(খণ্ড: ১)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
مسألة اشتراط الصوم في الاعتكاف - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: مسألة اشتراط الصوم في الاعتكاف
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (16)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
ইতিকাফে রোজা শর্ত হওয়ার মাসআলা - ‘আসারুল মুয়াল্লিমি’-র অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
কিতাব: ইতিকাফে রোজা শর্ত হওয়ার মাসআলা
[আসারু আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৬)]
লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: মুহাম্মদ উজাইর শামস
পুনর্নিরীক্ষণ: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দারু আলামিল ফাওয়ায়িদ ফর পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি
শামেলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন
[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪১৯)
الرسالة الثالثة عشرة
مسألة اشتراط الصوم في الاعتكاف
ত্রয়োদশ রিসালা
ইতিকাফের ক্ষেত্রে সিয়াম শর্ত হওয়ার মাসআলা
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪২১)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسوله سيدنا محمد الأمين، وعلى آله وصحبه الطّاهرين.
جرت المذاكرة بين الحقير وبين السيد العلامة صالح بن محسن الصَّيلمي من علماء المذهب الزيدي ــ حرسه الله ــ في اشتراط الصوم في الاعتكاف.
فقلت له: الجديد عندنا عدمُه إلا إذا نذر أن يعتكف صائمًا لزِمه جمعُهما على الأصح.
فقال: فلو نذر أن يعتكف مصلّيًا؟
قلت: فله أن يُفرِد الاعتكاف عن الصلاة.
فقال: فهل قياس العكس عندكم معتبر في الأصول؟
قلتُ: نعم على الأصح.
فقال: علماؤنا يُلزمونكم القولَ باشتراطِ الصوم في الاعتكاف بقياس العكس.
فقلت له: ما وجهُ تأتّي قياس العكس هنا؟ فإنما قياس العكس كما قال الجلال المحلي في "شرح جمع الجوامع"
(1): "إثبات عكسِ حكمِ شيءٍ لمثله، لتعاكسهما في العلة". واستدلّ له بقوله صلى الله عليه وسلم لأصحابه وقد قال لهم:
--------------------------------------------
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসুল আমাদের নেতা বিশ্বস্ত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি।
ইতিকাফের ক্ষেত্রে রোজা রাখা শর্ত হওয়ার বিষয়ে এই অধম এবং জায়েদি মাযহাবের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত সাইয়্যেদ আল্লামা সালিহ বিন মুহসিন আস-সাইলামি—আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন—এর মধ্যে আলোচনা সংঘটিত হয়।
আমি তাঁকে বললাম: আমাদের নিকট নতুন (জাদিদ) মত অনুযায়ী ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত নয়; তবে যদি কেউ রোজা রাখা অবস্থায় ইতিকাফ করার মানত করে, তবে সঠিকতর (الأصح) মত অনুযায়ী তার জন্য উভয়টি একসাথে পালন করা আবশ্যক।
তিনি বললেন: যদি কেউ নামাজ পড়া অবস্থায় ইতিকাফ করার মানত করে?
আমি বললাম: তবে সে নামাজ ছাড়াই এককভাবে ইতিকাফ করতে পারবে।
তিনি বললেন: উসুল শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী কি আপনাদের নিকট কিয়াসে আকস (قياس العكس) গ্রহণযোগ্য (معتبر)?
আমি বললাম: হ্যাঁ, সঠিকতর (الأصح) মত অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য।
তিনি বললেন: আমাদের আলেমগণ কিয়াসে আকস (قياس العكس)-এর মাধ্যমে আপনাদের ওপর ইতিকাফে রোজা শর্ত হওয়ার বিষয়টি আবশ্যক করে দেন।
আমি তাঁকে বললাম: এখানে কিয়াসে আকস (قياس العكس) প্রয়োগের সুযোগ কোথায়? কারণ কিয়াসে আকস (قياس العكس) তো তা-ই যেমনটি জালাল আল-মহল্লি ‘শারহু জামউল জাওয়ামে’ গ্রন্থে
(১) বলেছেন: “ইল্লত (العلة) বা কারণের বৈপরীত্যের দরুন কোনো একটি বিষয়ের হুকুমের বিপরীত হুকুম তার সদৃশ বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা।” এবং তিনি এর স্বপক্ষে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যা তিনি তাঁর সাহাবীগণের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪২২)
"وفي بُضْعِ أحدكم صدقة". فقالوا: أيأتي أحدنا شهوتَه وله فيها أجر؟ [فقال]
(1): "أرأيتم لو وضعَها في حرام أكان عليه وِزر؟ فكذلك إذا وضعها في الحلال كان له أجر". قال: رواه مسلم
(2).
ثم أتيتُ إليه ناقلًا ما لفظُه: قال العلامة البَنَّاني في "حاشيته على شرح المحلّي لجمع الجوامع"
(3): "قوله: "وهو إثبات عكس حكم
… إلخ"، الحكم في الحديث المذكور هو ثبوت الوزر، وعكسه ثبوت الأجر، والشيء الوضع في الحرام، ومثل ذلك الشيء هو الوضع في الحلال الثابتِ له العكسُ المذكور، وجعل الوضع في الحرام والوضع في الحلال مِثْلَين من حيث إن كلًّا منهما وضعٌ، وإلَّا فهما ضدّانِ في الحقيقة. وقوله: "لتعاكسهما" أي: الحكمين. وقوله: "في العلة" وهي الوضع في الحرام الذي هو علة ثبوت الوزر، والوضع في الحلال الذي هو علة ثبوت الأجر، فكلٌّ من ثبوت الأجر وثبوت الوزر عكسٌ للآخر؛ لأن كلًّا من الوضع في الحرام والوضع في الحلال عكسٌ للآخر فتعاكُسُ العلتين المذكورتين مقتضٍ لكون الحكم المترتب على إحداهما عكسَ الحكم المترتب على الأخرى" هـ.
قلت: ولا تناقضَ في قوله: "لأن كلًّا من الوضع في الحرام والوضع في الحلال عكسٌ للآخر" مع قوله سابقًا: "والشيء الوضع في الحرام، ومثل ذلك الشيء هو الوضع في الحلال"؛ لأنَّ جَعْلهما مِثْلينِ هو باعتبار مطلق الوضع، وجَعْلهما ضدَّين هو باعتبارِ محلّه، كما يؤخذ من كلامه. فطَبِّقُوا
--------------------------------------------
"তোমাদের প্রত্যেকের যৌন মিলনেও সাদাকাহ রয়েছে।" তারা বললেন: আমাদের কেউ কি তার কামবৃত্তি পূরণ করবে এবং তাতেও তার জন্য সওয়াব (أجر) থাকবে? [তিনি বললেন]
(১): "তোমরা কি মনে করো যদি সে তা হারামে লিপ্ত করত তবে কি তার ওপর গুনাহ (وزر) হতো না? তেমনিভাবে যখন সে তা হালালে লিপ্ত হবে, তখন তার জন্য সওয়াব (أجر) থাকবে।" তিনি বলেন: এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন
(২)।
এরপর আমি তাঁর কাছে নিম্নোক্ত পাঠটি উদ্ধৃত করে নিয়ে এলাম: আল্লামা আল-বান্নানি তাঁর "জামউল জাওয়ামি-এর শারহুল মাহাল্লির ওপর হাশিয়া"-তে
(৩) বলেছেন: "তাঁর কথা: 'আর তা হলো হুকুমের (حكم) বিপরীত সাব্যস্ত করা... ইত্যাদি', উল্লিখিত হাদিসের হুকুম (حكم) হলো গুনাহ (وزر) সাব্যস্ত হওয়া এবং এর বিপরীত হলো সওয়াব (أجر) সাব্যস্ত হওয়া। আর বিষয়টি হলো হারামে লিপ্ত হওয়া, আর অনুরূপ বিষয়টি হলো হালালে লিপ্ত হওয়া যার ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিপরীত বিষয়টি সাব্যস্ত। হারামে লিপ্ত হওয়া এবং হালালে লিপ্ত হওয়া উভয়কে সদৃশ ধরা হয়েছে এই দিক থেকে যে, এর প্রতিটিই এক একটি 'লিপ্ত হওয়া', অন্যথায় প্রকৃতপক্ষে তারা একে অপরের বিপরীত। আর তাঁর কথা: 'তাদের উভয়ের বৈপরীত্যের কারণে' অর্থাৎ হুকুম (حكم) দুটির। এবং তাঁর কথা: 'ইল্লত (علة) বা কারণের ক্ষেত্রে', আর তা হলো হারামে লিপ্ত হওয়া যা গুনাহ (وزر) সাব্যস্ত হওয়ার ইল্লত (علة), এবং হালালে লিপ্ত হওয়া যা সওয়াব (أجر) সাব্যস্ত হওয়ার ইল্লত (علة)। সুতরাং সওয়াব (أجر) সাব্যস্ত হওয়া এবং গুনাহ (وزر) সাব্যস্ত হওয়া—প্রতিটিই অন্যটির বিপরীত; কারণ হারামে লিপ্ত হওয়া এবং হালালে লিপ্ত হওয়া—প্রতিটিই অন্যটির বিপরীত। ফলে উল্লিখিত ইল্লত (علة) দুটির বৈপরীত্য দাবি করে যে, একটির ওপর ভিত্তি করে যে হুকুম (حكم) আসবে তা অন্যটির ওপর ভিত্তি করে আসা হুকুমের (حكم) বিপরীত হবে।" সমাপ্ত।
আমি বলি: তাঁর কথা "কারণ হারামে লিপ্ত হওয়া এবং হালালে লিপ্ত হওয়া—প্রতিটিই অন্যটির বিপরীত"-এর সাথে তাঁর পূর্ববর্তী কথা "আর বিষয়টি হলো হারামে লিপ্ত হওয়া, আর অনুরূপ বিষয়টি হলো হালালে লিপ্ত হওয়া"-এর মাঝে কোনো স্ববিরোধিতা নেই; কারণ তাদের উভয়কে সদৃশ ধরা হয়েছে সাধারণ 'লিপ্ত হওয়া'র বিবেচনায়, আর তাদের উভয়কে বিপরীত ধরা হয়েছে এর প্রয়োগস্থলের বিবেচনায়, যেমনটি তাঁর বক্তব্য থেকে অনুধাবন করা যায়। সুতরাং আপনারা এটি প্রয়োগ করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪২৩)
مسألة شرطية الصوم على قياس العكس كما طبق الحديث، ولا يخفى عليكم حقيقة العلة والتعاكس عند الأصوليين، وإنما نريد بذلك معرفة كيفية الاستدلال بقياس العكس فيها، لا استفادةَ الحكم وتسليمه، فإن لنا في النصوص الصحيحة ما يُقِرُّ الناظرَ ويُخرِس المناظر:
أولها: ما في "شرح السيد المرتضى على الإحياء" بعد نقل حديث الصحيحين وأبي داود والنسائي
(1) من طريق عُقيل عن الزهري عن عروة عن عائشة: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يعتكف العَشْرَ الأواخر من رمضان حتى قبضه الله عز وجل، ثم اعتكف أزواجُه من بعدِه. قال
(2): ثم قد استُدِلَّ بالحديث المذكور أنه لا يُشترط لصحة الاعتكاف الصومُ، وذلك من وجهين: أحدهما: أنه اعتكف ليلاً أيضًا مع كونه فيه غيرَ صائم، ذكره ابن المنذر. ثانيهما: أن صومه في شهر رمضان إنما كان للشهر؛ لأن الوقت مستحقّ له، ولم يكن للاعتكاف. ذكره المزني والخطابي. وبهذا قال الشافعي وأحمد في أصح الروايتين عنه، وحكاه الخطابي
(3) عن علي وابن مسعود والحسن البصري. وقال مالك وأبو حنيفة والجمهور: يُشترط لصحة الاعتكاف الصومُ، ورُوي ذلك عن علي وابن عمر وابن عباس وعائشة، وروى الدارقطني
(4) في حديث عائشة المتقدم من رواية ابن جريج عن
--------------------------------------------
রোজা শর্ত হওয়ার মাসআলাটি বৈপরীত্যমূলক তুলনা (قياس العكس)-এর ভিত্তিতে, যেভাবে হাদিস প্রয়োগ করা হয়েছে। উসুলশাস্ত্রবিদদের (الأصوليين) নিকট কার্যকারণ (علة) ও বৈপরীত্যের (تعاكس) প্রকৃত স্বরূপ অজানা নয়। তবে আমরা এর মাধ্যমে সেখানে বৈপরীত্যমূলক তুলনা (قياس العكس) দ্বারা দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি জানতে চাই, বিধান গ্রহণ বা তা মেনে নেওয়া উদ্দেশ্য নয়। কেননা বিশুদ্ধ (صحيحة) পাঠ্য প্রমাণসমূহের (نصوص) মধ্যে এমন বিষয় রয়েছে যা পর্যবেক্ষককে তুষ্ট করে এবং বিবাদীকে নিরুত্তর করে দেয়:
প্রথমটি হলো: "ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন"-এর ওপর সায়্যেদ মুর্তজার ব্যাখ্যাগ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে—সহিহাইন, আবু দাউদ ও নাসায়ি
(১)-এ বর্ণিত উকাইল থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস উদ্ধৃত করার পর: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন যতক্ষণ না আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর মৃত্যু দান করেছেন, অতঃপর তাঁর পর তাঁর স্ত্রীগণ ইতিকাফ করেছেন।" তিনি বলেন
(২): এরপর উক্ত হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করা হয়েছে যে, ইতিকাফ সহিহ (صحيحة) হওয়ার জন্য রোজা শর্ত নয়। এটি দুটি দিক থেকে: প্রথমত: তিনি রাতেও ইতিকাফ করেছেন অথচ তখন তিনি রোজাদার ছিলেন না; এটি ইবনুল মুনযির উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়ত: রমজান মাসে তাঁর রোজা রাখা ছিল কেবল মাসের কারণে; কারণ সময়টি রোজার জন্যই নির্ধারিত ছিল, ইতিকাফের কারণে নয়। এটি মুযানি ও খাত্তাবি উল্লেখ করেছেন। ইমাম শাফিঈ এবং ইমাম আহমাদ তাঁর থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (رواية) মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) বর্ণনা অনুযায়ী এই মত ব্যক্ত করেছেন। খাত্তাবি এটি
(৩) আলী, ইবনে মাসউদ ও হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে ইমাম মালিক, আবু হানিফা ও জমহুর (جمهور) উলামাগণ বলেছেন: ইতিকাফ সহিহ (صحيحة) হওয়ার জন্য রোজা শর্ত। আর এটি আলী, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস ও আয়েশা (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম দারাকুতনি
(৪) আয়েশা (রা.)-এর পূর্বোক্ত হাদিসটি ইবনে জুরাইজের বর্ণনা (رواية) থেকে উদ্ধৃত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪২৪)
الزهري بزيادة: "وأنَّ السنة للمعتكف
… " فذكر أشياء، منها: "ويُؤمَر من اعتكف أن يصوم". ثم قال الدارقطني: إن قوله: "وأن السنة
… إلخ" ليس من قول النبي صلى الله عليه وسلم وأنه من كلام الزهري، ومن أدرجه في الحديث وهِمَ. ولكن في "سنن أبي داود"
(1) صريحًا أنه من كلام عائشة، أي فمثلُه لا يُعرف إلا سماعًا. هـ.
قلت: الحديث لفظه: "السنة على المعتكف أن لا يعودَ مريضًا، ولا يشهدَ جنازةً، ولا يمسَّ المرأةَ ولا يُباشرها، ولا يخرجَ لحاجةٍ إلا لما لابدَّ منه، ولا اعتكافَ إلا بصومٍ، ولا اعتكافَ إلا في مسجد جامع". فإن أراد بقوله: "فمثلُه لا يُعرف إلا سماعًا" أنه من قول الصحابي: "السنة كذا"، ففيه نظر؛ إذ يحتمل بل يظهر أن قولها: "ولا اعتكافَ إلا بصومٍ
… إلخ" ليس مسندًا إلى السنة، وإنما بينَتْ فيه برأيها، ومثل ذلك لا يمتنع قولُه من قبل الرأي. فليتأملْ.
وقد يُحمَل قوله: "ويؤمَر" على الندب، كما يُحمل "لا اعتكاف إلا بصوم" على نفي الكمال، جمعًا بين الأدلة وإلحاقًا للضعيف بالقوي.
وأمَّا ما استدل به مُثبِت الشرطية أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يعتكف إلا صائمًا، فيقال له: قد تقرر في الأصول أن فعله صلى الله عليه وسلم غير الجبلِّي يخصُّه للندب مجردُ قصد القربة، وذلك بأن تدل قرينةٌ على قصدها بذلك الفعل، مجرَّدًا عن قيد الوجوب، والقرينة ههنا ما تراه من الأدلة، فالمواظبة دليل الاستحباب. على أنك سترى في الأدلة ما يستلزم أنه صلى الله عليه وسلم اعتكف بلا صوم، وهو حديث
--------------------------------------------
আল-জুহরি একটি বর্ধিতাংশ (زيادة) সহকারে বর্ণনা করেছেন: "ইতিকাফকারীর জন্য সুন্নাত (سنة) হলো…" এরপর তিনি কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: "যিনি ইতিকাফ করবেন তাকে রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হবে।" অতঃপর আদ-দারাকুতনি বলেন: তার উক্তি "সুন্নাত (سنة) হলো… ইত্যাদি" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী নয়, বরং এটি আল-জুহরির কথা। আর যে ব্যক্তি এটি হাদিসের অন্তর্ভুক্ত (أدرج) করেছে সে ভ্রমগ্রস্ত (وهم) হয়েছে। কিন্তু "সুনানে আবু দাউদ"
(১) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি আয়েশা (রা.)-এর কথা; অর্থাৎ এ জাতীয় বিষয় শ্রুতি (سماعا) ব্যতিরেকে জানা সম্ভব নয়। সমাপ্ত।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: হাদিসটির শব্দরূপ হলো: "ইতিকাফকারীর জন্য সুন্নাত (سنة) হলো—সে কোনো রোগীকে দেখতে যাবে না, জানাজায় উপস্থিত হবে না, স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না এবং তার সাথে সহবাস করবে না, অতি প্রয়োজনীয় বিষয় ছাড়া কোনো প্রয়োজনে বের হবে না, রোজা ছাড়া কোনো ইতিকাফ নেই এবং জামে মসজিদ ছাড়া কোনো ইতিকাফ নেই।" যদি তার উক্তি "এ জাতীয় বিষয় শ্রুতি (سماعا) ব্যতিরেকে জানা সম্ভব নয়" দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে, এটি সাহাবীর কথা: "সুন্নাত (سنة) হলো এই," তবে এতে আপত্তি (نظر) রয়েছে; কেননা এটি সম্ভাবনা রাখে বরং এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তার উক্তি: "রোজা ছাড়া ইতিকাফ নেই… ইত্যাদি" সুন্নাতের (سنة) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مسندا) নয়, বরং তিনি তা নিজের রায়ের (رأي) ভিত্তিতে বর্ণনা করেছেন। আর এ জাতীয় বিষয় রায়ের (رأي) মাধ্যমে বলা অসম্ভব নয়। অতএব এটি বিবেচনাযোগ্য।
এবং তার উক্তি "নির্দেশ দেওয়া হবে" কথাটিকে মুস্তাহাব (ندب) হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে, যেমনভাবে "রোজা ছাড়া ইতিকাফ নেই" কথাটিকে পূর্ণতা অস্বীকার (نفي الكمال) হিসেবে গণ্য করা হয়; যাতে দলীলসমূহের মাঝে সমন্বয় করা যায় এবং দুর্বল (ضعيف) বর্ণনার সাথে সবল (قوي) বর্ণনার সামঞ্জস্য বিধান করা যায়।
আর যারা শর্ত হওয়ার সপক্ষে এই দলীল পেশ করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা রাখা ব্যতিরেকে ইতিকাফ করেননি, তাদের উদ্দেশ্যে বলা হবে: উসুল (أصول) শাস্ত্রে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাধারণ মানবীয় বৈশিষ্ট্য (جبلي) বহির্ভূত কাজ শুধুমাত্র নৈকট্য লাভের (قربة) উদ্দেশ্যে হওয়াটি তা মুস্তাহাব (ندب) হওয়ার বৈশিষ্ট্য রাখে, আর তা তখন হয় যখন কোনো লক্ষণ (قرينة) উক্ত কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যকে প্রকাশ করে, যা ওয়াজিবের (وجوب) বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত। আর এখানকার লক্ষণ (قرينة) হলো সেই দলীলসমূহ যা আপনি দেখছেন। সুতরাং কোনো কাজে নিয়মিত লেগে থাকা মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার দলীল। তাছাড়া আপনি দলীলসমূহের মধ্যে এমন কিছু দেখতে পাবেন যা প্রমাণ করে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা ছাড়াই ইতিকাফ করেছেন, আর তা হলো হাদিস—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪২৫)
الشيخين
(1) عن عائشة رضي الله عنها: أن النبي صلى الله عليه وسلم أراد أن يعتكف، فلما انصرف إلى المكان الذي أراد أن يعتكف فيه إذا أَخْبِيةٌ: خِباء عائشة، وخباء حفصة، وخباء زينب، فقال: "آلبرَّ تقولون بهن؟ " ثم انصرف فلم يعتكف، حتى اعتكف عشرًا من شوال.
قال الشرقاوي
(2): وعند مسلم: "حتى اعتكف العشر الأُول من شوال" وفيه دليل على جواز الاعتكاف بغير صوم، لأن أول شوال يوم العيد، وصومه حرام. واعتُرِض بأن المعنى كان ابتداؤه في العشر الأول [ص 2] وهو صادق بما إذا ابتدأ باليوم الثاني، فلا دليل فيه لما قاله.
قلت: ولسقوط هذا الاعتراض ــ كما لا يخفى على الناظر ــ لم يعتبره علماؤنا، ولا عدُّوه قادحًا، فهم يستدلّون بالحديث المذكور غيرَ ملتفتين إلى ذلك الاعتراض، وقد يَستبعدُ اعتكافَه صلى الله عليه وسلم ليوم العيد مَن يَقيسُه على أبناء زماننا في جَعْله يومَ العيد يومَ راحةٍ ورفاهية، وراحةُ رسول الله صلى الله عليه وسلم الخلوةُ بمولاه، كما كان يقول: "يا بلالُ، أَرِحْنا بالصلاة"
(3). والظاهر أنه اعتكف من ليلة العيد، ثم خرج لصلاة العيد، وعاد وأكمل العَشْر.
ومن الأدلة: حديث "الصحيحين"
(4) عن عمر رضي الله عنه أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: كنت نذرتُ في الجاهلية أن اعتكف ليلةً في المسجد الحرام،
--------------------------------------------
ইমামদ্বয় (الشيخين)
(১) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। যখন তিনি সেই জায়গায় গেলেন যেখানে তিনি ইতিকাফ করতে চেয়েছিলেন, তখন সেখানে কয়েকটি তাঁবু দেখতে পেলেন: আয়েশার তাঁবু, হাফসার তাঁবু এবং যয়নবের তাঁবু। তখন তিনি বললেন: "তোমরা কি এদের মাধ্যমে পুণ্যের আশা করছ?" এরপর তিনি ফিরে গেলেন এবং ইতিকাফ করলেন না, পরিশেষে শাওয়ালের দশ দিন ইতিকাফ করলেন।
শারকাউয়ি
(২) বলেছেন: সহিহ মুসলিম-এ রয়েছে: "পরিশেষে তিনি শাওয়ালের প্রথম দশকে ইতিকাফ করেছেন।" এর মধ্যে রোজা ছাড়া ইতিকাফ বৈধ হওয়ার দলীল রয়েছে, কারণ শাওয়ালের প্রথম দিন হলো ঈদের দিন, আর সেদিন রোজা রাখা হারাম। এর বিপরীতে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, এর অর্থ হতে পারে প্রথম দশকের মধ্যে শুরু করা [পৃষ্ঠা ২], যা দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, সুতরাং তিনি যা বলেছেন তার পক্ষে এতে কোনো নিশ্চিত দলীল নেই।
আমি বলি: এই আপত্তির অসারতার কারণে—যা একজন গভীর পর্যবেক্ষকের কাছে অস্পষ্ট নয়—আমাদের আলিমগণ এটিকে আমলে নেননি এবং এটিকে ত্রুটিযুক্তও গণ্য করেননি। তাই তাঁরা উক্ত হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করেন এবং সেই আপত্তির দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না। যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইতিকাফকে আমাদের যুগের লোকদের ইতিকাফের সাথে তুলনা করে ঈদের দিনটিকে বিশ্রাম ও বিলাসিতার দিন মনে করেন, তারা ঈদের দিনে তাঁর ইতিকাফ করাকে অসম্ভব মনে করতে পারেন। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশান্তি ছিল তাঁর রবের সাথে নির্জনে অবস্থান করার মধ্যে, যেমন তিনি বলতেন: "হে বিলাল, নামাজের মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দাও"
(৩)। দৃশ্যত তিনি ঈদের রাত থেকে ইতিকাফ শুরু করেছিলেন, তারপর ঈদের নামাজের জন্য বের হয়েছিলেন এবং পুনরায় ফিরে এসে দশ দিন পূর্ণ করেছিলেন।
অন্যান্য দলীলের মধ্যে রয়েছে: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম-এর হাদিস
(৪) যা উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আমি জাহেলি যুগে মানত করেছিলাম যে মাসজিদুল হারামে এক রাত ইতিকাফ করব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪২৬)
قال: "فأوفِ بنذرِك".
قال الشرقاوي
(1): واستُدِلَّ به على جواز الاعتكاف بغير صوم، لأن الليل ليس ظرفًا للصوم، فلو كان شرطًا لأمره عليه الصلاة والسلام به، لكن عند مسلم من حديث سعيد عن عبيد الله: "يومًا" بدل "ليلة". فجمعَ ابن حبان
(2) وغيره بين الروايتين بأنه نذرُ اعتكاف يومٍ وليلة، فمن أطلق ليلةً أراد بيومها، ومن أطلق يومًا أراد بليلته. وقد ورد الأمر بالصوم في رواية عمرو بن دينار عن ابن عمر
(3) صريحًا، لكن إسناده ضعيف
… إلخ.
قلت: ولذلك يَضعُف استدلالنا بهذا الحديث إلا من حيث الاستدلال باعتكافه صلى الله عليه وسلم العشرَ من رمضان ليلاً ونهارًا، كما مرَّ نقلُه عن ابن المنذر، فأما كونُه لم يُنْقَل أمره بالصوم فقد يحتمل أنه أمره ولم يُنْقل، أو أن عمر كان يعرف اشتراط الصوم للاعتكاف.
ومن الأدلة ما رواه الحاكم
(4) وقال: صحيح على شرط مسلم: "ليس على المعتكفِ صيامٌ إلا أن يجعله على نفسه".
فأجاب عليَّ السيدُ العلامة المذكور بما خلاصته:
الجمهور على أن الصوم شرط في الاعتكاف، لقوله صلى الله عليه وسلم : "لا اعتكافَ إلا بالصيام". ولو لم يكن الصيام شرطًا في الاعتكاف لما وجب في نذره
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "তোমার মানত পূর্ণ করো।"
আশ-শারকাভি
(১) বলেন: এর মাধ্যমে রোজা ছাড়া ইতিকাফের বৈধতার স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে, কারণ রাত রোজার সময় নয়। যদি (রোজা) শর্ত হতো, তবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে সেটির নির্দেশ দিতেন। তবে মুসলিম-এ উবায়দুল্লাহর সূত্রে সাঈদের বর্ণিত একটি হাদিসে "রাত" শব্দের পরিবর্তে "দিন" শব্দ এসেছে। ফলে ইবনে হিব্বান
(২) ও অন্যান্যরা উভয় বর্ণনা (رواية)-এর মধ্যে সমন্বয় করেছেন এই মর্মে যে, এটি ছিল একদিন ও একরাত ইতিকাফের মানত। সুতরাং যিনি "রাত" উল্লেখ করেছেন তিনি তার সাথে দিনকেও বুঝিয়েছেন, আর যিনি "দিন" উল্লেখ করেছেন তিনি তার সাথে রাতকেও বুঝিয়েছেন। আর ইবনে উমর থেকে বর্ণিত আমর ইবনে দীনারের বর্ণনা (رواية)-এ রোজার নির্দেশটি স্পষ্টভাবে এসেছে, কিন্তু এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)... ইত্যাদি।
আমি বলি: একারণেই এই হাদিসের মাধ্যমে আমাদের দলিল পেশ করা দুর্বল হয়ে পড়ে, কেবল ইবনে মুনজির থেকে পূর্বে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রমজানের শেষ দশ দিন দিবা-রাত্রি ইতিকাফ করার দলিলের বিষয়টি ছাড়া। আর তাঁর রোজা রাখার নির্দেশ না আসার বিষয়টি এমন হতে পারে যে, তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন কিন্তু তা বর্ণিত হয়নি, অথবা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত হওয়ার বিষয়টি জানতেন।
দলিলসমূহের মধ্যে একটি হলো যা হাকেম
(৪) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح): "ইতিকাফকারীর ওপর রোজা রাখা আবশ্যক নয়, যদি না সে তা নিজের ওপর অবধারিত করে নেয়।"
এর জবাবে উল্লেখিত সাইয়্যেদ আল্লামা আমাকে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো:
জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মত হলো ইতিকাফে রোজা শর্ত, কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "রোজা ছাড়া কোনো ইতিকাফ নেই।" আর যদি ইতিকাফে রোজা শর্ত না হতো, তবে তা মানতের ক্ষেত্রে ওয়াজিব (واجب) হতো না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪২৭)
كالصلاة حتى عند الشافعي، وأمَّا حديث: "ليس على المعتكف صيامٌ إلا أن يجعله على نفسه"، فالمعنى: الصوم لا يجب بنية الاعتكاف إلا حيث يجب الاعتكاف جمعًا بين الأدلة، وأما حديث عمر فقد تبين سقوط الاستدلال به. فثبت شرطيةُ الصوم بالدليل، ويُستَظهر عليه بقياس العكس، وهو إثبات خلاف حكم الأصل في الفرع، فالأصل الصلاة والفرع الصيام، والعلة عدم وجوب الصلاة بالنذر، أعني بنذر الاعتكاف مصلّيًا، وعكس العلة وجوب الصيام بالنذر، والحكم في الأصل عدم اشتراط الصلاة في صحة الاعتكاف، والحكم في الفرع خلافه، وهو اشتراط الصيام في صحة الاعتكاف.
أقول: أمَّا قوله: "لا اعتكاف إلا بالصيام"، فلم أطَّلع عليه بهذا اللفظ، وإنما في "سنن" أبي داود
(1) من لفظ عائشة: "ولا اعتكافَ إلا بصوم" وقد سبق الكلام عليه
(2). وما سبقت الإشارة إليه من حديث الزهري، وفيه:
--------------------------------------------
এমনকি শাফিঈর মতেও নামাজের মতোই। আর এই হাদিস: "ইতিকাফকারীর ওপর রোজা রাখা আবশ্যক নয়, যদি না সে তা নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়"—এর অর্থ হলো: দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে ইতিকাফের নিয়তের কারণে রোজা ওয়াজিব হয় না, কেবল যেখানে ইতিকাফ ওয়াজিব হয় সেখানে ছাড়া। আর উমরের বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে, এর দ্বারা দলীল উপস্থাপন (استدلال) করার অসারতা স্পষ্ট হয়েছে। সুতরাং দলীলের মাধ্যমে রোজার শর্ত হওয়া (شرطية) সাব্যস্ত হয়েছে এবং একে বিপরীত কিয়াস (قياس العكس) দ্বারা আরও সুদৃঢ় করা যায়; যা হলো মূল (أصل)-এর বিধানের বিপরীত বিষয় শাখা (فرع)-তে প্রমাণ করা। এখানে মূল (أصل) হলো নামাজ এবং শাখা (فرع) হলো রোজা। আর কারণ (علة) হলো মানতের মাধ্যমে নামাজ ওয়াজিব না হওয়া—অর্থাৎ নামাজরত অবস্থায় ইতিকাফের মানত করা। আর বিপরীত কারণ (علة) হলো মানতের মাধ্যমে রোজা ওয়াজিব হওয়া। মূল (أصل)-এর বিধান হলো ইতিকাফ বৈধ (صحة) হওয়ার জন্য নামাজ শর্ত (اشتراط) না হওয়া, আর শাখা (فرع)-র বিধান এর বিপরীত, অর্থাৎ ইতিকাফ বৈধ (صحة) হওয়ার জন্য রোজা শর্ত (اشتراط) হওয়া।
আমি বলি: "রোজা ছাড়া কোনো ইতিকাফ নেই"—এই শব্দসমষ্টির (لفظ) ব্যাপারে আমি অবগত হইনি। তবে সুনানে আবু দাউদ
(১)-এ আয়েশার শব্দে (لفظ) বর্ণিত হয়েছে: "রোজা ছাড়া কোনো ইতিকাফ নেই"; আর এ বিষয়ে আলোচনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে
(২)। আর জুহরির হাদিসে যেদিকে পূর্বে ইশারা করা হয়েছে, তাতে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪২৮)
"ويؤمر المعتكف بالصوم"، وقد سبق ما فيه. وما في رواية عمرو بن دينار قد سبق تضعيفه.
وأمَّا قولهم: ولو لم يكن الصيام شرطًا في الاعتكاف لما وجب في نذره كالصلاة، فنقول: إن أريدَ بقوله: "وجب" أي الصيام، وبقوله: "في نذره" أي الاعتكاف، والمعنى: لو لم يكن شرطًا لما وجب حيث نذرَ الاعتكاف، فنحن لا نقول بوجوب الصوم في الاعتكاف المنذور وإن أريدَ: لو لم يكن الصوم شرطًا في الاعتكاف لما وجب الصوم حيث نذرَ مع الاعتكاف، كما لا تجب الصلاة حيث نُذِرَتْ مع الاعتكاف، فنقول: إن أريد بعدم وجوب الصلاة أنه لا يلزم مطلقًا فليس مذهبنا، أو أنه لا يلزم الجمع بينها وبين الاعتكاف كما يلزم الجمع بين الصوم والاعتكاف حيث نذرَ أن يعتكف صائمًا، فهذا مذهبنا، والإلزام ممنوع، إذ جَعْلكم له شرطًا ينافي كونَ النذر علةً لوجوبه، فلا يصدق عليه أنه وجب النذر. وقد فرق أصحابنا بين الصلاة والصيام بأن الصيام مشروع في الاعتكاف إجماعًا، وأنه مناسب له، إذ كلٌّ منهما كَفٌّ، ولا كذلك الصلاة، مع أنها أفعال مباشرة.
وأمَّا تأويل حديث "ليس على المعتكف صيام إلا أن يجعله على نفسه" فمردود، إذ لا يخفى أن المعتكف يصدق على المعتكف اعتكافًا منذورًا أو غيرَ منذور، وقوله: "إلا أن يجعله" أي: الصيامَ كما يعيِّنه السياق، فالمعنى: ليس على من نوى اعتكافًا منذورًا أو غيرَ منذورٍ أن يصوم إلا حيثُ نذر الصيام، وذلك ظاهر.
[ص 3] وأمَّا قولكم: "جمعًا بين الأدلة"، فأين الدليل الذي يقتضي شرطيةَ الصوم، فلم تذكروا إلا قوله: "ولا اعتكاف إلا بالصيام"، وقد علمت ما فيه.
"ইতিকাফকারীকে রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়", এবং এতে যা রয়েছে তা পূর্বে আলোচিত হয়েছে। আমর ইবন দিনারের বর্ণনায় যা এসেছে, তার দুর্বলতা (تضعيف) ইতোপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
আর তাদের বক্তব্য: যদি রোজা ইতিকাফের জন্য শর্ত (شرط) না হতো, তবে নামাজের মতো মানতের ইতিকাফের ক্ষেত্রেও তা আবশ্যক হতো না। উত্তরে আমরা বলি: যদি 'আবশ্যক হওয়া' দ্বারা উদ্দেশ্য রোজা হয় এবং 'মানতের ক্ষেত্রে' দ্বারা উদ্দেশ্য ইতিকাফ হয়, তবে অর্থ দাঁড়াবে: যদি রোজা শর্ত (شرط) না হতো তবে মানতকৃত ইতিকাফের ক্ষেত্রে তা ওয়াজিব হতো না; অথচ আমরা মানতকৃত ইতিকাফে রোজা ওয়াজিব হওয়ার প্রবক্তা নই। আর যদি উদ্দেশ্য হয়: যদি রোজা ইতিকাফের শর্ত (شرط) না হতো, তবে ইতিকাফের সাথে রোজা মানত করার ক্ষেত্রেও রোজা আবশ্যক হতো না, যেমন নামাজের সাথে ইতিকাফ মানত করলে নামাজ আবশ্যক হয় না; তবে আমরা বলব: যদি নামাজ আবশ্যক না হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে তা মোটেও আবশ্যক হবে না, তবে তা আমাদের মাযহাব নয়। অথবা যদি উদ্দেশ্য হয় যে, ইতিকাফের সাথে নামাজকে একত্র করা আবশ্যক নয়—যেভাবে রোজা অবস্থায় ইতিকাফের মানত করলে রোজা ও ইতিকাফ একত্র করা আবশ্যক হয়—তবে এটাই আমাদের মাযহাব। আর (বিপক্ষের) এই বাধ্যবাধকতা অগ্রহণযোগ্য; কেননা আপনাদের পক্ষ থেকে একে শর্ত (شرط) হিসেবে সাব্যস্ত করা মানতকে ওয়াজিব হওয়ার কারণ (علة) হওয়ার পরিপন্থী। ফলে মানতের কারণে তা ওয়াজিব হয়েছে—একথা সত্য হবে না। আমাদের ফকিহগণ নামাজ ও রোজার মধ্যে পার্থক্য করেছেন এই মর্মে যে, ইতিকাফের অবস্থায় রোজা রাখা সর্বসম্মতভাবে (إجماعًا) শরয়ি বিধানসম্মত এবং তা ইতিকাফের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ উভয়েরই মূল বিষয় হলো বিরত থাকা। কিন্তু নামাজ তেমন নয়, কারণ নামাজ হলো সরাসরি কিছু কর্মের সমষ্টি।
আর "ইতিকাফকারীর ওপর রোজা রাখা আবশ্যক নয়, যদি না সে নিজের ওপর তা আবশ্যক করে নেয়" এই হাদিসের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা প্রত্যাখ্যাত (مردود); কেননা এটি স্পষ্ট যে, 'ইতিকাফকারী' বলতে মানতকৃত বা সাধারণ ইতিকাফকারী উভয়কেই বোঝায়। আর "যদি না সে তা নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়" বলতে রোজাকেই বোঝানো হয়েছে, যা প্রসঙ্গের দ্বারা নির্ধারিত। সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়: যে ব্যক্তি মানতকৃত বা সাধারণ ইতিকাফের নিয়ত করেছে, তার ওপর রোজা রাখা আবশ্যক নয়, যতক্ষণ না সে রোজার মানত করে। আর এটি সুস্পষ্ট।
[পৃষ্ঠা ৩] আর আপনাদের বক্তব্য "দলিলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে", তো রোজা শর্ত (شرط) হওয়ার স্বপক্ষে দলিল কোথায়? আপনারা তো কেবল "রোজা ছাড়া ইতিকাফ হয় না" এই বর্ণনাটিই উল্লেখ করেছেন, আর এতে যা রয়েছে তা তো আপনি অবগত আছেনই।
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪২৯)
ولو فرضنا اعتباره دليلاً فلنا طريقٌ مسلوكة في الجمع بينه وبين سائر الأدلة، وهي أن نقول بنَفْي الكمال، كما قالوه في "لا صلاة لجار المسجد إلا في المسجد"
(1)، وكما قال بعضهم في: "لا صلاةَ لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب"
(2)، وقال بعضهم في: "لا وضوءَ لمن لم يذكر اسم الله عليه"
(3)، وقولهم: "لا إيمانَ لمن لا أمانةَ له، ولا دينَ لمن لا عهدَ له"
(4)، كما تقدم بيانه. والمطلوب هو موافقة الحق، وسلوكُ المسالك المألوفة بالمدارك المعروفة خيرٌ من ارتكاب الوعور، لاسيما إذا كان غلطًا وشططًا.
وأما القياس، فقياس العكس عند أصحابنا مختلَفٌ في حجيته، وعلى الأصح أنه حجة فقد عرَّفْناكم أن الشافعي نصَّ على عدم شرطية الصيام للاعتكاف، ونصَّ على عدم وجوب الجمع بين الاعتكاف والصلاة على الناذر أنْ يعتكفَ مصلِّيًا، ولم ينصَّ على وجوب الجمع بين الاعتكاف والصيام على الناذر أنْ يعتكفَ صائمًا ولا عدمه، فقاسه بعض الأصحاب على الصلاة فلم يُوجبه، وأكثر الأصحاب على أنه يجب للحديث: "ليس
--------------------------------------------
যদি আমরা এটিকে দলীল (دليل) হিসেবে বিবেচনা করিও, তবে অন্যান্য দলীলসমূহের (الأدلة) সাথে এর সমন্বয় (الجمع) করার জন্য আমাদের নিকট একটি প্রচলিত পথ রয়েছে। আর তা হলো—আমরা এর মাধ্যমে পূর্ণতা অস্বীকার (نفي الكمال) করার কথা বলব, যেমনটি তারা "মসজিদের প্রতিবেশীর জন্য মসজিদে ব্যতীত কোনো নামাজ নেই" হাদিসের ক্ষেত্রে বলেছেন, এবং যেমনটি তাদের কেউ কেউ বলেছেন: "যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করল না, তার কোনো নামাজ নেই" হাদিসের ক্ষেত্রে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নিল না, তার কোনো ওজু নেই" হাদিসের ক্ষেত্রে। এছাড়া তাদের একটি বক্তব্য হলো: "যার আমানতদারী নেই, তার কোনো ঈমান নেই এবং যার অঙ্গীকার ঠিক নেই, তার কোনো দীন নেই", যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর কাঙ্ক্ষিত বিষয় হলো সত্যের অনুসরণ করা; সুপরিচিত বোধশক্তির মাধ্যমে পরিচিত পথে চলা দুর্গম পথ অবলম্বন করার চেয়ে উত্তম, বিশেষত যদি সেটি ভুল ও সীমালঙ্ঘনমূলক হয়।
আর কিয়াস (قياس) প্রসঙ্গে কথা হলো, আমাদের সাথীদের (মাযহাবের আলিমদের) নিকট বিপরীত কিয়াস (قياس العكس) এর প্রামাণিকতা (حجية) নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে বিশুদ্ধতর (الأصح) মত অনুযায়ী এটি দলীলযোগ্য (حجة)। আমরা আপনাদের অবগত করেছি যে, ইমাম শাফিঈ ইতিকাফের জন্য রোজা শর্ত না হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে মত দিয়েছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, যে ব্যক্তি নামাজরত অবস্থায় ইতিকাফ করার মানত করেছে, তার জন্য ইতিকাফ ও নামাজকে একত্রিত করা ওয়াজিব নয়। তবে যে ব্যক্তি রোজাদার অবস্থায় ইতিকাফ করার মানত করেছে, তার জন্য ইতিকাফ ও রোজাকে একত্রিত করা ওয়াজিব হওয়া বা না হওয়া সম্পর্কে তিনি কোনো স্পষ্ট মত দেননি। ফলে আমাদের কিছু সাথী একে নামাজের ওপর কিয়াস (قياس) করে এটি ওয়াজিব করেননি; তবে অধিকাংশ সাথীর মত হলো এটি ওয়াজিব হবে, কারণ এই হাদিসটি: "নেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৩০)
على المعتكف صيامٌ إلا أن يجعله على نفسه"، وفرقوا بينه وبين الصلاة كما مرَّ آنفًا.
فإن قيل: قد ثبت "ليس على المعتكف صيامٌ إلا أن يجعله على نفسه" المفيد لوجوب الجمع بين الاعتكاف والصيام على من نذَره، وأنتم معشر الشافعية تقولون: لا يجب الجمع بين الاعتكاف وبين الصلاة على ناذره، وتلك مناقضة، إذ يلزمكم من قولكم: "لا يجب الجمع بين الاعتكاف والصلاة" أن تقولوا بعدم وجوب الجمع بينه وبين الصيام، ويلزمكم من إيجابكم الجمعَ في الصيام إيجابُه في الصلاة.
قلنا: أمَّا وجوب الجمع في الصيام فقد نصَّ عليه إمام الكون صلى الله عليه وسلم ، وأما نصُّ الإمام على عدم وجوب الجمع في الصلاة، فعلى فرضِ أنه لا دليل له عليه من النصوص فقد بينّا الفارق، على أن هذه المنازعة المفروضة لا تكون إلا من طرف قائلٍ بوجوب الجمع في الصلاة، وأما قائل شرطية الصوم فقد صدقته النصوص على العموم والخصوص
(1).
* * * *
--------------------------------------------
"ইতিকাফকারীর ওপর রোজা রাখা আবশ্যক নয়, তবে যদি সে তা নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়", এবং তারা ইতিকাফ ও নামাজের মধ্যে পার্থক্য করেছেন যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
যদি বলা হয়: "ইতিকাফকারীর ওপর রোজা রাখা আবশ্যক নয়, তবে যদি সে তা নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়" - এই বিষয়টি প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে, যা মানতকারীর জন্য ইতিকাফ ও রোজা একত্রে পালন আবশ্যক হওয়ার অর্থ প্রদান করে। অথচ হে শাফিঈ সমাজ, আপনারা বলেন: মানতকারীর জন্য ইতিকাফ ও নামাজ একত্রে পালন করা আবশ্যক নয়। এটি তো একটি বৈপরীত্য; কারণ আপনাদের বক্তব্য "ইতিকাফ ও নামাজ একত্রে করা আবশ্যক নয়" থেকে এটিই আবশ্যক হয় যে আপনারা ইতিকাফ ও রোজার মধ্যেও একত্রে পালনের আবশ্যকতা নেই বলে মত দেবেন। আবার রোজার ক্ষেত্রে একত্রে পালনকে আবশ্যক করার মাধ্যমে নামাজের ক্ষেত্রেও তা আবশ্যক করা আপনাদের ওপর অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
আমরা বলি: রোজার ক্ষেত্রে একত্রে পালনের আবশ্যকতা সম্পর্কে সৃষ্টিজগতের ইমাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে নাস (نص) প্রদান করেছেন। আর নামাজের ক্ষেত্রে একত্রে পালনের আবশ্যকতা না থাকার ব্যাপারে ইমামের স্পষ্ট বক্তব্যের (نص) ক্ষেত্রে, যদি ধরে নেওয়া হয় যে নাসসমূহ (نصوص) থেকে তাঁর নিকট এ বিষয়ে কোনো দলিল (دليل) নেই, তবুও আমরা ইতিপূর্বে পার্থক্যটি বর্ণনা করেছি। তা সত্ত্বেও, এই অনুমিত বিতর্কটি কেবল নামাজের ক্ষেত্রে একত্রে পালন আবশ্যক মনে করেন এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকেই হতে পারে। পক্ষান্তরে যারা রোজাকে শর্ত হওয়ার প্রবক্তা, সাধারণ (عام) এবং বিশেষ (خاص) উভয় প্রকারের নাসসমূহ (نصوص) তাদের সত্যতা প্রমাণ করে।
(১)* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৩১)
[ص 4] سيدي العلّامة الهُمام ضياء الإسلام السيد صالح بن المحسن الصَّيلمي، حفظه الله تعالى، والسلام عليه ورحمة الله وبركاته.
قال الجلال المحلّي في "شرح جمع الجوامع" عند ذكر قياس العكس ما لفظُه: "وهو إثباتُ عكس حكم شيءٍ لمثله، لتعاكُسِهما في العلة" ثم [قال:]
(1) ومن أدلته قوله صلى الله عليه وسلم لأصحابه عندما قال لهم في تَعداد وجوه البرّ: "وفي بُضْع أحدكم صدقة". فقالوا: أيأتي أحدُنا شهوتَه وله فيها أجر؟ قال: "أرأيتم لو وضعها في حرام أكان عليه وِزْرٌ؟ فكذلك إذا وضعها في الحلال كان له أجر".
قال البَنَّاني في حاشيته: قوله: "وهو إثبات عكس حكم
… إلخ"، الحكم في الحديث المذكور هو ثبوت الوزر، وعكسه ثبوت الأجر، والشيء الوضع في الحرام، ومثل ذلك الشيء هو الوضع في الحلال الثابتِ له العكسُ المذكور، وجعل الوضع في الحرام والوضع في الحلال مِثْلَين من حيث إن كلًّا منهما وضعٌ، وإلَّا فهما ضدّانِ في الحقيقة. وقوله: "لتعاكسهما" أي: الحكمين. وقوله: "في العلة" وهي الوضع في الحرام الذي هو علة ثبوت الوزر، والوضع في الحلال الذي هو علة ثبوت الأجر، فكلٌّ من ثبوت الأجر وثبوت الوزر عكسٌ للآخر؛ لأن كلًّا من الوضع في الحرام والوضع في الحلال عكسٌ للآخر فتعاكُسُ العلتين المذكورتين مقتضٍ لكون الحكم المترتب على إحداهما عكسَ الحكم المترتب على الأخرى".
وقولكم: "ما مذهب الشافعية في الاعتكاف؟ " فالاعتكاف عندهم ليس من شرطه الصيامُ إلا إن نَذَرَه، كأن يقول: لله عليَّ أن أعتكفَ صائمًا، بخلاف
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ৪] আমার সায়্যিদ, মহাপ্রাজ্ঞ আল্লামা, ইসলামের আলোকবর্তিকা সায়্যিদ সালেহ বিন মুহসিন আস-সাইলামি, আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিফাজত করুন। তাঁর ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
জালালুদ্দিন আল-মহল্লি "শারহু জামউল জাওয়ামি" গ্রন্থে বৈপরীত্যমূলক অনুমানের (قياس العكس) আলোচনায় এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "এটি হলো কোনো বিষয়ের সদৃশ বিষয়ের জন্য তার বিপরীত বিধান সাব্যস্ত করা, যেহেতু তাদের উভয় কারণ (علة) বিপরীতমুখী।" অতঃপর তিনি [বলেন:]
(1) এর একটি দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের প্রতি তাঁর বাণী, যখন তিনি তাঁদের কাছে নেক আমলের বিভিন্ন দিক বর্ণনা করছিলেন: "তোমাদের প্রত্যেকের কামপ্রবৃত্তি চরিতার্থ করার মধ্যেও সদকা নিহিত রয়েছে।" তাঁরা বললেন: আমাদের কেউ কি তার কামতৃপ্তি মেটাবে আর তাতেও কি তার জন্য সওয়াব হবে? তিনি বললেন: "তোমরা কি দেখেছ, যদি সে তা হারামে লিপ্ত করত তবে কি তার ওপর গুনাহ হতো না? তদ্রূপ সে যখন তা হালালে লিপ্ত করবে, তার জন্য সওয়াব হবে।"
আল-বান্নানি তাঁর টীকাগ্রন্থে বলেন: তাঁর উক্তি: "এটি হলো বিপরীত বিধান সাব্যস্ত করা... ইত্যাদি", উল্লিখিত হাদিসে বিধানটি হলো গুনাহ সাব্যস্ত হওয়া, আর এর বিপরীত হলো সওয়াব সাব্যস্ত হওয়া। আর বিষয়টি হলো হারামে লিপ্ত হওয়া, এবং সেই বিষয়ের সদৃশ বিষয় হলো হালালে লিপ্ত হওয়া যার জন্য উক্ত বিপরীত বিধানটি সাব্যস্ত হয়। হারামে লিপ্ত হওয়া এবং হালালে লিপ্ত হওয়াকে সদৃশ গণ্য করা হয়েছে এই দিক থেকে যে, উভয়টিই কামপ্রবৃত্তি নিবারণ করা, অন্যথায় বাস্তবে তো তারা পরস্পর বিরোধী। আর তাঁর উক্তি: "যেহেতু তারা বিপরীতমুখী" অর্থাৎ: বিধান দুটি। আর তাঁর উক্তি: "কারণ (علة) এর ক্ষেত্রে", যা হলো হারামে লিপ্ত হওয়া যা গুনাহ সাব্যস্ত হওয়ার কারণ (علة), এবং হালালে লিপ্ত হওয়া যা সওয়াব সাব্যস্ত হওয়ার কারণ (علة)। সুতরাং সওয়াব সাব্যস্ত হওয়া এবং গুনাহ সাব্যস্ত হওয়া একে অপরের বিপরীত; কারণ হারামে লিপ্ত হওয়া এবং হালালে লিপ্ত হওয়া প্রতিটি একে অপরের বিপরীত। অতএব, উল্লিখিত কারণ (علة) দুটির বৈপরীত্য দাবি করে যে, একটির ওপর অবধারিত বিধান অন্যটির ওপর অবধারিত বিধানের বিপরীত হবে।
আপনাদের প্রশ্ন: "ইতিকাফের ক্ষেত্রে শাফেয়ি মাযহাবের অভিমত কী?" তাঁদের মতে ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা শর্ত (شرط) নয়, তবে যদি সে মানত (نذر) করে, যেমন এই কথা বলা: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমার ওপর আবশ্যক যে আমি রোজা অবস্থায় ইতিকাফ করব। এর বিপরীতে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৩২)
الصلاة، فلو قال: أن أعتكفَ مصلِّيًا فله إفراد الاعتكاف عنها.
وقولكم: "إنه يلزمهم القول باشتراط الصيام في الاعتكاف بقياس العكس" لم يظهر وجهُه، ففضلًا انقلُوا تحت هذا لفظ "الغاية" مع شرحها.
واستشهادكم على الحقير ببضاعته (ولكنما أعمى القلوبَ التعصُّبُ) ليس في محله، فإنما يتعصب من لم يجد مَحِيصًا عن اللزوم، فأما نحن معشرَ الشافعية فلنا عن التعصب ــ لو فُرِض ــ مندوحةٌ بأن اشتراط الصيام هو القول القديم لإمامنا، مع أن لنا على القول الجديد نصوصًا صحيحة، منها: اعتكافه صلى الله عليه وسلم الليلَ والنهارَ في العشر الأواخر من رمضان ونحوها، كما في حديث الصحيحين. ومنها: ما في الصحيحين
(1) أيضًا عن ابن عمر رضي الله عنهما أن عمر رضي الله عنه سأل النبي صلى الله وسلم عليه وعلى آله قال: كنتُ نذرتُ في الجاهلية أن أعتكفَ ليلةً في المسجد الحرام قال: "فأَوْفِ بنذرك". ومنها: ما نقله ابن حجر في "التحفة"
(2) عند قول "المنهاج": "بل يصحُّ اعتكافُ الليل وحده" قال: للخبر الصحيح: "ليس على المعتكفِ صيامٌ إلا أن يجعله على نفسه"
(3).
* * * *
أخانا في الله سبحانَه، الوجيه في الأولى والآخرة، العلامة الشيظَمِي
(4)--------------------------------------------
সালাত; সুতরাং যদি তিনি বলেন: "আমি সালাত আদায়রত অবস্থায় ইতিকাফ করার মানত করছি", তবে তার জন্য সালাত থেকে ইতিকাফকে পৃথক করার সুযোগ রয়েছে।
আর আপনাদের বক্তব্য: "বিপরীত কিয়াসের (قياس العكس) ভিত্তিতে ইতিকাফে রোজা শর্ত হওয়ার কথা বলা তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে"—এর যৌক্তিক দিকটি স্পষ্ট হয়নি। দয়া করে এর নিচে ব্যাখ্যাসহ "আল-গায়াহ" শব্দটি উল্লেখ করুন।
আর এই অধমের বিরুদ্ধে তারই পুঁজি দিয়ে আপনাদের উদ্ধৃতি প্রদান ("কিন্তু অন্ধ গোঁড়ামি অন্তরসমূহকে অন্ধ করে দেয়") সঠিক স্থানে প্রযুক্ত হয়নি। কেননা গোঁড়ামি কেবল সেই করে, যে নিরুপায় হয়ে কোনো কিছুর আবশ্যকতা থেকে পলায়নের পথ পায় না। আর আমরা শাফেয়ি মাযহাব অনুসারীদের জন্য—যদি গোঁড়ামিকে ধরেও নেওয়া হয়—তা থেকে নিষ্কৃতির প্রশস্ত অবকাশ রয়েছে; কারণ রোজা শর্ত হওয়া আমাদের ইমামের পুরাতন অভিমত। অথচ আমাদের কাছে নতুন অভিমতের সপক্ষে সহিহ (صحيح) দলীলসমূহ বিদ্যমান। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: রমজানের শেষ দশকে এবং এ জাতীয় সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিন ও রাতে ইতিকাফ করা, যা সহিহাইন-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: যা সহিহাইন-এ
(১) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আমি জাহেলি যুগে মসজিদে হারামে এক রাত ইতিকাফ করার মানত করেছিলাম।" তিনি বললেন: "তোমার মানত পূর্ণ করো।" আরও রয়েছে: ইবনে হাজার 'তুহফা' গ্রন্থে
(২) 'মিনহাজ' এর এই উক্তির অধীনে যা বর্ণনা করেছেন: "বরং কেবল রাতে ইতিকাফ করাও শুদ্ধ হবে।" তিনি বলেন: সহিহ (صحيح) খবরের (خبر)
(৩) কারণে যে: "ইতিকাফকারীর ওপর রোজা রাখা আবশ্যক নয়, যদি না সে তা নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়।"
* * * *
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমাদের ভাই, দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত, আল্লামা আশ-শায়যুমি
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
মাসআলাতু ইশতিরাতিস সাওমি ফিল ইতিকাফ - যিমনা আসারিল মুআল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪৩৩)
عبد الرحمن بن يحيى المعلمي، السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، ونحمد الله إليكم حمدًا كثيرًا مؤبَّدةً أوقاتُه، والصلاة والسلام على خِيَرَة الخلق وآلِه، حَمَلةِ الشرع وهُداتِه، وأيَّده من نعش الهدى نهوضَه المبارك وغاراته.
أما بعدُ، فنقول: (مسألة) العترةُ جميعًا وابن عباس وعبد الله بن عمر ومالك والأوزاعي وأبو حنيفة وأبو ثور: الصوم شرط في الاعتكاف، لقوله صلى الله عليه وآله وسلم: "لا اعتكافَ إلا بالصيام". ولو لم يكن الصيام شرطًا في الاعتكاف لما وجب في نذره كالصلاة. عبد الله بن مسعود والحسن البصري والشافعي وأحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه: لا، لقوله صلى الله عليه وآله وسلم: "ليس على المعتكف صيامٌ إلا أن يجعله على نفسه"، أراد: الصوم لا يجبُ بنية الاعتكاف إلا حيث يجب الاعتكاف، جمعًا بين الأدلة وصيانةً لمنطقه عن اللغو، ولأنه مهما أمكن الجمع بالتأويل وجب. قالوا: قال لعمر: "أوف بنذرك"، وقد نذر اعتكافَ ليلةٍ. قلنا: "بيومها"، بدليل أن إحدى الروايتين أنه نذرَ اعتكافَ يومٍ، فثبتَ اشتراطُ الصيام في صحة الاعتكاف بالدليل وقياس العكس استظهارًا. وقياس العكس إثبات خلاف حكم الأصل في الفرع، فالأصل الصلاة، والفرع الصيام، والعلة عدم وجوب الصلاة بالنذر، أعني: بنذر الاعتكاف مصلِّيًا، وعكس العلة وجوب الصيام بالنذر، والحكم في الأصل عدم اشتراط الصلاة في صحة الاعتكاف، والحكم في الفرع خلافه، وهو اشتراط الصيام في صحة الاعتكاف، وبهذا يستوي قياسُ العكس على سُوقِه.
আব্দুর রহমান ইবন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমী, আপনার প্রতি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমরা আল্লাহর অগণিত ও শাশ্বত প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজন এবং তাঁর বংশধরদের ওপর, যাঁরা শরিয়তের ধারক এবং পথপ্রদর্শক। আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন যিনি হিদায়াতকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে এর বরকতময় উত্থান ও প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করেন।
অতঃপর আমরা বলি: (মাসআলা) সমস্ত ইতরাত (নবী পরিবারের সদস্যগণ), ইবন আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবন ওমর, মালিক, আওযায়ী, আবু হানিফা এবং আবু সাওর-এর অভিমত হলো: ইতিকাফের জন্য রোজা রাখা একটি শর্ত (شرط)। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "রোজা ব্যতীত কোনো ইতিকাফ নেই।" যদি রোজা ইতিকাফের শর্ত (شرط) না হতো, তবে ইতিকাফের মান্নত করার ক্ষেত্রে নামাজের মতো রোজা রাখাও আবশ্যক হতো না। পক্ষান্তরে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ, হাসান বসরী, শাফেয়ী, আহমাদ ইবন হাম্বল এবং ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ বলেন: না (রোজা শর্ত নয়); কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইতিকাফকারীর ওপর রোজা রাখা আবশ্যক নয়, যতক্ষণ না সে তা নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়।" এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন: কেবল ইতিকাফের নিয়তের কারণে রোজা ওয়াজিব (واجب) হয় না, তবে যেখানে ইতিকাফ করা ওয়াজিব (واجب) সেখানে ভিন্ন কথা। এটি বিভিন্ন দলিলের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য এবং তাঁর বাণীকে অনর্থক হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য; আর যেখানেই ব্যাখ্যা (تأويل)-এর মাধ্যমে সমন্বয় করা সম্ভব, সেখানেই তা করা ওয়াজিব (واجب)। তাঁরা বলেন: তিনি ওমর (রা.)-কে বলেছিলেন: "তোমার মান্নত পূর্ণ করো", অথচ তিনি এক রাত ইতিকাফের মান্নত করেছিলেন। আমরা বলি: "দিনের বেলাসহ", এর প্রমাণ হলো একটি বর্ণনা অনুযায়ী তিনি একদিন ইতিকাফের মান্নত করেছিলেন। সুতরাং দলিলের ভিত্তিতে এবং বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে বিপরীত কিয়াস (قياس العكس)-এর মাধ্যমে ইতিকাফ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য রোজা শর্ত (شرط) হওয়া সাব্যস্ত হয়েছে। আর বিপরীত কিয়াস (قياس العكس) হলো মূল (أصل)-এর বিধান (حكم)-এর বিপরীত বিষয় শাখা (فرع)-এর ক্ষেত্রে সাব্যস্ত করা। এখানে মূল (أصل) হলো নামাজ এবং শাখা (فرع) হলো রোজা। আর কার্যকারণ (علة) হলো মান্নতের মাধ্যমে নামাজ ওয়াজিব (واجب) না হওয়া—অর্থাৎ নামাজরত অবস্থায় ইতিকাফের মান্নত করা সত্ত্বেও। আর কার্যকারণ (علة)-এর বিপরীত দিকটি হলো মান্নতের কারণে রোজা ওয়াজিব (واجب) হওয়া। আর মূল (أصل)-এর বিধান (حكم) হলো ইতিকাফ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য নামাজ শর্ত (شرط) না হওয়া; পক্ষান্তরে শাখা (فرع)-এর বিধান (حكم) তার বিপরীত, অর্থাৎ ইতিকাফ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য রোজা শর্ত (شرط) হওয়া। এর মাধ্যমেই বিপরীত কিয়াস (قياس العكس) তার সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।