(খণ্ড: ১) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
الحكم المشروع في الطلاق المجموع - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الحكم المشروع في الطلاق المجموع

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (17)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

আল-হুকমুল মাশরু' ফিত তালাকিল মাজমু' - 'আছার আল-মুআল্লিমী'-এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: আল-হুকমুল মাশরু' ফিত তালাকিল মাজমু'

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানির রচনাবলী (১৭)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ উযাইর শামস

পর্যবেক্ষণ করেছেন: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহী - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওযী'

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি

শামেলা সংস্করণে পেশ করেছেন: 'আতাআত আল-ইলম' ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৮৩)
الرسالة التاسعة عشرة

الحكم المشروع في الطلاق المجموع
উনবিংশতম রিসালাহ

একত্রে প্রদানকৃত তালাকের (الطلاق المجموع) বিধিবদ্ধ বিধান (الحكم المشروع)
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৮৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الآيات وتفسيرها:

قال الله تعالى:

1 - {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِنْ كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ (228)}.

2 - {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَنْ يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (229)}.

3 - {فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يَتَرَاجَعَا إِنْ ظَنَّا أَنْ يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ (230)}.

4 - {وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (231)}.

5 - {وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُمْ بِالْمَعْرُوفِ ذَلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكُمْ أَزْكَى لَكُمْ وَأَطْهَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (232)} [البقرة: 228 ــ 232].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আয়াতসমূহ এবং সেগুলোর তাফসির:

মহান আল্লাহ বলেন:

1 - {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা নিজেদের তিন ঋতুস্রাব (قروء) পর্যন্ত প্রতীক্ষায় রাখবে। আর যদি তারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে, তবে আল্লাহ তাদের জরায়ুতে যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন করা তাদের জন্য বৈধ নয়। আর তাদের স্বামীরা এই মেয়াদের মধ্যে তাদের পুনরায় গ্রহণে অধিক হকদার, যদি তারা সংশোধন চায়। আর নারীদের ওপর পুরুষদের যেমন ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষদের ওপরও নারীদের অধিকার রয়েছে। তবে পুরুষদের মর্যাদা তাদের ওপর এক স্তর উপরে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (২২৮)}।

2 - {তালাক দুই বার; অতঃপর হয় বিধিসম্মতভাবে রাখা, না হয় সদাচরণের সাথে বিদায় দেওয়া। আর তোমাদের জন্য এটি বৈধ নয় যে, তোমরা তাদের যা প্রদান করেছ তা থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা, যদি না তারা উভয়ে আশঙ্কা করে যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না। অতঃপর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে না, তবে স্ত্রী যা বিনিময় দিয়ে মুক্ত হতে চায় তাতে তাদের কোনো গুনাহ নেই। এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, তারাই জালিম। (২২৯)}।

3 - {অতঃপর যদি সে তাকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়, তবে এরপর সে আর তার জন্য বৈধ হবে না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে। অতঃপর সে (দ্বিতীয় স্বামী) যদি তাকে তালাক দেয়, তবে তাদের উভয়ের পুনরায় দাম্পত্যে ফিরে আসাতে কোনো গুনাহ নেই যদি তারা মনে করে যে তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে। আর এগুলো আল্লাহর সীমারেখা, তিনি তা বর্ণনা করেন এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা জ্ঞান রাখে। (২৩০)}।

4 - {আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের নির্ধারিত সময় (ইদ্দত) পূর্ণ করে, তখন তোমরা হয় বিধিসম্মতভাবে তাদের রেখে দাও অথবা বিধিসম্মতভাবে তাদের বিদায় দাও। কিন্তু তোমরা তাদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কষ্ট দেওয়ার জন্য আটকে রেখো না। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে অবশ্যই নিজের ওপর জুলুম করল। আর তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসের বিষয় বানিও না এবং তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত ও তোমাদের প্রতি কিতাব ও হিকমত যা নাজিল করেছেন তা স্মরণ করো, যা দিয়ে তিনি তোমাদের উপদেশ দেন। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রাখো যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক অবগত। (২৩১)}।

5 - {আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের নির্ধারিত সময় (ইদ্দত) পূর্ণ করে, তখন তারা যদি পারস্পরিক ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্মত হয়, তবে তারা তাদের পূর্ব স্বামীদের পুনরায় বিবাহ করতে চাইলে তোমরা তাদের বাধা দিও না। তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে, তাকে এ উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। এটিই তোমাদের জন্য অধিকতর শুদ্ধ ও পবিত্র। আর আল্লাহ জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না। (২৩২)} [আল-বাকারাহ: ২২৮ ــ ২৩২]।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৮৬)
6 - {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نَكَحْتُمُ الْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا فَمَتِّعُوهُنَّ وَسَرِّحُوهُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا (49)} [الأحزاب: 49].

7 - {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا (1)}.

8 - {فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ ذَلِكُمْ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا (2) وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا (3)} [الطلاق: 1 ــ 3](1).

[ص 3] صح عن عروة بن الزبير قال: قال رجل لامرأته على عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم: لا آوِيكِ ولا أدعُكِ تَحِلِّين. فقالت له: كيف تصنع؟ قال: أطلِّقك، فإذا دنا مُضِيُّ عدتِك راجعتُك، فمتى تحلِّين؟ ! فأتت النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فأنزل الله {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ}، فاستقبله الناس جديدًا، من كان طلَّق، ومن لم يكن طلَّق" (تفسير ابن جرير ج 2/ ص 258)(2).

--------------------------------------------

(1) بعدها الصفحة الثانية فارغة في الأصل.

(2) (4/ 126) ط. التركي. وفيها: "لا أُؤْوِيك" بدل "لا آوِيك".
6 - {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা মুমিন নারীদের বিবাহ করবে, অতঃপর তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই তালাক দিয়ে দেবে, তখন তোমাদের জন্য তাদের ওপর কোনো ইদ্দত নেই যা তোমরা গণনা করবে। সুতরাং তোমরা তাদেরকে কিছু সামগ্রী প্রদান করো এবং সৌজন্যের সাথে তাদেরকে বিদায় করো। (৪৯)} [আল-আহজাব: ৪৯]।

7 - {হে নবী! তোমরা যখন নারীদের তালাক দাও, তখন তাদেরকে তাদের ইদ্দত অনুযায়ী তালাক দাও এবং ইদ্দত গণনা করো। আর তোমাদের রব আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ো না এবং তারাও বের হবে না, যদি না তারা কোনো স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা; আর যে আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে, সে নিজের ওপরই জুলুম করে। তুমি জানো না, হয়তো আল্লাহ এর পরে কোনো নতুন পথ তৈরি করবেন। (১)}।

8 - {অতঃপর যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করার পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন তোমরা তাদেরকে সৌজন্যের সাথে রেখে দাও অথবা সৌজন্যের সাথে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও। আর তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখো এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য প্রদান করো। এর দ্বারা তাকে নসিহত করা হচ্ছে, যে আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে। আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির কোনো পথ বের করে দেবেন (২) এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেবেন যা সে ধারণাও করতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ অবশ্যই তাঁর কাজ পূর্ণ করবেন; আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে রেখেছেন। (৩)} [আত-তালাক: ১-৩](১)।

[পৃষ্ঠা ৩] উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে বিশুদ্ধ (صح) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের যুগে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলেছিল: "আমি তোমাকে আশ্রয়ও দেব না, আবার অন্য কোথাও বিয়ের জন্য মুক্তও করব না।" তখন মহিলাটি তাকে বলল: "আপনি তা কীভাবে করবেন?" সে বলল: "আমি তোমাকে তালাক দেব, আর যখন তোমার ইদ্দত শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসবে তখন তোমাকে রাজআত (ফিরিয়ে নেওয়া) করব। তাহলে তুমি কীভাবে মুক্ত হবে?!" তখন মহিলাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {তালাক দুই বার, অতঃপর হয় সৌজন্যের সাথে রাখা, অথবা সদাচারের সাথে বিদায় দেওয়া}। এরপর মানুষ নতুনভাবে এ বিধান গ্রহণ করল— যারা তালাক দিয়েছিল এবং যারা দেয়নি তারা সকলেই।" (তাফসীরে ইবনে জারীর, খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ২৫৮)(২)।

--------------------------------------------

(১) এরপর মূল পাণ্ডুলিপিতে দ্বিতীয় পৃষ্ঠাটি ফাঁকা রয়েছে।

(২) (৪/ ১২৬) তুর্কি সংস্করণ। এতে "লা আউইক" এর পরিবর্তে "লা উ'উইক" বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৮৭)
هذا مرسلٌ صحيحٌ(1)، وقد رفعه بعضهم، قال: "عن عروة عن عائشة"(2). وله عواضد، وسيأتي بسط ذلك في البحث مع الإمام الشافعي رحمه الله تعالى.

ومفاده: أن الطلاق في أول الإسلام لم يكن له حد، فكان للرجل إذا طلَّق أن يراجع قبل مضي العدة، ثم إذا طلَّق فله أن يراجع، ثم إذا طلَّق فله أن يراجع، وهكذا أبدًا، فا تخذ بعض الناس ذلك طريقًا للإضرار بالنساء، فأنزل الله سبحانه وتعالى {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} (الآيتين: 2 - 3 من آيات البقرة).

فقوله تعالى في الآية الأولى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ} الآية، يحتمل في نزولها ثلاثة أوجه:

الأول: أن يكون نزولها متقدمًا على نزول ما بعدها بمدة.

الثاني: أن تكون نزلت مع ما بعدها معًا.

الثالث: أن يكون نزولها متأخرًا عما بعدها في النظم.

والأول أقرب؛ لأن التقدم في النظم يُشعِر بالتقدم بالنزول، وإن لم يكن ذلك حتمًا، ولأن ظاهرها عموم استحقاق الرجعة في كل طلاق، وهذا مطابقٌ للحكم المنسوخ بما بعدها، ولمرسل عروة وعواضده، فإن ظاهره أن قوله تعالى: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} أول ما نزل بعد شكوى المرأة، وذلك يقتضي

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي عقب حديث (1192) وابن أبي شيبة في "المصنف" (5/ 260).

(2) أخرجه الترمذي (1192) والحاكم في "المستدرك" (2/ 279) والبيهقي في "السنن الكبرى" (7/ 333).
এটি একটি সহিহ (صحيح) বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা(১), কেউ কেউ একে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন"(২)। এর একাধিক সমর্থক বর্ণনা (عواضد) রয়েছে এবং ইমাম শাফেয়ী (রহ.)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট আলোচনায় এর বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।

এর সারকথা হলো: ইসলামের প্রাথমিক যুগে তালাকের কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা ছিল না। কোনো ব্যক্তি তালাক দিলে ইদ্দত অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে তার ফিরিয়ে নেওয়ার (রাজআত) সুযোগ ছিল। এরপর পুনরায় তালাক দিলে আবারও ফিরিয়ে নিতে পারত, এরপর পুনরায় তালাক দিলে আবারও ফিরিয়ে নিতে পারত, এভাবে আজীবন চলতে থাকত। ফলে কিছু মানুষ একে নারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করল। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {তালাক হলো দুই বার} (সূরা আল-বাকারার আয়াতাংশ: ২-৩)।

প্রথম আয়াতের আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ}, এই আয়াতটি নাযিল হওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি দিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে:

প্রথম: এর অবতীর্ণ হওয়া পরবর্তী আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় পূর্বে হওয়া।

দ্বিতীয়: এটি এবং এর পরবর্তী অংশ একই সাথে অবতীর্ণ হওয়া।

তৃতীয়: বিন্যাস অনুযায়ী এর অবতীর্ণ হওয়া পরবর্তী অংশের পরে হওয়া।

প্রথম বিষয়টিই অধিক নিকটবর্তী; কারণ বিন্যাসের অগ্রাধিকার নাযিলের অগ্রাধিকারের আভাস দেয়, যদিও তা অনিবার্য নয়। তাছাড়া এর বাহ্যিক দিকটি প্রতিটি তালাকের ক্ষেত্রে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকারের ব্যাপকতা বুঝায় এবং এটি পরবর্তী আয়াত দ্বারা রহিত (منسوخ) হওয়া বিধানের সাথে এবং উরওয়াহ-এর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা ও তার সমর্থক বর্ণনাগুলোর (عواضد) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা এর প্রকাশ্য অর্থ হলো, আল্লাহর বাণী: {তালাক হলো দুই বার} জনৈক নারীর অভিযোগের পর সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে। আর এটি দাবি করে যে

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি হাদিস নং (১১৯২)-এর পরবর্তী অংশে এবং ইবনে আবি শাইবা তার "মুসান্নাফ" (৫/ ২৬০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(২) তিরমিজি (১১৯২), হাকেম "আল-মুস্তাদরাক" (২/ ২৭৯) এবং বায়হাকি "আস-সুনান আল-কুবরা" (৭/ ৩৩৩) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৮৮)
أن الآيتين نزلتا منفصلتين عن الآية التي قبلها، وقد ثبت تقدمُها بالدليلين الأولين.

وعلى هذا فكلمة (المطلقات) على عمومها، ولا ينافيه قوله في أثناء الآية: {وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ}؛ لأن الآية نزلت قبل تحديد الطلاق كما سمعت، ويكون قوله تعالى: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ … } (الآيتين) ناسخًا لبعض ما دخل في الآية الأولى، وهو استحقاق الرجعة بعد الطلاق الثالث.

وأما على الوجهين الآخرين، فيحتمل في قوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ} أن يكون(1) من العام المراد به الخصوص، أو من العام المخصوص، أو(2) أن يكون باقيًا على عمومه، ولكن الضمير في قوله: {وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ} أخصُّ من مرجعه، كأنه قال: "وبعولة بعضهن"، والمراد ببعضهن: المطلقات مرةً أو مرتين فقط.

وهذا الأخير ــ وإن ذكروه ــ بعيدٌ جدًّا؛ لمخالفته سنة الكلام من مطابقة الضمير لمرجعه، وتوجيهُه بإضمار "بعضهن" تعسفٌ، وهو شبيه بالاستخدام، وقد تكلمت على الاستخدام في مقالتي في بيان مَنِ المراد بقوله تعالى: {وَآخَرِينَ مِنْهُمْ}(3).

والحق في توجيه هذا أن الضمير عامٌّ كمرجعه، ولكن قد يرد التخصيص على العام باعتبار الحكم الواقع مع الضمير دون الحكم الأول،

--------------------------------------------

(1) في الأصل: "تكون".

(2) في الأول: "و".

(3) انظر كلام المؤلف على المراد بهم في (ص 316 - 318).
নিশ্চয়ই আয়াতদ্বয় তাদের পূর্ববর্তী আয়াত থেকে পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রথম দুটি দলিলের মাধ্যমে এগুলোর অগ্রাধিকার সাব্যস্ত হয়েছে।

এর ভিত্তিতে, 'তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ' (المطلقات) শব্দটি তার সাধারণ (عام) অর্থেই বহাল থাকবে। আয়াতের মধ্যবর্তী অংশে মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাদের স্বামীগণ তাদের ফিরিয়ে নেয়ার অধিক হকদার} এর সাথে বিষয়টি সাংঘর্ষিক নয়; কারণ আপনি যেমনটি শুনেছেন, আয়াতটি তালাকের সংখ্যা নির্ধারিত হওয়ার পূর্বেই অবতীর্ণ হয়েছিল। আর মহান আল্লাহর বাণী: {তালাক দুই বার...} (আয়াতদ্বয়) প্রথম আয়াতের অন্তর্ভুক্ত কিছু বিষয়ের জন্য রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে গণ্য হবে, আর তা হলো তৃতীয় তালাকের পর ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার।

পক্ষান্তরে অপর দুটি অভিমত অনুযায়ী, মহান আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ} দ্বারা উদ্দেশ্য হতে পারে—এমন সাধারণ (عام) শব্দ যার দ্বারা বিশেষ (خصوص) অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, অথবা এটি কোনো নির্দিষ্টকৃত সাধারণ (عام مخصوص) শব্দ হতে পারে। অথবা(2) এটি তার সাধারণ (عام) অর্থেই বহাল থাকতে পারে, তবে {এবং তাদের স্বামীগণ তাদের ফিরিয়ে নেয়ার অধিক হকদার} বাক্যাংশে ব্যবহৃত সর্বনামটি তার নির্দেশিত শব্দ অপেক্ষা অধিকতর বিশিষ্ট (أخص) অর্থ প্রদান করে। বিষয়টি যেন এমন যে, তিনি বলেছেন: "এবং তাদের কয়েকজনের স্বামীগণ"; আর 'তাদের কয়েকজনের' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কেবল সেই সব তালাকপ্রাপ্তা নারী যারা একবার বা দুইবার তালাকপ্রাপ্ত হয়েছেন।

আর এই শেষোক্ত বিষয়টি—তারা এটি উল্লেখ করলেও—তা অত্যন্ত দূরহ; কারণ এটি সর্বনাম ও তার নির্দেশিত শব্দের সামঞ্জস্যতা বজায় রাখার ভাষাতাত্ত্বিক রীতির পরিপন্থী। এছাড়া 'তাদের কতিপয়' শব্দটি এখানে উহ্য ধরে ব্যাখ্যা করা কষ্টকল্পনা মাত্র, যা 'ইস্তিخدام' (الاستخدام)-এর সদৃশ। মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাদের মধ্যকার অন্যদের জন্যও}(3)—এখানে 'অন্যদের' দ্বারা কাদের বোঝানো হয়েছে, সে সম্পর্কিত আমার প্রবন্ধে আমি 'ইস্তিخدام' (الاستخدام) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

আর এর সঠিক ব্যাখ্যা হলো—সর্বনামটি তার নির্দেশিত শব্দের ন্যায় সাধারণ (عام) অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। তবে প্রথম বিধানের পরিবর্তে সর্বনামের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানের ক্ষেত্রে সাধারণ (عام) শব্দের ওপর নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) প্রযুক্ত হতে পারে।

--------------------------------------------

(1) মূল পাণ্ডুলিপিতে: "تكون" রয়েছে।

(2) প্রথমাংশে: "و" রয়েছে।

(3) উক্ত ব্যক্তিবর্গ দ্বারা উদ্দেশ্য সম্পর্কে লেখকের আলোচনা দেখুন (পৃ. ৩১৬ - ৩১৮)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৮৯)
فيكون الظاهر عامًّا باقيًا على عمومه، والضمير عامًّا مخصوصًا.

وعلى هذا، فالضمير مطابقٌ لمرجعه على ما هو سنة الكلام.

وإذ قد ترجح الاحتمال الأول، فلا حاجة لبسط الكلام في الاحتمال الثاني.

وأما الآية الرابعة؛ وهي قوله تعالى: {وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ سَرِّحُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَلَا تُمْسِكُوهُنَّ ضِرَارًا لِتَعْتَدُوا وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ وَلَا تَتَّخِذُوا آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمَا أَنْزَلَ عَلَيْكُمْ مِنَ الْكِتَابِ وَالْحِكْمَةِ يَعِظُكُمْ بِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (231)}.

ففيها احتمالان:

1 - أن تكون متقدمة النزول على الآيتين اللتين قبلها.

وعليه؛ فهي على ظاهرها من أن الطلاق تحل الرجعة بعده مطلقًا، أي: سواء في المرة الأولى، أو الثانية، أو الثالثة، وهكذا.

2 - وتحتمل أن تكون متأخرة عنهما.

وعليه؛ فقوله: {إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ} من العام المراد به الخصوص، أو العام المخصوص، أو على عمومه، ولكنَّ الضمير في قوله: {فَأَمْسِكُوهُنَّ} أخص من مرجعه، ولكن هذا الثالث بعيدٌ، أو باطلٌ ههنا، فإن الآية إنما سيقت لأجل هذا الحكم خاصة، أعني قوله: {فَأَمْسِكُوهُنَّ} الآية.
সুতরাং বাহ্যিক অর্থটি তার ব্যাপকতার (عام) ওপর অবশিষ্ট থাকবে এবং সর্বনামটি হবে বিশেষায়িত ব্যাপক (عام مخصوص)।

আর এর ভিত্তিতে, বাক্যের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সর্বনামটি তার নির্দেশিত মূল শব্দের (مرجع) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।

যেহেতু প্রথম সম্ভাবনাটিই অগ্রগণ্য (ترجح) প্রমাণিত হয়েছে, তাই দ্বিতীয় সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই।

আর চতুর্থ আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও, অতঃপর তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, তখন তোমরা বিধি মোতাবেক তাদের রেখে দাও অথবা বিধি মোতাবেক তাদের বিদায় দাও। আর তোমরা তাদের কষ্ট দেওয়ার জন্য আটকে রেখো না যে তোমরা সীমালঙ্ঘন করবে। আর যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে নিজের ওপরই জুলুম করল। আর তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসের বিষয় বানিও না। তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত এবং তোমাদের প্রতি কিতাব ও হিকমত যা তিনি অবতীর্ণ করেছেন তা স্মরণ করো, যার মাধ্যমে তিনি তোমাদের উপদেশ দেন। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ (২৩১)}।

এতে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে:

1 - এটি অবতীর্ণ হওয়ার দিক থেকে এর পূর্ববর্তী আয়াত দুটির আগে হতে পারে।

সে অনুযায়ী, আয়াতটি তার বাহ্যিক অর্থের (ظاهر) ওপর বহাল থাকবে যে, তালাকের পর প্রত্যাবর্তন করা নিঃশর্তভাবে (مطلق) বৈধ; অর্থাৎ তা প্রথমবার হোক, দ্বিতীয়বার হোক কিংবা তৃতীয়বার, এভাবেই।

2 - এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি ওই আয়াত দুটির পরে অবতীর্ণ হয়েছে।

সেই ভিত্তিতে তাঁর বাণী: {যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও} এমন ব্যাপক (عام) শব্দ যার দ্বারা বিশেষ অর্থ উদ্দেশ্য (مراد به الخصوص), অথবা এটি একটি বিশেষায়িত ব্যাপক (عام مخصوص), অথবা এটি তার ব্যাপকতার (عام) ওপর বহাল। তবে তাঁর বাণী: {অতঃপর তোমরা তাদের রেখে দাও}-এর মধ্যকার সর্বনামটি তার নির্দেশিত মূল শব্দ (مرجع) অপেক্ষা অধিকতর বিশিষ্ট (أخص)। কিন্তু এই তৃতীয় বিষয়টি এখানে দূরবর্তী (بعيد) বা বাতিল (باطل); কারণ আয়াতটি বিশেষভাবে এই বিধানটির জন্যই উপস্থাপিত হয়েছে, অর্থাৎ তাঁর বাণী: {অতঃপর তোমরা তাদের রেখে দাও} শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৯০)
وأما آيات سورة الطلاق؛ فيتعين فيها النزول معًا على نظمها؛ لأنها كلامٌ واحدٌ مرتبطٌ أوثقَ الارتباط.

ويبقى النظر بينها وبين قوله تعالى: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} (الآيتين)، فإن كانت آيات سورة الطلاق نزلت قبل آيتي {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} فلا إشكال في هذا.

وإن كانت نزلت بعدُ، فتحتاج إلى تأويل، فيقال: إن قوله تعالى: {إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ} إما عامٌّ مرادٌ به الخصوص، وإما عامٌ مخصوص، وإما على عمومه، وإن كان التعليل بقوله تعالى: {لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا} يختص بمن طلقت مرةً أو مرتين فقط.

وهكذا الضمير في قوله: {فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ}.

والاحتمال الأول أولى؛ لتسلَم الآياتُ من مخالفة الظاهر.

ولا ينافي ما تقدم في الآية الرابعة من آيات البقرة، وما قلناه ههنا قولهم: "إن التخصيص أولى من النسخ"، فإن محله حيث لم يتحقق النسخ، وها هنا قد تحقق النسخ في الجملة كما تقدم.

فأما على قول الحنفية ومن وافقهم: أن العام المتأخر ينسخ الخاص المتقدم، فيتعين القول بتأخر نزول آيات سورة الطلاق، وإلا لزم أن يكون ناسخًا لقوله: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} الآيتين.
আর সুরা আত-ত্বালাকের আয়াতসমূহের ব্যাপারে বক্তব্য হলো, এর আয়াতগুলো বর্তমান বিন্যাস অনুযায়ী একসাথেই অবতীর্ণ হওয়া সুনিশ্চিত; কারণ এটি একটি সুসংহত এবং নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত বক্তব্য।

তবে এই আয়াতসমূহ এবং মহান আল্লাহর বাণী: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} (তালাক দুই বার) [উভয় আয়াত] এর মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে পর্যালোচনার অবকাশ থেকে যায়। যদি সুরা আত-ত্বালাকের আয়াতসমূহ {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} আয়াতদ্বয়ের পূর্বে অবতীর্ণ হয়ে থাকে, তবে এতে কোনো অস্পষ্টতা বা জটিলতা নেই।

আর যদি তা পরে অবতীর্ণ হয়ে থাকে, তবে এর ব্যাখ্যার (تأويل) প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে বলা যেতে পারে যে, মহান আল্লাহর বাণী: {إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ} এটি হয় এমন সাধারণ শব্দ যার দ্বারা বিশেষ অর্থ উদ্দেশ্য (عامٌ مرادٌ به الخصوص), অথবা এটি একটি সুনির্দিষ্টীকৃত সাধারণ (عامٌ مخصوص) শব্দ, অথবা এটি তার সাধারণ অর্থেই (على عمومه) বহাল রয়েছে। যদিও মহান আল্লাহর বাণী: {لَا تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا} (তুমি জানো না, হয়তো আল্লাহ এরপর নতুন কোনো পথ তৈরি করবেন) এর মাধ্যমে যে কারণ দর্শানো হয়েছে, তা কেবল সেই নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাকে এক বা দুই তালাক দেওয়া হয়েছে।

অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ} (অতঃপর যখন তারা তাদের ইদ্দতকালে পৌঁছাবে, তখন তোমরা হয় তাদেরকে বিধিমতো রেখে দেবে, না হয় বিধিমতো তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে)—এই আয়াতে ব্যবহৃত সর্বনামটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

আর প্রথম সম্ভাবনাটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য; যাতে আয়াতসমূহ প্রকাশ্য অর্থের (ظاهر) পরিপন্থী হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

সুরা বাকারার চতুর্থ আয়াতের ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে এবং আমরা এখানে যা বলেছি, তা আলেমগণের এই মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে: "রহিতকরণ (النسخ) অপেক্ষা সুনির্দিষ্টীকরণ (التخصيص) অধিকতর শ্রেয়"। কারণ এই মূলনীতি সেখানে প্রযোজ্য যেখানে রহিতকরণ (النسخ) নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়; অথচ এখানে ইতিপূর্বে বর্ণিত আলোচনা অনুযায়ী সামগ্রিকভাবে রহিতকরণ (النسخ) প্রমাণিত হয়েছে।

তবে হানাফি মাযহাব এবং তাদের অনুসারীগণের মতানুসারে—যাঁরা মনে করেন যে, পরবর্তী সাধারণ (العام المتأخر) বিধান পূর্ববর্তী বিশেষ (الخاص المتقدم) বিধানকে রহিত করে দেয়—সেক্ষেত্রে সুরা আত-ত্বালাকের আয়াতসমূহ পরে অবতীর্ণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া আবশ্যক। অন্যথায় এটি {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} আয়াতদ্বয়ের রহিতকারী (ناسخًا) হিসেবে গণ্য হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৯১)
وكذلك لا ينافيه ما جاء أن سورة البقرة نزلت قبل سورة الطلاق بمدة؛ لأن المراد فيه معظم سورة البقرة، فقد صح عن ابن عباس: "أن آخر ما نزل من القرآن آية الربا" يعني التي في سورة البقرة. رواه البخاري وغيره(1)، وروي مثله عن عمر(2)، ولذلك نظائر في القرآن. انظرها في "الإتقان"(3).

[ص 4] فصل

قوله تعالى: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} "ال" للعهد، أي: الطلاق الذي تعهدونه من حيث إن من شأنه أن الرجل إذا أوقعه كان له أن يراجع.

وهذه الحيثية كانت سبب نزول الآية، كما تقدم في مرسل عروة، والذي من شأنه ما قاله ذلك الرجل، والذي تقدم ذكره في الآية السابقة، وهي قوله: {وَالْمُطَلَّقَاتُ} إلى قوله: {وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ}.

ولا ينافي هذا ما اخترناه من تقدم نزول آية {وَالْمُطَلَّقَاتُ} بمدة؛ لأنها في علم الله تعالى متصلة بها، وجعلت في النظم متصلة بها.

والعهد هنا أولى من الجنس لأمرين:

الأول: لما تقرر في الأصول: أنه إذا تحقق عهدٌ تعين المصير إليه.

الثاني: قوله: {مَرَّتَانِ} مع أن جنس الطلاق ــ مع صرف النظر عن المراجعة ــ ثلاث بمقتضى هاتين الآيتين.

--------------------------------------------

(1) البخاري (4544). وأخرجه أيضًا أبو عبيد في "فضائل القرآن" (ص 223 ــ 224) والطبري في "تفسيره" (5/ 67)، والبيهقي في "دلائل النبوة" (7/ 138).

(2) أخرجه البيهقي في "الدلائل" (7/ 138).

(3) (1/ 180).
একইভাবে, সূরা আল-বাকারা সূরা আত-তালাকের বেশ কিছুকাল পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে বলে যা বর্ণিত হয়েছে, তা এর সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সূরা আল-বাকারার অধিকাংশ অংশ। কেননা ইবনে আব্বাস থেকে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে (صح): "কুরআনের সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো সুদের আয়াত" অর্থাৎ যা সূরা আল-বাকারায় রয়েছে। এটি বুখারি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন (رواه)(১), এবং উমর থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে (روي)(২)। কুরআনে এর অনুরূপ আরও উদাহরণ রয়েছে। সেগুলো "আল-ইতকান" গ্রন্থে দেখুন(৩)।

[পৃষ্ঠা ৪] পরিচ্ছেদ

আল্লাহ তাআলার বাণী: {তালাক দুইবার} এখানে "আল" বর্ণটি সুনির্দিষ্ট অর্থের জন্য (للعهد) এসেছে, অর্থাৎ: সেই তালাক যা তোমাদের জানা আছে এই হিসেবে যে, স্বামী তা প্রদান করলে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার (يراجع) সুযোগ থাকে।

আর এই প্রেক্ষিতটিই ছিল আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ (سبب نزول), যেমনটি উরওয়ার বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনায় ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এর স্বরূপ সেই ব্যক্তির বক্তব্যের মতো যা পূর্ববর্তী আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ} থেকে {আর তাদের স্বামীরা এই সময়ের মধ্যে তাদের ফিরিয়ে নিতে অধিক হকদার} পর্যন্ত।

আমরা {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ} আয়াতটি বেশ কিছুকাল পূর্বে অবতীর্ণ হওয়ার যে মতটি পছন্দ করেছি, এটি তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ এটি মহান আল্লাহর জ্ঞানে এর সাথে সংযুক্ত এবং বিন্যাসের ক্ষেত্রেও এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এখানে সুনির্দিষ্ট অর্থ (العهد) গ্রহণ করা সাধারণ অর্থ (الجنس) অপেক্ষা দুটি কারণে অগ্রাধিকারযোগ্য:

প্রথমত: উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রে (الأصول) যা সাব্যস্ত হয়েছে যে, যখন কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থ নিশ্চিত হয়, তখন সেটিই গ্রহণ করা আবশ্যক।

দ্বিতীয়ত: তাঁর বাণী: {দুইবার}, অথচ তালাকের সাধারণ রূপ (جنس) — স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা না করলে — এই দুই আয়াতের দাবি অনুযায়ী তিনটি।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৪৫৪৪)। এছাড়া আবু উবাইদ "ফাদাইলুল কুরআন" (পৃ. ২২৩-২২৪), তবারি তাঁর "তাফসির" (৫/৬৭) এবং বায়হাকি "দালাইলুন নুবুওয়াহ" (৭/১৩৮) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) বায়হাকি "দালাইলুন নুবুওয়াহ" (৭/১৩৮) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) (১/১৮০)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৯২)
وقال ابن جرير(1): "اختلف أهل التأويل في تأويل ذلك، فقال بعضهم: هو دلالة على عدد الطلاق الذي يكون للرجل فيه الرجعة على زوجته". ثم ذكر مرسل عروة(2)، ومرسلًا في معناه عن قتادة(3)، وآخر عن ابن زيد(4)، ثم ذكر عن السدي(5) قال: "هو الميقات الذي يكون عليها فيه الرجعة". ثم ذكر أثرًا عن عكرمة(6).

ثم قال(7): "وقال آخرون: إنما أُنزِلت هذه الآية على نبي الله صلى الله عليه وآله وسلم تعريفًا من الله تعالى ذكرُه عبادَه سنةَ طلاقهم" (تفسير ابن جرير 2/ ص 258 - 259).

وقد ذكر في موضعٍ آخر عن قتادة، ولفظه(8): عن قتادة قال: "جعل الله الطلاق ثلاثًا، فإذا طلَّقها واحدةً فهو أحقُّ بها ما لم تنقضِ عدتُها، وعدتها ثلاث حيض، فإن انقضت العدة قبل أن يكون راجعها، فقد بانت منه بواحدةٍ، وصارت أحقَّ بنفسها، وصار خاطبًا [من الخُطَّاب](9)، فكان الرجل إذا أراد طلاق أهله نظر حَيْضَتها، حتى إذا طهرت طلَّقها تطليقة في

--------------------------------------------

(1) "تفسيره" (4/ 125) ط. التركي.

(2) سبق تخريجه.

(3) "تفسير الطبري" (4/ 126).

(4) المصدر نفسه (4/ 126).

(5) المصدر نفسه (4/ 127). وأخرجه أيضًا البيهقي في "السنن الكبرى" (7/ 367).

(6) المصدر نفسه (4/ 127). وأخرجه أيضًا ابن أبي شيبة في "المصنف" (5/ 261).

(7) المصدر نفسه (4/ 127).

(8) المصدر نفسه (4/ 166).

(9) ما بين المعكوفتين مخروم من الأصل.
ইবনে জারীর(১) বলেন: "ব্যাখ্যাকারগণ এর ব্যাখ্যায় মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি তালাকের সেই সংখ্যা নির্দেশ করে যাতে পুরুষ তার স্ত্রীর নিকট ফিরে যাওয়ার অধিকার রাখে।" এরপর তিনি উরওয়ার বিচ্ছিন্ন (مرسل)(২) বর্ণনা এবং একই অর্থে কাতাদাহ থেকে একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل)(৩) বর্ণনা এবং ইবনে যায়দ থেকে অপর একটি বর্ণনা(৪) উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি সুদ্দী থেকে বর্ণনা(৫) উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "এটি এমন এক সময়সীমা যাতে স্ত্রীর ওপর ফিরে যাওয়ার অধিকার থাকে।" এরপর তিনি ইকরিমাহ থেকে একটি বর্ণনা (أثر)(৬) উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি বলেন(٧): "অন্যরা বলেছেন: মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তালাকের সুন্নাত পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়ার জন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেছেন" (তাফসীরে ইবনে জারীর ২/ পৃ. ২৫৮ - ২৫৯)।

তিনি অন্য এক স্থানে কাতাদাহ থেকে উল্লেখ করেছেন, যার শব্দবিন্যাস হলো(٨): কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহ তালাককে তিনবার নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যখন কেউ তাকে এক তালাক দেয়, সে তার ব্যাপারে অধিক হকদার যতক্ষণ না তার ইদ্দত শেষ হয়। আর তার ইদ্দত হলো তিন ঋতুস্রাব। যদি সে ফিরে যাওয়ার পূর্বেই ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তবে সে এক তালাকের মাধ্যমে তার থেকে পৃথক হয়ে গেল এবং সে (নারী) নিজের ব্যাপারে বেশি অধিকারপ্রাপ্ত হলো, আর সে (পুরুষ) বিবাহপ্রার্থীদের [من الخُطَّاب](৯) মধ্যে একজন সাধারণ প্রার্থী হিসেবে গণ্য হলো। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করত, তখন সে তার ঋতুস্রাবের দিকে লক্ষ্য রাখত; যতক্ষণ না সে পবিত্র হতো, সে তাকে এক তালাক দিত..."

--------------------------------------------

(১) তাঁর "তাফসীর" (৪/ ১২৫), তুর্কি সংস্করণ।

(২) পূর্বে এর তথ্যসূত্র বিশ্লেষণ (تخريج) করা হয়েছে।

(৩) "তাফসীরে তাবারী" (৪/ ১২৬)।

(৪) একই উৎস (৪/ ১২৬)।

(৫) একই উৎস (৪/ ১২৭)। এটি বায়হাকীও "আস-সুনান আল-কুবরা" (৭/ ৩৬৭) গ্রন্থে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(৬) একই উৎস (৪/ ১২৭)। এটি ইবনে আবি শাইবাহও "আল-মুসান্নাফ" (৫/ ২৬১) গ্রন্থে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(৭) একই উৎস (৪/ ১২৭)।

(৮) একই উৎস (৪/ ১৬৬)।

(৯) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বিলুপ্ত।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৯৩)
قُبل عدتها، عند شاهدَيْ عدلٍ، فإن بدا [له مراجعتها] راجعها ما كانت في عدتها، وإن تركها حتى تنقضي عدتها فقد بانت منه بواحدةٍ، وإن بدا له طلاقها بعد الواحدة وهي في عدتها نظر حيضتها، حتى إذا طهرت طلَّقها تطليقةً أخرى في قُبل عدتها، فإن بدا له مراجعتها راجعها، فكانت عنده [على] واحدة، وإن بدا له طلاقها طلَّقها الثالثةَ عند طهرها، فهذه الثالثة التي قال الله تعالى ذكره: {فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ} " (تفسير ابن جرير ج 2/ ص 270)(1).

[ص 9 مكرر] ودل على هذا قوله تعالى: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} ولم يقل: ثلاث، ولا وجه لذلك إلا أنه أراد الذي تكون معه الرجعة، وهو الذي عهده الناس من قبل نزول الآية، والذي تقدم ذكره.

قال تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ}.

قال ابن جرير(2): "فقال بعضهم: هو دلالة على عدد الطلاق الذي يكون للرجل فيه الرجعةُ على زوجته".

ثم استدل على ذلك بمرسل عروة وما شاكله، ثم حكى أقوالًا مضطربة، ثم روى عن الضحاك قال(3): "يعني تطليقتين بينهما مراجعة، فأمر أن يمسك، أو يطلق بإحسان".

--------------------------------------------

(1) كتب الشيخ بعدها: "ملحق". ويقصد به الآتي.

(2) "تفسيره" (4/ 125).

(3) المصدر نفسه (4/ 132).
ইদ্দতের প্রারম্ভে, দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষীর উপস্থিতিতে; অতঃপর যদি তার নিকট [তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার] ইচ্ছা জাগে, তবে সে তাকে ইদ্দত চলাকালীন ফিরিয়ে নেবে। আর যদি সে তাকে ছেড়ে দেয় যতক্ষণ না তার ইদ্দত শেষ হয়, তবে সে এক তালাকের মাধ্যমে তার থেকে পৃথক হয়ে যাবে। আর যদি এক তালাকের পর ইদ্দত চলাকালীন তাকে পুনরায় তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তবে সে তার ঋতুস্রাবের প্রতি লক্ষ্য রাখবে, যতক্ষণ না সে পবিত্র হয়; অতঃপর সে পবিত্র হলে ইদ্দতের প্রারম্ভে তাকে দ্বিতীয়বার তালাক দেবে। এরপর যদি তার নিকট তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা জাগে, তবে সে তাকে ফিরিয়ে নেবে এবং সে তার নিকট এক তালাকপ্রাপ্তা অবস্থায় গণ্য হবে। আর যদি তাকে তালাক দেওয়াই সাব্যস্ত হয়, তবে সে তার পবিত্র অবস্থায় তাকে তৃতীয় তালাক দেবে। এটিই সেই তৃতীয় তালাক যার সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর সে তার জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে} (তাফসির ইবনে জারির খণ্ড ২/ পৃষ্ঠা ২৭০)(1).

[৯ম পৃষ্ঠার পুনরাবৃত্তি] এবং মহান আল্লাহর এই বাণী এর প্রতিই ইঙ্গিত করে: {তালাক দুইবার}। তিনি তিনবার বলেননি। এর উদ্দেশ্য এটি ছাড়া আর কিছুই নয় যে, তিনি এমন তালাক বুঝিয়েছেন যার পর ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে এবং আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে এটিই মানুষের মাঝে প্রচলিত ছিল এবং যার কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদেরকে প্রতীক্ষায় রাখবে। তাদের জরায়ুতে আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তা গোপন করা তাদের জন্য বৈধ নয়}।

ইবনে জারির(2) বলেন: "তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি তালাকের সেই সংখ্যার প্রমাণ যাতে ব্যক্তির জন্য তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার থাকে।"

অতঃপর তিনি উরওয়াহর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা এবং এর অনুরূপ বর্ণনাসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এরপর তিনি কিছু অসংলগ্ন (مضطربة) উক্তি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর দাহহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন(3): "অর্থাৎ দুই তালাক যার মাঝে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। অতঃপর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন স্ত্রীকে বিধিমতো রেখে দেয় অথবা সদাচারের সাথে বিদায় দেয়।"

--------------------------------------------

(1) শাইখ এরপর লিখেছেন: "পরিশিষ্ট"। এর দ্বারা তিনি পরবর্তী অংশকে বুঝিয়েছেন।

(2) তার "তাফসির" (৪/ ১২৫)।

(3) একই উৎস (৪/ ১৩২)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৯৪)
واعترضه ابن جرير من جهة غير ما نحن بصدده.

ثم قال ابن جرير(1): "فبيِّنٌ أن تأويل الآية: الطلاق الذي لأزواج النساء على نسائهم فيه الرجعة مرتان، ثم الأمر بعد ذلك إذا راجعوهن في الثانية إما إمساكٌ بمعروف، وإما تسريحٌ منهم لهن بإحسان بالتطليقة الثالثة".

ثم قال(2) في قوله تعالى: {فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ}: "فقال بعضهم: دل على أنه إن طلَّق الرجل امرأته التطليقة الثالثة بعد التطليقتين اللتين قال الله تعالى ذكره فيهما: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} فإن امرأته تلك لا تحلُّ له بعد التطليقة الثالثة حتى تنكح زوجًا غيره".

ثم أخرج(3) عن قتادة قال: "جعل الله الطلاق ثلاثًا، فإذا طلَّقها واحدةً فهو أحقُّ بها ما لم تنقضِ العدة، وعدتها ثلاثُ حِيَض، فإن انقضت العدة قبل أن يكون راجعها، فقد بانت منه بواحدةٍ، وصارت أحقَّ بنفسها، وصار خاطبًا من الخطاب، فكان الرجل إذا أراد طلاق أهله نظر حيضتها، حتى إذا طهرت طلَّقها تطليقةً في قُبُل عدتها، عند شاهدي عدلٍ، فإن بدا له مراجعتها راجعها ما كانت في عدتها، … وإن بدا له طلاقها طلَّقها الثالثة عند طهرها، فهذه الثالثة التي قال الله تعالى ذكره: {فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ} ".

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (4/ 132).

(2) المصدر نفسه (4/ 165).

(3) المصدر نفسه (4/ 166).
এবং ইবনে জারীর এর ওপর এমন এক দিক থেকে আপত্তি জানিয়েছেন যা আমাদের বর্তমান প্রসঙ্গের বহির্ভূত।

অতঃপর ইবনে জারীর(১) বলেন: "এটি সুস্পষ্ট যে আয়াতের ব্যাখ্যা হলো: স্ত্রীদের ওপর স্বামীদের সেই তালাক যাতে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার (رجعة) সুযোগ থাকে তা দুইবার। এরপর দ্বিতীয়বার ফিরিয়ে নেওয়ার পর করণীয় হলো হয় সদ্ভাবে আটকে রাখা, নতুবা তৃতীয় তালাকের মাধ্যমে অনুগ্রহের সাথে তাদের বিদায় দেওয়া।"

অতঃপর তিনি(২) মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়, তবে এরপর সে আর তার জন্য বৈধ হবে না যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামীকে বিবাহ করে} এর ক্ষেত্রে বলেন: "তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি প্রমাণ করে যে, যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সেই দুই তালাকের পর তৃতীয়বার তালাক দেয় যার ব্যাপারে মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন: {তালাক দুইবার}, তবে সেই স্ত্রী তৃতীয় তালাকের পর তার জন্য বৈধ হবে না যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামীকে বিবাহ করে।"

অতঃপর তিনি(৩) কাতাদাহ থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ তালাককে তিনবার নির্ধারিত করেছেন। সুতরাং স্বামী যদি তাকে এক তালাক দেয়, তবে ইদ্দত (عدة) শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অধিক হকদার থাকবে। আর তার ইদ্দত (عدة) হলো তিন ঋতুচক্র। যদি সে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার পূর্বেই ইদ্দত (عدة) শেষ হয়ে যায়, তবে এক তালাকের মাধ্যমেই সে তার থেকে বিচ্ছিন্ন (بائن) হয়ে গেল এবং সে নিজের ব্যাপারে অধিক হকদার হয়ে গেল; আর স্বামী অন্যান্য প্রস্তাবকারীদের মতো একজন সাধারণ প্রস্তাবকারীতে পরিণত হলো। নিয়ম ছিল এই যে, কোনো ব্যক্তি যখন তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করত, তখন সে তার ঋতুকালের দিকে লক্ষ্য রাখত। অতঃপর সে পবিত্র হলে দুই জন ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইদ্দতের (عدة) প্রারম্ভে তাকে এক তালাক দিত। এরপর যদি তার ফিরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা হতো, তবে ইদ্দত (عدة) চলাকালীন সে তাকে ফিরিয়ে নিত, … আর যদি তার তালাক দেওয়ার ইচ্ছা হতো, তবে তার পবিত্র অবস্থায় তাকে তৃতীয় তালাক দিত। এটিই সেই তৃতীয় তালাক যার সম্পর্কে মহান আল্লাহ উল্লেখ করেছেন: {সে এরপর আর তার জন্য বৈধ হবে না যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামীকে বিবাহ করে}।"

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (৪/ ১৩২)।

(২) একই উৎস (৪/ ১৬৫)।

(৩) একই উৎস (৪/ ১৬৬)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৯৫)
ثم روى(1) بسند ضعيف عن علي بن أبي طلحة عن ابن عباس يقول: "إن طلَّقها ثلاثًا فلا تحِلُّ حتى تنكح زوجًا غيره".

وأخرج عن الضحاك قال(2): "إذا طلَّق واحدة أو اثنتين فله الرجعة ما لم تنقضِ العدة، قال: والثالثة قوله: {فَإِنْ طَلَّقَهَا} … ".

وعن السدي(3): "فإن طلَّقها بعد التطليقتين".

ثم حكى عن مجاهد(4) ما حاصله أن الطلقة الثالثة قد تقدمت في قوله: {أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ}، وقوله: {فَإِنْ طَلَّقَهَا} تفسيرٌ لذلك، كأنه قال: فإن وقع التسريح بالإحسان.

وقد قدَّم في تفسير التسريح حديث أبي رزين(5) قال: قال رجل: يا رسول الله! يقول الله تعالى: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ} فأين الثالثة؟ قال: "التسريح بإحسان".

وروى عن مجاهد وقتادة نحوه(6).

وحكى عن السدي والضحاك أنهما قالا(7): "الإمساك: المراجعة،

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (4/ 166).

(2) المصدر نفسه (4/ 167).

(3) المصدر نفسه (4/ 167).

(4) المصدر نفسه (4/ 167).

(5) المصدر نفسه (4/ 130).

(6) المصدر نفسه (4/ 131).

(7) المصدر نفسه (4/ 131، 132).
এরপর তিনি(১) একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ (سند)-এর মাধ্যমে আলী বিন আবু তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যদি সে তাকে তিন তালাক দেয়, তবে সে তার জন্য আর হালাল হবে না যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামী গ্রহণ করে।"

এবং তিনি আদ-দাহহাক থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেন(২): "যখন কেউ এক বা দুই তালাক দেয়, তখন ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার ফিরিয়ে নেওয়ার (رجعة) সুযোগ থাকে; তিনি বলেন: আর তৃতীয়টি হলো আল্লাহর এই বাণী: {অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়} … "।

আর আস-সুদ্দী থেকে বর্ণিত(৩): "অর্থাৎ দুই তালাকের পর যদি সে তাকে তালাক দেয়।"

এরপর তিনি মুজাহিদ থেকে(৪) যা বর্ণনা করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো এই যে, তৃতীয় তালাকের বিষয়টি আল্লাহর এই বাণীতে পূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে: {অথবা মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়া}, আর তাঁর এই বাণী: {অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়} তা হলো মূলত এরই ব্যাখ্যা, যেন তিনি বলেছেন: "যদি মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়া (تسريح) কার্যকর হয়।"

তিনি মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়ার (تسريح) ব্যাখ্যায় ইতিপূর্বে আবু রাজিনের হাদিস(৫) উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তালাক দুই বার, এরপর হয় সদ্ভাবে রাখা}, তবে তৃতীয়টি কোথায়? তিনি বললেন: "তা হলো মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়া (تسريح)।"

এবং তিনি মুজাহিদ ও কাতাদাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন(৬)।

আর তিনি আস-সুদ্দী ও আদ-দাহহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন(৭): "সদ্ভাবে রাখা (إمساك) অর্থ হলো ফিরিয়ে নেওয়া (مراجعة),

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (৪/ ১৬৬)।

(২) একই উৎস (৪/ ১৬৭)।

(৩) একই উৎস (৪/ ১৬৭)।

(৪) একই উৎস (৪/ ১৬৭)।

(৫) একই উৎস (৪/ ১৩০)।

(৬) একই উৎস (৪/ ১৩১)।

(৭) একই উৎস (৪/ ১৩১, ১৩২)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৯৬)
والتسريح: أن يدعها حتى تمضي عدتها".

وعلى كل حال فهم متفقون أن قوله تعالى: {فَإِنْ طَلَّقَهَا} أراد به الثالثة، سواء من قال: إنه لم يتقدم لها ذكر، ومن قال: بل قد تقدم.

وهكذا ما روي عن ابن عباس ــ وإن لم يصح ــ من قوله: "إن طلَّقها ثلاثًا"، فإنه إنما أراد الثلاث التي تقدمت، وهي المرتان اللتان(1) راجع بعد كل منهما، والتسريح.

هكذا يجب أن يُفهم، فإنه إن فُهِم على معنى: إن طلَّقها ثلاثًا دفعة واحدة، كان على خلاف سياق القرآن، وخلاف ما عليه سائر المفسرين.

[منتصف ص 4] وقوله تعالى: {مَرَّتَانِ} لماذا عُدِل به عن "طلقتان"؟

عنه ثلاثة أجوبة:

الأول: أن يقال: إنما عُدِل عنه؛ لأن تكرار الحروف يوجب ثقلًا في اللفظ.

وليس هذا الجواب بشيءٍ؛ لأن التكرار هنا لا يوجب ثقلًا يعتدُّ به. وقد وقع في القرآن كثيرًا ما هو مثله، أو أدخلُ منه في شبهة الثقل، مثل {مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً}، {وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْبَارًا}، {عَاهَدُوا عَهْدًا}، {أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لَا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا}، وأبلغ من ذلك قوله تعالى: {وَعَلَى أُمَمٍ مِمَّنْ مَعَكَ}، اجتمعت فيها سبع ميمات.

--------------------------------------------

(1) في الأصل: "اللتين".
"এবং বিদায় করে দেওয়া হলো: তাকে ছেড়ে দেওয়া যাতে তার ইদ্দতকাল অতিবাহিত হয়।"

যাই হোক, তাঁরা এ ব্যাপারে একমত যে, মহান আল্লাহর বাণী: {যদি সে তাকে তালাক দেয়} দ্বারা তিনি তৃতীয় তালাকটি উদ্দেশ্য করেছেন; চাই যারা বলুক যে, ইতিপূর্বে এর কোনো উল্লেখ নেই, আর যারা বলুক যে, বরং তা আগে উল্লেখ হয়েছে।

অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস থেকে যা বর্ণিত হয়েছে - যদিও তা সহিহ (صح) নয় - তাঁর কথা: "যদি সে তাকে তিন তালাক দেয়", এর দ্বারা তিনি কেবল সেই তিনটিই উদ্দেশ্য করেছেন যা আগে অতিবাহিত হয়েছে। আর তা হলো সেই দুই বার যার প্রতিটির পর সে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়েছিল(১) এবং বিদায় দান।

এভাবেই বিষয়টি বোঝা আবশ্যক, কেননা যদি তা এই অর্থে গ্রহণ করা হয় যে: যদি সে তাকে একবারে তিন তালাক দেয়, তবে তা কুরআনের প্রসঙ্গের পরিপন্থী এবং অন্যান্য মুফাসসিরগণের মতের পরিপন্থী হবে।

[পৃষ্ঠা ৪ এর মধ্যভাগ] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {দুই বার}, কেন একে "দুই তালাক" শব্দ থেকে পরিবর্তন করা হয়েছে?

এর তিনটি উত্তর রয়েছে:

প্রথম: বলা হয়ে থাকে যে, একে পরিবর্তন করা হয়েছে; কারণ অক্ষরের পুনরাবৃত্তি শব্দের উচ্চারণে জড়তা বা শ্রুতিকটুতা সৃষ্টি করে।

কিন্তু এই উত্তরটি কোনো ধর্তব্য বিষয় নয়; কারণ এখানে পুনরাবৃত্তি কোনো উল্লেখযোগ্য জড়তা সৃষ্টি করে না। আর কুরআনে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যা এর অনুরূপ অথবা জড়তার সন্দেহে এর চেয়েও বেশি স্পষ্ট, যেমন {যে এক আজলা পানি পান করল}, {তারা চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করল}, {তারা অঙ্গীকার করল}, {আমি তাকে এমন শাস্তি দেব যা আর কাউকে দেব না}। আর এর চেয়েও অলঙ্কারপূর্ণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমার সাথে থাকা বহু জাতির ওপর}, যাতে সাতটি 'মিম' একত্র হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে: "আল্লাতাইন"।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৯৭)
الثاني: ما قاله الجصاص في "أحكام القرآن" وغيره: أنه عُدِل عن "طلقتان" للدلالة على وجوب تفريق الطلاق، إما بأن يطلق واحدةً يقتصر عليها، ولا يطلق أخرى إلا إذا راجع بعد الأولى، وإما بأن يطلق عند كل طهر واحدةً، قولان لأهل العلم.

قالوا: فقوله: {مَرَّتَانِ} دلالة على ذلك.

قال الجصاص: "وذلك يقتضي التفريق لا محالة؛ لأنه لو طلَّق اثنتين معًا لما جاز أن يقال: طلَّقها مرتين، وكذلك لو دفع رجل إلى آخر درهمين لم يجز أن يقال: أعطاه مرتين حتى يفرق الدفع" (أحكام القرآن ج 1/ ص 378).

بل في الطلاق نفسه لو قال قائلٌ: إن فلانًا طلَّق زوجته اليوم مرتين، لفُهِم منه التفريق، ولم يفهم منه أنه قال: أنت طالق طلقتين، أو أنت طالق أنت طالق.

ومع ذلك ففي هذا الجواب نظرٌ؛ لأنه كان الظاهر أن يقال: "ثلاث مرات"، فلماذا قال: {مَرَّتَانِ}، ثم ذكر الطلقة الثالثة بعدُ؟

ولأن التفريق يصدق بما لو طلَّقها طلقةً، ثم بعد ساعة طلَّقها أخرى بدون تخلل رجعة، فلو أريد تفريق مخصوص، لكان الظاهر أن يقام عليه دليلٌ.

نعم، من قال: إن السنة أن يطلق طلقة واحدة، ثم يدعها حتى تنقضي عدتها، فإن راجعها في العدة ثم بدا له أن يطلق، فليطلق مرة أخرى، فله أن يجيب بأن المراد بـ {مَرَّتَانِ} طلاقان يعقب كلًا منهما رجعة، وهذا لا يكون ثلاثًا، وبأن في الآية دليلًا على هذا التفريق بخصوصه، وهو قوله: {فَإِمْسَاكٌ
দ্বিতীয়ত: আল-জাসসাস তাঁর "আহকামুল কুরআন" এবং অন্যান্য গ্রন্থে যা বলেছেন তা হলো: 'দুই তালাক' শব্দটির পরিবর্তে 'দুইবার' শব্দটির ব্যবহার করা হয়েছে তালাক পৃথকভাবে কার্যকর করার আবশ্যকতা বুঝাতে। হয় এভাবে যে, একবার তালাক দিবে এবং এর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর প্রথমটির পর প্রত্যাবর্তন (رجعة) না করা পর্যন্ত দ্বিতীয়টি দিবে না, অথবা প্রতি পবিত্রতার (طهر) সময় একটি করে তালাক প্রদান করবে—এ বিষয়ে আলেমদের দুটি অভিমত রয়েছে।

তাঁরা বলেছেন: আল্লাহর বাণী: {দুইবার} এটি তারই প্রমাণ নির্দেশ করে।

জাসসাস বলেন: "এটি অনিবার্যভাবে পৃথকীকরণ দাবি করে; কারণ যদি কেউ একসাথে দুই তালাক দেয়, তবে 'সে তাকে দুইবার তালাক দিয়েছে' বলা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে যদি কোনো ব্যক্তি অপর কাউকে একসাথে দুই দিরহাম দেয়, তবে তাকে 'দুইবার দিয়েছে' বলা বৈধ নয়, যতক্ষণ না প্রদানের ক্ষেত্রে পৃথকীকরণ করা হয়" (আহকামুল কুরআন ১/৩৭৮)।

এমনকি তালাকের ক্ষেত্রেও যদি কেউ বলে: অমুক ব্যক্তি আজ তার স্ত্রীকে দুইবার তালাক দিয়েছে, তবে এর দ্বারা পৃথকীকরণই বোঝা যাবে। এটি বোঝা যাবে না যে সে বলেছে: 'তোমাকে দুই তালাক' অথবা 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা, তুমি তালাকপ্রাপ্তা'।

তা সত্ত্বেও এই উত্তরে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে; কারণ প্রকাশ্যত 'তিনবার' বলা উচিত ছিল। তবে কেন {দুইবার} বলা হলো এবং এর পরে পুনরায় তৃতীয় তালাকের কথা উল্লেখ করা হলো?

তাছাড়া পৃথকীকরণ তখনো কার্যকর হয় যখন কেউ একবার তালাক দেয় এবং এক ঘণ্টা পর পুনরায় কোনো প্রত্যাবর্তন (رجعة) ছাড়াই দ্বিতীয়বার তালাক দেয়। সুতরাং যদি বিশেষ কোনো পৃথকীকরণ উদ্দেশ্য হতো, তবে সে বিষয়ে প্রকাশ্য প্রমাণ (دليل) থাকা বাঞ্ছনীয় ছিল।

হ্যাঁ, যারা বলেন যে, সুন্নাহ হলো একবার তালাক দেওয়া, অতঃপর ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকে ছেড়ে রাখা; এরপর যদি ইদ্দত চলাকালীন প্রত্যাবর্তন (رجعة) করে এবং পুনরায় তালাক দেওয়ার ইচ্ছা হয়, তবে দ্বিতীয়বার তালাক দিবে। তিনি এই জবাব দিতে পারেন যে, {দুইবার} দ্বারা এমন দুই তালাক উদ্দেশ্য যার প্রতিটির পরই প্রত্যাবর্তন (رجعة) বিদ্যমান। আর এটি একত্রে তিন তালাক হবে না। আর আয়াতে বিশেষ এই পৃথকীকরণের প্রমাণ (دليل) রয়েছে, যা হলো আল্লাহর বাণী: {অতঃপর সদ্ব্যবহারে রাখা...}
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৯৮)
بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ} بناءً على تفسير الإمساك بالرجعة، والتسريح بعدمها.

وفيه: أن ذلك إنما يتم لو كان المعنى: فإمساك بمعروف أو تسريح بإحسان بعد كل مرة، وهذا محتمل فيما حكاه ابن جرير عن الضحاك(1) [ص 5] قال: "يعني: تطليقتين بينهما مراجعة، فأمر أن يُمسِك أو يُسرِّح بإحسان، قال: فإن هو طلَّقها ثالثة فلا تحل له حتى تنكح زوجًا غيره".

وقد فسره ابن جرير بقوله: "وكأن قائلي هذا القول الذي ذكرناه عن السدي والضحاك ذهبوا إلى أن معنى الكلام: الطلاق مرتان، فإمساكٌ [في] كل واحدة منهما لهن بمعروف أو تسريح لهن بإحسان" (تفسير ابن جرير ج 2/ ص 260)(2).

أقول: ولفظ السدي(3): "إذا طلَّق واحدةً أو اثنتين إما أن يمسك ــ ويُمسك: يراجع بمعروف ــ، وإما سكت عنها حتى تنقضي عدتها، فتكون أحقَّ بنفسها".

وقوله: "واحدة أو اثنتين" أراد به على ما فهمه ابن جرير: الأولى أو الثانية، ولم يرد اثنتين لم تتخللهما رجعة.

ولكن ابن جرير رد هذا القول بحديث رواه، كما سيأتي.

--------------------------------------------

(1) (4/ 132).

(2) (4/ 132).

(3) المصدر نفسه (4/ 132).
...সদাচারের সাথে অথবা অনুগ্রহের সাথে বিদায় দেওয়া}—এটি আটকে রাখাকে প্রত্যাবর্তন (الرجعة) এবং বিদায় দেওয়াকে তা না করার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার ওপর ভিত্তি করে।

এতে রয়েছে: এটি কেবল তখনই পূর্ণতা পায় যদি অর্থ হয়: প্রতিবারের পর সদাচারের সাথে আটকে রাখা অথবা অনুগ্রহের সাথে বিদায় দেওয়া। ইবনে জারির দাহহাক(১) [পৃ. ৫] থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে এর সম্ভাবনা রয়েছে, তিনি বলেন: "অর্থাৎ: দুই তালাক যার মাঝে প্রত্যাবর্তন (مراجعة) রয়েছে; অতঃপর তিনি নির্দেশ দিয়েছেন হয় আটকে রাখতে অথবা অনুগ্রহের সাথে বিদায় দিতে। তিনি বলেন: যদি সে তাকে তৃতীয় তালাক প্রদান করে, তবে সে তার জন্য আর হালাল হবে না যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামীকে বিবাহ করে।"

ইবনে জারির এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "সুদ্দি এবং দাহহাক থেকে আমরা যে বক্তব্য উল্লেখ করেছি তার প্রবক্তারা যেন এই অভিমত গ্রহণ করেছেন যে, আয়াতের মর্মার্থ হলো: তালাক দুই বার, অতঃপর তাদের প্রত্যেকটির ক্ষেত্রে হয় সদাচারের সাথে আটকে রাখা অথবা অনুগ্রহের সাথে বিদায় দেওয়া" (তাফসিরে ইবনে জারির, ২য় খণ্ড/পৃ. ২৬০)(২)।

আমি বলি: সুদ্দির(৩) বক্তব্য হলো: "যখন সে এক বা দুই তালাক দেয়, তখন সে হয় তাকে আটকে রাখবে — আর আটকে রাখা মানে হলো: সদাচারের সাথে প্রত্যাবর্তন (يراجع) করা —, অথবা তার ব্যাপারে নীরব থাকবে যতক্ষণ না তার ইদ্দত (عدة) শেষ হয়; তখন সে নিজের ব্যাপারে অধিক অধিকারপ্রাপ্ত হবে।"

আর তাঁর উক্তি: "এক বা দুই" দ্বারা তিনি ইবনে জারিরের অনুধাবন অনুযায়ী প্রথম বা দ্বিতীয় তালাক বুঝিয়েছেন; তিনি এমন দুই তালাক বোঝাননি যার মাঝে কোনো প্রত্যাবর্তন (رجعة) ঘটেনি।

কিন্তু ইবনে জারির তাঁর বর্ণিত একটি হাদিসের মাধ্যমে এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান (رد) করেছেন, যা সামনে আসছে।

--------------------------------------------

(১) (৪/ ১৩২)।

(২) (৪/ ১৩২)।

(৩) একই উৎস (৪/ ১৩২)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৯৯)
وأقول: إن فيه بعدًا من جهة أن الظاهر في قوله: {فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ} أنه بعد المرتين كما تقتضيه الفاء.

الجواب الثالث: أنه إنما لم يقل: "طلقتان" إشعارًا بأنه لو قال: طلقتك وطلقتك وطلقتك، أو قال: طلقتك ثلاثًا، أو ألفًا، أو عدد ذرات العالم، كان هذا كله مرةً واحدةً، كما تقول: ضرب فلانٌ عبده اليوم مرتين، فيصدق بما لو ضربه كل مرة من المرتين ضربةً، أو ضربتين، أو ضربات.

ويحتج لهذا القول بأن الآية نزلت لإبطال ما سبق من تكرر الطلاق مع تكرر الرجعة مرارًا لا حدَّ لها، [إذ] كان لأحدهم أن يقول: أنت طالق ألفًا ثم يراجعها، ثم يقول: أنت طالق ألفًا ثم يراجعها، ثم يقول: أنت طالق ألفًا ثم يراجعها، وهكذا مرارًا لا حدَّ لها.

فقيل لهم: إن الطلاق الذي تعقبه الرجعة مرتان، لا مِرارٌ لا حدَّ لها، فالمرة الواحدة هي طلاق تعقبه رجعة، مع صرف النظر عن ذلك الطلاق أطلقةً كان أم ألفًا(1).

وهذا جوابٌ جيد، لكنه لا يأتي إلا على قول الظاهرية والزيدية وعامة الشيعة ومن وافقهم: إن الطلاق الثلاث الذي يحرمها حتى تنكح زوجًا غيره، إنما هو طلاق يتبعه رجعة، ثم طلاق يتبعه رجعة، ثم طلاق. فأما أن يقول: طلقتك ألفًا، أو يكرر لفظ الطلاق في كلامٍ واحدٍ، أو يطلق مرارًا كثيرةً لم تتخللها رجعة، فهذا كله مرةٌ واحدةٌ.

--------------------------------------------

(1) كتب المؤلف هنا: "ملحق". ويقصد به الكلام الآتي.
আমি বলছি যে, এর মাঝে একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা রয়েছে এই দিক থেকে যে, আল্লাহর বাণী— {অতঃপর বিধিমত রাখা অথবা মহানুভবতার সাথে বিদায় দেওয়া}-এর বাহ্যিক অর্থ হলো এটি দুইবারের পরবর্তী বিষয়, যেমনটি 'ফা' অব্যয়টি দাবি করে।

তৃতীয় উত্তর: এখানে কেন "দুই তালাক" বলা হয়নি, বরং ‘দুইবার’ বলা হয়েছে—তা এ বিষয়ে ইঙ্গিত দেয় যে, কেউ যদি বলে: "আমি তোমাকে তালাক দিলাম, তালাক দিলাম, তালাক দিলাম," অথবা বলে: "আমি তোমাকে তিন তালাক দিলাম," বা "এক হাজার," অথবা "পৃথিবীর ধূলিকণার সমপরিমাণ," তবে এসবই একবার হিসেবে গণ্য হবে। যেমন আপনি বলেন: "অমুক ব্যক্তি আজ তার দাসকে দুইবার প্রহার করেছে," যা তখনই সত্য হয় যখন সে ঐ দুইবারের প্রতিবার একটি করে আঘাত করে, অথবা দুটি করে আঘাত করে বা একাধিক আঘাত করে।

এই মতের স্বপক্ষে এ মর্মে দলিল পেশ করা হয় যে, আয়াতটি নাজিল হয়েছিল তালাক এবং পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার সীমাহীন পুনরাবৃত্তির সেই পূর্বপ্রথা বাতিল করার জন্য; কেননা তখন তাদের কারো পক্ষে এটি সম্ভব ছিল যে, সে বলবে: "তোমাকে এক হাজার তালাক দিলাম," অতঃপর তাকে ফিরিয়ে নেবে, পুনরায় বলবে: "তোমাকে এক হাজার তালাক দিলাম," অতঃপর তাকে ফিরিয়ে নেবে, পুনরায় বলবে: "তোমাকে এক হাজার তালাক দিলাম," অতঃপর তাকে ফিরিয়ে নেবে—এভাবে সীমাহীন বার চলতে থাকত।

তাই তাদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে: যে তালাকের পর ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে তা মাত্র দুইবার, সীমাহীন সংখ্যক বার নয়। সুতরাং 'একবার' বলতে এমন তালাককে বোঝানো হয়েছে যার পর ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে, চাই সেই তালাকটি সংখ্যায় একটি হোক বা এক হাজার(১)।

এটি একটি চমৎকার উত্তর, তবে এটি কেবল জাহিরি, যায়দি, সাধারণ শিয়া এবং তাদের সাথে একমত পোষণকারীদের মত অনুসারেই কার্যকর। তাদের মতে, যে তিন তালাক স্ত্রীকে অন্যের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত হারাম করে দেয়, তা মূলত এমন তালাক যার পর পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়, আবার তালাক দিয়ে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং পুনরায় তালাক দেওয়া হয়। পক্ষান্তরে কেউ যদি বলে: "তোমাকে এক হাজার তালাক দিলাম," অথবা একই বাক্যে তালাক শব্দের পুনরাবৃত্তি করে, কিংবা মাঝখানে ফিরিয়ে নেওয়া ছাড়াই অনেকবার তালাক দেয়, তবে এসবই একবার হিসেবে গণ্য হবে।

--------------------------------------------

(১) লেখক এখানে লিখেছেন: "সংযুক্তি"। এর দ্বারা তিনি পরবর্তী আলোচনাকে উদ্দেশ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬০০)
ويحتجون بالآية، والإنصاف أن ظاهرها معهم، فإنها أثبتت أن للرجل أن يطلق ثم يراجع، ثم يطلق ثم يراجع، ولم تحدّد الطلاق الواقع كل مرة.

ويحتجون بالآية الرابعة من آيات البقرة، فإنه تعالى قال: {وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَأَمْسِكُوهُنَّ} والإمساك هنا الرجعة اتفاقًا، قالوا: فأثبت لهم الرجعة بعد الطلاق، ولم يحدد الطلاق بحدّ، فهو صادق بأن يقول: طلقتك، وأن يقول: طلقتك وطلقتك وطلقتك، أو طلقتك ألفًا، أو عدد ذرات العالم، ولا حدَّدتْه بأنه أول طلاق، ولا أنه طلاق قد تقدمه طلاق ورجعة.

فإن قيل: إنك قد قدمت استظهار أن هذه الآية متقدمة على قوله: {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ}!

قلت: نعم، ولكن لهم أن يقولوا: إن آيتي {الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ} أقرت الآية الرابعة على هذا المعنى، ووافقتها عليه ــ كما تقدم ــ وإنما خالفتها في المرة الثالثة.

[ص 5 مكرر] ويحتجون أيضًا بآيات سورة الطلاق، والكلام فيها كالكلام في الآية الرابعة من آيات البقرة سواء.

واحتج مخالفوهم بقوله تعالى: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا}.

أخرج أبو داود بسندٍ صحيحٍ كما في الفتح(1) عن مجاهد قال: "كنت

--------------------------------------------

(1) (9/ 362). والأثر عند أبي داود (2197).
তারা এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেন, আর ন্যায়নিষ্ঠ বিশ্লেষণ হলো এই যে, এর বাহ্যিক অর্থ তাদের পক্ষেই যায়; কেননা এটি সাব্যস্ত করেছে যে, পুরুষের জন্য তালাক প্রদান ও অতঃপর পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার রয়েছে, পুনরায় তালাক দিয়ে আবার ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং এটি প্রতিবারে সংঘটিত তালাকের সংখ্যাকে নির্দিষ্ট করে দেয়নি।

তারা সূরা বাকারার চতুর্থ আয়াত দ্বারাও দলিল পেশ করেন; কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের মেয়াদের শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন তোমরা তাদেরকে বিধিমত রেখে দাও (ইমসাখ)}। এখানে 'রেখে দেওয়া' বলতে সর্বসম্মতিক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া বুঝানো হয়েছে। তারা বলেন: আয়াতটি তালাকের পর তাদের জন্য ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার সাব্যস্ত করেছে এবং তালাককে কোনো সীমা দ্বারা নির্দিষ্ট করেনি। সুতরাং এই বক্তব্যটি সেই ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য যখন সে বলে: 'আমি তোমাকে তালাক দিলাম', অথবা সে বলে: 'আমি তোমাকে তালাক দিলাম, তালাক দিলাম ও তালাক দিলাম', কিংবা 'তোমাকে এক হাজার তালাক দিলাম', অথবা 'পৃথিবীর অণু পরিমাণ তালাক দিলাম'। আয়াতটি একে প্রথম তালাক হিসেবেও নির্দিষ্ট করেনি, আবার এমন তালাক হিসেবেও নির্দিষ্ট করেনি যার পূর্বে অন্য কোনো তালাক ও ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনা অতিবাহিত হয়েছে।

যদি বলা হয়: আপনি তো আগেই এই বিষয়টি ব্যক্ত করেছেন যে, এই আয়াতটি {তালাক দুইবার} বাণীর পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে!

আমি বলব: হ্যাঁ, কিন্তু তাদের এটা বলার সুযোগ আছে যে, {তালাক দুইবার} সম্বলিত আয়াতদ্বয় চতুর্থ আয়াতটিকে এই অর্থেই বহাল রেখেছে এবং এর সাথে একমত হয়েছে—যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে—এটি কেবল তৃতীয় বারের ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছে।

[পৃষ্ঠা ৫ পুনরায়] তারা সূরা তালাকের আয়াতসমূহ দ্বারাও দলিল পেশ করেন, আর এগুলোর ব্যাখ্যা সূরা বাকারার চতুর্থ আয়াতের ব্যাখ্যার মতোই।

আর তাদের বিরোধীরা আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: {আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন}।

আবু দাউদ একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (سند) সহকারে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ফাতহুল বারীতে রয়েছে, মুজাহিদ থেকে তিনি বলেন: "আমি ছিলাম...

--------------------------------------------

(১) (৯/ ৩৬২)। আর বর্ণনাটি (أثر) আবু দাউদে (২১৯৭) রয়েছে।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬০১)
عند ابن عباس فجاءه رجل، فقال: إنه طلَّق امرأته ثلاثًا، فسكت حتى ظننت أنه سيردُّها إليه، فقال: ينطلق أحدكم فيركب الأُحموقةَ، ثم يقول: يا ابن عباس! يا ابن عباس! إن الله قال: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا}، وإنك لم تتق الله، فلا أجد لك مخرجًا، عصيتَ ربك، وبانتْ منك امرأتك".

ويجاب عن هذا بأن هذه الجملة وردت بعد أوامر ونواهي ليس فيها النهي عن جمع الطلاق، على أن من جملة الأوامر الطلاق للعدة، ومعلوم أن من طلَّق واحدة لغير العدة لا تبين منه امرأته إجماعًا.

فهذا يدل أن المخرج في الآية ليس في خصوص عدم البينونة، فمن لم يتق الله فطلق لغير العدة، ضيَّقَ الله تعالى عليه بوجوب الرجعة، ومن لم يتق الله فقال: هي طالقٌ ثلاثًا، أو ألفًا، يُضيِّق الله عليه بأن لا تقع إلا واحدة، فإن وافق ذلك هواه ضيَّق الله عليه من جهة أخرى، كأن يوقع الخلاف بينه وبين امرأته، فيضطر إلى مفارقتها، أو يعيش معها في نَكَدٍ، أو غير ذلك.

على أننا قد قدمنا أن الظاهر أن هذه الآيات نزلت قبل النسخ، وعليه فهذه الآية تشير إلى ما تقدم قبلها في الآية {فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ أَوْ فَارِقُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ ذَلِكُمْ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا}.

فكأنه قال: إن اتقيتم الله تعالى فلم تراجعوا المطلقات إلا بمعروف، جعل الله لكم مخرجًا بأن يستمر الحكم بعدم تحديد الطلاق، وإن لم تتقوا بل أخذتم تراجعون ضرارًا، فسيضيِّق الله تعالى عليكم.
ইবনে আব্বাসের নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল যে, সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। তিনি চুপ থাকলেন, এমনকি আমি ভাবলাম তিনি হয়তো স্ত্রীকে তার নিকট ফিরিয়ে দেবেন। অতঃপর তিনি বললেন: "তোমাদের কেউ গিয়ে বোকামি করে বসে, তারপর বলে: হে ইবনে আব্বাস! হে ইবনে আব্বাস! আল্লাহ তো বলেছেন: 'আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন', অথচ তুমি আল্লাহকে ভয় করোনি, তাই আমি তোমার জন্য কোনো নিষ্কৃতির পথ খুঁজে পাচ্ছি না। তুমি তোমার রবের অবাধ্য হয়েছ এবং তোমার স্ত্রী তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন (بانت) হয়ে গেছে।"

এর উত্তরে বলা হয় যে, এই বাক্যটি এমন কিছু আদেশ ও নিষেধের পরে এসেছে যেখানে তালাক একত্রিত করার ব্যাপারে কোনো নিষেধ নেই। উপরন্তু, আদেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো ইদ্দত অনুযায়ী তালাক দেওয়া। আর এটি সুবিদিত যে, কেউ যদি ইদ্দত বহির্ভূতভাবে এক তালাক দেয়, তবে ঐক্যমত (إجماعًا) অনুযায়ী তার স্ত্রী তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না।

এটি প্রমাণ করে যে, আয়াতের বর্ণিত নিষ্কৃতির পথটি কেবল বিচ্ছেদ (بينونة) না হওয়ার সাথে সুনির্দিষ্ট নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করল না এবং ইদ্দত বহির্ভূতভাবে তালাক দিল, আল্লাহ তাআলা প্রত্যাবর্তন (رجعة) ওয়াজিব করার মাধ্যমে তার ওপর বিষয়টি সংকুচিত করে দিলেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করল না এবং বলল: 'সে তিন তালাক' বা 'হাজার তালাক', আল্লাহ তার ওপর বিষয়টি এভাবে সংকুচিত করেন যে তা কেবল এক তালাক হিসেবেই কার্যকর হবে। যদি এটি তার প্রবৃত্তির অনুকূলে হয়, তবে আল্লাহ অন্য দিক থেকে তার জন্য পথ সংকুচিত করে দেন, যেমন তার ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করে দেন, ফলে সে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য হয়, অথবা তার সাথে কষ্টে জীবনযাপন করে, কিংবা অন্য কিছু।

তাছাড়া আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, আপাতদৃষ্টিতে এই আয়াতগুলো রহিতকরণ (نسخ)-এর পূর্বে নাজিল হয়েছে। সেই অনুযায়ী, এই আয়াতটি তার পূর্ববর্তী আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করে: "অতঃপর তোমরা হয় বিধি মোতাবেক তাদের রেখে দাও, অথবা বিধি মোতাবেক তাদের ত্যাগ করো। আর তোমাদের মধ্য থেকে দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখো এবং আল্লাহর জন্য সঠিক সাক্ষ্য প্রদান করো। যারা আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে তাদের এভাবে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন।"

বিষয়টি যেন এমন: যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীদের কেবল সদয়ভাবে ফিরিয়ে নাও, তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন যাতে তালাকের সীমাবদ্ধতা না থাকার বিধানটি অব্যাহত থাকে। আর যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় না করো বরং ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তাদের ফিরিয়ে নাও, তবে আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর বিষয়টি সংকুচিত করে দেবেন।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬০২)
وقد وقع هذا الوعيد، فإنهم لما أخذوا يراجعون ضرارًا، كما في مرسل عروة، ضيَّق الله عليهم بتحديد الطلاق، والله أعلم.

هذا ما يتعلق بهذه المسألة من كتاب الله عز وجل، فلننظر الآن ما يتعلق بها من السُّنَّة.
আর এই সতর্কবাণী বাস্তবায়িত হয়েছে; কারণ তারা যখন ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে (স্ত্রীদের) ফিরিয়ে নিতে শুরু করল, যেমনটি উরওয়াহ-এর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তাআলা তালাকের সংখ্যা নির্ধারণের মাধ্যমে তাদের ওপর বিষয়টি সংকুচিত করে দিয়েছেন। আর আল্লাহই সম্যক পরিজ্ঞাত।

মহান আল্লাহর কিতাব থেকে এই মাসআলা সংশ্লিষ্ট আলোচনা এতটুকুই, এখন আমরা সুন্নাহ থেকে এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখব।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬০৩)
‌‌الأحاديث التي احتج بها من يرى أن من قال: طلقتك ثلاثًا، أو ألفًا، أو كعدد ذرَّات العالم، أو نحو ذلك، فهي مرة واحدة، تكون له بعدها الرجعة

[ص 6] بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

في "صحيح مسلم"(1) بسندٍ على شرطهما عن معمر عن ابن طاوس عن أبيه عن ابن عباس قال: "كان الطلاق على عهد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وأبي بكر وسنتين من خلافة عمر طلاق الثلاث واحدة، فقال عمر بن الخطاب: إن الناس قد استعجلوا في أمرٍ قد كانت لهم فيه أناةٌ، فلو أمضيناه عليهم. فأمضاه".

وبسندٍ آخر(2) على شرطهما عن ابن جريج أخبرني ابن طاوس عن أبيه أن أبا الصهباء قال لابن عباس: "أتعلم أنما كانت الثلاث تُجعَل واحدةً على عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم وأبي بكر وثلاثًا من إمارة عمر؟ فقال ابن عباس: نعم".

وبسندٍ آخر(3) على شرطهما عن إبراهيم بن مَيْسَرة أن أبا الصهباء قال لابن عباس: "هاتِ من هَنَاتِك! ألم يكن الطلاقُ الثلاثُ على عهد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وأبي بكر واحدةً؟ فقال: قد كان ذلك، فلما كان في عهد عمر تَتايَعَ الناسُ في الطلاق، فأجازه عليهم".

ورجال هذه الأسانيد أئمة أثبات.

--------------------------------------------

(1) رقم (1472).

(2) تابع للرقم السابق.

(3) تابع للرقم المذكور.
‌সেই হাদিসসমূহ যা দ্বারা তারা প্রমাণ পেশ করেন যারা মনে করেন যে, কেউ যদি বলে: 'তোমাকে তিন তালাক দিলাম', অথবা 'এক হাজার', অথবা 'জগতের অণু পরিমাণ', অথবা এই জাতীয় কিছু—তবে তা এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে এবং এরপর তার জন্য স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ (الرجعة) থাকবে।

[পৃষ্ঠা ৬] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সহিহ মুসলিম-এ(১) তাঁদের উভয়ের শর্তানুযায়ী (على شرطهما) একটি সূত্র (سند)-এর মাধ্যমে মা’মার হতে, তিনি ইবনে তাউস হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে, আবু বকর (রাযি.)-এর যুগে এবং উমর (রাযি.)-এর খিলাফতের প্রথম দুই বছরে তিন তালাক এক তালাক হিসেবে গণ্য হতো। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) বললেন: ‘নিশ্চয়ই মানুষ এমন একটি বিষয়ে তাড়াহুড়ো করছে যাতে তাদের জন্য ধীরস্থিরতার অবকাশ ছিল। সুতরাং আমরা যদি এটি তাদের উপর কার্যকর করে দেই (তবে ভালো হতো)।’ অতঃপর তিনি তা তাদের উপর কার্যকর করলেন।”

এবং তাঁদের উভয়ের শর্তানুযায়ী (على شرطهما) অপর একটি সূত্র (سند)-এর মাধ্যমে(২) ইবনে জুরাইজ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাকে ইবনে তাউস তাঁর পিতা হতে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল সাহবা ইবনে আব্বাস (রাযি.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: “আপনি কি জানেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে, আবু বকর (রাযি.)-এর যুগে এবং উমর (রাযি.)-এর শাসনের তিন বছর পর্যন্ত তিন তালাককে এক হিসেবে গণ্য করা হতো?” ইবনে আব্বাস (রাযি.) বললেন: “হ্যাঁ।”

এবং তাঁদের উভয়ের শর্তানুযায়ী (على شرطهما) আরও একটি সূত্র (سند)-এর মাধ্যমে(৩) ইব্রাহিম ইবনে মাইসারা হতে বর্ণিত যে, আবুল সাহবা ইবনে আব্বাস (রাযি.)-কে বললেন: “আপনার অজানা তথ্যগুলো পেশ করুন! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ও আবু বকর (রাযি.)-এর যুগে কি তিন তালাক এক ছিল না?” তিনি বললেন: “হ্যাঁ, এমনই ছিল। কিন্তু উমর (রাযি.)-এর যুগে যখন মানুষ ঢালাওভাবে তালাক দিতে শুরু করল, তখন তিনি তা তাদের উপর কার্যকর করে দিলেন।”

আর এই সূত্রসমূহ (أسانيد)-এর বর্ণনাকারীগণ (رجال) সকলেই সুদৃঢ় নির্ভরযোগ্য (أثبات) ইমামগণ (أئمة)।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (১৪৭২)।

(২) পূর্ববর্তী নম্বরের অনুগামী।

(৩) উল্লিখিত নম্বরের অনুগামী।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬০৪)
وفي "المستدرك"(1) من طريق ابن أبي مليكة أن أبا الجوزاء أتى ابن عباس فقال: "أتعلم أن ثلاثًا كن يُرْدَدْنَ على عهد رسول الله إلى واحدة؟ قال: نعم".

وفي "مسند أحمد"(2): ثنا سعد بن إبراهيم، ثنا أبي، عن محمد بن إسحاق، قال: حدثني داود بن الحصين، عن عكرمة مولى ابن عباس، عن ابن عباس، قال: طلَّق رُكانةُ بن عبد يزيد أخو بني المطَّلب امرأتَه ثلاثًا في مجلس واحد، فحزِن عليها حزنًا شديدًا. قال: فسأله رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: كيف طلقتَها؟ قال: طلقتُها ثلاثًا. قال: فقال: في مجلسٍ واحدٍ؟ قال: نعم. قال: فإنما تلك واحدةٌ، فارجِعْها إن شئت. قال: فراجعَها، فكان ابن عباس يرى أنما الطلاق عند كل طهر.

وقد احتج الإمام أحمد بحديث آخر بسند هذا سواء(3).

وفي "سنن أبي داود"(4) من طريق ابن جريج أخبرني بعض بني أبي رافع مولى النبي صلى الله عليه وآله وسلم عن عكرمة مولى ابن عباس عن ابن عباس قال: طلق عبد يزيد أبو ركانة … فقال (النبي صلى الله عليه وآله وسلم): راجعْ أمَّ ركانة وإخوتِه. فقال: إني طلقتها ثلاثًا يا رسول الله! قال: قد علمتُ، راجعْها، وتلا: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ}.

--------------------------------------------

(1) (2/ 196). وقال: هذا حديث صحيح الإسناد، وتعقبه الذهبي فقال: ابن المؤمل ضعفوه.

(2) (1/ 265).

(3) هو حديث إرجاع النبي صلى الله عليه وسلم ابنته زينب على زوجها بالنكاح الأول. أخرجه أحمد في "المسند" (2366) من طريق ابن إسحاق بهذا الإسناد.

(4) رقم (2196).
এবং "আল-মুস্তাদরাক"(১)-এ ইবনে আবি মুলাইকাহ-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু আল-জাওযা ইবনে আব্বাসের নিকট এসে বললেন: "আপনি কি জানেন যে আল্লাহর রাসুলের যুগে তিন তালাককে এক হিসেবে গণ্য করা হতো? তিনি বললেন: হ্যাঁ।"

এবং "মুসনাদে আহমাদ"(২)-এ বর্ণিত: সা'দ বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি বলেন: দাউদ বিন আল-হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনু আল-মুত্তালিবের ভাই রুকানাহ বিন আবদ ইয়াযিদ তার স্ত্রীকে এক মজলিসে তিন তালাক প্রদান করেন, এতে তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি তাকে কীভাবে তালাক দিয়েছ?" তিনি বললেন: "আমি তাকে তিন তালাক দিয়েছি।" তিনি (রাসুল) বললেন: "একই মজলিসে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" রাসুল (সা.) বললেন: "তবে তা কেবল একটিই (তালাক), তুমি চাইলে তাকে ফিরিয়ে নিতে পারো।" বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি তাকে ফিরিয়ে নিলেন। আর ইবনে আব্বাস মনে করতেন যে তালাক কেবল প্রতি তুহর (পবিত্রতা) অবস্থায় হতে হবে।

ইমাম আহমাদ এই একই সনদের অন্য একটি হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন(৩)।

এবং "সুনানে আবু দাউদ"(৪)-এ ইবনে জুরাইজ-এর সূত্রে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস আবু রাফে-এর বংশধরদের কেউ আমাকে ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদ ইয়াযিদ আবু রুকানাহ তালাক দিলেন … অতঃপর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "উম্মে রুকানাহ ও তার ভাইদের নিকট ফিরে যাও (তাকে ফিরিয়ে নাও)।" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল, আমি তো তাকে তিন তালাক দিয়েছি!" তিনি বললেন: "আমি তা জেনেছি, তুমি তাকে ফিরিয়ে নাও।" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {হে নবি, তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দাও, তখন তাদের ইদ্দত অনুযায়ী তালাক দিও}।

--------------------------------------------

(১) (২/ ১৯৬)। তিনি বলেছেন: এটি সহিহ সনদের (صحيح الإسناد) হাদিস, এবং আয-যাহাবি এর সমালোচনা করে বলেছেন: ইবনে আল-মুয়াম্মিলকে তারা দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন।

(২) (১/ ২৬৫)।

(৩) এটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর কন্যা যায়নাবকে তাঁর স্বামীর নিকট প্রথম নিকাহ (বিবাহ)-এর ভিত্তিতে ফিরিয়ে দেওয়ার হাদিস। আহমাদ এটি "মুসনাদ"-এ (২৩৬৬) ইবনে ইসহাকের সূত্রে এই একই সনদে বর্ণনা করেছেন।

(৪) নম্বর (২১৯৬)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬০৫)
وعورض هذا بحديث ضعيف(1)، ضعفه الإمام أحمد وغيره في "أن ركانة طلَّق البتة".

وفي "صحيح مسلم"(2) من طريق محمد بن سرين قال: "مكثتُ عشرين سنة يحدثني من لا أتهم: أن ابن عمر طلَّق امرأته ثلاثًا وهي حائض، فأمر أن يراجعها، فكنت لا أتهمهم ولا أعرِفُ وجهَ الحديث، حتى لقيت أبا غلاب يونس بن جبير، وكان ذا ثبت، فحدثني أنه سأل ابن عمر، فحدثه أنه طلَّق امرأته تطليقةً وهي حائض".

أقول: [ليس] بين ما أخبره الجماعة الذين لا يتهمهم، وما أخبره أبو غلاب عن ابن عمر [تعارض]، بل يُجمع بينهما بأنه طلَّق ثلاثًا في اللفظ، وواحدة في الحكم.

وعلى هذا يُحمل ما جاء في عدة روايات من أنه طلَّق تطليقةً واحدةً، وكأن ابن عمر أو من بعده كان يعبر بهذا؛ لأنه يرى أن الحكم قد تغير بسبب استعجال الناس، كما مر في حديث ابن عباس، فصار الإنسان إذا طلَّق ثلاثًا حسبت عليه ثلاثًا، ولا يصرح بقوله ثلاثًا؛ لئلا يخطئ الناس بظن أن هذه الصورة مستثناة مما أمضاه عمر.

وعلى هذا أيضًا يُحمل ما في "صحيح مسلم"(3): "وكان عبد الله إذا سئل عن ذلك قال لأحدهم: أما أنت طلقتَ امرأتك مرةً أو مرتين، فإن

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (2206، 2208).

(2) رقم (1471/ 7).

(3) رقم (1471/ 1).
এবং এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস(১) দ্বারা বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে, ইমাম আহমদ ও অন্যান্যরা যাকে "রুকানাহ একবারে চূড়ান্ত তালাক (আলবাত্তাহ) দিয়েছিলেন" মর্মে বর্ণনাটিকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন।

আর "সহীহ মুসলিম"-এ(২) মুহাম্মদ ইবনে সিরীন এর সূত্র থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি বিশ বছর এমনভাবে কাটিয়েছি যে, এমন ব্যক্তিরা আমার কাছে বর্ণনা করতেন যাদের আমি অভিযুক্ত (لا أتهم) করি না: যে ইবনে উমর তার স্ত্রীকে ঋতুস্রাব অবস্থায় তিন তালাক দিয়েছিলেন, অতঃপর তাকে তা ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আমি তাদের অভিযুক্ত মনে করতাম না, আবার হাদিসটির প্রকৃত মর্মও বুঝতে পারছিলাম না, যতক্ষণ না আমি আবু গাল্লাব ইউনুস ইবনে জুবায়েরের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য (ثبت)। তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি ইবনে উমরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং ইবনে উমর তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি তার স্ত্রীকে ঋতুস্রাব অবস্থায় এক তালাক দিয়েছিলেন।"

আমি বলি: যাদের তিনি অভিযুক্ত মনে করতেন না এমন একদল রাবীর বর্ণনা এবং ইবনে উমর থেকে আবু গাল্লাবের বর্ণনার মধ্যে কোনো [বিরোধ] নেই; বরং এ দুটির মাঝে এভাবে সমন্বয় করা যায় যে, তিনি উচ্চারণের দিক থেকে তিন তালাক দিয়েছিলেন, কিন্তু বিধানের (হুকুম) দিক থেকে তা এক তালাক হিসেবে গণ্য হয়েছিল।

আর একাধিক বর্ণনায় যে এক তালাক প্রদানের কথা এসেছে, তা এর ওপরই প্রয়োগ করা হবে। মনে হয় ইবনে উমর বা তার পরবর্তী কেউ এভাবে ব্যক্ত করতেন; কারণ তিনি মনে করতেন যে মানুষের তাড়াহুড়ো করার কারণে বিধান পরিবর্তিত হয়ে গেছে, যেমনটি ইবনে আব্বাসের হাদিসে গত হয়েছে। ফলে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে মানুষ যখন তিন তালাক দিত, তখন তার ওপর তিন তালাকই কার্যকর ধরা হতো। আর তিনি স্পষ্টভাবে 'তিন তালাক' কথাটি উল্লেখ করতেন না, পাছে মানুষ এই ভেবে ভুল করে বসে যে এই বিষয়টি উমর (রা.) যা কার্যকর করেছিলেন তা থেকে ব্যতিক্রম।

আর "সহীহ মুসলিম"-এ(৩) যা আছে তাও এর ওপর প্রয়োগ করা হবে: "আর আবদুল্লাহকে (ইবনে উমর) যখন এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি তাদের কাউকে বলতেন: তুমি তো তোমার স্ত্রীকে একবার বা দুইবার তালাক দিয়েছ, তবে..."

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (২২০৬, ২২০৮) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) নম্বর (১৪৭১/ ৭)।

(৩) নম্বর (১৪৭১/ ১)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬০৬)
رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أمرني بهذا، وإن كنتَ طلقتَها ثلاثًا، فقد حرمتْ عليك حتى تنكح زوجًا غيرك، وعصيتَ الله فيما أمرك من طلاق امرأتك".

ومثله ما يُروى عن عمر: أن رجلًا قال له: إني طلقت امرأتي البتةَ وهي حائض. فقال: عصيتَ ربك، وفارقتَ امرأتك. قال: فإن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أمر ابن عمر أن يراجع امرأته؟ قال: إنه أمر ابن عمر أن يراجعها بطلاق بقي له، وأنت لم تُبقِ ما ترتجعُ به امرأتك.

رواه الدارقطني(1) من طريق إسماعيل بن إبراهيم الترجماني عن سعيد بن عبد الرحمن الجمحي، والسند بعد ذلك صحيح. والترجماني قالوا: "لا بأس به". ووثقه بعض المتأخرين(2)، والجمحي مختلف فيه(3).

[ص 7] وقد أطال أهل العلم الكلامَ في هذه المسألة، فلنقدم كلام الإمام الشافعي رحمه الله تعالى في كتاب "اختلاف الحديث"(4). قال: "باب في طلاق الثلاث المجموعة"، ثم ذكر حديث ابن عباس بمعنى الرواية الثانية عند مسلم، ثم أسند عن ابن عباس: "أن رجلًا قال له: طلَّقتُ امرأتي ألفًا. فقال: تأخذ ثلاثًا، وتَدَعُ تسعمائة وسبعًا وتسعين"(5).

وبسند آخر: "قال رجلٌ لابن عباس: طلقتُ امرأتي مائةً. فقال: تأخذ ثلاثًا، وتَدَعُ سبعًا وتسعين".

--------------------------------------------

(1) (4/ 8).

(2) انظر "تهذيب التهذيب" (1/ 271، 272).

(3) انظر المصدر السابق (4/ 55، 56).

(4) ضمن كتاب "الأم" (10/ 256، 257) ط. دار الوفاء.

(5) أخرجه أيضًا عبد الرزاق في "المصنف" (6/ 397) والبيهقي (7/ 337).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এই নির্দেশ দিয়েছেন। আর তুমি যদি তাকে তিন তালাক দিয়ে থাকো, তবে সে তোমার জন্য হারাম হয়ে গেছে যতক্ষণ না সে অন্য স্বামী গ্রহণ করছে; আর তোমার স্ত্রীর তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে আল্লাহ তোমাকে যে নির্দেশ দিয়েছেন, তুমি তার অবাধ্যতা করেছ।"

অনুরূপ একটি বর্ণনা উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: এক ব্যক্তি তাকে বললেন: আমি আমার স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় চূড়ান্তভাবে তালাক দিয়েছি। তিনি বললেন: তুমি তোমার রবের অবাধ্য হয়েছ এবং তোমার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছ। সে (ব্যক্তিটি) বলল: কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তো ইবনে উমরকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন? তিনি (উমর) বললেন: তিনি ইবনে উমরকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন কারণ তার কাছে এমন তালাক অবশিষ্ট ছিল যার ভিত্তিতে ফিরিয়ে নেওয়া যায়, আর তুমি তো এমন কিছুই অবশিষ্ট রাখনি যার মাধ্যমে তুমি তোমার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেবে।

এটি বর্ণনা করেছেন দারাকুতনি(১) ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম আত-তারজুমানির সূত্রে সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান আল-জুমাহি থেকে, আর এর পরবর্তী সনদ (سند) বিশুদ্ধ (صحيح)। আর তারজুমানি সম্পর্কে তারা বলেছেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)"। পরবর্তী যুগের কেউ কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثقه), আর জুমাহি সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে (مختلف فيه)।

[পৃষ্ঠা ৭] আর আলেমগণ এই মাসআলায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, তাই আমরা ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর কিতাব "ইখতিলাফুল হাদিস"-এর বক্তব্যটি উপস্থাপন করছি(৪)। তিনি বলেছেন: "একত্রে তিন তালাক প্রদান সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ", অতঃপর তিনি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস মুসলিম-এর দ্বিতীয় বর্ণনার অর্থে উল্লেখ করেন। এরপর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে সনদসহ বর্ণনা করেন (أسند): "এক ব্যক্তি তাকে বললেন: আমি আমার স্ত্রীকে এক হাজার তালাক দিয়েছি। তিনি বললেন: তুমি তিনটি গ্রহণ করো আর নয়শত সাতানব্বইটি ছেড়ে দাও"(৫)।

এবং অন্য একটি সূত্রে (وبسند آخر): "এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রা.)-কে বললেন: আমি আমার স্ত্রীকে একশত তালাক দিয়েছি। তিনি বললেন: তুমি তিনটি গ্রহণ করো আর সাতানব্বইটি ছেড়ে দাও।"

--------------------------------------------

(১) (৪/ ৮)।

(২) দেখুন "তাহজিবুত তাহজিব" (১/ ২৭১, ২৭২)।

(৩) পূর্ববর্তী উৎস দেখুন (৪/ ৫৫, ৫৬)।

(৪) কিতাব "আল-উম্ম" (১০/ ২৫৬, ২৫৭) দারুল ওয়াফা সংস্করণ এর অন্তর্ভুক্ত।

(৫) এটি আবদুর রাজ্জাকও তার "মুসান্নাফ" (৬/ ৩৯৭) গ্রন্থে এবং বায়হাকি (৭/ ৩৩৭) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬০৭)
قال الشافعي: "فإن كان معنى قول ابن عباس أن الثلاث كانت تُحسَب على عهد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، يعني أنه بأمر النبي".

أقول: هذا هو المتعين قطعًا؛ لأن هذا الجعل إنما يكون قضاءً أو إفتاءً، ولم يكن يقع القضاء والإفتاء في عهده صلى الله عليه وآله وسلم إلا منه، أو بأمره، أو بعلمه، إذ لا يجوز أن يكون وقع القضاء والإفتاء في هذا الحكم العظيم من أصحابه صلى الله عليه وآله وسلم باجتهادهم، ثم لا يبلغه ذلك، مع ما تُشعِر به الآثار من تكرر ذلك واستمراره.

وعلى فرض أنه كان يقع ذلك ولم يبلغه ــ وهو محالٌ عادةً ــ فكفى بتقرير الله عز وجل حجةً.

وفي "الصحيح"(1) عن جابر: "كنا نَعزِل والقرآن ينزل، لو كان شيئًا يُنهَى عنه لنَهَى عنه القرآن".

وإذا كنا نحتج بتقرير النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فالاحتجاج بتقرير الله عز وجل أولى، فإن الوصلة كانت حينئذٍ موجودة بينه وبين عباده بوجود الوحي، فإذا لم يبين للناس خطأ ما يفعلونه حينئذٍ، فقد أقرهم عليه، ويوضح هذا قول الله عز وجل: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلُوا عَنْهَا حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ}.

وما تضافرت به الآثار أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم كان يكره المسائل حتى قال: "إن أعظم المسلمين في المسلمين جرمًا من سأل عن شيءٍ لم يُحرَّم على الناس، فحُرِّم من أجل مسألته". رواه الشيخان(2) من حديث سعد بن أبي وقاص.

--------------------------------------------

(1) البخاري (5208) ومسلم (1440). والفقرة الأخيرة عند مسلم فقط.

(2) البخاري (7289) ومسلم (2358).
ইমাম শাফেঈ বলেছেন: "যদি ইবনে আব্বাসের উক্তির অর্থ এই হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে তিন তালাক এক হিসেবে গণ্য করা হতো, তবে এর অর্থ হলো এটি নবীর নির্দেশেই হতো।"

আমি বলি: এটিই নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত বিষয়; কেননা এই নির্ধারণ কেবল বিচারিক ফয়সালা (قضاء) অথবা ফতোয়া (إفتاء) প্রদানের মাধ্যমেই হতে পারে। আর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে বিচারিক ফয়সালা (قضاء) ও ফতোয়া (إفتاء) তাঁর পক্ষ থেকে কিংবা তাঁর নির্দেশে অথবা তাঁর জ্ঞাতসারেই কেবল সংঘটিত হতো। কেননা এটা অসম্ভব যে, এই মহান বিধানের ক্ষেত্রে তাঁর সাহাবীগণ নিজেদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) ভিত্তিতে ফয়সালা বা ফতোয়া প্রদান করবেন এবং তা তাঁর কাছে পৌঁছাবে না, অথচ বিভিন্ন বর্ণনা (الآثار) থেকে এর পুনরাবৃত্তি ও ধারাবাহিকতা প্রতীয়মান হয়।

আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে এমনটি ঘটত এবং তাঁর কাছে পৌঁছাত না—যা সাধারণত অসম্ভব—তবে মহান আল্লাহর মৌন সম্মতিই (تقرير) প্রমাণ (حجة) হিসেবে যথেষ্ট।

সহিহ গ্রন্থে(১) জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত: "আমরা আজল করতাম যখন কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল। যদি তা নিষিদ্ধ কোনো বিষয় হতো, তবে কুরআন অবশ্যই তা নিষেধ করত।"

আর আমরা যদি নবী (সা.)-এর মৌন সম্মতি (تقرير) দ্বারা দলিল পেশ করি, তবে মহান আল্লাহর মৌন সম্মতি (تقرير) দ্বারা দলিল পেশ করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত। কেননা তখন ওহির বিদ্যমানতার মাধ্যমে তাঁর এবং তাঁর বান্দাদের মধ্যে সংযোগ ছিল। সুতরাং মানুষ যা করছিল তার ভুল যদি তখন স্পষ্ট না করা হয়ে থাকে, তবে তিনি তাদের এর ওপর বহাল রেখেছেন। আর মহান আল্লাহর এই বাণীটিই তা স্পষ্ট করে: "হে মুমিনগণ, তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে, আর যদি কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো, তবে তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে।"

অসংখ্য বর্ণনা (الآثار) দ্বারা প্রমাণিত যে, নবী (সা.) অধিক প্রশ্ন করা অপছন্দ করতেন, এমনকি তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুসলমানদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বড় অপরাধী যে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করেছে যা মানুষের জন্য হারাম ছিল না, অতঃপর তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম করা হয়েছে।" সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর বর্ণিত এই হাদিসটি শাইখাইন বর্ণনা করেছেন।(২)

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৫২০৮) ও মুসলিম (১৪৪০)। শেষ বাক্যটি কেবল মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে।

(২) বুখারি (৭২৮৯) ও মুসলিম (২৩৫৮)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬০৮)
وإنما المعنى أن الناس كانوا مأمورين أن يعملوا بما ظهر لهم من الشريعة، وبأصل الإباحة وعدم التكليف، متَّكلِين على أن الله تبارك وتعالى يعلم بهم وبما فعلوه، فإن أخطأوا غفر لهم خطأهم، وبين لهم على لسان رسوله، كما في "صحيح البخاري"(1) عن سهل بن سعد قال: "أنزلت {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ} ولم ينزل {مِنَ الْفَجْرِ}، فكان رجال إذا أرادوا الصوم ربط أحدهم في رجلَيْه الخيطَ الأبيض والخيط الأسود، فلا يزال يأكل ويشرب حتى يتبين له رؤيتهما، فأنزل الله بعد {مِنَ الْفَجْرِ}، فعلموا أنما يعني الليل والنهار".

ويوضح هذا ما في "صحيح مسلم"(2) عن أبي هريرة قال: "خطبنا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فقال: أيها الناس! قد فرض الله عليكم الحج فحُجُّوا. فقال رجل: أكلَّ عامٍ يا رسول الله؟ فسكت، حتى قالها ثلاثًا. فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "لو قلت: نعم، لوجبتْ، ولما استطعتم"، ثم قال: "ذروني ما تركتكم، فإنما هلك من كان قبلكم بكثرة سؤالهم واختلافهم على أنبيائهم، فإذا أمرتكم بشيءٍ فأْتوا منه ما استطعتم، وإذا نهيتكم عن شيءٍ فدعوه" (صحيح مسلم ج 4/ ص 102).

لما كان الأصل عدم التكليف بالحج، وقوله: "قد فرض الله عليكم الحج، فحجوا" يتحقق بمرةٍ واحدةٍ في العمر، كان عليهم أن يفهموا المرة الواحدة، ويقتصروا عليه، عالمين أن الله تعالى إذا أراد كل سنة فسيُبينه لهم

--------------------------------------------

(1) رقم (1917). وأخرجه أيضًا مسلم (1091).

(2) رقم (1337).
এর অর্থ কেবল এই যে, মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যেন শরিয়তের যা কিছু তাদের সামনে প্রকাশ পেয়েছে এবং বৈধতার মূলনীতি (أصل الإباحة) ও দায়মুক্তির (عدم التكليف) ওপর ভিত্তি করে আমল করে। তারা এই বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল যে, মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে এবং তারা যা করেছে সে সম্পর্কে পরিজ্ঞাত; সুতরাং যদি তারা কোনো ভুল করে ফেলে, তবে তিনি তাদের সেই ভুল ক্ষমা করে দেবেন এবং তাঁর রাসূলের মাধ্যমে তা তাদের কাছে স্পষ্ট করে দেবেন। যেমনটি সহিহ বুখারীতে(১) সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না কালো সুতা থেকে সাদা সুতা তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়" - এই অংশটি অবতীর্ণ হয়েছিল, কিন্তু "ফজর থেকে" অংশটি অবতীর্ণ হয়নি। ফলে কিছু লোক যখন রোজা রাখার ইচ্ছা করতেন, তখন তাদের কেউ কেউ নিজেদের পায়ে সাদা সুতা ও কালো সুতা বেঁধে নিতেন এবং যতক্ষণ না সুতা দুটির পার্থক্য তাদের নিকট স্পষ্ট হতো ততক্ষণ পানাহার চালিয়ে যেতেন। অতঃপর আল্লাহ "ফজর থেকে" অংশটি অবতীর্ণ করেন, তখন তারা বুঝতে পারলেন যে এর দ্বারা রাত ও দিন বোঝানো হয়েছে।

সহিহ মুসলিম-এ(২) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন এবং বললেন: হে লোকসকল! আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ (فرض) করেছেন, সুতরাং তোমরা হজ করো। তখন এক ব্যক্তি আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছর কি? তিনি চুপ থাকলেন, এমনকি ওই ব্যক্তি তিনবার তা জিজ্ঞাসা করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "আমি যদি 'হ্যাঁ' বলতাম তবে তা আবশ্যক (واجب) হয়ে যেত এবং তোমরা তা পালনে সক্ষম হতে না।" অতঃপর তিনি বললেন: "আমি তোমাদের যে বিষয়ে ছেড়ে দিয়েছি সে বিষয়ে আমাকে ছেড়ে দাও। তোমাদের পূর্ববর্তীগণ কেবল তাদের নবীদের অধিক হারে প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো কিছুর নির্দেশ দেই, তখন তা সাধ্যমতো পালন করো, আর যখন তোমাদের কোনো কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তা বর্জন করো।" (সহিহ মুসলিম খণ্ড ৪/ পৃষ্ঠা ১০২)।

যেহেতু হজের ক্ষেত্রে মূল বিধানটি ছিল দায়মুক্তি (عدم التكليف), এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরজ (فرض) করেছেন, সুতরাং হজ করো"—এটি জীবনে একবার পালনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, তাই তাদের উচিত ছিল একবারের বিষয়টিই বুঝে নেওয়া এবং তাতেই সীমাবদ্ধ থাকা। আর এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তাআলা যদি প্রতি বছর তা আবশ্যক করতে চাইতেন, তবে তিনি নিজেই তা তাদের জন্য স্পষ্ট করে দিতেন।

--------------------------------------------

(১) নং (১৯১৭)। ইমাম মুসলিমও এটি বর্ণনা করেছেন (১০৯১)।

(২) নং (১৩৩৭)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬০৯)
بدون سؤال.

وهكذا ما كان الأصل فيه الإباحة، كان عليهم أن يستمروا على استباحته، فإذا أراد الله تعالى تحريمه، فسيبينه بدون سؤال.

واعلم أن سكوت الشرع عن تنبيههم على خطئهم في القضاء والفتوى في الطلاق ــ لو كانوا أخطأوا ــ أبعدُ جدًّا من سكوته عن تنبيههم على الخطأ في فعل العَزْل، وتناوُلِ ما لم يروه حرامًا، والاقتصار على حجة واحدة، فدلالة السكوت على التقرير في الأول وأنهم مصيبون أوضح من الدلالة في الثاني، فتدبَّر هذا.

مع أن الحكم في قضية ركانة، وقضية ابن عمر من النبي نفسه صلى الله عليه وآله وسلم.

[ص 8] ولضعف أو بطلان احتمال أن ما كان يقع في عهده صلى الله عليه وآله وسلم مِنْ جعلِ الثلاث واحدةً، كان بغير أمره وبغير تقريره، لم يعتمد الشافعي على هذا الجواب، ولا اعتدَّ به، وإنما أشار إليه إشارةً، وإنما أمعنتُ في بيان سقوطه؛ لأن بعض أهل العلم ممن بعده اعتمد عليه، والله المستعان.

قال الشافعي(1): "فالذي يُشبِه ــ والله أعلم ــ أن يكون ابن عباس قد علم أن كان شيئًا فنُسِخ.

فإن قيل: فما دلَّ على ما وصفتَ؟

قيل: لا يُشبِه أن يكون يروي عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم شيئًا ثم يخالفه بشيءٍ لم يعلمه كان من النبي صلى الله عليه وآله وسلم فيه خلافُه.

--------------------------------------------

(1) في "اختلاف الحديث" ضمن كتاب "الأم" (10/ 257، 258) ط. دار الوفاء.
প্রশ্ন ব্যতিরেকে।

এভাবে যে বিষয়ের মূল ভিত্তি ছিল বৈধতা (إباحة), তাদের উচিত ছিল সেটির বৈধতা বজায় রাখা। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা সেটি নিষিদ্ধ করার ইচ্ছা করবেন, তখন তিনি কোনো প্রশ্ন ছাড়াই তা সুস্পষ্ট করবেন।

জেনে রাখুন যে, তালাকের ফয়সালা ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে তাদের ভুলের বিষয়ে শরিয়তের পক্ষ থেকে সতর্ক না করে নীরব থাকা—যদি তারা ভুল করে থাকতেন—তা ‘আজল’ (عزل) বা গর্ভনিরোধের কাজের ভুল সম্পর্কে সতর্ক করার ক্ষেত্রে নীরব থাকা এবং তারা যা হারাম মনে করতেন না তা গ্রহণ করা এবং কেবল একটি প্রমাণের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার ক্ষেত্রে নীরবতা অপেক্ষা অনেক বেশি সুদূরপরাহত। সুতরাং প্রথম ক্ষেত্রে মৌন সম্মতি (تقرير)-এর ওপর নীরবতার নির্দেশক এবং তারা যে সঠিক ছিলেন, তা দ্বিতীয় ক্ষেত্রের নির্দেশক অপেক্ষা অধিক স্পষ্ট; সুতরাং এটি অনুধাবন করুন।

যদিও রুকানাহ ও ইবনে উমরের ঘটনার বিধান স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকেই ছিল।

[পৃষ্ঠা ৮] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের যুগে তিন তালাককে এক তালাক গণ্য করার যে ঘটনা ঘটত, তা তাঁর নির্দেশ কিংবা তাঁর মৌন সম্মতি (تقرير) ব্যতীত হওয়ার সম্ভাবনাটি দুর্বল (ضعيف) অথবা বাতিল (باطل) হওয়ার কারণে ইমাম শাফেঈ এই উত্তরের ওপর নির্ভর করেননি এবং একে গণ্যও করেননি। বরং তিনি কেবল সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন। আমি এর অসারতা বর্ণনায় সচেষ্ট হয়েছি কারণ তাঁর পরবর্তী কোনো কোনো আলিম এর ওপর নির্ভর করেছেন। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

ইমাম শাফেঈ(১) বলেন: "যা সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয়—আর আল্লাহই ভালো জানেন—তা হলো ইবনে আব্বাস (রা.) হয়তো জেনেছিলেন যে কোনো বিষয় ছিল যা পরবর্তীতে রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: আপনি যা বর্ণনা করেছেন তার প্রমাণ কী?

উত্তর দেওয়া হবে: এটি সাদৃশ্যপূর্ণ নয় যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করবেন, অতঃপর এমন কোনো বিষয়ে তাঁর বিরোধিতা করবেন যা তিনি জানতেন না এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে তার বিপরীত কিছু ছিল।"

--------------------------------------------

(১) "ইখতিলাফুল হাদিস"-এ কিতাবুল "উম্ম"-এর অন্তর্ভুক্ত (১০/ ২৫৭, ২৫৮) দারুল ওয়াফা সংস্করণ।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬১০)
فإن قيل: فلعل هذا شيءٌ روي عن عمر، فقال فيه ابن عباس بقول عمر.

قيل: قد علمنا أن ابن عباس يخالف عمر في نكاح المتعة، وبيع الدينار بالدينارين، وفي بيع أمهات الأولاد، وغيره، فكيف يوافقه في شيءٍ، ويروي عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم فيه خلافه؟

فإن قيل: فلِمَ لم يذكره؟

قيل: وقد يُسأل الرجل عن الشيء، فيجيب فيه ولا يتقصَّى فيه الجواب، ويأتي على الشيء، ويكون جائزًا له، كما يجوز له لو قيل: أصلَّى الناس على عهد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إلى بيت المقدس؟ أن يقول: نعم. وإن لم يقل: ثم حُوِّلتِ القبلة.

قال: فإن قيل: فقد ذكر [على] عهد أبي بكر، وصدر من خلافة عمر.

قيل ــ والله أعلم ــ: وجوابه حين استفتي يخالف ذلك، كما وصفتُ".

أقول: أطال النووي في "شرح مسلم"(1) في الرد على احتمال النسخ، ورده واضح، فإن قول ابن عباس: "كان الطلاق على عهد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وأبي بكر وسنتين من خلافة عمر الثلاثُ واحدةً، فقال عمر .. " صريحٌ في أن الطلاق كله كان على هذا، فإن هذه قضيةٌ عامةٌ، وليس مثلها ما لو قيل: "أصلَّى الناسُ على عهد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إلى بيت المقدس"؛ لأن هذه قضية خاصة، فالأولى تدل على الاستمرار، بخلاف الثانية.

وقول ابن عباس في جواب السائل: "قد كان ذلك، فلما كان في عهد

--------------------------------------------

(1) (10/ 71، 72).
যদি বলা হয়: সম্ভবত এটি এমন বিষয় যা ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে এবং ইবনে আব্বাস (রা.) এ ক্ষেত্রে ওমরের মতানুসারেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

উত্তরে বলা হবে: আমরা জানি যে ইবনে আব্বাস (রা.) মুতআ বিবাহ, এক দিনারের বিনিময়ে দুই দিনার বিক্রয় এবং উম্মাহাতুল আওলাদ (দাসী হতে জাত সন্তান) বিক্রয়সহ অন্যান্য বিষয়ে ওমর (রা.)-এর বিরোধিতা করেছেন। সুতরাং তিনি কোনো বিষয়ে তাঁর সাথে একমত হবেন এবং নবী (সা.) থেকে এর বিপরীতে বর্ণিত (روي) থাকা সত্ত্বেও তা বর্ণনা করবেন—এমনটি কীভাবে সম্ভব?

যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে তিনি (নবী সা.-এর হাদিসটি) কেন উল্লেখ করেননি?

উত্তরে বলা হয়: অনেক সময় কোনো ব্যক্তিকে একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দেন কিন্তু তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেন না; তিনি কেবল বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং তা তাঁর জন্য বৈধ (جائز)। যেমন কারও কাছে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়: 'রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে মানুষ কি বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করত?' তবে তাঁর জন্য 'হ্যাঁ' বলা বৈধ (جائز), যদিও তিনি এটি না বলেন যে: 'পরবর্তীতে কিবলা পরিবর্তিত হয়েছিল'।

তিনি বলেন: যদি বলা হয়: তিনি তো আবু বকর (রা.)-এর যুগ এবং ওমর (রা.)-এর খেলাফতের প্রাথমিক সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন।

উত্তরে বলা হয়—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—ফতোয়া প্রদানের সময় তাঁর উত্তরটি এর বিপরীত ছিল, যেমনটি আমি বর্ণনা করেছি।

আমি বলছি: ইমাম নববী 'শারহু মুসলিম'(১) গ্রন্থে রহিতকরণ (نسخ) হওয়ার সম্ভাবনা খণ্ডন করতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং তাঁর সেই খণ্ডন সুস্পষ্ট। কেননা ইবনে আব্বাসের কথা: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে, আবু বকর (রা.)-এর যুগে এবং ওমর (রা.)-এর খেলাফতের প্রথম দুই বছরে তিন তালাক এক তালাক হিসেবে গণ্য হতো। অতঃপর ওমর বললেন..."—এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে সমস্ত তালাকই এই নিয়মে হতো। কারণ এটি একটি সাধারণ বিষয় (قضية عامة), আর এটি সেই উদাহরণের মতো নয় যেখানে বলা হয়: "মানুষ কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে সালাত আদায় করত?"; কারণ সেটি একটি বিশেষ বিষয় (قضية خاصة)। সুতরাং প্রথমটি নিরবচ্ছিন্নতা (استمرار) নির্দেশ করে, যা দ্বিতীয়টির বিপরীত।

আর প্রশ্নকর্তার উত্তরে ইবনে আব্বাসের উক্তি: "তা এমনই ছিল, যখন সেটি তাঁর যুগে পৌঁছালো...

--------------------------------------------

(১) (১০/ ৭১, ৭২)।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬১১)
عمر تتايعَ الناسُ في الطلاق، فأجازه عليهم" صريحٌ في أنه أراد أن يُبين تغيرَ الحكم، فلو علم نسخًا في عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم لما عدل عنه، بل كان يقول: قد كان ذلك في عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم ثم نسخ، أو نحو هذا.

واحتمالُ أن يكون النسخ وقع في آخر الحياة النبوية، فلم يعمل بموجبه في العهد النبوي، ولم يطلع عليه ابن عباس، يردُّه استمرار الحكم في عهد أبي بكر، وثلاث سنين من إمارة عمر، فيكونون قد أجمعوا على الخطأ.

واحتمال أن يكونوا اطلعوا في عهد عمر على ناسخٍ، يردُّه أن عمر إنما بنى التغيير على قوله: "إن الناس قد استعجلوا في أمرٍ كانت لهم فيه أناةٌ"، ولو كان اطلع على ناسخٍ لما عَدَلَ عنه، بل كان يقول: قد كنا نَقضِي بكذا حتى وقفنا على هذا النص، ويذكره.

وهكذا ابن عباس، إنما بنى التغيير على قوله: "فلما كان في عهد عمر تتايعَ الناسُ في الطلاق، فأجازه عليهم"، فبيَّن أن الإجازة كانت بسبب التتايع، فلو كانت الإجازة للاطلاع على ناسخٍ لما عدلَ عنه.

وقد سلَّم الشافعيُّ أن الاستمرار في عهد أبي بكر ومدة من إمارة عمر يدفع النسخ، وإنما عارض ذلك بفتوى ابن عباس. وهذه معارضة ضعيفة، بل باطلة على أصل الشافعي الذي يوافقه عليه جمهور أهل العلم: أن العبرة بما رواه الراوي وإن خالفه.

وقد قرر الشافعي هذه القاعدة في مواضع من "الأم"، منها: مسألة التحريم بالرضاع من جهة الفحل(1)، وغيرها.

--------------------------------------------

(1) (8/ 768، 769) من "اختلاف مالك والشافعي".
উমর (রা.)-এর উক্তি: "মানুষ তালাকের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো শুরু করেছে, তাই তিনি তা তাদের ওপর কার্যকর করে দিলেন"—এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, তিনি বিধানের পরিবর্তন ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলেন। যদি তিনি নবী (সা.)-এর যুগে কোনো রহিতকরণ (نسخ) সম্পর্কে জানতেন, তবে তিনি তা থেকে বিচ্যুত হতেন না; বরং তিনি বলতেন: নবী (সা.)-এর যুগে বিষয়টি এমন ছিল, এরপর তা রহিত (نسخ) করা হয়েছে, অথবা অনুরূপ কিছু।

আর নবী (সা.)-এর জীবনের শেষ ভাগে রহিতকরণ (نسخ) সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা—যার ফলে নববী যুগে সে অনুযায়ী আমল করা হয়নি এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-ও তা জানতে পারেননি—এই সম্ভাবনাটি আবু বকর (রা.)-এর যুগ এবং উমর (রা.)-এর খেলাফতের প্রথম তিন বছর পর্যন্ত বিধানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার দ্বারা নাকচ হয়ে যায়। অন্যথায়, তারা সকলে ভুলের ওপর ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন বলে গণ্য হবে।

আর উমর (রা.)-এর যুগে তারা কোনো রহিতকারী (ناسخ) দলিল পেয়েছিলেন—এমন সম্ভাবনাও এই কথার দ্বারা নাকচ হয় যে, উমর (রা.) পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে তাঁর এই উক্তিটি দিয়েছিলেন: "নিশ্চয়ই মানুষ এমন একটি বিষয়ে তাড়াহুড়ো করছে যাতে তাদের জন্য অবকাশ ছিল।" যদি তিনি কোনো রহিতকারী (ناسخ) দলিল সম্পর্কে জানতেন, তবে তিনি তা থেকে বিচ্যুত হতেন না। বরং তিনি বলতেন: আমরা ইতিপূর্বে এমন ফয়সালা দিতাম যতক্ষণ না আমরা এই নস (نص) সম্পর্কে অবগত হয়েছি, এবং তিনি তা উল্লেখ করতেন।

একইভাবে ইবনে আব্বাস (রা.)-ও পরিবর্তনের ভিত্তি তাঁর এই উক্তির ওপর রেখেছেন: "যখন উমর (রা.)-এর যুগ এল, মানুষ তালাকের বিষয়ে তাড়াহুড়ো শুরু করল, তখন তিনি তা তাদের ওপর কার্যকর করে দিলেন।" সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কার্যকর করার বিষয়টি ছিল মানুষের তাড়াহুড়োর কারণে। যদি এটি কোনো রহিতকারী (ناسخ) দলিল পাওয়ার কারণে হতো, তবে তিনি তা থেকে বিচ্যুত হতেন না।

ইমাম শাফেঈ স্বীকার করেছেন যে, আবু বকর (রা.)-এর যুগে এবং উমর (রা.)-এর খেলাফতের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিধানের ধারাবাহিকতা রহিতকরণকে (نسخ) প্রতিহত করে। তবে তিনি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ফতোয়া দ্বারা এর বিরোধিতা করেছেন। আর এই বিরোধিতা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيفة), বরং ইমাম শাফেঈর সেই মূলনীতির ভিত্তিতেই এটি বাতিল (باطلة) যার সাথে অধিকাংশ আলেম একমত: বর্ণনাকারী যা বর্ণনা করেছেন সেটিই ধর্তব্য, যদিও তিনি তার বিপরীত আমল বা ফতোয়া প্রদান করেন।

ইমাম শাফেঈ "আল-উম্ম" কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এই নীতিটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: পিতার দিক থেকে দুগ্ধপান সম্পর্কের মাধ্যমে বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার মাসআলা(১) এবং অন্যান্য বিষয়।

--------------------------------------------

(১) (৮/ ৭৬৮, ৭৬৯) "ইখতিলাফ মালিক ওয়াশ শাফেঈ" থেকে।
(খণ্ড: ১৭) আল-হুকমুল মাশরু ফিত তালাকিল মাজমু - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬১২)
ومن يقول: إن فتوى الراوي بخلاف مرويِّه تَخْدِش في مرويِّه، يستثني من ذلك ما إذا بيَّن الراوي مستندَ فتواه، وتبين لنا ضعف ذلك المستند.

وقد بيَّن ابن عباس هنا أن مستند التغيير هو أن الناس تتايَعوا في الطلاق، فأجازه عليهم عمر. وإجازة عمر ليست عند ابن عباس حجة، كما ذكر الشافعي، فلم يبق إلا أنه وافقه على أن التتايع يقتضي الإجازة، وسيأتي إيضاحه إن شاء الله تعالى.

[ص 9] على أنه قد جاء عن ابن عباس الفتوى بأن الثلاث واحدة.

قال أبو داود في "سننه"(1): روى حماد بن زيد عن أيوب عن عكرمة عن ابن عباس: "إذا قال أنت طالق ثلاثًا، بفمٍ واحدٍ، فهي واحدة". ورواه إسماعيل بن إبراهيم عن أيوب عن عكرمة هذا قوله، لم يذكر ابن عباس، وجعله قول عكرمة. (سنن أبي داود 1/ 298).

أقول: الظاهر صوابهما معًا، إذ لا مانعَ أن يرويه أيوب تارةً عن عكرمة عن ابن عباس، وتارةً عن عكرمة من قوله، فإن أبيتَ إلا الترجيح فقد اختلف الناس أيهما أرجح: حماد أم إسماعيل ــ وهو ابن عُلَية ــ؟

فقدَّم عثمان بن أبي شيبة ابنَ عُلَية.

وقال يحيى بن معين: حماد بن زيد أثبت من عبد الوارث وابن عُلَية والثقفي وابن عيينة.

وقال أيضًا: ليس أحدٌ أثبتَ في أيوب منه.

وقال أيضًا: من خالفه من الناس جميعًا، فالقول قوله في أيوب.

--------------------------------------------

(1) بذيل رقم (2197).
যারা বলেন যে, বর্ণনাকারীর (راوي) ফতোয়া তার বর্ণিত বিষয়ের (مروي) পরিপন্থী হলে তা বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে, তারা সেই অবস্থাকে এর ব্যতিক্রম ধরেন যেখানে বর্ণনাকারী তার ফতোয়ার ভিত্তি স্পষ্ট করে দেন এবং আমাদের নিকট সেই ভিত্তির দুর্বলতা (ضعف) প্রকাশ পায়।

ইবনে আব্বাস এখানে স্পষ্ট করেছেন যে, এই পরিবর্তনের ভিত্তি ছিল যে মানুষ তালাকের ক্ষেত্রে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল, ফলে উমর তাদের ওপর তা কার্যকর করেছিলেন। ইমাম শাফেয়ী যেমন উল্লেখ করেছেন, উমরের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা ইবনে আব্বাসের নিকট দলিল (حجة) ছিল না; বরং বিষয়টি কেবল এমন যে, তিনি উমরের সাথে এই ব্যাপারে একমত পোষণ করেছিলেন যে, মানুষের এই বেপরোয়া আচরণ কঠোরতা আরোপের দাবি রাখে। ইনশাআল্লাহ সামনে এর ব্যাখ্যা আসবে।

[পৃষ্ঠা ৯] তাছাড়া, ইবনে আব্বাস থেকে এমন ফতোয়াও বর্ণিত হয়েছে যে, তিন তালাক এক হিসেবে গণ্য হবে।

আবু দাউদ তার "সুনান"-এ বলেছেন(১): হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আইয়ুব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন: "যদি কেউ এক মুখে বলে যে তোমাকে তিন তালাক, তবে তা এক হিসেবেই গণ্য হবে।" আর ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম এটি আইয়ুব থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে তার নিজস্ব উক্তি হিসেবে বর্ণনা (روى) করেছেন; তিনি ইবনে আব্বাসের নাম উল্লেখ করেননি এবং একে ইকরিমাহর উক্তি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। (সুনান আবি দাউদ ১/২৯৮)।

আমি বলছি: দৃশ্যত উভয় বর্ণনাই সঠিক, কারণ আইয়ুব কখনো ইকরিমাহর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা (روى) করবেন এবং কখনো ইকরিমাহর নিজস্ব উক্তি হিসেবে বর্ণনা (روى) করবেন এতে কোনো বাধা নেই। তবে আপনি যদি অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদান করাকেই আবশ্যক মনে করেন, তবে ইমামদের মধ্যে এই নিয়ে মতভেদ রয়েছে যে কে অধিক অগ্রগণ্য (أرجح): হাম্মাদ নাকি ইসমাইল — যিনি ইবনে উলাইয়্যাহ হিসেবে পরিচিত?

উসমান ইবনে আবি শাইবাহ ইবনে উলাইয়্যাহকে অগ্রাধিকার প্রদান করেছেন।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: হাম্মাদ ইবনে যায়েদ হলেন আব্দুল ওয়ারিস, ইবনে উলাইয়্যাহ, সাকাফি এবং ইবনে উয়ায়নাহর তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (أثبت)।

তিনি আরও বলেছেন: আইয়ুবের বর্ণনার ক্ষেত্রে তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (أثبت) আর কেউ নেই।

তিনি আরও বলেছেন: যে কেউই তার বিরোধিতা করুক না কেন, আইয়ুবের বর্ণনার ক্ষেত্রে তার কথাটিই গ্রহণযোগ্য হবে।

--------------------------------------------

(১) ২১৯৭ নম্বর হাদিসের টীকায়।