীদের নিকট এটি বন্ধক (رهن) বা জামিনদারের (كفিল) মাধ্যমে সুরক্ষিত করার দাবি জানানো।
প্রশ্ন: যদি কোনো ব্যক্তির ওপর নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণ (دين) থাকে এবং সে মেয়াদের পূর্বেই সফর করতে চায়, তবে কি ঋণটি পরিশোধযোগ্য (يحل) হয়ে যাবে?
উত্তর: ঋণটি পরিশোধযোগ্য (يحل) হবে না, তবে পাওনাদারের অধিকার রয়েছে ঋণগ্রহীতাকে (المدين) সফরে বাধা প্রদান করার অথবা কোনো বন্ধক (رهن) বা জামিনদারের (كفিল) মাধ্যমে ঋণটি সুরক্ষিত করার।
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৮৬)
س: فإذا كان عليه دين حالٌّ ولكنه مُعسِر، فما الحكم؟
ج: قال الله تعالى: {وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ} [البقرة: 280].
س: فإن ادَّعَى الإعسار، فما الحكم؟
ج: إن لم يُعرَفْ له مال قبل ذلك حُلِّفَ وخُلِّي سبيله، وإن عُرِف له مال [ص 12] لم يُقبل قوله إلا ببينة.
س: فإن كان موسرًا وامتنع عن الأداء؟
ج: يحبسه الحاكم حتى يوفيه.
س: فإذا كان عليه من الدين ما يزيد عن ماله، فما الحكم؟
ج: لغرمائه أن يطلبوا من الحاكم الحَجْرَ عليه، فتلزمه إجابتُهم.
س: فإذا حجر عليه الحاكم، فما ثمرة ذلك؟
ج: ثمرته أنه بعد الحجر لا يصح تصرفه في شيء من المال، ولا يقبل إقراره بشيء منه بغير بينة، ثم يتولى الحاكم قضاء الديون من المال.
س: فكيف يصنع بنفقة نفسه وأهله؟
ج: ما دام المال باقيًا، فينفق الحاكم منه على المَدِين، وعلى من تجب عليه نفقته.
س: هل الديون سواء في استحقاق القضاء من المال؟
ج: لا، بل يبدأ بما يتعلق بجناية مملوكه، فيدفع إلى المجنيِّ عليه أقلَّ الأمرين من أَرْشِ الجناية أو قيمة العبد الجاني.
প্রশ্ন: যদি তার ওপর তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য কোনো ঋণ থাকে কিন্তু সে অসচ্ছল (معسر) হয়, তবে বিধান কী?
উত্তর: মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: "আর যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত (ذو عسرة) হয়, তবে সচ্ছলতা (ميسرة) আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেওয়া উচিত।" [আল-বাকারা: ২৮০]
প্রশ্ন: যদি সে নিজেকে অসচ্ছল (إعسار) বলে দাবি করে, তবে বিধান কী?
উত্তর: যদি ইতিপূর্বে তার কোনো সম্পদের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা না থাকে, তবে তার থেকে শপথ গ্রহণ করা হবে এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর যদি তার সম্পদের কথা জানা থাকে [পৃষ্ঠা ১২], তবে প্রমাণ (بينة) ব্যতীত তার দাবি গ্রহণ করা হবে না।
প্রশ্ন: যদি সে সচ্ছল (موسر) হয় এবং ঋণ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানায়?
উত্তর: শাসক তাকে ঋণ পরিশোধ করা পর্যন্ত কারারুদ্ধ করে রাখবেন।
প্রশ্ন: যদি তার ঋণের পরিমাণ তার সম্পদের চেয়ে বেশি হয়, তবে বিধান কী?
উত্তর: তার পাওনাদারদের (غرماء) অধিকার রয়েছে শাসকের কাছে তার ওপর আর্থিক লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা (حجر) আরোপের আবেদন জানানো; এমতাবস্থায় তাদের আবেদন গ্রহণ করা শাসকের জন্য আবশ্যক।
প্রশ্ন: যদি শাসক তার ওপর নিষেধাজ্ঞা (حجر) আরোপ করেন, তবে তার ফলাফল কী?
উত্তর: এর ফলাফল হলো, নিষেধাজ্ঞা (حجر) আরোপের পর সম্পদের ওপর তার কোনো প্রকার লেনদেন বা হস্তক্ষেপ বৈধ হবে না এবং প্রমাণ (بينة) ব্যতীত সম্পদের ব্যাপারে তার কোনো স্বীকারোক্তি (إقرار) গ্রহণ করা হবে না। অতঃপর শাসক উক্ত সম্পদ থেকে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন।
প্রশ্ন: তবে তার নিজের এবং তার পরিবারের ভরণপোষণ (نفقة) কীভাবে নির্বাহ হবে?
উত্তর: যতক্ষণ পর্যন্ত সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে, ততক্ষণ শাসক তা থেকে ঋণী (مدين) ব্যক্তি এবং যাদের ভরণপোষণ (نفقة) প্রদান করা তার ওপর আবশ্যক, তাদের জন্য ব্যয় করবেন।
প্রশ্ন: সম্পদ থেকে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কি সকল ঋণ সমান পর্যায়ের?
উত্তর: না, বরং তার মালিকানাধীন দাসের কৃত অপরাধ (جناية) সংশ্লিষ্ট পাওনা দিয়ে শুরু করা হবে। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে অপরাধের দণ্ডমূল্য বা জরিমানা (أرش) অথবা অপরাধী দাসের মূল্য—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, তা প্রদান করা হবে।
(খণ্ড: ১৭)
আসইলাতুন ওয়া আজবিবাতুন ফিল মুয়ামালাত - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৮৭)
ثم بمن له رهين من أهل الدين، فيدفع إليه أقل الأمرين من مقدار حقه أو قيمة الرهن، ويشارك الباقي فيما يبقى.
ثم بمن كانت عين ماله التي يطالب بقيمتها باقية لم يتلف منها شيء، ولا زادت زيادة متصلة، ولا قبض من ثمنها شيئًا، وذلك كأن يكون في المطالبين من يطالب بقيمة دابة باعها من المحجور عليه قبل أيام، وهي باقية، ولم يقبض من ثمنها شيئًا.
ثم بعد تقديم هؤلاء يقسم الباقي بين بقية الديون، كلٌّ بقدر حقه.
[ص 13] س: فإذا كانت له دعوى على آخر بمال، وعليها شاهد واحد، فطلب الغرماءُ إلزامَه بالحلف حتى يثبت الحق، أو الإذن لهم ليحلفوا بدلًا عنه؟
ج: لا يلزمه أن يحلف، ولا يكون لهم أن يحلفوا.
* * * *
باب الحوالة والضمان
(1)--------------------------------------------
এরপর সেই পাওনাদার অগ্রাধিকার পাবেন যার নিকট বন্ধকী বস্তু রয়েছে; এমতাবস্থায় তাকে তার পাওনার পরিমাণ অথবা বন্ধকী বস্তুর মূল্যের মধ্যে যা কম তা প্রদান করা হবে এবং অবশিষ্টাংশের জন্য সে অবশিষ্ট সম্পদের ক্ষেত্রে অন্যদের সাথে শরিক হবে।
এরপর অগ্রাধিকার পাবেন তিনি যার দাবিকৃত মূল্যের মূল সম্পদটি এখনও বিদ্যমান রয়েছে, যার কোনো কিছুই বিনষ্ট হয়নি, তাতে কোনো অবিচ্ছেদ্য বৃদ্ধি ঘটেনি এবং তিনি তার মূল্যের কোনো অংশই গ্রহণ করেননি। উদাহরণস্বরূপ—দাবিদারদের মধ্যে এমন কেউ থাকা যে কয়েক দিন আগে লেনদেনে নিষিদ্ধ ব্যক্তির নিকট একটি পশু বিক্রি করেছিল, যা বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে এবং তিনি তার মূল্যের কিছুই উসুল করেননি।
এদের পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ বাকি ঋণদাতাদের মধ্যে তাদের নিজ নিজ পাওনার হার অনুযায়ী বণ্টন করা হবে।
[পৃষ্ঠা ১৩] প্রশ্ন: যদি অন্যের নিকট কারো আর্থিক দাবি থাকে এবং এর সপক্ষে মাত্র একজন সাক্ষী থাকে, এমতাবস্থায় পাওনাদারগণ কি তাকে শপথ করতে বাধ্য করার আবেদন করতে পারে যাতে পাওনা প্রমাণিত হয়, অথবা তারা কি তার পরিবর্তে নিজেরা শপথ করার অনুমতি চাইতে পারে?
উত্তর: তার জন্য শপথ করা আবশ্যক নয় এবং তাদের জন্যও শপথ করার অধিকার নেই।
* * * *
হাওয়ালা ও জামানত অধ্যায়
(১)--------------------------------------------