0/0
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
رسالة في المواريث - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: رسالة في المواريث

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (17)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

উত্তরাধিকার বিষয়ক প্রবন্ধ - «আসারুল মুয়াল্লিমি»-র অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: উত্তরাধিকার বিষয়ক প্রবন্ধ (রিসালাহ ফিল মাওয়ারিস)

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি-র রচনাবলি (১৭)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ উজাইর শামস

নিরীক্ষক: মুহাম্মদ আকমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দার আলাম আল-ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৯১)
الرسالة العشرون

رسالة في المواريث
বিংশতম রিসালাহ

উত্তরাধিকার আইন সংক্রান্ত একটি রিসালাহ
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৯৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسوله محمد وآله وصحبه.

 

‌‌فصل

فيما كان عليه التوريث في الجاهلية، وكيف أبطل الله تعالى

ما فيه من الجور

كنتُ أريد أن أُثبِتَ في هذا الفصل ما وقفتُ عليه من الآثار في هذا المعنى، ولكن رأيتُ ذلك يطول، مع ما يستدعي منّي من التصحيح والترجيح والتأويل والتعويل، فاكتفيتُ بالإجمال عن التفصيل.

قد تضافرت الآثارُ أن أهل الجاهلية لم يكونوا يُورِّثون النساء والضعفةَ، وفي "صحيح البخاري"(1) وغيره عن ابن عباس قال: "كان المال للولد، والوصية للوالدين والأقربين … ".

قوله: "كان المال للولد" أي في الجملة، فإنما كان للذكور الكبار منهم، كما تدلُّ عليه سائر الآثار، وسيأتي بعضها. فمن تأمل الآثار ومناسبة الآيات تبيَّن له أن ترتيبها على ما يأتي:

1 - آية الوصية.

2 - آية الوصية للزوجة.

--------------------------------------------

(1) رقم (2747، 4578). وأخرجه أيضًا الطبري (6/ 459) وابن المنذر (1433) وابن أبي حاتم (3/ 880) في تفاسيرهم، والبيهقي في "السنن الكبرى" (6/ 226).
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসুল মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

জাহেলি যুগে উত্তরাধিকার প্রথা যে অবস্থায় ছিল এবং আল্লাহ তাআলা তাতে বিদ্যমান অবিচার যেভাবে বাতিল করেছেন সে প্রসঙ্গে

আমি এই পরিচ্ছেদে এ বিষয়ের ওপর যে সকল বর্ণনা (آثار) পেয়েছি তা সংকলন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমি দেখলাম যে এটি দীর্ঘ হয়ে যাবে। সেই সাথে এর জন্য আমার পক্ষ থেকে শুদ্ধিকরণ (تصحيح), অগ্রাধিকার নির্ধারণ (ترجيح), ব্যাখ্যা প্রদান (تأويل) এবং নির্ভরতা (تعويل) আরোপ করার প্রয়োজন দেখা দেবে। তাই আমি বিস্তারিত আলোচনার পরিবর্তে সংক্ষেপে উল্লেখ করার ওপরই ক্ষান্ত হলাম।

একাধিক বর্ণনা (آثار) দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, জাহেলি যুগের লোকেরা নারী ও দুর্বলদের উত্তরাধিকার প্রদান করত না। "সহিহ বুখারী"(১) ও অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "সম্পদ ছিল সন্তানের জন্য এবং অসিয়ত ছিল পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য … "।

তাঁর উক্তি: "সম্পদ ছিল সন্তানের জন্য" অর্থাৎ সাধারণভাবে এটি বলা হয়েছে, তবে তা কেবল তাদের মধ্য থেকে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য ছিল, যেমনটি অন্যান্য বর্ণনা (آثار) দ্বারা প্রমাণিত হয় এবং এর কিছু অংশ সামনে আসবে। সুতরাং যারা এই বর্ণনাগুলো (آثار) এবং আয়াতসমূহের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে চিন্তা করবেন, তাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে এগুলোর বিন্যাস নিম্নরূপ:

১ - অসিয়ত সংক্রান্ত আয়াত।

২ - স্ত্রীর অনুকূলে অসিয়ত সংক্রান্ত আয়াত।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (২৭৪৭, ৪৫৭৮)। এছাড়াও তাবারী (৬/ ৪৫৯), ইবনুল মুনজির (১৪৩৩) এবং ইবনে আবি হাতিম (৩/ ৮৮০) তাঁদের তাফসির গ্রন্থে এবং বায়হাকী "আস-সুনান আল-কুবরা" (৬/ ২২৬) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৯৪)
3 - {لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ … } الآيات.

4 - {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلَالَةِ} [النساء: 176].

5 - {وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ … } [النساء: 33].

6 - {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا … وَأُولُو الْأَرْحَامِ} [الأنفال: 72 - 75].

7 - {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا شَهَادَةُ بَيْنِكُمْ … }.

فلنبدأ بتفسير الآيات على هذا الترتيب، ثم نقتصُّ أثر الجَيْراجي على حسب ترتيبه.

* * * *
3 - {পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের রেখে যাওয়া সম্পদে পুরুষদের অংশ রয়েছে … } আয়াতসমূহ।

4 - {তারা আপনার নিকট ফাতাওয়া প্রার্থনা করে; বলুন, আল্লাহ তোমাদেরকে 'কালালাহ' (পিতামাতা ও সন্তানহীন ব্যক্তি) সম্পর্কে ফাতাওয়া দিচ্ছেন} [আন-নিসা: ১৭৬]।

5 - {আমরা প্রত্যেকের জন্য উত্তরাধিকারী নির্ধারণ করেছি … } [আন-নিসা: ৩৩]।

6 - {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং হিজরত করেছে … এবং যারা রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়} [আল-আনফাল: ৭২ - ৭৫]।

7 - {হে মুমিনগণ! তোমাদের মধ্যকার সাক্ষ্য প্রদানের নিয়ম হলো … }।

আসুন আমরা এই ক্রম অনুযায়ী আয়াতসমূহের তাফসির শুরু করি, অতঃপর জাইরাজির বিন্যাস অনুযায়ী তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করি।

* * * *
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৯৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه أستعين، وصلى الله وسلَّم وبارك على عبده ونبيه وخليله محمد وآله وصحبه، آمين.

قال الله تبارك وتعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ} [البقرة: 180].

قوله تعالى: {إِنْ تَرَكَ خَيْرًا}، فُسِّر الخير بالمال، وفُسِّر بالمال الكثير.

أخرج جماعة(1) عن علي رضي الله عنه أنه دخل على مولًى له في الموت، وله سبعمائة درهم، فقال: ألا أُوِصي؟ قال: لا، إنما قال الله تعالى: {إِنْ تَرَكَ خَيْرًا}، وليس لك كثيرُ مالٍ، فدَعْ مالك لورثتك.

وأخرج ابن أبي شيبة(2) أن رجلاً قال لعائشة رضي الله عنها: أريدُ أن أوصي، قالت: كم مالُك؟ قال: ثلاثة آلاف، قالت: كم عيالُك؟ قال: أربعة،

--------------------------------------------

(1) أخرجه عبد الرزاق في "المصنَّف" (16351) وسعيد بن منصور (251 ــ تفسير) وابن أبي شيبة في "المصنف" (11/ 208) والطبري في "تفسيره" (3/ 136، 137) وابن أبي حاتم في "تفسيره" (1/ 298) والحاكم في "المستدرك" (2/ 273، 274) والبيهقي في "السنن الكبرى" (6/ 270)، وصححه الحاكم (1/ 298)، فتعقبه الذهبي بقوله: فيه انقطاع.

(2) في "المصنف" (11/ 208). وأخرجه أيضًا سعيد بن منصور في "سننه" (248 ــ تفسير) والبيهقي في "السنن الكبرى" (6/ 270). وإسناده صحيح.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং আমি তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি; আর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা, নবী ও খলিল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর। আমিন।

মহান ও বরকতময় আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে কোনো সম্পদ রেখে যায়, তবে তার পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে অসিয়ত করা তোমাদের ওপর ফরয করা হলো; এটি মুত্তাকীদের ওপর একটি আবশ্যিক কর্তব্য।} [আল-বাকারাহ: ১৮০]।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {যদি সে কোনো সম্পদ রেখে যায়}, এখানে 'খায়র' (সম্পদ) শব্দটির ব্যাখ্যা ধন-সম্পদ দ্বারা করা হয়েছে, আবার প্রচুর ধন-সম্পদ দ্বারাও এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

একটি দল(১) আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর এক মুক্তদাসের নিকট প্রবেশ করলেন যখন সে মৃত্যুশয্যায় ছিল এবং তার নিকট সাতশত দিরহাম ছিল। সে বলল: আমি কি অসিয়ত করব না? তিনি বললেন: না, কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যদি সে কোনো সম্পদ রেখে যায়}, অথচ তোমার নিকট প্রচুর ধন-সম্পদ নেই। সুতরাং তোমার সম্পদ তোমার উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে দাও।

ইবনে আবি শাইবাহ(২) বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বললেন: আমি অসিয়ত করতে চাই। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার সম্পদের পরিমাণ কত? সে বলল: তিন হাজার। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা কত? সে বলল: চারজন।

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রাজ্জাক তাঁর 'মুসান্নাফ' (১৬৩৫১), সাঈদ বিন মনসুর (২৫১ ــ তাফসির), ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর 'মুসান্নাফ' (১১/ ২০৮), তাবারী তাঁর 'তাফসির' (৩/ ১৩৬, ১৩৭), ইবনে আবি হাতেম তাঁর 'তাফসির' (১/ ২৯৮), হাকেম তাঁর 'মুসতাদরাক' (২/ ২৭৩, ২৭৪) এবং বায়হাকী তাঁর 'সুনানে কুবরা' (৬/ ২৭০)-তে এটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন (১/ ২৯৮), তবে যাহাবী তাঁর সমালোচনা করে বলেছেন: এতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে।

(২) 'মুসান্নাফ' (১১/ ২০৮)-এ। সাঈদ বিন মনসুর তাঁর 'সুনান' (২৪৮ ــ তাফসির) এবং বায়হাকী তাঁর 'সুনানে কুবরা' (৬/ ২৭০)-তেও এটি বর্ণনা করেছেন। আর এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৯৬)
قالت: قال الله تعالى: {إِنْ تَرَكَ خَيْرًا}، وهذا شيء يسيرٌ، فاتركْه لعيالك فهو أفضل.

........................... كانوا رضي الله عنهم يرون أن آية الوصية كُتِب فيها الوصية من المال الكثير للوالدين وعامة الأقربين، وآية الميراث نسختْها بالنسبة للوالدين وبعض الأقربين فبقي بقية الأقربين داخلين في آية الوصية.

وعندي أنها منسوخة بالنسبة لبقية الأقربين أيضًا، وأُقيمَ مقامَ ذلك قولُه تعالى: {وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبَى … } [النساء: 8] كما يأتي إن شاء الله تعالى.

{الْوَصِيَّةُ}

هي الاسم من أوصى يوصي، وأصلها: أمْرُك من أنت غائبٌ عنه أو ستغيب بأمرٍ يفعله في الغَيبة، ويقال: أوصيتُ زيدًا بالصدقة، كما يقال: أمرتُه بها. ويقال: أوصيتُ لزيدٍ بمالٍ، كما يقال: أمرتُ له بمالٍ.

{لِلْوَالِدَيْنِ}

اللام في قوله: {لِلْوَالِدَيْنِ} تحتمل معنيين:

وذلك أنه مما تقرر في العربية أن الفعل الذي يتعدى بنفسه يجوز في مصدرِه واسم مصدره ونحوِهما التعديةُ باللام دائمًا، وبنفسه بشرطه. قال ابن مالك في "الخلاصة"(1):

--------------------------------------------

(1) "الألفية" بشرح ابن عقيل (3/ 93).
তিনি বললেন: মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যদি সে প্রচুর সম্পদ (خَيْرًا) রেখে যায়}, অথচ এটি তো সামান্য কিছু। সুতরাং তা তোমার পরিবার-পরিজনের জন্যই রেখে দাও, কারণ সেটিই অধিক উত্তম।

........................... তাঁরা রাদিয়াল্লাহু আনহুম মনে করতেন যে, ওসিয়তের আয়াতে অধিক সম্পদ থেকে পিতা-মাতা ও সাধারণ নিকটাত্মীয়দের জন্য ওসিয়ত করার বিধান নির্ধারিত ছিল। পরবর্তীতে মিরাসের আয়াত পিতা-মাতা ও কিছু নিকটাত্মীয়ের হকের ক্ষেত্রে এটিকে রহিত (نسختها) করে দেয়; ফলে অবশিষ্ট নিকটাত্মীয়রা ওসিয়তের আয়াতের অন্তর্ভুক্ত থেকে যান।

আর আমার মতে, এটি অবশিষ্ট নিকটাত্মীয়দের ক্ষেত্রেও রহিত (منسوخة); এবং তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণী: {আর যখন বণ্টনের সময় নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত হয় … } [নিসা: ৮], যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

{ওসিয়ত}

এটি ‘আওসা-ইউসি’ ক্রিয়াপদ থেকে নির্গত বিশেষ্য (اسم)। এর মূল অর্থ হলো: তোমার অনুপস্থিতিতে বা ভবিষ্যতে তোমার অনুপস্থিত থাকাকালীন কাউকে কোনো কাজ করার নির্দেশ প্রদান করা। যেমন বলা হয়: ‘আমি যায়েদকে সদকার ওসিয়ত করেছি’, যেভাবে বলা হয়: ‘আমি তাকে এর নির্দেশ দিয়েছি’। আবার বলা হয়: ‘আমি যায়েদের জন্য সম্পদের ওসিয়ত করেছি’, যেভাবে বলা হয়: ‘আমি তার জন্য সম্পদের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি’।

{পিতা-মাতার জন্য}

তাঁর বাণী: {পিতা-মাতার জন্য}-এর মধ্যে ‘লাম’ (اللام) অক্ষরটি দুটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে:

আর তা এই কারণে যে, আরবি ব্যাকরণে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, যে ক্রিয়া সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে, তার মাসদার (مصدر), ইসমুল মাসদার (اسم مصدر) এবং অনুরূপ শব্দগুলোর ক্ষেত্রে সর্বদা ‘লাম’ যোগে সম্বন্ধ করা বৈধ, আর সরাসরি কর্ম গ্রহণ করা শর্তসাপেক্ষ। ইবনে মালিক ‘আল-খুলাসা’ গ্রন্থে বলেছেন(১):

--------------------------------------------

(১) ইবনে আকীলের ব্যাখ্যাসহ ‘আলফিয়্যাহ’ (৩/৯৩)।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৯৭)
بفعلِه المصدرَ أَلحِقْ في العملْ … مضافًا أو مجرّدًا أو معَ الْ

إن كان فعلٌ مع أنْ أو ما يَحُلّ … محلَّهُ ولاسْمِ مصدرٍ عَمَلْ

قال الشارح(1): "وإعمالُ المضاف أكثرُ من إعمال المنوَّن، وإعمالُ المنوَّن أكثر من إعمال المحلَّى بألْ".

واتفقوا على أنه إذا لم يُعَدَّ بنفسه يُعدَّى باللام.

ولفظ "وصية" اسم مصدرٍ من أوصى، فيجوز تعديته إلى المفعول باللام، فإذا كان محلَّى بألْ فالغالب أو الواجب أن لا يُعدَّى بنفسه، بل يُعدَّى باللام.

يقول: على كل مسلم الوصيةُ للمسلمين بالتقوى، وعلى هذا فمعنى الآية: كُتِب عليكم إذا حضر أحدَكم الموتُ إن ترك خيرًا أن يوصيَ الوالدين والأقربين بالمعروف.

والمقصود أن يُوصي المحتضر والدَيهِ وأقاربَه بأن يبذلوا المعروفَ من ترِكتِه من صدقةٍ ونحوها، فتكون هذه الآية مشابهةً لقوله عز وجل: {وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينُ فَارْزُقُوهُمْ مِنْهُ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا} [النساء: 8].

وهذا المعنى مستقيم كما تراه، إلّا أنه مخالف لحديث البخاري وغيره عن ابن عباس(2)، كما يأتي مع ما سيأتي من أدلة النسخ، فمَن لم يُسلِّم أدلة

--------------------------------------------

(1) هو ابن عقيل، انظر شرحه (3/ 94).

(2) سبق تخريجه (ص 693).
ক্রিয়ার কর্মতৎপরতায় (عمل) মাসদারকে (مصدر) অনুবর্তী করো … তা সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হোক, অথবা (তানভীনযুক্ত হয়ে) একক (مجرد) হোক কিংবা 'আলিফ-লাম' যুক্ত হোক।

যদি 'আন' (أن) বা 'মা' (ما) এর সাথে কোনো ক্রিয়া (فعل) তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে; আর ইসম মাসদারেরও (اسم مصدر) আমল (عمل) করার ক্ষমতা রয়েছে।

ব্যাখ্যাকার(১) বলেন: "সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) মাসদারের আমল করা তানভীনযুক্ত (منون) মাসদারের চেয়ে বেশি প্রচলিত, আর তানভীনযুক্ত মাসদারের আমল করা 'আলিফ-লাম' যুক্ত (محلى بأل) মাসদারের চেয়ে বেশি প্রচলিত।"

তারা (ব্যাকরণবিদগণ) এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, এটি (মাসদার) যদি সরাসরি সকর্মক (تعدية) না হয়, তবে 'লাম' অক্ষরের মাধ্যমে সকর্মক হবে।

আর "অসিয়ত" শব্দটি 'আওসা' থেকে উৎপন্ন ইসম মাসদার (اسم مصدر), তাই একে 'লাম' এর মাধ্যমে কর্মের (مفعول) দিকে সকর্মক করা বৈধ। সুতরাং এটি যদি 'আলিফ-লাম' যুক্ত হয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বা আবশ্যকীয়ভাবে এটি সরাসরি সকর্মক হয় না, বরং 'লাম' এর মাধ্যমে সকর্মক হয়।

তিনি বলেন: প্রত্যেক মুসলমানের ওপর কর্তব্য হলো মুসলমানদের তাকওয়ার অসিয়ত করা। এই ভিত্তিতে আয়াতের অর্থ হলো: তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং সে যদি সম্পদ রেখে যায়, তবে তার ওপর পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ন্যায়সঙ্গতভাবে অসিয়ত করা বিধিবদ্ধ (فرض) করা হয়েছে।

উদ্দেশ্য হলো, মুমূর্ষু ব্যক্তি তার পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের এই মর্মে অসিয়ত করবে যে, তারা যেন তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে সদকা ও অনুরূপ সৎকাজে সদ্ব্যবহার করে। ফলে এই আয়াতটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সদৃশ হবে: "আর যখন বণ্টনের সময় নিকটাত্মীয়, এতিম ও অভাবীরা উপস্থিত হয়, তখন তোমরা তাদেরকে তা থেকে কিছু প্রদান করো এবং তাদের সাথে সদালাপ করো।" [সূরা নিসা: ৮]

এই অর্থটি আপনার কাছে সঠিক মনে হতে পারে, তবে এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত বুখারি ও অন্যান্য কিতাবের হাদিসের পরিপন্থী(২), যা রহিতকরণের (نسخ) দলিলসমূহের বর্ণনার সাথে সামনে আসবে। সুতরাং যারা (রহিতকরণের) দলিলসমূহ গ্রহণ করবেন না

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইবনে আকীল, দেখুন তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ (৩/ ৯৪)।

(২) এর সূত্রায়ন (تخريج) পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে (পৃষ্ঠা ৬৯৩)।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৯৮)
النسخِ فلا محيصَ له عن تسليم احتمال الآية لهذا المعنى، والله الموفق.

فهذا أحد المعنيين اللذين يحتملهما اللام.

المعنى الثاني ــ وهو المشهور ــ: أن اللام هي التي في نحو أوصيتُ لزيدٍ بمالٍ، فمعنى الآية عليه: كُتِب عليكم إذا حضر أحدَكم الموتُ إن تركَ خيرًا أن يوصي للوالدين .... ، وعلى هذا المعنى نبني البحث بعون الله تعالى.

(للوالدين)

هو مثنَّى والدٍ ووالدة، و"والدة" اسم فاعل من ولَدتْ تَلِدُ ولادةً: إذا وضعت حملَها، فهي والدةٌ ــ اسم فاعل ــ ووالدٌ أيضًا، حكاه ثعلب(1). تُرِك التاء لأمْنِ اللَّبْس، كما قالوه في حامل وحائض وطالق. فأما الذكر فإنه طبعًا لا يلد؛ إذ لا يكون منه في التسبُّب للولد ما يَصدُق عليه ولادة على الحقيقة، وإنما يُقال: وُلِدَ له. قال الله تبارك وتعالى: {لَا تُضَارَّ وَالِدَةٌ بِوَلَدِهَا وَلَا مَوْلُودٌ لَهُ بِوَلَدِهِ} [البقرة: 233].

وقد جاء نسبة الولادة إلى غير الأنثى، قال الله عز وجل: {وَوَالِدٍ وَمَا وَلَدَ} [البلد: 3]، وهو مجازٌ مرسل علاقتُه السببية، كما يقال: بنى الأمير المدينةَ، أي أمر ببنائها.

ثمّ جرَّدوا لفظ "والدة" عن الوصفية، فأطلقوه على الأم مع عدم ملاحظة الوصفية، يقال: هذه والدتي، بمعنى أمي لا بمعنى التي ولدتْني. ويُبيِّن لك

--------------------------------------------

(1) كما في "تاج العروس" (ولد).
রহিতকরণ (النسخ) এর প্রেক্ষাপটে এই আয়াতের এই অর্থের সম্ভাবনাকে মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আর আল্লাহই তৌফিকদাতা।

এটি ‘লাম’ (ل) অক্ষরের দু’টি সম্ভাব্য অর্থের একটি।

দ্বিতীয় অর্থ—যা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ—হলো: এখানে ‘লাম’ অক্ষরটি সেই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যা ‘আমি জায়েদকে সম্পদ প্রদানের ওসিয়ত করেছি’ বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সেই অনুযায়ী আয়াতের অর্থ হবে: তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে সম্পদ রেখে যায়, তবে তার জন্য পিতামাতার অনুকূলে ওসিয়ত করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে...। আর এই অর্থের ওপর ভিত্তি করেই আল্লাহর সাহায্যে আমরা আলোচনা এগিয়ে নেব।

(পিতামাতার জন্য)

এটি ‘ওয়ালিদ’ (والد) এবং ‘ওয়ালিদাহ’ (والدة) এর দ্বিবচন। ‘ওয়ালিদাহ’ শব্দটি ‘ওলাদাত’ (ولادة) ধাতু থেকে আগত কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل); যখন নারী তার গর্ভস্থ সন্তান প্রসব করে। তখন তাকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل) হিসেবে ‘ওয়ালিদাহ’ বলা হয় এবং ‘ওয়ালিদ’ও বলা হয়, যা ছা’লাব বর্ণনা করেছেন(১)। বিভ্রান্তি দূর করার জন্য এখানে স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ বর্জন করা হয়েছে, যেমনটি তারা গর্ভবতী (حامل), ঋতুবতী (حائض) এবং তালাকপ্রাপ্তা (طالق) শব্দের ক্ষেত্রে বলে থাকেন। পুরুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন যে, সে স্বভাবগতভাবেই সন্তান প্রসব করে না; কারণ সন্তানের জন্মের কারণ হওয়ার ক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে এমন কিছু ঘটে না যাকে প্রকৃত অর্থে প্রসব (ولادة) বলা যায়। বরং বলা হয়: ‘তার জন্য সন্তান জন্ম হয়েছে’। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন: {কোনো মাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না এবং যার সন্তান জন্ম হয়েছে (অর্থাৎ পিতাকে) তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না} [আল-বাকারা: ২৩৩]।

নারী ব্যতীত অন্যের ক্ষেত্রেও সন্তান জন্মদানের সম্বন্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {শপথ পিতার এবং সে যা জন্ম দিয়েছে তার} [আল-বালাদ: ৩]। এটি একটি রূপক (مجاز مرسل) যার সম্বন্ধ হলো কারণিকতা (السببية), যেমনটি বলা হয়: ‘আমীর শহরটি নির্মাণ করেছেন’, অর্থাৎ তিনি এটি নির্মাণের আদেশ দিয়েছেন।

এরপর তারা ‘ওয়ালিদাহ’ শব্দটিকে এর গুণবাচকতা (الوصفية) থেকে মুক্ত করে ব্যবহার করেছেন। ফলে গুণবাচকতার (الوصفية) প্রতি লক্ষ্য না রেখেই তারা একে মায়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। বলা হয়: ‘ইনি আমার জননী’, যার অর্থ হলো ‘আমার মা’, এটি সেই অর্থে নয় যে ‘তিনি আমাকে প্রসব করেছেন’। আর এটি আপনার কাছে স্পষ্ট করে...

--------------------------------------------

(1) যেমনটি ‘তাজুল আরুস’ (ولد) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬৯৯)
الفرقَ تصوُّرُ الولادة عند قولك: "التي ولدتْني" حتمًا، بخلاف الحال عند قولك: "أمي".

وبهذا الاعتبار أُطلِق على الأب "والد" ثم ثَنَّوهما فقالوا: "والدانِ" تغليبًا. ومَن زعم أنه لا تغليبَ لحكاية ثعلب المتقدمة فقد غفلَ؛ لأن "والد" في حكاية ثعلب وصفٌ لا اسمٌ، والوالدان اسمٌ لا وصف. وأيضًا التثنية واردة في الكلام بكثرةٍ، وحكاية ثعلب نادرة.

بقي أنه قد يقال للجدّ وإن علا: "والد"، وللجدة وإن علَتْ: "والدة"، والجيراجي(1) يزعم أنه حقيقة، والحق أنه مجاز بدليل العلامات التي ذكرها أهل العلم للتفرقة بين الحقيقة والمجاز. وسيأتي ما يتعلق بهذا في بحث الأولاد إن شاء الله تعالى.

{وَالْأَقْرَبِينَ}

 

‌‌فصل في معنى "الأقربين" في المواضع كلِّها

الأقربون يحتمل أن يُفسَّر على ثلاثة معانٍ:

المعنى الأول: الأشخاص الذين كلُّ واحدٍ منهم أقربُ من سائر الناس مطلقًا، فلا يصدُق على ابن الابن والجدّ؛ لأن الابن أقرب منهما، وإنما يصدُق على الأبوين والبنين.

المعنى الثاني: الذين كلُّ واحدٍ منهم أقرب من سائر الأحياء عند الموت.

--------------------------------------------

(1) في كتابه "الوراثة في الإسلام" (ص 36).
পার্থক্য হলো, যখন আপনি বলেন: "যিনি আমাকে জন্ম দিয়েছেন", তখন নিশ্চিতভাবে জন্মদানের বিষয়টি কল্পনায় আসে, যা "আমার মা" বলার ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে পিতাকে "ওয়ালিদ" বলা হয়, অতঃপর প্রাধান্য দেওয়ার (تغليبًا) ভিত্তিতে উভয়ের ক্ষেত্রে দ্বিবচন (تثنية) ব্যবহার করে "ওয়ালিদাইন" (والدان) বলা হয়। আর সা'লাবের পূর্বোক্ত বর্ণনার কারণে যারা দাবি করেন যে এখানে প্রাধান্য দেওয়ার (تغليب) কোনো বিষয় নেই, তারা গাফেল বা অসতর্ক হয়েছেন; কারণ সা'লাবের বর্ণনায় "ওয়ালিদ" একটি বিশেষণ (وصف), বিশেষ্য (اسم) নয়, আর "ওয়ালিদাইন" হলো বিশেষ্য (اسم), বিশেষণ (وصف) নয়। এছাড়া দ্বিবচন (تثنية) এর ব্যবহার কথাবার্তায় প্রচুর রয়েছে, পক্ষান্তরে সা'লাবের বর্ণনাটি বিরল (نادر)।

অবশিষ্ট কথা হলো, দাদাকে (বা তার ঊর্ধ্বতনদের) "ওয়ালিদ" এবং দাদিকে (বা তার ঊর্ধ্বতনদের) "ওয়ালিদাহ" বলা হয়ে থাকে। আল-জিরাজি(১) দাবি করেন যে এটি মূল অর্থ বা হাকিকাত (حقيقة), কিন্তু সঠিক কথা হলো এটি রূপক বা মাজাজ (مجاز); যার প্রমাণ হলো সেই সব আলামত যা আলেমগণ হাকিকাত (حقيقة) ও মাজাজ (مجاز)-এর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য উল্লেখ করেছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা সন্তানদের আলোচনায় এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয় আসবে।

{এবং নিকটাত্মীয়গণ}

 

‌‌সকল স্থানে "আকরাবীন" (নিকটাত্মীয়)-এর অর্থ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

"আকরাবীন" শব্দটিকে তিনটি অর্থে ব্যাখ্যা করার সম্ভাবনা রয়েছে:

প্রথম অর্থ: এমন ব্যক্তিবর্গ যাদের প্রত্যেকেই সাধারণভাবে অন্য সব মানুষের চেয়ে অধিক নিকটবর্তী। সুতরাং এটি নাতির পুত্র বা দাদার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না; কারণ পুত্র তাদের উভয়ের চেয়ে অধিক নিকটবর্তী। বরং এটি কেবল পিতামাতা এবং সন্তানদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়।

দ্বিতীয় অর্থ: যারা মৃত্যুর সময় অন্যান্য জীবিত ব্যক্তিদের তুলনায় অধিক নিকটবর্তী।

--------------------------------------------

(১) তাঁর রচিত "আল-ওয়িরাসা ফিল ইসলাম" (পৃ. ৩৬) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০০)
المعنى الثالث: الأشخاص الذين هم من حيث المجموع أقربُ من غيرهم، وإن كان بعضهم أقربَ من بعض، أو قُل: الذين كلُّ فردٍ منهم أقربُ ممن ليس من الأقارب.

وأرجح هذه المعاني: الثالث؛ لأنه هو المتبادر، فإنك إذا قلتَ: هؤلاء أقاربُ زيدٍ، لم يُفهَم منه إلا المعنى الثالث. والأقارب والأقربون واحدٌ، بل لا نعلم لفظ "الأقربين" جاء لغير المعنى الثالث. وهاك إثبات مجيئه بالمعنى الثالث.

1 - اقتصر عليه أهلُ اللغة، قالوا ــ والعبارة "للقاموس"(1) ــ: "وأقرباؤك وأقاربك وأقربوك: عشيِرتك الأدنَونَ". وقال في العشيرة(2): "وعشيرة الرجل: بَنُو أبيه الأدنَونَ أو القبيلة". وكذا في "اللسان"(3) إلّا أنه قال: "وقيل: القبيلة".

وفي "شرح القاموس"(4) في "شعب": أن ترتيب بيوت العرب: شَعْب، فقبيلة، فعمارة، فبطن، ففخذ، ففصيلة". ونقل عن بعضهم أن الفصيلة هي العشيرة، وعن آخر أن العشيرة دون الفصيلة. وعلى كلِّ حالٍ فلا أقلّ من العشيرة، وهذا هو الصواب.

وأما قولهم: "وقيل: هي القبيلة"، فكأن قائله ــ والله أعلم ــ أخذه من

--------------------------------------------

(1) (1/ 114) ط. بولاق.

(2) (2/ 90).

(3) (6/ 250) ط. بولاق.

(4) "تاج العروس" (3/ 134) ط. الكويت.
তৃতীয় অর্থ: ঐ সকল ব্যক্তি যারা সামগ্রিকভাবে অন্যদের তুলনায় অধিক নিকটবর্তী, যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে অপরের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ হতে পারে; অথবা এভাবে বলা যায়: যাদের প্রত্যেক ব্যক্তিই অনাত্মীয়দের তুলনায় নিকটতর।

আর এই অর্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য হলো: তৃতীয়টি; কারণ এটিই স্বতস্ফূর্তভাবে বোধগম্য হয়। কেননা আপনি যখন বলেন: "এরা যায়িদের আত্মীয়", তখন তা দ্বারা এই তৃতীয় অর্থটিই বোঝা যায়। 'আকারিব' এবং 'আকরাবুন' অভিন্ন অর্থবোধক; বরং আমাদের জানামতে 'আকরাবুন' শব্দটি তৃতীয় অর্থটি ছাড়া অন্য কোনো অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। আর এই তৃতীয় অর্থে শব্দটির ব্যবহারের প্রমাণ নিচে দেওয়া হলো:

১ - ভাষাবিদগণ কেবল এই অর্থটিই গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন — আর এই উদ্ধৃতিটি 'আল-কামুস' গ্রন্থের(১) — : "তোমার আকরাবা, আকারিব এবং আকরাবু হলো তোমার নিকটতম আশিরা (বংশীয় স্বজন)।" তিনি 'আশিরা' সম্পর্কে বলেছেন(২): "কোনো ব্যক্তির আশিরা হলো তার পিতার নিকটস্থ বংশধর বা কাবিলা (গোত্র)।" 'আল-লিসান' গ্রন্থেও(৩) অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, তবে সেখানে বলা হয়েছে: "এবং বলা হয়েছে: এটি হলো কাবিলা (গোত্র)।"

'শারহুল কামুস' (তাজুল আরুস) গ্রন্থের(৪) 'শা'ব' অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে যে: আরবদের বংশীয় স্তরবিন্যাস হলো: শা'ব, তারপর কাবিলা, তারপর ইমারা, তারপর বাতান, তারপর ফাখিজ এবং সবশেষে ফাসিলা। কারো কারো পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ফাসিলা-ই হলো আশিরা। আবার অন্যদের মতে, আশিরা হলো ফাসিলার পরবর্তী নিম্নতর স্তর। যাই হোক, এটি অন্তত আশিরা-এর চেয়ে কম নয় এবং এটিই সঠিক।

আর তাঁদের এই উক্তি: "এবং বলা হয়েছে: এটি হলো কাবিলা", সম্ভবত এর প্রবক্তা — আল্লাহই ভালো জানেন — এটি গ্রহণ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) (১/ ১১৪) বুলাক সংস্করণ।

(২) (২/ ৯০)।

(৩) (৬/ ২৫০) বুলাক সংস্করণ।

(৪) "তাজুল আরুস" (৩/ ১৩৪) কুয়েত সংস্করণ।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০১)
قوله عز وجل: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} [الشعراء: 214]، مع ما ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم عند نزولها أنذرَ قريشًا أجمعَ(1). وهذا يحتمل التأويل، قال الحافظ في "الفتح"(2): يحتمل أن يكون أولًا خَصَّ اتباعًا لظاهر القرآن، ثم عمَّ لما عنده من الدليل على التعميم، لكونه أُرسِل إلى الناس كافَّةً.

أقول: وعلى هذا فالوصف في الآية كاشفٌ فقط، بل ليس بوصفٍ، وإنما هو بدلالة الأقربين قد تجرَّد عن الوصفية، وغلب في استعمالِه استقلالُه. ويؤيد هذا أنه لو كان وصفًا لطابق لفظ "العشيرة"، بأن يقال: "القُربَى" مثلًا.

ومما يؤيِّد أن العشيرة اسم لأقلِّ العقود في النسب قولُه تعالى في التوبة: {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ … } الآية [24]، وقوله عز وجل في سورة المجادلة: {لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ} الآية [22].

ويؤيده أيضًا أن اشتقاقه من العَشرة، وهي أول عَقدٍ في العدد. هكذا ينبغي توجيه الاشتقاق، فالعشيرة أولُ عقدٍ في النسب، وكذلك الأقربون.

وقد أوضح الإمام الشافعي معنى هذا في "الأم" في باب الوصية للقرابة (ج 4 ص 38)(3)، فمثَّل بنسبِ نفسه، فذكر أولًا بني عبد مناف، ثم

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (2753، 3527، 4771) ومسلم (204، 206) عن أبي هريرة.

(2) (5/ 382، 383). وفيه: "اتباعًا بظاهر القرابة" وهو تصحيف.

(3) (5/ 239) ط. دار الوفاء.
মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} [আশ-শুআরা: ২১৪], এর সাথে যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় সমগ্র কুরাইশকে সতর্ক করেছিলেন(১)। এটি ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে; হাফিজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারি'-তে বলেছেন(২): সম্ভব যে, তিনি প্রথমে কুরআনের বাহ্যিক অর্থের অনুসরণে কেবল নিকটাত্মীয়দের নির্দিষ্ট করেছিলেন, অতঃপর তাঁর নিকট বিদ্যমান সাধারণীকরণের দলিলের ভিত্তিতে তিনি তা ব্যাপক করেন, যেহেতু তিনি সমগ্র মানবজাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছেন।

আমি বলি: এই ভিত্তিতে আয়াতে বর্ণিত গুণবাচক শব্দটি কেবল ব্যাখ্যামূলক, বরং এটি কোনো বিশেষণ নয়; বরং এটি 'নিকটতম' (الأقربين) শব্দটির অর্থ-নির্দেশক হওয়ার কারণে বিশেষণীয় গুণ থেকে মুক্ত হয়ে স্বতন্ত্র ব্যবহারেই প্রাধান্য পেয়েছে। এর সপক্ষে যুক্তি হলো যে, এটি যদি বিশেষণ হতো তবে তা 'আশিরাহ' শব্দের সাথে ব্যাকরণগতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো, যেমন বলা হতো: 'আল-কুরবা' উদাহরণস্বরূপ।

'আশিরাহ' শব্দটি যে বংশপরম্পরার সর্বনিম্ন পর্যায়কে বোঝায়, তার সমর্থনে মহান আল্লাহর বাণী রয়েছে সূরা আত-তাওবায়: {বলুন, যদি তোমাদের নিকট তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভ্রাতা, তোমাদের পত্নী ও তোমাদের গোষ্ঠী... প্রিয়তর হয়} [আয়াত: ২৪], এবং সূরা আল-মুজাদালায় মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী এমন কোনো সম্প্রদায় আপনি পাবেন না, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের ভালোবাসে, হোক না তারা তাদের পিতা, সন্তান, ভ্রাতা অথবা তাদের গোষ্ঠী} [আয়াত: ২২]।

এটি আরও সমর্থিত হয় এ থেকে যে, এর ব্যুৎপত্তিগত মূল হলো 'আশারাহ' (দশ) থেকে, যা সংখ্যার গণনার প্রথম পূর্ণ স্তর। ব্যুৎপত্তিগত বিশ্লেষণটি এভাবেই হওয়া সমীচীন; সুতরাং 'আশিরাহ' হলো বংশপরম্পরার প্রথম স্তর, এবং 'নিকটতম' (الأقربون) শব্দটিও তাই।

ইমাম শাফেয়ী 'আল-উম্ম' গ্রন্থে 'আত্মীয়দের জন্য অসিয়ত' পরিচ্ছেদে (৪র্থ খণ্ড, ৩৮ পৃষ্ঠা)(৩) এর অর্থ স্পষ্ট করেছেন। তিনি নিজের বংশের উদাহরণ দিয়ে প্রথমে বনু আবদে মানাফের কথা উল্লেখ করেছেন, তারপর

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (২৭৫৩, ৩৫২৭, ৪৭৭১) এবং মুসলিম (২০৪, ২০৬) আবু হুরায়রা থেকে উদ্ধৃত (أخرجه) করেছেন।

(২) (৫/ ৩৮২, ৩৮৩)। এতে রয়েছে: "নিকটাত্মীয়দের অনুসরণে" যা একটি বর্ণবিভ্রাট (تصحيف)।

(৩) (৫/ ২৩৯) দারুল ওয়াফা প্রকাশনী।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০২)
ذكر أنهم تفرقوا، ومن جملة الفِرق بنو المطلب، ثم أخذ يُسلْسِلُهم إلى أن بلغ ببني السائب بن يزيد، فذكر أنهم تفرقوا إلى: بني شافع وبني علي وبني عباس، ثم قال: "فإذا كان من آلِ شافعٍ فقال: لقرابته(1)، فهو لآلِ شافعٍ دونَ آل علي وآل عباس، وذلك أن هؤلاء يتميزون ظاهرَ التمييز من البطن الآخر، يعرف ذلك منهم إذا قصدوا آباءهم دونَ الشعوب والقبائل في آبائهم، وفي تناصرهم وتناكحهم".

فالحاصل أن الأقرباءَ والأقارب هم أدنى فصيلةٍ للرجل يختصون باسم، ولا عبرة بعدد الآباء. ففي مثال الشافعي لم يكن بنو السائب أقاربَه، لأنهم قد تفرعوا فروعًا اختصَّ كلُّ منهم باسم ........................................ .................................................

بخذلانهم في واقعة شعب ....... بل كان أقاربه صلى الله عليه وسلم بني هاشم؛ لأنهم ............ بني المطلب لمكان الموالاة، [كما] في "صحيح البخاري"(2) عن جبير بن مطعم.

وأقول: كان بنو عبد منافٍ شَعبًا واحدًا، فتفرعوا، فلما جاء الإسلام وخذل … عبد مناف بني هاشم وبني المطلب، لم يكن بُدٌّ من التميز .... ، والله أعلم.

2 ــ في "الصحيحين"(3) عن أنس في قصة أبي طلحة في تصدُّقِه ببَيْرُحَاء أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال له: " … وإني أرى أن تجعلها في الأقربين". قال

--------------------------------------------

(1) أي إذا أوصى بماله فقال: "هو لقرابتي".

(2) رقم (3140، 3502، 4229) بلفظ: "إنما بنو المطلب وبنو هاشم شيء واحد".

(3) البخاري (1461) ومسلم (998).
ذكر أنهم تفرقوا، ومن جملة الفِرق بنو المطلب، ثم أخذ يُسلْسِلُهم إلى أن بلغ ببني السائب بن يزيد، فذكر أنهم تفرقوا إلى: بني شافع وبني علي وبني عباس، ثم قال: "فإذا كان من آلِ شافعٍ فقال: لقرابته(1)، فهو لآلِ شافعٍ دونَ آل علي وآل عباس، وذلك أن هؤلاء يتميزون ظاهرَ التمييز من البطن الآخر، يعرف ذلك منهم إذا قصدوا آباءهم دونَ الشعوب والقبائل في آبائهم، وفي تناصرهم وتناكحهم".

উল্লেখ করা হয়েছে যে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং সেই দলগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল বনু মুত্তালিব। অতঃপর তিনি তাদের বংশপরম্পরা বর্ণনা করতে শুরু করেন যতক্ষণ না তিনি বনু সায়েব ইবনে ইয়াজিদ পর্যন্ত পৌঁছান। তারপর তিনি উল্লেখ করেন যে তারা বনু শাফেয়ি, বনু আলী এবং বনু আব্বাস—এই শাখাগুলোতে বিভক্ত হয়েছিল। এরপর তিনি বলেন: "যদি কেউ শাফেয়ি বংশোদ্ভূত হয় এবং বলে: 'আমার নিকটাত্মীয়দের জন্য'(১), তবে তা শাফেয়ি বংশের জন্যই গণ্য হবে, আলী বা আব্বাস বংশের জন্য নয়। এর কারণ হলো, এরা অন্য উপশাখা (بطن) থেকে স্পষ্টভাবে পৃথক হিসেবে চিহ্নিত। এটি তাদের সম্পর্কে তখনই জানা যায় যখন তারা তাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে বৃহৎ জাতি (شعوب) বা গোত্রসমূহের (قبائل) পরিবর্তে সরাসরি নিজ নিজ পিতাদের দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করে থাকে এবং এটি তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়।"

فالحاصل أن الأقرباءَ والأقارب هم أدنى فصيلةٍ للرجل يختصون باسم، ولا عبرة بعدد الآباء. ففي مثال الشافعي لم يكن بنو السائب أقاربَه، لأنهم قد تفرعوا فروعًا اختصَّ كلُّ منهم باسم ........................................ .................................................

সারকথা হলো, আত্মীয় ও নিকটাত্মীয় বলতে কোনো ব্যক্তির নিকটতম উপদলকে (فصيلة) বোঝায় যারা একটি বিশেষ নামে পরিচিত, এবং এখানে পূর্বপুরুষের সংখ্যার কোনো বিচার নেই। সুতরাং ইমাম শাফেয়ি-এর উদাহরণে বনু সায়েব তাঁর নিকটাত্মীয় ছিল না, কারণ তারা এমন সব শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়েছিল যেগুলোর প্রতিটি আলাদা আলাদা নামে পরিচিতি লাভ করেছিল ........................................ .................................................

بخذلانهم في واقعة شعب ....... بل كان أقاربه صلى الله عليه وسلم بني هاشম؛ لأنهم ............ بني المطلب لمكان الموالاة، [كما] في "صحيح البخاري"(2) عن جبير بن مطعم.

শি'ব (গিরিপথ)-এর ঘটনায় তাদের পরিত্যাগ করার কারণে... বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটাত্মীয় ছিলেন বনু হাশিম; কারণ তারা... এবং বনু মুত্তালিব তাদের মৈত্রীবন্ধন ও আনুগত্যের (موالاة) কারণে, যেমনটি জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে সহিহ বুখারি(২)-তে বর্ণিত হয়েছে।

وأقول: كان بنو عبد منافٍ شَعبًا واحدًا، فتفرعوا، فلما جاء الإسلام وخذل … عبد مناف بني هاشم وبني المطلب، لم يكن بُدٌّ من التميز .... ، والله أعلم.

আমি বলছি: বনু আবদে মানাফ একটি একক বৃহৎ বংশ (شعب) ছিল, অতঃপর তারা বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়। যখন ইসলাম আগমন করল এবং আবদে মানাফের (অন্যান্য শাখা) বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবকে অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দিল, তখন পৃথক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা অনিবার্য হয়ে পড়ল... আর আল্লাহই ভালো জানেন।

2 ــ في "الصحيحين"(3) عن أنস في قصة أبي طلحة في تصدُّقِه ببَيْرُحَاء أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال له: " … وإني أرى أن تجعلها في الأقربين". قال

--------------------------------------------

(1) أي إذا أوصى بماله فقال: "هو لقرابتي".

(2) رقم (3140، 3502، 4229) بلفظ: "إنما بنو المطلب وبنو هاشم شيء واحد".

(3) البخاري (1461) ومسلم (998).
২ — আস-সহিহাইন(৩)-এ আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আবু তালহা (রা.)-এর বিরুহা নামক বাগান সদকা করার ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: "...এবং আমি উপযুক্ত মনে করি যে, তুমি এটি তোমার নিকটাত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করে দাও।" তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ, যদি তিনি তাঁর সম্পদের অসিয়ত করে বলেন: "এটি আমার নিকটাত্মীয়দের জন্য।"

(২) নম্বর (৩১৪০, ৩৫০২, ৪২২৯), এই শব্দে: "নিশ্চয়ই বনু মুত্তালিব এবং বনু হাশিম একই সত্তা।"

(৩) বুখারি (১৪৬১) ও মুসলিম (৯৯৮)।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০৩)
أنس: فقال أبو طلحة: أفعلُ يا رسولَ الله، فقسمَها أبو طلحة في أقاربِه وبني عمّه".

وفي أكثر الروايات أنه جعلها لحسان بن ثابت وأُبي بن كعب، وحسَّان أقربُ إليه. وفي رواية للبخاري(1): "فجعلها أبو طلحة في ذوي رحمه، وكان منهم حسَّان وأُبي بن كعب". وجاء من وجهٍ ضعيفٍ(2) زيادةُ أوس بن ثابت أخي حسان، أو ابنه شدّاد بن أوس ونبيط بن جابر، وهؤلاء الأربعة يجمعهم مع أبي طلحة مالك بن النجّار، وبعضهم أقرب إلى أبي طلحة من بعضٍ.

والظاهر أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أخذ الجواب من قول الله عز وجل: {يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلْ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ … }. وكان والدا أبي طلحة قد توفيا، وبنو مالك بن النَّجار هم أقربُ فصيلةٍ لأبي طلحة.

3 - وفي "الصحيحين"(3) عن ابن عباس قال: لما نزلت {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} صعد النبي صلى الله عليه وآله وسلم الصفا، فجعل ينادي: "يا بني فِهر! يا بني عدي! … " لبطون قريش.

ونحوه في "الصحيحين"(4) أيضًا عن أبي هريرة، وذكر فيه: "يا معشر قريش! يا بني عبد مناف! يا بني عباس بن عبد المطلب! يا صفية عمة

--------------------------------------------

(1) رقم (2758).

(2) ذكره محمد بن الحسن بن زبالة في كتاب المدينة كما في "الفتح" (5/ 381).

(3) البخاري (4801، 4971) ومسلم (208).

(4) البخاري (2753، 3527، 4771) ومسلم (204، 206).
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত: আবু তালহা (রা.) বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি তা-ই করব। এরপর আবু তালহা সেটি তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।"

অধিকাংশ বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি তা হাসসান ইবনে সাবিত ও উবাই ইবনে কাবের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন, আর হাসসান ছিলেন তাঁর অধিক নিকটাত্মীয়। বুখারির একটি বর্ণনায়(১) এসেছে: "অতঃপর আবু তালহা তা তাঁর নিকটাত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করে দিলেন, তাঁদের মধ্যে হাসসান ও উবাই ইবনে কাবও ছিলেন।" একটি দুর্বল (ضعيف)(২) সূত্রে হাসসানের ভাই আওস ইবনে সাবিত অথবা তাঁর পুত্র শাদ্দাদ ইবনে আওস এবং নুবাইত ইবনে জাবিরের নামও অতিরিক্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এই চারজনকে আবু তালহার সাথে মালিক ইবনে নাজ্জার একত্রিত করেছেন এবং তাঁদের কেউ কেউ অন্যের তুলনায় আবু তালহার অধিক নিকটবর্তী।

আর প্রকাশ্যত এটাই প্রতীয়মান হয় যে, নবী (সা.) মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে এর সমাধান গ্রহণ করেছিলেন: {তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে? বলুন, তোমরা যে সম্পদই ব্যয় করো না কেন তা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য...}। আর আবু তালহার পিতা-মাতা ইন্তেকাল করেছিলেন, তাই বনু মালিক ইবনে নাজ্জারই ছিল আবু তালহার নিকটতম পরিবার।

৩ - আর সহিহাইন(৩) গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন {আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} আয়াতটি নাজিল হলো, তখন নবী (সা.) সাফা পাহাড়ে আরোহণ করলেন এবং কুরাইশদের শাখা গোত্রগুলোকে ডেকে বলতে লাগলেন: "হে বনু ফিহর! হে বনু আদি! ..."

অনুরূপ বর্ণনা সহিহাইন(৪) গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে, যাতে উল্লেখ আছে: "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! হে বনু আবদে মানাফ! হে বনু আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব! হে সাফিয়্যাহ (রাসুলের) ফুফু...

--------------------------------------------

(১) নম্বর (২৭৫৮)।

(২) এটি মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে জুবাল্লাহ 'কিতাবুল মদিনা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি 'আল-ফাতহ' (৫/৩৮১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(৩) বুখারি (৪৮০১, ৪৯৭১) এবং মুসলিম (২০৮)।

(৪) বুখারি (২৭৫৩, ৩৫২৭, ৪৭৭১) এবং মুসলিম (২০৪, ২০৬)।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০৪)
رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم! يا فاطمة بنت محمد! ". وقد قدمنا توجيهه في الكلام على العشيرة.

ثم إن المعنى الأول لا يصح في آية الوصية؛ لحديث البخاري(1) وغيره عن ابن عباس قال: "كان المال للولد، والوصية للوالدين والأقربين". وسيأتي إن شاء الله تعالى أن حُكمه الرفع. وهو صريح في أن الولد لم يدخلوا في الأقربين، فلم يبقَ إلا الوالدان، وقد ذُكِرا نصًّا، فلا تبقى فائدة لذكر الأقربين، بل يكون في معنى عطف الشيء على نفسه.

وكذا لا يأتي في قوله عز وجل: {قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ} [النساء: 135] على تفسير {أَنْفُسِكُمْ} بأولادكم، ويشهد له ظاهر لفظ {شُهَدَاءَ} وأن الاعتراف قد تضمنه قوله: {قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ}.

وكذا لا يأتي في قوله تعالى: {يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلْ مَا أَنْفَقْتُمْ مِنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ} [البقرة: 215]، فإنهم إنما سألوا عن النفقة التي هي من قبيل الصدقة، ونفقتهم على أولادهم داخلة في نفقتهم على أنفسهم، وإذا كبر الأولاد فالغالب أن يكونوا مستولين على أموال آبائهم، أو يكون الوالدان قد شاخا وعجزا والأولاد أغنياء أو أقوياء، فيكون الوالدان هما المحتاجين إلى أولادهما.

--------------------------------------------

(1) رقم (2747، 4578).
"আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)! হে ফাতেমা বিনতে মুহাম্মদ!"। আমরা নিকটাত্মীয়দের প্রসঙ্গে আলোচনার সময় এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

অতঃপর প্রথম অর্থটি অসিয়তের আয়াতের ক্ষেত্রে সঠিক নয়; বুখারী(১) ও অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: "সম্পদ ছিল সন্তানের জন্য, আর অসিয়ত ছিল পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য"। ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে যে, এর বিধান হলো মারফূ (الرفع)। আর এটি স্পষ্ট যে, সন্তানরা 'নিকটাত্মীয়' শব্দের অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে কেবল পিতামাতাই অবশিষ্ট থাকেন এবং তাঁদের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় 'নিকটাত্মীয়' শব্দ উল্লেখ করার কোনো সার্থকতা থাকে না, বরং এটি কোনো বিষয়কে নিজের ওপরই সংযুক্ত করার নামান্তর।

তদ্রূপ মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য নয়: "তোমরা ন্যায়ের ওপর অটল থাক, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষী হিসেবে, যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়" [নিসা: ১৩৫], যদি 'তোমাদের নিজেদের' শব্দটির ব্যাখ্যা 'তোমাদের সন্তান' হিসেবে করা হয়। 'সাক্ষী' শব্দের বাহ্যিক রূপ এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয় এবং 'ন্যায়ের ওপর অটল থাকা' কথাটির মধ্যেই স্বীকারোক্তি নিহিত রয়েছে।

অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলার এই বাণীতেও তা খাটে না: "তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে? বলুন, তোমরা যে কল্যাণকর সম্পদ ব্যয় করবে তা পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য" [বাকারা: ২১৫]। কেননা তারা মূলত সেই ব্যয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল যা সদকা হিসেবে গণ্য, আর সন্তানদের জন্য তাদের ব্যয় তো নিজেদের জন্য ব্যয়েরই অন্তর্ভুক্ত। তা ছাড়া সন্তানরা যখন বড় হয়, তখন সাধারণত তারাই তাদের পিতার সম্পদের ওপর কর্তৃত্বশীল হয়, অথবা পিতামাতা বৃদ্ধ ও অক্ষম হয়ে পড়েন এবং সন্তানরা সচ্ছল বা শক্তিশালী হয়; ফলে পিতামাতাই বরং তখন তাদের সন্তানদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকেন।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (২৭৪৭, ৪৫৭৮)।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০৫)
على أن حديث أنس السابق هو في معنى تفسيرٍ لهذه الآية، وقد علمتَ أنه لا يأتي إلا على المعنى الثالث.

والمعنى الثاني ــ مع ما فيه من التقييد المخالف للظاهر، وكون الأدلة التي ذكرناها في ترجيح المعنى الثالث تردُّه ــ يلزم عليه مخالفةُ آيات المواريث لآية الوصية في المستحقين. وبيانه: أن الأقربين في آية الوصية وارثون، وفي آيات الميراث موروثون، فمعنى آية الوصية على المعنى الثاني: أن يوصي المحتضر للوالدين والأشخاص الذين هم أقربُ إليه عند الاحتضار. فيخرج ابن الابن إذا كان هناك ابن آخر أو بنت أو أب، فلا يكون ابن الابن على هذا مستحقًّا. ومعنى آية الميراث: للرجال نصيبٌ يَرِثُه كلٌّ منهم مما ترك والداه أو شخص أقربُ إليه ممن ترك بعده، فيدخل الجدّ في المثال المتقدّم، فيكون ابن الابن في ذلك المثال مستحقًّا. وكذلك يخرج من آية الوصية ابنُ الأخ إذا كان لعمّه المحتضر أولاد؛ لأنه ليس بأقرب إلى عمّه المحتضر، ولكنه يدخل في آيات الميراث، لأن المتوفى أقرب إليه ممن ترك بعده إذا كان ابن الأخ منقطعًا. وهناك صورٌ أخرى لا نُطيل بذكرها.

وهذا كافٍ في إبطال المعنى الثاني في آيات الوصية والميراث، لأن آية الوصية كانت قائمة مقامَ بعض التوريث عندنا، وقائمة مقام التوريث أبدًا عند الجيراجي، فيجب عدمُ مخالفتها لآيات المواريث في تعيين المستحقين.

ويحتمل أن يُورَد على المعنى الثالث أمورٌ:

منها: أن الظاهر أنه بمعنى "ذوي القربي"، لم يقصد التفضيل فيه مع أن الصيغة صيغة التفضيل.
অধিকন্তু, আনাস (রা.)-এর পূর্ববর্তী হাদিসটি এই আয়াতের ব্যাখ্যার (تفسير) অর্থ বহন করে এবং আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন যে, এটি তৃতীয় অর্থ ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ প্রদান করে না।

আর দ্বিতীয় অর্থটি—তাতে বাহ্যিক (الظاهر) অর্থের পরিপন্থী সীমাবদ্ধকরণের (التقييد) উপস্থিতি এবং তৃতীয় অর্থটিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বর্ণিত দলীলসমূহ একে প্রত্যাখ্যান করা সত্ত্বেও—হকের দাবিদারদের ক্ষেত্রে মিরাস সংক্রান্ত আয়াতসমূহের সাথে অসিয়ত সংক্রান্ত আয়াতের বৈপরীত্য সৃষ্টি করা আবশ্যক করে। এর ব্যাখ্যা হলো: অসিয়ত সংক্রান্ত আয়াতে ‘নিকটাত্মীয়রা’ হলো অসিয়ত গ্রহীতা, আর মিরাস সংক্রান্ত আয়াতসমূহে তারা উত্তরাধিকারী। সুতরাং দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী অসিয়ত সংক্রান্ত আয়াতের মর্ম হলো: মুমূর্ষু ব্যক্তি তার পিতামাতা এবং মৃত্যুর সময় যারা তার সবচেয়ে নিকটবর্তী (أقرب) তাদের জন্য অসিয়ত করবে। এমতাবস্থায়, যদি সেখানে অন্য কোনো পুত্র, কন্যা বা পিতা বর্তমান থাকে, তবে নাতি (পুত্রের পুত্র) বাদ পড়ে যাবে; ফলে এই অর্থ অনুযায়ী নাতি হকের দাবিদার হবে না। আর মিরাস সংক্রান্ত আয়াতের অর্থ হলো: পুরুষদের জন্য একটি নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে, যা তাদের প্রত্যেকেই তার পিতামাতা বা তার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া নিকটতম ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করবে। সুতরাং পূর্বোক্ত উদাহরণে দাদা অন্তর্ভুক্ত হবেন, ফলে সেই উদাহরণে নাতি হকের দাবিদার হিসেবে গণ্য হবে। একইভাবে, মুমূর্ষু চাচার যদি সন্তান থাকে, তবে অসিয়ত সংক্রান্ত আয়াত থেকে ভাতিজা (ভাইয়ের ছেলে) বহির্ভূত হয়ে যাবে; কারণ সে তার মুমূর্ষু চাচার জন্য নিকটতম ব্যক্তি নয়। কিন্তু সে মিরাস সংক্রান্ত আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ মৃত ব্যক্তি তার পরে রেখে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তার (ভাতিজার) অধিক নিকটবর্তী, যদি ভাতিজা বিচ্ছিন্ন (منقطعًا) হয়ে থাকে। এছাড়া আরও অনেক সুরত রয়েছে যা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমরা উল্লেখ করছি না।

আর অসিয়ত ও মিরাস সংক্রান্ত আয়াতসমূহে দ্বিতীয় অর্থটি বাতিলের জন্য এটিই যথেষ্ট। কারণ অসিয়তের আয়াতটি আমাদের নিকট উত্তরাধিকারের (التوريث) আংশিক স্থলাভিষিক্ত ছিল এবং জাইরাজীর নিকট তা সর্বদা উত্তরাধিকারের স্থলাভিষিক্ত; সুতরাং হকের দাবিদার নির্ধারণের ক্ষেত্রে মিরাস সংক্রান্ত আয়াতসমূহের সাথে এর বৈপরীত্য না থাকা আবশ্যক।

তৃতীয় অর্থের ওপর কয়েকটি বিষয় আপতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে:

তার মধ্যে একটি হলো: বাহ্যিকভাবে (الظاهر) এটি ‘নিকটাত্মীয়’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, এখানে আতিশয্য (التفضيل) বুঝানো উদ্দেশ্য নয়, যদিও শব্দমূলটি আতিশয্যবোধক রূপের (صيغة التفضيل)।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০৬)
ومنها: أن المعروف في المواريث أنه لو انقرضَ آلُ شافع في مثال الشافعي إلا واحدًا فمات، وعرف عصبة من الفريقين الآخرين آل علي وآل عباس، دُفِع ميراثه إليه، مع أن الآية خصَّت الأقربين.

ومنها: أنه يكون ظاهر العموم استحقاق كلِّ واحدٍ منهم ولو اجتمعوا، وهو غير مرادٍ قطعًا.

والجواب عن الأمر الأول: أنهم وإن لم يكن كل واحد منهم أقرب مطلقًا فالمجموع أقربون. بل نقول: إن كل واحدٍ أقرب أي ممن لم يدخل في المجموع، كما إذا قلنا: إن أقارب النبي صلى الله عليه وآله وسلم هم بنو هاشم، فإننا نقول: أبو سفيان بن الحارث أقرب من أبي سفيان بن حرب.

ومع هذا فقد ثبت ورود "الأقربين" بالمعنى الثالث كما قدَّمناه، وورد نظيره في احتمال ورود هذا الاعتراض عليه، كقولهم في تفسير "العشيرة": بنو أبيه الأدنَون بصيغة التفضيل.

وعن الأمر الثاني: بأن الآية خرجت مخرجَ الغالب، والغالب أن العشيرة لا ينقرض كلُّها.

ومع هذا فالآيات لم تنزل للتحديد المفصّل، وإنما نزلت في مقاماتٍ لا يضرُّ في مثلها الإجمال. أما في آية الوصية فلأنها كانت موكولةً إلى نظر الموصي يجتهد رأيه، وقد علم الله عز وجل أنها ليست حكمًا دائمًا، وإنما هي تدريج اقتضته الحكمة، فاغتُفِر ما يقع فيه من الجنف والإثم، كما سيأتي إن شاء الله تعالى.

وأما في آيات المواريث فلأن قوله: {وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ} [النساء: 33]، وقوله: {لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ
এর মধ্যে একটি হলো: উত্তরাধিকার সংক্রান্ত (المواريث) পরিচিত নিয়ম হলো, শাফেয়ীর উদাহরণের মতো যদি শাফে’র বংশধরগণ একজন ব্যতীত সবাই বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং সেই শেষ ব্যক্তিটিও মারা যায়, আর অন্য দুটি দল—আলী ও আব্বাসের বংশধরদের মধ্য হতে আসাবা (عصبة) বা রক্তসম্পর্কীয় উত্তরাধিকারী পাওয়া যায়, তবে তার মিরাস (ميراث) তাদেরকেই প্রদান করা হয়; যদিও আয়াতটি নিকটাত্মীয়দেরকে (الأقربين) সুনির্দিষ্ট করেছিল।

আরেকটি বিষয় হলো: এর সাধারণ বাহ্যিক অর্থ (ظاهر العموم) থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তারা সবাই উপস্থিত থাকলেও তাদের প্রত্যেকেই এই হকের অধিকারী হবে, অথচ এটি নিশ্চিতভাবেই উদ্দেশ্য নয়।

প্রথম প্রসঙ্গের উত্তর হলো: যদিও তাদের প্রত্যেকে নিরঙ্কুশভাবে নিকটতম (أقرب مطلقًا) নয়, তবুও সমষ্টিগতভাবে তারা নিকটাত্মীয় (أقربون)। বরং আমরা বলি: তাদের প্রত্যেকেই ওই ব্যক্তির তুলনায় অধিক নিকটতর, যে এই সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন আমরা যদি বলি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের আত্মীয়রা হলেন বনু হাশিম, তবে আমরা বলি: আবু সুফিয়ান বিন হারবের তুলনায় আবু সুফিয়ান বিন আল-হারিস অধিক নিকটবর্তী (أقرب)।

তা সত্ত্বেও, আমরা পূর্বে যেমন বর্ণনা করেছি, 'নিকটাত্মীয়' (الأقربين) শব্দটি তৃতীয় অর্থে ব্যবহৃত হওয়া প্রমাণিত। এই আপত্তির সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রেও এর অনুরূপ উদাহরণ রয়েছে, যেমন 'নিকটাত্মীয়' (العشيرة) শব্দের তাফসিরে বলা হয়: তার পিতার নিকটতম বংশধর (الأدنَون), যা আধিক্যবোধক শব্দরূপে (بصيغة التفضيل) ব্যবহৃত হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রসঙ্গের উত্তর হলো: আয়াতটি সাধারণত যা ঘটে তার প্রেক্ষিতে (مخرج الغالب) অবতীর্ণ হয়েছে, আর সাধারণত বংশের সবাই বিলুপ্ত হয়ে যায় না।

এ সত্ত্বেও, আয়াতসমূহ বিস্তারিত সুনির্দিষ্টকরণের (التحديد المفصّل) জন্য অবতীর্ণ হয়নি, বরং এমন সব প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে যেখানে সংক্ষিপ্ততা বা অস্পষ্টতা (الإجمال) কোনো ক্ষতি করে না। অসিয়ত সংক্রান্ত আয়াতের (آية الوصية) ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, তা অসিয়তকারীর (الموصي) বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল যেন সে তার নিজ বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করতে পারে। আর মহান আল্লাহ জানতেন যে, এটি কোনো স্থায়ী বিধান নয়, বরং এটি ছিল হিকমত বা প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ী একটি ধারাবাহিক ক্রমধারা। তাই এতে যে সামান্য পক্ষপাতিত্ব (الجنف) বা গুনাহ (الإثم) সংঘটিত হয় তা ক্ষমাযোগ্য সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে বিস্তারিত আসবে।

আর মিরাস বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত (المواريث) আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, মহান আল্লাহর বাণী: {পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা (الأقربون) যা রেখে যায়, তার প্রত্যেকের জন্য আমি উত্তরাধিকারী (موالي) নির্ধারণ করেছি} [আন-নিসা: ৩৩], এবং তাঁর বাণী: {পিতা-মাতা যা রেখে যায় তাতে পুরুষদের অংশ রয়েছে...}
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০৭)
وَالْأَقْرَبُونَ وَلِلنِّسَاءِ نَصِيبٌ مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ وَالْأَقْرَبُونَ} [النساء: 7] هو مجمل على كل حال؛ لأن النصيب مجهول يحتاج إلى بيان، وبيان النصيب لابدّ أن يصحبه بيان المستحقين.

وعن الأمر الثالث: بأن تخصيص العمومات غير مستنكر، وقد قيل: ما من عامّ إلّا وقد خُصِّص. وهذا اللفظ ــ أعني "الأقربين" ــ لابدّ من تخصيصه على كل حال، حتى لو حُمِل على أحد المعنيين الأولين، وذلك في الكافر والقاتل.

وعلى المعنى الثاني لابدّ من التخصيص؛ لأنه يدخل في آيات المواريث ابنُ الأخ المنقطع وإن كان لعمّه المتوفى أولاد، وكذا يدخل الأخ للأم مع وجود الأولاد والأب، ويخرج العمّ الذي له ولد ولو لم يكن هناك وارثٌ غيره، لأن ولده أقرب إليه من الميت، وغير ذلك.

وقال الجيراجي (ص 25): "والمراد بالأقرب أن لا تكون واسطة بينه وبين المورث، إما مطلقًا، أو كانت لكن انتفت قبل وفاة المورث".

فإن أراد أن هذا معنى مستقل للأقربين فممنوع، وإن أراد المعنى الثاني بعد إخراج بعض الصور بالتخصيص ففيه ما تقدم. على أنه قال في (ص 11): "لأن قرابة بني الأعيان إلى المورث من جهتي الأب والأم معًا، فهم أقربون إليه من بني العلّات".

الظاهر أنه يريد الاستدلال بالقرآن على حَجْبِهم، فكان الصواب أن يقول: لأنه أقرب إليهم منه إلى بني العلات. وعلى كل حالٍ فهذا معنى آخر غير الذي قدَّمه، فإن هذا مبني على أن الأفضلية .... القرابة، وما تقدم مبني على الأفضلية في قرب القرابة، وهما معنيان متنافيان، فإن تلخيص الأول
"...নিকটাত্মীয়গণ, আর নারীদের জন্য অংশ রয়েছে যা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়রা রেখে গেছেন" [আন-নিসা: ৭] - এটি সর্বাবস্থায় একটি অস্পষ্ট (مجمل) বক্তব্য; কারণ এই অংশটি অজ্ঞাত যা ব্যাখ্যার (بيان) মুখাপেক্ষী। আর অংশের ব্যাখ্যার সাথে অবশ্যই হকদারদের ব্যাখ্যা থাকা আবশ্যক।

তৃতীয় বিষয়টি হলো: সাধারণ (عامّ) বিধিবিধানকে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করা আপত্তিকর নয়। বলা হয়ে থাকে: এমন কোনো সাধারণ (عامّ) বিধি নেই যা বিশেষায়িত (مخصص) হয়নি। আর এই শব্দটি—অর্থাৎ "নিকটাত্মীয়গণ"—সর্বাবস্থায় একে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করা আবশ্যক, এমনকি যদি এটিকে প্রথম দুটি অর্থের কোনো একটির ওপর প্রয়োগ করা হয় তবুও। যেমন- কাফির এবং হত্যাকারীর ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয় অর্থের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) অপরিহার্য; কারণ মিরাসের আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয় এমন ভ্রাতুষ্পুত্র যার উত্তরাধিকারের ধারা বিচ্ছিন্ন, যদিও তার মৃত চাচার সন্তানাদি বিদ্যমান থাকে। একইভাবে পিতা ও সন্তানের উপস্থিতিতে বৈমাত্রেয় ভাই অন্তর্ভুক্ত হয়। আবার এমন চাচা বাদ পড়ে যান যার সন্তান রয়েছে, যদিও সেখানে তিনি ছাড়া আর কোনো ওয়ারিশ না থাকে; কারণ তার সন্তান মৃত ব্যক্তির তুলনায় তার অধিক নিকটবর্তী। এ জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।

আল-জিরাজি (পৃষ্ঠা ২৫) বলেন: "নিকটবর্তী দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তার এবং মীরাস প্রদানকারীর মাঝে কোনো মাধ্যম না থাকা, চাই তা নিঃশর্তভাবে (مطلقًا) হোক, অথবা মাধ্যম থাকলেও মীরাস প্রদানকারীর মৃত্যুর আগে তা দূরীভূত হওয়া।"

তিনি যদি বুঝাতে চান যে এটি 'নিকটাত্মীয়' শব্দের একটি স্বতন্ত্র অর্থ, তবে তা অগ্রহণযোগ্য। আর যদি নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) মাধ্যমে কিছু রূপ বাদ দেওয়ার পর দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য নেন, তবে সে বিষয়ে আলোচনা আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে। অধিকন্তু তিনি (পৃষ্ঠা ১১) তে বলেছেন: "যেহেতু আপন ভাইদের (بنو الأعيان) সাথে মীরাস প্রদানকারীর আত্মীয়তা পিতা ও মাতা উভয় দিক থেকে, তাই তারা বৈমাত্রেয় ভাইদের (بنو العلات) তুলনায় তার অধিক নিকটবর্তী।"

প্রকাশ্যত মনে হচ্ছে তিনি তাদের বঞ্চিত (حجب) করার বিষয়ে কুরআন থেকে দলিল পেশ করতে চাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে সঠিক হতো যদি তিনি বলতেন: কারণ তিনি বৈমাত্রেয় ভাইদের তুলনায় তাদের অধিক নিকটবর্তী। যাই হোক, এটি তার পূর্বে বর্ণিত অর্থের অতিরিক্ত অন্য একটি অর্থ। কেননা এটি আধারিত শ্রেষ্ঠত্বের (أفضلية) ওপর... আত্মীয়তা, আর পূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা আধারিত ছিল আত্মীয়তার নৈকট্যের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর। আর এ দুটি অর্থ পরস্পর বিরোধী। প্রথমটির সারসংক্ষেপ হলো...
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০৮)
كون الميت أقرب إلى الشخص ممن ترك بعده، وبعد التخصيص أن لا يكون بينهما واسطة الشخص ممن ترك بعده، وبعد التخصيص أن لا يكون بينهما واسطة حية، وتلخيص الثاني كون الميت أقربَ إلى الشخص منه إلى غيره. وبَنى على الأول توريثَ ابنِ الابن مع ابنٍ آخر، وعلى الثاني حَجْبَ الإخوة لأمٍّ بالأشقّاء والإخوة لأب، وحَجْبَ الإخوة لأبٍ بالأشقّاء.

وأنتَ إذا تأملتَ وجدتَ صنيعَه متناقضًا، فإن الميت وإن كان أقربَ إلى ابنِ ابنِه من سائر الناس، فإنه ــ أعني الميت ــ أقربُ إلى ابنه منه إلى ابن ابنه. والميت وإن كان أقرب إلى شقيقه منه إلى أخيه لأبيه، فهو أقرب إلى أخيه لأبيه من سائر الناس.

الحاصل أن الميت وإن كان أقربَ إلى ابنِ ابنهِ بالمعنى الأول، فليس بأقربَ إليه بالمعنى الثاني، وهو وإن لم يكن أقربَ إلى أخيه لأبيه بالمعنى الثاني، فهو أقرب إليه بالمعنى الأول. فتوريثُ الجيراجي ابنَ الابن مع ابنٍ آخر ــ مع إسقاطه الأخَ لأمٍّ بالشقيقِ أو الأخ لأبٍ، وإسقاطه الأخَ لأبٍ بالشقيقِ ــ متناقضان، واحتجاجه بالآية في الموضعين تهافُتٌ كما تراه. وعلى كلِّ حال فكلا المعنيين مردود لما قدَّمنا.

واعلم أن الأقربين بالمعنى الثالث لا يدخل فيهم الوالدان ولا الأولاد، بدليل أنك إذا قلتَ: هؤلاء أقاربُ زيدٍ تبادر إلى الذهن أنه ليس له فيهم ولد ولا والد. ووجهُ ذلك ــ والله أعلم ــ شدّةُ قرب الولد والوالد، حتى كأنهما مع الشخص شيء واحد، كما يتحصل مما مثَّل به الصحابة رضي الله عنهم في مسألة الجد والإخوة.
মৃত ব্যক্তি তার পরে রেখে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো একজনের অধিকতর নিকটবর্তী হওয়া; এবং বিশেষীকরণের পর তাদের উভয়ের মাঝে কোনো জীবিত মাধ্যম না থাকা। আর দ্বিতীয়টির সারসংক্ষেপ হলো, মৃত ব্যক্তি অন্য সবার তুলনায় ওই ব্যক্তির অধিকতর নিকটবর্তী হওয়া। তিনি প্রথমটির ওপর ভিত্তি করে অন্য এক ছেলের উপস্থিতিতে নাতির (ছেলের ঘরের ছেলে) উত্তরাধিকারের বিধান দিয়েছেন। আর দ্বিতীয়টির ওপর ভিত্তি করে সহোদর ভাই ও বৈমাত্রেয় ভাইয়ের উপস্থিতিতে বৈপিত্রীয় ভাইয়ের বঞ্চিতকরণ (حجب) এবং সহোদর ভাইয়ের উপস্থিতিতে বৈমাত্রেয় ভাইয়ের বঞ্চিতকরণের (حجب) বিধান দিয়েছেন।

আপনি যদি গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে দেখবেন যে তাঁর এই কর্মটি স্ববিরোধী। কেননা মৃত ব্যক্তি যদিও অন্য সব মানুষের চেয়ে তাঁর নাতির অধিক নিকটবর্তী, তবুও তিনি—অর্থাৎ মৃত ব্যক্তি—তাঁর নাতির চেয়ে তাঁর নিজের ছেলের অধিক নিকটবর্তী। আবার মৃত ব্যক্তি যদিও তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইয়ের চেয়ে তাঁর সহোদর ভাইয়ের অধিক নিকটবর্তী, তবুও তিনি অন্য সব মানুষের তুলনায় তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইয়ের নিকটবর্তী।

মূল কথা হলো, মৃত ব্যক্তি প্রথম অর্থ অনুযায়ী যদিও তাঁর নাতির অধিক নিকটবর্তী হন, তবে দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী তাঁর নিকটবর্তী নন। আবার দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী যদিও তিনি তাঁর বৈমাত্রেয় ভাইয়ের অধিক নিকটবর্তী নন, তবুও প্রথম অর্থ অনুযায়ী তিনি তাঁর নিকটবর্তী। সুতরাং আল-জিরাজি কর্তৃক অন্য এক ছেলের সাথে নাতির উত্তরাধিকার সাব্যস্ত করা—পাশাপাশি সহোদর বা বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মাধ্যমে বৈপিত্রীয় ভাইকে এবং সহোদর ভাইয়ের মাধ্যমে বৈমাত্রেয় ভাইকে বঞ্চিত (حجب) করা—উভয়টি স্ববিরোধী। আর উভয় ক্ষেত্রে তাঁর আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করা একটি অসারতা, যা আপনি দেখতে পাচ্ছেন। পরিশেষে, আমাদের পূর্ববর্ণিত আলোচনার প্রেক্ষিতে উভয় অর্থই প্রত্যাখ্যাত (مردود)।

জেনে রাখুন যে, তৃতীয় অর্থ অনুযায়ী ‘নিকটাত্মীয়দের’ মধ্যে পিতা-মাতা এবং সন্তানসন্ততি অন্তর্ভুক্ত নয়। এর প্রমাণ হলো, আপনি যখন বলেন: ‘এরা জায়েদের আত্মীয়’, তখন মনে এই ভাবনাই উদয় হয় যে, তাদের মধ্যে তার কোনো সন্তান বা পিতা নেই। এর কারণ—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—সন্তান ও পিতার অত্যন্ত গভীর নৈকট্য, যেন তারা ব্যক্তির সাথে একই সত্তার ন্যায়। যেমনটি দাদা ও ভাইদের মাসআলায় সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এর উপস্থাপিত উদাহরণ থেকে স্পষ্ট হয়।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭০৯)
وما استدلّ به على دخولهم من حديث "الصحيحين"(1) في إنذاره صلى الله عليه وآله وسلم ابنتَه عليها السلام مع مَن أنذر عند نزول قوله تعالى: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} مدفوعٌ بمثلِ ما تقدم في الجواب عن إنذاره سائرَ بطونِ قريش.

ولا ضرر في عدم دخول الوالدين والأولاد في لفظ الأقربين في آية الوصية وآيات الميراث، فإن الوالدين قد ذُكِرا نصًّا في أربعة المواضع، والأولاد في آية الوصية غير مرادٍ دخولهم، لحديث البخاري وغيره عن ابن عباس الآتي إن شاء الله تعالى، وفي آيات الميراث تُرِك ذِكرُهم لأنهم مورثون، وإثباتُ ميراث الرجال والنساء من الأقربين يُفهم منه إرثُهم من أولادهم من باب أولى.

وفي هذا نكتة حسنة، وهي أن ما يأخذه أحد الأبوين من مالِ ولده كأنه ليس بميراث استحقَّ بالموت، بل هو حقّ ثابت على كل حال، من باب "أنت ومالُك لأبيك"(2)، فيكون في هذا الحثُّ على البرِّ بالأبوين.

بل لا يدخل فيه أحدٌ من الأصول والفروع بدليل التبادر أيضًا، وإعطاءُ أولادِ فاطمة عليها السلام من سهم ذوي القربى إنما هو لكونهم أبناءَ ابن عمِّه عليه الصلاة والسلام، ولهذا لا يُسهَم لأبناء الهاشمية من غير هاشمي من خُمُس ذوي القربى.

بل قيل: إنه لا تدخل فيه النساء، وليس في المواضع الأربعة ما يدلُّ على دخولهنَّ.

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه قريبًا.

(2) أخرجه أبو داود (3530) وابن ماجه (2292) من حديث عبد الله بن عمرو، وإسناده حسن. وفي الباب عن غيره من الصحابة.
সহীহাইন এর হাদিস থেকে তাঁদের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে যে দলিল পেশ করা হয়েছে—যেখানে আল্লাহ তাআলার বাণী: {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ} (আর আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন) নাজিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম অন্যান্যদের সাথে তাঁর কন্যাকেও (আলাইহাস সালাম) সতর্ক করেছিলেন—তা কুরাইশের অন্যান্য শাখাগুলোকে সতর্ক করার প্রসঙ্গে পূর্বে প্রদত্ত উত্তর দ্বারা খণ্ডন করা হয়েছে।

অসিয়তের আয়াত ও মিরাসের আয়াতসমূহে 'নিকটাত্মীয়' শব্দের আওতায় পিতা-মাতা ও সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়াতে কোনো সমস্যা নেই। কেননা, চারটি স্থানে পিতা-মাতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর অসিয়তের আয়াতে সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা উদ্দেশ্য নয়, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত বুখারি ও অন্যান্য গ্রন্থের হাদিসের কারণে, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে। মিরাসের আয়াতসমূহে তাঁদের উল্লেখ করা বর্জন করা হয়েছে কারণ তাঁরা সরাসরি উত্তরাধিকারী; আর নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে পুরুষ ও নারীদের মিরাস সাব্যস্ত হওয়া থেকে এ বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বোঝা যায় যে, তাঁরা তাঁদের সন্তানদের থেকেও উত্তরাধিকার পাবেন।

এর মধ্যে একটি চমৎকার সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে; আর তা হলো পিতা-মাতার কেউ তাঁর সন্তানের সম্পদ থেকে যা গ্রহণ করেন, তা যেন মৃত্যুর কারণে প্রাপ্য কোনো উত্তরাধিকার নয়, বরং এটি সর্বাবস্থায় একটি সাব্যস্ত অধিকার, যা "তুমি ও তোমার সম্পদ তোমার পিতার জন্য" হাদিসের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এতে পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের অনুপ্রেরণা নিহিত রয়েছে।

বরং স্বতঃস্ফূর্ত উপলব্ধির (تبادر) ভিত্তিতে এতে মূল (الأصول) বা শাখা (الفروع)-দের কেউ অন্তর্ভুক্ত হয় না। আর ফাতিমা আলাইহাস সালাম-এর সন্তানদের 'নিকটাত্মীয়' (ذوي القربى)-এর অংশ থেকে প্রদান করা হয় কেবল এ কারণে যে, তাঁরা তাঁর (নবীর) চাচাতো ভাইয়ের সন্তান। এ কারণেই হাশেমি বংশীয় নন এমন ব্যক্তির সাথে বিবাহিতা হাশেমি মহিলার সন্তানদের 'নিকটাত্মীয়'-দের খুমুস থেকে কোনো অংশ দেওয়া হয় না।

বরং বলা হয়েছে: এতে নারীরাও অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং এই চারটি স্থানের কোনোটিতেই তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।

--------------------------------------------

(1) নিকটেই এর উৎসের বর্ণনা (تخريج) অতিবাহিত হয়েছে।

(2) এটি আবু দাউদ (৩৫৩০) ও ইবনে মাজাহ (২২৯২) আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)। এই বিষয়ে অন্যান্য সাহাবিদের থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১০)
أما آية الوصية فيحتمل ــ بل هو الظاهر ــ أنها نزلت قبل أن يفرض الله عز وجل للنساء نصيبًا، فهي مُقِرَّةٌ لعادتهم من حِرمانِ الإناث، غايتُها أنها أثبتت للأم لمزيد استحقاقها.

وأما آيات المواريث فلأن لفظ الأقربين فيها مورثون، فالمعنى أن المرأة ترث من أمها ومن ذوي قرابتها، ولكنا نقول: لا مانعَ من أن تدخل فيه النساء تبعًا، كما يدخلن في "قوم".

ولا يدخل فيه أقارب الأم، لأن النبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يُسهِم لأقاربِ أمِّه من سهم ذوي القربى.

رجعنا إلى تفسير آية الوصية:

قال تعالى: {وَالْأَقْرَبِينَ} قد علمتَ مما بسطناه في فصل الأقربين أن الراجح بل المتعين في تفسيره أن المراد به هنا مَن له قرابة بالمحتضر، بأن يكون من أدنى فصيلةٍ له تختصُّ باسم. وقدَّمنا أنه لا يدخل فيه أحدٌ من الأصول والفروع ولا أقارب الأم، وأيَّدنا عدم دخول الولد في آية الوصية بحديث البخاري وغيره عن ابن عباس، وسيأتي موضَّحًا في النسخ إن شاء الله تعالى.

ومع هذا فالظاهر بل المتيقن أن الوصية للأولاد وإن لم تَشمَلْها الآية كانت جائزةً أولَ الإسلام، وكان للرجل أن يُوصيَ لأولادِه ويُفضِّلَ بعضَهم على بعض، وإنما الفرق أنه لم يكن لوالديه ولقريبه شيء إلّا إن أوصى، وكان الأولاد يأخذونه وإن لم يُوصِ. والله أعلم.
অসিয়তের আয়াতের ব্যাপারে সম্ভাবনা রয়েছে (يحتمل)—বরং এটিই প্রবল (الظاهر)—যে, এটি আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা নারীদের জন্য কোনো অংশ নির্ধারিত করার পূর্বেই অবতীর্ণ হয়েছিল। সুতরাং এটি নারীদের বঞ্চিত করার বিষয়ে তাদের তৎকালীন প্রথাকেই বহাল রেখেছিল; এর চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল যে, এটি মাতার জন্য তার অধিক হকের কারণে অংশ সাব্যস্ত করেছিল।

আর মিরাসের আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, যেহেতু তাতে 'নিকটাত্মীয়' শব্দটি উত্তরাধিকারী হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এর অর্থ হলো নারী তার মা এবং তার নিকটাত্মীয়দের থেকে উত্তরাধিকার লাভ করবে। তবে আমরা বলি: এর মধ্যে অনুগামী হিসেবে নারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, যেমন তারা 'কওম' (সম্প্রদায়) শব্দের অন্তর্ভুক্ত হয়।

আর এর মধ্যে মায়ের আত্মীয়রা অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মায়ের আত্মীয়দের জন্য নিকটাত্মীয়দের অংশ (ذوي القربى) থেকে কোনো অংশ বরাদ্দ করেননি।

আমরা অসিয়তের আয়াতের তাফসিরে ফিরে আসি:

আল্লাহ তাআলা বলেন: {وَالْأَقْرَبِينَ} (এবং নিকটাত্মীয়গণ)। নিকটাত্মীয়দের অধ্যায়ে আমরা যা বিস্তারিত আলোচনা করেছি তা থেকে আপনি জেনেছেন যে, এর তাফসিরে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (الراجح) বরং সুনির্ধারিত (المتعين) মত হলো, এখানে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যার সাথে মুমূর্ষু ব্যক্তির আত্মীয়তা রয়েছে, অর্থাৎ সে তার এমন নিকটতম বংশের হবে যার একটি নির্দিষ্ট নাম রয়েছে। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, এর মধ্যে ঊর্ধ্বতন মূল (الأصول) এবং অধস্তন শাখা (الفروع) ও মায়ের আত্মীয়দের কেউ অন্তর্ভুক্ত হবে না। অসিয়তের আয়াতের মধ্যে সন্তান অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়টিকে আমরা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত বুখারি ও অন্যান্য গ্রন্থের হাদিস দ্বারা সমর্থন করেছি। ইনশাআল্লাহ রহিতকরণ (النسخ) অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

এতদসত্ত্বেও এটিই প্রবল (الظاهر) বরং সুনিশ্চিত যে, সন্তানদের জন্য অসিয়ত করা—যদিও তা এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়—ইসলামের প্রাথমিক যুগে বৈধ ছিল। তখন একজন ব্যক্তির জন্য তার সন্তানদের উদ্দেশ্যে অসিয়ত করা এবং তাদের কারো ওপর কাউকে প্রাধান্য দেওয়ার সুযোগ ছিল। তবে পার্থক্য শুধু এই ছিল যে, তার পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের জন্য অসিয়ত না করা পর্যন্ত কিছুই প্রাপ্য ছিল না, কিন্তু সন্তানরা অসিয়ত না করলেও অংশ পেত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১১)
{بِالْمَعْرُوفِ}

هو ما يعرفه العقلاء ولا ينكرونه، يريد ما يقتضيه العدلُ والحكمة.

{حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ}

ظاهر.

قال تعالى: {فَمَنْ بَدَّلَهُ} أي الإيصاء {بَعْدَ مَا سَمِعَهُ} عَلِمَه {فَإِنَّمَا إِثْمُهُ} أي إثم تبديله {عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} فهو يسمع ما يقال فيما يتعلق بالوصية وتنفيذها أو تبديلها، ويعلم ما يُفعَل في ذلك، فيُجازي كلًّا بما يستحقُّ.

{فَمَنْ} أي إنسان {خَافَ} عَرف، كما في قوله تعالى: {وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا} [النساء: 35]، {مِنْ مُوصٍ جَنَفًا} أي ميلًا إلى مَن لا يستحق أصلًا أو لا يستحقّ الزيادة، ظنًّا من الموصي أنه مستحقّ، {أَوْ إِثْمًا} بإيصائه لمن لا يستحق أصلًا، أو زيادته مَن لا يستحق الزيادة، مع علم الموصي بعدم الاستحقاق، وإنما يُؤثِره محبةً له أو بُغضًا لغيره، {فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ} إما في حياة الموصي ليحمله على تغيير الوصية، أو بعد وفاته ليُسقِطَ بعضَهم سَهْمَه أو بعضَه عن طِيب نفسٍ، كما هو مقتضى الصلح، {فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ}، وإن كان إطلاق قوله: {فَمَنْ بَدَّلَهُ} يتناوله ظاهرًا؛ لأن المراد هناك: مَن بدَّله بمجرد الهوى أو بدون رضا الموصي أو الموصَى لهم، وهذا ليس كذلك. {إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} يغفر للمذنب ويرحمه، فضلًا عمن لم يُذنب، والله أعلم.
{ন্যায়সঙ্গতভাবে (بالمعروف)}

এটি এমন বিষয় যা বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ চিনে থাকেন এবং তারা তা অস্বীকার করেন না; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞা দাবি করে।

{মুত্তাকীদের ওপর এটি একটি অনিবার্য কর্তব্য}

সুস্পষ্ট (ظاهر)।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি তা পরিবর্তন করবে} অর্থাৎ অসিয়ত (الإيصاء) {তা শ্রবণ করার পর} তথা তা অবগত হওয়ার পর, {তবে তার পাপ} অর্থাৎ তা পরিবর্তনের গোনাহ {কেবল তাদের ওপর যারা তা পরিবর্তন করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} সুতরাং অসিয়ত এবং এর বাস্তবায়ন বা পরিবর্তনের বিষয়ে যা বলা হয় তিনি তা শ্রবণ করেন এবং এ ক্ষেত্রে যা করা হয় তা তিনি অবগত আছেন; অতঃপর তিনি প্রত্যেককে তাদের প্রাপ্য অনুযায়ী প্রতিদান দেবেন।

{অতঃপর যে ব্যক্তি} অর্থাৎ কোনো মানুষ {আশঙ্কা করবে} তথা অবগত হবে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: {আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো} [আন-নিসা: ৩৫], {অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে কোনো পক্ষপাতের (جنفًا)} অর্থাৎ এমন কোনো ব্যক্তির প্রতি ঝুঁকে পড়ার যার আদৌ কোনো অধিকার নেই অথবা অতিরিক্ত পাওয়ার যোগ্যতা নেই, অসিয়তকারীর এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে সে এর হকদার, {অথবা কোনো পাপের (إثمًا)} অর্থাৎ এমন কাউকে অসিয়ত করার মাধ্যমে যে আদৌ হকদার নয়, অথবা হকদার নয় এমন কাউকে বৃদ্ধি করে দেওয়ার মাধ্যমে, অথচ অসিয়তকারী তার অযোগ্যতা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কেবল তার প্রতি মহব্বত কিংবা অন্যের প্রতি বিদ্বেষবশত তাকে অগ্রাধিকার প্রদান করেন, {অতঃপর সে তাদের মধ্যে মীমাংসা (صلح) করে দেয়} হয় অসিয়তকারীর জীবদ্দশায় তাকে অসিয়ত পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে, অথবা তার ইন্তেকালের পর যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ সন্তুষ্টচিত্তে তাদের প্রাপ্য অংশের পুরোটা বা কিয়দাংশ ত্যাগ করে, যেমনটি মীমাংসার (الصلح) দাবি, {তবে তার কোনো পাপ হবে না}। যদিও তাঁর বাণীর সাধারণ অর্থ: {অতঃপর যে তা পরিবর্তন করবে} আপাতদৃষ্টিতে (ظاهرًا) তাকে অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ সেখানে উদ্দেশ্য হলো: যে ব্যক্তি নিছক প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে অথবা অসিয়তকারী বা অসিয়তকৃত ব্যক্তিদের (الموصى لهم) সম্মতি ব্যতিরেকে তা পরিবর্তন করবে, আর বিষয়টি এখানে তেমন নয়। {নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} তিনি অপরাধীকে ক্ষমা করেন এবং তাকে দয়া করেন, আর যে অপরাধ করেনি তার বিষয়টি তো বলাই বাহুল্য। আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১২)
قال تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ} أي يقاربون الوفاة، {وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا} فلْيُوصُوا، أو فعليهم {وَصِيَّةً لِأَزْوَاجِهِمْ} بمالٍ يتمتعن به {مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ} الواجب عليهن تربُّصُه. وهذا قبل نزول قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا}(1).

قال الله عز وجل: {لِلرِّجَالِ نَصِيبٌ … } الآيات.

قد بينّا في المقدمة عادة أهل الجاهلية في عدم توريث النساء والصبيان، وأن آية الوصية لم تعرض لتعديل تلك العادة في غير الأم.

وفي هذه الآية إبطال تلك العادة، ولهذا ــ والله أعلم ــ اقتصر هنا على إثبات النصيب للرجال والنساء من الوالدين والأقربين، ولم يذكر النصيب من الولد؛ لأنه كان قد تقرر في الجملة بآية الوصية، فافهمْ.

وعبَّر بالرجال مع ذكر ما يدلُّ على شموله للصبيان كما يأتي إن شاء الله تعالى، مع أنهم كانوا يثبتون ميراث الرجال أعني البالغين، وذلك لئلا يُتوهَّم نفيُ استحقاقهم.

{لِلرِّجَالِ} أي جنسهم الشامل للصبيان، دلَّ على ذلك أمور، أحدها: إثبات النصيب للنساء، وهو يقتضي ثبوتَ النصيب للصبيان من باب أولى؛ لأنهم كانوا يعلِّلون حرمان الصبيان والنساء بعدم الإطاقة للقتال والنصرة، وهذا مستمر في النساء، فأما الصبيان فإنهم وإن لم يطيقوه حالَ الصغر

--------------------------------------------

(1) بعده بياض كبير في باقي الصفحة، وكأن المؤلف كان يريد مزيد تفسيرٍ للآية فلم يجد وقتًا لإكماله.
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা মৃত্যুবরণ করে} অর্থাৎ মৃত্যুর নিকটবর্তী হয়, {এবং স্ত্রীদের রেখে যায়} তবে তারা যেন অসিয়ত (وصية) করে, অথবা তাদের ওপর আবশ্যক {তাদের স্ত্রীদের জন্য অসিয়ত (وصية)} এমন সম্পদের মাধ্যমে যার দ্বারা তারা উপকৃত হবে {এক বছর পর্যন্ত জীবনোপকরণ (متاع)} যা পালন করা তাদের জন্য আবশ্যক ছিল। আর এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী নাযিল হওয়ার পূর্বের বিধান: {আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা নিজেদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে}(১).

আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {পুরুষদের জন্য নির্ধারিত অংশ (نصيب) রয়েছে...} আয়াতসমূহ।

আমরা ভূমিকার মধ্যে জাহেলিয়াতের যুগের লোকদের নারী ও শিশুদের উত্তরাধিকার (ميراث) না দেওয়ার রীতিনীতি বর্ণনা করেছি; এবং অসিয়তের (الوصية) আয়াতটি মা ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে সেই রীতিনীতির পরিবর্তনের জন্য উপস্থাপিত হয়নি।

আর এই আয়াতে সেই রীতিনীতির বাতিলকরণ (إبطال) রয়েছে। আর এ কারণেই —আল্লাহই ভালো জানেন— এখানে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের থেকে পুরুষ ও নারীদের জন্য অংশ (نصيب) সাব্যস্ত করার ওপর সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, এবং সন্তানদের থেকে প্রাপ্ত অংশের কথা উল্লেখ করা হয়নি; কারণ তা অসিয়তের (الوصية) আয়াতের মাধ্যমে মোটের ওপর নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করো।

আর এখানে পুরুষবাচক শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে অথচ এমন বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে যা শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে। যদিও তারা কেবল পুরুষদের অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্কদের (بالغين) উত্তরাধিকার (ميراث) সাব্যস্ত করত; এটি করা হয়েছে যাতে তাদের প্রাপ্য অধিকারের অস্বীকৃতির বিষয়ে কোনো ভ্রম না হয়।

{পুরুষদের জন্য} অর্থাৎ তাদের এমন এক শ্রেণী যা শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। কয়েকটি বিষয় এর ওপর প্রমাণ বহন করে, তার মধ্যে একটি হলো: নারীদের জন্য নির্ধারিত অংশ (نصيب) সাব্যস্ত হওয়া, যা শিশুদের অংশ (نصيب) সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দাবি করে; কেননা তারা শিশু ও নারীদের বঞ্চিত করার কারণ হিসেবে যুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষায় অক্ষমতাকে দাঁড় করাত। আর নারীদের ক্ষেত্রে এই কারণটি স্থায়ী, পক্ষান্তরে শিশুদের ক্ষেত্রে যদিও তারা শৈশব অবস্থায় এতে সক্ষম নয়...

--------------------------------------------

(১) এর পরে পৃষ্ঠার বাকি অংশে বড় একটি শূন্যস্থান রয়েছে, মনে হয় লেখক আয়াতের আরও ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তা সম্পন্ন করার সময় পাননি।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১৩)
فسيطيقونه عند الكِبَر، فإلغاء هذه العلة في النساء يقتضي إلغاءها في الصبيان من باب أولى. وباقي تلك الأمور سيأتي في سياق الآيات إن شاء الله تعالى.

{نَصِيبٌ} ثابت للرجل {مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ} أي والداه، وقد تقدم بيان معنى الوالدين في آية الوصية، وهما الأب والأم، {وَالْأَقْرَبُونَ} إليه، وهم أدنى فصيلةٍ له تختصُّ باسمٍ، كما بيَّنّاه في فصله.

{وَلِلنِّسَاءِ} أي جنسهن {نَصِيبٌ} ثابت للمرأة {مِمَّا تَرَكَ الْوَالِدَانِ} أي والداها {وَالْأَقْرَبُونَ} إليها.

واعلم أن أهل الجاهلية لم يكونوا يقولون في الذكور الكبار أنهم يرثون على كلِّ حال، وإنما كانوا يقولون: إنهم يرثون في الجملة، فلو أُريد في إثبات النصيب للذكور الكبار في الآية أنه ثابتٌ لهم على كل حالٍ لصُرِّح بذلك، فلما لم يُصرَّح به وجاء إثبات النصيب للذكور الكبار في الآية مطلقًا عُلِمَ أنه ليس فيه ردٌّ عليهم من حيث الجملة، فظهر أن المراد في الآية من ثبوت النصيب للذكور الكبار ثبوته في الجملة.

ولا يلزم من إقرارهم على الجملة إقرارُهم على التفصيل، كما لو قال لك قائل: في مكة علماء وليس في المدينة عالم، فقلتَ أنت: في مكة علماء وفي المدينة علماء، فأقررتَه على أن في مكة علماء، وقد تكون تخالفُه في تعيينهم وتعيين جهات اتصافهم ومقدارِه، وتقدُّمِ بعضهم على بعض، ولا يُفهَم من إقرارك إياه في ذلك الإجمال إقرارُك إياه في التفصيل.

وكانوا يقولون في الصبيان: لا يرثون البتةَ، وذِكْرُهم في القرآن هو ردٌّ على أهل الجاهلية، والردُّ إذا أُطلِق حُمِلَ على المناقضة، ولو أُريد المناقضة
তারা বৃদ্ধাবস্থায় তা সহ্য করতে সক্ষম হবে, তাই নারীদের ক্ষেত্রে এই কারণ (علة) বাতিল করা শিশুদের ক্ষেত্রে তা বাতিলের দাবি রাখে আরও জোরালোভাবে। আর অবশিষ্ট বিষয়সমূহ আয়াতের প্রাসঙ্গিক বর্ণনায় ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।

{অংশ} নির্ধারিত পুরুষের জন্য {পিতা-মাতা যা রেখে গেছেন তা থেকে} অর্থাৎ তার পিতা-মাতা, আর ইতিপূর্বে ওসিয়তের আয়াতে পিতা-মাতার অর্থের বর্ণনা অতিক্রান্ত হয়েছে, তারা হলেন পিতা ও মাতা, {এবং নিকটাত্মীয়গণ} যারা তার নিকটবর্তী, তারা হলো তার নিকটতম বংশীয় গোষ্ঠী যারা নির্দিষ্ট নামে অভিহিত, যেমনটি আমরা সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছি।

{এবং নারীদের জন্য} অর্থাৎ তাদের জাতির জন্য {অংশ} নির্ধারিত নারীর জন্য {পিতা-মাতা যা রেখে গেছেন তা থেকে} অর্থাৎ তার পিতা-মাতা {এবং নিকটাত্মীয়গণ} যারা তার নিকটবর্তী।

জেনে রাখুন যে, জাহেলিয়াত আমলের লোকেরা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ব্যাপারে বলত না যে তারা সর্বাবস্থায় উত্তরাধিকারী হবে, বরং তারা বলত: তারা সাধারণভাবে উত্তরাধিকারী হবে। সুতরাং আয়াতে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য অংশ সাব্যস্ত করার দ্বারা যদি উদ্দেশ্য হতো যে এটি তাদের জন্য সর্বাবস্থায় সাব্যস্ত, তবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হতো। যেহেতু তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি এবং আয়াতে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য অংশ সাব্যস্ত করার বিষয়টি নিঃশর্ত (مطلق) ভাবে এসেছে, সেহেতু জানা গেল যে এতে সামগ্রিক দিক থেকে তাদের মতের কোনো খণ্ডন (رد) নেই। অতএব প্রতীয়মান হলো যে, আয়াতে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের জন্য অংশ সাব্যস্ত হওয়ার উদ্দেশ্য হলো সাধারণভাবে তা সাব্যস্ত হওয়া।

আর তাদের সামগ্রিক স্বীকৃতি থেকে বিস্তারিত বা পুঙ্খানুপুঙ্খ স্বীকৃতির আবশ্যকতা দেখা দেয় না। যেমন যদি কেউ আপনাকে বলে: মক্কায় আলেম আছেন কিন্তু মদিনায় কোনো আলেম নেই, আর আপনি বললেন: মক্কায় আলেম আছেন এবং মদিনায়ও আলেম আছেন। এর মাধ্যমে আপনি মক্কায় আলেম থাকার বিষয়ে তার বক্তব্যের সাথে একমত হলেন, অথচ আপনি তাদের নির্দিষ্টকরণ, তাদের গুণাবলির বৈশিষ্ট্য ও তার পরিমাণ এবং একজনের ওপর অন্যজনের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে তার সাথে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন। সুতরাং আপনার সেই সামগ্রিক সম্মতির অর্থ এই নয় যে আপনি বিস্তারিত বিষয়েও তার সাথে একমত হয়েছেন।

আর তারা শিশুদের ব্যাপারে বলত: তারা মোটেই উত্তরাধিকার পাবে না; আর কুরআনে তাদের অংশ উল্লেখ করা জাহেলিয়াত আমলের লোকদের মতের খণ্ডন (رد)। আর খণ্ডন (رد) যখন নিঃশর্ত (مطلق) ভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা বৈপরীত্যের অর্থে গৃহীত হয়। আর যদি বৈপরীত্যের উদ্দেশ্য হতো...
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১৪)
وزيادة لنصَّ على ذلك، ولأفردهم عن الكبار.

ونقيض السالبة الكلية موجبةٌ جزئية، وهذا يقتضي أن المراد في الآية من ثبوت النصيب للصبيان ثبوتُه في الجملة. فتحصَّل من هذا أن المراد بالثبوت في الجملة الأولى الثبوتُ في الجملة، وأما الجملة الثانية فكما قلناه في الصبيان سواء، فثبت الإجمال في الجملة الثانية.

ويؤيِّد الإجمالَ في الجملتين أن البيان التفصيلي بالكتاب والسنة جاء قاضيًا بما يوافقه، فنصَّ على أن الرجل قد لا يرث قريبَه، والمرأة كذلك، والإجمال والتفصيل لا نسخَ فيه ولا رائحة نسخٍ، فهو أولى مما فيه ذلك، أعني الإطلاق والتقييد أو العموم والخصوص.

ثم إن العموم في لفظ "الأقربين" يقتضي بظاهره أن الرجل يرِث في الجملة من كلِّ قريب له، وهذا صحيح على ظاهره، فما من قريبٍ لك إلّا ويُتصوَّر أن ترِثَه، وذلك فيما إذا لم يكن له قريبٌ غيرك مثلًا. وكذلك الحال في النساء، فما من إنسان إلّا ويتصوّر أن ترِثه عمتُه وخالتُه مثلًا، أعني ميراثَ ذوي الأرحام.

فإن قلت: إذنْ تختلف جهةُ ثبوتِ النصيب في الجملتين.

قلت: وما المانع من ذلك؟

وقال الجيراجي (ص 19 ونحوه ص 33): "دلَّت الآية على أن للنساء نصيبًا من تركة أبويهن(1) وأقربائهن(2)، كما أن للرجال نصيبًا منها، سواءً

--------------------------------------------

(1) الصواب: "آبائهن"، أو يقول: لكل واحدةٍ من أبويها، أو نحو ذلك. [المؤلف].

(2) "أقرباء" جمع قريب لا جمع أقرب. والجيراجي يفرّق بين القريب والأقرب ههنا. [المؤلف].
এবং অতিরিক্ত হিসেবে আমি এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতাম এবং তাদেরকে বড়দের থেকে পৃথক করতাম।

আর সার্বিক নেতিবাচক (سالبة كلية) এর বিপরীত হলো আংশিক ইতিবাচক (موجبة جزئية), যা দাবি করে যে, আয়াতে শিশুদের জন্য অংশ নির্ধারিত হওয়ার অর্থ হলো সাধারণভাবে তা সাব্যস্ত হওয়া। এর থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, প্রথম বাক্যে সাব্যস্ত হওয়ার অর্থ হলো সাধারণভাবে সাব্যস্ত হওয়া; আর দ্বিতীয় বাক্যের বিষয়টি শিশুদের ক্ষেত্রে আমরা যা বলেছি ঠিক তেমনই। সুতরাং দ্বিতীয় বাক্যে অস্পষ্টতা (إجمال) প্রমাণিত হলো।

উভয় বাক্যের অস্পষ্টতাকে (إجمাল) এই বিষয়টি সমর্থন করে যে, কুরআন ও সুন্নাহর বিস্তারিত বর্ণনা (تفصيل) এর অনুকূলেই এসেছে। এতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, কখনো কখনো পুরুষ তার আত্মীয়ের উত্তরাধিকারী হয় না এবং নারীর ক্ষেত্রেও তাই। আর অস্পষ্টতা (إجمাল) ও বিস্তারিত বর্ণনার (تفصيل) ক্ষেত্রে রহিতকরণ (نسخ) বা রহিতকরণের ন্যূনতম কোনো অবকাশও নেই। সুতরাং এটি সেই বিষয়ের তুলনায় অধিক উত্তম যাতে রহিতকরণের সম্ভাবনা থাকে, অর্থাৎ শর্তহীন (إطلاق) ও শর্তযুক্ত (تقييد) অথবা সাধারণ (عموم) ও বিশেষ (خصوص) হওয়া।

অতঃপর 'নিকটাত্মীয়গণ' শব্দের ব্যাপকতা (عموم) তার বাহ্যিক (ظاهر) দিক থেকে একথাই দাবি করে যে, পুরুষ সাধারণভাবে তার প্রত্যেক আত্মীয়ের ওয়ারিশ হবে। আর এটি তার বাহ্যিক (ظاهر) দিক থেকে সঠিক; কেননা আপনার এমন কোনো আত্মীয় নেই যার উত্তরাধিকারী হওয়া আপনার জন্য কল্পনা করা যায় না, যেমন- যখন আপনি ছাড়া তার আর কোনো আত্মীয় না থাকে। নারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ; এমন কোনো মানুষ নেই যার ফুফু বা খালা তার উত্তরাধিকারী হতে পারে এমনটি কল্পনা করা যায় না, অর্থাৎ জাবিল আরহাম বা দূরবর্তী আত্মীয়দের (ذوي الأرحام) মিরাস।

আপনি যদি বলেন: তাহলে তো উভয় বাক্যে অংশ সাব্যস্ত হওয়ার দিকটি ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে।

আমি বলব: তাতে বাধা কোথায়?

আল-জিরাজি (পৃ. ১৯ এবং অনুরূপ পৃ. ৩৩) বলেন: "আয়াতটি প্রমাণ করে যে, নারীদের জন্য তাদের পিতা-মাতা এবং আত্মীয়দের ত্যাজ্য সম্পত্তিতে অংশ রয়েছে, যেমনটি পুরুষদের জন্য রয়েছে, চাই তা..."

--------------------------------------------

(1) সঠিক হলো: "তাদের পিতৃপুরুষদের" (آبائهن), অথবা বলবে: "তাদের প্রত্যেকের পিতা-মাতার", অথবা এই জাতীয় কিছু। [লেখক]।

(2) 'আক্বরাবা' (أقرباء) হলো 'নিকটবর্তী' (قريب) এর বহুবচন, 'অধিক নিকটবর্তী' (أقرب) এর নয়। আর জিরাজি এখানে নিকটবর্তী (قريب) এবং অধিক নিকটবর্তী (أقرب) এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। [লেখক]।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১৫)
كانت قليلةً(1) أو كثيرةً(2)، يعني أنه لا يجوز أن يَرِث رجلٌ قريب من المورث ولا ترث امرأة قريبة منه في تلك الدرجة".

أقول: قوله: "كما أن … " ليس من معنى الآية في شيء، فإن كان فَهِمَه من ذكر الرجال في الآية وأنهم إنما ذُكِروا ليمثّل بهم النساء فهو فهمٌ في غير محلِّه، فقد تقدم حكمةُ ذكرهم، مع أن لفظ "الرجال" في الآية يشمل الصبيانَ كما تقدم. وأهل الجاهلية لم يكونوا يعترفون بأنهم يرثون حتى يَحسُنَ تمثيلُ استحقاق النساء باستحقاقهم واستحقاق الكبار.

وإن كان فَهِمَه من اقتران الجملتين فقد تقرر في الأصول أن لا دلالةَ للاقتران، مع أنه لو قيل بها هنا لزم عليها ما لا يلتزمه الجيراجي ولا غيره.

وإن كان فَهِمَه من كون الجملة الثانية كالأولى سواء لم يزد في إحداهما قيدٌ ولا شرطٌ، فهو باطل أيضًا؛ لأنه لا يلزم من ذلك تشابهُهما في كل شيء. نعم هما متشابهتان في أن كلًّا منهما أريد بهما الإثبات في الجملة، ولكن هذا التشابه لا يقتضي التشابه في التفصيل، كما هو واضح.

وإن كان فَهِمَه من عموم لفظ "الأقربين" فقد قدَّمنا أنه إنما يفيد أنه ما من قريبٍ لرجلٍ إلّا ويُتصوَّر أن يكون له نصيبٌ مما ترك، وما من قريبٍ لامرأةٍ إلّا ويُتصوَّر أن يكون لها نصيبٌ مما ترك، والنصيب صادق بميراث ذوي الأرحام، فعموم الأقربين يقتضي ما ذكرناه. وفيه التشابه في الجملة كما تراه، ولا يلزم منه التشابه في التفصيل.

--------------------------------------------

(1) فيه ما فيه. [المؤلف].

(2) فيه ما فيه. [المؤلف].
কম হোক(১) বা বেশি হোক(২), অর্থাৎ এটি জায়েজ নয় যে মৃত ব্যক্তির কোনো পুরুষ আত্মীয় উত্তরাধিকারী হবে, অথচ সেই একই স্তরের কোনো নারী আত্মীয় উত্তরাধিকারী হবে না।

আমি বলি: তাঁর এই বক্তব্য: "যেমনভাবে..." এটি আয়াতের অর্থের অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয় নয়। তিনি যদি এটি আয়াতে পুরুষদের উল্লেখ থেকে বুঝে থাকেন এবং এটি মনে করেন যে তাদের উল্লেখ করা হয়েছে নারীদের দৃষ্টান্ত হিসেবে পেশ করার জন্য, তবে এই বুঝটি সঠিক নয়। তাদের উল্লেখ করার হিকমত ইতিপূর্বেই বর্ণিত হয়েছে; তাছাড়া আয়াতে "পুরুষ" শব্দটি শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আর জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা তো তাদের (শিশুদের) উত্তরাধিকার প্রাপ্তিই স্বীকার করত না, এমতাবস্থায় নারীদের প্রাপ্য অধিকারকে তাদের (শিশুদের) ও প্রাপ্তবয়স্কদের অধিকারের সাথে তুলনা করা কীভাবে সঙ্গত হতে পারে?

আর তিনি যদি এটি দুটি বাক্যের একত্রে আসা (اقتران) থেকে বুঝে থাকেন, তবে উসুল (الأصول) শাস্ত্রে এটি সুসাব্যস্ত যে, একত্রে আসার মধ্যে কোনো প্রমাণযোগ্যতা (دلالة) নেই। এছাড়া যদি এখানে সেই নীতি গ্রহণ করা হয়, তবে এমন কিছু বিষয় অনিবার্য হয়ে পড়বে যা জাইরাজি কিংবা অন্য কেউ স্বীকার করেন না।

আর তিনি যদি এটি দ্বিতীয় বাক্যটি প্রথমটির মতো হুবহু হওয়ার কারণে বুঝে থাকেন—যেহেতু কোনোটিতেই কোনো অতিরিক্ত শর্ত বা বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়নি—তবে সেটিও বাতিল (باطل); কেননা এর দ্বারা সব দিক থেকে উভয়ের সাদৃশ্য থাকা আবশ্যক হয় না। হ্যাঁ, তারা উভয়েই এই দিক থেকে সদৃশ যে, তাদের প্রত্যেকের দ্বারা সাধারণভাবে কোনো কিছু সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য, কিন্তু এই সাদৃশ্য বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য থাকা দাবি করে না, যেমনটি স্পষ্ট।

আর তিনি যদি এটি "নিকটাত্মীয়গণ" শব্দের সাধারণ অর্থ (عموم) থেকে বুঝে থাকেন, তবে আমরা আগেই বর্ণনা করেছি যে এটি কেবল এটাই নির্দেশ করে যে, কোনো পুরুষের এমন কোনো আত্মীয় নেই যার জন্য তার ত্যাজ্য সম্পত্তিতে কোনো অংশ থাকার সম্ভাবনা নেই, এবং কোনো নারীর এমন কোনো আত্মীয় নেই যার জন্য তার ত্যাজ্য সম্পত্তিতে কোনো অংশ থাকার সম্ভাবনা নেই। আর এই অংশ জরায়ুঘটিত আত্মীয়দের (ذوي الأرحام) উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সুতরাং নিকটাত্মীয়গণের সাধারণ অর্থ (عموم) সেটিই দাবি করে যা আমরা উল্লেখ করেছি। এতে সাধারণভাবে সাদৃশ্য রয়েছে যেমনটি আপনি দেখছেন, কিন্তু এর দ্বারা বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য থাকা আবশ্যক হয় না।

--------------------------------------------

(১) এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। [লেখক]।

(২) এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। [লেখক]।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১৬)
فثبوت النصيب في الجملة للرجل مقيَّد بقيودٍ وشروطٍ، وثبوت النصيب في الجملة للمرأة كذلك، وقد تتحد القيود والشروط وقد تختلف، وليس في نظم القرآن أدنى إشارةٍ إلى أنها لا تكون إلّا متحدة. فقول الجيراجي "يعني … " دعوى مجردة، والله المستعان.

ولما علم سبحانه وتعالى أن السامعين لهذه الآية سيظنون أنها تتميمٌ وتكميلٌ لآية الوصية، وأن المقصود منها إرشاد المحتضر إلى الوصية للصغار والنساء أيضًا= دفع ذلك بأمرين:

الأول: قوله: {مِمَّا قَلَّ مِنْهُ} من المتروك {أَوْ كَثُرَ}، وهذا مخالفٌ لقوله في آية الوصية: {إِنْ تَرَكَ خَيْرًا} أي مالًا كثيرًا كما تقدم.

الثاني: {نَصِيبًا مَفْرُوضًا} مقطوعًا معينًا من عند الله عز وجل سيبيّنه فيما بعد، وهذا مخالف لقوله في آية الوصية: {بِالْمَعْرُوفِ} أي بحسب ما يراه الموصي.

وهذان الأمرانِ ظاهرانِ في نسخ حكم آية الوصية، ولو كان المقصود ــ ــ كما زعم الجيراجي ــ أن يُعمَل بهذه الآية حيث لا وصيةَ وأن آية الوصية لا تزال محكمةً، لمَا خالفَتْها في جعل النصيب هنا مما قلَّ أو كثُر وهناك مما كثُر فقط، ولمَا خالفتها في جعل النصيب هنا مفروضًا وهناك بالمعروف.

وقد زعم أنه إنما جُعِل بالمعروف في الوصية ومفروضًا في الميراث لأن المورث أدرى من غيرِه بمصالح ورثته، ولأن مراعاة المصالح الشخصية في القانون الكلي ليست بممكنة.

وهو مردود بأن المورث وإن كان أدرى فإنه يَعرِض له في الأهواء
বস্তুত পুরুষের জন্য অংশের সাব্যস্ততা সাধারণভাবে কিছু শর্ত ও বিধিনিষেধের ওপর নির্ভরশীল, আর নারীর ক্ষেত্রেও অংশের সাব্যস্ততা তদ্রূপ। এই বিধি ও শর্তসমূহ কখনো এক হতে পারে আবার কখনো ভিন্নও হতে পারে। পবিত্র কোরআনের বিন্যাসে এমন সামান্যতম ইঙ্গিতও নেই যে, এগুলো অভিন্ন হওয়াই আবশ্যক। সুতরাং জিরাজির এই কথা যে, "অর্থাৎ … " এটি একটি ভিত্তিহীন দাবি মাত্র; আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন অবগত হলেন যে, এই আয়াতের শ্রোতারা ধারণা করতে পারে যে এটি অসিয়তের আয়াতেরই পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী, এবং এর উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে শিশু ও নারীদের জন্য অসিয়ত করার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা প্রদান করা—তখন তিনি দুটি বিষয়ের মাধ্যমে তা নিরসন করেছেন:

প্রথমত: তাঁর বাণী: {যা অল্প} অর্থাৎ পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে {অথবা বেশি}। এটি অসিয়তের আয়াতের তাঁর সেই বাণীর পরিপন্থী যেখানে বলা হয়েছে: {যদি সে প্রভূত সম্পদ রেখে যায়}, অর্থাৎ প্রচুর সম্পদ, যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: {নির্ধারিত অংশ}, যা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুনিশ্চিত ও সুনির্দিষ্ট যা তিনি পরবর্তীতে বর্ণনা করবেন। এটি অসিয়তের আয়াতের 'ন্যায়সংগতভাবে' (বিল মারুফ) নির্দেশের পরিপন্থী, যা মূলত অসিয়তকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

এই দুটি বিষয় অসিয়তের আয়াতের বিধান রহিতকরণের (نسخ) ব্যাপারে সুস্পষ্ট। যদি বিষয়টি এমন হতো—যেমনটি জিরাজি দাবি করেছেন—যেখানে অসিয়ত নেই সেখানে এই আয়াত অনুযায়ী আমল করা হবে এবং অসিয়তের আয়াতটি তখনও সুপ্রতিষ্ঠিত (محكمة) থাকবে, তবে এখানকার অংশকে 'অল্প বা বেশি' এবং সেখানে কেবল 'বেশি' করার মাধ্যমে কোনো পার্থক্য করা হতো না। তেমনিভাবে এখানে অংশকে 'নির্ধারিত' এবং সেখানে 'ন্যায়সংগত' হিসেবেও রাখা হতো না।

তিনি আরও দাবি করেছেন যে, অসিয়তে অংশকে 'ন্যায়সংগত' এবং মিরাসে 'নির্ধারিত' করা হয়েছে কারণ মৃত ব্যক্তি তার উত্তরাধিকারীদের কল্যাণ সম্পর্কে অন্যদের চেয়ে বেশি অবগত, আর সাধারণ আইনে ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রতি লক্ষ রাখা সম্ভব নয়।

তার এই দাবিটি প্রত্যাখ্যাত (مردود), কারণ মৃত ব্যক্তি যদিও অধিক অবগত হন, তবুও তার সামনে নানাবিধ খেয়াল-খুশি ও প্রবৃত্তির তাড়না উপস্থিত হয়।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১৭)
والأغراض ما يُعمِي بصرَه ويُصِمُّ سمعَه، ويُوقِعه في الجنَف والإثم، كما شهدتْ به الآية نفسُها. ويكون غيرُه من صالحي جيرانِه وإخوانِه المطَّلعين على أحواله لسلامتهم من الهوى والغرض أقربَ إلى العدل والحكمة في وضع ماله في مواضعه، ولاسيَّما إذا أحيل ذلك إلى نظر قضاةِ المسلمين، فإنهم يكونون طبعًا علماء حكماء، فيكونون أعلم بمصلحة الموصي من نفسه. فلو لم يُرَد النسخُ لمَا فُرِضت الأنصباءُ، بل كان يُحال الأمرُ إلى القضاة والحكَّام.

على أن الجيراجي فسَّر قوله تعالى: {فَمَنْ خَافَ مِنْ مُوصٍ جَنَفًا … } بقوله (ص 4): "أي إن عَلم أن الموصي في وصيته جنفَ عن الحق ومال إلى الإثم، فللمسلمين أو لقاضيهم حقٌّ في إصلاحها".

وهذا ينقض قولَه(1): "إن المورث أدرى من غيره".

وأما قوله(2): "إن مراعاة الأحوال الشخصية في القانون الكلي ليست بممكنة".

فجوابه: أن هذه الأحوال الشخصية لو كانت مراعاتها مقصودة كما زُعِمتْ لم يُشرع ذلك القانون الكلي، بل كان يُحال الأمر إلى قُضاة المسلمين.

ثم إن آية الوصية [لما] كانت عامةً لذوي القربى، والميراث الذي أُجمل في هذه الآية وبُيِّن بغيرها لا يَعمُّهم، وكان في الأمرين السابقين

--------------------------------------------

(1) "الوراثة في الإسلام" (ص 3).

(2) المصدر نفسه (ص 4).
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ এমন যা মানুষের দৃষ্টিকে অন্ধ এবং শ্রবণশক্তিকে বধির করে দেয় এবং তাকে পক্ষপাতিত্ব (جنف) ও পাপের (إثم) মধ্যে নিপতিত করে, যেমনটি এই আয়াতটি নিজেই সাক্ষ্য দেয়। তার অন্যান্য সৎ প্রতিবেশী ও ভাইয়েরা যারা তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত, তারা প্রবৃত্তি ও হীন উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে তার সম্পদকে সঠিক স্থানে স্থাপনের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা (عدل) ও প্রজ্ঞার (حكمة) অধিক নিকটবর্তী। বিশেষ করে যখন বিষয়টি মুসলিম বিচারকদের (قضاة المسلمين) বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, কারণ তারা স্বভাবগতভাবেই বিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান হয়ে থাকেন, ফলে তারা অসিয়তকারীর (موصي) চেয়ে তার নিজের কল্যাণ সম্পর্কে অধিক অবগত হন। যদি রহিতকরণ (نسخ) উদ্দেশ্য না হতো, তবে সুনির্দিষ্ট অংশসমূহ (أنصباء) নির্ধারিত করা হতো না, বরং বিষয়টি বিচারক ও শাসকদের ওপরই ন্যস্ত থাকতো।

তদুপরি আল-জিরাজি মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যে ব্যক্তি অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্ব (جنف) … এর আশঙ্কা করে} এর ব্যাখ্যায় বলেন (পৃ. ৪): "অর্থাৎ, যদি এটি জানা যায় যে অসিয়তকারী তার অসিয়তে হক থেকে বিচ্যুত হয়ে পক্ষপাতিত্ব (جنف) করেছে এবং পাপের (إثم) দিকে ঝুঁকে পড়েছে, তবে তা সংশোধন করার অধিকার মুসলিমদের বা তাদের বিচারকের রয়েছে।"

আর এটি তার এই বক্তব্যকে(১) খণ্ডন করে: "উত্তরাধিকার প্রদানকারী অন্যের চেয়ে বেশি অবগত।"

আর তার বক্তব্য(২) প্রসঙ্গে: "সার্বজনীন আইনে ব্যক্তিগত অবস্থার বিবেচনা করা সম্ভব নয়।"

এর উত্তর হলো: এই ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বিবেচনা করা যদি উদ্দেশ্য হতো—যেমনটি দাবি করা হয়েছে—তবে সেই সার্বজনীন আইন প্রবর্তন করা হতো না, বরং বিষয়টি মুসলিম বিচারকদের নিকট ন্যস্ত করা হতো।

অতঃপর অসিয়তের আয়াতটি [যখন] নিকটাত্মীয়দের (ذوي القربى) জন্য ব্যাপক (عام) ছিল, আর উত্তরাধিকার (ميراث) যা এই আয়াতে সংক্ষিপ্ত (أجمل) করা হয়েছে এবং অন্যটির মাধ্যমে বিশদভাবে বর্ণনা (بين) করা হয়েছে তা তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে না, এবং পূর্বোক্ত বিষয় দুটির মধ্যে ছিল...

--------------------------------------------

(১) "আল-বিরাসাহ ফিল ইসলাম" (পৃ. ৩)।

(২) একই উৎস (পৃ. ৪)।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১৮)
الدلالة على نسخ تلك الآية، أراد الله عز وجل أن يُثبِت لذوي القربى غير الوارثين ما يقوم مقامَ ما كان لهم في آية الوصية، حتى يستوفي ما بقي من فوائد الوصية، فيتمّ نسخُ حكم تلك الآية، فقال تعالى:

{وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُولُو الْقُرْبَى} من المتوفى غير الوارثين، ولم يقل "الأقربون" ليشير إلى أن المراد هنا غير الوارثين، وذلك من تغيير العبارة، وأيضًا كثرة تكرار كلمة "الأقربون" يُوجِب كراهيةً في الكلام.

وأيضًا كلمة "الأقربون" لم تجئ في القرآن إلّا معطوفةً على الوالدين، أو صفةً لموصوفٍ مذكور في آية {وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ}، وعبَّر عنها في غير ذلك بأولي القربى ونحوها، ولعلَّ لذلك حكمةً، والله أعلم.

{وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينُ فَارْزُقُوهُمْ مِنْهُ وَقُولُوا لَهُمْ قَوْلًا مَعْرُوفًا}.

في البخاري(1) وغيره عن ابن عباس نفْيُ نسْخِ هذه الآية، قال: ولكنها مما تهاونَ الناسُ بها، وهما واليان: والٍ يرث وذلك الذي يرزق، ووالٍ ليس بوارثٍ، فذاك الذي يقول قولًا معروفًا إنه مالُ يتامَى وما لي فيه شيء.

وفيه شيء، فإن الظاهر أن الخطاب يعمُّ الوارثَ والوصيَّ بأن يرزق ويقول معروفًا معًا، غير أن الوصيّ يجب عليه الاقتصاد في العطاء. وإذا حملنا الأمر على الندب كما يشهد له الإجماع على عدم العمل، كان الأحوط للوصي أن لا يُعطي شيئًا، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) رقم (2759). وأخرجه أيضًا سعيد بن منصور في سننه (576 ــ تفسير) والطبري في تفسيره (6/ 433) وابن المنذر (1412)، وابن أبي حاتم (3/ 874) وغيرهم.
সেই আয়াতের রহিতকরণ (نسخ)-এর প্রমাণ হিসেবে, মহান আল্লাহ উত্তরাধিকারী নন এমন নিকটাত্মীয়দের জন্য সেই হকের স্থলাভিষিক্ত কিছু সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন, যা অসিয়তের আয়াতে তাদের জন্য ছিল। যাতে অসিয়তের অবশিষ্ট উপকারিতাগুলো পূর্ণ হয় এবং ওই আয়াতের বিধানের রহিতকরণ (نسخ) সম্পন্ন হয়। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন:

{এবং যখন বণ্টনের সময় মৃত ব্যক্তির অ-উত্তরাধিকারী নিকটাত্মীয়গণ উপস্থিত হয়}। তিনি "আল-আকরাবুন" (নিকটতরগণ) বলেননি যাতে ইঙ্গিত করা যায় যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো অ-উত্তরাধিকারীগণ। এটি শব্দশৈলীর পরিবর্তন মাত্র, তাছাড়া "আল-আকরাবুন" শব্দের অতিমাত্রায় পুনরাবৃত্তি বক্তব্যে শ্রুতিকটুতা সৃষ্টি করে।

তাছাড়া "আল-আকরাবুন" শব্দটি পবিত্র কুরআনে কেবল পিতামাতার শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে অথবা {আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন} আয়াতের বর্ণিত বিশেষ্যের বিশেষণ হিসেবে এসেছে। এছাড়া অন্যান্য স্থানে একে "উলুল কুরবা" বা এই জাতীয় শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে। সম্ভবত এর পেছনে কোনো গূঢ় হিকমত রয়েছে, আল্লাহই ভালো জানেন।

{এবং এতিম ও অভাবীগণ (উপস্থিত হলে), তবে তোমরা তাদের তা থেকে কিছু দান করো এবং তাদের সাথে সদালাপ করো।}

সহীহ বুখারী(১) ও অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এই আয়াতের রহিতকরণ (نسخ) অস্বীকারের বর্ণনা রয়েছে। তিনি বলেন: বরং এটি এমন একটি বিষয় যা মানুষ অবহেলা করে। এখানে দুই ধরনের দায়িত্বশীল রয়েছেন: এক ব্যক্তি যিনি উত্তরাধিকারী হন এবং তিনিই দান করবেন; অন্য ব্যক্তি যিনি উত্তরাধিকারী নন, তিনি সদালাপ করবেন যে, এটি এতিমদের সম্পদ এবং এতে আমার কোনো অধিকার নেই।

এর মধ্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ আপাতদৃষ্টিতে এই সম্বোধন উত্তরাধিকারী এবং অসিয়ত পালনকারী উভয়ের জন্যই সাধারণ, যেন তারা দানও করে এবং সেই সঙ্গে সদালাপও করে। তবে অসিয়ত পালনকারীর জন্য দান করার ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হওয়া আবশ্যক। আর যদি আমরা এই নির্দেশকে মুস্তাহাব (ندب) হিসেবে গণ্য করি—যেমনটি আমল না থাকার ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) সাক্ষ্য দেয়—তবে অসিয়ত পালনকারীর জন্য কোনো কিছু না দেওয়াই হবে অধিক সতর্কতামূলক পথ, আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) হাদিস নং (২৭৫৯)। এটি আরও বর্ণনা করেছেন (أخرجه) সাঈদ বিন মানসুর তার সুনান গ্রন্থে (৫৭৬ ــ তাফসির), তাবারী তার তাফসিরে (৬/ ৪৩৩), ইবনুল মুনজির (১৪১২), ইবনে আবি হাতেম (৩/ ৮৭৪) এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭১৯)
ولم يقيّد هنا بترك المال الكثير كما في آية الوصية، لأنه لا حاجة لذلك هنا؛ لأنه لا يحضر القسمةَ من الأقربين التماسًا للرزق إلا المحتاجون منهم الذين يقبلون ما يُعطَون ولو قليلًا، ولعل في هذا إشارةً إلى النسخ أيضًا.

ولما انتهى حكم الوصية التي كانت مشروعةً، وأقام الله عز وجل مقامَها ما يُغني عنها وزيادة، أشار سبحانه وتعالى إلى كراهة الإيصاء بشيء من المال، فقال: {وَلْيَخْشَ الَّذِينَ لَوْ تَرَكُوا مِنْ خَلْفِهِمْ ذُرِّيَّةً ضِعَافًا خَافُوا عَلَيْهِمْ فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ وَلْيَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} [النساء: 9].

في "الدر المنثور"(1): أخرج ابن جرير وابن أبي حاتم والبيهقي عن ابن عباس في الآية قال: يعني الرجل يحضره الموت فيقال له: تصدَّقْ من مالك وأعتِقْ وأعطِ منه في سبيل الله، فنُهُوا أن يأمروا بذلك. يعني أن من حضر منكم مريضًا عند الموت، فلا يأمره أن يُنفِق ماله في العتق أو في الصدقة أو في سبيل الله، ولكن يأمره أن يُبيّن ما له وما عليه ويُوصي لذوي قرابته الذين لا يرثون، يوصي لهم بالخمس أو الربع. يقول: أليس أحدكم إذا مات وله ولدٌ ضِعاف يعني صغارًا، يخشى أن يتركهم بغير مالٍ، فيكونون عِيالًا على الناس؟ فلا ينبغي لكم أن تأمروه بما لا ترضَون به لأنفسكم ولأولادكم.

ونهْيُ الحاضرين عن حمل المحتضر على الوصية يدلُّ على نهيه ــ أعني المحتضر ــ عن الوصية، ولكن الآية تدلُّ على الكراهة فقط. وفي قوله: {ذُرِّيَّةً ضِعَافًا} تنبيهٌ على شمول لفظ "الرجال" للصبيان.

--------------------------------------------

(1) (4/ 248). وانظر تفسير الطبري (6/ 447) وابن أبي حاتم (3/ 876، 877) والسنن الكبرى للبيهقي (6/ 270، 271).
এখানে 'অঢেল সম্পদ' রেখে যাওয়ার বিষয়টি শর্তযুক্ত করা হয়নি, যেমনটি ওসিয়াতের আয়াতে করা হয়েছে; কারণ এখানে তার প্রয়োজন নেই। কেননা আত্মীয়-স্বজনদের মধ্য থেকে জীবিকার অন্বেষণে বণ্টনপ্রক্রিয়ায় কেবল অভাবী লোকেরাই উপস্থিত হয়, যারা সামান্য কিছু পেলেও তা গ্রহণ করে। সম্ভবত এতে রহিতকরণের (النسخ) প্রতিও একটি ইঙ্গিত রয়েছে।

আর যখন ইতিপূর্বে বিধিবদ্ধ ওসিয়াতের বিধান রহিত হলো এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার স্থলে এমন বিধান প্রতিষ্ঠা করলেন যা অধিকতর সমৃদ্ধ ও ফলপ্রসূ, তখন মহান আল্লাহ সম্পদের কোনো অংশ ওসিয়াত করার অপছন্দনীয়তার (كراهة) প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন: {আর তারা যেন ভয় করে, যারা নিজেদের পেছনে অসহায় সন্তান-সন্ততি ছেড়ে গেলে তাদের ব্যাপারে শঙ্কিত হতো। অতএব তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সঠিক কথা বলে।} [আন-নিসা: ৯]।

'আদ-দুররুল মানসুর' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে(১): ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম এবং বায়হাকি এই আয়াতের ব্যাপারে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, তিনি বলেন: এর অর্থ হলো এমন ব্যক্তি যার মৃত্যু উপস্থিত হয়েছে, আর তাকে বলা হচ্ছে: "আপনার সম্পদ থেকে সদকা করুন, দাস মুক্ত করুন এবং আল্লাহর পথে দান করুন।" তখন উপস্থিত ব্যক্তিদের এরূপ নির্দেশ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের কেউ যখন কোনো মুমূর্ষু ব্যক্তির কাছে উপস্থিত হও, তখন তাকে যেন তার সম্পদ দাসমুক্তিতে, সদকায় বা আল্লাহর পথে ব্যয় করার আদেশ না দেয়। বরং তাকে আদেশ করবে যেন সে তার পাওনা ও দেনা স্পষ্ট করে দেয় এবং তার এমন নিকটাত্মীয়দের জন্য ওসিয়াত করে যারা উত্তরাধিকারী নয়; তাদের জন্য এক-পঞ্চমাংশ বা এক-চতুর্থাংশ সম্পদের ওসিয়াত করবে। তিনি আরও বলেন: তোমাদের কেউ যখন মারা যায় এবং তার অসহায় অর্থাৎ ছোট সন্তান থাকে, তখন সে কি তাদের নিস্ব অবস্থায় রেখে যাওয়ার ব্যাপারে ভয় পায় না যে তারা মানুষের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়বে? সুতরাং তোমাদের জন্য মুমূর্ষু ব্যক্তিকে এমন পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়, যা তোমরা নিজেদের জন্য এবং তোমাদের নিজেদের সন্তানদের জন্য পছন্দ করো না।

মুমূর্ষু ব্যক্তিকে ওসিয়াতের জন্য প্ররোচিত করতে উপস্থিত ব্যক্তিদের প্রতি এই নিষেধাজ্ঞা মূলত মুমূর্ষু ব্যক্তির ওসিয়াত করার নিষেধাজ্ঞার ওপরই প্রমাণ (يدل) পেশ করে; তবে আয়াতটি কেবল অপছন্দনীয়তা (الكراهة) বুঝায়। আর "অসহায় সন্তান-সন্ততি" শব্দটির মধ্যে 'পুরুষ' শব্দটি যে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, সে ব্যাপারে সচেতন করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) (৪/ ২৪৮)। আরও দেখুন: তাফসির তাবারী (৬/ ৪৪৭), ইবনে আবি হাতিম (৩/ ৮৭৬, ৮৭৭) এবং বায়হাকির আস-সুনান আল-কুবরা (৬/ ২৭০, ২৭১)।
(খণ্ড: ১৭) রিসালাতুন ফিল মাওয়ারিস - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭২০)
ثم قال سبحانه وتعالى مؤكِّدًا هذا المعنى، ومقيِّدًا الأمرَ برزق الحاضرين، ومنبِّهًا على وجوب حفظ أموال الصغار على كل حال: {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا}. وفي معنى الأكل إضاعتها، كإسراف الوصي في رزق حاضري القسمة، والتسبُّب في ضياعها بحمل المحتضر على الوصية، وغير ذلك. وفي هذه الآية تنبيهٌ أيضًا على شمول لفظ "الرجال" للصبيان.

ثم أراد سبحانه وتعالى تفصيلَ ما تقدَّم من الإجمال فقال:

{يُوصِيكُمُ اللَّهُ} أيها الرجال، كما يدلُّ عليه قوله فيما يأتي {وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ}، وحكم الإناث كذلك بالقياس، {فِي أَوْلَادِكُمْ} كل رجل في أولاده، فالكلام على التوزيع كما في قوله تعالى: {فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ} [المائدة: 6]، أي ليغسلْ كلٌّ منكم يديه.

ولعل الجيراجي يزعم أن التقدير: (يوصيكم الله في) شأن (أولاد) من توفى منـ (كم). ويبني على هذا شبهته التي ذكرها (ص 4) بقوله: "أما إذا مات المورث بلا وصية، ولم يقسم ماله بين ورثته، فحينئذٍ يعمل بآية الميراث".

وتقرير هذه الشبهة بوجهٍ علمي أن آية الميراث على التقدير الأخير تعُمُّ المتوفى بدون وصية والمتوفى عن وصية، وآية الوصية خاصة في الثاني، والأصلُ في مثل هذا حملُ العام على الخاص، فيُعمل بالاثنين معًا: آية الوصية في معناها، وآية الميراث في الباقي، ولا نسخَ.
এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই অর্থকে সুসংহত করে, উপস্থিতদের জীবিকা প্রদানের আদেশকে সীমাবদ্ধ করে এবং সব অবস্থায় ছোটদের সম্পদ রক্ষার আবশ্যকতা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, তারা আসলে তাদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে এবং তারা শীঘ্রই প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।" আর 'ভক্ষণ' করার অর্থের মধ্যে সম্পদ নষ্ট করাও অন্তর্ভুক্ত, যেমন বণ্টনের সময় উপস্থিতদের আহার করানোর ক্ষেত্রে অভিভাবকের অপব্যয় করা, এবং মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তিকে অসিয়ত করতে বাধ্য করে সম্পদ বিনষ্টের কারণ হওয়া ইত্যাদি। এই আয়াতে 'পুরুষ' শব্দটি যে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, সেদিকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পূর্বে সংক্ষেপে যা বলা হয়েছিল তা বিস্তারিত করার ইচ্ছা করে বললেন:

"আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন" হে পুরুষগণ, যেমনটি পরবর্তী এই আয়াতাংশ দ্বারা প্রমাণিত হয়— "আর তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের ত্যাজ্য সম্পদের অর্ধেক", আর নারীদের বিধানও অনুমানের (قياس) ভিত্তিতে একই। "তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে" অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তি তার সন্তানদের ব্যাপারে; এখানে বক্তব্যটি বণ্টনের ভিত্তিতে করা হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত ধৌত করো" [মায়িদাহ: ৬], অর্থাৎ তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার হাত ধৌত করে।

সম্ভবত আল-জিরাজি দাবি করেন যে বাক্যটির উহ্য রূপ হলো: (আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন) তোমাদের মধ্য থেকে যারা মৃত্যুবরণ করবে তাদের (সন্তানদের) বিষয়ে। তিনি এর ওপর ভিত্তি করেই তার সেই সংশয়টি গড়ে তুলেছেন যা তিনি (পৃষ্ঠা ৪-এ) উল্লেখ করেছেন এই বলে: "তবে যদি উত্তরাধিকার প্রদানকারী ব্যক্তি কোনো অসিয়ত ছাড়াই মারা যায় এবং তার সম্পদ ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত না হয়, তবে সেই ক্ষেত্রে মিরাসের আয়াত অনুযায়ী আমল করা হবে।"

এই সংশয়টির জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা হলো, শেষোক্ত উহ্য রূপ অনুযায়ী মিরাসের আয়াতটি অসিয়তবিহীন মৃত এবং অসিয়তকারী মৃত—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে সাধারণ (عام), আর অসিয়তের আয়াতটি দ্বিতীয় ক্ষেত্রের জন্য সুনির্দিষ্ট (خاص)। এই জাতীয় ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো সাধারণ (عام) বিষয়কে সুনির্দিষ্ট (خاص) বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা। ফলে উভয়ের ওপরই আমল করা হবে: অসিয়তের আয়াত তার নিজস্ব অর্থে এবং মিরাসের আয়াত অবশিষ্ট ক্ষেত্রে, আর এখানে কোনো রহিতকরণ (نسخ) নেই।