(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: -)
المرقبة العليا فيمن يستحق القضاء والفتيا = تاريخ قضاة الأندلس   (النباهي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تاريخ قضاة الأندلس (المرقبة العليا فيمن يستحق القضاء والفتيا)

المؤلف: أبو الحسن علي بن عبد الله بن محمد بن محمد ابن الحسن الجذامي النباهي المالقي الأندلسي (ت نحو 792هـ)

المحقق: لجنة إحياء التراث العربي في دار الآفاق الجديدة

الناشر: دار الآفاق الجديدة - بيروت/لبنان

الطبعة: الخامسة، 1403هـ -1983م

عدد الصفحات: 208

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মারকাবাতুল উলিয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল কাজা ওয়াল ফুতয়া = আন্দালুসের বিচারকদের ইতিহাস   (আন-নাব্বাহী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আন্দালুসের বিচারকদের ইতিহাস (আল-মারকাবাতুল উলিয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল কাজা ওয়াল ফুতয়া)

লেখক: আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-জুযামী আন-নাব্বাহী আল-মালাকী আল-আন্দালুসী (মৃত্যু আনুমানিক ৭৯২ হিজরি)

সম্পাদক: দারুল আফাক আল-জাদিদাহ-এর আরবী ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কমিটি

প্রকাশক: দারুল আফাক আল-জাদিদাহ - বৈরুত/লেবানন

সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَصلى الله على سيدنَا ومولانا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه وَسلم قَالَ الشَّيْخ الْفَقِيه الْعَالم، قَاضِي الْجَمَاعَة بالبلاد الأندلسية، وخطيب حضرتها الْعلية أَعَادَهَا الله لِلْإِسْلَامِ {أَبُو الْحسن بن الْفَقِيه أبي مُحَمَّد ابْن عبد الله بن الْحُسَيْن النباهي وصل الله سُبْحَانَهُ سعادته، وشكر إفادته} أما بعد حمد الله، وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على مُحَمَّد رَسُول الله، فَهَذَا كتاب أرسم فِيهِ بحول الله نبذاً من الْكَلَام فِي خطة الْقَضَاء، وسير بعض من سلف من الْقُضَاة، أَو بلغ رتبه الِاجْتِهَاد، وفيمن يجوز لَهُ التَّقْلِيد وَمن لَا يجوز لَهُ، وصفات الْمُفْتى الَّذِي يَنْبَغِي قبُول قَوْله، والاقتداء بِهِ لمن ذهب إِلَى مقلده، وبالجاري من الْفَتَاوَى على منهاج السداد، وَهل يجوز للمفتي قبُول الْهَدِيَّة من المستفتى، أم هِيَ فِي حَقه من ضروب الرشاء الْمُحرمَة على الْجَمِيع. وَلست أَجْهَل أَن هَذَا الْغَرَض قد سبق لَهُ غَيْرِي، وصنف فِي مَعْنَاهُ أنَاس قبلي؛ لَا كنّى رَأَيْت أَن أُعِيد مِنْهُ الْآن مَا أُعِيدهُ على جِهَة التَّذْكِرَة لنَفْسي، والتنبيه لمن هُوَ مثلي. وَحَاصِل مَا أُرِيد إثْبَاته من ذَلِك فِي هَذَا الْكتاب يرجع على التَّقْرِيب إِلَى أَرْبَعَة أَبْوَاب. فَأَقُول وَالله الْمُوفق للصَّوَاب:؟
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। শায়খ, ফকিহ, বিজ্ঞ আলেম, আন্দালুসীয় ভূখণ্ডের প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন রাজসভার খতিব—আল্লাহ তাআলা একে ইসলামের জন্য পুনরায় ফিরিয়ে দিন—{আবুল হাসান বিন আল-ফকিহ আবু মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আন-নাবাহি, আল্লাহ সুবহানাহু তাঁর কল্যাণ বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর উপকারের শুকরিয়া আদায় করুন} বলেন: আল্লাহর প্রশংসা এবং আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ-এর ওপর দরুদ ও সালামের পর; এটি এমন এক কিতাব যাতে আমি আল্লাহর শক্তিতে বিচার বিভাগীয় পদমর্যাদা, পূর্বসূরি কিছু বিচারকদের জীবনী অথবা যারা ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছেছেন তাদের বিষয়াদি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা লিপিবদ্ধ করছি। সেই সাথে কার জন্য তাকলিদ বৈধ এবং কার জন্য অবৈধ, এবং সেই মুফতির গুণাবলী যার কথা গ্রহণ করা উচিত ও যে ব্যক্তি তাঁর মুকাল্লিদ হয়েছে তার জন্য তাকে অনুসরণ করা সংগত, এবং সঠিক পদ্ধতি অনুযায়ী প্রচলিত ফাতওয়াসমূহ বর্ণনা করছি। আর মুফতির জন্য ফাতওয়া প্রার্থীর নিকট থেকে উপহার গ্রহণ করা কি জায়েজ, নাকি তা তার ক্ষেত্রে সকলের জন্য হারামকৃত ঘুষের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত—তাও আলোচনা করছি। আমি এ বিষয়ে অনবহিত নই যে, ইতিপূর্বে অন্যরাও এই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং আমার আগে অনেকে এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন; তবে আমি নিজের জন্য স্মারক হিসেবে এবং আমার মতো ব্যক্তিদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বর্তমানে এর পুনরাবৃত্তি করা সমীচীন মনে করছি। এই গ্রন্থে আমি যা সাব্যস্ত করতে চাই, তা মূলত চারটি অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। আমি বলছি—আর আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা:?
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢)
‌‌الْبَاب الأول فِي الْقَضَاء وَمَا ضارعه

 

‌‌فصل

لفظ الْقَضَاء يَأْتِي فِي اللُّغَة على أنحاء مرجعها إِلَى انْقِطَاع الشَّيْء وَتَمَامه. يُقَال: قضى الْحَاكِم إِذا فصل فِي الحكم؛ وَقضى دينه أَي قطع مَا لغريمه قبله بالاداء؛ وقضيت الشَّيْء أحكمت عمله؛ وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: " إِذا قضى أمرا " أَي أحكمه وأنفذه. وخطة الْقَضَاء فِي نَفسهَا عِنْد الكافة من أَسْنَى الخطط؛ فَإِن الله تَعَالَى قد رفع دَرَجَة الْحُكَّام، وَجعل إِلَيْهِم تصريف أُمُور الْأَنَام، حكمون فِي الدِّمَاء والأبضاع وَالْأَمْوَال، والحلال وَالْحرَام. وَتلك خطة الْأَنْبِيَاء وَمن بعدهمْ من الْخُلَفَاء: فَلَا شرف فِي الدُّنْيَا بعد الْخلَافَة أشرف من الْقَضَاء. وَلأَجل منيف قدره فِي الأقدار، ولسمو خطره فِي الأخطار، اشْترط الْعلمَاء فِي متوليه، من شُرُوط الصِّحَّة والكمال، مَا تقرر فِي كتبهمْ، واستبعد حُصُول مَجْمُوعه الْأَئِمَّة المقتدى بهم. فقد نقل عَن مَالك بن أنس رحمه الله {أَنه كَانَ يَقُول فِي الْخِصَال الَّتِي لَا يصلح الْقَضَاء إِلَّا بهَا: لَا أَرَاهَا تَجْتَمِع الْيَوْم فِي أحد؛ فَإِذا اجْتمع مِنْهَا فِي الرجل خصلتان الْعلم والورع، قدم. قَالَ عبد الْملك بن حبيب فِي كِتَابه: وَإِن لم يكن علم، فعقل وورع} فبالعقل يسئل وَبِه تحصل خِصَال الْخَيْر كلهَا؛ وبالورع يعف؛ وَإِن طلب الْعلم وجده؛ وَإِن طلب الْعقل، إِذا لم يكن عِنْده، لم يجده. وَقد قيل: كثير الْعقل مَعَ قَلِيل الْعلم أَنْفَع من كثير الْعلم مَعَ قَلِيل الْعقل. وَلَيْسَ الْعلم بِكَثْرَة الرِّوَايَة وَالْحِفْظ، كَمَا قَالَه ابْن مَسْعُود رضي الله عنه {: وَإِنَّمَا الْعلم نور يَضَعهُ الله فِي الْقُلُوب. قَالَ الْمُؤلف أدام الله توفيقه} : وَمن قلد الحكم بَين الْخلق وَالنَّظَر فِي شَيْء من أُمُورهم: فَهُوَ أحْوج النَّاس إِلَى هَذَا النُّور وَإِلَى اتصافه بالتذكير والتيقظ والتفطن. وَلذَلِك كَانَ إِسْمَاعِيل بن إِسْحَاق، قَاضِي الْقُضَاة بِبَغْدَاد، يَقُول: من لم تكن فِيهِ، لم يكن
‌প্রথম অধ্যায়: বিচারকার্য এবং এর সদৃশ বিষয়াবলি সম্পর্কে

 

‌পরিচ্ছেদ

আভিধানিক অর্থে বিচারকার্য (কাজা) শব্দটি বিভিন্ন প্রকারে আসে যার মূল ভিত্তি হলো কোনো বিষয়ের পরিসমাপ্তি ও পূর্ণতা। বলা হয়: বিচারক ফয়সালা করেছেন যখন তিনি রায়ে উপনীত হন; এবং তিনি ঋণ পরিশোধ করেছেন অর্থাৎ পাওনা আদায়ের মাধ্যমে পাওনাদারের পাওনা চুকিয়ে দিয়েছেন; আর আমি বিষয়টি সম্পন্ন করেছি অর্থাৎ এর কাজ সুচারুরূপে শেষ করেছি; আর এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "যখন তিনি কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন" অর্থাৎ তিনি তা সুদৃঢ় করেন এবং বাস্তবায়ন করেন। বিচারবিভাগীয় পদটি সর্বসাধারণের নিকট অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদ; কেননা মহান আল্লাহ বিচারকদের মর্যাদা সমুন্নত করেছেন এবং মানুষের বিষয়াবলি পরিচালনার দায়িত্ব তাঁদের ওপর ন্যস্ত করেছেন, তাঁরা রক্ত, দাম্পত্য সম্পর্ক, সম্পদ এবং হালাল ও হারাম বিষয়ে ফয়সালা করেন। আর এটি নবীগণের এবং তাঁদের পরবর্তী খলিফাগণের পথ: সুতরাং পৃথিবীতে খেলাফতের পরে বিচারকার্যের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ আর কোনো সম্মান নেই। এর সুউচ্চ মর্যাদা এবং অতিশয় গুরুত্বের কারণে আলেমগণ এই পদে নিযুক্ত ব্যক্তির জন্য বৈধতা ও পূর্ণতার এমন কিছু শর্তারোপ করেছেন যা তাঁদের গ্রন্থসমূহে স্থিরীকৃত হয়েছে, আর অনুসরণীয় ইমামগণ এই সমস্ত গুণের পূর্ণ সমাবেশ হওয়াকে সুদূরপরাহত মনে করেছেন। মালেক ইবনে আনাস (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বিচারকার্যের জন্য অপরিহার্য গুণাবলি সম্পর্কে বলতেন: "আমি আজ কারও মধ্যে এগুলোর একত্র সমাবেশ দেখি না; তবে কোনো ব্যক্তির মধ্যে যদি দুটি গুণ—ইলম (জ্ঞান) ও তাকওয়া (পরহেজগারি) বিদ্যমান থাকে, তবে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আবদুল মালেক ইবনে হাবিব তাঁর কিতাবে বলেছেন: আর যদি ইলম না থাকে, তবে বুদ্ধি ও তাকওয়া থাকতে হবে"; কারণ বুদ্ধির মাধ্যমে সে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিতে পারবে এবং এর মাধ্যমেই সমস্ত কল্যাণের গুণাবলি অর্জিত হয়; আর তাকওয়ার মাধ্যমে সে পবিত্র থাকে; সে যদি ইলম অন্বেষণ করে তবে তা পেয়ে যাবে; কিন্তু তার যদি বুদ্ধি না থাকে তবে অন্বেষণ করেও তা পাবে না। আর বলা হয়ে থাকে: অল্প ইলমের সাথে অধিক বুদ্ধি, অল্প বুদ্ধির সাথে অধিক ইলমের চেয়ে অধিক উপকারী। ইবনে মাসউদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) যেমনটি বলেছেন: ইলম মানে অধিক বর্ণনা বা মুখস্থ করা নয়; বরং ইলম হলো একটি নূর যা আল্লাহ অন্তরে দান করেন। লেখক (আল্লাহ তাঁর তাওফিক অব্যাহত রাখুন) বলেন: যাকে সৃষ্টিজগতের মাঝে বিচার ফয়সালা এবং তাদের বিষয়াবলি তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই ব্যক্তিই এই নূরের এবং উপদেশ গ্রহণ, সতর্কতা ও প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়ার গুণের সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী। এজন্যই বাগদাদের প্রধান বিচারপতি ইসমাইল ইবনে ইসহাক বলতেন: যার মধ্যে এগুলো নেই, সে যোগ্য নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٣)
لَهُ أَن يَلِي الْقَضَاء. وَقَالَ ابْن الْمَوَّاز: لَا يَنْبَغِي أَن يستقضى إِلَّا ذكى، فطن، فهم، فَقِيه، متأن، غير عجول، وَذكر أَن عمر بن عبد الْعَزِيز قَالَ: لَا يصلح للْقَضَاء إِلَّا الْقوي على أَمر النَّاس، المستخف بسخطهم وملامتهم فِي حق الله، الْعَالم بِأَنَّهُ، مهما اقْترب من سخط النَّاس وملامتهم فِي الْحق وَالْعدْل وَالْقَصْد، اسْتَفَادَ بذلك ثمنا ربيحاً من رضوَان الله {.

‌‌فصل

قَالَ عز الدّين أَبُو مُحَمَّد عبد الْعَزِيز بن عبد السَّلَام: وَقد أجمع الْمُسلمُونَ على أَن الْوُلَاة أفضل من غَيرهم. وتفصيل ذَلِك أَن الْولَايَة تشْتَمل على غَرَض شَرْعِي، وغرض طبعي؛ فَنهى عَنْهَا من يغلبه طبعه وهواه، وَأمر بهَا من يكون قاهراً لطبعه، غَالِبا لهواه. فَلَا يتولاها من لَا يملك هَوَاهُ إِلَّا أَن يتَعَيَّن لَهَا؛ فَيجب عَلَيْهِ أَن يتولاها، وَأَن يُجَاهد نَفسه فِي دفع هَوَاهُ مَا اسْتَطَاعَ. وَمِمَّا يُشِير إِلَى التَّرْغِيب فِي الحكم لمن قدر على الْعدْل فِيهِ، قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم} " إِن المقسطين عِنْد الله يَوْم الْقِيَامَة، على مَنَابِر من نور عَن يَمِين الرَّحْمَن. وكلتا يَدَيْهِ يَمِين الَّذين يعدلُونَ فِي حكمهم وأهليهم وَمَا ولوه. " وَقَوله " عَن يَمِين الرَّحْمَن " مَعْنَاهُ فِي الْحَالة الْحَسَنَة والمنزلة الرفيعة؛ وَالْعرب تنْسب الْفِعْل الْمَحْمُود وَالْإِحْسَان إِلَى الْيَمين، وضده إِلَى الشمَال أَي الْمنزلَة الخسيسة؛ وَأما الأقساط، فَهُوَ الْعدْل؛ يُقَال: أقسط إِذا عدل. قَالَ الله تَعَالَى: " وأقسطوا إِن الله يحب المقسطين {" وَفِي كتاب أبي حبيب، عَن ابْن شهَاب، أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم} قَالَ: " مَا من أحد أقرب مَجْلِسا من الله يَوْم الْقِيَامَة، بعد ملك مصطفى، أَو نَبِي مُرْسل، من إِمَام عدل {" وروى أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم} قَالَ: " إِن الله مَعَ القَاضِي، مَا لم يحف عمدا. " وَفِي الصَّحِيح: إِذا حكم الْحَاكِم، ثمَّ اجْتهد فَأصَاب، فَلهُ أَجْرَانِ؛ وَإِذا حكم فاجتهد، ثمَّ أَخطَأ، فَلهُ أجر وَاحِد. قَالَ أهل الْعلم: وَالْمرَاد هُنَا بالحاكم، الْبَصِير بالحكومة، المتحري الْعدْل. وَقد اسْتدلَّ بِهَذَا الحَدِيث من يرى أَن كل مُجْتَهد مُصِيب، لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم! جعل لَهُ أجرا. وَاحْتج بِهِ أَيْضا أَصْحَاب القَوْل
বিচারকার্য পরিচালনা করার অধিকার তার আছে। ইবনে আল-মাওয়াজ বলেন: বিচারক হিসেবে এমন ব্যক্তিকেই নিযুক্ত করা উচিত যে মেধাবী, বিচক্ষণ, সমঝদার, ফকিহ (আইনজ্ঞ), ধীরস্থির এবং হঠকারী নয়। বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বলেন: বিচারকার্যের জন্য কেবল সেই ব্যক্তিই যোগ্য যে মানুষের বিষয়ের ওপর শক্তিশালী (দৃঢ়), আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে মানুষের অসন্তুষ্টি ও নিন্দাকে তুচ্ছজ্ঞানকারী। যে ব্যক্তি জানে যে, সত্য, ন্যায়বিচার এবং মধ্যপন্থা অবলম্বনে সে মানুষের অসন্তুষ্টি ও নিন্দার যত নিকটবর্তী হবে, এর বিনিময়ে সে আল্লাহর সন্তুষ্টির এক লাভজনক প্রতিদান অর্জন করবে।

‌‌পরিচ্ছেদ

ইজ্জুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুস সালাম বলেন: মুসলিমগণ এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, শাসকরা অন্যদের চেয়ে উত্তম। এর বিস্তারিত বিবরণ এই যে, শাসনভারের মধ্যে শরয়ি উদ্দেশ্য এবং প্রবৃত্তিগত উদ্দেশ্য—উভয়ই বিদ্যমান। সুতরাং যার ওপর তার প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি জয়ী হয়, তাকে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে; আর যে তার প্রকৃতির ওপর প্রভাব বিস্তারকারী এবং প্রবৃত্তির ওপর বিজয়ী হয়, তাকে এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই যে নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে যেন এই দায়িত্ব গ্রহণ না করে, যদি না তা তার জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় তার জন্য তা গ্রহণ করা ওয়াজিব এবং সাধ্যমতো স্বীয় প্রবৃত্তিকে প্রতিহত করার জন্য সংগ্রাম করা আবশ্যক। যারা ন্যায়বিচার করতে সক্ষম, তাদের জন্য বিচারের কাজে উৎসাহ প্রদান করে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী: "নিশ্চয়ই ন্যায়পরায়ণরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট নূরের মিম্বরসমূহের ওপর রহমানের ডান দিকে অবস্থান করবে। আর আল্লাহর উভয় হাতই ডান। তারা হলো সেই সব লোক যারা তাদের বিচারকার্যে, পরিবার-পরিজনে এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বে ন্যায়বিচার করে।" তাঁর বাণী "রহমানের ডান দিকে" এর অর্থ হলো উত্তম অবস্থা এবং উচ্চ মর্যাদা; আর আরবরা প্রশংসনীয় কাজ ও অনুগ্রহকে ডান দিকের সাথে এবং এর বিপরীতকে বাম দিকের সাথে অর্থাৎ হীন মর্যাদার সাথে সম্পৃক্ত করে। আর 'ইকসাত' হলো ন্যায়বিচার; বলা হয়, 'আকসাতা' যখন সে ন্যায়বিচার করে। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং তোমরা ন্যায়বিচার করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।" আবু হাবিবের কিতাবে ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সালল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন আল্লাহর মনোনীত ফেরেশতা অথবা প্রেরিত নবীর পর ন্যায়পরায়ণ শাসকের চেয়ে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী আসনে আর কেউ থাকবে না।" এবং বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বিচারকের সাথে থাকেন, যতক্ষণ না সে ইচ্ছাকৃতভাবে অবিচার করে।" সহিহ হাদিসে রয়েছে: "যখন বিচারক বিচার করেন এবং ইজতিহাদ করে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তখন তার জন্য দুটি প্রতিদান রয়েছে। আর যখন তিনি বিচার করতে গিয়ে ইজতিহাদ করেন এবং ভুল করেন, তখন তার জন্য একটি প্রতিদান রয়েছে।" আহলে ইলমগণ বলেন: এখানে বিচারক বলতে যিনি বিচারকার্যে দূরদর্শী এবং ন্যায়বিচারের অন্বেষণকারী তাকে বোঝানো হয়েছে। যারা মনে করেন যে প্রত্যেক মুজতাহিদই সঠিক, তারা এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জন্য প্রতিদান নির্দিষ্ট করেছেন। এই মতের অনুসারীরাও এটি দ্বারা যুক্তি প্রদান করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٤)
الآخر بِأَن الْمُصِيب وَاحِد وَالْحق فِي طرف وَاحِد، لِأَنَّهُ، لَو كَانَ كل وَاحِد مصيباً، لم يسم أَحدهمَا مخطئاً، فَيجمع الضدين فِي حَالَة وَاحِدَة. قَالَ القَاضِي أَبُو الْفضل بن مُوسَى فِي إكماله: وَالْقَوْل بِأَن الْحق فِي طرفين هُوَ قَول أَكثر أهل التَّحْقِيق من الْمُتَكَلِّمين وَالْفُقَهَاء؛ وَهُوَ مروى عَن مَالك وَالشَّافِعِيّ وَأبي حنيفَة، وَإِن كَانَ قد حكى عَن كل وَاحِد مِنْهُم اخْتِلَاف فِي هَذَا الأَصْل. وَهَذَا كُله فِي الْأَحْكَام الشَّرْعِيَّة. وَأما مَا يتَعَلَّق بِأَصْل وَقَاعِدَة، من أصُول التَّوْحِيد وقواعده، مِمَّا مبتناه على قواطع الْأَدِلَّة الْعَقْلِيَّة، فَإِن الْخَطَأ فِي كل هَذَا غير مَوْضُوع، وَالْحق فِيهَا فِي طرف وَاحِد، بِإِجْمَاع من أَرْبَاب الْأُصُول والمصيب فِيهَا وَاحِد، إِلَّا مَا روى عَن عبد الله الْعَنْبَري، من تصويبه الْمُجْتَهدين فِي ذَلِك، وعذره لَهُم؛ وَحكى مثله عَن دَاوُود وَكله لَا يلْتَفت إِلَيْهِ، وَقد حكى عَن الْعَنْبَري أَن مذْهبه فِي ذَلِك على الْعُمُوم؛ وَعِنْدِي أَنه إِنَّمَا يَقُول ذَلِك فِي أهل الْملَّة دون الْكَفَرَة؛ وَالِاجْتِهَاد الْمَذْكُور فِي هَذَا الْبَاب هُوَ بذل الوسع فِي طلب الْحق وَالصَّوَاب فِي النَّازِلَة. انْتهى. وَفِي حَدِيث معَاذ بن جبل أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم! أذن لَهُ أَن يجْتَهد بِرَأْيهِ فِيمَا لم يكن فِي الْكتاب وَالسّنة؛ وَقد ورد: مَا من قاضٍ يقْضِي بِالْحَقِّ إِلَّا كَانَ عَن يَمِينه ملك وَعَن شِمَاله ملك، إِلَى غير ذَلِك مِمَّا جَاءَ فِي هَذَا الْبَاب.

‌‌فصل فِي الْخِصَال الْمُعْتَبرَة فِي الْقُضَاة

من التَّنْبِيهَات وشروط الْقَضَاء، الَّتِي لَا يتم للْقَاضِي قَضَاؤُهُ إِلَّا بهَا، عشرَة: الْإِسْلَام؛ وَالْعقل؛ والذكورية؛ وَالْحريَّة؛ وَالْبُلُوغ؛ وَالْعَدَالَة؛ وَالْعلم؛ وسلامة حاسة السّمع وَالْبَصَر من الْعَمى والصمم؛ وسلامة حاسة اللِّسَان من الْبكم؛ وَكَونه وَاحِدًا لَا أَكثر؛ فَلَا يَصح تَقْدِيم إثنين على أَن يقضيا مَعًا فِي قَضِيَّة وَاحِدَة، لاخْتِلَاف الْأَغْرَاض، وَتعذر الِاتِّفَاق وَبطلَان الْأَحْكَام بذلك. ثمَّ من هَذِه الشُّرُوط مَا إِذا عدم فِيمَن قلد الْقَضَاء بِجَهْل، أَو غَرَض فَاسد، ثمَّ نفذ مِنْهُ حكم، فَإِنَّهُ لَا يَصح وَيرد؛ وَهِي الْخَمْسَة الأولى: الْإِسْلَام؛ وَالْعقل؛ وَالْبُلُوغ؛ والذكورية؛ وَالْحريَّة. وَأما الْخَمْسَة الْأُخْرَى، فَينفذ من أَحْكَام من عدمت مِنْهُ
অপর পক্ষ মনে করেন যে, সঠিক কেবল একজনই এবং সত্য কেবল এক পক্ষেই থাকে। কারণ, যদি প্রত্যেকেই সঠিক হতো, তবে তাদের কোনো একজনকে ভুল বলা হতো না; ফলে একই অবস্থায় দুটি বিপরীত বিষয়ের মিলন ঘটত। কাজী আবুল ফজল ইবনে মুসা তার 'ইকমাল' গ্রন্থে বলেছেন: সত্য উভয় পক্ষেই থাকতে পারে - এই মতটি মুতাকাল্লিম ও ফকিহদের মধ্যে অধিকাংশ গবেষকের অভিমত। এটি মালিক, শাফিঈ এবং আবু হানিফা থেকে বর্ণিত হয়েছে, যদিও এই মূলনীতির বিষয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই ভিন্নমতও বর্ণিত হয়েছে। আর এ সবই শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে তাওহীদের মূলনীতি ও ভিত্তিসমূহ যা অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সেগুলোতে ভুলের অবকাশ নেই। উসুলবিদদের ঐকমত্য অনুযায়ী সেখানে সত্য কেবল এক পক্ষেই থাকে এবং সঠিকও কেবল একজনই হন। তবে আবদুল্লাহ আল-আম্বারি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এ বিষয়ে মুজতাহিদদের সঠিক বলে গণ্য করেছেন এবং তাদের ওজর গ্রহণ করেছেন; দাউদ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু এ সবের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হবে না। আল-আম্বারি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এ বিষয়ে তার মাযহাব সাধারণ (ব্যাপক); কিন্তু আমার মতে তিনি এটি কেবল মুসলিমদের ক্ষেত্রে বলেন, কাফেরদের ক্ষেত্রে নয়। এই অধ্যায়ে উল্লিখিত ইজতিহাদ বলতে উদ্ভূত সমস্যায় সত্য ও সঠিক বিষয়টি অনুসন্ধানে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রচেষ্টা চালানোকে বোঝায়। সমাপ্ত। মুয়াজ ইবনে জাবাল-এর হাদিসে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহতে যা নেই সে বিষয়ে নিজের রায় দিয়ে ইজতিহাদ করার অনুমতি দিয়েছিলেন। এবং বর্ণিত হয়েছে: যে কাজীই ন্যায়ের সাথে বিচার করেন, তার ডানে একজন ফেরেশতা এবং বামে একজন ফেরেশতা থাকেন - এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বর্ণনাগুলোও তদ্রূপ।

‌‌পরিচ্ছেদ: কাজীদের ক্ষেত্রে বিবেচ্য গুণাবলি প্রসঙ্গে

বিচার কার্যের সতর্কবার্তা এবং শর্তাবলি যার ব্যতিরেকে কাজীর বিচার পূর্ণাঙ্গ হয় না, তা দশটি: ইসলাম; বিবেক; পুরুষ হওয়া; স্বাধীনতা; প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া; ন্যায়পরায়ণতা; জ্ঞান; অন্ধত্ব ও বধিরতা থেকে শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির সুস্থতা; বাকহীনতা থেকে জিহ্বার সুস্থতা; এবং তিনি একজন হওয়া, একাধিক নয়। ফলে এক ও অভিন্ন মামলায় বিচার করার জন্য দুই ব্যক্তিকে নিয়োগ করা সহিহ হবে না; কারণ এতে উদ্দেশ্য ভিন্ন হতে পারে, ঐকমত্য পোষণ অসম্ভব হতে পারে এবং এর ফলে বিচার বাতিল হয়ে যেতে পারে। অতঃপর এই শর্তগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা যদি অজ্ঞতাবশত বা অসৎ উদ্দেশ্যে কাউকে বিচারকের পদে নিয়োগ করার সময় অনুপস্থিত থাকে এবং এরপর সে কোনো রায় প্রদান করে, তবে তা সঠিক হবে না এবং তা বাতিল করা হবে; এগুলো হলো প্রথম পাঁচটি: ইসলাম; বিবেক; প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া; পুরুষ হওয়া; এবং স্বাধীনতা। আর অন্য পাঁচটি শর্তের ক্ষেত্রে, যার মাঝে সেগুলো অনুপস্থিত থাকবে তার প্রদানকৃত বিচার কার্যকর হবে...
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٥)
مَا يُوَافق الْحق، إِلَّا الْجَاهِل الَّذِي يحكم بِرَأْيهِ. وَأما الْفَاسِق، فَفِيهِ خلاف بَين أَصْحَابنَا؛ هَل يرد مَا حكم بِهِ، وَإِن وَافق الْحق وَهُوَ الصَّحِيح، أم يمْضِي إِذا وَافق الْحق وَوجه الحكم. وشروط الْكَمَال عشرَة أَيْضا: خَمْسَة أَوْصَاف يَنْتَفِي عَنْهَا، وَخَمْسَة لَا يَنْتَفِي؛ مِنْهَا أَن يكون غير مَحْدُود؛ وَغير مطعون عَلَيْهِ فِي نسبه بِوِلَادَة اللّعان وَالزِّنَا؛ وَغير فَقير؛ وَغير أُمِّي؛ وَغير مستضعف؛ وَأَن يكون فطناً، نزيهاً، مهيباً، حَلِيمًا، مستشيراً لأهل الْعلم والرأي. قَالَ القَاضِي أَبُو الْأَصْبَغ بن سهل: وللحكام الَّذين تجْرِي على أَيْديهم الْأَحْكَام سِتّ خططٍ: أَولهَا الْقَضَاء، وأجله قَضَاء قَاضِي الْجَمَاعَة؛ والشرطة الْوُسْطَى؛ والشرطة الصُّغْرَى؛ وَصَاحب مظالم؛ وَصَاحب رد، وَيُسمى صَاحب رد بِمَا رد عَلَيْهِ من الْأَحْكَام؛ وَصَاحب مَدِينَة؛ وَصَاحب سوق. هَكَذَا نَص عَلَيْهِ بعض الْمُتَأَخِّرين من أهل قرطبة، فِي تأليف لَهُ. وتلخيصه: الْقَضَاء، والشرطة، والمظالم، وَالرَّدّ، وَالْمَدينَة، والسوق. وَإِنَّمَا كَانَ يحكم صَاحب الرَّد فِيمَا استرابه الْحُكَّام، وردوه عَن أنفسهم؛ هَكَذَا سمعته من بعض من أَدْرَكته. وَصَاحب السُّوق كَانَ يعرف بِصَاحِب الْحِسْبَة، لِأَن أَكثر نظره إِنَّمَا كَانَ يجْرِي فِي الْأَسْوَاق، من غش، وخديعة، وتفقد مكيال وميزان وَشبه ذَلِك. وَلَا عجب للْقَاضِي أَن يرفع من عِنْده إِلَى غَيره، كَمَا يرفع غَيره إِلَيْهِ. وحدود الْقُضَاة، فِي الْقَدِيم والْحَدِيث، مَعْرُوفَة، لَا يعارضون فِيهَا، وَلَا تكون إِلَى غَيرهم من الْحُكَّام. وَقد عَددهَا عَليّ بن يحيى، وفسرها فِي كِتَابه؛ فَقَالَ: ويشتمل نظر القَاضِي على عشرَة أَحْكَام: أَحدهَا: قطع التشاجر وَالْخِصَام من المتنازعين، إِمَّا بصلح عَن ترَاض يُرَاد بِهِ الْجَوَاز، وَأما بإجبار بِحكم بِآيَة يعْتَبر فِيهِ الْوُجُوب. وَالثَّانِي: اسْتِيفَاء الْحق لمن طلبه، وتوصيله إِلَى يَده، إِمَّا بِإِقْرَار، أَو بِبَيِّنَة. وَالثَّالِث: إِلْزَام الْولَايَة للسفهاء والمجانين، والتحجر على الْمُفلس، حفظا للأموال. وَالرَّابِع: النّظر فِي الاحباس، وَالْوُقُوف والتفقد لأحوالها وأحوال النَّاظر فِيهَا. وَالْخَامِس: تَنْفِيذ الْوَصَايَا على شُرُوط الْمُوصى إِذا وَافَقت الشَّرْع؛ فَفِي المعينين يكون التَّنْفِيذ بالاقباض، وَفِي المجهولين يتَعَيَّن الْمُسْتَحق لَهَا بِالِاجْتِهَادِ فَإِن كَانَ لَهَا وصّى، راعاه، وَإِلَّا تولاه. وَالسَّادِس: تزوج
যা সত্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, কেবল সেই মূর্খ ব্যতীত যে নিজ রায়ের ভিত্তিতে ফয়সালা করে। আর পাপাচারী (ফাসিক) ব্যক্তির ব্যাপারে আমাদের সহচরদের (আলেমদের) মাঝে মতভেদ রয়েছে; তার ফয়সালা কি প্রত্যাখ্যান করা হবে—যদিও তা সত্যের অনুকূল হয় এবং এটিই সঠিক মত—নাকি তা কার্যকর হবে যদি তা সত্য ও বিচারের মূলনীতির অনুকূল হয়? এবং পূর্ণতার শর্তাবলিও দশটি: পাঁচটি গুণ যা থেকে তাকে মুক্ত থাকতে হবে এবং পাঁচটি যা তার মধ্যে থাকতে হবে। তার মধ্যে (মুক্ত থাকার গুণগুলো) হলো: সে যেন সীমাবদ্ধ না হয়; তার বংশমর্যাদা যেন লিআন বা ব্যভিচারের মাধ্যমে কলঙ্কিত না হয়; সে যেন দরিদ্র না হয়; সে যেন নিরক্ষর না হয়; এবং সে যেন দুর্বল না হয়। আর (থাকার গুণগুলো হলো) তাকে হতে হবে তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সহনশীল এবং ইলম ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শকারী। কাজি আবুল আসবাগ ইবনে সাহল বলেন: যেসব বিচারকের হাতে বিচারিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়, তাদের ছয়টি পদমর্যাদা রয়েছে: প্রথমটি হলো বিচার বিভাগ (কাজাউ), যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো বিচারপতির (কাজি আল-জামাআহ) বিচারকার্য; এরপর মধ্যম পুলিশ বিভাগ; এরপর ক্ষুদ্র পুলিশ বিভাগ; অভিযোগ নিরসনকারী (সাহিবুল মাজালিম); প্রত্যর্পণকারী (সাহিবুর রাদ্দ)—যাকে তার কাছে প্রত্যাবর্তিত বিচারসমূহের কারণে 'সাহিবুর রাদ্দ' বলা হয়; নগরপ্রধান (সাহিবুল মাদিনা); এবং বাজার পরিদর্শক (সাহিবুস সুক)। কর্ডোবার পরবর্তী যুগের জনৈক আলেম তার একটি সংকলনে এভাবেই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এর সারসংক্ষেপ হলো: বিচার বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, অভিযোগ নিরসন বিভাগ, প্রত্যর্পণ বিভাগ, নগর প্রশাসন এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ। মূলত 'সাহিবুর রাদ্দ' সেসব বিষয়ে ফয়সালা দিতেন যা নিয়ে বিচারকরা সংশয়ে থাকতেন এবং নিজেদের পক্ষ থেকে তা ফিরিয়ে দিতেন; আমি যাদের সান্নিধ্য পেয়েছি তাদের কারো কাছ থেকে এমনই শুনেছি। আর বাজার পরিদর্শক 'সাহিবুল হিসবাহ' নামে পরিচিত ছিলেন, কারণ তার অধিকাংশ পর্যবেক্ষণ মূলত বাজারে প্রচলিত জালিয়াতি, প্রতারণা এবং মাপ ও ওজনের তদারকি ইত্যাদির ওপর চলত। একজন কাজি (বিচারক) তার কাছ থেকে কোনো বিষয় অন্যের কাছে প্রেরণে আশ্চর্যের কিছু নেই, যেমনটি অন্য কেউ তার কাছে প্রেরণ করে থাকে। প্রাচীন ও বর্তমানকালে কাজিদের কর্মপরিধি ও সীমানা সুবিদিত, যা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই এবং তা অন্য কোনো প্রশাসকের অধীনেও নয়। আলী ইবনে ইয়াহইয়া এগুলো গণনা করেছেন এবং নিজ কিতাবে ব্যাখ্যা করেছেন; তিনি বলেছেন: কাজির পর্যবেক্ষণের আওতায় দশটি বিধান রয়েছে: প্রথমটি হলো বিবাদমান পক্ষগুলোর ঝগড়া ও বিবাদের অবসান ঘটানো, হয় সন্তুষ্টির ভিত্তিতে আপোষ-নিষ্পত্তির মাধ্যমে যার দ্বারা বৈধতা উদ্দেশ্য হয়, অথবা অহি-র বিধানের মাধ্যমে বাধ্য করার দ্বারা যাতে আবশ্যকতা বিবেচনা করা হয়। দ্বিতীয়টি হলো: হকদারের জন্য তার প্রাপ্য আদায় করা এবং তা তার হাতে পৌঁছে দেওয়া, হয় স্বীকারোক্তির মাধ্যমে অথবা প্রমাণের ভিত্তিতে। তৃতীয়টি হলো: নির্বোধ ও পাগলদের জন্য অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করা এবং সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে দেউলিয়া ব্যক্তির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা। চতুর্থটি হলো: ওয়াকফকৃত সম্পত্তি ও উৎসর্গসমূহের তদারকি করা এবং সেগুলোর অবস্থা ও তার মুতাওয়াল্লিদের (তদারককারী) অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। পঞ্চমটি হলো: যদি শরিয়তসম্মত হয় তবে অসিয়তকারীর শর্তানুসারে অসিয়তসমূহ কার্যকর করা; এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য হস্তান্তরের মাধ্যমে তা কার্যকর হবে, আর অনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইজতিহাদের মাধ্যমে তার হকদার নির্ধারণ করা হবে। যদি তার জন্য কোনো অসি (নির্বাহক) থাকে তবে তিনি তা দেখাশোনা করবেন, অন্যথায় কাজি নিজেই তার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ষষ্ঠটি হলো: বিবাহ...
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٦)
الْأَيَامَى من الاكفاء، إِذا عدم الْأَوْلِيَاء وأردن التَّزْوِيج. وَالسَّابِع: إِقَامَة الْحُدُود؛ فَإِن كَانَت من حُقُوق الله تَعَالَى، تفرد بإقامتها، إِمَّا بِإِقْرَار يتَّصل بِإِقَامَة الْحَد، وَإِمَّا بِبَيِّنَة أَو ظُهُور حمل من غير زوج؛ وَإِن كَانَت من حُقُوق الأدميين، فبطلب مستحقها. وَالثَّامِن: النّظر فِي الْمصَالح الْعَامَّة، من كف التَّعَدِّي فِي الطرقات والأفنية. وَإِخْرَاج مَالا يسْتَحق من الأجنحة والأفنية. وَالتَّاسِع: تصفى الشُّهُود، وتفقد الْأُمَنَاء، وَاخْتِيَار من يرتضيه لذَلِك. والعاشر: وُجُوه التَّسْوِيَة فِي الحكم بَين القوى والضعيف، وتوخي الْعدْل بَين الشريف والمشروف. وَمن الْإِكْمَال: لجمهور الْعلمَاء أَن للقضاة إِقَامَة الْحُدُود، وَالنَّظَر فِي جَمِيع الْأَشْيَاء، من إِقَامَة الْحُقُوق، وتغيير الْمَنَاكِير، وَالنَّظَر فِي الْمصَالح، قَامَ بذلك قَائِم، أَو اخْتصَّ بِحَق الله. وَحكمه عِنْدهم حكم الْوَصِيّ الْمُطلق الْيَد فِي كل شَيْء، إِلَّا مَا يخْتَص بضبط الْبَيْضَة من إعداد الجيوش، وجباية الْخراج. وَاخْتلف أَصْحَاب الشَّافِعِي هَل من نظره مَال الصَّدقَات، والتقديم للْجمع والأعياد، أم لَا، إِذا لم يكن على هَذَا وُلَاة مخصصون من السلطنة، على قَوْلَيْنِ؛ إِلَّا يَخْتَلِفُونَ، إِذا كَانَت هَذِه مُخْتَصَّة بِولَايَة من قبل السلطنة، أَنه لَا نظر لَهُ فِيهَا. وَذهب أَبُو حنيفَة أَنه لَا نظر لَهُ فِي إِقَامَة حد، وَلَا فِي مصلحَة، إِلَّا لطَالب مخاصم، وَلَا تَنْطَلِق يَده إِلَّا على مَا أذن لَهُ فِيهِ، وَحكمه حكم الْوَكِيل الْخَاص. وَمن كتاب الْإِعْلَام بنوازل الْأَحْكَام: خطة الْقَضَاء من أعظم الخطط قدرا، وأجلها خطراً، لَا سِيمَا إِذا اجْتمعت إِلَيْهَا الصَّلَاة. وعَلى القَاضِي مدَار الْأَحْكَام، وَإِلَيْهِ النّظر فِي جَمِيع وُجُوه الْقَضَاء.

‌‌فصل

وكل من ولى الحكم بَين الْمُسلمين، من أَمِير، أَو قَاض، أَو صَاحب شرطة، مسلط الْيَد. وكل مَا كَانَ فِي عقوبتهم من موت، وَكَانَ فِي حد من حُدُود الله تَعَالَى، وأدب لحق، فَهُوَ هدر؛ وَمَا أَتَى من ظلم بَين، مَشْهُور، مُعْتَمد، فَعَلَيهِ الْعود فِي عمده، وَالْعقل فِي خطائه. وَكَذَلِكَ مَا تعمد من إِتْلَاف مَال بِغَيْر حق، وَلَا شُبْهَة، فَذَلِك فِي مَاله، يَأْخُذ بِهِ الْمَظْلُوم إِن شَاءَ مِنْهُ، أَو من الْمَحْكُوم لَهُ بِهِ. من كتاب الِاسْتِغْنَاء لِابْنِ عبد الغفور. وَفِي الْمقنع: قَالَ سَحْنُون: وَإِذا قضى القَاضِي
অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে সমপর্যায়ের (কুফু) পাত্রদের সাথে বিধবা বা অবিবাহিতা নারীদের বিবাহ দেওয়া, যখন তারা বিবাহের ইচ্ছা পোষণ করে। সপ্তম: দণ্ডবিধি (হুদুদ) কার্যকর করা; যদি তা মহান আল্লাহর হক সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তিনি এককভাবে তা কার্যকর করবেন— চাই তা দণ্ড কার্যকরের সাথে সংশ্লিষ্ট স্বীকারোক্তির মাধ্যমে হোক, অথবা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হোক, কিংবা স্বামী ব্যতীত গর্ভধারণ প্রকাশের মাধ্যমে হোক। আর যদি তা মানুষের হক সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তা হকদারের দাবির ভিত্তিতে কার্যকর হবে। অষ্টম: জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি তদারকি করা, যেমন রাস্তাঘাট ও আঙিনায় সীমালঙ্ঘন রোধ করা এবং বারান্দা বা আঙিনায় অননুমোদিত বর্ধিত অংশ অপসারণ করা। নবম: সাক্ষীদের যাচাই-বাছাই করা, আমানতদারদের খোঁজখবর নেওয়া এবং এই কাজের জন্য নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করা। দশম: বিচারের ক্ষেত্রে সবল ও দুর্বলের মধ্যে সমতা বিধানের পদ্ধতিসমূহ এবং উচ্চবংশীয় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইনসাফ নিশ্চিত করা। 'আল-ইকমাল' গ্রন্থ থেকে: জমহুর ওলামায়ে কেরামের মতে, বিচারকদের জন্য দণ্ডবিধি কার্যকর করা এবং হকের বাস্তবায়ন, অসৎ কাজের পরিবর্তন ও জনস্বার্থ তদারকি সহ সকল বিষয় দেখার অধিকার রয়েছে, চাই তা অন্য কেউ সম্পাদন করুক বা আল্লাহর হকের সাথে সুনির্দিষ্ট হোক। তাদের নিকট বিচারকের বিধান হলো এমন একজন অভিভাবকের (ওয়াসি) মতো যার সকল বিষয়ে পূর্ণ এখতিয়ার রয়েছে, কেবল রাষ্ট্রের মূল নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ব্যতীত— যেমন সেনাবাহিনী প্রস্তুত করা এবং খাজনা আদায় করা। ইমাম শাফিঈর অনুসারীগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, সদকার মাল তদারকি করা এবং জুমা ও ঈদের নামাজের ইমামতি নিয়োগ দেওয়া বিচারকের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত কি না, যদি সরকারের পক্ষ থেকে এ জন্য কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা নিযুক্ত না থাকে; এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তারা একমত যে, যদি এগুলো সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো পদের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে বিচারকের এতে কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ইমাম আবু হানিফা রহ. এই মত পোষণ করেছেন যে, কোনো বিবাদমান পক্ষ দাবি না করা পর্যন্ত দণ্ডবিধি কার্যকর করা বা জনস্বার্থের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার বিচারকের নেই এবং তাকে যা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা ব্যতীত তার কোনো এখতিয়ার থাকবে না; তার বিধান হলো বিশেষ প্রতিনিধির (উকিল) বিধানের মতো। 'আল-ইলাম বি নাওয়াজিলিল আহকাম' গ্রন্থ থেকে: বিচার বিভাগীয় পদের মর্যাদা অত্যন্ত মহৎ এবং এর গুরুত্ব অত্যন্ত সুউচ্চ, বিশেষ করে যখন এর সাথে নামাজের ইমামতিও যুক্ত হয়। বিচারকের ওপরেই সকল বিধান আবর্তিত হয় এবং বিচারকার্যের সকল দিক তদারকি করার দায়িত্ব তারই।

‌‌পরিচ্ছেদ

মুসলমানদের মধ্যে বিচার বা শাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেকেই— চাই তিনি আমির হোন, বা বিচারক, বা পুলিশ প্রধান— তিনি কর্তৃত্বশীল। তাদের দণ্ড প্রদানের ফলে যদি কারও মৃত্যু ঘটে, আর তা যদি আল্লাহর নির্ধারিত কোনো দণ্ডবিধি (হদ) কিংবা কোনো হকের কারণে দেওয়া শাস্তি (তাজির) হয়, তবে তা দায়মুক্ত হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যদি কোনো সুস্পষ্ট, প্রকাশ্য ও উদ্দেশ্যমূলক জুলুম সংঘটিত হয়, তবে ইচ্ছাকৃত অপরাধের ক্ষেত্রে বিচারকের ওপর কিসাস বর্তাবে এবং অনিচ্ছাকৃত ভুলের ক্ষেত্রে রক্তপণ (দিয়াত) তার বংশীয় আত্মীয়দের ওপর বর্তাবে। একইভাবে যদি অন্যায়ভাবে এবং কোনো সংশয় ছাড়াই উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো সম্পদ নষ্ট করা হয়, তবে তার ক্ষতিপূরণ বিচারকের নিজস্ব সম্পদ থেকে দিতে হবে; মজলুম ব্যক্তি চাইলে তা সরাসরি বিচারকের নিকট থেকে নিতে পারে অথবা যার পক্ষে রায় দেওয়া হয়েছিল তার থেকে নিতে পারে। ইবনে আবদুল গাফুর রচিত 'আল-ইস্তিগনা' গ্রন্থ থেকে। 'আল-মুকনি' গ্রন্থে রয়েছে: সাহনুন রহ. বলেছেন: যখন বিচারক বিচার করেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٧)
على رجل يجوز فِي الْأَمْوَال، وَكَانَ الَّذِي قضى لَهُ بِالْمَالِ قد أكله، واستهلكه، وَلم يُوجد عِنْده، كَانَ مَا قضى بِهِ على الرجل على القَاضِي فِي مَاله. وَإِذا لم يجر فِي قَضَائِهِ، وَهُوَ عدل، رضىٍ، وَإِنَّمَا خطأ أخطأه، أَو غلط غلطه، لم يكن عَلَيْهِ شَيْء من خطئه. وَإِذا أقرّ القَاضِي على نَفسه أَنه جَار فِي قَضَائِهِ، إِذا كَانَ قَاضِيا، فِي قتل نفس، أَو قطع يَد، أَو قصاص، أَو جراح، فَمَا أقرّ بِهِ، أَو ثَبت عَلَيْهِ من غير إِقْرَار، أقيد مِنْهُ. قَالَ أَبُو أَيُّوب، فِي بَاب خطأ القَاضِي من الْكتاب الْمُسَمّى: وَقد أقاد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {وَأَبُو بكر، وَعمر رضي الله عنهما} من أنفسهم. وَمِمَّا تقرر فِي الشَّرِيعَة أَن حكم الْحَاكِم لَا يحل الْحَرَام، وَأَن الْفروج والدماء وَالْأَمْوَال سَوَاء، بِدَلِيل قَوْله صلى الله عليه وسلم {: إِنَّكُم تختصمون إِلَيّ وَلَعَلَّ بَعْضكُم أَن يكون أَلحن بحجته من بعض؛ فأقضى لَهُ على نَحْو مَا أسمع. فَمن قضيت لَهُ من حق أَخِيه شَيْئا، فَلَا يَأْخُذهُ، فَإِنَّمَا أقطع لَهُ قِطْعَة من النَّار} فَأجرى الله تَعَالَى أَحْكَام رَسُوله صلى الله عليه وسلم! على الظَّاهِر الَّذِي يستوى فِيهِ هُوَ وَغَيره من الْبشر، ليَصِح اقْتِدَاء أمته بِهِ فِي قضاياه، ويأتون مَا أَتَوا من ذَلِك على علم من سنته، إِذْ الْبَيَان بِالْفِعْلِ أولى من القَوْل وَأَرْفَع لاحْتِمَال اللَّفْظ: وَقَوله: " أَقْْضِي لَهُ على نَحْو مَا أسمع " احْتج بِهِ من لَا يُجِيز حكم الْحَاكِم بِعِلْمِهِ لقَوْله: فَلَعَلَّ بَعْضكُم أَن يكون أَلحن بحجته من بعض أَي أفطن لَهَا، وَقَوله: على نَحْو مَا أسمع؛ وَلم يقل: أعلم؛ وَمن يرى حكم الْحَاكِم بِعِلْمِهِ لَا يلْتَفت إِلَى مَا سمع، خَالف أَو وَافق. قَالَ عِيَاض: وَقد اخْتلف الْعلمَاء فِي حكم الْحَاكِم بِعِلْمِهِ، وَمَا سَمعه فِي مجْلِس نظره. فمذهب مَالك وَأكْثر أَصْحَابه أَن القَاضِي لَا يقْضِي فِي شَيْء من الْأَشْيَاء بِعِلْمِهِ، إِلَّا فِيمَا أقرّ بِهِ فِي مجْلِس قَضَائِهِ، خَاصَّة فِي الْأَمْوَال. وَبِه قَالَ الْأَوْزَاعِيّ، وَجَمَاعَة من أَصْحَاب ملك الْمَدَنِيين، وَغَيرهم، وحكوه عَن مَالك. وَقَالَ الشَّافِعِي فِي مَشْهُور قوليه، وَأَبُو ثَوْر، وَمن تبعهما، أَنه يقْضِي بِعِلْمِهِ فِي كل شَيْء من الْأَمْوَال، وَالْحُدُود، وَغير ذَلِك، مِمَّا سَمعه أَو رَآهُ قبل قَضَائِهِ وَبعده، وبمصره وَغَيره. وَذهب أَبُو حنيفَة إِلَى أَنه يقْضى بِمَا سَمعه فِي قَضَائِهِ وَفِي مصره، فِي الْأَمْوَال، لَا فِي الْحُدُود. انْتهى. وَوَقع كَذَلِك فِي الْمَسْأَلَة، بَين الْفُقَهَاء بقرطبة، اخْتِلَاف؛ فَذهب مِنْهُم أَبُو إِبْرَاهِيم، وَمُحَمّد بن الْعَطَّار، فِي آخَرين، إِلَى أَن القَاضِي لَهُ أَن يقْضِي بِعِلْمِهِ دون شُهُود. وَمَال قوم

যদি কোনো ব্যক্তির ওপর অর্থ-সম্পদ সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারক জুলুম করেন এবং যার অনুকূলে সম্পদের ফয়সালা করা হয়েছে সে যদি তা ভোগ করে ফেলে বা নিঃশেষ করে ফেলে এবং তার কাছে আর কিছু অবশিষ্ট না থাকে, তবে বিচারক যা ফয়সালা করেছিলেন তা বিচারকের নিজের সম্পদ থেকে পরিশোধ করতে হবে। আর যদি তিনি তার বিচারে জুলুম না করেন এবং তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হন, কিন্তু কেবল কোনো ভুল বা ত্রুটি করে ফেলেন, তবে তার সেই ভুলের জন্য তার ওপর কোনো দায় থাকবে না। যখন বিচারক নিজের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দেন যে তিনি বিচারক থাকাকালীন কোনো প্রাণ হত্যা, হাত কাটা, কিসাস বা যখম করার ক্ষেত্রে জুলুম করেছেন—চাই তিনি তা স্বীকার করুন অথবা স্বীকারোক্তি ছাড়াও তা প্রমাণিত হয়—তবে তার থেকে কিসাস (অনুরূপ প্রতিশোধ) গ্রহণ করা হবে। আবু আইয়ুব 'বিচারকের ভুল' নামক অধ্যায়ে কিতাবুল মুসাম্মা-তে বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), আবু বকর এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) নিজেদের সত্তা থেকে কিসাস দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। শরীয়তে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, বিচারকের রায় কোনো হারামকে হালাল করে না এবং লজ্জাস্থান (বিবাহ), রক্ত ও সম্পদ—সবই এ ক্ষেত্রে সমান। এর দলীল হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে আসো, আর তোমাদের কেউ হয়তো অন্যের চেয়ে বেশি বাকপটু হতে পারো; ফলে আমি যা শুনি তার ভিত্তিতে ফয়সালা করি। সুতরাং আমি যদি তার ভাইয়ের হকের কোনো অংশ তার অনুকূলে ফয়সালা করি, তবে সে যেন তা গ্রহণ না করে, কারণ আমি তার জন্য আগুনের একটি টুকরোই বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছি।" সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিধানসমূহকে বাহ্যিক অবস্থার ওপর জারি করেছেন, যে ক্ষেত্রে তিনি এবং অন্যান্য মানুষ সমান, যাতে তাঁর উম্মতের জন্য তাঁর বিচারকার্যের অনুসরণ করা সঠিক হয় এবং সুন্নাহর জ্ঞান থেকে তারা তা গ্রহণ করতে পারে। কারণ মৌখিক বর্ণনার চেয়ে কর্মের মাধ্যমে স্পষ্ট করা অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য এবং শব্দের বহুবিধ অর্থের সম্ভাবনা দূর করতে অধিকতর উচ্চতর মাধ্যম। তাঁর বাণী: "আমি যা শুনি তার ভিত্তিতে ফয়সালা করি"—এটি তারা দলীল হিসেবে পেশ করেন যারা বিচারকের নিজস্ব জ্ঞানের ভিত্তিতে ফয়সালা করা বৈধ মনে করেন না; কারণ তিনি বলেছেন: "হয়তো তোমাদের কেউ অন্যর চেয়ে বেশি বাকপটু হবে," অর্থাৎ যুক্তিতে অধিক পটু হবে। এবং তাঁর বাণী: "যা শুনি তার ভিত্তিতে," তিনি "যা জানি" বলেননি। পক্ষান্তরে যারা বিচারকের নিজস্ব জ্ঞানের ভিত্তিতে ফয়সালা করা বৈধ মনে করেন, তারা যা শুনেছেন তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না, চাই তা (জ্ঞানের) বিপরীত হোক বা অনুকূল। ইয়ায বলেন: বিচারকের নিজস্ব জ্ঞান এবং বিচার চলাকালীন তিনি যা শুনেছেন তার ভিত্তিতে ফয়সালা করার বিষয়ে ওলামাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মালেক এবং তাঁর অধিকাংশ অনুসারীদের মাযহাব হলো, বিচারক কোনো বিষয়েই তাঁর নিজস্ব জ্ঞানের ভিত্তিতে ফয়সালা করবেন না, কেবল বিচার চলাকালীন মজলিসে যা স্বীকার করা হয়েছে তা ছাড়া, বিশেষ করে অর্থ-সম্পদের ক্ষেত্রে। ইমাম আওযায়ী এবং মদীনার মালেকী অনুসারীদের একটি দলও এই মত পোষণ করেছেন এবং তাঁরা এটি ইমাম মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফেয়ী তাঁর দুই মতের মধ্যে প্রসিদ্ধ মতে, আবু সাওর এবং তাঁদের অনুসারীরা বলেন যে, বিচারক অর্থ-সম্পদ, হুদুদ এবং অন্যান্য সব বিষয়েই তাঁর জ্ঞানের ভিত্তিতে ফয়সালা করতে পারেন, যা তিনি বিচারকের পদে আসীন হওয়ার আগে বা পরে এবং তাঁর নিজ শহরে বা অন্যত্র শুনেছেন বা দেখেছেন। অন্যদিকে ইমাম আবু হানীফা এই মত পোষণ করেছেন যে, বিচারক তাঁর বিচার চলাকালীন মজলিসে এবং তাঁর শহরে যা শুনেছেন তার ভিত্তিতে অর্থ-সম্পদের ক্ষেত্রে ফয়সালা করবেন, কিন্তু হুদুদের ক্ষেত্রে নয়। সমাপ্ত। অনুরূপভাবে, কর্ডোভার ফকীহদের মধ্যেও এই মাসআলায় মতভেদ ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে আবু ইবরাহিম, মুহাম্মদ ইবনুল আত্তার এবং আরও অনেকে এই মত পোষণ করেছেন যে, বিচারকের জন্য সাক্ষী ছাড়াই নিজস্ব জ্ঞানের ভিত্তিতে ফয়সালা করা বৈধ। আর একদল লোক ঝুঁকেছেন...

(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٨)
إِلَى خلاف ذَلِك، وَقَالُوا: إِنَّمَا لم يقْض بِعِلْمِهِ، دون بَيِّنَة، لِأَن فِيهِ تَعْرِيض نَفسه للتهم، وإيقاعها فِي الظنون. وَقد كره رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {الظَّن. قَالَ القَاضِي أَبُو الْأَصْبَغ بن سهل: وَهَذَا عِنْدِي الْقيَاس الصَّحِيح المطرد لمن قَالَ: لَا يقْضِي القَاضِي بِعِلْمِهِ، وَلَا بِمَا سمع فِي مجْلِس نظره، لَكِن الَّذِي قَالَه أَبُو إِبْرَاهِيم وَابْن الْعَطَّار، وَجرى بِهِ الْعَمَل، وَهُوَ عِنْدِي الِاسْتِحْسَان، ويعضده قَول مطرف، وَابْن الْمَاجشون، وَأصبغ فِي كتاب ابْن حبيب، أَن القَاضِي يقْضِي على من أقرّ عِنْده فِي مجْلِس نظره، بِمَا سمع مِنْهُم، وَإِن لم تحضره بَيِّنَة. وَقَالَهُ ابْن الْمَاجشون فِي الْمَجْمُوعَة، وَبِه أَخذ أَبُو سعيد سَحْنُون بن سعيد، وَقَالَهُ أصبغ فِي كِتَابه؛ وَهُوَ ظَاهر قَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم} : " إِنَّمَا أَنا بشر، وَإِنَّكُمْ تخصمون إِلَيّ {فَلَعَلَّ بَعْضكُم أَن يكون أَلحن بحجته من بعض؛ فأقضي لَهُ على نَحْو مَا أسمع مِنْهُ " الحَدِيث. وَقَوله عليه الصلاة والسلام} : " إِنَّمَا أَنا بشر مثلكُمْ وَإِنَّكُمْ تختصمون إِلَيّ {" مَعْنَاهُ حصره فِي البشرية بِالنِّسْبَةِ إِلَى الِاطِّلَاع على بواطن الْخُصُوم، لَا بِالنِّسْبَةِ إِلَى كل شَيْء؛ فَإِن للرسول صلى الله عليه وسلم} وَصَايَا كَثِيرَة. فللقاضي، على مَا تقرر فِي الْمَسْأَلَة من كَلَام ابْن سهل وَغَيره، أَن يقْضِي بِمَا صَحَّ عِنْده وسَمعه من أَمر الْخَصْمَيْنِ، وَأَن لَهُ أَن ينفذ ذَلِك بَينهمَا، ويمضيه من نظره وَحكمه. قَالَ مَالك: وَإِذا قضى بِمَا اخْتلف الْعلمَاء فِيهِ، فَحكمه نَافِذ. وللحاكم الْمُجْتَهد أَن يتَخَيَّر عَن الِاخْتِلَاف عَلَيْهِ، وَأَن يَأْخُذ بِمَا يرَاهُ أحوط لدينِهِ وَعرضه. قَالَ: وَإِن لم يكن على مَا قضى بِهِ مَذْهَب الْعلمَاء بذلك الْموضع، فَلَيْسَ لقاض بعده نقضه، وَلَا اعتراضه؛ وَإنَّهُ نَافِذ تَامّ؛ وَإِن ظهر لَهُ فِي نَفسه أَن قَول غير من أَخذ بقوله خير مِمَّا أَخذ بِهِ، كَانَ لَهُ نقضه هُوَ خَاصَّة، وَلم يكن ذَلِك لأحد بعده. وَفِي كتاب الْأَقْضِيَة من الْمُدَوَّنَة: إِذا تبين للْقَاضِي أَن الْحق فِي غير مَا قضى بِهِ، رَجَعَ عِنْده؛ وَإِنَّمَا لَا يرجع بِهِ فِيمَا قَضَت بِهِ الْقُضَاة مِمَّا اخْتلف فِيهِ. قَالَ صَاحب التَّنْبِيهَات: حمل أَكْثَرهم مذْهبه فِي الْكتاب على أَن الرُّجُوع لَهُ، كَيفَ كَانَ حَاله من وهم أَو انْتِقَال رأى، وَهُوَ قَول مطرف وَعبد الْملك. وَوَقع فِي منتخب ابْن مغيث: وتنقسم أَحْكَام الْقُضَاة، على مَذْهَب مَالك وَجَمِيع أَصْحَابه، على ثَلَاثَة أَقسَام: أَحدهمَا فِي الحكم الْعدْل الْعَالم: فأحكامه كلهَا نَافِذَة على الْجَوَاز،

...এর বিপরীতে, তারা বলেছেন: তিনি (বিচারক) প্রমাণ ছাড়া কেবল নিজের জ্ঞানের ভিত্তিতে ফয়সালা করবেন না, কারণ এতে নিজেকে অপবাদ ও সন্দেহের সম্মুখীন করার এবং মানুষকে কুধারণায় লিপ্ত করার আশঙ্কা থাকে। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুধারণাকে অপছন্দ করেছেন। কাজী আবু আল-আসবাহ ইবনে সাহল বলেন: আমার নিকট এটিই সঠিক ও অবিচ্ছিন্ন কিয়াস (যুক্তি) তাদের জন্য যারা বলেন: বিচারক তার নিজের জ্ঞানের ভিত্তিতে ফয়সালা করবেন না, এমনকি তার বিচারালয়ে যা শুনেছেন তার ভিত্তিতেও নয়। তবে আবু ইবরাহিম ও ইবনুল আত্তার যা বলেছেন এবং যার ওপর আমল চলমান রয়েছে—যা আমার কাছে অগ্রগণ্য (ইসতিহসান)—তা মুতাররিফ, ইবনুল মাজিশুন এবং ইবনে হাবিবের কিতাবে আসবাহ-এর উক্তি দ্বারা সমর্থিত। তা হলো: বিচারক তার এজলাসে বিবাদীদের স্বীকৃতির ভিত্তিতে ফয়সালা করবেন যা তিনি তাদের থেকে শুনেছেন, যদিও কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থিত না থাকে। ইবনুল মাজিশুন 'আল-মাজমুআ'-তে এটি বলেছেন এবং আবু সাঈদ সাহনুন ইবনে সাঈদ এটি গ্রহণ করেছেন। আসবাহও তার কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর প্রকাশ্য অর্থ: "আমি তো একজন মানুষ মাত্র, আর তোমরা আমার কাছে বিবাদ নিয়ে আসো। হতে পারে তোমাদের কেউ অন্যজন অপেক্ষা অধিক বাকপটু, ফলে আমি তার থেকে যা শুনি সে অনুযায়ী তার পক্ষে ফয়সালা করি..." (হাদিস)। এবং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বাণী: "আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ এবং তোমরা আমার কাছে বিচার নিয়ে আসো"—এর অর্থ হলো বিবাদীদের অভ্যন্তরীণ অবস্থা জানার ক্ষেত্রে তাঁর মানবীয় সীমাবদ্ধতা, সব বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনেক বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সুতরাং ইবনে সাহল এবং অন্যদের বক্তব্য থেকে এই মাসয়ালায় যা স্থির হয়েছে তা হলো: বিচারক বিবাদীদের বিষয়ে তার কাছে যা সাব্যস্ত হয়েছে এবং যা তিনি শুনেছেন তার ভিত্তিতে ফয়সালা করতে পারেন এবং তিনি তা কার্যকর করতে পারেন ও তার বিচার ও রায়ের মাধ্যমে তা বলবৎ করতে পারেন। ইমাম মালিক বলেন: যখন তিনি (বিচারক) এমন বিষয়ে ফয়সালা করেন যাতে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে, তখন তার রায় কার্যকর হবে। মুজতাহিদ বিচারকের অধিকার রয়েছে মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্য থেকে পছন্দ করে নেয়ার এবং যা তার দ্বীন ও সম্মানের জন্য অধিক নিরাপদ মনে করেন তা গ্রহণ করার। তিনি বলেন: যদি তার ফয়সালাটি সেই স্থানের আলেমদের মাযহাব অনুযায়ী নাও হয়, তবুও পরবর্তী কোনো বিচারকের জন্য তা বাতিল করার বা তাতে আপত্তি করার অধিকার নেই। তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে। তবে যদি বিচারকের নিজের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি যা গ্রহণ করেছেন তার চেয়ে অন্য কারো মতটি উত্তম, তবে তিনি নিজেই কেবল তা বাতিল করতে পারেন, কিন্তু তার পরের অন্য কারো জন্য সেই অধিকার নেই। এবং 'আল-মুদাওওয়ানা'-র বিচার অধ্যায়ে রয়েছে: যদি বিচারকের কাছে স্পষ্ট হয় যে সত্য তার ফয়সালা করা বিষয়ের বিপরীতে, তবে তিনি তা থেকে ফিরে আসবেন। তবে বিচারকদের ফয়সালা করা মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে তিনি তা থেকে ফিরে আসবেন না। 'আত-তানবিহাত' গ্রন্থের লেখক বলেন: কিতাবে অধিকাংশ আলিম তাঁর মাযহাবকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, রায় থেকে ফিরে আসা তাঁর (বিচারকের) জন্য বৈধ, চাই তা ভুলবশত হোক বা মত পরিবর্তনের কারণে হোক। এটি মুতাররিফ ও আব্দুল মালিকের উক্তি। ইবনে মুগিসের 'মুনতাখাব' গ্রন্থে এসেছে: ইমাম মালিক ও তাঁর সকল অনুসারীর মাযহাব অনুযায়ী বিচারকদের রায় তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথমটি হলো ন্যায়পরায়ণ ও আলিম বিচারকের রায়; তার সকল ফয়সালা বৈধতার ভিত্তিতে কার্যকর হবে।

(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٩)
وَلَا يتعقب لَهُ حكم؛ وَالْوَجْه الثَّانِي فِي الحكم الْعدْل الْجَاهِل الْمُقَلّد: فللحكم الَّذِي يَلِي بعده أَن يتعقب أَحْكَامه؛ فَمَا وَافق الْحق. مِنْهَا، نفذ وَمضى، وَمَا خَالف الْحق رده وفسخه؛ وَالْوَجْه الثَّالِث فِي الحكم الجائر المتعسف: فللحكم الَّذِي يَلِي بعده أَن يفْسخ أَحْكَامه كلهَا، وَلَا ينفذ لَهُ حكما. وَمن كتاب سُلَيْمَان بن مُحَمَّد بن بطال: قَالَ ابْن الْمَوَّاز: لَو أَن قَاضِيا نقض حكم قَاض قبله قد كَانَ حكم بِهِ، ثمَّ ولى قاضٍ ثَالِث وعزل الثَّانِي. نظر: فَإِن كَانَ حكم القَاضِي الأول مِمَّا يحكم بِهِ، وَمِمَّا يخْتَلف فِيهِ الْقَضَاء والفتيا، رَأَيْت نقض الثَّانِي لَهُ خطأ صراحاً؛ فَأرى للثَّالِث أَن ينْقض حكم الثَّانِي، وَينفذ حكم الأول، وَإِن كَانَ خلافًا لما يحكم بِهِ الثَّالِث؛ وَإِن حكم الأول خطأ صراحاً مِمَّا لَا اخْتِلَاف فِيهِ، لم أر للثَّالِث أَن يرد حكم الثَّانِي إِلَى مَا حكم بِهِ الأول.

‌‌فصل فِي التحذير من الحكم بِالْبَاطِلِ أَو الْجَهْل

قَالَ الله عز وجل {: " يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا كونُوا قوامين لله شُهَدَاء بِالْقِسْطِ وَلَا يجرمنكم شنآن قوم على أَلا تعدلوا اعدلوا هُوَ أقرب للتقوى. " " ويجرمنكم " مَعْنَاهُ يحملنكم. قَالَه ابْن حبيب. عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم} أَنه قَالَ الْحُكَّام ثَلَاثَة. إثنان فِي النَّار وَوَاحِد فِي الْجنَّة. حَكَمٌ حَكَمَ بِجَهْل، فخسر، فَأهْلك أَمْوَال النَّاس، وَأهْلك نَفسه، فَفِي النَّار؛ وحكمٌ حكمَ فخدل أَي جَار، فَأهْلك أَمْوَال النَّاس وَأهْلك نَفسه، فَفِي النَّار؛ وحكمٌ علم، فَعدل فأحرز أَمْوَال النَّاس وأحرز نَفسه، فَفِي الْجنَّة {قَالَ الْهَرَوِيّ فِي كتاب الغريبين لَهُ فِي الحَدِيث: وَرجل علم فخدل أَي جَار يُقَال إِنَّه لخدل غير عدل. ذكر ذَلِك فِي بَاب الْخَاء وَالدَّال. قَالَ ابْن سيدة فِي بَاب الْخَاء مَعَ الدَّال: خدل على خدلاً: ظَلَمَنِي، وخدل علىَّ خدولاً وخدلاً: جَار. وَفِي الحَدِيث: من ولى قَاضِيا، فقد ذبح بِغَيْر سكين. وَفِي رِوَايَة لِابْنِ أبي ذويب: فقد ذبح بالسكين. وَفِيه: الْولَايَة أَولهَا ملامة، ووسطها ندامة، وَآخِرهَا عَذَاب فِي الْقِيَامَة، إِلَّا من اتَّقى الله عز وجل. وَفِي الْمُوَطَّأ بَاب مَا يكره من الْقَضَاء مَالك عَن يحيى بن سعيد أَن أَبَا الدَّرْدَاء كتب إِلَى سلمَان الْفَارِسِي أَن: هَلُمَّ إِلَى الأَرْض المقدسة} فَكتب
এবং তার কোনো রায় পুনর্বিবেচনা করা হবে না। দ্বিতীয় অবস্থা হলো সেই ন্যায়পরায়ণ বিচারক সম্পর্কে যে অজ্ঞ এবং কেবল অনুসারী (মুকাল্লিদ): তার পরবর্তী বিচারকের জন্য তার রায়গুলো পর্যালোচনা করার অধিকার রয়েছে। এর মধ্যে যা সত্যের অনুকূল হবে তা কার্যকর ও বলবৎ থাকবে, আর যা সত্যের পরিপন্থী হবে তা তিনি বাতিল ও নাকচ করে দেবেন। তৃতীয় অবস্থা হলো সেই বিচারক সম্পর্কে যে অবিচারকারী ও স্বেচ্ছাচারী: তার পরবর্তী বিচারক তার সমস্ত রায় বাতিল করতে পারেন এবং তার কোনো রায়ই কার্যকর করবেন না। সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন বাত্তাল-এর কিতাবে উল্লেখ আছে: ইবনুল মাওয়াজ বলেছেন: যদি কোনো বিচারক তার পূর্ববর্তী বিচারকের দেওয়া রায় বাতিল করে দেন, অতঃপর তৃতীয় একজন বিচারক নিযুক্ত হন এবং দ্বিতীয়জন অপসারিত হন, তবে তিনি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন: যদি প্রথম বিচারকের রায়টি এমন হয় যা বিচারকার্যে স্বীকৃত এবং যেখানে বিচার ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য রয়েছে, তবে আমি মনে করি দ্বিতীয় বিচারক কর্তৃক তা বাতিল করা সুস্পষ্ট ভুল। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি তৃতীয় বিচারকের দায়িত্ব হলো দ্বিতীয় বিচারকের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রথম বিচারকের রায় কার্যকর করা, যদিও তা তৃতীয় বিচারকের নিজস্ব মতের পরিপন্থী হয়। কিন্তু যদি প্রথম বিচারকের রায়টি এমন সুস্পষ্ট ভুল হয় যাতে কোনো মতপার্থক্য নেই, তবে তৃতীয় বিচারকের জন্য আমি দ্বিতীয় বিচারকের বাতিলকৃত রায়কে পুনরায় প্রথম বিচারকের রায়ের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া সংগত মনে করি না।

‌‌বাতিল বা অজ্ঞতার ভিত্তিতে বিচার করার বিষয়ে সতর্কীকরণ সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ

মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায়ের সাক্ষ্যদানে অবিচল থাকো এবং কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা সুবিচার করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটতর।" ইবনে হাবীব বলেছেন, 'লাইয়াজরিমান্নাকুম' শব্দের অর্থ হলো—তোমাদেরকে যেন প্ররোচিত বা বাধ্য না করে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "বিচারক তিন প্রকার। দুই প্রকার জাহান্নামে এবং এক প্রকার জান্নাতে। সেই বিচারক যে অজ্ঞতাবশত ফয়সালা করেছে, ফলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মানুষের সম্পদ ও নিজের আত্মাকে ধ্বংস করেছে; সে জাহান্নামী। সেই বিচারক যে ফয়সালা করার সময় অবিচার করেছে, ফলে সে মানুষের সম্পদ ও নিজের আত্মাকে ধ্বংস করেছে; সেও জাহান্নামী। আর সেই বিচারক যে জ্ঞান অর্জন করেছে এবং ন্যায়বিচার করেছে, ফলে সে মানুষের সম্পদ ও নিজের আত্মাকে রক্ষা করেছে; সে জান্নাতি।" আল-হারাউই তার 'কিতাবুল গারিবাইন'-এ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এবং সেই ব্যক্তি যে জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও অবিচার (খাদালা) করেছে।" বলা হয়, সে অবিচারকারী, ন্যায়পরায়ণ নয়। এটি 'খা' এবং 'দাল' অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে সিদাহ 'খা' ও 'দাল' অধ্যায়ে বলেছেন: 'খাদালা আলাইয়্যা খাদলান' অর্থ সে আমার প্রতি জুলুম করেছে। আর 'খাদালা আলাইয়্যা খাদুলান ওয়া খাদলান' অর্থ সে অবিচার করেছে। হাদিসে এসেছে: "যাকে বিচারক নিয়োগ করা হলো, তাকে যেন ছুরি ছাড়াই জবেহ করা হলো।" ইবনে আবি জুয়াইবের এক বর্ণনায় আছে: "তাকে যেন ছুরি দিয়ে জবেহ করা হলো।" আরও বর্ণিত আছে: "বিচারক বা শাসকের পদের শুরুতে রয়েছে তিরস্কার, মাঝে রয়েছে অনুশোচনা এবং শেষে কিয়ামতের দিন আজাব, তবে যে আল্লাহকে ভয় করে তার কথা ভিন্ন।" মুওয়াত্তায় 'বিচারকার্যের অপছন্দনীয় দিক' অধ্যায়ে ইয়াহইয়া বিন সাইদ থেকে বর্ণিত যে, আবু দারদা (রা.) সালমান ফারসি (রা.)-এর নিকট লিখেছিলেন যে: পবিত্র ভূমির দিকে চলে এসো। জবাবে তিনি লিখলেন...
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٠)
إِلَيْهِ سلمَان: إِن الأَرْض لَا تقدس أحدا، وَإِنَّمَا يقدس الْإِنْسَان عمله وَقد بَلغنِي أَنَّك جعلت طَبِيبا تداوي النَّاس: فَإِن كنت تبرى، فَنعما لَك {وَإِن كنت متطبباً، فاحذر أَن تقتل إنْسَانا، فَتدخل النَّار} وَكَانَ أَبُو الدَّرْدَاء، إِذا قضى بَين إثنين، ثمَّ أدبرا عَنهُ، قَالَ: ارْجِعَا {أُعِيد على قضيتكما متطبباً وَالله} وَيحيى بن سعيد هُوَ الْقَائِل: وليت قَضَاء الْكُوفَة، وَأَنا أرى أَنه لَيْسَ على الأَرْض شَيْء من الْعلم، إِلَّا وَقد سمعته. فَأول مجْلِس جَلَست للْقَضَاء، اخْتصم إِلَيّ رجلَانِ مَا سَمِعت فِيهِ شَيْئا {وَفِي المستخرجة: قَالَ مَالك: قَالَ عمر بن الْحُسَيْن: مَا أدْركْت قَاضِيا استقضى بِالْمَدِينَةِ إِلَّا رَأَيْت كآبة الْقَضَاء وكراهيته فِي وَجهه} . وَفِي الصَّحِيح عَن أبي ذَر: قلت: يَا رَسُول الله، أَلا استعملتني {فَضرب بِيَدِهِ على مَنْكِبي، ثمَّ قَالَ: يَا أَبَا ذَر، إِنَّك ضَعِيف، وَإِنَّهَا أَمَانَة، وَإِنَّهَا يَوْم الْقِيَامَة خزي وندامة، إِلَّا من أَخذهَا بِحَقِّهَا، وَأدّى الَّذِي عَلَيْهِ فِيهَا} فَلَا يَنْبَغِي أَن يتَقَدَّم على الْعَمَل إِلَّا من وثق بِنَفسِهِ وَتعين لَهُ وأجبره الإِمَام الْعدْل عَلَيْهِ. وَللْإِمَام الْعدْل إِجْبَاره إِذا كَانَ صَالحا، وَله أَن يمْتَنع عَنهُ إِلَّا أَن يتَحَقَّق أَنه لَيْسَ فِي تِلْكَ النَّاحِيَة من يصلح للْقَضَاء سواهُ؛ فَلَا يحل لَهُ الِامْتِنَاع حِينَئِذٍ لتعيين الْفَرْض عَلَيْهِ.

‌‌فصل

من الْمَجْمُوع الْمُسَمّى؛ الْمَقْصد الْمَحْمُود: الْقَضَاء محنة وبلية، وَمن دخل فِيهِ، فقد عرض نَفسه للهلاك، لِأَن التَّخَلُّص مِنْهُ عسير؛ فالهروب مِنْهُ وَاجِب، لَا سِيمَا فِي هَذَا الْوَقْت، وَطَلَبه حمق وَإِن كَانَ حسبَة. قَالَه الشّعبِيّ. وَرخّص فِيهِ بعض الشَّافِعِيَّة: إِذا خلصت نِيَّته للحسبة، بِأَن يكون وليه من لَا ترْضى أَحْوَاله؛ وَالْأول أصح لقَوْله عليه الصلاة والسلام {: إِنَّا لَا نستعمل على عَملنَا من أَرَادَهُ. وَفِي إِكْمَال الْمعلم: اخْتلف الْعلمَاء فِي طلب الْولَايَة مُجَردا، هَل يجوز أَو يمْنَع، وَأما إِن كَانَ الرزق يرتزقه، أَو فَائِدَة جَائِز يسْتَحقّهُ، أَو لتضييع الْقَائِم بهَا أَو خَوفه حُصُولهَا فِي غير مستوجبها، وَنِيَّته فِي إِقَامَة الْحق فِيهَا؛ فَذَلِك جَائِز لَهُ. وَقد قَالَ يُوسُف عليه الصلاة والسلام} : " اجْعَلنِي على خَزَائِن الأَرْض ". وَمن الحَدِيث
সালমান তাকে লিখেছিলেন: "নিশ্চয়ই কোনো ভূমি কাউকে পবিত্র করে না, বরং মানুষকে তার আমলই পবিত্র করে। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আপনাকে চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে যেন আপনি মানুষের চিকিৎসা করেন। যদি আপনি নিরাময় করতে পারেন, তবে আপনার জন্য উত্তম। {আর যদি আপনি আনাড়ি চিকিৎসক হন, তবে কোনো মানুষকে হত্যা করা থেকে সতর্ক থাকুন, নতুবা আপনি জাহান্নামে প্রবেশ করবেন।}" আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন দু’জনের মাঝে বিচার ফয়সালা করতেন এবং তারা চলে যেত, তখন তিনি বলতেন: "তোমরা ফিরে এসো; {আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের বিচারটি পুনরায় একজন প্রশিক্ষণার্থীর ন্যায় বিবেচনা করছি।}" ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন: "আমি কুফার কাজীর দায়িত্ব গ্রহণ করলাম এমতাবস্থায় যে, আমি মনে করতাম ভূপৃষ্ঠে ইলমের এমন কিছু নেই যা আমি শুনিনি। অতঃপর যখন আমি বিচারের প্রথম মজলিসে বসলাম, তখন দুই ব্যক্তি আমার কাছে এমন এক বিবাদ নিয়ে এল যার সম্পর্কে আমি ইতিপূর্বে কিছুই শুনিনি। {আল-মুস্তাখরাজাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: ইমাম মালিক বলেন: উমর ইবনুল হুসাইন বলেছেন: আমি মদিনায় নিযুক্ত এমন কোনো বিচারক দেখিনি যার চেহারায় বিচারের গুরুভারের বিষণ্ণতা ও এর প্রতি অনীহা দেখিনি।}" এবং সহীহ গ্রন্থে আবু যার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি আমাকে কোনো দায়িত্বে নিয়োগ করবেন না? {তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমার কাঁধে আঘাত করলেন এবং বললেন: হে আবু যার! তুমি দুর্বল, আর এটি হলো একটি আমানত, আর কিয়ামতের দিন এটি হবে লাঞ্ছনা ও অনুশোচনার কারণ; তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে একে হকের সাথে গ্রহণ করেছে এবং এর হক আদায় করেছে।}" অতএব, কারো জন্য এই কাজের (বিচারের দায়িত্ব) জন্য অগ্রসর হওয়া উচিত নয়, যতক্ষণ না সে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাসী হয় এবং তার জন্য এটি সুনির্দিষ্ট হয়ে যায় এবং ন্যায়পরায়ণ ইমাম তাকে এর জন্য বাধ্য করেন। আর ন্যায়পরায়ণ ইমামের তাকে বাধ্য করার অধিকার রয়েছে যদি সে যোগ্য হয়। তার জন্য এটি প্রত্যাখ্যান করা জায়েজ, যতক্ষণ না এটি নিশ্চিত হয় যে সেই অঞ্চলে তিনি ছাড়া বিচারের যোগ্য আর কেউ নেই; এমতাবস্থায় ফরজে আইন হওয়ার কারণে তার জন্য আর প্রত্যাখ্যান করা বৈধ নয়।

‌‌পরিচ্ছেদ

‘আল-মাকসাদ আল-মাহমুদ’ নামক সংকলন হতে: বিচারকার্য একটি পরীক্ষা ও বিপদস্বরূপ। যে ব্যক্তি এতে প্রবেশ করল, সে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিল, কারণ এখান থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাই এটি থেকে পলায়ন করা ওয়াজিব, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে। আর এটি প্রার্থনা করা বোকামি, যদিও তা সওয়াবের নিয়তে হয়। এটি আশ-শা’বী বলেছেন। কিছু শাফেয়ি আলেম এতে অবকাশ দিয়েছেন যদি নিয়ত বিশুদ্ধভাবে সওয়াবের জন্য হয়, আর তা হলো এমন ব্যক্তির অধীনে হওয়া যার অবস্থা সন্তোষজনক নয়; কিন্তু প্রথম মতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: {আমরা আমাদের এই কাজে তাকে নিযুক্ত করি না যে তা কামনা করে। ইকমালুল মুয়াল্লিম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: নিঃস্বার্থভাবে নেতৃত্ব প্রার্থনা করার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যে, এটি কি জায়েজ নাকি নিষিদ্ধ। তবে যদি তা জীবিকা নির্বাহের জন্য হয়, অথবা কোনো প্রাপ্য বৈধ সুবিধার জন্য হয়, অথবা বর্তমান দায়িত্বশীলের মাধ্যমে তা নষ্ট হওয়ার বা অযোগ্য ব্যক্তির হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং তার নিয়ত হয় সত্য প্রতিষ্ঠা করা; তবে তা তার জন্য জায়েজ। আর ইউসুফ আলাইহিস সালাম বলেছিলেন}: "আপনি আমাকে রাজ্যের ধনভাণ্ডারের দায়িত্বে নিযুক্ত করুন।" হাদীস হতে...
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١١)
الصَّحِيح: من ابْتغى الْقَضَاء، واستعان عَلَيْهِ بالشفعاء، وكل إِلَى نَفسه؛ وَمن أكره عَلَيْهِ، أنزل الله عَلَيْهِ ملكا يسدده. وَمِنْه: من مَال إِلَى الْإِمَارَة وكل إِلَيْهَا، وَمَعْنَاهُ: لم يعن على مَا يتعاطاه؛ والمتعاطى أبدا مقرون بِهِ الخذلان؛ فَمن دعِي إِلَى عمل، أَو إِمَامه فِي الدّين، فَقص نَفسه على تِلْكَ الْمنزلَة، وهاب أَمر الله، رزقه الله المعونة. وَهَذَا مَبْنِيّ على من تواضع لله، رَفعه الله. فَمن الْوَاجِب على كل من ابتلى بِالْقضَاءِ أَن يكثر من التذلل لله، والمراقبة لَهُ عِنْد أَمر وَنَهْيه، وَالْأَخْذ بالشفقة على عباده. فقد ثَبت فِي الصَّحِيح عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {أَنه قَالَ: " اللَّهُمَّ} من ولى من أَمر أمتِي شَيْئا فشق عَلَيْهِم، فأشفق عَلَيْهِ {وَمن ولى من أَمر أمتِي شَيْئا فرفق بهم، فارفق بِهِ} " وكل قَاض مَطْلُوب مِنْهُ أَن يحكم بِالْعَدْلِ على نَفسه وعَلى غَيره، وَأَن يعْتَقد أَنه حَاكم فِي ظَاهره، مَحْكُوم عَلَيْهِ فِي بَاطِنه. روى اللَّيْث بن سعد عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {أَنه قَالَ: من ولى ولَايَة، فَأحْسن فِيهَا أَو أَسَاءَ، أَتَى بِهِ يَوْم الْقِيَامَة، وَقد غلت يَمِينه إِلَى عُنُقه؛ فَإِن كَانَ عدلا فِي أَحْكَامه، أطلق من أغلاله وَجعل فِي ظلّ عرش الرَّحْمَن؛ وَإِن كَانَ غير عدل فِي أَحْكَامه، غلت شِمَاله إِلَى يَمِينه، فيسبح فِي عرقه حَتَّى يغرق فِي جَهَنَّم. وَلما تقرر من بلَاء الْقَضَاء، فرَّ عَنهُ كثير من الْفُضَلَاء وتغيبوا، حَتَّى تركُوا. وسجن بِسَبَبِهِ عِنْد الِامْتِنَاع آخَرُونَ، مِنْهُم أَبُو حنيفَة، وَهُوَ النُّعْمَان بن ثَابت، دَعَاهُ عمر بن هُبَيْرَة للْقَضَاء؛ فَأبى؛ فحبسه وضربه أَيَّامًا، كل يَوْم عشرَة أسواط، وَهُوَ متماد على ابايته إِلَى أَن تَركه. وَقد نقل عَن عُثْمَان بن عَفَّان أَنه قَالَ لعبد الله بن عمر بن الْخطاب: اقْضِ بَين النَّاس. قَالَ: لَا أَقْْضِي بَين رجلَيْنِ مَا بقيت} قَالَ: لتفعلن {لَا أفعل} فَإِن أَبَاك كَانَ يقْضِي. قَالَ: كَانَ أبي أعلم مني وأنقى! وَمن غَرِيب مَا يحْكى عَن مسلمة بن زرْعَة، وَقد تكلم فِي تباعات الْقَضَاء، أَنه قَالَ رَأَيْت فِي الأندلس قَاضِيا يدعى مهَاجر بن نَوْفَل الْقرشِي، مَا رَأَيْت مثله فِي الْعِبَادَة والورع. وَلَقَد بَلغنِي فِي مَوته أعظم الْعجب. أَخْبرنِي بِهِ ثِقَات من أهل بَلَده. وَذَلِكَ أَنه لما مَاتَ دفن فِي مقبرتهم لَيْلًا، وَأَظنهُ عهد بذلك، فَلَمَّا أهيل التُّرَاب عَلَيْهِ،

সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী: যে ব্যক্তি বিচারকের পদ প্রার্থনা করে এবং এর জন্য সুপারিশকারীদের সাহায্য নেয়, তাকে তার নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়; আর যাকে এর জন্য বাধ্য করা হয়, আল্লাহ তার প্রতি একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ করেন যিনি তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আর এরই অংশ হলো: যে ব্যক্তি নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে, তাকে সেটির দিকেই সোপর্দ করা হয়; এর অর্থ হলো: সে যা পরিচালনা করে তাতে তাকে সাহায্য করা হয় না; আর পদমর্যাদার প্রত্যাশী ব্যক্তি সর্বদা লাঞ্ছনার সাথে সম্পৃক্ত থাকে। সুতরাং যাকে কোনো কর্মে বা দ্বীনি নেতৃত্বের জন্য আহ্বান জানানো হয়, আর সে ওই পদের জন্য নিজেকে ক্ষুদ্র মনে করে এবং আল্লাহর নির্দেশের ব্যাপারে শঙ্কা অনুভব করে, আল্লাহ তাকে সাহায্য দান করেন। আর এটি এই মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন। অতএব, বিচারকার্যের পরীক্ষায় নিপতিত হওয়া প্রত্যেকের জন্য ওয়াজিব হলো আল্লাহর কাছে বেশি বেশি অনুনয়-বিনয় করা, তাঁর আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে তাঁর উপস্থিতির কথা স্মরণে রাখা এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করা। সহীহ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তাদের ওপর কঠোরতা করে, আপনিও তার ওপর কঠোরতা করুন; আর যে ব্যক্তি আমার উম্মতের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তাদের প্রতি নম্র আচরণ করে, আপনিও তার প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করুন।" প্রত্যেক বিচারকের নিকট এটি কাম্য যে, সে নিজের ও অন্যের ব্যাপারে ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করবে এবং বিশ্বাস রাখবে যে, সে বাহ্যত শাসক হলেও প্রকৃতপক্ষে সে বিচারের সম্মুখীন। লায়স বিন সাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো দায়িত্ব লাভ করে, চাই সে তাতে সুচারুরূপে কাজ করুক বা মন্দভাবে, কিয়ামতের দিন তাকে এমন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে যে তার ডান হাতটি ঘাড়ের সাথে শিকলবদ্ধ থাকবে। যদি সে তার বিচারে ন্যায়পরায়ণ হয়ে থাকে, তবে তাকে সেই শিকল থেকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং তাকে রহমানের আরশের ছায়াতলে স্থান দেওয়া হবে; আর যদি সে বিচারে অন্যায্য হয়, তবে তার বাম হাতটি ডান হাতের সাথে শিকলবদ্ধ করা হবে এবং সে নিজের ঘামেই হাবুডুবু খাবে যতক্ষণ না সে জাহান্নামে নিমজ্জিত হয়। বিচারকার্যের এই ভয়াবহতা সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে অনেক পুণ্যবান ব্যক্তি এ থেকে পলায়ন করেছেন এবং আত্মগোপন করেছেন, যাতে তাদের নিষ্কৃতি দেওয়া হয়। আবার এই দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে অন্যান্যদের কারারুদ্ধ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আবু হানিফা—যিনি নুমান বিন সাবিত—অন্যতম। উমর বিন হুবায়রা তাঁকে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন; ফলে তিনি তাঁকে বন্দি করেন এবং কয়েকদিন যাবৎ প্রহার করেন, প্রতিদিন দশটি করে বেত্রাঘাত করা হতো, তবুও তিনি তাঁর অস্বীকৃতিতে অটল থাকেন যতক্ষণ না তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন: মানুষের মাঝে বিচার ফয়সালা করো। তিনি বললেন: আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত দুজন মানুষের মাঝেও ফয়সালা করব না। উসমান বললেন: তোমাকে অবশ্যই এটি করতে হবে। তিনি বললেন: আমি করব না। উসমান বললেন: তোমার পিতা তো বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। তিনি উত্তরে বললেন: আমার পিতা আমার চেয়ে অনেক বেশি জ্ঞানী ও আল্লাহভীরু ছিলেন! মাসলামাহ বিন যুরআহ বিচারকার্যের পরিণাম সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর কাহিনী বর্ণনা করে বলেন: আমি আন্দালুসে মুহাজির বিন নওফেল আল-কুরাশি নামক এক বিচারককে দেখেছি, যার মতো ইবাদত ও তাকওয়ার অধিকারী আমি কাউকে দেখিনি। তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে আমি অত্যন্ত বিস্ময়কর সংবাদ পেয়েছি যা তাঁর দেশের বিশ্বস্ত ব্যক্তিবর্গ আমাকে জানিয়েছেন। তা হলো, যখন তিনি মৃত্যুবরণ করেন তখন তাঁকে রাতে তাদের কবরস্থানে দাফন করা হয়—আমার ধারণা তিনি নিজেই এমন অসিয়ত করেছিলেন—অতঃপর যখন তাঁর ওপর মাটি দেওয়া হলো,

(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٢)
سمعُوا من الْقَبْر كلَاما فَاسْتَمعُوا لَهُ؛ فسمعوه يُنَادي: أنذركم ضيق الْقَبْر وعاقبة الْقَضَاء {قَالَ: فكشفوا عَنهُ، وظنوه حَيا؛ فوجدوه مَكْشُوف الْوَجْه، مَيتا، بحالته الَّتِي قبر بهَا رحمه الله وَغفر لنا وَله} وَقَالَ الْحسن بن مُحَمَّد فِي كِتَابه، عِنْد ذكر من عرض عَلَيْهِ الْقَضَاء، فَأبى من قبُوله: اسْتَشَارَ الْأَمِير عبد الرَّحْمَن بن مُعَاوِيَة، أول الْخُلَفَاء بالأندلس من بني أُميَّة أَصْحَابه، فِي قَاض يوليه على قرطبة. فَأَشَارَ عَلَيْهِ وَلَده هِشَام، وحاجبه ابْن مغيث، فالمصعب بن عمرَان؛ ووقف الِاخْتِيَار عَلَيْهِ. فَوَقع بِنَفس الْأَمِير، وَأمر بِالْإِرْسَال إِلَيْهِ؛ فَلَمَّا قدم مُصعب، أدخلهُ على نَفسه، بِحَضْرَة وَلَده هِشَام، وحاجبه، وخاصة أَصْحَابه؛ فَعرض عَلَيْهِ الْقَضَاء. فَأبى من قبُوله، وَذكر أعذاراً تعوقه عَنهُ؛ فَردهَا الْأَمِير وَحمله على الْعَزِيمَة، وأصر مُصعب على الإباية الْبَتَّةَ؛ فاغضب الْأَمِير، وهاج غَضَبه، وَأطَال الإطراق؛ ثمَّ رفع رَأسه إِلَى مُصعب وَقَالَ: اذْهَبْ {عَلَيْك العفا وعَلى الَّذين أشاروا بك} وَلما أَرَادَ هِشَام للْقَضَاء بقرطبة زِيَاد بن عبد الرَّحْمَن، وعزم عَلَيْهِ، خرج مِنْهَا فَارًّا بِنَفسِهِ، على مَا حَكَاهُ ابْن حَارِث. فَقَالَ هِشَام عِنْد ذَلِك: لَيْت النَّاس كلهم كزياد، حَتَّى ألغى أهل الرَّغْبَة فِي الدُّنْيَا {وَمِمَّنْ عرض عَلَيْهِ الْقَضَاء من الْفُقَهَاء بالأندلس فَأبى من قبُوله، إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد ابْن بار، دَعَاهُ إِلَيْهِ الْأَمِير مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن لقصة رفعت من قدره عِنْده؛ فأباه فَأرْسل إِلَيْهِ بذلك هَاشم بن عبد الْعَزِيز صَاحبه؛ فَامْتنعَ عَلَيْهِ وَلم يجد فِيهِ حِيلَة؛ فَأَعَادَ إِلَيْهِ الْأَمِير هاشماً بِوَصِيَّة يَقُول: إِذا لم تقبل قضاءنا، فَاحْضُرْ مَجْلِسنَا، وَكن أحد الداخلين علينا، الَّذين نشاورهم فِي أمورنا، ونسمع مِنْهُم فِي رعيتنا. فَلَمَّا اسْتمع رسَالَته، قَالَ: يَا أَبَا خَالِد، إِن ألح عَليّ الْأَمِير فِي هَذَا وَمثله، هربت وَالله} بنفسي من بَلَده! فَمَا لي وَله؟ فَأَعْرض عَنهُ الْأَمِير عِنْد ذَلِك، وَعلم أَنه لَيْسَ من صَيْده. وَمِنْهُم أبان بن عِيسَى بن دِينَار، ولاه الْأَمِير مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن قَضَاء كورة جيان؛ فَأبى ولح. فَأمر الْأَمِير بإكراهه على الْعَمَل وَأَن يُوكل بِهِ نَفرا من الحرس، يحملونه إِلَى حَضْرَة جيان، فيجلسونه هُنَاكَ مجْلِس الْقَضَاء، ويأخذونه بالحكم بَين

তারা কবর থেকে কথা শুনতে পেল, তাই তারা তা মনোযোগ দিয়ে শুনল। তারা তাকে এই বলে উচ্চস্বরে বলতে শুনল: "আমি তোমাদের কবরের সংকীর্ণতা এবং বিচারকার্যের পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করছি।" তিনি বলেন: অতঃপর তারা কবর উন্মোচন করল এবং তাকে জীবিত মনে করল; কিন্তু তারা তাকে মুখ খোলা অবস্থায় মৃত পেল, ঠিক সেই অবস্থায় যাতে তাকে দাফন করা হয়েছিল। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন।

হাসান ইবনে মুহাম্মদ তাঁর কিতাবে সেই ব্যক্তিদের আলোচনায় বলেছেন যাদের নিকট বিচারকার্যের (কাজিত্বের) প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন: আন্দালুসে বনু উমাইয়ার প্রথম খলিফা আমির আবদুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া তাঁর সঙ্গীদের সাথে পরামর্শ করলেন যে, কাকে তিনি কর্ডোভার বিচারক নিযুক্ত করবেন। তখন তাঁর পুত্র হিশাম এবং তাঁর দ্বাররক্ষী ইবনে মুগিস মুসআব ইবনে ইমরানের নাম প্রস্তাব করলেন; এবং তাঁর ওপরই নির্বাচন স্থির হলো। আমিরের মনেও এটি ধরল এবং তিনি তাঁকে ডেকে পাঠাতে নির্দেশ দিলেন। যখন মুসআব আসলেন, তখন আমির তাঁকে তাঁর পুত্র হিশাম, তাঁর দ্বাররক্ষী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গীদের উপস্থিতিতে নিজের কাছে প্রবেশ করালেন এবং তাঁর সামনে বিচারকার্যের প্রস্তাব পেশ করলেন।

কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন এবং এমন কিছু ওজর পেশ করলেন যা তাঁকে এ কাজ থেকে বিরত রাখছিল। আমির তাঁর ওজরসমূহ প্রত্যাখ্যান করলেন এবং তাঁকে দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানালেন। কিন্তু মুসআব একেবারেই অস্বীকার করার ব্যাপারে অনড় রইলেন। এতে আমির ক্ষুব্ধ হলেন এবং তাঁর রাগ প্রবল হলো। তিনি দীর্ঘক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন; তারপর মুসআবের দিকে মাথা তুলে বললেন: "যাও, তোমার ওপর এবং যারা তোমার নাম প্রস্তাব করেছিল তাদের ওপর ধিক্কার!"

আর হিশাম যখন জিয়াদ ইবনে আবদুর রহমানকে কর্ডোভার বিচারক হিসেবে চাইলেন এবং এ ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করলেন, তখন জিয়াদ আত্মরক্ষার্থে সেখান থেকে পালিয়ে গেলেন, যেমনটি ইবনে হারিস বর্ণনা করেছেন। তখন হিশাম বললেন: "আফসোস! যদি সব মানুষ জিয়াদের মতো হতো, তবে আমি দুনিয়ালোভী লোকদের উপেক্ষা করতাম।"

আন্দালুসের ফকিহদের মধ্যে যাদেরকে বিচারকার্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন, তাদের অন্যতম হলেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বার। আমির মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষিতে তাঁকে তলব করেছিলেন যা আমিরের নিকট তাঁর মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। ফলে আমির তাঁর সহকারী হাশেম ইবনে আবদুল আজিজকে তাঁর নিকট এই প্রস্তাব নিয়ে পাঠালেন। তিনি তাঁর নিকটও অসম্মতি প্রকাশ করলেন এবং হাশেম তাঁর ব্যাপারে কোনো উপায় খুঁজে পেলেন না। এরপর আমির পুনরায় হাশেমকে এই অসিয়ত দিয়ে পাঠালেন যে: "তুমি যদি আমাদের বিচারকার্য গ্রহণ না-ই করো, তবে অন্তত আমাদের মজলিসে উপস্থিত থেকো এবং আমাদের ঘনিষ্ঠজনদের অন্তর্ভুক্ত হও, যাদের সাথে আমরা আমাদের রাষ্ট্রীয় বিষয়াদি নিয়ে পরামর্শ করি এবং যাদের নিকট থেকে প্রজাসাধারণের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হই।" যখন তিনি এই বার্তা শুনলেন, তখন বললেন: "হে আবু খালিদ! আল্লাহর কসম, আমির যদি এই ব্যাপারে এবং এই জাতীয় বিষয়ে আমার ওপর জোর প্রদান করেন, তবে আমি তাঁর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাব! তাঁর সাথে আমার কী সম্পর্ক?" তখন আমির তাঁর ওপর থেকে আগ্রহ সরিয়ে নিলেন এবং বুঝতে পারলেন যে তিনি তাঁর আয়ত্তে আসার মতো লোক নন।

তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আবান ইবনে ঈসা ইবনে দিনার। আমির মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান তাঁকে জায়ান প্রদেশের বিচারক নিযুক্ত করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং অনড় রইলেন। তখন আমির তাঁকে উক্ত কাজে বাধ্য করার নির্দেশ দিলেন এবং একদল প্রহরীকে তাঁর জন্য নিযুক্ত করলেন, যারা তাঁকে জায়ান শহরে নিয়ে যাবে এবং সেখানে তাঁকে বিচারকের আসনে বসিয়ে দেবে, আর মানুষের মাঝে বিচার করার জন্য তাঁকে বাধ্য করবে...

(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٣)
النَّاس. فأنفذ الوزراء أمره، وَسَار بِهِ الحرس، فأقعدوه بجيان؛ فَحكم بَين النَّاس يَوْمًا وَاحِدًا. فَلَمَّا أَتَى اللَّيْل، هرب على وَجهه؛ فَأصْبح النَّاس يَقُولُونَ: هرب القَاضِي {فَرفع الْخَبَر إِلَى الْأَمِير مُحَمَّد؛ فَقَالَ: هَذَا رجل صَالح فر بِدِينِهِ} فليسئل عَن مَكَانَهُ ويؤمن مِمَّا أكره {وَمن أهل سرقسطة، قَاسم بن ثَابت بن عبد الْعَزِيز الفِهري، صَاحب كتاب الدَّلَائِل فِي شرح غَرِيب الحَدِيث. دعِي للْقَضَاء بِبَلَدِهِ؛ فَامْتنعَ من ذَلِك. فَلَمَّا اضطره الْأَمِير وعزم عَلَيْهِ، استمهله ثَلَاثَة أَيَّام، يستخير فِيهَا الله عز وجل} فَمَاتَ خلال تِلْكَ الْمدَّة. فَكَانَ النَّاس يرَوْنَ أَنه دَعَا الله تَعَالَى فِي الاستكفاء؛ فكفاه وستره. وَصَارَ حَدِيثه موعظة فِي زَمَانه. قَالَه أَحْمد بن مُحَمَّد. وَمِمَّنْ عرض عَلَيْهِ الْقَضَاء، فِي عصرنا هَذَا المستأخر، فأباه وَامْتنع من قبُوله، الْفَقِيه أَبُو عِيسَى أَحْمد بن عبد الْملك الإشبيلي، عرضه عَلَيْهِ الْمَنْصُور مُحَمَّد بن أبي عَامر مُدبر أَمر الْخَلِيفَة هِشَام الْمُؤَيد بِاللَّه، عَن أَمر الْخَلِيفَة مرَّتَيْنِ؛ فَلم يجد فِيهِ حِيلَة. أولاهما إِذْ توفّي قَاضِي قرطبة مُحَمَّد بن يبْقى بن زرب، سنة 381؛ أحضرهُ وخاطبه مشافهة بِمحضر الوزراء؛ فَقَالَ لَهُ: إِن أَمِير الْمُؤمنِينَ الْمُؤَيد بِاللَّه اختارك للْقَضَاء، وَرَأى تقديمك مُبَارَكًا لَك فِيهِ. فَقَالَ: أعوذ بِاللَّه من ذَلِك {لست، وَالله الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ} اتهمَ إِلَى هَذَا وَلَا أقبله الْبَتَّةَ {فَإِنِّي لَا أَسْتَطِيع وَلَا أصلح وَمَا أفتى النَّاس فِي ذَلِك إِلَّا وَأَنا مُضْطَجع أَكثر أوقاتي لكبرى وضعفي. وَوَاللَّه} لقد صدقتك {فَانْظُر للْمُسلمين وانصح لإمامك وَفقه الله} فَتَركه. وَمِمَّنْ جاهر بالإصرار على الإباية من الْقَضَاء، مُحَمَّد بن عبد السَّلَام الْخُشَنِي، أَرَادَهُ الْأَمِير مُحَمَّد لتقليد الْقَضَاء بجيان؛ وَأمر الوزراء أَن يجلسوه ويلزموه ذَلِك؛ فَفَعَلُوا وأدوا إِلَيْهِ رِسَالَة الْأَمِير. فَأبى عَلَيْهِم وَنَفر نفوراً شَدِيدا؛ فلاطفوه وخوفوه بادرة السُّلْطَان؛ فَلم يزدْ إِلَّا أباء ونفوراً. فَكَتَبُوا إِلَى الْأَمِير مُحَمَّد بلجاجه واعياء الْحِيلَة عَلَيْهِم فِي إجَابَته. فَوَقع الْأَمِير توقيعاً غليظاً مَعْنَاهُ: إِن من عاصانا، فقد أحل بِنَفسِهِ وَدَمه. فَلَمَّا قرأوه على الْخُشَنِي، نزع قلنسوته من رَأسه وَمد عُنُقه وَجعل يَقُول: أَبيت كَمَا أَبَت السَّمَوَات وَالْأَرْض، إباية إشفاق، لَا إباية نفاق!
মানুষ। অতঃপর উজিরগণ তাঁর আদেশ কার্যকর করলেন এবং রক্ষীবাহিনী তাঁকে নিয়ে গেল। তারা তাঁকে জায়ান-এ বসালেন; ফলে তিনি একদিন মানুষের মাঝে বিচারকাজ পরিচালনা করলেন। যখন রাত হলো, তিনি অজানার উদ্দেশ্যে পালিয়ে গেলেন। সকালে লোকজন বলতে লাগল: কাজী পালিয়ে গেছেন। {এই খবর আমির মুহাম্মদের নিকট পৌঁছানো হলো; তিনি বললেন: ইনি একজন নেককার ব্যক্তি যিনি স্বীয় দ্বীন রক্ষার তাগিদে পলায়ন করেছেন} সুতরাং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হোক এবং তাঁকে সেই কাজের ব্যাপারে অভয় দেওয়া হোক যা তিনি অপছন্দ করেছিলেন। {সারাগোসার অধিবাসীদের মধ্যে রয়েছেন কাসিম বিন সাবিত বিন আব্দুল আজিজ আল-ফিহরি, যিনি ‘কিতাবুদ দালাইল ফি শারহি গারিবিল হাদিস’-এর রচয়িতা। তাঁকে নিজ শহরে বিচারপতির পদের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল; কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। অতঃপর যখন আমির তাঁকে বাধ্য করলেন এবং এ ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করলেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করার জন্য তিন দিনের সময় চাইলেন} কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করলেন। মানুষ মনে করত যে, তিনি এই দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহর নিকট দুআ করেছিলেন; অতঃপর আল্লাহ তাঁকে নিষ্কৃতি দান করলেন এবং রক্ষা করলেন। তাঁর এই ঘটনা সমকালীন সময়ে এক উপদেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ। আমাদের এই পরবর্তী যুগে যাদের সামনে বিচারপতির পদ উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ও গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ফকিহ আবু ইসা আহমদ বিন আব্দুল মালিক আল-ইশবিলি। খলিফা হিশাম আল-মুয়াইয়্যিদ বিল্লাহর নির্দেশে তাঁর প্রধানমন্ত্রী আল-মনসুর মুহাম্মদ বিন আবি আমির দুইবার তাঁর নিকট এই প্রস্তাব পেশ করেছিলেন; কিন্তু তিনি কোনোভাবেই তাঁকে রাজি করাতে পারেননি। প্রথমবার ছিল যখন ৩৮১ হিজরিতে কর্ডোভার কাজী মুহাম্মদ বিন ইয়াবকা বিন যারব ইন্তেকাল করেন; তখন মনসুর তাঁকে তলব করেন এবং উজিরদের উপস্থিতিতে তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলেন। তিনি তাঁকে বলেন: আমিরুল মুমিনিন আল-মুয়াইয়্যিদ বিল্লাহ আপনাকে বিচারপতির পদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তিনি মনে করেন যে আপনাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া আপনার জন্য বরকতময় হবে। তিনি বললেন: আমি এ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। {আল্লাহর শপথ, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমি এই পদের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে চাইনি} এবং আমি এটি মোটেও গ্রহণ করব না। {কেননা আমার সেই সামর্থ্য নেই এবং আমি এর উপযুক্তও নই। আমি তো বার্ধক্য ও দুর্বলতার কারণে অধিকাংশ সময় শায়িত অবস্থাতেই কেবল মানুষকে ফতোয়া প্রদান করি। আল্লাহর শপথ,} আমি আপনার নিকট সত্য বলেছি। {সুতরাং আপনি মুসলমানদের কল্যাণের কথা চিন্তা করুন এবং আপনার ইমামের হিতাকাঙ্ক্ষী হোন, আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন} অতঃপর তিনি তাঁকে অব্যাহতি দিলেন। আর যারা প্রকাশ্যে বিচারকের পদ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর ব্যাপারে অনড় ছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল সালাম আল-খুশানি। আমির মুহাম্মদ তাঁকে জায়ানের বিচারকার্যের দায়িত্ব প্রদান করতে চাইলেন। তিনি উজিরদের নির্দেশ প্রদান করলেন যেন তাঁরা তাঁকে সেখানে উপবেশন করান এবং তাঁকে এ কাজে বাধ্য করেন। তাঁরা তাই করলেন এবং আমিরের পয়গাম তাঁর নিকট পৌঁছে দিলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন এবং প্রচণ্ড অনীহা প্রকাশ করলেন। তাঁরা তাঁর সাথে নম্র আচরণ করলেন এবং সুলতানের ক্রোধের ভয় দেখালেন; কিন্তু এতে তাঁর অসম্মতি ও বিরাগ কেবল বৃদ্ধিই পেল। অতঃপর তাঁরা আমির মুহাম্মদের নিকট তাঁর একগুঁয়েমি এবং তাঁকে রাজি করানোর ক্ষেত্রে তাঁদের নিরুপায় হওয়ার কথা লিখে পাঠালেন। তখন আমির একটি কঠোর নির্দেশ জারি করলেন যার মর্মার্থ ছিল: যে আমাদের অবাধ্য হবে, সে নিজের জীবন ও রক্তকে বৈধ করে ফেলবে। যখন তাঁরা এটি খুশানির সামনে পাঠ করলেন, তখন তিনি মাথা থেকে তাঁর টুপিটি খুলে ফেললেন এবং নিজের ঘাড় প্রসারিত করে বলতে লাগলেন: আমি সেভাবেই অস্বীকার করছি যেভাবে আসমান ও জমিন অস্বীকার করেছিল—আশঙ্কাজনিত অস্বীকৃতি, কোনো কপটতাজনিত অস্বীকৃতি নয়!
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٤)
فَكَتَبُوا إِلَى الْأَمِير بِلَفْظِهِ؛ فَكتب إِلَيْهِم أَن سلمُوا أمره وأخرجوه عَن أَنفسكُم {فَقَالُوا لَهُ: انْصَرف} فَانْطَلق عَنْهُم وَلم يهيجوه بعد. وَقد شدد بعض الْعلمَاء على الفار مِنْهُ، إِذا كَانَ مِمَّن توفرت فِيهِ دواعيه. فَنقل عَن سَحْنُون أَنه قَالَ: إِذا كَانَ الرجل أَهلا لخطة الْقَضَاء، فاستعفى مِنْهَا، عوفى مِنْهَا إِن وجد لَهَا عوض مِنْهُ؛ وَإِن لم يُوجد، أجبر عَلَيْهَا؛ فَإِن أَبى، سجن؛ فَإِن أَبى، ضرب. قَالَ الشَّعْبَانِي: فَإِن لم يُوجد غير وَاحِد مِمَّن يشكل للْقَضَاء، أجبر عَلَيْهِ بالسجن وَالضَّرْب. وَمن جَامع كتاب الِاسْتِغْنَاء: وَإِن كَانَ الدَّاعِي لَهُ إِلَى الْعَمَل غير عدل، لم يجز لأحد إعانته على أُمُوره، لِأَنَّهُ مُتَعَدٍّ فِي فعله؛ فَيجب لَهُ أَن يصبر على الْمَكْرُوه، ويدع الْعَمَل مَعَه؛ وَإِن كَانَ عدلا، جَازَ بِالْعَمَلِ مَعَه، وَيسْتَحب لَهُ إعانته. انْتهى. وَالَّذِي يظْهر من كَلَام مَالك، الْأَخْذ بِالتّرْكِ، والتحذير من الْولَايَة على كل تَقْدِير، فقد روى عَنهُ ابْن وهب فِي الرجل يدعى للْعَمَل، فَيكْرَه أَن يُجيب إِلَيْهِ، وَخَافَ على دَمه، وَجلد ظَهره، وَهدم دَاره. كَيفَ ترى فِي ذَلِك؟ فَقَالَ: أما هدم دَاره وَجلد ظَهره وسجنه، فَإِنَّهُ يصبر على ذَلِك، وَيتْرك الْعَمَل خير لَهُ، وَأما أَن يُبَاح دَمه وَلَا أَدْرِي مَا حد ذَلِك، وَلَعَلَّه فِي سَعَة من ذَلِك إِن عمل. وَقَالَ الْأَبْهَرِيّ: إِن دعِي إِلَى الْعَمَل، فَأبى، وخشي ضرب ظَهره أَو على دَمه أَو سجنه، فَأَما الضَّرْب والسجن، فَإِن صَبر، فَهُوَ أفضل؛ وَأما دَمه، فَإِن عمل، فعله فِي سَعَة أَن يجْرِي الْعدْل والإنصاف؛ وَإِن لم يُمكنهُ، لم يجز لَهُ أَن يتَعَدَّى الْحق، ويصبر على مَا يلْحقهُ من الْمَكْرُوه، إِذْ لَا يجوز لَهُ أَن يبطل حق الْمُسلمين وحريمهم لنَفسِهِ. وَمن كتاب ابْن حَارِث. لما توفّي يحيى بن معن، بَقِي النَّاس بِلَا قَاض نَحوا من سِتَّة أشهر، روى فِيهَا الْأَمِير عبد الرَّحْمَن فِي الإيتاء للْقَضَاء. فقلق النَّاس لذَلِك؛ فَقَالَ: وَالله {مَا يَمْنعنِي من التَّعْجِيل إِلَّا النّظر لَهُم} فَإِنِّي لَا أجد رجلا أرضاه، غير وَاحِد، وَهُوَ لَا يجيبني! فَقَالَ لَهُ أحد جُلَسَائِهِ: فَإِذا أرضيته للْقَضَاء، وأباه، فإلزمه أَن يدلك على سواهُ. فأحضر يحيى بن يحيى وألزمه أَن يُشِير عَلَيْهِ، إِذْ لم يجبهُ. فَامْتنعَ من الْوَجْهَيْنِ مَعًا، الْولَايَة وَالدّلَالَة، وَقَالَ: قد صدقت عَن نَفسِي لمعرفتي بهَا؛ وَلنْ

তারা আমীরের নিকট তাঁর বক্তব্য লিখে পাঠালো; আমীর তাদের প্রতি লিখে পাঠালেন যে, তোমরা তাঁর বিষয়টি ছেড়ে দাও এবং তোমাদের নিকট থেকে তাঁকে সরিয়ে দাও {অতঃপর তারা তাঁকে বলল: আপনি চলে যান} ফলে তিনি তাদের নিকট থেকে চলে গেলেন এবং এরপর তারা তাঁকে আর বিরক্ত করেনি। আর কোনো কোনো আলেম বিচারকার্যের পদ থেকে পলায়নকারীর বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, যদি সে এমন ব্যক্তি হয় যার মধ্যে এর যোগ্যতাসমূহ বিদ্যমান থাকে। সাহনুন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি বিচারকার্যের পদের যোগ্য হয় এবং সে তা থেকে অব্যাহতি চায়, তবে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হবে যদি তার পরিবর্তে অন্য কাউকে পাওয়া যায়; আর যদি না পাওয়া যায়, তবে তাকে বাধ্য করা হবে। যদি সে অস্বীকার করে, তবে তাকে কারারুদ্ধ করা হবে; যদি তবুও অস্বীকার করে, তবে তাকে প্রহার করা হবে। আশ-শা'বানী বলেছেন: বিচারকার্যের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি যদি একজন ব্যতীত আর কেউ না থাকে, তবে তাকে কারারুদ্ধ করে এবং প্রহার করে এর জন্য বাধ্য করা হবে। 'জামি কিতাবুল ইস্তিঘনা' গ্রন্থে রয়েছে: আর যদি তাকে কাজের দিকে আহ্বানকারী ব্যক্তি ন্যায়পরায়ণ না হয়, তবে তার কোনো কাজে তাকে সাহায্য করা কারো জন্য বৈধ নয়; কারণ সে তার কর্মে সীমালঙ্ঘনকারী। অতএব, তার জন্য আবশ্যক হলো কষ্ট সহ্য করা এবং তার সাথে কাজ পরিত্যাগ করা। আর যদি সে ন্যায়পরায়ণ হয়, তবে তার সাথে কাজ করা বৈধ এবং তাকে সাহায্য করা মুস্তাহাব। সমাপ্ত। ইমাম মালিকের কথা থেকে যা স্পষ্ট হয় তা হলো—পরিত্যাগ করা এবং সব অবস্থায় শাসনক্ষমতা বা পদের ব্যাপারে সতর্ক করা। ইবনু ওয়াহাব তাঁর থেকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যাকে কাজের জন্য ডাকা হয়েছে অথচ সে তাতে সাড়া দেওয়া অপছন্দ করে এবং নিজ জীবনের নিরাপত্তা, পিঠে চাবুক মারা এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার ভয় করে। এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন? তিনি বললেন: ঘরবাড়ি ধ্বংস করা, পিঠে প্রহার করা এবং কারাবরণ—এসবের ক্ষেত্রে সে ধৈর্য ধারণ করবে এবং কাজ বর্জন করা তার জন্য উত্তম। আর যদি তার প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে, তবে আমি জানি না এর সীমা কতটুকু; সম্ভবত এক্ষেত্রে কাজ করার ব্যাপারে তার অবকাশ রয়েছে। আল-আভহারী বলেছেন: যদি তাকে কাজের জন্য ডাকা হয় এবং সে অস্বীকার করে এবং তার পিঠে প্রহার, প্রাণের ঝুঁকি বা কারাবরণের আশঙ্কা করে, তবে প্রহার ও কারাগারের ক্ষেত্রে সে যদি ধৈর্য ধরে তবে তা-ই উত্তম। আর যদি প্রাণের ভয় থাকে এবং সে কাজ গ্রহণ করে, তবে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার কায়েম করার শর্তে তার অবকাশ রয়েছে। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তবে তার জন্য সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া বৈধ নয় এবং তার ওপর যে বিপদ আসে তাতে সে ধৈর্য ধারণ করবে; কারণ নিজের জন্য মুসলমানদের অধিকার ও মর্যাদা বিনষ্ট করা তার জন্য জায়েজ নেই। ইবনু হারিসের কিতাব থেকে বর্ণিত: যখন ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন ইন্তেকাল করলেন, তখন মানুষ প্রায় ছয় মাস যাবৎ কোনো বিচারক ছাড়াই রইল। এ সময় আমীর আবদুর রহমান বিচারক নিয়োগের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছিলেন। এতে মানুষ অস্থির হয়ে পড়ল; তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! {তাদের কল্যাণের কথা চিন্তা করা ছাড়া আর কিছুই আমাকে ত্বরান্বিত করা থেকে বিরত রাখছে না} কারণ আমি মাত্র একজন ব্যক্তি ছাড়া এমন কাউকে পাচ্ছি না যাকে আমি পছন্দ করি, অথচ তিনি আমার ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না! অতঃপর তিনি ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়াকে উপস্থিত করলেন এবং তাঁকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বাধ্য করলেন, যেহেতু তিনি নিজে তাতে সাড়া দেননি। তিনি পদ গ্রহণ এবং পরামর্শ দান—উভয়টিই অস্বীকার করলেন এবং বললেন: আমি আমার নফস সম্পর্কে জানার কারণে নিজের ব্যাপারে সত্য কথা বলেছি; আর আমি কখনই...

(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٥)
أتقلد الدّلَالَة على غَيْرِي، فَإِنَّهُ، إِن جَار، شاركته فِي جوره {فاغضب ذَلِك الْأَمِير ولح فِي أَن لَا يعفيه. وألزمه صَاحب رسائل غدابه إِلَى الْمَسْجِد الْجَامِع، فأجلسه مجْلِس الحكم، وَقَالَ للخصوم: هَذَا قاضيكم} فَلبث يحيى على تِلْكَ الْحَال ثَلَاثًا، وَهُوَ لَا يمد يَده لكتاب، وَلَا يتَكَلَّم مَعَ أحد، إِلَى أَن ضَاقَ صَدره؛ فَكتب إِلَى الْأَمِير يُشِير بإبراهيم ابْن الْعَبَّاس؛ فقلده، وكف عَن يحيى. وَمِمَّنْ تخلف عَن قبُول خطة الْقَضَاء، الإِمَام مُحَمَّد بن إِدْرِيس الشَّافِعِي. فراجع أَمِير الْمُؤمنِينَ، عِنْد الْعَزْم عَلَيْهِ فِي التَّوْلِيَة، بِأُمُور مِنْهَا أَن قَالَ لَهُ: إِن هَذَا الْأَمر لَا يصلح لَهُ من يشركك فِي نسبك. وَتوقف عَن الْعَمَل حَتَّى ترك. وَهُوَ الْقَائِل: من ولي الْقَضَاء، وَلم يفْتَقر، فَهُوَ سَارِق؛ وَمن لم يصن نَفسه، لم يَنْفَعهُ الْعلم. وبمثل مقَالَة الشَّافِعِي فِي الِاعْتِذَار عَن قبُول الْقَضَاء، أَشَارَ عبد الْملك بن حبيب على عبد الرَّحْمَن ابْن الحكم، فِي نازلة القَاضِي إِبْرَاهِيم بن الْعَبَّاس الْقرشِي؛ وَهِي النَّازِلَة الَّتِي تنْسب لَهُ. وللفقيه يحيى بن يحيى السُّورَة على الْخَلِيفَة؛ فَقَالَ لَهُ ابْن حبيب وَأما القَاضِي، فَلَا يَنْبَغِي للأمير أعزه الله {أَن يُشْرك فِي عدله من يشركهُ فِي حَسبه. فعزل الْأَمِير الْقرشِي قاضيه، وَذَلِكَ آخر سنة 213. وَولي الْقَضَاء مَكَانَهُ مُحَمَّد بن سعيد. وَعرض أَمِير الْمُؤمنِينَ الرشيد على الْمُغيرَة بن عبد الرَّحْمَن المَخْزُومِي قَضَاء الْمَدِينَة، وجائزته أَرْبَعَة آلَاف دِينَار. فَامْتنعَ؛ فَأبى الرشيد أَن يلْزمه، فَقَالَ: وَالله} يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ {لِأَن يحنقني الشَّيْطَان أحب إِلَيّ من أَن أَلِي الْقَضَاء} فَقَالَ الرشيد: مَا بعد هَذَا شَيْء {وأعفاه، وَأَجَازَهُ بألفي دِينَار. وَرَأَيْت فِي كتاب تَرْتِيب المدارك تصنيف القَاضِي عِيَاض بن مُوسَى بن عِيَاض وَمن خطه نقلت، وَقد ذكر عبد الله بن فروخ الْفَارِسِي، فَقِيه القيروان فِي وقته؛ فَقَالَ: كَانَ أكره النَّاس فِي الْقَضَاء. وَكَانَ يَقُول: قلت لأبي حنيفَة: مَا مَنعك أَن تلِي الْقَضَاء؟ فَقَالَ لي: يَا ابْن فروخ} الْقُضَاة ثَلَاثَة: رجل يحسن العوم، فَأخذ الْبَحْر طولا، فَمَا عساه أَن يعوم، يُوشك أَن يكل فيغرق؛ وَرجل بعومه، عَام يَسِيرا فغرق؛ وَرجل لَا يحسن العوم، ألْقى بِنَفسِهِ على المَاء، فغرق من سَاعَته. وَمن الْكتاب الْمُسَمّى أَن روح بن حَاتِم أرسل إِلَى ابْن فروخ ليوليه الْقَضَاء فَامْتنعَ؛
আমি কি অন্য কাউকে নির্দেশ করার দায়িত্ব নেব? কারণ সে যদি অন্যায় করে, তবে আমি তার অন্যায়ে শরিক হয়ে যাব। {এতে আমির রাগান্বিত হলেন এবং তাকে অব্যাহতি না দিতে নাছোড়বান্দা হলেন। রাজকীয় চিঠিপত্র বিভাগের প্রধান তাকে সকালে জামে মসজিদে নিয়ে যেতে বাধ্য করলেন এবং তাকে বিচারের আসনে বসালেন। অতঃপর বিবাদমান পক্ষদের বললেন: ইনিই তোমাদের বিচারক।} ইয়াহইয়া তিন দিন এই অবস্থায় কাটালেন, তিনি কোনো দলিলে হাত বাড়াতেন না এবং কারো সাথে কথাও বলতেন না। শেষ পর্যন্ত যখন তাঁর ধৈর্য ফুরিয়ে এল, তখন তিনি আমিরের কাছে ইব্রাহিম ইবনুল আব্বাসের নাম প্রস্তাব করে চিঠি লিখলেন। আমির তাকে নিযুক্ত করলেন এবং ইয়াহইয়াকে অব্যাহতি দিলেন। বিচারকের পদ গ্রহণে যারা অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ অন্যতম। আমিরুল মুমিনীন যখন তাকে নিযুক্ত করার সংকল্প করলেন, তখন তিনি বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তার মধ্যে একটি ছিল এই যে, তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আপনার বংশীয় কোনো ব্যক্তি এই পদের জন্য উপযুক্ত নয়।" তিনি কাজে যোগ দিতে বিরত থাকলেন যতক্ষণ না তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করল অথচ অভাবী হলো না, সে চোর; আর যে নিজের নফসকে হিফাজত করল না, তার ইলম তার কোনো উপকারে আসবে না।" বিচারকার্য গ্রহণে অক্ষমতা প্রকাশের ক্ষেত্রে শাফিঈর অনুরূপ বক্তব্যের মাধ্যমেই আব্দুল মালিক ইবনে হাবিব আব্দুর রহমান ইবনুল হাকামকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা ছিল কুরাইশী বিচারক ইব্রাহিম ইবনুল আব্বাসের ঘটনার প্রেক্ষিতে; আর এটি সেই ঘটনা যা তার সাথে সম্পৃক্ত। ফকিহ ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়ার খলিফার ওপর প্রভাব ছিল; ইবনে হাবিব তাকে বললেন, "বিচারকের ক্ষেত্রে আমিরের (আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন) উচিত নয় যে, {তিনি নিজের ইনসাফের কাজে এমন কাউকে শরিক করবেন যে তার বংশীয় মর্যাদায় শরিক।} অতঃপর আমির তার কুরাইশী বিচারককে বরখাস্ত করলেন, আর তা ছিল ২১৩ হিজরি সালের শেষের দিকে। তার স্থলে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদকে বিচারক নিযুক্ত করা হয়। আমিরুল মুমিনীন হারুনুর রশিদ মুগিরা ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাখজুমীকে মদিনার বিচারকের পদের প্রস্তাব দিলেন এবং এর সম্মানী হিসেবে চার হাজার দিনার দিতে চাইলেন। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন; রশিদ তাকে বাধ্য করতে চাইলেন না, তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম,} হে আমিরুল মুমিনীন, {শয়তান আমার শ্বাসরোধ করুক তা আমার কাছে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করার চেয়ে অধিক প্রিয়।" রশিদ বললেন: "এরপর আর কিছু বলার নেই," {এবং তাকে অব্যাহতি দিলেন ও তাকে দুই হাজার দিনার উপহার দিলেন। আমি বিচারক ইয়ায ইবনে মুসা ইবনে ইয়াযের সংকলিত 'তারতিবুল মাদারিক' গ্রন্থে দেখেছি এবং তাঁর পাণ্ডুলিপি থেকেই আমি এটি নকল করেছি। সেখানে তিনি কায়রোয়ানের তৎকালীন ফকিহ আব্দুল্লাহ ইবনে ফাররুখ আল-ফারিসির উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: তিনি বিচারকার্য গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনিচ্ছুক ছিলেন। তিনি বলতেন: আমি আবু হানিফাকে জিজ্ঞেস করলাম, "কিসে আপনাকে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দিল?" তিনি আমাকে বললেন, "হে ইবনে ফাররুখ,} বিচারক তিন প্রকার: এক ব্যক্তি যে ভালো সাঁতার জানে, সে সমুদ্রের মাঝখানে চলে গেল, কিন্তু সে কতক্ষণই বা সাঁতরাবে, শীঘ্রই সে ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং ডুবে যাবে; দ্বিতীয় ব্যক্তি যে ভালো সাঁতার জানা সত্ত্বেও সামান্য সাঁতার কাটার পর ডুবে গেল; আর তৃতীয় ব্যক্তি যে সাঁতার জানে না কিন্তু নিজেকে পানির ওপর নিক্ষেপ করল এবং সাথে সাথেই ডুবে গেল।" উক্ত কিতাবে এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, রাউহ ইবনে হাতিম আব্দুল্লাহ ইবনে ফাররুখের কাছে সংবাদ পাঠালেন তাকে বিচারক নিযুক্ত করার জন্য, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন;
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٦)
فَأمر بِهِ أَن يرْبط ويصعد بِهِ على سقف الْجَامِع؛ فَقيل لَهُ: تقبل؟ فَقَالَ: لَا {فَأخذ لِيطْرَح؛ فَلَمَّا رأى الْعَزْم قَالَ: قبلت. فأجلس فِي الْجَامِع وَمَعَهُ حرس؛ فَتقدم إِلَيْهِ خصمان؛ فَنظر إِلَيْهِمَا وَبكى طَويلا؛ ثمَّ رفع رَأسه، فَقَالَ لَهما: سألتكما بِاللَّه} أَلا أعفيتماني من أنفسكما، وَلَا تَكُونَا أول مشوش عَليّ {فرحماه، وقاما عَنهُ. فَأعْلم الحرس بذلك روحاً؛ فَقَالَ: اذْهَبُوا إِلَيْهِ، فَقولُوا لَهُ يُشِير علينا بِمن نولي أَو مَا قبل. فَقَالَ: إِن يكن، فعبد الله بن غَانِم؛ فَإِنِّي رَأَيْته شَابًّا لَهُ صبَابَة يَعْنِي بمسائل الْقُضَاة. فَعَلَيْك بِهِ} فَإِنَّهُ يعرف مِقْدَار الْقَضَاء. فولى ابْن غَانِم؛ فَكَانَ يشاوره فِي كثير من أُمُوره وَأَحْكَامه؛ فأشفق ابْن فروخ من ذَلِك، وَقَالَ لَهُ: يَا ابْن أخي {لم أقبلها أَمِيرا أقبلها وزيراً} وَخرج إِلَى مصر هرباً من ذَلِك وورعاً، وَمَات هُنَالك. وَمِمَّنْ عرض عَلَيْهِ الْقَضَاء بإفريقية، فَامْتنعَ مِنْهُ، أَبُو ميسرَة أَحْمد بن نزار. فَلَمَّا عرض عَلَيْهِ قَالَ: اللَّهُمَّ {إِنَّك تعلم أَنِّي انْقَطَعت إِلَيْك، وَأَنا ابْن ثَمَانِي عشرَة سنة} فَلَا تمكنهم مني {فَمَا جَاءَ الْعَصْر إِلَّا وَقد توفّي. فَغسل وكفن وَخرج بِهِ. فَوجه إِلَيْهِ الْأَمِير إِسْمَاعِيل الْعَبْدي كفناً وطيباً فِي الأطباق؛ فوافاه الرَّسُول على النعش؛ فَجعل عَلَيْهِ الْكَفَن من فَوق. وَمن غَرِيب مَا حكى عَنهُ أَنه بَينا هُوَ يتهجد لَيْلَة من اللَّيَالِي ويبكي وَيَدْعُو، إِذا بِنور عَظِيم، خرج لَهُ من حَائِط الْمِحْرَاب، وَوجه كَأَنَّهُ الْبَدْر. فَقَالَ: تملأ، يَا أَبَا ميسرَة} من وَجْهي: فَإِنِّي رَبك الْأَعْلَى {فبصق فِي وَجهه وَقَالَ لَهُ: اذْهَبْ يَا مَلْعُون} يَا شَيْطَان {لعنك الله} قَالَ الْمُؤلف رضي الله عنه {: التَّوْفِيق صحب ابْن نزار عِنْد مشاهدته لما أخبر عَنهُ بحائط محرابه؛ فثبتت الْمعرفَة قدمه، وأنطقت بِالصَّوَابِ لِسَانه. فذات الْقَدِيم سُبْحَانَهُ ذَات مَوْصُوفَة بِالْعلمِ، مدركة بِلَا إحاطة، وَلَا مرءية بالأبصار فِي دَار الدُّنْيَا؛ وَهِي مَوْجُودَة بحقائق الْإِيمَان، من غير حد، وَلَا إحاطة، وَلَا حُلُول؛ فالقلوب تعرفه، والعقول لَا تُدْرِكهُ؛ ينظر إِلَيْهِ الْمُؤْمِنُونَ فِي الْآخِرَة بالأبصار، بِغَيْر إحاطة، وَلَا إِدْرَاك نِهَايَة. وَمن بَاب التمنع عَن المسارعة إِلَى الْأُمُور الَّتِي يخَاف من الدُّخُول فِيهَا، السُّقُوط فِي الْفِتْنَة، مَا جرى لجَعْفَر بن الْحسن بن الْحسن الأمدي قَاضِي بلنسية آخر أَيَّام قَضَائِهِ بهَا. وَذَلِكَ أَنه بُويِعَ لمروان بن عبد الْعَزِيز ببلنسية، عِنْد انْقِرَاض الدولة اللمتونية، طلب بِالشَّهَادَةِ فِي بيعَته فَقَالَ: وَالله} لَا أفعل وبيعة تاشفين فِي عنقِي {ثمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ}
অতঃপর তাঁকে বেঁধে মসজিদের ছাদে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: "আপনি কি (পদটি) গ্রহণ করবেন?" তিনি বললেন: "না।" {ফলে তাঁকে নিচে ফেলে দেওয়ার জন্য ধরা হলো; যখন তিনি (তাদের) সংকল্প দেখলেন, তখন বললেন: "আমি গ্রহণ করলাম।" এরপর তাঁকে মসজিদে বসানো হলো এবং তাঁর সাথে প্রহরী রাখা হলো। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে দুই বিবাদী উপস্থিত হলো। তিনি তাদের দিকে তাকালেন এবং দীর্ঘক্ষণ কাঁদলেন। অতঃপর মাথা তুলে তাদের বললেন: "আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে তোমাদের কাছে প্রার্থনা করছি} যেন তোমরা আমাকে তোমাদের বিষয় থেকে অব্যাহতি দাও এবং আমার ওপর প্রথম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী না হও।" {অতঃপর তারা তাঁর প্রতি দয়া করল এবং তাঁর নিকট থেকে চলে গেল। প্রহরীরা রাওহকে বিষয়টি জানালো। তিনি বললেন: "তোমরা তাঁর কাছে যাও এবং তাঁকে বলো, আমরা কাকে নিয়োগ দেব সে বিষয়ে যেন তিনি আমাদের পরামর্শ দেন, অথবা তিনি যা গ্রহণ করেছেন (তা পালন করুন)।" তিনি বললেন: "যদি কাউকে নিয়োগ দিতেই হয়, তবে আব্দুল্লাহ ইবনে গানিমকে দাও। কারণ আমি তাঁকে যুবক অবস্থায় বিচারকদের মাসআলা-মাসায়েলের প্রতি অনুরাগী দেখেছি। সুতরাং তাকেই গ্রহণ করো।} কেননা সে বিচারকার্যের গুরুত্ব জানে।" অতঃপর ইবনে গানিমকে নিয়োগ দেওয়া হলো। তিনি (ইবনে গানিম) তাঁর অনেক বিষয়ে এবং ফয়সালায় তাঁর সাথে পরামর্শ করতেন। ইবনে ফাররুখ এতে শঙ্কিত হলেন এবং তাঁকে বললেন: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র! {আমি এটি আমীর হিসেবে গ্রহণ করিনি, তবে উজির হিসেবে কি গ্রহণ করব?}" এরপর তিনি এর থেকে পলায়ন এবং পরহেজগারির কারণে মিশরের দিকে বেরিয়ে গেলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করলেন। যাদের কাছে ইফরীকিয়ার বিচারকের পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তাদের মধ্যে একজন হলেন আবু মায়সারা আহমদ ইবনে নিজার। যখন তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হলো, তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! {আপনি জানেন যে আমি আঠারো বছর বয়স থেকেই আপনার প্রতি একাগ্র হয়েছি,} সুতরাং আপনি তাদেরকে আমার ওপর সক্ষম করবেন না।" {অতঃপর আছরের সময় আসার আগেই তিনি ইন্তেকাল করলেন। তাঁকে গোসল ও কাফন দেওয়া হলো এবং (দাফনের জন্য) বের করা হলো। আমীর ইসমাইল আল-আবদী তাঁর জন্য পাত্রে করে কাফনের কাপড় ও সুগন্ধি পাঠালেন। বার্তাবাহক লাশের খাটিয়ার কাছে পৌঁছালেন এবং ওপর থেকে কাফনটি তাঁর লাশের ওপর রাখলেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত একটি অদ্ভুত ঘটনা হলো, এক রাতে তিনি যখন তাহাজ্জুদ পড়ছিলেন, কাঁদছিলেন এবং দোয়া করছিলেন, হঠাৎ মেহরাবের দেওয়াল থেকে তাঁর কাছে এক মহান নূর প্রকাশিত হলো এবং পূর্ণিমার চাঁদের মতো একটি মুখমণ্ডল দেখা গেল। তা বলল: "হে আবু মায়সারা, আমার মুখমণ্ডল দেখে পরিতৃপ্ত হও,} কারণ আমিই তোমার সুউচ্চ রব।" {তখন তিনি তাঁর মুখে থুথু নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: "দূর হও হে অভিশপ্ত,} হে শয়তান! {আল্লাহ তোমাকে লানত করুন।}" লেখক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন {ইবনে নিজার যখন তাঁর মেহরাবের দেওয়ালে যা দেখেছিলেন তা প্রত্যক্ষ করছিলেন, তখন আল্লাহর তাওফিক তাঁর সঙ্গী ছিল। ফলে মারেফাত (পরিচয়) তাঁর কদমকে অবিচল রেখেছিল এবং তাঁর জিহ্বাকে সঠিক কথা বলতে বাধ্য করেছিল। কেননা অনাদি সত্তা (আল্লাহ) পবিত্র, তিনি ইলম (জ্ঞান) গুণাবলি মণ্ডিত সত্তা, পরিবেষ্টন ছাড়াই অনুভূত, এবং দুনিয়াতে চক্ষু দিয়ে তাঁকে দেখা যায় না। তবে তিনি ঈমানের হাকীকতের মাধ্যমে বিদ্যমান, কোনো সীমা, পরিবেষ্টন বা অনুপ্রবেশ (হুলুল) ছাড়াই। অন্তরসমূহ তাঁকে চেনে কিন্তু বুদ্ধি তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না। মুমিনরা আখিরাতে স্বচক্ষে তাঁর দিকে তাকাবে, কোনো পরিবেষ্টন বা শেষ সীমার উপলব্ধি ছাড়াই। আর ফিতনায় পড়ার আশঙ্কায় যে বিষয়গুলোতে জড়ানো ভয়ংকর, সেগুলোতে তাড়াহুড়ো করা থেকে বিরত থাকার একটি উদাহরণ হলো বালানসিয়ার বিচারক জাফর বিন হাসান বিন হাসান আল-আমাদীর সাথে তাঁর বিচারক জীবনের শেষ দিনগুলোতে যা ঘটেছিল। ঘটনাটি এই যে, লামতুনি রাষ্ট্রের পতনের সময় যখন বালানসিয়াতে মারওয়ান ইবনে আব্দুল আজিজের জন্য বায়আত গ্রহণ করা হচ্ছিল, তখন তাঁর সাক্ষ্য চাওয়া হলো। তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম!} আমি তা করব না, কারণ তাশফীনের বায়আত আমার গলায় রয়েছে।" {অতঃপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহ!}"
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٧)
اقبضني إِلَيْك {قَالَ ابْن الْأَبَّار فِي تكملته، وَقد ذكره: فَتوفي فِي ليلته وَدفن فِي الْغَد. وَكَانَ رجلا صَالحا. ورعاً، مجاب الدعْوَة. وَكَانَت بيعَة مَرْوَان فِي صفر سنة 540. وَذكر يحيى بن إِسْحَاق أَن هشاماً، لما ولي، قيل لَهُ: لَا يتعدل مَا تُرِيدُ إِلَّا بِولَايَة زِيَاد بن عبد الرَّحْمَن على الْقَضَاء} فَبعث إِلَيْهِ؛ فتمنع؛ فألح عَلَيْهِ هِشَام، وأحضر الوزراء؛ وكلموه فِي ذَلِك عَن الْأَمِير وعرفوه عزمه. فَقَالَ لَهُم: أما إِذْ عزمتم، وأكرهتموني على الْقَضَاء، فأخبركم مَا أبدأ بِهِ على الْمَشْي إِلَى مَكَّة. إِن وليتموني، وَجَاءَنِي أحد متظلماً مِنْكُم، إِلَّا أخرجت من أَيْدِيكُم مَا يَدعِيهِ، ورددته عَلَيْهِ، وكلفتكم الْبَيِّنَة لما أعرف من ظلمكم {فَلَمَّا سمعُوا ذَلِك، عرفُوا صدقه؛ فَعَلمُوا عِنْد الْأَمِير فِي معافاته. فَقيل ليحيى بن يحيى: أهوَ وَجه الْقَضَاء؟ قَالَ: نعم} فِيمَن عرف بالظلم وَالْقُدْرَة!

‌‌فصل

هَذِه الْمَسْأَلَة، الَّتِي هِيَ إِخْرَاج مَا يَدعِيهِ الطَّالِب من يَد الْمَطْلُوب الموسوم بالظلم، وَقع من أَمْثَالهَا فِي أُمَّهَات الْكتب نَظَائِر؛ مِنْهَا فِي الْعُتْبِيَّة قَالَ فِي سَماع يحيى: قلت: فقوم عرفُوا بِالْغَصْبِ لأموال النَّاس من ذَوي الاستطالة بالسلطان؛ ثمَّ جَاءَ الله بوال أنصف مِنْهُم وأعدى عَلَيْهِم؛ فَلَا يجد الرجل من يشْهد على مُعَاينَة الْغَصْب، ويجد من يشْهد على حق أَنهم يعرفونه ملك الْمُدَّعِي، ثمَّ رَأَوْهُ بيد هَذَا الظَّالِم، لَا يَدْرُونَ بِمَاذَا صَار إِلَيْهِ إِلَّا أَن الطَّالِب كَانَ يشكو إِلَيْهِم ذَلِك، أَو لَا يشكوه. قَالَ: إِذا كَانَ من أهل القهرة والتعدي وَمن يقدر على ذَلِك، وَالْبَيِّنَة عادلة، فَذَلِك يُوجب للْمُدَّعِي أَخذ حَقه مِنْهُ، إِلَّا أَن يَأْتِ الظَّالِم بِبَيِّنَة عادلة على شِرَاء صَحِيح، أَو علمية لمن كَانَ يَأْمَن ظلمه، أَو يَأْتِ بِوَجْه حق ينظر لَهُ فِيهِ. قَالَ: فَإِن جَاءَ بِبَيِّنَة عادلة على شِرَائِهِ، وَزعم البَائِع أَن ذَلِك البيع عَن فَوق من سطوته، وَهُوَ لَا يقدر عَلَيْهِ؛ قَالَ: يفْسخ البيع إِن ثَبت أَنه من أهل الظُّلم والاستطالة. قَالَ: وَإِن زعم البَائِع أَنه بَاعَ وَقبض مِنْهُ الثّمن ظَاهرا، ثمَّ دس إِلَيْهِ سراق، أَخذه مِنْهُ. وَلَو لم يفعل لَهُ ذَلِك لَقِي مِنْهُ شرا قَالَ: لَا يقبل مِنْهُ هَذَا؛ وَعَلِيهِ دفع الثّمن إِلَيْهِ، بعد أَن يحلف الظَّالِم أَنه مَا ارتجعه، وَلَا أَخذه مِنْهُ بعد أَن دَفعه إِلَيْهِ. قَالَ ابْن رشد: أما مَا ذكره من أَن الظَّالِم، الْمَعْرُوف بِالْغَضَبِ لأموال النَّاس والقهرة لَهُم عَلَيْهِم، لَا ينْتَفع بحيازته مَال الرجل فِي وَجهه، وَلَا يصدق من أجلهَا على مَا يَدعِيهِ من
আমাকে তোমার কাছে নিয়ে নাও। (ইবনে আল-আব্বার তাঁর 'তাকমিলা' গ্রন্থে বলেছেন এবং তাঁর উল্লেখ করেছেন:) তিনি সেই রাতেই ইন্তেকাল করেন এবং পরের দিন তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি একজন নেককার ও পরহেজগার মানুষ ছিলেন, যাঁর দুআ কবুল হতো। ৫৪০ হিজরীর সফর মাসে মারওয়ানের বাইয়াত অনুষ্ঠিত হয়। ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন যে, হিশাম যখন শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তাঁকে বলা হয়েছিল: "যিয়াদ ইবনে আবদুর রহমানকে বিচারকের (কাযী) দায়িত্ব না দিলে আপনি যা চাচ্ছেন তা সুচারুরূপে সম্পন্ন হবে না।" অতঃপর তিনি তাঁর কাছে লোক পাঠালেন; কিন্তু তিনি অসম্মতি জানালেন। এরপর হিশাম তাঁর ওপর পীড়াপীড়ি করলেন এবং উজিরদের উপস্থিত করলেন। তাঁরা আমীরের পক্ষ থেকে তাঁর সাথে এ বিষয়ে কথা বললেন এবং আমীরের দৃঢ় সংকল্পের কথা তাঁকে জানালেন। তখন তিনি তাঁদের বললেন: "যেহেতু আপনারা দৃঢ় সংকল্প করেছেন এবং আমাকে বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণে বাধ্য করছেন, তবে আমি আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি যে, আমি কী দিয়ে কাজ শুরু করব—এমনকি মক্কার পথে হাঁটা অবস্থায় হলেও। যদি আপনারা আমাকে দায়িত্ব দেন এবং আপনাদের মধ্যে কারো বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসে, তবে সে যা দাবি করছে তা আপনাদের হাত থেকে বের করে তাকে ফিরিয়ে দেব। আর আপনাদের ওপর প্রমাণের ভার ন্যস্ত করব, কারণ আমি আপনাদের জুলুম সম্পর্কে অবগত।" (যখন তারা এটি শুনলেন, তখন তারা তাঁর সত্যবাদিতা উপলব্ধি করলেন এবং আমীরের কাছে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য চেষ্টা করলেন। তখন ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "এটিই কি বিচারকের সঠিক পন্থা?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ,") যারা জুলুম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য পরিচিত, তাদের ক্ষেত্রে এটিই সঠিক পন্থা!

‌‌পরিচ্ছেদ

এই মাসআলাটি, যা হলো জালেম হিসেবে চিহ্নিত বিবাদীর হাত থেকে বাদীর দাবিকৃত বস্তু বের করে আনা, এর অনুরূপ নজির মূল প্রামাণিক গ্রন্থসমূহে পাওয়া যায়। এর মধ্যে 'আল-উতবিয়া' গ্রন্থে ইয়াহইয়ার বর্ণনায় আছে: আমি বললাম: এমন একদল লোক যারা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মানুষের ধন-সম্পদ জবরদখল করার জন্য পরিচিত; এরপর আল্লাহ এমন একজন শাসক পাঠালেন যিনি তাদের থেকে ইনসাফ আদায় করেন এবং তাদের ওপর কঠোর হন; কিন্তু অভিযোগকারী এমন কাউকে পায় না যে জবরদখল সরাসরি দেখেছে এমন সাক্ষ্য দেবে, তবে সে এমন সাক্ষী পায় যারা সাক্ষ্য দেয় যে সম্পদটি বাদীর মালিকানা হিসেবে তারা চিনত, এরপর তারা তা এই জালেমের হাতে দেখতে পায়, অথচ তারা জানে না কীভাবে তা তার হাতে গেল, শুধু এটুকু জানে যে বাদী তাদের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করত অথবা করত না। তিনি বললেন: যদি সে জবরদখলকারী ও সীমালঙ্ঘনকারী এবং এমন ক্ষমতাধর হয় যে তা করতে সক্ষম, আর সাক্ষ্য যদি নির্ভরযোগ্য হয়, তবে তা বাদীর জন্য তার হক বুঝে নেওয়া অনিবার্য করে দেয়। তবে যদি জালেম ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য দিয়ে সঠিক ক্রয় অথবা এমন কোনো বিষয় প্রমাণ করতে পারে যার জন্য সে জুলুম থেকে দায়মুক্ত হতে পারে, অথবা এমন কোনো হকের প্রমাণ নিয়ে আসে যা বিচার্য হবে। তিনি বললেন: যদি সে তার ক্রয়ের সপক্ষে নির্ভরযোগ্য সাক্ষী উপস্থাপন করে, কিন্তু বিক্রেতা দাবি করে যে সেই বিক্রয়টি জালেমের ক্ষমতার প্রভাবে বাধ্য হয়ে হয়েছে যা প্রতিহত করার ক্ষমতা তার ছিল না; তিনি বললেন: যদি প্রমাণিত হয় যে সে জুলুম ও ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, তবে সেই বিক্রয় বাতিল হয়ে যাবে। তিনি বললেন: আর যদি বিক্রেতা দাবি করে যে সে বিক্রি করেছে এবং বাহ্যিকভাবে মূল্য গ্রহণ করেছে, কিন্তু জালেম ব্যক্তি গোপনে চোর পাঠিয়ে তার থেকে তা ছিনিয়ে নিয়েছে, আর যদি সে তা না করত তবে সে তার পক্ষ থেকে অনিষ্টের শিকার হতো। তিনি বললেন: তার এই দাবি কবুল করা হবে না; এবং তাকে মূল্য ফেরত দিতে হবে, তবে জালেমকে কসম খেতে হবে যে সে তা পুনরায় গ্রহণ করেনি এবং হস্তান্তরের পর তা আর ফিরিয়ে নেয়নি। ইবনে রুশদ বলেন: জালেম—যে মানুষের ধন-সম্পদ জবরদখল ও জবরদস্তির জন্য পরিচিত—সে কোনো ব্যক্তির সম্পদ তার সামনে ভোগ-দখলে রাখলে তা দ্বারা সে উপকৃত হবে না, এবং তার সেই দখলের কারণে তার দাবিকৃত বিষয়ের সত্যতা প্রমাণিত হবে না যা সে দাবি করছে...
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٨)
شِرَاء أَو هبة، أَو صَدَقَة يُرِيد، وَإِن طَال ذَلِك فِي يَده أعواماً: أما إِذا أقرّ بِأَصْل الْملك لمدعيه، وَقَامَت لَهُ بَيِّنَة بذلك، فَهُوَ صَحِيح لَا أعلم فِيهِ اخْتِلَافا، لِأَن الْحِيَازَة لَا توجب الْملك؛ وَإِنَّمَا هِيَ دَلِيل عَلَيْهِ بِوَجْه تَصْدِيق غير الْغَاصِب فِيمَا ادَّعَاهُ من تصييره إِلَيْهِ، لِأَن الظَّاهِر أَنه لَا يجوز أَخذ مَال أحد، وَهُوَ حَاضر لَا يَدعِيهِ وَلَا يَطْلُبهُ، إِلَّا وَقد صَار إِلَى الَّذِي بِيَدِهِ، إِذا حازه فِي وَجهه الْعشْرَة الأعوام وَنَحْوهَا {لقَوْل النَّبِي صلى الله عليه وسلم} : من حَاز شَيْئا عشر سِنِين، فَهُوَ لَهُ {مَعْنَاهُ عِنْد أهل الْعلم بِدَعْوَاهُ مَعَ يَمِينه؛ وَأما الْغَاصِب فَلَا دَلِيل لَهُ فِي كَون المَال بِيَدِهِ؛ وَإِن طَالَتْ حيازته لَهُ فِي وَجه صَاحبه لما يعلم من غصبه لأموال النَّاس والقهرة لَهُم عَلَيْهِم. قَالَ: وَأما إِن أثبت الْغَاصِب الشِّرَاء وَدفع الثّمن، فَادّعى البَائِع أَنه أَخذه مِنْهُ فِي السِّرّ، بعد أَن دفع إِلَيْهِ، فَهُوَ مُدع لَا دَلِيل لَهُ على دَعْوَاهُ، فَوَجَبَ أَن يكون القَوْل قَول الْغَاصِب الْمُدعى عَلَيْهِ، كَمَا قَالَ فِي الرِّوَايَة لقَوْله عليه الصلاة والسلام} : الْبَيِّنَة على الْمُدعى، وَالْيَمِين على من أنكر. وَقد روى عَن يحيى بن يحيى أَنه قَالَ: إِذا قَالَ البَائِع إِنَّه أعطَاهُ الثّمن بِالظَّاهِرِ، فَدس عَلَيْهِ من أَخذه مِنْهُ، فَإِنَّهُ ينظر إِلَى المُشْتَرِي؛ فَإِن عرف بالعداء وَالظُّلم والتسلط، فَإِنِّي أرى القَوْل قَول البَائِع، مَعَ يَمِينه لقد دفع المَال إِلَيْهِ قهرة وَغَلَبَة، وَيرد مَاله عَلَيْهِ بِغَيْر أَن يرد إِلَيْهِ الثّمن. وَقَالَهُ ابْن الْقَاسِم. دفع ذَلِك فِي بعض الرِّوَايَات، وَهُوَ إغراق. فَإِذا أقرّ أَنه دفع إِلَيْهِ، ثمَّ أدعى أَنه أَخذه مِنْهُ، وَأما لَو لم يقر أَنه قبض الثّمن؛ وَقَالَ: إِنَّمَا أشهدت لَهُ على نَفسِي بِقَبْضِهِ، تقية وخوفاً مِنْهُ! لَا شبه أَن يصدق فِي ذَلِك مَعَ يَمِينه فِي الْمَعْرُوف بِالْغَصْبِ وَالظُّلم؛ وَإِنَّمَا يكون مَا قَالَ يحيى من تَصْدِيق البَائِع فِيمَا ادَّعَاهُ من أَنه دس إِلَيْهِ فِي السِّرّ من أَخذ الثّمن مِنْهُ، إِذْ أشهد لَهُ أَنه فعل ذَلِك بِغَيْرِهِ. وَنَرْجِع إِلَى مَا كُنَّا بسبيله؛ فَنَقُول: وَمِمَّنْ عرض عَلَيْهِ الْقَضَاء فأباه، الشَّيْخ الصَّالح بَقِي بن مخلد. كَانَت لَهُ خَاصَّة بالأمير الْمُنْذر بن مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن قبل ولَايَته الْملك؛ وَكَانَ قد قدم إِلَيْهِ فِي حَيَاة وَالِده الْبُشْرَى بالخلافة، لرؤيا قصها عَلَيْهِ. فَلَمَّا ولي الْخلَافَة، ضاعف لَهُ الْبر والكرامة والإعظام والتبجلة، وأحضره وأراده لولاية الْقَضَاء. فَأبى عَلَيْهِ. فَذهب إِلَى استكراهه. فَقَالَ الشَّيْخ بَقِي: مَا هَذَا جَزَاء محبتي وانقطاعي وصاغيتي؟
ক্রয়, অথবা হেবা, অথবা সে দান হিসেবে তা উদ্দেশ্য করে, যদিও তা দীর্ঘ বছর যাবত তার হাতে থাকে। তবে যদি সে দাবিদারের জন্য মূল মালিকানার স্বীকৃতি দেয় এবং তার সপক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা সহীহ এবং এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই; কেননা কেবল দখল বা আয়ত্তে থাকলেই মালিকানা সাব্যস্ত হয় না। বরং এটি মালিকানার স্বপক্ষে একটি প্রমাণস্বরূপ, যা জবরদখলকারী ব্যতীত অন্যদের দাবির সত্যতা নিশ্চিত করে যে সম্পত্তিটি তার নিকট হস্তান্তরিত হয়েছে। কারণ দৃশ্যত এটিই প্রতীয়মান হয় যে, কোনো ব্যক্তির সম্পদ অন্য কেউ গ্রহণ করা বৈধ নয় যখন মূল মালিক উপস্থিত থাকে এবং সে বিষয়ে কোনো দাবি বা তা তলব করে না। যদি দশ বছর বা তদ্রূপ সময় তা তার দখলে থাকে, তবে এটি তার কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে বলেই গণ্য হবে। {নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে}: "যে ব্যক্তি কোনো জিনিস দশ বছর যাবত নিজ দখলে রাখে, তবে তা তারই।" {আহলুল ইলম তথা আলেমগণের নিকট এর অর্থ হলো—তার দাবির সাথে শপথ যুক্ত হলে তা কার্যকর হবে।} আর জবরদখলকারীর ক্ষেত্রে মাল তার হাতে থাকাই তার মালিকানার দলিল নয়; যদিও মালিকের সামনেই দীর্ঘ সময় তা তার দখলে থেকে থাকে। কারণ মানুষের সম্পদ আত্মসাৎ এবং তাদের ওপর বলপ্রয়োগের জন্য সে পরিচিত। তিনি বলেন: আর যদি জবরদখলকারী ক্রয় করা এবং মূল্য পরিশোধের বিষয়টি প্রমাণ করে, আর বিক্রেতা দাবি করে যে জবরদখলকারী মূল্য পরিশোধ করার পর গোপনে তা পুনরায় তার কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছে, তবে বিক্রেতা এখানে দাবিদার যার দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। এমতাবস্থায় জবরদখলকারী বিবাদী হিসেবে তার বক্তব্যই শপথসহ গ্রহণযোগ্য হবে। {যেমনটি রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে, কেননা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন}: "প্রমাণ উপস্থাপন করা দাবিদারের দায়িত্ব, আর শপথ করা অস্বীকারকারীর ওপর বর্তায়।" ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: যদি বিক্রেতা বলে যে সে প্রকাশ্যভাবে মূল্য গ্রহণ করেছে কিন্তু ক্রেতা গোপনে লোক পাঠিয়ে তা তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে, তবে ক্রেতার অবস্থার দিকে লক্ষ্য করতে হবে। যদি সে শত্রুতা, জুলুম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য পরিচিত হয়, তবে আমি মনে করি বিক্রেতার কথাই শপথসহ গ্রহণযোগ্য হবে যে তাকে বলপ্রয়োগ ও জোরপূর্বক তা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মূল্য ফেরত না দিয়েই তার সম্পদ তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ইবনুল কাসিমও এটিই বলেছেন। কোনো কোনো রেওয়ায়েতে এর বিরোধিতা করা হয়েছে এবং একে অতিরঞ্জন বলা হয়েছে। অতএব, যদি বিক্রেতা স্বীকার করে যে ক্রেতা তাকে মূল্য পরিশোধ করেছে, অতঃপর দাবি করে যে ক্রেতা তা আবার ছিনিয়ে নিয়েছে [তবে ক্রেতার পরিচিতি বিবেচ্য]। কিন্তু যদি বিক্রেতা মূল্য গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার না করে এবং বলে যে: "আমি কেবল লোকভয়ে ও তার জুলুমের আশঙ্কায় মূল্য গ্রহণের সাক্ষী রেখেছিলাম!" তবে তার এই বক্তব্য শপথের সাথে সত্য বলে গৃহীত হতে কোনো বাধা নেই যদি ক্রেতা জবরদখল ও জুলুমের জন্য পরিচিত হয়। ইয়াহইয়া যে বিক্রেতার দাবির সত্যতা সমর্থন করেছেন—যাতে সে দাবি করেছে যে ক্রেতা গোপনে মূল্য ছিনিয়ে নিয়েছে—তা তখনই হবে যখন বিক্রেতা সাক্ষী রাখবে যে ক্রেতা অন্যদের সাথেও এরূপ আচরণ করেছে। আমরা আমাদের মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসছি। যাদের নিকট বিচারকের পদ পেশ করা হয়েছিল কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন পুণ্যবান শায়খ বাকি ইবনে মাখলাদ। আমীর মুনযির বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পূর্ব থেকেই শায়খের সাথে তার বিশেষ সখ্য ছিল। শায়খ আমীরের পিতার জীবিতকালেই এক স্বপ্নের কারণে তাকে খেলাফতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। অতঃপর যখন তিনি খলিফা হলেন, তখন তিনি শায়খের প্রতি অনুগ্রহ, সম্মান, মর্যাদা ও শ্রদ্ধা বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেন এবং তাকে উপস্থিত করে বিচারকের পদ গ্রহণের অনুরোধ করলেন। কিন্তু শায়খ তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তখন খলিফা তাকে বাধ্য করতে চাইলেন। শায়খ বাকি বললেন: "আমার ভালোবাসা, আপনার প্রতি একাগ্রতা ও আনুগত্যের প্রতিদান কি এটাই?"
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ١٩)
فَقَالَ لَهُ الْمُنْذر: أما إِذْ أبيته، فأشر عَليّ بقاض ترضاه للْمُسلمين {فَأبى عَلَيْهِ؛ فضايقه، وعزم عَلَيْهِ؛ فَقَالَ: لَا بُد أَن تلى أَو تُشِير} فَقَالَ: أُشير عَلَيْك بِرَجُل من آل زِيَاد، يسكن بَريَّة، يعرف بعامر بن مُعَاوِيَة. فَقبل مِنْهُ، وَأرْسل فِي عَامر؛ فولاه. وَمِنْهُم أَبُو غَالب عبد الرؤوف بن الْفرج بن أبي كنَانَة. كَانَ الْأَمِير عبد الله بن مُحَمَّد بِهِ معجباً، وَله مفضلاً؛ وَكَانَ قد اشْتهى رُؤْيَته من غير أَن يستدعيه؛ فتعرض لذَلِك يَوْم الْجُمُعَة من طاق الساباط: فَرَآهُ عِنْد رَوَاحه إِلَى الْمَسْجِد الْجَامِع، وَأَعْجَبهُ سمته، وَأحب اجتذابه إِلَيْهِ، وَقَالَ: لَا بُد أَن أضمه إِلَى الوزارة أَو الْقَضَاء {فذاكر بِشَأْنِهِ الْوَزير ابْن أبي عَبدة، وَكَانَ صديقا لأبي غَالب؛ فَقَالَ: يَنْبَغِي للأمير أَن لَا يهجم على الرجل بالاستدعاء، حَتَّى يعرف مَا عِنْده فِي ذَلِك. فَقَالَ لَهُ: فَكُن أَنْت الَّذِي يتعرف ذَلِك. قَالَ الْكَاتِب الْمَدْعُو بسكن بن إِبْرَاهِيم: فأرسلني الْوَزير إِلَيْهِ؛ فعرضت عَلَيْهِ مُرَاد الْأَمِير؛ فَتلقى ذَلِك مني بالنطق والتضاحك، حَتَّى أطمعني فِي نَفسه؛ وَجعل يَقُول: كَيفَ كَانَ تنبهكم لنا بعد طول الْغَفْلَة؟ وَمَا نرى هَذَا مِنْكُم عَن صِحَة نِيَّة: فانتم أشح بدنياكم من أَن تعطوا مِنْهَا أحدا شَيْئا، وتشركوا فِيهَا صديقا} قَالَ سكن: فَلَمَّا صرت بِهِ إِلَى الْجد، تنمر لي، وَقَالَ آخر قَوْله: بِاللَّه الَّذِي لَا إِلَه إِلَّا هُوَ {لَئِن عاودتني أَو غَيْرك، أَو بلغتني فِيهِ عَن الْأَمِير عَزِيمَة، لأخْرجَن عَن الأندلس} فَلَا أعودن إِلَيْهَا آخر الدَّهْر {فَترك عَن ذَلِك. وَقدم للْقَضَاء بالجزيرة الخضراء وَمَا يرجع إِلَيْهَا، عبد الله بن أَحْمد بن الْحسن الجذامي النباهي، وَذَلِكَ بِإِشَارَة شَيْخه الْأُسْتَاذ أبي الْقَاسِم بن إِبْرَاهِيم بن مُحَمَّد الزُّهْرِيّ الإفليلي، أَيَّام ولَايَته الوزارة للمستكفي بِاللَّه. والمستكفي هُوَ مُحَمَّد بن عبد الرَّحْمَن بن عبيد الله ابْن عبد الرَّحْمَن النَّاصِر من بني أُميَّة. فَأبى من الْقبُول؛ وَقع الْعَزْم عَلَيْهِ فِي الْعَمَل من الْأَمِير، فنفر، وَقصد الْوَزير وخلابه. وَكَانَ من جملَة مقاله لَهُ: سَأَلتك بِاللَّه} أتعلم أَن الْولَايَة لمثلي أولى من الإباية؟ فأقف عِنْد إشارتك؟ أم تعلم أَن الْأَمر بِخِلَاف ذَلِك؟ فَقَالَ لَهُ: يَا ابْن أخي! حَاصِل مَا أرَاهُ أَن الْولَايَة فِي الْوَقْت كَرَامَة وَترك الْعَمَل سَلامَة.
মুনজির তাকে বললেন: "আপনি যখন এটি অস্বীকার করেছেন, তবে আমার কাছে এমন একজন বিচারকের পরামর্শ দিন যাকে আপনি মুসলিমদের জন্য পছন্দ করেন।" {তিনি তার কাছে তা অস্বীকার করলেন; তখন তিনি তাকে চাপ দিলেন এবং তার ওপর দৃঢ় সংকল্প করলেন; অতঃপর বললেন: "আপনাকে অবশ্যই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে অথবা পরামর্শ দিতে হবে।"} তিনি বললেন: "আমি আপনাকে আল-যিয়াদ বংশের একজন ব্যক্তির পরামর্শ দিচ্ছি, যিনি মরুপ্রান্তরে বসবাস করেন এবং আমির বিন মুয়াবিয়া নামে পরিচিত।" তিনি তার পরামর্শ গ্রহণ করলেন এবং আমিরের কাছে লোক পাঠালেন; অতঃপর তাকে নিয়োগ দিলেন। তাদের মধ্যে আবু গালিব আব্দুর রউফ বিন আল-ফারাজ বিন আবি কিনানাও ছিলেন। আমির আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ তার প্রতি মুগ্ধ ছিলেন এবং তাকে অগ্রাধিকার দিতেন; তিনি তাকে না ডেকেই তাকে দেখার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন; তাই তিনি জুমার দিন সাবাত খিলান থেকে সেই সুযোগ খুঁজলেন: তিনি তাকে জামে মসজিদের দিকে যাওয়ার সময় দেখতে পেলেন এবং তার গাম্ভীর্যপূর্ণ অবয়ব তাকে মুগ্ধ করল। তিনি তাকে নিজের সান্নিধ্যে টেনে নিতে চাইলেন এবং বললেন: "অবশ্যই আমি তাকে মন্ত্রণালয় বা বিচার বিভাগে যুক্ত করব।" {অতঃপর তিনি এই বিষয়ে উজির ইবনে আবি আবদাহর সাথে আলোচনা করলেন, যিনি আবু গালিবের বন্ধু ছিলেন; উজির বললেন: "আমিরের উচিত হবে না লোকটিকে হঠাৎ তলব করা, যতক্ষণ না এই বিষয়ে তার মনোভাব জানা যায়।" তিনি তাকে বললেন: "তাহলে আপনিই বিষয়টি অবগত হোন।" সাকান বিন ইব্রাহিম নামক জনৈক লেখক বলেন: অতঃপর উজির আমাকে তার কাছে পাঠালেন; আমি তার সামনে আমিরের অভিপ্রায় পেশ করলাম; তিনি হাসি-ঠাট্টার সাথে আমার কথাগুলো গ্রহণ করলেন, এমনকি আমার মনে তার সম্পর্কে আশার সঞ্চার হলো; এবং তিনি বলতে লাগলেন: "দীর্ঘ উদাসীনতার পর আমাদের কথা আপনাদের কীভাবে মনে পড়ল? আমরা আপনাদের পক্ষ থেকে এটাকে সৎ উদ্দেশ্য বলে মনে করি না: কারণ আপনারা আপনাদের পার্থিব ভোগবিলাসের ব্যাপারে এতটাই কৃপণ যে কাউকে তা থেকে কিছু দিতে চান না এবং তাতে কোনো বন্ধুকেও শরীক করতে চান না।"} সাকান বলেন: যখন আমি বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম, তিনি আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হলেন এবং তার শেষ কথা ছিল: "সেই আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, {যদি আপনি বা অন্য কেউ পুনরায় আমার কাছে আসেন, অথবা আমিরের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো অটল সিদ্ধান্তের খবর আমাকে পৌঁছে দেন, তবে আমি অবশ্যই আন্দালুস ছেড়ে চলে যাব} এবং চিরকালের জন্য আর কখনো এখানে ফিরে আসব না।" {অতঃপর তা বর্জন করা হলো। এরপর আল-জাজিরাতুল খাদরা এবং তার সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহের বিচারক হিসেবে আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান আল-জুযামি আন-নাবাহিকে মনোনীত করা হলো। এটি করা হয়েছিল তার শিক্ষক উস্তাদ আবুল কাসিম বিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-জুহরি আল-ইফলিলির পরামর্শে, যখন তিনি আল-মুসতাকফি বিল্লাহর উজির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আর মুসতাকফি হলেন বনু উমাইয়ার মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আন-নাসির। তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালেন; কিন্তু আমিরের পক্ষ থেকে তার ওপর দায়িত্ব পালনের চূড়ান্ত নির্দেশ এল। তখন তিনি দূরে সরে গেলেন এবং উজিরের কাছে গিয়ে অনুনয় করলেন। তার কাছে তিনি যা বলেছিলেন তার অন্তর্ভুক্ত ছিল: "আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি"} "আমার মতো ব্যক্তির জন্য কি দায়িত্ব গ্রহণ করা প্রত্যাখ্যানের চেয়ে বেশি সমীচীন? যাতে আমি আপনার নির্দেশে অটল থাকি? নাকি আপনি জানেন যে বিষয়টি এর বিপরীত?" তিনি তাকে বললেন: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি যা দেখছি তার সারমর্ম হলো এই যে, বর্তমান সময়ে পদ লাভ করা হলো এক প্রকার সম্মান, আর দায়িত্ব বর্জন করা হলো নিরাপত্তা।"
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٠)
فَقَالَ لَهُ ابْن الْحسن: أبقاك الله {أخْتَار السَّلامَة} وَلَيْسَ يجمل بك أَن تكون نتيجة معرفتي بك تكليفي مَا يصعب عَليّ تحمله {فحاول استبداله بِغَيْرِهِ. وَانْقطع هُوَ للاشتغال بإصلاح حَاله، والاقتصاد على التعيش من مَاله. وَقد ذكره خلف بن عبد الْملك فِي صلته لكتاب القَاضِي أبي الْوَلِيد بن الفرضي؛ فَقَالَ فِيهِ بعد اسْمه: يكنى أَبَا مُحَمَّد؛ أَخذ عَن أبي الْقَاسِم بن الإفليلي كثيرا. وَكَانَ عَالما بالآداب واللغات والإشارات؛ وَله رد على أبي مُحَمَّد بن حزم فِيمَا انتقده على ابْن الإفليلي فِي شَرحه لشعر المتنبي؛ أَخذ عَنهُ أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن سُلَيْمَان شَيخنَا رحمه الله} وَعَن سَحْنُون قَالَ: مَاتَ بعض قُضَاة إفريقية. فَقدم رَسُول الْخَلِيفَة، وَجمع الْعلمَاء، واستشارهم فِي قَاض يوليه، فَقيل لشيخه أبي الْحسن بن زِيَاد: هَذَا رَسُول الْخَلِيفَة، يشتشيرك فِي قاضٍ يوليه. فحول وَجهه إِلَى الْقبْلَة؛ فَقَالَ: وَرب هَذِه الْقبْلَة {مَا أعرف بهَا أحدا يسْتَوْجب الْقَضَاء. قومُوا عني} قَالَ مطرف وَابْن الْمَاجشون وَأصبغ: لَا يستقضي إِلَّا من يوثق بِهِ فِي عفافه، وصلاحه، وفهمه، وَعلمه بِالسنةِ والْآثَار وَوجه الْفِقْه؛ وَلَا يصلح أَن يكون صَاحب حَدِيث لَا فقه لَهُ، أَو فَقِيها لَا حَدِيث عِنْده. وَلَا يُفْتى إِلَّا مَا كَانَ هَذَا وَصفه إِلَّا أَن يخبر بِشَيْء سَمعه؛ وَلَا يَنْبَغِي، وَإِن كَانَ صَالحا عفيفاً. أَن يولي إِلَّا أَن يكون لَهُ علم بِالْقضَاءِ. وَمِمَّنْ عرضت عَلَيْهِ الْولَايَة بمالقة، من أَهلهَا، فَأبى وتمنع مِنْهَا، الْحسن بن مُحَمَّد بن الْحسن الجذامي النباهي. وَاعْتذر بِأُمُور، مِنْهَا كَثْرَة وَلَده، وتعدد ذَوي رَحمَه وَقد ورد: لَا يحكم القَاضِي إِلَّا لمن تجوز لَهُ شَهَادَته من قومه؛ واستثقل مَعَ ذَلِك القهرة لأهل بَلَده بالحكم من قبله؛ وَكَانَ قد جرى لوالده مُحَمَّد بن الْحسن، آخر أَيَّام ولَايَته الْقَضَاء بكورة رية، مَا هُوَ مَعْرُوف عِنْد الْكثير، من إِعْمَال الْحِيلَة فِي غدره، والإقدام على قَتله. فَقبل الْأَمِير عِنْد ذَلِك معاذيره، وَترك سَبيله ثمَّ جدد الْعَزْم عَلَيْهِ فِي الْولَايَة. قَالَ ابْن فريد فِي كِتَابه: فاستقضى بغرناطة؛ وَكَانَ من أهل النباهة وَالْجَلالَة، توفّي سنة 473. وَذكره ابْن بشكوال فِي صلته. وَمن الْفُقَهَاء الْمُتَأَخِّرين، الْمُتَقَدِّمين فِي الْعلم وَالدّين، أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عَيَّاش الْأنْصَارِيّ ثمَّ الخزرجي، أحد أَشْيَاخ بلدنا مالقة، وفريد عصره بهَا عقلا، وفضلاً،
অতঃপর ইবনুল হাসান তাকে বললেন: আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন, {আমি নিরাপত্তা ও প্রশান্তিকেই পছন্দ করি}। আমার প্রতি আপনার জানাশোনার ফলাফল এমন হওয়া সমীচীন নয় যে, আপনি আমাকে এমন কাজের দায়িত্ব দেবেন যা বহন করা আমার জন্য কঠিন। {অতঃপর তিনি তার পরিবর্তে অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করার চেষ্টা করলেন। আর তিনি নিজের অবস্থা সংশোধনে এবং নিজের সম্পদ থেকে জীবনধারণের ব্যাপারে মিতব্যয়ী হতে মনোনিবেশ করলেন। খালাফ বিন আব্দুল মালিক কাযী আবু ওয়ালিদ ইবনুল ফারাদীর কিতাবের পরিশিষ্টে (সিলাহ) তার উল্লেখ করেছেন; সেখানে তিনি তার নামের পর বলেছেন: তার উপনাম আবু মুহাম্মদ; তিনি আবুল কাসেম ইবনুল ইফলীলী থেকে অনেক জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি সাহিত্য, ভাষা এবং ইঙ্গিতশাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন। মুতানাব্বীর কবিতার ব্যাখ্যায় ইবনুল ইফলীলীর সমালোচনা করায় তিনি আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমের একটি প্রতিবাদ লিখেছিলেন। আমাদের শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান (রহিমাহুল্লাহ) তার কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করেছেন।}

সাহনুন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইফরীকিয়ার জনৈক বিচারক মারা গেলেন। এরপর খলিফার দূত আসলেন এবং ওলামাদের একত্রিত করলেন এবং একজন বিচারক নিয়োগের ব্যাপারে তাদের পরামর্শ চাইলেন। তখন তার শায়খ আবুল হাসান বিন যিয়াদকে বলা হলো: ইনি খলিফার দূত, তিনি একজন বিচারক নিয়োগের বিষয়ে আপনার পরামর্শ চাচ্ছেন। তখন তিনি কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: এই কিবলার রবের শপথ, {আমি এমন কাউকেই চিনি না যে বিচারক হওয়ার যোগ্য। আপনারা আমার নিকট থেকে চলে যান।}

মুতাররিফ, ইবনুল মাজিশুন এবং আসবাগ বলেন: কেবল এমন ব্যক্তিকেই বিচারক নিয়োগ করা যাবে যার চারিত্রিক শুভ্রতা, সততা, বোধশক্তি এবং সুন্নাহ, আছার ও ফিকহের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞানের ওপর আস্থা রাখা যায়। এমন হাদিস বিশারদ যার ফিকহী জ্ঞান নেই, অথবা এমন ফকীহ যার হাদিসের জ্ঞান নেই, বিচারক হওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। যার মধ্যে এই গুণাবলি নেই সে যেন ফতোয়া না দেয়, তবে সে যা শুনেছে তা বর্ণনা করতে পারে। এমনকি সে সৎ ও চরিত্রবান হলেও বিচারকার্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে তাকে নিযুক্ত করা উচিত নয়।

মালাকার অধিবাসীদের মধ্যে যাকে বিচারক পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকার করেছিলেন, তিনি হলেন হাসান বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-জুযামী আল-নাবাহী। তিনি বেশ কিছু ওজর পেশ করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল তার সন্তানের আধিক্য এবং অনেক নিকটাত্মীয়ের উপস্থিতি। কেননা বর্ণিত আছে যে: বিচারক তার কওমের মধ্যে কেবল তাদের পক্ষেই বিচার করবেন না যাদের সাক্ষ্য তার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এর পাশাপাশি তিনি নিজের দেশবাসীর ওপর শাসনের বোঝা চাপানোকেও অপছন্দ করতেন। তার পিতা মুহাম্মদ বিন হাসানের সাথে রিয়া অঞ্চলের বিচারক হিসেবে তার শেষ দিনগুলোতে যা ঘটেছিল তা অনেকেরই জানা; অর্থাৎ তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতায় প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া এবং তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন আমির তার ওজর কবুল করলেন এবং তাকে ছেড়ে দিলেন। পরবর্তীতে পুনরায় তাকে পদটি গ্রহণের জন্য জেদ ধরলেন। ইবনে ফারিদ তার কিতাবে বলেন: তাকে গ্রানাডার বিচারক নিযুক্ত করা হয়; তিনি ছিলেন খ্যাতিমান ও মর্যাদাবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, ৪৭৩ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইবনে বাশকুয়াল তার ‘সিলাহ’ গ্রন্থে তার উল্লেখ করেছেন।

পরবর্তী যুগের ফকীহদের মধ্যে যারা ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন, তারা হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আইয়াস আল-আনসারী অতঃপর আল-খাজরাজী; তিনি আমাদের শহর মালাকার অন্যতম শায়খ এবং বুদ্ধি ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে স্বীয় যুগের অনন্য ব্যক্তি ছিলেন।

(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢١)
وورعاً وزهداً؛ استدعاه أَمِير الْمُسلمين أَبُو الْحجَّاج يُوسُف بن إِسْمَاعِيل بن نصر رحمه الله وأرضاه {لحضرته؛ فقلده بهَا قَضَاء الْجَمَاعَة وَالْخطْبَة أَيَّام الْجُمُعَة بِمَسْجِد حمرائها؛ فَخَطب جُمُعَة وَاحِدَة، وَأقَام رسم الْقَضَاء ثَلَاثَة أَيَّام حسبَة، إِذْ كَانَ أَولا قد عزم على تَركه، وَالْخُرُوج عَن عهدته؛ فَلم يقبل كسْوَة، وَلَا أَخذ جراية، وأفصح رَابِع يَوْمه بالاستعفاء عَن خطة الْقَضَاء. وَكَانَ أعلم قُضَاة زَمَانه بِالْأَحْكَامِ، وأحفظهم للمسائل، وأبصرهم بالنوازل؛ لاكنه نَفعه الله بِقَصْدِهِ} هاب أَمر الله، وَأثر مَعَ ذَلِك رَاحَة بدنه، وخلاص نَفسه من تبعاته. وَعلم الْأَمِير صدق مقَالَته، وَصِحَّة عزيمته؛ فأعفاه. وارتحل عِنْد ذَلِك بَقِيَّة يَوْمه إِلَى بَلَده، وَتقدم للخطبة وَالصَّلَاة بالجامع مِنْهُ. وَتَوَلَّى ذَلِك إِلَى وَفَاته، وَلم يَأْخُذ عَلَيْهِ مُرَتبا. مُدَّة حَيَاته. فَكَانَ فِي انقباضه عَن الْولَايَة أشبه النَّاس بمُوسَى بن مُحَمَّد ابْن زِيَاد، إِذْ ولاه الْأَمِير عبد الله من بني أُميَّة الْقَضَاء بقرطبة، وَالصَّلَاة مَعًا بِأَهْلِهَا؛ فصلى بِالنَّاسِ جُمُعَة وَاحِدَة، واستعفى فِي الثَّانِيَة، وَالْتزم الْقعُود بداره والتقوت من فائد عقاره. وَإِضَافَة لفظ الْقَضَاء إِلَى الْجَمَاعَة، جرى الْتِزَامه بالأندلس مُنْذُ سِنِين إِلَى هَذَا الْعَهْد. وَالظَّاهِر أَن المُرَاد بِالْجَمَاعَة جمَاعَة الْقُضَاة، إِذْ كَانَت ولايتهم قبل الْيَوْم غَالِبا من قبل القَاضِي بالحضرة السُّلْطَانِيَّة، كَائِنا من كَانَ؛ فَبَقيَ الرَّسْم كَذَلِك. وَأما قَاضِي الْخلَافَة، بالبلاد المشرقية، فيدعى بقاضي الْقُضَاة. وَمِمَّنْ دعى بِهَذَا اللقب بالأندلس من قُضَاة قرطبة، وَكتب لَهُ بذلك عِنْد اسْمه فِي السجلات المنعقدة عَلَيْهِ والمخاطبات الموجهة إِلَيْهِ، أَبُو الْعَبَّاس أَحْمد بن عبد الله بن ذكْوَان الْأمَوِي، وَأَبُو بكر يحيى بن عبد الرَّحْمَن بن وَافد اللَّخْمِيّ؛ وَلم يكن الْأَمر بحدثان ذَلِك كَذَلِك. قَالَ الْحسن بن مُحَمَّد، وَقد ذكر فِي كِتَابه يحيى بن يزِيد اللَّخْمِيّ: لما دخل عبد الرَّحْمَن بن مُعَاوِيَة قرطبة، وَقَامَ بِالْإِمَامَةِ، ألفى فِيهَا يحيى بن يزِيد قَاضِيا؛ فأثبته على الْقَضَاء، وَلم يعزله إِلَى أَن مَاتَ. قَالَ: وَكَانَ يُقَال لَهُ وللقضاة قبله بقرطبة، قَاضِي الْجند. قَالَ مُحَمَّد بن حَارِث: وَقد رَأَيْت سجلاً عقده سعيد بن مُحَمَّد ابْن بشير بقرطبة، يَقُول فِيهِ: حكم مُحَمَّد بن بشير قَاضِي الْجند بقرطبة. قَالَ: وَإِن تَسْمِيَة القَاضِي الْيَوْم بقاضي الْجَمَاعَة اسْم مُحدث، لم يكن فِي الْقَدِيم. هَذَا مَا ظهر لي رسمه صدر هَذَا الْكتاب، من الْكَلَام. وَفِيه، بِحَسب الْغَرَض الْمَقْصُود من الِاخْتِصَار، غنية كَافِيَة لمتأمله بِعَين الْإِنْصَاف. وَالله الْمُوفق للصَّوَاب!

এবং পরহেজগারী ও দুনিয়াবিমুখতার কারণে; মুসলিমদের আমীর আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে ইসমাইল ইবনে নাসর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁকে তাঁর দরবারে ডেকে পাঠালেন; সেখানে তিনি তাঁকে প্রধান বিচারকের পদ (কাজা আল-জামাআহ) এবং আলহামরা মসজিদে জুমার খুতবা প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করলেন; অতঃপর তিনি একটি জুমায় খুতবা দিলেন এবং বিচারকার্যের দায়িত্ব তিন দিন পালন করলেন কেবল সওয়াবের আশায়, যেহেতু প্রথম থেকেই তিনি এটি ত্যাগ করার এবং এই দায়িত্বের দায়বদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসার সংকল্প করেছিলেন; ফলে তিনি কোনো রাজকীয় পোশাক গ্রহণ করেননি এবং কোনো বেতন-ভাতাও গ্রহণ করেননি। চতুর্থ দিনে তিনি স্পষ্টভাবে বিচারকের পদ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেন। তিনি তাঁর সময়ের বিচারকদের মধ্যে আহকাম বা আইনি বিধান সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন, মাসআলা বা ধর্মীয় বিষয়াদিতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী ছিলেন এবং উদ্ভূত সমসাময়িক জটিল সমস্যার সমাধানে সবচেয়ে বেশি দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ছিলেন; কিন্তু আল্লাহ তাঁর নেক নিয়তের কারণে তাঁকে উপকৃত করুন তিনি আল্লাহর পাকড়াওকে ভয় পেতেন এবং এর পাশাপাশি শারীরিক প্রশান্তি ও এর দায়বদ্ধতা থেকে নিজের আত্মার মুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। আমীর তাঁর কথার সত্যতা এবং সংকল্পের দৃঢ়তা উপলব্ধি করলেন; ফলে তাঁকে অব্যাহতি দিলেন। সেই দিনের অবশিষ্ট অংশেই তিনি নিজ শহরের দিকে যাত্রা করলেন এবং সেখানকার জামে মসজিদে খুতবা ও ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন এবং সারাজীবনে এর জন্য কোনো নির্ধারিত বেতন নেননি। ক্ষমতা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন মুসা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জিয়াদের সবচেয়ে সদৃশ; যখন বনু উমাইয়ার আমীর আবদুল্লাহ তাকে কর্ডোভার বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব এবং একই সাথে জনসাধারণের সালাত পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন; তখন তিনি মানুষের সাথে এক জুমা সালাত আদায় করলেন এবং দ্বিতীয় জুমায় পদত্যাগ করলেন। এরপর তিনি নিজ ঘরে অবস্থান করা এবং নিজের ভূসম্পত্তি থেকে অর্জিত আয়ের মাধ্যমে জীবনধারণ করাকে বেছে নিয়েছিলেন। আর বিচার ব্যবস্থার সাথে ‘জামাআহ’ শব্দ যুক্ত করার বিষয়টি আন্দালুসে বহু বছর ধরে এই যুগ পর্যন্ত প্রচলিত রয়েছে। বাহ্যত ‘জামাআহ’ বলতে বিচারকদের সমষ্টিকে বোঝানো হয়েছে; যেহেতু ইতিপূর্বে তাদের নিয়োগ সাধারণত সুলতানের দরবারে নিয়োজিত প্রধান বিচারকের পক্ষ থেকেই হতো, তিনি যেই হোন না কেন; ফলে প্রথাটি সেভাবেই রয়ে গেছে। আর প্রাচ্যের দেশগুলোতে খিলাফতের প্রধান বিচারককে ‘কাজি আল-কুজ্জাত’ বলা হতো। আন্দালুসে কর্ডোভার বিচারকদের মধ্যে যাদেরকে এই উপাধিতে ডাকা হতো এবং যাদের দাপ্তরিক নথিপত্র ও পত্রালাপে এই উপাধি লেখা হতো, তারা হলেন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জাকওয়ান আল-উমাবি এবং আবু বকর ইয়াহইয়া ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ওয়াফিদ আল-লাখমি; তবে শুরুর দিকে বিষয়টি এমন ছিল না। হাসান ইবনে মুহাম্মদ তাঁর গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াজিদ আল-লাখমির উল্লেখ করে বলেন: যখন আবদুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া কর্ডোভায় প্রবেশ করেন এবং শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি সেখানে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াজিদকে বিচারক হিসেবে পান; তিনি তাকে বিচারকের পদে বহাল রাখেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাকে অপসারণ করেননি। তিনি বলেন: তাঁকে এবং তাঁর পূর্ববর্তী কর্ডোভার বিচারকদের ‘কাজি আল-জুন্দ’ বলা হতো। মুহাম্মদ ইবনে হারিস বলেন: আমি কর্ডোভায় সাঈদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বশিরের করা একটি দাপ্তরিক নথি দেখেছি, যেখানে তিনি বলছেন: ‘কর্ডোভার কাজি আল-জুন্দ মুহাম্মদ ইবনে বশির এই রায় প্রদান করেছেন’। তিনি বলেন: বর্তমান কালে বিচারককে ‘কাজি আল-জামাআহ’ নামকরণ করা একটি নতুন পরিভাষা, যা প্রাচীনকালে ছিল না। এই গ্রন্থের শুরুতে এই আলোচনাটুকুই আমার কাছে সংগত মনে হয়েছে। আর সংক্ষিপ্তকরণের যে উদ্দেশ্য, সেই অনুযায়ী ন্যায়নিষ্ঠার সাথে পাঠকারীর জন্য এতেই যথেষ্ট তথ্য রয়েছে। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিক দানকারী!

(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٢)
‌‌الْبَاب الثَّانِي فِي سير بعض الْقُضَاة الماضين وفقر من أنباء الْأَئِمَّة الْمُتَقَدِّمين

مِنْهَا، قَالَ حميد الطَّوِيل: لما ولي إِيَاس بن مُعَاوِيَة الْقَضَاء، دخل عَلَيْهِ الْحسن، وَإيَاس يبكي؛ فَقَالَ لَهُ: مَا يبكيك؟ فَذكر إِيَاس الحَدِيث: الْقُضَاة ثَلَاثَة، إثنان فِي النَّار، وَوَاحِد فِي الْجنَّة {فَقَالَ الْحسن: إِن مِمَّا نَص الله عَلَيْهِ من نبإ سُلَيْمَان وداوود مَا يرد قَول هَؤُلَاءِ النَّاس. ثمَّ قَرَأَ: " وَدَاوُد وَسليمَان إِذْ يحكمان فِي الْحَرْث إِذْ نفشت فِيهِ غنم الْقَوْم وَكُنَّا لحكمهم شَاهِدين؛ ففهمناها سُلَيْمَان وكلا آتَيْنَا حكما وعلماً " وَلم يذم دَاوُود. ويروى عَن الْحسن أَيْضا أَنه قَالَ: لَوْلَا مَا ذكر الله تَعَالَى من أَمر هذَيْن الرجلَيْن، لرأيت أَن الْقُضَاة قد هَلَكُوا؛ فَإِنَّهُ أثنى على هَذَا بِعِلْمِهِ وَعذر هَذَا بِاجْتِهَادِهِ. وَأول من قدم قَاضِيا فِي الْإِسْلَام؛ على مَا حَكَاهُ ابْن عبد الْبر، عمر بن الْخطاب: ولاه أَبُو بكر الصّديق وَقَالَ لَهُ: اقْضِ بَين النَّاس؛ فَإِنِّي فِي شغل. وَقد تقدم قَول عُثْمَان ابْن عَفَّان لعبد الله بن عمر: اقْضِ بَين النَّاس: فَإِن أَبَاك كَانَ قَاضِيا. وَنقل عَن مَالك أَن مُعَاوِيَة كَانَ أول من استقضى فِي الْإِسْلَام. وَلما جَاءَت خلَافَة عمر بن الْخطاب، وَفتحت الْبِلَاد، قدم بهَا جملَة من الأكابر؛ فاستقضى شريحاً على الْكُوفَة، وَوجه عبَادَة بن الصَّامِت، وَهُوَ أحد النُّقَبَاء الإثنى عشر، إِلَى الشأم قَاضِيا ومعلماً. وَقدم على قَضَاء الْبَصْرَة كَعْب بن سور بِخَبَر عَجِيب؛ وَذَلِكَ أَن كَعْبًا كَانَ جَالِسا عِنْد عمر، فَجَاءَت امْرَأَة فَقَالَت: مَا رَأَيْت رجلا قطّ أفضل من زَوجي} إِنَّه يبيت ليله قَائِما، ويظل نَهَاره صَائِما {فَاسْتَغْفر لَهَا عمر وَقَالَ: مثلك اثنى بِالْخَيرِ} فاستحيت الْمَرْأَة وَقَامَت رَاجِعَة. فَقَالَ كَعْب: يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ {هلا أُعِيدَت الْمَرْأَة على زَوجهَا؟ فَقَالَ: أذاك أَرَادَت؟ قَالَ: نعم قَالَ: ردوا على الْمَرْأَة} فَردَّتْ. فَقَالَ: لَا بَأْس بِالْحَقِّ تقولينه {إِن هَذَا يزْعم أَنَّك جِئْت تشتكين} قَالَت: أجل إِنِّي
দ্বিতীয় অধ্যায়: অতীতকালের কিছু বিচারকের জীবনী এবং পূর্ববর্তী ইমামগণের সংবাদের সারাংশ সম্পর্কে

এর মধ্য হতে হুমাইদ আত-তবিল বর্ণনা করেছেন: যখন ইয়াস বিন মুয়াবিয়া বিচারকের দায়িত্ব লাভ করলেন, হাসান (আল-বাসরি) তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন; এমতাবস্থায় ইয়াস কাঁদছিলেন। হাসান তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কেন কাঁদছেন?" তখন ইয়াস সেই হাদীসটি উল্লেখ করলেন: "বিচারকগণ তিন প্রকার; দুই প্রকার জাহান্নামী এবং এক প্রকার জান্নাতী।" হাসান বললেন: "আল্লাহ তাআলা সুলায়মান ও দাউদ (আলাইহিমাস সালাম) এর সংবাদ থেকে যা অবতীর্ণ করেছেন, তা এই লোকদের বক্তব্যকে নাকচ করে দেয়।" এরপর তিনি পাঠ করলেন: "এবং দাউদ ও সুলায়মান, যখন তাঁরা শস্যক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিলেন, যাতে রাতের বেলা কোনো সম্প্রদায়ের মেষ ঢুকে পড়েছিল; আর আমি তাঁদের বিচার প্রত্যক্ষ করছিলাম। আমি সুলায়মানকে সেই বিচারের বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং আমি তাঁদের উভয়কেই প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম।" আর তিনি দাউদের নিন্দা করেননি। হাসান থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা যদি এই দুই ব্যক্তির বিষয়টি উল্লেখ না করতেন, তবে আমি দেখতাম যে সকল বিচারকই ধ্বংস হয়ে গেছে; কেননা তিনি সুলায়মানের প্রশংসা করেছেন তাঁর জ্ঞানের জন্য এবং দাউদকে ক্ষমা করেছেন তাঁর ইজতিহাদের (গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের) কারণে।" ইসলামে প্রথম কাকে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল; ইবন আব্দুল বার যা বর্ণনা করেছেন সে অনুযায়ী তিনি হলেন উমর ইবনুল খাত্তাব: আবু বকর সিদ্দিক তাঁকে নিযুক্ত করেছিলেন এবং তাঁকে বলেছিলেন: "মানুষের মাঝে বিচার করুন; কেননা আমি কার্যব্যস্ত আছি।" উসমান ইবনে আফফানের আব্দুল্লাহ ইবনে উমরকে বলা সেই উক্তিটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে: "মানুষের মাঝে বিচার করুন; কারণ আপনার পিতা বিচারক ছিলেন।" মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মুয়াবিয়া প্রথম ব্যক্তি যিনি ইসলামে বিচারক নিয়োগ করেন। যখন উমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতকাল এল এবং বিভিন্ন দেশ বিজিত হলো, তিনি সেখানে মহান ব্যক্তিদের একটি দলকে প্রেরণ করলেন; তিনি শুরাইহকে কুফার বিচারক নিযুক্ত করলেন এবং বারোজন নেতার অন্যতম উবাদাহ ইবনে সামিতকে বিচারক ও শিক্ষক হিসেবে সিরিয়ার (শাম) দিকে পাঠালেন। আর বসরার বিচারকার্যে কা’ব বিন সুরকে এক চমৎকার সংবাদের ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছিল; আর তা হলো, কা’ব উমরের নিকট বসা ছিলেন, এমন সময় এক নারী এসে বললেন: "আমি আমার স্বামীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো পুরুষ দেখিনি; তিনি সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজে কাটান এবং সারা দিন রোজা রাখেন।" তখন উমর তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং বললেন: "তোমার মতো নারী এমনই প্রশংসা করে থাকে।" তখন নারীটি লজ্জা পেয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন। কা’ব বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! কেন নারীটিকে তাঁর স্বামীর ব্যাপারে প্রতিকার দেওয়া হলো না?" তিনি বললেন: "সে কি এটাই চেয়েছিল?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "নারীটিকে ফিরিয়ে আনো।" তাঁকে ফিরিয়ে আনা হলো। তিনি বললেন: "তুমি সত্য বলতে কোনো সংকোচ করো না; এই ব্যক্তি ধারণা করছে যে তুমি অভিযোগ নিয়ে এসেছ।" তিনি বললেন: "জি হ্যাঁ, আমি..."
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٣)
امْرَأَة شَابة، وَإِنِّي أَبْتَغِي مَا يَبْتَغِي النِّسَاء {فَأرْسل إِلَى زَوجهَا وَقَالَ لكعب: اقْضِ بَينهمَا. قَالَ: فَإِنِّي أرى لَهَا يَوْمًا من أَرْبَعَة أَيَّام وَكَانَ زَوجهَا لَهُ أَرْبَعَة نسْوَة فَإِذا لم يكن لَهُ غَيرهَا، فَإِنِّي أَقْْضِي لَهُ بِثَلَاثَة أَيَّام ولياليها يتعبد فِيهَا، وَلها يَوْم وَلَيْلَة. قَالَ عمر: وَالله} مَا رَأْيك الأول بِأَعْجَب إِلَيّ من الآخر {اذْهَبْ} فَأَنت قاضٍ على الْبَصْرَة {وَهَذَا من حُقُوق الزَّوْجَة، إِذا فرط فِيهِ الرجل، ودعت إِلَيْهِ الْمَرْأَة، فَحكم بِهِ عَلَيْهِ وَتطلق من أَجله على زَوجهَا إِذْ امْتنع عَنهُ بِغَيْر عذر، حَسْبَمَا تضمنته مسَائِل هَذَا الْبَاب، فِي مَوْضِعه من كتب الْفِقْه. وعَلى قَول الزُّهْرِيّ: أول قاضٍ فِي الْإِسْلَام ابْن يزِيد بن سعيد. وَقيل: بل، أول قاضٍ كَانَ زيد بن ثَابت. وَقيل أَيْضا مثل ذَلِك عَن أبي الدَّرْدَاء. وَأما أرسخ الصَّحَابَة فِي الْعلم بِالْقضَاءِ رضوَان الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ} فَهُوَ عَليّ بن أبي طَالب من غير خلاف. قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {: وأقضاهم عَليّ وَكَانَ عمر بن الْخطاب يتعود من معضلة لَيْسَ فِيهَا أَبُو حسن. وَقَالَ فِي الْمَجْنُونَة الَّتِي أَمر برجمها، وَفِي الَّتِي وضعت لسِتَّة أشهر: فَأَرَادَ عمر إِقَامَة الْحَد عَلَيْهَا؛ فَقَالَ لَهُ عَليّ: إِن الله تَعَالَى يَقُول: وَحمله وفصاله ثَلَاثُونَ شهرا. وَقَالَ لَهُ: إِن الله رَجَعَ الْقَلَم من الْمَجْنُون الحَدِيث. فَكَانَ عمر يَقُول: لَوْلَا عَليّ، هلك عمر} وَقيل لعطاء. أَكَانَ من أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم {أحد أعلم من عَليّ؟ قَالَ: وَالله أعلمهُ} وَكَانَ مُعَاوِيَة يكْتب فِيمَا ينزل بِهِ ليسأل لَهُ عَليّ بن أبي طَالب عَنهُ؛ فَلَمَّا بلغه قَتله، قَالَ: ذهب الْعلم بِمَوْت عَليّ {وَمن كَلَام ضرار فِيهِ، وَقد طلب مِنْهُ مُعَاوِيَة وَصفه بعد وَفَاته؛ فَقَالَ: كَانَ وَالله} بعيد المدى، شَدِيد القوى، يَقُول فصلا، وَيحكم عدلا، يتفجر الْعلم من جوانبه، وتنطق الْحِكْمَة من نواحيه، إِلَى غير ذَلِك من صِفَاته. وَفِي مُصَنف أبي دَاوُود عَن عَليّ رضي الله عنه {قَالَ: بَعَثَنِي النَّبِي صلى الله عليه وسلم} إِلَى الْيمن قَاضِيا؛ فَقَالَ: إِن الله عز وجل سيهدي قَلْبك، وَيثبت لسَانك؛ فَإِذا جلس بَين يَديك الخصمان، فَلَا تقضى حَتَّى تسمع من الآخر، كَمَا سَمِعت من الأول! فَإِنَّهُ أَحْرَى
একজন যুবতী নারী, এবং আমি তাই কামনা করি যা মহিলারা কামনা করে। {অতঃপর তিনি তার স্বামীর কাছে লোক পাঠালেন এবং কাবকে বললেন: তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দাও। তিনি বললেন: আমি মনে করি তার জন্য প্রতি চার দিনের মধ্যে একদিন পাওনা রয়েছে। কারণ তার স্বামীর চারজন স্ত্রী ছিল। তবে যদি তার অন্য কোনো স্ত্রী না থাকত, তবে আমি স্বামীর জন্য তিন দিন ও তিন রাত নির্ধারণ করতাম যাতে তিনি ইবাদত করবেন, আর স্ত্রীর জন্য একদিন ও এক রাত বরাদ্দ করতাম। উমর (রা.) বললেন: আল্লাহর শপথ,} তোমার প্রথম অভিমতটি আমার কাছে দ্বিতীয়টির চেয়ে কম বিস্ময়কর মনে হয়নি। {যাও,} তুমি বসরার বিচারক নিযুক্ত হলে। {এটি স্ত্রীর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। যখন পুরুষ এতে অবহেলা করে এবং স্ত্রী তা দাবি করে, তখন পুরুষের বিরুদ্ধে ফয়সালা দেওয়া হবে। আর যদি স্বামী কোনো ওজর ছাড়াই তা করতে অস্বীকার করে, তবে ফিকহশাস্ত্রের কিতাবসমূহে এই অধ্যায়ের মাসআলাগুলোর বর্ণনা অনুযায়ী স্ত্রীর জন্য তালাক কার্যকর হবে। যুহরীর মতে: ইসলামের প্রথম বিচারক ছিলেন ইবনে ইয়াজিদ বিন সাঈদ। কারো কারো মতে: বরং প্রথম বিচারক ছিলেন জায়েদ বিন সাবিত (রা.)। আবু দারদা (রা.) সম্পর্কেও একই কথা বলা হয়েছে। আর বিচারিক জ্ঞানে সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মধ্যে সবচেয়ে পারদর্শী ও সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), এতে কোনো দ্বিমত নেই। রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: {তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক হলেন আলী। উমর বিন খাত্তাব (রা.) এমন কঠিন সমস্যা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতেন যেখানে আবুল হাসান (আলী) উপস্থিত থাকতেন না। তিনি (আলী) সেই পাগল মহিলার বিষয়ে কথা বলেছিলেন যাকে পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড (রজম) দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, এবং সেই মহিলার বিষয়েও যিনি ছয় মাসেই সন্তান প্রসব করেছিলেন। উমর (রা.) তার ওপর হদ বা দণ্ড কার্যকর করতে চেয়েছিলেন; তখন আলী (রা.) তাকে বললেন: মহান আল্লাহ বলেন, "তার গর্ভধারণ ও স্তন্যদান ত্যাগের সময়কাল হলো ত্রিশ মাস।" তিনি তাঁকে আরও বললেন: আল্লাহ পাগল ব্যক্তির ওপর থেকে কলম তুলে নিয়েছেন (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)। তখন উমর (রা.) বলতেন: আলী না থাকলে উমর ধ্বংস হয়ে যেত।} আতা-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: মুহাম্মাদ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীদের মধ্যে {আলীর চেয়ে বেশি জ্ঞানী কেউ কি ছিলেন? তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি তেমন কাউকে জানি না।} মুয়াবিয়া (রা.) তাঁর কোনো সমস্যা দেখা দিলে আলী বিন আবি তালিব (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করার জন্য চিঠি লিখতেন। যখন আলীর শাহাদাতের সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছল, তখন তিনি বললেন: আলীর মৃত্যুর সাথে সাথে জ্ঞান বিদায় নিল। {তাঁর সম্পর্কে দিরারের বক্তব্য রয়েছে, যখন মুয়াবিয়া তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করতে অনুরোধ করেছিলেন; তখন তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, তিনি ছিলেন} সুদূরপ্রসারী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও প্রবল শক্তির অধিকারী, তিনি চূড়ান্ত ফয়সালা দিতেন এবং ন্যায়বিচার করতেন। তাঁর চারপাশ থেকে জ্ঞান উৎসারিত হতো এবং তাঁর প্রতিটি কথা থেকে প্রজ্ঞা ফুটে উঠত। এ ছাড়াও তাঁর আরও অনেক গুণাবলি ছিল। আবু দাউদের 'মুসান্নাফ'-এ আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, {তিনি বলেন: নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক) আমাকে} বিচারক হিসেবে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন; তখন তিনি বলেছিলেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ অবশ্যই তোমার অন্তরকে সঠিক পথ দেখাবেন এবং তোমার জিহ্বাকে অটল রাখবেন। সুতরাং যখন তোমার সামনে বিবাদী দুই পক্ষ বসবে, তখন দ্বিতীয় পক্ষের বক্তব্য না শোনা পর্যন্ত ফয়সালা দেবে না, যেমনটি প্রথম পক্ষের ক্ষেত্রে শুনেছ। কারণ এটিই অধিকতর সঠিক...
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٤)
أَن يتَبَيَّن لَك الْقَضَاء. قَالَ: فَمَا زلت قَاضِيا، وَمَا شَككت فِي قَضَاء بعد. وَلما أفْضى الْأَمر إِلَى مُعَاوِيَة بن صَخْر جرى بِجهْدِهِ على سنَن من تقدمه من مُلَاحظَة الْقُضَاة؛ وَبَقِي الرَّسْم على حَذْو ترتبه زَمَانا. ثمَّ فتر أَيَّام يزِيد بن عبد الْملك وَابْنه الْوَلِيد إِلَى أَن ظهر بَنو الْعَبَّاس؛ فظفروا بِالْملكِ، فاشتدوا فِي شَأْن الْقَضَاء، وتخيروا للأعمال الشَّرْعِيَّة صُدُور الْعلمَاء. فدعوا مَالك بن أنس، وَابْن أبي ذِئْب، وَأَبا حنيفَة للْقَضَاء: فَأَما مَالك، فاحتج بِأَن قَالَ: إِنِّي رجل مَحْدُود، وَلَا يصلح أَن يَلِي الْقَضَاء مَحْدُود. وَاحْتج ابْن أبي ذِئْب بِأَن قَالَ: إِنِّي قرشي؛ وَمن يُشْرك فِي النّسَب، لَا يَنْبَغِي أَن يُشْرك فِي الحكم {وَقَالَ أَبُو حنيفَة: إِنِّي لمولي؛ وَلَا يصلح أَن يَلِي الْقَضَاء مولى. فاحتج كل وَاحِد مِنْهُم بِمَا علم الله صدق نِيَّته فِيهِ؛ فعاناهم من محنة الْقَضَاء. وَفِي طَبَقَات قُضَاة مصر لأبي عمر الْكِنْدِيّ: ولي الْحَارِث بن مِسْكين الْقَضَاء من قبل أبي الْفضل جَعْفَر الْمَدْعُو بالمتوكل بن المعتصم. وَأَتَاهُ كِتَابه، وَهُوَ بالإسكندرية فَلَمَّا قَرَأَهُ، امْتنع من الْولَايَة؛ فأجبره أَصْحَابه على ذَلِك، وشرطوا عونهم لَهُ. قَالَ بَعضهم: رأى أحد أَشْيَاخ بِمصْر كَأَن ابْن أكتم ذبح الْحَارِث. فَلم يكن حَتَّى جَاءَهُ قَضَاء مصر، وَكَانَ على يَد ابْن أكتم قَاضِي الْقُضَاة حِينَئِذٍ. وَفِي تغريب المسالك.: حكى القَاضِي يُونُس قَالَ: ولي جَعْفَر المتَوَكل الْحَارِث قَضَاء مصر، بعد أَن سجنه على إباية ذَلِك زَمَانا. قَالَ مُحَمَّد بن عبد الْوَارِث: كُنَّا عِنْد الْحَارِث؛ فَأَتَاهُ عَليّ بن الْقَاسِم الْكُوفِي؛ فَقَالَ لَهُ: رَأَيْت فِي النّوم النَّاس مُجْتَمعين فِي الْمَسْجِد الْحَرَام؛ فَقلت: مَا اجتماعكم؟ فَقَالُوا: عمر بن الْخطاب جَاءَ ليقعد الْحَارِث بن مِسْكين للْقَضَاء} فرأيته أَخذه، وَسمر مَقْعَده فِي الْحَائِط، وَانْصَرف؛ فتبعته، فَلَمَّا أحس بِي، قَالَ: مَا تُرِيدُ؟ قلت: أنظر إِلَيْك. قَالَ: اذْهَبْ إِلَى الْحَارِث، واقرأه مني السَّلَام، وَقل لَهُ يقْضِي بَين النَّاس بإمارة أَنَّك كنت بالعراق؛ فَقُمْت من اللَّيْل، فَعَثَرَتْ، فنكثت إصبعك، ودعوت بذلك الدُّعَاء، فَجئْت من الْغَد. فَقَالَ الْحَارِث: صدقت وَهَذَا شَيْء مَا اطلع عَلَيْهِ أحد إِلَّا الله. فَسَأَلته عَن الدُّعَاء؛ فَقَالَ: يَا صَاحِبي عِنْد كل شدَّة {وَيَا غياثي عِنْد كل كربَة} وَيَا مؤنسي فِي كل وَحْشَة {صل على مُحَمَّد، وعَلى آل مُحَمَّد، وَاجعَل لي من أَمْرِي فرجا ومخرجاً} وَمن الْقُضَاة بِمصْر عِيسَى بن الْمُنْكَدر بن مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر، أَيَّام ابْن طَاهِر. أَشَارَ بِهِ

যাতে আপনার নিকট বিচারকার্য সুস্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন: এর পর থেকে আমি সর্বদা বিচারক হিসেবে নিয়োজিত ছিলাম এবং পরবর্তীতে কোনো বিচারের বিষয়ে আমি কখনও সন্দেহে পতিত হইনি। যখন শাসনভার মুআবিয়া ইবনে সাখর-এর নিকট হস্তান্তরিত হলো, তখন তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের অনুসৃত বিচারকদের পর্যবেক্ষণের রীতি পূর্ণ প্রচেষ্টার সাথে অব্যাহত রাখলেন; এবং দীর্ঘকাল যাবত এই নিয়মটি তার পূর্বনির্ধারিত ধারা অনুযায়ীই বলবৎ ছিল। অতঃপর ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিক এবং তাঁর পুত্র ওয়ালিদের যুগে এই ধারায় কিছুটা শিথিলতা আসে, যে পর্যন্ত না আব্বাসীয়দের উত্থান ঘটে। তারা রাজক্ষমতা লাভ করে বিচারব্যবস্থার বিষয়ে কঠোর মনোনিবেশ করেন এবং শরয়ি দায়িত্ব পালনের জন্য শীর্ষস্থানীয় আলেমদের নির্বাচন করেন। তারা মালিক ইবনে আনাস, ইবনে আবি জিব এবং আবু হানিফাকে বিচারকের পদের জন্য আহ্বান করেন। ইমাম মালিক এই বলে ওজর পেশ করেন যে: নিশ্চয়ই আমি একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি, আর কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য বিচারকের দায়িত্বভার গ্রহণ করা সমীচীন নয়। ইবনে আবি জিব এই বলে ওজর পেশ করেন যে: নিশ্চয়ই আমি কুরাইশী; আর যার বংশীয় অংশীদারিত্ব রয়েছে, শাসনকার্যে তার অংশীদার হওয়া সংগত নয়। আর আবু হানিফা বলেন: নিশ্চয়ই আমি একজন আজাদকৃত দাস; আর কোনো আজাদকৃত দাসের জন্য বিচারকের দায়িত্ব পালন করা উপযুক্ত নয়। তাদের প্রত্যেকেই এমন সব কারণ দর্শালেন যেগুলোর বিষয়ে তাদের নিয়তের সততা সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত ছিলেন; ফলে আল্লাহ তাদেরকে বিচারকার্যের কঠিন পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দিলেন। আবু উমর আল-কিন্দি রচিত ‘তাবাকাতু কুদাতু মিসর’ (মিশরের বিচারকদের জীবনী) গ্রন্থে বর্ণিত আছে: মুতাসিম-পুত্র আবুল ফজল জাফর, যিনি আল-মুতাওয়াক্কিল নামে পরিচিত, তাঁর পক্ষ থেকে হারিস ইবনে মিসকিনকে বিচারক নিয়োগ করা হয়। তিনি যখন আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর নিকট নিয়োগপত্রটি আসে। তিনি সেটি পাঠ করে দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান; কিন্তু তাঁর সাথীরা তাঁকে বাধ্য করেন এবং তাঁকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করেন: মিশরের জনৈক প্রবীণ ব্যক্তি স্বপ্নে দেখলেন যেন ইবনে আকসাম হারিসকে জবাই করছেন। এর কিছুকাল পরেই হারিসের নিকট মিশরের বিচারকের দায়িত্ব অর্পিত হয় এবং তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ইবনে আকসামের মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হয়েছিল। ‘তাগরিবুল মাসালিক’ গ্রন্থে বর্ণিত আছে: কাজী ইউনুস বর্ণনা করেন যে, জাফর আল-মুতাওয়াক্কিল হারিসকে মিশরের বিচারক নিয়োগ করেছিলেন, তবে তাঁর আগে তিনি দায়িত্ব গ্রহণে অসম্মতি জানানোয় তাঁকে দীর্ঘকাল কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়ারিস বলেন: আমরা হারিসের নিকট উপস্থিত ছিলাম; এমন সময় আলী ইবনে কাসিম আল-কুফি তাঁর নিকট এসে বললেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, মানুষ মসজিদুল হারামে সমবেত হয়েছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আপনাদের সমবেত হওয়ার কারণ কী? তারা বলল: হারিস ইবনে মিসকিনকে বিচারকের আসনে বসানোর জন্য উমর ইবনে আল-খাত্তাব এসেছেন। অতঃপর আমি দেখলাম যে তিনি তাঁকে ধরলেন এবং দেয়ালে তাঁর বসার স্থানটি গেঁথে দিলেন এবং প্রস্থান করলেন। আমি তাঁর অনুসরণ করলাম। তিনি যখন আমার উপস্থিতি টের পেলেন, তখন বললেন: তুমি কী চাও? আমি বললাম: আপনাকে দেখতে চাই। তিনি বললেন: হারিসের নিকট যাও এবং তাঁকে আমার সালাম জানাও; আর তাঁকে বলো যেন সে মানুষের মধ্যে বিচার ফয়সালা করে। এর আলামত হিসেবে তাঁকে বলো যে, তুমি যখন ইরাকে ছিলে, তখন এক রাতে তুমি ঘুম থেকে উঠেছিলে এবং তোমার পায়ে হোঁচট লেগে আঙুল জখম হয়েছিল, তখন তুমি এই দোয়াটি পড়েছিলে। পরদিন আমি তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম। হারিস বললেন: তুমি সত্য বলেছ; এটি এমন এক বিষয় যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানত না। আমি তাঁকে সেই দোয়াটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: হে আমার বিপদের সময়কার সঙ্গী, হে আমার সকল সংকটের উদ্ধারকর্তা, হে আমার নির্জনতার সঙ্গী; মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং আমার যাবতীয় বিষয়ে প্রশস্ততা ও নিষ্কৃতির পথ তৈরি করে দিন। মিশরের বিচারকদের মধ্যে ইবনে তাহিরের শাসনামলে ঈসা ইবনে আল-মুনকাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-মুনকাদিরও ছিলেন। তিনি তাঁর মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছিলেন

(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٥)
عبد الله بن عبد الحكم، وأعلمه أَنه فَقير؛ فَأجرى لَهُ سَبْعَة دَنَانِير فِي كل يَوْم، وَأَجَازَهُ بِأَلف دِينَار. وَكَانَ رجلا صَالحا. وَهُوَ أول قاضٍ أجْرى عَلَيْهِ الْمُرَتّب بِمصْر. وَلما امْتنع ابْن فروخ من الْقبُول لخطة الْقَضَاء، وَأَشَارَ بِابْن غَانِم، وَهُوَ عبد الله بن عمر ابْن غَانِم، تقدم من قبل هَارُون الرشيد بإفريقية، وَذَلِكَ فِي رَجَب سنة 171، وَهُوَ ابْن اثْنَيْنِ وَأَرْبَعين سنة، فِي حَيَاة مَالك. وَلما بلغته ولَايَته، قَالَ: مَا ذَلِك بِخَير لَهُ {وَكَانَ يُوَجه بمسائله أَيَّام قَضَائِهِ إِلَيْهِ، فِيمَا ينزل بِهِ من نَوَازِل الْخُصُوم، وَيكْتب إِلَى ابْن كنَانَة؛ فَيَأْخُذ لَهُ الْأَجْوِبَة من مَالك. وَكَانَ لَهُ حَظّ من صَلَاة اللَّيْل؛ فَإِذا قَضَاهَا وَجلسَ فِي التَّشَهُّد آخرهَا، عرض خصم يُرِيد أَن يحكم لَهُ على ربه؛ فَيَقُول فِي مناجاته: يَا رب} إِن فلَانا نَازع فلَانا وَادّعى عَلَيْهِ بِكَذَا؛ فَأنْكر دَعْوَاهُ؛ فَسَأَلته الْبَيِّنَة؛ فَأتى بَيِّنَة شهِدت لَهُ بِمَا أدعى. وَقد أشرفت أَن آخذ لَهُ من صَاحبه بِحقِّهِ الَّذِي تبين لي أَنه حق لَهُ؛ فَإِن كنت على صَوَاب، فثبتني {وَإِن كنت على غير صَوَاب، فاصرفني} اللَّهُمَّ {لَا تسلمني} اللَّهُمَّ سلمني {فَلَا يزَال يعرض الْخُصُوم على ربه حَتَّى يفرغ مِنْهُم. وراكب يَوْمًا الْأَمِير إِبْرَاهِيم بن الْأَغْلَب، فزادت دَابَّة إِبْرَاهِيم فِي الْمَشْي. فحول ابْن غَانِم دَابَّته وعرج إِلَى دَاره. فَعَاتَبَهُ على ذَلِك، فَقَالَ لَهُ: أصلح الله الْأَمِير} إِنَّمَا تنفذ أَحْكَام القَاضِي على قدر جاهه. وَلَو ساعدتك، وحركت دَابَّتي، سَقَطت قلنسوتي؛ فلعب بهَا الصّبيان {وراكبه مرّة أُخْرَى؛ فشق إِبْرَاهِيم زرعا؛ فَلم يسْلك ابْن غَانِم مَعَه. وَرَأَيْت بِخَط القَاضِي أبي الْفضل مَا نَصه: قَالَ ابْن غَانِم: دخلت مجْلِس إِبْرَاهِيم ابْن الْأَغْلَب. فَبَيْنَمَا نَحن قعُود، إِذْ أشرف علينا إِبْرَاهِيم، فَقَامَ إِلَيْهِ من كَانَ فِي الْبَيْت غَيْرِي، فَجَلَسَ مغضباً، ثمَّ قَالَ لي: يَا أَبَا عبد الرَّحْمَن} مَا مَنعك أَن تقوم، كَمَا قَامَ إخوانك؟ فَقلت: أَيهَا الْأَمِير {حَدثنِي مَالك، عَن نَافِع، عَن ابْن عمر، قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم} : من أحب أَن يتَمَثَّل لَهُ الرِّجَال قيَاما، فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار! فَنَكس إِبْرَاهِيم رَأسه وأطرق. فَكَانَ هَذَا القَاضِي يكثر إنشاد هذَيْن الْبَيْتَيْنِ: إِذا انقرضت عني من الْعَيْش مدتي … فَإِن غناء الباكيات قَلِيل سيعرض عَن ذكرى وتنسى مودتي … وَيحدث بعدِي للخليل خَلِيل
আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম, তিনি তাকে অবগত করলেন যে তিনি অভাবগ্রস্ত; ফলে তিনি তার জন্য প্রতিদিন সাত দিনার বরাদ্দ করলেন এবং তাকে এক হাজার দিনার উপহার দিলেন। তিনি ছিলেন একজন নেককার ব্যক্তি। তিনিই মিশরের প্রথম বিচারক (কাজি) যার জন্য বেতন বরাদ্দ করা হয়েছিল। যখন ইবনে ফাররুখ বিচারকের পদ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালেন এবং ইবনে গানিমের নাম প্রস্তাব করলেন—যিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে গানিম—তখন হারুনুর রশিদের পক্ষ থেকে তাকে ইফ্রিকিয়ার বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এটি ১৭১ হিজরি সনের রজব মাসের ঘটনা, তখন তার বয়স ছিল বিয়াল্লিশ বছর এবং ইমাম মালিক তখনও জীবিত ছিলেন। যখন ইমাম মালিকের কাছে তার নিয়োগের খবর পৌঁছাল, তিনি বললেন: "এটি তার জন্য কল্যাণকর নয়।" {তিনি তার বিচারকার্য পরিচালনার দিনগুলোতে বিবাদীদের পক্ষ থেকে আসা জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ইমাম মালিকের কাছে পাঠাতেন এবং ইবনে কিনানার কাছে লিখে পাঠাতেন; ফলে ইবনে কিনানা তার জন্য ইমাম মালিকের কাছ থেকে সমাধান নিয়ে আসতেন। আর তাহাজ্জুদ নামাজে তার বিশেষ অংশ ছিল; যখন তিনি নামাজ শেষ করে শেষ বৈঠকে (তাশাহহুদে) বসতেন, তখন তিনি তার রবের কাছে এমনভাবে বিচারপ্রার্থীদের পেশ করতেন যেন তিনি তাদের বিষয়ে তাঁর কাছে ফয়সালা চাচ্ছেন; অতঃপর তিনি মুনাজাতে বলতেন: হে রব!} "অমুক ব্যক্তি অমুকের সাথে বিবাদে জড়িয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে এই দাবি করেছে; অপরজন সেই দাবি অস্বীকার করেছে; তখন আমি তার কাছে প্রমাণ চেয়েছি; অতঃপর সে এমন প্রমাণ নিয়ে এসেছে যা তার দাবির পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। আমি এখন তার প্রতিপক্ষের কাছ থেকে তার সেই হক আদায় করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছি যা আমার কাছে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে; সুতরাং আমি যদি সঠিক পথে থাকি তবে আমাকে অবিচল রাখুন, {আর যদি আমি সঠিক পথে না থাকি তবে আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন।} হে আল্লাহ! {আমাকে ধ্বংস করবেন না।} হে আল্লাহ! আমাকে নিরাপদে রাখুন।" {এভাবেই তিনি তার রবের কাছে বিবাদীদের বিষয়গুলো পেশ করতে থাকতেন যতক্ষণ না তাদের থেকে অবসর হতেন। একদিন আমির ইব্রাহিম ইবনে আল-আগলব সওয়ারিতে চড়ে পথ চলছিলেন, তখন ইব্রাহিমের সওয়ারিটি দ্রুত চলতে শুরু করল। তখন ইবনে গানিম তার সওয়ারিটি ঘুরিয়ে নিলেন এবং নিজ বাড়ির দিকে ফিরে গেলেন। আমির এ বিষয়ে তাকে তিরস্কার করলে তিনি বললেন: আল্লাহ আমিরের কল্যাণ করুন!} "একজন বিচারকের রায় তার মর্যাদার ভিত্তিতেই কার্যকর হয়। আমি যদি আপনার সাথে পাল্লা দিতাম এবং আমার সওয়ারিটি দ্রুত ছুটাতাম, তবে আমার টুপি পড়ে যেত এবং তা নিয়ে শিশুরা খেলা করত।" {অন্য এক সময়ে তিনি আবার আমিরের সাথে সওয়ার হলেন; তখন ইব্রাহিম একটি ফসলি জমির মাঝখান দিয়ে চলতে শুরু করলেন, কিন্তু ইবনে গানিম তার সাথে সেই পথে গেলেন না। আমি কাজি আবুল ফজলের হস্তাক্ষরে নিম্নোক্ত বর্ণনাটি দেখেছি: ইবনে গানিম বলেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে আল-আগলবের মজলিসে প্রবেশ করলাম। যখন আমরা সেখানে উপবিষ্ট ছিলাম, তখন ইব্রাহিম আমাদের সামনে আসলেন। আমি ছাড়া ঘরের ভেতর উপস্থিত সবাই তার সম্মানে দাঁড়িয়ে গেল। তিনি রাগান্বিত হয়ে বসলেন এবং আমাকে বললেন: হে আবু আব্দুর রহমান!} "আপনার অন্য ভাইদের মতো আপনি কেন দাঁড়ালেন না?" আমি বললাম: "হে আমির! {ইমাম মালিক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন নাফে’র সূত্রে এবং তিনি ইবনে উমরের সূত্রে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন}: যে ব্যক্তি এটি পছন্দ করে যে মানুষ তার সম্মানে মূর্তির ন্যায় দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে নিজের আবাসস্থল বানিয়ে নেয়!" তখন ইব্রাহিম মাথা নিচু করলেন এবং নিশ্চুপ হয়ে রইলেন। এই বিচারক প্রায়ই এই দুটি কবিতা আবৃত্তি করতেন: যখন আমার জীবনকাল নিঃশেষ হয়ে যাবে … তখন ক্রন্দনকারিনীদের বিলাপ খুব সামান্যই উপকারে আসবে। শীঘ্রই আমার কথা সবাই এড়িয়ে যাবে এবং আমার ভালোবাসা বিস্মৃত হবে … আর আমার বিদায়ের পর আমার বন্ধুর জন্য অন্য কোনো বন্ধু তৈরি হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وَتُوفِّي قَاضِيا فِي ربيع الأول سنة 179: فَكَانَت ولَايَته ثَمَانِي عشرَة سنة وَتِسْعَة أشهر غفر الله لنا وَله، ورحمنا وإياه {

‌‌فصل

مَسْأَلَة الْقيام الَّتِي تكلم فِيهَا ابْن غَانِم تحْتَاج إِلَى تَفْصِيل. وَحَاصِله مَا قَالَه أَبُو الْوَلِيد فِي بَيَانه. وَنَصه: الْقيام للرِّجَال على أَرْبَعَة أَنْوَاع: وَجه يكون الْقيام فِيهِ مَحْظُورًا؛ وَوجه يكون فِيهِ مَكْرُوها؛ وَوجه يكون فِيهِ جَائِزا؛ وَوجه يكون فِيهِ حسنا. فَأَما الْوَجْه الأول، الَّذِي يكون فِيهِ مَحْظُورًا، لَا يحل: فَهُوَ أَن يقوم إكباراً وتعظيماً لمن يحب أَن يُقَام إِلَيْهِ تكبراً وتجبراً على القائمين عَلَيْهِ. وَأما الْوَجْه الَّذِي يكون الْقيام فِيهِ مَكْرُوها، فَهُوَ أَن يقوم إكباراً وتعظيماً وإجلالاً لمن لَا يحب الْقيام إِلَيْهِ وَلَا يُنكر على القائمين إِلَيْهِ؛ فَهُوَ يكره للتشبه بِفعل الْجَبَابِرَة وَلما يخْشَى أَن يدْخلهُ من تغير نفس الْمُقَوّم إِلَيْهِ. وَأما الْوَجْه الَّذِي يكون الْقيام فِيهِ جَائِزا، فَهُوَ أَن يقوم تَجِلَّةً وإكباراً لمن لَا يُرِيد ذَلِك، وَلَا يشبه حَاله حَال الْجَبَابِرَة، ويؤمن أَن تَتَغَيَّر نفس الْمُقَوّم إِلَيْهِ لذَلِك؛ وَهَذِه صفة مَعْدُومَة إِلَّا فِيمَن كَانَ بالنبوءة مَعْصُوما، لِأَنَّهُ، إِذا تَغَيَّرت نفس عمر بالدابة الَّتِي ركب عَلَيْهَا، فَمن سواهُ بذلك أَحْرَى} وَأما الْوَجْه الرَّابِع الَّذِي يكون الْقيام فِيهِ حسنا، فَهُوَ أَن يقوم الرجل للقادم عَلَيْهِ من سفر، فَرحا بقدومه ليسلم عَلَيْهِ، أَو إِلَى القادم عَلَيْهِ مَسْرُورا بِنِعْمَة أولاها الله اياه، ليهيه بهَا، أَو القادم عَلَيْهِ الْمُصَاب بمصيبة ليعزيه بمصابه، وَمَا أشبه ذَلِك. وعَلى هَذَا يتَخَرَّج مَا ورد فِي هَذَا الْبَاب من الْآثَار، وَلَا يتعارض شَيْء مِنْهَا. قَالَ شهَاب الدّين أَحْمد بن إِدْرِيس، وَقد أَشَارَ إِلَى الْأَوْجه المفسرة فِي الْبَيَان: وَبِهَذَا يجمع بَين قَوْله عليه الصلاة والسلام {: من أحب أَن يتَمَثَّل لَهُ الرِّجَال قيَاما، فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده النَّار وَبَين قِيَامه عليه الصلاة والسلام} لعكرمة ابْن أبي جهل، لما قدم من الْيمن، فَرحا بقدومه، وَقيام طَلْحَة بن عبيد الله لكعب بن مَالك، ليهنيه بتوبة الله عَلَيْهِ، بِحُضُورِهِ عليه الصلاة والسلام {وَلم يُنكر عَلَيْهِ، وَلَا قَامَ من مَجْلِسه. فَكَانَ كَعْب يَقُول: لَا أَنْسَاهَا لطلْحَة} وَكَانَ عليه الصلاة والسلام!
১৭৯ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে তিনি কাজী হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর শাসনামল ছিল আঠারো বছর নয় মাস। আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন এবং আমাদের ও তাঁর প্রতি দয়া করুন। {

‌‌পরিচ্ছেদ

ইবনে গানিম দাঁড়ানোর (কিয়াম) যে মাসআলা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তা বিস্তারিত ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী। এর সারমর্ম হলো যা আবুল ওয়ালিদ তাঁর 'আল-বায়ান' গ্রন্থে বলেছেন। তাঁর বক্তব্য হলো: ব্যক্তিদের জন্য দাঁড়ানো চার প্রকার: এমন এক প্রকার যেখানে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ; এমন এক প্রকার যেখানে তা মাকরূহ; এমন এক প্রকার যেখানে তা জায়েজ বা বৈধ; এবং এমন এক প্রকার যেখানে তা উত্তম বা ভালো। প্রথম প্রকার, যাতে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ ও বৈধ নয়: তা হলো এমন ব্যক্তির জন্য মহিমা ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো, যে ব্যক্তি নিজের জন্য অহংকারবশত এবং যারা তার সামনে দণ্ডায়মান তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো পছন্দ করে। দ্বিতীয় প্রকার, যাতে দাঁড়ানো মাকরূহ: তা হলো এমন ব্যক্তির প্রতি মহিমা, সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো, যে ব্যক্তি নিজের জন্য দাঁড়ানো পছন্দ করে না, আবার যারা তার জন্য দাঁড়ায় তাদের নিষেধও করে না। স্বৈরাচারী শাসকদের আচরণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে এবং যার জন্য দাঁড়ানো হচ্ছে তার মনে অহংকার প্রবেশের আশঙ্কায় এটি অপছন্দনীয়। তৃতীয় প্রকার, যাতে দাঁড়ানো জায়েজ: তা হলো এমন ব্যক্তির প্রতি মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো, যে তা চায় না, তার অবস্থা স্বৈরাচারীদের মতো নয় এবং যার জন্য দাঁড়ানো হচ্ছে তার অন্তরে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এই গুণটি নবুওয়তের মাধ্যমে সংরক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের মাঝে খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ, সওয়ারিতে আরোহণের ফলে যদি উমরের মনে ভাবান্তর ঘটে, তবে অন্য কারো ক্ষেত্রে তা হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি।} আর চতুর্থ প্রকার, যাতে দাঁড়ানো উত্তম: তা হলো সফর থেকে আগত ব্যক্তির জন্য তার আগমনে আনন্দিত হয়ে তাকে সালাম দেওয়ার জন্য দাঁড়ানো, অথবা আল্লাহ প্রদত্ত কোনো নেয়ামতের কারণে আনন্দিত হয়ে আসা ব্যক্তিকে অভিনন্দন জানাতে দাঁড়ানো, অথবা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য তাকে সান্ত্বনা দিতে দাঁড়ানো এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। এই ভিত্তির ওপরই এ বিষয়ে বর্ণিত বর্ণনাগুলো প্রয়োগ করা হয় এবং এগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ থাকে না। শিহাবউদ্দীন আহমদ বিন ইদ্রিস 'আল-বায়ান'-এ বর্ণিত ব্যাখ্যাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন: এর মাধ্যমেই নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর মধ্যে সমন্বয় করা হয় {যে ব্যক্তি এটি পছন্দ করে যে মানুষ তার সামনে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকুক, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়। এবং নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাঁড়ানোর} মধ্যে যখন ইকরিমা বিন আবু জাহেল ইয়েমেন থেকে আগমন করেন, তখন তাঁর আগমনে খুশি হয়ে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। আর কাব বিন মালিকের তাওবা কবুলের সুসংবাদ দিতে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতেই তালহা বিন উবাইদুল্লাহর দাঁড়ানো {নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নিষেধ করেননি, আবার তিনি নিজেও নিজ মজলিস থেকে ওঠেননি। কাব বলতেন: "আমি তালহার এই কাজ কখনো ভুলব না।"} আর নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন!
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٧)
يكره أَن يُقَام لَهُ؛ فَكَانُوا إِذا رَأَوْهُ، لم يقومُوا لَهُ، لعلمهم بكراهيته لذَلِك. وَإِذا قَامَ إِلَى بَيته، لم يزَالُوا قيَاما حَتَّى يدْخل بَيته. قَالَ لما يلْزمهُم من تَعْظِيمه، قبل علمهمْ بكراهيته لذَلِك. وَقَالَ عليه الصلاة والسلام {للْأَنْصَار قومُوا لسيدكم} قيل: تَعْظِيمًا لَهُ، وَهُوَ لَا يُرِيد ذَلِك؛ وَقيل: ليعينوه على النُّزُول عَن الدَّابَّة. وَحكى أَحْمد أَنه كَانَ عِنْد عز الدّين بن عبد السَّلَام، من أَعْيَان عُلَمَاء الشَّافِعِيَّة. فحضرته فتيا: مَا تَقول فِي الْقيام الَّذِي أحدثه النَّاس فِي هَذَا الزَّمَان؟ هَل يحرم، أم لَا؟ فَكتب رحمه الله {: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم} : لَا تباغضوا، وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تدابروا {وَكُونُوا عباد الله إخْوَانًا} وَترك الْقيام فِي هَذَا الْوَقْت يفضى للمقاطعة والمدابرة. فَلَو قيل بِوُجُوبِهِ، مَا كَانَ بَعيدا. فقرأتها بعد كِتَابَته وَالنَّاس تحدث لَهُم أَحْكَام بِقدر مَا يحدثُونَ من الْأَحْوَال، من السياسات والمعاملات والاحتياطات؛ وَهِي على القوانين الأول. ثمَّ قَالَ: وَيلْحق بِالْقيامِ النعوت الْمُعْتَادَة وأنواع المكاتبات، على مَا قَرَّرَهُ النَّاس فِي المخاطبات؛ وَهَذَا النَّوْع كثير لم تكن أَسبَابه فِي السّلف، غير أَنه تقرر فِي قَاعِدَته الشَّرْع اعْتِبَارهَا، كَمَا قَالَ الشَّيْخ: فَإِذا وجدت، وَجب اعْتِبَارهَا. انْتهى. وروى بَعضهم أَن مَالِكًا قيل لَهُ: مَا تَقول فِي الرجل يقوم الرجل لَهُ للفضل وَالْفِقْه؟ فيجلسه فِي مَجْلِسه. قَالَ: يكره لَهُ ذَلِك. وَلَا بَأْس أَن يُوسع لَهُ. قيل: فالمرأة تتلقى زَوجهَا، فتبالغ فِي بره وتنزع ثِيَابه ونعليه مَتى يجلس؟ قَالَ: ذَلِك حسن غير قِيَامهَا حَتَّى يجلس. وَهَذَا فعل الْجَبَابِرَة وَرُبمَا كَانَ النَّاس ينتظرونه حَتَّى، إِذا طلع، قَامُوا لَهُ. لَيْسَ هَذَا من فعل الْإِسْلَام فِي شَيْء. وَفعل ذَلِك لعمر بن عبد الْعَزِيز، أول مَا ولي حِين خرج إِلَى النَّاس، فَأنكرهُ، وَقَالَ: إِن تقوموا، نقم {وَإِن تقعدوا} وَإِنَّمَا يقوم النَّاس لرب الْعَالمين {قيل لَهُ: فالرجل يقبل يَد الرجل أَو رَأسه؟ قَالَ: هُوَ من عمل الْأَعَاجِم، لَا من عمل النَّاس} وَنقل أَيْضا عَن مَالك أَنه كَانَ رحمه الله! يقوم لتلقي أَصْحَابه عِنْد قدومهم عَلَيْهِ من السّفر. وَمن ذَلِك مَا ذكره القَاضِي أَبُو الْفضل فِي كِتَابه الْمُسَمّى بترتيب المدارك، وتقريب المسالك، وَقد ذكر عبد بن مسلمة بن قعنب التَّمِيمِي. وَمن أَصله الَّذِي بِخَطِّهِ نقلت: قَالَ ابْن رشد فِيمَا حَكَاهُ عَن الْجُهَنِيّ. كُنَّا عِنْد مَالك؛ فَجَاءَهُ

তাঁর সম্মানে দণ্ডায়মান হওয়াকে তিনি অপছন্দ করতেন; ফলে সাহাবীগণ যখন তাঁকে দেখতেন, তখন তাঁর এই অপছন্দের কথা জানার কারণে তাঁরা দাঁড়াতেন না। কিন্তু যখন তিনি তাঁর ঘরের দিকে যেতেন, তখন তাঁরা দাঁড়িয়ে থাকতেন যতক্ষণ না তিনি ঘরে প্রবেশ করতেন। বলা হয়েছে যে, এটি তাঁদের জন্য তাঁকে সম্মান জানানোর আবশ্যকতা থেকে ছিল, যা তাঁর অপছন্দের বিষয়টি জানার পূর্বের ঘটনা। নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) আনসারদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, "তোমাদের নেতার সম্মানে দাঁড়াও।" কেউ বলেছেন: এটি তাঁকে সম্মান জানানোর জন্য ছিল, যদিও তিনি তা চাননি; আবার কেউ বলেছেন: তাঁকে সওয়ারি থেকে নামতে সাহায্য করার জন্য। আহমদ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শাফেয়ী মাযহাবের প্রখ্যাত আলেম ইজ্জুদ্দীন ইবন আবদুস সালামের মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাঁর নিকট একটি ফতোয়া তলব করা হলো: বর্তমান সময়ের মানুষ যে দাঁড়ানোর প্রথা উদ্ভাবন করেছে সে সম্পর্কে আপনি কী বলেন? এটি কি হারাম, নাকি নয়? তখন তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) লিখলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না এবং একে অপরের থেকে বিমুখ হয়ো না। বরং হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও।" আর বর্তমান সময়ে এই দাঁড়ানো ত্যাগ করা পারস্পরিক সম্পর্কচ্ছেদ ও বিমুখতার দিকে নিয়ে যায়। তাই যদি এর আবশ্যকতা সম্পর্কে বলা হয়, তবে তা অযৌক্তিক হবে না। আমি তাঁর এই লেখার পর তা পাঠ করলাম; মানুষের জন্য তাদের উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নতুন নতুন বিধান প্রবর্তিত হয়, তা প্রশাসনিক, সামাজিক লেনদেন বা সতর্কতামূলক যে কোনো বিষয়েই হোক না কেন; তবে তা পূর্ববর্তী মূলনীতিসমূহের আলোকেই হতে হয়। অতঃপর তিনি বললেন: দণ্ডায়মান হওয়ার সাথে প্রচলিত উপাধি ও বিভিন্ন প্রকারের পত্রালাপও যুক্ত হবে, যা মানুষ কথোপকথনের ক্ষেত্রে স্থির করেছে; এই বিষয়গুলোর আধিক্য সালাফদের যুগে ছিল না, তবে শরীয়তের মূলনীতিতে এগুলো বিবেচনার অবকাশ রয়েছে। যেমন শাইখ বলেছেন: যখন এই বিষয়গুলো পাওয়া যাবে, তখন তা বিবেচনা করা আবশ্যক। সমাপ্ত। কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তির মর্যাদা ও ইলমে ফিকহের কারণে দাঁড়ায় এবং তাকে নিজের আসনে বসিয়ে দেয়, তবে সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: এটি তার জন্য অপছন্দনীয়। তবে তার জন্য স্থান প্রশস্ত করে দেওয়াতে কোনো দোষ নেই। পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলো: কোনো নারী যদি তার স্বামীকে অভ্যর্থনা জানায় এবং তার প্রতি অধিক সদ্ব্যবহার প্রদর্শন করতে গিয়ে স্বামী বসার সময় তার পোশাক ও জুতো খুলে দেয়, তবে তার হুকুম কী? তিনি বললেন: স্বামীর বসা পর্যন্ত স্ত্রীর দাঁড়িয়ে থাকা ব্যতীত বাকি কাজগুলো উত্তম। আর বসা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা জবরদস্তিকারী বা স্বৈরাচারীদের কাজ। অনেক সময় মানুষ কারো আগমনের অপেক্ষায় থাকত এবং তিনি উপস্থিত হলে তারা দাঁড়িয়ে যেত; এটি ইসলামের কোনো শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত নয়। উমর ইবনে আব্দুল আজিজ যখন প্রথম খলীফা হিসেবে জনগণের সামনে বের হলেন, তখন তাঁর প্রতি অনুরূপ আচরণ করা হয়েছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: যদি তোমরা দাঁড়াও তবে আমরাও দাঁড়াব, আর যদি তোমরা বসে থাকো তবে আমরাও বসে থাকব। মানুষ কেবল বিশ্বজগতের প্রতিপালকের উদ্দেশ্যেই দণ্ডায়মান হবে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: কোনো ব্যক্তি কি অন্য কোনো ব্যক্তির হাত বা মাথা চুম্বন করতে পারে? তিনি বললেন: এটি অনারবদের প্রথা, সাধারণ মানুষের কাজ নয়। ইমাম মালিক সম্পর্কে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সফর থেকে তাঁর সাথীদের আগমন সংবাদ পেলে তাঁদের অভ্যর্থনা জানাতে দাঁড়িয়ে যেতেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা কাজী আবুল ফজল তাঁর 'তারতীবুল মাদারিক ওয়া তাকরীবুল মাসালিক' নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি এখানে আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কানাব আত-তামীমীর কথা উল্লেখ করেছেন। আমি তাঁর নিজ হাতের লেখা পাণ্ডুলিপি থেকে এটি উদ্ধৃত করেছি: ইবনে রুশদ আল-জুহানি থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি বলেছেন: আমরা ইমাম মালিকের কাছে ছিলাম; তখন তাঁর নিকট এলেন...

(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٨)
رجل فَأخْبرهُ بقدوم القعْنبِي؛ فَقَالَ: مَتى فَقرب قدومه فَقَالَ: قومُوا بِنَا إِلَى خير أهل الأَرْض نسلم عَلَيْهِ {. فَقَامَ، فَسلم عَلَيْهِ. وَكَانَ مَالك، إِذا جلس، قَالَ ليلني مِنْكُم ذَوُو الأحلام وَالنَّهْي} فَرُبمَا جلس القعْنبِي عَن يَمِينه. وَهُوَ أحد عباد الْبَصْرَة فِي زَمَانه. قَالَ أَحْمد بن الْهَيْثَم: كُنَّا إِذا أَتَيْنَا القعْنبِي، خرج إِلَيْنَا؛ فنراه كَأَنَّهُ مشرف على جَهَنَّم {وَتُوفِّي بِمَكَّة سنة 220 أَو 221. وَفِي الِاسْتِيعَاب عَن عَائِشَة أم الْمُؤمنِينَ رضي الله عنها " أَنَّهَا قَالَت مَا رَأَيْت أحدا كَانَ أشبه كلَاما أَو حَدِيثا برَسُول الله صلى الله عليه وسلم} من فَاطِمَة؛ وَكَانَت إِذا دخلت عَلَيْهِ، قَامَ لَهَا، فقبلها ورحب بهَا، كَمَا كَانَت تصنع هِيَ بِهِ صلى الله عليه وسلم. وَفِي هَذَا الْقدر من الْكَلَام على مَسْأَلَة الْقيام الْكِفَايَة.

‌‌ذكر عبد السَّلَام بن سعيد بن حبيب الملقب بسحنون قَاضِي إفريقية

وَتقدم لولاية الْقَضَاء بإفريقية، بعد ابْن غَانِم بِزَمَان، أحد الآخذين الْعلم بهَا عَنهُ، وَهُوَ عبد السَّلَام بن سعيد بن حبيب التنوخي الملقب بسحنون؛ وَذَلِكَ سنة 234. قَالَ عِيَاض بن مُوسَى، وَمن خطه نقلت: وسنه إِذْ ذَاك أَربع وَسَبْعُونَ سنة. فَلم يزل قَاضِيا إِلَى أَن مَاتَ. ثمَّ ذكر عَن أبي الْعَرَب أَنه قَالَ: لما عزل ابْن أبي الْجواد، قَالَ سَحْنُون: اللَّهُمَّ {ولِّ هَذِه الْأمة خَيرهَا وأعدلها} فَكَانَ هُوَ الَّذِي ولي بعده. وَقَالَ: لم أكد أرى قبُول هَذَا الْأَمر حَتَّى كَانَ من الْأَمِير مَعْنيانِ، أَحدهَا: أَعْطَانِي كل مَا طلبت، وَأطلق يَدي فِي كل مَا رغبت، حَتَّى أَنِّي قلت أبدأ بِأَهْل بَيْتك وقرابتك وأعوانك؛ فَإِن قبلهم ظلامات للنَّاس وأموالاً مُنْذُ زمَان طَوِيل {فَقَالَ لي: نعم} لَا تبدأ إِلَّا بهم، وَأجر الْحق على مفرق رَأْسِي. وجارني من عز مِنْهُ مَعَ هَذَا مَا يخَاف مِنْهُ الْمَرْء على نَفسه، وفكرت؛ فَلم أجد لنَفْسي سَعَة فِي رده. وَلما تمت ولَايَته، سَار حَتَّى دخل على ابْنَته خَدِيجَة؛ وَكَانَت من خِيَار النِّسَاء. فَقَالَ لَهَا: الْيَوْم ذبح أَبوك بِغَيْر سكين! فَعلم النَّاس قبُوله للْقَضَاء؛ ويومئذ
একজন ব্যক্তি তাকে আল-কায়'নাবীর আগমনের সংবাদ দিলেন; তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কখন? যখন তাঁর আগমন নিকটবর্তী হলো, তখন তিনি বললেন: "আমাদের সাথে যমীনের সর্বোত্তম ব্যক্তির নিকট চলো যাতে আমরা তাঁকে সালাম দিতে পারি।" অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন। ইমাম মালিক যখন বসতেন, বলতেন: "তোমাদের মধ্য থেকে প্রজ্ঞাবান ও বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিরা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে।" অনেক সময় আল-কায়'নাবী তাঁর ডান পাশে বসতেন। তিনি তাঁর সময়ের বসরার অন্যতম ইবাদতকারী ছিলেন। আহমদ ইবনুল হায়সাম বলেন: যখন আমরা আল-কায়'নাবীর কাছে আসতাম, তখন তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে বের হতেন; তখন আমরা তাকে এমনভাবে দেখতাম যেন তিনি জাহান্নামের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি মক্কায় ২২০ বা ২২১ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। আর 'আল-ইসতিয়াব' গ্রন্থে উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বলা বা কথোপকথনের ঢঙের সাথে ফাতিমার চেয়ে অধিক সদৃশ আর কাউকে আমি দেখিনি; ফাতিমা যখন তাঁর নিকট প্রবেশ করতেন, তিনি তাঁর জন্য উঠে দাঁড়াতেন, তাঁকে চুম্বন করতেন এবং তাঁকে স্বাগত জানাতেন, যেমনটি তিনিও সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে করতেন।" দাঁড়ানোর মাসআলা সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে এই পরিমাণ কথাই যথেষ্ট।

‌‌আফ্রিকার কাযী সাহনুন উপাধিতে ভূষিত আবদুস সালাম বিন সাঈদ বিন হাবিবের আলোচনা

ইবনে গানিমের দীর্ঘ সময় পরে আফ্রিকার কাযী পদের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসেন তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জনকারীদের একজন, তিনি হলেন সাহনুন উপাধিতে ভূষিত আবদুস সালাম বিন সাঈদ বিন হাবিব আত-তানূখী; আর এটি ছিল ২৩৪ হিজরীতে। ইয়াদ বিন মুসা বলেন—এবং তাঁর হস্তলিপি থেকেই আমি এটি নকল করেছি—তৎকালীন সময়ে তাঁর বয়স ছিল চুয়াত্তর বছর। তিনি মৃত্যু অবধি কাযী পদে বহাল ছিলেন। অতঃপর আবু আল-আরব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: যখন ইবনে আবিল জাওয়াদকে বরখাস্ত করা হলো, তখন সাহনুন বললেন: হে আল্লাহ! এই উম্মতের উপর তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে দায়িত্বশীল নিযুক্ত করুন। অতঃপর তিনিই তাঁর পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন। তিনি বলেন: আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিলাম না যতক্ষণ না আমীরের পক্ষ থেকে দুটি বিষয় নিশ্চিত হলো; একটি হলো: আমি যা কিছু চেয়েছি তিনি আমাকে তা দিয়েছেন এবং যা কিছু আমি ইচ্ছা করেছি তাতে আমার হাতকে মুক্ত করে দিয়েছেন, এমনকি আমি বলেছি যে আমি আপনার পরিবারবর্গ, আপনার আত্মীয়স্বজন এবং আপনার সাহায্যকারীদের দিয়ে শুরু করব; কেননা দীর্ঘকাল ধরে মানুষের প্রতি তাদের অনেক অন্যায় এবং অর্থসম্পদ গ্রাসের দায় রয়েছে। তিনি আমাকে বললেন: হ্যাঁ, আপনি তাদের দিয়েই শুরু করুন এবং আমার মাথার মধ্যভাগ দিয়ে সত্য জারি করুন। আর এর সাথে তিনি আমাকে এমন মর্যাদা দিলেন যা থেকে মানুষ নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করে, আমি চিন্তা করে দেখলাম যে এটি ফিরিয়ে দেওয়ার মতো কোনো অবকাশ আমার নেই। যখন তাঁর নিয়োগ সম্পন্ন হলো, তিনি পথ চললেন এবং তাঁর কন্যা খাদীজার নিকট প্রবেশ করলেন; তিনি ছিলেন সর্বোত্তম নারীদের একজন। তিনি তাকে বললেন: আজ তোমার পিতাকে ছুরি ছাড়াই যবেহ করা হয়েছে! তখন মানুষ তাঁর কাযী পদ গ্রহণের কথা জানতে পারল; আর সেই দিন...
(খণ্ড: ১) আল-মুরক্বাবাতুল উলয়া ফীমান ইয়াসতাহিক্কুল ক্বাযা ওয়াল ফুতয়া = তারিখু কুযাতিল আন্দালুস (পৃষ্ঠা: ٢٩)
كتب لَهُ عبد الرَّحْمَن الزَّاهِد بِمَا نَصه: أما بعد، فَإِنِّي عهدتك وشأن نَفسك إِلَيْك مهما تعلم الْخَيْر وتؤدب عَلَيْهِ. وأصبحت، وَقد وليت أَمر هَذِه الْأمة، تؤدبهم على دنياهم، يذل الشريف بَين يَديك والوضيع؛ وَقد اشْترك فِيك الْعَدو وَالصديق. وَلكُل خطة من الْعدْل: فَأَي حالتيك أفضل؟ الْحَالة الأولى أم الثَّانِيَة؟ وَالسَّلَام. فَرَاجعه سَحْنُون بِأَن قَالَ لَهُ: أما بعد، فَإِنَّهُ جَاءَنِي كتابك وفهمت مَا ذكرت فِيهِ؛ وَإِنِّي أجيبك إِنَّه لَا حول وَلَا قُوَّة فِي شَيْء من الْأُمُور إِلَّا بِاللَّه تَعَالَى {عَلَيْهِ توكلت وَإِلَيْهِ أنيب} وَمَا كتبت إِنَّك عهدتني وشأن نَفسِي إِلَيّ مهما أعلم الْخَيْر وأودب عَلَيْهِ، وَقد أَصبَحت وَقد وليت أَمر هَذِه الْأمة وأود بهم على دنياهم. ولعمري إِنَّه من لم تصلح دُنْيَاهُ، فَسدتْ أخراه. وَفِي صَلَاح الدُّنْيَا إِذا صَحَّ الْمطعم وَالْمشْرَب، صَلَاح الْآخِرَة. وَقد حَدثنِي ابْن وهب وَرفع سَحْنُون سَنَده أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم {قَالَ: نعم المطية الدُّنْيَا} فارتحلوها {فَإِنَّهَا تبلغكم الْآخِرَة} وَلنْ تبلغ الدُّنْيَا الْآخِرَة من عمل فِي الدُّنْيَا بِغَيْر الْوَاجِب من حق الله {وَأما قَوْلك وليت أَمر هَذِه الْأمة، فَإِنِّي لم أزل مبتلى، ينفذ قولي مُنْذُ أَرْبَعِينَ سنة فِي أبشار الْمُسلمين وأشعارهم. وَمن كَلَام عبد الله بن أبي جَعْفَر: لن تزالوا بِخَير مَا تعلمتم. فَإِذا احْتِيجَ إِلَيْكُم، فانظروا كَيفَ تَكُونُونَ. وَإِنَّمَا الْمُفْتِي قَاض يجوز قَوْله فِي أبشار الْمُسلمين وَأَمْوَالهمْ. فَعَلَيْك بِالدُّعَاءِ} فألزم ذَلِك نَفسك {وَالسَّلَام. وَكَانَ سَحْنُون يُؤَدب النَّاس على الْإِيمَان الَّتِي لَا تجوز، من الطَّلَاق وَالْعتاق، حَتَّى لَا يحلفوا بِغَيْر الله؛ ويؤدبهم على سوء الْحَال فِي لباسهم وَمَا نهى عَنهُ، وَيَأْمُرهُمْ بِحسن السِّيرَة وَالْقَصْد. وتخاصم إِلَيْهِ رجلَانِ صالحان من أَصْحَابه؛ فأقامهما، وأبى أَن يسمع مِنْهُمَا، وَقَالَ: اسْتُرْ عني مَا ستر الله عَلَيْكُمَا} وَهُوَ أول من نظر فِي الْحِسْبَة من الْقُضَاة، وَأمر بتغيير الْمُنكر؛ وَأول من فرق حلق الْبدع من الْجَامِع، وشرد أهل الْأَهْوَاء مِنْهُ؛ وَأول من جعل الودائع عِنْد الْأُمَنَاء؛ وَكَانَت قبل فِي بيُوت الْقُضَاة. قَالَ عِيسَى بن مِسْكين: فَحصل النَّاس بولايته على شَرِيعَته من الْحق؛ وَلم يل قَضَاء إفريقية مثله وَيُقَال إِنَّه مَا بورك لأحد، بعد أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم! مَا بورك لسَحْنُون فِي أَصْحَابه؛ فَإِنَّهُم كَانُوا أَئِمَّة بِكُل بَلْدَة. وَكَانَ الَّذين يحْضرُون مَجْلِسه من الْعباد أَكثر من طلاب الْعلم. وَكَانَ يَقُول: مَا أحب أَن يكون عَيْش الرجل إِلَّا على قدر

আব্দুর রহমান আল-জাহিদ তাকে লিখেছিলেন যার পাঠ নিম্নরূপ: অত:পর, আমি জানতাম আপনি আপনার নিজের আত্মিক বিষয়ের প্রতি মনোযোগী ছিলেন যখনই আপনি কল্যাণ শিক্ষা দিতেন এবং তার ওপর শিষ্টাচার শেখাতেন। এখন আপনি এই উম্মতের বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং তাদের পার্থিব বিষয়ে তাদের শাসন ও শিষ্টাচার শেখাচ্ছেন; আপনার সামনে সম্ভ্রান্ত ও সাধারণ মানুষ উভয়ই অবনত হয়; আপনার নিকট শত্রু ও বন্ধু উভয়ই সমানভাবে অংশীদার। ইনসাফের প্রতিটি কর্মপন্থার ক্ষেত্রে আপনার প্রশ্ন জাগা উচিত: আপনার দুই অবস্থার মধ্যে কোনটি উত্তম? প্রথম অবস্থাটি নাকি দ্বিতীয়টি? আসসালাম।

উত্তরে সাহনুন তাকে বললেন: অত:পর, আপনার পত্রটি আমার কাছে পৌঁছেছে এবং আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা আমি বুঝতে পেরেছি। আমি আপনাকে উত্তর দিচ্ছি যে, সকল বিষয়ে মহান আল্লাহর তাওফিক ও ক্ষমতা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই {তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি}। আর আপনি যা লিখেছেন যে, আপনি আমাকে কেবল নিজের ব্যাপারে মগ্ন অবস্থায় চিনেছিলেন যখন আমি কল্যাণ শিক্ষা দিতাম এবং তার ওপর শিষ্টাচার শেখাতাম, আর এখন আমি এই উম্মতের বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি এবং তাদের দুনিয়াবি বিষয়ে শিষ্টাচার শেখাচ্ছি; আমার জীবনের কসম! যার দুনিয়া সঠিক হয় না, তার পরকালও নষ্ট হয়ে যায়। দুনিয়ার সংশোধনে যখন খাদ্য ও পানীয় পবিত্র ও হালাল হয়, তখন তাতে পরকালের সংশোধন নিহিত থাকে। ইবনে ওয়াহাব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন এবং সাহনুন এর সনদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন যে, তিনি {বলেছেন: দুনিয়া কতই না চমৎকার বাহন!} অতএব তোমরা একে সফরসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করো {কেননা এটি তোমাদের পরকাল পর্যন্ত পৌঁছে দেবে}। তবে যে ব্যক্তি দুনিয়ায় আল্লাহর হকের ব্যাপারে অত্যাবশ্যকীয় কাজ ছাড়া অন্য কিছু করবে, দুনিয়া তাকে পরকাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না। {আর আপনার এই কথা যে, আমি এই উম্মতের বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি, তবে আমি তো সর্বদা পরীক্ষার মধ্যেই ছিলাম; দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবৎ মুসলমানদের জীবন ও মর্যাদার ওপর আমার কথা কার্যকর হয়ে আসছে। আবদুল্লাহ ইবনে আবি জাফরের অন্যতম উক্তি হলো: তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ তোমরা জ্ঞান অর্জন করবে। আর যখন তোমাদের প্রয়োজন দেখা দেবে, তখন লক্ষ্য করো তোমরা কেমন আচরণ করছো। মূলত মুফতি একজন বিচারকই বটে, যার কথা মুসলমানদের দেহ ও সম্পদের ওপর কার্যকর হয়। অতএব আপনি আল্লাহর নিকট দোয়া করুন} সুতরাং একে আপনার নিজের জন্য আবশ্যক করে নিন। {সালাম।}

সাহনুন মানুষকে সেইসব শপথের ব্যাপারে শাসন করতেন যা বৈধ নয়, যেমন তালাক ও দাসমুক্তির শপথ করা, যাতে তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে শপথ না করে; তিনি তাদের পোশাকের কদর্যতা এবং যা নিষেধ করা হয়েছে সে ব্যাপারে তাদের শাসন করতেন, এবং তাদের সুন্দর চরিত্র ও পরিমিতিবোধের আদেশ দিতেন। তার কাছে তার সঙ্গীদের মধ্যে থেকে দুজন নেককার ব্যক্তি বিবাদে লিপ্ত হয়ে এলো; তিনি তাদের উঠিয়ে দিলেন এবং তাদের কথা শুনতে অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি বললেন: আল্লাহ তোমাদের যা গোপন রেখেছেন তা আমার কাছেও গোপন রাখো।} তিনিই বিচারপতিদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যিনি 'হিসবাহ' (জনসাধারণের নৈতিক তদারকি) পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং মন্দ কাজ পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মসজিদ থেকে বিদআতের মজলিসসমূহ সরিয়ে দিয়েছিলেন এবং প্রবৃত্তি পূজারিদের সেখান থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আমানতসমূহ বিশ্বস্ত আমানতদারদের কাছে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন; এর আগে সেগুলো বিচারকদের ঘরে সংরক্ষিত থাকতো। ঈসা ইবনে মিসকিন বলেন: তার শাসনের ফলে মানুষ হকের শরিয়ত লাভ করেছিল; ইফ্রিকিয়ার বিচারকার্য তার মতো আর কেউ পরিচালনা করেনি। বলা হয়ে থাকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের পর আর কারো সঙ্গীদের মধ্যে বরকত দেওয়া হয়নি যতটা বরকত সাহনুনের সঙ্গীদের মধ্যে দেওয়া হয়েছিল; কেননা তারা প্রতিটি শহরেই একেকজন ইমাম বা নেতা ছিলেন। তার মজলিসে ইলম অন্বেষণকারীদের চেয়ে ইবাদতকারীদের উপস্থিতি ছিল বেশি। তিনি বলতেন: আমি পছন্দ করি না যে একজন মানুষের জীবনযাত্রা তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত হোক।