(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: -)
إتحاف الأحباب بما ثبت في مسألة الحجاب القسم: مسائل فقهية
الكتاب: إتحاف الأحباب بما ثبت في مسألة الحجاب
المؤلف: عبد القادر بن حبيب الله السندي
الناشر: الجامعة الإسلامية، المدينة المنورة
الطبعة: السنة التاسعة - العدد الأول- جمادى الثانية 1396هـ/ يونيو 1976م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 143
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পর্দার মাসআলায় যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে সে বিষয়ে প্রিয়জনদের জন্য উপহার বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: পর্দার মাসআলায় যা প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে সে বিষয়ে প্রিয়জনদের জন্য উপহার
লেখক: আবদুল কাদির বিন হাবিবুল্লাহ আস-সিন্ধি
প্রকাশক: ইসলামিক ইউনিভার্সিটি، মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: নবম বর্ষ - প্রথম সংখ্যা- জুমাদিউস সানি ১৩৯৬ হিজরি/ জুন ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৩
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১২২)
إتحاف الأحباب بِمَا ثَبت فِي مَسْأَلَة الْحجاب
بقلم الشَّيْخ عبد الْقَادِر بن حبيب الله السندي الْمدرس بمعهد الْحرم الْمَكِّيّ
الْحَمد لله وَحده، وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على من لَا نَبِي بعده، أما بعد: فقد اطَّلَعت على سُؤال وَجه إِلَى بعض أهل الْعلم يتَعَلَّق بحجاب الْمَرْأَة الْمسلمَة فِي الْكتاب وَالسّنة، وَقد طلب إليّ تحضير الْإِجَابَة الشافية فِي ضوء الْكتاب وَالسّنة، وَإِجْمَاع الْأمة، فحررت هَذِه الْإِجَابَة السريعة مستعينا بِاللَّه جلّ وَعلا الَّذِي تتمّ بِهِ الصَّالِحَات وبكتاب الله تَعَالَى الَّذِي نزل بِهِ الْخَيْر والبركات، وبسنة الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم الَّتِي تتنور بهَا الكائنات، وبإجماع السّلف الصَّالح من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَمن تَبِعَهُمْ بِإِحْسَان إِلَى يَوْم الدّين الَّذين هم قدوتنا فِي الْعَمَل الصَّالح والحسنات، فَمَا جَاءَ فِيهَا من الصَّوَاب فَمن فضل الله تَعَالَى، وتوفيقه، وَإِن كَانَ غير ذَلِك فَهُوَ مني، وَمن الشَّيْطَان، فأستغفر الله تَعَالَى، وَأَتُوب إِلَيْهِ جلّ وَعلا سُبْحَانَ رَبك رب الْعِزَّة عَمَّا يصفونَ، وَسَلام على الْمُرْسلين، وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين.
نعم إِن الْمَرْأَة لَهَا دور كَبِير فِي إِفْسَاد الْعَالم إِن خرجت عَن مكانتها الَّتِي أَعْطَاهَا الله تَعَالَى، وَإِن فتنتها أكبر، وَأَشد، وَأعظم من أَي فتْنَة وَقعت فِي الإنسانية بعد فتْنَة الشّرك، وَإِنَّهَا محور أساسي للخير إِن صلحت، وَالشَّر إِن فَسدتْ، وَإِن صَلَاح الْمُجْتَمع الإنساني مُتَوَقف على صَلَاحهَا من النواحي الاجتماعية، وَأَن الْأَمْرَاض الاجتماعية الفتاكة الَّتِي يعاني مِنْهَا الغرب والشرق وَمن لف لفهم كَانَت بِسَبَب خُرُوج الْمَرْأَة عَن دائرتها الأساسية ونشأتها المثالية، وَلَقَد يحدثنا التَّارِيخ الإنساني عَن الْحَوَادِث الخطيرة الَّتِي تعرضت لَهَا الْمَرْأَة قبل الْإِسْلَام، فَضَاعَت فِيهَا معالمها الفكرية، والثقافية، وحريتها الْكَرِيمَة، وحقوقها الْمَشْرُوعَة، فَكَانَت تعامل كالبهيمة العجماء لَا رَأْي لَهَا، وَلَا نظر، وَإِلَى هَذِه الْقَضِيَّة يُشِير الحَدِيث النَّبَوِيّ الشريف وَهُوَ من حَدِيث أم سَلمَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا، قَالَت: "جَاءَت امْرَأَة إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، فَقَالَت:
পর্দার বিষয়ে যা প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে তা নিয়ে প্রিয়জনদের প্রতি উপঢৌকনশাইখ আবদুল কাদির বিন হাবীবুল্লাহ আস-সিনদী কর্তৃক লিখিত, শিক্ষক, মাআহাদ আল-হারাম আল-মাক্কী
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার পরে আর কোনো নবী নেই। অতঃপর: মুসলিম নারীর পর্দা সংক্রান্ত কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে কতিপয় আলিমদের নিকট প্রেরিত একটি প্রশ্নের বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মাহর ঐক্যমত্যের (إجماع) আলোকে একটি সন্তোষজনক উত্তর প্রস্তুত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করা হয়েছে। তাই মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে আমি এই দ্রুত উত্তরটি লিখেছি, যাঁর সাহায্যে সকল সৎ কাজ সুসম্পন্ন হয়। আমি সাহায্য নিয়েছি মহান আল্লাহর কিতাব থেকে যার মাধ্যমে কল্যাণ ও বরকত নাযিল হয়, এবং মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে যা দ্বারা সমগ্র সৃষ্টিজগত আলোকিত হয়, আর সাহাবী, তাবিঈ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন—সেই সালাফে সালেহীনদের ঐক্যমত্যের (إجماع) মাধ্যমে, যাঁরা নেক আমল ও কল্যাণের ক্ষেত্রে আমাদের আদর্শ। এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে তা মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফীক, আর যদি এর ব্যতিক্রম কিছু হয় তবে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আমি মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই নিকট তাওবা করছি। আপনার রব, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি পবিত্র। এবং সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের ওপর, আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
হ্যাঁ, নারী যদি আল্লাহ প্রদত্ত স্বীয় মর্যাদা থেকে বিচ্যুত হয় তবে জগতকে কলুষিত করার ক্ষেত্রে তার বড় ভূমিকা থাকে। আর শিরকের ফিতনার পরে মানবজাতির মধ্যে ঘটে যাওয়া যেকোনো ফিতনার চেয়ে নারীর ফিতনা অধিকতর বড়, কঠিন ও গুরুতর। সে যদি সংশোধন হয় তবে কল্যাণের মূল ভিত্তি এবং যদি কলুষিত হয় তবে মন্দের মূল ভিত্তি। মানবসমাজের সংশোধন সামাজিক দিক থেকে নারীর সংশোধনের ওপর নির্ভরশীল। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য এবং তাদের অনুসারীরা যেসব মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে ভুগছে তার মূল কারণ হলো নারীর স্বীয় মৌলিক পরিমণ্ডল ও আদর্শিক লালন-পালন থেকে বের হয়ে যাওয়া। মানব ইতিহাস আমাদের সেই সমস্ত ভয়ংকর ঘটনার কথা বলে যা ইসলামের পূর্বে নারীর সাথে সংঘটিত হয়েছিল, যার ফলে তার বুদ্ধিভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, মর্যাদাপূর্ণ স্বাধীনতা এবং আইনগত অধিকারসমূহ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। তাকে এমন এক অবলা পশুর ন্যায় গণ্য করা হতো যার কোনো মতামত বা বিবেচনা ছিল না। এই বিষয়টির প্রতিই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস ইঙ্গিত করে যা উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: "একজন নারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন:
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
يَا رَسُول الله إِن ابْنَتي توفّي عَنْهَا زَوجهَا وَقد اشتكت عينهَا، أفنكحلها؟ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "لَا" مرَّتَيْنِ أَو ثَلَاثًا، كل ذَلِك يَقُول: "لَا". ثمَّ قَالَ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَة أشهر، وَعشر، وَقد كَانَت إحداكن فِي الْجَاهِلِيَّة ترمي بالبعرة على رَأس الْحول"، فَقَالَت زَيْنَب: كَانَت الْمَرْأَة إِذا توفّي عَنْهَا زَوجهَا دخلت حفشا، ولبست شَرّ ثِيَابهَا، وَلم تمس طيبا، وَلَا شَيْئا، حَتَّى تمر عَلَيْهَا سنة، ثمَّ تُؤْتى بِدَابَّة حمَار أَو طير، أَو شَاة، فتفتض بِهِ"1، فقلما تفتض بِشَيْء إِلَّا مَاتَ، ثمَّ تخرج فتعطى بَعرَة فترمي بهَا، ثمَّ تراجع بعد مَا شَاءَت من طيب أَو غَيره2.
فَهَذَا الحَدِيث الشريف يصور لنا وَاقع الْمَرْأَة المرير فِي الْجَاهِلِيَّة، ومدى الإهانة الَّتِي كَانَت تعيش فِيهَا، ثمَّ أكرمها الله تَعَالَى، وأعزها بِنِعْمَة الْإِسْلَام الخالدة، وَأَعْطَاهَا حُقُوقهَا الْمَشْرُوعَة كَامِلَة دون شطط، وَلَا نقص، رَحْمَة بهَا، وشفقة عَلَيْهَا، ولأول مرّة فِي التَّارِيخ الإنساني الطَّوِيل نَالَتْ الْمَرْأَة مَا نَالَتْ من عز مَفْقُود، واحترام متزايد، ومنزلة سامية كَرِيمَة، وَكَانَت حَال الْمَرْأَة الغربية فِي الْجَاهِلِيَّة أدهى وَأمر من حَال الْمَرْأَة الْعَرَبيَّة وَغَيرهَا، وَلَقَد سعى الْأَعْدَاء جاهدين إِلَى إخفاء مزايا الْإِسْلَام مُنْذُ أول يَوْم جَاءَ فِيهِ يخرج الإنسانية الضائعة من ظلام دامس إِلَى نور الْحُرِّيَّة الْحَقِيقِيَّة، وَإِلَى مبادئ عادلة، وعالية رفيعة مثالية لم تشهدها الإنسانية فِي جَمِيع العصور، فَوضع هَؤُلَاءِ الْأَعْدَاء بمكرهم الْخَبيث وحيلهم الماكرة، وطرقهم الملتوية تِلْكَ المناهج البالية الخبيثة فِي التربية والثقافة الَّتِي لم تتفق أبدا بِحَال من الْأَحْوَال مَعَ فطْرَة الْإِنْسَان الْحر الْكَرِيم، نعم تِلْكَ المناهج الَّتِي تكلم عَنْهَا مفكرو الْمُسلمين حَدِيثا وقديما، وعَلى رَأْسهمْ الدكتور مُحَمَّد إقبال المفكر الإسلامي الْكَبِير فكشف عَن خباياها، وزواياها، تكلم عَنْهَا بتفكير عميق، وإطناب مُفِيد، فِي كتبه، ورسائله، ومقالاته، وَنبهَ الْأمة الإسلامية إِلَى مَا خططه الغرب المادي من تخطيط خطير، من السيطرة التَّامَّة على الْعَالم الإسلامي من جَمِيع النواحي الحساسة، نعم كَانَت تِلْكَ المناهج التعليمية والتربوية الَّتِي وَضعهَا
--------------------------------------------
হে আল্লাহর রাসূল! আমার মেয়ের স্বামী মারা গেছেন এবং তার চোখে রোগ দেখা দিয়েছে; আমরা কি তাতে সুরমা লাগাতে পারি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই বা তিনবার বললেন: "না।" প্রতিবারই তিনি বললেন: "না।" অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এটি তো মাত্র চার মাস দশ দিন। অথচ তোমাদের কেউ জাহিলিয়াত যুগে বছরের মাথায় গোবর ছুঁড়ে মারত।" যায়নব বললেন: "কোনো নারীর স্বামী মারা গেলে সে একটি ঝুপড়িতে প্রবেশ করত, তার সবচেয়ে নিম্নমানের পোশাক পরত এবং এক বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত সুগন্ধি বা অন্য কিছু স্পর্শ করত না। অতঃপর কোনো পশু—গাধা, পাখি বা ভেড়া—আনা হতো এবং সে তা দিয়ে তার শরীর ঘর্ষণ করত (تفتض به)১। সে যা দিয়েই ঘর্ষণ করত, সেটিই প্রায় মারা যেত। এরপর সে বের হতো, তাকে একটি গোবরের টুকরো দেওয়া হতো এবং সে সেটি ছুঁড়ে মারত। তারপর সে সুগন্ধি বা যা খুশি তা ব্যবহার করতে পারত।"২
এই হাদিসটি জাহিলিয়াত যুগে নারীর তিক্ত বাস্তবতা এবং সে যে অবমাননাকর পরিস্থিতির মধ্যে বাস করত তা আমাদের সামনে চিত্রিত করে। অতঃপর মহান আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছেন এবং ইসলামের চিরন্তন নিয়ামতের মাধ্যমে তাকে মর্যাদা দান করেছেন। তিনি তার প্রতি দয়া ও মমতাবশত কোনো অতিরঞ্জন বা ঘাটতি ছাড়াই তাকে তার পূর্ণ শরয়ি অধিকার প্রদান করেছেন। দীর্ঘ মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী তার হারানো গৌরব, ক্রমবর্ধমান সম্মান এবং এক উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে। জাহিলিয়াত যুগে পশ্চিমা নারীর অবস্থা আরব নারী ও অন্যদের চেয়েও ভয়াবহ ও তিক্ত ছিল। শত্রুরা ইসলামের প্রথম দিন থেকেই এর শ্রেষ্ঠত্ব আড়াল করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, যা বিভ্রান্ত মানবতাকে ঘোর অন্ধকার থেকে প্রকৃত স্বাধীনতার আলোতে এবং এমন ন্যায়সঙ্গত ও উচ্চ আদর্শের দিকে নিয়ে এসেছিল যা মানবজাতি কোনো যুগে দেখেনি। এই শত্রুরা তাদের কুটিল চক্রান্ত, ধূর্ত কৌশল এবং বক্র পথে শিক্ষা ও সংস্কৃতির সেই জরাজীর্ণ ও জঘন্য পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে যা কোনোভাবেই স্বাধীন ও সম্মানিত মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হ্যাঁ, সেই পাঠ্যক্রম সম্পর্কে বর্তমান ও অতীতের মুসলিম চিন্তাবিদগণ আলোচনা করেছেন, যাদের শীর্ষে রয়েছেন মহান ইসলামি চিন্তাবিদ ডক্টর মুহাম্মদ ইকবাল। তিনি অত্যন্ত গভীর চিন্তা ও সাবলীল বর্ণনার মাধ্যমে তার বই, রিসালা এবং প্রবন্ধগুলোতে এর লুকায়িত দিকগুলো উন্মোচন করেছেন এবং জড়বাদী পাশ্চাত্য যে বিপজ্জনক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সে সম্পর্কে উম্মাহকে সতর্ক করেছেন। এটি ছিল সংবেদনশীল সকল দিক থেকে মুসলিম বিশ্বের ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তারের একটি পরিকল্পনা। হ্যাঁ, সেই শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম যা নির্ধারণ করা হয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
الغرب لإفساد الْمُسلمين، وتحطيم قواهم الفكرية الإسلامية سَببا أساسيا لفساد الْمَرْأَة والشباب، وانحطاطهم خلقيا، واجتماعيا، وثقافيا وفكريا حملت تِلْكَ المناهج فِي طياتها نَارا تحرق الْأَجْسَام والضمائر والقلوب فِي شكل خطير لَا يحس بِهِ أحد إِلَّا من عصمه الله تَعَالَى، مِمَّا يجْرِي فِي الجامعات والكليات فِي بِلَاد الْمُسلمين وَغَيرهَا تِلْكَ الجامعات الَّتِي تسير على نظام الِاخْتِلَاط بَين الجنسين حَيْثُ جردت الْمَرْأَة من لباسها وحيائها، وأنوثتها فِي ضوء هَذَا النظام المادي اللعين فصب عَلَيْهَا من الْفساد العريض الْكَبِير الَّذِي لَا تستحيي فِيهِ الْمَرْأَة وَلَا تتحشم بل تتلذذ بِمَا غضب الله بِهِ على الأقوام السَّابِقَة أَنَّهَا رزية أَلا تستشعر الْأمة الإسلامية بِهَذِهِ النكبة السَّوْدَاء الَّتِي حلت بهَا، وَأَنَّهَا سَبَب أساسي لفقدان قيادتها، وإمامتها على الْعَالم كُله، فو الله الْعَظِيم من هُنَا كَانَ فَسَاد الْمَرْأَة كَبِيرا، وشرها مُسْتَطِيرا وَإِلَيْهِ أَشَارَ الحَدِيث الصَّحِيح كَمَا أخرجه الإِمَام البُخَارِيّ، وَمُسلم فِي صَحِيحهمَا وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن ماجة فِي سنَنَيْهِمَا وَالْإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده بِإِسْنَاد صَحِيح من حَدِيث أُسَامَة بن زيد قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "مَا تركت بعدِي فتْنَة أضرّ على أمتِي من النِّسَاء على الرِّجَال "1، والْحَدِيث الثَّانِي أخرجه مُسلم أَيْضا وَالْإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده بِإِسْنَاد صَحِيح من حَدِيث أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ، قَالَ صلى الله عليه وسلم: "إِن الدُّنْيَا خضرَة حلوة، وَإِن الله عز وجل مستخلفكم فِيهَا لينْظر كَيفَ تَعْمَلُونَ، فَاتَّقُوا الدُّنْيَا، وَاتَّقوا النِّسَاء" 2، وَمن هُنَا كَانَ اهتمام الْإِسْلَام اهتماما بَالغا بِالْمَرْأَةِ من جَمِيع النواحي الحساسة، إِذْ نظم لَهَا حَيَاة كَرِيمَة تضمن لَهَا الشّرف الرفيع، ومنزلتها السامية، وحريتها الفكرية، ونشاطها الْأَصِيل لَا انحراف فِيهِ، وَلَا ظلم، وَلَا عدوان، تمارس أَعمالهَا فِي حقلها الْخَاص بعيدَة عَن التهم، والشكوك، وَلَا انحراف فِيهِ والزيغ تقف وَقْفَة رائعة مثالية فِي ميدان التَّوْجِيه والتربية الإسلامية، وتنشأ أطفالها فِي بَيتهَا الْمُبَارك على الْحق، والصدق، وَالْإِخْلَاص، وَالْجهَاد وعَلى تِلْكَ الْمعَانِي السامية الَّتِي فقدها الغرب والشرق على حد سَوَاء، وَإِن تِلْكَ الْمدَارِس الغربية والشرقية الَّتِي بَعدت عَن حقائق الدّين الإسلامي الْعَظِيم لم تكن إِلَّا خطة مدروسة
--------------------------------------------
পশ্চিমাদের মুসলিমদের পথভ্রষ্ট করার এবং তাদের ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি ধ্বংস করার অপচেষ্টা হলো নারী ও যুবকদের অবক্ষয় এবং তাদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পতনের মূল কারণ। এই শিক্ষাক্রমগুলো তাদের অভ্যন্তরে এমন এক অগ্নি বহন করে যা শরীর, বিবেক ও হৃদয়কে এক বিপজ্জনক রূপে দগ্ধ করে, যা আল্লাহ তায়ালা যাকে রক্ষা করেছেন তিনি ছাড়া আর কেউ অনুভব করতে পারে না। মুসলিম দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে যা ঘটছে—বিশেষ করে সেইসব বিশ্ববিদ্যালয় যা নারী-পুরুষের সহশিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পরিচালিত—তা নারীকে তার পোশাক, লজ্জা ও নারীত্ব থেকে বঞ্চিত করেছে। এই অভিশপ্ত বস্তুবাদী ব্যবস্থার আলোকে তার ওপর এমন ব্যাপক চারিত্রিক বিচ্যুতি বর্ষিত হয়েছে, যেখানে নারী আর কোনো সংকোচ বা লজ্জা বোধ করে না; বরং সে এমন সব কাজে লিপ্ত হয়ে আনন্দ পায় যার কারণে আল্লাহ পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ওপর রাগান্বিত হয়েছিলেন। এটি এক মহাবিপদ! মুসলিম উম্মাহ কি এই কালো বিপর্যয়টি অনুভব করছে না যা তাদের ওপর আপতিত হয়েছে? এটিই মূলত সমগ্র বিশ্বের ওপর তাদের নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব হারানোর প্রধান কারণ। আল্লাহর কসম! এখান থেকেই নারীর অবক্ষয় ছিল সুদূরপ্রসারী এবং এর অনিষ্ট ছিল ব্যাপক। সঠিক (صحيح) হাদিসেও এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যেমনটি ইমাম বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থে, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ তাদের সুনানদ্বয়ে এবং ইমাম আহমদ তার মুসনাদে উসামা বিন যায়েদ (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে সঠিক (صحيح) সনদ (إسناد) সহ উদ্ধৃত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা (فتنة) রেখে যাইনি।" দ্বিতীয় হাদিসটি ইমাম মুসলিম এবং ইমাম আহমদ তার মুসনাদে আবু সাইদ আল-খুদরি (রা.) হতে সঠিক (صحيح) সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই দুনিয়া সুমিষ্ট ও সবুজ-শ্যামল। আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তোমাদের সেখানে প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেছেন যেন তিনি দেখেন তোমরা কেমন আমল করো। সুতরাং তোমরা দুনিয়া থেকে বেঁচে থাকো এবং নারীদের থেকে বেঁচে থাকো।" এখান থেকেই ইসলাম নারীর প্রতি সকল সংবেদনশীল দিক থেকে গভীর গুরুত্বারোপ করেছে; কারণ ইসলাম তার জন্য এক মর্যাদাপূর্ণ জীবনের ব্যবস্থা করেছে যা তার সুউচ্চ সম্মান, উচ্চমর্যাদা, বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা এবং বিচ্যুতি, জুলুম ও শত্রুতা মুক্ত মৌলিক কর্মতৎপরতাকে নিশ্চিত করে। সে তার নিজস্ব কর্মক্ষেত্রে অপবাদ ও সন্দেহমুক্ত থেকে কাজ করবে। সে ইসলামি দিকনির্দেশনা ও শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অনন্য আদর্শিক ভূমিকা পালন করবে এবং তার বরকতময় ঘরে তার সন্তানদের সত্য, সততা, ইখলাস ও জিহাদের সেই সুউচ্চ আদর্শে গড়ে তুলবে যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উভয়ই হারিয়ে ফেলেছে। মূলত সেই সকল পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা যা মহান ইসলামি দ্বীনের বাস্তবতা থেকে দূরে সরে গেছে, সেগুলো একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা ছাড়া আর কিছুই নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
مَبْنِيَّة على الظُّلم، والخيانة، والفاحشة، وَكَيف تنظم الغرائز الجنسية وَغَيرهَا إِن لم يكن صَاحبهَا يحمل إِيمَانًا صَادِقا، وعقيدة قَوِيَّة راسخة فِي الله سبحانه وتعالى وَفِي رَسُوله صلى الله عليه وسلم، وَلم تنظم الغرائز بِحَال من الْأَحْوَال فِي ضوء تِلْكَ الدراسة التربوية الَّتِي وضع مناهجها أفراخ الْيَهُود وَالنَّصَارَى من الشيوعيين المارقين، وَإِن آراءهم وأفكارهم فِي التربية الحديثة حسب زعمهم لم تَجِد شَيْئا، وَلم تحسن موقفا مترديا وَقع فِيهِ الغرب والشرق وَغَيرهمَا مِمَّن لاحظ لَهُم فِي الرسَالَة السماوية الْأَخِيرَة الَّتِي أكْرم الله تَعَالَى بهَا الإنسانية كلهَا، وَهِي رِسَالَة الْإِسْلَام الخالدة.
وَلَقَد درست بعض النظريات الغربية فِي التربية وَالَّتِي لَا تسْتَحقّ أَن تكون مَوضِع اهتمام وَإِعْجَاب فِي نظر الباحثين الْمُسلمين وَلَقَد درست فِي نفس الْوَقْت أَحْوَال الْمَرْأَة الغربية وَغَيرهَا الَّتِي أخذت بِهَذِهِ المناهج مِمَّن تعيش بعيدَة عَن ضوء رِسَالَة الْإِسْلَام فَوجدت أَنَّهَا فقدت كل مقومات الْحَيَاة الْحرَّة الْكَرِيمَة، فَأَصْبَحت الْآن سلْعَة رخيصة فِي أَيدي الظلمَة الغاشمين من دعاة الزِّنَا، والسفور، والانحلال وَمن هُنَا يُوَجه السَّائِل الْكَرِيم هَذَا السُّؤَال فَيَقُول: وَمَا معنى قَوْله تَعَالَى: {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ} 1 وَمَا معنى قَوْله تَعَالَى: {لَا جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِي آبَائِهِنَّ وَلا أَبْنَائِهِنّ} 2 فَقَالَ: فَيرى الْأُسْتَاذ الشَّيْخ أَبُو الْأَعْلَى المودودي أمد الله فِي عمره: أَن المُرَاد بالزينة هِيَ الْوَجْه والكفان فَقَط فَلَا يجوز أَن تبدي الْمَرْأَة أَكثر من ذَلِك لمحارمها، على حِين أَن الشَّهِيد سيد قطب رَحمَه الله تَعَالَى يرى أَنه لَا بَأْس على الْمَرْأَة أَن يَبْدُو مِنْهَا مَا عدا (مَا بَين السُّرَّة إِلَى الرّكْبَة للمحارم) فَمَا هُوَ الرَّاجِح الَّذِي تؤيده الْأَدِلَّة القوية، وَيشْهد لَهُ الْوَاقِع، وَالَّذِي يجب على الْمُسلم أَن يعتمده، أَرْجُو الْإِجَابَة الوافية مَا وسعكم التَّفْصِيل، وَالِاسْتِدْلَال؟
قلت: لم يحسن السَّائِل الْكَرِيم فِي تَوْجِيه سُؤَاله، بل لم يفهم مَا قَالَه الْأُسْتَاذ المودودي، وَكَانَ عَلَيْهِ أَن يُوَجه السُّؤَال هَكَذَا: مَا المُرَاد بالزينة الْوَارِدَة فِي قَوْله تَعَالَى: {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} وَمَا المُرَاد من لَفْظَة {إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} فقد ذهب الْأُسْتَاذ المودودي إِلَى أَن المُرَاد من هَذِه اللَّفْظَة الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ فَجَاز للْمَرْأَة أَن تكشفهما أَمَام الْأَجَانِب، وَقَالَ السَّيِّد قطب رحمه الله
--------------------------------------------
অবিচার, বিশ্বাসঘাতকতা এবং অশ্লীলতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আর মানুষের যৌন প্রবৃত্তি ও অন্যান্য বিষয়গুলো কীভাবে সুশৃঙ্খল হতে পারে যদি তার অধিকারী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যথাযথ ঈমান ও সুদৃঢ় আকিদা পোষণ না করে? ধর্মত্যাগী সমাজতন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত ইহুদি ও নাসারাদের উত্তরসূরিদের প্রণীত শিক্ষাব্যবস্থার আলোকে কোনোভাবেই প্রবৃত্তিগুলোকে সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হয়নি। আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে তাদের যেসব চিন্তা ও মতবাদ রয়েছে, তাদের দাবি অনুযায়ী তা কোনো কাজে আসেনি এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশগুলো যে চরম অবনতির শিকার হয়েছে, তা থেকে উত্তরণে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। মূলত যারা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ আসমানি বার্তার অংশীদার হতে পারেনি, তারাই এই অবস্থায় নিপতিত হয়েছে; অথচ আল্লাহ তাআলা এই চিরন্তন ইসলামি বার্তার মাধ্যমে সমগ্র মানবজাতিকে সম্মানিত করেছেন।
আমি শিক্ষার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের এমন কিছু মতবাদ নিয়ে অধ্যয়ন করেছি, যা মুসলিম গবেষকদের নিকট কোনোভাবেই গুরুত্ব বা প্রশংসার দাবি রাখে না। একইসাথে আমি সেইসব পশ্চিমা ও অন্যান্য নারীদের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করেছি যারা ইসলামের হেদায়াতের আলো থেকে দূরে থেকে এই শিক্ষা পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করেছে। আমি দেখেছি যে, তারা একটি স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সকল বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে তারা ব্যভিচার, বেপর্দা ও চারিত্রিক অবক্ষয়ের দিকে আহ্বানকারী জালিম ও শোষকদের হাতে এক সস্তা পণ্যে পরিণত হয়েছে। এখান থেকেই সম্মানিত প্রশ্নকারী এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন: মহান আল্লাহর এই বাণীর অর্থ কী: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তাদের স্বামী অথবা তাদের পিতা ব্যতীত...}? এবং আল্লাহর এই বাণীর অর্থ কী: {তাদের (নারীদের) জন্য তাদের পিতৃবর্গ ও পুত্রদের ব্যাপারে কোনো গুনাহ নেই...}? তিনি আরও বলেছেন: শ্রদ্ধেয় শায়খ আবুল আলা মওদুদী (আল্লাহ তাঁর হায়াত দারাজ করুন) মনে করেন যে, এখানে সৌন্দর্য বলতে কেবল মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত বোঝানো হয়েছে; সুতরাং একজন নারী তার মাহরামদের (محارمها) সামনে এর চেয়ে বেশি প্রকাশ করতে পারবে না। অন্যদিকে শহীদ সাইয়্যিদ কুতুব (রাহিমাহুল্লাহ) মনে করেন যে, মাহরামদের (للمحارم) সামনে (নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ ব্যতীত) অন্য অংশ প্রকাশ করায় কোনো সমস্যা নেই। এমতাবস্থায় শক্তিশালী প্রমাণাদি (الأدلة القوية) দ্বারা সমর্থিত এবং বাস্তবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অগ্রগণ্য (الراجح) মত কোনটি, যা একজন মুসলিমের জন্য অনুসরণ করা আবশ্যক? আমি আশা করি আপনারা বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দলীল পেশ (الاستدلال) এর মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ উত্তর প্রদান করবেন।
আমি বললাম: সম্মানিত প্রশ্নকারী তার প্রশ্নটি যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি, বরং উস্তাদ মওদুদী যা বলেছেন তা তিনি ঠিকমতো বুঝতে পারেননি। তার উচিত ছিল প্রশ্নটি এভাবে করা: মহান আল্লাহর বাণী {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত} এর মধ্যে সৌন্দর্য বলতে কী বোঝানো হয়েছে? এবং {যা সাধারণত প্রকাশ পায়} বাক্যটির অর্থ কী? উস্তাদ মওদুদী এই মত পোষণ করেছেন যে, এই বাক্যাংশ দ্বারা মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত বোঝানো হয়েছে, ফলে নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে এই দুটি অংশ প্রকাশ করা জায়েয। আর সাইয়্যিদ কুতুব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
تَعَالَى: لَا بَأْس بِإِظْهَار الْمَرْأَة أَمَام الْمَحَارِم كل شَيْء مَا عدا مَا بَين السُّرَّة إِلَى الرّكْبَة، أجيبوني بالتفصيل وَالِاسْتِدْلَال؟ وبينوا لي مَا حكم الله تَعَالَى وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم فِي هَذِه الْمَسْأَلَة؟
ج- نعم قَالَ ذَلِك الْأُسْتَاذ المودودي فِي كِتَابه تَفْسِير سُورَة النُّور، إِذْ قَالَ: فعورتها (أَي الْمَرْأَة) للرِّجَال جَمِيع بدنهَا إِلَّا الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ، وَاسْتدلَّ على ذَلِك بقوله: فَعَن عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا "أَن أُخْتهَا أَسمَاء بنت أبي بكر دخلت على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وَعَلَيْهَا ثِيَاب رقاق، فَأَعْرض عَنْهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ: "يَا أَسمَاء إِن الْمَرْأَة إِذا بلغت الْمَحِيض لم تصلح أَن يُرى مِنْهَا إِلَّا هَذَا وَهَذَا وَأَشَارَ إِلَى وَجهه وكفيه"، رَوَاهُ أَبُو دَاوُد مُرْسلا، وَقد نقل ابْن جرير فِي تَفْسِيره رِوَايَة فِي هَذَا الْمَعْنى عَن عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا، تَقول فِيهَا: دخلت عَليّ ابْنة أخي لأمي عبد الله بن الطُّفَيْل مزينة فَدخل عَلَيْهَا النَّبِي صلى الله عليه وسلم، فَأَعْرض عَنْهَا ثمَّ ذكر الحَدِيث كَمَا جَاءَ فِي حَدِيث أَسمَاء بنت أبي بكر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا1. قلت: وَقد رَجَعَ الْأُسْتَاذ المودودي فِي كِتَابه ((الْحجاب)) عَن هَذَا الرَّأْي إِلَّا أَن دَلِيل رُجُوعه لم يكن قَوِيا، لِأَنَّهُ لم يكن عَن طَرِيق النُّصُوص بل كَانَ عَن طَرِيق الْفَهم والاستنباط وواقع النَّاس، فَلم يكن - كَمَا قلت - قَوِيا فِي نظر من يشْتَغل بِالْحَدِيثِ النَّبَوِيّ الشريف وَلذَلِك رد عَلَيْهِ الْعَلامَة الْمُحدث شَيخنَا الشَّيْخ مُحَمَّد نَاصِر الدّين الألباني فِي كِتَابه ((حجاب الْمَرْأَة الْمسلمَة فِي الْكتاب وَالسّنة)) ، وَلَا طائل بِنَقْل رده عَلَيْهِ وَإِنَّمَا بَيَان هَذِه الْمَسْأَلَة فِي ضوء الْكتاب وَالسّنة دون أَن أكون وسطا بَين الرَّاد والمردود عَلَيْهِ، وَلكُل وَاحِد مِنْهُمَا جهود مباركة ومساع حميدة فِي الدعْوَة إِلَى الله تَعَالَى فجزاهما الله تَعَالَى عَن الْإِسْلَام وَالْمُسْلِمين خير الْجَزَاء.
نعم رِوَايَة أبي دَاوُود هَذِه الْمشَار إِلَيْهَا أخرجهَا الإِمَام أَبُو دَاوُود فِي سنَنه تَحت بَاب (فِيمَا تبدي الْمَرْأَة من زينتها) ثمَّ سَاق الْإِسْنَاد بقوله حَدثنَا يَعْقُوب بن كَعْب الْأَنْطَاكِي، ومؤمل بن الْفضل الْحَرَّانِي، قَالَا: أخبرنَا الْوَلِيد، عَن سعيد بن بشير، عَن قَتَادَة، عَن خَالِد قَالَ يَعْقُوب بن الْفضل الْحَرَّانِي، قَالَا: أخبرنَا الْوَلِيد، عَن سعيد بن بشير، عَن قَتَادَة، عَن خَالِد، قَالَ يَعْقُوب بن دريك عَن عَائِشَة، ثمَّ ذكر الحَدِيث بِطُولِهِ الَّذِي نَقله الشَّيْخ أَبُو الْأَعْلَى المودودي فِي كِتَابه، وَقَالَ الإِمَام أَبُو دَاوُود فِي
--------------------------------------------
তাআলা: মাহরামদের সামনে নারীর নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ ব্যতীত শরীরের অন্য সব অঙ্গ প্রকাশ করাতে কোনো অসুবিধা নেই। আমাকে বিস্তারিত এবং দলীলসহ উত্তর দিন। এই বিষয়ে মহান আল্লাহ তাআলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিধান কী তা আমার কাছে স্পষ্ট করুন।
উত্তর: হ্যাঁ, উস্তাদ মওদুদী তাঁর 'তাফসীর সূরা আন-নূর' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন: পরপুরুষের সামনে নারীর সতর (আওরাহ) হলো মুখমণ্ডল এবং কবজি পর্যন্ত দুই হাত ব্যতীত তার পুরো শরীর। আর তিনি এর স্বপক্ষে এই বলে দলীল পেশ করেছেন: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তাঁর বোন আসমা বিনতু আবি বকর একবার পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রবেশ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: "হে আসমা! নারী যখন ঋতুবতী হওয়ার বয়সে পৌঁছায়, তখন তার এই এবং এই অংশ ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো অংশ দেখা যাওয়া সংগত নয়।" এই কথা বলে তিনি তাঁর মুখমণ্ডল এবং কবজি পর্যন্ত দুই হাতের দিকে ইশারা করলেন। আবু দাউদ এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে এই একই অর্থে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন: আমার বৈমাত্রেয় ভাই আবদুল্লাহ ইবনে তুফায়েলের কন্যা মুযায়নাহ আমার কাছে প্রবেশ করল, এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এলেন এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর তিনি আসমা বিনতু আবি বকর রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিসের মতো করেই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। আমি বলি: উস্তাদ মওদুদী তাঁর 'আল-হিজাব' গ্রন্থে এই মত থেকে ফিরে এসেছেন। তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের দলীল শক্তিশালী (قوي) ছিল না। কারণ এটি সরাসরি কোনো দলীল (নস)-এর ভিত্তিতে ছিল না, বরং এটি ছিল অনুধাবন, ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ) এবং মানুষের বাস্তব অবস্থার নিরিখে। ফলে যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস নিয়ে চর্চা করেন তাদের দৃষ্টিতে এটি শক্তিশালী (قوي) ছিল না। একারণেই বিজ্ঞ মুহাদ্দিস আমাদের শায়খ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী তাঁর 'হিজাবুল মারআতিল মুসলিমাহ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ' গ্রন্থে তাঁর সমালোচনা করেছেন। এখানে তাঁর সেই সমালোচনার বিস্তারিত উদ্ধৃতি দিয়ে লাভ নেই। বরং আমি এই বিষয়টি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে স্পষ্ট করতে চাই, যেখানে আমি সমালোচক ও সমালোচিত ব্যক্তির মধ্যস্থতাকারী হব না। তাঁদের প্রত্যেকেরই আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে বরকতময় প্রচেষ্টা ও প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
হ্যাঁ, আবু দাউদের যে বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সেটি ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনানে 'নারী তার সৌন্দর্যের যতটুকু প্রকাশ করবে' পরিচ্ছেদের অধীনে সংকলন করেছেন। অতঃপর তিনি এই বলে সনদ (إسناد) উল্লেখ করেছেন: আমাদের কাছে ইয়াকুব ইবনে কাব আল-আন্তাকী এবং মুআম্মাল ইবনে ফাদল আল-হাররানী বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের কাছে ওয়ালীদ সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে বাশীর থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি খালিদ থেকে... ইয়াকুব ইবনে ফাদল আল-হাররানী বলেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের কাছে ওয়ালীদ সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে বাশীর থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি খালিদ থেকে, ইয়াকুব ইবনে দাইরিক আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যা শায়খ আবুল আলা মওদুদী তাঁর কিতাবে উদ্ধৃত করেছেন। আর ইমাম আবু দাউদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
نِهَايَة الحَدِيث هَذَا مُرْسل، خَالِد بن دريك لم يدْرك عَائِشَة1.
وَقَالَ صَاحب العون: والْحَدِيث فِيهِ دلَالَة على أَنه لَيْسَ الْوَجْه والكفان من الْعَوْرَة فَيجوز للْأَجْنَبِيّ أَن ينظر إِلَى وَجه الْمَرْأَة الْأَجْنَبِيَّة، وكفيها عِنْد أَمن الْفِتْنَة مِمَّا تَدْعُو الشَّهْوَة إِلَيْهِ من جماع أَو مَا دونه، أما عِنْد خوف الْفِتْنَة فَظَاهر إِطْلَاق الْآيَة والْحَدِيث عدم اشْتِرَاط الْحَاجة، وَيدل على تَقْيِيده بِالْحَاجةِ اتِّفَاق الْمُسلمين على منع النِّسَاء أَن يخْرجن سافرات الْوُجُوه لَا سِيمَا عِنْد كَثْرَة الْفُسَّاق قَالَه ابْن رسْلَان، وَيدل على أَن الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ ليستا من الْعَوْرَة قَوْله تَعَالَى: فِي سُورَة النُّور {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} ، قَالَ فِي تَفْسِير الجلالين وَهُوَ يَعْنِي مَا ظهر مِنْهَا الْوَجْه والكفان، فَيجوز نظره لأَجْنَبِيّ، إِن لم يخف فتْنَة فِي أحد الْوَجْهَيْنِ وَالثَّانِي يحرم لِأَنَّهُ مَظَنَّة الْفِتْنَة، وَرجح حسما للباب انْتهى- وَقد جَاءَ تَفْسِير قَوْله تَعَالَى: {إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} بِالْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أخرجه ابْن أبي حَاتِم، وَالْبَيْهَقِيّ، وَأخرجه إِسْمَاعِيل القَاضِي عَن ابْن عَبَّاس مَرْفُوعا بِسَنَد جيد، قَالَ الْمُنْذِرِيّ: فِي إِسْنَاده سعيد بن بشير أَبُو عبد الرَّحْمَن النصري، نزيل دمشق مولى بني نصر، وَقد تكلم فِيهِ غير وَاحِد، وَذكر الْحَافِظ أَبُو بكر أَحْمد الْجِرْجَانِيّ هَذَا الحَدِيث وَقَالَ: لَا أعلم رَوَاهُ عَن قَتَادَة غير سعيد بن بشير، وَقَالَ مرّة فِيهِ عَن خَالِد بن دريك عَن أم سَلمَة بدل عَائِشَة. انْتهى كَلَام صَاحب العون بِلَفْظِهِ.
قَالَ العَبْد الْفَقِير: أخرج هَذَا الحَدِيث الإِمَام الْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن الْكُبْرَى من هَذَا الْوَجْه فِي موضِعين2 وَنقل الإِمَام الْبَيْهَقِيّ إرْسَاله عَن الإِمَام أبي دَاوُود، وَأوردهُ الإِمَام ابْن كثير فِي تَفْسِيره3 وَقَالَ فِي نِهَايَة الحَدِيث قَالَ أَبُو دَاوُود، وَأَبُو حَاتِم الرَّازِيّ هُوَ مُرْسل خَالِد ابْن دريك لم يسمع من عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا. وَالله أعلم أهـ.
قلت: قَالَ الْحَافِظ صَلَاح الدّين العلائي: قَالَ الْحَافِظ عبد الْحق الإشبيلي خَالِد ابْن دريك لم يسمع من عَائِشَة، وَحَدِيثه فِي أبي دَاوُود ثمَّ ذكر الحَدِيث4 وَقد أخرجه الْحَافِظ عبد الْحق الإشبيلي من هَذَا الْوَجْه5، وَقَالَ الْحَافِظ فِي تَرْجَمَة خَالِد بن دريك أَنه لم يدْرك عَائِشَة6.
قلت: فِي إِسْنَاده عِلّة أُخْرَى قادحة وَهِي أَن سعيد بن بشير
--------------------------------------------
হাদিসটির শেষে বলা হয়েছে যে এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل), কারণ খালিদ ইবনে দুরিইক আয়েশা (রা.)-কে পাননি।১
আউনুল মাবুদ-এর লেখক বলেছেন: এই হাদিসটিতে প্রমাণ রয়েছে যে, মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি সতর (আবরণীয় অংশ) এর অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং ফিতনার আশঙ্কা না থাকলে এবং কামভাব—যা সহবাস বা তার নিচের স্তরের বিষয়ের দিকে আহ্বান করে—তা থেকে নিরাপদ থাকলে একজন পরপুরুষের জন্য পরনারীর মুখমণ্ডল ও হাতের কবজির দিকে তাকানো বৈধ। তবে ফিতনার আশঙ্কা থাকলে, আয়াতের বাহ্যিক ব্যাপকতা এবং হাদিস অনুযায়ী প্রয়োজনের শর্তারোপ করা হয়নি। তবে ইবনে রুসলান বলেন, মুসলমানদের সর্বসম্মত ঐক্যমতে নারীদের মুখমণ্ডল খোলা রেখে বের হওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে এটি প্রয়োজনের সাথে সীমাবদ্ধ, বিশেষ করে যখন পাপাচারী লোকদের আধিক্য দেখা দেয়। আর মুখমণ্ডল ও হাতের কবজি সতর না হওয়ার স্বপক্ষে দলিল হলো সূরা আন-নূরে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, কেবল যা প্রকাশ পায় তা ছাড়া}। তাফসিরে জালালাইনে বলা হয়েছে, 'যা প্রকাশ পায়' বলতে মুখমণ্ডল ও হাতের কবজিকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং পরপুরুষের জন্য তা দেখা জায়েজ, যদি ফিতনার আশঙ্কা না থাকে—এটি একটি মত; আর দ্বিতীয় মত হলো এটি হারাম, কারণ এটি ফিতনার আশঙ্কার স্থল। ফিতনার পথ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এই দ্বিতীয় মতটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে—উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আর ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর বাণী: {যা প্রকাশ পায় তা ছাড়া}-এর ব্যাখ্যায় মুখমণ্ডল ও হাতের কবজি বর্ণিত হয়েছে, যা ইবনে আবি হাতিম ও বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। ইসমাইল আল-কাদি এটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হিসেবে উত্তম সনদ (سند جيد) যোগে বর্ণনা করেছেন। আল-মুনজিরি বলেন: এর সনদে সাঈদ ইবনে বশির আবু আব্দুর রহমান আন-নাসরি রয়েছেন, যিনি দামেস্কের অধিবাসী এবং বনু নাসরের আজাদকৃত গোলাম; তাকে নিয়ে একাধিক মুহাদ্দিস সমালোচনা করেছেন। হাফেজ আবু বকর আহমদ আল-জুরজানি এই হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন: কাতাদা থেকে সাঈদ ইবনে বশির ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। তিনি একবার একে আয়েশা (রা.)-এর পরিবর্তে উম্মে সালামা (রা.) থেকে খালিদ ইবনে দুরিইকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আউনুল মাবুদ-এর লেখকের বক্তব্য হুবহু শেষ হলো।
অধম লেখক বলছেন: ইমাম বায়হাকি তার সুনান আল-কুবরা গ্রন্থে এই সূত্রেই দুটি স্থানে২ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকি এটি ইমাম আবু দাউদ থেকে এর বিচ্ছিন্নতা (إرسال) হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। ইমাম ইবনে কাসির তার তাফসিরে৩ এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাদিসটির শেষে বলেছেন যে, আবু দাউদ এবং আবু হাতিম আর-রাজি একে বিচ্ছিন্ন (مرسل) বলেছেন; কারণ খালিদ ইবনে দুরিইক আয়েশা (রা.) থেকে সরাসরি শোনেননি। আল্লাহই ভালো জানেন।
আমি বলছি: হাফেজ সালাহ উদ্দিন আল-আলাঈ বলেছেন: হাফেজ আব্দুল হক আল-ইশবিলি বলেছেন যে, খালিদ ইবনে দুরিইক আয়েশা (রা.) থেকে শোনেননি, আর তার এই হাদিসটি আবু দাউদ-এ রয়েছে, এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।৪ হাফেজ আব্দুল হক আল-ইশবিলি এই সূত্রেই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।৫ হাফেজ (ইবনে হাজার) খালিদ ইবনে দুরিইকের জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আয়েশা (রা.)-এর সময়কাল পাননি।৬
আমি বলছি: এর সনদে আরেকটি গুরুতর ত্রুটি (علة) রয়েছে, আর তা হলো সাঈদ ইবনে বশির...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
مُنكر الحَدِيث، قَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ: سعيد بن بشير صَاحب قَتَادَة سكن دمشق وَحدث عَن قَتَادَة، وَالزهْرِيّ، وَجَمَاعَة وَعنهُ أَبُو مسْهر، وَأَبُو الجماهير، قَالَ أَبُو مسْهر لم يكن فِي بلدنا أحفظ مِنْهُ، وَهُوَ مُنكر الحَدِيث، قَالَ البُخَارِيّ يَتَكَلَّمُونَ فِي حفظه، قَالَ عُثْمَان عَن ابْن معِين ضَعِيف، وَقَالَ الْعَبَّاس عَن ابْن معِين لَيْسَ بِشَيْء، قَالَ الفلاس: حَدثنَا عَنهُ ابْن مهْدي، ثمَّ تَركه، وَقَالَ النَّسَائِيّ: ضَعِيف، وَقَالَ عبد الله بن نمير يروي عَن قَتَادَة الْمُنْكَرَات، وَذكره أَبُو زرْعَة فِي الضُّعَفَاء، وَقَالَ: لَا يحْتَج بِهِ وَكَذَا قَالَ أَبُو حَاتِم1.
قلت: هَذِه الرِّوَايَة لَا تصلح أَن تكون صَالِحَة للمتابعات والشواهد فضلا عَن أَن تكون حجَّة عِنْد أهل الحَدِيث فَكيف تكون فِيهِ دلَالَة على أَنه لَيْسَ الْوَجْه والكفان من الْعَوْرَة وَحَال إسنادها كَمَا ذكر وَإِن إسنادها عِنْد ابْن أبي حَاتِم فِي تَفْسِيره وَكَذَا الْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه وَإِسْمَاعِيل القَاضِي فِي بعض كتبه وَكَذَا الْحَافِظ أَبُو بكر أَحْمد الْجِرْجَانِيّ فِي كِتَابه الْكَامِل فِي تَرْجَمَة سعيد بن بشير دائر على سعيد بن بشير أبي عبد الرَّحْمَن النصري وَهُوَ مُنكر الحَدِيث، وَضَعِيف عِنْد ابْن معِين، وَالنَّسَائِيّ، وَأبي زرْعَة وَعند أبي حَاتِم الرَّازِيّ فَكيف يكون إسنادهما جيدا مَعَ نقل صَاحب العون كَلَام الْمُنْذِرِيّ فِي الرَّاوِي الْمَذْكُور وَهُوَ سعيد بن بشير؟ فاستدلال الْأُسْتَاذ المودودي حفظه الله تَعَالَى من هَذِه الرِّوَايَة لَيْسَ فِي مَوْضِعه كَمَا نقلت لَك حَال الرَّاوِي، وَكَذَا إرْسَال خَالِد بن دريك عَن عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا فَيكون إِسْنَاد هَذَا الحَدِيث ضَعِيفا جدا مَعَ إرْسَاله، رَاجع المراجع الْآتِيَة فِي تَرْجَمَة سعيد بن بشير - الْكَامِل لِابْنِ عدي، ديوَان الضُّعَفَاء والمتروكين للْإِمَام الذَّهَبِيّ، كتاب الضُّعَفَاء للعقيلي، وَلابْن الْجَوْزِيّ، والمجروحين لِابْنِ حبَان، وَكتاب الضُّعَفَاء للنسائي والتاريخ الْكَبِير للْإِمَام البُخَارِيّ رَحمَه الله تَعَالَى، وَالْجرْح وَالتَّعْدِيل لِابْنِ أبي حَاتِم الرَّازِيّ وَغَيرهَا من كتب الرِّجَال حَتَّى تقف على حَقِيقَة الرجل وَالله هُوَ الْمُسْتَعَان.
وَأما الحَدِيث الَّذِي أَشَارَ إِلَيْهِ الْأُسْتَاذ المودودي بقوله وَقد نقل ابْن جرير الطَّبَرِيّ فِي تَفْسِيره رِوَايَة فِي هَذَا الْمَعْنى عَن عَائِشَة.. فَنعم فقد رَوَاهُ ابْن جرير الطَّبَرِيّ فِي تَفْسِيره إِذْ قَالَ رَحمَه الله تَعَالَى: حَدثنَا الْقَاسِم حَدثنَا الْحُسَيْن، قَالَ ثني حجاج عَن ابْن جريج، قَالَ: قَالَت عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا، دخلت عليّ ابْنة أخي لأمي عبد الله بن
--------------------------------------------
সাঈদ ইবনে বাশির একজন অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)। ইমাম আয-যাহাবি বলেছেন: সাঈদ ইবনে বাশির ছিলেন কাতাদাহর সঙ্গী, তিনি দামেস্কে বসবাস করতেন এবং কাতাদাহ, যুহরি ও একদল বর্ণনাকারী থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তার নিকট থেকে আবু মুশহির ও আবুল জামাহির বর্ণনা করেছেন। আবু মুশহির বলেছেন যে, আমাদের শহরে তার চেয়ে বড় কোনো হাফেজ (স্মৃতিধর) ছিল না, অথচ তিনি একজন অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)। ইমাম বুখারি বলেছেন: তারা তার স্মৃতিশক্তি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। উসমান ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তিনি দুর্বল (ضعيف)। আব্বাস ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তিনি গণ্য করার মতো কিছু নন (ليس بشيء)। ফাল্লাস বলেছেন: ইবনে মাহদি আমাদের নিকট তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তাকে বর্জন (تركه) করেছেন। ইমাম নাসায়ি বলেছেন: তিনি দুর্বল (ضعيف)। আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর বলেছেন: তিনি কাতাদাহ থেকে অস্বীকৃত বর্ণনাসমূহ (المنكرات) বর্ণনা করেন। আবু জুরআ তাকে দুর্বল বর্ণনাকারীদের (الضعفاء) তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না (لا يحتج به)। আবু হাতেমও অনুরূপ বলেছেন ১।
আমি বলছি: এই বর্ণনাটি পারস্পরিক সমর্থনকারী (متابعات) বা সাক্ষী (شواهد) হিসেবে গণ্য হওয়ার উপযুক্ত নয়, হাদিস বিশারদদের নিকট দলিল (حجة) হওয়া তো দূরের কথা। সুতরাং এটি কীভাবে এই বিষয়ের ওপর প্রমাণ হতে পারে যে, মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি সতর বা পর্দার অন্তর্ভুক্ত নয়? অথচ এর সনদের অবস্থা যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে আবি হাতেমের তাফসির, বায়হাকির সুনান, ইসমাইল কাজির কিছু গ্রন্থ এবং হাফেজ আবু বকর আহমদ আল-জুরজানির আল-কামিল গ্রন্থে সাঈদ ইবনে বাশিরের জীবনীর অধীনে এই হাদিসের যে সনদ রয়েছে, তা সাঈদ ইবনে বাশির আবু আবদুর রহমান আন-নাসরির ওপর আবর্তিত। তিনি একজন অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث) এবং ইবনে মাঈন, নাসায়ি, আবু জুরআ ও আবু হাতেম আর-রাজির নিকট তিনি দুর্বল (ضعيف)। এমতাবস্থায় এই সনদ দুটি কীভাবে উত্তম (جيد) হতে পারে, যেখানে ‘আউনুল মাবুদ’ এর লেখক উক্ত বর্ণনাকারী অর্থাৎ সাঈদ ইবনে বাশির সম্পর্কে ইমাম মুনজিরির সমালোচনা উদ্ধৃত করেছেন? অতএব, উস্তাদ মওদুদী (আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাজত করুন) এই বর্ণনা থেকে যে দলিল পেশ করেছেন তা সঠিক নয়, যেমনটি আমি আপনার নিকট বর্ণনাকারীর অবস্থা বর্ণনা করেছি। তদুপরি আয়েশা (রা.) থেকে খালিদ ইবনে দুরিইকের বর্ণনাটিতে বিচ্ছিন্নতা (إرسال) রয়েছে; ফলে এই বিচ্ছিন্নতার (إرسال) কারণে এই হাদিসের সনদটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا)। সাঈদ ইবনে বাশিরের জীবনী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের গ্রন্থগুলো দেখুন— ইবনে আদির আল-কামিল, ইমাম আয-যাহাবির দিওয়ানুজ জুয়াফা ওয়াল মাত্রুকিন, উকাইলির কিতাবুয যুয়াফা, ইবনুল জাওযির কিতাবুয যুয়াফা, ইবনে হিব্বানের আল-মাজরুহিন, নাসায়ির কিতাবুয যুয়াফা, ইমাম বুখারির আত-তারিখুল কাবির এবং ইবনে আবি হাতেম আর-রাজির আল-জারহ ওয়াত তাদীল সহ অন্যান্য রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ; যাতে আপনি এই ব্যক্তির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।
আর উস্তাদ মওদুদী তার এই কথার মাধ্যমে যে হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, “ইবনে জারির তবারি তার তাফসির গ্রন্থে এই মর্মে আয়েশা (রা.) থেকে একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন...”— হ্যাঁ, ইবনে জারির তবারি তার তাফসির গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন যে হাজ্জাজ ইবনে জুরাইজ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) বলেছেন, আমার মায়ের দিক থেকে ভাই আবদুল্লাহ ইবনে... এর কন্যা আমার নিকট প্রবেশ করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
الطُّفَيْل مزينة، فَدخل النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَأَعْرض عَنْهَا ثمَّ ذكر الحَدِيث نَحْو حَدِيث أَسمَاء بنت أبي بكر رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا1.
قلت: إِسْنَاده ضَعِيف جدا لثلاث علل خطيرة.
1-ضعف الْحُسَيْن، واسْمه سنيد بن دَاوُد المصِّيصِي الْمُحْتَسب قَالَ الْحَافِظ: سنيد بنُون، ثمَّ دَال مُصَغرًا، ابْن داؤد المصِّيصِي الْمُحْتَسب، اسْمه حُسَيْن ضَعِيف مَعَ إِمَامَته ومعرفته لكَونه كَانَ يلقن شَيْخه حجاج بن مُحَمَّد من الْعَاشِرَة2.
قَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ: قَالَ أَبُو دَاوُد لم يكن بِذَاكَ، وَقَالَ النَّسَائِيّ: الْحُسَيْن بن داؤد لَيْسَ بِثِقَة وَأوردهُ الذَّهَبِيّ فِي كِتَابه ديوَان الضُّعَفَاء والمتروكين، وَقَالَ ضعفه أَبُو دَاوُد3.
2-وَالْعلَّة الثَّانِيَة: ضعف حجاج بن مُحَمَّد الْأَعْوَر المصِّيصِي، واختلاطه، اختلاطا فَاحِشا، قَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ: قَالَ إِبْرَاهِيم الْحَرْبِيّ: لم قدم حجاج بَغْدَاد آخر مرّة اخْتَلَط فَرَآهُ ابْن معِين يخلط، وَقَالَ لِابْنِهِ: لَا يدْخل عَلَيْهِ أحد وَلذَا كَانَ تِلْمِيذه سنيد بن داؤد يلقنه4 كَمَا فِي التَّقْرِيب والتهذيب، وَكتاب الِاغْتِبَاط بِمن رمي بالاختلاط للْإِمَام ابْن سبط العجمي خَ.
3-الْعلَّة الثَّالِثَة: انْقِطَاع هَذِه الرِّوَايَة لِأَن ابْن جريج الَّذِي هُوَ عبد الْملك بن جريج الْمُتَوفَّى بعد الْمِائَة وَخمسين لم يدْرك عَائِشَة رضي الله عنها، وَمَعَ أَنه مُتَّهم بتدليس التَّسْوِيَة الَّذِي هُوَ من أشر أَنْوَاع التَّدْلِيس، وَلذَلِك قَالَ الإِمَام الدَّارَقُطْنِيّ فِيمَا نقل عَنهُ الْحَافِظ فِي التَّهْذِيب: تجنب تَدْلِيس ابْن جريج فَإِنَّهُ قَبِيح التَّدْلِيس لَا يُدَلس إِلَّا فِيمَا سَمعه من مَجْرُوح5، وَقَالَ الإِمَام الْحَافِظ صَلَاح الدّين العلائي ذكر ابْن الْمَدِينِيّ أَنه لم يلق أحدا من الصَّحَابَة، ثمَّ ذكر العلائي إرْسَاله عَن جملَة كَبِيرَة من التَّابِعين6.
قلت: هَاتَانِ الرِّوَايَتَانِ ليستا صالحتين للمتابعات والشواهد فضلا عَن أَن تَكُونَا حجَّة وَلَو كَانَتَا صحيحتي الْإِسْنَاد لكانتا شاذتين غير محفوظتين فَكيف الْحَال بِمَا ذكر من إسنادهما، وَلَيْسَ هُنَاكَ حَدِيث صَحِيح مَرْفُوع فِي هَذَا الْمَعْنى إِلَّا مَا جَاءَ عَن عبد الله ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا فِي أثر أخرجه الإِمَام أَبُو جَعْفَر مُحَمَّد بن جرير الطَّبَرِيّ فِي تَفْسِيره7 وَالْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن
--------------------------------------------
তুফাইল মুজাইনা, এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবেশ করলেন এবং তার থেকে বিমুখ হলেন, অতঃপর আসমা বিনতে আবি বকর (রাযিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা)-এর হাদিসের অনুরূপ হাদিসটি উল্লেখ করলেন।
আমি বলছি: এর সনদ (إسناده) তিনটি গুরুতর ত্রুটির (علل) কারণে অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا)।
১-হুসাইনের দুর্বলতা (ضعف), যার নাম সুনাইদ বিন দাউদ আল-মাসসিসি আল-মুহতাসিব। হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: সুনাইদ—নুন এবং অতঃপর তাসগিরকৃত দাল সহ—ইবনে দাউদ আল-মাসসিসি আল-মুহতাসিব, তার নাম হুসাইন; তিনি ইমামতি ও জ্ঞানের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও দুর্বল (ضعيف), কারণ তিনি দশম স্তরের (العاشرة) ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তার শায়খ হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদকে তালকিন (يلقن) করতেন (স্মরণ করিয়ে দিতেন)।
ইমাম যাহাবি বলেছেন: আবু দাউদ বলেছেন তিনি তেমন কিছু (নির্ভরযোগ্য) ছিলেন না। নাসাঈ বলেছেন: হুসাইন বিন দাউদ নির্ভরযোগ্য (ثقة) নয়। যাহাবি তাকে তার 'দিওয়ানুয যুয়াফা ওয়াল মাত্রুকিন' কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন আবু দাউদ তাকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন।
২-দ্বিতীয় ত্রুটি (العلة الثانية): হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ আল-আওয়ার আল-মাসসিসির দুর্বলতা (ضعف) এবং তার মারাত্মক স্মৃতিভ্রষ্টতা (اختلاط)। ইমাম যাহাবি বলেছেন: ইব্রাহিম আল-হারবি বলেছেন: হাজ্জাজ যখন শেষবার বাগদাদে আসলেন তখন তিনি স্মৃতিভ্রষ্ট (اختلط) হয়ে গিয়েছিলেন, ইবনে মাঈন তাকে সংমিশ্রণ করতে দেখেছিলেন এবং তার পুত্রকে বলেছিলেন: তার কাছে যেন কেউ প্রবেশ না করে। এজন্যই তার ছাত্র সুনাইদ বিন দাউদ তাকে তালকিন (يلقنه) করতেন, যেমনটি 'তাকরিব' ও 'তাহযিব' এবং ইমাম ইবনে সিবত আল-আজামির 'কিতাবুল ইগতিবাত বিমান রুমিয়া বিল ইতিলাত' গ্রন্থে রয়েছে।
৩-তৃতীয় ত্রুটি (العلة الثالثة): এই বর্ণনার বিচ্ছিন্নতা (انقطاع), কারণ ইবনে জুরাইজ—যিনি আব্দুল মালিক বিন জুরাইজ এবং ১৫০ হিজরির পর মৃত্যুবরণ করেছেন—তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে পাননি। তদুপরি তিনি 'তাদলিসুত তাসওয়িয়া' (تدليس التسوية)-এর অভিযোগে অভিযুক্ত, যা তাদলিসের (التدليس) নিকৃষ্টতম প্রকার। এই কারণে ইমাম দারা কুতনি—যেমনটি হাফিজ (ইবনে হাজার) 'তাহযিব' গ্রন্থে তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন—বলেছেন: ইবনে জুরাইজের তাদলিস (تدليس) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তিনি খুবই কদর্য তাদলিস (تدليس) করতেন এবং তিনি কেবল দোষী (مجروح) ব্যক্তিদের থেকে যা শুনেছেন তাতেই তাদলিস (يدلس) করতেন। ইমাম হাফিজ সালাহউদ্দীন আল-আলাই উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আল-মাদিনি বলেছেন তিনি কোনো সাহাবির সাক্ষাৎ পাননি। অতঃপর আল-আলাই একদল তাবিঈ থেকে তার মুরসাল (إرساله) বর্ণনা করার কথা উল্লেখ করেছেন।
আমি বলছি: এই দুটি বর্ণনা মুতাবাআত (المتابعات) এবং শাওয়াহিদের (الشواهد) জন্য উপযুক্ত (صالحتين) নয়, দলিল (حجة) হওয়া তো দূরের কথা। যদি এগুলোর সনদ (الإسناد) সহিহ (صحيح) হতো তবুও সেগুলো শায (شاذتين) এবং সংরক্ষিত নয় (غير محفوظتين) হিসেবে গণ্য হতো, এমতাবস্থায় তাদের সনদে (إسنادهما) যা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোর অবস্থা তো বলাই বাহুল্য। এ মর্মে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা) থেকে বর্ণিত একটি আসার (أثر) ব্যতীত কোনো সহিহ (صحيح) মারফু (مرفوع) হাদিস নেই, যা ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির আত-তবারি তার তাফসির গ্রন্থে এবং বায়হাকি সুনান গ্রন্থে বের করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
الْكُبْرَى1 قَالَ الإِمَام ابْن جرير الطَّبَرِيّ: حَدثنَا أَبُو كريب قَالَ: ثَنَا مَرْوَان، قَالَ ثَنَا مُسلم الْملَائي، عَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس قَالَ: {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} قَالَ: الْكحل، والخاتم.
قلت: إِسْنَاده ضَعِيف جدا، بل هُوَ مُنكر، قَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ: مُسلم بن كيسَان أَبُو عبد الله الضَّبِّيّ الْكُوفِي الْملَائي الْأَعْوَر، عَن أنس وَإِبْرَاهِيم النَّخعِيّ، وَقَالَ الإِمَام الْحَافِظ أَبُو الْحجَّاج الْمزي فِي تَرْجَمَة مُسلم بن كيسَان الْملَائي روى عَن سعيد بن جُبَير وَهُوَ يروي فِي هَذَا الْإِسْنَاد عَن سعيد بن جُبَير2 ثمَّ قَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ فِي تَرْجَمته عَنهُ الثَّوْريّ، وَأَبُو وَكِيع الْجراح بن مليح، قَالَ الفلاس: مَتْرُوك الحَدِيث، وَقَالَ أَحْمد: لَا يكْتب حَدِيثه، وَقَالَ يحي: لَيْسَ بِثِقَة، وَقَالَ البُخَارِيّ: يَتَكَلَّمُونَ فِيهِ، وَقَالَ يحي أَيْضا: زَعَمُوا أَنه اخْتَلَط، وَقَالَ يحي الْقطَّان، حَدثنِي حَفْص بن غياث قَالَ: قلت لمُسلم الْملَائي عَمَّن سَمِعت هَذَا؟
قَالَ عَن إِبْرَاهِيم عَن عَلْقَمَة، قُلْنَا عَلْقَمَة عَمَّن؟ قَالَ عَن عبد الله، قُلْنَا عبد الله عَمَّن؟ قَالَ: عَن عَائِشَة وَقَالَ النَّسَائِيّ: مَتْرُوك الحَدِيث3 وَقلت: هَذَا الْإِسْنَاد سَاقِط لَا يصلح للمتابعات والشواهد كَمَا لَا يخفي هَذَا على أهل هَذَا الْفَنّ الشريف.
وَقَالَ الإِمَام الْحَافِظ الْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن الْكُبْرَى: أخبرنَا أَبُو عبد الله الْحَافِظ وَأَبُو سعيد بن أبي عَمْرو، قَالَا: ثَنَا أَبُو الْعَبَّاس مُحَمَّد بن يَعْقُوب، ثَنَا أَحْمد بن عبد الْجَبَّار، ثَنَا حَفْص بن غياث عَن عبد الله بن مُسلم بن هُرْمُز، عَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس، قَالَ: {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} قَالَ: مَا فِي الْكَفّ وَالْوَجْه4.
قلت: إِسْنَاده مظلم ضَعِيف لضعف رَاوِيَيْنِ هما أَحْمد بن عبد الْجَبَّار العطاردي قَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ: أَحْمد بن عبد الْجَبَّار العطاردي روى عَن أبي بكر بن عَيَّاش وطبقته، ضعفه غير وَاحِد، قَالَ ابْن عدي رَأَيْتهمْ مُجْمِعِينَ على ضعفه، وَلَا أرى لَهُ حَدِيثا مُنْكرا، إِنَّمَا ضَعَّفُوهُ لِأَنَّهُ لم يلق الَّذين يحدث عَنْهُم، وَقَالَ مطين: كَانَ يكذب، وَقَالَ أَبُو حَاتِم: لَيْسَ بِالْقَوِيّ وَقَالَ ابْنه عبد الرَّحْمَن كتبت عَنهُ، وَأَمْسَكت عَن التحديث عَنهُ لما تكلم النَّاس فِيهِ، وَقَالَ ابْن عدي كَانَ ابْن عقدَة لَا يحدث عَنهُ، وَذكر أَن عِنْده قمطرا على أَنه كَانَ لَا يتورع أَن يحدث عَن كل أحد، مَاتَ سنة 272هـ5.
وَقَالَ الْحَافِظ فِي التَّقْرِيب: ضَعِيف6،
--------------------------------------------
আল-কুবরা। ১ ইমাম ইবনে জারির তাবারী বলেছেন: আমাদের কাছে আবু কুরাইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মারওয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুসলিম আল-মালাই বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, কেবল যা তা থেকে প্রকাশ পায় তা ব্যতীত} সম্পর্কে বলেন: তা হলো সুরমা এবং আংটি।
আমি বলি: এর সনদ (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا), বরং তা আপত্তিকর (منكر)। ইমাম যাহাবী বলেন: মুসলিম ইবনে কায়সান আবু আব্দুল্লাহ আদ-দাব্বি আল-কুফি আল-মালাই আল-আওয়ার, তিনি আনাস এবং ইব্রাহিম আন-নাখয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম হাফিজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জি মুসলিম ইবনে কায়সান আল-মালাইয়ের জীবনীতে (ترجمة) বলেন, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তিনি এই সনদে (إسناد) সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করছেন। ২ অতঃপর ইমাম যাহাবী তার জীবনীতে (ترجمة) বলেন যে, তার থেকে সাওরি এবং আবু ওয়াকি আল-জাররাহ ইবনে মালিহ বর্ণনা করেছেন। ফাল্লাস বলেন: তিনি পরিত্যক্ত হাদিসধারী (متروك الحديث)। ইমাম আহমদ বলেন: তার হাদিস লেখা যাবে না। ইয়াহইয়া বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য নন (ليس بثقة)। বুখারি বলেন: তাকে নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। ইয়াহইয়া আরও বলেন: তারা ধারণা করেছেন যে তার স্মৃতিভ্রম (اختلط) ঘটেছিল। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেন, হাফস ইবনে গিয়াস আমাকে বলেছেন: আমি মুসলিম আল-মালাইকে বললাম, আপনি এটি কার থেকে শুনেছেন?
তিনি বললেন ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে। আমরা বললাম আলকামা কার থেকে? তিনি বললেন আব্দুল্লাহ থেকে। আমরা বললাম আব্দুল্লাহ কার থেকে? তিনি বললেন: আয়েশা থেকে। নাসাঈ বলেন: তিনি পরিত্যক্ত হাদিসধারী (متروك الحديث)। ৩ আমি বলি: এই সনদটি (إسناد) অসার (ساقط), যা মুতাবিয়াত (متابعات) এবং শাওয়াহিদের (شواهد) জন্যও যোগ্য নয়, যেমনটি এই মহান শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের কাছে অস্পষ্ট নয়।
ইমাম হাফিজ বায়হাকী সুনান আল-কুবরাতে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু সাঈদ ইবনে আবি আমর, তারা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আহমদ ইবনে আব্দুল জাব্বার বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাফস ইবনে গিয়াস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে হুরমুজ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, কেবল যা তা থেকে প্রকাশ পায় তা ব্যতীত} সম্পর্কে বলেন: তা হলো যা হাতের তালু ও চেহারায় থাকে। ৪
আমি বলি: এর সনদ (إسناد) অন্ধকারচ্ছন্ন ও দুর্বল (ضعيف), কারণ এতে দুজন বর্ণনাকারী দুর্বল (ضعيف)। তারা হলেন আহমদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-আতারিদি; ইমাম যাহাবী বলেন: আহমদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-আতারিদি আবু বকর ইবনে আইয়াশ ও তাঁর সমসাময়িকদের থেকে বর্ণনা করেছেন, একাধিক ব্যক্তি তাকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন। ইবনে আদি বলেন: আমি দেখেছি তারা সবাই তার দুর্বলতার (ضعفه) ব্যাপারে একমত, তবে আমি তার মাঝে কোনো আপত্তিকর হাদিস (حديثا منكرا) দেখি না, মূলত তারা তাকে দুর্বল (ضعفوه) বলেছেন কারণ তিনি যাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করেন তাদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। মুতাইন বলেন: সে মিথ্যা বলত। আবু হাতিম বলেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)। তার ছেলে আব্দুর রহমান বলেন, আমি তার থেকে লিখেছি, কিন্তু মানুষ তাকে নিয়ে সমালোচনা করায় আমি তার থেকে হাদিস বর্ণনা করা থেকে বিরত থেকেছি। ইবনে আদি বলেন: ইবনে উকদাহ তার থেকে বর্ণনা করতেন না; এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে তার কাছে কিতাবাদি সংরক্ষিত ছিল যদিও তিনি যার-তার থেকে বর্ণনা করতে কুণ্ঠাবোধ করতেন না। তিনি ২৭২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ৫
এবং হাফিজ আত-তাকরিব গ্রন্থে বলেন: দুর্বল (ضعيف)। ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
وَكَذَا يُوجد فِي هَذَا الْإِسْنَاد عِنْد الإِمَام الْبَيْهَقِيّ: عبد الله بن مُسلم بن هُرْمُز الْمَكِّيّ عَن مُجَاهِد وَغَيره قَالَ الْحَافِظ الذَّهَبِيّ: ضعفه ابْن معِين، وَقَالَ: وَكَانَ يرفع أَشْيَاء، وَقَالَ أَبُو حَاتِم: لَيْسَ بِالْقَوِيّ وَقَالَ ابْن الْمَدِينِيّ: كَانَ ضَعِيفا ضَعِيفا (مرَّتَيْنِ) عندنَا، وَقَالَ أَيْضا ضَعِيف.
وَكَذَا ضعفه النَّسَائِيّ1، وَقَالَ الْحَافِظ فِي التَّقْرِيب ضَعِيف2.
قلت: هَذَانِ الإسنادان سَاءَ حَالهمَا إِلَى حد بعيد لَا يحْتَج بهما، وَلَا يكتبان، وَهُنَاكَ أَسَانِيد أُخْرَى لَا تقل درجتهما فِي الضعْف والنكارة وَبِذَلِك يُمكن أَن يُقَال إِن هَذِه النِّسْبَة غير صَحِيحَة إِلَى عبد الله بن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا، وَلَو صَحَّ الْإِسْنَاد إِلَيْهِ لما كَانَ فِيهِ حجَّة عِنْد عُلَمَاء أهل الحَدِيث، فَكيف فِي هَذِه الْحَال، وَقد صحت الْأَسَانِيد إِلَى عَم الْمُصْطَفى صلى الله عليه وسلم وَإِلَى غَيره من الصَّحَابَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم عكس هَذَا الْمَعْنى الَّذِي رَوَاهُ ابْن جرير الطَّبَرِيّ فِي تَفْسِيره، وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه، وَكَذَا ابْن أبي حَاتِم فِي تَفْسِيره وزد على ذَلِك مَا ثَبت بأسانيد صَحِيحَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَمَا سَوف يَأْتِي مفصلا من أمره صلى الله عليه وسلم بالحجاب، والستر.
وإليكم أَولا مَا جَاءَ عَن بعض الصَّحَابَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم، وَمِنْهُم عبد الله ابْن مَسْعُود رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ أخرج ابْن جرير الطَّبَرِيّ فِي تَفْسِيره إِذْ قَالَ رَحمَه الله تَعَالَى: حَدثنِي يُونُس، قَالَ: أخبرنَا ابْن وهب، قَالَ: أَخْبرنِي الثَّوْريّ، عَن أبي إِسْحَاق الهمذاني عَن أبي الْأَحْوَص، عَن ابْن مَسْعُود قَالَ: {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} قَالَ: الثِّيَاب3.
قلت: إِسْنَاده فِي غَايَة الصِّحَّة وَأورد هَذَا الْأَثر الإِمَام ابْن كثير فِي تَفْسِيره4 ثمَّ سَاق الإِمَام ابْن جرير الطَّبَرِيّ إِسْنَادًا آخر بقوله: حَدثنَا مُحَمَّد بن بشار قَالَ حَدثنَا عبد الرَّحْمَن: سُفْيَان، عَن أبي إِسْحَاق، عَن أبي الْأَحْوَص، عَن عبد الله مثله.
وَقَالَ الإِمَام السُّيُوطِيّ: أخرج ابْن جرير الطَّبَرِيّ، وَابْن الْمُنْذر، وَابْن أبي حَاتِم، وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه، عَن ابْن عَبَّاس فِي قَوْله تَعَالَى: {وَلا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} قَالَ: الزِّينَة الظَّاهِرَة ((الْوَجْه والكفان)) وكحل الْعَينَيْنِ، ثمَّ قَالَ ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا، فَهَذَا تظهره فِي بَيتهَا لمن دخل عَلَيْهَا، ثمَّ لَا يبدين زينتهن إِلَّا لبعولتهن، أَو آبائهن الْآيَة، ثمَّ قَالَ رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ: والزينة الَّتِي تبديها لهَؤُلَاء قرطاها، وقلادتها
--------------------------------------------
وَكَذَا يُوجد فِي هَذَا الْإِسْنَاد عِنْد الإِمَام الْبَيْهَقِيّ: عبد الله بن مُسلم بن هُرْمُز الْمَكِّيّ عَن مُجَاهِد وَغَيره قَالَ الْحَافِظ الذَّهَبِيّ: ضعفه ابْن معِين، وَقَالَ: وَكَانَ يرفع أَشْيَاء، وَقَالَ أَبُو حَاتِم: لَيْসَ بِالْقَوِيّ وَقَالَ ابْن الْمَدِينِيّ: كَانَ ضَعِيفا ضَعِيفا (مرَّتَيْنِ) عندنَا، وَقَالَ أَيْضا ضَعِيف.
একইভাবে ইমাম বাইহাকির নিকট এই সূত্রে (إسناد) পাওয়া যায়: আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে হুরমুজ আল-মাক্কি, মুজাহিদ ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফিজ জাহাবি বলেছেন: ইবনে মাঈন তাকে দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন: তিনি বর্ণনাগুলোকে মারফু (يرفع) করে দিতেন। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি শক্তিশালী (بالقوي) নন। ইবনে আল-মাদিনি বলেছেন: আমাদের নিকট তিনি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف) ছিলেন (দুবার বলেছেন) এবং পুনরায় তিনি তাকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।
একইভাবে নাসাঈ তাকে দুর্বল (ضعيف)১ বলেছেন এবং হাফিজ আত-তাকরিব গ্রন্থে তাকে দুর্বল (ضعيف)২ বলেছেন।
আমি বলি: এই দুটি সূত্রের (إسناد) অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়, এগুলো দ্বারা দলিল পেশ (يحتج) করা যায় না এবং এগুলো গ্রহণযোগ্য হিসেবে লেখাও হয় না। আরও কিছু সূত্র রয়েছে যেগুলোর দুর্বলতা (ضعف) ও আপত্তিকরতা (نكارة) এদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এর মাধ্যমে এটা বলা সম্ভব যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি এই নিসবত বা সম্পৃক্তকরণ সঠিক (صحيح) নয়। যদি তাঁর প্রতি এই সূত্রটি সঠিক (صحيح) হতো তবুও হাদিস বিশারদগণের নিকট এটি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হতো না, তবে এই বর্তমান অবস্থায় তো প্রশ্নই আসে না। অথচ মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চাচা এবং অন্যান্য সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে ইবনে জারির তাবারি তাঁর তাফসিরে, বাইহাকি তাঁর সুনানে এবং ইবনে আবি হাতিম তাঁর তাফসিরে যা বর্ণনা করেছেন, তার বিপরীত বিষয়টিই সাব্যস্ত হয়েছে। এর সাথে আরও যোগ করুন যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিশুদ্ধ (صحيহ) সূত্রসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে, যা সামনে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিজাব ও পর্দার নির্দেশের বিবরণে বিস্তারিত আসবে।
প্রথমে আপনাদের সামনে পেশ করছি সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। ইবনে জারির তাবারি তাঁর তাফসিরে বর্ণনা করেছেন, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইউনুস আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সাওরি আমাকে আবু ইসহাক আল-হামদানি থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি "তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণভাবেই প্রকাশ হয়ে যায় তা ব্যতীত" আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: এর অর্থ হলো পরিধেয় বস্ত্র।৩
আমি বলি: এর সূত্রটি (إسناد) অত্যন্ত বিশুদ্ধ (صحيح)। ইমাম ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে এই বর্ণনাটি (أثر)৪ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর ইমাম ইবনে জারির তাবারি অন্য একটি সূত্র (إسناد) উল্লেখ করে বলেন: মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান আমাদের বর্ণনা করেছেন: সুফিয়ান থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম সুয়ূতি বলেন: ইবনে জারির তাবারি, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং বাইহাকি তাঁর সুনান গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে মহান আল্লাহর বাণী "তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণভাবেই প্রকাশ হয়ে যায় তা ব্যতীত" এর ব্যাখ্যায় উদ্ধৃত করেছেন যে: তিনি বলেছেন: দৃশ্যমান সৌন্দর্য হলো "মুখমণ্ডল ও দুই কবজি" এবং চোখের সুরমা। অতঃপর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: এই সৌন্দর্য নারী তাঁর বাড়িতে প্রবেশকারীদের সামনে প্রকাশ করতে পারে। এরপর আয়াতে বলা হয়েছে: "তারা যেন তাদের স্বামী অথবা তাদের পিতাদের ব্যতীত অন্যদের নিকট সৌন্দর্য প্রকাশ না করে..." শেষ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আর যাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাদের সামনে নারী তাঁর কানের দুল ও গলার হার প্রকাশ করতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
وسوارها، وَأما خلْخَالهَا، ومعضدها، نحرها، وشعرها فَإِنَّهَا لَا تبديه إِلَّا لزَوجهَا1.
قلت: رِوَايَة ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا هَذِه قد اطَّلَعت على إسنادها عِنْد ابْن جرير الطَّبَرِيّ فِي تَفْسِيره ورجالها كلهم ثِقَات إِلَّا أَنَّهَا مُنْقَطِعَة لِأَن فِيهَا عَليّ بن أبي طَلْحَة الْمُتَوفَّى سنة 143هـ يروي عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا وَلم يلقه والواسطة بَينهمَا هُوَ مُجَاهِد بن جبر الْمَكِّيّ وَهُوَ إِمَام كَبِير ثِقَة ثَبت كَمَا لَا يخفى على أحد، وَقد احْتج بِهَذِهِ الرِّوَايَة، أَعنِي رِوَايَة عَليّ بن أبي طَلْحَة عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا البُخَارِيّ فِي الْجَامِع الصَّحِيح إِذْ أوردهَا فِي مَوَاضِع عديدة من كتاب التَّفْسِير معلقَة وَإِن كَانَت لَيست على شَرطه فِي الْجَامِع الصَّحِيح قَالَ ذَلِك الْحَافِظ فِي التَّهْذِيب340-7.
وَقَالَ الإِمَام الْمزي فِي تَهْذِيب الْكَمَال 488-5 مُشِيرا إِلَى رِوَايَة التَّفْسِير هَذِه ((فِي تَرْجَمَة عَليّ بن أبي طَلْحَة هُوَ مُرْسل عَن ابْن عَبَّاس وَبَينهمَا مُجَاهِد)) وَاعْتمد على هَذِه الرِّوَايَة عَلامَة الشَّام مُحَمَّد جمال الدّين القاسمي فِي تَفْسِيره 4909-63 وَالْإِمَام الْقُرْطُبِيّ فِي تَفْسِيره 243-14 وَكَذَلِكَ الإِمَام ابْن كثير فِي تَفْسِيره فِي مَوَاضِع عديدة فَكَانَت قَوِيَّة ومحتجا بهَا عِنْد عُلَمَاء التَّفْسِير وَغَيرهم، وَإِن ظَاهر الْقُرْآن وَالسّنة وآثار الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ تؤيدها فليعتمد عَلَيْهَا ويستأنس بهَا، قَالَ الله تَعَالَى فِي سُورَة الْأَحْزَاب فِي حق أُمَّهَات الْمُؤمنِينَ {وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعاً فَاسْأَلوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ} ، وَقَالَ الإِمَام ابْن كثير فِي تَفْسِير هَذِه الْآيَة: وكما نَهَيْتُكُمْ عَن الدُّخُول عَلَيْهِنَّ، وَكَذَلِكَ لَا تنظروا إلَيْهِنَّ بِالْكُلِّيَّةِ وَإِن كَانَ لأحدكم حَاجَة يُرِيد تنَاولهَا مِنْهُنَّ فَلَا ينظر إلَيْهِنَّ.
قلت: وَهَذَا الحكم عَام لجَمِيع المسلمات الْمُؤْمِنَات دون تَخْصِيص أُمَّهَات الْمُؤمنِينَ بِهِ، قَالَ تَعَالَى: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُم} الْآيَة، ثمَّ قَالَ جلّ وَعلا: {قُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ} ، وَقَالَ جلّ وَعلا: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُوراً رَحِيماً} ، وَلَقَد عرفنَا إِن شَاءَ الله تَعَالَى خلال سرد هَذِه الْآيَات الكريمات أَن الحكم عَام لَا يخْتَص بأمهات الْمُؤمنِينَ كَمَا نَص الْقُرْآن الْكَرِيم، وَلَقَد أَخطَأ الْعَلامَة القَاضِي عِيَاض فِي كِتَابه ((الشفا فِي حُقُوق الْمُصْطَفى)) إِذْ قَالَ رَحمَه الله تَعَالَى: إِن هَذَا الحكم
--------------------------------------------
এবং তার চুড়ি, আর তার পায়ের মল, বাজুবন্ধ, কন্ঠনালি ও চুল; সে তার স্বামী ব্যতীত অন্য কারো নিকট এগুলো প্রকাশ করবে না ১।
আমি বলছি: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা)-এর এই বর্ণনাটির সনদ (إسناد) আমি ইবনে জারীর তাবারীর তাফসীরে প্রত্যক্ষ করেছি। এর বর্ণনাকারীদের সকলেই নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে এটি বিচ্ছিন্ন (منقطعة)। কারণ এতে আলী ইবনে আবি তালহা (মৃত্যু: ১৪৩ হিজরি) রয়েছেন, যিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন অথচ তাঁর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। তাঁদের উভয়ের মধ্যবর্তী যোগসূত্র হলেন মুজাহিদ ইবনে জাবর আল-মাক্কী, যিনি একজন মহান ইমাম, নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت), যা কারো কাছেই অস্পষ্ট নয়। ইমাম বুখারী জামে সহীহ-এ এই বর্ণনাটিকে, অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা) থেকে আলী ইবনে আবি তালহার বর্ণনাটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন (احتج), কেননা তিনি তাফসীর অধ্যায়ের বহু স্থানে একে ঝুলন্ত (معلقة) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যদিও তা জামে সহীহ-এর জন্য তাঁর নির্ধারিত শর্তের (شرط) ওপর নয়। হাফিজ ইবনে হাজার তাহযীবুত তাহযীব গ্রন্থে (৭/৩৪০) একথা বলেছেন।
ইমাম মিযযী তাহযীবুল কামাল গ্রন্থে (৫/৪৮৮) তাফসীরের এই বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিত করে আলী ইবনে আবি তালহার জীবনীতে (ترجمة) বলেছেন: "এটি ইবনে আব্বাস থেকে বিচ্ছিন্ন (مرسل), এবং তাঁদের মাঝে মুজাহিদ রয়েছেন।" শাম-এর প্রখ্যাত আলেম মুহাম্মাদ জামালুদ্দিন কাসেমী তাঁর তাফসীরে (৬/৪৯০৯), ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসীরে (১৪/২৪৩) এবং একইভাবে ইমাম ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরের বহু স্থানে এই বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন। ফলে এটি তাফসীরবিদ ও অন্যান্য উলামাদের নিকট শক্তিশালী (قوية) এবং দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (محتجا بها) হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর কুরআন ও সুন্নাহর বাহ্যিক অর্থ এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের আসার (آثار) একে সমর্থন করে; সুতরাং এর ওপর নির্ভর করা উচিত এবং এর দ্বারা প্রমাণ গ্রহণ করা যায়। আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-আহযাবে উম্মাহাতুল মুমিনীনদের ব্যাপারে বলেছেন: {তোমরা যখন তাদের নিকট কিছু চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র}। ইমাম ইবনে কাসীর এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: "যেভাবে আমি তোমাদের তাদের নিকট প্রবেশ করতে নিষেধ করেছি, তেমনিভাবে তোমরা তাদের দিকে মোটেও তাকাবে না। যদি তোমাদের কারো তাদের থেকে কোনো কিছু নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে সে যেন তাদের দিকে না তাকিয়ে তা গ্রহণ করে।"
আমি বলছি: এই বিধান সকল মুসলিম মুমিন নারীদের জন্য সাধারণ, যা কেবল উম্মাহাতুল মুমিনীনদের সাথে নির্দিষ্ট নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন: {মুমিনদের বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে} (আয়াত)। অতঃপর মহান মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {মুমিন নারীদের বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং হিফাজত করে}। মহান মহিমান্বিত আল্লাহ আরও বলেন: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে, ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু}। আল্লাহ চাহেন তো এই মহান আয়াতগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, কুরআনুল কারীমের ভাষ্য অনুযায়ী এই বিধানটি সাধারণ এবং তা উম্মাহাতুল মুমিনীনদের সাথে নির্দিষ্ট নয়। আল্লামা কাজী আইয়ায তাঁর আশ-শিফা ফি হুকুুিল মুস্তফা গ্রন্থে ভুল করেছেন যখন তিনি (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই বিধানটি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
خَاص بأمهات الْمُؤمنِينَ وَقد رد عَلَيْهِ الْحَافِظ فِي الْفَتْح إِذْ قَالَ: قَالَ القَاضِي عِيَاض: فرض الْحجاب مِمَّا اختصصن بِهِ أَزوَاج النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَهُوَ فرض عَلَيْهِنَّ بِلَا خلاف فِي الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ فَلَا يجوز لَهُنَّ كشف ذَلِك فِي شَهَادَة وَلَا غَيرهَا، وَلَا إِظْهَار شخوصهن وَإِن كن مستترات إِلَّا مَا دعت إِلَيْهِ ضَرُورَة من برَاز الخ
… فَرد عَلَيْهِ الْحَافِظ إِذْ قَالَ: وَلَيْسَ فِيمَا ذكره دَلِيل على مَا ادَّعَاهُ، ثمَّ أَطَالَ الْحَافِظ الْكَلَام على القَاضِي عِيَاض1.
قلت: دَعْوَى الِاخْتِصَاص لم تدعم بِدَلِيل من الْكتاب وَالسّنة، بل ظَاهر الْكتاب وَالسّنة يخالفانها كَمَا سبق.
قَالَ الْعَلامَة ابْن كثير مُفَسرًا قَوْله تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ
…} الْآيَة قَالَ: الجلباب هُوَ الرِّدَاء فَوق الْخمار، قَالَه ابْن مَسْعُود، وَعبيدَة السَّلمَانِي، وَقَتَادَة، وَالْحسن الْبَصْرِيّ، وَسَعِيد بن جُبَير، وَإِبْرَاهِيم النَّخعِيّ، وَعَطَاء الْخُرَاسَانِي، وَغير وَاحِد وَهُوَ بِمَنْزِلَة الْإِزَار الْيَوْم اهـ، قلت: تلبسه الْيَوْم النِّسَاء المورتانيات وَبَعض السودانيات، ثمَّ قَالَ: قَالَ عَليّ بن أبي طَلْحَة عَن ابْن عَبَّاس: أَمر الله نسَاء الْمُؤمنِينَ إِذا خرجن من بُيُوتهنَّ فِي حَاجَة أَن يغطين وجوههن من فَوق رؤوسهن بالجلابيب، ويبدين عينا وَاحِدَة، وَقَالَ مُحَمَّد بن سِيرِين سَأَلت عُبَيْدَة السَّلمَانِي عَن قَول الله تَعَالَى: {يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلابِيبِهِنّ} فَغطّى وَجهه، وَرَأسه، وأبرز عينه الْيُسْرَى أهـ.
أورد هَذَا الْأَثر السُّيُوطِيّ فِي المنثور 221-5 وَقَالَ: أخرجه الْفرْيَابِيّ، وَعبد ابْن حميد، وَابْن جرير الطَّبَرِيّ، وَابْن الْمُنْذر، وَابْن أبي حَاتِم عَن مُحَمَّد بن سِيرِين.
قلت: أخرجه ابْن جرير فِي التَّفْسِير إِذْ قَالَ: حَدثنِي يَعْقُوب، قَالَ: ثَنَا ابْن علية، عَن ابْن عَوْف، عَن مُحَمَّد، عَن عُبَيْدَة، ثمَّ ذكر الْأَثر بِطُولِهِ2. قلت: رجال إِسْنَاده كلهم ثِقَات: يَعْقُوب هُوَ ابْن إِبْرَاهِيم الدَّوْرَقِي ثِقَة، ابْن علية هُوَ إِسْمَاعِيل بن علية إِمَام كَبِير ثِقَة، وَابْن عَوْف هُوَ عبد الله بن عَوْف الْمُزنِيّ أحد الْأَعْلَام ثِقَة ثَبت، وَمُحَمّد هُوَ مُحَمَّد بن سِيرِين أحد الْأَعْلَام التَّابِعين، وَعبيدَة هُوَ السَّلمَانِي إِمَام ثِقَة زاهد، فَكَانَ هَذَا الْإِسْنَاد صَحِيحا وَلَيْسَ بَينهم انْقِطَاع كَمَا لَا يخفي على من لَهُ علم بأسماء الرِّجَال، وَلَا يخفى على أحد أَيْضا منزلَة عُبَيْدَة السَّلمَانِي العلمية إِذْ هُوَ علم من الْأَعْلَام
--------------------------------------------
এটি উম্মুল মুমিনীনগণের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে এর উত্তর দিয়েছেন যখন তিনি বলেন: কাজী আইয়াজ বলেছেন: পর্দা ফরয হওয়া সেই বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সুতরাং চেহারা ও কব্জি পর্যন্ত হাত আবৃত রাখার ক্ষেত্রে কোনো মতভেদ ছাড়াই এটি তাদের ওপর ফরয। তাই সাক্ষ্য প্রদান বা অন্য কোনো কারণে তাদের জন্য তা প্রকাশ করা বৈধ নয়, এমনকি তারা আবৃত থাকলেও তাদের শরীরের অবয়ব প্রকাশ করা জায়েয নয়, যদি না শৌচাগারে যাওয়ার মতো কোনো জরুরত দেখা দেয়
… অতঃপর হাফেজ তার প্রতিবাদ করে বলেন: তিনি যা উল্লেখ করেছেন তাতে তার দাবির পক্ষে কোনো দলিল নেই। এরপর হাফেজ কাজী আইয়াজের প্রসঙ্গের ওপর দীর্ঘ আলোচনা করেছেন ১।
আমি বলছি: এই বিশেষত্বের দাবিটি কুরআন ও সুন্নাহর কোনো দলিলের মাধ্যমে সমর্থিত নয়; বরং কুরআন ও সুন্নাহর প্রকাশ্য বক্তব্য এর বিরোধী, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
আল্লামা ইবনে কাসির মহান আল্লাহর বাণী: {হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিন নারীদের বলুন
…} এই আয়াতের তাফসিরে বলেন: জিলবাব হলো ওড়নার ওপর পরিধান করার চাদর। এটি ইবনে মাসউদ, উবাইদাহ আস-সালমানি, কাতাদাহ, হাসান বসরী, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, ইব্রাহিম নাখয়ি, আতা আল-খুরাসানি এবং আরও অনেকে বলেছেন। এটি বর্তমান সময়ের ইজারের সমতুল্য। আমি বলছি: এটি বর্তমানে মৌরিতানিয়ার মহিলারা এবং কিছু সুদানি মহিলারা পরিধান করেন। এরপর তিনি বলেন: আলী ইবনে আবু তালহা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: "আল্লাহ মুমিনদের নারীদের আদেশ দিয়েছেন যে, যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন তাদের মাথার ওপর থেকে জিলবাব দিয়ে তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে নেয় এবং কেবল একটি চোখ খোলা রাখে।" মুহাম্মদ ইবনে সিরিন বলেন, আমি উবাইদাহ আস-সালমানিকে আল্লাহর বাণী: {তারা যেন তাদের ওপর তাদের জিলবাবের কিছু অংশ টেনে নেয়} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তার মুখ ও মাথা ঢেকে নিলেন এবং তার বাম চোখটি উন্মুক্ত রাখলেন।
সুয়ূতী এই আছারটি (أثر) আদ-দুররুল মানসুর-এ (৫/২২১) উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ফিরইয়াবি, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারির আল-তাবারী, ইবনুল মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম মুহাম্মদ ইবনে সিরিন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
আমি বলছি: ইবনে জারির তার তাফসির গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন যখন তিনি বলেন: ইয়াকুব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উলাইয়্যাহ আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে আউন থেকে, মুহাম্মদ থেকে, উবাইদাহ থেকে, এরপর তিনি পূর্ণ আছারটি (أثر) দীর্ঘভাবে উল্লেখ করেছেন ২। আমি বলছি: এর সনদের (إسناد) সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য (ثقات): ইয়াকুব হলেন ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাওরাকী যিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), ইবনে উলাইয়্যাহ হলেন ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহ যিনি একজন মহান ইমাম ও নির্ভরযোগ্য (ثقة), ইবনে আউন হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আউন আল-মুজানি যিনি অন্যতম প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (ثقة ثبت) বর্ণনাকারী, মুহাম্মদ হলেন মুহাম্মদ ইবনে সিরিন যিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ তাবিঈ, এবং উবাইদাহ হলেন আস-সালমানি যিনি একজন ইমাম, নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও জাহিদ (দুনিয়াত্যাগী)। সুতরাং এই সনদটি (إسناد) বিশুদ্ধ (صحيح) এবং তাদের মাঝে কোনো বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) নেই যেমনটি রিজাল শাস্ত্র (أسماء الرجال) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ব্যক্তিদের নিকট গোপন নয়। উবাইদাহ আস-সালমানির ইলমি মর্যাদাও কারো কাছে অস্পষ্ট নয়, কেননা তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
التَّابِعين الْكِبَار، ومخضرم ثِقَة، ثَبت، قَالَ الْحَافِظ فِي التَّهْذِيب: كَانَ شُرَيْح القَاضِي إِذا أشكل عَلَيْهِ شَيْء من أَمر دينه سَأَلَهُ، وَرجع إِلَيْهِ، قَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ: عُبَيْدَة بن عَمْرو السَّلمَانِي الْمرَادِي، الْكُوفِي، الْفَقِيه الْعلم، كَاد أَن يكون صحابيا، أسلم زمن الْفَتْح بِالْيمن، وَأخذ الْعلم عَن عَليّ، وَابْن مَسْعُود، قَالَ الشّعبِيّ: كَانَ يوازي شريحا فِي الْقَضَاء، وَقَالَ الْعجلِيّ: عُبَيْدَة أحد أَصْحَاب عبد الله بن مَسْعُود الَّذين يقرءُون، ويفتون النَّاس، وَقَالَ ابْن سِيرِين: مَا رَأَيْت رجلا أَشد توقيا من عُبَيْدَة، وَكَانَ مكثرا عَنهُ1، ومجد شَأْنه الْحَافِظ الْمزي فِي تَهْذِيب الْكَمَال، وَرفع مَنْزِلَته فَليرْجع إِلَيْهِ من شَاءَ، فَهُوَ إِمَام كَبِير، يَأْتِي تَفْسِيره هَذَا مُوَافقا لكتاب الله تَعَالَى، وَسنة رَسُوله صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ الإِمَام عَليّ بن حزم الأندلسي: الجلباب فِي لُغَة الْعَرَب الَّتِي خاطبنا بهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم هُوَ مَا غطى جَمِيع الْجِسْم لَا بعضه2، وَصَححهُ الْقُرْطُبِيّ فِي تَفْسِيره، فالعاقل اللبيب يفهم أثْنَاء نظرته فِي هَاتين الْآيَتَيْنِ الكريمتين مَا أَمر الله تَعَالَى بِهِ الْمُؤمنِينَ، وَالْمُؤْمِنَات من السّتْر والغطاء، وخاصة أُمَّهَات الْمُؤمنِينَ لشدَّة حرمتهن، وشرفهن وعظمتهن، لكونهن زَوْجَات النَّبِي صلى الله عليه وسلم.
وَقَالَ جلّ وَعلا: {وَلا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} نهاهن جلّ وَعلا بِضَرْب الأرجل على الأَرْض بالشدة، لِئَلَّا يسمع صَوت الخلاخيل الَّتِي فِي أرجلهن خوفًا على شرفهن، وسدا للذرائع، ومنعا لوُقُوع الْفَاحِشَة، فَهَذَا غَايَة فِي الصون وَالْحِفْظ، فَإِذا كَانَ صَوت الخلاخيل مَمْنُوعًا بِهَذَا النَّص الْكَرِيم فَكيف يجوز للْمُسلمِ أَن يَقُول أَن الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ ليستا من الْعَوْرَة جَازَ كشفهما أَمَام الْأَجَانِب اعْتِمَادًا على تِلْكَ الرِّوَايَات الضعيفة الْمُنكرَة وَالَّتِي لم تصح أسانيدها.
أخرج البُخَارِيّ وَمُسلم فِي صَحِيحهمَا وَالْإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده، وَابْن جرير الطَّبَرِيّ فِي تَفْسِيره، وَابْن سعد فِي الطَّبَقَات الْكُبْرَى، وَالْإِمَام الْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن الْكُبْرَى عَن عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا، قَالَت عَائِشَة خرجت سَوْدَة بنت زَمعَة بَعْدَمَا ضرب الْحجاب لحاجتها، وَكَانَت امْرَأَة جسيمة لَا تخفى على من يعرفهَا، فرآها عمر بن الْخطاب رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ، فَقَالَ: يَا سَوْدَة أما وَالله مَا تخفين علينا، فانظري كَيفَ
--------------------------------------------
তিনি জ্যেষ্ঠ তাবেয়ীদের (التابعين الكبار) অন্তর্ভুক্ত এবং একজন মুখাজরাম (مخضرم), নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت) বর্ণনাকারী ছিলেন। হাফিজ ইবনে হাজার 'তাহজীব' গ্রন্থে বলেন: বিচারক শুরাইহ যখনই তাঁর দ্বীনি বিষয়ের কোনো বিষয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন এবং তাঁর শরণাপন্ন হতেন। ইমাম যাহাবি বলেন: উবাইদাহ বিন আমর আস-সালমানি আল-মুরাদি, আল-কুফি; তিনি ছিলেন একজন বিজ্ঞ ফকিহ ও আলিম, তিনি প্রায় সাহাবি হওয়ার মর্যাদায় আসীন ছিলেন। তিনি মক্কা বিজয়ের সময় ইয়ামেনে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আলী ও ইবনে মাসউদ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। শাবি বলেন: বিচারকার্যে তিনি শুরাইহর সমকক্ষ ছিলেন। আজলি বলেন: উবাইদাহ ছিলেন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদের সেই সব সাথীদের একজন যারা কুরআন পাঠ করতেন এবং মানুষকে ফতোয়া দিতেন। ইবনে সিরিন বলেন: আমি উবাইদাহর চেয়ে অধিক সতর্ক ব্যক্তি আর কাউকে দেখিনি। তিনি তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করতেন এবং হাফিজ মিযযি 'তাহজীবুল কামাল' গ্রন্থে তাঁর প্রশংসা করেছেন ও তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন; যে ইচ্ছা করে সে সেখানে দেখে নিতে পারে। তিনি একজন মহান ইমাম। তাঁর এই তাফসির মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর অনুকূলে। ইমাম আলী বিন হাজম আল-আন্দালুসি বলেন: আরবি ভাষায় জিলবাব—যেই ভাষায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সম্বোধন করেছেন—তা হলো যা পুরো শরীরকে আবৃত করে, শরীরের একাংশকে নয়। কুরতুবি তাঁর তাফসিরে একে শুদ্ধ (صحيح) বলে অভিহিত করেছেন। সুতরাং বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি এই দুটি মহিমান্বিত আয়াতের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে বুঝতে পারবেন যে মহান আল্লাহ মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের পর্দা ও শরীর আবৃত রাখার ব্যাপারে কী নির্দেশ দিয়েছেন; বিশেষ করে উম্মাহাতুল মুমিনিনদের জন্য তাদের কঠোর পবিত্রতা, মর্যাদা ও সম্মানের কারণে, যেহেতু তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ছিলেন।
মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} মহান আল্লাহ তাদের মাটিতে সজোরে পা আঘাত করতে নিষেধ করেছেন, যাতে তাদের পায়ে থাকা মল বা অলংকারের শব্দ শোনা না যায়। এটি তাদের মর্যাদা রক্ষার জন্য, অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করার জন্য এবং অশ্লীলতা রোধ করার জন্য; এটি হলো সুরক্ষা ও সংরক্ষণের চূড়ান্ত পর্যায়। যদি এই সম্মানিত দলিলের মাধ্যমে অলংকারের আওয়াজ নিষিদ্ধ হয়, তবে একজন মুসলমানের পক্ষে কীভাবে বলা বৈধ হতে পারে যে মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি সতর নয় এবং বেগানা পুরুষদের সামনে তা প্রকাশ করা জায়েজ—সেই সব দুর্বল (ضعيفة) ও প্রত্যাখ্যাত (منكرة) বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে যাদের সনদগুলো (أسانيد) শুদ্ধ (صحيح) নয়।
বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ গ্রন্থে, ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে, ইবনে জারির তাবারী তাঁর তাফসিরে, ইবনে সাদ তাবাকাতে কুবরায় এবং ইমাম বায়হাকি সুনানে কুবরায় আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর সওদা বিনতে জামআ তাঁর প্রয়োজনে বাইরে বের হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দীর্ঘদেহী মহিলা, তাই যারা তাঁকে চিনতেন তাদের কাছে তিনি অগোচর থাকতেন না। উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে দেখতে পেয়ে বললেন: হে সওদা, আল্লাহর কসম, তুমি আমাদের কাছে গোপন নও। সুতরাং লক্ষ্য করো কীভাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
تخرجين؟ قَالَت: فَانْكَفَأت رَاجِعَة، وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِي، وَإنَّهُ ليتعشى، وَفِي يَده عرق (هُوَ الْعظم إِذا أَخذ مِنْهُ مُعظم اللَّحْم) ، فَدخلت، فَقَالَت: يَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنِّي خرجت لبَعض حَاجَتي فَقَالَ لي عمر كَذَا، وَكَذَا قَالَت: فَأوحى الله إِلَيْهِ، ثمَّ رفع عَنهُ، وَإِن الْعرق فِي يَده، مَا وَضعه فَقَالَ: "إِنَّه أذن لكم أَن تخرجن لحاجتكن الحَدِيث".
قلت: الشَّاهِد مَعْرُوف من هَذَا الحَدِيث وَهُوَ أَن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ لم يعرف سَوْدَة من وَجههَا وكفيها، وَإِنَّمَا عرفهَا من جسامة جسمها فَدلَّ على أَنَّهَا كَانَت مستورة الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ وَهَذَا هُوَ معنى الْحجاب أَعنِي تَغْطِيَة الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ وَسَائِر الْجِسْم، وَإِذا لم يكن هَذَا الْمَعْنى مرَادا فَمَاذَا كَانُوا يغطون قبل نزُول الْحجاب، وَهَذَا أَمر فِي غَايَة الوضوح وَالْبَيَان، إِذا لم تكن سَوْدَة بنت زَمعَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا مستورة الْوَجْه عِنْد خُرُوجهَا من بَيت النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَكيف يُقَال فِي حَقّهَا وَحقّ غَيرهَا من أُمَّهَات الْمُؤمنِينَ رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُن أَنَّهُنَّ امتثلن الْأَمر الإلهي بالحجاب، وَمَعَ الْعلم أَن ستر الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ لَهُ أصل فِي السّنة النَّبَوِيَّة وَقد كَانَ ذَلِك معهودا فِي زَمَنه صلى الله عليه وسلم كَمَا يُشِير إِلَيْهِ قَوْله صلى الله عليه وسلم: "لَا تتنقب الْمَرْأَة الْمُحرمَة، وَلَا تلبس القفازين" والْحَدِيث أخرجه البُخَارِيّ، وَالنَّسَائِيّ وَالْإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده، وَالْبَيْهَقِيّ فِي سنَنه الْكُبْرَى، من حَدِيث عبد الله بن عمر مَرْفُوعا، وَحَدِيث آخر، أخرجه البُخَارِيّ، وَمُسلم، وَالْإِمَام أَحْمد فِي الْمسند، وَابْن جرير الطَّبَرِيّ فِي تَفْسِيره من حَدِيث عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا فِي حَدِيث الْإِفْك، قَالَت: فَبَيْنَمَا أَنا جالسة فِي منزلي غلبتني عَيْني فَنمت، وَكَانَ صَفْوَان ابْن الْمُعَطل السّلمِيّ ثمَّ الذكواني من وَرَاء الْجَيْش فأدلج، فَأصْبح عِنْد منزلي فَرَأى سَواد إِنْسَان نَائِم، فَأَتَانِي، فعرفني حِين رَآنِي، وَكَانَ يراني قبل الْحجاب، فَاسْتَيْقَظت باسترجاعه (أَي قَالَ إِنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون) حِين عرفني فخمرت وَجْهي بجلبابي الحَدِيث
…قلت: فِي هَذَا الحَدِيث شَاهد قوي، وَدَلِيل وَاضح على أَن الْوَجْه عَورَة وَلذَا خمرت وَجههَا الصديقة بنت الصّديق رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا، وَنَحْو هَذَا الحَدِيث مَا أخرجه الإِمَام أَحْمد فِي الْمسند، وَالْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن الْكُبْرَى، وَأَبُو دَاوُود فِي السّنَن بِإِسْنَاد صَحِيح عَن عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا قَالَت: كَانَ الركْبَان يَمرونَ بِنَا، وَنحن مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مُحرمَات، فَإِذا حاذوا بِنَا
...বাইরে বের হচ্ছো? তিনি বললেন: তখন আমি ফিরে আসলাম, আর আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে ছিলেন। তিনি তখন রাতের খাবার খাচ্ছিলেন, আর তাঁর হাতে ছিল একটি মাংসল হাড় (عرق) (আর তা হলো সেই হাড় যার অধিকাংশ মাংস খেয়ে নেওয়া হয়েছে)। আমি প্রবেশ করলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমি আমার প্রয়োজনে বের হয়েছিলাম, তখন উমর আমাকে এই এই কথা বলেছে। তিনি বললেন: তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি ওহি নাজিল হলো। তারপর ওহির অবস্থা তাঁর থেকে অপসারিত হলো, অথচ সেই মাংসল হাড়টি তখনও তাঁর হাতেই ছিল, তিনি তা রাখেননি। তখন তিনি বললেন: "তোমাদের প্রয়োজনে তোমাদের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে" হাদিসটি শেষ পর্যন্ত।
আমি বলি: এই হাদিসের সাক্ষ্যমূলক বিষয়টি (الشاهد) সুপরিচিত, আর তা হলো উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সাওদা (রা.)-কে তাঁর মুখমণ্ডল বা কবজি দেখে চিনতে পারেননি, বরং তাঁকে চিনেছিলেন তাঁর শরীরের বিশাল আকৃতি দেখে। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই কবজি আবৃত রেখেছিলেন। আর পর্দার অর্থও এটিই, অর্থাৎ মুখমণ্ডল, দুই কবজি এবং পুরো শরীর ঢেকে রাখা। যদি এই অর্থটিই উদ্দেশ্য না হতো, তবে পর্দার বিধান নাজিল হওয়ার আগে তাঁরা কী ঢাকতেন? এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও বিবৃত বিষয়। যদি সাওদা বিনতে জামআ রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মুখমণ্ডল আবৃত না রাখতেন, তবে তাঁর এবং অন্যান্য উম্মাহাতুল মুমিনিনদের সম্পর্কে কীভাবে বলা সম্ভব যে তাঁরা পর্দার ব্যাপারে ঐশী নির্দেশ পালন করেছেন? অথচ এটি সবারই জানা যে, মুখমণ্ডল ও কবজি আবৃত রাখার ভিত্তি নববী সুন্নাহর মাঝে বিদ্যমান এবং তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে প্রচলিত ছিল। যেমনটি তাঁর এই বাণী ইঙ্গিত দেয়: "ইহরাম গ্রহণকারী নারী যেন নেকাব না পরে এবং হাতমোজা না পরে।" হাদিসটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, নাসায়ি, ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে এবং বায়হাকি তাঁর সুনানুল কুবরায়। এটি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত উর্ধ্বমুখী (مرفوعا) হাদিস। আরেকটি হাদিস, যা বর্ণনা করেছেন বুখারি, মুসলিম, ইমাম আহমদ মুসনাদে এবং ইবনে জারির তাবারী তাঁর তাফসির গ্রন্থে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সূত্রে ইফকের (মিথ্যা অপবাদের) ঘটনায়। তিনি বলেছেন: "আমি যখন আমার জায়গায় বসে ছিলাম, তখন আমার চোখে ঘুম চলে এল এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল আস-সুলামি তারপর আদ-দাকওয়ানি সেনাবাহিনীর পেছন দিক থেকে আসছিলেন এবং রাতের শেষ ভাগে পথ চলছিলেন। ভোরবেলা তিনি আমার অবস্থানের জায়গায় পৌঁছালেন এবং একজন ঘুমন্ত মানুষের অবয়ব দেখতে পেলেন। তিনি আমার কাছে আসলেন এবং আমাকে দেখার সাথে সাথে চিনে ফেললেন। তিনি পর্দার বিধান নাজিল হওয়ার আগে আমাকে দেখেছিলেন। তিনি যখন আমাকে চিনতে পেরে 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' (استرجاعه) পাঠ করলেন, তখন আমি জেগে উঠলাম এবং আমার জিলবাব দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে ফেললাম।" হাদিসটি শেষ পর্যন্ত
…আমি বলি: এই হাদিসে একটি শক্তিশালী সাক্ষ্য (شاهد) এবং স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে মুখমণ্ডল গোপনযোগ্য অঙ্গ বা সতর (عورة)। আর এ কারণেই সিদ্দীকা বিনতে সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুমা তাঁর মুখমণ্ডল ঢেকে নিয়েছিলেন। অনুরূপ একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ মুসনাদে, বায়হাকি সুনানুল কুবরায় এবং আবু দাউদ তাঁর সুনানে একটি বিশুদ্ধ (صحيح) সূত্রের (بإسناد) মাধ্যমে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আরোহীরা আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন যখন আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। তারা যখন আমাদের সমান্তরালে আসতেন..."
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
أسدلت إحدانا جلبابها من رَأسهَا على وَجههَا، فَإِذا جاوزناه كشفناه، وَكَذَا حَدِيث أخرجه الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك من حَدِيث أَسمَاء بنت أبي بكر الصّديق رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا قَالَت: كُنَّا نغطي وُجُوهنَا من الرِّجَال، وَكُنَّا نمتشط قبل الْإِحْرَام، وَقَالَ الْحَاكِم على شَرط الشَّيْخَيْنِ، قَالَ العَبْد الْفَقِير: وَفِي الْبَاب أَحَادِيث كَثِيرَة وَهِي صَحِيحَة الْإِسْنَاد يجب الْعَمَل بهَا، دون الْأَحَادِيث الَّتِي مر ذكرهَا، وَهِي ضَعِيفَة مُنكرَة وَلَا يجوز التَّمَسُّك بهَا، وَلَو كَانَت صَحِيحَة الْإِسْنَاد لم تكن بِحجَّة، فَكيف بِهَذِهِ الْحَال كَمَا ذكر آنِفا، وَهُنَاكَ حَدِيث صَحِيح الْإِسْنَاد أخرجه الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده، وَالتِّرْمِذِيّ فِي السّنَن وَصَححهُ، وَكَذَا الدَّارمِيّ فِي سنَنه قَالَ الإِمَام أَحْمد: حَدثنَا حجاج، ثَنَا لَيْث، حَدثنِي يزِيد بن أبي حبيب، عَن أبي الْخَيْر، عَن عقبَة بن عَامر، أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إيَّاكُمْ وَالدُّخُول على النِّسَاء"، فَقَالَ رجل من الْأَنْصَار يَا رَسُول الله: أَفَرَأَيْت الحمو قَالَ: "الحمو الْمَوْت" انْظُر الْمسند 149-4 و153-4، فَالْحَدِيث فِيهِ دلَالَة وَاضِحَة على أَنه لَا يجوز دُخُول الْأَجْنَبِيّ على الْأَجْنَبِيَّة وَكَذَا قريب الزَّوْج من أَخ، وَعم وَنَحْو ذَلِك، وَفِي رِوَايَة لمُسلم فِي الصَّحِيح عَن أبي الطَّاهِر عَن ابْن وهب، قَالَ: سَمِعت اللَّيْث يَقُول: الحمو أَخُو الزَّوْج، وَمَا أشبهه من أقَارِب الزَّوْج وَابْن الْعم وَنَحْوه، وَفِي الحَدِيث تَغْلِيظ شَدِيد، وتنبيه خطير، من الدُّخُول على النِّسَاء، وَقَالَ الإِمَام ابْن الْأَثِير فِي النِّهَايَة 448-1: لَا يخلون رجل بأجنبية، وَإِن قيل حموها، ألآ حموها الْمَوْت، أحد الأحماء، أقَارِب الزَّوْج، وَالْمعْنَى فِيهِ، أَنه إِذا كَانَ رَأْيه هَذَا فِي أخي الزَّوْج، وَمَا شابهه وَهُوَ قريب، فَكيف بالغريب، أَي فلتمت، وَلَا تفعل ذَلِك، وَهَذِه الْكَلِمَة تَقُولهَا الْعَرَب كَمَا تَقول الْأسد، وَالسُّلْطَان، وَالنَّار أَي لقاءهما مثل الْمَوْت، وَالنَّار يَعْنِي أَن خلْوَة ابْن عَم الزَّوْج مَعهَا أَشد من خلْوَة غَيره من الغرباء، لِأَنَّهُ رُبمَا حسن لَهَا أَشْيَاء، حملهَا على أُمُور تثقل على الزَّوْج من التمَاس مَا لَيْسَ فِي وَسعه، أَو سوء عشرته، أَو غير ذَلِك اهـ.
قلت: فَإِذا كَانَ الْوَجْه والكفان ليستا من الْعَوْرَة، وَجَاز للنِّسَاء كشفهما أَمَام الْأَجَانِب، فلماذا هَذَا التَّشْدِيد فِي هَذِه الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة، ولماذا هَذَا التَّنَاقُض بَين تِلْكَ الْأَحَادِيث، وَقد سبق أَن قلت: تِلْكَ الْأَحَادِيث غير صَحِيحَة، فَلَا يجوز أَن يُقَال إِنَّهَا متعارضة مَعَ هَذِه الْأَحَادِيث الصَّحِيحَة الَّتِي فِيهَا التَّغْلِيظ الشَّديد، وَالتَّحْرِيم الموثق،
আমাদের মধ্যে কেউ কেউ তার জিলবাব মাথার ওপর থেকে চেহারার ওপর ঝুলিয়ে দিতেন, অতঃপর যখন আমরা পুরুষদের অতিক্রম করে যেতাম তখন তা সরিয়ে নিতাম। অনুরূপভাবে ইমাম হাকেম মুস্তাদরাক গ্রন্থে আসমা বিনতে আবি বকর সিদ্দীক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা পুরুষদের থেকে আমাদের মুখমণ্ডল আবৃত রাখতাম এবং ইহরামের পূর্বে কেশ বিন্যাস করতাম।" হাকেম বলেছেন, এই হাদিসটি শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্ত (شرط) অনুযায়ী হয়েছে। এই অধম লেখক বলেন: এই বিষয়ে অনেক হাদিস রয়েছে এবং সেগুলো বিশুদ্ধ সনদবিশিষ্ট (صحيحة الإسناد), যার ওপর আমল করা আবশ্যক; ওই হাদিসগুলো ছাড়া যেগুলোর কথা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ সেগুলো দুর্বল (ضعيفة) ও অগ্রহণযোগ্য (منكرة) এবং সেগুলো আঁকড়ে ধরা জায়েজ নয়। এমনকি সেগুলো যদি বিশুদ্ধ সনদবিশিষ্ট (صحيحة الإسناد) হতো তবুও সেগুলো দলিল হিসেবে গণ্য হতো না; তাহলে ইতিপূর্বে বর্ণিত অবস্থায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা কীভাবে সম্ভব? এছাড়া সেখানে একটি বিশুদ্ধ সনদবিশিষ্ট (صحيح الإسناد) হাদিস রয়েছে যা ইমাম আহমাদ তার মুসনাদ গ্রন্থে এবং তিরমিজি তার সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং একে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন। অনুরূপভাবে দারেমিও তার সুনান গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেন: আমাদের নিকট হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট লাইস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, তিনি আবুল খায়ের থেকে এবং তিনি উকবা বিন আমির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা নারীদের নিকট প্রবেশ করা থেকে বেঁচে থাকো।" তখন আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, দেবর (স্বামীর নিকটাত্মীয়) সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: "দেবর তো মৃত্যু।" (দ্রষ্টব্য: মুসনাদ ৪/১৪৯ এবং ৪/১৫৩)। সুতরাং হাদিসটিতে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, কোনো পরপুরুষের জন্য কোনো পরনারীর নিকট প্রবেশ করা বৈধ নয়। একইভাবে স্বামীর নিকটাত্মীয় যেমন ভাই, চাচা ও এই জাতীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। সহিহ মুসলিম-এর একটি বর্ণনায় আবু তাহির থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি লাইসকে বলতে শুনেছি যে, 'হামউ' বলতে স্বামীর ভাই এবং তার সমপর্যায়ের নিকটাত্মীয় যেমন চাচাতো ভাই বা অনুরূপ ব্যক্তিদের বোঝায়। এই হাদিসে নারীদের নিকট প্রবেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোরতা এবং গুরুতর সতর্কবাণী রয়েছে। ইমাম ইবনুল আসির আন-নিহায়া (১/৪৪৮) গ্রন্থে বলেছেন: কোনো পুরুষ যেন কোনো বেগানা নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান না করে, যদিও বলা হয় সে তার 'হামউ' (স্বামীর নিকটাত্মীয়)। জেনে রেখো, তার 'হামউ' হলো মৃত্যু। 'হামউ' বলতে স্বামীর নিকটাত্মীয়দের একজনকে বোঝায়। এর অর্থ হলো, স্বামীর ভাই বা তার সদৃশ নিকটাত্মীয়দের ব্যাপারে যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এমন অভিমত হয়, তবে অপরিচিত পরপুরুষের ক্ষেত্রে বিধান কী হবে? অর্থাৎ তুমি বরং মৃত্যুবরণ করো, তবুও এমনটি করো না। আরবরা এই শব্দটি সেভাবেই ব্যবহার করে যেমন তারা সিংহ, সুলতান কিংবা আগুনের ক্ষেত্রে বলে থাকে; অর্থাৎ তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা মৃত্যু কিংবা আগুনের সদৃশ। এর তাৎপর্য হলো, স্বামীর চাচাতো ভাইয়ের সাথে নির্জনে অবস্থান করা অন্য সাধারণ অপরিচিতদের চেয়েও অধিক ভয়াবহ। কারণ সে হয়তো স্ত্রীর নিকট অনেক কিছু সুশোভিত করে তুলে ধরে তাকে এমন সব বিষয়ে প্ররোচিত করতে পারে যা স্বামীর জন্য কষ্টদায়ক হয়; যেমন স্বামীর সাধ্যের বাইরে কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষা করা, কিংবা স্বামীর সাথে অসদাচরণ করা অথবা অন্য কিছু।
আমি বলি: যদি মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি আবৃত রাখার মতো বিষয় না হতো এবং পরপুরুষের সামনে নারীদের জন্য তা উন্মুক্ত রাখা জায়েজ হতো, তবে এই সকল বিশুদ্ধ (صحيحة) হাদিসে এত কঠোরতা কেন করা হলো? এবং ওই হাদিসগুলোর সাথে এই হাদিসগুলোর বৈপরীত্য কেন থাকল? আমি ইতিপূর্বেই বলেছি যে, ওই হাদিসগুলো বিশুদ্ধ নয় (غير صحيحة); সুতরাং সেগুলোকে এই সকল বিশুদ্ধ (صحيحة) হাদিসের মোকাবিলায় পরস্পরবিরোধী (متعارضة) বলা সমীচীন নয়, যেগুলোতে অত্যন্ত কঠোরতা এবং সুনিশ্চিত নিষেধাজ্ঞা বিদ্যমান রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
فَلَو كَانَت تِلْكَ الْأَحَادِيث والْآثَار الَّتِي يسْتَدلّ بهَا بعض النَّاس على جَوَاز كشف الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ صَحِيحَة الْإِسْنَاد لكَانَتْ شَاذَّة غير مَحْفُوظَة فِي أنظار أهل الحَدِيث، فَكيف هِيَ ضَعِيفَة مُنكرَة، فَلَا يحْتَج بهَا بِحَال من الْأَحْوَال، فَلَا يَنْبَغِي أَن يُقَال: بعد هَذَا النَّقْل أَن الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ ليستا من الْعَوْرَة استنادا على قَول ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ الَّذِي سبق بَيَانه من نَاحيَة الْإِسْنَاد، وَأما حَدِيث الخثعمية الَّذِي أخرجه الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده، وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم فِي صَحِيحهمَا من حَدِيث عَليّ بن أبي طَالب رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ وَكَذَا من حَدِيث الْفضل بن عَبَّاس وَغَيرهمَا من الصَّحَابَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُم، قَالَ عَليّ بن أبي طَالب رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ فِي حَدِيثه عِنْد الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده.. واستفتته جَارِيَة شَابة من خثعم، فَقَالَت إِن أبي شيخ كَبِير قد أفند، وَقد أَدْرَكته فَرِيضَة الله فِي الْحَج، فَهَل يُجزئ عَنهُ أَن أؤدي عَنهُ، قَالَ: "فأدي عَن أَبِيك"، قَالَ عَليّ بن أبي طَالب رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ: "ولوى عنق الْفضل فَقَالَ لَهُ الْعَبَّاس: يَا رَسُول الله لم لويت عنق ابْن عمك؟ قَالَ: "رَأَيْت شَابًّا، وشابة فَلم آمن الشَّيْطَان عَلَيْهِمَا"، ثمَّ ذكر بَقِيَّة الحَدِيث.
قلت: لَا حجَّة فِي الحَدِيث للَّذين يَقُولُونَ بِجَوَاز كشف الْوَجْه، وَالْكَفَّيْنِ لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم أنكر على الْفضل بن عَبَّاس إنكارا باتا، بِأَن لوى عُنُقه، وَصَرفه إِلَى جِهَة أُخْرَى، وَكَانَ فِي هَذَا الصَّنِيع من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنْكَار وَاضح لِأَنَّهُ أنكر بِالْيَدِ، وَقَالَ الْحَافِظ فِي الْفَتْح 68-4: مُشِيرا إِلَى هَذَا الحَدِيث، وَيقرب ذَلِك مَا رَوَاهُ الْحَافِظ أَبُو يعلي بِإِسْنَاد قوي من طَرِيق سعيد بن جُبَير، عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ عَن الْفضل بن عَبَّاس: قَالَ: "كنت رَدِيف النَّبِي صلى الله عليه وسلم، وأعرابي مَعَه بنت لَهُ حسناء فَجعل الْأَعرَابِي يعرضهَا لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم رَجَاء أَن يَتَزَوَّجهَا وَجعلت ألتفت إِلَيْهَا وَيَأْخُذ النَّبِي صلى الله عليه وسلم برأسي فيلويه، فَكَانَ يُلَبِّي حَتَّى رمى جَمْرَة الْعقبَة" ثمَّ قَالَ الْحَافِظ: فعلى قَول الشَّابَّة إِن أبي، لَعَلَّهَا أَرَادَت جدها لِأَن أَبَاهَا كَانَ مَعهَا، وَكَأَنَّهُ أمرهَا أَن تسْأَل النَّبِي صلى الله عليه وسلم ليسمع كَلَامهَا، ويراها رَجَاء أَن يَتَزَوَّجهَا ثمَّ قَالَ الْحَافِظ 70-4: وَفِي الحَدِيث منع النّظر إِلَى الأجنبيات، وغض الْبَصَر، وَقَالَ عِيَاض: وَزعم بَعضهم أَنه غير وَاجِب إِلَّا عِنْد خشيَة الْفِتْنَة، قَالَ: وَعِنْدِي أَن فعله صلى الله عليه وسلم إِذْ غطى وَجه الْفضل
যদি মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় অনাবৃত রাখার বৈধতার সপক্ষে কিছু মানুষ যেসব হাদিস ও আছার (آثار) দ্বারা দলিল পেশ করে থাকেন, তার সনদ (الإسناد) সহিহ (صحيحة) হতো, তবে হাদিস বিশারদদের দৃষ্টিতে সেগুলো শায (شاذة) বা অসংরক্ষিত (غير محفوظة) হিসেবে গণ্য হতো। তবে সেগুলো তো আসলে দুর্বল (ضعيفة) ও মুনকার (منكرة), সুতরাং এগুলো দিয়ে কোনোভাবেই দলিল পেশ করা সম্ভব নয়। অতএব, এই বর্ণনার পর ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর সেই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে—যার সনদের (الإسناد) অবস্থা ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে—একথা বলা সমীচীন হবে না যে, মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় পর্দার (عورة) অন্তর্ভুক্ত নয়। আর খাশআমী গোত্রের মহিলার সেই হাদিসটি যা ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ এবং বুখারি ও মুসলিম তাদের সহিহ-দ্বয়ে আলি ইবনে আবি তালিব (রাযি.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং অনুরূপভাবে ফজল ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য সাহাবীগণের (রাযি.) সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আলি ইবনে আবি তালিব (রাযি.) ইমাম আহমাদের মুসনাদ-এ বর্ণিত তাঁর হাদিসে বলেন... খাশআম গোত্রের এক যুবতী নারী তাঁর (রাসূলের) কাছে ফতোয়া জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন: আমার পিতা একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ, তিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন। এমতাবস্থায় তাঁর ওপর আল্লাহর ফরজ বিধান হজ্জের সময় হয়েছে। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করলে তা কি তাঁর জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি (রাসূল) বললেন: "তোমার পিতার পক্ষ থেকে তুমি হজ্জ আদায় করো।" আলি ইবনে আবি তালিব (রাযি.) বলেন: "তিনি (রাসূল) ফজলের ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন। তখন আব্বাস (রাযি.) তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন আপনার চাচাতো ভাইয়ের ঘাড় ঘুরিয়ে দিলেন? তিনি (রাসূল) বললেন: আমি একজন যুবক ও একজন যুবতীকে দেখলাম, তাই তাদের ব্যাপারে শয়তানের প্ররোচনা থেকে নিরাপদ বোধ করলাম না।" এরপর তিনি হাদিসের বাকি অংশ উল্লেখ করলেন।
আমি বলি: যারা মুখমণ্ডল ও হস্তদ্বয় অনাবৃত রাখা বৈধ মনে করেন, এই হাদিসে তাদের জন্য কোনো দলিল (حجة) নেই। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) ফজল ইবনে আব্বাসকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছিলেন তাঁর ঘাড় ঘুরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে এবং তাঁকে অন্যদিকে ফিরিয়ে দেয়ার দ্বারা। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই কার্যের মধ্যে একটি স্পষ্ট প্রতিবাদ (إنكار) ছিল, কারণ তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত (أنكر) করেছিলেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারীতে ৪/৬৮ পৃষ্ঠায় এই হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন: হাফেজ আবু ইয়ালা শক্তিশালী সনদে (بإسناد قوي) সাঈদ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে, ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে, তিনি ফজল ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা এর কাছাকাছি। তিনি (ফজল) বলেন: "আমি নবী (সা.)-এর বাহনের পেছনে বসা ছিলাম। এক গ্রাম্য আরোহীর সাথে তার এক রূপবতী কন্যা ছিল। সেই গ্রাম্য লোকটি তাকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে উপস্থাপন করছিল এই আশায় যে তিনি তাকে বিয়ে করবেন। আমি তার দিকে তাকাচ্ছিলাম এবং নবী (সা.) আমার মাথা ধরে ঘুরিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।" এরপর হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: সেই যুবতীর বক্তব্য "আমার পিতা" বলতে সম্ভবত তিনি তার দাদাকে বুঝিয়েছেন, কারণ তার পিতা তো তার সাথেই ছিল। মনে হচ্ছে তিনি তাকে নবী (সা.)-কে প্রশ্ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে নবী (সা.) তার কথা শুনতে পান এবং তাকে দেখতে পান, এই আশায় যে তিনি তাকে বিয়ে করবেন। অতঃপর হাফেজ (ইবনে হাজার) ৪/৭০ পৃষ্ঠায় বলেন: এই হাদিসে পরনারীদের দিকে তাকানো নিষিদ্ধ হওয়া এবং দৃষ্টি অবনত রাখার প্রমাণ রয়েছে। কাজি ইয়াজ বলেন: কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, ফিতনার আশঙ্কা ছাড়া এটি (দৃষ্টি অবনত রাখা) ওয়াজিব নয়। তিনি বলেন: আমার মতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাজ—যখন তিনি ফজলের মুখমণ্ডল আবৃত (বা ফিরিয়ে) দিয়েছিলেন...
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
أبلغ من القَوْل اهـ.
ثمَّ قَالَ الْحَافِظ: روى أَحْمد، وَابْن خُزَيْمَة من وَجه آخر عَن ابْن عَبَّاس أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: للفضل حِين غطى وَجهه هَذَا يَوْم من ملك فِيهِ سَمعه وبصره، وَلسَانه غفر لَهُ اهـ.
قلت: هُنَاكَ حَدِيث آخر أخرجه الإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده، وَأَصْحَاب السّنَن الْأَرْبَعَة بِإِسْنَاد صَحِيح فال الإِمَام التِّرْمِذِيّ بَاب مَا جَاءَ فِي احتجاب النِّسَاء عَن الرِّجَال، ثمَّ قَالَ: حَدثنَا سُوَيْد، عبد الله نَا يُونُس بن يزِيد، عَن ابْن شهَاب، عَن نَبهَان مولى أم سَلمَة، أَنه حَدثهُ أَن أم سَلمَة حدثته، "أَنَّهَا كَانَت عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، ومَيْمُونَة، قَالَت فَبَيْنَمَا نَحن عِنْده أقبل ابْن أم مَكْتُوم، فَدخل عَلَيْهِ، وَذَلِكَ بعد مَا أمرنَا بالحجاب فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "احتجبا مِنْهُ"، فَقلت: يَا رَسُول الله أَلَيْسَ هُوَ أعمى لَا يُبصرنَا، وَلَا يعرفنا، فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "أفعمياوان أَنْتُمَا ألستما تبصرانه؟ " قَالَ الإِمَام التِّرْمِذِيّ هَذَا حَدِيث حسن صَحِيح.
قلت: إِسْنَاده حسن، ونبهان هُوَ المَخْزُومِي مولى أم سَلمَة، قَالَ الْحَافِظ فِي الْفَتْح بعد أَن ذكر هَذَا الحَدِيث: أخرجه أَصْحَاب السّنَن من رِوَايَة الزُّهْرِيّ عَن نَبهَان مولى أم سَلمَة عَنْهَا، وَإِسْنَاده قوي، وَأكْثر مَا علل بِهِ انْفِرَاد الزُّهْرِيّ بالرواية عَن نَبهَان، وَلَيْسَت بعلة قادحة، فَإِن من يعرفهُ الزُّهْرِيّ، ويصفه بِأَنَّهُ مكَاتب أم سَلمَة وَلم يجرحه أحد، لَا ترد رِوَايَته1، وَنَقله الْعَلامَة المباركفوري فِي تحفة الأحوذي2 وأيده، وَأخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن الْكُبْرَى3.
قَالَ الْحَافِظ فِي التَّهْذِيب: نَبهَان المَخْزُومِي، أَبُو يحي الْمدنِي، مولى أم سَلمَة، ومكاتبها روى عَنْهَا، وَعنهُ الزُّهْرِيّ، وَمُحَمّد بن عبد الرَّحْمَن مولى آل طَلْحَة، ذكره ابْن حبَان فِي الثِّقَات وَقَالَ الإِمَام الْمزي فِي تَهْذِيب الْكَمَال 703-8: نَبهَان الْقرشِي المَخْزُومِي، أَبُو يحي الْمدنِي مولى أم سَلمَة زوج النَّبِي صلى الله عليه وسلم ذكره ابْن حبَان فِي الثِّقَات، ثمَّ سَاق إِسْنَاده الطَّوِيل إِلَى أم سَلمَة، ثمَّ ذكر هَذَا الحَدِيث، وحديثا آخر وَهُوَ أَيْضا من حَدِيث أم سَلمَة، قَالَت: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "إِذا كَانَ لأحدكم مكَاتب، وَكَانَ عِنْده مَا يُؤَدِّي عَنهُ فلتحتجب عَنهُ" أَخْرجُوهُ من حَدِيث سُفْيَان بن عُيَيْنَة، وَقَالَ التِّرْمِذِيّ: حَدِيث حسن صَحِيح، وَأخرجه النَّسَائِيّ من وُجُوه أُخْرَى انْتهى كَلَام الإِمَام الْمزي.
قلت: يرى الإِمَام الْمزي رَحمَه الله تَعَالَى كَمَا علمت من
--------------------------------------------
কথার দিক থেকে অধিক স্পষ্ট। সমাপ্ত।
এরপর হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: আহমদ এবং ইবনে খুজাইমা অন্য সূত্র থেকে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাদলকে উদ্দেশ্য করে বললেন যখন তিনি তার মুখমণ্ডল ঢেকে দিয়েছিলেন: “এটি এমন একটি দিন, যে ব্যক্তি এতে তার কান, চোখ এবং জিহ্বা নিয়ন্ত্রণ করবে, তাকে ক্ষমা করা হবে।” সমাপ্ত।
আমি (লেখক) বলছি: এখানে অপর একটি হাদিস রয়েছে যা ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে এবং চার সুনান গ্রন্থকারগণ সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد) সহকারে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি ‘পুরুষদের থেকে নারীদের পর্দার বিধান’ অনুচ্ছেদে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উম্মে সালামার মুক্তদাস নাবহান থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন যে উম্মে সালামা তাঁকে বর্ণনা করেছেন, “তিনি এবং মায়মুনা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা যখন তাঁর নিকট ছিলাম এমতাবস্থায় ইবনে উম্মে মাকতূম আসলেন এবং তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন। এটি ছিল আমাদের পর্দার আদেশ দেওয়ার পরের ঘটনা। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘তোমরা তাঁর থেকে পর্দা করো।’ আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসুল! তিনি কি অন্ধ নন? তিনি তো আমাদের দেখছেন না এবং আমাদের চিনছেনও না।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘তোমরা দুজন কি অন্ধ? তোমরা কি তাঁকে দেখছ না?’” ইমাম তিরমিজি বলেছেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)।
আমি (লেখক) বলছি: এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)। আর নাবহান হলেন উম্মে সালামার মুক্তদাস মাখজুমি। হাফিজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারিতে এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: সুনান গ্রন্থকারগণ এটি জুহরি থেকে, তিনি উম্মে সালামার মুক্তদাস নাবহান থেকে, তিনি উম্মে সালামা থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (إسناد) শক্তিশালী (قوي)। এর সনদে যে ত্রুটি (علل) সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয় তা হলো নাবহানের বর্ণনায় জুহরির একক হওয়া (انفراد)। তবে এটি কোনো ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) নয়; কেননা যাকে জুহরি চিনেন এবং উম্মে সালামার চুক্তিবদ্ধ দাস হিসেবে বর্ণনা করেন, আর কেউ তাকে দোষারোপ (جرح) করেননি, তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা যায় না। আল্লামা মুবারকপুরী তুহফাতুল আহওয়াযিতে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং সমর্থন করেছেন। আর বায়হাকি এটি সুনানুল কুবরায় বর্ণনা করেছেন।
হাফিজ (ইবনে হাজার) তাহযিবুত তাহযিবে বলেছেন: নাবহান মাখজুমি, আবু ইয়াহইয়া আল-মাদানি, উম্মে সালামার মুক্তদাস এবং তাঁর চুক্তিবদ্ধ দাস; তিনি উম্মে সালামা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন জুহরি ও আলে তালহার মুক্তদাস মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান। ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের (الثقات) তালিকায় উল্লেখ করেছেন। ইমাম মিযযি তাহযিবুল কামালে (৮/৭০৩) বলেছেন: নাবহান কুরাইশি মাখজুমি, আবু ইয়াহইয়া আল-মাদানি, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী উম্মে সালামার মুক্তদাস। ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্যদের (الثقات) তালিকায় উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি উম্মে সালামা পর্যন্ত তাঁর দীর্ঘ সনদ (إسناد) পেশ করেছেন। অতঃপর তিনি এই হাদিসটি এবং অপর একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যা উম্মে সালামা থেকেই বর্ণিত; তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তোমাদের কারো নিকট যদি চুক্তিবদ্ধ দাস থাকে এবং তার নিকট মুক্তিপণ পরিশোধ করার মতো সম্পদ থাকে, তবে সে যেন তার থেকে পর্দা করে।” তাঁরা এটি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেছেন: হাদিসটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)। আর নাসায়ি এটি অন্যান্য সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মিযযির আলোচনা এখানেই শেষ।
আমি (লেখক) বলছি: ইমাম মিযযি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মনে করেন, যেমনটি আপনি জানতে পেরেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
سِيَاق كَلَامه أَنه يحْتَج بِهَذِهِ الْأَحَادِيث الَّتِي رَوَاهَا فِي تَرْجَمَة نَبهَان المَخْزُومِي، وَيرى أَن نَبهَان مولى أم سَلمَة وَإِن كَانَ لم يوثق من أحد من أَئِمَّة الْجرْح وَالتَّعْدِيل فَهُوَ مِمَّن يحْتَج بحَديثه فِي هَذَا الْبَاب، كَمَا نقل عَن النَّسَائِيّ بِأَنَّهُ أخرج حَدِيثه الثَّانِي فِي الْحجاب من وُجُوه أُخْرَى، وَقَالَ الإِمَام الذَّهَبِيّ فِي كتاب الكاشف فِي معرفَة من لَهُ رِوَايَة فِي الْكتب السِّتَّة فِي تَرْجَمَة نَبهَان، عَن مولاته أم سَلمَة وَعنهُ الزُّهْرِيّ، وَمُحَمّد بن عبد الرَّحْمَن ثِقَة.
وَحَدِيث أم سَلمَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا هَذَا أوردهُ الإِمَام ابْن كثير فِي تَفْسِيره1 وَقَالَ: وَاحْتج بِهِ كثير مِنْهُم على مَعْنَاهُ.
وَأخرجه ابْن حبَان فِي صَحِيحه2، قلت: هُوَ حَدِيث حسن إِسْنَاده، وَفِيه حكم صَرِيح بالحجاب لأمهات الْمُؤمنِينَ، وَلَا يخْتَص الحكم بِهن كَمَا سبق، وَأما حَدِيث الخثعمية فَلَيْسَ على إِطْلَاقه، وَإِن صَحَّ مَدْلُوله على حسب رأى بعض أهل الْعلم بل يحمل عَلَيْهِ حَدِيث أم سَلمَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا، وَهُوَ حَدِيث يُؤَيّدهُ ظَاهر الْقُرْآن وَالْأَحَادِيث الْأُخْرَى الصَّحِيحَة، قَالَ الإِمَام أَبُو دَاوُد فِي نِهَايَة الحَدِيث:أَعنِي حَدِيث نَبهَان عَن مولاته أم سَلمَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا وَهَذَا لِأَزْوَاج النَّبِي صلى الله عليه وسلم خَاصَّة، أَلا ترى إِلَى اعْتِدَاد فَاطِمَة بنت قيس عِنْد ابْن أم مَكْتُوم، قد قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لفاطمة بنت قيس: "اعْتدي عِنْد ابْن أم مَكْتُوم فَإِنَّهُ رجل أعمى تَضَعِينَ ثِيَابك عِنْده" اهـ.
قلت: هَذَا قَول ابْن قُتَيْبَة الإِمَام فِي كِتَابه ((تَأْوِيل مُخْتَلف الحَدِيث)) 3 وَالَّذِي تأثر مِنْهُ الإِمَام دَاوُد رَحمَه الله تَعَالَى، وَلَيْسَ فِي حَدِيث فَاطِمَة بنت قيس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا لفظ يدل على جَوَاز نظر فَاطِمَة بنت قيس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا أثْنَاء إِقَامَتهَا عِنْد ابْن أم مَكْتُوم فَالْحَدِيث أخرجه الإِمَام مُسلم فِي الصَّحِيح وَكَذَا أَبُو دَاوُود وَالتِّرْمِذِيّ، وَالنَّسَائِيّ فِي سُنَنهمْ، وَمَالك فِي موطئِهِ، وَابْن الْجَارُود فِي الْمُنْتَقى وَالْإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده بسياق طَوِيل4، وَأوردهُ الْحَافِظ فِي التَّلْخِيص برقم 1493 فَإِنِّي لم أطلع على لفظ يدل على الخصوصية، وَقَالَ صَاحب العون5 هَكَذَا جمع الْمُؤلف أَبُو دَاوُود بَين الْأَحَادِيث، وَقَالَ حَدِيث أم سَلمَة مُخْتَصّ بِأَزْوَاج النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَحَدِيث فَاطِمَة بنت قيس لجَمِيع النَّاس هَكَذَا جمع الْمُؤلف أَبُو دَاوُد بَين الْأَحَادِيث.
قَالَ الْحَافِظ فِي التَّلْخِيص قلت: وَهَذَا جمع حسن وَبِه جمع الْمُنْذِرِيّ فِي حَوَاشِيه،
--------------------------------------------
তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট হলো যে, তিনি নাবহানি আল-মাখজুমির জীবনী (ترجمة) আলোচনায় বর্ণিত এই হাদিসগুলোকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন (يحتج); এবং তাঁর মতে উম্মে সালামার মুক্তদাস নাবহানিকে যদিও জারহ ও তা’দিলের ইমামগণের কেউ নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলে প্রত্যয়ন করেননি, তবুও এই অধ্যায়ে তাঁর হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (يحتج)। যেমনটি নাসায়ি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি পর্দার বিষয়ে তাঁর দ্বিতীয় হাদিসটি অন্য বিভিন্ন সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম যাহাবি ‘আল-কাশিফ’ গ্রন্থে কুতুবে সিত্তার বর্ণনাকারীদের পরিচয় দিতে গিয়ে নাবহানির জীবনীতে (ترجمة) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর মনিব উম্মে সালামা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে যুহরি ও মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।
উম্মে সালামা (রা.)-এর এই হাদিসটি ইমাম ইবন কাসির তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাঁদের মধ্যে অনেকেই এর মর্মার্থের ভিত্তিতে এটি দলিল হিসেবে পেশ করেছেন (احتج)।
ইমাম ইবন হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আমি বলি: এটি একটি হাসান (حسن) সনদসম্পন্ন হাদিস। এতে উম্মুল মুমিনিনদের জন্য পর্দার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে; তবে ইতিপূর্বে যেমন আলোচিত হয়েছে, এই বিধান কেবল তাঁদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আর খাসআমিয়াহ মহিলার হাদিসটি তার সাধারণ অর্থে প্রযোজ্য নয়, যদিও কোনো কোনো আলিমের মতে তার মর্মার্থ বিশুদ্ধ (صحيح) হতে পারে, বরং একে উম্মে সালামা (রা.)-এর হাদিসের ওপর প্রয়োগ করতে হবে। এটি এমন এক হাদিস যাকে কুরআনের বাহ্যিক অর্থ এবং অন্যান্য বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসসমূহ সমর্থন করে। ইমাম আবু দাউদ হাদিসের শেষে বলেছেন: অর্থাৎ উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত নাবহানির হাদিসটি কেবল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট। আপনি কি দেখেন না যে, ফাতিমা বিনতে কাইস ইবন উম্মে মাকতুমের কাছে ইদ্দত পালন করেছিলেন? রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাতিমা বিনতে কাইসকে বলেছিলেন: "তুমি ইবন উম্মে মাকতুমের কাছে ইদ্দত পালন করো, কারণ সে একজন অন্ধ মানুষ, তুমি সেখানে তোমার পর্দা (বা পোশাক) শিথিল রাখতে পারবে।"
আমি বলি: এটি ইমাম ইবন কুতাইবার বক্তব্য যা তিনি তাঁর ‘তাউইলু মুখতালিফিল হাদিস’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম আবু দাউদ (রহ.) এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। ফাতিমা বিনতে কাইস (রা.)-এর হাদিসে এমন কোনো শব্দ নেই যা ইবন উম্মে মাকতুমের কাছে অবস্থানকালীন তাঁর (ফাতিমা বিনতে কাইসের) তাকানোর বৈধতা নির্দেশ করে। হাদিসটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং আবু দাউদ, তিরমিযি ও নাসায়ি তাঁদের সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও মালিক তাঁর মুওয়াত্তা গ্রন্থে, ইবনুল জারুদ ‘আল-মুনতাকা’ গ্রন্থে এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন। হাফিজ (ইবন হাজার) ‘আত-তালখিস’ গ্রন্থে ১৪৯৩ নম্বর হাদিস হিসেবে এটি এনেছেন। আমি এতে এমন কোনো শব্দ দেখিনি যা বিশেষ বৈশিষ্ট্যের (خصوصية) প্রমাণ দেয়। ‘আউনুল মাবুদ’ প্রণেতা বলেন, এভাবেই লেখক আবু দাউদ হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় করেছেন; তিনি বলেছেন, উম্মে সালামার হাদিসটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট এবং ফাতিমা বিনতে কাইসের হাদিসটি সকল মানুষের জন্য সাধারণ। এভাবেই লেখক আবু দাউদ হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন।
হাফিজ (ইবন হাজার) ‘আত-তালখিস’ গ্রন্থে বলেন: আমি বলি, এটি একটি উত্তম সমন্বয় এবং মুনযিরিও তাঁর টীকাগ্রন্থে এই সমন্বয়টি গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
وَاسْتَحْسنهُ شَيخنَا، قلت: لَا يعارضون فِي تَصْحِيح إِسْنَاد حَدِيث نَبهَان، وَإِنَّمَا ادعوا فِيهِ دَعْوَى الخصوصية لأمهات الْمُؤمنِينَ رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُن وَهَذِه الدَّعْوَى قد تكون مُعَارضَة، لِأَنَّهَا -كَمَا قلت - تَخْلُو من وجود أَلْفَاظ فِيهَا معنى الخصوصية، قَالَ الإِمَام النَّوَوِيّ فِي شرح مُسلم ردا على هَذِه الدَّعْوَى1، وَقد احْتج بعض النَّاس بِهَذَا على جَوَاز نظر الْمَرْأَة إِلَى الْأَجْنَبِيّ بِخِلَاف نظره إِلَيْهَا، وَهَذَا قَول ضَعِيف، بل الصَّحِيح الَّذِي عَلَيْهِ جُمْهُور الْعلمَاء، وَأكْثر الصَّحَابَة أَنه يحرم على الْمَرْأَة النّظر إِلَى الْأَجْنَبِيّ كَمَا يحرم عَلَيْهِ النّظر إِلَيْهَا لقَوْله تَعَالَى: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ} ، {وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِن} وَلِأَن الْفِتْنَة مُشْتَركَة، وكما يخَاف الافتتان بِهِ، وَيدل عَلَيْهِ من السّنة حَدِيث نَبهَان مولى أم سَلمَة ثمَّ ذكر الحَدِيث بِطُولِهِ وَصَححهُ، ثمَّ قَالَ الإِمَام النَّوَوِيّ، وَأما حَدِيث فَاطِمَة بنت قيس مَعَ ابْن أم مَكْتُوم فَلَيْسَ فِيهِ أذن لَهَا فِي النّظر إِلَيْهِ بل فِيهِ أَنَّهَا تأمن عِنْده من نظر غَيرهَا، وَهِي مأمورة بغض بصرها فيمكنها الِاحْتِرَاز من النّظر إِلَيْهِ بِلَا مشقة بِخِلَاف مكثها فِي بَيت أم شريك. انْتهى كَلَام النَّوَوِيّ ثمَّ نقل هَذَا الْكَلَام الْعَلامَة الْمُحدث المباركفوري فِي تحفة الأحوذي2 النُّسْخَة الْهِنْدِيَّة وأيده وَتكلم على الحَدِيث الشَّوْكَانِيّ فِي النّيل3 أَعنِي حَدِيث نَبهَان إِذْ قَالَ: بَاب نظر الْمَرْأَة إِلَى الرجل ثمَّ قَالَ: لِأَن النِّسَاء أحد نَوْعي الْآدَمِيّين فَحرم عَلَيْهِنَّ النّظر إِلَى النَّوْع الآخر قِيَاسا على الرِّجَال، ويحققه أَن الْمَعْنى الْمحرم للنَّظَر هُوَ خوف الْفِتْنَة وَهَذَا فِي الْمَرْأَة أبلغ، فَإِنَّهَا أَشد شَهْوَة، وَأَقل عقلا فَتسَارع إِلَيْهَا الْفِتْنَة أَكثر من الرجل، قلت: الشَّرِيعَة عَامَّة شَامِلَة لجَمِيع الْأمة دون تَخْصِيص بِأحد النَّاس، أَو قَبيلَة من الْقَبَائِل.
وَقَالَ الإِمَام التِّرْمِذِيّ فِي الْجَامِع: بَاب مَا جَاءَ فِي النّظر إِلَى المخطوبة، ثمَّ قَالَ: حَدثنَا أَحْمد بن منيع، نَا ابْن أبي زَائِدَة، ثني عَاصِم بن سُلَيْمَان، عَن بكر بن عبد الله الْمُزنِيّ عَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة، أَنه خطب امْرَأَة، فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم: "انْظُر إِلَيْهَا، فَإِنَّهُ أَحْرَى أَن يُؤْدم بَيْنكُمَا"، وَفِي الْبَاب عَن مُحَمَّد بن مسلمة، وَجَابِر، وَأنس وَأبي حميد، وَأبي هُرَيْرَة، ثمَّ قَالَ: هَذَا حَدِيث حسن وَقد ذهب بعض أهل الْعلم إِلَى هَذَا الحَدِيث، وَقَالُوا: لَا بَأْس أَن ينظر إِلَيْهَا، مَا لم ير مِنْهَا محرما، وَهُوَ قَول أَحْمد، وَإِسْحَاق، وَمعنى: "أَحْرَى أَن يُؤْدم بَيْنكُمَا"، قَالَ أَحْرَى
--------------------------------------------
আমাদের শায়খ একে উত্তম বলেছেন। আমি বলি: তারা নাবহানের হাদিসের সূত্র (إسناد) বিশুদ্ধ করার (تصحيح) ব্যাপারে বিরোধিতা করেন না; বরং তারা এই হাদিসে মুমিন জননীদের (রা.) জন্য বিশেষত্বের (الخصوصية) দাবি করেছেন। তবে এই দাবিটি আপত্তিযোগ্য হতে পারে, কারণ আমি যেমনটি বলেছি—এতে এমন কোনো শব্দ নেই যা বিশেষত্বের অর্থ বহন করে। ইমাম নববী সহিহ মুসলিমের শরহে এই দাবির জবাবে বলেছেন ১, "কিছু লোক এর মাধ্যমে পুরুষের প্রতি নারীর তাকানো বৈধ হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন, যা নারীর প্রতি পুরুষের তাকানোর নির্দেশের বিপরীত। কিন্তু এটি একটি দুর্বল (ضعيف) মত। বরং জুমহুর (جمهور) আলেম এবং অধিকাংশ সাহাবীর নিকট বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো, পুরুষের জন্য যেমন নারীর দিকে তাকানো হারাম, তেমনি নারীর জন্যও পরপুরুষের দিকে তাকানো হারাম। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে} এবং {মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে}। তাছাড়া ফিতনার বিষয়টি উভয়ের ক্ষেত্রেই সমান, যেমনটি পুরুষের ক্ষেত্রে ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা থাকে।" এর সপক্ষে সুন্নাহ থেকে প্রমাণ হলো উম্মে সালামার মুক্তদাস নাবহানের হাদিস। অতঃপর তিনি হাদিসটি দীর্ঘভাবে উল্লেখ করেন এবং একে বিশুদ্ধ (صححه) বলেন। এরপর ইমাম নববী বলেন, "আর ইবনে উম্মে মাকতুমের সাথে ফাতেমা বিনতে কায়সের হাদিসে তাকে তার দিকে তাকানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি, বরং তাতে বলা হয়েছে যে সে সেখানে অন্যদের দৃষ্টি থেকে নিরাপদ থাকবে। আর তাকেও তার দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; সুতরাং উম্মে শারীকের ঘরে অবস্থানের বিপরীত এখানে সে কোনো কষ্ট ছাড়াই তার দিকে তাকানো থেকে বেঁচে থাকতে সক্ষম।" ইমাম নববীর আলোচনা এখানেই শেষ। এরপর আল্লামা মুহাদ্দিস মুবারকপুরী তুহফাতুল আহওয়াযী ২-এর ভারতীয় সংস্করণে এই কথাটি উদ্ধৃত করেছেন এবং একে সমর্থন করেছেন। আর শাওকানী নাইলুল আওতার ৩ গ্রন্থে নাবহানের হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "অধ্যায়: নারীর পুরুষের প্রতি তাকানো।" এরপর তিনি বলেন: "যেহেতু নারীরাও মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত, তাই পুরুষদের ওপর কিয়াস (قياسا) করে তাদের জন্যও অপর লিঙ্গের প্রতি তাকানো হারাম। আর এর যৌক্তিকতা হলো এই যে, দৃষ্টির ক্ষেত্রে হারামের মূল কারণ হলো ফিতনার আশঙ্কা, যা নারীর ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রযোজ্য। কারণ নারীদের কামনা তীব্র এবং তাদের সংবেদনশীলতা বেশি, ফলে পুরুষের তুলনায় তাদের ফিতনায় পতিত হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।" আমি বলি: শরীয়তের বিধান সাধারণ ও উম্মতের সকলের জন্য ব্যাপক, যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোত্রের জন্য বিশেষায়িত নয়।
ইমাম তিরমিযী আল-জামে গ্রন্থে বলেছেন: "অধ্যায়: হবু কনের প্রতি তাকানো।" এরপর তিনি বলেন: আহমদ বিন মানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে আবি যায়দাহ থেকে, তিনি আসেম বিন সুলাইমান থেকে, তিনি বকর বিন আব্দুল্লাহ আল-মুযানী থেকে, তিনি মুগীরা বিন শুবা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তখন নবী (সা.) বললেন: "তুমি তাকে দেখে নাও, কারণ এটি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সংহতি সৃষ্টির জন্য অধিক উপযোগী।" এই অনুচ্ছেদে মুহাম্মদ বিন মাসলামাহ, জাবির, আনাস, আবু হুমাইদ এবং আবু হুরায়রা থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। অতঃপর তিনি বলেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। কিছু আলিম এই হাদিসের পক্ষাবলম্বন করেছেন এবং বলেছেন: "হবু কনের কোনো নিষিদ্ধ (محرم) অঙ্গ না দেখা পর্যন্ত তার দিকে তাকানোতে কোনো দোষ নেই।" এটি ইমাম আহমদ এবং ইসহাকের অভিমত। আর "তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য অধিক উপযোগী" এর অর্থ হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
أَن تدوم الْمَوَدَّة بَيْنكُمَا1، وَقَالَ الْعَلامَة المباركفوري أخرجه أَحْمد، وَالنَّسَائِيّ وَابْن ماجة والدارمي وَابْن حبَان فِي الصَّحِيح2، قلت أخرج البُخَارِيّ رَحمَه الله تَعَالَى فِي الْجَامِع نَحْو هَذَا الحَدِيث فقد عقد بَابا إِذْ قَالَ: بَاب النّظر إِلَى الْمَرْأَة قبل التَّزَوُّج، وَقَالَ الْحَافِظ فِي الْفَتْح: قَالَ الْجُمْهُور لَا بَأْس أَن ينظر الْخَاطِب إِلَى المخطوبة، قَالُوا وَلَا ينظر إِلَى غير وَجههَا وكفيها3.
قلت: وَأما الْمَفْهُوم الْمُخَالف لهَذَا الحَدِيث فَإِنَّهُ لَا يجوز لغير الْخَطِيب أَن ينظر إِلَيْهَا، وَلَا يتَحَقَّق ذَلِك إِلَّا إِذا كَانَت الْمَرْأَة محجبة وَأما فِي حَالَة كشف الْوَجْه، وَالْكَفَّيْنِ فَلَا معنى لهَذَا الحَدِيث بِالْمَفْهُومِ فَهَذَا أَيْضا دَلِيل على عدم جَوَاز كشف الْوَجْه، وَالْكَفَّيْنِ وَبِهَذَا الْمَعْنى أخرج الإِمَام أَحْمد فِي الْمسند، وَابْن ماجة فِي السّنَن، وَابْن حبَان فِي الصَّحِيح، وَالْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك وَصَححهُ، وَسكت عَنهُ الْحَافِظ الذَّهَبِيّ فِي التَّلْخِيص، قَالَ مُحَمَّد بن مسلمة سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول: "إِذا ألْقى الله عز وجل فِي قلب امْرِئ خطْبَة امْرَأَة فَلَا بَأْس أَن ينظر إِلَيْهَا".
قلت: فَهَذَا الْإِذْن بِهَذَا السِّيَاق يدل على تَحْرِيم النّظر إِلَى الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ لغير الْخَاطِب فَإِذا كَانَ الْوَجْه والكفان ليستا من الْعَوْرَة كَمَا قَالَ بعض أهل الْعلم كَابْن جرير الطَّبَرِيّ، وَغَيره رَحِمهم الله تَعَالَى فَلَا يتَحَقَّق مَفْهُوم الْأَمر، أَو لَا معنى لمَفْهُوم أمره صلى الله عليه وسلم وَهَذَا وَاضح ظَاهر لمن أعْطى الْفَهم الثاقب، وَالنَّظَر الصَّحِيح، وَهُنَاكَ آراء فقهية كَثِيرَة، تجيز كشف الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ، وَلَا حَاجَة بنقلها، قَالَهَا أَصْحَابهَا اجْتِهَادًا مِنْهُم واستنباطا من بعض الْأَحَادِيث غفر الله تَعَالَى لَهُم، وَأكْرم مثواهم، وَجعل الْجنَّة مأواهم وهم مَعَ علمهمْ وفضلهم قد أخطأوا فِي الْإِصَابَة، فَلهم أجر الِاجْتِهَاد، وخطؤهم مَعْفُو عَنْهُم عِنْد رَبهم إِن شَاءَ الله تَعَالَى كَمَا صَحَّ بذلك حَدِيث عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِذا اجْتهد الْحَاكِم الحَدِيث.
وَأما الحَدِيث الَّذِي أخرجه البُخَارِيّ فِي الْجَامِع الصَّحِيح فِي خَمْسَة عشر موضعا وَكَذَا مُسلم فِي الْعِيدَيْنِ، وَأَبُو دَاوُد، والدارمي فِي سنَنَيْهِمَا، وَالْإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده بِإِسْنَاد صَحِيح من حَدِيث جَابر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ، قَالَ: "شهِدت مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي يَوْم الْعِيد فَبَدَأَ بِالصَّلَاةِ قبل الْخطْبَة، ثمَّ ذكر الحَدِيث وَفِيه، ثمَّ مضى إِلَى النِّسَاء،
--------------------------------------------
যাতে তোমাদের উভয়ের মাঝে ভালোবাসা স্থায়ী হয়। আল্লামা মুবারকপুরী বলেন, এটি আহমাদ, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, দারেমি এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আমি বলব: ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর আল-জামি গ্রন্থে এই হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি এ বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন, যেখানে বলেছেন: 'বিবাহের পূর্বে নারীর প্রতি দৃষ্টিদানের অনুচ্ছেদ'। হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারি-তে বলেন: জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমগণ বলেছেন যে, বিবাহপ্রার্থী পুরুষের জন্য বাগদত্তা নারীর প্রতি দৃষ্টিপাত করাতে কোনো বাধা নেই। তাঁরা বলেছেন, তিনি তার মুখমণ্ডল ও দুই কবজি ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে তাকাবেন না।
আমি বলব: এই হাদিসের বিপরীত মর্মার্থ (المفهوم المخالف) হলো, বিবাহপ্রার্থী ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো জন্য নারীর দিকে তাকানো বৈধ নয়। আর এটি কেবল তখনই সাব্যস্ত হয় যখন নারী পর্দানশীন বা হিজাব পরিহিত থাকে। কিন্তু মুখমণ্ডল ও দুই কবজি খোলা রাখার অবস্থায়, বিপরীত মর্মার্থ (المفهوم المخالف) অনুযায়ী এই হাদিসের কোনো তাৎপর্য থাকে না। সুতরাং এটি মুখমণ্ডল ও দুই কবজি অনাবৃত রাখার অবৈধতারও একটি প্রমাণ। এই একই মর্মে ইমাম আহমাদ মুসনাদ-এ, ইবনে মাজাহ সুনান-এ, ইবনে হিব্বান সহিহ-এ এবং হাকেম মুস্তাদরাক-এ হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন, আর হাফেজ যাহাবি তালখিস-এ এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন। মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যখন মহান আল্লাহ কোনো ব্যক্তির অন্তরে কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা জাগ্রত করেন, তখন তার জন্য সেই নারীর দিকে তাকাতে কোনো দোষ নেই।"
আমি বলব: এই প্রসঙ্গের এই অনুমতিটি নির্দেশ করে যে, বিবাহপ্রার্থী ব্যতীত অন্য কারো জন্য মুখমণ্ডল ও দুই কবজির দিকে তাকানো হারাম। কেননা মুখমণ্ডল ও দুই কবজি যদি সতর (আওরাহ) না হতো—যেমনটি ইবনে জারির তবারি ও অন্যান্য কতিপয় আলেম (রহ.) বলেছেন—তবে এই নির্দেশের বিপরীত মর্মার্থ (المفهوم المخالف) কার্যকর হতো না অথবা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশের মর্মার্থের কোনো অর্থ থাকত না। আর যাদের তীক্ষ্ণ প্রজ্ঞা এবং সঠিক অন্তর্দৃষ্টি দান করা হয়েছে, তাদের কাছে এটি সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য। মুখমণ্ডল ও দুই কবজি অনাবৃত রাখা জায়েজ হওয়ার সপক্ষে অনেক ফিকহি মত রয়েছে, যা এখানে উদ্ধৃত করার প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁদের ইজতিহাদ এবং কিছু হাদিস থেকে মাসআলা উদঘাটনের মাধ্যমে এসব কথা বলেছেন; আল্লাহ তাআলা তাঁদের ক্ষমা করুন, তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন এবং জান্নাতকে তাঁদের আবাসস্থল করুন। তাঁরা প্রজ্ঞা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ভুল করেছেন; তবুও তাঁরা ইজতিহাদ-এর সওয়াব পাবেন এবং ইনশাআল্লাহ তাঁদের প্রতিপালকের নিকট তাঁদের ভুল মার্জনাযোগ্য। যেমনটি নবী (সা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস দ্বারা সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ করেন..." (পুরো হাদিসটি)।
আর যে হাদিসটি ইমাম বুখারি তাঁর আল-জামি আস-সহিহ-এর পনেরটি স্থানে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম ঈদায়ন অধ্যায়ে, আবু দাউদ ও দারেমি তাঁদের সুনান গ্রন্থে এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ জাবির (রা.) থেকে একটি সহিহ (صحيح) সনদের (إسناد) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি নবী (সা.)-এর সাথে ঈদের দিন উপস্থিত ছিলাম, তিনি খুতবার পূর্বে সালাত আদায় করলেন..." এরপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করেন যাতে রয়েছে: "অতঃপর তিনি নারীদের দিকে এগিয়ে গেলেন..."।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
وَمَعَهُ بِلَال فأمرهن بتقوى الله تَعَالَى، ووعظهن وَحمد الله، وَأثْنى عَلَيْهِ، وحثهن على طَاعَته، ثمَّ قَالَ صلى الله عليه وسلم: "تصدقن، فَإِن أكثركن حطب جَهَنَّم "، فَقَالَت امْرَأَة من سفلَة النِّسَاء سفعاء الْخَدين: "لم يَا رَسُول الله؟ " قَالَ: "لأنكن
… " ثمَّ ذكر بَقِيَّة الحَدِيث.
قَالَ بعض أهل الْعلم: لَو كَانَ الْوَجْه من الْعَوْرَة فَكيف اطلع بِلَال رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ على وَجههَا ثمَّ وصف وَجههَا فِي هَذَا الحَدِيث وَكَانَت زِيَادَة ((سفلَة النِّسَاء وسفعاء الْخَدين)) لم يُخرجهَا البُخَارِيّ فِي الْجَامِع الصَّحِيح فِي خمس عشرَة موضعا إِلَّا أَن مُسلما وَأَبا دَاوُد، والدارمي وَالْإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده قد أخرجوها وإسنادها صَحِيح.
قلت: جَوَابه إِن شَاءَ الله تَعَالَى كَمَا قَالَ الإِمَام ابْن الْأَثِير فِي النِّهَايَة1: السفعة نوع من السوَاد وَلَيْسَ بالكثير، وَقيل: هُوَ سَواد مَعَ لون آخر أَرَادَ أَنَّهَا بذلت نَفسهَا، وَتركت الزِّينَة، والترفه، حَتَّى شحب لَوْنهَا، وأسود إِقَامَة على وَلَدهَا بعد وَفَاة زَوجهَا، قلت: قد تكون من الْقَوَاعِد اللائي قَالَ الله تَعَالَى فِي حقهن فِي مُحكم كِتَابه: {وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ اللَاّتِي لَا يَرْجُونَ نِكَاحاً فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَنْ يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَنْ يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} 2، أَو كَانَت هَذِه الْقَضِيَّة قبل نزُول الْحجاب، أَو كَانَت هَذِه الامرأة أمة كَمَا جَاءَ فِي مُسْند الإِمَام أَحْمد ((أَنَّهَا كَانَت من سفلَة النِّسَاء)) .
وَلَيْسَ فِي الحَدِيث دَلِيل على جَوَاز كشف الْوَجْه للمسلمة الْحرَّة العفيفة، وَلَا شبه دَلِيل، وَأما شُبْهَة بعض النَّاس من أهل الْعلم أَن الْوَجْه وَالْكَفَّيْنِ لَو كَانَتَا من الْعَوْرَة للَزِمَ سترهما، وغطاءهما فِي حَالَة الصَّلَاة وَالْأَمر لَيْسَ كَذَلِك، قلت: لقد سبق أَن ذكرت حَدِيثا أخرجه البُخَارِيّ فِي الْجَامِع الصَّحِيح، وَالنَّسَائِيّ فِي السّنَن وَالْإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده من حَدِيث عبد الله بن عمر رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ: "وَلَا تتنقب الْمَرْأَة، وَلَا تلبس القفازين" الحَدِيث، قلت: هَذَا فِي الْحَج وَقد ثَبت عَن عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا خلاف هَذَا الحكم فِي الْحَج كَمَا أخرج الإِمَام أَحْمد فِي الْمسند، وَالْبَيْهَقِيّ فِي السّنَن الْكُبْرَى، وَأَبُو دَاوُد فِي السّنَن بِإِسْنَاد صَحِيح عَن عَائِشَة رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا، قَالَت: كَانَ الركْبَان يَمرونَ بِنَا، وَنحن مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مُحرمَات، فَإِذا حاذوا بِنَا أسدلت إحدانا جلبابها من رَأسهَا على وَجههَا، فَإِذا جاوزناه كشفناه، وَكَذَا حَدِيث أخرجه الْحَاكِم فِي الْمُسْتَدْرك من حَدِيث أَسمَاء بنت أبي بكر الصّديق
--------------------------------------------
তাঁর সাথে বিলাল ছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁদের আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের নির্দেশ দিলেন, তাঁদের নসিহত করলেন, আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন এবং তাঁর আনুগত্যে উৎসাহিত করলেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা সদকা করো, কারণ তোমাদের অধিকাংশই জাহান্নামের ইন্ধন।" তখন সাধারণ নারীদের মধ্য থেকে দুই গাল রক্তাভ-কালো বর্ণের এক নারী বলল: "হে আল্লাহর রাসুল, কেন?" তিনি বললেন: "কারণ তোমরা
… " অতঃপর তিনি হাদিসের বাকি অংশ উল্লেখ করলেন।
কোনো কোনো আলেম বলেন: চেহারা যদি সতর (عورة) হতো, তবে বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কীভাবে তাঁর চেহারার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং এই হাদিসে তাঁর চেহারার বর্ণনা দিলেন? আর "সাধারণ নারী ও রক্তাভ-কালো গালবিশিষ্ট" এই অতিরিক্ত (زيادة) অংশটুকু বুখারি তাঁর জামে সহিহ গ্রন্থে পনেরোটি স্থানে উল্লেখ করেননি; তবে মুসলিম, আবু দাউদ, দারেমি এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) সঠিক (صحيح)।
আমি বলি: ইনশাআল্লাহ এর উত্তর হলো যেমনটি ইমাম ইবনুল আসির আন-নিহায়াহ-তে১ বলেছেন: "সুফআহ" হলো এক প্রকার কালো আভা যা খুব বেশি নয়। আবার বলা হয়েছে, এটি অন্য রঙের সাথে মিশ্রিত কালো রঙ। এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, উক্ত নারী নিজের প্রতি যত্নহীন ছিলেন এবং সাজসজ্জা ও বিলাসিতা ত্যাগ করেছিলেন, এমনকি স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের লালন-পালনের কারণে তাঁর গায়ের রঙ বিবর্ণ ও কালচে হয়ে গিয়েছিল। আমি বলি: হতে পারে তিনি সেই সব বৃদ্ধাদের (القواعد) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা তাঁর সুসংহত কিতাবে বলেছেন: {আর বৃদ্ধা নারী যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য তাদের পোশাক (অতিরিক্ত চাদর) খুলে রাখলে কোনো গুনাহ নেই, তবে সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী হিসেবে নয়। আর যদি তারা বিরত থাকে তবে তা তাদের জন্য উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ}২। অথবা এই ঘটনাটি পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার আগের ছিল, অথবা এই নারী একজন দাসী ছিলেন যেমনটি ইমাম আহমাদের মুসনাদে এসেছে যে "তিনি নিম্নবর্গের নারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।"
আর এই হাদিসে কোনো মুসলিম স্বাধীন ও সচ্চরিত্রা নারীর জন্য মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার বৈধতার কোনো প্রমাণ নেই, এমনকি প্রমাণের সদৃশ কোনো সংশয়ও নেই। আর কোনো কোনো আলেমের এই সংশয় যে, মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত দুই হাত যদি সতর (عورة) হতো তবে নামাজের অবস্থায় তা ঢেকে রাখা বা আবৃত করা আবশ্যক হতো, বিষয়টি আসলে তেমন নয়। আমি বলি: ইতিপূর্বে আমি একটি হাদিস উল্লেখ করেছি যা বুখারি জামে সহিহ-তে, নাসায়ি সুনানে এবং ইমাম আহমাদ মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: "ইহরাম অবস্থায় নারী যেন নেকাব না পরে এবং হাতমোজা পরিধান না করে" (হাদিস)। আমি বলি: এটি হজের ক্ষেত্রে। আর হজের ক্ষেত্রে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এর বিপরীত বিধান প্রমাণিত হয়েছে যেমনটি ইমাম আহমাদ মুসনাদে, বায়হাকি সুনানুল কুবরায় এবং আবু দাউদ সুনানে সঠিক (صحيح) সনদ (إسناد) সহকারে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আরোহীরা আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত যখন আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় থাকতাম। যখন তারা আমাদের সমান্তরালে আসত, তখন আমাদের প্রত্যেকে তার জিলবাব মাথার ওপর থেকে তার চেহারার ওপর ঝুলিয়ে দিত। যখন তারা আমাদের অতিক্রম করে চলে যেত, তখন আমরা তা উন্মুক্ত করে দিতাম।" অনুরূপ একটি হাদিস হাকেম আল-মুসতাদরাক-এ আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক থেকে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুল আহবাব বিমা সাবাতা ফী মাসআলাতিল হিজাব
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
رَضِي الله تَعَالَى عَنْهَا، قَالَت: كُنَّا نغطي وُجُوهنَا من الرِّجَال، وَكُنَّا نمتشط قبل الْإِحْرَام، وَقَالَ الْحَاكِم على شَرط الشَّيْخَيْنِ وَوَافَقَهُ الذَّهَبِيّ فِي التَّلْخِيص، قلت: إِذا أمعنت النّظر فِي هَذِه النُّصُوص، وأنصفت فَسَوف يظْهر لَك الْحق وَاضحا جليا إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَهَكَذَا الْأَمر والشأن فِي الصَّلَاة تَمامًا فَلَا يَنْبَغِي للْمَرْأَة الْمسلمَة أَن تكشف وَجههَا فِي الصَّلَاة أَمَام الرِّجَال، وَأما إِذا صلت مَعَ النِّسَاء بعيدَة عَن الرِّجَال فَلَا بَأْس أَن تصلي وَهِي كاشفة الْوَجْه وَالْأَمر فِي ذَلِك سهل ميسور بِحَمْد الله تَعَالَى.
وَأما قَول سيد قطب رَحمَه الله تَعَالَى: "هَؤُلَاءِ كلهم-أَي الَّذين ذكرُوا فِي الْآيَة- مَا عدا الْأزْوَاج لَيْسَ عَلَيْهِم، وَلَا على الْمَرْأَة جنَاح أَن يرَوا مِنْهَا، إِلَى مَا تَحت السُّرَّة إِلَى الرّكْبَة، لانْتِفَاء الْفِتْنَة الَّتِي من أجلهَا كَانَ السّتْر والغطاء، فَأَما الزَّوْج فَلهُ رُؤْيَة كل جَسدهَا بِلَا اسْتثِْنَاء" 1.
قلت: هَذَا الَّذِي ذكره رَحمَه الله تَعَالَى مَعَ جهاده الطَّوِيل فِي سَبِيل الْحق قد أَخطَأ فِيهِ، وَهُوَ أَنه لَا يجوز لذِي محرم أَن يطلع من ابْنَته، أَو أُخْته، أَو أمه، أَو خَالَته، أَو نَحْوهَا على سَاقيهَا أَو ثدييها أَو نحرها أَو بَطنهَا، بل جَازَ لَهُ أَن ينظر إِلَى مَا كَانَ مكشوفا مِنْهَا فِي اللبَاس الشَّرْعِيّ الْمَعْرُوف، وَأما غير ذَلِك فَهُوَ حرَام على الْأَب، وَالْأَخ أَو نَحْوهمَا أَن يطلعا وينظرا إِلَى مَا أَشَارَ إِلَيْهِ السَّيِّد قطب رَحمَه الله تَعَالَى فَإِنَّهُ قد جَازَ إِلَى ذَلِك نظرا للْعُرْف الْمصْرِيّ الَّذِي تسير فِيهِ الْمَرْأَة الْمسلمَة شبه عَارِية كَمَا لَا يخفى على أحد، وَقد سبق أَن ذكرت رِوَايَة ابْن عَبَّاس رَضِي الله تَعَالَى عَنْهُمَا من طَرِيق عَليّ بن أبي طَلْحَة وَهِي أَنَّهَا تبدي قرطاها، وقلادتها، وسوارها ونحرها لمن دخل عَلَيْهَا فِي بَيتهَا وَأما خلْخَالهَا، ومعضدها، ونحرها وشعرها فَإِنَّهَا لَا تبديه إِلَّا لزَوجهَا.
قلت: فَالْأَمْر فِيهِ وَاضح بَين إِن شَاءَ الله تَعَالَى لمن كَانَ لَهُ قلب واع، وَفهم ثاقب، ورأي سديد، وَالله هُوَ الْمُسْتَعَان والموفق وَصلى الله وَسلم وَبَارك على عَبده، وَرَسُوله مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا كثيرا.
كتبه وحرره
العَبْد الضَّعِيف عبد الْقَادِر حبيب الله السندي
فِي 18-6-1395هـ
وبيض مرّة ثَانِيَة 19-1-96هـ.
--------------------------------------------
আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন, তিনি বলেন: "আমরা পুরুষদের সামনে আমাদের চেহারা আবৃত রাখতাম এবং আমরা ইহরামের পূর্বে চুল আঁচড়াতাম।" আল-হাকিম বলেন, এটি শাইখায়ন (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী এবং আয-যাহাবি ‘আত-তালখিস’ গ্রন্থে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আমি বলি: আপনি যদি এই পাঠ্যসমূহের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করেন এবং ইনসাফ করেন, তবে আল্লাহ তায়ালা চাইলে আপনার কাছে সত্য সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত হবে। নামাজের বিষয়টিও ঠিক তদ্রূপ; সুতরাং কোনো মুসলিম নারীর জন্য পুরুষদের সামনে নামাজে চেহারা খোলা রাখা সমীচীন নয়। তবে যদি তিনি পুরুষদের থেকে দূরে নারীদের সাথে নামাজ আদায় করেন, তবে চেহারা খোলা রেখে নামাজ পড়লে কোনো অসুবিধা নেই। আর আল্লাহ তায়ালার প্রশংসায় এ বিষয়টি অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল।
আর সাইয়্যেদ কুতুব (আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর বক্তব্য: "আয়াতে বর্ণিত এই সকল ব্যক্তি—অর্থাৎ স্বামী ব্যতীত—তাদের জন্য এবং নারীর জন্য এতে কোনো গুনাহ নেই যে, তারা নারীর নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ বাদে বাকিটুকু দেখবে; কেননা ফিতনার আশঙ্কামুক্ত হওয়ার কারণে, যার জন্য পর্দা ও আবৃত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে স্বামীর জন্য কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই স্ত্রীর পুরো শরীর দেখার অনুমতি রয়েছে।" ১
আমি বলি: তিনি (আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) হকের পথে তাঁর দীর্ঘ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই বিষয়ে ভুল করেছেন। আর বিষয়টি হলো, কোনো মাহরাম পুরুষের জন্য তার কন্যা, বোন, মাতা, খালা বা অনুরূপ আত্মীয়দের পায়ের গোছা, স্তন, বক্ষস্থল বা পেট দেখার অনুমতি নেই। বরং শরিয়তসম্মত পরিচিত পোশাকে নারীর যতটুকু অংশ সাধারণত খোলা থাকে, ততটুকু দেখার অনুমতি রয়েছে। এছাড়া পিতা, ভাই বা অনুরূপ মাহরামদের জন্য সাইয়্যেদ কুতুব (আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যা ইঙ্গিত করেছেন তা দেখা হারাম। সম্ভবত তিনি তৎকালীন মিসরীয় প্রথার প্রেক্ষিতে এ কথা বলেছেন, যেখানে মুসলিম নারীরা প্রায় অর্ধনগ্ন অবস্থায় চলাফেরা করত, যা কারো কাছে গোপন নয়। আমি ইতিপূর্বে ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তায়ালা তাদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হন)-এর সেই বর্ণনা (رواية) উল্লেখ করেছি যা আলী বিন আবি তালহার সূত্র (طريق) ধরে এসেছে; আর তা হলো, নারী তার ঘরে আগত মাহরামদের সামনে তার কানের দুল, হার, চুড়ি এবং বক্ষস্থলের উপরিভাগ প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু তার পায়ের মল, বাজুবন্ধ, ঘাড় ও চুল তার স্বামী ব্যতীত অন্য কারো সামনে প্রকাশ করবে না।
আমি বলি: যার সচেতন হৃদয়, প্রখর বোধশক্তি এবং সঠিক মতামত রয়েছে, তার কাছে বিষয়টি আল্লাহ তায়ালা চাইলে সুস্পষ্ট। আল্লাহই সাহায্যস্থল এবং তাওফিকদাতা। আল্লাহর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কেরামের ওপর অসংখ্য দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল হোক।
এটি লিখেছেন ও সংকলন করেছেন
অক্ষম (الضعيف) বান্দা আব্দুল কাদির হাবিবুল্লাহ আস-সিন্ধি
১৮-০৬-১৩৯৫ হিজরি
এবং দ্বিতীয়বার পরিমার্জিত: ১৯-০১-১৩৯৬ হিজরি।
--------------------------------------------