(খণ্ড: ১)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: -)
سنة الجمعة القبلية - ضمن «آثار المعلمي» القسم: مسائل فقهية
الكتاب: سنة الجمعة القبلية
[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (16)]
المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)
المحقق: محمد عزير شمس
راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1434 هـ
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442
জুমার পূর্ববর্তী সুন্নত - «আসার আল-মুআল্লিমি»-এর অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: জুমার পূর্ববর্তী সুন্নত
[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৬)]
লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)
মুহাক্কিক: মুহাম্মদ উযাইর শামস
পরিমার্জন করেছেন: মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দার আলামুল ফাওয়ায়েদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি
শামেলা সংস্করণে পরিবেশনায়: «আতাআতুল ইলম» ফাউন্ডেশন، জাযাহুমুল্লাহু খাইরান
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৩৫)
الرسالة العاشرة
سنة الجمعة القبلية
দশম রিসালাহ
জুমার পূর্ববর্তী সুন্নত
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৩৭)
الحمد لله حمدًا كثيرًا طيِّبًا مباركًا فيه، وصلاته وسلامه على خير خلقه محمدٍ وآله وصحبه.
وبعد، فقد سألني بعضُ الإخوان: هل للجمعة سُنَّة قبليَّة؟
فأجبته: أنَّ المقرَّر في المذهب
(1) أنّها كالظهر في ذلك.
فسألني النظرَ في ثبوت ذلك وعدمِه من حيث الدليل.
فأقول: الكلامُ في هذه المسألة يَستدعي تقديم البحث عن شيئين:
الأول: التنفُّل يوم الجمعة قبل الزوال.
والثاني: تحقيق وقت الجمعة.
فأما الأول: فقد ثبت في «صحيح البخاري»
(2) عن سلمان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «لا يغتسلُ رجلٌ يومَ الجمعة ويتطهَّرُ ما استطاع من طهرٍ ويدَّهنُ من دهنه أو يمسُّ من طيبِ بيته، ثم يخرج فلا يفرِّق بين اثنين، ثم يصلِّي ما كُتِب له، ثم يُنصِت إذا تكلّم الإمام، إلا غُفِر له ما بينه وبين الجمعة الأخرى».
وفي «صحيح مسلم»
(3) عن أبي هريرة عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «من اغتسلَ ثم أتى الجمعةَ، فصلّى ما قُدِّر له، ثم أنصتَ حتى يفرغ من خطبته، ثم يصلِّي معه، غُفِر له ما بينه وبين الجمعة الأخرى وفضْلَ ثلاثة أيام».
--------------------------------------------
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অত্যন্ত প্রশংসিত, পবিত্র ও বরকতময়। তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর, জনৈক দ্বীনি ভাই আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন: জুমুআর কি কোনো পূর্ববর্তী সুন্নাত (سنة قبلية) রয়েছে?
আমি তাকে উত্তর দিয়েছি: মাযহাবে
(1) সুনির্ধারিত মাসআলা হলো, এই বিষয়ে জুমুআ যোহরের ন্যায়।
অতঃপর তিনি আমাকে দলিলের আলোকে বিষয়টি সাব্যস্ত (ثبوت) হওয়া বা না হওয়া নিয়ে পর্যালোচনার অনুরোধ জানান।
আমি বলছি: এই মাসআলাটি নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের অনুসন্ধান অগ্রগণ্য হওয়া আবশ্যক:
প্রথমত: জুমুআর দিন সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে নফল সালাত আদায় (التنفل) করা।
দ্বিতীয়ত: জুমুআর ওয়াক্তের যথার্থ অনুসন্ধান (تحقيق)।
প্রথম বিষয়ের ক্ষেত্রে: সহীহ বুখারীতে
(2) সালমান (রা.) হতে সাব্যস্ত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করল এবং সাধ্যমতো পবিত্রতা অর্জন করল, আর নিজের তেল ব্যবহার করল অথবা নিজের ঘরের সুগন্ধি মাখল, এরপর জুমুআর উদ্দেশ্যে বের হলো এবং (মসজিদে) দুই ব্যক্তির মাঝে ফাঁক করে বসল না, এরপর তার ভাগ্যে নির্ধারিত সালাত আদায় করল, এবং ইমাম যখন খুতবা দেবেন তখন চুপ থাকল, তবে তার এই জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।»
এবং সহীহ মুসলিমে
(3) আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি গোসল করল এরপর জুমুআয় এল, অতঃপর তার তকদিরে নির্ধারিত সালাত আদায় করল, এরপর ইমামের খুতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকল, অতঃপর তাঁর সাথে সালাত আদায় করল, তবে তার এই জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত আরও তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৩৮)
فدلَّ هذان الحديثان على فضيلة التنفُّل يوم الجمعة قبل الزوال، ودخل في إطلاقها حالُ الاستواء يوم الجمعة، ولكنه معارض بعموم أحاديث النهي.
وقد يُرجَّحُ الجواز بحديثين ضعيفين، روى أحدَهما الشافعيُّ
(1) عن أبي هريرة، ولفظه: «أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم نهى عن الصلاةِ نصفَ النهار حتى تزول الشمسُ إلا يومَ الجمعة».
وأخرجَ الآخرَ أبو داود
(2) بإسناده إلى أبي الخليل عن أبي قتادة عن النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم: أنّه كَرِه الصلاةَ نصفَ النّهار إلَّا يومَ الجمعة، وقال: «إنَّ جهنّم تُسْجَرُ إلا يومَ الجمعة».
قال أبو داود: وهو مرسل، مجاهد أكبر من أبي الخليل، وأبو الخليل لم يسمع من أبي قتادة.
وفي إسناده: ليث بن أبي سليم، ضعيفٌ لا يُحتجُّ به.
[ص 2] وأنت خبيرٌ أنَّ كِلا الحديثين لا يُحتجُّ به.
وقد ذكر الإمام الشافعيُّ كما في «الأم» الحديثَ المذكور، ثم أعقبَه بآثارٍ عن عمل الصحابة في زمن عمر رضي الله عنه، ثم قال
(3): «فإذا رَاحَ النَّاسُ للجمعة صَلَّوا حتى يصير الإمام على المنبر، فإذا صَارَ على المنبرِ كفَّ
--------------------------------------------
এই হাদিস দুটি জাওয়ালের (সূর্য হেলার) পূর্বে জুমার দিনে নফল নামাজ আদায়ের ফযিলত প্রমাণ করে এবং এর ব্যাপকতার মাঝে জুমার দিনে সূর্য মধ্যাকাশে থাকার অবস্থাটিও অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি নিষেধাজ্ঞামূলক হাদিসগুলোর সাধারণ অর্থের পরিপন্থী।
আর বৈধতাকে দুটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের মাধ্যমে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে। ইমাম শাফেয়ী যার একটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ নিম্নরূপ: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিন ব্যতীত মধ্যাহ্নে সূর্য হেলে না যাওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন।"
আর অন্য হাদিসটি আবু দাউদ তাঁর সনদ (إسناد) এর মাধ্যমে আবুল খলিল থেকে, তিনি আবু কাতাদা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জুমার দিন ব্যতীত মধ্যাহ্নে নামাজ আদায় করা অপছন্দ করেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয়ই জুমার দিন ব্যতীত জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়।"
আবু দাউদ বলেছেন: এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل); মুজাহিদ আবুল খলিল অপেক্ষা বড় এবং আবুল খলিল আবু কাতাদা থেকে শোনেননি।
আর এর সনদে লাইস বিন আবি সালিম রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف), তাঁর মাধ্যমে দলিল পেশ করা যায় না।
[পৃষ্ঠা ২] আর আপনি অবগত আছেন যে, উভয় হাদিসের কোনটিই দলিল হিসেবে গ্রহণের যোগ্য নয়।
ইমাম শাফেয়ী যেমনটি 'আল-উম্ম' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি উল্লিখিত হাদিসটি বর্ণনা করার পর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে সাহাবায়ে কেরামের আমল সম্পর্কিত কিছু আছারের অবতারণা করেছেন এবং পরে বলেছেন
(৩): "লোকেরা যখন জুমার উদ্দেশ্যে আসত, তারা ততক্ষণ নামাজ আদায় করত যতক্ষণ না ইমাম মিম্বরে বসতেন। যখন তিনি মিম্বরে বসতেন, তখন তারা বিরত থাকত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৩৯)
منهم مَنْ كان صلَّى ركعتين فأكثر، تكلَّم حتى يأخذ في الخطبة، فإذا أخذ فيها أنصتَ، استدلالًا بما حكيتُ، ولا يُنهى عن الصلاة نصفَ النهار مَن حضر الجمعة» اهـ.
والظاهر أنَّ الإمام اعتبر ما دلّت عليه الآثار إجماعًا، وذكر الحديث المذكور استئناسًا؛ إذ لعلَّه إن كان إسناده ضعيفًا يكون صحيحًا في نفس الأمر، ويكون هو مستند الإجماع.
وأمَّا الإمام مالك فإنَّ عمل أهل المدينة حُجَّةٌ عنده.
وإذا تقرَّر ما ذُكِرَ عرفتَ أنَّ التنفُّل يوم الجمعة قبل الاستواء مُرغَّب فيه، وكذا عنده؛ لأنَّ فِعْلَ الصَّحابة ــ الذي رواه الشافعي وغيره ــ لا أقلَّ من أن يكون مرجِّحًا لإطلاق الحديثين السابقَيْن وغيرهما، مع ما انضمَّ إلى ذلك مما مرَّ.
والصلاة في ذلك نفْلٌ مطلق قطعًا؛ لكونها واقعةً قبل دخول وقت الجمعة على ما عليه الجمهور.
[ص 3] الأمر الثاني: تحقيق وقت الجمعة.
ذهب الإمام أحمد وإسحاق بن راهويه إلى أنَّ وقت الجمعة يدخل قبل الزوال، واسْتُدِلَّ لهما بحديث «الصحيحين»
(1) عن سهل بن سعد رضي الله عنه قال: «ما كنَّا نَقِيلُ ولا نتغدَّى إلا بعد الجمعة»، هذا لفظ مسلم
(2).
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কেউ কেউ দুই রাকাত বা তার বেশি নামাজ পড়তেন, খুতবা শুরু না হওয়া পর্যন্ত কথা বলতেন, আর যখন খুতবা শুরু হতো তখন চুপ থাকতেন। আমি যা বর্ণনা করেছি তা থেকে দলিল গ্রহণ করে এটি বলা হয়েছে যে, জুমার জন্য উপস্থিত ব্যক্তিকে দ্বিপ্রহরে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হবে না। সমাপ্ত।
বাহ্যত মনে হয় যে, ইমাম আছারসমূহ যা নির্দেশ করে তাকেই ইজমা বা ঐকমত্য হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বর্ণিত হাদিসটি সহায়ক প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন; কারণ সম্ভবত এর সনদ (إسناد) যদি দুর্বল (ضعيف) হয়ও, তবে প্রকৃত বিচারে তা সঠিক (صحيح) হতে পারে এবং এটিই হতে পারে ইজমার ভিত্তি।
আর ইমাম মালিকের নিকট মদিনাবাসীদের আমলই দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য।
যা উল্লেখ করা হয়েছে তা যদি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে, জুমার দিনে সূর্য মধ্যাকাশে আসার আগে নফল নামাজ পড়ার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং তাঁর নিকটও তা-ই; কারণ সাহাবায়ে কিরামের আমল—যা শাফেয়ি এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন—তা অন্তত পূর্বোক্ত হাদিসদ্বয় ও অন্যান্য হাদিসের ব্যাপক অর্থকে প্রাধান্য দানকারী (مرجح) হিসেবে গণ্য হবে, সাথে যা কিছু পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে তার সংযুক্তি তো রয়েছেই।
আর সেই নামাজটি নিশ্চিতভাবেই নফল মুতলাক (نفل مطلق) বা সাধারণ নফল; কারণ জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিমের মতে তা জুমার ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই আদায় করা হয়।
[পৃষ্ঠা ৩] দ্বিতীয় বিষয়: জুমার সময়ের বিশ্লেষণ।
ইমাম আহমাদ এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ এই মত পোষণ করেছেন যে, জুমার ওয়াক্ত সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বেই শুরু হয়। তাঁদের পক্ষে বুখারি ও মুসলিম-এর একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যা সাহল ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «আমরা জুমার পরেই দ্বিপ্রহরের বিশ্রাম ও দুপুরের খাবার গ্রহণ করতাম», এটি মুসলিম-এর শব্দ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৪০)
وفي رواية
(1): «في عهد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم».
وفي «الصحيحين»
(2) أيضًا عن سلمة بن الأكوع قال: «كنا نصلِّي مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم الجمعة، ثم ننصرف وليس للحيطان ظِلٌّ يُستَظَلُّ به»، هذا لفظ البخاري.
وفي لفظٍ لمسلم: «كُنَّا نُجَمِّعُ معه إذا زالت الشمس، ثم نرجعُ نتتبَّعُ الفَيء».
وفي «صحيح مسلم»
(3) عن جابر: «كُنَّا نصلِّي مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، ثم نرجع فنُريحُ نَواضِحَنا». قال حسن ــ يعني أحد الرواة ــ: قلت لجعفرٍ ــ يعني شيخَ حسنٍ ــ: في أيِّ ساعةٍ تلك؟ قال: زوالَ الشمسِ. انتهى.
ثم قال
(4): وحدثني القاسم بن زكريا، نا خالد بن مخلد، ح وثني عبد الله بن عبد الرحمن الدارمي نا يحيى بن حسّان، قالا جميعًا: نا سليمان عن جعفر عن أبيه: أنه سأل جابر بن عبد الله: متى كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يُصلِّي الجمعة؟ قال: «كان يُصلِّي، ثم نذهب إلى جِمَالنا فنُرِيحها». زاد عبد الله في حديثه: «حين تزول الشمس». يعني: النواضحَ.
وقد وردت آثار عن عمل الخلفاء الأربعة ومعاوية وابن مسعود وجابر وسعيد بن زيد وسعد بن أبي وقاص، لا يصحّ منها شيءٌ فلا نُطيل بذكرها.
--------------------------------------------
একটি বর্ণনায় (رواية)
(১): «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের যুগে»।
এবং "সহীহাইন"-এ
(২) সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.) হতেও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে জুমার সালাত আদায় করতাম, অতঃপর ফিরে আসতাম এমতাবস্থায় যে দেয়ালগুলোর এমন কোনো ছায়া থাকত না যা দিয়ে ছায়া গ্রহণ করা যায়», এটি বুখারীর পাঠ (لفظ)।
আর মুসলিমের একটি পাঠে (لفظ) রয়েছে: «সূর্য ঢলে পড়লে আমরা তাঁর সাথে জুমার সালাত আদায় করতাম, অতঃপর আমরা ফিরে আসতাম এবং ছায়া অনুসরণ করতাম»।
এবং "সহীহ মুসলিম"-এ
(৩) জাবির (রা.) হতে বর্ণিত: «আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করতাম, অতঃপর ফিরে গিয়ে আমাদের পানি বহনকারী উটগুলোকে বিশ্রাম দিতাম»। হাসান — অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের (رواة) একজন — বলেন: আমি জাফরকে — অর্থাৎ হাসানের শায়খ (شيخ) — জিজ্ঞাসা করলাম: সেটি কোন সময় ছিল? তিনি বললেন: সূর্য ঢলে পড়ার সময়। সমাপ্ত।
অতঃপর তিনি বলেন
(৪): এবং কাসিম ইবনে যাকারিয়া আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), খালিদ ইবনে মাখলাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), [বর্ণনাসূত্রের রূপান্তর (ح)] এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), ইয়াহইয়া ইবনে হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا); তাঁরা উভয়েই বলেছেন: সুলাইমান আমাদের নিকট জাফরের সূত্রে তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন (حدثنا): তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম কখন জুমার সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন: «তিনি সালাত আদায় করতেন, অতঃপর আমরা আমাদের উটগুলোর কাছে যেতাম এবং সেগুলোকে বিশ্রাম দিতাম»। আব্দুল্লাহ তাঁর হাদিসে আরও বৃদ্ধি করেছেন: «যখন সূর্য ঢলে পড়ত»। অর্থাৎ: পানি বহনকারী উটগুলো।
আর চার খলিফা, মুয়াবিয়া, ইবনে মাসউদ, জাবির, সাঈদ ইবনে যায়েদ এবং সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-গণের আমল সম্পর্কে কিছু বর্ণনা (آثار) বর্ণিত হয়েছে, যার কোনোটিই বিশুদ্ধ (صحيح) নয়; তাই সেগুলো উল্লেখ করে আমরা দীর্ঘ করছি না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৪১)
وأما الأحاديث المارَّة، فكُلُّها لا تخلو عن نظر.
أما حديث سهل: «ما كنا نَقِيل ولا نتغدّى إلا بعد الجمعة»، فالجواب عنه: أنَّهم كانوا يُبكِّرون إلى الجامع؛ امتثالًا للأمر، وطلبًا لعِظَم الأجر، فكانوا يشتغلون عن القيلولة والغداء بالمُكْثِ في المسجد والصلاة، فإذا خرجوا ناموا وتغدَّوا.
وأطْلَق «نَقِيل» على النوم بعد الظهر؛ لأنه عِوَض عن القيلولة التي هي نوم نصف النهار.
[ص 4] وأما حديث سلمة؛ فقد فسَّرتْه رواية مسلم: «كنا نُجمِّع معه إذا زالت الشمس»، ومع ذلك فالنفي منصبٌّ على القيد، أي: ليس هناك من الظلِّ ما يُستظلُّ به، كما تدل عليه الرواية الأخرى «نتتبَّعُ الفيءَ».
فإن قيل: فقد كان النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم يُطيل الخطبة، كما يدلُّ عليه حديث مسلم
(1) عن أم هشام قالت: ما حفظتُ {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ} إلَّا من فِي رسولِ الله صلى الله عليه وآله وسلم وهو يقرؤها على المنبر كلَّ جمعة.
ويُطيل الصلاة، فيصلِّيها بالجمعة والمنافقين، كما في «صحيح مسلم»
(2) عن علي وابن عباس وأبي هريرة.
وهذا يدلّ أنه كان يشرع في الخطبة قبل الزوال، إذ لو كان بعده لما فرغ إلا وقد صار للحيطان ظلٌّ يُستظَلُّ به، وقد نفاه سلمة في حديثه الثابت في «الصحيحين».
--------------------------------------------
আর ইতিপূর্বে উল্লিখিত হাদিসসমূহ সম্পর্কে বলা যায় যে, এগুলোর প্রত্যেকটিই পর্যালোচনার (نظر) ঊর্ধ্বে নয়।
সাহল (রাযি.) বর্ণিত হাদিস: «আমরা জুমার পরেই কেবল মধ্যাহ্নকালীন বিশ্রাম (قيلولة) নিতাম এবং দুপুরের খাবার খেতাম»—এর উত্তর হলো: তারা নির্দেশ পালনার্থে এবং অধিক সওয়াবের আশায় দ্রুত জামে মসজিদে যেতেন। ফলে মসজিদে অবস্থান ও সালাতে ব্যস্ত থাকার কারণে তারা মধ্যাহ্নকালীন বিশ্রাম (قيلولة) ও দুপুরের খাবার থেকে বিরত থাকতেন। অতঃপর যখন তারা বের হতেন, তখন ঘুমাতেন ও দুপুরের খাবার খেতেন।
আর যোহরের পরের ঘুমের ক্ষেত্রে «নাকিল» (نَقِيل) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে; কারণ এটি সেই মধ্যাহ্নকালীন বিশ্রামের (قيلولة) স্থলাভিষিক্ত যা মূলত দিনের মধ্যভাগে করা হয়।
[পৃষ্ঠা ৪] আর সালামাহ (রাযি.) বর্ণিত হাদিসটির ব্যাখ্যা মুসলিম-এর বর্ণনায় পাওয়া যায়: «সূর্য ঢলে পড়ার (زوال) সাথে সাথেই আমরা তাঁর সাথে জুমার সালাত আদায় করতাম।» এর পাশাপাশি এখানে না-বোধক উক্তিটি একটি শর্তের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ তখন পর্যাপ্ত ছায়া থাকত না যা দিয়ে ছায়া গ্রহণ করা যায়; যেমনটি অন্য বর্ণনায় নির্দেশ করে: «আমরা ছায়া (الفيء) অনুসরণ করতাম।»
যদি বলা হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দীর্ঘ করতেন, যেমনটি উম্মে হিশাম (রাযি.) থেকে বর্ণিত মুসলিম-এর হাদিস
(১) দ্বারা প্রমাণিত হয়; তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকেই {ক্বাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ} মুখস্থ করেছি, যা তিনি প্রতি জুমায় মিম্বারের ওপর পাঠ করতেন।
এবং তিনি সালাত দীর্ঘ করতেন; ফলে তাতে সূরা আল-জুমুআহ ও সূরা আল-মুনাফিকুন পাঠ করতেন, যেমনটি আলী, ইবনে আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত সহিহ মুসলিম-এ
(২) এসেছে।
এটি প্রমাণ করে যে, তিনি সূর্য ঢলে পড়ার (زوال) আগেই খুতবা শুরু করতেন। কারণ যদি তা সূর্য ঢলে পড়ার (زوال) পরে হতো, তবে তিনি তা শেষ করার আগেই দেয়ালগুলোর এমন ছায়া তৈরি হতো যা দ্বারা ছায়া গ্রহণ করা যায়। অথচ সালামাহ (রাযি.) সহিহাইন-এ বর্ণিত তাঁর সুসাব্যস্ত (ثابت) হাদিসে তা নাকচ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৪২)
وأما رواية مسلم: «كنا نُجمِّع معه إذا زالت الشمس، ثم نرجع نتتبَّعُ الفيء»، فذلك في بعض الحالات، فإن قوله: «نتتبَّعُ الفيء» يدلُّ على أنّه قد صار للحيطان ظلٌّ يُستَظلُّ به.
فالجواب: أن هذا تَمحُّلٌ، والظاهر أن أحاديث سلمة متفقة غير مفترقة، وقد كانت حيطان بيوت الصحابة قصيرةً جدًّا، فلا يبعد أن لا يكون لها ظلٌّ يُستظلُّ به إذا وقعت الخطبة والصلاة عقبَ الزوال على الفور، ودلالة رواية مسلم على ذلك ظاهرة.
وأما حديث سهل؛ فالظاهر أن قوله: «حين تزول الشمس» في رواية عبد الله مدرج من قول جعفر، بدليل أنه في رواية حسن روى له الحديث بدونها، فسأله حسن: أي ساعة تلك؟ ــ أي: ساعة وقوع الصلاة فيما يظهر ــ قال: زوال الشمس.
وفي رواية القاسم بن زكريّا خاليًا عنها.
وفي رواية عبد الله ذكرها.
وعلى فرضِ صحتها عن جابر فيكون الظرف متعلقًا بـ «يُصلِّي» وإن بعُد، والله أعلم.
وذلك أنه ثبت في «صحيح البخاري»
(1) وغيره عن أنس قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يصلِّي الجمعة حين تميل الشمس». و (كان) تُشعِر بالدوام.
نعم، الأحاديث متضافرة على أنه صلى الله عليه وآله وسلم كان يَخرج أولَ ما تميلُ
--------------------------------------------
আর মুসলিমের বর্ণনা (رواية)-এর ক্ষেত্রে: «সূর্য যখন হেলে পড়ত তখন আমরা তাঁর সাথে জুমার নামাজ পড়তাম, তারপর ফিরে আসার সময় আমরা ছায়া খুঁজতাম», এটি কিছু বিশেষ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা তাঁর কথা «আমরা ছায়া খুঁজতাম» নির্দেশ করে যে, দেয়ালের তখন এমন ছায়া তৈরি হয়েছিল যা দ্বারা ছায়া গ্রহণ করা সম্ভব ছিল।
এর উত্তর হলো: এটি একটি কষ্টকল্পনা। আর বাহ্যত (الظاهر) সালামাহর হাদিসগুলো অভিন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ, পরস্পর বিরোধী নয়। সাহাবিদের ঘরের দেয়ালগুলো ছিল অত্যন্ত নিচু, তাই সূর্য হেলার সাথে সাথেই যদি খুতবা ও নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, তবে দেয়ালের কোনো ছায়া না থাকাটা অসম্ভব নয় যা দ্বারা ছায়া পাওয়া যায়। এ বিষয়ে মুসলিমের বর্ণনা (رواية)-এর নির্দেশ সুস্পষ্ট (الظاهر)।
আর সাহল-এর হাদিসের ক্ষেত্রে; বাহ্যত (الظاهر) আবদুল্লাহর বর্ণনা (رواية)-এ «সূর্য হেলার সময়» কথাটি জাফরের উক্তি থেকে অনুপ্রবিষ্ট (مدرج)। এর প্রমাণ হলো হাসানের বর্ণনা (رواية), যেখানে তিনি এই অংশটি ছাড়াই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তখন হাসান তাকে জিজ্ঞেস করলেন: সেটি কোন সময় ছিল? ــ অর্থাৎ নামাজ আদায়ের সময় যতটুকু বুঝা যায় ــ তিনি বললেন: সূর্য ঢলে পড়ার সময়।
আল-কাসিম ইবনে জাকারিয়ার বর্ণনা (رواية)-এ এটি ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে।
আর আবদুল্লাহর বর্ণনা (رواية)-এ তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।
যদি জাবের (রা.) থেকে এর বিশুদ্ধতা (صحة) ধরেও নেওয়া হয়, তবুও সময়বাচক শব্দটি «তিনি নামাজ পড়তেন» ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে, যদিও তা দূরবর্তী সম্ভাবনা; আল্লাহই ভালো জানেন।
এটি এ কারণে যে, সহীহ বুখারী এবং অন্যান্য গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম জুমার নামাজ পড়তেন যখন সূর্য হেলে পড়ত।» আর (كان) শব্দটি স্থায়িত্ব নির্দেশ করে।
হ্যাঁ, হাদিসসমূহ এই বিষয়ে পরস্পর সমর্থিত (متضافرة) যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম সূর্য হেলার সাথে সাথেই বের হতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৩)
الشمسُ، وهذا شيءٌ متعيِّن. [ص 5] ومما هو صريحٌ فيه
(1): أن أذان الجمعة كان في عهده صلى الله عليه وآله وسلم عقبَ خروجه وسلامه على الناس وجلوسه على المنبر. فلو كان يكون خروجه صلى الله عليه وآله وسلم متأخِّرًا عن دخول الوقت لشَرع ــ والله أعلم ــ الأذان حينئذٍ كسائر الصلوات.
وأمَّا حديث البخاري
(2) عن أنسٍ: كان النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم إذا اشتدَّ البردُ بكَّر بالصلاة، وإذا اشتدَّ الحرُّ أبردَ بالصلاة، يعني: الجمعة.
فقوله: «يعني الجمعة» لا يُدْرَى مِن قَولِ مَن هي؟ ولهذا قال ابن المنيِّر ــ كما نقله عنه الشُّرَّاح
(3) ــ: إنَّما قيل ذلك قياسًا على الظهر لا بالنَّصِّ؛ لأنَّ أكثر الأحاديث تدلُّ على التفرقة في الظُّهر، وعلى التبكير في الجمعة مطلقًا من غير تفصيل.
قال
(4): والذي نحَا إليه المؤلِّف مشروعيَّة الإبراد بالجمعة، ولم يَبُتَّ الحكم بذلك؛ لأنَّ قوله: «يعني: الجمعة» يحتمل أن يكون قول التابعيِّ ممَّا فهمه، وأن يكون من نقله، فرجح عنده إلحاقها بالظُّهر؛ لأنَّها إمَّا ظهرٌ وزيادة، أو بدلٌّ عن الظُّهر. اهـ.
قلتُ: أمَّا قوله: «يعني الجمعة»، فهو من لفظ التابعيِّ، كما يدلُّ عليه قول البخاري
(5) بعد ذلك: قال يونس بن بُكَير: أخبرنا أبو خَلْدة، وقال:
--------------------------------------------
সূর্য, এবং এটি একটি অবধারিত বিষয়। [পৃষ্ঠা ৫] এবং যা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট (صريح)
(১) তা হলো: জুমার আযান নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে তাঁর বের হওয়া, মানুষকে সালাম দেওয়া এবং মিম্বরে বসার অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত হতো। যদি তাঁর বের হওয়া সময়ের প্রবেশের পরে হতো, তবে তিনি — আল্লাহই ভালো জানেন — অন্যান্য সালাতের ন্যায় তখনই আযান প্রবর্তন করতেন।
আর আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত সহিহ বুখারির হাদিস সম্পর্কে: নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখন তীব্র শীত পড়ত তখন সালাত আগেভাগে (تبكير) আদায় করতেন এবং যখন তীব্র গরম পড়ত তখন সালাত শীতল করে (إبراد) আদায় করতেন, অর্থাৎ: জুমা।
তবে তাঁর কথা: «অর্থাৎ জুমা» এটি কার উক্তি তা জানা যায় না। একারণেই ইবনুল মুনাইয়ির বলেছেন — যেমনটি ব্যাখ্যাকারগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন —: এটি কেবল যোহরের ওপর কিয়াস (قياس) করে বলা হয়েছে, সুস্পষ্ট দলিল (نص) দ্বারা নয়; কারণ অধিকাংশ হাদিস যোহরের ক্ষেত্রে পার্থক্যের প্রতি এবং জুমার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিশদ বিবরণ ছাড়াই সাধারণভাবে আগেভাগে আদায়ের (تبكير) প্রতি ইঙ্গিত করে।
তিনি বলেন
(৪): লেখক যে বিষয়ের প্রতি ঝুঁকেছেন তা হলো জুমার সালাত শীতল করে আদায়ের (إبراد) বৈধতা, তবে তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি; কারণ তাঁর উক্তি: «অর্থাৎ: জুমা» এটি কোনো তাবেয়ি (تابعي)-র নিজস্ব অনুধাবন হতে পারে, আবার তাঁর বর্ণনার অংশও হতে পারে। তাই তাঁর নিকট এটিকে যোহরের সাথে সংযুক্ত করা অগ্রাধিকার পেয়েছে; কারণ এটি হয় যোহরের অতিরিক্ত কিছু, না হয় যোহরের স্থলাভিষিক্ত। সমাপ্ত।
আমি বলি: তাঁর উক্তি: «অর্থাৎ জুমা», এটি মূলত তাবেয়ি (تابعي)-র শব্দ, যেমনটি এর পরে ইমাম বুখারির
(৫) উক্তি প্রমাণ করে: ইউনুস ইবনে বুকাইর বলেছেন: আবু খালদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, এবং তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৪)
«بالصَّلاة»، ولم يذكر الجمعة.
وأبو خلدة هو التابعيُّ الرَّاوي عن أنس.
نعم، قال القسطلَّاني
(1): أخرجه الإسماعيلي من وجهٍ آخر عن يونس، وزاد: «يعني الظُّهر».
وأقول: لا يخفى أنَّ التبكير إلى المسجد يوم الجمعة مشروعٌ مطلقًا، فيكون الاجتماع في المسجد قبل الزَّوال، فلم يُشرع الإبراد؛ لأنَّ الإبراد إنَّما شُرِعَ ــ كما قال العلماء ــ تخفيفًا على المُصَلِّين، حتى لا يخرجوا من بيوتهم إلَّا وقد بَرَدَ النَّهار.
وقد يُجابُ عن هذا بجوابين:
الأول: أنَّه لا مانعَ أن يكون التبكير في شِدَّة الحرِّ خِلافَ التبكير في غيره.
والثاني: بمنع كون العِلَّة هي كراهة المشقَّة؛ بل العِلَّة هي كون جهنَّم تفوح حينئذٍ. وحديث «الصحيحين»
(2): «إذا اشتدَّ الحَرُّ فأَبرِدُوا، فإنَّ شِدَّة الحرِّ من فَيْحِ جهنَّم» نصٌّ على هذه العِلَّة.
وهي نفسُها العلَّة في النهي عن الصَّلاة عند الاستواء، ففي حديث عمرو بن عَبَسَة: «ثمَّ صَلِّ فإنَّ الصَّلاة مشهودةٌ محضورةٌ، حتى يَستقِلَّ الظلُّ بالرُّمح، [ص 6] ثم أَقْصِرْ عن الصَّلاة فإنَّ حينئذٍ تُسْجَرُ جهنَّم
… » الحديث، وهو في «صحيح مسلم»
(3).
--------------------------------------------
«সালাত সম্পর্কে», এবং তিনি জুমুআহর উল্লেখ করেননি।
আর আবু খালদাহ হলেন সেই তাবেয়ী (تابعي) যিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন।
হ্যাঁ, আল-কাসতালানি
(১) বলেছেন: আল-ইসমাঈলি এটি ইউনুস থেকে অন্য একটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং অতিরিক্ত যোগ করেছেন: «অর্থাৎ যোহর»।
আমি বলছি: এটি অস্পষ্ট নয় যে, জুমুআহর দিনে মসজিদের উদ্দেশ্যে দ্রুত বের হওয়া (তাবকির) সাধারণভাবে বিধিবদ্ধ, ফলে সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বেই মসজিদে সমবেত হওয়া ঘটে। তাই ইবরাদ (গরম কমার জন্য সালাত বিলম্বিত করা) বিধিবদ্ধ করা হয়নি; কেননা উলামায়ে কেরাম যেমন বলেছেন—ইবরাদ মূলত মুসল্লিদের কষ্ট লাঘবের জন্যই বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যাতে তারা দিন শীতল হওয়ার আগে ঘর থেকে বের না হয়।
এর উত্তরে দুটি জবাব দেওয়া যেতে পারে:
প্রথমত: প্রখর গরমের সময় দ্রুত বের হওয়া এবং অন্য সময়ের দ্রুত বের হওয়ার মধ্যে পার্থক্য থাকতে কোনো বাধা নেই।
দ্বিতীয়ত: কষ্ট হওয়াকে ইল্লত (علة) বা কারণ হিসেবে অস্বীকার করার মাধ্যমে; বরং প্রকৃত ইল্লত (علة) হলো সেই সময়ে জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া। সহিহাইন-এর হাদিস
(২): «যখন গরম তীব্র হয় তখন সালাত শীতল করে (দেরি করে) আদায় করো, কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে উৎসারিত»—এটি এই ইল্লত (علة)-এর ওপর একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص)।
আর এটিই হলো সূর্য মধ্যগগনে থাকাকালীন সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে সেই একই ইল্লত (علة)। আমর ইবনে আবাসাহ-এর হাদিসে এসেছে: «অতঃপর সালাত আদায় করো, কেননা সালাতে ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন ও সাক্ষ্য দেন, যতক্ষণ না বর্শার ছায়া স্থিতি লাভ করে, [পৃ. ৬] তারপর সালাত থেকে বিরত থাকো, কেননা তখন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়...» হাদিসটি সহিহ মুসলিম-এ
(৩) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৫)
والأحاديث تدلُّ على أنَّ جهنَّم تُسْجَر عند الاستواء
(1)، وتتنفَّس في الصَّيف
(2)، أي: ما بعد ذلك حتى يُقبِل الفيءُ.
وإذا تقرَّر ذلك فحضورُ المُصَلِّين في المسجد لا يمنع من الإبْراد.
وقد يُجاب عن هذا بالحديث الذي رواه أبو داود
(3)، وفيه: «إنَّ جهنَّم تُسجَرُ إلَّا يوم الجمعة»؛ [ص 7] وكأنَّ الفرق ــ والله أعلم ــ أنَّ السَّجرَ أي: الإيقاد من فعل الملائكة عن أمر الله تعالى، فهو ظاهرٌ في تجلّي العَذَاب، بخِلاف التنفُّس فإنَّه من جِهة النَّار، فكان عدم السَّجر في يوم الجُمعة أنسب من عدم التنفُّس.
ويؤيِّده قيام الدَّليل على عدم كراهية الصَّلاة يوم الجمعة عند الاستواء. وهو يدلُّ على انتفاء العِلَّة أو معارضتها بأقوى منها، كعِظَم تجلِّي الرَّحمة يوم الجمعة على المجمِّعين.
والجواب: أنَّنا نُسلِّمُ عدمَ السَّجْر يوم الجمعة لما ذكرتم، وأمَّا التنفُّس فالظَّاهر أنَّها تتنفَّس يوم الجمعة كتنفُّسها في سائر الأيام، لأن في حديث «الصحيحين»: «فإنَّ شِدَّة الحَرِّ من فَيحِ جهنَّم» الحديث.
ومن المحسوس أنَّ الحَرَّ في يوم الجمعة لا يَخِفُّ عن الأيَّام التي قبله وبعده، بل هو موجودٌ فيه كما فيها، وهو من فَيْحِ جهنَّم بالنَّصِّ.
--------------------------------------------
হাদিসসমূহ নির্দেশ করে যে, মধ্যাহ্নে (استواء) জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়
(১) এবং গ্রীষ্মকালে তা শ্বাস গ্রহণ করে
(২); অর্থাৎ, এরপর থেকে ছায়া ফিরে আসা পর্যন্ত।
আর এটি যদি সুসাব্যস্ত হয়, তবে মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি 'ইবরাদ' (তীব্র গরমে সালাত কিছুটা বিলম্বে আদায় করা) থেকে বাধা দেয় না।
এর উত্তর আবু দাউদ বর্ণিত সেই হাদিস দ্বারা দেওয়া যেতে পারে, যাতে রয়েছে: «নিশ্চয়ই জুমার দিন ব্যতীত জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়»; [পৃষ্ঠা ৭] আর সম্ভবত এর পার্থক্য হলো —আল্লাহই ভালো জানেন— যে, উত্তপ্ত করা অর্থাৎ আগুন জ্বালানো মহান আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতাদের কাজ, যা আজাব প্রকাশের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট। পক্ষান্তরে শ্বাস গ্রহণ করা আগুনের নিজস্ব বিষয়, তাই জুমার দিনে উত্তপ্ত না হওয়াটাই শ্বাস গ্রহণ না হওয়ার চেয়ে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মধ্যাহ্নে (استواء) জুমার দিনে সালাত আদায়ের অপছন্দনীয়তা (كراهية) না থাকার সপক্ষে বিদ্যমান দলিল একে সমর্থন করে। এটি কারণ বা ইল্লত (علة) অনুপস্থিত থাকা অথবা তার চেয়ে শক্তিশালী কোনো বিষয়ের মাধ্যমে বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ বহন করে, যেমন জুমার দিনে সমবেতদের ওপর রহমতের মহান বহিঃপ্রকাশ।
উত্তর হলো: আপনাদের বর্ণিত কারণগুলোর প্রেক্ষিতে আমরা জুমার দিনে জাহান্নাম উত্তপ্ত না হওয়ার বিষয়টি মেনে নিচ্ছি। তবে শ্বাস গ্রহণের বিষয়টি হলো, প্রকাশ্যত জুমার দিনেও অন্যান্য দিনের ন্যায় জাহান্নাম শ্বাস গ্রহণ করে। কারণ 'সহীহাইন'-এর হাদিসে রয়েছে: «নিশ্চয়ই গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিশ্বাস (فيح) হতে উৎপন্ন»।
আর এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য যে, জুমার দিনের গরম এর আগের বা পরের দিনগুলোর তুলনায় কম হয় না, বরং সেগুলোতে যেমন থাকে জুমার দিনেও তেমনই থাকে। আর এটি অকাট্য নস (نص) অনুযায়ী জাহান্নামের নিশ্বাস থেকেই উৎপন্ন হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৬)
فإن قيل: فإن مشروعيَّة التنفُّل حينئذٍ تُنافي وجود فيحِ جهنَّم في ذلك الوقت في يوم الجمعة، وكونُه هو العِلَّة في الأمر بالإبراد، ولاسيَّما عند مَن حمل الأمر بالإبراد على ظاهره من الوجوب.
فالجواب: أنَّنا نختار مذهب الجمهور أنَّ الأمر بالإبراد إنَّما هو للنَّدب؛ لما هو مقرَّرٌ في محلِّه. والفرق بينَه وبين السَّجْر ما تقدَّم، فتكون مخالفته خلافَ الأولى فقط.
ثم نقول: إنَّ العِلَّة التي هي تنفُّس جهنَّم حينئذٍ عارضها يوم الجمعه ما هو أقوى منها، وهو عِظَم تجلِّي الرَّحمة. فانتفت خلافيَّة الأولى، وثبَت الندب بدليله المتقدِّم.
فإن قلت: فقد ثبت بهذا مقصودنا من عدم مشروعيَّة الإبراد بالجُمعة.
فالجواب: أنَّنا نقول: إنَّ إبراده صلى الله عليه وآله وسلم بالجمعة لم يكن لهذه العِلَّة، وإنَّما هو لعِلَّة أخرى؛ وهي: كراهيةُ أن يشقَّ على أصحابه؛ باجتماعهم، وتزاحمهم، وتضايقهم في ذلك العريش في وقت شِدَّة الحَرِّ.
فإنْ قلْتَ: فإنَّ مشروعيَّة التبكير يوم الجمعة تنافي ذلك.
فالجواب: ما مرَّ من أنَّ التبكير يختلف باختلاف الأوقات، ففي وقت البرد يكون آخر الساعات حين الاستواء، وفي أوقات الحرِّ يكون آخر السَّاعات حين إقبال الفيءِ.
سلَّمنا أنَّ التبكير لا يختلف، بل هو على القسم الأوَّل مطلقًا؛ ولكنَّا نقول: فههنا عِلَّةٌ أخرى، وهي حرصُه صلى الله عليه وآله وسلم على أنْ يَعِيَ أصحابُه موعظتَه، ويكون خشوعهم في الفريضة على أتمِّ الأحوال. وهذا ممَّا يمنع عنه اشتدادُ الحرِّ، فلذلك أبرد.
যদি বলা হয় যে: তবে সেই সময়ে নফল (تنفُّل) নামাজের বৈধতা জুমুআর দিনে ওই সময়ে জাহান্নামের আগুনের উত্তাপের উপস্থিতির পরিপন্থী। আর এটিই তো হলো ইবরাদ (إبراد - দাবদাহ কমার জন্য নামাজ বিলম্বে পড়া)-এর নির্দেশের মূল কারণ (علة), বিশেষ করে তাদের নিকট যারা ইবরাদ (إبراد)-এর নির্দেশকে তার বাহ্যিক অর্থ অনুযায়ী ওয়াজিব (وجوب) মনে করেন।
এর উত্তর হলো: আমরা জুমহুর (جمهور - সংখ্যাগুরু উলামা)-এর মাযহাব গ্রহণ করি যে, ইবরাদ (إبراد)-এর নির্দেশটি মুস্তাহাব (ندب) হওয়ার জন্য; যেমনটি সংশ্লিষ্ট স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে। আর এটি (জুমুআর সময়) এবং জাহান্নাম প্রজ্জ্বলিত হওয়ার সময়ের মধ্যে পার্থক্য ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং এর বিরোধিতা করা হবে কেবল ‘খিলাফে আওলা’ (خلاف الأولى - উত্তম বর্জন করা)।
অতঃপর আমরা বলব: জাহান্নামের নিঃশ্বাস ছাড়ার যে কারণ (علة) রয়েছে, জুমুআর দিনে তার বিপরীতে তার চেয়েও শক্তিশালী একটি বিষয় উপস্থিত হয়, আর তা হলো মহান আল্লাহর রহমতের বিশাল বিচ্ছুরণ। ফলে ‘খিলাফে আওলা’ হওয়ার বিষয়টি দূর হয়ে গেল এবং পূর্বোক্ত দলিলের ভিত্তিতে মুস্তাহাব (ندب) হওয়া সাব্যস্ত হলো।
আপনি যদি বলেন: এর দ্বারা আমাদের সেই উদ্দেশ্যই প্রমাণিত হলো যে জুমুআর ক্ষেত্রে ইবরাদ (إبراد) করার বিধান বৈধ নয়।
উত্তর হলো: আমরা বলব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর জুমুআর নামাজে ইবরাদ (إبراد) করা এই কারণ (علة)-এর জন্য ছিল না, বরং তা ছিল অন্য একটি কারণ (علة)-এর কারণে; আর তা হলো: সাহাবীগণের জন্য কষ্টদায়ক হওয়াকে অপছন্দ করা; যেহেতু প্রচণ্ড গরমের সময় সেই ছাপড়া বা কুটিরের (আরিশ) নিচে তাঁদের জমায়েত, ভিড় এবং সংকীর্ণতা তৈরি হতো।
আপনি যদি বলেন: তবে জুমুআর দিন দ্রুত যাওয়া বা তাবকীর (تبكير)-এর বিধান তো এর পরিপন্থী।
উত্তর হলো: ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে যে, তাবকীর (تبكير) সময়ের ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। শীতের সময় শেষ মুহূর্তগুলো হয় সূর্য মাথার উপরে আসার (استواء) সময় পর্যন্ত, আর গরমের সময় শেষ মুহূর্তগুলো হয় ছায়া ঢলে পড়ার (فيء) প্রারম্ভ পর্যন্ত।
আমরা যদি তর্কের খাতিরে মেনেও নেই যে তাবকীর (تبكير) পরিবর্তিত হয় না, বরং এটি সাধারণভাবে (مطلقاً) প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; তবুও আমরা বলব: এখানে অন্য একটি কারণ (علة) রয়েছে, আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর এই আকাঙ্ক্ষা যে তাঁর সাহাবীগণ যেন তাঁর নসিহত অনুধাবন করতে পারেন এবং ফরজ (فريضة) নামাজে তাঁদের খুশু (خشوع - একাগ্রতা) যেন সর্বোত্তম অবস্থায় থাকে। আর প্রচণ্ড গরম এই বিষয়ে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, একারণেই তিনি ইবরাদ (إبراد) করেছিলেন।
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৭)
إذا تأمَّلتَ ما ذُكِرَ علمتَ أنَّ الظَّاهِرَ [ص 8] أنَّ الإبراد بالجمعة سُنَّة، وأنَّه لا يُنافي ندبَ التنفُّل قبلها إلى أن يخرج الإمام، وحينئذٍ فيكون تأخير الأذان مع الإبراد بالجمعة إلى خروج الإمام كتأخيره في الظُهر إلى البرد، فقد ثبت الأمرُ بذلك في «الصحيحين»
(1) عن أبي ذرّ قال: «أذن مؤذّن النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم الظهر، فقال: أبرِدْ أبرِدْ، أو قال: انتظِرْ انتظِرْ
… » الحديث.
فالسُنَّة في الظهر أن يؤذَّن لها إذا أُريد حضورُ المُصَلِّين، وهو يختلف باختلاف الحر والبرد. والسُنَّة في الجُمعة أن يؤذَّن لها إذا خرج الخطيب، وهو يختلف باختلاف الحر والبرد أيضًا.
إذا تقرَّر ما ذُكِر فاعلم أنَّ تأخير أذان الجُمعة إلى خروج الخطيب دليلٌ ظاهرٌ على أنَّه ليس للجُمعة سُنَّة قبلية؛ لأنَّ صلاتها بعد خروج الخطيب ممنوع.
فلو كانت ثابتةً لسُنَّ الأذان قبل خروج الخطيب حتى يتمكَّن النّاس من فعلها بعد الأذان؛ عملًا بحديث «الصحيحين»
(2) وغيرهما عن عبدالله بن مغفَّل المُزَني رضي الله عنه أنّ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «بين كلِّ أذانينِ صلاة، ثلاثًا، لمن شاء».
وقد حمل الأئمة هذه الصلاة على الرَّواتب القبليَّة. وعليه، فيكون وقتها ــ أي الرَّواتب القبليَّة ــ بين الأذان والإقامة، فلو قُدِّمَت لم تقع الموقع.
فتأمَّل هذا تَجِدْهُ ظاهرًا في نفي أنْ تكون للجُمعة سُنَّة قبلِيَّةٌ.
--------------------------------------------
যদি আপনি উল্লেখিত বিষয়সমূহ নিয়ে চিন্তা করেন তবে জানতে পারবেন যে, বাহ্যত [পৃষ্ঠা ৮] জুমার নামাজ ঠাণ্ডা করে আদায় করা সুন্নাত (سنة), এবং এটি ইমামের বের হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নফল (تنفُّل) আদায়ের মুস্তাহাব (ندب) হওয়ার পরিপন্থী নয়। এমতাবস্থায়, জুমার নামাজ ঠাণ্ডা করার উদ্দেশ্যে খতিব বের হওয়া পর্যন্ত আজান বিলম্বিত করা যোহরের নামাজে গরমের তীব্রতা কমার সময় পর্যন্ত আজান বিলম্বিত করার মতোই। এ বিষয়ে ‘সহিহাইন’ গ্রন্থে আবু যার (রা.) থেকে আদেশ প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের মুয়াজ্জিন যোহরের আজান দিতে চাইলেন, তখন তিনি বললেন: ‘ঠাণ্ডা করো, ঠাণ্ডা করো’ অথবা তিনি বলেছিলেন: ‘অপেক্ষা করো, অপেক্ষা করো...’।” হাদিস।
সুতরাং যোহরের সুন্নাত (سنة) পদ্ধতি হলো যখন মুসল্লিদের উপস্থিতির ইচ্ছা করা হবে তখন আজান দেওয়া, আর এটি গরম এবং শীতভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তেমনিভাবে জুমার সুন্নাত (سنة) পদ্ধতি হলো যখন খতিব বের হবেন তখন আজান দেওয়া, এবং এটিও গরম ও শীতভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে।
যা আলোচনা করা হয়েছে তা যদি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তবে জেনে রাখুন যে, খতিব বের হওয়া পর্যন্ত জুমার আজান বিলম্বিত করা এই বিষয়ের সুস্পষ্ট দলিল যে, জুমার কোনো পূর্ববর্তী সুন্নাত (سنة قبلية) নেই; কারণ খতিব বের হওয়ার পর নামাজ আদায় করা নিষিদ্ধ।
যদি এটি সাব্যস্ত হতো তবে খতিব বের হওয়ার পূর্বেই আজান দেওয়া সুন্নাত (سنة) হতো যাতে মানুষ আজানের পর তা আদায় করতে সক্ষম হয়; ‘সহিহাইন’ ও অন্যান্য কিতাবে আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল-মুযানী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক দুই আজানের (আজান ও ইকামতের) মাঝে নামাজ রয়েছে, (কথাটি তিনি) তিনবার (বলেছেন), তার জন্য যে চায়।”
ইমামগণ এই নামাজকে পূর্ববর্তী সুন্নতে মুয়াক্কাদা (الرواتب القبلية) হিসেবে গণ্য করেছেন। সেই অনুযায়ী, এগুলোর সময়—অর্থাৎ পূর্ববর্তী সুন্নতে মুয়াক্কাদার (الرواتب القبلية) সময়—আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়। সুতরাং যদি তা আজানের আগে পড়া হয় তবে তা যথাস্থানে আদায় হবে না।
অতএব বিষয়টি নিয়ে গভীর চিন্তা করুন, তবে আপনি একে জুমার কোনো পূর্ববর্তী সুন্নাত (سنة قبلية) না থাকার স্বপক্ষে সুস্পষ্ট দলিল হিসেবে পাবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৮)
ويؤيِّدُه حديث البخاري
(1) عن ابن عمر رضي الله عنهما، من رواية مالكٍ عن نافعٍ عنه، قال: «صَلَّيتُ مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، كان يصلِّي قبل الظهر ركعتين، وبعدها ركعتين، وبعد المغرب ركعتين في بيته، وبعد العشاء ركعتين، وكان لا يصلِّي بعد الجمعة حتى ينصرف فيصلِّي ركعتين».
وهذا في «صحيح مسلم»
(2) مختصرًا.
وأخرجاه
(3) في التطوُّع، من رواية عبيد الله عن نافع عن ابن عمر، بلفظ: «سجدتين، سجدتين».
[ص 9] وإفراده للجمعة ههنا يردُّ على من زعم أنَّ حكمها حكم الظُّهر، وذكرُه الرَّكعتين بعدها فقط يدلُّ على أنَّه لا قبليَّة لها.
ومن الباطل جواب ابن بطَّال
(4) عن هذا بأنَّ ابن عمر إنَّما أعاد ذكر الجمعة بعد ذكر الظُّهر من أجل أنَّه كان صلى الله عليه وآله وسلم يصلِّي سُنَّة الجمعة في بيته بخِلافِ الظُّهر. فَمِن أين له أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم كان يصلي قبلية الظهر أبدًا في بيته وبعدِيَّتَّها في المسجد أبدًا، حتى تَثبت مخالفتُها للجمعة في الثانية وموافقتها لها في الأولى، فيقال: ذَكَر ابنُ عمر ما خالفت فيه الجمعةُ الظهرَ وما وافقتها فيه؟
على أنَّ قضيَّة جوابه أنَّ الجمعة تسمَّى ظهرًا، وهذا واضحُ البطلان.
--------------------------------------------
ইমাম বুখারির একটি হাদিস একে সমর্থন করে, যা ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত; মালেক নাফে'র মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা (رواية) করেছেন। তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করেছি; তিনি জোহরের আগে দুই রাকাত এবং পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পর তাঁর ঘরে দুই রাকাত এবং এশার পর দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। আর তিনি জুমার পর ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন না, এরপর (ফিরে গিয়ে) দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন»।
এটি সহিহ মুসলিম-এ সংক্ষিপ্ত (مختصر) আকারে বর্ণিত হয়েছে।
তাঁরা উভয়ে (বুখারি ও মুসলিম) এটি নফল সালাত অধ্যায়ে উবাইদুল্লাহর বর্ণনা (رواية) থেকে নাফে'-এর মাধ্যমে ইবনে উমর থেকে এই শব্দে (لفظ) উদ্ধৃত করেছেন: «দুই সিজদা, দুই সিজদা (অর্থাৎ দুই রাকাত, দুই রাকাত)»।
[পৃষ্ঠা ৯] এখানে জুমার আলোচনা পৃথকভাবে নিয়ে আসা সেই ব্যক্তির দাবিকে খণ্ডন করে, যে মনে করে জুমার বিধান (حكم) জোহরের বিধানের (حكم) মতোই। আর জুমার পরে কেবল দুই রাকাতের উল্লেখ একথাই প্রমাণ করে যে, এর কোনো কবলিয়া (সালাত-পূর্ব সুন্নাত) নেই।
ইবনে বাত্তালের এই জবাব ভিত্তিহীন (باطل) যে, ইবনে উমর জোহরের আলোচনার পর জুমার কথা পুনরায় উল্লেখ করেছেন কেবল এজন্য যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) জুমার সুন্নাত ঘরে আদায় করতেন, যা জোহরের বিপরীত। তিনি কোথা থেকে পেলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) জোহরের কবলিয়া সর্বদা ঘরে আর বা’দিয়া সর্বদা মসজিদে আদায় করতেন? যার ভিত্তিতে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে (বা’দিয়ার ক্ষেত্রে) জুমার সাথে এর বৈসাদৃশ্য এবং প্রথম ক্ষেত্রে (কবলিয়ার ক্ষেত্রে) সাদৃশ্য প্রমাণিত হবে, এবং বলা যাবে যে: ইবনে উমর জুমার সাথে জোহরের বৈসাদৃশ্য ও সাদৃশ্যের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন?
তাছাড়া তাঁর এই জবাবের মূল নির্যাস হলো—জুমাকে জোহর নামে অভিহিত করা, যা স্পষ্টতই অসার (بطلان)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৪৯)
فتبيَّن أنَّ حديث ابن عمر يردُّ على مَن زعم أنَّ حُكْم الجمعة حُكْم الظُّهر، ويدلُّ على أنَّه لا قبليَّة للجمعة، فتأمَّل.
وممَّا يؤيِّد ذلك: ورود الأمر بالصلاة بعد الجُمعة، وهو حديث أبي هريرة ــ عند مسلم
(1) ــ قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «إذَّا صلَّى أحدكم الجُمعةَ فليُصَلِّ بعدها أربعًا»، وفي رواية: «فإن عَجِلَ بك شيءٌ فصلِّ ركعتين في المسجد وركعتين إذا رجعت».
فقد فُهِم من هذا الحديث نفيُ قبليَّة الجُمعة، إذ لو كانت لذُكِرَتْ، وليس هذا عمدتنا في ذلك.
وظاهر من هذا الحديث أن هذه الأربع مؤكدة، بل ظاهره كما قال بعضُهم الوجوب، لولا أن في الرواية الأُخرى
(2): «من كان منكم مصلّيًا بعد الجمعة فليصلِّ أربعًا».
وهذا بخلاف بعديَّة الظهر، فإنَّ المؤكَّد منها ركعتان فقط. ولا ينافي تَأَكُّدَ الأربعِ حديثُ ابن عمر السابق في اقتصاره صلى الله عليه وآله وسلم على ركعتين؛ إذ قد يُقال: إنَّ الأربع تتأكَّد في حق المأمومين كما يقتضيه الأمر، ولا تتأكَّد في حق الإمام، لأنَّه قد حصل له مزيد الأجر بنصبه في الخطبة بخلافهم.
وليس لقبليتها حديث صحيح، بل الأحاديث تُفيد عكسَ ذلك كما مرَّ. وبهذه الدلائل يُخصَّص عموم حديث ابن حبان
(3): «ما من صلاةٍ مفروضةٍ إلَّا وبين يديها ركعتانِ»، كما سيأتي إن شاء الله.
--------------------------------------------
সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, ইবনে উমরের হাদিস তাদের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে যারা মনে করে জুমার বিধান জোহরের বিধানের অনুরূপ। এটি প্রমাণ করে যে, জুমার জন্য কোনো পূর্ববর্তী সুন্নাত (قبلية) নেই। বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।
বিষয়টিকে যা সমর্থন করে তা হলো: জুমার পর নামাজের নির্দেশ আসা। এটি মুসলিম-এ বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস
(১)—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাজ পড়বে, সে যেন এর পরে চার রাকাত নামাজ পড়ে।» অন্য এক বর্ণনা (رواية)-তে এসেছে: «যদি তোমার কোনো জরুরি ব্যস্ততা থাকে, তবে মসজিদে দুই রাকাত এবং বাড়ি ফিরে দুই রাকাত পড়ো।»
এই হাদিস থেকে জুমার পূর্ববর্তী সুন্নাত (قبلية)-এর অনুপস্থিতি বোঝা যায়; কারণ যদি তা থাকত তবে অবশ্যই তা উল্লেখিত হতো। তবে এটিই আমাদের মূল ভিত্তি নয়।
এই হাদিসের বাহ্যিক (ظاهر) দিক থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এই চার রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা (مؤكدة), বরং কারও কারও মতে এর বাহ্যিক (ظاهر) দাবি হলো ওয়াজিব (وجوب)। যদি না অন্য বর্ণনা (رواية)
(২)-তে এটি বর্ণিত হতো: «তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমার পর নামাজ পড়তে ইচ্ছুক, সে যেন চার রাকাত পড়ে।»
এটি জোহরের পরবর্তী সুন্নাত (بعدية)-এর বিপরীত; কেননা জোহরের সুন্নতে মুয়াক্কাদা (مؤكدة) মাত্র দুই রাকাত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুই রাকাতে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়ে ইবনে উমরের পূর্বোক্ত হাদিসটি চার রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা (مؤكدة) হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কারণ বলা যেতে পারে যে, চার রাকাত মأمূমদের ক্ষেত্রে সুন্নতে মুয়াক্কাদা (مؤكدة), যেমনটি নির্দেশ থেকে প্রতীয়মান হয়। কিন্তু ইমামের ক্ষেত্রে তা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (مؤكدة) নয়; কারণ তিনি খুতবা প্রদানের কষ্টের বিনিময়ে তাদের তুলনায় অতিরিক্ত সওয়াব অর্জন করেছেন।
জুমার পূর্ববর্তী সুন্নাত (قبلية)-এর স্বপক্ষে কোনো সহিহ (صحيح) হাদিস নেই; বরং হাদিসগুলো এর বিপরীত অর্থই প্রদান করে যেমনটি আগে আলোচিত হয়েছে। এই দলিলগুলোর মাধ্যমে ইবনে হিব্বান
(৩)-এর হাদিসের ব্যাপকতা (عموم)-কে নির্দিষ্ট করা (يخصص) হবে, যেখানে বলা হয়েছে: «এমন কোনো ফরজ (مفروضة) নামাজ নেই যার পূর্বে দুই রাকাত নেই।» ইনশাআল্লাহ সামনে এটি বিস্তারিত আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৫০)
[ص 10] وقد استدلَّ من يقول بأن لها سُنَّة قبليَّة بأمور:
أحدها: القياس على الظهر. وهو ــ وإن ذكره النووي ــ بعيد، كما ذكره العراقي
(1) وغيره. وما قيل: إنَّ البخاري أَوْمَأَ إليه بقوله في ترجمته: «باب الصلاة بعد الجُمعة وقبلها» فيه نظر. بل قد يُدَّعَى العكس؛ لأنَّ الحديث الذي أَوْردَه يدلُّ على أنَّه ليس للجُمعة سُنَّة قبليَّة، ويدل على أنَّها مخالِفة للظهر، وهو حديث ابن عمر الذي مرَّ قريبًا.
ومن تراجم البخاري: «باب الصلاة قبل العيد وبعده»
(2). ومراده أنها غير مشروعة، كما تدل عليه الأحاديث التي أوردها. فيكون مراده هنا أن الصلاة بعد الجُمعة مشروعة وقبلها غير مشروعة، فقدَّم المثبَت وأخّر المنفيَّ. والمراد بالصلاة قبل الجُمعة أي: الراتبة، فأما النفل المطلق فهو مشروع قطعًا كما مر.
ومع ذلك فالقياس إنما يُعمَل به في إثبات الأحكام لا في إثبات عبادة مستقلّة.
وقد أجاب بعضُ العلماء أن القول بالقياس هنا إنما هو بناءً على أن الجُمعة ظهرٌ مقصورة.
وهذا باطل، والصحيح أن الجمعة صلاة مستقلّة.
وزعم بعضهم أن الجمعة هي الظهر، وإنما أُقيمت الخطبتان مقام
--------------------------------------------
[পৃষ্ঠা ১০] যারা মনে করেন যে জুমার পূর্বে সুন্নাতে কাবলিয়া রয়েছে, তারা কতিপয় বিষয় দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
প্রথমত: যোহরের ওপর কিয়াস (القياس) করা। যদিও ইমাম নববী এটি উল্লেখ করেছেন, তবে এটি একটি দূরবর্তী মত, যেমনটি ইরাকি
(১) ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন। আর এ কথা যে, ইমাম বুখারি তাঁর শিরোনামে—‘জুমার পরের ও আগের সালাতের অধ্যায়’—বলে এদিকেই ইঙ্গিত করেছেন, তা পর্যালোচনার দাবি রাখে। বরং এর উল্টোটিই দাবি করা যেতে পারে; কারণ তিনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা প্রমাণ করে যে জুমার কোনো পূর্ববর্তী সুন্নাত (سنة قبلية) নেই এবং এটি প্রমাণ করে যে জুমার সালাত যোহরের থেকে ভিন্ন। আর তা হলো ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস যা একটু আগেই অতিক্রান্ত হয়েছে।
ইমাম বুখারির অন্যতম একটি শিরোনাম হলো: ‘ঈদের আগে ও পরের সালাতের অধ্যায়’
(২)। তাঁর উদ্দেশ্য হলো যে এটি শরিয়তসম্মত নয়, যেমনটি তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে প্রমাণিত হয়। সুতরাং এখানে তাঁর উদ্দেশ্য হলো জুমার পরের সালাত শরিয়তসম্মত কিন্তু পূর্বেরটি শরিয়তসম্মত নয়। তাই তিনি ইতিবাচক বিষয়টিকে আগে এবং নেতিবাচক বিষয়টিকে পরে এনেছেন। আর জুমার আগের সালাত বলতে উদ্দেশ্য হলো সুন্নাতে রাতেবা (راتبة); তবে সাধারণ নফল (نفل مطلق) সালাত নিঃসন্দেহে শরিয়তসম্মত যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।
তদুপরি, কিয়াস (القياس) কেবল বিধান প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়, স্বতন্ত্র কোনো ইবাদত সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে নয়।
কোনো কোনো আলিম উত্তর দিয়েছেন যে, এখানে কিয়াসের (القياس) কথাটি মূলত জুমুআকে কসরকৃত যোহর মনে করার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে।
আর এটি বাতিল (باطل), বরং সঠিক (الصحيح) হলো জুমুআ একটি স্বতন্ত্র সালাত।
কেউ কেউ দাবি করেছেন যে জুমুআই হলো যোহর, কেবল খুতবা দুটিকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৫১)
ركعتين، وكأنَّ هذا القائل غرَّه اتفاق العدد بين الركعتين والخطبتين، ولا أدري ماذا يقول في خُطبتي العيدين والكسوفين والاستسقاء عِوَض عن ماذا؟
والاستدلال بنحو هذا محض التكلُّف والتمحُّل الذي لا حاجةَ بطالب الحق إليه، والله أعلم.
واستدلُّوا بحديث «الصحيحين» المتقدم: «بين كل أذانينِ صلاة». وهذا غفلة، فإنّ الأذانين في الحديث إنما أُريد بهما الأذان المشروع والإقامة اتفاقًا، والأذان المشروع في الجمعة هو الذي عند خروج الإمام، والصلاةُ بينه وبين الإقامة حرام إجماعًا، إلا ما سيأتي في ركعتي التحيَّة. ولو كان المراد أي أذانين كان؛ لكان الأحرى بذلك أذانا الصبح، ولم يقل أحد بأنه يُسَنُّ بينهما صلاة.
أما سُنَّة الصبح فليست بينهما، وإنما هي بعدهما بين الأذان والإقامة.
[ص 11] واستدلُّوا بأحاديث أُخرى ذكرها الحافظ في «الفتح» مع أجوبتها، وهذه عبارته
(1): وورد في سُنَّة الجمعة التي قبلها أحاديث أخرى ضعيفة.
منها: عن أبي هريرة، رواه البزار
(2) بلفظ: «كان يصلي قبل الجمعة ركعتين وبعدها أربعًا». وفي إسناده ضعف.
--------------------------------------------
দুই রাকাত; মনে হচ্ছে এই প্রবক্তা দুই রাকাত ও দুই খুতবার সংখ্যার সামঞ্জস্য দেখে বিভ্রান্ত হয়েছেন। আমি জানি না তিনি দুই ঈদ, কুসুফ (সূর্যগ্রহণ) এবং ইসতিসকা (বৃষ্টি প্রার্থনা)-এর খুতবাদ্বয় সম্পর্কে কী বলবেন যে, সেগুলো কিসের পরিবর্তে?
এই ধরনের দলীল পেশ করা নিছক কৃত্রিমতা ও অসার বাকচাতুরী ছাড়া আর কিছুই নয়, সত্য অনুসন্ধানীর জন্য যার কোনো প্রয়োজন নেই। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
তারা পূর্বোল্লিখিত সহীহাইন-এর হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন: «প্রত্যেক দুই আজানের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত রয়েছে»। এটি একটি অসাবধানতা, কারণ হাদিসে 'দুই আজান' বলতে সর্বসম্মতভাবে শরয়ি আজান ও ইকামাহ-কে বোঝানো হয়েছে। জুমার ক্ষেত্রে শরয়ি আজান হলো সেটি, যা ইমামের বের হওয়ার সময় দেওয়া হয়; আর এই আজান ও ইকামাহ-এর মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদায় করা সর্বসম্মতভাবে হারাম, তবে তাহিয়াতুল মাসজিদের দুই রাকাতের বিষয়টি ব্যতিক্রম, যা সামনে আসবে। আর যদি যেকোনো দুই আজানই উদ্দেশ্য হতো, তবে ফজরের দুই আজান এর জন্য অধিকতর উপযোগী ছিল, অথচ কেউ বলেনি যে এই দুটির মাঝে সালাত আদায় করা সুন্নাত।
আর ফজরের সুন্নাত তো সেই দুই আজানের মাঝে নয়, বরং তা আজান ও ইকামাহ-এর মধ্যবর্তী সময়ে।
[পৃষ্ঠা ১১] তারা আরও কিছু হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করেছেন যা হাফিজ ফাতহুল বারী গ্রন্থে উত্তরসহ উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্যটি হলো
(১): জুমার পূর্ববর্তী সুন্নাত সম্পর্কে আরও কিছু দুর্বল (ضعيفة) হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
তার মধ্যে একটি হলো: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, যা আল-বাজ্জার
(২) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: «তিনি জুমার আগে দুই রাকাত এবং পরে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন»। আর এর সনদে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৫২)
وعن علي، رواه الأثرم والطبراني في «الأوسط»
(1) بلفظ: «كان يصلي قبل الجمعة أربعًا وبعدها أربعًا»، وفيه محمد بن عبد الرحمن السهمي، وهو ضعيف عند البخاري وغيره، وقال الأثرم: إنه حديث واهٍ.
ومنها: عن ابن عباس مثله، وزاد: «لا يفصل في شيءٍ منهنّ»، أخرجه ابن ماجه
(2) بسند واهٍ.
قال النووي في «الخلاصة»
(3): «إنّه حديث باطل».
وعن ابن مسعود عند الطبراني
(4) أيضًا مثله، وفي إسناده ضعف وانقطاع.
ورواه عبد الرزاق
(5) عن ابن مسعود موقوفًا، وهو الصواب.
وروى ابن سعد
(6) عن صفيّة زوج النبي صلى الله عليه وآله وسلم موقوفًا نحو حديث أبي هريرة. إلخ.
قلت: والموقوف عن ابن مسعود ذكره الترمذي
(7) بقوله: ورُوي عن عبد الله بن مسعود أنه كان يصلي قبل الجمعة أربعًا وبعدها أربعًا.
--------------------------------------------
আলী (রা.) হতে বর্ণিত, আল-আসরাম এবং আত-তাবরানি 'আল-আওসাত'
(১) গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তিনি জুমার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন।" এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আস-সাহমি রয়েছেন, যিনি বুখারি ও অন্যদের নিকট দুর্বল (ضعيف)। আল-আসরাম বলেছেন: এটি একটি অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ) হাদিস।
তার মধ্যে আরও রয়েছে: ইবনে আব্বাস (রা.) হতে অনুরূপ বর্ণনা, যাতে তিনি আরও বৃদ্ধি করেছেন: "তিনি এগুলোর মধ্যে কোনো পৃথকীকরণ করতেন না।" এটি ইবনে মাজাহ
(২) একটি অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ) সনদের (سند) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
আন-নববী 'আল-খুলাসা'
(৩) গ্রন্থে বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি একটি বাতিল (باطل) হাদিস।"
আত-তাবরানির
(৪) নিকট ইবনে মাসউদ (রা.) হতেও অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে, যার সনদে (إسناده) দুর্বলতা (ضعف) এবং বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে।
আবদুর রাজ্জাক
(৫) ইবনে মাসউদ (রা.) হতে এটি মাওকুফ (موقوفًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর এটাই সঠিক।
ইবনে সাদ
(৬) নবী (সা.)-এর স্ত্রী সাফিয়্যাহ (রা.) হতে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসের ন্যায় মাওকুফ (موقوفًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইত্যাদি।
আমি বলছি: ইবনে মাসউদ (রা.) হতে মাওকুফ (الموقوف) বর্ণনাটি আত-তিরমিজি
(৭) তার এই বাণীর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: "আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি জুমার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত সালাত আদায় করতেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৩)
وقد استدلُّوا به على وقفه، قالوا: لأن الظاهر أنه توقيف.
والجواب: أنه إن صحَّ فلا حُجَّة فيه، وقولهم: إن الظاهر أنه توقيف ممنوع، بل الظاهر أن المراد بذلك النفل المطلق الذي يصلِّيه الإنسان ما بين دخوله الجامع وخروج الإمام؛ كما مَرَّ بيانُه، بل هذا هو المتعين، لما مرّ أن السُنَّة في خروج الإمام أول الوقت وقبلَ الأذان، وأنَّ ذلك صريح في نفي مشروعية سنةٍ قَبْليّة للجمعة، والله أعلم.
واستدلُّوا بما قاله العراقي في «شرح سنن الترمذي»؛ بعد ذكر حديث ابن ماجه المتقدم في عبارة «الفتح» قال: «وقد وقع لنا بإسنادٍ جيد من طريق القاضي أبي الحسن الخلعي من رواية ابن إسحاق عن عاصم بن عثمان عن علي».
كذا وجدت نقل عبارته، ولتراجع
(1).
والجواب: أنَّ ابن إسحاق مختلفٌ فيه، وهو بَعْدُ مُدَلِّس، وقد عَنْعَنَ، ولم أقف على الإسناد بطوله حتى أعرفَ حاله، وفيما ذكرتُ كفاية.
وهَبْ أنَّه صحَّ فالمراد النَّفْل المطلق؛ لما مرَّ، والله أعلم.
واستدلُّوا بأحاديث: «أربع بعد الزوال».
والجواب: أنَّ في بعضها التقييد بقبل الظهر، والمطلقُ يُحمَل على المقيَّد. وعلى فَرْضِ عدم الحمل فيكون عامًّا مخصوصًا بالجمعة؛ لما مرَّ أن السُنَّة خروج الإمام عقب الزوال، وبخروجه تمتنع الصلاة إلَّا ركعتي التحية، والله أعلم.
--------------------------------------------
তারা এটি দ্বারা একে মওকুফ (وقف) করার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন; তারা বলেছেন: কারণ আপাতদৃষ্টিতে এটি তওকিফ (توقيف) বা ওহি-নির্ভর প্রতীয়মান হয়।
উত্তর হলো: যদি এটি সহিহ (صحيح) হয়ে থাকে, তবে এতে কোনো দলিল নেই। আর তাদের এই দাবি যে—আপাতদৃষ্টিতে এটি তওকিফ (توقيف)—তা অগ্রহণযোগ্য; বরং স্পষ্ট যে, এর দ্বারা নফল মুতলাক (النفل المطلق) বা সাধারণ নফল নামাজ উদ্দেশ্য, যা একজন মানুষ মসজিদে প্রবেশ এবং ইমামের বের হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করে থাকে; যেমনটি আগে বর্ণনা করা হয়েছে। বরং এটিই সুনির্ধারিত বিষয়, কারণ ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওয়াক্তের শুরুতে এবং আজানের পূর্বে ইমামের বের হওয়াই হলো সুন্নাহ। আর এটি জুমার পূর্বে কোনো সুন্নতে কুবলিয়া বা পূর্ববর্তী সুন্নতের বৈধতা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।
তারা ইরাকি-র 'শারহু সুনানুত তিরমিজি'-তে যা বলেছেন তা দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন; 'ফাতহুল বারি'-র ইবারতে ইবনে মাজাহ-র ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাদিসটি উল্লেখ করার পর তিনি বলেছেন: "কাজী আবুল হাসান আল-খালায়ি-র তরিক বা সূত্রে ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় আসিম ইবনে উসমান থেকে আলি (রা.)-এর সূত্রে একটি জায়্যিদ (جيد) সনদে আমাদের নিকট পৌঁছেছে।"
আমি তাঁর ইবারতের উদ্ধৃতি এভাবেই পেয়েছি, বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন
(1)।
উত্তর হলো: ইবনে ইসহাক এমন একজন বর্ণনাকারী যাকে নিয়ে মতভেদ (مختلف فيه) রয়েছে। তদুপরি তিনি একজন মুদাল্লিস (مدلس) এবং তিনি 'আন' (عن) যোগে বর্ণনা (عنعن) করেছেন। আমি পূর্ণাঙ্গ সনদ (إسناد) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি যাতে তার অবস্থা জানতে পারি, তবে আমি যা উল্লেখ করেছি তাই যথেষ্ট।
ধরে নিলাম এটি সহিহ (صحيح), তবুও এর দ্বারা নফল মুতলাক (النفل المطلق) উদ্দেশ্য; যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।
তারা 'সূর্য ঢলে পড়ার পর চার রাকাত' সম্পর্কিত হাদিসগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।
উত্তর হলো: এর কোনো কোনোটিতে জোহরের পূর্বের সাথে শর্তযুক্ত (تقييد) করা হয়েছে, আর মুতলাক (مطلق) বা শর্তহীনকে মুকাইয়্যিদ (مقيد) বা শর্তযুক্তের ওপর প্রয়োগ করা হয়। যদি তা প্রয়োগ না-ও করা হয়, তবুও এটি একটি আম (عام) বা সাধারণ হুকুম হবে যা জুমার ক্ষেত্রে খাস (مخصوص) হয়ে যাবে। কারণ আগে বর্ণিত হয়েছে যে, সূর্য ঢলে পড়ার পরপরই ইমামের বের হওয়াই সুন্নাহ, আর তাঁর বের হওয়ার পর তাহিয়্যাতুল মাসজিদের দুই রাকাত ছাড়া অন্য কোনো নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। আল্লাহ অধিক পরিজ্ঞাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৪)
واستدلَّ بعضهم بحديث أبي داود والترمذي
(1)، عن عطاء قال: «كان ابن عمر رضي الله عنهما إذا صلَّى الجمعة بمكة تقدَّم فصلَّى ركعتين، ثم يتقدَّم فيصلِّي أربعًا
… »، الحديث.
والجواب: أنَّ الاستدلال به غفلة؛ لأنَّ الكلام في الصلاة بعد الجمعة.
وقوله «تقدم» أي: من موقفه الذي صلَّى فيه الجمعة، يتقدَّم عنه فيصلِّي ركعتين، ثم يتقدَّم فيصلِّي أربعًا، وهذا لفظ الترمذي: [ص 13] «وابن عمر بعد النبي صلى الله عليه وآله وسلم صلَّى في المسجد بعد الجمعة ركعتين، وصلَّى بعد الركعتين أربعًا». حدثنا بذلك ابن أبي عمر حدثنا سفيان بن عيينة عن ابن جريج عن عطاء، قال: «رأيتُ ابن عمر صلَّى بعد الجمعة ركعتين، ثم صلَّى بعد ذلك أربعًا».
ولفظ أبي داود في باب الصلاة بعد الجمعة: عن عطاء عن ابن عمر قال: «كان إذا كان بمكة فصلَّى الجمعة تقدم فصلَّى ركعتين، ثم تقدم فصلّى أربعًا، وإذا كان بالمدينة صلّى الجمعة ثم رجع إلى بيته فصلَّى ركعتين، ولم يصلِّ في المسجد». فقيل له، فقال: كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يفعل ذلك.
وكلاهما صريح أنَّ هذه إنَّما هي الصَّلاة بعد الجمعة.
وفي رواية أُخرى
(2): عن عطاء أنَّه رأى ابن عمر يُصَلِّي بعد الجمعة، فينماز عن مصلَّاه الذي صلَّى فيه الجمعة قليلًا غير كثير، قال: فيركع ركعتين. قال: ثم يمشي أنفسَ من ذلك، فيركع أربع ركعات. قلت ــ القائل ابن جريج الراوي عن عطاء ــ لعطاء: كم رأيتَ ابن عمر يصنع ذلك؟ قال: مرارًا.
--------------------------------------------
কেউ কেউ আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল (استدلال) পেশ করেছেন
(১), যা আতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: «ইবনে উমর (রা.) যখন মক্কায় জুমার নামাজ পড়তেন, তখন তিনি সামনে এগিয়ে যেতেন এবং দুই রাকাত নামাজ পড়তেন। এরপর তিনি পুনরায় সামনে এগিয়ে গিয়ে চার রাকাত নামাজ পড়তেন … », হাদিসটি শেষ পর্যন্ত।
এর উত্তর হলো: এটি দ্বারা দলিল (استدلال) গ্রহণ করা একটি অসাবধানতা; কারণ এখানে জুমার পরের নামাজ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
আর তাঁর উক্তি «সামনে এগিয়ে যাওয়া» এর অর্থ হলো: তিনি যে স্থানে জুমার নামাজ পড়েছেন, সেই স্থান থেকে সামনে এগিয়ে যেতেন এবং সেখানে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন। এরপর তিনি আবার সামনে এগিয়ে গিয়ে চার রাকাত নামাজ পড়তেন। আর এটি তিরমিজির শব্দমালা: [পৃষ্ঠা ১৩] «ইবনে উমর (রা.) নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর জুমার নামাজের পর মসজিদে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন এবং সেই দুই রাকাতের পর চার রাকাত নামাজ পড়তেন।’ আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি উমর, তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে এবং তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন। আতা বলেন: «আমি ইবনে উমরকে জুমার পর দুই রাকাত নামাজ পড়তে দেখেছি, তারপর তিনি আরও চার রাকাত নামাজ পড়েছেন।’
জুমার পরের নামাজ অধ্যায়ে আবু দাউদের শব্দমালা নিম্নরূপ: আতা ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «তিনি যখন মক্কায় থাকতেন এবং জুমার নামাজ পড়তেন, তখন সামনে এগিয়ে গিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন, এরপর আরও সামনে এগিয়ে গিয়ে চার রাকাত পড়তেন। আর যখন তিনি মদিনায় থাকতেন, তখন জুমার নামাজ পড়ে নিজের বাড়িতে ফিরে যেতেন এবং সেখানে দুই রাকাত পড়তেন, মসজিদে পড়তেন না।’ তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) এরূপই করতেন।
আর উভয় বর্ণনা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট (صريح) যে, এটি মূলত জুমার পরের নামাজ।
অন্য এক বর্ণনায় (رواية)
(২): আতা থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনে উমরকে জুমার পর নামাজ পড়তে দেখেছেন; তিনি জুমার নামাজের স্থান থেকে সামান্য একটু দূরে সরে যেতেন। আতা বলেন: এরপর তিনি দুই রাকাত নামাজ পড়তেন। তিনি আরও বলেন: এরপর তিনি সেখান থেকে আরেকটু সরে যেতেন এবং চার রাকাত নামাজ পড়তেন। আমি — অর্থাৎ আতা থেকে বর্ণনাকারী ইবনে জুরাইজ — আতাকে বললাম: «আপনি ইবনে উমরকে কতবার এরূপ করতে দেখেছেন?» তিনি বললেন: «অনেকবার।’
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৫)
وهذا الحديث ممَّا يدلُّ على الفَرْق بين الجمعة والظهر، والله أعلم.
واستدلُّوا بما رواه الطبراني في «الأوسط»
(1) بسنده إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «مَنْ شَهِدَ منكم الجمعة فليُصَلِّ أربعًا قبلها وبعدها أربعًا».
والجواب: أنَّه حديثٌ ضعيفٌ، فيه محمد بن عبد الرحمن السهمي، كما في «شرح البخاري»
(2)، وقد ضعَّفه البخاري وغيره كما مرَّ، والله أعلم.
واستدلُّوا بحديث أبي داود وابن حبان
(3) من طريق أيوب عن نافع قال: «كان ابن عمر يُطيل الصلاة قبل الجمعة، ويصلِّي بعدها ركعتين في بيته، ويُحدِّث أنَّ الرسول صلى الله عليه وآله وسلم كان يفعلُه».
والجواب: قال الحافظ
(4): وتُعُقِّب بأن قوله: «كان يفعل ذلك» عائد على قوله: «ويصلِّي بعد الجمعة ركعتين في بيته».
ويدلُّ له رواية الليث عن نافع عن عبد الله: أنَّه كان إذا صلَّى الجمعة انصرف فسجد سجدتين في بيته، ثم قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يصنع ذلك»، رواه مسلم
(5).
وأما قوله: «كان يطيل الصلاة قبل الجمعة» فإن كان المراد بعد دخول الوقت فلا يصح أن يكون [ص 14] مرفوعًا؛ لأنَّه صلى الله عليه وآله وسلم كان يخرج إذا زالت
--------------------------------------------
এই হাদিসটি জুমা এবং জোহরের মধ্যবর্তী পার্থক্যের ওপর প্রমাণ বহন করে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আর তারা তাবারানি কর্তৃক «আল-আওসাত»
(1) গ্রন্থে তাঁর সনদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে যে জুমায় উপস্থিত হবে, সে যেন তার আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত সালাত আদায় করে»।
উত্তর হলো: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস, এতে মুহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আস-সাহমি রয়েছেন, যেমনটি «শারহুল বুখারি»
(2) গ্রন্থে উল্লেখ আছে। ইমাম বুখারি ও অন্যান্যরা তাঁকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আর তারা আবু দাউদ ও ইবনে হিব্বান
(3) বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা আইয়ুবের সূত্রে নাফে থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «ইবনে উমর জুমার আগে দীর্ঘ সালাত আদায় করতেন এবং এর পরে নিজ ঘরে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। আর তিনি বর্ণনা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এরূপ করতেন»।
উত্তর হলো: হাফিজ (ইবনে হাজার)
(4) বলেছেন: এর ওপর আপত্তি করা হয়েছে যে, তাঁর এই কথা—«তিনি এরূপ করতেন»—মূলত তাঁর «জুমার পরে নিজ ঘরে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন» এই কথার দিকেই ফিরেছে।
এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে নাফে-এর সূত্রে লাইসের বর্ণনা: যে তিনি যখন জুমার সালাত আদায় করতেন, তখন ফিরে গিয়ে নিজের ঘরে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন, এরপর বলতেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এরূপ করতেন», এটি মুসলিম
(5) বর্ণনা করেছেন।
আর তাঁর কথা: «তিনি জুমার আগে দীর্ঘ সালাত আদায় করতেন» এর দ্বারা যদি ওয়াক্ত হওয়ার পরের সময় উদ্দেশ্য হয়, তবে এটি মারফু (مرفوع) হিসেবে [পৃষ্ঠা ১৪] সহিহ হওয়া সম্ভব নয়; কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম (সূর্য) ঢলে পড়ার পরই (খুতবার জন্য) বের হতেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৬)
الشمس فيَشْتَغِل بالخطبة، ثمَّ بصلاة الجمعة.
وإن كان المراد قبل دخول الوقت فذاك مطلقُ نافلةٍ لا صلاةٌ راتبةٌ، فلا حجَّة فيه لسُنَّة الجمعة التي قبلها، بل هي تنفُّل مطلقٌ، والله أعلم.
واستدلُّوا بحديث ابن حبان في «صحيحه»
(1): «ما من صلاةٍ مفروضةٍ إلَّا وبين يديها ركعتان».
والجواب: أنَّه عام مخصوص بالجمعة كما مرَّ بيانُه، مع أنَّه مُقيَّدٌ بحديث «الصحيحين»: «بين كلِّ أذانينِ صلاةٌ»، وقد مرَّ الكلام عليه.
مع أنَّ ابن حبان يُطلِق الصحيح على الحَسَن، وربَّما يُصحِّح ويُحسِّن ما لا يُوافَق عليه، والله أعلم.
واستدلُّوا بحديث ابن ماجه
(2) بسند صحيح عن أبي هريرة وجابر قالا: «جاء سُلَيْك الغَطَفاني والنَّبي صلى الله عليه وآله وسلم يخطب، فقال له النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم: «أصلَّيْتَ ركعتين قبل أن تجيء؟ » قال: لا، قال: «فصلِّ ركعتين وتَجوَّزْ فيهما».
قال في التحفة
(3): وقوله: «أصلّيتَ» إلى آخره يمنع حملَه على تَحيَّة المسجد ــ أي: وحدها ــ حتى لا ينافي الاستدلال به لندبها للداخل حال الخطبة، فينويها مع سُنَّة الجمعة القبليَّة إن لم يكن صلَاّها قبل .. إلخ [ص 15]، إذ المعروف في هذا الحديث الاقتصار على «أصليت» ونحوه، وهو كذلك في «الصحيحين» وغيرهما. ولم تجئ هذه الزيادة ــ أي قوله:
--------------------------------------------
সূর্য (ঢলে পড়ার পর) তিনি খুতবা এবং তারপর জুমার সালাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
আর যদি উদ্দেশ্য হয় ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বের সময়, তবে তা সাধারণ নফল (نافلة), কোনো নিয়মিত সুন্নাহ সালাত (صلاة راتبة) নয়। সুতরাং এতে জুমার পূর্ববর্তী সুন্নতের কোনো প্রমাণ নেই, বরং তা সাধারণ নফল (تنفُّل مطلق) হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
তারা ইবনে হিব্বানের তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "এমন কোনো ফরজ সালাত (صلاة مفروضة) নেই যার পূর্বে দুই রাকাত (সালাত) নেই।"
উত্তর হলো: এটি একটি সাধারণ (عام) শব্দ যা জুমার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বা বিশেষায়িত (مخصوص), যেমনটি আগে বর্ণনা করা হয়েছে। তদুপরি এটি 'সহিহাইন'-এ বর্ণিত "প্রত্যেক দুই আজানের (আজান ও ইকামতের) মাঝে সালাত রয়েছে" হাদিসটি দ্বারা সীমাবদ্ধ (مقيَّد)। এ বিষয়ে আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
অধিকন্তু ইবনে হিব্বান হাসান (حَسَن) হাদিসকেও সহিহ (صحيح) বলে অভিহিত করেন। অনেক সময় তিনি এমন হাদিসকেও সহিহ সাব্যস্ত (يُصحِّح) বা হাসান সাব্যস্ত (يُحسِّن) করেন যে ব্যাপারে তাঁর সাথে ঐক্যমত পোষণ করা হয় না। আল্লাহই ভালো জানেন।
তারা ইবনে মাজার একটি সহিহ (صحيح) সনদ (سند) দ্বারা আবু হুরায়রা ও জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস দিয়ে দলিল দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: "সুলাইক আল-গাতাফানি আসলেন যখন নবী (সা.) খুতবা দিচ্ছিলেন। নবী (সা.) তাকে বললেন: 'আসার আগে কি তুমি দুই রাকাত সালাত পড়েছ?' তিনি বললেন: না। নবী (সা.) বললেন: 'তাহলে দুই রাকাত সালাত পড়ে নাও এবং তা সংক্ষেপে আদায় করো'।"
'তুহফাতুল মুহতাজ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাঁর বাণী—"তুমি কি সালাত আদায় করেছ?" শেষ পর্যন্ত—একে কেবল তাহিয়াতুল মাসজিদ (تَحيَّة المسجد) তথা মসজিদের অভিবাদনমূলক সালাতের ওপর সীমাবদ্ধ রাখা থেকে বারণ করে। অর্থাৎ যাতে খুতবা চলাকালীন প্রবেশকারীর জন্য এই সালাত মুস্তাহাব (ندب) হওয়ার দলিলের সাথে তা সাংঘর্ষিক না হয়। সুতরাং যদি সে আগে সালাত আদায় না করে থাকে তবে জুমার পূর্ববর্তী সুন্নতের নিয়তে তা আদায় করবে... ইত্যাদি [পৃষ্ঠা ১৫]। কারণ এই হাদিসে কেবল "তুমি কি সালাত আদায় করেছ" বা এই জাতীয় শব্দ উল্লেখ থাকাই প্রসিদ্ধ এবং 'সহিহাইন' ও অন্যান্য গ্রন্থেও এটি এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। আর এই অতিরিক্ত অংশটি—অর্থাৎ তাঁর বাণী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৭)
«قبل أن تجيء» ــ إلَّا في هذه الرواية التي أخرجها ابن ماجه.
والجواب عنها من وجوه:
الأوَّل: أنَّ حفص بن غياث قال عنه يعقوب: ثقة ثبت إذا حدَّث من كتابه ويُتَّقى بعض حفظه.
وقال ابن عمار: كان لا يحفظ حسنًا، وكان عَسِرًا.
فأطلق هذان وصفَهُ بسوء الحفظ.
وقال أبو عُبيد الآجرِّي عن أبي داود: كان حفص بأَخَرةٍ دَخَله نسيان. فقيَّد أبو داود سوء الحفظ بأَخَرَة.
وقال أبو زُرعة: ساءَ حفظُه بعدما استُقْضي، فمَن كَتب عنه من كتابه فهو صالح، وإلَّا فهو كذا.
قلت: وهو كما في «تهذيب التهذيب»
(1): كوفيّ استُقْضي بها وببغداد.
وقال ابن معين: جميع ما حدَّث به ببغداد من حفظه.
قلت: فحديثه ببغداد كان بأَخَرةٍ، وكان بعدما استُقْضي، وكان من حفظه. وداود بن رُشَيد بغداديٌّ كما في ترجمته
(2)، فحديثه عنه بأخرةٍ بعدما استُقْضي، من حفظه.
وقد قال داود بن رشيد نفسه ــ كما في «تهذيب التهذيب»
(3) ــ: حفصٌ كثير الغلط.
--------------------------------------------
«তুমি আসার আগে» — ইবনে মাজাহ কর্তৃক বর্ণিত এই বর্ণনা (رواية) ব্যতীত।
এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে দেয়া যেতে পারে:
প্রথমত: হাফস বিন গিয়াস সম্পর্কে ইয়াকুব বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت) ছিলেন যখন তিনি তাঁর কিতাব থেকে বর্ণনা করতেন, তবে তাঁর মুখস্থশক্তির (حفظ) কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ইবনে আম্মার বলেন: তিনি উত্তমরূপে মুখস্থ (حفظ) রাখতে পারতেন না এবং তিনি কঠোর মেজাজের ছিলেন।
এই দুই ইমাম ঢালাওভাবে তাঁর সম্পর্কে মুখস্থশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) বর্ণনা করেছেন।
আবু উবাইদ আল-আজুরি, আবু দাউদ থেকে বর্ণনা করেন: হাফস শেষ বয়সে (بأخرة) বিস্মৃতির (نسيان) শিকার হন। সুতরাং আবু দাউদ তাঁর মুখস্থশক্তির দুর্বলতাকে (سوء الحفظ) শেষ বয়সের (بأخرة) সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন।
আবু জুরআহ বলেন: বিচারকের পদে নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর মুখস্থশক্তি (حفظ) দুর্বল হয়ে পড়েছিল; সুতরাং যারা তাঁর কিতাব থেকে লিখেছে তাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য (صالح), অন্যথায় তা এমনই (অর্থাৎ দুর্বল)।
আমি বলি: যেমনটি তাহজিব আত-তাহজিব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: তিনি কুফার অধিবাসী ছিলেন এবং কুফা ও বাগদাদে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইবনে মাঈন বলেন: বাগদাদে তিনি যা কিছু বর্ণনা করেছেন তা তাঁর মুখস্থ (حفظ) থেকে ছিল।
আমি বলি: বাগদাদে তাঁর হাদিস বর্ণনা ছিল শেষ বয়সে (بأخرة), যা ছিল বিচারক নিযুক্ত হওয়ার পরবর্তী সময় এবং তা ছিল তাঁর মুখস্থ (حفظ) থেকে। দাউদ বিন রুশাইদ একজন বাগদাদী ছিলেন, যেমনটি তাঁর জীবনী (ترجمة) সংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখ আছে; সুতরাং তাঁর নিকট থেকে হাফসের হাদিস বর্ণনা ছিল বিচারক নিযুক্ত হওয়ার পর শেষ বয়সে (بأخرة) তাঁর মুখস্থ (حفظ) থেকে।
দাউদ বিন রুশাইদ নিজেই বলেছেন — যেমনটি তাহজিব আত-তাহজিব গ্রন্থে রয়েছে —: হাফস অধিক ভুলকারী (كثير الغلط) ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৮)
وأمَّا رواية الشيخين عنه فهي محمولة على ما ثبت عندهما أنَّه حدَّث من كتابه، وليس هذا لأحدٍ غيرهما؛ لالتزامهما الصحيحَ وتحرِّيهما وتيقُّظهما.
وفي «تدريب الراوي»
(1) للسيوطي عن ابن الصلاح قال: من حكم لشخصٍ بمجرَّد رواية مسلمٍ عنه في «صحيحه» بأنَّه من شرط مسلم، فقد غفل وأخطأ، بل ذلك متوقِّفٌ على النَّظَر في كيفيَّة رواية مسلمٍ عنه، وعلى أيِّ وجهٍ اعتمد عليه.
الوجه الثاني: قال في «تهذيب التهذيب»
(2): وذكر الأثرم عن أحمد بن حنبل أنَّ حفصًا كان يدلِّس. وقال ابن سعد: كان ثقة مأمونًا، كثير الحديث يُدلّس.
والمدلِّس لا يكون حجَّةً إلَّا فيما صرَّح فيه بالسَّماع، وقد عَنْعن في هذا الحديث.
الوجه الثالث: أنَّ الأعمش على جلالة قدره معدودٌ في المدلِّسين، والمدلِّس لا يكون حجَّة إلَّا فيما صرَّح فيه بالسَّماع، وقد عَنْعن في هذا الحديث.
نعم، قال الحافظ في «المقدمة»
(3) في ترجمة حفص بن غياث: «اعتمد البخاري على حفص هذا في حديث الأعمش؛ لأنَّه كان يُميِّز بين ما
--------------------------------------------
শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) কর্তৃক তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো সেই বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল যা তাঁদের নিকট সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মূল কিতাব থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁরা ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ তাঁরা সহিহ (صحيح) হাদিস সংকলনের প্রতিশ্রুতি এবং সতর্কতা ও বিচক্ষণতা অবলম্বন করেছেন।
সুয়ুতির 'তাদরিবুর রাবি' গ্রন্থে ইবনে সালাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: মুসলিম তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে কোনো ব্যক্তির থেকে হাদিস বর্ণনা করার কারণেই যদি কেউ তাঁকে মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী গণ্য বলে রায় দেয়, তবে সে গাফেল হয়েছে এবং ভুল করেছে। বরং বিষয়টি মুসলিম কর্তৃক তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনার পদ্ধতি এবং তিনি কোন প্রেক্ষাপটে তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন তার ওপর পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল।
দ্বিতীয় দিক: 'তাহজিবুত তাহজিব' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে: আসরাম ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণনা করেছেন যে হাফস তাদলিস (يدلس) করতেন। ইবনে সাদ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون) ছিলেন, অনেক হাদিস জানতেন এবং তাদলিস (يدلس) করতেন।
আর মুদাল্লিস (مدلس) বর্ণনাকারী ততক্ষণ পর্যন্ত দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হন না যতক্ষণ না তিনি স্পষ্টভাবে সরাসরি শ্রবণের (سماع) কথা উল্লেখ করেন, অথচ এই হাদিসে তিনি আন’আনা (عنعن) করেছেন।
তৃতীয় দিক: আমাশ তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও মুদাল্লিসদের (مدلسين) অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য, আর মুদাল্লিস (مدلس) ততক্ষণ পর্যন্ত দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হন না যতক্ষণ না তিনি স্পষ্টভাবে সরাসরি শ্রবণের (سماع) কথা উল্লেখ করেন, অথচ এই হাদিসে তিনি আন’আনা (عنعن) করেছেন।
হ্যাঁ, হাফেজ ইবনে হাজার 'মুকাদ্দিমা' গ্রন্থে হাফস ইবনে গিয়াসের জীবনীতে বলেছেন: «বুখারি আমাশের হাদিসের ক্ষেত্রে এই হাফসের ওপর নির্ভর করেছেন; কারণ তিনি পৃথক করতে পারতেন কিসের মধ্যে যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৫৯)
صرَّح به الأعمش بالسماع، وبين ما دلَّسه، نبَّه على ذلك أبو الفضل ابن طاهر، وهو كما قال».
وهذا لا يردُّ ما ذكرناه؛ لأنَّه لم يميِّز هنا، مع أنَّه في نفسِهِ مدلِّسٌ أيضًا كما مَرَّ عن الإمام أحمد وابن سعد.
الوجه الرابع: أبو صالح شيخ الأعمش، هل هو ذكوان المدني السَّمَّان، أو باذام مولى أم هانئ؟ فإنَّ كلاًّ منهما كنيته أبو صالح، عن أبي هريرة وعنه الأعمش.
فإن كان الثاني، فهو مُضعَّف، ورواية الأعمش عنه منقطعة.
[ص 16] ففي «تهذيب التهذيب»
(1): «أنَّ أبا حاتم قال: لم يسمع ــ يعني: الأعمش ــ عن أبي صالح مولى أُم هانئ، هو يدلِّس عن الكلبي».
قال
(2): «وقال عبد الله بن أحمد عن أبيه: الأعمش عن أبي صالح ــ يعني: مولى أم هانئ ــ منقطع».
والذي يظهر أنَّ أبا صالح الذي روى عنه الأعمش هذا الحديث هو الأول: ذكوان المدني السَّمان؛ لأنَّ الثاني قال عنه ابن عدي ــ كما في «تهذيب التهذيب»
(3) ــ: عامة ما يرويه تفسير، وما أقلَّ مَا لَهُ من المسند.
--------------------------------------------
আল-আ’মাশ এটি সরাসরি শ্রবণ (سماع) করার কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং যা তিনি বর্ণনালুকায়ন (تدليس) করেছেন তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন; আবু আল-ফাদল ইবনে তাহির এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন।
এটি আমাদের উল্লিখিত বিষয়টিকে নাকচ করে না; কারণ তিনি এখানে পার্থক্য করেননি, অথচ তিনি নিজেও একজন বর্ণনালুকারী (مدلس), যেমনটি ইমাম আহমাদ এবং ইবনে সাদ থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থ দিক: আল-আ’মাশের শিক্ষক আবু সালিহ, তিনি কি জাকওয়ান আল-মাদানি আস-সাম্মান, নাকি উম্মে হানির মুক্তদাস বাযাম? কেননা তাদের উভয়ের উপনাম (كنية) আবু সালিহ, যারা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন এবং তাদের থেকে আল-আ’মাশ বর্ণনা করেন।
যদি দ্বিতীয়জন হন, তবে তিনি দুর্বল সাব্যস্তকৃত (مضعف) এবং আল-আ’মাশের বর্ণনাটি তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন (منقطعة)।
[পৃষ্ঠা ১৬] ‘তাহযীব আত-তাহযীব’
(১)-এ রয়েছে: «আবু হাতিম বলেছেন: তিনি—অর্থাৎ আল-আ’মাশ—উম্মে হানির মুক্তদাস আবু সালিহ থেকে শ্রবণ করেননি, তিনি কালবী থেকে বর্ণনালুকায়ন (تدليس) করেন»।
তিনি বলেছেন
(২): «এবং আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু সালিহ—অর্থাৎ উম্মে হানির মুক্তদাস—থেকে আল-আ’মাশের বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)»।
যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, আল-আ’মাশ এই হাদিসটি যার থেকে বর্ণনা করেছেন সেই আবু সালিহ হলেন প্রথমজন: জাকওয়ান আল-মাদানি আস-সাম্মান; কারণ দ্বিতীয়জন সম্পর্কে ইবনে আদি বলেছেন—যেমনটি ‘তাহযীব আত-তাহযীব’
(৩)-এ রয়েছে—: তাঁর বর্ণিত অধিকাংশ বিষয়ই তাফসির, এবং মুসনাদ হিসেবে তাঁর বর্ণনা খুবই নগণ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৬০)
الطريق الأخرى: الأعمش عن أبي سفيان عن جابر.
وفيها نَظَرٌ من وجوه:
الأوَّل ــ وهو الخامس من أوجه الجواب ــ: رواية الأعمش عن أبي سفيان.
قال في «تهذيب التهذيب»
(1) في ترجمة الأعمش: «وقال أبو بكر البزَّار: لم يسمع من أبي سفيان شيئًا، وقد روى عنه نحو مئة حديث، وإنَّما هي صحيفة عرفت».
وقد يجاب عن هذا بأنَّ غاية ما فيه أنْ يكون روى عنه بالوجادة، وهي طريق من طرق الرواية.
الثاني ــ وهو السادس من أوجه الجواب ــ: حال أبي سفيان في نفسه.
قال في «تهذيب التهذيب»
(2): قال أحمد: ليس به بأس
… إلى أن قال: وقال ابن أبي خيثمة عن ابن مَعِين: لاشيء، ثم ذكر أقوال الأئمة فيه، وأكثرهم على توثيقه، وقد روى له الشيخان والجماعة.
الوجه الثالث ــ وهو السابع من أوجه الجواب ــ: رواية أبي سفيان عن جابر.
في «تهذيب التهذيب»
(3): وقال أبو خيثمة عن ابن عُيينة: حديث أبي سفيان عن جابر إنما هي صحيفة، وكذا قال وكيع عن شعبة
… إلى أن قال:
--------------------------------------------
অন্য একটি সূত্র: আমাশ, আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর এতে কয়েকটি দিক থেকে আপত্তি (نظر) রয়েছে:
প্রথমটি—যা উত্তর প্রদানের পঞ্চম দিক—আমাশ-এর আবু সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করা।
'তাহজীবুত তাহজীব'
(১) গ্রন্থে আমাশ-এর জীবনীতে বলা হয়েছে: "আবু বকর আল-বাযযার বলেন: তিনি আবু সুফিয়ান থেকে কিছুই সরাসরি শ্রবণ (سمع) করেননি, অথচ তিনি তার থেকে প্রায় একশ হাদিস বর্ণনা করেছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি পরিচিত পাণ্ডুলিপি (صحيفة) ছিল।"
এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, বড়জোর এতে যা রয়েছে তা হলো তিনি তার থেকে প্রাপ্তিপত্র (وجادة) পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, যা বর্ণনা পদ্ধতিসমূহের (طرق الرواية) মধ্যে একটি।
দ্বিতীয়টি—যা উত্তর প্রদানের ষষ্ঠ দিক—স্বয়ং আবু সুফিয়ানের ব্যক্তিগত অবস্থা।
'তাহজীবুত তাহজীব'
(২) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আহমাদ বলেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)... এরপর বলা হয়েছে: ইবনে আবি খাইসামাহ ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি কিছুই নন (لاشيء)। অতঃপর তিনি তার সম্পর্কে ইমামদের উক্তিগুলো উল্লেখ করেছেন, যাদের অধিকাংশই তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق)-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। আর শাইখান এবং জামাআত তার থেকে বর্ণনা পেশ করেছেন।
তৃতীয় দিক—যা উত্তর প্রদানের সপ্তম দিক—জাবির থেকে আবু সুফিয়ানের বর্ণনা।
'তাহজীবুত তাহজীব'
(৩) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আবু খাইসামাহ ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: জাবির থেকে আবু সুফিয়ানের বর্ণিত হাদিসগুলো মূলত একটি পাণ্ডুলিপি (صحيفة)। অনুরূপভাবে ওয়াকি শুবা থেকে বর্ণনা করেছেন... শেষ পর্যন্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৬১)
وفي «العلل الكبير» لعلي بن المديني: أبو سفيان لم يسمع من جابر إلَّا أربعة أحاديث. وقال فيها
(1): أبو سفيان يُكتب حديثه وليس بالقويِّ، وقال أبو حاتم عن شعبة: لم يسمع أبو سفيان من جابر إلَّا أربعة أحاديث.
قال الحافظ
(2): قلتُ: لم يخرج البخاري له إلَّا أربعة أحاديث عن جابر، وأظنُّها التي عناها شيخه علي بن المديني، منها حديثان في الأشربة قَرنه بأبي صالح، وفي الفضائل حديث: «اهتز العرش» كذلك، والرابع في تفسير سورة الجمعة، قَرَنه بسالم بن أبي الجَعْد.
[ص 17] فتبَيّن أنَّ هذا الحديث ممَّا لم يسمعه أبو سفيان عن جابر.
وقد يُجاب عن هذا بأنَّ غاية ما فيه أنَّه من الصَّحيفة، ولعلَّها كانت صحيحة، فيكون مناولةً أو وجادةً، وأبو سفيان ثقةٌ عند الأكثر.
الوجه الثامن: قال أبو داود
(3): حدَّثنا محمد بن محبوب وإسماعيل بن إبراهيم، المعنى، قالا: ثنا حفص بن غياث، وساق الإسناد كإسناد ابن ماجه
(4) بطريقيه، وذكر الحديث، وآخره: فقال له: «أصليتَ شيئًا؟ قال: لا».
ومحمد بن محبوب وإسماعيل بن إبراهيم أرجح من داود بن رُشَيد.
[ص 18] الوجه التاسع: أنَّه قد روى حديثَ سُلَيك عن الأعمش
--------------------------------------------
আলী ইবনে মাদিনীর ‘আল-ইলাল আল-কাবীর’ গ্রন্থে রয়েছে: আবু সুফিয়ান জাবির থেকে মাত্র চারটি হাদিস শুনেছেন। তিনি তাতে আরও বলেছেন
(১): আবু সুফিয়ানের হাদিস লিখে রাখা যায় (يُكتب حديثه), তবে তিনি শক্তিশালী (قوي) নন। আবু হাতিম শু‘বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু সুফিয়ান জাবির থেকে মাত্র চারটি হাদিস শুনেছেন।
হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন
(২): আমি বলছি: বুখারি জাবিরের সূত্রে তাঁর থেকে মাত্র চারটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। আমার ধারণা, এগুলোই সেই হাদিস যেগুলোর প্রতি তাঁর উস্তাদ আলী ইবনে মাদিনী ইঙ্গিত করেছেন। এর মধ্যে দুটি হাদিস পানীয় অধ্যায়ে, যেখানে তাঁকে আবু সালিহের সাথে একত্রে (قرنه) উল্লেখ করা হয়েছে। ফাজায়েল (মর্যাদা) অধ্যায়ে ‘আরশ কেঁপে উঠেছিল’ সংক্রান্ত হাদিসটিও অনুরূপ। চতুর্থটি সূরা আল-জুমুআহর তাফসীর প্রসঙ্গে, যেখানে তাঁকে সালিম ইবনে আবুল জা‘দ-এর সাথে একত্রে (قرنه) উল্লেখ করা হয়েছে।
[পৃষ্ঠা ১৭] সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, আলোচ্য হাদিসটি সেই সব হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নয় যা আবু সুফিয়ান জাবির থেকে সরাসরি শুনেছেন।
এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, বড়জোর এটি হতে পারে যে তিনি এটি কোনো পান্ডুলিপি (صحيفة) থেকে গ্রহণ করেছেন, আর সম্ভবত সেই পান্ডুলিপিটি সহিহ (صحيحة) ছিল; ফলে এটি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রাপ্ত (مناولة) কিংবা প্রাপ্ত পান্ডুলিপি থেকে বর্ণনা (وجادة) হিসেবে গণ্য হবে। আর আবু সুফিয়ান অধিকাংশের মতে নির্ভরযোগ্য (ثقة)।
অষ্টম দিক: আবু দাউদ বলেছেন
(৩): আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব ও ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন—উভয় বর্ণনার অর্থ (المعنى) অভিন্ন—তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট হাফস ইবনে গিয়াস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি ইবনে মাজার সনদের (إسناد) মতো করেই উভয় পথে এর সনদ (إسناد) বর্ণনা করেছেন এবং হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। এর শেষে রয়েছে: তিনি তাঁকে বললেন: ‘তুমি কি কোনো নামাজ পড়েছ?’ তিনি বললেন: ‘না’।
আর মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব ও ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম দাউদ ইবনে রুশাইদ অপেক্ষা অধিকতর অগ্রগণ্য (أرجح)।
[পৃষ্ঠা ১৮] নবম দিক: আ‘মাশ থেকে সুলাইক-এর হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৬২)
عيسى بن يونس، وحديثه عند مسلم
(1)، وأبومعاوية، وحديثه عند أحمد والدارقطني
(2)، وسفيان، وحديثه عند أحمد والدارقطني
(3) أيضًا. وخالفوا حفص بن غياث سنَدًا ومتنًا.
أمَّا في السند: فلم يذكر أحد منهم الرواية الأخرى عن أبي صالح عن أبي هريرة، بل كلُّهم اقتصروا عن أبي سفيان عن جابر.
وإنَّما قال الحافظ في «الإصابة»
(4) في ترجمة سُلَيك وذكر هذا الحديث: «وروى ابن ماجه وأبو يعلى من طريق الأعمش [عن أبي صالح]
(5) عن أبي هريرة
… » إلخ.
ولا أدري كيف روايةُ أبي يعلى؟ فلْتُرَاجع
(6)، إن لم يكن ذِكر أبي يعلى خطأ، والأصل «أبي داود».
وأمَّا في المتن، فكلُّهم لم يذكروا تلك الزيادة.
الوجه العاشر: أنَّه قد روى حديث سُليك عن أبي سفيان: الوليدُ أبو بشر، وهو الوليد بن مسلم بن شهاب التميمي العنبري. وحديثه عند أبي
--------------------------------------------
ঈসা ইবনে ইউনুস, তার হাদিস মুসলিম-এ বিদ্যমান
(১), আবু মুয়াবিয়া, তার হাদিস আহমাদ ও দারাকুতনি-তে বিদ্যমান
(২), সুফিয়ান, তার হাদিসও আহমাদ ও দারাকুতনি-তে বিদ্যমান
(৩)। তারা সূত্র (سند) ও মূলপাঠ (متن)-এর ক্ষেত্রে হাফস বিন গিয়াস-এর বিরোধিতা করেছেন।
সূত্রের (سند) ক্ষেত্রে: তাদের কেউ আবু সালিহ-এর মাধ্যমে আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত অপর বর্ণনাটি (رواية) উল্লেখ করেননি, বরং তারা সকলেই আবু সুফিয়ান-এর মাধ্যমে জাবির থেকে বর্ণিত বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন।
পক্ষান্তরে হাফিজ তার 'আল-ইসাবাহ'
(৪) গ্রন্থে সুলাইক-এর জীবনীতে (ترجمة) এই হাদিসটি উল্লেখ করে বলেছেন: "ইবনে মাজাহ ও আবু ইয়ালা আমাশ-এর মাধ্যমে [আবু সালিহ থেকে]
(৫) আবু হুরাইরাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন…" ইত্যাদি।
আমি জানি না আবু ইয়ালা-র বর্ণনাটি (رواية) কেমন? এটি পুনঃনিরীক্ষণ করা প্রয়োজন
(৬), যদি আবু ইয়ালা-র উল্লেখটি ভুল না হয়ে থাকে এবং মূল উৎস 'আবু দাউদ' হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আর মূলপাঠের (متن) ক্ষেত্রে, তারা কেউই সেই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) উল্লেখ করেননি।
দশম দিক: সুলাইক-এর হাদিসটি আবু সুফিয়ান-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ওয়ালিদ আবু বিশর, তিনি হলেন ওয়ালিদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আত-তামিমি আল-আনবারি। তার হাদিস আবু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৩)
داود وأحمد والدارقطني
(1)، ولم يذكر في حديثه تلك الزيادة.
الوجه الحادي عشر: أنَّه قد روى حديثَ سُليك عن جابر: عمرو بن دينار، وحديثه في الصحيحين
(2) وغيرهما. وأبو الزبير، وحديثه عند مسلم والشافعي وابن ماجه
(3)، ولم يذكرا في حديثهما تلك الزيادة.
الوجه الثاني عشر: أنَّه قد روى حديثَ سُليك: أبو سعيد الخدري رضي الله عنه، وحديثه عند الترمذي وأحمد والشَّافعيِّ وابن ماجه
(4)، ولم يذكر تلك الزِّيادة.
والحاصل: أنَّ إسناد الحديث عن أبي هريرة انفرَد به حفصُ بن غياث عن الأعمش، وانفرَد به الأعمش عن أبي صالح، وانفرَد به أبوصالح عن أبي هريرة، وانفرَد بإدخال هذه الزِّيادة فيه داود بن رُشَيد عن حفص بن غياث.
وانفرَد بإدخال الزِّيادة في حديث جابر: داود بن رُشَيد عن حفص، وحفص عن الأعمش، والأعمش عن أبي سفيان، وأبوسفيان عن جابر.
وقد روى الحديثَ عن حفصٍ محمدُ بن محبوب وإسماعيل بن إبراهيم، فلم يذكراها.
ورواه عن الأعمش عيسى بن يونس وأبو معاوية وسفيان، فلم يذكروها.
--------------------------------------------
আবু দাউদ, আহমদ ও দারাকুতনী
(১) এবং তিনি তাঁর হাদিসে সেই অতিরিক্ত অংশ (زيادة) উল্লেখ করেননি।
একাদশ দিক: জাবির (রা.) থেকে সুলাইকের হাদিসটি আমর ইবনে দীনার বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর হাদিসটি সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে। আর আবু যুবাইরও তা বর্ণনা করেছেন, তাঁর হাদিসটি মুসলিম, শাফেয়ী ও ইবনে মাজাহ-তে রয়েছে; তাঁরা উভয়েই তাঁদের হাদিসে সেই অতিরিক্ত অংশ (زيادة) উল্লেখ করেননি।
দ্বাদশ দিক: আবু সাঈদ খুদরী (রা.) সুলাইকের হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর হাদিসটি তিরমিযী, আহমদ, শাফেয়ী ও ইবনে মাজাহ-তে রয়েছে, তিনিও সেই অতিরিক্ত অংশ (زيادة) উল্লেখ করেননি।
সারকথা হলো: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটির সনদ (إسناد) বর্ণনায় আমাশ থেকে হাফস ইবনে গিয়াস একক হয়ে গেছেন (انفرد), আমাশ আবু সালিহ থেকে একক হয়ে গেছেন (انفرد), আর আবু সালিহ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একক হয়ে গেছেন (انفرد)। আর এই হাদিসে এই অতিরিক্ত অংশ (زيادة) অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে হাফস ইবনে গিয়াস থেকে দাউদ ইবনে রুশাইদ একক হয়ে গেছেন (انفرد)।
আর জাবির (রা.)-এর হাদিসে অতিরিক্ত অংশ (زيادة) অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে দাউদ ইবনে রুশাইদ হাফস থেকে, হাফস আমাশ থেকে, আমাশ আবু সুফিয়ান থেকে এবং আবু সুফিয়ান জাবির (রা.) থেকে একক হয়ে গেছেন (انفرد)।
হাফস থেকে হাদিসটি মুহাম্মদ ইবনে মাহবুব ও ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা তা উল্লেখ করেননি।
আর আমাশ থেকে ঈসা ইবনে ইউনুস, আবু মুয়াবিয়া ও সুফিয়ান এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাঁরাও তা উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১৬)
সুন্নাতুল জুমুয়াতিল কাবলিয়্যাহ - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি
(পৃষ্ঠা: ৩৬৪)
ورواه عن أبي سفيان الوليدُ ين مسلم بن شهاب التميمي العنبري فلم يذكرها.
ورواه عن جابر عَمْرو بن دينار وأبو الزُّبير فلم يذكراها.
ورواه عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أبو سعيد الخدري فلم يذكرها.
[ص 19] والظاهر ــ والله أعلم ــ أنَّ داود بن رُشيد أو حفص بن غِياث فَهِم من قوله في عامة الروايات: «أصليت» أنَّ المراد: «أصليتَ قبل أن تجيء»، فأدرج هذه الزيادة تفسيرًا أو غلطًا.
وسبب الفهم أنَّ أكثر الروايات تُشعِر أنَّ سبب خطاب النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم لسُليك هو أنَّه رآه دخل المسجد ولم يُصلِّ، فلمَّا قال له: «أصلَّيْتَ؟ » لم يمكن أن يكون المراد: أصليتَ في المسجد؟ فلم يبقَ إلَّا أن يكون المراد: أصليتَ قبل أن تجيء؟
وهذا الفهم فيه نَظَرٌ من وجوه:
الأول: أنَّ الذي يدلُّ عليه حديث أبي سعيد رضي الله عنه أنَّ سبب خطاب النَّبي صلى الله عليه وآله وسلم لسُلَيك هو أنَّه رآه بهيئة بذَّةٍ، فدعاه رجاءَ أنْ يراه الناس بتلك الهيئة فيتصدَّقوا عليه، ثم سأله: «أصلَّيت؟ » لاحتمال أنْ يكون صلَّى قبل أن يدعوه، فقال: لا، فأمره بالصلاة.
وهذا لفظ الحديث عن الإمام أحمد
(1): عن أبي سعيد قال: «دخل رجلٌ المسجدَ يومَ الجمعة والنَّبي صلى الله عليه وآله وسلم على المنبر، فدعاه فأمره أن يُصلِّي
--------------------------------------------
আবু সুফিয়ান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আত-তামিমি আল-আনবারি, কিন্তু তিনি এটি উল্লেখ করেননি।
আর জাবির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে দিনার এবং আবু আল-জুবায়র, কিন্তু তারা উভয়ও এটি উল্লেখ করেননি।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-খুদরি, কিন্তু তিনি এটি উল্লেখ করেননি।
[পৃষ্ঠা ১৯] বাহ্যত প্রতীয়মান হয়—আর আল্লাহই ভালো জানেন—দাউদ ইবনে রুশাইদ অথবা হাফস ইবনে গিয়াস সাধারণ বর্ণনার শব্দ 'তুমি কি সালাত আদায় করেছ?' থেকে বুঝেছেন যে, এর অর্থ হলো 'তুমি কি আসার আগে সালাত আদায় করেছ?'। ফলে তিনি ব্যাখ্যামূলকভাবে অথবা ভুলবশত এই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) প্রক্ষিপ্ত করেছেন (أدرج)।
এই রূপ বোঝার কারণ হলো, অধিকাংশ বর্ণনা থেকে অনুভূত হয় যে, সুলাইকের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্বোধনের কারণ ছিল তাকে মসজিদে প্রবেশ করতে দেখা অথচ তিনি সালাত আদায় করেননি। অতঃপর যখন তিনি তাকে বললেন: 'তুমি কি সালাত আদায় করেছ?', তখন এর অর্থ 'তুমি কি মসজিদে সালাত আদায় করেছ?' হওয়া সম্ভব নয়; বরং কেবল এটাই অর্থ হতে পারে যে, 'তুমি কি আসার আগে সালাত আদায় করেছ?'।
এই অনুধাবনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু দিক থেকে আপত্তি (نظر) রয়েছে:
প্রথমত: আবু সাঈদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস যা নির্দেশ করে তা হলো, সুলাইকের প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্বোধনের কারণ ছিল তাকে জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখা। তাই তিনি তাকে ডাকলেন এই আশায় যেন মানুষ তাকে এই অবস্থায় দেখে এবং তার প্রতি সদকা করে। এরপর তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: 'তুমি কি সালাত আদায় করেছ?' কারণ তিনি তাকে ডাকার আগেই হয়তো সালাত আদায় করে থাকতে পারেন এমন সম্ভাবনা ছিল। সে উত্তর দিল: 'না', তখন তিনি তাকে সালাত আদায় করার নির্দেশ দিলেন।
ইমাম আহমদ বর্ণিত হাদিসের শব্দ নিম্নরূপ
(১): আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'জুমার দিন জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বারের ওপর ছিলেন। তিনি তাকে ডাকলেন এবং সালাত আদায় করার নির্দেশ দিলেন।
--------------------------------------------