(খণ্ড: ১)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
مقام إبراهيم - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مقام إبراهيم
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (16)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
মাকামে ইবরাহিম - ‘আসার আল-মুআল্লিমি’-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: মাকামে ইবরাহিম
[আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৬)]
লেখক: আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ উজাইর শামস
পর্যালোচনা করেছেন: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান ইবনে আবদুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়িদ প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৪ হিজরি
শামিলা লাইব্রেরির জন্য পেশ করেছেন: ‘আতাআত আল-ইলম’ «প্রতিষ্ঠান», আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৩৫)
الرسالة الرابعة عشرة
مقام إبراهيم
চতুর্দশ রিসালাহ
মাকামে ইবরাহিম
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৩৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أحاط بكلّ شيءٍ علمًا، وأتقن كلَّ شيءٍ خلقًا وأمرًا، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنّ محمدًا عبدُه ورسوله، صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه.
أمّا بعد، فهذه رسالة في شأن "مقام إبراهيم"، وما الذي ينبغي أن يُعمَل به عند توسعة المطاف؛ حاولتُ فيها تنقيحَ الأدلّة ودلالتها على وجه التحقيق، معتمدًا على ما أرجوه من توفيق الله ــ تبارك اسمُه ــ لي، وإن قلَّ علمي، وكلَّ فَهمي.
فما كان فيها من صواب فمن فضل الله عليَّ وعلى النّاس، وما كان فيها من خطأ فمنّي، وأسأل الله التوفيق والمغفرة.
قال الله تبارك وتعالى في سورة البقرة (الآية 125): {وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَنْ طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ}.
وقال سبحانه في سورة الحج (الآية 26): {وَإِذْ بَوَّأْنَا لِإِبْرَاهِيمَ مَكَانَ الْبَيْتِ أَنْ لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْقَائِمِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ}.
جاء عن جماعة من السلف تفسير "التطهير" في الآيتين بالتطهير من الشرك والأوثان.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন এবং তাঁর সৃষ্টি ও আদেশে সব কিছুকে নিপুণ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর, এটি "মাকামে ইবরাহিম" এর মর্যাদা এবং মাতাফ সম্প্রসারণের সময় কী করণীয় সে সম্পর্কিত একটি পুস্তিকা। এতে আমি দালিলিক প্রমাণাদির (أدلة) পর্যালোচনা (تنقيح) এবং সেগুলোর নির্দেশনার বিষয়সমূহকে যথাযথ বিশ্লেষণের (تحقيق) মাধ্যমে নিরূপণ করার চেষ্টা করেছি। এ ক্ষেত্রে আমি আল্লাহর তাওফিকের (توفيق) ওপর নির্ভর করেছি—যাঁর নাম বরকতময়—যদিও আমার জ্ঞান স্বল্প এবং বোধশক্তি সীমাবদ্ধ।
এতে যা কিছু সঠিক তা আমার ওপর এবং মানুষের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ, আর যা কিছু ভুল তা আমার পক্ষ থেকে। আমি আল্লাহর কাছে তাওফিক (توفيق) ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা সূরা আল-বাকারায় (আয়াত ১২৫) ইরশাদ করেছেন: {আর যখন আমি কাবা গৃহকে মানুষের জন্য মিলনস্থল ও নিরাপদ স্থান বানালাম এবং (বললাম,) তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো। আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার ঘরকে তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।}
এবং তিনি সুবহানাহু সূরা আল-হজ্জে (আয়াত ২৬) ইরশাদ করেছেন: {এবং যখন আমি ইবরাহিমের জন্য সেই ঘরের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম (এই বলে) যে, আমার সাথে কোনো কিছু শরিক করো না এবং আমার ঘরকে তওয়াফকারী, দণ্ডায়মান এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো।}
একদল পূর্বসূরি (سلف) থেকে এই দুই আয়াতে বর্ণিত "পবিত্রকরণ"-এর ব্যাখ্যা শিরক ও প্রতিমা থেকে পবিত্র করা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৩৮)
وهذا من باب ذكر الأهمّ الذي يقتضيه السبب؛ فإنّ إخلال المُشركين بتطهير البيت كان بشركهم ونَصْبِهم الأوثانَ عنده.
ولا ريبَ أنّ التطهير من ذلك هو الأهمّ، لكنّ "التطهير" المأمور به أعمّ.
أخرج ابن أبي حاتم
(1) عن مجاهد وسعيد بن جبير قالا: "من الأوثان والريب، وقول الزور والرّجس". ذكره ابن كثير وغيره
(2).
وقال البغوي
(3): قال ابن جبير وعطاء: "طهِّراه من الأوثان والريب وقول الزُّور".
وأخرج ابن جرير
(4) عن عُبيد بن عُمير قال: "من الآفات والريب".
* * * *
--------------------------------------------
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উল্লেখ করার পর্যায়ভুক্ত যা প্রেক্ষাপট দাবি করে; কেননা মুশরিকদের পক্ষ থেকে কাবা ঘরের পবিত্রতা রক্ষার ক্ষেত্রে যে ত্রুটি ছিল, তা মূলত তাদের শিরক এবং সেখানে মূর্তি স্থাপনের কারণে হয়েছিল।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সেসব থেকে পবিত্র করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তবে যে "পবিত্রকরণ"-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা আরও ব্যাপক।
ইবনে আবি হাতেম তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (أخرج) মুজাহিদ ও সাঈদ ইবন জুবায়ের থেকে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: "মূর্তি, সন্দেহ, মিথ্যা কথা ও অপবিত্রতা থেকে।" ইবনে কাসির ও অন্যরা এটি উল্লেখ করেছেন।
এবং বাগাভী বলেছেন: ইবন জুবায়ের ও আতা বলেছেন: "তোমরা উভয়ে ঘরটিকে মূর্তি, সন্দেহ ও মিথ্যা কথা থেকে পবিত্র করো।"
এবং ইবনে জারির উবাইদ ইবন উমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেছেন: "বিপদ-আপদ ও সন্দেহ থেকে।"
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৩৯)
أقام إبراهيم وإسماعيل ــ عليهما السلام ــ البيتَ على الطهارة بأوفى معانيها؛ فالأمر بتطهيره أمرٌ بالمحافظة على طهارته، وأن يُمنَع ويُزال عنه كلُّ ما يخالفها.
وقوله: {لِلطَّائِفِينَ
… } الآية، يدلُّ على أنّه مع أنّ التطهير مأمورٌ به لحرمة البيت، فهو مأمورٌ به لأجل هذه الفِرَق ــ الطائفين والعاكفين والقائمين والرُّكع السجود ــ لتؤدِّي هذه العباداتِ على الوجه المطلوب.
وهذا يبيّن أن "التطهير" المأمورَ به لا يَخُصُّ الكعبة، بل يَعُمُّ ما حواليها، حيث تُؤدَّى هذه العبادات، وأنّ في معنى التطهير إزالةَ كلِّ ما يمنع من أداء هذه العبادات، أو يُعسِّرها، أو يُخِلُّ بها، كأن يكون في موقع الطواف ما يَعُوق عنه؛ من حجارةٍ أو شوكٍ أو حُفَر.
فثبت الأمر بأن يُهيَّأَ ما حول البيت تهيئةً تمكِّن الطائفين والعاكفين والمصلِّين من أداء هذه العبادات بدون خلل ولا حرج.
لم يُحدّد الشارع ما أمر بتهيئته حول البيت بمقدارٍ مسمًّى، لكن لمّا أمر بالتهيئة لهذه الفرق على الإطلاق عُلِم أنّ المأمور به تهيئةُ ما يكفيها ويتّسع لهذه العبادات مع اليُسر.
فلمّا كان المسلمون قليلاً في عهد النبي صلى الله عليه وسلم ، كان يكفيهم المسجد القديم.
نعم كثُر الحُجّاج في حجّة الوداع، لكن لم يكن منتظرًا أن يكثروا تلك الكثرة، أو ما يقرب منها في السنوات التي تليها، وكانت بيوت قريش ملاصقةً للمسجد، لا تمكن توسعته إلا بهدمها، وهدمُها يُنفِّرهم، وعهدهم
ইব্রাহিম ও ইসমাইল —তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক— এই গৃহকে (কাবা) পবিত্রতার পূর্ণতম অর্থে পবিত্রতার ওপর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন; সুতরাং একে পবিত্র করার নির্দেশটি মূলত এর পবিত্রতা রক্ষা করার এবং এর পরিপন্থী সবকিছু প্রতিরোধ ও দূর করার একটি নির্দেশ।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {তাওয়াফকারীদের জন্য
… } আয়াতটি নির্দেশ করে যে, যদিও পবিত্রকরণের বিষয়টি কাবাঘরের মর্যাদার কারণে আদিষ্ট, তবুও তা এই শ্রেণির মানুষের সুবিধার্থেও আদিষ্ট —অর্থাৎ তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী, কিয়ামকারী এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য— যাতে তারা কাঙ্ক্ষিত পদ্ধতিতে এই ইবাদতগুলো পালন করতে পারে।
এটি স্পষ্ট করে যে, আদিষ্ট এই "পবিত্রকরণ" কেবল কাবার সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং এর চারপাশকেও অন্তর্ভুক্ত করে যেখানে এই ইবাদতগুলো পালিত হয়। আর পবিত্রকরণের অর্থের মধ্যে রয়েছে এমন প্রতিটি বিষয় দূর করা যা এই ইবাদতগুলো পালনে বাধা সৃষ্টি করে, বা কষ্টসাধ্য করে তোলে, অথবা এতে বিঘ্ন ঘটায়; যেমন তাওয়াফের স্থানে পাথর, কাঁটা বা গর্তের মতো কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকা।
সুতরাং এই নির্দেশটি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো যে, কাবাঘরের চারপাশকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যা তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং সালাত আদায়কারীদের কোনো ত্রুটি বা সংকীর্ণতা ছাড়াই এই ইবাদতগুলো পালনে সক্ষম করে তোলে।
শরিয়ত প্রণেতা কাবাঘরের চারপাশ প্রস্তুত করার বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট মাপে নির্ধারণ করে দেননি; কিন্তু যখন সাধারণভাবেই এই দলগুলোর জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তখন বোঝা যায় যে আদিষ্ট বিষয়টি হলো এমন পরিমাণ জায়গা প্রস্তুত করা যা তাদের জন্য যথেষ্ট হয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে এই ইবাদতগুলো পালনের সংকুলান করে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে যখন মুসলিমরা সংখ্যায় অল্প ছিলেন, তখন প্রাচীন মসজিদটিই তাঁদের জন্য যথেষ্ট ছিল।
হ্যাঁ, বিদায় হজে হাজীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে পরবর্তী বছরগুলোতে তাঁদের সংখ্যা এতটা বৃদ্ধি পাবে বা এর কাছাকাছি পৌঁছাবে এমনটি প্রত্যাশিত ছিল না। তাছাড়া কুরাইশদের ঘরগুলো ছিল মসজিদের সাথে লাগোয়া, যা ভেঙে ফেলা ছাড়া মসজিদের সম্প্রসারণ সম্ভব ছিল না; আর সেগুলো ভেঙে ফেলা তাঁদেরকে বিমুখ করতে পারত, যেহেতু তাঁদের ইসলাম গ্রহণের সময়কাল ছিল...
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৪০)
بالشرك قريب.
فلمّا كثروا في زمن عمر رضي الله عنه، وزال المانع؛ هدم الدُّور، وزاد في المسجد، وهكذا زاد مَن بعده من الخلفاء بحسب كثرة المسلمين في أزمنتهم.
وادَّخر الله تعالى الزيادة العظمى لصاحب الجلالة الملك سعود بن عبد العزيز بن عبد الرحمن الفيصل آل سعود، أيّده الله، وأوزعَه شكر نِعَمِه، وزادَه من فضله.
* * * *
শিরকের নিকটবর্তী।
অতঃপর যখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হলো, তখন তিনি সংলগ্ন ঘরগুলো ভেঙে ফেললেন এবং মসজিদে সম্প্রসারণ করলেন। এভাবেই তাঁর পরবর্তী খলিফাগণ নিজ নিজ সময়ে মুসলমানদের আধিক্য অনুযায়ী মসজিদের আয়তন বৃদ্ধি করেছিলেন।
আর আল্লাহ তাআলা এই মহত্তম সম্প্রসারণের সৌভাগ্য মহামান্য বাদশাহ সৌদ বিন আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল রহমান আল ফয়সাল আল সৌদ-এর জন্য সঞ্চিত রেখেছিলেন; আল্লাহ তাঁকে সমর্থন দান করুন, তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের তাওফিক দান করুন এবং স্বীয় অনুগ্রহে তাঁকে আরও সমৃদ্ধ করুন।
* * * *
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৪১)
قدّم الله تعالى في الآيتين "الطّائفين" على "العاكفين" و"المصلين"، والتقديم في الذكر يُشعِر بالتقديم في الحكم، فقد بدأ النبي صلى الله عليه وسلم في السعي بالصفا، وقال: "نبدأ بما بدأ الله به"
(1)، وبدأ في الوضوء بالوجه.
فيؤخذ من هذا أنّ التهيئة للطائفين أهمّ من التهيئة للعاكفين والمُصلّين.
فعلى هذا يُقَدّم الطائفون عند التعارض، ولا يكون تعارضٌ عند إقامة الصلاة المفروضة جماعةً مع الإمام؛ لأنّ الواجب عليهم جميعًا الدخولُ فيها، وإنّما يمكن التعارضُ بين الطائفين وبين العاكفين والمصلّين تطوّعًا.
وإذْ كان المسجد ــ بحمد الله ــ واسعًا، وسيزداد سعةً، فإنّما يقع التعارض في المطاف، كما إذا كثُر الطائفون، وكان في المطاف عاكفون ومصلّون تطوّعًا، وضاق المطاف عن أن يسعَهم جميعًا بدون حرجٍ ولا خلل.
فإن قُدِّم بقرب البيت العاكفون والمصلّون، وقيل للطائفين: طوفوا من ورائهم، كان هذا تأخيرًا لمن قدّمه الله، ولزم منه
(2) الحرج على الطائفين، لطول المسافة عليهم، مع أنّ الطواف يكون فرضًا في الحجّ والعمرة، وإذا خرج العاكفون والمصلّون عن المطاف، وأدّوا عبادتهم في موضع آخر من المسجد، زال الحرجُ والخللُ البتّة.
* * * *
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা এই দুটি আয়াতে ‘তাওয়াফকারীদের’ নাম ‘ইতিকাফকারী’ ও ‘নামাজীদের’ পূর্বে উল্লেখ করেছেন। আর বর্ণনায় কোনো বিষয় আগে উল্লেখ করা সাধারণত সেই বিধানের অগ্রাধিকার বা গুরুত্বের ইঙ্গিত প্রদান করে। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাঈ করার ক্ষেত্রে সাফা পাহাড় থেকে শুরু করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমরা তা দিয়েই শুরু করব যা দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন"
(১); এবং ওযুর ক্ষেত্রে তিনি মুখমণ্ডল ধোয়া দিয়ে শুরু করেছিলেন।
এ থেকে এটিই প্রতিভাত হয় যে, তাওয়াফকারীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা ইতিকাফকারী ও নামাজীদের জন্য ব্যবস্থা করার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং এই মূলনীতির ভিত্তিতে, পারস্পরিক বিরোধ দেখা দিলে তাওয়াফকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে ইমামের সাথে জামাতে ফরজ নামাজ আদায়ের সময় কোনো বিরোধের অবকাশ থাকে না; কারণ তখন প্রত্যেকের জন্যই তাতে অংশগ্রহণ করা আবশ্যক। মূলত বিরোধ তখনই সৃষ্টি হতে পারে যখন তাওয়াফকারী এবং নফল ইতিকাফকারী ও নফল নামাজীদের মধ্যে স্থানের সংকলান নিয়ে সংকট তৈরি হয়।
আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া যে মসজিদটি প্রশস্ত এবং ভবিষ্যতে এর প্রশস্ততা আরও বৃদ্ধি পাবে; তাই মূলত বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় মাতাফে (তাওয়াফ করার স্থানে)। যেমন যখন তাওয়াফকারীর সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পায় এবং মাতাফের মধ্যে ইতিকাফকারী ও নফল নামাজীরাও অবস্থান করেন, ফলে কোনো সংকীর্ণতা বা বিশৃঙ্খলা ছাড়া সকলের স্থান সংকুলান হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এমতাবস্থায় যদি কাবার নিকটবর্তী স্থানে ইতিকাফকারী ও নামাজীদের জায়গা দেওয়া হয় এবং তাওয়াফকারীদের বলা হয় যে তারা যেন তাদের পেছন দিয়ে তাওয়াফ করেন, তবে তা হবে আল্লাহ যাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তাকে পেছনে ঠেলে দেওয়ার শামিল। এর ফলে তাওয়াফকারীদের অতিক্রম্য দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় তারা কষ্টের সম্মুখীন হবেন, অথচ হজ ও উমরার ক্ষেত্রে তাওয়াফ একটি ফরজ বিধান। অন্যদিকে, যদি ইতিকাফকারী ও নামাজীরা মাতাফের বাইরে চলে যান এবং মসজিদের অন্য কোনো স্থানে তাদের ইবাদত সম্পন্ন করেন, তবে সেই কষ্ট ও বিশৃঙ্খলা পুরোপুরি দূর হয়ে যায়।
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৪২)
منذ بعث الله تعالى نبيّنا محمدًا صلى الله عليه وسلم لم يزل عدد المسلمين يزداد عامًا فعامًا، وبذلك يزداد الحُجّاج والعُمّار، ومع ذلك فقد توفّرت في هذا العصر أسبابٌ زاد لأجلها عدد الحجّاج والعمّار زيادةً عظيمة.
منها: حدوث وسائط النقل الأمينة السريعة المريحة.
ومنها: الأمن والرّخاء الّلذان لا عهدَ لهذه البلاد بهما، ولذلك زاد عدد السّكان والمقيمين زيادةً لا عهدَ بها.
ومنها: الأعمال العظيمة التي قامت وتقوم بها الحكومة السعودية لمصلحة الحجّاج، بما فيها تعبيد الطُّرق، وتوفير وسائط النقل، والعمارات المريحة، كمدينة الحُجّاج بجُدّة، والمظلاّت بمنًى ومزدلفة وعرفة، وتوفير المياه، وكلّ ما يحتاج إليه الحجّاج في كلّ مكان، وإقامة المستشفيات العديدة، والمَحْجَر الصحي الذي قضت به الحكومة السعودية على ما كانت بعض الدول تتعلّل به لمنع رعاياها عن الحجّ أو تصعيبه عليهم، والعمارة العظمى للمسجد النبوي، والتوسعة الكبرى الجارية الآن
(1) للمسجد الحرام، وغيرُ ذلك ممّا زاد في رغبة المسلمين من جميع البلاد في الحجّ.
فزاد عدد الحجّاج في السنين الماضية، ويُنتظَر استمرار الزيادة عامًا فعامًا، لذلك أصبح المسجد ــ على سعته ــ يضيق بالمصلّين في كثيرٍ من أيّام الجُمَع في غير موسم الحجّ، فما الظنُّ به فيه؟
فوفّق الله تعالى جلالة الملك المعظّم سعود بن عبد العزيز ــ أطال الله عمره في صالح الأعمال ــ لتوسعته، والعمل فيه جارٍ.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণের পর থেকে মুসলিমদের সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর এরই সাথে হাজীদের এবং ওমরাহ পালনকারীদের সংখ্যাও বাড়ছে। এছাড়া বর্তমান যুগে এমন কিছু কারণ তৈরি হয়েছে যার ফলে হাজীদের এবং ওমরাহ পালনকারীদের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে: নিরাপদ, দ্রুত ও আরামদায়ক পরিবহন মাধ্যমের উদ্ভাবন।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য, যা ইতিপূর্বে এই ভূখণ্ডে নজিরবিহীন ছিল। এ কারণেই স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসীদের সংখ্যা অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর মধ্যে আরও রয়েছে: হাজীদের কল্যাণে সৌদি সরকার কর্তৃক সম্পাদিত ও বর্তমানে চলমান সুমহান কার্যাবলি; যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাস্তাঘাট পাকাকরণ, যানবাহনের সুব্যবস্থা, আরামদায়ক ভবন নির্মাণ—যেমন জেদ্দার হাজী ক্যাম্প, মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতের ছাউনিসমূহ, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা এবং সব জায়গায় হাজীদের প্রয়োজনীয় সবকিছুর সরবরাহ। এছাড়া অসংখ্য হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, যার মাধ্যমে সৌদি সরকার সেই সব অজুহাত দূর করেছে যা ইতিপূর্বে কিছু রাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের হজ্জে আসতে বাধা দিতে বা তাদের জন্য হজ্জকে কঠিন করতে পেশ করত। সেই সাথে মসজিদে নববীর সুমহান স্থাপত্য এবং বর্তমানে চলমান
(১) মসজিদুল হারামের বিশাল সম্প্রসারণ কাজসহ অন্যান্য বিষয়সমূহ যা বিশ্বের সকল দেশ থেকে মুসলিমদের হজ্জের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করেছে।
ফলে বিগত বছরগুলোতে হাজীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতি বছর এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ কারণে মসজিদটি—তার বিশালতা সত্ত্বেও—হজ্জের মৌসুম ছাড়াও অনেক জুমার দিনে মুসল্লিদের ভিড়ে সংকীর্ণ হয়ে পড়ে; এমতাবস্থায় হজ্জের মৌসুমে কী অবস্থা হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
অতঃপর মহান আল্লাহ মহিমান্বিত বাদশাহ সাউদ বিন আব্দুল আজিজকে—আল্লাহ নেক আমলের সাথে তাঁর জীবন দীর্ঘায়িত করুন—এর সম্প্রসারণের তাওফিক দান করেছেন এবং বর্তমানে এর কাজ চলমান রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৩)
وأشدُّ ما يقع الزّحام في الموسم: في المطاف، وتنشأ عن ذلك مضارُّ تلحقُ الأقوياءَ، فضلاً عن الضعفاء والنساء، ويقع الخلل في هذه العبادة الشريفة ــ وهي الطواف ــ؛ لزوال ما يُطلَب فيه من الخشوع والخضوع والتذلُّل، وصدق التوجّه إلى الله عز وجل؛ إذ يهتمُّ كلُّ من وقع في الزّحام بنفسه.
وقد يكون مع الرجل القويّ ــ أو الرجلين ــ ضعيفٌ أو امرأة أو أكثر فيحاول القويّ أن يدفع الزّحام عن نفسه وعمّن معه، فيدفع من بجنبه وأمامه ليشقّ له ولمن معه طريقًا على أيّ حالٍ، فيؤذي بعضهم بعضًا، وربّما وقع النزاع والخصام والضرب والشتم، ويقع زحام الرّجال للنساء، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم : "إنّ الشيطان يجري من ابن آدم مجرى الدم"
(1)، وقد رأينا من النّاس من يُسِيء بغيره الظنّ، وربّما أدّى ذلك إلى الإيذاء بالدّفع والشّتم، وربّما بالضرب.
ومن المعلوم أنّ صحة الطواف لا تتوقّف على أدائه في المطاف، وإنّما شرطه أن يكون في المسجد، لكن جرى العمل على أن يكون في المطاف، ولو مع الزّحام؛ لأسباب:
منها: أنّ خارج المطاف غير مهيّأ للطواف فيه بغير حرج.
ومنها: أنّ غير الطائفين يقفون ويجلسون ويسلُكون وراءَ المطاف وعند زمزم، فيشقُّ على الطائفين تخلُّل تلك الجموع.
ومنها: أنّ من أهل العلم من يشترط لصحّة الطواف في المسجد أن لا
--------------------------------------------
হজের মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভিড় পরিলক্ষিত হয় মাতাফে; আর এর ফলে শক্তিশালী ব্যক্তিদের ওপর নানাবিধ ক্ষতিকর প্রভাব আপতিত হয়, দুর্বল ও নারীদের কথা তো বলাই বাহুল্য। এর ফলে এই মহিমান্বিত ইবাদত—অর্থাৎ তাওয়াফ—এর মধ্যে ত্রুটি দেখা দেয়; কেননা এতে যে একাগ্রতা, বিনয় ও মস্তক অবনত রাখা এবং মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ অভিমুখিতা কাম্য ছিল, তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। কারণ, ভিড়ের মধ্যে পড়া প্রত্যেক ব্যক্তি তখন কেবল নিজেকে নিয়েই চিন্তিত থাকে।
অনেক সময় একজন বা দুইজন শক্তিশালী ব্যক্তির সাথে কোনো দুর্বল ব্যক্তি অথবা নারী বা তার চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষ থাকেন। তখন সেই শক্তিশালী ব্যক্তি নিজের এবং তার সঙ্গীদের থেকে ভিড় ঠেকানোর চেষ্টা করেন। ফলে তিনি তার পাশে ও সামনে থাকা ব্যক্তিদের ধাক্কা দিয়ে যেকোনোভাবে নিজের ও সঙ্গীদের জন্য পথ তৈরি করতে চান। এতে তারা একে অপরকে কষ্ট দেয়; এমনকি কখনো কখনো বিবাদ, ঝগড়া, মারপিট এবং গালিগালাজের মতো ঘটনাও ঘটে। এছাড়া পুরুষ ও নারীদের মধ্যে ভিড় ও সংমিশ্রণ তৈরি হয়। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "শয়তান মানুষের রক্ত চলাচলের নালীতে বিচরণ করে।"
(১) আমরা অনেক মানুষকে দেখেছি যারা অন্যের প্রতি কুধারণা পোষণ করে, যা অনেক সময় ধাক্কা দেওয়া ও গালিগালাজ, এমনকি মারধরের মাধ্যমে কষ্ট দেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
এটি সর্বজনবিদিত যে, তাওয়াফ শুদ্ধ (صحيح) হওয়া কেবল মাতাফেই তা আদায়ের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এর শর্ত (شرط) হলো তা মসজিদের ভেতরে হওয়া। তবে কয়েকটি কারণে ভিড় থাকা সত্ত্বেও মাতাফেই তাওয়াফ করার রীতি প্রচলিত হয়েছে:
তার মধ্যে একটি হলো: মাতাফের বাইরের অংশটি কোনো প্রকার সংকীর্ণতা ছাড়া তাওয়াফ করার জন্য উপযুক্তভাবে প্রস্তুত নয়।
অন্যটি হলো: যারা তাওয়াফ করছেন না, তারা মাতাফের পেছনে এবং জমজম কূপের নিকট দাঁড়িয়ে থাকেন, বসে থাকেন অথবা যাতায়াত করেন; ফলে তাওয়াফকারীদের জন্য সেই ভিড় চিরে সামনে এগিয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে।
আরেকটি কারণ হলো: আলেমদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন যারা মসজিদে তাওয়াফ শুদ্ধ (صحيح) হওয়ার জন্য শর্ত (شرط) আরোপ করেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৪)
يحول بين الطّائف والكعبة بناءٌ ونحوه، وممّن ذكر ذلك صاحب "الفروع" (ج 2 ص 390)
(1).
وإزالة هذه العوائق إنّما تتمّ بتوسعة المطاف.
فلم يكن بُدٌّ من توسعة المطاف، والعمل بذلك جارٍ، ولله الحمد.
إنّ أضيق موضعٍ في المطاف هو ما بين المقام والبيت، ويزداد ضِيقُه بالنّاس شدّة؛ لقربه من الحجر الأسود والمُلتزم، حيث يقف جماعةٌ كثيرة للاستلام والالتزام والدعاء.
وإذا كانت توسعة المطاف مشروعةً، فتوسعة ذلك الموضع مشروعةٌ، وما لا يتمُّ المشروع إلاّ به ــ ولا مانعَ منه ــ فهو مشروع.
يرى بعضُ أهل العلم أنّ هذا منطبقٌ على تأخير المقام، وأنّ التوسعة المطلوبة لا تتمّ إلاّ به.
فأمّا ما يقوله بعضهم من إمكان طريقة أُخرى لتوسعة المطاف في تلك الجهة أيضًا مع بقاء "المقام" في موضعه، وذلك بأن يُحدّد موضعٌ يكفي المصلّين خلفَه، ويُوسّعَ المطافُ من وراء ذلك توسعةً يكون مجموع عرضها وعرض ما بين المقام والبيت مُساويًا لعرض المطاف بتوسعته في بقيّة الجهات، فإذا كثُر الطائفون سلك بعضُهم أمام المقام كالعادة، وسلك بعضُهم في التوسعة التي خلفه، وخلف موضع المُصلّين فيه= ففي هذه الطريقة خلَلٌ من أوجهٍ:
الأوّل: أنّها مخالفةٌ لعمل مَن عملُهُ حُجّة؛ فإنّ موضع المقام في الأصل
--------------------------------------------
তওয়াফকারী এবং কাবার মাঝে বিভিন্ন স্থাপনা ও অনুরূপ কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যারা বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে 'আল-ফুরু' (২য় খণ্ড, ৩৯০ পৃষ্ঠা)
(১) গ্রন্থের লেখক অন্যতম।
এই সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করা কেবল মাতাফ সম্প্রসারণের মাধ্যমেই সম্ভব।
তাই মাতাফ সম্প্রসারণ ছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না এবং বর্তমানে সেই কাজ চলমান রয়েছে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
মাতাফের সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থান হলো মাকাম এবং কাবার মধ্যবর্তী অংশ। হাজরে আসওয়াদ এবং মুলতাযামের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে সেখানে ভিড়ের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়; কারণ সেখানে এক বিশাল জনগোষ্ঠী ইসতিলাম, মুলতাযাম আঁকড়ে ধরা এবং দোয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকেন।
যদি মাতাফ সম্প্রসারণ বৈধ হয়, তবে ওই নির্দিষ্ট স্থানটির সম্প্রসারণও বৈধ। আর যে বৈধ কাজ যা ব্যতীত সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়—এবং যাতে কোনো বাধা নেই—সেটিও বৈধ বলে গণ্য।
কোনো কোনো বিজ্ঞ আলেম মনে করেন যে, এটি মাকাম পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য এবং কাঙ্ক্ষিত সম্প্রসারণ এটি ছাড়া সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।
তবে কেউ কেউ ওই অংশে মাকামকে তার স্বস্থানে বহাল রেখেই মাতাফ সম্প্রসারণের যে ভিন্ন পদ্ধতির কথা বলেন—অর্থাৎ মাকামের পেছনে মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত স্থান নির্দিষ্ট করা হবে এবং মাতাফকে তার পেছন দিক থেকে এমনভাবে সম্প্রসারিত করা হবে যেন এই নতুন অংশের প্রশস্ততা এবং মাকাম ও কাবার মধ্যবর্তী স্থানের প্রশস্ততার সমষ্টি মাতাফের অন্যান্য দিকের সম্প্রসারিত অংশের প্রশস্ততার সমান হয়। ফলে যখন তওয়াফকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, তখন কেউ কেউ স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী মাকামের সামনে দিয়ে তওয়াফ করবেন এবং অন্য কিছু তওয়াফকারী তার পেছনের বর্ধিত অংশ এবং সেখানে অবস্থানরত মুসল্লিদের পেছনের অংশ দিয়ে তওয়াফ করবেন—এই পদ্ধতিতে কয়েক দিক থেকে ত্রুটি রয়েছে:
প্রথমত: এটি এমন একজনের আমলের পরিপন্থী যার আমল দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য; কারণ মাকামের আদি স্থান
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৫)
بلصق الكعبة، وسيأتي إثباته.
فلمّا كَثُر النّاس في عهد عمر رضي الله عنه، وصار بقاءُ المقام بجنب الكعبة ــ ويصلّي الناس خلفَه ــ مظنّةَ تضييقِ المطاف على الطائفين= أخّرهُ ليبقى ما أمامه للطائفين مُتّسعًا لهم، ويخلو ما وراءه للمصلين، وأقرّه سائر الصحابة رضي الله عنهم، فكان إجماعًا، وهو حُجّة.
وقيل: إنّ النّبي صلى الله عليه وسلم هو الّذي أخّرَ المقامَ للعلّة نفسِها.
وأيًّا ما كان فهو حجّة، وكان ممكنًا حينئذٍ أن يبقى المقامُ بجنب الكعبة، ويُحْجَر لمن يصلّي خلفَه موضعٌ يطوف الطائفون من ورائه، ويُوسَّع لهم المطاف من خلف.
وهذا نظير الطريقة الأخرى التي يشير بها بعضهم الآن، وأبعد منها عن الخلل، وقد أعرض عنها مَن عمله حُجّة، واختار تأخير المقام عن موضعه الأصليّ.
وإذا كانت الحالُ الآنَ كالحال حينئذٍ، فالذي ينبغي هو الاقتداء بالحجّة، وتأخير المقام.
وإذا ساغ لهذه العلّة تأخيره عن موضعه الأصليّ؛ فلَأن يَسُوغ لأجلها تأخيرُه عن موضعه الثاني أولى.
الثاني: أنّ تلك الطريقة لا تفي بالمقصود؛ لأنّ حاصلها أن يكون للمطاف في ذاك الموضع فرعٌ يسلك وراء المقامِ وموضعِ المصلِّين فيه.
وهذا مظنّة أن يَحرِص أكثر الطائفين على أن يسلكوا أمام المقام كالعادة، واختصارًا للمسافة، ويَحرِص على ذلك المطوّفون، وخلف
কাবার সাথে সংলগ্ন ছিল, এবং অচিরেই এর প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।
অতঃপর যখন ওমর (রা.)-এর যুগে জনসমাগম বৃদ্ধি পেল এবং কাবার পার্শ্বে মাকামের অবস্থান—যার পেছনে মানুষ সালাত আদায় করত—তওয়াফকারীদের জন্য মাত্বাফ সংকীর্ণ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াল, তখন তিনি এটিকে পিছিয়ে দিলেন; যাতে এর সম্মুখভাগ তওয়াফকারীদের চলাচলের জন্য প্রশস্ত থাকে এবং এর পেছনের অংশটি সালাত আদায়কারীদের জন্য ফাঁকা থাকে। সকল সাহাবী (রা.) তাঁর এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেন, ফলে এটি একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) হিসেবে পরিগণিত হয়, যা একটি দলিল (حجة)।
কেউ কেউ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই একই কারণ (علة)-বশত মাকামকে পিছিয়ে দিয়েছিলেন।
যাই হোক না কেন, এটি একটি দলিল (حجة)। সে সময় এটিও সম্ভব ছিল যে, মাকামটি কাবার পাশেই বহাল থাকবে এবং যারা এর পেছনে সালাত আদায় করবে তাদের জন্য একটি স্থান নির্ধারিত করে দেওয়া হবে যেন তওয়াফকারীরা তাদের পেছন দিয়ে তওয়াফ করতে পারে এবং তাদের জন্য মাত্বাফের পথটি পেছন দিক থেকে প্রশস্ত করা হয়।
এটি বর্তমানে কারো কারো নির্দেশিত অন্য একটি পদ্ধতির সদৃশ, এমনকি এটি সেই পদ্ধতি অপেক্ষা ত্রুটিমুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর। তবুও যাঁর আমল দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য, তিনি এই পদ্ধতি থেকে বিমুখ হয়েছেন এবং মাকামকে তার আদি স্থান থেকে পিছিয়ে দেওয়াকেই বেছে নিয়েছেন।
আর বর্তমান পরিস্থিতি যদি সেই সময়কার পরিস্থিতির অনুরূপ হয়, তবে দলিল (حجة)-এর অনুসরণ করা এবং মাকামকে পিছিয়ে দেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।
যদি এই কারণ (علة)-এর ভিত্তিতে একে আদি স্থান থেকে পিছিয়ে দেওয়া বৈধ হয়, তবে সেই একই কারণে একে দ্বিতীয় স্থান থেকে পিছিয়ে দেওয়া আরও বেশি সঙ্গত।
দ্বিতীয়ত: সেই পদ্ধতিটি মূল উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট নয়; কারণ এর সারকথা হলো সেই স্থানে মাত্বাফের একটি শাখা তৈরি করা যা মাকাম ও সেখানে সালাত আদায়কারীদের পেছনের অংশ দিয়ে অতিক্রম করবে।
এতে এই আশঙ্কা রয়েছে যে, অধিকাংশ তওয়াফকারী অভ্যাসবশত এবং দূরত্ব সংক্ষেপ করার জন্য মাকামের সামনে দিয়ে চলতে আগ্রহী হবেন, আর তওয়াফ পরিচালনাকারীরাও এর ওপর গুরুত্ব দেবেন, আর পেছনে...
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৬)
المطوّف جماعةٌ لا يجدون بُدًّا من متابعته، فيبقى الزّحام قريبًا ممّا كان.
الثالث: أنّه إن أُحيط موضعُ المصلين خلفَ المقام بحاجز شقَّ الدّخولُ إليه والخروجُ منه، وإن لم يُحجَز كان مظنّة أن يسلكه بعض الطائفين اختصارًا للمسافة، فيقع الخلل في العبادتين.
وإنّما كان يمنعهم من ذلك فيما مضى ــ مع بُعد المسافة ــ: توهُّمهم أنّ الطواف لا يصحّ إلا في المطاف.
وسيزول هذا الوهم عند توسعة المطاف من خلفه.
وبقيت أوجهٌ أُخرى؛ كتقديم حقّ المصلين على حق بعض الطائفين، وتطويل المسافة عليهم، واحتمال أن يضيق الموضع الذي يُخصَّص للمصلين خلف المقام؛ لأنّهم يكثرون في بعض الأوقات، ويَحرِص كثيرٌ منهم على المُكْث هناك للدعاء وغير ذلك.
وبالجملة فلا ريب أنّه إذا تحقّقت العلّة، ولم يكن هناك مانعٌ من تأخير المقام؛ فتأخيره هو الطريقة المُثلى.
هل هناك مانعٌ؟
يُبدي بعض الفضلاء مُعارضاتٍ، يرى أنّها تشتمل على موانعَ، وسأذكرها مع ما لها وما عليها، وأسأل الله التوفيق:
المعارضة الأولى:
يقول بعض الناس: ذكر جماعةٌ من المفسّرين ما يدلُّ على أنّ المقام ليس هو الحجر فقط، بل هو الحجر والبقعة التي هو فيها الآن، وتأخير
মুতাউউইফের (তওয়াফ পরিচালনাকারী) সাথে এমন একদল লোক থাকে যারা তাকে অনুসরণ করতে বাধ্য হয়, ফলে ভিড় প্রায় পূর্বের মতোই বজায় থাকে।
তৃতীয়ত: মাকামে ইবরাহিমের পেছনে মুসল্লিদের স্থানটি যদি কোনো বেষ্টনী দ্বারা ঘিরে দেওয়া হয়, তবে সেখানে প্রবেশ ও প্রস্থান করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। আর যদি বেষ্টনী না থাকে, তবে কিছু তওয়াফকারী পথ সংক্ষেপ করার জন্য সেই স্থান দিয়ে যাতায়াত করার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে উভয় ইবাদতেই বিঘ্ন ঘটবে।
বিগত দিনগুলোতে দূরত্বের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও যা তাদের এটি করা থেকে বিরত রাখত, তা হলো তাদের এই অমূলক ধারণা যে, মাতাফের (তওয়াফের নির্ধারিত স্থান) বাইরে তওয়াফ সহিহ (صحيح) হবে না।
আর মাকামের পেছন দিক থেকে মাতাফ সম্প্রসারণ করা হলে এই ভুল ধারণা দূরীভূত হবে।
এছাড়াও আরও কিছু দিক রয়ে গেছে; যেমন কিছু তওয়াফকারীর হকের বিপরীতে মুসল্লিদের হককে প্রাধান্য দেওয়া, তওয়াফকারীদের জন্য পথ দীর্ঘায়িত করা এবং মাকামের পেছনে মুসল্লিদের জন্য বরাদ্দকৃত স্থানটি সংকীর্ণ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা; কারণ বিশেষ কিছু সময়ে মুসল্লিদের ভিড় বৃদ্ধি পায় এবং তাদের অনেকেই সেখানে দোয়া ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করতে উন্মুখ থাকেন।
সামগ্রিকভাবে এতে কোনো সংশয় নেই যে, যদি ইল্লত (علة) বা কারণটি সাব্যস্ত হয় এবং মাকামকে পেছনে সরিয়ে নেওয়ার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকে, তবে তা পিছিয়ে নেওয়াই হবে আদর্শ পদ্ধতি।
কোনো প্রতিবন্ধকতা কি আছে?কিছু বিজ্ঞ ব্যক্তি কিছু আপত্তি উত্থাপন করেছেন এবং মনে করেছেন যে এতে কিছু অন্তরায় রয়েছে। আমি সেগুলো সেগুলোর স্বপক্ষ ও বিপক্ষের যুক্তিসহ উল্লেখ করছি এবং আল্লাহর নিকট তাওফিক কামনা করছি:
প্রথম আপত্তি:
কিছু মানুষ বলেন: একদল মুফাসসির এমন বক্তব্য প্রদান করেছেন যা নির্দেশ করে যে, মাকাম কেবল পাথরটিই নয়, বরং পাথর এবং বর্তমানে সেটি যে স্থানে অবস্থিত সেই স্থানটিও এর অন্তর্ভুক্ত; আর একে পিছিয়ে নেওয়া...
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৭)
البقعة غير ممكن، فإذا نُقِلَ الحجر عنها، فإمّا أن يفوتَ العملُ بالآية، وإمّا أن يبقى الحكم للبقعة؛ لأنّها موضع الصلاة.
وأقول: إنّ النّظر في هذا يقتضي بسطَ ما يتعلّق بالمقام، وسأشرح ذلك في فصولٍ:
উক্ত ভূখণ্ডের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়; সুতরাং যদি সেখান থেকে পাথরটি সরিয়ে নেওয়া হয়, তবে হয় আয়াতের ওপর আমল করা সম্ভব হবে না, নতুবা ওই ভূখণ্ডের জন্যই বিধানটি বলবৎ থাকবে; কারণ সেটিই সালাতের স্থান।
আমি বলি: এ বিষয়ে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ করলে মাকাম সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির বিস্তারিত আলোচনার আবশ্যকতা দেখা দেয়; আর আমি অচিরেই বিষয়টি কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিবৃত করব।
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৮)
الفصل الأولما هو المقام؟
عامّة ما ورد فيه ذكر المقام من الأحاديث والآثار وكلام السّلف والأئمة ــ ويأتي كثيرٌ منها ــ يُبيّن أنّ "مقام إبراهيم" الذي في المسجد هو الحجر المعروف، غير أنّ بعض من رُوي عنه هذا رُوي عنه تفسير المقام في الآية بأنّه الحجُّ كلُّه، أو المشاعر.
وجاء عن ابن عباس رضي الله عنهما ما يبيِّن عدم الخلاف
(1)، وأنّ من قال: "الحجّ كلُّه" أو "المشاعر" إنّما أراد أنّ الآية كما تنصُّ على شَرْعِ الصلاة إلى هذا الحجر الذي قام عليه إبراهيم لعبادة ربّه عز وجل ــ كما يأتي ــ، فهي تدلُّ على شرع العبادة في كل موضعٍ قام فيه إبراهيم للعبادة، على ما بيَّنه الشرع، وذلك هو الحجّ والمشاعر، ولهذا جاء عنهم في تفسير كلمة {مُصَلًّى} قولان
(2):
الأوّل: قِبْلَة؛ يُصلّون خلفه، أو يُصلّون عنده.
الثاني: مَدْعىً.
فالأوّل بالنسبة إلى الحجر.
والثاني ــ كما أفاده ابن جرير ــ
(3) بالنسبة إلى المشاعر؛ لأنّ الدعاء
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদমাকাম কী?মাকাম সম্পর্কে হাদিস, আছার (آثار) এবং সালাফ (سلف) ও ইমামগণের (أئمة) বাণীতে যা বর্ণিত হয়েছে—যার অনেকগুলো সামনে আসবে—তার অধিকাংশ এটিই স্পষ্ট করে যে, মসজিদে অবস্থিত "মাকামে ইবরাহিম" হলো সেই সুপরিচিত পাথরটি। তবে যাঁদের থেকে এটি বর্ণিত (روي) হয়েছে, তাঁদের কারো কারো থেকে আয়াতের ‘মাকাম’-এর ব্যাখ্যায় (تفسير) এটিও বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, এর দ্বারা পুরো হজ কিংবা মাশায়ির (المشاعر) বা হজের পবিত্র স্থানসমূহকে বোঝানো হয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা কোনো মতভেদ না থাকাকেই স্পষ্ট করে
(১)। আর যারা বলেছেন, "পুরো হজ" কিংবা "মাশায়ির (المشاعر)", তারা মূলত এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, আয়াতটি যেমন এই পাথরের দিকে ফিরে সালাত আদায়ের বিধানের (شرع) ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে—যার ওপর ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর মহান রবের ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন (যেমন সামনে আসবে)—তেমনি এটি প্রতিটি সেই স্থানে ইবাদত করার বিধানের (شرع) ওপরও প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে যেখানে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) ইবাদতের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন, যা শরিয়ত (شرع) সুস্পষ্ট করেছে। আর তা হলো হজ ও মাশায়ির (المشاعر)। এ কারণেই {মুসাল্লা (مُصَلًّى)} শব্দের ব্যাখ্যায় (تفسير) তাঁদের থেকে দুটি অভিমত এসেছে
(২):
প্রথম: কিবলা (قبلة); তারা এর পেছনে সালাত আদায় করবে অথবা এর নিকটে সালাত আদায় করবে।
দ্বিতীয়: দোয়ার স্থান (مدعى)।
প্রথমটি পাথরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আর দ্বিতীয়টি—যেমন ইবনে জারীর উল্লেখ করেছেন
(৩)—মাশায়ির (المشاعر) বা পবিত্র স্থানসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; কারণ দোয়া
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৯)
مشروعٌ عندها كلّها، بل يجمع العبادات المختلفة المشروعة فيها؛ إذ المطلوب بتلك العبادات هو ما يُطلَب بالدعاء من رضوان الله ومغفرته، وخير الدنيا والآخرة، فالدُّعاء عبادةٌ، والعبادة دعاءٌ.
فأمّا ما ذُكِرَ في المعارضة عن
(1) بعض المفسرين؛ فأوّلهم ــ فيما أعلم ــ الزّمخشري، وتبعه بعض من بعده.
والزَّمخشري ــ على حسن معرفته بالعربية ــ قليل الحظِّ من السنّة، ورأى أنّه لا يكون الحجر مصلّى على الحقيقة إلاّ إذا كانت الصلاة عليه، وذلك غير مشروع ولا ممكن؛ لأنّه يصغر عن ذلك.
ولو وُفِّقَ الزمخشري للصواب لجعل هذا قرينةً على أنّ المراد بكلمة {مُصَلًّى} قِبلة، كما قاله السلف، أي: يُصلَّى إليه؛ كما بيّنه النبي صلى الله عليه وسلم ، وعمل به أصحابه فمن بعدهم.
ومن العلاقات المعتبرة في المجاز: المُجاورة، وهي ثابتةٌ هنا؛ فإنّ الصلاة إذا وقعت إلى الحجر فهي بجواره.
ووجهٌ آخر: وهو أن تكون كلمة {مُصَلًّى} اسمَ مفعول، والأصل: "مصلّى إليه"، حُذِفَ حرف الجرّ، فاتصل الضمير واستتر، كما يقوله ابن جنّي في "مُزَمَّل" من قول امرئ القيس
(2):
كأنّ أبانًا في عَرانينِ وَبْلِه
… كبيرُ أُناسٍ في بِجادٍ مُزمَّل
--------------------------------------------
সেগুলোর সবগুলোর নিকটেই এটি বিধিবদ্ধ (مشروع), বরং এটি সেখানে বিধিবদ্ধ (مشروع) বিভিন্ন ইবাদতসমূহকে একত্রিত করে; কেননা এই ইবাদতগুলোর মাধ্যমে যা কাম্য, তা-ই দোয়ার মাধ্যমে চাওয়া হয়—আর তা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর ক্ষমা এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ। সুতরাং দোয়াই ইবাদত এবং ইবাদতই দোয়া।
আর বিরোধিতার ক্ষেত্রে কিছু মুফাসসিরের পক্ষ থেকে যা উল্লেখ করা হয়েছে; তাদের মধ্যে আমার জানামতে প্রথম হলেন আল-যামাখশারী এবং পরবর্তীতে আরও কেউ কেউ তাঁর অনুসরণ করেছেন।
আল-যামাখশারী—আরবি ভাষায় তাঁর চমৎকার জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও—সুন্নাহর ক্ষেত্রে তাঁর জ্ঞান ছিল সামান্য। তিনি মনে করতেন যে, পাথরটি প্রকৃতপক্ষে 'মুসাল্লা' (নামাজের স্থান) হবে না যতক্ষণ না তার ওপর নামাজ পড়া হয়; অথচ তা বিধিবদ্ধ (مشروع) নয় এবং সম্ভবও নয়; কারণ এটি তার জন্য অত্যন্ত ছোট।
আল-যামাখশারী যদি সঠিক বিষয়ের তাওফিক পেতেন, তবে তিনি একে একটি লক্ষণ (قرينة) হিসেবে গ্রহণ করতেন যে, {مُصَلًّى} শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কিবলা, যেমনটি পূর্বসূরিগণ (سلف) বলেছেন; অর্থাৎ যার দিকে মুখ করে নামাজ পড়া হয়। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সাহাবীগণ ও তাঁদের পরবর্তীগণ এর ওপর আমল করেছেন।
রূপক (مجاز) ব্যবহারের স্বীকৃত সম্পর্কগুলোর মধ্যে একটি হলো 'নৈকট্য' (المجاورة), যা এখানে প্রমাণিত (ثابتة); কেননা নামাজ যখন পাথরের দিকে মুখ করে আদায় করা হয়, তখন তা তার নিকটেই সম্পাদিত হয়।
অন্য একটি দিক হলো: {مُصَلًّى} শব্দটি কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) হওয়া। এর মূল রূপ ছিল: "মুল্লা ইলাইহি", সেখান থেকে অব্যয়টি বিলুপ্ত করা হয়েছে, ফলে সর্বনামটি যুক্ত হয়েছে এবং উহ্য হয়ে গেছে, যেমনটি ইবনে জিন্নি ইমরাউল কায়েসের কবিতায় "মুযাম্মিল" (مُزَمَّل) শব্দের ক্ষেত্রে বলেছেন:
মনে হয় যেন প্রবল বৃষ্টির তোড়ে আবান পাহাড়টি ডোরাকাটা চাদর পরিহিত কোনো গোত্রপ্রধান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৫০)
أنّ الأصل "مُزَمَّل به" فحذفَ حرف الجرّ، فاتصل الضميرُ واستتر
(1).
والنُّكتة على الوجهين هي ــ والله أعلم ــ: التنبيهُ على أنّ المزيّة للحجر لقيام إبراهيم عليه للعبادة، والمشروعُ لهذه الأمّة التأسّي به.
والقيام على الحجر لمثل عبادة إبراهيم لا يمكن إلاّ نادرًا، فعُوّض عنه بما يمكن دائمًا، وهو القيام للصلاة، وهو يصغر عن الصلاة عليه، ودفنُه ــ ليتسع مع بعض ما حوله للصلاة ــ يؤدي إلى اندثاره.
ولماذا التكلُّف؟ وإنّما المقصود: أن يكون للقيام في الصلاة تعلُّقٌ به، فشُرِعَت الصلاة إليه.
وعبارة الزمخشري
(2): "مقام إبراهيم: الحَجر الذي فيه أثر قدميه، والموضع الذي كان فيه الحَجر حين وضع عليه قدميه".
ويُبطِل هذا القولَ ــ مع ما تقدّم ــ أنّ المذكور في الآية مقامٌ واحدٌ لا مقامان، وأنّ وضع الرِّجْل على الحجر بدون قيام حقيقيٍّ لا يكفي لأن يُطلَق عليه كلمة "مقام" على الحقيقة، وأنّ الذي كان من إبراهيم على الحجر فسُمّي لأجله "مقام إبراهيم" قيامٌ حقيقي، لا وضعُ رِجْلٍ فقط، وأنّ الموضع الذي قام فيه على الحَجَر ليس هو موضعه الآن، وأنّ المقام كان أولاً بلصق الكعبة، وكان الحكم معه، ثم حُوِّل إلى موضعه الآن، فتحوَّل الحكم معه.
وسيأتي إثبات هذا كلّه في الفصول الآتية إن شاء الله تعالى.
* * * *
--------------------------------------------
মূল (الأصل) হলো "মুযাম্মিলু বিহি", অতঃপর অব্যয় বা হরফে জর (حرف الجر) বিলুপ্ত হয়েছে, ফলে সর্বনামটি সংলগ্ন হয়েছে এবং উহ্য (استتر) রয়ে গেছে।
(১)আর উভয় সুরতের সূক্ষ্ম রহস্য (النكتة) হলো — আল্লাহই সর্বজ্ঞ — এই বিষয়ে সতর্ক করা যে, ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ইবাদতের উদ্দেশ্যে এর ওপর দণ্ডায়মান হওয়ার কারণেই পাথরটির এই বিশেষ মর্যাদা (المزيّة) অর্জিত হয়েছে, আর এই উম্মতের জন্য তাঁর অনুসরণ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।
ইবরাহিম আলাইহিস সালামের ইবাদতের অনুরূপ পাথরের ওপর দণ্ডায়মান হওয়া বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত সম্ভব নয়, তাই এর পরিবর্তে এমন কিছুর বিধান দেওয়া হয়েছে যা সর্বদা সম্ভব; আর তা হলো সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হওয়া। অথচ পাথরটি তার ওপর সালাত আদায় করার জন্য যথেষ্ট প্রশস্ত নয়, আর একে দাফন করা — যাতে এর চারপাশের কিছু অংশসহ সালাতের জন্য প্রশস্ত স্থান সংকুলান হয় — তা এর চিহ্ন বিলুপ্ত হওয়ার দিকে নিয়ে যাবে।
আর এই কৃত্রিম কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তাই বা কী? বরং উদ্দেশ্য হলো: সালাতে দণ্ডায়মান হওয়ার সাথে এর একটি সম্পৃক্ততা থাকা, তাই এর অভিমুখে সালাত আদায় করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে।
যামাখশারীর বক্তব্য হলো
(২): "মাকামে ইবরাহিম হলো সেই পাথর যাতে তাঁর পদচিহ্ন রয়েছে এবং সেই স্থান যেখানে পাথরটি ছিল যখন তিনি এতে তাঁর কদম রেখেছিলেন।"
পূর্বোক্ত আলোচনার পাশাপাশি এই মতটি অসার প্রতিপন্ন হয় এই কারণে যে, আয়াতে একটি মাত্র 'মাকাম'-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, দুটি নয়। আর প্রকৃত দণ্ডায়মান হওয়া ব্যতীত পাথরের ওপর শুধু পা রাখাকে প্রকৃতপক্ষে "মাকাম" শব্দে অভিহিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। পাথরের ওপর ইবরাহিম আলাইহিস সালামের যে অবস্থানটি ছিল, যার কারণে একে "মাকামে ইবরাহিম" নামকরণ করা হয়েছে, তা ছিল প্রকৃত দণ্ডায়মান হওয়া, শুধু পা রাখা নয়। আর পাথরের ওপর তিনি যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন তা বর্তমানের এই স্থানটি নয়। মাকামটি প্রথমে কাবার সাথে সংলগ্ন ছিল এবং বিধান (الحكم) তার সাথেই ছিল, অতঃপর তা বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং বিধানও (الحكم) তার সাথে স্থানান্তরিত হয়েছে।
ইনশাআল্লাহ তাআলা আগামী অধ্যায়গুলোতে এ সবকিছুর প্রমাণ উপস্থাপিত হবে।
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৫১)
الفصل الثانيلماذا سُمّي "الحَجر" مقامَ إبراهيم؟
أعلى ما جاء في هذا: ما أخرجه البخاري
(1) وغيره من طريق سعيد بن جبير عن ابن عباس رضي الله عنهما في خبر مجيء إبراهيم بإسماعيل عليهما السلام وأمّه إلى مكة، وما جرى بعد ذلك، وفيه في ذكر بناء البيت: "حتّى إذا ارتفع البناءُ جاء بهذا الحَجر، فوضعه له، فقام عليه وهو يَبني".
وفي روايةٍ أُخرى
(2): "حتّى إذا ارتفع وضَعُفَ الشيخ عن نقل الحجارة، فقام على المقام".
وعند ابن جريرٍ
(3) بسند صحيح يُلاقي سندَ البخاري الثاني: "فلمّا ارتفع البناء وضعُفَ الشيخ عن نقل الحجارة قام على حَجرٍ، فهو المقام".
وفي "فتح الباري"
(4): أنّ الفاكهيّ أخرج نحو هذه القصّة من حديث عثمان، وفيه: "فكان إبراهيم يقوم على المقام يبني عليه، ويرفعه له إسماعيل، فلمّا بلغ الموضع الذي فيه الركن وضعه ــ يعني الحَجر الأسود ــ موضعه، وأخذ المقام فجعله لاصقًا بالبيت
… ثم قام إبراهيم على المقام، فقال: يا أيها الناس! أجيبوا ربّكم".
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়কেন এই "পাথরকে" মাকামে ইবরাহিম নামকরণ করা হয়েছে?এই বিষয়ে বর্ণিত সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ের বর্ণনা হলো: যা বুখারি
(১) এবং অন্যান্যরা সাঈদ ইবনে জুবায়ের-এর সূত্রে (طريق) ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) থেকে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর মাতাকে মক্কায় নিয়ে আসার সংবাদ এবং পরবর্তী ঘটনাবলি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তাতে বাইতুল্লাহ নির্মাণের বর্ণনায় রয়েছে: "অবশেষে যখন নির্মাণকাজ উঁচু হয়ে গেল, তখন তিনি এই পাথরটি নিয়ে আসলেন এবং সেটি তাঁর জন্য স্থাপন করলেন। এরপর তিনি তার ওপর দাঁড়িয়ে নির্মাণকাজ করতে লাগলেন।"
অন্য একটি বর্ণনায় (رواية)
(২) এসেছে: "অবশেষে যখন দেয়াল উঁচু হলো এবং বৃদ্ধ (ইবরাহিম আলাইহিস সালাম) পাথর বহনে দুর্বল হয়ে পড়লেন, তখন তিনি মাকামের ওপর দাঁড়ালেন।"
এবং ইবনে জারিরের নিকট
(৩) একটি সঠিক (صحيح) সনদে (سند) বর্ণিত হয়েছে যা বুখারির দ্বিতীয় সনদের (سند) সাথে মিলিত হয়: "যখন নির্মাণকাজ উঁচু হলো এবং বৃদ্ধ ব্যক্তি পাথর বহনে দুর্বল হয়ে পড়লেন, তখন তিনি একটি পাথরের ওপর দাঁড়ালেন, আর সেটিই হলো মাকাম।"
"ফাতহুল বারি"
(৪) কিতাবে উল্লেখ আছে যে: আল-ফাকিহি উসমান (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে এই গল্পের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তাতে রয়েছে: "ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) মাকামের ওপর দাঁড়িয়ে নির্মাণকাজ করতেন এবং ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) তাঁর জন্য পাথর তুলে দিতেন। যখন তিনি রুকন (কোণ) যে স্থানে অবস্থিত সেখানে পৌঁছালেন, তখন তিনি সেটি—অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ—তার স্থানে স্থাপন করলেন এবং মাকামটিকে গ্রহণ করে কাবার দেয়াল সংলগ্ন করে দিলেন
… এরপর ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) মাকামের ওপর দাঁড়ালেন এবং বললেন: হে লোকসকল! তোমাদের রবের আহবানে সাড়া দাও।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৫২)
قال في "الفتح"
(1): "روى الفاكهيُّ بإسنادٍ صحيح من طريق مجاهد عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "قام إبراهيم على الحَجَر، فقال: يا أيها النّاس! أجيبوا ربّكم".
وفي أوّل الخبر عند البخاري
(2) عن كثير بن كثير قال: "إنّي وعثمان بن أبي سليمان جلوسٌ مع سعيد بن جبير، فقال: ما هكذا حدّثني ابن عباس، ولكنّه قال".
وفي "فتح الباري" (ج 6 ص 283)
(3) بيانُ ما نفاه سعيد بن جبير، ذكر ذلك عن رواية الفاكهيّ والأزرقيّ وغيرهما. وفيه: أنّهم سألوا سعيد بن جبير عن أشياء، قال: "قال رجلٌ: أحقٌّ ما سمعنا في المقام ــ مقام إبراهيم ــ أنّ إبراهيم حين جاء من الشام حلف لامرأته أن لا ينزل بمكّة حتّى يرجع، فقرَّبتْ إليه امرأةُ إسماعيل المقام، فوضع رجله عليه حتّى لا ينزل؟ فقال سعيد بن جبير: ليس هكذا
… ".
والخبرُ ــ وفيه قريبٌ من هذا ــ عند الأزرقيّ (ج 2 ص 24)
(4) وفي آخره: "فلمّا ارتفع البُنيان وشقَّ على الشيخ تناولُهُ؛ قرّب له إسماعيل هذا الحَجَر، فكان يقوم عليه ويبني، ويُحوِّلُهُ في نواحي البيت حتّى انتهى إلى وجه البيت. يقول ابن عباس: فذلك مقام إبراهيم عليه السلام، وقيامه عليه".
--------------------------------------------
"ফাতহুল"
(১) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আল-ফাকিহী একটি সহীহ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে মুজাহিদের সূত্র ধরে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'ইবরাহীম পাথরের ওপর দাঁড়ালেন এবং বললেন: হে লোকসকল! তোমাদের রবের ডাকে সাড়া দাও'।"
বুখারী
(২)-তে বর্ণিত বর্ণনার শুরুতে কাসীর ইবনে কাসীর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি এবং উসমান ইবনে আবি সুলায়মান সাঈদ ইবনে জুবাইরের সাথে বসা ছিলাম, তখন তিনি বললেন: ইবনে আব্বাস আমাকে এভাবে বর্ণনা করেননি, বরং তিনি বলেছিলেন।"
"ফাতহুল বারী" (৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৮৩ পৃষ্ঠা)
(৩)-তে সাঈদ ইবনে জুবাইর যা অস্বীকার করেছেন তার বিবরণ রয়েছে; তিনি আল-ফাকিহী, আল-আযরাকী এবং অন্যদের বর্ণনা থেকে তা উল্লেখ করেছেন। তাতে আছে: তারা সাঈদ ইবনে জুবাইরকে কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি বলল: মাকাম—অর্থাৎ মাকামে ইবরাহীম—সম্পর্কে আমরা যা শুনেছি তা কি সত্য যে, ইবরাহীম যখন শাম থেকে এসেছিলেন তখন তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছে কসম করেছিলেন যে, ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি মক্কায় অবতরণ করবেন না, তখন ইসমাইলের স্ত্রী মাকামটিকে তাঁর কাছে এগিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর পা সেটির ওপর রেখেছিলেন যাতে তাঁকে নামতে না হয়? তখন সাঈদ ইবনে জুবাইর বললেন: বিষয়টি এমন নয়
… "।
আল-আযরাকী (২য় খণ্ড, ২৪ পৃষ্ঠা)
(৪)-এর কাছে থাকা বর্ণনায়—যাতে এর কাছাকাছি বিষয় রয়েছে—তার শেষে আছে: "অতঃপর যখন নির্মাণকাজ উঁচুতে উঠে গেল এবং বৃদ্ধের জন্য তা নাগাল পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ল; তখন ইসমাইল তাঁর জন্য এই পাথরটি এগিয়ে দিলেন, ফলে তিনি সেটির ওপর দাঁড়িয়ে নির্মাণ করতেন এবং বাইতুল্লাহর চারদিকে সেটি ঘোরাতেন যতক্ষণ না তিনি বাইতুল্লাহর সম্মুখভাগ পর্যন্ত পৌঁছালেন। ইবনে আব্বাস বলেন: সেটিই হলো মাকামে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এবং সেটির ওপর তাঁর দাঁড়ানোর স্থান"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৫৩)
وقصّة مجيء إبراهيم ولقائه امرأة إسماعيل قد ذكرها ابن عباس
(1)، وليس فيها ما يُحكى من وضع رجله على الحَجر.
وكان مجيئه ذلك قبل بناء البيت.
فهبْ أنّه ثبت وضعُه رجلَه على الحَجر وهو على دابّته، فليس هذا بقيام على الحَجر، ولا هو في عبادة، فلا يناسب مزيّةً للحَجَر، وإنّما القيام الحقيقيّ على الحَجر الذي يُناسب مزيّةً له: هو ما وقع بعد ذلك من قيامه عليه لبناء الكعبة، ثمّ للأذان بالحجّ.
فهذا هو الثابت في وجه تسمية الحَجَر "مقامَ إبراهيم".
* * * *
--------------------------------------------
ইব্রাহিম (আ.)-এর আগমন এবং ইসমাইল (আ.)-এর স্ত্রীর সাথে তাঁর সাক্ষাতের ঘটনাটি ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন
(1), এবং এতে পাথরের ওপর তাঁর পা রাখার যে কাহিনী বর্ণিত হয়, তার কোনো উল্লেখ নেই।
তাঁর সেই আগমন ছিল কাবা গৃহ নির্মাণের পূর্বের ঘটনা।
ধরে নেওয়া যাক, সওয়ারিতে থাকা অবস্থায় পাথরের ওপর তাঁর পা রাখার বিষয়টি প্রমাণিত (ثابت); তবুও এটি পাথরের ওপর দণ্ডায়মান হওয়া নয় এবং এটি কোনো ইবাদতও ছিল না। সুতরাং এটি পাথরের কোনো বিশেষ মর্যাদার পরিচায়ক নয়। বরং পাথরের ওপর প্রকৃত দণ্ডায়মান হওয়া—যা তার মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ—তা হলো এর পরবর্তী সময়ে কাবা নির্মাণের জন্য এবং অতঃপর হজের আজান (ঘোষণা) দেওয়ার জন্য তাঁর সেই পাথরের ওপর দাঁড়ানো।
পাথরটিকে 'মাকামে ইব্রাহিম' নামকরণের ক্ষেত্রে এটিই হলো প্রমাণিত (ثابت) ভিত্তি।
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৫৪)
الفصل الثالثأين وضع إبراهيم المقامَ أخيرًا؟
تقدّم في الفصل السّابق من حديث عثمان رضي الله عنه: "فجعله لاصقًا بالبيت".
ومن حديث ابن عبّاس: "فكان يقوم عليه ويبني، ويُحوِّلُهُ في نواحي البيت حتى انتهى إلى وجه البيت".
وقد ظهر أنّ منشأ مزيّته وحصول الآية فيه ــ وهي أثرُ قدمَيْ إبراهيم ــ هو قيامه عليه لبناء البيت.
فالظاهر أن يكون إبراهيم أبقاه إلى جانب البيت في ذلك الموضع الظاهر ــ وهو عن يَمْنة الباب ــ لتُشاهَد الآية، ويُعرَف تعلُّقه بالبيت.
وجاء عن بعض الصحابة ــ وهو نوفل بن معاوية الدّيليّ رضي الله عنه أنّه رآه في عهد عبد المطلب ملصقًا بالبيت
(1). وسنده ضعيف.
ويأتي بيان أنّ ذلك في الموضع المسامت له الآن.
وإقرار النبي صلى الله عليه وسلم له هناك، يصلي هو وأصحابه خلفه بدون بيان أنّ له موضعًا آخر: يدلُّ على أنّ ذلك هو موضعه الأصليّ.
ولم أجد ما يخالف هذا من السنّة والآثار الثابتة عن الصحابة، ولا ما هو صريحٌ في خلافه من أقوال التابعين.
إلاّ أنّ المحبّ الطبري قال في "القِرى" (ص 309): قال مالك في
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদইব্রাহিম (আ.) শেষ পর্যন্ত মাকামকে কোথায় রেখেছিলেন?পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে উসমান (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে অতিক্রান্ত হয়েছে: "অতঃপর তিনি সেটিকে কাবার সাথে সংলগ্ন করে রাখলেন।"
এবং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে: "তিনি সেটির ওপর দাঁড়াতেন এবং নির্মাণকাজ করতেন, আর কাবার চারপাশেই সেটিকে ঘুরাতেন, পরিশেষে কাবার সম্মুখভাগে এসে সমাপ্ত করলেন।"
এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, এর বিশেষত্ব এবং এতে নিদর্শন—যা হলো ইব্রাহিম (আ.)-এর পদচিহ্ন—প্রকাশ পাওয়ার উৎস হলো কাবা গৃহ নির্মাণের জন্য তাঁর এর ওপর দণ্ডায়মান হওয়া।
সুতরাং বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, ইব্রাহিম (আ.) সেটিকে কাবার পার্শ্ববর্তী সেই প্রকাশ্য স্থানেই রেখেছিলেন—যা দরজার ডান পাশে অবস্থিত—যাতে নিদর্শনটি প্রত্যক্ষ করা যায় এবং কাবার সাথে এর সংশ্লিষ্টতা জানা যায়।
জনৈক সাহাবী—যিনি হলেন নওফেল ইবনে মুআবিয়া আদ-দাইলি (রা.)—থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি আব্দুল মুত্তালিবের যুগে সেটিকে কাবার সাথে সংলগ্ন অবস্থায় দেখেছিলেন
(১)। এর সূত্র (سند) দুর্বল (ضعيف)।
সামনে এর বিবরণ আসবে যে, তা বর্তমানে এর সমান্তরাল স্থানেই অবস্থিত ছিল।
সেখানে নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে এটির স্বীকৃতি প্রদান এবং তাঁর ও তাঁর সাহাবীগণের এর পেছনে সালাত আদায় করা—এর অন্য কোনো স্থান ছিল এমন কোনো বর্ণনা প্রদান ব্যতিরেকে—একথাই প্রমাণ করে যে, এটিই তার আদি স্থান।
আমি সুন্নাহ এবং সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত প্রমাণিত (ثابت) আছারসমূহের মধ্যে এর বিপরীত কিছু খুঁজে পাইনি, এমনকি তাবিঈগণের উক্তির মধ্যেও এর পরিপন্থী স্পষ্ট কিছু নেই।
তবে মুহিব্বুত তবারি "আল-কিরা" (পৃ. ৩০৯) গ্রন্থে বলেছেন: মালিক বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৫৫)
"المدونة": كان المقام في عهد إبراهيم عليه السلام في مكانه اليوم، وكان أهل الجاهلية ألصقوه إلى البيت خيفة السّيل، فكان ذلك في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وعهد أبي بكر رضي الله عنه، فلمّا ولي عمر رضي الله عنه ردّه بعد أن قاس موضعه بخيوط قديمة قِيسَ بها، حتّى أخَّروه، وعمر هو الذي نصب معالم الحرم بعد أن بحث عن ذلك".
هذا آخر كلامه في "المدونة" فيما نقله صاحب "التهذيب مختصر المدونة". ولم أجد أصل ذلك الكلام في مظنّته من "المدونة" المطبوعة.
ثم قال المحبُّ: "وقال الفقيه سَنَد بن عنان المالكي في كتابه المترجم بـ "الطّراز" ــ وهو شرحٌ لـ "المدونة" ــ: وروى أشهب عن مالك قال: سمعتُ من يقول من أهل العلم: إنّ إبراهيم عليه السلام أقام هذا المقام، وقد كان ملصقًا بالبيت في عهد النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر رضي الله عنه وقبل ذلك، وإنّما أُلصِقَ إليه لمكان السيل؛ مخافة أن يذهب به، فلمّا ولي عمر رضي الله عنه أخرج خيوطًا كانت في خزانة الكعبة، وقد كانوا قاسوا بها ما بين موضعه وبين البيت في الجاهلية، إذ قدّموه مخافة السيل، فقاسه عمر، وأخّره إلى موضعه اليوم، قال مالك: والذي حمل عمر
… ".
إنّ بين سند بن عنان وبين أشهب نحو ثلاث مائة سنة. فإن صحَّ عن مالك فهذا الذي أخبره بالحكاية لم يذكر مستنده، ولا أحسبه استند إلَّا إلى حكاية مجملة وقعت له عن تحويل عمر رضي الله عنه للمقام، وما جرى بعد ذلك، فقال ما قال.
وسيأتي ــ إن شاء الله ــ تحقيق تلك القضية بما يتّضح به أن ليس فيها دلالةٌ على ما ذكر.
"আল-মুদাওওয়ানাহ": ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে মাকাম তার বর্তমান স্থানেই ছিল। জাহেলিয়াতের যুগে বন্যার ভয়ে লোকেরা এটিকে কাবার সাথে সংলগ্ন করে রেখেছিল। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগেও এভাবেই ছিল। যখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তিনি পুরাতন সুতো যা দিয়ে আগে পরিমাপ করা হয়েছিল, তার সাহায্যে পরিমাপ করে এটিকে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে দেন। উমরই হারামের সীমানা নির্ধারণ করেন এবং এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালান।
এটি "আল-মুদাওওয়ানাহ"-তে তাঁর বক্তব্যের শেষ অংশ, যা "আত-তাহযীব মুখতাসার আল-মুদাওওয়ানাহ"-এর লেখক উদ্ধৃত করেছেন। তবে আমি মুদ্রিত "আল-মুদাওওয়ানাহ"-এর সম্ভাব্য স্থানে এই বক্তব্যের মূল খুঁজে পাইনি।
অতপর মুহিব বলেন: "ফকিহ সানাদ বিন আনান আল-মালিকি তাঁর 'আত-তিরাজ' নামক গ্রন্থে—যা 'আল-মুদাওওয়ানাহ'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ—বলেছেন: আশহাব মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি জ্ঞানীদের মধ্য থেকে কাউকে বলতে শুনেছি: ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এই মাকাম স্থাপন করেছিলেন। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং তার পূর্ববর্তী সময়ে কাবার সাথে সংলগ্ন ছিল। বন্যার আশঙ্কায় এটি ভেসে যাওয়ার ভয়ে কাবার সাথে লাগানো হয়েছিল। যখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) দায়িত্ব নিলেন, তিনি কাবার ভাণ্ডারে সংরক্ষিত কিছু সুতো বের করলেন। জাহেলিয়াতের যুগে যখন তারা বন্যার ভয়ে মাকামটিকে সামনে সরিয়ে নিয়েছিল, তখন তারা মাকাম ও কাবার মধ্যবর্তী স্থানের পরিমাপ এই সুতো দিয়ে করে রেখেছিল। উমর সেই সুতো দিয়ে পরিমাপ করলেন এবং মাকামটিকে আজকের অবস্থানে সরিয়ে নিলেন। মালিক বলেন: যে বিষয়টি উমরকে উদ্ধুদ্ধ করেছিল
… "।
সানাদ বিন আনান এবং আশহাবের মধ্যে প্রায় তিনশ বছরের ব্যবধান রয়েছে। যদি এটি মালিক থেকে সঠিক (صح) বলেও প্রমাণিত হয়, তবে যিনি তাকে এই কাহিনীটি জানিয়েছেন তিনি তাঁর ভিত্তি (مستند) উল্লেখ করেননি। আমার মনে হয় তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক মাকাম স্থানান্তরের একটি অস্পষ্ট বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেই এটি বলেছেন।
ইনশাআল্লাহ, এই বিষয়টির এমন একটি বিশ্লেষণ অচিরেই আসবে যার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে যে, এতে উল্লিখিত দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৫৬)
وعلى كلّ حال؛ فهذه الحكاية المنقطعة لا تصلح لمقاومة ما تقدم من الأدلة، والله المستعان.
فالذي تعطيه الأدلة: أنّ إبراهيم عليه السلام وضع المقام عند جدار الكعبة في الموضع المسامت له الآن.
* * * *
যাইহোক; এই বিচ্ছিন্ন (منقطعة) বর্ণনাটি ইতিপূর্বে বর্ণিত দলিলসমূহের মোকাবিলা করার যোগ্য নয়; আর আল্লাহই সাহায্যস্থল।
দলিলসমূহ যা নির্দেশ করে তা হলো: ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) মাকামটিকে কাবার দেয়ালের পাশে বর্তমান অবস্থানের সমান্তরাল স্থানে স্থাপন করেছিলেন।
* * * *
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৫৭)
الفصل الرابعأين كان موضعه في عهد النبي صلى الله عليه وسلم -؟
في هذا ثلاثة أقوال:
الأوّل: أنّه كان في موضعه الذي هو به الآن. والأدلة الصحيحة الواضحة تردّ هذا القول، كما يأتي في القول الثالث. ولكنّي أذكر ما جاء في هذا، مع النظر فيه؛ ليعرف:
أخرج الأزرقيّ
(1) عن ابن أبي مُليكة قال: "موضع المقام هذا الذي هو به اليوم هو موضعه في الجاهلية، وفي عهد النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر وعمر رضي الله عنهما، إلاّ أنّ السيل ذهب به في خلافة عمر رضي الله عنه، فجُعِلَ في وجه الكعبة حتى قدم عمر، فردّه بمحضرٍ من الناس".
سند الأزرقي رجاله ثقات، وابن أبي مُليكة من ثقات التابعين، لكنّ الأزرقيّ نفسه لم يوثّقه أحدٌ من أئمة الجرح والتعديل، ولم يذكره البخاري، ولا ابن أبي حاتم، بل قال الفاسيّ في ترجمته من "العقد الثمين"
(2): "لم أر من ترجمه".
فهو ــ على قاعدة أئمة الحديث ــ مجهول الحال، وقد تفرّد بهذه الحكاية، والله أعلم.
--------------------------------------------
চতুর্থ অধ্যায়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এর অবস্থান কোথায় ছিল? -?
এই বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে:
প্রথম: এটি এখন যেখানে আছে, সেখানেই এর অবস্থান ছিল। তবে সহিহ (صحيحة) এবং স্পষ্ট দলিলসমূহ এই মতকে খণ্ডন করে, যা তৃতীয় অভিমত বর্ণনার সময় আসবে। কিন্তু এ ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তা আমি এখানে উল্লেখ করছি এবং সেই সাথে বিষয়টি পর্যালোচনা করছি, যাতে তা জানা যায়:
আজরাকি
(১) ইবনে আবি মুলাইকা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "মাকামের বর্তমান এই অবস্থানটিই জাহেলি যুগে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর যুগে এর নির্ধারিত স্থান ছিল। তবে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফতকালে বন্যা এটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, ফলে উমর (রা.) আসার আগ পর্যন্ত এটি কাবার সম্মুখভাগে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি লোকজনের উপস্থিতিতে এটিকে পূর্বের স্থানে ফিরিয়ে আনেন।"
আজরাকির সনদ (سند)-এর বর্ণনাকারীবৃন্দ নির্ভরযোগ্য (ثقات), আর ইবনে আবি মুলাইকা নির্ভরযোগ্য (ثقات) তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু খোদ আজরাকিকে জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل)-এর ইমামদের কেউ নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেননি। বুখারি বা ইবনে আবি হাতিম কেউই তাঁর কথা উল্লেখ করেননি। বরং ফাসি তাঁর জীবনীতে 'আল-ইকদুত সামিন'
(২) গ্রন্থে বলেছেন: "আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি তাঁর জীবনী লিখেছেন।"
সুতরাং হাদিস বিশারদদের মূলনীতি অনুযায়ী তিনি অজ্ঞাত পরিচয় (مجهول الحال), আর তিনি এই কাহিনীটি এককভাবে (تفرد) বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৫৮)
وقال الأزرقيّ
(1) أيضًا: حدّثني جدّي، حدّثنا داود بن عبد الرحمن عن ابن جريج عن كثير بن كثير بن المطلّب بن أبي وَداعة السَّهميّ عن أبيه عن جدّه قال: "كانت السيولُ تدخل المسجدَ الحرام
… ربّما دفعت المقام عن
(2) موضعه، وربّما نَحَّتْه إلى وجه الكعبة، حتى جاء سيلٌ في خلافة عمر بن الخطاب رضي الله عنه يُقال له: سيل أمّ نَهْشل .. فاحتمل المقام من موضعه، فذهب به، حتّى وُجدَ بأسفل مكة، فأُتي به، فرُبطَ إلى أستار الكعبة في وجهها، وكُتب في ذلك إلى عمر رضي الله عنه، فأقبل عمر رضي الله عنه فَزِعًا، فدخل بعمرة في شهر رمضان، وقد غُمّي موضعُهُ وعفّاه السيل، فدعا عمر بالنّاس، فقال: أَنشُد الله عبدًا عنده علم في هذا المقام، فقال المطَّلب بن أبي وَداعة السّهمي: أنا يا أمير المؤمنين عندي ذلك، فقد كنت أخشى عليه هذا، فأخذتُ قَدْرَه من موضعه إلى الركن، ومن موضعه إلى باب الحِجْر، ومن موضعه إلى زمزم بمِقَاطٍ
(3)، وهو عندي في البيت، فقال له عمر: فاجلسْ عندي. وأرسِلْ إليها، فأُتي بها، فمدّها، فوجدها مستويةً إلى موضعه هذا، فسأل النّاس وشاورهم، فقالوا: نعم هذا موضعه، فلمّا استثبت ذلك عمر رضي الله عنه وحُقَّ عنده أمر به، فأعلم ببناء رَبَضِه تحت المقام ثم حوّله، فهو في مكانه هذا إلى اليوم".
جدُّ الأزرقي وداود وابن جريج وكثير بن كثير: ثقاتٌ، لكن له عدّة علل:
الأولى: حال الأزرقي كما مرّ.
--------------------------------------------
এবং আল-অ্যাজরাকী
(১) আরও বলেন: আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবন আবদুর রহমান আমাদের নিকট ইবন জুরায়জ থেকে, তিনি কাসীর ইবন কাসীর ইবনুল মুত্তালিব ইবন আবি ওয়াদা'আ আস-সাহমি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "বন্যা মসজিদুল হারামে প্রবেশ করত
… কখনও কখনও তা মাকামকে (মাকামে ইবরাহীম) তার স্থান থেকে সরিয়ে দিত
(২) এবং কখনও তা কাবার সম্মুখভাগের দিকে সরিয়ে নিত। অবশেষে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খিলাফতকালে এক বন্যা আসে যাকে 'উম্মে নাহশাল' বলা হতো। তা মাকামকে তার স্থান থেকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়, এমনকি তা মক্কার নিম্নভূমিতে পাওয়া যায়। অতঃপর তা নিয়ে আসা হয় এবং কাবার সম্মুখভাগের গিলাফের সাথে বেঁধে রাখা হয়। এ বিষয়ে উমর (রা.)-এর নিকট পত্র লিখা হলে তিনি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে উপস্থিত হন। তিনি রমজান মাসে উমরা পালন করেন। ততক্ষণে মাকামের মূল স্থানটি অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং বন্যার প্রবাহ তা মিটিয়ে দিয়েছিল। তখন উমর (রা.) জনগণকে আহ্বান করে বললেন: আমি আল্লাহর কসম দিয়ে সেই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করছি যার এই মাকামের অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞান আছে। তখন মুত্তালিব ইবন আবি ওয়াদা'আ আস-সাহমি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আমার কাছে সেই জ্ঞান আছে। আমি মাকামের ব্যাপারে এমন কিছুর আশঙ্কা করছিলাম, তাই আমি মাকামের মূল স্থান থেকে রুকন পর্যন্ত, মাকামের স্থান থেকে হিজর-এর দরজা পর্যন্ত এবং মাকামের স্থান থেকে জমজম পর্যন্ত একটি রশি (মিকাত)
(৩) দিয়ে মেপে রেখেছিলাম। সেই মাপটি আমার ঘরে সংরক্ষিত আছে। তখন উমর (রা.) তাঁকে বললেন: তুমি আমার পাশে বসো এবং সেটি আনতে লোক পাঠাও। অতঃপর তা আনা হলো এবং তা প্রসারিত করে দেখা গেল যে তা বর্তমান স্থানের সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে। এরপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন এবং তাদের সাথে পরামর্শ করলেন। তারা বললেন: হ্যাঁ, এটাই তার সঠিক স্থান। যখন উমর (রা.) বিষয়টি নিশ্চিত করলেন এবং তাঁর নিকট এটি সত্য বলে প্রমাণিত হলো, তখন তিনি মাকামের নিচে ভিত্তি নির্মাণের নির্দেশ দিলেন এবং মাকামটিকে সেখানে স্থানান্তর করলেন। আজ পর্যন্ত তা সেখানেই অবস্থান করছে।"
অ্যাজরাকীর দাদা, দাউদ, ইবন জুরায়জ এবং কাসীর ইবন কাসীর সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে এতে বেশ কিছু ত্রুটি (علل) রয়েছে:
প্রথমত: অ্যাজরাকীর অবস্থা যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৫৯)
الثانية: أنّ ابن جريج ــ على إمامته ــ مشهورٌ بالتدليس، ولم يُصرّح هنا بالسماع من كثير بن كثير.
الثالثة: أنّه قد صحّ عن ابن جريج قولُه: "سمعت عطاء وغيره من أصحابنا
… " فذكر ما سيأتي في القول الثالث، على وجهٍ يُشعِر باعتماده له.
الرابعة: أنّ كثير بن المطلب مجهول الحال
(1)، ولا يُخرِجه عن ذلك ذِكْرُ ابن حبان له في "الثقات" على قاعدته التي لا يوافقه عليها الجمهور.
وقد روى ابن جريج عن كثير بن كثير عن أبيه عن جدّه حديثًا، فذكر ابن عيينة أنّه سأل كثير بن كثير عنه، فقال: ليس من أبي سمعتُه، ولكن من بعض أهلي عن جدّي
(2).
وروى غير ابن عيينة عن ابن جريج عن كثير بن كثير عن أبيه عن جده حديثًا قريبًا من الأوّل، ولعلّه هو. راجع "المسند" (ج 6 ص 399)
(3). فإن كان حديثًا واحدًا فليس لكثير بن المطلب في الكتب الستّة و"المسند" شيء.
نعم أخرج ابن حبّان في "صحيحه"
(4) الحديث الثاني من طريق الوليد بن مسلم عن زهير بن محمد عن كثير بن كثير. وفيه ما يقتضي أنّه
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: ইবনে জুরাইজ—তাঁর ইমামত (নেতৃত্ব) সত্ত্বেও—তাদলিস (التدليس) করার জন্য প্রসিদ্ধ; আর তিনি এখানে কাসীর ইবনে কাসীর থেকে সরাসরি শোনার (السماع) বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি।
তৃতীয়ত: ইবনে জুরাইজ থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি আতা এবং আমাদের অন্যান্য সাথীদের থেকে শুনেছি..." অতঃপর তিনি তৃতীয় মতামতে যা আসবে তা উল্লেখ করেছেন এমনভাবে যা তাঁর সেটির ওপর নির্ভর করার বিষয়টি নির্দেশ করে।
চতুর্থত: কাসীর ইবনে মুত্তালিব হলেন অজ্ঞাত পরিচয় (مجهول الحال)
(১); আর ইবনে হিব্বান তাঁর ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করা সত্ত্বেও তিনি সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসেন না, কারণ এটি ইবনে হিব্বানের নিজস্ব মূলনীতির (قاعدة) ভিত্তিতে, যে ব্যাপারে জুমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিম তাঁর সাথে একমত নন।
আর ইবনে জুরাইজ কাসীর ইবনে কাসীর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে একটি হাদিস বর্ণনা (روى) করেছেন। অতঃপর ইবনে উয়াইনা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কাসীর ইবনে কাসীরকে সেটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন; তখন তিনি বললেন: "আমি এটি আমার পিতার নিকট থেকে শুনিনি, বরং আমার পরিবারের কারো নিকট থেকে আমার দাদা সূত্রে শুনেছি"
(২)।
আর ইবনে উয়াইনা ব্যতীত অন্যরাও ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি কাসীর ইবনে কাসীর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে প্রথমটির কাছাকাছি একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, সম্ভবত এটি সেই হাদিসটিই। দেখুন: ‘আল-মুসনাদ’ (খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৯৯)
(৩)। সুতরাং যদি এটি একটিই হাদিস হয়, তবে কুতুবে সিত্তা এবং ‘আল-মুসনাদ’-এ কাসীর ইবনে মুত্তালিবের আর কোনো বর্ণনা নেই।
হ্যাঁ, ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে
(৪) দ্বিতীয় হাদিসটি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম সূত্রে, তিনি যুহাইর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি কাসীর ইবনে কাসীর থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন। আর এতে এমন কিছু রয়েছে যা দাবি করে যে তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৬০)
حديثٌ آخر، لكنّ الوليد شاميّ، ورواية أهل الشام عن زهير أنكرها الأئمة؛ لأنّ زهيرًا حدّثهم من حفظه، فغلط وخلّط
(1).
الخامسة: أنّه لمّا جرى ذكر المطَّلب في القصة ذُكِر بما ظاهره أنّ المُخبِر غيرُه: "فقال له المطلب بن أبي وداعة السهميّ
… فقال له عمر
… ".
وهذا يَرِيب في قوله في السند: "عن كثير بن كثير بن المطلب بن أبي وداعة السّهمي عن أبيه عن جده"؛ ويُشعِر بأنّ الحكاية منقطعة.
وقال الأزرقي
(2): حدثني ابن أبي عمر قال: حدثنا ابن عيينة عن حبيب بن أبي الأشرس قال: "كان سيلُ أمّ نهشل قبل أن يعمل عمر رضي الله عنه الرّدمَ بأعلى مكة، فاحتمل المقام من مكانه، فلم يُدْرَ أين موضعه، فلمّا قدم عمر بن الخطاب رضي الله عنه سأل: من يعلم موضعه؟ فقال المطّلب بن أبي وداعة: أنا يا أمير المؤمنين! قد كنتُ قدّرتُه وذَرعتُه بمقاط ــ وتخوفتُ عليه هذا ــ من الحِجر إليه، ومن الركن إليه، ومن وجه الكعبة إليه، فقال: ائْتِ به، فجاء به، ووضعه في موضعه هذا، وعمِلَ عمرُ الردمَ عند ذلك".
قال سفيان: فذلك الذي حدّثنا هشام بن عروة عن أبيه: "أنّ المقام كان عند سُقْع
(3) البيت، فأمّا موضعه الذي هو موضعه: فموضعه الآن، وأمّا ما يقوله الناس: إنّه كان هنالك موضعه، فلا".
--------------------------------------------
এটি অন্য একটি হাদিস, তবে আল-ওয়ালিদ একজন শামি (সিরীয়), এবং জুহাইরের নিকট থেকে শামবাসীদের বর্ণনাকে ইমামগণ প্রত্যাখ্যানযোগ্য (أنكرها) বলে গণ্য করেছেন; কারণ জুহাইর তাদের নিকট তার মুখস্থ (حفظ) শক্তি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছিলেন, ফলে তিনি ভুল করেছিলেন এবং বিভ্রান্তি (خلّط) তৈরি করেছিলেন
(1)।
পঞ্চম: যখন এই ঘটনার বিবরণে আল-মুত্তালিবের উল্লেখ এসেছে, তখন এমনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যার বাহ্যিক রূপ হলো বর্ণনাকারী অন্য কেউ: "অতঃপর তাকে আল-মুত্তালিব ইবনে আবি ওয়াদাআহ আস-সাহমি বললেন... অতঃপর উমর তাকে বললেন..."।
আর এটি সনদের এই কথার ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি করে: "কাসির ইবনে কাসির ইবনে আল-মুত্তালিব ইবনে আবি ওয়াদাআহ আস-সাহমি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে"; এবং এটি নির্দেশ করে যে বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (منقطعة)।
আল-আজরাকি
(2) বলেন: ইবনে আবি উমর আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের নিকট হাবিব ইবনে আবি আল-আশরাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উমর (রা.) মক্কার উপরিভাগে বাঁধ নির্মাণের পূর্বে 'উম্মে নাহশাল' নামক বন্যা হয়েছিল, যা মাকামকে (মাকামে ইবরাহিম) তার স্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল, ফলে এর মূল স্থানটি কোথায় ছিল তা আর জানা যাচ্ছিল না। অতঃপর যখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) আসলেন, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এর স্থান সম্পর্কে কে জানে? তখন আল-মুত্তালিব ইবনে আবি ওয়াদাআহ বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, আমি জানি! আমি একটি রশি দিয়ে এর পরিমাপ ও দূরত্ব নির্ধারণ করে রেখেছিলাম—এবং আমি এর ওপর প্লাবনের আশঙ্কা করেছিলাম—হিজর থেকে এর দূরত্ব, রুকন থেকে এর দূরত্ব এবং কাবার সম্মুখভাগ থেকে এর দূরত্ব। তখন উমর (রা.) বললেন: তুমি তা নিয়ে আসো। অতঃপর তিনি সেটি নিয়ে আসলেন এবং তিনি সেটিকে তার এই স্থানে স্থাপন করলেন এবং তখনই উমর সেখানে বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন।"
সুফিয়ান বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ তার পিতা থেকে আমাদের নিকট যা বর্ণনা করেছেন তা হলো: "মাকামটি কাবার এক পাশে (سقع) ছিল। সুতরাং তার প্রকৃত যে স্থান, তা হলো বর্তমানের এই স্থানটিই; আর মানুষ যা বলে যে আগে সেটি সেখানে ছিল, তা সঠিক নয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৬১)
قال سفيان: وقد ذكر عمرو بن دينار نحوًا من حديث ابن [أبي]
(1) الأشرس هذا، لا أُميّز أحدهما عن صاحبه.
الأزرقي قد تقدّم حاله.
لكن قال الفاسيّ في "شفاء الغَرام" (ج 1 ص 206): وروى الفاكهيّ
(2) عن عمرو بن دينار وسفيان بن عيينة مثل ما حكاه عنهما الأزرقيّ بالمعنى.
أقول: ليته ساق خبر الفاكهيّ؛ فإنّ الفاكهيَّ وإن كان كالأزرقيّ في أنّه لم يوثّقه أحدٌ من المتقدمين ولا ذكره، فقد أثنى عليه الفاسيّ في ترجمته من "العقد الثمين"
(3)، ونزّهه عن أن يكون مجروحًا، وفضّل كتابه على كتاب الأزرقي تفضيلاً بالغًا، ومع هذا فالأخبارالتي يتفقان في الجملة على روايتها نجد الفاسيّ ومِن قبلِه المحب الطبري يُعنَيانِ غالبًا بنقل رواية الأزرقيّ، ويسكتان عن رواية الفاكهي، أو يشيران إليها إشارة فقط.
وأحسب الحامل لهما على ذلك حسن سياق الأزرقي.
وقد قيل لشعبة رحمه الله: مالك لا تحدّث عن عبد الملك بن أبي سليمان، وقد كان حسن الحديث؟ قال: مِنْ حُسْنها فررتُ
(4).
ويَرِيبني من الأزرقي حسنُ سياقه للحكايات وإشباعُه القولَ فيها، ومثل ذلك قليلٌ فيما يصح عن الصحابة والتابعين.
--------------------------------------------
সুফিয়ান বলেন: আমর ইবনে দীনার ইবনে [আবি]
(1) আল-আশরাসের এই হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, আমি তাদের একজনের বর্ণনাকে অন্যজনের থেকে আলাদা করতে পারছি না।
আল-আজরাকির অবস্থা (حال) ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
কিন্তু আল-ফাসি 'শিফাউল ঘারাম' (১ম খণ্ড, ২০৬ পৃষ্ঠা)-এ বলেছেন: আল-ফাকিহি
(2) আমর ইবনে দীনার এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে আল-আজরাকি তাদের থেকে যেভাবে মর্মার্থে (بالمعنى) বর্ণনা করেছেন, ঠিক তেমনই বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: যদি তিনি আল-ফাকিহির বর্ণনাটি (خبر) উপস্থাপন করতেন! কারণ আল-ফাকিহি যদিও আল-আজরাকির মতো এমন একজন যে পূর্ববর্তী ইমামগণের (متقدمين) মধ্য থেকে কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করেননি (توثيق) এবং তার উল্লেখও করেননি, তবুও আল-ফাসি 'আল-ইকদুত সামীন'
(3)-এ তার জীবনীতে (ترجمة) তার প্রশংসা করেছেন এবং তাকে ত্রুটিযুক্ত (مجروح) হওয়া থেকে মুক্ত রেখেছেন। তিনি তার কিতাবকে আল-আজরাকির কিতাবের ওপর বিশেষভাবে প্রাধান্য দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, যে বর্ণনাগুলোর (خبر) ক্ষেত্রে তারা উভয়ে সামগ্রিকভাবে একমত, আমরা দেখি যে আল-ফাসি এবং তার পূর্বে মুহিব্বুত তাবারী সাধারণত আল-আজরাকির বর্ণনা (رواية) উদ্ধৃত করতেই যত্নশীল থাকেন এবং আল-ফাকিহির বর্ণনা (رواية) সম্পর্কে নীরব থাকেন অথবা কেবল সেদিকে সামান্য ইঙ্গিত করেন।
আমি মনে করি, তাদের এমনটি করার কারণ হলো আল-আজরাকির উত্তম বর্ণনাশৈলী।
শু'বাহ (রহিমাহুল্লাহ)-কে বলা হয়েছিল: আপনার কী হলো যে আপনি আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান থেকে হাদিস বর্ণনা করেন না, অথচ তিনি তো চমৎকার হাদিস বর্ণনা করতেন? তিনি বললেন: তার সেই চমৎকার বর্ণনাশৈলীর কারণেই আমি পলায়ন করেছি
(4)।
আল-আজরাকির ব্যাপারে যা আমাকে সন্দিহান করে তা হলো কিসসা-কাহিনি বর্ণনায় তার চমৎকার বর্ণনাভঙ্গি এবং তাতে সবিস্তার আলোচনা; সাহাবি (صحابة) ও তাবেয়িদের (تابعين) থেকে যা বিশুদ্ধ (صحيح) প্রমাণিত, তাতে এমনটি খুব কমই দেখা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৬২)
ويَرِيبني أيضًا منه تحمُّسُه لهذا القول؛ فقد روى (ج 2 ص 23)
(1) عن ابن أبي عمر بسندٍ واهٍ إلى أبي سعيد الخدري، أنّه سأل عبدا لله بن سلام عن الأثر الذي في المقام، فقال: "كانت الحجارة
… وذكر الخبر، وفيه في ذكر النبي صلى الله عليه وسلم : "فصلّى إلى الميزاب وهو بالمدينة، ثمّ قدم مكة، فكان يصلي إلى المقام ما كان بمكة".
وقد روى الفاكهي
(2) هذا الخبر كما ذكره الفاسيّ في "شفاء الغرام" (ج 1 ص 206)، ولم يَسُقْ الفاسيّ سنده ولا متنه بتمامه، إنّما ذكر قطعة منه، هي بلفظها في رواية الأزرقي. ثم قال: "وفيه أنّ النبي صلى الله عليه وسلم قدم مكة من المدينة، فكان يصلّي إلى المقام، وهو مُلْصَقٌ بالبيت، حتّى توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم ".
أسقط الأزرقيّ في روايته قوله: "وهو ملصق بالبيت حتّى توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم "، وجعل موضعها: "ما كان بمكة".
وقال في (ج 2 ص 27)
(3): حدّثني محمد بن يحيى قال: حدّثنا سُليم بن مسلم عن ابن جريج عن محمد بن عبّاد بن جعفر عن عبدا لله بن صفوان قال: أمر عمر بن الخطاب رضي الله عنه عبد الله بن السائب العابديّ ــ وعمر نازلٌ بمكة في دار ابن سباع ــ بتحويل المقام إلى موضعه الذي هو فيه اليوم، قال: فحوَّلَه ثم صلّى المغرب، وكان عمر قد اشتكى رأسه، قال
--------------------------------------------
ويَرِيبني أيضًا منه تحمُّسُه لهذا القول؛ فقد روى (ج 2 ص 23)
(1) عن ابن أبي عمر بسندٍ واهٍ إلى أبي سعيد الخدري، أنّه سأل عبدا لله بن سلام عن الأثر الذي في المقام، فقال: "كانت الحجارة
… وذكر الخبر، وفيه في ذكر النبي صلى الله عليه وسلم : "فصلّى إلى الميزاب وهو بالمدينة، ثمّ قدم مكة، فكان يصلي إلى المقام ما كان بمكة".
তার এই মতের প্রতি অতি-উৎসাহও আমাকে সন্দিহান করে তোলে। তিনি (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩) ইবনে আবি উমর থেকে আবু সাঈদ আল-খুদরি পর্যন্ত একটি অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মাকাম সম্পর্কে বর্ণিত এই বর্ণনা (أثر) বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনে সালামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "পাথরগুলো ছিল..." এরপর তিনি পূর্ণ সংবাদটি (خبر) উল্লেখ করলেন, যাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনায় রয়েছে: "তিনি মদিনায় থাকাকালীন মিজাব বা পানি নির্গমনের নলের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন। এরপর যখন তিনি মক্কায় আসলেন, তখন মক্কায় অবস্থানকালে তিনি মাকামের দিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন।"
وقد روى الفاكهي(2) هذا الخبر كما ذكره الفاسيّ في "شفاء الغرام" (ج 1 ص 206)، ولم يَسُقْ الفاسيّ سنده ولا متنه بتمامه، إنّما ذكر قطعة منه، هي بلفظها في رواية الأزرقي. ثم قال: "وفيه أنّ النبي صلى الله عليه وسلم قدم مكة من المدينة، فكان يصلّي إلى المقام، وهو مُلْصَقٌ بالبيت، حتّى توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم ".
আল-ফাকিহি এই সংবাদটি (خبر) বর্ণনা করেছেন যেমনটি আল-ফাসি "শিফাউল ঘারাম" (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৬)-এ উল্লেখ করেছেন। তবে আল-ফাসি এর সনদ (سند) বা মতন (متن) পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেননি, বরং এর একটি অংশ উদ্ধৃত করেছেন যা আল-আজরাকির বর্ণনার (رواية) শব্দের অনুরূপ। অতঃপর তিনি বলেন: "তাতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনা থেকে মক্কায় আসলেন এবং তিনি মাকামের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন, যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত কাবার সাথে সংলগ্ন ছিল।"
أسقط الأزرقيّ في روايته قوله: "وهو ملصق بالبيت حتّى توفي رسول الله صلى الله عليه وسلم "، وجعل موضعها: "ما كان بمكة".
আল-আজরাকি তার বর্ণনায় (رواية) এই কথাটি বাদ দিয়েছেন যে, "এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত কাবার সাথে সংলগ্ন ছিল" এবং এর পরিবর্তে "মক্কায় অবস্থানকালে" কথাটি যুক্ত করেছেন।
وقال في (ج 2 ص 27)(3): حدّثني محمد بن يحيى قال: حدّثنا سُليم بن مسلم عن ابن جريج عن محمد بن عبّاد بن جعفر عن عبدا لله بن صفوان قال: أمر عمر بن الخطاب رضي الله عنه عبد الله بن السائب العابديّ ــ وعمر نازلٌ بمكة في دار ابن سباع ــ بتحويل المقام إلى موضعه الذي هو فيه اليوم، قال: فحوَّلَه ثم صلّى المغرب، وكان عمر قد اشتكى رأسه، قال
তিনি (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭)-এ বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইম ইবনে মুসলিম আমাদের কাছে ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—যখন তিনি মক্কায় ইবনে সিবায়ি-এর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন—আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইব আল-আবিদিকে মাকামকে তার বর্তমান স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি সেটি সরিয়ে নেন এবং মাগরিবের সালাত আদায় করেন। তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মাথাব্যথায় ভুগছিলেন। তিনি বললেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৬৩)
[عبد الله بن السائب]
(1): فلمّا صليتُ ركعةً جاء عمر فصلّى ورائي، قال: فلمّا قضى صلاته، قال عمر: أحسنتَ، فكنتُ أوّل من صلّى خلف المقام حين حُوّل إلى موضعه". عبد الله بن السائب القائل.
ولم تَرُقْ الأزرقيَّ كلمةُ "حُوّل" فعقّبه بقوله: "حدثني جدّي قال: حدثنا سليم بن مسلم عن ابن جريج عن محمد بن عبّاد بن جعفر عن عبد الله بن السائب ــ وكان يصلّي بأهل مكة ــ فقال: "أنا أوّل من صلّى خلف المقام حين رُدّ في موضعه هذا
… ".
هذا؛ وأمّا بقية السند بعد الأزرقيّ: فشيخه ابن أبي عمر سيأتي. وسفيان بن عيينة إمام. وحبيب بن أبي الأشرس ضعيف، راجع ترجمته في "الميزان" و "لسانه"
(2).
وعمرو بن دينار ثقةٌ جليل، لكن لا يُدرَى ما قال. نعم يستفاد إجمالاً أنّه قد ذكر ما يتعلّق بالتقدير.
فأمّا ما ذكر في هذه الرواية من رأي ابن عيينة فقد ثبت عنه
(3) ما يناقضه برواية ابن أبي حاتم الرازي وهو إمام، عن أبيه، وهو من كبار الأئمة المتثبتين، عن ابن أبي عمر شيخ الأزرقي، عن ابن عيينة نفسه. وسيأتي.
وأبو حاتم هو القائل في ابن أبي عمر هذا ــ شيخه وشيخ للأزرقي ــ: "كان شيخًا صالحًا، وكان به غفلة، رأيت عنده حديثًا موضوعًا حدّث به عن
--------------------------------------------
[আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইব]
(1): "অতঃপর যখন আমি এক রাকাত সালাত আদায় করলাম, তখন উমর আসলেন এবং আমার পেছনে সালাত আদায় করলেন। তিনি বলেন: যখন তিনি তার সালাত সম্পন্ন করলেন, উমর বললেন: 'তুমি উত্তম কাজ করেছ'। যখন মাকামকে তার স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছিল, তখন আমিই প্রথম ব্যক্তি ছিলাম যে এর পেছনে সালাত আদায় করেছিল।" আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইব হলেন এই উক্তির বক্তা।
আল-আজরাকির নিকট "স্থানান্তর করা হয়েছে" শব্দটি পছন্দনীয় হয়নি, তাই তিনি এর অনুসরণে বলেন: "আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলাইম ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইব থেকে বর্ণনা করেছেন —এবং তিনি মক্কাবাসীদের সালাতে ইমামতি করতেন— অতঃপর তিনি বললেন: 'আমিই প্রথম ব্যক্তি যে মাকামের পেছনে সালাত আদায় করেছি যখন একে এই স্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল...'।"
এটিই হলো বিবরণ; আর আল-আজরাকির পরবর্তী সনদের অবশিষ্টাংশের ব্যাপারে: তার উস্তাদ ইবনে আবি উমর-এর আলোচনা সামনে আসবে। আর সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ একজন ইমাম (إمام)। আর হাবিব ইবনে আবিল আশরাস হলেন দুর্বল (ضعيف), "মিজান" এবং তার "লিসান" গ্রন্থে তার জীবনী দেখে নিন
(2)।
আর আমর ইবনে দিনার একজন মহান নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী, তবে তিনি কী বলেছিলেন তা জানা যায় না। হ্যাঁ, সাধারণভাবে এতটুকু অনুধাবন করা যায় যে, তিনি নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।
আর এই বর্ণনায় ইবনে উইয়াইনাহর যে মতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার থেকে
(3) এর বিপরীতটি ইমাম (إمام) ইবনে আবি হাতিম আর-রাজির বর্ণনায় সাব্যস্ত হয়েছে, যিনি তার পিতার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; আর তার পিতা সুদৃঢ় (متثبتون) মহান ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আল-আজরাকির উস্তাদ ইবনে আবি উমর থেকে, তিনি স্বয়ং ইবনে উইয়াইনাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর বিষয়টি সামনে আসবে।
আর আবু হাতিমই এই ইবনে আবি উমর সম্পর্কে—যিনি তার এবং আল-আজরাকির উস্তাদ—বলেছেন: "তিনি একজন নেককার শায়খ (شيخ صالح) ছিলেন, তবে তার মধ্যে অসতর্কতা (غفلة) ছিল। আমি তার নিকট একটি জাল (موضوع) হাদিস দেখেছি যা তিনি বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাকামু ইবরাহীম - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৬৪)
ابن عيينة، وكان صدوقًا"
(1).
أقول: ابن أبي عمر ثقةٌ فيما يرويه عنه أبو حاتم ومسلم ونحوهما من المتثبتين؛ لأنّهم يحتاطون وينظرون في أصوله، وإنّما تخشى غفلته فيما يرويه عنه من دونهم، ولاسيَّما أمثال الأزرقيّ.
القول الثاني:قال بعضهم: كان المقام لاصقًا بالكعبة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، حتّى أخّره هو صلى الله عليه وسلم إلى موضعه الآن.
ذكر ابن كثير
(2) أنّ ابن مردويه روى بسنده إلى شريك عن إبراهيم بن مهاجر عن مجاهد قال: قال عمر بن الخطاب: يا رسول الله! لو صلينا خلف المقام؟ فأنزل الله: {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى} فكان المقام عند البيت، فحوّله رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى هذا".
أشار ابن كثير إلى ضعفه.
وقال ابن حجر في "الفتح" (ج 8 ص 29)
(3): أخرج ابن مردويه بسند ضعيف، فذكره.
أقول: شريكٌ من النبلاء، إلاّ أنّه يخطئ كثيرًا ويدلِّس
(4). وإبراهيم بن
--------------------------------------------
ইবনে উইয়াইনাহ, এবং তিনি ছিলেন সত্যবাদী (صدوق)"
(1)।
আমি বলছি: ইবনে আবি উমর নির্ভরযোগ্য (ثقة) সেই বর্ণনায় যা তাঁর থেকে আবু হাতিম, মুসলিম এবং তাঁদের মতো দৃঢ়প্রকৃতির (المتثبتين) আলেমগণ বর্ণনা করেছেন; কারণ তাঁরা সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর উদাসীনতা কেবল তখনই আশঙ্কাজনক হয় যখন তাঁর থেকে নিম্নস্তরের কেউ বর্ণনা করেন, বিশেষ করে আযরাকির মতো ব্যক্তিরা।
দ্বিতীয় অভিমত:কেউ কেউ বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মাকাম কাবা সংলগ্ন ছিল, পরে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই এটিকে বর্তমান অবস্থানে সরিয়ে নেন।
ইবনে কাসীর
(2) উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে মারদুওয়াই তাঁর সূত্রের (سند) মাধ্যমে শারিক হতে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে মুহাজির হতে এবং তিনি মুজাহিদ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি মাকামের পেছনে সালাত আদায় করতে পারি? তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {এবং তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো}। তখন মাকামটি কাবার কাছে ছিল, পরবর্তীতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটিকে বর্তমান স্থানে সরিয়ে আনেন।"
ইবনে কাসীর এর দুর্বলতার (ضعف) দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
এবং ইবনে হাজার "ফাতহুল বারী" (৮ম খণ্ড, ২৯ পৃষ্ঠা)
(3)-তে বলেছেন: ইবনে মারদুওয়াই একটি দুর্বল সূত্রের (سند ضعيف) মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন।
আমি বলছি: শারিক মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, তবে তিনি প্রচুর ভুল করতেন (يخطئ كثيرًا) এবং তাদলিস করতেন (يدلس)
(4)। এবং ইব্রাহিম ইবনে...
--------------------------------------------