(খণ্ড: ১) বাহাস ফি ওয়াক্তি তাশরিই ওয়া নুযুলি আয়াতি সালাতিল খাওফ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
بحث في وقت تشريع ونزول آية صلاة الخوف - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: بحث في وقت تشريع ونزول آية صلاة الخوف

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (16)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

সালাতুল খউফ (صلاة الخوف)-এর বিধান প্রণয়ন এবং এর আয়াত নাজিল হওয়ার সময় সম্পর্কিত গবেষণা - ‘আসারুল মুয়াল্লিমি’-র অন্তর্ভুক্ত   (আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: সালাতুল খউফ (صلاة الخوف)-এর বিধান প্রণয়ন এবং এর আয়াত নাজিল হওয়ার সময় সম্পর্কিত গবেষণা

[আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৬)]

লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

তাহকিক (تحقيق): মুহাম্মদ উজাইর শামস

নিরীক্ষণ: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দার আলমুল ফাওয়াইদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি

শামেলার জন্য পেশ করেছে: ‘আতাআত আল-ইলম’ ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৬) বাহাস ফি ওয়াক্তি তাশরিই ওয়া নুযুলি আয়াতি সালাতিল খাওফ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৩৭১)
الرسالة الحادية عشرة

بحث في وقت تشريع ونزول آية صلاة الخوف
একাদশ রিসালাহ

সালাতুল খাওফ এর বিধান এবং এর আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় সংক্রান্ত গবেষণা
(খণ্ড: ১৬) বাহাস ফি ওয়াক্তি তাশরিই ওয়া নুযুলি আয়াতি সালাতিল খাওফ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৩৭৩)
فصل

قد علمتَ من رواية قتادة عن سليمان بن قيس(1) والكلام عليها أن ظاهرها أن ذلك أول ما نزلت الآية، أعني قوله تعالى: {وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الْأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا} [النساء: 101].

وقد عارض هذا حديث آخر.

أخرج أبو داود(2) عن سعيد بن منصور عن جرير بن عبد الحميد عن منصور عن مجاهد عن أبي عياش الزرقي قال: «كنا مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بعُسْفان، وعلى المشركين خالد بن الوليد، فصلينا الظهر، فقال المشركون: لقد أصبنا غِرَّةً، لقد أصبنا غفلة، لو كنا حملنا عليهم وهم في الصلاة! فنزلت آية القصر بين الظهر والعصر، فلما حضرت العصر قام رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم مستقبلَ القبلة، والمشركون أمامه، فصفَّ خلف رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم صفٌّ، وصفَّ بعد ذلك الصفِّ صفٌّ آخر، فركع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وركعوا جميعًا … » فذكر الصفة التي تقدمت [في] رواية عطاء عن جابر، ثم قال: «فصلَّاها بعُسْفان، وصلَّاها يوم بني سُلَيم».

وأخرجه الحاكم في «المستدرك» (1/ 334) من طريق ابن منصور، وقال: «صحيح على شرط الشيخين» وأقره الذهبي.

--------------------------------------------

(1) أخرجها الطبري في «تفسيره» (7/ 414) من حديث جابر بن عبد الله في قصة قصر الصلاة في الخوف.

(2) رقم (1236).
পরিচ্ছেদ

আপনি কাতাদাহর বর্ণনা (رواية) থেকে সুলায়মান ইবনে কায়স(১) এবং তার ওপর যে আলোচনা হয়েছে তা থেকে জানতে পেরেছেন যে, এর বাহ্যিক অর্থ হলো এটিই আয়াতটি প্রথম অবতীর্ণ হওয়ার সময়ের ঘটনা; অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তোমরা জমিনে সফর করবে, তখন তোমাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই যে, তোমরা সালাত কসর (সংক্ষেপ) করবে, যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে কাফিররা তোমাদেরকে ফিতনায় (আক্রান্ত) ফেলবে} [আন-নিসা: ১০১]।

আর অন্য একটি হাদিস এর বিরোধিতা করছে।

আবু দাউদ(২) সাঈদ ইবনে মানসুর থেকে, তিনি জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি আবু আইয়াশ আল-জুরাকি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ‘উসফান’-এ ছিলাম এবং মুশরিকদের নেতৃত্বে ছিল খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ। আমরা যোহরের সালাত আদায় করলাম। তখন মুশরিকরা বলল: আমরা একটি সুযোগ পেয়েছিলাম, আমরা তাদের অসতর্ক পেয়েছিলাম; যদি আমরা তাদের ওপর আক্রমণ করতাম যখন তারা সালাতে ছিল! অতঃপর যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে কসরের আয়াত অবতীর্ণ হলো। যখন আসরের সময় হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন এবং মুশরিকরা তাঁর সামনে ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে একটি কাতার সারিবদ্ধ হলো এবং সেই কাতারের পেছনে আরও একটি কাতার সারিবদ্ধ হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু করলেন এবং তারা সকলে একসাথে রুকু করল...» এরপর তিনি জাবির থেকে আতা-এর বর্ণনায় (رواية) পূর্বে বর্ণিত পদ্ধতির উল্লেখ করেন, অতঃপর বলেন: «তিনি এটি ‘উসফান’-এ আদায় করেছেন এবং বনু সুলায়মের দিনেও এটি আদায় করেছেন।»

আর হাকিম এটি «আল-মুস্তাদরাক» (১/৩৩৪) গ্রন্থে ইবনে মানসুরের সূত্র (طريق) থেকে উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন: «শায়খাইনের শর্তানুযায়ী (شرط) এটি বিশুদ্ধ (صحيح)» এবং যাহাবী এর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাবারী এটি তাঁর «তাফসীর» (৭/৪১৪) গ্রন্থে জাবির বিন আব্দুল্লাহর হাদিস থেকে ভয়ের অবস্থায় সালাত কসর করার ঘটনার বর্ণনায় (رواية) উদ্ধৃত করেছেন।

(২) নম্বর (১২৩৬)।
(খণ্ড: ১৬) বাহাস ফি ওয়াক্তি তাশরিই ওয়া নুযুলি আয়াতি সালাতিল খাওফ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৩৭৪)
وأخرجه البيهقي في «السنن» (3/ 256) من طريق يحيى بن يحيى وسعيد بن منصور كلاهما عن جرير.

وأخرجه النسائي(1) عن محمد بن المثنى ومحمد بن بشار عن محمد (غندر) قال: حدثنا شعبة عن منصور، قال: سمعت مجاهدًا يحدث عن أبي عيَّاش الزُّرقي ــ قال شعبة: كتب به إليَّ وقرأتُه عليه وسمعتُه منه يحدِّث، ولكني حفظته. قال ابن بشار في حديثه: حفظي من الكتاب ــ، فذكره وليس فيه: «فنزلت آية القصر بين الظهر والعصر».

وهكذا رواه أحمد أيضًا عن غندر. «المسند» (4/ 60)(2).

وأخرجه النسائي(3) أيضًا عن عمرو بن علي عن عبد العزيز بن عبد الصمد ثنا منصور، فذكره. وفيه: «فنزلت ــ يعني صلاة الخوف ــ بين الظهر والعصر».

ورواه أحمد(4) أيضًا: «ثنا عبد الرزاق ثنا الثوري عن منصور … »، وفيه: «فنزل جبريل عليه السلام بهذه الآيات بين الظهر والعصر: {وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ} [النساء: 102].

ورواه أبو داود الطيالسي(5) عن ورقاء عن منصور، وفيه: «فنزل جبريل

--------------------------------------------

(1) (3/ 176).

(2) رقم (16581).

(3) (3/ 177).

(4) رقم (16580).

(5) في «مسنده» (1347).
এবং ইমাম আল-বাইহাকী আস-সুনান (৩/ ২৫৬) গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া এবং সাঈদ ইবনে মানসুর-এর সূত্রে (طريق) বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ই জারীর থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর আন-নাসায়ী(১) মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না এবং মুহাম্মদ ইবনে বাশশার থেকে, তাঁরা মুহাম্মদ (গুনদার) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মানসুর থেকে, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে আবু আইয়াশ আয-যুরাকী থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি — শু'বাহ বলেন: তিনি আমার কাছে এটি লিখে পাঠিয়েছিলেন এবং আমি তা তাঁর কাছে পাঠ করেছি এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, কিন্তু আমি তা মুখস্থ করে নিয়েছি। ইবনে বাশশার তাঁর বর্ণিত হাদিসে বলেছেন: কিতাব থেকে আমার সংরক্ষণ — অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, তবে তাতে এটি নেই: "অতঃপর যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে কসরের আয়াত অবতীর্ণ হলো"।

ইমাম আহমাদও একইভাবে গুনদার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-মুসনাদ (৪/ ৬০)(২)।

এবং আন-নাসায়ী(৩) এটি আমর ইবনে আলী থেকে, তিনি আবদুল আজিজ ইবনে আব্দুস সামাদ থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (ثنا) মানসুর, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। এতে রয়েছে: "অতঃপর নাযিল হলো — অর্থাৎ সালাতুল খওফ — যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে"।

আর ইমাম আহমাদ(৪) এটিও বর্ণনা করেছেন: "আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আবদুর রাজ্জাক, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (ثنا) আস-সাওরী মানসুর থেকে … ", এতে রয়েছে: "অতঃপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে এই আয়াতগুলো নিয়ে অবতীর্ণ হলেন: {আর যখন আপনি তাদের মাঝে থাকবেন, অতঃপর তাদের নিয়ে সালাত কায়েম করবেন} [আন-নিসা: ১০২]"।

এবং আবু দাউদ আত-তায়ালিসি(৫) এটি ওয়ারকা থেকে, তিনি মানসুর থেকে বর্ণনা করেছেন; আর তাতে রয়েছে: "অতঃপর জিবরাঈল অবতীর্ণ হলেন...

--------------------------------------------

(১) (৩/ ১৭৬)।

(২) নম্বর (১৬৫৮১)।

(৩) (৩/ ১৭৭)।

(৪) নম্বর (১৬৫৮০)।

(৫) তাঁর আল-মুসনাদ (১৩৪৭) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১৬) বাহাস ফি ওয়াক্তি তাশরিই ওয়া নুযুলি আয়াতি সালাতিল খাওফ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৩৭৫)
عليه السلام على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بين الظهر والعصر، فأخبره، ونزلت هذه الآية: {وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلَاةَ … }.

وأخرج الحاكم في «المستدرك» (3/ 30) قصة شبيهةً بهذه من طريق النضر أبي عمر عن عكرمة عن ابن عباس، وقال: «صحيح على شرط البخاري»، وأقره الذهبي.

والنضر أبو عمر هو النضر بن عبد الرحمن الخزاز، مجمع على ضعفه.

وأخرج النسائي(1) وغيره من طريق سعيد بن عبيد الهُنائي ثنا عبد الله بن شقيق ثنا أبو هريرة قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم نازلاً بين ضَجْنانَ وعُسْفانَ محاصرًا المشركين، فقال المشركون: إنّ لهؤلاء صلاةً هي أحبُّ إليهم من أبنائهم وأبكارهم، أجْمِعوا أمركم، ثم مِيلُوا عليهم ميلةً واحدة، فجاء جبريل عليه السلام فأمره أن يقسم أصحابه نصفين، فيصلي بطائفة منهم، وطائفة مقبلون على عدوِّهم … فيصلِّي بهم ركعة، ثم يتأخر هؤلاء ويتقدم أولئك، فيصلي بهم ركعة تكون لهم مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم ركعة ركعة، وللنبي صلى الله عليه وآله وسلم ركعتان».

سعيد بن عبيد، قال أبو حاتم: «شيخ»، وذكره ابن حبان في «الثقات»(2) وقد عُلِم شرطه.

--------------------------------------------

(1) (3/ 174). وأخرجه أيضًا أحمد في «المسند» (10765) والترمذي (3035) وابن حبان (2872)، وحسَّنه الترمذي.

(2) (6/ 352). وانظر «تهذيب التهذيب» (4/ 62).
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে (জিবরাঈল) আলাইহিস সালাম আসলেন এবং তাঁকে সংবাদ দিলেন। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: {যখন আপনি তাদের মধ্যে অবস্থান করবেন এবং তাদের জন্য সালাত কায়েম করবেন...}।

হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’ (৩/ ৩০) গ্রন্থে নাদর আবু উমর হতে ইকরিমাহ ও ইবনে আব্বাসের সূত্রে এর সদৃশ একটি ঘটনা বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এটি সহীহ (صحيح) বুখারীর শর্তানুযায়ী", আর যাহাবীও তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

আর নাদর আবু উমর হলেন মূলত নাদর বিন আব্দুর রহমান আল-খাযযায, যাঁর দুর্বলতার (ضعف) ওপর সর্বসম্মত (إجماع) সিদ্ধান্ত রয়েছে।

নাসাঈ(১) এবং অন্যান্যরা সাঈদ বিন উবাইদ আল-হুনায়ি-এর সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন শাকিক হতে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম দাজনান ও উসফানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থানকালে মুশরিকদের অবরোধ করে রেখেছিলেন। তখন মুশরিকরা বলল: ‘তাদের এমন একটি সালাত রয়েছে যা তাদের নিকট তাদের সন্তানাদি ও প্রথমজাত সন্তানদের চেয়েও অধিক প্রিয়। তোমরা একযোগে সম্মিলিত হও এবং অতর্কিতে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ো।’ তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম আসলেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাঁর সাহাবীদের দুই ভাগে বিভক্ত করেন। অতঃপর তিনি এক দলের সাথে সালাত আদায় করবেন এবং অপর দল শত্রুর মোকাবিলায় থাকবে... তিনি তাদের নিয়ে এক রাকাত পড়বেন, এরপর তারা পিছনে যাবে এবং অপর দল সামনে আসবে। তিনি তাদের নিয়েও এক রাকাত পড়বেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাদের প্রত্যেকের এক এক রাকাত হবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হবে দুই রাকাত।"

সাঈদ বিন উবাইদ সম্পর্কে আবু হাতেম বলেছেন: "শায়খ (شيخ)"। আর ইবনে হিব্বান তাঁকে ‘আস-সিকাত’(২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁর শর্ত সম্পর্কে (সবার) জানা আছে।

--------------------------------------------

(১) (৩/ ১৭৪)। ইমাম আহমদও তাঁর মুসনাদ (১০৭৬৫), তিরমিযী (৩০৩৫) এবং ইবনে হিব্বান (২৮৭২) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী এটিকে হাসান (حسن) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

(২) (৬/ ৩৫২)। আরও দেখুন ‘তাহযীবুত তাহযীব’ (৪/ ৬২)।
(খণ্ড: ১৬) বাহাস ফি ওয়াক্তি তাশরিই ওয়া নুযুলি আয়াতি সালাতিল খাওফ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৩৭৬)
وقد روى أبو داود(1) وغيره من طريق أبي الأسود أنه سمع عروة بن الزبير يحدِّث عن مروان بن الحكم أنه سأل أبا هريرة: هل صلَّيتَ مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم صلاة الخوف؟ قال أبو هريرة: نعم، فقال مروان: متى؟ قال أبو هريرة: عامَ غزوة [نجد](2)، قام رسول صلى الله عليه وآله وسلم إلى صلاة العصر، فقامت معه طائفة، وطائفة أخرى مقابلَ العدو وظهورُهم إلى [القبلة، فكبر رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فكبروا جميعًا: الذين معه والذين مقابلي العدو، ثم ركع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ركعة واحدة، وركعت الطائفة التي معه]، ثم سجد فسجدت الطائفة التي تليها، والآخرون قيامٌ مقابلي العدو، ثم قام رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، [وقامت] الطائفة التي معه، فذهبوا إلى العدو فقابلوهم. وأقبلت الطائفة التي كانت مقابلي العدو [فركعوا وسجدوا ورسول الله]صلى الله عليه وآله وسلم قائم كما هو، ثم قاموا فركع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ركعة أخرى وركعوا [معه]، وسجد وسجدوا معه. ثم أقبلت الطائفة التي كانت مقابلي العدو، فركعوا وسجدوا ورسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قاعدٌ ومن معه، ثم كان السلام، فسلَّم رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم[وسلَّموا جميعًا، فكان لرسول الله صلى الله عليه وآله وسلم] ركعتين(3)، ولكل رجل من الطائفتين ركعة ركعة».

وعلَّق البخاري في غزوة ذات الرقاع في «الصحيح»(4) طرفًا منه.

وهذه الصفة يمكن موافقتها للصفة التي رواها سعيد بن عبيد عن ابن

--------------------------------------------

(1) رقم (1240).

(2) مخروم في الأصل، وكذا ما يأتي بين المعكوفتين فيما بعد، واستدركتها من سنن أبي داود.

(3) كذا كتبها المؤلف. والجادة ورواية السنن: «ركعتان» بالرفع.

(4) رقم (4137).
আবু দাউদ(১) এবং অন্যান্যরা আবুল আসওয়াদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উরওয়াহ ইবনুত জুবায়েরকে মারওয়ান ইবনুল হাকাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, তিনি আবু হুরায়রা-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আপনি কি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ভয়ের নামাজ (صلاة الخوف) আদায় করেছেন? আবু হুরায়রা বললেন: হ্যাঁ। মারওয়ান জিজ্ঞাসা করলেন: কখন? আবু হুরায়রা বললেন: [নজদ] অভিযানের(২) বছর; আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) আসরের নামাজের জন্য দাঁড়ালেন, তখন একটি দল তাঁর সাথে দাঁড়াল এবং অপর একটি দল শত্রুর মোকাবিলায় তাদের পিঠ [কিবলার দিকে দিয়ে অবস্থান নিল। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) তাকবীর দিলেন এবং সকলে মিলে তাকবীর দিল: যারা তাঁর সাথে ছিল এবং যারা শত্রুর মোকাবিলায় ছিল। এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) এক রাকাত রুকু করলেন এবং যে দলটি তাঁর সাথে ছিল তারাও রুকু করল], তারপর তিনি সিজদা করলেন এবং তাঁর নিকটবর্তী দলটি সিজদা করল, আর অন্য দলটি শত্রুর মোকাবিলায় দাঁড়িয়ে রইল। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে থাকা [দাঁড়ানো] দলটি শত্রুর দিকে চলে গেল এবং তাদের মোকাবিলায় দাঁড়াল। আর যে দলটি শত্রুর মোকাবিলায় ছিল তারা এগিয়ে এল [এবং রুকু ও সিজদা করল এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসুল] (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) স্বস্থানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারপর তারা (নামাজে) দাঁড়াল এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) আরও এক রাকাত রুকু করলেন এবং তারাও [তাঁর সাথে] রুকু করল, আর তিনি সিজদা করলেন এবং তারাও তাঁর সাথে সিজদা করল। তারপর যে দলটি শত্রুর মোকাবিলায় ছিল তারা এগিয়ে এল এবং রুকু ও সিজদা করল, এমতাবস্থায় আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) এবং যারা তাঁর সাথে ছিল তারা উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর সালামের সময় হলো এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) সালাম ফিরালেন [এবং তারা সকলে সালাম ফিরাল। ফলে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য হলো] দুই রাকাত(৩), আর উভয় দলের প্রত্যেকের জন্য হলো এক রাকাত করে।

ইমাম বুখারি 'জাতুর রিকা' যুদ্ধ অধ্যায়ে সহিহ বুখারি-তে(৪) এর একাংশ সংক্ষিপ্তভাবে (تعليق) উল্লেখ করেছেন।

আর এই পদ্ধতিটি সাঈদ ইবনে উবায়েদ বর্ণিত পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সম্ভব যা তিনি ইবনে... থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (১২৪০)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এই অংশটি এবং পরবর্তীতে বন্ধনীযুক্ত অংশগুলো ছিন্ন ছিল, যা আমি সুনান আবু দাউদ থেকে পূর্ণ করেছি।

(৩) লেখক এভাবেই লিখেছেন। তবে প্রচলিত নিয়ম এবং সুনান-এর বর্ণনায় এটি রফ (رفع) অবস্থায় 'ركعتان' (রাকাতান) রয়েছে।

(৪) নম্বর (৪১৩৭)।
(খণ্ড: ১৬) বাহাস ফি ওয়াক্তি তাশরিই ওয়া নুযুলি আয়াতি সালাতিল খাওফ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ৩৭৭)
شقيق عن أبي هريرة، كما مرَّ. فإن كانت قصة واحدة فهي مخالفة للصفة التي في حديث مجاهد عن ابن عباس.

وفي «فتح الباري»(1) أن الواقدي روى بسنده إلى خالد بن الوليد قال: «لما خرج النبي صلى الله عليه وآله وسلم إلى الحديبية [لقيتُه](2) بعُسْفان، فوقفتُ بإزائه، وتعرَّضتُ له، فصلَّى بأصحابه الظهر، فهممنا أن نُغِيرَ عليهم فلم يعزم لنا، فأطلعَ الله نبيَّه على ذلك، فصلَّى بأصحابه العصرَ صلاةَ الخوف» الحديث.

أقول: والواقدي لا يُفرح به.

--------------------------------------------

(1) (7/ 423).

(2) مخروم في الأصل، واستدركته من «الفتح».
শাকিক আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। যদি এটি একই ঘটনা হয়ে থাকে, তবে তা মুজাহিদের সূত্রে ইবনে আব্বাস বর্ণিত হাদিসে উল্লেখিত পদ্ধতির (الصفة) পরিপন্থী।

এবং 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, ওয়াকিদি তাঁর সনদে (سنده) খালেদ বিন ওয়ালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম হুদায়বিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন, [আমি তাঁর সাক্ষাৎ পেলাম] উসফান নামক স্থানে। অতঃপর আমি তাঁর মুখোমুখি দাঁড়ালাম এবং তাঁর পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলাম। তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় করলেন। আমরা তাঁদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করার সংকল্প করলাম, কিন্তু আমাদের দিয়ে তা সম্ভব হলো না। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নবীকে সেই বিষয়ে অবহিত করলেন, ফলে তিনি তাঁর সাহাবীদের নিয়ে আসরের নামাজ ভীতি-কালীন নামাজ (صلاة الخوف) হিসেবে আদায় করলেন»—হাদিস।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আর ওয়াকিদি এমন রাবি নন যাঁর বর্ণনায় আশ্বস্ত হওয়া যায় (অর্থাৎ তিনি নির্ভরযোগ্য নন (لا يُفرح به))।

--------------------------------------------

(১) (৭/ ৪২৩)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এই অংশটি ছিন্ন বা লুপ্ত ছিল, আমি 'ফাতহুল বারী' থেকে তা গ্রহণ করে সংস্থাপন করেছি।