(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
مكة والمدينة في الجاهلية وعهد الرسول صلى الله عليه وسلم   (أحمد إبراهيم الشريف)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: مكة والمدينة في الجاهلية وعهد الرسول صلى الله عليه وسلم

المؤلف: أحمد إبراهيم الشريف

الناشر: دار الفكر العربي

عدد الصفحات: 470

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জাহিলী যুগ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মক্কা ও মদিনা   (আহমদ ইবরাহিম আল-শরীফ)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: জাহিলী যুগ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মক্কা ও মদিনা

লেখক: আহমদ ইবরাহিম আল-শরীফ

প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-আরাবি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

تقديم الكتاب

يتناول هذا الكتاب فترة من أهم فترات تاريخ العرب والإسلام، بل هي -في نظرنا- أهم فترات هذا التاريخ، إذ تمثل القاعدة التي تقوم عليها دراسة التاريخ الإسلامي، وبدون دراستها دراسة علمية صحيحة لا يمكن الإلمام بأحداث التاريخ الإسلامي، وفهم تطوراته في الداخل والخارج فهمًا صحيحًا.

وأحسب أن أحدًا لا يستطيع أن يزعم وصف عصر النبي صلى الله عليه وسلم وتصوير البيئة التي نشأ فيها وقامت فيها النهضة العربية -أمر ليس له من الخطورة العظيمة في تاريخ العرب والإٍسلام ما يستحق الاهتمام الكبير: فبيئة ظهر فيها النبي صلى الله عليه وسلم وقام فيها برسالته، وتوطدت فيها الديانة الإسلامية، بما فيها من قواعد ونظم كان لها أعظم الأثر في حياة العالم. وبيئة قامت فيها النهضة العربية؛ واندفع منها العرب إلى العالم المتمدن، فاستطاعوا أن يقوضوا سلطان أكبر إمبراطوريتين كانتا تتحكمان في عالم يومئذ، وتسيطران على مقدراته. وبيئة خرج منها عباقرة القواد ونوابغ الساسة والإداريين والحكام والقضاة؛ هذه البيئة جديرة بأن تفرد لها البحوث وتخصص لدراستها المتخصصون.

ومع الأهمية العظيمة لهذه الفترة -كقاعدة لدراسة التاريخ الإسلامي- فإنها لم تحظ بالعناية الكافية من المؤرخين القدماء والمحدثين على السواء، وظلت تدرس عل هامش الدراسات الإسلامية.

فالذين كتبوا السيرة النبوية قديمًا لم يهتموا إلا بذكر ما له علاقة بالنبي صلى الله عليه وسلم نفسه-: من نسب وأسرة وقبيلة، وولادة وكفالة، وأسفار وزواج قبل البعثة. وقلما تطرقوا إلى ذكر شيء مما كان عليه عصره وبيئته من حالات اجتماعية واقتصادية وسياسية ودينية، يستطيع المرء أن يقف منها على صورة وافية لما كانت عليه الحياة في عصر النبي صلى الله عليه وسلم وما كانت عليه الأحوال في مدينة مكة التي ولد فيها وقضى أكثر سني بعثته، والتي
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

গ্রন্থের ভূমিকা

এই গ্রন্থটি আরব ও ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়কাল নিয়ে আলোচনা করে, বরং আমাদের দৃষ্টিতে এটি এই ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। কারণ এটিই সেই ভিত্তি যার ওপর ইসলামী ইতিহাসের অধ্যয়ন দণ্ডায়মান। একে সঠিকভাবে এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অধ্যয়ন করা ছাড়া ইসলামী ইতিহাসের ঘটনাবলী সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জন করা এবং এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিবর্তনসমূহ সঠিকভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

আমি মনে করি যে কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ বর্ণনা করা এবং যে পরিবেশে তিনি বেড়ে উঠেছেন ও যেখানে আরব জাগরণ বা রেনেসাঁ সংঘটিত হয়েছিল তার চিত্রায়ন করাকে এমন কোনো বিষয় দাবি করতে পারবেন না যার আরব ও ইসলামের ইতিহাসে সুমহান গুরুত্ব নেই এবং যা বিশাল মনোযোগের দাবি রাখে না: কেননা এটি এমন এক পরিবেশ যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যেখানে ইসলাম ধর্ম সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এর এমন সব নিয়ম-কানুন ও ব্যবস্থার মাধ্যমে যা বিশ্ব ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। এবং এটি এমন এক পরিবেশ যেখানে আরব জাগরণ সূচিত হয়েছিল; যেখান থেকে আরবরা সভ্য বিশ্বের দিকে ধাবিত হয়েছিল এবং তৎকালীন বিশ্বের নিয়ন্ত্রক ও ভাগ্যবিধাতা হিসেবে পরিচিত সর্ববৃহৎ দুটি সাম্রাজ্যের আধিপত্য চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছিল। এবং এটি এমন এক পরিবেশ যেখান থেকে জন্ম নিয়েছিলেন প্রতিভাধর সেনাপতি, প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ, প্রশাসক, শাসক ও বিচারপতিগণ; এই পরিবেশটি স্বতন্ত্র গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের নিবিড় অধ্যয়নের দাবি রাখে।

ইসলামী ইতিহাসের ভিত্তি হিসেবে এই সময়কালটির বিশাল গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও এটি প্রাচীন ও আধুনিক কোনো ঐতিহাসিকদের কাছ থেকেই পর্যাপ্ত মনোযোগ পায়নি এবং ইসলামী জ্ঞানচর্চার অন্যান্য বিষয়ের পাশে কেবল একটি গৌণ অনুষঙ্গ হিসেবেই এটি পঠিত হয়ে আসছে।

অতীতে যারা সীরাত-ই-নবী (নবীর জীবনী) রচনা করেছেন, তারা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করতেই মনোযোগী ছিলেন—যেমন তাঁর বংশ পরিচয়, পরিবার, গোত্র, জন্ম, লালন-পালন এবং নবুওয়াত-পূর্ব সফরসমূহ ও বিবাহ। তারা খুব কমই তাঁর সমকালীন যুগ এবং পরিবেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়কার জীবনধারা এবং মক্কা নগরীর তৎকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পেতে পারেন, যেখানে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর নবুওয়াতের অধিকাংশ বছর অতিবাহিত করেছিলেন, যা...
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪)
كانت بدايتها مركز النواة من النهضة العربية التي أخذت تباشيرها تظهر في أواخر العصر الجاهلي، ثم توَّجها ظهور الإسلام. ومدينة يثرب التي هاجر إليها، وأقام فيها دولة وحَّدت العرب وقادت نهضتهم الكبرى. والتي كانت بذاتها مستعدة لتلقي هذا الحدث الخطير، ثم النهوض بذلك العبء الجليل.

والنتف القليلة التي وردت في هذه الكتب القديمة عما كانت عليه الحالة قبل الإسلام، إنما كانت استطرادية من ناحية، وقد غلبت عليها مسحة التعميم والإطلاق من ناحية أخرى. كما أنه لا يخلو كثير منها من طابع الصنعة والوضع والتلفيق. وحتى أقدم هذه الكتب وأكثرها جدية وأمانة. وأشدها رغبة في التحفظ والتحوط، من أمثال سيرة ابن هشام، وهي أقدم ما حفظ لنا الزمن مما كتب في سيرة النبي صلى الله عليه وسلم وتاريخ الطبري وهو مثل ابن شهام قدمًا وجدية وأمانة، وطبقات ابن سعد وهي كذلك من كتب السيرة القديمة المعتبرة، نجد في كثير مما روته من الروايات وسردته من الأخبار -ولاسيما فيما يتعلق بالفترة التي سبقت الإسلام- ذلك الطابع ظاهرًا من الصنعة والوضع والتلفيق، قد دونوها كما وصلت إليهم، أو نقلوها عمن سبقهم، منها ما أشاروا هم إليه، ومنها ما لم يشيروا إليه، ولكنه لا يخفي على نظر الباحث المدقق.

هذا بالإضافة إلى أن كثيرًا مما ورد من روايات وأخبار عن حالة العرب في الجاهلية، يقف منها الباحث موقف التحفظ الشديد؛ إذ يلمس فيها القصد ظاهرًا في التقليل من شأن العصر الذي سبق البعثة النبوية؛ من حيث الحضارة المادية والأدبية والمدارك العقلية. والحقيقة أن المسلمين الأولين أخذوا بالنهضة الإسلامية وفتنوا بما جاء به الإسلام من مُثل، وما حققه للعرب من وحدة وحضارة، فضربوا صفحًا عن كل ما سبقه، وكأنهم حين تخلصوا من الوثنية وعفوا عن آثارها ألحقوا بها كل ما كان من نظم الحياة وشئونها قبل الإسلام، وكأنما الأمة العربية -عندهم- ولدت بظهور الإسلام ميلادًا جديدًا.

وإلى جانب كتب السيرة توجد بعض الكتب والرسائل، وبعض الفصول والبحوث في الكتب العربية الأدبية والتاريخية والفنية عن حياة العرب قبل الإسلام وعاداتهم وتقاليدهم. غير أن هذه كلها قد كتبت بأسلوب عام مطلق، لم يتناول البيئة العربية التي نشأ فيها النبي صلى الله عليه وسلم وقامت فيها رسالته بصورة خاصة من ناحية، وأن ما
এর সূচনা ছিল আরব নবজাগরণের সেই মূল কেন্দ্রবিন্দু থেকে, যার শুভ লক্ষণগুলো জাহেলি যুগের শেষভাগে প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল এবং পরবর্তীতে ইসলামের আবির্ভাব তাকে পূর্ণতা দিয়েছিল। আর ইয়াসরিব শহর, যেখানে তিনি হিজরত করেছিলেন এবং সেখানে এমন এক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা আরবদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং তাদের মহান জাগরণের নেতৃত্ব দিয়েছিল। এই শহরটি নিজেই এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা গ্রহণের জন্য এবং সেই মহান দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত ছিল।

ইসলাম-পূর্ব অবস্থা সম্পর্কে এই প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে যে সামান্য কিছু বিচ্ছিন্ন বর্ণনা এসেছে, তা একদিকে যেমন প্রাসঙ্গিক আলোচনার অনুষঙ্গ হিসেবে এসেছে, অন্যদিকে সেগুলোর ওপর ঢালাও সাধারণীকরণের ছাপ প্রবল ছিল। এছাড়া এগুলোর অনেকগুলোই কৃত্রিমতা, অলীকতা ও জালিয়াতির প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। এমনকি এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন এবং সবচেয়ে তথ্যনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য এবং সতর্কতা অবলম্বনে সবচেয়ে সচেষ্ট গ্রন্থগুলো—যেমন সীরাতে ইবনে হিশাম, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বিষয়ে কালের গর্ভে টিকে থাকা আমাদের কাছে পৌঁছানো সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থ; এবং তারিখুত তবারি, যা প্রাচীনত্ব ও তথ্যনিষ্ঠায় ইবনে হিশামের মতোই; এবং তাবাকাত ইবনে সাদ, যা প্রাচীন সীরাতগ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য—এসব গ্রন্থে বর্ণিত অনেক রেওয়ায়েত ও সংবাদে, বিশেষ করে ইসলাম-পূর্ব কাল সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে কৃত্রিমতা ও জালিয়াতির সেই ছাপ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। তারা এগুলো যেভাবে তাদের কাছে পৌঁছেছে সেভাবেই লিপিবদ্ধ করেছেন অথবা পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে নকল করেছেন; যার কিছু তারা নির্দেশ করেছেন এবং কিছু করেননি, তবে তা কোনো সূক্ষ্মদর্শী গবেষকের দৃষ্টি এড়ানোর মতো নয়।

এর পাশাপাশি জাহেলি যুগে আরবদের অবস্থা সম্পর্কে বর্ণিত অনেক রেওয়ায়েত ও সংবাদের ক্ষেত্রে গবেষককে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিতে হয়; কারণ এতে নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্ববর্তী যুগের বস্তুগত ও সাহিত্যিক সভ্যতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতাকে খাটো করে দেখার একটি প্রকাশ্য উদ্দেশ্য লক্ষ্য করা যায়। মূল বিষয় হলো, প্রাথমিক যুগের মুসলমানরা ইসলামি জাগরণে এতটাই বিমুগ্ধ ছিলেন এবং ইসলাম যে আদর্শ নিয়ে এসেছিল এবং আরবদের জন্য যে ঐক্য ও সভ্যতা নিশ্চিত করেছিল তাতে এতটাই প্রভাবিত ছিলেন যে, তারা এর পূর্ববর্তী সবকিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। মনে হয় যেন তারা যখন পৌত্তলিকতা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন এবং এর চিহ্নগুলো মুছে ফেলেছিলেন, তখন ইসলাম-পূর্ব জীবনব্যবস্থা ও তার সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়কেও এর সাথে একীভূত করে ফেলেছিলেন; যেন তাদের কাছে আরব জাতি ইসলামের আবির্ভাবের মাধ্যমেই নতুনভাবে জন্মলাভ করেছিল।

সীরাতগ্রন্থগুলোর পাশাপাশি কিছু বই, রিসালা এবং আরবি সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক ও শিল্পকলা বিষয়ক গ্রন্থে ইসলাম-পূর্ব আরবদের জীবন, আচার-আচরণ ও ঐতিহ্য সম্পর্কে কিছু অধ্যায় ও গবেষণা বিদ্যমান রয়েছে। তবে এগুলোর সবকটিই এমন এক সাধারণ ও ঢালাও ভঙ্গিতে লেখা হয়েছে, যা একদিকে যেমন বিশেষভাবে সেই আরব পরিবেশকে বিশ্লেষণ করেনি যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেড়ে উঠেছেন এবং তার রিসালাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনি যা...
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৫)
ورد فيها من روايات جاءت متفرقة غير مرتبة، وقد اختلط فيها الغث بالسمين، والباطل بالصحيح؛ بحيث لا يسع الباحث إلا أن يقرأها بتحفظ شديد، وإلا أن يتردد كثيرًا في أخذها كحقائق تاريخية؛ أو حتى كروايات موثوق بها، من ناحية أخرى؛ وذلك لأن هذه الروايات ظلت محفوظة في الصدور تتداولها الألسن، ولم تدون إلا في وقت متأخر، كانت الأهواء قد لعبت فيها دورًا كبيرًا؛ بما أصاب الوحدة الإسلامية من تفكك، بظهور الفرق والأحزاب السياسية. وقد استند أصحاب هذه الكتب والرسائل والبحوث إلى هذه الروايات وأخذوها كحقائق تاريخية بنوا عليها أبحاثهم وتقريراتهم دون تمحيص على الأغلب.

وما وصل إلينا من الشعر المنسوب إلى الجاهليين -بغض النظر عن صحة نسبته إليهم أو عدم صحتها- لا يمكن أن نجد فيه مرآة صادقة للحياة العربية قبل الإسلام؛ وذلك لأن هذا الشعر إنما عَني بحياة البادية ولم يمس حياة الحضر إلا مسًّا رفيقًا هينًا، فوق أنه نحا نحوَ تمثيل الجانب المثالي في الخلق العربي من شجاعة وكرم ومروءة، وذلك لما طبعت عليه حياة الفخر والمباهاة من تمدح وتزيد، كما سلك جانب التطرف حين عدد المثالب والمذام. هذا إلى خلوه تقريبًا من تصوير الحياة العامة واقتصاره على الجانب الوجداني من حياة الأفراد.

والمؤرخون المحدثون الذين تناولوا كِتابة السيرة النبوية أو تاريخ الصدر الأول للإسلام، وتطرقوا إلى وصف مظاهر الحياة العربية في الجاهلية؛ لم يصوروا ذلك العصر وتلك البيئة تصويرًا يمكن أن يقال إن فيه غناء؛ على الرغم مما امتازت به بعض كتبهم من سلامة المنهج وقوة البحث؛ وذلك لأن بعضهم تناول موضوعًا واسعًا، وبعضهم قصد إلى معالجة جانب خاص أو تناول تاريخ الرسالة النبوية وحدها دون العناية بالحياة العربية قبلها، مع أن دراسة تاريخ الرسالة النبوية لا يمكن أن يكون واضحًا ومفهومًا إلا بدراسة العصر نفسه. ولم يتناول أحد -بصورة علمية منهجية- دراسة تاريخ المدينتين الحجازيتين -مكة والمدينة- في بحث متخصص، على اعتبار أنهما حاضرتا الحجاز، وقاعدة البيئة العربية التي قامت فيها النهضة في الجاهلية والإسلام.

وقد كتب كثير من المستشرقين عن ذلك العصر في سياق ما كتبوا عن حياة النبي صلى الله عليه وسلم وظهور الإسلام. غير أن للمستشرقين طرائق في البحث والاستنباط قد تجعل
এতে এমন সব বর্ণনা এসেছে যা বিচ্ছিন্ন ও অগোছালো, যেখানে অসার ও সারগর্ভ এবং বাতিল ও সহীহ সব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে; ফলে গবেষকের পক্ষে অতি সতর্কতার সাথে তা পড়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। অন্যথায় একে ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে, এমনকি নির্ভরযোগ্য বর্ণনা হিসেবে গণ্য করতেও অনেক ক্ষেত্রে দ্বিধা করতে হয়। এর কারণ হলো, এই বর্ণনাগুলো দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে সংরক্ষিত ছিল এবং মুখে মুখে প্রচলিত ছিল, যা অনেক পরে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ততোদিনে প্রবৃত্তি এতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে ফেলেছিল; বিশেষ করে ফিরকা ও রাজনৈতিক দলগুলোর আত্মপ্রকাশের ফলে ইসলামী ঐক্যে যে ভাঙন ধরেছিল তার প্রভাবে। এই সকল কিতাব, রিসালা ও গবেষণার রচয়িতাগণ এসব বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই একে ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গ্রহণ করে তার ওপর তাদের গবেষণা ও সিদ্ধান্তের ভিত্তি স্থাপন করেছেন।

জাহেলী যুগের কবিদের প্রতি আরোপিত যে কাব্য আমাদের কাছে পৌঁছেছে—তাদের প্রতি এর সম্বন্ধের সঠিকতা বা অসারতা নির্বিশেষে—তাতে ইসলাম-পূর্ব আরব জীবনের কোনো নিখুঁত প্রতিচ্ছবি পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ এই কাব্য কেবল মরুচারী জীবন নিয়েই ব্যাপৃত ছিল এবং নাগরিক জীবনকে খুব সামান্য ও হালকাভাবেই স্পর্শ করেছিল। উপরন্তু, এটি আরবীয় চরিত্রের আদর্শিক দিক যেমন—বীরত্ব, দানশীলতা ও মনুষ্যত্ব ফুটিয়ে তোলার দিকেই বেশি ঝুঁকে ছিল; কারণ গর্ব ও অহংকারের জীবন ছিল অতি প্রশংসা ও অতিরঞ্জনে অভ্যস্ত। তেমনি দোষ-ত্রুটি ও নিন্দা বর্ণনার ক্ষেত্রেও এটি চরমপন্থার পথ অনুসরণ করেছে। এর পাশাপাশি এটি সাধারণ জীবন চিত্রায়নে প্রায় শূন্য এবং কেবল ব্যক্তিদের আবেগীয় ও আত্মিক দিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

আধুনিক ঐতিহাসিকগণ যারা সীরাতে নববী কিংবা ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস রচনা করেছেন এবং জাহেলিয়াতের আরব জীবনের দিকসমূহ বর্ণনা করেছেন, তারা সেই যুগ ও পরিবেশকে এমনভাবে চিত্রায়িত করতে পারেননি যাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা যায়; যদিও তাদের কিছু কিতাব সঠিক পদ্ধতি ও শক্তিশালী গবেষণার বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল ছিল। এর কারণ হলো, তাদের কেউ কেউ অতি বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ বিশেষ কোনো দিকের পর্যালোচনার ইচ্ছা করেছেন অথবা পূর্ববর্তী আরব জীবনের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে কেবল নবুওয়াতের ইতিহাসের ওপর আলোকপাত করেছেন। অথচ নবুওয়াতের ইতিহাসের অধ্যয়ন সেই যুগের অধ্যয়ন ছাড়া স্পষ্ট ও বোধগম্য হওয়া সম্ভব নয়। হিজাজের দুই প্রধান শহর—মক্কা ও মদিনার—ইতিহাস নিয়ে কেউ কোনো বিশেষায়িত গবেষণায় বৈজ্ঞানিক ও পদ্ধতিগতভাবে আলোচনা করেননি; অথচ এই শহর দুটি ছিল হিজাজের প্রাণকেন্দ্র এবং আরব পরিবেশের মূল ভিত্তি, যেখানে জাহেলিয়াত ও ইসলামের নবজাগরণ সংঘটিত হয়েছিল।

অনেক প্রাচ্যবিদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও ইসলামের আবির্ভাব নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই যুগ সম্পর্কে লিখেছেন। তবে প্রাচ্যবিদদের গবেষণা ও তথ্য আহরণের এমন সব পদ্ধতি রয়েছে যা হয়তো...
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৬)
الكثيرين منهم يتحكمون تحكمًا في الآراء والنتائج، ويقعون في أوهام وأغلاط خطيرة، إما بسبب تعظيم خبر أو رواية قد لا تكون صحيحة في أصلها، أو تكون قد فهمت على غير وجهها الصحيح، أو رجحت دون مبرر صحيح للترجيح. وإما بسبب عدم القدرة على فهم روح اللغة العربية وأسرارها البلاغية. كما أن بعضهم في كثير من الأحيان يفترضون افتراضات تجعلهم يقيسون مع الفارق، ويسوغون ما لا يمكن تسويغه،؛ بسب عدم قدرتهم على فهم البيئة العربية فهمًا صحيحًا. فوق أنهم استندوا أصلًا إلى المصادر العربية القديمة وفيها من المآخذ ما أشرنا إليه، ولم تكن لهم القدرة اللغوية على تمحيص ما بها تمحيصًا صحيحًا. كما أن بعضهم قد كتب في تاريخ الإسلام لغرض معين، فكتب ما كتب بدافع الهوى، وأحيانًا بدافع الحقد. فلجئوا إلى كل شاردة من الروايات مهما كانت ضعيفة أو تافهة في سبيل تثبيت نظرية خاصة يريدون الإدلاء بها؛ فتورطوا في بحوثهم، وخرجوا بها عن جادة العلم والبحث والأمانة.

لكل ما سبق كان أمرًا ضروريًّا أن يقوم أحد الباحثين بدراسة علمية لهذه الفترة، وبخاصة تاريخ المدينتين الحجازيتين -مكة والمدينة- في العصر الجاهلي وعهد الرسول صلى الله عليه وسلم حتى تسد هذه الثغرة الظاهرة في الدراسات العربية والإسلامية.

وإذا كنا نريد أن ندرس الحياة الجاهلية دراسة موثقة صحيحة؛ فعلينا أن ندرسها في نص لا سبيل إلى الشك في صحته، على أن يكون مرآة صادقة لهذا العصر، وليس هناك مصدر ثابت لا سبيل إلى الشك فيه غير القرآن الكريم، فضلًا عن أنه أصدق مرآة للعصر الجاهلي ولحياة الرسول صلى الله عليه وسلم والدعوة الإسلامية نفسها.

وحين نقول: إن القرآن مرآة الحياة الجاهلية فإنما ذلك لأنه ليس من اليسير أن نفهم أن القرآن نزل ليتلى على ناس لا يفهمونه ولا يقفون على أسراره ودقائقه؛ فإن الذين تليت عليهم آياته أعجبوا به أشد الإعجاب، ولا يكون ذلك إلا أن تكون بينهم وبينه صلة، هي هذه الصلة بين الأثر الفني البديع وبين الذين يعجبون به حين يسمعونه أو ينظرون إليه. كذلك فإن العرب قد آمن بعضهم بالقرآن وناهضه بعضهم الآخر، وجادل النبي صلى الله عليه وسلم فيه وقاومه، ولا يكون ذلك إلا لأن الناس فهموا القرآن ووقفوا على أسراره، وإلا لما آمن به مَن آمن وجادل فيه وناهضه من جادل وقاوم، وليس من الممكن أن نصدق أن القرآن كان جديدًا كله على العرب، وإلا لما فهموه ولا وعوه، ولا آمن به بعضهم وناهضه وجادل فيه آخرون. إنما كان القرآن جديدًا حقًّا في أسلوبه، وفيما يدعو إليه، وفيما شرع للناس من دين وقانون.
তাদের অনেকেই মতামত ও ফলাফলের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাচারিতা করেন এবং মারাত্মক বিভ্রম ও ভুলের শিকার হন। এর কারণ হতে পারে এমন কোনো সংবাদ বা বর্ণনাকে বড় করে দেখা যা মূলত সঠিক নয়, অথবা তার সঠিক মর্ম বোঝা যায়নি, কিংবা কোনো সঠিক যুক্তি ছাড়াই সেটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অথবা আরবি ভাষার প্রাণ ও এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় নিগূঢ় রহস্য বুঝতে সক্ষম না হওয়া। এছাড়া তাদের অনেকেই প্রায়ই এমন কিছু ধারণা পোষণ করেন যা তাদের অসম তুলনা করতে প্ররোচিত করে এবং তারা যা অসংগত তাকেই সংগত করার চেষ্টা করেন; আর এটি ঘটে আরবীয় পরিবেশ সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধির অভাবে। তদুপরি, তারা মূলত প্রাচীন আরবি উৎসগুলোর ওপর নির্ভর করেছেন যেগুলোতে আমাদের উল্লিখিত ত্রুটিবিচ্যুতি বিদ্যমান ছিল, অথচ তাদের সেই উৎসগুলোকে সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার মতো ভাষাগত দক্ষতা ছিল না। তদ্রূপ, তাদের কেউ কেউ একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ইসলামের ইতিহাস লিখেছেন, ফলে তারা প্রবৃত্তি ও কখনো কখনো বিদ্বেষবশত যা লেখার তা লিখেছেন। তারা তাদের নিজস্ব মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি বিচ্ছিন্ন বর্ণনা—তা যতই দুর্বল বা তুচ্ছ হোক না কেন—তাকে আঁকড়ে ধরেছেন; ফলে তারা তাদের গবেষণায় বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং বিজ্ঞানের পথ ও গবেষণার সততা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন।

উপরোক্ত সব কারণেই কোনো একজন গবেষকের পক্ষে এই সময়ের—বিশেষ করে জাহেলী যুগে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে হিজাজের দুই শহর মক্কা ও মদিনার ইতিহাসের—একটি বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল, যাতে আরবি ও ইসলামি গবেষণার এই দৃশ্যমান শূন্যতা পূরণ করা যায়।

আর আমরা যদি জাহেলী জীবন সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য ও সঠিক গবেষণা করতে চাই, তবে আমাদের উচিত এমন একটি ভাষ্যের আলোকে তা অধ্যয়ন করা যার বিশুদ্ধতা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই এবং যা হবে সেই যুগের একটি স্বচ্ছ দর্পণ। আর পবিত্র কুরআন ছাড়া এমন কোনো অকাট্য উৎস নেই যার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ করা যায়। অধিকন্তু, এটি জাহেলী যুগ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন এবং স্বয়ং ইসলামি দাওয়াতের সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ দর্পণ।

যখন আমরা বলি যে কুরআন জাহেলী জীবনের দর্পণ, তখন তার কারণ হলো—কুরআন এমন লোকদের নিকট পাঠ করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে যারা তা বুঝত না বা এর রহস্য ও সূক্ষ্মতা অনুধাবন করত না—এমনটি ভাবা সহজ নয়। যাদের সামনে এর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়েছে তারা এর প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছিলেন; আর এটি তখনই সম্ভব যখন তাদের এবং কুরআনের মাঝে একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে। এটি সেই সম্পর্ক যা একটি অপূর্ব শিল্পকর্ম এবং যারা সেটি দেখে বা শুনে বিমোহিত হয় তাদের মাঝে থাকে। একইভাবে, আরবদের কেউ কেউ কুরআনের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, আবার কেউ কেউ এর বিরোধিতা করেছিলেন, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এটি নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিরোধ করেছিলেন। এটি কেবল এই কারণেই সম্ভব হয়েছিল যে, মানুষ কুরআন বুঝতে পেরেছিল এবং এর রহস্য সম্পর্কে অবগত হয়েছিল; অন্যথায় যারা বিশ্বাস করেছিল তারা তা করত না এবং যারা বিতর্ক ও প্রতিরোধ করেছিল তারা তাতে লিপ্ত হতো না। এটি বিশ্বাস করা সম্ভব নয় যে, কুরআন আরবদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন কিছু ছিল, কারণ তেমনটি হলে তারা তা বুঝত না এবং হৃদয়ে ধারণ করতে পারত না, আর তাদের কেউ বিশ্বাস করত না বা অন্যরা এর বিরোধিতা ও বিতর্কে লিপ্ত হতো না। প্রকৃতপক্ষে কুরআন নতুন ছিল এর বাচনভঙ্গিতে, এর আহবানে এবং মানুষের জন্য এটি যে দ্বীন ও জীবনবিধান প্রবর্তন করেছিল তাতে।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد عرض القرآن للحياة العربية من جوانبها المختلفة: الدينية والعقلية والسياسية والاقتصادية والاجتماعية.

فأما من الناحية الدينية، فقد رد القرآن على الوثنيين، ورد على اليهود، ورد على النصارى، وعلى الصابئة، والمجوس. وهو لم يرد على يهود فلسطين، ولا نصارى الروم، ولا مجوس الفرس، ولا صابئة الجزيرة وحدهم، وإنما رد على فرق من عرب الجزيرة العربية كانت تمثلهم وتدين بهذه الديانات والنحل كلها؛ فهو يبطل منها ما يبطل، ويؤيد منها ما يؤيد، وهو يلقى من المعارضة والتأييد بمقدار ما لهذه النحل والديانات من سلطان على نفوس الناس، وبمقدار ما لأصحابها من قيمة وخطر في الحياة السياسية والاجتماعية في بلاد العرب. ولا نجد هذا واضحًا في مصدر من مصادر البحث يمكن أن نرجع إليه غير القرآن الكريم. فالقرآن إذن أصدق تمثيلًا لحياة العرب الدينية من كل مصدر آخر، وهو إذ يصور لنا هذا الجانب من حياتهم إنما يصورهم أصحاب دين يجادلون عنه ويقاتلون في سبيله.

والقرآن لا يمثل الحياة الدينية وحدها؛ وإنما يمثل حياة عقلية قوية عند العرب، فهو يمثلهم ذوي قدرة على الجدل والخصام، ويشهد لهم في هذا بقوة الجدل والقدرة على الخصام والشدة في المحاورة، وهم لم يكونوا يجادلون في أمور بسيطة هينة من أمر الدين، وإنما كانوا يجادلون في مسائل عويصة معضلة أنفق الفلاسفة وينفقون فيها حياتهم دون أن يوفقوا لحلها: كانوا يجادلون في الخلق، والبعث والحساب، وفي إمكان اتصال الله تعالى بالناس، وفي الوحي والمعجزة وما إلى ذلك. والقرآن يصورهم أذكياء علماء، ولا يصفهم جهلاء ولا أغبياء، ولا يصفهم بالغلظة والخشونة كما يصفهم الواصفون.

ولا نقول هذا على العرب على الإطلاق، وإنما كان العرب كغيرهم من الأمم القديمة، منقسمين إلى طبقتين: طبقة المستنيرين الذين يمتازون بالجاه والمال والذكاء والعلم. وطبقة الذين لا يكادون يملكون حظًّا من هذا كله؛ وإنما كانوا تبعًا لسادتهم يسيرون حيث ساروا. وكذلك مثل القرآن العرب؛ فتحدث عن كبرائهم وما هم عليه من نعمة وما هم عليه من معرفة، كما تحدث عن جهالهم، وصور جفاء أعرابهم وغلظة أكبادهم وموت العاطفة عندهم.
কুরআন আরবীয় জীবনকে এর বিভিন্ন দিক থেকে তুলে ধরেছে: ধর্মীয়, বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক।

ধর্মীয় দিক থেকে, কুরআন মূর্তিপূজারী, ইহুদি, খ্রিস্টান, সাবেয়ী এবং অগ্নিপূজকদের প্রত্যুত্তর দিয়েছে। এটি কেবল ফিলিস্তিনের ইহুদি, রোমের খ্রিস্টান, পারস্যের অগ্নিপূজক বা জাজিরাতুল আরবের সাবেয়ীদেরই উত্তর দেয়নি, বরং আরব উপদ্বীপের সেই সব আরব দলগুলোর উত্তর দিয়েছে যারা এই সমস্ত ধর্ম ও মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করত এবং এই ধর্ম ও মতবাদগুলো অনুসরণ করত। কুরআন এগুলোর মধ্য থেকে যা বাতিল করার তা বাতিল করে এবং যা সমর্থন করার তা সমর্থন করে। এই মতবাদ ও ধর্মগুলোর মানুষের মনের ওপর যতটুকু কর্তৃত্ব ছিল এবং আরব ভূখণ্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে এদের অনুসারীদের যতটুকু গুরুত্ব ও প্রভাব ছিল, কুরআন ঠিক ততটুকুই বিরোধিতা ও সমর্থনের সম্মুখীন হয়েছিল। আমরা পবিত্র কুরআন ছাড়া অন্য কোনো গবেষণা উৎসে এই বিষয়টি এত স্পষ্টভাবে খুঁজে পাই না। অতএব, কুরআন অন্য যে কোনো উৎসের তুলনায় আরবদের ধর্মীয় জীবনের সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ প্রতিফলন। এটি যখন আমাদের সামনে তাদের জীবনের এই দিকটি চিত্রায়িত করে, তখন এটি তাদের এমন এক ধর্মনিষ্ঠ জাতি হিসেবে তুলে ধরে যারা তাদের ধর্মের পক্ষে বিতর্ক করে এবং এর পথে লড়াই করে।

কুরআন কেবল ধর্মীয় জীবনেরই প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং এটি আরবদের একটি শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনেরও প্রতিনিধিত্ব করে। এটি তাদের বিতর্ক ও বিবাদে পারদর্শী হিসেবে তুলে ধরে এবং তাদের বিতর্কের শক্তি, বাকবিতণ্ডার সামর্থ্য ও সংলাপে কঠোরতার সাক্ষ্য দেয়। তারা ধর্মের কোনো তুচ্ছ বা সহজ বিষয়ে বিতর্ক করত না, বরং তারা এমন সব জটিল ও অমীমাংসিত বিষয়ে বিতর্ক করত যেগুলোর সমাধানের জন্য দার্শনিকরা তাদের জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং করছেন অথচ সমাধান করতে সক্ষম হননি: তারা সৃষ্টিতত্ত্ব, পুনরুত্থান ও হিসাব-নিকাশ, মানুষের সাথে আল্লাহ তাআলার যোগাযোগের সম্ভাবনা, ওহী, মোজেজা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক করত। কুরআন তাদের বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী হিসেবে চিত্রায়িত করে, তাদের অজ্ঞ বা নির্বোধ হিসেবে বর্ণনা করে না এবং বর্ণনাকারীরা তাদের যেভাবে রূঢ় ও কর্কশ হিসেবে বর্ণনা করেন, কুরআন তেমনটি করে না।

আমরা ঢালাওভাবে সকল আরবের ক্ষেত্রে এটি বলছি না; বরং অন্যান্য প্রাচীন জাতির মতো আরবরাও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল: এক শ্রেণি ছিল প্রজ্ঞাবান, যারা পদমর্যাদা, সম্পদ, বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞানে স্বতন্ত্র ছিল। আর অন্য শ্রেণিটি ছিল এমন যারা এর কোনোটিরই অধিকারী ছিল না; বরং তারা ছিল তাদের নেতাদের অনুসারী, তারা সেদিকেই চলত যেদিকে তাদের নেতারা চলত। কুরআনও আরবদের এভাবেই উপস্থাপন করেছে; এটি তাদের অভিজাতদের কথা এবং তাদের প্রাপ্ত নেয়ামত ও জ্ঞানের কথা আলোচনা করেছে, আবার তাদের অজ্ঞদের কথাও আলোচনা করেছে এবং মরুচারী আরবদের রূঢ়তা, তাদের হৃদয়ের কঠোরতা ও তাদের মাঝে অনুভূতির অনুপস্থিতিকে চিত্রায়িত করেছে।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
والقرآن لا يمثل العرب أمة مدنية مستنيرة فحسب؛ بل ويمثلها أمة غير معتزلة لغيرها من الأمم، فهي ليست قابعة في صحاريها لا تعرف العالم ولا يعرفها العالم، وإنما كانت على صلة وثيقة بجيرانها من الأمم الأخرى، تشارك في نشاط العالم السياسي، وتهتم بسياسات الأمم الكبرى في ذلك الوقت من فرس وروم وأحباش، ولها مع هذه الأمم نشاط اقتصادي كبير؛ تحمل التجارة العالمية عبر صحرائها بين الشرق والغرب في رحلتي الشتاء والصيف. بل ويصورها القرآن عارفة بالبحر تتخذه طريقًا وتحصل منه على منافع كثيرة من الصيد والغوص، واحتفاء القرآن بالبحر وما يجري عليه من منشآت في البحر كالأعلام، ومَنُّهُ على العرب بالنعم التي يحصلون عليها من البحر كبير، يقطع بأن عرب الجزيرة العربية لم يكونوا يجهلون البحر، بل ولهم فيه نشاط ملحوظ وفائدة منه عظيمة.

فالعرب إذن لم يكونوا على غير دين، ولم يكونوا جهالًا ولا غلاظًا، ولم يكونوا في عزلة سياسية أو اقتصادية بالقياس إلى غيرهم من الأمم.

وكما عرض القرآن لحياة العرب الاقتصادية الخارجية، كذلك عرَض لحياتهم الداخلية. وقسمهم في هذه الناحية كذلك إلى: أغنياء مستأثرين بالثروة مسرفين في الربا، وفقراء معدمين ليس لهم من المال ما يقاومون به هؤلاء الأغنياء المرابين. وكما وقف القرآن يأخذ بيد الجهال ينير عقولهم ويرفع من كرامتهم، كذلك أخذ جانب الفقراء المستضعفين في صراحة وقوة وناضل عنهم وعن حقوقهم، وحارب المسرفين في ظلمهم. وسلك في ذلك مسالك مختلفة: من القوة والعنف حين حرم الربا وحمل على المرابين وأنذرهم بالحرب من الله ورسوله. ومن اللين والرفق حين أمر بالبر وحبب في الصداقة. ومن المزاوجة بين اللين والشدة حين فرض الزكاة وجعل للفقراء حقًّا في مال الأغنياء. كما أن القرآن عرض لتنظيم المعاملات ليحفظ الحقوق وليقيم العدالة بين المتعاملين.

وبالجملة فقد عرض القرآن لكل الحياة العربية من كافة نواحيها، لذلك كان مرآة صادقة للحياة العربية في الجاهلية.1.

--------------------------------------------

1 انظر طه حسين: في الأدب الجاهلي "القرآن مرآة الحياة الجاهلية" ص 70-80 طبع المعارف.
কুরআন আরবদের কেবল একটি সুসভ্য ও আলোকিত জাতি হিসেবেই উপস্থাপন করে না; বরং তাদের এমন একটি জাতি হিসেবে চিত্রিত করে যারা অন্যান্য জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না। তারা কেবল তাদের মরুভূমিতেই নিভৃতে পড়ে থাকত না যেখানে তারা বিশ্বকে জানত না কিংবা বিশ্ব তাদের চিনত না; বরং তাদের প্রতিবেশী অন্যান্য জাতিগুলোর সাথে তাদের নিবিড় সম্পর্ক ছিল। তারা সমকালীন বিশ্বের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করত এবং তৎকালীন পারস্য, রোম ও আবিসিনিয়ার মতো বৃহৎ শক্তিগুলোর রাজনীতির ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। এই জাতিগুলোর সাথে তাদের ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিদ্যমান ছিল; তারা শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের মাধ্যমে তাদের মরুভূমির বুক চিরে পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিচালনা করত। অধিকন্তু, কুরআন তাদের সমুদ্র সম্পর্কে সম্যক অবগত হিসেবে চিত্রিত করেছে, যে সমুদ্রকে তারা পথ হিসেবে ব্যবহার করত এবং তা থেকে মাছ শিকার ও ডুব দেওয়ার মাধ্যমে প্রভূত উপকার লাভ করত। সমুদ্রে চলাচলকারী পর্বতের ন্যায় বিশাল জলযানসমূহের প্রতি কুরআনের বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং সমুদ্র থেকে প্রাপ্ত যেসকল নিআমত আরবরা ভোগ করত সেগুলোর জন্য কুরআনে আল্লাহর যে মহান অনুগ্রহের কথা বিধৃত হয়েছে, তা একথাই সুনিশ্চিত করে যে, আরব উপদ্বীপের আরবরা সমুদ্র সম্পর্কে অনভিজ্ঞ ছিল না; বরং সেখানে তাদের উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড ও ব্যাপক উপকারিতা নিহিত ছিল।

সুতরাং, আরবরা ধর্মহীন ছিল না, তারা মূর্খ বা রূঢ় ছিল না এবং অন্যান্য জাতির তুলনায় তারা রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্নও ছিল না।

কুরআন যেভাবে আরবদের বাহ্যিক অর্থনৈতিক জীবন তুলে ধরেছে, তেমনিভাবে তাদের অভ্যন্তরীণ জীবনকেও উপস্থাপন করেছে। এই দিক থেকেও কুরআন তাদের এভাবে বিভক্ত করেছে: এমন একদল ধনী যারা সম্পদ কুক্ষিগত করত এবং সুদের কারবারে সীমা লঙ্ঘন করত, আর এমন একদল নিঃস্ব দরিদ্র যাদের কাছে এই সুদখোর ধনীদের মোকাবিলা করার মতো কোনো সম্পদ ছিল না। কুরআন যেমন জ্ঞানহীনদের হাত ধরে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে আলোকিত করেছে এবং তাদের মর্যাদাকে উন্নত করেছে, তেমনি এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও বলিষ্ঠভাবে অসহায় ও অধিকারবঞ্চিত দরিদ্রদের পক্ষ অবলম্বন করেছে এবং তাদের ও তাদের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছে, আর সীমা লঙ্ঘনকারী জালেমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। এ ক্ষেত্রে কুরআন বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে: যেমন সুদ হারাম করার সময় এবং সুদখোরদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার সময় কঠোরতা ও কঠোর বাক্য ব্যবহার করেছে। আবার নেক কাজ ও দান-সদকার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি ও উৎসাহ প্রদানের সময় নম্রতা ও কোমলতা প্রদর্শন করেছে। আর যখন জাকাত ফরজ করেছে এবং ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার নির্দিষ্ট করেছে, তখন কোমলতা ও কঠোরতার এক অপূর্ব সমন্বয় সাধন করেছে। একইভাবে কুরআন পারস্পরিক লেনদেনের নিয়মাবলিও উপস্থাপন করেছে, যাতে মানুষের অধিকার সংরক্ষিত থাকে এবং লেনদেনকারীদের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরিশেষে বলা যায়, কুরআন আরব জীবনের সকল দিকই সবিস্তারে বর্ণনা করেছে, তাই এটি জাহেলী যুগের আরব জীবনের এক নির্ভুল দর্পণ। ১।

--------------------------------------------

১. দ্রষ্টব্য: তাহা হোসেন: ‘ফিল আদাবিল জাহেলী’ (জাহেলী সাহিত্যে), "আল-কুরআন মিরআতুল হায়াতিল জাহেলিয়্যাহ" (কুরআন জাহেলী জীবনের দর্পণ), পৃষ্ঠা ৭০-৮০, মা’আরিফ প্রকাশনী।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
وإذا كان القرآن مرآة للحياة الجاهلية، فهو مرآة أشد صفاء لحياة النبي صلى الله عليه وسلم وأطوار الرسالة الإسلامية والأحداث التي مرت بها، ولا يمكن أن يكون كتاب أوفى من القرآن وأوضح في تصويره في هذه الفترة.

والمصدر الثاني الذي يجب أن نعتمد عليه بعد القرآن هو الحديث الشريف، فإن أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم بما فيه من أوامر ونواه، قد تناولت الحياة التي كانت جارية في ذلك الوقت، وعرضت لكل ما كان قائمًا من نظم الحياة الدينية والفكرية والاجتماعية والسايسية والاقتصادية، فأقرت ما رأته صالحًا، وعدلت ما يستقيم بالتعديل، ونهت عما رأته ضارًّا أو فاحشًا من حياة الناس؛ فالحديث الشريف لذلك هو المصدر الذي يلي القرآن في الأهمية، على أن يرجع إليه في كتب الحديث الصحاح، وعلى أن يلم الباحث بما وضع علماء الحديث من قوانين التعديل والجرح لمعرفة أوثق الأحاديث.

وإذا كنا قد أخذنا القرآن والحديث مصدرين أساسيين لبحث هذه الفترة من حياة الأمة العربية، فليس معنى هذا أننا نهمل المصادرالأخرى من شعر وتاريخ وتراجم وأنساب، وكل ما عرض له القدماء من ذكر للحياة العربية. بل نأخذ من كل منها ما يعطي من طاقة؛ لتكون الصورة التي نرسمها واضحة تامة، بشرط ألا يناقض ما نأخذ منها ما له ذكر في المصدرين الأساسيين.

وأحسب أنني حين التزمت بالقيام بهذا البحث -الذي أقدمه للقراء في هذا الكتاب- قد بذلت ما في وسعي من طاقة، وأعطيته ما يتناسب مع أهمية الموضوع من جهد ووقت. وكل أملي أن أكون قد فتحت به بابًا لدراسة هذه الفترة العظيمة الأهمية من حياة العرب والإسلام. وحسبي هذا جزاء مكافئًا، والله وحده هو الذي يتولى الجزاء. ومنه الهدى وهو ولي التوفيق..

القاهرة في أول نوفمبر 1965

الدكتور

أحمد إبراهيم الشريف
যদি কুরআন জাহেলী জীবনের দর্পণ হয়ে থাকে, তবে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন, ইসলামি রিসালাতের পর্যায়সমূহ এবং এর মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত ঘটনাবলির জন্য আরও অধিক স্বচ্ছ এক দর্পণ। এই সময়ের বর্ণনায় কুরআনের চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট আর কোনো কিতাব হওয়া সম্ভব নয়।

কুরআনের পর আমাদের যে দ্বিতীয় উৎসের ওপর নির্ভর করা আবশ্যক তা হলো হাদিস শরীফ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ তার আদেশ ও নিষেধের মাধ্যমে তৎকালীন চলমান জীবনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং ধর্মীয়, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনের তৎকালীন সকল ব্যবস্থার স্বরূপ তুলে ধরেছে। ফলে যা কিছু কল্যাণকর হিসেবে দেখেছে তাকে বহাল রেখেছে, যা সংশোধনযোগ্য ছিল তা সংশোধন করেছে এবং মানুষের জীবনের যা কিছু ক্ষতিকর বা অশ্লীল হিসেবে গণ্য হয়েছে তা থেকে নিষেধ করেছে। সুতরাং গুরুত্বের বিচারে হাদিস শরীফ হলো কুরআনের পরবর্তী উৎস; তবে শর্ত হলো, তা যেন হাদিসের বিশুদ্ধ গ্রন্থসমূহ থেকে গ্রহণ করা হয় এবং গবেষক যেন নির্ভরযোগ্য হাদিস নির্ণয়ের জন্য হাদিস বিশারদগণ কর্তৃক প্রণীত 'জারাহ ও তাদীল' (সমালোচনা ও সংশোধন) সংক্রান্ত নিয়মাবলি সম্পর্কে অবগত থাকেন।

আরব জাতির জীবনের এই সময়কাল নিয়ে আলোচনার জন্য যদি আমরা কুরআন ও হাদিসকে মৌলিক উৎস হিসেবে গ্রহণ করে থাকি, তবে এর অর্থ এই নয় যে আমরা কবিতা, ইতিহাস, জীবনীগ্রন্থ, বংশপরম্পরা এবং পূর্ববর্তীরা আরব জীবন সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করেছেন—সেই সকল উৎসকে অবহেলা করব। বরং আমরা এর প্রতিটি থেকে যথাসম্ভব উপাদান গ্রহণ করব, যাতে আমাদের অঙ্কিত চিত্রটি স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ হয়; তবে শর্ত হলো, এখান থেকে গৃহীত কোনো বিষয় যেন দুটি মৌলিক উৎসে বর্ণিত কোনো বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।

আমি মনে করি, যখন আমি এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি—যা আমি এই গ্রন্থে পাঠকদের সামনে পেশ করছি—তখন আমি আমার সাধ্যমতো শ্রম ব্যয় করেছি এবং বিষয়টির গুরুত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চেষ্টা ও সময় প্রদান করেছি। আমার সকল প্রত্যাশা হলো, এর মাধ্যমে আমি আরব ও ইসলামের জীবনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়টি অধ্যয়নের একটি দ্বার উন্মোচন করতে পেরেছি। আমার জন্য এটিই যথেষ্ট প্রতিদান এবং আল্লাহ একাই প্রতিদান প্রদানের মালিক। হিদায়াত তাঁরই পক্ষ থেকে আসে এবং তিনিই তাওফীক দাতা।

কায়রো, ১ নভেম্বর ১৯৬৫

ডক্টর

আহমেদ ইব্রাহিম আশ-শরীফ
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌‌‌جغرافية الجزيرة العربية والتشكيل القبلي

‌‌شبه جزيرة العرب

*

…

الفصل الأول: شبه جزيرة العرب

هي أكبر شبه جزيرة في العالم، يبلغ متوسط عرضها سَبعمائة ميل، ومنتهى طولها ألف ومائتا ميل، ومساحتها تبلغ حوالي مليون مربع1.

ويطلق العرب عليها -تجاوزًا- اسم جزيرة العرب2؛ يرون البحار والأنهار تكاد تحيط بها من جميع أقطارها وأطرافها، فالخليج العربي، والبحر العربي، والبحر الأحمر تحدها من الشرق والجنوب والغرب، ويكمل الفرات الحد الشرقي. كما يكمل النيل الحد الغربي؛ ليلتقيا بالحد الشمالي وهو البحر المتوسط. وهذا التحديد الذي يقول به الهمداني يدخل بلاد الشام كلها، والبادية التي بين العراق والشام، وبادية سيناء في جزيرة العرب3، وهو يتفق مع التحديد الذي قال به "هيرودوت" حيث اعتبر النيل الحد الغربي لقارة آسيا وجعل صحراء مصر الشرقية كما هي معروفة الآن جزءًا من الجزيرة العربية4، والفارق بين تحديد الهمداني وهيرودوت أن الأول لم يدخل صحراء مصر الشرقية في جزيرة العرب. وبتحديد الهمداني أخذ بعض الجغرافيين المحدثين5، ويختلف الجغرافيون في الحد الشمالي؛ فمنهم من يجعله صحراء النفود، وبذلك يخرجون بادية الشام من جزيرة العرب، غير أن طبيعة الأرض الجيولوجية تدخل بادية الشام وسيناء فيها، إذ إنها جزء لا يختلف من حيث طبيعته الصحراوية وخواصه عن سائر أنحاء بلاد العرب6.

--------------------------------------------

1 حافظ وهبة: جزيرة العرب في القرن العشرين ص1.

L.D. Stamp. Asia A Renional adn Economic Geogrophy. P. 133.

2 الهمداني: صفة جزيرة العرب 46- 47/ الآلوسي: بلوغ الأرب 1/ 187. ياقوت: معجم البلدان 1/ 100.

3 الهمداني: 47.

4 هيردوت Herodotas، Book 11-16-17

5 Stamp. of cit. p. 133

6 حتى: تاريخ العرب 17 جواد علي: تاريخ العرب قبل الإسلام 1/ 86.
‌‌‌আরব উপদ্বীপের ভূগোল ও গোত্রীয় গঠন

‌‌আরব উপদ্বীপ

*

...

প্রথম অধ্যায়: আরব উপদ্বীপ

এটি বিশ্বের বৃহত্তম উপদ্বীপ, যার গড় প্রস্থ সাতশত মাইল এবং সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য এক হাজার দুইশত মাইল। এর আয়তন প্রায় দশ লক্ষ বর্গ মাইল।১

আরবরা একে—রূপকভাবে—'জাজিরাতুল আরব' (আরব দ্বীপ) নামে অভিহিত করে;২ তারা মনে করে যে এর প্রায় সকল দিক এবং প্রান্ত সমুদ্র ও নদ-নদী দ্বারা বেষ্টিত। এর পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিম সীমান্তে রয়েছে যথাক্রমে আরব উপসাগর, আরব সাগর ও লোহিত সাগর। ফোরাত নদী এর পূর্ব সীমানাকে পূর্ণতা দান করেছে, তেমনি নীল নদ এর পশ্চিম সীমানাকে পূর্ণতা দিয়েছে; আর এই দুই সীমানা উত্তর সীমানায় অর্থাৎ ভূমধ্যসাগরে গিয়ে মিলিত হয়েছে। আল-হামদানির প্রদত্ত এই সীমানা নির্ধারণের ফলে সমগ্র শাম (সিরিয়া) দেশ, ইরাক ও শামের মধ্যবর্তী মরুভূমি এবং সিনাই মরুপ্রান্তর আরব উপদ্বীপের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে।৩ এটি 'হিরোডোটাস' কর্তৃক প্রদত্ত সীমানা নির্ধারণের সাথেও সংগতিপূর্ণ, কারণ তিনি নীল নদকে এশিয়া মহাদেশের পশ্চিম সীমানা হিসেবে গণ্য করেছেন এবং মিসরের বর্তমান পূর্ব মরুভূমিকে আরব উপদ্বীপের অংশ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।৪ তবে হামদানি এবং হিরোডোটাসের সীমানা নির্ধারণের মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, হামদানি মিসরের পূর্ব মরুভূমিকে আরব উপদ্বীপের অন্তর্ভুক্ত করেননি। আধুনিক কিছু ভূগোলবিদও আল-হামদানির এই সীমানা নির্ধারণকে গ্রহণ করেছেন।৫ তবে উত্তর সীমানা নিয়ে ভূগোলবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; তাদের কেউ কেউ 'নাফুদ' মরুভূমিকে এর উত্তর সীমানা নির্ধারণ করেছেন, যার ফলে শামের মরুভূমি আরব উপদ্বীপ থেকে বাদ পড়ে যায়। তবে ভূমির ভূ-তাত্ত্বিক প্রকৃতি অনুসারে শামের মরুভূমি ও সিনাই এর অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ এর মরুময় প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যাবলি আরব ভূখণ্ডের অন্যান্য অংশের সাথে অভিন্ন।৬

--------------------------------------------

১ হাফিজ ওয়াহবা: বিশ শতকে জাজিরাতুল আরব, পৃ. ১।

এল.ডি. স্ট্যাম্প: এশিয়া - এ রিজিওনাল অ্যান্ড ইকোনমিক জিওগ্রাফি, পৃ. ১৩৩।

২ আল-হামদানি: সিফাতু জাজিরাতিল আরব ৪৬-৪৭/ আল-আলুসি: বুলুগ আল-আরাব ১/১৮৭। ইয়াকুত: মু'জামুল বুলদান ১/১০০।

৩ আল-হামদানি: ৪৭।

৪ হিরোডোটাস: বুক ২, ১৬-১৭।

৫ স্ট্যাম্প, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৩৩।

৬ ফিলিপ কে. হিট্টি: হিস্ট্রি অব দ্য এরাবস, পৃ. ১৭; জাওয়াদ আলী: তারিখুল আরব কাবলাল ইসলাম ১/৮৬।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعلى ذلك فحد جزيرة العرب من الشرق بحر عمان وخليج البصرة -خليج العرب- ونهر الفرات، ومن الجنوب بحر العرب، ومن الغرب البحر الأحمر وبرزخ السويس -قناة السويس حاليًا- ومن الشمال البحر المتوسط.

وتحتل جزيرة العرب موقعًا ممتازًا بين قارات العالم الثلاث القديمة، فهي تقع في الركن الجنوبي الغربي من قارة آسيا، كما تتصل بالقارة الأفريقية في ركنها الشمالي الشرقي حيث برزخ السويس قديمًا وقناة السويس في الوقت الحاضر، كما أنها تشرف بحدها الشمالي على شرق البحر المتوسط الذي يصلها بقارة أوربا. أما من ناحية الخريطة الحضارية للعالم قبيل الإسلام؛ فإنها تقع عند نقطة التقاء الحضارتين السائدتين يومئذ وهما حضارة الفرس وحضارة والروم.

وإذا نظرنا نظرة عامة إلى خريطة بلاد العرب رأينا أنها أرَضون واسعة تنحدر تضاريسها من الغرب نحو الشرق، وهي مرتفعة في الغرب حيث جبال السراة1 الممتدة من سورية وفلسطين إلى اليمن. وهي توازي ساحل البحر الأحمر وتقترب منه في مواضع عديدة. ويتراوح ارتفاع هذه الجبال ما بين عشرة آلاف قدم وثلاثة آلاف قدم. فتبلغ قممها في الشمال -في مدين- وفي الجنوب -في اليمن وعسير- حوالي عشرة آلاف قدم، بينما تكون خلف مكة ثمانية آلاف قدم، وقرب المدينة تبلغ ثلاثة آلاف قدم2، وتحصر بينها وبين ساحل البحر الأحمر أرض سهلية ضيقة تعرف بتهامة، تشرف عليها هذه المرتفعات وتنحدر إليها انحدارًا شديدًا قصيرًا، وسواحلها المهيمنة على البحر يصعب رسو السفن فيها لخلوها من المرافئ الصالحة، ولوجود الشعب المرجانية التي تمتد في بعض المواضع بعيدًا في البحر 3.

وتتألف الأراضي الوسطى من هضبة تسمى نجد، وتختلف في الارتفاع ما بين ستة آلاف قدم إلى أربعة آلاف قدم ما بين عسير والطائف، وإلى ألفين ومائتي قدم عند العلا4. وحد نجد الغرب واضح بجبال السراة. أما حدها الشرقي فهو غير واضح وربما امتد إلى قرب خليج العرب.

--------------------------------------------

1 السراة: أعلى كل شيء. تاج العروس 10/ 174. البلدان 10/ 104- 205.

. Stamp. P. 134 K، S. Twlchell، Saudi Arabia. P 10

3 جورج فضلو: العرب والملاحة في المحيط الهندي ص25.

Twitchell. op. cit. p، 134
সেই অনুযায়ী, আরব উপদ্বীপের পূর্ব সীমানা হলো ওমান সাগর, বসরা উপসাগর -আরব উপসাগর- এবং ফোরাত নদী; দক্ষিণ দিকে আরব সাগর; পশ্চিম দিকে লোহিত সাগর এবং সুয়েজ যোজক -বর্তমানে সুয়েজ খাল-; এবং উত্তর দিকে ভূমধ্যসাগর।

আরব উপদ্বীপ প্রাচীন বিশ্বের তিনটি মহাদেশের মাঝে এক চমৎকার অবস্থান দখল করে আছে। এটি এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। এর উত্তর-পূর্ব কোণে আফ্রিকা মহাদেশের সাথে সংযোগ রয়েছে, যেখানে অতীতে সুয়েজ যোজক এবং বর্তমানে সুয়েজ খাল অবস্থিত। এছাড়া এর উত্তর সীমানা পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে ইউরোপ মহাদেশের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। ইসলাম-পূর্ব বিশ্বের সভ্যতার মানচিত্রের বিচারে এটি তৎকালীন সময়ের দুটি প্রধান সভ্যতা—পারস্য সভ্যতা ও রোমান সভ্যতার মিলনস্থলে অবস্থিত ছিল।

আমরা যদি আরব ভূখণ্ডের মানচিত্রের দিকে সামগ্রিকভাবে তাকাই, তবে দেখতে পাব যে এটি একটি সুবিশাল ভূমি, যার ভূ-প্রকৃতি পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ক্রমান্বয়ে ঢালু হয়ে গেছে। পশ্চিম দিকে এটি উচ্চভূমি, যেখানে সারাত পর্বতমালা ১ সিরিয়া ও ফিলিস্তিন থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি লোহিত সাগরের উপকূলের সমান্তরালে অবস্থিত এবং অনেক স্থানে সাগরের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। এই পাহাড়গুলোর উচ্চতা তিন হাজার থেকে দশ হাজার ফুটের মধ্যে। এর চূড়াগুলো উত্তরে -মাদইয়ানে- এবং দক্ষিণে -ইয়েমেন ও আসিরে- প্রায় দশ হাজার ফুট উঁচু। মক্কার পশ্চাৎভাগে এর উচ্চতা আট হাজার ফুট এবং মদিনার নিকটবর্তী স্থানে তিন হাজার ফুট ২। এই পর্বতমালা ও লোহিত সাগরের উপকূলের মাঝখানে একটি সংকীর্ণ সমভূমি অবস্থিত যা 'তিহামাহ' নামে পরিচিত। পর্বতমালাগুলো এই সমভূমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং সেখানে অত্যন্ত খাড়াভাবে ও অল্প দূরত্বে ঢালু হয়ে নেমে গেছে। লোহিত সাগরের ওপর বিস্তৃত এর উপকূলীয় অঞ্চলে উপযুক্ত সমুদ্রবন্দরের অভাব এবং প্রবাল প্রাচীরের উপস্থিতির কারণে জাহাজ ভেড়ানো অত্যন্ত কঠিন, যা অনেক স্থানে সমুদ্রের বেশ গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত ৩।

মধ্যবর্তী অঞ্চলটি 'নজদ' নামক এক মালভূমি দ্বারা গঠিত। আসির ও তায়েফের মধ্যবর্তী স্থানে এর উচ্চতা চার হাজার থেকে ছয় হাজার ফুট পর্যন্ত এবং আল-উলার নিকটবর্তী স্থানে দুই হাজার দুইশ ফুট পর্যন্ত পরিবর্তিত হয় ৪। নজদের পশ্চিম সীমানা সারাত পর্বতমালা দ্বারা সুস্পষ্ট। তবে এর পূর্ব সীমানা অস্পষ্ট এবং সম্ভবত তা আরব উপসাগরের কাছাকাছি পর্যন্ত বিস্তৃত।

--------------------------------------------

১ সারাত: সবকিছুর উপরিভাগ বা উচ্চতম অংশ। তাজুল আরুস ১০/ ১৭৪। আল-বুলদান ১০/ ১০৪- ২০৫।

২ স্ট্যাম্প। পৃষ্ঠা ১৩৪ কে, এস. টুইচেল, সৌদি আরব। পৃষ্ঠা ১০

৩ জর্জ ফাদলু: আরব ও ভারত মহাসাগরের নৌচালনা পৃষ্ঠা ২৫।

৪ টুইচেল। প্রাগুক্ত। পৃষ্ঠা ১৩৪
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وتمتد في الأقسام الجنوبية من شبه الجزيرة سلاسل من الجبال متفاوتة الارتفاع تشرف على المنخفضات الساحلية، وتكثر في الوديان التي تفصل بين هذه السلاسل الجبلية وتأخذ مختلف الاتجاهات، حيث تمثل اتجاهات المياه والسيول. ويبلغ ارتفاع الجبل الأخضر الذي يقع في الجنوب الشرقي من شبه الجزيرة، أي في عمان، زهاء عشرة آلاف قدم1.

وللحِرار أهمية خاصة في التشكيل الجغرافي للجزيرة العربية، وهي تكثر في شبه جزيرة العرب وخاصة في الأقسام الغربية. وتمتد حتى تتصل بالحرار التي في بلاد الشام في حوران ولا سيما في الصفاة2، كما توجد في المناطق الشرقية الجنوبية من نجد، وفي المناطق الجنوبية والجنوبية الغربية، وقد ذكر علماء العرب من المؤرخين والجغرافيين أسماء عدد منها، كما عثر السياح الأجانب على عدد منها3.

والحرة أرض بركانية وجمعها حرار، يقال لها اللابة واللوبة4 وقد تكونت من فعل البراكين، ويشاهد منها نوعان: نوع يتألف من فجوات البراكين نفسها، ونوع يتألف من حممها اللابة Lava التي كانت تقذفها فتسيل على جوانب الفتحة، ثم تبرد وتتفتت بفعل التقلبات الجوية، فتكون ركامًا من الأحجار البركانية التي تغطي الأرض بطبقات قد تكون رقيقة وقد تكون سميكة، وقد وصفها العلماء فقالوا: الحرة أرض ذات حجارة سود نخرة كأنها أحرقت بالنار5، ويكون ما تحتها أرضًا غليظة من قاع ليس بأسود، وإنما سودها كثرة حجارتها وتدانيها. وتكون الحرة مستديرة فإذا كان لها امتداد مستطيل ليس بواسع فذلك الكراع6.

--------------------------------------------

1 جواد على: 1/ 87. Stamp: op. cit. p. 134 C،M. 42-417 vol.P.P.Daughty، Travels in Arabia Deserta.

3 جواد على: 1/ 89 Allics Musil، in The Arabian Dsert

4 البلدان 17/ 2. لسان العرب 2/ 242. الطبراني 3/ 221.

5 البلدان 17/ 3. المصباح المنير "طبع وزارة المعارف عام 1920" 1/ 1771.

6 الحرار: أنواء البراكين. اللابة أو اللوبة: المناطق التي غطتها حمم البراكين وسالت فوقها وجفت. الكراع: أعناق الحرار. انظر لسان العرب 2/ 242، 10/ 182. القاموس 3/ 78 المصباح المنير 2/ 729 "الكراع الأنف السائل من الحمة، وأكارع الأرض أطرافها، والواحد أيضًا كراع ومنه كراع الغميم أي طرفه".
উপদ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন উচ্চতার পর্বতশ্রেণী বিস্তৃত রয়েছে যা উপকূলীয় নিম্নভূমির দিকে মুখ করে আছে। এই পর্বতশ্রেণীগুলোর মধ্যবর্তী উপত্যকাগুলো প্রচুর এবং এগুলো বিভিন্ন অভিমুখে বিস্তৃত, যা পানিপ্রবাহ ও বন্যার গতিপথ নির্দেশ করে। উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে অর্থাৎ ওমানে অবস্থিত জাবালে আখদারের উচ্চতা প্রায় দশ হাজার ফুট১।

আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক গঠনে 'হিরার' (আগ্নেয় ক্ষেত্রসমূহ) বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এগুলো আরব উপদ্বীপে প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়, বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে। এগুলো সিরিয়ার (বিলাদুশ শাম) হাওরান অঞ্চল, বিশেষ করে সাফাত২-এর আগ্নেয় ক্ষেত্রগুলোর সাথে সংযুক্ত হওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়াও এগুলো নজদ-এর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও বিদ্যমান। আরব ঐতিহাসিক ও ভূগোলবিদগণ এগুলোর বেশ কিছু নাম উল্লেখ করেছেন, আবার বিদেশি পর্যটকরাও এগুলোর অনেকগুলোর সন্ধান পেয়েছেন৩।

'হাররাহ' হলো আগ্নেয় ভূমি, যার বহুবচন 'হিরার'। একে 'লাবাহ' এবং 'লুবাহ'ও৪ বলা হয়। এগুলো আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে। এর দুইটি ধরণ পরিলক্ষিত হয়: এক ধরণের আগ্নেয়গিরির গহ্বর দ্বারা গঠিত এবং অন্যটি আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভা (Lava) দ্বারা গঠিত, যা জ্বালামুখের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে এগুলো শীতল ও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে আগ্নেয় পাথরের স্তূপ তৈরি করে, যা ভূমিকে পাতলা বা পুরু স্তরে ঢেকে রাখে। বিদ্বানগণ এর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: হাররাহ হলো এমন এক ভূমি যা কালো ও ছিদ্রযুক্ত পাথরে পূর্ণ, যেন সেগুলো আগুনে পুড়ে গেছে৫। এর নিচের ভূমিটি শক্ত সমতল হয় যা কালো নয়; বরং পাথরের আধিক্য ও ঘনত্বের কারণে একে কালো দেখায়। হাররাহ সাধারণত গোলাকার হয়, তবে যদি এর কোনো দীর্ঘায়িত সরু অংশ থাকে, তবে তাকে 'কুরা'৬ বলা হয়।

--------------------------------------------

১ জাওয়াদ আলী: ১/ ৮৭। স্ট্যাম্প: প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা ১৩৪ সি, এম ৪২-৪১৭ ভলিউম পি.পি. ডাউটি, ট্রাভেলস ইন অ্যারাবিয়া ডেজার্টা।

৩ জাওয়াদ আলী: ১/ ৮৯ অ্যালোইস মুসিল, ইন দ্য অ্যারাবিয়ান ডেজার্ট।

৪ আল-বুলদান ১৭/ ২। লিসানুল আরব ২/ ২৪২। আত-তাবারানি ৩/ ২২১।

৫ আল-বুলদান ১৭/ ৩। আল-মিসবাহুল মুনির "শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১৯২০ সালে মুদ্রিত" ১/ ১৭৭১।

৬ হিরার: আগ্নেয়গিরির প্রকারভেদ। লাবাহ বা লুবাহ: আগ্নেয়গিরির লাভা দ্বারা আচ্ছাদিত এলাকা যা প্রবাহিত হয়ে শুকিয়ে গেছে। কুরা: হাররাহ-এর প্রলম্বিত অংশ। দেখুন: লিসানুল আরব ২/ ২৪২, ১০/ ১৮২। আল-কামুস ৩/ ৭৮। আল-মিসবাহুল মুনির ২/ ৭২৯ "কুরা হলো আগ্নেয় শিলা থেকে নির্গত অভিক্ষেপ, আর আক্বারিউল আরদ হলো ভূমির প্রান্তসমূহ, এর একবচনও কুরা এবং এখান থেকেই কুরাউল গামিম শব্দটি এসেছে যার অর্থ এর প্রান্ত"।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد اشتهر كثير من مناطق الحرار بالخصب والنماء، وبكثرة المياه فيها؛ ولا سيما حرار المدينة التي استغلت استغلالًا جيدًا، ومنها خبير فكثرت قراها وكثر سكانها. حتى قيل إنها خير قرى عربية، غير أن ظهور العيون فيها بكثرة، جعلها موطنًا من مواطن الحمى. اشتهر أمرها في الحجاز، حتى قيل حمى خيبر1.

أما من الناحية الهدروجرافية فإن بلاد العرب في الوقت الحاضر في جملة البلاد التي تكاد تنعدم فيها الأنهار والبحيرات، ويندر سقوط الأمطار عليها؛ ولذلك صارت أكثر بقاعها صحراوية قليلة السكان. غير أنها كثيرة الأودية التي تسيل في بعضها المياه عند سقوط الأمطار، وبعضها طويل يسير في اتجاه ميل الأرض. كما أن بعضها الآخر وبخاصة التي تصب في البحر الأحمر قصير عميق المجرى شديد الانحدار، تنحدر فيه السيول بشدة إلى البحر فتضيع فيه، وربما كانت في بعض الأحيان خطرًا يهدد القوافل والمدن والأملاك، ويأتي على الناس بأفدح الخسائر 2.

وليس في شبه جزيرة العرب نهر واحد بالمعنى المعروف من الأنهار 3، وما فيها من جداول غير صالح للملاحة4، فهي إما قصيرة سريعة الجريان شديدة الانحدار، أو ضحلة تجف في بعض المواسم. غير أن العلماء يستنتجون من اتجاه الأودية ومن وجود العاديات والخرائب وآثار السكنى على أطرافها، والترسبات التي تمثل قيعان الأنهار، أن هذه الأودية كانت في الحقيقة أنهارًا في يوم من الأيام، وأن جوانبها كانت مأهولة بالسكان زاخرة بالحياة، ويؤيد هذا الاستنتاج ما ورد في كتب اليونان والرومان من وجود أنهار طويلة في بلاد العرب، فقد ذكر هيرودوت اسم نهر دعاه كورس قال عنه: إنه من الأنهار العظيمة، وإنه يصب في البحر الأريتري 5. ويقصد به البحر الأحمر.

--------------------------------------------

1 البلدان 8/ 410.

كأن به إذ جئته خيبرية … يعود عليه وردها وملالها

قلت لحمى خيبر استعدي … هالك عيالي فاجهدي وجدي

وباكري بصالب وورد … أعانك الله على ذا الجند

2 حتى ص 20 البتنوني الرحلة الحجازية ص 259 "عن السيول انظر البلاذري فتوح البلدان والطبري، والأزرقي في أخبار السيول".

3 الإصطخري: المسالك والممالك ص21.

4 حتى 31. جورج فضلو. العرب والملاحة ص 25.

5 جواد علي 1/ 18. Hcrodotus: vol. l. p. 214
অনেক হাররাহ (আগ্নেয় শিলাভূমি) অঞ্চল উর্বরতা, প্রবৃদ্ধি এবং পানির প্রাচুর্যের জন্য সুপরিচিত ছিল; বিশেষ করে মদীনার হাররাহগুলো, যেগুলোকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে খায়বার অন্যতম, যার ফলে এর গ্রাম ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এমনকি বলা হতো যে, এটি আরবীয় গ্রামগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তবে সেখানে প্রচুর প্রস্রবণের আবির্ভাব একে জ্বরের একটি জনপদে পরিণত করেছিল। হিজাজে এর প্রাদুর্ভাব এতটাই পরিচিত ছিল যে, একে 'খায়বারের জ্বর' বলা হতো১।

হাইড্রোগ্রাফিক (জলতাত্ত্বিক) দিক থেকে বর্তমান সময়ে আরব ভূখণ্ড এমন দেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত যেখানে নদী ও হ্রদ প্রায় নেই বললেই চলে এবং সেখানে বৃষ্টিপাত অত্যন্ত বিরল। একারণে এর অধিকাংশ এলাকা মরুভূমিময় ও জনবিরল হয়ে পড়েছে। তবে সেখানে প্রচুর ওয়াদি (উপত্যকা) রয়েছে, যার কোন কোনটিতে বৃষ্টিপাতের সময় পানি প্রবাহিত হয়। এর মধ্যে কিছু দীর্ঘ এবং ভূমির ঢালু অভিমুখে প্রবহমান। আবার অন্য কিছু ওয়াদি, বিশেষ করে যেগুলো লোহিত সাগরে পতিত হয়, সেগুলো সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর এবং অত্যন্ত খাড়া। এসব পথে ঢল তীব্রবেগে সাগরের দিকে নেমে এসে সেখানে বিলীন হয়ে যায়। কখনও কখনও এগুলো কাফেলা, শহর ও সম্পদের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় এবং মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে২।

আরব উপদ্বীপে নদীর প্রচলিত অর্থে একটি নদীও নেই৩, এবং সেখানে যেসব নালা বা ক্ষুদ্র স্রোতস্বিনী রয়েছে তা নৌ চলাচলের অনুপযোগী৪। সেগুলো হয় দৈর্ঘ্যে ছোট ও দ্রুতগামী এবং অত্যন্ত খাড়া, অথবা অগভীর যা কিছু ঋতুতে শুকিয়ে যায়। তবে বিজ্ঞানীরা ওয়াদিগুলোর দিকনির্দেশনা, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, জনবসতির চিহ্ন এবং নদীর তলদেশের পলি থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, এই ওয়াদিগুলো প্রকৃতপক্ষে কোনো এক সময়ে নদী ছিল এবং সেগুলোর উভয় তীর জনাকীর্ণ ও প্রাণচঞ্চল ছিল। গ্রিক ও রোমানদের গ্রন্থে আরব দেশে দীর্ঘ নদীর অস্তিত্ব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। হেরোডোটাস একটি নদীর নাম উল্লেখ করেছেন যাকে তিনি 'কোরস' বলে ডাকতেন। তিনি এটি সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি একটি বিশাল নদী এবং এটি ইরিথ্রিয়ান সাগরে পতিত হতো৫। এখানে ইরিথ্রিয়ান সাগর বলতে লোহিত সাগরকে বোঝানো হয়েছে।

--------------------------------------------

১ আল-বুলদান ৮/৪১০।

যখন তুমি সেখানে আসবে, মনে হবে তা যেন খায়বারের জ্বরে আক্রান্ত … তার জ্বর ও অবসাদ বারবার ফিরে আসে।

আমি খায়বারের জ্বরকে বললাম, প্রস্তুত হও … আমার পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তাই তুমি তোমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ও পরিশ্রম করো।

এবং তীব্র শীতের জ্বর ও দীর্ঘস্থায়ী কম্পন নিয়ে সকালেই হানা দাও … এই বাহিনীর বিরুদ্ধে আল্লাহ তোমাকে সাহায্য করুন।

২ হিত্টি, পৃষ্ঠা ২০; আল-বাতানুনী, আর-রিহলাহ আল-হিজাজিয়াহ, পৃষ্ঠা ২৫৯। "ঢল বা বন্যা সম্পর্কে দেখুন আল-বালাজুরি কৃত ফুতুহুল বুলদান, আত-তবারী এবং আল-আযরকী কৃত আখবারুস সুয়ুল (বন্যা সংক্রান্ত সংবাদ)।"

৩ আল-ইসতাখরি: আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক, পৃষ্ঠা ২১।

৪ হিত্টি ৩১। জর্জ ফাদলো: আল-আরব ওয়াল মিলাহা (আরব ও নৌ চলাচল), পৃষ্ঠা ২৫।

৫ জাওয়াদ আলী ১/১৮। হেরোডোটাস: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১৪।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
ويرى بعض العلماء أن المكان الذي ذكره هيرودوت هو وادي الحمض المار بشمالي قرح1. -على مسافة 43 كيلو مترًا من الحجر-. وقد كانت عامرة فيما مضى بالزروع والبساتين وهي المعروفة ببساتين قرح، ويوجد بالقرب منها سقيا يزيد، أو قصر عنتر، كما تسمى في الوقت الحاضر على بعد 98 ميلًا من شمال المدينة2. كما ذكر بطليموس اسم نهر عظيم سماه lar زعم أنه ينبع من منطقة نجران، أي من الجانب الشرقي من السلسلة الجبلية، ثم يسير نحو الجهة الشمالية الشرقية مخترقًا بلاد العرب حتى يصب في الخليج العربي3. ويرى بعض العلماء أن هذا النهر الذي يشير إليه بطليموس هو وادي الدواسر، والذي تمده بعض الأودية المتجهة من سلاسل جبال اليمن بمياه السيول4.

ومن آثار السدود والنواظم التي ترجع إلى ما قبل الإسلام يمكن الاستدلال على أن العرب كانوا على علم واسع بتنظيم أمور الإرواء، والاستفادة من مياه الأمطار والسيول والأنهار، كما تدل كثرة المصطلحات في اللهجات العربية الشمالية والجنوبية على معرفة العرب بأنواع الآبار، والسدود، والمساك، والنحايت وغير ذلك من الوسائل التي استخدمت للحصول على الماء 5.

وإذا كانت البحار تحيط بجزيرة العرب؛ فإن الجو البحري لم يستطع أن يخفف من حدة الحرارة فيها أو يتغلب على جفافها، فإن الأبخرة المتصاعدة من البحر لا تكاد تصل إلى أواسط الجزيرة العربية، إذ إن الرياح السمائم الشديدة الحر تقاومها مقاومة شديدة، وتمنعها في الغالب من الوصول إلى أواسط شبه الجزيرة 6، على أن الأقسام

--------------------------------------------

1 البلدان 15/.32- 321 "وكانت من أسواق العرب في الجاهلية وزعم بعضهم أن بها كان هلاك عاد قوم هود، ما يدل على أنها من المواضع القديمة في بلاد العرب".

2 "إصطبل عنتر" وهبة: 2- البلدان 10/ 228.

3 جواد علي 1/ 98.

4 وهبة 54.

5 بئر سك= ضيقة الخرق وقيل الضيقة المحفر من أولها إلى آخرها (لسان 40/ 44 والمسك، والمساك الموضع الذي يمسك الماء) (اللسان 12/ 378) . جواد علي: 1/ 101.

6 حتى 9. جواد علي 1/ 86.
কিছু পণ্ডিত মনে করেন যে হেরোডোটাস যে স্থানটি উল্লেখ করেছেন তা হলো ওয়াদি আল-হামদ, যা কার্হর উত্তর দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। -আল-হিজর থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরত্বে-। অতীতে এটি শস্যক্ষেত্র ও বাগান দ্বারা সমৃদ্ধ ছিল এবং এটি কার্হর বাগান নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে মদিনার উত্তর থেকে ৯৮ মাইল দূরে এর সন্নিকটে সুকইয়া ইয়াজিদ বা কাসরে আনতার অবস্থিত। তেমনিভাবে টলেমি একটি বিশাল নদীর নাম উল্লেখ করেছেন যার নাম তিনি দিয়েছিলেন লার (lar); তিনি দাবি করেছেন যে এটি নাজরান অঞ্চল থেকে, অর্থাৎ পর্বতশ্রেণীর পূর্ব দিক থেকে উৎপন্ন হয়েছে, তারপর উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে আরব ভূখণ্ড অতিক্রম করে আরব উপসাগরে গিয়ে পড়েছে। কিছু পণ্ডিত মনে করেন যে টলেমি যে নদীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তা হলো ওয়াদি আদ-দাওয়াসির, যা ইয়েমেনের পর্বতমালা থেকে আসা কিছু উপত্যকার ঢলের পানি দ্বারা সিক্ত হয়।

প্রাক-ইসলামী যুগের বাঁধ ও জলকপাটগুলোর ধ্বংসাবশেষ থেকে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, আরবরা সেচ ব্যবস্থাপনা এবং বৃষ্টির পানি, ঢল ও নদীর পানি ব্যবহারের বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী ছিল। উত্তর ও দক্ষিণ আরবের উপভাষাগুলোতে পরিভাষার আধিক্য বিভিন্ন প্রকারের কূপ, বাঁধ, পানি ধারণকারী আধার, সংকীর্ণ কৃত্রিম আধার এবং পানি সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত অন্যান্য মাধ্যম সম্পর্কে আরবদের জ্ঞানের সাক্ষ্য দেয়।

যদিও আরব উপদ্বীপ সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত, কিন্তু সামুদ্রিক পরিবেশ সেখানকার তাপের তীব্রতা কমাতে বা শুষ্কতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়নি। সমুদ্র থেকে উত্থিত বাষ্প আরব উপদ্বীপের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না বললেই চলে, কারণ অত্যন্ত উত্তপ্ত সামুম বায়ু একে প্রবলভাবে বাধা প্রদান করে এবং সাধারণত একে উপদ্বীপের মধ্যভাগে পৌঁছাতে বাধা দেয়, তবে অংশগুলো...

--------------------------------------------

১. আল-বুলদান ১৫/৩২১-৩২২। "এটি জাহেলী যুগে আরবদের অন্যতম বাজার ছিল এবং কেউ কেউ দাবি করেছেন যে সেখানেই হূদের সম্প্রদায় আদ ধ্বংস হয়েছিল, যা নির্দেশ করে যে এটি আরব ভূখণ্ডের প্রাচীন স্থানগুলোর অন্তর্ভুক্ত।"

২. "ইসতাবলে আনতার" ওয়াহবা: ২- আল-বুলদান ১০/২২৮।

৩. জাওয়াদ আলী ১/৯৮।

৪. ওয়াহবা ৫৪।

৫. বীরুন সাক = সংকীর্ণ ছিদ্রযুক্ত, বলা হয়েছে যে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংকীর্ণভাবে খনন করা কূপ (লিসান ৪০/৪৪)। আল-মাসক ও আল-মাসাক হলো এমন স্থান যা পানি ধরে রাখে (লিসান ১২/৩৭৮)। জাওয়াদ আলী: ১/১০১।

৬. হিততি ৯। জাওয়াদ আলী ১/৮৬।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
الجنوبية كثيرة المطر، تجلبه إليها الرياح الموسمية. ولأهل اليمن عناية بتصريف المياه والانتفاع بها منذ زمن بعيد، وقد أشار القرآن الكريم إلى ما كان في اليمن من حضارة وعمران وخصب ورخاء فقال: {لَقَدْ كَانَ لِسَبَإٍ فِي مَسْكَنِهِمْ آيَةٌ جَنَّتَانِ عَنْ يَمِينٍ وَشِمَالٍ كُلُوا مِنْ رِزْقِ رَبِّكُمْ وَاشْكُرُوا لَهُ بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ} [سبأ] . أما بقية بلاد العرب فتتكون من صحار، وسهول تغلب عليها الطبيعة الصحراوية.

وتدل البحوث والدراسات التي قام بها السياح والعلماء عن بلاد العرب. على أن تغييرًا كبيرًا طرأ على جوها، وأن هذا الجفاف الذي نعهده الآن في هذه البلاد لم يكن على النحو الذي كانت عليه في العصور التي سبقت الإسلام، وأن ذلك الجفاف أثر تأثيرًا كبيرًا في شبه جزيرة العرب. فجعل أكثر بقاعها صحاري جرداء؛ كما أثر في حالة سكانها، فقاوم نشوء المجتمعات الكبرى وأثر تأثيرًا خطيرًا في تاريخ الأمة العربية، وفي حدوث الهجرات1.

ويرى العلماء أن الرياح الغربية الباردة المشبعة بالرطوبة كانت تصل إلى أرض شبه الجزيرة العربية وتنزل المطر عليها، وأن هذه البقاع الصحراوية كانت خضراء آهلة بالسكان، فمثلًا المنطقة الواقعة بين العلا، ومُعان من المناطق الصحراوية الآن، وقد كانت من مناطق الغابات المكتظة بالأشجار المملوءة بالحيوانات المفترسة2.

وكانت جبال الطائف تمون مكة بالأخشاب الصالحة للبناء والوقود؛ كذلك المنطقة الواقعة بين مكة وعرفة كانت حتى القرن السادس عشر الميلادي مغطاة بالأشجار وبالعوسج والسلم، وهي من الشجيرات الصحراوية، وقد عرف وادي القرى -الذي لا بد أن يكون قد سمي بذلك لكثرة القرى فيه -بكثرة بساتينه ومياهه وقراه، وهو طريق عالمي قديم تسلكه القوافل في طريقها بين الشام واليمن، أما اليوم فقد جفت ينابيعه وفقد أكثر قراه، واضطر أهله إلى الهجرة أو إلى المعيشة المتنقلة كما يفعل الأعراب3. كما أن المسافة بين اليمن والشام كانت عامرة بالقرى زاخرة بالحياة، حتى إن المسافر لم يكن في حاجة إلى التزود 4، وقد عبر القرآن الكريم عن ذلك في حديثه

--------------------------------------------

1 جواد علي 1/ 97 وانظر عن تغيير المناخ 1.

Hnzayyin، Aradia and the far East. P.P2-4

2 Op. Cit. P.5

3 البلدان 15/ 338.

4 الإصطخري 21.
দক্ষিণাঞ্চল প্রচুর বৃষ্টিপাত সম্পন্ন, যা মৌসুমি বায়ু বয়ে নিয়ে আসে। সুদূর অতীত থেকেই ইয়েমেনবাসীর পানি নিষ্কাশন ও এর ব্যবহারের প্রতি বিশেষ মনোযোগ ছিল। পবিত্র কুরআন ইয়েমেনের সেই সভ্যতা, নগরায়ন, উর্বরতা ও সচ্ছলতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছে: "অবশ্যই সাবা সম্প্রদায়ের জন্য তাদের বাসস্থানসমূহে এক নিদর্শন ছিল; ডানে ও বামে দুটি উদ্যান। তোমরা তোমাদের রবের দেয়া রিযিক ভোগ করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। এক পবিত্র জনপদ এবং অতি ক্ষমাশীল রব।" [সাবা]। আর আরব ভূখণ্ডের অবশিষ্টাংশ মরুভূমি এবং মরু প্রকৃতির প্রাধান্য থাকা সমভূমি নিয়ে গঠিত।

পর্যটক ও পণ্ডিতদের দ্বারা আরব ভূখণ্ড নিয়ে পরিচালিত গবেষণা ও অধ্যয়নসমূহ নির্দেশ করে যে, এর আবহাওয়ায় এক বিশাল পরিবর্তন ঘটেছে। এই ভূখণ্ডে আমরা বর্তমানে যে শুষ্কতা প্রত্যক্ষ করছি, ইসলাম-পূর্ব যুগগুলোতে তা এমন ছিল না। সেই শুষ্কতা আরব উপদ্বীপে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে, যা এর অধিকাংশ অঞ্চলকে উদ্ভিদহীন ধূ ধূ মরুভূমিতে পরিণত করেছে। এটি অধিবাসীদের অবস্থার ওপরও প্রভাব বিস্তার করেছে, ফলে তা বৃহৎ সমাজ গঠনে বাধা সৃষ্টি করেছে এবং আরব জাতির ইতিহাসে ও বিভিন্ন হিজরতের (দেশান্তরের) ঘটনায় গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।১

পণ্ডিতগণ মনে করেন যে, আর্দ্রতা-সম্পৃক্ত শীতল পশ্চিমা বায়ু আরব উপদ্বীপের ভূখণ্ডে পৌঁছাত এবং সেখানে বৃষ্টিপাত ঘটাত। এই মরু অঞ্চলগুলো তখন শ্যামল এবং জনবসতিপূর্ণ ছিল। উদাহরণস্বরূপ, আল-উলা এবং মু'আন-এর মধ্যবর্তী অঞ্চলটি বর্তমানে মরুভূমি হলেও একসময় তা ছিল ঘন বৃক্ষরাজি এবং হিংস্র প্রাণীতে পরিপূর্ণ বনাঞ্চল।২

তায়েফের পাহাড়গুলো মক্কাকে নির্মাণ এবং জ্বালানির উপযোগী কাঠ সরবরাহ করত। তেমনিভাবে মক্কা ও আরাফাতের মধ্যবর্তী অঞ্চলটিও ১৬শ শতাব্দী পর্যন্ত গাছপালা এবং মরু গুল্ম 'আওসাজ' ও 'সালাম' দ্বারা আবৃত ছিল। 'ওয়াদিউল কুরা'—যার নামকরণ সম্ভবত জনবসতির আধিক্যের কারণেই হয়েছে—প্রচুর বাগান, জলাশয় এবং গ্রামের জন্য সুপরিচিত ছিল। এটি ছিল সিরিয়া ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী কাফেলা যাতায়াতের একটি প্রাচীন আন্তর্জাতিক পথ। তবে বর্তমানে এর ঝর্ণাধারাগুলো শুকিয়ে গেছে এবং অধিকাংশ গ্রাম বিলুপ্ত হয়েছে, যার ফলে এর বাসিন্দারা হিজরত করতে অথবা বেদুঈনদের মতো যাযাবর জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়েছে।৩ একইভাবে ইয়েমেন ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী পথটিও জনবসতি ও প্রাণের স্পন্দনে ভরপুর ছিল, এমনকি যাত্রীদের সাথে পাথেয় নেওয়ার প্রয়োজন হতো না।৪ পবিত্র কুরআন তার বর্ণনায় এ বিষয়টি ব্যক্ত করেছে—

--------------------------------------------

১ জাওয়াদ আলী ১/ ৯৭ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে দেখুন ১।

Hnzayyin, Arabia and the Far East. P.P2-4

২ প্রাগুক্ত, পৃ. ৫

৩ আল-বুলদান ১৫/ ৩৩৮।

৪ আল-ইস্তাখরি ২১।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
على السبئيين: {وَجَعَلْنَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الْقُرَى الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا قُرًى ظَاهِرَةً وَقَدَّرْنَا فِيهَا السَّيْرَ سِيرُوا فِيهَا لَيَالِي وَأَيَّامًا آمِنِينَ} [سبأ] 1. وهناك أمثلة تاريخية كثيرة ذكرت عن أقوام هلكت كعاد وثمود وأصحاب الأيكة2، ومدن ذكرها الكتاب اليونانيون والرومان لم يبق لها أثر، وكتابات عثر عليها السياح في مواضع صحراوية مهجورة3. كل ذلك يدل على مدى التغيير الذي طرأ على بلاد العرب -سواء أكان من الناحية المناخية أم من الناحية الجيولوجية 4- فأدى إلى مقاومة الحضارة، ومنع نشوء المجتمعات الكبرى بها، وحول أراضيها إلى بقاع صحراوية، وطبع الحياة فيها بطابع الرحلة والانعزالية الاجتماعية والسياسية. ويميل كثير من السياح وعلماء طبقات الأرض الذين جابوا أنحاء شبه الجزيرة إلى تأييد القول بظهور الجفاف في الألف الثاني قبل الميلاد5.

--------------------------------------------

1 تفسير النسفي 3/ 247.

2 القرآن الكريم: الفجر: 6- 9. الأعراف: 33-79. الشعراء: 141-159الشمس:11-15.

3 جواد علي: 1/ 115.

4 Huzyyin، oit. P.5

5 جواد علي: نفسه.
সাবা জাতির ব্যাপারে: {এবং আমি তাদের ও সেই জনপদগুলোর মাঝে—যাদের আমি বরকত দান করেছিলাম—দৃশ্যমান অনেক জনপদ স্থাপন করেছিলাম এবং তাতে ভ্রমণের পথ সুনির্ধারিত করেছিলাম; (বলেছিলাম:) তোমরা এগুলোতে রাত ও দিন নিরাপদে ভ্রমণ করো।} [সাবা] ১। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিভিন্ন জাতি যেমন—আদ, সামুদ ও আইকাবাসী সম্পর্কে এমন অনেক ঐতিহাসিক উদাহরণ উল্লেখ করা হয়েছে২, এবং গ্রীক ও রোমান লেখকদের বর্ণিত এমন সব শহর যেগুলোর কোনো চিহ্ন আর অবশিষ্ট নেই এবং মরুভূমির নির্জন স্থানে পর্যটকদের খুঁজে পাওয়া লিপিগুলো৩। এই সবকিছুই আরব ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের ব্যাপকতা নির্দেশ করে—তা জলবায়ুগত দিক থেকে হোক কিংবা ভূ-তাত্ত্বিক দিক থেকে৪—যা সভ্যতা বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল, সেখানে বড় বড় সমাজ গঠনে বাধা দিয়েছিল, এর ভূমিকে মরুপ্রান্তরে পরিণত করেছিল এবং সেখানকার জীবনে যাযাবরবৃত্তি এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ছাপ এঁকে দিয়েছিল। আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন প্রান্ত ভ্রমণকারী অনেক পর্যটক এবং ভূ-তত্ত্ববিদ খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে খরা দেখা দেওয়ার মতটিকে সমর্থন করেন৫।

--------------------------------------------

১ তাফসিরে নাসাফি ৩/ ২৪৭।

২ আল-কুরআনুল কারিম: আল-ফজর: ৬-৯; আল-আ’রাফ: ৩৩-৭৯; আশ-শুআরা: ১৪১-১৫৯; আশ-শামস: ১১-১৫।

৩ জাওয়াদ আলী: ১/ ১১৫।

৪ হুযায়্যিন, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৫।

৫ জাওয়াদ আলী: প্রাগুক্ত।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌‌‌أقسام شبه الجزيرة العربية

قسم العرب جزيرتهم تقسيمًا مسايرًا لطبيعتها الجغرافية إلى خمسة أقسام، وهي: تهامة، والحجاز، ونجد، والعروض، واليمن. وزاد الإصطخري وابن حوقل ثلاثة أصقاع هي بادية العراق، وبادية الجزيرة، وبادية الشام1.

ويجمل الهمداني أقوال الجغرافيين العرب عن هذا التقسيم فيما يلي:-

فصارت بلاد العرب من هذه الجزيرة التي نزولها وتوالدوا فيها على خمسة أقسام عند العرب في أشعارها وأخبارها: تهامة - الحجاز- نجد- العروض- اليمن. وذلك أن جبل السراة، وهو أعظم جبال العرب وأذكرها، أقبل من قعرة اليمن حتى بلغ أطراف الشام، فسمته العرب حجازًا؛ لأنه حجز بين الغور وتهامة وهو هابط، وبين نجد

--------------------------------------------

1 الإصطخري: 20- 21. القلشقشندي: صبح الأعشى 4/ 245.
আরব উপদ্বীপের বিভাগসমূহ

আরবগণ তাদের উপদ্বীপকে তার ভৌগোলিক প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো: তিহামা, হিজাজ, নজদ, আরুজ এবং ইয়ামেন। আল-ইস্তাখরি এবং ইবনে হাওকাল আরও তিনটি অঞ্চল বৃদ্ধি করেছেন, সেগুলো হলো ইরাকের মরুপ্রান্তর, জাজিরার মরুপ্রান্তর এবং শামের মরুপ্রান্তর১।

হামদানি এই বিভক্তি সম্পর্কে আরব ভূগোলবিদদের বক্তব্যসমূহ নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করেছেন:-

ফলে এই উপদ্বীপের অন্তর্গত আরব ভূখণ্ডসমূহ—যেখানে তারা বসবাস ও বংশবিস্তার করত—আরবদের নিকট তাদের কবিতা ও সংবাদসমূহে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে: তিহামা - হিজাজ - নজদ - আরুজ - ইয়ামেন। আর তা এ কারণে যে, সারা পর্বতমালা, যা আরবদের পাহাড়সমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ ও সর্বাধিক পরিচিত, তা ইয়ামেনের গভীর তলদেশ থেকে শুরু হয়ে শামের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আরবরা একে 'হিজাজ' নামকরণ করেছে; কারণ এটি অবনমিত ভূমি আল-গাওর ও তিহামা এবং নজদের মাঝে আড়াল বা ব্যবধান তৈরি করেছে...

--------------------------------------------

১ আল-ইস্তাখরি: ২০- ২১। আল-কালকাশান্দি: সুব্হুল আশা ৪/ ২৪৫।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
وهو ظاهر. فصار ما خلف ذلك الجبل في غربيه إلى أسياف البحر من بلاد الأشعريين وعك وكنانة وغيرها، ودونها إلى ذات عرق والجحفة وما صاقبها وغار من أرضها: الغور؛ غور تهامة، وتهامة تجمع ذلك كله. وصار ما دون ذلك الجبل من شرقيه من صحاري نجد إلى أطراف العراق والسماوة وما يليها: نجدًا، ونجد تجمع ذلك كله.

وصار الجبل نفسه سراته، وهوالحجاز، وما احتجز به في شرقيه من الجبال وانحاز إلى ناحية فيد والجبلين إلى المدينة، وراجعًا إلى أرض مذحج من تثليث وما دونها: حجازًا، والحجاز يجمع ذلك كله.

وصارت بلاد اليمامة والبحرين وما والاهما: العروض، وفيها نجد وغور لقربها من البحر، وانخفاض مواضع منها ومسايل أودية فيها، والعروض يجمع ذلك كله.

وصار ما خلف تثليث وما قاربها إلى صنعاء، وما والاها من البلاد إلى حضرموت والشحر وعمان، وما يلي ذلك: اليمن، وفيها التهائم والنجد. واليمن تجمع ذلك كله.

هذا إجمال تقسيم الجزيرة تقسيمًا طبيعيًّا كما يراه جغرافيو العرب. والقسم الذي يهمنا الحديث عنه في هذا البحث هو الحجاز؛ ولذلك نعرض له بشيء من التفصيل:

--------------------------------------------

1 الهمداني: صفحة 47- 48.
এটি স্পষ্ট। সেই পাহাড়ের পেছনের পশ্চিম দিকের অংশ থেকে আশআরী, আক্ব, কিনানা ও অন্যান্যদের ভূখণ্ডের সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত এলাকা এবং এর নিচুর দিকে যাতু ইরক্ব, জুহফাহ ও তার পার্শ্ববর্তী নিম্নভূমি পর্যন্ত অঞ্চলটি হলো আল-গাউর; যা তিহামার নিম্নভূমি এবং তিহামা এই সমস্ত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে। সেই পাহাড়ের পূর্ব দিকে নজদের মরুভূমি থেকে ইরাকের সীমান্ত, সামাওয়াহ এবং এর সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত অঞ্চলটি হলো নজদ; আর নজদ এই সমস্ত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে।

পাহাড়টি নিজেই এর শীর্ষদেশ (সারাত) এবং এটিই হলো হিজায। এর পূর্ব দিকে যেসব পাহাড় দ্বারা এটি বেষ্টিত এবং যা ফায়দ অঞ্চল ও জাবালায়ন থেকে মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং যা তাসহলিষ থেকে মাজহিজ ভূখণ্ড ও এর নিম্নভূমি পর্যন্ত ফিরে গেছে, তাকে হিজায বলা হয়; আর হিজায এই সমস্ত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইয়ামামা ও বাহরাইন এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো হলো আল-আরূদ। সমুদ্রের নিকটবর্তী হওয়া এবং কিছু স্থানের নিম্নমুখিতা ও সেখানে উপত্যকাসমূহের জলধারা থাকার কারণে এতে উচ্চভূমি (নজদ) ও নিম্নভূমি (গাউর) উভয়ই রয়েছে; আর আল-আরূদ এই সমস্ত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে।

তাসহলিষের পশ্চাৎভাগ ও এর নিকটবর্তী স্থান থেকে সানআ পর্যন্ত এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো থেকে হাজরামাউত, আশ-শিহর ও ওমান এবং এর সংলগ্ন অঞ্চলসমূহ হলো ইয়ামান। এতেও নিম্নভূমি (তিহামা অঞ্চলসমূহ) এবং উচ্চভূমি (নজদ) রয়েছে; আর ইয়ামান এই সমস্ত অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আরব ভূগোলবিদদের দৃষ্টিতে এটি জাযিরাতুল আরবের একটি সামগ্রিক প্রাকৃতিক বিভাজন। এই গবেষণায় আমাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো হিজায; তাই আমরা এর বর্ণনা কিছুটা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করছি:

--------------------------------------------

১. আল-হামদানি: পৃষ্ঠা ৪৭-৪৮।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الحجاز

يقول الجغرافيون العرب: إن الحجاز هو الجبال الحاجزة بين الأرض العالية نجد وبين الساحل الواطئ تهامة، فهو إذن الجبال الممتدة من خليج العقبة إلى عسير. لكن اسم الحجاز في العرف يشمل تهامة أيضًا، وقد عد بعض العلماء تبوك وفلسطين من أرض الحجاز1. طول الحجاز من الشمال إلى الجنوب حوالي 700 ميل، وعرضه من الشرق إلى الغرب 350 ميلًا2. وتعد جبال السراة العمود الفقري لشبه جزيرة العرب. ويجعلها الجغرافيون العرب قاعدة لتقسيماتهم، كما أشرنا من قبل، وتتصل السلاسل بسلسلة جبال الشام المهيمنة على البادية، وبعض قمم هذه الجبال الحجازية

--------------------------------------------

1 البلدان: 3/ 218 "مطبعة السعادة بالقاهرة".

2 وهبة: 14.
হিজাজ

আরব ভৌগোলিকগণ বলেন: হিজাজ হলো সেই সব পাহাড় যা উচ্চভূমি নজদ এবং নিচু উপকূলীয় অঞ্চল তিহামার মধ্যে অন্তরায় হিসেবে বিদ্যমান। সুতরাং এটি হলো আকাবা উপসাগর থেকে আসীর পর্যন্ত বিস্তৃত পর্বতমালা। তবে সাধারণ পরিভাষায় হিজাজ নামটির মধ্যে তিহামাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কোনো কোনো আলেম তাবুক ও ফিলিস্তিনকেও হিজাজের ভূমির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন১। উত্তর থেকে দক্ষিণে হিজাজের দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ মাইল এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর প্রস্থ ৩৫০ মাইল২। আস-সারাত পর্বতমালাকে আরব উপদ্বীপের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আরব ভৌগোলিকগণ একে তাদের ভৌগোলিক বিভাজনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। এই পর্বতশ্রেণিগুলো মরুভূমির ওপর কর্তৃত্বশীল শাম অঞ্চলের পর্বতশ্রেণীর সাথে সংযুক্ত, এবং হিজাজের এই পাহাড়গুলোর কিছু চূড়া...

--------------------------------------------

১ আল-বুলদান: ৩/ ২১৮ "মাতবাআতুস সাআদাহ, কায়রো"।

২ ওয়াহবাহ: ১৪।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২১)
مرتفعة وقد تتساقط الثلوج عليها كجبل دباغ الذي يرتفع 2.300 م عن سطح البحر. وجبل وتر، وجبل شيبان. وتنخفض هذه السلاسل عن دنوها من مكة فتكون القمم في أوطأ ارتفاع لها، ثم تعود بعد ذلك للعلو، فتصل في اليمن إلى مستوى عال حيث تتساقط الثلوج على قممها1. ومن جبال الحجاز الجبال الواقعة في منطقة الطائف ومكة والمدينة، وجبال الطائف يبلغ علوها ستمائة متر، وجبل كَرَا في الطريق بين مكة والطائف ويبلغ علوه مائتي متر. وجبل رضوى بين المدينة وينبع ويرتفع إلى مائتي متر، وقد قال عنه ياقوت: إنه جبل منيف ذو شعاب وأودية، وإنه كثير المياه والأشجار2. وقد ذكر الشعراء جبل رضوى كثيرًا. واتخذه العرب مثلًا للعزة والرسوخ3.

أما منطقة السهول الواقعة بين جبال السراة والبحر الأحمر فهي سهول ضيقة في الغالب، تعرف بتهامة، تتغير في الاتساع من الجنوب إلى الشمال، فتكون عند اليمن حوالي 40 ميلًا، ثم تأخذ في الضيق حتى تبلغ أقصى ضيق لها عند العقبة4، وهذه السواحل حارة رطبة في الغالب غير صحية في بعض الأماكن 5. ويطلق على أقسام التهائم الغور، أو السافلة لانخفاض بقاعها 6، ويقال القسم الشمالي من الحجاز أرض مدين وحَسْمى نسبة إلى سلسلة الجبال المسماة بهذا الاسم 7. وهو ما يلي أيلة إلى الجنوب، وتتخللها أودية محصورة بين التيه وأيلة من جهة، وأرض بني عذرة من ظهر حرة نهيل بقرب خيبر من جهة أخرى. وكانت تسكنها في الجاهلية قبائل جذام 8.

--------------------------------------------

1 حتى: 21. الواسعي: تاريخ اليمن: 80.

2 البلدان: 9/ 51 الإصطخري: 25.

3 قال حسان:

لنا حاضر نعم وماض كأنه

شماريخ رضوى عزة وتكرما

وقال أبو العلاء:

وقد نطحت بالجيش رضوى فلم تنل

ولزت برايات الخميس قباء

4 Twitchell. op. cit. P. 11

5 Ibid. p. 14

6 البلدان: 14/ 217، 5/ 63.

7 البلدان: 7/ 258- 259.

8 نفس المصدر.
উঁচু এবং এগুলোর ওপর তুষারপাতও হতে পারে, যেমন দাব্বাগ পর্বত, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৩০০ মিটার উঁচু। এছাড়া ওয়াতার পর্বত এবং শায়বান পর্বত। এই পর্বতশ্রেণিগুলো মক্কার নিকটবর্তী হওয়ার সময় নিচু হয়ে যায়, ফলে চূড়াগুলো তাদের সর্বনিম্ন উচ্চতায় পৌঁছায়। এরপর সেগুলো পুনরায় উচ্চতা পেতে শুরু করে এবং ইয়ামেনে গিয়ে একটি উচ্চ স্তরে পৌঁছায়, যেখানে এর চূড়াগুলোতে তুষারপাত হয়১। হিজাজের পাহাড়গুলোর মধ্যে রয়েছে তায়েফ, মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে অবস্থিত পাহাড়সমূহ। তায়েফের পাহাড়গুলোর উচ্চতা ছয়শ মিটার। মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী পথে অবস্থিত কারা পর্বতের উচ্চতা দুইশ মিটার। মদিনা ও ইয়ানবুর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত রাদ্বওয়া পর্বত দুইশ মিটার উঁচু। ইয়াকুত এর সম্পর্কে বলেছেন: এটি একটি সুউচ্চ পর্বত যা গিরিপথ ও উপত্যকা বিশিষ্ট, এবং এতে প্রচুর পানি ও গাছপালা রয়েছে২। কবিরা রাদ্বওয়া পর্বতের কথা প্রচুর উল্লেখ করেছেন। আরবরা একে সম্মান ও অটলতার প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছিল৩।

সরাত পর্বতমালা ও লোহিত সাগরের মধ্যবর্তী সমতল অঞ্চলগুলো মূলত সংকীর্ণ সমভূমি, যা তিহামা নামে পরিচিত। এর প্রশস্ততা দক্ষিণ থেকে উত্তরে পরিবর্তিত হয়; ইয়ামেনে এর প্রস্থ প্রায় ৪০ মাইল, এরপর এটি সংকীর্ণ হতে শুরু করে এবং আকাবায় গিয়ে তা চরম সংকীর্ণতায় পৌঁছায়৪। এই উপকূলীয় অঞ্চলগুলো সাধারণত গরম ও আর্দ্র এবং কিছু স্থানে অস্বাস্থ্যকর৫। তিহামার অঞ্চলগুলোকে এর নিম্নভূমির কারণে 'গাওর' বা 'সাফিলা' বলা হয়৬। হিজাজের উত্তর অংশকে মাদয়ান ও হাসমা ভূমি বলা হয়, যা এই নামে অভিহিত পর্বতশ্রেণীর সাথে সম্পর্কিত৭। এটি আয়লার দক্ষিণ দিকের সংলগ্ন এলাকা এবং এর মধ্য দিয়ে এমন কিছু উপত্যকা প্রবাহিত হয়েছে যা একদিকে তিহ্ ও আয়লা এবং অন্যদিকে খায়বারের নিকটবর্তী হাররা নুহাইলের পিছন দিকে বনু উদরা ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী স্থানে সীমাবদ্ধ। জাহেলিয়াত যুগে এখানে জুযাম গোত্র বসবাস করত৮।

--------------------------------------------

১ হাত্তা: ২১। আল-ওয়াসিয়ি: তারিখুল ইয়ামান: ৮০।

২ আল-বুলদান: ৯/ ৫১; আল-ইসতাখরি: ২৫।

৩ হাসসান বলেছেন:

আমাদের বর্তমান ও অতীত সমৃদ্ধ, যা যেন

সম্মান ও মর্যাদায় রাদ্বওয়া পাহাড়ের সুউচ্চ শৃঙ্গ

আবু আল-আলা বলেছেন:

সে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে রাদ্বওয়াকে আঘাত হেনেছিল কিন্তু সফল হতে পারেনি

এবং বৃহস্পতিবারের ঝাণ্ডাসমূহ কুবাকে প্রকম্পিত করে দিয়েছিল

৪ টুইচেল, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১১।

৫ ঐ, পৃষ্ঠা ১৪।

৬ আল-বুলদান: ১৪/ ২১৭, ৫/ ৬৩।

৭ আল-বুলদান: ৭/ ২৫৮- ২৫৯।

৮ একই উৎস।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌أودية الحجاز:

وفي الحجاز أودية تسيل من الحرار صوب الشرق والغرب إلى نجد من ناحية. وتهامة فبحر القلزم -البحر الأحمر- من ناحية أخرى. وأعظم أودية الحجاز وادي إضم، ويسمى اليوم وادي الحمض الذي سبق الإشارة إليه؛ وهو يسيل من الجنوب الشرقي لحرة خيبر، ويسير نحو الجنوب الغربي حتى يقارب يثرب. حيث تتصل به أودية فرعية منها وادي العقيق، ويتصل به كذلك وادي القرى، وهو يستمد مياهه من السيول التي تنحدر إليه من العيون التي عند خيبر، ثم يتجه غربًا حيث يصب في البحر الأحمر جنوب قرية الوجه1. وعند هذا المصب بقايا قرية يونانية قديمة وبقايا معبد يعرف عند الأهالي باسم: كصر كريم2 وهي من بقايا المستعمرات اليونانية التي اتخذها التجار اليونانيون عند ساحل البحر لحماية سفنهم من القرصان وللاتجار مع الأعراب، ولتموين سفنهم بما تحتاج إليه من ماء وزاد. ويبلغ طول وادي الحمض زهاء 900 كيلو متر3.

ويبدأ وادي الرُّمة بالحجاز عند حرة فدك من التقاء بضعة أودية، ثم يتجه نحو الشرق حتى يصل إلى القصيم. ويبلغ طوله أكثر من 950 كيلو مترًا 4.

ومن أودية الحجاز وادي الصفراء، وهو واد كثير النخل والزرع في طريق الحاج سلكه رسول الله صلى الله عليه وسلم غير مرة، وبينه وبين بدر مرحلة، وعليه قرية الصفراء، وهي قرية كثيرة النخل والزرع وماؤها عيون تجري إلى ينبع، وهي لجهينة والأنصار ولبني فهر ونهد ورضوى 5.

ووادي القرى واد مهم يقع بين تيماء وخيبر؛ ويمر به طريق القوافل القديم الذي كان شريانًا من شرايين الحركة التجارية في العالم القديم، ويقال له وادي الديدبان 6.

--------------------------------------------

1 البلدان: 2/ 215، 7/ 305. وهبة: Twitchell. op. cit p.11

2 عن جواد علي: 1/ 100. Morits، S، 23

3 Ibid. 24.

4 البلدان: 9/ 72، ويقال له بطن الرمة. وهبة: 20. الهمداني: 144.

5 الهمداني: 144 البلدان: 12/ 412. وهبة: 15.

6.Daughty، op. oit.vol.l،P، 189
হিজাযের উপত্যকাসমূহ:

হিজাযে এমন কিছু উপত্যকা রয়েছে যা হাররাত (আগ্নেয়গিরির পাথুরে ভূমি) থেকে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে একদিকে নজদ এবং অন্যদিকে তিহামাহ্ হয়ে কুলযুম সাগর তথা লোহিত সাগরের দিকে ধাবিত হয়। হিজাযের সর্ববৃহৎ উপত্যকা হলো ওয়াদি ইদম, বর্তমানে যা ওয়াদি আল-হামদ নামে পরিচিত এবং ইতিপূর্বে এর উল্লেখ করা হয়েছে; এটি খায়বারের হাররাতের দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয় এবং ইয়াসরিবের নিকটবর্তী হয়। সেখানে এর সাথে কিছু শাখা উপত্যকা মিলিত হয়, যার মধ্যে ওয়াদি আল-আকিক অন্যতম। একইভাবে ওয়াদি আল-কুরা-ও এর সাথে যুক্ত হয়, যা খায়বারের ঝরনাগুলো থেকে নেমে আসা প্রবাহ থেকে পানি সংগ্রহ করে। এরপর এটি পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আল-ওয়াজহ গ্রামের দক্ষিণে লোহিত সাগরে পতিত হয়১। এই মোহনায় একটি প্রাচীন গ্রিক গ্রামের ধ্বংসাবশেষ এবং একটি উপাসনালয়ের অবশিষ্টাংশ রয়েছে যা স্থানীয়দের কাছে 'কাসর কারীম' নামে পরিচিত২। এটি সেই গ্রিক উপনিবেশগুলোর অবশিষ্টাংশ যা গ্রিক বণিকরা সমুদ্র উপকূলে তাদের জাহাজগুলোকে জলদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা করতে, বেদুঈনদের সাথে বাণিজ্য করতে এবং তাদের জাহাজে প্রয়োজনীয় পানি ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে গড়ে তুলেছিল। ওয়াদি আল-হামদ এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০০ কিলোমিটার৩।

হিজাযে ওয়াদি আর-রুম্মাহ ফাদাক এর হাররাতে কয়েকটি উপত্যকার মিলনস্থল থেকে শুরু হয়, তারপর এটি পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আল-কাসিম পর্যন্ত পৌঁছায়। এর দৈর্ঘ্য ৯৫০ কিলোমিটারেরও বেশি৪।

হিজাযের উপত্যকাসমূহের মধ্যে ওয়াদি আস-সাফরা অন্যতম। এটি খেজুর গাছ ও শস্যক্ষেতে সমৃদ্ধ একটি উপত্যকা যা হাজীদের যাতায়াতের পথে অবস্থিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিকবার এই পথ ব্যবহার করেছেন। এটি এবং বদরের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক মনযিল। এখানে আস-সাফরা গ্রাম অবস্থিত, যা প্রচুর খেজুর গাছ ও ফসলে সমৃদ্ধ এবং এর ঝরনার পানি ইয়ানবু পর্যন্ত প্রবাহিত হয়। এটি জুহাইনা, আনসার, বনু ফিহর, নাহদ ও রাদওয়া গোত্রের মালিকানাধীন৫।

ওয়াদি আল-কুরা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপত্যকা যা তায়মা ও খায়বারের মাঝে অবস্থিত; এর মধ্য দিয়ে প্রাচীন বাণিজ্য কাফেলার পথ অতিক্রম করেছে যা ছিল প্রাচীন বিশ্বের বাণিজ্যিক চলাচলের অন্যতম প্রধান ধমনী। একে ওয়াদি আদ-দাইদাবানও বলা হয়৬।

--------------------------------------------

১. আল-বুলদান: ২/২১৫, ৭/৩০৫। ওয়াহবাহ: টুইচেল, প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ১১।

২. জাওয়াদ আলী থেকে: ১/১০০। মরিস, এস., ২৩।

৩. প্রাগুক্ত, ২৪।

৪. আল-বুলদান: ৯/৭২, একে বাতান আল-রুম্মাহ বলা হয়। ওয়াহবাহ: ২০। আল-হামদানি: ১৪৪।

৫. আল-হামদানি: ১৪৪। আল-বুলদান: ১২/৪১২। ওয়াহবাহ: ১৫।

৬.ডাউটি, প্রাগুক্ত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৯।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
وكان عامرًا جدًّا تكثر فيه المياه، وتشاهد فيه إلى اليوم آثار المدن والقرى1، التي كانت متصلة على طول الطريق من سبأ إلى الشام2، وقدعثر فيه على كتابات كثيرة لِحيانية ومعينية وسبئية وغيرها3.

--------------------------------------------

1 البلدان: 15/ 338، 19، 345.

2 انظر الآية 18 من سورة سبأ.

3 جواد علي: 1/ 130.
এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ জনপদ ছিল এবং সেখানে পানির প্রাচুর্য ছিল। আজও সেখানে সেসমস্ত শহর ও গ্রামের ধ্বংসাবশেষ পরিলক্ষিত হয়১, যা সাবা থেকে শাম পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ পথজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত ছিল২। সেখানে প্রচুর লিহইয়ানি, মুঈনি, সাবায়ী এবং অন্যান্য শিলালিপি পাওয়া গিয়েছে৩।

--------------------------------------------

১ আল-বুলদান: ১৫/ ৩৩৮, ১৯, ৩৪৫।

২ সূরা সাবার ১৮ নম্বর আয়াত দেখুন।

৩ জাওয়াদ আলী: ১/ ১৩০।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌مدن الحجاز:

ويشتمل الحجاز على مدن وقرى كثيرة أهمها مصرًا بلاد العرب: مكة والمدينة أويثرب، كما توجد به الطائف وخيبر، ووادي القرى.

والاعتبارات الجغرافية والاقتصادية هي التي ساعدت على نشوء هذه المدن الحجازية فالحجاز -كما قلنا- إقليم جبلي مساير للبحر الأحمر من الجنوب إلى الشمال، من اليمن إلى فلسطين، وكان يمر به أحد طريقي التجارة البريين الهاميين بين الشرق والغرب مبتدئًا من مواني اليمن مخترقًا تهامة والحجاز، مارًّا بمكة ويثرب. حتى يصل إلى أيلة على خليج العقبة، ثم مواني البحر المتوسط. والتجارة بين الشرق والغرب هامة جدًّا وضرورية، وذلك لاختلاف المناخ بين أقطار الشرق الهندي والغرب الأوربي، مما استتبع اختلاف الغلات وحاجة كل منهما إلى منتجات الآخر، وفي هذا نجد سر الأهمية الكبيرة التي اتفقت لِتَدْمُر المدينة القديمة الواقعة في البادية، فكانت تحمي القوافل وتضمن سلامة المواصلات1. وأصبح العرب، بعد أن خرب الرومان تدمر، سادة مطلقين لتلك الطرق بالتدريج، وقد أعانهم معرفتهم بالبادية ودروبها وتعودهم الحياة فيها، على أن يتصرفوا تصرف السادة في تلك البقاع بلا منازع، كما مكنتهم تربيتهم للإبل -وهي الحيوان الوحيد القادر على السير في الصحراء مدة طويلة- من نقل المتاجر والقيام على تنظيم القوافل؛ والإبل معروفة منذ أقدم الأزمنة التاريخية

--------------------------------------------

1 جورج فضلو: الملاحة في المحيط الهندي: 58.
হিজাজের শহরসমূহ:

হিজাজ অনেকগুলো শহর ও গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত, যার মধ্যে আরব ভূখণ্ডের প্রধান শহরগুলো হলো: মক্কা এবং মদিনা বা ইয়াসরিব। এছাড়াও সেখানে রয়েছে তায়েফ, খায়বার এবং ওয়াদিল কুরা।

ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলোই এই হিজাজি শহরগুলোর বিকাশে সহায়তা করেছিল। হিজাজ—যেমনটি আমরা বলেছি—লোহিত সাগরের সমান্তরালে দক্ষিণ থেকে উত্তরে, ইয়ামেন থেকে ফিলিস্তিন পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পার্বত্য অঞ্চল। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্থল বাণিজ্য পথের একটি এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করত, যা ইয়ামেনের বন্দরসমূহ থেকে শুরু হয়ে তিহামা ও হিজাজ ভেদ করে মক্কা ও ইয়াসরিবের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতো; এমনকি তা আকাবা উপসাগরের তীরে অবস্থিত আয়লা এবং এরপর ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরসমূহ পর্যন্ত পৌঁছে যেত। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যকার বাণিজ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ছিল, আর এর কারণ ছিল ভারতীয় প্রাচ্য এবং ইউরোপীয় পাশ্চাত্যের দেশগুলোর মধ্যে জলবায়ুর ভিন্নতা। এর ফলে ফসলের বৈচিত্র্য দেখা দিত এবং উভয়েই একে অপরের পণ্যের মুখাপেক্ষী ছিল। এর মধ্যেই আমরা সেই রহস্য খুঁজে পাই যার কারণে মরুপ্রান্তরে অবস্থিত প্রাচীন শহর 'পালমিরা' (তাদমুর) অত্যন্ত গুরুত্ব লাভ করেছিল; কারণ এটি কাফেলাগুলোকে রক্ষা করত এবং যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত।১ রোমানরা পালমিরা ধ্বংস করার পর আরবরা ক্রমান্বয়ে সেই পথগুলোর একচ্ছত্র অধিপতিতে পরিণত হয়। মরুভূমি ও এর পথসমূহ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান এবং সেখানে জীবনযাপনে অভ্যস্ততা তাদের সেই স্থানগুলোতে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কর্তাসুলভ আচরণ করতে সহায়তা করেছিল। পাশাপাশি উট পালন—যা মরুভূমিতে দীর্ঘ সময় চলতে সক্ষম একমাত্র প্রাণী—তাদের পণ্য পরিবহন ও কাফেলা পরিচালনার সক্ষমতা দান করেছিল; আর উট প্রাচীনতম ঐতিহাসিক কাল থেকেই সুপরিচিত।

--------------------------------------------

১ জর্জ ফাদলো: ভারত মহাসাগরে নৌ-চলাচল: ৫৮।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
في الجزيرة العربية؛ فقد وجدت رسومها على النقوش1. وتحدثت عنها التوراة2. وتنظيم القوافل استتبع اتخاذ محطات ومنازل لإراحتها وتزويدها بما تحتاج إليه من ماء. ومن البديهي أنه عندما تريد قافلة أن تنزل لتريح دوابها، لابد أن تختار مكانًا مناسبًا يتوافر فيه الخصب والماء لتجد الإبل ما تطعمه ولتتزود القافلة بالماء، كذلك يتوفر فيه حصانة الموقع حتى تطمئن إلى حراسة الأموال والتجارة التي معها. وعلى مر الزمن صارت محطات هذه القوافل ومنازلها مدنًا شيئًا فشيئًا، وكانت أغلب هذه المدن في الحجاز، وأهمها:

--------------------------------------------

1 انظر جواد علي ج1 النقش بين صفحتي 392- 393، ج20 بين ص 298- 299، 302- 303.

2 التوراة: سفر القضاء إصحاح: 5-6.
আরব উপদ্বীপে; শিলালিপিগুলোতে এর চিত্র পাওয়া গিয়েছে১। তাওরাতেও এ সম্পর্কে আলোচনা এসেছে২। কাফেলা পরিচালনার ফলে সেগুলোর বিশ্রাম এবং প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের উদ্দেশ্যে বিশ্রামস্থল ও আবাসন নির্ধারণ করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, যখন কোনো কাফেলা তাদের পশুদের বিশ্রামের জন্য অবতরণ করতে চাইত, তখন তাদের অবশ্যই এমন একটি উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করতে হতো যেখানে উর্বরতা ও পানি বিদ্যমান থাকে, যাতে উটগুলো খাদ্য পায় এবং কাফেলা পানি সংগ্রহ করতে পারে। একইভাবে স্থানের নিরাপত্তা থাকাও জরুরি ছিল যাতে তারা তাদের সাথে থাকা সম্পদ ও ব্যবসায়ের নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে। সময়ের আবর্তনে এই কাফেলাগুলোর বিশ্রামস্থল ও আবাসনগুলো ধীরে ধীরে শহরে পরিণত হয়। আর এই শহরগুলোর অধিকাংশ ছিল হিজাজে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

--------------------------------------------

১ দেখুন জাওয়াদ আলী, ১ম খণ্ড, ৩৯২-৩৯৩ পৃষ্ঠার মধ্যবর্তী শিলালিপি; ২০তম খণ্ড, ২৯৮-২৯৯ ও ৩০২-৩০৩ পৃষ্ঠার মধ্যবর্তী অংশ।

২ তাওরাত: বিচারকর্তৃগণের পুস্তক, অধ্যায়: ৫-৬।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌مكة:

وتقع في واد على شكل سهل منبسط محاط بجبال ذات شعاب1 تحيط بالوادي إحاطة كاملة. وقد أغنت على مر الزمن عن بناء سور لحماية المدينة. فمن الممكن للقافلة التي تنزل في هذه البقعة أن تتحصن في هذه الشعاب بواسطة حراسها، كما يوجد بها بئر يستقي منه المسافر وهو بئر زمزم. وبمكة وجد البيت الحرام الذي عاصر أولية هذه المدينة بل إنه -كما تقول الروايات- هو أول بناء فيها، وقد أكسبها حرمة وقدسية وجعلها مهوى أفئدة العرب جميعًا، الأمر الذي ضمن لها التفوق على غيرها من مدن الحجاز. وإذن فكل ما تتطلبه القافلة المسافرة في بلاد قاحلة متوافر فيها.

--------------------------------------------

1 الإصطخري: 21. البلدان 18/ 181- 188. وهبة: 23.
মক্কা:

এটি একটি গিরিপথবিশিষ্ট পাহাড় দ্বারা পরিবেষ্টিত সমতল উপত্যকায় অবস্থিত। ১ পাহাড়গুলো উপত্যকাটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে ঘিরে রেখেছে, যা কালক্রমে শহরটি রক্ষার জন্য কোনো সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দূর করেছে। ফলে এই স্থানে অবস্থানকারী কাফেলার পক্ষে তাদের প্রহরীদের মাধ্যমে এই গিরিপথগুলোতে সুরক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হতো। তদুপরি এখানে একটি কূয়া রয়েছে যেখান থেকে মুসাফিররা পানি পান করে, আর তা হলো যমযম কূয়া। মক্কায় বাইতুল হারাম বিদ্যমান যা এই শহরের সূচনালগ্নের সমসাময়িক, বরং বর্ণনা অনুযায়ী এটিই এই শহরের সর্বপ্রথম স্থাপনা। আর এটি শহরটিকে অনন্য মর্যাদা ও পবিত্রতা দান করেছে এবং একে সমস্ত আরবের হৃদয়ের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। যা হিজাজের অন্যান্য শহরের তুলনায় এর শ্রেষ্ঠত্ব সুনিশ্চিত করেছে। সুতরাং একটি শুষ্ক মরু প্রান্তরে ভ্রমণকারী কাফেলার জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তার সবকিছুই এখানে বিদ্যমান।

--------------------------------------------

১ আল-ইসতাখরি: ২১। আল-বুলদান ১৮/ ১৮১-১৮৮। ওয়াহবাহ: ২৩।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌الطائف:

وتقع على بعد خمسة وسبعين ميلًا إلى الجنوب الشرقي من مكة، على ربوة عالية يبلغ ارتفاعها عن سطح البحر خمسة آلاف قدم، على ظهر جبل غزوان1. وتحف بها وديان كثيرة تسيل فيها المياه في موسم الأمطار، وحولها عيون وآبار كثيرة، وهي خصيبة تنبت الأشجار والفواكه والحبوب إلى الوقت الحاضر، كما أن جوها لطيف بالنسبة لعلوها، فاعتدال الجو وخصوبة التربة حببا إلى المسافر أن ينزل فيها وإلى المستعمر أن ينتجعها.

--------------------------------------------

1 البلدان: 13/ 9 الإصطخري: 24 وهبة: 35.
আত-তায়েফ:

এবং এটি মক্কার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পঁচাত্তর মাইল দূরে, গাজওয়ান পাহাড়ের পৃষ্ঠদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পাঁচ হাজার ফুট উচ্চতায় একটি উঁচু টিলার ওপর অবস্থিত।১ এটি অসংখ্য উপত্যকা দ্বারা বেষ্টিত যেখানে বর্ষাকালে পানি প্রবাহিত হয়। এর চারপাশে রয়েছে অনেক ঝরনা ও কূপ। এটি একটি উর্বর অঞ্চল যেখানে বর্তমান সময় পর্যন্ত গাছপালা, ফলমূল এবং শস্য উৎপাদিত হয়। উচ্চতার কারণে এর আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম। আবহাওয়ার ভারসাম্য এবং মাটির উর্বরতা একে ভ্রমণকারীদের কাছে অবস্থানের এবং বসতি স্থাপনকারীদের কাছে বসবাসের জন্য প্রিয় করে তুলেছে।

--------------------------------------------

১. আল-বুলদান: ১৩/৯; আল-ইসতাখরি: ২৪; ওয়াহবাহ: ৩৫।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌يثرب:

وتقع على بعد ثلاثمائة ميل إلى الشمال من مكة، كما تبعد ينبع عن مينائها على البحر الأحمر مائة وثلاثين ميلًا1. وهي في أرض بركانية بين حرتين، وقد اشتهرت بالخصب والنماء، وفي شمالها جبل أحد. ومن أوديتها وادي العقيق الذي تصب فيه مياه عذبة، كما أن المزارع تحيط بها من جميع الجهات ماعدا الجهة الغربية2 والمسافر يجد فيها كما يجد المقيم حاجته من زاد وأمن.

ونحن لا نستطيع تحديد أولية هذه المدن فهي من أقدم العصور، ولا شك أن التجارة كان لها شأن كبير في إقامة هذه المدن وظهورها، وخاصة مكة التي تعتمد اعتمادًا كليًّا في حياتها على ما يجلب لها من الخارج لعدم وجود الزراعة بها، فموقع الحجاز بين الشام واليمن، وكونه ممرًّا واستراحة للقوافل، ساعد على أن تقوم به هذه المدن التجارية. وفي أجزاء كثيرة من العالم، في أوربا وأفريقيا وآسيا عرف التاريخ مدنًا قامت للتجارة، وكانت كل مدينة من هذه المدن ذات نظام سياسي مستقل، عرف في التاريخ باسم الدول المدينية.

وأظهر مثل لهذه الدولة المدينية، المدن اليونانية في التاريخ القديم، والمدن الإيطالية في العصور الوسطى مثل: جنوه، والبندقية، وفلورنسة.

وكانت مكة والمدينة -يثرب- من هذا النوع من المدن. وكانت مكة لموقعها المتوسط بين الشام واليمن3، وعلى طريق التجارة، مركزًا هامًّا جدًّا، بل إنها في القرن السادس الميلادي كانت أهم المراكز التجارية في شبه جزيرة العرب4، وأما المدينة -يثرب- فلا بد من أنها كانت منافسة لمكة لوقوعها على نفس الطريق، غير أن وحدة السكان في مكة ووجود البيت الحرام بها، جعلها أقدر من يثرب على التفوق التجاري والثقافي وأظهر في التنظيم الإداري -كما سوف نبين فيما بعد- وإن كانت

--------------------------------------------

1 البلدان: 17/ 82- 88. الإصطخري: 23. وهبة: 16. ،Twitchsll op. cit، p.12

2 البتنوني: الرحلة الحجازية: 161.

3 البلدان: 18/ 187.

4 Husayyin، op. cit. p. 142- 143
ইয়াসরিব:

এটি মক্কার তিনশ মাইল উত্তরে অবস্থিত, একইভাবে ইয়ানবু তার লোহিত সাগরের বন্দর থেকে একশ ত্রিশ মাইল দূরে অবস্থিত।১ এটি দুটি আগ্নেয় পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী এক আগ্নেয়গিরি-সৃষ্ট অঞ্চলে অবস্থিত। এটি উর্বরতা ও প্রবৃদ্ধির জন্য প্রসিদ্ধ ছিল এবং এর উত্তরে উহুদ পাহাড় অবস্থিত। এর উপত্যকাগুলোর মধ্যে ওয়াদিউল আকিক অন্যতম, যেখানে সুপেয় পানি প্রবাহিত হয়। পশ্চিম দিক ব্যতীত সব দিক থেকেই এটি কৃষিজমি দ্বারা পরিবেষ্টিত।২ এখানে মুসাফির ও স্থায়ী অধিবাসী উভয়েই তাদের প্রয়োজনীয় রসদ ও নিরাপত্তা খুঁজে পায়।

আমরা এই শহরগুলোর আদি উৎস নির্দিষ্ট করতে পারি না, কারণ এগুলো প্রাচীনতম যুগের। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই শহরগুলোর প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে বাণিজ্যের এক বিশাল ভূমিকা ছিল; বিশেষ করে মক্কার ক্ষেত্রে, যা তার জীবনধারণের জন্য সম্পূর্ণভাবে বাইরে থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল, কারণ সেখানে কোনো কৃষি ছিল না। শাম ও ইয়ামানের মধ্যবর্তী হিজাজের ভৌগোলিক অবস্থান এবং কাফেলাগুলোর যাতায়াতের পথ ও বিশ্রামস্থল হওয়ার বিষয়টি এই বাণিজ্যিক শহরগুলো গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। বিশ্বের অনেক অংশে—ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায়—ইতিহাস এমন অনেক শহরের পরিচয় পেয়েছে যা বাণিজ্যের জন্য গড়ে উঠেছিল। এই শহরগুলোর প্রতিটি ছিল স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধিকারী, যা ইতিহাসে 'নগর-রাষ্ট্র' নামে পরিচিত ছিল।

এই নগর-রাষ্ট্রগুলোর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো প্রাচীন ইতিহাসের গ্রিক শহরগুলো এবং মধ্যযুগের ইতালীয় শহরগুলো যেমন: জেনোয়া, ভেনিস ও ফ্লোরেন্স।

মক্কা ও মদিনা (ইয়াসরিব) ছিল এই ধরনের শহর। শাম ও ইয়ামানের মধ্যবর্তী স্থানে এবং বাণিজ্য পথের ওপর অবস্থিত হওয়ার কারণে মক্কা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। এমনকি ষষ্ঠ শতাব্দীতে এটি আরব উপদ্বীপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। আর মদিনা (ইয়াসরিব) অবশ্যই মক্কার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল, যেহেতু এটি একই পথের ওপর অবস্থিত ছিল। তবে মক্কার জনসংখ্যার একতা এবং সেখানে বাইতুল হারামের (পবিত্র কাবা) অবস্থান একে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বে ইয়াসরিবের চেয়ে অধিক সক্ষম করে তুলেছিল এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় আরও স্পষ্ট করে তুলেছিল—যেমনটি আমরা পরবর্তীতে বর্ণনা করব—যদিও...

--------------------------------------------

১ আল-বুলদান: ১৭/ ৮২- ৮৮। আল-ইসতাখরি: ২৩। ওয়াহবা: ১৬। টুইচেল, প্রাগুক্ত, পৃ. ১২।

২ আল-বাতনুনী: আর-রিহলাতুল হিজাজিয়্যাহ: ১৬১।

৩ আল-বুলদান: ১৮/ ১৮৭।

৪ হুসাইন, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৪২- ১৪৩।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
يثرب تتفوق من الناحية الزراعية لوجود زراعات حولها تعتمد على العيون الكثيرة1، على أن المدينتين غير قادرتين بمواردهما الخاصة على إعاشة سكانهما؛ فهما يجلبان الميرة من المدينتين الواقعتين على ساحل البحر الأحمر والصالحتين لتكونا مرأفين لهما، وهما ينبع ميناء المدينة وجدة ميناء مكة.

--------------------------------------------

1 البلاذري: فتوح البلدان: 1/ 12- 16.
ইয়াসরিব কৃষিগত দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে, কারণ এর চারপাশে এমন কৃষিব্যবস্থা বিদ্যমান যা অসংখ্য ঝরনার ওপর নির্ভরশীল১; তবে শহর দুটি তাদের নিজস্ব সম্পদের মাধ্যমে তাদের বাসিন্দাদের ভরণপোষণে সক্ষম নয়। তাই তারা লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত এবং তাদের জন্য বন্দর হিসেবে উপযুক্ত এমন দুটি শহর থেকে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে থাকে; আর সেগুলো হলো মদিনার বন্দর ইয়ানবু এবং মক্কার বন্দর জেদ্দা।

--------------------------------------------

১ আল-বালাজুরি: ফুতুহু আল-বুলদান: ১/ ১২- ১৬।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المناخ:

وتختلف مناطق الحجاز من الناحية المناخية، كما تختلف من الناحية الطبيعية؛ فهناك مناطق جدباء شديدة الحرارة شحيحة المياه، محاطة بالجبال يعيش أهلها على ما يجلب إليها من الرزق جلبًا من الخارج، ومن هذه المناطق منطقة مكة التي تقوم في واد غير ذي زرع1 والتي كانت تعتمد في حياتها على ما يجلب إليها من الخارج، وكان أهلها يرون في حرمة البيت الحرام الذي يقوم فيها، وهوى أفئدة الناس إليهم، سبب معاشهم وأمنهم وحرمتهم؛ ولذلك لم يسرعوا إلى متابعة محمد صلى الله عليه وسلم لما بعث فيهم نبيًّا يدعو إلى الإسلام، مخافة حرمانهم من هذه الميزات التي يستمتعون بها {وَقَالُوا إِنْ نَتَّبِعِ الْهُدَى مَعَكَ نُتَخَطَّفْ مِنْ أَرْضِنَا أَوَلَمْ نُمَكِّنْ لَهُمْ حَرَمًا آمِنًا يُجْبَى إِلَيْهِ ثَمَرَاتُ كُلِّ شَيْءٍ رِزْقًا مِنْ لَدُنَّا} [القصص] .

كما أنها كانت شديدة الحرارة يهرع أهلها إلى الظلال وإلى أكنان الجبال التي تحيط بها يحتمون بها من الحر2، وهذا ما أعطى أهمية كبرى لجبال مكة. كذلك كانت مكة شحيحة المياه، وهذا ما جعل مهمة السقاية، وهي توفير الماء للحجاج، فضيلة عظيمة في نظر أهلها3، وهذا يجعلنا ندرك الحفاوة البالغة التي أسبغت على رواية حفر بئر زمزم بها4.

--------------------------------------------

1 انظر الآية 37 من سورة إبراهيم.

2 انظر الآية 81 من سورة النحل.

3 انظر الآية 19 من سورة التوبة.

4 ابن هشام: 1/ 121- 123، 145- 164.
জলবায়ু:

হিজাজ অঞ্চলের এলাকাগুলো জলবায়ুর দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন, ঠিক যেমন তারা প্রাকৃতিক গঠনের দিক থেকেও স্বতন্ত্র। সেখানে এমন কিছু ঊষর অঞ্চল রয়েছে যা প্রচণ্ড উত্তপ্ত এবং পানির চরম সংকটে ভোগে, যে এলাকাগুলো পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত এবং সেখানকার অধিবাসীরা বাইরে থেকে আনীত জীবনোপকরণের ওপর নির্ভর করে জীবনযাপন করে। মক্কা এমন একটি অঞ্চল যা একটি চাষাবাদহীন উপত্যকায় অবস্থিত১ এবং যা তার জীবনধারণের জন্য বাইরে থেকে আমদানিকৃত সামগ্রীর ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেখানকার অধিবাসীরা তাদের অঞ্চলে অবস্থিত পবিত্র কাবার মর্যাদা এবং তাদের প্রতি মানুষের হৃদয়ের টানকে তাদের জীবিকা, নিরাপত্তা ও সম্মানের মূল কারণ মনে করত। এ কারণেই তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণে দ্রুত এগিয়ে আসেনি যখন তিনি নবী হিসেবে প্রেরিত হয়ে ইসলামের দিকে আহ্বান করছিলেন; তারা আশঙ্কা করেছিল যে তারা ভোগ করছে এমন সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। তারা বলেছিল: "আমরা যদি আপনার সাথে হিদায়াতের অনুসরণ করি, তবে আমাদেরকে আমাদের ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করা হবে।" আল্লাহ তাআলা এর জবাবে বলেন: "আমি কি তাদের জন্য একটি নিরাপদ হারাম (পবিত্র স্থান) প্রতিষ্ঠিত করিনি, যেখানে আমার পক্ষ থেকে রিযিক হিসেবে সর্বপ্রকার ফলমূল আনা হয়?" [কাসাস]।

অনুরূপভাবে মক্কা ছিল প্রচণ্ড উত্তপ্ত, ফলে এর অধিবাসীরা ছায়ার সন্ধানে এবং একে ঘিরে থাকা পাহাড়ের গুহাগুলোতে গরম থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিত২, যা মক্কার পাহাড়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে। তেমনিভাবে মক্কায় পানির তীব্র সংকট ছিল, আর এ কারণেই হাজীদের জন্য পানি সরবরাহের দায়িত্ব তথা 'সিকায়া' পালন করা সেখানকার অধিবাসীদের দৃষ্টিতে এক মহান পুণ্য হিসেবে বিবেচিত হতো৩। এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করে যে, কেন সেখানে জমজম কূপ খননের বর্ণনার ওপর এতখানি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে৪।

--------------------------------------------

১. সূরা ইবরাহীমের ৩৭ নম্বর আয়াত দেখুন।

২. সূরা নাহলের ৮১ নম্বর আয়াত দেখুন।

৩. সূরা তাওবাহর ১৯ নম্বর আয়াত দেখুন।

৪. ইবনে হিশাম: ১/ ১২১- ১২৩, ১৪৫- ১৬৪।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
على أنه كانت هناك أجزاء أخرى تجود فيها التربة وتنزل الأمطار التي قد يبلغ من غزارتها أن تتوالى الصواعق وتتهدم البيوت1 وتخرب الطرق. وتنبت من كل زوج وصنف من الزروع والأشجار، وقد تحدث القرآن الكريم في آيات عديدة منوهًا بما ينزل الله من الأمطار ويفجر من العيون، وما ينبت من الزروع والأشجار من أعناب ونخيل ورومان وزيتون وحبوب وكلأ {وَهُوَ الَّذِي أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ فَأَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِرًا نُخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُتَرَاكِبًا وَمِنَ النَّخْلِ مِنْ طَلْعِهَا قِنْوَانٌ دَانِيَةٌ وَجَنَّاتٍ مِنْ أَعْنَابٍ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُشْتَبِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ انظُرُوا إِلَى ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَيَنْعِهِ} 2 [الأنعام] وهذه الآيات يوجهها القرآن ويخاطب بها أهل الحجاز بل وأهل مكة في الدرجة الأولى، وهي تشير إلى ما كان في الحجاز نفسه، وفي الأنحاء المجاورة لمكة بنوع خاص، من مناطق تجود فيها التربة وتغزر الأمطار وينبت الزرع والأشجار، والآيات وإن لم تعين هذه المناطق كما عينت منطقة مكة بالبيت الحرام، فإنها معينة واقعيًا وهي الطائف وأرباضها، والوديان التي بين مكة وجدة، ويثرب3 وأرباضها، فهذه المناطق لا تزال تحتفظ إلى الآن بكثير من الينابيع4 والوديان وتتمتع بخضرة السهول وجنات النخيل والأعناب ومختلف الفواكه والزروع.

إلا أن الجفاف الذي لحق بلاد العرب جميعًا -والحجاز منها- قد جعل أغلب أراضيها صحراء جرداء، وباعد بين مراكز الاستقرار بها. وقد أثر ذلك تأثيرًا كبيرًا على الحياة الاجتماعية، والسياسية في شبه الجزيرة العربية، وعاق نشر المجتمعات الكبرى بها، ومن ثم اعتمدت في حياتها السياسية والاجتماعية على النظام القبلي، سواء في البادية، أو في البلاد التي قامت بها ممالك وحكومات منظمة، أو في المدن السياسية City states التي نشأت على طرق التجارة مثل مكة والمدينة، وأصبحت القبيلة هي وحدة المجتمع العربي بوجه عام.

--------------------------------------------

1 البخاري 4/ 195 الأغاني 2/ 323، 327. هيكل: في منزل الوحي: 413.

2 وانظر أيضًا: الأنعام: 141، والنحل 10، 11 والمؤمنون 18، 19، والروم 48- 51، ويس 33- 34، وق 7- 11، والواقعة 63- 70، وعبس 24- 32. وكل هذه الآيات مكية.

3 عن الطائف انظر البلدان 13/ 09 عن يثرب 17/ 72 وما بعدها.

4 البلاذري 1/ 16، 17 انظر عن خصب مكة: أسد الغابة1/ 101.
তদুপরি এমন অন্যান্য অঞ্চলও ছিল যেখানে মাটি উর্বর ছিল এবং সেখানে এমন প্রবল বৃষ্টিপাত হতো যার তীব্রতায় ঘনঘন বজ্রপাত ঘটত, ঘরবাড়ি ধসে পড়ত এবং রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যেত। সেখানে জোড়ায় জোড়ায় এবং বিভিন্ন প্রকারের শস্য ও বৃক্ষ উৎপন্ন হতো। পবিত্র কুরআন বহু আয়াতে আল্লাহ যা বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং যে সকল ঝরনাধারা প্রবাহিত করেন, আর যা কিছু শস্য ও বৃক্ষ যেমন আঙ্গুর, খেজুর, ডালিম, জয়তুন, খাদ্যশস্য ও তৃণলতা উৎপন্ন করেন, সেগুলোর উল্লেখ ও প্রশংসা করেছে। "আর তিনিই সেই সত্তা যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দিয়ে আমি সব ধরনের উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি। তারপর আমি তা থেকে সবুজ চারা বের করেছি, যা থেকে আমি ঘন সন্নিবিষ্ট শস্যদানা উৎপাদন করি এবং খেজুর গাছের মোচা থেকে ঝুলন্ত থোকা বের করি, আর আঙ্গুরের বাগান এবং জয়তুন ও ডালিমও (সৃষ্টি করেছি), যা একে অপরের সদৃশ এবং বিসদৃশও বটে। তোমরা এর ফলের দিকে তাকাও যখন তা ফলবান হয় এবং তার পাকার অবস্থার দিকেও।" [আল-আনআম] এই আয়াতগুলো কুরআন হিজাযবাসী বিশেষ করে মক্কাবাসীদের প্রথম সারিতে রেখে তাদের উদ্দেশ্য করে অবতীর্ণ করেছে। এগুলো খোদ হিজাযে এবং বিশেষ করে মক্কার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে বিদ্যমান উর্বর মাটি, প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং শস্য ও বৃক্ষ জন্মানোর এলাকাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে। যদিও আয়াতগুলোতে এই অঞ্চলগুলোর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি যেভাবে বায়তুল হারামের মাধ্যমে মক্কা অঞ্চলকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তবুও বাস্তবিকভাবে এগুলো সুনির্ধারিত। যেমন তায়েফ ও এর উপশহরসমূহ, মক্কা ও জেদ্দার মধ্যবর্তী উপত্যকাসমূহ এবং ইয়াসরিব ও এর আশপাশের এলাকা। এই অঞ্চলগুলো এখনও অনেক ঝরনা ও উপত্যকা ধরে রেখেছে এবং সমভূমির সবুজ শ্যামলতা, খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং বিভিন্ন ফল ও শস্যের প্রাচুর্য উপভোগ করছে।

তবে সমগ্র আরব ভূখণ্ড—যার অন্তর্ভুক্ত হিজাযও—যে খরার কবলে পড়েছিল, তা এর অধিকাংশ ভূমিকে ধূ ধূ মরুভূমিতে পরিণত করেছে এবং জনবসতির কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। এটি আরব উপদ্বীপের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে এবং সেখানে বড় বড় সমাজ গড়ে ওঠার অন্তরায় হয়েছে। ফলে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবন গোত্রীয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, চাই তা মরুভূমি হোক কিংবা সেই সব অঞ্চল যেখানে সুসংগঠিত রাজ্য ও সরকার প্রতিষ্ঠিত ছিল, অথবা সেই সব নগর-রাষ্ট্র যা বাণিজ্যিক পথে গড়ে উঠেছিল যেমন মক্কা ও মদিনা। আর গোত্রই হয়ে ওঠে সাধারণভাবে আরব সমাজের একক।

--------------------------------------------

১. আল-বুখারি ৪/ ১৯৫; আল-আগানি ২/ ৩২৩, ৩২৭। হাইকাল: ফী মানযিলিল ওয়াহী: ৪১৩।

২. আরও দেখুন: আল-আনআম: ১৪১; আন-নাহল: ১০, ১১; আল-মুমিনুন: ১৮, ১৯; আর-রুম: ৪৮- ৫১; ইয়াসীন: ৩৩- ৩৪; ক্বাফ: ৭- ১১; আল-ওয়াকিআহ: ৬৩- ৭০; আবাসা: ২৪- ৩২। এই সকল আয়াতই মাক্কী।

৩. তায়েফ সম্পর্কে দেখুন: আল-বুলদান ১৩/ ০৯; ইয়াসরিব সম্পর্কে: ১৭/ ৭২ এবং পরবর্তী অংশ।

৪. আল-বালাযুরি ১/ ১৬, ১৭; মক্কার উর্বরতা সম্পর্কে দেখুন: আসাদুল গাবাহ ১/ ১০১।
(খণ্ড: ১) মাক্কাহ ওয়াল মাদীনাহ ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়া আহদির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌القبيلة العربية

‌‌مدخل

…

الفصل الثاني: القبيلة العربية

لم تكن بلاد العرب قبل ظهور الإسلام دولة عربية بالمعنى الذي نفهمه الآن من الدولة، فإن الدولة State من حيث هي نظام منفصل عن الجماعة ومستقل عنها في وظيفته؛ ومن حيث إن لهذا النظام سلطانًا يخضع له الناس، لم يكن موجودًا في بلاد العرب. وإنما كانت الدولة عندهم هي الجماعة في جملتها، ولم تكن هيئة لها نظامها الخاص ولا كانت لها أرض محددة، فليس هناك موظفون يدبرون شئون الجماعة بالمعنى الذي نعرفه في الدولة، بل كان هناك كيان اجتماعي طبيعي بالغ درجة النماء عرف باسم القبيلة يقوم فيه رؤساء العشائر والبطون برعاية شئون الجماعة، ويذكر الرحالة دوتي Daughly أنه رأى في أهل البادية في هذا القرن العشرين من لا يصور الدولة إلا على أنها قبيلة ويقيس قوتها بما تملك من الإبل1.

وكذلك الحال بالنسبة للمدن، فلم تكن المدينة Polis هي الوحدة السياسية كما كان الحال عند اليونان. بل كانت القبيلة هي هذه الوحدة مثل قريش في مكة وثقيف في الطائف، وقد جرى عرف العرب على الانتساب إلى القبائل لا إلى المدن، بل لم يعرف الانتساب إلى المدن إلا في القرن الثاني للهجرة.

أما مفهوم الأمة عندهم، فلم تكن تتميز عن الأسرة إلا أنها أكبر، وكانت اللُّحمة التي تؤلف بين أفرادها هي نفس اللحمة التي تربط بين أفراد الأسرة ونعني لُحمة الدم، فكانت وحدة الجماعة تقوم على تقديس الدم، وعلى تقديس هذه اللحمة تقديسًا تلقائيًّا دون حاجة إلى قوة من خارج تقهر الجماعة على التماسك، وكان الاشتراك في النسب،

--------------------------------------------

1.Danghty، oppcit. Vol. I. P. 230
আরব গোত্র

ভূমিকা

…

দ্বিতীয় অধ্যায়: আরব গোত্র

ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরব ভূখণ্ড বর্তমানে আমরা রাষ্ট্র বলতে যা বুঝি সে অর্থে কোনো আরব রাষ্ট্র ছিল না। কেননা রাষ্ট্র (State) বলতে এমন একটি ব্যবস্থা বোঝায় যা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং এর কার্যাবলিতে স্বাধীন; আর যেহেতু এই ব্যবস্থার এমন একটি কর্তৃত্ব থাকে যার নিকট মানুষ অনুগত থাকে, যা আরব ভূখণ্ডে বিদ্যমান ছিল না। বরং তাদের নিকট রাষ্ট্র ছিল সামগ্রিকভাবে একটি গোষ্ঠী বা সমাজ। এটি নিজস্ব কোনো সুশৃঙ্খল সংস্থা ছিল না এবং এর কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডও ছিল না। ফলে রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আমরা যেমনটি জানি, গোষ্ঠীর বিষয়াদি পরিচালনার জন্য সেখানে কোনো কর্মকর্তা ছিল না। বরং সেখানে উচ্চ পর্যায়ে বিকশিত একটি স্বাভাবিক সামাজিক সত্তা ছিল যা 'গোত্র' নামে পরিচিত ছিল, যেখানে বংশ ও উপগোত্রের প্রধানগণ গোষ্ঠীর বিষয়াদি দেখাশোনা করতেন। পরিব্রাজক ডাউটি (Doughty) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই বিংশ শতাব্দীতেও মরুচারীদের মধ্যে এমন লোক দেখেছেন যারা রাষ্ট্র বলতে কেবল গোত্রকেই কল্পনা করে এবং এর শক্তি পরিমাপ করে তার মালিকানাধীন উটের সংখ্যা দ্বারা।১

শহরগুলোর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা ছিল। গ্রিকদের মতো 'পোলিস' (Polis) বা নগর-রাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক একক ছিল না। বরং গোত্রই ছিল রাজনৈতিক একক, যেমন মক্কায় কুরাইশ এবং তায়েফে সাকিফ। আরবদের প্রথা ছিল গোত্রের সাথে নিজেদের সম্বন্ধযুক্ত করা, শহরের সাথে নয়। এমনকি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর আগে শহরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিষয়টি পরিচিত ছিল না।

আর তাদের নিকট 'উম্মাহ' বা জাতির ধারণাটি পরিবারের চেয়ে বড় হওয়া ছাড়া আর কোনো দিক থেকে স্বতন্ত্র ছিল না। এর সদস্যদের মধ্যে যে বন্ধনটি ঐক্যের সূত্র হিসেবে কাজ করত তা ছিল পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার বন্ধনের মতোই, অর্থাৎ রক্তের বন্ধন। ফলে গোষ্ঠীর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত ছিল রক্তের পবিত্রতা এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই বন্ধনের পবিত্রতার ওপর, যেখানে গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য বাইরে থেকে কোনো জবরদস্তিমূলক শক্তির প্রয়োজন হতো না। এবং বংশগত অংশীদারিত্ব...

--------------------------------------------

১. ডাউটি, প্রাগুক্ত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩০।