(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: -)
نظرات في حديث أصحابي كالنجوم   (صالح بن سعيد بن هلابي)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: نظرات في حديث أصحابي كالنجوم

المؤلف: صالح بن سعيد بن هلابي

الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة

الطبعة: السنة الثالثة، العدد الثاني، 1390هـ/1970م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 142

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

"আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য" হাদিসটি সম্পর্কিত কিছু পর্যবেক্ষণ   (সালেহ বিন সাঈদ বিন হিলাবি)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


কিতাব: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য" হাদিসটি সম্পর্কিত কিছু পর্যবেক্ষণ

লেখক: সালেহ বিন সাঈদ বিন হিলাবি

প্রকাশক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: তৃতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা, ১৩৯০ হিজরি/১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যাবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪২

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
‌‌مدْخل

…

نظرات فِي حَدِيث أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ

بقلم الطَّالِب: صَالح بن سعيد بن هلابي

كم من حَدِيث اشْتهر فِي بطُون الْكتب واستخرجت مِنْهُ أَحْكَام وقواعد عَامَّة وأصلت مِنْهُ أصُول وَقد يكون ضَعِيفا بل مَوْضُوعا بل رُبمَا لَا أصل لَهُ، ويلاحظ هَذَا كثيرا مَا يَقع فِي كتب الرَّقَائِق والزهد والوعظ والإرشاد والفضائل.

وموضوع حديثنا الْيَوْم هُوَ حَدِيث أَو يُقَال إِنَّه حَدِيث "أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ بِأَيِّهِمْ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ " وَقد انْتَشَر هَذَا الحَدِيث فِي كثير من كتب أصُول الْفِقْه فِي بَاب الْإِجْمَاع وخاصة إِجْمَاع الصَّحَابَة هَل هُوَ حجَّة أم لَا؟ وَرُبمَا سكت عَنهُ الكثيرون بعد إيرادهم لَهُ وَلست آتِي بِحكم جَدِيد وَإِنَّمَا أَنا ناقل وجامع لبَعض مَا قيل فِيهِ.

وَردت هَذِه الرِّوَايَة بست رِوَايَات مُخْتَلفَة مُتَقَارِبَة فِي اللَّفْظ وَالْمعْنَى، وسأسردها كلهَا إِن شَاءَ الله ونناقشها نقاشاً علمياً من حَيْثُ السَّنَد حَتَّى نَعْرِف مدى مَا تقوم عَلَيْهِ هَذِه الرِّوَايَات من حَيْثُ الصِّحَّة والضعف أَو الْوَضع.
ভূমিকা

…

“আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য” শীর্ষক হাদীসের ওপর আলোকপাত

কলমে শিক্ষার্থী: সালেহ বিন সাঈদ বিন হাল্লাবী

কত এমন হাদীস রয়েছে যা কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যেখান থেকে বিভিন্ন আহকাম ও সাধারণ নীতিমালা বের করা হয়েছে এবং যার ওপর ভিত্তি করে মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; অথচ সেগুলো হয়তো যয়ীফ (দুর্বল), এমনকি মাওযু (জাল), কিংবা সম্ভবত সেগুলোর কোনো ভিত্তিই নেই। বিশেষ করে রিকা-ক (অন্তর বিগলিতকারী বর্ণনা), যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা), ওয়ায-নসীহত এবং ফাযায়েলের কিতাবসমূহে এটি অধিক হারে লক্ষ্য করা যায়।

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো সেই হাদীস—অথবা যাকে হাদীস বলে অভিহিত করা হয়—যেটি হলো: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের যাকেই অনুসরণ করবে, হেদায়েত (সঠিক পথ) প্রাপ্ত হবে।" এই হাদীসটি উসূলে ফিকহ-এর বহু কিতাবের 'ইজমা' অধ্যায়ে ছড়িয়ে আছে, বিশেষত সাহাবায়ে কিরামের ইজমা কি দলীল হিসেবে গণ্য হবে কি না—সেই আলোচনায়। অনেকে হাদীসটি উল্লেখ করার পর এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। আমি এখানে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছি না, বরং আমি কেবল এ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার কিয়দংশ সংকলনকারী ও বর্ণনাকারী মাত্র।

এই বর্ণনাটি শব্দ ও অর্থের দিক থেকে কাছাকাছি ছয়টি ভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমি তার সবকটি ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করব এবং সনদ বা সূত্রের নিরিখে সেগুলো নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা করব, যাতে আমরা এই বর্ণনাগুলোর বিশুদ্ধতা, দুর্বলতা কিংবা জাল হওয়ার পর্যায় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারি।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৪)
1-‌‌ الرِّوَايَة الأولى:

"أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ بِأَيِّهِمْ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ" قَالَ الْحَافِظ أَبُو عمر يُوسُف بن عبد الْبر النمري الْقُرْطُبِيّ الْمُتَوفَّى سنة 463هـ فِي كِتَابه (جَامع بَيَان الْعلم وفضله) 1 قَالَ أخبرنَا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن سعد قِرَاءَة مني عَلَيْهِ أَن مُحَمَّد بن أَحْمد بن يحيى حَدثهمْ قَالَ: حَدثنَا أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن أَيُّوب الرقي قَالَ لنا أَبُو بكر أَحْمد بن عَمْرو بن عبد الْخَالِق الْبَزَّار سَأَلتهمْ عَمَّا يرْوى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

1 ج2ص90 المكتبة العلمية بِالْمَدِينَةِ المنورة.
১-‌‌ প্রথম বর্ণনা:

"আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের মধ্যে যারই অনুসরণ করবে, সঠিক পথ পাবে।" হাফিয আবু উমর ইউসুফ ইবনে আব্দুল বার আন-নামারি আল-কুরতুবি (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরী) তাঁর গ্রন্থ (জামে বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি)-তে ১ বলেছেন: মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি—যে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আর-রাক্কি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আহমাদ ইবনে আমর ইবনে আব্দুল খালিক আল-বাযযার আমাদের বলেছেন, আমি তাদের নিকট সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১. খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯০, আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ, মদিনা মুনাওয়ারা।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৫)
مِمَّا فِي أَيدي الْعَامَّة يَرْوُونَهُ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ: "إِنَّمَا مثل أَصْحَابِي كَمثل النُّجُوم أَو أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ فبأيها اقتدوا اهتدوا".

قَالَ ابْن عبد الْبر: "وَهَذَا الْكَلَام لَا يَصح عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم رَوَاهُ عبد الرَّحِيم بن زيد الْعمي عَن أَبِيه عَن سعيد بن الْمسيب عَن ابْن عمر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: وَرُبمَا رَوَاهُ عبد الرَّحِيم عَن أَبِيه عَن ابْن عمر وَإِنَّمَا أَتَى ضعف هَذَا الحَدِيث من قبل عبد الرَّحِيم بن زيد لِأَن أهل الْعلم قد سكتوا عَن الرِّوَايَة لحديثه، وَالْكَلَام أَيْضا مُنكر عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم". اهـ.

وسنعرف حَالَة عبد الرَّحِيم بن زيد هَذَا بعرضه على كتب أَئِمَّة الْجرْح وَالتَّعْدِيل كَيفَ تناولوه وشرحوه هَذَا التشريح، قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر1: "عبد الرَّحِيم بن زيد بن الْحوَاري الْعمي بِفَتْح الْمُهْملَة وَتَشْديد الْمِيم الْبَصْرِيّ أَبُو زيد كذبه ابْن معِين من الثَّامِنَة مَاتَ سنة أَربع وَثَمَانِينَ". اهـ.

وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر أَيْضا فِي تَهْذِيب التَّهْذِيب2: "عبد الرَّحِيم بن زيد بن الْحوَاري الْعمي الْبَصْرِيّ أَبُو زيد روى عَن أَبِيه وَمَالك بن دِينَار وَعنهُ أَحْمد بن مُحَمَّد بن الْوَلِيد الْأَزْرَقِيّ وَأَبُو إِبْرَاهِيم الترجماني وَغَيرهم"، قَالَ الدوري عَن ابْن معِين: "إِنَّه لَيْسَ بِشَيْء"، وَقَالَ الْجوزجَاني: "غير ثِقَة"، وَقَالَ أَبُو زرْعَة: "واه ضَعِيف الحَدِيث"، وَقَالَ أَبُو حَاتِم: "يتْرك حَدِيثه مُنكر الحَدِيث كَانَ يفْسد أَبَاهُ يحدث عَنهُ بالطامات"، وَقَالَ الإِمَام البُخَارِيّ: "تَرَكُوهُ"، وَقَالَ أَبُو دَاوُد: "ضَعِيف"،وَقَالَ النَّسَائِيّ: "مَتْرُوك الحَدِيث"، وَقَالَ مرّة: "لَيْسَ بِثِقَة وَلَا مَأْمُون وَلَا يكْتب حَدِيثه"، وَقَالَ ابْن عدي: "يروي عَن أَبِيه عَن شَقِيق عَن عبد الله غير حَدِيث مُنكر وَله أَحَادِيث لَا يُتَابِعه عَلَيْهَا الثِّقَات"، وَقَالَ الْعقيلِيّ: قَالَ ابْن معِين: "كَذَّاب خَبِيث"، وَقَالَ عبد الله بن عَليّ بن الْمَدِينِيّ عَن أَبِيه: "ضَعِيف"، وَقَالَ السَّاجِي: "عِنْده مَنَاكِير". اهـ. من تَهْذِيب التَّهْذِيب، وَذكره الْحَافِظ الذَّهَبِيّ فِي كِتَابه (ميزَان الِاعْتِدَال فِي نقد الرِّجَال)

--------------------------------------------

1 فِي تقريب التَّهْذِيب ج1 ص504.

2 ج6 ص305.
সাধারণ মানুষের মুখে প্রচলিত যা তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করে যে তিনি বলেছেন: "আমার সাহাবীগণের দৃষ্টান্ত হচ্ছে নক্ষত্ররাজির মতো অথবা আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তাদের মধ্যে যাকেই তোমরা অনুসরণ করবে, সঠিক পথ পাবে।"

ইবন আবদিল বার বলেন: "এই কথাটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত নয়। এটি আব্দুর রহীম বিন যাইদ আল-আম্মী তার পিতা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: কখনও কখনও আব্দুর রহীম তার পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে এটি বর্ণনা করেন। মূলত এই হাদীসটি দুর্বল হওয়ার কারণ হচ্ছে আব্দুর রহীম বিন যাইদ, কেননা আহলে ইলমগণ তার হাদীস বর্ণনা করা থেকে বিরত থেকেছেন। এছাড়া এই কথাটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত একটি মুনকার (অস্বীকৃত) কথা।" সমাপ্ত।

আমরা এই আব্দুর রহীম বিন যাইদের অবস্থা জারহ ও তাদীল ইমামগণের কিতাবসমূহের আলোকে জানতে পারব যে, তারা তাকে কীভাবে ব্যবচ্ছেদ ও বিশ্লেষণ করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার ১ বলেন: "আব্দুর রহীম বিন যাইদ বিন আল-হাওয়ারী আল-আম্মী (মুহমালাহ বর্ণের ফাতহা এবং মীম বর্ণের তাশদীদ সহকারে), আল-বাসরী, আবু যাইদ; ইবনে মাঈন তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। তিনি অষ্টম স্তরের বর্ণনাকারী এবং ১৮৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।" সমাপ্ত।

হাফিজ ইবনে হাজার তাহযীবুত তাহযীব ২ গ্রন্থে আরও বলেন: "আব্দুর রহীম বিন যাইদ বিন আল-হাওয়ারী আল-আম্মী আল-বাসরী, আবু যাইদ; তিনি তার পিতা ও মালিক বিন দীনার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালীদ আল-আযরাকী, আবু ইবরাহীম আত-তারজুমানী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।" আদ-দাওরী ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেন: "তিনি উল্লেখযোগ্য কিছুই নন।" আল-জাওযাজানী বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন।" আবু যুরআহ বলেন: "তিনি দুর্বল হাদীস বর্ণনাকারী।" আবু হাতিম বলেন: "তার হাদীস বর্জন করতে হবে, তিনি মুনকারুল হাদীস (অস্বীকৃত হাদীস বর্ণনাকারী), তিনি তার পিতাকে কলঙ্কিত করতেন এবং তার থেকে বড় বড় বিপর্যয়কর (আজগুবি) বর্ণনা করতেন।" ইমাম বুখারী বলেন: "মুহাদ্দিসগণ তাকে বর্জন করেছেন।" আবু দাউদ বলেন: "দুর্বল।" নাসায়ী বলেন: "পরিত্যক্ত হাদীস বর্ণনাকারী।" তিনি অন্য সময় বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন এবং বিশ্বস্তও নন, তার হাদীস লেখা যাবে না।" ইবনে আদী বলেন: "তিনি তার পিতা থেকে, তিনি শাকীক থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ থেকে একাধিক মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তার এমন কিছু হাদীস আছে যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ বর্ণনা করেননি।" আল-উকায়লী বলেন, ইবনে মাঈন বলেছেন: "সে একজন কট্টর মিথ্যাবাদী।" আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আল-মাদীনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন: "সে দুর্বল।" আস-সাজী বলেন: "তার কাছে অনেক মুনকার বর্ণনা রয়েছে।" তাহযীবুত তাহযীব থেকে সমাপ্ত। হাফিজ আয-যাহাবীও তার 'মীযানুল ইতিদাল ফী নাকদির রিজাল' কিতাবে তার কথা উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১. তাকরীবুত তাহযীব, ১ম খণ্ড, ৫০৪ পৃষ্ঠা।

২. ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩০৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
ج2 ص605 وَذكر بعض أَقْوَال الْعلمَاء الَّتِي ذكرا الْحَافِظ ثمَّ ذكر بَعْضًا من رواياته الْمَوْضُوعَة ثمَّ قَالَ وَمن مروياته حَدِيث: "أَصْحَابِي بِمَنْزِلَة النُّجُوم فَبِأَيِّهِمْ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ".
২য় খণ্ড, ৬০৫ পৃষ্ঠা। তিনি ওলামায়ে কেরামের কিছু উক্তি উল্লেখ করেছেন যা হাফিজ উল্লেখ করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর কিছু বানোয়াট বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে একটি হলো: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য; তাদের মধ্যে যাকেই তোমরা অনুসরণ করবে, সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে।"
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৬)
2-‌‌ الرِّوَايَة الثَّانِيَة:

وبإسناد آخر روى ابْن عبد الْبر النمري الْقُرْطُبِيّ فِي كِتَابه جَامع بَيَان الْعلم وفضله 1 من طَرِيق سَلام بن سليم قَالَ حَدثنَا الْحَارِث بن غصين عَن الْأَعْمَش عَن أبي سُفْيَان عَن جَابر مَرْفُوعا: "أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ بِأَيِّهِمْ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ" قَالَ ابْن عبد الْبر: "هَذَا إِسْنَاد لَا تقوم بِهِ حجَّة لِأَن الْحَارِث بن غصين مَجْهُول"، قَالَ الْحَافِظ ابْن حزم الأندلسي فِي كِتَابه (الإحكام فِي أصُول الْأَحْكَام) 2 قَالَ: "هَذِه رِوَايَة سَاقِطَة أَبُو سُفْيَان ضَعِيف والْحَارث ابْن غصين هَذَا هُوَ أَبُو وهب الثَّقَفِيّ، وَسَلام بن سُلَيْمَان يروي الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة وَهَذَا مِنْهَا بِلَا شكّ". اهـ. ولنأخذ رجلا وَاحِدًا من السَّنَد هُوَ سَلام بن سُلَيْمَان قَالَ الْحَافِظ ابْن حجر الْعَسْقَلَانِي3 قَالَ: "سَلام بن سليم أَو ابْن سلم أَو ابْن سُلَيْمَان وَالصَّوَاب أَبُو سُلَيْمَان وَيُقَال أَبُو عبد الله وَهُوَ سَلام الطَّوِيل خراساني الأَصْل، روى عَن حميد الطَّوِيل، وثور ابْن يزِيد الرجي وجعفر بن مُحَمَّد الصَّادِق وَغَيرهم وَعنهُ - أَي وروى عَنهُ - عبد الرَّحْمَن ابْن ثَابت بن ثَوْبَان وَعبد الرَّحِم بن مُحَمَّد الْمحَاربي وَقبيصَة بن عقبَة وَعلي بن الْجَعْد وَغَيرهم"، قَالَ فِيهِ الإِمَام أَحْمد: "روى أَحَادِيث مُنكرَة"،وَقَالَ ابْن أبي مَرْيَم عَن ابْن معِين: "لَهُ أَحَادِيث مُنكرَة"، وَقَالَ الدوري وَغَيره عَن ابْن معِين: "لَيْسَ بِشَيْء"، وَقَالَ ابْن الْمَدِينِيّ: "ضَعِيف"، وَقَالَ ابْن عمار: "لَيْسَ بِحجَّة"، وَقَالَ الْجوزجَاني: "لَيْسَ بِثِقَة"، وَقَالَ البُخَارِيّ: "تَرَكُوهُ"، وَقَالَ مرّة: "يَتَكَلَّمُونَ فِيهِ"، وَقَالَ أَبُو حَاتِم: "ضَعِيف الحَدِيث تَرَكُوهُ"، وَقَالَ أَبُو زرْعَة: "ضَعِيف"، وَقَالَ النَّسَائِيّ: "مَتْرُوك"، وَقَالَ مرّة: "لَيْسَ بِثِقَة وَلَا يكْتب حَدِيثه"، وَقَالَ ابْن خرَاش: "كَذَّاب"، وَقَالَ ابْن حبَان: "روى عَن الثِّقَات

--------------------------------------------

1 ج2 ص91.

2 ج6 ص810 بتعليق الشَّيْخ أَحْمد شَاكر.

3 تَهْذِيب التَّهْذِيب ج4 ص281.
২-‌‌ দ্বিতীয় বর্ণনা:

এবং অন্য এক সনদে ইবনে আবদিল বার আন-নামারি আল-কুরতুবি তাঁর ‘জামি বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি’ ১ গ্রন্থে সালাম ইবনে সুলাইম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে হারিস ইবনে গুসাইন হাদিস বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস হিসেবে) বর্ণনা করেন: “আমার সাহাবীগণ নক্ষত্ররাজির সদৃশ, তোমরা তাঁদের মধ্যে যারই অনুসরণ করবে, হিদায়াত প্রাপ্ত হবে।” ইবনে আবদিল বার বলেন: “এটি এমন এক সনদ যার দ্বারা দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না, কারণ হারিস ইবনে গুসাইন মাজহুল (অপরিচিত)।” হাফিজ ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি তাঁর ‘আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম’ ২ গ্রন্থে বলেছেন: “এটি একটি পরিত্যক্ত বর্ণনা। আবু সুফিয়ান দুর্বল এবং এই হারিস ইবনে গুসাইন হলেন মূলত আবু ওয়াহাব আস-সাকাফি। আর সালাম ইবনে সুলাইমান জাল হাদিস বর্ণনা করেন এবং এটি নিঃসন্দেহে তারই অন্তর্ভুক্ত।” (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আসুন আমরা সনদ থেকে একজন ব্যক্তিকে গ্রহণ করি, তিনি হলেন সালাম ইবনে সুলাইমান। হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি ৩ বলেছেন: “সালাম ইবনে সুলাইম অথবা ইবনে সালাম অথবা ইবনে সুলাইমান; তবে সঠিক হলো আবু সুলাইমান, তাঁকে আবু আবদুল্লাহও বলা হয়। তিনি মূলত সালাম আত-তাবিল, খোরাসানি বংশোদ্ভূত। তিনি হুমাইদ আত-তাবিল, সাওর ইবনে ইয়াজিদ আর-রাহাজি, জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তাঁর থেকে—অর্থাৎ তাঁর সূত্রে—আবদুর রহমান ইবনে সাবিত ইবনে সাওবান, আবদুর রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি, কুবাইসা ইবনে উকবা, আলী ইবনে জা’দ এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।” ইমাম আহমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “তিনি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন।” ইবনে আবি মারইয়াম ইবনে মাইন থেকে বর্ণনা করেছেন: “তাঁর বর্ণিত কিছু মুনকার হাদিস রয়েছে।” আদ-দুরি এবং অন্যরা ইবনে মাইন থেকে বর্ণনা করেছেন: “তিনি গুরুত্বহীন কিছুই নন।” ইবনুল মাদিনি বলেছেন: “দুর্বল।” ইবনে আম্মার বলেছেন: “তিনি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন।” আল-জুযজানি বলেছেন: “তিনি নির্ভরযোগ্য নন।” ইমাম বুখারি বলেছেন: “মুহাদ্দিসগণ তাঁকে বর্জন করেছেন।” তিনি অন্য এক জায়গায় বলেছেন: “মুহাদ্দিসগণ তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন।” আবু হাতিম বলেছেন: “হাদিস বর্ণনায় দুর্বল, তাঁকে বর্জন করা হয়েছে।” আবু জুরআ বলেছেন: “দুর্বল।” আন-নাসায়ি বলেছেন: “পরিত্যক্ত (মাতরুক)।” অন্য জায়গায় বলেছেন: “তিনি নির্ভরযোগ্য নন এবং তাঁর হাদিস লিখে রাখা যাবে না।” ইবনে খিরাশ বলেছেন: “মিথ্যুক।” ইবনে হিব্বান বলেছেন: “তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

১. ২য় খণ্ড, ৯১ পৃষ্ঠা।

২. ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৮১০ পৃষ্ঠা, শায়খ আহমাদ শাকিরের টীকা সম্বলিত।

৩. তাহজিবুত তাহজিব, ৪র্থ খণ্ড, ২৮১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
الموضوعات كَأَنَّهُ كَانَ الْمُعْتَمد لَهَا وَهُوَ الَّذِي روى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن أنس: "وَقت للنفساء أَرْبَعِينَ يَوْمًا". اهـ.

هَذَا خُلَاصَة مَا قيل فِيهِ من أَقْوَال أَئِمَّة الْجرْح وَالتَّعْدِيل عَن كتاب تَهْذِيب التَّهْذِيب وعرفنا الرجل الآخر فِي السَّنَد هُوَ الْحَارِث بن غصين وَهُوَ أَبُو وهب الثَّقَفِيّ وَهُوَ مَجْهُول وَلَا يحْتَج بالمجاهيل فضلا عَن الضُّعَفَاء والكذابين والمتروكين.
জাল হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে মনে হয় তিনি সেগুলোর ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন। আর তিনিই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "নিফাসওয়ালি নারীর জন্য চল্লিশ দিন সময় নির্ধারিত।" সমাপ্ত।

এটি 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থ হতে জারহ ও তা’দীল শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্যের আলোকে তার সম্পর্কে বর্ণিত তথ্যের সারসংক্ষেপ। আমরা সনদের অপর ব্যক্তিটিকেও চিনেছি, তিনি হলেন আল-হারিস বিন গুসাইন তথা আবু ওয়াহাব আস-সাকাফী; তিনি একজন অজ্ঞাত (মাজহুল) ব্যক্তি। আর অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দ্বারা দলিল পেশ করা যায় না; দুর্বল, মিথ্যাবাদী ও বর্জিত বর্ণনাকারীদের কথা তো বলাই বাহুল্য।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
3-‌‌ الرِّوَايَة الثَّالِثَة:

من طَرِيق سُلَيْمَان بن أبي كَرِيمَة عَن جُوَيْبِر عَن الضَّحَّاك عَن ابْن عَبَّاس مَرْفُوعا: "مهما أُوتِيتُمْ من كتاب الله فَالْعَمَل بِهِ لَا عذر لأحدكم فِي تَركه فَإِن لم يكن فِي كتاب الله فَسنة مني مَاضِيَة فَإِن لم يكن سنة مني مَاضِيَة فمما قَالَ أَصْحَابِي إِن أَصْحَابِي بِمَنْزِلَة النُّجُوم فِي السَّمَاء فأيها أَخَذْتُم بِهِ اهْتَدَيْتُمْ وَاخْتِلَاف أَصْحَابِي لكم رَحْمَة". الحَدِيث أوردهُ السُّيُوطِيّ فِي رِسَالَة (جزيل الْمَوَاهِب فِي اخْتِلَاف الْمذَاهب) وَأورد الْجُمْلَة الْأَخِيرَة مِنْهُ الإِمَام الْغَزالِيّ فِي الْإِحْيَاء ج1 ص25 قَالَ الْحَافِظ الْعِرَاقِيّ فِي تَخْرِيجه للإحياء: "إِسْنَاده ضَعِيف، ومعروفة بضَاعَة الْغَزالِيّ فِي الحَدِيث".

قلت: لَيْسَ هُوَ ضَعِيفا فَقَط بل هُوَ مَوْضُوع لِأَن رُوَاته كلهم متروكون، الأول فِيهِ سُلَيْمَان بن أبي كَرِيمَة قَالَ الْحَافِظ الذَّهَبِيّ1 قَالَ: "سُلَيْمَان بن أبي كَرِيمَة شَامي روى عَن هِشَام ابْن عُرْوَة وَهِشَام بن حسان وَأبي قُرَّة وخَالِد بن مَيْمُون وَعنهُ صَدَقَة بن عبد الله وَعَمْرو ابْن هِشَام البيروني قَالَ: ضعفه أَبُو حَاتِم، وَقَالَ ابْن عدي: عَامَّة أَحَادِيثه مَنَاكِير".

وَقَالَ ابْن أبي حَاتِم: "ضَعِيف جدا"، ثمَّ قَالَ الذَّهَبِيّ: "وَلم أر للْمُتَقَدِّمين فِيهِ كلَاما".

وَمن مَنَاكِيره حَدِيث: " لكل أمة يهود ويهود أمتِي المرجئة" اهـ. مُلَخصا من ميزَان الِاعْتِدَال، وَالرجل الثَّانِي فِي السَّنَد هُوَ جُوَيْبِر بن سعد الْأَزْدِيّ قَالَ الذَّهَبِيّ2: "جُوَيْبِر بن سعيد أَبُو الْقَاسِم الْأَزْدِيّ الْبَلْخِي الْمُفَسّر

--------------------------------------------

1 فِي ميزَان الِاعْتِدَال ج2 ص221 من الطبعة الجديدة بتحقيق الشَّيْخ عَليّ مُحَمَّد البجاوي.

2 ميزَان الِاعْتِدَال ج1 ص427.
৩-‌‌ তৃতীয় বর্ণনা:

সুলাইমান বিন আবি কারিমা হতে, তিনি জুওয়াইবির হতে, তিনি দাহহাক হতে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) হতে মারফু’ সূত্রে বর্ণনা করেন: "আল্লাহর কিতাব থেকে তোমাদের যা কিছু দেওয়া হয়েছে, তার ওপর আমল করা জরুরি। তা পরিত্যাগ করার ব্যাপারে তোমাদের কারো কোনো ওজর (অজুহাত) গ্রহণযোগ্য নয়। যদি তা আল্লাহর কিতাবে না থাকে, তবে আমার গত হওয়া সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করবে। আর যদি আমার গত হওয়া সুন্নাহতেও না থাকে, তবে আমার সাহাবীগণ যা বলেছেন তা অনুযায়ী আমল করবে। নিশ্চয়ই আমার সাহাবীগণ আকাশের নক্ষত্ররাজির সমতুল্য; তোমরা তাদের যার অনুসরণ করবে, হেদায়েত প্রাপ্ত হবে। আর আমার সাহাবীদের মতভেদ তোমাদের জন্য রহমত।" হাদিসটি সুয়ূতী তার 'জাযীলুল মাওয়াহিব ফি ইখতিলাফিল মাযাহিব' নামক রিসালায় উল্লেখ করেছেন এবং এর শেষ বাক্যটি ইমাম গাযালী 'এহিয়াউ উলূমিদ্দীন' এর ১ম খণ্ড, ২৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইরাকী 'এহিয়া'র তাখরিজে বলেছেন: "এর সনদ দুর্বল এবং হাদিস শাস্ত্রে গাযালীর পুঁজি (যোগ্যতা) সবার জানা।"

আমি (লেখক) বলছি: এটি কেবল দুর্বলই নয়, বরং এটি বানোয়াট (মাওযূ'); কারণ এর সকল বর্ণনাকারীই পরিত্যক্ত (মাতরূক)। প্রথমজন হলেন সুলাইমান বিন আবি কারিমা। হাফেজ যাহাবী ১ বলেন: "সুলাইমান বিন আবি কারিমা একজন শামী (সিরীয়), তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ, হিশাম বিন হাসসান, আবু কুররাহ এবং খালিদ বিন মাইমুন হতে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে বর্ণনা করেছেন সাদাকা বিন আব্দুল্লাহ এবং আমর ইবনে হিশাম আল-বাইরূনী। আবু হাতিম তাকে দুর্বল বলেছেন এবং ইবনে আদী বলেছেন: তার অধিকাংশ হাদিসই আপত্তিকর (মুনকার)।"

ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: "সে অত্যন্ত দুর্বল।" এরপর যাহাবী বলেন: "আমি তার সম্পর্কে পূর্বসূরিদের থেকে আর কোনো বক্তব্য দেখিনি।"

তার আপত্তিকর বর্ণনার মধ্যে একটি হলো এই হাদিস: "প্রত্যেক জাতির মধ্যেই ইয়াহুদি রয়েছে, আর আমার উম্মতের ইয়াহুদি হলো মুরজিয়া সম্প্রদায়।"—মিযানুল ইতিদাল থেকে সংক্ষেপিত। সনদের দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন জুওয়াইবির বিন সা’দ আল-আযদিও। যাহাবী ২ বলেন: "জুওয়াইবির বিন সাঈদ আবুল কাসেম আল-আযদি আল-বালখী, মুফাসসির...

--------------------------------------------

১ মিযানুল ইতিদাল, ২য় খণ্ড, ২২১ পৃষ্ঠা, শেখ আলী মুহাম্মদ আল-বিজাভী কর্তৃক সম্পাদিত নতুন সংস্করণ।

২ মিযানুল ইতিদাল, ১ম খণ্ড, ৪২৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
صَاحب الضَّحَّاك قَالَ فِيهِ ابْن معِين: "لَيْسَ بِشَيْء"، وَقَالَ الْجوزجَاني: لَا يشْتَغل بِهِ، وَقَالَ النَّسَائِيّ وَالدَّارقطني وَغَيرهمَا: "مَتْرُوك الحَدِيث"، وَقَالَ أَبُو قدامَة السَّرخسِيّ: قَالَ يحيى الْقطَّان: "تساهلوا فِي أَخذ التَّفْسِير عَن الْقَوْم لَا تولعوهم فِي الحَدِيث ثمَّ ذكر لَيْث بن أبي سليم وجويبر هَذَا وَالضَّحَّاك وَمُحَمّد بن السَّائِب وَقَالَ هَؤُلَاءِ لَا يحمد حَدِيثهمْ وَيكْتب التَّفْسِير عَنْهُم". اهـ.

وَالضَّحَّاك هُوَ ابْن مُزَاحم الْهِلَالِي لم يلق ابْن عَبَّاس، بعد هَذَا الْعرض السَّرِيع لرجال هَذَا السَّنَد تبين لنا أَن الرِّوَايَة سَاقِطَة لَا تقوم بهَا حجَّة فِي ميزَان الْعلم الصَّحِيح والنقد النزيه.
যহ্হাকের সঙ্গী; তাঁর সম্পর্কে ইবনে মাঈন বলেছেন: "তিনি গুরুত্বহীন", আল-জাওযাজানি বলেছেন: "তাঁকে নিয়ে সময়ক্ষেপণ করার প্রয়োজন নেই", এবং নাসায়ি, দারাকুতনি ও অন্যান্যরা বলেছেন: "তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত (মাতরুক)"। আবু কুদামা আস-সারখাসি বলেন: ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেছেন: "এই লোকগুলোর থেকে তাফসির গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা অবলম্বন করো, তবে হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি অতি আগ্রহী হয়ো না।" অতঃপর তিনি লাইস বিন আবি সালিম, এই জুয়াইবির, যহ্হাক এবং মুহাম্মদ বিন আস-সাইবের নাম উল্লেখ করে বললেন: "এদের হাদিস প্রশংসনীয় নয়, তবে তাদের থেকে তাফসির লিখে রাখা যায়।" সমাপ্ত।

আর যহ্হাক হলেন ইবনে মুজাহিম আল-হিলালি, যিনি ইবনে আব্বাসের সাক্ষাৎ পাননি। এই সনদের বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে এই সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার পর আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বর্ণনাটি অসার ও পরিত্যক্ত, যা সঠিক ইলম এবং নিরপেক্ষ পর্যালোচনার মানদণ্ডে দলিল হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
4-‌‌ الرِّوَايَة الرَّابِعَة:

روى ابْن عَسَاكِر فِي تَارِيخه من طَرِيق نعيم بن حَمَّاد، حَدثنَا عبد الرَّحِيم بن زيد الْعمي عَن أَبِيه عَن سعيد بن الْمسيب عَن عمر بن الْخطاب مَرْفُوعا قَوْله: "سَأَلت رَبِّي فِيمَا اخْتلف فِيهِ أَصْحَابِي من بعدِي فَأوحى الله إِلَيّ يَا مُحَمَّد إِن أَصْحَابك عِنْدِي بِمَنْزِلَة النُّجُوم فِي السَّمَاء بَعْضهَا أَضْوَأ من بعض فَمن أَخذ بِشَيْء مِمَّا هم عَلَيْهِ من اخْتلَافهمْ فَهُوَ عِنْدِي على هدى".

الحَدِيث أوردهُ الإِمَام السُّيُوطِيّ فِي الْجَامِع الصَّغِير بِرِوَايَة السجْزِي فِي الْإِبَانَة وَابْن عَسَاكِر عَن عمر رضي الله عنه، ورمز إِلَيْهِ السُّيُوطِيّ بالضعف، قَالَ الشَّيْخ عبد الرؤوف الْمَنَاوِيّ صَاحب كتاب فيض الْقَدِير شرح الْجَامِع الصَّغِير حول الحَدِيث عَن السجْزِي فِي كتاب الْإِبَانَة عَن أصُول الدّيانَة وَابْن عَسَاكِر فِي التَّارِيخ فِي تَرْجَمَة زيد الْحوَاري وَكَذَا الْبَيْهَقِيّ وَابْن عدي كلهم عَن عمر بن الْخطاب. قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ فِي الْعِلَل: "هَذَا لَا يَصح نعيم مَجْرُوح وَعبد الرَّحِيم قَالَ ابْن معِين إِنَّه كَذَّاب وَفِي الْمِيزَان هَذَا الحَدِيث بَاطِل"، وَقَالَ ابْن معِين وَابْن حجر فِي تَخْرِيج الْمُخْتَصر حَدِيث غَرِيب سُئِلَ عَنهُ الْبَزَّار فَقَالَ: "لَا يَصح هَذَا الْكَلَام عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم". اهـ. مُلَخصا1.

وَقد تقدم الْكَلَام فِي الرِّوَايَة الأولى حول عبد الرَّحِيم بن زيد هَذَا وأقوال الْعلمَاء فِيهِ فَلَا نعيده هُنَا، ونعيم بن حَمَّاد الْخُزَاعِيّ هُوَ أَبُو عبد الله الْمروزِي نزيل مصر، وَقد تكلم حوله الْحَافِظ

--------------------------------------------

1 انْظُر: فيض الْقَدِير ج4 ص76.
৪-‌‌ চতুর্থ বর্ণনা:

ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাসে নুআইম ইবন হাম্মাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহীম ইবন যায়িদ আল-আম্মি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেন: "আমি আমার রবের নিকট আমার পরবর্তী সময়ে আমার সাহাবীগণের মাঝে যে মতপার্থক্য হবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি ওহী নাযিল করলেন— হে মুহাম্মদ! আমার নিকট তোমার সাহাবীগণ আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায়, যাদের কেউ কেউ অন্যদের চেয়ে অধিক উজ্জ্বল। সুতরাং তাদের মতভেদের মধ্য থেকে কেউ যদি কোনো কিছু গ্রহণ করে, তবে সে আমার নিকট হিদায়াতের ওপর থাকবে।"

ইমাম সুয়ূতী হাদীসটি 'আল-জামে আস-সাগীর'-এ সিজযীর 'আল-ইবানা' এবং ইবনে আসাকিরের বর্ণনায় উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে উল্লেখ করেছেন এবং সুয়ূতী একে দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছেন। 'ফয়যুল ক্বাদীর শারহুল জামে আস-সাগীর' গ্রন্থের রচয়িতা শায়খ আবদুর রউফ আল-মানাবী এই হাদীস সম্পর্কে বলেছেন যে, এটি সিজযী তাঁর 'আল-ইবানা আন উসূলিদ দিয়ানা' গ্রন্থে, ইবনে আসাকির 'তারীখ' গ্রন্থে যায়িদ আল-হাওয়ারীর জীবনীতে এবং অনুরূপভাবে বায়হাকী ও ইবনে আদী—সকলেই উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযী 'আল-ইলাল' গ্রন্থে বলেছেন: "এটি সহীহ নয়; নুআইম বিতর্কিত এবং আবদুর রহীম সম্পর্কে ইবনে মাঈন বলেছেন যে সে চরম মিথ্যাবাদী, আর 'আল-মিযান' গ্রন্থে বলা হয়েছে এই হাদীসটি বাতিল।" ইবনে মাঈন এবং ইবনে হাজার 'তাখরীজুল মুখতাসার' গ্রন্থে একে 'গারীব' হাদীস বলেছেন। আল-বাযযারকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত এই কথাটি সহীহ নয়।" সমাপ্ত। সংক্ষেপিত ১।

এই আবদুর রহীম ইবন যায়িদ সম্পর্কে এবং তাঁর বিষয়ে আলেমগণের বক্তব্যসমূহ প্রথম বর্ণনার আলোচনায় গত হয়েছে, তাই আমরা এখানে তার পুনরাবৃত্তি করছি না। আর নুআইম ইবন হাম্মাদ আল-খুযাঈ হলেন আবু আবদুল্লাহ আল-মারওয়াযী, যিনি মিসরে বসবাস করতেন। তাঁর সম্পর্কে হাফিয...

--------------------------------------------

১ দেখুন: ফয়যুল ক্বাদীর, ৪র্থ খণ্ড, ৭৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان1 كلَاما طَويلا، فَمنهمْ المادح لَهُ وَمِنْهُم القادح فِيهِ والذام لَهُ، وخلاصة القَوْل فِيهِ أَنه كَانَ ثِقَة وَكَانَ يروي الْمَنَاكِير قَالَ مُحَمَّد بن عَليّ الْمروزِي: سَأَلت يحيى بن معِين عَن بعض أَحَادِيث رَوَاهَا نعيم بن حَمَّاد قَالَ: "لَيْسَ لَهَا أصل"، قلت: فنعيم قَالَ: ثِقَة، قلت: كَيفَ يحدث الثِّقَة بباطل، قَالَ شبه لَهُ"، قَالَ أَبُو دَاوُد: "كَانَ عِنْد نعيم ابْن حَمَّاد نَحْو من عشْرين حَدِيثا عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَيْسَ لَهَا أصل"، وَقَالَ النَّسَائِيّ: "هُوَ ضَعِيف وَمن مَنَاكِيره القبيحة المروية عَنهُ حَدِيث: "رَأَيْت رَبِّي فِي أحسن صُورَة شَابًّا موقراً رِجْلَاهُ فِي خضر عَلَيْهِ نَعْلَانِ من ذهب". اهـ.

وَقَالَ الْحَافِظ ابْن حجر2: "كَانَ يُخطئ كثيرا فَقِيه عَارِف بالفرائض". اهـ.

وَإِذا رَجعْنَا إِلَى الْقَاعِدَة الْأُصُولِيَّة فِي مصطلح الحَدِيث فِيمَا اخْتلف الْعلمَاء فِي توثيقه أَو ضعفه فَإِن الْقَاعِدَة تَقول إِن الْجرْح مقدم على التَّعْدِيل وخاصة إِذا بَين الْجَارِح سَبَب الْجرْح فِي الرَّاوِي، وَلِأَن الْجَارِح يطلع على أَحْوَال الرَّاوِي مَا لم يطلع عَلَيْهِ غَيره، بِهَذَا نَعْرِف منزلَة الراوية أَنَّهَا ضَعِيفَة بل مَوْضُوعَة بِسَبَب هَذَا الْكذَّاب فِيهَا هُوَ عبد الرَّحِيم بن زيد.

--------------------------------------------

1 ج4 ص267.

2 التَّقْرِيب ج2 ص305.
আয-যাহাবী ‘আল-মিযান’-এ দীর্ঘ আলোচনা করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ তাঁর প্রশংসা করেছেন আবার কেউ তাঁর সমালোচনা ও নিন্দা করেছেন। তাঁর সম্পর্কে সারকথা হলো, তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন কিন্তু তিনি বর্জনীয় হাদিস বর্ণনা করতেন। মুহাম্মাদ বিন আলী আল-মারওয়াযী বলেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে নুআইম বিন হাম্মাদ বর্ণিত কিছু হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: "সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।" আমি বললাম: তবে নুআইম কেমন? তিনি বললেন: "নির্ভরযোগ্য।" আমি বললাম: একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি কীভাবে ভিত্তিহীন বর্ণনা দিতে পারেন? তিনি বললেন: "তাঁর কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।" আবু দাউদ বলেন: "নুআইম বিন হাম্মাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন প্রায় বিশটি হাদিস ছিল যার কোনো ভিত্তি নেই।" আন-নাসাঈ বলেন: "তিনি দুর্বল এবং তাঁর বর্ণিত কুৎসিত বর্জনীয় হাদিসসমূহের একটি হলো: 'আমি আমার রবকে সর্বোত্তম অবয়বে একজন সম্মানিত যুবকরূপে দেখেছি, আল্লাহর দুই পা সবুজের মাঝে এবং তাঁর পরিধানে ছিল স্বর্ণের দুটি জুতা'।"

হাফিয ইবনে হাজার বলেন: "তিনি প্রচুর ভুল করতেন, তবে তিনি ফকিহ এবং ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন।"

আর যদি আমরা হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বা দুর্বল বলার ক্ষেত্রে আলেমদের মতভেদের বিষয়ে ফিরে যাই, তবে নিয়ম হলো যে, প্রশংসার ওপর সমালোচনা প্রাধান্য পাবে; বিশেষ করে যখন সমালোচক বর্ণনাকারীর ত্রুটির কারণ ব্যাখ্যা করেন। কারণ একজন সমালোচক বর্ণনাকারীর এমন সব অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকেন যা অন্য কেউ থাকে না। এর মাধ্যমে আমরা বর্ণনার মান সম্পর্কে জানতে পারি যে এটি দুর্বল, বরং এই বর্ণনাকারীর মধ্যে থাকা আব্দুর রাহীম বিন যাইদ নামক এই মিথ্যুক ব্যক্তির কারণে এটি জাল।

--------------------------------------------

১ খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৬৭।

২ আত-তাকরীব খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৫।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
5-‌‌ الرِّوَايَة الْخَامِسَة:

"أهل بَيْتِي كَالنُّجُومِ بِأَيِّهِمْ اقْتَدَيْتُمْ اهْتَدَيْتُمْ" الحَدِيث أوردهُ ابْن عراق فِي كِتَابه الْعَظِيم3 تَنْزِيه الشَّرِيعَة المرفوعة عَن الْأَخْبَار الشنيعة الْمَوْضُوعَة، وَكَذَلِكَ السُّيُوطِيّ فِي اللآلئ المصنوعة فِي الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة ص 201، وَأوردهُ الشَّوْكَانِيّ فِي الْفَوَائِد الْمَجْمُوعَة فِي الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة ص 397، قَالَ الشَّوْكَانِيّ قَالَ فِي الْمُخْتَصر: "هُوَ من نُسْخَة نبيط المكذوبة" قَالَ الأستاذين المعلقين على كتاب الشَّوْكَانِيّ مَا يَأْتِي: "فِي الْأَصْلَيْنِ الْكذَّاب وَهُوَ وهم نبيط صَحَابِيّ وَإِنَّمَا جَاءَ الْكَذِب من بعض ذُريَّته وَهُوَ أَحْمد بن إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم بن نبيط لفق نُسْخَة رَوَاهَا عَن أَبِيه عَن جده

--------------------------------------------

3 ج1 ص419.
৫-‌‌ পঞ্চম বর্ণনা:

"আমার পরিবারবর্গ নক্ষত্ররাজির ন্যায়, তোমরা তাদের মধ্যে যারই অনুসরণ করবে, সঠিক পথ (হিদায়াত) পাবে।" হাদীসটি ইবনে ইরাক তাঁর মহান গ্রন্থ৩ 'তানজিহুশ শারীয়াহ আল-মারফুআ আনিল আখবারিশ শানিয়াহ আল-মাওদুআ'-তে উল্লেখ করেছেন, এবং একইভাবে সুয়ূতী 'আল-লাআলিল মাসনুআ ফিল আহাদিসিল মাওদুআ' পৃষ্ঠা ২০১-এ, এবং শাওকানী 'আল-ফাওয়ায়িদুল মাজমুআ ফিল আহাদিসিল মাওদুআ' পৃষ্ঠা ৩৯৭-এ এটি উল্লেখ করেছেন। শাওকানী বলেন, 'আল-মুখতাসার'-এ বলা হয়েছে: "এটি নুবাইতের মিথ্যাচারপূর্ণ পাণ্ডুলিপি থেকে গৃহীত।" শাওকানীর গ্রন্থের ওপর টীকা প্রদানকারী উস্তাদদ্বয় নিম্নোক্ত মন্তব্য করেছেন: "মূল পাণ্ডুলিপিদ্বয়ে 'মিথ্যুক' শব্দটি এসেছে যা একটি বিভ্রম; কারণ নুবাইত একজন সাহাবী। মূলত মিথ্যাটি এসেছে তাঁর জনৈক বংশধরের পক্ষ থেকে, আর তিনি হলেন আহমাদ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন নুবাইত, যিনি একটি পাণ্ডুলিপি জাল করেছেন যা তিনি তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।"

--------------------------------------------

৩ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১৯।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৪০)
عَن نبيط وَقد ذكرهَا السُّيُوطِيّ فِي أَوَاخِر الذيل". اهـ.

وَأورد الشَّيْخ الْفَاضِل نَاصِر الدّين الألباني الحَدِيث فِي سلسلة الْأَحَادِيث الضعيفة والموضوعة كَمَا أورد كل هَذِه الرِّوَايَات الْمُتَقَدّمَة إِنَّمَا أَحْبَبْت أَن أُعِيد الْقَارئ الْكَرِيم إِلَى أصل مرجع أَئِمَّة الْجرْح وَالتَّعْدِيل فِي مثل هَذِه الْأَحْوَال وَأَشَارَ الشَّيْخ الألباني فِي هَذِه الرِّوَايَة إِلَى الْفرق بَين نبيط الصَّحَابِيّ ونبيط الْكذَّاب، وَقَالَ: "وَقد وقفت على نُسْخَة أَحْمد بن نبيط الْكذَّاب وَهِي من رِوَايَة أبي نعيم الْأَصْبَهَانِيّ قَالَ: حَدثنَا أَبُو الْحسن أَحْمد بن الْقَاسِم بن الريان الْمصْرِيّ الْمَعْرُوف بـ (اللكي) بِالْبَصْرَةِ فِي نهر دبيس قِرَاءَة عَلَيْهِ فِي صفر سنة سبع وَخمسين وثلاثمائة فَأقر بِهِ قَالَ: أَنبأَنَا أَحْمد بن إِبْرَاهِيم بن نبيط بن شريط أَبُو جعر الْأَشْجَعِيّ بِمصْر سنة اثْنَتَيْنِ وَسبعين وَمِائَتَيْنِ قَالَ: حَدثنِي أبي إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم بن نبيط قَالَ: حَدثنِي أبي إِبْرَاهِيم بن نبيط عَن جده نبيط بن شَرط مَرْفُوعا فَذكر أَحَادِيث كَثِيرَة هَذَا مِنْهَا" اهـ.

قَالَ الذَّهَبِيّ: "فِي نُسْخَة أَحْمد بن نبيط هَذَا فِيهَا بلايا وَأحمد بن إِسْحَاق لَا يحل الِاحْتِجَاج بِهِ فَإِنَّهُ كَذَّاب وَأقرهُ الْحَافِظ فِي اللِّسَان، والراوي أَحْمد بن الْقَاسِم ضَعِيف"، وَأحمد ابْن الْقَاسِم هَذَا قَالَ عَنهُ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان1 أَحْمد بن الْقَاسِم بن الريان (اللكي) لَهُ جُزْء عَال رَوَاهُ عَنهُ أَبُو نعيم الْحَافِظ لينه الْأَمِير ابْن مَاكُولَا.

وَقَالَ الْحسن بن عَليّ بن عَمْرو الزُّهْرِيّ: "لَيْسَ بالمرضي وَضَعفه الدَّارقطني فِي المؤتلف والمختلف". اهـ.

--------------------------------------------

2 ج1 ص90.

3 ج1 ص606.
নাবিত থেকে বর্ণিত, আর সুয়ূতী একে 'আদ-দাইল'-এর শেষাংশে উল্লেখ করেছেন।" সমাপ্ত।

সুযোগ্য শায়খ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী হাদীসটি 'সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ ওয়াল মাওদুয়াহ'-তে উল্লেখ করেছেন, যেমন তিনি পূর্বোক্ত সকল বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। আমি কেবল সম্মানিত পাঠককে এ জাতীয় পরিস্থিতিতে জারহ ও তা'দীলের ইমামগণের মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছি। শায়খ আলবানী এই বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবী নাবিত এবং মিথ্যাবাদী নাবিতের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেন: "আমি মিথ্যাবাদী আহমাদ ইবনে নাবিতের পাণ্ডুলিপিটি প্রত্যক্ষ করেছি, যা আবু নুআইম আল-আসফাহানীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল হাসান আহমাদ ইবনে আল-কাসিম ইবনে আর-রাইয়ান আল-মিসরী—যিনি (আল-লাক্কি) নামে পরিচিত—বসরা নগরে দুবাইস নদীর তীরে বর্ণনা করেছেন; ৩৫৭ হিজরীর সফর মাসে তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হয় এবং তিনি তা স্বীকার করেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে নাবিত ইবনে শারীত আবু জা’ফার আল-আশজাঈ ২৭২ হিজরীতে মিশরে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে নাবিত আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা ইবরাহিম ইবনে নাবিত আমাকে তাঁর দাদা নাবিত ইবনে শারীত থেকে মারফূ’ হিসেবে হাদিস শুনিয়েছেন। অতঃপর তিনি অনেক হাদিস উল্লেখ করেন যার মধ্যে এটিও একটি।" সমাপ্ত।

ইমাম আয-যাহাবী বলেন: "আহমাদ ইবনে নাবিতের এই পাণ্ডুলিপিতে অনেক আপদ রয়েছে। আহমাদ ইবনে ইসহাককে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়, কারণ সে চরম মিথ্যাবাদী। হাফিয (ইবনে হাজার) 'আল-লিসান' গ্রন্থে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আর বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনে আল-কাসিম দুর্বল।" এই আহমাদ ইবনে আল-কাসিম সম্পর্কে আয-যাহাবী 'আল-মিযান' গ্রন্থে বলেছেন: আহমাদ ইবনে আল-কাসিম ইবনে আর-রাইয়ান (আল-লাক্কি)-এর একটি উচ্চ সনদযুক্ত অংশ (জুয) রয়েছে যা হাফিয আবু নুআইম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; আমীর ইবনে মাকূলা তাঁকে নমনীয় (দুর্বল) বলেছেন।

হাসান ইবনে আলী ইবনে আমর আয-যুহরী বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন এবং ইমাম আদ-দারাকুতনী তাকে 'আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন।" সমাপ্ত।

--------------------------------------------

২ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯০।

৩ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬০৬।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৪০)
6-‌‌ الرِّوَايَة السَّادِسَة:

" إِنَّمَا أَصْحَابِي مثل النُّجُوم فَأَيهمْ أَخَذْتُم بقوله اهْتَدَيْتُمْ" الحَدِيث رَوَاهُ ابْن عبد الْبر فِي كِتَابه (جَامع بَيَان الْعلم وفضله) 2 من طَرِيق أبي شهَاب الحناط عَن حَمْزَة الْجَزرِي عَن نَافِع عَن ابْن عمر مَرْفُوعا ثمَّ قَالَ ابْن عبد الْبر: "وَهَذَا إِسْنَاد لَا يَصح وَلَا يرويهِ عَن نَافِع من يحْتَج بِهِ"، قلت وَآفَة هَذِه الرِّوَايَة حَمْزَة بن أبي حَمْزَة الْجَزرِي النصيبي، قَالَ الذَّهَبِيّ فِي الْمِيزَان3 قَالَ

--------------------------------------------

2 ج1 ص90.

3 ج1 ص606.
৬-‌‌ ষষ্ঠ বর্ণনা:

"নিশ্চয়ই আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের মধ্যে যার কথাই গ্রহণ করবে, সঠিক পথ পাবে।" হাদীসটি ইবনে আবদিল বার তাঁর গ্রন্থ (জামে বয়ানিল ইলম ওয়া ফাদলিহি) ২-এ আবু শিহাব আল-হান্নাত-এর সূত্রে, তিনি হামযা আল-জাযারি থেকে, তিনি নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর ইবনে আবদিল বার বলেন: "এই সনদটি সহীহ নয় এবং নাফে থেকে এমন কেউ এটি বর্ণনা করেননি যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য।" আমি বলছি, এই বর্ণনার ত্রুটি হলো হামযা বিন আবি হামযা আল-জাযারি আন-নাসিবি। আয-যাহাবি আল-মিজান ৩ গ্রন্থে বলেন...

--------------------------------------------

২ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯০।

৩ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬০৬।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৪১)
ابْن معِين: "لَا يُسَاوِي فلسًا". وَقَالَ الإِمَام البُخَارِيّ: "مُنكر الحَدِيث"، وَقَالَ الدَّارقطني: "مَتْرُوك"، وَقَالَ ابْن عدي: "عَامَّة مَا يرويهِ مَوْضُوع"، ثمَّ سرد الذَّهَبِيّ بَعْضًا من مروياته الْمَوْضُوعَة مِنْهَا هَذِه الرِّوَايَة: "أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ…".

وَقَالَ الْحَافِظ فِي التَّقْرِيب: "حَمْزَة بن أبي جَعْفَر الْجعْفِيّ مَتْرُوك مُتَّهم بِالْوَضْعِ"، وَقَالَ ابْن حبَان: "ينْفَرد عَن الثِّقَات بالموضوعات حَتَّى كَأَنَّهُ الْمُعْتَمد لَهَا وَلَا تحل الرِّوَايَة عَنهُ".اهـ.

قَالَ الْحَافِظ ابْن حزم الأندلسي1 وَكتب إِلَيّ أَبُو عمر يُوسُف بن عبد الْبر النمري إِن هَذَا الحَدِيث رُوِيَ أَيْضا من طَرِيق عبد الرَّحِيم بن زيد الْعمي وَمن طَرِيق حَمْزَة الْجَزرِي قَالَ: "وَعبد الرَّحِيم بن زيد وَأَبوهُ مَتْرُوكَانِ وَحَمْزَة الْجَزرِي مَجْهُول"، وَقد عرفنَا حَالَة كل وَاحِد مِنْهُم.

قَالَ ابْن حزم: "فقد ظهر أَن هَذِه الرِّوَايَة لَا تثبت أصلا بل لَا شكّ أَنَّهَا مكذوبة لِأَن الله تَعَالَى يَقُول فِي صفة نبيه صلى الله عليه وسلم: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَاّ وَحْيٌ يُوحَى} فَإِذا كَانَ كَلَامه عليه السلام فِي الشَّرِيعَة حَقًا كُله ووحياً فَهُوَ من الله تَعَالَى بِلَا شكّ، وَمَا كَانَ من الله تَعَالَى فَلَا اخْتِلَاف فِيهِ بقوله تَعَالَى: {وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً} ".

إِلَى أَن قَالَ: "فَمن الْمحَال أَن يَأْمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِاتِّبَاع كل قَائِل من الصَّحَابَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم وَفِيهِمْ من يحلل الشَّيْء وَغَيره يحرمه وَلَو كَانَ ذَلِك لَكَانَ بيع الْخمر حَلَالا اقْتِدَاء بسمرة بن جُنْدُب رضي الله عنه، ولكان أكل الْبرد للصَّائِم حَلَالا بِأبي طَلْحَة وحراماً بِغَيْرِهِ مِنْهُم، ولكان ترك الْغسْل من الإكسال جَائِزا اقْتِدَاء بعلي وَعُثْمَان وَطَلْحَة وَأبي أَيُّوب وَأبي بن كَعْب وحراماً اقْتِدَاء بعائشة وَابْن عمر ولكان بيع التَّمْر قبل ظُهُور الطّيب فِيهَا حَلَالا اقْتِدَاء بعمر حَرَامًا اقْتِدَاء بِغَيْرِهِ مِنْهُم، ثمَّ استطرد ابْن حزم فِي ضرب الْأَمْثِلَة، وَقَالَ: وكل هَذَا مَرْوِيّ عندنَا بِالْأَسَانِيدِ الصَّحِيحَة تركناها خوف التَّطْوِيل وَقد كَانَ الصَّحَابَة يَقُولُونَ بآرائهم فِي عصره عليه الصلاة والسلام فيبلغه ذَلِك فيصوب الْمُصِيب ويخطئ الْمُخطئ، فَذَلِك بعد مَوته عليه السلام أفشى

--------------------------------------------

1 الإحكام فِي أصُول الْأَحْكَام ج6 ص810.
ইবনে মাঈন বলেন: "সে এক পয়সা সমতুল্যও নয়।" ইমাম বুখারী বলেন: "সে মুনকারুল হাদিস (অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী)", আদ-দারাকুতনি বলেন: "সে মাতরুক (পরিত্যক্ত)", এবং ইবনে আদি বলেন: "সে যা বর্ণনা করে তার অধিকাংশ জাল।" অতঃপর আয-যাহাবি তার জাল বর্ণনাগুলোর কিছু ধারাবাহিক উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে এই বর্ণনাটিও রয়েছে: "আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য..."।

হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেন: "হামজাহ বিন আবি জাফর আল-জু'ফি একজন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী, তার বিরুদ্ধে হাদিস জাল করার অভিযোগ রয়েছে।" ইবনে হিব্বান বলেন: "সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে এমন সব জাল হাদিস এককভাবে বর্ণনা করে, যেন মনে হয় সে এগুলোর জন্য বিশেষ নিয়োজিত; তার থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়।" (সমাপ্ত)।

হাফেজ ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি (১) বলেন: আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল বার আন-নামারি আমাকে লিখেছেন যে, এই হাদিসটি আব্দুর রাহিম বিন যায়িদ আল-আম্মি এবং হামজাহ আল-জাযারির সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: "আব্দুর রাহিম বিন যায়িদ এবং তার পিতা—উভয়ই পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী, আর হামজাহ আল-জাযারি অজ্ঞাত।" আমরা তাদের প্রত্যেকের অবস্থা সম্পর্কে জেনেছি।

ইবনে হাজম বলেন: "এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, এই বর্ণনাটি আদৌ প্রমাণিত নয়, বরং এটি যে বানোয়াট সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ মহান আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গুণ বর্ণনা করে বলেছেন: {তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। তা তো ওহী, যা তাঁর নিকট প্রত্যাদেশ করা হয়}। সুতরাং শরীয়তের ব্যাপারে তাঁর (আলাইহিস সালাম) সকল কথা যখন সত্য এবং ওহী, তবে তা নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তাতে কোনো মতভেদ থাকে না; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত}।"

তিনি আরও বলেন: "এটা অসম্ভব যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুম) মধ্য থেকে প্রত্যেক বক্তার অনুসরণের নির্দেশ দেবেন, অথচ তাঁদের মধ্যে কেউ কোনো বিষয়কে হালাল মনে করেছেন আবার কেউ তা হারাম করেছেন। যদি বিষয়টি এমন হতো, তবে সামুরা বিন জুনদুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসরণে মদ বিক্রি হালাল হতো, আবু তালহার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অনুসরণে রোজাদারের জন্য শিলা ভক্ষণ হালাল হতো আবার অন্যদের অনুসরণে তা হারাম হতো। এবং আলী, উসমান, তালহা, আবু আইয়ুব ও উবাই বিন কাবের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অনুসরণে বীর্যপাতহীন সহবাসে গোসল না করা বৈধ হতো, আর আয়েশা ও ইবনে উমরের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অনুসরণে তা হারাম হতো। এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসরণে পরিপক্ব হওয়ার আগে খেজুর বিক্রি হালাল হতো, আর অন্যদের অনুসরণে তা হারাম হতো।" এরপর ইবনে হাজম উদাহরণ পেশ করার ধারা দীর্ঘ করেন এবং বলেন: "এই সবগুলোই আমাদের নিকট সহীহ সনদসমূহের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যা দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় আমরা ছেড়ে দিয়েছি। সাহাবীগণ তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) জীবদ্দশায় নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করতেন, অতঃপর তা তাঁর নিকট পৌঁছালে তিনি সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক বলতেন এবং ভুলকারীকে ভুল বলতেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তো এটি আরও ব্যাপকভাবে ঘটেছে।"

--------------------------------------------

১ আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮১০।
(খণ্ড: ১) নাযারাত ফী হাদীসি আসহাবী কান-নুজূম (পৃষ্ঠা: ১৪২)
وأكره." اهـ1مُلَخصا من كَلَام ابْن حزم رحمه الله وَمن أَرَادَ التَّفْصِيل فَعَلَيهِ بِالْكتاب الْمشَار إِلَيْهِ.

بعد هَذَا لَيْسَ على الباحث الْمنصف وطالب الْحق إِذا قَالَ بعد اطِّلَاعه على هَذِه الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة المكذوبة لَيْسَ عَلَيْهِ شَيْء إِذا قَالَ: لَا يَصح فِي هَذَا الْبَاب حَدِيث وَاحِد بِهَذِهِ الرِّوَايَات، وَبِهَذَا نتبين أَن الله حفظ هَذِه الشَّرِيعَة الغراء من كيد الدساسين الوضاعين والكذابين الآثمين، وَإِن الله قيض لهَذَا الدّين جهابذة يدافعون فِي سَبيله وينافحون عَمَّا علق بِهِ من الْكَذِب والأباطيل {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} .

وَالله من وَرَاء الْقَصْد وَهُوَ الْهَادِي إِلَى سَوَاء السَّبِيل.

--------------------------------------------

1 وَلَا يغتر الْقَارئ بِتَعَدُّد رِوَايَات هَذَا الحَدِيث لِأَن المتعدد لَا يجدي نفعا إِذا كَانَ مدَار كل رِوَايَة على كَذَّاب أَو مُتَّهم أَو فَاحش الْغَلَط فَمثل هَذَا النَّوْع لَا يُقَوي بعضه بَعْضًا لِأَنَّهُ يكون من (مثقل اسْتَعَانَ بذقنه) .
এবং আমি অপছন্দ করি।" - সমাপ্ত। ১ ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য থেকে সংক্ষেপিত। আর যারা বিস্তারিত জানতে চান, তারা যেন উল্লেখিত কিতাবটি দেখে নেন।

এর পরে, একজন ন্যায়নিষ্ঠ গবেষক এবং সত্য অন্বেষাকারীর জন্য এই বানোয়াট ও মিথ্যা হাদিসগুলো অবগত হওয়ার পর এটি বলাতে কোনো বাধা নেই যে: "এই বর্ণনাসমূহের ভিত্তিতে এই অধ্যায়ে একটি হাদিসও সহিহ নয়।" এর মাধ্যমেই আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহ এই উজ্জ্বল শরিয়তকে অনুপ্রবেশকারী জালিয়াত এবং পাপিষ্ঠ মিথ্যাবাদীদের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করেছেন। আর আল্লাহ এই দ্বীনের জন্য এমন প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের নিয়োজিত করেছেন যারা আল্লাহর পথে একে রক্ষা করেন এবং এর সাথে জুড়ে দেওয়া মিথ্যা ও অসার বিষয়গুলোকে প্রতিহত করেন। "নিশ্চয় আমিই এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"

আল্লাহর সন্তুষ্টিই একমাত্র লক্ষ্য এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারী।

--------------------------------------------

১ পাঠক যেন এই হাদিসের বর্ণনার আধিক্য দেখে প্রতারিত না হন; কারণ বর্ণনার আধিক্য কোনো উপকারে আসে না যদি প্রতিটি বর্ণনার কেন্দ্রবিন্দু কোনো মিথ্যাবাদী, অথবা (মিথ্যাচারে) অভিযুক্ত ব্যক্তি, অথবা জঘন্য ভুলকারী হয়। এই ধরনের বর্ণনা একে অপরকে শক্তিশালী করে না; কারণ এটি "এক ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যে ভারসাম্য রক্ষায় নিজের চিবুকের সাহায্য নেয়"-এর মতো।