(খণ্ড: ১)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
قيام رمضان - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: قيام رمضان
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (16)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
কিয়াম রমজান - «আসারুল মুয়াল্লিমি» এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহি মাসয়ালাসমূহ
গ্রন্থ: কিয়াম রমজান
[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৬)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ উযাইর শামস
নিরীক্ষক: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দার আলামুল ফাওয়াইদ প্রকাশনা ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি
শামেলার জন্য পেশ করেছেন: «আতাআত আল-ইলম» সংস্থা، আল্লাহ তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৭৯)
الرسالة الثانية عشرة
قيام رمضان
দ্বাদশ রিসালাহ
রমাদানের কিয়াম
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৮১)
بسم الله الرحمن الرحيم
قيام رمضان
وردت عدة نصوص في الترغيب في القيام مطلقًا، كقوله تعالى: {وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سُجَّدًا وَقِيَامًا} [الفرقان: 64]، وغيرها. ونصوصٌ تؤكّد قيام رمضان، وخاصةً ليلةَ القدر، كحديث "الصحيحين"
(1): "من قام رمضان إيمانًا واحتسابًا غُفر له ما تقدَّم من ذنبه". وفي حديث آخر
(2): "من قام ليلة القدر إيمانًا واحتسابًا غُفِر له ما تقدم من ذنبه".
وثبتت نصوص أخرى تبيِّن عدة صفاتٍ إذا اتصف بها قيام الليل عَظُم أجرُه، وكبُر فضلُه، وإن خلا عن بعضها أو عنها كلّها لم يمنع ذلك من حصول أصل قيام الليل. فلنسمِّها "مكمِّلات"، وهي:
1 ــ أن يكون تهجّدًا، أي بعد النوم.
ومن أدلّة ذلك حديث "الصحيحين"
(3) وغيرهما عن عبد الله بن عمرو مرفوعًا، وفيه: "وأحبُّ الصلاة إلى الله تعالى صلاة داود، كان ينام نصفَ الليل ويقوم ثُلثَه وينام سُدسَه".
وفي "صحيح مسلم"
(4) عن جابر مرفوعًا: "من خاف أن لا يقوم من
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
রমজানের কিয়াম
সাধারণভাবে কিয়ামের (রাত জেগে ইবাদত) প্রতি উৎসাহ প্রদানের বিষয়ে বেশ কিছু দলীল (نصوص) বর্ণিত হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত অতিবাহিত করে} [আল-ফুরকান: ৬৪], এবং আরও অন্যান্য। এছাড়া রমজানের কিয়াম, বিশেষ করে লাইলাতুল কদরের কিয়ামকে গুরুত্ব প্রদান করে এমন কিছু দলীল (نصوص) রয়েছে; যেমন সহীহাইন-এর হাদিস
(১): "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" এবং অন্য একটি হাদিসে
(২) এসেছে: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে।"
আরও কিছু দলীল (نصوص) প্রমাণিত হয়েছে যা এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের বিবরণ দেয় যা কিয়ামুল লাইলে বিদ্যমান থাকলে এর প্রতিদান মহান এবং ফজিলত অনেক বেশি হয়। যদিও এগুলোর কিছু বা সবগুলোর অনুপস্থিতি কিয়ামুল লাইলের মূল সওয়াব অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে না। আমরা এগুলোকে "পরিপূরক বৈশিষ্ট্য" হিসেবে অভিহিত করতে পারি, সেগুলো হলো:
১ ــ তাহাজ্জুদ হওয়া, অর্থাৎ ঘুমের পর (সালাত আদায় করা)।
এর অন্যতম দলিল হলো সহীহাইন ও অন্যান্য কিতাবে আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিস
(৩), যাতে রয়েছে: "আল্লাহ তাআলার নিকট সবচাইতে প্রিয় সালাত হলো দাউদ (আ.)-এর সালাত; তিনি রাতের অর্ধেক সময় ঘুমাতেন, এক-তৃতীয়াংশ সময় কিয়াম করতেন এবং রাতের শেষ ষষ্ঠাংশ সময় পুনরায় ঘুমাতেন।"
এবং সহীহ মুসলিম-এ
(৪) জাবির থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) বর্ণনায় এসেছে: "যে ব্যক্তি আশঙ্কা করে যে সে রাতের শেষ ভাগে জাগ্রত হতে পারবে না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৮২)
آخر الليل فليُوتِرْ أوّلَه، ثم ليرقُدْ، ومن طَمِعَ أن يقوم من آخر الليل فإن صلاة آخر الليل مشهودةٌ محضورةٌ، وذلك أفضل".
2 ــ أن يكون بعد نصف الليل.
ومن أدلّته ما تقدم.
3 ــ أن يستغرق ثلث الليل.
ومن أدلّته: حديث عبد الله بن عمرو المتقدم.
وقد قال الله عز وجل في آخر سورة المزمل: {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} [المزمل: 20]. يريد به: ما تيسَّر من قيام الليل.
4 ــ أن يُكثِر فيه من قراءة القرآن. وهو مِن لازم الثالث؛ لما عُرِف من نظام الصلاة.
5 ــ أن يكون مثنى مثنى، ثم يوتر بركعة.
هذا هو الأكثر من فعل النبي صلى الله عليه وسلم ، وبه أمر مَن سأله عن قيام الليل.
وقد ثبت عنه صلى الله عليه وسلم صُوَرٌ أخرى، منها: مثنى مثنى ويوتر بثلاث.
6 ــ أن لا يزيد عن إحدى عشرة ركعة.
كما ثبت من حديث عائشة في "الصحيحين"
(1) وغيرهما، قالت: "ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد في رمضانَ ولا غيرِه على إحدى عشرة ركعةً
… ". أجابت بهذا مَنْ سألها عن صلاة النبي صلى الله عليه وسلم في الليل في رمضان. وذلك
--------------------------------------------
রাতের শেষাংশে (জাগ্রত হওয়ার ব্যাপারে যার আশঙ্কা রয়েছে) সে যেন রাতের প্রথম ভাগেই বিতর (وتر) আদায় করে নেয়, এরপর ঘুমিয়ে পড়ে। আর যার রাতের শেষাংশে জাগ্রত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকে, সে যেন রাতের শেষাংশেই সালাত আদায় করে; কারণ রাতের শেষাংশের সালাত ফেরেশতাদের উপস্থিতির সাক্ষ্যপ্রাপ্ত এবং এটিই উত্তম।"
২ ــ এটি যেন মধ্যরাতের পরে হয়।
এর সপক্ষে ইতিপূর্বে বর্ণিত প্রমাণাদি রয়েছে।
৩ ــ এটি যেন রাতের এক-তৃতীয়াংশ ব্যাপী হয়।
এর প্রমাণাদির মধ্যে রয়েছে: আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদিসটি।
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সূরা আল-মুযাম্মিলের শেষে ইরশাদ করেছেন: {অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজসাধ্য হয় ততটুকু পাঠ করো} [আল-মুযাম্মিল: ২০]। এর মাধ্যমে তিনি রাতের সালাত (قیام الليل) থেকে যতটুকু সহজসাধ্য হয় তাকেই বুঝিয়েছেন।
৪ ــ এতে অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা। এটি তৃতীয় পয়েন্টের একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ; কারণ সালাতের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম থেকেই এটি জানা যায়।
৫ ــ সালাত দুই দুই রাকাত করে হওয়া, এরপর এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর (وتر) করা।
এটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল থেকে সর্বাধিক প্রমাণিত (ثابت), এবং যে ব্যক্তি তাঁকে রাতের সালাত (قیام الليل) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাকে তিনি এই নির্দেশই দিয়েছিলেন।
তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অন্যান্য পদ্ধতিও প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: দুই দুই রাকাত করে আদায় করা এবং তিন রাকাতের মাধ্যমে বিতর (وتر) করা।
৬ ــ এগারো রাকাতের বেশি না হওয়া।
যেমনটি আয়েশা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস হতে সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম
(১) এবং অন্যান্য গ্রন্থে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদান কিংবা রমাদান ব্যতীত অন্য কোনো সময়েই এগারো রাকাতের অধিক বৃদ্ধি করতেন না
… "। যারা তাঁকে রমাদানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি তাদের এই উত্তর প্রদান করেন। এবং এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৩)
صريح في أن المشروع في قيام رمضان هو المشروع في غيره، إلَّا أنه آكدُ
(1) فيه.
وقد جاء عنها أنه صلَّى في بعض الليالي ثلاث عشرة ركعة
(2).
وفي "المستدرك" وغيره
(3) عن أبي هريرة مرفوعًا: "لا تُوتِروا بثلاثٍ تَشبَّهوا بالمغرب، ولكنْ أوتروا بخمسِ أو بسبعٍ أو بتسعٍ أو بإحدى عشرة أو بأكثر من ذلك".
والمراد ــ والله أعلم ــ بالوتر في هذا الحديث: قيام الليل، كأنه كره الاقتصار على ثلاثٍ وأمرَ بالزيادة عليها. وأكثرُ ما جمع النبي صلى الله عليه وسلم بينه بتكبيرةٍ واحدةٍ تسع ركعات. فهو ــ والله أعلم ــ أكثر الوتر الحقيقي، فأمَّا الوتر بمعنى قيام الليل المشتمل على الوتر فلا مانعَ من الزيادة فيه، والأفضلُ ما تقدّم.
7 ــ أن يكون فُرادى. كما هو الغالب من فعل النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وهو كاللازم للأمر الآتي.
--------------------------------------------
এটি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, রমজানের কিয়ামের (রাতের ইবাদত) ক্ষেত্রে যা বিধানসম্মত, তা অন্য সময়েও বিধানসম্মত; তবে রমজানে এটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ (آكد)
(১)।
তাঁর (আয়েশা রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো কোনো রাতে তেরো রাকাত নামাজ পড়েছেন
(২)।
"আল-মুস্তাদরাক" এবং অন্যান্য গ্রন্থে
(৩) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা মাগরিবের নামাজের সদৃশ করে তিন রাকাত বিতর পড়ো না। বরং পাঁচ, সাত, নয়, এগারো বা তার চেয়েও বেশি রাকাত দ্বারা বিতর আদায় করো।"
এই হাদিসে বিতর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—রাতের কিয়াম; যেন তিনি তিন রাকাতে সীমাবদ্ধ থাকাকে অপছন্দ করেছেন এবং এর চেয়ে বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক তাকবিরে সর্বোচ্চ যে নামাজগুলো একত্রে পড়েছেন তা হলো নয় রাকাত। সুতরাং আল্লাহই ভালো জানেন, এটিই প্রকৃত বিতরের সর্বোচ্চ পরিমাণ। আর বিতর বলতে যদি বিতরসহ কিয়ামুল লাইল (রাতের নামাজ) বুঝানো হয়, তবে তাতে রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনো বাধা নেই; তবে পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তাই উত্তম।
৭—একাকী হওয়া। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের অধিকাংশ আমল থেকে প্রমাণিত এবং এটি পরবর্তী নির্দেশের জন্য আবশ্যকীয় বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৪)
ومع ذلك، فقد ثبت عن ابن مسعود اقتداؤه بالنبي صلى الله عليه وسلم في بعض قيام الليل. وكذلك عن [ص 2] ابن عباسٍ لمّا بات في بيت النبي صلى الله عليه وسلم . وسيأتي ما يشهد لذلك.
8 ــ أن يكون في البيت.
ومن أدلته: حديث "الصحيحين"
(1) وغيرهما عن زيد بن ثابت قال: "احتجرَ رسول الله صلى الله عليه وسلم حُجَيرةً بخَصَفةٍ أو حصيرٍ، فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلّي فيها، قال: فتتبَّع إليه رجالٌ وجاءوا يُصلُّون بصلاته، قال: ثم جاءوا ليلةً فحضروا، وأبطأ رسول الله صلى الله عليه وسلم عنهم، قال: فلم يخرج إليهم، فرفعوا أصواتهم وحَصَبُوا الباب، فخرج إليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم مُغضَبًا، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم : "ما زال بكم صنيعُكم حتى ظننتُ أنه سيُكْتَب عليكم، فعليكم بالصلاة في بيوتكم، فإن خير صلاة المرء في بيته إلا الصلاة المكتوبة".
هذا لفظ مسلمٍ في الصلاة، باب "استحباب صلاة النافلة في البيت"، ونحوه للبخاري في "صحيحه"، في كتاب الأدب، "باب ما يجوز من الغضب".
والحديث وارد في قيام رمضان كما يأتي، وذلك قاضٍ بشمول الحكم له نصًّا، فلا يُقبَل أن يُخرَج منه بتخصيص
(2).
--------------------------------------------
তদুপরি, ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি রাতের সালাতের (قيام الليل) কোনো কোনো অংশে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ করেছিলেন। একইভাবে [পৃষ্ঠা ২] ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘরে রাত্রিযাপন করেছিলেন। এর সপক্ষে যা সাক্ষ্য দেয় তা সামনে আসবে।
৮ — এটি যেন ঘরে হয়।
এর অন্যতম দলিল হলো: "সহিহাইন"
(১) ও অন্যান্য গ্রন্থে জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খেজুরের ডাল বা চাটাই দিয়ে একটি ঘেরা তৈরি করলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে সালাত আদায় করতে বের হলেন। তিনি বলেন: তখন কিছু লোক তাঁর অনুসরণ করল এবং তাঁর সালাতের সাথে সালাত আদায় করতে আসলেন। তিনি বলেন: এরপর এক রাতে তাঁরা আসলেন এবং উপস্থিত হলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের কাছে আসতে দেরি করলেন। তিনি বলেন: তিনি তাঁদের কাছে বের হলেন না, তখন তাঁরা উচ্চস্বরে আওয়াজ করলেন এবং দরজায় কাঁকর ছুঁড়লেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগান্বিত অবস্থায় তাঁদের কাছে বের হলেন এবং তাঁদের বললেন: "তোমাদের এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকল যে পর্যন্ত না আমার আশঙ্কা হলো যে এটি তোমাদের ওপর ফরজ (مكتوبة) করে দেওয়া হবে। সুতরাং তোমরা তোমাদের ঘরেই সালাত আদায় করো। কেননা ফরজ (مكتوبة) সালাত ব্যতীত ব্যক্তির সর্বোত্তম সালাত হলো তার ঘরে"।"
এটি মুসলিম-এর শব্দাবলী, যা সালাত অধ্যায়ের "ঘরে নফল (نافلة) সালাত আদায় মুস্তাহাব (استحباب) হওয়া" পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপ বর্ণনা বুখারি তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে কিতাবুল আদাব-এর "রাগান্বিত হওয়া যখন জায়েজ" পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন।
এই হাদিসটি রমজানের কিয়াম (قيام رمضان) বা তারাবিহ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যেমনটি সামনে আসবে। আর এটি নস (نص) হিসেবে হুকুমটি এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা প্রদানকারী; সুতরাং কোনো নির্দিষ্টকরণের (تخصيص) মাধ্যমে একে এর বাইরে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৫)
وذكر مسلم رواية أخرى
(1) قال في متنها: "إن النبي صلى الله عليه وسلم اتخذ حُجْرةً في المسجد من حصيرٍ، فصلَّى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها لياليَ حتى اجتمع إليه ناسٌ، فذكر نحوه وزاد فيه: "ولو كُتِبَ عليكم ما قمتم به".
وهذه الرواية في "صحيح البخاري"
(2) في كتاب الاعتصام، "باب ما يُكْره من كثرة السؤال، ومن تكلُّفِ ما لا يعنيه"، وقوله تعالى: {لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ} [المائدة: 101]، وفيها بعد قوله: "ليالي": "حتى اجتمع إليه ناسٌ، ففقدوا صوتَه ليلةً، فظنوا أنه قد نام، فجعل بعضهم يتنحنح ليخرج إليهم، فقال: "ما زال بكم الذي رأيتُ من صنيعكم حتى خشيتُ أن يُكْتَب عليكم، ولو كُتِب عليكم ما قمتم به، فصلُّوا أيها الناس في بيوتكم؛ فإن أفضل صلاة المرء في بيته إلا المكتوبة".
وفي رواية للبخاري
(3) في كتاب الصلاة، في "باب صلاة الليل" قُبيلَ "أبواب صفة الصلاة": "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم اتخذ حجرةً ــ قال: حسبتُ أنه قال: من حصيرٍ ــ في رمضان، فصلَّى فيها لياليَ، فصلَّى بصلاته ناسٌ من أصحابه، فلما علم بهم جعل يقعد
… ".
علَّل أمرهم بالصلاة في البيوت بأنها في غير المكتوبة خير وأفضل،
--------------------------------------------
ইমাম মুসলিম অন্য একটি বর্ণনা
(1) উল্লেখ করেছেন, যার পাঠে (متن) তিনি বলেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে চাটাই দিয়ে একটি কামরা তৈরি করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে কয়েক রাত সালাত আদায় করলেন, একপর্যায়ে কিছু লোক তাঁর নিকট একত্রিত হলো।" এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করলেন এবং তাতে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: "আর যদি এটি তোমাদের ওপর ফরজ (مكتوب) করে দেওয়া হতো, তবে তোমরা তা পালন করতে পারতে না।"
আর এই বর্ণনাটি (رواية) সহীহ বুখারীর
(2) 'কিতাবুল ইতিসাম'-এর 'অধিক প্রশ্ন করা এবং অনর্থক বিষয়ে কষ্ট কল্পনা করা অপছন্দনীয় হওয়া' অনুচ্ছেদে এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে} [মায়েদাহ: ১০১]-এর অধীনে বর্ণিত হয়েছে। তাতে 'কয়েক রাত' শব্দের পর রয়েছে: "একপর্যায়ে কিছু লোক তাঁর নিকট একত্রিত হলো, কিন্তু এক রাতে তারা তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পেল না। তারা ভাবল তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। তাই তাদের কেউ কেউ গলা খাঁকারি দিতে লাগল যেন তিনি তাদের নিকট বেরিয়ে আসেন। তখন তিনি বললেন: 'তোমাদের এই কাজ যা আমি দেখলাম তা অব্যাহত ছিল, এমনকি আমি আশঙ্কা করলাম যে এটি তোমাদের ওপর ফরজ (مكتوب) করে দেওয়া হবে। আর যদি তোমাদের ওপর ফরজ (مكتوب) করে দেওয়া হতো, তবে তোমরা তা পালন করতে পারতে না। অতএব হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো; কেননা ফরজ (مكتوبة) সালাত ব্যতীত মানুষের শ্রেষ্ঠ সালাত হলো তার ঘরে আদায়কৃত সালাত'।"
সহীহ বুখারীর অন্য একটি বর্ণনায় (رواية)
(3) 'কিতাবুস সালাত'-এর 'সালাতুল লাইল' অনুচ্ছেদে, 'সালাতের বৈশিষ্ট্য' অধ্যায়সমূহের ঠিক আগে বর্ণিত হয়েছে: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে একটি কামরা তৈরি করেছিলেন—বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন: চাটাইয়ের তৈরি—সেখানে তিনি কয়েক রাত সালাত আদায় করেন। তাঁর সালাতের সাথে তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে কিছু লোকও সালাত আদায় করেন। যখন তিনি তাদের সম্পর্কে জানতে পারলেন, তখন তিনি বসে রইলেন
… "।
তিনি তাদের ঘরে সালাত আদায়ের নির্দেশের কারণ (علة) দর্শিয়েছেন এই বলে যে, তা ফরজ (مكتوبة) সালাত ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে অধিক কল্যাণকর ও উত্তম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৬)
فثبت أنه إنما أمرَهم أمرَ إرشادٍ لتحصيل زيادة الفضل، وأن الصلاة في المسجد فيها خيرٌ في الجملة وفضلٌ، وذلك شامل لقيام رمضان.
والظاهر أنه صلى الله عليه وسلم كان تلك الليالي معتكفًا، والمسجد بيت المعتكف، فلا يكون في صلاته فيه ما ينافي منطوق الحديث.
وكأنه كان يقتدي به أولًا المعتكفون، ومَنْ في معناهم من أهل الصُّفَّة الذين لا بيتَ لهم إلَّا المسجد، فلم ينكر عليهم. ثم حضر غيرهُم، ولم يشعُرْ صلى الله عليه وسلم، فلمَّا شَعَرَ قعد.
وما يقع في بعض روايات حديث عائشة ممّا قد خالف ما هنا: الظاهرُ أنه من تصرُّفِ بعض الرواة، من باب الرواية بالمعنى على حسب ما فهم، والله أعلم.
مقارنة بين حديث زيدٍ وحديث عائشة
قد وردت القصة من حديث عائشة، ولكن في حديث زيدٍ زيادتان:
الأولى: ما فيه مِنْ ذكر [ص 3] تنحنُحِ القوم، ورفْعِهم أصواتَهم، وحَصْبِهم البابَ، وغضَبِ النبي صلى الله عليه وسلم.
الثانية: ما فيه مرفوعًا: "فعليكم بالصلاة في بيوتكم؛ فإن خير صلاة المرء في بيته إلا المكتوبة".
والزيادة الأولى تُفْهِم أن صنيعهم ذاك هو الذي خشي النبي صلى الله عليه وسلم أن يُعاقَبوا عليه بفرضِ قيام الليل في المسجد عليهم.
وأشار إلى ذلك البخاريُّ؛ إذ ذكر الحديث في كتاب الاعتصام "باب ما
সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, তিনি তাদের অতিরিক্ত মর্যাদা অর্জনের জন্য নির্দেশনামূলক (إرشاد) নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। আর মসজিদে নামাজ পড়ার মধ্যে সামগ্রিকভাবে কল্যাণ ও মর্যাদা নিহিত রয়েছে, যা রমজানের কিয়ামের (রাতের নামাজের) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
প্রকাশ্যত (الظاهر) প্রতীয়মান হয় যে, সেই রাতগুলোতে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইতিকাফে (معتكفًا) ছিলেন। আর মসজিদ হলো ইতিকাফকারীর জন্য ঘরের মতো। সুতরাং সেখানে তাঁর নামাজ আদায় করা হাদিসের স্পষ্ট ভাষ্যের (منطوق) পরিপন্থী নয়।
সম্ভবতঃ প্রাথমিকভাবে ইতিকাফকারীগণ এবং তাদের পর্যায়ভুক্ত আহলে সুফফার সদস্যগণ—যাদের মসজিদ ছাড়া কোনো ঘর ছিল না—তাঁকে অনুসরণ করেছিলেন। তাই তিনি তাদের নিষেধ করেননি। পরবর্তীতে অন্যরা উপস্থিত হলো, যা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথমে বুঝতে পারেননি। যখন তিনি বুঝতে পারলেন, তখন তিনি বসে রইলেন (নামাজে বের হলেন না)।
আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের কিছু বর্ণনায় (روايات) এখানে বর্ণিত বিষয়ের পরিপন্থী যা কিছু পাওয়া যায়, তা বাহ্যত (الظاهر) কোনো কোনো বর্ণনাকারীর (رواة) নিজস্ব ভাষ্য বলে মনে হয়। এটি সম্ভবত তাদের নিজস্ব অনুধাবন অনুযায়ী অর্থগত বর্ণনার (الرواية بالمعنى) অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
জায়েদ (রা.) ও আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের মধ্যে তুলনা
আয়েশা (রা.)-এর হাদিসেও এই ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে, তবে জায়েদ (রা.)-এর হাদিসে দুটি অতিরিক্ত অংশ (زيادتان) রয়েছে:
প্রথমত: এতে লোকজনের গলা খাঁকারি দেওয়া, উচ্চস্বরে কথা বলা, দরজায় পাথর নিক্ষেপ করা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রাগান্বিত হওয়ার উল্লেখ রয়েছে। [পৃষ্ঠা ৩]
দ্বিতীয়ত: এতে বর্ণিত মারফু (مرفوعًا) অংশটি: "তোমরা তোমাদের ঘরেই নামাজ আদায় করবে; কারণ ফরজ (المكتوبة) নামাজ ছাড়া মানুষের সর্বোত্তম নামাজ হলো তার ঘরে।"
প্রথম অতিরিক্ত অংশটি (الزيادة) থেকে বোঝা যায় যে, তাদের ওই আচরণের কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আশঙ্কা করেছিলেন যে, তাদের ওপর মসজিদে কিয়ামুল লাইল (রাতের নামাজ) ফরজ হওয়ার মাধ্যমে তাদের কষ্ট দেওয়া হতে পারে।
ইমাম বুখারি এ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন; যখন তিনি কিতাবুল ইতিসামের "অধ্যায়: যা..." অংশে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৭)
يُكْرَه من كثرة السؤال، ومن تكلُّفِ ما لا يعنيه"، وقوله تعالى: {لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ}، وذكر معه حديث: "إنَّ أعظم المسلمين جرمًا من سأل عن شيء لم يُحرَّم فحُرِّم من أجْلِ مسألته"
(1).
والزيادة الثانية تُفْهِم أن سبب احتباس النبي صلى الله عليه وسلم عنهم هو إرادة صَرْفِهم إلى الصلاة في بيوتهم؛ لأنها أفضل.
ولو خلا الحديث عن هاتين الزيادتين لكان ظاهره أن الصنيع الذي خشي أن يترتَّبَ عليه الفرض هو مثابرة القوم على الحضور، وأن سبب احتباس النبي صلى الله عليه وسلم هو إرادة قطع المثابرة قبل أن يترتّب عليها الفرض.
والظاهر أن خلوَّ حديث عائشة عن هاتين الزيادتين سببه أنها كانت في بيتها إذْ كان زيدٌ في المسجد شريكًا في القصة، وأن ذلك أدّى إلى هذا الفهم على ما فيه، ففي "الصحيحين"
(2) من طريق مالك عن ابن شهاب عن عروة عن عائشة، قالت: "إن كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لَيدَعُ العملَ وهو يُحِبُّ أن يعملَ به، خشيةَ أن يعملَ به الناس فيُفْرَضَ عليهم".
لا أرى مأخذ هذا المعنى إلّا ما فُهِم من تلك القصة، بسبب خلوِّها عن تَيْنِكَ الزيادتين.
قد يقال: إنّ هذا وإن استقام بالنظر إلى بعض روايات حديث عائشة، فلا يستقيم بالنظر إلى بعضها.
--------------------------------------------
"অধিক প্রশ্ন করা এবং অনর্থক বিষয়ে নিজেকে কষ্ট দেওয়া অপছন্দনীয় (مكروه)", এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে}, এর সাথে তিনি এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধী সেই ব্যক্তি, যে এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে যা হারাম (حرام) ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম (حরাম) করা হয়েছে"
(১).
আর দ্বিতীয় অতিরিক্ত বর্ণনাটি (زيادة) এই ব্যঞ্জনা দেয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তাঁদের থেকে বিরত থাকার কারণ ছিল তাঁদেরকে নিজেদের ঘরে সালাত আদায়ের দিকে ধাবিত করার ইচ্ছা; কারণ তা-ই উত্তম।
যদি হাদিসটি এই দুটি অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) থেকে মুক্ত থাকতো, তবে এর বাহ্যিক দিক থেকে প্রতীয়মান হতো যে, যে কাজটি ফরজ (فرض) হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল তা হলো লোকজনের উপস্থিতিতে অবিচল থাকা; আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরত থাকার উদ্দেশ্য ছিল ফরজ (فرض) হওয়ার আগেই সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটানো।
আর স্পষ্টত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসে এই দুটি অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) না থাকার কারণ হলো, তিনি তখন তাঁর ঘরে ছিলেন এবং জায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তখন মসজিদে এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। আর এটিই এই ধরণের উপলব্ধির কারণ হয়েছে। সহীহাইনে ইমাম মালিকের সূত্রে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো আমল করতে ভালোবাসলেও তা ছেড়ে দিতেন এই ভয়ে যে, পাছে লোকজন তা পালন করা শুরু করে এবং তাদের ওপর তা ফরজ (فرض) করে দেওয়া হয়।"
আমি এই অর্থের উৎস সেই ঘটনা থেকে প্রাপ্ত উপলব্ধি ছাড়া আর কিছু দেখি না, যা মূলত ওই দুটি অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادة) না থাকার কারণে হয়েছে।
বলা যেতে পারে যে: এটি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসের কিছু বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে সঠিক হলেও সকল বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে সঠিক নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৮)
فأمّا الأول: فرواية عمرة عن عائشة، وأكثر الروايات عن أبي سلمة عن عائشة.
ولفظ البخاري
(1) عن عمرة: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يُصلِّي من الليل في حُجرته، وجدار الحجرة قصير، فرأى الناسُ شخصَ النبي صلى الله عليه وسلم ، فقام ناسٌ يصلُّون بصلاته، فأصبحوا فتحدثوا بذلك، فقام ليلةَ الثانية
(2)، فقام معه ناس يصلُّون بصلاته، صنعوا ذلك ليلتين أو ثلاثًا، حتى إذا كان بعد ذلك جلس رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يخرج، فلما أصبح ذكر ذلك الناس، فقال: "إني خَشِيتُ أن تُكتَبَ عليكم صلاةُ الليل".
ذكره البخاري قبل أبواب صفة الصلاة، في "باب إذا كان بين الإمام وبين القوم حائط أو سترة". ثم قال بعده: "باب صلاة الليل"، فأخرج
(3) من طريق أبي سلمة بن عبد الرحمن عن عائشة: "أن النبي صلى الله عليه وسلم كان له حصيرٌ يَبْسُطه بالنهار، ويَحتجِرُه بالليل، فثاب إليه ناسٌ فصلَّوا وراءه". [ص 4] كذا أخرجه مختصرًا.
وقد أخرجه مسلم
(4)، ولفظه: "كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم حصيرٌ، وكان يُحَجِّرُه من الليل، فيصلّي فيه، فجعل الناس يصلّون بصلاته، وَيْبسُطُه بالنهار. فثابوا ذاتَ ليلةٍ، فقال: "يا أيها الناس، عليكم من الأعمال ما تُطِيقون؛ فإن الله لا يَمَلُّ حتى تَمَلُّوا، وإن أحبَّ الأعمالِ إلى الله ما دُووِمَ عليه
--------------------------------------------
প্রথমত: আমরাহ থেকে আয়িশাহ (রা.) এর বর্ণনা (رواية), তবে অধিকাংশ বর্ণনা (رواية) আবু সালামাহ থেকে আয়িশাহ (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত।
বুখারীর শব্দ (لفظ) আমরাহ থেকে উদ্ধৃত: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাঁর হুজরায় সালাত আদায় করতেন, আর হুজরার দেয়াল ছিল নিচু। ফলে লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবয়ব দেখতে পেত। তখন কিছু লোক দাঁড়িয়ে তাঁর সালাতের সাথে সালাত আদায় করতে লাগল। সকালে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করল। দ্বিতীয় রাতেও তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে কিছু লোক তাঁর সালাতের সাথে সালাত আদায় করল। তারা এভাবে দুই বা তিন রাত করল। এরপর যখন পরবর্তী রাত এল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে থাকলেন এবং বের হলেন না। সকালে লোকেরা যখন তা উল্লেখ করল, তখন তিনি বললেন: 'আমি আশঙ্কা করেছি যে, তোমাদের ওপর রাতের সালাত ফরজ (تكتب) করে দেওয়া হবে'।"
বুখারী এটি সালাতের বিবরণের পরিচ্ছেদসমূহের পূর্বে "অধ্যায়: যখন ইমাম ও মুক্তাদীদের মাঝে দেয়াল বা সুতরাহ (سترة) থাকে" অনুচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি এরপর "রাতের সালাত অধ্যায়" উল্লেখ করেছেন এবং আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে আয়িশাহ (রা.) এর সূত্র (طريق) হতে সংকলন (أخرج) করেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি চাটাই ছিল যা তিনি দিনে বিছিয়ে রাখতেন এবং রাতে তা দিয়ে ঘেরা দিয়ে কক্ষ বানিয়ে নিতেন। ফলে কিছু লোক তাঁর নিকট সমবেত হলো এবং তাঁর পিছনে সালাত আদায় করল।" [পৃষ্ঠা ৪] তিনি এভাবেই এটি সংক্ষিপ্ত আকারে সংকলন (أخرجه) করেছেন।
মুসলিমও এটি সংকলন (أخرجه) করেছেন এবং তাঁর শব্দ (لفظ) হলো: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি চাটাই ছিল, যা তিনি রাতে ঘেরা দিয়ে নিতেন এবং তাতে সালাত আদায় করতেন। তখন লোকেরা তাঁর সালাতের অনুকরণে সালাত আদায় করতে লাগল। আর তিনি তা দিনে বিছিয়ে রাখতেন। এক রাতে যখন তারা সমবেত হলো, তখন তিনি বললেন: 'হে লোকসকল! তোমরা সেই পরিমাণ আমল করো যা করার সামর্থ্য তোমাদের আছে; কেননা আল্লাহ ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও। আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত (ما دووم عليه) করা হয়'।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৮৯)
وإنْ قَلّ". وكان آل محمد صلى الله عليه وسلم إذا عملوا عملًا أثبتوه".
وفي "فتح الباري"
(1) في "باب تحريض النبي صلى الله عليه وسلم على قيام الليل" ما لفظه: "في رواية أبي سلمة المذكورة قبيل صفة الصلاة: "خشيتُ أن تُكْتَب عليكم صلاة الليل".
كذا قال، وتبعه العينيّ
(2)! وإنما هذا في رواية عمرة، كما مرّ.
وأمّا الثاني: فما في "الصحيحين"
(3) وغيرهما من رواية مالك عن ابن شهاب عن عروة عن عائشة "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلَّى ذاتَ ليلة في المسجد، فصلَّى بصلاته ناس، ثم صلَّى من القابلة فكثر الناس، ثم اجتمعوا من الليلة الثالثة ــ أو الرابعة ــ فلم يخرج إليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم . فلما أصبح قال: "قد رأيتُ الذي صنعتم، ولم يمنعني من الخروج إليكم إلا أني خشيتُ أن تُفْرَضَ عليكم" وذلك في رمضان".
ففي هذه الرواية جاء هذا التعليل من لفظ النبي صلى الله عليه وسلم ، فكيف يستقيم أن يقال: إنه إنما فُهِم من حديث عائشة لخلوِّه عن الزيادتين الثابتتين في حديث زيد؟ !
أقول: في "فتح الباري"
(4) في الكلام على رواية عروة: "ظاهر هذا الحديث أنه صلى الله عليه وسلم توقَّعَ ترتُّبَ افتراضِ الصلاة بالليل جماعةً على وجود
--------------------------------------------
"যদাপি তা অল্প হয়"। আর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পরিজনবর্গ যখন কোনো কাজ করতেন, তখন তা দৃঢ়ভাবে (নিয়মিত) পালন করতেন।
এবং "ফাতহুল বারী"
(১) গ্রন্থে ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রাতের নামাজের (তাহাজ্জুদ) প্রতি উৎসাহ প্রদান’ অধ্যায়ে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "নামাজের বিবরণ অধ্যায়ের ঠিক পূর্বে উল্লেখিত আবু সালামাহ-এর বর্ণনায় রয়েছে: 'আমি আশঙ্কা করছিলাম যে তোমাদের ওপর রাতের নামাজ ফরজ (تُكْتَب) করে দেওয়া হবে'।"
তিনি এভাবেই বলেছেন এবং আইনি
(২) তাঁকে অনুসরণ করেছেন! অথচ ইতিপূর্বে যেমন অতিক্রান্ত হয়েছে, এটি মূলত আমরাহ-এর বর্ণনায় রয়েছে।
আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: যা "সহীহাইন" ও অন্যান্য গ্রন্থে মালিক, ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "রাসুলুল্লাহ (সা.) এক রাতে মসজিদে নামাজ আদায় করলেন, অতঃপর তাঁর নামাজের সাথে লোকেরাও নামাজ আদায় করল। এরপর পরবর্তী রাতে তিনি নামাজ আদায় করলেন এবং লোকসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেল। অতঃপর তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাতে তারা একত্রিত হলেও রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন না। যখন সকাল হলো, তিনি বললেন: 'তোমরা যা করেছ তা আমি দেখেছি। তোমাদের নিকট বেরিয়ে আসতে আমাকে কোনো কিছুই বাধা দেয়নি, কেবল এই আশঙ্কা ব্যতীত যে তোমাদের ওপর তা ফরজ (تُفْرَضَ) করে দেওয়া হতে পারে।' আর এটি ছিল রমজান মাসে।"
সুতরাং এই বর্ণনায় স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখনিঃসৃত শব্দে এই কারণটি এসেছে। অতএব, এই কথা বলা কীভাবে সংগত হতে পারে যে, এটি কেবল আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকেই অনুধাবন করা হয়েছে যেহেতু তাতে জায়েদ-এর হাদিসে প্রমাণিত অতিরিক্ত অংশ দুটি অনুপস্থিত?!
আমি বলব: "ফাতহুল বারী"
(৪) গ্রন্থে উরওয়াহ-এর বর্ণনার আলোচনায় বলা হয়েছে: "এই হাদিসের বাহ্যিক দিক হলো যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) জামাতের সাথে রাতের নামাজ ফরজ (افتراض) হওয়ার পরিণতির আশঙ্কা করছিলেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৯০)
المواظبة عليها، وفي ذلك إشكال
… ".
[ص 5] وحاصِلُ الإشكال موضَّحًا: أن الصحابة رضي الله عنهم كانوا قد عرفوا فضل قيام رمضان، ولم يكونوا يعلمون أنه في البيوت أفضل، فلمّا سمعوا أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج يصلِّيه
(1) في مسجده، ويأتمُّ به مَنْ حضر؛ ظنّوا معذورين أن حضورهم للصلاة مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد أفضل، والمداومةُ التي كانت قد وقعت منهم قبل أن يذكر النبي صلى الله عليه وسلم قصةَ الفرض= كان الظاهر أن النبي صلى الله عليه وسلم أقرّهم عليها، فتأكّد العذر، ولو كان العمل مشروعًا ولم يقطعه النبي صلى الله عليه وسلم لكان عملًا كلّه خير.
والفرضُ الذي خشيه النبي صلى الله عليه وسلم
(2) كان عقوبةً، بدليل قوله: "ولو كُتِب عليكم ما قمتم به".
وقد فهم البخاري ذلك، فأخرج الحديث في باب ما يُكرَه من السؤال
(3)، وذكر معه آية: {لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ}، وحديث: "إن أعظمَ المسلمين جرمًا مَن سأل عن شيء لم يُحرَّم فحُرِّم من أجل مسألته". وقد قال الله عز وجل: {فَبِظُلْمٍ مِنَ الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ طَيِّبَاتٍ أُحِلَّتْ لَهُمْ وَبِصَدِّهِمْ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ كَثِيرًا (160) وَأَخْذِهِمُ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ مِنْهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا} [النساء: 160 ــ 161]. فكيف تكون المداومة على عملٍ
--------------------------------------------
এতে অবিচল থাকা (المواظبة), আর এর মধ্যে একটি জটিলতা (إشكال) রয়েছে
… "।
[পৃষ্ঠা ৫] জটিলতাটির (الإشكال) ব্যাখ্যায়িত সারসংক্ষেপ হলো: সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) রমজানের কিয়ামের ফজিলত সম্পর্কে অবগত ছিলেন, কিন্তু তারা জানতেন না যে এটি ঘরে আদায় করা উত্তম। অতঃপর যখন তারা শুনলেন যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি তাঁর মসজিদে আদায়ের জন্য বের হয়েছেন
(১) এবং যারা উপস্থিত ছিলেন তারা তাঁর ইক্তেদা করছেন; তখন তারা ওজরগ্রস্ত হিসেবে ধারণা করেছিলেন যে মসজিদে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে সালাতে উপস্থিত হওয়া উত্তম। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক আবশ্যিক হওয়ার (الفرض) বিষয়টি উল্লেখ করার আগে তাদের পক্ষ থেকে যে নিরবচ্ছিন্নতা (المداومة) প্রকাশ পেয়েছিল—বাহ্যত মনে হচ্ছিল যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সে কাজে মৌন সম্মতি (أقرّهم) প্রদান করেছেন, ফলে ওজরটি সুনিশ্চিত হয়েছিল। আর যদি আমলটি বিধিবদ্ধ (مشروعًا) হতো এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা বন্ধ না করতেন, তবে সেই আমলটি সামগ্রিকভাবেই কল্যাণকর হতো।
আর যে আবশ্যিক বিধানের (الفرض) ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
(২) আশঙ্কা করেছিলেন তা ছিল একটি শাস্তি (عقوبة), যার প্রমাণ তাঁর এই বাণী: "যদি এটি তোমাদের ওপর ফরজ করা হতো, তবে তোমরা তা পালন করতে পারতে না"৷
ইমাম বুখারি এটি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, তাই তিনি হাদিসটি 'প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে যা অপছন্দনীয়'
(৩) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং এর সাথে এই আয়াতটি উল্লেখ করেছেন: {তোমরা এমন সব বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করো না}, এবং হাদিস: "নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যে অপরাধের বিচারে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে বড় অপরাধী, যে এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছে যা হারাম করা হয়নি, অতঃপর তার প্রশ্নের কারণে তা হারাম করা হয়েছে"। আর আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {অনন্তর ইহুদিদের জুলুমের কারণে আমি তাদের জন্য অনেক পবিত্র বস্তু হারাম করে দিয়েছি যা তাদের জন্য হালাল ছিল এবং আল্লাহর পথে তাদের অধিক বাধা প্রদানের কারণে (১৬০) এবং তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, যদিও তাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করার কারণে; আর আমি তাদের জন্য যারা কাফির তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি} [আন-নিসা: ১৬০-১৬১]। সুতরাং কোনো কার্যের ওপর নিরবচ্ছিন্নতা (المداومة) কীভাবে হতে পারে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৯১)
مشروعٍ فاضلٍ سببًا لمثل هذا الفرض؟
وقد أجيب عن هذا الإشكال أجوبة لا تُسْمِن ولا تُغنِي من جوع، وفيه إشكال آخر، بناءً على فرضِ أن أصل ذلك العمل مشروع، وإنما تركه النبي صلى الله عليه وسلم لمانعٍ، وهو الخشية؛ فإنه لو صحَّ هذا لكان على الخلفاء الراشدين أن يعملوا بهذا عند زوال المانع بوفاته صلى الله عليه وسلم ، فيؤمُّوا الناسَ في قيام رمضان في المساجد. فلماذا تركوه؟
أجاب بعضهم: أن الصحابة كانوا في زمن أبي بكر مشغولين بحروب الردّة، ولهذا لمّا استقرّ الأمر عمل به عمر.
وفي هذا أوّلًا: أنّ تضايق المدينة في قصة الردّة لم يَطُلْ، وبقي أبو بكر بعد ذلك مدةً متمكِّنًا كلَّ التمكُّن من القيام بالناس في المسجد لو أراد، وأن عمر لم يَقُم بالناس في المسجد قطّ، وإنّما أمر بما أمر به في آخر خلافته، فإنه استُشهِد آخرَ سنة 23.
وقد روى عبد الرحمن بن عبد القاريُّ القصةَ كما في "صحيح البخاري"
(1) أنه شهدها، وفي القصة ما يقتضي أن يكون عبد الرحمن حينئذٍ من أصحاب عمر، يدخل بدخوله ويخرج بخروجه، مع أن عُمره لوفاة عمر كان تقريبًا عشرين سنة، وعلى ما رجحه ابن حجر في "الإصابة"
(2) أربع عشرة سنة.
ورواها أيضًا روايةً واعيةً نوفلُ بن إياس الهذلي كما يأتي، مع أنهم لم يذكروه فيمن وُلِد في العهد النبوي، فعُمْرُه لوفاة عمر نحو ثلاث عشرة سنة.
--------------------------------------------
একটি ফযিলতপূর্ণ কাজ কি এ ধরনের অনুমানের কারণ হতে পারে?
এই আপত্তির এমন কিছু উত্তর দেওয়া হয়েছে যা অসার ও অকার্যকর। এতে আরও একটি আপত্তি রয়েছে; এই অনুমানের ভিত্তিতে যে, সেই আমলটির মূল ভিত্তি ছিল শরয়ি বিধানসম্মত, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল একটি প্রতিবন্ধক তথা আশঙ্কার কারণে তা বর্জন করেছিলেন। যদি এটি সহিহ (صحيح) হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের মাধ্যমে সেই প্রতিবন্ধক দূর হওয়ার পর খুলাফায়ে রাশিদুন (الخلفاء الراشدون)-এর জন্য আবশ্যক হতো যে তারা এর ওপর আমল করতেন এবং মসজিদে রমজানের কিয়ামে মানুষের ইমামতি করতেন। তবে তারা কেন এটি বর্জন করেছিলেন?
তাদের কেউ কেউ উত্তর দিয়েছেন: আবু বকরের যুগে সাহাবী (صحابة)গণ রিদ্দার যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন, একারণে যখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলো তখন উমর এর ওপর আমল করলেন।
এর উত্তরে প্রথমত: রিদ্দার ঘটনার সময় মদিনার অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। এরপর আবু বকর দীর্ঘ সময় এমন অবস্থায় ছিলেন যে, তিনি চাইলে মসজিদে মানুষের ইমামতি করার পূর্ণ সক্ষমতা রাখতেন। আর উমর নিজেও কখনো মসজিদে মানুষের ইমামতি করেননি, বরং তিনি কেবল তাঁর খেলাফতের শেষ দিকে এর নির্দেশ দিয়েছিলেন; কেননা তিনি ২৩ হিজরির শেষ দিকে শাহাদাত বরণ করেন।
আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল কারী ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি "সহিহ বুখারি"
(১)-তে রয়েছে যে, তিনি এতে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী সেই সময় আব্দুর রহমানের উমরের সঙ্গী (أصحاب) হওয়ার কথা, যিনি উমরের সাথে প্রবেশ করতেন এবং বের হতেন; অথচ উমরের ইন্তেকালের সময় তার বয়স ছিল প্রায় বিশ বছর। আর ইবনে হাজার "আল-ইসাবা"
(২) গ্রন্থে যে মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন (رجح), সে অনুযায়ী তার বয়স ছিল চৌদ্দ বছর।
নাওফাল ইবনে ইয়াস আল-হুজালীও এটি সচেতনভাবে বর্ণনা করেছেন যেমনটি সামনে আসবে; যদিও তারা তাকে নববী যুগে জন্মগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেননি। উমরের ইন্তেকালের সময় তার বয়স ছিল প্রায় তেরো বছর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৯২)
فهذا ممّا يدلُّك أنّ ما وقع من عمر رضي الله عنه من جَمْعِهم على أُبي بن كعب إنما كان في آخر خلافته. وهذا كلُّه يُثبِت أن الصواب ما دلَّ عليه حديث زيد.
فأمّا ما في رواية عروة [ص 4] فقد فتح الله عليّ بجوابين:
الأول: أن يقال: إن هذا اللفظ الذي وقع في رواية عروة منسوبًا إلى النبي صلى الله عليه وسلم ليس هو عين اللفظ النبوي، بل قد يكون اللفظ النبوي هو الذي وقع في حديث زيد أو في رواية عمرة. فأما ما في رواية عروة فتصرَّف فيه الراوي على وجه الرواية بالمعنى، على حسب فهمه.
الجواب الثاني: أنه على فرض أن ما وقع في رواية عروة هو عين لفظ النبي صلى الله عليه وسلم ؛ فالتوفيق بينه وبين حديث زيد ــ مع تجنُّب الإشكالين ــ متيسِّر بحمد الله، بأن يقال: إنه صلى الله عليه وسلم احتبس عنهم أوّلًا؛ ليصرِفَهم إلى الصلاة في البيوت، لمزيد فضلها، كما في حديث زيد، ثم كأنهم لمّا صنعوا ما صنعوا من التنحنُح ورفْع الأصوات وحَصْب الباب هَمَّ النبيُّ صلى الله عليه وسلم أن يستجيب لإلحاحهم، فيخرج فيصلِّي بهم، لكنه خشي أن يكون في ذلك ما يؤكّد شناعةَ صنيعهم؛ لأنه يثبت بذلك [ص 6] أنهم اضطروا النبيَّ صلى الله عليه وسلم إلى فعل ما يكرهه، ولعلّ هذا يوجب أن يُعاقَبوا بأن يُفرض عليهم ذلك العمل. فلم يخشَ ترتُّبَ الفرض على المواظبة، بل على إلحاحهم إذا تأكّدت شناعتُه باستجابته لهم. فتدبَّرْ.
ولم أرَ مَنْ نحا هذا المنحى مع ظهوره، ومع استشكالهم ظاهرَ ما وقع في رواية عروة. فكأنهم احتاجوا إلى المحافظة على ظاهر ما في رواية عروة
সুতরাং এটি এমন একটি বিষয় যা নির্দেশ করে যে, উমর (রা.) কর্তৃক উবাই ইবনে কাব-এর ইমামতিতে লোকদের একত্রিত করার যে বিষয়টি ঘটেছিল, তা মূলত তাঁর খিলাফতের শেষ ভাগে ছিল। আর এই সব কিছুই প্রমাণ করে যে, জাইদ (রা.)-এর হাদিস যা নির্দেশ করে তা-ই সঠিক।
আর উরওয়ার বর্ণনা (رواية) [পৃষ্ঠা ৪]-তে যা রয়েছে, সে বিষয়ে আল্লাহ তাআলা আমার জন্য দুটি উত্তর উন্মোচিত করেছেন:
প্রথমত: এটি বলা যেতে পারে যে, উরওয়ার বর্ণনা (رواية)-তে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্পৃক্ত করে যে শব্দগুলো এসেছে, সেগুলো হুবহু নববী শব্দ নয়। বরং হতে পারে নববী শব্দ তা-ই যা জাইদ (রা.)-এর হাদিসে অথবা আমরাহ-এর বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে। আর উরওয়ার বর্ণনা (رواية)-তে যা রয়েছে, সেখানে বর্ণনাকারী (راوي) তার নিজস্ব বুঝ অনুযায়ী অর্থগত বর্ণনা (الرواية بالمعنى)-র পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন করেছেন।
দ্বিতীয় উত্তর: যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, উরওয়ার বর্ণনা (رواية)-তে যা এসেছে তা হুবহু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এরই শব্দ; তবে আল্লাহর প্রশংসায় সেই বর্ণনা এবং জাইদ (রা.)-এর হাদিসের মধ্যে সমন্বয় (توفيق) করা—উভয় জটিলতা (إشكال) এড়িয়ে—সহজসাধ্য। এভাবে বলা যেতে পারে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথমে তাদের থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন যাতে তাদের ঘরে সালাত আদায়ের দিকে ধাবিত করা যায়, কারণ এর ফযীলত অধিক, যেমনটি জাইদ (রা.)-এর হাদিসে এসেছে। এরপর তারা যখন গলা খাঁকারি দেওয়া, উচ্চৈঃস্বরে কথা বলা এবং দরজায় পাথর নিক্ষেপ করার মতো কাজগুলো করল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের পীড়াপীড়িতে সাড়া দিয়ে বেরিয়ে তাদের নিয়ে সালাত আদায়ের ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু তিনি আশঙ্কা করলেন যে, এর ফলে তাদের সেই কাজের জঘন্যতা সুদৃঢ় হবে; কারণ এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হবে যে [পৃষ্ঠা ৬] তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন একটি কাজ করতে বাধ্য করেছেন যা তিনি অপছন্দ করেন। আর সম্ভবত এর ফলে শাস্তি স্বরূপ সেই আমলটি তাদের ওপর ফরজ (فرض) করে দেওয়া আবশ্যক হয়ে যেত। সুতরাং তিনি নিয়মিতভাবে আমলটি করার কারণে এটি ফরজ (فرض) হওয়ার আশঙ্কা করেননি, বরং তাদের পীড়াপীড়ির কারণে তা হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন, যদি তাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আচরণের জঘন্যতা সুনিশ্চিত হতো। অতএব বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন।
আমি কাউকে এই পথ অবলম্বন করতে দেখিনি যদিও বিষয়টি স্পষ্ট এবং উরওয়ার বর্ণনা (رواية)-র বাহ্যিক (ظاهر) পাঠ নিয়ে তাদের আপত্তি (إشكال) রয়েছে। মনে হচ্ছে যেন তারা উরওয়ার বর্ণনা (رواية)-র বাহ্যিক (ظاهر) ভাষ্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন।
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৩)
ليدفعوا أن يكون ما أمر به عمر بدعةً، كما يدلُّ عليه قول كثيرٍ منهم: إنما ترك النبي صلى الله عليه وسلم الاستمرار على إقامتها جماعةً في المسجد لمانعٍ، وهو خشية أن تُفْرضَ، وبموته صلى الله عليه وسلم زال هذا المانع.
وإذا ثبت أن الحكم مشروعٌ، وتُرِك في عهد النبي صلى الله عليه وسلم لمانعٍ؛ فإنه إذا زال المانع بعده لم يكن العمل بذلك الحكم بدعة.
وستعلم قريبًا ــ إن شاء الله تعالى ــ ما يغني عنه في دفع البدعة.
وقد أخرج الإمام أحمد في "مسنده"
(1) رواية أبي سلمة من طرقٍ، ثم أخرج
(2) من طريق ابن إسحاق: "حدثني محمد بن إبراهيم بن الحارث التيمي، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم قالت: كان الناسُ يصلّون في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان بالليل أوزاعًا، يكون مع الرجل شيء من القرآن فيكون معه النفرُ الخمسةُ أو الستة، أو أقلُّ من ذلك أو أكثر، فيصلُّون بصلاته. قالت: فأمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلةً من ذلك أن أَنصِبَ له حصيرًا على باب حجرتي، ففعلتُ، فخرج إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد أن صلَّى العشاء الآخرة. قالت: فاجتمع إليه مَن في المسجد، فصلَّى بهم
… فقال: "أيّها الناس! أما والله ما بِتُّ ــ والحمد لله ــ ليلتي هذه غافلًا، وما خفي عليّ مكانكم، ولكني تخوَّفْتُ أن يُفتَرض عليكم، فاكْلَفُوا من الأعمال ما تُطِيقون
… ".
في النفس شيء من هذه الرواية؛ قصةُ الأوزاع لم أجدها في شيء من
--------------------------------------------
তারা যেন এটি খণ্ডন করতে পারেন যে ওমর (রা.) যা আদেশ করেছিলেন তা বিদআত (بدعة) ছিল, যেমনটি তাদের অনেকের উক্তি থেকে প্রতীয়মান হয়: নবী (সা.) কেবল একটি প্রতিবন্ধকতার কারণে মসজিদে জামাতে নিয়মিতভাবে এটি পালন করা বর্জন করেছিলেন, আর তা হলো এটি ফরজ (فرض) হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা; কিন্তু তাঁর (সা.) ইন্তেকালের মাধ্যমে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে গেছে।
আর যখন এটি প্রমাণিত হলো যে বিধানটি শরয়ি (مشروع), এবং নবী (সা.)-এর যুগে কেবল একটি প্রতিবন্ধকতার কারণে তা বর্জন করা হয়েছিল; তবে তাঁর পরে সেই প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে গেলে সেই বিধান অনুযায়ী আমল করা বিদআত (بدعة) হবে না।
এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি শীঘ্রই জানতে পারবেন যা বিদআত (بدعة) খণ্ডনে যথেষ্ট হবে।
ইমাম আহমদ তাঁর "মুসনাদ"
(১)-এ আবু সালামার বর্ণনাটি বিভিন্ন সূত্রে (طرق) উদ্ধৃত করেছেন, অতঃপর ইবনে ইসহাকের সূত্রে
(২) উদ্ধৃত করেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল হারিস আত-তাইমি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে, তিনি নবী (সা.)-এর পত্নী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রমজানে রাতে মানুষ আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মসজিদে বিচ্ছিন্নভাবে সালাত আদায় করত। কোনো ব্যক্তির কাছে কুরআনের কিছু অংশ মুখস্থ থাকত, তখন তার সাথে পাঁচ-ছয় জন বা তার চেয়ে কম-বেশি লোক একত্র হতো এবং তারা তার সালাতের অনুসরণে সালাত আদায় করত। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সা.) এক রাতে আমাকে আমার কামরার দরজায় একটি চাটাই বিছিয়ে দিতে আদেশ করলেন, আমি তা করলাম। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সা.) এশার সালাত আদায়ের পর সেখানে বের হয়ে আসলেন। তিনি বলেন: তখন মসজিদে যারা ছিল তারা তাঁর নিকট সমবেত হলো, অতঃপর তিনি তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন … এরপর তিনি বললেন: "হে লোকসকল! আল্লাহর শপথ, আল্লাহর প্রশংসায় আমি এই রাতে গাফেল ছিলাম না এবং তোমাদের অবস্থানও আমার নিকট গোপন ছিল না, কিন্তু আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে এটি তোমাদের ওপর ফরজ (فرض) করে দেওয়া হবে। অতএব তোমরা সেই পরিমাণ আমল করো যা তোমরা পালন করতে সক্ষম … "।
এই বর্ণনাটি (رواية) নিয়ে মনে কিছুটা সংশয় রয়েছে; বিচ্ছিন্নভাবে সালাত আদায়ের এই ঘটনাটি আমি অন্য কোনো সূত্রে খুঁজে পাইনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৪)
الروايات الأخرى، وإنَّما المحفوظ أن ذلك كان في عهد عمر، كما في "الموطأ"
(1) وغيره عن ابن شهاب عن عروة عن عبد الرحمن بن عبدٍ القاريِّ أنه قال: "خرجتُ مع عمر بن الخطاب رضي الله عنه ليلةً في رمضان إلى المسجد، فإذا الناسُ أوزاعٌ متفرقون، يُصلّي الرجل لنفسه، ويُصلّي الرجل فيصلي بصلاته الرهْطُ".
وبقيةُ الكلام في رواية ابن إسحاق، كأنه ضمَّ رواية عروة إلى رواية أبي سلمة، مع زيادة تطويل.
وابن إسحاق صدوق، وثَّقه جماعة
(2)، وأثنى عليه الإمام أحمد وغيرُه، لكنْ قال أيوب بن إسحاق بن سافري ــ وهو صدوق ــ: سألت أحمد، فقلت له: يا أبا عبد الله! إذا انفرد ابن إسحاق بحديثٍ تقبله؟ قال: "لا والله؛ إني رأيته يُحدِّث عن جماعةٍ بالحديث الواحد، ولا يَفصِل كلامَ ذا من كلامِ ذا".
وقد تابعه محمد بن عمرو بن علقمة
(3) في "سنن أبي داود"
(4)، ولكنه مختصر.
ومحمد بن إبراهيم التيمي: وثَّقه جماعةٌ، واحتجَّ به الشيخان وغيرهما،
--------------------------------------------
অন্যান্য বর্ণনাগুলোতে (আছে), বরং সংরক্ষিত (المحفوظ) হলো এটি উমর-এর যুগে ছিল, যেমনটি মুওয়াত্তা
(১) এবং অন্যান্য কিতাবে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবদ আল-কারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আমি রমজানের এক রাতে উমর ইবনে الخطাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে মসজিদের দিকে বের হলাম। সেখানে মানুষজন বিচ্ছিন্ন দলে বিভক্ত ছিল। কেউ একা সালাত আদায় করছিল, আবার কেউ সালাত আদায় করছিল এবং তার সালাতে একদল লোক শরিক হচ্ছিল।"
আর ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় বাকি কথাগুলো রয়েছে। মনে হচ্ছে যেন তিনি উরওয়াহর বর্ণনার সাথে আবু সালামাহর বর্ণনাকে যুক্ত করেছেন এবং সাথে কিছু দীর্ঘ বর্ণনা যোগ করেছেন।
আর ইবনে ইসহাক সত্যবাদী (صدوق), একদল ইমাম তাকে নির্ভরযোগ্য (وثَّقه) বলেছেন এবং ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা তার প্রশংসা করেছেন। কিন্তু আইয়ুব ইবনে ইসহাক ইবনে সাফারি—যিনি নিজেও একজন সত্যবাদী (صدوق)—বলেন: আমি আহমাদকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'হে আবু আবদুল্লাহ! ইবনে ইসহাক যদি এককভাবে (انفرد) কোনো হাদিস বর্ণনা করেন, তবে কি আপনি তা গ্রহণ করবেন?' তিনি বললেন: "না, আল্লাহর কসম! আমি তাকে দেখেছি তিনি এক হাদিস একদল বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, কিন্তু একজনের কথাকে অন্যজনের কথা থেকে পৃথক করেন না" (تدليس)।
আর সুনানে আবু দাউদে
(৪) মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলকামা তাকে সমর্থনমূলক বর্ণনা (تابعه)
(৩) করেছেন, তবে তা সংক্ষিপ্ত।
মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি: একদল ইমাম তাকে নির্ভরযোগ্য (وثَّقه) বলেছেন এবং শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) ও অন্যান্যরা তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجَّ) করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৫)
وقال الإمام أحمد: "في حديثه شيء، يروي أحاديث مناكير، أو منكرة"
(1).
والخطبُ سهلٌ هنا، فقصةُ الأوزاع لها شواهد في الجملة، وبقيةُ الزيادة في رواية أبي سلمة إن لم تصحّ عنه فقد صحَّ أكثرها من رواية عروة.
أمّا شواهد قصة الأوزاع ففي "سنن البيهقي"
(2) بسندٍ صحيح عن ثعلبة بن أبي مالك القُرَظي قال: "خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم ذاتَ ليلةٍ في رمضان، فرأى ناسًا في ناحية المسجد يصلّون، فقال: "ما يصنع هؤلاء؟ ". قال قائل: يا رسول الله، هؤلاء ناسٌ ليس معهم قرآن، وأُبي بن كعب يقرأ، وهم معه يصلّون بصلاته. قال: "قد أحسنوا، أو قد أصابوا". [ص 7] ولم يكره ذلك لهم".
قال البيهقي: "هذا مرسل حسن، ثعلبة بن أبي مالك القرظي من الطبقة الأولى من تابعي أهل المدينة، وقد أخرجه ابن منده في "الصحابة"، وقيل: له رؤية، وقيل: سِنُّه سنُّ عطية القرظي، أُسِرا يوم قريظة ولم يُقْتَلا، وليست له صحبة".
وفي "الإصابة"
(3): "لا يمتنع أن يصح سماعُه".
ثم قال البيهقي: "وقد رُوي بإسنادٍ موصول إلّا أنه ضعيف". فذكر ما رواه أبو داود في "السنن"
(4) من طريق مسلم بن خالد عن العلاء بن عبد الرحمن عن أبيه عن أبي هريرة، بنحو حديث ثعلبة.
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ বলেছেন: "তার বর্ণিত হাদিসে কিছু দুর্বলতা (في حديثه شيء) রয়েছে, তিনি অগ্রহণযোগ্য (منكر) বা আপত্তিকর (منكر) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেন"
(১)।
আর এখানকার বিষয়টি সহজ, কেননা আওযা-এর ঘটনার সাধারণভাবে কিছু সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে। আর আবু সালামাহ-এর বর্ণনায় অতিরিক্ত অংশটুকু যদি তার থেকে সহিহ (صحيح) না-ও হয়, তবে উরওয়াহ-এর বর্ণনা থেকে এর অধিকাংশ সহিহ (صحيহ) প্রমাণিত হয়েছে।
আওযা-এর ঘটনার সমর্থক বর্ণনা (شواهد) সম্পর্কে বলা যায় যে, তা সুনান বায়হাকি-তে সহিহ (صحيح) সনদে (سند) সা’লাবাহ বিন আবি মালিক আল-কুরাজি থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের এক রাতে বের হলেন এবং মসজিদের এক কোণে কিছু লোককে সালাত আদায় করতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'এরা কী করছে?' জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এরা এমন লোক যাদের কাছে কুরআন (মুখস্থ) নেই, আর উবাই ইবনে কাব তিলাওয়াত করছেন এবং তারা তার সাথে তার সালাতের অনুসরণে সালাত আদায় করছে। তিনি বললেন: 'তারা উত্তম কাজ করেছে অথবা তারা সঠিক কাজটি করেছে।' [পৃষ্ঠা ৭] তিনি তাদের জন্য বিষয়টিকে অপছন্দ করেননি।"
বায়হাকি বলেন: "এটি মুরসাল (مرسل) হাসান (حسن)। সা’লাবাহ বিন আবি মালিক আল-কুরাজি মদিনার তাবেয়ী (تابعي)-দের প্রথম স্তরের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে মানদাহ তাকে 'আস-সাহাবাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তার দেখার সৌভাগ্য (رؤية) হয়েছিল। আবার বলা হয় যে, তার বয়স আতিয়্যাহ আল-কুরাজির বয়সের সমান ছিল; কুরাইজা যুদ্ধের দিন তাদের বন্দি করা হয়েছিল কিন্তু হত্যা করা হয়নি। তবে তার সাহাবী হওয়ার মর্যাদা (صحبة) নেই।"
আর আল-ইসাবাহ
(৩) গ্রন্থে রয়েছে: "তার শ্রবণ করা সহিহ (صحيح) হওয়া অসম্ভব নয়।"
অতঃপর বায়হাকি বলেন: "এটি একটি সংযুক্ত (موصول) সনদেও (إسناد) বর্ণিত হয়েছে, তবে তা দুর্বল (ضعيف)।" এরপর তিনি আবু দাউদ কর্তৃক সুনান
(৪)-এ মুসলিম বিন খালিদ সূত্রে আলা বিন আব্দুর রহমান, তার পিতা এবং আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত সা’লাবাহ-এর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনাটি উল্লেখ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৬)
قال أبو داود: "هذا الحديث ليس بالقويّ، مسلم بن خالد ضعيف".
أقول: مسلم بن خالد ضعَّفه جماعةٌ من جهة حفظه، وقد وثَّقه ابن معين
(1).
وقد كان في عهد النبي صلى الله عليه وسلم أهل الصّفة كانوا ملازمين المسجدَ، وكان مِنْ غيرهم مَنْ ينام في المسجد، كابن عمر، فهؤلاء كانوا يصلّون في المسجد حتمًا.
وقد عُلِم ممّا تقدم أنه ليس هناك دليلٌ يمنع الاقتداءَ في قيام الليل، بل قد ثبت اقتداء ابن مسعود بالنبي صلى الله عليه وسلم
(2)، وكذلك اقتداء ابن عباس
(3). وثبت في قصة عمر أن الناس كانوا قبل ذلك يصلّون أوزاعًا في المسجد، ولم ينكر عليهم أحد صلاتهم تلك، حتى جمعهم عمر على إمام واحد.
هذا، وقد جاء من حديث أنس
(4) وجابر
(5) ما يوافقُ في الجملة حديثَي زيد وعائشة.
وفي "مسند أحمد" و"السنن"
(6) من حديث أبي ذر: "صُمنا مع
--------------------------------------------
আবু দাউদ বলেন: "এই হাদিসটি শক্তিশালী নয় (ليس بالقويّ), মুসলিম বিন খালিদ দুর্বল (ضعيف)"।
আমি বলি: একদল উলামা মুসলিম বিন খালিদকে তার মুখস্থশক্তির দিক থেকে দুর্বল বলেছেন (ضعَّفه), তবে ইবনে মাইন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন (وثَّقه)
(1)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে আহলে সুফফাগণ মসজিদে অবস্থান করতেন এবং অন্যরাও ছিলেন যারা মসজিদে ঘুমাতেন, যেমন ইবনে উমর; তারা অবশ্যই মসজিদে সালাত আদায় করতেন।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি জানা গেল যে, কিয়ামুল লাইলে (রাতের নফল সালাতে) ইকতিদা করা থেকে বিরত রাখার মতো কোনো দলিল নেই; বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে ইবনে মাসউদের ইকতিদা প্রমাণিত হয়েছে
(2), আর একইভাবে ইবনে আব্বাসের ইকতিদাও প্রমাণিত
(3)। উমরের ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষ এর আগে মসজিদে বিচ্ছিন্নভাবে সালাত আদায় করতেন এবং তাদের সেই সালাতকে কেউ অস্বীকার করেননি, যতক্ষণ না উমর তাদের একজন ইমামের পেছনে একত্রিত করেন।
এর পাশাপাশি, আনাস
(4) এবং জাবের
(5) থেকে বর্ণিত হাদিসে এমন কিছু এসেছে যা মোটের ওপর জায়েদ ও আয়েশার বর্ণিত হাদিসদ্বয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মুসনাদ আহমাদ এবং সুনানে
(6) আবু জরের হাদিসে এসেছে: "আমরা রোজা রেখেছিলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم فلم يُصلِّ بنا حتى بقي سبعٌ من الشّهر، فقام بنا حتى ذهب ثلث الليل، ثم لم يقم بنا في التالية
(1)، وقام في الخامسة حتى ذهب شطر الليل. فقلنا: يا رسول الله! لو نفَّلْتَنا بقيةَ ليلتنا هذه، فقال: "إنه من قام مع الإمام حتى ينصرف كُتِب له قيامُ ليلة". ثم لم يقم بنا حتى بقي ثلاث من الشهر، فصلى بنا في الثالثة ودعا أهله ونساءه، فقام بنا حتى تخوَّفْنا الفلاح". قيل لأبي ذرّ: وما الفلاح؟ قال: السحور.
قد عُرِف من عادة النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يعتكف العشر الأواخر من رمضان، ويعتكف معه بعض أصحابه، فلعل المعتكفين هم الذين صلَّوا معه، وقد يكون معهم غيرهم ممّن هو في حكم المعتكف، فقد كان أهل الصّفّة لا مأوى لهم إلا المسجد.
نعم، قوله في الثالثة: "ودعا أهله ونساءه" يدلُّ على أنه يُشْرَع للإمام إذا كان معتكفًا أن يدعو أهله للقيام معه في المسجد في مثل تلك الليلة.
وفي "مختصر كتاب قيام الليل" لمحمد بن نصر (ص 96): "قال مالك: كان عمر بن حسين من أهل الفضل والفقه، وكان عابدًا
… وكان في رمضان إذا صلَّى العشاء انصرف، فإذا كانت ليلة ثلاث وعشرين قامها مع الناس، ولم يكن يقومُ معهم غيرَها.
وقد يجوز أن يكون النبي صلى الله عليه وسلم إنما دعا من خَشِيَ أن يَغفُلَ في بيته، وفي قصته لمّا أيقظ عليًّا وفاطمة ما يدفع استبعاد هذا. والله أعلم.
* * * *
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন না যতক্ষণ না মাসের সাত দিন অবশিষ্ট থাকল। এরপর তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম (قيام) করলেন যতক্ষণ না রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলো। এরপর তিনি পরবর্তী রাতে আমাদের নিয়ে দাঁড়ালেন না
(১)। অতঃপর (মাসের অবশিষ্ট) পঞ্চম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম (قيام) করলেন যতক্ষণ না রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হলো। আমরা বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এই রাতের অবশিষ্ট অংশ আমাদের নিয়ে নফল (نفل) সালাত আদায় করতেন!" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাত শেষ হওয়া পর্যন্ত কিয়াম (قيام) করে, তার জন্য পূর্ণ রাত কিয়াম (قيام)-এর সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়।" এরপর মাসের তিন দিন অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তিনি আমাদের নিয়ে আর দাঁড়ালেন না। অতঃপর তিনি তৃতীয় (অবশিষ্ট) রাতে আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং তাঁর পরিবার ও নারীদের ডাকলেন। তিনি আমাদের নিয়ে এত দীর্ঘ সময় কিয়াম (قيام) করলেন যে, আমরা 'ফালাহ' ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করলাম। আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করা হলো: ফালাহ কী? তিনি বললেন: সাহরি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভ্যাস থেকে এটি সুপরিচিত যে, তিনি রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ (اعتكاف) করতেন এবং তাঁর সাথে তাঁর কয়েকজন সাহাবীও ইতিকাফ করতেন। সম্ভবত ইতিকাফকারীরাই ছিলেন যারা তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছিলেন। আবার তাঁদের সাথে এমন ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন যারা ইতিকাফকারীর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, কারণ সুফফাবাসীদের (আহলুস সুফফাহ) মসজিদ ছাড়া অন্য কোনো আশ্রয়স্থল ছিল না।
হ্যাঁ, তৃতীয় রাতের ব্যাপারে তাঁর এই উক্তি: "তিনি তাঁর পরিবার ও নারীদের ডাকলেন"—এটি প্রমাণ করে যে, ইমাম যদি ইতিকাফ (اعتكاف) অবস্থায় থাকেন, তবে এই জাতীয় রাতে মসজিদে তাঁর সাথে কিয়াম (قيام) করার জন্য পরিবারবর্গকে আহ্বান করা তাঁর জন্য বিধেয়।
মুহাম্মদ ইবনে নাসর রচিত "মুখতাসার কিতাব কিয়ামুল লাইল" (পৃষ্ঠা ৯৬)-এ বর্ণিত হয়েছে: "মালিক বলেছেন: উমর বিন হুসাইন ছিলেন মর্যাদা ও ফিকহ (فقه) সম্পন্ন ব্যক্তিদের একজন এবং তিনি ছিলেন একজন ইবাদতকারী (عابد)
… রমজান মাসে তিনি এশার সালাত আদায় করার পর ফিরে যেতেন। তবে যখন তেইশতম রাত আসত, তখন তিনি সাধারণ মানুষের সাথে কিয়াম (قيام) করতেন এবং এই রাত ছাড়া অন্য কোনো রাতে তিনি তাঁদের সাথে কিয়াম করতেন না।"
এটিও সম্ভব হতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল তাঁদেরই ডেকেছিলেন যাদের ব্যাপারে তিনি ঘরে ইবাদতে গাফেল হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। যখন তিনি আলী ও ফাতিমাকে জাগ্রত করেছিলেন, সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সম্ভাবনাকে নাকচ করার সুযোগ নেই। আর আল্লাহই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৮)
مجمل ما كان عليه قيام رمضان في العهد النبويوما صار إليه في عهد عمرتبيَّن ممّا تقدم أن أصل قيام الليل في رمضان وغيره يحصل بمطلق الصلاة بعد العشاء وراتبتها، [ص 8] وأن له مكمِّلاتٍ يَعظُم بها الأجرُ، ويتضاعف الفضل، وكان الغالب في العهد النبوي تمكُّن الناس من المكمِّلات ومحافظتهم عليها، وأكثر ما كان يعرض لهم ممّا يخالف ذلك هو خوف عدم الاستيقاظ بعد النوم في الوقت المتّسع، فلذلك كان كثير منهم يَدَعون المكمِّلَين الأوّلَين ــ وهما: كون القيام بعد النوم، وكونه بعد نصف الليل ــ، وربّما كان يتفق أن يوجد جماعة منهم يريدون القيام وليس معهم كثير من القرآن يحصِّلون به المكمِّل الرابع ــ وهو كثرة قراءة القرآن في القيام ــ على وجهه، فيريدون أن يعتاضوا عن القراءة بالسماع، فيلتمسون من بعض القرَّاء أن يؤمَّهم في المسجد.
وبذلك يترك المأمومون والإمام المكمِّلَينِ الأخيرينِ، وهما: كون القيام فُرادَى، وكونه في البيت. أمّا المأمومون فلعدم تمكُّنِهم من ذلك، مع سماع كثير من القرآن، وأمّا الإمام فيرجو أن يكون في معونته لهم على العبادة، وما يُرجَى من انتفاعهم بسماع القرآن ما يُعوِّضه.
لكنّ هذا لم يكثر في العهد النبويّ، ولا اتصل في جميع ليالي رمضان؛ لحرص المهاجرين والأنصار على حفظ القرآن، ونشاطهم في الخير، وضعف رغبة الوافدين من الأعراب في النوافل، كقيام الليل.
فلمّا كان في عهد عمر رضي الله عنه كثُر الواردون من الآفاق، ممن
নবুওয়াতী যুগে রমজানের কিয়াম (রাতের নামাজ) এর সংক্ষিপ্ত রূপএবং উমর (রা.)-এর যুগে এর অবস্থাপূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, রমজান ও অন্যান্য সময়ে কিয়ামুল লাইল বা রাতের নামাজের মূল ভিত্তি ইশার নামাজ এবং এর পরবর্তী সুন্নত নামাজের মাধ্যমেই অর্জিত হয়, [পৃষ্ঠা ৮] এবং এর কিছু পরিপূরক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মাধ্যমে সওয়াব বৃদ্ধি পায় এবং মর্যাদা বহুগুণ হয়ে থাকে। নবুওয়াতী যুগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ এই পরিপূরকগুলো পালনে সক্ষম ছিলেন এবং সেগুলোর প্রতি যত্নবান হতেন। তবে তাদের ক্ষেত্রে সচরাচর যা পরিলক্ষিত হতো এবং যা এর পরিপন্থী ছিল, তা হলো—নিদ্রার পর প্রশস্ত সময়ে জাগ্রত হতে না পারার আশঙ্কা। এ কারণে তাদের অনেকেই প্রথম দুটি পরিপূরক বর্জন করতেন; সেগুলো হলো: ঘুমের পর কিয়াম করা এবং মধ্যরাতের পর কিয়াম করা। সম্ভবত কখনো এমন হতো যে, একদল লোক কিয়াম করতে চাইতেন কিন্তু তাদের কাছে অধিক পরিমাণ কুরআন মুখস্থ ছিল না যার মাধ্যমে তারা চতুর্থ পরিপূরকটি—অর্থাৎ কিয়ামে দীর্ঘ কুরআন তিলাওয়াত—যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারেন। তাই তারা তিলাওয়াতের পরিবর্তে শ্রবণের মাধ্যমে তা অর্জন করতে চাইতেন এবং কোনো একজন কারীকে মসজিদে তাদের ইমামতি করার অনুরোধ জানাতেন।
এর ফলে মুক্তাদি এবং ইমাম শেষোক্ত দুটি পরিপূরক বর্জন করতেন, যা হলো: একাকী কিয়াম করা এবং ঘরে কিয়াম করা। মুক্তাদিরা এটি বর্জন করতেন কারণ অধিক কুরআন শ্রবণের সাথে সাথে একাকী কিয়াম করা তাদের জন্য সম্ভব হতো না। আর ইমামের ক্ষেত্রে আশা করা হতো যে, ইবাদতে তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে এবং কুরআন শ্রবণে তাদের যে উপকার হবে, তা যেন তার জন্য ওই পরিপূরক ত্যাগের বিনিময় স্বরূপ হয়।
তবে নবুওয়াতী যুগে এটি তেমন বৃদ্ধি পায়নি এবং রমজানের সকল রাতেও তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলত না; কারণ মুহাজির ও আনসারগণ কুরআন হিফজ করার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন এবং নেক কাজে তারা ছিলেন অত্যন্ত উদ্যমী। আর নবাগত মরুবাসীদের মধ্যে নফল ইবাদত যেমন কিয়ামুল লাইলের প্রতি আগ্রহ ছিল তুলনামূলক কম।
অতঃপর যখন উমর (রা.)-এর যুগ এল, তখন বিভিন্ন দিগন্ত থেকে আগতদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, যারা...
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৯৯)
ليس معهم كثير من القرآن، ولهم مع ذلك رغبة في القيام؛ لتمكُّنِهم في الإسلام، ووُجِد في شبّان أهل المدينة جماعة لا يَنْشَطون للقيام الطويل في البيوت، فكان جماعة من الفريقين يقومون في المسجد: مَنْ كان معه قرآن قام وحدَه، ومن لم يكن معهم التمسوا من بعض القرَّاء أن يؤمَّهم، يرون أن لهم أسوةً بمن كانت حاله في العهد النبوي شبيهةً بحالهم. ولكثرة هؤلاء واستمرار عذرهم استمرَّ قيامهم في المسجد في جميع ليالي رمضان، ولم ينكر عليهم أحد من الصحابة، فكان في ذلك حجة على صحّة اجتهادهم، وعلى أنه لو اتّفق مثلُ ذلك في العهد النبوي لما أنكره النبي صلى الله عليه وسلم .
وبهذا خرج ذاك العمل المتصل عن البدعة. فإنه إذا قام الدليل على أن الحكم مشروع، وتُرِك في عهد النبي صلى الله عليه وسلم لعدم مقتضيه، ثم وُجِد المقتضي بعده؛ فالعمل به حينئذٍ سنةٌ لا بدعة. فلمّا شاهد عمر رضي الله عنه حالَهم عرفَ عذرَهم، وصوَّبَ اجتهادَهم، لكنه رأى أنه قد نشأ من عملهم مفاسدُ، منها: ظاهرة التفرّق والتحزُّب التي يكرهها الشرع، ومنها: تشويش بعضهم على بعض.
وفي "مسند أحمد"
(1) و"سنن أبي داود" و"المستدرك" وغيرها
(2)، بسندٍ على شرط الصحيحين "عن أبي سعيد الخدريّ، قال: اعتكف رسول الله صلى الله عليه وسلم في المسجد، فسمعهم يجهرون بالقراءة، وهو في قُبّةٍ له، فكشفَ
--------------------------------------------
তাদের নিকট কুরআনের অধিক অংশ (মুখস্থ) ছিল না, তবুও ইসলামের প্রতি তাদের অবিচল নিষ্ঠার কারণে কিয়ামের প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহ ছিল। মদিনাবাসীদের যুবকদের মধ্যে এমন একটি দল ছিল যারা ঘরে দীর্ঘ কিয়াম পালনে ততটা উদ্যমী ছিল না। ফলে উভয় শ্রেণির একদল লোক মসজিদে কিয়াম করত: যাদের কুরআন মুখস্থ ছিল তারা একাকী কিয়াম করত, আর যাদের মুখস্থ ছিল না তারা কোনো কোনো কারীর সন্ধান করত যেন তিনি তাদের ইমামতি করেন। তারা মনে করত যে, নববী যুগে যাদের অবস্থা তাদের মতো ছিল, তাদের অনুসরণে তাদের জন্য আদর্শ রয়েছে। এই শ্রেণির লোকদের আধিক্য এবং তাদের ওজরের ধারাবাহিকতার কারণে রমজানের সকল রাতে মসজিদে তাদের কিয়াম অব্যাহত থাকে এবং সাহাবীদের কেউ তাদের এই আমলের প্রতিবাদ করেননি। ফলে এটি তাদের ইজতিহাদের সঠিক হওয়ার পক্ষে একটি দলিল হিসেবে গণ্য হয়। আর এটি এই বিষয়েরও প্রমাণ যে, যদি নববী যুগেও অনুরূপ কোনো বিষয় ঘটত, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অস্বীকার করতেন না।
এর মাধ্যমেই সেই ধারাবাহিক আমলটি বিদআতের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায়। কারণ, যখন কোনো বিধান শরিয়তসম্মত হওয়ার প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কোনো প্রাসঙ্গিক কারণ বিদ্যমান না থাকার দরুন তা বর্জিত হয়ে থাকে, অতঃপর পরবর্তী সময়ে সেই কারণটি পাওয়া যায়; তবে সেই অনুযায়ী আমল করা তখন সুন্নাহ, বিদআত নয়। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন তাদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তিনি তাদের ওজর বুঝতে পারলেন এবং তাদের ইজতিহাদকে সঠিক বলে গণ্য করলেন। তবে তিনি দেখলেন যে, তাদের এই আমল থেকে কিছু অনিষ্টের জন্ম হয়েছে; যার একটি হলো: বিচ্ছিন্নতা ও দলাদলির প্রকাশ যা শরিয়ত অপছন্দ করে, এবং অন্যটি হলো: একে অপরের তিলাওয়াতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।
আর "মুসনাদ আহমাদ"
(১), "সুনান আবি দাউদ", "আল-মুসতাদরাক" ও অন্যান্য গ্রন্থে
(২) সহিহাইন-এর শর্তানুযায়ী একটি সনদ (سند)-এর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে যে, "আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ইতিকাফ করছিলেন, তখন তিনি সাহাবীদের উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করতে শুনলেন। তিনি তখন নিজের একটি ছোট তাঁবুর ভেতরে ছিলেন, অতঃপর তিনি পর্দা সরিয়ে দিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪০০)
الستورَ، وقال: "ألا إن كلَّكم مناجٍ ربَّه، فلا يُؤذِينَّ بعضُكم بعضًا، ولا يرفعنَّ بعضُكم على بعضٍ [ص 9] بالقراءة ــ أو قال: في الصلاة ــ".
هؤلاء كانوا ــ والله أعلم ــ ممّن المسجدُ بيته: معتكفين، أو من أهل الصّفّة، أو من الفريقين. وكانوا يُصلُّون فُرادى، ويجهرون بالقراءة، فيُشَوِّشُ بعضُهم على بعضٍ، فأرشدهم صلى الله عليه وسلم إلى المخافتة.
ولا يجيء مثل هذا في القائمين بالمسجد في عهد عمر؛ لأن كثيرًا منهم كانوا يُصلّون جماعاتٍ؛ ليسمع المأمومون القرآن، كما تقدم، فلو أُمِروا بالمخافتة لفات المقصود من تلك الجماعات كما لا يخفى.
ومنها: أن بعضهم كانوا يتحرَّون الاقتداء بمن يُعجِبهم صوتُه، وإن كان غيره أقرأَ منه وأجدرَ أن يُقْتَدى به.
أنكر عمر رضي الله عنه ــ بحقٍّ ــ هذه المفاسد، ولم يجد ما يدفعها بدون إخلالٍ بالمقصود إلّا أن يجمعهم على إمامٍ واحد، مقدِّرًا أنه لو اتفق مثل ذلك في عهد النبي صلى الله عليه وسلم لأمر بذاك.
وبهذا خرج العمل عن أن يكون بدعة، كما يُعْلَم ممّا مرّ.
فأمّا ما في "صحيح البخاري"
(1) من قول عمر: "نِعْمتِ البدعةُ هذه، والتي ينامون عنها أفضل"= فإنّما أراد البدعة لغةً، على أنّ في "طبقات ابن سعد" (ج 5 ص 42)
(2) بسندٍ صحيح عن نوفل بن إياس الهذلي قال: كنا نقوم في عهد عمر بن الخطاب فِرَقًا في المسجد في رمضان، ههنا وههنا،
--------------------------------------------
পর্দা সরালেন এবং বললেন: "সাবধান! তোমাদের প্রত্যেকেই তার রবের সাথে গোপনে আলাপকারী (مناجٍ), তাই তোমরা একে অপরকে কষ্ট দিও না এবং কিরাআতের মাধ্যমে—অথবা তিনি বলেছেন: সালাতের মধ্যে—একে অপরের ওপর [পৃষ্ঠা ৯] আওয়াজ উঁচু করো না।"
আল্লাহই ভালো জানেন—তারা ছিলেন এমন লোক যাদের জন্য মসজিদই ছিল তাদের ঘর: তারা হয়তো ইতিকাফকারী (معتكف), অথবা আহলে সুফফার সদস্য, অথবা উভয় দলের অন্তর্ভুক্ত। তারা একাকী (فرادى) সালাত আদায় করতেন এবং উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করতেন, ফলে তারা একে অপরের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিম্নস্বরে (مخافتة) পড়ার নির্দেশ দেন।
উমরের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যুগে মসজিদে যারা কিয়াম (সালাত) আদায় করতেন তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি এমন ছিল না; কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই জামাতের (جماعة) সাথে সালাত আদায় করতেন; যাতে করে মুক্তাদিরা (مأموم) কুরআন শুনতে পায়, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং যদি তাদের নিম্নস্বরে (مخافتة) পড়ার নির্দেশ দেওয়া হতো, তবে এই জামাতগুলোর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হতো যেমনটি সুস্পষ্ট।
এর মধ্যে একটি হলো: তাদের কেউ কেউ এমন ব্যক্তির অনুসরণ (اقتداء) করার চেষ্টা করত যার কণ্ঠস্বর তাদের ভালো লাগত, যদিও অন্য কেউ তার চেয়ে উত্তম কিরাআত পাঠকারী এবং অনুসরণের জন্য অধিক যোগ্য হতেন।
উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যথাযথভাবেই এই বিশৃঙ্খলাগুলো (مفسدة) অপছন্দ করেছিলেন এবং মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত না করে এগুলো দূর করার কোনো উপায় পাননি তাদের সকলকে একজন ইমামের (إمام) অধীনে একত্রিত করা ব্যতীত। তিনি মনে করেছিলেন যে, যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগেও এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতো, তবে তিনিও এর নির্দেশ দিতেন।
আর এভাবেই এই কাজটি বিদআত (بدعة) হওয়ার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায়, যা ইতিপূর্বের আলোচনা থেকে জানা যায়।
আর সহীহ বুখারী-তে
(১) উমরের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যে উক্তি রয়েছে: "এটি কতই না চমৎকার বিদআত (بدعة), আর যে সময়টিতে তারা ঘুমিয়ে থাকে তা এর চেয়েও উত্তম"—এর দ্বারা তিনি আভিধানিক অর্থে বিদআত (بدعة) বুঝিয়েছেন। তা ছাড়া তবাকাত ইবনে সা’দ-এ (৫ম খণ্ড, ৪২ পৃষ্ঠা)
(২) একটি সঠিক (صحيح) সনদের (سند) মাধ্যমে নাওফাল বিন ইয়াস আল-হুজালি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা উমর বিন খাত্তাবের যুগে রমজানে মসজিদে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে এখানে-সেখানে সালাত আদায় করতাম,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪০১)
فكان الناس يميلون إلى أحسنهم صوتًا، فقال عمر: ألا أراهم قد اتخذوا القرآن أغانِيَ؟ أما والله لئن استطعتُ لأغيِّرنَّ هذا. قال: فلم يمكث إلا ثلاثَ ليالٍ حتى أمر أُبيٍ بن كعب فصلَّى بهم. ثم قام في آخر الصفوف فقال: لئن كانت هذه بدعةً فنعمتِ البدعةُ هي". فهذا ــ والله أعلم ــ من باب قوله تعالى: {قُلْ إِنْ كَانَ لِلرَّحْمَنِ وَلَدٌ فَأَنَا أَوَّلُ الْعَابِدِينَ} [الزخرف: 81]
(1).
والظاهر أن الذين كانوا يصلّون فرادى دخلوا في الجماعة؛ لئلّا يُشوِّش عليهم قارئُ الجماعة، وقد يكون بقي منهم من يُصلِّي على الانفراد.
وفي "مختصر كتاب قيام الليل" لمحمد بن نصر (ص 96)
(2): "شعبة عن أشعث بن سليم: أدركتُ أهلَ مسجدنا يُصلِّي بهم إمام في رمضان، ويُصلُّون خلفه، ويُصلِّي ناس في نواحي المسجد لأنفسهم فرادى، ورأيتهم يفعلون ذلك في عهد ابن الزبير في مسجد المدينة.
شعبة عن إسحاق بن سويد: كان صفُّ القرّاء في بني عديّ في رمضان: الإمامُ يصلّي بالناس، وهم يصلّون على حِدَةٍ.
وكان سعيد بن جبير يصلي لنفسه في المسجد، والإمامُ يصلي بالناس.
وكان ابن أبي مُليكة يصلي في رمضان خلف المقام، والناسُ بَعْدُ في سائر المسجد من مصلٍّ وطائفٍ بالبيت.
وكان يحيى بن وثّاب يصلِّي بالناس في رمضان، وكانوا يصلّون لأنفسهم وُحدانًا في ناحية المسجد.
--------------------------------------------
মানুষ যার কণ্ঠস্বর সবচেয়ে সুন্দর তার দিকে ঝুঁকে পড়ছিল। তখন উমর (রা.) বললেন: "আমি কি দেখছি না যে তারা কুরআনকে গানে পরিণত করেছে? আল্লাহর কসম, আমি যদি সক্ষম হই তবে আমি অবশ্যই এটি পরিবর্তন করব।" বর্ণনাকারী বলেন: তিনি মাত্র তিন রাত অতিবাহিত হওয়ার পর উবাই বিন কাব (রা.)-কে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি তাদের নিয়ে নামাজ আদায় করলেন। এরপর তিনি (উমর) কাতারের শেষে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "এটি যদি বিদআত (بدعة) হয়, তবে এটি কতই না উত্তম বিদআত (بدعة)।" আর এটি — আল্লাহই ভালো জানেন — মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: {বলুন, যদি পরম করুণাময়ের কোনো সন্তান থাকত, তবে আমিই হতাম প্রথম ইবাদতকারী} [সূরা আয-যুখরুফ: ৮১]
(1)।
দৃশ্যত যারা একাকী নামাজ পড়তেন, তারা জামাতে শরিক হলেন; যাতে জামাতের ক্বারীর কিরাত তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে। তবে হতে পারে তাদের মধ্যে কেউ কেউ তখনও একাকী নামাজ পড়তেন।
মুহাম্মদ বিন নসরের "মুখতাসার কিতাব কিয়ামুল লাইল" (পৃষ্ঠা ৯৬)
(2)-এ বর্ণিত আছে: "শু'বা, আশআস বিন সুলাইম থেকে বর্ণনা করেন: আমি আমাদের মসজিদের লোকদের রমজান মাসে দেখেছি যে, একজন ইমাম তাদের নিয়ে নামাজ পড়তেন এবং তারা তার পেছনে নামাজ পড়ত, আবার কিছু লোক মসজিদের এক কোণে একাকী নিজেদের নামাজ পড়ত। আমি ইবনে যুবাইরের যুগে মদিনার মসজিদেও তাদের এমনটি করতে দেখেছি।"
শু'বা, ইসহাক বিন সুওয়াইদ থেকে বর্ণনা করেন: "রমজানে বনু আদিতে ক্বারীদের কাতার এমন ছিল যে: ইমাম লোকদের নিয়ে নামাজ পড়তেন, আর তারা আলাদাভাবে নামাজ পড়ত।"
সাঈদ বিন জুবাইর মসজিদে নিজে নিজে নামাজ পড়তেন, আর ইমাম লোকদের নিয়ে নামাজ পড়তেন।
ইবনে আবি মুলাইকা রমজান মাসে মাকামে ইব্রাহিমের পেছনে নামাজ পড়তেন, আর মানুষ মসজিদের অন্যান্য স্থানে নামাজ ও কাবা তাওয়াফে লিপ্ত থাকত।
ইয়াহইয়া বিন ওয়াসসাব রমজানে লোকদের নিয়ে নামাজ পড়তেন, এবং তারা মসজিদের এক কোণে একাকী নিজেদের নামাজ পড়ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪০২)
وعن إبراهيم: كان المجتهدون يصلّون في جانب المسجد، والإمامُ يصلي بالناس في رمضان.
وكان ابن مُحَيريز يصلّي في رمضان في مؤخر المسجد، والناس يصلّون في مُقَدَّمه للقيام".
هذا، وقد عُلِم حالهم بالنظر إلى أكثر المكمِّلات، فأمّا الباقي، وهي الثالث ــ أن يستغرق القيام ثلث الليل ــ، والخامس ــ وهو أن يكون القيام مثنى مثنى، والوتر ركعة، وفي بعض الليالي ثلاث ــ، والسادس ــ وهو أن لا يزيد على إحدى عشرة، وفي بعض الليالي: ثلاث عشرة ــ= فإنهم حافظوا عليها حتى ضعفوا عن المحافظة على الثالث والسادس معًا، فاختاروا الثالث لكثرة العبادة.
روى مالك في "الموطأ"
(1) عن محمد بن يوسف عن السائب بن يزيد قال: "أمر عمر بن الخطاب أُبيّ بن كعب وتميمًا الدّاريّ أن يقوما للناس بإحدى عشرة ركعة. قال: وكان القارئ يقرأ بالمئين، حتى كنّا نعتمد على العِصِيّ، وما كنا ننصرف إلا في فروع الفجر".
وفي "فتح الباري"
(2) أن سعيد بن منصور رواه من طريق محمد بن إسحاق "حدثني محمد بن يوسف عن جده السائب بن يزيد قال: كنّا نصلي في زمن عمر في رمضان ثلاث عشرة".
--------------------------------------------
ইব্রাহিম থেকে বর্ণিত: মুজতাহিদগণ (مجتهدون) মসজিদের একপাশে সালাত আদায় করতেন এবং ইমাম রমজান মাসে লোকজনকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন।
ইবনে মুহায়রিজ রমজানে মসজিদের পেছনের অংশে সালাত আদায় করতেন এবং কিয়ামের (قيام) জন্য সাধারণ মানুষ মসজিদের সামনের অংশে সালাত আদায় করত।
বস্তুত, অধিকাংশ পরিপূরক বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য করলে তাদের অবস্থা জানা যায়। আর বাকি যা রয়ে গেল তা হলো—তৃতীয়ত: কিয়াম (قيام) রাতের এক-তৃতীয়াংশ সময়ব্যাপী হওয়া; পঞ্চমত: কিয়াম (قيام) দুই দুই রাকাত বা জোড়ায় জোড়ায় (مثنى مثنى) হওয়া এবং বিতর এক রাকাত, তবে কোনো কোনো রাতে তিন রাকাত হওয়া; ষষ্ঠত: সালাত এগারো রাকাতের অধিক না হওয়া, তবে কোনো কোনো রাতে তেরো রাকাত হওয়া। তারা এগুলোর ওপর যত্নশীল ছিলেন, যতক্ষণ না তারা একই সাথে তৃতীয় ও ষষ্ঠ বিষয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দুর্বল হয়ে পড়েন; অতঃপর তারা অধিক ইবাদতের জন্য তৃতীয় বিষয়টিই বেছে নেন।
মালেক মুয়াত্তায়
(১) মুহাম্মদ বিন ইউসুফ থেকে, তিনি সায়িব বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "উমর বিন খাত্তাব উবাই বিন কাব ও তামিমে দারিকে লোকজনকে নিয়ে এগারো রাকাত কিয়াম (قيام) করার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন: ক্বারী শত শত আয়াতবিশিষ্ট সূরাগুলো পাঠ করতেন, এমনকি (দীর্ঘ কিয়ামের কারণে) আমরা লাঠির ওপর ভর দিতাম এবং ফজরের প্রাক্কাল ব্যতীত আমরা সালাত শেষ করতাম না।"
ফাতহুল বারীতে
(২) বর্ণিত হয়েছে যে, সাঈদ বিন মনসুর এটি মুহাম্মদ বিন ইসহাকের সূত্রে (طريق) বর্ণনা করেছেন: "মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني) তাঁর দাদা সায়িব বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি বলেন: আমরা উমরের যুগে রমজানে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতাম।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪০৩)
وحُمِلَ هذا على بعض الليالي، والغالبُ إحدى عشرة، كما في رواية مالك.
وعُلِم من رواية مالك وغيرها أن القوم كانوا يقومون ثلث الليل أو أكثر، فيشُقُّ عليهم طولُ الوقوف كما مرّ.
فروى مالك في "الموطأ"
(1) عن يزيد بن رومان أنه قال: "كان الناس يقومون في زمان عمر بن الخطاب في رمضان بثلاث وعشرين".
وفي "سنن البيهقي"
(2) بسندٍ صحيح [ص 10] عن يزيد بن خُصَيفة عن السائب بن يزيد قال: "كانوا يقومون على عهد عمر بن الخطاب رضي الله عنه في شهر رمضان بعشرين ركعة
… ".
قال البيهقي: "يمكن الجمع بين الروايتين، فإنهم كانوا يقومون بإحدى عشرة، ثم كانوا يقومون بعشرين ويوترون بثلاث، والله أعلم".
وفي القسطلاني
(3): "ذكر في النوادر عن ابن حبيب: أنها كانت أولًا إحدى عشرة ركعة، إلّا أنهم كانوا يطيلون القراءة، فثقُلَ عليهم ذلك، فزادوا في أعداد الركعات وخفّفوا في القراءة
… ".
أقول: ولم يلتزموا ذلك، وفي "مختصر كتاب الوتر" لمحمد بن نصر
(4)--------------------------------------------
এটি কিছু রাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরা হয়েছে, আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগারো রাকাত ছিল, যেমনটি মালিকের বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে।
মালিকের বর্ণনা (رواية) ও অন্যান্য বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, লোকজন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সময় কিয়াম করতেন, ফলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা তাঁদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ত, যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে।
ইমাম মালিক মুয়াত্তা-তে
(১) ইয়াজিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "উমর ইবনুল খাত্তাবের যুগে রমজানে মানুষ তেইশ রাকাত কিয়াম করতেন।"
আর সুনান আল-বাইহাকি-তে
(২) একটি সহিহ (صحيح) সনদে (سند) [পৃষ্ঠা ১০] ইয়াজিদ ইবনে খুসাইফা থেকে, তিনি সায়েব ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তাঁরা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে রমজান মাসে বিশ রাকাত কিয়াম করতেন … "।
ইমাম বাইহাকি বলেন: "উভয় বর্ণনার (رواية) মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব, কেননা তাঁরা (প্রথমে) এগারো রাকাত পড়তেন, এরপর বিশ রাকাত পড়তেন এবং তিন রাকাত বিতর পড়তেন, আল্লাহই সর্বজ্ঞ।"
আর কাসতালানি-তে
(৩) বর্ণিত হয়েছে: "নাওয়াদির গ্রন্থে ইবনে হাবিব থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে: এটি প্রথমে এগারো রাকাত ছিল, তবে তাঁরা কিরাত দীর্ঘ করতেন, ফলে তা তাঁদের ওপর কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তখন তাঁরা রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধি করেন এবং কিরাত সংক্ষিপ্ত করেন … "।
আমি বলি: তাঁরা এর ওপর অবিচল থাকেননি। আর মুহাম্মদ ইবনে নাসরের মুখতাসার কিতাবুল বিতর-এ
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪০৪)
و"فتح الباري"
(1) أعداد مختلفة:
1 - إحدى عشرة.
2 - ثلاث عشرة.
3 - ست عشرة، والوتر.
4 - إحدى وعشرون.
5 - ثلاث وعشرون.
6 - أربع وعشرون، والوتر.
7 - خمس ترويحات، إلى عشرين ليلة، ثم في العشر الأخيرة ست ترويحات.
8 - ست ترويحات، إلى عشرين ليلة، ثم في العشر الأخيرة سبع ترويحات.
9 - مثله، ويوتر بسبع.
10 - أربع وثلاثون، والوتر.
11 - ست وثلاثون، والوتر ثلاث.
12 - ثمان وثلاثون، والوتر واحدة.
13 - إحدى وأربعون.
14 - أربعون، والوتر سبع.
15 - ست وأربعون، والوتر ثلاث.
--------------------------------------------
এবং "ফাতহুল বারী"
(১) গ্রন্থে বিভিন্ন সংখ্যা (বর্ণিত হয়েছে):
১ - এগারো।
২ - তেরো।
৩ - ষোল এবং বিতর।
৪ - একুশ।
৫ - তেইশ।
৬ - চব্বিশ এবং বিতর।
৭ - বিশ রাত পর্যন্ত পাঁচ তারবীহ, তারপর শেষ দশকে ছয় তারবীহ।
৮ - বিশ রাত পর্যন্ত ছয় তারবীহ, তারপর শেষ দশকে সাত তারবীহ।
৯ - তদ্রূপ, এবং সাত রাকাত বিতর।
১০ - চৌত্রিশ এবং বিতর।
১১ - ছত্রিশ এবং তিন রাকাত বিতর।
১২ - আটত্রিশ এবং এক রাকাত বিতর।
১৩ - একচল্লিশ।
১৪ - চল্লিশ এবং সাত রাকাত বিতর।
১৫ - ছেচল্লিশ এবং তিন রাকাত বিতর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪০৫)
وفي "مختصر كتاب قيام الليل" لمحمد بن نصر
(1): "قال إسحاق بن منصور: قلت لأحمد بن حنبل: كم من ركعة يُصلَّى في قيام رمضان؟ فقال: قد قيل فيه ألوان نحوًا من أربعين، إنما هو تطوُّع".
ثم قال: "الزعفراني عن الشافعي: رأيت الناس يقومون بالمدينة تسعًا وثلاثين ركعة. قال: وأحبُّ إليَّ عشرون. قال: وكذلك يقومون بمكة. قال: وليس في شيء من هذا ضيقٌ ولا حدٌّ يُنتهَى إليه؛ لأنه نافلة، فإن أطالوا القيام وأقلُّوا السجودَ فحسنٌ وهو أحبّ إليّ، وإن أكثروا الركوع والسجود فحسن".
أقول: أمّا الحدّ المحتّم فلا، وأمّا الأفضل فالاقتصار على الإحدى عشرة، وفي بعض الليالي ثلاث عشرة، إلّا إذا شقَّ عليهم إطالتُها حتى يستغرقَ الوقتَ الأفضلَ، فلهم أن يزيدوا في العدد، على حسب ما يخفُّ عليهم
(2)، وعلى هذا
(3) [ص 11] جرى عمل السلف كما مرَّ.
* * * *
--------------------------------------------
এবং মুহাম্মদ ইবনে নাসরের "মুখতাসার কিতাব কিয়াম আল-লাইল"-এ
(১) রয়েছে: "ইসহাক ইবনে মানসুর বলেছেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে জিজ্ঞেস করলাম: রমজানের কিয়ামে কত রাকাত সালাত আদায় করা হবে? তিনি বললেন: এ বিষয়ে চল্লিশের কাছাকাছি বিভিন্ন মতের কথা বর্ণিত হয়েছে, এটি তো কেবল নফল বা ঐচ্ছিক (تطوُّع) ইবাদত মাত্র।"
অতঃপর তিনি বলেন: "জাফরানি ইমাম শাফেয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি মদিনার অধিবাসীদের উনচল্লিশ রাকাত কিয়াম করতে দেখেছি। তিনি বলেন: আমার নিকট বিশ রাকাত অধিক প্রিয়। তিনি বলেন: মক্কাবাসীরাও অনুরূপ (বিশ রাকাত) কিয়াম করতেন। তিনি বলেন: এর কোনো কিছুতেই সংকীর্ণতা নেই এবং এমন কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা নেই যেখানে গিয়ে থেমে যেতে হবে; কারণ এটি নফল (نافلة) ইবাদত। সুতরাং যদি তারা কিয়াম (দাঁড়ানো) দীর্ঘ করে এবং রুকু-সিজদা কমিয়ে দেয় তবে তা উত্তম এবং সেটিই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়, আর যদি তারা রুকু ও সিজদার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় তবে সেটিও উত্তম।"
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: কোনো অবধারিত সীমা নেই; তবে উত্তম হলো এগারো রাকাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা, আর কোনো কোনো রাতে তেরো রাকাত; তবে যদি দীর্ঘ কিয়াম তাদের নিকট কষ্টসাধ্য হয় এবং তাতে সর্বোত্তম সময়টি অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, তবে তারা তাদের জন্য সহজসাধ্য হওয়া অনুযায়ী সংখ্যা বাড়িয়ে নিতে পারে
(২)। আর ইতিপূর্বে যেভাবে অতিক্রান্ত হয়েছে, এর ওপর ভিত্তি করেই সালাফদের (السلف) আমল চলমান ছিল
(৩) [পৃষ্ঠা ১১]।
* * * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪০৬)
الاختلافُ في الأفضل: أفي البيت أم في المسجد؟فرادى أم جماعة؟
قد تقدّم أن كونها في البيت هو أحدُ المكمِّلات، وحديثُ زيد بن ثابتٍ نصٌّ صريح في ذلك.
وقد عُورض بحديث أبي ذر، وبما جرى في عهد عمر وبعده، وتقدم الجواب عن ذلك واضحًا.
"المعاني والآثار" للطحاوي (ج 1 ص 207)
(1): "عن إبراهيم، قال: لو لم يكن معي إلا سورتين لردّدتهما أحبُّ إليَّ من أن أقوم خلف الإمام في رمضان".
وفي رواية
(2): "لو لم يكن معي إلا سورة واحدة لكنت أن أردّدها أحبُّ إليّ من أن أقوم خلف الإمام في رمضان".
وفي "مختصر كتاب قيام الليل" لمحمد بن نصر (ص 96 ــ 97): "قال الشافعي: إن صلَّى رجلٌ لنفسه في بيته في رمضان فهو أحبّ إليّ، وإن صلَّى في جماعة فهو حسن".
وفيه (ص 91): "وقيل لأحمد بن حنبل: يُعجِبك أن يُصلّي الرجل مع الناس في رمضان، أو وحده؟ قال: يصلّي مع الناس.
قال: ويُعجِبني أن يصلِّي مع الإمام ويوتر معه، قال النبي صلى الله عليه وسلم: "إن
--------------------------------------------
শ্রেষ্ঠত্ব বা উত্তম হওয়া নিয়ে মতভেদ: বাড়িতে নাকি মসজিদে? একাকী নাকি জামাতে (جماعة)؟
ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি বাড়িতে আদায় করা পরিপূরক বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, এবং জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বর্ণিত হাদিসটি এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট দলিল (نص صريح)।
এর বিপরীতে আবু যার (রা.) বর্ণিত হাদিস এবং উমর (রা.)-এর যুগে ও পরবর্তী সময়ে যা সংঘটিত হয়েছিল তা দ্বারা আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে; তবে এর সুস্পষ্ট উত্তর ইতিপূর্বে প্রদান করা হয়েছে।
তহাবির 'মাআনি আল-আসার' (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৭)
(১)-এ বর্ণিত হয়েছে: "ইব্রাহিম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার নিকট যদি কেবল দুটি সুরা থাকত, তবে রমজানে ইমামের পেছনে দাঁড়ানোর চেয়ে সেই দুটি সুরা বারবার পাঠ করা আমার কাছে অধিক প্রিয় ছিল।"
অন্য একটি বর্ণনায় (رواية)
(২) রয়েছে: "আমার নিকট যদি কেবল একটি সুরা থাকত, তবে রমজানে ইমামের পেছনে দাঁড়ানোর চেয়ে তা বারবার তিলাওয়াত করা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয় ছিল।"
মুহাম্মদ ইবনে নাসরের 'মুখতাসার কিতাব কিয়ামুল লাইল' (পৃষ্ঠা ৯৬-৯৭)-এ রয়েছে: "ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেন: রমজান মাসে কোনো ব্যক্তি যদি একাকী তার ঘরে নামাজ আদায় করে, তবে তা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। আর যদি সে জামাতে (جماعة) নামাজ পড়ে তবে তাও উত্তম (حسن)।"
উক্ত কিতাবের (পৃষ্ঠা ৯১)-এ বর্ণিত হয়েছে: "আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো: রমজানে কোনো ব্যক্তি মানুষের সাথে নামাজ পড়া আপনার কাছে পছন্দনীয় নাকি একা পড়া? তিনি বললেন: মানুষের সাথে নামাজ পড়া।
তিনি আরও বলেন: ইমামের সাথে নামাজ পড়া এবং তাঁর সাথেই বিতর আদায় করা আমার নিকট পছন্দনীয়। কারণ নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪০৭)
الرجل إذا قام مع الإمام حتى ينصرف كُتِب له بقية ليلته"
(1).
قال أبو داود: شهدتُه ــ يعني أحمد ــ شهر رمضان يقوم مع إمامه إلا ليلةً لم أحضرها.
وقال إسحاق: قلت لأحمد: الصلاة في الجماعة أحبُّ إليك أم يُصلِّي وحده في قيام شهر رمضان؟ قال: يُعجبني أن يصلّي في الجماعة، يحيي السنة.
وقال إسحاقُ كما قال".
وفي "مختصر كتاب قيام الليل" لمحمد بن نصر المروزي (ص 95): "باب ذكر من اختار الصلاة وحده على القيام مع الناس إذا كان حافظًا للقرآن".
فذكر حديث زيد بن ثابت، ثم قال: "وقال الليث: ما بلغنا أن عمر وعثمان كانا يقومان في رمضان مع الناس في المسجد.
وقال مالك: كان ابن هرمز ــ من القرَّاء ــ ينصرف فيقوم بأهله في بيته، وكان ربيعة ينصرف، وكان القاسم وسالم ينصرفان لا يقومان مع الناس، وقد رأيتُ يحيى بن سعيد يقوم مع الناس، وأنا لا أقوم مع الناس، لا أشك أن قيام الرجل في بيته أفضل من القيام مع الناس، إذا قوي على ذلك، وما قام رسول الله صلى الله عليه وسلم إلّا في بيته".
--------------------------------------------
"ব্যক্তি যখন ইমামের সাথে (সালাতে) দাঁড়ায় যতক্ষণ না তিনি (সালাত শেষে) প্রস্থান করেন, তার জন্য অবশিষ্ট রাতের (ইবাদত) লিখে দেওয়া হয়।"
(১).
আবু দাউদ বলেন: আমি তাকে—অর্থাৎ ইমাম আহমাদকে—রমজান মাসে তার ইমামের সাথে কিয়াম করতে দেখেছি, কেবল এক রাত ব্যতীত যে রাতে আমি উপস্থিত ছিলাম না।
এবং ইসহাক বলেন: আমি আহমাদকে বললাম: রমজান মাসের কিয়ামে (তারাবিহ) আপনার কাছে জামাতের সাথে সালাত পড়া বেশি পছন্দনীয় নাকি একা সালাত পড়া? তিনি বললেন: জামাতের সাথে সালাত পড়াই আমার পছন্দ, এটি সুন্নাহকে জীবিত করে।
এবং ইসহাকও অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন।
এবং মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী রচিত "মুখতাসার কিতাব কিয়ামুল লাইল" (পৃষ্ঠা ৯৫)-এ রয়েছে: "অনুচ্ছেদ: কুরআন হিফজ থাকলে মানুষের সাথে কিয়ামের পরিবর্তে একাকী সালাত আদায় করাকে যারা পছন্দ করেছেন তাদের আলোচনা।"
অতঃপর তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত-এর হাদিস উল্লেখ করেন এবং বলেন: "আল-লাইস বলেছেন: আমাদের কাছে এমন কোনো বর্ণনা পৌঁছেনি যে, উমর ও উসমান রমজানে মসজিদে মানুষের সাথে কিয়াম করতেন।
ইমাম মালিক বলেন: ইবনে হুরমুয—যিনি কারীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তিনি ফিরে যেতেন এবং ঘরে তার পরিবারকে নিয়ে কিয়াম করতেন। রাবিয়াহ ফিরে যেতেন এবং আল-কাসিম ও সালিম উভয়েই ফিরে যেতেন, তারা মানুষের সাথে কিয়াম করতেন না। আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে মানুষের সাথে কিয়াম করতে দেখেছি, কিন্তু আমি মানুষের সাথে কিয়াম করি না। আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো ব্যক্তি যদি সামর্থ্য রাখে তবে তার জন্য মানুষের সাথে কিয়াম করার চেয়ে ঘরে একা কিয়াম করা উত্তম। আর রাসূলুল্লাহ (সা.) কেবল ঘরেই কিয়াম করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
কিয়ামু রামাদান - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৪০৮)
ثم ذكر بعد ذلك أن يحيى بن سعيد ترك القيام معهم، وقال: "كنت أقوم، ثم تركت ذلك، فإن استطعت أن أقوم بنفسي أحبُّ إليّ".
وذكر عن مجاهد عن ابن عمر: "تُنصِتُ خلفَه كأنك حمار؟ ! صلِّ في بيتك".
ثم ذكر عن ابن عمر أنه كان ينصرف، لا يصلّي معهم.
ومثله عن القاسم، وسالم، ونافع، وعروة.
وذكر عن مجاهد قال: "إذا كان مع الرجل عشر سورٍ فليردِّدْها، ولا يقوم في رمضان خلف الإمام".
وذكر آخِرَ (ص 91) عن عمرو بن مهاجر أن عمر بن عبد العزيز قد كانت تقوم العامّة بحضرته في رمضان بخمس عشرة تسليمة، وهو في قبّته لا ندري ما يصنع. وذكر عن جماعةٍ أنهم كانوا يقومون في نواحي المسجد فرادى، لا يصلّون مع الجماعة.
وذكر (ص 90 ــ 91) عن جماعةٍ صلاتها جماعةً في المسجد.
والذي أرى أنَّ محلَّ ذلك فيمن له عذر، ومن الأعذار دفعُ توهُّم أن صلاتها جماعةً في المسجد منكرةٌ مطلقًا، وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم ربّما يفعل الشيء لبيان الجواز.
وجاء عن أبي بكر، وعمر، وابن عباسٍ: أنهم كانوا لا يُضَحُّون خشيةَ أن يعتقد الناس وجوبَ التضحية. فكان هؤلاء الأكابر يتركونها ليعلم الناسُ أنها ليست بواجبة، وهم في تركهم ذلك مُحسِنون، مُثابُون عليه؛ لما قصدوا به من بيان السُّنَّة.
এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ তাদের সাথে কিয়াম করা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমি কিয়াম করতাম, এরপর তা ছেড়ে দিয়েছি; যদি আমি নিজে নিজে কিয়াম করতে সক্ষম হই তবে তা-ই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।"
আর মুজাহিদ থেকে ইবনে উমরের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "তুমি কি তার পিছনে গাধার মতো নীরব থাকো?! তুমি তোমার বাড়িতে সালাত আদায় করো।"
এরপর তিনি ইবনে উমর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি চলে যেতেন, তাদের সাথে সালাত আদায় করতেন না।
একই ধরনের বর্ণনা কাসিম, সালিম, নাফে এবং উরওয়াহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তির দশটি সূরা মুখস্থ থাকে, তবে সে যেন সেগুলোই পুনরাবৃত্তি করে এবং রমজানে ইমামের পিছনে কিয়াম না করে।"
৯১ পৃষ্ঠার শেষে আমর ইবনে মুহাজির থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজের উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষ রমজানে পনেরো তাসলিমা পর্যন্ত কিয়াম করত, অথচ তিনি তার বিশেষ কক্ষে থাকতেন এবং আমরা জানতাম না তিনি কী করছেন। এবং একটি দল সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা মসজিদের বিভিন্ন প্রান্তে একা একা কিয়াম করতেন, জামাতের (جماعة) সাথে সালাত আদায় করতেন না।
৯০-৯১ পৃষ্ঠায় একটি জামাত (جماعة) সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা মসজিদে জামাতের (جماعة) সাথে সালাত আদায় করতেন।
আমি মনে করি, বিষয়টি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাদের ওজর রয়েছে। আর ওজরসমূহের মধ্যে একটি হলো—এই ভুল ধারণা দূর করা যে, মসজিদে জামাতের (جماعة) সাথে এই সালাত আদায় করা সম্পূর্ণভাবে গর্হিত (منكر); অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো কোনো কাজ এর বৈধতা (جواز) প্রমাণের জন্য করতেন।
আবু বকর, উমর এবং ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা কুরবানি করতেন না এই ভয়ে যে, পাছে মানুষ কুরবানি করাকে ওয়াজিব (واجب) মনে করে বসে। সুতরাং এই মহান ব্যক্তিরা তা বর্জন করতেন যেন মানুষ জানতে পারে যে এটি ওয়াজিব (واجب) নয়। আর এই বর্জনের মাধ্যমে তারা পুণ্যবান এবং সওয়াবের অধিকারী ছিলেন; কারণ তাদের উদ্দেশ্য ছিল সুন্নাহ (سنة) বর্ণনা করা।