0/0
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
رسالة في فرضية اتباع السنة، والكلام على تقسيم الأخبار وحجية أخبار الآحاد - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: رسالة في فرضية اتباع السنة، والكلام على تقسيم الأخبار وحجية أخبار الآحاد

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (19)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - عبد الرحمن بن حسن بن قائد

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা বিষয়ক পুস্তিকা এবং সংবাদসমূহের শ্রেণিবিভাগ ও একক সংবাদসমূহের (أخبار الآحاد) প্রামাণিকতা সংক্রান্ত আলোচনা - 'আসারুল মুয়াল্লিমী' সিরিজের অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা বিষয়ক পুস্তিকা, এবং সংবাদসমূহের শ্রেণিবিভাগ ও একক সংবাদসমূহের (أخبار الآحاد) প্রামাণিকতা সংক্রান্ত আলোচনা

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানীর রচনাবলি (১৯)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী আল-ইয়ামানী (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ উজাইর শামস

পর্যালোচনায়: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহী - আবদুর রহমান বিন হাসান বিন কায়িদ

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য উপস্থাপন করেছেন: 'আতাআত আল-ইলম' ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৩)
الرسالة الأولى

رسالة في فرضية اتباع السنة

والكلام على تقسيم الأخبار وحجية أخبار الآحاد
প্রথম রিসালাহ

সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা বিষয়ক রিসালাহ

এবং সংবাদের (الأخبار) শ্রেণিবিন্যাস ও একক সংবাদের (أخبار الآحاد) প্রামাণিকতা সংক্রান্ত আলোচনা
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৫)
[ص 21] بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

 

‌‌فرض اتِّباع السُّنَّة

اعلم أنه لم يكن بين المسلمين اختلاف في فرض اتباع ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم، بل ذلك من الأمور المعلومة بالضرورة من دين الإسلام.

ولكن جاء في أخبار الفتن أنه سيكون قوم يقولون: "إن كان أولنا ضُلَّالًا، ما بالُ خمس صلوات في اليوم والليلة؟ إنما هما صلاتان: الفجر(1) والعصر". "المستدرك" (4/ 419)(2). كأنهم يريدون قول الله عز وجل: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ} [ق: 39].

وجاء عن المقدام بن معد يكربَ عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: "يوشِكُ أن يقعد الرجل منكم على أريكته، يُحدَّث بحديثي فيقول: بيني وبينكم كتاب الله، فما وجدنا فيه حلالًا استحللناه، وما وجدنا فيه حرامًا حرَّمناه. وإنَّ ما حرَّم رسول الله كما حرَّم الله". أخرجه الحاكم في "المستدرك" (1/ 109) وغيره(3).

--------------------------------------------

(1) في الأصل: "الظهر" سبق قلم.

(2) موقوفًا على حذيفة بن اليمان. وأخرجه أيضًا أبو عبيد في "الإيمان" (ص 81) وابن أبي شيبة في "الإيمان" (ص 20) وعبد الله بن أحمد في "السنة" (1/ 323) والآجري في "الشريعة" (298، 299).

(3) وأخرجه أيضًا أحمد في "مسنده" (17194) والترمذي (2664) وابن ماجه (12) والدارقطني (4/ 286، 287) وغيرهم. قال الترمذي: هذا حديث حسن غريب.
[ص ২১] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা

জেনে রাখুন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে, তা অনুসরণ করার আবশ্যকতা সম্পর্কে মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ ছিল না। বরং এটি ইসলাম ধর্মের অন্যতম একটি স্বতঃসিদ্ধ (معلوم بالضرورة) বিষয়।

কিন্তু ফিতনা সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ এসেছে যে, অচিরেই এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা বলবে: "যদি আমাদের পূর্বসূরিরা পথভ্রষ্ট হয়ে থাকেন, তবে দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কী হেতু? সালাত তো মাত্র দুটি: ফজর(১) এবং আসর।" আল-মুস্তাদরাক (৪/৪১৯)(২)। তারা যেন মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত করছে: {এবং আপনার পালনকর্তার প্রশংসার পবিত্রতা ঘোষণা করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে} [সূরা ক্বাফ: ৩৯]।

মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অচিরেই তোমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে, তার কাছে আমার কোনো হাদিস বর্ণনা করা হলে সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট; তাতে আমরা যা হালাল পাব তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং যা হারাম পাব তা-ই হারাম হিসেবে গণ্য করব। অথচ জেনে রাখো, আল্লাহর রাসুল যা হারাম করেছেন তা মহান আল্লাহর হারাম করার মতোই।" হাকেম এটি আল-মুস্তাদরাক (১/১০৯) ও অন্যান্য গ্রন্থে সংকলন করেছেন(৩)।

--------------------------------------------

(১) মূলে ছিল: "যুহর", যা একটি অনিচ্ছাকৃত লিখনপ্রমাদ।

(২) এটি হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান-এর ওপর স্থগিত (موقوف)। আবু উবাইদ তার আল-ঈমান (পৃ. ৮১), ইবনে আবি শায়বা তার আল-ঈমান (পৃ. ২০), আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ তার আস-সুন্নাহ (১/৩২৩) এবং আল-আজুরি তার আশ-শরীয়াহ (২৯৮, ২৯৯) গ্রন্থে এটি সংকলন করেছেন।

(৩) আহমাদ তার মুসনাদ (১৭১৯৪), তিরমিজি (২৬৬৪), ইবনে মাজাহ (১২), দারা কুতনি (৪/২৮৬, ২৮৭) এবং অন্যরা এটি সংকলন করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান (حسن) এবং একক সূত্রে বর্ণিত (غريب)।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৬)
وجاء نحوه من حديث أبي رافع، وجابر، والعرباض بن سارية، وابن عباس، ذكرها الخطيب في "الكفاية"(1).

ونشأ في الهند أخيرًا فرقة ينحُون هذا المنحى، يسمُّون أنفسهم "أهل القرآن"(2).

والقرآن نفسه ينادي بإيجاب طاعة النبي صلى الله عليه وآله وسلم، واتباعه، والتسليم لحكمه، ويقول: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80]، {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65]، {إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي} [آل عمران: 31]، {لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ}(3) [النساء: 105]، {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الشورى: 52].

--------------------------------------------

(1) (ص 9 - 11). وحديث أبي رافع أخرجه الشافعي في "الرسالة" (1106) والحميدي في "مسنده" (551) وأحمد (23876) وأبو داود (4605) والحاكم في "المستدرك" (1/ 108) وغيرهم، وإسناده صحيح .. وحديث جابر أخرجه أبو يعلى في "مسنده" (1813) وابن عبد البر في "جامع بيان العلم" (2340) والخطيب في "الفقيه والمتفقه" (1/ 90)، وإسناده ضعيف. وحديث العرباض بن سارية أخرجه أبو داود (3050) والطبراني في "الكبير" (18/ 258) و"الأوسط" (7226) والبيهقي في "السنن الكبرى" (9/ 204)، وإسناده ضعيف. أما حديث ابن عباس فلم أجده إلّا مرويًّا في "الكفاية". وإسناده ضعيف.

(2) ينظر لتاريخهم ومناقشة آرائهم "القرآنيون" لخادم حسين.

(3) كتب الشيخ "فاحكم بينهم بما أراك الله" سهوًا. وفي سورة المائدة: 48. {فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ}.
অনুরূপ বর্ণনা আবু রাফে, জাবির, ইরবাদ বিন সারিয়াহ এবং ইবনে আব্বাস-এর হাদিস থেকেও বর্ণিত হয়েছে, আল-খাতিব "আল-কিফায়া" গ্রন্থে এগুলো উল্লেখ করেছেন।(১)

সম্প্রতি ভারতে এমন এক দলের উদ্ভব হয়েছে যারা এই পথ অনুসরণ করে, তারা নিজেদেরকে "আহলে কুরআন" বলে পরিচয় দেয়।(২)

কুরআন নিজেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য, তাঁর অনুসরণ এবং তাঁর ফয়সালার প্রতি আত্মসমর্পণ করাকে ওয়াজিব ঘোষণা করে এবং বলে: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০], {না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের ক্ষেত্রে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, এরপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে} [আন-নিসা: ৬৫], {যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো} [আলে ইমরান: ৩১], {যাতে আপনি মানুষের মধ্যে আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করেন}(৩) [আন-নিসা: ১০৫], {এবং নিশ্চয় আপনি সরল পথ প্রদর্শন করেন} [আশ-শুরা: ৫২] ।

--------------------------------------------

(১) (পৃ. ৯ - ১১)। আবু রাফে-এর হাদিসটি শাফেয়ী তাঁর "আল-রিসালা" (১১০৬), আল-হুমাইদী তাঁর "মুসনাদ" (৫৫১), আহমাদ (২৩৮৭৬), আবু দাউদ (৪৬০৫), আল-হাকিম তাঁর "আল-মুস্তাদরাক" (১/১০৮) ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)। জাবির-এর হাদিসটি আবু ইয়ালা তাঁর "মুসনাদ" (১৮১৩), ইবনে আব্দুল বার তাঁর "জামি' বায়ানিল ইলম" (২৩৪০) এবং আল-খাতিব তাঁর "আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ" (১/ ৯০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। ইরবাদ বিন সারিয়াহ-এর হাদিসটি আবু দাউদ (৩০৫০), তাবারানী তাঁর "আল-কাবীর" (১৮/ ২৫৮) ও "আল-আওসাত" (৭২২৬) এবং বায়হাকী তাঁর "আস-সুনান আল-কুবরা" (৯/ ২০৪) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। আর ইবনে আব্বাস-এর হাদিসটি "আল-কিফায়া"-তে বর্ণিত হওয়া ছাড়া আমি আর কোথাও খুঁজে পাইনি এবং এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)।

(২) তাদের ইতিহাস এবং মতাদর্শের পর্যালোচনার জন্য খাদেম হুসাইনের "আল-কুরআনিউিন" দেখুন।

(৩) শায়খ অসাবধানতাবশত "তাদের মধ্যে আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী বিচার করুন" লিখেছেন। আর সূরা আল-মায়িদাহ: ৪৮-এ রয়েছে: {তাদের মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী বিচার করুন}।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৭)
وبأنه سبحانه آتى محمدًا صلى الله عليه وآله وسلم الكتاب والحكمة، وأنه أنزل عليه الكتاب ليبينه للناس.

وقال سبحانه: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ (17) فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ (18) ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة: 17 - 19].

ويقول: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ} [الأحزاب: 21].

وقال الله تبارك وتعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيُرِيدُونَ أَنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَنْ يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا (150) أُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ حَقًّا وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُهِينًا} [النساء: 150 - 151].

والتفريق بين الكتاب والسنة تفريق بين الله ورسله، ومن ردَّ السنة التي جاء بها الرسول يوشك أن يردَّ الكتاب؛ لأنه إنما جاء به الرسول أيضًا. ولكن شياطين الجن والإنس من سنتهم أن يستدرجوا ضعفاء العقول شيئًا فشيئًا.

بل لن يردَّها أحدٌ إلا وقد ردَّ الآيات الموجبة لطاعة الرسول واتباعه، وردُّ بعض القرآن كردِّه كله.

هذا، والقول بردِّ السنة البتة كفر صريح منافٍ لشهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدًا رسول الله.

وليس موضوع هذه الرسالة الرد على من كان هذا حالَه، ولكني أنبه على أمور تصلح أن يتشبَّث بها من يميل إلى تلك الضلالة، أو يشكِّك بها العامة. وأسأل الله تعالى التوفيق.
এবং তিনি (আল্লাহ) সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে কিতাব ও হিকমত দান করেছেন, এবং তাঁর ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি তা মানুষের নিকট স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন।

সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই তা সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই। (১৭) সুতরাং আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। (১৮) অতঃপর তার বর্ণনা প্রদানের দায়িত্বও আমাদেরই।} [সূরা আল-কিয়ামাহ: ১৭-১৯]।

তিনি আরও বলেন: {তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালের আশা রাখে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।} [সূরা আল-আহযাব: ২১]।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের সাথে কুফরি করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের মধ্যে পার্থক্য করতে চায় এবং বলে, 'আমরা কতককে বিশ্বাস করি আর কতককে অবিশ্বাস করি' এবং তারা এর মাঝামাঝি কোনো পথ অবলম্বন করতে চায়; (১৫০) তারাই প্রকৃত কাফির এবং আমি কাফিরদের জন্য লাঞ্ছনাকর আজাব প্রস্তুত করে রেখেছি।} [সূরা আন-নিসা: ১৫০-১৫১]।

আর কিতাব ও সুন্নাহর মধ্যে পার্থক্য করা মূলত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির নামান্তর। যে ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়ে আসা সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করবে, অচিরেই সে কিতাবকেও প্রত্যাখ্যান করবে; কারণ কিতাবও তো রাসুলই নিয়ে এসেছেন। তবে জিন ও মানব শয়তানদের চিরাচরিত পদ্ধতি হলো, তারা অল্প অল্প করে দুর্বল বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিভ্রান্তির দিকে টেনে নেয়।

বরং যে কেউ সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করে, সে মূলত রাসুলের আনুগত্য ও অনুসরণের অপরিহার্যতা সংক্রান্ত আয়াতগুলোকেই প্রত্যাখ্যান করে। আর কুরআনের একাংশ প্রত্যাখ্যান করা সমগ্র কুরআনকে প্রত্যাখ্যান করারই শামিল।

তদুপরি, সুন্নাহকে পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখ্যান করার কথা বলা সুস্পষ্ট কুফরি, যা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল’—এই সাক্ষ্য প্রদানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এই পুস্তিকাটির উদ্দেশ্য এমন ব্যক্তির প্রতিবাদ করা নয় যার অবস্থা এরূপ, বরং আমি এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে সতর্ক করছি যা সেই বিভ্রান্তির দিকে ঝুঁকে পড়া ব্যক্তিদের আঁকড়ে ধরার অবলম্বন হতে পারে অথবা যা সাধারণ মানুষের মনে সংশয় সৃষ্টি করতে পারে। আমি আল্লাহ তায়ালার নিকট তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৮)
[ص 22] الشبهة الأولى: قال الله عز وجل: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ} [النحل: 89].

وقال سبحانه: {لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [خاتمة يوسف].

وقال تعالى: {ثُمَّ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ تَمَامًا عَلَى الَّذِي أَحْسَنَ وَتَفْصِيلًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لَعَلَّهُمْ بِلِقَاءِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ} [الأنعام: 154].

وقال عز وجل في شأن موسى: {وَكَتَبْنَا لَهُ فِي الْأَلْوَاحِ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَوْعِظَةً وَتَفْصِيلًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [الأعراف: 145].

وقد قال سبحانه: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ} [المائدة: 48].

وإذا كانت التوراة فيها تفصيل كل شيء، مع أنها إنما أُنزِلت لدعوة أمة صغيرة، وإلى أجل محدود؛ فكيف لا يكون القرآن كذلك، وهو مهيمن على التوراة، ومنزَّل لدعوة الأمم كلها، ومُعَدٌّ لهدايتها إلى يوم القيامة؟

[ص 23] الشبهة الثانية: أنه قد يستبعد أن يقصَّ الله عز وجل في كتابه من أخبار الأمم السالفة، ويكرر القصة الواحدة منها في عدة سور، وينصّ على فروع من الأحكام التي يبدو للناظر أنها ليست بعظيمة الأهمية، كالأمر بكتابة الدين، ومع ذلك لا يذكر فيه الأمور العظيمة، كعدة ركعات الصلاة وأركانها، وصفة الحج، وغير ذلك.
[পৃষ্ঠা ২২] প্রথম সংশয়: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: {আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা, এবং হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদ} [নাহল: ৮৯]।

এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {অবশ্যই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। এটি কোনো বানোয়াট (مفترى) হাদিস নয়; বরং তা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ এবং ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত} [ইউসুফ সূরার সমাপ্তি]।

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি, যা সৎকর্মশীলদের জন্য পূর্ণাঙ্গ এবং যা প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ এবং হিদায়াত ও রহমত, যাতে তারা তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে ঈমান রাখে} [আনআম: ১৫৪]।

এবং মূসা (আ.)-এর ব্যাপারে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: {এবং আমি তার জন্য ফলকসমূহে লিখে দিয়েছি প্রত্যেক বিষয়ের উপদেশ এবং প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ} [আরাফ: ১৪৫]।

এবং সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর রক্ষক} [মায়িদাহ: ৪৮]।

আর যদি তাওরাতে প্রত্যেক বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ থেকে থাকে, অথচ তা অবতীর্ণ হয়েছিল কেবল একটি ক্ষুদ্র উম্মতের দাওয়াতের জন্য এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য; তবে কুরআন কেন তেমন হবে না, যেখানে এটি তাওরাতের রক্ষক এবং সকল উম্মতকে দাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের হিদায়াতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে?

[পৃষ্ঠা ২৩] দ্বিতীয় সংশয়: এটি সুদূরপরাহত মনে হতে পারে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবে পূর্ববর্তী উম্মতদের কাহিনী বর্ণনা করবেন এবং তার মধ্য থেকে কোনো একটি কাহিনীই বিভিন্ন সূরায় বারবার উল্লেখ করবেন, আর বিধানের এমন সব শাখা-প্রশাখা (فروع) সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেবেন যা একজন সাধারণ পর্যবেক্ষকের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে না-ও হতে পারে, যেমন ঋণ লিখে রাখার নির্দেশ; কিন্তু তা সত্ত্বেও এতে অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ উল্লেখ করবেন না, যেমন সালাতের রাকাত সংখ্যা ও তার রুকনসমূহ (أركان), হজের পদ্ধতি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৯)
والجواب: أن الحجة قائمة على فرضية اتباع السنة، وأن فيها ما ليس في القرآن، وإذا ثبت وقوع ما يستبعد الإنسان وقوعه لم يبق موضع للاستبعاد، وإنما هو بعد ذلك أحد رجلين:

إما مرتابٌ يعدّ جهلَه بالحكمة دليلًا على عدمها، ثم يطعن في الدين من أصله.

وإما مؤمن يعلم أنه لا نسبة لعقله وفهمه وعلمه ومعرفته إلى علم رب العالمين وحكمة أحكم الحاكمين، فإما أن لا يُتعِب نفسه في البحث عن الحكمة؛ لعلمه بأنه لا بدّ من حكمة بالغة، ولا يضره جهلها، والأولى به أن يصرف أوقاته فيما كلِّف به من الطاعات. وإما أن يتضرع إلى الله عز وجل أن يُفهِّمه، ويتدبر ويتفكر لعله يعرفها، فإن عرفها حمِدَ الله عز وجل على ذلك، وإلا لم يَرتَبْ ولم يتزلزل يقينه بأنه لا بد من حكمة بالغة.

فأما المؤمن أو من يدعي الإيمان فهذا يكفيه، ولستُ بصدد التفحص عن الحكم، وأما المرتاب فحقه أن تقام عليه الحجج على أصل الإسلام، ولا يُتشاغل معه بالنظر في الجزئيات؛ لوجوه:

الأول: أنها كثيرة، فإذا أثبتَّ له الحكمة في شيء أورد عليك غيره، وهكذا.

الثاني: أن أحدنا لا يحيط بحِكَم الله عز وجل، فلا بد أن يقف عند بعضها.

الثالث: أن من قبِلَ حجج الإسلام واطمأن بها حصل له الجواب عن تلك الأمور كما قدمنا، ومن لم يقبلها ولم يطمئن بها فلا يرجى أن ينتفع بما
উত্তর হলো: সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের আবশ্যিকতার ওপর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত এবং এতে এমন অনেক কিছু রয়েছে যা কুরআনে নেই। আর যখন এমন কোনো বিষয় সংঘটিত হওয়া প্রমাণিত হয় যা মানুষ অসম্ভব মনে করত, তখন আর সেই অসম্ভব ভাবার অবকাশ থাকে না। এমতাবস্থায় মানুষ দুই প্রকারের যেকোনো একজন হতে পারে:

হয়তো সে একজন সংশয়বাদী (مرتاب), যে হিকমত (حكمة) সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতাকে তা বিদ্যমান না থাকার প্রমাণ (دليل) হিসেবে গণ্য করে এবং এরপর দ্বীনের মূল বিষয়েই অপবাদ আরোপ করে।

অথবা সে একজন মুমিন (مؤمن), যে জানে যে রাব্বুল আলামীনের জ্ঞান এবং আহকামুল হাকীমীনের হিকমতের (حكمة) তুলনায় তার বুদ্ধি, বোধশক্তি, জ্ঞান ও মারেফতের কোনো তুলনাই হয় না। ফলে সে হয়তো হিকমত অনুসন্ধানে নিজেকে ক্লান্ত করে না; কারণ সে জানে যে অবশ্যই এর পেছনে কোনো সুগভীর প্রজ্ঞা (حكمة بالغة) রয়েছে এবং তা না জানা তার কোনো ক্ষতি করবে না। বরং তার জন্য উত্তম হলো নিজের সময়কে সেই আনুগত্যের (طاعات) কাজে ব্যয় করা যার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে। অথবা সে আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করে যেন তিনি তাকে তা বোঝার তৌফিক দান করেন এবং সে চিন্তা ও গবেষণা করে যেন তা জানতে পারে। যদি সে তা জানতে পারে তবে সে জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, অন্যথায় সে সংশয়ে নিপতিত হয় না এবং তার এই সুদৃঢ় বিশ্বাস (يقين) বিচ্যুত হয় না যে, এর পেছনে অবশ্যই কোনো সুগভীর প্রজ্ঞা (حكمة بالغة) রয়েছে।

মুমিন বা যে মুমিন হওয়ার দাবি করে তার জন্য এটিই যথেষ্ট, আর আমি এখানে হিকমতসমূহ বিস্তারিত অনুসন্ধানের পর্যায়ে নেই। কিন্তু সংশয়বাদীর (مرتاب) ক্ষেত্রে কর্তব্য হলো ইসলামের মূল বিষয়সমূহের ওপর তার সামনে প্রমাণ (حجج) উপস্থাপন করা এবং তার সাথে শাখা-প্রশাখা বা খুটিনাটি (جزئيات) বিষয় নিয়ে আলোচনায় লিপ্ত না হওয়া; এর কয়েকটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত: শাখা-প্রশাখাগুলো (جزئيات) অসংখ্য। আপনি যদি তার কাছে কোনো একটি বিষয়ের হিকমত (حكمة) প্রমাণ করেন, তবে সে আপনার সামনে অন্য একটি বিষয় নিয়ে আসবে এবং এভাবেই চলতে থাকবে।

দ্বিতীয়ত: আমাদের কেউ মহান আল্লাহর হিকমতসমূহকে (حكم) পূর্ণাঙ্গভাবে পরিবেষ্টন করতে পারে না, তাই অনিবার্যভাবেই তাকে কোনো না কোনো পর্যায়ে থামতে হবে।

তৃতীয়ত: যে ব্যক্তি ইসলামের প্রমাণসমূহ (حجج) গ্রহণ করেছে এবং তাতে আশ্বস্ত হয়েছে, সে ইতিপূর্বেই উল্লিখিত বিষয়গুলোর উত্তর পেয়ে গেছে। আর যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করেনি এবং তাতে আশ্বস্ত হয়নি, তার ক্ষেত্রে এ থেকে উপকৃত হওয়ার আশা করা যায় না...
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১০)
دونها من إثبات الحكمة في بعض الجزئيات. {وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ} [الرعد: 33].

واعلم أن هذا الاشتباه ناشئ عن الجهل بحكمة الله عز وجل في الخلق والتكليف، وقد بحثتُ عنها في موضع آخر، وأكتفي هنا بالإشارة إليه، فأقول مستعينًا بالله عز وجل: إن كمال جوده سبحانه اقتضى أن يجود بالكمال إلى الحد الممكن، فخلق الجن والإنس صالحين لاكتساب الكمال. وأقرب كمالٍ يُعدُّ كمالًا للمخلوق هو ما كان باكتسابه باختياره، مع عناء ومشقة. فجعل الله سبحانه خلقه وأمره على الحال الموافقة لذلك.

ثم أمرهم سبحانه بكل ما هو كمال لهم، ونهاهم عن كل ما ينافي الكمال. وامتثال أمره ونهيه هو طاعته، وطاعته هي عبادته، فعبادته هي الكمال الذي خلقوا له. قال الله تبارك وتعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56].

ولم يجعل الله سبحانه حجج الحق بغاية الظهور؛ لأنها لو كانت كذلك لكانت معرفتها سهلة، ولكان الخلق كالمجبورين على قبولها، ألا ترى أن ألدَّ الخصوم إذا اتفق أن تقام عليه حجة بغاية الظهور لم يسعه إلا التسليم. ومثل هذا التسليم لا يُعدُّ فضيلة. وكذلك معرفة ما لا صعوبة في معرفته البتة. والمطلوب من الخلق أن يعرفوا الحق معرفةً تكون كمالًا لهم.

فمن الحجج ما هو في نفسه على الحال الموصوفة من عدم سهولة معرفته، وعدم كونه بغاية الظهور.

ومنها ما ليس في نفسه كذلك، ولكن الله تبارك وتعالى قدر معه شبهات
নির্দিষ্ট বিষয়াবলীতে প্রজ্ঞা সাব্যস্তকরণের নিম্নতর পর্যায় সম্পর্কে। {আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই} [রাদ: ৩৩]।

জেনে রাখুন যে, এই অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয়েছে সৃষ্টি এবং শরিয়তের বিধান আরোপের (تكليف) ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকে। আমি অন্য স্থানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, এখানে কেবল সেদিকে ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট মনে করছি। সুতরাং আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি: তাঁর মহানুভবতার পূর্ণতা দাবি করে যে, তিনি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত পূর্ণতা দান করবেন। তাই তিনি জিন ও মানবজাতিকে পূর্ণতা অর্জনের যোগ্য করে সৃষ্টি করেছেন। আর সৃষ্টির জন্য সবচেয়ে নিকটবর্তী পূর্ণতা যা প্রকৃত পূর্ণতা হিসেবে গণ্য হয়, তা হলো যা নিজ ইচ্ছায় ক্লেশ ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয়। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি ও নির্দেশকে সেই অবস্থার উপযোগী করেই নির্ধারণ করেছেন।

অতঃপর তিনি তাদের এমন সবকিছুর আদেশ দিয়েছেন যা তাদের জন্য পূর্ণতা বয়ে আনে এবং তাদের এমন সবকিছু থেকে নিষেধ করেছেন যা পূর্ণতার পরিপন্থী। তাঁর আদেশ ও নিষেধ প্রতিপালন করাই হলো তাঁর আনুগত্য, আর তাঁর আনুগত্যই হলো তাঁর ইবাদত। সুতরাং তাঁর ইবাদতই হলো সেই পূর্ণতা যার জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: {আমি জিন এবং মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} [যারিয়াত: ৫৬]।

আর মহান আল্লাহ সত্যের প্রমাণসমূহকে চরম স্পষ্ট ও প্রকাশিত করে দেননি; কারণ যদি সেগুলো তেমন হতো, তবে সেগুলো অনুধাবন করা সহজ হতো এবং সৃষ্টিজগত তা গ্রহণে বাধ্য হওয়ার মতো হতো। আপনি কি দেখেন না যে, ঘোরতর শত্রুও যদি তার সামনে অত্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপিত হতে দেখে, তবে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া তার আর কোনো উপায় থাকে না? আর এ ধরনের আত্মসমর্পণ কোনো বিশেষ গুণ বা ফজিলত হিসেবে গণ্য হয় না। তেমনিভাবে যে বিষয় অনুধাবনে বিন্দুমাত্র কষ্ট নেই, তা জানাও কোনো কৃতিত্ব নয়। সৃষ্টির কাছে যা কাম্য তা হলো, তারা সত্যকে এমনভাবে জানবে যা তাদের জন্য পূর্ণতা হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

সুতরাং প্রমাণসমূহের মধ্যে কোনোটি স্বয়ং এমন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যা অনুধাবন করা সহজ নয় এবং যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট নয়।

আবার কোনোটি স্বয়ং এমন নয়, তবে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তার সাথে কিছু সংশয় যুক্ত করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১১)
يصير معها على تلك الحال، [ص 24] فإن الشبهة تُرِيب في ما هو في نفسه بغاية الظهور القطعي.

واعتبرْ ذلك بأن تأخذ تفاحة وتنظر إليها وتمسَّها وتشمَّها وتذوقَها، ثم تفكّر هل عندك أدنى أدنى شبهة في كونها تفاحة على الحقيقة، ثم فكِّرْ هل هذا العلم القاطع خاص بك أم بكل من يعرف التفاح ويختبر التفاحة كاختبارك أو دونه؟

ثم ادعُ بدويًّا وناوِلْه التفاحة، وقل له: تأملْ فيها، ثم تقول: مسَّها، ثم تقول: شمَّها، ثم تقول: ذُقْها، ثم سله: هل يرتاب في أنها تفاحة؟ فيوشك أن تراه قد عرض له بعض الارتياب. فدَعْه مدة ثم قل له: إن في محل كذا رجلًا ساحرًا ربما أخذ الحصاة، ثم يناولها الحاضرين فيرون أنها خاتم من ذهب، وربما أخذ البعرة أو ما هو أخبث منها، ثم يناولها الحاضرين فيرونها قطعة سكَّر أو شيئًا من الفاكهة.

ثم اذهبْ بذلك البدوي إلى رجل تُوهِمه أنه ذلك الساحر، وقد تواطأتَ معه أن يناولكم تفاحًا! فماذا ترى حال البدوي إذا ناوله ذلك الرجل تفاحة؟ ألا تراه يُحجِم عن تناولها، وإن تناولها وجدته متقذرًا لها، فإذا أُمر بشمِّها لم يكد يدنيها من أنفه، وإن أُمر بذوقها أنكر ذلك ولم يطقه!

ولهذا كان علماء السلف يتباعدون عن سماع الشبهات، وينهون الناس عن مجالسة أهلها، أو سماع كلامهم. وإنما ذلك لأنهم عرفوا أنهم وعامة المسلمين قد حصل لهم اليقين الكامل بصحة الدين وأصوله، ولا يرجى من سماع الشبهات فائدة ما، بل يُخشى منها أن تُزلزِل ذلك اليقين.
...সেই অবস্থার সাথে পরিণত হয়, [পৃষ্ঠা ২৪] কেননা সংশয় (شبهة) এমন বিষয়ের ক্ষেত্রেও বিভ্রান্তি তৈরি করে, যা স্বীয় সত্তায় চূড়ান্ত পর্যায়ের সুনিশ্চিত (قطعي) ও সুস্পষ্ট।

এর উদাহরণ হিসেবে মনে করুন, আপনি একটি আপেল নিলেন এবং সেটির দিকে তাকালেন, সেটি স্পর্শ করলেন, ঘ্রাণ নিলেন এবং স্বাদ গ্রহণ করলেন। অতঃপর চিন্তা করে দেখুন, এটি যে প্রকৃতপক্ষে একটি আপেল, সে বিষয়ে আপনার কি সামান্যতম কোনো সংশয় (شبهة) আছে? তারপর ভেবে দেখুন, এই সুনিশ্চিত (قاطع) জ্ঞান কি কেবল আপনার জন্যই নির্দিষ্ট, নাকি যারা আপেল চেনে এবং আপনার ন্যায় বা তার চেয়ে কম পর্যায়ে আপেল পরীক্ষা করে দেখেছে, তাদের সবার জন্যই এটি সমানভাবে প্রযোজ্য?

অতঃপর আপনি একজন মরুবাসীকে (بدوي) ডাকুন এবং তাকে আপেলটি দিয়ে বলুন: এটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করো। তারপর তাকে বলুন: এটি স্পর্শ করো। এরপর বলুন: এটি শুকো দেখো। এরপর বলুন: এটি আস্বাদন করো। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করুন: এটি যে একটি আপেল, সে বিষয়ে কি তার কোনো সন্দেহ আছে? অচিরেই আপনি দেখবেন যে তার মনে কিছুটা সংশয়ের উদ্রেক হয়েছে। তাকে কিছুক্ষণ সময় দিন, তারপর তাকে বলুন: অমুক স্থানে একজন জাদুকর আছে, যে হয়তো একটি কঙ্কর হাতে নেয় এবং উপস্থিতদের তা প্রদান করে, তখন তারা দেখে যে সেটি একটি স্বর্ণালঙ্কার। আবার কখনো সে পশুর বিষ্ঠা বা তার চেয়েও কদর্য কিছু হাতে নেয় এবং উপস্থিতদের প্রদান করে, তখন তারা সেটিকে চিনির টুকরো বা কোনো ফল হিসেবে প্রত্যক্ষ করে।

এরপর সেই মরুবাসীকে (بدوي) এমন এক ব্যক্তির নিকট নিয়ে যান যাকে আপনি জাদুকর বলে ধারণা দেবেন, অথচ আপনি পূর্বেই তার সাথে এই মর্মে যোগসাজশ করে রেখেছেন যে সে আপনাদের আপেল প্রদান করবে! তখন সেই ব্যক্তি যখন তাকে একটি আপেল দেবে, তখন সেই মরুবাসীর (بدوي) অবস্থা কী হবে বলে আপনি মনে করেন? আপনি কি দেখবেন না যে সে সেটি গ্রহণ করতে সংকোচ বোধ করছে? আর যদি সে তা গ্রহণও করে, তবে দেখবেন সে সেটিকে ঘৃণা করছে। যদি তাকে ঘ্রাণ নিতে বলা হয়, তবে সে সেটি তার নাকের নিকটেও নিতে চাইবে না। আর যদি তাকে স্বাদ গ্রহণ করতে বলা হয়, তবে সে তা অস্বীকার করবে এবং তা সহ্য করতে পারবে না!

এই কারণেই সালাফ (سلف) তথা পূর্বসূরি আলেমগণ সংশয়মূলক (شبهات) কথাবার্তা শ্রবণ করা থেকে দূরে থাকতেন এবং মানুষকে সংশয়বাদীদের মজলিসে উপবেশন করতে বা তাদের কথা শুনতে নিষেধ করতেন। এর কারণ হলো তারা জানতেন যে, তাদের এবং সাধারণ মুসলিমদের অন্তরে দ্বীনের সত্যতা এবং এর মূলনীতিসমূহের (أصول) ব্যাপারে পূর্ণ সুনিশ্চয়তা (يقين) অর্জিত হয়েছে। আর সংশয় (شبهات) শ্রবণের মধ্যে কোনো উপকারের প্রত্যাশা নেই, বরং এর মাধ্যমে সেই সুনিশ্চয়তা (يقين) টলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১২)
والمقصود أن الله تبارك وتعالى جعل الشبهات لِتَعرِض لمن شاء من عباده، فمنهم من تَعرِض له فيُعرِض عنها ثقةً بما عنده من الحجة، فيكون هذا كمالًا له.

ومنهم من تعرض له قبل معرفة الحجة، فيبذل وسعه في النظر حتى يرزقه الله معرفة الحجة، ويكون ذلك كمالًا له.

ومنهم من تعرض له وقد عرف الحجة، ويحس من نفسه قوة على حل الشبهة، فيسعى في ذلك نصيحة لخلق الله عز وجل، فيكون ذلك كمالًا له.

ومنهم من يكون له هوى في خلاف الحجة، فإذا بغتَتْه الحجة كرهها، فعرضت له الشبهة فاستراح إليها، فبقي على الحال التي تليق به، إذ لولا الشبهة لربما قهرته الحجة فيقبلها مكرهًا، وليس ذلك بكمال.

ومنهم من لا يكون له رغبة في الكمال، ولكنه يأنف من الاعتراف بالجهل، فحاول النظر فعرضت له شبهة، فقنعَ بها، ولم يُتعِب نفسه في طلب الحق.

ومنهم من يكون قد عرف الحق ولكنه لا يريد الخضوع له، ويأنف من أن يقال: إنه يردُّ الحق مع علمه به، فتعرِض له الشبهة فيتمسك بها ويدعي أنها الحق.

إلى غير ذلك من حِكَم الله عز وجل، وقد يجمعها أو غالبها اسم "الابتلاء".

وقال الله تبارك وتعالى: {خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا}
মূল উদ্দেশ্য হলো যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা সংশয়সমূহ (الشبهات) সৃষ্টি করেছেন যেন তা তাদের সামনে উপস্থাপিত হয়। ফলে তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যার সামনে তা উপস্থিত হয়, কিন্তু সে তার নিকট থাকা প্রমাণের (الحجة) ওপর আস্থার (ثقة) কারণে তা এড়িয়ে চলে; আর এটি তার জন্য একটি পূর্ণতা।

আবার তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যার সামনে প্রমাণ (الحجة) জানার পূর্বেই সংশয় (الشبهة) উপস্থিত হয়, তখন সে তা পর্যালোচনায় সাধ্যমতো চেষ্টা করে যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে প্রমাণ (الحجة) চেনার তাওফিক দান করেন; আর এটি তার জন্য একটি পূর্ণতা।

তাদের মধ্যে এমনও আছে যার নিকট প্রমাণ (الحجة) জানা থাকা অবস্থায় সংশয় (الشبهة) উপস্থিত হয় এবং সে নিজের মাঝে সেই সংশয় (الشبهة) নিরসনের শক্তি অনুভব করে; ফলে সে আল্লাহর সৃষ্টির কল্যাণের উদ্দেশ্যে তা নিরসনে সচেষ্ট হয়; আর এটিও তার জন্য একটি পূর্ণতা।

আবার তাদের মাঝে এমন কেউ আছে যার প্রমাণের (الحجة) বিপরীতে প্রবৃত্তি বিদ্যমান থাকে। ফলে যখন প্রমাণ (الحجة) অতর্কিতে তার সামনে আসে, সে তা অপছন্দ করে। এমতাবস্থায় যখন তার সামনে সংশয় (الشبهة) উপস্থিত হয়, তখন সে তাতে স্বস্তি পায় এবং নিজের উপযুক্ত অবস্থাতেই অবিচল থাকে। কেননা, সংশয় (الشبهة) না থাকলে হয়তো প্রমাণ (الحجة) তাকে পরাভূত করত এবং সে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তা গ্রহণ করত, যা কোনো পূর্ণতা নয়।

তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যার পূর্ণতা অর্জনের কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই, কিন্তু সে নিজের অজ্ঞতা স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করে। অতঃপর সে পর্যালোচনার চেষ্টা করলে তার সামনে সংশয় (الشبهة) উপস্থিত হয় এবং সে তাতেই তুষ্ট থাকে এবং সত্য অন্বেষণে নিজেকে পরিশ্রান্ত করে না।

তাদের মধ্যে এমনও আছে যে সত্য জেনেছে কিন্তু তার প্রতি অনুগত হতে চায় না। সে এটি বলতে লজ্জা পায় যে, সে জেনে-বুঝে সত্যকে প্রত্যাখ্যান করছে। ফলে তার সামনে সংশয় (الشبهة) উপস্থিত হলে সে তা আঁকড়ে ধরে এবং দাবি করে যে সেটিই সত্য।

আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র এ জাতীয় আরও অনেক হিকমত বা প্রজ্ঞা রয়েছে, যার সবটুকুকে বা অধিকাংশকে 'পরীক্ষা' (الابتلاء) শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা যেতে পারে।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: "যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, তোমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য যে— আমলের দিক থেকে তোমাদের মধ্যে কে সর্বোত্তম।"
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৩)
[الملك: 1]. وقال عز وجل: {لِيَجْعَلَ مَا يُلْقِي الشَّيْطَانُ فِتْنَةً} [الحج: 53]، وقال سبحانه: {وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً} [الأنبياء: 35].

وراجع آيات الفتنة والابتلاء في القرآن، فإنها كثيرة.

وقال الله عز وجل: {إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَنْ يَضْرِبَ مَثَلًا مَا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلًا يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ} [البقرة: 26].

فهذا حال هذه الشبهة ونظائرها.

[ص 25] الشبهة الثالثة: أن يقال: إذا كانت السنة مفروضًا اتباعُها كالقرآن فلماذا لم يأمر النبي صلى الله عليه وآله وسلم بكتابتها؟ بل نقل عنه النهي عن ذلك. ولماذا لم يعتنِ الخلفاء بجمعها؟ بل جاء عنهم ما يخالف ذلك.

أقول: أما نهيه صلى الله عليه وآله وسلم عن الكتابة فإنما ورد بذلك حديث واحد أخرجه مسلم(1)، وأعله البخاري وغيره فقالوا: الصحيح أنه من قول أبي سعيد الخدري(2).

وقد جاءت في الإذن أحاديث، وأكثر الصحابة لم يكونوا يرون بها بأسًا.

--------------------------------------------

(1) برقم (3004) من حديث أبي سعيد الخدري.

(2) انظر "فتح الباري" (1/ 208) و"تقييد العلم" للخطيب (ص 32).
[আল-মুলক: ১]। এবং মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {যাতে শয়তান যা প্রক্ষিপ্ত করে তিনি সেটিকে একটি পরীক্ষা (فتنة) বানান} [আল-হাজ্জ: ৫৩], এবং পবিত্র সত্তা বলেছেন: {আর আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালোর মাধ্যমে পরীক্ষা (فتنة) স্বরূপ পরীক্ষা করি} [আল-আম্বিয়া: ৩৫]।

আর কুরআনে ফিতনা ও পরীক্ষার আয়াতগুলো দেখুন, নিশ্চয়ই তা অনেক।

এবং মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্রতর কোনো কিছুর উদাহরণ দিতে লজ্জা বোধ করেন না। অতঃপর যারা ঈমান এনেছে তারা জানে যে এটি তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য, আর যারা কুফরি করেছে তারা বলে: আল্লাহ এ উদাহরণ দিয়ে কী বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি এর মাধ্যমে অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং এর মাধ্যমে অনেককে সঠিক পথ দেখান; আর তিনি পাপাচারী (فاسقين) ছাড়া অন্য কাউকে এর মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করেন না} [আল-বাকারাহ: ২৬]।

এটিই হলো এই সংশয় এবং এর সদৃশ বিষয়গুলোর অবস্থা।

[পৃষ্ঠা ২৫] তৃতীয় সংশয়: বলা হয়ে থাকে যে: যদি সুন্নাহর অনুসরণ করা কুরআনের মতোই ফরয হয়ে থাকে, তবে কেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তা লিখে রাখার নির্দেশ দেননি? বরং তাঁর থেকে এ ব্যাপারে নিষেধই বর্ণিত হয়েছে। আর কেনই বা খলিফাগণ তা সংকলনের প্রতি যত্নশীল হননি? বরং তাঁদের থেকে তো এর বিপরীত বিষয়ই বর্ণিত হয়েছে।

আমি বলব: লেখালেখির ব্যাপারে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধের ক্ষেত্রে কেবল একটি হাদিসই বর্ণিত হয়েছে যা মুসলিম বর্ণনা (أخرجه) করেছেন, এবং বুখারি ও অন্যান্যগণ একে ত্রুটিযুক্ত (أعله) সাব্যস্ত করেছেন। তাঁরা বলেছেন: সঠিক (الصحيح) হলো এটি আবু সাঈদ খুদরি-এর নিজস্ব বক্তব্য।

আর (হাদিস লেখার) অনুমতির ব্যাপারে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, এবং অধিকাংশ সাহাবি এতে কোনো অসুবিধা মনে করতেন না।

--------------------------------------------

(১) ৩০০৪ নম্বর হাদিস, আবু সাঈদ খুদরি-এর বর্ণনা থেকে।

(২) দেখুন "ফাতহুল বারি" (১/ ২০৮) এবং খতিব-এর "তাকয়িদুল ইলম" (পৃষ্ঠা ৩২)।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৪)
فأما ما روي عن عمر(1): فاستشار الصحابة فأشاروا عليه بكتابة السنن، فطفق يستخير الله تعالى شهرًا، ثم عزم أن لا يفعل، وقال: "إني ذكرت قومًا كانوا قبلكم كتبوا كتبًا فأكبُّوا عليها، وتركوا كتاب الله، وإني والله لا أَلبِس كتابَ الله بشيء أبدًا".

ففي هذا الأمر اتفاقهم على أنها حجة، ثم اتفقوا على الكتابة، إلا أن عمر خشي مفسدة أن تؤدي كتابتها إلى إعراض الناس عن القرآن. وليس في هذا ما يخدش في معرفته بأنها حجة، ولاسيما مع ما تواتر عنه من التدين بها والحكم بها.

والذي أرى أن الله عز وجل إنما خار له عدم الكتابة، لأنه إن كتب كان الغالب أن لا يستوعب؛ لكثرة السنة، ولغيبة كثير ممن سمع كثيرًا منها، ولنسيان كثير منهم لبعض ما سمعه أو شاهده، فلعل أحدهم إنما كان يذكر عند حدوث واقعة تشبه الواقعة في عهده صلى الله عليه وآله وسلم، ونحو ذلك. ولعله أن يظهر لهم من بعض الأقوال أو الأفعال أنه لا حكم فيه، فلا يكتبونه، وقد أعدَّه الله عز وجل لمن يفهمه ممن بعدهم إذا دعت الحاجة إليه، كما يشير إليه حديث: "فربَّ مبلَّغٍ أوعى من سامع"(2).

فالحاصل أن عمر لو كتب لم يستوعب، ولكان ذلك ذريعة إلى رد كثير

--------------------------------------------

(1) أخرجه عبد الرزاق في "المصنّف" (11/ 257 - 258) ومن طريقه الخطيب في "تقييد العلم" (49) وابن عبد البر في "جامع بيان العلم" (343). ورواه الخطيب من غير وجه.

(2) أخرجه البخاري (1741) ومسلم (1679) من حديث أبي بكرة ضمن خطبته صلى الله عليه وسلم يوم النحر.
ওমর(১) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: তিনি সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলে তাঁরা তাঁকে সুন্নতসমূহ লিপিবদ্ধ করার পরামর্শ দেন। এরপর তিনি এক মাস পর্যন্ত আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা (ইস্তিখারা) করতে থাকেন, অতঃপর তা না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং বলেন: "আমি তোমাদের পূর্ববর্তী এক সম্প্রদায়ের কথা স্মরণ করলাম যারা কিছু কিতাব লিখেছিল এবং সেগুলোর ওপরই নিবিষ্ট হয়ে পড়েছিল এবং আল্লাহর কিতাব পরিত্যাগ করেছিল। আল্লাহর কসম, আমি আল্লাহর কিতাবের সাথে কখনোই অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটাব না।"

এই ঘটনার মধ্যে এটি একটি দলিল (حجة) হওয়ার ব্যাপারে তাঁদের ঐকমত্য রয়েছে। অতঃপর তাঁরা তা লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারেও একমত হয়েছিলেন, তবে ওমর এই আশঙ্কায় ভীত ছিলেন যে, এটি লিপিবদ্ধ করলে মানুষ কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে পড়ার ন্যায় অনিষ্টের (مفسدة) সৃষ্টি হতে পারে। এতে তাঁর এটি যে দলিল (حجة) হওয়ার ব্যাপারে জ্ঞানের কোনো কমতি প্রকাশ পায় না, বিশেষ করে তাঁর থেকে এটি অনুযায়ী দ্বীন পালন এবং এর মাধ্যমে ফয়সালা করার বিষয়টি মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ের বর্ণনার মাধ্যমে সুপ্রসিদ্ধ।

আমার মতে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য লিপিবদ্ধ না করাকেই কল্যাণকর মনে করেছেন, কারণ তিনি যদি লিখতেন তবে সম্ভবত তা পূর্ণাঙ্গরূপে সংকলন (استيعاب) করা সম্ভব হতো না; সুন্নাহর ব্যাপকতা এবং যারা এর অনেক কিছু শুনেছেন তাদের অনেকের অনুপস্থিতির কারণে, অথবা তারা যা শুনেছেন বা দেখেছেন তার অনেক কিছুই ভুলে যাওয়ার কারণে। হয়তো তাদের কেউ কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে এমন কিছু স্মরণ করতেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সময়ের কোনো ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল, ইত্যাদি। আবার হতে পারে কোনো কথা বা কাজ সম্পর্কে তাদের নিকট প্রতীয়মান হতো যে এতে কোনো বিধান নেই, ফলে তারা তা লিখতেন না; অথচ আল্লাহ তাআলা তা পরবর্তী এমন ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন যারা প্রয়োজন দেখা দিলে তা বুঝতে সক্ষম হবেন। যেমনটি এই হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করে: "অনেক ক্ষেত্রে যার কাছে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে"(২)।

সারকথা হলো, ওমর যদি লিপিবদ্ধ করতেন তবে তা পূর্ণাঙ্গরূপে সংকলন (استيعاب) হতো না, এবং তা অনেকের বর্ণনাকৃত বিষয় প্রত্যাখ্যানের বাহানা হয়ে দাঁড়াত

--------------------------------------------

(১) আব্দুর রাজ্জাক এটি 'মুসান্নাফ' (১১/২৫৭ - ২৫৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্র ধরে খতিব 'তাকয়িদুল ইলম' (৪৯) গ্রন্থে এবং ইবনে আব্দুল বার 'জামি বয়ানিল ইলম' (৩৪৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। খতিব এটি একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারি (১৭৪১) ও মুসলিম (১৬৭৯) এটি আবু বাকরাহ থেকে বর্ণিত হাদিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানির দিনে খুতবায় প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫)
من السنن، بأن يقول من يأتي بعدُ: لا أقبل من السنة إلا ما في كتاب عمر، ولو كانت هذه السنة صحيحة لما ترك عمر كتابتها، وأشباه ذلك.

فأما عدم أمر النبي صلى الله عليه وآله وسلم بكتابتها فلأمور:

منها: خشية التباسها بالقرآن.

ومنها: أنه لا يتيسر الاستيعاب، لأن جميع حركاته صلى الله عليه وآله وسلم وسكناته من السنة. ولو كُتِب مع [عدم] الاستيعاب كان ذلك ذريعة إلى ردِّ ما لم يكتب، كما مرّ.

ومنها: كراهية أن يتقاعد الناس عن طلب السنة وتلقِّيها من أهلها، فيكتفي كل واحد بكتاب ينسخ له فيضعه في بيته، وهو جاهل لأكثر ما فيه.

وفي ترك الكتابة مصلحة عظيمة، بأن يحتاج المسلم إلى الطلب والسماع والحفظ، وبذلك لا ينال العلم إلا مَن هو مِن أهله. ولهذا لما أطبق الناس على الكتابة اشترط العلماء للرواية أن يكون الرجل قد سمع، واشترط بعضهم الحفظ، ومن لم يشترطه فقد نوَّه بفضل الحفظ وعلو درجته.

ووراء هذا كله ما تقدم من حكمة الخلق والتكليف، فتدبر. وحِكَم أخرى يطول بيانها، وقد شرحتُ بعضها في موضع آخر.

الشبهة الرابعة: ما جاء عن ابن عباس: "لما اشتدَّ بالنبي صلى الله عليه وآله وسلم وجعه قال: ائتوني بكتابٍ أكتبْ لكم كتابًا لا تضلّوا بعده. قال عمر: إن النبي صلى الله عليه وآله وسلم غلبه الوجع، وعندنا كتاب الله حسْبُنا، فاختلفوا وكثر اللغطُ، قال: قوموا عني … "(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (114) ومسلم (1637).
সুন্নাহ সম্পর্কে পরবর্তীতে আগমনকারীরা হয়তো বলত: "আমি সুন্নাহর মধ্য থেকে উমরের কিতাবে যা আছে তা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করব না।" যদি এই সুন্নাহ সহিহ (صحيحة) হতো, তবে উমর তা লিখে রাখা বাদ দিতেন না—এবং এই জাতীয় অন্যান্য কথা।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সুন্নাহ লিখে রাখার আদেশ না দেওয়ার পেছনে কিছু কারণ ছিল:

তার মধ্যে একটি হলো: কুরআনের সাথে সুন্নাহ মিশে যাওয়ার আশঙ্কা।

অন্যতম কারণ হলো: সুন্নাহর পুঙ্খানুপুঙ্খ সংকলন সহজসাধ্য ছিল না, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা ছিল সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। আর যদি তা অসম্পূর্ণভাবে লিপিবদ্ধ করা হতো, তবে যা লেখা হয়নি তা প্রত্যাখ্যান করার একটি অজুহাত তৈরি হতো, যা ইতিপূর্বেও আলোচিত হয়েছে।

আরেকটি কারণ হলো: মানুষ যাতে সুন্নাহ অন্বেষণ করা এবং যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করা থেকে বিরত না হয়ে যায়—সেই আশঙ্কায় এটি অপছন্দ করা হয়েছিল। অন্যথায়, প্রত্যেকে নিজের জন্য অনুলিপি করা একটি কিতাব নিয়েই সন্তুষ্ট থাকত এবং তা নিজের ঘরে রেখে দিত, অথচ সে তার অধিকাংশ বিষয় সম্পর্কেই অজ্ঞ থাকত।

আর সুন্নাহ লিখে না রাখার মধ্যে এক মহান কল্যাণ নিহিত ছিল; তা হলো—এর ফলে মুসলিমদের জ্ঞান অন্বেষণ করা, শ্রবণ করা এবং মুখস্থ করার (الحفظ) প্রয়োজন হতো। এর মাধ্যমে কেবল সেই ব্যক্তিই ইলম অর্জন করতে পারত, যে এর যোগ্য। এই কারণেই যখন মানুষ সুন্নাহ লিখে রাখার ব্যাপারে একমত হলো, তখন আলেমগণ বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে শর্তারোপ করলেন যে, ব্যক্তিকে অবশ্যই তা শ্রবণ করতে হবে। আর তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মুখস্থ রাখার (الحفظ) শর্তারোপ করেছেন; আর যারা তা শর্ত হিসেবে গণ্য করেননি, তারাও মুখস্থ রাখার (الحفظ) শ্রেষ্ঠত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন।

এসব কিছুর নেপথ্যে সৃষ্টিতত্ত্ব ও শরিয়তের বিধান প্রদানের যে প্রজ্ঞা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে তা বর্তমান রয়েছে; সুতরাং গভীরভাবে চিন্তা করো। এ ছাড়াও আরও অনেক হিকমত বা নিগূঢ় রহস্য রয়েছে যা বিস্তারিত বর্ণনায় দীর্ঘ হবে, যার কিছু অংশ আমি অন্য স্থানে ব্যাখ্যা করেছি।

চতুর্থ সংশয়: ইবনে আব্বাস থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: "যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর অসুস্থতা তীব্রতর হলো, তখন তিনি বললেন: তোমরা আমার কাছে লেখার সরঞ্জাম নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন কিছু লিখে দেব যাতে পরবর্তীতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও। তখন উমর বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর অসুস্থতা প্রবল হয়েছে, আর আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব রয়েছে যা আমাদের জন্য যথেষ্ট। তখন তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল এবং শোরগোল বৃদ্ধি পেল। তিনি (নবী) বললেন: তোমরা আমার নিকট থেকে উঠে যাও..."।(1).

--------------------------------------------

(1) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১১৪) ও মুসলিম (১৬৩৭)।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬)
يقال: فهذا عمر يقول: "عندنا كتاب الله حسبنا"، ثم يقرُّه النبي صلى الله عليه وآله وسلم؛ إذ لم ينقل أنه صلى الله عليه وآله وسلم أنكر عليه هذه الكلمة.

أقول: يقع لي أن عمر كان يستحضر حينئذٍ قول الله عز وجل: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} [المائدة: 3]، فرأى أن الدين قد كمل، فلم يبق موضع للزيادة فيه.

غاية الأمر أن يريد النبي صلى الله عليه وآله وسلم أن يذكِّرهم ببعض ما قد علموه، أو يؤكِّد عليهم أمره، أو نحو ذلك.

فكأنه يقول: إن كان بقي شيء من أمر الدين لم يعلِّمناه رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فلا بد أن يكون في القرآن؛ بدليل أن الدين قد كمل، فلماذا نَشُقُّ على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في شدة وجعه؟ وهذا رأي رآه، وقد كان مأذونًا لهم إذا أمرهم النبي صلى الله عليه وآله وسلم بأمر أن يراجعوا، فإذا أعاد عليهم الأمر كان لهم أن يراجعوه الثانية، فإذا أمرهم الثالثةَ تعين الامتثال، كما صرح به جابر في حديثه. "مسند أحمد" ( … )(1).

والمراجعة ثابتة في أحاديث كثيرة:

منها مما وقع لعمر نفسه: مراجعته النبي صلى الله عليه وآله وسلم في الصلاة على عبد الله بن أُبي(2).

--------------------------------------------

(1) ترك المؤلف بياضًا بين القوسين، وتصريح جابر بجواز مراجعة النبي صلى الله عليه وسلم مرتين ورد ضمن إحدى روايات قصة أمر النبي صلى الله عليه وسلم له ببيع جمله في "المسند" (3/ 358 - 359) من الطبعة القديمة، وبرقم (14864) ط. مؤسسة الرسالة. وأصله في "صحيح مسلم" (3/ 1222 برقم 715).

(2) أخرجه البخاري (1269، 4670، 4672، 5796) ومسلم (2400، 2774) من حديث ابن عمر.
বলা হয়: উমর (রা.) বলেন: "আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব রয়েছে, যা আমাদের জন্য যথেষ্ট"; অতঃপর নবী (সা.) তাঁকে সমর্থন করেন; যেহেতু এটি বর্ণিত হয়নি যে তিনি (সা.) এই উক্তির প্রতিবাদ করেছিলেন।

আমি বলছি: আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উমর (রা.) সেই সময় মহান আল্লাহর এই বাণীটি স্মরণ করছিলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম} [আল-মায়িদাহ: ৩]; ফলে তিনি মনে করেছিলেন যে দ্বীন পূর্ণাঙ্গ হয়ে গেছে, তাই এতে আর কোনো সংযোজনের অবকাশ অবশিষ্ট নেই।

বড়জোর বিষয়টি এমন হতে পারে যে, নবী (সা.) তাদের এমন কিছু স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যা তারা ইতোমধ্যেই জানতেন, অথবা তাঁদের প্রতি কোনো বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে চেয়েছিলেন, কিংবা অনুরূপ কিছু।

যেন তিনি বলতে চেয়েছিলেন: দ্বীনের এমন কোনো বিষয় যদি অবশিষ্ট থাকে যা আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদের শিক্ষা দেননি, তবে তা অবশ্যই কুরআনে বিদ্যমান থাকবে; দলিল হিসেবে দ্বীন পূর্ণাঙ্গ হওয়ার বিষয়টি তো রয়েছেই। সুতরাং নবীর (সা.) তীব্র অসুস্থতার মধ্যে আমরা কেন তাঁকে কষ্ট দেব? এটি একটি অভিমত যা তিনি পোষণ করেছিলেন। আর নবী (সা.) যখন তাঁদের কোনো নির্দেশ দিতেন, তখন তাঁদের পর্যালোচনার (مراجعة) অনুমতি ছিল। অতঃপর তিনি যদি পুনরায় নির্দেশ দিতেন, তবে দ্বিতীয়বারও তা পর্যালোচনার (مراجعة) সুযোগ থাকত। কিন্তু যখন তিনি তৃতীয়বার নির্দেশ দিতেন, তখন আনুগত্য করা অনিবার্য হয়ে পড়ত; যেমনটি জাবির (রা.) তাঁর হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। মুসনাদ আহমাদ ( … )(১)।

আর পর্যালোচনার (مراجعة) বিষয়টি অনেক হাদিসে প্রমাণিত:

তার মধ্যে উমর (রা.)-এর নিজের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে: আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই-এর জানাযার সালাতের বিষয়ে নবী (সা.)-এর নিকট তাঁর পর্যালোচনা (مراجعة)(২)।

--------------------------------------------

(১) লেখক বন্ধনীর মাঝে শূন্যস্থান রেখেছেন। নবী (সা.)-এর নিকট দুইবার পর্যালোচনা (مراجعة) করার বৈধতা সম্পর্কে জাবির (রা.)-এর সুস্পষ্ট বক্তব্য তাঁর উট বিক্রির নির্দেশের ঘটনার একটি বর্ণনায় এসেছে; যা মুসনাদ-এর (৩/ ৩৫৮ - ৩৫৯) পুরাতন সংস্করণ এবং মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণের ১৪৮৬৪ নং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আর এর মূল ভিত্তি সহিহ মুসলিম-এ (৩/ ১২২২, হাদিস নং ৭১৫) রয়েছে।

(২) এটি বুখারি (১২৬৯, ৪৬৭০, ৪৬৭২, ৫৭৯৬) এবং মুসলিম (২৪০০, ২৭৭৪) ইবনে উমর (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭)
ومراجعته له لما أمر أبا هريرة أن يبشر الناس(1). [ص 26] وغير ذلك.

ومع هذا فقد كان عمر يعتقد أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم لا يموت من وجعِه ذلك، كما صرح بذلك بعد موته صلى الله عليه وآله وسلم.

وبالجملة، فقد تواتر عن عمر امتثالُه سنةَ النبي صلى الله عليه وآله وسلم وتديُّنه بها في حياة النبي صلى الله عليه وآله وسلم وبعدها، فلا بد من حمل كلمته تلك على ما لا يخالف ذلك.

يُعيِّن ذلك أن فرض اتباع السنة متواتر عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم وأصحابه، فلو فهموا من كلمة عمر ما يخالف ذلك لاشتد نكيرهم عليه، ولو كان لهذا الحديث أهمية عظيمة كما يتوهمه كثير من الناس لكثر ناقلوه من الصحابة الذين حضروا القصة، ولم ينفرد بنقله أصغرهم سنًّا يومئذ، وهو ابن عباس.

وليس مقصودي من هذا توهين رواية ابن عباس كما مال إليه بعض المتأخرين، وإنما مقصودي أن غيره من أكابر الصحابة لم يروا لذلك أهمية فسكتوا عنه. وقد كان ابن عباس يُجِلُّ عمر ويُبجِّلُه في حياته وبعد مماته، وشهادته له بعد أن أصيب مشهورة(2)، وكذلك قوله بعد موت عمر بمدة: "حدثني أناس مرضيُّون وأرضاهم عندي عمر"(3) إلى غير ذلك.

وقوله صلى الله عليه وآله وسلم: "لا تَضِلُّوا بعده"، أراد ــ والله أعلم ــ إذا عملتم بما فيه؛ إذ

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (31) من حديث أبي هريرة ضمن قصته.

(2) فقد قال لعمر: "أبشِرْ بالجنة، صاحبتَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فأطلتَ صحبتَه، ووليتَ أمر المؤمنين فقويتَ وأديتَ الأمانة". أخرجه أحمد في "المسند" (322) وابن سعد في "الطبقات" (3/ 353)، وإسناده صحيح.

(3) أخرجه البخاري (581).
ومراجعته له لما أمر أبا هريرة أن يبشر الناس(1). [ص 26] وغير ذلك。

এবং আবু হুরায়রাকে যখন তিনি (নবী) সুসংবাদ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন তখন তাঁর (উমর) তাকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ(1)। [পৃষ্ঠা ২৬] এবং এর বাইরেও অন্যান্য বিষয়।

এতৎসত্ত্বেও উমর (রা.) বিশ্বাস করতেন যে, নবী (সা.) তাঁর সেই অসুস্থতায় ইন্তেকাল করবেন না, যেমনটি তিনি তাঁর (সা.) ইন্তেকালের পর স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছিলেন।

সারকথা, উমর (রা.) কর্তৃক নবী (সা.)-এর সুন্নাহর অনুসরণ এবং তাঁর জীবদ্দশায় ও ইন্তেকালের পরে সে অনুযায়ী আমল করার বিষয়টি অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (تواتر) হয়েছে। সুতরাং তাঁর সেই উক্তিটিকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যা এর পরিপন্থী না হয়।

এটি একথারই প্রমাণ দেয় যে, সুন্নাহ অনুসরণ করার আবশ্যকতা নবী (সা.) এবং তাঁর সাহাবীগণ থেকে অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواتر)। উমর (রা.)-এর উক্তি থেকে যদি তাঁরা এর বিপরীত কিছু বুঝতেন, তবে তাঁরা অবশ্যই তাঁর কঠোর প্রতিবাদ করতেন। আর যদি এই হাদিসের এমন বিশাল গুরুত্ব থাকত যেমনটি অনেকে ধারণা করে থাকেন, তবে সেই ঘটনায় উপস্থিত থাকা সাহাবীগণের মধ্য থেকে এটি বর্ণনাকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হতো; এবং কেবল তৎকালীন সময়ে তাঁদের মাঝে সর্বকনিষ্ঠ ইবনে আব্বাস এটি বর্ণনায় একক (منفرد) হতেন না।

এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য ইবনে আব্বাসের বর্ণনাকে (رواية) দুর্বল প্রতিপন্ন করা নয়, যেমনটি পরবর্তীকালের কেউ কেউ মনে করেছেন; বরং আমার উদ্দেশ্য হলো এই যে, অন্যান্য প্রবীণ সাহাবীগণ এর তেমন গুরুত্ব অনুভব করেননি বলেই এ ব্যাপারে নীরব ছিলেন। অথচ ইবনে আব্বাস উমর (রা.)-এর জীবদ্দশায় এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মান করতেন। উমর (রা.) আহত হওয়ার পর তাঁর সম্পর্কে ইবনে আব্বাসের সাক্ষ্য অত্যন্ত প্রসিদ্ধ (مشهورة)(2)। অনুরূপভাবে, উমর (রা.)-এর মৃত্যুর কিছুকাল পর তাঁর এই উক্তি: "আমার কাছে সন্তোষভাজন (مرضي) ব্যক্তিবর্গ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও সন্তোষভাজন (أرضاهم) হলেন উমর"(3)—ইত্যাদি।

এবং নবী (সা.)-এর বাণী: "এর পর তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না"—এর দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন—আল্লাহই ভালো জানেন—যখন তোমরা এর ওপর আমল করবে; যেহেতু

--------------------------------------------

(1) মুসলিম এটি (৩১) আবু হুরায়রার হাদিস থেকে তাঁর কাহিনীর প্রেক্ষিতে বর্ণনা করেছেন।

(2) তিনি উমরকে বলেছিলেন: "আপনি জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করুন; আপনি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর দীর্ঘ সাহচর্য পেয়েছেন, অতঃপর মুমিনদের শাসনের দায়িত্ব পেয়েছেন এবং শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছেন ও আমানত আদায় করেছেন।" এটি আহমাদ মুসনাদ গ্রন্থে (৩২২) এবং ইবনে সাদ তাবাকাত গ্রন্থে (৩/৩৫৩) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।

(3) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (৫৮১)।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৮)
قد علم صلى الله عليه وآله وسلم وأخبر بأن أناسًا وفرقًا من أمته سيضلون. والأخبار بذلك كثيرة متواترة في المعنى. وإذ كان الأمر كذلك فهذا المعنى ــ أعني عدم الضلال بشرط العمل بما فيه ــ ثابت للقرآن بلا ريب.

وبقيتْ أشياء تتعلق بالحديث ليس هذا موضعها.

وقد قدَّر الله سبحانه وتعالى أن تكون تلك القضية من جملة الشبه التي يُضِلّ بها سبحانه من يشاء من عباده، كما تقدم.

ومما يذكر هنا ما جاء عن عمر أنه بعث قومًا إلى الكوفة فأوصاهم، قال(1):

[إنكم تأتون الكوفة، فتأتون قومًا لهم أزيزٌ بالقرآن، فيقولون: قدم أصحاب محمد، قدم أصحاب محمد، فيأتونكم فيسألونكم عن الحديث، فأقِلُّوا الروايةَ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأنا شريككم فيه].

وليس في هذا إلا الإقلال من الرواية عندما يخاف أن يُعرض الناس عن القرآن، ويشتغلوا بها. وهذا حق؛ لأن تعلُّم كتاب الله تعالى أهم وأقدم، وليس في ذلك منعٌ من ذكرِ الحديث عندما يحتاج إليه، أو تحديثِ من قد حفظ كتاب الله وتعلَّمه.

فأما ما جاء عن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف أن عمر قال لابن مسعود، ولأبي الدرداء، ولأبي ذر: "ما هذا الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم؟ ، وأحسبه حبسهم بالمدينة حتى أصيب" ("المستدرك" 1/ 110) = فإنما أنكر عليهم الإكثار، فإن الإكثار مظنة الزلل، ومظنة أن يَشْغَل عن تعلم القرآن، كما مرّ.

--------------------------------------------

(1) ترك المؤلف بعده فراغًا، والنصّ من "سنن الدارمي" (286) ..
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) জানতেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে কিছু লোক ও দল পথভ্রষ্ট হবে। এ সংক্রান্ত সংবাদসমূহ অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির (متواترة)। আর যেহেতু বিষয়টি এমনই, তাই এই বিষয়টি—অর্থাৎ কুরআনের ওপর আমল করার শর্তে পথভ্রষ্ট না হওয়া—নিসন্দেহে প্রমাণিত।

হাদিস সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিষয় অবশিষ্ট রয়ে গেছে, যার আলোচনার স্থান এটি নয়।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পূর্বেই নির্ধারণ করে রেখেছেন যে, এই বিষয়টি সেই সব সংশয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

এখানে যা উল্লেখযোগ্য তা হলো উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদল লোককে কুফায় প্রেরণ করেন এবং তাদের অসিয়ত করে বলেন(১):

[তোমরা কুফায় যাচ্ছ, সেখানে এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছাবে যাদের মাঝে কুরআনের গুঞ্জন ধ্বনি (মৌমাছির গুঞ্জনের মতো) রয়েছে। তারা বলবে: মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাহাবীগণ এসেছেন, মুহাম্মাদ (সা.)-এর সাহাবীগণ এসেছেন। অতঃপর তারা তোমাদের নিকট আসবে এবং তোমাদেরকে হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। এমতাবস্থায় তোমরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা (الرواية) কমিয়ে দেবে এবং এতে আমি তোমাদের অংশীদার]।

এতে কেবল বর্ণনা (الرواية) কমানোর কথা বলা হয়েছে যখন মানুষের কুরআন থেকে বিমুখ হওয়া এবং হাদিসে মগ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এটিই সঠিক; কারণ আল্লাহর কিতাব শিক্ষা করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রগণ্য। এর মধ্যে প্রয়োজন অনুসারে হাদিস উল্লেখ করা বা যারা আল্লাহর কিতাব হিফজ ও শিক্ষা করেছে তাদের নিকট হাদিস বর্ণনা (تحديث) করার কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

আর ইব্রাহিম ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, উমর (রা.) ইবনে মাসউদ, আবু দারদা ও আবু যর (রা.)-কে বলেছিলেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এই হাদিসগুলো কী?" এবং আমার ধারণা তিনি তাদের মদিনায় আটকে রেখেছিলেন তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত (আল-মুস্তাদরাক ১/১১০) — এর দ্বারা তিনি মূলত তাদের অধিক বর্ণনার (الإكثار) বিষয়টিকেই অপছন্দ করেছেন। কেননা অধিক বর্ণনা (الإكثار) পদস্খলনের কারণ হতে পারে এবং কুরআন শিক্ষা থেকে বিমুখ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) লেখক এরপর একটি শূন্যস্থান রেখেছিলেন, আর পাঠটি সুনান আদ-দারিমি (২৮৬) থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقوله: "وأحسبه حبسهم بالمدينة" حُسبانٌ فقط، قد يصح وقد لا يصح، ثم المراد بالحبس بالمدينة إبقاؤهم فيها ومنعهم من الخروج منها، لا السجن كما قد يُتوهَّم. مع أن في منعهم من الخروج من المدينة نظرًا، فقد بعث عمر ابن مسعود إلى الكوفة، وأقام بها مدة. وليراجع التاريخ وتراجم هؤلاء.

وقد كان عمر نفسه يحدِّث عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وحديثه في كتب الحديث كثير.

* * * *

এবং তাঁর বক্তব্য: "আমার মনে হয় তিনি তাঁদের মদিনায় আটকে রেখেছিলেন" এটি কেবল একটি ধারণা মাত্র, যা সঠিক (صحيح) হতে পারে আবার না-ও হতে পারে। অতঃপর মদিনায় আটকে রাখার উদ্দেশ্য হলো তাঁদেরকে সেখানে অবস্থান করতে বাধ্য করা এবং সেখান থেকে বের হতে বাধা প্রদান করা; এটি কোনো কারাবাস নয় যেমনটি ধারণা করা হতে পারে। যদিও মদিনা থেকে তাঁদের বের হতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনার (نظر) দাবি রাখে, কারণ উমর (রা.) ইবনে মাসউদ (রা.)-কে কুফায় পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করেছিলেন। এ বিষয়ে ইতিহাস এবং এই ব্যক্তিদের জীবনীগ্রন্থসমূহ (تراجم) পর্যালোচনা করা উচিত।

আর উমর (রা.) নিজেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন এবং হাদিসের কিতাবসমূহে তাঁর বর্ণিত হাদিস প্রচুর রয়েছে।

* * * *
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২০)
[ص 27]‌‌ تقسيم الأخبار

قسم بعض الأصوليين(1) الأخبار إلى مقطوع بكذبه، ومقطوع بصدقه، وغيرهما.

فذكروا من المقطوع بكذبه ما قام البرهان القاطع على خلافه.

أقول: الشأن كل الشأن في البرهان القاطع، فإذا صح فالحديث المخالف له لا يخلو عن وجهين:

الأول: أن يكون في إسناده خلل.

الثاني: أن يكون وقع تغيير في متنه بزيادة أو نقص، أو تقديم أو تأخير، أو تبديل لفظ بآخر، أو نحو ذلك مما يغير المعنى.

ولن تجد إن شاء الله تعالى برهانًا قاطعًا يقينيًّا(2) مخالفًا لحديث إلا وجدت ــ إن كنت من أهل الحديث والفهم ــ ما يدلك على أحد الوجهين المذكورين.

قال بعضهم: ومن المقطوع بكذبه ما نُقِّب عنه فلم يوجد عند أهله. وردَّه بعضهم.

وأقول: له وجه إذا كان يتضمن حكمًا شرعيًّا لم يثبت بغيره، فإن الله تبارك وتعالى متكفل بحفظ الشريعة؛ لأن محمدًا صلى الله عليه وآله وسلم خاتم الأنبياء،

--------------------------------------------

(1) انظر: "المستصفى" (1/ 140 وما بعدها) و"إرشاد الفحول" (ص 40، 41) ط. المنيرية 1347 هـ.

(2) في الأصل: "يقينًا".
[পৃষ্ঠা ২৭]‌‌ সংবাদসমূহের (أخبار) প্রকারভেদ

কতিপয় মূলনীতিবিদ(১) সংবাদসমূহকে (أخبار) নিশ্চিত মিথ্যা (مقطوع بكذبه), নিশ্চিত সত্য (مقطوع بصدقه) এবং এই দুইয়ের বহির্ভূত—এভাবে বিভক্ত করেছেন।

নিশ্চিত মিথ্যা (مقطوع بكذبه) হিসেবে তাঁরা সেটিকে উল্লেখ করেছেন, যার বিপরীতে অকাট্য প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে।

আমি বলি: মূল বিষয়টি হলো অকাট্য প্রমাণের ক্ষেত্রে; সেটি যদি সঠিক হয়, তবে এর পরিপন্থী হাদিসটি দুটি অবস্থার বাইরে হতে পারে না:

প্রথম: এর সনদে (إسناد) কোনো ত্রুটি রয়েছে।

দ্বিতীয়: এর মতনে (متن) শব্দ বৃদ্ধি বা ঘাটতি, আগে-পিছে করা, শব্দের রদবদল অথবা এমন কোনো পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তন ঘটেছে যা অর্থকে বদলে দেয়।

ইনশাআল্লাহ তাআলা, আপনি এমন কোনো অকাট্য ও নিশ্চিত প্রমাণ পাবেন না যা কোনো হাদিসের বিরোধী, যদি না আপনি—যদি আপনি হাদিস বিশারদ ও সমঝদারদের অন্তর্ভুক্ত হন—এমন কোনো বিষয়ের সন্ধান পান যা আপনাকে উল্লেখিত দুটি অবস্থার কোনো একটির দিকে নির্দেশ করবে।

কেউ কেউ বলেছেন: নিশ্চিত মিথ্যা (مقطوع بكذبه) সেই বর্ণনাও, যা অনেক অনুসন্ধানের পরেও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের কাছে পাওয়া যায় না। তবে কেউ কেউ এই মতটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আর আমি বলি: এর একটি যৌক্তিক দিক রয়েছে যদি তা এমন কোনো শরয়ি বিধান (حكم شرعي) অন্তর্ভুক্ত করে যা অন্য কোনোভাবে প্রমাণিত নয়; কেননা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা শরীয়ত সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন; কারণ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) হলেন শেষ নবী (خاتم الأنبياء),

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "আল-মুস্তাসফা" (১/ ১৪০ এবং পরবর্তী অংশ) এবং "ইরশাদুল ফুহুল" (পৃ. ৪০, ৪১) আল-মুনিরিয়্যাহ মুদ্রণ, ১৩৪৭ হি.

(২) মূলে রয়েছে: "يقينًا"।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২১)
وشريعته خاتمة الشرائع، فلا يجوز أن يذهب حكم من أحكامها بحيث لا يبقى في ما حفظ منها حجة عليه.

والحق أنه إذا وجد خبر منسوب إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم فلا يخلو عن واحد من أربعة أوجه:

الأول: أن يكون هو ــ أو حجةٌ توافق معناه ــ موجودًا في المحفوظ من الشريعة بنقلٍ تقوم به الحجة.

الثاني: أن يكون كان شيء فنُسِخ.

الثالث: أن يكون وقع في متنه تغيير، كما تقدم.

الرابع: أن يكون كذبًا، عمدًا أو خطأً.

فإذا قامت الحجة على نفي الثلاثة الأولى تعين الكذب. والله أعلم.

قالوا: ومنه المنقول آحادًا، والعادة قاضية بأنه لو صح لنُقِل بالتواتر، لتوفر الدواعي على نقله.

وأقول: ينبغي التثبت في هذا، فقد تقع القضية ولا يحضرها إلا الواحد أو الاثنان، وقد يحضر جماعة ولا ينتبه لها منهم إلا الواحد أو الاثنان، وقد يشاهدونها ولا يرون لها أهمية فلا ينقلونها. ومثال هذا: اليوم الذي توفي فيه النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فالخلاف فيه بين المتأخرين كثير، ولا يكاد يصح فيه شيء.

وقد يشاهدونها ويرون لها أهمية، ولكن لا يرون لنقلها أهمية، إما لاعتقادهم [أنها] قد نُقِلت نقلًا كافيًا في بيانها، وليس هناك من ينكرها، كما في انشقاق القمر؛ لأنهم يرونه ــ مع الشهرة بينهم ــ مذكورًا في القرآن، ولم يبق من العرب من يرتاب في القرآن.

وإما لاعتقادهم أنها أمر معلوم
তাঁর শরীয়ত সকল শরীয়তের পরিসমাপ্তি, তাই এর কোনো বিধান এমনভাবে বিলুপ্ত হওয়া বৈধ নয় যাতে যা সংরক্ষিত আছে তার মধ্যে তার সপক্ষে কোনো দলিল অবশিষ্ট না থাকে।

আর সত্য হলো এই যে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কোনো সংবাদ (خبر) সম্পৃক্ত পাওয়া যায়, তখন তা চারটি অবস্থার কোনো একটি থেকে মুক্ত থাকে না:

প্রথম: সেটি—অথবা এমন কোনো প্রমাণ (حجة) যা তার অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ—শরীয়তের সংরক্ষিত ভাণ্ডারে এমন বর্ণনার মাধ্যমে বিদ্যমান থাকা, যার দ্বারা প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়।

দ্বিতীয়: সেটি এক সময় বিদ্যমান ছিল কিন্তু পরবর্তীতে তা রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে।

তৃতীয়: তার মতন (متن)-এ পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

চতুর্থ: সেটি মিথ্যা (كذب) হওয়া, ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত।

সুতরাং যখন প্রথম তিনটি সম্ভাবনা নাকচ হওয়ার ব্যাপারে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা মিথ্যা হিসেবে নির্ধারিত হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।

তারা বলেন: এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সকল সংবাদ যা একক সূত্রে (آحاد) বর্ণিত, অথচ স্বাভাবিক রীতি দাবি করে যে সেটি যদি সঠিক (صحيح) হতো তবে তা নিরবচ্ছিন্নভাবে (تواتر) বর্ণিত হতো, কারণ তা বর্ণনা করার যথেষ্ট প্রেরণা বিদ্যমান ছিল।

আমি বলি: এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত, কারণ অনেক সময় কোনো ঘটনা ঘটে কিন্তু সেখানে একজন বা দুইজন ব্যতীত কেউ উপস্থিত থাকে না, আবার কখনো একদল লোক উপস্থিত থাকে কিন্তু তাদের মধ্যে কেবল একজন বা দুইজন তা লক্ষ্য করে, আবার কখনো তারা তা দেখে কিন্তু এর গুরুত্ব অনুভব না করায় তা বর্ণনা করে না। এর উদাহরণ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের দিনটি, এ বিষয়ে পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে এবং এ প্রসঙ্গে কোনো কিছুই প্রায় সঠিক (صحيح) নয়।

আবার কখনো তারা তা দেখে এবং তার গুরুত্বও উপলব্ধি করে, কিন্তু তা বর্ণনা করার প্রয়োজন মনে করে না। হয়তো তাদের এই বিশ্বাসের কারণে যে তা বর্ণনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে তা অস্বীকার করার মতো কেউ নেই, যেমন চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনা; কারণ তারা একে তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ (شهرة) হওয়ার পাশাপাশি কুরআনে উল্লিখিত দেখতে পায়, আর আরবদের মধ্যে এমন কেউ অবশিষ্ট ছিল না যে কুরআন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে।

অথবা তাদের এই বিশ্বাসের কারণে যে সেটি একটি সুপরিজ্ঞাত বিষয়।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২২)
مكشوف لا يحتاج إلى أن يُذكر، ومن هذا ــ والله أعلم ــ معنى "الإله" و"العبادة"، فقد كان واضحًا عند المشركين فضلًا عن المسلمين، ثم صار بعد القرون الأولى مشتبهًا، كما أوضحته في رسالة "العبادة".

وقد يخلو عن هذه كلها، ولكن يتواطؤون على الكتمان.

نعم، هذه الأمور كلها لا تحتمل فيما مثَّلوا به، وهي دعوى بعض الشيعة أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم جمع أصحابه وبيَّن لهم بيانًا قاطعًا أن عليًّا رضي الله عنه ولي عهده، وولي أمرهم من بعده. ولكن قد يحتمل بعضها في غير هذا المثال.

وقد أشار الحازمي في "الاعتبار"(1) إلى ذلك في بحث الجهر بالبسملة، وإن كان فيه نظر.

وقد ثبت أن الأئمة في عهد عثمان تجوَّزوا في الجهر بتكبيرات الصلاة، ومضى على ذلك زمان حتى جهله كثير من الناس، فصلى عكرمة خلف أبي هريرة، فجهر أبو هريرة بالتكبيرات، فذهب عكرمة إلى مولاه ابن عباس فقال: صليت خلف شيخ أحمق، فكبر … ، فقال ابن عباس: ثكلتك أمك، تلك سنة أبي القاسم صلى الله عليه وآله وسلم(2).

وصلى علي رضي الله عنه بالكوفة، فجهر بالتكبيرات، فقال عمران بن حصين: قد ذكَّرني هذا صلاةَ محمد صلى الله عليه وآله وسلم(3).

--------------------------------------------

(1) (ص 58).

(2) أخرجه البخاري (788).

(3) أخرجه البخاري (784، 786) ومسلم (393) من حديث مطرف بن عبد الله. وفي الرواية الأولى للبخاري أنه صلاها بالبصرة. وفي "المسند" (19840، 19860) بالكوفة.
বিষয়টি সুষ্পষ্ট, এটি উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—'ইলাহ' (উপাস্য) এবং 'ইবাদত' (উপাসনা)-এর অর্থ। এটি মুশরিকদের কাছেও সুস্পষ্ট ছিল, মুসলিমদের কথা তো বলাই বাহুল্য; অতঃপর প্রথম শতাব্দীগুলোর পরে তা অস্পষ্ট (مشتبه) হয়ে যায়, যেমনটি আমি 'আল-ইবাদাহ' নামক রিসালায় বর্ণনা করেছি।

আবার কখনো কখনো এসব থেকে মুক্ত থাকে, কিন্তু তারা গোপনীয়তার বিষয়ে পরস্পর ঐকমত্য পোষণ করে।

হ্যাঁ, তারা যে উদাহরণ পেশ করেছে তার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো প্রযোজ্য নয়। সেটি হলো কিছু শিয়াদের দাবি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের একত্রিত করেছিলেন এবং তাদের কাছে অকাট্যভাবে (قاطع) বর্ণনা করেছিলেন যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর স্থলাভিষিক্ত এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে তাদের বিষয়ের অভিভাবক। তবে এই উদাহরণটি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে এর কিছু অংশ প্রযোজ্য হতে পারে।

আল-হাযিমি তাঁর 'আল-ইতিবার' গ্রন্থে(১) বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পাঠ করার আলোচনায় এ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন, যদিও তাতে পর্যালোচনার অবকাশ (نظر) রয়েছে।

এটি প্রমাণিত যে, উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে ইমামগণ নামাজের তাকবির উচ্চস্বরে বলার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছিলেন এবং এভাবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে অনেক মানুষ এ সম্পর্কে অজ্ঞ হয়ে পড়ে। অতঃপর ইকরিমা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পেছনে নামাজ আদায় করেন এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করেন। তখন ইকরিমা তাঁর মনিব ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে গিয়ে বললেন: "আমি এক নির্বোধ বৃদ্ধের পেছনে নামাজ পড়েছি, তিনি তাকবির বলছিলেন..." তখন ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "তোমার মা তোমাকে হারাক, এটি তো আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة)।"(২)।

আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কুফায় নামাজ আদায় করেন এবং উচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করেন, তখন ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "এটি আমাকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাজের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।"(৩)।

--------------------------------------------

(১) (পৃ. ৫৮)।

(২) এটি বুখারি (৭৮৮) বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি বুখারি (৭৮৪, ৭৮৬) এবং মুসলিম (৩৯৩) মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। বুখারির প্রথম বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি বসরায় এই নামাজ আদায় করেছিলেন। আর 'মুসনাদ' (১৯৮৪০, ১৯৮৬০)-এ কুফার কথা উল্লেখ আছে।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقال أبو موسى: ذكَّرنا عليٌّ صلاةً كنا نصليها مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، إما نسيناها وإما تركناها عمدًا(1).

وجاء عن عمران ما حاصلُه أن عثمان رضي الله عنه لما كبر وضعف صوته لم يكونوا يسمعون تكبيره، فاتخذ أمراؤه أو بعضُهم ذلك سنة بجهلهم(2).

والمقصود هنا أنه ينبغي التثبت في رد الأحاديث بما ذُكِر، فلا يُقدَم على ذلك مع قيام الاحتمال. والله الموفق.

[ص 28] وأما المقطوع بصدقه فذكروا منه أمورًا:

الأول: خبر الرب عز وجل، وخبر النبي صلى الله عليه وآله وسلم.

وذلك واضح، ولكن خبر النبي صلى الله عليه وآله وسلم قد يكون عن ظنِّه نصًّا، كقوله: أظن كذا، ولعل كذا. أو بدلالة القرائن. وقد وقع هذا في الأمور الدنيوية. فأما الدينية، فمن قال من أهل العلم: إن النبي صلى الله عليه وآله وسلم كان قد يقول في الدين باجتهاده، فإنه يقول بوقوع هذا.

أقول: وسواء كان خبره عن أنه يظن في أمر ديني أو دنيوي، فهو مقطوع بصدقه فيما أخبر عنه، وهو الظن. أعني أنه أخبر أنه يظن، فالمقطوع به هو كونه يظن، فأما الأمر الذي ظنه فقد لا يكون واقعًا، وليس ذلك من الكذب، وإنما فيه خطأ الظن.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في "المسند" (19494) والطحاوي في "معاني الآثار" (1/ 221). وصحَّح الحافظ إسناده في "الفتح" (2/ 270).

(2) أخرجه أحمد (19881) وابن خزيمة (581). وهو حديث صحيح.
আবু মুসা বলেন: আলী আমাদের এমন এক সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের সাথে আদায় করতাম; হয় আমরা তা ভুলে গিয়েছিলাম অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিয়েছিলাম(১).

ইমরান থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উসমান (রা.) যখন বার্ধক্যে উপনীত হন এবং তাঁর কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে যায়, তখন তারা তাঁর তকবির শুনতে পেতেন না। ফলে তাঁর আমিরগণ বা তাঁদের কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত এটিকে সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন(২).

এখানে উদ্দেশ্য হলো, উল্লেখিত বিষয়ের কারণে হাদিস প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে সতর্কতা (التثبت) অবলম্বন করা উচিত। সুতরাং সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় তা করা যাবে না। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

[পৃষ্ঠা ২৮] আর যেগুলোর সত্যতা নিশ্চিত (المقطوع بصدقه), সে সম্পর্কে তাঁরা কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন:

প্রথমত: মহান প্রতিপালকের সংবাদ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের সংবাদ।

এটি সুস্পষ্ট, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের সংবাদ কখনো কখনো সুস্পষ্টভাবে (نصًّا) তাঁর ধারণার (ظن) ভিত্তিতে হতে পারে। যেমন তাঁর কথা: 'আমি এমন ধারণা করছি' অথবা 'সম্ভবত এমন'। অথবা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (القرائن) মাধ্যমেও হতে পারে। আর এটি পার্থিব বিষয়াবলির ক্ষেত্রে ঘটেছে। তবে দ্বীনি বিষয়ের ক্ষেত্রে, আলেমদের মধ্যে যাঁরা মনে করেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনের ক্ষেত্রে তাঁর ইজতিহাদের (اجتهاده) মাধ্যমে কথা বলতেন, তাঁরা এ ধরনের ঘটনার সম্ভাবনা (بوقوع) স্বীকার করেন।

আমি বলব: দ্বীনি বা পার্থিব বিষয়ে তাঁর সংবাদ তাঁর ধারণা প্রসূত হওয়া নির্বিশেষে, তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তার সত্যতা নিশ্চিত (مقطوع بصدقه), আর তা হলো তাঁর সেই ধারণা (الظن)। অর্থাৎ তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি ধারণা করছেন; সুতরাং যা নিশ্চিত (المقطوع به) তা হলো তাঁর ধারণা করার বিষয়টি। তবে তিনি যা ধারণা করেছেন, তা বাস্তব না-ও হতে পারে। আর এটি মিথ্যা (الكذب) নয়, বরং এটি ধারণাগত ভুল (خطأ الظن)।

--------------------------------------------

(১) এটি আহমদ মুসনাদ-এ (১৯৪৯৪) এবং তাহাবি মাআনিল আসার-এ (১/ ২২১) বর্ণনা করেছেন। হাফেজ আল-ফাতহ-এ (২/ ২৭০) এর সনদ (إسناده) বিশুদ্ধ (صحَّح) বলেছেন।

(২) এটি আহমদ (১৯৮৮১) এবং ইবনে খুজাইমা (৫৮১) বর্ণনা করেছেন। আর এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد أخبر الله عز وجل عن آدم أنه ظنّ صِدقَ إبليس لما قاسمه بالله، وكذلك ظن يعقوب صدق بنيه في قولهم: {وَنَحْفَظُ أَخَانَا} [يوسف: 65]، وكذَّبهم في خبرهم عما جرى لهم من أخذِ أخيهم بتهمة السرقة، فقال: {بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنْفُسُكُمْ أَمْرًا} [يوسف: 83]، وظن موسى أن أخاه قصَّر، فأخذ برأسه يجرُّه إليه، في نظائر لذلك.

وكان النبي صلى الله عليه وآله وسلم ربما سها في الصلاة وهو يظن أنه لم يَسْهُ، فصلى مرة خمسًا(1)، ومعنى ذلك أنه عند قيامه للخامسة كان يظن أنها الرابعة.

وسلَّم مرة من ركعتين في رباعية الحضر، ومعنى ذلك أنه ظن أن قد أتمَّ أربعًا، فأما قوله لما سُئل أقُصِرَت الصلاة أم سهوتَ يا رسول الله؟ : "كل ذلك لم يكن"(2)؛ فهو يتضمن خبرين:

أحدهما عن أمر ديني، وهو صدقٌ قطعًا، وهو كون الصلاة لم تُقصَر.

والثاني عن أمر دنيوي، وهو كونه لم ينْسَ. ومراده بالنظر إلى هذا أنه يظن أنه لم ينس، بمعونة القرينة، وهي أن هناك جمعًا كثيرًا يغلب عليهم التيقظ لأعمال الصلاة، فإن كان قد نسي فإنهم يعلمون أنه إنما نفى النسيان بالنظر إلى ظنه، فيرجع ذلك إلى الخبر بأنه يظن أنه لم ينس.

ومن ذلك: خبر تأبير النخل، وهو في "صحيح مسلم" من حديث طلحة(3)،

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (1226) ومسلم (572) من حديث ابن مسعود رضي الله عنه.

(2) أخرجه مسلم (573) من حديث أبي هريرة بهذا اللفظ. وعند البخاري (842 ومواضع أخرى): "لم أنسَ ولم تُقْصَر".

(3) رقم (2361).
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আদম (আ.) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবলিস যখন তাঁর নিকট আল্লাহর নামে শপথ করেছিল, তখন তিনি তাকে সত্যবাদী (صدق) মনে করেছিলেন। অনুরূপভাবে ইয়াকুব (আ.) তাঁর পুত্রদের সত্যবাদী মনে করেছিলেন যখন তারা বলেছিল: {এবং আমরা আমাদের ভাইয়ের রক্ষণাবেক্ষণ করব} [ইউসুফ: ৬৫]। কিন্তু তাদের ভাইয়ের চুরির অভিযোগে ধৃত হওয়ার বিষয়ে তারা যে সংবাদ দিয়েছিল, তাতে তিনি তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলেন এবং বলেছিলেন: {বরং তোমাদের নফস তোমাদের জন্য একটি বিষয়কে সুশোভিত করেছে} [ইউসুফ: ৮৩]। মুসা (আ.) ধারণা (ظن) করেছিলেন যে তাঁর ভাই ত্রুটি করেছেন, ফলে তিনি তাঁর মাথা ধরে নিজের দিকে টানতে লাগলেন—এই জাতীয় আরও উদাহরণ রয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কখনও কখনও সালাতে ভুল (سها) করতেন অথচ তিনি মনে করতেন যে তিনি ভুল করেননি। একবার তিনি পাঁচ রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন(১); এর অর্থ হলো, পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়ানোর সময় তিনি ধারণা (ظن) করেছিলেন যে এটি চতুর্থ রাকাত।

তিনি একবার মুকিম অবস্থায় চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতে দুই রাকাত পড়েই সালাম ফিরিয়েছিলেন। এর অর্থ হলো, তিনি ধারণা (ظن) করেছিলেন যে তিনি চার রাকাত পূর্ণ করেছেন। আর যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, "হে আল্লাহর রাসুল! সালাত কি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে নাকি আপনি ভুল (سهوت) করেছেন?", তখন তাঁর এই উক্তি: "এর কোনোটিই ঘটেনি"(২)—এটি দুটি সংবাদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

তার একটি দ্বীনি বিষয় সংক্রান্ত, যা অকাট্যভাবে সত্য (صدق), আর তা হলো সালাত সংক্ষিপ্ত না হওয়া।

দ্বিতীয়টি একটি পার্থিব বিষয় সংক্রান্ত, আর তা হলো তাঁর ভুল না হওয়া। এখানে পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (قرينة) আলোকে তাঁর উদ্দেশ্য হলো—তিনি ধারণা (ظن) করেছিলেন যে তিনি ভুলেননি। আর সেই পারিপার্শ্বিকতা হলো সেখানে একটি বড় জামাত উপস্থিত ছিল যাদের সালাতের কার্যাবলীর প্রতি সজাগ থাকার বিষয়টিই প্রবল ছিল। সুতরাং যদি তিনি ভুলেই যেতেন, তবে তারা জানতেন যে তিনি তাঁর ধারণার (ظن) ভিত্তিতেই ভুল হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। ফলে বিষয়টি এই সংবাদের দিকেই ফিরে যায় যে, তিনি ধারণা (ظن) করেছিলেন যে তিনি ভুলেননি।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: খেজুর গাছ পরাগায়ন সংক্রান্ত সংবাদ, যা সহীহ মুসলিম-এ তালহা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে উদ্ধৃত হয়েছে(৩)।

--------------------------------------------

(১) বুখারী (১২২৬) ও মুসলিম (৫৭২) ইবনে মাসউদ (রা.)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম (৫৭৩) আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। আর বুখারীতে (৮৪২ এবং অন্যান্য স্থানে) রয়েছে: "আমি ভুলিনি এবং সংক্ষিপ্তও করা হয়নি।"

(৩) নম্বর (২৩৬১)।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن حديث رافع بن خديج(1)، ومن رواية حماد بن سلمة بوجهين(2): حماد عن هشام عن أبيه عن عائشة، وحماد عن ثابت عن أنس.

ورواية طلحة صريحة في أنه شهد القصة، وأن النبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يجزم، وإنما قال: "ما أظنُّ يُغنِي ذلك شيئًا"، ثم قال لهم بعدُ: "إنما ظننتُ ظنًّا، فلا تؤاخذوني بالظن، ولكن إذا حدَّثتكم عن الله شيئًا فخذوا به، فإني لن أكذب على الله".

وفي رواية رافع: قال: "لعلكم لو لم تفعلوا كان خيرًا"، ثم قال أخيرًا: "إنما أنا بشر، إذا أمرتكم بشيء من دينكم فخذوا به، وإذا أمرتكم بشيء من رأيي فإنما أنا بشر". قال الراوي: أو نحو هذا.

فما وقع في رواية حماد من الوجهين الأخيرين: "لو لم تفعلوا لصلح" من التقصير في الرواية بالمعنى؛ ولهذا قدَّم مسلم رحمه الله رواية طلحة، لأنه شهد القصة وتحرّى في بيانها، ثم عقَّبها برواية رافع لأنها قريبة منها، ثم ذكر رواية حماد من الوجهين على أنها شاهد لأصل القصة.

فثبت أنه صلى الله عليه وآله وسلم إنما أخبرهم عن ظنه أن التلقيح لا فائدة له، وإنما وقع له صلى الله عليه وآله وسلم هذا الظن لأنه لم يكن قد عرف حال النخل، وقد عرف بمكة والطائف وغيرهما أن عامة الشجر تثمر ويصلح ثمرها بلا تلقيح، فظن أن النخل كذلك، حملًا للفرد المجهول الحال على ما عرف من حال الغالب.

ومن هذا: ما رُوي من قوله صلى الله عليه وآله وسلم: "لقد هممتُ أن أنهى عن الغِيْلة، ثم

--------------------------------------------

(1) رقم (2362).

(2) رقم (2363).
ومن রাফে ইবনে খাদিজ-এর হাদিস থেকে(১) এবং হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর বর্ণনায় দুটি মাধ্যমে(২) বর্ণিত হয়েছে: হাম্মাদ থেকে হিশাম, তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে; এবং হাম্মাদ থেকে সাবিত, তিনি আনাস (রা.) থেকে।

তালহার বর্ণনাটি এ ব্যাপারে স্পষ্ট (صريحة) যে, তিনি সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেননি, বরং তিনি কেবল বলেছিলেন: "আমি মনে করি না যে এটি কোনো উপকারে আসবে।" অতঃপর তিনি পরবর্তীতে তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: "আমি কেবল একটি ধারণা পোষণ করেছিলাম, তাই আমার ধারণার কারণে আমাকে পাকড়াও করো না; তবে আমি যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো কিছু বলি, তখন তা গ্রহণ করো, কেননা আমি আল্লাহর নামে কখনোই মিথ্যা বলব না।"

রাফে-এর বর্ণনায় রয়েছে: তিনি বললেন: "সম্ভবত তোমরা যদি এটি না করতে তবে তা উত্তম হতো।" অবশেষে তিনি বললেন: "আমি কেবল একজন মানুষ; আমি যখন তোমাদের দ্বীনের কোনো বিষয়ে আদেশ করি তখন তা গ্রহণ করো, আর যখন আমি আমার নিজের রায় (رأي) থেকে কোনো বিষয়ে আদেশ করি তখন তো আমি একজন মানুষই।" বর্ণনাকারী বলেন: অথবা এই জাতীয় কিছু।

হাম্মাদের বর্ণনার শেষোক্ত দুটি মাধ্যমে যে শব্দ বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা যদি এটি না করতে তবে তা ঠিক হয়ে যেত" - এটি অর্থগত বর্ণনার (الرواية بالمعنى) ক্ষেত্রে কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ; এজন্যই মুসলিম (রহ.) তালহার বর্ণনাটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, কারণ তিনি সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন এবং তা বর্ণনায় অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। এরপর তিনি রাফে-এর বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন কারণ সেটি এর কাছাকাছি, অতঃপর তিনি হাম্মাদের বর্ণিত দুটি মাধ্যম উল্লেখ করেছেন মূল ঘটনার স্বপক্ষে সমর্থক প্রমাণ (شاهد) হিসেবে।

সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কেবল তাঁর ধারণার কথা তাদের জানিয়েছিলেন যে, কৃত্রিম পরাগায়নের (تلقيح) কোনো ফায়দা নেই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর মনে এই ধারণার উদয় হয়েছিল কারণ তিনি খেজুর গাছের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না; তিনি মক্কা ও তায়েফ এবং অন্যান্য স্থানে দেখেছিলেন যে সাধারণ গাছসমূহ কোনো কৃত্রিম পরাগায়ন ছাড়াই ফল দেয় এবং ফলগুলো ভালো হয়। ফলে তিনি খেজুর গাছকেও অনুরূপ মনে করেছিলেন—অজ্ঞাত অবস্থার কোনো বিষয়কে পরিচিত অধিকাংশ অবস্থার ওপর প্রয়োগ করার ভিত্তিতে।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী থেকে যা বর্ণিত হয়েছে: "আমি সংকল্প করেছিলাম যে স্তন্যদানকালীন সহবাস (الغيلة) নিষিদ্ধ করব, অতঃপর..."

--------------------------------------------

(১) নং (২৩৬২)।

(২) নং (২৩৬৩)।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬)
نظرتُ في فارس والروم فإذا هم يُغِيلون أولادهم، فلا يضر ذلك أولادَهم شيئًا"(1).

فقد كان مشهورًا بين العرب أن الغَيْل يضر بالطفل، فوقع في ظنه صلى الله عليه وآله وسلم صحة ذلك وأنه مبني على تجربة صحيحة، فأراد أن ينهى عنه لما فيه من الإضرار، ثم سأل عن حال فارس والروم فأُخبِر أنهم لا يتوقَّون كما يتوقَّى العرب، ثم رأى أنه لا يظهر بأولادهم ضرر، فظن صلى الله عليه وآله وسلم أن الغيل لا يضر، فقال ما تقدم.

[ص 29] وجاء عنه صلى الله عليه وآله وسلم حديث آخر: "لا تقتلوا أولادكم [سرًّا]، فإن الغَيْل يدرك الفارسَ فيُدَعْثِره عن فرسه"(2).

فإذا صح هذا فلا بد أن يكون متأخرًا؛ لوجوه:

الأول: أن هذا نهي صريح، وقوله في الأول: "لقد هممتُ أن أنهى عن الغيلة" ظاهر في أنه لم يقع منه قبل ذلك نهيٌ، فعُلِم بذلك أن الخبر الصريح بالنهي لم يكن قبل ذلك.

الثاني: أن الخبر الأول مبني على الظن في الجانبين، كما تقدم، والخبر الثاني بتٌّ وقطع، فهو مبني على علم.

الثالث: أن قوله: "يُدرك الفارسَ فيُدعْثِره" شيء لا يُعرف بالقرائن

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (1442) من حديث جُدامة بنت وهب.

(2) أخرجه أحمد (27562) وأبو داود (3881) وابن ماجه (2012) من حديث أسماء بنت يزيد بن السكن. وصححه ابن حبان (5984)، وفي إسناده المهاجر بن أبي مسلم، لم يوثقه غير ابن حبان، وبقية رجاله ثقات.
"আমি পারস্য ও রোমীয়দের প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম এবং দেখলাম যে তারা তাদের সন্তানদের গাইল (গর্ভবতী অবস্থায় দুগ্ধদান) করাচ্ছে, অথচ তা তাদের সন্তানদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করছে না"(১)।

আরবদের মাঝে এটি প্রসিদ্ধ ছিল যে গাইল শিশুর ক্ষতি করে, তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের মনে হয়েছিল যে এটি সঠিক এবং তা বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ফলে তিনি তা থেকে নিষেধ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন কারণ এতে ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। অতঃপর তিনি পারস্য ও রোমীয়দের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তাঁকে অবহিত করা হলো যে, তারা আরবদের মতো এটি থেকে সতর্ক থাকে না। এরপর তিনি লক্ষ্য করলেন যে তাদের সন্তানদের মাঝে কোনো ক্ষতি প্রকাশ পাচ্ছে না। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ধারণা করলেন যে গাইল কোনো ক্ষতি করে না, অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত কথাটি ইরশাদ করলেন।

[পৃষ্ঠা ২৯] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে অন্য একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের [গোপনে] হত্যা করো না, কেননা গাইল অশ্বারোহীকেও ধরে ফেলে এবং তাকে তার ঘোড়া থেকে নিচে ফেলে দেয়"(২)।

যদি এটি সহিহ (صحيح) হয়, তবে কয়েকটি কারণে একে অবশ্যই পরবর্তী সময়ের হিসেবে গণ্য করতে হবে:

প্রথমত: এটি একটি স্পষ্ট নিষেধ, আর প্রথম বর্ণনায় তাঁর উক্তি: "আমি গাইল থেকে নিষেধ করার সংকল্প করেছিলাম" এটি স্পষ্ট করে যে এর আগে কোনো নিষেধ জারি হয়নি। ফলে এর মাধ্যমে জানা গেল যে, নিষেধ সংবলিত স্পষ্ট সংবাদটি এর আগে ছিল না।

দ্বিতীয়ত: প্রথম সংবাদটি উভয় দিক থেকেই ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় সংবাদটি হলো অকাট্য ও চূড়ান্ত; সুতরাং তা সুনিশ্চিত জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে।

তৃতীয়ত: তাঁর উক্তি: "অশ্বারোহীকে নাগাল পায় এবং তাকে আছড়ে ফেলে" এমন একটি বিষয় যা বাহ্যিক আলামত বা অনুমানের মাধ্যমে জানা সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (১৪৪২) এটি জুদামা বিনতে ওয়াহাব বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) আহমদ (২৭৫৬২), আবু দাউদ (৩৮৮১) ও ইবনে মাজাহ (২০১২) আসমা বিনতে ইয়াজিদ বিন সাকান বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন (৫৯৮৪)। এর সনদে আল-মুহাজির বিন আবি মুসলিম রয়েছেন, যাকে ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেননি, তবে এর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭)
الظاهرة المتيسرة، فالظاهر ــ إن لم نقل: المتيقن ــ أنه علمه صلى الله عليه وآله وسلم بالوحي.

الرابع: أن في هذا كالإشارة إلى ردِّ ما في الأول من حال فارس والروم، فكأنه يقول: إن ضرر الغيل خفي، فلا يدفعه أن الظاهر من حال فارس والروم أنه لا يضر.

هذا، وقد عكس الطحاوي(1) رحمه الله ما تقدم، فذكر أنه ينبغي أن يكون حديث "لا تقتلوا أولادكم … " كان أولًا، بناه النبي صلى الله عليه وآله وسلم على ما تعتقده العرب، ثم تبين له بطلان ذلك الاعتقاد فقال: "لقد كنتُ هممتُ … ".

وهذا كما ترى إن كنت ترى!

واعلم أن الأدلة على أن ظن الأنبياء في الأمور الدنيوية غير معصوم كثيرة، وفيما ذُكِر كفاية. ولو كان ظنهم معصومًا لما بقي لهم ظنٌّ، بل يكون علمًا.

فأما في الأمور الدينية، فإن كان خبرًا عن حكم شرعي، فهم معصومون قطعًا. فإذا جوّزنا أنهم قد يجتهدون فيها، ويخبرون عن اجتهادهم، فإنه إن جاز الخطأ في هذا فإن الله عز وجل لا يُقِرُّه، بل ينبِّههم فورًا على الخطأ، فإذا اجتهدوا وأخبروا ثم لم يقع تنبيه من الله عز وجل ثبت قطعًا صحة اجتهادهم وصدق ما قالوه يقينًا، والله الموفق.

الثاني: قال بعضهم: ومن المقطوع بصدقه أن يخبر إنسان بمرأى ومسمعٍ من النبي صلى الله عليه وآله وسلم فلا ينكره عليه.

--------------------------------------------

(1) في "معاني الآثار" (3/ 47، 48) و"مشكل الآثار" (9/ 284).
এটি একটি সহজলভ্য ও প্রকাশ্য বিষয়; কারণ যা প্রকাশ্য—বরং আমরা যদি নিশ্চিত (المتيقن) না-ও বলি—তা হলো এটি ওহির মাধ্যমে প্রাপ্ত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) জ্ঞান।

চতুর্থত: এতে পারস্য ও রোমবাসীদের অবস্থা সম্পর্কে প্রথম বক্তব্যে যা বলা হয়েছে, তা খণ্ডন করার প্রতি এক প্রকার ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি যেন বলতে চাইছেন: ‘গিলা’ (স্তন্যদানকালীন সহবাস)-এর ক্ষতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম, তাই পারস্য ও রোমবাসীদের বাহ্যিক অবস্থা থেকে এর ক্ষতি না হওয়া প্রতীয়মান হলেও তা দ্বারা এই সূক্ষ্ম ক্ষতিটি নাকচ হয়ে যায় না।

তবে ইমাম তাহাবি(১) (রহ.) পূর্বোক্ত আলোচনার বিপরীত মত পোষণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, "তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না..." হাদিসটি সম্ভবত আগের ছিল, যা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আরবদের প্রচলিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে বলেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর কাছে সেই বিশ্বাসের অসারতা স্পষ্ট হলে তিনি বললেন: "আমি সংকল্প করেছিলাম..."।

আর এটি আপনার কাছেও স্পষ্ট, যদি আপনি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন!

জেনে রাখুন যে, দুনিয়াবি বিষয়ে নবীদের ধারণা (ظن) যে অভ্রান্ত (معصوم) নয়, সে ব্যাপারে বহু দলিল রয়েছে এবং যা উল্লেখ করা হয়েছে তাই যথেষ্ট। যদি তাঁদের ধারণা (ظن) অভ্রান্ত (معصوم) হতো, তবে তাঁদের মধ্যে আর কোনো ধারণা (ظن) অবশিষ্ট থাকত না, বরং তা নিশ্চিত জ্ঞানে (علم) পরিণত হতো।

আর দ্বীনি বিষয়ের ক্ষেত্রে, যদি তা শরিয়তের কোনো হুকুম বা বিধান সংক্রান্ত সংবাদ হয়, তবে তাঁরা সুনিশ্চিতভাবে (قطعا) অভ্রান্ত (معصوم)। এমতাবস্থায় যদি আমরা এটি জায়েজ মনে করি যে তাঁরা এসব বিষয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে পারেন এবং তাঁদের সেই ইজতিহাদ (اجتهاد) সম্পর্কে সংবাদ দিতে পারেন, তবে এক্ষেত্রে যদি ভুলের সম্ভাবনা থাকেও, মহান আল্লাহ তা বহাল রাখেন না; বরং অবিলম্বে তাঁদেরকে ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। সুতরাং, যখন তাঁরা ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং তা ব্যক্ত করেন, আর আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সতর্কতা না আসে, তবে তাঁদের ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর সঠিকতা এবং তাঁদের বক্তব্যের সত্যতা সুনিশ্চিতভাবে (يقينا) প্রমাণিত হয়। আল্লাহই তাওফিকদাতা।

দ্বিতীয়ত: কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ বলেছেন: যার সত্যতা নিশ্চিত (المقطوع بصدقه) তার মধ্যে একটি হলো—নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে ও তাঁর শ্রুতিগোচরে কোনো ব্যক্তি কিছু ব্যক্ত করলেন এবং তিনি তা অস্বীকার করলেন না।

--------------------------------------------

(১) মাআনী আল-আসার (৩/ ৪৭, ৪৮) এবং মুশকিল আল-আসার (৯/ ২৮৪)-এ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৮)
أقول: أما أن يخبر رجل بحضرته صلى الله عليه وآله وسلم بأمر ديني، بحيث يظهر أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم إنما سكت تصديقًا له؛ فهذا حق. وذلك كما روي أن جماعة اختلفوا في القراءة، فذهبوا إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فأخبروه، وكان عنده علي رضي الله عنه، فقال لهم علي: يقول لكم رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم(1) ....

وأما غير ذلك، ففيه نظر. ولاسيَّما إذا احتمل كونه صلى الله عليه وآله وسلم لا يعلم الواقعة، أو يظنها كما ذكر المخبر.

وقد كان النبي صلى الله عليه وآله وسلم يشك في ابن صياد أنه الدجال؛ لعلامات كانت فيه، فقوي ظنُّ عمر بذلك، فحلف بين يدي النبي صلى الله عليه وآله وسلم أن ابن صياد هو الدجال، ولم ينكر عليه النبي صلى الله عليه وآله وسلم(2)، ثم جاءت أحاديث تدلُّ أنه تبيَّن للنبيِّ صلى الله عليه وآله وسلم بعد ذلك أن الدجال غير ابن صياد(3).

الثالث: وذكروا من المقطوع بصدقه: المتواتر.

قالوا: وهو خبر جماعة يستحيل في العادة تواطؤهم على الكذب عن أمر محسوس.

وذلك حق لا ريب فيه، ولكن أشار بعضهم إلى أن هذا ــ أعني المتواتر ــ والخبر الذي يفيد العلم بمعونة القرائن شيء واحد.

--------------------------------------------

(1) بعده بياض في الأصل .. والحديث أخرجه ابن حبان في "صحيحه" (747) والحاكم في "المستدرك" (2/ 223، 224) من طريق زر عن ابن مسعود مطولًا. وفيه: "فقال علي: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم يأمركم أن يقرأ كل رجل منكم كما عُلِّم، فإنما أهلك من قبلكم الاختلاف".

(2) أخرجه البخاري (7355) ومسلم (2929) من حديث جابر بن عبد الله.

(3) انظر "الفتح" (13/ 326 - 329).
আমি বলি: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর উপস্থিতিতে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো দ্বীনি বিষয়ে সংবাদ (خبر) প্রদান করেন এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে নবী (সা.) তাঁকে সমর্থন জানিয়ে নীরবতা (السكوت) পালন করছেন বলে প্রতীয়মান হয়; তবে তা সঠিক। যেমনটি বর্ণিত হয়েছে যে, একদল লোক কিরাআত বিষয়ে মতভেদ করল এবং তারা নবী (সা.)-এর কাছে গিয়ে তাঁকে অবহিত করল। তখন আলী (রা.) তাঁর কাছে ছিলেন। আলী (রা.) তাঁদের বললেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) তোমাদের বলছেন(1) ....

এ ছাড়া অন্য বিষয়ের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার (نظر) অবকাশ রয়েছে। বিশেষ করে যখন এমন সম্ভাবনা থাকে যে, নবী (সা.) ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন অথবা তিনি ঘটনাটিকে সংবাদদাতা (المخبر)-এর বর্ণনা অনুযায়ী ধারণা করছেন।

নবী (সা.) ইবনে সাইয়াদের ব্যাপারে দাজ্জাল হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করতেন; তার মধ্যে বিদ্যমান কিছু নিদর্শনের কারণে। ফলে উমর (রা.)-এর এ বিষয়ে প্রবল ধারণা জন্মাল এবং তিনি নবী (সা.)-এর সামনেই কসম করে বললেন যে, ইবনে সাইয়াদই হলো দাজ্জাল। নবী (সা.) তা অস্বীকার (لم ينكر) করেননি(2), পরবর্তীতে এমন কিছু হাদিস এসেছে যা প্রমাণ করে যে, নবী (সা.)-এর নিকট পরবর্তীতে এটি স্পষ্ট হয়েছিল যে দাজ্জাল ইবনে সাইয়াদ ছাড়া অন্য কেউ(3)।

তৃতীয়ত: তাঁরা সত্যতা নিশ্চিত (المقطوع بصدقه) সংবাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন: মুতাওয়াতির (المتواتر)-কে।

তাঁরা বলেন: এটি এমন একদল লোকের সংবাদ (خبر), স্বাভাবিক অভ্যাসের ভিত্তিতে মিথ্যার ওপর যাঁদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব এবং যা কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় সম্পর্কিত।

এটি এমন এক সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে তাঁদের কেউ কেউ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এটি—অর্থাৎ মুতাওয়াতির (المتواتر)—এবং পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহের (القرائن) সাহায্যে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদানকারী সংবাদ (الخبر) আসলে একই বিষয়।

--------------------------------------------

(1) মূল পাণ্ডুলিপিতে এর পরে শূন্যস্থান রয়েছে। হাদিসটি ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ-এ (৭৪৭) এবং হাকিম আল-মুস্তাদরাক-এ (২/ ২২৩, ২২৪) জির-এর সূত্রে ইবনে মাসউদ থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে: "অতঃপর আলী বললেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমাদের প্রত্যেকে যেন সেভাবেই পাঠ করে যেভাবে তাকে শেখানো হয়েছে; কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীরা মতভেদের কারণেই ধ্বংস হয়েছিল।"

(2) বুখারি (৭৩৫৫) ও মুসলিম (২৯২৯) এটি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর বর্ণিত হাদিস থেকে সংকলন করেছেন।

(3) দেখুন: ফাতহুল বারি (১৩/ ৩২৬ - ৩২৯)।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৯)
وشبهتُه إلى أن كثرة العدد لو كانت هي المؤثرة لتعين العدد المؤثر، والأمر بخلاف ذلك، فإنه قد يحصل العلم بخبر الواحد أو الاثنين أو الثلاثة، ولا يحصل بخبر مئة ألف أو أزيد. كما لو أخبر مليون جندي من الألمان بعد هزيمتهم بأن زعيمهم هتلر مات.

[ص 30] فالمدار إذًا إنما هو على ما يحتفُّ بالخبر من القرائن.

وأقول: الخبر تكون معه قرائن تساعده، وقرائن تخالفه، فعدد التواتر هو الذي يحصل بخبرهم العلم مع فَقْدِ القرائن الموافقة والمخالفة أو تكافُئِها، وإنما يعسُر تعيينه لأنه لا يخلو الخبر عن قرائن من الجانبين، ويعسر العلم بتكافئها.

هذا، والمدار على حصول العلم، فسِيَّانِ: كان حصوله بكثرة العدد مع عدم القرائن المخالفة أو مع تكافُؤِ القرائن [من] الجانبين، أو كان حصوله بمعونة القرائن. ولا حرج في تسمية ما حصل به العلم متواترًا، وإن شككنا في حصوله بالوجه الأول أو الثاني.

وقد شكَّك بعضهم في حصول العلم بالمتواتر، قال: لأن كثرة العدد قد لا تفيد إذا اقترن بالخبر قرائن تخالفه، فيمكن أن يكون مع الخبر قرائن تخالفه ولكنها خفية، فعلى هذا يتوهم سامعه حصول العلم به.

ويتحقق ذلك بأن تفرض أن ألف رجل تواطؤوا سرًّا على خبر، ثم بالغوا في إخفاء ما يُوقِع التهمة بتواطُئِهم، وتفرقوا. فإنه إذا فُرِض أن أحدهم أخبر، ثم جاء الثاني وكأنه لا يعرف الأول ولا يعلم بخبره فأخبره بمثله، وهكذا، فقد يتوهم بعض السامعين حصول العلم، وقد تلوحُ لبعضهم قرينة على احتمال التواطؤ، فلا يكاد يحصل له الظن فضلًا عن العلم.
এবং এ বিষয়ে আমার সংশয় হলো যে, যদি বর্ণনাকারীর সংখ্যাধিক্যই প্রভাব বিস্তারকারী হতো, তবে সেই প্রভাব বিস্তারকারী সংখ্যাটি সুনির্দিষ্ট থাকতো; অথচ বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। কেননা কখনও একক সংবাদ (خبر الواحد), দুইজন বা তিনজনের সংবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হতে পারে, আবার কখনও এক লক্ষ বা তার চেয়েও বেশি মানুষের সংবাদের মাধ্যমেও তা অর্জিত নাও হতে পারে। যেমন জার্মান বাহিনীর পরাজয়ের পর যদি দশ লক্ষ সৈন্য সংবাদ দেয় যে তাদের নেতা হিটলার মারা গেছেন।

[পৃষ্ঠা ৩০] সুতরাং মূল বিষয়টি হলো সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহের (قرائن) ওপর।

আমি বলি: সংবাদের সাথে এমন কিছু আলামত (قرائن) থাকে যা সেটিকে সমর্থন করে, আবার কিছু আলামত থাকে যা তার বিরোধিতা করে। সুতরাং মুতাওয়াতির (متواتر) হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা হলো এমন সংখ্যা, যাদের সংবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয় যখন কোনো অনুকূল বা প্রতিকূল আলামত অনুপস্থিত থাকে কিংবা উভয় দিকের আলামত সমান হয়। আর এই সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ কোনো সংবাদই উভয় দিকের আলামত (قرائن) থেকে মুক্ত থাকে না এবং সেই আলামতগুলোর সমতা নিরূপণ করাও দুষ্কর।

বস্তুত মূল বিষয় হলো নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন হওয়া; আর তা বর্ণনাকারীর আধিক্যের সাথে প্রতিকূল আলামতের অনুপস্থিতি বা উভয় দিকের আলামতের সমতার মাধ্যমে হোক, অথবা পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহের (قرائن) সহায়তায় হোক—উভয়ই সমান। যার মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয় তাকে মুতাওয়াতির (متواتر) নামকরণ করতে কোনো বাধা নেই, যদিও তা প্রথম পদ্ধতিতে নাকি দ্বিতীয় পদ্ধতিতে অর্জিত হয়েছে সে বিষয়ে আমাদের মনে সংশয় থাকে।

কেউ কেউ মুতাওয়াতির (متواتر) সংবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হওয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন: কারণ বর্ণনাকারীর আধিক্য কখনও ফলপ্রসূ নাও হতে পারে যদি সংবাদের সাথে কোনো প্রতিকূল আলামত (قرائن) যুক্ত থাকে। এমনও হতে পারে যে সংবাদের সাথে প্রতিকূল কোনো আলামত (قرائن) বিদ্যমান কিন্তু তা সূক্ষ্ম; এমতাবস্থায় শ্রোতার মনে এর দ্বারা নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হওয়ার বিভ্রম তৈরি হতে পারে।

এটি এভাবে কল্পনা করা যেতে পারে যে—ধরুন এক হাজার মানুষ গোপনে কোনো সংবাদের ব্যাপারে গোপন সমঝোতা (تواطؤ) করলো, অতঃপর তারা তাদের এই গোপন সমঝোতার বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গোপন রাখলো এবং তারা পৃথক হয়ে গেল। এরপর যদি এমন হয় যে তাদের একজন এসে সংবাদ দিল, তারপর দ্বিতীয় জন এমনভাবে আসলো যেন সে প্রথম জনকে চেনে না এবং তার সংবাদ সম্পর্কেও জানে না এবং সেও একই সংবাদ দিল, এভাবে চলতে থাকলে কোনো কোনো শ্রোতার মনে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হওয়ার বিভ্রম তৈরি হতে পারে। আবার কারও কাছে গোপন সমঝোতার (تواطؤ) কোনো আলামত (قرينة) স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে, যার ফলে তার মনে নিশ্চিত জ্ঞান তো দূরের কথা, প্রবল ধারণা (ظن) পর্যন্ত সৃষ্টি হবে না।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৩০)
والجواب: أن النفس إذا خُلِّيتْ وفطرتها لا يخفى عليها موضع احتمال التواطؤ، ولو على بعدٍ، فلا تجزم حتى يجتمع لها من القرائن ما يبين أن احتمال التواطؤ مستحيل.

بلى، لا ننكر أن من الناس من يدعي التواتر في خبر وليس كذلك، وإنما يكذب على نفسه في دعوى حصول العلم، أو يغالطها في ذلك، والله المستعان.

واعلم أن تواتر الخبر قد يكون مع اتفاق العدد على جميع العوارض، كأن يخبر كل منهم أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم خطب الناس يوم النحر سنة عشر بمنى في وقت كذا، فقال كيت وكيت. وقد يذكر بعضهم سماع الحديث في زمان ومكان، ويذكر غيره سماعه في زمان أو مكان آخر.

وهذا كله تواتر؛ إذ المدار على أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال ذلك. اللهم إلا أن يكون للزمان أو للمكان اختصاص، كأن يقول بعضهم: "وقف بمكان كذا من عرفة فقال: هذا الموقف"، ويقول غيره: "وقف بمكان كذا ــ ويذكر مكانًا آخر ــ وقال: هذا الموقف"، أو نحو ذلك.

واعلم أن اختلاف الألفاظ والمعنى واحد لا يقدح في التواتر، وكأنهم قالوا: ذكر كلامًا هذا معناه.

وهناك ما يسمى "التواتر المعنوي"، وذلك كأن يروي أحدهم أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "من زنى بعد ما أحصن فعليه الرجم"(1)، ويروي آخر أن ماعزًا

--------------------------------------------

(1) لم أجد الحديث بهذا اللفظ، وقد أخرج البخاري (6878) ومسلم (1676) من حديث ابن مسعود بلفظ: "لا يحل دم امرئ يشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله إلا بإحدى ثلاث: الثيب الزاني … ". وأخرج أحمد (452) والنسائي (7/ 103) من حديث عثمان بن عفان بنحوه فيه: " … رجل زنى بعد إحصانه فعليه الرجم … ".
উত্তর হলো: মানুষের প্রবৃত্তি বা স্বভাবকে যদি তার আপন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে সেখানে যোগসাজশের (تواطؤ) সম্ভাবনার বিষয়টি তার কাছে অস্পষ্ট থাকে না, যদিও তা দূরবর্তী সম্ভাবনা হয়। সুতরাং যতক্ষণ না তার নিকট এমন কিছু আলামত (قرائن) একত্রিত হয় যা স্পষ্ট করে দেয় যে যোগসাজশের (تواطؤ) সম্ভাবনা অসম্ভব, ততক্ষণ সে কোনো অকাট্য সিদ্ধান্তে উপনীত হয় না।

হ্যাঁ, আমরা এটি অস্বীকার করি না যে, মানুষের মধ্যে এমনও কেউ আছে যে কোনো সংবাদের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্নতার (تواتر) দাবি করে অথচ বিষয়টি সেরকম নয়; সে মূলত জ্ঞান অর্জনের দাবির ক্ষেত্রে নিজের নফসের ওপর মিথ্যাচার করে অথবা এ বিষয়ে নিজেকে বিভ্রান্তিতে ফেলে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

জেনে রাখুন যে, সংবাদের নিরবচ্ছিন্নতা (تواتر) কখনও সব আনুষঙ্গিক বিষয়ে বর্ণনাকারীদের সংখ্যার ঐকমত্যের মাধ্যমে হতে পারে; যেমন—তাদের প্রত্যেকেই সংবাদ দিল যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) দশম হিজরির কুরবানির দিন মিনায় অমুক সময়ে মানুষের সামনে খুতবা দিয়েছেন এবং অমুক অমুক কথা বলেছেন। আবার তাদের কেউ হয়তো কোনো একটি নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে হাদিসটি শোনার কথা উল্লেখ করেন, আবার অন্য কেউ তা ভিন্ন সময়ে বা ভিন্ন স্থানে শোনার কথা উল্লেখ করেন।

আর এই সবই নিরবচ্ছিন্ন (تواتر); কেননা মূল ভিত্তি হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) কথাটি বলেছেন। তবে যদি সময় বা স্থানের কোনো বিশেষ গুরুত্ব থাকে, যেমন—কেউ বললেন: "তিনি আরাফাতের অমুক স্থানে দাঁড়িয়ে বললেন: এটিই অবস্থানের স্থান", আবার অন্য কেউ বললেন: "তিনি অমুক স্থানে দাঁড়িয়েছিলেন—অন্য একটি স্থানের নাম উল্লেখ করলেন—এবং বললেন: এটিই অবস্থানের স্থান", অথবা অনুরূপ কিছু।

আরও জেনে রাখুন যে, শব্দের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও যদি অর্থ এক হয়, তবে তা নিরবচ্ছিন্নতার (تواتر) ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না। বিষয়টি এমন যেন তারা বলছেন: তিনি এমন একটি কথা বলেছেন যার মর্মার্থ এই।

সেখানে 'অর্থগত নিরবচ্ছিন্নতা' (تواتر معنوي) নামক একটি প্রকার রয়েছে। এটি এমন যে, বর্ণনাকারীদের একজন বর্ণনা করলেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "বিবাহিত হওয়ার পর যে ব্যভিচার করে তার ওপর রজম (رجم) করা ওয়াজিব"(১), আর অন্যজন বর্ণনা করলেন যে মা'ইজ...

--------------------------------------------

(১) আমি এই শব্দে হাদিসটি খুঁজে পাইনি। তবে বুখারি (৬৮৭৮) ও মুসলিম (১৬৭৬) ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসুল, তার রক্ত তিনটি কারণ ছাড়া হালাল নয়: বিবাহিত ব্যভিচারী (الثيب الزاني) … "। আর আহমাদ (৪৫২) ও নাসায়ি (৭/ ১০৩) উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন যেখানে রয়েছে: " … ব্যক্তি বিবাহিত হওয়ার পর ব্যভিচার করলে তার ওপর রজম (رجم) করা ওয়াজিব … "।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৩১)
زنى بعد ما أحصن فرجمه النبي صلى الله عليه وآله وسلم(1)، وروى ثالث أن امرأة غامدية زنت بعدما أحصنت فرجمها النبي صلى الله عليه وآله وسلم(2)، وآخر أن امرأة رجلٍ من أسلم اتُّهِمت بالزنا بعدما أحصنت فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "اغْدُ يا أُنيسُ إلى امرأة هذا، فإن اعترفَتْ فارجُمْها"(3). وهكذا بحيث يحصل بمجموع هذه الأخبار القطع بما اجتمعت عليه، وهو أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم كان يقضي برجم من زنى بعد إحصان.

هذا، ولا يخفى أن العلم بصدق خبر العدد فيما كان عن محسوس يُعلَم منه أنهم إذا أخبروا أن فلانًا أخبر؛ إنما يتحصل العلم بأن فلانًا أخبر، فأما صدق خبر فلان ــ إذا لم يكن معصومًا ــ فلا يحصل العلم بصدقه. لكن [إذا] أخبر عدد التواتر أن عددًا آخر مستجمعًا للشروط أخبروا حصل العلمُ بخبر الفريقين.

وهكذا، فإذا تعددت الطبقات كأن يخبر عدد عن عدد عن عدد عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فلا بد أن تتحقَّق الشرائط في كل الطبقات الثلاث، ولا يشترط أن يخبر كل واحد من العدد عن كل واحد من العدد الذي قبله.

بل يحصل العلم بأن يخبر كل واحد عن واحد، وآخر عن آخر، وثالث عن ثالث، وهكذا. [ص 31] بل هذا أقوى؛ فإن اجتماع عدد على الإخبار في وقت واحد

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (1694) من حديث أبي سعيد الخدري. وفي الباب أحاديث أخرى.

(2) أخرجه مسلم (1695) من حديث بريدة.

(3) أخرجه البخاري (6827، 6828) ومسلم (1697، 1698) من حديث أبي هريرة وزيد بن خالد.
তিনি বিবাহিত (أحصن) হওয়ার পর ব্যভিচার করেছিলেন, ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে রজম (رجم) করেছিলেন(১)। এবং তৃতীয় একজন বর্ণনা করেছেন যে, এক গামেদিয়া নারী বিবাহিতা হওয়ার পর ব্যভিচার করেছিলেন, ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাকে রজম (رجم) করেছিলেন(২)। এবং অপর একজন বর্ণনা করেছেন যে, আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তির স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহিতা হওয়ার পর ব্যভিচারের অভিযোগ আনা হয়। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে উনাইস, তুমি এই ব্যক্তির স্ত্রীর কাছে যাও, যদি সে স্বীকারোক্তি দেয় তবে তাকে রজম (رجم) করো"(৩)। এভাবে এই সকল সংবাদসমূহের (أخبار) সমষ্টির মাধ্যমে এমন একটি বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান (القطع) অর্জিত হয় যার ওপর সংবাদগুলো একমত হয়েছে; আর তা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বিবাহিত অবস্থায় ব্যভিচারকারীর ক্ষেত্রে রজমের (رجم) ফয়সালা দিতেন।

বিষয়টি এমন যে, এটি অস্পষ্ট নয় যে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (محسوس) বিষয়ের ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারীর সংবাদের (خبر العدد) সত্যতা সম্পর্কে যে জ্ঞান অর্জিত হয়, তা থেকে এটি জানা যায় যে তারা যখন সংবাদ দেন যে অমুক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন; তখন মূলত অমুক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন—কেবল এই বিষয়েরই জ্ঞান অর্জিত হয়। তবে অমুক ব্যক্তির সংবাদের সত্যতা—যদি তিনি নিষ্পাপ (معصوم) না হন—তবে তার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয় না। তবে [যদি] মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ের সংখ্যক বর্ণনাকারী সংবাদ দেন যে শর্তাবলি পূরণকারী অপর একটি দল সংবাদ দিয়েছেন, তবে উভয় দলের সংবাদের মাধ্যমেই নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়।

আর এভাবেই, যখন স্তরগুলোর (الطبقات) সংখ্যা একাধিক হয়, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একটি দল, তাদের থেকে অপর একটি দল এবং তাদের থেকে আরও একটি দল বর্ণনা করে, তবে আবশ্যক হলো তিনটি স্তরের প্রতিটিতেই শর্তাবলি পূর্ণ হওয়া। আর এটি শর্ত নয় যে পরবর্তী স্তরের প্রত্যেক ব্যক্তি তার পূর্ববর্তী স্তরের প্রত্যেক ব্যক্তি থেকে সংবাদ গ্রহণ করবেন।

বরং নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হতে পারে এভাবে যে, একজন বর্ণনা করবেন একজনের থেকে, অন্যজন অন্যজনের থেকে এবং তৃতীয়জন তৃতীয়জনের থেকে—এভাবে। [পৃষ্ঠা ৩১] বরং এটিই অধিক শক্তিশালী; কারণ একদল লোকের একই সময়ে সংবাদ প্রদানের (الإخبار) জন্য একত্রিত হওয়া...

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম (১৬৯৪) আবু সাঈদ খুদরি-র হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং এই অনুচ্ছেদে আরও অন্যান্য হাদিস রয়েছে।

(২) এটি মুসলিম (১৬৯৫) বুরাইদাহ-র হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) এটি বুখারি (৬৮২৭, ৬৮২৮) এবং মুসলিম (১৬৯৭, ১৬৯৮) আবু হুরায়রা ও জায়েদ বিন খালিদ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৯) রিসালাতুন ফী ফারযিয়্যাতি ইত্তিবাউস সুন্নাহ, ওয়াল কালামু আলা তাকসীমিল আখবার ওয়া হুজ্জিয়্যাতি আখবারিল আহাদ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৩২)
مما يوهم المواطأة. فتدبر.

الرابع: قالوا: قد يفيد الآحاد العلم بمعونة القرائن. ومثَّلوه بما فيه نظر. ولكن القول صحيح؛ فإن من القرائن ما يفيد العلم مجردًا عن الخبر، فكيف لا يكون منها ما يفيده مع الخبر؟

كما إذا وضعتَ شيئًا ثقيلًا في صندوق، ثم غبت، ثم رجعت فرفعت الصندوق فإذا هو خفيف، بحيث تعلم قطعًا أنه لا يمكن أن يكون ذلك الشيء فيه.

وهكذا إذا وضعتَ حمامة في قفص محكم مقفل، ووضعته بحيث تعلم أنه لم تصل إليه يد إنسان، ثم تفقدته فإذا فيه بيضة! وقس على ذلك.

ويدخل في القرائن عدالة المخبر، وكونه معروفًا بالصدق، وكونه ليس له هوى في ذلك الخبر، وكونه مشهودًا له بالإتقان، وذكره للخبر قصة، وكون القصة تتعلق به، إلى غير ذلك مما بسطه أهل العلم في وجوه الترجيح.

والعدالة تتفاوت، فأعلاها عدالة من عدَّله الله تعالى، ثم رسوله صلى الله عليه وآله وسلم، وشهد له بالجنة.

وكذلك الصدق، فأعلاه صدق من أخبر الله تبارك وتعالى بأنه صدوق.

وكذلك عدم الهوى، فمن أعلاه أن يكون للمخبر هوى في نقيض ذلك الخبر، كأن يكون في الخبر غضاضةٌ عليه.

وكذلك الإتقان، فأعلاه في الثقة أن يصفه جهابذة الحفاظ بأنه لم
যা আঁতাত (المواطأة) হওয়ার সংশয় সৃষ্টি করে। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।

চতুর্থ: তারা বলেছেন: পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহের (القرائن) সাহায্যে অনেক সময় একক বর্ণনা (الآحاد) নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে। তারা এর জন্য এমন কিছু উদাহরণ পেশ করেছেন যেগুলোর মাঝে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। তবে কথাটি সঠিক; কেননা এমন কিছু আলামত (القرائن) রয়েছে যা সংবাদ ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করে, তবে সেই আলামতগুলো সংবাদের সাথে যুক্ত হয়ে কেন নিশ্চিত জ্ঞান (العلم) প্রদান করবে না?

যেমন যদি আপনি একটি সিন্দুকে কোনো ভারী বস্তু রাখেন, এরপর আপনি সেখান থেকে চলে যান, তারপর ফিরে এসে সিন্দুকটি তুললেন এবং দেখলেন যে সেটি হালকা, যার ফলে আপনি নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন যে সেই বস্তুটি তাতে থাকা আর সম্ভব নয়।

অনুরূপভাবে যদি আপনি একটি কবুতর মজবুতভাবে তালাবদ্ধ খাঁচায় রাখেন এবং সেটি এমনভাবে রাখেন যাতে আপনি নিশ্চিত থাকেন যে কোনো মানুষের হাত সেখানে পৌঁছায়নি, এরপর আপনি সেটি পরীক্ষা করে দেখলেন যে সেখানে একটি ডিম রয়েছে! এই উদাহরণগুলোর ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য বিষয়ও অনুমান করুন।

আর পারিপার্শ্বিক আলামতসমূহের (القرائن) মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো সংবাদদাতার ন্যায়পরায়ণতা (العدالة), তার সত্যবাদিতার (الصدق) জন্য সুপরিচিত হওয়া, ওই সংবাদের বিষয়ে তার কোনো ব্যক্তিগত ঝোঁক বা স্বার্থ (الهوى) না থাকা, তার সূক্ষ্মতা ও দক্ষতার (الإتقان) বিষয়ে সাক্ষ্য বিদ্যমান থাকা, তার সংবাদটি কোনো ঘটনা আকারে বর্ণনা করা এবং সেই ঘটনাটি তার নিজের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া—এরূপ আরও অন্যান্য বিষয় যা বিজ্ঞ আলিমগণ প্রাধান্য দেওয়ার পদ্ধতিসমূহের (وجوه الترجيح) আলোচনায় বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

আর ন্যায়পরায়ণতার (العدالة) স্তরভেদ রয়েছে; এর সর্বোচ্চ স্তর হলো সেই ব্যক্তির ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) যাকে মহান আল্লাহ তায়ালা এবং এরপর তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত (عدَّله) করেছেন এবং তার জান্নাতি হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

অনুরূপভাবে সত্যবাদিতার (الصدق) বিষয়টিও; এর সর্বোচ্চ পর্যায় হলো সেই ব্যক্তির সত্যবাদিতা (الصدق) যার সম্পর্কে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী (صدوق)।

তেমনিভাবে স্বার্থ বা ব্যক্তিগত ঝোঁক (الهوى) না থাকার বিষয়টিও; এর সর্বোচ্চ পর্যায় হলো সংবাদদাতার ওই সংবাদের বিপরীত বিষয়ে কোনো স্বার্থ (الهوى) থাকা, যেমন সংবাদটির মাঝে তার নিজের জন্য কোনো ত্রুটি বা মানহানির বিষয় থাকা।

অনুরূপভাবে সূক্ষ্মতা ও দক্ষতা (الإتقان); নির্ভরযোগ্য (الثقة) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে এর সর্বোচ্চ স্তর হলো হাফেজগণের ইমামগণ (جهابذة الحفاظ) তাকে এমনভাবে বিশেষিত করা যে তিনি কখনো...