0/0
(খণ্ড: ১) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
فلسفة الأعياد وحكمة الإسلام - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: فلسفة الأعياد وحكمة الإسلام

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (17)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

উৎসবের দর্শন ও ইসলামের হিকমত - «আছারুল মুয়াল্লিমী»-এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রীয় মাসআলাসমূহ


বই: উৎসবের দর্শন ও ইসলামের হিকমত

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানীর রচনাবলি (১৭)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ উজাইর শামস

পর্যবেক্ষণ: মুহাম্মদ আকমাল আল-ইসলাহী - সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলা সংস্করণে উপস্থাপন: ‘আতাআত আল-ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫২৩)
الرسالة السابعة عشرة

فلسفة الأعياد وحِكمة الإسلام
সপ্তদশ পত্র

ঈদসমূহের দর্শন ও ইসলামের প্রজ্ঞা
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫২৫)
الحمد لله …

فلسفة الأعياد وحِكْمَة الإسلام

العيد في العرف العام: يوم مخصوص من العام، تحتفل به الأمة بمظاهر السرور، وأهمها الزينة، ولذلك يسمى أيضًا يوم الزينة؛ كما أخبر الله عز وجل عن كليمه عليه السلام أنَّه قال لفرعون وقومه: {مَوْعِدُكُمْ يَوْمُ الزِّينَةِ} [طه: 59].

 

‌‌منشأ الأعياد

إنَّ بروز الأمة بمظاهر السرور والزينة يُعبِّر عن سرور عظيم عامّ حدث لها، والسرور العام إنَّما ينشأ عن نعمةٍ عظيمةٍ عامةٍ حدثت للأمة.

إذن فالعيد يوم مخصوص من السنة، تحدث فيه كل سنة نعمة عظيمة للأمة، تبعث في قلوب أبنائها سرورًا عظيمًا، يسوقهم بطبيعة الحال إلى الاجتماع على إظهار الزينة بأنواعها.

إذن فالعيد ناشئٌ عن سبب طبيعي ثابت.

لكنَّ هذه الحال وإن انطبقت على بعض الأعياد، كيوم وفاء النيل بمصر، فإن غالب الأعياد ليس كذلك.

فمن ذلك أنَّ كثيرًا من الأمم تتَّخذ يوم استقلالها عيدًا.

ومن ذلك أول يوم من السَّنة؛ فإنَّ كثيرًا من الأمم تتَّخذ أول يوم من سنتها عيدًا.

فحدوث الاستقلال نعمة عظيمة على الأمة، ولكن اليوم الذي يقابله من
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য …

ঈদসমূহের দর্শন এবং ইসলামের হিকমত

সাধারণ পরিভাষায় ঈদ: বছরের একটি নির্দিষ্ট দিন, যাতে কোনো জাতি আনন্দের বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে উৎসব পালন করে, আর এর প্রধান অনুষঙ্গ হলো সাজসজ্জা; একারণে একে সাজসজ্জার দিনও বলা হয়। যেমন মহান আল্লাহ তাঁর কলিম (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: {তোমাদের নির্ধারিত সময় হলো সাজসজ্জার দিন} [ত্বহা: ৫৯]।

 

‌‌ঈদসমূহের উৎপত্তি

কোনো জাতির আনন্দ ও সাজসজ্জার বহিঃপ্রকাশ মূলত তাদের ওপর অর্জিত কোনো মহান ও সামগ্রিক আনন্দেরই প্রতিফলন। আর এই সামগ্রিক আনন্দ মূলত কোনো মহান ও ব্যাপক নিআমত থেকেই সৃষ্টি হয় যা ঐ জাতির ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।

সুতরাং ঈদ হলো বছরের একটি নির্দিষ্ট দিন, যাতে প্রতি বছর জাতির জন্য এক মহান নিআমত অবতীর্ণ হয়, যা সেই জাতির সদস্যদের অন্তরে বিপুল আনন্দের সঞ্চার করে এবং তা স্বাভাবিকভাবেই তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার সাজসজ্জা প্রদর্শনের মাধ্যমে একত্রিত হতে উদ্বুদ্ধ করে।

অতএব, ঈদ একটি শাশ্বত প্রাকৃতিক কারণ থেকে উদ্ভূত।

তবে এই বিষয়টি যদিও কিছু ঈদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, যেমন মিশরের নীল নদের পূর্ণতার (অফাউল নীল) দিন, কিন্তু অধিকাংশ ঈদ এমন নয়।

এর উদাহরণস্বরূপ অনেক জাতি তাদের স্বাধীনতা দিবসকে ঈদ হিসেবে পালন করে।

আবার অনেক জাতি বছরের প্রথম দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করে।

স্বাধীনতা অর্জিত হওয়া জাতির জন্য একটি মহান নিআমত, কিন্তু এর বিপরীতে যে দিনটি...
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫২৬)
السنة الثانية والثالثة وهكذا لم يحدث فيه شيء.

وأول السَّنة التي ابتُدِئ بها التاريخ قد يكون يوم حدوث نعمةٍ، وقد يكون مبنيًّا على أمرٍ فلكي أو اصطلاحي.

فأقول: لا ريب أنَّ اليوم المقابل ليوم الاستقلال من كل سنة، ومثله أول السنة، لم تحدث فيه نعمةٌ عظيمةٌ، ولكن المفكِّرين من الأمم جعلوه عيدًا لأغراض سياسية.

فإذا ساغ لنا أن نعدَّ يوم وفاء النيل ــ مثلًا ــ عيدًا طبيعيًا، فلنعدَّ اليوم المقابل ليوم الاستقلال ــ مثلًا ــ عيدًا اصطلاحيًّا.

إلَاّ أنَّ ههنا فرقًا بين اليوم المقابل ليوم الاستقلال، وبين أول السنة في التواريخ التي ابتُدِئت بمجرَّد الاصطلاح.

فالأول وإن لم تحدث فيه نعمةٌ فإنها حدثت في مثله، وكما قيل: الشيء بالشيء يُذكَر، وليس الثاني كذلك.

ولكن لما كانت المثلية توجد في كل أسبوعٍ، وفي كل شهرٍ، وفي كل فصلٍ، وكان تذكُّر النِّعْمة لا يقتضي حدوث سرورٍ عظيمٍ يبعث على إظهار الزينة؛ لم يخرج اليوم المقابل [ص 2] ليوم الاستقلال ــ مثلًا ــ من كونه عيدًا اصطلاحيًا.

* * * *
দ্বিতীয় বছর, তৃতীয় বছর এবং এভাবে পরবর্তী বছরগুলোতে নতুন কিছু ঘটেনি।

আর যে বছর থেকে ইতিহাসের গণনা শুরু হয়, তার প্রথম দিনটি কোনো বিশেষ অনুগ্রহ প্রাপ্তির দিন হতে পারে, অথবা তা জ্যোতির্বিদ্যা-সংক্রান্ত কোনো বিষয় কিংবা পারিভাষিক (اصطلاحي) কোনো প্রথার ওপর ভিত্তি করেও হতে পারে।

আমি বলছি: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের সমতুল্য দিনটি এবং একইভাবে বছরের প্রথম দিনটিতে কোনো মহান অনুগ্রহ অর্জিত হয়নি; বরং বিভিন্ন জাতির চিন্তাবিদগণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একে উৎসব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

সুতরাং, উদাহরণস্বরূপ আমরা যদি নীল নদের পূর্ণতার দিনটিকে একটি প্রাকৃতিক উৎসব হিসেবে গণ্য করা বৈধ মনে করি, তবে স্বাধীনতা দিবসের সমতুল্য দিনটিকেও আমরা একটি পারিভাষিক (اصطلاحي) উৎসব হিসেবে গণ্য করতে পারি।

তবে এখানে স্বাধীনতা দিবসের সমতুল্য দিন এবং শুধুমাত্র পারিভাষিক (اصطلاحي) ভিত্তিতে শুরু হওয়া পঞ্জিকার প্রথম দিনের মধ্যে একটি পার্থক্য রয়েছে।

কারণ প্রথম ক্ষেত্রে যদিও সরাসরি সেই নির্দিষ্ট দিনে কোনো অনুগ্রহ অর্জিত হয়নি, তবে অতীতে এর মতো একটি দিনে তা ঘটেছিল। যেমন বলা হয়: "এক বস্তু অন্য বস্তুকে স্মরণ করিয়ে দেয়"। কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন নয়।

কিন্তু যেহেতু এই সাদৃশ্য বা সমতুল্যতা প্রতি সপ্তাহ, প্রতি মাস এবং প্রতি ঋতুতে বিদ্যমান থাকে, আর অনুগ্রহ স্মরণ করার দাবি এটি নয় যে তা এমন এক মহান আনন্দের উদ্রেক করবে যা সাজসজ্জা প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করে; তাই স্বাধীনতা দিবসের সমতুল্য দিনটি [পৃষ্ঠা ২] উদাহরণস্বরূপ একটি পারিভাষিক (اصطلاحي) উৎসব হওয়ার গণ্ডি থেকে বের হতে পারেনি।

(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫২৭)
‌‌الأعياد الدينية

أمَّا الأديان التي عَبِثَتْ بها الأهواء فغالب أعيادها اصطلاحيٌّ، والبحث فيه يطول، والذي يهمُّنا هنا البحث عن الأعياد الثابتِ شرعُها عن الله تبارك وتعالى، وإنَّما يتيسَّر لنا ذلك في دين الإسلام.

 

‌‌نظرية الإسلام في الأعياد

قد علمت مما تقدَّم أنَّ الأعياد على نوعين: طبيعي واصطلاحي.

فأمَّا ما يتعلَّق بالطبيعي فإنَّ الشريعة الإسلامية لم تنظر إلَّا إلى النِّعَم الحقيقية التي تعمُّ جميعَ المسلمين. والموجود من هذه النِّعَم متكرِّرًا كلَّ عام أمران:

الأول: تمام صيام شهر رمضان، والخروج من مشقَّة الصيام.

الثاني: تمام الحج، والخلاص من مشقة الإحرام.

وصيام شهر رمضان والحج من أركان الإسلام، ومن أعظم النِّعَم على المسلمين أن يتمَّ صيامهم ويتم حجُّهم.

فإن قيل: فإن الحجَّاج إنَّما هم طائفةٌ من المسلمين.

قلت: نعم، ولكن حج البيت كل سنة فرض كفاية على جميع المسلمين؛ فإذا قام به بعضهم فقد تمَّت النِّعْمة على الجميع بسقوط الإثم.

زِدْ على ذلك أنَّ تمكُّن المسلمين من إتمام الحج من مظاهر ظهور الإسلام واجتماع المسلمين؛ وذلك من أعظم النِّعَم عليهم.
ধর্মীয় ঈদসমূহ

পক্ষান্তরে যেসব ধর্মে প্রবৃত্তি প্রাধান্য বিস্তার করেছে, তাদের অধিকাংশ ঈদ বা উৎসবই কৃত্রিম (اصطلاحي), এবং এ বিষয়ে আলোচনা সুদীর্ঘ। এখানে আমাদের জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো সেসব ঈদ নিয়ে আলোচনা করা যেগুলোর বিধান মহান ও বরকতময় আল্লাহর পক্ষ থেকে শরিয়তসম্মতভাবে সাব্যস্ত (ثابت)। আর এটি আমাদের জন্য কেবল ইসলাম ধর্মের মাধ্যমেই সহজসাধ্য।

 

ঈদের ব্যাপারে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ইতিপূর্বে আপনি জেনেছেন যে, ঈদ বা উৎসব দুই প্রকার: স্বাভাবিক (طبيعي) এবং কৃত্রিম (اصطلاحي)।

স্বাভাবিকের (طبيعي) সাথে যা সংশ্লিষ্ট, তার ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত কেবল সেই প্রকৃত নিআমতসমূহের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছে যা সকল মুসলিমকে পরিবেষ্টন করে। প্রতি বছর পুনরাবৃত্ত হওয়া এসব নিআমতের মধ্যে দুটি বিষয় বিদ্যমান:

প্রথমত: রমজান মাসের রোজা পূর্ণ হওয়া এবং রোজার কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি লাভ করা।

দ্বিতীয়ত: হজ পূর্ণ হওয়া এবং ইহরামের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া।

রমজান মাসের রোজা ও হজ হলো ইসলামের রুকনসমূহের (أركان) অন্তর্ভুক্ত। আর মুসলমানদের ওপর মহান নিআমতসমূহের অন্যতম হলো তাদের রোজা ও হজ সম্পন্ন হওয়া।

যদি বলা হয়: হাজিগণ তো মুসলমানদের একটি দল (طائفة) মাত্র।

আমি বলব: হ্যাঁ, তবে প্রতি বছর বাইতুল্লাহর হজ করা সকল মুসলমানের ওপর ফরজে কেফায়া (فرض كفاية); সুতরাং তাদের একাংশ তা পালন করলে গুনাহ (إثم) মোচনের মাধ্যমে সকলের ওপরই নিআমত পূর্ণ হয়ে যায়।

এর সাথে আরও যোগ করুন যে, মুসলমানদের হজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হওয়া ইসলামের বিজয় ও মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অন্যতম বহিঃপ্রকাশ; আর এটি তাদের ওপর মহান নিআমতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫২৮)
وأظهر من ذلك: أنَّ من حِكَم شرع الحج اجتماعَ المسلمين، وكان ظاهرُ هذا وجوبَه على كل فرد منهم كل سنة. لأنَّه يُشَرع في الصلوات الخمس اجتماعُ أهل كل محلَّةٍ، وفي الجمعة اجتماع أهل كل مدينةٍ، وفي عيد الفطر اجتماع أهل كل مدينةٍ وما حولها؛ حتى النساء، بما فيه العواتق ذواتُ الخدور والحيَّض؛ كما في الحديث الصحيح(1).

فما بعد ذلك إلَاّ اجتماع أهل قطر، وهذا أهمله الشارع اكتفاءً بالحج. فكان الظاهر أن يُشرَع في الحج اجتماع جميع المسلمين، ولكن لما كان في ذلك مشقةٌ عليهم، وضياعٌ لمصالحهم خفَّف الله عنهم.

ومن هنا يُفهَم ما صحَّ: أنَّ النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم سُئِل عن وجوب الحج؛ أكلَّ سنةٍ؟ ــ يعني: على كل فردٍ ــ فقال: «لا، ولو قلتُ: نعم لوجبَتْ»(2).

فاكتفى الشرع بأن يحجَّ من أهل كل جهةٍ طائفةٌ، ثم هذه الطائفة تُبلِّغ مَنْ وراءها آثار الاجتماع في الحج. كما قال الله تعالى في الجهاد: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} [التوبة: 122].

وكلَّف الذين لم يحجّوا باجتماع أهل كل بلد في بلدهم ليحصل بذلك ما يحصل من حضور الاجتماع الأعظم.

ومن جهة أخرى فالغالب أنَّ كل فردٍ من المسلمين يكون له قريب أو صديق في الحج، وتمام النِّعْمة على ذلك يوجب سرور هذا.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (974) ومسلم (890) من حديث أم عطية.

(2) أخرجه مسلم (1337) من حديث أبي هريرة.
এর চেয়েও স্পষ্ট বিষয় হলো: হজের বিধান প্রবর্তনের অন্যতম হিকমত বা নিগূঢ় রহস্য হলো মুসলিমদের একত্রিত হওয়া। আর এর প্রকাশ্য দাবি ছিল এটি প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর প্রতি বছর ওয়াজিব হওয়া। কেননা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে প্রত্যেক মহল্লার অধিবাসীদের একত্র হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে, জুমুআর নামাজে প্রত্যেক শহরের অধিবাসীদের একত্র হওয়ার এবং ঈদুল ফিতরে প্রত্যেক শহরের অধিবাসী ও তার আশেপাশের লোকজনের একত্র হওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে; এমনকি পর্দানশীন কুমারী নারী ও ঋতুমতী নারীদেরও (উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছে); যেমনটি সহিহ (صحيح) হাদিসে এসেছে(১).

এরপর বাকি থাকে কেবল কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীদের একত্রিত হওয়া, যা বিধাতা (শারিয়াত প্রণেতা) হজের ওপরই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। বাহ্যত হজের ক্ষেত্রে সকল মুসলিমের একত্রিত হওয়ার বিধান থাকাই সঙ্গত ছিল, কিন্তু যেহেতু এতে তাদের জন্য কষ্টসাধ্য বিষয় এবং তাদের বৈষয়িক স্বার্থের হানি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাই আল্লাহ তাদের জন্য বিষয়টি সহজ করে দিয়েছেন।

এখান থেকেই সেই সহিহ (صحيح) বর্ণনার মর্ম বোঝা যায় যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে হজের আবশ্যকতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল; এটি কি প্রতি বছর? — অর্থাৎ: প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর? — তখন তিনি বললেন: «না, আর আমি যদি 'হ্যাঁ' বলতাম, তবে তা ওয়াজিব হয়ে যেত»(২).

তাই শরিয়ত কেবল এটুকুর ওপরই সন্তুষ্ট থেকেছে যে, প্রতিটি অঞ্চল থেকে একটি দল হজ করবে, অতঃপর এই দলটি তাদের পশ্চাতে থাকা লোকদের কাছে হজের এই সমাবেশের প্রভাব ও শিক্ষা পৌঁছে দেবে। যেমন আল্লাহ তায়ালা জিহাদের ক্ষেত্রে বলেছেন: {আর মুমিনদের সকলের একযোগে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। সুতরাং তাদের প্রত্যেক বড় দল থেকে একটি ছোট দল কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাবে তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে} [আত-তাওবাহ: ১২২]।

আর যারা হজ করতে পারেনি, তাদের ওপর নিজ নিজ এলাকায় একত্র হওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যাতে এর মাধ্যমে মহান সম্মিলনে উপস্থিত হওয়ার সুফল অর্জিত হতে পারে।

অন্যদিকে, সাধারণত প্রত্যেক মুসলিমেরই কোনো না কোনো আত্মীয় বা বন্ধু হজে থাকে, আর এর মাধ্যমে নেয়ামতের পূর্ণতা তাদের আনন্দিত করে তোলে।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (৯৭৪) ও মুসলিম (৮৯০) উম্মে আতিয়্যাহ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি মুসলিম (১৩৩৭) আবু হুরায়রা-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫২৯)
ومع ذلك شرع للمقيمين صيام تسع ذي الحجة، ولا سيَّما التاسع، وبتمامها تتم عليهم نعمة أخرى، وشرع لمن أراد التضحية منهم أن لا يحلق شعرًا، ولا يقُصَّ ظُفْرًا حتى يُضحِّي؛ كما جاء في الحديث(1).

وشرع لهم في عيد الأضحى: أن لا يَطْعَموا شيئًا حتى يُصلُّوا العيد، وبعد صلاة العيد ينفكُّ عنهم قيدُ الإمساك عن القَرْض(2) وعن الأكل؛ وهذه نعمةٌ أخرى.

لم تكن الشريعة الإسلامية ــ وهي من وضع الحكيم العليم عز وجل ــ لتكتفي بهذا؛ بل نظرت إلى الأعمال التي ينبغي للمسلمين عملُها في عيدهم، فوجدت أنَّ تمام النِّعْمة كما يبعث المسلم ــ كغيره ــ على السرور طبعًا، والسرور يبعث على إظهار الزينة= فإنه يبعثه أيضًا على شكر المنعم عز وجل.

لهذا اقتضت الحكمة أن تكون الأعمال المشروعة في العيد جامعةً بين الزينة والعبادة. فالتكبير، والصلاة، وأداء الفطرة، والصدقة من الأضحية= عبادةٌ محضةٌ. والتنظُّف، والتطيُّب، ولبس الجديد، والاجتماع، والتقرُّب بالأضحية= تتضمَّن الأمرين.

أمَّا كونها عبادة فقد جاء في الحديث: «النَّظَافة من الإيمان»(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (1977) من حديث أم سلمة.

(2) أي استعمال المقراض لقصّ الشعر.

(3) أخرجه الطبراني في «الأوسط» (7311) وأبو نعيم في «أخبار أصبهان» (1/ 183) من حديث ابن مسعود بلفظ: «النظافة تدعو إلى الإيمان». ولا يصح، قال الهيثمي في «مجمع الزوائد» (1/ 236): فيه إبراهيم بن حيان، قال ابن عدي: أحاديثه موضوعة. وقال العراقي في «تخريج الإحياء» (1/ 49، 125): سنده ضعيف جدًّا.
তা সত্ত্বেও যারা হজে যাননি (মুকিম), তাদের জন্য জিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন রোজা রাখা এবং বিশেষ করে নবম দিনে রোজা রাখা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। এই রোজা পূর্ণ করার মাধ্যমে তাদের ওপর আরও একটি নিয়ামত সম্পন্ন হয়। আর তাদের মধ্যে যারা কোরবানি করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য কোরবানি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত চুল না কাটা এবং নখ না ছাঁটা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; যেমনটি হাদিসে এসেছে(১).

ঈদুল আজহার দিনে তাদের জন্য এটিও বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যে, তারা ঈদের নামাজ পড়ার আগে কোনো কিছু আহার করবে না। আর ঈদের নামাজের পর তাদের ওপর চুল বা নখ কাটা(২) এবং পানাহার থেকে বিরত থাকার যে বিধিনিষেধ ছিল, তা উঠে যায়; এটি আরেকটি নিয়ামত।

ইসলামি শরিয়ত—যা প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত—কেবল এটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি মুসলমানদের তাদের ঈদের দিনে যেসব আমল করা উচিত সেগুলোর দিকেও দৃষ্টিপাত করেছে। এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, নিয়ামতের পূর্ণতা যেমন স্বাভাবিকভাবেই একজন মুসলমানকে অন্যদের মতো আনন্দের দিকে ধাবিত করে এবং আনন্দ যেমন সৌন্দর্য প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করে, তেমনি এটি তাকে নিয়ামতদাতা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের প্রতিও ধাবিত করে।

এই কারণে হিকমতের দাবি হলো ঈদে বিধিবদ্ধ আমলগুলো যেন সৌন্দর্য এবং ইবাদতের সমন্বয় হয়। সুতরাং তাকবির, নামাজ, ফিতরা আদায় এবং কোরবানির সদকা—এগুলো নিছক ইবাদত। আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সুগন্ধি ব্যবহার, নতুন পোশাক পরিধান, একত্রে সমবেত হওয়া এবং কোরবানির মাধ্যমে নৈকট্য লাভ—এই বিষয়গুলো উভয় দিককেই অন্তর্ভুক্ত করে।

এগুলো যে ইবাদত, সে বিষয়ে হাদিসে এসেছে: «পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ»(৩).

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (১৯৭৭) এটি উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

(২) অর্থাৎ চুল কাটার জন্য কাঁচি ব্যবহার করা।

(৩) তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' (৭৩১১) গ্রন্থে এবং আবু নুয়াইম 'আখবারু আসবাহান' (১/১৮৩) গ্রন্থে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদিসে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «পরিচ্ছন্নতা ঈমানের দিকে আহ্বান করে»। তবে এটি সঠিক নয় (لا يصح)। আল-হাইসামি 'মাজমাউজ যাওয়াইদ' (১/২৩৬) গ্রন্থে বলেছেন: এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইব্রাহিম বিন হাইয়ান রয়েছে, ইবনে আদি বলেছেন: তার বর্ণিত হাদিসসমূহ জাল (موضوعة)। আর ইরাকি 'তাখরিজুল ইহয়া' (১/৪৯, ১২৫) গ্রন্থে বলেছেন: এর সূত্র (سند) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً)।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৩০)
وجاء: أنَّ النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم كان يحبّ الطِّيب(1)، وأن الملائكة يحبُّون الطِّيب.

وجاء عنه صلى الله عليه وآله وسلم الندبُ إلى حسن اللباس، وقال: «إنَّ الله يحبُّ أن يرى أثر نعمته على عبده»(2).

وقال للِّذي أخبره أنَّه يحبُّ أن يكون ثوبه حسنًا، ورأسه دهينًا، ونعلاه حسنتين: «إنَّ الله جميل يحبُّ الجمال»(3).

وعدم التنظُّف والتطيُّب يؤذي المجتمعين، واجتناب أذية الناس عبادةٌ.

والاجتماع الحسي باعث على الاجتماع المعنوي؛ [ص 3] ولاسيَّما والمشروع أن يكون الإمام هو الأمير؛ فيخطب فيهم ببيان المصالح العامة التي ينبغي أن يتعاونوا عليها، ويمثل بصلاته بهم واقتدائهم به تقدُّمَه إياهم في طاعة الله عز وجل، وتبَعَهم له في ذلك، أعني في مصالح الإسلام والمسلمين.

والتقرب بالأضحية ظاهر.

وأمَّا كون هذه الأشياء من الزينة ــ أعني ما يعمُّ التوسُّعَ في الأكل ونحوه ــ فظاهر.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (3/ 128، 199، 285) والنسائي (7/ 61) من حديث أنس بن مالك مرفوعًا: «حُبِّب إليَّ الطيبُ والنساء … » وإسناده حسن.

(2) أخرجه الترمذي (2820) من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص. وإسناده حسن.

(3) أخرجه مسلم (91) من حديث ابن مسعود.
বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সুগন্ধি পছন্দ করতেন(১) এবং ফেরেশতারাও সুগন্ধি পছন্দ করেন।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে উত্তম পোশাক পরিধানের প্রতি উৎসাহিত (الندب) করার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দার ওপর তাঁর নেয়ামতের প্রভাব দেখতে ভালোবাসেন»(২)।

জনৈক ব্যক্তি যখন তাঁকে অবহিত করল যে, সে চায় তার পোশাক সুন্দর হোক, মাথায় তেল থাকুক এবং জুতো জোড়া সুন্দর হোক, তখন তিনি তাকে বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন»(৩)।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি ব্যবহার না করা সমবেত ব্যক্তিদের কষ্ট দেয়, আর মানুষকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা একটি ইবাদত।

আর বাহ্যিক সম্মিলন আধ্যাত্মিক সম্মিলনের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে; [পৃষ্ঠা ৩] বিশেষত শরিয়তসম্মত (مشروع) বিধান হলো ইমাম হবেন নেতা; ফলে তিনি জনসাধারণের সেই সমস্ত কল্যাণসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে তাদের মাঝে খুতবা প্রদান করবেন যে বিষয়ে তাদের একে অপরকে সহযোগিতা করা উচিত। তাদের নিয়ে সালাত আদায়ের মাধ্যমে এবং তাঁর অনুসরণের (اقتداء) মাধ্যমে তিনি আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রবর্তী হওয়ার এবং এ বিষয়ে তাদের অনুগামী হওয়ার প্রতিনিধিত্ব করেন; অর্থাৎ ইসলাম ও মুসলিমদের কল্যাণ কামনায়।

আর কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বিষয়টি স্পষ্ট।

আর এই বিষয়গুলো যে সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ খাবার ও অনুরূপ বিষয়ে প্রশস্ততা বজায় রাখা—তাও সুস্পষ্ট।

--------------------------------------------

(১) এটি আহমদ (৩/ ১২৮, ১৯৯, ২৮৫) এবং নাসায়ি (৭/ ৬১) আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন: «আমার কাছে সুগন্ধি ও নারীদের প্রিয় করা হয়েছে...» এবং এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)।

(২) এটি তিরমিজি (২৮২০) আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)।

(৩) এটি মুসলিম (৯১) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৩১)
بقي ما أبيح في العيد من اللهو؛ كالضرب بالدفِّ، واللعب بالسلاح، وهذا أيضًا مشتملٌ على الأمرين.

أمَّا كونه زينةً فظاهر.

وأمَّا أنَّ فيه عبادةً فلِمَا جاء عنه صلى الله عليه وآله وسلم أنَّه قال للحبشة ــ عندما كانوا يلعبون بحِرَابِهم ــ: «إيهِ بني أرفدةَ؛ لتعلم اليهود والنصارى أنَّ في ديننا فسحةً»(1).

واللعب بالسلاح تدرُّبٌ على الجهاد، وأيضًا فإنَّ في إسعاف النفس ببعض حظوظها إجمامًا لها، وترويحًا عنها لتنشط للعبادات والأعمال المصلحية، ولاسيَّما وهي خارجةٌ من عمل شاقٍّ حالَ بينها وبين شهواتها؛ وهو الإحرام لمن حجَّ، وسرد الصيام في عِدَّة رمضان، وصيام تسع ذي الحجة لمن لم يحج، مع إمساكه عن الحلقِ وقصِّ الأظفار حتى يُضحِّي، وعن الطعام حتى يرجع من الصلاة، وأنت خبيرٌ أن اللهو إنَّما يحدث بعد ذلك.

هذه حكمة الإسلام في الأعياد، ولكن ــ يا للأسف ــ إن المسلمين لا يكاد يوجد منهم من يستحضر هذه المعاني ويبني عملَه على تلك المقاصد، ولا يكاد يُوجد من علمائهم من يُبيِّن لهم ذلك؛ فالله المستعان.

وكما رخَّص الشارع في بعض اللهو وغيره في العيدين، كذلك رخَّص فيها عند حدوث نعمةٍ عظمى؛ كالزواج، والختان، والقدوم من سفر؛ ولم

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد (6/ 116، 233) والحميدي في «مسنده» (254) من حديث عائشة. وإسناده حسن.
ঈদে যে ধরনের আমোদ-প্রমোদ বৈধ করা হয়েছে তা অবশিষ্ট রয়ে গেছে; যেমন দফ বাজানো এবং অস্ত্র নিয়ে খেলা, আর এটিও এই দুই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

এটি সৌন্দর্য হওয়ার বিষয়টি তো স্পষ্ট।

আর এর মধ্যে যে ইবাদত নিহিত রয়েছে তার কারণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হাবশীদের উদ্দেশ্যে—যখন তারা তাদের বর্শা নিয়ে খেলছিল—বলেছিলেন: «হে বনী আরফিদা, তোমরা খেলা চালিয়ে যাও; যাতে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা জানতে পারে যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে প্রশস্ততা রয়েছে»(১)।

অস্ত্র নিয়ে খেলা করা হলো জিহাদের প্রশিক্ষণ, এছাড়া নফসকে তার কিছু চাহিদা পূরণের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে তাকে বিশ্রাম ও প্রশান্তি প্রদান করা হয় যেন তা ইবাদত ও জনকল্যাণমূলক কাজের প্রতি উদ্যমী হয়। বিশেষ করে যখন নফস একটি কঠোর পরিশ্রমসাধ্য কাজ থেকে ফেরে যা তাকে তার প্রবৃত্তি থেকে দূরে রেখেছিল; যেমন হজ পালনকারীর জন্য ইহরাম, রমজান মাসে একাদিক্রমে রোজা রাখা এবং যারা হজ করেনি তাদের জন্য জিলহজ মাসের প্রথম নয় দিনের রোজা, সাথে সাথে কোরবানি না করা পর্যন্ত চুল কাটা ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকা এবং সালাত থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। আর আপনি তো অবগত আছেন যে, আমোদ-প্রমোদ মূলত এই সবের পরেই ঘটে থাকে।

ঈদসমূহের ব্যাপারে এটিই ইসলামের হিকমত। কিন্তু—হায় আফসোস—মুসলমানদের মধ্যে এমন কাউকে পাওয়াই দুষ্কর যারা এই অর্থগুলো হৃদয়ে উপস্থিত রাখে এবং সেই উদ্দেশ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমল করে; এমনকি তাদের আলেমদের মধ্যেও এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না যিনি তাদের নিকট বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করবেন। আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

শরিয়ত প্রণেতা যেভাবে দুই ঈদে কিছু আমোদ-প্রমোদ ও অন্যান্য বিষয়ের অনুমতি দিয়েছেন, তেমনিভাবে মহান কোনো নেয়ামত লাভের সময়ও এগুলোর অনুমতি দিয়েছেন; যেমন বিবাহ, খতনা এবং সফর থেকে ফিরে আসা; এবং...

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৬/ ১১৬, ২৩৩) এবং হুমাইদি তাঁর মুসনাদ-এ (২৫৪) আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে। এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৩২)
يُرخِّص في ذلك في مثل ذلك اليوم من الأسبوع، أو الشهر، أو السنة؛ لما علمت.

أمَّا الأعياد الاصطلاحية فلم تلتفت إليها الشريعة من حيث هي أعياد، وما كان فيها من أغراض سياسية أدرجته الشريعة في الأعياد الطبيعية ــ كما مرَّت الإشارة إليه ــ، أو في عبادة تخصُّه؛ كما في يوم الجمعة؛ كما يأتي. مع أنَّ في عيدَي الفطر والأضحى ما يفي بذلك؛ فعيد الفطر تذكار لنزول القرآن في رمضان؛ كما يأتي. وعيد النحر تذكارٌ لتمام الدين وعزِّه.

والعُرْف يقضي بأنَّ أمةً من الأمم لو جاهدت في سبيل استقلالها مثلًا، فانتصرت في عدة انتصارات= فإنَّما تجعل العيدَ اليومَ الذي تميَّز فيه نتيجة جهادها.

وهذا المعنى نفسه بالنسبة إلى الإسلام كافٍ في عيد الأضحى؛ كما يأتي. ولكن الشريعة نظرت إلى الأيام التي حدثت فيها نِعَمٌ عظمى عامة؛ فرأت أن المثلية تذكِّرُ بالنِّعَم كما مرَّ. وتذكُّر النِّعْمة، وإن لم يكفِ في البعث على إظهار الزينة= فإنه يكفي للبعث على الشكر. فشَرَعت في أمثال تلك الأيام عباداتٍ مخصوصة، واختارت أقرب ما يكون من المثلية.

فإذا حدثت النِّعْمة في يومٍ عيَّنت العبادة في مثله من كل أسبوع، ولا تخرج عن هذا إلَاّ لمعنىً آخر؛ كما سيأتي في صيام عرفة ويوم عاشوراء.

وإذا حدثت النِّعْمة في شهرٍ عيَّنت العبادة في مثله من كلِّ سنة.

فمن الأول: يوم الجمعة؛ ففي «صحيح مسلمٍ»(1) عن النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم: «خيرُ

--------------------------------------------

(1) رقم (854) عن أبي هريرة.
সপ্তাহের, মাসের বা বছরের অনুরূপ দিনে এ সংক্রান্ত অনুমতি দেওয়া হয়; যা ইতিপূর্বে অবগত হওয়া গিয়েছে।

পক্ষান্তরে পারিভাষিক ঈদসমূহের দিকে শরিয়ত ঈদ হিসেবে ভ্রুক্ষেপ করেনি। সেগুলোতে যেসব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিহিত ছিল, শরিয়ত সেগুলোকে প্রাকৃতিক ঈদসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছে—যেমনটি পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে—অথবা সেগুলোকে বিশেষ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করেছে; যেমন জুমার দিনের ক্ষেত্রে করা হয়েছে, যা সামনে আসবে। যদিও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মধ্যে তার যথেষ্ট উপাদান রয়েছে; কারণ ঈদুল ফিতর হলো রমজানে কুরআন নাজিলের স্মারক; যা সামনে আলোচিত হবে। আর কুরবানির ঈদ হলো দ্বীনের পূর্ণতা ও তার মর্যাদার স্মারক।

প্রচলিত প্রথা (عرف) অনুযায়ী, কোনো জাতি যদি উদাহরণস্বরূপ তাদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে এবং একাধিক বিজয় অর্জন করে, তবে তারা সেই দিনটিকেই ঈদ বা উৎসব হিসেবে গণ্য করে যে দিনে তাদের সংগ্রামের চূড়ান্ত ফলাফল অর্জিত হয়েছে।

ইসলামের ক্ষেত্রে ঈদুল আজহায় এই ভাবার্থটিই যথেষ্ট; যা সামনে আসবে। কিন্তু শরিয়ত এমন দিনগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করেছে যেগুলোতে মহান ও সাধারণ নেয়ামতসমূহ অর্জিত হয়েছে; ফলে শরিয়ত দেখেছে যে, সময়ের সাদৃশ্যতা নেয়ামতসমূহকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর নেয়ামতের স্মরণ যদিও সাজসজ্জা প্রকাশের উদ্দীপনার জন্য যথেষ্ট নয়, তবে তা শোকর বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দীপনার জন্য যথেষ্ট। তাই শরিয়ত এই জাতীয় দিনগুলোতে বিশেষ ইবাদতসমূহ বিধিবদ্ধ করেছে এবং সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে নিকটতম বিষয়টিকে গ্রহণ করেছে।

সুতরাং যখন কোনো নির্দিষ্ট দিনে নেয়ামত অর্জিত হয়েছে, তখন প্রতি সপ্তাহের সেই অনুরূপ দিনে ইবাদত নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অন্য কোনো তাৎপর্য না থাকলে এর ব্যতিক্রম করা হয়নি; যেমনটি আরাফাহর রোজা ও আশুরার দিনের ক্ষেত্রে সামনে আসবে।

আর যখন কোনো নেয়ামত কোনো মাসে অর্জিত হয়েছে, তখন প্রতি বছরের সেই অনুরূপ সময়ে ইবাদত নির্ধারিত হয়েছে।

প্রথমটির উদাহরণ হলো: জুমার দিন; কেননা সহিহ মুসলিম গ্রন্থে(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: «সর্বোত্তম

--------------------------------------------

(১) নম্বর (৮৫৪), আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৩৩)
يومٍ طلعتْ عليه [الشمسُ](1) [ص 4] يوم الجمعة؛ فيه خُلِق آدم، وفيه أُدخِلَ الجنةَ، وفيه أُخرِجَ منها، ولا تقوم الساعة إلَاّ في يوم الجمعة».

وخروج آدم عليه السلام من الجنة نعمةٌ في حقِّنا؛ لأنَّه سبب وجودِنا. وقيام الساعة نعمةٌ على المؤمنين؛ لأنَّ فيه القضاءَ لهم على أعدائهم، والأخذَ لهم بحقوقهم، بل إدخالهم الجنة، وتجلِّي الرب عز وجل لهم.

ولما كانت هذه النِّعَم عامةً لجميع بني آدم شرع الله تعالى لهم جميعًا تخصيصَ هذا اليوم؛ ولكن اقتضت حكمته عز وجل أن لا يَدُلَّهم على يوم الجمعة من أول وهلةٍ؛ بل يأمرهم بتخصيص يومٍ من الأسبوع، ويدع تعيينه إلى اجتهادهم.

ففي الصحيحين(2) عن النَّبي: «نحن الآخِرون السابقون يوم القيامة؛ بيدَ أنَّهم أُوتوا الكتابَ من قبلِنا، وأُوتيناه من بعدِهم، ثم هذا يومهم الذي فرض عليهم ــ يعني يوم الجمعة ــ فاختلفوا فيه، فهدانا الله إليه» الحديث.

وهداية هذه الأمة له: ما ثبت في السيرة وغيرها أنَّ المسلمين في المدينة قبل هجرة النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم اتفقوا ــ إمَّا بأمرٍ منه صلى الله عليه وآله وسلم أو باجتهادهم ــ على أن يخصِّصوا يومًا معيَّنًا من الأسبوع يجتمعون فيه لذكر الله تعالى والاتفاق على مصالح المسلمين؛ إذْ لا يتيسَّر لهم الاجتماع كلَّ يوم؛ لاشتغالهم بنخيلهم وتجارتهم، وغير ذلك من مصالح دنياهم، فأجمعوا على يوم الجمعة.

--------------------------------------------

(1) سقطت من الأصل.

(2) البخاري (876) ومسلم (855) عن أبي هريرة.
যে দিনগুলোতে [সূর্য](১) উদিত হয়েছে, [পৃষ্ঠা ৪] জুমআর দিন; এতে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এতে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে, এতেই তাঁকে সেখান থেকে বের করা হয়েছে এবং জুমআর দিন ব্যতীত কিয়ামত সংঘটিত হবে না।

জান্নাত থেকে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর বহির্গমন আমাদের জন্য একটি নেয়ামত; কারণ এটি আমাদের অস্তিত্বের কারণ। আর কিয়ামত কায়েম হওয়া মুমিনদের জন্য নেয়ামত; কেননা এতে তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে তাদের পক্ষে ফয়সালা হবে, তাদের অধিকার আদায় করে দেওয়া হবে, বরং তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে এবং মহান রব্ব তাদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন।

যেহেতু এই নেয়ামতসমূহ সমস্ত বনী আদমের জন্য সাধারণ, তাই আল্লাহ তাআলা তাদের সকলের জন্য এই দিনটিকে নির্দিষ্ট করার বিধান দিয়েছেন; কিন্তু মহান আল্লাহর হিকমত এটিই দাবি করেছে যে, তিনি তাদের প্রথমবারেই জুমআর দিনের দিকে পথপ্রদর্শন করবেন না; বরং তিনি তাদের সপ্তাহের একটি দিন নির্দিষ্ট করার নির্দেশ দেবেন এবং এর নির্ধারণের বিষয়টি তাদের ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ওপর ছেড়ে দেবেন।

সহীহাইন-এ(২) নবী থেকে বর্ণিত: «আমরা শেষে আগমনকারী হলেও কিয়ামতের দিন আমরাই অগ্রগামী; পার্থক্য শুধু এই যে, তাদের আমাদের পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং আমাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের পরে। অতঃপর এটিই তাদের দিন যা তাদের ওপর আবশ্যক করা হয়েছিল—অর্থাৎ জুমআর দিন—কিন্তু তারা এ বিষয়ে মতভেদ করেছিল, অতঃপর আল্লাহ আমাদের এ দিনটির দিকে পথপ্রদর্শন করেছেন» হাদিস।

আর এই উম্মতকে এর প্রতি পথপ্রদর্শন করার বিষয়টি সীরাত ও অন্যান্য কিতাবে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর হিজরতের পূর্বে মদীনার মুসলিমগণ—হয়তো তাঁর পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশে অথবা তাদের নিজেদের ইজতিহাদ (اجتهاد) দ্বারা—এই বিষয়ে একমত হয়েছিলেন যে, তারা সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিন নির্ধারণ করবেন যাতে তারা আল্লাহ তাআলার জিকিরের জন্য এবং মুসলিমদের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছার জন্য একত্রিত হবেন; যেহেতু প্রতিদিন তাদের পক্ষে একত্রিত হওয়া সম্ভব ছিল না; তাদের খেজুর বাগান, ব্যবসা এবং অন্যান্য দুনিয়াবি কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে। অতঃপর তারা জুমআর দিনের ব্যাপারে ইজমা (إجماع) করলেন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(২) বুখারি (৮৭৬) ও মুসলিম (৮৫৫), আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৩৪)
وكانت صلاة الظهر يومئذٍ ركعتين؛ كما في الصحيحين(1)، عن عائشة رضي الله عنها قالت: «فُرِضت الصلاة ركعتين، ثم هاجر رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ففُرِضَتْ أربعًا، وتُرِكَت صلاة السفر على الفريضة الأولى».

أقول: وتُرِكَت ظهر يوم الجمعة في حقّ المجتمعين الاجتماعَ المخصوص، كما هو ظاهر، وههنا مباحث علمية ليس هذا موضعها.

والمقصود: أن الله عز وجل شرع يوم الجمعة ما شرع من العبادة الزائدة على بقية الأيام؛ من الاجتماع، والخطبة، والغُسل، والسواك، والطيب، والتبكير إلى الجامع، وكثرة الصلاة قبل خروج الإمام= شكرًا له عز وجل على ما تقدَّم من النِّعَم وغيرها.

ومن الناس من يَعُدُّ يوم الجمعة عيدًا؛ لأنَّ كثيرًا مما شُرِع في العيد من التطيُّب والتنظُّف والاجتماع والخطبة، شُرِع فيه. ولأنَّه صحَّ النهي عن تخصيصه بصيام(2)؛ كما نَهَى عن صيام يوم العيد(3).

وليس هذا بظاهر.

أمَّا التطيُّب والتنظُّف فإنَّما شرعت فيه لحقوق المجتمعين؛ كما صحَّ أنَّ الصحابة كانوا أولًا يجتمعون، ومنهم من لم يغتسل ولم يتطيَّب، فيؤذي

--------------------------------------------

(1) البخاري (3935) ومسلم (685) عن عائشة.

(2) أخرجه البخاري (1985) ومسلم (1144) من حديث أبي هريرة. وفي الباب أحاديث أخرى.

(3) أخرجه البخاري (1991) ومسلم (783) من حديث أبي سعيد الخدري. وفي الباب أحاديث أخرى.
সেই সময় যোহরের সালাত দুই রাকাত ছিল; যেমনটি সহীহাইনে(১) বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «সালাত দুই রাকাত ফরজ করা হয়েছিল, অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সা.) হিজরত করলেন এবং তা চার রাকাত করা হলো, আর সফরের সালাতকে প্রথম ফরজ অনুযায়ী (অর্থাৎ দুই রাকাত) বহাল রাখা হলো»।

আমি বলি: আর যারা বিশেষ জামাতে সমবেত হয় তাদের ক্ষেত্রে জুমার দিনে যোহর পরিত্যক্ত হয়েছে, যেমনটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। এখানে কিছু জ্ঞানগর্ভ আলোচনা রয়েছে যা করার স্থান এটি নয়।

উদ্দেশ্য হলো: মহান আল্লাহ জুমার দিনে অন্যান্য দিনের তুলনায় অতিরিক্ত যা কিছু ইবাদত বিধিবদ্ধ করেছেন; যেমন—সমবেত হওয়া, খুতবা, গোসল, মেসওয়াক করা, সুগন্ধি লাগানো, মসজিদে আগেভাগে যাওয়া এবং ইমাম বের হওয়ার পূর্বে অধিক পরিমাণে সালাত আদায় করা—তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে প্রদত্ত নেয়ামত ও অন্যান্য বিষয়ের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ।

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ জুমার দিনকে ঈদ হিসেবে গণ্য করেন; কারণ ঈদের দিনে সুগন্ধি ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা অর্জন, সমবেত হওয়া ও খুতবার মতো যা কিছু বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, তা এই দিনেও বিধিবদ্ধ। এছাড়া দিনটিকে সওমের জন্য নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা সহিহ (صح)(২) প্রমাণিত হয়েছে; যেমনটি ঈদের দিনে সওম পালন করতে নিষেধ করা হয়েছে(৩)।

কিন্তু এটি সুস্পষ্ট নয়।

সুগন্ধি ব্যবহার ও পরিচ্ছন্নতা অর্জনের বিষয়টি সেখানে সমবেতদের হকের কারণে বিধিবদ্ধ হয়েছে; যেমনটি সহিহ (صح) প্রমাণিত হয়েছে যে, সাহাবীগণ প্রথম দিকে যখন সমবেত হতেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ গোসল করতেন না এবং সুগন্ধি মাখতেন না, ফলে তা কষ্টের কারণ হতো...

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৩৯৩৫) ও মুসলিম (৬৮৫), আয়েশা (রা.) থেকে।

(২) বুখারি (১৯৮৫) ও মুসলিম (১১৪৪) এটি আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে আরও হাদিস রয়েছে।

(৩) বুখারি (১৯৯১) ও মুসলিম (৭৮৩) এটি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে আরও হাদিস রয়েছে।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৩৫)
بعضهم بعضًا، فأُمِرُوا بذلك(1).

وأمَّا الاجتماع والخطبة فأمر مصلحيٌّ لا يقتضي أن يُعَدَّ ذلك اليوم عيدًا.

وأمَّا النهي عن تخصيص يوم الجمعة بالصيام؛ فلو كان لأنَّه عيدٌ لنَهَى عن صيامه مطلقًا، وليس كذلك؛ وإنَّما نَهَى أن يُصام وحده، فلو صامه مع الخميس [ص 5] أو مع السبت صحَّ؛ كما ثبت عنه صلى الله عليه وآله وسلم(2).

وههنا فائدةٌ يتعطَّش إليها القارئ، وإن كانت خارجةً عن الموضوع وهي حكمة النهي عن تخصيص يوم الجمعة بصيامٍ، وليله بقيام.

فأقول: قد قيل: لأنَّه عيدٌ، وقد تقدَّم ما فيه.

وقيل: لئلا يَضعُفَ بقيام ليلته وصيامه عن العبادات المشروعة فيه.

وهذا أيضًا باطلٌ؛ لجواز قيام ليلته لمن يريد قيام ليلة السبت، وصيامه لمن يريد صيام يوم السبت؛ كما تقدَّم. والضعف حاصلٌ هنا، وقيل، وقيل.

وعندي أنَّه صلى الله عليه وآله وسلم إنَّما نَهَى عن ذلك؛ لأنَّ الله عز وجل لم يشرع التخصيص بذلك. وربما يتوَّهم بعض الناس مشروعية التخصيص بذلك لما ليوم الجمعة من الفضيلة؛ فبيَّن صلى الله عليه وآله وسلم أنَّ فضيلة اليوم لا تقتضي مشروعية تَخصيصِه بجميع العبادات؛ بأن يكون لها فيه أجرٌ أعظم منها في سواه؛ وإنَّما يشرع التخصيص بالعبادة التي شرع الله تعالى التخصيص بها.

فيوم الجمعة بالنسبة إلى قيام ليلته وصيام نهاره بمنزلة يوم الثلاثاء في أنَّ الله عز وجل لم يشرع تخصيص كل منهما بذلك. فمن خصَّص أحدهما

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (903) ومسلم (847) من حديث عائشة رضي الله عنها.

(2) في الحديث الذي خرجناه آنفا.
তারা একে অপরের [গন্ধে কষ্ট পেত], ফলে তাদের এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হলো(১)।

আর সমবেত হওয়া ও খুতবা প্রদান করা একটি কল্যাণমূলক বিষয়, যা এই দিনটিকে ঈদ হিসেবে গণ্য করাকে আবশ্যক করে না।

আর জুমার দিনকে রোজা পালনের জন্য নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে; তা যদি ঈদ হওয়ার কারণে হতো, তবে তিনি সেই দিনে রোজা রাখা পূর্ণরূপে (مطلقًا) নিষেধ করতেন। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং তিনি কেবল জুমার দিনটিকে একাকী রোজা রাখার জন্য নির্দিষ্ট করতে নিষেধ করেছেন। অতএব, কেউ যদি বৃহস্পতিবারসহ [পৃষ্ঠা ৫] অথবা শনিবারসহ রোজা রাখে, তবে তা সহিহ (صحيح) হবে; যেমনটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে(২)।

এখানে একটি তাত্ত্বিক বিষয় (ফায়দা) রয়েছে যার প্রতি পাঠক তৃষ্ণার্ত হতে পারে, যদিও তা মূল প্রসঙ্গের বাইরে; আর তা হলো জুমার দিনকে রোজা এবং জুমার রাতকে কিয়াম (সালাত) এর জন্য নির্দিষ্ট করার নিষেধাজ্ঞার হিকমত (রহস্য)।

আমি বলছি: বলা হয়ে থাকে যে, এটি ঈদ হওয়ার কারণে; তবে এ বিষয়ে যা আপত্তি আছে তা আগেই আলোচিত হয়েছে।

আরও বলা হয়েছে: যাতে ওই রাতের কিয়াম ও দিনের রোজার কারণে ওই দিনে শরয়ি ইবাদতসমূহ পালনে সে দুর্বল (ضعيف) হয়ে না পড়ে।

এই মতটিও বাতিল (باطل); কারণ যে ব্যক্তি শনিবারের রাতে কিয়াম করতে চায় তার জন্য জুমার রাতে কিয়াম করা জায়েজ (جائز), এবং যে ব্যক্তি শনিবার রোজা রাখতে চায় তার জন্য জুমার দিনে রোজা রাখা জায়েজ (جائز); যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ দুর্বলতা তো এখানেও বিদ্যমান থাকে। এ ছাড়াও আরও নানা মত ব্যক্ত করা হয়েছে।

আমার মতে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কেবল এজন্যই এটি নিষেধ করেছেন যে, আল্লাহ عز وجল একে নির্দিষ্ট করার কোনো বিধান প্রবর্তন করেননি। হয়তো জুমার দিনের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে কিছু মানুষ একে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করাকে বিধিসম্মত মনে করার ধারণা (وهم) পোষণ করতে পারে; তাই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো দিনের শ্রেষ্ঠত্ব সকল প্রকার ইবাদতের জন্য একে নির্দিষ্ট করার বৈধতা দাবি করে না—যাতে অন্য দিনের তুলনায় এতে অধিক সওয়াব অর্জিত হয়। বরং কেবল সেই ইবাদতের মাধ্যমেই একে বিশিষ্ট করা বিধেয় হবে, যা আল্লাহ তাআলা সুনির্দিষ্টভাবে প্রবর্তন করেছেন।

অতএব, জুমার রাতের কিয়াম ও দিনের রোজার বিষয়টি মঙ্গলবার বা অন্য দিনের মতোই; কেননা আল্লাহ عز وجল এর কোনোটিকেই এগুলোর জন্য নির্দিষ্ট করেননি। সুতরাং যে ব্যক্তি এর কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করল...

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি (৯০৩) ও মুসলিম (৮৪৭) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

(২) ইতিপূর্বে আমরা যে হাদিসটি তাখরিজ (خرجناه) করেছি তাতে এটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৩৬)
ظانًّا أنَّ أجر ذلك فيه أعظم من غيره فهو مبتدعٌ.

وإنَّما نصَّ النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم على يوم الجمعة لأنَّه مظنَّة أن يتوهَّم الناس فيه زيادة الأجر لفضيلته. ولذلك أكَّد صلى الله عليه وآله وسلم النهي عن صيامه، حتى لمن لم يتعمَّد تخصيصَه التماسًا لزيادة الأجر.

ولم يقل ذلك في يوم الثلاثاء مثلًا؛ فلو صامه أحدنا وحدَه غيرَ متعمِّدٍ للتخصيص، وإنَّما وقع ذلك اتفاقًا، ما كان بذلك بأسٌ.

نعم، لما كان في الأعمال المشروعة في الجمعة ما فيه حظٌّ للنفس شرع الله تعالى للأمة صيام يوم الخميس؛ ليكون الصائم له مستحقًّا لما يكون في يوم الجمعة من حظِّ النفس. ولا ينافي ذلك ما جاء من حكمة استحباب صوم يوم الخميس؛ بأنَّه يومٌ تُعرَض فيه الأعمال(1).

ومن ذلك يوم الاثنين؛ ففي «صحيح مسلم»(2) عن أبي قتادة قال: سُئل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عن صوم يوم الاثنين؛ فقال: «فيه وُلِدْتُ، وفيه أُنزِل عليَّ».

فشرع الله تعالى للمسلمين صيام يوم الاثنين؛ شكرًا على هاتين النِّعَمتين العظيمتين: ولادة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم، وإنزال القرآن عليه(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي (747) من حديث أبي هريرة، وفي سنده محمد بن رفاعة بن ثعلبة القرظي، لم يوثقه غير ابن حبان. ولكن للحديث شواهد منها حديث أسامة بن زيد الذي أخرجه أبو داود (2436) والنسائي (4/ 201، 202)، وبمجموعهما يرتقي الحديث إلى الحسن.

(2) رقم (1162/ 198).

(3) في هامش (ص 1) عبارة تناسب السياق المذكور هنا: «ولأنه لو فُتح هذا الباب لآل إلى تعميم الأيام، إذ لم يبقَ غيرُ خمسة أيام، وهي ما عدا الاثنين والخميس، وفي ذلك حرجٌ يؤدي إمّا إلى الاشتغال عن المصالح، وإمَّا إلى التهاون بالجميع».
ধারণা করা যে এতে অন্য দিনের তুলনায় সওয়াব বেশি হবে, তবে তিনি বিদআতকারী (مبتدع)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন কারণ এতে মানুষের মনে ধারণা জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে যে, এর ফজিলতের কারণে এতে সওয়াব বেশি। এ কারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) সওয়াব বৃদ্ধির আশায় ইচ্ছাকৃতভাবে এদিনকে নির্দিষ্ট না করলেও রোজা রাখার ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

উদাহরণস্বরূপ, তিনি মঙ্গলবার সম্পর্কে এমনটি বলেননি; ফলে আমাদের কেউ যদি এদিন ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট না করে একা রোজা রাখে এবং তা কেবল দৈবক্রমে ঘটে যায়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।

হ্যাঁ, জুমার দিনের শরিয়তসম্মত আমলগুলোর মধ্যে যেহেতু নফসের তৃপ্তির কিছু বিষয় রয়েছে, তাই আল্লাহ তাআলা উম্মতের জন্য বৃহস্পতিবারের রোজা রাখা বিধিবদ্ধ করেছেন; যাতে সেই রোজাদার জুমার দিনের নফসের তৃপ্তির হকদার হতে পারে। আর এটি বৃহস্পতিবার রোজা রাখা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার হিকমত হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে—যে এটি আমলসমূহ পেশ করার দিন—তার পরিপন্থী নয়।(১)

তেমনিভাবে সোমবারও; সহিহ মুসলিম-এ(২) আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; তিনি বললেন: «এই দিনে আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এই দিনেই আমার ওপর (কুরআন) অবতীর্ণ করা হয়েছে।»

সুতরাং আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জন্য সোমবারের রোজা বিধিবদ্ধ করেছেন এই দুটি মহান নিয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে: তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্ম এবং তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হওয়া।(৩)

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিজি (৭৪৭) আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, এর সনদে (سنده) মুহাম্মদ ইবনে রিফায়া ইবনে সালাবা আল-কুরাজি রয়েছেন, যাকে ইবনে হিব্বান ছাড়া কেউ নির্ভরযোগ্য (وثقه) হিসেবে উল্লেখ করেননি। তবে এই হাদিসের কিছু সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে, যার মধ্যে উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-এর হাদিসটি রয়েছে যা আবু দাউদ (২৪৩৬) ও নাসায়ি (৪/২০১, ২০২) বর্ণনা করেছেন। আর উভয়টির সমষ্টিতে হাদিসটি হাসান (الحسن) স্তরে উন্নীত হয়।

(২) নং (১১৬২/ ১৯৮)।

(৩) ১ নং পৃষ্ঠার টীকায় একটি বাক্য রয়েছে যা এখানে উল্লিখিত প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ: «কারণ যদি এই দরজা খুলে দেওয়া হয়, তবে তা সব দিনের সাধারণীকরণের দিকে নিয়ে যাবে, যেহেতু সোমবার এবং বৃহস্পতিবার বাদে মাত্র পাঁচটি দিন বাকি থাকে। আর এতে এমন সংকীর্ণতা তৈরি হবে যা হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে বিমুখ করবে অথবা সবকিছুর প্রতি অবজ্ঞার দিকে নিয়ে যাবে।»
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৩৭)
وبهذا مع ما تقدّم عُلِمَ الجواب عن طعن بعض أهل الأديان في الإسلام؛ بأنَّه لم يشرع لأهله أن يتّخذوا يوم ولادة رسوله صلى الله عليه وآله وسلم، أو يوم بَعْثِه عيدًا.

وطعن بعضهم في القرون الإسلامية الأولى بذلك؛ لأنَّه لم يحدث الاحتفاء بيوم 12 ربيع الأول إلَاّ في القرن ......(1).

فيقال لهم: إنَّ النِّعْمة كان حدوثها يومَ وُلِد صلى الله عليه وآله وسلم[ص 6]، ويوم بُعِث؛ وأمَّا مثل ذلك اليوم من كل أسبوع، أو شهر، أو فصل، أو سنة= فلا يحدث فيه إلَّا تذكُّر النِّعْمة. وتذكُّر النِّعْمة لا يُحْدِث في النفس سرورًا دنيويًّا، يبعثها على إظهار الزينة حتى ينبغي أن نتّخذه عيدًا، وإنَّما يُحدِث فيها سرورًا دينيًّا يبعثها على شكر تلك النِّعْمة.

وقد شرع الله عز وجل لنا أقرب الأمثال لذلك اليوم، وهو مثله من كل أسبوع؛ أن نقوم بشكره عز وجل على تَينكَ النِّعمتين العظيمتين؛ بعبادةٍ خالصة عن حظِّ النفس، وهي الصيام الذي يناسب السرور الديني، فإن السرور الديني يبعث على الرغبة عن الدنيا.

وقد ذكَّرني هذا الاعتراض ما صحَّ أنَّ اليهود قالوا لعمر بن الخطاب رضي الله عنه: آيةٌ في كتابكم معشرَ المسلمين لو علينا معشرَ اليهود نزلت لاتخذنا ذلك اليوم عيدًا: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3]. فأجابهم الفاروق رضي الله عنه بأنَّها

--------------------------------------------

(1) بياض في الأصل. ومعلوم أن ابتداء الاحتفال بالمولد كان في القرن السادس على يد السلطان المظفر كوكبوري صاحب إربل، والله المستعان.
এর মাধ্যমে এবং ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে তার দ্বারা অন্য কিছু ধর্মাবলম্বীদের ইসলামের প্রতি করা সেই আপত্তির জবাব জানা যায়; (তাদের আপত্তিটি ছিল) ইসলাম তার অনুসারীদের জন্য তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের জন্ম দিবস অথবা তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির দিবসকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করার বিধান দেয়নি।

এবং তাদের কেউ কেউ প্রথমদিকের ইসলামি শতাব্দীগুলোর প্রতিও এর মাধ্যমে আপত্তি তুলেছেন; কারণ ১২ই রবিউল আউয়াল উদযাপনের বিষয়টি মূলত ......(১) শতাব্দী ছাড়া ঘটেনি।

তাদের জবাবে বলা হবে: মূলত নেয়ামত (অনুগ্রহ) সংঘটিত হয়েছিল সেই দিনটিতে যেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন [পৃষ্ঠা ৬] এবং যেদিন তিনি নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছিলেন; কিন্তু প্রতি সপ্তাহ, মাস, ঋতু বা বছরের সেই দিনটির মতো দিনগুলোতে কেবলমাত্র সেই নেয়ামতের স্মৃতিচারণই হয়ে থাকে। আর নেয়ামতের স্মৃতিচারণ অন্তরে এমন কোনো জাগতিক আনন্দ তৈরি করে না যা তাকে সাজসজ্জা প্রদর্শনে উদ্বুদ্ধ করবে, যার ফলে আমাদের উচিত হবে দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা; বরং এটি অন্তরে এক প্রকার ধর্মীয় আনন্দ সৃষ্টি করে যা তাকে সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ে অনুপ্রাণিত করে।

আর মহান আল্লাহ আমাদের জন্য সেই দিনের নিকটতম উদাহরণ বিধিবদ্ধ করেছেন, যা হলো প্রতি সপ্তাহের অনুরূপ দিন; যাতে আমরা এই মহান দুটি নেয়ামতের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে পারি; প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে মুক্ত এক বিশুদ্ধ ইবাদতের মাধ্যমে, আর তা হলো রোজা যা ধর্মীয় আনন্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা ধর্মীয় আনন্দ পার্থিবতা বিমুখতার দিকে ধাবিত করে।

এই আপত্তিটি আমাকে সেই বিশুদ্ধ (صحيح) বর্ণনার কথা মনে করিয়ে দিল যেখানে ইহুদিরা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিল: "হে মুসলিম সম্প্রদায়! আপনাদের কিতাবে এমন একটি আয়াত আছে, যা যদি আমাদের ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর অবতীর্ণ হতো, তবে আমরা সেই দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} [মায়েদাহ: ৩]।" জবাবে ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের বললেন যে...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে স্থানটি শূন্য রয়েছে। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, মিলাদ বা জন্মোৎসব উদযাপনের সূচনা হয়েছিল ষষ্ঠ শতাব্দীতে ইরবিলের অধিপতি সুলতান মুজাফফর কুকবুরীর হাতে। আল্লাহই সাহায্যকারী।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৩৮)
نزلت يوم الجمعة يوم عرفة؛ والنَّبي صلى الله عليه وآله وسلم بعرفةَ(1).

يعني: وكلاهما يوم عبادة شرعها الله تعالى للمسلمين، فيوم عرفة يوم شُرِع فيه للحجاج الوقوف بعرفات، وذكر الله تعالى، ولغيرهم الصيام، ويوم الجمعة قد تقدم العبادات التي فيه. والعبادة هي التي ينبغي عملها عند تذكُّر النِّعَم لا الزينة.

وعندي: أنَّ هذا الاعتراض من خُبْثِ المغضوب عليهم ــ قاتلهم الله ــ؛ طمعوا أن يَستزِلُّوا المسلمين إلى إحداثٍ يخالفون به نفس تلك الآية العظيمة؛ فكبَتَهم الله: {وَرَدَّ اللَّهُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِغَيْظِهِمْ لَمْ يَنَالُوا خَيْرًا وَكَفَى اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ الْقِتَالَ وَكَانَ اللَّهُ قَوِيًّا عَزِيزًا} [الأحزاب: 25].

ولكن المسلمين ــ ويا للأسف ــ نَسُوا صومَ يوم الاثنين وما في صومه من شكر الله عز وجل، وما يتضمَّن ذلك من محبَّته صلى الله عليه وآله وسلم؛ حتى إنَّ أكثرهم يجهل ذلك. ولم أرَ طولَ عمري من يصومه بتلك النيَّة، ولا مَن يذكره؛ إلَاّ أنني سمعتُ مَن يذكر الحديثَ احتجاجًا على مشروعية الاحتفاء بثاني عشر ربيع الأول؛ فالله المستعان.

فأمَّا صوم يوم عاشوراء فكان من بقايا شرائع الأنبياء المتقدّمين، وجاء: أنَّه اليوم الذي أنجى الله تعالى [فيه] موسى وقومه، وغرَّق فرعون وقومه. فصامه موسى عليه السلام، وأمر بصيامه، وصامه النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم، وأرشد إلى صيامه(2)؛ عملًا بقول الله عز وجل: {فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ} [الأنعام: 90].

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (45، 4407) ومسلم (3017) من حديث طارق بن شهاب عن عمر.

(2) أخرجه البخاري (2004) ومسلم (1130) من حديث ابن عباس.
এটি জুমুআর দিনে এবং আরাফাতের দিনে অবতীর্ণ হয়েছিল; আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) তখন আরাফাতে অবস্থান করছিলেন(১)।

অর্থাৎ: এই উভয় দিনই ইবাদতের দিন যা আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আরাফাতের দিনটি এমন একটি দিন যাতে হাজীদের জন্য আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা এবং আল্লাহ তাআলার জিকির করার বিধান দেওয়া হয়েছে, আর অন্যদের জন্য রোজা রাখার বিধান দেওয়া হয়েছে। আর জুমুআর দিনের আমলসমূহ তো পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে। মূলত নেয়ামতসমূহ স্মরণ করার সময় ইবাদত করাই বাঞ্ছনীয়, সাজসজ্জা নয়।

আর আমার মতে: এই আপত্তিটি অভিশপ্তদের—আল্লাহ তাদের বিনাশ করুন—হীন চক্রান্তের অংশ; তারা আশা করেছিল যে, মুসলিমদের এমন কোনো নবউদ্ভাবিত বিষয়ের দিকে পদস্খলিত করবে যার মাধ্যমে তারা সেই মহান আয়াতেরই বিরোধিতা করবে। ফলে আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করেছেন: {আর আল্লাহ কাফিরদেরকে তাদের ক্ষোভসহ ফিরিয়ে দিলেন, তারা কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারেনি। আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য যুদ্ধে যথেষ্ট হয়ে গেছেন। আল্লাহ শক্তিশালী, পরাক্রমশালী।} [আল-আহযাব: ২৫]।

কিন্তু মুসলিমরা—হায় আফসোস—সোমবারের রোজা এবং এই রোজার মাধ্যমে আল্লাহ মহান ও মহিমান্বিতের যে শুকরিয়া আদায় হয়, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি যে ভালোবাসা এতে নিহিত রয়েছে, তা তারা ভুলে গেছে; এমনকি তাদের অধিকাংশ মানুষই এ বিষয়ে অজ্ঞ। আমি আমার দীর্ঘ জীবনে এই নিয়তে কাউকে রোজা রাখতে দেখিনি, এমনকি কাউকে তা উল্লেখ করতেও শুনিনি; তবে আমি কাউকে কাউকে বারোই রবিউল আউয়াল উদযাপনের বৈধতার সপক্ষে দলিল হিসেবে এই হাদিসটি উল্লেখ করতে শুনেছি; সাহায্য কেবল আল্লাহরই নিকট প্রার্থনীয়।

পক্ষান্তরে আশুরার রোজা ছিল পূর্ববর্তী নবীদের শরিয়তের অবশিষ্টাংশ। বর্ণিত আছে যে: এটি সেই দিন যেদিন আল্লাহ তাআলা মূসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর কওমকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার কওমকে নিমজ্জিত করেছিলেন। ফলে মূসা (আলাইহিস সালাম) রোজা রেখেছিলেন এবং রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) নিজেও রোজা রেখেছেন এবং রোজা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন; আল্লাহ মহান ও মহিমান্বিতের এই বাণীর ওপর আমল স্বরূপ: {সুতরাং তাদের প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করো।} [আল-আনআম: ৯০]।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৪৫, ৪৪০৭) ও মুসলিম (৩০১৭) এটি তারিক ইবনে শিহাবের সূত্রে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারি (২০০৪) ও মুসলিম (১১৩০) এটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৩৯)
وقد كانت أيامٌ حدثتْ فيها نِعَمٌ في العهد النبوي، ولم يشرع تخصيص أمثالها بعبادةٍ اكتفاءً عنه بغيرها. وبما أنَّ الله تعالى قد أكمل الدين؛ فليس لأحدٍ إحداثُ شيء من ذلك.

وهكذا الأيام التي حدثت فيها النِّعَم بعد العهد النبوي ليس لأحدٍ تخصيصُ أمثالها بعبادةٍ مخصوصةٍ؛ لأن الدِّين قد كمل في حياة الرسول صلى الله عليه وآله وسلم، ولأنّ كل نعمةٍ عامةٍ للمسلمين حدثَتْ بعده صلى الله عليه وآله وسلم فهي فرعٌ عن النِّعَم التي حدثتْ في عهده عليه الصلاة والسلام.

ومن الباب ــ أعني حدوثَ النِّعْمة في شهرٍ ــ: شهر رمضان، قال الله عز وجل: {شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} [البقرة: 185]. فالفاء في قوله: {فَمَنْ} للتعليل؛ تدلُّ على أنَّ ما قبلها علّة لما بعدها. ومثلُ (الشهر) إنَّما يحصل في السنة مرّةً، وهذا واضحٌ بحمد الله تعالى.

[ص 7] ومن ذلك: تسع ذي الحجة؛ شرع الله تعالى لغير الحاجّ صيامها، وعدَّه شكرًا له عز وجل على تيسير طريق الحج لإخوانهم، وعلى النِّعَم التي شرع الحج شكرًا لها. وأكَّد لهم صوم يوم عرفة؛ لأنَّه يوم الحج الأكبر. وإخوانهم من جميع بلدان المسلمين قد برز فيهم الاجتماع الحسيّ بأجلى مظاهره؛ وهو رمز إلى اجتماع كلمة المسلمين جميعًا. وتلك من أعظم النِّعَم التي يجب شكرها لغيرهم، والله أعلم.

فأمَّا سبب تخصيص الحج بالأيام من ذي الحجة فلم أستحضر الآن الأصلَ في ذلك؛ إلَاّ أنَّ الاستقراء يدلُّ على أنَّ لذلك سببًا، من جنس ما تقدَّم.
নবুওয়তের যুগে এমন অনেক দিন অতিবাহিত হয়েছে যাতে বিভিন্ন নিআমত অবতীর্ণ হয়েছিল, কিন্তু অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে যথেষ্ট হওয়ার কারণে সেগুলোর অনুরূপ দিনগুলোকে বিশেষ কোনো ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করা শরিয়তসম্মত করা হয়নি। যেহেতু মহান আল্লাহ দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন, তাই কারো পক্ষেই এর মধ্যে নতুন কোনো কিছুর উদ্ভাবন (إحداث) করার অবকাশ নেই।

অনুরূপভাবে নবুওয়তের যুগের পরবর্তী সময়ে যেসব দিনে নিআমত অর্জিত হয়েছে, সেসবের অনুরূপ দিনগুলোকে বিশেষ কোনো ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করার অধিকার কারো নেই; কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবদ্দশাতেই দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে মুসলিমদের জন্য অর্জিত প্রতিটি সাধারণ নিআমত মূলত তাঁর যুগে সংঘটিত নিআমতসমূহেরই একটি শাখা।

আর এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ কোনো মাসে নিআমত সংঘটিত হওয়া—হলো রমজান মাস। মহান আল্লাহ বলেন: {রমজান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে} [আল-বাকারা: ১৮৫]। এখানে ‘ফাম্মান’ শব্দের অন্তর্গত ‘ফা’ অক্ষরটি কারণ দর্শানোর (تعليل) জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; যা নির্দেশ করে যে এর পূর্ববর্তী বিষয়টি পরবর্তী বিষয়টির জন্য কারণ (علّة)। আর এই মাসের মতো সময় বছরে মাত্র একবারই আসে, আল্লাহর প্রশংসায় এটি অত্যন্ত স্পষ্ট।

[পৃষ্ঠা ৭] এর অন্তর্ভুক্ত আরও কিছু হলো: জিলহজ মাসের প্রথম নয় দিন; হাজি নন এমন ব্যক্তিদের জন্য মহান আল্লাহ এ দিনগুলোতে রোজা রাখা বিধিবদ্ধ করেছেন এবং একে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ গণ্য করেছেন তাদের ভাইদের জন্য হজের পথ সহজ করে দেওয়ার কারণে এবং সেই সকল নিআমতের কারণে যেগুলোর শুকরিয়া হিসেবে হজ পালন করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। তাদের জন্য আরাফাতের দিনের রোজার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; কারণ এটি হজে আকবরের দিন। মুসলিমদের সকল দেশ থেকে আগত তাদের ভাইদের মধ্যে দৃশ্যমান ঐক্যের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ সেখানে ফুটে ওঠে; যা মূলত সকল মুসলিমের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি প্রতীক। আর এটি হলো মহান নিআমতসমূহের অন্তর্ভুক্ত যার জন্য অন্যদের শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

তবে জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে হজ পালনের কারণ সম্পর্কে এই মুহূর্তে আমার নিকট কোনো মূল দলীল (أصل) উপস্থিত নেই; তবে আরোহ পদ্ধতি (استقراء) এটিই নির্দেশ করে যে, এর পেছনে অবশ্যই কোনো কারণ রয়েছে যা পূর্বে বর্ণিত বিষয়গুলোরই সদৃশ।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৪০)
وعلى كل حال، فليس المقصود هنا استيفاء العبادات، وإنَّما المقصود: بيان أن الأيام التي تحدثُ فيها النِّعَم العظام مرَّة من الزمان لا يجعلها الشرع أعيادًا، وإنَّما يجعلها مواسم للعبادات؛ شكرًا على تلك النِّعَم، مع حِكَمٍ أخرى.

أمَّا المقاصد السياسية في الأعياد فأهمها: الاجتماع؛ ليطَّلع كلٌّ من أفراد الأمة على أحوال غيره، ويتبادلوا الأفكار، ويوحدوا صفَّهم، وغير ذلك.

وقد راعتِ الشريعة الإسلامية الاجتماعَ على غاية ما يمكن؛ فشُرِعَت الجماعة في الصلوات الخمس لأهل كل قريةٍ أو محلّةٍ، وشُرِعَ تقليل المساجد وتوسيعُها؛ حتى لا يزيد عددها على قدر الحاجة، فيكون الزائد كمسجد الضرار تفريقًا بين المؤمنين، مع ما في ذلك من تحجير البقعة لغير حاجةٍ، وكان يمكن أن تنفع المسلمين باتخاذها مدرسةً أو نحوها.

وبعض الأئمة يرى أنَّ الجماعة فرض عينٍ؛ بل منهم من جعلها من شروط الصلاة.

ثم شُرِعت الجمعة ليجتمع أهل كل مدينةٍ في مسجدٍ واحدٍ؛ ولذلك لم يُجوِّز بعضُ الأئمة تعدُّد الجمع في البلد الواحد وإن اتّسعَ وضاق المسجد، بل يجب على المسلمين توسيع المسجد ولو إلى أميال. وهذا هو الموافق للسنة، وعمل القرون الأولى مع اتساع المدن وكثرة الناس، وهو الموافق لحكمة الاجتماع.

ثم شُرِع العيد لاجتماعٍ أعمَّ من الجمعة؛ حتى شُرع فيه إخراج النساء؛ صغارًا وكبارًا، حتى الحيَّض ــ كما مرَّ ــ. وبعض الأئمة يرى أن العيد فريضة.
যাই হোক, এখানে উদ্দেশ্য ইবাদতসমূহের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো: এটি স্পষ্ট করা যে, সময়ের পরিক্রমায় যে দিনগুলোতে মহান নেয়ামতরাজি অবতীর্ণ হয়, শরয়ি বিধান সেগুলোকে ঈদ হিসেবে সাব্যস্ত করেনি। বরং সে নেয়ামতগুলোর শোকরিয়া জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে অন্যান্য হিকমতের পাশাপাশি সেগুলোকে ইবাদতের বিশেষ মৌসুম হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

আর ঈদসমূহের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: সমবেত হওয়া; যাতে উম্মাহর প্রত্যেক সদস্য অন্যের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হতে পারে, একে অপরের সাথে চিন্তা-ভাবনা বিনিময় করতে পারে এবং নিজেদের কাতার বা ঐক্য সুসংহত করতে পারে ইত্যাদি।

ইসলামি শরিয়ত এই সমাবেশকে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে; তাই প্রতিটি গ্রাম বা মহল্লার অধিবাসীদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করার বিধান দেয়া হয়েছে। এছাড়া মসজিদের সংখ্যা সীমিত রাখা এবং সেগুলো প্রশস্ত করার বিধান দেয়া হয়েছে; যাতে মসজিদের সংখ্যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত না হয়, ফলে অতিরিক্ত মসজিদ মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে 'মসজিদে দিরার'-এর মতো হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া এতে অপ্রয়োজনে কোনো স্থানকে আটকে রাখার অবকাশ থাকে না, যা কোনো মাদ্রাসা বা এজাতীয় কোনো কাজে ব্যবহার করে মুসলমানদের উপকারে আসা সম্ভব ছিল।

কোনো কোনো ইমাম মনে করেন যে, জামাত হলো ব্যক্তিগত আবশ্যিক কর্তব্য (فرض عين); এমনকি তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে নামাজের অন্যতম শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন।

এরপর জুমার বিধান দেয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি শহরের অধিবাসী একটি মসজিদে সমবেত হতে পারে। এ কারণেই কোনো কোনো ইমাম একই শহরে একাধিক জুমার জামাত বৈধ মনে করেননি, যদিও শহরটি প্রশস্ত হয় কিংবা মসজিদটি সংকীর্ণ হয়। বরং মুসলমানদের ওপর কর্তব্য হলো মসজিদের পরিধি বৃদ্ধি করা, এমনকি তা কয়েক মাইল পর্যন্ত হলেও। এটিই সুন্নাহ (السنة) এবং শহরগুলোর বিস্তৃতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি সত্ত্বেও ইসলামের প্রথম তিন যুগের (القرون الأولى) আমলের সাথে সংগতিপূর্ণ; আর এটিই সমাবেশের হিকমতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অতঃপর জুমার চেয়েও ব্যাপকতর সমাবেশের জন্য ঈদের বিধান দেয়া হয়েছে; এমনকি এতে ছোট-বড় সকল নারীকে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এমনকি ঋতুবতী নারীদের ক্ষেত্রেও—যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। কোনো কোনো ইমামের মতে ঈদ পালন করা আবশ্যিক (فريضة)।
(খণ্ড: ১৭) ফালসাফাতুল আইয়াদ ওয়া হিকমাতুল ইসলাম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫৪১)
ثم شُرع الحج؛ ليجتمع في موضعٍ واحدٍ جميعُ المسلمين.

هذا هو الأصل؛ على ما تقدَّم. ولكن ــ ويا للأسف ــ المسلمون جهلوا هذه الحِكَم؛ فقليلٌ منهم يجتمعون هذا الاجتماعات المشروعة، والمجتمعون قليلًا ما يبحثون عن مصالحهم. حتى إنَّ الخطب الجُمعية والعيدية والحَجّيَّة تراها بمعزلٍ عن هذا.

وأكثر الحجَّاج لا يبحثون عن شيء من مصالح المسلمين في سائر الأقطار.

اللهم أَيقِظِ المسلمين لتدبُّر دينهم الكافل لمصالح دنياهم وأخراهم، بيدك الخير، وعلى كل شيء قدير(1).

--------------------------------------------

(1) إلى هنا انتهت الرسالة. وقد كتب المؤلف على صفحة غلافها ما يلي:

ما عليه كثير من الناس [من ذكر] الأيام التي وقعتْ في مثلها بليَّة أو مصيبة؛ كما كان … وكما يفعله النصارى في تذكار صلب المسيح عليه السلام، وأيام قتل الشهداء، وغير ذلك، لا يُعلَم في الإسلام شيءٌ من ذلك.

وسببه أنَّ المشروع عند المصائب الصبر؛ فإذا شرع ذلك في يوم حدوث المصيبة فبالأولى فيما يماثله من الأيام؛ لأنَّه لم يحدُثْ في المثل شيءٌ.

وأمَّا ما سُمِح به يومَ حدوثِ المصيبة من إراقة الدمع؛ فذلك لأنَّه أمرٌ طبيعيٌ، لا يُستطاع دفعُه، ولا يكون هكذا في مثل ذلك اليوم.

وهكذا ما أُمِرتْ به زوجةُ المتوفى من الإحداد فهو أمرٌ خاصٌّ بها لمدَّةٍ معيَّنةٍ، وقد صحَّ النهي عما عدا ذلك.

 

وإذا تأمّل العاقل وجد أنَّ هذا النوع من الأعياد يُنتِج نقيضَ المقصود؛ ولأننا نرى الأقوام المعتنين بها تكون حالُهم فيها حالَ سرورٍ وفرحٍ، ولهو ولعب؛ إذا استثنينا بعض الحركات التكلُّفية التي أصبحت مظهرًا من مظاهر اللهو واللعب أيضًا، والله المستعان.
এরপর হজ প্রবর্তন করা হয়েছে; যাতে সকল মুসলিম এক স্থানে সমবেত হতে পারে।

এটিই হলো মূল ভিত্তি (الأصل); যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু—হায় পরিতাপের বিষয়—মুসলিমগণ এই প্রজ্ঞাসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞ রয়ে গেছে; ফলে তাদের মধ্য থেকে খুব সামান্য অংশই এই বিধিবদ্ধ (المشروعة) সমাবেশগুলোতে একত্রিত হয়, আর যারা একত্রিত হয় তারাও তাদের স্বার্থ ও কল্যাণ নিয়ে খুব একটা আলোচনা করে না। এমনকি জুমআ, ঈদ এবং হজের খুতবাগুলোকেও আপনি এ থেকে বিচ্ছিন্ন দেখতে পাবেন।

আর অধিকাংশ হাজি বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের মুসলিমদের কল্যাণের কোনো বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করেন না।

হে আল্লাহ! মুসলিমদেরকে তাদের দ্বীন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য জাগ্রত করে দিন, যা তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জিম্মাদার। আপনার হাতেই সকল কল্যাণ, আর আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান(১)।

--------------------------------------------

(১) এখান পর্যন্তই পুস্তিকাটি সমাপ্ত। লেখক এর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত কথাগুলো লিখেছিলেন:

অনেক মানুষ যে প্রথার ওপর রয়েছে, [তা হলো] এমন সব দিনের স্মরণ করা যেগুলোতে কোনো বিপদ বা মুসিবত ঘটেছিল; যেমনটা... এবং খ্রিস্টানরা যেমন ঈসা আলাইহিস সালামের ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার স্মরণে, শহীদদের হত্যার দিনগুলোতে এবং এ জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে করে থাকে, ইসলামে এর কোনো ভিত্তি জানা নেই।

এর কারণ হলো, বিপদের সময় যা বিধিবদ্ধ (المشروع) তা হলো ধৈর্য; সুতরাং মুসিবত ঘটার দিনে যদি তাই বিধিবদ্ধ হয়, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে সেই একই দিনে (ধৈর্য ধারণ করা) আরও বেশি সংগত; কারণ সেই পরবর্তী দিনগুলোতে নতুন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

আর মুসিবত ঘটার দিনে অশ্রুপাত করার যে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা এজন্য যে এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়, যা রোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে সেই দিনে বিষয়টি এমন থাকে না।

একইভাবে মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর জন্য শোক পালনের (الإحداد) যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার সাথে নির্দিষ্ট (خاص); আর এর বাইরে অন্য সব কিছু থেকে নিষেধ করা সহিহ (صح) সূত্রে প্রমাণিত।

 

যদি কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি গভীরভাবে চিন্তা করে তবে দেখবে যে, এই ধরনের উৎসবগুলো মূল উদ্দেশ্যের বিপরীত ফল বয়ে আনে। কারণ আমরা দেখি যে, যারা এই দিনগুলোর প্রতি অতি উৎসাহী, তাদের অবস্থা আনন্দ-উল্লাস এবং খেল-তামাশার মতো হয়ে থাকে; যদি আমরা কিছু কৃত্রিম বা লৌকিক অঙ্গভঙ্গি বাদ দেই যা বর্তমানে খেল-তামাশারই এক একটি বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়েছে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।