(খণ্ড: ১)
মিনাল মুশকিলাতিল লুগাউয়িয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: -)
من المشكلات اللغوية في القرآن الكريم القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: من المشكلات اللغوية في القرآن الكريم
المؤلف: عبد الجليل عبده شلبي
الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
الطبعة: السنة السابعة - العدد الرابع - ربيع الآخر 1395 هـ ابريل 1975 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 130
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পবিত্র কুরআনের কিছু ভাষাগত জটিলতা বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ এবং তাফসিরের মূলনীতি
বই: পবিত্র কুরআনের কিছু ভাষাগত জটিলতা
লেখক: আব্দুল জলিল আব্দু শালবি
প্রকাশক: মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
সংস্করণ: সপ্তম বর্ষ - চতুর্থ সংখ্যা - রবিউস সানি ১৩৯৫ হিজরি - এপ্রিল ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩০
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মিনাল মুশকিলাতিল লুগাউয়িয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
من المشكلات اللغوية في القرآن الكريم
بقلم: فضيلة الشيخ عبد الجليل شلبي المدرس في كلية الشريعة بالجامعة
في القرآن الكريم آيات كثيرة أشكل إعرابها على النحويين، وذهبوا فيها مذاهب شتى كل حسب وجهة نظره، وحسب المدرسة النحوية التي ينتمي إليها، كما أن به أيضاً تعبيرات بَدَتْ للوهلة الأولى خارجة عن قواعد البلاغيين، وذهب الشراح والمفسرون يلتمسون لها توجيها، وحارت فيها أفكارهم.
وأعرض اثنين من هذه الآيات المشكلة، إحداهما نحوية والأخرى بلاغية.
فمن التعبيرات النحوية التي أتعبت المفسرين والمعربين جميعاً قوله تعالى:
{وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجاً يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً} . إذا افتتحت الآية بالاسم الموصول (الذين) وهو لجماعة الذكور العقلاء، و (يتوفون) صلة الموصول، والرابط بها واو الجماعة، أما الخبر عن هذا المبتدأ فهو جملة {يَتَرَبَّصْنَ} والفاعل فيها هو نون النسوة وبهذا لا نجد الخبر مطابقاً للمبتدأ. ومن هنا تفرقت كلمة المعربين واختلفت تخريجاتهم لهذا التركيب. قال شيخ المفسرين الطبري:
"فإن قال قائل: أين الخبر عن الذين يتوفون؟ قيل متروك لأنه لم يقصد قصد الخبر عنهم، وإنما قصد الخبر عن الواجب على المعْتَدّات من العدة، في وفاة أزواجهم، فصرف الخبر عن الذين ابتدأ بذكرهم من الأموات
পবিত্র কুরআনের ভাষাতাত্ত্বিক জটিলতাসমূহ
কলমে: বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়া অনুষদের শিক্ষক ফযীলাতুশ শাইখ আবদুল জলীল শালবী
পবিত্র কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যেগুলোর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) ব্যাকরণবিদদের (نحويين) নিকট জটিল বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁরা নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি এবং যে ব্যাকরণিক মাযহাবের (مدرسة نحوية) তাঁরা অনুসারী, সেই অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। এছাড়া সেখানে এমন কিছু প্রকাশভঙ্গিও রয়েছে যা প্রথম দর্শনে অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের (بلاغيين) নিয়মের বহির্ভূত বলে মনে হয়। ব্যাখ্যাকার (شراح) ও মুফাসসিরগণ (مفسرين) এগুলোর উপযুক্ত ব্যাখ্যা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন এবং এ নিয়ে তাঁদের চিন্তাধারা দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছে।
আমি এই ধরণের জটিল আয়াতগুলোর মধ্যে দুটি উপস্থাপন করছি, যার একটি ব্যাকরণগত এবং অন্যটি আলঙ্কারিক।
ব্যাকরণগত সেই সকল প্রকাশভঙ্গির মধ্যে যা মুফাসসির (مفسرين) এবং ব্যাকরণবিদ (معربين) উভয়কেই ক্লান্ত করে তুলেছে, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী:
{وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجاً يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْراً} । যদি আয়াতটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (اسم موصول) 'الذين' দ্বারা শুরু হয় যা বিবেকসম্পন্ন পুরুষবাচক বহুবচনের জন্য ব্যবহৃত, আর 'يتوفون' হলো এর সিলাহ (صلة الموصول) এবং এর মধ্যে বিদ্যমান ওয়াও-উল-জামা'আহ হলো সম্পর্ককারী (رابط); তবে এই মুবতাদা (مبتدأ) এর খবর (خبر) হলো 'يَتَرَبَّصْنَ' বাক্যটি এবং এর ফায়িল (فاعل) হলো স্ত্রীবাচক নুন (نون النسوة)। এর মাধ্যমে আমরা মুবতাদার সাথে খবরের সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছি না। এখান থেকেই ব্যাকরণবিদদের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দেয় এবং এই গঠনরীতির তখরীজ (تخريجات) নিয়ে তাঁদের মাঝে মতভেদ তৈরি হয়। মুফাসসিরদের প্রধান ইমাম তাবারী বলেছেন:
"যদি কেউ প্রশ্ন করেন: 'الذين يتوفون' এর খবর (خبر) কোথায়? তবে বলা হবে তা বর্জন করা হয়েছে বা ঊহ্য (متروك); কারণ এখানে তাদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা উদ্দেশ্য নয়, বরং স্বামীদের মৃত্যুতে ইদ্দত পালনকারিণী (معتدات) নারীদের জন্য নির্ধারিত ইদ্দত (عدة) পালনের আবশ্যকতা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করাই মূল উদ্দেশ্য। তাই সংবাদের লক্ষ্যকে সেই মৃত ব্যক্তিদের থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে যাদের বর্ণনার মাধ্যমে বাক্যটি শুরু করা হয়েছিল।"
(খণ্ড: ১)
মিনাল মুশকিলাতিল লুগাউয়িয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
إلى الخبر عن أزواجهم والواجب عليهن من العدة، إذ كان معروفاً مفهوماً معنى ما أريد بالكلام، وهو نظير قول القائل في الكلام: بعض جبتك متخرقة في ترك الخبر عما ابتدئ الكلام به إلى الخبر عن بعض أسبابه، وكذلك الأزواج اللواتي عليهن التربص، لما كان إنما ألزمهن التربص بأسباب أزواجهن صرف الكلام عن خبر من ابتدأ بذكره إلى الخبر عمن قصدَ قصْدَ الخبر عنه".
وهو يعني أن الأرامل ألزمن التربص ومنعن من الزواج بسبب أزواجهن المتوَفّيْن، فترك الحديث عن هؤلاء المتوفين وصرف إلى الزوجات اللاتي سيقت الآية لبيان ما يجب عليهن".
وهو كلام جيد من ناحية معناه، ولكن بقيت المشكلة النحوية بدون حل.
ويعود الطبري فيعرض حلاً آخر فيقول:
"وقد زعم بعض أهل العربية أن خبر {الَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ} متروك، وأن معنى الكلام. . . ينبغي لهن أن يتربصن بعد موتهم".
وليس هذا أيضاً حلاً نحوياً، إنما هو بيان للمعنى المقصود، والمعنى واضح ولكن المشكلة مشكلة تركيب وقواعد نحوية، وليس منها أن يحذف كل هذه الكلمات.
وقدر الزمخشري مضافاً محذوفاً في أول الجملة، واعتبر أصل التركيب: وأزواج الذين يتوفون. . يتربصن، وإذن فالنون في (يتربصن) تعود على المبتدأ المحذوف وهو (أزواج) . وعَرَض توجيهاً آخر، فقدر محذوفاً في آخر الجملة لا في أولها. وقال: التقدير يتربصن بعدهم، وهذا كما يقال: السمن منوان بدرهم، أي منه.
وكلا التقديرين مقبول، فحذف المضاف مألوف، وحذف الظرف مألوف.
স্বামীগণের সংবাদ এবং স্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত ইদ্দত পালনের আবশ্যকতা সংক্রান্ত আলোচনার দিকে, কারণ কথার দ্বারা যা উদ্দেশ্য তা সুপরিচিত ও বোধগম্য ছিল। এটি কথোপকথনে কোনো বক্তার এই কথার ন্যায়: "তোমার জুব্বার একাংশ ছিঁড়ে গেছে"; এখানে যার মাধ্যমে কথা শুরু করা হয়েছিল তার সংবাদ দেওয়া বাদ দিয়ে তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের সংবাদ প্রদান করা হয়েছে। তেমনিভাবে যেসব স্ত্রীদের জন্য অপেক্ষা করা তথা ইদ্দত পালন আবশ্যক, যেহেতু তাদের স্বামীগণের কারণে এই ইদ্দত পালনকে তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তাই যার আলোচনার মাধ্যমে বাক্য শুরু করা হয়েছিল তার সংবাদ দেওয়া থেকে সরিয়ে সংবাদটি তার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল।
এর অর্থ হলো, বিধবাদের তাদের মৃত স্বামীদের কারণে ইদ্দত পালনে বাধ্য করা হয়েছে এবং পুনর্বিবাহ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। ফলে এই মৃত ব্যক্তিদের সরাসরি সংবাদ প্রদান বাদ দিয়ে তা ঐসব স্ত্রীদের দিকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে যাদের ওপর যা আবশ্যক তা বর্ণনা করার জন্যই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে।
অর্থের দিক থেকে এটি একটি চমৎকার বিশ্লেষণ, তবে ব্যাকরণগত সমস্যাটি সমাধানহীন রয়ে গেছে।
ইমাম তাবারী পুনরায় ফিরে এসে আরেকটি সমাধান পেশ করেন এবং বলেন:
"আর কোনো কোনো আরবি ভাষাবিদ দাবি করেছেন যে, {الَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ} এর খবরটি এখানে বর্জিত (متروك), আর বাক্যের অর্থ হলো... তাদের মৃত্যুর পর স্ত্রীদের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।"
এটিও কোনো ব্যাকরণগত সমাধান নয়, বরং এটি কেবল উদ্দিষ্ট অর্থের একটি বর্ণনা মাত্র। অর্থটি স্পষ্ট, কিন্তু সমস্যাটি হলো বাক্য গঠন ও ব্যাকরণগত নিয়মের জটিলতা; আর এতগুলো শব্দকে বিলুপ্ত করে দেওয়া ব্যাকরণসম্মত সমাধান নয়।
আল্লামা যামাখশারী বাক্যের শুরুতে একটি উহ্য 'মুদাফ' ধরেছেন এবং মূল বাক্য গঠনটি এভাবে বিবেচনা করেছেন: "এবং যাদের মৃত্যু হয় তাদের স্ত্রীরা... অপেক্ষা করবে"। এমতাবস্থায় 'يتربصن' এর 'নুন' সর্বনামটি সেই উহ্য মুবতাদা তথা 'স্ত্রীগণ' শব্দের দিকে ফিরবে। তিনি অন্য একটি ব্যাখ্যাও পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বাক্যের শুরুতে নয় বরং শেষে একটি উহ্য শব্দ ধরেছেন। তিনি বলেন: এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো 'তারা তাদের (স্বামীদের) পর অপেক্ষা করবে'। এটি ঠিক তেমন, যেমনটি বলা হয়: 'ঘি এক দিরহামে দুই মান', অর্থাৎ 'তা থেকে' এক দিরহামে দুই মান।
উভয় বিশ্লেষণই গ্রহণযোগ্য, কেননা মুদাফ বিলুপ্ত হওয়াও একটি পরিচিত রীতি এবং যরফ বা ক্রিয়া-বিশেষণ বিলুপ্ত হওয়াও একটি পরিচিত রীতি।
(খণ্ড: ১)
মিনাল মুশকিলাতিল লুগাউয়িয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
ولعل أقرب 1 هذه التحليلات وأدناها إلى منطق النحو ما ذكره الزجاج في كتابه (معاني القرآن وإعرابه) من أن (أزواجاً) تحمل ضميراً يعود على المبتدأ، والتقدير: (ويذرون أزواجاً لهم) وإذن فالضمير في (يتربصن) لا يعود على (أزواجا) منفصلة عن الاسم الموصول. وإنما هي بمعنى (أزواجهم) ويذكر الزجاج نظيرا لهذا من الكلام، إذ يقال مثلاً: الذي يموت وله بنتان ترثان الثلثين، فكلمة (بنتان) تحمل ضميراً ومعنى من المبتدأ، والألف في (ترثان) هي بمعنى (بنتاه) وإن فالخبر ليس خالياً من الرابط.
هذا الذي ذكره الزجاج قريب من اللغة، ولم يقدر فيه محذوفات بعيدة أو كثيرة كما فعل غيره.
والتعبير بعد كل هذا ليس شيئاً خارجاً عن الأساليب العربية، فالبحث إنما هو عن تخريجه ووجهته الإعرابية، وقد ذكر كل من الفراء والزجاج نظيراً لهذا الأسلوب قول ثابت قطنة 2:
لعلي إن مالت بي الريح ميلة.
على ابن أبي ذبان أن يتندما.
فاسم (لعل) هي ياء المتكلم، والخبر هو (يتندم) ، وكان الأصل: لعل ابن أبي ذبان أن يتندم، إن مالت بي الريح عليه، ولكن هذا التعبير يجعل المتكلم تابعاً في الكلام لا أصلاً، والتقدير هنا لعلي مع ابن أبي ذبان، وهو على أي حال ليس منقطع الصلة عن اسم (لعل) .
--------------------------------------------
সম্ভবত এই বিশ্লেষণগুলোর মধ্যে নাহুর (ব্যাকরণ) যুক্তির সবচেয়ে নিকটবর্তী ও সঠিক হলো আয-যাজ্জাজ তাঁর ‘মাআ’নিল কুরআন ওয়া ইরাবিহ’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ‘আযওয়াজান’ শব্দটি এমন একটি সর্বনাম বহন করছে যা মুবতাদার (উদ্দেশ্য) দিকে ফিরে যায়; আর এর প্রচ্ছন্ন রূপটি হলো: ‘এবং তারা তাদের স্ত্রীদের রেখে যায়’। এমতাবস্থায় ‘ইয়াতারাব্বাসনা’ ক্রিয়াপদের সর্বনামটি ইসমে মাওসুল (সম্বন্ধসূচক সর্বনাম) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কেবল ‘আযওয়াজান’ শব্দের দিকে ফিরছে না। বরং এটি ‘আযওয়াজুহুম’ (তাদের স্ত্রীগণ) অর্থ প্রদান করছে। আয-যাজ্জাজ এর সপক্ষে ভাষার একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছেন; যেমন বলা হয়: ‘যে ব্যক্তি মারা যায় এবং তার দু’টি কন্যা থাকে, তারা উভয়ে দুই-তৃতীয়াংশের উত্তরাধিকারী হয়।’ এখানে ‘বিনতানি’ শব্দটি মুবতাদা থেকে একটি সর্বনাম ও অর্থ বহন করছে এবং ‘তারিছানি’ শব্দের আলিফটি ‘বিনতাহু’ (তার দুই কন্যা) অর্থ প্রকাশ করছে। সুতরাং খবরটি (বিধেয়) সংযোগকারী উপাদান থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।
আয-যাজ্জাজ যা বর্ণনা করেছেন তা ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মের অত্যন্ত নিকটবর্তী এবং এতে তিনি অন্যদের মতো দূরবর্তী বা অতিমাত্রায় উহ্য কোনো শব্দ কল্পনা করেননি।
পরিশেষে বলা যায়, এই অভিব্যক্তিটি আরবি ভাষার শৈলীর বহির্ভূত কিছু নয়। মূল অনুসন্ধানটি কেবল এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (تخريج) ও ইরাবগত অবস্থান নিয়ে। আল-ফাররা এবং আয-যাজ্জাজ—উভয়েই এই শৈলীর দৃষ্টান্ত হিসেবে ছাবিত কুতনার এই পঙক্তিটি উল্লেখ করেছেন:
হয়তো আমি, যদি বায়ু আমাকে সামান্য হেলিয়ে দেয়,
তবে ইবনে আবি যুব্বান অনুতপ্ত হবে।
এখানে ‘লাআল্লা’-এর ইসম (নাম) হলো ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম (উত্তম পুরুষের সর্বনাম) এবং খবর হলো ‘ইয়াতানান্দামা’। বাক্যটির মূল বিন্যাস হওয়ার কথা ছিল: “হয়তো ইবনে আবি যুব্বান অনুতপ্ত হবে, যদি বাতাস আমাকে তার দিকে হেলিয়ে দেয়।” কিন্তু এই প্রকাশভঙ্গিটি বক্তাকে বাক্যের মূল সত্তার পরিবর্তে অনুগামী করে তুলেছে। এখানে প্রচ্ছন্ন রূপটি হলো ‘আমি ইবনে আবি যুব্বানের সাথে আছি’, যা যেকোনোভাবেই ‘লাআল্লা’-এর ইসমের সাথে সম্পর্কবিচ্ছিন্ন নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মিনাল মুশকিলাতিল লুগাউয়িয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
وهذا كما تقول: لعلي إن ضربت بسيفك ينكسر، ولعلي إن حاربتك تنهزم و (لعلّ) في كل هذه الحالات بمعنى الاشفاق، ولكنها ما زالت بحاجة إلى اسم وخبر. وقد ضرب أبو عبيدة في مجازه صفحاً عن هذه الآية.
ونقل الطبري هذا الشاهد السابق وأوْرد تنظيراً آخر وهو قول الشاعر:
ألم تعلموا أن ابن قيس وقتله.
بغير دم دار المذلة حلت.
قال: "فألغى ابن قيس وقد ابتدأ يذكره. وأخبر عن قتله أنه ذُلّ".
وهذا الاستشهاد غير قوي، لأنه يحتمل التأويل بالمفرد، فيمكن أن تكون الواو للمعية، فيظل الحديث عن ابن قيس الذي قتل لغير جريرة. ويكون التقدير: إن ابن قيس مع قتله بغير ذنب هو إن وذلة، فما بعد الواو فضلة لا يحتاج إلى إخبار عنه. ومن المألوف السائغ أن يقال: إني وما ملكت يدي ملك لك ورهن أمرك، وفي القرآن أيضاً: {إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّم} .
ومن الأساليب التي أثارت تساؤلات البلاغيين ما حكى به القرآن الكريم قصة موسى عليه السلام والعبد الصالح الذي قابله، وهو الخضر عليه السلام، إذ قال:
{حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَنْ يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَاراً يُرِيدُ أَنْ يَنْقَضَّ فَأَقَامَهُ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْراً} .
فقد تكررت كلمة أهل، وكان مقتضى الظاهر أن يقال: حتى إذا أتيا أهل قرية استطعماهم. فذهب كثير من المفسرين واللغويين يتلمسون العلل لهذا الإظهار في موضع الإضمار، والواقع أن الأمر ليس كذلك، وليس في الآية إظهار في محل الإضمار، بل يتعين أن يكون التعبير كذلك {اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا} ولا يجوز (استطعماهم) .
ويرجع سبب الاختلاف في وجهة النظر إلى الاختلاف في تقدير جواب الشرط فالذين قدروه (استطعما أهلها) جواب الشرط اعتبروا أهلها إظهاراً، ولكن هذه لا تصلح جواب شرط، وإنما جواب الشرط هو {قَالَ لَوْ شِئْتَ لَتَّخَذْتَ عَلَيْهِ
আর এটি আপনার বলার মতোই: 'সম্ভবত আমি আপনার তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলে সেটি ভেঙে যাবে' এবং 'সম্ভবত আমি আপনার সাথে যুদ্ধ করলে আপনি পরাজিত হবেন'। এই সব ক্ষেত্রে 'লাআল্লা' শব্দটি আশঙ্কা প্রকাশের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তবে এটি তখনও একটি বিশেষ্য ও সংবাদের মুখাপেক্ষী। আবু উবায়দা তার মাজায গ্রন্থে এই আয়াতটি এড়িয়ে গেছেন।
আত-তাবারী এই পূর্বোক্ত প্রমাণটি উদ্ধৃত করেছেন এবং অন্য একটি সাদৃশ্য উপস্থাপন করেছেন, যা কবির উক্তি:
তোমরা কি জানো না যে ইবনে কায়স এবং তার নিহত হওয়া।
বিনা রক্তপাতে লাঞ্ছনার নিবাস নেমে এসেছে।
তিনি বলেন: "তিনি ইবনে কায়সকে বাদ দিয়েছেন অথচ তিনি তাকে উল্লেখ করে শুরু করেছিলেন। এবং তার হত্যার খবর দিয়েছেন যে এটি একটি লাঞ্ছনা।"
এই প্রমাণটি শক্তিশালী নয়, কারণ এটি একবচন হিসেবে ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে। এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি সাহচর্যের জন্য হতে পারে, ফলে ইবনে কায়স—যাকে কোনো অপরাধ ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে—তাকে নিয়েই আলোচনা চলতে থাকে। এর প্রচ্ছন্ন রূপটি হবে: নিশ্চয়ই ইবনে কায়স তার নির্দোষ হত্যাকাণ্ডের সাথে সাথে লাঞ্ছিত ও অপদস্থ; সুতরাং 'ওয়াও'-এর পরের অংশটি অতিরিক্ত তথ্য যা স্বতন্ত্র সংবাদের মর্যাদা রাখে না। এটি প্রচলিত ও স্বাভাবিক যে বলা হয়: 'আমি এবং আমার মালিকানাধীন সবকিছুই আপনার সম্পদ এবং আপনার আদেশের অনুগত'। কুরআনেও এসেছে: {নিশ্চয়ই তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করতে, সেগুলো তো জাহান্নামের জ্বালানি}।
অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের মনে যে শৈলীগুলো প্রশ্ন জাগিয়ে তুলেছে, তার মধ্যে একটি হলো পবিত্র কুরআনে বর্ণিত মূসা আলাইহিস সালাম এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হওয়া নেককার বান্দা—অর্থাৎ খিজির আলাইহিস সালামের ঘটনা, যেখানে বলা হয়েছে:
{অবশেষে যখন তারা এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছালেন, তখন তারা তাদের অধিবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন, কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করল। অতঃপর সেখানে তারা একটি প্রাচীর দেখতে পেলেন যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন তিনি তা সোজা করে দিলেন। তিনি বললেন, আপনি চাইলে এর জন্য বিনিময় গ্রহণ করতে পারতেন}।
এখানে 'অধিবাসী' শব্দটি পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যেখানে বাহ্যিক দাবি ছিল এমন বলা: "অবশেষে যখন তারা এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছালেন, তখন তারা তাদের কাছে খাবার চাইলেন।" অনেক মুফাসসির এবং ভাষাবিদ সর্বনামের স্থলে বিশেষ্যের এই ব্যবহারের কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিষয়টি এমন নয় এবং আয়াতে সর্বনামের স্থলে বিশেষ্য ব্যবহার করা হয়নি, বরং এই প্রকাশভঙ্গিটি "তাদের অধিবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন" হওয়াই বাঞ্ছনীয় ছিল এবং "তাদের কাছে খাবার চাইলেন" বলা বৈধ হতো না।
দৃষ্টিভঙ্গির এই পার্থক্যের কারণ হলো শর্তের জবাব নির্ধারণের মতভেদ। যারা "তাদের অধিবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন" অংশটিকে শর্তের জবাব হিসেবে ধরেছেন, তারা একে বিশেষ্যের প্রকাশ হিসেবে গণ্য করেছেন। কিন্তু এটি শর্তের জবাব হওয়ার যোগ্য নয়; বরং শর্তের জবাব হলো {তিনি বললেন, আপনি চাইলে এর জন্য...}।
(খণ্ড: ১)
মিনাল মুশকিলাতিল লুগাউয়িয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
أَجْراً} ، ذلك أن الآية تقص ما حدث على يد العبد الصالح من أمور شاذة واعتراض موسى عليه فيما يفعل، وهنا أمر عجيب وهو أن القوم قد بخلوا عليهم بالطعام رغم سؤالهم إياهم، ومع هذا يقيم الخضر لهم الجدار بدون أجر. لهذا اعترض موسى عليه، فسياق القصة كلها يقضي أن يكون جواب الشرط إما فعلاً عجيباً من الخضر أو اعتراضاً من موسى.
وفي الحادث الأول وهو خرق السفينة، {حَتَّى إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا} نجد جواب الشرط هو (خرقها) وهو عمل عجيب يستدعي التساؤل والاعتراض، وفي الحادث الثاني وهو قتل الغلام. . . {حَتَّى إِذَا لَقِيَا غُلاماً فَقَتَلَهُ قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْساً زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ} نجد جواب الشرط هو (قال) ، أي اعتراض موسى، وفي هذه الآية {حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ} نجد كلمة {اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا} لا هي فعل عجيب للخضر ولا اعتراض من موسى، وأيضاً لم يكن ورودهما القرية طلباً للطعام.
وإذن فجملة استطعما أهلها هي نعت لقرية المضاف إليه، وهو جملة فعلية، فلا بد من وجود رابط بها يعود على القرية، وهذا الرابط هو الضمير في أهلها، ولو جاء التعبير - على هذا التقدير. . حتى إذا أتيا أهل قرية استطعماهم لبقي النعت الجملة بلا رابط.
وتقدير الآية بعد هذا هو: حتى إذا وصلا قرية قد رفض أهلها أن يقدموا لهما شيئاً من القرى، وكان بها جدار يوشك أن ينهار، فأخذ الخضر بقيمة عجب موسى وقال له: لو شئت لاتخذت عليه أجراً.
وهناك وجه آخر لم يغب عن ذهن الباحثين، وهو عود الضمير على الأهل لو قيل (استطعماهم) ، وتكون الجملة الفعلية نعتاً لأهل لا للقرية، ولكنهم استبعدوا هذا الوجه لأن الآية ظلت تتحدث عن القرية لا عن الأهل، قالت: {فَوَجَدَا فِيهَا جِدَاراً} ولم تقل فوجد عندهم جداراً، ولأن الجدار من مباني القرية لا من سكانها، والحديث عن عملهم فيها لا عن مجادلتهم السكان.
اعتمد هذا الوجه قاضي القضاة تقي الدين السبكي، ونقله عنه ابنه في (عروس الأفراح) . . ثم نقله الألوسي في تفسيره.
{পারিশ্রমিক}—এর কারণ হলো আয়াতটি সেই ব্যতিক্রমী (شاذة) বিষয়গুলোর বিবরণ দেয় যা সেই নেককার বান্দার হাতে সংঘটিত হয়েছিল এবং তিনি যা করছিলেন সে বিষয়ে মুসা (আ.)-এর আপত্তির কথা জানায়। এখানে একটি আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জাতি তাদের কাছে খাবার চাওয়া সত্ত্বেও তাদের প্রতি কৃপণতা করেছিল, অথচ তা সত্ত্বেও খিজির (আ.) কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই তাদের জন্য প্রাচীরটি সংস্কার করে দেন। একারণেই মুসা (আ.) আপত্তি জানিয়েছিলেন। পুরো গল্পের প্রেক্ষাপট এই দাবি করে যে, শর্তের উত্তর (জওয়াবুল শারত) হয় খিজিরের পক্ষ থেকে কোনো আশ্চর্যজনক কাজ হবে অথবা মুসার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি হবে।
প্রথম ঘটনার ক্ষেত্রে অর্থাৎ নৌকা ফুটো করার ঘটনায়— {যতক্ষণ না যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তিনি তা ফুটো করে দিলেন}—আমরা দেখতে পাই যে শর্তের উত্তর হলো (তিনি তা ফুটো করে দিলেন), যা একটি আশ্চর্যজনক কাজ এবং তা প্রশ্ন ও আপত্তির উদ্রেক করে। দ্বিতীয় ঘটনার ক্ষেত্রে অর্থাৎ কিশোরকে হত্যার ঘটনায়... {যতক্ষণ না যখন তারা এক কিশোরের সাক্ষাৎ পেল, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন; মুসা বললেন: আপনি কি কোনো প্রাণের বিনিময় ছাড়াই একটি নিষ্পাপ প্রাণ সংহার করলেন?}—আমরা দেখতে পাই শর্তের উত্তর হলো (বললেন), অর্থাৎ মুসার আপত্তি। আর এই আয়াতে {যতক্ষণ না যখন তারা এক জনপদের অধিবাসীদের নিকট আসলো}—আমরা দেখতে পাই {তারা তার অধিবাসীদের কাছে খাবার চাইল} কথাটি খিজিরের কোনো আশ্চর্যজনক কাজও নয়, আবার মুসার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তিও নয়। অধিকন্তু, তাদের সেই জনপদে প্রবেশের উদ্দেশ্য কেবল খাবার চাওয়া ছিল না।
সুতরাং, 'তারা তার অধিবাসীদের কাছে খাবার চাইল' বাক্যটি হলো মুদাফ ইলাইহি 'জনপদ' শব্দটির বিশেষণ। এটি একটি ক্রিয়াবাচক বাক্য, তাই এর সাথে এমন একটি সংযোগকারী থাকা আবশ্যক যা জনপদের দিকে ফিরে যাবে। আর এই সংযোগকারী হলো 'তার অধিবাসী' শব্দের মধ্যকার সর্বনামটি। যদি এই অনুমানের ভিত্তিতে বর্ণনাটি এমন হতো— 'যতক্ষণ না যখন তারা এক জনপদের অধিবাসীদের নিকট আসলো এবং তাদের কাছে খাবার চাইলো'—তবে বিশেষণ স্বরূপ বাক্যটি সংযোগকারী বিহীন হয়ে পড়ত।
এর আলোকে আয়াতের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য দাঁড়ায়: যতক্ষণ না যখন তারা এমন এক জনপদে পৌঁছালেন যার অধিবাসীরা তাদের মেহমানদারি করতে অস্বীকার করেছিল, আর সেখানে একটি প্রাচীর ছিল যা ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। অতঃপর খিজির (আ.) মুসা (আ.)-এর আশ্চর্যের কারণটি গ্রহণ করলেন এবং তাকে বললেন: আপনি চাইলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।
এখানে আরেকটি দিক রয়েছে যা গবেষকদের দৃষ্টি এড়ায়নি; আর তা হলো যদি (তারা তাদের কাছে খাবার চাইল) বলা হতো তবে সর্বনামটি 'অধিবাসী' শব্দের দিকে ফিরে যেত। সেক্ষেত্রে ক্রিয়াবাচক বাক্যটি 'জনপদ'-এর বিশেষণ না হয়ে 'অধিবাসী'-এর বিশেষণ হতো। তবে তারা এই সম্ভাবনাটিকে নাকচ করে দিয়েছেন, কারণ আয়াতটিতে অধিবাসীদের পরিবর্তে জনপদ নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে: {তিনি সেখানে একটি প্রাচীর পেলেন}, এ কথা বলা হয়নি যে 'তাদের কাছে একটি প্রাচীর পেলেন'। কারণ প্রাচীরটি জনপদের স্থাপনার অংশ, তার বাসিন্দাদের অংশ নয়। আর আলোচনাটি ছিল সেখানে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে, বাসিন্দাদের সাথে তাদের বিবাদ নিয়ে নয়।
প্রধান বিচারপতি তাকিউদ্দীন আস-সুবকি এই অভিমতটি গ্রহণ করেছেন এবং তার পুত্র তার আরুসুল আফরাহ গ্রন্থে তা উদ্ধৃত করেছেন। অতঃপর আলূসী তার তাফসিরে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মিনাল মুশকিলাতিল লুগাউয়িয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারীম
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
ولم تهمل كلمة أهل في أول الجملة فيكون تركيبها: (حتى إذا أتيا قرية استطعما أهلها) لأن ذلك قد يوهم أنهما سألا أهلها إجمالاً، وهذا يصدق بسؤال بعض منهم، فلا يكون ثمة عجب أو دهشة في إقامة الجدار مع رفض القرى من بعض الأفراد.
وكما قال بعض المفسرين أنهما قابلا أول الأمر بعض أفرادها وحين أعوزهما الطعام ذهبا يسألان الأهلين1 واحداً واحداً أو بيتاً فلم يحفل أحد بهما ولا طابت نفسه أن يقدم لهما طعاماً، وبعد هذا كله يقيم الخضر هذا الجدار غير آبه لما كان منهم من إساءة وشح.
وبدء الآية بالأهل لا ينافي أنها حديث عن القرية.
بهذا لا يكون تكرار كلمة (أهل) في الآية من وضع الظاهر موضع المضمر بل يكون ذكراً لا بد منه.
وكان الأديب العالم الشيخ صلاح الدين الصفدي ممن حيرهم البحث في تركيب هذه الآية فكتب إلى الشيخ السبكي يسأله شرحها في شعر جاء فيه:
أسيدنا قاضي القضاة ومن إذا
… بدا وجهه استحي اله القمران
رأيت كتاب الله أكبر معجز
… لا فضل من يهدي به الثقلان
ولكنني في الكهف أبصرت آيةً
… بها الفكر في طول الزمان عناني
وما هي إلا استطعما أهلها فقد
… ترى استطعماهم مثله ببيان
فما الحكمة الغراء في وضع ظاهر
… مكان ضمير إن ذاك لشاني
وأجاب القاضي بهذه الإجابة التي لخصناها عنه، ووجدها من المفسرين بعده من يرتضيها ويؤيدها.
--------------------------------------------
বাক্যের শুরুতে 'আহল' (অধিবাসী) শব্দটি বর্জন করা হয়নি, ফলে এর গঠনটি হয়েছে: (এমনকি যখন তারা একটি জনপদে পৌঁছালেন, তখন তারা সেখানকার অধিবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন)। কারণ, অন্যথায় এটি এমন ভ্রম সৃষ্টি করতে পারত যে তারা সামগ্রিকভাবে অধিবাসীদের কাছে খাবার চেয়েছেন, যা কেবল তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের কাছে চাওয়ার মাধ্যমেই সত্য বলে গণ্য হতে পারত। ফলে জনপদের কিছু ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও দেয়াল নির্মাণ করার মাঝে কোনো বিস্ময় বা আশ্চর্যের অবকাশ থাকত না।
যেমনটি কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার (مفسر) বলেছেন যে, তারা প্রথমে জনপদের কিছু ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং যখন তাদের খাবারের প্রয়োজন হলো, তখন তারা একে একে বা প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে অধিবাসীদের১ কাছে খাবার চাইতে লাগলেন। কিন্তু কেউ তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করল না এবং খাবার প্রদান করতে কারোর মন সায় দিল না। এতসব কিছুর পর খিজির (আ.) তাদের পক্ষ থেকে হওয়া দুর্ব্যবহার ও কৃপণতার তোয়াক্কা না করেই দেয়ালটি নির্মাণ করেন।
আয়াতের শুরুতে 'আহল' (অধিবাসী) শব্দের উল্লেখ থাকা এই জনপদ সম্পর্কিত বর্ণনার সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
এভাবে আয়াতে 'আহল' (অধিবাসী) শব্দের পুনরাবৃত্তিটি সর্বনামের (مضمر) স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য (ظاهر) ব্যবহারের দৃষ্টান্ত নয়, বরং এটি একটি অপরিহার্য উল্লেখ।
সাহিত্যিক ও আলিম শেখ সালাহ উদ্দিন আল-সাফাদি ছিলেন তাদের একজন, যাদেরকে এই আয়াতের গঠনশৈলীর অনুসন্ধান ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিল। তাই তিনি শেখ আল-সুবকির কাছে এর ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে পদ্যে লিখলেন:
হে আমাদের নেতা, প্রধান বিচারপতি, যার অবয়ব প্রকাশ পেলে চন্দ্র ও সূর্যও সংকুচিত হয়
…আমি আল্লাহর কিতাবকে সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক (معجزة) হিসেবে দেখেছি, যার মাধ্যমে হিদায়াতপ্রাপ্তদের শ্রেষ্ঠত্বের কোনো সীমা নেই
…কিন্তু আমি সূরা কাহাফে এমন একটি আয়াত দেখেছি, যার রহস্য অনুসন্ধান দীর্ঘ সময় ধরে আমাকে পরিশ্রান্ত করে রেখেছে
…আর সেটি হলো 'তারা এর অধিবাসীদের কাছে খাবার চাইলেন'; অথচ আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে 'তারা তাদের কাছে খাবার চাইলেন' বলা হলেও অনুরূপ সুস্পষ্ট ভাব প্রকাশ পেত
…তাহলে সর্বনামের (ضمير) পরিবর্তে প্রকাশ্য বিশেষ্য (ظاهر) ব্যবহারের পেছনে রহস্যময় প্রজ্ঞা (حكمة) কী? নিশ্চয়ই এটি একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়
…বিচারপতি (কাজি) সেই জবাবই দিয়েছিলেন যা আমরা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি, এবং তার পরবর্তী ব্যাখ্যাকারদের (مفسرون) মাঝে এমন অনেককে পাওয়া গেছে যারা এই ব্যাখ্যাটি পছন্দ ও সমর্থন করেছেন।
--------------------------------------------