(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: -)
مصابيح الدرر في تناسب آيات القرآن الكريم والسور   (عادل بن محمد أبو العلاء)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: مصابيح الدرر في تناسب آيات القرآن الكريم والسور

المؤلف: عادل بن محمد أبو العلاء

الناشر: الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

الطبعة: العدد129 - السنة 37 - 1425هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 140

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাসাবিহুদ দুরার ফি তানাসুবিল আ-য়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার   (আদিল বিন মুহাম্মদ আবু আল-আলা)

বিভাগ: উলুমুল কুরআন ও তাফসীরের মূলনীতি


গ্রন্থ: মাসাবিহুদ দুরার ফি তানাসুবিল আ-য়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার

গ্রন্থকার: আদিল বিন মুহাম্মদ আবু আল-আলা

প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

সংস্করণ: সংখ্যা ১২৯ - বর্ষ ৩৭ - ১৪২৫ হিজরি

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪০

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌مُقَدّمَة

…

تَقْدِيم

الْحَمد لله الَّذِي أنزل الْكتاب متناسبةً سوره وآياتُه، متشابهة فواصله وغاياتُه.

وَأشْهد أَلا إِلَه إِلَّا الله الَّذِي تمت كلماتُه، وعمَّت مكرماتُه.

وَأشْهد أَن سيدنَا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله … الَّذِي ختمت بِهِ نبواته، وكملت برسالته رسالاتُه … توالت عَلَيْهِ - وعَلى آله وَأَصْحَابه - صلواتُه، وتواتر تسليمُه وبركاتُه.

وَبعد..

فَإِن الْقُرْآن الْكَرِيم بلغ من ترابط أَجْزَائِهِ، وتماسك كَلِمَاته وجمله وآياته وسوره مبلغا فريداً، لَا يدانيه فِيهِ أَي كَلَام آخر.

فألفاظ الْقُرْآن وآياته وسوره متعانقة متماسكة، آخذ بعضُها بأعناق بعض، فتراها سَلِسَةً رقيقَة عذبةً متجانسة، أَو فخمةً جزلةً متآلفة.

وعَلى الرغم من أَنه كَثْرَة متنوعة، إِلَّا أَن كَلِمَاته متآخية متجاوبة.. جرساً وإيقاعاً ونغماً.

وَهَذَا كُله مِمَّا جعله كتابا سوياً، يَأْخُذ بالأبصار، ويستحوذ على الْعُقُول والأفكار: {قُرْآناً عَرَبِيّاً غَيْرَ ذِي عِوَجٍ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} (الزمر/28) ..

يعرف هَذَا الإحكام والترابط فِي الْقُرْآن كل من تمعن فِي التناسب الْوَاضِح فِيهِ، فَلَا تفكُّك وَلَا تخاذل ولاانحلال وَلَا تنافر. بَيْنَمَا الموضوعات مُخْتَلفَة متنوعة. فَمن تشريع، إِلَى عقائد إِلَى قصَص، إِلَى جدل، إِلَى وصف … إِلَخ.

وَهَذَا التناسب هُوَ سر من الْأَسْرَار الدقيقة الَّتِي تتجلى بهَا عَظمَة الْقُرْآن الْكَرِيم وإعجازه، كَيفَ لَا وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم يَقُول: "مَا من الْأَنْبِيَاء نَبِي إِلَّا أُعطي من
ভূমিকা

…

উপক্রমণিকা

প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার সূরাসমূহ ও আয়াতসমূহ সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যার অন্তমিল ও লক্ষ্যসমূহ সাদৃশ্যপূর্ণ।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যাঁর বাণীসমূহ পূর্ণতা লাভ করেছে এবং যাঁর অনুগ্রহসমূহ ব্যাপকতা লাভ করেছে।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল... যাঁর মাধ্যমে নবুওয়াত সমাপ্ত হয়েছে এবং যাঁর রিসালাতের মাধ্যমে সকল রিসালাত পূর্ণতা পেয়েছে... তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর বর্ষিত হোক নিরন্তর দরুদ এবং ধারাবাহিক (متواتر) সালাম ও বরকত।

অতঃপর...

নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন এর বিভিন্ন অংশের আন্তঃসম্পর্ক এবং এর শব্দ, বাক্য, আয়াত ও সূরাসমূহের সংহতির ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা অন্য কোনো কালাম বা কথা স্পর্শ করতে পারে না।

কুরআনের শব্দাবলি, আয়াত ও সূরাসমূহ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ও সুসংহত, যার একটি অন্যটিকে মজবুতভাবে ধরে রেখেছে। আপনি একে সাবলীল, কোমল, সুমিষ্ট ও সুবিন্যস্ত অথবা গাম্ভীর্যপূর্ণ, শক্তিশালী ও সুসংগত হিসেবে দেখতে পাবেন।

এতে বৈচিত্র্য ও আধিক্য থাকা সত্ত্বেও এর শব্দগুলো ধ্বনি, ছন্দ ও সুরের দিক থেকে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও পরস্পর সংগতিপূর্ণ।

আর এ সব কিছুই একে একটি সুঠাম কিতাবে পরিণত করেছে, যা দৃষ্টি কেড়ে নেয় এবং বুদ্ধি ও চিন্তা জগতকে আবিষ্ট করে: {আরবি ভাষায় এমন এক কুরআন যার মধ্যে কোনো বক্রতা নেই, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারে} (আজ-জুমার/২৮) ..

কুরআনের এই সুদৃঢ় গাঁথুনি ও আন্তঃসম্পর্ক সেই ব্যক্তিই বুঝতে পারেন যিনি এর স্পষ্ট সামঞ্জস্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন। সেখানে কোনো শিথিলতা, দুর্বলতা, বিচ্ছিন্নতা বা বৈপরীত্য নেই; অথচ এর আলোচ্য বিষয়সমূহ ভিন্ন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ—কখনো বিধান, কখনো আকাইদ, কখনো কাহিনী, কখনো বিতর্ক আবার কখনো বর্ণনা... ইত্যাদি।

এই সামঞ্জস্যই হলো সেই সূক্ষ্ম রহস্যগুলোর একটি যার মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের মহিমা ও অলৌকিকতা প্রকাশ পায়। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে নবী (সা.) বলেছেন: "নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী ছিলেন না যাঁকে এমন কিছু দেওয়া হয়নি যার ওপর..."
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ১৪)
الْآيَات مَا مثله آمن عَلَيْهِ الْبشر، وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِي أُوتِيتهُ وَحيا أوحاه الله إليَ، فأرجو أَن أكون أَكْثَرهم تَابعا يَوْم الْقِيَامَة" (1) .

وَمن هُنَا كَانَ اهتمام عُلَمَائِنَا - عبر الْقُرُون - بإبراز هَذَا الإعجاز والبحث عَن السبل المؤدية إِلَيْهِ.. وَقد بَدَأَ اهتمامي بموضوع التناسب والترابط فِي الْقُرْآن الْكَرِيم - بِاعْتِبَارِهِ من أبرز مناحي الإعجاز القرآني - مُنْذُ فَتْرَة مبكرة من حَياتِي العلمية.. فمنذ مرحلة الماجستير، وَكَانَ مَوْضُوع بحثي هُوَ: (خَصَائِص السُّور والآيات المدنية ومقاصدها) (2) . وَأَنا أتتبع هَذَا الْمَعْنى فِي كَلَام المفسِّرين والمصنفين فِي عُلُوم الْقُرْآن … ثمَّ كَانَت مرحلة الدكتوراه، حَيْثُ اهتممت بِهِ أَيْضا فِي أثْنَاء عرضى لموضوع (الصراع بَين الْحق وَالْبَاطِل كَمَا جَاءَ فِي سُورَة الْأَعْرَاف) - وَهُوَ عنوان الرسَالَة (3) -، حَيْثُ تلمست الْوحدَة الموضوعية فِي سُورَة الْأَعْرَاف، وَالَّتِي تشد موضوعاتها إِلَى ذَلِك العنوان الرئيس.. ثمَّ تعرضت لنَفس الْمَوْضُوع كَذَلِك عِنْد تفسيري لسورة الحجرات (4) ، وَالَّذِي حاولت فِيهِ

--------------------------------------------

(1) رَوَاهُ الشَّيْخَانِ - بِأَلْفَاظ مُتَقَارِبَة - عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه..

البُخَارِيّ: كتاب فَضَائِل الْقُرْآن، بَاب كَيفَ نزل الْوَحْي وَأول مَا نزل. وَكتاب: الِاعْتِصَام بِالْكتاب وَالسّنة، بَاب قَول النَّبِي (بعثت بحوامع الْكَلم، حَدِيث (4981) ، حَدِيث (7274) ، ط. دَار السَّلَام للنشر والتوزيع، وَمُسلم: كتاب الْإِيمَان، بَاب وجوب الْإِيمَان برسالة النَّبِي (. حَدِيث 239 (1/134) . ط. دَار إحْيَاء التراث الْعَرَبِيّ، تَحْقِيق مُحَمَّد فؤاد عبد الْبَاقِي.

(2) صدرت طبعتها الأولى (عَام1406?) عَن دَار الْقبْلَة للثقافة الإسلامية بجدة، ومؤسسة عُلُوم الْقُرْآن ببيروت.

(3) طبعت للمرة الأولى عَام 1416? - 1995م، وصدرت ضمن مطبوعات مكتبة الْملك عبد الْعَزِيز الْعَامَّة بالرياض، ويجرى الْآن إِعَادَة طبعها للمرة الثَّانِيَة.

(4) طبع ضمن: الْمنْهَج القويم فِي تَفْسِير الْقُرْآن الْكَرِيم، مؤسسة الرسَالَة - بيروت، ط 1/1419? - 1998م.
...এমন নিদর্শন যার ওপর মানুষ ঈমান এনেছে; আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা কেবল ওহি (وحي) যা আল্লাহ আমার নিকট প্রত্যাদেশ করেছেন। সুতরাং আমি আশা করি যে, কিয়ামতের দিন আমি তাদের মধ্যে সর্বাধিক অনুসারী লাভকারী হব।" (১) ।

এখান থেকেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমাদের আলেমগণের এই অলৌকিকত্ব (إعجاز) ফুটিয়ে তোলার এবং এর দিকে নিয়ে যাওয়ার পথসমূহ অনুসন্ধানের প্রতি গুরুত্বারোপের সূচনা হয়েছে। আর পবিত্র কুরআনের সামঞ্জস্য (تناسب) ও আন্তঃসম্পর্ক (ترابط) এর বিষয়ে আমার আগ্রহ—যা কুরআনের অলৌকিকত্বের অন্যতম প্রধান দিক হিসেবে বিবেচিত—আমার জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের শুরুর দিক থেকেই তৈরি হয়েছিল। মাস্টার্স পর্যায় থেকেই আমার গবেষণার বিষয় ছিল: (মাদানি সুরা ও আয়াতের বৈশিষ্ট্য এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد)) (২)। আমি মুফাসসির (المفسرين) এবং কুরআনের জ্ঞানসমূহের (علوم القرآن) গ্রন্থকারদের (المصنفين) বক্তব্যে এই বিষয়টি অনুসরণ করছিলাম … এরপর পিএইচডি পর্যায়ে আমি (সুরা আল-আরাফে সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্ব) বিষয়টি উপস্থাপনের সময়ও এর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করি—এটিই ছিল আমার অভিসন্দর্ভের (الرسالة) শিরোনাম (৩)—যেখানে আমি সুরা আল-আরাফের বিষয়ভিত্তিক ঐক্য (الوحدة الموضوعية) অনুধাবন করার চেষ্টা করেছি, যা এর বিষয়গুলোকে উক্ত মূল শিরোনামের সাথে গেঁথে রেখেছে। অতঃপর সুরা আল-হুজুরাত এর তাফসিরের (تفسير) সময়ও আমি একই প্রসঙ্গের অবতারণা করেছি (৪), যেখানে আমি চেষ্টা করেছি...

--------------------------------------------

(১) শাইখদ্বয় (الشيخان) —কাছাকাছি শব্দে— এটি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

বুখারি: কিতাব ফাযাইলুল কুরআন, অধ্যায়: কীভাবে ওহি (وحي) অবতীর্ণ হলো এবং সর্বপ্রথম কী অবতীর্ণ হলো। এবং কিতাব: আল-ইতিসাম বিল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ, অধ্যায়: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী (আমাকে জাওয়ামিউল কালিম (جوامع الكلم) তথা ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য দিয়ে পাঠানো হয়েছে), হাদিস (৪৯৮১), হাদিস (৭২৭৪), দারুস সালাম পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সংস্করণ। এবং মুসলিম: কিতাবুল ইমান, অধ্যায়: নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাতের ওপর ইমান আনা ওয়াজিব হওয়া, হাদিস ২৩৯ (১/১৩৪), দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি সংস্করণ, তাহকিক (تحقيق): মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি।

(২) এর প্রথম সংস্করণ (১৪০৬ হিজরি) জেদ্দার দারুল কিবলাহ লিল সাকাফাহ আল-ইসলামিয়্যাহ এবং বৈরুতের মুআসসাসাতু উলুমিল কুরআন থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

(৩) এটি প্রথমবার ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে মুদ্রিত হয়েছে এবং রিয়াদের মাকতাবাতুল মালিক আব্দুল আজিজ আল-আম্মাহ এর প্রকাশনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বর্তমানে এর দ্বিতীয় সংস্করণের পুনঃমুদ্রণের কাজ চলছে।

(৪) এটি 'আল-মানহাজুল কায়্যিম ফি তাফসিরিল কুরআনিল কারিম'-এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে, মুআসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত, ১ম সংস্করণ/১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ১৫)
تطبيق هَذَا اللَّوْن من التناسب والترابط بَين آياتها الْكَرِيمَة.

وَهَا أَنا ذَا، أَعُود - بتوفيقٍ من الله سبحانه وتعالى إِلَى هَذَا الْمَوْضُوع المهم، فأخصه بِهَذِهِ الدراسة، الَّتِي يُمكن أَن تُعدَّ مدخلًا لمزيد من الْعِنَايَة بِعلم الْمُنَاسبَة (نظرياً وتطبيقاً) .

وَقد سميت هَذِه الدراسة المتواضعة بـ (مصابيح الدُّرَر فِي تناسب آيَات الْقُرْآن الْكَرِيم والسور) .

وَقد جَاءَت دراستي هَذِه فِي سِتَّة مبَاحث، حاولت فِيهَا أَن أَلُمَّ شتات الْمَوْضُوع، من حَيْثُ التَّعْرِيف بِعلم الْمُنَاسبَة، وتحديد موقعه بِالنِّسْبَةِ إِلَى عُلُوم الْقُرْآن، والتاريخ الْمُجْمل لَهُ، وَالْعرض لأهم وأبرز أَعْلَامه (من القدماء والمعاصرين) ، وتفصيل القَوْل قَلِيلا فِي أَنْوَاعه الرئيسة.. ثمَّ الاهتمام بإيراد نماذج تطبيقية على هَذَا الْعلم الشريف فِي أَنْوَاعه الثَّلَاثَة الرئيسة.

وَقد عُنيت عنايةً بَالِغَة بِنِسْبَة كل قَول إِلَى قَائِله، وتحديد مصدر النقولات عَن أهل الْعلم، وَالتَّعْلِيق عَلَيْهَا بالتوضيح، أَو الْإِضَافَة أَو النَّقْد (1) . . بِمَا يخْدم نطاق الْبَحْث.

هَذَا.. وأسأل الله تَعَالَى أَن يوفقني دَوْمًا إِلَى خدمَة كِتَابه الْعَزِيز، وَأَن يَجْعَلنِي

--------------------------------------------

(1) أحب أَن أُشير هُنَا إِلَى طريقتي فِي النَّقْل عَن الْعلمَاء، فَأَنا ألتزم - غَالِبا - بِنَصّ كَلَامهم، وأشير فِي الْهَامِش إِلَى الْمصدر (ببياناته الموثقة كَامِلَة فِي أول موضعٍ يذكر فِيهِ) ، وَإِذا حدث أَن اختصرت مِنْهُ شَيْئا فَإِنِّي أَضَع ثَلَاث نقاط بَين قوسين كبيرين هَكَذَا (…) إِشَارَة إِلَى أَن هُنَا مَا تجاوزته.. وَإِذا حدث أَن تصرفت فِي بعض الْعبارَات، فإنني أُشير إِلَى ذَلِك فِي الْحَاشِيَة بقولى: انْظُر. وَمَا كَانَ من تَعْلِيق لي على نَص، فإنني أجعله فِي الْهَامِش مشاراً إِلَيْهِ بنجمة صَغِيرَة، وَمَا كَانَ من إِضَافَة يسيرَة إِلَى الْكَلَام فِي النَّص، فإنني أجعله بَين قوسين كبيرين.
এর সম্মানিত আয়াতসমূহের মাঝে এই ধরণের সামঞ্জস্য ও আন্তঃসম্পর্কের প্রয়োগ।

আর এখন আমি—মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার তৌফিকে—এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির দিকে পুনরায় ফিরে আসছি; ফলে আমি একে এই বিশেষ গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যা ইলমুল মুনাসাবাহ বা সামঞ্জস্য বিজ্ঞানের (তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক) প্রতি অধিকতর মনোযোগ প্রদানের একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আমি এই বিনীত গবেষণার নামকরণ করেছি 'মাজাবিহুদ দুরার ফি তানাসুবি আয়াাতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার' নামে।

আমার এই গবেষণাটি ছয়টি পরিচ্ছেদে উপস্থাপিত হয়েছে, যাতে আমি সামঞ্জস্য বিজ্ঞানের সংজ্ঞা প্রদান, উলুমুল কুরআনের সাপেক্ষে এর অবস্থান নির্ধারণ, এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, প্রাচীন ও সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ মনীষীদের উপস্থাপনা এবং এর প্রধান প্রকারভেদগুলো নিয়ে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে বিষয়বস্তুর বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করার চেষ্টা করেছি। অতঃপর এই মহিমান্বিত ইলমের তিনটি প্রধান প্রকারের ওপর কিছু ব্যবহারিক দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছি।

আমি প্রতিটি বক্তব্যকে তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করতে, বিজ্ঞ আলেমদের থেকে গৃহীত উদ্ধৃতিসমূহের উৎস নির্ধারণ করতে এবং গবেষণার পরিধি অনুযায়ী সেগুলোর ওপর ব্যাখ্যা, সংযোজন কিংবা সমালোচনা (১) মূলক টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছি।

এই হলো বিষয়... আর আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে সর্বদা তাঁর প্রিয় কিতাবের খিদমত করার তৌফিক দান করেন এবং আমাকে করেন...

--------------------------------------------

(১) আমি এখানে আলেমদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করতে চাই। আমি সাধারণত তাঁদের বক্তব্যের মূল পাঠ অনুসরণ করি এবং টীকায় তার উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করি (যেখানে প্রথমবার উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে পূর্ণ নির্ভরযোগ্য (موثقة) তথ্যাদিসহ)। যদি কখনো আমি সেখান থেকে কিছু সংক্ষেপ করি, তবে আমি একটি বড় বন্ধনীর মাঝে তিনটি বিন্দু এভাবে (…) দিয়ে থাকি যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এখানে কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। আর যদি আমি ভাষায় কিছুটা পরিবর্তন করি, তবে আমি টীকায় ‘দেখুন’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করি। কোনো পাঠের ওপর আমার নিজস্ব কোনো মন্তব্য থাকলে তা টীকায় একটি ছোট তারকা চিহ্নের মাধ্যমে নির্দেশ করি, আর মূল পাঠের ভেতরে সামান্য কোনো সংযোজন থাকলে তা বড় বন্ধনীর মাঝে রাখি।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ১৬)
من أَهله - الَّذين هم أهل الله وخاصتُه -، وَأَن ينفع كلَّ قارئٍ بِهَذَا الْجهد المقلِّ فِي هَذَا الْبَاب، وَأَن يتقبله مني بقبولٍ حسن، ويجعله خَالِصا لوجهه الْكَرِيم، ومقرباً إِلَى جواره فِي جنَّات النَّعيم.. إِنَّه هُوَ السَّمِيع الْمُجيب.

وَالْحَمْد لله أَولا وآخراً. وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا.
যাতে তিনি আমাকে তাঁর সেই পরিজনদের অন্তর্ভুক্ত করেন—যারা আল্লাহর পরিজন ও তাঁর বিশেষ প্রিয়জন—এবং এই শাস্ত্রের এই নগণ্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রত্যেক পাঠককে উপকৃত করেন, আর আমার পক্ষ থেকে এটি উত্তমভাবে কবুল করেন এবং একে তাঁর সুমহান সত্তার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং জান্নাতুন নাঈমে তাঁর সান্নিধ্য লাভের অসিলা বানান। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।

শুরু ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الأول: مقدِّمات أساسية

‌‌أَولا: المبادئ العشَرة:

درج عُلَمَاؤُنَا الْأَثْبَات على ابْتِدَاء تصانيفهم فِي الْعُلُوم الْمُخْتَلفَة بتوضيح أمورٍ عشرَة، تُعدُّ مَفَاتِيح ومداخل للنَّاظِر فِي هَذَا الْعلم أَو ذَاك، وَقد اصْطلحَ على تَسْمِيَة هَذِه (المفاتيح) و (المداخل) بالمبادئ الْعشْرَة، وَهِي تتعرض لتعريف الْعلم مَوضِع الْبَحْث، وتحديد مَوْضُوعه، وتوضيح ثَمَرَة دراسته، وَالْإِشَارَة إِلَى فَضله، ونسبته بَين الْعُلُوم، وواضعه، واسْمه، وَحكم الشَّارِع فِي دراسته، ومسائله.. وَقد جمع ذَلِك كلَّه النَّاظِم (1) فِي قَوْله الْمَعْرُوف:

إِن مبادئ كلِّ فنٍّ عشرةْ … الحدُّ، والموضوعُ، ثمَّ الثمرةْ

فضلُه، ونسبةٌ، والواضعْ … والاسمُ، الاستمدادُ، حكم الشارعْ

مسائلٌ وَالْبَعْض بِالْبَعْضِ اكْتفى … وَمن درى الْجَمِيع حَاز الشرفا

وجرياً على هَذِه السُّنة المنهجية فِي التصنيف، فإننا نبدأ بِالْإِشَارَةِ إِلَى مَا يتَعَلَّق بِعلم الْمُنَاسبَة من هَذِه المبادئ، مرتبَة بِحَسب مُقْتَضى الْمنطق، فَنَقُول - وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق، وَمِنْه العون والتأييد:

1 - اسْمه: اصْطلحَ مُنْذُ بدايات الْكَلَام فِي هَذَا الْعلم، على تَسْمِيَته بـ (علم الْمُنَاسبَة) ، وَقد يُعبَّر عَنهُ بِعلم (التناسب) أَو (الترابط)

وَهِي كلُّها قريبٌ من قريب؛ إِذْ الْمَعْنى الْجَامِع لَهَا ينظر إِلَى لمح المقاربة والمشاكلة الَّتِي يرصدها النَّاظر فِي
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: মৌলিক ভূমিকা

‌‌প্রথমত: মৌলিক দশটি বিষয় (المبادئ العشرة):

আমাদের নির্ভরযোগ্য (الأثبات) আলেমগণ বিভিন্ন শাস্ত্রের রচনায় দশটি বিষয় সুস্পষ্ট করার মাধ্যমে শুরু করার রীতি অনুসরণ করেছেন, যা এই বা সেই শাস্ত্রের পাঠকের জন্য চাবিকাঠি ও প্রবেশদ্বার হিসেবে গণ্য হয়। এই চাবিকাঠি ও প্রবেশদ্বারগুলোকে পারিভাষিক শব্দে ‘মৌলিক দশটি বিষয়’ (المبادئ العشرة) হিসেবে অভিহিত করা হয়। এতে আলোচ্য শাস্ত্রের সংজ্ঞা (الحد), এর বিষয়বস্তু (الموضوع) নির্ধারণ, এটি অধ্যয়নের ফলাফল (الثمرة) স্পষ্ট করা, এর মর্যাদা (الفضل) নির্দেশ করা, অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক (النسبة), এর প্রবর্তক (الواضع), এর নাম (الاسم), এর উৎস (الاستمداد), এই শাস্ত্র অধ্যয়নে শারঈ বিধান (حكم الشارع) এবং এর আলোচ্য বিষয়সমূহ (المسائل) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। কাব্যকার (১) তাঁর বিখ্যাত পঙক্তিতে এই সবগুলোকে একত্রিত করেছেন:

নিশ্চয়ই প্রতিটি শাস্ত্রের মূলনীতি হলো দশটি... সংজ্ঞা (الحد), বিষয়বস্তু (الموضوع) এবং ফলাফল (الثمرة)।

এর মর্যাদা (الفضل), সম্পর্ক (النسبة) এবং প্রবর্তক (الواضع)... নাম (الاسم), উৎস (الاستمداد) এবং শারঈ বিধান (حكم الشارع)।

আলোচ্য বিষয়সমূহ (المسائل); কেউ কেউ এর কয়েকটি জানলেই তুষ্ট হন... আর যিনি সবগুলো জানেন, তিনি উচ্চ মর্যাদা লাভ করেন।

রচনালৈশৈলীর এই পদ্ধতিগত রীতি অনুসরণ করে আমরা ‘মুনাসাবাহ’ (المناسبة) শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট এই মূলনীতিগুলো যৌক্তিক ধারাবাহিকতায় উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করছি। আমরা বলছি—আর আল্লাহর তাওফিকেই সাফল্য এবং তাঁর নিকট থেকেই সাহায্য ও সমর্থন কাম্য:

১ - এর নাম: এই শাস্ত্রের আলোচনার শুরু থেকেই একে ‘মুনাসাবাহ শাস্ত্র’ (علم المناسبة) হিসেবে নামকরণ করার পরিভাষা গড়ে উঠেছে। একে ‘তানাসুব’ (التناسب) বা ‘তরাবুত’ (الترابط) শাস্ত্র হিসেবেও ব্যক্ত করা হয়।

এগুলো সবই প্রায় সমার্থক; কেননা এগুলোর সমন্বিত অর্থ সেই নৈকট্য ও সাদৃশ্যের প্রতি লক্ষ্য করে যা কোনো পর্যবেক্ষক দেখতে পান...
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ১৮)
كتاب الله - تَعَالَى - بَين آيَاته وسوره.

2 - حدُّه: فِي اللُّغَة: الْمُنَاسبَة مَأْخُوذَة من النِّسْبَة وَالنّسب، بِمَعْنى الْقَرَابَة والنسيب الْمُنَاسب، وتتضمن معنى المقاربة والمشاكلة (1) .

وَأما فِي الِاصْطِلَاح؛ فَيمكن تَعْرِيف علم الْمُنَاسبَة بِأَنَّهُ: علمٌ يبْحَث فِي الْمعَانِي الرابطة بَين الْآيَات بَعْضهَا بِبَعْض، وَبَين السُّور بَعْضهَا بِبَعْض، حَتَّى تُعرف عللُ تَرْتِيب أَجزَاء الْقُرْآن الْكَرِيم.

3 - مَوْضُوعه: مَوْضُوع كل علمٍ مَا يُبحث فِيهِ عَن عوارضه الذاتية، كجسم الْإِنْسَان بِالنِّسْبَةِ لعلم الطِّبّ، وَاللَّفْظ الْعَرَبِيّ بِالنِّسْبَةِ لعلم النَّحْو. وَمن هُنَا؛ فإننا ندرك أَن مَوْضُوع علم الْمُنَاسبَة هُوَ آياتُ الْقُرْآن الْكَرِيم وسوره، من حَيْثُ بَيَان اتصالها وتلاحمها، بِمَا يظْهر أَجزَاء الْكَلَام مُتَّصِلَة، آخِذا بَعْضهَا بأعناق بعض، مِمَّا يقوى بإدراكه إِدْرَاك الارتباط الْعَام بَين أَجزَاء الْكتاب الْكَرِيم، وَيصير حَال التَّأْلِيف الإلهي كَحال الْبناء الْمُحكم المتناسق الْأَجْزَاء.

4 - حكم دراسته والاشتغال بِهِ: لَا ريب أَن إِدْرَاك إعجاز الْقُرْآن الْمجِيد وَاجِب على الْمُسلمين؛ ليقيموا الْحجَّة على حقِّية كِتَابهمْ، وَكَونه تنْزيلاً من حَكِيم حميد. وَلما كَانَ النفاذُ إِلَى أسرار الإعجاز الغامضة، ومعاني الْمُنَاسبَة العميقة، لَا يَتَأَتَّى لكل أحدٍ.. فقد صَار وَاجِبا على الْأمة أَن تنتدب إِلَى إِدْرَاك ذَلِك طَائِفَة مِنْهَا، يقومُونَ عَنْهَا بِالْوَاجِبِ الكفائي، فَإِذا قَامُوا بِهِ سقط الْإِثْم عَن الْأمة كلهَا، وَإِلَّا أصَاب الإثمُ كلَّ قادرٍ وَلم ينْهض إِلَيْهِ؛ قَالَ تَعَالَى: {وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} (التَّوْبَة /122) .

--------------------------------------------

(1) أَشَارَ إِلَى هَذِه الأبيات شَارِح متن الأجرومية الْعَلامَة السَّيِّد أَحْمد زيني دحلان، ص 1، ط. مكتبة المشهد الْحُسَيْنِي.

(2) الْقَامُوس الْمُحِيط، الفيروز آبادي، مَادَّة (نسب) .
আল্লাহর কিতাব -তাআলা- এর আয়াত ও সূরাসমূহের মধ্যে।

২ - এর সংজ্ঞা (حد): আভিধানিক অর্থে: 'সামঞ্জস্য' (مناسبة) শব্দটি নিসবাত ও নাসাব থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো নিকটাত্মীয়তা এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ আত্মীয়। এটি নৈকট্য ও সাদৃশ্যের অর্থকেও অন্তর্ভুক্ত করে (১)।

আর পরিভাষাগত (اصطلاح) দিক থেকে; সামঞ্জস্য বিজ্ঞান (علم المناسبة)-এর সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া যেতে পারে যে: এটি এমন একটি বিজ্ঞান যা আয়াতসমূহের একে অপরের সাথে এবং সূরাসমূহের একে অপরের সাথে সংযোগকারী অর্থগুলো নিয়ে আলোচনা করে, যাতে পবিত্র কুরআনের অংশগুলোর বিন্যাসের কারণসমূহ (علل) জানা যায়।

৩ - এর আলোচ্য বিষয় (موضوع): প্রতিটি বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হলো ওইসব বিষয় যা তার মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করে, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মানবদেহ এবং নাহু শাস্ত্রের ক্ষেত্রে আরবি শব্দ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, সামঞ্জস্য বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয় হলো পবিত্র কুরআনের আয়াত ও সূরাসমূহ—সেগুলোর পারস্পরিক সংযোগ ও সংহতি বর্ণনার দিক থেকে, যা বক্তব্যের অংশগুলোকে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে ফুটিয়ে তোলে, যেন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর মাধ্যমে পবিত্র কিতাবের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সাধারণ যোগসূত্র উপলব্ধি করা শক্তিশালী হয় এবং ঐশী এই রচনার অবস্থাটি একটি সুসংহত ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ অট্টালিকার মতো হয়ে দাঁড়ায়।

৪ - এটি অধ্যয়ন ও চর্চার বিধান (حكم): এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) উপলব্ধি করা মুসলিমদের জন্য আবশ্যক (واجب); যাতে তারা তাদের কিতাবের সত্যতা এবং এটি যে প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তার সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে। আর যেহেতু এই অলৌকিকত্বের রহস্যময় গূঢ় রহস্য এবং সামঞ্জস্যের গভীর অর্থ উদ্ঘাটন করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই উম্মতের ওপর এটি আবশ্যক (واجب) হয়ে পড়েছে যেন তাদের মধ্য থেকে একটি দল এই উপলব্ধি অর্জনের জন্য আত্মনিয়োগ করে, যারা উম্মতের পক্ষ থেকে ফরজে কিফায়া (واجب كفائي) পালন করবে। যদি তারা এটি পালন করে, তবে পুরো উম্মত গোনাহ থেকে মুক্ত হবে; অন্যথায় প্রত্যেক সক্ষম ব্যক্তি যে এতে এগিয়ে আসেনি, সে গোনাহগার হবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুমিনদের সবার একসাথে অভিযানে বের হওয়া সংগত নয়। তবে তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন যেন তারা তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সাবধান হতে পারে} (সূরা তওবা/১২২)।

--------------------------------------------

(১) আল-আজুরুম্মিয়াহ মতনের ভাষ্যকার আল্লামা সায়্যিদ আহমদ জাইনি দাহলান এই পংক্তিগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন, পৃষ্ঠা ১, প্রকাশনা: মাকতাবাতুল মাশহাদ আল-হুসাইনি।

(২) আল-কামুস আল-মুহিত, ফিরোজাবাদি, 'নাসাব' (نسب) মূল ধাতু।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ১৯)
5 - نسبته: نِسْبَة هَذَا الْعلم إِلَى عُلُوم الْقُرْآن الْأُخْرَى كنسبة النتيجة إِلَى الْمُقدمَات، وَالثَّمَرَة إِلَى أَجزَاء الشَّجَرَة.. أَو - كَمَا يَقُول البقاعى - كنسبة علم الْمعَانِي وَالْبَيَان من النَّحْو (1) ، وَلَو قَالَ: من اللُّغَة، لَكَانَ أدق، فَهُوَ خُلَاصَة مَا تَنْتَهِي إِلَيْهِ أبحاث الْقُرْآن الْمجِيد، الَّتِي تتعرض لبَيَان نُزُوله، وأسبابه ومحكمه ومتشابهه، وعامِّه وخاصِّه، وغريبه.. إِلَى آخر هَذِه المباحث الضافية. وَلذَلِك، فَإِنَّهُ يتطلب قبل الْكَلَام فِيهِ هضماً محكماً لجَمِيع هَذِه المباحث الْجُزْئِيَّة، حَتَّى يصل الباحث إِلَى استخلاص القضايا الْكُلية من بَين جزئياتها، والمقاصد الْعَامَّة من بَين تفصيلاتها.. وَمن ثمَّ، يصل إِلَى استكناه إعجاز الْقُرْآن فِي سوره وَجُمْلَته، بِحَيْثُ ينظر إِلَيْهِ كالكلمة الْوَاحِدَة.

6 - استمداده: مَادَّة هَذَا الْعلم - كَمَا سبق آنِفا - هِيَ جَمِيع مَا يتَعَلَّق بِالْقُرْآنِ الْكَرِيم

من بحوث جزئية مِمَّا تعرض لَهُ الكاتبون فِي عُلُوم الْقُرْآن، إِلَّا أَن أَكثر هَذِه البحوث لصوقاً بِهِ مَا تعلق مِنْهَا بعلوم البلاغة الْعَرَبيَّة والتذوق الأدبي، نظرا لِأَنَّهَا الركيزة الأساسية فِي تذوق كَلَام الله - تَعَالَى - ومحاولة إِدْرَاك إعجازه، وَلذَلِك وجدتُ أغلب من كتب فِيهِ من الْمُتَأَخِّرين من المهتمين بِهَذِهِ الجوانب الفنية والأدبية؛ لكَونهَا أَدَاة إِدْرَاك الإعجاز الأولى.

7 - مسَائِله: لعلم الْمُنَاسبَة مَسْأَلَتَانِ رئيستان: الأولى: النّظر فِي التناسب بَين السُّورَة الْوَاحِدَة. وَالثَّانيَِة النّظر فِي التناسب فِيمَا بَين السُّور بَعْضهَا وَبَعض. وتتفرع عَن هَاتين الْمَسْأَلَتَيْنِ مسَائِل أُخْرَى جزئية: فَفِيمَا يتَعَلَّق بِالْأولَى مِنْهُمَا،

--------------------------------------------

(1) مصاعد النّظر للإشراف على مَقَاصِد السُّور، برهَان الدّين البقاعي، تَحْقِيق د. عبد السَّمِيع مُحَمَّد أَحْمد حسنين، مكتبة المعارف - الرياض، ط1/1408? - 1987م، 1/142.
5 - এর সম্বন্ধ: অন্যান্য কুরআন বিজ্ঞানের সাথে এই বিজ্ঞানের সম্বন্ধ হলো ভূমিকার সাথে ফলাফলের এবং বৃক্ষের বিভিন্ন অংশের সাথে ফলের সম্বন্ধের ন্যায়। অথবা — যেমন আল-বিকায়ী বলেন — ব্যাকরণ শাস্ত্রের সাথে ইলমুল মাআনি ও ইলমুল বয়ানের যে সম্বন্ধ (১); তবে যদি তিনি 'ভাষা' বলতেন তবে তা অধিকতর সূক্ষ্ম হতো। এটি হলো পবিত্র কুরআনের গবেষণাসমূহের সেই নির্যাস যা এর অবতরণ, এর প্রেক্ষাপট, সুষ্পষ্ট (محكم), রূপক (متشابه), সাধারণ (عام), বিশেষ (خاص) এবং এর বিরল বা অপরিচিত শব্দ (غريب) ইত্যাদি বিস্তারিত আলোচনার পরিসমাপ্তিতে অর্জিত হয়। এজন্য এই বিষয়ে আলোচনার পূর্বে এই সমস্ত আংশিক বিষয়গুলো সুদৃঢ়ভাবে আয়ত্ত করা প্রয়োজন, যাতে গবেষক এর আংশিক বিষয়সমূহ থেকে সামগ্রিক নীতিমালা এবং এর বিস্তারিত বিবরণ থেকে সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহ নিষ্কাশন করতে পারেন। ফলশ্রুতিতে, তিনি কুরআনের সূরাসমূহে এবং এর সামগ্রিক রূপে এর অলৌকিকত্বের গভীর রহস্য উন্মোচনে সক্ষম হবেন, যার ফলে কুরআনকে একটি একক শব্দের ন্যায় মনে হবে।

6 - এর উৎস: ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিজ্ঞানের মূল উপাদান হলো পবিত্র কুরআন সংশ্লিষ্ট সেই সকল আংশিক গবেষণাসমূহ যা কুরআন বিজ্ঞানের লেখকদের আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে এই সকল গবেষণার মধ্যে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র এবং সাহিত্যিক রুচিবোধের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই এর সাথে সবচেয়ে বেশি নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। কেননা মহান আল্লাহর কালামের স্বাদ আস্বাদন এবং এর অলৌকিকত্ব অনুধাবনের প্রচেষ্টায় এগুলোই হলো প্রধান ভিত্তি। এই কারণেই আমি দেখেছি যে, পরবর্তীকালের অধিকাংশ লেখক যারা এই বিষয়ে লিখেছেন, তারা এই শৈল্পিক ও সাহিত্যিক দিকগুলোর প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন; কারণ এগুলোই হলো অলৌকিকত্ব অনুধাবনের প্রাথমিক মাধ্যম।

7 - এর আলোচ্য বিষয়সমূহ: ইলমুল মুনাসাবার প্রধান আলোচ্য বিষয় দুটি: প্রথমটি: একটি সূরার অভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা করা। দ্বিতীয়টি: এক সূরার সাথে অন্য সূরার সামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা করা। এই দুটি মূল বিষয় থেকে আরও কিছু আংশিক বিষয় শাখা প্রশাখায় বিন্যস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটির ক্ষেত্রে...

--------------------------------------------

(১) মাসাইদুন নাজার লিল ইশরাফ আলা মাকাসিদিস সুওয়ার, বুরহানুদ্দীন আল-বিকায়ী, তাহকীক: ড. আবদুস সামী মুহাম্মদ আহমদ হাসনাইন, মাকতাবাতুল মাআরিফ - রিয়াদ, ১ম প্রকাশ/১৪০৮হি - ১৯৮৭ইং, ১/১৪২।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২০)
يُنظر فِي عدَّة مسَائِل، مِنْهَا: مُنَاسبَة آيَات السُّورَة بَعْضهَا لبَعض، ومناسبة خاتمتها لفاتحتها، ومناسبة تَسْمِيَتهَا لموضوعها، ومناسبة موضوعاتها المتنوعة لمحورها الْعَام وغرضها الرئيس.

وَفِيمَا يتَعَلَّق بثانيتها، ينظر فِي عدَّة مسَائِل أَيْضا، مِنْهَا: الْمُنَاسبَة اللفظية بَين السُّور، والمناسبة الموضوعية، ومناسبة الفواتح والخواتم فِيمَا بَينهَا.

8 - وَاضعه: ثمَّة إشارات قَوِيَّة فِي تراثنا تُشِير إِلَى أَن السَّابِقين من أهل الصَّدْر الأول من الصَّحَابَة وكبار التَّابِعين كَانُوا يعْرفُونَ أَمر الْمُنَاسبَة، ويهتمون بهَا فِي كتاب الله - تَعَالَى -، بِمَا فِي سليقتهم من أفانين الْعَرَبيَّة، ودقة إدراكهم لمرامي الْكتاب الْعَزِيز.. وَقد نقل البقاعي رحمه الله بعض الْآثَار الدَّالَّة على ذَلِك (1) .. فَمِنْهَا مَا روى عبد الرَّزَّاق بِإِسْنَادِهِ عَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه أَنه قَالَ: ((إِذا سَأَلَ أحدكُم صَاحبه كَيفَ يقْرَأ آيَة كَذَا وَكَذَا، فليسله عَمَّا قبلهَا)) (2) ، فِي إِشَارَة مِنْهُ إِلَى أَن مَا قبلهَا يدلُّه على تَحْدِيد لَفظهَا، بِمَا تَدْعُو إِلَيْهِ الْمُنَاسبَة.

وَمِنْهَا مَا رُوي عَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رضي الله عنه أَنه حدَّث أَن قوما يدْخلُونَ النَّار ثمَّ يخرجُون مِنْهَا، فَقَالُوا لَهُ: أوليس الله تَعَالَى يَقُول: {يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخَارِجِينَ مِنْهَا وَلَهُمْ عَذَابٌ مُقِيمٌ} (الْمَائِدَة /37) -؟ فَقَالَ لَهُم أَبُو سعيد: اقرؤوا مَا فَوْقهَا: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ أَنَّ لَهُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً وَمِثْلَهُ مَعَهُ لِيَفْتَدُوا بِهِ مِنْ عَذَابِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَا تُقُبِّلَ مِنْهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (الْمَائِدَة /36) (3) .. وَفِيه

--------------------------------------------

(1) انظرها فِي: مصاعد النّظر، 1/154، 155.

(2) مُصَنف عبد الرَّزَّاق (5988) .

(3) أخرجه ابْن مرْدَوَيْه وَابْن أبي حَاتِم فِيمَا ذكر ابْن كثير فِي (تَفْسِيره) عِنْد تَفْسِير الْآيَتَيْنِ (36) و (37) من سُورَة الْمَائِدَة، وَلَكِن من حَدِيث جَابر بن عبد الله.

(4) أخرجه ابْن أبي شيبَة 7/231، وَأَبُو نعيم فِي الْحِلْية 2/292.
এখানে বেশ কিছু বিষয় পর্যালোচনা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে: সূরার আয়াতসমূহের পারস্পরিক মিল, সূরার সমাপ্তির সাথে সূচনার মিল, সূরার নামকরণের সাথে এর বিষয়বস্তুর মিল এবং এর বৈচিত্র্যময় বিষয়বস্তুসমূহের সাথে সাধারণ মূলবিন্দু ও প্রধান উদ্দেশ্যের মিল।

আর দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিষয় লক্ষ্য করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে: সূরাসমূহের মধ্যে শাব্দিক মিল, বিষয়গত মিল এবং সূরাসমূহের সূচনা ও সমাপ্তিগুলোর মধ্যকার মিল।

৮ - এর প্রবর্তক: আমাদের ঐতিহ্যে এমন জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে যা নির্দেশ করে যে, প্রথম যুগের অগ্রবর্তী ব্যক্তিগণ যেমন সাহাবীগণ এবং বড় বড় তাবেয়ীগণ 'মুনাসাবাত' বা মিলের বিষয়টি জানতেন। তাঁরা আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতেন, যা তাঁদের সহজাত আরবী ভাষার পাণ্ডিত্য এবং মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের লক্ষ্যসমূহ অনুধাবনের সূক্ষ্মদর্শিতার কারণে সম্ভব হয়েছিল। ইমাম বুকায়ি (রহ.) এ বিষয়ে ইঙ্গিতবাহী কিছু বর্ণনা (آثار) উল্লেখ করেছেন (১)। তার মধ্যে একটি হলো যা আবদুর রাজ্জাক তাঁর সনদে (بإسناده) ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তোমাদের কেউ যখন তার সাথীকে জিজ্ঞেস করে যে, অমুক আয়াতটি কীভাবে পড়তে হবে, তখন সে যেন তাকে তার পূর্ববর্তী আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে" (২)। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পূর্ববর্তী আয়াতটিই তাকে ঐ আয়াতের শব্দ নির্ধারণে পথ দেখাবে, যা মুনাসাবাত বা মিলের দাবি অনুযায়ী হয়ে থাকে।

আরও একটি বর্ণনা হলো যা আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন যে একদল লোক জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বের হবে। তখন লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞেস করল: আল্লাহ তাআলা কি বলেননি: {তারা আগুন থেকে বের হতে চাইবে কিন্তু তারা সেখান থেকে বের হতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী আযাব} (আল-মায়িদাহ/৩৭)? তখন আবু সাঈদ (রা.) তাঁদের বললেন: তোমরা এর আগের আয়াতটি পড়: {নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে, যদি তাদের কাছে যমীনে যা আছে তার সবটুকু থাকে এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও থাকে, যাতে তারা কিয়ামত দিবসের আযাব থেকে মুক্তিপণ হিসেবে তা দিতে পারে, তবুও তাদের থেকে তা কবুল করা হবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব} (আল-মায়িদাহ/৩৬) (৩)... এবং এতে রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাসায়িদুন নাযার, ১/১৫৪, ১৫৫।

(২) মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক (৫৯৮৮)।

(৩) এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) ইবনে মারদুওয়াইহ এবং ইবনে আবি হাতিম যেমনটি ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে সূরা আল-মায়িদাহর ৩৬ ও ৩৭ নম্বর আয়াতের তাফসিরের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন, তবে এটি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর হাদীস থেকে বর্ণিত।

(৪) এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) ইবনে আবি শায়বাহ ৭/২৩১ এবং আবু নুয়াইম হিলইয়াতুল আউলিয়া ২/২৯২-তে।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২১)
تَنْبِيه لَهُم إِلَى مُرَاعَاة السِّيَاق، حَتَّى لَا يضلوا فِي فهم الْقُرْآن الْمجِيد، ويضربوا بعض آيَاته بِبَعْض.

وَمِنْهَا مَا رُوي عَن مُسلم بن يسَار - التَّابِعِيّ الْجَلِيل، رحمه الله أَنه قَالَ: ((إِذا حدَّثت عَن الله حَدِيثا، فقِفْ حَتَّى تنظر مَا قبله وَمَا بعده)) (4) .

وَلَكِن الْكَلَام فِي التناسب والترابط لم يظْهر كعلمٍ مُسْتَقل إِلَّا مَعَ الإِمَام الْجَلِيل أبي بكر النَّيْسَابُورِي (1) (ت 324?) ، وَكَانَ غزير الْعلم فِي الشَّرِيعَة وَالْأَدب، فَإِنَّهُ أول من أظهر علم الْمُنَاسبَة، إِذْ كَانَ يهتم بِهِ فِي درسه، وَيَقُول إِذا قُرئت عَلَيْهِ آيةٌ: ((لم جُعِلَتْ هَذِه الْآيَة إِلَى جنب هَذِه؛ وَمَا الْحِكْمَة فِي جَعْلِ هَذِه السُّورَة إِلَى جنب هَذِه؟)) .. وَكَانَ يُزري على عُلَمَاء بَغْدَاد، لعدم علمهمْ بِتِلْكَ الْمعَانِي (2) .

وَقد ظلّ هَذَا الْعلم زَمنا طَويلا لَا يتَجَاوَز أَن يكون مُجَرّد إشارات ولفتات بَين ثنايا كتب التَّفْسِير، وَلَا سِيمَا عِنْد فَخر الدّين الرَّازِيّ (ت606?) فِي كِتَابه (مَفَاتِيح الْغَيْب) .. إِلَى أَن أفرده بالتأليف أَبُو جَعْفَر بن الزبير الأندلسي الغرناطي (ت 708?) ، وَذَلِكَ فِي كتابٍ سَمَّاهُ (الْبُرْهَان فِي مُنَاسبَة تَرْتِيب سور الْقُرْآن) .. ثمَّ

--------------------------------------------

(1) هُوَ عبد الله بن مُحَمَّد بن زِيَاد، الْأمَوِي، الشَّافِعِي، إِمَام الشافعيين فِي عصره بِبَغْدَاد سمع بنيسابور وَالْعراق وَالشَّام ومصر والحجاز، جَالس الرّبيع والمزني وتفقه بهما، وهما من أَصْحَاب الشَّافِعِي، توفّي سنة 324?. سير أَعْلَام النبلاء 15/65 - 67.

(2) انْظُر: الْبُرْهَان فِي عُلُوم الْقُرْآن، بدر الدّين الزَّرْكَشِيّ، تَحْقِيق: مُحَمَّد أَبُو الْفضل إِبْرَاهِيم، الحلبى، ط2 / 1972، 1/36، وَكَذَلِكَ: الإتقان فِي عُلُوم الْقُرْآن، جلال الدّين السُّيُوطِيّ، تَحْقِيق: د. مصطفى ديب البُغا، دَار ابْن كثير - بيروت، ط 3/1996م، 2/108.
প্রসঙ্গের প্রতি লক্ষ্য রাখার বিষয়ে এটি তাঁদের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যাতে তাঁরা পবিত্র কুরআনের মর্ম অনুধাবনে পথভ্রষ্ট না হন এবং এর এক আয়াতকে অপর আয়াতের বিপরীতে উপস্থাপন না করেন।

এর মধ্যে রয়েছে প্রখ্যাত তাবেয়ি (تابعي) মুসলিম ইবনে ইয়াসার (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যখন তুমি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করো, তখন থামো এবং তার আগের ও পরের অংশগুলো দেখো।" (৪)।

তবে সামঞ্জস্য ও আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ক আলোচনা একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি প্রখ্যাত ইমাম (إمام) আবু বকর আন-নাইসাবুরী (১) (মৃত্যু ৩২৪ হি.?) এর পূর্ব পর্যন্ত। তিনি শরয়ি জ্ঞান ও সাহিত্যে গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন। তিনিই প্রথম ‘ইলমুল মুনাসাবাহ’ (আয়াতের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক জ্ঞান) প্রকাশ করেন; কেননা তিনি তাঁর পাঠদানে এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। যখনই তাঁর সামনে কোনো আয়াত পাঠ করা হতো, তিনি বলতেন: "কেন এই আয়াতটিকে এই আয়াতের পাশে রাখা হয়েছে? এবং এই সূরাটিকে এই সূরার পাশে রাখার হিকমত কী?" তিনি এই সূক্ষ্ম অর্থগুলো না জানার কারণে বাগদাদের আলেমদের সমালোচনা করতেন (২)।

সুদীর্ঘকাল যাবত এই শাস্ত্রটি তাফসিরের কিতাবসমূহের মাঝে কেবল কিছু ইঙ্গিত ও ইশারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, বিশেষ করে ফখরুদ্দিন আর-রাজি (মৃত্যু ৬০৬ হি.?) এর 'মাফাতিহুল গায়ব' কিতাবে। অবশেষে আবু জাফর ইবনে জুবায়ের আল-আন্দালুসি আল-গারনাতি (মৃত্যু ৭০৮ হি.?) একে একক বিষয় হিসেবে সংকলন করেন তাঁর 'আল-বুরহান ফি মুনাসাবাতি তারতিবি সুওয়ারিল কুরআন' নামক গ্রন্থে... তারপর...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদ, আল-উমাউয়ি, আশ-শাফিয়ি। তিনি স্বীয় যুগে বাগদাদে শাফিয়ি মাযহাব অনুসারীদের ইমাম (إمام) ছিলেন। তিনি নাইসাবুর, ইরাক, সিরিয়া, মিশর ও হিজাজে হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন। তিনি রাবি ও মুজানির সান্নিধ্যে থেকেছেন এবং তাঁদের নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন; তাঁরা উভয়েই ইমাম শাফিয়ির ছাত্র ছিলেন। তিনি ৩২৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৫/৬৫ - ৬৭।

(২) দেখুন: আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন, বদরুদ্দিন আজ-জারকাশি, তাহকিক: মুহাম্মদ আবু আল-ফজল ইবরাহিম, আল-হালাবি, ২য় সংস্করণ / ১৯৭২, ১/৩৬; অনুরূপভাবে: আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন, জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতি, তাহকিক: ড. মুস্তফা দিব আল-বুগা, দারু ইবনি কাসির - বৈরুত, ৩য় সংস্করণ / ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ, ২/১০৮।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২২)
جَاءَ بعد ذَلِك برهَان الدّين البقاعي (ت 885?) ، فأفرد لَهُ كتابين كَامِلين، أعظمهما: (نظم الدُّرَر فِي تناسب الْآيَات والسور) ، وَالثَّانِي: (مصاعد النّظر للإشراف على مَقَاصِد السُّور) ، وهما أهم مَا كتب فِي هَذَا الْبَاب، وهما عُمْدَة كل من كتب فِيهِ حَتَّى يَوْم النَّاس هَذَا. وسوف يَأْتِي لذَلِك مزِيد بَيَان عَن الْكَلَام عَن تَارِيخ علم الْمُنَاسبَة وأبرز أَعْلَامه.

وَهَذَا كلُّه فِيمَا يتَعَلَّق بتطبيقات علم الْمُنَاسبَة، أما التنظير لَهُ، والتقعيد لمسائله، فثمة كَلَام حوله متناثر فِي بطُون كتب عُلُوم الْقُرْآن، إِلَّا أَن المساهمة الْأَعْظَم - فِي تقديرنا - فِي هَذَا الْبَاب، هِيَ تِلْكَ الَّتِي قدمهَا الْأُسْتَاذ الْجَلِيل الشَّيْخ عبد الحميد الفراهي (ت 1349? - 1930م) فِي كِتَابه المهم (دَلَائِل النظام) .

وسوف يَأْتِي تَفْصِيل كل ذَلِك فِيمَا يَلِي من مطَالب هَذِه الدراسة، بِإِذن الله تَعَالَى.

9 - فضلُه: من الْمُقَرّر أَن فضل كل علمٍ يُقاس بِفضل مَوْضُوعه، وموضوع علم الْمُنَاسبَة هُوَ كَلَام الله الْعَزِيز. وَمن هُنَا؛ فَإِنَّهُ من أجلِّ الْعُلُوم الَّتِي يَنْبَغِي صرف الهمم إِلَيْهَا، بِاعْتِبَارِهِ علما دَقِيقًا جَلِيلًا، يتطلَّب فهما ثاقباً لمقاصد الْقُرْآن، وتذوقاً رفيعاً لنظمه وإعجازه.

10 - ثمرتُه: بَيَان وجهٍ مهمٍّ من وُجُوه إعجاز الْقُرْآن الْمجِيد، وَإِثْبَات كَونه من عِنْد الله العليِّ الْحَكِيم. فقد جعل الله - سُبْحَانَهُ - هُنَا الاتساق والتلاؤم بَين آيَاته من دَلَائِل حقِّيته وَكَونه من لَدنه - سُبْحَانَهُ -، فَقَالَ: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً} (النِّسَاء /82) .. إِذن فنفي التنافر وَالِاخْتِلَاف عَن الْقُرْآن الْمجِيد (سورٍ وآياتٍ) مِمَّا يثبت إلهية مصدره، وحقِّية تنْزيله، ولمثل هَذِه الْغَايَة توجَّه الهمم، وتشحذ العزائم.
এরপর বুরহানউদ্দীন আল-বিকাঈ (মৃত্যু ৮৮৫ হি.?) আসলেন এবং তিনি এই বিষয়ের জন্য দুইটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব উৎসর্গ করলেন। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ হলো: (নাজমুদ দুরার ফি তানাসুবিল আয়াতি ওয়াস সুওয়ার) এবং দ্বিতীয়টি হলো: (মাসায়িদুন নাজার লিল ইশরাফ আলা মাকাসিদেস সুওয়ার)। এই দুটিই এই বিষয়ে লিখিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিতাব এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত এই বিষয়ে যারা লিখেছেন, তাদের সকলের জন্য এগুলোই হলো মূল ভিত্তি। অচিরেই ইলমে মুনাসাবার ইতিহাস এবং এর প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের আলোচনার সময় এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বর্ণনা আসবে।

আর এই সবই ছিল ইলমে মুনাসাবার প্রয়োগিক দিক সংক্রান্ত। তবে এর তাত্ত্বিক রূপরেখা এবং এর মাসআলাগুলোর মূলনীতি নির্ধারণ নিয়ে উলূমুল কুরআনের কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে বিক্ষিপ্ত আলোচনা রয়েছে। তবে আমাদের বিবেচনায় এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান হলো সেটি, যা শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শেখ আব্দুল হামিদ আল-ফারাহি (মৃত্যু ১৩৪৯ হি.? - ১৯৩০ খ্রি.) তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ (দালাইলুন নিজাম)-এ পেশ করেছেন।

আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় এই গবেষণার পরবর্তী পরিচ্ছেদগুলোতে এই সবকিছুর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।

৯ - এর শ্রেষ্ঠত্ব: এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, প্রতিটি বিদ্যার শ্রেষ্ঠত্ব তার বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়। আর ইলমে মুনাসাবার বিষয় হলো মহান আল্লাহর সুমহান বাণী। সে হিসেবে, এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যা যার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করা উচিত; যেহেতু এটি একটি সূক্ষ্ম ও মহান জ্ঞান, যা কুরআনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে তীক্ষ্ণ মেধা এবং এর বিন্যাস ও অলৌকিকত্বের উচ্চমার্গীয় রুচি দাবি করে।

১০ - এর ফলাফল: মহিমান্বিত কুরআনের অলৌকিকত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বর্ণনা করা এবং এটি যে সুউচ্চ প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে তা প্রমাণ করা। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর আয়াতসমূহের মধ্যবর্তী সংগতি ও সামঞ্জস্যকে তাঁর সত্যতা এবং তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার অন্যতম প্রমাণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য পেত} (আন-নিসা /৮২)। সুতরাং, মহিমান্বিত কুরআনের (সূরা ও আয়াতসমূহ) মধ্য হতে অসঙ্গতি ও বৈপরীত্য নাকচ হওয়া এটিই প্রমাণ করে যে এর উৎস ঐশ্বরিক এবং এর অবতরণ সত্য। আর এই ধরনের উদ্দেশ্যের জন্যই সংকল্প নিবদ্ধ করা এবং ইচ্ছাশক্তিকে শাণিত করা উচিত।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২৩)
فَبِهَذَا الْعلم يظْهر - كَمَا ذكرتُ من قبل - أَن أَجزَاء الْكَلَام بَعْضهَا آخذٌ بأعناق بعض، فيقوى بذلك الارتباط وَيصير حالُ التَّأْلِيف حالَ الْبناء الْمُحكم المتلائم الْأَجْزَاء (1) .

--------------------------------------------

(1) انْظُر: الإتقان، 2/978.

সুতরাং এই ইলমের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়—যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি—যে বক্তব্যের অংশসমূহ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যার ফলে পারস্পরিক যোগসূত্র সুদৃঢ় হয় এবং গ্রন্থনার অবস্থাটি একটি সুদৃঢ় (محكم) ও সুসংগত কাঠামোর রূপ পরিগ্রহ করে, যার প্রতিটি অংশ সুসমন্বিত (১)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইতকান, ২/৯৭৮।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ثَانِيًا: تَعْرِيف السُّورَة وَالْآيَة:

لما كَانَت مسَائِل علم الْمُنَاسبَة دَائِرَة على آيَات الْقُرْآن وسوره - من الْجِهَات الَّتِي أشرتُ إِلَيْهَا من قبل - كَانَ من المستحسن أَن أُلقيَ ضوءاً كاشفاً على تَعْرِيف كلٍّ من الْآيَة وَالسورَة، وَأَن أُشير - بإيجاز بَالغ - إِلَى بعض الْمُهِمَّات الْمُتَعَلّقَة بهما، وعمدتي فِي هَذَا الْمُقدمَة الثَّامِنَة من مقدِّمات تَفْسِير الْأُسْتَاذ الشَّيْخ الْجَلِيل مُحَمَّد الطَّاهِر بن عاشور (ت 1393? - 1973م) الَّتِي صدَّر بهَا تَفْسِيره الْعَظِيم: (التَّحْرِير والتنوير) ، فقد أحسن - رَحْمَة الله عَلَيْهِ - تَحْرِير مسائلها، وَضبط حُدُودهَا (2) . قَالَ:

(1) تَعْرِيف الْآيَة: هِيَ مقدارٌ مركَّبٌ من الْقُرْآن، وَلَو تَقْديرا أَو إِلْحَاقًا.

فَقولِي: ((وَلَو تَقْديرا)) لإدخال قَوْله تَعَالَى: {مُدْهَامَّتَانِ} (الرَّحْمَن /64) ؛ إِذْ التَّقْدِير: هما مدهامتان. وَنَحْو: {وَالْفَجْرِ} (الْفجْر/1) ؛ إِذْ التَّقْدِير: أُقسم بِالْفَجْرِ.

وَقَوْلِي: ((أَو إِلْحَاقًا)) لإدخال بعض فواتح السُّور من الْحُرُوف الْمُقطعَة، فقد عُدَّ أَكْثَرهَا فِي الْمَصَاحِف آياتٍ، مَا عدا: (الر) ، و (المر) ، و (طس) ، و (ص) ، و (ق) ، و (ن) .

- وَتَسْمِيَة هَذِه الْأَجْزَاء من الْكَلَام آيَات من مبتكرات الْقُرْآن.

--------------------------------------------

(2) انْظُر هَذِه الْمُقدمَة فِي: التَّحْرِير والتنوير، مُحَمَّد الطَّاهِر بن عاشور، الدَّار التونسية للنشر، تونس 1984م، 1/74: 120
দ্বিতীয়ত: সুরা (سورة) ও আয়াতের (آية) সংজ্ঞা:

যেহেতু ‘ইলমুল মুনাসাবাহ’ (সম্পর্কবিজ্ঞান) এর বিষয়াবলি কুরআনের আয়াত (آية) ও সুরা (سورة) সমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়—যেসব দিক আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—তাই আয়াত (آية) ও সুরা (سورة) উভয়ের সংজ্ঞার ওপর আলোকপাত করা এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি অতি সংক্ষেপে ইঙ্গিত করা সমীচীন মনে করছি। এক্ষেত্রে আমার প্রধান অবলম্বন হলো প্রখ্যাত শায়খ মুহাম্মাদ আত-তাহির ইবনে আশুর (ওফাত ১৩৯৩ হি. - ১৯৭৩ খ্রি.)-এর তাফসিরের ভূমিকার অষ্টম উপ-ভূমিকাটি, যা দিয়ে তিনি তাঁর সুবিশাল তাফসির গ্রন্থ ‘আত-তাহরির ওয়াত-তানভির’ শুরু করেছেন। তিনি—রহিমাহুল্লাহ (رحمه الله)—এর মাসয়ালাসমূহ অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং এর সীমানা সুনির্ধারিত করেছেন (২)। তিনি বলেন:

(১) আয়াতের (آية) সংজ্ঞা: এটি কুরআনের এমন একটি সংকলিত অংশ, চাই তা উহ্য (تقديراً) হিসেবে হোক বা অন্তর্ভুক্তিকরণ (إلحاقاً) হিসেবে হোক।

আমার বক্তব্য: "চাই তা উহ্য (تقديراً) হোক"—এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার বাণী: {مُدْهَامَّتَانِ} (আর-রাহমান/৬৪) কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; কেননা এর উহ্য (تقديراً) রূপ হলো: "তারা উভয়ই ঘন সবুজ"। অনুরূপভাবে: {وَالْفَجْرِ} (আল-ফজর/১); কারণ এর উহ্য (تقديراً) রূপ হলো: "আমি শপথ করছি ফজরের"।

আর আমার বক্তব্য: "বা অন্তর্ভুক্তিকরণ (إلحاقاً) হিসেবে"—এর মাধ্যমে সুরার শুরুতে ব্যবহৃত কিছু বিচ্ছিন্ন অক্ষর (الحروف المقطعة) সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; কেননা অধিকাংশ মুসহাফে (مصحف) এগুলোকে আয়াত (آية) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, কেবল: (আলিফ লাম রা), (আলিফ লাম মিম রা), (ত্বা সিন), (সদ), (ক্বফ) এবং (নুন) ব্যতীত।

- কথার এই অংশগুলোকে আয়াত (آية) হিসেবে নামকরণ করা কুরআনের এক অনন্য উদ্ভাবন।

--------------------------------------------

(২) এই ভূমিকাটি দেখুন: আত-তাহরির ওয়াত-তানভির, মুহাম্মাদ আত-তাহির ইবনে আশুর, আদ-দারুত তিউনিসিয়্যাহ লিন-নাশর, তিউনিসিয়া ১৯৮৪ খ্রি., ১/৭৪-১২০।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২৪)
- وَإِنَّمَا سُمِّيتْ بذلك؛ لِأَنَّهَا دليلٌ على أَنَّهَا موحًى بهَا من عِنْد الله إِلَى النَّبِي (؛ لاشتمالها على مَا هُوَ الحدُّ الْأَعْلَى فِي بلاغة نظم الْكَلَام، ولوقوعها - مَعَ غَيرهَا من الْآيَات - دَلِيلا على أَن الْقُرْآن الْكَرِيم لَيْسَ من تأليف الْبشر؛ إِذْ قد تحدى النَّبِي (بِهِ أهل الفصاحة والبلاغة من أهل اللِّسَان، فعجزوا عَن تأليف مثل سورةٍ من سوره؛ وَلذَا لَا يحقُّ لجمل التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل أَن تسمَّى آيَات، إِذْ لَيست فِيهَا هَذِه الخصوصية فِي اللُّغَة العبرانية والآرامية.

- تَرْتِيب الْآيَات: الْإِجْمَاع على أَن اتساق الْحُرُوف والآيات كلَّه بالتوقيف عَن

رَسُول الله (، وَالَّذِي تَلقاهُ عَن جِبْرِيل عليه السلام، عَن ربِّ الْعِزَّة سبحانه وتعالى وَلَيْسَ فِي ذَلِك خلاف بَين أحدٍ من أهل الْقبْلَة، وَلَكِن لما كَانَ تعيينُ الْآيَات الَّتِي أَمر النَّبِي (بوضعها فِي مَوضِع معِين غير مروى إِلَّا فِي الْبَعْض مِنْهَا، كَانَ حَقًا على المفسِّر أَن يتطلب مناسبات لمواقع الْآيَات، مَا وجد إِلَى ذَلِك سَبِيلا موصلاً، وَإِلَّا فليُعرضْ عَنهُ، وَلَا يكن من المتكلفين، فالإجماع على صِحَة التَّرْتِيب يكفينا عَن التَّكَلُّف فِي إِظْهَار أَسبَابه.

(2) تَعْرِيف السُّورَة: هِيَ قِطْعَة من الْقُرْآن مُعينَة بمبدأ وَنِهَايَة لَا يتغيران، مسماةٌ باسمٍ مَخْصُوص، تشْتَمل على ثَلَاث آيَات فَأكْثر، فِي غرضٍ تَامّ ترتكز عَلَيْهِ مَعَاني آياتها، ناشيءٍ عَن أَسبَاب النّزول أَو مقتضيات مَا تشْتَمل عَلَيْهِ من الْمعَانِي المتناسبة.

ومناسبة هَذِه التَّسْمِيَة للقطعة من الْقُرْآن أَنَّهَا مَأْخُوذَة من السُّور، وَهُوَ الْجِدَار الْمُحِيط بِالْمَدِينَةِ أَو بمحلَّة قومٍ، وزادوه هَاء تَأْنِيث فِي آخِره مُرَاعَاة لِمَعْنى الْقطعَة من الْكَلَام. وَقيل: مَأْخُوذ من السُّؤر، وَهُوَ الْبَقِيَّة مِمَّا يشرب الشَّارِب،
- আর এর এই নামকরণ এই জন্যই করা হয়েছে; কারণ এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ওহী হওয়ার প্রমাণ; কারণ এতে বাক্য বিন্যাসের অলঙ্কার শাস্ত্রের সর্বোচ্চ মান বিদ্যমান থাকার কারণে এবং অন্যান্য আয়াতের সাথে এটিও এই দালিল যে, পবিত্র কুরআন মানুষের রচনা নয়; যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মাধ্যমে আরবী ভাষাভাষী অলঙ্কার ও বাকপটু ব্যক্তিদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা এর একটি সূরার মতো সূরাও রচনা করতে সক্ষম হয়নি। এই কারণেই তাওরাত ও ইঞ্জিলের বাক্যগুলোকে 'আয়াত' বলা সমীচীন নয়, কারণ হিব্রু ও আরামীয় ভাষায় এই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান নেই।

- আয়াতসমূহের বিন্যাস: বর্ণ ও আয়াতসমূহের পারম্পর্য সম্পূর্ণরূপে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত

সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার (توقيف) ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) রয়েছে, যা তিনি জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর কাছ থেকে এবং তিনি মহান রবের কাছ থেকে প্রাপ্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে কিবলার অনুসারী (أهل القبلة) অর্থাৎ মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তবে যেসব আয়াতের স্থান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুনির্দিষ্ট করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেগুলোর বর্ণনা কেবল আংশিক ক্ষেত্রে বর্ণিত হওয়ায় মুফাসসিরের জন্য এটি আবশ্যক যে, তিনি আয়াতের অবস্থানগত প্রাসঙ্গিকতা অনুসন্ধানে সাধ্যমতো পথ খুঁজবেন। অন্যথায় তিনি তা থেকে বিরত থাকবেন এবং অহেতুক কষ্টকল্পনা করবেন না। কেননা বিন্যাসের বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) আমাদের জন্য এর কারণসমূহ প্রকাশের অহেতুক কষ্টকল্পনা থেকে যথেষ্ট।

(2) সূরার সংজ্ঞা: এটি কুরআনের একটি নির্দিষ্ট অংশ যার প্রারম্ভ ও সমাপ্তি অপরিবর্তনীয়, যা একটি বিশেষ নামে নামাঙ্কিত, যাতে তিনটি বা তার অধিক আয়াত অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং যা একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে যার ওপর আয়াতের অর্থসমূহ আবর্তিত হয়; যা অবতরণের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) অথবা এর অন্তর্ভুক্ত প্রাসঙ্গিক অর্থের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়।

কুরআনের এই অংশের এই নামকরণের প্রাসঙ্গিকতা হলো এটি ‘সুর’ শব্দ থেকে গৃহীত, যা কোনো শহর বা জনগোষ্ঠীর চারদিকের দেয়াল বা প্রাচীরকে বোঝায়। আর এর শেষে একটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘হা’ (تاء تأنيث) যোগ করা হয়েছে বাক্যের অংশ হওয়ার অর্থ বিবেচনায়। আবার কেউ বলেছেন: এটি ‘সু’র’ শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ পানকারীর পান করার পর পাত্রে অবশিষ্ট অংশ।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২৫)
بمناسبة أَن السؤر جُزْء مِمَّا يشرب، ثمَّ خففوا الْهمزَة الساكنة بعد الضمة فَصَارَت واواً، وَهَذِه التَّسْمِيَة من مبتكرات الْقُرْآن أَيْضا.

وَفَائِدَة التسوير، كَمَا يَقُول صَاحب الْكَشَّاف، أَن الْجِنْس إِذا انطوت تَحْتَهُ أَنْوَاع، كَانَ أحسن وأنبل من أَن يكون شَيْئا وَاحِدًا، وَأَن الْقَارئ إِذا ختم سُورَة ثمَّ أَخذ فِي أُخرى كَانَ أنشط لَهُ وأهزَّ لعِطْفه، كالمسافر إِذا علم أَنه قطع ميلًا أَو طوى فرسخاً (1) .

- وتسوير الْقُرْآن من السّنة فِي زمن النَّبِي (، فقد كَانَ الْقُرْآن يومئذٍ مقسمًا إِلَى مئة وَأَرْبع عشرَة سُورَة بأسمائها، وَلم يُحفَظْ عَن جُمْهُور الصَّحَابَة حِين جمعُوا الْقُرْآن أَنهم ترددوا وَلَا اخْتلفُوا فِي عَددهَا، إِلَّا مَا رُوِيَ من آثَار لَا تصح عَن عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه من إِنْكَاره المعوذتين، وإثباته دُعَاء الْقُنُوت فِي مصحفه.. وَقد نَهَضَ عُلَمَاؤُنَا من قديم لدحض هَذِه المرويات السقيمة - سنداً ومتناً -، وبقى الْأَمر على الْإِجْمَاع على سور الْقُرْآن الْعَظِيم الَّتِي بَين دفتي الْمُصحف (2) .

--------------------------------------------

(1) انْظُر: الْكَشَّاف عَن حقائق التَّنْزِيل وعيون الْأَقَاوِيل فِي وُجُوه التَّأْوِيل، الزَّمَخْشَرِيّ، تَصْوِير دَار الْفِكر - بيروت، 1/ 240، 241

(2) انْظُر فِي بَرَاءَة هَذَا الصَّحَابِيّ الْجَلِيل مِمَّا نسب إِلَيْهِ من إِنْكَار السورتين، وَأَنه لَا خلاف فِي شَيْء من كتاب الله تَعَالَى: الِانْتِصَار لِلْقُرْآنِ، أبوبكر الباقلاني، منشورات معهد تَارِيخ الْعُلُوم الْعَرَبيَّة والإسلامية بألمانيا، 1986م، (وَهِي نُسْخَة مصورة عَن مخطوطة الْكتاب الوحيدة فِي استانبول، بعناية الْأُسْتَاذ فؤاد سزكين) .

و: إعجاز الْقُرْآن، للباقلاني أَيْضا، تَحْقِيق: السَّيِّد أَحْمد صقر، دَار المعارف - الْقَاهِرَة، ص 441، 445 ومقدمتان فِي عُلُوم الْقُرْآن، نشرهما: آرثر جفري، الخانجي، ط2، 1972م، ولاسيما الْفَصْل الرَّابِع من الْمُقدمَة الأولى ص 78: 117.

وَانْظُر كَذَلِك: مصاعد النّظر، للبقاعي، 3/311: 316.. وَسوى ذَلِك كثير جدا، لَا سَبِيل إِلَى اسْتِقْصَائِهِ فِي هَذَا الْمقَام.
'সু'র' (السؤر) এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই নামকরণ করা হয়েছে, যার অর্থ হলো পানীয়ের অবশিষ্ট অংশ। অতঃপর পেশের (যম্মাহ) পরবর্তী সাকিন হামজাকে উচ্চারণ সহজীকরণের লক্ষ্যে ওয়াও-তে রূপান্তরিত করা হয়েছে, ফলে তা 'সূরা'য় পরিণত হয়েছে। আর এই নামকরণটিও কুরআনের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য।

সূরায় বিভক্তকরণের উপকারিতা সম্পর্কে আল-কাশশাফ গ্রন্থের রচয়িতা বলেন, কোনো একটি মূল বিষয়ের অধীনে যখন বিভিন্ন প্রকার বিদ্যমান থাকে, তখন সেটি একক কোনো দীর্ঘ বিষয় হওয়ার চেয়ে অধিকতর উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ হয়। তদুপরি, পাঠক যখন একটি সূরা শেষ করে অন্যটি শুরু করে, তখন তা তার মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে; যেমন একজন মুসাফির যখন বুঝতে পারে যে সে এক মাইল পথ অতিক্রম করেছে কিংবা এক ফারসাখ (১) পথ পাড়ি দিয়েছে।

- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগেই কুরআনকে সূরায় বিন্যস্ত করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন কুরআন তার নামসমূহসহ একশত চৌদ্দটি সূরায় বিভক্ত ছিল। সাহাবীদের সংখ্যাগরিষ্ঠের (جمهور) পক্ষ থেকে কুরআন সংকলনের সময় সূরার সংখ্যার ব্যাপারে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা মতভেদের কথা সংরক্ষিত হয়নি। তবে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে কিছু বর্ণনা (آثار) যা সহিহ নয় (لا تصح) বর্ণিত হয়েছে, যেখানে তাঁর 'মুআওয়িযাতাইন' (শেষ দুই সূরা) অস্বীকার করা এবং তাঁর নিজস্ব মুসহাফে দুআ-এ-কুনুত লিপিবদ্ধ করার কথা এসেছে। আমাদের উলামায়ে কেরাম প্রাচীনকাল থেকেই এই ত্রুটিযুক্ত (السقيمة) বর্ণনা (المرويات) গুলোকে—সনদ (سنداً) এবং মতন (متناً) উভয় দিক থেকেই—খন্ডন করার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন। ফলে মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে বিদ্যমান সুমহান কুরআনের সূরাগুলোর ওপর যে ঐকমত্য (الإجماع) ছিল, তা-ই অটুট রয়েছে (২)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কাশশাফ আন হাকাইকিত তানযীল ওয়া উয়ুনিল আকাবীল ফি উজুহিত তাবীল, যামাখশারী, দারুল ফিকর - বৈরুত, ১/২৪০, ২৪১।

(২) এই মহান সাহাবীকে তাঁর প্রতি আরোপিত দুই সূরা অস্বীকার করার বিষয়টি থেকে নির্দোষ প্রমাণ করার ব্যাপারে এবং আল্লাহর কিতাবের কোনো বিষয়েই যে কোনো মতভেদ নেই সে সম্পর্কে দেখুন: আল-ইন্তিসার লিল কুরআন, আবু বকর আল-বাকিলানি, মানশুরাত মা'হাদ তারিখ আল-উলুম আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল ইসলামিয়্যাহ, জার্মানি, ১৯৮৬ খ্রি., (এটি ইস্তাম্বুলে সংরক্ষিত এই গ্রন্থের একমাত্র পাণ্ডুলিপির একটি আলোকচিত্র সংস্করণ, যা অধ্যাপক ফুয়াদ সেজগিনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত)।

এবং: ই'জাযুল কুরআন, লেখক আল-বাকিলানি, তাহকীক: সাইয়িদ আহমদ সাকর, দারুল মা'আরিফ - কায়রো, পৃষ্ঠা ৪৪১, ৪৪৫ এবং মুকাদ্দিমাতান ফি উলুমিল কুরআন, প্রকাশনায়: আর্থার জেফরি, আল-খানজি, ২য় সংস্করণ, ১৯৭২ খ্রি., বিশেষ করে প্রথম মুকাদ্দিমার চতুর্থ অধ্যায় পৃষ্ঠা ৭৮: ১১৭।

আরও দেখুন: মাসাইদুন নাযার, আল-বিকাঈ, ৩/৩১১: ৩১৬... এ ছাড়াও এ বিষয়ে আরও অনেক উৎস রয়েছে, যা এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করার অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২৬)
- وَأما تَرْتِيب السُّور؛ فالجمهور على أَنه بتوقيف كَذَلِك عَن النَّبِي (، غير أَن بعض الْعلمَاء نَازع فِي ذَلِك، وَمِنْهُم الإِمَام القَاضِي أبوبكر الباقلاني فِي كِتَابه الْعَظِيم (الِانْتِصَار لِلْقُرْآنِ) ، غير أَنه نفى أَن يكون لذَلِك مدْخل لِلطَّعْنِ فِيهِ، بل مَا أَدَّاهُ إِلَى القَوْل بِهَذَا إِلَّا الردّ على مطاعن الملحدة والمتشككين فِي أَمر الْقُرْآن الْكَرِيم (1) ، غير أَن الصَّحِيح هُوَ مَا ذهب إِلَيْهِ الْجُمْهُور، وَأما مَا تعلق بِهِ المتشككون فَلهُ أجوبة شافية، وَلَكِن لَا مجَال هُنَا لتفصيل القَوْل فِيهَا (2) .

- وَأما أَسمَاء السُّور، فقد جعلت لَهَا كَذَلِك من عهد نزُول الْوَحْي، ولبعضها أَكثر من تَسْمِيَة، وَالْمَقْصُود من التَّسْمِيَة على كلٍّ تيسير الْمُرَاجَعَة والمذاكرة، وفائدتها أَن تتَمَيَّز كلُّ سورةٍ بخصائصها عَن غَيرهَا - كَمَا سَيَأْتِي بِإِذن الله.

--------------------------------------------

(1) انْظُر تَفْصِيل ذَلِك فِي كِتَابه (الِانْتِصَار لِلْقُرْآنِ) ص 165: 183.

(2) انْظُر فِي ذَلِك كتاب أستاذنا وَشَيخنَا الدكتور مُحَمَّد أَحْمد يُوسُف قَاسم، الإعجاز الْبَيَانِي فِي تَرْتِيب آيَات الْقُرْآن الْكَرِيم وسوره، ط 1/1979م، ص 257: 286؛ فَفِيهِ تَفْصِيل كافٍ، وَبَيَان شافٍ للمسألة كلهَا.
- আর সূরাসমূহের বিন্যাসের ব্যাপারে জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামার মত হলো এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা (توقيف) অনুযায়ী। তবে কিছু সংখ্যক আলেম এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন, তাদের মধ্যে ইমাম কাজি আবু বকর আল-বাকিলানি তাঁর মহান গ্রন্থ 'আল-ইন্তিসার লিল কুরআন'-এ এটি উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে অভিযোগ উত্থাপনের কোনো সুযোগ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন; বরং নাস্তিক এবং সংশয়বাদীদের পবিত্র কোরআন বিষয়ক অপপ্রচারের জবাব দিতেই তিনি এমন কথা বলেছেন (১)। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতটিই সঠিক (صحيح)। আর সংশয়বাদীরা যে সকল বিষয়ের অবতারণা করে, তার পর্যাপ্ত উত্তর রয়েছে, কিন্তু এখানে তা বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ নেই (২)।

- আর সূরাসমূহের নামের ক্ষেত্রেও ওহি নাজিল হওয়ার যুগ থেকেই নাম নির্ধারিত হয়েছে। আর কোনো কোনো সূরার একাধিক নামও রয়েছে। মূলত নামকরণের উদ্দেশ্য হলো পাঠ এবং পর্যালোচনার কাজ সহজ করা। এর উপকারিতা হলো প্রতিটি সূরা যেন তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অন্যটি থেকে পৃথক হতে পারে—যা ইনশাআল্লাহ অচিরেই আলোচনা করা হবে।

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন তাঁর গ্রন্থ 'আল-ইন্তিসার লিল কুরআন', পৃষ্ঠা ১৬৫: ১৮৩।

(২) এ বিষয়ে আমাদের উস্তাদ এবং শায়খ ডক্টর মুহাম্মদ আহমদ ইউসুফ কাসেম-এর গ্রন্থ 'আল-ইজায আল-বায়ানি ফি তারতিবি আয়াতি আল-কুরআন আল-কারিম ওয়া সুয়ারিহি' দেখুন, ১ম সংস্করণ/১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দ, পৃষ্ঠা ২৫৭: ২৮৬; এতে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে পর্যাপ্ত বিস্তারিত এবং সন্তোষজনক বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌ثَالِثا: مابين علم التناسب وَالتَّفْسِير الموضوعي

…

ثَالِثا: مَا بَين علم التناسب وَالتَّفْسِير الموضوعي:

يُطلق التَّفْسِير الموضوعي ويُراد بِهِ أحد مَعْنيين:

الأول: بَيَان اتِّحَاد سُورَة من الْقُرْآن الْكَرِيم فِي مَوْضُوع رَئِيس تُردُّ إِلَيْهِ سَائِر الموضوعات الْجُزْئِيَّة الَّتِي قد تتناولها - لاسيما إِذا كَانَت من الطوَال - بِحَيْثُ تبدو السُّورَة كلهَا وحدة وَاحِدَة، يُردُّ عجزها إِلَى صدرها، وتتفق مقدمتها ومؤخرتها، وَهَذَا اللَّوْن من التَّفْسِير حديثٌ نسبياً، إِذْ لم يسْبق إِلَيْهِ - فِي صورته
‌তৃতীয়ত: আল-তানাসুব বিজ্ঞান (علم التناسب) এবং বিষয়ভিত্তিক তাফসির (التفسير الموضوعي)-এর মধ্যবর্তী সম্পর্ক

…

তৃতীয়ত: আল-তানাসুব বিজ্ঞান (علم التناسب) এবং বিষয়ভিত্তিক তাফসির (التفسير الموضوعي)-এর মধ্যবর্তী সম্পর্ক:

বিষয়ভিত্তিক তাফসির (التفسير الموضوعي) শব্দটি ব্যবহার করা হয় এবং এর দ্বারা দুটি অর্থের যেকোনো একটিকে উদ্দেশ্য করা হয়:

প্রথমত: পবিত্র কুরআনের কোনো একটি সূরার একটি প্রধান বিষয়ের প্রেক্ষিতে তার সামগ্রিক ঐক্যের বর্ণনা প্রদান করা, যার দিকে উক্ত সূরাটি যেসব আংশিক বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে তার অবশিষ্ট অংশসমূহকে ফিরিয়ে নেওয়া যায়—বিশেষত যদি তা দীর্ঘ সূরাগুলোর (الطوال) অন্তর্ভুক্ত হয়—যাতে পুরো সূরাটি একটি অবিচ্ছেদ্য একক হিসেবে প্রতীয়মান হয়, যার শেষাংশ প্রথমাংশের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় এবং এর সূচনা ও সমাপ্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। তাফসিরের এই ধারাটি অপেক্ষাকৃত আধুনিক; কেননা এর বর্তমান কাঠামোর ক্ষেত্রে পূর্বে কেউ—
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২৭)
الْأَقْرَب للكمال - حسب علمي - إِلَّا الشَّيْخ الدكتور مُحَمَّد عبد الله دراز (ت 1377? - 1958م) وَذَلِكَ فِيمَا تكلم بِهِ حول سُورَة الْبَقَرَة فِي كِتَابه المهم (النبأ الْعَظِيم) ، والدكتور مُحَمَّد مَحْمُود حجازي فِي اطروحته لنيل الدكتوراه من جَامِعَة الْأَزْهَر، بعنوان الْوحدَة (الموضوعية فِي الْقُرْآن الْكَرِيم) (ت 1389هـ - 1969م) .

وَالْمعْنَى الثَّانِي لما ينْصَرف إِلَيْهِ مصطلح (التَّفْسِير الموضوعي) هُوَ أَن يعمد النَّاظر إِلَى مَوْضُوع معِين (كالصبر، والأخلاق، وَالْجهَاد … مثلا) ، وَيجمع مَا يتَعَلَّق بِهِ من الْقُرْآن الْكَرِيم، ليردَّ متشابهه إِلَى محكمه، ومنسوخه إِلَى ناسخه، وَيبين الْخُصُوص والعموم، وَالْإِطْلَاق وَالتَّقْيِيد.. وَغير ذَلِك، حَتَّى يَسْتَوِي الْمَوْضُوع على سُوقه: متكاملاً، مرعيَّ الجوانب كلهَا، وَلِهَذَا اللَّوْن نماذج قديمَة، غير أَنه لم يُتوسَّع فِيهِ توسعاً كَبِيرا إِلَّا فِي الْقُرُون الْأَخِيرَة كَذَلِك.

وَفِي الْحَقِيقَة أَن ثمَّة علاقَة وَثِيقَة بَين علم الْمُنَاسبَة وَبَين التَّفْسِير الموضوعي بِمَعْنَاهُ الأول؛ إِذْ إنَّهُمَا يَجْتَمِعَانِ فِي بَيَان مُنَاسبَة آيَات السُّورَة الْوَاحِدَة، وتلاحم فقراتها، وترابط أَجْزَائِهَا.. حَتَّى تظهر السُّورَة ذَات شخصيةٍ مُسْتَقلَّة، وَذَات موضوعٍ رئيسٍ تَدور حوله، وَذَات نظامٍ يردُّ إِلَيْهِ مُخْتَلف موضوعاتها.

وسيظهر مصداق ذَلِك، بِمَا لَا يدع مجالاً للشَّكّ، فِيمَا سَيَأْتِي - بِإِذن الله - عِنْد التَّمْثِيل لأنواع المناسبات.
আমার জানামতে পূর্ণতার নিকটবর্তী—কেবল শেখ ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দরাজ (মৃ. ১৩৭৭? - ১৯৫৮ খ্রি.) ব্যতীত; তিনি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ 'আন-নাবাউল আজিম'-এ সূরা আল-বাকারা সম্পর্কে যা আলোচনা করেছেন তাতে এটি লক্ষণীয়। এছাড়া ডক্টর মুহাম্মদ মাহমুদ হিজাজী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত তাঁর পিএইচডি গবেষণাপত্রেও এটি দেখা যায়, যার শিরোনাম ছিল 'আল-ওয়াহদাতুল মাওদুয়িয়্যাহ ফিল কুরআনিল কারিম' (মৃ. ১৩৮৯ হি. - ১৯৬৯ খ্রি.)।

'বিষয়ভিত্তিক তাফসির' (التفسير الموضوعي) পরিভাষাটি যে দ্বিতীয় অর্থ প্রকাশ করে তা হলো, গবেষক একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে (যেমন: ধৈর্য, আখলাক, জিহাদ … উদাহরণস্বরূপ) গ্রহণ করবেন এবং পবিত্র কুরআন থেকে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ সংগ্রহ করবেন; যাতে তিনি এর রূপক/অস্পষ্ট (متشابه) আয়াতগুলোকে সুস্পষ্ট (محكم) আয়াতের আলোকে ব্যাখ্যা করতে পারেন, এবং এর রহিত (منسوخ) আয়াতগুলোকে রহিতকারী (ناسخ) আয়াতের দিকে প্রত্যাবর্তিত করতে পারেন। এছাড়া তিনি এর বিশেষ (خصوص) ও সাধারণ (عموم), এবং শর্তহীন (إطلاق) ও শর্তযুক্ত (تقييد) দিকসমূহ বর্ণনা করবেন... এবং অন্যান্য বিষয়গুলোও স্পষ্ট করবেন, যতক্ষণ না বিষয়টি তার পূর্ণাঙ্গ অবয়বে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়: সামগ্রিকভাবে এবং সকল দিক বিবেচনায়। এই ধারার কিছু প্রাচীন উদাহরণ থাকলেও সাম্প্রতিক শতাব্দীগুলোর আগে এটি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়নি।

প্রকৃতপক্ষে, 'ইলমুল মুনাসাবাহ' (আয়াতের পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ক জ্ঞান) এবং প্রথম অর্থে 'বিষয়ভিত্তিক তাফসির' (التفسير الموضوعي)-এর মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে; কারণ তারা উভয়ই একটি সূরার আয়াতসমূহের পারস্পরিক সামঞ্জস্য, এর অনুচ্ছেদগুলোর সুদৃঢ় বন্ধন এবং এর অংশগুলোর আন্তঃসম্পর্ক বর্ণনার ক্ষেত্রে একীভূত হয়... যাতে সূরাটি একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হিসেবে প্রকাশ পায় এবং একটি প্রধান বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, আর এমন এক নিয়মের অধীন হয় যার মাধ্যমে এর বিভিন্ন আলোচ্য বিষয়গুলো সুসংবদ্ধ থাকে।

আর এর সত্যতা কোনো প্রকার সন্দেহাতীতভাবে ভবিষ্যতে—আল্লাহ চাহেন তো—বিভিন্ন প্রকারের সামঞ্জস্য (مناسبات) বা 'মুনাসাবাত'-এর উদাহরণ দেওয়ার সময় স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المبحث الثَّانِي: موقع علم الْمُنَاسبَة من عُلُوم الْقُرْآن

سبق مَعنا أَن نِسْبَة علم الْمُنَاسبَة إِلَى بَقِيَّة عُلُوم الْقُرْآن كنسبة النتيجة إِلَى الْمُقدمَات، وَالثَّمَرَة إِلَى أَجزَاء الشَّجَرَة، أَو كنسبة علم الْبَيَان والمعاني من عُلُوم اللُّغَة.. وَذَلِكَ أَن عُلُوم الْقُرْآن المساعدة أشبه بالمقدِّمات الَّتِي تمهد لَهُ، فَهِيَ تتعرض لما يتَعَلَّق بِالْقُرْآنِ الْمجِيد من أمورٍ مُتَّصِلَة بِذَات النَّص كالوجوه والنظائر، والناسخ والمنسوخ، والفواصل، والقراءات، والمتشابه والغريب.. إِلَى آخر هَذِه المباحث الَّتِي تتَعَلَّق ببنية النَّص ذَاتهَا، وَكَذَلِكَ تتعرض لما يتَعَلَّق بِالْقُرْآنِ من أمورٍ خَارِجَة عَنهُ، كأسباب النّزول، والمكى وَالْمَدَنِي، وَمَعْرِفَة جمعه وَحفظه.. وَمَا إِلَى ذَلِك.

أما النّظر فِي التناسب، فَهُوَ بَاب من إعجاز الْقُرْآن، الذى هُوَ لُبابُ هَذِه الْعُلُوم كلهَا، ومنتهاها جَمِيعهَا، إِذْ إنَّ جَمِيعهَا يُفْضِي فِي النِّهَايَة إِلَى إِثْبَات حقية كَونه من عِنْد الله أَولا، ثمَّ عجز الخليقة كلِّها عَن الْإِتْيَان بشي من مثله، وَمن ثمَّ تقوم الْحجَّة النَّبَوِيَّة الَّتِي أخبر النَّبِي - صلوَات الله عَلَيْهِ - أنَّ كل نبيٍّ أُوتي مَا مثله آمن عَلَيْهِ الْبشر، وَأَن الَّذِي أوتيه (إِنَّمَا هُوَ هَذَا الْكتاب الْعَزِيز؛ لذا فقد رجا - صلوَات الله عَلَيْهِ - أَن يكون أَكثر الْأَنْبِيَاء تَابعا يَوْم الْقِيَامَة، لما لهَذَا الْكتاب من مزية اسْتِمْرَار حجَّته على الْعَالمين حَتَّى قيام السَّاعَة.

وَفِي ذَلِك يَقُول الإِمَام البقاعي رحمه الله فِي كِتَابه الْجَامِع (نظم الدُّرَر) :

((.. وَبِهَذَا الْعلم يرسخ الْإِيمَان فِي الْقلب، ويتمكن من اللب. وَذَلِكَ أَنه يكْشف أَن للإعجاز طَرِيقين: أَحدهمَا: نَظْمُ كل جملَة على حيالها بِحَسب
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উলূমুল কুরআনের প্রেক্ষাপটে ইলমুল মুনাসাবাহর (সামঞ্জস্য বিধানের জ্ঞান) অবস্থান

আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি যে, উলূমুল কুরআনের অন্যান্য শাখাগুলোর সাথে ইলমুল মুনাসাবাহর সম্পর্ক ঠিক তদ্রূপ, যেমনটি কোনো ভূমিকা বা উপক্রমণিকার সাথে ফলাফলের সম্পর্ক কিংবা বৃক্ষের বিভিন্ন অংশের সাথে ফলের সম্পর্ক; অথবা ভাষাবিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত ইলমুল বয়ান (البيان) ও ইলমুল মা’আনির (المعاني) সম্পর্কের মতো। এর কারণ হলো, কুরআনিক বিজ্ঞানের সহায়ক শাখাগুলো অনেকটা এমন ভূমিকার ন্যায় যা এর (ইলমুল মুনাসাবাহর) পথ সুগম করে। এই শাখাগুলো পবিত্র কুরআনের মূল পাঠের (টেক্সট) সাথে সংশ্লিষ্ট এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে যা পাঠের কাঠামোর সাথে যুক্ত, যেমন: আল-উজুহ ওয়ান নাজাইর (الوجوه والنظائر), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিতকৃত (منسوخ), আয়াতের যতিচিহ্ন বা বিরামস্থল (فواصل), বিভিন্ন পাঠরীতি (قراءات), অস্পষ্ট বা রূপক আয়াত (متشابه) এবং দুর্বোধ্য বা বিরল শব্দাবলি (غريب)—ইত্যাদি এমন সব পরিচ্ছেদ যা খোদ পাঠের কাঠামোর সাথে সম্পর্কিত। ঠিক তেমনিভাবে এই শাখাগুলো কুরআনের সাথে সংশ্লিষ্ট বাহ্যিক বিষয়াবলি নিয়েও আলোচনা করে, যেমন: অবতরণের প্রেক্ষাপট (أسباب النزول), মাক্কি (مكي) ও মাদানি (مدني), কুরআন সংকলন ও সংরক্ষণের পদ্ধতি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, আয়াতের পারস্পরিক সামঞ্জস্য বা মুনাসাবাহ নিয়ে গবেষণা করা হলো কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) একটি বিশেষ অধ্যায়, যা এই সকল বিজ্ঞানের নির্যাস এবং চূড়ান্ত গন্তব্য। কারণ এই সকল জ্ঞান শেষ পর্যন্ত প্রথমত এটিই সাব্যস্ত করে যে, এই কিতাবটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যরূপে অবতীর্ণ হয়েছে, এবং এরপর এটি প্রমাণ করে যে, এর সমতুল্য কিছু রচনা করতে সমগ্র সৃষ্টিজগত সম্পূর্ণ অক্ষম। এর মাধ্যমে নবুওয়াতের সেই অকাট্য দলিল বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় যার ব্যাপারে নবী কারিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, প্রতিটি নবীকেই এমন কিছু নিদর্শন প্রদান করা হয়েছে যা দেখে মানুষ ঈমান এনেছে। আর তাঁকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো এই মহাগ্রন্থ আল-কুরআন; একারণেই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশা পোষণ করেছেন যে, কিয়ামতের দিন তাঁর অনুসারীর সংখ্যা হবে সর্বাধিক। কেননা এই কিতাবের অকাট্য প্রমাণের শ্রেষ্ঠত্ব কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য বলবৎ থাকবে।

এ প্রসঙ্গে ইমাম বিকায়ি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর সংকলিত গ্রন্থ নাজমুদ দুরার-এ বলেন:

((...এই ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমেই অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয় এবং তা সুস্থ বিবেকের মূলে প্রোথিত হয়। আর তা এজন্য যে, এটি উন্মোচন করে দেয় যে, আল-কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) পথ মূলত দুটি: প্রথমটি হলো প্রতিটি বাক্যের স্বতন্ত্র বিন্যাস যা...
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ২৯)
التَّرْكِيب. وَالثَّانِي: نظمها مَعَ أُخْتهَا بِالنّظرِ إِلَى التَّرْتِيب. وَالْأول أقرب تناولاً، وأسهل ذوقاً، فَإِن كل من سمع الْقُرْآن - من ذكيٍّ أَو غبيٍّ - يَهْتَز لمعانيه، وَتحصل لَهُ عِنْد سَمَاعه رَوْعةٌ بنشاط، ورهبةٌ مَعَ انبساط، لَا تحصل عِنْد سَماع غَيره، وَكلما دقق النّظر فِي الْمَعْنى عظُم عِنْده موقع الإعجاز، ثمَّ إِذا عَبَر الِفطنُ من ذَلِك إِلَى تأمُّل ربط كل جملَة بِمَا تلته وَمَا تَلَاهَا، خفيَ عَلَيْهِ وجهُ ذَلِك، وَرَأى أَن الْجمل متباعدة الْأَغْرَاض، متنائية الْمَقَاصِد، فَظن أَنَّهَا متنافرة، فَحصل لَهُ من الْقَبْض وَالْكرب بأضعاف مَا كَانَ حصل لَهُ من الهز والبسط، وَرُبمَا شككه ذَلِك، وزلزل إيمَانه، وزحزح يقينه. وَرُبمَا وقف كيِّسٌ (1) من أذكياء الْمُخَالفين عَن الدُّخُول فِي هَذَا الدّين - بعد مَا وضحت لَدَيْهِ دلائله، وبرزت لَهُ من حِجالها دقائقه وجلائلُه - لحكمةٍ أرادها منزِّله، وأحكمها مجمله ومفصَّله، فَإِذا اسْتَعَانَ بِاللَّه (2) ، وأدام الطّرق لباب الْفرج، بإنعام التَّأَمُّل، وَإِظْهَار الْعَجز، والوثوق بِأَنَّهُ فِي الذرْوَة من إحكام الرَّبْط، كَمَا كَانَ فِي الأوج من حسن الْمَعْنى وَاللَّفْظ، لكَونه كَلَام من جلَّ عَن شوائب النَّقْص، وَحَازَ صِفَات الْكَمَال (…) انْفَتح (3) لَهُ ذَلِك الْبَاب، ولاحت لَهُ من وَرَائه بوارق أنوار تِلْكَ الْأَسْرَار …)) (4) .

وعَلى الرغم مِمَّا يظْهر من هَذِه الأهمية الْبَالِغَة لهَذَا الْعلم فِي بَاب إِثْبَات

--------------------------------------------

(1) فِي الْقَامُوس مَادَّة (مكس) : تماسكا فِي البيع، تشاحّا، وماكسه: ساحّة فَالْمُرَاد: اخْتلفَا وتشاكسا فِي الرَّأْي.

(2) أَي هَذَا المكيس الْمَذْكُور سَابِقًا.

(3) هَذَا جَوَاب قَوْله: ((فَإِذا اسْتَعَانَ بِاللَّه)) .

(4) نظم الدُّرَر فِي تناسب الْآيَات والسور، برهَان الدّين البقاعي، مطبوعات دَائِرَة المعارف العثمانية بِالْهِنْدِ، ط 1/1969، 1/11، 12.
গঠনশৈলী। আর দ্বিতীয়টি হলো: বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য রেখে এর সমজাতীয় বিষয়ের সাথে একে সুসংবদ্ধ করা। প্রথমটি অনুধাবন করা অধিক সহজ এবং আস্বাদন করা অধিকতর সহজসাধ্য; কারণ বুদ্ধিমান হোক বা স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন—যে কেউ কুরআন শোনে, সে এর অর্থমাধুর্যে আলোড়িত হয়। এটি শ্রবণের সময় তার মাঝে একাধারে প্রাণচঞ্চলতার সাথে এক বিস্ময়কর প্রভাব এবং প্রফুল্লতার সাথে এক ভীতি সঞ্চার হয়, যা অন্য কিছু শ্রবণে অর্জিত হয় না। সে যখনই এর অর্থের গভীরে নিবিড়ভাবে দৃষ্টিপাত করে, তার নিকট এর অলৌকিকত্বের মহিমা বৃদ্ধি পায়। অতঃপর যখন কোনো বিচক্ষণ ব্যক্তি এ থেকে অগ্রসর হয়ে প্রতিটি বাক্যের সাথে তার পরবর্তী ও পূর্ববর্তী বাক্যের যোগসূত্র নিয়ে চিন্তা করতে যায়, তখন তার কাছে সেই রহস্যের দিকটি অস্পষ্ট থেকে যায়। সে দেখতে পায় যে, বাক্যগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরস্পরের থেকে ভিন্ন ও দূরবর্তী; ফলে সে মনে করে যে এগুলো অসংলগ্ন। এতে তার মাঝে এমন সংকোচন ও অস্থিরতা তৈরি হয়, যা ইতিপূর্বে অর্জিত হওয়া আনন্দ ও প্রফুল্লতার চেয়ে বহুগুণ বেশি। সম্ভবত বিষয়টি তাকে সংশয়ে নিপতিত করে, তার ঈমানকে বিচলিত করে এবং তার দৃঢ় বিশ্বাসকে টলিয়ে দেয়। হয়তোবা বিরোধীদের মধ্য থেকে কোনো বুদ্ধিমান (১) ব্যক্তি—তার কাছে কুরআনের প্রমাণাদি সুস্পষ্ট হওয়া এবং এর সূক্ষ্ম ও মহৎ দিকগুলো উন্মোচিত হওয়ার পরেও—এই দ্বীনে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকে; এটি এমন এক হিকমতের কারণে যা এর অবতীর্ণকারী ইচ্ছা করেছেন এবং যা এর বিশদ ও সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় সুসংহত করেছেন। অতঃপর যখন সে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে (২) এবং নিবিষ্ট মনে চিন্তাভাবনা, নিজের অক্ষমতা প্রকাশ ও এই দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে কল্যাণের দ্বারে করাঘাত অব্যাহত রাখে যে, এটি বাক্য ও অর্থের সৌন্দর্যের দিক থেকে যেমন চরম শিখরে, তেমনিভাবে যোগসূত্রের সুসংহতির দিক থেকেও সর্বোচ্চ চূড়ায় অবস্থিত; কেননা এটি এমন সত্তার কালাম যিনি সকল প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র এবং সমস্ত পূর্ণতা গুণের অধিকারী (...) তখন তার জন্য সেই দ্বার উন্মোচিত হয় (৩) এবং তার সামনে সেই রহস্যময় নূরানী আভা উদ্ভাসিত হয়... (৪)।

এই বিজ্ঞানের চরম গুরুত্ব সত্ত্বেও যা এর প্রমাণের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়...

--------------------------------------------

(১) কামুস অভিধানে 'মাকস' মূলধাতুর অধীনে রয়েছে: কেনাবেচায় অনমনীয় হওয়া বা দরদাম করা। 'মাকাসাহু' মানে সে তার সাথে অনমনীয় আচরণ করল। এখানে উদ্দেশ্য হলো: তারা মতবিরোধ করেছে এবং চিন্তা ও মতামতে একে অপরের বিপরীত অবস্থান নিয়েছে।

(২) অর্থাৎ ইতিপূর্বে উল্লিখিত সেই বুদ্ধিমান ব্যক্তি।

(৩) এটি তার উক্তি "যখন সে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে"-এর উত্তর।

(৪) নাযমুত দুরার ফী তানাসুবিল আয়াত ওয়াস সুওয়ার, বুরহানুদ্দীন আল-বিকায়ি, মাতবাআত দাইরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়্যাহ, ভারত, ১ম প্রকাশ/১৯৬৯, ১/১১, ১২।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ৩০)
إعجاز الْقُرْآن، وجدنَا بعض أجلة الْعلمَاء يقلِّلون من شَأْنه، وينتقدون المهتمين بِهِ، لحجةٍ واهيةٍ جدا، وَلَعَلَّ أبرز هَؤُلَاءِ - وهم قلَّة على أَيَّة حَال - شيخُ الْإِسْلَام وسلطان الْعلمَاء الإِمَام الْجَلِيل عزُّ الدّين ابنُ عبد السَّلَام (ت 660?) ، وَهَذَا نصُّ كَلَامه فِي هَذَا الْموضع، حَيْثُ قَالَ رحمه الله:

((وَاعْلَم أَن من الْفَوَائِد أَن من محَاسِن الْكَلَام أَن يرتبط بعضه بِبَعْض؛ ويتشبث بعضه بِبَعْض، لِئَلَّا يكون مقطَّعاً متبَّراً، وَهَذَا بِشَرْط أَن يَقع الْكَلَام فِي أمرٍ مُتحد، فيرتبط أَوله بِآخِرهِ. فَإِن وَقع على أَسبَاب مُخْتَلفَة، لم يشْتَرط فِيهِ ارتباط أحد الْكَلَامَيْنِ بِالْآخرِ. وَمن ربط ذَلِك، فَهُوَ متكلف لما لم يقدر عَلَيْهِ إِلَّا بربطٍ رَكِيك، يُصان عَن مثله حَسَنُ الحَدِيث، فضلا عَن أحْسنه، فَإِن الْقُرْآن نزل على الرَّسُول عليه السلام فِي نيفٍ وَعشْرين سنة، فِي أَحْكَام مُخْتَلفَة، شرعت لأسباب مُخْتَلفَة غير مؤتلفة، وَمَا كَانَ كَذَلِك لَا يَتَأَتَّى ربطُ بعضه بِبَعْض؛ إِذْ لَيْسَ يحسن أَن يرتبط تصُّرف الْإِلَه فِي خلقه وَأَحْكَامه بعضه بِبَعْض مَعَ اخْتِلَاف الْعِلَل والأسباب.

وَلذَلِك أَمْثِلَة:

أَحدهَا: أَن الْمُلُوك يتصرفون فِي مُدَّة ملكهم بتصرفات مُخْتَلفَة، وَأَحْكَام متضادة، وَلَيْسَ لأحدٍ أَن يرْبط بعض ذَلِك بِبَعْض.

الْمِثَال الثَّانِي: الْحَاكِم يحكم فِي يَوْمه بوقائع مُخْتَلفَة متضادة، وَلَيْسَ لأحدٍ أَن يلْتَمس ربط بعض أَحْكَامه بِبَعْض.

الْمِثَال الثَّالِث: أَن الْمُفْتِي يُفتي مُدَّة عمره، أَو فِي يومٍ من أَيَّامه، أَو فِي مجلسٍ من مجالسه - بِأَحْكَام مُخْتَلفَة - وَلَيْسَ لأحدٍ أَن يلْتَمس ربط بعض فَتَاوِيهِ بِبَعْض.

الْمِثَال الرَّابِع: أَن الْإِنْسَان يتَصَرَّف فِي خاصته بِطَلَب أُمُور مُوَافقَة ومختلفة
ইজাযুল কুরআন (কুরআনের অলৌকিকত্ব) প্রসঙ্গে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, কিছু বিশিষ্ট আলেম এর গুরুত্বকে খাটো করে দেখেছেন এবং এর প্রতি বিশেষ আগ্রহীদের সমালোচনা করেছেন। এর পেছনে তাঁরা অত্যন্ত দুর্বল (واهية) যুক্তি দেখিয়েছেন। সম্ভবত তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে প্রখ্যাত—যাঁরা সংখ্যায় খুবই নগণ্য—হলেন শায়খুল ইসলাম ও সুলতানুল উলামা মহান ইমাম ইজ্জুদ্দীন ইবন আবদিস সালাম (মৃত্যু ৬৬০ হি.)। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের মূল পাঠ নিম্নরূপ, যেখানে তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

"জেনে রাখুন, একটি বিশেষ ফায়দা হলো এই যে—বক্তব্যের সৌন্দর্যের অন্যতম দিক হলো এর এক অংশ অন্য অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা এবং এক অংশ অপরটির সাথে সুসংবদ্ধ হওয়া, যাতে তা বিচ্ছিন্ন বা ছিন্নভিন্ন না হয়। এটি এই শর্তে যে, যখন বক্তব্যটি একটি একক বিষয়ে হবে, তখন তার প্রথম অংশ শেষাংশের সাথে যুক্ত থাকবে। কিন্তু যদি বক্তব্যটি ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে এক কথার সাথে অন্যটির সম্পর্ক থাকা শর্ত নয়। আর যে ব্যক্তি এই অবস্থায় তা মেলাতে যায়, সে এমন এক কষ্টসাধ্য প্রয়াস করে যা সে কেবল একটি দুর্বল সংযোগের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে পারে; অথচ হাসান (حسن) হাদিসকেও এই জাতীয় বিষয় থেকে মুক্ত রাখা হয়, তাহলে সর্বোত্তম বক্তব্যের (কুরআন) বিষয়টি তো বলাই বাহুল্য। কেননা কুরআন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বিশ বছরের কিছু বেশি সময় ধরে বিভিন্ন বিধানের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে, যা নানাবিধ ও অসংলগ্ন কারণে প্রবর্তিত হয়েছিল। এমতাবস্থায় এর এক অংশকে অন্য অংশের সাথে জুড়ে দেওয়া সম্ভব নয়; কেননা কারণ (ইল্লত) ও প্রেক্ষাপটের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও সৃষ্টি ও বিধানের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর কার্যাবলিকে একে অপরের সাথে জোরপূর্বক সম্পর্কিত করা সমীচীন নয়।

এর কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:

প্রথমত: রাজন্যবর্গ তাঁদের শাসনামলে বিভিন্ন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং বিভিন্নমুখী সিদ্ধান্ত প্রদান করেন; এমতাবস্থায় কারও পক্ষে এই বিষয়গুলোর একটির সাথে অন্যটির সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয় উদাহরণ: একজন বিচারক একই দিনে বিভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় ঘটনার বিচারকার্য পরিচালনা করেন, আর কারও জন্য তাঁর এক বিচারের সাথে অন্যটির সম্পর্ক খোঁজা সংগত নয়।

তৃতীয় উদাহরণ: একজন মুফতি তাঁর সারা জীবন, কিংবা তাঁর কোনো একদিনে অথবা কোনো এক মজলিসে বিভিন্ন বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করেন—আর কারও পক্ষে তাঁর ফতোয়াগুলোর একটির সাথে অন্যটির সম্পর্ক তালাশ করা আবশ্যক নয়।

চতুর্থ উদাহরণ: মানুষ তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিভিন্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে..."
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومتضادة، وَلَيْسَ لأحدٍ أَن يطْلب ربط تِلْكَ التَّصَرُّفَات بِبَعْض.

وَالله أعلم، وَالْحَمْد لله وَحده)) (1) .

وواضح من هَذَا النَّقْل الْحرفِي لكَلَام سُلْطَان الْعلمَاء أَن حجَّته الوحيدة هِيَ أَن الْقُرْآن نزل منجَّماً، بِحَسب الوقائع والمناسبات، على امتداد نَيف وَعشْرين سنة.. فَكيف تُطلب مُنَاسبَة بعض أَجْزَائِهِ لبَعض مَعَ هَذَا التَّفَاوُت الزمني والمناسبي المصاحب لنُزوله؟ {

وَهِي ذاتُ الْحجَّة الَّتِي اعْتمد عَلَيْهَا غير الْعِزّ، ولعلَّ أبرزهم هُوَ الشَّيْخ مُحَمَّد بن عَليّ الشَّوْكَانِيّ (ت 1250?) ، الَّذِي لم يكتف عِنْد تعرضه لهَذِهِ الْمَسْأَلَة فِي تَفْسِيره بِهَذِهِ الْحجَّة، بل إِنَّه ذكر أَن هَذَا الْعلم متكلَّف، وَأَن من تكلمُوا فِيهِ خَاضُوا فِي بَحر لم يكلَّفوا سباحته، واستغرقوا أوقاتهم فِي فن لَا يعود عَلَيْهِم بفائدة، بل أوقعوا أنفسهم فِي التَّكَلُّم بمحض الرَّأْي المنهيِّ عَنهُ فِي الْأُمُور الْمُتَعَلّقَة بِكِتَاب الله سُبْحَانَهُ، وَأَنَّهُمْ تعسَّفوا فِي هَذَا الْبَاب، وتكلفوا بِمَا يتبرَّأ مِنْهُ الْإِنْصَاف، ويتنَزَّه عَنهُ كَلَام البلغاء، فضلا عَن كَلَام الله سُبْحَانَهُ، ثمَّ قَالَ بعد كَلَام طويلِ وقاسٍ، وَلَا يخرج فِي محتواه عَمَّا ذكره سُلْطَان الْعلمَاء:

((.. وَمَا أقلَّ نفعَ مثل هَذَا، وأنزرَ ثمرتهَ، وأحقرَ فائدتَه} )) .

غير أَنه أضَاف وَجها آخر ظنّ أَنه قد يعضد رَأْيه، وَهُوَ مقارنته بَين من يطْلب الْمُنَاسبَة فِي آيَات الْقُرْآن وسوره، وَبَين من يعمد إِلَى طلب ذَلِك فِيمَا قَالَه رجل من البلغاء فِي خطبه ورسائله وإنشاءاته، وَمَا قَالَه شَاعِر من الشُّعَرَاء فِي أغراض القَوْل المتخالفة غَالِبا، فَلَو تصدَّى أحد لذَلِك ((فَعمد إِلَى ذَلِك الْمَجْمُوع

(1) الْإِشَارَة إِلَى الإيجاز فِي بعض أَنْوَاع الْمجَاز، الْعِزّ بن عبد السَّلَام، المكتبة العلمية بِالْمَدِينَةِ المنورة، ص 278.
...এবং বৈপরীত্যপূর্ণ; আর কারও পক্ষে এই আচরণগুলোকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করার দাবি করার অবকাশ নেই।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ, আর সকল প্রশংসা কেবল একক আল্লাহর জন্য।)) (১) ।

সুলতানুল উলামার বক্তব্যের এই আক্ষরিক উদ্ধৃতি থেকে এটি স্পষ্ট যে, তাঁর একমাত্র দলিল হলো কুরআন বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পর্যায়ক্রমে (منجماً) অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং, এর অবতীর্ণ হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট সময়ের ব্যবধান এবং প্রেক্ষাপটের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও এর অংশগুলোর একটির সাথে অন্যটির সামঞ্জস্য (مناسبة) কীভাবে অন্বেষণ করা যেতে পারে? {

এটি সেই একই দলিল যার ওপর আল-ইযয ছাড়াও অন্যান্যরা নির্ভর করেছেন। সম্ভবত তাদের মধ্যে প্রধান হলেন শেখ মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাওকানি (ওফাত ১২৫০ হিজরি?), যিনি তাঁর তাফসিরে এই মাসআলাটি আলোচনার সময় কেবল এই দলিলেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই শাস্ত্রটি কষ্টকল্পিত (متكلف)। যারা এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা এমন এক সমুদ্রে অবগাহন করেছেন যেখানে সাঁতার কাটতে তাদের আদিষ্ট করা হয়নি এবং তারা এমন এক বিদ্যায় নিজেদের সময় ব্যয় করেছেন যা তাদের কোনো উপকারে আসে না। বরং তারা মহান আল্লাহর কিতাব সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিছক ব্যক্তিগত মত (الرأي) প্রকাশের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছেন যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে, তারা এই বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করেছেন এবং এমন কৃত্রিমতা অবলম্বন করেছেন যা ন্যায়নিষ্ঠতা বর্জন করে এবং যা আলঙ্কারিকদের বক্তব্য থেকেও পবিত্র থাকে, মহান আল্লাহর কালামের ক্ষেত্রে তো তা আরও বেশি প্রযোজ্য। অতঃপর তিনি একটি দীর্ঘ ও কঠোর আলোচনার পর বলেন, যা বিষয়বস্তুর দিক থেকে সুলতানুল উলামার বক্তব্যের বাইরে কিছু নয়:

((...এই ধরনের বিষয়ের উপকারিতা কতই না সামান্য, এর ফল কতই না নগণ্য এবং এর উপযোগিতা কতই না তুচ্ছ।} )) .

তবে তিনি আরেকটি দিক যোগ করেছেন যা তিনি মনে করেছিলেন যে তাঁর মতকে শক্তিশালী করতে পারে। তা হলো—কুরআনের আয়াত এবং সূরাগুলোর মধ্যে যারা সামঞ্জস্য (مناسبة) অন্বেষণ করে, তাদের সাথে সেই ব্যক্তির তুলনা করা যে কোনো বাগ্মী ব্যক্তির ভাষণ, চিঠিপত্র এবং রচনার মধ্যে অথবা কোনো কবির কাব্যের বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বলা বক্তব্যের মধ্যে—যা সাধারণত ভিন্ন ভিন্ন হয়—সামঞ্জস্য খুঁজতে চায়। যদি কেউ এমন কাজে উদ্যত হয়—((অতঃপর সে সেই সমগ্র সংকলনের দিকে মনোনিবেশ করে—

(1) আল-ইশারা ইলাল ইজায ফি বা’দি আনওয়াইল মাজায, আল-ইযয ইবনে আবদুস সালাম, আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ, মদিনা মুনাওয়ারা, পৃষ্ঠা ২৭৮।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ৩২)
، فَنَاسَبَ بَين فِقَره ومقاطعه، ثمَّ تكلّف تكلفاً آخر فَنَاسَبَ بَين الْخطْبَة الَّتِي خطبهَا فِي الْحَج، وَالْخطْبَة الَّتِي خطبهَا فِي النِّكَاح.. وَنَحْو ذَلِك، وناسب بَين الْإِنْشَاء الْكَائِن فِي العزاء، والإنشاء الْكَائِن فِي الهناء.. وَمَا يشابه ذَلِك - لعُدَّ هَذَا المتصدي لمثل هَذَا مصاباً فِي عقله، متلاعباً بأوقاته، عابثاً بعمره الَّذِي هُوَ رَأس مَاله)) .. ثمَّ يَقُول: ((وَإِذا كَانَ مثل هَذَا بِهَذِهِ المنْزلة - وَهُوَ ركُوب الأحموقة فِي كَلَام الْبشر -، فَكيف ترَاهُ فِي كَلَام الله سُبْحَانَهُ، الَّذِي أعجزت بلاغتُه بلغاء الْعَرَب، وأبكمت فصاحتُه فصحاء عدنان وقحطان؟)) (1) .

والحقُّ.. أَن كلا من هَاتين الحجتين واهٍ، لَا يصلح لمثل هَذَا الِاسْتِدْلَال!

أما عَن الْحجَّة الأولى - وَهِي نزُول الْقُرْآن منجماً، بِمَا يُخَالف فِي بادئ الرَّأْي حِكْمَة التناسب - فدحضُها من أيسر مَا يكون، وحسبنا فِي هَذَا الْمقَام أَن ننقل مَا قَالَه الزَّرْكَشِيّ بعد تلخيصه لكَلَام الْعِزّ السالف ذكره حَيْثُ قَالَ: ((قَالَ بعض مَشَايِخنَا الْمُحَقِّقين: قد وهم من قَالَ: لَا يُطلب للآي الْكَرِيمَة مناسبةٌ؛ لِأَنَّهَا على حسب الوقائع مُتَفَرِّقَة، وفصلُ الْخطاب أَنَّهَا على حسب الوقائع تنْزيلاً، وعَلى حسب الْحِكْمَة ترتيباً، فالمصحف الَّذِي بَين أَيْدِينَا كالصحف الْكَرِيمَة، على وَِفْق مَا فِي الْكتاب الْمكنون، مرتبَة سورُه كلهَا وآياته بالتوقيف، وحافظ الْقُرْآن الْعَظِيم لَو استفتي فِي أحكامٍ مُتعَدِّدَة، أَو نَاظر فِيهَا، أَو أملاها، لذكر آيَة كلِّ

--------------------------------------------

(1) انْظُر: فتح الْقَدِير الْجَامِع بَين فنَّي الرِّوَايَة والدراية من علم التَّفْسِير، مُحَمَّد بن عَليّ الشَّوْكَانِيّ، تَصْوِير دَار الْمعرفَة - بيروت، 1/72، 73

قَالَ البقاعي فِي نظم الدُّرَر (1/ 8، 9) : وَالشَّيْخ الْمشَار إِلَيْهِ هُوَ الْعَارِف وليُّ الله مُحَمَّد بن أَحْمد الملوي المنفلوطي الشَّافِعِي، ذكر ذَلِك فِي كلامٍ مفردٍ على قَوْله - تَعَالَى: {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَكُمْ خَلائِفَ الْأَرْضِ} و: {وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ} .
...সে তার বাক্যের অংশ ও অনুচ্ছেদগুলোর মধ্যে সংগতি রক্ষার চেষ্টা করত, তারপর আরও কষ্টসাধ্য প্রয়াস চালিয়ে হজ্জের সময় প্রদত্ত ভাষণ এবং বিবাহের সময় প্রদত্ত ভাষণের মধ্যে সংগতি খুঁজত... এবং শোকাতুর সময়ের রচনা ও আনন্দঘন সময়ের রচনার মধ্যে সংগতি রক্ষার চেষ্টা করত... এবং এই জাতীয় যা কিছু আছে—তবে এই কাজে লিপ্ত ব্যক্তিকে বিবেক-বুদ্ধিহীন, সময়ের অপচয়কারী এবং তার মূলধনস্বরূপ আয়ু নিয়ে তামাশাকারী হিসেবে গণ্য করা হতো। অতঃপর তিনি বলেন: 'যদি মানুষের কথার ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মকাণ্ড এই পর্যায়ের হয়—যা আসলে একটি নির্বুদ্ধিতা—তবে মহান আল্লাহর বাণীর ক্ষেত্রে তা কেমন হতে পারে? যাঁর অলঙ্কারশাস্ত্র (بلاغة) আরব আলঙ্কারিকদের হতবাক করে দিয়েছে এবং যাঁর বাগ্মিতা (فصاحة) আদনান ও কাহতান গোত্রের বাগ্মীদের নির্বাক করে দিয়েছে?' (১)।

প্রকৃত সত্য হলো.. এই উভয় যুক্তিই অসার (واهٍ), যা এই ধরণের প্রমাণ উপস্থাপনের (استدلال) জন্য উপযুক্ত নয়!

প্রথম যুক্তির বিষয়ে বলা যায়—যা হলো কুরআনের খণ্ড খণ্ডভাবে (منجماً) অবতীর্ণ হওয়া, যা প্রথম দৃষ্টিতে সংগতির প্রজ্ঞার বিপরীত মনে হয়—এটি খণ্ডন করা অত্যন্ত সহজ। আমাদের জন্য এই স্থানে ইমাম যারকাশি-র বক্তব্য উদ্ধৃত করাই যথেষ্ট, যা তিনি ইজ্জুদ্দিন ইবনে আব্দুস সালামের পূর্বোক্ত কথার সারসংক্ষেপ করার পর বলেছেন। তিনি বলেন: 'আমাদের কতিপয় গবেষক (محققين) শায়খগণ বলেছেন: যারা বলে যে কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে সংগতি খোঁজা উচিত নয়, কারণ সেগুলো বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, তারা মূলত বিভ্রান্তিতে পড়েছে। চূড়ান্ত ফয়সালা হলো, কুরআনের অবতরণ হয়েছে ঘটনাপ্রবাহের নিরিখে, আর বিন্যাস হয়েছে প্রজ্ঞার নিরিখে। সুতরাং আমাদের নিকট সংরক্ষিত এই মুসহাফটি মূল কিতাব বা লাওহে মাহফুজে রক্ষিত পাণ্ডুলিপির অনুরূপ; এর প্রতিটি সূরা ও আয়াত আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত (توقيف) পদ্ধতিতে বিন্যস্ত। এমনকি কুরআনের কোনো হাফেজকে যদি একাধিক বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, অথবা তিনি সে বিষয়ে বিতর্ক করেন কিংবা তা শ্রুতলিখন করান, তবে তিনি প্রতিটি আয়াতের উল্লেখ করবেন...'

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ফাতহুল কাদির আল-জামি বাইনা ফান্নাইর রিওয়াইয়া ওয়াদ দিরাইয়া মিন ইলমিত তাফসির, মুহাম্মাদ বিন আলী আশ-শাওকানি, দারুল মা'রিফাহ - বৈরুত, ১/৭২, ৭৩।

আল-বিকায়ি 'নাজমুদ দুরার' (১/৮, ৯) গ্রন্থে বলেছেন: উল্লেখিত শায়খ হলেন আরেফ বিল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মাল্লাউই আল-মানফালুতি আশ-শাফিয়ি। তিনি এ কথাটি আলাদাভাবে মহান আল্লাহর বাণী—'তিনিই তোমাদেরকে জমিনের প্রতিনিধি করেছেন' এবং 'আমি ইচ্ছা করলাম সেই জনপদের দুর্বলদের ওপর অনুগ্রহ করতে'—এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ৩৩)
حكم على مَا سُئل، وَإِذا رَجَعَ إِلَى التِّلَاوَة، لم يتلُ كَمَا أفتى، وَلَا كَمَا نزل مفرقاً.. بل كَمَا أُنزل جملَة إِلَى بَيت الْعِزَّة..)) .. ثمَّ قَالَ الزَّرْكَشِيّ معقباً: ((وَهُوَ مبنيٌّ على أَن تَرْتِيب السُّور توقيفي، وَهَذَا الراجحُ كَمَا سَيَأْتِي)) (1) .

وَهَذَا أَمر وَاضح جدا، وَلَا أَدْرِي كَيفَ خفَي على مثل الإِمَام الْعَظِيم - وَهُوَ مَنْ هُوَ: علما وتحقيقاً، وعقلاً وذكاءً -؟ {كَيفَ غَابَ عَنهُ أَن الْقُرْآن الْمجِيد كلامُ الله، وَأَنه قديمٌ قدمَه - سُبْحَانَهُ -، لِأَنَّهُ صفة من صِفَاته.. فَكيف يَصح ألَاّ يكون على غَايَة التنسيق، وإحكام الِاتِّصَال؟}

إِن الْقُرْآن الْكَرِيم هُوَ الْجُمْلَة الْوَاحِدَة الَّتِي سبق بهَا علم الله سُبْحَانَهُ، وأنزلها جملَة وَاحِدَة من اللَّوْح الْمَحْفُوظ إِلَى بَيت الْعِزَّة فِي السَّمَاء الدُّنْيَا، ثمَّ ابْتَدَأَ نُزُوله منجماً بِحَسب الوقائع والأسباب، والحوادث والدواعي، على النَّبِي الْخَاتم، فِي لَيْلَة الْقدر، أولَ مبعثه - صلوَات الله عَلَيْهِ وَسَلَامه -..

وَلَعَلَّ من أدقِّ مَا قيل فِي هَذَا - بِالْإِضَافَة إِلَى كلمة الشَّيْخ ولي الله الملوى: ((إِنَّهَا على حسب الوقائع تنْزيلاً، وعَلى حسب الْحِكْمَة ترتيباً)) - كلمةَ الْأُسْتَاذ الْجَلِيل الدكتور مُحَمَّد عبد الله دراز - رَحْمَة الله عَلَيْهِ - حَيْثُ قَالَ فِي إيجاز مكثَّف: ((.. إِن كَانَت بعد تنْزيلها (أَي الْآيَات والسور) قد جُمعت عَن تَفْرِيق؛ فَلَقَد كَانَت فِي تنْزيلها مفرَّقة عَن جمع)) (2) . وَكَذَلِكَ كلمة الزَّرْكَشِيّ الجامعة الْمَانِعَة فِي هَذَا الْبَاب: ((.. بل عِنْد التَّأَمُّل يظْهر أَن الْقُرْآن كلَّه كالكلمة الْوَاحِدَة)) (3) .

--------------------------------------------

(1) الْبُرْهَان، 1/37، 38.

(2) النبأ الْعَظِيم: نظرات جَدِيدَة فِي الْقُرْآن، د. مُحَمَّد عبد الله دراز، دَار الْفِكر - الكويت، ط3/1988م، ص 154، 155

(3) الْبُرْهَان، 1/39
জিজ্ঞাসিত বিষয়ের ওপর হুকুম প্রদান করেছেন। আর যখন তিনি তিলাওয়াতে ফিরে যেতেন, তখন তিনি সেভাবে তিলাওয়াত করতেন না যেভাবে ফতোয়া দিয়েছিলেন, আর না সেভাবে যেভাবে এটি খণ্ড খণ্ডভাবে অবতীর্ণ হয়েছে... বরং সেভাবে তিলাওয়াত করতেন যেভাবে এটি বায়তুল ইজ্জতে একবারে অবতীর্ণ হয়েছে।" এরপর যারকাশি মন্তব্য করে বলেন: "এটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, সূরাগুলোর বিন্যাস তাওকিফি (توقيفي), আর এটিই অগ্রগণ্য (راجح) মত, যা সামনে আলোচিত হবে।" (১) .

এটি অত্যন্ত স্পষ্ট একটি বিষয়। আমি জানি না এই মহান ইমামের মতো ব্যক্তির কাছে এটি কীভাবে অস্পষ্ট রয়ে গেল—অথচ জ্ঞান, গবেষণা, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তায় তাঁর স্থান কত উঁচুতে! {তিনি কীভাবে এটি ভুলে গেলেন যে, মাজিদ কুরআন আল্লাহর কালাম (كلام الله) এবং এটি তাঁর মতোই অনাদি (قديم)—সুবহানাহু—কেননা এটি তাঁর গুণাবলির অন্যতম একটি গুণ... সুতরাং এটি কীভাবে সম্ভব যে, কুরআন চূড়ান্ত পর্যায়ের সুশৃঙ্খল এবং সুসংবদ্ধ হবে না?}

নিশ্চয়ই কুরআনুল কারিম হচ্ছে সেই একক সমষ্টি যা আল্লাহর অনাদি জ্ঞানে সাব্যস্ত ছিল এবং তিনি একে লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানের বায়তুল ইজ্জতে একবারে অবতীর্ণ করেছেন। এরপর তা বিভিন্ন ঘটনা, প্রেক্ষাপট, দুর্ঘটনা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে খণ্ড খণ্ডভাবে (منجماً) শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর তাঁর নবুওয়াতের শুরুর দিকে লাইলাতুল কদরে অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়...

শেখ ওয়ালিউল্লাহ আল-মালওয়ীর উক্তির পাশাপাশি এ বিষয়ে যা বলা হয়েছে তার মধ্যে সম্ভবত এটিই সবচেয়ে সূক্ষ্ম: "নিশ্চয়ই কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার দিক থেকে ঘটনাবলির অনুসারী, আর বিন্যাসের দিক থেকে হিকমত বা প্রজ্ঞার অনুসারী।" এছাড়া শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দারাজ—রহমাতুল্লাহি আলাইহি—এর সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবোধক উক্তিটি: "...যদি আয়ত ও সূরাসমূহ অবতীর্ণ হওয়ার পর বিচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে একত্রিত করা হয়ে থাকে, তবে তা অবতীর্ণ হওয়ার সময় মূলত একটি একত্রিত অবস্থা থেকেই পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল" (২)। অনুরূপভাবে এই বিষয়ে যারকাশির সেই সারগর্ভ ও অকাট্য উক্তি: "...বরং গভীরভাবে চিন্তা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, সমগ্র কুরআন একটি একক শব্দের মতো" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান, ১/৩৭, ৩৮।

(২) আন-নাবাউল আজিম: নাজারাত জাদিদা ফিল কুরআন, ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দারাজ, দারুল ফিকর - কুয়েত, ৩য় সংস্করণ/১৯৮৮ইং, পৃ. ১৫৪, ১৫৫

(৩) আল-বুরহান, ১/৩৯
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ৩৪)
أما عَن ثَانِيَة الحجتين، وهى مَا تتَعَلَّق بالمقارنة الَّتِي عقدهَا الشَّيْخ الشَّوْكَانِيّ بَين من يطْلب الْمُنَاسبَة فِي الْآيَات والسور، وَبَين من يطْلبهَا فِي كَلَام أحدِ من الشُّعَرَاء أَو البلغاء - وَهِي أَيْضا مَأْخُوذَة من كَلَام الْعِزّ فِي أمثلته الْأَرْبَعَة الَّتِي ذكرهَا فِي سِيَاق حَدِيثَة -؛ فَهِيَ أَضْعَف من الأولى {

فَهَذَا، أَولا، قِيَاس مَعَ الْفَارِق - كَمَا يَقُول الأصوليون -.. بل مَعَ عَظِيم الْفَارِق} فَإِن ثمَّة حدا فاصلاً لَا يحدُّ - وَلَا يَكْفِي أَن نقُول فِيهِ إِنَّه كَمَا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض {- مَا بَين كَلَام الله وَكَلَام خلقه. فَكَلَامه عز وجل صفة من صِفَاته الْقَدِيمَة؛ فَهُوَ كَامِل كمالَه - سُبْحَانَهُ -. وَأما كَلَام خلقه؛ فَعَلَيهِ سمةُ عجزهم وضعفهم وضآلتهم إِذا مَا قيس بِكَلَام أنبيائه - عَلَيْهِم الصَّلَاة وَالسَّلَام -.. فَكيف إِذا مَا قيس بِكَلَامِهِ هُوَ سبحانه وتعالى؟}

وَأما ثَانِيًا؛ فلأننا لَا نسلِّم بِمَا قَالَه الشَّوْكَانِيّ من أَن تطلُّب الْمُنَاسبَة فِي كَلَام شَاعِر أَو بليغ عَبث من الْعَبَث، أَو محَال من الْمحَال.. فثمة دراسات مستفيضة فِي علم النَّقْد الأدبي تقدِّر أهمية التمَاس مثل هَذِه الْمُنَاسبَة - على نَحْو مَا -، فِيمَا سَمَّاهُ أهل النَّقْد (الوَحْدة العضوية) . وثمة دراسات تطبيقية متكاثرة على عُيُون من أدبنا الْعَرَبِيّ - والآداب العالمية عُمُوما - تثبت، بِمَا لَا يدع مجالاً للشَّكّ، أَن هُنَاكَ روحاً خَاصَّة تسرى فى كَلَام كل واحدٍ من فحول الشُّعَرَاء الموهوبين، وفطاحل البلغاء المطبوعين.. وَأَن هُنَاكَ مسحةً خَاصَّة لكل وَاحِد مِنْهُم، تظهر فِي تضاعيف كَلَامه، وَبَين سطور إبداعه، وتتيح لذوى الحساسية الْعَالِيَة فِي التذوق تَمْيِيز كَلَام أحدهم عَن الآخر.. وَلَكِن لايدرك هَذَا إِلَّا غوَّاصٌ خَبِير، وَلَيْسَ كل من قَرَأَ بَيْتا أَو بَيْتَيْنِ، وَلَا ديواناً أَو ديوانين!

وَلَعَلَّ التعمق فِي دراسة مثل (دَلَائِل الإعجاز) و (أسرار البلاغة) للشَّيْخ
আর দলিলদ্বয়ের দ্বিতীয়টির ব্যাপারে বলা যায়—যা শায়খ শাওকানি কর্তৃক সেই ব্যক্তির মধ্যে কৃত তুলনামূলক আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট, যে ব্যক্তি আয়াত ও সূরার মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্ক অনুসন্ধান করে এবং যে ব্যক্তি কোনো কবি বা বাগ্মীর কথার মধ্যে তা অনুসন্ধান করে—আর এটিও আল-ইজ্জ-এর সেই চারটি উদাহরণ থেকে সংগৃহীত যা তিনি তাঁর আলোচনার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেছেন—তবে এটি প্রথমটির চেয়েও দুর্বলতর (أضعف)। {

প্রথমত, এটি হলো বৈসাদৃশ্যপূর্ণ অনুমান (قياس مع الفارق)—যেমনটি উসুলবিদগণ (الأصوليون) বলে থাকেন—বরং এটি এক বিশাল ব্যবধানপূর্ণ তুলনা।} কেননা আল্লাহ তাআলার কালাম এবং তাঁর সৃষ্টির কালামের মধ্যে এমন এক সুনির্দিষ্ট ও অসীম সীমারেখা বিদ্যমান—যার ব্যবধান আসমান ও জমিনের ন্যায় বললেও যথেষ্ট হবে না— {- যা আল্লাহ তাআলার কালাম ও তাঁর সৃষ্টির কালামের মধ্যবর্তী। মহান আল্লাহর কালাম তাঁর অনাদি গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত; তাই তা তাঁরই মহিমার ন্যায় নিখুঁত—সুবহানাহু। পক্ষান্তরে তাঁর সৃষ্টির কথা হচ্ছে তাদের অক্ষমতা, দুর্বলতা ও নগণ্যতার পরিচায়ক, যখন তা তাঁর নবীদের—আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম—কথার সাথে তুলনা করা হয়... তবে তাঁর নিজস্ব কালামের সাথে তুলনায় তা কেমন হতে পারে—সুবহানাহু ওয়া তাআলা?}

দ্বিতীয়ত, কারণ আমরা শাওকানি যা বলেছেন তা মেনে নিচ্ছি না যে, কোনো কবি বা বাগ্মীর কথার মধ্যে সম্পর্কের অনুসন্ধান করা একটি নিরর্থক কাজ বা অসম্ভব বিষয়। কেননা সাহিত্য সমালোচনা বিদ্যায় এমন বিস্তারিত (مستفيضة) গবেষণা বিদ্যমান যা এই জাতীয় সম্পর্কের অনুসন্ধানের গুরুত্বকে কোনো না কোনোভাবে মূল্যায়ন করে—যাকে সমালোচনা সাহিত্যের বিশেষজ্ঞগণ 'অঙ্গীভূত ঐক্য' বলে অভিহিত করেছেন। এবং আমাদের আরবি সাহিত্যের—এবং সাধারণভাবে বিশ্বসাহিত্যের—উন্নত সৃষ্টিগুলোর ওপর এমন বহু প্রায়োগিক গবেষণা রয়েছে যা নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে, প্রতিটি প্রতিভাবান ও শ্রেষ্ঠ কবি এবং সহজাত বাগ্মীদের বাচনভঙ্গিতে এক বিশেষ প্রাণপ্রবাহ বিদ্যমান... এবং তাদের প্রত্যেকেরই একটি স্বতন্ত্র ছাপ রয়েছে যা তাদের বক্তব্যের ভাঁজে ভাঁজে ও সৃজনশীলতার ছত্রে ছত্রে প্রকাশ পায় এবং এটি উচ্চতর রুচিসম্পন্ন ব্যক্তিদের একজনের বক্তব্য থেকে অন্যজনের বক্তব্যকে আলাদা করার সক্ষমতা দান করে... তবে এটি কেবল একজন অভিজ্ঞ ডুবুরির পক্ষেই উপলব্ধি করা সম্ভব, যে কেউ কেবল এক বা দুই পঙ্ক্তি অথবা এক বা দুই কাব্যগ্রন্থ পড়লেই তা বুঝতে পারবে না!

সম্ভবত শায়খের দালাইলুল ইজাজ এবং আসরারুল বালাগাহ-এর মতো গ্রন্থগুলোর গভীর অধ্যয়ন...
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الإِمَام عبد القاهر الْجِرْجَانِيّ - وَكَذَلِكَ الْوُقُوف على مثل مَنْهَج الْأُسْتَاذ الْجَلِيل مَحْمُود مُحَمَّد شَاكر فِي تذوق الْبَيَان عُمُوما - توقف طَالب الْحق على هَذِه الْحَقِيقَة الْعَالِيَة، الَّتِي تقصُر دونهَا همم المتعجلين {وَلَوْلَا أَن الْمقَام لَا يسمح بمزيد من القَوْل فِي هَذَا؛ لألقيتُ عَلَيْهِ ضوءاً كاشفاً (1) .

--------------------------------------------

(1) وَلَعَلَّ من تَتِمَّة الْكَلَام فِي هَذِه الْمَسْأَلَة أَن نذْكر أَن الصَّوَاب قد جَانب الْأُسْتَاذ الْجَلِيل الشَّيْخ عبد الحميد الفراهي رحمه الله فِي جَوَابه عَن هَذَا الْإِشْكَال الْأَخير.. فقد رده بِأَن قلَّل من قيمَة الشّعْر نَفسه} حَيْثُ قَالَ: ((زعم بعض الْعلمَاء أَن الْكَلَام المنظم الَّذِي يجْرِي إِلَى عمودٍ خَاص لَيْسَ من عَادَة الْعَرَب؛ فَإنَّك ترى فِي شعرهم اقتضاباً بَينا، فَلَو جَاءَ الْقُرْآن على غير أسلوبهم ثقل عَلَيْهِم. وَهَذَا زعم بَاطِل. فَإِن الْعَرَب كَانُوا يتلهَّون بالشعر، وَلَا يعدونه من المعالى، وَإِنَّمَا كَانُوا يعظّمون الْحُكَمَاء، وَيُحِبُّونَ الْخطب الحكيمة. وَلذَلِك كَانَ الْأَشْرَاف يأنفون عَن قَول الشّعْر وَأَن يعرفوا بِهِ، وَإِنَّمَا يستعملونه نزراً على وَجه الْحِكْمَة وَضرب الْمثل. ومحضُ الْوَزْن وَالنّظم لَا يعد شعرًا. إِن للشعر مَوَاضِع من فنون الْهزْل والإطراب، فَهُوَ على كل حالٍ من لَهو الحَدِيث..))

ثمَّ قَالَ رحمه الله: ((.. فَإِذا تبين لَك هَذَا الْفرق بَين الشّعْر وَالْبَيَان، وَأَن الْعَرَب لم يكن أَكثر كَلَامهم الجزل شعرًا.. فَهَل لَك بعد ذَلِك أَن تجْعَل الْقُرْآن على أسلوب الشّعْر وَأَنه مقتضب الْبَيَان كمثلة؟ {أَلا ترى كَيفَ جعل الله ذَلِك من ذمائم الشُّعَرَاء؟ وقدَّمه على الْكَذِب - مَعَ ظُهُور شناعة الْكَذِب} ؛ فنبَّه على أَن القَوْل من غير غَايَة وعمود ونظام أدلُّ على سخافة الْقَائِل، فَقَالَ - تَعَالَى - فِي ذمّ هَؤُلَاءِ الشُّعَرَاء: {أَلَمْ تَرَ أَنَّهُمْ فِي كُلِّ وَادٍ يَهِيمُونَ وَأَنَّهُمْ يَقُولُونَ مَا لَا يَفْعَلُونَ} (الشُّعَرَاء /225، 226) .. هَل الهيمان فِي كل وادٍ إِلَّا الجريان فِي القَوْل من غير مقصد ونظام؟ {)) (دَلَائِل النظام، عبد الحميد الفراهي، ط. الدائرة الحميدية ومكتبتها، الْهِنْد، 1388?، ص 20، 21) .

قلتُ: وَهَذَا كلامٌ خطير - فَوق أَنه غير صَحِيح} -، يشبه مَا قَامَ بِهِ الإِمَام الْجَلِيل الباقلاني فِي كِتَابه الْعَظِيم (إعجاز الْقُرْآن) من نسفٍ لمعلقة امْرِئ الْقَيْس ((قفا نبكِ..)) حَتَّى يثبت إعجاز الْقُرْآن، وَكَأن إعجاز الْقُرْآن لَا يثبت إِلَّا بهلهلة منقبة الْعَرَب الْعَقْلِيَّة الأولى {.. وَهُوَ الْأَمر الَّذِي نَقده نَقْدا صَارِمًا، ودلَّ على خطورته الْبَالِغَة شيخ الْعَرَبيَّة الراحل الْأُسْتَاذ الْجَلِيل مَحْمُود مُحَمَّد شَاكر - عَلَيْهِ رَحْمَة الله - فِي مقدمته النفيسة لكتاب الْأُسْتَاذ مَالك بن نبى (الظَّاهِرَة القرآنية) ..

وَلَوْلَا أَن يَتَّسِع بِنَا الْكَلَام حَتَّى يخرج عَن مجاله لشفيتُ القَوْل فِي هَذَا.. وَلَكِن أكتفي بِأَن أَقُول إِن الشّعْر هُوَ أَعلَى وأغلى مَا تعلق بِهِ الْعَرَب، وأنفس مَا أثر عَنْهُم وَأَنَّهُمْ كَانُوا يعظمونه لدرجة أَن عَلقُوا نفائسه على جدران الْكَعْبَة - وَهِي أقدس مَا كَانُوا يعظمون} -.. وَذَلِكَ أَمر متواتر عَنْهُم، لَا مجَال لإنكاره، وَطلب الدَّلِيل عَلَيْهِ يشبه طلب الدَّلِيل على النَّهَار {وَهل كَانَت تستقيم معْجزَة الْقُرْآن الباهرة على أُولَئِكَ الْعَرَب الأقحاح لَو كَانَ شعرهم ومبلغُ علمهمْ على مثل هَذِه الركاكة والمكانة المهينة؟} .. إِن هَذَا لشَيْء عَجِيب حَقًا {

وَيُمكن أَن أضيف هُنَا أَن من الْمُقَرّر لَدَى عُلَمَاء الْأمة الْأَثْبَات أَنه لَا يستقلُّ أحد بفهم الْقُرْآن حَتَّى يسْتَقلّ بفهم هَذَا الشّعْر الجاهلي، وَإِلَى ذَلِك يُشِير قَول الشَّافِعِي - وَكَانَ، رضي الله عنه، من أبْصر النَّاس بِهَذَا الْأَمر -: ((لَا يحل لأحد أَن يُفْتِي فِي دين الله إِلَّا رجلٌ عَارِف بِكِتَاب الله.. بناسخه ومنسوخه، ومحكمه ومتشابهه، وتأويله وتنْزيله، ومكيه ومدنيه، وَمَا أُرِيد بِهِ. وَيكون بعد ذَلِك بَصيرًا بِحَدِيث رَسُول الله ((…) ، وَيعرف من الحَدِيث مثل مَا عرف عَن الْقُرْآن. وَيكون بَصيرًا بالشعر، وَمَا يحْتَاج إِلَيْهِ للسّنة وَالْقُرْآن)) .. فَلَيْسَ يَكْفِي أَن يكون عَارِفًا بالشعر، بل - وكما يَقُول الشَّيْخ مَحْمُود شَاكر - أَن يكون بَصيرًا بِهِ أشدَّ الْبَصَر} . انْظُر: فصلٌ فِي إعجاز الْقُرْآن، مُقَدّمَة مَحْمُود شَاكر لكتاب (الظَّاهِرَة القرآنية) لمَالِك بن نَبِي، دَار الْفِكر - دمشق، 1981 م - 1402?، ص 41.
ইমাম আবদুল কাহের জুরজানী - এবং একইভাবে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বয়ান) সামগ্রিক রসাস্বাদনে শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ শাকিরের মানহাজের (পদ্ধতি) ওপর দৃষ্টিপাত করা - সত্যসন্ধানীকে এমন এক উচ্চতর বাস্তবতার মুখোমুখি করে, যার কাছে তাড়াহুড়োকারীদের আকাঙ্ক্ষা পৌঁছাতে অক্ষম। {যদি এই স্থানটি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার সুযোগ দিত, তবে আমি এর ওপর আলোকপাত করতাম (১)।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত এই মাসআলা পরিপূরণের জন্য এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শায়খ আবদুল হামিদ ফারাহি (রহিমাহুল্লাহ) এই শেষোক্ত সংশয়টির উত্তরে সঠিক (صحيح) অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। কারণ তিনি কবিতার গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই একে খণ্ডন করেছেন।} যেখানে তিনি বলেছেন: ((কিছু আলিম দাবি করেছেন যে, সুসংবদ্ধ কথা যা কোনো বিশেষ মূলবিন্দুর দিকে ধাবিত হয়, তা আরবদের রীতি নয়। কেননা তাদের কবিতায় আপনি সুস্পষ্ট বিচ্ছেদ লক্ষ্য করবেন। যদি কুরআন তাদের পদ্ধতির বাইরে আসত, তবে তা তাদের কাছে দুর্বোধ্য মনে হতো। এই ধারণাটি ভ্রান্ত। কারণ আরবরা কবিতাকে আমোদ-প্রমোদের বিষয় মনে করত এবং একে উচ্চমর্যাদার জ্ঞান হিসেবে গণ্য করত না। বরং তারা প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্মান করত এবং জ্ঞানগর্ভ ভাষণ পছন্দ করত। এজন্য সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা কবিতা বলা বা কবি হিসেবে পরিচিত হতে ঘৃণা বোধ করতেন; তারা কেবল প্রজ্ঞা ও দৃষ্টান্ত হিসেবে সামান্যই কবিতা ব্যবহার করতেন। আর নিছক ছন্দ ও অন্ত্যমিলকে কবিতা বলা হয় না। কবিতার স্থান হলো কৌতুক ও চিত্তবিনোদনের বিভিন্ন শাখায়; সুতরাং তা যেকোনো অবস্থাতেই অবান্তর কথার (লাহওয়াল হাদিস) অন্তর্ভুক্ত...))

অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((...অতঃপর কবিতা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের (বয়ান) মধ্যে এই পার্থক্য যখন আপনার কাছে স্পষ্ট হলো, এবং এটিও যে আরবদের অধিকাংশ সারগর্ভ কথা কবিতা ছিল না... তবে কি এরপরও আপনি কুরআনকে কবিতার ধাঁচে এবং তার ন্যায় বিচ্ছিন্ন বয়ান হিসেবে গণ্য করবেন? {আপনি কি দেখেন না যে আল্লাহ কীভাবে একে কবিদের নিন্দনীয় গুণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন? এমনকি মিথ্যার ভয়াবহতা স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তিনি একে মিথ্যার আগে স্থান দিয়েছেন}; তিনি সতর্ক করেছেন যে, লক্ষ্য, স্তম্ভ ও শৃঙ্খলাহীন কথা বক্তার নির্বুদ্ধিতার বড় প্রমাণ। তাই এই কবিদের নিন্দায় আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তুমি কি দেখ না যে তারা প্রতিটি উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়? এবং তারা যা বলে, তা তারা করে না} (সূরা শুআরা: ২২৫-২২৬)। প্রতিটি উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘোরা মানে কি লক্ষ্য ও শৃঙ্খলাহীন কথার স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া নয়?)) (দালাইলুন নিজাম, আবদুল হামিদ ফারাহি, তাবা: আদ-দায়িরাতুল হামিদিয়া, ভারত, ১৩৮৮ হি., পৃ. ২০-২১)।

আমি বলি: এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক কথা - এটি সঠিক (صحيح) না হওয়ার পাশাপাশি - এটি অনেকটা শ্রদ্ধেয় ইমাম বাকিলানীর তাঁর মহান গ্রন্থ 'ইজাযুল কুরআন'-এ ইমরুল কায়েসের মুআল্লাকা 'কিফা নাবকি...' কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করার প্রচেষ্টার মতো, যা তিনি করেছিলেন কুরআনের অলৌকিকত্ব প্রমাণের জন্য। যেন কুরআনের অলৌকিকত্ব আরবের প্রথম বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্বকে দুর্বল সাব্যস্ত করা ছাড়া প্রমাণিত হবে না। আর এটিই সেই বিষয় যার কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং যার চরম ভয়াবহতার কথা ব্যক্ত করেছেন প্রয়াত উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির - আলাইহি রহমাতুল্লাহ - মালেক বিন নবীর 'আজ-জাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ' গ্রন্থের মূল্যবান ভূমিকায়...

যদি আলোচনা দীর্ঘ হয়ে মূল প্রসঙ্গের বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকত, তবে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতাম। তবে আমি এতটুকু বলেই ক্ষান্ত হব যে, কবিতা হলো আরবদের নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মূল্যবান বিষয়, তাদের থেকে প্রাপ্ত সবচেয়ে দামী সম্পদ। তারা একে এতটাই সম্মান করত যে, এর শ্রেষ্ঠ অংশগুলো কাবার দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখত - যা ছিল তাদের নিকট সবচেয়ে পবিত্র ও সম্মানিত স্থান। এটি তাদের থেকে সুনিশ্চিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত (متواتر) একটি বিষয়, যা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। এর স্বপক্ষে প্রমাণ চাওয়া অনেকটা দিনের অস্তিত্বের জন্য প্রমাণ চাওয়ার মতো। {আরবদের কবিতা ও জ্ঞানের পরিধি যদি এমন দুর্বল ও নিচু মানের হতো, তবে সেই খাঁটি আরবদের সামনে কুরআনের উজ্জ্বল মোজেজা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হতো?} এটি সত্যিই এক বিস্ময়কর বিষয়!

এখানে আমি আরও যোগ করতে পারি যে, উম্মতের বিজ্ঞ আলিমদের নিকট এটি স্বীকৃত যে, জাহেলি যুগের এই কবিতা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন না করা পর্যন্ত কেউ কুরআনের সমঝ লাভে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে না। এই দিকেই ইমাম শাফিয়ী ইঙ্গিত করেছেন - আর তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন এই বিষয়ে সবচেয়ে দূরদর্শী ব্যক্তি - তিনি বলেছেন: ((আল্লাহর দ্বীনের বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার অধিকার কেবল সেই ব্যক্তির আছে, যে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে সম্যক অবগত... তার রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), সুস্পষ্ট (محكم) ও রূপক/অস্পষ্ট (متشابه), এর ব্যাখ্যা (তাবিল) ও অবতরণ (তানজিল), মক্কী ও মাদানী এবং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত। এরপর তাকে রাসূলুল্লাহর হাদিস সম্পর্কে প্রাজ্ঞ হতে হবে... এবং হাদিস সম্পর্কে তেমন জ্ঞান থাকতে হবে যেমনটি কুরআনের ক্ষেত্রে থাকে। এছাড়া তাকে কবিতার ওপর পারদর্শী হতে হবে এবং সুন্নাহ ও কুরআনের জন্য কবিতার যতটুকু প্রয়োজন সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে।)) কেবল কবিতার ওপর পরিচিতি থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং শায়খ মাহমুদ শাকির যেমনটি বলেছেন - তাকে কবিতার ওপর গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন হতে হবে। দেখুন: ফাসলুন ফি ইজাযিল কুরআন, মালেক বিন নবীর 'আজ-জাহিরাতুল কুরআনিয়্যাহ' গ্রন্থের মাহমুদ মুহাম্মদ শাকিরের ভূমিকা, দারুল ফিকর - দামেস্ক, ১৯৮১ খ্রি. - ১৪০২ হি., পৃ. ৪১।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَلَكِن الْإِنْصَاف يقتضينا أَن نذْكر أَن لمثل هَذَا الرَّأْي الَّذِي اعتنقه الإِمَام الْجَلِيل عز الدّين ابْن عبد السَّلَام رضي الله عنه، ثمَّ قَلّدهُ فِيهِ من بعدُ من قَلّدهُ - أسباباً دافعة.. بَعْضهَا صَحِيح، وَإِن كَانَ لَا يُؤدى إِلَى النتيجة الَّتِي انْتَهوا إِلَيْهَا.. وَقد أحسن جدا الْأُسْتَاذ الْجَلِيل الشَّيْخ عبد الحميد الفراهى فِي رصد
কিন্তু ন্যায়নিষ্ঠা আমাদের এটি উল্লেখ করতে বাধ্য করে যে, মহান ইমাম ইজ্জুদ্দিন ইবনে আব্দুস সালাম (রা.) যে মতটি গ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে যারা তাঁর অনুসরণ করেছেন, তাদের এমন অবস্থানের পেছনে কিছু জোরালো কারণ ছিল; যার কিছু সহিহ (صحيح), যদিও তা সেই ফলাফলের দিকে নিয়ে যায় না যেখানে তারা উপনীত হয়েছেন। আর মহান উস্তাদ শায়খ আব্দুল হামিদ ফারাহি এটি পর্যালোচনায় অত্যন্ত চমৎকার কাজ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ৩৭)
هَذِه الْأَسْبَاب، ثمَّ الْإِجَابَة عَنْهَا بِمَا يَكْفِي ويشفى..

فَقَالَ رحمه الله فِي كِتَابه الْعَظِيم (دَلَائِل النظام) :

((.. لَا شكّ أَن الَّذين ذَهَبُوا إِلَى نفي النظام لم يذهبوا إِلَيْهِ إِلَّا لأسباب اضطرتهم إِلَيْهِ. فلنذكر بعض تِلْكَ الْأَسْبَاب، لتعرف عذرهمْ، وَتبقى على حسن ظَنك بهم، ولتخرج من مَحْض التَّقْلِيد إِلَى مطمئن الْحق، فَإِن الأذكياء والحكماء لايذهبون إِلَى رَأْي نُكْرٍ، إِلَّا فِرَارًا مِمَّا هُوَ أَشد نَكَارَة. فَمن لم يعرف ذَلِك، إِمَّا أَسَاءَ بهم الظَّن، وسدَّ على نَفسه الِانْتِفَاع بهم. أَو قلدهم فِي أمرٍ ظَاهر الْفساد؛ فَعمى وتصامم عَن الِاسْتِمَاع لكل دَلِيل وَاضح؛ فَإِن إساءة الظَّن إِلَى دلائلك، أَهْون عَلَيْهِ (أَي مثل هَذَا المقلِّد) من إساءة الظَّن بأولئك الأكابر! وَإِن نقلت عَن بعض الأكابر مَا يُوَافق الْحق؛ اشْتبهَ عَلَيْهِ الْأَمر، وَرُبمَا اتبع مَا عَلَيْهِ الْأَكْثَرُونَ.

فَلذَلِك؛ احتجنا إِلَى ذكر بعض الْأَسْبَاب الْمَانِعَة عَن الإيقان بالنظام، مَعَ وضوح دلائله.. فَنَقُول، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق:

الأول، وَهُوَ أقوى الْأَسْبَاب،: تبرئة كَلَام الله عَن كل عيب وشين. وَلَا شكّ أَنه ظَاهر النظام وَالتَّرْتِيب فِي كثير من الْمَوَاضِع، وَلَكنهُمْ (أَي منكري النظام) لَو ادَّعوا أَنه كلَّه منظم، وَالنّظم مرعيُّ فِيهِ؛ لاضطروا فِي مَوَاضِع إِلَى

للفراهي نظرية خَاصَّة فِي إِدْرَاك التناسب والترابط بَين آيَات الْكتاب الْعَزِيز وسوره سَّماها (النظام) ، وَقد عُني فِيهَا بِإِثْبَات النّسَب والروابط بَين آيَات الْقُرْآن وسوره، عَن طَرِيق تَحْدِيد مَا سَمَّاهُ (عَمُود) كل سُورَة، وَهُوَ يقرِّر أَنه شَيْء فَوق مُجَرّد إِدْرَاك التناسب كَمَا كتب فِيهِ الكاتبون من قبل.. وعَلى كلٍّ؛ فَكَلَامه فِي ذَلِك نَفِيس لم يسْبق إِلَيْهِ، وسوف نعرض لَهُ بالتفصيل لاحقاً بِمَشِيئَة الله تَعَالَى.
এই কারণসমূহ, অতঃপর এগুলোর এমন উত্তর যা পর্যাপ্ত এবং সন্তোষজনক..

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মহান গ্রন্থ দালাইলুন নিজাম-এ বলেছেন:

((.. এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা 'নিজাম' (সুশৃঙ্খল বিন্যাস) অস্বীকার করার (نفي) পথে গিয়েছেন, তারা কেবল এমন কিছু সংগত কারণেই তা করেছেন যা তাদের বাধ্য করেছে। সুতরাং আসুন আমরা সেই কারণগুলোর কিছু উল্লেখ করি, যাতে আপনি তাদের ওজর সম্পর্কে জানতে পারেন এবং তাদের প্রতি আপনার সুধারণা অটুট থাকে; আর যেন আপনি নিছক অন্ধ অনুকরণ (تقليد) থেকে বের হয়ে সত্যের (حق) প্রশান্তিতে পৌঁছাতে পারেন। কেননা বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ কোনো আপত্তিকর (نكر) মত গ্রহণ করেন না, কেবল তার চেয়েও অধিক আপত্তিকর (نكارة) বিষয় থেকে পলায়ন করার উদ্দেশ্যেই তা করেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি জানে না, সে হয় তাদের প্রতি কুধারণা পোষণ করে এবং তাদের থেকে উপকৃত হওয়ার পথ নিজের জন্য বন্ধ করে দেয়; অথবা সুস্পষ্টভাবে ত্রুটিপূর্ণ কোনো বিষয়ে তাদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করে। ফলে সে সত্য বিমুখ হয়ে যায় এবং প্রতিটি সুস্পষ্ট দলিল (دليل) শোনার ক্ষেত্রে বধিরতা অবলম্বন করে। কেননা (এই জাতীয় অনুকরণকারীর কাছে) আপনার দলিলসমূহের (دلائل) প্রতি কুধারণা পোষণ করা সেই সব মহান মনীষীদের প্রতি কুধারণা পোষণ করার চেয়ে সহজতর! আর যদি আপনি কোনো মহান মনীষী থেকে সত্যের (حق) অনুকূল কিছু বর্ণনা (نقل) করেন, তবে বিষয়টি তার কাছে অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং সম্ভবত সে সংখ্যাগুরুরা যা অনুসরণ করে সেটিই অনুসরণ করে।

এ কারণেই 'নিজাম'-এর দলিলসমূহ (دلائل) সুস্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও এর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস (إيقان) স্থাপনে প্রতিবন্ধক কারণগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়েছে। আমরা আল্লাহর তৌফিক (توفيق) কামনায় বলছি:

প্রথমটি এবং এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী কারণ: আল্লাহর কালামকে সকল প্রকার ত্রুটি ও কলঙ্ক থেকে পবিত্র রাখা। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অনেক স্থানে 'নিজাম' (সুশৃঙ্খল বিন্যাস) এবং ক্রমধারা সুস্পষ্ট। কিন্তু তারা (অর্থাৎ যারা নিজাম অস্বীকারকারী) যদি দাবি করতেন যে এর পুরোটাই সুবিন্যস্ত এবং এতে বিন্যাস রক্ষা করা হয়েছে, তবে তারা অনেক জায়গায় বাধ্য হতেন...

আল্লামা ফারাহীর মহাগ্রন্থের আয়াত ও সূরাসমূহের মাঝে সামঞ্জস্য ও যোগসূত্র অনুধাবনের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ তত্ত্ব রয়েছে যা তিনি 'নিজাম' (نظام) নামে অভিহিত করেছেন। এতে তিনি কুরআনের আয়াত ও সূরাসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগসূত্র প্রমাণ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি তিনি করেছেন প্রতিটি সূরার একটি মূল বিষয়বস্তু বা কেন্দ্রবিন্দু নির্ধারণের মাধ্যমে, যাকে তিনি 'আমূদ' (عمود) বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি নিছক সামঞ্জস্য অনুধাবনের চেয়েও গভীরতর কিছু, যা তাঁর পূর্ববর্তী লেখকগণ লিখেছিলেন। যাই হোক, এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত মূল্যবান এবং অনন্য; ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করব।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ৩৮)
القَوْل بِعَدَمِهِ، وَذَلِكَ لغموضه ودقته.. فتركوا هَذَا المسلك وَلم يحولوه إِلَى قُصُور أفهامهم. (…)

وَالثَّانِي - وَلَيْسَ بأدونَ من الأول، وَلَكِن الأول يتَعَلَّق بالمصنفين، وَالثَّانِي يتَعَلَّق بالناظرين فِي كَلَامهم -: هُوَ أَن أَكثر من ذهب إِلَى وجود النّظم - كَالْإِمَامِ الرَّازِيّ، رحمه الله قنع فِي هَذَا الْأَمر الصعب بِمَا هُوَ أَهْون من نسج العنكبوت، مَعَ سبقه الظَّاهِر فِي الْعُلُوم النظرية والذكاء؛ فَمن نظر فِي كَلَامه تَيَقّن بِأَن النّظم لَو كَانَ كَمَا يَدعِيهِ هَذَا الإِمَام المتبحِّر وَأَمْثَاله لما خَفِي عَلَيْهِ مَعَ خوضه فِيهِ. وَإِذ لَا يَأْتِي فِيهِ، هُوَ وَلَا غَيره، إِلَّا بِكُل ضَعِيف؛ فَلَا مطمع فِيهِ لأحد بعد هَؤُلَاءِ. فإمَّا بَقِي على قَوْله بِوُجُود النّظم، وَلَكِن يئس من علمه وأغلق بَابه، فَإِن سمع أحدا يَدعُوهُ إِلَيْهِ لم يسمعهُ. وَإِمَّا صَار إِلَى الرَّأْي الَّذِي ظَنّه أسلم، وَهُوَ أَن الْقُرْآن إِنَّمَا نزل منجَّماً مفرقاً، فَلَا يطْلب فِيهِ نظام.

--------------------------------------------

جَاءَ هُنَا فِي حَاشِيَة الْكتاب:

((اعْلَم - هداك الله - أَن من أَسَاءَ الظَّن بهم، أولى بالْخَطَأ مِمَّن قصّر فِيهِ، فَإِن سوء الظَّن مِنْهُم مبنيٌّ على قلَّة مسامحتهم لهَؤُلَاء الأذكياء، وَقلة قدرهم لهَذَا الْعلم الشريف، فَإِنَّهُم لَو أنصفوا؛ لشكروا سَعْيهمْ. فَإِن من يَخُوض على الدرِّ فِي بَحر عميق لَا تَثْرِيب عَلَيْهِ إِن لم يفز بالفرائد، بل يسْتَحق الْمَدْح، وَلما فتح بَابا لمن يتبعهُم.. فكم ترك الأول للْآخر {وَلَا شكَّ أَن من بَين طرفا من النّظم لَهُ منَّةٌ على الْخلف، فَإِن هَذَا الْعلم لَا مطمع فِي بُلُوغ نهايته. وأيُّ علم استقصوه؟ } فَمَا بالك بِمَا هُوَ بَحر لَا تَنْقَضِي عجائبه؟ ! ومحاسن نظم الْكَلَام لَا تُعرف كلهَا إِلَّا بعد استقصاء مَعَانِيه، وَذَلِكَ يُبقي أَكْثَرهَا مكنوناً.

فَالَّذِينَ أَنْكَرُوا وجود النظام فِي كتاب الله، بِمَا وجدوا من الضعْف فِي كَلَام الْقَائِلين بالنظم البليغ فِيهِ، وَإِن كَانُوا أقرب إِلَى الْخَطَأ مِمَّن أَسَاءَ بهم ظَنّه - فَإِنَّهُم أَيْضا معذورون فِي إنكارهم، لِأَن غرضهم لَيْسَ إِلَّا نفي ضعف النظام. فَإِن عدم الْقَصْد لشَيْء رُبمَا يكون صَحِيحا، وَلَكِن سوء التَّدْبِير لذَلِك الْغَرَض منقصة ظَاهِرَة. وَلَا شكّ أَن الْكَلَام الَّذِي لَيْسَ على نمط متسق، بل يحتوي على عدَّة مطَالب مقتضبة بَعْضهَا عَن بعض، مَبْنِيَّة على أَسبَاب جَامِعَة خَارِجَة عَن معنى الْكَلَام، كَمَا ذهب إِلَيْهِ كثير من أكَابِر الْعلمَاء - لأبعدُ عَن النَّقْص من كَلَام قُصد فِيهِ الوحْدة من جِهَة النظام، ثمَّ كَانَ مختلَّ النّظم، أَو ضَعِيف الرِّبَاط. فَلَا شكّ أَن هَؤُلَاءِ الْمَذْكُورين لم يقصدوا إِلَّا تبرئة الْقُرْآن عَن كل منقصة)) .
এটি (শৃঙ্খলার) অস্তিত্বহীনতার অভিমত, আর তা এর অস্পষ্টতা ও সূক্ষ্মতার কারণে... ফলে তাঁরা এই পথ পরিহার করেছেন এবং একে নিজেদের বোধশক্তির সীমাবদ্ধতার ওপর চাপিয়ে দেননি। (…)

আর দ্বিতীয়টি - যা প্রথমটির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে প্রথমটি গ্রন্থকারদের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং দ্বিতীয়টি তাঁদের বক্তব্যের পর্যবেক্ষকদের সাথে সংশ্লিষ্ট - তা হলো: যারা শৃঙ্খলার অস্তিত্বের প্রবক্তা - যেমন ইমাম রাজী (রহ.), তিনি এই কঠিন বিষয়ে এমন কিছুর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যা মাকড়সার জালের চেয়েও তুচ্ছ, অথচ তাত্ত্বিক জ্ঞান ও মেধায় তাঁর সুস্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে; ফলে যে ব্যক্তি তাঁর বক্তব্যের দিকে তাকাবে সে নিশ্চিত হবে যে, শৃঙ্খলা যদি তেমনই হতো যা এই গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ইমাম ও তাঁর সমসাময়িকরা দাবি করেন, তবে তাতে নিমগ্ন থাকা সত্ত্বেও তা তাঁর কাছে গোপন থাকতো না। যেহেতু তিনি বা অন্য কেউ এতে দুর্বল (ضعيف) বিষয় ছাড়া কিছুই উপস্থাপন করতে পারেননি; তাই তাঁদের পর আর কারো এতে কোনো প্রত্যাশা নেই। ফলে কেউ হয়তো শৃঙ্খলার অস্তিত্বের ওপর অটল থাকে, কিন্তু সে বিষয়ে জ্ঞান লাভের আশা ছেড়ে দেয় এবং এর দরজা বন্ধ করে দেয়, ফলে কেউ তাকে সেদিকে আহ্বান করলে সে তা শোনে না। আর কেউ হয়তো সেই মতের দিকে চলে যায় যাকে সে নিরাপদ মনে করেছে, আর তা হলো: কুরআন যেহেতু পর্যায়ক্রমে ও বিচ্ছিন্নভাবে অবতীর্ণ হয়েছে, তাই এতে কোনো শৃঙ্খলার অনুসন্ধান করা হবে না।

--------------------------------------------

গ্রন্থের টীকায় এখানে এসেছে:

((জেনে রাখুন - আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দান করুন - যারা তাঁদের সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করেছে, তারা তাদের চেয়েও ভুলের অধিক নিকটবর্তী যারা এতে ত্রুটি করেছে। কারণ তাঁদের প্রতি এই কুধারণার ভিত্তি হলো এই মেধাবীদের প্রতি তাদের সহনশীলতার অভাব এবং এই মহান ইলমের প্রতি তাদের হীনজ্ঞান। তারা যদি ইনসাফ করত, তবে অবশ্যই তাঁদের প্রচেষ্টার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করত। কেননা যে ব্যক্তি গভীর সমুদ্রে মুক্তার খোঁজে ডুব দেয়, সে যদি শ্রেষ্ঠ মুক্তাগুলো লাভে ব্যর্থও হয়, তবে তাকে তিরস্কার করা যাবে না, বরং সে প্রশংসার যোগ্য। যেহেতু সে পরবর্তীদের জন্য একটি পথ উন্মুক্ত করেছে... পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন {আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যিনি শৃঙ্খলার কোনো দিক স্পষ্ট করেছেন, পরবর্তীদের ওপর তাঁর অনুগ্রহ রয়েছে। কেননা এই ইলমের শেষ সীমায় পৌঁছানোর কোনো অবকাশ নেই। আর এমন কোন্ ইলম আছে যা তারা পূর্ণরূপে আয়ত্ত করতে পেরেছে?} তবে আপনি সেই সমুদ্র সম্পর্কে কী ভাবছেন যার বিস্ময়কর বিষয়গুলো শেষ হওয়ার নয়?! বক্তব্যের শৃঙ্খলার সৌন্দর্যসমূহ পূর্ণরূপে ততক্ষণ জানা যায় না যতক্ষণ না এর অর্থসমূহ চূড়ান্তভাবে অনুধাবন করা হয়, আর তার অধিকাংশই অপ্রকাশিত থেকে যায়।

সুতরাং যারা আল্লাহর কিতাবে শৃঙ্খলার অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন - সেই বক্তব্যসমূহে দুর্বলতা (ضعف) পাওয়ার কারণে যা এই কিতাবে অলঙ্কারপূর্ণ শৃঙ্খলার প্রবক্তারা ব্যক্ত করেছেন - যদিও তারা তাদের চেয়ে ভুলের অধিক নিকটবর্তী যারা তাঁদের সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করেছে, তবুও তারা তাদের এই অস্বীকারের ক্ষেত্রে ওজরপ্রাপ্ত, কারণ তাদের উদ্দেশ্য কেবল শৃঙ্খলার দুর্বলতা (ضعف) নিরসন করা। কোনো কিছুর সংকল্প না করা হয়তো সঠিক (صحيح) হতে পারে, কিন্তু সেই উদ্দেশ্যের জন্য দুর্বল ব্যবস্থাপনা একটি সুস্পষ্ট ত্রুটি। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে বক্তব্য সুসংহত রীতিতে নয়, বরং তা বিচ্ছিন্ন কতগুলো লক্ষ্যবস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করে যা একটি থেকে অন্যটি পৃথক এবং যা বক্তব্যের অর্থের বাইরের কোনো সামষ্টিক কারণের ওপর ভিত্তি করে রচিত - যেমনটি অনেক বড় বড় আলেম মত দিয়েছেন - তা সেই বক্তব্যের চেয়ে ত্রুটিমুক্ত হওয়ার দিক থেকে অনেক দূরে, যেখানে শৃঙ্খলার দিক থেকে একত্বের সংকল্প করা হয়েছে, কিন্তু তার বিন্যাস ছিল বিশৃঙ্খল অথবা তার বন্ধন ছিল দুর্বল (ضعيف)। নিঃসন্দেহে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ কুরআনকে সকল প্রকার ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য পোষণ করেননি।))।
(খণ্ড: ১) মাসাবীহুদ দুরার ফী তানাসুবি আয়াতিল কুরআনিল কারীম ওয়াস সুওয়ার (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَالثَّالِث: إكثار الْوُجُود فِي التَّأْوِيل، وإكثار الجدل وَقَالَ وَقيل. وَذَلِكَ بِأَن النّظم إِنَّمَا يجْرِي على وَحْدةٍ، فبحسب مَا تكثّرت الْوُجُوه تعذَّر استنباط النظام. فَمن نظر فِي هَذِه الْوُجُوه المتناقضة والأقاويل المتشاكسة؛ تحيَّر.. لَا يدْرِي مَاذَا يخْتَار مِنْهَا، وَأصْبح فِي حُجُبٍ عَن النّظم الَّذِي يجْرِي من كل جملةٍ فِي وَجه وَاحِد، كمن سلك طَرِيقا.. يُصَادف فِي كل غَلوةٍ مِنْهُ طرقاً شَتَّى {

وَلما كَانَ ذَلِك - ولأسبابٍ أُخر - شرطنا أَن نقنع بِوَجْه واحدٍ صَحِيح ظَاهر، يَنْتَظِم بِهِ الْكَلَام، وَلم نجده إِلَّا أحسنَها تَأْوِيلا، وأبلغها بَيَانا.. وَهَذَا مَبْسُوط فِي مَوْضِعه. وَإِنَّمَا ذَكرْنَاهُ هَاهُنَا من جِهَة أَن إكثار الْوُجُوه من أكبر الحُجُب على فهم النظام، بل عدم التمسُّك بالنظام هُوَ أكبر سَبَب للولوع بِكَثْرَة التَّأْوِيل، فَإِن النّظم هُوَ الَّذِي يوجهك إِلَى الْوَجْه الصَّحِيح. وَالسَّلَف رحمهم الله لم يجمعوا وُجُوهًا، بل كلٌّ مِنْهُم ذهب إِلَى أمرٍ وَاحِد، وَإِنَّمَا شاع إكثارُ الْوُجُوه فِي الْخلف. وَكَذَا يكون الْأَمر فِي كل علم إِذا كثرت الْكتب، ودوِّن الْعلم، وَسَهل الطَّرِيق، فيحرصون على التبحُّر، وَيَرْفُضُونَ الرسوخ وَالتَّحْقِيق فِي

--------------------------------------------

فِي كتاب الفراهي النفيس هَذَا كثير من الإشارات المهمة فِي هَذَا الصدد، وَهُوَ يَدْعُو إِلَى أَن يتخفف طَالب الْهِدَايَة من الْقُرْآن الْمجِيد من ثقَل هَذِه المرويات مَا اسْتَطَاعَ، حَتَّى يخلُصَ إِلَى الْحِكْمَة المستكنَّة فِي آيَات الله الْبَينَات، الَّتِي هِيَ - وَحدهَا، لَا تأويلات النَّاس واحتمالاتهم} - الهدايةُ والنور.
এবং তৃতীয়টি হলো: ব্যাখ্যার (تأويل) আধিক্য এবং 'বলা হয়েছে' ও 'কথিত আছে' জাতীয় বিতর্কের প্রাচুর্য। এর কারণ হলো, পাঠের বিন্যাস সাধারণত একটি সুনির্দিষ্ট ঐক্যের ওপর ভিত্তি করে চলে; সুতরাং ব্যাখ্যার দিকগুলো যত বৃদ্ধি পাবে, মূল বিন্যাস (نظام) উদ্ঘাটন করা তত কঠিন হয়ে পড়বে। যে ব্যক্তি এই পরস্পরবিরোধী সম্ভাবনা এবং অসংলগ্ন উক্তিগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করে, সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। সে বুঝতে পারে না এগুলোর মধ্য থেকে কোনটি বেছে নেবে এবং এভাবে সে সেই সুশৃঙ্খল বিন্যাস থেকে পর্দার আড়ালে চলে যায় যা প্রতিটি বাক্যে একটি নির্দিষ্ট দিকে ধাবিত হয়। তার অবস্থা এমন এক পথিকের মতো, যে তার চলার পথে প্রতি কদমেই ভিন্ন ভিন্ন রাস্তার সম্মুখীন হয়। {

যখন বিষয়টি এমন—এবং অন্যান্য আরও কারণে—আমরা এই শর্তারোপ করেছি যে আমরা কেবল একটি সঠিক (صحيح) ও প্রকাশ্য দিকের ওপর সন্তুষ্ট থাকব, যার মাধ্যমে বক্তব্য সুসংহত হয়। আর আমরা একেই সবচেয়ে সুন্দর ব্যাখ্যা (تأويل) এবং সবচেয়ে প্রাঞ্জল বর্ণনা হিসেবে পেয়েছি। এই বিষয়টি তার নিজ স্থানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা এখানে এর উল্লেখ করেছি এই দৃষ্টিকোণ থেকে যে, ব্যাখ্যার আধিক্য বিন্যাস অনুধাবনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অন্তরায়গুলোর একটি। বস্তুত, বিন্যাসকে আঁকড়ে না ধরাই হলো ব্যাখ্যার (تأويل) প্রাচুর্যের প্রতি আসক্ত হওয়ার প্রধান কারণ। কেননা, বিন্যাসই আপনাকে সঠিক (صحيح) দিকের পথ প্রদর্শন করে। সালাফ—আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন—তাঁরা নানাবিধ সম্ভাবনা বা দিক একত্রিত করতেন না, বরং তাঁদের প্রত্যেকে একটি সুনির্দিষ্ট প্রসঙ্গের দিকে যেতেন। আর ব্যাখ্যার আধিক্যের এই বিষয়টি পরবর্তী প্রজন্মের (خلف) মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিটি শাস্ত্রের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটে থাকে যখন বইপুস্তকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, জ্ঞান সংকলিত হয় এবং জ্ঞানার্জনের পথ সহজ হয়ে যায়; তখন তারা পাণ্ডিত্যের প্রতি লালায়িত হয় এবং গভীরতা ও সঠিক অনুসন্ধিৎসাকে বর্জন করে।

--------------------------------------------

ফরাহির এই মূল্যবান কিতাবে এ বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন যেন পবিত্র কুরআন থেকে হেদায়েত অন্বেষণকারী ব্যক্তি এই বর্ণনাগুলোর (مرويات) বোঝা থেকে যতটা সম্ভব নিজেকে ভারমুক্ত রাখেন, যাতে করে তিনি আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতগুলোর মধ্যে নিহিত প্রজ্ঞার কাছে পৌঁছাতে পারেন। আর মানুষের ব্যাখ্যা (تأويلات) বা সম্ভাবনাগুলো নয়, বরং এই আয়াতগুলোই—একমাত্র এগুলোই—হলো সঠিক পথনির্দেশ ও আলো।} - হেদায়েত ও নূর।