(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: -)
زيج الصابئ القسم: علوم أخرى
الكتاب: زيج الصابئ
المؤلف: محمد بن جابر بن سنان الحراني الرقي الصابئ، أبو عبد الله المعروف بالبتاني (ت 317هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 155
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
যিজ আস-সাবি বিভাগ: অন্যান্য বিজ্ঞানসমূহ
গ্রন্থ: যিজ আস-সাবি
লেখক: মুহাম্মদ বিন জাবির বিন সিনান আল-হাররানি আর-রাক্কি আস-সাবি, আবু আবদুল্লাহ যিনি আল-বাত্তানি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩১৭ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত এবং মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৫
আল-শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১)
الباب الأول
صدر الكتابقال إن أول ما ابتدئ به كل أمر واستفتح به كل قول حمد الله جل ذكره والثناء عليه بآلائه والصلاة على خاتم رسله وأنبيائه عليهم السلام ورحمة الله وبركاته. الحمد لله الذي خلق الخلائق بقدرته ودبر الأمور بمشيئته وأتقنها بحكمته فأحاط بكل شيء علماً وأحصى كل شيء عدداً لا يغرب عنه مثقال ذرة في السماوات ولا في الأرض ولا أصغر من ذلك ولا أكبر إلا في كتاب مبين واشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله أرسله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون فهدى به المؤمنين وقطع به دابر الكافرين وجعله حجة على العالمين صلى الله عليه وعلى آله الطيبين وعلى أصحابه المنتخبين وعلى التابعين لسنته إلى يوم الدين. أما بعد إن من أشرف العلوم منزلة وأسناها مرتبة وأحسنها حلية وأعلقها بالقلوب وألمعها بالنفوس وأشدها تحديداً للفكر والنظر وتذكية للفهم ورياضة للعقل بعد العلم بما لا يسع الإنسان جهله من شرائع الدين وسنته علم صناعة النجوم لما في ذلك من جسيم الحظ وعظيم الانتفاع بمعرفة مدة السنين والشهور والمواقيت وفصول الأزمان وزيادة الليل والنهار ونقصانها ومواضع النيرين وكسوفها ومسير الكواكب في استقامتها ورجوعها وتبدل أشكالها ومراتب أفلاكها وسائر مناسباتها إلى ما يدرك بذلك من أنعم النظر وأدام الفكر فيه من إثبات التوحيد ومعرفة كنه عظمة الخالق وسعة حكمته وجليل قدرته ولطيف صنعه قال عز من قائل " إن في خلق السموات والأرض واختلاف الليل والنهار لآيات لأولي الألباب " وقال تبارك وتعالى " تبارك الذي جعل في السماء بروجاً " وقال عز وجل " هو الذي جعل الليل والقمر نوراً خلفة " وقال سبحانه " هو الذي جعل الشمس ضياء والقمر نوراً وقدره منازل لتعلموا عدد السنين والحساب " وقال جل ذكره " والقمر بحسبان " مع اقتصاص كثير في كتاب الله عز وجل يطول وصفه ويتسع القول بذكره واستشهاده، وإني لما أطلت النظر في هذا العلم وأدمنت الفكر فيه ووقفت على اختلاف الكتب الموضوعة لحركات النجوم وما تهيأ على بعض واضعيها من الخلل فيما أصلوه فيها من الأعمال وما ابتنوها عليه وما اجتمع أيضاً في حركات النجوم على طول الزمان لما قيست أرصادها إلى الأرصاد القديمة وما وجد في ميل فلك البروج عن فلك معدل النهار من التقارب وما تغير بتغيره من أصناف الحساب وأقدار أزمان السنين وأوقات الفصول واتصالات النيرين التي يستدل عليها بأزمان الكسوفات وأوقاتها أجريت في تصحيح ذلك وإحكامه على مذهب بطليموس في الكتاب المعروف بالمجسطي بعد إنعام النظر وطول الفكر والرؤيا مقتفياً أثره متبعاً ما رسمه إذ كان قد تقصى ذلك من وجوهه ودل على العلل والأسباب العارضة فيه بالبرهان الهندسي والعددي الذي لا تدفع صحته ولا يشك في حقيقته فأمر بالمحنة والاعتبار بعده وذكر انه قد يجوز أن يستدرك عليه في أرصاده على طول الزمان كما استدرك هو على إبرخس وغيره من نظرائه لجلالة الصناعة ولأنها سمائية جسيمة لا تدرك إلا بالتقريب ووضعت في ذلك كتاباً أوضحت فيه ما استعجم وفتحت ما استغلق وبينت ما أشكل من أصول هذا العلم وشذ من فروعه وسهلت به سبيل الهداية لمن يأثر به ويعمل عليه في صناعة النجوم وصححت فيه حركات الكواكب ومواضعها من منطقة فلك البروج على نحو ما وجدتها بالرصد وحساب الكسوفين وسائر ما يحتاج إليه من الأعمال وأضفت إلى ذلك غيره مما يحتاج إليه وجعلت استخراج حركات الكواكب فيه من الجداول لوقت انتصاف النهار من اليوم الذي يحسب فيه بمدينة الرقة وبها كان الرصد والامتحان على تحذيق ذلك كله إن شاء الله تعالى وبالله التوفيق.
الباب الثاني
تقسيم دائرة الفلكوالضرب والجذور والقسمة
প্রথম পরিচ্ছেদ
গ্রন্থের প্রারম্ভিকাতিনি বলেন, নিশ্চয়ই প্রত্যেক কাজের সূচনা এবং প্রত্যেক বক্তব্যের প্রারম্ভে মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর নেয়ামতসমূহের জন্য তাঁর মহিমা কীর্তন করা এবং তাঁর শেষ রাসূল ও নবীদের ওপর দরুদ, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষণের মাধ্যমে শুরু করা উচিত। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর কুদরতে সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সকল বিষয় পরিচালনা করেছেন এবং তাঁর হিকমত দ্বারা সেগুলোকে সুসংহত করেছেন। তিনি সব কিছুকে জ্ঞান দিয়ে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং প্রতিটি জিনিসকে গণনায় রেখেছেন। আসমানসমূহ ও জমিনে অণু পরিমাণ কোনো কিছু তাঁর অগোচরে নেই, আর তার চেয়ে ছোট বা বড় যা কিছু আছে তা সবই এক সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষিত। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল; আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। অতঃপর তিনি তাঁর মাধ্যমে মুমিনদের হিদায়াত করেছেন এবং কাফিরদের মূল উৎপাটন করেছেন এবং তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য হুজ্জাত বা প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন, তাঁর মনোনীত সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করবে তাদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর, দ্বীনের শরীয়ত ও সুন্নাহর ইলম—যা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা মানুষের জন্য শোভনীয় নয়—তার পরে উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন, শ্রেষ্ঠ অলংকারমণ্ডিত, অন্তরের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত, চিন্তাশক্তি ও দৃষ্টির প্রখরতা বৃদ্ধিকারী এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইলম হলো নক্ষত্রবিদ্যার শিল্প। কারণ এতে বছর, মাস, নির্দিষ্ট সময়, ঋতু পরিবর্তন, দিন ও রাতের হ্রাস-বৃদ্ধি, সূর্য ও চন্দ্রের অবস্থান, তাদের গ্রহণ, গ্রহসমূহের গতিপথের স্থৈর্য ও পশ্চাদগমন, তাদের আকৃতির পরিবর্তন এবং তাদের কক্ষপথের স্তরবিন্যাস ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি জানার ক্ষেত্রে মহান প্রাপ্তি ও ব্যাপক উপকারিতা রয়েছে। এর পাশাপাশি যারা এতে গভীর দৃষ্টিপাত করে এবং নিরন্তর চিন্তা করে, তাদের নিকট আল্লাহর তাওহীদ বা একত্ববাদের প্রমাণ, স্রষ্টার মহিমার স্বরূপ, তাঁর হিকমতের প্রশস্ততা, তাঁর কুদরতের মহিমা এবং তাঁর নিপুণ কারুকার্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।" আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আরও বলেছেন, "বরকতময় সেই সত্তা যিনি আসমানে নক্ষত্রপুঞ্জ সৃষ্টি করেছেন।" তিনি আরও বলেছেন, "তিনিই সেই সত্তা যিনি রাত ও চাঁদকে একে অপরের অনুগামী করেছেন।" তিনি আরও বলেছেন, "তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে তেজস্বী আলো ও চাঁদকে স্নিগ্ধ আলো দিয়েছেন এবং তার জন্য কক্ষপথ নির্ধারণ করেছেন যাতে তোমরা বছরের গণনা ও হিসাব জানতে পারো।" মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, "চন্দ্র (আবর্তিত হয়) এক নির্দিষ্ট হিসাবে।" এছাড়া মহান আল্লাহর কিতাবে এমন আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে যার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দীর্ঘ এবং যা উল্লেখ ও সাক্ষ্য হিসেবে প্রদান করলে অনেক প্রশস্ত হবে। আমি যখন এই বিজ্ঞানে দীর্ঘকাল দৃষ্টিপাত করলাম এবং এতে নিরন্তর চিন্তা করলাম, তখন নক্ষত্রের গতিবিধি সম্পর্কে রচিত বিভিন্ন কিতাবের পার্থক্য লক্ষ্য করলাম। বিশেষ করে পূর্ববর্তী লেখকদের মৌলিক কাজসমূহে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল এবং সময়ের ব্যবধানে নক্ষত্রসমূহের গতিবিধিতে প্রাচীন পর্যবেক্ষণের তুলনায় বর্তমান পর্যবেক্ষণের যে পার্থক্য সূচিত হয়েছে, তা আমি প্রত্যক্ষ করেছি। রাশিচক্রের কক্ষপথের সাথে বিষুবরেখার যে নৈকট্য এবং এর ফলে হিসাবের বিভিন্ন ধরনে, বছরের সময়সীমায়, ঋতু পরিবর্তনের সময়ে এবং সূর্য ও চন্দ্রের সংযোগে (যা গ্রহণের সময় ও কাল দ্বারা প্রমাণিত হয়) যে পরিবর্তন এসেছে, আমি সেই সব বিষয় সংশোধন ও সুসংহত করার জন্য 'আল-মাজিসতী' নামক কিতাবে বর্ণিত টলেমির পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে অগ্রসর হয়েছি। আমি অত্যন্ত গভীর অভিনিবেশ ও দীর্ঘ চিন্তার পর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি এবং তাঁর নির্দেশিত পথেই চলেছি, কারণ তিনি এই বিষয়টির সমস্ত দিক বিশদভাবে অনুসন্ধান করেছেন এবং জ্যামিতিক ও গাণিতিক প্রমাণের মাধ্যমে এর কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছেন যার সত্যতা অস্বীকার করার উপায় নেই এবং যার বাস্তবতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি তাঁর পরবর্তীকালে পরীক্ষানিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং উল্লেখ করেছিলেন যে, সময়ের দীর্ঘ ব্যবধানে তাঁর পর্যবেক্ষণেও ভুল ধরা পড়তে পারে, যেমনটি তিনি ইবরাখাস ও তাঁর সমসাময়িকদের ক্ষেত্রে করেছেন। এটি এই শিল্পের মহান মর্যাদার কারণে এবং যেহেতু এটি আকাশমণ্ডলীয় বিশাল বিষয় যা কেবল আনুমানিক অনুধাবন করা সম্ভব। আমি এই বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছি যাতে অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করেছি, জটিল বিষয়গুলোর দ্বার উন্মোচন করেছি এবং এই বিজ্ঞানের মূলনীতির কঠিন বিষয়গুলো ও এর শাখা-প্রশাখার বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো বর্ণনা করেছি। যারা নক্ষত্রবিদ্যার শিল্পে এর অনুসরণ করবে ও কাজ করবে তাদের জন্য আমি হিদায়াতের পথ সহজ করে দিয়েছি। এতে আমি পর্যবেক্ষণ এবং চন্দ্র-সূর্য গ্রহণের হিসাবের ভিত্তিতে নক্ষত্রসমূহের গতিবিধি এবং রাশিচক্রে তাদের অবস্থান সঠিকভাবে নির্ণয় করেছি। এর সাথে অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদিও যুক্ত করেছি। আমি এতে রাক্কা শহরের মধ্যাহ্ন সময়ের ভিত্তিতে সারণি থেকে গ্রহসমূহের গতিবিধি বের করার নিয়ম নির্ধারণ করেছি, যেখানে এই সমস্ত কিছুর সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফীক আসে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
নভোমণ্ডলের বৃত্তের বিভাজনএবং গুণ, বর্গমূল ও ভাগ।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২)
قال إن الأوائل جزأوا دائرة الفلك بثلاثمائة وستين جزأً واحتجوا في ذلك بغير حجة منها قرب عدد هذه الأجزاء من عدد أيام السنة التي تكمل بمجاز الشمس على نقطة غير متحركة من الفلك إلى أن تعود إليها وبأنه عدد له نصف وثلث وربع وغير ذلك من الكسور التي ليست صحيحة لكثير من الأعداد وألقوا الشمس على أربع نقط من الفلك توجب اعتدالين وانقلابين وتقسم السنة بأربعة أقسام متباينة ربيع وصيف وخريف وشتاء ونسبوا كل نقطة منها إلى الفصل الذي يحدث عنه اجتياز الشمس بها، ولما كان كل ذي بعد ذا وسط وطرفين كان كل فصل من هذه الفصول ينقسم إلى ثلثة أقسام ووجب لذلك أن تكون أقسام دائرة الفلك اثنا عشر قسماً ووجدوا النقطة الربيعية أفضل هذه النقط وأولاها بالابتداء لأن النهار يبتدئ منها بالزيادة من بعد الاعتدال والشمس في الصعود إلى نصف فلكها الشمالي فتقوى الحرارة وطبع هذا الفصل رطب مائل إلى الحرارة مشاكل لابتداء النشو وكون الأشياء فجعلوا ابتداء حساب الفلك منها، ثم وجدوا الصور التي تلي هذه الاثنا عشر قسماً المسماة أبراج اثنتا عشر صورة فسموا كل برج منها باسم الصورة التي تليه وإن كانت هذه الصور قد تزول عن مواضع الأبراج المسماة بها على طول الزمان فصار القسم الأول منه الحمل ثم الثور ثم الجوزاء ثم السرطان ثم الأسد ثم السنبلة ثم الميزان ثم العقرب ثم القوس ثم الجدي ثم الدلو ثم الحوت، ووجب لكل برج من هذه الأبراج ثلثون جزأً فحصته من أجزاء دائرة الفلك الثلثمائة والستين وهذه الأجزاء تسمى أيضاً ًدرجاً وكل درجة منها تنقسم إلى ستين قسماً تسمى الدقائق وكل دقيقة منها تنقسم إلى ستين قسماً أيضاً تسمى الثواني وكل ثانية منها تنقسم إلى ستين ثالثة وما بعد ذلك فعلى هذا الرسم من القسمة إلى العواشر وما بعدها مما يتلوه من الأجناس البائنة، وأما معنى الضرب فهو أن تضاعف أحد عددين بقدر آحاد الآخر أعني ضرب الآحاد في الآحاد، وأما ضرب الكسور في الآحاد فهو أن تضاعف الكسور بقدر الآحاد أو أن تجزئ الآحاد بقدر الكسور من الواحد، وأما ضرب الكسور في الكسور فهو أن تجزئ أحد الكسرين أيهما شئت بقدر الكسر الآخر من الواحد، وذلك أن الدرج إذا ضربت في الدرج كان ما يجتمع من الضرب درجاً وإذا ضربت في الدقائق كان دقائق وإذا ضربت في الثواني كان المجتمع ثواني وكذلك ما يضرب منها في الثوالث والروابع وما يتلوها فإن الذي يجتمع من ذلك هو من جنس الأقل الذي ضرب فيه وما دون الدرج من الدقائق وغيرها فإنه إذا ضرب كل جنس منها في نفسه كان ما يجتمع منه منحطاً عنه بقدر انحطاطه هو عن الدرج مثال ذلك أن الدقائق إذا ضربت في الدقائق فإن المجتمع ثوان وإذا ضربت في الثواني كان ثوالث وكذلك ما يضرب في الثوالث والروابع يجري على هذا الرسم في الانحطاط
তিনি বললেন যে, প্রাচীন পণ্ডিতগণ আকাশমণ্ডলীর বৃত্তকে তিনশ ষাটটি অংশে বিভক্ত করেছেন এবং এর স্বপক্ষে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো—এই অংশগুলোর সংখ্যা বছরের দিন সংখ্যার কাছাকাছি, যা সূর্যের পরিক্রমায় আকাশমণ্ডলীর একটি স্থির বিন্দু থেকে পুনরায় সেই বিন্দুতে ফিরে আসার মাধ্যমে পূর্ণ হয়। এছাড়া এটি এমন একটি সংখ্যা যার অর্ধেক, এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ এবং আরও অনেক ভগ্নাংশ বের করা সম্ভব যা অন্য অনেক সংখ্যার ক্ষেত্রে নিখুঁতভাবে পাওয়া যায় না। তারা আকাশমণ্ডলীর চারটি বিন্দুতে সূর্যকে স্থাপন করেছেন যা দুটি বিষুব এবং দুটি অয়নান্ত সৃষ্টি করে এবং বছরকে চারটি ভিন্ন ঋতুতে বিভক্ত করে: বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীত। তারা প্রতিটি বিন্দুকে সেই ঋতুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন যা সূর্যের সেখানে গমনের ফলে উৎপন্ন হয়। যেহেতু প্রতিটি মাত্রার একটি মধ্যভাগ এবং দুটি প্রান্ত থাকে, তাই এই ঋতুগুলোর প্রতিটি আবার তিনটি উপ-বিভাগে বিভক্ত। সেই অনুযায়ী আকাশমণ্ডলীর বৃত্তের বিভাগ বারোটি হওয়া আবশ্যক। তারা বসন্তকালীন বিন্দুটিকে এই বিন্দুগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং গণনার প্রারম্ভ হিসেবে অগ্রাধিকারযোগ্য হিসেবে গণ্য করেছেন; কারণ এখান থেকে বিষুবের পর দিন বড় হতে শুরু করে এবং সূর্য তার উত্তর গোলার্ধের কক্ষপথের দিকে আরোহণ করে, ফলে উত্তাপ বৃদ্ধি পায়। এই ঋতুর প্রকৃতি হলো আর্দ্র ও উষ্ণতার দিকে ঝুঁকে থাকা, যা প্রবৃদ্ধি ও বস্তুসমূহের অস্তিত্ব লাভের সূচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই তারা এখান থেকেই জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব শুরু করেছেন। অতঃপর তারা এই বারোটি বিভাগের অনুগামী বারোটি নক্ষত্রমণ্ডল পেয়েছেন যাদের রাশি বলা হয়। তারা প্রতিটি রাশিকে তার নিকটবর্তী নক্ষত্রমণ্ডলের নামে নামকরণ করেছেন, যদিও দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার ফলে এই নক্ষত্রমণ্ডলগুলো তাদের নামাঙ্কিত রাশির স্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। এভাবে প্রথম রাশিটি হলো মেষ, তারপর বৃষ, তারপর মিথুন, তারপর কর্কট, তারপর সিংহ, তারপর কন্যা, তারপর তুলা, তারপর বৃশ্চিক, তারপর ধনু, তারপর মকর, তারপর কুম্ভ এবং তারপর মীন। এই রাশিগুলোর প্রত্যেকের জন্য ত্রিশটি অংশ নির্ধারিত হয়েছে, যা আকাশমণ্ডলীর বৃত্তের তিনশ ষাট অংশের অংশবিশেষ। এই অংশগুলোকে ডিগ্রি বলা হয়। প্রতিটি ডিগ্রি ষাটটি ভাগে বিভক্ত হয় যাকে মিনিট বলা হয়। প্রতিটি মিনিট আবার ষাটটি ভাগে বিভক্ত হয় যাকে সেকেন্ড বলা হয়। প্রতিটি সেকেন্ড আবার ষাটটি তৃতীয়ক ভাগে বিভক্ত হয়। এভাবেই দশম ভাগ এবং তার পরবর্তী পর্যায়ক্রমিক শ্রেণিগুলো পর্যন্ত এই বিভাজন পদ্ধতি কার্যকর হয়। আর গুণ করার অর্থ হলো—দুটি সংখ্যার একটিকে অপরটির একক সমপরিমাণ বৃদ্ধি করা, অর্থাৎ এককের সাথে এককের গুণ। আর এককের সাথে ভগ্নাংশের গুণ হলো—একক অনুযায়ী ভগ্নাংশকে বৃদ্ধি করা অথবা এককের অংশকে এককের সাপেক্ষে ভগ্নাংশের মানে বিভক্ত করা। আর ভগ্নাংশের সাথে ভগ্নাংশের গুণ হলো—যেকোনো একটি ভগ্নাংশকে এককের সাপেক্ষে অপর ভগ্নাংশের মানে বিভক্ত করা। এর নিয়ম হলো—ডিগ্রিকে ডিগ্রি দিয়ে গুণ করলে গুণফল ডিগ্রিই হয়। ডিগ্রিকে যদি মিনিট দিয়ে গুণ করা হয় তবে তা মিনিট হয়। আর ডিগ্রিকে যদি সেকেন্ড দিয়ে গুণ করা হয় তবে গুণফল সেকেন্ড হয়। একইভাবে তৃতীয়ক, চতুর্থক এবং পরবর্তী ধাপগুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। অর্থাৎ গুণফলটি হবে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রতর শ্রেণির সমজাতীয়। আর ডিগ্রির নিচে থাকা মিনিট এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো—যদি প্রতিটি শ্রেণিকে নিজের দ্বারা গুণ করা হয়, তবে গুণফলটি সেই পরিমাণ নিম্নগামী হবে যে পরিমাণ সেটি ডিগ্রি থেকে নিম্নগামী। উদাহরণস্বরূপ, মিনিটকে মিনিট দিয়ে গুণ করলে গুণফল সেকেন্ড হবে। আর মিনিটকে সেকেন্ড দিয়ে গুণ করলে গুণফল তৃতীয়ক হবে। একইভাবে তৃতীয়ক ও চতুর্থকের গুণফলও এই নিম্নগামিতার নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ৩)
وأما الثواني فإنها إذا ضربت في الثواني كان المجتمع روابع وإذا ضربت في الثوالث كان المجتمع خوامس وكل ما بعد ذلك عن هذه الأجناس مجراة هذا المجرى وعلى هذا الرسم، وكل عدد يجتمع من جنس من هذه الأجناس بضرب أو بإضافة فإنه إذا قسم على الستين التي ينتهي إليها نسبة سائر الكسور كان ما يحصل من ذلك راجعاً إلى الجنس الذي هو أعلى منه وكل عدد من جنسين من هذه الأجناس أو أكثر من ذلك احتيج أن ينقص من أحدهما أكثر مما فيه من العدد فإنه يكسر له من الجنس الذي هو أعلى منه واحداً فيحسب ستين جزءاً ثم يضاف إليه وينقض من ذلك بقدر الحاجة ويحتسب بما يبقى من ذلك مع ما بقي من الجنس الأعلى فأما الدرج فما اجتمع منها من فصول الحركات بالإضافة فإن نسبته إلى الأدوار فإن كان الذي يجتمع منها أكثر من دور واحد أو أدوار ومقدار الدور ثلثمائة وستون جزءاً أسقطت الأدوار واحتسبت بما يبقى، وإذا احتيج أن ينقص من الدرج ما لا يفي به عددها أضيف إليه دور فينقص من المجتمع بقدر الحاجة ويحتسب بما يبقى، فإذا أردت أن تضرب جنساً من أجناس الدرج أو الكسور في جنس منها فتعلم من أي جنس يصير ما يجتمع لك منها بهذا الجدول فخذ من أحد سطري اب البيت المرسوم فيه ذلك الجنس الذي تريد أن تضربه في أي جنس شئت من الأجناس واخرج من ذلك البيت على استقامة حتى توازي الجنس الآخر الذي أردت الشيء الذي اجتمع لك من الضرب، ومثال ذلك أنك أردت أن تضرب روابع في ثوالث فأخذت من جدول اب الذي في عرض الورقة أي الجنسين شئت وليكن أولاً الثوالث فخرجت منه موازياً للروابع في جدول اب الذي في طول الورقة فوجدت في البيت الذي يوازيه سوابع وهو الجنس الذي صار إليه المضروب، وكذلك لو أخذت من جدول اب الروابع وخرجت منها بإزاء الثوالث التي في جدول اب الآخر وجدت فيه سوابع وكذلك تفعل بكل ما تريد من الأجناس إن شاء الله وأما معنى الجذر فهو إن جذر كل عدد مطلق من أي الأعداد كان هو ما ضرب في مثله كان المجتمع منه هو ذلك العدد المفروض، وأما تجذير هذه الأجناس فليس بلازم لهذا الشرط لما قد وصفنا أيضاً من اختلاف ما يقع من ضرب بعض هذه الجناس في بعض بل إنما يلزمه جنس الدرج فقط فإن جذر الدرج درج أيضاً وذلك أن الدرج إذا ضربت بالدرج فإن المجتمع من ذلك درج، فأما الكسور التي دون الدرج من سائر الأجناس الباقية فما كان منها من جنس الأزواج كالثواني والروابع والسوادس وما شاكل ذلك فإن جذره يكون من الجنس الذي هو أرفع منه بمقدار الضعف مثل الثواني التي جذرها دقائق والروابع التي جذرها ثوان وأما ما كان من جنس الأفراد كالدقائق والثوالث
আর সেকেন্ডের (থওয়ানি) ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, যখন সেকেন্ডকে সেকেন্ড দিয়ে গুণ করা হয়, তখন ফলাফল হয় ফোর্থস (রোয়াবে‘); আর যখন তাকে থার্ডস (থাওয়ালিস) দিয়ে গুণ করা হয়, তখন ফলাফল হয় ফিফথস (খাওয়ামিস)। এই প্রকারগুলোর পরে যা কিছু আসবে, তা এই একই নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসারে পরিচালিত হবে। গুণ বা যোগের মাধ্যমে এই প্রকারগুলোর কোনো একটি থেকে যে সংখ্যাই সমষ্টিগতভাবে আসবে, তাকে যদি ষাট (৬০) দ্বারা ভাগ করা হয়—যার ওপর অন্যান্য সকল ভগ্নাংশের অনুপাত শেষ হয়—তবে যা প্রাপ্ত হবে তা তার পরবর্তী উচ্চতর প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর এই প্রকারগুলোর মধ্য থেকে দুই বা ততোধিক প্রকারের কোনো সংখ্যার ক্ষেত্রে যদি কোনো একটি থেকে বিদ্যমান সংখ্যার চেয়ে বেশি বিয়োগ করার প্রয়োজন হয়, তবে তার জন্য তার উচ্চতর প্রকার থেকে এক (১) ভেঙে ষাট (৬০) অংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে। এরপর তা সংশ্লিষ্ট সংখ্যার সাথে যোগ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিয়োগ করতে হবে এবং যা অবশিষ্ট থাকবে, তা উচ্চতর প্রকারের অবশিষ্টাংশের সাথে হিসাব করতে হবে। আর ডিগ্রির (দারাজ) ক্ষেত্রে, গতির বিভিন্ন পর্যায়ের যোগফলের মাধ্যমে যা অর্জিত হয়, তার অনুপাত হলো আবর্তনের (আদওয়ার) দিকে। সুতরাং যদি সেই সমষ্টি একটি আবর্তন বা একাধিক আবর্তনের চেয়ে বেশি হয়—আর আবর্তনের পরিমাণ হলো ৩৬০ অংশ (ডিগ্রি)—তবে আবর্তনগুলো বাদ দিতে হবে এবং যা অবশিষ্ট থাকবে তা দিয়ে হিসাব করতে হবে। আর যদি ডিগ্রি থেকে এমন কিছু বিয়োগ করার প্রয়োজন হয় যা বিদ্যমান সংখ্যা দ্বারা সম্ভব নয়, তবে তার সাথে একটি আবর্তন যোগ করতে হবে এবং প্রাপ্ত সমষ্টি থেকে প্রয়োজনমতো বিয়োগ করে অবশিষ্ট অংশ হিসাব করতে হবে। অতঃপর আপনি যদি ডিগ্রির কোনো প্রকারকে বা ভগ্নাংশের কোনো প্রকারকে অন্য কোনো প্রকার দ্বারা গুণ করতে চান এবং এই ছকের (জাদওয়াল) মাধ্যমে জানতে চান যে ফলাফলটি কোন প্রকারের হবে, তবে আলিফ-বা (اب) সারির যে ঘরে ওই নির্দিষ্ট প্রকারটি অঙ্কিত আছে—যাকে আপনি গুণ করতে চান—সেটি গ্রহণ করুন। এরপর সেই ঘর থেকে সোজা সমান্তরালভাবে অন্য ওই প্রকারটির দিকে অগ্রসর হোন যা দিয়ে আপনি গুণ করতে ইচ্ছুক, যতক্ষণ না আপনি গুণের ফলাফলটি প্রাপ্ত হন। এর উদাহরণ হলো: আপনি ফোর্থসকে (রোয়াবে‘) থার্ডস (থাওয়ালিস) দিয়ে গুণ করতে চাইলেন। তখন আপনি কাগজের প্রস্থ বরাবর অবস্থিত আলিফ-বা ছক থেকে আপনার ইচ্ছামতো যে কোনো একটি প্রকার নিলেন—ধরা যাক প্রথমে থার্ডস নিলেন—অতঃপর কাগজের দৈর্ঘ্য বরাবর আলিফ-বা ছকের ফোর্থসের সমান্তরালে অগ্রসর হলেন। তখন আপনি এর সমান্তরাল ঘরে সেভেনথস (সওয়ায়ে‘) পাবেন, যা হলো গুণফল হিসেবে প্রাপ্ত প্রকার। অনুরূপভাবে, আপনি যদি আলিফ-বা ছক থেকে ফোর্থস নেন এবং অপর আলিফ-বা ছকের থার্ডসের সোজাসুজি অগ্রসর হন, তবে সেখানেও সেভেনথস পাবেন। ইনশাআল্লাহ, আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত সকল প্রকারের ক্ষেত্রে এভাবেই করবেন। আর বর্গমূলের (জাদর) অর্থ হলো: যে কোনো পরম সংখ্যার বর্গমূল হলো এমন একটি সংখ্যা যাকে তার সমজাতীয় সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে প্রাপ্ত ফলাফলটি ওই নির্দিষ্ট সংখ্যাটিই হয়। তবে এই প্রকারগুলোর বর্গমূল নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এই শর্তটি বাধ্যতামূলক নয়; কারণ আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি যে, এই প্রকারগুলোর একটির সাথে অন্যটির গুণের ফলে ফলাফলে ভিন্নতা দেখা দেয়। বরং এটি কেবল ডিগ্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কেননা ডিগ্রির বর্গমূলও ডিগ্রি হয়। কারণ ডিগ্রিকে যখন ডিগ্রি দিয়ে গুণ করা হয়, তখন তার ফলাফল ডিগ্রিই হয়। আর ডিগ্রির নিম্নবর্তী অন্যান্য ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে, যেগুলো জোড় প্রকারের—যেমন সেকেন্ড (থওয়ানি), ফোর্থস (রোয়াবে‘), সিক্সথস (সওয়াদিস) এবং এই জাতীয়—সেগুলোর বর্গমূল হবে তার চেয়ে দ্বিগুণ পর্যায়ের উচ্চতর প্রকারের। যেমন সেকেন্ডের বর্গমূল হলো মিনিট (দাকায়িক) এবং ফোর্থসের বর্গমূল হলো সেকেন্ড। আর যেগুলো বিজোড় প্রকারের—যেমন মিনিট এবং থার্ডস...
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ৪)
وما شاكل ذلك فليس له جذر محدود إلا أن يبسط إلى الجنس الذي دونه حتى يصير إلى جنس الأزواج فتلزمه هذه الشريطة كالدقائق تبسط إلى الثواني وكالثوالث تبسط إلى الروابع، وأما القسمة: فهي أن تعرف ما يكون من أضعاف الأكثر بالأقل إذا عد الأكثر بالأقل وأن تعرف جزء الأقل من الأكثر إذا كان الأقل هو المقسوم وإذا أجرينا في ذلك إلى عكس ما كنا استعملناه في الضرب والجذور على تلك الشريطة فقسمنا درجاً على درج كان الحاصل بالقسمة درجاً، وأما باقي الأجناس التي دون الدرج فإنه إذا قسم الأسفل على الأعلى كيف كانت مرتبته وليته أو لم تله فإن الحاصل من القسمة يقع من الجنس الذي إذا ضرب في الجنس الذي قسم عليه كان الذي يجتمع منه عائداً إلى الجنس المقسوم كقسمة الثواني على الدقائق فإنها إذا قسمت حصل منها دقائق وكذلك أيضاً إذا قسمت السوادس على الروابع كان ما يحصل ثواني، وأما إذا قسم جنس أعلى على أسفل فإن الوجه في ذلك أن يبسط الجنس الأعلى إلى الأسفل ثم يقسم عليه فيكون الحاصل درجاً، وكقسمة الدقائق على السوادس فإنها إذا بسطت إلى السوادس ثم قسمت على تلك السوادس كان ما يحصل من تلك القسمة درجاًكما وصفنا، وإذا أردت أن تعرف ما يحصل لك من قسمة أجناس الكسور المتسافلة على الأجناس التي هي أرفع منها بهذا الجدول المتقدم ذكره في جدول اب أو في جدول اد أيهما شئت الجنس الذي تريد أن تقسمه على جنس أعلى منه في المرتبة وليه أو لم يله وأخرج بإزائه إلى أن توازي الجنس الذي هو أرفع منه في الجدول الآخر فالجنس الذي تنتهي إليه من أجناس الكسور فهو الذي يحصل لك بالقسمة من المقسوم من تلك الأجناس والذي إذا ضربته في الجنس الأعلى الذي قسمته عليه عاد إلى الجنس المقسوم، وكذلك إذا أردت أن تقسم جنساً أعلى على أسفل فبسطت الأعلى إلى الأسفل ونظرت في أحد الجدولين إلى الجنس الذي يصير إليه ذلك المبسوط فخرجت بإزائه إلى أن توازي الجنس الذي أردت أن تقسمه عليه حصل لك درجاً، وكذلك كلما قسمت جنساً على مثله خرج لك درجاً إن شاء الله تعالى وبالله التوفيق.
الباب الثالث
معرفة أقدار أوتار أجزاء الدائرة
وإثبات أنصاف أوتار أضعاف القسي في الجداول وجميع ما يتبع ذلك من العمل بها
এবং এ জাতীয় যা কিছু রয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট বর্গমূল নেই যদি না তাকে তার নিম্নতর শ্রেণিতে পর্যবসিত করা হয় যতক্ষণ না তা জোড় শ্রেণিতে পরিণত হয়। ফলে এই শর্ত তার জন্য আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে, যেমন ‘দাকায়িক’ (মিনিট) কে ‘সাআনি’ (সেকেন্ড) তে এবং ‘সাওয়ালেস’ (তৃতীয়ক) কে ‘রাওয়াবে’ (চতুর্থক) তে পর্যবসিত করা হয়। আর ভাগ করার পদ্ধতি হলো: বড় সংখ্যাটিকে ছোট সংখ্যা দ্বারা গণনা করলে বড়টি ছোটটির কত গুণ হয় তা জানা, এবং যখন ছোটটি ভাজ্য হয় তখন বড়টির মধ্যে ছোটটির অংশ কতটুকু তা জানা। আমরা যদি এই প্রক্রিয়ায় গুণ ও বর্গমূলের ক্ষেত্রে যে নিয়ম ব্যবহার করেছিলাম তার বিপরীত পদ্ধতি অবলম্বন করি এবং সেই শর্ত অনুযায়ী ডিগ্রিকে ডিগ্রি দ্বারা ভাগ করি, তবে ভাগফল হবে ডিগ্রি। আর ডিগ্রির নিচের অন্যান্য শ্রেণির ক্ষেত্রে, যখন নিম্নতর শ্রেণিকে উচ্চতর শ্রেণি দ্বারা ভাগ করা হয়—তার অবস্থান অনুসারী হোক বা না হোক—তখন ভাগফল এমন একটি শ্রেণি হবে যাকে ভাজক দ্বারা গুণ করলে গুণফলটি পুনরায় ভাজ্যের শ্রেণিতে ফিরে আসে। যেমন ‘সাআনি’ কে ‘দাকায়িক’ দ্বারা ভাগ করা; যদি তা ভাগ করা হয় তবে ভাগফল হবে ‘দাকায়িক’। একইভাবে যদি ‘সাওয়াদিস’ (ষষ্ঠক) কে ‘রাওয়াবে’ দ্বারা ভাগ করা হয় তবে ভাগফল হবে ‘সাআনি’। কিন্তু যদি উচ্চতর শ্রেণিকে নিম্নতর শ্রেণি দ্বারা ভাগ করা হয়, তবে তার পদ্ধতি হলো উচ্চতর শ্রেণিকে নিম্নতর শ্রেণিতে পর্যবসিত করা এবং তারপর তা দিয়ে ভাগ করা; এমতাবস্থায় ভাগফল হবে ডিগ্রি। যেমন ‘দাকায়িক’ কে ‘সাওয়াদিস’ দ্বারা ভাগ করা; একে যদি ‘সাওয়াদিস’ পর্যন্ত পর্যবসিত করা হয় এবং তারপর সেই ‘সাওয়াদিস’ দ্বারা ভাগ করা হয়, তবে ভাগফল হবে ডিগ্রি, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি। আর আপনি যদি পূর্বে উল্লিখিত সারণি অর্থাৎ ‘আলিফ-বা’ সারণি বা ‘আলিফ-দাল’ সারণি—যেকোনোটিই হোক—তার মাধ্যমে নিম্নতর ভগ্নাংশ শ্রেণিকে তার চেয়ে উচ্চতর শ্রেণি দ্বারা ভাগ করলে কী পাওয়া যায় তা জানতে চান, তবে যে শ্রেণিকে আপনি তার চেয়ে উচ্চতর মর্যাদার শ্রেণি দ্বারা ভাগ করতে চান তা নির্ধারণ করুন। এরপর তার সমান্তরালে অগ্রসর হোন যতক্ষণ না আপনি অন্য সারণির উচ্চতর শ্রেণিটির সমান্তরালে পৌঁছান। ভগ্নাংশের যে শ্রেণিতে গিয়ে আপনি পৌঁছাবেন, সেটিই হবে সেই সব শ্রেণির ভাজ্য থেকে প্রাপ্ত ভাগফল। এবং যদি আপনি একে সেই উচ্চতর শ্রেণি দ্বারা গুণ করেন, তবে তা পুনরায় ভাজ্য শ্রেণিতে ফিরে আসবে। একইভাবে যদি আপনি একটি উচ্চতর শ্রেণিকে নিম্নতর শ্রেণি দ্বারা ভাগ করতে চান, তবে উচ্চতর শ্রেণিকে নিম্নতর শ্রেণিতে পর্যবসিত করুন এবং উভয় সারণির যেকোনো একটিতে দেখুন সেই পর্যবসিত রূপটি কোন শ্রেণিতে পরিণত হয়েছে। এরপর তার সমান্তরালে অগ্রসর হয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত ভাজক শ্রেণির সমান্তরালে পৌঁছালে আপনি ডিগ্রি লাভ করবেন। তদ্রূপ যখনই আপনি কোনো শ্রেণিকে তার সমজাতীয় শ্রেণি দ্বারা ভাগ করবেন, তখন আপনার ভাগফল বের হবে ডিগ্রি, ইনশাআল্লাহ। আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা অর্জিত হয়।
তৃতীয় অধ্যায়
বৃত্তের অংশসমূহের জ্যা-এর পরিমাণ নির্ণয়
এবং সারণিসমূহে চাপের গুণিতকসমূহের অর্ধ-জ্যা স্থাপন এবং তৎসংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যাবলি
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ৫)
قال قد اختلفت الأوائل في مقدار قطر الدائرة من محيطها غير أنهم قربوه فذكر قوم أن محيط الدائرة ثلثة أمثال قطرها وسبع المثل، وقال آخرون أنه ثلثة أمثاله وعشرة أجزاء وشيء من أحد وسبعين، والذي عمل عليه بطلميوس الفاضل وأصحاب النجوم فهو ما بين هذين القدرين وهو ثلثة وعشر المثل وربع سدس المثل الواحد ولسنا مضطرين إلى علم حقيقة ذلك في وضع الأوتار إذا كانت القسي والأوتار ليس لبعضها من بعض قدر معلوم وإنما يعلم ذلك من قبل أوتارها ولم يضر علينا في ذلك ضرر أن نفرض القطر كم شئنا ولذلك أنزله بطلميوس مائة وعشرين جزءاً لسهولة مخارج الحساب على هذا الرسم وعليه أيضاً نعمل في هذا الكتاب، وقد وضح بالبرهان ان وتر السدس من كل دائرة هو مقدار نصف قطرها ومقدار سدس دائرة الفلك فقد بان أنه ستون جزءاً على ما أصل الحساب وهو بالمقدار الذي به تكون الدائرة ثلثمائة وستين جزءاً ويكون وتر السدس ستين جزءاً أيضاً بالمقدار الذي يكون القطر مائة وعشرين وإذا ضرب وتر السدس من الدائرة في مثله ونقص من جملة القطر مضروباً في مثله وأخذ ما يبقى كان هو وتر ثلث الدائرة، وكذلك كل قوس معلومة الوتر من دائرة ما إذا ضرب وتر تلك القوس في نفسه ونقص ما يجتمع من ذلك من جميع القطر مضروباً في نفسه وأخذ جذر ما يبقى كان ما يحصل منه وتر القوس الباقية لتمام نصف الدائرة، وإن وتر ربع الدائرة هو جذر ما يجتمع من ضعف ضرب نصف قطرها في نفسه، وإن وتر ربع الدائرة هو جذر ما يجتمع من ضعف ضرب نصف قطرها في نفسه، وإن وتر العشر من كل دائرة يكون ما يحصل من ضرب نصف قطرها في نفسه إذا أضيف إلى ما يجتمع من ذلك ربع قطرها مضروباً في نفسه ثم أخذ جذر الجميع فنقص منه مقدار ربع قطر الدائرة وما بقي هو وتر العشر من تلك الدائرة هو ما يكون من ضرب وتر عشرها في نفسه إذا أضيف إلى ذلك نصف قطرها مضروباً في نفسه وأخذ جذر ما يجتمع من ذلك فيكون هو الخمس من تلك الدائرة، وإن كل قوسين معلومتين الوترين من دائرة يكون وتر القوس التي بينهما في التفاضل معلوماً أيضاً وذلك بان تضرب وتر كل واحدة من القوسين في وتر ما يبقى لتمام الآخر إلى نصف الدائرة ثم يؤخذ الفضل الذي بينهما فيقسم على القطر فما حصل هو وتر تلك القوس التي بين القوسين في التفاضل، وإن كل قوس معلومة الوتر من دائرة فإن وتر نصفها يكون معلوماً أيضاً وذلك بأن تنقص وتر ما بقي لتمام تلك القوس إلى نصف الدائرة من قطر الدائرة كله ثم يؤخذ نصف ما يبقى فيضرب في القطر كله ثم يؤخذ جذر ذلك فما حصل فهو وتر نصف تلك القوس.
তিনি বলেছেন, প্রাচীন পণ্ডিতগণ বৃত্তের পরিধির তুলনায় এর ব্যাসের পরিমাপের বিষয়ে মতভেদ করেছেন, তবে তারা একটি নিকটবর্তী মান প্রদান করেছেন। একদল উল্লেখ করেছেন যে, বৃত্তের পরিধি হলো তার ব্যাসের তিন গুণ এবং ব্যাসের এক-সপ্তমাংশ। অন্যরা বলেছেন যে, এটি হলো তার তিন গুণ এবং একাত্তর ভাগের দশ ভাগ ও তার সামান্য কিছু। মহাজ্ঞানী টলেমি এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানিগণ যে মানটির উপর ভিত্তি করে কাজ করেছেন তা এই দুই পরিমাপের মধ্যবর্তী; আর তা হলো তিন, এক-দশমাংশ এবং এক-এককের এক-ষষ্ঠমাংশের এক-চতুর্থাংশ। জ্যা (chord) নির্ধারণের ক্ষেত্রে এর প্রকৃত সত্য জানার প্রয়োজন আমাদের নেই, যেহেতু বৃত্তচাপ এবং জ্যাসমূহের একে অপরের সাপেক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিমাপ নেই; বরং তা কেবল তাদের জ্যা থেকেই জানা যায়। ব্যাসের মান আমরা আমাদের ইচ্ছামতো ধরে নিলে আমাদের কোনো ক্ষতি নেই। এই কারণে টলেমি হিসাবের সুবিধার জন্য একে একশত বিশ অংশে নির্ধারণ করেছেন এবং আমরাও এই গ্রন্থে সেই অনুসারেই কাজ করব। প্রমাণের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, যেকোনো বৃত্তের ষষ্ঠমাংশের জ্যা তার ব্যাসার্ধের সমান। আকাশমণ্ডলের বৃত্তের ষষ্ঠমাংশের পরিমাপ হিসাবের মূলনীতি অনুযায়ী ষাট অংশ বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা সেই পরিমাপ অনুযায়ী যাতে বৃত্তকে তিনশত ষাট অংশে ধরা হয়; এবং যেখানে ব্যাস একশত বিশ অংশ সেখানে ষষ্ঠমাংশের জ্যা-ও ষাট অংশ হয়। যখন বৃত্তের এক-ষষ্ঠমাংশের জ্যা-কে তার নিজের দ্বারা গুণ করা হয় এবং তা ব্যাসের বর্গের গুণফল থেকে বিয়োগ করা হয়, তখন যা অবশিষ্ট থাকে তার বর্গমূল হলো বৃত্তের এক-তৃতীয়াংশের জ্যা। একইভাবে, কোনো বৃত্তের যে কোনো চাপ যার জ্যা জানা আছে, যদি সেই চাপের জ্যা-কে তার নিজের দ্বারা গুণ করা হয় এবং প্রাপ্ত ফলকে ব্যাসের বর্গের গুণফল থেকে বিয়োগ করা হয়, তবে অবশিষ্টের বর্গমূল হবে অর্ধবৃত্ত পূর্ণ করতে অবশিষ্ট চাপের জ্যা। বৃত্তের এক-চতুর্থাংশের জ্যা হলো ব্যাসার্ধের বর্গের দ্বিগুণের বর্গমূল। বৃত্তের এক-চতুর্থাংশের জ্যা হলো ব্যাসার্ধের বর্গের দ্বিগুণের বর্গমূল। যেকোনো বৃত্তের এক-দশমাংশের জ্যা হলো সেই মান যা পাওয়া যায় যখন ব্যাসার্ধের বর্গকে ব্যাসের এক-চতুর্থাংশের বর্গের সাথে যোগ করা হয়, অতঃপর সেই সমষ্টির বর্গমূল নিয়ে তা থেকে ব্যাসের এক-চতুর্থাংশ বিয়োগ করা হয়; যা অবশিষ্ট থাকে তা-ই হলো সেই বৃত্তের এক-দশমাংশের জ্যা। আর এক-দশমাংশের জ্যা-এর বর্গকে যদি ব্যাসার্ধের বর্গের সাথে যোগ করা হয় এবং সেই সমষ্টির বর্গমূল নেওয়া হয়, তবে তা হবে সেই বৃত্তের এক-পঞ্চমাংশের জ্যা। বৃত্তের এমন দুটি চাপ যাদের জ্যা জানা আছে, তাদের পার্থক্যের মধ্যবর্তী চাপের জ্যা-ও জানা সম্ভব। আর তা হলো, প্রতিটি চাপের জ্যা-কে অপর চাপের অর্ধবৃত্ত পূর্ণ করতে অবশিষ্ট অংশের জ্যা দ্বারা গুণ করা, তারপর তাদের গুণফলের পার্থক্যকে ব্যাস দ্বারা ভাগ করা; যা পাওয়া যাবে তা-ই হলো সেই দুই চাপের পার্থক্যের মধ্যবর্তী অংশের জ্যা। কোনো বৃত্তের এমন চাপ যার জ্যা জানা আছে, তার অর্ধেক চাপের জ্যা-ও জানা সম্ভব। আর তা হলো, উক্ত চাপটি অর্ধবৃত্ত পূর্ণ করতে যতটুকু অবশিষ্ট থাকে তার জ্যা-কে পূর্ণ ব্যাস থেকে বিয়োগ করা, তারপর অবশিষ্টের অর্ধেককে পূর্ণ ব্যাস দ্বারা গুণ করা এবং প্রাপ্ত মানের বর্গমূল নেওয়া; যা পাওয়া যাবে তা-ই হলো সেই চাপের অর্ধেকের জ্যা।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ৬)
وإن كل قوسين معلومتين الوترين من الدائرة إذا ركبت إحداها على الأخرى فجمعنا حتى تصير قوساً واحدة فإن وتر تلك القوس المجموعة يكون معلوماً أيضاً وذلك بأن تضرب وتر كل واحدة من القوسين في الأخرى ووتر ما يبقى لتمام كل واحدة منهما إلى نصف الدائرة الأخرى أيضاً ثم يؤخذ فضل ما بينهما فيقسم على القطر كله فما يحصل فهو وتر ما يبقى لتمام القوس المجموعة إلى نصف الدائرة فإذا ضرب في نفسه ونقص من جملة القطر مضروباً في نفسه وأخذ جذر ما يبقى كان هو وتر تلك القوس المجموعة من القوسين، وعلى هذا الرسم وبالجهات المذكورة تستخرج جميع الأوتار الباقية المعلومة في نصف الدائرة، وأما الأوتار التي ليست بمعلومة بالبرهان مثل الوتر الذي للجزء الواحد وما يتضاعف منه مثل الاثنين والأربعة والثمانية وما أشبه ذلك فإنها لا تخرج بالحساب على طريق البرهان كما تخرج تلك القسي وتلك الأوتار ولكنه يعلم بالبرهان أن نسبة وتر القوس الصغرى إلى قوسها أعظم من نسبة وتر القوس العظمى إلى قوسها ولما كان الجزء والنصف ووتر النصف والربع معلومين بالبرهان وكان ما حصل من ثلثي وتر الجزء والنصف مساوياً للذي يحصل من وتر النصف والربع جزء إذا زيد عليه مثل ثلثه وليس بينهما اختلاف يحس ولا يقع من قبله ضرر في الحساب وإذا أخذ وتر الثلثة أرباع فزيد عليه مثل ثلثه صار ما يجتمع من ذلك وتر الجزء الواحد فلما علم وتر الجزء الواحد على هذه الجهة صارت جميع أوتار أجزاء نصف الدائرة معلومة أيضاً، ولما كان ما يحتاج إليه في أقدار القسي المتقاطعة في القسي المعلومة إنما يعلم بأوتار أضعاف القسي المعلومة وكانت الدائرة متى قسمت بخطين يتقاطعان على مركزها على زوايا قائمة انقسمت لذلك أرباعاً متساوية على أربع زوايا يحيط بكل زاوية منها تسعين جزءاً من المحيط وخطان يخرجان من المركز إلى المحيط مقدار كل واحد منهما نصف القطر ويحيط بالزاويتين القائمتين اللتان تحت الربعين جميعاً خط مستقيم وهو القطر كله وبين إنه ضعف كل واحد من ذينك الخطين المحيطين بالزاوية الواحدة القائمة التي تحت الربع الواحد فصار لذلك نسبة كل واحد من الخطين المحيطين بالزاوية القائمة إلى القطر المحيط بالزاويتين القائمتين كنسبة ربع الدائرة إلى نصفها وصارت لذلك أوتار القسي الباقية في نصف الدائرة يفصلها القطر بفصلين نصفين ويفصل أيضاً القسي معها على جنبيه بنصفين فكون نسبة وتر كل قوس منها إلى جميع القطر كنسبة نصف ذلك الوتر الذي تحت نصف تلك القوس إلى نصف القطر وهو نصف وتر ضعف القوس التي على جنبي القطر التي في كل ربع من الربعين منها النصف وإياه نعني وهو الذي نستعمل في وجوه الحساب لكي لا نحتاج إلى تضعيف القوس فيما نحاول معرفته وإنما فعل ذلك بطليموس لإقامة البرهان فأما نحن فإنا أخذنا نصف وتر ضعف كل قوس من قسي ربع الدائرة فأثبتناه تحت حصة تلك القوس الواقعة في الربع وجعلنا تفاضل القسي في الجداول بنصف جزء إلى تمام التسعين الجزء التي تحيط بجميع الربع كله فوقع لذلك نصف وتر الجزء الواحد تحت النصف جزء ونصف وتر الستين تحت الثلثين جزءاً ونصف وتر المائة والعشرين وتحت الستين ونصف وتر المائة والثمانين جزءاً التي هي نصف الدائرة ووترها القطر كله تحت التسعين التي هي أجزاء الربع كله وهو نصف القطر ومقداره ستون جزءاً وإليه تقع نسبة جميع هذه الأوتار المنصفة المذكورة المرسومة في هذا الكتاب.
একটি বৃত্তের এমন দু’টি চাপ যাদের জ্যা জানা আছে, যদি একটিকে অন্যটির ওপর স্থাপন করে একত্র করা হয় যাতে সেগুলো একটি একক চাপে পরিণত হয়, তবে সেই সম্মিলিত চাপের জ্যা-ও জানা হয়ে যাবে। আর তা হলো এভাবে যে, উভয় চাপের প্রতিটি জ্যা-কে অপরটি দ্বারা গুণ করতে হবে এবং প্রতিটি চাপের বিপরীতে অর্ধবৃত্ত পূর্ণ হতে যে অংশ অবশিষ্ট থাকে তার জ্যা-কেও গুণ করতে হবে। অতঃপর এই গুণফলদ্বয়ের ব্যবধান বা পার্থক্য নিতে হবে এবং তাকে সম্পূর্ণ ব্যাস দ্বারা ভাগ করতে হবে। এর ফলে যা পাওয়া যাবে তা হলো সম্মিলিত চাপটি অর্ধবৃত্ত পূর্ণ করতে যে পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে তার জ্যা। অতঃপর যদি একে বর্গ করে ব্যাসের বর্গ থেকে বিয়োগ করা হয় এবং অবশিষ্টের বর্গমূল গ্রহণ করা হয়, তবে তা হবে ঐ সম্মিলিত চাপের জ্যা। এই নিয়ম অনুযায়ী এবং উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি অর্ধবৃত্তের অবশিষ্ট সকল জানা জ্যা বের করা সম্ভব। আর যে সকল জ্যা প্রমাণের মাধ্যমে জানা নয়, যেমন এক অংশের জ্যা এবং তার গুণিতকসমূহ—যেমন দুই, চার, আট এবং অনুরূপ—সেগুলো প্রমাণের পদ্ধতিতে হিসাবের মাধ্যমে বের করা যায় না যেভাবে ঐ সকল চাপ ও জ্যাসমূহ বের করা যায়। তবে প্রমাণের মাধ্যমে এটি জানা যায় যে, ক্ষুদ্রতর চাপের জ্যা এবং তার চাপের অনুপাত, বৃহত্তর চাপের জ্যা এবং তার চাপের অনুপাত অপেক্ষা বৃহত্তর। যেহেতু এক অংশ ও অর্ধ অংশ এবং অর্ধ ও এক-চতুর্থাংশের জ্যা প্রমাণের মাধ্যমে জানা ছিল, এবং এক ও অর্ধ অংশের জ্যা-র দুই-তৃতীয়াংশ থেকে যা অর্জিত হয় তা অর্ধ ও এক-চতুর্থাংশ অংশের জ্যা-র সাথে তার এক-তৃতীয়াংশ যোগ করলে যা পাওয়া যায় তার সমান, এবং তাদের মধ্যে এমন কোনো পার্থক্য নেই যা অনুভব করা যায় বা যার কারণে হিসাবের ক্ষেত্রে কোনো বিচ্যুতি ঘটে। আর যখন তিন-চতুর্থাংশের জ্যা গ্রহণ করে তার সাথে তার এক-তৃতীয়াংশ যোগ করা হয়, তখন যা পাওয়া যায় তা হলো এক অংশের জ্যা। যখন এভাবে এক অংশের জ্যা জানা হয়ে গেল, তখন অর্ধবৃত্তের সকল অংশের জ্যা-ও জানা হয়ে গেল। আর যেহেতু জানা চাপসমূহের পরস্পরছেদী অংশগুলোর পরিমাণ নির্ণয় করতে জানা চাপসমূহের দ্বিগুণের জ্যা ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়, এবং বৃত্তকে যখন তার কেন্দ্রের ওপর সমকোণে পরস্পরছেদী দুটি রেখা দ্বারা বিভক্ত করা হয়, তখন তা চারটি সমান চতুর্থাংশে বিভক্ত হয় যা চারটি কোণ গঠন করে, যার প্রতিটি কোণ পরিধির নব্বই অংশকে বেষ্টন করে থাকে। এবং কেন্দ্র থেকে পরিধি পর্যন্ত বিস্তৃত দুটি রেখা যাদের প্রত্যেকের মান হলো ব্যাসার্ধ; আর দুটি সমকোণকে—যা দুটি চতুর্থাংশের নিচে অবস্থিত—একটি সরলরেখা বেষ্টন করে যা হলো পূর্ণ ব্যাস। এটি স্পষ্ট যে, ব্যাস হলো সেই রেখা দুটির প্রত্যেকের দ্বিগুণ যা একটি চতুর্থাংশের নিচে অবস্থিত একটি সমকোণকে বেষ্টন করে আছে। ফলে সমকোণকে বেষ্টনকারী প্রতিটি রেখার সাথে দুটি সমকোণকে বেষ্টনকারী ব্যাসের অনুপাত ঠিক তেমন হলো যেমন বৃত্তের এক-চতুর্থাংশের সাথে তার অর্ধাংশের অনুপাত। এ কারণে অর্ধবৃত্তের অবশিষ্ট চাপসমূহের জ্যা-গুলোকে ব্যাস দুটি সমান অংশে বিভক্ত করে এবং ব্যাসের উভয় পার্শের চাপগুলোকেও দুই ভাগে বিভক্ত করে। তাই এর প্রতিটি চাপের জ্যা এবং পূর্ণ ব্যাসের অনুপাত হলো ঐ চাপের অর্ধেকের নিচে অবস্থিত জ্যা-র অর্ধাংশ এবং ব্যাসার্ধের অনুপাতের সমান; আর এটি হলো ব্যাসের উভয় পার্শ্বে অবস্থিত চাপের দ্বিগুণের জ্যা-র অর্ধেক, যার অর্ধেক প্রতিটি চতুর্থাংশে বিদ্যমান। এটিই আমাদের উদ্দেশ্য এবং এটিই আমরা হিসাবের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার করি যাতে আমাদের উদ্দিষ্ট বিষয়ে চাপকে দ্বিগুণ করার প্রয়োজন না হয়। টলেমি এটি করেছিলেন কেবল প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু আমরা বৃত্তের এক-চতুর্থাংশের প্রতিটি চাপের দ্বিগুণের জ্যা-র অর্ধেক গ্রহণ করেছি এবং তাকে ঐ চতুর্থাংশে অবস্থিত চাপের অংশের অধীনে স্থাপন করেছি। আমরা সারণিতে চাপসমূহের ব্যবধান আধা-অংশ হিসেবে নির্ধারণ করেছি পূর্ণ নব্বই অংশ পর্যন্ত যা সমগ্র চতুর্থাংশকে বেষ্টন করে। এর ফলে এক অংশের জ্যা-র অর্ধেক আধা-অংশের নিচে, ষাট অংশের জ্যা-র অর্ধেক ত্রিশ অংশের নিচে, একশত বিশ অংশের জ্যা-র অর্ধেক ষাট অংশের নিচে এবং একশত আশি অংশের (যা অর্ধবৃত্ত এবং যার জ্যা হলো পূর্ণ ব্যাস) জ্যা-র অর্ধেক নব্বই অংশের (যা পূর্ণ চতুর্থাংশের অংশসমূহ এবং যা ব্যাসার্ধ, যার মান ষাট অংশ) নিচে অবস্থিত হয়েছে। আর এই গ্রন্থে অঙ্কিত উল্লিখিত সকল খণ্ডিত জ্যা-র অনুপাত এরই সাথে সম্পর্কিত।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ৭)
ولكيلا يحتاج أن يتكرر القول فيما يستأنف نبين أن كلما لفظنا به في كتابنا هذا من ذكر الأوتار فإنما نعني به هذه الأوتار المنصفة إلا ما خصصناه منها باسمه فسميناه وتراً تاماً وهو أقل ما حاجتنا إليه في أكثر الأمر، فإذا أردت أن تعرف وتر أي درجة شئت من هذه الأوتار المنصفة من قبل الجداول فاطلب في جدول الأوتار المنصفة في سطر الأعداد المتفاضلين بنصف جزء فحيث ما أصبت مثل العدد الذي معك فخذ ما تلقاه من الدرج والدقائق والثواني المرسومة في جدول الأوتار فما كان فهو وتر تلك الدرج التي أردت فإن كان مع الدرج دقائق وكانت أكثر من ثلثين دقيقة أو أقل من ثلثين دقيقة فخذ ما تلقاه الدرج التامة أو الدرج والأنصاف أيهما كان أقرب إلى الدرج التي معك والدقائق مما هو أقل منها فما خرج تلقاءه من جدول الأوتار فاحفظه ثم انقص العدد الذي وجدت في السطر من الذي معك فما بقي من الدقائق فاضربه في فضل ما بين المتر الذي حفظت والوتر الذي تلقاء ما هو أكثر منه بنصف جزء فما بلغ فاقسمه على ثلثين دقيقة التي بها يتفاضل العدد في سطري القسي فما حصل من القسمة من الدقائق والثواني فزده على الوتر الذي كنت حفظت إن كان هو الأقل وانقصه منه إن كان هو الأكثر فما بلغ بعد الزيادة أو النقصان فهو وتر تلك الدرج والدقائق التي معك، وإن شئت أن تعرف مقدار الدقائق التي تفضل معك كم هو من ثلثين دقيقة فإن كان نصفاً أو ثلثاً أو أقل من ذلك أو أكثر أخذت بقدره من تفاضل الأوتار فسلكت به ذلك المسلك في الزيادة والنقصان فما حصل فهو وتر تلك القوس التي أردت، وإن أردت أن تعرف القسي من قبل هذه الأوتار فاطلب مثل الوتر في جدول الأوتار فحيث ما أصبت مثله أو ما هو أقرب إليه مما هو أقل منه فخذ ما تلقاءه في السطر الأول من سطري العدد فما كان فهي القوس التي تريد فاحفظها ثم انقص الوتر الذي أصبت في الجداول من الوتر الذي معك فما حصل من شيء فاضربه في ثلثين دقيقة فما بلغ فاقسمه على فضل ما بين الوتر الذي أصبت والوتر الذي يتلوه فما حصل من الدقائق والثواني فزده على تلك القوس التي حفظت فما بلغت القوس فهي قوس ذلك الوتر المنصف الذي تريد، وإن شئت فانظر مقدار تلك الدقائق والثواني التي تفضل معك كم تكون من فضل ما بين ذلك الوتر الذي أصبت والوتر الذي يتلوه فما كانت من شيء أخذت بقدره من ثلثين دقيقة فزدته على القوس التي كنت حفظت على نحو ما تقدم والمعنى واحد ويسمى هذا الباب تقويس الأوتار، وإذا أردت أن تعرف الأوتار الراجعة من قبل القسي فانظر فإن كان العدد الذي تريد أن تعرف وتره راجعاً أقل من تسعين درجة فانقصه من تسعين فما بقي فاعرف وتره على الرسم المتقدم فما حصل فانقصه من ستين درجة التي هي نصف القطر فما بقي فهو الوتر الراجع لتلك القوس، وإن كان العدد أكثر من تسعين فاعرف ما زاد على تسعين فاعرف وتره فما بلغ فزده على ستين درجة فما بلغ فهو الوتر الراجع لتلك القوس، وإن كان العدد أكثر من تسعين فاعرف ما زاد على تسعين فاعرف وتره فما بلغ فزده على ستين درجة فما بلغ فهو الوتر الراجع لتلك القوس التي أردت، وإن أردت أن تعرف القسي الراجعة من قبل هذه الأوتار فانظر فإن كان الوتر الذي تريد أقل من ستين درجة فانقصه من ستين فما بقي فاعرف قوسه على ذلك الرسم فما بلغت القوس فانقصه من تسعين فما بقي فهو مقدار القوس الراجعة، وإن كان ذلك الوتر أكثر من ستين واعرف قوسه فما حصلت فزده على تسعين درجة فما بلغ فهو مقدار القوس الراجعة.
যাতে পরবর্তীতে কথা পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন না হয়, সেহেতু আমরা বর্ণনা করছি যে, আমাদের এই কিতাবে যেখানেই আমরা জ্যা (وتر) শব্দটি উচ্চারণ করব, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হবে এই অর্ধ-জ্যাসমূহ (الأوتار المنصفة), যতক্ষণ না আমরা সেটিকে তার নির্দিষ্ট নামে 'পূর্ণ-জ্যা' (وتراً تاماً) বলে অভিহিত করি; আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের এর প্রয়োজনীয়তা খুব সামান্যই। সুতরাং আপনি যদি সারণি (Table) থেকে এই অর্ধ-জ্যাগুলোর মধ্যে আপনার কাঙ্ক্ষিত যেকোনো ডিগ্রির জ্যা জানতে চান, তবে অর্ধ-জ্যার সারণিতে আধা অংশের ব্যবধানে সাজানো সংখ্যার সারিতে তা খুঁজুন। সেখানে আপনার কাছে থাকা সংখ্যার অনুরূপ যে সংখ্যাটি পাবেন, জ্যা-সারণিতে তার বিপরীতে অঙ্কিত ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডগুলো গ্রহণ করুন। যা পাওয়া যাবে তাই হবে আপনার অভীষ্ট ডিগ্রির জ্যা। যদি ডিগ্রির সাথে মিনিট থাকে এবং তা ত্রিশ মিনিটের বেশি বা কম হয়, তবে আপনার কাছে থাকা ডিগ্রির সাথে থাকা মিনিটগুলোর চেয়ে কম এবং সবচেয়ে নিকটবর্তী যে পূর্ণ ডিগ্রি অথবা ডিগ্রি ও অর্ধেক (সাড়ে ডিগ্রি) পাওয়া যায় তা গ্রহণ করুন। সারণিতে তার বিপরীতে যা বের হবে তা সংরক্ষণ করুন। এরপর সারণিতে পাওয়া সংখ্যাটি আপনার কাছে থাকা সংখ্যা থেকে বিয়োগ করুন। অবশিষ্ট মিনিটকে আপনার সংরক্ষিত জ্যা এবং তার পরবর্তী (আধা অংশ বেশি) জ্যা-র মধ্যবর্তী পার্থক্যের সাথে গুণ করুন। গুণফলকে ত্রিশ মিনিট দ্বারা ভাগ করুন, যার ভিত্তিতে চাপের উভয় সারিতে সংখ্যাগুলো বিভক্ত। ভাগফল থেকে প্রাপ্ত মিনিট ও সেকেন্ড আপনার সংরক্ষিত জ্যার সাথে যোগ করুন যদি সংরক্ষিতটি ছোট হয়, আর যদি সংরক্ষিতটি বড় হয় তবে তা থেকে বিয়োগ করুন। এই বৃদ্ধি বা হ্রাসের পর যা পাওয়া যাবে, তা-ই হবে আপনার কাছে থাকা ডিগ্রি ও মিনিটের জ্যা। আর আপনি যদি জানতে চান আপনার কাছে অবশিষ্ট থাকা মিনিটের পরিমাণ ত্রিশ মিনিটের কত অংশ—তা অর্ধেক, এক-তৃতীয়াংশ, তার চেয়ে কম বা বেশি হোক—তবে জ্যা-সমূহের পার্থক্যের সেই নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করে বৃদ্ধি ও হ্রাসের ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অবলম্বন করবেন। যা অর্জিত হবে তা-ই হবে আপনার কাঙ্ক্ষিত চাপের জ্যা। আর আপনি যদি এই জ্যা-সমূহের মাধ্যমে চাপসমূহ জানতে চান, তবে জ্যা-সারণিতে উক্ত জ্যা-র অনুরূপ সংখ্যাটি খুঁজুন। যেখানে আপনি এর অনুরূপ বা এর চেয়ে ছোট কোনো নিকটবর্তী সংখ্যা পাবেন, তখন সংখ্যার দুই সারির প্রথম সারিতে তার বিপরীতে যা আছে তা গ্রহণ করুন; এটিই আপনার কাঙ্ক্ষিত চাপ, একে সংরক্ষণ করুন। এরপর সারণিতে প্রাপ্ত জ্যা-কে আপনার কাছে থাকা জ্যা থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তাকে ত্রিশ মিনিট দিয়ে গুণ করুন এবং গুণফলকে প্রাপ্ত জ্যা ও তার পরবর্তী জ্যার পার্থক্যের মাধ্যমে ভাগ করুন। প্রাপ্ত মিনিট ও সেকেন্ডকে সংরক্ষিত চাপের সাথে যোগ করুন। যোগফলের পর যে চাপ পাওয়া যাবে, তা-ই হবে আপনার অভীষ্ট অর্ধ-জ্যার চাপ। আর আপনি চাইলে অবশিষ্ট মিনিট ও সেকেন্ডের পরিমাণ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন যে, তা আপনার প্রাপ্ত জ্যা এবং তার পরবর্তী জ্যার মধ্যবর্তী পার্থক্যের কত অংশ। এরপর সেই অংশ অনুযায়ী ত্রিশ মিনিটের ভাগ নিয়ে তা সংরক্ষিত চাপের সাথে পূর্বোক্ত নিয়মে যোগ করুন; উভয় পদ্ধতির অর্থ একই। এই অধ্যায়কে 'জ্যা-র চাপ নির্ণয়' বলা হয়। আপনি যদি চাপের মাধ্যমে বিপরীত জ্যা (الأوتار الراجعة) জানতে চান, তবে লক্ষ্য করুন: আপনি যে সংখ্যার বিপরীত জ্যা জানতে চাচ্ছেন তা যদি নব্বই ডিগ্রির কম হয়, তবে তা নব্বই থেকে বিয়োগ করুন। অবশিষ্ট অংশের জ্যা পূর্বোক্ত নিয়মে বের করুন। যা পাওয়া যাবে তা ষাট ডিগ্রি (যা ব্যাসার্ধ) থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তা-ই হবে উক্ত চাপের বিপরীত জ্যা। আর যদি সংখ্যাটি নব্বইয়ের বেশি হয়, তবে নব্বইয়ের অতিরিক্ত অংশটুকু কত তা দেখুন এবং তার জ্যা বের করুন। যা পাওয়া যাবে তা ষাট ডিগ্রির সাথে যোগ করুন। যোগফল যা হবে তা-ই হবে উক্ত চাপের বিপরীত জ্যা। আর যদি সংখ্যাটি নব্বইয়ের বেশি হয়, তবে নব্বইয়ের অতিরিক্ত অংশটুকু কত তা দেখুন এবং তার জ্যা বের করুন। যা পাওয়া যাবে তা ষাট ডিগ্রির সাথে যোগ করুন। যোগফল যা হবে তা-ই হবে আপনার কাঙ্ক্ষিত চাপের বিপরীত জ্যা। আর যদি আপনি এই বিপরীত জ্যা-সমূহের মাধ্যমে বিপরীত চাপ জানতে চান, তবে লক্ষ্য করুন: আপনার কাঙ্ক্ষিত জ্যা যদি ষাট ডিগ্রির কম হয়, তবে তা ষাট থেকে বিয়োগ করুন। অবশিষ্ট অংশের চাপ সেই নিয়মে বের করুন। প্রাপ্ত চাপকে নব্বই থেকে বিয়োগ করুন; যা অবশিষ্ট থাকবে তা-ই হবে বিপরীত চাপের পরিমাণ। আর যদি জ্যা ষাট ডিগ্রির বেশি হয়, তবে তার চাপ বের করুন এবং প্রাপ্ত ফলাফলকে নব্বই ডিগ্রির সাথে যোগ করুন। যোগফল যা হবে তা-ই হবে বিপরীত চাপের পরিমাণ।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ৮)
وليست لك حاجة في معرفة القسي والأوتار إلى أكثر مما رسمت لك وقد تكتفي في معرفة هذه الأوتار المنصفة بمعرفة أوتار ما بين الدرجة إلى تسعين درجة وذلك إن ما جاوز التسعين إلى تمام المائة والثمانين فإن وتره مثل وتر التسعين معكوساً، وكذلك في الأوتار التامة ليس بك حاجة إلى أكثر من معرفة أوتار نصف الدائرة الذي هو من جزء إلى مائة وثمانين لأن أوتار النصف الباقي مثل أوتار المائة والثمانين معكوسة، وأما معرفة الأوتار التامة من قبل القسي والقسي من قبل هذه الأوتار فإنك إذا أردت معرفة وتر أي درجة شئت تاماً أخذت نصف تلك الدرج فعرفت وتره المنصف من الجدول فما بلغ من شيء أضعفته فما حصل فهو الوتر التام لتلك الدرج التي أردت، وإن أردت أن تقوس الأوتار التامة بالجداول أيضاً فخذ نصف ذلك الوتر فقوسه من الجدول على تلك الجهة المتقدمة فما حصلت القوس فأضعفه فما بلغ فهو قوس ذلك الوتر التام التي أردت، وكلما ضرب أحد هذه الأوتار المنصفة في نفسه ونقص من نصف القطر مضروباً في نفسه كان جذر ما يبقى هو وتر ما يبقى لتمام تلك القوس إلى ربع الدائرة، وإذا نقص وتر أي جزء كان من هذه الأوتار المنصفة من نصف القطر وضرب ما يبقى في ثلثين جزءاً وأخذ جذر ذلك كان وتر نصف ما يبقى لتمام تلك القوس إلى ربع الدائرة إن شاء الله.
الباب الرابع
معرفة مقدار ميل فلك البروج
عن فلك معدل النهار وتجزئة هذا الميل وجهاته ومراتبه في صعوده وهبوطه وهو ميل الشمس عن الفلك المستقيم
ধনু এবং জ্যা সম্পর্কে আপনার জানার জন্য আমি যা অঙ্কন করেছি তার চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই। আর এই অর্ধ-জ্যাসমূহ জানার ক্ষেত্রে এক ডিগ্রি থেকে নব্বই ডিগ্রি পর্যন্ত জ্যাসমূহ জানাই আপনার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। কারণ নব্বই ছাড়িয়ে একশত আশি পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত জ্যাসমূহ হলো নব্বইয়ের জ্যাসমূহের বিপরীতের মতো। একইভাবে পূর্ণ জ্যাসমূহের ক্ষেত্রেও আপনার অর্ধ-বৃত্তের (যা এক অংশ থেকে একশত আশি পর্যন্ত) জ্যাসমূহ জানার অতিরিক্ত কিছুর প্রয়োজন নেই; কারণ অবশিষ্ট অর্ধাংশের জ্যাসমূহ হলো একশত আশির জ্যাসমূহের বিপরীতের মতো। আর ধনু থেকে পূর্ণ জ্যা এবং এই জ্যাগুলো থেকে ধনু পরিমাপ করার পদ্ধতি হলো, আপনি যদি আপনার ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো ডিগ্রির পূর্ণ জ্যা জানতে চান, তবে আপনি সেই ডিগ্রির অর্ধেক গ্রহণ করবেন এবং সারণী থেকে তার অর্ধ-জ্যা বের করবেন। অতঃপর যা পাবেন তাকে দ্বিগুণ করবেন; ফলে যা অর্জিত হবে তা-ই হলো আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রির পূর্ণ জ্যা। আর আপনি যদি সারণীর সাহায্যে পূর্ণ জ্যাসমূহের ধনু বের করতে চান, তবে সেই জ্যার অর্ধেক গ্রহণ করুন এবং পূর্বোল্লিখিত পদ্ধতিতে সারণী থেকে তার ধনু বের করুন। অতঃপর প্রাপ্ত ধনুকে দ্বিগুণ করুন; ফলে যা হবে তা-ই হলো আপনার কাঙ্ক্ষিত পূর্ণ জ্যার ধনু। আর যখনই এই অর্ধ-জ্যাসমূহের কোনো একটিকে স্বীয় সংখ্যা দ্বারা গুণ করা হবে এবং ব্যাসার্ধকে স্বীয় সংখ্যা দ্বারা গুণ করে প্রাপ্ত ফল থেকে তা বিয়োগ করা হবে, তখন অবশিষ্টের বর্গমূল হবে সেই ধনুর অবশিষ্ট অংশের জ্যা যা বৃত্তের এক-চতুর্থাংশ পূর্ণ করে। আর যদি এই অর্ধ-জ্যাসমূহের যেকোনো অংশের জ্যাকে ব্যাসার্ধ থেকে বিয়োগ করা হয় এবং অবশিষ্টকে ষাট অংশ দ্বারা গুণ করা হয় এবং তার বর্গমূল নেওয়া হয়, তবে তা হবে সেই ধনুর অবশিষ্ট অংশের অর্ধেকের জ্যা যা বৃত্তের এক-চতুর্থাংশ পূর্ণ করে, ইনশাআল্লাহ।
চতুর্থ অধ্যায়
রাশিচক্রের কক্ষপথের ঝুঁকির পরিমাণ নির্ণয়
বিষুবরেখা থেকে এই ঝুঁকির পরিমাপ, এর বিভাজন, দিকসমূহ এবং এর আরোহণ ও অবরোহণের পর্যায়সমূহ; আর এটি হলো বিষুবরেখা থেকে সূর্যের বিচ্যুতি
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال إن ميل فلك البروج الذي يحده مدار الشمس الذي ترى عليه عن فلك معدل النهار الذي عليه مدار الكرة العظمى التي تدور على قطبيه إنما يعرف برصد الشمس وتفقد مجازها على نقطتي الإنقلابين في فلك نصف النهار الذي هو دائرة وسط السماء القاطعة لقطبي فلك معدل النهار ونقطة سمت الرأس ودائرة الأفق وقد ذكر إبرخس وحكى بطليموس في كتابه أن مقدار القوس التي بين منقلبي الشتاء والصيف في فلك نصف النهار سبعة وأربعون جزءاً واثنتان وأربعون دقيقة وأن الميل نصف ذلك وهو ثلثة وعشرون جزءاً وإحدى وخمسون دقيقة ورصدنا نحن في عصرنا هذا مراراً كثيرة بالعضادة الطويلة واللبنة المذكور عملها وضعتها في كتاب المجسطي بعد تدقيق القسمة وإحكام نصب الآلة بغاية ما تهيأ فوجدنا أقرب قرب الشمس بمدينة الرقة من نقطة سمت الرؤوس في فلك نصف النهار اثنا عشر جزءاً وستاً وعشرين دقيقة وأبعد بعدها تسعة وخمسين جزءاً وستاً وثلثين دقيقة فوضح لنا بذلك أن مقدار القوس التي بين المنقلبين على الحقيقة يكون سبعة وأربعين جزءاً وعشر دقائق وأن ميل فلك البروج عن فلك معدل النهار إنما يكون نصف هذه الأجزاء وهو ثلثة وعشرون جزءاً وخمس وثلثون دقيقة وهو بعد ما بين قطبي الفلكين وعليه نعمل في كتابنا هذا إذ كان عياناً والأول خبراً وبذلك علمنا أن بعد مدينة الرقة التي بها كان الرصد عن فلك معدل النهار في دائرة نصف النهار ستة وثلثون جزءاً وهو ارتفاع قطب فلك معدل النهار الشمالي بها عن الأفق وهو أيضاً بعد فلك معدل النهار عن نقطة سمت الرأس إلى الجنوب، فإذا أردت أن تحسب هذا الميل فتعرف حصة كل درجة تريد منه إلى تمام تسعين درجة التي تستكمل الميل وهو كج له فنخذ وتر درجة أو درجتين أو أكثر من ذلك إلى تمام تسعين درجة وهو من أول الحمل إلى آخر الجوزاء فإذا عرفت وتر الدرج التي أردت فاضربه في وتر الميل كله فما بلغ فاقسمه على نصف القطر وهو ستون فما حصل من القسمة فقوسه فما بلغت القوس فهو مقدار ميل تلك الدرجة التي أردت عن فلك معدل النهار في فلك نصف النهار. فإذا أردت إثبات ذلك في الجدول لدرجة درجة فاعرف ميل جميع أجزاء فلك البروج وذلك أن ميل ما جاوز تسعين إلى تمام المائة وثمانين مثل ميل التسعين المرسومة معكوساً، وما جاوز مائة وثمانين إلى تمام المائتين والسبعين فإن ميله كميل التسعين مستوياً أيضاً وما جاز على المائتين والسبعين إلى تمام الثلثمائة والستين فإن ميله مثل ميل التسعين معكوساً وقد رسمنا ذلك في الجدول على تفاضل درجة درجة وجعلنا سطور الأعداد فيه أربعة أسطر أثبتنا في السطر الأول منها ما كان من أعداد فلك البروج من جزء إلى تسعين وفي السطر الثاني ما ينقص أعداد السطر الأول من المائة والثمانين مجملاً وفي السطر الرابع ما ينقص أعداد السطر الأول من الثلثمائة والستين لكي إذا وقع العدد في السطر الأول والثاني منه علمنا أن الميل إلى ناحية الشمال من فلك معدل النهار وإن وقع في السطرين الباقيين علمنا أنه إلى ناحية الجنوب. وإذا أردت أن تعرف ميل الشمس أو غيرها من درج البروج فخذ من أول الحمل إلى درجة الشمس أو غيرها مما تريد أن تعرف ميله فما كان فهو حصة الميل فاطلب مثله في سطور الأعداد الأربعة المرسومة في جداول الميل وخذ ما تلقاه من الدرج والدقائق والثواني المرسومة فيه فما كان فهو ميل تلك الدرج التي أردت، فإن كان مع الدرج دقائق فخذ لها بحصتها من تفاضل على الجهة التي أريتك في تفاضل الأوتار وذلك أن تنظر كم تكون الدقائق من ستين دقيقة التي بها يتفاضل العدد فما كان من شيء أخذت بقدره من الفضل الذي بين ميل الدرج التامة وميل ما هو أكثر منها بدرجة واحدة فما حصل فانظر فإن كان الميل للدرجة التي معك أقل زدته عليه وإن كان هو الأكثر نقصته منه فما حصل من الميل بعد الزيادة أو النقصان فهو ميل الدرج والدقائق التي أردت عن فلك معدل النهار، فإن كانت من هـ إلى ص فالميل زائداً والشمس في صعود الشمال وإن كانت من ص إلى قف فالميل ناقص والشمس هابطة من الشمال وإن كانت من قف إلى رع فالميل زائد والشمس تهبط إلى الجنوب وإن كانت من رع إلى شس فالميل ناقص والشمس تصعد في الجنوب، وبالجملة إذا كانت حصة الميل من هـ إلى قف فالميل شمالي ومتى كانت من قف إلى شس فالميل جنوبي، وبهذا الحساب تعرف ميل
তিনি বলেন যে, রাশিবলয়ের (জ্যোতিশ্চক্র) হেলন বা বক্রতা—যা সূর্যের কক্ষপথ দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং যার ওপর সূর্যকে দেখা যায়—তা বিষুবীয় বৃত্ত (নিরক্ষীয় বৃত্ত) থেকে বিচ্যুত, যার ওপর মহাগোলকের কক্ষপথ তার দুই মেরুর চারদিকে আবর্তিত হয়। এটি সূর্যের পর্যবেক্ষণ এবং মধ্যাহ্ন বৃত্তে—যা বিষুবীয় বৃত্তের দুই মেরু, সু-বিন্দু (Zenith) এবং দিগন্ত রেখাকে ছেদকারী আকাশের মধ্যবর্তী একটি বৃত্ত—তার দুই অয়নান্ত বিন্দুতে (শীত ও গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত) গতিপথ পরীক্ষা করার মাধ্যমে জানা যায়। হিপ্পার্কাস উল্লেখ করেছেন এবং টলেমি তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, মধ্যাহ্ন বৃত্তে শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন অয়নান্তদ্বয়ের মধ্যবর্তী চাপের পরিমাণ হলো সাতচল্লিশ ডিগ্রি বিয়াল্লিশ মিনিট। আর এর হেলন হলো তার অর্ধেক, অর্থাৎ তেইশ ডিগ্রি একান্ন মিনিট। আমরা আমাদের বর্তমান যুগে দীর্ঘ আলহিদাদ (العضادة) এবং উল্লিখিত পাথরের স্তম্ভ (اللبنة)—যার কার্যপ্রণালী ও গঠন আমি আমার 'আল-মাজিসতী' গ্রন্থে সূক্ষ্ম বিভাজন ও যন্ত্রের নিখুঁত স্থাপনার বিবরণসহ উল্লেখ করেছি—তা দ্বারা বহুবার পর্যবেক্ষণ করেছি। আমরা রাক্কা শহরে মধ্যাহ্ন বৃত্তে সু-বিন্দু (মাথার উপরিভাগ) থেকে সূর্যের নিকটতম দূরত্ব পেয়েছি বারো ডিগ্রি ছাব্বিশ মিনিট এবং দূরতম দূরত্ব পেয়েছি ঊনষাট ডিগ্রি ছত্রিশ মিনিট। এর মাধ্যমে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রকৃতপক্ষে দুই অয়নান্তের মধ্যবর্তী চাপের পরিমাণ হলো সাতচল্লিশ ডিগ্রি দশ মিনিট। আর বিষুবীয় বৃত্ত থেকে রাশিবলয়ের হেলন হলো এই অংশগুলোর অর্ধেক, অর্থাৎ তেইশ ডিগ্রি পঁয়ত্রিশ মিনিট। এটিই হলো দুই কক্ষপথের মেরুদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব। আমরা আমাদের এই গ্রন্থে এর ওপরই ভিত্তি করে কাজ করব, কারণ এটি প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের ফসল, আর আগেরটি ছিল জনশ্রুতি। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, রাক্কা শহর—যেখানে পর্যবেক্ষণটি চালানো হয়েছে—তা বিষুবীয় বৃত্ত থেকে মধ্যাহ্ন বৃত্তে ছত্রিশ ডিগ্রি দূরত্বে অবস্থিত। এটিই হলো সেখানে দিগন্ত থেকে উত্তরের বিষুবীয় মেরুর উচ্চতা এবং সু-বিন্দু থেকে দক্ষিণ দিকে বিষুবীয় বৃত্তের দূরত্ব।
আপনি যদি এই হেলন গণনা করতে চান এবং প্রতিটি ডিগ্রির জন্য তার নির্ধারিত অংশ জানতে চান—নব্বই ডিগ্রি পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত যা হেলনের পূর্ণতা এবং যার মান তেইশ ডিগ্রি পঁয়ত্রিশ মিনিট—তবে এক ডিগ্রি, দুই ডিগ্রি বা তার বেশি যত ডিগ্রির প্রয়োজন হয়, নব্বই ডিগ্রি পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার জ্যা (Chord) গ্রহণ করুন। এটি মেষ রাশির শুরু থেকে মিথুন রাশির শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। যখন আপনি কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রির জ্যা জানতে পারবেন, তখন তাকে পূর্ণ হেলনের জ্যা দ্বারা গুণ করুন। গুণফলকে ব্যাসার্ধ অর্থাৎ ষাট দ্বারা ভাগ করুন। ভাগফল যা আসবে তার চাপ (Arc) নির্ণয় করুন। সেই চাপের মানই হবে মধ্যাহ্ন বৃত্তে বিষুবীয় বৃত্ত থেকে ওই কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রির হেলনের পরিমাণ।
আপনি যদি এটি সারণীতে (জداول) প্রতিটি ডিগ্রির জন্য লিপিবদ্ধ করতে চান, তবে রাশিবলয়ের সমস্ত অংশের হেলন জেনে নিন। নব্বই ডিগ্রির বেশি থেকে একশ আশি ডিগ্রি পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অংশের হেলন হলো নব্বই ডিগ্রির হেলনের অনুরূপ, তবে তা বিপরীত ক্রমে। আর একশ আশি থেকে দুইশ সত্তর ডিগ্রি পর্যন্ত অংশের হেলন নব্বই ডিগ্রির হেলনের মতোই সমান্তরাল। দুইশ সত্তর থেকে তিনশ ষাট ডিগ্রি পর্যন্ত অংশের হেলন নব্বই ডিগ্রির হেলনের অনুরূপ বিপরীত ক্রমে। আমরা এটি সারণীতে প্রতি ডিগ্রির ব্যবধানে লিপিবদ্ধ করেছি এবং সেখানে সংখ্যার কলামগুলোকে চারটি সারে বিভক্ত করেছি। প্রথম সারিতে আমরা রাশিবলয়ের সংখ্যা এক থেকে নব্বই ডিগ্রি পর্যন্ত স্থাপন করেছি। দ্বিতীয় সারিতে প্রথম সারির সংখ্যাগুলোকে একশ আশি থেকে বিয়োগ করে প্রাপ্ত অবশিষ্টাংশ বসিয়েছি। চতুর্থ সারিতে প্রথম সারির সংখ্যাগুলোকে তিনশ ষাট থেকে বিয়োগ করে প্রাপ্ত অবশিষ্টাংশ বসিয়েছি। এতে করে যদি সংখ্যাটি প্রথম বা দ্বিতীয় সারিতে পড়ে, তবে আমরা জানতে পারব যে হেলনটি বিষুবীয় বৃত্ত থেকে উত্তর দিকে। আর যদি বাকি দুটি সারিতে পড়ে, তবে আমরা জানব যে তা দক্ষিণ দিকে।
আপনি যখন সূর্য বা অন্য কোনো রাশিবিন্দুর হেলন জানতে চাইবেন, তখন মেষ রাশির শুরু থেকে সূর্যের ডিগ্রি বা যা আপনি জানতে চান সেই পর্যন্ত গণনা করুন। প্রাপ্ত মানটি হবে হেলনের অংশ। এরপর হেলন সারণীর চারটি সংখ্যা-সারিতে এর অনুরূপ মানটি খুঁজুন এবং তার বিপরীতে থাকা ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ড গ্রহণ করুন। সেটিই হবে আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রির হেলন। যদি ডিগ্রির সাথে মিনিট থাকে, তবে আমি আপনাকে জ্যা-এর ব্যবধান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যেভাবে দেখিয়েছি, সেই অনুপাতে মিনিটের অংশ গ্রহণ করুন। অর্থাৎ আপনি দেখবেন যে ষাট মিনিটের তুলনায় আপনার হাতে থাকা মিনিট কতটুকু, যে ষাট মিনিটের ব্যবধানে সংখ্যাগুলো পরিবর্তিত হয়। পূর্ণ ডিগ্রির হেলন এবং তার পরবর্তী ডিগ্রির হেলনের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেই পরিমাণ অনুপাতে ওই অংশটি গ্রহণ করুন। এরপর দেখুন, যদি আপনার বর্তমান ডিগ্রির হেলন কম হয় তবে তা যোগ করুন, আর যদি বেশি হয় তবে তা বিয়োগ করুন। যোগ বা বিয়োগের পর যে হেলনটি পাওয়া যাবে, সেটিই হলো বিষুবীয় বৃত্ত থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি ও মিনিটের হেলন। যদি তা ৫ থেকে ৯০ পর্যন্ত হয় তবে হেলন ক্রমবর্ধমান এবং সূর্য উত্তরের দিকে আরোহণ করছে। যদি ৯০ থেকে ১৮০ পর্যন্ত হয় তবে হেলন হ্রাসমান এবং সূর্য উত্তর থেকে নিচের দিকে নামছে। যদি ১৮০ থেকে ২৭০ পর্যন্ত হয় তবে হেলন ক্রমবর্ধমান এবং সূর্য দক্ষিণ দিকে নামছে। আর যদি ২৭০ থেকে ৩৬০ পর্যন্ত হয় তবে হেলন হ্রাসমান এবং সূর্য দক্ষিণের দিকে আরোহণ করছে। মোদ্দাকথা হলো, যদি হেলনের অংশ ৫ থেকে ১৮০ এর মধ্যে হয় তবে হেলন উত্তরমুখী, আর যদি ১৮০ থেকে ৩৬০ এর মধ্যে হয় তবে হেলন দক্ষিণমুখী। এই গণনার মাধ্যমেই আপনি হেলন জানতে পারবেন।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১০)
الشمس وجهتها وصعودها وهبوطها، وقد قسموا الميل ست مراتب في الصعود والهبوط وجعلوا كل خمس عشرة درجة من مسير الشمس في كل ربع من هذه الأرباع مرتبة من مراتب الصعود والهبوط إلى تمام التسعين درجة التي تستكمل الست مراتب فإذا كانت في الخمس عشرة درجة الأولى من أحد الأرباع قالوا إنها المرتبة الأولى وإذا كانت في الخمس عشرة درجة الثانية قالوا إنها في المرتبة الثانية إلى بلوغ المرتبة السادسة. وجهتها وصعودها وهبوطها، وقد قسموا الميل ست مراتب في الصعود والهبوط وجعلوا كل خمس عشرة درجة من مسير الشمس في كل ربع من هذه الأرباع مرتبة من مراتب الصعود والهبوط إلى تمام التسعين درجة التي تستكمل الست مراتب فإذا كانت في الخمس عشرة درجة الأولى من أحد الأرباع قالوا إنها المرتبة الأولى وإذا كانت في الخمس عشرة درجة الثانية قالوا إنها في المرتبة الثانية إلى بلوغ المرتبة السادسة.
الباب الخامس
معرفة مطالع البروج في الفلك المستقيمقال إذا أردت معرفة مقدار ما يطلع من أزمان فلك معدل النهار الثلثمائة والستين مع الأجزاء المفروضة من فلك البروج وهو مطالع البروج في موضع خط الاستواء وهو الموضع الذي لا عرض له وعليه مدار فلك معدل النهار فالليل والنهار في جميع أيام السنة فيه مستويان أبداً وممر البروج في وسط السماء في كل بلد من البلدان يكون بقدر طلوعها في هذا الخط وبه تمر أيضاً في وسط السماء هناك ولذلك سميت بمطالع البروج في الفلك المستقيم وكل ثلثة بروج فإن طلوعها في الفلك المستقيم مع تسعين زماناً من أزمان معدل النهار، فإذا أردت أن تحسب مطالع أي درجة شئت من درج البروج في الفلك المستقيم فخذ الميل كله وهو كج له فاعرف وتره وهو وتر الميل كله ثم انقص الميل كله من تسعين واعرف وتر ما يبقى وهو وتر تمام الليل كله ثم خذ من أول الحمل إلى الدرجة التي تريد فاعرف ميل تلك الدرجة فما كان فاعرف وتره وهو وتر ميل الدرجة ثم انقص ميل الدرجة من تسعين واعرف وتر ما يبقى وهو وتر تمام ميل الدرجة ثم اضرب وتر ميل الدرجة في وتر تمام الميل كله فما بلغ فاقسمه على وتر الميل كله فما حصل فاضربه في نصف القطر وهو ستون فما بلغ فاقسمه على وتر تمام ميل الدرجة فما حصل فقوسه فما بلغت القوس فهو مقدار ما يطلع في فلك معدل النهار من أول الحمل إلى تلك الدرجة التي أردت. فإن كنت حسبت لثلثين درجة فهو مطالع برج الحمل كله وإن كنت حسبت لستين فهو مطالع الحمل والثور فألق منه مطالع الحمل تبقى مطالع الثور ثم انقص مطالع الحمل والثور جميعاً من تسعين فما بقي فهو مطالع الجوزاء. فإذا عرفت مطالع الحمل فإن طالع السنبلة والحوت والميزان مثله ومطالع الأسد والدلو والعقرب مثل مطالع الثور ومطالع القوس والجدي والسرطان مثل مطالع الجوزاء وعلى هذا الرسم تستخرج مطالع درجة بدرجة وتثبت ذلك في الجداول من أول الجدي لكي تعلم مطالع البروج في وسط السماء لكل بلد منه ويكون العدد الذي يعلم به ما يتوسط السماء وما يطلع من الأجزاء في كل بلد عدداً واحداً بعينه وسنبين كيف تجدول المطالع عند ذكر مطالع البروج في الأقاليم لكيلا يتكرر القول.
الباب السادس
خواص الخطوط المتوازية
الموازية لمعدل النهار ومواضع الأرض العامرة المعلومة في الطول والعرض وما يتبع ذلك
সূর্যের অভিমুখ, এর আরোহণ এবং অবরোহণ। তারা আরোহণ ও অবরোহণে ঝোঁককে (ميل) ছয়টি স্তরে বিভক্ত করেছেন এবং তারা এই চারভাগের প্রত্যেক ভাগে সূর্যের পরিক্রমার প্রতি পনেরো ডিগ্রিকে আরোহণ ও অবরোহণের একটি স্তর হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যতক্ষণ না নব্বই ডিগ্রি পূর্ণ হয় যা ছয়টি স্তর সম্পন্ন করে। সুতরাং যখন এটি কোনো এক ভাগের প্রথম পনেরো ডিগ্রিতে থাকে, তখন তারা বলেন যে এটি প্রথম স্তর। আর যখন এটি দ্বিতীয় পনেরো ডিগ্রিতে থাকে, তখন তারা বলেন যে এটি দ্বিতীয় স্তর, এভাবে ষষ্ঠ স্তরে পৌঁছানো পর্যন্ত। এর অভিমুখ, আরোহণ এবং অবরোহণ। তারা আরোহণ ও অবরোহণে ঝোঁককে ছয়টি স্তরে বিভক্ত করেছেন এবং তারা এই চারভাগের প্রত্যেক ভাগে সূর্যের পরিক্রমার প্রতি পনেরো ডিগ্রিকে আরোহণ ও অবরোহণের একটি স্তর হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যতক্ষণ না নব্বই ডিগ্রি পূর্ণ হয় যা ছয়টি স্তর সম্পন্ন করে। সুতরাং যখন এটি কোনো এক ভাগের প্রথম পনেরো ডিগ্রিতে থাকে, তখন তারা বলেন যে এটি প্রথম স্তর। আর যখন এটি দ্বিতীয় পনেরো ডিগ্রিতে থাকে, তখন তারা বলেন যে এটি দ্বিতীয় স্তর, এভাবে ষষ্ঠ স্তরে পৌঁছানো পর্যন্ত।
পঞ্চম অধ্যায়
সরল গোলকে (ফালক আল-মুস্তাকিম) রাশিচক্রের উদয়স্থলসমূহ জানাতিনি বলেন, আপনি যদি সমদিবাত্রি বৃত্তের (ফালক মুয়াদ্দিল আন-নাহার) ৩৬০ সময়ের সাথে রাশিচক্রের গোলকের (ফালক আল-বুরুজ) নির্ধারিত অংশসমূহের উদয় হওয়ার পরিমাণ জানতে চান—যা বিষুবরেখায় (খাত্তুল ইসতিওয়া) রাশিচক্রের উদয়স্থল নামে পরিচিত, আর এটি এমন এক স্থান যেখানে কোনো অক্ষাংশ নেই এবং যার ওপর সমদিবাত্রি বৃত্তের কক্ষপথ আবর্তিত হয়, ফলে সেখানে বছরের সব দিনেই দিবা-রাত্রি সর্বদা সমান থাকে; আর প্রতিটি জনপদে আকাশের মধ্যভাগে রাশিচক্রের পরিক্রমণ এই রেখায় তাদের উদয় হওয়ার পরিমাণ অনুযায়ী হয় এবং সেখানেই তা আকাশের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করে, আর এই কারণেই একে 'সরল গোলকে' (ফালক আল-মুস্তাকিম) রাশিচক্রের উদয়স্থল বলা হয়—তবে জেনে রাখুন যে, প্রতি তিনটি রাশির উদয় সরল গোলকে সমদিবাত্রি বৃত্তের সময়ের নব্বই সময়ের সাথে ঘটে। সুতরাং আপনি যদি সরল গোলকে রাশিচক্রের যেকোনো ডিগ্রির উদয়স্থল হিসাব করতে চান, তবে সম্পূর্ণ ঝোঁক (ميل) গ্রহণ করুন যা ২৩ ডিগ্রি ৩৫ মিনিট। অতঃপর এর জ্যা (وتر) বের করুন, যা হবে সম্পূর্ণ ঝোঁকের জ্যা। এরপর নব্বই থেকে সম্পূর্ণ ঝোঁক বিয়োগ করুন এবং অবশিষ্টাংশের জ্যা বের করুন যা হবে সম্পূর্ণ রাত্রির পূর্ণতার জ্যা। এরপর মেষ রাশির (হামল) শুরু থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি পর্যন্ত গ্রহণ করুন এবং সেই ডিগ্রির ঝোঁক বের করুন। যা পাবেন তার জ্যা বের করুন, এটি হবে সেই ডিগ্রির ঝোঁকের জ্যা। এরপর নব্বই থেকে সেই ডিগ্রির ঝোঁক বিয়োগ করুন এবং অবশিষ্টাংশের জ্যা বের করুন যা হবে সেই ডিগ্রির ঝোঁকের পূর্ণতার জ্যা। অতঃপর সেই ডিগ্রির ঝোঁকের জ্যা-কে সম্পূর্ণ ঝোঁকের পূর্ণতার জ্যা দ্বারা গুণ করুন। যা ফল আসবে তাকে সম্পূর্ণ ঝোঁকের জ্যা দ্বারা ভাগ করুন। প্রাপ্ত ফলাফলকে ব্যাসার্ধ অর্থাৎ ষাট (৬০) দ্বারা গুণ করুন। এরপর গুণফলকে সেই ডিগ্রির ঝোঁকের পূর্ণতার জ্যা দ্বারা ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তার ধনু (আর্ক) বের করুন। এই ধনুর পরিমাণই হবে সমদিবাত্রি বৃত্তে মেষ রাশির শুরু থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত সেই ডিগ্রি পর্যন্ত উদিত হওয়ার পরিমাণ। যদি আপনি ত্রিশ ডিগ্রির জন্য হিসাব করেন, তবে তা হবে সমগ্র মেষ রাশির উদয়কাল। আর যদি ষাট ডিগ্রির জন্য হিসাব করেন, তবে তা হবে মেষ ও বৃষ (সাওর) রাশির উদয়কাল। সেখান থেকে মেষের উদয়কাল বাদ দিলে বৃষ রাশির উদয়কাল অবশিষ্ট থাকবে। অতঃপর মেষ ও বৃষের মোট উদয়কালকে নব্বই থেকে বিয়োগ করুন, যা অবশিষ্ট থাকবে তা হবে মিথুন (জাওযা) রাশির উদয়কাল। যখন আপনি মেষ রাশির উদয়কাল জানবেন, তখন কন্যা (スンবিলা), মীন (হুত) এবং তুলা (মিযান) রাশির উদয়কালও তার সমান হবে। সিংহ (আসাদ), কুম্ভ (দালু) এবং বৃশ্চিক (আকরাব) রাশির উদয়কাল বৃষ রাশির উদয়কালের সমান। ধনু (কাউস), মকর (জাদি) এবং কর্কট (সারাতান) রাশির উদয়কাল মিথুন রাশির উদয়কালের সমান। এই নিয়ম অনুযায়ী আপনি ডিগ্রি অনুযায়ী ডিগ্রি উদয়স্থল বের করবেন এবং তা মকরের শুরু থেকে ছকে লিপিবদ্ধ করবেন, যাতে আপনি প্রতিটি জনপদের জন্য আকাশের মধ্যভাগে রাশিচক্রের উদয়স্থল জানতে পারেন। প্রতিটি জনপদে আকাশের মধ্যভাগে কী অবস্থান করছে এবং কোন অংশগুলো উদিত হচ্ছে তা জানার সংখ্যাটি একই হবে। আমরা যখন বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিচক্রের উদয়স্থল আলোচনা করব, তখন বর্ণনা করব কীভাবে উদয়স্থলের ছক তৈরি করতে হয়, যাতে একই কথার পুনরাবৃত্তি না হয়।
ষষ্ঠ অধ্যায়
সমান্তরাল রেখাসমূহের বৈশিষ্ট্য
সমদিবাত্রি বৃত্তের সমান্তরাল রেখাসমূহ এবং দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশের ভিত্তিতে পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ পরিচিত স্থানসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১১)
قال ينبغي أن نبتدئ بذكر فلك معدل النهار ثم ذكر الأفلاك الباقية المائلة عنه إلى ناحية الشمال وما يسامت هذه الأفلاك من مواضع الأرض فنقول إن الخط الذي تحت معدل النهار من الأرض هو الخط الذي يسمى خط الاستواء وهو الذي لا عرض له ومدار فلك معدل النهار عليه وفوقه من المشرق إلى المغرب والنهار والليل فيه مستويان أبداً في جميع أيام السنة كما ذكرنا بدئياً وهذا الخط وحده فقط إذا جازت عليه الشمس اعتدل النهار والليل وتساويا في الحس في جميع الأرض والشمس عند ذلك تقع على النقطة المشتركة من فلك البروج وفلك معدل النهار وذلك أنه موضع تقاطع الفلكين وهي نقطة رأس الحمل ورأس الميزان وعند ذلك فقط تظل الشمس فوق رؤوس من كان يسكن هذا الخط في أوقات انتصاف النهار ولا يكون للقائمين في وقت انتصاف النهار هناك إلى ناحية الجنوب وإذا كان مجراها في النصف الجنوبي من فلك البروج كان ميل الإظلال حينئذ في أوقات انتصاف النهار إلى ناحية الشمال وهذا الخط وحده فقط هو الذي يحد ناحية الجنوب من جميع الربع المسكون. وأيضاً فإن جميع الكواكب تطلع وتغرب هنالك لأن قطبي الكرة تكون هناك في نفس دائرة الأفق ودور الفلك دولابي وهو السنوي. وليس بمعلوم على الحقيقة أن هذا الخط من الأرض المسكون لأنه لم نر أحداً يزعم إنه انتهى إليه في زماننا هذا ولا ذكر بطليموس ذلك في كتابه ولكنه معروف عند أهل الفهم أن مزاج هذا الخط معتدل لأن الشمس لا تبعد عنه بعداً مفرطاً ولا يطول إظلالها على سمته لسرعة ممرها عند ذلك في الميل فلذلك يكون الصيف والشتاء فيه حسني المزاج. فقد يظهر مثل ما وصفنا فيما قرب منه مثل بلد صنعاء وعدن وغيرها من بلد اليمن التي تقرب إليه. وأما سائر الخطوط الباقية المائلة عن هذا الخط إلى ناحية الشمال وهي الخطوط المتوازية الموازية لهذا الخط المذكور فإن جميع الكواكب التي تقع في خط منها في الدائرة التي مركزها قطب فلك معدل النهار الشمالي المخطوطة ببعد ارتفاع القطب في ذلك الخط عن الأفق لا تغيب في ذلك الخط البتة. والكواكب الخارجة عن هذه الدائرة فما كان منها قريباً من هذه الدائرة فقد يرى في الليلة مرتين في أول الليل مرة وفي آخره أخرى ويغيب فيما بين ذلك والكواكب التي على سمت الرؤوس منها هي التي تقطع من الفلك الذي على قطبي معدل النهار قوساً فيما بين الكواكب وبين معدل النهار. والكواكب الأبدية الخفاء هي التي تقع في الدائرة التي مركزها قطب معدل النهار الجنوبي المخطوطة ببعد انخفاض القطب عن الأفق وأما سائر الكواكب الباقية الخارجة عن هذه الصفة فإنها تطلع وتغيب ولذلك إذا رصد أحد الكواكب التي تكون في الدائرة التي مركزها قطب فلك معدل النهار الشمالي المخطوطة ببعد ارتفاع القطب عن الأفق فأخذ ارتفاعه أعلى ما يكون وذلك عند مجازه على خط وسط السماء من فوق القطب حيث يكون بين سمت الرؤوس والقطب ثم أمهل حتى يصير على خط وسط السماء من تحت القطب والأفق وذلك أخفض وأخذ ارتفاعه عند ذلك فعلم ما بين الارتفاعين من الفضل فزيد نصفه على أقل الإرتفاعين كان ذلك هو ارتفاع القطب الشمالي عن الأفق هناك. وكذلك إن جمع أيضاً الارتفاعان جميعاً ثم أخذ نصف ما يجتمع منها كان هو ارتفاع القطب وهو يكون عرض ذلك الموضع في الشمال. وكل خط من هذه الخطوط يكون بعده عن معدل النهار أقل من الميل فإن الشمس تجوز على سمت الرؤوس في كل خط منها في السنة مرتين وذلك معروف من جدول الميل وفي أي أجزاء فلك البروج يكون ذلك أعني الجزء الذي تكون الشمس فيه يومئذ لأنها إذا كانت في أول برج الحمل أو الميزان كان مجازها في وقت انتصاف النهار على سمت الرؤوس في خط الاستواء كما قد تقدم القول فيه أيضاً وذلك لا ينتهي هناك من السنة إلا مرة واحدة وإذا كانت في ناحية الشمال من هاتين النقطتين فإنها توافق سمت رؤوس من كان يسكن تحت مجازها في الميل وهو أن يكون ارتفاع القطب هناك مثل ميل الدرجة التي تكون فيها الشمس يومئذ في وقت انتصاف النهار ظل فإذا ولت عنهم كان إظلال القائمين في وقت انتصاف النهار إلى ناحية الجنوب حتى ترجع إليهم فتظل فوق رؤوسهم ثانية فلا يكون أيضاً للقائمين حينئذ ظل حتى تولى عنهم فتميل إظلال القائمين عند ذلك إلى ناحية الشمال.
তিনি বললেন, আমাদের উচিত দিন-রাত্রির সমতাকারী কক্ষপথ (বিষুবীয় বৃত্ত) উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করা, অতঃপর এর থেকে উত্তর দিকে হেলে থাকা অবশিষ্ট কক্ষপথগুলো এবং পৃথিবীর যে স্থানগুলো এই কক্ষপথগুলোর সমান্তরালে অবস্থিত তা উল্লেখ করা। আমরা বলি যে, পৃথিবীর যে রেখাটি দিন-রাত্রির সমতাকারী কক্ষপথের নিচে অবস্থিত, তাকেই নিরক্ষরেখা (খাত্তুল ইস্তিওয়া) বলা হয়; যার কোনো অক্ষাংশ নেই। দিন-রাত্রির সমতাকারী কক্ষপথের আবর্তন এর উপরে এবং এর ঊর্ধ্বে পূর্ব থেকে পশ্চিমে হয়ে থাকে। সেখানে বছরের সমস্ত দিনে দিন ও রাত সর্বদা সমান থাকে, যেমনটি আমরা শুরুতে উল্লেখ করেছি। কেবল এই রেখাটিই এমন যে, যখন সূর্য এর উপর দিয়ে অতিক্রম করে, তখন সমগ্র পৃথিবীতে দিন ও রাত ভারসাম্যপূর্ণ এবং দৃশ্যত সমান হয়। সেই সময় সূর্য রাশিচক্রের কক্ষপথ এবং দিন-রাত্রির সমতাকারী কক্ষপথের সাধারণ বিন্দুতে অবস্থান করে; আর তা হলো উভয় কক্ষপথের ছেদবিন্দু, যা মেষ রাশির শুরু এবং তুলা রাশির শুরু। কেবল তখনই দুপুরবেলায় এই রেখায় বসবাসকারীদের মাথার উপরে সূর্যের অবস্থান হয় এবং সেখানে দুপুরবেলায় দণ্ডায়মান ব্যক্তিদের কোনো ছায়া দক্ষিণ দিকে পড়ে না। আর যখন সূর্যের গতিপথ রাশিচক্রের দক্ষিণ গোলার্ধে থাকে, তখন দুপুরবেলায় ছায়ার ঝোঁক উত্তর দিকে হয়। এই রেখাটিই একমাত্র যা সমগ্র বাসযোগ্য চতুর্থাংশের দক্ষিণ দিককে চিহ্নিত করে। এছাড়া সেখানে সমস্ত নক্ষত্র উদিত ও অস্তমিত হয়, কারণ গোলকের মেরুদ্বয় সেখানে দিগন্ত বলয়ের সমতলে অবস্থান করে এবং কক্ষপথের আবর্তন চক্রাকার যা বার্ষিক। প্রকৃতপক্ষে এটি নিশ্চিতভাবে জানা নেই যে পৃথিবীর এই রেখাটি জনবসতিপূর্ণ কি না, কারণ আমাদের সময়ে কাউকে এটি দাবি করতে দেখিনি যে সে সেখানে পৌঁছেছে এবং টলেমি তার বইয়ে এটি উল্লেখ করেননি। তবে বিজ্ঞজনদের নিকট এটি সুবিদিত যে এই রেখার আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ, কারণ সূর্য এখান থেকে অত্যধিক দূরে সরে যায় না এবং এর সমান্তরালে ছায়া দীর্ঘ হয় না, কারণ তখন ঢালু পথে এর অতিক্রমণের গতি দ্রুত থাকে। ফলে সেখানকার গ্রীষ্ম ও শীতকাল মনোরম আবহাওয়াসম্পন্ন হয়। আমরা যা বর্ণনা করেছি তার প্রতিফলন এর নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে দেখা যায়, যেমন সানআ, এডেন এবং ইয়েমেনের অন্যান্য শহর যা এর কাছাকাছি অবস্থিত। আর এই রেখা থেকে উত্তর দিকে হেলে থাকা অবশিষ্ট রেখাগুলো যা উক্ত রেখার সমান্তরাল, সেগুলোর ক্ষেত্রে যে সকল নক্ষত্র এমন একটি বৃত্তের মধ্যে পড়ে যার কেন্দ্র হলো দিন-রাত্রির সমতাকারী উত্তর মেরু এবং যা দিগন্ত থেকে মেরুর উচ্চতার দূরত্বের সমান ব্যাসার্ধে অঙ্কিত, সেই রেখায় ঐ নক্ষত্রগুলো কখনোই অস্ত যায় না। আর এই বৃত্তের বাইরের নক্ষত্রগুলোর মধ্যে যেগুলো এর কাছাকাছি, সেগুলো এক রাতে দুইবার দেখা যেতে পারে—রাতের শুরুতে একবার এবং শেষে আরেকবার, আর এর মধ্যবর্তী সময়ে তা অদৃশ্য থাকে। যে সকল নক্ষত্র মাথার উপর (সমান্তরালে) থাকে, সেগুলো দিন-রাত্রির সমতাকারী মেরুদ্বয় বিশিষ্ট কক্ষপথ থেকে এমন একটি বৃত্তচাপ তৈরি করে যা নক্ষত্র ও দিন-রাত্রির সমতাকারী রেখার মধ্যবর্তী। আর সর্বদা অদৃশ্য নক্ষত্রগুলো সেই বৃত্তে অবস্থান করে যার কেন্দ্র হলো দক্ষিণ মেরু এবং যা দিগন্তের নিচে মেরুর অবনতির দূরত্বের সমান ব্যাসার্ধে অঙ্কিত। অবশিষ্ট অন্যান্য নক্ষত্রগুলো উদিত ও অস্তমিত হয়। এই কারণে, যখন কেউ উত্তর মেরু কেন্দ্রিক বৃত্তে অবস্থিত কোনো নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে, যা দিগন্ত থেকে মেরুর উচ্চতার সমান দূরত্বে অঙ্কিত, তবে সেটির সর্বোচ্চ উচ্চতা গ্রহণ করে যখন তা মেরুর উপর দিয়ে আকাশের মধ্যরেখা অতিক্রম করে, যা মাথার উপরকার বিন্দু ও মেরুর মধ্যবর্তী স্থানে থাকে। অতঃপর সে অপেক্ষা করে যতক্ষণ না তা মেরুর নিচ দিয়ে এবং দিগন্তের উপর দিয়ে আকাশের মধ্যরেখা অতিক্রম করে এবং তা সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছায়; তখন এর উচ্চতা গ্রহণ করে। এরপর উভয় উচ্চতার ব্যবধান নির্ণয় করে তার অর্ধেক যদি সর্বনিম্ন উচ্চতার সাথে যোগ করা হয়, তবে সেটিই হবে সেই স্থানের দিগন্ত থেকে উত্তর মেরুর উচ্চতা। একইভাবে যদি উভয় উচ্চতা যোগ করে তার অর্ধেক নেওয়া হয়, তবে সেটিই মেরুর উচ্চতা হবে এবং তা হবে সেই স্থানের উত্তর অক্ষাংশ। এই রেখাগুলোর মধ্যে যে রেখার দূরত্ব দিন-রাত্রির সমতাকারী রেখা থেকে সূর্যবিচ্যুতির (সূর্যের হেলন) চেয়ে কম, সূর্য প্রতি বছর সেই রেখার মাথার উপর দিয়ে দুইবার অতিক্রম করে। এটি সূর্যবিচ্যুতির সারণী থেকে জানা যায় যে রাশিচক্রের কোন অংশে তা ঘটবে, অর্থাৎ সেই দিন সূর্য কোন অংশে অবস্থান করবে। কারণ সূর্য যখন মেষ বা তুলা রাশির শুরুতে থাকে, তখন দুপুরবেলায় তার পথ হয় নিরক্ষরেখার মাথার উপর দিয়ে, যেমনটি আগে বলা হয়েছে। আর সেখানে বছরে কেবল একবারই এমন ঘটে। যখন সূর্য এই দুই বিন্দুর উত্তর দিকে থাকে, তখন তা সেই অক্ষাংশে বসবাসকারীদের মাথার উপর দিয়ে অতিক্রম করে যার কৌণিক দূরত্ব সূর্যের সেদিনের বিচ্যুতির সমান; অর্থাৎ সেখানে মেরুর উচ্চতা হবে দুপুরবেলায় সূর্যের সেদিনের অবস্থানের বিচ্যুতির সমান। সূর্য যখন তাদের থেকে সরে যায়, তখন দুপুরবেলায় দণ্ডায়মান ব্যক্তিদের ছায়া দক্ষিণ দিকে পড়তে থাকে যতক্ষণ না সূর্য পুনরায় তাদের দিকে ফিরে আসে এবং দ্বিতীয়বার তাদের মাথার উপর ছায়া ফেলে। তখনও সেখানে দণ্ডায়মান ব্যক্তিদের কোনো ছায়া থাকে না যতক্ষণ না সূর্য তাদের অতিক্রম করে চলে যায়; তখন দণ্ডায়মান ব্যক্তিদের ছায়া উত্তর দিকে হেলে পড়ে।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১২)
وما كان من الخطوط الباقية التي بعدها عن معدل النهار أكثر من مقدار الميل فإن الشمس لا تبلغ سمت رؤوس أهلها أبداً ولا تميل إظلال القائمين فيها إلى ناحية الجنوب في وقت انتصاف النهار ويزيد اختلاف الليل والنهار في الطول والقصر فيها إلى أن ينتهي إلى الخط الذي بعده عن معدل النهار ست وستون درجة وخمس وعشرون دقيقة التي هي مقدار ما ينقص الميل كله من تسعين ففي هذا الخط وحده إذا صارت الشمس في نقطة المنقلب الصيفي التي تدعى رأس السرطان تكون زيادة النهار فيه اثنتا عشرة ساعة ولذلك يكون اليوم والليلة جميعاً يوماً واحداً نهاراً كله ويصير الليل مثل ذلك إذا صارت الشمس في نقطة المنقلب الشتوي التي تدعى رأس الجدي وهذا الخط وحده فقط هو أول الخطوط التي تميل فيها إظلال القائمين إلى جميع نواحي الأفق لأن انتصاف النهار فيما وراء هذا الخط إلى ناحية الشمال غير محدود ويكون فلك البروج في هذا الخط وحده فقط هو الأفق نفسه إذا أشرقت منه نقطة الاعتدال الربيعي وذلك أن رأس السرطان يطلع من نقطة الشمال ومع ذلك تكون نقطة رأس الحمل على الأفق الشرقي طالعة من مطلع الاعتدال ولذلك إذا جازت الشمس على نقطة المنقلب الصيفي لا تغيب يوماً وليلة بل يكون مجازها حول الأفق بأبعاد مختلفة عنه إلى أن تعود إلى نقطة الشمال فلا يكون لذلك اليوم ليل البتة.
قال فأما باقي الخطوط المائلة عن هذا الخط إلى ناحية الشمال فإن إظلال القائمين تدور حولها في كل خط منها إلى جميع النواحي من الأفق ويكون طول النهار في كل خط منها معلوماً من جدول الميل وذلك أن ميل الأجزاء التي تبعد الشمس في هذه الخطوط عن نقطة المنقلب إذا أنقصت من تسعين كان الذي يبقى هو بعد الخط الموازي لمعدل النهار عن معدل النهار أعني ارتفاع القطب في ذلك الخط. والأجزاء التي تقطع الشمس من ناحية نقطة المنقلب تكون إما أبدية الظهور أو أبدية الخفاء ولذلك يكون طول النهار في بعض هذه الخطوط الشهر والشهرين والثلثة والأقل والأكثر والليل في ضد ذلك مثله إلى أن ينتهي إلى الخط الذي يكون بعده عن معدل النهار جميع أجزاء الربع وهو الذي يكون ارتفاع القطب فيه تسعين جزءاً فهناك يكون طول النهار ودور ظل القائمين حولها إلى جميع نواحي الأفق قريباً من ستة أشهر لأنه هنالك لا يكون نصف فلك البروج الشمالي الذي من أول الحمل إلى آخر السنبلة غائباً تحت الأرض أبداً ولا نصفه الباقي الجنوبي ظاهر فوق الأرض أبداً ولذلك تكون السنة كلها يوماً واحداً نصف نهار ونصف ليل وعند ذلك فقط يكون القطب الشمالي فوق سمت الرؤوس ويكون فلك معدل النهار في موضع أبدي الظهور وأبدي الخفاء وذلك أنه في نفس موضع الأفق هناك وبين أن دور الفلك هنالك رحاوي. وفيما بين خط الاستواء وهذا الخط تختلف المدارات فيما بين الدولابي والرحاوي فيميل بحسب ميل الموضع عن خط الاستواء في قربه وبعده من كل واحد من الخطين والله أعلم.
বিষুবরেখা থেকে অবশিষ্ট যে রেখাগুলোর দূরত্ব সূর্যের সর্বোচ্চ ঢালের (তির্যকতা) পরিমাণের চেয়ে বেশি, সূর্য সেই অঞ্চলের অধিবাসীদের মাথার ঠিক উপরে (সুউচ্চ বিন্দুতে) কখনো পৌঁছায় না এবং দ্বিপ্রহরের সময় সেখানে দণ্ডায়মান ব্যক্তিদের ছায়া দক্ষিণ দিকে হেলে পড়ে না। সেখানে রাত ও দিনের দৈর্ঘ্য ও হ্রস্বতার পার্থক্য বৃদ্ধি পেতে থাকে, যতক্ষণ না তা এমন এক রেখায় পৌঁছায় যার দূরত্ব বিষুবরেখা থেকে ছেষট্টি ডিগ্রি পঁচিশ মিনিট; যা নব্বই থেকে সূর্যের পূর্ণ ঢাল বিয়োগ করার পর অবশিষ্ট থাকে। কেবল এই রেখাতেই, যখন সূর্য গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত বিন্দুতে পৌঁছায়—যাকে কর্কট সংক্রান্তি বিন্দু বলা হয়—তখন দিনের দৈর্ঘ্য বারো ঘণ্টা বৃদ্ধি পায় (অর্থাৎ দিন ২৪ ঘণ্টা হয়)। ফলে অহোরাত্র মিলে পুরো সময়টিই একটি দিনে পরিণত হয়, যার পুরোটাই সূর্যালোকিত। একইভাবে যখন সূর্য শীতকালীন অয়নান্ত বিন্দুতে পৌঁছায়—যাকে মকর সংক্রান্তি বিন্দু বলা হয়—তখন রাতও অনুরূপ (চব্বিশ ঘণ্টা) হয়ে থাকে। এই রেখাটিই হলো সেই প্রথম রেখা যেখানে দণ্ডায়মান ব্যক্তিদের ছায়া দিগন্তের সকল দিকে ঘুরে আসে, কারণ এই রেখার উত্তর দিকে মধ্যাহ্নকাল অনির্দিষ্ট। কেবল এই রেখাতেই যখন বসন্তকালীন বিষুব বিন্দু উদিত হয়, তখন রাশিচক্রের কক্ষপথ দিগন্তের সাথে সমাপতিত হয়। আর তা একারণে যে, কর্কট বিন্দু উত্তর বিন্দু থেকে উদিত হয় এবং একই সাথে মেষ রাশির বিন্দুটি পূর্ব দিগন্তের বিষুবীয় উদয়স্থল থেকে উদিত হয়। ফলে সূর্য যখন গ্রীষ্মকালীন অয়নান্ত বিন্দু অতিক্রম করে, তখন দিন ও রাতের মধ্যে তা অস্ত যায় না, বরং দিগন্তের চারপাশে বিভিন্ন দূরত্ব বজায় রেখে পরিভ্রমণ করে যতক্ষণ না তা পুনরায় উত্তর বিন্দুতে ফিরে আসে। ফলে সেই দিনটিতে বিন্দুমাত্র রাত থাকে না।
তিনি বলেন: এই রেখা থেকে উত্তর দিকে হেলে থাকা বাকি রেখাগুলোর ক্ষেত্রে, প্রতিটি রেখায় দণ্ডায়মান বস্তুর ছায়া দিগন্তের চতুর্দিকে ঘুরে আসে। এই রেখাগুলোর প্রতিটিতে দিনের দৈর্ঘ্য ঢাল সারণি থেকে জানা যায়। তা হলো, এই রেখাগুলোতে সূর্য যখন অয়নান্ত বিন্দু থেকে দূরে সরে যায়, তখন সেই অংশগুলোর ঢালকে যদি নব্বই থেকে বিয়োগ করা হয়, তবে যা অবশিষ্ট থাকে তা-ই হলো বিষুবরেখার সমান্তরাল রেখার দূরত্ব, অর্থাৎ সেই অক্ষাংশে মেরুর উচ্চতা। অয়নান্ত বিন্দুর দিক থেকে সূর্য যে অংশগুলো অতিক্রম করে তা হয় সর্বদা দৃশ্যমান থাকে অথবা সর্বদা অদৃশ্য থাকে। একারণে এই রেখাগুলোর কোনোটিতে দিনের দৈর্ঘ্য এক মাস, দুই মাস, তিন মাস বা তার কম-বেশি হয়; আর রাতও এর বিপরীতে অনুরূপ হয়ে থাকে। যতক্ষণ না তা এমন এক রেখায় গিয়ে পৌঁছায় যার দূরত্ব বিষুবরেখা থেকে পূর্ণ এক চতুর্থাংশ (৯০ ডিগ্রি), যেখানে মেরুর উচ্চতা হয় নব্বই ডিগ্রি। সেখানে দিনের দৈর্ঘ্য এবং দণ্ডায়মান বস্তুর ছায়ার দিগন্তের চতুর্দিকে ঘুরে আসার স্থায়িত্বকাল প্রায় ছয় মাস হয়ে থাকে। কারণ সেখানে মেষ রাশির শুরু থেকে কন্যা রাশির শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত রাশিচক্রের উত্তর অর্ধাংশ কখনোই ভূগর্ভে অদৃশ্য হয় না, আর অবশিষ্ট দক্ষিণ অর্ধাংশ কখনোই ভূ-পৃষ্ঠের উপরে দৃশ্যমান হয় না। ফলে সেখানে পুরো বছরটি কেবল একটি দিন হিসেবে গণ্য হয়, যার অর্ধেক দিন এবং অর্ধেক রাত। কেবলমাত্র সেই স্থানেই উত্তর মেরু ঠিক মাথার উপরে (সুউচ্চ বিন্দুতে) অবস্থান করে এবং বিষুবীয় কক্ষপথ সেখানে সর্বদা দৃশ্যমান ও সর্বদা অদৃশ্যের মিলনস্থলে থাকে; কেননা তা সেখানেই দিগন্তের রেখায় পরিণত হয়। আর এটা স্পষ্ট যে, সেখানে আসমানের আবর্তন জাঁতার মতো (আনুভূমিক)। বিষুবরেখা এবং এই (মেরু) রেখার মধ্যবর্তী স্থানে কক্ষপথের আবর্তন উল্লম্ব ও আনুভূমিকের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন হয়। বিষুবরেখা থেকে ঐ স্থানের দূরত্ব ও নৈকট্য এবং উভয় রেখা থেকে তার অবস্থানের তারতম্য অনুযায়ী এই ঢাল পরিবর্তিত হয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ونضع مثالاً لبعض أقدار النهار في بعض هذه الخطوط ليكون القياس إليه ونجعله في الخط الذي بعده عن فلك معدل النهار تسعة وستون جزءاً وأربع وأربعون دقيقة وهو ارتفاع القطب عن هذا الخط فإذا نقصنا ذلك من تسعين بقي عشرون جزءاً وستة عشرة دقيقة ونجد الشمس توافق مثل هذه الأجزاء من ميل الشمال إذا كان بعدها عن نقطة المنقلب الصيفي عن كل الجهتين ثلثين جزءاً وذلك من حين تكون في أول الجوزاء فلا تزال ظاهرة فوق الأرض تدور حول الأفق إلى أن تنتهي إلى أول برج الأسد ولذلك لا تغيب في هذا الخط البتة ما دامت في هذه الستين الجزء الذي على جنبي نقطة المنقلب فيكون طول النهار ودور ظل القائمين حولها إلى جميع نواحي الأفق حتى تقطع الشمس هذه الجزاء المذكورة وذلك في قريب من شهرين. وإذا كان بعدها عن نقطة المنقلب الشتوي فيما بين الجزأين المنقلبين لهذين الجزأين لم تظهر فوق الأرض وذلك من حين توافق أول القوس إلى أن ننتهي إلى أول الدلو ولذلك يكون طول الليل قريباً من شهرين أيضاً. وأما الخط الذي بعده عن معدل النهار عح كح فإن الشمس لا تغيب تحت الأرض إذا وافقت من ميل الشمال مقدار ما تنقص هذه الأجزاء المذكورة من تسعين ولا تظهر فوق الأرض إذا وافقت من ميل الجنوب مثل ذلك ومقدار ما وصفنا يا لب ونجد الشمس توافق مثل هذا المقدار من الميل عند مسيرها إلى أول الثور وأول السنبلة فيكون بعدها عن نقطة المنقلب الصيفي عند هذين الموضعين من كل ناحية ستين جزءاً ولذلك يكون طول النهار ودور إظلال القائمين حولها قريباً من أربعة أشهر وكذلك تغيب تحت الأرض إذا وافق مسيرها من أول العقرب إلى أول الحوت فيكون طول الليل أيضاً مثل ذلك.
وأما مواضع الأرض المعلومة والبلدان المسكونة في الطول والعرض فقد أوضحنا بالقياس الذي قد ذكره بطليموس ووافقه عليه غيره من القدماء إن الأرض مستديرة وأن مركزها في وسط الفلك والهواء محيط بها من كل الجهات وأنها عند فلك البروج مثل منزلة النقطة قلة.
আমরা এই অক্ষাংশগুলোর কয়েকটিতে দিনের দৈর্ঘ্যের পরিমাণের একটি উদাহরণ উপস্থাপন করছি যাতে তা পরিমাপের মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। আমরা একে এমন একটি অক্ষাংশে স্থাপন করছি যার দূরত্ব বিষুবরেখা থেকে উনসত্তর ডিগ্রি চুয়াল্লিশ মিনিট। এটিই হলো এই অক্ষাংশ থেকে মেরুর উচ্চতা। যখন আমরা একে নব্বই থেকে বিয়োগ করি, তখন বিশ ডিগ্রি ষোলো মিনিট অবশিষ্ট থাকে। আমরা দেখতে পাই যে, সূর্য যখন উত্তর গোলার্ধের ঢালু অবস্থার সাথে এরূপ অংশের অনুকূল হয়, যখন গ্রীষ্মকালীন ক্রান্তিবিন্দু থেকে উভয় দিকে তার দূরত্ব হবে ত্রিশ ডিগ্রি; আর এটি সেই সময় থেকে হয় যখন সূর্য মিথুন রাশির শুরুতে অবস্থান করে। ফলে সূর্য দিগন্তের উপর দৃশ্যমান থেকে দিগন্তের চারদিকে পরিভ্রমণ করতে থাকে যতক্ষণ না তা সিংহ রাশির শুরুতে পৌঁছায়। এই কারণে, এই অক্ষাংশে সূর্য মোটেও অস্তমিত হয় না যতক্ষণ তা ক্রান্তিবিন্দুর উভয় পার্শ্বের এই ষাট ডিগ্রির মধ্যে অবস্থান করে। ফলে দিনের দৈর্ঘ্য এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে উলম্ব বস্তুর ছায়ার ঘূর্ণন দিগন্তের সবদিকে অব্যাহত থাকে যতক্ষণ না সূর্য উল্লেখিত এই অংশগুলো অতিক্রম করে; আর তা প্রায় দুই মাস সময়ব্যাপী স্থায়ী হয়। আর যখন তার দূরত্ব শীতকালীন ক্রান্তিবিন্দু থেকে এই দুই ক্রান্তিবিন্দুর মধ্যবর্তী অংশে থাকে, তখন তা দিগন্তের উপরে দৃশ্যমান হয় না। আর এটি ধনু রাশির শুরু থেকে কুম্ভ রাশির শুরুতে পৌঁছানো পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই কারণে রাতের দৈর্ঘ্যও প্রায় দুই মাস হয়ে থাকে। আর সেই অক্ষাংশের ক্ষেত্রে যা বিষুবরেখা থেকে আটাত্তর ডিগ্রি আটাশ মিনিট দূরে অবস্থিত, সূর্য সেখানে দিগন্তের নিচে অদৃশ্য হয় না যদি তা উত্তর গোলার্ধের ঢালু অবস্থার এমন পরিমাণ অনুকূল হয় যা নব্বই থেকে এই উল্লেখিত অংশগুলো বিয়োগ করলে অবশিষ্ট থাকে। আবার তা দিগন্তের উপর দৃশ্যমান হয় না যখন তা দক্ষিণ গোলার্ধের ঢালু অবস্থার অনুরূপ পরিমাণ অনুকূল হয়। আর আমরা যে পরিমাণের বর্ণনা দিয়েছি তা হলো এগারো ডিগ্রি বত্রিশ মিনিট। আমরা দেখতে পাই সূর্য তার গতির সময় বৃষ রাশির শুরুতে এবং কন্যা রাশির শুরুতে এই পরিমাণ ঢালুর অনুকূল হয়। ফলে এই দুই স্থানে গ্রীষ্মকালীন ক্রান্তিবিন্দু থেকে উভয় দিকে এর দূরত্ব হয় ষাট ডিগ্রি। এই কারণে দিনের দৈর্ঘ্য এবং সূর্যকে কেন্দ্র করে উলম্ব বস্তুর ছায়ার ঘূর্ণন প্রায় চার মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। একইভাবে তা দিগন্তের নিচে অদৃশ্য থাকে যখন এর গতি বৃশ্চিক রাশির শুরু থেকে মীন রাশির শুরু পর্যন্ত অনুকূল হয়। ফলে রাতের দৈর্ঘ্যও অনুরূপ হয়।
আর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে পৃথিবীর পরিচিত স্থানসমূহ এবং জনবসতিপূর্ণ দেশসমূহের ক্ষেত্রে আমরা সেই পরিমাপের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি যা টলেমি উল্লেখ করেছেন এবং প্রাচীনকালের অন্যান্যরা তার সাথে একমত হয়েছেন যে, পৃথিবী গোলাকার, এর কেন্দ্র মহাকাশীয় গোলকের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত, বায়ুমণ্ডল একে সব দিক থেকে পরিবেষ্টিত করে রেখেছে এবং রাশিচক্রের তুলনায় পৃথিবীর আয়তন একটি ক্ষুদ্র বিন্দুর ন্যায়।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأما عمرانها فإنهم أخذوا حدوده من الجزائر العامرة التي تسمى الخالدات التي في بحر أوقيانوس الغربي وهي ست جزائر عامرة إلى أقصى عمران الصين كان أول طلوعها على أول الجزائر العامرة المذكورة أنها في بحر أوقيانوس الغربي وإذا غابت في هذه الجزائر صار أول طلوعها على أقصى عمران الصين وذلك نصف دائرة الأرض وهو طول العمران الذي وقف عليه ومقداره من الأميال ثلثة عشر ألفاً وخمسمائة ميل من الأميال التي عملوا عليها في مساحة الأرض ثم نظروا في العرض فوجدوا العمران من موضع خط الاستواء إلى ناحية الشمال ينتهي إلى جزيرة ثولي التي في بريطانية حيث يكون طول النهار الأطول عشرين ساعة. وذكروا أن خط الاستواء من الأرض يقطع من المشرق إلى المغرب فيما بين الهند والحبش في جزيرة هناك من ناحية الجنوب من معدل النهار فتعترض هنالك وتحد ما بين الشمال والجنوب. والخط الذي يقطع هذا الخط من ناحية الشمال إلى ناحية الجنوب في النصف مما بين هذه الجزائر المذكورة أنها في بحر أوقيانوس أو أقصى عمران الصين وهو قبة الأرض المعروفة بما وصفنا وموضعها موضع التقاطع والعرض من خط الاستواء إلى جزيرة ثولي يكون قريباً من ستين جزءاً وذلك سدس دائرة الأرض فإذا ضرب هذا السدس الذي هو مقدار العرض في النصف الذي هو مقدار الطول كان ما يظهر من العمران من ناحية الشمال مقدار نصف سدس الأرض وهو جزء من اثني عشر جزءاً وقدروا بحر الهند فقالوا أن طوله يعد من المغرب إلى المشرق من أقصى الحبش إلى أقصى الهند ثمانية آلاف ميل وعرضه ألفان وسبعمائة ميل ويجاوز من جزيرة استواء الليل والنهار إلى ناحية الجنوب ألفاً وتسعمائة ميل وله خليج بأرض الحبش يمد إلى ناحية البربر سمى الخليج البربري وطوله خمسمائة ميل وعرض طريقه مائة ميل. وخليج آخر يخرج نحو أرض أيلة وهو بحر القلزم طوله ألف وأربعمائة ميل وعرض طريقه الذي يسمى البحر الأخضر مائتا ميل وعرضه في الأصل سبعمائة ميل. وخليج آخر يخرج نحو أرض فارس يسمى الخليج الفارسي وهو بحر البصرة طوله ألف وأربعمائة ميل وعرضه في الأصل خمسمائة ميل وعرض طريقه مائة وخمسون ميلاً. ويكون بين هذين الخليجين أعني خليج أيلة وخليج فارس أرض الحجاز واليمن ويكون ما بين هذين الخليجين ألفاً وخمسمائة ميل. ويخرج منه أيضاً خليج آخر إلى أقصى ارض الهند عند تمامه يسمى الخليج الأخضر طوله ألف وخمسمائة ميل. وفي هذا البحر كله أعني بحر الهند والصين من الجزائر العامرة وغيرها ألف وثلثمائة وسبعون جزيرة منها جزيرة في أقصاه عند بلد الصين تسمى طبرباني وهي سرنديب يحيط بها ثلثة آلاف ميل مقابل الهند من ناحية المشرق وفيها جبال عظام وانهار كثيرة منها يخرج الياقوت الأحمر ولون السماء وحولها تسع وخمسون جزيرة عامرة فيها مدن وقرى كثيرة.
فأما بحر أوقيانوس الغربي الذي يدعى المحيط فإنه لا يعرف منه إلا ناحية المغرب والشمال من أقصى أرض الحبش إلى بريطانية وهو بحر لا تجري فيه السفن والست الجزائر التي فيه مقابل أرض الحبش هي الجزائر العامرة وتسمى أيضاً جزائر السعداء. وجزيرة أخرى مقابل الأندلس تسمى غديره عند الخليج وهذا الخليج يخرج منه وعرض موضعه الذي يخرج منه سبعة أميال وهو بين الأندلس وطنجة يسمى سبطاً يخرج إلى بحر الروم وفيه أيضاً من ناحية الشمال جزائر برطانية وهي اثنتا عشرة جزيرة ثم يبعد عن العمران فلا يعرف أحد كيف هو ولا ما فيه.
وأما بحر الروم ومصر فإنه يخرج من عند الخليج الذي يخرج من بحر أوقيانوس الغربي عند الجزيرة التي تسمى غديرة مقابل الأندلس إلى صور وصيداء من ناحية المشرق وطوله خمسة آلاف ميل وعرضه في مكان ستمائة ميل وفي مكان سبعمائة ميل وفي مكان ثماني مائة ميل وفيه خليج واحد يخرج إلى ناحية الشمال قريباً من رومية طوله خمسمائة ميل يسمى أذريس وخليج آخر يخرج نحو أرض نربونة طوله مائتا ميل وفي هذا البحر كله من الجزائر مائة واثنتان وستون جزيرة عامرة منها خمس عظام إحداها جزيرة قرنس يحيط بها مائتا ميل وإقريطش يحيط بها ثلثمائة ميل.
আর এর জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের সীমানা সম্পর্কে তারা বলেন যে, তারা এর সীমানা নির্ধারণ করেছেন পশ্চিম মহাসাগরে (আটলান্টিক) অবস্থিত জনবসতিপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জ থেকে যাকে আল-খালিদাত বলা হয়। এগুলো চীনের শেষ প্রান্তের জনপদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছয়টি জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ। সূর্যের প্রথম উদয় হয় পশ্চিম মহাসাগরে অবস্থিত উল্লেখিত জনবসতিপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জের শুরুতে। আর যখন এটি এই দ্বীপপুঞ্জগুলোতে অস্তমিত হয়, তখন এর প্রথম উদয় ঘটে চীনের শেষ প্রান্তের জনপদে। এটি পৃথিবীর বৃত্তের অর্ধেক এবং এটিই হলো সেই জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের দৈর্ঘ্য যা পরিমাপ করা হয়েছে। এর পরিমাণ হলো তেরো হাজার পাঁচশত মাইল, যে মাইলের হিসাব তারা পৃথিবীর পরিমাপে ব্যবহার করেছেন। অতঃপর তারা প্রস্থের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন এবং দেখতে পেয়েছেন যে, বিষুবরেখা থেকে উত্তর দিকে জনবসতি ব্রিটেনের থুলে দ্বীপ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে, যেখানে দীর্ঘতম দিনের দৈর্ঘ্য বিশ ঘণ্টা হয়। তারা উল্লেখ করেছেন যে, পৃথিবীর বিষুবরেখা পূর্ব থেকে পশ্চিমে ভারত ও আবিসিনিয়ার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে অতিক্রম করেছে। সেখানে মধ্যাহ্ন রেখার দক্ষিণ দিকে একটি দ্বীপ রয়েছে, যা সেখানে আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে এবং উত্তর ও দক্ষিণের মাঝে সীমা নির্ধারণ করে। আর যে রেখাটি উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে এই রেখাকে ছেদ করেছে, তা এই উল্লেখিত দ্বীপপুঞ্জসমূহ (যা মহাসাগরে অবস্থিত) এবং চীনের শেষ প্রান্তের জনপদের মধ্যবর্তী অর্ধাংশে অবস্থিত। এটিই পৃথিবীর গম্বুজ হিসেবে পরিচিত যা আমরা বর্ণনা করেছি এবং এর অবস্থান হলো ছেদবিন্দুতে। বিষুবরেখা থেকে থুলে দ্বীপ পর্যন্ত অক্ষাংশ প্রায় ষাট অংশ (ডিগ্রি), যা পৃথিবীর বৃত্তের এক-ষষ্ঠাংশ। যখন এই ষষ্ঠাংশকে (যা অক্ষাংশের পরিমাণ) অর্ধাংশ দিয়ে (যা দৈর্ঘ্যের পরিমাণ) গুণ করা হয়, তখন উত্তর দিকের দৃশ্যমান জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের পরিমাণ দাঁড়ায় পৃথিবীর এক-ষষ্ঠাংশের অর্ধেক, অর্থাৎ বারো ভাগের এক ভাগ। তারা ভারত মহাসাগরের পরিমাপ করেছেন এবং বলেছেন যে, এর দৈর্ঘ্য পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবিসিনিয়ার শেষ প্রান্ত থেকে ভারতের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত আট হাজার মাইল এবং এর প্রস্থ দুই হাজার সাতশত মাইল। এটি দিন-রাত সমান হওয়ার দ্বীপ (বিষুবীয় অঞ্চল) থেকে দক্ষিণ দিকে এক হাজার নয়শত মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত। আবিসিনিয়া ভূখণ্ডে এর একটি উপসাগর রয়েছে যা বারবার অঞ্চলের দিকে বিস্তৃত, একে বারবারি উপসাগর বলা হয়; এর দৈর্ঘ্য পাঁচশত মাইল এবং এর প্রবেশপথের প্রস্থ একশত মাইল। আরেকটি উপসাগর আয়লা ভূখণ্ডের দিকে নির্গত হয়েছে যা কুলজুম সাগর নামে পরিচিত; এর দৈর্ঘ্য এক হাজার চারশত মাইল। এর যে পথটি সবুজ সাগর নামে পরিচিত তার প্রস্থ দুইশত মাইল এবং মূল সাগরের প্রস্থ সাতশত মাইল। আরেকটি উপসাগর পারস্য ভূখণ্ডের দিকে নির্গত হয়েছে যাকে পারস্য উপসাগর বলা হয়, এটি বসরার সাগর; এর দৈর্ঘ্য এক হাজার চারশত মাইল, এর মূল প্রস্থ পাঁচশত মাইল এবং প্রবেশপথের প্রস্থ একশত পঞ্চাশ মাইল। এই দুই উপসাগরের অর্থাৎ আয়লা উপসাগর ও পারস্য উপসাগরের মাঝে হিজাজ ও ইয়েমেন অবস্থিত এবং এই দুই উপসাগরের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক হাজার পাঁচশত মাইল। এর শেষ প্রান্ত থেকে ভারত ভূখণ্ডের শেষ সীমা পর্যন্ত আরও একটি উপসাগর নির্গত হয়েছে যাকে সবুজ উপসাগর বলা হয়, এর দৈর্ঘ্য এক হাজার পাঁচশত মাইল। ভারত ও চীন মহাসাগর মিলে জনবসতিপূর্ণ ও অন্যান্য মোট দ্বীপের সংখ্যা হলো এক হাজার তিনশত সত্তরটি। এর মধ্যে চীনের কাছে শেষ প্রান্তে একটি দ্বীপ রয়েছে যাকে তাবরুবানি বা সারান্দ্বিপ বলা হয়। এটি ভারতের বিপরীতে পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং এর পরিধি তিন হাজার মাইল। এতে বিশাল পাহাড় ও অনেক নদী রয়েছে, যেখান থেকে লাল ইয়াকুত ও আকাশী রঙের পাথর পাওয়া যায়। এর চারপাশে উনষাটটি জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে যেগুলোতে অনেক শহর ও গ্রাম বিদ্যমান।
আর পশ্চিম মহাসাগর সম্পর্কে—যাকে আল-মুহিত বলা হয়—এর কেবল পশ্চিম ও উত্তর দিকের আবিসিনিয়ার শেষ প্রান্ত থেকে ব্রিটেন পর্যন্ত অংশটিই পরিচিত। এটি এমন এক সাগর যাতে জাহাজ চলাচল করে না। আবিসিনিয়া ভূখণ্ডের বিপরীতে এতে যে ছয়টি দ্বীপ রয়েছে সেগুলোই জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ এবং এগুলোকে সুখী দ্বীপপুঞ্জও বলা হয়। আন্দালুসের বিপরীতে উপসাগরের নিকট গাদীরা নামক আরেকটি দ্বীপ রয়েছে। এই সাগর থেকে একটি উপসাগর নির্গত হয়েছে যার নির্গমনস্থলের প্রস্থ সাত মাইল। এটি আন্দালুস ও তাঞ্জিয়ারের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং একে সাবতা বলা হয় যা রোম সাগরের দিকে উন্মুক্ত। উত্তর দিকে এতে ব্রিটেনের বারোটি দ্বীপ রয়েছে। এরপর এটি জনপদ থেকে দূরে চলে গিয়েছে, তাই কেউ জানে না এটি কেমন বা এর ভেতরে কী আছে।
আর রোম ও মিসরের সাগর সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি পশ্চিম মহাসাগর থেকে নির্গত সেই উপসাগর হতে শুরু হয়েছে যা আন্দালুসের বিপরীতে গাদীরা নামক দ্বীপের নিকট অবস্থিত এবং পূর্ব দিকের সুর ও সাইদা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দৈর্ঘ্য পাঁচ হাজার মাইল। এর প্রস্থ কোথাও ছয়শত মাইল, কোথাও সাতশত মাইল আবার কোথাও আটশত মাইল। এতে একটি উপসাগর রয়েছে যা রোমের নিকটবর্তী উত্তর দিকে নির্গত হয়েছে, এর দৈর্ঘ্য পাঁচশত মাইল এবং একে আদরীস বলা হয়। আরেকটি উপসাগর নারবোনা ভূখণ্ডের দিকে নির্গত হয়েছে যার দৈর্ঘ্য দুইশত মাইল। এই সম্পূর্ণ সাগরে একশত বাষট্টিটি জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে পাঁচটি বিশাল; তার একটি হলো কুর্নুস দ্বীপ যার পরিধি দুইশত মাইল এবং অন্যটি ইকরিতিশ যার পরিধি তিনশত মাইল।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وبحر بنطس يمد من لاذقة إلى الفسطنطينية العظمى طوله ألف وستون ميلاً وعرضه ثلثمائة ميل يدخل فيه النهر الذي يسمى طنايس ومجراه من ناحية الشمال من البحيرة التي تسمى مايطس وهو بحر ضخم وإن كان يسمى بحيرة طوله من المشرق إلى المغرب ثلثمائة ميل وعرضه مائة ميل وعند القسطنطينية ينفجر منه خليج يجري كأنه نهر ويصب في بحر مصر وعرضه عند القسطنطينية قدر ثلثة أميال والقسطنطينية عليه.
وبحر جرجان وهو بحر الباب طوله من المغرب إلى المشرق ثماني مائة ميل وعرضه ستمائة ميل وفيه جزيرتان قبالة جرجان كانتا فيما مضى عامرتين وهذه المواضع العامرة من موضع بحر الأرض المعروف والله بذلك أعلم.
وقد قسمت الأرض بثلثة أقسام الأول منها من البحر الأخضر من ناحية الشمال والخليج الذي يخرج من بنطس إلى البحر الأكبر وما بين بحيرة مايطس إلى بنطس فصارت حدود هذه الناحية من المغرب والشمال البحر الغربي وهو أوقيانوس ومن ناحية الجنوب بحر مصر والروم ومن ناحية المشرق طنايس وبحيرة مايطس وصارت هذه الأرض شبه الجزيرة وسموها أوروفي.
والقسم الثاني من ناحية الجنوب من بحر مصر إلى بحر الحبش وحدود هذه الناحية من المغرب البحر الأخضر ومن الشمال بحر مصر والروم ومن المشرق العريش ومن الجنوب بحر الحبش ويسمى هذا القسم لوبيا.
والقسم الثالث جميع ما بقي من عمران الأرض إلى أقصى ذلك وحدوده من المغرب طنايس والنهر والخليج والعريش وأيلة ومن الجنوب بحر اليمن والهند ومن المشرق أقصى عمران الصين من ناحية المشرق والصين نفسها ويسمى هذا القسم أسيا الكبرى. فهذه الثلثة أقسام قد جمعت الأقاليم والكور وسائر البلدان العامرة. وأما ما لا يعرف عمرانه ولا خرابه فهو أحد عشر جزءاً وأما الجزء الذي فيه العمران المعروف من خط الاستواء ففيه البحور والمفاوز. فإن قال قائل هل في هذه الأحد عشر جزءاً نبات وحيوان وعمران كان القول فيه من جهة القياس والرأي وأما ما كان من عمران الأرض قبلنا فإنه لا يجوز الحد والأفراق التي ذكرنا وأما الذي وراء ذلك فإنه لم يجره أحد إلينا ولكن الرأي والظن يقع على ما لا ينكره أحد من ذوي المعرفة على جهة القياس إن الشمس والقمر والكواكب تجري عندنا فيكون بحركتها وقربها وبعدها صيف وشتاء ونبات وحيوان وعمران وما يعرفه كل أحد فإن كانت الشمس تطلع على كل مكان من دائرة الأرض الباقية والكواكب مثل ما عندنا فيمكن أن يكون هنالك نبات وحيوان وبحور وجبال مثل ما عندنا وينبغي أن يكون كذلك. وتكون حصة الدرجة الواحدة من هذه الأميال المذكورة قريباً من خمسة وستين ميلاً وهو مسيرة يومين بالتقريب والله أعلم.
فأما طول المدن وعرضها على ما رسم في كتاب صورة الأرض فإن مواضعها من الطول الذي هو مسافة ما بين المشرق والمغرب فإنهم ابتدأوا به من الجزائر العامرة التي في بحر أرقيانس الغربي إلى ناحية المشرق على حسب ما وجدوا أوقات كسوفات القمر خاصة بتقدم بعضها بعضاً في البلدان فعلموا بذلك أن انتصاف النهار في كل بلد يتقدم انتصاف النهار في غيره من ناحية المغرب بأجزاء من أزمان معدل النهار يكون مقدارها مقدار أزمان ما بين الكسوف في البلدين ومن ذلك ما أخذوه من الأخبار ممن يسلك الطرق بالتقريب. وأما عروض المدن فإنهم أخذوها من قبل قياس الشمس في أوقات انتصاف النهار في البلدان فعرفوا بعدها وقربها من نقطة سمت الرؤوس على نحو ما بينا فيما تقدم من هذا الكتاب فعلموا بعد كل بلد عن خط الاستواء وهو مسافة ما بين الجنوب والشمال ورسموا تحت كل مدينة بعدها عن الجزائر الخالدات في الطول وعن خط الاستواء في العرض بالتقريب وقد أثبتنا ذلك على الرسم الذي وجدناه في كتاب صورة الأرض المعروف وذكر أوساط البلدان والكور المعلومة أيضاً ذكراً مفرداً كما فعل بطليموس وهي أربعة وتسعون بلداً. وقد يوجد في هذا الكتاب خلل في الأطوال والعروض وسنعيد ذكر ما يحتاج إليه من ذلك فيما يستأنف من كتابنا هذا.
الباب السابع
معرفة مشارق الشتاء والصيف ومغاربها
من دوائر آفاق البلدان من قبل زيادة النهار الأطول ومن قبل ارتفاع القطب إذا كان أحدهما معلوماً
পন্টাস সাগর লাতাকিয়া থেকে মহান কনস্টান্টিনোপল পর্যন্ত বিস্তৃত, যার দৈর্ঘ্য এক হাজার ষাট মাইল এবং প্রস্থ তিনশত মাইল। এতে তানাইস নামক নদীটি এসে মিলিত হয়েছে, যার গতিপথ উত্তরের মাইয়োটিস নামক হ্রদ থেকে শুরু হয়েছে। এটি একটি বিশাল সমুদ্র, যদিও একে হ্রদ বলা হয়; এর দৈর্ঘ্য পূর্ব থেকে পশ্চিমে তিনশত মাইল এবং প্রস্থ একশত মাইল। কনস্টান্টিনোপলের নিকট এটি থেকে একটি প্রণালী নির্গত হয়েছে যা একটি নদীর ন্যায় প্রবাহিত হয়ে মিশরের সাগরে (ভূমধ্যসাগর) গিয়ে পতিত হয়েছে। কনস্টান্টিনোপলের নিকট এর প্রস্থ প্রায় তিন মাইল এবং এর তীরেই কনস্টান্টিনোপল অবস্থিত।
জুরজান সাগর (কাস্পিয়ান সাগর), যা আল-বাব সাগর নামেও পরিচিত; পশ্চিম থেকে পূর্বে এর দৈর্ঘ্য আটশত মাইল এবং প্রস্থ ছয়শত মাইল। জুরজানের সম্মুখে এতে দুটি দ্বীপ রয়েছে যা অতীতে আবাদ ছিল। পৃথিবীর পরিচিত ভূমির মধ্যবর্তী এই আবাদি অঞ্চলগুলো সম্পর্কে আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
পৃথিবীকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এর প্রথম ভাগটি উত্তর দিকের সবুজ সাগর (আটলান্টিক) এবং পন্টাস থেকে মহাসাগর পর্যন্ত নির্গত প্রণালী এবং মাইয়োটিস হ্রদ থেকে পন্টাস পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল। এই অংশের সীমানা পশ্চিমে ও উত্তরে পশ্চিম সাগর তথা মহাসাগর (ওশেনাস), দক্ষিণে মিশরের সাগর ও রোম সাগর, এবং পূর্বে তানাইস ও মাইয়োটিস হ্রদ দ্বারা নির্ধারিত। এই ভূখণ্ডটি একটি উপদ্বীপের ন্যায়, যাকে তারা ইউরোপ নামে অভিহিত করেছে।
দ্বিতীয় ভাগটি দক্ষিণ দিকে মিশরের সাগর থেকে হাবশ (ইথিওপীয়) সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অংশের সীমানা পশ্চিমে সবুজ সাগর, উত্তরে মিশরের সাগর ও রোম সাগর, পূর্বে আরিশ এবং দক্ষিণে হাবশ সাগর। এই ভাগকে লিবিয়া বলা হয়।
তৃতীয় ভাগটি পৃথিবীর বসতিযোগ্য অবশিষ্ট সমস্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। এর সীমানা পশ্চিমে তানাইস, নদী, প্রণালী, আরিশ ও আয়লা; দক্ষিণে ইয়েমেন ও ভারত সাগর; এবং পূর্বে চীনের বসতিপূর্ণ এলাকার শেষ প্রান্ত ও চীন দেশ। এই ভাগকে এশিয়া মাইনর বা বৃহত্তর এশিয়া বলা হয়। এই তিনটি ভাগই সমস্ত প্রদেশ, জেলা ও অন্যান্য আবাদি দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর যেসব এলাকার আবাদ বা অনাবাদ সম্পর্কে জানা যায় না, তা এগারোটি অংশে বিভক্ত। বিষুব রেখা (খাতুল ইস্তিওয়া) থেকে যে আবাদি অংশ পরিচিত, তাতে সাগর ও মরুভূমি বিদ্যমান। যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, এই এগারোটি অংশে কোনো উদ্ভিদ, প্রাণী বা জনবসতি আছে কি না, তবে তার উত্তর যুক্তি ও অনুমানের ভিত্তিতে দিতে হবে। আমাদের সম্মুখস্থ পৃথিবীর আবাদি অংশগুলো তো বর্ণিত সীমা ও ভাগ অতিক্রম করা বৈধ নয়; আর এর বাইরের বিষয় সম্পর্কে কেউ আমাদের নিকট সংবাদ নিয়ে আসেনি। তবে জ্ঞানী ব্যক্তিদের যুক্তিভিত্তিক অনুমান ও ধারণা এই যে, সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্রসমূহ আমাদের ওপর দিয়ে যেভাবে পরিভ্রমণ করে, তাদের গতিবিধি এবং নিকটবর্তী ও দূরবর্তী অবস্থানের কারণে গ্রীষ্ম, শীত, উদ্ভিদ, প্রাণী ও জনবসতি তৈরি হয়—যা প্রত্যেকেই জানে। সুতরাং যদি সূর্য অবশিষ্ট পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে এবং নক্ষত্রসমূহ আমাদের ন্যায় উদিত হয়, তবে সেখানেও আমাদের মতো উদ্ভিদ, প্রাণী, সাগর ও পাহাড় থাকা সম্ভব এবং এমনই হওয়া উচিত। এই বর্ণিত মাইলগুলোর হিসেবে এক ডিগ্রির মান প্রায় পঁয়ষট্টি মাইল, যা প্রায় দুই দিনের পথ। আল্লাহই ভালো জানেন।
শহরগুলোর দৈর্ঘ্য (দ্রাঘিমাংশ) ও প্রস্থ (অক্ষাংশ) সম্পর্কে 'সুরাত আল-আর্দ' (পৃথিবীর মানচিত্র) গ্রন্থে যা অঙ্কিত হয়েছে, সেগুলোর দ্রাঘিমাংশ তথা পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তারা পশ্চিমের মহাসাগরের আবাদি দ্বীপপুঞ্জ (আল-জাজায়ির আল-খালিদাত) থেকে পূর্ব দিকে গণনা শুরু করেছেন। তারা এটি নির্ণয় করেছেন চন্দ্রগ্রহণের সময়ের ভিত্তিতে, যা বিভিন্ন দেশে সময়ের আগে-পিছে হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে তারা জেনেছেন যে, এক শহরের মধ্যাহ্ন অন্য শহরের মধ্যাহ্নের তুলনায় দ্রাঘিমাংশের সময়ের ব্যবধানে কতটা আগে বা পরে ঘটে, যা মূলত দুই শহরের মধ্যে গ্রহণের সময়ের ব্যবধান। এছাড়া চলাফেরা করা যাত্রীদের সংবাদের ভিত্তিতেও তারা এর আনুমানিক ধারণা নিয়েছেন। আর শহরগুলোর অক্ষাংশ তারা নির্ণয় করেছেন মধ্যাহ্নকালে সূর্যের পরিমাপের মাধ্যমে। এভাবে তারা মাথার ওপরের বিন্দু (শীর্ষবিন্দু) থেকে এর দূরত্ব ও নৈকট্য জানতে পেরেছেন, যা এই গ্রন্থের পূর্ববর্তী অংশে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বিষুব রেখা থেকে প্রতিটি শহরের উত্তর-দক্ষিণের দূরত্ব জানতে পেরেছেন। তারা প্রতিটি শহরের নিচে দ্রাঘিমাংশের ক্ষেত্রে চিরন্তন দ্বীপপুঞ্জ থেকে এর দূরত্ব এবং অক্ষাংশের ক্ষেত্রে বিষুব রেখা থেকে এর দূরত্বের আনুমানিক চিত্র অঙ্কন করেছেন। আমরা সুরাত আল-আর্দ গ্রন্থে প্রাপ্ত নকশা অনুযায়ী তা প্রমাণ করেছি। টলেমি যেভাবে চুরানব্বইটি সুপরিচিত শহর ও প্রদেশের মধ্যবর্তী এলাকাগুলো পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন, আমরাও তা উল্লেখ করেছি। এই গ্রন্থের দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশের বর্ণনায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, যা আমরা গ্রন্থের পরবর্তী অংশে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় উল্লেখ করব।
সপ্তম অধ্যায়
দীর্ঘতম দিনের বৃদ্ধি এবং মেরুর উচ্চতা জানা থাকলে
বিভিন্ন দেশের দিগন্ত রেখায় শীত ও গ্রীষ্মকালীন উদয়াচল ও অস্তাচল সম্পর্কে জ্ঞান
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قال إذا أردت أن تعرف أقدار القسي من دائرة الأفق التي تقع فيما بين فلك معدل النهار وفلك البروج عند الأفق في كل بلد وهو سمت مطلع كل جزء تريد من أجزاء فلك البروج ومغيبه فخذ زيادة النهار الأطول المفروض فاعرف مبلغه من الدرج وذلك بأن تضرب كل ساعة منه في خمس عشرة درجة فما بلغ فخذ نصفه وزده على تسعين فما حصل فهو نصف قوس النهار الأطول ثم خذ الميل كله وهو ميل نقطة أول السرطان وانقصه من تسعين فما بقي فاعرف وتره وهو وتر تمام ميل السرطان فاضربه في وتر نصف قوس النهار الأطول فما حصل فاقسمه على نصف القطر فما بلغ فقوسه فما حصل من القوس فانقصه من تسعين فما بقي فهو مقدار ما بين مطاع أول السرطان ومغيبه وبين فلك معدل النهار في دائرة الأفق إلى ناحية الشمال من معدل النهار. وكذلك إذا عملت بنصف قوس النهار الأقصر الذي هو نهار أول الجدي كان المعنى واحداً في المقدار ومعلوم أن مطلع الجدي ومغيبه يكون من ناحية الجنوب من معدل النهار. وبين أن سمت رأس السرطان في الشمال مثل سمت رأس الجدي في الجنوب وهذه المشارق والمغارب الصيفية والشتوية فالتي منها من ناحية الشمال تسمى الصيفية والتي منها في الجنوب تسمى الشتوية. وإن شئت أن تعرف سمت مطلع ومغيب غير هاتين النقطتين من فلك البروج فخذ ميل أي درجة شئت فانقصه من تسعين فما بقي فاعرف وتره ثم اعرف نصف قوس نهار تلك الدرجة أو افرضه كم شئت وخذ وتره واضربه في تمام ميل الدرجة فما بلغ فاقسمه على نصف القطر فما حصل فقوسه فما خرج فانقصه من تسعين فما بقي فهو سمت مطلع تلك الدرجة ومغيبها في دائرة الأفق فإن كان الميل شمالياً فهو إلى ناحية الشمال من معدل النهار وإن كان جنوبياً فهو إلى ناحية الجنوب. فإن كان عرض البلد مفروضاً وأردت ان تعرف سمت مطلع ومغيب أي درجة شئت من قبل ذلك فانقص عرض البلد من تسعين فما بقي فهو ارتفاع أول الحمل فيه فاعرف وتره ثم خذ ميل الدرجة التي تريد واعرف وتره ثم اضربه في نصف القطر فما بلغ فاقسمه على وتر ارتفاع أول الحمل فما حصل فقوسه فما بلغت القوس فهو بد مطلع تلك الدرجة ومغيبها عن مطلع أول الحمل ومغيبه من دائرة الأفق إلى جهة الميل وهو السمت إن شاء الله.
الباب الثامن
معرفة ارتفاع القطب
من قبل زيادة النهار الأطولقال إذا أردت أن تعرف ارتفاع قطب معدل النهار الشمالي عن الفق وهو عرض البلد من قبل زيادة النهار الأطول على النهار المعتدل أو من قبل نقص النهار الأقصر فخذ نصف زيادة النهار الأطول الذي هو نهار أول جزء من السرطان فما بلغ من الدرج فزده على تسعين فما بلغ فهو نصف قوس النهار الأطول وإن شئت أن تنقصه من تسعين فما بقي نصف قوس النهار الأقصر وبأيهما عملت فالمعنى واحد ثم انقص الميل كله من تسعين فما بقي فاعرف وتره وهو وتر تمام الميل كله ثم اضرب وتر نصف قوس النهار في وتر تمام الميل كله فما خرج فاقسمه على نصف القطر فما حصل فقوسه وما بلغت القوس فهو بعد مطلع أول السرطان عن نقطة الشمال فانقصه من 90 فما بقي فهو بعد مطلع رأس السرطان عن نقطة شرق الاعتدال وقد بينا ذلك في الباب الذي قبل هذا. ثم اضرب وتر نصف زيادة النهار الأطول في وتر بعد مطلع أول السرطان عن نقطة الشمال فما بلغ فاقسمه على وتر بعد مطلع أول السرطان عن مطلع أول الحمل فما خرج فاضربه في نصف القطر واقسم ما اجتمع من ذلك على وتر نصف قوس النهار الأطول فما حصل فقوسه فما حصلت القوس فهو ارتفاع القطب حيث يكون زيادة النهار الأطول ذلك القدر المفروض الذي عملت عليه.
الباب التاسع
معرفة زيادة النهار الطول وما دونه
من زيادات النهار من قبل ارتفاع القطب
তিনি বললেন: যদি আপনি দিগন্ত রেখায় বিষুব বৃত্ত এবং রাশিচক্রের বৃত্তের মধ্যবর্তী চাপের পরিমাণ জানতে চান—যা প্রতিটি জনপদে রাশিচক্রের প্রতিটি অভীষ্ট অংশের উদয়স্থল ও অস্তস্থলের দিগংশ—তবে দীর্ঘতম দিনের নির্ধারিত অতিরিক্ত অংশটি গ্রহণ করুন। তার পরিমাণ ডিগ্রিতে নির্ণয় করুন; আর তা হলো সেই সময়ের প্রতিটি ঘণ্টাকে পনেরো ডিগ্রি দিয়ে গুণ করা। যা পাওয়া যাবে তার অর্ধেক নিন এবং তা নব্বইয়ের সাথে যোগ করুন; এর ফলে যা অর্জিত হবে তা হলো দীর্ঘতম দিনের অর্ধাংশের চাপ। এরপর পূর্ণ আনতি গ্রহণ করুন, যা কর্কট রাশির প্রথম বিন্দুর আনতি, এবং তা নব্বই থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তার জ্যা নির্ণয় করুন, যা মূলত কর্কট রাশির পরিপূরক আনতির জ্যা। এরপর একে দীর্ঘতম দিনের অর্ধাংশের চাপের জ্যা দিয়ে গুণ করুন এবং গুণফলকে ব্যাসার্ধ দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তার চাপ নির্ণয় করুন। প্রাপ্ত চাপকে নব্বই থেকে বিয়োগ করুন; যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো দিগন্ত রেখায় বিষুব বৃত্তের উত্তর দিকে বিষুব বৃত্ত এবং কর্কট রাশির প্রথম বিন্দুর উদয় ও অস্তের মধ্যবর্তী স্থানের পরিমাণ। একইভাবে যদি আপনি মকর রাশির প্রথম দিনের ক্ষুদ্রতম দিনের অর্ধাংশের চাপ নিয়ে কাজ করেন, তবে পরিমাণের দিক থেকে ফলাফল একই হবে; আর এটি সুবিদিত যে, মকর রাশির উদয় ও অস্ত বিষুব বৃত্তের দক্ষিণ দিকে হয়ে থাকে। এটিও স্পষ্ট যে, উত্তরে কর্কট রাশির শীর্ষবিন্দুর দিগংশ দক্ষিণে মকর রাশির শীর্ষবিন্দুর দিগংশের সমান। এই উদয় ও অস্তগুলো গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন; এর মধ্যে যা উত্তর দিকে তাকে গ্রীষ্মকালীন এবং যা দক্ষিণ দিকে তাকে শীতকালীন বলা হয়। আর যদি আপনি রাশিচক্রের এই দুটি বিন্দু ব্যতীত অন্য কোনো বিন্দুর উদয় ও অস্তের দিগংশ জানতে চান, তবে আপনার ইচ্ছামতো যেকোনো ডিগ্রির আনতি গ্রহণ করুন এবং তা নব্বই থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তার জ্যা নির্ণয় করুন। এরপর সেই ডিগ্রির দিনের অর্ধাংশের চাপ নির্ণয় করুন অথবা আপনার ইচ্ছামতো তা ধরে নিয়ে তার জ্যা গ্রহণ করুন। একে সেই ডিগ্রির পরিপূরক আনতি দিয়ে গুণ করুন এবং গুণফলকে ব্যাসার্ধ দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তার চাপ নির্ণয় করুন এবং প্রাপ্ত ফলাফলকে নব্বই থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো দিগন্ত রেখায় সেই ডিগ্রির উদয় ও অস্তের দিগংশ। যদি আনতি উত্তরমুখী হয় তবে তা বিষুব বৃত্তের উত্তর দিকে হবে, আর যদি দক্ষিণমুখী হয় তবে দক্ষিণ দিকে হবে। যদি স্থানের অক্ষাংশ নির্ধারিত থাকে এবং আপনি তার মাধ্যমে যেকোনো ডিগ্রির উদয় ও অস্তের দিগংশ জানতে চান, তবে নব্বই থেকে অক্ষাংশ বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তা সেখানে মেষ রাশির প্রথম বিন্দুর উচ্চতা; তার জ্যা নির্ণয় করুন। এরপর আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রির আনতি নিন এবং তার জ্যা নির্ণয় করুন। একে ব্যাসার্ধ দিয়ে গুণ করুন এবং গুণফলকে মেষ রাশির প্রথম বিন্দুর উচ্চতার জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তার চাপ নির্ণয় করুন। প্রাপ্ত সেই চাপটিই হলো দিগন্ত রেখায় মেষ রাশির উদয় ও অস্ত বিন্দু থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রির উদয় ও অস্তের দূরত্ব, যা আনতির দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট; আর এটিই হলো দিগংশ, ইনশাআল্লাহ।
অষ্টম অধ্যায়
দীর্ঘতম দিনের অতিরিক্ত অংশ থেকে
মেরুর উচ্চতা নির্ণয়তিনি বললেন: যদি আপনি দিগন্ত থেকে উত্তর মেরুর উচ্চতা জানতে চান—যা হলো স্থানের অক্ষাংশ—দীর্ঘতম দিন ও পরিমিত দিনের পার্থক্যের মাধ্যমে অথবা ক্ষুদ্রতম দিনের ঘাটতির মাধ্যমে, তবে দীর্ঘতম দিনের অতিরিক্ত অংশের অর্ধেক নিন, যা কর্কট রাশির প্রথম অংশের দিন। প্রাপ্ত ডিগ্রিকে নব্বইয়ের সাথে যোগ করুন, যা হবে দীর্ঘতম দিনের অর্ধাংশের চাপ। আর যদি চান তবে তা নব্বই থেকে বিয়োগ করুন, যা হবে ক্ষুদ্রতম দিনের অর্ধাংশের চাপ। আপনি যেটির মাধ্যমেই কাজ করেন না কেন, ফলাফল একই হবে। এরপর পূর্ণ আনতি নব্বই থেকে বিয়োগ করুন; যা অবশিষ্ট থাকবে তার জ্যা নির্ণয় করুন, যা পূর্ণ আনতির পরিপূরক জ্যা। এরপর দিনের অর্ধাংশের চাপের জ্যাকে পূর্ণ আনতির পরিপূরক জ্যা দিয়ে গুণ করুন। যা বের হবে তাকে ব্যাসার্ধ দিয়ে ভাগ করুন এবং প্রাপ্ত ফলের চাপ নির্ণয় করুন। এই চাপটি হলো উত্তর বিন্দু থেকে কর্কট রাশির প্রথম অংশের উদয়স্থলের দূরত্ব। একে ৯০ থেকে বিয়োগ করুন; যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো বিষুবীয় পূর্ব বিন্দু থেকে কর্কট রাশির উদয়স্থলের দূরত্ব, যা আমরা এর আগের অধ্যায়ে বর্ণনা করেছি। এরপর দীর্ঘতম দিনের অর্ধেক অতিরিক্ত অংশের জ্যাকে উত্তর বিন্দু থেকে কর্কট রাশির প্রথম অংশের উদয়স্থলের দূরত্বের জ্যা দিয়ে গুণ করুন। যা পাওয়া যাবে তাকে মেষ রাশির উদয়স্থল থেকে কর্কট রাশির প্রথম অংশের উদয়স্থলের দূরত্বের জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। যা বের হবে তাকে ব্যাসার্ধ দিয়ে গুণ করুন এবং প্রাপ্ত গুণফলকে দীর্ঘতম দিনের অর্ধাংশের চাপের জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তার চাপ নির্ণয় করুন। সেই চাপটিই হলো সেই স্থানের মেরুর উচ্চতা, যেখানে দীর্ঘতম দিনের অতিরিক্ত অংশ আপনার নির্ধারিত পরিমাণের সমান হবে।
নবম অধ্যায়
মেরুর উচ্চতা থেকে দীর্ঘতম দিন এবং এর চেয়ে কম সময়ের
দিনের অতিরিক্ত অংশ নির্ণয়
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال إذا أردت أن تعرف مقدار زيادة النهار الأطول ونقصان النهار الأقصر من النهار المعتدل من قبل ارتفاع القطب إذا كان مفروضاً فخذ عرض البلد فاعرف وتر ثم انقص عرض البلد من تسعين فاعرف وتر ما يبقى وهو وتر تمام عرض البلد ثم اعرف وتر الميل كله ووتر ما يبقى لتمام الميل كله إلى تسعين ثم اضرب وتر عرض البلد في وتر الميل كله فما بلغ فاقسمه على وتر تمام الميل كله فما حصل فاضربه في نصف القطر فما بلغ فاقسمه على وتر تمام عرض البلد فما خرج فقوسه فمل بلغت القوس فهو نصف زيادة النهار الأطول. وكذلك يكون نصف نقصان النهار الأقصر فاضعف ذلك فما بلغ فهو زيادة النهار الأطول ونقصان النهر الأقصر كلها. وكل خمسة عشرة درجة من ذلك ساعة معتدلة فما حصل من الساعات فزده على الاثنتي عشر ساعة التي هي طول النهار المعتدل فما بلغ فهو ساعات النهار الأطول وانقص تلك الزيادة من اثني عشر فما بقي فهو ساعات النهار القصر. وإن شئت أن تعلم زيادة نهار غير هذين الجزأين من فلك البروج فخذ ميل أي درجة شئت من درج البروج فاعمل به بدل الميل كله فما حصل في آخر العمل على تلك الجهة فهو اختلاف النهار في تلك الدرجة. فإن كان ميل الدرجة شمالياً فهو زيادة النهار فإن كان جنوبياً فهو نقصان في تلك الدرجة.
الباب العاشر
معرفة الارتفاع والظل
أحدهما من قبل الآخر بالحساب أو الجدولقال إذا أردت أن تعرف الظل من قبل الارتفاع فاعرف وتر الارتفاع ووتر ما يبقى لتمام الارتفاع إلى سعين ثم افرض أجزاء المقياس كم شئت واضرب وتر تمام الارتفاع في أجزاء المقياس فما بلغ فاقسمه على وتر الارتفاع فما خرج فهو مقدار انبساط الظل وامتداده على بسيط الأرض بالمقدار الذي تكون به أجزاء المقياس تلك الأجزاء. والذي عمل عليه أصحاب الحساب وعليه عملنا أقدار الظل في هذا الكتاب في مقدار طول المقياس هو ان أجزاء المقياس اثنا عشر جزءاً وقد يجوز أن يجزأ بأقل من ذلك وبأكثر بحسب ما يريد الحاسب لأن أجزاء الظل إنما تنسب إلى أجزاء المقياس فيقال إن طول الظل كذا وكذا جزأً بالمقدار الذي جعل به المقياس كذا وكذا.
وإن أردت أن تعرف الارتفاع من قبل الظل المبسوط الذي ذكرنا فاضرب الكل في مثله وزد على ما يجتمع من ذلك أجزاء المقياس مضروبة في مثلها وهي على ما أصلنا عليه الحساب مائة وأربعة وأربعون إذا كانت أجزاء المقياس اثني عشر جزأً فما اجتمع من ذلك فخذ جذره فما اجتمع فهو قطر مثلثة الظل فاحفظه ثم اضرب أجزاء المقياس في نصف القطر ومبلغ ذلك أبداً سبعمائة وعشرون على هذا الأصل الذي أصلنا فاقسم هذه السبعمائة والعشرين على قطر مثلثة الظل الذي حفظت فما حصل فقوسه فما بلغت القوس فهو مقدار الارتفاع. وإن شئت أن تحسبه بجهة أخرى فاضرب الظل في نصف القطر فما بلغ فاقسمه على قطر مثلثة الظل فما حصل فقوسه فما حصلت القوس فهو بعد درجة الشمس أو غيرها عن نقطة سمت الرأس في دائرة الارتفاع فانقصه من تسعين فما بقي فهو الارتفاع.
وأما الظل المنتصب أعني القائم فإنه على عكس البسيط وذلك أنه أطول ما يكون في وقت انتصاف النهار وأقصر ما يكون عند طلوع الشمس فإذا أردت أن تعرف هذا الظل من قبل الارتفاع فاضرب وتر الارتفاع في مقدار أجزاء المقياس فما بلغ فاقسمه على وتر ما يبقى لتمام الارتفاع إلى تسعين فما حصل فهو مقدار الظل بأجزاء المقياس. وإن أردت معرفة الارتفاع من قبل هذا الظل القائم فاضرب الظل في مثله وزد على ذلك ما يجتمع من ضرب أجزاء المقياس في مثلها فما بلغ فخذ جذره وهو قطر مثلثة الظل فإن شئت فاضرب أجزاء المقياس في نصف القطر فما بلغ فاقسمه على قطر مثلثة الظل فما حصل فقوسه فما بلغ فهو مقدار ما بين درجة الشمس وبين نقطة سمت الرؤوس في دائرة الارتفاع فانقصه من تسعين فما بقي فهو الارتفاع.
তিনি বললেন, যদি আপনি অক্ষাংশের উচ্চতার সাহায্যে বিষুবীয় দিন থেকে দীর্ঘতম দিনের বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্রতম দিনের হ্রাসের পরিমাণ জানতে চান, তবে উক্ত স্থানের অক্ষাংশ গ্রহণ করুন এবং এর জ্যা নির্ণয় করুন। অতঃপর নব্বই থেকে অক্ষাংশ বিয়োগ করুন এবং যা অবশিষ্ট থাকে তার জ্যা নির্ণয় করুন, যা অক্ষাংশের পূরক জ্যা। এরপর পূর্ণ বিষুবনতির জ্যা এবং নব্বই পূর্ণ হতে বিষুবনতির যা অবশিষ্ট থাকে তার জ্যা নির্ণয় করুন। তারপর অক্ষাংশের জ্যা-কে পূর্ণ বিষুবনতির জ্যা দিয়ে গুণ করুন এবং গুণফলকে পূর্ণ বিষুবনতির পূরক জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তাকে ব্যাসার্ধ দিয়ে গুণ করুন এবং প্রাপ্ত ফলাফলকে অক্ষাংশের পূরক জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। এরপর ভাগফলের বৃত্তচাপ নির্ণয় করুন; এই প্রাপ্ত বৃত্তচাপটিই হলো দীর্ঘতম দিনের বৃদ্ধির অর্ধেক। একইভাবে এটি হবে ক্ষুদ্রতম দিনের হ্রাসের অর্ধেক। একে দ্বিগুণ করুন, যা পাওয়া যাবে তা হবে দীর্ঘতম দিনের পূর্ণ বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্রতম দিনের পূর্ণ হ্রাস। এর প্রতি পনেরো ডিগ্রি হবে এক বিষুবীয় ঘণ্টা। প্রাপ্ত ঘণ্টাকে বারো ঘণ্টার (যা বিষুবীয় দিনের দৈর্ঘ্য) সাথে যোগ করুন; যা পাওয়া যাবে তা হবে দীর্ঘতম দিনের ঘণ্টার পরিমাণ। আর সেই বৃদ্ধিকে বারো থেকে বিয়োগ করুন; যা অবশিষ্ট থাকবে তা হবে ক্ষুদ্রতম দিনের ঘণ্টা। আর আপনি যদি রাশিচক্রের এই দুটি অংশ ব্যতীত অন্য কোনো অংশের দিনের বৃদ্ধি জানতে চান, তবে রাশিচক্রের যে কোনো ডিগ্রির বিষুবনতি গ্রহণ করুন এবং পূর্ণ বিষুবনতির পরিবর্তে তা ব্যবহার করে একই পদ্ধতিতে কাজ করুন। কাজের শেষে যা পাওয়া যাবে, তা হবে সেই ডিগ্রিতে দিনের পার্থক্য। যদি ডিগ্রির বিষুবনতি উত্তরীয় হয়, তবে তা হবে দিনের বৃদ্ধি, আর যদি দক্ষিণীয় হয়, তবে তা হবে সেই ডিগ্রিতে দিনের হ্রাস।
দশম অধ্যায়
উচ্চতা ও ছায়া নির্ণয়
হিসাব বা সারণীর মাধ্যমে একটি থেকে অন্যটি নির্ণয়তিনি বললেন, যদি আপনি উচ্চতার সাহায্যে ছায়া জানতে চান, তবে উচ্চতার জ্যা এবং নব্বই পূর্ণ হতে উচ্চতার যা অবশিষ্ট থাকে তার জ্যা নির্ণয় করুন। অতঃপর শংকুর অংশ আপনার ইচ্ছানুযায়ী নির্ধারণ করুন এবং উচ্চতার পূরক জ্যা-কে শংকুর অংশ দিয়ে গুণ করুন। গুণফলকে উচ্চতার জ্যা দিয়ে ভাগ করুন; যা পাওয়া যাবে তা হবে ভূমিতে ছায়ার বিস্তৃতি ও প্রসারের পরিমাণ, যা শংকুর নির্ধারিত অংশের এককে প্রকাশিত হবে। গণিতবিদগণ যেটির ওপর ভিত্তি করে কাজ করেন এবং এই গ্রন্থে আমরা শংকুর দৈর্ঘ্যের যে পরিমাণ অনুসারে ছায়ার মান নির্ধারণ করেছি, তা হলো শংকুর অংশ বারোটি। তবে গণনাকারী তার ইচ্ছা অনুযায়ী এর চেয়ে কম বা বেশি অংশেও বিভক্ত করতে পারেন; কারণ ছায়ার অংশগুলো শংকুর অংশের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। যেমন বলা হয়, ছায়ার দৈর্ঘ্য এত অংশ সেই একক অনুযায়ী যে একক অনুসারে শংকুকে এত অংশ ধরা হয়েছে।
আর যদি আমরা যে অনুভূমিক ছায়ার কথা উল্লেখ করেছি তার সাহায্যে উচ্চতা জানতে চান, তবে ছায়াকে তার নিজ দিয়ে গুণ করুন এবং এর সাথে শংকুর অংশের বর্গ যোগ করুন। আমাদের হিসাবের মূলনীতি অনুযায়ী শংকু বারো অংশ হলে এর বর্গ হবে একশ চুয়াল্লিশ। যা যোগফল হবে তার বর্গমূল নিন; প্রাপ্ত ফল হবে ছায়া ত্রিভুজের অতিভুজ। এটি মনে রাখুন। অতঃপর শংকুর অংশকে ব্যাসার্ধ দিয়ে গুণ করুন; আমাদের মূলনীতি অনুযায়ী এর পরিমাণ সর্বদা সাতশ বিশ হবে। এই সাতশ বিশকে সংরক্ষিত ছায়া ত্রিভুজের অতিভুজ দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তার বৃত্তচাপ নির্ণয় করুন; প্রাপ্ত বৃত্তচাপটিই হবে উচ্চতার পরিমাণ। আপনি চাইলে অন্যভাবেও এটি হিসাব করতে পারেন: ছায়াকে ব্যাসার্ধ দিয়ে গুণ করুন এবং গুণফলকে ছায়া ত্রিভুজের অতিভুজ দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তার বৃত্তচাপ নির্ণয় করুন; প্রাপ্ত বৃত্তচাপটি হবে উচ্চতার বৃত্তে সূর্য বা অন্য কিছুর অবস্থান থেকে সুবিন্দু পর্যন্ত দূরত্ব। একে নব্বই থেকে বিয়োগ করুন; যা অবশিষ্ট থাকবে তা হবে উচ্চতা।
আর খাড়া বা উলম্ব ছায়ার বিষয়টি অনুভূমিকের বিপরীত। এটি মধ্যাহ্ন সময়ে দীর্ঘতম হয় এবং সূর্যোদয়ের সময় সংক্ষিপ্ততম হয়। আপনি যদি উচ্চতার সাহায্যে এই ছায়া জানতে চান, তবে উচ্চতার জ্যা-কে শংকুর অংশের পরিমাণ দিয়ে গুণ করুন এবং গুণফলকে নব্বই পর্যন্ত উচ্চতার যা অবশিষ্ট থাকে তার জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তা হবে শংকুর অংশের এককে ছায়ার পরিমাণ। আর যদি এই খাড়া ছায়ার সাহায্যে উচ্চতা জানতে চান, তবে ছায়াকে তার নিজ দিয়ে গুণ করুন এবং এর সাথে শংকুর অংশের বর্গ যোগ করুন। প্রাপ্ত ফলের বর্গমূল নিন, যা হবে ছায়া ত্রিভুজের অতিভুজ। অতঃপর আপনি চাইলে শংকুর অংশকে ব্যাসার্ধ দিয়ে গুণ করুন এবং গুণফলকে ছায়া ত্রিভুজের অতিভুজ দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তার বৃত্তচাপ নিন; প্রাপ্ত মান হবে উচ্চতার বৃত্তে সূর্যের অবস্থান ও সুবিন্দুর মধ্যবর্তী দূরত্ব। একে নব্বই থেকে বিয়োগ করুন; যা অবশিষ্ট থাকবে তা হবে উচ্চতা।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وإن أردت ان تعرف كل واحد من الظلين من قبل الارتفاع بالجدول وأردت الظل المبسوط فاطلب في جدول الارتفاع والظل في سطور الارتفاع مثل ما معك من الارتفاع وخذ ما تلقاه في جدول الظل فما كان فهو مقدار ظل ذلك الارتفاع. وإن أردت أن تعرف الارتفاع من قبل هذا الظل فاطلب مثل الظل الذي تريد في جدول أصابع الظل فحيث ما أصبت مثله فخذ ما بإزائه من درج الارتفاع المرسومة في سطر الارتفاع فما بلغ فهو مقدار الارتفاع لذلك الظل.
وإن كان مع درج الارتفاع دقائق أو كان مع أصابع الظل دقائق فخذ ذلك بالتعديل على ما رسمت لك في باب الميل وهو إذا كان مع الارتفاع دقائق نظرت كم مقدارها من ستين فأخذت من فضل الدرج التامة وما هو أكثر منها بدرجة مثل ذلك المقدار فنقصته أبداً من أصابع الظل التامة إذا كان كل ما كثر من الارتفاع أقل من ظل ما قل منه فما بقي فهو ظل ذلك الارتفاع. وإن كان مع الظل الذي تريد أن تعرف ارتفاعه دقائق نظرت إلى الظل الذي تجده في الجدول فتنقصه من الظل الذي معك فما بقي عرفت قدره من فضل ما بين ذلك الظل وما هو أقل منه بدرجة من درج الارتفاع فما حصل من الدقائق نقصته من الارتفاع الذي وجدت بإزاء الظل الذي أخذت في الجدول مما هو أقرب إلى الظل الذي كان معك مما هو أقل منه فما بقي فهو الارتفاع.
فإن أردت أن تعرف الظل المنتصب وهو الظل القائم من قبل الارتفاع بالجدول المرسوم فانقص الارتفاع من تسعين فما بقي فخذ ما بإزائه من الظل بالتعديل على ذلك الرسم فما حصل فهو الظل القائم. وإذا أردت أن تعرف الارتفاع من قبل هذا الظل فاطلب مثل الظل الذي تريد في الجدول وخذ ما بإزائه في سطر الارتفاع بالتعديل فما بلغ فانقصه من تسعين فما بقي فهو الارتفاع وقد رسم الظل في هذا الجدول على أن مقدار المقياس اثنا عشر جزءاً فكلما عملت به من الظل فهو على أن مقدار المقياس اثنا عشرة إصبعاً.
الباب الحادي عشر
معرفة سمت الارتفاع من دائرة الأفق
في كل بلد تريد في جميع الأوقاتقال إذا أردت أن تعرف سمت الارتفاع والظل في كل جزء من أجزاء البروج كلها في كل بلد تريد فخذ ميل ذلك الجزء فاعرف وتره وجهة الميل ثم انقص ذلك الميل من تسعين فاعرف وتر ما يبقى وهو وتر تمام الميل للجزء ثم اعرف وتر عرض البلد ووتر ما يبقى لتمام عرض البلد إلى تسعين ثم خذ الارتفاع لأي وقت شئت من النهار واعرف وتره ووتر ما يبقى لتمام الارتفاع إلى تسعين ثم اضرب وتر ميل الجزء في نصف القطر فما بلغ فاقسمه على وتر تمام عرض البلد فما حصل فهو وتر عرض المشرق فاحفظ واعرف جهته وهي جهة الميل ثم اضرب وتر الارتفاع في وتر عرض البلد فما بلغ فاقسمه على وتر تمام عرض البلد فما حصل فهو وتر اختلاف الأفق وهو جنوبي أبداً فإن كان وتر سعة المشرق ووتر اختلاف الأفق في جهة واحدة فاجمعهما وإن كانا مختلفين فانقص الأقل من الأكثر واعرف جهة ما يبقى فما حصل من الجمع أو النقصان فاضربه في نصف القطر واقسمه على وتر تمام الارتفاع فما خرج فقوسه فما بلغ فهو سمت الارتفاع. والظل حينئذ في ذلك الجزء الذي حسبت له فإن كان الجزء عند ذلك فيما بين الطالع ووسط السماء فإن ذلك السمت من نقطة مطلع أول الحمل والميزان في دائرة الأفق إلى تلك الجهة التي حصلت لك. وقد تعرف السمت أيضاً بباب آخر بالزوايا التي يعمل عليها في معرفة اختلاف المنظر التي سنبينها فيما يستأنف من هذا الكتاب.
الباب الثاني عشر
معرفة خط نصف النهار
وهو سمت الجنوب
যদি আপনি সারণির মাধ্যমে উচ্চতা থেকে ছায়ার প্রতিটি প্রকার জানতে চান এবং প্রসারিত ছায়া বের করতে ইচ্ছুক হন, তবে উচ্চতা ও ছায়ার সারণিতে উচ্চতার সারিতে আপনার কাছে থাকা উচ্চতার অনুরূপ মানটি খুঁজুন এবং ছায়ার সারণিতে তার বিপরীতে যা পাবেন তা গ্রহণ করুন। যা পাওয়া যাবে সেটিই হবে উক্ত উচ্চতার ছায়ার পরিমাণ। আর যদি আপনি এই ছায়ার মাধ্যমে উচ্চতা জানতে চান, তবে ছায়ার অঙ্গুলির সারণিতে আপনার কাঙ্ক্ষিত ছায়ার মতো মানটি খুঁজুন। যেখানে আপনি এর অনুরূপ মান পাবেন, উচ্চতার সারিতে অঙ্কিত তার সমান্তরাল উচ্চতার ডিগ্রিটি গ্রহণ করুন। যে পরিমাণে পৌঁছাবে, সেটিই হবে সেই ছায়ার উচ্চতার মান।
যদি উচ্চতার ডিগ্রির সাথে মিনিট থাকে অথবা ছায়ার অঙ্গুলির সাথে মিনিট থাকে, তবে বিচ্যুতির অধ্যায়ে আপনার জন্য আমি যা বর্ণনা করেছি সেই অনুযায়ী সংশোধনের মাধ্যমে তা গ্রহণ করুন। নিয়মটি হলো, যখন উচ্চতার সাথে মিনিট থাকবে, তখন আপনি দেখবেন ষাটের তুলনায় তার পরিমাণ কতটুকু। অতঃপর পূর্ণ ডিগ্রি এবং তার পরবর্তী ডিগ্রির মানের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা থেকে সেই সমানুপাতিক অংশ গ্রহণ করবেন। এরপর পূর্ণ ছায়ার অঙ্গুলি থেকে তা সর্বদা বিয়োগ করবেন যখন উচ্চতার বৃদ্ধি তার চেয়ে কম উচ্চতার ছায়ার তুলনায় কম হবে। যা অবশিষ্ট থাকবে তা-ই হবে সেই উচ্চতার ছায়া। আর আপনি যদি এমন ছায়ার উচ্চতা জানতে চান যার সাথে মিনিট আছে, তবে সারণিতে যে ছায়া পাবেন তা দেখুন এবং আপনার কাছে থাকা ছায়া থেকে তা বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে, উক্ত ছায়া এবং তার চেয়ে এক ডিগ্রি কম উচ্চতার ছায়ার মধ্যকার পার্থক্যের অনুপাতে তার মান বের করুন। প্রাপ্ত মিনিটগুলো সারণি থেকে পাওয়া সেই উচ্চতা থেকে বিয়োগ করবেন যা আপনার কাছে থাকা ছায়ার নিকটবর্তী এবং তার চেয়ে কম ছায়ার বিপরীতে ছিল। যা অবশিষ্ট থাকবে তা-ই হবে উচ্চতা।
যদি আপনি সারণির মাধ্যমে উচ্চতা থেকে লম্ব ছায়া অর্থাৎ দণ্ডায়মান ছায়া জানতে চান, তবে উচ্চতাকে নব্বই থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে, বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী সংশোধনের মাধ্যমে তার সমান্তরাল ছায়াটি গ্রহণ করুন। যা পাওয়া যাবে সেটিই হবে লম্ব ছায়া। আর যদি আপনি এই ছায়ার মাধ্যমে উচ্চতা জানতে চান, তবে সারণিতে আপনার কাঙ্ক্ষিত ছায়ার অনুরূপ মানটি খুঁজুন এবং উচ্চতার সারিতে তার সমান্তরাল মানটি সংশোধনের মাধ্যমে গ্রহণ করুন। যে পরিমাণে পৌঁছাবে তা নব্বই থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তা-ই হবে উচ্চতা। এই সারণিতে ছায়াকে এমনভাবে অঙ্কন করা হয়েছে যেখানে মাপকাঠির পরিমাণ বারো একক। সুতরাং আপনি ছায়ার যে হিসাবই করুন না কেন, তা এই হিসেবে হবে যে মাপকাঠির পরিমাণ বারো অঙ্গুলি।
একাদশ অধ্যায়দিগন্ত রেখা থেকে উচ্চতার দিগংশ নির্ণয়সকল জনপদে সকল সময়েতিনি বলেন, আপনি যদি কোনো জনপদে রাশিচক্রের সকল অংশের প্রতিটি উচ্চতা ও ছায়ার দিগংশ জানতে চান, তবে সেই অংশের বিচ্যুতি গ্রহণ করুন এবং তার জ্যা ও বিচ্যুতির দিক নির্ণয় করুন। এরপর সেই বিচ্যুতিকে নব্বই থেকে বিয়োগ করুন এবং যা অবশিষ্ট থাকে তার জ্যা বের করুন; এটি হলো উক্ত অংশের পূর্ণ বিচ্যুতির জ্যা। এরপর সেই জনপদের অক্ষাংশের জ্যা এবং অক্ষাংশকে নব্বই পূর্ণ করতে যা অবশিষ্ট থাকে তার জ্যা নির্ণয় করুন। অতঃপর দিনের যে কোনো সময়ের উচ্চতা গ্রহণ করুন এবং তার জ্যা ও উচ্চতাকে নব্বই পূর্ণ করতে যা অবশিষ্ট থাকে তার জ্যা নির্ণয় করুন। এরপর উক্ত অংশের বিচ্যুতির জ্যা-কে ব্যাসার্ধ দিয়ে গুণ করুন এবং প্রাপ্ত ফলকে অক্ষাংশের পরিপূরক জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তা হবে উদয়-বিস্তারের জ্যা; এটি সংরক্ষণ করুন এবং এর দিক জেনে নিন, যা হবে বিচ্যুতির দিক। এরপর উচ্চতার জ্যা-কে অক্ষাংশের জ্যা দিয়ে গুণ করুন এবং প্রাপ্ত ফলকে অক্ষাংশের পরিপূরক জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তা হবে দিগন্তের পার্থক্যের জ্যা, এবং এটি সর্বদা দক্ষিণমুখী হবে। যদি উদয়-বিস্তারের জ্যা এবং দিগন্তের পার্থক্যের জ্যা একই দিকে হয় তবে তাদের যোগ করুন। আর যদি ভিন্ন দিকে হয় তবে ক্ষুদ্রতরটিকে বৃহত্তরটি থেকে বিয়োগ করুন এবং যা অবশিষ্ট থাকবে তার দিক লক্ষ্য করুন। যোগফল বা বিয়োগফল হিসেবে যা পাওয়া যাবে তাকে ব্যাসার্ধ দিয়ে গুণ করুন এবং উচ্চতার পরিপূরক জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। যে ফল বের হবে তার চাপ নির্ণয় করুন। যা পাওয়া যাবে সেটিই হবে উচ্চতার দিগংশ। আর ছায়া তখন সেই অংশেই থাকবে যার জন্য আপনি হিসাব করেছেন। যদি সেই সময় উক্ত অংশটি উদয়স্থল এবং মধ্যাকাশের মাঝখানে থাকে, তবে সেই দিগংশ দিগন্ত রেখায় মেষ ও তুলা রাশির উদয়বিন্দু থেকে আপনার প্রাপ্ত দিকের দিকে হবে। আপনি অন্যভাবেও দিগংশ নির্ণয় করতে পারেন, যা দৃষ্টিভেদ নির্ণয়ের কোণগুলোর মাধ্যমে করা হয়, যা আমি এই বইয়ের পরবর্তী অংশে বর্ণনা করব।
দ্বাদশ অধ্যায়মধ্যাহ্ন রেখা নির্ণয়আর এটি হলো দক্ষিণ দিগংশ
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
قال إذا أردت أن تعرف سمت الجنوب وهو خط نصف النهار في كل بلد تريد في أي وقت شئت من أوقات السنة فإن لم يكن لك موضع الشمس معلوماً فاعمد إلى موضع منكشف الأفق سلس الوجه موزون السطح غير مائل فأدر فيه دائرة بأي قدر شئت واثبت في مركز الدائرة عوداً رقيقاً محدود الرأس مستوياً لا اعوجاج له وأحسن أقداره أن يكون طوله مثل ربع قطر الدائرة وقدره بالمقدار من أربع نواحي الدائرة إلى طرف العود ليصبح قيامه على المركز ثم ارصد الظل في أول النهار وهو مستطيل فلا يزال يقصر حتى إذا انتهى إلى محيط الدائرة وكاد أن يدخل فتعلم على موضعه من محيط الدائرة نقطة تكون علامة على طرف الظل ثم أمهل الظل إلى أن يجوز نصف النهار ويبتدئ الظل بالزيادة حتى إذا انتهى إلى محيط الدائرة وكاد أن يخرج فتعلم على طرف موضعه في محيط الدائرة نقطة ثانية تكون علامة على طرف الظل ثم اقسم القوس التي بين النقطتين بنصفين وتعلم على موضع نصف القوس نقطة وأخرج من هذه النقطة خطاً مستقيماً يجوز على مركز الدائرة إلى الجانب الآخر من المحيط وأنفذه كم شئت وصنعة ذلك أن تجعل حرف المسطرة على النقطة التي في نصف القوس وعلى المركز وتخط خطاً يجوز على النقطة وعلى المركز جميعاً إلى محيط الدائرة من الجانب الآخر فيكون هذا الخط هو خط نصف النهار أبداً فمتى وقع ظل العود الذي في المركز على هذا الخط فهو وقت انتصاف النهار طال الظل أم قصر وهذا الخط هو سمت ما بين الجنوب والشمال ثم ربع الدائرة بخط آخر يجوز على مركز الدائرة وعلى زوايا قائمة وتنقسم الدائرة بهذين الخطين أرباعاً متساوية ويكون هذا الخط سمت ما بين المشرق والمغرب ثم ارسم على أطراف الخطوط جهات الأفق أعني المغرب والمشرق والشمال والجنوب. وكلما قربت الشمس من نقطة المنقلب أي المنقلبين كان أصح الرصد لإبطاء حركة الشمس فيما بين الرصدين في الميل أعني رصدي الظل. ومعلوم أن وقت انتصاف النهار غير محدود بالحقيقة لسرعة مر الشمس في الميل في فلك نصف النهار ولكنه يعرف وقت انتصاف النهار أو أقرب الأوقات إليه. وهذا مثال الدائرة المذكورة إن شاء الله تعالى.
قال تخط دائرة على مركزه وتثبت العمود الموري في موضع نقطة هـ وترسم على موضع طرف الظل الذي قبل انتصاف النهار نقطة اوعلى موضع طرفه الذي بعد انتصاف النهار علامة ب وتقسم قوس اب بنصفين على علامة ج وتخرج خط ج إلى علامة د فخط ج هـ د هو خط نصف النهار ونقطة د هي جهة الجنوب ونقطة ج هي جهة الشمال ثم تقسم قوس ج اد بنصفين على نقطة ط وتجر على نقطتي ط هـ خطاً يخرج إلى نقطة ز جهة المشرق ونقطة ط جهة المغرب فكلما وقع ظل العمود الموري على خط هج كان وقت انتصاف النهار أبداً.
তিনি বললেন, আপনি যদি বছরের যেকোনো সময়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত যেকোনো জনপদে দক্ষিণ দিক তথা মধ্যাহ্ন রেখা জানতে চান, এবং সূর্যের অবস্থান যদি আপনার জানা না থাকে, তবে দিগন্ত উন্মুক্ত এমন একটি মসৃণ ও সমতল স্থান নির্বাচন করুন যা হেলানো নয়। সেখানে আপনার ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো মাপের একটি বৃত্ত অঙ্কন করুন এবং বৃত্তের কেন্দ্রে একটি সরু কাঠি স্থাপন করুন যার মাথা হবে সূঁচালো এবং সেটি হবে সোজা ও বক্রতামুক্ত। এর সর্বোত্তম পরিমাপ হলো—এর দৈর্ঘ্য বৃত্তের ব্যাসার্ধের অর্ধেক (বা ব্যাসের এক-চতুর্থাংশ) হওয়া। এরপর বৃত্তের চারদিক থেকে কাঠির মাথা পর্যন্ত দূরত্ব পরিমাপ করুন যেন কেন্দ্রে এর খাড়া অবস্থান সুনিশ্চিত হয়। অতঃপর দিনের শুরুতে ছায়া পর্যবেক্ষণ করুন; তখন এটি দীর্ঘ থাকবে এবং ক্রমশ ছোট হতে থাকবে। যখন এটি বৃত্তের পরিধিতে পৌঁছাবে এবং ভেতরে প্রবেশ করতে উদ্যত হবে, তখন পরিধির ওপর ছায়ার সেই প্রান্তবিন্দুতে একটি চিহ্ন দিন। এরপর মধ্যাহ্ন অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং যখন ছায়া পুনরায় বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে এবং বৃত্তের পরিধিতে পৌঁছে বাইরে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হবে, তখন পরিধির ওপর ছায়ার সেই প্রান্তবিন্দুতে দ্বিতীয় একটি চিহ্ন দিন। অতঃপর বিন্দুদ্বয়ের মধ্যবর্তী বৃত্তচাপটিকে সমান দুই ভাগে বিভক্ত করে চাপের মধ্যস্থলে একটি বিন্দু চিহ্নিত করুন। এই বিন্দু থেকে একটি সরলরেখা টানুন যা বৃত্তের কেন্দ্র হয়ে পরিধির অপর প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাবে এবং একে আপনার ইচ্ছামতো বর্ধিত করুন। এর পদ্ধতি হলো—স্কেলের প্রান্তভাগ চাপের মধ্যস্থ বিন্দু এবং কেন্দ্রের ওপর স্থাপন করবেন এবং একটি রেখা অঙ্কন করবেন যা বিন্দু ও কেন্দ্র উভয়টির ওপর দিয়ে পরিধির অপর প্রান্ত পর্যন্ত যাবে। এই রেখাটিই হবে স্থায়ী মধ্যাহ্ন রেখা। সুতরাং যখনই কেন্দ্রের কাঠির ছায়া এই রেখার ওপর পড়বে, তখনই মধ্যাহ্ন সময় হবে, ছায়া দীর্ঘ হোক বা খাটো। আর এই রেখাটিই হলো উত্তর ও দক্ষিণ মুখী দিক। অতঃপর বৃত্তটিকে অন্য একটি রেখা দ্বারা চার ভাগ করুন যা কেন্দ্রের ওপর দিয়ে সমকোণে অতিক্রম করবে। এই দুটি রেখা দ্বারা বৃত্তটি চারটি সমান ভাগে বিভক্ত হবে এবং এই রেখাটি হবে পূর্ব ও পশ্চিম মুখী দিক। এরপর রেখাগুলোর প্রান্তসমূহে দিগন্তের দিকসমূহ অর্থাৎ পশ্চিম, পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ চিহ্নিত করুন। সূর্য যখন অয়নবিন্দুদ্বয়ের কোনো একটির নিকটবর্তী হয়, তখন পর্যবেক্ষণ অধিকতর সঠিক হয়; কারণ তখন ছায়ার দুই পর্যবেক্ষণের মধ্যবর্তী সময়ে সূর্যের অয়ন-গতি বা কৌণিক বিচ্যুতির পরিবর্তন ধীর হয়ে থাকে। এটি সুবিদিত যে, মধ্যাহ্ন মণ্ডলে সূর্যের দ্রুত অয়ন-গমনের কারণে মধ্যাহ্নের প্রকৃত সময়টি একদম নির্ভুলভাবে নিরূপণ করা কঠিন, তবে এর মাধ্যমে মধ্যাহ্নের সময় অথবা এর নিকটতম সময়টি জানা যায়। ইনশাআল্লাহ তাআলা, এটিই হলো উল্লিখিত বৃত্তের উদাহরণ।
তিনি বললেন, আপনি কেন্দ্রের ওপর একটি বৃত্ত অঙ্কন করবেন এবং ‘হা’ বিন্দুর স্থানে একটি নির্দেশক দণ্ড স্থাপন করবেন। মধ্যাহ্নের পূর্বের ছায়ার প্রান্তবিন্দুতে ‘আলিফ’ বিন্দু এবং মধ্যাহ্নের পরের ছায়ার প্রান্তবিন্দুতে ‘বা’ চিহ্ন প্রদান করবেন। ‘আলিফ-বা’ বৃত্তচাপটিকে ‘জিম’ চিহ্নের মাধ্যমে সমান দুই ভাগে বিভক্ত করবেন এবং ‘জিম’ বিন্দু থেকে একটি রেখা ‘দাল’ চিহ্ন পর্যন্ত টানবেন। ফলে ‘জিম-হা-দাল’ রেখাটি হবে মধ্যাহ্ন রেখা; ‘দাল’ বিন্দুটি হবে দক্ষিণ দিক এবং ‘জিম’ বিন্দুটি হবে উত্তর দিক। অতঃপর ‘জিম-আলিফ-দাল’ বৃত্তচাপটিকে ‘ত্বা’ বিন্দুতে দুই ভাগে বিভক্ত করবেন এবং ‘ত্বা’ ও ‘হা’ বিন্দুদ্বয়ের ওপর দিয়ে একটি রেখা টানবেন যা পূর্ব দিকের ‘যা’ বিন্দু এবং পশ্চিম দিকের ‘ত্বা’ বিন্দু পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। সুতরাং যখনই নির্দেশক দণ্ডের ছায়া ‘হা-জিম’ রেখার ওপর পড়বে, তখনই সর্বদা মধ্যাহ্ন সময় হবে।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأما إذا كان لك موضع الشمس معلوماً فاعرف سمت أي الارتفاعات أردت في بعض أوقات النهار وارصد الارتفاع المفروض حتى إذا صار الارتفاع مثله فتعلم على ظل الموري في محيط الدائرة علامة تكون على وسط عرض ظل العمود الموري ثم اقسم الربع التي تقع فيه هذه النقطة من الدائرة بتسعين جزءاً واعدد من تلك النقطة إلى خلاف جهة سمت ذلك الارتفاع بقدر سمت الارتفاع فما وقع عليه من تلك الأقسام فهو نقطة المشرق أو المغرب بحسب ما عملت عليه من الوقت في الارتفاع إما قبل نصف النهار وإما بعده فاخرج من تلك العلامة خطاً يجوز على مركز الدائرة وربع عليه الدائرة بخط آخر يجوز على المركز على زوايا قائمة فتعرف حينئذ خط نصف النهار بهذا الخط وخط المشرق والمغرب بالخط الذي قبله. وكذلك إن كانت هذه الدائرة ظاهرة الأفق عند طلوع الشمس أو غروبها كانت نقطة المشرق أو المغرب معلومة من قبل معرفة سمت طلوع جزء الشمس أو مغيبه من دائرة الأفق التي قد جعلنا رسمها اب ج د وإن شئت أن تعرف خط ما بين المشرق والمغرب بجهة أخرى ثم تعرف به خط ما بين الشمال والجنوب وهي بمعرفة الارتفاع الذي لا ميل لسمته عن مطلع الاعتدال أو مغربه ولا يتهيأ ذلك إلا إذا كانت الشمس في البروج الشمالية التي هي من أول الحمل إلى آخر السنبلة فقط. ومعرفة هذا الارتفاع يكون بأن تعرف موضع الشمس من فلك البروج في اليوم الذي تريد وارتفاعها في وقت انتصاف النهار من ذلك اليوم الذي عملت عليه ثم اعرف وتر هذا الارتفاع وتر ما يبقى لتمامه إلى ص ثم اعرف سمت مطلع الشمس أو مغيبها بموضعه من فلك البروج في وقت انتصاف النهار الذي عملت عليه مهو أبداً شمالي على ما شرطنا ثم خذ وتر هذا السمت واضربه في وتر الارتفاع فما بلغ فاقسمه على وتر السمت ووتر تمام الارتفاع جميعاً مجموعين فما حصل فقوسه فما بلغت القوس فهو الارتفاع الذي لا ميل لسمته. فإذا عرفت هذا الارتفاع فارصد الشمس حتى إذا صار الارتفاع مثل ذلك الارتفاع فتعلم على وسط ظل الموري من محيط الدائرة نقطة تكون نقطة المشرق أو المغرب بحسب الوقت الذي تقيس فيه وهو مشرق الاعتدال أو مغربه فربع الدائرة على هذه النقطة بخطين متقاطعين على المركز على الزوايا القائمة فتعلم بها جهات الأفق.
ونجعل لذلك مثالاً ونصيره في الإقليم الرابع حيث يكون ارتفاع القطب لو كب ونفرض موضع الشمس في أول السرطان فيكون لذلك ارتفاع الشمس في وقت انتصاف النهار عز يج وارتفاعها في وقت انتصاف الليل عن أفق الشمال ل ج ومعلوم أنه مثل ارتفاع الجزء المقابل له فوق الأرض في خط وسط السماء الذي هو ل ج.
আর যখন আপনার কাছে সূর্যের অবস্থান জানা থাকে, তখন দিনের কোনো এক সময়ে যে কোনো উচ্চতার দিগংশ (azimuth) জেনে নিন যা আপনি চান এবং সেই নির্ধারিত উচ্চতাটি পর্যবেক্ষণ করুন যতক্ষণ না উচ্চতাটি তার অনুরূপ হয়। তখন বৃত্তের পরিধিতে মুরির (নির্দেশক শলাকা) ছায়ার ওপর একটি চিহ্ন দিন, যা মুরি স্তম্ভের ছায়ার প্রস্থের ঠিক মাঝখানে হবে। এরপর বৃত্তের যে চতুর্থাংশে এই বিন্দুটি অবস্থিত তাকে নব্বই ভাগে বিভক্ত করুন। সেই বিন্দু থেকে উক্ত উচ্চতার দিগংশের বিপরীত দিকে উচ্চতার দিগংশের সমপরিমাণ গণনা করুন। এই ভাগগুলোর মধ্যে যেখানে গণনা শেষ হবে, সেটিই হবে পূর্ব বা পশ্চিম বিন্দু; এটি নির্ভর করবে আপনি দিনের কোন সময়ে উচ্চতা পরিমাপ করেছেন তার ওপর—হয় মধ্যাহ্নের পূর্বে অথবা পরে। সুতরাং সেই চিহ্ন থেকে একটি রেখা টানুন যা বৃত্তের কেন্দ্রের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে এবং কেন্দ্রের ওপর সমকোণ উৎপন্নকারী অপর একটি রেখার মাধ্যমে বৃত্তটিকে চতুর্থাংশে বিভক্ত করুন। তখন আপনি এই রেখার মাধ্যমে মধ্যাহ্ন রেখা এবং পূর্ববর্তী রেখাটির মাধ্যমে পূর্ব-পশ্চিম রেখা চিনতে পারবেন। একইভাবে যদি সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় এই বৃত্তটি দিগন্তে দৃশ্যমান হয়, তবে দিগন্ত বৃত্তের—যাকে আমরা 'আ ব জ দ' হিসেবে অঙ্কন করেছি—সূর্যের উদয় বা অস্তের অংশের দিগংশ জানার মাধ্যমে পূর্ব বা পশ্চিম বিন্দু জানা যাবে। আর আপনি যদি অন্য পদ্ধতিতে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী রেখা জানতে চান এবং তার মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যবর্তী রেখা জানতে চান, তবে তা হবে সেই উচ্চতা নির্ণয়ের মাধ্যমে যার দিগংশে বিষুবীয় উদয়স্থল বা অস্তস্থল থেকে কোনো বিচ্যুতি নেই। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন সূর্য উত্তরস্থ রাশিগুলোতে অবস্থান করে, যা কেবল মেষ রাশির শুরু থেকে কন্যা রাশির শেষ পর্যন্ত। এই উচ্চতা জানার পদ্ধতি হলো, আপনি যে দিনের হিসাব করতে চান সেই দিনে রাশিচক্রে সূর্যের অবস্থান এবং ওই দিনের মধ্যাহ্নে সূর্যের উচ্চতা জেনে নিন। এরপর এই উচ্চতার জ্যা (chord) এবং নব্বই ডিগ্রি পূর্ণ হতে অবশিষ্ট অংশের জ্যা বের করুন। এরপর রাশিচক্রে সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে মধ্যাহ্নকালীন সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের দিগংশ জেনে নিন (আমাদের শর্ত অনুযায়ী এটি সর্বদা উত্তরমুখী হবে)। এরপর এই দিগংশের জ্যা নিন এবং তাকে উচ্চতার জ্যা দিয়ে গুণ করুন। গুণফলকে দিগংশের জ্যা এবং উচ্চতার পরিপূরক অংশের জ্যা-এর সমষ্টি দিয়ে ভাগ করুন। প্রাপ্ত ফলাফলকে বৃত্তচাপে (arc) রূপান্তর করুন। এই প্রাপ্ত বৃত্তচাপটিই হবে সেই উচ্চতা যার দিগংশের কোনো বিচ্যুতি নেই। যখন আপনি এই উচ্চতা জানতে পারবেন, তখন সূর্যকে পর্যবেক্ষণ করুন। যখন উচ্চতা উক্ত উচ্চতার সমান হবে, তখন বৃত্তের পরিধিতে মুরির ছায়ার মধ্যস্থলে একটি বিন্দু চিহ্নিত করুন। আপনার পরিমাপের সময় অনুযায়ী এটি হবে পূর্ব বিষুববিন্দু বা পশ্চিম বিষুববিন্দু। এরপর এই বিন্দুর ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রের ওপর দিয়ে পরস্পরছেদী দুটি সমকোণী রেখার মাধ্যমে বৃত্তটিকে চার ভাগে ভাগ করুন, এতে আপনি দিগন্তের দিকসমূহ জানতে পারবেন।
আমরা এর জন্য একটি উদাহরণ দিচ্ছি এবং চতুর্থ জলবায়ু অঞ্চলের প্রেক্ষিতে তা নির্ধারণ করছি, যেখানে মেরু উচ্চতা হবে ৩৫ ডিগ্রি। আমরা ধরে নিচ্ছি সূর্যের অবস্থান কর্কট রাশির শুরুতে। এমতাবস্থায় মধ্যাহ্নে সূর্যের উচ্চতা হবে ৭৩ ডিগ্রি ১৩ মিনিট এবং উত্তর দিগন্ত থেকে মধ্যরাত্রিতে এর উচ্চতা হবে ৩০ ডিগ্রি ৩ মিনিট। এটি স্পষ্ট যে, এটি ভূপৃষ্ঠের ওপরে আকাশের মধ্যরেখায় তার বিপরীত অংশের উচ্চতার সমান, যা হলো ৩০ ডিগ্রি ৩ মিনিট।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২১)
ونعلم ذلك أيضاً بوجه آخر وجهة أخرى وهي بأن نضعف ارتفاع أول الحمل في الإقليم المذكور فما بلغ نقصنا منها ارتفاع أول السرطان في وسط السماء وبين ارتفاع أول الحمل في وسط السماء في هذا الإقليم نج لح وضعف ذلك قز يو فإذا نقص من ذلك عز يج بقي ارتفاعها في وسط السماء من تحت الأرض ل ج وسمت أول السرطان عند طلوعه في هذا الإقليم نبين أنه يكون إلى ناحية الشمال من مشرق الحمل ل هـ جزءاً وإذ ذلك على ما وصفنا نرسم دائرة لوسط السماء عليها اب ل على مركزها هـ وقطر ل ب وليكن قطر ل ب نصف الأفق ولتكن النقطة اموضع سمت الرؤوس ونصل نقطة ابنقطة هـ فتكون قوس ب اربع الدائرة التي بين سمت الرؤوس والأفق وتكون نقطة هـ هي موضع مطلع أول الحمل ونقطة ج موضع مطلع أول السرطان وذلك أن هـ ب نصف الأفق الجنوبي وخط هـ ل خط نصف الأفق الشمالي وخط هـ اخط ربع الدائرة التي يجوز على نقطة سمت الرؤوس ومطلع أول الحمل. وترسم على نقطة أول السرطان من دائرة ووسط السماء نقطة ز فقوس ب ز ارتفاع الشمس في نصف النهار وقوس ز أبعدها عن سمت الرؤوس الذي هم تمام الارتفاع إلى ربع الدائرة وترسم على ارتفاع الشمس نصف الليل نقطة ط فيكون قوس ط ل قوس الارتفاع نصف الليل من تحت الأرض وتخرج خط ط ز ويجوز على نقطة ج التي يطلع منها أول السرطان والموضع المشترك من خط ط ز وخط هـ اهو الموضع الذي إذا ارتفعت الشمس إليه صارت على سمت هـ التي يطلع منها أول الحمل ولذلك لا يكون لها حينئذ ميل عن سمت مطلع الاعتدال إذا كان الخط الذي من سمت الرؤوس يجوز على موضع الشمس وعلى نقطة هـ من الأفق فترسم على موضع الشمس من خط هـ اعلامة م. فبين هو في هذا الشكل أن خط هـ ج هو خط سمت مطلع أول السرطان وهو وتر السمت المنصف. وأيضاً تخرج من نقطة ز عموداً إلى خط هـ ب موازياً لخط هـ اوهو عمود ز ك وهو وتر الارتفاع الذي لا ميل لسمته إذ كان خط هـ م مساوياً لعمود د ح الذي يظهر أنه وتر قوس ب د التي هي مقدار هذا الارتفاع المطلوب إذا كانت دائرة اب ل مارة على سمت الرؤوس ونقطة أول السرطان فلأن مثلث ز ك ج القائم الزاوية قد صار معلوم الأضلاع وهو مناسب لمثلث م هـ ح الصغير إذا كانت زاوية م هـ ج مساوية لزاوية ز ك هـ وزاوية ج م هـ مساوية لزاوية ك ز ج وزاوية ك ز ج مشتركة للمثلثتين فلذلك تكون نسبة خط ز ك إلى خط ك ج مثل خط م هـ إلى خط هـ ج. وأيضاً فإن نسبة خط هـ ج إلى خط ج ك كنسبة م هـ إلى ك ز وهي أيضاً نسبة خط ج م إلى خط ج ز فإذا ألقينا من خط ك ز نسبة خط ج م إلى خط ج ز بقيت لنا نسبة خط هـ م إلى خط ك ز وكذلك هو إذا أخذنا من خط ك ز بقدر خط ج هـ من خط ج ك صارت لنا نسبة هـ م إلى ك ز. حساب ذلك ان نضرب خط هـ ج الذي قد ظهر أنه ل جزءً في خط ك ز الذي هو نح لا وهو وتر قوس ب ز المنصف فيبلغ ألف وسبعمائة وخمسة وخمسين جزءاً ونصف جزء وخط ك هـ الذي هو وتر تمام الارتفاع يكون يج يز فخط هـ ج وهـ ك مجموعين يكونان مج يز وهو خط ك ج كله فإذا قسمنا ذلك على خط ك ج حصل م لج وهو مقدار خط هـ م المطلوب وخط د ح مثله ولذلك يكون قوس د ب اثنين وأربعين جزءاً واثنتين وثلثين دقيقة وهي الارتفاع الذي لا ميل لسمته وذلك ما أردنا أن نبين إن شاء الله.
الباب الثالث عشر
معرفة مطالع البروج في كل بلد
بجهتين بالحساب وبالجدول وما يتبع ذلك من العمل بها إن شاء الله
আমরা এটি অন্য একটি উপায়ে এবং ভিন্ন একটি পন্থায়ও জানতে পারি, আর তা হলো উল্লিখিত অঞ্চলে মেষ রাশির প্রথম বিন্দুর উচ্চতাকে দ্বিগুণ করা। অতঃপর প্রাপ্ত ফলাফল থেকে আকাশ-মধ্যস্থলে কর্কট রাশির প্রথম বিন্দুর উচ্চতা বিয়োগ করা। এই অঞ্চলে আকাশ-মধ্যস্থলে মেষ রাশির প্রথম বিন্দুর উচ্চতা হলো ৫৩ ৩৮ এবং এর দ্বিগুণ হলো ১০৭ ১৬। যখন তা থেকে ৭৭ ১৩ বিয়োগ করা হয়, তখন পৃথিবীর নিচে আকাশ-মধ্যস্থলে এর উচ্চতা অবশিষ্ট থাকে ৩০ ৩। আমরা স্পষ্ট করছি যে, এই অঞ্চলে উদয়কালে কর্কট রাশির প্রথম বিন্দুর দিগংশ মেষ রাশির উদয়স্থল থেকে উত্তর দিকে ৩৫ অংশ হবে। আমরা যা বর্ণনা করেছি সেই অনুযায়ী, আমরা আকাশ-মধ্যস্থলের জন্য একটি বৃত্ত অঙ্কন করি যার ওপর আ, ব, ল বিন্দু থাকবে এবং এর কেন্দ্র হবে হ এবং ব্যাস হবে ল ব। মনে করি, ল ব ব্যাসটি দিগন্তের অর্ধেক। আ বিন্দুটি মস্তকোপরি বিন্দুর (জেনিথ) স্থান হোক। আমরা আ বিন্দুকে হ বিন্দুর সাথে যুক্ত করি, ফলে ব আ বৃত্তচাপটি হবে বৃত্তের সেই চতুর্থাংশ যা মস্তকোপরি বিন্দু এবং দিগন্তের মাঝখানে অবস্থিত। হ বিন্দুটি হবে মেষ রাশির প্রথম বিন্দুর উদয়স্থল এবং জ বিন্দুটি হবে কর্কট রাশির প্রথম বিন্দুর উদয়স্থল। কেননা, হ ব হলো দক্ষিণ দিগন্তের অর্ধেক, হ ল রেখা হলো উত্তর দিগন্তের অর্ধাংশ এবং হ আ রেখা হলো বৃত্তের সেই চতুর্থাংশ যা মস্তকোপরি বিন্দু এবং মেষ রাশির প্রথম বিন্দুর উদয়স্থলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। আকাশ-মধ্যস্থলের বৃত্ত থেকে কর্কট রাশির প্রথম বিন্দুর স্থানে জ বিন্দুটি অঙ্কন করি। তাহলে ব জ বৃত্তচাপটি হবে দ্বিপ্রহরে সূর্যের উচ্চতা এবং জ আ বৃত্তচাপটি হবে মস্তকোপরি বিন্দু থেকে এর দূরত্ব, যা হলো বৃত্তের চতুর্থাংশ পর্যন্ত উচ্চতার পরিপূরক। মধ্যরাতে সূর্যের উচ্চতার ওপর ত বিন্দুটি অঙ্কন করি, ফলে ত ল বৃত্তচাপটি হবে ভূগর্ভ হতে মধ্যরাতের উচ্চতার বৃত্তচাপ। আমরা ত জ রেখাটি বর্ধিত করি, যা জ বিন্দুর ওপর দিয়ে অতিক্রম করে যেখান থেকে কর্কট রাশির প্রথম বিন্দু উদিত হয়। ত জ রেখা এবং হ আ রেখার সাধারণ মিলনস্থলটি হবে সেই স্থান যেখানে সূর্য আরোহণ করলে সেটি হ এর দিগংশে পৌঁছাবে যেখান থেকে মেষ রাশির প্রথম বিন্দু উদিত হয়। এই কারণে, তখন বিষুবীয় উদয়স্থলের দিগংশ থেকে এর কোনো বিচ্যুতি থাকবে না, যদি মস্তকোপরি বিন্দু থেকে আসা রেখাটি সূর্যের অবস্থান এবং দিগন্তের হ বিন্দুর ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। হ আ রেখায় সূর্যের অবস্থানে ম চিহ্নটি অঙ্কন করি। এই চিত্রে এটি স্পষ্ট যে, হ জ রেখা হলো কর্কট রাশির প্রথম বিন্দুর উদয়স্থলের দিগংশ রেখা এবং এটি হলো সমদ্বিখণ্ডিত দিগংশের জ্যা। পুনরায়, জ বিন্দু থেকে হ ব রেখার ওপর হ আ রেখার সমান্তরাল করে একটি লম্ব অঙ্কন করি, যা হলো জ ক লম্ব। এটি হলো সেই উচ্চতার জ্যা যার দিগংশে কোনো বিচ্যুতি নেই। কেননা হ ম রেখাটি দ হ লম্বের সমান, যা স্পষ্টভাবে ব দ বৃত্তচাপের জ্যা হিসেবে প্রতীয়মান হয় এবং এটিই হলো কাঙ্ক্ষিত উচ্চতার পরিমাণ, যদি আ ব ল বৃত্তটি মস্তকোপরি বিন্দু এবং কর্কট রাশির প্রথম বিন্দুর ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। যেহেতু সমকোণী ত্রিভুজ জ ক জ-এর বাহুগুলো জ্ঞাত হয়েছে এবং এটি ক্ষুদ্র ত্রিভুজ ম হ হ-এর অনুরূপ, কারণ কোণ ম হ জ হলো কোণ জ ক হ-এর সমান এবং কোণ জ ম হ হলো কোণ ক জ জ-এর সমান এবং কোণ ক জ জ উভয় ত্রিভুজের জন্য সাধারণ। তাই জ ক রেখা ও ক জ রেখার অনুপাত হবে ম হ রেখা ও হ জ রেখার অনুপাতের সমান। আবার হ জ রেখা ও জ ক রেখার অনুপাত হলো ম হ রেখা ও ক জ রেখার অনুপাতের সমান, যা আবার জ ম রেখা ও জ জ রেখার অনুপাতও বটে। যদি আমরা ক জ রেখা থেকে জ ম ও জ জ রেখার অনুপাত বাদ দিই, তবে আমাদের কাছে হ ম ও ক জ রেখার অনুপাত অবশিষ্ট থাকবে। একইভাবে, যদি আমরা ক জ রেখা থেকে জ ক রেখার সমপরিমাণ জ হ অংশ গ্রহণ করি, তবে আমরা হ ম ও ক জ এর অনুপাত পাব। এর গণনা পদ্ধতি হলো: আমরা হ জ রেখাকে—যা ৩০ অংশ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে—ক জ রেখা দ্বারা গুণ করব যা হলো ৫৮ ৩১ এবং এটি সমদ্বিখণ্ডিত ব জ বৃত্তচাপের জ্যা। ফলে গুণফল হবে ১৭৫৫ এবং অর্ধেক অংশ। আর ক হ রেখা—যা উচ্চতার পরিপূরকের জ্যা—তা হবে ১৩ ১৭। সুতরাং হ জ এবং হ ক-এর সমষ্টি হবে ৪৩ ১৭, যা হলো সমগ্র ক জ রেখা। আমরা যখন একে ক জ রেখা দ্বারা ভাগ করব, তখন কাঙ্ক্ষিত হ ম রেখার মান পাওয়া যাবে ৪০ ৩৩। দ হ রেখাও এর সমান। এই কারণে দ ব বৃত্তচাপটি হবে ৪২ অংশ এবং ৩২ মিনিট, যা হলো সেই উচ্চতা যার দিগংশে কোনো বিচ্যুতি নেই। ইনশাআল্লাহ আমরা এটিই বর্ণনা করতে চেয়েছিলাম।
ত্রয়োদশ অধ্যায়
প্রতিটি জনপদে রাশিচক্রের উদয়স্থল নির্ণয়
গণনা ও সারণী—এই দুই পদ্ধতিতে এবং ইনশাআল্লাহ সেগুলোর প্রয়োগের আনুষঙ্গিক নিয়মাবলী
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال أما مطالع البروج في موضع معدل النهار فقد ذكرناها فيما تقدم وأنها تمر هناك في وسط السماء في كل بلد. وأما في غير ذلك الموضع من المواضع المائلة عنه إلى الشمال في جميع البلدان فإن مطالعها تختلف في الآفاق وذلك أن البلد إذا كان له عرض أعني إذا مال عن معدل النهار اختلفت مطالع البروج عليه فزادت على مطالعها في وسط السماء التي مطالعها في الفلك المستقيم فإن نظير ذلك البرج يطلع في ذلك البلد بأقل من طلوعه في الفلك المستقيم بمقدار تلك الزيادة ويكون غروب كل برج في كل بلد بقدر طلوع نظيره فيه. فإذا أردت أن تعلم مقدار ما يطلع من فلك معدل النهار مع الأجزاء المفروضة من فلك البروج في كل بلد تريد فخذ من أول الحمل إلى الدرجة التي تريد من فلك البروج بمطالع الفلك المستقيم فما كان فاعرف وتره واضربه في وتر نصف زيادة النهار الأطول في ذلك البلد فما بلغ فاقسمه على نصف القطر فما حصل فقوسه فما بلغت القوس فهو حصة ما بين أول جزء من الحمل إلى تلك الدرجة من اختلاف النهار في ربع الدائرة فاحفظه. وإن شئت أن تعرف ذلك بجهة أخرى فاضرب وتر عرض البلد في وتر ميل الدرجة فما بلغ فاقسمه على وتر ما يبقى لتمام ميل الدرجة إلى تسعين فما حصل فقوسه فما بلغت القوس فهو اختلاف النهار في ربع الدائرة من الفلك. فإذا عرفت هذه الحصة بأي الجهتين شئت فانظر فإن كان ميل الدرجة شمالياً فانقص الحصة التي خرجت لك من أزمان المطالع التي فيما بين أول الحمل إلى تلك الدرجة في الفلك المستقيم فإن كان الميل للدرجة جنوبياً فزد الحصة على تلك المطالع فما بلغت الطالع بعد الزيادة أو النقصان فهو مطالع ما بين أول الحمل إلى تلك الدرجة في ذلك البلد. واعلم أن مطالع الحوت مثل مطالع الحمل ومطالع السنبلة مثل مطالع الميزان ومطالع الدلو مثل مطالع الثور ومطالع الجدي مثل مطالع الجوزاء ومطالع القوس مثل مطالع السرطان ومطالع الأسد مثل مطالع العقرب فقد تكتفي في معرفة المطالع بمعرفة حصص ما بين أول الحمل إلى أول السرطان وذلك من درجة إلى تسعين درجة. وإن شئت أن تجدول المطالع لدرجة درجة أو لأكثر من ذلك فاعرف حصة درجة واحدة من اختلاف النهار وحصة درجتين وثلث وأربع إلى تمام التسعين التي تستكمل اختلاف ربع الدائرة كله فإذا فعلت ذلك فخذ مطالع أول درجة من الحمل بالفلك المستقيم فضعها في مكانين ثم انقص حصة الدرجة من أحد المكانين وزده على الآخر فالمنقوص منه هو مطالع أول درجة من الحمل والمزاد عليه هو أول درجة من الميزان فانقصه من مائة وثمانين فما بقي فهو مطالع ما بين أول الحمل إلى تسع وعشرين درجة من السنبلة وانقص أيضاً مطالع الدرجة من الحمل من ثلثمائة وستين فما بقي فهو مطالع ما بين أول الحمل إلى تسع وعشرين درجة من الحوت. وكذلك تفعل بحصة درجتين وثلث وأربع إلى تمام تسعين حتى تجزئه لجميع الفلك على حسب ما تريد من تفاضل الأجزاء إن شاء الله. وقد أثبتنا مطالع البروج بمدينة الرقة على تفاضل درجة بدرجة كاملاً وفي باقي الأقاليم على تفاضل عشر درجات لقلة ما يقع فيما بين المطالع من الاختلاف في مقدار هذا التفاضل وجعلنا تفاضل زيادة النهار في المطالع المرسومة في الجداول بربع ساعة معتلة ليكون أصح فيما يحتاج إليه من عمل المطالع وأحكم من المطالع التي عملت بتفاضل نصف ساعة. فإن شئت أن تعرف مطالع أي درجة شئت بالجدول فاطلب مثل تلك الدرج التي تريد معرفة مطالعها من أي البروج شئت في سطر العدد المشترك في جدول مطالع البروج في الإقليم المحدود أو في مطالع الفلك المستقيم أيهما أردت وقدر ما تلقاه من أزمان المطالع التي تلقاه في جدول البرج الذي ذلك العدد منه.
তিনি বলেন, বিষুবরেখা বা নিরক্ষবৃত্তের অবস্থানে রাশিচক্রের উদয়স্থল সম্পর্কে আমরা ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি এবং বলেছি যে তা সেখানে প্রতিটি জনপদের মধ্য-আকাশ দিয়ে অতিক্রম করে। আর সেই অবস্থান ব্যতীত অন্যান্য স্থান, যা সকল দেশে উত্তর দিকে হেলে থাকে, সেগুলোর দিগন্তরেখায় উদয়স্থল ভিন্ন ভিন্ন হয়। কারণ জনপদটির যদি কোনো অক্ষাংশ থাকে অর্থাৎ যদি তা বিষুবরেখা থেকে বিচ্যুত হয়, তবে সেখানে রাশির উদয়স্থল ভিন্নতর হয় এবং তা নিরক্ষীয় গোলকের (আল-ফালাক আল-মুস্তাকিম) মধ্য-আকাশের উদয়স্থলের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। ফলে সেই রাশির প্রতিরূপ রাশিটি উক্ত জনপদে নিরক্ষীয় গোলকের উদয়কালের চেয়ে সেই বর্ধিত পরিমাণের সমান কম সময়ে উদিত হয় এবং প্রতিটি জনপদে প্রতিটি রাশির অস্তগমন তার প্রতিরূপ রাশির উদয়কালের সমান হয়।
আপনি যদি জানতে চান যে কোনো নির্দিষ্ট জনপদে রাশিচক্রের নির্দিষ্ট অংশের সাথে বিষুবীয় চক্রের কতটুকু অংশ উদিত হয়, তবে মেষ রাশির শুরু থেকে রাশিচক্রের আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি পর্যন্ত নিরক্ষীয় উদয় মান গ্রহণ করুন। যা পাবেন তার জ্যা (chord) নির্ণয় করুন এবং তাকে উক্ত জনপদের দীর্ঘতম দিনের অর্ধেক বৃদ্ধির জ্যা দ্বারা গুণ করুন। গুণফলকে ব্যাসার্ধ দিয়ে ভাগ করুন এবং যা পাওয়া যাবে তার ধনু (arc) নির্ণয় করুন। এই ধনুর মান যা হবে তা হলো বৃত্তের এক-চতুর্থাংশে মেষের প্রথম অংশ থেকে ঐ ডিগ্রি পর্যন্ত সময়ের ব্যবধান (ইখতিলাফুন নাহার), এটি সংরক্ষণ করুন। আপনি চাইলে অন্য পদ্ধতিতেও এটি জানতে পারেন: জনপদের অক্ষাংশের জ্যা-কে ডিগ্রির নতি বা বিচ্যুতির (declination) জ্যা দিয়ে গুণ করুন। গুণফলকে উক্ত ডিগ্রির নতির নব্বই ডিগ্রি পূর্ণ হতে যা বাকি থাকে তার জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। প্রাপ্ত ফলের ধনু নির্ণয় করুন; এই ধনুর মানই হবে খ-গোলকের এক-চতুর্থাংশে সময়ের ব্যবধান।
আপনি যেকোনো পদ্ধতিতে এই অংশটি বের করার পর লক্ষ্য করুন—যদি ডিগ্রির নতি উত্তরমুখী হয়, তবে প্রাপ্ত অংশটিকে মেষের শুরু থেকে ঐ ডিগ্রি পর্যন্ত নিরক্ষীয় গোলকের উদয়কাল থেকে বিয়োগ করুন। আর যদি ডিগ্রির নতি দক্ষিণমুখী হয়, তবে ঐ উদয়কালের সাথে এই অংশটি যোগ করুন। যোগ বা বিয়োগের পর যে উদয়কাল পাওয়া যাবে, সেটিই হলো উক্ত জনপদে মেষের শুরু থেকে ঐ ডিগ্রি পর্যন্ত রাশির উদয়কাল। জেনে রাখুন যে, মীন রাশির উদয়কাল মেষের উদয়কালের মতো, কন্যা রাশির উদয়কাল তুলা রাশির মতো, কুম্ভ রাশির উদয়কাল বৃষ রাশির মতো, মকর রাশির উদয়কাল মিথুন রাশির মতো, ধনু রাশির উদয়কাল কর্কট রাশির মতো এবং সিংহ রাশির উদয়কাল বৃশ্চিক রাশির উদয়কালের মতো। সুতরাং মেষের শুরু থেকে কর্কটের শুরু পর্যন্ত অর্থাৎ ১ থেকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত সময়ের অংশগুলো জানাই উদয়কাল নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট।
আপনি যদি প্রতি ডিগ্রির জন্য বা তার বেশি অংশের জন্য উদয়কালের সারণি তৈরি করতে চান, তবে সময়ের ব্যবধানের (ইখতিলাফুন নাহার) ক্ষেত্রে এক ডিগ্রি, দুই ডিগ্রি, তিন ডিগ্রি ও চার ডিগ্রি করে নব্বই ডিগ্রি পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি অংশের মান নির্ণয় করুন যাতে এক-চতুর্থাংশের পূর্ণ ব্যবধান সম্পন্ন হয়। এটি সম্পন্ন হলে মেষের প্রথম ডিগ্রির নিরক্ষীয় উদয়কাল গ্রহণ করে তা দুটি স্থানে রাখুন। এরপর এক স্থানের মান থেকে ডিগ্রির অংশটি বিয়োগ করুন এবং অন্য স্থানের মানের সাথে তা যোগ করুন। যা থেকে বিয়োগ করা হয়েছে তা হলো মেষের প্রথম ডিগ্রির উদয়কাল, আর যার সাথে যোগ করা হয়েছে তা হলো তুলা রাশির প্রথম ডিগ্রির উদয়কাল। এটিকে ১৮০ থেকে বিয়োগ করলে যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো মেষের শুরু থেকে কন্যা রাশির ২৯ ডিগ্রি পর্যন্ত উদয়কাল। আবার মেষের উদয়কালকে ৩৬০ থেকে বিয়োগ করলে যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো মেষের শুরু থেকে মীন রাশির ২৯ ডিগ্রি পর্যন্ত উদয়কাল। এভাবে আপনি আপনার পছন্দমতো ডিগ্রির ব্যবধান অনুযায়ী দুই, তিন ও চার ডিগ্রি করে নব্বই ডিগ্রি পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সমগ্র খ-গোলকের জন্য ইনশাআল্লাহ গণনা করতে পারেন।
আমরা রাক্কা শহরের জন্য প্রতি এক ডিগ্রির ব্যবধানে রাশির উদয়কাল পূর্ণাঙ্গভাবে নির্ধারণ করেছি এবং অন্যান্য অঞ্চলের জন্য প্রতি দশ ডিগ্রির ব্যবধানে নির্ধারণ করেছি, কারণ এই ব্যবধানে উদয়কালের মধ্যে পার্থক্যের পরিমাণ খুব সামান্য। আমরা সারণিতে লিখিত উদয়কালের দিনের বৃদ্ধির ব্যবধান এক ঘণ্টার এক-চতুর্থাংশ (১৫ মিনিট) ধরেছি যাতে উদয়কাল নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় কাজে এটি অধিকতর নির্ভুল হয় এবং আধ ঘণ্টার ব্যবধানে তৈরি করা উদয়কাল গণনার চেয়ে অধিক সুসংগত হয়। আপনি যদি সারণির মাধ্যমে যেকোনো ডিগ্রির উদয়কাল জানতে চান, তবে আপনি যে রাশির উদয়কাল জানতে ইচ্ছুক তার অনুরূপ ডিগ্রিটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের রাশির উদয়কাল সারণির সাধারণ সংখ্যার কলামে অথবা নিরক্ষীয় উদয়কাল সারণির মধ্যে (আপনি যেটি চান) খুঁজুন। সেই সংখ্যার বিপরীতে আপনি উদয়কালের যে সময় পাবেন, সেটিই হবে আপনার কাঙ্ক্ষিত রাশির উদয়কাল।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فإن كان عملك بمطالع الإقليم فهي مطالع ما بين أول الحمل إلى تلك الدرجة وإن كان عملك بمطالع الفلك المستقيم فهي مطالع ما بين أول الجدي إلى تلك الدرجة فإن كان مع الدرج دقائق فاعرف مقدارها من ستين إذا كان تفاضل العدد بدرجة واحدة فما كان فخذ بقدره من فضل ما بين تلك المطالع والمطالع التي تتلوها بدرجة فما حصل فزده على المطالع التي حصلت لك بإزاء الدرج التامة فما بلغ فهو مطالع الدرجة والدقيقة التي أردت. وإن كان تفاضل العدد بعشر درجات نظرت إلى ما يفضل معك من الدرج والدقائق الزائدة على ما تجد في الجدول كم يكون مقدارها من العشر درجات فما كان أخذت بقدره من فضول المطالع في الجدول أعني المطالع التي أصبت وما هو أكثر منها في العدد بعشر درجات فما بلغ فزده على المطالع التي تحت العشرات فما حصل فهو مطالع تلك الدرجة. وإذا أردت أن تعرف درج البروج من قبل المطالع ويسمى تقويس المطالع وتحويلها إلى درج السواء التي هي درج البروج فاطلب مثل عدد أزمان المطالع التي معك في جدول مطالع الفلك المستقيم أو مطالع الإقليم أيهما أردت فحيث ما أصبت مثله أو ما هو اقرب إليه مما هو أقل منه فخذ ما تلقاه من درج البروج المرسومة في سطر العدد المشترك فما كان فهي الدرجة التي تريد من ذلك البرج الذي وجدت عدد الأزمان فيه ثم انقص الأزمان التي معك فما بقي معك نظرت فإن كان تفاضل العدد بدرجة ضربته في ستين دقيقة وإن كان تفاضله بعشر درجات ضربته في ستمائة دقيقة فما بلغ قسمته على تفاضل المطالع التي بين ذلك الباب والباب الذي يتلوه فما حصل من الدرج والدقائق بعد القسمة فزده على الدرج التي خرجت لك مبدئياً فما بلغت بعد ذلك فهو مقدار ما يطلع من ذلك البرج أو يتوسط السماء أيهما عملت به. وإن شئت أن تنظر إلى الفضل الذي يبقى معك كم يكون من تفاضل المطالع فتأخذ بقدره من تفاضل العدد فما كان فزده على ما كان حصل معك من الدرج. وإن أردت أن تعرف قوس النهار والليل بالجدول وذلك مقدار ما يطلع من فلك معدل النهار من وقت طلوع الشمس إلى وقت غروبها أو من وقت مغيب الشمس إلى وقت طلوعها من غد فاعرف الجزء الذي فيه الشمس في ذلك اليوم الذي تريد وخذ ما تلقاه من أزمان المطالع التي تلقاه في الإقليم المحدود الذي يكون عرض تلك المدينة مثله أو أقرب إليه من غيره من الأقاليم فانقصه من المطالع الذي تلقاء الجزء المقابل لجزء الشمس في ذلك الإقليم فما بقي فهو مقدار قوس النهار.
যদি আপনার হিসাব কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের উদয়মানের (অবলিক অ্যাসেনশন) ভিত্তিতে হয়, তবে তা মেষ রাশির প্রথম বিন্দু থেকে ওই ডিগ্রি পর্যন্ত সময়ের উদয়মান। আর যদি আপনার হিসাব বিষুবীয় বা সমবৃত্তের উদয়মানের (রাইট অ্যাসেনশন) ভিত্তিতে হয়, তবে তা মকর রাশির প্রথম বিন্দু থেকে ওই ডিগ্রি পর্যন্ত সময়ের উদয়মান। যদি ডিগ্রির সাথে মিনিট থাকে, তবে ষাটের অনুপাতে তার মান নির্ণয় করুন; যদি সংখ্যার পার্থক্য এক ডিগ্রি হয়, তবে ওই উদয়মান এবং তার পরবর্তী ডিগ্রির উদয়মানের পার্থক্যের সেই অনুপাতটি গ্রহণ করুন। এরপর প্রাপ্ত ফলটি পূর্ণ ডিগ্রির বিপরীতে প্রাপ্ত উদয়মানের সাথে যোগ করুন; যা পাওয়া যাবে তা-ই আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি ও মিনিটের উদয়মান। আর যদি সংখ্যার পার্থক্য দশ ডিগ্রি হয়, তবে সারণিতে যা উল্লেখ আছে তার চেয়ে অতিরিক্ত ডিগ্রি ও মিনিটগুলো দশ ডিগ্রির কত অংশ তা লক্ষ করুন। এরপর সারণিতে পাওয়া উদয়মানের পার্থক্যের—অর্থাৎ আপনি যে উদয়মান পেয়েছেন এবং যা তার থেকে দশ ডিগ্রি বেশি—ততটুকু অংশ গ্রহণ করুন। প্রাপ্ত অংশটি দশকের নিচে থাকা উদয়মানের সাথে যোগ করুন; যা অর্জিত হবে তা-ই ওই ডিগ্রির উদয়মান।
আর যখন আপনি উদয়মানের মাধ্যমে রাশির ডিগ্রি জানতে চাইবেন—যাকে উদয়মানের বৃত্তচাপ নির্ণয় এবং সেগুলোকে সুষম ডিগ্রিতে বা রাশির ডিগ্রিতে রূপান্তর বলা হয়—তখন আপনি সমবৃত্তের উদয়মান বা কোনো অঞ্চলের উদয়মানের সারণিতে (যা আপনার প্রয়োজন) আপনার কাছে থাকা উদয়মান সময়ের সংখ্যার অনুরূপ সংখ্যা খুঁজুন। যেখানেই আপনি তার অনুরূপ অথবা তার চেয়ে কম কিন্তু নিকটতম সংখ্যা পাবেন, সাধারণ সংখ্যার সারিতে অঙ্কিত রাশির ডিগ্রির ঘর থেকে তার বিপরীতে থাকা মানটি গ্রহণ করুন। প্রাপ্ত মানটিই হবে ওই রাশির কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি যে রাশির ঘরে আপনি সময়ের সংখ্যাটি পেয়েছিলেন। অতঃপর আপনার কাছে থাকা সময়ের সংখ্যাটি বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তা লক্ষ করুন; যদি সংখ্যার ব্যবধান এক ডিগ্রি হয় তবে তাকে ষাট মিনিট দিয়ে গুণ করুন, আর যদি ব্যবধান দশ ডিগ্রি হয় তবে তাকে ছয়শ মিনিট দিয়ে গুণ করুন। গুণফলকে ওই পরিচ্ছেদ এবং পরবর্তী পরিচ্ছেদের মধ্যবর্তী উদয়মানের পার্থক্য দিয়ে ভাগ করুন। ভাগের পর যে ডিগ্রি ও মিনিট পাওয়া যাবে, তা আপনার প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত ডিগ্রির সাথে যোগ করুন। এর ফলে যা হবে তা-ই ওই রাশির উদিত হওয়ার পরিমাণ অথবা মধ্যাকাশে অবস্থানের পরিমাণ, আপনি যেটির জন্য কাজ করছেন।
আর যদি আপনি আপনার কাছে অবশিষ্ট থাকা অতিরিক্ত অংশটি উদয়মানের পার্থক্যের কত অংশ তা দেখতে চান, তবে সংখ্যার পার্থক্যের ঠিক ততটুকু অংশ গ্রহণ করুন এবং আপনার প্রাপ্ত ডিগ্রির সাথে তা যোগ করুন। আর যদি আপনি সারণির মাধ্যমে দিন ও রাতের বৃত্তচাপ জানতে চান—যা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অথবা সূর্যাস্ত থেকে পরের দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত বিষুবরেখা থেকে উদিত হওয়ার পরিমাণ—তবে আপনি নির্দিষ্ট দিনের সূর্যের অবস্থানটি জেনে নিন এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নির্ধারিত উদয়মান সময় থেকে তা গ্রহণ করুন যার অক্ষাংশ ওই শহরের অক্ষাংশের সমান বা নিকটতম। এরপর ওই অঞ্চলে সূর্যের অবস্থানের ঠিক বিপরীত বিন্দুর বিপরীতে থাকা উদয়মান থেকে এটি বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তা-ই দিনের বৃত্তচাপের পরিমাণ।
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فإن كانت مطالع درجة الشمس أكثر من مطالع الدرجة المقابلة لها وهي التي هي نظيرة درجة الشمس زدت على مطالع نظيرة درجة الشمس دوراً ثم نقصت من المجتمع مطالع درجة الشمس يكون الباقي قوس النهار. فإذا عرفت قوس النهار فانقصه من دورة يكون الباقي قوس الليل. وإن شئت قوس النهار بجهة أخرى فخذ أزمان المطالع التي بإزاء جزء الشمس في الإقليم وأزمان المطالع التي بإزاء جزء الشمس أيضاً في الفلك المستقيم فما كانت فانقص منها تسعين لتبقى من أول الحمل فإذا فعلت ذلك فخذ فضل ما بينهما وبين الطالع التي خرجت لك من الأقاليم ثم انظر فإن كانت أزمان مطالع الإقليم هي الأكثر فانقص ذلك الفضل من تسعين وإن كانت هي الأقل فزد ذلك الفضل على تسعين فما بلغت التسعون بعد الزيادة أو النقصان فهو مقدار نصف قوس النهار فأضعفه يكون قوس النهار كله. واعلم أن هذا الفضل الذي بين المطالع هو حصة جزء الشمس من الاختلاف أعني اختلاف النهار فإذا عرفته نظرت إلى درجة الشمس فإن كانت في البروج الشمالية زدت ذلك على تسعين وإن كانت في الجنوبية نقصته من تسعين فما حصل من ذلك فهو نصف قوس النهار وذلك هو ما يكون من فلك معدل النهار من طلوع الشمس إلى توسطها السماء في وقت انتصاف النهار وضعف ذلك هو قوس النهار كله والمعنى واحد في العملين. فإن أردت أن تعلم مقدار ساعات النهار وساعات الليل المعتدلة فاقسم قوس النهار أو قوس الليل على خمسة عشر فما بلغ فهو ساعات أيهما حسبت له فإذا عرفت ساعات أحدهما نقصتها من أربع وعشرين يكون الباقي ساعات الآخر. وإن أردت معرفة أزمان ساعات الليل والنهار والليل الزمانية التي تكون أبداً اثنتي عشرة ساعة والليل مثلها وتسمى الساعات المعوجة فاقسم قوس أيهما شئت من النهار أو الليل على اثني عشر فما بلغ فهو أزمان ساعاته فانقص ساعات أيهما حسبت له من ثلثين تبقى لك أزمان ساعات الآخر. وذلك أن هذه الثلثين هي أزمان ساعتين معتدلتين فما نقص من أزمان الساعة من الليل أو من النهار زاد في الأخرى. وإن أردت أن تعلم أزمان الساعات بجهة أخرى فخذ سدس فضل اختلاف النهار الذي قد تقدم ذكره في هذا الباب فإن كانت الشمس أو الدرجة التي تريد في نصف الفلك الشمالي فزد ذلك السدس على خمس عشرة وإن كان في النصف الجنوبي فانقصه من خمس عشرة فما حصل بعد الزيادة أو النقصان فهو أزمان ساعات النهار.
فإن شئت أن تعرف أزمان ساعات النهار بالجدول فادخل جزء الشمس أو غيرها من درج البروج في جدول مطالع الإقليم المحدود إلى تلك المدينة منه في سطر العدد المشترك وخذ ما بإزائه من أزمان الساعات المرسومة في جدول البرج الذي ذلك العدد منه فما حصل فهو أزمان ساعات النهار. وإن شئت أن تعلم أزمان ساعات الليل فادخل نظير درجة الشمس المقابلة لها أو نظير الدرجة التي تريد في تلك المطالع وخذ ما بإزائها من أزمان الساعات على تلك الجهة فما كان فهو أزمان ساعات الليل. وقد يعرف أحدهما من الآخر إذا نقص أحدهما من ثلثين درجة فتبقى أزمان الآخر. وإن أردت أن تعرف قوس النهار من قبل أزمان الساعات أو قوس الليل منها أيهما شئت منها فاضرب أزمان أيهما أردت في ستة وما بلغ فهو قوس نصف النهار أو الليل أيهما كنت حسبت له ثم أضعف ذلك فما بلغ فهو قوسه كلها. وإن ضربت أجزاء الزمان في اثني عشر كان مقدار قوس النهار أو الليل للدرجة التي حسبت لها. وإن أردت أن تحول ساعات الاعتدال إلى الزمانية فاضرب الساعات المعتدلة في خمسة عشر واقسمها على أزمان ساعات النهار أو الليل أيهما شئت فما كان فهو ساعات زمانية من الليل أو النهار على حسب ما كانت تلك المعتدلة. وإن أردت أن تحول الساعات الزمانية إلى المعتدلة ضربت ما كان من ساعات النهار في أزمان ساعات النهار وما كان من ساعات الليل في أزمان ساعات الليل فما اجتمع قسمته على خمسة عشر فما بلغ فهو ساعات معتدلة وكسورها عن بقي كسر إن شاء الله.
الباب الرابع عشر
معرفة عروض البلدان بالرصد
যদি সূর্যের ডিগ্রির উদয়কাল তার বিপরীত ডিগ্রির (যা সূর্যের ডিগ্রির প্রতিরূপ) উদয়কাল অপেক্ষা বেশি হয়, তবে সূর্যের প্রতিরূপ ডিগ্রির উদয়কালের সাথে একটি পূর্ণচক্র যোগ করুন এবং প্রাপ্ত যোগফল থেকে সূর্যের ডিগ্রির উদয়কাল বিয়োগ করুন; যা অবশিষ্ট থাকবে তা-ই হবে দিবসের বৃত্তচাপ। যখন আপনি দিবসের বৃত্তচাপ জানতে পারবেন, তখন তা একটি পূর্ণচক্র থেকে বিয়োগ করুন, যা অবশিষ্ট থাকবে তা হবে রাত্রির বৃত্তচাপ। আর যদি আপনি অন্য পদ্ধতিতে দিবসের বৃত্তচাপ বের করতে চান, তবে ঐ জলবায়ু অঞ্চলে সূর্যের অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট উদয়কাল এবং নিরক্ষীয় গোলকের সূর্যের অংশের সংশ্লিষ্ট উদয়কাল গ্রহণ করুন। এরপর তা থেকে নব্বই বিয়োগ করুন যাতে তা মেষ রাশির শুরু থেকে অবশিষ্ট থাকে। যখন আপনি এটি করবেন, তখন ঐ অঞ্চলসমূহের মান এবং আপনার প্রাপ্ত উদয়কালের মধ্যবর্তী পার্থক্য গ্রহণ করুন। এরপর লক্ষ্য করুন, যদি জলবায়ু অঞ্চলের উদয়কাল বেশি হয়, তবে সেই পার্থক্য নব্বই থেকে বিয়োগ করুন; আর যদি তা কম হয়, তবে নব্বইয়ের সাথে সেই পার্থক্য যোগ করুন। যোগ বা বিয়োগের পর যা নব্বইয়ের মানে পৌঁছাবে, তা হবে দিবসের অর্ধ-বৃত্তচাপের পরিমাণ। একে দ্বিগুণ করলে পূর্ণ দিবসের বৃত্তচাপ পাওয়া যাবে। জেনে রাখুন যে, উদয়কালসমূহের মধ্যবর্তী এই পার্থক্য হলো সূর্যের অংশের বৈচিত্র্যের হিস্যা, অর্থাৎ দিনের হ্রাস-বৃদ্ধি। যখন আপনি এটি জানবেন, তখন সূর্যের ডিগ্রির দিকে তাকান। যদি তা উত্তর রাশিচক্রের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সেই মান নব্বইয়ের সাথে যোগ করুন; আর যদি দক্ষিণ রাশিচক্রের হয়, তবে নব্বই থেকে বিয়োগ করুন। এর ফলে যা অর্জিত হবে তা হবে দিবসের অর্ধ-বৃত্তচাপ। এটিই হলো সূর্যের উদয় থেকে মধ্যাহ্নকাল পর্যন্ত বিষুবীয় গোলকের অতিক্রান্ত অংশ। একে দ্বিগুণ করলে পূর্ণ দিবসের বৃত্তচাপ পাওয়া যাবে এবং উভয় পদ্ধতির অর্থ একই। যদি আপনি সমান ঘণ্টা অনুযায়ী দিবসের বা রাত্রির ঘণ্টার পরিমাণ জানতে চান, তবে দিবস বা রাত্রির বৃত্তচাপকে পনেরো দিয়ে ভাগ করুন। যা ফল আসবে তা সংশ্লিষ্ট সময়ের ঘণ্টা হবে। যখন আপনি একটির ঘণ্টা জানবেন এবং তা চব্বিশ থেকে বিয়োগ করবেন, তখন অন্যটির ঘণ্টা বের হবে। আর যদি আপনি দিবস ও রাত্রির ঋতুভিত্তিক ঘণ্টার (যা সর্বদা বারো ঘণ্টা হিসেবে ধরা হয় এবং একে বক্র ঘণ্টা বলা হয়) সময়কাল জানতে চান, তবে দিবস বা রাত্রির যেটির ইচ্ছা বৃত্তচাপকে বারো দিয়ে ভাগ করুন। যা ফল আসবে তা-ই হবে তার ঘণ্টার সময়কাল। এরপর আপনি যেটির ঘণ্টা গণনা করেছেন তা ত্রিশ থেকে বিয়োগ করুন, তবে অন্যটির ঘণ্টার সময়কাল অবশিষ্ট থাকবে। এর কারণ হলো এই ত্রিশ হলো দুটি সমান ঘণ্টার সময়কাল। সুতরাং রাত বা দিনের ঘণ্টার সময়কাল থেকে যা কমবে, তা অন্যটিতে বৃদ্ধি পাবে। আর যদি আপনি অন্য কোনো উপায়ে ঘণ্টার সময়কাল জানতে চান, তবে এই অধ্যায়ে আগে বর্ণিত দিনের বৈচিত্র্যের পার্থক্যের এক-ষষ্ঠাংশ গ্রহণ করুন। যদি সূর্য বা আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রি গোলকের উত্তরার্ধে হয়, তবে সেই ষষ্ঠাংশকে পনেরোর সাথে যোগ করুন। আর যদি তা দক্ষিণার্ধে হয়, তবে পনেরো থেকে তা বিয়োগ করুন। যোগ বা বিয়োগের পর যা প্রাপ্ত হবে, তা-ই হবে দিবসের ঘণ্টার সময়কাল।
যদি আপনি ছকের মাধ্যমে দিবসের ঘণ্টার সময়কাল জানতে চান, তবে সূর্যের অংশ বা রাশিচক্রের অন্য কোনো ডিগ্রি ওই নির্দিষ্ট শহরের জলবায়ু অঞ্চলের উদয়কাল ছকের সাধারণ সংখ্যা সারিতে প্রবেশ করান। এরপর রাশিচক্রের ছকে সেই সংখ্যার বিপরীতে বর্ণিত ঘণ্টার যে সময়কাল পাওয়া যাবে তা গ্রহণ করুন; যা প্রাপ্ত হবে তা-ই হবে দিবসের ঘণ্টার সময়কাল। আর যদি আপনি রাত্রির ঘণ্টার সময়কাল জানতে চান, তবে সূর্যের ডিগ্রির প্রতিরূপ বা আপনার কাঙ্ক্ষিত ডিগ্রির প্রতিরূপকে সেই উদয়কালে প্রবেশ করান এবং সেই নিয়মে তার বিপরীতে বর্ণিত ঘণ্টার সময়কাল গ্রহণ করুন; যা হবে তা-ই রাত্রির ঘণ্টার সময়কাল। একটি জানা থাকলে ত্রিশ ডিগ্রি থেকে বিয়োগ করে অন্যটিও জানা যায়, যা অবশিষ্ট থাকে তা-ই অন্যটির সময়কাল। যদি আপনি ঘণ্টার সময়কালের মাধ্যমে দিবসের বা রাত্রির বৃত্তচাপ জানতে চান, তবে যেটির ইচ্ছা ঘণ্টার সময়কালকে ছয় দিয়ে গুণ করুন। যা ফল আসবে তা হবে দিবসের বা রাত্রির অর্ধ-বৃত্তচাপ। অতঃপর একে দ্বিগুণ করলে পূর্ণ বৃত্তচাপ পাওয়া যাবে। আর যদি আপনি সময়ের অংশগুলোকে বারো দিয়ে গুণ করেন, তবে তা আপনার গণনাকৃত ডিগ্রির দিবসের বা রাত্রির বৃত্তচাপের পরিমাণ হবে। যদি আপনি সমান ঘণ্টাকে ঋতুভিত্তিক ঘণ্টায় রূপান্তর করতে চান, তবে সমান ঘণ্টাকে পনেরো দিয়ে গুণ করুন এবং তাকে দিবসের বা রাত্রির কাঙ্ক্ষিত ঘণ্টার সময়কাল দিয়ে ভাগ করুন। যা ফল আসবে তা-ই হবে ঋতুভিত্তিক দিবস বা রাত্রির ঘণ্টা। আর যদি আপনি ঋতুভিত্তিক ঘণ্টাকে সমান ঘণ্টায় রূপান্তর করতে চান, তবে দিবসের ঘণ্টার পরিমাণকে দিবসের ঘণ্টার সময়কাল দিয়ে এবং রাত্রির ঘণ্টার পরিমাণকে রাত্রির ঘণ্টার সময়কাল দিয়ে গুণ করুন। এরপর প্রাপ্ত যোগফলকে পনেরো দিয়ে ভাগ করুন। যা ফল আসবে তা-ই হবে সমান ঘণ্টা ও তার ভগ্নাংশ, যদি আল্লাহ চান।
চতুর্দশ অধ্যায়
পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অক্ষাংশ নির্ণয়
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال إذا أردت أن تعرف عرض أي بلد شئت وهو ارتفاع القطب الشمالي فيه وبعده أيضاً عن معدل النهار فاعرف ارتفاع الشمس في وقت انتصاف النهار من أي جهة شئت وذلك حيث تجوز الشمس على خط نصف النهار بالربع أو بمعرفة الظل فإذا عرفت الارتفاع بأي الجهتين كان فاعرف ميل درجة الشمس في ذلك الوقت فإن كان شمالياً فانقصه من الارتفاع وإن كان جنوبياً فزده عليه فما بلغ الارتفاع بعد الزيادة أو النقصان فهو ارتفاع أول الحمل أو أول الميزان في ذلك فانقصه من تسعين فما بقي فهو عرض ذلك البلد. وإن عرفت عرض البلد من جدول عرض المدن كان ذلك بالتقريب وليس في الصحة كالمأخوذة بالرصد.
الباب الخامس عشر
معرفة ارتفاع الشمس
في وقت انتصاف النهار في كل يوم تريدقال إذا أردت أن تعرف ارتفاع الشمس في وقت انتصاف النهار من كل يوم تريد فاعرف ميل الجزء الذي فيه الشمس فإن كان شمالياً فانقصه من عرض البلد وإن كان جنوبياً فزده عليه فما بلغ عرض البلد بعد الزيادة عليه أو النقصان منه فانقصه من تسعين فما بقي فهو ارتفاع الشمس في وقت نصف النهار. وإن كان الميل أكثر من عرض البلد علمت أن الشمس في ناحية الشمال من نقطة سمت الرؤوس فزد على عرض البلد تسعين وانقص منه ميل الدرجة فما بقي فالارتفاع مثله عن أفق الشمال. وإن أردت أن تعلم ارتفاع الشمس نصف النهار بجهة أخرى فانقص عرض البلد من تسعين فما بقي فهو ارتفاع أول الحمل فإن كان الميل شمالياً فزده على ارتفاع أول الحمل وإن كان جنوبياً فانقصه منه فما بلغ ارتفاع أول الحمل بعد الزيادة أو النقصان فهو ارتفاع الشمس نصف النهار فإن زاد ذلك على تسعين فانقصه من مائة وثمانين فما بقي فهو الارتفاع عن أفق الشمال.
الباب السادس عشر
معرفة ما يمضي من النهار
من ساعة بقياس الشمس ومعرفة الطالعقال إذا أردت أن تعلم ما مضى من النهار من ساعة بقياس الشمس فاعرف ارتفاع الشمس في وقت انتصاف النهار من ذلك اليوم ثم اعرف نصف قوس النهار في ذلك اليوم ثم قس ارتفاع الشمس بربع أو الظل وإذا عرفت الارتفاع في أي وقت شئت من النهار فاعرف وتر نصف قوس النهار راجعاً على الجهة المرسومة في صدر الكتاب في باب معرفة الأوتار الراجعة من قبل القسي ثم خذ وتر ارتفاع الشمس في وقت القياس فاضربه في وتر نصف قوس النهار الراجع فما بقي فاعرف قوسه الراجعة على ما رسمت في تقويس الأوتار الراجعة فما بلغت القوس الراجعة حفظته فإن كان القياس قبل نصف النهار نقصت تلك القوس من قوس النهار بعد الزيادة أو النقصان فهو ما دار من الفلك منذ طلعت الشمس إلى وقت القياس. فاقسمه على أزمان أعني ذلك اليوم المأخوذة بجزء الشمس فما بلغ فهو ما مضى من النهار من ساعة زمانية. وإن قسمته على خمسة عشر كانت ساعات معتدلة. فإذا أردت أن تعرف الطالع من قبل ما دار من الفلك فزد ما دار من الفلك على أزمان المطالع التي بإزاء جزء الشمس في الإقليم فما بلغ عرفت به الطالع على تلك الجهة التي بينا مأخذها في صدر الكتاب. وإن شئت أن تأخذ القوس الراجعة التي تحصل لك فهي بعد الشمس عن خط وسط السماء فتقسمها على أزمان ساعات النهار فما حصل تنقصه من ست ساعات إذا كان القياس قبل نصف النهار وتزيده على ست ساعات إذا كان القياس من بعد نصف النهار فما بلغ فهو ما مضى من النهار من ساعة زمانية وتحولها إلى ساعات الاعتدال إن شئت. وإن أردت معرفة الطالع من قبل هذه القوس الراجعة فانقصها من مطالع درجة الشمس في الفلك المستقيم إذا كان القياس من قبل نصف النهار وزدها على المطالع إذا كان القياس من بعد نصف النهار فما بلغت المطالع عرفت بها الطالع ووسط السماء وذلك بأن تقوس هذه المطالع في الإقليم وفي الفلك المستقيم وتعلم ما يقابلها من درج البروج على الجهة المذكورة في باب معرفة درج البروج من قبل أزمان المطالع.
الباب السابع عشر
معرفة الارتفاع من قبل الساعات
তিনি বললেন, যদি আপনি আপনার পছন্দমতো যে কোনো শহরের অক্ষাংশ জানতে চান, যা হলো সেখানে উত্তর মেরুর উচ্চতা এবং বিষুবরেখা থেকে তার দূরত্ব, তবে দিনের মধ্যভাগে যে কোনো দিক থেকে সূর্যের উচ্চতা নির্ণয় করুন। আর তা করা যায় যখন সূর্য কোয়ার্টারের (রুবউ) মাধ্যমে মধ্যাহ্ন রেখা অতিক্রম করে অথবা ছায়ার মাধ্যমে। যখন আপনি উভয় পদ্ধতির কোনো একটি দিয়ে উচ্চতা জেনে যাবেন, তখন সেই সময়ের সূর্যের ক্রান্তি (বিচ্যুতি) নির্ণয় করুন। যদি তা উত্তরীয় ক্রান্তি হয় তবে উচ্চতা থেকে তা বিয়োগ করুন, আর যদি তা দক্ষিণীয় ক্রান্তি হয় তবে উচ্চতার সাথে তা যোগ করুন। এই যোগ বা বিয়োগের পর উচ্চতা যা হবে, তা হলো সেই স্থানে মেষ রাশির প্রথম বিন্দু বা তুলা রাশির প্রথম বিন্দুর উচ্চতা। অতঃপর তা নব্বই থেকে বিয়োগ করুন, যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো সেই শহরের অক্ষাংশ। আর যদি আপনি শহরের অক্ষাংশের তালিকা থেকে অক্ষাংশ জেনে নেন, তবে তা হবে আনুমানিক, পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলের মতো নিখুঁত হবে না।
পঞ্চদশ অধ্যায়
আপনার কাঙ্ক্ষিত প্রতিদিনের মধ্যাহ্নকালে
সূর্যের উচ্চতা নির্ণয় করাতিনি বললেন, আপনি যদি প্রতিদিনের মধ্যাহ্নকালে সূর্যের উচ্চতা জানতে চান, তবে সূর্যের বর্তমান অংশের ক্রান্তি নির্ণয় করুন। যদি তা উত্তরীয় হয় তবে শহরের অক্ষাংশ থেকে তা বিয়োগ করুন, আর যদি তা দক্ষিণীয় হয় তবে শহরের অক্ষাংশের সাথে তা যোগ করুন। অক্ষাংশের সাথে এই যোগ বা বিয়োগের পর যা পাওয়া যাবে, তা নব্বই থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো মধ্যাহ্নকালের সূর্যের উচ্চতা। আর যদি ক্রান্তি শহরের অক্ষাংশের চেয়ে বেশি হয়, তবে আপনি জানবেন যে সূর্য সুবিন্দুর (জেনিত) উত্তর দিকে রয়েছে; এমতাবস্থায় শহরের অক্ষাংশের সাথে নব্বই যোগ করুন এবং তা থেকে ডিগ্রির ক্রান্তি বিয়োগ করুন, যা অবশিষ্ট থাকবে তা উত্তর দিগন্ত থেকে প্রাপ্ত উচ্চতার সমান হবে। আর যদি আপনি অন্য উপায়ে মধ্যাহ্নকালীন সূর্যের উচ্চতা জানতে চান, তবে নব্বই থেকে শহরের অক্ষাংশ বিয়োগ করুন, যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো মেষ রাশির প্রথম বিন্দুর উচ্চতা। যদি ক্রান্তি উত্তরীয় হয় তবে তা মেষ রাশির প্রথম বিন্দুর উচ্চতার সাথে যোগ করুন, আর যদি দক্ষিণীয় হয় তবে তা থেকে বিয়োগ করুন। যোগ বা বিয়োগের পর মেষ রাশির প্রথম বিন্দুর উচ্চতা যা হবে, তা-ই হলো মধ্যাহ্নকালীন সূর্যের উচ্চতা। যদি তা নব্বইয়ের বেশি হয়ে যায় তবে তা একশত আশি থেকে বিয়োগ করুন, যা অবশিষ্ট থাকবে তা উত্তর দিগন্ত থেকে উচ্চতা।
ষোড়শ অধ্যায়
দিনের কত সময় অতিবাহিত হয়েছে তা জানা
সূর্যের পরিমাপের মাধ্যমে ঘণ্টা এবং লগ্ন নির্ণয় করাতিনি বললেন, আপনি যদি সূর্যের পরিমাপের মাধ্যমে দিনের কত সময় অতিবাহিত হয়েছে তা জানতে চান, তবে সেই দিনের মধ্যাহ্নকালের সূর্যের উচ্চতা নির্ণয় করুন, অতঃপর সেই দিনের দিবসাংশ ধনুর অর্ধাংশ নির্ণয় করুন। তারপর কোয়ার্টার বা ছায়ার সাহায্যে সূর্যের উচ্চতা মেপে নিন। যখন আপনি দিনের যেকোনো সময়ে সূর্যের উচ্চতা জেনে যাবেন, তখন কিতাবের শুরুতে জ্যা অধ্যায়ে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী দিবসাংশ ধনুর অর্ধাংশের বিপরীত জ্যা নির্ণয় করুন। এরপর পরিমাপকালীন সূর্যের উচ্চতার জ্যা নিন এবং তাকে দিবসাংশ ধনুর অর্ধাংশের বিপরীত জ্যা দিয়ে গুণ করুন। যা ফল আসবে, বিপরীত জ্যা থেকে চাপ নির্ণয়ের নিয়ম অনুযায়ী তার বিপরীত চাপ নির্ণয় করুন। সেই প্রাপ্ত বিপরীত চাপটি সংরক্ষণ করুন। যদি পরিমাপটি মধ্যাহ্নের আগে হয়, তবে সেই চাপটিকে দিনের ধনু থেকে বিয়োগ করুন; এই যোগ বা বিয়োগের পর যা পাওয়া যাবে, তা হলো সূর্যোদয় থেকে পরিমাপের সময় পর্যন্ত মহাকাশ কতটা আবর্তিত হয়েছে। তাকে সেই দিনের সূর্যের অবস্থানের সাপেক্ষে সময়ের মান দিয়ে ভাগ করুন, যা পাওয়া যাবে তা হবে দিনের অতিবাহিত 'সাময়িক ঘণ্টা'। আর যদি তাকে পনেরো দিয়ে ভাগ করেন তবে তা হবে 'সুষম ঘণ্টা'। যদি আপনি মহাকাশ আবর্তনের মাধ্যমে লগ্ন জানতে চান, তবে মহাকাশের সেই আবর্তনকে ওই অঞ্চলের সূর্যের অবস্থানের উদয়কাল মানের সাথে যোগ করুন। যা ফল আসবে তা দিয়ে সেই নিয়মে লগ্ন নির্ণয় করুন যার পদ্ধতি কিতাবের শুরুতে আমরা বর্ণনা করেছি। আর আপনি যদি প্রাপ্ত বিপরীত চাপটি ব্যবহার করতে চান, তবে তা হলো মধ্যাকাশ রেখা থেকে সূর্যের দূরত্ব। একে দিনের ঘণ্টার সময়ের মান দিয়ে ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তা যদি মধ্যাহ্নের আগের পরিমাপ হয় তবে ছয় ঘণ্টা থেকে বিয়োগ করুন, আর যদি মধ্যাহ্নের পরের পরিমাপ হয় তবে ছয় ঘণ্টার সাথে যোগ করুন। যা পাওয়া যাবে তা হলো অতিবাহিত 'সাময়িক ঘণ্টা' এবং চাইলে একে 'সুষম ঘণ্টায়' রূপান্তর করতে পারেন। আর যদি আপনি এই বিপরীত চাপের মাধ্যমে লগ্ন জানতে চান, তবে পরিমাপটি মধ্যাহ্নের আগে হলে বিষুবীয় উদয়কালে সূর্যের ডিগ্রির মান থেকে এটি বিয়োগ করুন, আর মধ্যাহ্নের পরে হলে যোগ করুন। উদয়কালের যে মান পাওয়া যাবে তা দিয়ে লগ্ন ও মধ্যাকাশ নির্ণয় করা যাবে। আর তা এভাবে যে, ওই অঞ্চলের এবং বিষুবরেখায় এই উদয়কালগুলোর চাপ নির্ণয় করবেন এবং উদয়কাল অধ্যায়ে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তার বিপরীতে অবস্থিত রাশিচক্রের ডিগ্রিগুলো জেনে নেবেন।
সপ্তদশ অধ্যায়
ঘণ্টার মাধ্যমে উচ্চতা নির্ণয় করা
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قال إذا أردت أن تعرف الارتفاع من قبل ما يمضي من ساعات النهار فخذ الساعات من طلوع الشمس إلى الساعة المفروضة فإن كانت من ساعات الاعتدال فاضربها في خمسة عشر وإن كانت زمانية ففي أزمان ساعات ذلك اليوم فما اجتمع من إحدى الجهتين نظرت فإن كان ذلك اقل من نصف قوس النهار نقصته من نصف قوس النهار وإن كان أكثر منه ألقيت منه قوس النهار فما حصل بعد ذلك فهو بعد الشمس عن وسط السماء فاعرف وتره راجعاً وانقصه من وتر نصف قوس النهار الراجع فما بقي فاضربه في وتر ارتفاع الشمس في نصف نهار ذلك اليوم فما بلغ فاقسمه على وتر نصف قوس النهار الراجع فما حصل فقوسه على ما رسمت لك في تقويس الأوتار فما بلغت القوس فهو مقدار الارتفاع عن الأفق في تلك الساعة المفروضة قبل نصف النهار فالارتفاع من ناحية المشرق وإن كان بعده فهو من ناحية المغرب.
الباب الثامن عشر
معرفة أبعاد الكواكب عن معدل النهار
وما يتوسط السماء معها من أجزاء البروج
তিনি বললেন, যদি আপনি দিনের অতিক্রান্ত ঘণ্টার মাধ্যমে সূর্যের উচ্চতা জানতে চান, তবে সূর্যোদয় থেকে নির্ধারিত ঘণ্টা পর্যন্ত সময়টুকু গ্রহণ করুন। যদি তা সমমান ঘণ্টা হয় তবে তাকে পনেরো দিয়ে গুণ করুন, আর যদি তা সাময়িক ঘণ্টা হয় তবে ওই দিনের ঘণ্টার মান দিয়ে গুণ করুন। এরপর উভয় পদ্ধতির যেকোনো একটি থেকে যা পাওয়া যাবে তা লক্ষ্য করুন; যদি তা দিবা-ধনুকের অর্ধেকের চেয়ে কম হয়, তবে তাকে দিবা-ধনুকের অর্ধেক থেকে বিয়োগ করুন। আর যদি তা তার চেয়ে বেশি হয়, তবে তা থেকে দিবা-ধনুককে বাদ দিন। এরপর যা পাওয়া যাবে তা হলো মধ্য-আকাশ থেকে সূর্যের দূরত্ব। সুতরাং এর বিপরীত জ্যা নির্ণয় করুন এবং তা দিবা-ধনুকের অর্ধেকের বিপরীত জ্যা থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তাকে ওই দিনের দ্বিপ্রহরের সূর্য-উচ্চতার জ্যা দিয়ে গুণ করুন এবং প্রাপ্ত ফলকে দিবা-ধনুকের অর্ধেকের বিপরীত জ্যা দিয়ে ভাগ করুন। ভাগফলকে জ্যা থেকে চাপে রূপান্তর করার যে নিয়ম আমি আপনার জন্য বর্ণনা করেছি সে অনুযায়ী চাপে রূপান্তর করুন। সেই চাপের মানই হলো নির্ধারিত সময়ে দিগন্ত থেকে উচ্চতার পরিমাণ। যদি তা দ্বিপ্রহরের আগে হয় তবে উচ্চতা পূর্ব দিকে হবে, আর যদি তা পরে হয় তবে তা পশ্চিম দিকে হবে।
অষ্টাদশ অধ্যায়বিষুবরেখা থেকে নক্ষত্ররাজির দূরত্ব নির্ণয়এবং এগুলোর সাথে রাশিচক্রের যে অংশগুলো মধ্য-আকাশে অবস্থান করে
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال إذا أردت أن تعرف أبعاد الكواكب عن فلك معدل النهار والجزء الذي يتوسط السماء من أجزاء البروج بحسب مواضعها في الطول والعرض فأما كل كوكب يكون على دائرة البروج أعني لا عرض له فإن مجراه مجرى الشمس في ميله عن معدل النهار الذي هو بعدها عنه وأما ما كان منه له عرض في إحدى الجهتين فإن بعده عن معدل النهار يقع أقل من عرضه وميل الجزء الذي هو فيه إذا جمعا جميعاً أو أحدها من الآخر بحسب الاستحقاق. وذلك أن عرض الكواكب يخرج من قوس نجوز على قطبي فلك البروج وموضع الكوكب في الطول والعرض وبعده عن معدل النهار يخرج من قوس تجوز على قطبي معدل النهار وعلى موضع الكوكب ولذلك يكون توسط السماء مع غير الجزء الذي هو له من أجزاء البروج إذا كان له عرض إلا ما وافق منها في مسيره نقطة أول السرطان وأول الجدي فإنه عند ذلك فقط يخرج بعده عن معدل النهار وعرضه من قوس واحدة فيكون مساوياً للميل مع ما يزاد عليه أو ينقص منه من عرض الكوكب ولذلك يكون توسط السماء مع النقطة التي هي فيها من النقطتين فما كان من الكواكب ذات العرض فيما بين أول السرطان إلى آخر القوس فإنه إذا كان عرضه في الشمال من نطاق البروج توسط السماء من بعد توسط الدرجة التي هو فيها وإذا كان عرضه في الجنوب توسطها من قبل توسط الدرجة التي هو فيها. وما كان منها فيما بين أول الجدي إلى آخر الجوزاء فإنه إذا كان عرضه في الشمال توسط السماء مع أجزاء تتقدم الجزء الذي هو فيه أعني قبل توسط الجزء الذي هو فيه وأما إن كان عرضه في الجنوب توسطها مع أجزاء تالية للجزء الذي هو فيه أعني من بعد توسط الجزء الذي هو فيه من أجزاء البروج. فإذا أردت ان تعرف بعد أحد الكواكب ذات العروض عن فلك معدل النهار ومع أي أجزاء البروج يتوسط السماء فاعرف عرض الكوكب وجهته وميل الجزء الذي يتفق به فإن كان العرض والميل في جهة واحدة فاجمعهما جميعاً وإن كانا في جهتين مختلفتين فانقص الأقل من الأكثر فما حصل فهو العرض المعدل فاعرف جهته التي يحصل فيها ثم خذ وتر هذا العرض المعدل فاضربه في وتر ما يبقى لتمام الجزء إلى تسعين فما بلغ فاقسمه على وتر ما يبقى لتمام الجزء إلى تسعين وهو تمام ميله فما حصل فقوسه فما بلغت القوس فهو بعد الكوكب عن فلك معدل النهار في جهة العرض المعدل فاحفظه ثم خذ بعد الدرجة التي فيها الكوكب عن رأس السرطان أو رأس الجدي إلى أيهما كانت الدرجة أقرب من أمامه أو خلفه وذلك بأن تأخذ أزمان المطالع التي تلقاء الجزء الذي فيه الكوكب من الفلك المستقيم فإن كان أقل من تسعين أخذتها بعينها وإن كانت أكثر من مائتين وسبعين نقصتها من ثلثمائة وستين فما حصل من أي الجهتين كان فهو بعد الكوكب عن رأس الجدي. وإن كانت أكثر من تسعين إلى مائة وثمانين نقصتها من مائة وثمانين فما بقي أخذته وإن كانت أكثر من مائة وثمانين إلى تمام مائتين وسبعين ألقيت منها قف فما حصل من إحدى الجهتين فهو بعد الدرجة عن رأس السرطان فأي ذلك اتفق فاحفظه واعرف وتره أيضاً ثم خذ وتر عرض الكوكب فاضربه في وتر بعد الدرجة التي فيها الكوكب عن رأس السرطان أو رأس الجدي في الفلك المستقيم الذي قد حفظته فما بلغ فاقسمه على وتر ما يبقى لتمام ميل الدرجة التي فيها الكوكب إلى تسعين فما حصل فقوسه فما بلغت القوس وكان عرضه شمالياً فزد اختلاف مجازه في وسط السماء على أزمان المطالع التي تلقاء الجزء الذي فيه الكوكب في الفلك المستقيم. وإن كان عرضه جنوبياً فانقص اختلاف مجازه من هذه الأزمان واتبع العمل الأول. وإن كان الكوكب فيما بين أول الجدي إلى آخر الجوزاء وكان عرضه شمالياً فانقص اختلاف مجازه من الأزمان المذكورة وإن كان عرضه جنوبياً فزد اختلاف مجازه على الأزمان فما بلغت أزمان مطالع درجة الكوكب في الفلك المستقيم بعد الزيادة عليها أو النقصان منها فخذ ما بإزاءها من درج البروج في مطالع الفلك المستقيم فما كان فهو الجزء الذي يتوسط السماء مع الكوكب من أجزاء البروج أعني البرج الذي وجدت عدد الأزمان فيه إن شاء الله.
الباب التاسع عشر
معرفة قوس نهار أحد الكواكب
وأزمان ساعاته في كل بلد
তিনি বলেন, যখন তুমি বিষুবীয় বৃত্ত থেকে গ্রহসমূহের দূরত্ব এবং গ্রহসমূহের দ্রাঘিমা ও অক্ষাংশ অনুযায়ী রাশিচক্রের যে অংশটি মধ্যাকাশে অবস্থান করে তা জানতে চাইবে, তখন জেনে রেখো—যে সকল গ্রহ রাশিচক্রের বৃত্তের ওপর অবস্থিত, অর্থাৎ যাদের কোনো অক্ষাংশ নেই, বিষুবীয় বৃত্ত থেকে তাদের বিচ্যুতির ক্ষেত্রে তাদের গতিপথ সূর্যের গতিপথের মতোই হবে। আর যে সকল গ্রহের কোনো এক দিকে অক্ষাংশ রয়েছে, বিষুবীয় বৃত্ত থেকে তাদের দূরত্ব হবে তাদের অক্ষাংশ এবং তারা যে অংশে অবস্থিত তার বিচ্যুতির সমষ্টি অপেক্ষা কম, অথবা যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী একটি থেকে অন্যটি বিয়োগ করার পর যা অবশিষ্ট থাকে তার চেয়ে কম। এর কারণ হলো, গ্রহের অক্ষাংশ রাশিচক্রের মেরুদ্বয়ের ওপর দিয়ে অতিক্রমকারী একটি চাপ থেকে নির্গত হয়; আর গ্রহের দ্রাঘিমা ও অক্ষাংশীয় অবস্থান এবং বিষুবীয় বৃত্ত থেকে তার দূরত্ব বিষুবীয় বৃত্তের মেরুদ্বয় ও গ্রহের অবস্থানের ওপর দিয়ে অতিক্রমকারী একটি চাপ থেকে নির্গত হয়। এই কারণে, অক্ষাংশবিশিষ্ট গ্রহের ক্ষেত্রে রাশিচক্রের যে অংশে সে অবস্থিত তা ব্যতীত অন্য অংশের সাথে তার মধ্যাকাশে অবস্থান ঘটে; তবে তার পরিক্রমায় যদি কর্কট রাশির প্রথম বিন্দু বা মকর রাশির প্রথম বিন্দুর সাথে মিলে যায় তবে ভিন্ন কথা। কারণ কেবল তখনই বিষুবীয় বৃত্ত থেকে তার দূরত্ব এবং তার অক্ষাংশ একই চাপ থেকে নির্গত হয়, ফলে এটি বিচ্যুতির সাথে গ্রহের অক্ষাংশ যোগ বা বিয়োগ করার সমান হয়। এই কারণেই গ্রহটি উক্ত দুই বিন্দুর যেটিতে অবস্থান করে তার সাথেই মধ্যাকাশে অবস্থান করে। যে সকল গ্রহের অক্ষাংশ রয়েছে এবং তারা কর্কট রাশির প্রথম থেকে ধনু রাশির শেষ পর্যন্ত অবস্থানের মধ্যে থাকে, যদি তাদের অক্ষাংশ রাশিচক্রের উত্তর দিকে হয়, তবে গ্রহটি যে ডিগ্রিতে অবস্থিত তা মধ্যাকাশে আসার পর গ্রহটি মধ্যাকাশে আসবে। আর যদি তার অক্ষাংশ দক্ষিণ দিকে হয়, তবে গ্রহটি যে ডিগ্রিতে অবস্থিত তা মধ্যাকাশে আসার পূর্বেই গ্রহটি মধ্যাকাশে আসবে। আবার যে সকল গ্রহ মকর রাশির প্রথম থেকে মিথুন রাশির শেষ পর্যন্ত অবস্থানের মধ্যে থাকে, যদি তাদের অক্ষাংশ উত্তর দিকে হয়, তবে গ্রহটি যে অংশে অবস্থিত তার পূর্ববর্তী অংশসমূহের সাথে (অর্থাৎ তার নির্দিষ্ট ডিগ্রির পূর্বে) মধ্যাকাশে অবস্থান করবে। আর যদি তার অক্ষাংশ দক্ষিণ দিকে হয়, তবে সে তার বর্তমান অংশের পরবর্তী অংশসমূহের সাথে (অর্থাৎ তার নির্দিষ্ট ডিগ্রির পরে) মধ্যাকাশে অবস্থান করবে।
যদি তুমি অক্ষাংশবিশিষ্ট কোনো গ্রহের বিষুবীয় বৃত্ত থেকে দূরত্ব এবং রাশিচক্রের কোন অংশের সাথে সেটি মধ্যাকাশে অবস্থান করে তা জানতে চাও, তবে গ্রহের অক্ষাংশ, তার দিক এবং যে অংশের সাথে সেটি মিলেছে তার বিচ্যুতি নির্ণয় করো। যদি অক্ষাংশ ও বিচ্যুতি একই দিকে হয়, তবে উভয়কে যোগ করো। আর যদি তারা ভিন্ন ভিন্ন দিকে হয়, তবে ক্ষুদ্রতরটিকে বৃহত্তরটি থেকে বিয়োগ করো। যা প্রাপ্ত হবে তা হলো পরিমার্জিত অক্ষাংশ। এরপর এর দিক নির্ণয় করো। অতঃপর এই পরিমার্জিত অক্ষাংশের জ্যা (SINE) গ্রহণ করো এবং একে নব্বই পূর্ণ হতে অবশিষ্ট অংশের জ্যা দিয়ে গুণ করো। যা ফল আসবে তাকে নব্বই পূর্ণ হতে অবশিষ্ট অংশের জ্যা—যা মূলত তার বিচ্যুতির অবশিষ্টাংশ—দিয়ে ভাগ করো। যা ফল আসবে তার চাপ (ARC) নির্ণয় করো। এই চাপের মানই হলো পরিমার্জিত অক্ষাংশের দিকে বিষুবীয় বৃত্ত থেকে গ্রহের দূরত্ব; এটি সংরক্ষণ করো। এরপর কর্কট রাশির শুরু বা মকর রাশির শুরু—এর মধ্যে গ্রহটি যার অধিক নিকটবর্তী, গ্রহের ডিগ্রিটি তার থেকে কতটা সামনে বা পেছনে অবস্থিত তা নির্ণয় করো। এটি করার পদ্ধতি হলো, সমগোত্রীয় গোলক (আল-ফালাক আল-মুসতাকিম) থেকে গ্রহটি যে অংশে অবস্থিত তার উদয়কাল গ্রহণ করো। যদি তা নব্বইয়ের কম হয়, তবে তা সরাসরি গ্রহণ করো। আর যদি দুইশত সত্তর অপেক্ষা বেশি হয়, তবে তাকে তিনশত ষাট থেকে বিয়োগ করো; যেকোনো দিক থেকে যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো মকর রাশির শুরু থেকে গ্রহের দূরত্ব। আর যদি তা নব্বই থেকে একশত আশির মধ্যে হয়, তবে তাকে একশত আশি থেকে বিয়োগ করো এবং অবশিষ্ট অংশ গ্রহণ করো। আর যদি তা একশত আশি থেকে দুইশত সত্তর পর্যন্ত হয়, তবে তা থেকে একশত আশি বিয়োগ করো; যেকোনো দিক থেকে যা অবশিষ্ট থাকবে তা হলো কর্কট রাশির শুরু থেকে উক্ত ডিগ্রির দূরত্ব। যা-ই আসুক তা সংরক্ষণ করো এবং এর জ্যা নির্ণয় করো। অতঃপর গ্রহের অক্ষাংশের জ্যা গ্রহণ করে তাকে সমগোত্রীয় গোলকে কর্কট বা মকর রাশির শুরু থেকে গ্রহের সংরক্ষিত দূরত্বের জ্যা দিয়ে গুণ করো। প্রাপ্ত ফলকে গ্রহটি যে ডিগ্রিতে অবস্থিত তার বিচ্যুতির নব্বই পূর্ণ হতে অবশিষ্ট অংশের জ্যা দিয়ে ভাগ করো। যা ফল আসবে তার চাপ নির্ণয় করো। যদি গ্রহের অক্ষাংশ উত্তর দিকে হয়, তবে মধ্যাকাশে তার বিচ্যুতির পার্থক্যকে সমগোত্রীয় গোলকের উক্ত অংশের উদয়কালের সাথে যোগ করো। আর যদি অক্ষাংশ দক্ষিণ দিকে হয়, তবে এই উদয়কাল থেকে বিচ্যুতির পার্থক্য বিয়োগ করো এবং প্রথম পদ্ধতি অনুসরণ করো। আর গ্রহটি যদি মকর রাশির শুরু থেকে মিথুন রাশির শেষ পর্যন্ত সীমানার মধ্যে থাকে এবং তার অক্ষাংশ উত্তর দিকে হয়, তবে উল্লিখিত উদয়কাল থেকে বিচ্যুতির পার্থক্য বিয়োগ করো। আর যদি অক্ষাংশ দক্ষিণ দিকে হয়, তবে উদয়কালের সাথে বিচ্যুতির পার্থক্য যোগ করো। যোগ বা বিয়োগের পর সমগোত্রীয় গোলকে গ্রহের ডিগ্রির যে উদয়কাল প্রাপ্ত হবে, সমগোত্রীয় গোলকের উদয়কালসমূহের তালিকায় তার সমান্তরালে রাশিচক্রের যে ডিগ্রি পাওয়া যাবে, গ্রহটি রাশিচক্রের সেই অংশের সাথেই মধ্যাকাশে অবস্থান করবে। অর্থাৎ যে রাশিতে তুমি সময়ের সংখ্যাটি খুঁজে পাবে, ইনশাআল্লাহ।
ঊনবিংশ অধ্যায়
কোনো গ্রহের দিবা-চাপ নির্ণয়
এবং প্রতিটি জনপদে তার সময়ের পরিমাপ
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال إذا أردت أن تعلم قوس نهار أي كوكب شئت وهو مكانه فوق الأرض من حين يطلع إلى ان يغيب وهو ما يطلع من فلك معدل النهار من طلوع الكوكب إلى مغيبه فاضرب وتر بعد الكوكب عن معدل النهار في وتر عرض البلد فما بلغ فاقسمه على وتر ما يبقى لتمام عرض البلد إلى تسعين فما حصل فاضربه في نصف القطر فما بلغ فاقسمه على وتر ما يبقى لتمام بعد الكوكب عن فلك معدل النهار إلى تسعين فما حصل من فلك فقوسه فما بلغت القوس فهو اختلاف ربع دائرة الكوكب فإن كان بعد الكوكب عن فلك معدل النهار شمالياً فزد اختلاف ربع دائرته على تسعين وإن كان جنوبياً فانقصه من تسعين فما حصل بعد الزيادة أو النقصان فهو نصف قوس نهار الكوكب فاحفظه ثم خذ سدسه فما بلغ فهو أزمان ساعاته فوق الأرض ثم أضف نصف قوس نهاره فما بلغ فهو قوس نهار الكوكب كله فوق الأرض فانقصه من ثلثمائة وستين فما بقي فهو قوس ليله كله تحت الأرض وكذلك نقص أزمان ساعاته النهارية من ثلثين فما بقي فهو أزمان ساعاته الليلية التي تحت الأرض. وأما ما كان من الكواكب لا عرض له فإن قوس نهاره هو قوس نهار الدرجة التي هو فيها لا حول عنها لأن مجراه مجرى الشمس سواء.
الباب الموفي عشرين
معرفة الدرجة التي يطلع معها الكوكب
والتي معها يغيب من فلك البروج في كل بلدقال إذا أردت أن تعرف الدرجة التي يطلع معها الكوكب والتي معها يغيب من درج البروج فخذ نصف قوس نهار الكوكب ونصف قوس نهار الدرجة التي تتوسط السماء معه واعرف ما بينهما من الفضل فما كان فهو نصف اختلاف النهارين فاحفظه ثم انظر فإن كان نصف قوس نهار الكوكب أكثر من نصف قوس نهار الدرجة التي تتوسط السماء معه فانقص نصف اختلاف النهارين من أزمان المطالع التي بإزاء الجزء الذي يتوسط السماء مع الكوكب في الإقليم المحدود وإن كان نصف قوس نهار الكوكب والأقل فزد نصف اختلاف النهارين على تلك الأزمان فما بلغت أزمان الجزء الذي يتوسط السماء مع الكوكب في الإقليم بعد الزيادة أو النقصان فهي أزمان مطالع الدرجة التي يطلع معها الكوكب في ذلك البلد فاعرف ما بإزائها من درج البروج في مطالع الإقليم فما كان فهو الجزء الذي يطلع معه الكوكب في ذلك البلد من ذلك البرج الذي وقع عدد الأزمان فيه. وإن أردت أن تعرف الدرجة التي يغيب معها ذلك الكوكب فخذ الأزمان التي بإزاء الدرجة النظيرة للدرجة التي تتوسط السماء مع الكوكب في ذلك الإقليم ثم انظر فإن كان نصف قوس نهار الكوكب أكثر من نصف قوس نهار الدرجة التي تتوسط السماء معه فزد نصف اختلاف النهارين على تلك الأزمان فإن كان نصف نهار الكوكب هو الأقل فانقص نصف اختلاف النهارين من تلك الأزمان فما بلغت الأزمان بعد الزيادة أو النقصان فهي أزمان مطالع الدرجة المقابلة للدرجة التي معها يغيب الكوكب فخذ ما بإزائها من درج البروج في مطالع الإقليم فما كان فهي الدرجة المقابلة للدرجة التي يغيب الكوكب فاعرف نظيرة تلك الدرجة فهي الدرجة الغاربة من فلك البروج مع مغيب الكوكب. ومعلوم انه إذا لم يكن له عرض لم يختلف ممره في وسط السماء وكان طلوعه وغروبه مع الجزء الذي هو فيه من أجزاء فلك البروج. وإن شئت أن تريد قوس نهار الكوكب كلها على أزمان مطالع الدرجة التي يطلع معها في الإقليم فما بلغ فهو مطالع الدرجة النظيرة للدرجة التي يغيب معها فاعرف ما يقابلها من درج البروج فما كان فإنه يغيب مع نظيرة تلك الدرجة. وقد تعرف الدرجة التي يطلع والتي يغيب معها الكوكب بجهة أخرى وذلك بان تأخذ أزمان مطالع الجزء الذي يتوسط السماء مع الكوكب في الفلك المستقيم فتزيد عليها نصف قوس نهار الكوكب وتنقص منها أيضاً نصف قوس نهاره فالمزاد عليه هو مطالع نظير الدرجة التي يغيب معها والمنقوص منه هو مطالع الدرجة التي يطلع معها في الإقليم فتأخذ ما بإزائها من درج البروج على الرسم.
الباب الواحد والعشرون
معرفة ما يمضي من الليل
من ساعة بقياس أحد الكواكب ومعرفة الطالع
তিনি বললেন, যখন আপনি আপনার ইচ্ছামতো যেকোনো নক্ষত্রের দিনের বৃত্তচাপ (দিনের দৈর্ঘ্য) জানতে চাইবেন—যা হলো উদয়কাল থেকে অস্তকাল পর্যন্ত দিগন্তের উপরে তার অবস্থান এবং নক্ষত্রটির উদয় থেকে অস্ত পর্যন্ত বিষুবরেখা থেকে যা উদিত হয়—তখন নক্ষত্রটির বিষুবরেখা থেকে দূরত্বের জ্যা-কে (وتر) ওই অঞ্চলের অক্ষাংশের জ্যা দ্বারা গুণ করুন। যা ফল আসবে, তাকে নব্বই ডিগ্রি পূর্ণ হতে অক্ষাংশের যা বাকি থাকে তার জ্যা দ্বারা ভাগ করুন। যা পাওয়া যাবে তাকে ব্যাসার্ধ (نصف القطر) দিয়ে গুণ করুন। প্রাপ্ত ফলকে নক্ষত্রটির বিষুবরেখা থেকে দূরত্বের নব্বই ডিগ্রি পূর্ণ হতে যা বাকি থাকে তার জ্যা দ্বারা ভাগ করুন। এতে মহাকাশীয় বৃত্ত থেকে যা অর্জিত হবে, তার বৃত্তচাপ নির্ণয় করুন। এই বৃত্তচাপটি হবে নক্ষত্রটির বৃত্তের চতুর্থাংশের পার্থক্য। যদি বিষুবরেখা থেকে নক্ষত্রটির অবস্থান উত্তর দিকে হয়, তবে তার চতুর্থাংশের পার্থক্যকে নব্বইয়ের সাথে যোগ করুন। আর যদি দক্ষিণ দিকে হয়, তবে তা নব্বই থেকে বিয়োগ করুন। এই যোগ বা বিয়োগের পর যা পাওয়া যাবে, তা হবে নক্ষত্রটির দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেক। এটি সংরক্ষণ করুন। এরপর তার এক-ষষ্ঠাংশ গ্রহণ করুন, যা হবে দিগন্তের উপরে তার ঘণ্টাগুলোর কাল। তারপর এতে দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেক যোগ করুন, যা হবে দিগন্তের উপরে নক্ষত্রটির সম্পূর্ণ দিনের বৃত্তচাপ। একে ৩৬০ থেকে বিয়োগ করুন, যা অবশিষ্ট থাকবে তা হবে দিগন্তের নিচে তার সম্পূর্ণ রাতের বৃত্তচাপ। একইভাবে তার দিনের ঘণ্টার কালকে ৩০ থেকে বিয়োগ করলে যা থাকবে তা হবে দিগন্তের নিচে তার রাতের ঘণ্টার কাল। আর যেসব নক্ষত্রের কোনো অক্ষাংশ নেই, তাদের দিনের বৃত্তচাপ হলো তারা যে ডিগ্রিতে অবস্থিত সেই ডিগ্রির দিনের বৃত্তচাপের সমান, এতে কোনো পরিবর্তন হবে না; কারণ তাদের গতিপথ হুবহু সূর্যের গতিপথের মতো।
বিংশ অধ্যায়রাশিচক্রের যে ডিগ্রির সাথে নক্ষত্র উদিত হয়এবং প্রতিটি অঞ্চলে যার সাথে তা অস্ত যায় তা নির্ণয়তিনি বললেন, আপনি যদি রাশিচক্রের সেই ডিগ্রি জানতে চান যার সাথে নক্ষত্রটি উদিত হয় এবং যার সাথে সেটি অস্ত যায়, তবে নক্ষত্রটির দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেক এবং নক্ষত্রটির সাথে যে ডিগ্রিটি মধ্যগগন প্রাপ্ত হয় তার দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেক গ্রহণ করুন। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করুন। যা পাওয়া যাবে তা হলো দুই দিনের বৃত্তচাপের পার্থক্যের অর্ধেক, এটি সংরক্ষণ করুন। অতঃপর লক্ষ্য করুন, যদি নক্ষত্রটির দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেক মধ্যগগনস্থ ডিগ্রির দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেকের চেয়ে বেশি হয়, তবে নির্দিষ্ট অঞ্চলে নক্ষত্রটির সাথে মধ্যগগনস্থ অংশের সম্মুখস্থ উদয়কাল (مطالع) থেকে ওই পার্থক্যের অর্ধেক বিয়োগ করুন। আর যদি নক্ষত্রটির দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেক কম হয়, তবে সেই উদয়কালের সাথে দুই দিনের পার্থক্যের অর্ধেক যোগ করুন। যোগ বা বিয়োগের পর মধ্যগগনস্থ অংশের যে সময় পাওয়া যাবে, তা হলো ওই অঞ্চলে নক্ষত্রটির উদয়কালীন ডিগ্রির উদয়কাল। সেই অঞ্চলের উদয়কালে রাশিচক্রের ডিগ্রিসমূহের মধ্যে এর বিপরীতে যা রয়েছে তা জেনে নিন। সেটিই হবে ওই রাশির সেই অংশ যার সাথে ওই অঞ্চলে নক্ষত্রটি উদিত হয়। আর যদি আপনি সেই ডিগ্রি জানতে চান যার সাথে নক্ষত্রটি অস্ত যায়, তবে ওই অঞ্চলে নক্ষত্রটির সাথে মধ্যগগনস্থ ডিগ্রির বিপরীত (নজির) ডিগ্রির সম্মুখস্থ উদয়কাল গ্রহণ করুন। এরপর লক্ষ্য করুন, যদি নক্ষত্রটির দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেক মধ্যগগনস্থ ডিগ্রির দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেকের চেয়ে বেশি হয়, তবে ওই উদয়কালের সাথে দুই দিনের পার্থক্যের অর্ধেক যোগ করুন। আর যদি নক্ষত্রটির দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেক কম হয়, তবে ওই উদয়কাল থেকে দুই দিনের পার্থক্যের অর্ধেক বিয়োগ করুন। যোগ বা বিয়োগের পর প্রাপ্ত উদয়কালটি হবে নক্ষত্রটি যে ডিগ্রির সাথে অস্ত যায় তার বিপরীত ডিগ্রির উদয়কাল। সুতরাং ওই অঞ্চলের উদয়কালে রাশিচক্রের ডিগ্রিসমূহের মধ্য থেকে এর বিপরীতে যা আছে তা গ্রহণ করুন, সেটিই হবে নক্ষত্রটি অস্ত যাওয়ার ডিগ্রির বিপরীত ডিগ্রি। অতঃপর সেই ডিগ্রির বিপরীত (নজির) ডিগ্রিটি জেনে নিন, সেটিই হবে রাশিচক্রের সেই অস্তগামী ডিগ্রি যা নক্ষত্রের অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে অস্ত যায়। এটি সুপরিচিত যে, যদি নক্ষত্রের কোনো অক্ষাংশ না থাকে, তবে মধ্যগগনে তার অবস্থান পরিবর্তিত হয় না এবং তার উদয় ও অস্ত রাশিচক্রের সেই অংশের সাথেই হবে যে অংশে সে অবস্থান করছে। আর আপনি যদি ওই অঞ্চলে নক্ষত্রটি যে ডিগ্রির সাথে উদিত হয় তার উদয়কালের সাথে নক্ষত্রটির সম্পূর্ণ দিনের বৃত্তচাপ যোগ করেন, তবে যা পাওয়া যাবে তা হবে সেই বিপরীত ডিগ্রির উদয়কাল যার সাথে নক্ষত্রটি অস্ত যায়। সুতরাং রাশিচক্রের ডিগ্রিসমূহের মধ্যে এর বিপরীতে যা আছে তা জেনে নিন, তবে তা ওই ডিগ্রির বিপরীতের সাথে অস্ত যাবে। নক্ষত্রটি কোন ডিগ্রিতে উদিত এবং অস্ত যায় তা অন্যভাবেও জানা যায়। আর তা হলো, সরল বৃত্তে (الفلك المستقيم) নক্ষত্রটির সাথে মধ্যগগনস্থ অংশের উদয়কাল গ্রহণ করা। এরপর তার সাথে নক্ষত্রটির দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেক যোগ করা এবং তা থেকে দিনের বৃত্তচাপের অর্ধেক বিয়োগ করা। যা যোগ করা হলো তা হলো নক্ষত্রটি যে ডিগ্রির সাথে অস্ত যায় তার বিপরীত ডিগ্রির উদয়কাল, আর যা বিয়োগ করা হলো তা হলো ওই অঞ্চলে নক্ষত্রটি যে ডিগ্রির সাথে উদিত হয় তার উদয়কাল। অতঃপর নিয়ম অনুযায়ী রাশিচক্রের ডিগ্রিসমূহের মধ্য থেকে এর বিপরীতে যা আছে তা গ্রহণ করুন।
একুশতম অধ্যায়রাতের কত ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছেতা কোনো একটি নক্ষত্রের পরিমাপের মাধ্যমে জানা এবং লগ্ন নির্ণয়
(খণ্ড: ১)
যীজুস সাবি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال إذا أردت أن تعرف ما مضى من الليل من ساعة بقياس أحد الكواكب فاعرف الدرجة التي تتوسط السماء مع الكوكب ونصف قوس نهار الكوكب والدرجة التي يطلع معها الكوكب بما قد تقدم لك بيانه فيما قبل هذا الباب واعرف مع ذلك ارتفاع الكوكب في وسط السماء وذلك بان تأخذ بعد الكوكب عن فلك معدل النهار فإن كان شمالياً فزده على ارتفاع أول الحمل في ذلك البلد وإن كان جنوبياً فانقصه منه فما بلغ ارتفاع الحمل بعد الزيادة عليه أو النقصان منه فهو ارتفاع ذلك الكوكب في وسط السماء فمتى وقع ذلك أكثر من تسعين فانقصه من مائة وثمانين فما بقي فهو ارتفاعه عن أفق الشمال والكوكب حينئذ في ناحية الشمال من ناحية سمت الرأس ثم اعرف وتر نصف قوس نهار الكوكب راجعاً واضربه في وتر ارتفاع الكوكب في وسط السماء فما حصل فانقصه من وتر قوس نهار الكوكب الراجع فما بقي فقوسه قوساً راجعة فما بلغت القوس الراجعة فاحفظها. وإن كان الكوكب في وقت القياس في ناحية المشرق في وسط السماء فانقص تلك القوس الراجعة من نصف قوس نهار الكوكب بعد الزيادة أو النقصان فهو مقدار ما دار من الفلك منذ طلع الكوكب إلى ساعة القياس فاحفظه ثم انظر فإن كان الجزء الذي يطلع معه الكوكب فيما بين درجة الشمس إلى درجة نظيرها فإن الكوكب طلع نهاراً وإن كان فيما بين نظير درجة الشمس إلى درجة الشمس فإنه طلع ليلاً. فإن كان طلوعه نهاراً فخذ أزمان مطالع الدرجة الذي طلع معها ذلك الكوكب في الإقليم المحدود فانقصه من أزمان المطالع التي بإزاء نظيرة جزء الشمس المقابل له في ذلك الإقليم فما بقي فانقصه مما دار من الفلك من وقت طلوع الكوكب التي حفظت فما بقي فهو مقدار ما دار من الفلك من وقت غروب الشمس إلى ساعة القياس فاقسمه على أزمان ساعات الليل وما بلغ فهو ما مضى من الليل من ساعة زمانية وإن كان الكوكب طلع ليلاً فانقص أزمان المطالع التي بإزاء نظيرة درجة الشمس من الأزمان التي بإزاء الجزء الذي طلع معه الكوكب من ذلك الإقليم فما بقي فزده على ما دار من الفلك من وقت طلوع الكوكب فما بلغ فهو مقدار ما دار من الفلك منذ غربت الشمس إلى ساعة القياس فاقسمه على أزمان ساعات الليل على تلك الجهة فما بلغ فهو ما مضى من الليل من ساعة زمانية. وإن قسمت ما دار من الفلك من غروب الشمس على خمسة عشر كان الذي يحصل لك ساعات معتدلة مضت من الليل. وإن شئت أن تعرف الطالع من قبل ما دار من الفلك من وقت طلوع الكوكب فزد ما دار من الفلك من وقت طلوع الكوكب على أزمان المطالع التي بإزاء الجزء الذي يطلع معه الكوكب فزد ما دار في الإقليم فما بلغ فاعرف به الطالع ووسط السماء على الرسم المتقدم. فإن شئت أن تعرف الطالع بجهة أخرى فخذ تلك القوس الراجعة التي خرجت لك فتنقصها من أزمان المطالع التي تتوسط السماء مع الكوكب في الفلك المستقيم إذا كان الكوكب في ناحية المشرق وتزيدها على هذه المطالع إذا كان من ناحية المغرب فما بلغت الأزمان بعد الزيادة أو النقصان عرفت بها الطالع على تلك الجهة ووسط السماء أيضاً. وأما إذا كان قياسك بالقمر خاصة فإنك تحتاج إلى معرفة اختلاف منظره حتى يصح لك موضعه المرئي أعني الذي يرى فيه في الطول والعرض ثم تعرف بذلك بعده المرئي عن معدل النهار والجزء المرئي الذي يتوسط السماء معه ونصف قوس نهار موضعه المرئي من فلك البروج ونصف قوس نهار الجزء المرئي الذي يتوسط السماء ومعه والدرجة المرئية التي معها يطلع فإذا عرفت ذلك كله أخذت الارتفاع من القمر فعملت به بعد أن تعلم ارتفاع القمر في وسط السماء ببعده المرئي عن معدل النهار.
الباب الثاني والعشرون
معرفة ارتفاع الكواكب
من قبل ساعات الليل في كل بلد
তিনি বলেন, যদি আপনি কোনো একটি নক্ষত্রের পরিমাপের মাধ্যমে রাতের অতিক্রান্ত সময় জানতে চান, তবে ওই নক্ষত্রের সাথে আকাশের মধ্যস্থলে আসা ডিগ্রি, নক্ষত্রটির দিবা-বৃত্তের অর্ধেক চাপ এবং যে ডিগ্রিতে নক্ষত্রটি উদিত হয়—যা ইতিপূর্বে আপনার কাছে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—তা জেনে নিন। এর সাথে আকাশের মধ্যস্থলে নক্ষত্রটির উচ্চতাও নির্ধারণ করুন; আর তা হলো বিষুবরেখা থেকে নক্ষত্রটির দূরত্ব গ্রহণ করা। যদি এটি উত্তরমুখী হয় তবে সংশ্লিষ্ট জনপদে মেষ রাশির প্রথম বিন্দুর উচ্চতার সাথে তা যোগ করুন, আর যদি দক্ষিণমুখী হয় তবে তা থেকে বিয়োগ করুন। মেষ রাশির উচ্চতার সাথে এই যোগ বা বিয়োগের পর যা পাওয়া যাবে, তা-ই হবে আকাশের মধ্যস্থলে ওই নক্ষত্রের উচ্চতা। যদি এই মান নব্বই ডিগ্রির বেশি হয়, তবে তা একশ আশি থেকে বিয়োগ করুন; অবশিষ্ট মানটি হবে উত্তর দিগন্ত থেকে তার উচ্চতা এবং তখন নক্ষত্রটি সুউচ্চ বিন্দুর উত্তর দিকে অবস্থান করবে। এরপর নক্ষত্রের দিবা-বৃত্তের অর্ধেক অংশের বিপরীত জ্যা নির্ণয় করুন এবং আকাশের মধ্যস্থলে নক্ষত্রটির উচ্চতার জ্যা দিয়ে তাকে গুণ করুন। যা প্রাপ্ত হবে তা নক্ষত্রটির দিবা-বৃত্তের বিপরীত জ্যা থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তার বিপরীত চাপ নির্ণয় করুন এবং এই প্রাপ্ত চাপটি সংরক্ষণ করুন। যদি পরিমাপের সময় নক্ষত্রটি আকাশের মধ্যস্থলে পূর্ব দিকে থাকে, তবে সংরক্ষিত ওই বিপরীত চাপটি নক্ষত্রের দিবা-বৃত্তের অর্ধাংশ থেকে বিয়োগ করুন (যোগ বা বিয়োগের পর)। এটি হবে নক্ষত্রটি উদিত হওয়ার পর থেকে পরিমাপের সময় পর্যন্ত আসমানের আবর্তনের পরিমাণ; এটি সংরক্ষণ করুন। এরপর দেখুন, নক্ষত্রটি যে ডিগ্রিতে উদিত হয় তা যদি সূর্যের ডিগ্রি থেকে তার বিপরীত ডিগ্রির মধ্যে হয়, তবে নক্ষত্রটি দিনে উদিত হয়েছে। আর যদি সূর্যের বিপরীত ডিগ্রি থেকে সূর্যের ডিগ্রির মধ্যে হয়, তবে তা রাতে উদিত হয়েছে। যদি উদয় দিনে হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট জলবায়ু অঞ্চলে নক্ষত্রটি যে ডিগ্রিতে উদিত হয়েছে তার উদয়কাল গ্রহণ করুন এবং তা ওই অঞ্চলে সূর্যের বিপরীত বিন্দুর বিপরীতে অবস্থিত উদয়কাল থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তা নক্ষত্র উদয়ের সময় থেকে সংরক্ষিত আসমানের আবর্তনের পরিমাণ থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তা হবে সূর্যাস্ত থেকে পরিমাপের সময় পর্যন্ত আসমানের আবর্তনের পরিমাণ। একে রাতের ঘণ্টার পরিমাণ দিয়ে ভাগ করুন; যা পাওয়া যাবে তা-ই হবে রাতের অতিক্রান্ত সাময়িক ঘণ্টা। আর যদি নক্ষত্রটি রাতে উদিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সূর্যের বিপরীত ডিগ্রির উদয়কালকে নক্ষত্র উদয়ের ডিগ্রির উদয়কাল থেকে বিয়োগ করুন। যা অবশিষ্ট থাকবে তা নক্ষত্র উদয়ের সময় থেকে আসমানের আবর্তনের পরিমাণের সাথে যোগ করুন। যা পাওয়া যাবে তা-ই হবে সূর্যাস্ত থেকে পরিমাপের সময় পর্যন্ত আসমানের আবর্তনের পরিমাণ। একে ওই নিয়মে রাতের ঘণ্টার পরিমাণ দিয়ে ভাগ করুন; যা ফলাফল আসবে তা-ই হবে রাতের অতিক্রান্ত সাময়িক ঘণ্টা। আর যদি আপনি সূর্যাস্ত থেকে আসমানের আবর্তনের পরিমাণকে পনের দিয়ে ভাগ করেন, তবে যা পাবেন তা হবে রাতের অতিক্রান্ত সুষম ঘণ্টা। যদি আপনি নক্ষত্র উদয়ের সময় থেকে আসমানের আবর্তনের মাধ্যমে লগ্ন জানতে চান, তবে নক্ষত্র উদয়ের সময় থেকে আসমানের আবর্তনের পরিমাণকে নক্ষত্র উদয়ের ডিগ্রির উদয়কালের সাথে যোগ করুন। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে যা যোগফল হবে তার মাধ্যমে পূর্ববর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী লগ্ন ও মধ্য-আকাশ নির্ণয় করুন। আর যদি অন্য পদ্ধতিতে লগ্ন জানতে চান, তবে আপনার প্রাপ্ত ওই বিপরীত চাপটি গ্রহণ করুন এবং নক্ষত্রটি যখন আকাশের মধ্যস্থলে থাকে তখন বিষুবীয় অঞ্চলে তার উদয়কাল থেকে তা বিয়োগ করুন—যদি নক্ষত্রটি পূর্ব দিকে থাকে; আর যদি পশ্চিম দিকে থাকে তবে ওই উদয়কালের সাথে তা যোগ করুন। যোগ বা বিয়োগের পর যে সময় পাওয়া যাবে, তার মাধ্যমে ওই নিয়মে লগ্ন এবং মধ্য-আকাশও জানতে পারবেন। তবে আপনার পরিমাপ যদি বিশেষভাবে চাঁদের ক্ষেত্রে হয়, তবে আপনার জন্য চাঁদের দৃষ্টি-বিভ্রম জানা আবশ্যক, যাতে তার দৃশ্যমান অবস্থান অর্থাৎ দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশে তার সঠিক দৃশ্যমান স্থানটি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর তার মাধ্যমে বিষুবরেখা থেকে তার দৃশ্যমান দূরত্ব, তার সাথে মধ্য-আকাশে থাকা দৃশ্যমান অংশ, রাশিচক্রের বৃত্তে তার দৃশ্যমান অবস্থানের দিবা-বৃত্তের অর্ধাংশ, মধ্য-আকাশে অবস্থানকারী দৃশ্যমান অংশের দিবা-বৃত্তের অর্ধাংশ এবং যে দৃশ্যমান ডিগ্রিতে তা উদিত হয় তা জেনে নিতে হবে। যখন এই সবকিছু জানা হয়ে যাবে, তখন চাঁদের উচ্চতা গ্রহণ করবেন এবং বিষুবরেখা থেকে চাঁদের দৃশ্যমান দূরত্বের মাধ্যমে মধ্য-আকাশে চাঁদের উচ্চতা জানার পর সে অনুযায়ী কাজ করবেন।
দ্বাবিংশ অধ্যায়
নক্ষত্ররাজির উচ্চতা নির্ণয়
প্রতিটি শহরে রাতের ঘণ্টার মাধ্যমে