0/0
(খণ্ড: ১) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
توكيل الولي غير المجبر بتزويج موليته - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: توكيل الولي غير المجبر بتزويج موليته

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (17)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

অ-জবরদস্তিমূলক অভিভাবক কর্তৃক তার অভিভাবকত্বাধীন নারীর বিবাহের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ - «আসার আল-মুয়াল্লিমী»-এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: অ-জবরদস্তিমূলক অভিভাবক কর্তৃক তার অভিভাবকত্বাধীন নারীর বিবাহের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানীর রচনাবলি (১৭)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

মুহাক্কিক (সম্পাদক): মুহাম্মদ উযাইর শামস

পর্যালোচনা করেছেন: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহী - সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দার আলাম আল-ফাওয়াইদ প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৪৩)
الرسالة الثامنة عشرة

توكيل الولي غير المجبر بتزويج موليته
অষ্টাদশ পত্র

অ-বাধ্যকারী অভিভাবক কর্তৃক তাঁর অধীনস্থ নারীর বিবাহ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগ
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৪৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله على إفضاله، والصلاة والسلام على خاتم أنبيائه، سيّدنا محمد وآله.

وبعدُ، فقد جرت المذاكرة في توكيل الولي غير المجبر بتزويج موليته إذا وقع التوكيل قبل إذنها، فلمّا راجعتُ المظانَّ وجدت الحاجة ماسةً إلى بسطٍ وتحقيق، فأقول مستعينًا بالله سبحانه:

[ص 2] قال الإمام الشافعي رحمه الله تعالى: "وإذا جاز للمرأة أن تُوكِّل وليَّينِ جاز للوليِّ الذي لا أمرَ للمرأة معه أن يوكّل، وهذا للأب خاصة في البكر، ولم يجُزْ لوليٍّ غيرٍ هـ(1) للمرأة معهم أمرٌ، أن يُوكِّل أبٌ في ثيّب، ولا وليٌّ غيرُ أبٍ، إلا بأن تأذن له أن يوكّل بتزويجها، فيجوز بإذنها". "الأم" (ج 5 ص 14)(2).

وأمّا كلام الأصحاب، فقال الشيخ أبو إسحاق في "المهذَّب":

"ولا يصحُّ التوكيلُ إلا ممّن يملك التصرفَ في الذي يُوكَّل فيه بمِلْكٍ أو ولاية، فأمّا من لا يملك التصرفَ في الذي يُوكَّل فيه ــ كالصبي، والمجنون، والمحجور عليه في المال، والمرأة في النكاح، والفاسق في تزويج ابنته ــ فلا يملك التوكيلَ فيه .... وأمّا من لا يملك التصرف إلا بالإذن كالوكيل والعبد المأذون له، فإنّه لا يملك التوكيل إلا بالإذن. واختلف أصحابنا في

--------------------------------------------

(1) وقوله "غيره" أي: غير الولي الذي لا أمر للمرأة معه، أو غير الأب في البكر.

(2) (6/ 43) ط. دار الوفاء.
بسم الله الرحمن الرحيم

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর অনুগ্রহের ওপর, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ নবী, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর।

অতঃপর, যদি অনুমতির পূর্বেই ওকালতি প্রদান করা হয়, তবে তার অধীনে থাকা নারীর বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অ-বাধ্যকারী অভিভাবকের (الولي غير المجبر) ওকালতি (توكيل) প্রদানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যখন আমি এ সংক্রান্ত উৎসগুলো পর্যালোচনা করলাম, তখন বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও পর্যালোচনার (تحقيق) জরুরি প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম। অতএব মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমি বলছি:

[পৃষ্ঠা ২] ইমাম শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: "একজন নারীর জন্য যখন দুজন অভিভাবককে (وليين) উকিল নিয়োগ দেওয়া জায়েজ, তখন সেই অভিভাবকের জন্যও উকিল নিয়োগ (يوكل) করা জায়েজ যার সাথে উপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে নারীর নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না। এটি কুমারী (البكر) মেয়ের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পিতার জন্য প্রযোজ্য। আর এমন কোনো অভিভাবক—যাদের উপস্থিতিতে নারীর সিদ্ধান্তের অধিকার রয়েছে—তাদের জন্য এটি জায়েজ নয় যে, কোনো পিতা বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা (ثيب) মেয়ের ক্ষেত্রে উকিল নিয়োগ করবে, আর পিতা ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের জন্যও তা জায়েজ নয়, যতক্ষণ না সেই নারী তাকে বিয়ের ওকালতি (يوكل) প্রদানের অনুমতি দেয়। সুতরাং তার অনুমতিক্রমে তা জায়েজ হবে।" ‘আল-উম্ম’ (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৪)।

আর মাযহাবের ইমামগণের বক্তব্য সম্পর্কে শেখ আবু ইসহাক ‘আল-মুহাজ্জাব’ গ্রন্থে বলেছেন:

"ওকালতি প্রদান (التوكيل) কেবল তখনই সহিহ হয় যখন ওই ব্যক্তি মালিকানা অথবা অভিভাবকত্বের (ولاية) কারণে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের (التصرف) অধিকার রাখে। কিন্তু যার ওই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের (التصرف) অধিকার নেই—যেমন শিশু (الصبي), পাগল (المجنون), সম্পদের ক্ষেত্রে লেনদেনে নিষিদ্ধ ব্যক্তি (المحجور عليه), বিয়ের বিষয়ে নারী এবং নিজের মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে ফাসেক (الفاسق)—সে ওকালতি প্রদানের (التوكيل) অধিকার রাখে না... আর যার অনুমতি ছাড়া পদক্ষেপ গ্রহণের (التصرف) অধিকার নেই, যেমন প্রতিনিধি (الوكيل) এবং অনুমতিপ্রাপ্ত দাস, সে অনুমতি ছাড়া পুনরায় ওকালতি প্রদান (التوكيل) করতে পারে না। আর আমাদের সাথীগণ (মাযহাবের ইমামগণ) এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন..."

--------------------------------------------

(১) এবং তাঁর উক্তি "غيره" (তাকে ছাড়া) অর্থাৎ: সেই অভিভাবক ছাড়া যার সাথে নারীর কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার নেই, অথবা কুমারী মেয়ের ক্ষেত্রে পিতা ছাড়া।

(২) (৬/ ৪৩) দারুল ওয়াফা সংস্করণ।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৪৬)
غير الأب والجد من العصبات هل يملك التوكيل في التزويج من غير إذن المرأة؟ منهم مَنْ قال: يملك؛ لأنّه يملك التزويج بالولاية من جهة الشرع، فيملك التوكيل من غير إذن كالأب والجدّ. ومنهم من قال: لا يملك؛ لأنّه لا يملك التزويج إلا بالإذن، فلا يملك التوكيل إلا بإذن، كالوكيل والعبد المأذون". "المهذب" (ج 1 ص 351)(1).

[ص 3] أقول: مسألة "المهذَّب" في الولي غير المجبر الذي أذنت له بالزواج، ولم تأذنْ له بالتوكيل ولا نهتْه عنه، وهي غير مسألتنا.

وقال الرافعي في "المحرر"(2): "وأمّا غير المجبر فإن نهتْه عن التوكيل لا يُوكِّل، وإن أذنتْ له وَكَّل، وإن قالت له: زوِّجني، فهل له التوكيل؟ فيه وجهان أصحهما نعم. ولا يجوز [له] التوكيل من غير استئذانها في النكاح في أصح الوجهين".

وعبارة "المنهاج"(3): "وغير المُجْبِر إن قالت له وكِّلْ وَكَّلَ، وإن نهتْه فلا، وإن قالت: زوِّجْني فله التوكيل في الأصح، ولو وَكَّل قبل استئذانها لم يصحَّ على الصحيح".

قال الخطيب في "المغني"(4) بعد قول "المنهاج": "على الصحيح": المنصوص، يريد نصّ الإمام الشافعي رحمه الله تعالى، وقد تقدم.

--------------------------------------------

(1) (3/ 347) تحقيق الزحيلي.

(2) (ص 293) ط. دار الكتب العلمية.

(3) "منهاج الطالبين" (2/ 432) ط. دار البشائر.

(4) "مغني المحتاج" (3/ 158).
পিতা ও দাদা ব্যতীত আসাবা (عصبة) ভুক্ত অন্যান্য অভিভাবকগণ কি মহিলার অনুমতি ব্যতিরেকে বিবাহের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করার অধিকার রাখেন? তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তিনি এই অধিকার রাখেন; কারণ তিনি শরিয়তের পক্ষ থেকে অভিভাবকত্ব (ولاية)-এর ভিত্তিতে বিবাহ দেওয়ার অধিকার রাখেন, তাই পিতা ও দাদার মতোই অনুমতি ব্যতিরেকে প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করার অধিকারও তাঁর রয়েছে। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তিনি এই অধিকার রাখেন না; কারণ অনুমতি ব্যতীত তিনি বিবাহ দেওয়ারই অধিকার রাখেন না, সুতরাং অনুমতি ব্যতীত প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করারও অধিকার তাঁর নেই; যেমন প্রতিনিধি (وكيل) এবং অনুমতিপ্রাপ্ত দাসের (عبد مأذون) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। "আল-মুহাজ্জাব" (১ম খণ্ড, ৩৫১ পৃষ্ঠা)(১).

[পৃষ্ঠা ৩] আমি বলছি: "আল-মুহাজ্জাব"-এর মাসআলাটি হলো এমন অ-বাধ্যকারী অভিভাবক (ولي غير مجبر) সম্পর্কে, যাকে মহিলা বিবাহের অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করার অনুমতি দেননি আবার নিষেধও করেননি। আর এটি আমাদের আলোচ্য মাসআলা থেকে ভিন্ন।

ইমাম রাফেয়ী "আল-মুহাররার"(২) গ্রন্থে বলেছেন: "আর অ-বাধ্যকারী অভিভাবকের ক্ষেত্রে কথা হলো, মহিলা যদি তাকে প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করতে নিষেধ করেন তবে তিনি প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন না। যদি অনুমতি দেন তবে তিনি প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করবেন। আর যদি মহিলা তাকে বলেন: 'আমাকে বিবাহ দিন', তবে কি তিনি প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করতে পারবেন? এ বিষয়ে দুটি অভিমত (وجه) রয়েছে, যার মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মতটি হলো 'হ্যাঁ'। আর অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) অভিমত অনুযায়ী, বিবাহের ব্যাপারে মহিলার অনুমতি গ্রহণ ব্যতিরেকে প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করা তার জন্য বৈধ নয়।"

"আল-মিনহাজ"(৩)-এর ইবারত হলো: "অ-বাধ্যকারী অভিভাবক যদি হয় এবং মহিলা যদি তাকে বলেন 'প্রতিনিধি নিয়োগ করুন', তবে তিনি প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করবেন। আর যদি নিষেধ করেন তবে পারবেন না। যদি বলেন 'আমাকে বিবাহ দিন', তবে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মতানুসারে তিনি প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করতে পারবেন। কিন্তু বিবাহের অনুমতি নেওয়ার আগে যদি তিনি প্রতিনিধি নিযুক্ত (توكيل) করেন, তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে তা সঠিক হবে না।"

খতিব শিরবিনি "মুগনি আল-মুহতাজ"(৪) গ্রন্থে "আল-মিনহাজ"-এর উক্তি "বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে"-এর ব্যাখ্যায় বলেন: এটিই হলো ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণিত উক্তি (منصوص); তিনি মূলত ইমাম শাফেয়ীর সুস্পষ্ট বক্তব্যই বুঝাতে চেয়েছেন, যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) (৩/ ৩৪৭) যুহাইলি-র তাহকিক।

(২) (২৯৩ পৃষ্ঠা) দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ।

(৩) "মিনহাজুত তালিবিন" (২/ ৪৩২) দারুল বাশায়ের সংস্করণ।

(৪) "মুগনি আল-মুহতাজ" (৩/ ১৫৮)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৪৭)
وفي "الروض" مع شرحه: (ولغير المجبر) بأن كان غير أب وجدٍّ مطلقًا أو أحدهما في الثيّب (التوكيل) أيضًا، لكن (بعد الإذن له) منها (في النكاح والتوكيل أو في التوكيل فقط) أي: دون النكاح (وكذا في النكاح وحده) أي: دون التوكيل؛ لأنّه تصرّف بالولاية فيتمكن من التوكيل بغير إذن، كالوصيّ والقيّم، هذا (إن لم تنهَه) عن التوكيل، فإن نهتْه عنه لم يوكّل، لأنّها إنّما تزوج بالإذن، ولم تأذن في تزويج الوكيل بل نهتْ عنه، أمّا توكيله بغير إذنها له فلا يصح؛ لأنّه لا يملك التزويج بنفسه. "شرح الروض" (ج 3 ص 135)(1).

ومقابل الأصح في عبارة "المنهاج" هو الوجه الذي صرّح به في "المهذب"، وذكر دليله، وهو موافق لنصّ الإمام الشافعي رحمه الله تعالى، وإن كان الأصح خلافه عند الأصحاب.

وممّا يوضح ما قلنا ما في "صحيح مسلم"(2) وغيره من حديث ابن عباس رضي الله عنهما أنّ النّبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "الثيّب أحقُّ بنفسها من وليّها، والبكر تُستأمر وإذنها سكوتها"، وفي لفظٍ لأبي داود والنسائي وصححه ابن حبّان(3): "ليس للولي مع الثيب أمر، واليتيمة تُستأمر".

[ص 4] وشبهتهم قياس غير المجبر إذا أذنت له بالتزويج على المجبر،

--------------------------------------------

(1) "أسنى المطالب شرح روض الطالب" ط. مصر 1313 هـ.

(2) رقم (1421). وأخرجه أيضًا أبو داود (2099) والنسائي (6/ 85).

(3) انظر: "سنن أبي داود" (2100) و"النسائي" (6/ 85) و"صحيح ابن حبان" (4089).
আর "আর-রাওদ" ও এর ব্যাখ্যায় রয়েছে: (এবং অ-জবরদস্তিকারী অভিভাবকের জন্য) অর্থাৎ তিনি যদি পিতা ও দাদা ব্যতীত অন্য কেউ হন অথবা থাইয়িবাহ (পূর্বে বিবাহিত নারী)-এর ক্ষেত্রে পিতা বা দাদার মধ্যে কেউ হন, তবে তার জন্য (প্রতিনিধি নিয়োগ) করারও সুযোগ রয়েছে। তবে তা (তাকে অনুমতি প্রদানের পর) তার (নারীর) পক্ষ থেকে (বিবাহ এবং প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে অথবা শুধু প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে) অর্থাৎ: বিবাহ ব্যতিরেকে (এবং একইভাবে শুধু বিবাহের ক্ষেত্রে) অর্থাৎ: প্রতিনিধি নিয়োগ ব্যতিরেকে; কারণ এটি অভিভাবকত্ব (ولاية)-এর মাধ্যমে একটি ব্যবস্থাপনা, তাই তিনি অনুমতি ছাড়াই প্রতিনিধি নিয়োগ করতে সক্ষম, যেমন অসি (وصي) এবং তত্ত্বাবধায়ক (قيم)। এটি প্রযোজ্য (যদি সে তাকে নিষেধ না করে) প্রতিনিধি নিয়োগ করতে। যদি সে তাকে তা থেকে নিষেধ করে, তবে সে প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবে না। কারণ সে তো অনুমতির ভিত্তিতেই বিবাহ করে, আর সে প্রতিনিধির মাধ্যমে বিবাহ সম্পাদনের অনুমতি দেয়নি বরং তা থেকে নিষেধ করেছে। আর তার অনুমতি ছাড়া তার প্রতিনিধি নিয়োগ করা সহিহ (صحيح) হবে না; কারণ সে নিজে বিবাহ দেওয়ার একক অধিকার রাখে না। "শারহুর রাওদ" (খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৩৫)(1)।

আর "আল-মিনহাজ"-এর ইবারতে "আল-আসাহ্" (الأصح)-এর বিপরীতে যে মতটি রয়েছে, তা হলো সেই অভিমত যা "আল-মুহাযযাব"-এ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে এবং এর দলিল উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মূল বক্তব্যের অনুকূল, যদিও আসহাব (মাযহাবের ইমামগণ)-এর নিকট অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মতটি এর বিপরীত।

আমরা যা বলেছি তার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে "সহিহ মুসলিম"(2) এবং অন্যান্য গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "থাইয়িবাহ (পূর্বে বিবাহিত নারী) তার নিজের ব্যাপারে তার অভিভাবকের চেয়ে বেশি হকদার, আর কুমারী নারীর সম্মতি গ্রহণ করতে হবে এবং তার নীরবতাই তার অনুমতি।" আবু দাউদ ও নাসায়ি-র এক শব্দে এসেছে এবং ইবনে হিব্বান একে সহিহ (صحيح) বলেছেন(3): "থাইয়িবাহ নারীর সাথে অভিভাবকের কোনো আদেশ নেই এবং ইয়াতিম মেয়ের অনুমতি নিতে হবে।"

[পৃষ্ঠা ৪] আর তাদের সংশয় হলো—নারী যখন অ-জবরদস্তিকারী অভিভাবককে বিবাহের অনুমতি প্রদান করে, তখন তাকে জবরদস্তিকারী অভিভাবকের ওপর কিয়াস করা।

--------------------------------------------

(1) "আসনা আল-মাতালিব শারহু রাওদিত তালিব" মিসরীয় মুদ্রণ, ১৩১৩ হিজরি।

(2) নম্বর (১৪২১)। আরও বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (২০৯৯) এবং নাসায়ি (৬/ ৮৫)।

(3) দেখুন: "সুনান আবু দাউদ" (২১০০), "নাসায়ি" (৬/ ৮৫) এবং "সহিহ ইবনে হিব্বান" (৪০৮৯)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৪৮)
ويُفرَّق بأنّ المجبر ولايته تامّة بدون إذنها، وغير المجبر إنّما تتمّ ولايته بإذنها، بل لو قيل: إنّه إنّما يستفيد الولاية بإذنها لما كان عجبًا، ألا ترى أنّها لو دَعَتْ إلى كُفْءٍ فقيرٍ مستضعف دميمٍ بصداقٍ قليل، ودعا غير المجبر إلى من هو خير من ذاك كفاءةً وكمالاً وجمالاً ومالاً وجاهًا بصداقٍ أضعافِ ما بذله الآخر لوجب إجابتها، حتى لو لم يُجِب الوليُّ إلى تزويجها بمن رغبتْ فيه عُدَّ عاضلاً فيزوِّجها السلطان، ولو قالت للمجبر: لا توكِّلْ، فوكّل صحّ، ولو أذنت لغير المجبر بالتزويج وقالت: لا توكِّلْ، لم يكن له أن يوكِّل اتفاقًا كما مرّ.

ومنهم من قاسه على الوصي والقيّم، قال في "المغني"(1): "بل هو أولى منهما؛ لأنهما نائبان، وهو ولايته أصلية بالشرع، وإذنها بالتزويج شرط في صحة تصرفه، وقد حصل".

أقول: لك أن تقول: بل الأصل هو إذنها، ولكن يشترط له أن يكون المأذون له أولى العصبات بدليل الحديث المذكور آنفًا وما معه، ثم نقول: يُفرَّق بين الولي وبين الوصيّ والقيم بأنّ الضرورة دعت إلى ذلك في الوصي والقيم، لعدم إمكان الإذن من الصبي ونحوه، ولهذا لو أذنت الصغيرة لوليها غير المجبر أن يزوِّجها لم يعتدّ بإذنها، فأمّا المرأة البالغة العاقلة فإنّ استئذانها في التوكيل ممكن، وإذنها معتدٌّ به شرعًا، بل المدار عليه كما مرّ.

فإن قلت: إنّما قصدوا أنّ الوصي له أن يوكِّل، وإن لم يأذن له الموصي، والقيم له أن يوكِّل وإن لم يأذن له القيّم.

--------------------------------------------

(1) "مغني المحتاج" (3/ 158).
এবং পার্থক্যটি হলো এই যে, বাধ্যতামূলক অভিভাবকের (مجبر) অভিভাবকত্ব (ولاية) তার (নারীর) অনুমতি ছাড়াই পূর্ণাঙ্গ হয়। আর বাধ্যতামূলক নয় এমন অভিভাবকের অভিভাবকত্ব শুধুমাত্র তার অনুমতির মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। এমনকি যদি বলা হয় যে, সে মূলত তার (নারীর) অনুমতির মাধ্যমেই অভিভাবকত্বের (ولاية) অধিকার লাভ করে, তবে তা বিস্ময়কর কিছু হবে না। আপনি কি দেখেন না যে, সে (নারী) যদি কোনো দরিদ্র, দুর্বল ও কদর্য সমপর্যায়ের (كفء) পাত্রের কাছে কম মহরানা দিয়ে বিয়ের আহ্বান জানায়, আর বাধ্যতামূলক নয় এমন অভিভাবক যদি এমন কারো দিকে আহ্বান করে যে যোগ্যতা, পূর্ণতা, সৌন্দর্য, সম্পদ ও সম্মানে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং মহরানা প্রদানের ক্ষেত্রেও অন্যজনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সক্ষম, তবে নারীর আহ্বানে সাড়া দেওয়া আবশ্যক (واجب) হবে। এমনকি অভিভাবক যদি তার পছন্দের ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিতে রাজি না হয়, তবে তাকে বিবাহে অন্যায়ভাবে বাধা প্রদানকারী (عاضل) হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এমতাবস্থায় সুলতান (শাসক) তার বিয়ের ব্যবস্থা করবেন। আর সে যদি বাধ্যতামূলক অভিভাবককে (مجبر) বলে: "আপনি কাউকে প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন না", কিন্তু তিনি প্রতিনিধি নিয়োগ করেন, তবে তা শুদ্ধ হবে। পক্ষান্তরে, সে যদি বাধ্যতামূলক নয় এমন অভিভাবককে বিয়ের অনুমতি দিয়ে বলে: "কাউকে প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন না", তবে ঐকমত্য অনুযায়ী তার জন্য কাউকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা বৈধ হবে না, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে অসি (وصي) এবং তত্ত্বাবধায়কের (قيم) সাথে তুলনা করেছেন। মুগনি(১) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "বরং সে এই দুইজনের তুলনায় অধিক যোগ্য; কারণ তারা দুজন হলো প্রতিনিধি (نائب), আর তার অভিভাবকত্ব (ولاية) হলো শরিয়ত নির্ধারিত মূলগত (أصلي) অধিকার। বিয়ের ক্ষেত্রে তার (নারীর) অনুমতি হলো তার (অভিভাবকের) কর্মকাণ্ড বৈধ হওয়ার শর্ত, আর তা অর্জিত হয়েছে।"

আমি বলি: আপনি বলতে পারেন যে, বরং মূলত তার অনুমতিই হলো ভিত্তি, কিন্তু শর্ত হলো যাকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাকে নিকটতম পুরুষ আত্মীয়দের (عصبات) অন্তর্ভুক্ত হতে হবে; যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত হাদিস এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত। এরপর আমরা বলব: অভিভাবক এবং অসি (وصي) ও তত্ত্বাবধায়কের (قيم) মধ্যে পার্থক্য হলো, অসি ও তত্ত্বাবধায়কের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির প্রয়োজনে এর আবশ্যকতা দেখা দেয়, কারণ শিশু (صبي) বা এই জাতীয় ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে অনুমতি গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এ কারণেই যদি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে তার বাধ্যতামূলক নয় এমন অভিভাবককে বিয়ের অনুমতি দেয়, তবে তার অনুমতির কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। পক্ষান্তরে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমতী নারীর ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়ে অনুমতি গ্রহণ করা সম্ভব এবং শরিয়ত অনুযায়ী তার অনুমতি গ্রহণযোগ্য (معتد به)। বরং বিষয়টি এর ওপরেই নির্ভরশীল, যেমনটি আগে আলোচনা করা হয়েছে।

যদি আপনি বলেন: তারা মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, অসির (وصي) অধিকার আছে প্রতিনিধি নিয়োগ করার, যদিও অসি-নিয়োগকারী তাকে অনুমতি না দেয়। আর তত্ত্বাবধায়কেরও (قيم) অধিকার আছে প্রতিনিধি নিয়োগ করার, যদিও নিয়োগকারী তাকে অনুমতি না দেয়।

--------------------------------------------

(১) "মুগনি আল-মুহতাজ" (৩/ ১৫৮)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৪৯)
قلتُ: وعلى هذا أيضًا فبينهما وبين الولي غير المجبر فرق، وهو أنّ عمل الوصي والقيم يكون كثيرًا متشعبًا، تدعو الحاجة إلى أن يستعينا بغيرهما ويُوكِّلاه؛ فلذلك عُدّ سكوت الموصي والقيم عن اشتراط عدم التوكيل بمنزلة الإذن بالتوكيل، ألا ترى أن الوكيل إذا كان العمل كثيرًا لا يستطيع مباشرته، وعَلِمَ الموكِّلُ ذلك عند التوكيل؛ عُدَّ توكيله وسكوته عن المنع عن التوكيل إذنًا بالتوكيل، فأمّا الولي فإنّما هي كلمة واحدة يقولها، وإن فرض أنّه قد يعرض له ما يحوجه إلى التوكيل فذلك نادرٌ، يمكنه حينئذٍ أن يستأذن المرأة في التوكيل، فأمّا الوصيُّ والقيّم فعملهما كثيرٌ كما مرّ، ولا يمكن الوصيَّ استئذانٌ عند عروض الحاجة؛ لأنّه قد مات، وكثيرًا ما يتعسّر الاستئذان من القاضي لبعد مكانه ونحو ذلك بخلاف الوكيل، فإنّ تعسُّر مراجعته للموكل كالنادر، وكذا العبد المأذون له في التجارة، فأمّا احتياج وليِّ المرأة إلى التوكيل فأقلُّ وأندر، وتعسُّر مراجعتها ممّا لا يكاد يقع.

والحاصل أنّ المعنى الذي يدور عليه جواز التوكيل من النائب وعدمه هو كونه يكثر احتياجه إلى التوكيل، وعسر الاستئذان من المنيب، وهذا المعنى موجود في الوصي والقيم، وقليل في الوكيل والعبد المأذون له في التجارة، ونادرٌ جدًّا في ولي النكاح، فإذا منعنا الوكيل والعبد المأذون له في التجارة من التوكيل فوليُّ النكاح أولى، نعم إنّ له ولايةً شرعية، ولكنّه لا يملك بها الأمر الذي يريد أن يوكل به وهو العقد، وإنّما ملكه بإذنها، والله أعلم، على أنّ في الوصي والقيم خلافًا، والذي اختاره محمد رملي أنّه ليس لهما أن يوكلا إلا فيما عجزا عنه أو لم تلق بهما مباشرته.

واعلم أنّ من قال: ليس لغير المجبر التوكيل حتى يأذن له به، ولا يكفي
আমি বলছি: এ প্রেক্ষিতে তাদের এবং বাধ্যকারী নয় এমন অভিভাবকের (ولي غير المجبر) মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিষয়টি হলো, অসি (وصي) এবং কাইয়্যিম (قيم)-এর কাজ ব্যাপক ও শাখা-প্রশাখাযুক্ত হয়ে থাকে, যার ফলে অন্যের সাহায্য নেওয়া এবং তাদের প্রতিনিধি নিয়োগ (توكيل) করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। একারণেই প্রতিনিধি নিয়োগ না করার শর্তারোপের ব্যাপারে অসি প্রদানকারী ও কাইয়্যিমের নীরব থাকাকে প্রতিনিধি নিয়োগের অনুমতি (إذن) হিসেবে গণ্য করা হয়। আপনি কি দেখেন না যে, কোনো প্রতিনিধি (وكيل) যখন অর্পিত কাজ অধিক হওয়ার কারণে নিজে সরাসরি তা সম্পন্ন করতে সক্ষম হন না এবং প্রতিনিধিত্ব প্রদানের সময় প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারী (موكل) বিষয়টি জানতেন; তখন তাঁর প্রতিনিধি নিয়োগ এবং একে নিষেধ করা থেকে তাঁর নীরব থাকাকে প্রতিনিধি নিয়োগের অনুমতি (إذن) হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে অভিভাবকের (ولي) ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো কেবল একটি শব্দ বা বাক্য যা তিনি উচ্চারণ করবেন। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তাঁর এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে যা তাকে প্রতিনিধি নিয়োগে (توكيل) বাধ্য করবে, তবে তা বিরল (نادر)। এমতাবস্থায় তিনি নারীর কাছে প্রতিনিধি নিয়োগের ব্যাপারে অনুমতি গ্রহণ (استئذان) করতে পারেন। কিন্তু অসি (وصي) এবং কাইয়্যিম (قيم)-এর কাজ অনেক, যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে। আর প্রয়োজন দেখা দিলে অসি-র পক্ষে অনুমতি গ্রহণ (استئذان) করা সম্ভব নয়; কারণ অসি প্রদানকারী মৃত্যুবরণ করেছেন। আর বিচারকের (قاضي) থেকে অনুমতি নেওয়া অনেক সময় দূরত্বের কারণে বা অনুরূপ কোনো কারণে কঠিন হয়ে পড়ে, যা প্রতিনিধির (وكيل) বিপরীত; কেননা প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারীর (موكل) কাছে পুনরায় ফিরে যাওয়া কঠিন হওয়া বিরল (نادر) বিষয়ের মতো। একইভাবে ব্যবসার অনুমতিপ্রাপ্ত দাসের (العبد المأذون له في التجارة) ক্ষেত্রেও একই কথা। তবে নারীর অভিভাবকের প্রতিনিধি নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা অনেক কম এবং অত্যন্ত বিরল, আর নারীর শরণাপন্ন হওয়া কঠিন হওয়াটা প্রায় ঘটে না বললেই চলে।

সারকথা হলো, নায়েব বা প্রতিনিধির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগের বৈধতা (جواز) এবং অবৈধতার বিষয়টি যার ওপর নির্ভর করে তা হলো, তার প্রতিনিধি নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু এবং মূল ব্যক্তির থেকে অনুমতি গ্রহণ (استئذان) করা কতটা কঠিন। এই বিষয়টি অসি (وصي) এবং কাইয়্যিম (قيم)-এর ক্ষেত্রে বিদ্যমান, প্রতিনিধি (وكيل) ও ব্যবসার অনুমতিপ্রাপ্ত দাসের ক্ষেত্রে কম, এবং বিয়ের অভিভাবকের (ولي النكاح) ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিরল। অতএব আমরা যদি প্রতিনিধি (وكيل) এবং ব্যবসার অনুমতিপ্রাপ্ত দাসকে প্রতিনিধি নিয়োগ থেকে বিরত রাখি, তবে বিয়ের অভিভাবক (ولي النكاح) এক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগণ্য। হ্যাঁ, তাঁর শরয়ি অভিভাবকত্ব (ولاية شرعية) রয়েছে, তবে এর মাধ্যমে তিনি সেই বিষয়টি পরিচালনা করার মালিক হন না যার জন্য তিনি প্রতিনিধি নিয়োগ করতে চান—আর তা হলো চুক্তি (عقد)। বরং তাঁর এই অধিকার নারীর অনুমতির (إذن) মাধ্যমেই সাব্যস্ত। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। যদিও অসি (وصي) এবং কাইয়্যিম (قيم)-এর ব্যাপারে মতভেদ (خلاف) রয়েছে। মুহাম্মদ রামলি যা চয়ন করেছেন তা হলো, তাদের দুজনের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগের অধিকার নেই, কেবল সেই ক্ষেত্র ব্যতীত যেখানে তারা নিজেরা কাজ করতে অক্ষম হন অথবা যে কাজ সরাসরি করা তাদের মর্যাদার সাথে মানানসই নয়।

জেনে রাখুন, যারা বলেন: বাধ্যকারী নয় এমন অভিভাবকের (غير المجبر) জন্য অনুমতি প্রদানের আগ পর্যন্ত প্রতিনিধি নিয়োগ (توكيل) করার অধিকার নেই, এবং কেবল...
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৫০)
إذنها له بالتزويج، يقول: إنّه لو وكَّل قبل إذنها بالتوكيل وبعد إذنها بالتزويج كانت الوكالة باطلة، ولو عقد الوكيل كان عقدُه باطلاً، كما يُعلَم من تمثيلهم له بالوكيل والعبد المأذون، وتوكيلهما بدون إذن الموكل والسيد باطلٌ، وتصرُّف من وكَّلاه باطلٌ.

وممّا يبيِّن أنّ الشيخ رحمه الله ذكر مسألة الولي في الفصل المتقدم الذي لم يذكر فيه إلا من كان توكيله باطلاً، وتصرف وكيله باطلاً، فأمّا "المحرّر" و"المنهاج" فإنهما زادا المُحرِمَ في النكاح(1)، ولكن بيَّن الشرَّاح أنّ المراد المحرم الذي وكَّل ليعقد الوكيل حال الإحرام، وهذا التوكيل باطلٌ، ولو عقد الوكيل كان العقد باطلاً، والله أعلم.

فأمّا غير المجبر فللقائل بجواز توكيله قبل إذنها أن يتمسّك بشُبهٍ:

الشبهة الأولى:

قد يقال: إنّما تُبطِلون توكيله؛ لأنّه لا يملك تزويجها حينئذٍ، ويجاب عنه: بأنّه من المتفق عليه أنّ الولي غير المجبر وليٌّ قبل إذنها، أي: أنّ له ولايةً شرعية ثابتة، سواءً أحبَّتْ ذلك أم كرهتْ، فلِمَ لا يكون له أن يجعل للوكيل مثل ما له من تلك الولاية؟

الجواب من وجوه:

الأول: أنّ المقصود من الولاية إنّما هو تولّي العقد، والولاية المذكورة لا تُسوِّغ الوليَّ تولي العقد أصلاً، فهي كالعدم، ولو دعت إلى كفءٍ وأبى الوليُّ زوَّجَها السلطان.

--------------------------------------------

(1) انظر "المحرر" (ص 195) و"منهاج الطالبين" (2/ 159).
বিবাহের জন্য তাকে অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন: যদি সে ওকালতি প্রদানের অনুমতি পাওয়ার পূর্বে এবং বিবাহের অনুমতি পাওয়ার পরে কাউকে ওকালতি (وكالة) প্রদান করে, তবে সেই ওকালতি বাতিল (باطلة) হবে। আর উকিল যদি বিবাহের চুক্তি সম্পাদন করে, তবে তার সেই চুক্তিও বাতিল (باطل) বলে গণ্য হবে। যেমনটি উকিল (الوكيل) এবং অনুমতিপ্রাপ্ত (المأذون) দাসের উদাহরণের মাধ্যমে তাদের পক্ষ থেকে জানা যায়; মুয়াক্কিল এবং মালিকের অনুমতি ব্যতীত তাদের ওকালতি প্রদান (توكيل) বাতিল (باطل) এবং তারা যাকে উকিল নিযুক্ত করেছে তার কর্মকাণ্ডও বাতিল (باطل)।

যা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, শায়খ রহিমাহুল্লাহ পূর্ববর্তী অধ্যায়ে অভিভাবকের (الولي) মাসয়ালা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি কেবল তাদের কথাই আলোচনা করেছেন যাদের ওকালতি প্রদান বাতিল (باطل) এবং যাদের উকিলের কর্মকাণ্ড বাতিল (باطل)। পক্ষান্তরে "আল-মুহাররার" এবং "মিনহাজুত তালিবিন" গ্রন্থে বিবাহের ক্ষেত্রে ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে (المحرم)(1) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ব্যাখ্যাকারগণ স্পষ্ট করেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই ইহরামধারী ব্যক্তি যে ওকালতি প্রদান (وكَّل) করেছে যেন সেই উকিল ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে বিবাহের চুক্তি সম্পাদন করে। আর এই ওকালতি প্রদান বাতিল (باطل); যদি উকিল বিবাহ সম্পাদন করে তবে সেই চুক্তিও বাতিল (باطل) হবে। আল্লাহ ভালো জানেন।

আর অ-বাধ্যকারী (غير المجبر) অভিভাবকের ক্ষেত্রে, নারীর অনুমতির পূর্বেই তাকে উকিল নিযুক্ত করার বৈধতার প্রবক্তাগণ কিছু সংশয়ের (شبهات) আশ্রয় নিতে পারেন:

প্রথম সংশয় (الشبهة الأولى):

বলা যেতে পারে যে, আপনারা তার ওকালতি প্রদানকে বাতিল বলছেন; কারণ তখন সে তাকে বিবাহ দেওয়ার অধিকার রাখে না। এর উত্তর দেওয়া হয় যে: এটি সর্বসম্মত বিষয় যে, অ-বাধ্যকারী অভিভাবক (الولي غير المجبر) নারীর অনুমতির পূর্বেই অভিভাবক (ولي) হিসেবে গণ্য। অর্থাৎ, নারী তা পছন্দ করুক বা অপছন্দ করুক, তার জন্য শরয়ি অভিভাবকত্ব (ولاية شرعية) সাব্যস্ত রয়েছে। এমতাবস্থায় সে কেন তার সেই অভিভাবকত্বের ন্যায় কোনো উকিল নিযুক্ত করতে পারবে না?

উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেওয়া যায়:

প্রথমত: অভিভাবকত্বের (الولاية) উদ্দেশ্য হলো চুক্তি সম্পাদন (تولي العقد) করা। আর উল্লিখিত অভিভাবকত্ব (الولاية) মূল অভিভাবককে বিবাহের চুক্তি সম্পাদন করার কোনো বৈধতাই দেয় না, তাই এটি অবিদ্যমানের মতোই। যদি নারী কোনো সমকক্ষ পাত্রের (كفء) দিকে আহ্বান করে এবং অভিভাবক তাতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে সুলতান তাকে বিবাহ দেবেন।

--------------------------------------------

(1) দেখুন "আল-মুহাররার" (পৃ. ১৯৫) এবং "মিনহাজুত তালিবিন" (২/ ১৫৯)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৫১)
الثاني: أنّه لمّا كان المقصود من الولاية تولي العقد فهو ثمرتها، والولي قبل إذنها لا يستحق [ص 5] الثمرة، فلا يؤثّر رضاه بجعلها لآخر، كالوصية بأكثر من الثلث توقف على إجازة الورثة بعد موت المُورِث، فلو أجازوا والمورِث في الغرغرة كانت إجازتهم لغوًا، مع أنّه في مرض الموت قد صار لهم اختصاص ما بالتركة، ولكن هذا الاختصاص إنّما يتم بالموت، فكذلك الولي له اختصاصٌ ما، ولا يتمّ إلا بإذنها.

الثالث: أنّ الوكالة إنّما شُرِعت لينوب الوكيل عن الموكِّل في فِعلٍ يفعله، ولذلك عرَّفها الفقهاء كما في "التحفة"(1) بأنها تفويضُ شخص لغيره ما يفعله عنه في حياته ممّا يقبل النيابة، ولهذا يقال في الصيغة: وكَّلتُك بتزويجها أو نحو ذلك، ولا يقال: وكَّلتك بأن تكون وليًّا أو نحوه، وولاية غير المجبر قبل إذنها لا يترتب عليها وحدها فعلٌ حتّى يصحّ التوكيل، فتدبَّر.

فإن قيل: فقد نصُّوا على أنّه لو نجَّز الوكالة وشرطَ للتصرف شرطًا جاز، وعبارة "المنهاج"(2): "فإن نجَّزها وشَرط للتصرّف شرطًا جاز". وعليه فلو قال المجبر: وكَّلتك بتزويجها ولا تَعقِد إلا بإذنها صحّ، مع أنّ الحقّ الذي جعله له لا يترتب عليه وحده فعلٌ، فمسألة توكيل غير المجبر قبل إذنها نظير هذه.

فالجواب من وجهين:

الأول: أنّ في صحة توكيل المجبر على الصفة المذكورة نظرًا، وفي

--------------------------------------------

(1) "تحفة المحتاج" (5/ 294).

(2) "منهاج الطالبين" (2/ 165).
দ্বিতীয়ত: যেহেতু অভিভাবকত্বের মূল উদ্দেশ্য হলো বিবাহের চুক্তি সম্পন্ন করা, তাই এটিই এর ফলাফল। আর অভিভাবক কনের অনুমতির পূর্বে এই ফলাফলের [পৃষ্ঠা ৫] অধিকারী হন না, ফলে অন্য কাউকে এই দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে তার সম্মতি কোনো প্রভাব ফেলে না। এটি এক-তৃতীয়াংশের অধিক ওসিয়ত করার মতো, যা উত্তরাধিকার প্রদানকারীর মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের অনুমতির ওপর নির্ভর করে। যদি তারা উত্তরাধিকার প্রদানকারীর মুমূর্ষু অবস্থায় (غرغرة) অনুমতি দেয়, তবে তাদের সেই অনুমতি অর্থহীন বলে গণ্য হবে, যদিও মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন সময়ে সম্পত্তির ওপর তাদের এক ধরণের বিশেষ অধিকার তৈরি হয়; কিন্তু এই বিশেষ অধিকার কেবল মৃত্যুর মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়। তদ্রূপ অভিভাবকেরও একটি বিশেষ অধিকার থাকে, যা কনের অনুমতি ছাড়া পূর্ণতা পায় না।

তৃতীয়ত: প্রতিনিধিত্ব (ওকালাহ) মূলত এ জন্য বৈধ করা হয়েছে যাতে প্রতিনিধি (উকিল) কোনো কাজে মক্কেলের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। এই কারণেই ফকিহগণ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যেমনটি "তুহফা"(১) গ্রন্থে রয়েছে— "কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কাউকে এমন বিষয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা যা তার জীবদ্দশায় তার পক্ষ থেকে সম্পাদনযোগ্য এবং যা প্রতিনিধিত্ব গ্রহণ করে।" এই কারণেই প্রতিনিধিত্বের ভাষ্যে বলা হয়: "আমি তোমাকে তার বিয়ে দেওয়ার জন্য উকিল নিযুক্ত করলাম" বা এই জাতীয় কিছু। এমনটি বলা হয় না যে: "আমি তোমাকে অভিভাবক হওয়ার জন্য উকিল বানালাম"। আর বাধ্য করার ক্ষমতা নেই এমন অভিভাবকের ক্ষেত্রে কনের অনুমতির আগে তার একার সম্মতিতে কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না যে প্রতিনিধিত্ব সহিহ (صحيح) হবে। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।

যদি বলা হয়: ফকিহগণ এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন যে, যদি কেউ প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করে এবং সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য কোনো শর্ত জুড়ে দেয়, তবে তা জায়েজ হবে। "মিনহাজ"(২) গ্রন্থের ভাষ্য হলো: "যদি সে তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করে এবং কাজের জন্য শর্ত আরোপ করে তবে তা বৈধ হবে।" এই ভিত্তিতে যদি বাধ্য করার ক্ষমতাসম্পন্ন অভিভাবক বলেন: "আমি তোমাকে তার বিয়ে দেওয়ার উকিল বানালাম কিন্তু তুমি তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ সম্পাদন করবে না", তবে তা সহিহ (صحيح) হবে, যদিও তাকে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে তাতে একাকী কোনো কাজ সম্পন্ন হয় না। সুতরাং অনুমতির পূর্বে বাধ্য করার ক্ষমতাহীন অভিভাবকের উকিল নিয়োগের বিষয়টিও এরই অনুরূপ।

এর উত্তর দুটি দিক থেকে হতে পারে:

প্রথমত: উল্লিখিত পদ্ধতিতে বাধ্যকারী অভিভাবকের উকিল নিয়োগ সহিহ (صحة) হওয়ার বিষয়ে সংশয় রয়েছে, এবং...

--------------------------------------------

(১) "তুহফাতুল মুহতাজ" (৫/২৯৪)।

(২) "মিনহাজুত তালিবিন" (২/১৬৫)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৫২)
الإيصاء من "شرح الروض"(1): "قال العبادي .... فإن قال له: لا تعمل إلا بأمر فلانٍ أو إلا بعلمه أو إلا بحضرته فليس له الانفراد؛ لأنّهما وصيّان". وصححه الشهاب الرملي كما في الحاشية. وعليه فلو قال في الوكالة: وكَّلتك بكذا ولا تتصرف إلا بإذن فلانٍ كانا وكيلين، وهما بمنزلة الوكيل الواحد، ويشترط في كلٍّ منهما شروط الوكيل، والمرأة لا تكون وكيلةً في عقد النكاح، ولاسيّما لنفسها، واشتراطُ إذنها توكيل لها، فهو باطل، فتبطل الوكالة من أصلها.

وفي "الروض"(2): "ولو وكَّل حلالٌ مُحرِمًا ليُوكِّل حلالاً في التزويج جاز". قال في الشرح: لأنّه سفير محض، نعم إن قال له: وكِّل عن نفسك، قال الزركشي: ينبغي أن لا يصحّ قطعًا، كما ذكروا مثله فيما إذا وكَّل الوليُّ المرأةَ لتُوكِّل عن نفسها من يزوِّجها. انتهى".

فإن قيل: إنه إن سُلّم في مسألتنا أنّها وكيلة، فإنما وكَّلها في الإذن.

قلت: هذا قريب، وعليه فهما وكيلان، هي في الإذن والرجل في العقد، فتركبت من وكالتهما وكالة صحيحة، ولكن لا يأتي مثله في غير المجبر؛ لأنّ الإذن ليس إليه حتى يوكِّلها فيه. والله أعلم.

وعلى كل حالٍ فقولهم: "فإن نجزها وشرط للتصرف شرطًا جاز" محلّه [ص 6] في شرط لا يعود على الوكالة بالبطلان.

وعلى فرض صحة توكيل المجبر مع قوله: ولا تَعقِد إلا بإذنها، فالفرق بينها وبين غير المجبر إذا وكَّل قبل إذنها، وشرطُ إذنها ما قدمناه، أنّ قول المجبر "ولا تعقد إلا بإذنها" توكيلٌ منه لها في الإذن مع توكيله للرجل في

--------------------------------------------

(1) "أسنى المطالب شرح روض الطالب" (3/ 71).

(2) المصدر السابق (3/ 133).
"শারহুর রওজ"(১) হতে অসিয়ত (الإيصاء) সংক্রান্ত আলোচনা: "আল-আব্বাদী বলেছেন... যদি সে তাকে বলে: অমুকের নির্দেশ ব্যতীত অথবা তার জ্ঞান ব্যতীত অথবা তার উপস্থিতি ব্যতীত কাজ করো না, তবে তার পক্ষে একাকী কাজ করার অধিকার নেই; কারণ তারা উভয়ই কার্যনির্বাহী (وصيان)"। শিহাব আল-রামলি হাশিয়ায় এটিকে সঠিক (صححه) বলে অভিহিত করেছেন। এর ওপর ভিত্তি করে, যদি ওকালত (الوكالة) প্রদানের সময় কেউ বলে: আমি তোমাকে অমুক কাজের জন্য উকিল (وكيل) নিযুক্ত করলাম কিন্তু তুমি অমুকের অনুমতি ব্যতীত কোনো পদক্ষেপ নেবে না, তবে তারা উভয়ই উকিল (وكيلين) হিসেবে গণ্য হবে এবং তারা একজন উকিলের (الوكيل الواحد) স্থলাভিষিক্ত হবে। তাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই উকিলের (الوكيل) শর্তাবলি পূরণ করা জরুরি। বিবাহের চুক্তিতে (عقد النكاح) কোনো নারী উকিল (وكيلة) হতে পারে না, বিশেষ করে নিজের বিবাহের ক্ষেত্রে। আর তার অনুমতির শর্ত প্রদান করা মূলত তাকে উকিল নিয়োগের (توكيل) শামিল, যা বাতিল (باطل); ফলে মূল ওকালতটিও (الوكالة) গোড়া থেকেই বাতিল (فتبطل) হয়ে যাবে।

"রওজ"(২) গ্রন্থে রয়েছে: "যদি ইহরামমুক্ত কোনো ব্যক্তি কোনো ইহরাম পরিহিত (محرم) ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করে যেন সে বিবাহের জন্য কোনো ইহরামমুক্ত ব্যক্তিকে উকিল (ليوكِّل) নিযুক্ত করে, তবে তা জায়েজ (جاز)"। 'শারহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কারণ সে নিছক একজন দূত (سفير) মাত্র। তবে হ্যাঁ, যদি সে তাকে বলে: 'তোমার নিজের পক্ষ থেকে উকিল (وكِّل) নিযুক্ত করো', তবে আল-জারকাশি বলেছেন: এটি নিশ্চিতভাবেই সঠিক (يصح) না হওয়া উচিত; যেমনটি তারা উল্লেখ করেছেন সেই মাসআলার ক্ষেত্রে যেখানে অভিভাবক কোনো নারীকে তার নিজের পক্ষ থেকে কাউকে বিবাহ দেওয়ার জন্য উকিল নিয়োগের (لتوكِّل) দায়িত্ব দেয়। (সমাপ্ত)।

যদি বলা হয়: আমাদের আলোচ্য মাসআলায় যদি তাকে উকিল (وكيلة) হিসেবে মেনেও নেওয়া হয়, তবে তাকে কেবল অনুমতির বিষয়েই উকিল (وكَّلها) করা হয়েছে।

আমি বলব: এই মতটি যুক্তিযুক্ত (قريب), আর এর ভিত্তিতে তারা উভয়ই উকিল (وكيلان); নারী অনুমতির ক্ষেত্রে আর পুরুষটি বিবাহের চুক্তির (العقد) ক্ষেত্রে। ফলে তাদের ওকালত (وكالتهما) সমন্বিত হয়ে একটি সহিহ (صحيحة) ওকালত গঠিত হয়েছে। কিন্তু জবরদস্তিকারী নয় (غير المجبر) এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে অনুরূপ মাসআলা আসবে না; কারণ অনুমতির বিষয়টি তার এখতিয়ারে নেই যে সে তাকে এ বিষয়ে উকিল (يوكِّلها) নিযুক্ত করবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

যাই হোক, তাদের বক্তব্য: "যদি সে তা কার্যকর করে এবং পদক্ষেপের জন্য কোনো শর্তারোপ করে তবে তা জায়েজ (جاز)"—এর প্রয়োগক্ষেত্র হলো [পৃষ্ঠা ৬] এমন শর্তের ক্ষেত্রে যা ওকালতকে (الوكالة) বাতিলের (البطلان) দিকে নিয়ে যায় না।

জবরদস্তিকারী অভিভাবকের উকিল নিয়োগ (توكيل) সহিহ (صحة) হওয়ার অনুমিতির ভিত্তিতে, যখন সে বলে: "তার অনুমতি ব্যতীত বিবাহ সম্পন্ন করবে না", তখন জবরদস্তিকারী অভিভাবক এবং জবরদস্তিকারী নয় এমন অভিভাবকের (যে অনুমতির পূর্বেই উকিল নিয়োগ করে এবং অনুমতির শর্ত দেয়, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি) মধ্যে পার্থক্য হলো: জবরদস্তিকারী অভিভাবকের কথা "তার অনুমতি ব্যতীত বিবাহ সম্পন্ন করবে না" এটি মূলত অনুমতির বিষয়ে তার পক্ষ থেকে নারীকে উকিল নিয়োগ (توكيل) করার নামান্তর, এর পাশাপাশি পুরুষটিকেও উকিল নিয়োগের (توكيله) সাথে...

--------------------------------------------

(১) "আসনী আল-মাতালিব শারহু রওদিত তালিব" (৩/৭১)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৩/১৩৩)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৫৩)
العقد، فتركبت من وكالتهما وكالة صحيحة. وأمّا غير المجبر فإنه لا يملك العقد ولا الإذن، فكيف يوكّل فيهما؟ وأيضًا ولاية المجبر تامة؛ لأنّه يملك التزويج حين وكّل، فصحت وكالته وإن شرط الشرط المذكور، بخلاف غير المجبر فإن ولايته ناقصة، فلم يُغتفر فيها ذلك.

والحاصل أنّ ولاية المجبر تامة لا نقصَ فيها، وإنّما النقص فيما جعله للوكيل من الحقّ، وأمّا غير المجبر فولايته ناقصة، والحقّ الذي جعله للوكيل ناقص، والله أعلم.

الشبهة الثانية:

قد يقال: إنّ عبارة "المنهاج" السابقة آنفًا تشمل مسألتنا؛ لأنّ غير المجبر إذا قال قبلَ إذنها: وكَّلتُك أن تُزوِّجها إذا أذنتْ، فقد نجز الوكالة وشرط للتصرّف إذنها، وإذنُها شرطٌ شرعي.

الجواب:

مرادهم بالشرط في عبارة "المنهاج" ونظائرها الشرط الجعلي، أعني الذي يجعله الموكِّل من عنده لا الشرط الشرعي، للعلم بأن الشرط الشرعي شرطٌ لملك الموكل لصحة المباشرة، وقد نصُّوا على أنّ الملك المذكور شرطٌ لصحة الوكالة، كما تقدّم أوّلَ هذه الرسالة في عبارة "المهذب"، وستأتي عبارات غيره إن شاء الله تعالى.

وممّا يدلُّك على أنّ مرادهم ما ذُكِر قول الشيخ في "المهذب": "وإن عقد الوكالة في الحال، وعلّق التصرف على شرطٍ بأن قال: وكَّلتك أن تُطلِّق امرأتي أو تبيع مالي بعد شهرٍ، صحَّ". "المهذب" (ج 1 ص 352)(1). فمثّلها

--------------------------------------------

(1) "المهذب" (1/ 357) ط. دار المعرفة.
চুক্তি, ফলে তাদের উভয়ের প্রতিনিধিত্ব থেকে একটি সঠিক (صحيحة) প্রতিনিধিত্ব (وكالة) গঠিত হয়েছে। পক্ষান্তরে, যে অভিভাবক বাধ্যকারী নন, তিনি বিয়ের চুক্তি বা সম্মতির মালিক নন, এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে এগুলোতে প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন? অধিকন্তু, বাধ্যকারী অভিভাবকের অভিভাবকত্ব পূর্ণাঙ্গ; কারণ তিনি যখন প্রতিনিধি নিয়োগ করেন তখন তিনি বিয়ের অধিকার রাখেন, তাই উল্লিখিত শর্তারোপ করলেও তাঁর প্রতিনিধিত্ব (وكالة) সঠিক (صحت) হয়। পক্ষান্তরে, অ-বাধ্যকারী অভিভাবকের অভিভাবকত্ব অসম্পূর্ণ, তাই সেখানে এটি মার্জনীয় নয়।

সারকথা হলো, বাধ্যকারী অভিভাবকের অভিভাবকত্ব পূর্ণাঙ্গ এবং এতে কোনো ত্রুটি নেই। ত্রুটি কেবল সেই অধিকারে যা তিনি প্রতিনিধিকে প্রদান করেছেন। আর অ-বাধ্যকারী অভিভাবকের অভিভাবকত্ব অসম্পূর্ণ, এবং প্রতিনিধিকে তিনি যে অধিকার দিয়েছেন তাও অসম্পূর্ণ। আল্লাহই ভালো জানেন।

দ্বিতীয় সংশয়:

বলা হতে পারে যে: ইতিপূর্বে উল্লিখিত 'আল-মিনহাজ' এর বক্তব্যটি আমাদের মাসআলাকে অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ অ-বাধ্যকারী অভিভাবক যদি নারীর সম্মতির পূর্বে বলেন: 'সে সম্মতি দিলে তাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য আমি তোমাকে প্রতিনিধি নিয়োগ করলাম', তবে তিনি প্রতিনিধিত্বকে (وكالة) তাৎক্ষণিক কার্যকর করলেন এবং হস্তক্ষেপের জন্য তার সম্মতির শর্ত দিলেন, আর তার সম্মতি একটি শরয়ি শর্ত (الشرط الشرعي)।

উত্তর:

'আল-মিনহাজ' ও তার সমজাতীয় বক্তব্যগুলোতে শর্ত বলতে তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষের আরোপিত শর্ত (الشرط الجعلي), অর্থাৎ যা মক্কেল নিজের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করেন, শরয়ি শর্ত (الشرط الشرعي) নয়। কারণ এটি জানা কথা যে, শরয়ি শর্ত হলো সরাসরি কার্য সম্পাদনের বৈধতার জন্য মক্কেলের মালিকানা অর্জনের শর্ত। ফকীহগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, উক্ত মালিকানা প্রতিনিধিত্বের (وكالة) সঠিক (صحة) হওয়ার জন্য শর্ত, যেমনটি এই রিসালার শুরুতে 'আল-মুহাজ্জাব' এর বক্তব্যে অতিবাহিত হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ অন্যদের বক্তব্যও সামনে আসবে।

যা উল্লিখিত উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে তা হলো 'আল-মুহাজ্জাব' গ্রন্থে শায়খের উক্তি: "যদি বর্তমানে প্রতিনিধিত্বের (وكالة) চুক্তি সম্পাদন করে এবং কোনো শর্তের ওপর হস্তক্ষেপ স্থগিত রাখে এভাবে যে, সে বলল: 'এক মাস পর আমার স্ত্রীকে তালাক দিতে বা আমার সম্পদ বিক্রি করতে তোমাকে প্রতিনিধি নিয়োগ করলাম', তবে তা সঠিক (صحَّ) হবে।" 'আল-মুহাজ্জাব' (১ম খণ্ড, ৩৫২ পৃষ্ঠা)(১)। তিনি উদাহরণ দিয়েছেন

--------------------------------------------

(১) 'আল-মুহাজ্জাব' (১/৩৫৭) তাবা: দারুল মা'রিফাহ।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৫৪)
بمثال يكون فيه الموكّل مالكًا للمحلّ، وإنّما شرط شرطًا جعليًّا، وذلك أنّه حالَ التوكيل المرأةُ امرأتُه يَملِك أن يطلِّقها، [ص 7] وكذلك المال ماله يملك بيعه حينئذٍ؛ ولذلك صحّ منه عقد الوكالة في الحال، وإنّما علَّق التصرف بشرطٍ جعلي وهو قوله: بعد شهر.

ومثَّل في "شرح الروض"(1) بقوله: "وكَّلتك ببيع عبدي، وبِعْه بعد شهر"، ومثله في "المغني"(2)، ولفظ المحلِّي(3): "نحو وكَّلتك الآن في بيع هذا العبد، ولكن لا تبِعْه حتى يجيء رأسُ الشهر". وفي "شرح المنهج"(4): "نحو وكَّلتُك الآن في بيع كذا، ولا تَبِعْه حتى يجيء رجب". وعبارة "التحفة"(5) و"النهاية"(6): "كوكَّلتك الآن ببيع هذا، ولكن لا تبِعْه إلا بعد شهر"، لكن قال في "التحفة" ما يأتي، وهي:

الشبهة الثالثة:

قال في "التحفة"(7) بعد ما مرّ: "وبذلك يُعلم أن من قال لآخر قبل رمضان: وكَّلتك في إخراج فطرتي وأخرِجْها في رمضان صحَّ؛ لأنّه نجز الوكالة، وإنّما قيّدها بما قيَّدها به الشارع، فهو كقول مُحرِم: زَوِّجْ بنتي إذا

--------------------------------------------

(1) "أسنى المطالب" (2/ 266).

(2) "مغني المحتاج" (2/ 223).

(3) "شرح المحلِّي على منهاج الطالبين" (2/ 341).

(4) "فتح الوهاب شرح منهاج الطلاب" (3/ 407).

(5) "تحفة المحتاج" (5/ 312).

(6) "نهاية المحتاج" (5/ 29).

(7) "تحفة المحتاج" (5/ 312).
এমন একটি উদাহরণের মাধ্যমে যেখানে মুওয়াক্কিল (নিয়োগকারী) বিষয়ের মালিকানা রাখেন, অথচ তিনি কেবল একটি আরোপিত শর্তারোপ করেছেন। আর তা হলো, ওকালত প্রদানের সময় সংশ্লিষ্ট নারীটি তাঁর স্ত্রী ছিলেন, যার ফলে তিনি তাঁকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন; [পৃষ্ঠা ৭] তদ্রূপ সম্পদটি তাঁর নিজস্ব হওয়াতে তিনি তৎক্ষণাৎ তা বিক্রয় করার অধিকার রাখেন; এই কারণেই বর্তমানে তাঁর পক্ষ থেকে ওকালত চুক্তিটি সঠিক (صحيح) হয়েছে, তবে তিনি কেবল কাজটিকে একটি আরোপিত শর্তের সাথে যুক্ত করেছেন, আর তা হলো তাঁর কথা: এক মাস পর।

তিনি "শারহুর রওদ"(১) গ্রন্থে এই বলে উদাহরণ দিয়েছেন: "আমি তোমাকে আমার গোলাম বিক্রয়ের জন্য উকিল বানালাম, তবে তা এক মাস পর বিক্রয় করো"। অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে "মুগনি"(২) গ্রন্থেও। আর মাহাল্লির(৩) শব্দ হলো: "যেমন—আমি তোমাকে এখন এই গোলামটি বিক্রয়ের জন্য উকিল বানালাম, তবে মাসের শুরু না হওয়া পর্যন্ত তা বিক্রয় করো না"। "শারহুল মানহাজ"(৪) গ্রন্থে রয়েছে: "যেমন—আমি তোমাকে এখন অমুক জিনিস বিক্রয়ের উকিল বানালাম, তবে রজব মাস না আসা পর্যন্ত তা বিক্রয় করো না"। "তুহফা"(৫) এবং "নিহায়া"(৬) গ্রন্থের বক্তব্য হলো: "যেমন—আমি তোমাকে এখন এটি বিক্রয়ের জন্য উকিল নিয়োগ করলাম, তবে এক মাস অতিবাহিত হওয়া ছাড়া তা বিক্রয় করো না"। তবে "তুহফা" গ্রন্থে নিম্নে বর্ণিত বিষয়টি বলা হয়েছে, আর তা হলো:

তৃতীয় সংশয়:

পূর্বোক্ত আলোচনার পর "তুহফা"(৭) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "এর মাধ্যমে এটি জানা গেল যে, রমজানের আগে যদি কেউ অন্যকে বলে: আমি তোমাকে আমার সদকাতুল ফিতর আদায়ের উকিল বানালাম এবং তুমি তা রমজান মাসে আদায় করবে, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে; কারণ তিনি ওকালতটি তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন করেছেন এবং কেবল সেটির ওপর এমন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন যা শরিয়ত প্রণেতা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এটি একজন ইহরামকারীর এই কথার মতো: আমার মেয়েকে বিয়ে দিও যখন...

--------------------------------------------

(১) "আসনা আল-মাতালেব" (২/ ২৬৬)।

(২) "মুগনি আল-মুহতাজ" (২/ ২২৩)।

(৩) "মিনহাজুত তালিবিনের ওপর শারহুল মাহাল্লি" (২/ ৩৪১)।

(৪) "ফাতহুল ওয়াহহাব শারহু মিনহাজিত তুল্লাব" (৩/ ৪০৭)।

(৫) "তুহফাতুল মুহতাজ" (৫/ ৩১২)।

(৬) "নিহায়াতুল মুহতাজ" (৫/ ২৯)।

(৭) "তুহফাতুল মুহতাজ" (৫/ ৩১২)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৫৫)
حللتُ، وقول وليٍّ: زَوِّجْ بنتي إذا طُلِّقتْ وانقضتْ عدتها".

فيقال: دلّت عبارة "التحفة" على أنّ الشرط في عبارة "المنهاج" السالفة ونظائرها أريد به ما هو أعمُّ من الشرط الجعلي والشرط الشرعي، فعلى هذا يشمل مسألتنا.

الجواب:

هذه دعوى من ابن حجر يردُّها نصوصهم على أنّه لا يصحّ التوكيل إلاّ ممّن يملك التصرف في الذي يوكَّل فيه بملكٍ أو ولاية، كما تقدّم أولَ هذه الرسالة عن "المهذب".

[ص 8] وفي "الروض"(1): "الأوّل ما يجوز فيه التوكيل، وله شروط:

الأول: الملك، فلا يصح في طلاق من سينكحها وتزويج من ستنقضي عدتها، ونحوه".

وفي "المحرر"(2): "وفي الموكَّل فيه أن يملِكه الموكِّل، فأظهر الوجهين أنّه لا يجوز أن يُوكِّل ببيع عبدٍ سيملكه، وطلاقِ زوجة سينكحها".

وفي "المنهاج" مع المحلّي(3): " (وشرط الموكَّل فيه أن يملكه الموكِّل) حين التوكيل (فلو وكّله ببيع عبدٍ سيملكه وطلاقِ من سينكحها بطل في الأصح) لأنّه لا يتمكن من مباشرة ذلك بنفسه، فكيف يستنيب فيه غيره".

--------------------------------------------

(1) "أسنى المطالب شرح روض الطالب" (2/ 260).

(2) "المحرر" (ص 195).

(3) "منهاج الطالبين" (2/ 161) و"شرح المحلّي" (2/ 338).
আমি হালাল করেছি; এবং অভিভাবকের উক্তি: "আমার কন্যাকে বিবাহ দিও যখন সে তালাকপ্রাপ্তা হবে এবং তার ইদ্দত শেষ হবে।"

বলা হয় যে: "তুহফা" এর বক্তব্য একথাই প্রমাণ করে যে, পূর্বোক্ত "মিনহাজ" এর বক্তব্য এবং এর সমজাতীয় ক্ষেত্রগুলোতে "শর্ত" বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা কৃত্রিম শর্ত ও শরয়ি শর্ত অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; সুতরাং এই ভিত্তিতে এটি আমাদের মাসআলাটিকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

উত্তর:

এটি ইবনে হাজার-এর পক্ষ থেকে একটি দাবি মাত্র, যা তাঁদের (ফকিহদের) মূল পাঠ্যসমূহ দ্বারা খণ্ডিত হয়। আর তা হলো—মালিকানা কিংবা অভিভাবকত্বের ভিত্তিতে যে বিষয়ে কোনো ব্যক্তির পদক্ষেপ গ্রহণের অধিকার রয়েছে, তা ব্যতীত প্রতিনিধি নিয়োগ বা উকালত করা বৈধ (صحيح) নয়; যেমনটি এই রিসালার প্রারম্ভে "মুহাযযাব" এর বরাতে বর্ণিত হয়েছে।

[পৃষ্ঠা ৮] এবং "রাওদ"(১) গ্রন্থে রয়েছে: "প্রথম প্রকার হলো যাতে প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ, আর এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে:

প্রথম: মালিকানা। সুতরাং যাকে ভবিষ্যতে বিবাহ করা হবে তাকে তালাক দেওয়ার জন্য কিংবা যার ইদ্দত অচিরেই শেষ হবে তাকে বিবাহ দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা বৈধ (صحيح) নয়, এবং অনুরূপ বিষয়াদি।"

এবং "মুহাররার"(২) গ্রন্থে রয়েছে: "প্রতিনিধি নিয়োগকৃত বিষয়ের ক্ষেত্রে শর্ত হলো নিয়োগকারীকে সেটির মালিক হতে হবে। সুতরাং দুটি মতের মধ্যে অধিকতর স্পষ্ট মত অনুযায়ী: ভবিষ্যতে মালিক হবে এমন দাস বিক্রয় করার জন্য কিংবা এমন স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা জায়েজ নেই যাকে সে ভবিষ্যতে বিবাহ করবে।"

এবং মহল্লির ব্যাখ্যাসহ "মিনহাজ"(৩) গ্রন্থে রয়েছে: "(প্রতিনিধি নিয়োগকৃত বিষয়ের শর্ত হলো উকালত প্রদানের সময় নিয়োগকারীর তাতে মালিকানা থাকতে হবে)। সুতরাং সে যদি ভবিষ্যতে মালিক হবে এমন দাস বিক্রয় করার কিংবা ভবিষ্যতে যাকে বিবাহ করবে তাকে তালাক দেওয়ার জন্য কাউকে প্রতিনিধি নিয়োগ করে, তবে তা অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত অনুযায়ী বাতিল (بطل) বলে গণ্য হবে। কারণ সে তো নিজেই সরাসরি উক্ত কাজ করতে সক্ষম নয়, এমতাবস্থায় সে কীভাবে অন্যকে সেখানে নিজের স্থলাভিষিক্ত করবে?"

--------------------------------------------

(১) "আসনা আল-মাতালিব শারহু রওদিত তালিব" (২/ ২৬০)।

(২) "আল-মুহাররার" (পৃষ্ঠা ১৯৫)।

(৩) "মিনহাজুত তালিবীন" (২/ ১৬১) এবং "শারহুল মহল্লি" (২/ ৩৩৮)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৫৬)
ونحوه في "المغني"(1) و"التحفة"(2) و"النهاية"(3)، وعبارة "المنهج" مع شرحه(4): " (و) شرط (في الموكَّل فيه أن يملِكه الموكِّل) حين التوكيل (فلا يصح) التوكيل (في بيع ما سيملكه وطلاق من سينكحها) لأنّه إذا لم يباشر ذلك بنفسه فكيف يستنيب غيره".

فهذه النصوص ونحوها تبيِّن ما قلناه: إنّ مرادهم بالشرط في قولهم: "فإن نجَّزها وشرط للتصرف شرطًا جاز" إنّما هو الشرط الجعلي، وتمثيلهم سلفًا وخلفًا يشهد لذلك، وقد حكى في "النهاية" كلام ابن حجر ثم قال(5): "والأقرب إلى كلامهم عدم الصحة؛ إذ كلُّ من الموكِّل والوكيل لا يملِك ذلك عن نفسه حال التوكيل".

نعم، وافق على صحة التصرف بناءً على ما فهموه في مسألة التعليق، وسيأتي بيان وهمهم فيها إن شاء الله تعالى، ويأتي هناك الكلام على مسألة: زوِّجْ بنتي إذا طلقتْ وانقضتْ عدتها، ومسألة المحرم ستأتي قريبًا.

[ص 9] هذا، ولو سلّمنا صحة الوكالة في مسألة الفطرة كما قال في "التحفة"، أو صحة الأداء على ما وافق عليه في "النهاية"، فبينها وبين توكيل الولي غير المجبر قبل إذنها فرقٌ من وجوه:

الأول: ما اشتهر بينهم أنّه يُحتاط للأبضاع ما لا يحتاط لغيرها.

--------------------------------------------

(1) "مغني المحتاج" (2/ 219).

(2) "تحفة المحتاج" (5/ 301).

(3) "نهاية المحتاج" (5/ 21).

(4) "فتح الوهاب شرح منهج الطلاب" (3/ 403).

(5) "نهاية المحتاج" (5/ 29).
অনুরূপ বিষয় রয়েছে "আল-মুগনি"(1), "আত-তুহফাহ"(2) এবং "আন-নিহায়াহ"(3)-তে। আর "আল-মানহাজ" ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থের(4) ভাষ্য হলো: "(এবং) যে বিষয়ে প্রতিনিধিত্ব (توكيل) প্রদান করা হচ্ছে, তার জন্য শর্ত (شرط) হলো: প্রতিনিধিত্ব প্রদানের সময় প্রতিনিধিত্ব দানকারী (الموكِّل) যেন তার মালিক থাকে। সুতরাং এমন বস্তু বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব (توكيل) সঠিক (صحيح) হবে না যা সে ভবিষ্যতে মালিক হবে, এবং এমন নারীকে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রেও নয় যাকে সে ভবিষ্যতে বিবাহ করবে। কারণ, সে যখন নিজে সরাসরি তা সম্পাদন করতে পারে না, তখন সে কীভাবে অন্যকে তার স্থলাভিষিক্ত বা প্রতিনিধি (نائب) হিসেবে নিযুক্ত করবে?"

এই পাঠ্যগুলো এবং এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনা আমাদের পূর্বোক্ত বক্তব্যকেই স্পষ্ট করে যে, তাদের বক্তব্য— "যদি সে তা কার্যকর করে এবং লেনদেনের জন্য কোনো শর্ত (شرط) আরোপ করে তবে তা বৈধ (جائز) হবে"—এখানে 'শর্ত' দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো কৃত্রিম বা আরোপিত শর্ত (الشرط الجعلي)। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের উদাহরণগুলো এর পক্ষেই সাক্ষ্য দেয়। "আন-নিহায়াহ" গ্রন্থে ইবনে হাজারের বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলা হয়েছে(5): "তাদের বক্তব্যের অধিকতর নিকটবর্তী হলো এর সঠিক (صحيح) না হওয়া; কেননা প্রতিনিধিত্ব (توكيل) প্রদানের সময় প্রতিনিধিত্ব দানকারী (الموكِّل) এবং প্রতিনিধি (الوكيل) উভয়ের কেউই সেই বিষয়ের ওপর নিজস্ব মালিকানা রাখে না।"

হ্যাঁ, তারা ঝুলে থাকা বা শর্তারোপের (التعليق) মাসআলায় যা বুঝেছেন, তার ভিত্তিতে লেনদেনের বৈধতার (صحة) ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। অচিরেই সেখানে তাদের ভ্রমের (وهم) বিষয়টি ইনশাআল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে আসবে। আর সেখানে এই মাসআলাটি নিয়ে আলোচনা হবে: "আমার মেয়ের ইদ্দত অতিক্রান্ত হলে এবং সে তালাকপ্রাপ্তা হলে তাকে বিবাহ দিও", এবং ইহরামকারী (المحرم) ব্যক্তির মাসআলাটিও শীঘ্রই আসবে।

[পৃষ্ঠা ৯] উপরন্তু, আমরা যদি ফিতরার মাসআলায় প্রতিনিধিত্বের (الوكالة) বৈধতা (صحة) মেনে নিই—যেমনটি "আত-তুহফাহ" গ্রন্থে বলা হয়েছে—অথবা "আন-নিহায়াহ" গ্রন্থের ঐকমত্য অনুযায়ী আদায়ের বৈধতাকে (صحة) স্বীকার করে নিই, তবুও অনুমতি প্রদানের পূর্বে 'গায়রে মুজবির' (অনিচ্ছায় বিবাহ দিতে অক্ষম) অভিভাবকের (ولي) প্রতিনিধিত্ব (توكيل) প্রদানের সাথে এর কয়েকটি দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে:

প্রথমত: তাদের মধ্যে এটি প্রসিদ্ধ যে, বৈবাহিক সম্পর্কের (বা লজ্জাস্থানের) বিষয়ে যতটা সতর্কতা (احتياط) অবলম্বন করা হয়, অন্য কোনো ক্ষেত্রে ততটা করা হয় না।

--------------------------------------------

(1) "মুগনি আল-মুহতাজ" (২/ ২১৯)।

(2) "তুহফাতুল মুহতাজ" (৫/ ৩০১)।

(3) "নিহায়াতুল মুহতাজ" (৫/ ২১)।

(4) "ফাতহুল ওয়াহহাব শারহু মানহাজিত তুল্লাব" (৩/ ৪০৩)।

(5) "নিহায়াতুল মুহতাজ" (৫/ ২৯)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৫৭)
الثاني: أنّ التوكيل في أداء الفطرة ليس فيه افتياتٌ على أحد، وتوكيل غير المجبر قبل إذنها فيه افتياتٌ عليها، وقد قال جماعة من أصحابنا: إنّها إذا أذنت له بتزويجها ولم تتعرّض لنهيه عن التوكيل ولا الإذن له به، أنّه ليس له أن يوكل، وقد مضت هذه المسألة بما لها وعليها، وبيّنا أنّ دليلها قويٌّ، وأنّ المنع هو الموافق لنصّ الإمام الشافعي رحمه الله تعالى.

الثالث: أنّ أداء الفطرة عبادة يتشوّف إليها الشارع كالعتق والوقف، فيحتمل أن يُسامح فيها ما لا يسامح في غيرها.

الرّابع: أنّ أداء الفطرة أمرٌ هيّن لا يترتب عليه أمرٌ عظيم له خطر، بخلاف التزويج.

الخامس: أنّ أداء الوكيل لفطرة الموكِّل يبعد أن يندم عليه الموكِّل، بخلاف التزويج، فيمكن أن يندم، فيحتاط للتوكيل بالتزويج بأن لا يلزم الموكّل به إلاّ إذا وكّل وهو تام الولاية، كما في الوصية لغير الوارث، حيث لم تُعتبر [ص 10] إجازة سائر الورثة في حياة المُورِث ولو عند الغرغرة، وإنّما تعتبر إذا وقعت بعد موته حيث يصير الحقُّ كله للورثة.

الشبهة الرابعة:

في "الروض"(1): "فرعٌ: لو أحرم وكيل النكاح أو موكِّله أو المرأة لم ينعزل، فلا يزوِّج قبل تحلُّله وتحلُّلِ موكِّله، ولو وكَّله مُحرِمًا أو أذنت وهي مُحرِمة صحّ، لا إن شرط العقد في الإحرام". قال في الشرح(2) بعد قوله:

--------------------------------------------

(1) "أسنى المطالب شرح روض الطالب" (3/ 133).

(2) المصدر نفسه.
দ্বিতীয়ত: ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি নিয়োগে কারো প্রতি অনধিকার চর্চা হয় না। পক্ষান্তরে, বাধ্যকারী নন এমন অভিভাবকের অনুমতি গ্রহণের পূর্বেই কাউকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা তার ওপর অনধিকার চর্চা হিসেবে গণ্য হয়। আমাদের একদল আলিম বলেছেন: যদি কোনো নারী তাকে (অভিভাবককে) বিবাহের অনুমতি প্রদান করে এবং প্রতিনিধি নিয়োগের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা বা অনুমতি কোনোটিই উল্লেখ না করে, তবে তার জন্য অন্য কাউকে প্রতিনিধি নিয়োগ করার অধিকার নেই। এই মাসআলাটি এর সপক্ষ ও বিপক্ষীয় দলীলসহ ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে এবং আমরা স্পষ্ট করেছি যে, এর স্বপক্ষে দলীল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং (প্রতিনিধি নিয়োগের) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাই ইমাম শাফিঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সুস্পষ্ট বক্তব্যের সাথে অধিক সংগতিপূর্ণ।

তৃতীয়ত: ফিতরা আদায় এমন একটি ইবাদত যার প্রতি শরীয়ত প্রণেতা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, যেমন—দাসমুক্তি এবং ওয়াকফ। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এতে এমন কিছু ছাড় দেওয়া হবে যা অন্য ক্ষেত্রে দেওয়া হয় না।

চতুর্থত: ফিতরা আদায় একটি সাধারণ বিষয় যার সাথে কোনো গুরুতর বা ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় জড়িত নয়, যা বিবাহের ক্ষেত্রে ভিন্ন।

পঞ্চমত: মক্কেলের পক্ষ থেকে প্রতিনিধির ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে মক্কেলের অনুতপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, যা বিবাহের ক্ষেত্রে ভিন্ন; কারণ সেখানে অনুতপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিবাহের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যে, মক্কেলের ওপর তা ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর হবে না যতক্ষণ না সে পূর্ণ অভিভাবকত্ব থাকা অবস্থায় প্রতিনিধি নিয়োগ করে। যেমনটি উত্তরাধিকারী নয় এমন ব্যক্তির জন্য অসিয়ত করার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেখানে [পৃষ্ঠা ১০] মূল সম্পদদাতার জীবিত থাকাকালীন এমনকি তার অন্তিম মুহূর্তেও অন্যান্য ওয়ারিসদের অনুমতির আবশ্যকতা থাকে না; বরং এটি তখনই বিবেচ্য হয় যখন তা মৃত্যুর পর কার্যকর হয়, যখন সমস্ত অধিকার ওয়ারিসদের মালিকানায় চলে যায়।

চতুর্থ সংশয়:

"রওদ" গ্রন্থে বলা হয়েছে: "শাখা মাসআলা: যদি বিবাহের প্রতিনিধি অথবা নিয়োগকর্তা অথবা সংশ্লিষ্ট নারী ইহরাম গ্রহণ করে তবে সে পদচ্যুত হবে না। সুতরাং সে নিজে ইহরামমুক্ত হওয়ার আগে এবং তার নিয়োগকর্তা ইহরামমুক্ত হওয়ার আগে বিবাহ সম্পন্ন করবে না। আর যদি সে ইহরাম অবস্থায় তাকে প্রতিনিধি নিয়োগ করে অথবা নারী ইহরাম অবস্থায় অনুমতি প্রদান করে তবে তা বৈধ (صح) হবে; তবে যদি ইহরাম অবস্থায় বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন করার শর্তারোপ করা হয় তবে তা বৈধ হবে না।" শারহ গ্রন্থে লেখকের নিম্নোক্ত বক্তব্যের পরে বলা হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) "আসনাল মাতালিব শারহু রওদিত তালিব" (৩/ ১৩৩)।

(২) একই উৎস।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৫৮)
"صح": "سواء أقال: لتزوّج بعد التحلل أم أطلق".

فيقال: كما صحّ توكيل المحرم وهو لا يملك التزويج، فليصح توكيل غير المجبر قبل الإذن.

الجواب:

بينهما فرقٌ من وجوه:

الأوّل: أنّ ولاية المحرِم تامّة، والإحرام مانع فقط، وولاية غير المجبر ناقصة، وإذنها جزء أو شرط، وقد قال الإمام الرازي(1): إنّ المناسبة لا تنخرم بوجود المانع، بل يبقى المقتضي تامًّا، وإنّما يتخلَّف الحكم لوجود المانع، فأمّا فقد الجزء والشرط فلا نزاع أنّ المقتضي لا يتمّ بدونهما.

بل قد تقدّم قُبيل الشبهة الأولى أنّ ولاية غير المجبر قبل إذنها بغاية الضعف، فارجع إليه.

الوجه الثاني: أن منع المُحرِم من العقد ليس لخللٍ في أصل النكاح والمقصودِ منه، وإنّما هو لاحترام النسك، والتوكيلُ لا يُشعِر بعدم الاحترام، بل نقول: إنّ منع المحرم من العقد ليس لمفسدةٍ ذاتية، وإنّما هو سدٌّ لذريعة الجماع في الإحرام. وأما منع غير المجبر من العقد قبل إذنها فإنّه لِما يُخشى من عقده أن يُخِلّ بمقصود النكاح من الألفة والمودَّة والرحمة بأن يزوِّجها من لا تهواه، ويَحرِمَها من تهواه؛ ولأنّ في ذلك افتياتًا عليها. وإذا كان الشارع قد نهى المجبر أن يزوِّجها حتى يستأمرها، فما بالك بغيره؟

--------------------------------------------

(1) المسألة موجودة في كتب الأصول ونصُّوا فيها على قول الإمام الرازي ومخالفتهم له في انخرام المناسبة بوجود مانع.
"শুদ্ধ (صح)": "সে এটি বলুক যে: ইহরাম খোলার পর বিয়ে করার জন্য, অথবা সে যদি শর্তহীনভাবে বলে।"

বলা হয়: যেভাবে ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তির প্রতিনিধি নিয়োগ (توكيل) করা শুদ্ধ (صح), যদিও সে নিজে বিয়ে দেওয়ার অধিকার রাখে না, তেমনিভাবে অনুমতি প্রদানের পূর্বে বাধ্যতামূলক নয় এমন অভিভাবকের (غير المجبر) প্রতিনিধি নিয়োগও শুদ্ধ (صح) হওয়া উচিত।

উত্তর:

উভয়টির মাঝে বেশ কিছু দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে:

প্রথমত: ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তির অভিভাবকত্ব (ولاية) পূর্ণাঙ্গ, আর ইহরাম কেবল একটি প্রতিবন্ধক (مانع) মাত্র। পক্ষান্তরে, বাধ্যতামূলক নয় এমন অভিভাবকের অভিভাবকত্ব (ولاية) অসম্পূর্ণ, এবং ওই নারীর অনুমতি হচ্ছে এর একটি অংশ (جزء) অথবা শর্ত (شرط)। ইমাম রাজি(১) বলেছেন: প্রতিবন্ধক (مانع) বিদ্যমান থাকার কারণে সামঞ্জস্য (مناسبة) নষ্ট হয়ে যায় না, বরং কার্যকর করার দাবিদার উপাদানটি (مقتضي) পূর্ণাঙ্গ অবস্থাতেই অবশিষ্ট থাকে; কেবল প্রতিবন্ধক (مانع) থাকার কারণে বিধান (حكم) কার্যকর হয় না। তবে অংশ (جزء) বা শর্তের (شرط) অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে কোনো দ্বিমত নেই যে, এ দুটি ব্যতীত কার্যকর করার দাবিদার উপাদান (مقتضي) পূর্ণতা পায় না।

বরং প্রথম সন্দেহের কিছুকাল পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনুমতি প্রদানের পূর্বে বাধ্যতামূলক নয় এমন অভিভাবকের অভিভাবকত্ব (ولاية) অত্যন্ত দুর্বল; সুতরাং সেদিকে ফিরে দেখুন।

দ্বিতীয় দিক: ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে চুক্তি থেকে বিরত রাখার কারণ বিয়ের মূল ভিত্তি বা তার উদ্দেশ্যের কোনো ত্রুটি নয়, বরং এটি ইবাদতের (نسك) সম্মানের খাতিরে। আর প্রতিনিধি নিয়োগ (توكيل) করা সেই অসম্মানের জানান দেয় না। বরং আমরা বলি: ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে চুক্তি থেকে বিরত রাখা কোনো স্বকীয় অপকার বা অনিষ্টের (مفسدة ذاتية) কারণে নয়, বরং এটি ইহরাম অবস্থায় যৌনমিলনের পথ রুদ্ধ করার (سد ذريعة) একটি মাধ্যম মাত্র। আর বাধ্যতামূলক নয় এমন অভিভাবককে অনুমতি প্রদানের পূর্বে চুক্তি করা থেকে বিরত রাখার কারণ হলো এই আশঙ্কা যে, তার কৃত চুক্তি বিয়ের উদ্দেশ্য—তথা হৃদ্যতা, ভালোবাসা ও দয়া—নষ্ট করে দিতে পারে; কারণ সে হয়তো তাকে এমন কারো সাথে বিয়ে দিবে যাকে সে পছন্দ করে না, আর বঞ্চিত করবে তাকে যাকে সে পছন্দ করে। এছাড়া এটি তার অধিকার খর্ব করারও শামিল। আর যেখানে বিধানদাতা (الشارع) স্বয়ং বাধ্যতামূলক অভিভাবককেও (المجبر) নির্দেশ দিয়েছেন যে তাকে জিজ্ঞেস না করে যেন বিয়ে না দেয়, তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে?

--------------------------------------------

(১) বিষয়টি উসুল শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বিদ্যমান রয়েছে এবং তারা সেখানে ইমাম রাজির বক্তব্য এবং প্রতিবন্ধক (مانع) বিদ্যমান থাকার কারণে সামঞ্জস্য (مناسبة) বিঘ্নিত হওয়া বা নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে তাঁর সাথে তাদের বিরোধের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৫৯)
[ص 11] هذا مع وفور شفقة المجبر ورحمته ومعرفته، وأنّ نظره لها خيرٌ لها من نظرها لنفسها، وتوكيل غير المجبر قبل إذنها لا يخلو من افتيات عليها، كما مرّ في الوجه الثاني من وجوه الفرق بين مسألتنا ومسألة الفطرة، فارجع إليه.

الوجه الثالث: أنّ انقضاء الإحرام كالمقطوع بحصوله قريبًا، وإذنها ليس كذلك.

الوجه الرابع: أنّ كون الإحرام مانعًا من العقد فيه خلافٌ بين الأمة، وإذن غير المجبرة لا بدّ منه إجماعًا.

الوجه الخامس: سيأتي عن ابن حجر في مسألة التعليق ما معناه: أنّه لو أشار المجبر أو المأذون له بالتزويج إلى بنته المعتدّة، وقال: وكَّلتك بتزويج هذه، كان هذا لغوًا، لا يصحّ التوكيل ولا العقد ولو بعد العدّة، وزعم أنّه لو قال: وكَّلتك بتزويجها بعد انقضاء عدتها فسد التوكيل، وصحّ العقد إن وقع بعد انقضاء العدة. مع قوله كغيره في مسألة المحرم(1): "لو قال: وكلتك بالتزويج، ولم يقل حالَ الإحرام ولا بعده، صحّ التوكيل والعقد إذا وقع بعد الإحرام". فهذا يدلُّك على أنّ مانعية الإحرام ضعيفة، كما قدّمناه، والله أعلم.

تنبيه: بعض هذه الفروق يأتي مثله بين مسألة المحرم ومسألة الفطرة، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) انظر "تحفة المحتاج" مع حواشيه (7/ 257) و"حاشية القليوبي على شرح المحلّي" (2/ 337).
[পৃষ্ঠা ১১] এটি বাধ্যতামূলক অভিভাবকের (مجبر) অগাধ মমতা, করুণা ও প্রজ্ঞার উপস্থিতিতে এবং তার (কন্যার প্রতি) বিবেচনা তার নিজের জন্য নিজের বিবেচনার চেয়েও কল্যাণকর হওয়া সত্ত্বেও; আর বাধ্যতামূলক নয় এমন অভিভাবকের ক্ষেত্রে (কন্যার) অনুমতি ব্যতিরেকে প্রতিনিধি নিয়োগ করা তাকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত (افتيات) করার শামিল, যেমনটি আমাদের আলোচিত মাসআলা ও ফিতরার (فطرة) মাসআলার মধ্যকার পার্থক্যের দ্বিতীয় দিকটিতে অতিক্রান্ত হয়েছে, সুতরাং সেদিকে ফিরে দেখুন।

তৃতীয় দিক: ইহরামের (إحরাম) সমাপ্তি অচিরেই ঘটবে বলে সুনিশ্চিত, কিন্তু তার অনুমতির বিষয়টি তেমন নয়।

চতুর্থ দিক: বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে ইহরাম (إحরাম) কোনো প্রতিবন্ধক (مانعًا) হওয়া নিয়ে উম্মাহর মাঝে মতভেদ (خلاف) রয়েছে, অথচ বাধ্যতামূলক নয় এমন মেয়ের অনুমতি গ্রহণ করা সর্বসম্মত ঐকমত্যের (إجماعًا) ভিত্তিতে অপরিহার্য।

পঞ্চম দিক: ইবনে হাজার হতে স্থগিতকরণের (تعليق) মাসআলায় অচিরেই এমন বক্তব্য আসবে যার মর্মার্থ হলো: যদি বাধ্যতামূলক অভিভাবক (مجبر) অথবা বিবাহের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার ইদ্দত পালনরতা (معتدّة) কন্যার দিকে ইঙ্গিত করে বলে: "আমি তোমাকে এই কন্যাকে বিবাহ দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করলাম", তবে এটি অসার (لغوًا) বলে গণ্য হবে; এতে প্রতিনিধি নিয়োগ বা বিবাহ কোনোটিই শুদ্ধ হবে না, যদিও তা ইদ্দত শেষ হওয়ার পর হয়। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, যদি সে বলে: "তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তাকে বিবাহ দেওয়ার জন্য আমি তোমাকে প্রতিনিধি নিয়োগ করলাম", তবে প্রতিনিধি নিয়োগটি বাতিল (فسد) হয়ে যাবে, কিন্তু ইদ্দত শেষ হওয়ার পর সংঘটিত হলে বিবাহ শুদ্ধ হবে। অথচ ইহরামকারী (محرم)(১) ব্যক্তির মাসআলায় অন্যদের ন্যায় তারও বক্তব্য হলো: "যদি সে বলে: আমি তোমাকে বিবাহের প্রতিনিধি বানালাম, এবং ইহরাম অবস্থা বা পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ না করে, তবে প্রতিনিধি নিয়োগ ও বিবাহ উভয়ই শুদ্ধ হবে যদি তা ইহরাম শেষ হওয়ার পর সম্পন্ন হয়।" এটি আপনাকে নির্দেশ করে যে, ইহরামের (إحরাম) প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার বিষয়টি দুর্বল (ضعيفة), যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

সতর্কবার্তা: এই পার্থক্যগুলোর কোনো কোনোটি ইহরামকারী (محرم) ব্যক্তির মাসআলা এবং ফিতরার (فطرة) মাসআলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) তুহফাতুল মুহতাজ ও এর টীকাগ্রন্থসমূহ (৭/ ২৫৭) এবং আল-মাহাল্লীর ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর হাশিয়াতুল কলয়ূবী (২/ ৩৩৭) দেখুন।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৬০)
[ص 12] الشبهة الخامسة:

أن يقال: النصوص المتقدمة إنّما تفيد بطلان الوكالة، وذلك لا يستلزم بطلان عقد الوكيل، وقد قال الشيخ في "المهذب": "فصلٌ: ولا يجوز تعليق الوكالة على شرط مستقبل … فإن علَّقها على شرط مستقبل ووجد الشرط وتصرف الوكيل صحّ التصرف؛ لأنّ مع فساد العقد الإذن قائم، فيكون تصرفه بإذن، فصحّ … وإن عقد الوكالة في الحال، وعلّق التصرف على شرطٍ بأن قال: وكَّلتك أن تطلّق امرأتي أو تبيع مالي بعد شهرٍ، صحّ؛ لأنّه لم يعلِّق العقد على شرط، وإنّما علّق التصرف على شرطٍ، فلم يمنع صحة العقد". "المهذب" (ج 1 ص 352)(1).

وعبارة "المحرر"(2): "ولا يجوز تعليق الوكالة بالشروط على أظهر الوجهين، ويجوز أن ينجزها ويشترط للتصرف شرطًا".

وفي "المنهاج"(3): "ولا يصح تعليقها بشرطٍ في الأصح".

وفي "الروض" مع شرحه: " (ولو علّقها بشرطٍ) كقوله: إذا قدم زيدٌ أو جاء رأس الشهر فقد وكَّلتك بكذا، أو فأنت وكيلي فيه (بطلت) للشرط. (ونفذ تصرف صادف الإذن) فينفذ تصرفه في ذلك عند وجود الشرط إلا أن يكون الإذن فاسدًا … وشمِلَ كلامهم النكاحَ، فينفذ بعد وجود [ص 13] الشرط في نحو: إذا انقضت عدة بنتي فقد وكَّلتك بتزويجها، بخلاف نحو: وكَّلتك بتزويجها ثم انقضت عدتها". "شرح الروض" (ج 2 ص 266).

--------------------------------------------

(1) (1/ 357) ط. دار المعرفة.

(2) "المحرر" (ص 196).

(3) "منهاج الطالبين" (2/ 165).
[পৃষ্ঠা ১২] পঞ্চম সংশয়:

এটি বলা যেতে পারে যে: পূর্বোক্ত পাঠসমূহ কেবল ওকালত (প্রতিনিধিত্ব) বাতিল হওয়াকেই নির্দেশ করে, তবে তা প্রতিনিধির সম্পাদিত চুক্তির অসারতাকে অপরিহার্য করে না। শায়খ "আল-মুহাজ্জাব" গ্রন্থে বলেছেন: "পরিচ্ছেদ: ভবিষ্যতের কোনো শর্তের ওপর ওকালতকে ঝুলিয়ে রাখা জায়েজ নয় … যদি কেউ একে ভবিষ্যতের কোনো শর্তের ওপর ঝুলিয়ে রাখে এবং শর্তটি পাওয়া যায় ও প্রতিনিধি কোনো কাজ সম্পাদন করে, তবে সেই কাজ সঠিক (صحيح) হবে; কারণ চুক্তির অসারতা সত্ত্বেও অনুমতি বহাল থাকে, ফলে তার কাজ অনুমতির মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে, তাই তা সঠিক (صحيح) … আর যদি সে বর্তমানেই ওকালতের চুক্তি সম্পন্ন করে এবং কাজটিকে শর্তের সাথে যুক্ত করে এভাবে বলে: ‘আমি তোমাকে আমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য অথবা এক মাস পর আমার সম্পদ বিক্রি করার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করলাম’, তবে তা সঠিক (صحيح) হবে; কারণ সে চুক্তিটিকে শর্তের সাথে ঝুলিয়ে রাখেনি, বরং কেবল কাজটিকে শর্তের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে, যা চুক্তির সঠিক (صحيح) হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় নয়।" "আল-মুহাজ্জাব" (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৫২)(১)।

"আল-মুহাররার"-এর ভাষ্য হলো(২): "দুটি মতের মধ্যে অধিক স্পষ্ট (الأظهر) মতানুসারে শর্তের মাধ্যমে ওকালতকে ঝুলিয়ে রাখা জায়েজ নয়, তবে ওকালত তাৎক্ষণিক সম্পন্ন করে কাজ সম্পাদনের জন্য কোনো শর্তারোপ করা জায়েজ।"

এবং "আল-মিনহাজ" গ্রন্থে আছে(৩): "অধিক সঠিক (الأصح) মতানুসারে শর্তের সাথে ওকালতকে ঝুলিয়ে রাখা সঠিক (صحيح) নয়।"

এবং ব্যাখ্যাসহ "আর-রাওদ" গ্রন্থে আছে: "(যদি ওকালতকে কোনো শর্তের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়) যেমন তার কথা: ‘যখন জায়েদ আসবে অথবা মাসের শুরু হবে তখন আমি তোমাকে অমুক বিষয়ে প্রতিনিধি বানালাম’, অথবা ‘তুমি এতে আমার প্রতিনিধি’, তবে শর্তের কারণে তা বাতিল (بطلت) হবে। (এবং অনুমতির অনুকূলে হওয়া কাজ কার্যকর হবে) ফলে শর্ত পাওয়া যাওয়ার সময় তার কাজ কার্যকর হবে, যদি না অনুমতিটি অসার (فاسد) হয় … আর তাদের এই বক্তব্য নিকাহকেও (বিবাহ) অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে [পৃষ্ঠা ১৩] শর্ত পাওয়ার পর তা কার্যকর হবে; যেমন: ‘যখন আমার মেয়ের ইদ্দত শেষ হবে তখন আমি তোমাকে তার বিয়ের প্রতিনিধি নিযুক্ত করলাম’। এর বিপরীত হলো: ‘আমি তোমাকে তার বিয়ের প্রতিনিধি বানালাম’, এরপর তার ইদ্দত শেষ হলো।" "শারহুর রাওদ" (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬৬)।

--------------------------------------------

(১) (১/ ৩৫৭) প্রকাশনী: দারুল মা'রিফাহ।

(২) "আল-মুহাররার" (পৃষ্ঠা ১৯৬)।

(৩) "মিনহাজুত তালিবিন" (২/ ১৬৫)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৬১)
وهذه الشبهة باطلة لوجوه:

الأول: أنّ صحة التصرف مع بطلان الوكالة خاصٌّ بما إذا كان الإذن صحيحًا كما مرّ في عبارة "شرح الروض"، وذلك خاص بالوكالة التي لا يكون فيها نقصٌ ما إلا التعليق، كقوله: إذا جاء رأس الشهر فقد وكلتك أن تبيع عبدي هذا. وسيأتي تحقيق ذلك في جواب الشبهة السادسة إن شاء الله تعالى.

الوجه الثاني: أنّ الفرق بين الوكالة الصحيحة والوكالة الفاسدة التي يصح معها التصرف لم يذكروا له ثمرةً إلا أنّه إذا سمّى للوكيل جُعلاً يبطُل المسمَّى وتثبت أجرة المثل. وهذه الفائدة إن اعتني بمراعاتها ففي باب الوكالة، فأمّا باب النكاح فإنّما يعتني بذكر الوكالة التي لها مساس بصحته، فإذا قالوا في باب النكاح: لا تصح الوكالة بكذا، لم يجز حمل كلامهم إلا على أنّ النكاح لا يصح بها.

ونصُّ الإمام الشافعي الذي قدّمناه إنّما ذكره في النكاح، [ص 14] وكذلك النصوص التي ذكرناها بعده من "المحرر" و"المنهاج" و"الروض"، فأمّا "المهذّب" فإنّ نصّه المتقدم عقب نص الشافعي هو في الوكالة، ولكن فيه دلالة أخرى تمنع احتماله لهذه الشبهة كما سيأتي.

الوجه الثالث: ولهذا المعنى الذي ذكرناه في الوجه الثاني فسّر ابن حجر والرملي في شرحيهما على "المنهاج" الضمير المستتر في "يصح" بالنكاح، ولفظهما مع "المنهاج"(1): " .... (لم يصح) النكاح (على الصحيح) ".

--------------------------------------------

(1) "تحفة المحتاج" (7/ 264) و"نهاية المحتاج" (6/ 244).
এই সংশয়টি কয়েকটি কারণে বাতিল (باطل):

প্রথমত: ওকালত (وكالة) বাতিল (باطل) হওয়া সত্ত্বেও লেনদেন বা কার্যক্রম সহীহ (صحيح) হওয়াটি কেবল সেই সময়ের জন্য নির্দিষ্ট যখন অনুমতি প্রদান সহীহ (صحيح) থাকে, যেমনটি "শারহুর রওদ"-এর ইবারতে বর্ণিত হয়েছে। আর এটি সেই ওকালতের (وكالة) ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যাতে শর্তারোপ (تعليق) ব্যতীত অন্য কোনো ঘাটতি নেই। যেমন তাঁর বক্তব্য: "যখন মাসের শুরু আসবে তখন আমি তোমাকে আমার এই গোলামটি বিক্রয় করার ওকালত (وكالة) দিলাম।" ইনশাআল্লাহ ষষ্ঠ সংশয়ের জবাবে এর বিশ্লেষণ সামনে আসবে।

দ্বিতীয় কারণ: সহীহ (صحيح) ওকালত এবং ফাসিদ (فاسد) ওকালত—যার মাধ্যমে কার্যক্রম সহীহ (صحيح) হয়—এই দুইয়ের পার্থক্যের কোনো ফলাফল ফকিহগণ উল্লেখ করেননি, তবে কেবল এটি যে, যখন উকিলের জন্য কোনো বিনিময় নির্ধারণ করা হয় তখন নির্ধারিত বিনিময়টি বাতিল হয়ে যায় এবং সমমূল্যের পারিশ্রমিক (أجرة المثل) সাব্যস্ত হয়। এই উপকারিতাটি যদি লক্ষ্য করা হয় তবে তা ওকালত অধ্যায়ে; পক্ষান্তরে বিবাহ অধ্যায়ে কেবল সেই ওকালতের (وكالة) আলোচনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয় যার সাথে বিবাহের বিশুদ্ধতার (صحة) সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং যখন বিবাহ অধ্যায়ে তারা বলেন: "অমুকভাবে ওকালত (وكالة) সহীহ (صحيح) নয়," তখন তাদের বক্তব্যকে কেবল এটিই মনে করতে হবে যে, এর মাধ্যমে বিবাহ সহীহ (صحيح) হবে না।

ইমাম শাফেঈর যে বক্তব্য (نص) আমরা পূর্বে পেশ করেছি তা তিনি বিবাহের ক্ষেত্রেই উল্লেখ করেছেন, [পৃষ্ঠা ১৪] এবং অনুরূপভাবে "আল-মুহাররার", "আল-মিনহাজ" ও "আর-রওদ" থেকে পরবর্তীতে যে সকল বক্তব্য (نصوص) আমরা উল্লেখ করেছি সেগুলোও। তবে "আল-মুহাজ্জাব"-এ ইমাম শাফেঈর বক্তব্যের পরপরই যে বক্তব্য (نص) রয়েছে তা ওকালত (وكالة) সংক্রান্ত, কিন্তু তাতে ভিন্ন একটি নির্দেশনা (دلالة) রয়েছে যা এই সংশয়ের সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়, যেমনটি সামনে আসবে।

তৃতীয় কারণ: দ্বিতীয় কারণে আমরা যা উল্লেখ করেছি সেই অর্থেই ইবনে হাজার ও রমলি "আল-মিনহাজ"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে "সহীহ হওয়া" (يصح) ক্রিয়ার অন্তর্গত উহ্য সর্বনামটিকে বিবাহ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। "আল-মিনহাজ"-এর সাথে তাদের বক্তব্য হলো(১): ".... (সহীহ হবে না (لم يصح)) বিবাহ (সঠিক (الصحيح) মতানুসারে) "।

--------------------------------------------

(১) "তুহফাতুল মুহতাজ" (৭/ ২৬৪) এবং "নিহায়াতুল মুহতাজ" (৬/ ২৪৪)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৬২)
فأمّا المحلي(1) والخطيب(2) فإنهما ذكرا التوكيل بدل النكاح، وكأنهما وثقا بأنّ المسألة حيث كانت في باب النكاح فلا بدّ أن يُفهم من بطلان التوكيل بطلان النكاح، ولكن صنيع "التحفة" و"النهاية" أجود.

الوجه الرابع: أنّ من ذكر هذه المسألة في الوكالة ذكرها مع الأشياء التي تبطل معها الوكالة أصلاً، أي: بحيث إذا تصرف الوكيل كان تصرّفه باطلاً، كما تراه في عبارة "المهذب" المتقدمة عقب نصّ الشافعي رحمه الله تعالى، فإنه ذكرها مع الصبيّ والمجنون والمحجور عليه في المال والمرأة في عقد النكاح، والوكيل والعبد المأذون إذا لم يؤذن لهما بالتوكيل، [ص 15] وهؤلاء كلهم لا تصح وكالتهم، ولا ينعقد تصرف الوكيل.

الوجه الخامس: أنّ الشيخ ذكر أنّ من قال ببطلان توكيل الولي غير المجبر المأذون له بالزواج دون التوكيل، من حجته القياس على الوكيل والعبد المأذون له، ومعلوم أنّ توكيل هذين بدون إذن باطلٌ، ولا ينعقد تصرف من وكّلاه، فكذا يقال في المسألتين المقيسة عليهما كما مرّ، وأولى منها مسألتنا.

الشبهة السادسة:

أن يقال: قال في "التحفة" بعد قول "المنهاج"(3): "فلو وكّله ببيع عبدٍ سيملكه وطلاق من سينكحها بطل في الأصح" ما لفظه(4): " … وكذا لو

--------------------------------------------

(1) "شرح المحلِّي" (3/ 229).

(2) "مغني المحتاج" (3/ 158).

(3) "منهاج الطالبين" (2/ 161).

(4) "تحفة المحتاج" (5/ 301 - 302).
পক্ষান্তরে আল-মাহাল্লি(১) এবং আল-খাতিব(২) বিবাহের পরিবর্তে প্রতিনিধিত্ব প্রদানের (التوكيل) কথা উল্লেখ করেছেন। মনে হচ্ছে তারা এ বিষয়ে সুনিশ্চিত ছিলেন যে, যেহেতু বিষয়টি বিবাহের অধ্যায়ের অন্তর্গত, তাই প্রতিনিধিত্ব প্রদান বাতিল (بطلان) হওয়া থেকে বিবাহ বাতিল (بطلان) হওয়া অবধারিতভাবে বোঝা যাবে। তবে "তুহফাহ" এবং "নিহায়াহ" এর বর্ণনাভঙ্গি অধিকতর উত্তম।

চতুর্থ দিক: যারা ওকালত (প্রতিনিধিত্ব) অধ্যায়ে এই মাসআলাটি উল্লেখ করেছেন, তারা এটিকে এমন সব বিষয়ের সাথে উল্লেখ করেছেন যার ফলে ওকালত মূলত বাতিল (تبطل) হয়ে যায়। অর্থাৎ, এমনভাবে যে যদি প্রতিনিধি (الوكيل) কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তবে তার সেই পদক্ষেপ বাতিল (باطلاً) বলে গণ্য হবে। যেমনটি আপনি ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্যের অব্যবহিত পরে উল্লিখিত "আল-মুহাজ্জাব"-এর ইবারতে দেখতে পান। কেননা তিনি এটিকে শিশু, পাগল, সম্পদ ব্যয়ে সীমাবদ্ধ (المحجور عليه) ব্যক্তি, বিবাহের চুক্তিতে নারী, এবং প্রতিনিধি (الوكيل) ও অনুমতিপ্রাপ্ত দাসের (العبد المأذون) সাথে উল্লেখ করেছেন—যখন তাদের অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগের (بالتوكيل) অনুমতি দেওয়া না হয়। [পৃষ্ঠা ১৫] এদের সকলের প্রতিনিধিত্ব প্রদান সঠিক (لا تصح) হয় না এবং প্রতিনিধির (الوكيل) পদক্ষেপ কার্যকর (لا ينعقد) হয় না।

পঞ্চম দিক: শায়খ উল্লেখ করেছেন যে, যিনি বিবাহের অনুমতিপ্রাপ্ত কিন্তু অন্যকে প্রতিনিধি নিয়োগের অনুমতিহীন গায়রে মুজবির (غير المجبر) অভিভাবকের প্রতিনিধিত্ব প্রদান বাতিল (بطلان) হওয়ার প্রবক্তা, তার দলিলের ভিত্তি হলো প্রতিনিধি (الوكيل) এবং অনুমতিপ্রাপ্ত দাসের (العبد المأذون له) ওপর কিয়াস (القياس) করা। এটা সুবিদিত যে, অনুমতি ব্যতীত এই দুই ব্যক্তির প্রতিনিধিত্ব প্রদান বাতিল (باطلٌ) এবং তাদের নিযুক্ত প্রতিনিধির কোনো পদক্ষেপ কার্যকর (لا ينعقد) হয় না। সুতরাং এই দুটির ওপর কিয়াসকৃত (المقيسة عليهما) মাসআলা দুটির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং আমাদের মাসআলাটি এ ক্ষেত্রে আরও বেশি অগ্রগণ্য।

ষষ্ঠ সংশয়:

বলা যেতে পারে যে, "তুহফাহ" গ্রন্থে "মিনহাজ"(৩)-এর বক্তব্যের পর বলা হয়েছে: "যদি কেউ তাকে (প্রতিনিধিকে) এমন দাস বিক্রয়ের জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করে যা সে ভবিষ্যতে মালিক হবে, কিংবা এমন নারীকে তালাক দেওয়ার জন্য যাকে সে ভবিষ্যতে বিবাহ করবে, তবে বিশুদ্ধতম (الأصح) মত অনুযায়ী তা বাতিল (بطل) হবে।" তার মূল ভাষ্য(৪) হলো: " ... এবং তদ্রূপ যদি

--------------------------------------------

(১) "শারহুল মাহাল্লি" (৩/ ২২৯)।

(২) "মুগনী আল-মুহতাজ" (৩/ ১৫৮)।

(৩) "মিনহাজুত তালিবীন" (২/ ১৬১)।

(৪) "তুহফাতুল মুহতাজ" (৫/ ৩০১ - ৩০২)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৬৩)
وكّل من يزوِّج موليته إذا انقضت عدتها أو طلقت، على ما قالاه هنا، واعتمده الإسنوي، لكن رجّح في "الروضة" في النكاح الصحة".

ونحوه في "النهاية"(1)، قال علي شبراملسي في حواشيه(2): "قوله: (على ما قالاه) ضعيفٌ".

فيقال: إنّ هذه المرأة تكون غير مجبرة؛ لأنّها قد تزوجت، ومع ذلك لم يذكر اشتراط أن تكون قد أذنت، فهو شاملٌ لمسألتنا.

[ص 16] الجواب:

أولاً: هذا الوجه الذي رجحه في النكاح من "الروضة" قد جزم بخلافه هو، وأصله في الوكالة منها كما علمت، وقد اعتمد الإسنوي عدم الصحة، وكذا الخطيب في "المغني"(3)، والرملي في "النهاية"(4)، ووالده في فتاواه كما في "النهاية"(5)، وأمّا ابن حجر فميله إلى الصحة بشرط أن يكون في الصيغة تعليق ولو ضمنًا، كما سيأتي نقله في جواب الشبهة التاسعة.

والعجبُ منه أنّه استند في ذلك إلى القياس على صورةٍ ذكرها الإسنوي كما سيأتي، وخالف في ذلك نصّ الإسنوي نفسه.

ثانيًا: دعوى أنّ هذه المرأة تكون غير مجبرة؛ لأنها قد تزوجت خطأً

--------------------------------------------

(1) "نهاية المحتاج" (5/ 21).

(2) بهامش "النهاية" (5/ 21).

(3) "مغني المحتاج" (2/ 219).

(4) "نهاية المحتاج" (5/ 21).

(5) المصدر السابق.
তিনি সেই ব্যক্তিকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন যে তার অভিভাবকত্বে থাকা নারীকে বিয়ে দেবে যখন তার ইদ্দতকাল শেষ হবে কিংবা সে তালাকপ্রাপ্ত হবে—যেমনটি তাঁরা এখানে বলেছেন এবং আল-ইসনাভি একে নির্ভরযোগ্য গণ্য করেছেন; তবে তিনি 'রওজাহ' গ্রন্থের নিকাহ অধ্যায়ে এর বৈধতাকে (الصحة) প্রাধান্য দিয়েছেন।

অনুরূপ কথা 'নিহায়া' গ্রন্থেও রয়েছে(১), আলি শুবরামুলাসি তাঁর হাশিয়াগুলোতে(২) বলেছেন: "তাঁর বক্তব্য: (যেমনটি তাঁরা উভয়ে বলেছেন) তা দুর্বল (ضعيف)"।

সুতরাং বলা হয়: এই নারী জবরদস্তির অযোগ্য (غير مجبرة) হবে; কারণ সে ইতোপূর্বে বিবাহিত হয়েছে, তথাপি তিনি তার অনুমতির শর্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেননি, ফলে এটি আমাদের মাসআলাটিকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

[পৃষ্ঠা ১৬] উত্তর:

প্রথমত: 'রওজাহ' গ্রন্থের নিকাহ অধ্যায়ে যে অভিমতটিকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন, তিনি নিজেই এর বিপরীত বিষয়ের ওপর অটল ছিলেন; আর এর ভিত্তি উক্ত গ্রন্থের ওকালাহ (প্রতিনিধিত্ব) অধ্যায়ে বিদ্যমান যেমনটি আপনি জেনেছেন। আল-ইসনাভি এর অবৈধতাকে (عدم الصحة) গ্রহণ করেছেন, এবং তেমনিভাবে খতিব 'মুগনি' গ্রন্থে(৩), আর-রামলি 'নিহায়া' গ্রন্থে(৪) এবং তাঁর পিতা তাঁর ফাতাওয়াগুলোতে যেমনটি 'নিহায়া' গ্রন্থে রয়েছে(৫); আর ইবনে হাজার-এর ঝোঁক হলো বৈধতার (الصحة) দিকে, তবে শর্ত হলো শব্দবিন্যাসে স্থগিতকরণ (تعليق) থাকতে হবে যদিও তা পরোক্ষভাবে হয়, যেমনটি নবম সংশয়ের উত্তরে পরবর্তীতে বর্ণিত হবে।

আর তাঁর ব্যাপারে আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, তিনি এ ক্ষেত্রে আল-ইসনাভি কর্তৃক বর্ণিত একটি অবস্থার ওপর কিয়াস বা অনুমানের (القياس) ওপর নির্ভর করেছেন যেমনটি সামনে আসবে, অথচ তিনি খোদ আল-ইসনাভির স্পষ্ট বক্তব্যের (نصّ) বিরোধিতা করেছেন।

দ্বিতীয়ত: এই দাবি যে এই নারী জবরদস্তির অযোগ্য (غير مجبرة) হবে কারণ সে বিবাহিত হয়েছে, তা ভুল।

--------------------------------------------

(১) "নিহায়াতুল মুহতাজ" (৫/ ২১)।

(২) "নিহায়া"-এর পার্শ্বটীকা (৫/ ২১)।

(৩) "মুগনিল মুহতাজ" (২/ ২১৯)।

(৪) "নিহায়াতুল মুহতাজ" (৫/ ২১)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৬৪)
لاحتمال أن يكون الوليُّ أبًا أو جدًّا، وتكون بكرًا لم يدخل بها زوجها حتى طلقها، فيحلّ زواجها عقب الطلاق، أو مات عنها فعليها عدة الوفاة.

فقوله: "إذا انقضت عدتها" موجَّه إلى الثاني، وقوله: "أو طلقت" موجَّه إلى الأول.

وممّا يدلُّ على أنّ المسألة مفروضة في المجبرة أنّ الخطيب في "المغني"(1) ذكرها بلفظ: "وتزويج بنته إذا انقضت عدتها أو طلقها زوجها".

[ص 17] وفي "النهاية"(2) ما يدلّ على أنّ المسألة منقولة في النكاح من "الروضة" عن "فتاوي البغوي"، وذكر نصّ عبارة البغوي وهي: "كما لو قال الوليُّ للوكيل: زوِّج بنتي إذا فارقها زوجها أو انقضت عدتها".

وفي "التحفة"(3) في الكلام على مسألة التعليق: "أو بتزويج بنته إذا طلقت وانقضت عدتها".

وقد يُظَنّ أن الصواب "أو انقضت عدتها" كما ذكره نفسه فيما مرّ، وكما ذكره غير هـ، وأنّ الألف سقط قبل الواو من تحريف النساخ، ولكن في سياق عبارته ما يفيد أنّه بنى على العطف بالواو، وعليه فيمتنع فرض المسألة في المجبرة، ولكن يمكن فرضها في غير المجبرة إذا سبق منها الإذنُ لوليها بأن يزوِّجها، فإنّ إذنها حينئذٍ صحيحٌ عند القائل بصحة وكالة الوليّ على الوجه

--------------------------------------------

(1) "مغني المحتاج" (2/ 219).

(2) "نهاية المحتاج" (5/ 21).

(3) "تحفة المحتاج" (5/ 311).
কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে অভিভাবক (ولي) পিতা বা দাদা হতে পারেন, এবং মেয়েটি এমন এক কুমারী (بكر) হতে পারে যার স্বামী তার সাথে সহবাস করার পূর্বেই তাকে তালাক দিয়েছে, ফলে তালাকের পরপরই তার বিবাহ বৈধ হয়ে যায়; অথবা স্বামী মারা গেছে এমতাবস্থায় তার ওপর মৃত্যুর ইদ্দত (عدة الوفاة) পালন করা আবশ্যক।

সুতরাং তাঁর উক্তি: "যখন তার ইদ্দত (عدة) শেষ হবে" এটি দ্বিতীয় সুরতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, এবং তাঁর উক্তি: "অথবা তালাকপ্রাপ্তা হবে" এটি প্রথম সুরতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

বিষয়টি যে বাধ্যকৃতার (مجبرة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তার একটি প্রমাণ হলো, খতিব 'মুগনি আল-মুহতাজ' (১) গ্রন্থে এটি এভাবে উল্লেখ করেছেন: "এবং তার মেয়ের বিবাহ দেওয়া যখন তার ইদ্দত (عدة) শেষ হবে অথবা তার স্বামী তাকে তালাক দেবে।"

[পৃষ্ঠা ১৭] এবং 'নিহায়াত আল-মুহতাজ' (২) গ্রন্থে এমন কিছু রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, মাসয়ালাটি বিবাহের অধ্যায়ে 'রওদাহ' থেকে 'ফাতাওয়া আল-বাগাউয়ি'-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বাগাউয়ি-এর মূল বক্তব্য উল্লেখ করেছেন, যা হলো: "যেমন অভিভাবক (ولي) যদি প্রতিনিধিকে (وكিল) বলে: আমার মেয়ের বিয়ে দাও যখন তার স্বামী তাকে পৃথক করে দেবে অথবা তার ইদ্দত (عدة) শেষ হবে।"

এবং 'তুহফাত আল-মুহতাজ' (৩) গ্রন্থে শর্তযুক্ত করার (تعليق) মাসয়ালা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে: "অথবা তার মেয়ের বিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে যখন সে তালাকপ্রাপ্তা হবে এবং তার ইদ্দত (عدة) শেষ হবে।"

ধারণা করা হতে পারে যে সঠিক পাঠ হলো "অথবা তার ইদ্দত (عدة) শেষ হবে", যেমনটি তিনি নিজে পূর্বে উল্লেখ করেছেন এবং অন্যান্যরাও উল্লেখ করেছেন; এবং পাণ্ডুলিপি লেখকদের ভুলের কারণে 'ওয়াও' এর আগে 'আলিফ' বিলুপ্ত হয়েছে। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে যে, তিনি একে 'ওয়াও' এর মাধ্যমে সংযোজনের ওপর ভিত্তি করেছেন। এমতাবস্থায় বিষয়টি বাধ্যকৃতার (مجبرة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া অসম্ভব হয়ে যায়, তবে বাধ্যকৃতা নয় এমন নারীর (غير المجبرة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে যদি সে তার অভিভাবককে (ولي) বিবাহ দেওয়ার জন্য পূর্বেই অনুমতি (إذن) প্রদান করে থাকে। এমতাবস্থায়, অভিভাবকের প্রতিনিধিত্বের (وكالة) বৈধতা যারা প্রসিদ্ধ মত (وجه) অনুযায়ী স্বীকার করেন, তাদের মতে তার অনুমতি (إذن) সঠিক (صحيح) হবে।

--------------------------------------------

(১) 'মুগনি আল-মুহতাজ' (২/ ২১৯)।

(২) 'নিহায়াত আল-মুহতাজ' (৫/ ২১)।

(৩) 'তুহফাত আল-মুহতাজ' (৫/ ৩১১)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৬৫)
المذكور، بل وأفتى الشهاب الرملي بصحة إذنها مع إفتائه ببطلان الوكالة، كما سيأتي إن شاء الله تعالى.

وإذ قد أمكن فرض المسألة المذكورة في المجبرة أو في الإذن مع إشعار القرائن بذلك، فقد سقطت الشبهة في التمسك بها:

أولاً: تنزيهًا للأصحاب عن مخالفة نص الإمام.

ثانيًا: تقييدًا لنصّ من نصَّ على هذه المسألة ببقيّة [ص 18] نصوصهم التي قدّمنا بعضها، هذا مع أنّ المسألة في نفسها ضعيفة كما مرّ.

الشبهة السابعة:

أن يقال: سلَّمنا أنّ المسألة السابقة مفروضة في المجبرة أو الآذنة، ولكنّا نقول: إذا صحّ توكيل الأب بزواج ابنته وهي مزوّجة أو معتدّة فلْيصحَّ توكيله وهي ثيّب خلية قبل إذنها من باب أولى؛ لأنّ كونها مزوَّجة أو معتدّة أشدُّ في منع صحة تزويجها من كونها لم تأذن، بدليل أن عدم الإذن لا يكون مانعًا في المجبرة، وأمّا كونها مزوّجة أو معتدّة فإنه مانعٌ مطلقًا.

والجواب من وجهين:

الأول: أنّ المسألة المذكورة ضعيفة كما مرّ، فلا يفيد القياس عليها.

والثاني: أنّ ولاية المجبر والمأذون له تامّة، وولاية غيرهما ناقصة إلى حدٍّ كأنها معدومة كما تقدم.

فأمّا كونها مزوَّجة أو معتدَّة فإنّما ذلك مانعٌ كالإحرام، فارجع إلى جواب الشبهة الرابعة.
উল্লেখিত বিষয়, বরং শিহাব আল-রামলি তার অনুমতির বৈধতার পক্ষে ফতোয়া দিয়েছেন, যদিও তিনি ওকালত বা প্রতিনিধিত্ব বাতিলের ফতোয়া দিয়েছেন, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

যেহেতু উল্লিখিত মাসআলাটি বাধ্যবাধকতাযোগ্য (مجبرة) কন্যার ক্ষেত্রে অথবা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের উপস্থিতিতে অনুমতির ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া সম্ভব, তাই এর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করার সংশয়টি নিরসন হয়েছে:

প্রথমত: ইমামের সুস্পষ্ট বক্তব্যের (نص) বিরোধিতা থেকে অনুসারী ফকীহদের পবিত্র রাখার জন্য।

দ্বিতীয়ত: যারা এই মাসআলাটি বর্ণনা করেছেন তাদের বক্তব্যকে তাদের অবশিষ্ট [পৃষ্ঠা ১৮] বক্তব্যসমূহের (نصوص) মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার জন্য, যার কিছু অংশ আমরা পূর্বে পেশ করেছি। তবে মূল কথা হলো এই মাসআলাটি নিজেই দুর্বল (ضعيفة), যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

সপ্তম সংশয়:

বলা যেতে পারে যে: আমরা মেনে নিলাম যে পূর্বোক্ত মাসআলাটি বাধ্যবাধকতাযোগ্য (مجبرة) অথবা অনুমতি প্রদানকারিণীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু আমরা বলি: যদি কোনো পিতার জন্য তার বিবাহিত বা ইদ্দত পালনরত কন্যার বিয়ের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা সঠিক হয়, তবে তার অ-কুমারী (ثيب) ও বিবাহমুক্ত কন্যার ক্ষেত্রে তার অনুমতির পূর্বেই প্রতিনিধি নিয়োগ করা তো অধিকতর যুক্তিযুক্তভাবে সঠিক হওয়া উচিত; কারণ তার বিবাহিতা বা ইদ্দত পালনরত হওয়াটা বিয়ে সহীহ হওয়ার পথে অনুমতি না থাকার চেয়েও বড় প্রতিবন্ধক। এর প্রমাণ হলো, বাধ্যবাধকতাযোগ্য (مجبرة) কন্যার ক্ষেত্রে অনুমতির অভাব কোনো বাধা নয়, কিন্তু বিবাহিত বা ইদ্দত পালনরত হওয়াটা সর্বাবস্থায় একটি প্রতিবন্ধক।

উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: উল্লিখিত মাসআলাটি দুর্বল (ضعيفة), যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং এর ওপর কিয়াস করা ফলপ্রসূ হবে না।

দ্বিতীয়ত: বাধ্যকারী অভিভাবক এবং অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির অভিভাবকত্ব পূর্ণাঙ্গ, কিন্তু এই দুইজন ব্যতীত অন্যের অভিভাবকত্ব এতটাই ত্রুটিপূর্ণ যে তা প্রায় অস্তিত্বহীন, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

আর তার বিবাহিতা বা ইদ্দত পালনরত হওয়াটা ইহরামের মতোই একটি প্রতিবন্ধক, তাই চতুর্থ সংশয়ের উত্তরের দিকে পুনরায় দৃষ্টি দিন।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৬৬)
الشبهة الثامنة:

أن يقال: قد نقل الشيخان في "الروضة" وأصلِها صحةَ إذن المرأة لوليّها أن يزوِّجها إذا انقضت عدتها أو طلقت، وأقرَّاه، وأفتى به الشهاب [ص 19] الرملي كما ذكره ولده في "النهاية"، وإذا صحّ ذلك فلْيصحَّ توكيله الوليَّ وهي مزوّجة أو معتدّة، ثم تقاس عليه مسألتنا.

الجوابُ: يُعلَم ممّا تقدم في جواب الشبهة السابعة، ومع ذلك فبين المسألتين فرقٌ، وهو أنّ لولاية الوليّ أصلاً شرعيًّا، وإنّما يحتاج إلى الإذن تكميلاً للولاية. وأمّا الوكيل فإنّه إنّما يستفيد الحقَّ من الوكالة، فلا غروَ أن يُكتفَى في الأول بما لا يُكتفَى به في الثاني.

وفي "النهاية"(1) عن والده الشهاب الرملي ما لفظه: "والفرق بينهما أن تزويج الولي بالولاية الشرعية، وتزويج الوكيل بالولاية الجعلية، وظاهرٌ أنّ الأولى أقوى، فيُكتفى فيها بما لا يُكتفى به في الثانية، وأن باب الإذن أوسع من باب الوكالة".

وقال ابن حجر في النكاح من "التحفة"(2): "وعليه فالفرق بينها وبين وليّها أنّ إذنها جعليٌّ وإذنه شرعي، أي: استفاده من جهة جعل الشرع له ــ بعد إذنها ــ وليًّا شرعيًّا، والجعلي أقوى من الشرعي كما مرّ في الرهن".

أقول: ومع هذا فالحق ما جزم به في "التحفة" في باب الوكالة من

--------------------------------------------

(1) "نهاية المحتاج" (5/ 21).

(2) "تحفة المحتاج" (7/ 265).
অষ্টম সংশয়:

বলা হয়ে থাকে যে: ‘শাইখায়ন’ (ইমাম নববী ও রাফেয়ী) "রাওদাহ" এবং এর মূল গ্রন্থে মহিলার পক্ষ থেকে তার অভিভাবককে (ولي) বিবাহ দেওয়ার অনুমতির (إذن) বৈধতা (صحة) বর্ণনা করেছেন যখন তার ইদ্দত শেষ হয় বা সে তালাকপ্রাপ্তা হয়; এবং তাঁরা একে সমর্থন করেছেন। শিহাব আল-রামলিও এই ফতোয়া দিয়েছেন যেমনটি তাঁর পুত্র "নিহায়াহ" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। যদি এটি সঠিক (صح) হয়, তবে সে বিবাহিতা থাকা অবস্থায় বা ইদ্দত পালনকালে অভিভাবককে (ولي) প্রতিনিধি (وكيل) নিযুক্ত করাও বৈধ (صح) হওয়া উচিত, এরপর আমাদের মাসআলাটিকে এর ওপর কিয়াস করা হবে।

উত্তর: সপ্তম সংশয়ের উত্তর থেকে যা গত হয়েছে তা দ্বারা এটি জানা যায়। তা সত্ত্বেও, উভয় মাসআলার মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। আর তা হলো—অভিভাবকের অভিভাবকত্বের (ولاية) একটি শরয়ী (شرعي) ভিত্তি রয়েছে, এবং অভিভাবকত্বকে (ولاية) পূর্ণতা দেওয়ার জন্যই কেবল অনুমতির (إذن) প্রয়োজন হয়। পক্ষান্তরে প্রতিনিধি (وكيل) কেবল প্রতিনিধিত্ব (وكالة) থেকেই তার অধিকার লাভ করে। সুতরাং প্রথমটির ক্ষেত্রে যা যথেষ্ট বলে গণ্য হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট না হওয়া আশ্চর্যের কিছু নয়।

"নিহায়াহ" গ্রন্থে(১) তাঁর পিতা শিহাব আল-রামলি থেকে বর্ণিত হয়েছে, যার ভাষ্য হলো: "উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো—অভিভাবকের (ولي) বিবাহ প্রদান শরয়ী অভিভাবকত্বের (ولاية شرعية) মাধ্যমে ঘটে, আর প্রতিনিধির (وكيل) বিবাহ প্রদান অর্পিত অভিভাবকত্বের (ولاية جعلية) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আর এটি সুস্পষ্ট যে, প্রথমটি অধিক শক্তিশালী; ফলে সেখানে যা যথেষ্ট গণ্য করা হয়, দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তা করা হয় না। আর অনুমতির (إذن) ক্ষেত্র প্রতিনিধিত্বের (وكالة) ক্ষেত্রের চেয়ে অধিক প্রশস্ত।"

ইবনে হাজার "তুহফাহ" গ্রন্থের বিবাহ অধ্যায়ে(২) বলেছেন: "এর ভিত্তিতে, মহিলা এবং তার অভিভাবকের (ولي) মধ্যে পার্থক্য হলো—তার অনুমতি (إذن) অর্পিত (جعلي) এবং অভিভাবকের অনুমতি শরয়ী (شرعي)। অর্থাৎ: শরিয়ত কর্তৃক তাকে—মহিলার অনুমতির (إذن) পর—শরয়ী অভিভাবক (ولي شرعي) হিসেবে নির্ধারণ করার দিক থেকে তিনি এই অধিকার লাভ করেছেন। আর অর্পিত (جعلي) বিষয়টি শরয়ী (شرعي) বিষয়ের চেয়ে অধিক শক্তিশালী, যেমনটি বন্ধক অধ্যায়ে গত হয়েছে।"

আমি বলছি: তা সত্ত্বেও, সত্য সেটিই যা তিনি "তুহফাহ" গ্রন্থের প্রতিনিধিত্ব (وكالة) অধ্যায়ে দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন যে

--------------------------------------------

(১) "নিহায়াতুল মুহতাজ" (৫/ ২১)।

(২) "তুহফাতুল মুহতাজ" (৭/ ২৬৫)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৬৭)
بطلان إذن المزوَّجة أو المعتدَّة، وقد نصّ الله تعالى في كتابه على النهي عن التصريح بخِطْبة المعتدّة، وإن لم يكن استئذانها وإذنها أشدَّ من التصريح بالخِطْبة فما هو بدونه، فأمّا المزوَّجة فالأمر فيها أشدُّ، ومحاسنُ الشريعة تقتضي سدّ هذا الباب كما لا يخفى، والله أعلم.

الشبهة التاسعة:

قد يقال: أمّا إذا قال غير المجبر قبل إذنها: وكَّلتك أن تزوِّج أختي مثلاً، فلا شكّ في بطلان الوكالة وعدم صحة النكاح لو أنكح الوكيل، ولكن إذا علّق بإذنها كأن قال: إذا أَذِنَت أختي بالنكاح فقد وكَّلتك في تزويجها أو نحو ذلك، فإنها تفسد الوكالة، ويصح النكاح لشمول نصوصهم في تعليق الوكالة لذلك. وقد تقدّم نصُّ "المهذّب" ونصُّ "الروض" مع شرحه مع قول الشرح: "وشمِلَ كلامهم النكاحَ إلخ".

وفي "التحفة"(1) عقب قول "المنهاج"(2): "فلو وكَّله ببيع عبدٍ سيملكه وطلاقِ من سينكحها بطل في الأصح" ما لفظه: "لأنّه لا ولاية له حينئذٍ. وكذا لو وكّل من يزوِّج موليته إذا انقضت عدتها أو طلقت على ما قالاه هنا، واعتمده الإسنوي. لكن رجّح في "الروضة" في النكاح الصحةَ. وكذا لو قالت له وهي في نكاح أو عدّة: أَذِنتُ لك في تزويجي إذا حللتُ، ولو علّق ذلك ــ ولو ضمنًا، كما يأتي تحقيقه ــ على الانقضاء أو الطلاق، فَسَدت الوكالة، ونفذ التزويج للإذن".

--------------------------------------------

(1) "تحفة المحتاج" (5/ 301 - 302).

(2) "منهاج الطالبين" (2/ 161).
বিবাহিতা অথবা ইদ্দত পালনকারী (معتدة) নারীর অনুমতির অবৈধতা (بطلان); মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে ইদ্দত পালনকারী (معتدة) নারীর বিয়ের প্রস্তাব (خطبة) দেওয়ার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। আর তার কাছে অনুমতি চাওয়া বা তার অনুমতি প্রদান যদি বিয়ের প্রস্তাব (خطبة) প্রদানের চেয়ে বেশি গুরুতর না-ও হয়, তবে তা তার চেয়ে কম কিছু নয়। আর বিবাহিতা নারীর বিষয়টি তো আরও বেশি গুরুতর। শরিয়তের সৌন্দর্য ও কল্যাণকামিতা এই পথ রুদ্ধ করার দাবি রাখে, যেমনটি অস্পষ্ট নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

নবম সংশয়:

বলা হয়ে থাকে: যদি জবরদস্তিকারী নয় এমন অভিভাবক নারীর অনুমতির আগে বলে: ‘আমি তোমাকে উদাহরণস্বরূপ আমার বোনের বিয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি (وكيل) নিযুক্ত করলাম’, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই প্রতিনিধিত্ব (وكالة) বাতিল (بطلان) এবং প্রতিনিধি বিয়ে করালে সেই বিবাহ (نكاح) শুদ্ধ (صحة) হবে না। কিন্তু যদি সে বিষয়টি নারীর অনুমতির ওপর স্থগিত (تعليق) রাখে, যেমন সে বলল: ‘যদি আমার বোন বিয়েতে অনুমতি দেয়, তবে আমি তোমাকে তার বিয়ের জন্য প্রতিনিধি (وكالة) বানালাম’ বা এই জাতীয় কিছু, তবে এই প্রতিনিধিত্ব (وكالة) ফাসিদ (فساد) হয়ে যাবে, কিন্তু বিবাহ (نكاح) শুদ্ধ (صحة) হবে; কারণ প্রতিনিধিত্ব (وكالة) স্থগিত (تعليق) রাখার বিষয়ে ফকিহদের বক্তব্যসমূহ একেও শামিল করে। ইতিপূর্বে ‘আল-মুহাজ্জাব’ এবং ‘আর-রাওদ’ এর পাঠ ও তার ব্যাখ্যা এবং ব্যাখ্যাকারীর এই বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে যে: “তাদের বক্তব্য বিবাহকেও (نكاح) অন্তর্ভুক্ত করে ইত্যাদি।”

এবং ‘আত-তুহফাহ’(১) গ্রন্থে ‘আল-মিনহাজ’(২) এর এই বক্তব্যের পর—“যদি কেউ এমন কোনো গোলাম বিক্রির জন্য প্রতিনিধি (وكالة) নিয়োগ করে যা সে ভবিষ্যতে মালিক হবে, অথবা এমন কাউকে তালাক দেওয়ার জন্য যাকে সে ভবিষ্যতে বিয়ে করবে, তবে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) মত অনুযায়ী তা বাতিল (بطل) হয়ে যাবে”—সেখানে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো: “কারণ তখন তার কোনো অভিভাবকত্ব (ولاية) থাকে না। তদ্রূপ যদি কেউ এমন কাউকে প্রতিনিধি (وكالة) বানায় যে তার অভিভাবকত্বাধীন নারীকে বিয়ে দেবে যখন তার ইদ্দত (عدة) শেষ হবে বা সে তালাকপ্রাপ্ত হবে—যেমনটি তারা (ইমামদ্বয়) এখানে বলেছেন এবং আল-ইসনাবি একেই নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন। তবে ‘আর-রাওদাহ’ গ্রন্থে বিবাহের ক্ষেত্রে শুদ্ধ হওয়ার (صحة) মতটিকে অগ্রাধিকার (ترجيح) দেওয়া হয়েছে। একইভাবে যদি নারী বিবাহিত থাকা অবস্থায় বা ইদ্দত (عدة) পালনকালীন অবস্থায় তাকে বলে: ‘আমি তোমাকে আমার বিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিলাম যখন আমি হালাল হব’, আর যদি বিষয়টি—পরোক্ষভাবে হলেও, যার বিশদ বর্ণনা সামনে আসবে—ইদ্দত শেষ হওয়া বা তালাকের ওপর স্থগিত (تعليق) করা হয়, তবে প্রতিনিধিত্ব (وكالة) ফাসিদ (فساد) হয়ে যাবে, এবং অনুমতির কারণে বিয়েটি কার্যকর (نفوذ) হবে।”

--------------------------------------------

(১) “তুহফাতুল মুহতাজ” (৫/ ৩০১ - ৩০২)।

(২) “মিনহাজুত তালিবিন” (২/ ১৬১)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৬৮)
ثم قال بعد قول "المنهاج"(1): "ولا يصح تعليقها بشرطٍ في الأصح" ما لفظُه: "فلو تصرَّف بعد وجود الشرط، كأن وكَّله بطلاق زوجةٍ سينكحها [ص 21] أو بيعٍ أو عتقِ عبدٍ سيملكه أو بتزويج بنته إذا طلقت وانقضت عدتها، فطلَّق بعد أن نكح أو باع أو أعتق بعد أن ملك أو زوَّج بعد العدّة، نفذ عملاً بعموم الإذن. وتمثيلي بما ذكر هو ما ذكره الإسنوي في الأولى وقياسها ما بعدها، كما يقتضيه كلام "الجواهر" وغيرها.

وقال الجلال البلقيني: يحتمل أن يصح التصرف كالوكالة المعلقة يفسد التعليق ويصح التصرف لعموم الإذن، ولم يذكروه أي: نصًّا، وأن يبطل لعدم ملك المحل حالة اللفظ بخلاف المعلقة فإنّه مالك للمحل عندها، وعلى هذا يلزم الفرق بين الفاسدة والباطلة، وهو خلاف تصريحهم بأنّهما لا يفترقان إلا في الحج والعارية والخُلع والكتابة. انتهى.

وقضية ردّه للثاني بما ذكر اعتماده للأول، وليست المعلقة مستلزمة لملك المحل عندها، إذ الصورة الأخيرة فيها تعليق لا ملكٌ للمحل حال الوكالة، نعم الأوجه أنّه لا بدّ في هذه الصور أن يذكر ما يدلّ على التعليق كقوله: التي سأنكحها أو الذي سأملكه، بخلاف اقتصاره على: وكَّلتك في طلاق هذه أو بيع هذا أو تزويج بنتي؛ لأنّ هذا اللفظ يُعَدّ لغوًا لا يفيد شيئًا أصلاً، فليس ذلك من حيث الفرق بين الفاسد والباطل، فتأمّله. ويأتي في الجزية [ص 22] وغيرها ومرّ في الرهن الفرقُ بين الفاسد والباطل أيضًا، فحصرهم المذكور إضافيٌّ، وفائدة عدم الصحة بهما في المتن سقوط المسمّى إن كان ووجوب أجرة المثل".

--------------------------------------------

(1) "منهاج الطالبين" (2/ 165)، "تحفة المحتاج" (5/ 311).
তারপর তিনি "আল-মিনহাজ"(1)-এর এই উক্তির পর বলেন: "অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত অনুযায়ী কোনো শর্তের সাথে প্রতিনিধিত্ব (الوكالة) যুক্ত করা বৈধ নয়" - এরপর তাঁর বক্তব্য হলো: "যদি শর্তটি বিদ্যমান হওয়ার পর প্রতিনিধি কোনো কাজ সম্পাদন করে, যেমন তাকে এমন কোনো স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি (وكله) নিযুক্ত করা হলো যাকে সে ভবিষ্যতে বিবাহ করবে [পৃষ্ঠা ২১], অথবা এমন কিছু বিক্রয় বা গোলাম আজাদ করার জন্য যা সে ভবিষ্যতে মালিকানায় লাভ করবে, কিংবা তার কন্যার বিয়ের জন্য যখন সে তালাকপ্রাপ্তা হবে এবং ইদ্দত অতিবাহিত হবে; অতঃপর সে বিবাহের পর তালাক দিল, অথবা মালিক হওয়ার পর বিক্রয় বা আজাদ করল, কিংবা ইদ্দত শেষে বিবাহ দিল; তবে অনুমতির ব্যাপকতার কারণে তা কার্যকর (نفذ) হবে। আমি যে উদাহরণগুলো দিয়েছি, প্রথমটির ক্ষেত্রে তা আল-ইসনাভি উল্লেখ করেছেন এবং পরেরগুলো তার ওপর কিয়াস করা হয়েছে, যেমনটি 'আল-জাওয়াহির' ও অন্যান্য কিতাবের বক্তব্য দাবি করে।

আল-জালাল আল-বালকিনি বলেন: সম্ভাবনা (يحتمل) আছে যে, এই কাজ সম্পাদন করা সঠিক (يصح) হবে, যেমনটি শর্তযুক্ত প্রতিনিধিত্বের (الوكالة المعلقة) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে যে, শর্তারোপটি ত্রুটিপূর্ণ (يفسد) হলেও অনুমতির ব্যাপকতার কারণে মূল প্রতিনিধিত্ব বা কাজ সম্পাদন সঠিক (يصح) থাকে। ফকিহগণ এটি স্পষ্টভাবে (نصًّا) উল্লেখ করেননি। দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো এটি বাতিল (يبطل) হয়ে যাওয়া, কারণ শব্দ উচ্চারণের সময় সংশ্লিষ্ট বিষয়টি মালিকানায় ছিল না। এটি শর্তযুক্ত প্রতিনিধিত্বের বিপরীত, কারণ সেখানে শর্তারোপের সময় ব্যক্তি বিষয়টির মালিক থাকে। এই মতানুসারে, ফাসিদ (الفاسدة) এবং বাতিল (الباطلة)-এর মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, অথচ ফকিহগণের স্পষ্ট বক্তব্য হলো— হজ, ধার দেওয়া, খুলা এবং কিতাবত ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সমাপ্ত।

উল্লিখিত বিষয়ের মাধ্যমে তাঁর দ্বিতীয় মতটি প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি প্রথম মতটির ওপর তাঁর নির্ভরতাকেই প্রমাণ করে। আর শর্তযুক্ত বিষয় মাত্রই সেই মুহূর্তে মালিকানায় থাকা আবশ্যক নয়, কারণ শেষোক্ত উদাহরণটিতে প্রতিনিধিত্বের (الوكالة) সময় মালিকানা ছাড়াই শর্তারোপ করা হয়েছে। হ্যাঁ, অধিকতর গ্রহণযোগ্য (الأوجه) মত হলো, এই সকল ক্ষেত্রে এমন শব্দ উল্লেখ করা জরুরি যা শর্তযুক্ত হওয়ার (التعليق) ওপর প্রমাণ করে; যেমন তার একথা বলা: 'যাকে আমি বিবাহ করব' অথবা 'যার আমি মালিক হব'। এর বিপরীতে যদি সে শুধু একথাই বলে: 'তোমাকে এই স্ত্রীকে তালাক দিতে বা এটি বিক্রয় করতে বা আমার মেয়েকে বিবাহ দিতে প্রতিনিধি নিযুক্ত করলাম', তবে এই শব্দগুলো নিরর্থক (لغوًا) বলে গণ্য হবে এবং তা কোনো অর্থই প্রদান করবে না। সুতরাং এটি ফাসিদ (الفاسد) ও বাতিল (الباطل)-এর পার্থক্যের ক্ষেত্র থেকে নয়, বিষয়টি ভেবে দেখুন। জিজিয়া [পৃষ্ঠা ২২] ও অন্যান্য অধ্যায়ে এবং বন্ধক অধ্যায়েও ফাসিদ (الفاسد) ও বাতিল (الباطل)-এর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি আসবে। সুতরাং ফকিহগণের ওই সীমাবদ্ধকরণ আপেক্ষিক। আর মূল পাঠে এ দুটির মাধ্যমে শুদ্ধ না হওয়ার (عدم الصحة) উপকারিতা হলো— যদি কোনো বিনিময় নির্ধারিত থাকে তবে তা রহিত হওয়া এবং সমপরিমাণ পারিশ্রমিক ওয়াজিব হওয়া।"

--------------------------------------------

(1) "মিনহাজুত তালিবিন" (২/ ১৬৫), "তুহফাতুল মুহতাজ" (৫/ ৩১১)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৬৯)
الجواب:

أصل مسألة التعليق إنّما هي في التعليق بشرطٍ جعلي، أي: يجعله الموكِّل، كأن يقول: إذا قدم زيدٌ أو جاء رأس الشهر فقد وكَّلتُك في بيع عبدي هذا. يدلّك على هذا تمثيل "المهذب"(1) لتعليق التصرّف بقوله: "وكلتك أن تطلق امرأتي أو تبيع مالي بعد شهرٍ"، وقد مضى مثله عن غيره، ومسألة تعليق التصرف مرتبطة بتعليق الوكالة.

ومثّل في "شرح الروض"(2) لتعليق الوكالة بقوله: "كقوله: إذا قدم زيدٌ أو جاء رأس الشهر فقد وكلتك بكذا أو فأنت وكيلي فيه".

ومثَّلها المحلّي في "شرح المنهاج"(3) بقوله: "نحو: إذا قدم زيدٌ أو إذا جاء رأس الشهر فقد وكّلتك بكذا". وعبارة "المغني على المنهاج"(4) مثل عبارة "شرح الروض".

وأصرح من ذلك عبارةُ الجلال البلقيني التي تقدمت عن "التحفة"، فإنها صريحة أنّ المعلقة خاصة بما ذكرناه، وأنّ الصور التي مثّل بها ابن حجر ليست من المعلقة، وإن احتمل أن تقاس عليها، فارجع إلى عبارة البلقيني وتدبرها، [ص 23] فإنّي أخشى أن يكون ابن حجر نفسه لم يتدبرها، كما يدلّ عليه قوله: "وليست المعلقة مستلزمةً لملك المحل عندها، إذ الصورة الأخيرة فيها تعليق لا ملك للمحل حال الوكالة".

--------------------------------------------

(1) "المهذب" (1/ 357).

(2) "أسنى المطالب شرح روض الطالب" (2/ 266).

(3) "شرح المنهاج" (2/ 340).

(4) "مغني المحتاج" (2/ 223).
উত্তর:

শর্তারোপ (تعليق)-এর মাসআলার মূল ভিত্তি হলো মানুষের দ্বারা নির্ধারিত শর্তের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ যা মুওয়াক্কিল (প্রতিনিধিত্ব প্রদানকারী) নির্ধারণ করেন। যেমন তিনি বললেন: "যদি জায়েদ আসে অথবা মাসের শুরু হয়, তবে আমি তোমাকে আমার এই দাস বিক্রির প্রতিনিধি করলাম।" "আল-মুহাজ্জাব"(১) গ্রন্থে কার্যক্রমের শর্তারোপ (تعليق)-এর উদাহরণ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে: "আমি তোমাকে এক মাস পর আমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অথবা আমার সম্পদ বিক্রি করার প্রতিনিধি নিযুক্ত করলাম"—এই উদ্ধৃতিটি আপনাকে বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করবে। এর অনুরূপ বক্তব্য অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে। আর কার্যক্রমের শর্তারোপের বিষয়টি প্রতিনিধিত্ব (ওকালত)-এর শর্তারোপের সাথে সম্পৃক্ত।

"শারহুর রাওজ"(২) গ্রন্থে প্রতিনিধিত্বের শর্তারোপ (تعليق)-এর উদাহরণ এভাবে দেওয়া হয়েছে: "যেমন তার কথা: যদি জায়েদ আসে অথবা মাসের শুরু হয়, তবে আমি তোমাকে অমুক বিষয়ের প্রতিনিধি বানালাম অথবা তুমি এতে আমার প্রতিনিধি।"

আল-মাহাল্লি "শারহুল মিনহাজ"(৩) গ্রন্থে এর উদাহরণ দিয়ে বলেন: "যেমন: যদি জায়েদ আসে অথবা মাসের শুরু হয়, তবে আমি তোমাকে অমুক বিষয়ের প্রতিনিধি বানালাম।" আর "মুগনি আলাল মিনহাজ"(৪)-এর বক্তব্য "শারহুর রাওজ"-এর বক্তব্যের মতোই।

এর চেয়েও স্পষ্টতর হলো জালাল আল-বুলকিনির বক্তব্য যা "আত-তুহফাহ" থেকে পূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে। কেননা সেটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে যে, শর্তযুক্ত (معلقة) বিষয়টি আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সাথেই নির্দিষ্ট, এবং ইবনে হাজার যে চিত্রগুলো উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন সেগুলো শর্তযুক্ত (معلقة) বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও সেগুলোকে এর ওপর কিয়াস বা তুলনা করার সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং বুলকিনির বক্তব্যের দিকে পুনরায় দৃষ্টি দিন এবং তা নিয়ে চিন্তা করুন, [পৃষ্ঠা ২৩] কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে ইবনে হাজার নিজেও এটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেননি। যেমনটি তার এই উক্তি দ্বারা বোঝা যায়: "শর্তযুক্ত (معلقة) বিষয়টি সেই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মালিকানা থাকাকে আবশ্যক করে না, কারণ সর্বশেষ চিত্রে শর্তারোপ (تعليق) রয়েছে অথচ প্রতিনিধিত্ব প্রদানকালে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মালিকানা নেই।"

--------------------------------------------

(১) "আল-মুহাজ্জাব" (১/ ৩৫৭)।

(২) "আসনা আল-মাতালিব শারহু রাওদ আত-তালিব" (২/ ২৬৬)।

(৩) "শারহুল মিনহাজ" (২/ ৩৪০)।

(৪) "মুগনি আল-মুহতাজ" (২/ ২২৩)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৭০)
فإنّ كلام البلقيني صريحٌ في أنّ المعلقة خاصة بما علقت مع ملك الموكّل للمحل عندها، وأنّ هذه الصور التي ذكرها ابن حجر كلها ليست منها، والبلقيني إمامٌ واسع الاطلاع فلا وجه لردّ قوله بلا حجة.

وكأنّ الإسنوي لما رأى تعبير السلف بنحو: "فإن علَّقها على شرط"، سبق إلى ذهنه أنّ المراد بالشرط الشرط الشرعي، فمثّل بقوله: كأن وكّله بطلاق زوجة سينكحها. وتبعه ابن حجر وقاس على هذه الصورة غيرها كما رأيت، والله المستعان.

والمراد بملك المحل الذي عبَّر به البلقيني ملك التصرف فيه، الناشئ عن ملك العين تارةً والولاية عليه أخرى، كما في "التحفة" في شرح قول "المنهاج": "وشرط الموكَّل فيه أن يملكه الموكِّل"، فيشمل ملكه لطلاق زوجته وتزويج موليته بشرطه، والله أعلم.

فأمّا قول البلقيني: "وعلى هذا يلزم الفرق بين الفاسدة والباطلة .. إلخ".

[ص 24] فجوابه من وجوه:

الأول: ما ذكره ابن حجر أن الحصر إضافي.

الثاني: أن يقال له: لا نزاع أنّ وكالة المحجور عليه في المال يُبنى عليها صحة التصرف، وأنّ الوكالة المعلَّقة في نحو: إذا قدم زيدٌ فقد وكَّلتك بعتق عبدي هذا، يبنى عليها صحة التصرف، فإن سميت الأولى باطلة والثانية فاسدة، فقد اعترفت بالفرق ولا بدّ، وإن قلت: الأولى لغوٌ، قلنا: فلتكن الوكالة بطلاق من سينكحها ونحوها ممّا ذكر معها لغوًا، فلم يلزم الفرق.

الوجه الثالث: الوكالة يلزمها الإذن، ثم تارةً تبطل هي ويبطل الإذن،
নিশ্চয়ই বুলকিনি-র বক্তব্য এক্ষেত্রে স্পষ্ট যে, স্থগিত বা শর্তযুক্ত (المعلقة) এজেন্সি কেবল সেই বিষয়ের সাথে সুনির্দিষ্ট যা স্থগিত করার সময় বিষয়ের ওপর মুওয়াক্কিল বা মক্কেল (الموكّل)-এর মালিকানা বিদ্যমান থাকে। ইবনে হাজার যে সকল সুরত বা উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, সেগুলো এর অন্তর্ভুক্ত নয়। আর বুলকিনি অত্যন্ত ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী একজন ইমাম (إمام), তাই কোনো প্রমাণ ছাড়া তার মত প্রত্যাখ্যান করার কোনো অবকাশ নেই।

সম্ভবত ইসনাউয়ি যখন পূর্বসূরিদের (السلف) অভিব্যক্তি যেমন: "যদি সে একে কোনো শর্তের (شرط) ওপর স্থগিত করে" দেখলেন, তখন তার মনে এই ধারণা আগে আসলো যে, এখানে শর্ত বলতে শরয়ি শর্ত (الشرط الشرعي) উদ্দেশ্য। তাই তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেছেন: যেমন কেউ তাকে এমন একজন স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করল যাকে সে ভবিষ্যতে বিবাহ করবে। ইবনে হাজারও তাকে অনুসরণ করেছেন এবং এই সুরত বা অবস্থার ওপর অন্যান্য অবস্থাকে কিয়াস (قاس) বা তুলনা করেছেন যেমনটি আপনি দেখেছেন। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থিত।

বুলকিনি 'বিষয়ের মালিকানা' (ملك المحل) বলতে যা বুঝিয়েছেন তা হলো সেটি ব্যবহারের মালিকানা (ملك التصرف), যা কখনো মূল বস্তুর মালিকানা (ملك العين) থেকে সৃষ্টি হয়, আবার কখনো তার ওপর অভিভাবকত্ব বা কর্তৃত্ব (الولاية) থেকে তৈরি হয়; যেমনটি মিনহাজ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ তুহফাহ-তে "মুওয়াক্কিল বা মক্কেলের জন্য শর্ত হলো যে বিষয়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে তার মালিক হওয়া" এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় এসেছে। সুতরাং এটি নিজের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার মালিকানা এবং শর্তসাপেক্ষে নিজের অভিভাবকত্বাধীন মেয়ের বিবাহের মালিকানাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহই ভালো জানেন।

আর বুলকিনির এই বক্তব্য: "এর ওপর ভিত্তি করে ফাসিদ (الفاسدة) এবং বাতিল (الباطلة)-এর মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক হয়... ইত্যাদি।"

[পৃষ্ঠা ২৪] এর উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যায়:

প্রথম: ইবনে হাজার যা উল্লেখ করেছেন যে, সীমাবদ্ধতাটি আপেক্ষিক (إضافي)।

দ্বিতীয়: তাকে বলা হবে যে: এতে কোনো বিতর্ক নেই যে সম্পদ ব্যয়ে নিষিদ্ধ ব্যক্তি (المحجور عليه)-র এজেন্সির ওপর ভিত্তি করে লেনদেনের শুদ্ধতা নির্ভর করে। আর স্থগিত বা শর্তযুক্ত এজেন্সি (الوكالة المعلَّقة) যেমন: "যদি জায়েদ আসে তবে আমি তোমাকে আমার এই দাসকে মুক্ত করার প্রতিনিধি বানালাম" -এর ওপরও লেনদেনের শুদ্ধতা নির্ভর করে। এখন আপনি যদি প্রথমটিকে বাতিল (باطلة) এবং দ্বিতীয়টিকে ফাসিদ (فاسدة) বলেন, তবে তো আপনি পার্থক্য স্বীকার করে নিলেন এবং এটি আবশ্যকীয়। আর যদি আপনি বলেন: প্রথমটি অনর্থক (لغوًا), তবে আমরা বলব: যাকে সে বিবাহ করবে তাকে তালাক দেওয়ার প্রতিনিধি নিয়োগ করা এবং এর সাথে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা অনর্থক (لغوًا) হোক; ফলে কোনো পার্থক্যের আবশ্যকতা থাকে না।

তৃতীয় দিক: এজেন্সির জন্য অনুমতি (الإذن) আবশ্যক; অতঃপর কখনো সেটি বাতিল হয়ে যায় এবং অনুমতিও (الإذن) বাতিল হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৭১)
وتارةً تبطل هي ويصح الإذن، فالتفرقة في الحكم مدارها على صحة الإذن وبطلانه، وأمّا الوكالة فهي باطلة في الصورتين.

الوجه الرابع: أنّ من الأبواب التي فرّقوا بين باطلها وفاسدها الإجارة والجعالة، وقد صرّحوا أن ثمرة فساد الوكالة مع صحة الإذن إنّما هي أنّه لو سمّى للوكيل جُعلاً لم يلزم المسمّى، بل يرجع إلى أجرة المثل. وعلى هذا فالوكالة المعلقة من حيث هي وكالة هي صحيحة، وإنّما الفساد فيها من حيث هي إجارة أو جعالة، فليس للوكالة من حيث هي وكالة إلا حكمان: الصحة والبطلان.

[ص 25] وممّا يدلُّ على بطلان التصرف فيما إذا وكَّله بطلاق من سينكحها، وغيرها من الصور التي ذكرها في "التحفة" ونحوها، ومنها مسألتنا: اختيارُ "المنهاج" التعبيرَ في ما إذا وكَّله ببيع عبدٍ سيملكه أو طلاق من سينكحها بقوله: "بطل في الأصح"(1)، مع تعبيره في المعلَّقة بقوله: "ولا يصح تعليقها بشرطٍ في الأصح"(2)، فأشار إلى أنّ الأولى تبطل أصلاً، أي: حتى لا يصح التصرف، وأنّ الثانية تفسد؛ لأنّ نفي الصحة كما يحتمل البطلان يحتمل الفساد. هذا مع أنّ الأولى معلَّقة ضمنًا على تفسير ابن حجر.

فإن قلت: فقد عبّر النووي في النكاح بقوله(3): "ولو وكَّل قبل استئذانها لم يصحَّ على الصحيح".

--------------------------------------------

(1) "منهاج الطالبين" (2/ 261).

(2) المصدر نفسه (2/ 265).

(3) "منهاج الطالبين" (2/ 432).
কখনও কখনও সেটি বাতিল (باطل) হয়ে যায় এবং অনুমতি (إذن) সঠিক (صحيح) থাকে; ফলে বিধানের (حكم) পার্থক্যের ভিত্তি হলো অনুমতির সঠিকতা (صحة) ও বাতিল (بطلان) হওয়ার ওপর। আর ওকালত (وكالة) উভয় অবস্থাতেই বাতিল (باطل)।

চতুর্থ দিক: যে সকল অধ্যায়ে ফকিহগণ বাতিল (باطل) ও ফাসিদ (فاسد)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে ইজারা (إجارة) ও জু'য়ালাহ (جعالة)। তাঁরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অনুমতি সঠিক (صحيح) হওয়া সত্ত্বেও ওকালত (وكالة) ফাসিদ (فاسد) হওয়ার ফল হলো, যদি কেউ উকীলের (وكيل) জন্য কোনো পারিশ্রমিক (جعل) নির্ধারণ করে, তবে সেই নির্ধারিত পরিমাণ আবশ্যক হবে না, বরং সে সমপরিমাণ পারিশ্রমিক (أجرة المثل) পাবে। এর ওপর ভিত্তি করে, শর্তযুক্ত ওকালত (وكالة معلقة) তার ওকালত হওয়ার দিক থেকে সঠিক (صحيح); এতে ফাসিদ (فساد) হওয়ার কারণ হলো এর ইজারা বা জু'য়ালাহ হওয়ার দিকটি। সুতরাং ওকালতের ওকালত হওয়ার দিক থেকে কেবল দুটি বিধান রয়েছে: সঠিকতা (صحة) ও বাতিল (بطلان) হওয়া।

[পৃষ্ঠা ২৫] কোনো ব্যক্তি যাকে ভবিষ্যতে বিবাহ করবে তাকে তালাক (طلاق) দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করলে, অথবা অনুরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রে যা "তুহফাহ" ও অনুরূপ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে (যার মধ্যে আমাদের আলোচ্য মাসয়ালাটিও অন্তর্ভুক্ত), সে ক্ষেত্রে সম্পাদিত কাজের অসারতা বা বাতিল (بطلان) হওয়ার প্রমাণ হলো: "মিনহাজুত তালিবীন" কিতাবে এই অভিব্যক্তিটি গ্রহণ করা যে, যদি কেউ তাকে এমন গোলাম বিক্রির ওকালত দেয় যা সে ভবিষ্যতে মালিক হবে অথবা এমন নারীকে তালাক দেওয়ার জন্য যাকে সে ভবিষ্যতে বিবাহ করবে, তবে লেখক বলেছেন: "বিশুদ্ধতম (الأصح) মতানুসারে তা বাতিল (بطل)"। এর পাশাপাশি শর্তযুক্ত ওকালতের ক্ষেত্রে তাঁর অভিব্যক্তি হলো: "বিশুদ্ধতম (الأصح) মতানুসারে শর্তের সাথে ওকালত ঝুলিয়ে রাখা সঠিক (صحيح) নয়"। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, প্রথমটি মূলত বাতিল (باطل), অর্থাৎ এমনকি সেই কার্য সম্পাদন করাও সঠিক (صحيح) হবে না; আর দ্বিতীয়টি ফাসিদ (فاسد); কারণ সঠিকতা (صحة) অস্বীকার করার দ্বারা যেমন বাতিল (بطلان) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তেমনি ফাসিদ (فساد) হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। এটি ইবনে হাজারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী প্রথমটি পরোক্ষভাবে শর্তযুক্ত (معلقة) হওয়া সত্ত্বেও।

যদি আপনি বলেন: ইমাম নববী বিবাহ অধ্যায়ে এই অভিব্যক্তি ব্যবহার করেছেন যে: "যদি তার (কন্যার) অনুমতি গ্রহণের পূর্বে ওকালত নিয়োগ করা হয়, তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে তা সঠিক (صحيح) হবে না।"

--------------------------------------------

(১) "মিনহাজুত তালিবীন" (২/২৬১)।

(২) একই উৎস (২/২৬৫)।

(৩) "মিনহাজুত তালিবীন" (২/৪৩২)।
(খণ্ড: ১৭) তাওকীলুল ওয়ালী গাইরিল মুজবির বিতাযবীজি মাউলায়াতিহি - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৭২)
قلتُ: قد سبق الجوابُ عن هذا في جواب الشبهة الخامسة.

وممّا يدلّ على بطلان التصرف أيضًا قول "الروض" مع شرحه (ج 2 ص 266)(1) في المعلقة: " (ونفذ تصرف صادف الإذن) فينفذ تصرفه في ذلك عند وجود الشرط إلا أن يكون الإذنُ فاسدًا. انتهى". ونحوه في "المغني على المنهاج"(2)، وكذا في "النهاية"(3) وغيرها. والإذن فيما لا يملك فاسد، وقد قال الشهاب الرملي في حواشي "الروض"(4): "قوله: (فينفذ تصرفه في ذلك عند وجود الشرط لوجود الإذن) الخالي عن المفسد .. إلخ" [ص 26] والإذن فيما لا يملك غير خالٍ عن المفسد.

وقال الشهاب الرملي أيضًا(5): "قوله: (وشمل كلامهم النكاح، فينفذ عند وجود الشرط إلخ). كما يصح البيع بالإذن في الوكالة الفاسدة. وهو خطأ صريح مخالف للمنقول، قال في "الروضة": قال الإمام: إذا عينت المرأة زوجًا سواءً شرطنا التعيين أم لا، فليذكره الولي للوكيل، فإن لم يفعل وزوج الوكيل غيره لم يصحّ، وكذا لو زوّجه لم يصح على الظاهر؛ لأنّ التفويض المطلق مع أنّ المطلوب معيّن فاسد. وأيضًا فلو اختلطت محرمة بنسوة محصورات، فعقد على واحدةٍ منهنّ، لم يصح النكاح على الأصح، وإن ظهر كونها أجنبية. وكذلك لو عقد على خنثى فبان امرأة لم يصح. ولو

--------------------------------------------

(1) "أسنى المطالب شرح روض الطالب" ط. مصر 1313 هـ.

(2) "مغني المحتاج" (2/ 223).

(3) "نهاية المحتاج" (5/ 29).

(4) (2/ 266).

(5) (2/ 266).
আমি বলছি: পঞ্চম সংশয়ের উত্তরে এর জবাব ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

এছাড়া লেনদেন বা কার্যক্রম বাতিল হওয়ার ওপর আরও যা প্রমাণ বহন করে তা হলো "আর-রওদ" এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৬৬) কথা, যা ঝুলন্ত বা শর্তযুক্ত বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে: "(অনুমতির সাথে মিলে যাওয়া লেনদেন কার্যকর হবে), সুতরাং শর্ত পাওয়া গেলে সেই বিষয়ে তার কর্মকাণ্ড কার্যকর হবে, তবে যদি অনুমতিটি ত্রুটিযুক্ত (ফাসিদ/فاسد) হয় তবে নয়। সমাপ্ত।" অনুরূপ কথা "মুগনি আলাল মিনহাজ", "নিহায়া" এবং অন্যান্য গ্রন্থেও রয়েছে। আর যা নিজের মালিকানাধীন নয় সে বিষয়ে অনুমতি দেওয়া ত্রুটিযুক্ত (ফাসিদ/فাসد)। শিহাব আল-রামলি "আর-রওদ"-এর টীকাগ্রন্থে বলেছেন: "তাঁর কথা: (অনুমতি থাকার কারণে শর্ত পাওয়া গেলে সেই বিষয়ে তার কর্মকাণ্ড কার্যকর হবে) যা নষ্টকারী বা ত্রুটিযুক্ত বিষয় হতে মুক্ত... ইত্যাদি" [পৃষ্ঠা ২৬]। আর যা নিজের মালিকানাধীন নয় সে বিষয়ে অনুমতি দেওয়া ত্রুটিমুক্ত নয়।

শিহাব আল-রামলি আরও বলেছেন: "তাঁর কথা: (তাদের বক্তব্য নিকাহকেও অন্তর্ভুক্ত করে, সুতরাং শর্ত পাওয়া গেলে তা কার্যকর হবে ইত্যাদি)। যেমন ত্রুটিযুক্ত প্রতিনিধিত্বের (ওকালাহ ফাসিদাহ/وكالة فاسدة) ক্ষেত্রে অনুমতির মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হয়। এটি একটি স্পষ্ট ভুল যা বর্ণিত মতের পরিপন্থী। "রওদাহ" গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইমাম বলেছেন: নারী যদি কোনো স্বামী নির্দিষ্ট করে দেয়, আমরা সেই নির্দিষ্ট করাকে শর্ত ধরি বা না ধরি, অভিভাবক যেন প্রতিনিধির কাছে তা উল্লেখ করেন। যদি তিনি তা না করেন এবং প্রতিনিধি তাকে অন্য কারো সাথে বিয়ে দেন তবে তা সহিহ (সহিহ/صحيح) হবে না। অনুরূপভাবে যদি তাকেই বিয়ে দেয় তবে প্রকাশ্য মত অনুযায়ী তা সহিহ (সহিহ/صحيহ) হবে না; কারণ উদ্দিষ্ট ব্যক্তি নির্দিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ঢালাওভাবে দায়িত্ব অর্পণ করা ত্রুটিযুক্ত (ফাসিদ/فাসد)। এছাড়া যদি কোনো মাহরাম নারী নির্দিষ্ট সংখ্যক নারীর সাথে মিশে যায় এবং তাদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে বিবাহ করে, তবে অধিকতর সঠিক (আসাহ/أصح) মত অনুযায়ী সেই নিকাহ সহিহ (সহিহ/صحيح) হবে না, যদিও সে নারী পরনারী হিসেবে সাব্যস্ত হয়। অনুরূপভাবে যদি কোনো হিজড়া বা উভয়লিঙ্গের মানুষের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং পরবর্তীতে সে নারী হিসেবে প্রকাশ পায়, তবে তা সহিহ (সহিহ/صحيح) হবে না। আর যদি...

--------------------------------------------

(১) "আসনী আল-মাতালিব শারহু রওদিত ত্বালিব" মিশর মুদ্রণ ১৩১৩ হিজরি।

(২) "মুগনি আল-মুহতাজ" (২/ ২২৩)।

(৩) "নিহায়া আল-মুহতাজ" (৫/ ২৯)।

(৪) (২/ ২৬৬)।

(৫) (২/ ২৬৬)।