0/0
(খণ্ড: ১) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
حقيقة الوتر ومسماه في الشرع - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: حقيقة الوتر ومسماه في الشرع

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (16)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

শরিয়তে বিতরের প্রকৃত স্বরূপ ও এর নামকরণ - 'আসারুল মুয়াল্লিমি' এর অন্তর্ভুক্ত   (আবদুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: শরিয়তে বিতরের প্রকৃত স্বরূপ ও এর নামকরণ

[আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলি (১৬)]

লেখক: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা: মুহাম্মদ উযাইর শামস

পর্যালোচনা করেছেন: মুহাম্মদ আকমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দার আলামুল ফাওয়াইদ প্রকাশনী

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হিজরি

শামেলায় উপস্থাপন করেছে: 'আতাআত আল-ইলম' ফাউন্ডেশন، জাযাহুমুল্লাহু খাইরান

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫৭)
الرسالة الثامنة

حقيقة "الوتر" ومُسماه في الشرع
অষ্টম পত্র

শরিয়তে "বিতর"-এর স্বরূপ ও এর নামকরণ
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৫৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي لا تنحصر مواهبُه، ولا تنقطع رغائبُه، ولا تُقلِعُ عن الجود سحائبُه. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادةً تثبت حقَّ الإيمان، وتُذهِب كيدَ الشيطان، وتوجب رضا الملك الديّان. وأشهد أن محمدًا عبدُه ورسولُه الذي به استقام من الحق سبيلُه، ومُحِيَتْ شُبَهُ الشرك وأباطيلُه. اللهمّ صلِّ على محمدٍ نبيك الأمين، وآله المطهَّرين، وأصحابه الهُداة المهديين، والتابعين لهم بإحسانٍ إلى يوم الدين، وسلِّم تسليمًا كثيرًا.

أما بعد، فإنه لمّا كان أوائل رمضان سنة 1342 سألني بعض الإخوان عن شيء من أحكام الوتر المختلف فيها، طالبًا بيانَ الراجح من الأقاويل مع بيان الدليل. ولما أخذتُ أتصفَّح الأدلة وجدتُ أحكام الوتر آخذًا بعضُها برقابِ بعضٍ، فانجرَّ بي الحالُ إلى توسعة المجال، فعزمتُ ــ متوكلًا على الله تعالى ــ على جمع كتابٍ يشتمل على عامة أحكام الوتر. على أن الباع قصير، والجناح كسير، ولكن لي في الله سبحانه وتعالى حُسن الظنِّ وصادق الرجاء، والفضلُ بيد الله يؤتيه من يشاء.

قال الحافظ في "الفتح"(1): (فائدة) قال ابن التين: اختلف في الوتر في سبعة أشياء: في وجوبه، وعدده، واشتراط النية فيه، واختصاصه بقراءة، واشتراط شَفْعٍ قبلَه، وفي آخر وقته، وصلاته في السفر على الدابة. قلت: وفي قضائه، والقنوت فيه، وفي محلّ القنوت منه، وفيما يقال فيه، وفي فصله ووَصْله، وهل تُسَنُّ ركعتان قبله؟ وفي صلاته من قعود. لكن هذا

--------------------------------------------

(1) (2/ 478).
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর দানসমূহ অগণিত, যাঁর অনুগ্রহরাজি অবিচ্ছিন্ন এবং যাঁর বদান্যতার মেঘমালা কখনো বর্ষণ বন্ধ করে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন এক সাক্ষ্য যা ঈমানের সত্যতাকে সুদৃঢ় করে, শয়তানের চক্রান্তকে দূরীভূত করে এবং বিচার দিবসের মালিকের সন্তুষ্টিকে অবধারিত করে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাঁর মাধ্যমে সত্যের পথ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং শিরকের সংশয় ও অসারতা বিলুপ্ত হয়েছে। হে আল্লাহ! আপনার বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মদ, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, হেদায়েতপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শক সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীনদের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর, ১৩৪২ হিজরী সালের রমজানের শুরুতে জনৈক দ্বীনি ভাই আমাকে বিতরের নামাজের বিভিন্ন মতভেদপূর্ণ বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং দলীলসহ অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি ব্যাখ্যা করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। যখন আমি দলীলসমূহ পর্যালোচনা করতে শুরু করলাম, তখন দেখলাম যে বিতরের বিধানগুলো একটির সাথে অন্যটি নিবিড়ভাবে জড়িত। ফলে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার দিকে গড়ায় এবং আমি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বিতরের সাধারণ সমস্ত বিধান সংবলিত একটি গ্রন্থ সংকলনের সংকল্প গ্রহণ করি। যদিও আমার সামর্থ্য সীমিত এবং যোগ্যতা যৎসামান্য, তথাপি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রতি আমার সুধারণা ও অটল প্রত্যাশা রয়েছে। আর অনুগ্রহ তো আল্লাহরই হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।

হাফেজ (الحافظ) (ইবন হাজার আসকালানি) ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেছেন(১): (ফায়দা) ইবনুত তীন বলেন: বিতরের বিষয়ে সাতটি ক্ষেত্রে মতপার্থক্য পরিলক্ষিত হয়: এর ওয়াজিব (واجب) হওয়া, এর সংখ্যা, এতে নিয়তের শর্ত থাকা, এতে নির্দিষ্ট কিরাআতের বিশেষত্ব, এর পূর্বে জোড় (রাকাত) হওয়ার শর্ত, এর সময়ের শেষ সীমা এবং সফরে সওয়ারির ওপর বিতর আদায় করা। আমি (ইবন হাজার) বলছি: এছাড়া এর কাজা করা, এতে কুনুত পড়া, কুনুতের স্থান, কুনুতে পঠিত দোয়া, রাকাতগুলো বিচ্ছিন্ন করা বা মিলিয়ে পড়া এবং বিতরের পূর্বে দুই রাকাত সুন্নাত হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সেই সাথে বসে বিতর পড়া নিয়েও। তবে এটি

--------------------------------------------

(১) (২/ ৪৭৮)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬০)
الأخير ينبني على كونه مندوبًا أو لا. وقد اختلفوا في أول وقته أيضًا، وفي كونه أفضل صلاة التطوع، أو الرواتب أفضل منه، أو خصوص ركعتي الفجر. هـ.

 

‌‌مقدمة في حقيقة الوتر

الوتر عند أصحابنا صلاةٌ مندوبة مؤكَّدة، أقلُّها ركعة، وأكثرها إحدى عشرة، وقتها ما بين العشاء والفجر. ولا فرقَ عندهم في إطلاق الوتر على الإحدى عشرة بين فَصْلها بتسليمةٍ واحدةٍ وفَصْلها بأكثر.

وأما تحقيق حقيقة الوتر في السُّنَّة فنقول:

بعد استقراء الأحاديث والآثار تلخَّص لنا أن الوتر قد أُطلِق على ثلاثة معانٍ:

أولها: أن يُطلَق مرادًا به صلاةُ الليل التي غايتها ثلاث عشرة، سواءٌ صُلِّيتْ وصلًا أو فصلًا، وعلى هذا حديث الحاكم والبيهقي ومحمد بن نصر(1) عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: "لا توتروا بثلاثٍ تُشبِّهوا بالمغرب، ولكن أوتروا بخمسٍ أو بسبعٍ أو بتسعٍ أو بإحدى عشرة أو بأكثر من ذلك".

وعليه أيضًا حديث أحمد وأبي داود(2) بإسنادٍ صحيح عن عائشة وقد سُئلتْ: بكَمْ كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يُوتر؟ فقالت: كان يُوتر بأربعٍ وثلاث، وستٍّ وثلاث، وثمانٍ وثلاث، وعشرٍ وثلاث، ولم يكن يُوتِر بأنقصَ من سبعٍ

--------------------------------------------

(1) "المستدرك" (1/ 304) و"السنن الكبرى" (3/ 31) و"مختصر قيام الليل وكتاب الوتر" (ص 125) من حديث أبي هريرة.

(2) "المسند" (25159) وأبو داود (1362).
সর্বশেষ বিষয়টি এটি মুস্তাহাব (مندوب) হওয়া বা না হওয়ার ওপর ভিত্তি করে। তাঁরা এর শুরুর সময়ের ব্যাপারেও মতভেদ করেছেন; তদ্রূপ এটি কি নফল (تطوع) সালাতসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, নাকি সুন্নাত (الرواتب) সালাতসমূহ এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ, নাকি বিশেষভাবে ফজরের দুই রাকাত (শ্রেষ্ঠ)—এ বিষয়েও মতভেদ করেছেন। সমাপ্ত।

 

‌‌বিতরের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কিত ভূমিকা

আমাদের (মাযহাবের) ফকিহগণের নিকট বিতর হলো একটি সুনিশ্চিত মুস্তাহাব (مندوبة مؤكدة) সালাত, যার সর্বনিম্ন পরিমাণ এক রাকাত এবং সর্বোচ্চ এগারো রাকাত; এর সময় হলো ইশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়। তাঁদের মতে এগারো রাকাতের ওপর 'বিতর' শব্দটির প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে তা এক সালামে একাধারে (وصل) পড়া কিংবা একাধিক সালামে পৃথক করে (فصل) পড়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

আর সুন্নাহর আলোকে বিতরের প্রকৃত স্বরূপ পর্যালোচনায় আমরা বলি:

হাদিস ও আসার (الآثار) সমূহের অনুসন্ধানের পর আমাদের নিকট এটি সারসংক্ষেপিত হয়েছে যে, 'বিতর' শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে:

প্রথমটি: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাতের সালাত (সালাতুল লাইল), যার সর্বোচ্চ সীমা তেরো রাকাত; চাই তা একাধারে (وصل) পড়া হোক কিংবা পৃথক করে (فصل) পড়া হোক। এই অর্থের ওপর ভিত্তি করেই হাকেম, বায়হাকি ও মুহাম্মদ ইবনে নাসর বর্ণিত(১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসটি এসেছে, যেখানে তিনি বলেছেন: "তোমরা মাগরিবের সদৃশ করে তিন রাকাত বিতর পড়ো না, বরং পাঁচ, সাত, নয়, এগারো বা তার চেয়ে বেশি রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করো।"

এর ওপর ভিত্তি করে আহমদ ও আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত(২) একটি সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটিও রয়েছে, যেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম কত রাকাত বিতর পড়তেন? তিনি উত্তরে বললেন: "তিনি চার ও তিন, ছয় ও তিন, আট ও তিন এবং দশ ও তিন রাকাত পড়তেন; তিনি সাত রাকাতের কম বিতর পড়তেন না।"

--------------------------------------------

(১) আল-মুস্তাদরাক (১/৩০৪), আস-সুনানুল কুবরা (৩/৩১) এবং মুখতাসার কিয়ামুল লাইল ওয়া কিতাবুল বিতর (পৃ. ১২৫), আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে।

(২) আল-মুসনাদ (২৫১৫৯) এবং আবু দাউদ (১৩৬২)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬১)
ولا بأكثر من ثلاثَ عشرةَ.

وهذا الوجه هو الأقرب لمذهبنا.

الثاني: أن يُطلَق مرادًا به الركعة الفردة، سواء أوقعتْ موصولةً أو مفصولةً. وعلى هذا حديث الصحيحين(1) ــ واللفظ لمسلم ــ: "صلاة الليل مثنى مثنى، فإذا خشيتَ الصبح فأوتِرْ بركعةٍ".

وعليه حديث مسلم(2) عن ابن عمر وابن عباس عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: "الوتر ركعة من آخر الليل". هكذا ورد عنهما.

وقد رواه أبو داود والنسائي(3) كلاهما بإسنادٍ صحيح تحت ترجمة (باب كم الوتر)، ولفظه: عن ابن عمر أن رجلًا من أهل البادية سأل النبي صلى الله عليه وآله وسلم عن صلاة الليل، فقال بإصبعَيْه هكذا "مثنى مثنى، والوتر ركعةٌ من آخر الليل".

ولا يخفى أن تعريف المسند إليه ظاهره الحصر، فهو في قوةِ "ليس الوتر إلا ركعة من آخر الليل". مع أنه قد ثبت أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم وصلَ بين ثلاثٍ وبين خمسٍ وبين سبعٍ وبين تسعٍ. والجمعُ بين ذلك أن الوتر في قوله: "الوتر ركعة من آخر الليل" يُرادُ به تلك الركعة الفردة وإن وُصِلَتْ.

الثالث: أن يُطلَق مرادًا به ما كان وترًا بتسليمةٍ واحدةٍ، سواءً أكان واحدةً أو ثلاثًا أو خمسًا … إلخ. وعلى هذا أكثر الأحاديث.

--------------------------------------------

(1) البخاري (1137) ومسلم (749/ 146) عن ابن عمر.

(2) رقم (753).

(3) أبو داود (1421) والنسائي (3/ 233).
এবং তেরো রাকাতের অধিক নয়।

আর এই দিকটিই আমাদের মাযহাবের অধিকতর নিকটবর্তী।

দ্বিতীয়: এটি (বিতর) দ্বারা একক রাকাত উদ্দেশ্য হওয়া, চাই তা (পূর্ববর্তী রাকাতের সাথে) মিলিয়ে পড়া হোক কিংবা পৃথকভাবে। এর ওপর ভিত্তি করেই সহিহাইন-এর হাদিস(১) বর্ণিত হয়েছে—শব্দবিন্যাস মুসলিমের—: "রাতের নামাজ দুই দুই রাকাত করে, অতঃপর যখন তুমি সুবহে সাদিকের আশঙ্কা করবে, তখন এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর করবে।"

এর ওপরই ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত মুসলিম-এর হাদিসটি(২) রয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বিতর হলো রাতের শেষাংশের এক রাকাত।" তাঁদের উভয় থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

আবু দাউদ ও নাসায়ি(৩) উভয়েই এটি একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সনদ (إسناد) সহকারে '(বিতর কত রাকাত সেই অধ্যায়)' শিরোনামের অধীনে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, জনৈক পল্লীবাসী ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামকে রাতের নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি তাঁর দুই আঙুল দিয়ে ইশারা করে বললেন, "দুই দুই রাকাত করে, আর বিতর হলো রাতের শেষাংশের এক রাকাত।"

এটি অস্পষ্ট নয় যে, মুসনাদ ইলাইহি (المسند إليه)-এর সংজ্ঞায়ন বাহ্যত সীমাবদ্ধকরণ (حصر) নির্দেশ করে; সুতরাং এটি "বিতর রাতের শেষাংশের এক রাকাত ব্যতীত অন্য কিছু নয়"—এই অর্থের শক্তি রাখে। অথচ এটি প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তিন, পাঁচ, সাত এবং নয় রাকাতের মাঝে সংযোগ করেছেন (এক সালামে পড়েছেন)। এগুলোর মধ্যে সমন্বয় হলো এই যে, তাঁর বাণী—"বিতর হলো রাতের শেষাংশের এক রাকাত"—এ 'বিতর' দ্বারা সেই একক রাকাতটিই উদ্দেশ্য, যদিও তা (পূর্ববর্তী রাকাতের সাথে) মিলিয়ে পড়া হয়।

তৃতীয়: এটি দ্বারা এমন নামাজকে বোঝানো হয় যা এক সালামে বেজোড় হিসেবে পড়া হয়, তা এক রাকাত হোক কিংবা তিন অথবা পাঁচ... ইত্যাদি। অধিকাংশ হাদিস এই অর্থেই বর্ণিত।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (১১৩৭) ও মুসলিম (৭৪৯/ ১৪৬), ইবনে উমর থেকে বর্ণিত।

(২) নম্বর (৭৫৩)।

(৩) আবু দাউদ (১৪২১) ও নাসায়ি (৩/ ২৩৩)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬২)
منها حديث عائشة عند أحمد والشيخين(1) بلفظ: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلِّي من الليل ثلاثَ عشرةَ ركعةً يوتر بخمسٍ".

ومنها حديثها المتفق عليه(2): "كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلِّي وأنا راقدةٌ معترضةٌ على فراشِه، فإذا أراد أن يُوتِر أيقظَني فأوترتُ".

وفي رواية لمسلم(3): فإذا أوتر قال: "قُومي فأوتري يا عائشة". وفي روايةٍ له أيضًا(4): فإذا بقي الوترُ أيقظَها فأوترتْ.

أقول: وقد رأيت أن أقدِّم تحقيق حقيقة الوتر، أعني المعنى الذي يكون إطلاقُ لفظ الوتر عليه حقيقةً شرعية، ثم أشرعُ في بيان الوجوه المختلَف فيها، مفردًا كلَّ وجهٍ بمقالةٍ إن شاء الله تعالى.

* * * *

--------------------------------------------

(1) "المسند" (24239) ومسلم (737). ولم أجده عند البخاري بهذا اللفظ.

(2) البخاري (997) ومسلم (744).

(3) رقم (744/ 134).

(4) رقم (744/ 135).
এর মধ্যে একটি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যা আহমদ ও শাইখাইন এর নিকট(১) এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সা.) রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং পাঁচ রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন।"

এর অন্তর্ভুক্ত তাঁর বর্ণিত 'সর্বসম্মতভাবে গৃহীত' (متفق عليه)(২) সেই হাদিসটিও: "নবী (সা.) সালাত আদায় করতেন আর আমি তাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। অতঃপর যখন তিনি বিতর আদায়ের ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতেন এবং আমি বিতর আদায় করতাম।"

মুসলিমের এক বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী(৩): যখন তিনি বিতর আদায় করতেন তখন বলতেন: "হে আয়েশা, ওঠো এবং বিতর আদায় করো।" তাঁর অন্য এক বর্ণনাতেও (رواية)(৪) রয়েছে: যখন বিতর বাকি থাকতো, তখন তিনি তাঁকে জাগিয়ে দিতেন এবং তিনি বিতর আদায় করতেন।

আমি বলছি: আমি মনে করেছি যে, বিতরের প্রকৃত স্বরূপ বিশ্লেষণের বিষয়টি আগে উপস্থাপন করব; অর্থাৎ এমন অর্থ যা 'বিতর' শব্দের ওপর প্রয়োগ হওয়া একটি 'শরয়ি বাস্তবতা' (حقيقة شرعية)। এরপর আমি ইনশাআল্লাহ প্রতিটি মতভেদপূর্ণ দিক স্বতন্ত্র প্রবন্ধে আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট করতে শুরু করব।

* * * *

--------------------------------------------

(১) মুসনাদ (২৪২৩৯) ও মুসলিম (৭৩৭)। আমি এই শব্দে এটি বুখারিতে পাইনি।

(২) বুখারি (৯৯৭) ও মুসলিম (৭৪৪)।

(৩) নম্বর (৭৪৪/ ১৩৪)।

(৪) নম্বর (৭৪৪/ ১৩৫)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৩)
‌‌المقالة الأولى

في حقيقة الوتر

قال الربيع في كتاب "اختلاف مالك والشافعي"(1): "باب ما جاء في الوتر بركعةٍ واحدة. سألتُ الشافعي عن الوتر: أيجوز أن يُوتِر الرجلُ بواحدةٍ ليس قبلها شيء؟ قال: نعم. والذي أختار أن أُصلِّي عشر ركعاتٍ ثم أُوتِرَ بواحدةٍ".

ثم ساق الأدلة إلى أن قال(2): "فقلتُ للشافعي: فإنا نقول: لا نُحِبُّ لأحدٍ أن يُوتِر بأقلَّ من ثلاثٍ، ويُسلِّمَ بين الركعة والركعتين من الوتر".

ثم ساق جواب الشافعي، وفي آخره: "قال الشافعي رحمه الله تعالى: وقد أخبرنا عبد المجيد عن ابن جريج عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم كان يُوتِر بخمس ركعاتٍ لا يجلس ولا يُسلِّم إلّا في الآخرةِ منهن.

فقلت للشافعي: فما معنى هذا؟ قال: هذه نافلةٌ، يَسَع أن يُوتِر بواحدةٍ وأكثر، ونختار ما وصفتُ من غيرِ أن نُضيِّق غيرَه. وقولكم ــ والله يَغفِر لنا ولكم ــ لا يوافق سنةً ولا أثرًا، ولا قياسًا ولا معقولًا، قولُكم خارجٌ من كل شيء من هذا وأقاويلِ الناس. إما أن تقولوا: لا يوتر إلا بثلاثٍ كما قال بعض المشرقيين، ولا يسلّم إلا في واحدةٍ منهن لئلا يكون الوتر واحدةً. [وإما أن

--------------------------------------------

(1) ضمن كتاب "الأم" (8/ 554) ط. دار الوفاء.

(2) المصدر نفسه (8/ 556).
প্রথম পরিচ্ছেদ

বিতরের স্বরূপ প্রসঙ্গে

রাবী' "ইখতিলাফ মালিক ওয়াশ শাফিঈ"(১) গ্রন্থে বলেছেন: "এক রাকাত বিতর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার অধ্যায়। আমি শাফিঈকে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি: কোনো ব্যক্তি কি তার আগে অন্য কোনো সালাত আদায় না করে কেবল এক রাকাত বিতর পড়তে পারে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তবে আমি যা পছন্দ করি তা হলো (প্রথমে) দশ রাকাত সালাত আদায় করা এবং এরপর এক রাকাত বিতর পড়া।"

অতঃপর তিনি দলিলসমূহ পেশ করেন এবং এক পর্যায়ে বলেন(২): "আমি শাফিঈকে বললাম: আমরা বলি, আমরা কারো জন্য তিন রাকাতের কম বিতর পড়া পছন্দ করি না, এবং বিতরের এক রাকাত ও দুই রাকাতের মধ্যে সালাম ফিরাবে।"

অতঃপর তিনি শাফিঈর উত্তর উল্লেখ করেন এবং এর শেষাংশে (বলা হয়েছে): "শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: আমাদের কাছে আব্দুল মাজীদ খবর দিয়েছেন ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ রাকাত বিতর পড়তেন, তিনি এগুলোর মধ্যে শেষ রাকাত ছাড়া কোথাও বসতেন না এবং সালাম ফিরাতেন না।

অতঃপর আমি শাফিঈকে বললাম: এর অর্থ কী? তিনি বললেন: এটি একটি নফল (نافلة) ইবাদত, এতে এক রাকাত বা তার বেশি বিতর পড়ার সুযোগ রয়েছে। আমি যা বর্ণনা করেছি তা-ই আমরা পছন্দ করি, তবে অন্য কোনো মতকে সংকীর্ণ না করে। আর আপনাদের বক্তব্য—আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ক্ষমা করুন—সুন্নাহ (سنة)-র সাথেও মেলে না, আছার (أثر)-এর সাথেও না, কিয়াস কিংবা যুক্তির সাথেও না। আপনাদের বক্তব্য এই সমস্ত কিছু এবং মানুষের মতামত থেকেও বিচ্যুত। হয় আপনারা বলবেন: তিন রাকাত ছাড়া বিতর হবে না—যেমনটি কোনো কোনো পূর্বদেশীয় ব্যক্তি বলেছেন—এবং বিতর যাতে এক রাকাত না হয়ে যায় সেজন্য সেগুলোর মাত্র একটিতে (শেষে) সালাম ফিরাবেন। [কিংবা...]

--------------------------------------------

(১) "কিতাবুল উম্ম" (৮/ ৫৫৪)-এর অন্তর্ভুক্ত, দারুল ওয়াফা প্রকাশনী।

(২) একই উৎস (৮/ ৫৫৬)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৪)
لا تكرهوا الوتر بواحدةٍ، وكيف تكرهون الوتر بواحدةٍ](1) وأنتم تأمرون بالسلام فيها، فإذا أمرتم به فهي واحدة. وإن قلتم: كرهناه لأن النبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يُوتِر بواحدةٍ ليس قبلها [شيء]، فلم يُوتِر النبي صلى الله عليه وآله وسلم بثلاثٍ ليس قبلهن شيء، وقد استحسنتم أن تُوتِروا بثلاثٍ".

فأول كلامه رضي الله عنه ــ ولاسيَّما قوله: "لئلا يكون الوتر واحدة" ــ يُفِيد أن الوتر هو ما صُلِّي بتسليمةٍ واحدةٍ: ركعة أو ثلاثًا أو أكثر، ولا يَشْرَكُه في اسم الوتر ما سبقَه من شَفْعٍ مفصولًا عنه. وآخر كلامه يُشبه خلافَ ذلك. وكلام المزني في "المختصر"(2) يؤيِّد الأول.

وقد يقال: إن قول الشافعي: "وقد استحسنتم أن تُوتِروا بثلاث" تسليمٌ جدلي، كأنه قال: لا يخلو قولكم: "يُوتِر بثلاثٍ مفصولة" أن يكون وجهه كراهية الوتر واحدةً، أو كراهية مخالفة السنة في الوتر بواحدةٍ لم يسبقها شَفْعٌ، فإن كان الأول فإن اشتراطكم الفصلَ هو عينُ ما فررتم منه، إذ الركعة صُلِّيتْ مفردةً، فهي الوتر، ولا تَشْرَكها الركعتان في اسم الوتر لوجود الفصل، وإن كان الثاني فمن تأمل كلام الإمام رضي الله عنه حقَّ تأمُّلِه تبيَّن أن الوتر عنده هو ما صُلِّي بتسليمةٍ واحدة وترًا: ركعةً أو ثلاثًا أو أكثر. ولا يقدح في هذا قوله في آخر كلامه: "وقد استحسنتم أن تُوتروا بثلاثٍ"، لأنه على سبيل التسليم الجدلي، لما ستراه.

وتفسير كلام الإمام بعبارةٍ أخرى: قولكم: "لا نحب أن يوتر [إلا]

--------------------------------------------

(1) ساقط من الأصل، استدركناه من "الأم".

(2) (ص 114) (ضمن المجلد الثامن من كتاب "الأم" طبعة دار الفكر بيروت).
তোমরা এক রাকাত বিতর (الوتر) আদায় করাকে অপছন্দ করো না। তোমরা কীভাবে এক রাকাত বিতর (الوتر) আদায় করাকে অপছন্দ করো অথচ তোমরা তাতে সালাম (السلام) ফিরিয়ে থাকো? সুতরাং যখন তোমরা তাতে (সালামের) নির্দেশ দাও, তখন তা এক রাকাতই হয়ে যায়। আর যদি তোমরা বলো: আমরা এটি অপছন্দ করি কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এমন এক রাকাত বিতর (الوتر) আদায় করেননি যার পূর্বে [কিছু] ছিল না, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এমন তিন রাকাত বিতর (الوتر) দ্বারাও নামাজ আদায় করেননি যার পূর্বে কিছু ছিল না; অথচ তোমরা তিন রাকাত বিতর (الوتر) আদায় করাকে উত্তম মনে করেছ।(১)

তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বক্তব্যের প্রথমাংশ—বিশেষ করে তাঁর এই উক্তি: "যাতে বিতর (الوتر) এক রাকাত না হয়"—একথা প্রদান করে যে, বিতর (الوتر) হলো সেই নামাজ যা এক সালামের (تسليمة) সাথে আদায় করা হয়: চাই তা এক রাকাত হোক, তিন রাকাত হোক বা তার বেশি। আর বিতর (الوتر) নামের মধ্যে তার পূর্ববর্তী বিচ্ছিন্ন জোড় (شفع) রাকাতগুলো অংশীদার হবে না। তবে তাঁর বক্তব্যের শেষাংশ এর বিপরীত বিষয়ের সাদৃশ্য রাখে। আল-মুযানীর আল-মুখতাসার-এর বক্তব্য প্রথম মতটিকেই সমর্থন করে।

বলা হতে পারে যে, ইমাম শাফেয়ীর উক্তি: "অথচ তোমরা তিন রাকাত বিতর (الوتر) আদায় করাকে উত্তম মনে করেছ" এটি একটি তর্কমূলক স্বীকৃতি (تسليم جدلي); যেন তিনি বলছেন: "তিন রাকাত পৃথকভাবে বিতর (الوتر) পড়ার" বিষয়ে তোমাদের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হয় এক রাকাত বিতর (الوتر) হওয়াকে অপছন্দ করা, নতুবা এমন এক রাকাত দ্বারা বিতর (الوتر) পড়ার মাধ্যমে সুন্নাহর (السنة) বিরোধিতা করাকে অপছন্দ করা যার পূর্বে কোনো জোড় (شفع) রাকাত নেই। যদি প্রথমটি হয়, তবে তোমাদের বিচ্ছিন্নকরণের (الفصل) শর্তারোপ করাই হলো ঠিক সেই বিষয় যা থেকে তোমরা পলায়ন করছিলে, কারণ ওই রাকাতটি একাকী (مفردة) পড়া হয়েছে, ফলে সেটিই বিতর (الوتر); আর বিচ্ছিন্নতা (الفصل) বিদ্যমান থাকার কারণে পূর্ববর্তী দুই রাকাত বিতর (الوتر) নামের অংশীদার হবে না। আর যদি দ্বিতীয়টি হয়, তবে যে ব্যক্তি ইমামের (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কথা যথাযথভাবে অনুধাবন করবেন, তার নিকট স্পষ্ট হবে যে, তাঁর নিকট বিতর (الوتر) হলো যা বিজোড় (وترًا) হিসেবে এক সালামের (تسليمة) সাথে আদায় করা হয়: চাই তা এক রাকাত, তিন রাকাত বা তার বেশি হোক। তাঁর বক্তব্যের শেষে "অথচ তোমরা তিন রাকাত বিতর (الوتر) আদায় করাকে উত্তম মনে করেছ" বলাতে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি হয় না, কারণ এটি তর্কমূলক স্বীকৃতির (تسليم جدلي) পর্যায়ে বলা হয়েছে, যা আপনি পরে দেখতে পাবেন।

ইমামের বক্তব্যের ব্যাখ্যা অন্য শব্দে: তোমাদের কথা: "আমরা পছন্দ করি না যে বিতর (الوتر) আদায় করা হবে [ব্যতীত]...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, আমরা আল-উম্ম থেকে এটি সংযোজন করেছি।

(২) (পৃষ্ঠা ১১৪) (আল-উম্ম গ্রন্থের অষ্টম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত, দারুল ফিকর বৈরুত সংস্করণ)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৫)
بثلاثٍ مفصولة" لا يخلو عن أحد أربعة وجوه:

إما أن يكون كراهيةَ إيقاع ركعةٍ منفردة، ولم يُعهَد ذلك في الصلاة.

وإما أن يكون كراهيةَ الاقتصار عليها، والنبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يقتصر.

وإما أن يكون ذهابًا إلى حديث "مثنى مثنى".

وإما أن يكون كراهيةَ إيقاعها بدون سَبْقِ شَفْعٍ قبلها.

فأما الأول فشرطكم الفصلَ وقوعٌ فيما فررتم منه، ووجودُ الركعتين قبلها لا يُخلِّصها من كونها مفردة.

وأما الثاني فإن النبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يقتصر على الثلاث أيضًا، فلِمَ اقتصرتم عليها؟

وأما الثالث فإن أقلَّ ما يقع عليه "مثنى مثنى" أربع، فلِمَ اقتصرتم على ركعتين؟

وأما الرابع فإن النبي صلى الله عليه وآله وسلم لم يُوتِرْ بثلاثٍ لم يَسْبِقْها شَفْع، وأنتم تزعمون أن الثلاث المفصولة وترٌ ولا تشترطون قبلها شفعًا.

إذا تقرر ما ذُكِر علمتَ أن الوتر في كلام الإمام عبارة عمّا صُلِّي وترًا بنيته موصولًا بتسليمةٍ واحدة: ركعة أو ثلاث أو خمس أو أكثر. وأما أهل مذهبه فإن الوتر في كلامهم عبارةٌ عما صُلِّي بنية الوتر، من ركعةٍ إلى أحد عشر، مع الوصل أو الفصل.

قلت: وظاهر قول الربيع: "فإنا لا نحب لأحدٍ أن يُوتِر بأقلَّ من ثلاثٍ، ويُسلِّم بين الركعة والركعتين من الوتر": أن مذهب مالك أن الوتر عبارة عن
"পৃথকীকৃত (مفصولة) তিন রাকাত" বিষয়টি চারটি সুরতের কোনো একটির বাইরে নয়:

হয় এটি একক (منفردة) রাকাত আদায় করার অপছন্দনীয়তা (كراهية) হিসেবে, যা সালাতের ক্ষেত্রে পরিচিত নয়।

অথবা এটি এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকার প্রতি অপছন্দনীয়তা (كراهية), অথচ নবী (সা.) এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি।

অথবা এটি "দুই দুই করে" হাদিসের প্রতি গমনের কারণে।

অথবা এটি তার আগে জোড় (شفع) অতিবাহিত হওয়া ব্যতীত তা আদায় করার অপছন্দনীয়তা (كراهية)।

প্রথমটির ক্ষেত্রে উত্তর হলো— আপনাদের পৃথকীকরণের (الفصل) শর্তারোপ মূলত তা-ই ঘটিয়ে দিচ্ছে যা থেকে আপনারা পলায়ন করতে চেয়েছিলেন। আর এর আগে দুই রাকাত বিদ্যমান থাকা একে একক (مفردة) হওয়া থেকে বিচ্যুত করে না।

দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে কথা হলো— নবী (সা.) কেবল তিন রাকাতের ওপরও সীমাবদ্ধ থাকেননি, তবে আপনারা কেন কেবল তিন রাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকলেন?

তৃতীয়টির ক্ষেত্রে কথা হলো— "দুই দুই করে" এর সর্বনিম্ন প্রয়োগ তো চার রাকাতের ওপর হয়, তবে আপনারা কেন দুই রাকাতে সীমাবদ্ধ থাকলেন?

চতুর্থটির ক্ষেত্রে কথা হলো— নবী (সা.) এমন তিন রাকাতের মাধ্যমে বিতর (وتر) আদায় করেননি যার আগে কোনো জোড় (شفع) ছিল না; অথচ আপনারা দাবি করেন যে, পৃথকীকৃত (مفصولة) তিন রাকাতই বিতর (وتر) এবং আপনারা এর আগে কোনো জোড় (شفع) হওয়াকে শর্তারোপ করেন না।

উল্লিখিত বিষয়গুলো যখন প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আপনি অবগত হলেন যে, ইমামের পরিভাষায় বিতর (وتر) বলতে ওই সালাতকে বোঝায় যা বিতরের নিয়তে এক সালামে সংযুক্ত (موصولًا) অবস্থায় পড়া হয়: এক রাকাত, তিন, পাঁচ বা তার চেয়ে বেশি। আর তাঁর মাযহাবের অনুসারীদের পরিভাষায় বিতর (وتر) বলতে ওই সালাতকে বোঝায় যা বিতরের নিয়তে পড়া হয়—এক রাকাত থেকে এগারো রাকাত পর্যন্ত, চাই তা সংযোগ (الوصل) বা পৃথকীকরণের (الفصل) মাধ্যমে হোক।

আমি বলছি: রবী-এর বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ হলো: "আমরা কারো জন্য তিন রাকাতের কম বিতর (وتر) পড়া পছন্দ করি না, এবং বিতরের এক রাকাত ও দুই রাকাতের মাঝে সালাম ফিরানোকেও [পছন্দ করি না]": এর দ্বারা বোঝা যায় যে, ইমাম মালিকের মাযহাব অনুযায়ী বিতর (وتر) হলো...
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৬)
تلك الثلاث المفصولة، وعليه بنى الشافعي جوابَه في الوجه الرابع حيث قال: "وقد استحسنتم أن توتروا بثلاثٍ"، والظاهر أن ذلك قولٌ في مذهب مالك. والراجح عنده أن الوتر هو الركعة المفصولة.

قال الباجي في "شرح الموطأ": فأما المسألة الثانية في عدد الوتر، فإن مالكًا رحمه الله ذهب إلى أن الوتر ركعة واحدة، وبه قال الشافعي. وقال أبو حنيفة: الوتر ثلاث ركعات. والدليل على ما نقوله قول عائشة رضي الله عنها في الحديث: "يُوتِر منها بواحدةٍ"(1).

قال ابن رشد في "بداية المجتهد"(2): وأما صفته ــ أي الوتر ــ فإن مالكًا رحمه الله استحبَّ أن يُوتر بثلاثٍ يُفصَل بينها بسلام. وقال أبو حنيفة: الوتر ثلاث ركعات من غير أن يُفصَل بينها بسلام. وقال الشافعي: الوتر ركعة واحدةٌ. ولكلِّ قولٍ من هذه الأقاويل سلفٌ من الصحابة والتابعين.

إلى أن قال: فمن ذهب إلى أن الوتر ركعة واحدة، فمصيرًا إلى قوله عليه الصلاة والسلام: "فإذا خشيتَ الصبحَ فأوْتِرْ بواحدة"(3)، وإلى حديث عائشة أنه كان يُوتِر بواحدة(4). ومن ذهب إلى أن الوتر ثلاث من غير أن يُفصَل بينها، وقصرَ حكم الوتر على الثلاث فقط … إلخ.

--------------------------------------------

(1) (2/ 161) ط. دار الكتب العلمية.

(2) (1/ 236 - 238) ط. دار الكتب الإسلامية بمصر.

(3) أخرجه البخاري (1137) ومسلم (749) من حديث ابن عمر.

(4) أخرجه أبو داود (1336، 1337) والنسائي (2/ 30، 3/ 65) وابن ماجه (1177، 1358). وصححه ابن حبان (2422، 2423) وغيره.
সেই বিচ্ছেদকৃত তিন রাকাত; এর ওপর ভিত্তি করেই শাফেয়ী চতুর্থ পন্থায় তাঁর জবাব প্রদান করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "এবং আপনারা তিন রাকাত বিতর করাকে পছন্দ করেছেন", এবং এটি স্পষ্ট যে তা মালিকি মাযহাবের একটি মত। তাঁর নিকট অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো বিতর হলো সেই বিচ্ছেদকৃত রাকাত।

আল-বাজী "শারহুল মুয়াত্তায়" বলেছেন: বিতরের সংখ্যার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় মাসআলাটি হলো, ইমাম মালিক (রহ.) এই মত পোষণ করেছেন যে বিতর হলো এক রাকাত, এবং ইমাম শাফেয়ীও একই মত ব্যক্ত করেছেন। আর ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: বিতর তিন রাকাত। আমরা যা বলছি তার দলিল হলো হাদিসে বর্ণিত আয়েশা (রা.)-এর উক্তি: "তিনি এর মধ্য থেকে এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর সম্পন্ন করতেন"(১)।

ইবনে রুশদ "বিদায়াতুল মুজতাহিদ"-এ বলেছেন(২): আর এর পদ্ধতি সম্পর্কে—অর্থাৎ বিতর—ইমাম মালিক (রহ.) তিন রাকাত বিতর পড়াকে পছন্দ করেছেন যার মাঝে সালামের মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটানো হবে। ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: বিতর হলো তিন রাকাত যার মাঝে সালামের মাধ্যমে কোনো বিচ্ছেদ ঘটানো হবে না। ইমাম শাফেয়ী বলেছেন: বিতর হলো এক রাকাত। এই প্রতিটি উক্তির জন্যই সাহাবী এবং তাবিঈদের মধ্য থেকে পূর্বসূরি বিদ্যমান রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন: যারা এই মত গ্রহণ করেছেন যে বিতর হলো এক রাকাত, তারা নবী (সা.)-এর এই বাণীর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন: "যখন তুমি সুবহে সাদিকের আশঙ্কা করবে, তখন এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করো", এবং আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের দিকে যেখানে বলা হয়েছে যে তিনি এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন। আর যারা এই মত গ্রহণ করেছেন যে বিতর হলো বিচ্ছেদহীন তিন রাকাত, এবং বিতরের বিধানকে কেবল তিন রাকাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছেন... ইত্যাদি।

--------------------------------------------

(১) (২/ ১৬১) দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ।

(২) (১/ ২৩৬ - ২৩৮) মিশরের দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়্যাহ সংস্করণ।

(৩) এটি বুখারি (১১৩৭) এবং মুসলিম (৭৪৯) ইবনে উমরের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৪) এটি আবু দাউদ (১৩৩৬, ১৩৩৭), নাসাঈ (২/ ৩০, ৩/ ৬৫) এবং ইবনে মাজাহ (১১৭৭, ১৩৫৮) বর্ণনা করেছেন। এবং ইবনে হিব্বান (২৪২২, ২৪২৩) ও অন্যান্যরা একে বিশুদ্ধ বলেছেন (صححه)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৭)
إلى أن قال: وأما مالك فإنه تمسك في هذا الباب بأنه عليه الصلاة والسلام لم يُوتر قطُّ إلّا في إثر شَفْعٍ، فرأى أن ذلك من سنة الوتر، وأن أقل ذلك ركعتان، فالوتر عنده على الحقيقة إما أن يكون ركعةً واحدةً، ولكن من شرطها أن يتقدمها شَفْع، وإما أن يرى أن الوتر المأمور به هو يشتمل على شَفْع ووتر، فإنه إذا زيد على الشفع وترٌ صار الكلُّ وترًا. ويشهد لهذا المذهب حديث عبد الله بن قيس المتقدم(1)، فإنه سمَّى الوتر فيه العدد المركب من شفع ووتر، ويشهد لاعتقاده أن الوتر هو الركعة الواحدة أنه كان يقول: كيف يوتر بواحدة ليس قبلها شيء؟ وأي شيء يُوتِر له؟ وقد قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "تُوتِر له ما قد صلَّى"(2). فإن ظاهر هذا القول أنه كان يرى أن الوتر الشرعي هو العدد الوتر بنفسه، أعني الغير المركب من الشفع والوتر، وذلك أن هذا هو وتر لغيره، وهذا التأويل عليه أولى. هـ.

قلتُ: فكلام الباجي قاطعٌ بأن الوتر عند مالك ركعة واحدة، ومفادُه أن الشفع الذي قبلها لا يجوز أن يكون بنية الوتر. وأما ابن رشد فرجَّح ذلك أيضًا، وكلاهما نسباه إلى الشافعي. وأجاز ابن رشد أن يكون مالك يرى أن الوتر يشتمل على شفعٍ ووتر، أي مفصولين، لاستدلاله بحديث عبد الله بن قيس، ولفظه: "قلت لعائشة: بكم كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يُوتر؟ قالت: كان يُوتِر بأربعٍ وثلاثٍ، وستٍّ وثلاث، وثمانٍ وثلاث، وعشرٍ وثلاث. ولم يكن يُوتِر بأنقصَ من سبعٍ، ولا بأكثر من ثلاث عشرة". وأما مع الوصل فثلاثٌ

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (1362) من حديث عبد الله بن أبي قيس عن عائشة. ويقال له "ابن قيس" أيضًا.

(2) أخرجه البخاري (990) ومسلم (749).
...তিনি বলা পর্যন্ত: আর ইমাম মালিকের ক্ষেত্রে কথা হলো, তিনি এই অধ্যায়ে এ কথাটিকেই অবলম্বন করেছেন যে, নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো জোড় (شفع) রাকাতের পরপর ব্যতীত বিতর (وتر) আদায় করেননি। ফলে তিনি মনে করতেন যে, এটি বিতরের সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত এবং এর সর্বনিম্ন পরিমাণ হলো দুই রাকাত। সুতরাং তাঁর নিকট বিতর মূলত হয় এক রাকাত, তবে এর শর্ত হলো তার পূর্বে একটি জোড় (شفع) ইউনিট থাকতে হবে; অথবা তিনি মনে করতেন যে, আদিষ্ট বিতর হলো জোড় (شفع) ও বিজোড় (وتر)-এর সমষ্টি, কারণ যখন জোড় সংখ্যার সাথে বিজোড় সংখ্যা যোগ করা হয়, তখন পুরোটিই বিজোড় (وتر) হয়ে যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে কাইসের পূর্বোক্ত হাদিসটি এই মাযহাবের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়, কেননা তাতে জোড় (شفع) ও বিজোড় (وتر) এর সমন্বিত সংখ্যাকেই বিতর (وتر) নাম দেওয়া হয়েছে। আর বিতর যে মূলত এক রাকাত—এই বিশ্বাসের পক্ষে দলীল হলো তাঁর এই উক্তি: "মানুষ কীভাবে এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করবে যার আগে কিছুই নেই? আর এটি কিসের বিজোড় করবে?" অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এটি তার ইতিপূর্বে আদায়কৃত সালাতকে বিজোড় (تُوتِر) করে দেয়।" কারণ এই বক্তব্যের বাহ্যিক দিক (ظاهر) এটিই নির্দেশ করে যে, তিনি মনে করতেন শরঈ বিতর হলো স্বয়ং বিজোড় সংখ্যাটিই, অর্থাৎ যা জোড় ও বিজোড়ের সমন্বয়ে গঠিত নয়; আর তা হলো এটি অন্য সালাতের জন্য বিজোড়কারী। আর এই ব্যাখ্যা (تأويل) তাঁর নিকট অধিকতর উত্তম। (সমাপ্ত)

আমি বলি: বাজীর বক্তব্যটি এ বিষয়ে সুনিশ্চিত যে, ইমাম মালিকের নিকট বিতর হলো এক রাকাত, এবং এর মর্মার্থ হলো এর পূর্ববর্তী জোড় (شفع) রাকাত বিতরের নিয়তে হওয়া বৈধ নয়। আর ইবনে রুশদও এটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, এবং তাঁরা উভয়েই এই অভিমত ইমাম শাফিয়ীর দিকেও সম্বন্ধ করেছেন। আর ইবনে রুশদ এ সম্ভাবনাও ব্যক্ত করেছেন যে, ইমাম মালিক মনে করতেন বিতর জোড় (شفع) ও বিজোড় (وتر) উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, অর্থাৎ পৃথক (مفصول) অবস্থায়। এর কারণ হলো আব্দুল্লাহ ইবনে কাইসের হাদিস দ্বারা তাঁর দলীল প্রদান, যার শব্দ হলো: "আমি আয়িশাকে (রাযিয়াল্লাহু আনহা) জিজ্ঞেস করলাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কত রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন? তিনি বললেন: তিনি চার ও তিন, ছয় ও তিন, আট ও তিন এবং দশ ও তিন রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন। তিনি সাত রাকাতের কম এবং তের রাকাতের বেশি বিতর পড়তেন না।" আর অবিচ্ছিন্নভাবে (وصل) পড়লে তা তিন রাকাত।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (১৩৬২) এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আবি কাইস থেকে আয়িশার সূত্রে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন। তাঁকে "ইবনে কাইস"-ও বলা হয়।

(২) বুখারী (৯৯০) ও মুসলিম (৭৪৯) এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৮)
بتسليمة، أو خمسٌ أو سبع أو تسع، فآخر كلامه أن مالكًا ــ بناءً على الراجح عنه ــ يُسمِّي المجموع وترًا، إلّا أنه لم يُجِز الوصل.

فقد تبيَّن لك أن الراجح عنده عن مالك أن الوتر هو حقيقة شرعية في الركعة الواحدة، ولو أُجِيز الوصلُ بثلاثٍ أو أكثر لكان ذلك وِترًا أيضًا. وأما إذا حصل الفصل بين ركعتين وركعة مثلًا، فلا يكون الوتر إلّا الركعة، فتأمَّلْ.

وظاهر كلامهما نسبة ذلك إلى الشافعي، وهو صحيح.

* * * *
এক সালামের মাধ্যমে, অথবা পাঁচ, সাত কিংবা নয় রাকাত; সুতরাং তাঁর সর্বশেষ বক্তব্য হলো, ইমাম মালিক—তাঁর থেকে বর্ণিত অগ্রগণ্য (الراجح) মতানুসারে—এই সমষ্টিগত রূপকে 'বিতর' নামে অভিহিত করেছেন, তবে তিনি তা নিরবচ্ছিন্নভাবে (الوصل) পড়ার অনুমতি দেননি।

আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তাঁর নিকট ইমাম মালিকের সূত্রে অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি হলো—বিতর মূলত এক রাকাতের ক্ষেত্রে একটি শারঈ হাকিকত (প্রকৃত অর্থ); আর যদি তিন বা ততোধিক রাকাত নিরবচ্ছিন্নভাবে (الوصل) পড়ার অনুমতি দেওয়া হতো, তবে সেটিও বিতর হিসেবে গণ্য হতো। কিন্তু যখন দুই রাকাত এবং এক রাকাতের মাঝে বিচ্ছেদ (الفصل) ঘটানো হয়, তখন কেবল এক রাকাতই বিতর বলে গণ্য হবে; বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন।

তাঁদের উভয়ের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে এটি ইমাম শাফিয়ীর প্রতি সম্বন্ধিত করা হয়েছে এবং তা সঠিক (صحيح)।

* * * *
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৬৯)
‌‌مبحث في الوتر [بواحدة]

أجاز الشافعية الاقتصار على واحدةٍ ليس بين العشاء وطلوع الفجر غيرُها، واستدلُّوا بأحاديث:

منها: حديث مسلم(1) عن ابن عمر وابن عباس أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "الوترُ ركعةٌ من آخر الليل".

ومنها: عن أبي أيوب الأنصاري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: "الوتر حقٌّ على كل مسلمٍ، من أحبَّ أن يُوتِر بخمسٍ فليفعلْ، ومن أحبَّ أن يُوتِر بثلاثٍ فليفعلْ، ومن أحبَّ أن يُوتِر بواحدةٍ فليفعلْ".

رواه أبو داود(2) بإسناد صحيح، كما قاله النووي في "شرح المهذَّب"(3). ورواه النسائي وابن ماجه(4)، وصححه ابن حبان والحاكم(5)، كما في "الفتح"(6) وغيره.

وعند الدارقطني(7) بإسنادٍ قال بعض شُرَّاحه(8): رواتُه كلهم ثقات عن

--------------------------------------------

(1) رقم (753).

(2) رقم (1422).

(3) "المجموع" (4/ 17).

(4) النسائي (3/ 238، 239) وابن ماجه (1190).

(5) "صحيح ابن حبان" (2407، 2410، 2411) و"المستدرك" (1/ 302، 303).

(6) (2/ 482).

(7) في "سننه" (2/ 33).

(8) هو شمس الحق العظيم آبادي في "التعليق المغني" (2/ 34).
‌[এক রাকাত] বিতর সংক্রান্ত আলোচনা

শাফেয়ীগণ ইশা এবং ফজর উদিত হওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে অন্য কোনো নামাজ ব্যতিরেকে কেবল এক রাকাতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাকে বৈধ বলেছেন এবং তারা বিভিন্ন হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

তন্মধ্যে একটি হলো: ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত মুসলিম-এর হাদিস যে, নবী (সা.) বলেছেন: "বিতর হলো রাতের শেষভাগের এক রাকাত।"

অন্যটি হলো: আবু আইয়ুব আল-আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "বিতর প্রত্যেক মুসলিমের ওপর অর্পিত হক; সুতরাং যে ব্যক্তি পাঁচ রাকাত বিতর পড়তে পছন্দ করে সে যেন তা-ই করে, আর যে তিন রাকাত পড়তে পছন্দ করে সে যেন তা-ই করে, আর যে এক রাকাত পড়তে পছন্দ করে সে যেন তা-ই করে।"

আবু দাউদ এটি একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد)-যোগে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইমাম নববী "শারহুল মুহাযযাব"-এ উল্লেখ করেছেন। এটি নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ-ও বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান ও হাকেম একে সহিহ (صححه) বলেছেন, যেমনটি "আল-ফাতহ" ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।

আর দারাকুতনির নিকট এমন একটি সনদ (إسناد) রয়েছে যার জনৈক ব্যাখ্যাকারী বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ (رواة) সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات)...

--------------------------------------------

(1) নম্বর (৭৫৩)।

(2) নম্বর (১৪২২)।

(3) "আল-মাজমু" (৪/ ১৭)।

(4) নাসাঈ (৩/ ২৩৮, ২৩৯) এবং ইবনে মাজাহ (১১৯০)।

(5) "সহিহ ইবনে হিব্বান" (২৪০৭, ২৪১০, ২৪১১) এবং "আল-মুস্তাদরাক" (১/ ৩০২, ৩০৩)।

(6) (২/ ৪৮২)।

(7) তাঁর "সুনান"-এ (২/ ৩৩)।

(8) তিনি হলেন শামসুল হক আজিমাবাদী, "আত-তালিকুল মুগনি" (২/ ৩৪)-এ।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭০)
عائشة أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أوتر بركعة.

قال في "المغني"(1): وفي "صحيح ابن حبان"(2) من حديث ابن عباس أنه صلى الله عليه وآله وسلم أوترَ بركعة.

قال بعضهم(3): قال العراقي: وممن أوترَ بعد العشاء بركعةٍ من الصحابة: الخلفاء الأربعة، وسعد بن أبي وقاص، ومعاذ بن جبل، وأُبي بن كعب، وأبو موسى الأشعري، وأبو الدرداء، وحذيفة، وابن مسعود، وابن عمر، وابن عباس، ومعاوية، وتميم الداري، وأبو أيوب الأنصاري، وأبو هريرة، وفضالة بن عُبيد، وعبد الله بن الزبير، ومعاذ بن الحارث القاري. هـ

قلت: في البخاري(4) أن سعد بن أبي وقاص أوتر بواحدةٍ. وفيه أيضًا(5) كذلك عن معاوية، وأن ابن عباس أقرَّه على ذلك بقوله لمن اعترض عليه: دَعْه فإنه فقيهٌ.

والبحث معهم يتوقف على مقدمة، وهي تحقيق مسمَّى "الوتر" ما هو؟ أهو صلاة الليل التي يكون آخرها فردًا مطلقًا، أو الركعة الفردة منها مطلقًا، أو هو آخر صلاةٍ في الليل تكون وترًا بتسليمةٍ واحدة، سواء أكانت واحدةً أو أكثر؟

--------------------------------------------

(1) "مغني المحتاج" (1/ 221).

(2) رقم (2424).

(3) هو الشوكاني، انظر "نيل الأوطار" (3/ 39).

(4) رقم (6356).

(5) رقم (3764).
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করেছেন।

"মুগনী"(১) গ্রন্থে বলা হয়েছে: এবং "সহিহ ইবনে হিব্বান"(২)-এ ইবনে আব্বাস (রা.) এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করেছেন।

তাদের কেউ কেউ(৩) বলেছেন: ইরাকি বলেছেন: সাহাবিদের মধ্য থেকে যারা ইশার নামাজের পর এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করেছেন তারা হলেন: চার খলিফা, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, মুয়াজ বিন জাবাল, উবাই বিন কাব, আবু মুসা আল-াশআরি, আবু দারদা, হুজাইফা, ইবনে মাসউদ, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস, মুয়াবিয়া, তামিম আদ-দারি, আবু আইয়ুব আল-আনসারি, আবু হুরায়রা, ফাদালা বিন উবাইদ, আব্দুল্লাহ বিন জুবায়ের এবং মুয়াজ বিন হারিস আল-কারি। সমাপ্ত।

আমি বলি: বুখারি(৪)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করেছেন। এবং এতে আরও(৫) একইভাবে মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর ইবনে আব্বাস (রা.) তার ওপর আপত্তি পোষণকারীর প্রতিবাদে তাকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেছেন: "তাকে ছেড়ে দাও, কেননা তিনি একজন ফকিহ (فقيه)।"

তাদের সাথে আলোচনাটি একটি ভূমিকার ওপর নির্ভর করে, আর তা হলো "বিতর" নামটির প্রকৃত তাৎপর্য নিরূপণ করা; তা আসলে কী? এটি কি রাতের নামাজ যার শেষ অংশ নিঃশর্তভাবে বেজোড় (فرد) হয়, নাকি এটি স্বতন্ত্রভাবে তার মধ্য থেকে একটি বেজোড় রাকাত, নাকি এটি রাতের শেষ নামাজ যা এক সালামের মাধ্যমে বিতর হিসেবে গণ্য হয়, চাই তা এক রাকাত হোক বা তার অধিক?

--------------------------------------------

(১) "মুগনী আল-মুহতাজ" (১/ ২২১)।

(২) নং (২৪২৪)।

(৩) তিনি হলেন শাওকানি, দেখুন "নাইলুল আওতার" (৩/ ৩৯)।

(৪) নং (৬৩৫৬)।

(৫) নং (৩৭৬৪)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭১)
‌‌بحث في حقيقة "الوتر" ومسمَّاه في الشرع

روينا في "صحيح مسلم"(1) بسنده إلى أبي مِجْلَز قال: سالتُ ابن عباس عن الوتر، فقال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "ركعةٌ من آخر الليل"، وسألتُ ابن عمر فقال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "ركعةٌ من آخر الليل".

وهذا الحديث بعض حديث. أقول: رويناه في "سنن أبي داود" و"سنن النسائي" و"سنن ابن ماجه". قال أبو داود(2): (باب كم الوترُ؟) حدثنا محمد بن كثير أنا همام عن قتادة عن عبد الله بن شقيق عن ابن عمر أن رجلًا من أهل البادية سأل النبي صلى الله عليه وآله وسلم عن صلاة الليل، فقال بإصبعَيْه هكذا: "مَثْنَى مَثْنَى، والوتر ركعة من آخر الليل".

قلت: وهذا الإسناد صحيح.

وقال النسائي(3): (باب كم الوترُ؟) أخبرنا محمد بن يحيى بن عبد الله قال: حدثنا وهب بن جرير قال: حدثنا شعبة عن أبي التيَّاح عن أبي مِجْلَز عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "الوتر ركعةٌ من آخر الليل".

أخبرنا محمد بن بشار قال: حدثنا يحيى ومحمد قالا: حدثنا ــ ثم ذكر كلمةً معناها ــ شعبة عن قتادة عن أبي مِجْلَز عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "الوتر ركعةٌ من آخر الليل".

--------------------------------------------

(1) رقم (753).

(2) في "سننه" (2/ 62) رقم (1421).

(3) (3/ 232).
শরিয়তে "বিতর"-এর প্রকৃত স্বরূপ ও এর নামকরণ বিষয়ক গবেষণা

আমরা সহিহ মুসলিম(১)-এ তাঁর সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে আবু মিজলায থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস-কে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তখন তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "রাতের শেষ অংশে এক রাকাত", আর আমি ইবনে ওমর-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সালল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "রাতের শেষ অংশে এক রাকাত"।

এই হাদিসটি একটি দীর্ঘ হাদিসের অংশবিশেষ। আমি বলছি: আমরা এটি সুনান আবু দাউদ, সুনান নাসাঈ এবং সুনান ইবনে মাজাহ-তে বর্ণনা করেছি। আবু দাউদ(২) বলেছেন: (অধ্যায়: বিতর কত রাকাত?) মুহাম্মদ ইবনে কাসির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) হাম্মাম থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম-কে রাতের নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি তাঁর দুই আঙ্গুল দিয়ে এভাবে ইশারা করে বললেন: "দুই দুই রাকাত করে, আর বিতর হলো রাতের শেষ অংশে এক রাকাত।"

আমি বলছি: আর এই সনদ (إسناد) টি সহিহ (صحيح)।

এবং নাসাঈ(৩) বলেছেন: (অধ্যায়: বিতর কত রাকাত?) মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ওয়াহাব ইবনে জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু আত-তাইয়্যাহ থেকে, তিনি আবু মিজলায থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বিতর হলো রাতের শেষ অংশে এক রাকাত।"

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ইয়াহইয়া এবং মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا)—অতঃপর তিনি এমন একটি শব্দ উল্লেখ করেছেন যার অর্থ (বর্ণনা করা)—শু'বাহ কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু মিজলায থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "বিতর হলো রাতের শেষ অংশে এক রাকাত।"

--------------------------------------------

(১) নং (৭৫৩)।

(২) তাঁর সুনান গ্রন্থে (২/ ৬২) নং (১৪২১)।

(৩) (৩/ ২৩২)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭২)
أخبرنا الحسن بن محمد عن عفان قال: حدثنا همام قال: حدثنا قتادة عن عبد الله بن شقيق عن ابن عمر أن رجلًا من أهل البادية سأل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عن صلاة الليل، قال: "مثنى مثنى، والوتر ركعةٌ من آخر الليل".

وهذا الإسناد الأخير صحيح.

وقال ابن ماجه(1): حدثنا محمد بن عبد الملك بن أبي الشوارب، ثنا عبد الواحد بن زياد، ثنا عاصم عن أبي مِجْلَز عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "صلاة الليل مثنى مثنى، والوتر ركعة". قلت: أرأيتَ إن غلَبتْني عيني، أرأيتَ إن نِمْتُ؟ قال: "اجعَلْ "أرأيتَ" عند ذلك النجم". فرفعتُ رأسي، فإذا السِّماكُ. ثم أعاد فقال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "صلاة الليل مثنى مثنى، والوتر ركعةٌ قبلَ الصبح". وإسناده صحيح، ولفظ "قبل الصبح" هو بمعنى اللفظ الآخر: "من آخر الليل".

وقد ورد إطلاق الوتر على الركعة الواحدة الموصولة بالشفع، كما في روايةٍ لأبي داود(2) في حديث سعد بن هشام عن عائشة، وفيها: "فصلَّى ثماني ركعاتٍ يُخيَّلُ إليَّ أنه يُسوِّي بينهن في القراءة والركوع والسجود، ثم يوتر بركعةٍ … " الحديث. مع أن عامة طرق الحديث عند أبي داود(3) وعند مسلم(4) وغيرهما مبينةٌ أن الركعة متصلة بالثمان، وذلك أنه صلى الله عليه وآله وسلم صلَّى تسعًا جميعًا، وإنما أفردت الركعة في هذه الرواية لأنه فصلَ بينها وبين الثمان

--------------------------------------------

(1) رقم (1175).

(2) رقم (1352).

(3) رقم (1342، 1343، 1346، 1347).

(4) رقم (746).
আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আফফান থেকে, তিনি বলেন: হাম্মাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাতাদা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক গ্রামবাসী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামকে রাতের নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: "দুই রাকাত দুই রাকাত করে, আর বিতর হলো রাতের শেষ ভাগের এক রাকাত।"

আর এই শেষোক্ত সনদ (إسناد) টি সহিহ (صحيح)।

আর ইবনে মাজাহ(১) বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদিল মালিক ইবনে আবিল শাওয়ারিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল ওয়াহিদ ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মিজলায থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "রাতের নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে, আর বিতর হলো এক রাকাত।" আমি বললাম: আপনার কী মত যদি তন্দ্রা বা ঘুম আমাকে অভিভূত করে? যদি আমি ঘুমিয়ে পড়ি? তিনি বললেন: "তোমার এই 'আপনার কী মত' কথাটিকে ঐ নক্ষত্রের কাছে রাখো।" অতঃপর আমি মাথা তুললাম এবং সিমাক নক্ষত্রটি দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "রাতের নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে, আর বিতর হলো সুবহে সাদেকের পূর্বের এক রাকাত।" এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح), আর "সুবহে সাদেকের পূর্বে" শব্দসমষ্টিটি অন্য শব্দসমষ্টি "রাতের শেষ ভাগে"-এর অর্থেই ব্যবহৃত।

আর শাফ্-এর (জোড় রাকাত) সাথে নিরবচ্ছিন্ন এক রাকাতের ওপরও 'বিতর' শব্দের প্রয়োগ বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আবু দাউদ(২)-এর একটি বর্ণনায় (رواية) আয়েশা (রা.) থেকে সা’দ ইবনে হিশামের হাদিসে এসেছে; তাতে রয়েছে: "অতঃপর তিনি আট রাকাত নামাজ পড়লেন, আমার মনে হয় তিনি কিরাত, রুকু ও সিজদার ক্ষেত্রে সেগুলোকে সমান রেখেছিলেন, এরপর তিনি এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করলেন..." হাদিস। যদিও আবু দাউদ(৩), মুসলিম(৪) এবং অন্যদের নিকট এই হাদিসের সাধারণ সূত্রসমূহ (طرق) স্পষ্ট করে যে, ওই এক রাকাত আট রাকাতের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ছিল। আর তা এই কারণে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম একত্রে নয় রাকাত নামাজ পড়েছিলেন। এই বর্ণনায় (رواية) এক রাকাতকে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তিনি ওই এক রাকাত ও আট রাকাতের মাঝে পার্থক্য করেছিলেন (অর্থাৎ বর্ণনাকারী একক রাকাতের কথা আলাদা করে বুঝিয়েছেন)।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (১১৭৫)।

(২) নম্বর (১৩৫২)।

(৩) নম্বর (১৩৪২, ১৩৪৩, ১৩৪৬, ১৩৪৭)।

(৪) নম্বর (৭৪৬)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৩)
بتشهدٍ، ولم يُسلِّم إلّا في التاسعة، كما في عامة الروايات.

وقد تُحمل هذه الرواية على أن يُوتِر بركعة بمعنى يُوتِر الثمانَ، أي يُصيِّرها وترًا. وإن لم يُقبل هذا التأويل فهذا إطلاق ثالث مجازًا، ومنه أيضًا رواية أبي سلمة عند مسلم(1) قالت(2): "كان يصلِّي ثلاث عشرة ركعةً، يُصلِّي ثمانَ ركعات ثم يُوتِر، ثم يُصلِّي ركعتين وهو جالس، فإذا أراد أن يركع قام فركع، ثم يُصلِّي ركعتين بين النداء والإقامة من صلاة الصبح".

كما ثبت عنها في مسلم(3) وغيره من رواية سعد بن هشام، وفيه: "ويُصلِّي تسعَ ركعاتٍ لا يجلس فيها إلّا في الثامنة، فيذكر الله ويحمده ويدعوه، ثم ينهض ولا يُسلِّم، ثم يقوم فيصلِّي التاسعة … " الحديث.

وأصرحُ منه رواية النسائي(4) في حديث سعد بن هشام المذكور، ولفظه: "قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إذا أوتر بتسع ركعاتٍ لم يقعد إلا في الثامنة، فيحمد الله ويذكره ويدعو، ثم ينهض ولا يُسلِّم، ثم يُصلِّي التاسعة … " الحديث.

وهذا الإطلاق مجازٌ أيضًا.

وقد يُطلق الوتر مجازًا على مطلقِ صلاة الليل، لاشتمالها على الوتر، رواه بعضهم عن الطيبي، ومرَّ نَقْلُه فيه عن "سنن الترمذي"، واقتضاه كما

--------------------------------------------

(1) رقم (738/ 126).

(2) أي عائشة رضي الله عنها.

(3) رقم (746).

(4) (3/ 240).
তাশাহহুদসহ, এবং তিনি নবম রাকাত ব্যতীত সালাম ফিরাতেন না, যেমনটি সাধারণ বর্ণনাগুলোতে (روايات) রয়েছে।

আর এই বর্ণনাটিকে (الرواية) এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর করার অর্থে ধরা যেতে পারে, যার অর্থ হলো তিনি আট রাকাতকে বিতর করেন, অর্থাৎ সেগুলোকে বেজোড় করেন। যদি এই ব্যাখ্যাটি (التأويل) গৃহীত না হয়, তবে এটি রূপকভাবে (مجازًا) তৃতীয় একটি প্রয়োগ। এর অন্তর্ভুক্ত মুসলিম-এ বর্ণিত আবু সালামার বর্ণনাটিও (رواية), তিনি(২) বলেন: "তিনি তেরো রাকাত নামাজ পড়তেন; তিনি আট রাকাত পড়তেন তারপর বিতর (يُوتِر) করতেন। এরপর বসে দুই রাকাত পড়তেন। যখন তিনি রুকু করার ইচ্ছা করতেন, তখন দাঁড়িয়ে রুকু করতেন। এরপর ফজরের নামাজের আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দুই রাকাত পড়তেন।"

যেমনটি মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে সাদ বিন হিশামের বর্ণনায় (رواية) তাঁর (আয়েশা রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তাতে রয়েছে: "তিনি নয় রাকাত নামাজ পড়তেন, যার অষ্টম রাকাত ব্যতীত তিনি বসতেন না। অতঃপর আল্লাহর জিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর কাছে দোয়া করতেন। তারপর তিনি সালাম না ফিরিয়ে উঠে দাঁড়াতেন। অতঃপর নবম রাকাত আদায় করতেন..." হাদিস।

এর চেয়েও স্পষ্ট হলো উল্লেখিত সাদ বিন হিশামের হাদিসে সুনানুন নাসায়ীর বর্ণনাটি (رواية), যার শব্দ হলো: "তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যখন নয় রাকাতের মাধ্যমে বিতর (أوتر) করতেন, তখন অষ্টম রাকাত ছাড়া বসতেন না। অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও জিকির করতেন এবং দোয়া করতেন। এরপর তিনি সালাম না ফিরিয়ে উঠে দাঁড়াতেন, তারপর নবম রাকাত পড়তেন..." হাদিস।

এই প্রয়োগটিও রূপক (مجاز)।

কখনও কখনও বিতর শব্দটিকে রূপকভাবে (مجازًا) সাধারণ তাহাজ্জুদ বা রাতের নামাজের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়, কারণ তাতে বিতর অন্তর্ভুক্ত থাকে। এটি কেউ কেউ তিবী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং "সুনান তিরমিজি" থেকে এর উদ্ধৃতি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এটি দাবি করে যেমন...

--------------------------------------------

(১) নম্বর (৭৩৮/ ১২৬)।

(২) অর্থাৎ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)।

(৩) নম্বর (৭৪৬)।

(৪) (৩/ ২৪০)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৪)
ذكرنا صنيع الإمام النسائي، بل يقتضيه كلام أكثر العلماء لتأوُّلهم إطلاقَ الوتر على الثلاث عشرة في بعض الأحاديث على أنه أدخل فيه سنة العشاء أو افتتاح الوتر أو سنة الصبح، ومنه حديث أم سلمة وحديث الحاكم السابقانِ، وحديث أبي داود(1) بإسناد صحيح إلى عبد الله بن أبي قيس قال: قلتُ لعائشة رضي الله عنها: بكَمْ كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يُوتر؟ قالت: كان يُوتِر بأربعٍ وثلاث، وستٍّ وثلاث، وثمانٍ وثلاث، وعشرٍ وثلاث. ولم يكن يُوتِر بأنقصَ من سبعٍ ولا بأكثر من ثلاث عشرة.

وهذا الحديث دليل واضح على ما قلناه؛ لأنه صُرِّح فيه بالتقطيع، وقد عرفتَ أن عامة الأحاديث على إطلاق الوتر على القطعة الأخيرة. وقوله: "ولم يكن يُوتِر بأنقصَ من سبعٍ" مع أن القطعة الأخيرة قد صحَّ وقوعُها ركعةً واحدةً. وليس من هذا بعض روايات حديث ابن عمر(2): "صلَّى ركعةً واحدةً تُوتِرُ له ما قد صلَّى"؛ إذ لا يتعين أن يكون معنى "تُوتِر له ما قد صلَّى" أي تُصيِّره وترًا، بل المعنى: تكون منه وترًا. وهذا الإطلاق هو الأقرب إلى مذهبنا؛ لأن الوتر عند أصحابنا عبارة عن صلاةٍ مخصوصةٍ، أقلُّها ركعةٌ وأكثرها أحد عشر. قالوا: وما ورد من أنه ثلاثة عشر أو خمسة عشر، فهو بضمِّ ركعتين خفيفتين عند افتتاح الوتر، وركعتين قبليَّة الصبح.

قلت: وهذا هو المجاز الذي قلناه، وقلنا: إنه كذلك إذا ورد مطلقًا على أحد عشر مقطعة أو نحوها، وحقيقة فيما صُلِّي وترًا بتسليمةٍ واحدةٍ، ولم يثبت ذلك في أكثر من تسعٍ.

--------------------------------------------

(1) رقم (1362).

(2) عند البخاري (990) ومسلم (749).
আমরা ইমাম নাসায়ীর কর্মপদ্ধতি উল্লেখ করেছি, বরং অধিকাংশ আলেমের বক্তব্যও এটিই দাবি করে; কারণ তারা কিছু হাদিসে তেরো রাকাতের ওপর 'বিতর' শব্দের প্রয়োগকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, তিনি এতে এশার সুন্নাত, বিতরের প্রারম্ভিক নামাজ অথবা ফজরের সুন্নাতকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। উম্মে সালামাহ এবং ইতিপূর্বে উল্লিখিত হাকিমের হাদিস দুটি এর অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও আবু দাউদে একটি সহিহ সনদ (إسناد صحيح) সহকারে আবদুল্লাহ ইবনে আবি কাইস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) কত রাকাত বিতর পড়তেন? তিনি বললেন: তিনি চার ও তিন, ছয় ও তিন, আট ও তিন এবং দশ ও তিন রাকাত বিতর পড়তেন। তিনি সাত রাকাতের কম এবং তেরো রাকাতের বেশি বিতর পড়তেন না।(১)

এই হাদিসটি আমাদের বক্তব্যের একটি স্পষ্ট দলিল; কারণ এতে স্পষ্টভাবে খণ্ড খণ্ড করে (রাকাত) পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। আপনি জেনেছেন যে, সাধারণত হাদিসসমূহে 'বিতর' শব্দটি শেষ অংশের ওপর প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। আর তাঁর বক্তব্য: "তিনি সাত রাকাতের কম বিতর পড়তেন না", অথচ শেষ অংশটি এক রাকাত হওয়া সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত। ইবনে উমরের হাদিসের(২) কিছু বর্ণনা এর অন্তর্ভুক্ত নয়: "তিনি এক রাকাত নামাজ পড়েছেন যা তাঁর ইতিপূর্বে পড়া নামাজকে বিতর করে দেয়"; কেননা "তাঁর ইতিপূর্বে পড়া নামাজকে বিতর করে দেয়" এর অর্থ এই হওয়া আবশ্যক নয় যে, এটি তাকে বিতরে রূপান্তরিত করে, বরং এর অর্থ হলো: এটি তার পক্ষ থেকে বিতর হিসেবে গণ্য হবে। এই প্রয়োগটিই আমাদের মাযহাবের অধিক নিকটবর্তী; কারণ আমাদের ইমামগণের নিকট বিতর একটি বিশেষ নামাজ, যার সর্বনিম্ন এক রাকাত এবং সর্বোচ্চ এগারো রাকাত। তাঁরা বলেন: তেরো বা পনেরো রাকাত সংক্রান্ত যা বর্ণিত হয়েছে, তা মূলত বিতর শুরুর দুই সংক্ষিপ্ত রাকাত এবং ফজরের পূর্বের দুই রাকাতকে এর সাথে যুক্ত করার কারণে হয়েছে।

আমি বলি: এটিই সেই রূপক (مجاز) অর্থ যা আমরা বলেছি। আর আমরা বলেছি যে, অনুরূপভাবে যখন এগারো রাকাত বা এই জাতীয় সংখ্যার ওপর পৃথক পৃথকভাবে সাধারণভাবে (مطلقًا) শব্দটির প্রয়োগ হয় তখন তা এমনই হয়। আর এটি প্রকৃত (حقيقة) অর্থে তখন প্রযোজ্য হয় যখন এক সালামে বিতর পড়া হয়, আর নয় রাকাতের অধিক এমনটি প্রমাণিত হয়নি।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (১৩৬২)।

(২) বুখারি (৯৯০) ও মুসলিম (৭৪৯)-এর নিকট।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৫)
ولا ينافي ما ذكرناه من وَصْل الثلاث والخمس والسبع والتسع قولُه صلى الله عليه وآله وسلم: "صلاة الليل مثنى مثنى"، وإن اقتضى ذلك الحصر؛ لأننا نقول: صلاة الليل غير الوتر، كما هو مفهوم من السنة. ولذلك ترى الأئمة كالشيخين وغيرهما يُفرِدون كلًّا بترجمة(1).

وحينئذٍ فالصلاة التي تُقدَّمُ على الوتر ينبغي أن تكون مثنى مثنى، فإذا جاء الوتر كان الإنسان بالخيار: إن شاء صلَّى واحدةً، وإن شاء صلَّى ثلاثًا، وإن شاءَ سبعًا، وإن شاء تسعًا، كما مرَّ. ويَدُلُّك على ذلك أنه لو قال: "صلاة الليل مثنى مثنى، والوتر ثلاث" أو نحو ذلك لكان الكلام

--------------------------------------------

(1) ذكر المؤلف في هامشه ما يلي:

قال في "الفتح" في أول أبواب الوتر: ولم يتعرَّض البخاري لحكمه، لكن إفراده بترجمةٍ عن أبواب التهجد والتطوع يقتضي أنه غير ملحقٍ بها عنده. ثم ذكر أن ذلك يقتضي أنه يُوجِبه، ولكنه أورد ما يُنافي الوجوب.

 

وأقول: بل المقتضي لإفرادِه بترجمة هو ما عرفتَ، ومما يدلُّك على ذلك أن صلاة الليل كانت مشروعةً من أول الإسلام، بخلاف الوتر، فإنما شُرِع أخيرًا. ويُبيِّن هذا حديثُ "السنن": "إنَّ الله أمدّكم بصلاةٍ هي خيرٌ لكم من حُمر النعم. قلنا: وما هي يا رسول الله؟ قال: الوتر". الحديث سيأتي إن شاء الله.

لا يقال: إن شرطَ وقوعه في الليل يُدخِلُه في صلاة الليل، فإنا نقول: هذا وإن اقتضَتْه اللغة، لكن صلاة الليل أُطلِقَتْ شرعًا على صلاةٍ مخصوصة، ولا تَشْمَلُ كلَّ ما وقع بالليل، إذ لا تَشْمَلُ المغربَ والعشاء ورَواتبَها اتفاقًا، فكذا الوتر.

ولا يَرِدُ على هذا أن الوتر يكفي عن صلاة الليل، لأننا نقول: ذلك مثل سنة الوضوء وتحية المسجد، يكفي عنهما وقوعُ صلاةٍ في وقتهما. فتأمَّل. [المؤلف].

والحديث الذي ذكره أخرجه أبو داود (1418) والترمذي (452) وابن ماجه (1168) من حديث خارجة بن حُذافة. قال الترمذي: حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث يزيد بن حبيب.
আমরা তিন, পাঁচ, সাত এবং নয় রাকাত সংযোগ (وصل) করে পড়ার বিষয়ে যা উল্লেখ করেছি, তার সাথে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী: "রাতের সালাত দুই দুই রাকাত" — সংঘাতপূর্ণ নয়, যদিও তা সীমাবদ্ধতা দাবি করে; কারণ আমরা বলি: রাতের সালাত বিতর (وتر) থেকে ভিন্ন, যেমনটি সুন্নাহ থেকে বোঝা যায়। এই কারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে ইমামগণ, যেমন দুই শাইখ (বুখারি ও মুসলিম) এবং অন্যরা, প্রত্যেকটিকে আলাদা পরিচ্ছেদে (ترجمة) স্থান দিয়েছেন।(১)

এমতাবস্থায়, বিতরের (وتر) আগে যে সালাত আদায় করা হয় তা দুই দুই রাকাত হওয়া উচিত। এরপর যখন বিতর (وتر) আদায়ের সময় আসবে, তখন মানুষের ইখতিয়ার থাকবে: সে চাইলে এক রাকাত পড়বে, চাইলে তিন রাকাত, চাইলে সাত রাকাত কিংবা চাইলে নয় রাকাত পড়বে, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। এর প্রমাণ হলো, তিনি যদি বলতেন: "রাতের সালাত দুই দুই রাকাত এবং বিতর (وتر) তিন রাকাত" বা এই জাতীয় কিছু, তবে বিষয়টি স্পষ্ট হতো...

--------------------------------------------

(১) লেখক তাঁর টীকায় নিম্নোক্ত বিষয়টি উল্লেখ করেছেন:

তিনি "ফাতহুল বারি" গ্রন্থে বিতরের (وتر) অধ্যায়সমূহের শুরুতে বলেছেন: ইমাম বুখারি এর বিধান (حكم) সম্পর্কে সরাসরি কিছু বলেননি, তবে তাহাজ্জুদ ও নফল (تطوع) সালাতের অধ্যায়গুলো থেকে একে পৃথক পরিচ্ছেদে (ترجمة) উল্লেখ করা একথাই দাবি করে যে, তাঁর মতে এটি সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি এর আবশ্যকতা (وجوب) দাবি করে, তবে তিনি এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার পরিপন্থী।

 

আমি বলছি: বরং একে পৃথক পরিচ্ছেদে (ترجمة) বিন্যস্ত করার দাবিদার হলো তাই যা আপনি জানতে পেরেছেন। এর একটি প্রমাণ হলো, ইসলামের শুরু থেকেই রাতের সালাত বিধিবদ্ধ ছিল, পক্ষান্তরে বিতর (وتر) পরবর্তীতে বিধিবদ্ধ হয়েছে। "সুনান" গ্রন্থসমূহের এই হাদিসটি বিষয়টি স্পষ্ট করে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে এমন একটি সালাত দ্বারা সাহায্য করেছেন যা তোমাদের জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, সেটি কী? তিনি বললেন: বিতর (وتر)।" হাদিসটি সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ।

একথা বলা যাবে না যে: রাতে আদায় করার শর্ত একে রাতের সালাতের অন্তর্ভুক্ত করে দেয়। কারণ আমরা বলি: যদিও আভিধানিক অর্থ তা-ই দাবি করে, কিন্তু শরয়ি পরিভাষায় 'রাতের সালাত' বিশেষ কিছু সালাতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং তা রাতে সংঘটিত হওয়া প্রতিটি সালাতকে শামিল করে না। কেননা ঐকমত্য অনুযায়ী এটি মাগরিব, এশা এবং এদের সুন্নতে মুয়াক্কাদাহকে (رواتب) শামিল করে না; বিতরের (وتر) ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।

এর ওপর এই আপত্তিও আসবে না যে, বিতর (وتر) রাতের সালাতের জন্য যথেষ্ট হয়; কারণ আমরা বলি: এটি ওজুর সুন্নত এবং তাহিয়াতুল মাসজিদের মতো, যেগুলোর সময়ে অন্য কোনো সালাত আদায় করলেই তা যথেষ্ট হয়ে যায়। অতএব অনুধাবন করুন। [লেখক]।

লেখক যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা আবু দাউদ (১৪১৮), তিরমিজি (৪৫২) এবং ইবনে মাজাহ (১১৬৮) খারিজাহ ইবনে হুজাফাহ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি বিরল (غريب) হাদিস, ইয়াজিদ ইবনে হাবিব-এর বর্ণনা ছাড়া এটি আমাদের জানা নেই।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৬)
صحيحًا. وسيأتي بحث صلاة الليل مثنى مثنى إن شاء الله تعالى.

وصنيع الإمام النسائي رحمه الله يقتضي أن الوتر عنده هو ما صُلِّي وترًا بتسليمةٍ واحدةٍ، سواء أكان واحدةً أو ثلاثًا أو سبعًا أو تسعًا، وأنه قد يُطلَق على الإحدى عشرة والثلاث عشرة مجازًا. وهذا هو الحق عندي، وعامة الأحاديث والآثار تدلُّ عليه إلا ما ندر.

قال أولًا(1): (باب كم الوتر؟ )، فأورد فيه حديث: "الوتر ركعة من آخر الليل" بروايتين، ثم ختمه بأصله أن رجلًا من أهل البادية سأل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عن صلاة الليل، قال: "مثنى مثنى، والوتر ركعة من آخر الليل".

ثم قال(2): (باب كيف الوتر بواحدة؟ ) وأورد فيه حديث ابن عمر بلفظ: "صلاة الليل مثنى مثنى، فإذا أردتَ أن تنصرفَ فاركعْ بواحدة" وروايات أخرى بألفاظ مختلفة. وختمه بحديث عروة عن عائشة: "كان يُصلِّي من الليل إحدى عشرة ركعة يُوتِر منها بواحدة … " إلخ.

ثم قال(3): (باب كيف الوتر بثلاث؟ )، وأورد حديث عائشة، وفيه: "يُصلِّي أربعًا فلا تسأَلْ عن حسنهن وطولهن، ثم يصلِّي أربعًا فلا تسألْ عن حسنهن وطولهن، ثم يُصلِّي ثلاثًا … " الحديث. ثم ثنَّى بحديث سعد بن هشام عن عائشة "أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم كان لا يُسلِّم في ركعتي الوتر". ثم أطال بالاختلافات الواقعة في بعض أحاديث [الوتر] بالثلاث.

--------------------------------------------

(1) "سنن النسائي" (3/ 232).

(2) المصدر نفسه (3/ 233).

(3) المصدر نفسه (3/ 234).
বিশুদ্ধ (صحيح)। আর ইনশাআল্লাহ তাআলা ভবিষ্যতে রাতের সালাত দুই রাকাত দুই রাকাত হওয়া সম্পর্কে আলোচনা আসবে।

ইমাম নাসাঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর কর্মপন্থা একথাই দাবি করে যে, তাঁর নিকট বিতর হলো সেই সালাত যা এক সালামে বিজোড় হিসেবে আদায় করা হয়, চাই তা এক রাকাত হোক কিংবা তিন, সাত বা নয় রাকাত; আর এগারো ও তেরো রাকাতের ওপর রূপকভাবে (مجازا) এর প্রয়োগ হয়ে থাকে। আমার নিকট এটিই সঠিক, আর কদাচিৎ ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণ সকল হাদিস ও আছার (آثار) এর প্রতিই নির্দেশ করে।

তিনি প্রথমে বলেছেন(১): (পরিচ্ছেদ: বিতর কত রাকাত?), অতঃপর তাতে তিনি এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: "রাতের শেষাংশের বিতর হলো এক রাকাত" - এটি দু’টি বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী বর্ণিত। অতঃপর তিনি এর মূল বর্ণনা দিয়ে এটি শেষ করেছেন যে, জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "দুই রাকাত দুই রাকাত, আর বিতর হলো রাতের শেষাংশের এক রাকাত।"

এরপর তিনি বলেছেন(২): (পরিচ্ছেদ: এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর কীভাবে?) এবং তাতে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসটি এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: "রাতের সালাত দুই রাকাত দুই রাকাত, যখন তুমি সালাত শেষ করতে চাইবে তখন এক রাকাত পড়ে নিও" এবং ভিন্ন ভিন্ন শব্দে আরও অন্যান্য বর্ণনা (روايات)। আর ওরওয়াহ সূত্রে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে তা সমাপ্ত করেছেন: "তিনি রাতে এগারো রাকাত সালাত পড়তেন এবং তার মধ্যে এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর করতেন … " ইত্যাদি।

এরপর তিনি বলেছেন(৩): (পরিচ্ছেদ: তিন রাকাতের মাধ্যমে বিতর কীভাবে?), এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, যাতে রয়েছে: "তিনি চার রাকাত পড়তেন, সুতরাং তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না; অতঃপর আরও চার রাকাত পড়তেন, সুতরাং তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো না; এরপর তিনি তিন রাকাত পড়তেন … "। অতঃপর তিনি সাদ ইবনে হিশাম সূত্রে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় হাদিসটি আনেন যে, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বিতরের (প্রথম) দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন না।" এরপর তিনি তিন রাকাত [বিতর] সংক্রান্ত কিছু হাদিসে বিদ্যমান মতপার্থক্যগুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) "সুনান নাসাঈ" (৩/২৩২)।

(২) একই উৎস (৩/২৩৩)।

(৩) একই উৎস (৩/২৩৪)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৭)
ثم قال(1): (باب كيف الوتر بخمسٍ؟ )، وصدَّره بحديث الحكم عن مِقْسم عن أم سلمة: "كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يُوتِر بخمسٍ وبسبعٍ لا يَفصِل بينها بسلامٍ ولا بكلام". ورواه أخرى عن الحكم عن مقسم عن ابن عباس عن أم سلمة بلفظ "بسبعٍ أو بخمسٍ". ثم رواه بسنده إلى الحكم عن مقسم قال: "الوتر سبع، فلا أقلَّ من خمس". فذكرتُ ذلك لإبراهيم فقال: عمن ذكره؟ قلت: لا أدري. قال الحكم: فحججتُ فلقيتُ مِقْسمًا، فقلت له: عمن؟ قال: عن الثقة عن عائشة وعن ميمونة.

قلت: وفي "تهذيب التهذيب"(2): قال أحمد وغيره: لم يسمع الحكم حديث مقسم ــ كتاب ــ إلا خمسة أحاديث، وعدَّ منها حديث الوتر.

ومِقْسم من رجال البخاري، وممن طُعِن فيه منهم، وقد وثَّقه جماعة، ولكن في "تهذيب التهذيب"(3): وقال البخاري في "التاريخ الصغير": لا يُعرف لمِقسمٍ سماعٌ عن أمّ سلمة ولا ميمونة ولا عائشة.

قلتُ: والرواية الوسطى بواسطة ابن عباس.

قلتُ: ورجال الثالثة رجال الصحيح إلّا شيخ النسائي محمد بن إسماعيل بن إبراهيم، فهو من أفراده، وقال عنه ــ كما في "الخلاصة"(4) وغيرها ــ: ثقة حافظ. وأما مِقْسم فقد علمتَ ما فيه.

--------------------------------------------

(1) المصدر نفسه (3/ 239).

(2) (2/ 434).

(3) (10/ 289).

(4) (ص 327)، و"تهذيب التهذيب" (9/ 56).
তারপর তিনি বললেন(১): (পরিচ্ছেদ: পাঁচ রাকাত বিতর কীভাবে পড়তে হয়?), এবং তিনি আল-হাকাম হতে মিকসামের সূত্রে, তিনি উম্মে সালামাহ হতে বর্ণিত হাদিস দিয়ে এটি শুরু করেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) পাঁচ ও সাত রাকাত বিতর পড়তেন, যার মাঝে সালাম বা কথা দ্বারা বিচ্ছেদ করতেন না।" এবং তিনি এটি অন্য সূত্রে আল-হাকাম হতে, তিনি মিকসাম হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে এবং তিনি উম্মে সালামাহ হতে "সাত অথবা পাঁচ রাকাত" শব্দে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি আল-হাকাম হতে মিকসামের সূত্রে তাঁর নিজস্ব সনদসহ বর্ণনা করেছেন, তিনি (মিকসাম) বলেন: "বিতর হলো সাত রাকাত, তবে পাঁচ রাকাতের কম নয়।" আমি ইব্রাহিমকে তা জানালে তিনি বললেন: "তিনি এটি কার নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন?" আমি বললাম: "আমি জানি না।" আল-হাকাম বলেন: "এরপর আমি হজ পালন করতে গিয়ে মিকসামের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম: 'কার থেকে?' তিনি বললেন: 'একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির বরাতে আয়েশা ও মায়মুনা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে।'"

আমি বলছি: 'তাহজিবুত তাহজিব'(২) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: ইমাম আহমদ ও অন্যান্যগণ বলেছেন: আল-হাকাম মিকসামের নিকট থেকে লিখিত পাণ্ডুলিপি ব্যতীত আর কিছু সরাসরি শ্রবণ (سماع) করেননি, তবে পাঁচটি হাদিস এর ব্যতিক্রম; আর তিনি সেগুলোর মধ্যে বিতরের হাদিসটিকেও গণনা করেছেন।

মিকসাম হচ্ছেন বুখারি-র বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, এবং বর্ণনাকারীদের মধ্যে তিনি তাদের একজন যাদের ব্যাপারে সমালোচনা (طعن) করা হয়েছে। যদিও একদল মুহাদ্দিস তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলে অভিহিত করেছেন, তবে 'তাহজিবুত তাহজিব'(৩) গ্রন্থে রয়েছে: ইমাম বুখারি 'আত-তারিখুস সাগির' গ্রন্থে বলেছেন: উম্মে সালামাহ, মায়মুনা কিংবা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে মিকসামের সরাসরি শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত নয়।

আমি বলছি: মধ্যম পর্যায়ের বর্ণনাটি ইবনে আব্বাসের মধ্যস্থতায়।

আমি বলছি: তৃতীয় বর্ণনার বর্ণনাকারীরা সহিহ (صحيح) পর্যায়ের বর্ণনাকারী, তবে নাসায়ি-র উস্তাদ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম ব্যতীত; কারণ তিনি তাঁর একক বর্ণনাকারীদের (أفراده) অন্তর্ভুক্ত। তাঁর সম্পর্কে—যেমনটি 'আল-খুলাসাহ'(৪) ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে—বলা হয়েছে: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন হাফেজ (حافظ)। আর মিকসামের ব্যাপারে তো আপনি জেনেই গেছেন যা কিছু সমালোচনা তার মধ্যে রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) একই উৎস (৩/ ২৩৯)।

(২) (২/ ৪৩৪)।

(৩) (১০/ ২৮৯)।

(৪) (পৃ. ৩২৭), এবং 'তাহজিবুত তাহজিব' (৯/ ৫৬)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৮)
ثم ذكر النسائي(1) حديث عائشة: "كان يوتر بخمسٍ ولا يجلس إلّا في آخرهن".

ثم قال(2): (باب كيف الوتر بسبعٍ؟ )، فذكر حديث سعد بن هشام عن عائشة مختصرًا بلفظ: "قالت: لما أسنَّ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وأخذَ اللحمَ، صلَّى بستّ ركعاتٍ لا يقعد إلا في آخرهن" الحديث. ثم ذكره مطوَّلًا.

ثم قال(3): (باب كيف الوتر بتسعٍ؟ )، فذكر حديث سعد بن هشام عن عائشة، وفيه: "ويصلّي تسع ركعاتٍ لا يجلس فيهن إلَّا عند الثامنة، ويحمد الله ويصلّي على نبيه صلى الله عليه وآله وسلم ويدعو بينهن، ولا يسلِّم، ثم يُصلِّي التاسعة … " الحديث. ثم أعاده بروايات أخرى. ثم روى بسنده إلى الأسود عن عائشة قالت: "كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يصلّي من الليل تسعَ ركعات".

ثم أراد أن يُبيِّن أن الوتر إذا أُطلِق على أكثر من ذلك فالمراد به صلاة الليل، والحال أنه قد ذكره في (باب كيف الوتر بواحدةٍ؟ )، وذلك صريح في أن الوتر في هذا الحديث واحدة. ثم ذِكْره هنا في (باب الوتر بإحدى عشرة) صريح في أن الوتر فيه بإحدى عشرة. وهذا بحسب الظاهر مناقضة، والسرُّ ما ذكرناه من أنه أراد أن يُبيِّن ما أشرنا إليه، فحينئذٍ الاستدلال بهذا الحديث في البابين هو باعتبارين، فذكره هناك باعتبار أن الوتر هو ما صُلِّي وترًا بتسليمةٍ واحدة، وذكره هنا باعتبار أن الوتر قد يطلق على صلاة الليل، فقال(4): (باب

--------------------------------------------

(1) (3/ 240).

(2) (3/ 240).

(3) (3/ 241).

(4) "سنن النسائي" (3/ 243).
এরপর নাসায়ি(১) আয়িশাহ (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করেছেন: "তিনি পাঁচ রাকাত বিতর (وتر) পড়তেন এবং এগুলোর শেষ রাকাত ছাড়া বসতেন না।"

এরপর তিনি বলেছেন(২): (অধ্যায়: সাত রাকাত বিতর (وتر) কীভাবে পড়তে হয়?), অতঃপর তিনি আয়িশাহ (রা.) থেকে সা'দ ইবন হিশামের বর্ণিত হাদিসটি সংক্ষেপে নিম্নোক্ত শব্দে উল্লেখ করেছেন: "তিনি বলেন: যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার্ধক্যে উপনীত হলেন এবং শরীর ভারী হলো, তখন তিনি ছয় রাকাত নামাজ আদায় করতেন এবং এগুলোর শেষ রাকাত ছাড়া বসতেন না" - হাদিস। এরপর তিনি এটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন।

এরপর তিনি বলেছেন(৩): (অধ্যায়: নয় রাকাত বিতর (وتر) কীভাবে পড়তে হয়?), অতঃপর তিনি আয়িশাহ (রা.) থেকে সা'দ ইবন হিশামের হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তাতে রয়েছে: "এবং তিনি নয় রাকাত নামাজ পড়তেন, যেখানে অষ্টম রাকাত ছাড়া বসতেন না। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা করতেন, তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করতেন এবং এগুলোর মাঝে দোয়া করতেন, কিন্তু সালাম (تسليم) ফিরাতেন না। এরপর তিনি নবম রাকাত আদায় করতেন … " - হাদিস। এরপর তিনি এটি অন্যান্য বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে পুনরায় উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি আসওয়াদ থেকে আয়িশাহ (রা.)-এর সূত্রে তাঁর সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নয় রাকাত নামাজ পড়তেন।"

এরপর তিনি এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, বিতর (وتر) শব্দটি যখন এর চেয়ে অধিক সংখ্যার ওপর প্রয়োগ করা হয়, তখন তা দ্বারা রাতের নামাজই উদ্দেশ্য হয়। অথচ বাস্তবতা হলো তিনি এটি (অধ্যায়: এক রাকাত বিতর (وتر) কীভাবে পড়তে হয়?) -এ উল্লেখ করেছেন, যা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে এই হাদিসে বিতর (وتر) হলো এক রাকাত। পুনরায় এখানে (অধ্যায়: এগারো রাকাত বিতর (وتر)) -এ তাঁর উল্লেখ করা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে এতে বিতর (وتر) হলো এগারো রাকাত। বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি একটি স্ববিরোধিতা মনে হতে পারে, তবে এর নিগুঢ় রহস্য হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি যে তিনি সেটিই স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যা আমরা ইঙ্গিত করেছি। এমতাবস্থায়, উভয় অধ্যায়ে এই হাদিসটি দ্বারা দলিল পেশ (استدلال) করা হয়েছে দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে। সেখানে এটি উল্লেখ করেছেন এই বিবেচনায় যে, বিতর (وتر) হলো যা এক সালামে (تسليمة) বিজোড় করে পড়া হয়; আর এখানে উল্লেখ করেছেন এই বিবেচনায় যে, বিতর (وتر) শব্দটি কখনো রাতের নামাজের ওপরও প্রয়োগ করা হয়। অতঃপর তিনি বলেছেন(৪): (অধ্যায়:

--------------------------------------------

(১) (৩/ ২৪০)।

(২) (৩/ ২৪০)।

(৩) (৩/ ২৪১)।

(৪) "সুনান নাসায়ি" (৩/ ২৪৩)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৭৯)
كيف الوتر بإحدى عشرة)، فذكر حديث عروة عن عائشة: "كان يُصلِّي من الليل إحدى عشرة ركعة ويُوتر منها بواحدة" الحديث.

ثم قال(1): (باب الوتر بثلاثَ عشرةَ)، وذكر فيه حديث أم سلمة: "كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يُوتِر بثلاثَ عشرةَ ركعةً، فلما كبر وضعُف أوتَر بتسعٍ". وهو بمعنى الذي قبله، فالمراد بالوتر فيه صلاة الليل.

فالحق ــ إن شاء الله ــ أن الوتر حقيقة شرعية تقعُ على ما صُلِّي وِترًا بتسليمةٍ واحدةٍ، سواء أكان ركعةً أو ثلاثًا أو خمسًا أو سبعًا أو تسعًا، ولا يثبت أكثر من ذلك.

وهذا المعنى هو الذي عليه عامة الأحاديث والآثار، وهو المتبادر من لفظ الوتر؛ إذ الوتر في اللغة هو كما في "القاموس"(2): "الفرد أو ما لم يتشفَّعْ من العدد"، وذلك إنما يُعتبر فيما جُمِع، لا فيما فُرِّق. فلو صلَّى ركعتين ثم سلَّم ثم صلَّى ثلاثًا، لم يَنْبغِ أن يُطلَق الوتر إلّا على الثلاث التي وقعت بتسليمة واحدة، ولا تشركُ معها الركعتان، لانفصالِ كلٍّ من الصلاتين عن الأخرى وانقطاعها.

وقد أفهمك حسنُ صنيع الإمام النسائي رحمه الله ما قلناه من أن لفظ: "الوتر ركعة من آخر الليل" هو بعض الحديث الآخر، وإنما أفرده ابن عباس وابن عمر لأن أبا مِجْلَز إنما سألهما عن الوتر كما في مسلم(3)، وأصل

--------------------------------------------

(1) (3/ 243).

(2) (2/ 152).

(3) رقم (753).
(এগারো রাকাতের মাধ্যমে বিতর (وتر) পড়ার পদ্ধতি), অতঃপর তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত উরওয়ার হাদিসটি উল্লেখ করেন: "তিনি রাতে এগারো রাকাত (ركعة) নামাজ পড়তেন এবং তার মধ্য থেকে এক রাকাতের (ركعة) মাধ্যমে বিতর (وتر) করতেন"—পুরো হাদিস।

অতঃপর তিনি বলেন(১): (তেরো রাকাতের মাধ্যমে বিতর (وتر) পড়ার অধ্যায়), এবং সেখানে উম্মে সালামা (রা.)-এর হাদিস উল্লেখ করেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তেরো রাকাতের (ركعة) মাধ্যমে বিতর (وتر) করতেন, অতঃপর যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন এবং দুর্বল হয়ে পড়লেন, তখন তিনি নয় রাকাতের মাধ্যমে বিতর (وتر) করতেন।" এটি পূর্ববর্তী বর্ণনার অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, সুতরাং এখানে বিতর (وتر) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাতের নামাজ (সালাতুল লাইল)।

সঠিক মত হলো—ইনশাআল্লাহ—বিতর (وتر) হলো এমন একটি শরয়ি বাস্তবতা (حقيقة شرعية) যা এক সালামের (تسليمة) মাধ্যমে বিজোড় সংখ্যায় আদায়কৃত নামাজের ওপর প্রযুক্ত হয়; চাই তা এক রাকাত (ركعة), তিন, পাঁচ, সাত অথবা নয় রাকাত (ركعة) হোক না কেন। আর এর চেয়ে অতিরিক্ত কিছু প্রমাণিত নয়।

এই অর্থটিই অধিকাংশ হাদিস ও বর্ণনার (آثار) ভিত্তি এবং বিতর (وتر) শব্দ থেকে এটিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রাথমিকভাবে বুঝে আসে; কেননা অভিধান অনুযায়ী 'আল-কামুস'-এ(২) বিতর (وتر) এর অর্থ হলো: "বিজোড় বা সংখ্যার সেই অংশ যা জোড় নয়।" আর এটি কেবল তখনই গণ্য হয় যখন কোনো কিছু একত্রে মিলিত থাকে, পৃথক অবস্থায় নয়। সুতরাং কেউ যদি দুই রাকাত (ركعة) নামাজ পড়ে সালাম (تسليم) ফিরিয়ে দেয়, অতঃপর তিন রাকাত (ركعة) পড়ে, তবে এক সালামে (تسليمة) আদায়কৃত ওই তিন রাকাত (ركعة) ছাড়া অন্য কিছুর ওপর বিতর (وتر) শব্দ প্রয়োগ করা সংগত হবে না; এর সাথে পূর্ববর্তী দুই রাকাত (ركعة) অন্তর্ভুক্ত হবে না। কারণ উভয় নামাজের একটি অপরটি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও আলাদা।

ইমাম নাসায়ি (রহ.)-এর চমৎকার বিন্যাস আপনাকে আমাদের সেই কথাটিই বুঝিয়ে দিয়েছে যে, "রাতের শেষভাগে বিতর (وتر) হলো এক রাকাত (ركعة)"—এই শব্দগুচ্ছটি মূলত অন্য একটি হাদিসের অংশ। ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর (রা.) এটি পৃথকভাবে বর্ণনা করেছেন কেবল এজন্য যে, আবু মিজলাজ তাঁদের নিকট বিতর (وتر) সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যেমনটি সহিহ মুসলিম-এ(৩) বর্ণিত হয়েছে। আর মূল...

--------------------------------------------

(১) (৩/ ২৪৩)।

(২) (২/ ১৫২)।

(৩) নম্বর (৭৫৩)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৮০)
الحديث مشتمل على بيان صلاة الليل؛ لأن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أجاب به من سأله عنها كما مرَّ، فأخذا من الحديث ما يتعلق به الغرض، ومثل هذا كثير في الأحاديث.

وقد روى البخاري ومسلم حديث: "صلاة الليل مثنى مثنى" عن ابن عمر بروايات مختلفة(1)، فإما أن تُحمَل على التعدد، وإما أن تكون من باب الرواية بالمعنى، وقد ثبت للواقعة التعددُ مرتين، وذلك في رواية عبد الله بن شقيق عند مسلم(2) عن عبد الله بن عمر أن رجلًا سأل النبي صلى الله عليه وآله وسلم وأنا بينه وبين السائل، فقال: يا رسول الله، كيف صلاةُ الليل؟ قال: "مثنى مثنى، فإذا خشيتَ الصبحَ فصلِّ ركعةً، واجعل آخرَ صلاتك وترًا". ثم سأله رجل على رأس الحول وأنا بذلك المكان من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، فلا أدري أهو ذلك الرجل أو رجل آخر، فقال له مثله. انتهى.

فيمكن أن يكون الجواب الثاني مغايرًا للجواب الأول في اللفظ، وقول ابن عمر: "فقال له مثله" أي مثل معناه.

قال في "الفتح"(3): ووقع في "المعجم الصغير"(4) للطبراني أن السائل هو ابن عمر لكن يُعكِّر عليه روايةُ عبد الله بن شقيق عن ابن عمر(5) أن رجلًا سأل النبي صلى الله عليه وسلم وأنا بينه وبين الرجل … ، فذكر الحديث، وفيه: ثم سأله رجلٌ

--------------------------------------------

(1) انظر "صحيح البخاري" (472، 473، 990، 993، 1137) ومسلم (749).

(2) رقم (749/ 148).

(3) (2/ 478).

(4) (1/ 103).

(5) عند مسلم (749/ 148).
হাদিসটি রাতের সালাত বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত; কারণ নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কাছে এ সম্পর্কে প্রশ্নকারীকে এর মাধ্যমে উত্তর দিয়েছিলেন যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। ফলে তাঁরা হাদিস থেকে সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্যটুকু গ্রহণ করেছেন এবং হাদিসসমূহে এই ধরণের দৃষ্টান্ত প্রচুর।

ইমাম বুখারি ও মুসলিম ইবনে উমর থেকে বিভিন্ন বর্ণনা (رواية)-এর মাধ্যমে 'রাতের সালাত দুই দুই (রাকাত)' হাদিসটি বর্ণনা করেছেন(1)। সুতরাং হয় একে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হিসেবে ধরা হবে, অথবা এটি অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা (الرواية بالمعنى) হওয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে। মুসলিম-এ বর্ণিত আবদুল্লাহ বিন শাকিক-এর বর্ণনা (رواية)(2)-তে ইবনে উমর থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে ঘটনাটি দুইবার ঘটেছে; সেখানে উল্লেখ আছে যে, এক ব্যক্তি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্ন করলেন যখন আমি তাঁর ও প্রশ্নকারীর মাঝখানে ছিলাম। লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসুল, রাতের সালাত কেমন? তিনি বললেন: 'দুই দুই (রাকাত)। এরপর যদি তুমি ভোর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করো, তবে এক রাকাত পড়ে নাও এবং তোমার সালাতের শেষ অংশকে বিতর বানাও।' অতঃপর এক বছর পূর্ণ হওয়ার মাথায় অপর এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করল যখন আমি আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) কাছে সেই একই স্থানে ছিলাম। আমি জানি না সে কি সেই ব্যক্তি ছিল নাকি অন্য কেউ, তবে তিনি তাকেও একই উত্তর দিয়েছিলেন। সমাপ্ত।

সুতরাং সম্ভব যে, দ্বিতীয় উত্তরটি শব্দের দিক থেকে প্রথম উত্তরের চেয়ে ভিন্ন ছিল; আর ইবনে উমর (রা.)-এর উক্তি: 'তিনি তাকেও এর অনুরূপ বললেন' অর্থাৎ এর অর্থের অনুরূপ।

'আল-ফাতহ'(3) গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাবারানির 'আল-মু'জাম আল-সগির'(4)-এ এসেছে যে প্রশ্নকারী ছিলেন ইবনে উমর নিজেই; কিন্তু ইবনে উমর থেকে আবদুল্লাহ বিন শাকিকের বর্ণনা (رواية)(5) এর বিপরীতে জটিলতা তৈরি করে যেখানে উল্লেখ আছে যে, এক ব্যক্তি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রশ্ন করেছিলেন এবং আমি তাঁর ও সেই ব্যক্তির মাঝখানে ছিলাম... এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন এবং তাতে রয়েছে: অতঃপর এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করল...

--------------------------------------------

(1) দেখুন "সহিহ বুখারি" (৪৭২, ৪৭৩, ৯৯০, ৯৯৩, ১১৩৭) এবং মুসলিম (৭৪৯)।

(2) নম্বর (৭৪৯/ ১৪৮)।

(3) (২/ ৪৭৮)।

(4) (১/ ১০৩)।

(5) মুসলিম-এর নিকট (৭৪৯/ ১৪৮)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৮১)
على رأس الحول وأنا بذلك المكان منه، قال: فما أدري أهو ذلك الرجل أو غيره. وعند النسائي(1) من هذا الوجه أن السائل المذكور من أهل البادية. وعند محمد بن نصر في كتاب "أحكام الوتر" ــ وهو كتاب نفيس في مجلدة ــ من رواية عطية عن ابن عمر أن أعرابيًا سأل. فيحتمل أن يُجمَع بتعدد من سأل، وقد سبق في باب الحِلَق في المسجد أن السؤال المذكور وقعَ في المسجد والنبي صلى الله عليه وآله وسلم على المنبر. هـ(2).

أقول: قد يثبت برواية "المعجم" زيادة مرة ثالثة للتعدد، وأما رواية أعرابي فهي بمعنى رجل من أهل البادية، وكلاهما بمعنى رواية عبد الله بن شقيق التي أشار إليها الحافظ. ولا يثبت زيادة تعدد برواية ابن عباس، لاحتمال أنه سمعه مع ابن عمر، ولاسيَّما والسؤال وقع في المسجد والنبي صلى الله عليه وآله وسلم على المنبر، والغالب حضور ابن عباس حينئذٍ. وقد أفهمَ قولُ "الفتح": "وعند النسائي من هذا الوجه … " إلخ، أن الحديث واحدٌ وإن اختلفت الروايات، وهو ظاهر. وقد عرفتَ لفظ النسائي، وعلى كثرة الروايات فالظاهر أن لفظ النسائي من أصحِّها؛ لأن ابن عباس وابن عمر أفرداه في مقام الفتوى في الوتر كما علمتَ.

إذا تقرر ذلك فلنُعِدْ لفظَ الإمام النسائي(3) لنبني عليه البحث في حقيقة الوتر:

عن ابن عمر أن رجلًا من أهل البادية سأل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عن صلاة

--------------------------------------------

(1) (3/ 233).

(2) الهاء رمز "انتهى".

(3) (3/ 233).
বছরের শেষ মাথায় এবং আমি সেই স্থানেই ছিলাম, তিনি বললেন: আমি জানি না তিনি সেই ব্যক্তি ছিলেন নাকি অন্য কেউ। এবং নাসাঈর নিকট(১) এই সূত্র (وجه) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উল্লিখিত প্রশ্নকারী ছিলেন মরুচারী। এবং মুহাম্মদ ইবনে নাসরের 'আহকামুল বিতর' কিতাবে—যা এক খণ্ডে সমাপ্ত একটি মূল্যবান কিতাব—আতিয়্যাহর বর্ণনা (رواية) সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিলেন। ফলে সম্ভাবনা রয়েছে যে, প্রশ্নকারীর সংখ্যা একাধিক হওয়ার মাধ্যমে এর মধ্যে সমন্বয় করা হবে। ইতিপূর্বে মসজিদের 'হিলাক' (বৈঠক) পরিচ্ছেদে গত হয়েছে যে, উল্লিখিত প্রশ্নটি মসজিদে সংঘটিত হয়েছিল যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরে উপবিষ্ট ছিলেন। সমাপ্ত (انتهى)(২)।

আমি বলছি: 'আল-মু'জাম'-এর বর্ণনা (رواية) দ্বারা প্রশ্নকারীর সংখ্যা একাধিক হওয়ার সপক্ষে তৃতীয়বার হওয়ার বিষয়টি অতিরিক্ত হিসেবে সাব্যস্ত হতে পারে। আর গ্রাম্য ব্যক্তির বর্ণনা (رواية) মূলত মরুচারী ব্যক্তির অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে, এবং উভয়টিই আব্দুল্লাহ ইবনে শাকিকের সেই বর্ণনার (رواية) অর্থ প্রকাশ করে যার দিকে হাফিজ ইঙ্গিত করেছেন। এবং ইবনে আব্বাসের বর্ণনা (رواية) দ্বারা অতিরিক্ত সংখ্যা সাব্যস্ত হয় না, কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি এটি ইবনে উমরের সাথেই শুনেছেন। বিশেষ করে যখন প্রশ্নটি মসজিদে সংঘটিত হয়েছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরে ছিলেন, আর তখন ইবনে আব্বাসের উপস্থিত থাকাই স্বাভাবিক। 'ফাতহুল বারী'-এর এই উক্তি: "এবং নাসাঈর নিকট এই সূত্র (وجه) থেকে..." ইত্যাদি দ্বারা বুঝা যায় যে, বর্ণনাগুলো (روايات) ভিন্ন হলেও হাদিসটি মূলত একটিই, আর এটিই স্পষ্ট। আপনি নাসাঈর শব্দমালা সম্পর্কে জেনেছেন, আর বর্ণনার (روايات) আধিক্য সত্ত্বেও এটিই প্রতীয়মান হয় যে, নাসাঈর শব্দমালা অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح); কারণ ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর বিতরের ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে এটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আপনি জেনেছেন।

যখন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আসুন আমরা ইমাম নাসাঈর(৩) শব্দমালা পুনরায় উল্লেখ করি যাতে তার ওপর ভিত্তি করে বিতরের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করা যায়:

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, জনৈক মরুচারী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন...

--------------------------------------------

(১) (৩/ ২৩৩)।

(২) 'হা' (هـ) হলো 'সমাপ্ত' (انتهى)-এর সংকেত।

(৩) (৩/ ২৩৩)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৮২)
الليل، قال: "مثنى مثنى، والوتر ركعة من آخر الليل".

أقول وبالله التوفيق: قوله: "الوتر ركعة من آخر الليل" قد يقال: إنه يفيد الحصر، وهو أن الوتر لا يكون إلّا كذلك، وليس مرادًا هنا، لأن من قال به في مثل هذا شَرَطَ أن لا تمنع منه قرينة، وقد منعتْ منه ههنا قرائن، لأن القول به يقتضي أن لا تصلَّى تلك الركعة إلا مفصولةً، إذ لو وُصِلَتْ بركعتين مثلًا فإما أن ينوي بالثلاث وترًا، والوتر لا يكون إلّا واحدةً، وإما أن ينوي بالثنتين من قيام الليل وبالثالثة وترًا، ولم يُرِدْ مثل هذا مَن جمع صلاتين مختلفتين بتسليمة واحدة.

وقد ثبت عنه صلى الله عليه وآله وسلم الوصلُ بثلاثٍ وبخمسٍ وبسبعٍ وبتسعٍ، وورد في الإحدى عشرة إفراد واحدةٍ آخرَ صلاةِ الليل، كما يقتضيه هذا الحديث، وثبت عنه الثلاث عشرة بما يحتمله، وكل ذلك يُطلَق عليه لفظ الوتر.

من ذلك: حديث مسلم(1) عن عروة عن عائشة قالت: "كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يُصلِّي فيما بين أن يفرغ من صلاة العشاء ــ وهي التي يدعو الناس العَتَمة ــ إلى الفجر إحدى عشرة ركعة، يُسلِّم بين كل ركعتين ويُوتِر بواحدة" الحديث.

ومن ذلك: حديث مسلم(2) عن ابن عباس، وفيه: "فصلَّى ركعتين، فأطال فيهما، ثم انصرف فنامَ، ففعل ذلك ثلاث مرات بستّ ركعات، كلَّ ذلك يستاك ويتوضأ، ويقرأ هذه الآيات، ثم أوتر بثلاثٍ" الحديث.

--------------------------------------------

(1) رقم (736/ 122).

(2) رقم (763/ 191).
রাতের (নামাজ) সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "(তা হলো) দুই দুই রাকাত করে, আর বিতর হলো রাতের শেষ ভাগে এক রাকাত।"

আল্লাহর তাওফিকেই আমি বলছি: তাঁর বাণী: "বিতর হলো রাতের শেষ ভাগে এক রাকাত" - এ সম্পর্কে বলা হতে পারে যে, এটি সীমাবদ্ধতা (حصر) নির্দেশ করে, অর্থাৎ বিতর কেবল এমনটিই হবে। কিন্তু এখানে তা উদ্দেশ্য নয়, কারণ যারা এ জাতীয় ক্ষেত্রে এই কথা বলেন, তারা শর্ত দেন যে কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণ বা ইঙ্গিত (قرينة) যেন এতে বাধা না দেয়। অথচ এখানে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক প্রমাণ (قرائن) এতে বাধা দিচ্ছে; কারণ সেই বক্তব্য অনুযায়ী এই এক রাকাত কেবল পৃথকভাবেই আদায় করতে হবে। কেননা যদি একে উদাহরণস্বরূপ দুই রাকাতের সাথে মিলিয়ে পড়া হয়, তবে হয় তিন রাকাতের মাধ্যমেই বিতরের নিয়ত করতে হবে, অথচ বিতর তো কেবল একটিই হয়; অথবা দুই রাকাতের মাধ্যমে কিয়ামুল লাইলের (قيام الليل) নিয়ত এবং তৃতীয় রাকাতের মাধ্যমে বিতরের নিয়ত করতে হবে। কিন্তু যারা এক সালামের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন দুই প্রকারের নামাজকে একত্রিত করেন, তারা এ জাতীয় উদ্দেশ্য পোষণ করেন না।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে তিন, পাঁচ, সাত এবং নয় রাকাত মিলিয়ে পড়ার বিষয়টি প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে। এছাড়া এগারো রাকাতের ক্ষেত্রে রাতের নামাজের শেষে এক রাকাত পৃথকভাবে পড়ার বর্ণনাও এসেছে, যেমনটি এই হাদিস দাবি করে। তেরো রাকাত পড়ার বিষয়টিও সম্ভাব্য বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে; আর এই সবকিছুর উপরেই 'বিতর' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়।

এর মধ্যে রয়েছে: মুসলিম-এর সেই হাদিস যা উরওয়াহ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এশার নামাজ—যাকে মানুষ 'আতামাহ' বলে থাকে—শেষ করা থেকে শুরু করে ফজর পর্যন্ত এগারো রাকাত নামাজ পড়তেন; তিনি প্রতি দুই রাকাতের মাঝে সালাম ফিরাতেন এবং এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন।" (হাদিস শেষ পর্যন্ত)।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: মুসলিম-এর সেই হাদিস যা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, যেখানে রয়েছে: "অতঃপর তিনি দুই রাকাত নামাজ পড়লেন এবং তাতে দীর্ঘ কিয়াম করলেন, এরপর ফিরে গিয়ে ঘুমালেন। তিনি এভাবে তিনবার মোট ছয় রাকাত আদায় করলেন; প্রতিবারই তিনি মিসওয়াক করতেন, অজু করতেন এবং এই আয়াতগুলো পাঠ করতেন, এরপর তিনি তিন রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করলেন।" (হাদিস শেষ পর্যন্ত)।

--------------------------------------------

(1) নম্বর (৭৩৬/ ১২২)।

(2) নম্বর (৭৬৩/ ১৯১)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৮৩)
ومن ذلك: حديث أحمد والشيخين(1) عن عائشة: "كان رسولُ الله صلى الله عليه وآله وسلم يُصلِّي من الليل ثلاث عشرة ركعةً، يُوتِر بخمسٍ لا يجلس في شيء إلّا في آخرها".

ولمسلم(2) في حديث عائشة وقد سألها سعد بن هشام عن وتر رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، وفيه: "ويُصلِّي تسعَ ركعات لا يجلس فيها إلّا في الثامنة، فيذكر الله ويحمده ويدعوه، ثم ينهض ولا يُسلِّم، ثم يقوم فيصلِّي التاسعة"، وساق الحديث إلى أن قالت: "فلما أسنَّ نبي الله صلى الله عليه وآله وسلم وأخذه اللحم أوتر بسبعٍ" الحديث.

وأما الإحدى عشرة فيحتمله حديث عائشة عند الشيخين(3): "كان يصلي من الليل عشر ركعات، ويُوتِر بسجدةٍ" لاحتمال أن يكون وصل الأحد عشر بتشهدين: تشهُّد في العاشرة ولم يُسلِّم، وتشهُّد في الحادية عشرة وسلَّم. وقد وقعت مثل هذه العبارة بمثل هذه الصورة في بعض روايات حديث سعد بن هشام عند أبي داود(4)، ولفظه: "فصلَّى ثمان ركعاتٍ يُخيَّل إليَّ أنه يُسوِّي بينهن في القراءة والركوع والسجود، ثم يوتر بركعة … " الحديث. يحتمل أن التسع موصولة، وقولها مع ذلك: "يوتر

--------------------------------------------

(1) "المسند" (24239) وصحيح مسلم (737/ 123). ولم أجده بهذا اللفظ عند البخاري.

(2) رقم (746).

(3) مسلم (738/ 128). ولفظ البخاري (1140): "كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي من الليل ثلاث عشرة ركعةً، منها الوتر وركعتا الفجر".

(4) رقم (1352).
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আহমাদ ও শাইখাইন(১)-এর হাদিস: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন, যার মধ্যে পাঁচ রাকাত বিতর পড়তেন এবং এর শেষ রাকাত ব্যতীত অন্য কোনো রাকাতে বসতেন না।"

এবং মুসলিম(২)-এ আয়েশা (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—যখন সা'দ বিন হিশাম তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাতে রয়েছে: "তিনি নয় রাকাত সালাত আদায় করতেন, অষ্টম রাকাত ছাড়া তিনি বসতেন না। অতঃপর তিনি আল্লাহর জিকির করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন এবং তাঁর নিকট দোয়া করতেন। এরপর তিনি সালাম না ফিরিয়ে উঠে দাঁড়াতেন এবং নবম রাকাত আদায় করতেন।" তিনি হাদিসটি বর্ণনা করে চললেন যতক্ষণ না আয়েশা (রা.) বললেন: "যখন আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বয়োবৃদ্ধ হলেন এবং শরীর ভারী হয়ে গেল, তখন তিনি সাত রাকাত বিতর পড়তেন"— হাদিস।

আর এগারো রাকাতের বিষয়টি শাইখাইন(৩)-এর নিকট বর্ণিত আয়েশা (রা.)-এর হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে: "তিনি রাতে দশ রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর পড়তেন।" এর সম্ভাবনা এই কারণে যে, তিনি হয়তো এগারো রাকাতকে দুই তাশাহহুদের মাধ্যমে সংযুক্ত (মাউসুল (موصول)) করেছিলেন: দশম রাকাতে তাশাহহুদ পড়ে সালাম না ফিরিয়ে এবং একাদশ রাকাতে তাশাহহুদ পড়ে সালাম ফিরিয়ে। আবু দাউদ(৪)-এর নিকট বর্ণিত সা'দ বিন হিশামের হাদিসের কিছু বর্ণনায় (রেওয়ায়াত (رواية)) অনুরূপ বাক্য এই রূপেই এসেছে, যার পাঠ (লফজ (لفظ)) হলো: "তিনি আট রাকাত সালাত আদায় করলেন, আমার ধারণা হচ্ছিল তিনি কিরাত, রুকু ও সিজদাহর ক্ষেত্রে রাকাতগুলোর মধ্যে সমতা রক্ষা করছেন। এরপর তিনি এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করলেন..." হাদিস। সম্ভাবনা রয়েছে যে, নয় রাকাতই সংযুক্ত (মাউসুল (موصول)) ছিল, এবং সেই সাথে তাঁর উক্তি: "বিতর...

--------------------------------------------

(১) "আল-মুসনাদ" (২৪২৩৯) এবং সহিহ মুসলিম (৭৩৭/ ১২৩)। বুখারিতে আমি এই পাঠে (লফজ (لفظ)) এটি পাইনি।

(২) নম্বর (৭৪৬)।

(৩) মুসলিম (৭৩৮/ ১২৮)। বুখারির পাঠ (১১৪০): "নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন, যার মধ্যে বিতর এবং ফজরের দুই রাকাত ছিল।"

(৪) নম্বর (১৩৫২)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৮৪)
بركعةٍ" مجاز كما سيأتي.

وأصرح منه حديث البخاري(1) عن عروة عن عائشة: "وقد كان يُصلِّي إحدى عشرة ركعةً، كانت تلك صلاتَه" الحديث.

وأما الثلاث عشرة فيحتمله حديث النسائي(2) بإسنادٍ فيه أحمد بن حرب، قال فيه ابن أبي حاتم: صدوق، وقال النسائي: لا بأس به. ذكر ذلك في "تهذيب التهذيب"(3). قال: وذكره ابن حبان في "الثقات"(4)، وخرَّج له في "صحيحه".

قلت: وبقية رجاله رجال الصحيح، فهو إسناد صحيح.

ولفظ الحديث: عن أم سلمة قالت: "كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يوتر بثلاثَ عشرةَ ركعةً، فلما كبر وضعُفَ أوتَر بتسع".

فظاهر الحديث أن الثلاث عشرة موصولة، ولكن عامة الأحاديث أن الإحدى عشرة والثلاث عشرة لم تقع إلا مفصولةً، ومنه حديث الشيخين(5) عن عائشة: "كان يصلِّي من الليل عشر ركعات ويوتر بسجدةٍ". وحديث البخاري(6) عن عروة عنها، وفيه: "كان يصلِّي إحدى عشرة ركعة، كانت

--------------------------------------------

(1) رقم (1123).

(2) (3/ 243).

(3) (1/ 23).

(4) انظر (8/ 39).

(5) مسلم (738/ 128). وسبق التنبيه على لفظ البخاري (1140).

(6) رقم (1123).
"এক রাকাত দিয়ে" কথাটি রূপক (مجاز), যেমনটা সামনে আসবে।

এর চেয়েও স্পষ্ট হলো সাহিহ বুখারির হাদিস যা উরওয়াহ থেকে আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত: "তিনি এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন, এটাই ছিল তাঁর সালাত..." (পুরো হাদিস)।

আর তেরো রাকাতের বিষয়টি সুনান নাসাঈর একটি হাদিস দ্বারা সমর্থিত হতে পারে যার সনদ (إسناد)-এ আহমদ ইবনে হারব রয়েছেন। তাঁর সম্পর্কে ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: সত্যবাদী (صدوق), এবং নাসাঈ বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)। 'তাহজিবুত তাহজিব' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন: ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الثقات) তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর সংকলিত সাহিহ গ্রন্থে তাঁর হাদিস গ্রহণ করেছেন।

আমি বলছি: এর বাকি বর্ণনাকারীগণ (رجاله) সাহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী (رجال الصحيح), সুতরাং এটি একটি সহিহ সনদ (إسناد صحيح)।

হাদিসটির শব্দ হলো: উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তেরো রাকাত বিতর আদায় করতেন; কিন্তু যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হলেন এবং দুর্বল হয়ে পড়লেন, তখন নয় রাকাত বিতর আদায় করতেন।"

হাদিসটির বাহ্যিক রূপ থেকে বোঝা যায় যে তেরো রাকাত নিরবচ্ছিন্নভাবে পড়া হতো, তবে অধিকাংশ হাদিস অনুযায়ী এগারো এবং তেরো রাকাত বিচ্ছিন্নভাবেই (বিরতি দিয়ে) পড়া হতো। এর অন্তর্ভুক্ত হলো শায়খাইন (الشيخين) কর্তৃক আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস: "তিনি রাতে দশ রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর সম্পন্ন করতেন।" এবং উরওয়াহ থেকে তাঁর (আয়েশা) সূত্রে বর্ণিত সাহিহ বুখারির হাদিসে রয়েছে: "তিনি এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন, যা ছিল..."

--------------------------------------------

(1) নম্বর (১১২৩)।

(2) (৩/ ২৪৩)।

(3) (১/ ২৩)।

(4) দেখুন (৮/ ৩৯)।

(5) মুসলিম (৭৩৮/ ১২৮)। ইতিপূর্বে বুখারির শব্দের (১১৪০) ওপর সতর্ক করা হয়েছে।

(6) নম্বর (১১২৩)।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৮৫)
تلك صلاته … " الحديث. وحديث مسلم(1) عنها، وفيه: "إحدى عشرة ركعة، يُسلِّم بين كلِّ ركعتين، ويُوتر بواحدةٍ … " الحديث.

ومنه حديث أم سلمة أن الترمذي رواه في "سننه"(2) بلفظ النسائي، إلا أنه قال: "بسبعٍ". ثم قال(3): حديث أم سلمة حديث حسن، وقد روي عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم الوتر بثلاثَ عشرة وإحدى عشرة وتسعٍ وسبعٍ [وخمسٍ] وثلاثٍ وواحدة. قال إسحاق بن إبراهيم: معنى ما رُوِي أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم كان يُوتِر بثلاثَ عشرةَ، قال: إنما معناه أنه كان يُصلِّي من الليل ثلاث عشرة ركعةً مع الوتر، فنُسِبَتْ صلاة الليل إلى الوتر. ورَوَى في ذلك حديثًا عن عائشة. واحتجَّ بما رُوِي عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: "أوتروا يا أهل القرآن". قال: إنما عَنَى به قيام الليل، يقول: إنما قيام الليل على أصحاب القرآن. هـ

قلتُ: استدلالُه بحديث: "أوتروا يا أهل القرآن" يُعكِّر عليه أن في آخره كما في "بلوغ المرام"(4): "فإن الله وِتْرٌ يحبُّ الوتر". قال: رواه الخمسة(5)، وصححه ابن خزيمة(6). فالتعليل بقوله: "فإن الله وتر" يستدعي مناسبةً مَّا، فتأمَّلْ.

--------------------------------------------

(1) رقم (736/ 122).

(2) رقم (457).

(3) أي الترمذي بعد رواية الحديث في "سننه" (2/ 320، 321).

(4) (2/ 14) مع "سبل السلام".

(5) أحمد في "المسند" (877) وأبو داود (1416) والترمذي (453) والنسائي (3/ 288، 229) وابن ماجه (1169).

(6) رقم (1067).
এটাই ছিল তাঁর নামাজ … " হাদিস। এবং তাঁর সূত্রে মুসলিম-এর হাদিস, যাতে রয়েছে: "এগারো রাকাত, তিনি প্রতি দুই রাকাতের পর সালাম ফেরাতেন এবং এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর আদায় করতেন … " হাদিস।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো উম্মে সালামার হাদিস যা তিরমিজি তাঁর "সুনানে"(২) নাসায়ির শব্দের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন: "সাত রাকাতের মাধ্যমে"। এরপর তিনি বলেছেন(৩): উম্মে সালামার হাদিসটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে তেরো, এগারো, নয়, সাত, [পাঁচ], তিন এবং এক রাকাতের মাধ্যমে বিতর বর্ণিত হয়েছে। ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তেরো রাকাত বিতর পড়তেন বলে যা বর্ণিত হয়েছে তার অর্থ হলো: তিনি বিতরসহ রাতে তেরো রাকাত নামাজ পড়তেন, ফলে রাতের নামাজকে বিতরের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আয়েশার সূত্রে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "হে কুরআনের অনুসারীগণ, তোমরা বিতর আদায় করো।" তিনি বলেন: এর দ্বারা তিনি রাতের নামাজ (কিয়ামুল লাইল) উদ্দেশ্য করেছেন; তিনি বলছেন: রাতের নামাজ কেবল কুরআনের বাহকদের জন্য। সমাপ্ত।

আমি বলি: তাঁর "হে কুরআনের অনুসারীগণ, তোমরা বিতর আদায় করো" হাদিসটির মাধ্যমে দলীল প্রদান প্রশ্নবিদ্ধ হয় এই কারণে যে, এর শেষে রয়েছে—যেমনটি "বুলুগুল মারাম"(৪)-এ বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড় পছন্দ করেন।" তিনি বলেন: এটি পাঁচজন(৫) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে খুজাইমা একে সহিহ (صحيح) বলেছেন(৬)। সুতরাং "নিশ্চয়ই আল্লাহ বেজোড়" এই বক্তব্যের মাধ্যমে কারণ দর্শানো একটি বিশেষ সামঞ্জস্য দাবি করে, অতএব চিন্তা করুন।

--------------------------------------------

(১) (৭৩৬/১২২) নং।

(২) (৪৫৭) নং।

(৩) অর্থাৎ তিরমিজি তাঁর "সুনানে" (২/ ৩২০, ৩২১) হাদিসটি বর্ণনা করার পর।

(৪) "সুবুলুস সালাম" সহ (২/ ১৪)।

(৫) আহমাদ "মুসনাদ"-এ (৮৭৭), আবু দাউদ (১৪১৬), তিরমিজি (৪৫৩), নাসায়ি (৩/ ২৮৮, ২৯৯) এবং ইবনে মাজাহ (১১৬৯)।

(৬) (১০৬৭) নং।
(খণ্ড: ১৬) হাকিকাতুল বিতরি ওয়া মুসাম্মাহু ফিশ শারয়ি - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ২৮৬)
وأما قوله: "إنها أرادت كان يُصلِّي من الليل … " إلخ، فجيد جدًّا، وعامة الأحاديث تؤيِّده، وكل ما روي في الثلاث عشرة فمُفصَّلٌ بالتقطيع والوتر فيه، إلّا هذا الحديث وحديث الحاكم(1): "لا تُوتِروا بثلاثٍ تُشبِّهوا بالمغرب، أو تروا بخمسٍ أو بسبعٍ أو بتسعٍ أو بإحدى عشرة أو أكثر من ذلك"، فهما مجملان، فيُحملانِ على الأصحّ الأغلب.

إذا تقرر ما ذُكِر فقد أجاز أصحابنا الاقتصارَ على ركعة واحدةٍ بعد العشاء، واستدلُّوا بحديث مسلم(2) عن ابن عمر وابن عباس مرفوعًا: "الوتر ركعةٌ من آخر الليل".

وحديث أبي أيوب مرفوعًا: "الوتر حقٌّ على كل مسلم، فمن أحبَّ أن يُوتر بخمسٍ فليفعل، ومن أحبَّ أن يُوتِر بثلاثٍ فليفعلْ، ومن أحبَّ أن يُوتِر بواحدةٍ فليفعلْ" رواه أبو داود(3) بسند صحيح. قاله النووي في "شرح المهذّب"(4). ورواه النسائي وابن ماجه، وصححه ابن حبان والحاكم(5) كما في "الفتح"(6).

--------------------------------------------

(1) في "المستدرك" (1/ 304).

(2) رقم (753).

(3) رقم (1422).

(4) (4/ 17).

(5) "سنن" النسائي (3/ 238) وابن ماجه (1190) وابن حبان (2407) و"المستدرك" (1/ 302).

(6) (2/ 482).
আর তাঁর এই কথা: "তিনি উদ্দেশ্য করেছেন যে, তিনি রাতে সালাত আদায় করতেন … " ইত্যাদি, এটি অত্যন্ত উত্তম (جيد جداً), এবং সাধারণ হাদিসসমূহ একে সমর্থন করে। তেরো রাকাতের ব্যাপারে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা পরিচ্ছেদ ও বিতর সহ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত, কেবল এই হাদিস এবং হাকেম(১) বর্ণিত হাদিসটি ব্যতীত: "তোমরা মাগরিবের সাদৃশ্য করে তিন রাকাত বিতর আদায় করো না, বরং পাঁচ, সাত, নয়, এগারো বা তার চেয়ে বেশি রাকাত বিতর পড়ো।" এই দুটি হাদিসই সংক্ষিপ্ত (مجمل), তাই এগুলোকে অধিক বিশুদ্ধ ও প্রচলিত অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হবে।

যদি উল্লেখিত বিষয়টি সাব্যস্ত হয়, তবে আমাদের সাথীবৃন্দ (আলেমগণ) এশার পর এক রাকাতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাকে জায়েজ বলেছেন এবং তাঁরা ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস থেকে রাসুলের সাথে সংযুক্ত (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত মুসলিম(২) এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "বিতর হলো রাতের শেষ ভাগের এক রাকাত।"

এবং আবু আইয়ুব থেকে রাসুলের সাথে সংযুক্ত (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হাদিস: "বিতর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি হক, সুতরাং যে পাঁচ রাকাত বিতর পড়তে পছন্দ করে সে যেন তা-ই করে, যে তিন রাকাত বিতর পড়তে পছন্দ করে সে যেন তা-ই করে এবং যে এক রাকাত পড়তে পছন্দ করে সে যেন তা-ই করে।" এটি আবু দাউদ(৩) সঠিক সূত্র (سند) ও বিশুদ্ধ (صحيح) সহকারে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী এটি "শারহুল মুহাযযাব"(৪)-এ উল্লেখ করেছেন। এটি নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান ও হাকেম একে বিশুদ্ধ (صحح) বলেছেন(৫) যেমনটি "আল-ফাতহ"(৬)-এ রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) "আল-মুস্তাদরাক" (১/ ৩০৪)-এ।

(২) নম্বর (৭৫৩)।

(৩) নম্বর (১৪২২)।

(৪) (৪/ ১৭)।

(৫) "সুনান" নাসায়ী (৩/ ২৩৮), ইবনে মাজাহ (১১৯০), ইবনে হিব্বান (২৪০৭) এবং "আল-মুস্তাদরাক" (১/ ৩০২)।

(৬) (২/ ৪৮২)।