(খণ্ড: ১)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: -)
الانحراف العقدي في أدب الحداثة وفكرها القسم: الفرق والردود
الكتاب: الانحراف العقدي في أدب الحداثة وفكرها «دراسة نقدية شرعية»
المؤلف: د سعيد بن ناصر الغامدي
أصل الكتاب: رسالة دكتوراة - كلية أصول الدين، قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية
الناشر: دار الأندلس الخضراء للنشر والتوزيع، جدة - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الأجزاء: 3 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 ذو الحجة 1441
আধুনিক সাহিত্য ও চিন্তাধারায় আকিদাগত বিচ্যুতি বিভাগ: দল ও খণ্ডন
বই: আধুনিক সাহিত্য ও চিন্তাধারায় আকিদাগত বিচ্যুতি «একটি শরয়ি সমালোচনামূলক গবেষণা»
লেখক: ড. সাঈদ বিন নাসের আল-গামদি
বইয়ের উৎস: ডক্টরাল থিসিস - উসুলুদ্দীন অনুষদ, আকিদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগ - ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশক: দারুল আন্দালুস আল-খাদরা প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা, জেদ্দা - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২১ জিলহজ ১৪৪১
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: -)
الانحراف العقدي في أدب الحداثة وفكرها
«دراسة نقدية شرعية»
تأليف
الدكتور سعيد بن ناصر الغامدي
[المجلد الأول]
আধুনিকতার সাহিত্য ও চিন্তাধারায় আকিদাগত বিচ্যুতি
«একটি শরয়ী ও সমালোচনামূলক গবেষণা»
রচনায়
ড. সাঈদ বিন নাসের আল-গামেদী
[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: -)
حقوق الطبع محفوظة
الطبعة الأولى
1424 هـ - 2003 م
دار الأندلس الخضراء
المملكة العربية السعودية - جدة
الإدارة: ص. ب: 42340 - جدة: 21541
هاتف: 6810577 - فاكس 6810578
المكتبات:
• حي السلامة - شارع عبد الرحمن السديري - مركز السلامة التجاري هاتف - فاكس: 6825209
• حي الثغر - شارع باخشب - سوق الجامعة التجاري هاتف: 6815027 - فاكس: 6810578
• فرع الرياض: حي السويدي الغربي - بجوار أسواق اليمامة هاتف: 2434930 - فاكس 4333657
http:www.al-andalus-kh.com
E-MAIL:info@al-andalus-kh.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪২৪ হিজরী - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
দারুল আন্দালুস আল-খাদরা
সৌদি আরব রাজতন্ত্র - জেদ্দা
প্রশাসন: ডাক বাক্স: ৪২৩৪০ - জেদ্দা: ২১৫৪১
ফোন: ৬৮১০৫৭৭ - ফ্যাক্স: ৬৮১০৫৭৮
লাইব্রেরিসমূহ:
• হাইয়ুস সালামাহ - আব্দুর রহমান আস-সুদাইরী রোড - আস-সালামাহ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ফোন - ফ্যাক্স: ৬৮২৫২০৯
• হাইয়ুথ থাগার - বাখশাব রোড - ইউনিভার্সিটি বাণিজ্যিক মার্কেট। ফোন: ৬৮১৫০২৭ - ফ্যাক্স: ৬৮১০৫৭৮
• রিয়াদ শাখা: পশ্চিম সুওয়াইদী জেলা - আল-ইয়ামামা মার্কেটের পাশে। ফোন: ২৪৩৪৯৩০ - ফ্যাক্স: ৪৩৩৩৬৫৭
http:www.al-andalus-kh.com
ই-মেইল:info@al-andalus-kh.com
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
أصل هذا الكتاب رسالة مقدمة إلى كلية أصول الدين قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة في جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، لنيل درجة الدكتوراه.
ونال بها المؤلف درجة الامتياز مع مرتبة الشرف الأولى، إثر مناقشة علمية تمت في تاريخ 26/ 1/ 1420 هـ، وكانت لجنة المناقشة مكونة من:
1 - سماحة الشيخ عبد العزيز بن عبد اللَّه آل الشيخ، مفتي عام المملكة العربية السعودية، مشرفًا ومقررًا.
2 - معالي الشيخ أ. د صالح بن عبد اللَّه بن حميد إمام وخطيب المسجد الحرام وعضو هيئة كبار العلماء، ورئيس مجلس الشورى، عضوًا.
3 - فضيلة الشيخ أ. د ناصر بن عبد الكريم العقل، عضو هيئة التدريس في كلية أصول الدين في الرياض، عضوًا.
4 - سعادة الأستاذ د. حسن بن فهد الهويمل، عضو هيئة التدريس في كلية اللغة العربية في القصيم ورئيس نادى القصيم الأدبي، عضوًا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
এই গ্রন্থটির মূল উৎস হলো ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের আকীদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে পেশকৃত একটি অভিসন্দর্ভ।
২৬/ ০১/ ১৪২০ হিজরি তারিখে অনুষ্ঠিত একটি বৈজ্ঞানিক আলোচনার পর লেখক এতে প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ চমৎকার (মুমতায) গ্রেড অর্জন করেন। উক্ত আলোচনা কমিটি নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত ছিল:
১ - মহামান্য শায়খ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-শাইখ, সৌদি আরব রাজ্যের গ্র্যান্ড মুফতি, তত্ত্বাবধায়ক ও প্রতিবেদক।
২ - মহামান্য শায়খ প্রফেসর ড. সালেহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুমাইদ, মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব, সিনিয়র উলামা পরিষদের সদস্য এবং শুরা কাউন্সিলের সভাপতি, সদস্য।
৩ - ফযীলাতুশ শায়খ প্রফেসর ড. নাসির বিন আব্দুল কারীম আল-আকল, রিয়াদের উসুলুদ্দীন অনুষদের শিক্ষক মন্ডলীর সদস্য, সদস্য।
৪ - মহামান্য প্রফেসর ড. হাসান বিন ফাহদ আল-হুয়াইমেল, কাসিমের আরবি ভাষা অনুষদের শিক্ষক মন্ডলীর সদস্য এবং কাসিম সাহিত্য ক্লাবের সভাপতি, সদস্য।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١)
المقَدّمَةالحمد للَّه رب الناس، ملك الناس، إله الناس، خالق الخلق أجمعين، الإله الحق المبين، خلق الإنسان من سلالة من طين، وخلق الملائكة من نور مبين، وخلق الجان من مارج من نار، أرسل الرسل، وأنزل الكتب، وقدر المقادير، وشرع الشرائع، وخلق الدنيا والآخرة، والموت والحياة، والجنة والنار، وجعل الجنة للمؤمنين دارًا، والنار للكافرين قرارًا.
وصلى اللَّه وسلم على خاتم أنبيائه، المبعوث رحمة للعالمين أجمعين، بالدين القويم، والصراط المستقيم، فدعا إلى اللَّه وجاهد في سبيله، وأقام منارات العلم والهدى والخير والعدل، وأثبت أحكام الإسلام في خير دولة أقيمت على وجه الأرض، وأنشأ مجتمعًا هو خير مجتمع ظهر على وجه البسيطة، اتبعوا أوامر اللَّه فلم يضلوا، وحكَّمُوا شريعته فلم يذلوا، وساروا على الهدى المستقيم فكانوا خير أمة أخرجت للناس، رضي الله عنهم وعن التابعين وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين، أمَّا بعد:
فإنه لما كثرت سهام الشبهات التي يرميها أعداء الإسلام، وتطاول أهلها، وأجلبوا بخيلهم ورجلهم، وبثوا سمومهم الفكرية والسلوكية، على شبيبة الأمة الإسلامية، محاولين إغراقهم في الضلالات، وإخراجهم من النور إلى الظلمات، وتبديل يقينهم وإيمانهم، وطرحهم في مفاوز الشكوك والريب والترهات؛ كان لزامًا على من علم ذلك أن يبين لأمته وأبناء ملته خطورة هذه المسالك، وفظاعة هذه المهالك، كما قال تعالى: {وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ (55)}
(1).
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষের রব, মানুষের অধিপতি, মানুষের ইলাহ, সকল সৃষ্টির স্রষ্টা, সুষ্পষ্ট সত্য ইলাহ। তিনি মানুষকে কাদার নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছেন, ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন সুষ্পষ্ট নূর থেকে এবং জিনদের সৃষ্টি করেছেন নির্ধূম আগুনের শিখা থেকে। তিনি রাসূলদের পাঠিয়েছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, তকদীর নির্ধারণ করেছেন, বিধানসমূহ প্রবর্তন করেছেন এবং দুনিয়া ও আখিরাত, জীবন ও মৃত্যু এবং জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন। তিনি মুমিনদের জন্য জান্নাতকে ঘর এবং কাফিরদের জন্য জাহান্নামকে আবাসন হিসেবে নির্ধারিত করেছেন।
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ নবীর ওপর, যাকে সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন ও সরল পথসহ সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠানো হয়েছে। অতঃপর তিনি আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাঁর পথে জিহাদ করেছেন, আর জ্ঞান, হিদায়াত, কল্যাণ ও ইনসাফের আলোকবর্তিকা স্থাপন করেছেন। তিনি ভূপৃষ্ঠে প্রতিষ্ঠিত সর্বশ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রে ইসলামের বিধানসমূহ সুদৃঢ় করেছেন এবং এমন এক সমাজ গঠন করেছেন যা পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত সর্বশ্রেষ্ঠ সমাজ। তারা আল্লাহর আদেশসমূহ অনুসরণ করেছিল ফলে পথভ্রষ্ট হয়নি, তাঁর শরীয়ত অনুযায়ী শাসনকার্য পরিচালনা করেছিল ফলে লাঞ্ছিত হয়নি এবং তারা সরল হিদায়াতের ওপর পরিচালিত হয়েছিল ফলে তারা মানবজাতির জন্য বের করা শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে গণ্য হয়েছে। আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপরও। অতঃপর:
যখন ইসলামের শত্রুদের নিক্ষিপ্ত সংশয়ের তীরগুলো বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সংশয়বাদীরা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে, আর তারা তাদের অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং মুসলিম উম্মাহর যুবসমাজের ওপর তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আচরণগত বিষ ছড়িয়ে দিয়েছে; তাদের লক্ষ্য হলো যুবকদের ভ্রষ্টতার অতল গহ্বরে ডুবিয়ে দেওয়া, আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়া, তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ও ঈমান পরিবর্তন করা এবং তাদের সন্দেহ, সংশয় ও অসারতার মরুপ্রান্তরে নিক্ষেপ করা। এমতাবস্থায়, যে ব্যক্তি বিষয়টি অবগত হয়েছে তার ওপর আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সে তার উম্মত ও স্বজাতির সামনে এই পথের ভয়াবহতা ও এই ধ্বংসলীলার বিভীষিকা বর্ণনা করবে। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায় (৫৫)}
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - أهمية الموضوع وسبب اختياره:إن من أخطر وأشنع ما فعله أعداء الإسلام لتحصيل تلك المطالب الخبيثة، وتحقيق تلك المقاصد الضالة ما اتخذ في زمننا هذا من أساليب ثقافية ظاهرها "الأدب والشعر والثقافة والنقد" وباطنها الكفر والشك والنفاق.
ذلك أن أعداء الإسلام استطاعوا أن يبذروا في أرض المسلمين بذور حقدهم، ويستنبتوا فيها -في غفلة وضعف من أهلها- نباتات الشجرة الخبيثة، شجرة المادية الملعونة، فإذا بالمسلمين يرون ويسمعون من ينادي بالكفر جهرة ويدعو إلى الضلال صراحة، ويروج للرذائل الفكرية والخلقية علانية، مرة تحت قناع "الأدب الحديث" ومرة تحت شعار "الثقافة الإنسانية" وأخرى تحت لافتة "التحديث ومجاراة العصر وتداخل الثقافات" وأخر لا تحصى تحت عناوين كثيرة تدور كلها تحت معنى قول اللَّه تعالى: {وَدُّوا لَوْ تَكْفُرُونَ كَمَا كَفَرُوا فَتَكُونُونَ سَوَاءً}
(1)، وقوله سبحانه: {وَيُرِيدُ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الشَّهَوَاتِ أَنْ تَمِيلُوا مَيْلًا عَظِيمًا}
(2).
فالإضلال والإفساد غايتهم ومسلكهم ومنهجهم مستخدمين في ذلك وسائل الشهوات والشبهات، ومع كل ذلك يزعمون ويدعون أنهم يريدون الإصلاح، والنهضة والتقدم: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ (11) أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِنْ لَا يَشْعُرُونَ (12)}
(3).
إن الخبرة الإسلامية في مواجهة أرباب التضليل والإفساد خبرة طويلة مريرة، بيد أن أشدها مرارة، وأقساها وطأة هي ما تمر به الأمة في هذه الأزمنة، إثر ما يسمى بـ "الصدمة الحضارية" التي أنتجت أجيالًا من أبناء المسلمين، انسلخت من دينها وقيمها، وراحت تلهث خلف سراب المذاهب المادية، والعقائد الجاهلية المعاصرة، وأصحابها يمدونهم في الغي ثم لا يقصرون، ويغرونهم، ويمكنون لهم -بحكم غلبتهم ونفوذهم- في شتى الميادين.
إن مختلف النظم الفكرية المعاصرة المستوردة، تحمل في طياتها ألوانًا
--------------------------------------------
১ - বিষয়ের গুরুত্ব এবং তা নির্বাচনের কারণ:ইসলামের শত্রুরা তাদের সেই মন্দ দাবিগুলো আদায় করতে এবং সেই ভ্রষ্ট উদ্দেশ্যগুলো হাসিল করার জন্য যা কিছু করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ও জঘন্যতম হলো আমাদের বর্তমান সময়ে অবলম্বিত সেই সাংস্কৃতিক পদ্ধতিসমূহ, যার বাহ্যিক রূপ হলো "সাহিত্য, কবিতা, সংস্কৃতি ও সমালোচনা" আর যার অভ্যন্তরীণ রূপ হলো কুফর, সংশয় ও নিফাক।
এর কারণ হলো, ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদের ভূমিতে তাদের বিদ্বেষের বীজ বপন করতে সক্ষম হয়েছে এবং মুসলিমদের অসতর্কতা ও দুর্বলতার সুযোগে সেখানে সেই মন্দ বৃক্ষ—অভিশপ্ত বস্তুবাদের বৃক্ষ—রোপণ করেছে। ফলে মুসলিমরা এখন প্রকাশ্যে কুফরের আহ্বানকারী এবং স্পষ্টভাবে পথভ্রষ্টতার দিকে দাওয়াত দানকারীদের দেখতে ও শুনতে পাচ্ছে। তারা বুদ্ধিবৃত্তিক ও চারিত্রিক পঙ্কিলতাকে জনসমক্ষে প্রচার করছে; কখনো "আধুনিক সাহিত্য"-এর মুখোশে, কখনো "মানবিক সংস্কৃতি"-এর স্লোগানে, আবার কখনো "আধুনিকায়ন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এবং সংস্কৃতির মিথস্ক্রিয়া"-এর ব্যানারে এবং আরও অগণিত শিরোনামে, যার সবই মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়: "তারা কামনা করে যে, তোমরাও যেন কুফরি করো যেমন তারা কুফরি করেছে, যাতে তোমরা সমান হয়ে যাও", এবং তাঁর বাণী: "আর যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তারা চায় যে তোমরা যেন ভীষণভাবে বিচ্যুত হও"।
পথভ্রষ্ট করা এবং বিপর্যয় সৃষ্টি করাই তাদের লক্ষ্য, পথ ও পদ্ধতি। এ কাজে তারা প্রবৃত্তি ও সংশয়সমূহকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। এতদসত্ত্বেও তারা দাবি করে যে তারা সংস্কার, জাগরণ ও অগ্রগতি চায়: "আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না’, তারা বলে, ‘আমরা তো কেবল সংশোধনকারীই।’ জেনে রেখো, তারাই মূলত বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না" (৩)।
বিভ্রান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের মোকাবিলায় ইসলামের অভিজ্ঞতা দীর্ঘ ও তিক্ত। তবে তার মধ্যে সবচেয়ে তিক্ত এবং সবচেয়ে কঠোর আঘাত হলো তা, যার মধ্য দিয়ে উম্মাহ বর্তমান সময়ে অতিবাহিত করছে। এটি সেই তথাকথিত "সাংস্কৃতিক অভিঘাত"-এর ফল, যা মুসলিম সন্তানদের মধ্যে এমন এক প্রজন্মের জন্ম দিয়েছে যারা নিজেদের ধর্ম ও মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বস্তুবাদের মরীচিকা ও সমসাময়িক জাহেলি আকিদাগুলোর পেছনে হন্যে হয়ে ছুটছে। আর তাদের দোসররা তাদের বিভ্রান্তির মধ্যে আরও ঠেলে দিচ্ছে এবং কোনো ত্রুটি করছে না। তারা তাদের প্রলুব্ধ করছে এবং নিজেদের আধিপত্য ও প্রভাবের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের জন্য পথ সুগম করে দিচ্ছে।
আমদানিকৃত বিভিন্ন আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যবস্থাগুলো নিজেদের ভেতরে বিভিন্ন রূপ বহন করে আছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٣)
عديدة من الانحرافات؛ ذلك لأنها إفراز نظريات مادية ذات جذور وثنية.
ومن أخطر هذه النظم المستوردة: النظام اللاديني المسمى بـ "العلمانية" والذي يظهر في أردية شتى، منها الرداء الثقافي والأدبي المسمى بـ "الحداثة" التي أولع بها بعض أبناء البلاد الإسلامية فراحوا يبثون من خلالها السموم الفكرية، ويرسخون المفاهيم الضلالية فاتحين أمام شباب الأمة أبواب التمرد -باسم الثقافة والأدب- ونوافذ التحدي للدين والسلوك القويم.
كل همهم ترويج أصناف الزيف تحت شعار الحرية الفكرية وعالمية الفكر الإنساني والموضوعية العلمية، وهم أبعد الناس عن الحرية؛ لأنهم مجرد أتباع مقلدين، وأبعد الناس عن الموضوعية؛ لأنهم أصحاب أهواء تجارت بهم تجاري الكَلَب بصاحبه.
ولكنهم -بسبب غفلة أو تغافل، جهل أو عمالة- رسّخت لهم أقدام في مواضع التأثير، فإذا بالأمة ترى من أبنائها من يدعو إلى الإلحاد ويجاهر بالكفر ويحارب دين اللَّه جهارًا نهارًا، ومن لم يكن على هذا القدر من الشطط في الكفر، أو لم تكن له القدرة على التصريح به، تجده ملفوفًا بالشكوك في كل ما يتعلق بالإسلام من عقائد وشرائع وأخلاق، يتناولها تناول المستريب، ويحاكمها محاكمة المتهم.
وهؤلاء وهؤلاء لا يفتأون يذكرون أئمة الكفر بالذكر العاطر، ويجعلون منهم قدوات، ويرسمونهم أمام أعين الأجيال في أحسن صورة وأجمل وصف، ويغدقون عليهم ألوان المديح والإطراء والتبجيل والتمجيد.
وهناك صنف ثالث تسيطر عليه بعض أوهام المروجين للخمور الفكرية، فيرى أن الإسلام دين سماويّ يعتني بالقيم والأخلاق والشعائر، والعقائد المجردة، لكنه لا يستوعب الواقع ولا يتدخل فيه، ولا يعنيه من أمور الناس إلّا ما كان في إطار السلوك والشعائر، أمَّا الأدب والفكر والثقافة أو السياسة والاقتصاد، فهذه لها ميادينها المستقلة عن الدين وأحكامه ومعاييره، وهذا الصنف -على إغراقه في الانحراف- يعتبر من أمثلهم طريقة.
وهناك صنف رابع ضُربت عليهم عماية الجهل أو التجاهل، ورانت على قلوبهم غشاوة الغباء أو التغابي، فإذا هم يهونون من خطر هؤلاء ويحسنون بهم الظن، ويدافعون عنهم، ويميّعون النظرة الحقيقية الجادة، ويضفون البراءة
অনেক বিচ্যুতি; কারণ এগুলো পৌত্তলিক শিকড়যুক্ত বস্তুবাদী তত্ত্বের বহিঃপ্রকাশ।
এই আমদানিকৃত ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো: "ধর্মনিরপেক্ষতা" নামক ধর্মহীন ব্যবস্থা, যা বিভিন্ন আবরণে আত্মপ্রকাশ করে। এর মধ্যে একটি হলো "আধুনিকতাবাদ" নামক সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আবরণ, যার প্রতি মুসলিম দেশগুলোর কিছু সন্তান আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে তারা এর মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক বিষ ছড়াচ্ছে এবং পথভ্রষ্ট ধারণাগুলোকে বদ্ধমূল করছে; তারা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের নামে উম্মাহর যুবসমাজের সামনে বিদ্রোহের দ্বার এবং দ্বীন ও সঠিক আচরণের প্রতি চ্যালেঞ্জের বাতায়ন উন্মোচন করে দিচ্ছে।
তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা, মানবীয় চিন্তাধারার বিশ্বজনীনতা এবং বৈজ্ঞানিক বস্তুনিষ্ঠতার স্লোগানে নানা প্রকার মিথ্যা প্রচার করা। অথচ তারা স্বাধীনতা থেকে সবচেয়ে দূরে; কারণ তারা নিছক অন্ধ অনুসারী মাত্র। আর তারা বস্তুনিষ্ঠতা থেকেও সবচেয়ে দূরে; কারণ তারা কুপ্রবৃত্তির অনুসারী, যা তাদের ওপর সেভাবেই প্রভাব বিস্তার করেছে যেভাবে জলাতঙ্ক রোগ তার আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর প্রভাব ফেলে।
কিন্তু অসতর্কতা বা অবহেলা, অজ্ঞতা বা দালালি করার কারণে প্রভাব বিস্তারকারী ক্ষেত্রগুলোতে তাদের পা সুদৃঢ় হয়েছে। ফলে উম্মাহ আজ তার নিজের সন্তানদের মধ্যে এমন কাউকে দেখতে পায় যে নাস্তিকতার দিকে আহ্বান জানায়, প্রকাশ্যে কুফরি করে এবং দিবালোকে আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। আর যারা কুফরির ক্ষেত্রে এই পর্যায়ের বাড়াবাড়িতে পৌঁছেনি অথবা তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করার ক্ষমতা যাদের নেই, তাদের দেখা যায় ইসলামের আকিদা, শরিয়ত ও নৈতিকতা সংক্রান্ত প্রতিটি বিষয়ে সন্দেহের জালে জড়িয়ে থাকতে। তারা এ বিষয়গুলোকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রহণ করে এবং অভিযুক্তের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিচার করে।
তারা এবং তাদের অনুসারীরা নিরন্তর কুফরির ইমামদের সুগন্ধযুক্ত স্মরণে স্মরণ করে, তাদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে এবং প্রজন্মের চোখের সামনে তাদের অতি উত্তম রূপে ও সুন্দর বর্ণনায় ফুটিয়ে তোলে। তারা তাদের ওপর নানা প্রকার প্রশংসা, স্তুতি, শ্রদ্ধা ও মহিমা বর্ষণ করে।
সেখানে তৃতীয় একটি শ্রেণি রয়েছে যাদের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক মদ্যপানের প্রচারকদের কিছু ভ্রান্ত ধারণা আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তারা মনে করে যে, ইসলাম একটি আসমানি ধর্ম যা কেবল মূল্যবোধ, নৈতিকতা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং নিছক আকিদাগত বিষয়ের যত্ন নেয়। কিন্তু এটি বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত নয় এবং তাতে হস্তক্ষেপ করে না। মানুষের আচার-আচরণ এবং ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপের পরিমণ্ডল ব্যতীত অন্য কোনো বিষয় ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আর সাহিত্য, চিন্তা, সংস্কৃতি অথবা রাজনীতি ও অর্থনীতি—এগুলোর জন্য দ্বীন, তার বিধান এবং মানদণ্ড থেকে স্বতন্ত্র বিচরণক্ষেত্র রয়েছে। এই শ্রেণিটি—তাদের চরম বিচ্যুতি সত্ত্বেও—অন্যদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত উত্তম হিসেবে গণ্য হয়।
সেখানে চতুর্থ আর একটি শ্রেণি রয়েছে যারা অজ্ঞতা বা অজ্ঞতার ভান করার অন্ধকারে আচ্ছন্ন এবং যাদের হৃদয়ে মূর্খতা বা মূর্খ সেজে থাকার আবরণ পড়ে গিয়েছে। ফলে তারা এদের বিপদকে তুচ্ছ জ্ঞান করে, তাদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করে, তাদের পক্ষাবলম্বন করে, প্রকৃত ও গুরুতর দৃষ্টিভঙ্গিকে হালকা করে ফেলে এবং তাদের নির্দোষ সাব্যস্ত করে।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٤)
عليهم وعلى أعمالهم الشائنة، تحت حجج واهية بليدة، أو يساعدون في إضفاء نوع من الضبابية على جوانب من طرحهم وفكرهم، وكأن لسان حال هذا الصنف ينطق بـ {إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا}
(1).
بل كأنهم لم يسمعوا قول اللَّه تعالى: {وَلَا تُجَادِلْ عَنِ الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنْفُسَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا (107) يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا (108) هَاأَنْتُمْ هَؤُلَاءِ جَادَلْتُمْ عَنْهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَمَنْ يُجَادِلُ اللَّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَمْ مَنْ يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلًا (109)}
(2).
وبين هذه الأصناف جميعًا درجات من الانحراف والضلال بعضها أشر من بعض، كما أن بعضها أخف من بعض.
ومما يزيد الأمر سوءًا أن هؤلاء الممسوخين لهم نفوذ صارخ في أجهزة التوجيه والإعلام في كثير من بلاد المسلمين، ولا شغل لهم إلّا نقل النفايات البشرية، أو المماحكة فيما فرغ الشرع المعصوم من تقريره وإثباته.
قضيتهم الكبرى استيراد الآراء النظرية المتناقضة، وتخدير إحساس الأمة بآلاف الدواوين والمسرحيات والرسوم والمقالات النقدية وغير النقدية، من خلال الإثارة والجاذبية والمتعة الفنية في الشعر والرواية والقصة، وتهريج المسرح وأصباغ الرسوم، ومن خلال صناعة النجوم.
وإذا بنا نرى كل طائفيّ -يحمل أحقاده التاريخية على الإسلام- يخفي دمامة معتقداته تحت فلسفهْ الحداثة والعلمنة، ويخرج سمومه القاتلة من أكمام الثوب الأدبيّ الفضفاض.
كما نرى الوثنية والنصرانية واليهودية تبرز في أقلام المبغضين لقرون الهجرة المباركة، المعادين لتراث الأمة.
وإذا بنا نرى جهودهم وخبراتهم وقدراتهم تصب في إناء اليهودية التلمودية، لتجتمع كلها تحت لواء الرغبة الجامحة للإجهاز على الإسلام وعقيدته وشريعته وتراثه وحضارته وتاريخه المجيد.
--------------------------------------------
তাদের ওপর এবং তাদের জঘন্য কর্মকাণ্ডের ওপর, অত্যন্ত অসার ও নির্বোধ অজুহাতের ভিত্তিতে; অথবা তারা তাদের উপস্থাপনা ও চিন্তাধারার বিভিন্ন দিকের ওপর এক প্রকার অস্পষ্টতা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। মনে হয় যেন এই শ্রেণির অবস্থা এ কথাই বলছে যে, "আমরা তো কেবল কল্যাণ ও সম্প্রীতিই চেয়েছিলাম।"
(১).
বরং তারা যেন মহান আল্লাহর এই বাণী শোনেনি: {আর আপনি তাদের পক্ষে বিতর্ক করবেন না যারা নিজেদের সাথে খিয়ানত করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো অতি খিয়ানতকারী ও পাপীকে পছন্দ করেন না (১০৭) তারা মানুষের কাছ থেকে (নিজেদের কর্মকাণ্ড) গোপন করতে চায়, কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে গোপন করতে পারে না; অথচ তিনি তাদের সাথেই থাকেন যখন তারা রাতে এমন কথার পরিকল্পনা করে যা তিনি পছন্দ করেন না। আর তারা যা কিছু করে আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন (১০৮) শোন! তোমরাই তো পার্থিব জীবনে তাদের পক্ষে বিতর্ক করলে, কিন্তু কিয়ামতের দিন তাদের পক্ষে আল্লাহর সাথে কে বিতর্ক করবে? অথবা কে হবে তাদের উকিল? (১০৯)}
(২).
আর এই সব শ্রেণির মধ্যে বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতার বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যার কিছু অংশ অপর অংশের চেয়ে জঘন্যতর, আবার কিছু অংশ অপর অংশের চেয়ে লঘুতর।
বিষয়টি আরও ভয়াবহ করে তুলছে এই যে, এই বিকৃতমনা লোকদের অনেক মুসলিম দেশের নীতি-নির্ধারণী ও গণমাধ্যমগুলোতে চরম প্রভাব রয়েছে। মানবজাতির আবর্জনাগুলো স্থানান্তর করা অথবা নির্ভুল শরিয়ত যা নির্ধারণ ও সাব্যস্ত করে ফয়সালা করে দিয়েছে তা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করা ছাড়া তাদের আর কোনো কাজ নেই।
তাদের প্রধান কাজ হলো পরস্পরবিরোধী তাত্ত্বিক মতবাদ আমদানি করা এবং হাজার হাজার কাব্যগ্রন্থ, নাটক, চিত্রকর্ম, সমালোচনামূলক ও অ-সমালোচনামূলক প্রবন্ধের মাধ্যমে উম্মাহর অনুভূতিকে অবশ করে দেওয়া। তারা এটি করে কবিতা, উপন্যাস ও ছোটগল্পে উত্তেজনা, আকর্ষণ ও শৈল্পিক বিনোদনের মাধ্যমে, নাটকের তামাশা ও চিত্রকর্মের রঙের মাধ্যমে এবং ‘তারকা’ নির্মাণের মাধ্যমে।
এমতাবস্থায় আমরা দেখতে পাই যে, প্রত্যেক সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি—যে ইসলামের প্রতি তার ঐতিহাসিক বিদ্বেষ পোষণ করে—সে তার বিশ্বাসের কুশ্রীতাকে আধুনিকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার দর্শনের নিচে লুকিয়ে রাখে এবং সাহিত্যের ঢিলেঢালা পোশাকের আস্তিন থেকে তার প্রাণঘাতী বিষ বের করে আনে।
তেমনিভাবে আমরা দেখি যে, বরকতময় হিজরি শতাব্দীগুলোর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী এবং এই উম্মাহর ঐতিহ্যের শত্রুদের কলমে মূর্তিপূজা, খ্রিস্টবাদ ও ইহুদিবাদ ফুটে ওঠে।
আর আমরা দেখি যে, তাদের সমস্ত প্রচেষ্টা, অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা তালমুদীয় ইহুদিবাদের পাত্রে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা সবাই ইসলাম, এর আকিদা, শরিয়ত, ঐতিহ্য, সভ্যতা এবং এর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে সমূলে বিনাশ করার তীব্র লালসার পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٥)
ومما يفت فؤاد المسلم أن يجد لهؤلاء الأرجاس أدوات من بني جلدتنا، استقطبتهم زمزمة كهان الحداثة، في حين غفلة منهم عن دينهم، وعجز منهم عن تحقيق وجودهم بتحصيل علميّ رصين، فإذا هم يرددون أفكار الزنادقة والملاحدة، ويضاهون اليهود والنصارى والوثنيين -ببلاهة وغوغائية- في عبارات مطاطة وألفاظ مبهمة، وتراكيب غامضة إذا حققتها وجدتها التبعية والتقليد ليس غير.
وليست المأساة متوقفة عند هذا الحد، بل تجدها تزداد خطورة عندما تلتفت إلى الركام الهائل من المؤلفات والمجلات والملاحق الأدبية، والمراكز الثقافية في كثير من البلدان العربية، فلا تجد عليها إلَّا طائفيًا نبت في الظلام وخرج من وراء الكواليس ليكون هو وأضرابه من معالم الأدب الحديث، أو نصرانيًا ترعرع تحت ظل الصليب يتسنم التوجيه والتثقيف، أو ملحدًا وجوديًا أو ماركسيًا أو إباحيًا يبرز من أعطاف جثة المادية الغربية ليكون من رموز العلم والأدب والفن، أو تابعًا لهؤلاء لا يدري، ولا يدري أنه لا يدري.
أمَّا إذا تأملت في تعبيراتهم ورموزهم، فإنك تجدها -إلا القليل منها- على قسمين، أحدهما: مكشوف، والآخر مقنّع، وكلاهما مسخر لخدمة الحداثة ومضامينها، وموجه لتحطيم دين اللَّه تعالى والإرث المبارك والتراث الخيِّر، ومؤسس للقيام بدور التخريب الفكري، والتلويث الثقافي، والانحلال الخلقي، فتجد في إنتاجهم المجاهرة بإنكار الرب سبحانه وتعالى، وجودًا وألوهية، والاستهانة بأسمائه -تعالى- وصفاته، وجحد وجود الملائكة والسخرية منهم، وتكذيب الرسل والأنبياء وإنكار قضية الوحي جملة وتفصيلًا أو التشكيك فيها، وجحد الكتب المنزلة والسخرية بكل ذلك، وإضفاء صفة النبوة والمعجزة على الشاعر والحداثي المبدع، وجعل الأساطير بديلًا للوحي الكريم، والآلهة الوثنية شريكًا للَّه العظيم، مع تكذيب بالقدر واستهانة به، وتهكم بالمؤمنين به، وجحد المعاد وسائر الغيبيات، مع الإيمان بغيبيات وثنية جاهلية، ولذلك تجدهم يوظفون الرموز الوثنية واليهودية والنصرانية في أعمالهم بشكل بارز وكثيف.
أمَّا إذا جاؤوا إلى تاريخ الإسلام فإنهم لا يستخرجون منه سوى أمثالهم من أهل الزيغ والشك والانحراف والزندقة، وهم مع كل ذلك يطرحون فكرتهم على أساس أنها فكرة كلية شاملة، متطورة أبدًا، قادرة على احتواء كل قضايا الكون والحياة والإنسان، وعلى ذلك فقد توجهوا بعنف وحقد لمحاربة الحكم
একজন মুসলিমের হৃদয় যা বিদীর্ণ করে তা হলো, এই অপবিত্রদের জন্য তিনি আমাদেরই স্বজাতীয় কিছু হাতিয়ার খুঁজে পান, যাদেরকে আধুনিকতার পুরোহিতদের গুণগুনানি প্রলুব্ধ করেছে; এটি তাদের দ্বীন সম্পর্কে অসতর্কতা এবং সুদৃঢ় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণে অক্ষমতার সুযোগে ঘটেছে। ফলে তারা ধর্মত্যাগী ও নাস্তিকদের চিন্তাধারার পুনরাবৃত্তি করছে এবং ইহুদি, নাসারা ও পৌত্তলিকদের অনুকরণ করছে—নির্বুদ্ধিতা ও হট্টগোলের সাথে—এমন কিছু ইলাস্টিক অভিব্যক্তি ও অস্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে, এবং এমন অস্পষ্ট বাক্যগঠনে যা বিশ্লেষণ করলে আপনি কেবল পরনির্ভরশীলতা ও অন্ধ অনুকরণ ছাড়া আর কিছুই পাবেন না।
এই ট্র্যাজেডি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন আপনি অনেক আরব দেশে বিপুল সংখ্যক গ্রন্থাবলী, সাময়িকী, সাহিত্যিক ক্রোড়পত্র এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করেন। সেখানে আপনি কেবল এমন কোনো সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিকে দেখতে পাবেন যে অন্ধকারে বেড়ে উঠেছে এবং নেপথ্য থেকে সামনে এসেছে আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন হওয়ার জন্য; অথবা এমন কোনো খ্রিস্টানকে পাবেন যে ক্রুশের ছায়ায় লালিত-পালিত হয়ে দিকনির্দেশনা ও সংস্কৃতির শীর্ষে আরোহণ করেছে; অথবা এমন কোনো অস্তিত্ববাদী নাস্তিক, মার্ক্সবাদী বা লম্পটকে পাবেন যে পশ্চিমা বস্তুবাদের মৃতদেহের ভাঁজ থেকে বেরিয়ে এসেছে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পের প্রতীক হতে; অথবা এদের এমন কোনো অনুসারীকে পাবেন যে জানে না, এমনকি সে যে জানে না তাও সে জানে না।
আর আপনি যদি তাদের অভিব্যক্তি ও প্রতীকগুলো নিয়ে চিন্তা করেন, তবে সেগুলোকে—অল্প কিছু বাদে—দুটি ভাগে বিভক্ত পাবেন: একটি উন্মুক্ত এবং অন্যটি মুখোশধারী। উভয়ই আধুনিকতা ও এর বিষয়বস্তুর সেবায় নিয়োজিত, এবং আল্লাহর দ্বীন, বরকতময় উত্তরাধিকার ও কল্যাণকর ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে পরিচালিত; যা বুদ্ধিবৃত্তিক নাশকতা, সাংস্কৃতিক দূষণ ও নৈতিক অবক্ষয়ের ভূমিকা পালনের জন্য প্রতিষ্ঠিত। তাদের সৃজনে আপনি মহান রব্বুল আলামীনের অস্তিত্ব ও উলুহিয়্যাতকে প্রকাশ্যে অস্বীকার করতে দেখবেন, তাঁর নাম—তাআলা—ও গুণাবলিকে অবজ্ঞা করতে দেখবেন, ফেরেশতাদের অস্তিত্ব অস্বীকার ও তাঁদের নিয়ে উপহাস করতে দেখবেন, এবং রাসূল ও নবীদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা ও ওহীর বিষয়টি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে অস্বীকার করা বা এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতে দেখবেন। তারা অবতীর্ণ কিতাবসমূহ অস্বীকার করে এবং এই সব কিছু নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে; আর কবি ও সৃজনশীল আধুনিকতাবাদীদের নবুওয়াত ও মুজিজার গুণাবলী দান করে। তারা পবিত্র ওহীর বিকল্প হিসেবে উপকথাকে এবং মহান আল্লাহর শরিক হিসেবে পৌত্তলিক দেব-দেবীকে গ্রহণ করে। সাথে সাথে তারা তাকদীরকে অস্বীকার ও অবজ্ঞা করে এবং এর ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারীদের উপহাস করে। তারা পরকাল ও যাবতীয় গায়েবকে অস্বীকার করে, অথচ জাহেলী পৌত্তলিক অদৃশ্য বিষয়গুলোর ওপর ঈমান আনে। এ কারণেই আপনি দেখবেন তারা তাদের কর্মতৎপরতায় পৌত্তলিক, ইহুদি ও খ্রিস্টান প্রতীকগুলোকে অত্যন্ত প্রকট ও নিবিড়ভাবে ব্যবহার করে।
আর তারা যখন ইসলামের ইতিহাসের কাছে আসে, তখন তারা সেখান থেকে কেবল তাদের মতোই পথভ্রষ্ট, সন্দেহপরায়ণ ও ধর্মত্যাগীদেরই খুঁজে বের করে। এই সব কিছুর সাথে তারা তাদের চিন্তাধারাকে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন এটি একটি সামগ্রিক, ব্যাপক এবং চির-বিবর্তনশীল ধারণা, যা মহাবিশ্ব, জীবন ও মানুষের সকল বিষয়কে ধারণ করতে সক্ষম। এর ভিত্তিতেই তারা চরম সহিংসতা ও বিদ্বেষ নিয়ে শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রবৃত্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٦)
الإسلامي والسخرية من أخلاق الإسلام، والسعي لترسيخ ألوان الانحرافات الاجتماعية والنفسية والسياسية والاقتصادية، والدعوة للانحلال والفوضى الخلقية، والدعوة إلى استبدال شرع غير اللَّه بشرع اللَّه الحكيم، إلى غير ذلك من مفردات الانحرافات التي لا تكاد تحصى لكثرتها وتنوعها.
أمَّا المقنَّع من أفكارهم تحت أردية الغموض والرمزية فهو كثير كذلك، ولا يخرج عن المضامين السابقة، بل هو في خوضها الآسن غارق.
فإذا أرادوا -مثلًا- الحديث عن القرآن سموه "صوت الألوهية" أو "نتاج الغيبوبة"، والحكم الإسلامي يرمزون له بالملح والرماد والجفاف، وقرون الهجرة والفتح الإسلامي والخلافة رمزوا لها بالإبل والسفر والنخيل والبخور والتعاويذ والصحراء والهجير والرمال الضريرة، والعمائم المتخمة والأعشاب الميتة، وأرض الحروف عندهم أرض النبوات والإسلام والهدى، والأغوار الخرساء يريدون بها التاريخ الإسلامي، والشريعة والصلاة والمنارة يرمزون لها بالستارة السوداء، والإصلاح والدعوة وإحياء الإسلام يعبرون عن موقفهم منها بقولهم: "أهدم كل لحظة مدائن الغزالي" ونبذ التراث والإقبال على الغرب يأتي تحت قولهم: "أرفضُ الرمل واتجه نحو البحر"، والحداثة يسمونها: الشمس وفاطمة وفضة ونافذة الضوء ورياح المواقع والتضاريس والمطر والخصب، والتكوين الآتي إلى آخر ما هنالك من رموز وألفاظ تحتها الأفاعي والحيات.
إضافة إلى إحياء الرموز الباطنية، وأسسها الفلسفية؛ لتشكل ملامح غير معروفة إلّا لذي التتبع، والعبث بلغة القرآن، ودلالات ألفاظها وتراكيبها، وذلك بإعطاء اللغة العربية دلالات غير دلالاتها الأصلية، وهو جانب آخر من جوانب الخطورة التي ينطوي عليها المشروع الحداثي يتمثل في دعوتهم إلى "تفجير اللغة" أو "التحديث اللغوي"، فإذا انضاف إلى ذلك سعيهم لهدم أصول الفقه، وضوابط تلقي الوحي وفهمه وتطبيقه؛ علمنا أن القوم لا يهدفون إلى تجديد في الأساليب ولا تحديثٍ في الصيغ بقدر ما يستهدفون هدم ملة الإسلام، وإقامة ملة الحداثة مكانها {يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ (8)}
(1).
من هذا كله وغيره كان الموضوع على جانب كبير من الأهمية، وكان
--------------------------------------------
ইসলামী মূল্যবোধ এবং ইসলামের নৈতিকতা নিয়ে বিদ্রুপ করা, এবং সামাজিক, মানসিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিচ্যুতির নানা রূপকে সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টা চালানো, নৈতিক অবক্ষয় ও বিশৃঙ্খলার দিকে আহ্বান জানানো, এবং আল্লাহর প্রজ্ঞাপূর্ণ শরীয়তের পরিবর্তে অন্য বিধান দ্বারা তা প্রতিস্থাপনের ডাক দেওয়া, এছাড়াও অগণিত ও বৈচিত্র্যময় বিচ্যুতিসমূহের অন্যান্য উপাদান তো রয়েছেই যা তার আধিক্য ও বৈচিত্র্যের কারণে গণনা করা প্রায় অসম্ভব।
আর অস্পষ্টতা ও রূপকের আবরণে ঢাকা তাদের ছদ্মবেশী ধ্যান-ধারণাগুলোও অনেক, যা পূর্বোক্ত বিষয়বস্তুর বাইরে নয়; বরং এগুলো সেই পঙ্কিল আবর্তে নিমজ্জিত।
উদাহরণস্বরূপ, তারা যখন কুরআন নিয়ে কথা বলতে চায়, তখন একে "ঐশ্বরিক আওয়াজ" বা "অচেতন অবস্থার ফসল" বলে অভিহিত করে। আর ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে তারা লবণ, ছাই ও শুষ্কতা দ্বারা রূপক হিসেবে প্রকাশ করে। হিজরত, ইসলামী বিজয় এবং খিলাফতের শতাব্দীসমূহকে তারা উট, সফর, খেজুর গাছ, ধূপ, তাবীজ, মরুভূমি, তপ্ত দ্বিপ্রহর, অন্ধ বালুকা, ভারী পাগড়ি ও মৃত ঘাস দ্বারা রূপক হিসেবে উপস্থাপন করে। তাদের নিকট "বর্ণের ভূমি" বলতে নবুওয়াত, ইসলাম ও হিদায়াতের ভূমি; "নিস্তব্ধ গহ্বর" বলতে তারা ইসলামী ইতিহাসকে বুঝায়। শরীয়ত, সালাত ও মিনারকে তারা "কালো পর্দা" দ্বারা রূপক করে। সংস্কার, দাওয়াত এবং ইসলামের পুনর্জাগরণ সম্পর্কে তাদের অবস্থান তারা এই বলে প্রকাশ করে: "আমি প্রতি মুহূর্তে গাজালীর শহরগুলো ধ্বংস করি।" ঐতিহ্য বর্জন এবং পাশ্চাত্যের দিকে ধাবিত হওয়া সম্পর্কে তারা বলে: "আমি বালুকা প্রত্যাখ্যান করি এবং সমুদ্রের দিকে অগ্রসর হই।" আর আধুনিকতাকে তারা সূর্য, ফাতিমা, রূপা, আলোর জানালা, অবস্থানের বায়ু, ভূপ্রকৃতি, বৃষ্টি, উর্বরতা ও আগত সৃষ্টি ইত্যাদি প্রতীক ও শব্দের মাধ্যমে নামকরণ করে, যার নিচে বিষধর সাপ ও সর্পসমূহ লুকিয়ে আছে।
এর সাথে যুক্ত হয়েছে বাতিনী (গুহ্য) প্রতীকসমূহ এবং তাদের দার্শনিক ভিত্তির পুনরুজ্জীবিতকরণ, যাতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে যা নিবিড় অনুধাবনকারী ছাড়া অন্য কেউ জানে না। সেই সাথে কুরআনের ভাষা এবং এর শব্দ ও বাক্য গঠনের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, আর তা হলো আরবি ভাষাকে তার মূল অর্থ ব্যতিরেকে অন্য অর্থ প্রদান করার মাধ্যমে। এটি আধুনিকতাবাদী প্রকল্পের অন্যতম বিপজ্জনক দিক, যা তাদের "ভাষা বিস্ফোরণ" বা "ভাষাগত আধুনিকায়ন" এর আহ্বানের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। এর সাথে যখন উসূলে ফিকহ এবং ওহী গ্রহণ, অনুধাবন ও প্রয়োগের নীতিমালা ধ্বংস করার প্রচেষ্টাও যুক্ত হয়, তখন আমরা বুঝতে পারি যে, এই লোকগুলোর উদ্দেশ্য পদ্ধতির সংস্কার বা কাঠামোর আধুনিকায়ন নয়, বরং তাদের মূল লক্ষ্য হলো ইসলাম ধর্মকে ধ্বংস করা এবং তার স্থলে আধুনিকতার ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা। "তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণতা দান করবেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে (৮)।"
(১)এই সবকিছু এবং অন্যান্য কারণে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এবং এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٧)
اختياري له بعد مدة طويلة من المتابعة لإصداراتهم والنظر في أعمالهم والتأمل في مقالاتهم، والمناظرة والمناقشة مع بعض أتباع هذه النحلة محليًا وعربيًا.
فكتبت فيه كتابي هذا لأبين بعض جوانب الخطورة في الأدب العربي المعاصر، لعله يكون سببًا في صحوة من غفا، ودلالة من غامت في نفسه طرق الهدى، وسببًا في كبت من أعرض ونأى، وكشف سبل المجرمين، وسببًا لإيضاح الحق لمن استغفل وجرى في مجراهم مؤيدًا أو منافحًا؛ لعله يعود إلى الهدى، وسببًا لتحريك حمية أهل الإيمان فيلتفتوا إلى دعاة جهنم ممن يتكلمون بألسنتنا ويتسمون بأسمائنا ويعيشون بين ظهراني المسلمين.
وأكبر آمالي أن يكتب اللَّه لي أجر المنافحة عن دينه والمغايظة لأعدائه، وإبانة سبيل المجرمين ليهلك من هلك عن بينة ويحيى من حيّ عن بينة.
2 - حدود الموضوع:وقد قسمت هذا البحث إلى أربعة أبواب وخاتمة، وصدرته بالمقدمة والتمهيد.
فالمقدمة تحدثت فيها عن أهمية الموضوع وسبب اختياره، وعن حدود الموضوع وبعض الدراسات السابقة فيه.
والتمهيد تحدثت فيه بإيجاز عن شمول الإسلام لكل أعمال الإنسان ومناشطه، وعن علاقة الأدب بالاعتقاد، ونبذة عن الانحرافات العقدية المعاصرة في مجال الثقافة والفن والأدب.
أمَّا الباب الأول فهو بعنوان: الانحرافات المتعلقة باللَّه سبحانه وتعالى، وتحته أربعة فصول:
الفصل الأول: الانحرافات المتعلقة بالربوبية.
الفصل الثاني: الانحرافات المتعلقة بالألوهية.
الفصل الثالث: الانحرافات المتعلقة بالأسماء والصفات.
وأمَّا الباب الثاني فهو بعنوان: الانحرافات المتعلقة بالملائكة والكتب المنزلة والأنبياء، وتحته ثلاثة فصول:
الفصل الأول: الانحرافات المتعلقة بالملائكة عليهم السلام.
الفصل الثاني: الانحرافات المتعلقة بالكتب عامة والقرآن خاصة.
তাদের প্রকাশনা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ, তাদের কর্মসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত, প্রবন্ধাবলি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা এবং স্থানীয় ও আরবীয় পর্যায়ে এই মতবাদের কতিপয় অনুসারীর সঙ্গে বিতর্ক ও আলোচনার পর আমি এটি নির্বাচন করেছি।
আমি সমকালীন আরবি সাহিত্যের কিছু বিপজ্জনক দিক বর্ণনা করার জন্য আমার এই বইটি রচনা করেছি; সম্ভবত এটি তন্দ্রাচ্ছন্নদের জাগরণের কারণ হবে, যাদের অন্তরে হিদায়াতের পথ অস্পষ্ট হয়ে গেছে তাদের জন্য পথপ্রদর্শক হবে, বিমুখ ও দূরবর্তীদের দমনের মাধ্যম হবে এবং অপরাধীদের পথ উন্মোচিত করবে। আর যারা অসতর্কবশত তাদের স্রোতে গা ভাসিয়েছে এবং সমর্থনকারী বা রক্ষক হিসেবে তাদের পথে চলেছে, তাদের নিকট সত্য স্পষ্ট করার কারণ হবে; যাতে তারা হিদায়াতের পথে ফিরে আসে। সর্বোপরি এটি ঈমানদারদের মাঝে আত্মমর্যাদাবোধ জাগ্রত করার কারণ হবে, যাতে তারা জাহান্নামের সেই সব আহ্বায়কদের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি দেয় যারা আমাদের ভাষায় কথা বলে, আমাদের নামে নাম ধারণ করে এবং মুসলিমদের মাঝেই বসবাস করে।
আমার বড় প্রত্যাশা এই যে, আল্লাহ যেন তাঁর দ্বীন রক্ষায় আত্মনিয়োগ এবং তাঁর শত্রুদের ক্রোধান্বিত করার প্রতিদান আমার জন্য লিখে রাখেন, আর অপরাধীদের পথ যেন স্পষ্ট করে দেন, যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকার সে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে।
২ - বিষয়ের পরিসীমা:আমি এই গবেষণাকে চারটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি এবং এর শুরুতে একটি ভূমিকা ও উপক্রমনিকা যুক্ত করেছি।
ভূমিকায় আমি বিষয়ের গুরুত্ব ও এটি নির্বাচনের কারণ এবং বিষয়ের পরিসীমা ও এ সংক্রান্ত কিছু পূর্ববর্তী গবেষণা সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
উপক্রমনিকায় আমি মানুষের যাবতীয় কার্যাবলি ও কর্মকাণ্ডে ইসলামের ব্যাপকতা, আকিদার সাথে সাহিত্যের সম্পর্ক এবং সংস্কৃতি, শিল্প ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে সমকালীন আকিদাগত বিচ্যুতিসমূহ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি।
আর প্রথম অধ্যায়টি হলো: 'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সম্পর্কিত বিচ্যুতিসমূহ' শিরোনামে, যার অধীনে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) সংক্রান্ত বিচ্যুতিসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উলুহিয়্যাত (ইবাদত) সংক্রান্ত বিচ্যুতিসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত বিচ্যুতিসমূহ।
আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি হলো: 'ফেরেশতামণ্ডলী, অবতীর্ণ কিতাবসমূহ এবং নবীগণ সম্পর্কিত বিচ্যুতিসমূহ' শিরোনামে, যার অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাগণের (আলাইহিমুস সালাম) সাথে সংশ্লিষ্ট বিচ্যুতিসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে অন্যান্য কিতাব এবং বিশেষভাবে কুরআন সংশ্লিষ্ট বিচ্যুতিসমূহ।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٨)
الفصل الثالث: الانحرافات المتعلقة بالرسل عليهم الصلاة والسلام.
وأمَّا الباب الثالث فهو بعنوان: الانحرافات المتعلقة باليوم الآخر والقدر، وتحته ثلاثة فصول:
الفصل الأول: الانحرافات المتعلقة باليوم الآخر.
الفصل الثاني: الانحرافات المتعلقة بالقدر.
الفصل الثالث: الانحرافات المتعلقة بالغيبيات الأخرى.
وأمَّا الباب الرابع فهو بعنوان: الانحرافات المتعلقة بالأحكام والسلوك ونظام الحياة، وتحته خمسة فصول:
الفصل الأول: العبث بالمصطلحات الشرعية والشعائر الإسلامية.
الفصل الثاني: محاربة الحكم الإسلامي والدعوة إلى تحكيم غيره.
الفصل الثالث: السخرية من الأخلاق الإسلامية والدعوة إلى الانحلال والفوضى الخلقية.
الفصل الرابع: الانحرافات في القضايا الاجتماعية والنفسية.
الفصل الخامس: الانحرافات في القضايا السياسية والاقتصادية.
وأمَّا الخاتمة ففيها: بيان أسباب الانحراف العقدي في الأدب العربي الحديث، ومقترحات لمواجهة الانحراف العقدي في الأدب العربي الحديث.
هذا وقد بدأت أهتم بهذا الموضوع وأعتني بجمع الكتب فيه من أيام الدراسة الجامعية، يوم شعرت أن بعض الطلاب قد تأثرت عقائدهم بشكوك قادت بعضهم إلى الإلحاد الصريح، وبعضهم إلى ريب في وجود اللَّه تعالى والنبوات والمعاد، وكنت أراهم يتداولون دواوين شعراء الحداثة وكتبهم النقدية والفكرية، وأظن أن ذلك من باب الحرص على التجديد الفني والأدبي كما كانوا يزعمون، فلما اطلعت على ما لديهم وجدت أن الأمراض الاعتقادية قد تسربت إليهم من مجالسات أهل الشبه والأهواء، ومن الكتب التي كان جلساؤهم بل أساتذتهم في الشر يوجهونهم لشرائها، واقتنائها وكانت هناك مكتبة لأحد الحداثيين تجلب كتب أهل الحداثة ومجلاتهم، والقوم على أرففها صرعى كأنهم أعجاز نخل خاوية، يتهافتون على شرائها ثم توزيعها إهداء أو إعارة.
وكانت لي معهم مناقشات ومحاورات في القضايا الكبرى؛ قضية وجود اللَّه، وقضية القدر، والنبوة، والمعاد، وأحكام الشريعة، وغير ذلك.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রসূলগণের (তাঁদের উপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) প্রতি সম্পর্কিত বিচ্যুতিসমূহ।
আর তৃতীয় অধ্যায়টি হলো 'পরকাল ও তাকদির সম্পর্কিত বিচ্যুতিসমূহ' শিরোনামে, এবং এর অধীনে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পরকাল সম্পর্কিত বিচ্যুতিসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাকদির সম্পর্কিত বিচ্যুতিসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অন্যান্য গায়েবি বিষয়াদি সম্পর্কিত বিচ্যুতিসমূহ।
আর চতুর্থ অধ্যায়টি হলো 'বিধি-বিধান, আচরণ ও জীবনব্যবস্থা সম্পর্কিত বিচ্যুতিসমূহ' শিরোনামে, এবং এর অধীনে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: শরয়ী পরিভাষা ও ইসলামি নিদর্শনাবলী নিয়ে তামাশা করা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং অন্য কিছুর শাসনের দিকে আহ্বান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামি নৈতিকতা নিয়ে উপহাস এবং চারিত্রিক অবক্ষয় ও নৈতিক বিশৃঙ্খলার দিকে আহ্বান।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়াদিতে বিচ্যুতিসমূহ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়াদিতে বিচ্যুতিসমূহ।
আর উপসংহারে রয়েছে: আধুনিক আরবি সাহিত্যে আকিদাগত বিচ্যুতির কারণসমূহের বর্ণনা, এবং আধুনিক আরবি সাহিত্যে আকিদাগত বিচ্যুতি মোকাবেলার প্রস্তাবসমূহ।
আমি এই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবন থেকেই এর ওপর বই সংগ্রহের যত্ন নিয়েছি। সেদিন আমি অনুভব করেছিলাম যে, কিছু ছাত্রের আকিদা বা বিশ্বাস এমন সব সন্দেহের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে যা তাদের কাউকে স্পষ্ট নাস্তিকতার দিকে ধাবিত করেছে, আর কাউকে মহান আল্লাহর অস্তিত্ব, নবুওয়ত ও পুনরুত্থান সম্পর্কে সংশয়ে নিপতিত করেছে। আমি তাদের আধুনিকতাবাদী কবিদের কাব্যগ্রন্থ এবং তাদের সমালোচনামূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বইপত্র আদান-প্রদান করতে দেখতাম। আমি মনে করতাম যে, তারা যেমনটি দাবি করত—এটি সম্ভবত শৈল্পিক ও সাহিত্যিক আধুনিকায়নের আগ্রহ থেকে। কিন্তু যখন আমি তাদের কাছে থাকা বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত হলাম, তখন দেখলাম যে আকিদাগত ব্যাধিগুলো তাদের মধ্যে প্রবেশ করেছে সংশয়বাদী ও প্রবৃত্তি পূজারিদের মজলিস থেকে এবং সেইসব বই থেকে যা তাদের সঙ্গী-সাথীরা, এমনকি মন্দের পথে পরিচালিত তাদের শিক্ষকরা তাদের কিনতে ও সংগ্রহ করতে নির্দেশ দিত। জনৈক আধুনিকতাবাদীর একটি লাইব্রেরি ছিল যা আধুনিকতাবাদীদের বই ও সাময়িকী সংগ্রহ করে আনত। লোকেরা এর শেলফগুলোর ওপর এমনভাবে লুটিয়ে থাকত যেন তারা অন্তঃসারশূন্য খেজুর গাছের কাণ্ড; তারা সেগুলো কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ত এবং তারপর উপহার হিসেবে বা ধারের মাধ্যমে সেগুলো বিতরণ করত।
মৌলিক বিষয়গুলোতে তাদের সাথে আমার আলোচনা ও বিতর্ক হতো; যেমন আল্লাহর অস্তিত্বের বিষয়, তাকদিরের বিষয়, নবুওয়ত, পুনরুত্থান, শরিয়তের বিধান এবং অন্যান্য বিষয়।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٩)
ثم واصلت متابعتي لهذا التيار على مستوى الصحف المحلية، والأندية الأدبية، والأمسيات الشعرية، وجرى فيها من الأحداث ما يطول شرحه.
وفي عام 1407 هـ سجلت على شريطين مادة علمية عن هذا الاتجاه بعنوان "الحداثة حقائق ووثائق" كانت ذات أثر على صعيدين:
الأول: أهل الدين والإيمان؛ فهؤلاء تبين لهم خطورة هذا المذهب، وضلاله وبشاعته، وعظم انحرافاته.
الثاني: أهل الحداثة والعلمنة؛ وقد وقع هذا العمل منهم موقع الصيحة، فهبوا يدافعون في الصحف والأندية، وفي المنشورات، وطفقوا يبحثون عن أي شيء به يحتمون، أو من خلاله يهاجمون، واستعدوا وألَّبُوا، وتناصروا، واستخدموا بعض الفئات الجاهلة أو المتجاهلة، وظاهرهم إخوانهم من الحداثيين العرب في مصر وبيروت ولندن وباريس.
وفي أثناء هذه المسيرة الطويلة من المرحلة الجامعية حتى تسجيل هذا البحث جمعت كميات كبيرة من كتبهم ومجلاتهم وقصاصات كثيرة من صحفهم وملاحقهم الأدبية، ولما جئت لكتابة هذا البحث وجدت أمامي ركامًا هائلًا مما هو في ملكي، فضلًا عما في الأندية الأدبية والمكتبات الكبيرة، وكان من المستحيل أن أجمع مادة هذا البحث من كل هذه الكتب والمجلات والملاحق، فعمدت إلى كتب ودواوين وروايات أكابر عتاة هذه النحلة، وأعرضت عن التلاميذ الصغار الذين يحاكون اساتذتهم ويرددون مقالاتهم، وقد قرأت بعد تسجيلي لهذا البحث ما يزيد على خمسة عشر ألف صفحة من كتبهم، ولا يدخل في هذا العدد ما قرأته من مجلات وملاحق، ولا ما سبق لي قراءته طوال ثلاثة عشر عامًا من أواسط المرحلة الجامعية حتى تاريخ تسجيل هذا البحث، ولا ما قرأته من كتب مضادة للحداثة والعلمانية.
وما دمت أتحدث عن حدود الموضوع فإني أرغب في تبيان عدة أمور:1 - أنه بعد النظر في كتب أهل الأدب الحديث تبين لي أن أكثرهم يطلقون لفظ "المعاصرة" و"الأدب المعاصر" على أدب الحداثة
(1).
--------------------------------------------
এরপর আমি স্থানীয় সংবাদপত্র, সাহিত্য ক্লাব এবং কাব্য সন্ধ্যার স্তরে এই স্রোতধারা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখি; সেখানে এমন সব ঘটনা ঘটেছে যার বিবরণ দীর্ঘ।
এবং ১৪০৭ হিজরিতে আমি এই ধারা সম্পর্কে 'আধুনিকতা: বাস্তবতা ও দলিলসমূহ' শিরোনামে দুইটি ক্যাসেটে একটি ইলমি উপকরণ রেকর্ড করি, যা দুইটি স্তরে প্রভাব ফেলেছিল:
প্রথমত: দ্বীন ও ঈমানদারগণ; তাদের কাছে এই মতবাদের ভয়াবহতা, বিভ্রান্তি, কদর্যতা এবং এর বিচ্যুতির বিশালতা স্পষ্ট হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত: আধুনিকতাবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা; এই কাজটি তাদের ওপর বজ্রপাতের মতো আঘাত হেনেছিল, ফলে তারা সংবাদপত্র, ক্লাব এবং লিফলেটগুলোতে আত্মপক্ষ সমর্থনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা এমন কিছুর সন্ধানে লিপ্ত হয় যা দিয়ে তারা আত্মরক্ষা করতে পারে অথবা যার মাধ্যমে আক্রমণ চালাতে পারে। তারা প্রস্তুতি নেয়, উস্কানি দেয়, একে অপরকে সাহায্য করে এবং কিছু জাহেল বা জেনে-শুনে না বোঝার ভানকারী গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে। মিশর, বৈরুত, লন্ডন ও প্যারিসের আরব আধুনিকতাবাদী ভাইয়েরা তাদের সহযোগিতা করে।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে এই গবেষণা রেকর্ড করা পর্যন্ত এই দীর্ঘ যাত্রাপথে আমি তাদের বিপুল পরিমাণ বই, ম্যাগাজিন এবং তাদের সংবাদপত্র ও সাহিত্য সাময়িকী থেকে প্রচুর ক্লিপিংস সংগ্রহ করেছি। যখন আমি এই গবেষণাটি লিখতে বসি, তখন আমি আমার মালিকানাধীন বিশাল এক স্তূপের সামনে নিজেকে পাই, এছাড়া সাহিত্য ক্লাব এবং বড় বড় লাইব্রেরিতে যা ছিল তা তো আছেই। এই সমস্ত বই, ম্যাগাজিন এবং সাময়িকী থেকে এই গবেষণার বিষয়বস্তু সংগ্রহ করা ছিল অসম্ভব। তাই আমি এই পন্থার বড় বড় নেতাদের বই, কাব্যগ্রন্থ এবং উপন্যাসের প্রতি মনোযোগ দিই এবং সেই ছোট ছাত্রদের এড়িয়ে চলি যারা তাদের শিক্ষকদের অনুকরণ করে এবং তাদের কথারই পুনরাবৃত্তি করে। এই গবেষণাটি রেকর্ড করার পর আমি তাদের বইয়ের পনেরো হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠা পাঠ করেছি; এর মধ্যে আমি যেসব ম্যাগাজিন ও সাময়িকী পড়েছি তা অন্তর্ভুক্ত নয়, কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মধ্যভাগ থেকে এই গবেষণার রেকর্ড করার তারিখ পর্যন্ত তেরো বছর ধরে যা পড়েছি তাও নয়, এমনকি আধুনিকতাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা বিরোধী যেসব বই পড়েছি তাও এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
যেহেতু আমি বিষয়ের সীমা সম্পর্কে আলোচনা করছি, তাই আমি কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই:১ - আধুনিক সাহিত্যিকদের বইপত্র পর্যালোচনার পর আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাদের অধিকাংশই 'আধুনিকতা'র সাহিত্যের ওপর 'সমসাময়িকতা' এবং 'সমসাময়িক সাহিত্য' শব্দ দুটি প্রয়োগ করেন।
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ذلك أن الحداثة عندهم مصطلح عسير التحديد مضطرب الحدود محملٌ بمعان مشكلة ملتبسة، وأكثر ما تجد التباسه مع لفظ "المعاصر" و"الجديد" و"العصري"، بحيث يضفي هذا الالتباس على هذا المصطلح طابعًا مضطربًا قلقًا، يجعله متداخلًا بعمق -في استعمالهم- مع مصطلح "المعاصر" و"الجديد" في الإشارة إلى مفهوم الحداثة.
وعلى هذا فعنوان الكتاب وموضوعه يتجه مباشرة لمعالجة موضوع الحداثة، من غير التفات إلى الخلاف الطويل بين المختصين في موضوع الاتصال والانفصال بين مصطلحي الحداثة والمعاصرة.
2 - وبناء على ما سبق فإني ابتدأت في هذا البحث من بداية الحداثة الشعرية العربية في العراق على يد السياب
(1) أو نازك الملائكة
(2) حسب اختلاف الحداثيين، وكلاهما ظهر في حقبة واحدة ما بين 1366 هـ - 1380 هـ/ 1946 م - 1960 م.
على أنني قد أتحدث عن بعض من سبقهم مثل جبران خليل جبران
(3) وميخائيل نعيمه
(4) ومعروف الرصافي
(5)، والرابطة القلمية وجماعة أبولو والديوان وغيرهم ممن قد يعد من قريب أو بعيد من مقدمات وإرهاصات الحداثة العربية الفكرية والأدبية.
3 - ركزت على دواوين وكتب أكابر الحداثيين وآوائلهم ومشاهيرهم في البلاد العربية، وإن ذكرت بعض تلاميذهم فعلى سبيل الاستطراد أو الاستشهاد في قضية محددة، ولذلك لم أتعرض -إلَّا لمامًا- للحداثة المحلية؛ لأنني
--------------------------------------------
কারণ তাদের নিকট আধুনিকতা এমন একটি পরিভাষা যা নির্ধারণ করা কঠিন, যার সীমানা অস্থির এবং যা জটিল ও অস্পষ্ট অর্থে ভারাক্রান্ত। এই অস্পষ্টতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় "সমকালীন" (মু'য়াসির), "নতুন" (জাদিদ) এবং "আধুনিক" (আসরি) শব্দগুলোর ক্ষেত্রে। এই অস্পষ্টতা পরিভাষাটির ওপর একটি অস্থির ও উদ্বিগ্ন বৈশিষ্ট্য আরোপ করে, যা আধুনিকতার ধারণাকে নির্দেশ করতে গিয়ে তাদের ব্যবহারে একে "সমকালীন" ও "নতুন" পরিভাষাগুলোর সাথে গভীরভাবে একীভূত করে দেয়।
এই ভিত্তিতে, বইটির শিরোনাম এবং এর বিষয়বস্তু সরাসরি আধুনিকতার বিষয়টি পর্যালোচনার দিকে ধাবিত হয়েছে; আধুনিকতা এবং সমকালীনতা—এই দুটি পরিভাষার মধ্যকার সংযোগ ও বিচ্ছেদের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘ বিতর্কের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই।
২ - পূর্বালোচনার ভিত্তিতে আমি এই গবেষণায় ইরাকে আরবি কাব্যিক আধুনিকতার সূচনা থেকে শুরু করেছি, যা আধুনিকতাবাদীদের মতভেদ অনুযায়ী আস-সাইয়্যাব
(১) অথবা নাজিক আল-মালাইকার
(২) হাতে শুরু হয়েছিল। তাঁরা উভয়েই ১৩৬৬ হিজরি - ১৩৮০ হিজরি / ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ - ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী একই যুগে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
যদিও আমি তাঁদের পূর্ববর্তী কিছু ব্যক্তিত্ব যেমন জিবরান খলিল জিবরান
(৩), মিখাইল নুয়াইমা
(৪) এবং মারুফ আর-রুসাফী
(৫) সম্পর্কে আলোচনা করতে পারি; এছাড়া ‘আর-রাবিতা আল-কালামিয়্যাহ’, ‘অ্যাপোলো’ ও ‘আদ-দিওয়ান’ গোষ্ঠী এবং অন্যান্যদের সম্পর্কেও আলোচনা হতে পারে, যাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আরবি বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যিক আধুনিকতার অগ্রদূত ও পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য করা হয়।
৩ - আমি আরব দেশগুলোর বড় বড় আধুনিকতাবাদী, তাঁদের অগ্রজ এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের কাব্যগ্রন্থ ও বইগুলোর ওপর আলোকপাত করেছি। আমি যদি তাঁদের কোনো শিষ্যের কথা উল্লেখ করে থাকি, তবে তা কেবল আনুষঙ্গিক আলোচনা বা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার জন্য। এই কারণে আমি স্থানীয় আধুনিকতা সম্পর্কে যৎসামান্য ব্যতিরেকে কোনো আলোচনা করিনি; কারণ আমি—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١١)
رأيتهم مجرد نقلة ومحاكين لأولئك الأوائل، الذين كانوا هم بدورهم -في أكثر أحوالهم- مجرد نقلة ومقلدين للحداثيين الغربيين.
4 - رتبت أكثر الفصول على الطريقة التالية: أبدأ بذكر إجمالي لمعتقد أهل السنة والجماعة في القضية المتناولة، ثم أذكر -غالبًا- الجذور الفكرية للانحرافات الاعتقادية عند أهل الأدب العربي المعاصر، ثم أورد أوجه الانحرافات والشواهد عليها، وأعقب على بعض الشواهد ناقدًا ومفندًا، وأترك أكثرها من غير تعقيب لوضوح انحرافها وشططها، أو اكتفاء بما مهدت به للفصل من ذكر لمجمل عقيدة أهل السنة، والجذور الفكرية للانحرافات الحداثية.
5 - ركزت في ذكر الشواهد على ما يسمونه شعرًا، ثم على بعض الروايات، ولم أفرق بين الحداثة الشعرية والحداثة الفكرية؛ لأنه لا فرق بينهما في الحقيقة، إلّا كالفرق بين النصرانية وترانيم يوم الأحد في الكنيسة.
فالحداثة الفكرية قاعدة الصنم، والحداثة الأدبية بقية أجزائه.
6 - عُنِيتُ بإيراد شواهد كثيرة على انحرافاتهم، وأحلت في الهوامش على مواضع أكثر؛ مما قد يؤدي إلى الاستطراد، والتكرار، ويشعر بالإقحام، وما ذلك إلا من أجل تحقيق مقتضى من مقتضيات هذا الموضوع، وتحصيل مطالب علمية من لوازم البحث العلمي ويمكن للقارئ أن يلحظ تكرارًا في بعض الشواهد والأمثلة، وذلك أن النص المستشهد به يصلح في أكثر من موضع ولأكثر من قضية، كما أن ذلك يحقق أحد أهم أهداف هذا الكتاب، وهو إثبات انحرافاتهم، بأدلة من كلامهم، وبشهادات بعضهم على بعض، بيد أني لم أورد كل ما جمعته من مادة في هذا الصدد؛ لكثرته، وما إيرادي للشواهد العديدة من كلامهم إلّا لأن (. . . اللفظ دليل مادي قائم على حقيقة اللافظ، قال اللَّه تعالى: {وَلَوْ نَشَاءُ لَأَرَيْنَاكَهُمْ فَلَعَرَفْتَهُمْ بِسِيمَاهُمْ وَلَتَعْرِفَنَّهُمْ فِي لَحْنِ الْقَوْلِ})
(1)(2)، فإذا نقلت نص كلامهم وضعته بين قوسين، وذكرتُ اسم المرجع في الهامش، وإذا نقلت المعنى كتبتُ في الهامش "انظر".
7 - بذلت جهدي في ترجمة من ترد أسماؤهم، وجعلت ثبتًا في الأخير
--------------------------------------------
আমি তাদের দেখতে পেলাম স্রেফ বর্ণনাকারী এবং সেই পূর্ববর্তীদের অনুকরণকারী হিসেবে, যারা নিজেরাও—তাদের অধিকাংশ অবস্থায়—পাশ্চাত্য আধুনিকতাবাদীদের স্রেফ বর্ণনাকারী ও অন্ধ অনুকরণকারী ছিল।
৪ - আমি অধিকাংশ অধ্যায়কে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সাজিয়েছি: আলোচ্য বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার একটি সামগ্রিক আলোচনার মাধ্যমে শুরু করি, এরপর সাধারণত সমকালীন আরবি সাহিত্যিকদের মাঝে বিদ্যমান আকিদাগত বিচ্যুতিসমূহের বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড়গুলো উল্লেখ করি। তারপর বিচ্যুতির দিকগুলো ও তার সপক্ষে প্রমাণাদি পেশ করি এবং কোনো কোনো প্রমাণের সমালোচনা ও খণ্ডন করে মন্তব্য করি। আর তাদের অধিকাংশ প্রমাণকেই কোনো মন্তব্য ছাড়াই ছেড়ে দিই তাদের বিচ্যুতি ও চরমপন্থার স্পষ্টতার কারণে, অথবা অধ্যায়ের শুরুতে আহলুস সুন্নাহর সামগ্রিক আকিদা এবং আধুনিকতাবাদী বিচ্যুতিসমূহের বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড় সম্পর্কে যা ভূমিকা হিসেবে পেশ করেছি তাকেই যথেষ্ট মনে করে।
৫ - আমি প্রমাণাদি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যাকে তারা কবিতা বলে অভিহিত করে তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছি, এরপর কিছু উপন্যাসের ওপর। আমি কাব্যিক আধুনিকতাবাদ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আধুনিকতাবাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করিনি; কারণ প্রকৃতপক্ষে এ দুইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, কেবল খ্রিস্টধর্ম এবং গির্জায় রবিবারের ভজনসংগীতের মাঝে যেটুকু পার্থক্য থাকে সেটুকুই।
সুতরাং বুদ্ধিবৃত্তিক আধুনিকতাবাদ হলো মূর্তির ভিত্তি, আর সাহিত্যিক আধুনিকতাবাদ হলো তার অবশিষ্ট অংশসমূহ।
৬ - আমি তাদের বিচ্যুতিসমূহের ওপর অনেক প্রমাণ উপস্থাপনের প্রতি যত্নশীল হয়েছি এবং পাদটীকায় আরও অনেক স্থানের উদ্ধৃতি দিয়েছি; যা হয়তো প্রসঙ্গের বাইরে চলে যাওয়া, পুনরাবৃত্তি এবং অনধিকার প্রবেশের মতো মনে হতে পারে। আর এটি কেবল এই বিষয়ের একটি অপরিহার্য চাহিদা পূরণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজনীয় দাবি হাসিলের লক্ষ্যেই করা হয়েছে। পাঠক হয়তো কিছু প্রমাণ ও উদাহরণে পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করতে পারেন, তার কারণ হলো—যে পাঠ্যটি প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে তা একাধিক স্থানে এবং একাধিক বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এছাড়া এটি এই বইয়ের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যও সফল করে, আর তা হলো—তাদের নিজেদের বক্তব্যের মাধ্যমেই তাদের বিচ্যুতি প্রমাণ করা এবং একে অপরের ওপর তাদের দেওয়া সাক্ষ্য দ্বারা তা নিশ্চিত করা। তবে এ বিষয়ে আমি যা সংগ্রহ করেছি তার সবটুকু এখানে উল্লেখ করিনি এর আধিক্যের কারণে। তাদের বক্তব্য থেকে আমি যে অসংখ্য প্রমাণ পেশ করেছি তা কেবল এ কারণে যে, (... শব্দ হলো বক্তার প্রকৃত অবস্থার ওপর একটি বাস্তব প্রমাণ; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি ইচ্ছা করলে আপনাকে তাদের পরিচিত করে দিতাম, ফলে আপনি তাদের লক্ষণ দেখে তাদের চিনতে পারতেন এবং অবশ্যই আপনি কথার ভঙ্গি দেখে তাদের চিনতে পারবেন})
(১)(২)। সুতরাং যখন আমি তাদের বক্তব্যের মূল পাঠ উদ্ধৃত করেছি, তখন তা ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখেছি এবং পাদটীকায় মূলগ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছি। আর যদি কেবল মর্মার্থ বর্ণনা করি, তবে পাদটীকায় লিখেছি "দেখুন"।
৭ - যাদের নাম এসেছে তাদের সংক্ষিপ্ত জীবনী সংকলনে আমি আমার প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং শেষে একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١٢)
للأسماء المترجم لها، غير أن بعض الأسماء لم أترجمها؛ لأنني لم أجد مصدرًا للترجمة، ولا معلومات لدي عنها، بيد أني لم أترك ترجمة الشخصيات ذات التأثير في حركة الحداثة الفكرية والأدبية.
8 - حاولت أن أقرن كل تاريخ ميلادي بتاريخ هجري، ولم أتعمد ترك شيء من هذه التواريخ إلّا ما كان في داخل نص منقول.
9 - أوردت الشعر الحداثيّ على طريقتهم في الكتابة، ووضعت نقاطًا تدل على الحذف.
10 - علقت على بعض النصوص التي تحتاج إلى تعليق، وسردت نصوصًا أخرى في مجال الاستشهاد على قضية من قضايا الانحراف دون تعليق عليها؛ لأن المراد هو إثبات هذا الوجه من الانحراف أو ذاك.
11 - كان التركيز على الاستشهاد بالشعر الحداثي أكثر من غيره لأسباب عديدة أهمها: أن الحداثيين أنفسهم اعتبروا الشعر أساس مشروعهم، وأهم أعمالهم، وأخطر إبداعاتهم، ثم لكثرة الأعمال الشعرية وانتشارها، وكثرة قرائها.
12 - أوردت في الكتاب -في مواطن عديدة- أوجه الصلة والتشابه بين الحداثيين وبعض الفرق القديمة المنتسبة إلى الإسلام، وقد يظن أن هذا من باب نسبة هؤلاء إلى أولئك القدامى، وهذا غير دقيق، فإن الفِرَق القديمة التي لم تخرج ببدعتها عن الإسلام، حسنة القصد -في الغالب- محبة للإسلام محترمة له ولنبيّه وكتابه، معترفة بألوهية اللَّه وربوبيته، مؤمنة باللَّه جملة وعلى الغيب، بخلاف ما عند أكثر هؤلاء المعاصرين من الحداثيين والعلمانيين.
13 - ذكرت أثناء عرض أفكار وعقائد القوم، الأوصاف التي يستحقونها، وتنطبق على ما فاهوا به من كلام، مثل أوصاف الضلال والزيغ والإلحاد والانحراف والسخف والتهافت والانحدار والتبعية والغثائية ونحو ذلك، كما أني صرحت بأسماء من نقلت عنهم، وسبب ذلك أن التصريح بالأسماء هو الموافق لأهداف الكتاب، ولا قيمة للبحث بدون ذلك.
وأمَّا ذكر الأوصاف؛ فلأنها تنطبق عليهم حقيقة، بل إن بعضهم اعترف صراحة بالإلحاد والكفر والزنى واللواط والمخدرات، فلا ضير في ذكر هذه الأوصاف في المواطن المناسبة لها، ولا منافاة بين ذكرها والموضوعية اللازمة، والعرض العلميّ.
উল্লিখিত ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্তের ক্ষেত্রে, আমি কিছু নাম বাদ দিয়েছি; কারণ আমি সেগুলোর কোনো জীবনীমূলক উৎস বা তথ্য খুঁজে পাইনি। তবে আধুনিকতা (হাদাসাহ) আন্দোলনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্যিক ধারায় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনা করতে আমি কোনো ত্রুটি করিনি।
8 - আমি প্রতিটি খ্রিস্টীয় সালের সাথে একটি হিজরি সাল যুক্ত করার চেষ্টা করেছি এবং উদ্ধৃত পাঠ্যের অভ্যন্তরীণ তারিখগুলো ব্যতীত অন্য কোথাও ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো বাদ দিইনি।
9 - আমি আধুনিকতাবাদী কবিতাগুলোকে তাদের নিজস্ব লিখনশৈলী অনুযায়ী উপস্থাপন করেছি এবং কোনো অংশ বর্জনের ক্ষেত্রে তা নির্দেশ করতে বিন্দু (ডট) ব্যবহার করেছি।
10 - যেসব পাঠ্যের ওপর টীকা দেওয়া প্রয়োজন ছিল, সেগুলোতে আমি মন্তব্য করেছি। এছাড়া বিচ্যুতির কোনো দিক প্রমাণের ক্ষেত্রে কিছু পাঠ্যকে কোনো মন্তব্য ছাড়াই বর্ণনা করেছি; কারণ এর উদ্দেশ্য ছিল বিচ্যুতির সেই বিশেষ দিকটি কেবল প্রমাণ করা।
11 - অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় আধুনিকতাবাদী কবিতার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রধান কারণ হলো: আধুনিকতাবাদীরা নিজেরাই কবিতাকে তাদের প্রকল্পের মূল ভিত্তি, প্রধান কাজ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি হিসেবে গণ্য করে। এছাড়া কাব্যিক কাজগুলোর প্রাচুর্য, ব্যাপক প্রসার এবং এর অগণিত পাঠকও এর অন্যতম কারণ।
12 - আমি এই বইয়ের বিভিন্ন স্থানে আধুনিকতাবাদী এবং ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রাচীন ভ্রান্ত ফেরকার মধ্যকার সম্পর্ক ও সাদৃশ্যের দিকগুলো উল্লেখ করেছি। কেউ মনে করতে পারেন যে এটি তাদের সেই প্রাচীনদের দলভুক্ত করা, কিন্তু বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ সেই প্রাচীন ফেরকাগুলো যারা তাদের বিদআতের কারণে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়নি, তাদের উদ্দেশ্য সাধারণত ভালো ছিল; তারা ইসলামকে ভালোবাসত এবং ইসলাম, নবী ও কিতাবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল। তারা আল্লাহর উলুহিয়্যাত ও রুবুবিয়্যাত স্বীকার করত এবং সামগ্রিকভাবে আল্লাহ ও অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস রাখত। যা বর্তমান সময়ের অধিকাংশ আধুনিকতাবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত।
13 - এই গোষ্ঠীর চিন্তা ও আকিদা বর্ণনা করার সময় আমি তাদের জন্য প্রযোজ্য বিশেষণগুলো উল্লেখ করেছি, যা তাদের উচ্চারিত কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন—পথভ্রষ্টতা, বিচ্যুতি, নাস্তিকতা, বিকৃতি, নির্বুদ্ধিতা, অসংলগ্নতা, অবক্ষয়, পরাধীনতা ও অন্তঃসারশূন্যতা ইত্যাদি। এছাড়াও আমি যাদের থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি তাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি। এর কারণ হলো, নাম প্রকাশ করা এই বইয়ের উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং এটি ছাড়া কোনো গবেষণারই মূল্য থাকে না।
আর বিশেষণগুলো উল্লেখ করার কারণ হলো, এগুলো প্রকৃতপক্ষে তাদের ওপর প্রযোজ্য। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্পষ্টভাবে নাস্তিকতা, কুফরি, ব্যভিচার, সমকামিতা ও মাদকাসক্তির কথা স্বীকার করেছে। সুতরাং উপযুক্ত স্থানে এই বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করাতে কোনো দোষ নেই এবং এটি প্রয়োজনীয় নিরপেক্ষতা ও বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার পরিপন্থী নয়।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١٣)
والمتأمل في أسلوب القرآن العظيم في معالجته لقضايا الكفر والنفاق وأنواع الانحرافات الأخرى، يجد المحاجة بالبرهان والمجادلة بالدليل جنبًا إلى جنب مع ذكر الأوصاف المطابقة للموصوفين مثل {بَلْ هُمْ قَوْمٌ خَصِمُونَ}
(1)، {انْظُرْ كَيْفَ كَذَبُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ}
(2)، {وَقَعَدَ الَّذِينَ كَذَبُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ}
(3)، {فَلَمَّا زَاغُوا أَزَاغَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ}
(4)، {وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِنْ قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَنْ سَوَاءِ السَّبِيلِ}
(5)، {إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا}
(6)، {مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا}
(7)، {فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَثْ}
(8)، إلى غير ذلك من آيات القرآن العظيم، وقد نظرت في كتب الصراع بين أهل الإسلام وأصحاب الانحرافات المعاصرة منذ بدأت موجات الغزو التغريبي الماديّ المعاصر، فرأيت كثيرًا من أهل الغيرة الإيمانية يتجنب في كتاباته ذكر الأوصاف اللائقة بأصحابها، ظنًا منه أن ذلك يناقض الموضوعية أو ينافي أصول الطرح العلميّ، تحت ظنون ما يسمى بالتجرد العلمي ونزع الذاتية والترفع المعرفيّ ونحو ذلك، وقد فاتهم أنهم بهذا الأسلوب قد أسهموا نوع إسهام في إرساء مطلب من مطالب الحداثيين والعلمانيين، وذلك بنزع الوصف الاعتقاديّ أو المعرفيّ عن أقوالهم، بحيث تذوب هذه الأقوال الشنيعة في أحماض التناولات الثقافية المجردة، والتحليلات النقدية الباردة.
ثم إنه بالنظر إلى كون أصحاب هذه الأقوال راضين عن أقوالهم مرتاحي القلوب إليها، باذلي الجهد في نشرها وترويجها، فلا شطط في وصفهم بما اطمأنت إليه نفوسهم وبما استبطنته قلوبهم، كما تشهد بذلك أقلامهم وأعمالهم.
--------------------------------------------
মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের কুফর, নিফাক এবং অন্যান্য ধরণের বিচ্যুতি মোকাবিলার পদ্ধতির প্রতি যে ব্যক্তি গভীর দৃষ্টিপাত করবেন, তিনি সেখানে দলিলাদির মাধ্যমে যুক্তি-তর্ক পেশ করার পাশাপাশি যাদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে তাদের গুণাবলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বর্ণনারও সন্নিবেশ দেখতে পাবেন; যেমন- {বরং তারা এক ঝগড়াটে সম্প্রদায়।}
(১), {দেখো, তারা কীভাবে নিজেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলেছে।}
(২), {আর তারা বসে রইল যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট মিথ্যা বলেছিল।}
(৩), {অতঃপর তারা যখন বক্রতা অবলম্বন করল, তখন আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে বক্র করে দিলেন।}
(৪), {আর তোমরা এমন কওমের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না যারা ইতিপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে এবং তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।}
(৫), {তারা তো চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও পথভ্রষ্ট।}
(৬), {যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা তা বহন করেনি, তাদের উদাহরণ হলো গাধার মতো যে কিতাবের বোঝা বহন করে।}
(৭), {সুতরাং তার উদাহরণ হলো কুকুরের মতো; তুমি যদি তাকে তাড়া করো সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে, আর যদি তাকে ছেড়ে দাও তবুও সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে।}
(৮), মহাগ্রন্থ কুরআনের এ জাতীয় আরও অনেক আয়াতের মতো। আমি ইসলামপন্থী এবং সমকালীন বিচ্যুতিপন্থীদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কিতাবগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি যখন থেকে আধুনিক বস্তুবাদী পাশ্চাত্য আগ্রাসনের ঢেউ শুরু হয়েছে। আমি দেখেছি যে, ঈমানি আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন অনেক লেখকই তাদের লেখায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপযুক্ত গুণাবলি উল্লেখ করা এড়িয়ে চলেন। তারা মনে করেন যে, এটি বস্তুনিষ্ঠতার পরিপন্থী কিংবা বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার মূলনীতির বিরোধী। তারা একে তথাকথিত বৈজ্ঞানিক নিরপেক্ষতা, ব্যক্তিসত্তা বিসর্জন এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক ঔদার্য ইত্যাদি মনে করেন। অথচ তারা এটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে তারা অজান্তেই আধুনিকতাবাদী ও সেকুলারদের একটি দাবি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছেন। আর তা হলো তাদের বক্তব্যের ওপর থেকে আকিদাগত বা জ্ঞানতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলো ছিনিয়ে নেওয়া, যাতে করে এই জঘন্য কথাগুলো নিছক বিমূর্ত সাংস্কৃতিক আলোচনা এবং প্রাণহীন সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের ভিড়ে মিশে যায়।
তাছাড়া এই বিষয়টির দিকে তাকালে দেখা যায় যে, এসব কথার প্রবক্তারা তাদের বক্তব্যের ব্যাপারে সন্তুষ্ট এবং তাদের অন্তর এতে প্রশান্ত; তারা এগুলো প্রচার ও প্রসারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করে থাকে। সুতরাং তাদের কলম ও কর্মকাণ্ড যে সাক্ষ্য দেয়, সেই অনুযায়ী তাদের অন্তর ও আত্মা যা ধারণ করে আছে তার মাধ্যমেই তাদের বিশেষায়িত করার মধ্যে কোনো বাড়াবাড়ি নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وأرى أن هذه الأوصاف لازمة للحط من منازلهم في قلوب من أشرب حبهم بجهل أو تجاهل، بقدر ما حازوه من هذه القلوب بغير حق.
ثم إني ما قسوت في القول -إن عُدَّت هذه الأوصاف قسوة- إلّا على الذين قست أقوالهم في حق ركن من أركان الإيمان أو قضية من قضايا الإسلام أو علم من علومه.
أضف إلى ذلك أنهم حين يناقشون أهل الإسلام فإنهم لا يترددون في رميهم بأقذع الألفاظ وأخبث الشتائم، وأسخف الأكاذيب، ولم أكن فيما وصفتهم به -وللَّه الحمد- في شيء من ذلك، بل كان نعتي لمن أطالوا التلاعب بعقول القراء، وعرضوا الباطل وكأنه الحق، وسوقوا الانحرافات، وكانوا سماسرة ووكلاء لأعداء الإسلام؛ نعتًا لا يتجاوز ما هم عليه، إن لم يكن فيه تقصير عن وصف حالهم أسأل اللَّه العفو عنه، وكم من غصة نشبت في قلبي، وغضبة جاشت في نفسي، ونومة طارت من عيني إثر قراءتي لما قالوه في حق اللَّه تعالى وحق أنبيائه وكتبه وشريعته وأخباره.
فأنا أمام محاربين ألدّاء لعقيدة الإسلام وشريعته وأحكامه وتاريخه وحضارته، محاربة مباشرة أو من وراء حجب الألفاظ والرموز، واللين مع المحارب من صفات الأحمق أو العاجز
(1).
وهذا البحث لا يواجه ظواهر أدبية أو فنية، وإنّما يواجه ظواهر وأساسات وقواعد فكرية واعتقادية، ومدارك ومنطلقات وأوجه هذه المضامين؛ لحمل النفوس المؤمنة على إعمال سنّة الدفاع عن حرمات الإسلام، ورفع وطأة أهل الأهواء والشبهات، وسد سبل انحرافاتهم الكثيرة، وكشف المضلين المفتونين، المنطوين على أسقام أصابت عقولهم وقلوبهم، فرشح عنها ما رشح من آراء باطلة وجهالات ساقطة، وانحرافات يخزي بعضها بعضًا، هذا و (إن تصور مذهب هؤلاء: كاف في بيان فساده، لا يحتاج مع حسن التصور إلى دليل آخر، وإنّما تقع الشبهة؛ لأن أكثر الناس لا يفهمون حقيقة قولهم وقصدهم، لما فيه من
--------------------------------------------
আর আমি মনে করি যে, অজ্ঞতা বা জেনেশুনে উপেক্ষা করার কারণে যাদের অন্তরে তাদের প্রতি ভালোবাসা গেঁথে গেছে, তাদের অন্তরে তাদের মর্যাদাকে খাটো করার জন্য এই বিশেষণগুলো অপরিহার্য; ঠিক ততটুকুই যতটুকু তারা অন্যায়ভাবে এই অন্তরগুলোতে স্থান করে নিয়েছে।
অতঃপর আমি বক্তব্যে কঠোরতা অবলম্বন করিনি—যদি এই বিশেষণগুলোকে কঠোরতা হিসেবে গণ্য করা হয়—তবে কেবলমাত্র তাদের বিরুদ্ধে, যাদের বক্তব্য ঈমানের কোনো রুকন, ইসলামের কোনো বিষয় বা এর কোনো ইলমের ব্যাপারে কঠোর ছিল।
এর সাথে যোগ করুন যে, তারা যখন ইসলামের অনুসারীদের সাথে আলোচনায় লিপ্ত হয়, তখন তারা তাদের প্রতি অত্যন্ত জঘন্য শব্দ, নিকৃষ্টতম গালিগালাজ এবং চরম হাস্যকর মিথ্যাচার ছুঁড়ে দিতে দ্বিধাবোধ করে না। অথচ আমি তাদের বর্ণনায়—আল্লাহর শুকরিয়া—সেরকম কিছুই করিনি। বরং যারা দীর্ঘকাল ধরে পাঠকদের বিবেক নিয়ে খেলা করেছে, বাতিলকে সত্যের রূপে উপস্থাপন করেছে এবং বিচ্যুতিগুলোর প্রসার ঘটিয়েছে, আর ইসলামের শত্রুদের দালাল ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছে; তাদের প্রতি আমার দেওয়া বিশেষণগুলো তাদের প্রকৃত অবস্থার বাইরে যায়নি, বরং তাদের অবস্থার বর্ণনায় হয়তো কমতিই রয়ে গেছে যার জন্য আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আল্লাহর অধিকার, তাঁর নবীগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর শরিয়ত এবং তাঁর সংবাদের ব্যাপারে তারা যা বলেছে, তা পড়ার পর আমার হৃদয়ে কতই না যন্ত্রণা বিঁধেছে, আমার মনে কতই না ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এবং আমার চোখ থেকে কতই না ঘুম উবে গেছে!
আমি মূলত ইসলামের আকিদা, শরিয়ত, বিধান, ইতিহাস এবং সভ্যতার বিরুদ্ধে কট্টর শত্রুদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যারা সরাসরি অথবা শব্দ ও প্রতীকের পর্দার আড়াল থেকে যুদ্ধ করছে। আর যোদ্ধার প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করা নির্বোধ বা অক্ষমের বৈশিষ্ট্য
(১)।
এই গবেষণা কোনো সাহিত্যিক বা শৈল্পিক বিষয়ের মুখোমুখি হচ্ছে না, বরং এটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও বিশ্বাসগত নানা দিক, ভিত্তি ও মূলনীতির মুখোমুখি হচ্ছে এবং এসব বিষয়ের উপলব্ধি, উৎস ও দিকগুলোর মোকাবিলা করছে; যাতে মুমিনদেরকে ইসলামের পবিত্রতা রক্ষার সুন্নাহ বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করা যায়, প্রবৃত্তিপূজারী ও সংশয়বাদীদের প্রভাব দূর করা যায়, তাদের বহুমুখী বিচ্যুতির পথ রুদ্ধ করা যায় এবং ফিতনায় আক্রান্ত সেই পথভ্রষ্টদের মুখোশ উন্মোচন করা যায়—যাদের মন ও মস্তিষ্ক এমন রোগে আক্রান্ত যেখান থেকে এসব বাতিল মতামত ও পতনশীল অজ্ঞতা এবং পরস্পরকে লজ্জিতকারী বিচ্যুতিগুলো চুইয়ে বের হচ্ছে। আর (তাদের মতাদর্শের ধারণা লাভ করাই এর অসারতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট; সঠিক ধারণার সাথে অন্য কোনো দলিলের প্রয়োজন হয় না। প্রকৃতপক্ষে সংশয় তৈরি হয় এই কারণে যে, অধিকাংশ মানুষ তাদের কথা ও উদ্দেশ্যের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারে না, কারণ এতে রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الألفاظ المجملة والمشتركة، بل وهم أيضًا لا يفهمون حقيقة ما يقصدونه ويقولونه
(1). . . وكل مَن يقبل قول هؤلاء فهو أحد رجلين، إمَّا جاهل بحقيقة أمرهم، وإمَّا ظالم يريد علوًا في الأرض وفسادًا، أو جامع بين الوصفين، وهذه حال أتباع فرعون الذين قال اللَّه فيهم: {فَاسْتَخَفَّ قَوْمَهُ فَأَطَاعُوهُ}
(2) وحال القرامطة مع رؤسائهم، وحال الكفار والمنافقين في أئمتهم الذين يدعون إلى النار ويوم القيامة لا ينصرون)
(3). على أنني -مع ذلك- لم أتجاوز قواعد البحث والمناقشة، من خلال إيراد نصوصهم ونقدها وإبانة ما فيها من فساد وعوار.
وأعلم مسبقًا أن هناك مَن سينتقد أسلوب إطلاق الأوصاف على مستحقيها ويعتبر ذلك تحاملًا وأحكامًا مسبقة، وتهكمًا واستنقاصًا ينافي الموضوعية العلمية؛ ولذلك بينت وجهة نظري في هذه القضية، مع اعترافي بأن وجهة النظر المخالفة لها مسوغاتها وحيثياتها العصرية ودوافعها الفكرية والسلوكية من الموافقين والمخالفين.
14 - أرى أنه على مَن يشتغل بالمناظرة مع الملحدين والمرتابين والمقلدين للأوروبيين أن ينتبه للشراك المنصوبة باسم "الموضوعية" و"الحوار" و"الانفتاح الثقافي" و"حرية الرأي" وخاصة عندما يصور نفسه في موضع الخصم؛ وذلك لأنه إذا أذعن لمقتضيات هذا المعتقد ولوازمه، فإنه يلتحق سرًا وبطريقة تدريجية من حيث لا يشعر بخصومه، إذ بكثرة تكرار فوض نفسه في موقع الخصم يقيم في عقله خصمًا خياليًا يتولد منه في الذهن والقلب قوة تصير وكيلًا لخصمه داخليًا، فينبت الوهن والضعف في أعماق النفس الأمّارة بالسوء ويقوى الشيطان في ظل تلك القوة، ويتحول الحق عن سبيله القويم ولو نوع تحول، فينتقص من الحق الذي معه بمقدار هذا التحول، وهذا منافٍ لمقاصد الموضوعية، ومخالف للعدل والإنصاف.
15 - ينبغي أن يُعرف بأن الحداثيين ليسوا على درجة واحدة بل هم في
--------------------------------------------
দ্ব্যর্থবোধক এবং সাধারণ শব্দাবলী, বরং এমনকি তারা নিজেরাও তারা যা উদ্দেশ্য করে এবং যা বলে তার হাকিকত বোঝে না
(১). . . যারা এদের বক্তব্য গ্রহণ করে তারা দুই ধরনের ব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত: হয় সে তাদের বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ, অথবা সে এমন এক জালিম যে যমীনে আধিপত্য এবং ফাসাদ চায়, অথবা সে উভয় গুণেরই সমাহারকারী। আর এটিই হলো ফেরাউনের অনুসারীদের অবস্থা যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {সে তার কওমকে তুচ্ছ মনে করল, ফলে তারা তার আনুগত্য করল}
(২) এবং এটিই তাদের নেতাদের সাথে কারামিতাহদের অবস্থা এবং কাফির ও মুনাফিকদের অবস্থা তাদের ঐ সকল নেতাদের ব্যাপারে যারা আগুনের দিকে আহ্বান করে এবং কিয়ামতের দিন তাদের সাহায্য করা হবে না)
(৩)। তা সত্ত্বেও, আমি তাদের বক্তব্যগুলো উদ্ধৃত করার মাধ্যমে এবং সেগুলোর সমালোচনা ও তাতে থাকা ত্রুটি ও অসারতা স্পষ্ট করার মাধ্যমে গবেষণা ও আলোচনার নিয়মাবলী অতিক্রম করিনি।
আমি পূর্বেই জানি যে, এমন লোক থাকবে যারা প্রাপ্য ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ বিশেষণ প্রয়োগের পদ্ধতির সমালোচনা করবে এবং একে পক্ষপাতদুষ্টতা, পূর্বনির্ধারিত ধারণা, উপহাস এবং অবমাননা হিসেবে গণ্য করবে যা বৈজ্ঞানিক বস্তুনিষ্ঠতার পরিপন্থী; তাই আমি এ বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছি, যদিও আমি স্বীকার করি যে এর বিপরীত দৃষ্টিভঙ্গির স্বপক্ষে অনুসারী ও বিরোধীদের নিকট সমসাময়িক যুক্তি, প্রেক্ষাপট এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও আচরণগত প্রেরণা রয়েছে।
১৪ - আমি মনে করি, যারা নাস্তিক, সংশয়বাদী এবং ইউরোপীয়দের অন্ধ অনুসারীদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হন, তাদের "বস্তুনিষ্ঠতা", "সংলাপ", "সাংস্কৃতিক উন্মুক্ততা" এবং "মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা"র নামে পাতা ফাঁদগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত, বিশেষ করে যখন কেউ নিজেকে প্রতিপক্ষের অবস্থানে কল্পনা করে; কারণ, সে যদি এই আকিদার দাবি ও আবশ্যকতাগুলোর কাছে নতি স্বীকার করে, তবে সে অলক্ষ্যে ও ধীরে ধীরে গোপন উপায়ে তার প্রতিপক্ষের সাথে মিশে যায়। কেননা বারবার নিজেকে প্রতিপক্ষের অবস্থানে কল্পনা করার মাধ্যমে সে নিজের মস্তিষ্কে এক কাল্পনিক প্রতিপক্ষ তৈরি করে, যা থেকে মন ও অন্তরে এমন এক শক্তির জন্ম হয় যা অভ্যন্তরীণভাবে তার প্রতিপক্ষের প্রতিনিধি হয়ে ওঠে। ফলে মন্দ কাজে প্ররোচনা দানকারী আত্মার গহীনে দুর্বলতা ও শিথিলতা তৈরি হয় এবং সেই শক্তির ছায়াতলে শয়তান শক্তিশালী হয়। আর সত্য তার সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তা সামান্য বিচ্যুতি হলেও। ফলে এই বিচ্যুতির পরিমাণ অনুযায়ী তার কাছে থাকা সত্য সংকুচিত হয়ে যায়, যা বস্তুনিষ্ঠতার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী এবং ন্যায় ও ইনসাফের বিরোধী।
১৫ - এটি জানা থাকা উচিত যে আধুনিকতাবাদীরা সবাই এক স্তরের নয়, বরং তারা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١٦)
دركات مختلفة، وليس كل قول قاله واحد منهم يعتبر قولًا لكل حداثي على درجة التعيين، وإن كان ذلك داخلًا ضمن مذهبه الذي اعتنقه ومنهجه الذي ارتضاه على درجة العموم، فهو منسوب إليه بوجه من الوجوه، ما لم يعلن براءته من هذا القول، فكيف إذا كان يثني على صاحب القول المنحرف، ويرسمه في أعين الآخرين مثالًا رائعًا في الثقافة والأدب والفكر؟! فكيف إذا كان يدافع عنه ولا يقبل فيه نقدًا؟!
16 - تحريت العدل والإنصاف في فهم النصوص الحداثية والحكم عليها، وما ظهر من استنتاج لبعض النصوص والرموز المحتملة والسياقات الموهمة، مما قد لا يوافق عليه البعض فإنني أعتمد فيه على عدة أمور علمية منهجية وأتكئ فيه على الأصل الحداثي القائل بأن النص إذا قاله صاحبه خرج من نطاقه إلى نطاق المتلقي يفهمه ويحكم عليه بطريقته الخاصة ووفق قيمه ومعاييره، هذا في النصوص الغائمة والأقوال الغامضة والعبارات الملبسة، أما ما كان منها واضحًا جليًا فإنه شاهد على ذاته بذاته.
17 - لا يقتصر هذا الكتاب على نصوص أدبية، بل يتضمن كذلك نصوصًا نثرية من مقالات وكتابات وقصص وروايات ودراسات وموضوعات فكرية.
3 - الدراسات السابقة في الموضوع:هناك مجموعة من المؤلفات التي تعرضت لهذا الموضوع، أو بالأحرى لبعض القضايا فيه، حيث لم أجد كتابًا جامعًا تحدث عن موقف الحداثيين من أركان الإيمان ومقتضياتها العملية.
وهذه المؤلفات تختلف من حيث حجمها، ونوعية التناول للموضوع، ومقدار العمق والشمول في محاكمة القضايا إلى عقيدة الإسلام وشريعته وغير ذلك من أمور، وسوف أذكر جملة منها مرتبة حسب الترتيب الهجائي معطيًا نبذة يسيرة عن كل واحد منها:
1 - أباطيل وأسمار: للأستاذ محمود محمد شاكر رحمه الله، يقع في جزأين كبيرين يحتويان على 630 صفحة، وفيه مناقشة علمية وأدبية واعتقادية لأوائل جذور الانحراف، وخاصة لويس عوض ثم توفيق الحكيم ومحمد مندور وطه حسين وغالي شكري ومحمد خلف اللَّه وغيرهم، وقد تحدث عن هؤلاء
বিভিন্ন স্তর রয়েছে, এবং তাদের একজনের প্রতিটি বক্তব্যই নির্দিষ্টভাবে প্রত্যেক আধুনিকতাবাদীর বক্তব্য হিসেবে গণ্য করা হয় না, যদিও সাধারণভাবে তা তাদের গ্রহণকৃত মতাদর্শ ও পছন্দকৃত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত থাকে। সুতরাং কোনো না কোনোভাবে তা তাদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত হয়, যতক্ষণ না তারা সেই বক্তব্য থেকে নিজেদের দায়মুক্ত ঘোষণা করে। আর অবস্থা যদি এমন হয় যে, তারা সেই বিভ্রান্ত বক্তব্য প্রদানকারীর প্রশংসা করে এবং অন্যদের চোখে তাকে সংস্কৃতি, সাহিত্য ও চিন্তাধারার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে চিত্রিত করে, তবে বিষয়টি কেমন দাঁড়ায়?! আর যদি তারা তার পক্ষ অবলম্বন করে এবং তার বিষয়ে কোনো সমালোচনা গ্রহণ না করে, তবে বিষয়টি কেমন হয়?!
১৬ - আধুনিকতাবাদী পাঠ্যসমূহ অনুধাবন ও সেগুলোর ওপর বিচার করার ক্ষেত্রে আমি ন্যায়বিচার ও ইনসাফ বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। কিছু সম্ভাব্য পাঠ্য, প্রতীক ও বিভ্রান্তিকর প্রসঙ্গের ক্ষেত্রে যেসব সিদ্ধান্ত প্রতীয়মান হয়েছে, যা হয়তো কেউ কেউ গ্রহণ করবেন না—সেখানে আমি বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক ও পদ্ধতিগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছি এবং আধুনিকতাবাদীদের সেই মূলনীতির ওপর ভরসা করেছি যা বলে: যখন কোনো লেখক কোনো পাঠ্য প্রকাশ করেন, তখন তা লেখকের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে পাঠকের গণ্ডিতে প্রবেশ করে; তখন পাঠক সেটি তার নিজস্ব পদ্ধতিতে এবং তার নিজস্ব মূল্যবোধ ও মানদণ্ড অনুযায়ী বোঝেন এবং বিচার করেন। এটি অস্পষ্ট পাঠ্য, রহস্যময় উক্তি এবং বিভ্রান্তিকর অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; আর যা স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট, তা নিজেই নিজের প্রমাণ।
১৭ - এই বইটি কেবল সাহিত্যিক পাঠ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে প্রবন্ধ, রচনা, গল্প, উপন্যাস, গবেষণা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রসঙ্গের গদ্য পাঠ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৩ - বিষয়ে পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:এই বিষয় নিয়ে, অথবা বলা ভালো এর কিছু ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছে এমন একগুচ্ছ গ্রন্থ রয়েছে; তবে আমি এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ বই খুঁজে পাইনি যা ঈমানের রুকনসমূহ এবং এর ব্যবহারিক অনিবার্যতাসমূহ সম্পর্কে আধুনিকতাবাদীদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছে।
এই গ্রন্থগুলো তাদের কলেবর, বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ধরণ এবং ইসলামের আকিদা ও শরিয়তের নিরিখে ইস্যুগুলো বিচার করার ক্ষেত্রে গভীরতা ও ব্যাপকতার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন। আমি সেগুলোর একটি তালিকা বর্ণানুক্রমিকভাবে উল্লেখ করছি এবং প্রত্যেকটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করছি:
১ - আবাতিল ওয়া আসমার: উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির রহিমাহুল্লাহ-এর রচিত, এটি দুটি বিশাল খণ্ডে বিভক্ত যা ৬৩০ পৃষ্ঠা সংবলিত। এতে বিভ্রান্তির প্রাথমিক শিকড়গুলো নিয়ে বৈজ্ঞানিক, সাহিত্যিক ও আকিদাগত আলোচনা রয়েছে; বিশেষ করে লুইস আওয়াদ, অতঃপর তাওফিক আল-হাকিম, মুহাম্মদ মান্দুর, ত্বহা হুসাইন, ঘালি শুকরি, মুহাম্মদ খালাফউল্লাহ ও অন্যদের সম্পর্কে। তিনি এদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وخلفياتهم الفكرية، وتاريخ عمالتهم وارتباطهم بالمستعمر والكنيسة، وتلاعبهم بالألفاظ والمصطلحات، وتدليسهم للمفاهيم، ودعوتهم إلى العامية، وسيرهم في مخطط التبشير والاستشراق وأثر العقيدة النصرانية على أعمالهم الكتابية، وممارساتهم العملية، وكشف عداوتهم للقرآن وأخباره، والإسلام وأحكامه، واللغة ومدلولاتها.
على رقي في أسلوبه، وفخامة في ألفاظه، وجمال في ترتيبه، وجدير بكل متخصص في هذا الشأن، أو مريد العلم فيه أن يطلع على هذا السفر النفيس.
2 - الاتجاهات الوطنية في الأدب المعاصر: للدكتور محمد محمد حسين رحمه الله، ويقع في 470 صفحة، وهو من أجل الكتب وأنفعها في مضمار بيان أوجه الصراع بين الكفر والإسلام في هذا العصر، وتاريخ هذا الصراع، وامتداداته، كتبت بقلم محب للإسلام عميق الفهم فيه وفي أساليب ومقاصد أعدائه.
وقد تحدث عن الخلافة الإسلامية، وأثر إلغائها في ترسيخ العقائد الجاهلية المعاصرة، وأثر ذلك على الآثار الأدبية والفكرية، وكيف بدأت إثر ذلك الدعوات العلمانية اللادينية، والقومية، والمناداة بالجامعة العربية بديلًا من الجامعة الإسلامية، ثم الدعوات الإقليمية، ثم تعرض لقضية "القديم والجديد" وكيف تجلت المعارك في هذه القضية عن صراع بين الإسلام ومقتضياته، والتغريب وملحقاته، وما تلا ذلك من دعوات للعلمانية والإلحاد، وإفساد المرأة والتعليم والإعلام والأدب، وهدم للدين والأخلاق واللغة العربية، وقد استغرق ذلك منه ما يقارب نصف الكتاب وفيه تجلت قدرة المؤلف رحمه اللَّه تعالى في الربط بين هذه الاتجاهات وجذورها، ودوافعها ومشروعاتها المستقبلية.
ومن أراد الاطلاع على أبعاد الحرب القائمة ضد الإسلام وخلفياتها التاريجية والاعتقادية والفكرية، وأساليبها العملية، وأبعادها المستقبلية فلا غنى له من الاطلاع على هذا الكتاب النفيس، الذي نال حظًا من القبول عند المثقفين المسلمين قلما يناله غيره، وهو جدير بهذه المنزلة.
3 - أدب الردة، قصة الشعر العربي الحديث: للأستاذ جمال سلطان، ويقع في 151 صفحة، وهو كتاب جيد من كاتب عرف باطلاعه العميق في الاتجاهات المعاصرة.
وقد بدأ كتابه بعرض تاريخيّ فكريّ موجز لنشأة الحداثة الشعرية في
এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পটভূমি, উপনিবেশবাদী ও গির্জার সাথে তাদের দালালি ও সংশ্লিষ্টতার ইতিহাস, শব্দ ও পরিভাষার মারপ্যাঁচ, ধারণাসমূহের প্রতারণা, উপভাষার প্রতি তাদের আহ্বান, মিশনারি ও প্রাচ্যবাদী পরিকল্পনায় তাদের পথচলা এবং তাদের রচনাবলি ও ব্যবহারিক কর্মকাণ্ডে খ্রিষ্টীয় আকিদার প্রভাব, আর কুরআন ও তার সংবাদসমূহ, ইসলাম ও তার বিধানসমূহ এবং ভাষা ও তার অর্থের প্রতি তাদের শত্রুতা উন্মোচন করা হয়েছে।
এর শৈলীর আভিজাত্য, শব্দের গাম্ভীর্য এবং বিন্যাসের চমৎকারিত্বের কারণে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অথবা জ্ঞান অন্বেষী প্রত্যেকের জন্যই এই মূল্যবান গ্রন্থটি পাঠ করা সমীচীন।
২ - আল-ইত্তি জাহাতুল ওয়াতানিয়্যাহ ফিল আদাবিল মুয়াসির (সমকালীন সাহিত্যে জাতীয়তাবাদী ধারা): ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ হুসাইন (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত। এটি ৪৭০ পৃষ্ঠার একটি বই। বর্তমান যুগে কুফর ও ইসলামের মধ্যকার দ্বন্দ্বের স্বরূপ, এই সংগ্রামের ইতিহাস এবং এর বিস্তৃতি বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও উপকারী গ্রন্থ। এটি ইসলামের প্রতি অনুরাগী এবং ইসলাম ও তার শত্রুদের পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন এক ব্যক্তির কলমে রচিত।
এতে তিনি ইসলামি খিলাফত এবং তা বিলুপ্তির ফলে সমকালীন জাহিলি আকিদা-বিশ্বাস সুদৃঢ় হওয়ার প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। সেই সাথে সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মের ওপর এর প্রভাব, এর ফলে কীভাবে ধর্মনিরপেক্ষ-ধর্মহীন ও জাতীয়তাবাদী আহ্বানের সূচনা হলো, এবং ইসলামি ঐক্যের পরিবর্তে ‘আরব লীগ’-এর দাবি উত্থাপিত হলো, অতঃপর আঞ্চলিকতাবাদের ডাক এল—তা বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি ‘পুরাতন বনাম নতুন’ প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন এবং এই বিষয়ে ইসলাম ও তার অনিবার্য দাবি বনাম পাশ্চাত্যকরণ ও তার অনুষঙ্গগুলোর মধ্যকার লড়াই কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে তা তুলে ধরেছেন। এর পরবর্তীতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও নাস্তিকতার আহ্বান, নারী, শিক্ষা, গণমাধ্যম ও সাহিত্যের বিপর্যয় এবং ধর্ম, নৈতিকতা ও আরবি ভাষার ধ্বংস সাধনের যে ধারা শুরু হয়েছে, তাও বর্ণিত হয়েছে। বইটির প্রায় অর্ধেক অংশ জুড়ে এই আলোচনা বিস্তৃত, যেখানে লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই ধারাগুলোর মূল শিকড়, এদের নেপথ্যের উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যকার যোগসূত্র স্পষ্ট করেছেন।
যারা ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের স্বরূপ, এর ঐতিহাসিক, বিশ্বাসগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক পটভূমি, এর ব্যবহারিক পদ্ধতি এবং এর সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যৎ লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে জানতে চান, তাদের জন্য এই মূল্যবান গ্রন্থটি পাঠ করা অপরিহার্য। মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের মাঝে এটি যে পরিমাণ গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছে তা সমজাতীয় অন্য কোনো বইয়ের ক্ষেত্রে বিরল, এবং এটি এই মর্যাদার যোগ্য।
৩ - আদাবুর রিদ্দাহ, কিসসাতুশ শি’রিল আরাবিল হাদিস (স্বধর্মত্যাগের সাহিত্য: আধুনিক আরবি কবিতার গল্প): উস্তাদ জামাল সুলতান রচিত। এটি ১৫১ পৃষ্ঠার একটি বই। সমকালীন বিভিন্ন ধারার ওপর গভীর পাণ্ডিত্য রয়েছে এমন একজন লেখকের চমৎকার একটি গ্রন্থ এটি।
তিনি তার গ্রন্থটি শুরু করেছেন কাব্যিক আধুনিকতার উৎপত্তির একটি সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١٨)
البلدان العربية من الديوان وأبولو والمهجر وغيرها، ومن حداثة العراقيين إلى المصريين إلى مجلة شعر في لبنان، ثم جال جولة سريعة في بعض المذاهب الأدبية من الرومانسية حتى الواقعية الاشتراكية ثم تعرض لمفهوم العالمية عند شعراء الحداثة، وبيّن أن المراد به أوروبا مكانًا والعصر الحديث زمانًا، والمادية فكرًا واعتقادًا، ثم تحدث عن مفهوم التجديد وموقفهم من الثابت والمحافظ، ودعوتهم للهدم الكامل والتطور المطلق، ثم تحدث عن التيارات المشبوهة التي تقف خلف هذا الشعر الحديث.
ويتميز المؤلف بقدرته الفذة على ربط كل هذه القضايا بالمفاهيم الإسلامية، واستشهاده الدقيق والمتنوع بكلامهم حيث حشد جملة كبيرة من الشواهد المختلفة لحداثيين من بلدان عديدة، وهي ميزة كبيرة لهذا الكتاب، الذي تميز أيضًا برصانة الأسلوب، وجودة السبك، وجمال العبارة والتركيب.
4 - أدب نجيب محفوظ وإشكالية الصراع بين الإسلام والتغريب:
للدكتور السيد أحمد فرج، ويقع في 325 صفحة، وهو وإن كان يتحدث عن نجيب محفوظ إلّا أنه يعد -بحق- من الدراسات الناضجة، التي يُمكن الاتساء بها في مناقشة قضية العلمانية والحداثة في البلاد الإسلامية، لاسيما وأن مؤلفه صاحب خبرة دقيقة في هذا المجال، والمطلع على كتابه "جذور العلمانية" يجده على صغر حجمه من أعمق الكتب وأنضجها في هذا المجال.
تحدث المؤلف في كتابه "أدب نجيب محفوظ" عن الجذور الاعتقادية التي انطلق منها، وجعل القسم الأول منه عن حياة نجيب محفوظ بكل خلفياتها ومؤثراتها الزمانية والمكانية والفكرية، ومدى تأثير كل ذلك على فكره وإنتاجه، وجعل القسم الثاني عن القضايا الفكرية التي اهتم نجيب محفوظ بطرحها من خلال رواياته من اشتراكية وحرية جنسية، ودعوة تغريبية جلية، وعمالة لليهود واستخذاء للنصارى وخضوع للماديين.
والكتاب بقدر ما يتحدث عن نجيب محفوظ إلّا أنه أيضًا يتحدث عن التيار التغريبي الذي يستهدف تقويض الإسلام، وإلحاق المجتمع الإسلامي -في تبعية مهينة ذليلة- بالغرب في العقيدة والسلوك ونظام الحياة، فهو بحق يصور إشكالية الصراع بين الإسلام والتغريب من خلال رؤية إسلامية واضحة، وروح إيمانية جياشة.
আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, দিওয়ান, অ্যাপোলো, আল-মাহজার এবং অন্যান্য ধারা থেকে শুরু করে ইরাকি ও মিশরীয়দের আধুনিকতা হয়ে লেবাননের 'কবিতা' (শি'র) সাময়িকী পর্যন্ত; এরপর তিনি রোমান্টিকতাবাদ থেকে সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদ পর্যন্ত বিভিন্ন সাহিত্য মতবাদের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত সফর করেছেন। অতঃপর তিনি আধুনিকতাবাদী কবিদের নিকট 'বিশ্বজনীনতা'র ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এর দ্বারা ভৌগোলিক দিক থেকে ইউরোপ, কালগত দিক থেকে আধুনিক যুগ এবং চিন্তা ও বিশ্বাসের দিক থেকে বস্তুবাদকে বোঝানো হয়েছে। এরপর তিনি 'নবায়ন'-এর ধারণা এবং শাশ্বত ও রক্ষণশীল বিষয়ের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেছেন; সেইসাথে তাদের পূর্ণ ধ্বংস এবং নিরঙ্কুশ বিবর্তনের আহ্বানের কথা বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি এই আধুনিক কবিতার পেছনে ক্রিয়াশীল সন্দেহজনক ধারাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।
লেখক এই সমস্ত বিষয়কে ইসলামি ভাবধারার সাথে সংশ্লিষ্ট করার ক্ষেত্রে এক অনন্য যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন দেশের আধুনিকতাবাদীদের প্রচুর সংখ্যক বক্তব্য অত্যন্ত নির্ভুলভাবে এবং বৈচিত্র্যময়ভাবে উদ্ধৃত করেছেন, যা এই বইটির একটি বড় বৈশিষ্ট্য। এছাড়া বইটি রচনার গাম্ভীর্য, শব্দচয়ন ও বিন্যাসের উৎকর্ষ এবং বাক্য ও গঠনের সৌন্দর্যের জন্য স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
৪ - নজীব মাহফুজের সাহিত্য এবং ইসলাম ও পাশ্চাত্যকরণের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সংকট:
ডক্টর আস-সাইয়্যেদ আহমাদ ফারাজ রচিত এই গ্রন্থটি ৩২৫ পৃষ্ঠার। যদিও এটি নজীব মাহফুজের ওপর আলোকপাত করেছে, তবুও এটি প্রকৃতপক্ষে একটি অত্যন্ত পরিপক্ক গবেষণা গ্রন্থ, যা মুসলিম দেশগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও আধুনিকতা বিষয়ক আলোচনায় উদাহরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিশেষ করে লেখক এই বিষয়ে সূক্ষ্ম অভিজ্ঞতার অধিকারী; তাঁর 'ধর্মনিরপেক্ষতার শিকড়' নামক গ্রন্থটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও এই বিষয়ের অন্যতম গভীর ও সমৃদ্ধ বই হিসেবে গণ্য।
লেখক তাঁর 'নজীব মাহফুজের সাহিত্য' গ্রন্থে সেই বিশ্বাসগত শিকড় নিয়ে আলোচনা করেছেন যা থেকে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। বইটির প্রথম অংশে তিনি নজীব মাহফুজের জীবন এবং তার প্রেক্ষাপট, সময়, স্থান ও চিন্তার প্রভাব এবং তাঁর চিন্তা ও সৃজনশীলতায় এসবের প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করেছেন। দ্বিতীয় অংশটি সেইসব বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় নিয়ে সাজিয়েছেন যা নজীব মাহফুজ তাঁর উপন্যাসের মাধ্যমে তুলে ধরতে আগ্রহী ছিলেন; যেমন সমাজতন্ত্র, যৌন স্বাধীনতা, স্পষ্ট পাশ্চাত্যকরণের আহ্বান, ইহুদিদের দালালি, খ্রিস্টানদের সামনে হীনম্মন্যতা এবং বস্তুবাদীদের বশ্যতা স্বীকার।
বইটি যেমন নজীব মাহফুজকে নিয়ে আলোচনা করে, তেমনি এটি সেই পাশ্চাত্যঘেঁষা ধারা নিয়েও কথা বলে যার লক্ষ্য হলো ইসলামকে ধসিয়ে দেওয়া এবং মুসলিম সমাজকে—এক অবমাননাকর ও হীন অনুসারী হিসেবে—আকীদা, আচরণ ও জীবনব্যবস্থার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের লেজুড়বৃত্তিতে বাধ্য করা। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি সুস্পষ্ট ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি এবং ঈমানি জজবার মাধ্যমে ইসলাম ও পাশ্চাত্যকরণের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সংকটকে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ١٩)
4 - الإسلام والحداثة: لعبد المجيد الشرفي من تونس، ويقع في 346 صفحة، وهو كتاب لا علاقة له بموضوع هذا البحث، وإنّما أوردته لرفع التباس قد يرد من قراءة العنوان.
وهو كتاب علماني المنهج والمقصد، يحاكم قضايا علم أصول الفقه والفقه والتفسير والحديث، والقضايا العملية: السياسية والحكمية المتفرعة عنها، محاكمة علمانية مادية قبيحة، يظهر فيها التحامل على الإسلام، والتبجيل للعلمانية والماركسية وغيرها من المذاهب المادية المعاصرة.
5 - أسلوب جديد في حرب الإسلام: للأستاذ جمعان بن عايض الزهراني، ويقع في 211 صفحة، وهو كتاب جليل النفع، يدل على غيرة متألقة، وقلب شجاع.
تحدث فيه مؤلفه عن الحداثة، ومفهومها الشمولي عند سدنتها، ثم تعرض لكاهنها الأكبر الباطني أدونيس ومضامين أطروحاته وفكره الماديّ، وعمق عداوته للإسلام واللغة العربية والمجتمع الإسلاميّ، ثم خصص فصلًا متميزًا عن الأساس العقائدي للحداثة، أوضح فيه جملة من الأطر الاعتقادية المنحرفة التي تمر من خلالها الحداثة العربية وكلها تتجه نحو هدف واحد "مضادة الإسلام ومناقضته" وقد أورد جملة من الشواهد الصارخة ذات الدلالة الواضحة على عداوتهم للإسلام، واستعارتهم الأفكار والعقائد المنحرفة والسعي في ترويجها، ثم تحدث في فصل آخر عن الحرية الإبداعية والماسونية العالمية، بيّن فيه أثر الماسونية في الحركة الحداثية، وملامح التشابه بين الحركتين، في أصل المخطط وأهدافه ووسائله، وأصوله الفكرية، ثم تحدث عن المثالب الخلقية والسلوكية التي كست جسد الحداثيين.
والكتاب كله يحتوي على دراسة جيدة للحداثة وجذورها الفكرية ومخططاتها التخريبية، من منطلق اعتقادي أولًا -وهو أهم وأخطر منطلق- ثم من منطلق فكريّ وثقافيّ وفنيّ في درجة ثانية، وهو وإن كان معظمه عن أدونيس إلّا أنه يحتوي على حقائق عامة تنطبق على أكثر أهل الحداثة.
6 - التجديد في الشعر الحديث، بواعثه النفسية وجذوره الفكرية: للدكتور يوسف عزّ الدين: ويقع في 279 صفحة، وهو من إصدارات نادي جدة الأدبي.
وقد بين فيه حجم التلوث الفكري في أدب الحداثة وأوجه التبعية للغرب،
৪ - ইসলাম ও আধুনিকতা: তিউনিসিয়ার আবদুল মাজিদ আল-শারফি রচিত, যা ৩৪৬ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট। এটি এমন একটি গ্রন্থ যার সাথে এই গবেষণার বিষয়ের কোনো সম্পর্ক নেই, তবে শিরোনাম পাঠ থেকে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে ভেবে আমি এটি উল্লেখ করেছি।
এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ পদ্ধতি ও উদ্দেশ্য সংবলিত গ্রন্থ, যা উসুলুল ফিকহ, ফিকহ, তাফসীর ও হাদিসের বিষয়সমূহ এবং এ থেকে উদ্ভূত ব্যবহারিক বিষয়াবলি যেমন: রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থাকে একটি কুৎসিত বস্তুগত ও ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে। এতে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, মার্কসবাদ ও অন্যান্য সমসাময়িক বস্তুবাদী মতাদর্শের প্রতি অতিভক্তি পরিলক্ষিত হয়।
৫ - ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নতুন পদ্ধতি: উস্তাদ জুমাআন বিন আয়িদ আল-জাহরানি রচিত, যা ২১১ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট। এটি অত্যন্ত উপকারী একটি গ্রন্থ, যা প্রজ্জ্বলিত দ্বীনি আত্মমর্যাদাবোধ এবং একটি সাহসী হৃদয়ের পরিচয় দেয়।
এতে লেখক আধুনিকতা এবং এর ধারক-বাহকদের নিকট এর সামগ্রিক ধারণা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি এর প্রধান পুরোহিত বাতেনি আদোনিস এবং তার থিসিসের বিষয়বস্তু ও বস্তুবাদী চিন্তাধারা এবং ইসলাম, আরবি ভাষা ও মুসলিম সমাজের প্রতি তার গভীর শত্রুতা তুলে ধরেছেন। এরপর তিনি আধুনিকতার আকিদাগত ভিত্তি সম্পর্কে একটি বিশেষ অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন, যেখানে তিনি বেশ কিছু ভ্রান্ত আকিদাগত কাঠামোর বর্ণনা দিয়েছেন যার মধ্য দিয়ে আরব আধুনিকতাবাদ অগ্রসর হয়; এবং এর সবগুলোর লক্ষ্য একটিই—"ইসলামের বিরোধিতা ও বৈপরীত্য"। তিনি ইসলামের প্রতি তাদের শত্রুতা এবং ভ্রান্ত চিন্তা ও আকিদা গ্রহণ করে তা প্রচারের প্রচেষ্টার স্পষ্ট প্রমাণাদি পেশ করেছেন। এরপর তিনি অন্য একটি অধ্যায়ে সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং বৈশ্বিক ফ্রিম্যাসনারি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি আধুনিকতাবাদী আন্দোলনে ফ্রিম্যাসনারির প্রভাব এবং মূল পরিকল্পনা, লক্ষ্য, মাধ্যম ও চিন্তাগত ভিত্তির ক্ষেত্রে উভয় আন্দোলনের সাদৃশ্যগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন। এরপর তিনি আধুনিকতাবাদীদের চারিত্রিক ও আচরণগত ত্রুটিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সম্পূর্ণ বইটি আধুনিকতা, এর চিন্তাগত উৎস এবং এর ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা সম্পর্কে একটি উত্তম গবেষণা সমৃদ্ধ। যা প্রথমে আকিদাগত দৃষ্টিকোণ থেকে—যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিপজ্জনক ভিত্তি—এবং দ্বিতীয়ত চিন্তাগত, সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচিত হয়েছে। যদিও এর অধিকাংশ আলোচনাই আদোনিসকে কেন্দ্র করে, তবুও এতে এমন কিছু সাধারণ সত্য রয়েছে যা অধিকাংশ আধুনিকতাবাদীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৬ - আধুনিক কবিতায় নবায়ন, এর মনস্তাত্ত্বিক কারণ ও চিন্তাগত উৎস: ডক্টর ইউসুফ ইজ্জুদ্দিন রচিত। এটি ২৭৯ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট এবং জেদ্দা সাহিত্য ক্লাব থেকে প্রকাশিত।
এতে তিনি আধুনিক সাহিত্যতত্ত্বে চিন্তাগত দূষণের মাত্রা এবং পশ্চিমের প্রতি পরনির্ভরশীলতার দিকগুলো বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
والشعور الكامن لديهم بالضعف والنقص أمام الغرب، وأثر فرويد عليهم، ثم تحدث عن مسيرة التجديد في الشعر العربي وما خالطها من أخلاط ومفاسد فكرية وفنية، ثم تحدث عن بواعث التجديد وجذوره، وأنه من أول بداية له كانت تقليدًا للغرب، والذي يعاني من فراغ روحيّ، تسرب إلى مقلديه من العرب، ثم تحدث عن ظواهر فنية ولغوية في الشعر الحديث، ثم عن مضامين الشعر الجديد، وأهم ما في الكتاب حديثه تحت عنوان "الحداثة المدمرة، والشعر الحديث، والأسطورة".
والكتاب في الجملة جيد من حيث المناقشة الفنية والفكرية، وفيه بعض الأخطاء الفكرية كتسليمه بالتطور المطلق، والثناء على بعض رموز الحداثة كالسياب وحجازي وعبد الصبور بل وصفهم أحيانًا بالخيرية!!.
ومع إعلان المؤلف غيرته الدينية والعربية إلّا أنه لم يستطع أن يظهرها في عمق وشمول عند تناوله لشعر الحداثيين.
7 - تحت راية القرآن: للأستاذ مصطفى صادق الرافعي رحمه اللَّه تعالى، ويقع في 413 صفحة، وفيه وقائع معركته مع طه حسين الذي كان يمثل طليعة التوجه العلمانيّ والحداثيّ، وخاصة في كتابه "في الشعر الجاهلي".
والكتاب شهير، وكاتبه أشهر من نور على علم، وهو لا يتحدث عن الحداثة بوجه خاص، ولكنه يعالج مشكلة التغريب في الفكر والأدب العربي المعاصر، وهو سجل حافل لوقائع تلك المعركة بين أهل الإسلام والمنهزمين من أبناء المسلمين.
8 - جناية الشعر الحر: للأستاذ أحمد فرح عقيلان، ويقع في 115 صفحة، وهو من إصدارات النادي الأدبي في أبها، وأصله محاضرة ألقيت بهذا العنوان، وقد أحدث هذا الكتاب ردة فعل عنيفة لدى أتباع الحداثة المحليين فكتبوا ضده واستعدوا عليه، وسخروا منه.
يتحدث الكاتب عن الجناية القاتلة التي أحدثها شعراء الحداثة في الدين والأخلاق والمفاهيم واللغة، وقد أورد المؤلف جملة من الشواهد الدالة على مقدار الهبوط في الذائقة الفنية والسلوكية والأدبية، لدى شعراء الحداثة، في أسلوب لاذع، وتحدث في هذا الكتاب بإيجاز عن الانحرافات المواكبة للحداثة مثل الدعوة للعامية، وقطع الصلة بالشرق، ودعوات إفساد المرأة، ثم بين أن
তাদের মধ্যে থাকা পশ্চিমাদের সামনে দুর্বলতা ও হীনম্মন্যতার সুপ্ত অনুভূতি এবং তাদের উপর ফ্রয়েডের প্রভাব। এরপর তিনি আরবি কবিতায় আধুনিকায়নের পরিক্রমা এবং এর সাথে মিশে থাকা বুদ্ধিবৃত্তিক ও শৈল্পিক বিভ্রান্তি ও মন্দ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি এই আধুনিকায়নের প্রেরণা ও এর শিকড় সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং দেখিয়েছেন যে, এর সূচনালগ্ন থেকেই এটি ছিল পশ্চিমাদের অনুকরণ, যারা মূলত আধ্যাত্মিক শূন্যতায় ভুগছে এবং যা তাদের আরব অনুসারীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর তিনি আধুনিক কবিতার শৈল্পিক ও ভাষাগত বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং আধুনিক কবিতার বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছেন। বইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো "বিধ্বংসী আধুনিকতা, আধুনিক কবিতা ও মিথ" শিরোনামের অধীনে তাঁর আলোচনা।
সামগ্রিকভাবে বইটি শৈল্পিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পর্যালোচনার দিক থেকে বেশ ভালো, তবে এতে কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক ভুল রয়েছে, যেমন পরম বিবর্তনকে মেনে নেওয়া এবং আধুনিকতার কিছু প্রতীকী ব্যক্তিত্ব যেমন সায়্যাব, হিজাজি এবং আবদুস সবুরের প্রশংসা করা, এমনকি কখনও কখনও তাদের কল্যাণকামী হিসেবে বর্ণনা করা!!।
লেখকের ধর্মীয় ও আরবীয় আত্মমর্যাদাবোধের ঘোষণা সত্ত্বেও, আধুনিকতাবাদী কবিদের কবিতা পর্যালোচনার সময় তিনি সেই বোধকে গভীরতা ও সামগ্রিকতার সাথে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি।
৭ - তাহাত রায়াতিল কুরআন (কুরআনের পতাকাতলে): উস্তাদ মুস্তাফা সাদিক আর-রাফেয়ী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন) কর্তৃক লিখিত। এটি ৪১৩ পৃষ্ঠার একটি বই। এতে ত্বহা হোসেনের সাথে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের ঘটনাবলি রয়েছে, যিনি ধর্মনিরপেক্ষ ও আধুনিকতাবাদী ধারার অগ্রপথিক ছিলেন, বিশেষ করে তাঁর "ফিল শিরিল জাহিলি" (জাহিলি কবিতায়) নামক বইটিতে।
বইটি অত্যন্ত সুপরিচিত এবং এর লেখক তো প্রদীপ্ত আলোর মতোই প্রসিদ্ধ। বইটি বিশেষভাবে কেবল আধুনিকতা নিয়ে আলোচনা করে না, বরং সমকালীন আরবি চিন্তা ও সাহিত্যে পাশ্চাত্যকরণের সমস্যা নিয়ে কাজ করে। এটি ইসলামের অনুসারী এবং মুসলিম সন্তানদের মধ্যে যারা পরাজিত মানসিকতার অধিকারী, তাদের মধ্যকার যুদ্ধের এক বিস্তারিত দলিল।
৮ - জিনায়াতুশ শিরিল হুর (মুক্ত ছন্দের কবিতার অপরাধ): উস্তাদ আহমদ ফারাহ আকিলান কর্তৃক লিখিত। এটি ১১৫ পৃষ্ঠার এবং আবহাহ্ সাহিত্য সংসদ থেকে প্রকাশিত। মূলত এটি ছিল এই শিরোনামে প্রদত্ত একটি বক্তৃতা। এই বইটি স্থানীয় আধুনিকতাবাদীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল; ফলে তারা এর বিরুদ্ধে লিখেছে, প্ররোচনা দিয়েছে এবং বিদ্রূপ করেছে।
লেখক আধুনিকতাবাদী কবিরা দ্বীন, নৈতিকতা, ধারণা ও ভাষার ক্ষেত্রে যে মারাত্মক অপরাধ করেছেন তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। লেখক আধুনিকতাবাদী কবিদের মধ্যে শৈল্পিক, আচরণগত ও সাহিত্যিক রুচির পতনের মাত্রা নির্দেশকারী বেশ কিছু প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাষায়। তিনি এই বইটিতে আধুনিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট বিচ্যুতিগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন, যেমন কথ্য ভাষার প্রতি আহ্বান, প্রাচ্যের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং নারী চরিত্র ধ্বংসের আহ্বান। এরপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٢١)
كثيرًا من شعراء الحداثة لا يطمأن إلى ماضيهم ولا إلى عقيدتهم، وخصص الكلام عن السياب وأدونيس والبياتي ولويس عوض وسعيد عقل، وأتى بنماذج من كلامهم ومواقفهم وذكر خلفياتهم الدينية، وانتماءاتهم الاعتقادية.
ثم ذكر جنايتهم على اللغة العربية وأوجه هذه الجناية، وجنايتهم على التراث العربي، والعبارات الشاذة والقبيحة التي شاعت في كلامهم، وتهجمهم على الشعر القديم، ثم ذكر النظريات الفلسفية التي أثرت في شعرهم مثل الوجودية والفرويدية والبرناسية والواقعية والماركسية، ثم تحدث عن نفوذ الحداثيين في الصحافة واستغلالهم لهذا النفوذ في ترويج باطلهم، ثم تحدث عن بعض الجوانب الفنية.
والكتاب على صغر حجمه يعتبر شهادة حق من غيور على الدين والأمة والمجتمع، وبيان قوي لأبعاد هذا السرطان الثقافي.
9 - الحداثة بين التعمير والتدمير: للدكتور حسن بن فهد الهمويمل، ويقع في 55 صفحة من الحجم المتوسط.
وقد انطلق فيه مؤلفه من منطلق اعتقاديّ، لبيان حجم التدمير الحداثي للإنسان والأديان والأخلاق وغير ذلك من مناحي الحياة، في عبارة حديثة، وصياغة متألقة، وأصل الكتاب محاضرة ألقاها المؤلف بالعنوان نفسه، ومن أهم مضامينه بيانه أن الحداثة ليست مجرد التغيير الفنيّ بل هي البحث عن الضد المعرفيّ والثقافيّ والاعتقاديّ.
وقد ساق جملة من المفاهيم النافعة بصورة مختصرة سريعة، وددت أن المؤلف بسط هذه المفاهيم واستشهد لها بشواهد من كلامهم وهو قادر -بحكم علمه الواسع في هذا الميدان، واطلاعه وأصالة منهجه- أن يأتي بالجديد المفيد في إبانة خطر هذا المنهج التدميريّ.
بيد أنه ينبغي للمؤلف أن يحذف من عنوان كتابه لفظ "التعمير"؛ لأن الحداثة لا تنطوي على أي عنصر بناء، اللهم إلّا إن كان مراده تعمير الحداثة والحداثيين للإلحاد والكفر والضلال، والأصنام الوثنية، فذلك شيء حقيقي، وإن كان العنوان لا يدل عليه، أو أنه أراد تضمين دعواهم في هذا العنوان ليبين زيف ذلك، فهذا لا ضير فيه.
10 - الحداثة تعود: للدكتور حلمي محمد القاعود، ويقع في 54 صفحة
আধুনিকতার অনেক কবির অতীত বা তাদের আকিদার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। লেখক সাইয়্যাব, আদোনিস, আল-বায়াতি, লুই আওয়াদ এবং সাইদ আকল সম্পর্কে আলোচনা নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাদের বক্তব্য ও অবস্থান থেকে কিছু নমুনা পেশ করেছেন এবং তাদের ধর্মীয় পটভূমি ও বিশ্বাসগত সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন।
তারপর তিনি আরবি ভাষার প্রতি তাদের অপরাধ এবং এই অপরাধের বিভিন্ন দিক, আরবি ঐতিহ্যের প্রতি তাদের অপরাধ এবং তাদের বক্তব্যে প্রচলিত হওয়া অদ্ভুত ও কদর্য অভিব্যক্তিগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রাচীন কবিতার প্রতি তাদের আক্রমণ এবং তাদের কবিতায় প্রভাব বিস্তারকারী দার্শনিক মতবাদ যেমন—অস্তিত্ববাদ, ফ্রয়েডবাদ, পারনাসিয়ানবাদ, বাস্তববাদ এবং মার্ক্সবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি সংবাদমাধ্যমে আধুনিকতাবাদীদের প্রভাব এবং তাদের বাতিল মতবাদ প্রচারের জন্য এই প্রভাবের অপব্যবহার সম্পর্কে কথা বলেছেন। সবশেষে তিনি কিছু শৈল্পিক দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বইটি আকারে ছোট হলেও এটি দ্বীন, উম্মাহ এবং সমাজের প্রতি যত্নশীল একজন ব্যক্তির সত্য সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত এবং এই সাংস্কৃতিক ক্যান্সারের ভয়াবহতা ও বিস্তারের এক বলিষ্ঠ বর্ণনা।
৯ - আধুনিকতা: নির্মাণ ও ধ্বংসের মাঝখানে: ড. হাসান বিন ফাহদ আল-হুয়াইমেল রচিত। এটি মাঝারি আকারের ৫৫ পৃষ্ঠার একটি বই।
লেখক এতে বিশ্বাসগত দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রসর হয়েছেন যাতে মানুষ, ধর্ম, নৈতিকতা এবং জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে আধুনিকতাবাদী ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা তুলে ধরা যায়। এটি আধুনিক ভাষা ও চমৎকার শৈলীতে রচিত। মূলত বইটি লেখকের একই শিরোনামে প্রদত্ত একটি বক্তৃতার সংকলন। এর অন্যতম প্রধান বিষয় হলো—আধুনিকতা কেবল শৈল্পিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি জ্ঞানতাত্ত্বিক, সাংস্কৃতিক ও বিশ্বাসগত বিপরীতের অনুসন্ধান।
তিনি সংক্ষেপে কিছু উপকারী ধারণা উপস্থাপন করেছেন। আমার প্রত্যাশা ছিল যে, লেখক এই ধারণাগুলোকে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন এবং তাদের বক্তব্য থেকে উদ্ধৃতি দেবেন। তিনি এই ময়দানে তার ব্যাপক জ্ঞান, পড়াশোনা এবং পদ্ধতিগত মৌলিকত্বের কারণে এই ধ্বংসাত্মক পদ্ধতির বিপদ স্পষ্টভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নতুন ও উপকারী তথ্য প্রদানে সক্ষম।
তবে লেখকের উচিত ছিল তার বইয়ের শিরোনাম থেকে 'নির্মাণ' শব্দটি বাদ দেওয়া; কারণ আধুনিকতার মাঝে গঠনমূলক কোনো উপাদান নেই। তবে যদি তার উদ্দেশ্য হয় আধুনিকতা ও আধুনিকতাবাদীদের নাস্তিকতা, কুফরি, পথভ্রষ্টতা এবং মূর্তিপূজার ভিত্তি নির্মাণ, তবে সেটি হবে বাস্তবসম্মত, যদিও শিরোনামটি তা সরাসরি নির্দেশ করে না। অথবা তিনি যদি তাদের দাবিটি এই শিরোনামে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়ে থাকেন যাতে এর অসারতা প্রমাণ করা যায়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।
১০ - আধুনিকতার প্রত্যাবর্তন: ড. হিলমি মুহাম্মদ আল-কাউদ রচিত। এটি ৫৪ পৃষ্ঠার একটি বই।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
من الحجم الصغير. وهو خطاب مبسط للقارئ العادي، يكشف فيه مؤلفه المغالطات الحداثية التي يدلس بها أهل الحداثة على الناس، ومؤلفه من الكتاب المعروفين بالمتابعة والتصدي للتيارات الحداثية والعلمانية.
تحدث المؤلف عن مصطلح الحداثة ومضامينه، وبراءة بعضهم من حداثة أدونيس لما انكشفت سوأتها، وبين أن هذه البراءة مجرد خدعة؛ لأن الواقع أنهم جميعًا في مضمار واحد، ثم تحدث عن مجموعة من الأساليب التلبيسية التي يستخدمها أهل الحداثة.
والكتيب في الجملة عبارة عن رأي وانطباع وتأملات وتحليلات سريعة حول موضوع الحداثة.
11 - الحداثة في الشعر العربي المعاصر، حقيقتها وقضاياها، رؤية فكرية وفنية: للدكتور وليد قصاب، ويقع في 210 صفحة من القطع الكبير، وهو من أحسن الكتب التي تناولت موضوع الحداثة من زاوية فكرية اعتقادية، اعتنى فيه مؤلفه بجانب المضمون والمحتوى الحداثي، والأصول الفكرية، وقد اطلعت عليه بعد انتهائي من كتابة وطباعة هذا البحث، وتمنيت أن أكون قد اطلعت عليه من قبل لأفيد منه، ويقع هذا الكتاب في خمسة فصول، قبلها تمهيد عن أوهام حول الحداثة.
وقد تحدث في الفصل الأول عن مسيرة التحديث في الشعر العربي وعلاقة ذلك بالتغريب، والمدارس والمذاهب الغربية، أما الفصل الثاني فكان عن الحداثة الغربية وبيان مفاهيمها الأساسية وحقيقتها الفكرية وأثر ذلك على الحداثة العربية، أما الفصل الثالث فكان عن الحداثة العربية وإثبات استنساخها من الغرب، ثم بيان أظهر ملامحها الفكرية، وتحدث في الفصل الرابع عن قضايا متعلقة بالحداثة العربية مثل اللغة ومفهوم الشعر، ثم ختم بالفصل الخامس المتضمن شهادات طائفة من شعراء وأدباء ومفكري الحداثة العربية على إدانة الحداثة.
بيد أن الكتاب في مجمله متوجه لدراسة الشعر الحداثي أكثر من غيره.
12 - الحداثة في منظور إيماني: للدكتور عدنان علي رضا النحوي، ويقع في 170 صفحة من القطع الكبير، وقد قسمه إلى أربعة أبواب:
الأول عن لفظة الحداثة بين القديم والجديد، وتحته حديث عن مصطلح الحداثة ومدلولها اللغويّ ومضامينها الفكرية وجذورها اللغوية.
এটি ছোট আকারের। এটি সাধারণ পাঠকের জন্য একটি সহজবোধ্য বক্তব্য, যেখানে এর লেখক আধুনিকতাবাদীদের সেই ভ্রান্ত ধারণাগুলো উন্মোচন করেছেন যার মাধ্যমে তারা মানুষকে প্রতারিত করে। এর লেখক আধুনিকতাবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শগুলোর পর্যবেক্ষণ এবং সেগুলো প্রতিরোধের জন্য পরিচিত লেখকদের একজন।
লেখক আধুনিকতাবাদ শব্দটি ও এর বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছেন। আদোনিসের আধুনিকতাবাদের কুৎসিত রূপ উন্মোচিত হওয়ার পর তা থেকে কারও কারও সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি সম্পর্কে তিনি কথা বলেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এই সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিটি নিখাদ একটি প্রতারণা; কারণ বাস্তবে তারা সবাই একই পথে চলছেন। এরপর তিনি আধুনিকতাবাদীদের ব্যবহৃত একগুচ্ছ প্রতারণামূলক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
এই পুস্তিকাটি মূলত আধুনিকতাবাদ বিষয়ের ওপর লেখকের কিছু ব্যক্তিগত অভিমত, ধারণা, চিন্তা ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণের সমষ্টি।
১১ - সমকালীন আরবি কবিতায় আধুনিকতাবাদ, এর বাস্তবতা ও সমস্যাবলি, একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ও শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি: ড. ওয়ালিদ কাসসাব রচিত। এটি বড় আকারের ২১০ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট। এটি সেই সব শ্রেষ্ঠ বইগুলোর অন্যতম যা আধুনিকতাবাদ বিষয়টিকে বুদ্ধিবৃত্তিক ও আকিদাগত দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছে। এতে লেখক আধুনিকতাবাদের আধেয়, বিষয়বস্তু এবং এর বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতিগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এই গবেষণাটি লেখা ও ছাপানো শেষ করার পর আমি বইটি দেখেছি; আমি যদি এটি আগে দেখতাম তবে এর থেকে উপকৃত হতে পারতাম। বইটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত, যার শুরুতে আধুনিকতাবাদ সম্পর্কে প্রচলিত কিছু বিভ্রান্তি নিয়ে একটি ভূমিকা রয়েছে।
তিনি প্রথম অধ্যায়ে আরবি কবিতায় আধুনিকায়নের পথচলা এবং এর সাথে পশ্চিমাভিমুখীতা ও পশ্চিমা বিভিন্ন ধারা ও মতবাদের সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। দ্বিতীয় অধ্যায়টি ছিল পশ্চিমা আধুনিকতাবাদ এবং এর মৌলিক ধারণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বরূপ বর্ণনা এবং আরবি আধুনিকতাবাদের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে। তৃতীয় অধ্যায়টি ছিল আরবি আধুনিকতাবাদ এবং এটি যে পশ্চিমেরই একটি অনুকরণ তা প্রমাণ করা সম্পর্কে, এরপর এর স্পষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। চতুর্থ অধ্যায়ে তিনি আরবি আধুনিকতাবাদ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি যেমন ভাষা ও কবিতার ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছেন। পরিশেষে পঞ্চম অধ্যায়ের মাধ্যমে শেষ করেছেন যাতে একদল আরবি আধুনিকতাবাদী কবি, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের আধুনিকতাবাদের বিরুদ্ধে দেওয়া সাক্ষ্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে বইটি সামগ্রিকভাবে অন্য যে কোনো বিষয়ের চেয়ে আধুনিকতাবাদী কবিতা পর্যালোচনার দিকেই বেশি নিবদ্ধ।
১২ - ঈমানি দৃষ্টিকোণে আধুনিকতাবাদ: ড. আদনান আলী রিদা আন-নাহবী রচিত। এটি বড় আকারের ১৭০ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট এবং তিনি একে চারটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন:
প্রথম পরিচ্ছেদটি প্রাচীন ও নবীনের মাঝে 'আধুনিকতাবাদ' শব্দটি নিয়ে, যার অধীনে আধুনিকতাবাদ পরিভাষা, এর শাব্দিক অর্থ, বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়বস্তু এবং এর ভাষাগত উৎস সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
والثاني نماذج من فكر الحداثة وآدابها، استعرض فيه كتاب أدونيس "مقدمة في الشعر العربي" كنموذج كاشف لحقيقة الحداثة، عقب على بعض المقاطع، ثم تحدث في الفصل التالي عن كتاب "جدلية الخفاء والتجلي" لكمال أبو ديب، وناقش بعض مضامينه، ثم الفصل الذي يليه عن كتاب "الخطيئة والتكفير" لعبد اللَّه الغذامي وفيه ناقش بعض المفاهيم البنيوية التي علق عليها الغذامي أبحاثه في كتابه هذا، واستطرد في قضية الخطيئة والتكفير.
وفي الباب الثالث الحداثة بين الشعر والنثر، وهو باب مختص بالأمور الفنية والجمالية.
ثم أعقبه بالباب الرابع عن امتداد الحداثة بين الشرق والغرب مركزًا على قضية البنيوية، وأثر الماركسية والبعثية في الحداثة، ثم لخص جملة من الركائز الأساسية في الفكر الحداثي والبنيوي، ثم تحدث عن الحداثة والمادية الجدلية.
والكتاب مليء بالمناقشة العلمية الشرعية لكثير من المفاهيم التي تعرض لها.
13 - الحداثة في ميزان الإسلام: للشيخ الدكتور عوض بن محمد القرني، ويقع في 139 صفحة من الحجم الكبير، وقد قدم له سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز، وصدر هذا الكتاب عام 1408 هـ وكان لإصداره أصداء واسعة على كل المستويات العلمية والثقافية، وما يزال يعد من أهم المراجع التي تناولت قضية الحداثة.
وقد تألب الحداثيون المحليون والإقليميون على هذا الكتاب، وأظهروا حنقهم الشديد على مؤلفه ومقدمه، فكتبوا في ذلك المقالات ونشروا المنشورات وعقدوا الندوات، مما يدل على عمق وحرارة الطعنة التي تلقوها.
وقد تحدث مؤلفه فيه عن الجذور التاريخية للحداثة، ثم عن الغموض في أدب الحداثة والغاية منه، ثم خصص مقطعًا من كتابه لبيان أن الحداثة منهج فكري يسعى لتغيير الحياة، وأعقبه بالحديث عن الحداثيين المحليين وموقفهم من الإسلام وقيمه، ثم عن بعض رموز الحداثة العربية وارتباط الحداثيين المحليين بهم، ثم عن أساليب الحداثيين في نشر فكرهم.
والكتاب على صغر حجمه -نسبيًا- إلّا أنه يعتبر من أفضل ما كتب في هذا المجال، فقد تناول القضايا الحداثية بصراحة، وكشف مراميها وأهدافها بوضوح، معتمدًا على معايير الإسلام الاعتقادية والشرعية، معضدًا أقواله
দ্বিতীয়ত, আধুনিকতাবাদী চিন্তা ও সাহিত্যের কিছু নমুনা; এতে তিনি আদোনিসের "আরবি কবিতার ভূমিকা" (মুকাদ্দিমা ফিশ-শি'রিল আরাবি) গ্রন্থটিকে আধুনিকতার প্রকৃত রূপ উন্মোচনকারী একটি নমুনা হিসেবে পর্যালোচনা করেছেন। তিনি এর কিছু অনুচ্ছেদের ওপর মন্তব্য করেছেন, অতঃপর পরবর্তী অধ্যায়ে কামাল আবু দিব-এর "জাদালিয়াতুল খাফা ওয়াত তাজাল্লি" (অস্পষ্টতা ও বহিঃপ্রকাশের দ্বন্দ্ব) গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর কিছু বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক করেছেন। এরপরের অধ্যায়ে তিনি আবদুল্লাহ আল-গাযযামি-র "আল-খাতিয়াহ ওয়াত তাকফির" (পাপ ও প্রায়শ্চিত্ত) গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এতে গাযযামি তার এই বইয়ে যেসব কাঠামোগত (structuralist) ধারণার ওপর তার গবেষণা পরিচালনা করেছেন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং পাপ ও প্রায়শ্চিত্তের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
তৃতীয় অধ্যায়ে কবিতা ও গদ্যের মাঝে আধুনিকতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা প্রধানত শৈল্পিক ও নান্দনিক বিষয়াবলির জন্য নির্ধারিত।
এরপর চতুর্থ অধ্যায়ে তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মাঝে আধুনিকতার বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে কাঠামোরূপবাদ (Structuralism) এবং আধুনিকতার ওপর মার্ক্সবাদ ও বা'সবাদের প্রভাবের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তারপর তিনি আধুনিকতাবাদী ও কাঠামোরূপবাদী চিন্তাধারার কিছু মৌলিক ভিত্তির সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছেন এবং এরপর আধুনিকতা ও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ (Dialectical Materialism) নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আর বইটি উপস্থাপিত বহু বিষয়ের ইলমি ও শরয়ি পর্যালোচনায় ভরপুর।
১৩ - ইসলামের মানদণ্ডে আধুনিকতা: শাইখ ডক্টর আওয়াদ বিন মুহাম্মদ আল-কুরনির লেখা। এটি বড় আকারের ১৩৯ পৃষ্ঠা সম্বলিত একটি গ্রন্থ। এর ভূমিকা লিখে দিয়েছেন শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ। বইটি ১৪০৮ হিজরিতে প্রকাশিত হয় এবং এর প্রকাশনা ইলমি ও সাংস্কৃতিক সকল মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এটি এখনও আধুনিকতার বিষয়টি আলোচনার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্থানীয় ও আঞ্চলিক আধুনিকতাবাদীরা এই বইটির বিরুদ্ধে একজোট হয়েছিল এবং এর লেখক ও ভূমিকা লেখকের প্রতি তাদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন প্রবন্ধ লিখেছিল, ইশতেহার প্রকাশ করেছিল এবং সেমিনার আয়োজন করেছিল, যা তাদের ওপর বইটির আঘাত কতটা গভীর ও উত্তপ্ত ছিল তা প্রমাণ করে।
এর লেখক এতে আধুনিকতার ঐতিহাসিক শিকড় নিয়ে আলোচনা করেছেন, এরপর আধুনিকতাবাদী সাহিত্যের অস্পষ্টতা ও এর উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেছেন। এরপর তিনি তার বইয়ের একটি অংশ এই বর্ণনায় নিবেদিত করেছেন যে, আধুনিকতা হলো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মানহাজ বা পদ্ধতি যা জীবনকে পরিবর্তন করতে চায়। এরপর তিনি স্থানীয় আধুনিকতাবাদী এবং ইসলাম ও এর মূল্যবোধের প্রতি তাদের অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তারপর আরবের কিছু আধুনিকতাবাদী ব্যক্তিত্ব এবং তাদের সাথে স্থানীয় আধুনিকতাবাদীদের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। এরপর আধুনিকতাবাদীদের তাদের চিন্তাধারা প্রচারের পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করেছেন।
বইটি অপেক্ষাকৃত আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও এই ক্ষেত্রে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত। এটি আধুনিকতার বিষয়গুলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে এবং ইসলামের আকিদাগত ও শরয়ি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ উন্মোচন করেছে, সাথে তার বক্তব্যসমূহকে শক্তিশালী করেছেন-
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
بالشواهد والأدلة من كلامهم، معقبًا عليها تعقيبات سديدة مفيدة، في أسلوب واضح وعبارة سلسة، وتوجه إلى المقصود من غير تعمية ولا التباس.
وجملة القول: هذا الكتاب من أفضل ما كتب عن الحداثة من كاتب غيور على دينه وأمته، ومهما قلت في هذا الكتاب فإن مخبَرَه الحقيقي أكبر من الإخبار عنه
(1).
14 - حوار مع الشعر الحر: لسعد دعبيس من ليبيا، ويقع في 104 صفحات، وهو مخصص في بحث الخصائص الفنية المشتركة بين الشعر الحر والشعر القديم، ولا علاقة له بموضوع هذا البحث.
15 - الصراع بين القديم والجديد في الأدب العربي الحديث: للدكتور محمد الكتاني، ويقع في 1360 صفحة، تحدث فيها المؤلف عن قضية الصراع حديثًا موسعًا يدل على جهد كبير ودأب وسعة اطلاع، وتمكن قوي في مجال الثقافة والأدب، إلّا أن المعيارية الشرعية والاعتقادية لديه شبه معدومة، ولذلك لم تأخذ حيزًا في نظرته إلى قضية الصراع، بل تتناول الموضوع تناولًا حياديًا، وهذا من أكبر المآخذ على هذا الكتاب الضخم، حيث حاول أن يمسك العصا من الوسط -كما يقال- ولايغضب أيًا من الفئتين، وأظنه أخفق في ذلك غاية الإخفاق، بيد أن المهم في هذا الصدد أنه أسقط المعيارية الإسلامية الاعتقادية والشرعية.
وعلى كل حال فالكتاب يحتوي على رصد دقيق وشامل لقضية الصراع وتاريخه وجذوره وامتداداته، وأشكاله ومدارسه واتجاهاته الفكرية، ويُمكن الاستفادة منه في هذه المجالات أيما استفادة.
16 - الغارة على التراث الإسلامي: للأستاذ جمال سلطان، ويقع في 155 صفحة من القطع الكبير، وهو كتاب جليل النفع، من كاتب عرف بغيرته على الإسلام وبقلمه الرصين.
وفيه تحدث عن المخططات التخريبية الحداثية والعلمانية الموجهة إلى التراث الإسلامي، وخلفيات الأحلاف الفكرية المشبوهة في حربهم لتراث الإسلام وآمال الصحوة الإسلامية، وتحدث عن موقف الحداثة الفكرية
--------------------------------------------
তাদের বক্তব্যের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, যার ওপর তিনি অত্যন্ত সঠিক ও উপকারী মন্তব্য করেছেন। এটি স্পষ্ট শৈলী ও সাবলীল অভিব্যক্তিতে রচিত এবং কোনো প্রকার অস্পষ্টতা বা সংশয় ছাড়াই মূল লক্ষ্যের দিকে ধাবিত।
সারকথা হলো: নিজ দ্বীন ও উম্মাহর প্রতি দরদী একজন লেখকের পক্ষ থেকে আধুনিকতাবাদ নিয়ে লেখা শ্রেষ্ঠ বইগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এই বইটি সম্পর্কে আমি যাই বলি না কেন, এর প্রকৃত সত্যতা বর্ণনার চেয়েও অনেক বড়
(১)।
১৪ - হাওয়ারুন মা’আশ-শি’রিল হুর (মুক্ত ছন্দের কবিতার সাথে কথোপকথন): লিবিয়ার সা’দ দা’বিস কর্তৃক রচিত। এটি ১০৪ পৃষ্ঠার একটি বই এবং এটি মুক্ত ছন্দের কবিতা ও প্রাচীন কবিতার মধ্যবর্তী অভিন্ন শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যসমূহ গবেষণার জন্য নিবেদিত। বর্তমান গবেষণার বিষয়ের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
১৫ - আস-সিরা’ বাইনাল কাদীমি ওয়াল জাদীদি ফিল আদাবিল আরাবিয়্যিল হাদীস (আধুনিক আরবি সাহিত্যে পুরাতন ও নতুনের দ্বন্দ্ব): ডক্টর মুহাম্মদ আল-কাত্তানি কর্তৃক রচিত। এটি ১৩৬০ পৃষ্ঠার একটি বিশাল গ্রন্থ, যেখানে লেখক দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যা তার ব্যাপক পরিশ্রম, নিষ্ঠা, অগাধ পাণ্ডিত্য এবং সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে গভীর দক্ষতার প্রমাণ দেয়। তবে তার কাছে শরয়ি ও আকিদাগত মানদণ্ড প্রায় নেই বললেই চলে, যার ফলে দ্বন্দ্বের বিষয়ের ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে এগুলো কোনো স্থান পায়নি। বরং তিনি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে আলোচনা করেছেন। আর এই বিশাল গ্রন্থের ওপর এটি অন্যতম বড় অভিযোগ, যেখানে তিনি—যেমনটি বলা হয়—লাঠি মাঝখান থেকে ধরার চেষ্টা করেছেন এবং কোনো পক্ষকেই ক্ষুব্ধ করতে চাননি। আমার ধারণা তিনি এতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তবে এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে, তিনি ইসলামি আকিদাগত ও শরয়ি মানদণ্ড বর্জন করেছেন।
যা-ই হোক, বইটি দ্বন্দ্বের বিষয়বস্তু, এর ইতিহাস, শিকড় ও বিস্তার এবং এর বিভিন্ন রূপ, চিন্তাধারা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবণতাসমূহের একটি নিখুঁত ও সামগ্রিক পর্যবেক্ষণে সমৃদ্ধ। এই ক্ষেত্রগুলোতে বইটি থেকে প্রভূত উপকৃত হওয়া সম্ভব।
১৬ - আল-গারা আলাত-তুরাসিল ইসলামি (ইসলামি ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ): উস্তাদ জামাল সুলতান কর্তৃক রচিত। বড় আকারের ১৫৫ পৃষ্ঠার এই বইটি অত্যন্ত উপকারী। তিনি এমন একজন লেখক যিনি ইসলামের প্রতি তার দরদ এবং বলিষ্ঠ কলমের জন্য সুপরিচিত।
এতে তিনি ইসলামি ঐতিহ্যের দিকে তাক করা আধুনিকতাবাদী ও সেকুলার নাশকতামূলক পরিকল্পনা এবং ইসলামি ঐতিহ্য ও ইসলামি জাগরণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত সন্দেহভাজন বুদ্ধিবৃত্তিক জোটগুলোর প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক আধুনিকতাবাদের অবস্থান সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
والعلمانية الفكرية والعملية الموجهة بشراسة وحقد عميق إلى التراث الإسلامي مستشهدًا على ذلك بشواهد عديدة، أظهرها ما يجري في الجامعة الأمريكية في بيروت، وفي جامعة الدول العربية.
17 - في خيمة النص، قراءات في أدب المرحلة: للأستاذ علي بن موسى التمني، ويقع في 153 صفحة من القطع الكبير وهو عبارة عن مجموعة من المقالات النقدية الفكرية، أجاد فيها مؤلفها العرض والمناقشة، وأفاد من خبرته الطويلة في مقاومة التيار الحداثي، ووضوح رؤيته العقدية والفكرية في التعامل مع النصوص الحداثية.
وقد بدأ الكاتب حديثه عن التجديد الحداثي وصلته الوثيقة بالتغريب، وضرب أمثلة من المسرح والشعر والقصة والرواية والنقد وبين ضوابط التجديد بينه وبين التبعية والاستعارة الفكرية، ثم تحدث عن الأدب الإسلامي وموقف الرافضين له مصطلحًا ومنهجًا، ثم تحدث عن التبعية الفكرية والاعتقادية المسيطرة على أدب الحداثة مضمونًا وأسلوبًا، ثم حلل طريقة الخطاب الحداثي وما يحتويه من غموض ولبس وهذيان، ثم تحدث عن الرؤية الفكرية المستوردة على ضوء دراسة معجب الزهراني لمجموعة "والضلع حين استوى" القصصية لأميمة الخميس، وما في هذه الدراسة من مضادة للنصوص الشرعية، ثم تحدث عن النتاج القصصي الحداثي، ثم عن التمرد والرفض الحداثي وماذا يعني، ثم رؤيته لمحاضرة حداثية عن "وطننا في عيون بعض الروائيين العرب" ثم أطل على شيء من ثقافة المرحلة "الحداثية" وما تميزت به من عقم وأسن، وساق شواهد على ذلك، ثم تحدث عن مجموعة من شعراء الهزيمة، وأمثلة من شعرهم، ثم أجرى قلمه السيال في حديث عن مجلات حداثية: مجلة "النص الجديد" ومجلة "إبداع" ومجلة "القاهرة" ذاكرًا بعض توجهاتها ومضامينها، وقد ركز المؤلف جزءًا كبيرًا من هذا الكتاب على الحداثيين المحليين، وتميز إضافة إلى جودة الفكرة ووضوحها جدة الأسلوب وروعة العرض.
18 - في النقد الحديث: للدكتور نصرت عبد الرحمن، ويقع في 206 صفحة، وهو دراسة في مذاهب نقدية حديثة وأصولها الفكرية، وجذورها الفلسفية الغربية، وتأثير هذه الفلسفات على المذاهب النقدية، وتسلسل هذه التأثيرات إلى النقد والشعر الحداثيّ العربيّ.
এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও ব্যবহারিক ধর্মনিরপেক্ষতা যা ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতি প্রচণ্ড উগ্রতা ও গভীর বিদ্বেষ নিয়ে পরিচালিত, তিনি এর স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি এবং আরব লিগে যা ঘটছে।
১৭ - পাঠ্যের তাঁবুতে, সমসাময়িক সাহিত্যের পাঠসমূহ: এটি উস্তাদ আলী বিন মুসা আত-তামান্নীর লেখা, যা বড় আকারের ১৫৩ পৃষ্ঠার একটি বই। এটি মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনামূলক প্রবন্ধের একটি সংকলন, যেখানে লেখক অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিষয়বস্তুর উপস্থাপনা ও আলোচনা করেছেন। তিনি আধুনিকতাবাদী ধারার প্রতিরোধে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং আধুনিকতাবাদী পাঠ্যগুলো বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে তার আকিদাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা থেকে উপকৃত হয়েছেন।
লেখক আধুনিকতাবাদী সংস্কার এবং এর সাথে পাশ্চাত্যকরণের গভীর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তার বক্তব্য শুরু করেছেন। তিনি নাটক, কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও সমালোচনা থেকে উদাহরণ পেশ করেছেন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পরনির্ভরশীলতা ও ধার করা চিন্তাধারার সাথে প্রকৃত সংস্কারের পার্থক্য ও মানদণ্ড স্পষ্ট করেছেন। এরপর তিনি ইসলামী সাহিত্য এবং এর পারিভাষিক ও পদ্ধতিগত বিরোধিতাকারীদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারপর তিনি আধুনিক সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও শৈলীর ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী বুদ্ধিবৃত্তিক ও বিশ্বাসগত পরনির্ভরশীলতা সম্পর্কে কথা বলেছেন। এরপর তিনি আধুনিকতাবাদী আলোচনার ধরন এবং এতে থাকা অস্পষ্টতা, বিভ্রান্তি ও প্রলাপ বিশ্লেষণ করেছেন। এরপর তিনি উমাইমা আল-খামিসের ছোটগল্প সংকলন "এবং পাঁজর হাড়টি যখন উপরে উঠল" এর ওপর মুজীব আল-যাহরানির করা আলোচনার আলোকে আমদানিকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেছেন, এবং এই গবেষণায় শরয়ী নصوصের যে বিরোধিতা রয়েছে তা তুলে ধরেছেন। এরপর তিনি আধুনিকতাবাদী গল্প-সাহিত্য, এবং আধুনিকতাবাদী বিদ্রোহ ও প্রত্যাখ্যান এবং এর অর্থ কী তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর "কিছু আরব ঔপন্যাসিকদের চোখে আমাদের স্বদেশ" শীর্ষক একটি আধুনিকতাবাদী বক্তৃতার ওপর তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। এরপর তিনি সমসাময়িক 'আধুনিকতাবাদী' সংস্কৃতির কিছু দিকের ওপর আলোকপাত করেছেন এবং এর বন্ধ্যাত্ব ও স্থবিরতার বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করে তার স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। এরপর তিনি 'পরাজয়ের কবিদের' একটি দল এবং তাদের কবিতার কিছু উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি আধুনিকতাবাদী সাময়িকীসমূহ যেমন: "আন-নাস আল-জাদীদ", "ইবদা" এবং "আল-কাহিরা" পত্রিকা সম্পর্কে তার সাবলীল লেখনী চালিয়েছেন এবং এগুলোর কিছু লক্ষ্য ও বিষয়বস্তু উল্লেখ করেছেন। লেখক এই বইটির বড় একটি অংশ স্থানীয় আধুনিকতাবাদীদের ওপর নিবদ্ধ করেছেন। বইটিতে চমৎকার ও স্বচ্ছ চিন্তার পাশাপাশি অভিনব শৈলী এবং উপস্থাপনার সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।
১৮ - আধুনিক সমালোচনা প্রসঙ্গে: ডক্টর নুসরাত আব্দুর রহমানের লেখা, এটি ২০৬ পৃষ্ঠার একটি বই। এটি আধুনিক সমালোচনা মতবাদ, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উৎস এবং পশ্চিমা দার্শনিক মূল ভিত্তি নিয়ে একটি গবেষণা। এছাড়া এই দর্শনগুলোর সমালোচনা মতবাদের ওপর প্রভাব এবং আধুনিক আরবি সমালোচনা ও কবিতার ধারায় এই প্রভাবের পর্যায়ক্রমিক বিস্তার সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আল-ইনহিরাফুল আকিদি ফী আদাবিল হাদাসা ওয়া ফিকরিহা
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ولم يركز المؤلف على المضامين الاعتقادية بل كان تركيزه على القضايا النقدية والفنية وأسسها الفلسفية، وقد أجاد في الربط بينهما، وفي إعادة كل مذهب نقديّ تعرض له إلى قاعدته الفكرية.
19 - القصيدة الحديثة وأعباء التجاوز: لأبي عبد الرحمن ابن عقيل الظاهري، ويقع في 286 صفحة من القطع الكبير.
وفيه دراسة احتفالية بالشعر الحديث، وثناء على إنجازاته الفنية واللغوية، ومدح لأصحابه الذين استطاعوا أن يتجاوزوا الظواهر الفنية القديمة، ويأتوا بملامح فنية جديدة لم يستطع الأصلاء المهدفون إهداف النواعير أن يفهموها "حسب تعبيره" ثم امتدح الآفاق العالمية، والغناء الفكريّ والهم الجماعيّ، وعزائم الحداثة الممتعة للعقل والقلب والروح، والقيم الجمالية الممثلة للعطاء الحضاريّ إلى آخر ما هنالك من عبارات إطراء، يقابلها عبارات تعريض وقدح لغير الحداثيين الذين يرى أنهم تشغلهم الصورة الجزئية، ولم يحسوا بالجمال الفني المتجدد؛ لأنهم يقيسون بالمقاييس الجامدة في كتب البلاغة والنقد القديم، ويستمتعون باسترجاع النماذج الماضية، ووأد القيم الجمالية الحديثة، وقتلنا بما أتخمنا به من الاسترجاع للماضي، وغلواء التقرير والمباشرة، وانعدام الآفاق الحضارية والفلسفية والتراث العالمي التي تضمنها الشعر الحديث إلى آخر ما قال.
وتعرض في كتابه أيضًا وبأسلوب قويّ رصين وعبارات حادة أحيانًا للمخاطر الفكرية والاعتقادية للحداثة، بما يوحي بالتناقض بين مدحه وقدحه، غير أن محوره الأساسي هو أن الشرط الجمالي والقيم الجمالية في الإبداع لها استقلال عن كل المعايير، ولها موازينها الخاصة الذاتية التي يُمكن التحاكم إليها وحدها، حيث يقول في ص 35: (إن ما نحتاجه اليوم -في دراسة الأدب الحديث- يجب أن يكون خالصًا لشفافية الفنان، ورؤية الأديب، وتذوق الأكاديميّ، فيما يخدم النص تفسيرًا وامتلاكًا، ولا نأخذ من الثقافة إلّا ما يخدم معايشتنا للنص).
وهذه من أعظم فواقر نظرته لموضوع الحداثة، وبناء على ذلك فقد امتدح مجموعة من شعراء الحداثة، وأثنى على شرف مضامين بعضهم!!، ونفى عن بعضهم الانحراف وامتدح الفحولة الشعرية لبعضهم، وأثنى على القصيدة
লেখক বিশ্বাসগত বিষয়বস্তুর ওপর গুরুত্বারোপ করেননি, বরং তাঁর মনোযোগ ছিল সমালোচনামূলক ও শৈল্পিক বিষয়াবলি এবং সেগুলোর দার্শনিক ভিত্তির ওপর। তিনি এ দুইয়ের মাঝে সমন্বয় সাধনে এবং প্রতিটি সমালোচনামূলক মতবাদকে তার বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তির সাথে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।
১৯ - আল-কাসিদাহ আল-হাদিসাহ ওয়া আ'বাউত তাজাওউয (আধুনিক কবিতা ও অতিক্রমণের দায়ভার): আবু আবদুর রহমান ইবনে আকিল আল-জাহিরি কর্তৃক রচিত, এটি বড় আকারের ২৮৬ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত।
এতে আধুনিক কবিতার ওপর একটি উদযাপনমূলক সমীক্ষা রয়েছে এবং এর শৈল্পিক ও ভাষাগত অর্জনের প্রশংসা করা হয়েছে। প্রশংসা করা হয়েছে সেই সব কবিদের, যারা প্রাচীন শৈল্পিক রূপগুলো অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন এবং নতুন শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে এসেছেন, যা—তাঁর ভাষ্যমতে—সেই সব গতানুগতিক ধারার মানুষেরা বুঝতে অক্ষম যারা পুরনো প্রথার চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে। এরপর তিনি বিশ্বজনীন দিগন্ত, বুদ্ধিবৃত্তিক সমৃদ্ধি ও সামষ্টিক চিন্তা, মন-হৃদয় ও আত্মার জন্য আনন্দদায়ক আধুনিকতার সংকল্প এবং সভ্যতার অবদানকে প্রতিনিধিত্বকারী নান্দনিক মূল্যবোধের প্রশংসা করেন। এ ধরনের প্রশংসাসূচক বাক্যের বিপরীতে তিনি অ-আধুনিকতাবাদীদের সমালোচনা ও নিন্দা করেছেন। তাঁর মতে, তারা আংশিক চিত্র নিয়ে ব্যস্ত এবং তারা নবায়িত শৈল্পিক সৌন্দর্য অনুভব করতে পারেনি; কারণ তারা অলঙ্কারশাস্ত্র ও প্রাচীন সমালোচনা সাহিত্যের জড় মাপকাঠি দিয়ে বিচার করে। তারা অতীত মডেলগুলোর পুনরাবৃত্তিতে আনন্দ পায়, আধুনিক নান্দনিক মূল্যবোধকে জীবন্ত কবর দেয় এবং অতীতের পুনরাবৃত্তি, বর্ণনামূলক ও সরাসরি বলার বাড়াবাড়ি এবং আধুনিক কবিতায় বিদ্যমান সভ্যতাময়, দার্শনিক ও বিশ্ব ঐতিহ্যের দিগন্তের অভাব দিয়ে আমাদের জর্জরিত করে—তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত।
তিনি তাঁর বইটিতে অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুসংহত শৈলীতে এবং কখনও কখনও তীক্ষ্ণ ভাষায় আধুনিকতার বুদ্ধিবৃত্তিক ও বিশ্বাসগত বিপদসমূহ নিয়েও আলোচনা করেছেন, যা তাঁর প্রশংসা ও নিন্দার মাঝে আপাত বৈপরীত্যের ইঙ্গিত দেয়। তবে তাঁর মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো এই যে, সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে নান্দনিক শর্ত ও নান্দনিক মূল্যবোধ সকল মানদণ্ড থেকে স্বতন্ত্র এবং এর নিজস্ব স্বকীয় তুলাদণ্ড রয়েছে যা দিয়েই কেবল বিচার করা সম্ভব। তিনি ৩৫ পৃষ্ঠায় বলেন: "আধুনিক সাহিত্য অধ্যয়নে আজ আমাদের যা প্রয়োজন, তা হতে হবে শিল্পীর স্বচ্ছতা, সাহিত্যিকের দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষাবিদের রসাস্বাদনের জন্য নিবেদিত, যা পাঠ্যের ব্যাখ্যা ও অনুধাবনে সহায়ক হয়; আর আমরা সংস্কৃতি থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করব যা পাঠ্যের সাথে আমাদের নিবিড় সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।"
এটি আধুনিকতা বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম বড় বিচ্যুতি। এর ভিত্তিতে তিনি আধুনিকতাবাদী কবিদের একটি দলের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের কয়েকজনের বিষয়বস্তুর শ্রেষ্ঠত্বের গুণগান গেয়েছেন!! তিনি তাদের কয়েকজনের থেকে বিচ্যুতি বা গোমরাহির অভিযোগ নাকচ করেছেন, কারো কারো কাব্যিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করেছেন এবং কবিতার প্রশংসা করেছেন।