(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
مسألة منع بيع الأحرار - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مسألة منع بيع الأحرار
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (17)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
স্বাধীন ব্যক্তিদের বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত মাসআলা - ‘আসারুল মুয়াল্লিমি’-র অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: স্বাধীন ব্যক্তিদের বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত মাসআলা
[আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলী (১৭)]
লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
মুহাক্কিক (সম্পাদক): মুহাম্মদ উযাইর শামস
পর্যবেক্ষক: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দার আলামুল ফাওয়াইদ পাবলিকেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামেলায় পেশ করেছেন: ‘আতাআতুল ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৪১)
الرسالة الحادية والعشرون
مسألة منع بيع الأحرار
একুশতম রিসালাহ
স্বাধীন ব্যক্তিদের বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত মাসয়ালা
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৪৩)
(1)بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أكرمنا بالهداية، ولاحظَنا بالرّعاية، وحَفَّنا باللطف والعناية، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له الهادي من الغَواية، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله الذي أنزل عليه الكتاب فأوضح آيه، صلّى الله وسلَّم عليه وعلى آله وأصحابه أهلِ الفضل والدِّراية.
أمّا بعدُ، فإنّي لمّا رأيتُ العِلْمَ قد خبا زِنادُه، وكَبا جَواده، بل كان قد أصبح نَسْيًا منسيًّا، وعَدّ الناسُ من بقيَ من حَمَلتِه مرتكبين شيئًا فريًّا، لولا قيامُ مولانا أمير المؤمنين لتجديده، واجتهاده في بنائه وتشييده. وكنتُ ممَّن تشبّه بأهله، ولبِسَ العِمامةَ مع جهله، أزعجني ما حَدَث في بيع الأحرار، وما يعاملُهم به القضاة من عدم سماع دعوى المبيع ولا شهادةِ الحسبة مؤاخذةً بظاهر الإقرار؛ فرأيتُ القيام بهذه المهمّة عملًا بالظاهر من كوني ممّن يُعتَدُّ به في هذا المجال، وإن كنتُ في الحقيقةِ من جملة الجُهَّال.
فأولًا: لا يخفى عِظَمُ خَطَر الحريّة، قال الله تعالى: {فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ (11) وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ (12) فَكُّ رَقَبَةٍ} [البلد: 11 ــ 13] إلى غير ذلك من الآيات، بحيث جَعَله كفَّارةً لأكبر الكبائر وهو القتل، وكفَّارةً للظهار، وكفَّارةً للجماع في رمضان إلى غير ذلك.
وقد قرنَها الله تعالى بالإيمان، قال تعالى: {لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ} [الأحزاب: 37]، أي: أنعم الله عليه بالهداية إلى الإسلام، وأنعمتَ عليه بالفكِّ من رِبْقةِ الرقِّ.
(১)পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের হিদায়াতের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধানে আমাদের প্রতি নজর রেখেছেন এবং আমাদের দয়া ও অনুগ্রহ দ্বারা বেষ্টন করে রেখেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, যিনি গোমরাহি থেকে হিদায়াত দানকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাঁর ওপর তিনি কিতাব অবতীর্ণ করে তাঁর আয়াতসমূহকে সুস্পষ্ট করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও ফজিলত এবং পারদর্শিতা (دراية) সম্পন্ন সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর, আমি যখন দেখলাম যে ইলমের শিখা নিভে গেছে এবং এর সওয়ারি মুখ থুবড়ে পড়েছে, বরং তা এক বিস্মৃত বস্তুতে পরিণত হয়েছে; আর মানুষ ইলমের বাহকদের মধ্যে যারা অবশিষ্ট আছেন তাদের কোনো গর্হিত কাজে লিপ্ত মনে করতে শুরু করেছে; তবে আমাদের অভিভাবক আমিরুল মুমিনীনের একে পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ এবং এর নির্মাণ ও সুদৃঢ়করণে তাঁর প্রচেষ্টা না থাকলে (তা বিলীন হয়ে যেত)। আমি ছিলাম সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা আলিমদের সদৃশ হওয়ার চেষ্টা করে এবং নিজের অজ্ঞতা সত্ত্বেও পাগড়ি পরিধান করে। স্বাধীন মানুষদের বিক্রয় করার ক্ষেত্রে যা ঘটছে এবং বিচারকগণ তাদের সাথে যেভাবে আচরণ করছেন—অর্থাৎ বিক্রীত ব্যক্তির দাবি শ্রবণ না করা এবং প্রকাশ্য স্বীকারোক্তির (إقرار) ওপর ভিত্তি করে পরার্থপরতামূলক সাক্ষ্য (شهادة الحسبة) গ্রহণ না করা—তা আমাকে ব্যথিত করেছে। তাই আমি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে অবতীর্ণ হওয়াকে সমীচীন মনে করলাম এই বাহ্যিক দিকটি বিবেচনা করে যে, আমাকে এই ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য (يُعتَدُّ به) মনে করা হয়, যদিও প্রকৃতপক্ষে আমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।
প্রথমত: স্বাধীনতার গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য কারো অগোচরে নয়। মহান আল্লাহ বলেন: {কিন্তু সে তো দুর্গম গিরিপথে প্রবেশ করেনি। আপনি কি জানেন সে দুর্গম গিরিপথ কী? তা হচ্ছে দাসমুক্তি।} [সূরা আল-বালাদ: ১১-১৩]। এছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে, যেখানে আল্লাহ একে বড় গুনাহের কাফফারা (كفارة) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; যেমন হত্যা, যিহারের কাফফারা এবং রমজান মাসে দিনের বেলায় সহবাসের কাফফারা ইত্যাদি।
আর আল্লাহ তাআলা একে ঈমানের সাথে সংযুক্ত করেছেন। তিনি বলেন: {যাকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও যার ওপর অনুগ্রহ করেছেন} [সূরা আল-আহযাব: ৩৭], অর্থাৎ: আল্লাহ তাকে ইসলামের হিদায়াত দান করে অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনি তাকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে অনুগ্রহ করেছেন।
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৪৪)
وفي الصّحيحين
(1) عن أبي هريرة قال: قال صلى الله عليه وآله وسلم: "مَن أعتقَ رقبةً مسلمةً أعتقَ الله بكل عضوٍ منه عضوًا من النار، حتَّى فَرْجَه بفَرْجِه".
وروى البيهقيُّ في "شعب الإيمان"
(2) عن البراء بن عازبٍ قال: "جاء أعرابيٌّ إلى النبيّ صلى الله عليه وآله وسلم، فقال: علِّمني عملًا يُدخِلُني الجنّة. قال: "لئن كنتَ أقصرتَ الخطبةَ لقد أعظمتَ المسألة. أعتِقِ النَّسَمةَ، وفُكَّ الرقبةَ". قال: أوَليسَا واحدًا؟ قال: "لا، عِتْقُ النسَمة أن تنفرد بعتقها، وفكُّ الرقبةِ أن تُعِين في ثمنها
… " الحديث.
وفي حديثٍ رواه أبو داود والنسائي
(3): أنّ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم سُئِلَ في شأن رجلٍ قَتَل، فقال: "أَعتِقوا عنه، يُعتِقِ اللهُ إليه بكلِّ عضوٍ عضوًا منه من النار".
وفي "شعب الإيمان"
(4): أنّه صلى الله عليه وآله وسلم قال: "أفضلُ الصدقة الشفاعةُ، بها يُفَكُّ رقبةٌ".
وفي مسلمٍ
(5) عن أبي هريرة قال: قال صلى الله عليه وآله وسلم: "لا يَجزِي ولدٌ والده إلا
--------------------------------------------
এবং সহিহাইনে
(১) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম দাস মুক্ত করবে, আল্লাহ তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে সেই ব্যক্তির প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন, এমনকি তার লজ্জাস্থানের বিনিময়ে তার লজ্জাস্থানকেও।"
আর বায়হাকি "শুআবুল ইমান"
(২) গ্রন্থে বারা বিন আজেব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট এসে বলল: আমাকে এমন একটি আমল শিখিয়ে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন: 'তুমি যদিও সংক্ষেপে কথা বলেছ, কিন্তু অনেক বড় বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছ। জীবন মুক্ত করো এবং দাসত্ব থেকে মুক্ত করো।' সে বলল: এই দুটি কি এক নয়? তিনি বললেন: 'না, জীবন মুক্ত করা হলো তুমি একাই তাকে মুক্ত করবে, আর দাসত্ব থেকে মুক্ত করা হলো তার মুক্তির মূল্যে তুমি সাহায্য করবে … '" হাদিস।
আবু দাউদ এবং নাসায়ি
(৩) কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসে আছে: জনৈক ব্যক্তি যে হত্যা করেছে তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেন: "তার পক্ষ থেকে (দাস) মুক্ত করো, আল্লাহ তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে ওই ব্যক্তির প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করবেন।"
"শুআবুল ইমান"
(৪) গ্রন্থে বর্ণিত আছে: তিনি (সা.) ইরশাদ করেছেন: "সর্বোত্তম সদকা হলো সুপারিশ করা, যার মাধ্যমে কোনো ঘাড় (দাস) মুক্ত হয়।"
এবং মুসলিমে
(৫) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "কোনো সন্তান তার পিতার প্রতিদান দিতে পারবে না, যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৪৫)
أن يجده مملوكًا فيشتريَه فيُعتِقَه" هـ.
ومن عرف خطرَ حقِّ الوالد عرفَ خطرَ العتق، وبطريق العكس فمن استرقّ حرًّا أو شهد عليه، أو حكم بغير تثبُّتٍ أو داهنَ، ثبت له عكسُ ما يثبتُ للمعتق. ومَن تأمّل أحكام الرقيق عرف عناية الشارع، فمنها السراية، ومنها شرط العتق في البيع، وغير ذلك ممَّا نقضت فيه القواعد، وعلّله الفقهاء بتشوّف الشارع إلى العتق.
وسببُ الرقِّ أصله الكفر، فانظر كيف لم يرضَ سبحانه وتعالى استرقاقَ المسلم إلا بالتبعيّة، وإنّما يُستَرقُّ الكافر بالسَّبْي أو الأسر أو نحوه، وهذا من مُدَّةٍ طويلةٍ إنْ لم يكن مفقودًا فنادرٌ.
وأمَّا غير الكافرِ فإنَّما يُسترقُّ بتبعيّتِه له، وندورُ الأصل يستلزم ندورَ الفرع. مع أنَّ العبيدَ المتوارثين من أزمنة الفتوح لا يكادون يُوجَدون إلا مَمْنُونًا عليهم بالعتق.
ومِن العلماء مَن قال: إنَّ الإماء المجلوبةَ لا يجوز بيعها ولا شراؤها في حال الجهل، قد قيل هذا في القرنِ السادس أو السابع، وممَّن قال به القفَّالُ والردَّاد، ومَن قال بالجواز قال: والورعُ اجتنابُه.
هذا إذْ ذاك فكيف اليوم؟!
وفي "فتاوى ابن زياد"
(1): مسألةٌ: الجواري المجلوبة الآن قد حرَّر السبكيُّ أحكامها، وحاصله: إمَّا أن يُجهَل حالُها، فالرجوعُ في ظاهر الشرع إلى السيِّد في الصغيرة، وإلى إقرارها واليد في الكبيرة. واليدُ حُجّةٌ شرعيّة
--------------------------------------------
"...যে তাকে মালিকানাধীন হিসেবে পাবে, অতঃপর তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দিবে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আর যে ব্যক্তি পিতার হকের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে, সে দাসমুক্তির গুরুত্বও উপলব্ধি করেছে। এর বিপরীতে, যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন মানুষকে দাসে পরিণত করল, অথবা তার বিরুদ্ধে (মিথ্যা) সাক্ষ্য দিল, কিংবা যাচাই-বাছাই (تثبُّت) ব্যতীত ফয়সালা করল অথবা সত্য গোপন করে পক্ষপাতিত্ব (داهن) করল, তার জন্য দাসমুক্তকারীর অর্জিত সওয়াবের বিপরীত বিষয় সাব্যস্ত হবে। আর যে ব্যক্তি দাসত্ব সংক্রান্ত বিধানাবলী নিয়ে চিন্তা করবে, সে শরিয়ত প্রবর্তকের বিশেষ যত্ন সম্পর্কে জানতে পারবে। তার মধ্যে রয়েছে 'সরাইয়াহ' (السراية - দাসত্বের ব্যাপ্তি), কেনা-বেচার ক্ষেত্রে দাসমুক্তির শর্তারোপ এবং এমন আরও বিষয় যাতে মূল নীতিগুলো শিথিল করা হয়েছে। ফকিহগণ এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, শরিয়ত প্রবর্তক দাসমুক্তির প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী (تشوف)।
দাসত্বের মূল কারণ হলো কুফর। লক্ষ্য করুন, মহান আল্লাহ কোনো মুসলিমকে দাসে পরিণত করা পছন্দ করেননি, তবে (কাফিরের) অনুগামী হওয়া ব্যতীত। মূলত কাফিরকে যুদ্ধবন্দী (السبي) বা আটক (الأسر) বা অনুরূপ উপায়ের মাধ্যমেই দাসে পরিণত করা হয়। আর দীর্ঘ সময় ধরে এটি যদি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত না-ও হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুর্লভ (نادر)।
আর অ-কাফিরকে কেবল তার (কাফিরের) অনুগামী হওয়ার কারণেই দাসে পরিণত করা হয়। আর মূলের দুর্লভ (ندور) হওয়া শাখার দুর্লভ (ندور) হওয়াকেই আবশ্যক করে। অথচ বিজয়াভিযানসমূহের সময় থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দাসদের এখন আর পাওয়াই যায় না, কেবল তাদের ওপর দাসমুক্তির অনুগ্রহ করা ব্যতীত।
আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: আমদানিকৃত দাসীদের অবস্থা অজ্ঞাত থাকা অবস্থায় তাদের ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়। এটি ষষ্ঠ বা সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে বলা হয়েছে। যারা এটি বলেছেন তাদের মধ্যে কাফফাল এবং রাদ্দাদ অন্যতম। আর যারা বৈধতার কথা বলেছেন, তারাও বলেছেন: সতর্কতা বা পরহেজগারি (الورع) হলো তা পরিহার করা।
তখনকার অবস্থা যদি এমন হয়, তবে বর্তমানের অবস্থা কেমন হবে?!
"ফাতাওয়া ইবনে জিয়াদ"-এ বর্ণিত হয়েছে: মাসআলা: বর্তমানে আমদানিকৃত দাসীদের ব্যাপারে সুবকি বিস্তারিত বিধানসমূহ সুবিন্যস্ত করেছেন। এর সারসংক্ষেপ হলো: হয় তাদের অবস্থা অজ্ঞাত হবে; এমতাবস্থায় শরিয়তের বাহ্যিক দৃষ্টিতে নাবালিকার ক্ষেত্রে মালিকের কথার দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে, আর সাবালিকার ক্ষেত্রে তার নিজের স্বীকারোক্তি এবং দখলের (اليد) দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আর দখল (اليد) হলো একটি শরিয়তসম্মত দলিল (حجة شرعية)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৪৬)
وكذا الإقرار، والورعُ التركُ.
وإمَّا أن يُعلَم حالُها، وله مراتب:
أحدها: أن يتحقق إسلامها في بلادها، ولم يَجْرِ عليها رِقٌّ قبل ذلك، فلا تحلُّ هذه بوجهٍ من الوجوه إلا بزواجٍ شرعيٍّ.
ثانيها: كافرةٌ ممّن لهم ذِمَّةٌ وعهدٌ فكذلك.
ثالثها: كافرة من أهل الحرب مملوكة للكافر، حربيًّا أو غيره، فهي حلال لمشتريها.
رابعها: كافرةٌ من أهل الحرب قهرها وقهرَ سيِّدَها كافرٌ آخر، فإنّه يملكها ويبيعها لمن شاء، وتحلُّ لمشتريها
…ثم قال بعد ذلك ما مضمُونُه:
خامسها: كافرةٌ لم يَجْرِ عليها رقٌّ أَخذَها مسلمٌ قهرًا، فإنْ كانت بإيجاف جيشٍ فغنيمةٌ مشتركةٌ بين الغانمين وأهلِ الخمس، أو غزا واحدٌ فأكثر بأمرٍ من الإمام أو بدونه ولو مُتَلصِّصًا فكذلك
(1).
والرقُّ إنَّما يثبت باليد أو بالبيّنة أو بالإقرار ونحو ذلك.
أمَّا باليد ففي حقِّ الصغير والمجنون، فيصدَّق مَن هو في يده في كونه رقيقًا بيمينه مع بيان السبب المعتبر، كما قرّره شُرَّاح "المنهاج"
(2) في باب اللقيط، عند قول المتن: "ولو رأينا صغيرًا مميزًا
… " إلخ، وفي باب الدعاوي.
--------------------------------------------
অনুরূপভাবে স্বীকৃতি (إقرار), আর তাকওয়া (ورع) হলো বর্জন করা।
অথবা তাদের অবস্থা জানা যাবে, আর এর কয়েকটি স্তর রয়েছে:
প্রথমত: যদি তার নিজ দেশে তার ইসলাম গ্রহণ নিশ্চিত হয় এবং ইতিপূর্বে তার ওপর দাসত্ব (رق) আরোপিত না হয়ে থাকে, তবে কোনোভাবেই সে বৈধ হবে না শরয়ি বিবাহ ছাড়া।
দ্বিতীয়ত: জিম্মি (ذمة) ও চুক্তিবদ্ধ (عهد) কাফির নারী হলে, তার বিধানও তদ্রূপ।
তৃতীয়ত: হারবি (أهل الحرب) কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত এমন নারী যে কোনো কাফিরের মালিকানাধীন দাসী, সে কাফির হারবি হোক বা অন্য কেউ, তবে সে তার ক্রেতার জন্য হালাল।
চতুর্থত: হারবি কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত এমন নারী যাকে এবং যার মালিককে অন্য কোনো কাফির পরাজিত করে কবজা করেছে, তবে সে তার মালিক হবে এবং যার কাছে ইচ্ছা বিক্রি করতে পারবে, আর তার ক্রেতার জন্য সে হালাল হবে
…অতঃপর তিনি এর পরে যা বলেছেন তার মর্ম হলো:
পঞ্চমত: এমন কাফির নারী যার ওপর আগে দাসত্ব (رق) আরোপিত হয়নি কিন্তু কোনো মুসলিম তাকে জবরদখল করেছে; যদি তা সেনাবাহিনী পরিচালনার মাধ্যমে হয় তবে তা যোদ্ধা ও এক-পঞ্চমাংশের (খুমুস) পাওনাদারদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য গনিমতের মাল (غنيمة) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি একজন বা একাধিক ব্যক্তি ইমামের আদেশে কিংবা আদেশ ব্যতিরেকে যুদ্ধ করে, এমনকি যদি গোপনে প্রবেশের মাধ্যমেও হয়, তবে বিধান একই হবে
(1)।
আর দাসত্ব (رق) কেবল দখল (يد), প্রমাণ (بينة) অথবা স্বীকৃতির (إقرار) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়।
দখলের (يد) বিষয়টি শিশু ও পাগলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সুতরাং যার দখলে আছে তার দাবিকে শপথের (يمين) মাধ্যমে সত্য বলে গ্রহণ করা হবে যে সে একজন দাস (رقيق), সাথে নির্ভরযোগ্য কারণ বর্ণনা করতে হবে। যেমনটি মিনহাজের ব্যাখ্যাকারগণ কুড়িয়ে পাওয়া শিশু (لقيط) অধ্যায়ে মূল পাঠের (متن) এই উক্তির আলোচনায় নির্ধারণ করেছেন: "যদি আমরা কোনো সমঝদার (مميز) শিশুকে দেখি
… " ইত্যাদি, এবং মামলা (دعاوي) অধ্যায়েও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৪৭)
وأمَّا بالبيّنة فأمرها ظاهرٌ، وشرطها بيانُ السبب المعتبر، كما قرَّروه عَقِبَ ما مرَّ عند قول المتن: "ومَن أقام بيّنةً بِرِقّه عُمِلَ بها"
(1). ويُشترط أيضًا عدم المعارضة، فإنَّ بيّنةَ الحرّ تُقدَّم على بيّنةِ الرقّ، على ما نقله الهروي عن الأصحاب، وإنْ كان المعتمد خلافَه كما ذكره الرمليُّ في باب الدعاوي
(2).
وإذا لم تعتبر اليد، ولم تَرِدْ بيّنةٌ معتبرة، فالقول قول المُسْتَرَقّ البالغ بيمينه، وإنْ قد استخدم زمانًا وتداولته الأيادي، كما حققوه في باب الدعاوي.
وأمَّا الصغير فيُقبَل قولُ مسترِقِّه الذي هو في يده بيمينه ما لم يعتمد على الالتقاط، فإذا بلغ وادَّعى الحريَّة لم يُصدَّق إلا ببيّنةٍ على الأصحِّ. أمَّا غيرُ ذي اليد فلا يُصدَّق إلا ببيّنة معتبرةٍ.
وأمَّا الإقرار فأولًا: من المعلوم أنَّ الإقرار بالمال شرطه الرشد، ومن المعلوم أن مذهبَ الشافعي أن الرشدَ صلاح الدين والمال، وإنْ تجوَّز بعضُ المتأخرين فيعمل به حيث دعتِ الحاجةُ، والإقرارُ بالرقِّ هل يُعتبر فيه الرشد؟ الذي فهمه ابن حجر والرمليُّ من إطلاق الأصحاب في باب اللقيط عدمُ اعتباره، على أنَّ ابن حجر إلى اعتباره أميلُ، وباعتباره قال سلطان العلماء الشيخ عزُّ الدين عبد العزيز بن عبد السلام رحمه الله تعالى، ورجّحه المغني والزركشي والأذرعي وابن قاسمٍ والسيّد عمر، وهو الظاهر؛ لأنّه إقرار بمالٍ، والعذر عن إطلاق الأصحاب في باب اللقيط أنهم قد قيَّدوه في باب الإقرار، وهو الباب المعقود لذلك.
--------------------------------------------
আর প্রমাণের (بيّنة) বিষয়টি সুস্পষ্ট; এর শর্ত হলো গ্রহণযোগ্য (معتبر) কারণের বর্ণনা থাকা, যেমনটি মূল পাঠের (متن) বক্তব্যের পরবর্তী আলোচনায় ফকিহগণ নির্ধারণ করেছেন: "আর যে ব্যক্তি নিজের দাসত্বের সপক্ষে প্রমাণ (بيّنة) উপস্থাপন করবে, তা কার্যকর করা হবে"
(1)। আরও শর্ত হলো কোনো বৈপরীত্য না থাকা; কারণ স্বাধীনতার প্রমাণ (بيّنة) দাসত্বের প্রমাণের (بيّنة) ওপর প্রাধান্য পায়—যেমনটি আল-হারাউই ইমামের অনুসারীদের (أصحاب) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যদিও নির্ভরযোগ্য (معتمد) মতটি এর বিপরীত, যা আর-রামলি 'দাওয়াবি' (দাবি-দাওয়া) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন
(2)।
যদি দখলদারিত্ব (يد) বিবেচনায় না আসে এবং কোনো গ্রহণযোগ্য (معتبر) প্রমাণ (بيّنة) পাওয়া না যায়, তবে প্রাপ্তবয়স্ক দাসত্বারোপিত ব্যক্তির বক্তব্যই তার শপথসহ গ্রহণ করা হবে; যদিও সে দীর্ঘকাল সেবায় নিয়োজিত থেকে থাকে এবং মালিকানা হাতবদল হয়ে থাকে, যেমনটি ফকিহগণ 'দাওয়াবি' অধ্যায়ে সুনিশ্চিত করেছেন।
আর অপ্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে, তার দখলদার (ذي اليد) ব্যক্তির বক্তব্যই তার শপথসহ গৃহীত হবে যতক্ষণ না সেটি কেবল কুড়িয়ে পাওয়ার (التقاط) ওপর ভিত্তি করে হয়। তবে সে যখন প্রাপ্তবয়স্ক হবে এবং স্বাধীনতার দাবি করবে, তখন অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মত অনুযায়ী প্রমাণ (بيّنة) ছাড়া তাকে সত্যয়ন করা হবে না। আর যার দখলে নেই (غير ذي اليد), তাকে গ্রহণযোগ্য (معتبر) প্রমাণ (بيّنة) ছাড়া সত্য বলে গণ্য করা হবে না।
আর স্বীকারোক্তির (إقرار) প্রসঙ্গে—প্রথমত: এটি সুবিদিত যে, সম্পদের স্বীকারোক্তির (إقرار) শর্ত হলো বিচক্ষণতা (رشد)। আর এটিও জানা কথা যে, শাফেয়ি মাযহাব অনুযায়ী বিচক্ষণতা (رشد) হলো দ্বীনদারি এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহারের যোগ্যতা, যদিও পরবর্তী যুগের আলেমগণ (متأخرين) এতে কিছুটা শিথিলতা দেখিয়েছেন এবং প্রয়োজন দেখা দিলে সে অনুযায়ী আমল করা হয়। তবে দাসত্বের স্বীকারোক্তির (إقرار) ক্ষেত্রে কি বিচক্ষণতা (رشد) বিবেচনা করা হবে? ইবনে হাজার এবং আর-রামলি 'লাকিত' (কুড়িয়ে পাওয়া শিশু) অধ্যায়ে ইমামের অনুসারীদের (أصحاب) নিঃশর্ত বক্তব্য থেকে যা বুঝেছেন তা হলো, এটি শর্ত নয়। তবে ইবনে হাজার একে শর্ত হিসেবে গণ্য করার দিকেই অধিক ঝুঁকেছেন। আর 'সুলতানুল উলামা' শায়খ ইজ্জুদ্দিন আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুস সালাম (রহ.) একে শর্ত গণ্য করার কথা বলেছেন। আল-মুগনি, আজ-যারকাশি, আল-আজরয়ি, ইবনে কাসিম এবং সাইয়্যেদ উমর একেই প্রাধান্য (رجّحه) দিয়েছেন এবং এটিই সুস্পষ্ট (ظاهر); কারণ এটি সম্পদেরই একটি স্বীকারোক্তি (إقرار)। আর 'লাকিত' অধ্যায়ে ইমামের অনুসারীদের (أصحاب) নিঃশর্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যা হলো যে, তারা 'ইকরার' (স্বীকারোক্তি) অধ্যায়ে একে শর্তযুক্ত করেছেন, যা মূলত এই বিষয়ের জন্যই নির্ধারিত অধ্যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৪৮)
وإذا تقرّر هذا فأين الرشد اليوم من أكثر الناس؟ !
ومن شروط الإقرار أيضًا عدم الإكراه، وقد نصُّوا على أنَّ القول قول مدّعي الإكراه إذا قامت أمارةٌ عليه، وكفى بحال الشخص تحت سيطرة المتغلِّبِ عليه الطامعِ في بيعه بمالٍ كثيرٍ، مع فساد الزمان وجهل الناس وشدّة ظلمهم، فإنها أمارةٌ واضحة على الإكراه.
تنبيهٌ:
ويُشتَرط في إثبات الرقّ بأدنى دليل، كأن يكون داخلًا تحت الإمكان. فمَن عُلِمت حريته وإسلامه لم تُسمع دعوى الرقّ عليه أصلًا.
ويُشترط في الإقرار بالرقّ أيضًا أن لا يسبقه إقرار بالحريّة، كما قرَّروه في باب اللقيط.
فإذا ثبت الإقرار المعتبر فهل تُسمع الدعوى بعده؟
قال القليوبي في "حاشيته" على المحلّي
(1) قُبيلَ باب بيع الثمار: "إنّها لا تُسمع إلا أن يبيِّن له وجهًا محتملًا، وأنّ ابن حجرٍ قال: "تُقبَل مطلقًا لأجل حقّ الله تعالى".
وقال في باب الحوالة
(2): "نعم إنِ اعترفَ العبد قبلها بالرقِّ، أو صرَّح أحدُ الثلاثة قبلها بالملك، لم تُسمَع بيّنتُهم ولا دعواهم، كما اعتمده [شيخنا]
(3) كشرح شيخنا الرملي، ونقل سماعها مطلقًا؛ لأنَّ الحريّة حقُّ الله تعالى
… " إلخ.
--------------------------------------------
আর যখন এটি স্থিরীকৃত হলো, তখন বর্তমান যুগের অধিকাংশ মানুষের মাঝে সঠিক বিচারবুদ্ধি কোথায়?!
স্বীকৃতির অন্যতম শর্ত হলো জবরদস্তি না থাকা। ফকিহগণ এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যদি জবরদস্তির কোনো আলামত বিদ্যমান থাকে, তবে জবরদস্তির দাবিদারের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে। অধিক অর্থের লোভে কোনো ব্যক্তিকে বিক্রয় করতে ইচ্ছুক বিজয়ী দখলদারের অধীনে থাকা অবস্থাটিই—যামানার ফাসাদ, মানুষের মূর্খতা ও চরম জুলুমের এই প্রেক্ষাপটে—জবরদস্তির একটি স্পষ্ট আলামত হিসেবে যথেষ্ট।
সতর্কীকরণ:
দাসত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দলীলের শর্ত রয়েছে, যেমন বিষয়টি সম্ভবপর হওয়ার আওতাভুক্ত থাকা। সুতরাং যার স্বাধীনতা ও ইসলাম গ্রহণ করার বিষয়টি জানা আছে, তার বিরুদ্ধে দাসত্বের দাবি আদৌ শোনা হবে না।
দাসত্বের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে আরও শর্ত হলো এর পূর্বে স্বাধীনতার কোনো স্বীকৃতি না থাকা, যেমনটি ফকিহগণ 'লাকিত' (কুড়িয়ে পাওয়া শিশু) অধ্যায়ে নির্ধারণ করেছেন।
সুতরাং যখন গ্রহণযোগ্য স্বীকৃতি সাব্যস্ত হলো, তখন কি এর পরে আর কোনো দাবি শোনা হবে?
আল-কালয়ুবি 'বায়উল চিমার' (ফলের ক্রয়-বিক্রয়) অধ্যায়ের ঠিক আগে আল-মাহাল্লির ওপর তাঁর 'হাশিয়া'
(1)-তে বলেছেন: "নিশ্চয়ই তা শোনা হবে না যতক্ষণ না সে এর কোনো সম্ভাব্য দিক ব্যাখ্যা করে; আর ইবনে হাজার বলেছেন: 'আল্লাহ তাআলার হকের খাতিরে তা নিঃশর্তভাবে কবুল করা হবে'।"
এবং তিনি 'হাওয়ালা' (ঋণান্তর) অধ্যায়ে
(2) বলেছেন: "হ্যাঁ, যদি সেই দাস এর আগে দাসত্বের স্বীকারোক্তি দিয়ে থাকে, অথবা তাদের তিনজনের কেউ এর আগে মালিকানার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে থাকে, তবে তাদের প্রমাণ বা দাবি কোনোটিই শোনা হবে না। যেমনটি [আমাদের শায়খ]
(3) আমাদের শায়খ আর-রামলির শারহ-এর ন্যায় প্রামাণ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন; তবে তিনি তা নিঃশর্তভাবে শোনার বিষয়টি বর্ণনা করেছেন; কারণ স্বাধীনতা হলো মহান আল্লাহর হক..." ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৪৯)
فأمَّا إذا بيَّن وجهًا محتملًا فإنها تُقبل جزمًا، كما أشاروا إليه في باب الحوالة.
وأمَّا ما ذكره عن ابن حجرٍ فلم أره لابن حجر فيِ "التُّحفة" بعد الفحص، بل في كلامه ما يفيد خلافه، قال في بابِ الحوالة
(1): "إنَّ عدمَ سماعِها هو الأصحُّ، مع تناقضٍ لهما في مواضع" يعني الشيخين.
وفي "الداغستاني"
(2) في باب الحوالة: "قوله: (أو أقامها العبدُ)، قال في "شرح العباب": قال الجلال البلقيني: لم يذكروا إقرار العبد بالرقِّ، والقياس يقتضي تَعيُّنَ إقامة البيّنة حسبةً؛ لأنَّ إقراره بالرقِّ مُكذِّب لبيِّنتِه، فلا يقيمُها. انتهى. ونُقِل عن الأسنوي ما يوافقه، وعن السبكي والأذرعي ما يخالفه، ويؤيّد كلام الجلال والأسنوي امتناعُ سماعها من المتبايعين إذا صرّحا حين البيع بالملك، فإنّ تصريحهما بالملك نظير تصريح العبد بالملك". انتهى، سم بحذفٍ".
فقوله: "ونقل عن الأسنوي ما يوافقه"، أي: قال بعدم سماعها إلا إن كانت حسبةً.
وقوله: "وعن السبكي والأذرعي ما يخالفه"، أي: قالا بسماعها مطلقًا، كما هو ظاهرٌ.
وأمّا الحسبةُ فإنَّه لا شكَّ فيها أنها تُقام على كلِّ حالٍ.
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে, যদি কোনো সম্ভাব্য দিক ব্যাখ্যা করা হয়, তবে তা নিশ্চিতভাবে (جزمًا) গৃহীত হবে, যেমনটি তারা হাওয়ালা অধ্যায়ে নির্দেশ করেছেন।
আর ইবনে হাজার থেকে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, তা অনুসন্ধানের পর আমি ইবনে হাজারের 'তুহফাত' গ্রন্থে পাইনি; বরং তাঁর কথায় এর বিপরীতটিই বুঝা যায়। তিনি হাওয়ালা অধ্যায়ে বলেছেন
(1): "নিশ্চয়ই তা না শোনা সবচেয়ে সঠিক (الأصحُّ), যদিও বিভিন্ন স্থানে শায়খদ্বয়ের (ইমাম নববী ও ইমাম রাফেয়ী) বক্তব্যের মাঝে বৈপরীত্য রয়েছে।"
আর 'আদ-দাগিস্তানি'
(2) গ্রন্থে হাওয়ালা অধ্যায়ে বর্ণিত: "তাঁর উক্তি: (অথবা দাস তা পেশ করলে), 'শারহুল উবাব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: জালাল আল-বুলকিনি বলেছেন: তারা দাসের দাসত্বের স্বীকারোক্তি উল্লেখ করেননি, আর কিয়াস (القياس) অনুযায়ী হিসবাহ (حسبةً) হিসেবে সাক্ষ্য-প্রমাণ (البيّنة) পেশ করা অবধারিত; কারণ দাসত্বের স্বীকারোক্তি তার সাক্ষ্য-প্রমাণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তাই সে তা পেশ করবে না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আল-আসনাবি থেকে এর সপক্ষের মত বর্ণিত হয়েছে, এবং আস-সুবকি ও আল-আজরয়ি থেকে এর বিপরীত মত বর্ণিত হয়েছে। জালাল ও আল-আসনাবির বক্তব্যকে সমর্থন করে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের পক্ষ থেকে তা শোনা অসম্ভব হওয়া, যখন তারা বিক্রয়ের সময় মালিকানার কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে; কেননা তাদের মালিকানা স্বীকার করা দাসের দাসত্ব স্বীকার করার অনুরূপ।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত), ইবনে কাসিম আল-আব্বাদি সংক্ষেপিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং তাঁর উক্তি: "আল-আসনাবি থেকে এর সপক্ষের মত বর্ণিত হয়েছে", অর্থাৎ: তিনি হিসবাহ (حسبةً) ব্যতীত তা না শোনার কথা বলেছেন।
এবং তাঁর উক্তি: "আর আস-সুবকি ও আল-আজরয়ি থেকে এর বিপরীত মত বর্ণিত হয়েছে", অর্থাৎ: তারা এটি নিঃশর্তভাবে (مطلقًا) শোনার কথা বলেছেন, যেমনটি স্পষ্ট।
আর হিসবাহ (الحسبةُ) সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই যে, তা সর্বাবস্থায় কার্যকর হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৫০)
وفي "المنهاج"
(1): "وتُقبل شهادةُ الحسبة في حقوق الله تعالى، وفيما له فيه حقٌّ مؤكّد كطلاقٍ وعتقٍ
… " إلخ.
وفسَّر الشرَّاح
(2) قوله: "وفيما له حقٌّ مؤكد" بما لا يتأثر برضا الآدمي، ولا شكَّ في أنّ الحريّة كذلك.
إذا علمتَ ما مرّ فإنّ المستَرَقَّ في هذا الزمان إن كان مشهورَ النسب فلا تُسمع دعوى مسترِقِّه أصلًا.
وإن كان مجهولًا لكونه مجلوبًا من قُطرٍ بعيدٍ فالقول قوله بيمينه، ما لم يَسبِق منه إقرارٌ بالرقِّ مستكملٌ للشروط، وهو عزيزٌ جدًّا، لقيام أمارة الإكراه، وعلَّتُه السَّفَهُ. ولو قامت بيّنةٌ أنّ المسترَقَّ قد أقرّ بالحريّة قبل إقراره بالرقّ قُبِلتْ، وأَبطلَتْ إقرارَه بالرقّ.
فأمّا إذا ثبت إقراره المعتبر بالرقِّ ولم يكن مشهور النسب، فهل تُسمَع دعواه الحريّةَ أم لا؟
قد سبق نقل القليوبيِّ عن ابن حجرٍ والرمليّ، ونقلُ ابن قاسم عن السبكيِّ والأذرعي.
وأمّا كلام الجلال البلقيني وموافقةُ الإسنوي له فهو عبَّر بقوله: "والقياس يقتضي
… " إلخ، وكثيرًا ما تُنقَض القواعد ويُخالَف القياس في هذا الباب لخطر شأن الحريّة.
--------------------------------------------
এবং "আল-মিনহাজ"
(১) গ্রন্থে রয়েছে: "আল্লাহ তাআলা-র হকের ক্ষেত্রে এবং যাতে তাঁর সুনিশ্চিত অধিকার রয়েছে, যেমন তালাক ও দাসমুক্তি (عتق)
… ইত্যাদিতে স্বতঃস্ফূর্ত সাক্ষ্য (شهادة الحسبة) গ্রহণ করা হবে।"
ব্যাখ্যাদাতাগণ (الشرَّاح) তাঁর উক্তি— "এবং যাতে তাঁর সুনিশ্চিত অধিকার রয়েছে"—এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এটি এমন বিষয় যা মানুষের সন্তুষ্টির দ্বারা প্রভাবিত হয় না। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, স্বাধীনতা (الحرية) তদ্রূপ।
আপনি যখন ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা জানতে পারলেন, তখন বর্তমান যমানায় কোনো ব্যক্তিকে যদি দাসে (مسترق) রূপান্তরিত করা হয় এবং তার বংশপরিচয় যদি সুপরিচিত (مشهور النسب) হয়, তবে তাকে দাস হিসেবে দাবিদার ব্যক্তির দাবি আদপে শ্রবণযোগ্য হবে না।
আর যদি দূরবর্তী কোনো অঞ্চল থেকে নিয়ে আসার কারণে সে অপরিচিত (مجهول) হয়, তবে শপথের (يمين) ভিত্তিতে তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে; যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে দাসত্বের শর্তসাপেক্ষ কোনো স্বীকৃতি (إقرار) ইতিপূর্বে প্রকাশ পায়। আর এটি অত্যন্ত বিরল (عزيز جدًّا), কারণ এখানে জবরদস্তির আলামত (أمارة) বিদ্যমান এবং এর কারণ হলো নির্বুদ্ধিতা (سفه)। আর যদি এমন কোনো প্রমাণ (بينة) বিদ্যমান থাকে যে, দাস হিসেবে দাবি করা ব্যক্তিটি তার দাসত্বের স্বীকৃতির পূর্বে নিজের স্বাধীনতার (الحرية) স্বীকৃতি দিয়েছিল, তবে তা গ্রহণ করা হবে এবং তার দাসত্বের স্বীকৃতি বাতিল হয়ে যাবে।
পক্ষান্তরে, যদি দাসত্বের ব্যাপারে তার গ্রহণযোগ্য স্বীকৃতি (إقرار) প্রমাণিত হয় এবং সে সুপরিচিত বংশপরিচয়ের (مشهور النسب) না হয়, তবে তার স্বাধীনতার (الحرية) দাবি শ্রবণযোগ্য হবে কি না?
ইবনে হাজার ও রামলি থেকে কালিউবি-র বর্ণনা এবং সুবকি ও আজরয়ি থেকে ইবনে কাসিমের বর্ণনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আর জালাল আল-বুলকিনির বক্তব্য এবং তাঁর সাথে আল-ইসনাভি-র ঐকমত্যের বিষয়টি হলো, তিনি এভাবে ব্যক্ত করেছেন: "এবং কিয়াস (القياس) দাবি করে যে
… " ইত্যাদি। স্বাধীনতার (الحرية) বিষয়টির গুরুত্বের কারণে প্রায়শই এই অধ্যায়ে মূলনীতিসমূহ ভঙ্গ করা হয় এবং কিয়াসের (القياس) বিরোধিতা করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৫১)
وبما قرَّرناه تبيّن أن الإقرار بالرقِّ لا حكمَ له، لغلبةِ السفه وعدم المعرفة، وقيامِ أمارة الإكراه، مع غلبة الحريةِ ــ وهي الأصلُ ــ ونُدورِ الرقّ المتيقّن.
فعليه كلُّ مُسْتَرقٍّ ادَّعى الحريةَ فالقول قوله بيمينه، سواء سبقَ منه إقرارٌ بالرقِّ أمْ لا، إلاّ أن يقيم مُسْترِقُّه بيّنةً برقِّه، فإن أقامها ثبت الرقُّ إلاّ أن تقوم بيّنةٌ بالحريّة، سواء أقامها العبدُ ــ على ما مرّ عن السبكي، ونقله (ق ل) عن ابن حجرٍ والرملي، ومرّ توجيهُه ــ أم أُقيمتْ حسبةً، فإنّ بيّنةَ الحريّة تُقَدَّمُ على بيّنةِ الرقيّة، على ما نقله الهروي عن الأصحاب، ويتّجه ترجيحُه لفسادِ الزمان وكثرةِ العدوان، وغلبةِ الحريّة ــ وهي الأصلُ ــ ونُدورِ الرقِّ.
وأيُّ إنسانٍ جلب مُسترَقًّا فالأحوط للمشتري أن لا يشتريه إلا بعد إخبار موثوقٍ بأنّه مملوكٌ حقًّا، وإلّا فاللازمُ عليه أنْ يشتريَه بخيار الشرط، ثم يؤمِّنه ويطمئنه [ ....... ]
(1)، ويُسكِّن فَزَعه، ويقول له: إن كنتَ حُرًّا فأنت آمِنٌ ضامنٌ، وأنا أقبِضُ منهم دراهمي، وأحمِيْك منهم، وأمنعُهم عن التعرُّض لك، ثم إن أحببتَ البقاء لديَّ وإلّا أرجعتُك إلى أهلك مع مَن أَثِقُ به. وإن كنتَ مملوكًا فلا تكذِبْ.
فإن قال: أنا حُرٌّ، لزِمَه رفعُه إلى الحاكم للبحث عنه، ولا يُسْلِمه إلى جالبِه.
وإنْ قال: بل أنا مملوكٌ، فلا بأسَ أنْ يشتريَه معتمدًا على ظاهر اليد مع إقراره، بعد تأمينه وتَطْمِينه.
--------------------------------------------
আমরা যা সাব্যস্ত করেছি তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, দাসত্ব স্বীকার করার আইনি কোনো ভিত্তি (حكم) নেই; কারণ মানুষের নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞতার প্রাবল্য, জবরদস্তির নিদর্শনের উপস্থিতি এবং স্বাধীনতার সাধারণ অবস্থা—যা মূল ভিত্তি (أصل)—এর বিপরীতে নিশ্চিত দাসত্বের বিরলতা।
অতএব, যাকে দাস হিসেবে পেশ করা হয়েছে এমন কেউ যদি স্বাধীনতার দাবি করে, তবে শপথসহ তার কথাই গৃহীত হবে; চাই ইতিপূর্বে তার পক্ষ থেকে দাসত্বের স্বীকৃতি (إقرار) আসুক বা না আসুক। তবে যদি তার দাবিদার ব্যক্তি তার দাসত্বের সপক্ষে প্রমাণ (بيّنة) উপস্থাপন করতে পারে [তবে ভিন্ন কথা]। যদি সে প্রমাণ পেশ করে তবে দাসত্ব সাব্যস্ত হবে, যতক্ষণ না স্বাধীনতার সপক্ষে কোনো প্রমাণ (بيّنة) উপস্থিত হয়; চাই সেই প্রমাণটি দাস নিজেই উপস্থাপন করুক—যেমনটি সুবকি থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং 'ক্ব ল' (ক্বলিউবি ও উমাইরাহ) ইবনে হাজার ও রামলি থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং যার যৌক্তিকতা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে—অথবা তা পরোপকারের (حسبة) উদ্দেশ্যে পেশ করা হোক। কেননা স্বাধীনতার প্রমাণকে (بيّنة) দাসত্বের প্রমাণের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়, যেমনটি হারাবি আসহাব বা ইমামগণ থেকে বর্ণনা করেছেন। জামানার ফাসাদ (নষ্ট হওয়া) ও অন্যায়ের আধিক্য এবং স্বাধীনতার সাধারণ অবস্থা—যা মূল ভিত্তি (أصل)—ও দাসত্বের বিরলতার কারণে এই মতটিকেই অগ্রাধিকার (ترجيح) দেওয়া সমীচীন।
কোনো ব্যক্তি যদি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কাউকে দাস হিসেবে নিয়ে আসে, তবে ক্রেতার জন্য সতর্কতা হলো, কোনো নির্ভরযোগ্য (موثوق) ব্যক্তির নিকট থেকে সে যে প্রকৃতই মালিকানাধীন সেই সংবাদ নিশ্চিতভাবে না পাওয়া পর্যন্ত তাকে ক্রয় না করা। অন্যথায় ক্রেতার জন্য আবশ্যক হলো তাকে শর্তের ইখতিয়ার (خيار الشرط) সহকারে ক্রয় করা, অতঃপর তাকে আশ্বস্ত ও নিরাপদ বোধ করানো [ ....... ]
(1), তার আতঙ্ক দূর করা এবং তাকে এই বলা: "যদি তুমি স্বাধীন হয়ে থাকো তবে তুমি নিরাপদ ও জিম্মাদারিতে আছ। আমি তাদের কাছ থেকে আমার দিরহাম (টাকা) বুঝে নেব এবং তোমাকে তাদের থেকে রক্ষা করব ও তাদের হস্তক্ষেপ থেকে তোমাকে হেফাযত করব। এরপর তুমি চাইলে আমার কাছে থাকতে পারো, অন্যথায় আমি তোমাকে তোমার পরিবারের কাছে এমন একজনের সাথে পাঠিয়ে দেব যাকে আমি বিশ্বাস (أثق) করি। আর যদি তুমি প্রকৃতপক্ষে দাস হয়ে থাকো তবে মিথ্যা বলো না।"
যদি সে বলে: "আমি স্বাধীন", তবে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য বিচারকের (حاكم) নিকট উত্থাপন করা আবশ্যক এবং তাকে সেই ব্যক্তির নিকট ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না যে তাকে নিয়ে এসেছে।
আর যদি সে বলে: "বরং আমি দাস", তবে তাকে আশ্বস্ত ও শান্ত করার পর তার স্বীকৃতির (إقرار) পাশাপাশি বাহ্যিক দখল বা মালিকানার নিদর্শনের (ظاهر اليد) ওপর নির্ভর করে তাকে ক্রয় করতে কোনো বাধা নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৫২)
والحذرَ ثم الحذرَ من التساهل في هذا، فإنَّه من أخطر الخطر، كيف وما يترتَّبُ عليه من المفاسد كثيرٌ؟ ! كالتسرّي واسترقاق الأولاد، إلى غير ذلك.
والنظرُ لمولانا أميرِ المؤمنين، مُقيمِ أَوَدِ الدين، المجتهد المطلق، سيّدنا الإمام محمد بن عليِّ بن إدريس، حفظه اللهُ تعالى، آمين.
وقد كنتُ أردتُ نقلَ عباراتِ شُرَّاح "المنهاج" و"المنهج" و"الحواشي" في باب الإقرار، والحَجْر، والحوالةِ، واللقيط، والدعاوي والشهادات، فلم تُساعدني العزيمةُ، ورأيتُ الذي أوردتُ كافيًا. وحسبنا الله ونعم الوكيل.
এই বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শনের ব্যাপারে সতর্কতা, অতঃপর পরম সতর্কতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়; কেননা এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়। কেনই-বা নয়, অথচ এর ফলে অসংখ্য অনিষ্ট সাধিত হতে পারে? যেমন—দাসী হিসেবে গ্রহণ করা এবং সন্তানদের দাসে পরিণত করা ইত্যাদি।
এবং (এই বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ) আমাদের অভিভাবক আমীরুল মুমিনীন, দ্বীনের বক্রতা দূরকারী, মুজতাহিদ মুতলাক (المجتهد المطلق), আমাদের নেতা ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইদ্রিস—আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাযত করুন, আমীন—এর ওপর ন্যস্ত।
আমি ‘মিনহাজ’, ‘মানহাজ’ এবং ‘হাওয়াশি’-এর ব্যাখ্যাকারগণের বক্তব্যসমূহ স্বীকারোক্তি, নিষেধাজ্ঞা, দায় স্থানান্তর, কুড়িয়ে পাওয়া শিশু, দাবি এবং সাক্ষ্য অধ্যায় থেকে উদ্ধৃত করতে চেয়েছিলাম; কিন্তু মানসিক সংকল্প অনুকূলে ছিল না এবং আমি যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট মনে করেছি। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৫৩)
(2)بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي لا إله إلا هو، والصلاة والسلام على نبيّه ورسوله محمدٍ وآله وصحبه.
وبعدُ، فإنَّ هذا الزمانَ لا يخفى فيه ضياعُ حقوق الله تعالى بين الناس، وفُشوُّ السوء والفحشاء ما بينهم، ومن ذلك ما شاع من بيع الأحرار، وإكراهِهم على الإقرار، أو ترغيبهم بعضهم ببعضِ الثمن وإطماعِه بالهربِ، وبعضهم رغَّبه في تحمُّل مُؤْنتِه ومعيشته واستراحتِه من الطلب والتعب، وربّما حضر إلى بعض الحكام ذلك المقِرُّ فادَّعى الحريّة، أو جاءت شهادةُ حِسبةٍ، فلم يسمعها اعتمادًا على ظاهر كلام أهل المذهب.
وأنا أنقلُ هنا بعضَ ما يلوحُ بالمسألةِ من كلام "المنهاج" و"التُحفة" و"الحاشية" للشِّرواني.
في الإقرار
(1):
(يصحُّ) الإقرار (من مطلق التصرّف) أي: المكلّف الرشيد
… إلخ.
وفي باب اللقيط
(2):
(إذا لم يُقرّ اللقيطُ برِقٍّ فهو حرٌّ، إلا أنْ يقيم أحدٌ بينةً لرقّه، وإنْ أقرَّ به) أي: الرقّ، وهو مكلَّفٌ، وعن ابن عبد السلام ما يقتضي اعتبارَ رشده أيضًا،
--------------------------------------------
(2)পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী ও রাসূল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর, বর্তমান সময়ে মানুষের মাঝে মহান আল্লাহর হকসমূহ নষ্ট হওয়া এবং তাদের মধ্যে মন্দ ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি গোপন নয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো স্বাধীন মানুষকে বিক্রয় করা এবং তাদেরকে (দাসত্বের) স্বীকৃতির (إقرار) জন্য বাধ্য করা, অথবা মূল্যের একাংশ প্রদানের লোভ দেখিয়ে পলায়নে প্রলুব্ধ করা। আবার কেউ কেউ তাদের ভরণপোষণ, জীবনযাপন এবং মেহনত ও ক্লান্তি থেকে বিশ্রামের আশা দেখিয়ে প্রলুব্ধ করে। কখনো কখনো বিচারকের কাছে এমন কোনো স্বীকৃতি প্রদানকারী (مقر) উপস্থিত হয় যে নিজের স্বাধীনতার দাবি করে, অথবা কোনো হিসবাহ (حسبة) সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়, কিন্তু বিচারক মাযহাবের আলিমগণের বাণীর বাহ্যিক দিকের ওপর নির্ভর করে তা গ্রহণ করেন না।
আমি এখানে "মিনহাজ", "তুহফা" এবং শিরওয়ানির "হাশিয়াহ" থেকে এই মাসআলা সংক্রান্ত কিছু উদ্ধৃতি সংকলন করছি।
স্বীকৃতি (إقرار)
(1) অধ্যায়ে:
(বৈধ হবে) স্বীকৃতি (পূর্ণ এখতিয়ারের অধিকারী ব্যক্তির পক্ষ থেকে) অর্থাৎ: শরয়ি বিধানে দায়বদ্ধ (مكلف) ও বুদ্ধিমান (رشيد)... ইত্যাদি।
পরিত্যক্ত শিশু (لقيط)
(2) অধ্যায়ে:
(যদি পরিত্যক্ত শিশু নিজেকে দাস হিসেবে স্বীকার না করে, তবে সে স্বাধীন; যতক্ষণ না কেউ তার দাসত্বের ওপর কোনো সুষ্পষ্ট প্রমাণ (بينة) পেশ করে। আর যদি সে তার অর্থাৎ দাসত্বের স্বীকৃতি (إقرار) দেয়) এবং সে শরয়ি বিধানে দায়বদ্ধ (مكلف) হয়—আর ইবন আবদুস সালাম থেকে এমন বক্তব্যও বর্ণিত হয়েছে যা তার বুদ্ধিদীপ্ততা (رشد) বিবেচনারও দাবি রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৫৪)
وظاهر كلامهم خلافُه. (لشخصٍ فصدَّقه قُبِل إن لم يسبق إقراره) أي: اللقيط (بحريّةٍ) كسائر الأقارير، بخلافِ ما إذا أكذبه، وإنْ صدَّقه بعدُ أو سبق إقراره وهو مكلَّفٌ؛ لأنّه به التزمَ أحكام الإقرار المتعلّقة بحقوق الله تعالى والعبادِ، فلم يقدر على إسقاطها.
وفي الحاشية
(1): "اعتمده المغني والسيد عمر، ومال إليه ابن قاسم".
عبارةُ المغني: تنبيهٌ: سكتوا عن اعتبار الرشد في المقر ههنا، وينبغي ــ كما قال الزركشي ــ اعتباره كغيره من الأقارير، فلا يقبل اعتراف الجواري بالرقّ كما حكي عن ابن عبد السلام؛ لأنَّ الغالب عليهنَّ السفه وعدم المعرفة، قال الأذرعيُّ: "وهذه العلّة موجودة في غالب العبيد، لا سيما من قرُب عهده بالبلوغ".
وعبارة السيد عمر: "قوله: فظاهر كلامهم خلافه، قد يقالُ: إنَّما سكتوا عن هذا اكتفاءً بذكره في نظائره، إذِ الغالبُ استيعاب الشروط إنما يكون في الباب المعقود أصالةً لبيان ذلك الحكم كباب الإقرار هنا، ثم رأيتُ المحشي قال: قوله: "اعتبار رشده" قد يؤيّده أنه إقرار بمالٍ، وشرطه الرشدُ، اللهم إلا أن يمنع أن الإقرار بالرقِّ ليس من الإقرار بالمال، وإن ترتّبَ عليه المال، انتهى.
وهو إشارةٌ إلى ما نبَّهنا عليه، وأمَّا قوله: "اللهم إلّا
… إلخ" فلا يخفى ما فيه من البعد بل المكابرة، إذْ لا معنى لقوله: أنا عبده أو نحوه إلا أنا مملوكٌ له، وهو نصٌّ في المالية. هـ.
--------------------------------------------
তাদের বক্তব্যের বাহ্যিক রূপ এর পরিপন্থী। (কোনো ব্যক্তির দাবির প্রেক্ষিতে যদি সে তাকে সত্যয়ন করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য (قُبِل) হবে যদি তার পূর্ববর্তী কোনো স্বীকারোক্তি (إقرار) না থাকে) অর্থাৎ: কুড়িয়ে পাওয়া শিশু (لقيط) স্বাধীনতার (بحريّةٍ) বিষয়ে অন্যান্য স্বীকারোক্তির ন্যায়। তবে সে যদি তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে তা ভিন্ন। আর যদি সে তাকে পরবর্তীতে সত্যয়ন করে কিংবা তার পূর্বে কোনো স্বীকারোক্তি থেকে থাকে এমতাবস্থায় যে সে শরয়ি বিধান পালনের দায়বদ্ধ (مكلَّفٌ); কারণ এর মাধ্যমে সে মহান আল্লাহ ও বান্দার হকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্বীকারোক্তির বিধানসমূহ নিজের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছে, ফলে সে তা বাতিল করতে সক্ষম হবে না।
পাদটীকায়
(১) রয়েছে: "মুগনি এবং সায়্যিদ উমর একে নির্ভরযোগ্য (اعتمده) হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে কাসিম এর প্রতি ঝুঁকেছেন।"
মুগনির বক্তব্য: সতর্কতা: এখানে স্বীকারোক্তি প্রদানকারীর বিচক্ষণতা (الرشد) বিবেচনার বিষয়ে তাঁরা নিরবতা পালন করেছেন; অথচ ইমাম যারকাশি যেমনটি বলেছেন, অন্যান্য স্বীকারোক্তির ন্যায় এখানেও তা বিবেচনা করা বাঞ্ছনীয়। সুতরাং দাসীদের দাসত্বের (الرقّ) স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হবে না, যেমনটি ইবনে আব্দুস সালাম থেকে বর্ণিত হয়েছে; কারণ তাদের ওপর সাধারণত নির্বুদ্ধিতা ও জ্ঞানের অভাবই প্রবল থাকে। আজরয়ি বলেছেন: "এই কারণটি অধিকাংশ দাসের মধ্যে বিদ্যমান, বিশেষ করে যাদের সাবালকত্বের (البلوغ) সময় নিকটবর্তী।"
সায়্যিদ উমরের বক্তব্য: "তাঁর কথা: 'তাদের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক এর বিপরীত', এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে: তাঁরা এ বিষয়ে নিরবতা অবলম্বন করেছেন কেবল এর সমজাতীয় মাসআলাগুলোতে এর উল্লেখ থাকায় সন্তুষ্ট হয়ে। কারণ সাধারণত শর্তাবলীর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সেই অধ্যায়েই করা হয় যা মূলত সেই বিধান বর্ণনার জন্য প্রণীত, যেমন এখানে স্বীকারোক্তি অধ্যায়। অতঃপর আমি টীকাকারকে বলতে দেখেছি: তাঁর কথা: 'তার বিচক্ষণতা (রشد) বিবেচনা করা', এটি এই যুক্তিতে সমর্থিত হতে পারে যে এটি সম্পদের স্বীকারোক্তি, আর এর শর্ত হলো বিচক্ষণতা (الرشد)। তবে যদি কেউ এটি অস্বীকার করে যে দাসত্বের স্বীকারোক্তি সম্পদের স্বীকারোক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও এর ফলে সম্পদের বিষয় অবধারিত হয়। সমাপ্ত।"
এটি আমরা যে বিষয়ে সতর্ক করেছি তারই ইঙ্গিত। আর তাঁর কথা: 'তবে যদি... ইত্যাদি', এর মধ্যকার অসারতা বরং হঠকারিতা গোপন নয়। কারণ, 'আমি তার দাস' বা এই জাতীয় কথার অর্থ এটিই যে 'আমি তার মালিকানাধীন (مملوك)', যা আর্থিক বিষয়ের একটি অকাট্য ভাষ্য (نصّ)। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৫৫)
وفي الشرح
(1) بعد: ولو أقرَّ بالرقِّ لمعيَّنٍ ثم بحريّةِ الأصل لم تسمع، لكن إن كان حالَ الإقرار الأول رشيدًا، على ما مرَّ.
وقال في بابِ الحجر
(2):
(حجر الصبيِّ يرتفع ببلوغه رشيدًا) لقوله تعالى: {فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا} [النساء: 6]
… إلى (والرشدُ صلاح الدين والمال) معًا، كما فسَّر به ابن عباسٍ وغيره الآيةَ السابقة، ووجه العموم فيه مع أنه نكرةٌ مثبتةٌ وقوعُه في سياق الشرط.
[وفي الدعاوي]
(3):
(ولو ادُّعيَ رقُّ بالغٍ) عاقلٍ مجهول النسب ولو سكرانَ (فقال: أنا حرٌّ) في الأصلِ، ولم يكن قد أقرَّ له بالملك، قيل: وهو رشيدٌ على ما مرَّ قبيل الجعالة (فالقولُ قولُه).
وفي الشهادات
(4):
(وتُقبل شهادة الحسبة في حقوق الله تعالى وفيما له فيه حقٌّ مؤكَّدٌ) وهو ما لا يتأثَّر برضا الآدمي
… إلى أنْ قال: وإنما تُسمَع عند الحاجة إليها حالًا، كأخيها رضاعًا وهو يريدُ أنْ ينكحها، أو أعتقه وهو يريدُ أن يسترِقَّه (كطلاقٍ وعتقٍ وعفْوٍ عن قصاصٍ، وبقاء عدّةٍ وانقضائها، وحدٍّ له تعالى).
--------------------------------------------
এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থে
(১) আরও রয়েছে: যদি কেউ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির অনুকূলে নিজের দাসত্বের (رق) স্বীকৃতি দেয়, অতঃপর মূলগত স্বাধীনতার (حرية الأصل) দাবি করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তবে শর্ত হলো, প্রথম স্বীকৃতির সময় সে যদি বিচক্ষণ (رشيد) হয়ে থাকে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
এবং নিষেধাজ্ঞা (حجر) অধ্যায়ে বলা হয়েছে
(২):
(বালকের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তার বিচক্ষণ (رشيد) অবস্থায় বালেগ হওয়ার মাধ্যমে অপসারিত হয়); মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {যদি তোমরা তাদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতা (رشد) দেখতে পাও} [নিসা: ৬] ... (এবং রুশদ বা পরিপক্কতা হলো দ্বীন ও মালের সংশোধন) একত্রে, যেমনটি ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যগণ পূর্বোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় করেছেন। আর শব্দটি ইতিবাচক অনির্দিষ্ট (نكرة مثبتة) হওয়া সত্ত্বেও এখানে ব্যাপক অর্থবোধক হওয়ার কারণ হলো এটি শর্তের প্রেক্ষাপটে (سياق الشرط) এসেছে।
[এবং দাবি (دعاوى) অধ্যায়ে রয়েছে]
(৩):
(যদি কোনো প্রাপ্তবয়স্ক), সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও অজ্ঞাত বংশপরিচয় বিশিষ্ট ব্যক্তির দাসত্বের (رق) দাবি করা হয়—এমনকি সে মাতাল হলেও—(অতঃপর সে বলে: আমি মূলগতভাবে স্বাধীন (حر)), অথচ ইতিপূর্বে সে তার মালিকানার কোনো স্বীকৃতি দেয়নি; বলা হয়েছে: এমতাবস্থায় সে যদি বিচক্ষণ (رشيد) হয় যেমনটি জুআলা অধ্যায়ের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তবে (তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে)।
এবং সাক্ষ্য (شهادات) অধ্যায়ে রয়েছে
(৪):
(আল্লাহ তাআলার হকের ক্ষেত্রে এবং যাতে তাঁর সুনিশ্চিত হক (حق مؤكد) রয়েছে, সেখানে হিযবাহ সাক্ষ্য (شهادة الحسبة) কবুল করা হয়)। আর এটি এমন বিষয় যা কোনো মানুষের সন্তুষ্টির দ্বারা প্রভাবিত হয় না... তিনি আরও বলেছেন: এটি কেবল তখনই শোনা হবে যখন তাৎক্ষণিক প্রয়োজন দেখা দেবে; যেমন কোনো নারীর দুগ্ধপানীয় (رضاع) ভাই হওয়া সত্ত্বেও সে তাকে বিবাহ করতে চাচ্ছে, অথবা কাউকে মুক্ত (عتق) করে দেওয়ার পর পুনরায় তাকে দাস বানাতে চাচ্ছে (যেমন তালাক, দাসমুক্তি (عتق), কিসাস (قصاص) থেকে ক্ষমা, ইদ্দত (عدة) অবশিষ্ট থাকা বা শেষ হওয়া এবং আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত দণ্ডবিধির (حد) ক্ষেত্রে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৫৬)
وفي الحاشية على (كطلاقٍ) أي: لأنَّ المكلَّف فيه حقّ الله تعالى، بدليل أنه لا يرتفع بتراضي الزوجين أسنى. هـ
نعم في "بغية المسترشدين"
(1) في الحجر عن الأشخر: مذهب الشافعيّ أن الرشد صلاح المال والدين، بأن لا يرتكبَ محرمًا مبطلًا للعدالة، ومنه أن تغلب طاعاتُه صغائره، إلى أن ذكر وجهًا آخر حكاه عن البعض وتجوّز فيه المتأخرون تيسيرًا، قال: وهو شاذٌّ.
وفي باب الخلع
(2) عن الأشخر أيضًا: هذا إذا قلنا بمذهب الشافعي أن الرشد صلاح الدين والمال، أمَّا إذا قلنا بالوجه الشاذّ أنه صلاح المال
… إلخ
وفيه
(3) عن بافقيه: ومعلومٌ أن الرشد على المذهبِ أن تبلغ مصلحة لدينها ودنياها
… إلخ.
وفي فتاوي ابن زياد
(4):
مسألةٌ: عبد مسلمٌ بالغٌ رشيدٌ تحت يد مالكٍ مقرٍّ له بالملك مستخدم مستفاض بين الناس أنه عبدُه، ثم أعتقه السيد بحضرة بعض العلماء عتقًا صحيحًا، فانتقل العتيق إلى بلدٍ أخرى وأقرَّ أنَّه مِلْكٌ لشخصٍ آخر، لم يُقْبل إقراره بعد ثبوت العتق،
… إلخ.
--------------------------------------------
এবং (তালাকের ন্যায়) এর উপর লিখিত টীকা বা হাশিয়াতে বলা হয়েছে: অর্থাৎ কারণ এতে শরিয়ত কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির (مكلَّف) ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর হক বা অধিকার রয়েছে। এর প্রমাণ হলো স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতিতে এটি রহিত হয় না। আসনা। (সমাপ্ত)।
হ্যাঁ, "বুগয়াতুল মুস্তারশিদিন"
(১)-এ 'হাজর' (অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা) অধ্যায়ে আল-আশখার থেকে বর্ণিত হয়েছে: শাফেয়ী মাজহাব মতে 'রুশদ' (বিচক্ষণতা) হলো সম্পদ ও দ্বীনের শুদ্ধতা (صلاح), যা অর্জিত হয় এমন কোনো হারাম কাজে লিপ্ত না হওয়ার মাধ্যমে যা তার ন্যায়পরায়ণতাকে (عدالة) নষ্ট করে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো তার আনুগত্য বা ইবাদতসমূহ যেন ছোট গুনাহের (صغائر) ওপর প্রবল থাকে। এরপর তিনি অন্য একটি অভিমত (وجه) উল্লেখ করেছেন যা তিনি কারো কারো থেকে বর্ণনা করেছেন এবং পরবর্তী যুগের আলেমগণ (متأخرون) সহজীকরণের লক্ষ্যে এর অবকাশ দিয়েছেন; তিনি বলেছেন: আর এটি একটি বিরল (شاذّ) মত।
এবং খুলা অধ্যায়ে
(২) আল-আশখার থেকে আরও বর্ণিত: এটি তখন প্রযোজ্য হবে যখন আমরা শাফেয়ী মাজহাব অনুযায়ী বলব যে, 'রুশদ' হলো দ্বীন ও সম্পদের শুদ্ধতা (صلاح)। তবে যদি আমরা বিরল অভিমত (وجه شاذّ) অনুযায়ী বলি যে এটি কেবল সম্পদের শুদ্ধতা... ইত্যাদি।
এবং তাতে
(৩) বা-ফাকিহ থেকে বর্ণিত: এটি সুবিদিত যে, মাজহাব অনুযায়ী 'রুশদ' বা বিচক্ষণতা হলো সে তার দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণে পৌঁছাবে... ইত্যাদি।
এবং ইবনে যিয়াদের ফতোয়া গ্রন্থে
(৪) রয়েছে:
মাসআলা: একজন মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও বিচক্ষণ (رشيد) ক্রীতদাস এমন এক মালিকের অধীনে রয়েছে যে তার মালিকানার স্বীকৃতি দেয়, তাকে সেবায় নিযুক্ত রাখে এবং মানুষের মাঝে এটি ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধ (مستفاض) যে সে তার গোলাম। অতঃপর মালিক কিছু আলেমদের উপস্থিতিতে তাকে বিশুদ্ধ (صحيح) পন্থায় মুক্ত করে দিলেন। এরপর মুক্ত ব্যক্তিটি অন্য দেশে চলে গেল এবং স্বীকারোক্তি দিল যে সে অন্য এক ব্যক্তির মালিকানাধীন। তবে মুক্তি সাব্যস্ত হওয়ার পর তার এই স্বীকারোক্তি (إقرار) গ্রহণ করা হবে না... ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৫৭)
وفي الحجر
(1):
مسألةٌ: الرشدُ صلاح الدين والمال، هذا مذهب إمامنا الشافعيِّ رحمه الله، وفي وجهٍ حكاه المتولّي
… إلخ.
إذا تقرر ما نقلناه وعرفتَ أحوال الناس اليوم في بيع الجواري اتَّجه الجزمُ بسماع البيّنةِ على الحريّةِ؛ لأنَّ حقوق الله المتعلّقةِ بها عظيمةٌ، وكم مفاسد تترتب على الرقِّ.
وتبيَّن مما نقل عن "المغني" والسيد عمر وابن قاسم عن الزركشي والشيخ عزّ الدين بن عبد السلام سلطان العلماء وغيرهم أن الرشد هنا معتبرٌ كسائر الأقارير.
أمَّا حُجَّةُ من لم يشترطه فإنَّما هو مجرد إطلاقهم أنَّ الأصحاب .... ، وقد تبيّن أن إطلاقهم إنّما هو اكتفاء بذكره في أصل المسألة ونظَائرها، وذلك باب الإقرار. وكون الإقرار هنا إقرارًا بمالٍ لا يُمْتَرى فيه.
وأمَّا كون الرشد مُعتبرًا في الدين فهو المذهبُ، وإنَّما تجوَّز فيه بعضُ المتأخرين تيسيرًا، وينبغي أنْ يعتبر التيسير قبل ادِّعاء المبيع الحريَّةَ، أو ورود شهادة الحسبة، وأمَّا عندهما ففيه تفويتٌ لحقوق الله تعالى، وخوضٌ في الأوحال، على أنَّ الحسبةَ الظاهرُ سماعُها هنا؛ لكون الغالب فيه حقّ الله تعالى، إذْ لا ترتفع الحرية بالتراضي كما لا يرتفع الطلاق.
وأمَّا الرشدُ في الجواري والعبيد اليوم فمفقود؛ إذْ لا تُعرف منهم صلاة ولا صيام بل ولا ذِكرُ الله تعالى إلا نادرًا، مع جهلهم بما يترتب على
--------------------------------------------
আল-হজর (হস্তান্তর রোধ) সংক্রান্ত অধ্যায়ে
(১):
মাসয়ালা: বিচক্ষণতা (الرشد) হলো দ্বীন ও সম্পদের সঠিক পরিচালনা। এটি আমাদের ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর মাযহাব। আল-মুতাওয়াল্লী কর্তৃক বর্ণিত একটি অভিমত (وجه) অনুযায়ী... ইত্যাদি।
আমরা যা উদ্ধৃত করেছি তা যদি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানকালে দাসী বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মানুষের অবস্থা যদি আপনার জানা থাকে, তবে স্বাধীনতার স্বপক্ষে সাক্ষ্য (البينة) গ্রহণ করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা সমীচীন; কারণ এর সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর হকসমূহ অত্যন্ত মহান, আর দাসত্বের কারণে অনেক অনিষ্ট সংঘটিত হয়।
“আল-মুগনি”, আস-সাইয়্যিদ উমর এবং ইবনে কাসিম কর্তৃক আয-যারকাশি ও সুলতানুল উলামা শেখ ইযযুদ্দিন ইবনে আব্দুস সালাম ও অন্যদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, অন্যান্য সকল স্বীকারোক্তির (الأقارير) মতো এখানেও বিচক্ষণতা (الرشد) ধর্তব্য (معتبر)।
পক্ষান্তরে, যারা একে শর্ত হিসেবে গণ্য করেননি তাদের দলিল হলো ফকিহদের (الأصحاب) সাধারণ বর্ণনা (إطلاق)...। তবে এটি স্পষ্ট যে, তাদের সাধারণ বর্ণনা মূলত মূল মাসয়ালা ও এর সদৃশ বিষয়সমূহে এর উল্লেখের ওপর নির্ভর করার কারণে হয়েছে, আর তা হলো স্বীকারোক্তি (الإقرار) অধ্যায়। আর এখানকার স্বীকারোক্তিটি যে সম্পদ সংক্রান্ত স্বীকারোক্তি, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
আর দ্বীনের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা (الرشد) ধর্তব্য (معتبر) হওয়াটাই মাযহাবের সিদ্ধান্ত। পরবর্তী যুগের (المتأخرين) কিছু আলেম সহজীকরণের (تيسيرًا) উদ্দেশ্যে এতে নমনীয়তা প্রদর্শন করেছেন। তবে বিক্রিত দাসের স্বাধীনতার দাবি বা হিসবাহর সাক্ষ্য (شهادة الحسبة) উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই সহজীকরণ বিবেচনা করা বাঞ্ছনীয়। অন্যথায়, এ দুটির উপস্থিতিতে আল্লাহর হকসমূহ নষ্ট হওয়ার এবং পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হওয়ার পথ তৈরি হয়। অধিকন্তু, এখানে হিসবাহ (الحسبة) গ্রহণ করাই স্পষ্ট; কারণ এতে আল্লাহর হকই প্রবল। কেননা পারস্পরিক সম্মতিতে যেমন স্বাধীনতা বিলুপ্ত হয় না, তেমনি তালাকও রহিত হয় না।
আর বর্তমানে দাস-দাসীদের মধ্যে বিচক্ষণতা (الرشد) অনুপস্থিত (مفقود); কারণ তাদের মধ্যে নামায, রোজা এমনকি আল্লাহর যিকরও কদাচিৎ ছাড়া পরিলক্ষিত হয় না। এর পাশাপাশি তারা এর পরিণাম সম্পর্কেও অজ্ঞ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৫৮)
استرقاقهم من المفاسد، وإنما عامَّة قصدهم أن يستريحوا من طلب المعاش، وهذا مع استخفاف الناس بالمسألة وجرأتهم عليها، فطالما باعوا الأحرار وأكرهوهم على الإقرار، أو رغَّبوهم بمالٍ وأطمعوهم بالفرار، أو رغَّبوا في استراحتهم من الكدِّ والتَّعبِ في طلبِ المعاش بحمل المشتري لِمُؤنتهم، ولاسيَّما إذا كان من الأغنياء.
وقد قيل في الأعجمي الذي يرى وجوبَ طاعةِ أميره: إنَّ حكمه مأمورًا كحُكْمه مُكْرهًا، ولا يبعد قياس هؤلاء عليه.
وللإمام ــ أيَّده الله تعالى ــ النظرُ والجزمُ بما تبرأ به الذمَّةُ؛ إذِ الدينُ قِلادةٌ في عُنُقه، وهو بحمد الله من العلم والتحقيق بمرتبةِ الاجتهاد، والحقُّ أحقُّ أنْ يُتَّبع، ولا يرفع الحقَّ كلامُ أحد إلا الله ورسوله. واللهُ أعلمُ.
তাদের দাসে পরিণত করা নানাবিধ অনিষ্টের (مفاسد) অন্তর্ভুক্ত; প্রকৃতপক্ষে তাদের অধিকাংশের উদ্দেশ্য হলো জীবিকা অন্বেষণের পরিশ্রম থেকে মুক্তি পাওয়া। এই বিষয়ের প্রতি মানুষের তুচ্ছজ্ঞান ও দুঃসাহসের কারণে তারা দীর্ঘকাল যাবত স্বাধীন ব্যক্তিদের বিক্রয় করে আসছে এবং তাদেরকে (দাসত্বের) স্বীকারোক্তি প্রদানে বাধ্য করছে; অথবা অর্থের লালসা দেখিয়ে পলায়নে প্রলুব্ধ করছে, কিংবা জীবিকা অন্বেষণের ক্লেশ ও ক্লান্তি থেকে এই বলে আরামের প্রলোভন দিচ্ছে যে, ক্রেতা তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব গ্রহণ করবে—বিশেষত যদি ক্রেতা ধনবানদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
আর সেই অনারব ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হয়েছে যে তার আমিরের আনুগত্য করা আবশ্যক মনে করে: আদিষ্ট অবস্থায় তার বিধান (حكم) বাধ্য হওয়া (مكره) ব্যক্তির বিধানের ন্যায়; এবং এদেরকে উক্ত ব্যক্তির ওপর তুলনা (قياس) করা সুদূরপরাহত নয়।
আর ইমামের জন্য—আল্লাহ তাআলা তাঁকে সাহায্য করুন—এমন বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিদান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার রয়েছে যার মাধ্যমে জিম্মাদারি বা দায়মুক্তি ঘটে; কেননা দ্বীন তাঁর স্কন্ধে ন্যস্ত একটি গুরুভার। আল্লাহর প্রশংসায় তিনি জ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর স্তরে আসীন। আর সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য; আল্লাহ ও তাঁর রসূল ব্যতীত অন্য কারও কথা সত্যকে রহিত করতে পারে না। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৫৯)
(3)بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله ربّ العالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
وبعد، فقد حملني ما طرأ على الناس من أحكام الأرِقّاء، وجرأة كثيرٍ من الناس على بيعِ الأحرار، مع إكراههم على الإقرار أو ترغيبهم به، ورغبتهم في المعرفة والمعيشة، ومع ذلك فإنَّ بعض الحكام يقضي بمجرد الإقرار بالرقِّ، لم يَعُدْ يقبل دعواه الحرية، ولا يسمع شهادة الحسبة.
وهذا ما اطلعتُ عليه من عبارات "المنهاج" مع "التحفة" وحاشية الشِّرواني.
متنٌ وشرحٌ:
(يصحُّ) الإقرار (من مطلق التصرُّف) أي: المكلّف الرشيد
… إلخ. هـ من الإقرار
(1).
وفي باب اللقيط
(2):
(إذا لم يُقِرّ اللقيط برقٍّ فهو حرٌّ، إلا أنْ يُقيمَ أحدٌ بيِّنةً برقّه، وإنْ أقرَّ به) أي: الرقِّ وهو مكلَّفٌ، وعن ابن عبد السلام ما يقتضي اعتبارَ رشده أيضًا، وظاهر كلامهم خلافُه. (لشخصٍ فصدَّقَه قُبِل إنْ لم يسبق إقراره) أي: اللقيط
--------------------------------------------
(৩)পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
অতঃপর, দাসদের বিধানাবলি নিয়ে মানুষের মাঝে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে এবং স্বাধীন ব্যক্তিদের বিক্রয় করার ক্ষেত্রে বহু মানুষের ধৃষ্টতা, যেখানে তাদের জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি (إقرار) প্রদানে বাধ্য করা হয় কিংবা প্রলুব্ধ করা হয়, আর জ্ঞান ও জীবনজীবিকার প্রতি তাদের আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান—এসব বিষয় আমাকে এটি লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তদুপরি, কোনো কোনো বিচারক কেবল দাসত্বের স্বীকারোক্তির (إقرار) ভিত্তিতেই ফয়সালা দিয়ে দেন, এরপর সেই ব্যক্তির স্বাধীনতার দাবি আর গ্রহণ করেন না এবং হিসবাহ সাক্ষ্যও (شهادة الحسبة) শোনেন না।
আর এটিই আমি 'আল-মিনহাজ' এর সাথে 'আত-তুহফাহ' এবং 'হাশিয়াতুশ শিরওয়ানি'র ভাষ্য থেকে অবগত হয়েছি।
মূল পাঠ ও ব্যাখ্যা:
(বৈধ হবে) স্বীকারোক্তি (إقرار) (পূর্ণ লেনদেনে সক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে) অর্থাৎ: শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلف) ও বিবেকবান (رشيد) ... ইত্যাদি। স্বীকারোক্তি (إقرار) অধ্যায় থেকে সমাপ্ত
(১)।
এবং কুড়িয়ে পাওয়া শিশু (لقيط) সংক্রান্ত অধ্যায়ে
(২):
(যদি কুড়িয়ে পাওয়া শিশু (لقيط) দাসত্বের স্বীকারোক্তি (إقرار) না দেয়, তবে সে স্বাধীন; যতক্ষণ না কেউ তার দাসত্বের সপক্ষে কোনো প্রমাণ (بينة) পেশ করে। আর যদি সে তা স্বীকার করে নেয়) অর্থাৎ: দাসত্ব, এমতাবস্থায় যে সে শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلف)। ইবনে আব্দুস সালাম থেকে এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যা তার বিবেকবান (رشد) হওয়ার শর্তকেও আবশ্যক করে, তবে ফকিহগণের প্রকাশ্য বক্তব্য এর বিপরীত। (কারও অনুকূলে এবং সেও তা সত্যয়ন করে, তবে তা কবুল করা হবে যদি তার পূর্বে কোনো স্বীকারোক্তি (إقرار) না থাকে) অর্থাৎ: কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর (لقيط)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৬০)
(بحريّةٍ) كسائر الأقارير، بخلافِ ما إذا أكذَبَه، وإنْ صدَّقه بعدُ أو سبق إقراره بالحريّةِ وهو مكلَّف؛ لأنّه به التزمَ أحكام الإقرار المتعلّقة بحقوقِ الله والعباد، فلم يقدر على إسقاطها.
وفي الحاشية
(1) عند قوله: "ما يقتضي رشده": اعتمده المغني والسيد عمر، ومال إليه ابن قاسمٍ.
عبارةُ المغني: تنبيهٌ: سكتوا عن اعتبار الرشد في المُقِرِّ ههنا، وينبغي ــ كما قال الزركشيُّ ــ اعتباره كغيره من الأقارير، فلا يُقبل اعتراف الجواري بالرقِّ كما حُكِيَ عن ابن عبد السلام؛ لأنَّ الغالبَ عليهنَّ السفهُ وعدم المعرفة. قال الأذرعيُّ: وهذه العلّةُ موجودةٌ في العبيد، لاسيّما من قرُب عهده بالبلوغ.
وعبارة السيد عمر: قوله: "وظاهر كلامهم خلافه"، قد يقال: إنّما سكتوا عن هذا اكتفاءً بذكره في نظائره؛ إذِ الغالبُ أنَّ استيعاب الشروط إنّما يكون في الباب المعقود أصالةً لبيان ذلك الحكم، كباب الإقرار هنا، ثم رأيتُ المحشّي قال: قوله: "اعتبار رشده" قد يؤيده أنّه أقرَّ بمالٍ، وشرطه الرشد، اللهم إلا أن يمنع أنَّ الإقرار بالرقِّ ليس من الإقرار بالمال، وإنْ ترتّب عليه المال. هـ
وهو إشارة إلى ما نبهنا عليه.
وأمَّا قوله: "اللهم إلا
… " إلخ، فلا يخفى ما فيه من البعد بل المكابرة؛ إذْ لا معنى لقوله: أنا عبده أو نحوه إلّا أنا مملوكٌ له، وهو نصٌّ في المالية. هـ
--------------------------------------------
(স্বাধীনতার) অন্যান্য স্বীকৃতির (الأقارير) ন্যায়, যদি সে তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে তার ব্যতিক্রম হবে, যদিও সে পরবর্তীতে তাকে সত্যয়ন করে অথবা সে যদি মুকাল্লাফ (مكلف) থাকাকালীন পূর্বেই স্বাধীনতার স্বীকৃতি (الإقرار) দিয়ে থাকে; কারণ এর মাধ্যমে সে আল্লাহ এবং বান্দার হকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্বীকৃতির (الإقرار) বিধানাবলি মেনে নিয়েছে, ফলে সে তা বাতিল করতে সক্ষম হবে না।
এবং পাদটীকায় (الحاشية) তার উক্তির নিকট: "যা তার সঠিক বিচারবুদ্ধি বা রুশদ (رشد) দাবি করে": 'মুগনি' ও সাইয়্যেদ উমর একে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে কাসেম এর প্রতি ঝুঁকেছেন।
মুগনির বক্তব্য হলো: সতর্কবার্তা: তাঁরা এখানে স্বীকারোক্তিকারীর (المقر) ক্ষেত্রে রুশদ (رشد) বিবেচনার বিষয়ে নীরব থেকেছেন, অথচ যারকাশী যেমনটি বলেছেন, অন্যান্য স্বীকৃতির (الأقارير) ন্যায় এখানেও তা বিবেচনা করা উচিত। অতএব, দাসীদের দাসত্বের (الرق) স্বীকৃতি (اعتراف) গ্রহণ করা হবে না, যেমনটি ইবনে আবদুস সালাম থেকে বর্ণিত হয়েছে; কারণ তাদের ক্ষেত্রে নির্বুদ্ধিতা (السفه) এবং জ্ঞানের অভাবই প্রবল। আজরায়ী বলেছেন: এই কারণ বা ইল্লত (العلة) পুরুষ দাসদের মধ্যেও বিদ্যমান, বিশেষ করে যাদের সাবালকত্বের (البلوغ) সময় নিকটবর্তী।
সাইয়্যেদ উমরের বক্তব্য হলো: তাঁর উক্তি: "তাদের কথার বাহ্যিক দিকটি এর বিপরীত", এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে: তারা এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন কেবল এর অনুরূপ বিষয়গুলোতে তা উল্লেখ করার ওপর নির্ভর করে; কেননা সাধারণত শর্তাবলির বিস্তারিত বিবরণ সেই অধ্যায়েই দেওয়া হয় যা মূলত সেই বিধান বর্ণনার জন্য রচিত, যেমন এখানে স্বীকৃতির (الإقرار) অধ্যায়। অতঃপর আমি টীকাগ্রন্থকার বা মুহাশ্শীকে (المحشي) বলতে দেখেছি: তাঁর উক্তি: "তার রুশদ (رشد) বিবেচনা করা" একে এই বিষয়টি সমর্থন করতে পারে যে, সে সম্পদের স্বীকৃতি (الإقرار) দিয়েছে, আর এর শর্ত হলো রুশদ (رشد)। তবে যদি কেউ আপত্তি করে যে দাসত্বের (الرق) স্বীকৃতি (الإقرار) সম্পদের স্বীকৃতির (الإقرار) অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও এর ফলে সম্পদের সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়। (সমাপ্ত)
এটি আমরা যা সতর্ক করেছি তারই ইঙ্গিত। আর তাঁর উক্তি: "তবে যদি …" ইত্যাদি, এতে যে অসঙ্গতি বরং হঠকারিতা (المكابرة) রয়েছে তা স্পষ্ট; কেননা তার কথা "আমি তার দাস" বা এই জাতীয় কথার অর্থ "আমি তার মালিকানাধীন" ছাড়া আর কিছু নয়, আর এটি সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য (نص)। (সমাপ্ত)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৬১)
وفي الشرح
(1) بعد: ولو أقرَّ بالرق لمعيَّن ثم بحرية الأصل لم تُسمع، لكن إنْ كان حالَ الإقرار الأول رشيدًا، على ما مرَّ.
وفي الحجر
(2):
(وحجر الصبيّ ببلوغه رشيدًا) لقوله تعالى: {فَإِنْ آنَسْتُمْ مِنْهُمْ رُشْدًا}
… إلى أن قال: (والرشدُ صلاح الدين والمال) معًا، كما فسَّر به ابن عباس وغيره الآية السابقة، ووجه العموم فيه مع أنه نكرة مثبتة وقوعُه في سياق الشرط.
وفي الدعاوي
(3):
(ولو ادُّعي رقُّ بالغٍ) عاقلٍ مجهولِ النسب ولو سكرانَ (فقال: أنا حرٌّ) فالقول قوله. هـ
وفي الشهادات
(4):
(وتُقبل شهادة الحسبة في حقوق الله تعالى وفيما له فيه حقٌّ مؤكّد) وهو ما لا يتأثّر برضا الآدمي
… إلى أنْ قال: وإنّما تُسمع عند الحاجة إليها حالًا، كأخيها رضاعًا وهو يريد أن ينكحها، أو أعتقه وهو يريد أن يسترقَّه (كطلاقٍ وعتقٍ وعفوٍ عن قصاص، وبقاءِ عِدّةٍ وانقضائها، وحقٍّ له تعالى).
--------------------------------------------
এবং 'শারহ'-এ
(১) পরবর্তীতে রয়েছে: যদি কেউ নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির অনুকূলে নিজের দাসত্বের (الرق) স্বীকৃতি দেয় এবং এরপর দাবি করে যে সে জন্মগতভাবে স্বাধীন (حرية الأصل), তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না; তবে শর্ত হলো প্রথম স্বীকৃতির সময় সে যদি বিচক্ষণ (رشيدًا) হয়ে থাকে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
এবং 'হাজর' (নিষেধাজ্ঞা)
(২) অধ্যায়ে রয়েছে:
(বিচক্ষণ (رشيدًا) অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মাধ্যমে বালকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা অপসারিত হয়) মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {যদি তোমরা তাদের মধ্যে বিবেচনাবোধের (رشداً) পরিচয় পাও} … তিনি আরও বলেন: (বিবেচনাবোধ বা 'রুশদ' হলো দ্বীন ও সম্পদ উভয় ক্ষেত্রেই সঠিক পরিচালনা বা পরিশুদ্ধি (صلاح)) একত্রে, যেমনটি ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যগণ পূর্বোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় করেছেন। এটি একটি ইতিবাচক অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة مثبتة) হওয়া সত্ত্বেও এর ব্যাপক অর্থবোধক হওয়ার কারণ হলো এটি একটি শর্তের প্রেক্ষাপটে (سياق الشرط) ব্যবহার হয়েছে।
এবং 'দাওয়া' (দাবি)
(৩) অধ্যায়ে রয়েছে:
(যদি অজ্ঞাত বংশপরিচয় সম্পন্ন কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান ব্যক্তির ক্ষেত্রে দাসত্বের (رق) দাবি করা হয়) এমনকি সে মত্ত অবস্থায় থাকলেও (এবং সে বলে: আমি স্বাধীন (حر)), তবে তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। (সমাপ্ত)
এবং 'শাহাদাত' (সাক্ষ্য)
(৪) অধ্যায়ে রয়েছে:
(আল্লাহ তাআলার হকসমূহের ক্ষেত্রে এবং যাতে তাঁর সুনিশ্চিত অধিকার রয়েছে, সেসব বিষয়ে 'হিসবাহ' বা স্বেচ্ছাপ্রদত্ত সাক্ষ্য (شهادة الحسبة) গ্রহণ করা হয়) আর তা এমন বিষয় যা মানুষের সন্তুষ্টির দ্বারা প্রভাবিত হয় না … তিনি আরও বলেন: এটি তখনই শোনা হবে যখন তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রয়োজন দেখা দেবে; যেমন কারো দুগ্ধপান সম্পর্কীয় (رضاعاً) বোন, অথচ সে তাকে বিবাহ করতে চাচ্ছে, অথবা সে তাকে মুক্ত করে দিয়েছে অথচ এখন পুনরায় তাকে দাসে পরিণত (يسترقه) করতে চাচ্ছে (যেমন: তালাক, দাসমুক্তি (عتق), কিসাস বা দণ্ড মওকুফ করা, ইদ্দতের স্থায়িত্ব বা সমাপ্তি এবং আল্লাহ তাআলার অধিকারের ক্ষেত্রে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৬২)
وفي الحاشية على قوله "كطلاقٍ" أي: لأنَّ المكلّف فيه حقُّ الله تعالى، بدليل أنَّه لا يرتفع بتراضي الزوجين. أسنى هـ.
وفي "البغية"
(1) عن الأشخر: "مذهبُ الشافعيّ أن الرشد صلاح المال والدين، بأن لا يرتكبَ محرمًا مبطلًا للعدالة، ومنه أن تغلب طاعاتُه صغائره
… إلى أنْ ذكر وجهًا آخر حكاه عن البعضِ، ثم قال آخره: وهو شاذٌّ".
وفي باب الخُلْعِ
(2) عن الأشخر أيضًا: "هذا إذا قلنا بمذهب الشافعي أن الرشد صلاح الدين والمال، أمَّا إذا قلنا بالوجه الشاذّ أنّه صلاح المال
… " إلخ.
وفيه
(3) عن بافقيه: "ومعلوم أن الرشد على المذهب أن تبلغ مصلحة لدينها ودنياها".
وفي "فتاوى" ابن زياد
(4):
مسألةٌ: عبد مسلم بالغ رشيدٌ تحت يدِ مالكٍ مُقرّ له بالملك مستخدمه مستفاض بين الناس أنه عبد، ثم أعتقه السيّدُ بحضرة بعض العلماء عتقًا صحيحًا، فانتقل العتيقُ إلى بلدٍ أخرى وأقرَّ أنه ملكٌ لشخصٍ آخر، لم يُقبل إقراره بعد ثبوت العتق؛ لأن العتيق المسلم لا يتصور حدوث الرقّ عليه
… إلخ.
--------------------------------------------
আর 'তালাকের মতো' এই বক্তব্যের উপর টীকা হিসেবে বলা হয়েছে: অর্থাৎ, কারণ এতে মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে আদিষ্ট ব্যক্তি)-এর ওপর আল্লাহর হক রয়েছে। এর প্রমাণ হলো, স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতিতে এটি রহিত হয় না। আসনাহ (সংক্ষেপিত)।
এবং "বোগইয়াহ" গ্রন্থে আল-আশখার থেকে বর্ণিত: "ইমাম শাফিঈর মাযহাব হলো রুশদ (বিচক্ষণতা) হলো সম্পদ ও দ্বীনের শুদ্ধতা, যার অর্থ হলো এমন কোনো হারাম কাজে লিপ্ত না হওয়া যা ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) বিনষ্ট করে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো, তার আনুগত্যের কাজগুলো যেন ছোট গুনাহের ওপর প্রবল হয়... তিনি অন্য একটি অভিমত উল্লেখ করা পর্যন্ত যা তিনি কারো কারো থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর এর শেষে বলেছেন: এবং এটি বিচ্ছিন্ন (شاذ) ।"
এবং খোলা-এর পরিচ্ছেদে আল-আশখার থেকে আরও বর্ণিত: "এটি তখন প্রযোজ্য যখন আমরা ইমাম শাফিঈর মাযহাব অনুযায়ী বলব যে রুশদ হলো দ্বীন ও সম্পদের শুদ্ধতা। পক্ষান্তরে যদি আমরা বিচ্ছিন্ন (شاذ) অভিমত অনুযায়ী বলি যে তা কেবল সম্পদের শুদ্ধতা..." ইত্যাদি।
এবং একই গ্রন্থে বাফাকিহ থেকে বর্ণিত: "আর এটি সুপরিচিত যে, মাযহাব অনুযায়ী রুশদ হলো সে তার দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণে উপনীত হওয়া।"
এবং ইবনে যিয়াদের "ফাতাওয়া" গ্রন্থে বর্ণিত:
মাসআলা: একজন মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক ও বিচক্ষণ দাস এমন একজন মালিকের অধীনে ছিল যে তার মালিকানা স্বীকার করত এবং তাকে কাজে নিযুক্ত রাখত। মানুষের মধ্যে এটি সুপ্রসিদ্ধ (مستفيض) ছিল যে সে একজন দাস। অতঃপর মালিক তাকে কিছু আলেমের উপস্থিতিতে সঠিকভাবে মুক্ত করে দিলেন। এরপর মুক্ত ব্যক্তিটি অন্য শহরে চলে গেল এবং স্বীকারোক্তি দিল যে সে অন্য এক ব্যক্তির মালিকানাধীন। তার এই স্বীকারোক্তি মুক্তি সাব্যস্ত হওয়ার পর গ্রহণযোগ্য হবে না; কারণ একজন মুক্ত মুসলিমের ওপর পুনরায় দাসত্ব আপতিত হওয়া কল্পনা করা যায় না... ইত্যাদি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৬৩)
وفيها في الحجر
(1):
مسألةٌ: الرشدُ صلاح الدين والمال، هذا مذهب إمامنا الشافعيّ رحمه الله، وفي وجهٍ حكاه المتولّي.
إذا تقرّر ما نقلناه، وعُرِفَ أحوال الناس اليوم في بيع الجواري اتَّجه الجزمُ بسماع البينة على الحريّة؛ لأنَّ الحقَّ في الحرية لله سبحانه وتعالى، وكم يترتب على الرقيّة من مفاسد خطيرة نعوذ بالله من ذلك.
فأمَّا صحةُ الإقرار فقد تقرّر أن المذهبَ كون الرشد معتبرًا في الدنيا والدين، وإنْ ذهبَ بعضُ المتأخرين إلى الوجه الضعيفِ طلبًا للتسهيل على الناس؛ لأنَّ المشقّةَ تجلب التيسيرَ، على أنَّ المصلحة في مسألتنا مطابقةُ المذهب في اعتبار الدين حفظًا لحقوق الله تعالى من الضياع، وصدًّا لأهل الفجور والأطماع؛ لعموم البلوى بذلك، فإنَّ الناسَ لا يعرفون ما يترتبُ على الرقِّ من المفاسد، فهم يرتكبون الجرأة على بيع الأحرار طمعًا في الدنيا الفانية، فأمَّا المبيع فإمَّا أن يُكرِهوه على الإقرار، وتعتبرُ عليه بينة الإكراه بعدُ، وإمَّا أنْ يُرغِّبوه فيرغب في الرقِّ لما فيه من حملِ المالك مُؤْنتَه، فيستريح من تعب الطلب للمعاش، وقد شاع نَهْبُ الأحرار، وإكراههم على الإقرار، وبيعهم للتجار، وربّما علم ذلك المشتري فيبتاعه طلبًا للربح، أو يمسكه لئلا تذهب دراهمه.
وأمَّا إقرار الجواري فإنّه وإنْ قيل: إنَّ المعتمدَ أنّه لا يُعتبر فيه الرشد، فقد عرفتَ ما فيه ممَّا حكيناه عن المغني والسيد عمر إلحاقًا له بسائر الإقرارات.
--------------------------------------------
وفيها في الحجر
(1):
মাসআলা: পরিপক্কতা (رشد) হলো দ্বীন ও সম্পদের সঠিক অবস্থা; এটি আমাদের ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর মাজহাব এবং আল-মুতাবাল্লি বর্ণিত একটি অভিমত (وجه)।
আমরা যা উদ্ধৃত করেছি তা যদি সুপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং দাসী বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বর্তমানকালের মানুষের অবস্থা জানা থাকে, তবে স্বাধীনতার স্বপক্ষে সাক্ষ্য (بينة) গ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই যুক্তিযুক্ত; কারণ স্বাধীনতার অধিকার মহান আল্লাহ তাআলার হক। আর দাসত্বের পরিণামে কতই না ভয়াবহ ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি হয়, আমরা তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইছি।
স্বীকারোক্তির (إقرار) বৈধতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এই যে, মাজহাব অনুযায়ী দুনিয়া ও দ্বীন উভয় ক্ষেত্রে পরিপক্কতা (رشد) ধর্তব্য। যদিও পরবর্তী যুগের (متأخرين) কোনো কোনো আলিম মানুষের জন্য সহজীকরণের উদ্দেশ্যে দুর্বল (ضعيف) অভিমতটি গ্রহণ করেছেন; কারণ 'কঠিন অবস্থা সহজীকরণকে ত্বরান্বিত করে'। তবে আমাদের আলোচ্য মাসআলায় আল্লাহর হকসমূহকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং পাপাচারী ও লোভী ব্যক্তিদের প্রতিহত করতে দ্বীনদারিকে বিবেচনার ক্ষেত্রে মাজহাবের অনুসরণ করাই মাসলাহাত বা কল্যাণকর। কেননা এটি একটি সাধারণ সমস্যায় (عموم البلوى) পরিণত হয়েছে। মানুষ দাসত্বের অশুভ পরিণাম সম্পর্কে অবগত নয়, তাই তারা নশ্বর দুনিয়ার লোভে স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করার দুঃসাহস দেখায়। এমতাবস্থায় যাকে বিক্রি করা হচ্ছে, তাকে হয় স্বীকারোক্তি (إقرار) দিতে বাধ্য করা হয় (পরবর্তীতে যার ওপর জবরদস্তির সাক্ষ্য (بينة) বিবেচনা করা হয়), অথবা তাকে প্রলুব্ধ করা হয় এবং সে দাসত্বে আগ্রহী হয় এই ভেবে যে মালিক তার ভরণপোষণের দায়িত্ব বহন করবে, ফলে সে জীবিকা অন্বেষণের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাবে। বর্তমানে স্বাধীন মানুষকে অপহরণ করা, তাদের স্বীকারোক্তি (إقرار) দিতে বাধ্য করা এবং ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া এক সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় ক্রেতা বিষয়টি জেনেও লাভের আশায় তাকে ক্রয় করে অথবা নিজের অর্থ যেন বিফলে না যায় সেজন্য তাকে আটকে রাখে।
আর দাসীদের স্বীকারোক্তির (إقرار) বিষয়ে যদিও বলা হয়েছে যে, নির্ভরযোগ্য (معتمد) মত অনুযায়ী এতে পরিপক্কতা (رشد) শর্ত নয়, তথাপি আমরা মুগনি ও সাইয়্যেদ ওমর থেকে যা উদ্ধৃত করেছি তা থেকে আপনি এর হাকিকত জেনেছেন, যা একে অন্যান্য সাধারণ স্বীকারোক্তির (إقرار) অন্তর্ভুক্ত করে দেয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৬৪)
وأمَّا شهادة الحسبة فلا يخفى ما يترتب على استرقاق الحرّ مِنَ المفاسد المُخِلَّةِ بحقوق الله تعالى، وكما قيل في الطلاق: إنه حق الله تعالى بدليل أنَّه لا يرتفع بالتراضي. على أنَّ القول بعدم اعتبار الرشد في إقرار الجواري، فإن كان قبل البينة فتخفيفًا على الناس ينبغي اعتماده، أمَّا بعد ورود البيّنة من قِبل المبيع أو حسبةً فالذي يطمئنُّ إليه القلب ــ حفظًا لحقوقِ الله تعالى ــ اعتبار الرشد، تبريئًا لذمّةِ الإمام والحكام وسائر الناس.
ولمولانا ــ حفظه الله تعالى ــ النظر، وعليه الجزمُ بما رآه الحقَّ، فإنَّ الحقَّ لا يرفعه قولُ قائلٍ، والله تعالى أعلمُ.
আর হিজবাহ সাক্ষ্যের (شهادة الحسبة) ক্ষেত্রে, একজন স্বাধীন ব্যক্তিকে দাসে পরিণত করার ফলে মহান আল্লাহর হকের (حقوق الله) পরিপন্থী যে সকল অনিষ্টের সৃষ্টি হয় তা সুস্পষ্ট। তালাকের ব্যাপারে যেমনটি বলা হয়েছে যে, এটি আল্লাহর হক (حق الله); যার প্রমাণ হলো এটি কেবল পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে রহিত হয় না। দাসীদের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতা (الرشد) শর্ত না করার যে মতটি রয়েছে, সেটি যদি প্রমাণ (البينة) উপস্থাপনের পূর্বে হয়, তবে মানুষের সুবিধার্থে তা গ্রহণ করা সমীচীন। কিন্তু যদি বিক্রিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কিংবা হিজবাহ (حسبة) হিসেবে প্রমাণ (البينة) উপস্থাপিত হয়, তবে আল্লাহর হক (حقوق الله) সংরক্ষণ এবং ইমাম, বিচারক ও সাধারণ মানুষের দায়মুক্তির জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতা (الرشد) বিবেচনা করাই হবে এমন বিষয় যার ওপর অন্তর প্রশান্ত হয়।
এ ব্যাপারে আমাদের মাওলানা (আল্লাহ তাকে হেফাযত করুন) বিষয়টি বিবেচনা করবেন এবং তিনি যা সত্য মনে করেন সেই অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন; কেননা কারো কোনো বক্তব্যে সত্য রহিত হয়ে যায় না। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৬৫)
(4)بسم الله الرحمن الرحيم
وقعت المذاكرةُ في ما اشتهر الآن في بعض البلدان من بيع الأحرار، والاعتماد على الإقرار، وما يقضي به بعض الحكام من عدم سماع دعوى مَنْ أقرَّ بالرقِّ إذا ادَّعى الحريّةَ، وعدم سماع شهادة حسبة على ذلك، كيف حكمُه؟
أقول: في ق ل
(1) على ح ل قبيل باب بيع الثمار
(2) ما لفظه:
(تنبيهٌ): لو أقرَّ بالرقِّ لشخصٍ فبِيعَ، ثم ادَّعى الحريَّة لم تُقبل دعواه، إلّا إنْ بيَّنَ له وجهًا محتملًا، وقال ابن حجرٍ: تُقبل مطلقًا لأجل حقِّ الله تعالى. هـ
فهذا إنْ صحَّ أغنى، لكن لم نعثر على ما يفيد ذلك لابن حجر، بل صرَّح بعكسه وأطلق، وإليك عبارتَه في "تحفته" في بابِ اللقيط
(3):
"ولو أقرَّ بالرقِّ لمعيَّنٍ ثم بحريّة الأصل لم تُسمَع". هـ
نعم قد عُرِفَ أنَّ المذهبَ اشتراطُ الرشد للإقرار بالمال، والرشد هو صلاح الدين والمال، وأمَّا هنا فعبارةُ ابن حجرٍ عند قول "المنهاج" في باب
--------------------------------------------
(4)পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
বর্তমানে কিছু দেশে স্বাধীন ব্যক্তিদের বিক্রয় করা, এ ক্ষেত্রে কেবল স্বীকৃতির (إقرار) ওপর নির্ভর করা এবং কোনো ব্যক্তি দাসত্বের (رق) স্বীকৃতি (إقرار) দেওয়ার পর যদি স্বাধীনতার (حرية) দাবি (دعوى) করে তবে কিছু বিচারকের পক্ষ থেকে সেই দাবি (دعوى) শ্রবণ না করা এবং এর বিপরীতে কোনো হিসবাহ সাক্ষ্য (شهادة حسبة) গ্রহণ না করার যে প্রচলন রয়েছে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর বিধান কী?
আমি বলছি: 'ফল বিক্রয়' অধ্যায়ের ঠিক পূর্বে 'শারহে মাহাল্লী'র ওপর কলয়ুবীর হাশিয়াতে
(1) যা বর্ণিত হয়েছে তার ভাষ্য নিম্নরূপ:
(সতর্কবার্তা (تنبيه)): যদি কেউ কোনো ব্যক্তির নিকট নিজের দাসত্বের (رق) স্বীকৃতি (إقرار) দেয় এবং এরপর তাকে বিক্রয় করা হয়, অতঃপর সে স্বাধীনতার (حرية) দাবি (دعوى) করে, তবে তার দাবি (دعوى) কবুল করা হবে না; যতক্ষণ না সে এর কোনো সম্ভাব্য কারণ দর্শাতে পারে। তবে ইবনে হাজার (রহ.) বলেছেন: মহান আল্লাহর হকের খাতিরে তা শর্তহীনভাবে (مطلقاً) কবুল করা হবে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
এটি যদি সহিহ হতো তবে তা যথেষ্ট হতো, কিন্তু ইবনে হাজারের পক্ষ থেকে এমন কোনো বক্তব্য আমরা খুঁজে পাইনি যা একে সমর্থন করে। বরং তিনি এর বিপরীতে স্পষ্টভাবে ও শর্তহীনভাবে (مطلقاً) মত প্রকাশ করেছেন। 'কুড়িয়ে পাওয়া শিশু' (لقيط) অধ্যায়ে তাঁর 'তূহফাতুল মুহতাজ'
(3) গ্রন্থে বর্ণিত ইবারতটি নিম্নরূপ:
"যদি কেউ সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নিকট নিজের দাসত্বের (رق) স্বীকৃতি (إقرار) দেয় এবং পরবর্তীতে জন্মগত স্বাধীনতার (حرية الأصل) দাবি করে, তবে তা শোনা হবে না।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
হ্যাঁ, এটি সুপরিচিত যে মাযহাবের (مذهب) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আর্থিক লেনদেনের স্বীকৃতির (إقرار) ক্ষেত্রে বিচক্ষণতা (رشد) একটি শর্ত। আর বিচক্ষণতা (رشد) হলো দ্বীনদারি এবং সম্পদ পরিচালনার যোগ্যতা। কিন্তু এখানে ইবনে হাজারের বক্তব্যটি 'মিনহাজ' গ্রন্থের ভাষ্যের ওপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৬৬)
اللقيط
(1):
(وإنْ أقرَّ به) أي: الرقّ وهو مكلَّف، وعن ابن عبد السلام ما يقتضي اعتبار رشده أيضًا، وظاهر كلامهم خلافه. هـ.
وفي الحاشية
(2): قوله: "ما يقتضي اعتبار رشده" اعتمده المغني والسيد عمر، ومال إليه سم
(3).
عبارة الأول: تنبيهٌ: سكتوا عن اعتبار الرشد في المُقِرِّ هنا، وينبغي ــ كما قال الزركشي ــ اعتبارُه كغيره من الأقارير، فلا يُقبل اعتراف الجواري بالرقّ كما حكي عن ابن عبد السلام، لأنَّ الغالبَ عليهنَّ السفه، وعدم المعرفة. قال الأذرعيُّ: "وهذه العلّةُ موجودةٌ في غالب العبيد، لا سيمَّا مَنْ قرُب عهده بالبلوغ". هـ
وعبارة السيد عمر: قوله: "وظاهر كلامهم خلافه"، قد يُقال: إنما سكتوا عن هذا اكتفاءً بذكره في نظائره؛ إذِ الغالبُ في استيعاب الشروط إنما تكون في الباب المعقود أصالةً لبيان ذلك الحكم، كبابِ الإقرار، ثمَّ رأيتُ المحشّي قال: قوله: "اعتبار رشده" قد يؤيّده أنّه إقرار بمالٍ، وشرطه الرشد، اللهم إلا أن يمنع أن الإقرار بالرقّ ليس من الإقرار بالمال، وإن ترتّب عليه المالُ، انتهى.
وهو إشارةٌ إلى ما نبّهنا عليه.
--------------------------------------------
কুড়িয়ে পাওয়া শিশু (اللقيط)
(১):
(যদি সে এটি স্বীকার করে নেয়) অর্থাৎ: দাসত্বের (الرق) বিষয়টি, এমতাবস্থায় সে শরিয়ত কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত (مكلف); ইবনে আবদুস সালাম থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা তার বিচক্ষণতাকেও (رشد) শর্ত হিসেবে গণ্য করার দাবি রাখে, যদিও ফকীহগণের বক্তব্যের বাহ্যিক দিকটি এর পরিপন্থী। সমাপ্ত।
এবং টীকায়
(২) রয়েছে: তাঁর উক্তি: "যা তার বিচক্ষণতা বিবেচনার দাবি রাখে" - একে মুগনি এবং সাইয়্যেদ ওমর নির্ভরযোগ্য বলে গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে কাসিম এর প্রতি ঝোঁক প্রকাশ করেছেন
(৩)।
প্রথমজনের বক্তব্য হলো: সতর্কবার্তা: ফকীহগণ এখানে স্বীকারোক্তি প্রদানকারীর বিচক্ষণতা (رشد) বিবেচনার বিষয়টি উল্লেখ করেননি। কিন্তু উচিত হলো—যেমনটি যারকাশী বলেছেন—অন্যান্য স্বীকারোক্তির (الأقارير) ন্যায় এটিকেও গণ্য করা। সুতরাং দাসীদের দাসত্বের (الرق) স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য হবে না, যেমনটি ইবনে আবদুস সালাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। কারণ তাদের ক্ষেত্রে সাধারণত নির্বুদ্ধিতা (السفه) এবং জ্ঞানের অভাব প্রবল থাকে। আল-আযরায়ি বলেন: "এই কারণটি অধিকাংশ দাসের মধ্যেই বিদ্যমান, বিশেষ করে যাদের বয়ঃসন্ধি (البلوغ) নিকটবর্তী।" সমাপ্ত।
সাইয়্যেদ ওমরের বক্তব্য হলো: তাঁর উক্তি: "তাদের বক্তব্যের বাহ্যিক দিকটি এর পরিপন্থী", এর উত্তরে বলা যেতে পারে: তারা সম্ভবত এই বিষয়ে মৌন থেকেছেন কারণ সমজাতীয় বিষয়গুলোতে এর উল্লেখ থাকাই যথেষ্ট ছিল। কেননা সাধারণত শর্তাবলির পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সেই অধ্যায়েই করা হয় যা মূলত ওই বিধানটি বর্ণনার জন্য নির্ধারিত, যেমন স্বীকারোক্তি (الإقرار) অধ্যায়। এরপর আমি টীকা লেখককে বলতে দেখেছি: তাঁর উক্তি: "বিচক্ষণতা বিবেচনা করা" - এই মতটি এই বিষয়ের দ্বারা সমর্থিত হতে পারে যে, এটি সম্পদের (مال) স্বীকারোক্তি, আর এর শর্ত হলো বিচক্ষণতা (رشد)। তবে কেউ যদি এমন আপত্তি করেন যে, দাসত্বের (الرق) স্বীকারোক্তি সম্পদের স্বীকারোক্তির অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও এর ফলশ্রুতিতে সম্পদের মালিকানা সাব্যস্ত হয়। সমাপ্ত।
এবং এটি আমরা যা সতর্ক করেছি তার প্রতি ইঙ্গিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৭)
মাসআলাতু মানই বাইয়িল আহরার - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৮৬৭)
وأمّا قوله: "اللهم
… إلخ" فلا يخفى ما فيه من البُعد بل المكابرة؛ إذ لا معنى لقوله: أنا عبدُه أو نحوه إلاّ أنا مملوكٌ له، وهذا نصٌّ في الماليّة. هـ
فكلامُه هو لا يرجِّح اعتبارَ الرشد، وأين الرشد اليوم في كثيرٍ من الأحرار فضلًا عن الأرقّاء؟ ولو اعتُبِر هذا لشقَّ على النَّاس، إذ كلُّ من أراد بيعَ رقيقٍ احتاج إلى شاهدين على رِقّه، وعليه فتُسمع بعد ذلك دعوى المبيع؛ إذ لم يكن الحكم برقّه مبنيًّا على إقراره فتُرَدُّ دعواه.
وأمّا شهادةُ الحسبة فإليك عبارةَ "المنهاج" مع ملخَّصٍ من عبارة "التحفة"
(1): (وتُقبل شهادة الحسبة في حقوق الله تعالى وفيما له فيه حقٌّ موكَّدٌ) وهو ما لا يتأثّر برضا الآدمي
… وإنّما تُسمع عند الحاجةِ إليها حالًا، كأخيها رضاعًا وهو يريد أن ينكحها، أو أعتقه وهو يريد أن يسترقّه (كطلاقٍ وعتقٍ) بأن يشهد به أو بالتعليق مع وجود الصفة أو بالتدبير مع الموت أو بما يستلزمه. هـ
والحريّة من أعظم حقوق الله تعالى، والأصليّة أولى من العتق، ولا فرقَ بين كونِ العتق وقع ممَّن يريد أن يتملّكه أو يبيعه أو مِنْ غيره، كما هو الظاهر.
فالذي يظهر أنَّ شهادة الحسبة لا تُردُّ في هذا؛ إذ هو ممَّا لا يتأثّر برضا الآدميِّ، والله تعالى أعلمُ.
--------------------------------------------
আর তার কথা: "হে আল্লাহ
… ইত্যাদি" প্রসঙ্গে যে দূরবর্তিতা বরং হঠকারিতা রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়; কেননা তার কথা "আমি তার দাস" বা এজাতীয় কথার অর্থ আমি তার মালিকানাধীন হওয়া ছাড়া আর কিছু নয়, আর এটি সম্পদগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে একটি স্পষ্ট বক্তব্য (نص)। ইতি।
সুতরাং তার এই বক্তব্য সঠিক বিচারবুদ্ধি (رشد) বিবেচনার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয় না। আর দাসদের কথা তো ছেড়েই দিলাম, বর্তমানে অনেক স্বাধীন ব্যক্তির মাঝেই বা সঠিক বিচারবুদ্ধি (رشد) কোথায়? আর যদি এটি বিবেচনা করা হতো, তবে মানুষের জন্য তা কষ্টসাধ্য হতো; কেননা যে ব্যক্তিই কোনো দাস বিক্রি করতে চাইত, তার দাসত্বের ব্যাপারে দুজন সাক্ষীর প্রয়োজন হতো। আর এর ভিত্তিতে বিক্রিত ব্যক্তির দাবিও পরবর্তীতে শোনা যেত; যেহেতু তার দাসত্বের ফয়সালা তার স্বীকৃতির ওপর ভিত্তি করে হয়নি, তাই তার দাবি প্রত্যাখ্যান করা হতো।
আর জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য (شهادة الحسبة) প্রসঙ্গে "মিনহাজ"-এর ইবারত এবং "তুহফাহ"
(১)-এর ইবারতের সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ: (আল্লাহ তাআলার হক (حقوق الله تعالى) এবং এমন বিষয়ে যাতে তাঁর সুনিশ্চিত হক রয়েছে, সেখানে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য (شهادة الحسبة) কবুল করা হয়)। আর এটি এমন বিষয় যা মানুষের সন্তুষ্টির দ্বারা প্রভাবিত হয় না
… এটি কেবলমাত্র তখনই শোনা হয় যখন তাৎক্ষণিক প্রয়োজন দেখা দেয়; যেমন তার দুগ্ধভাই (رضاعا) হওয়া সত্ত্বেও সে তাকে বিয়ে করতে চাচ্ছে, অথবা তাকে দাসমুক্ত (عتق) করে দেওয়া হয়েছে অথচ সে তাকে পুনরায় দাস বানাতে চাচ্ছে (যেমন তালাক (طلاق) এবং দাসমুক্তি (عتق) এর ক্ষেত্রে)। এর পদ্ধতি হলো সরাসরি সেই বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়া, অথবা গুণের উপস্থিতির সাথে শর্তযুক্ত করার (تعليق) মাধ্যমে, অথবা মৃত্যুর সাথে সম্পৃক্ত মুক্তি ঘোষণা (تدبير) বা যা এর অপরিহার্য ফল হিসেবে আসে তার মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়া। ইতি।
আর স্বাধীনতা (الحرية) হলো আল্লাহ তাআলার মহান হকসমূহের (حقوق الله تعالى) অন্যতম। আর মৌলিকভাবে স্বাধীন হওয়া দাসমুক্তির (عتق) চেয়েও অগ্রগণ্য। আর এই দাসমুক্তি যে তাকে মালিকানায় নিতে চায় বা বিক্রি করতে চায় তার পক্ষ থেকে হয়েছে নাকি অন্য কারো পক্ষ থেকে—এতে কোনো পার্থক্য নেই, যেমনটি সুস্পষ্ট।
সুতরাং যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এক্ষেত্রে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য (شهادة الحسبة) প্রত্যাখ্যান করা হবে না; কারণ এটি এমন বিষয় যা মানুষের সন্তুষ্টির দ্বারা প্রভাবিত হয় না। আর আল্লাহ তাআলাই সম্যক জ্ঞাত।
--------------------------------------------