(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: -)
العلم يدعو للإيمان   (كريسي موريسون)

القسم: كتب عامة


الكتاب: العلم يدعو للإيمان

المؤلف: كريسى موريسون

المترجم: محمود صالح الفلكي

تصدير: الشيخ أحمد حسن الباقوري، مدير جامعة الأزهر

تقديم: الدكتور أحمد زكي، مدير جامعة القاهرة

الناشر: مكتبة النهضة المصرية للنشر والطبع، بالاشتراك مع مؤسسة فرانكلين للطباعة والنشر بنيويورك - القاهرة

عام النشر: 1958 م

تنبيه: أضاف المترجم آيات قرآنية تناسب المقام، مما جعل البعض يظن أن المؤلف (إبراهام كريسي موريسون) مسلم، فليتنبه لهذا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 204

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিজ্ঞান ঈমানের প্রতি আহ্বান জানায়   (ক্রিসি মরিসন)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: বিজ্ঞান ঈমানের প্রতি আহ্বান জানায়

লেখক: ক্রিসি মরিসন

অনুবাদক: মাহমুদ সালেহ আল-ফালাকি

প্রস্তাবনা: শায়খ আহমদ হাসান আল-বাকুরি, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক

ভূমিকা: ডক্টর আহমদ জাকি, কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক

প্রকাশক: মাকতাবাতুন নাহদাহ আল-মিসরিয়্যাহ প্রকাশনা ও মুদ্রণ, ফ্র্যাঙ্কলিন পাবলিশিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ফাউন্ডেশন (নিউইয়র্ক - কায়রো)-এর সহযোগিতায়

প্রকাশকাল: ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দ

সতর্কবার্তা: অনুবাদক প্রাসঙ্গিক কুরআনের আয়াতসমূহ সংযোজন করেছেন, যার ফলে কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে লেখক (আব্রাহাম ক্রিসি মরিসন) একজন মুসলিম, তাই এই বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক।

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৪

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ১)
العلم يدعو للإيمان

 

قال الله تعالى في كتابه الكريم: (سورة آل عمران)

(إنَّ في خَلْقِ السَّموَاتِ وَالأرض وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآياتٍ لأُولىِ الألْبَاب. الذيِنَ يَذْكُرُونَ اللهَ قِيَاماً وَقُعُوداً وَعَلَى جُنُوبِهمْ وَيَتفَكروُنَ فيِ خَلْقِ السَّموَاتِ وَالأَرْضِ. رَبَّنا مَا خَلَقْت هَذَا بَاطِلاً سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّار). المترجم

 

وقال تعالى: (سورة فاطر):

(إنَّما يَخشَى اللهَ مِن عِبَادِهِ العُلَماء)

 

المترجم
জ্ঞান ঈমানের প্রতি আহ্বান জানায়

 

মহান আল্লাহ তাঁর পবিত্র কিতাবে ইরশাদ করেছেন: (সূরা আল-ইমরান)

(নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে; [তারা বলে] হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অত্যন্ত পবিত্র; সুতরাং আপনি আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন)। অনুবাদক

 

এবং মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: (সূরা ফাতির):

(নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করেন)

 

অনুবাদক
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৬)
المشتركون في هذا الكتاب

المؤلف

1. كريسى موريسون - هو الرئيس السابق لأكاديمية العلوم بنيويورك، ورئيس المعهد الامريكي لمدينة نيويورك، وعضو المجلس التنفيذي لمجلس البحوث القومي بالولايات المتحدة، وزميل في المتحف الامريكي للتاريخ الطبيعي، وعضو مدى الحياة للمعهد الملكي البريطاني.

2. المترجم:

محمود صالح الفلكي - حصل على بكالوريوس في الإقتصاد بمرتبة الشرف من جامعة كمبردج بانجلترا سنة 1924، وعلى درجة أستاذ من نفس الجامعة 1929.

شغل عدة وظائف اقتصادية هامة بوزارة المالية والإقتصاد ثم وكيلا لنفس الوزارة سنة 1951. كما مثل الحكومة المصرية عدة مؤتمرات اقتصادية دولية. ومن سنة 1954 إلى آخر 1955 عين سفيراً لجمهورية مصر في باريس ثم عين عضوا بمجالس ادارة عدة بنوك وشركات من سنة 1955 حتى 1961. عين مندوبا مفوضا لبنك الاستيراد والتصدير المصري في مكان مجلس الادارة سنة 1961.

في سنة 1955 انعم عليه السيد رئيس الجمهورية بوسام الاستحقاق من الطبقة الثانية. له عدة مؤلفات وبحوث اقتصادية منها: (بحوث في الشئون المالية والإقتصادية الدولية والقومية)، و (التخطيط الاقتصادي)، و (التنمية الإقتصادية وقواعدها الاساسية في الدول الناشئة).

مصححة الغلاف:

الانسة اعتدال منيب.
এই গ্রন্থে অংশগ্রহণকারীগণ

লেখক

1. ক্রেসি মরিসন - তিনি নিউইয়র্ক একাডেমি অফ সায়েন্সেসের প্রাক্তন সভাপতি, নিউইয়র্ক সিটির আমেরিকান ইনস্টিটিউটের সভাপতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য, আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির ফেলো এবং ব্রিটিশ রয়্যাল ইনস্টিটিউশনের আজীবন সদস্য।

2. অনুবাদক:

মাহমুদ সালেহ আল-ফালাকি - তিনি ১৯২৪ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতক এবং ১৯২৯ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রফেসর (স্নাতকোত্তর সমমান) ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৫১ সালে উক্ত মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। তিনি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্মেলনে মিশর সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৫ সালের শেষ পর্যন্ত তিনি প্যারিসে মিশরীয় প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি পরিচালনা পর্ষদের স্থলে মিশরীয় আমদানি-রপ্তানি ব্যাংকের প্রতিনিধি (কমিশনার) হিসেবে নিযুক্ত হন।

১৯৫৫ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাকে দ্বিতীয় শ্রেণীর ‘অর্ডার অফ মেরিট’ পদকে ভূষিত করেন। তার রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ ও অর্থনৈতিক গবেষণা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক গবেষণা’, ‘অর্থনৈতিক পরিকল্পনা’ এবং ‘উদীয়মান দেশগুলোতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও এর মৌলিক নীতিমালা’।

প্রচ্ছদ সংশোধক:

মিস ই'তিদাল মুনিব।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌هذا الكتاب
এই গ্রন্থটি
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৯)
وضع العلامة الامريكي ا. كريسى موريسون هذا الكتاب للقارئ العادي، سواء أكان شابا ام شيخاً، رجلا ام امرأة، وبينما يعالج مسائل علمية جديدة، تراه يطلعك على غرائب في الكون ما كانت تخطر لك ببال.

وهو كتاب علمي قبل كل شيء، إذ يعالج مسائل تختص بالفلك والجيولوجيا والطبيعة والكيمياء والطب وعلم الاحياء ونحوها. ولكنه بسط هذه المسائل العلمية لدرجة تقربها إلى ذهن كل قارئ. ومن عجب ان يستوعبا كلها في هذا الحيز الصغير، وان يعرضها بشكل جذاب.

ان ما كشفه المؤلف في هذا الكتاب من حقائق جدير بان يثير خيال الانسان. غير ان النتائج التي انتهى اليها هي ثمرة (تكييف) الإنسان كي يلائم الطبيعة بشكل ظاهر، كما هي ثمرة تكييف الطبيعة لتلائم الإنسان بشكل خفي ادعى إلى الدهشة!

ولا ريب ان هذا الكتاب سيكون موضع التقدير من جميع المفكرين الذين يروقهم ان يجمعوا التأمل والتفكير إلى

وقد برهن المؤلف بالبراهين القاطعة على ان عجائب علاقات الإنسان بالطبيعة، ووجود الحياة نفسها، تتوقف كلها على
মার্কিন বিদ্বান এ. ক্রেসি মরিসন এই বইটি সাধারণ পাঠকের জন্য রচনা করেছেন, চাই তিনি তরুণ হোন কিংবা বৃদ্ধ, পুরুষ হোন কিংবা নারী। এতে তিনি যেমন নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন, তেমনি আপনাকে মহাবিশ্বের এমন সব বিস্ময়কর রহস্যের মুখোমুখি করবেন যা কখনও আপনার কল্পনাতেও আসেনি।

এটি সর্বোপরি একটি বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ; কারণ এটি জ্যোতির্বিদ্যা, ভূতত্ত্ব, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসা ও জীববিজ্ঞান এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করে। তবে লেখক এই বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলোকে এতটাই সহজবোধ্য করেছেন যে তা প্রতিটি পাঠকের বোধগম্য হয়। এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর যে, তিনি এই ক্ষুদ্র পরিসরে এই সব কটি বিষয়কে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ঢঙে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।

লেখক এই গ্রন্থে যেসব সত্য উন্মোচন করেছেন তা মানুষের কল্পনাশক্তিকে নাড়া দেওয়ার মতো। তবে তিনি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা হলো—দৃশ্যত প্রকৃতির সাথে মানুষের খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং একইভাবে মানুষের উপযোগী হওয়ার জন্য প্রকৃতির যে নিগূঢ় অভিযোজন প্রক্রিয়া, এটি তারই এক বিস্ময়কর ফলাফল!

নিঃসন্দেহে এই গ্রন্থটি সেই সব চিন্তাশীল ব্যক্তিদের নিকট সমাদৃত হবে, যারা গভীর পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাশীলতার সমন্বয় ঘটাতে পছন্দ করেন।

লেখক অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত করেছেন যে, প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্কের এই বিস্ময়কর ধারা এবং স্বয়ং জীবনের অস্তিত্ব নির্ভর করে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ১০)
وجود الخالق سبحانه وتعالى، وعلى وجود قصد من خلق الكون، ويتمثل هذا القصد في اعداد روح الإنسان للخلود.

وهذه الغاية التي توخاها المؤلف هي غاية جليلة بلا ريب، ولا تعارض بينها وبين الأديان على اختلافها، بل انها على العكس تؤيدها، إذ تثبت الايمان بالله الذي هو اساس كل دين. ومن ثم يروق هذا الكتاب للعالم العصري، والعالم الديني، والواعظ، ويرضى المتدين كما يقنع الذي في نفسه شك.

ولا ريب ان الموضوع الذي عالجه هذا الكتاب هو موضوع اليوم، فقد انتشرت فكرة الالحاد في كثير من البلدان، وزعم الملحدون انهم ينكرون الايمان على أساس من العلم. ولكن هاهو ذا عالم كبير يؤيد الإيمان ببراهين من أحد ث العلوم.

هذا والعلامة ا. كريسى موريسون هو الرئيس السابق لأكاديمية العلوم بنيويورك، ورئيس المعهد الامريكي لمدينة نيويورك، وعضو المجلس التنفيذي لمجلس البحوث القومي بالولايات المتحدة، وزميل في المتحف الامريكي للتاريخ الطبيعي، وعضو مدى الحياة للمعهد الملكي البريطاني.

وقد قرظت هذا الكتاب صحف ومجلات امريكية عدة، ومن ذلك ما نشرته مجلة (هارتفورد كورانت) ضمن مقال طويل، إذ قالت:
মহান স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলার অস্তিত্ব এবং মহাবিশ্ব সৃষ্টির পশ্চাতে একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের উপস্থিতি—যে উদ্দেশ্যটি মানুষের আত্মাকে অমরত্বের জন্য প্রস্তুত করার মধ্যে নিহিত।

লেখক যে লক্ষ্যটি নির্ধারণ করেছেন তা নিঃসন্দেহে এক মহান উদ্দেশ্য। বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে যে বৈচিত্র্যই থাকুক না কেন, এই লক্ষ্যের সাথে তাদের কোনো বিরোধ নেই; বরং এটি সেগুলোকে সমর্থন করে, কারণ এটি মহান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের ভিত্তি স্থাপন করে, যা প্রতিটি ধর্মের মূল ভিত্তি। ফলস্বরূপ, এই গ্রন্থটি আধুনিক বিজ্ঞানী, ধর্মতাত্ত্বিক ও ধর্মপ্রচারকদের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে এবং এটি যেমন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের তুষ্ট করবে, তেমনি সংশয়বাদীদেরও আশ্বস্ত করবে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই গ্রন্থে আলোচিত বিষয়টি বর্তমান সময়ের এক অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বিষয়। বিশ্বের বহু দেশে নাস্তিক্যবাদের বিস্তার ঘটেছে এবং নাস্তিকরা দাবি করে থাকে যে তারা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে বিশ্বাসকে অস্বীকার করে। অথচ এখানে একজন প্রথিতযশা বিজ্ঞানী রয়েছেন, যিনি আধুনিক বিজ্ঞানের অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে বিশ্বাসকে সমর্থন করছেন।

গ্রন্থকার আল্লামা এ. ক্রেসি মরিসন নিউইয়র্ক একাডেমি অফ সায়েন্সেসের প্রাক্তন সভাপতি, নিউইয়র্ক সিটির আমেরিকান ইনস্টিটিউটের সভাপতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য, আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রির একজন ফেলো এবং ব্রিটিশ রয়্যাল ইনস্টিটিউটের আজীবন সদস্য।

আমেরিকার বেশ কিছু সংবাদপত্র ও সাময়িকী এই গ্রন্থটির উচ্চকিত প্রশংসা করেছে। যেমন ‘হার্টফোর্ড কোরান্ট’ সাময়িকী একটি দীর্ঘ নিবন্ধে উল্লেখ করেছে:
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ১১)
(ان المؤلف الذي هو رئيس سابق لأكاديمية العلوم في نيويورك، قد اشتق الوقائع من مختلف العلوم، وجمعها معا في هذا الكتاب الذي يفتح الاذهان ويضيئها بشكل يدعو إلى العجب. مثله في ذلك مثل صانع الساعة الدقيقة الجميلة، إذ يبحث عن عجلة صغيرة، أو ترس هنا، وعن جوهرة هناك، ويضم اداة دقيقة إلى مسمار الحياة، حتى يتم صنع تلك تلك الساعة.

(وقد استعان المؤلف بامثلة من علم الفلك والجيولوجيا وعلم الحشرات وعلم النبات وعلم الاحياء وعلم الطبيعة وعلم النفس والفلسفة. وقد جمع هذه المادة بعناية بالغة. وعرضها بدقة وبراعة.

(واشتق من هذه العلوم المختلفة المتشابكة، حقائق عجيبة مرتبطا بعضها ببعض في انسجام كامل على نحو يؤدي بالضرورة إلى ايمان كل إنسان مفكر سليم الفكر بوجود الله.

ان بعض المؤمنين يؤمنون على أساس الشعور، والبعض الآخر على أساس تعاليم يحفظونها دون تفكير، ولا يصلح هذا الأساس ولا ذاك وإنما يصلح الايمان القائم على العقل لبقي الإنسان في هذا العصر الذري المدهش).

লেখক, যিনি নিউ ইয়র্ক একাডেমি অব সায়েন্সেসের সাবেক সভাপতি, বিভিন্ন বিজ্ঞান থেকে বাস্তব তথ্যাদি আহরণ করেছেন এবং সেগুলোকে এই গ্রন্থে সুসমন্বিত করেছেন, যা মানুষের চিন্তাজগতকে উন্মোচিত করে এবং এক বিস্ময়কর আলোকবর্তিকা প্রদান করে। এ ক্ষেত্রে তার দৃষ্টান্ত হলো একজন সূক্ষ্ম ও শৈল্পিক ঘড়ি নির্মাতার মতো, যিনি এখানে একটি ক্ষুদ্র চাকা বা গিয়ার এবং সেখানে একটি রত্ন খুঁজে বেড়ান এবং একটি সূক্ষ্ম যন্ত্রকে জীবনের অস্তিত্বের সাথে সংযুক্ত করেন, যতক্ষণ না সেই পূর্ণাঙ্গ ঘড়িটি নির্মিত হয়।

লেখক জ্যোতির্বিজ্ঞান, ভূতত্ত্ব, পতঙ্গবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ও দর্শনের উদাহরণ থেকে সহায়তা গ্রহণ করেছেন। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এসব উপাদান সংগ্রহ করেছেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও দক্ষতার সাথে তা উপস্থাপন করেছেন।

তিনি এই বিভিন্ন ও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিজ্ঞানসমূহ থেকে এমন বিস্ময়কর সত্যসমূহ উদঘাটন করেছেন, যা একে অপরের সাথে এক নিখুঁত সামঞ্জস্যে আবদ্ধ। এটি প্রত্যেক সুস্থ চিন্তাসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে অনিবার্যভাবে আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাসের দিকে পরিচালিত করে।

নিশ্চয়ই কিছু মুমিন কেবল অনুভূতির বশবর্তী হয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেন, আবার অনেকে চিন্তা-ভাবনা ব্যতিরেকেই মুখস্থ করা শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বাস করেন; কিন্তু এই ভিত্তিগুলোর কোনোটিই পর্যাপ্ত নয়। বরং এই বিস্ময়কর পারমাণবিক যুগে টিকে থাকার জন্য যুক্তিনির্ভর ঈমান বা বিশ্বাসই একমাত্র উপযুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌كلمة المترجم
অনুবাদকের কথা
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

قد يبدو غريبا ان رجلا درس العلوم الإقتصادية والمالية وشغل منصب وكيل وزارة المالية والاقتصاد، ومركز نائب المحافظ لصندوق النقد الدولي بواشنطن، ومنصب سفير مصر في باريس، يعمد إلى ترجمة كهذا الكتاب، يتكلم في الفلك والجيولوجيا والطبيعة والكيمياء والطب وعلم الوراثة، ومثل ذلك من العلوم التي لا تمت إلى عمل المترجم، ولا إلى دراسته، بسبب من الاسباب.

 

ولكن الواقع اني حين قرأت هذا الكتاب ابان اقامتي في امريكا، ضمن ما قرأته من كتب في موضوعات شتى - اعجبتني الغاية السامية التي توخاها المؤلف الكبير من تأليفه، إلا وهي اثبات وجود الله ووحدانيته، بادلة من العلم المادي الحديث!

وكان العهد بدعاة الإلحاد ان يحتجوا لدعوتهم بادلة يحسبونها علمية، حتى لقد ظن البعض ان العلم والايمان نقيضان لا يجتمعان، بل الف أحد العلماء الغربيين - وهو جوليان هكسلي - كتابا في ذلك سماه (الإنسان يقوم وحده) Man Stands Alone زعم فيه أن العلم ينكر وجود الله.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এটি অত্যন্ত অদ্ভুত মনে হতে পারে যে, একজন ব্যক্তি যিনি অর্থনীতি ও অর্থবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি, ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ডেপুটি গভর্নর এবং প্যারিসে মিশরের রাষ্ট্রদূতের মতো পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তিনি এমন একটি বই অনুবাদের উদ্যোগ নিয়েছেন যা জ্যোতির্বিদ্যা, ভূতত্ত্ব, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং বংশগতিবিদ্যার মতো এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে, যার সাথে কোনো কারণেই অনুবাদকের কর্মজীবন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।

 

কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমেরিকায় অবস্থানকালে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর যেসব বই আমি পড়েছিলাম, তার মধ্যে যখন আমি এই বইটি পাঠ করলাম—তখন বিজ্ঞ লেখকের এই রচনার মহান উদ্দেশ্যটি আমাকে মুগ্ধ করেছিল; আর তা হলো আধুনিক বস্তুগত বিজ্ঞানের দালিলিক প্রমাণের মাধ্যমে আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদ প্রমাণ করা!

নাস্তিকতার প্রবক্তাদের চিরাচরিত নিয়ম ছিল যে, তারা তাদের মতবাদের সপক্ষে এমন সব যুক্তি পেশ করত যেগুলোকে তারা বৈজ্ঞানিক মনে করত; এমনকি অনেকে ধারণা করতে শুরু করেছিল যে, বিজ্ঞান ও বিশ্বাস হলো দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় যা কখনো একত্র হতে পারে না। বরং একজন পশ্চিমা বিজ্ঞানী—জুলিয়ান হাক্সলি—এ বিষয়ে একটি বই লিখেছিলেন যার নাম (মানুষ একাকী দণ্ডায়মান) Man Stands Alone, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে বিজ্ঞান আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولكن ها هو ذا عالم من أكبر العلماء الامريكيي، وقد شغل حينا مركز رئيس المجمع العلمي في أمريكا، قد تصدى له ورد عليه وبين له وللناس جميعا، ان العلم الحديث يثبت وجود الله وينتهي إلى الايمان به وبوحدانية، بما لا يحتمل الشك أو الجدل.

وقد سمى كتابه (الإنسان لا يقوم وحده Man Does Not Stand Alone اثبت فيه بمختلف العلوم ان الله بارئ الكون وهو خالق كل شيء.

لذلك وحده عنيت بترجمة هذا الكتاب لعله ينتشر بني قراء العربية كما انتشر في أمريكا حيث كان له أثر كبير في صد موجة الالحاد وتثبيت قوة اليقين.

وقد وجدت كثيرا من آيات القرآن الكريم تؤيد ما ذهب اليه المؤلف فوضعتها في مواضعها من فصول الكتاب.

والله الهادي إلى اقوم سبيل

محمود صالح الفلكي
কিন্তু এই তো একজন অন্যতম প্রধান মার্কিন বিজ্ঞানী, যিনি একসময় আমেরিকার বিজ্ঞান একাডেমির সভাপতির পদে আসীন ছিলেন; তিনি তার মোকাবিলা করেছেন ও তাকে খণ্ডন করেছেন এবং তার নিকট ও সকল মানুষের নিকট এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আধুনিক বিজ্ঞান আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করে এবং তাঁর প্রতি ও তাঁর একত্ববাদের প্রতি এমন এক ঈমানের দিকে নিয়ে যায়, যা কোনো সন্দেহ বা বিতর্কের অবকাশ রাখে না।

তিনি তাঁর বইটির নামকরণ করেছেন 'মানুষ একাকী চলতে পারে না' (Man Does Not Stand Alone); সেখানে তিনি বিভিন্ন বিজ্ঞানের নিরিখে প্রমাণ করেছেন যে, আল্লাহই মহাবিশ্বের উদ্ভাবক এবং তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা।

এ কারণেই আমি বিশেষভাবে এই বইটি অনুবাদের উদ্যোগ নিয়েছি, যাতে এটি আরবি পাঠকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, যেমনটি আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছিল; যেখানে নাস্তিকতার ঢেউ রোধ করতে এবং দৃঢ় বিশ্বাসের শক্তি সুসংহত করতে এটি ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

আমি পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াত পেয়েছি যা লেখকের বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ দেয়, তাই আমি সেগুলোকে বইটির বিভিন্ন অধ্যায়ে প্রাসঙ্গিক স্থানে যুক্ত করে দিয়েছি।

আল্লাহই সঠিক পথের দিশারি।

মাহমুদ সালেহ আল-ফালাকি
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌تصدير بقلم فضيلة الأستاذ الشيخ أحمد حسن الباقوري

مدير جامعة الازهر
সম্মানিত উস্তায শায়খ আহমাদ হাসান আল-বাকূরীর কলমে মুখবন্ধ

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ১৯)
البحث عن الله والتعرف إلى الخالق امر شغلت به الإنسانية منذ كان لها وجود في هذا العالم حتى لكأنما يدفعها اليه شعور خفي دافق، ويسوقها نحوه سائق عنيف من فطرة كامنة فيها.

 

فالإنسان بفطرته طلعة لا يقنع من الحياة بمظاهر اشكالها وألوانها كما تنقلها اليه حواسه أو كما ينفعل بها شعوره، بل يتناولها بعقله، وينفذ اليها ببصرته ليعرف حقيقة كل شيء .. من اين جاء وكيف صار والام ينتهي. وهو في اشباع رغبته تلك لا يدخر وسعاً من ذكاء أو جهد حتى يبلغ من ذلك ما يطمئن اليه عقله وتستريح به نفسه.

وكذلك كان شان الإنسان في بحثه عن الله، الحقيقة الكبرى التي هي مصدر وجود هذا العالم واليها مصائر اموره .. فلقد أكثر من التطلع اليها والبحث عنها حتى تفرقت به السبل واختلفت فيها مذاهبه، إذ لا شك ان هذه النظرات المتطلعة إلى تلك الحقيقة الكبرى قد اخذت ولا تزال تاخذ صورا واشكالا متعددة متباينة، تختلف باختلاف الناس واستعدادهم الفكري وما يحيط بهم من ظروف الحياة واحوالها، فلكل وجهته التي هو موليها، ولكل مبلغه من العلم وحظه من التوفيق: فبينا يصل اليها بعضهم عن طريق
আল্লাহর অন্বেষণ এবং স্রষ্টাকে জানার বিষয়টি এমন এক বিষয় যা মানবতাকে এই পৃথিবীতে তার অস্তিত্বের সূচনালগ্ন থেকেই ব্যাপৃত রেখেছে; এমনকি মনে হয় যেন এক গূঢ় ও প্রবল অনুভূতি তাকে সেদিকে ধাবিত করছে এবং তার অন্তরের সুপ্ত স্বভাবজাত প্রকৃতি থেকে কোনো এক প্রচণ্ড চালিকাশক্তি তাকে সেদিকে চালিত করছে।

 

মানুষ তার স্বভাবজাত প্রকৃতি অনুসারেই কৌতূহলী; সে জীবনের বাহ্যিক রূপ ও বৈচিত্র্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে না, যা তার ইন্দ্রিয়গুলো তার কাছে পৌঁছে দেয় অথবা যার দ্বারা তার অনুভূতি প্রভাবিত হয়। বরং সে তার বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে সেগুলোকে বিচার করে এবং স্বীয় অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা সেগুলোর গভীরে প্রবেশ করে প্রতিটি জিনিসের প্রকৃত রূপ জানতে চায়—তা কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য কোথায়। আর নিজের সেই আকাঙ্ক্ষা মেটাতে সে তার মেধা ও প্রচেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখে না, যতক্ষণ না সে এমন এক স্তরে পৌঁছায় যেখানে তার বুদ্ধি আশ্বস্ত হয় এবং তার আত্মা প্রশান্তি লাভ করে।

আল্লাহর অনুসন্ধানেও মানুষের অবস্থা ঠিক তেমনই ছিল, যিনি সেই পরম সত্য—যিনি এই বিশ্বের অস্তিত্বের উৎস এবং যাঁর কাছেই সকল বিষয়ের চূড়ান্ত গন্তব্য। মানুষ এই সত্যের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা এবং এর অনুসন্ধান করাকে এতটাই বিস্তৃত করেছে যে, তার পথগুলো বিভক্ত হয়ে গেছে এবং এ বিষয়ে তার মতাদর্শগুলো ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সেই পরম সত্যের দিকে নিবদ্ধ এই অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিগুলো বহু আগে থেকেই বিভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় রূপ ধারণ করেছে এবং এখনো করছে, যা মানুষের ভিন্নতা, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা এবং তাদের পারিপার্শ্বিক জীবনের নানা পরিস্থিতি ও অবস্থার প্রেক্ষিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়। প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট দিক রয়েছে যেদিকে সে ধাবিত হয় এবং প্রত্যেকেরই রয়েছে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্ঞান ও তাওফিকের অংশ। ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ সেখানে পৌঁছায় কোনো এক পন্থায়...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ২০)
النظر في ملكوت السموات والأرض على اختلاف في مجال هذا النظر عمقا وامتداداً، إذ يصل اليها بعضهم الاخرين عن طريق العاطفة المجردة عن الادراك، الواقعة تحت تاثير الوراثة أو السماع والتي لا تكاد تلامس الفكر أو تثيره. وبين هؤلاء وهؤلاء طوائف وطوائف تقطع الطريق إلى تلك الحقيقة في مراحل متعددة تخلط بين العاطفة والفكر بنسب واقدار متباينة.

ومن هنا نستطيع ان نقول ان لك إنسان تصورا خاصا لإلهه الذي يعبده والذي ينزل من نفسه المنزلة التي هداء اليها عقله أو قلبه، أحد هما أو كلاهما، وبالقدر الذي تكشف له من الحقيقة، وعلى الصورة التي تمثلت في خاطره. ولذا تعددت الآلهة وتفرقت بالناس مذاهب الرأي فيها، فكان لكل امة ربها، ولكل جماعة دينها (وَلَوْ شَاءَ رَبَّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفيِنَ إلا مَنْ رَحِمَ رَبّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ)

ولا نريد هنا ان نبحث في تاريخ الأديان بعيدها وقربها، ولا أ، نستقصي تعدد المعبودات والبواعث التي دعت اليها، والصور والاشكال التي ظهرت فيها، ولا ان نتحدث عن فكرة التوحيد أو التعدد فذلك ما لا سبيل اليه في هذا المقام، وإنما نريد ان نقول ان صورة الإله أو الآلهة التي عبدها الناس
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্বের প্রতি দৃষ্টিপাত করার ক্ষেত্রে এই দৃষ্টির গভীরতা ও বিস্তৃতির দিক থেকে ভিন্নতা রয়েছে। কেননা তাদের কেউ কেউ উপলব্ধিহীন নিছক আবেগের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছায়, যা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অথবা শ্রুত (سماع) বিষয়ের প্রভাবে থাকে এবং যা চিন্তাশক্তিকে তেমন একটা স্পর্শ করে না বা জাগ্রত করে না। আর এদের উভয়ের মাঝে এমন বহু শ্রেণী ও গোষ্ঠী রয়েছে যারা সেই পরম সত্যের পথে অগ্রসর হতে বিভিন্ন পর্যায়ে আবেগ ও চিন্তার সংমিশ্রণ ঘটায়, যার মাত্রা ও পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়।

এখান থেকেই আমরা বলতে পারি যে, প্রত্যেক মানুষের তার উপাস্য সম্পর্কে একটি বিশেষ ধারণা রয়েছে যাকে সে ইবাদত করে এবং যাকে সে নিজের অন্তরে সেই মর্যাদায় আসীন করে যেদিকে তার বুদ্ধি বা অন্তর—উভয়টিই অথবা যেকোনো একটি—তাকে পরিচালিত করেছে, এবং যতটুকু সত্য তার সামনে উন্মোচিত হয়েছে এবং তার হৃদয়ে যে চিত্রটি ফুটে উঠেছে সেই অনুযায়ী। আর এ কারণেই উপাস্যের সংখ্যা বহু হয়েছে এবং মানুষের মাঝে এ নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ ও পথের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিটি জাতির জন্য তাদের নিজস্ব প্রতিপালক এবং প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য তাদের নিজস্ব ধর্ম নির্ধারিত হয়েছে (আর তোমার প্রতিপালক যদি চাইতেন তবে অবশ্যই সমস্ত মানুষকে এক জাতিতে পরিণত করতেন, কিন্তু তারা সর্বদা মতবিরোধে লিপ্ত থাকবে, তারা ব্যতীত যাদের ওপর তোমার প্রতিপালক দয়া করেছেন এবং এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন)।

আমরা এখানে প্রাচীন বা সাম্প্রতিক ধর্মের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে চাই না, আর না উপাস্যের বহুত্ব, এর পেছনে ক্রিয়াশীল কারণসমূহ এবং তাদের যে সকল রূপ ও আকৃতি প্রকাশ পেয়েছে সেগুলোর বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে চাই। আমরা এখানে একত্ববাদ বা বহুত্ববাদের ধারণা সম্পর্কেও কোনো কথা বলতে চাই না, কারণ এই স্থানে তার অবকাশ নেই। বরং আমরা কেবল এটাই বলতে চাই যে, মানুষের উপাসনা করা উপাস্য বা উপাস্যদের যে প্রতিচ্ছবি...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ২১)
منذ كانوا إنما كانت وليدة اقتناع وايمان ايا كان حظهما من العمق، ومدهما من الصدق.

فعايد النار أو الحجر أو الحيوان أو الشمس أو القمر إنما عبد معبوداته تلك بعد ان ملكت عليه زمام نفسه، واخذت بمجامع قلبه، وتمثلت له قوة خارقة لا حد لها، اليها مصائر اموره، وعليها مدار ضره ونفعه، فآمن بها واستسلم لها ووجه اليها وجهه وقلبه وعقله.

وسواء أكان هذا الإيمان منبعثا من أعماق النفس ام ملتقى اليها من طريق الايحاء والإغراء، فهو على اية حال ايمان ملك النفس وخالط المشاعر، وبغير هذا لا يكون إيمانا ولا يسمى ديناً، وانه إذا لم يبلغ هذا الحد فستظل نفس الإنسان فارغة خواء، وسيظل الإنسان قلقا مضطربا حتى يقع على الاله الذي يسكن اليه قلبه ويطمئن به وجدانه.

وحين تصل العقول سبيلها إلى الخالق- وما أكثر ما تضل - وتنزل الانسانية إلى هذا الدرك من التفكير والسخف من النظر فتتخذ من الأحجار أربابا، ومن الحيوان آلهة تجثو تحت اقدامها تعبدها وتفني فيها، وتقدم لها النفس والولد على مذبح التضحية زلفى وقربانا، حين تصل الانسانية إلى هذا المدى من الإغراق في الضلال والسفه تجيء رسالة من السماء في ابانها لتخرج الناس من الظلمات إلى النور على يد رسل الله وانبيائه الكرام.
সূচনালগ্ন থেকেই এটি ছিল কেবল এক সুদৃঢ় প্রত্যয় ও বিশ্বাসের ফসল, তাদের গভীরতা এবং সত্যতা যে মাত্রারই হোক না কেন।

অগ্নি, পাথর, প্রাণী, সূর্য কিংবা চন্দ্রের উপাসক মূলত তার সেই উপাস্যগুলোর ইবাদত তখনই করেছে যখন সেগুলো তার সত্তার নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করেছে, তার হৃদয়ের অন্তঃস্থলে স্থান করে নিয়েছে এবং তার কাছে এমন এক অসীম অলৌকিক শক্তিরূপে প্রতিভাত হয়েছে যার ওপর তার সকল বিষয়ের পরিণতি এবং তার ক্ষতি ও উপকারের আবর্তন নির্ভরশীল। ফলে সে সেগুলোর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে, সেগুলোর নিকট আত্মসমর্পণ করেছে এবং নিজের মুখমণ্ডল, অন্তর ও বুদ্ধিবৃত্তিকে সেগুলোর দিকেই নিবদ্ধ করেছে।

এই বিশ্বাস আত্মার গভীর থেকে উৎসারিত হোক কিংবা প্ররোচনা ও প্রলোভনের মাধ্যমে সেখানে প্রবিষ্ট হোক না কেন, তা সর্বাবস্থায় এমন এক বিশ্বাস যা সত্তাকে জয় করেছে এবং অনুভূতিতে মিশে গেছে। এটি ব্যতীত কোনো কিছু প্রকৃত বিশ্বাস হতে পারে না এবং তাকে ধর্ম হিসেবেও অভিহিত করা যায় না। যদি তা এই স্তরে না পৌঁছায়, তবে মানুষের আত্মা রিক্ত ও শূন্যই থেকে যাবে। মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত উদ্বিগ্ন ও অশান্ত থাকবে, যতক্ষণ না সে এমন এক উপাস্যের সন্ধান পাবে যার কাছে তার অন্তর প্রশান্তি লাভ করবে এবং যার মাধ্যমে তার বিবেক স্থির হবে।

যখন মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি স্রষ্টার পথ হারিয়ে ফেলে—আর বুদ্ধিবৃত্তি কতই না পথভ্রষ্ট হয়—এবং মানবতা চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির এমন হীন স্তরে ও নির্বুদ্ধিতায় পর্যবসিত হয় যে তারা পাথরকে প্রতিপালক এবং প্রাণীকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের পদতলে লুটিয়ে পড়ে ইবাদত করে ও তাদের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়, আর নৈকট্য ও উৎসর্গ হিসেবে বলির বেদীতে নিজের প্রাণ ও সন্তানকে বিসর্জন দেয়; যখন মানবতা পথভ্রষ্টতা ও অজ্ঞতার এই চরম সীমায় পৌঁছে যায়, তখন মহান আল্লাহর সম্মানিত রাসুল ও নবীদের মাধ্যমে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার জন্য যথাসময়ে আসমানি রিসালাত বা বার্তা আগমন করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ২২)
وأول دعوة تهتف بها الأديان السماوية في آذان الناس الدعوة إلى وحدانية الله وتحرير العقول والقلوب من الشرك به ورفع البصر اليه خالصا من أوهام الزيغ والضلال، وبهذا تصح انسانية الانسان، ويرد اليه اعتباره، ويصبح اهلا ليكون خليفة الله في ارضه.

ومهما اختلفت طرق الأديان السماوية في أداء الدعوة إلى الله، وفي وسائل الاقناع بوحدانيته، فإنها جميعها تعتمد أول ما تعتمد على إثارة العاطفة وتحريك الوجدان أكثر من اعتمادها على اثارة قوى الإدراك والتفكير، ذلك ان حقيقة الإله الموحد أكبر من أن يحدها الفكر أو يحيط بها الإدراك - وإن كان لهما في آياتها الرائعة مسارح للنظر والتأمل، وفي آفاقها الرحيبة مجالات للبحث والتفكير يفيض بها الوجدان روعة وجلالا، ويمتلئ بها القلب طمأنينة وإيمانا،.

انظر إلى النغم الموسيقي الرائع كم يثير في الاسماع من بهجة ورضا، وكم يحرك في النفس من عواطف وأحاسيس .. انك لو ذهبت تطلبه بفكرك في طبقات الاثير ترد كل ذبذبة فيه إلى ضوابط من الفن وقواعد من العلم لاعيتك مذاهبه لانتهى بك المطاف إلى غير طائل .. ثم انظر إلى البحر في سعته وامتداده .. كم تأخذ صفحته الرقراقة المتموجة من نفسك وكم تبلغ عظمته وروعته من قلبك حين تملأ عينيك منه وتردد النظر فيه، ثم انظر كيف بك إذا ألقيت بنفسك في عبابه ورميت بها في ثبجة .. من أنت؟ وما تكون؟

فكيف بهذا الخالق العظيم نرمي بعقولنا القاصرة وأفكارنا
আসমানি ধর্মসমূহ মানুষের কানে যে প্রথম আহ্বানের ধ্বনি দেয়, তা হলো আল্লাহর একত্বের প্রতি দাওয়াত এবং তাঁর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করা থেকে বুদ্ধি ও হৃদয়কে মুক্ত করা এবং পথভ্রষ্টতা ও বিভ্রান্তির ভ্রান্ত ধারণা থেকে বিমুক্ত হয়ে তাঁর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করা। এর মাধ্যমেই মানুষের মনুষ্যত্ব সঠিক রূপ লাভ করে, তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং সে পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে।

আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এবং তাঁর একত্ববাদে উদ্বুদ্ধ করার উপায়সমূহে আসমানি ধর্মগুলোর পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন হলেও, তারা সবাই প্রথমত উপলব্ধি ও চিন্তাশক্তিকে জাগ্রত করার চেয়ে আবেগ ও অন্তরের অনুভূতিকে নাড়া দেওয়ার ওপর বেশি নির্ভর করে। এর কারণ হলো, এক অদ্বিতীয় ইলাহের হাকিকত বা বাস্তবতা এতই মহান যে, কোনো চিন্তা তা সীমাবদ্ধ করতে পারে না অথবা কোনো বোধ তা আয়ত্ত করতে পারে না—যদিও তাঁর চমৎকার নিদর্শনসমূহে চিন্তা ও গবেষণার জন্য বহু ক্ষেত্র রয়েছে এবং এর সুবিস্তৃত দিগন্তে গবেষণা ও ভাবনার এমন অনেক সুযোগ আছে যা হৃদয়কে মহিমা ও গাম্ভীর্যে প্লাবিত করে এবং অন্তরকে প্রশান্তি ও ঈমানে পরিপূর্ণ করে।

চমৎকার কোনো সংগীত সুরের দিকে লক্ষ করুন, তা কানে কতই না আনন্দ ও তৃপ্তি জাগায় এবং মনে কত আবেগ ও অনুভূতির উদ্রেক করে! আপনি যদি নিজের চিন্তা দিয়ে তা ইথারের স্তরগুলোতে খুঁজতে যেতেন এবং তার প্রতিটি কম্পনকে শিল্পের নিয়ম ও বিজ্ঞানের মূলনীতির অধীন করতে চাইতেন, তবে তার বিচিত্র দিকগুলো আপনাকে ক্লান্ত করে দিত এবং পরিশেষে আপনি নিছক নিষ্ফলতায় উপনীত হতেন। এরপর সমুদ্রের বিশালতা ও বিস্তৃতির দিকে তাকান; যখন আপনি আপনার দুচোখ ভরে তা দেখেন এবং বারবার দৃষ্টিপাত করেন, তখন তার স্বচ্ছ ঢেউখেলা পৃষ্ঠদেশ আপনার মনে কতটা প্রভাব বিস্তার করে এবং তার মহিমা ও সৌন্দর্য আপনার হৃদয়ে কতটা স্থান দখল করে! তারপর চিন্তা করুন, যখন আপনি সমুদ্রের বিশাল তরঙ্গে বা মাঝ দরিয়ায় নিজেকে নিক্ষেপ করেন, তখন আপনার অবস্থা কী হয়? আপনার অস্তিত্ব কী? আপনি কী-ই বা হতে পারেন?

তবে এই মহান স্রষ্টার ক্ষেত্রে কীভাবে আমরা আমাদের অপূর্ণ বুদ্ধি ও চিন্তাকে প্রয়োগ করতে পারি...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৩)
المحدودة في عوالم لا نهاية لها نريدها على ان تحيط به وتخضع حقيقته لما تخضع له حقائق الأشياء في عالمنا المحدود؟

لماذا لا نقف من هذا الخالق العظيم موقفنا من النغم الموسيقي نلتذ سماعه، أو البحر نتملى جماله؟ ولم نعدل عن هذا إلى مسابقة النغم في مسراه أو مطاولة البحر في عظمته؟ ذلك هو الضلال البعيد.

ان العقل مهما بلغ من القوة والذكاء ليس إلا حاسة من حواس التي تربطنا بعالمنا المحدود، فكما يكون للعين مدى تنتهي عنده مقدرتها على الابصار فلا تدرك ما وراء هذا المدى من مرئيات إلا اشباحا باهنة وصوراً شائهة لا تعني من الحق شيئا .. وكذلك الشأن في كل حاسة من حواسنا لكل مجال تعمل فيه، وتؤدي وظيفتها كاملة في حدوده، فاذا اريد بها الخرود عن هذا المجال ضلت واضلت. وكذلك شأن العقل وهو حاسة الادراك له مجاله المحدود الذي يعمل فيه ويدرك حقائق الأشياء في محيطه، فان ان اتى إلا ان يركب متن الشطط ويستوي على ظهر الغرور، انزلق إلى ظلمات الضلال وتقطعت به إلى الحقيقة الأسباب.

ولسنا نريد بهذا ان نمسك العقل عن التفكير والبحث في التعرف إلى الله، فهو الطريق الطبيعي اليه، وإنما نريد ان يهج العقل بهجا قاصدا في البحث عن الله فلا يندفع وراء الخيالات والفروض، ولا يشط في التطلع إلى ما فوق طاقته، وليتعرف بقصوره عن ادراك الحقيقة وعجزه عن تناولها،
অসীম জগতের মাঝে আমাদের এই সীমাবদ্ধ অস্তিত্ব কি চায় তাঁকে পরিবেষ্টন করতে এবং তাঁর সত্তার প্রকৃত স্বরূপকে (حقيقة) এমনভাবে বশীভূত করতে, যেমনটি আমাদের এই সীমাবদ্ধ জগতের বস্তুনিচয় বশীভূত হয়?

কেন আমরা এই মহান স্রষ্টার সামনে তেমন অবস্থান গ্রহণ করি না যেমনটি আমরা কোনো সুরের মূর্ছনা শোনার সময় তৃপ্ত হই কিংবা সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখে বিমোহিত হই? কেন আমরা সুরের গতিপথের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া কিংবা সমুদ্রের বিশালতার সাথে পাল্লা দেওয়ার প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত্ত হই না? সেটিই তো চরম পথভ্রষ্টতা (ضلال)।

বুদ্ধি (عقل) শক্তি ও প্রজ্ঞায় যতটাই উন্নত হোক না কেন, তা কেবল আমাদের এমন এক ইন্দ্রিয় যা আমাদের এই সীমাবদ্ধ জগতের সাথে যুক্ত রাখে। চোখের যেমন একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে যেখানে তার দৃষ্টিশক্তি শেষ হয়ে যায়, ফলে সেই সীমার ওপারে যা আছে তা অস্পষ্ট অবয়ব বা বিকৃত প্রতিচ্ছবি ছাড়া আর কিছুই নয়, যা বাস্তবতার (حقيقة) ধারেকাছেও পৌঁছায় না... আমাদের প্রতিটি ইন্দ্রিয়ের ক্ষেত্রেই এই একই নিয়ম প্রযোজ্য; প্রত্যেকের একটি নির্দিষ্ট বিচরণক্ষেত্র রয়েছে যেখানে সে তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। কিন্তু যখন তাকে সেই সীমার বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তখন সে নিজে পথ হারায় এবং অন্যকেও বিভ্রান্ত করে। অনুধাবনকারী ইন্দ্রিয় হিসেবে বুদ্ধির (عقل) অবস্থাও তদ্রূপ; তারও একটি সীমাবদ্ধ ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে সে কাজ করে এবং তার পরিধিতে থাকা বস্তুসমূহের প্রকৃত সত্তা (حقيقة) উপলব্ধি করে। কিন্তু সে যদি সীমালঙ্ঘনের পথে পা বাড়ায় এবং অহংকারের বশবর্তী হয়, তবে সে পথভ্রষ্টতার (ضلال) অন্ধকারে তলিয়ে যাবে এবং সত্যে পৌঁছানোর সকল মাধ্যম তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

আমরা এর দ্বারা বুদ্ধিকে (عقل) আল্লাহ সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা থেকে বিরত রাখতে চাইছি না, কারণ তা তো তাঁর দিকে পৌঁছানোরই স্বাভাবিক পথ। বরং আমরা চাচ্ছি বুদ্ধি যেন আল্লাহর সন্ধানে এক সুনির্দিষ্ট ও সঠিক পথ অবলম্বন করে, যাতে তা কল্পনা ও অনুমানের পেছনে না ছোটে এবং নিজ সামর্থ্যের অতীত কোনো কিছুর আকাঙ্ক্ষায় সীমালঙ্ঘন না করে। বুদ্ধির উচিত সত্যের স্বরূপ (حقيقة) উপলব্ধিতে নিজের সীমাবদ্ধতা এবং তা পুরোপুরি আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে স্বীয় অক্ষমতা স্বীকার করে নেওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৪)
وليرجع إلى القلب يطلب عنده الاطمئنان والسكينة.

ودعوة الاسلام صريحة في ان العقل لا يمكن ان يستقل بمعرفة الله، ولا ان يهتدي اليه إلا إذا صحبه في تطوافه إلى تلك الغاية قلب يتلقى عنه كل مدركاته فيجعلها عواطف وأحاسيس تشيع في النفس روعة وجلالا. ومن خلال هذا الشعور بالروعة والجلال يرى المرء خالقة الواحد الاحد المتفرد بالعظمة والجلال.

ولهذا كان الإسلام دين الفطرة .. والفطرة ليست عقلا صرفا ولا عاطفة محضا، وإنما هي مزيج من العقل والعاطفة إذا التقيا فلم يطغ أحد هما على الآخر كانت الفطرة سليمة تنشد الله وتعرف سبيلها اليه من أقرب السبل.

وتلك الفطرة مركوزة في النفس البشرية تتحرى إلى اداء وظيفتها منذ تتفتح مشاعر المرء وتستيقظ مداركه، وعلى هذا الوجه من الفهم للفطرة أحب ان أفهم قوله تعالى: (وَإِذْ أخَذَ رَبّكَ مِنْ بَنيِ آدَمَ مِن ظُهُورهِمْ ذُرّيتَهُمْ، وَأشْهَدَهُم عَلَى أنْفُسِهِم ألستُ بربِكُمْ قالوُا بَلى شَهدنَا .. أنْ تَقولُوا يَومَ القيامَةِ إنّا كنّا عَن هذَا غَافليِن). وكيف يغفل المرء عن الله وفيه هذه الغريزة المتطلعة إلى الله المتشوقة إلى الوصول اليه.

والتعرف إلى الله عن طريق هذه الفطرة امر سهل ميسور لا يحتاج إلى علم غزير أو نظر فلسفي، وإنما تكفي فيه النظرة الخالصة في صفحات هذا الوجود، نظرة في الأرض أو
মানুষের উচিত হৃদয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, যেন সে সেখানে প্রশান্তি ও স্থৈর্য তালাশ করতে পারে।

ইসলামের দাওয়াত অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, বুদ্ধি (عقل) এককভাবে আল্লাহ তাআলার পরিচয় লাভে সক্ষম নয় এবং তাঁর দিকে পথনির্দেশ পেতে পারে না, যতক্ষণ না এই অভিযাত্রায় হৃদয়ের সাহচর্য লাভ করে যা তার সকল অনুধাবনকে গ্রহণ করে আবেগ ও অনুভূতিতে রূপান্তর করবে; যা আত্মার মাঝে এক অপূর্ব মহিমা ও গাম্ভীর্য ছড়িয়ে দেয়। আর এই মহিমা ও গাম্ভীর্যের অনুভূতির মাধ্যমেই মানুষ তার মহান স্রষ্টা, অদ্বিতীয় সত্তাকে দেখতে পায়, যিনি মহত্ত্ব ও গাম্ভীর্যে একক।

একারণেই ইসলাম হলো ফিতরাত (فطرة) বা স্বভাবজাত প্রকৃতির দ্বীন। আর ফিতরাত (فطرة) নিছক বুদ্ধি (عقل) নয় এবং কেবল আবেগও নয়; বরং এটি বুদ্ধি (عقل) ও আবেগের এমন এক সংমিশ্রণ, যখন উভয়ের মিলন ঘটে এবং একটি অপরটির ওপর আধিপত্য বিস্তার করে না, তখন ফিতরাত (فطرة) সঠিক (سليمة) থাকে, যা আল্লাহর অন্বেষণ করে এবং তাঁর কাছে পৌঁছানোর নিকটতম পথ চিনে নেয়।

এই ফিতরাত (فطرة) মানবাত্মার গভীরে প্রোথিত, যা মানুষের অনুভূতি জাগ্রত হওয়া এবং তার বোধশক্তির উন্মেষ ঘটার লগ্ন থেকেই নিজস্ব দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়। ফিতরাতের (فطرة) এই উপলব্ধির আলোকেই আমি মহান আল্লাহর এই বাণীটি বুঝতে চাই: (আর যখন আপনার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের সন্তানদের বের করে আনলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী করলেন যে—আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই? তারা বলেছিল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম’... যেন তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে না পার যে, আমরা এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম)। মানুষ আল্লাহ সম্পর্কে কীভাবে গাফেল হতে পারে যখন তার সত্তার ভেতরেই আল্লাহর প্রতি ব্যাকুল ও তাঁর সান্নিধ্য লাভে আগ্রহী এই সহজাত প্রবৃত্তি (غريزة) বিদ্যমান?

এই ফিতরাতের (فطرة) মাধ্যমে আল্লাহকে চেনা অত্যন্ত সহজ ও সুগম একটি বিষয়, যার জন্য গভীর পাণ্ডিত্য বা দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন হয় না। বরং এই মহাবিশ্বের অস্তিত্বের পাতায় পাতায় নিছক একটি স্বচ্ছ দৃষ্টিই এর জন্য যথেষ্ট; জমিনের প্রতি একটি দৃষ্টি অথবা...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৫)
السماء .. في الليل أو في النهار .. في عالم الحياة أو الموت .. في النبتة الصغيرة أو الشجرة الباسقة .. نظرة واحد إلى أية صورة من صور هذا العالم وإلى أي لون من ألوانه ترىان العقل وشواهد ناطقة بقدرة الخالق العظيم، وتحمل إلى القلب شواهد ناطقة بقدرة الخالق العظيم، وتحمل إلى القلب فيضا من الإجلال والإكبار لهذا الصانع المبدع (الّذي خلَقَ سبْعَ سَموَاتٍ طِباقاً ما تَرى في خَلقِ الرّحمنِ منْ تَفاوتٍ فَارجعِ البَصرَ هلْ ترى مِنْ فُطورٍ، ثمّ ارجعِ البصَرَ كرّتينِ ينَقلبْ اليكَ البصرُ خاسِئاً وهوَ حَسيرُ).

فاذا يبلغ البصر من هذا المحيط العظيم الذي لا تضمه قيود ولا حدود؟ اولى له ثم أولى ان يقف عند حده وأن يرضى من النظرة الأولى بما يتكشف له من عجائب وأسرار.

تلك هي طريقة الإسلام في معرض الهداية إلى الله والدعوة اليه .. انه يوقظ العقل اولا .. يوقظه في رفق ويسر حين يلفته إلى مظاهر الكون المحيط به، والواقعة تحت سمعه وبصره. يريده ان يلتفت اليها لفتة حالمة شاعرة، لا أن يغوص في أعماقها يطلب عللها وأسبابها ويلتمس عناصرها وأجزءها.

استمع إلى قوله تعالى: (قُل انظروا مَاذا فيِ السّموات الأرض) ثم استجب إلى هذه الدعوة .. فماذا ترى في نظرة طرية إلى هذا الملكوت الرحيب تنتعش بها النفس ويهتز لها لوجدان حين تطالع صفحة هذا الوجود في اجمال بعيد عن التفصيل والتعليل، ثم انظر إلى قوله تعالى: (يا أيها الإنسان ما غرّكَ برَبّكَ الكريمِ الّذي خلَقَك فَسواكَ في أي
আকাশ... রাতে হোক বা দিনে... জীবন বা মৃত্যুর জগতে... ছোট চারাগাছে বা বিশাল মহীরুহে... এই জগতের যেকোনো রূপের প্রতি বা এর যেকোনো রঙের প্রতি একটি দৃষ্টিই বলে দেয় যে, বিবেক মহান স্রষ্টার ক্ষমতার জীবন্ত সাক্ষী দেখতে পায় এবং হৃদয়ে সেই সৃষ্টিশীল কারিগরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের এক প্রস্রবণ বয়ে নিয়ে আসে। (যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি দাও, কোনো ফাটল দেখতে পাও কি? অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফেরাও, সেই দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।)

তবে এই বিশাল পরিধি থেকে দৃষ্টি কী-ই বা অর্জন করতে পারে, যা কোনো সীমাবদ্ধতা বা সীমানার মাঝে আবদ্ধ নয়? তার জন্য এটাই অধিক সমীচীন যে, সে যেন তার সীমার মধ্যে অবস্থান করে এবং প্রথম দৃষ্টিতেই তার সামনে যা কিছু বিস্ময় ও রহস্য উন্মোচিত হয় তাতেই সন্তুষ্ট থাকে।

আল্লাহর দিকে হিদায়াত এবং তাঁর প্রতি দাওয়াতের ক্ষেত্রে এটিই ইসলামের পদ্ধতি... এটি প্রথমে বিবেককে জাগ্রত করে... অত্যন্ত কোমলতা ও সহজবোধ্য উপায়ে তাকে জাগ্রত করে যখন তাকে তার চারপাশের মহাবিশ্বের নিদর্শনগুলোর প্রতি নিবদ্ধ করে, যা তার শ্রবণ ও দর্শনের আওতাভুক্ত। ইসলাম চায় যে, মানুষ যেন সেগুলোর প্রতি এক স্বপ্নিল ও অনুভূতিপ্রবণ দৃষ্টিতে তাকায়; এর গভীরে ডুবে গিয়ে তার কার্যকারণ ও উৎস খুঁজতে গিয়ে কিংবা উপাদান ও অংশসমূহ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যেন হারিয়ে না যায়।

মহান আল্লাহর বাণী শ্রবণ করুন: (বলুন, তোমরা লক্ষ্য করো আসমানসমূহ ও জমিনে কী রয়েছে)। অতঃপর এই আহ্বানে সাড়া দিন... তবে এই প্রশস্ত সাম্রাজ্যের প্রতি একটি সতেজ দৃষ্টিতে আপনি কী দেখতে পাচ্ছেন? যা প্রাণকে সঞ্জীবিত করে এবং হৃদয়কে স্পন্দিত করে যখন আপনি অস্তিত্বের এই অধ্যায়কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়াই সামগ্রিকভাবে পাঠ করেন। তারপর মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি লক্ষ্য করুন: (হে মানুষ, কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন এবং তোমাকে যথাযথ অবয়ব দান করেছেন...)
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৬)
صورةٍ ما شاءَ ركبك). فأي إنسان تدق عن فهمه هذه الحقيقة الماثلة أمام عينيه .. حقيقة الإنسان على صورة تلك وما ركب فيها من أعضاء؟

(لا يُكلّفُ اللهُ نفساً إلا وسْعَها) وأضيق درجات السعة في النفس الانسانية على ان يستشف في معارض هذا الكون الدلائل الناطقة على قدرة الله ووحدانيته ولا على المرء بعد ذلك ان يفوته منها ما يقع عليه الفلاسفة والعلماء من حقائق واسرار، فان كل هذا إلى جانب الحقيقة الكبرى هباء وهراء (وما أوتيتُمْ منَ العِلمِ إلا قليلاً)، وحتى في مقام الجدل في الله بين الجاحدين والمؤمنين .. لا يسلك الداعي إلى الله مسالك المنطق الجاف الذي يقوم على التصورات الذهنية التي تفتح للخصم ابواب الدعاء والمغالطة، بل يعدل عن هذا الأسلوب الفطري فيتناول المسائل من أبرز جوانبها وأوضحها حيث لا يختلف فيها نظر ولا يضل عنها فهم.

ألمْ تَر إلى الذّي حاج إبراهيمَ في رَبّه أنْ آتاهُ الله المُلكَ إذ قالَ إبراهيمُ ربيَ الذي يُحي وَيُميت. قالَ: أنا أُحيي وَأميتُ! قالَ إبراهيمُ فإنّ الله يأتي بالشمسِ منَ المشرقِ فأتِ بها منَ المغربِ. فَبهتَ الذي كفر والله لا يَهدي القَوم الظالمينَ)

ولو ذهب ابراهيم في الرد على هذا الكافر المعاند مذاهب الفلاسفة والمناطقة لكان له في الرد عليه مسالك غير التي
(যেই আকৃতিতে তিনি চেয়েছেন, আপনাকে গঠন করেছেন)। এমন কোন মানুষ আছে যার বোধশক্তির অগম্য হবে চোখের সামনে বিদ্যমান এই ধ্রুব সত্যটি—যা হলো মানুষের এই নির্দিষ্ট অবয়ব এবং তার মধ্যে বিন্যস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বাস্তবতা?

(আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না)। মানুষের সামর্থ্যের ন্যূনতম পর্যায় হলো এই বিশ্ব-চরাচরের প্রদর্শনীতে আল্লাহর কুদরত ও তাঁর একত্ববাদের সুস্পষ্ট দলিলসমূহ প্রত্যক্ষ করা। এরপর দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা যেসব তথ্য ও রহস্য উদঘাটন করেন, তা যদি কারো জানা নাও থাকে তবে তাতে তার কিছু যায় আসে না; কারণ মহা সত্যের মোকাবিলায় এগুলোর সবটুকুই তুচ্ছ ও অসার। (তোমাদেরকে অতি সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে)। এমনকি আল্লাহ সম্পর্কে অস্বীকারকারী ও বিশ্বাসীদের মধ্যকার বিতর্কের ক্ষেত্রেও আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এমন শুষ্ক যুক্তির পথ অনুসরণ করেন না যা কেবল মানসিক প্রসূত ধারণার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং যা প্রতিপক্ষের জন্য অসার দাবি ও কূটতর্কের দ্বার উন্মুক্ত করে। বরং তিনি এই স্বভাবজাত পদ্ধতি বেছে নেন এবং বিষয়গুলোকে তাদের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও স্পষ্ট দিক থেকে উপস্থাপন করেন, যাতে কোনো ভিন্নমতের অবকাশ থাকে না এবং কোনো বোধশক্তিই বিভ্রান্ত হয় না।

(আপনি কি সেই ব্যক্তির বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য করেননি, যে ইব্রাহিমের সাথে তার পালনকর্তা সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল যেহেতু আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন? যখন ইব্রাহিম বললেন, 'আমার পালনকর্তা তিনিই যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান।' সে বলল, 'আমিও জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই।' ইব্রাহিম বললেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, সুতরাং তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে আনয়ন করো।' তখন সেই কাফের হতভম্ব হয়ে গেল। আর আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।)

ইব্রাহিম যদি এই একগুঁয়ে কাফেরের প্রত্যুত্তরে দার্শনিক ও যুক্তিবিদদের পন্থা অবলম্বন করতেন, তবে তার জবাব প্রদানের পদ্ধতিগুলো হতো ভিন্ন যা...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৭)
سلك .. إنسان يدعى انه يحي ويميت .. وتلك دعوى عريضة لو تحداه إبراهيم بتحقيقها لاعجزه وكشف أمره ..

ولكن من يدري لعل هذا الطاغية المتكبر تاخذه العزة بالإثم فيمضى في دعواه ويركب رأسه دفاعا عن كبريائه فيمثل الشهود صورا من قدرته على الإماتة والاحياء، وربما عمد إلى إنسان من رعيته ويقول: هذا قد احييته لأني اردت له الحياة! ثم يعمد إلى آخر فيضرب عنقه ويقول: هذا قد امته لأني قد أردت له الموت! ثم يرفع رأسه مزهوا منتصراً. …

وما لإبراهيم يكلف نفسه دحض هذا الافتراء، وعقد المقارنة بين صور الاحياء والإماتة من جانب الله، وبين هذه الصورة الممسوخة من صور الإماتة والإحياء .. ما له يدخل في هذا الجدل الطويل واماه مثل آخر لقدرة الخالق لا يستطيع ان يقول فيه هذا الجاحد، يقول: (إنَّ الله إنّ بالشمسِ منَ المشرقِ فأتِ بها منَ المغربِ. فَبهتَ الذي كفر).

بهذه الصورة الفطرية الساذجة انقطعت حجة وبطل كيد (بلْ نقذفُ بالحقَّ على الباطلِ فيدْمَغهُ فإذا هو زاهقٌ).

ان الذين ضلوا السبيل إلى الله أحد رجلين: رجل حرم نعمة العقل ولم يؤت حظا من الفهم والإدراك فهو والسائمة سواء، لا يلفته جمال ولا يوقظ مشاعره مشرق صبح أو سدفة مساء (أولئك كالأنْعامِ بلْ هُم أضلُ سبيلاً).
সে এমন পথ অবলম্বন করল... এমন এক ব্যক্তি যে দাবি করে যে সে জীবন দান করে এবং মৃত্যু দান করে... আর এটি ছিল এক সুদীর্ঘ ও ভিত্তিহীন দাবি; যদি ইব্রাহিম তাকে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করতেন, তবে তিনি তাকে অক্ষম করে দিতেন এবং তার স্বরূপ উন্মোচন করে দিতেন।

কিন্তু কে জানে, হয়তো এই অহংকারী জালিম পাপে মগ্ন হয়ে নিজের মিথ্যা অহমিকা রক্ষার্থে তার দাবিতে অনড় থাকত এবং নিজের হঠকারিতার ওপর সওয়ার হয়ে তার দম্ভ রক্ষায় জেদ ধরত। ফলে সে দর্শকদের সামনে জীবন ও মৃত্যু দেওয়ার ক্ষমতার কিছু দৃশ্য চিত্রায়িত করত। হয়তো সে তার প্রজাদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে লক্ষ্য করে বলত: একে আমি জীবন দান করেছি কারণ আমি তার বেঁচে থাকা চেয়েছি! এরপর অন্য একজনের দিকে অগ্রসর হয়ে তার শিরশ্ছেদ করত এবং বলত: একে আমি মৃত্যু দিয়েছি কারণ আমি তার মৃত্যু চেয়েছি! এরপর সে অত্যন্ত দম্ভ ও বিজয়ী বেশে মস্তক উত্তোলন করত। …

কেনই বা ইব্রাহিম এই মিথ্যা অপবাদ খণ্ডন করার জন্য নিজেকে নিয়োজিত করবেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে জীবন ও মৃত্যু দেওয়ার প্রকৃত স্বরূপ এবং জীবন ও মৃত্যুর এই বিকৃত রূপের মধ্যে তুলনা করবেন? কেনই বা তিনি এই দীর্ঘ তর্কে লিপ্ত হবেন যখন তার সামনে স্রষ্টার অসীম কুদরতের অন্য একটি প্রমাণ বিদ্যমান যে বিষয়ে এই অস্বীকারকারী কিছুই বলতে পারবে না? তিনি বললেন: (নিশ্চয় আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, তুমি একে পশ্চিম দিক থেকে নিয়ে এসো। তখন সেই কাফের বিমূঢ় হয়ে গেল)।

এই স্বভাবজাত ও সহজ-সরল উপস্থাপনার মাধ্যমেই তার যুক্তি (حجة) খণ্ডিত হলো এবং ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে গেল (বরং আমি সত্য দিয়ে অসার (باطل)-এর ওপর আঘাত হানি, যা তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলীন হয়ে যায়)।

যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তারা দুই ধরনের মানুষের অন্তর্ভুক্ত: এক ব্যক্তি যে বিবেক-বুদ্ধির নেয়ামত থেকে বঞ্চিত এবং যাকে সঠিক অনুধাবন ও উপলব্ধির কোনো অংশ দেওয়া হয়নি; ফলে সে এবং চতুষ্পদ জন্তু সমান। কোনো সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করে না এবং প্রভাতের সূর্যোদয় কিংবা সন্ধ্যার অন্ধকার তার অনুভূতিকে জাগ্রত করে না (তারা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়, বরং তারা তার চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট)।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৮)
ورجل خدعة ذكاؤه وغره وخيل اليه انه قادر على أن يخرق الأرض أو يبلغ الجبال فمدّ بصره إلى ما وراء الأفق البعيد وضرب في بيداء التيه والضلال فكان اشبه بالفراش .. غرق في النور فاحترق بالنار.

وبعد، فهذا المؤلف ثمرة عقل كبير ناضج .. عقل وسع ثقافة العصر واحاط بالكثير من دقائقها، حتى صار صاحية رئيساً للمجمع العلمي بأمريكا .. وذلك منصب يرقى اليه إلا العباقرة الأفذاذ من العلماء.

وغاية المؤلف من هذا البحث الوصول إلى الله عن طريق العقل وما يتكشف له بالعلم والمعرفة من اسرار الكون وعجائبه .. فكلما تكشفت له حقيقة من الحقائق هتف من أعماقة: سبحان الخالق المبدع .. اعترافاً من بأن الإنسان وما سخر له العلم والمعرفة من وسائل القوة والاقتدار اضعف من أن يبلغ من أسرار هذا العالم شيئاً مذكوراً.

(يا أيها النّاسُ ضرب مثلٌ فاستمعوا لهُ إنّ الذّينَ تدعونَ من دونِ الله لن يخلقوا ذباباً ولو اجتمعوا لهُ، وإن يسلُبْهُم الذباب شيئاً لا يستنفذوهُ منهُ - ضعفَ الطالبُ والمطلوبُ)

لم يكن المؤلف عالما وحسب ولكنه كان أيضاً شاعراً، كلما تناول عقله حقيقة من الحقائق اشرق قلبه بها، فسرت في كيانه هزه الإكبار والاجلال لخالق الكون ومبدعه، وتلك هي دموة الفطرة السليمة إلى الله وطريقها اليه .. ومن هنا
আর এমন এক ব্যক্তি, যাকে তার মেধা প্রতারিত করেছে এবং প্রবঞ্চিত করেছে; সে কল্পনা করেছে যে সে ভূগর্ভ বিদীর্ণ করতে পারবে কিংবা উচ্চতায় পাহাড়ে আরোহণ করতে পারবে। ফলে সে তার দৃষ্টিকে সুদূর দিগন্তের ওপারে প্রসারিত করল এবং বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার মরুপ্রান্তরে দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ল। তার অবস্থা ছিল পতঙ্গের মতো, যে আলোতে নিমজ্জিত হয়ে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

অতঃপর, এই গ্রন্থটি এক সুমহান ও প্রাজ্ঞ মস্তিষ্কের ফসল; এমন এক মস্তিষ্ক যা সমসাময়িক যুগের জ্ঞান-সংস্কৃতিকে ধারণ করেছে এবং এর বহু নিগূঢ় বিষয়াবলী আয়ত্ত করেছে। এমনকি এর লেখক আমেরিকার সায়েন্টিফিক অ্যাকাডেমির সভাপতি হয়েছিলেন। আর এটি এমন এক পদমর্যাদা, যেখানে কেবল বরেণ্য ও অদ্বিতীয় প্রতিভাধর পণ্ডিতগণই পৌঁছাতে পারেন।

এই গবেষণার মাধ্যমে লেখকের উদ্দেশ্য হলো বুদ্ধিবৃত্তিক পথে এবং বিজ্ঞান ও জ্ঞানের সাহায্যে উন্মোচিত মহাবিশ্বের রহস্য ও বিস্ময়াবলির মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করা। যখনই তাঁর সামনে কোনো ধ্রুব সত্য উন্মোচিত হয়েছে, তিনি তাঁর অন্তরের অন্তস্তল থেকে উচ্চকিত কণ্ঠে বলে উঠেছেন: "মহিমান্বিত সেই সৃজনশীল স্রষ্টা"; এটি ছিল তাঁর পক্ষ থেকে এই স্বীকারোক্তি যে, মানুষ এবং বিজ্ঞান ও জ্ঞানের মাধ্যমে অর্জিত তার শক্তি ও সামর্থ্য—এই জগতের রহস্যের উল্লেখযোগ্য কোনো অংশ অনুধাবন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف)।

(হে মানুষ! একটি উপমা বর্ণনা করা হচ্ছে, সুতরাং তোমরা মনোযোগ দিয়ে তা শোনো। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের উপাসনা করো, তারা কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা সকলে এর জন্য একত্রিত হয়। আর মাছি যদি তাদের নিকট থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তার কাছ থেকে সেটি উদ্ধার করতেও সক্ষম হবে না। অন্বেষণকারী ও অন্বেষিত—উভয়ই দুর্বল (ضعيف))।

লেখক কেবল একজন পণ্ডিতই ছিলেন না, বরং তিনি একজন কবিও ছিলেন। যখনই তাঁর জ্ঞান কোনো ধ্রুব সত্যের সম্মুখীন হতো, তাঁর অন্তর সেই সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠত। ফলে তাঁর সমগ্র সত্তায় মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের প্রতি এক সুগভীর ভক্তি ও শ্রদ্ধাবোধের শিহরণ বয়ে যেত। আর এটাই হলো আল্লাহর দিকে বিশুদ্ধ (سليم) স্বভাবজাত প্রকৃতির আহ্বান এবং তাঁর নিকট পৌঁছানোর পথ। আর এখান থেকেই
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ২৯)
كان هذا البحث جديراً بأن ينظر فيه المسلم بعين الاعتبار، وان يجعل من مباحثه دروساً نافعة يرى من خلالها قدرة الله وعظمته، فيقوى يقينه ويزداد ايمانه.

واذا حمدنا للمؤلف جهده الموفق في تصوير هذه الحقائق وعرضها، فانا نحمد السيد الأستاذ محمود الفلكي غيرته الدينية وحرصه على نقل هذا المؤلف إلى اللغة العربية لينتفع به المسلمون، كما نحمد له هذا الجهد الذي بذله في ترجمته واخراجه.

احمد حسن الباقوري
এই গবেষণাটি একজন মুসলিমের নিকট বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি রাখে এবং এর আলোচ্য বিষয়সমূহ থেকে এমন কল্যাণকর শিক্ষা গ্রহণ করা সমীচীন যার মাধ্যমে আল্লাহর কুদরত ও মহিমা পরিলক্ষিত হয়, ফলে বান্দার দৃঢ় বিশ্বাস সুদৃঢ় হয় এবং ঈমান বৃদ্ধি পায়।

এই সত্যসমূহ চিত্রায়ন ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে লেখকের সফল প্রচেষ্টার জন্য আমরা যদি তাঁর প্রশংসা করি, তবে পাশাপাশি জনাব উস্তাদ মাহমুদ আল-ফালাকির ধর্মীয় উদ্দীপনা এবং মুসলিমদের উপকারের লক্ষ্যে এই গ্রন্থটি আরবি ভাষায় রূপান্তরের আগ্রহেরও প্রশংসা করি। সেই সাথে এর অনুবাদ ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যয়িত শ্রমের জন্যও আমরা তাঁর প্রশংসা জানাই।

আহমদ হাসান আল-বাকুরী
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌مقدّمة بقلم: الدكتور أحمد زكي

مدير جامعة القاهرة سابقًا
ভূমিকা, লেখনীতে: ডক্টর আহমদ জাকি

কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
في الاشتغال بمطالب العيش، والاغتمار في غمرة الحياة، ينسى الناس ان يفكروا، فيتساءلون: ما الغاية من هذا الوجود؟ وما اشتغال بعيش، وما إغتمار حياة، وقد ينتبه الناس من غفلة، أو يستيقظون من نومة، إذا اصابهم مرض، أو اصابهم عجز، أو نابتهم نائبة. وشر النوائب عندهم الموت، ينزل بقريب، أو ينزل بحبيب، ففي هذه الفترات السوداء، البارقة في سوادها يتوقف الناس يستخبرون: من اين جئنا، والى أين المصير؟

 

ولكنها فترات لا تطول، فحوافز العيش تعود فتحفز ويشتد حفزها، والحياة تعود تهتف بحاجاتها ويشتد هتافها، والإنسان منا يلبي جبرا لا اختياراً، ويتركز على يومه، وينسى أمسه الذي كان، وينسى يومه الذي سوف يكون، إلا من حيث ما يطعم، ويلبس، ويلد، ومن حيث ينعم أو يشقى بالحياة.

ولكن مع كل هذا، فمن تحت صخب النهار، ومن بين الاصوات الصارخة في معركة العيش، يحس الإنسان منا صوتا خافتا يحاول دائما ان يصل إلى الآذان. وهو يصل اليها عندما يتعب القائم فيحتاج إلى القعود، وعندما يجهد الجاهد فيتصبب عرقا فيأوى إلى ركن هادئ يخفف عن
জীবনধারণের চাহিদা পূরণের ব্যস্ততায় এবং জীবনের অতল গহ্বরে নিমগ্ন থাকায় মানুষ চিন্তা করতে ভুলে যায়। তারা প্রশ্ন করে: এই অস্তিত্বের প্রকৃত লক্ষ্য কী? এই জীবন নির্বাহ এবং জীবনের এই মগ্নতার স্বরূপ কী? মানুষ অনেক সময় তাদের অসতর্কতা (غفلة) থেকে সচেতন হয়ে ওঠে অথবা নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়, যখন তারা কোনো অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়, অথবা বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা (عجز) তাদের স্পর্শ করে, কিংবা কোনো বিপদ তাদের ওপর আপতিত হয়। তাদের নিকট সবচেয়ে কঠিন বিপদ হলো মৃত্যু, যা কোনো নিকটাত্মীয় বা প্রিয়জনের ওপর আপতিত হয়। এই অন্ধকারাচ্ছন্ন মুহূর্তগুলোতে, যা তার অন্ধকারের মধ্যেও একপ্রকার প্রতিভাত হয়, মানুষ থমকে দাঁড়ায় এবং অনুসন্ধান করতে থাকে: আমরা কোথা থেকে এসেছি আর আমাদের গন্তব্যই বা কোথায়?

 

কিন্তু এই সময়গুলো দীর্ঘস্থায়ী হয় না। জীবনধারণের প্রেরণাগুলো পুনরায় জাগ্রত হয় এবং প্রবলভাবে তাড়িত করে। জীবন পুনরায় তার নানাবিধ চাহিদার কথা উচ্চস্বরে ঘোষণা করতে থাকে এবং সেই আহ্বান তীব্রতর হয়। আমাদের মধ্যস্থ মানুষটি তখন স্বেচ্ছায় নয় বরং বাধ্য হয়েই তাতে সাড়া দেয়। সে তার বর্তমান দিনটির ওপর মনোনিবেশ করে এবং তার অতীতকে বিস্মৃত হয়। এমনকি সে তার অনাগত ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও উদাসীন হয়ে পড়ে, কেবল আহার, পরিচ্ছদ, বংশবিস্তার এবং ইহজাগতিক সুখ-দুঃখের বিষয়গুলো ছাড়া।

কিন্তু এই সবকিছুর পরেও, দিবসের কোলাহলের তলদেশ থেকে এবং জীবনযুদ্ধের আর্তনাদপূর্ণ শব্দগুলোর মাঝখান থেকে মানুষ এক মৃদু কণ্ঠস্বর অনুভব করে যা সর্বদা কর্ণে পৌঁছানোর প্রয়াস চালায়। এই স্বরটি তখনই শ্রুতিগোচর হয় যখন কর্মব্যস্ত ব্যক্তি ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং উপবেশন (القعود) করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে, আর যখন কঠোর পরিশ্রমী ব্যক্তি ঘর্মাক্ত হয়ে কোনো এক শান্ত আশ্রয়ের সন্ধান করে যা তাকে কিছুটা প্রশান্তি দান করবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وجهه عرقه الصبيب. أو هو يصل اليه في هدأة ما الليل، وهو قاعد في العراء، يرعى أشياء هذه الأرض، ويرعى على الأكثر أشياء هذه السماء.

وهو إذ يرعى السماء، يرعى أشياءها، يرعى نجومها، يزداد هذا الصوت الخافت في آذانه ثم يزداد، حتى يصير صراخا: هذه السماء ما هي؟ وهذه النجوم ما اعدادها، وما أبعادها؟ وما فتات من النور المبعثر في هذه القبة البلقاء بعثرة الرمال في الصحراء؟ وكيف تحور هذه القبة وكيف تدور؟ وما شروق لها وما غروب؟ وما نسق وأنساق تجري عليها، ومواعيد تضر بها فلا تخلف أبدا؟

ويأخذ ينعم النظر رافعا بصره، وهو إذ يملأ بالذي يراه عينا، يملا في فكرا، ويملأ به قلبا. وعندئذ يرى تلك الصور وفي تجري في أزمة يجمعها آخر الامر زمام واحد، ويرد تلك المعاني، وهي مختلفة كاختلاف الوان الطيف من أحمر وأصفر وأزرق، ثم تجتمع كما يجتمع الطيف فيكون منه لون أبيض واحد، ويرد كل هذه المعاني، ويرد كل هذه الصور، وكل هذه المباني، إلى يد صناع واحدة، تحركها ارادة عاقلة منسقة هادية واحدة.

فتلك يد الله.

وتلك ارادة الله.
তাঁর মুখমণ্ডল থেকে ঘাম ঝরছিল। অথবা রাতের কোনো এক নিস্তব্ধতায় তা তাঁর কাছে পৌঁছাত, যখন তিনি উন্মুক্ত প্রান্তরে বসে থাকতেন এবং এই পৃথিবীর বিষয়াবলী ও অধিকাংশ সময় এই আকাশের নিগূঢ় রহস্যসমূহ পর্যবেক্ষণ করতেন।

তিনি যখন আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করতেন, এর গ্রহ-নক্ষত্র ও বস্তুনিচয় পর্যবেক্ষণ করতেন, তখন তাঁর কানে এক ক্ষীণ ধ্বনি ক্রমশ বাড়তে থাকত এবং একপর্যায়ে তা এক জোরালো জিজ্ঞাসায় রূপ নিত: এই আকাশ আসলে কী? এই নক্ষত্ররাজির সংখ্যা কত, আর তাদের দূরত্বই বা কতটুকু? এই বিশাল গম্বুজের মাঝে মরুভূমির বালুকণার মতো ইতস্তত ছড়িয়ে থাকা আলোর এই কণাগুলো আসলে কী? এই গম্বুজ কীভাবে আবর্তিত হয়? এর উদয় ও অস্তই বা কী? কোন সুশৃঙ্খল নিয়মে এগুলো পরিচালিত হয় এবং এদের জন্য নির্ধারিত সেই সময়গুলোই বা কী, যার কখনো ব্যত্যয় ঘটে না?

তিনি দৃষ্টি ওপরে তুলে গভীর মনোযোগের সাথে অবলোকন করতে শুরু করেন; যা দেখতেন তা দিয়ে যেমন তাঁর চোখ পূর্ণ হতো, তেমনি তাঁর চিন্তা ও অন্তরও কানায় কানায় ভরে উঠত। তখন তিনি সেই দৃশ্যসমূহকে এমন এক শৃঙ্খলায় অবলোকন করেন যা পরিশেষে একটিমাত্র নিয়ন্ত্রণের সূত্রে আবদ্ধ। তিনি সেই নিগূঢ় অর্থগুলো অনুধাবন করেন, যা বর্ণালীর লাল, হলুদ ও নীল রঙের মতো ভিন্ন ভিন্ন হলেও পরিশেষে বর্ণালীর সংমিশ্রণের ন্যায় এক শুভ্র বর্ণ ধারণ করে। তিনি এই সকল অর্থ, সকল দৃশ্য এবং সকল কাঠামোকে একজন নিপুণ কারিগরের হাতের কুদরত হিসেবে সাব্যস্ত করেন, যা একটি সুসংগত, পথপ্রদর্শক ও প্রজ্ঞাপূর্ণ একক ইচ্ছার দ্বারা পরিচালিত।

সেটিই হলো আল্লাহর হাত।

আর সেটিই হলো আল্লাহর ইচ্ছা।
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩৫)
على هذا جرى الاقدمون واهتدوا إلى كشف حقيقة الله.

وما اعسره كشفا كان، عند قوم، لانه كشف خالق تستر وراء مخلوقاته، وما أيسره كشفا كان، عند أقوام، لانها مخلوقات عجيبة رائعة، ما أسرع ما رقت فنفذ اليها لفكر الانساني العاقل، فشفت عما وراءها. وكان الفكر أحد أعاجيبها.

ثم جرى الزمن فجاء العلم. اشرق على الناس العلم الحديث منذ ثلاثة قرون. وهو بعد ما بلغ الضحى.

وكشف العلم من عجيب ما صنع الصانع. كشفه في النبات، وهو صنوف لا عداد لها. وكشفه في الحيوان، وهو أجناس لا حصر لها. وكشفه في الإنسان، أسمى حيوان. وكشف عن أنساق واحدة في كل هذه الصنوف والأجناس جميعا. وكشف عن قوى في كلها تعمل واحدة، على اختلاف في درجات، ولكن على اتحاد في غاية. وهدى المنطق، وهدت الفطرة، إلى أن صاحب هذه الانساق لابد واحد، ومجرى هذه القوى لتعمل على هذه الاساليب الواحدة لا بد واحد.

ونسق العلم ما بين الأرض الجامدة وما عليها من احياء. ونسق ما بين الارض، جامدها والحي، وبين هذه الشمس وذاك القمر، وأثبت ان المعدن واحد والاصل واحد، واثبت
প্রাচীন মনীষীগণ এই পথেই চলেছিলেন এবং আল্লাহ তাআলার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনে দিশা পেয়েছিলেন।

কিছু সম্প্রদায়ের নিকট এই উন্মোচন ছিল অত্যন্ত দুরূহ, কারণ এটি ছিল এমন এক স্রষ্টার উন্মোচন যিনি তাঁর সৃষ্টির আড়ালে প্রচ্ছন্ন রয়েছেন। আবার কিছু সম্প্রদায়ের নিকট এই উন্মোচন ছিল অত্যন্ত সহজতর; কারণ এ ছিল বিস্ময়কর ও অনুপম সৃষ্টিরাজি, যা অত্যন্ত দ্রুত সূক্ষ্মতায় পর্যবসিত হয়ে বিবেকবান মানুষের চিন্তাশক্তিকে এর গভীরে প্রবেশাধিকার দিয়েছে এবং এর অন্তরালে নিহিত সত্যকে প্রতিভাত করেছে। আর মানুষের চিন্তা ছিল সেই বিস্ময়গুলোর অন্যতম।

অতঃপর মহাকালের পরিক্রমায় বিজ্ঞানের আবির্ভাব ঘটল। তিন শতাব্দী পূর্বে মানুষের মাঝে আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হয়েছে; যদিও তা এখনও তার পূর্ণ মধ্যগগনে পৌঁছাতে পারেনি।

বিজ্ঞান সুনিপুণ কারিগরের নিপুণ কর্মের বিস্ময়কর রহস্য উন্মোচিত করেছে। এটি উদ্ভিদের মাঝে তা উন্মোচন করেছে যার অগণিত প্রকার রয়েছে। এটি প্রাণীকুলের মাঝেও তা উন্মোচন করেছে যার অগণিত প্রজাতি বিদ্যমান। আর এটি মানুষের মাঝেও তা উন্মোচন করেছে, যে শ্রেষ্ঠ জীব। এই সকল প্রকার ও প্রজাতির মাঝে বিজ্ঞান এক অভিন্ন শৃঙ্খলার সন্ধান পেয়েছে। এটি এমন এক শক্তির রহস্য উন্মোচন করেছে যা ভিন্ন ভিন্ন স্তরে হলেও সবকিছুর মাঝে একইভাবে ক্রিয়াশীল এবং যার চূড়ান্ত লক্ষ্য অভিন্ন। যুক্তি এবং মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি এই সত্যেরই দিশা প্রদান করেছে যে, এই শৃঙ্খলার অধিপতি অবশ্যই এক এবং এই শক্তিগুলোকে অভিন্ন পদ্ধতিতে পরিচালনাকারী সত্তাও অবশ্যই একক।

বিজ্ঞান নির্জীব পৃথিবী ও এর ওপর বিদ্যমান জীবজগতের মধ্যে এক সুশৃঙ্খল যোগসূত্র স্থাপন করেছে। এটি পৃথিবী—তার নির্জীব ও সজীব অংশ—এবং এই সূর্য ও ওই চাঁদের মাঝে এক নিবিড় সমন্বয় সাধন করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে, এগুলোর উপাদান এক ও উৎস অভিন্ন। আর এটি আরও প্রমাণ করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ان الذي صمم عين الانسان، بعدستها ومائها، وماوراء الماء من شبكة تلقى عليها الصور، هو لابد الذي صمم هذه الشمس واخرج منها تلك الاشعة ووجهتها إلى الارض. فهذه العين تكون عبثا لولا هذا الضياء.

وجاء العلم، وجاء العلماء بالف ألف دليل على وحدة الأرض، وما عليها، ووحدة السماء. ومن هذه الوحدة درج الناس والعلماء إلى وحدة رب هذه الأرض ورب السماء.

ومع هذا بقيت في العلماء بقية تقول بالخلق والتخلق طبعا، وتنكر وجود الله.

ومن هذه البقية العالم الانجليزي، جوليان هكسلي JULIAN HUXLEY فكتب في ذلك كتابا اسماه، (الإنسان يقوم وحده MAN SIAND ALONE وهو في ذلك يسير على درب سار عليه جده من قديم. فجده توماس هكسلي THOMAS HUXLEY (1825 - 1895) ، صاحب دارون، وناصره في القرن الماضي.

وظهر هذا الكتاب لهذا العالم فانبري له عالم آخر، فيكتب كتابه هذا، الذي بين يدينا، وأسماه (ان الإنسان لا يقوم وحده MAN DOES NET STAND ALONE)) أراد بذلك ان يقول انه يقوم في هذه الدنيا ومعه الله.

والكتاب يعدد، في ايجاز جميل، هذه الانساق التي تجمع بين الخلائق جميعاً، وبين الحي والحي، وبين الحي والجامد، وعبر حدود الارض، واتجه إلى السماء، يربط
নিশ্চয়ই যিনি মানুষের চোখকে এর লেন্স ও জলীয় অংশ দিয়ে এবং জলীয় অংশের পেছনের সেই পর্দা দিয়ে নকশা করেছেন যার ওপর প্রতিচ্ছবি পতিত হয়, তিনিই নিশ্চিতভাবে এই সূর্যকে নকশা করেছেন, তা থেকে রশ্মি নির্গত করেছেন এবং সেগুলোকে পৃথিবীর অভিমুখে পরিচালিত করেছেন। এই আলো না থাকলে চোখের অস্তিত্ব হতো নিরর্থক।

বিজ্ঞান এসেছে এবং বিজ্ঞানীরা পৃথিবী ও তার উপরিভাগ এবং আকাশের একত্বের সপক্ষে লক্ষ লক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। এই একত্বের সূত্র ধরে মানুষ ও বিজ্ঞানীরা এই পৃথিবী ও আকাশের রবের একত্বের সোপানে আরোহণ করেছেন।

এতদসত্ত্বেও বিজ্ঞানীদের একটি অংশ অবশিষ্ট রয়ে গেছে যারা সৃষ্টিজগতকে প্রকৃতির স্বভাবজাত প্রক্রিয়া মনে করে এবং আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করে।

এই অবশিষ্টদের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজ বিজ্ঞানী জুলিয়ান হাক্সলি (JULIAN HUXLEY)। তিনি এ বিষয়ে একটি বই লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন, 'মানুষ একাকী চলে' (MAN STANDS ALONE)। এক্ষেত্রে তিনি তার পূর্বপুরুষের দেখানো পথই অনুসরণ করেছেন। তার পিতামহ টমাস হাক্সলি (THOMAS HUXLEY, ১৮২৫-১৮৯৫) ছিলেন গত শতাব্দীতে ডারউইনের সহচর ও সমর্থক।

এই বিজ্ঞানীর বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর অন্য এক বিজ্ঞানী তার মোকাবিলায় এগিয়ে আসেন এবং এই বইটি লিখলেন যা এখন আমাদের সামনে রয়েছে। তিনি এর নাম দিয়েছেন 'মানুষ একাকী চলে না' (MAN DOES NOT STAND ALONE)। এর মাধ্যমে তিনি বলতে চেয়েছেন যে, মানুষ এই পৃথিবীতে একা নয় বরং আল্লাহ তার সাথে আছেন।

বইটি অত্যন্ত চমৎকার ও সংক্ষিপ্তভাবে সেই শৃঙ্খলাগুলো বর্ণনা করে যা সমস্ত সৃষ্টির মাঝে সমন্বয় সাধন করে; তা জীব ও জীবের মধ্যে হোক, কিংবা জীব ও জড়ের মধ্যে। এটি পৃথিবীর সীমানা অতিক্রম করে আকাশের দিকে ধাবিত হয় এবং সংযোগ স্থাপন করে...
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ما بينها وبين الحياة على هذه الارض. وهو يدلل من صفات هذا الشيء وهذا الشيء، على ان صانعها لابد واحد، فهما كالمفتاح وقفله اتساقاً، لا يمكن ان يكون ابتدعهما ودبرهما إلا عقل مبتدع مدبر واحد.

فالكتاب عون على الايمان، الذي عماده الفكر والفطنة، كبير.

ووقع على الكتاب صديقي، الأستاذ الجليل، محمود صالح الفلكي في ناحية من نواحي الارض، وهو في غربة موحشة يهرع فيها الغريب إلا الأنس بالله، فوجد في هذا الكتاب، فيما وجد، أنسه، وزاد من انسه به ايمان في قلبه مكين. وزاد من فهمه لحقائق العلم مزاج علمي جرى في دمه قديم، ورثه عن جده العالم المصري الفلكي العظيم.

وصديق الفلكي، إلى جانب انه ذو ايمان، ذو قلم وذو بيان. واجتمع الاثنان فخرج منهما هذا الكتاب هدى للناس ورحمة.

احمد زكي
এর এবং এই পৃথিবীর জীবনের মাঝে যে নিগূঢ় সম্পর্ক রয়েছে। তিনি এই বিষয়ের ও সেই বিষয়ের বৈশিষ্ট্যসমূহ দ্বারা প্রমাণ করছেন যে, এগুলোর নির্মাতা অবশ্যই এক; সামঞ্জস্যের বিচারে তারা যেন চাবি ও তার তালা। একজন উদ্ভাবক ও দূরদর্শী পরিকল্পনাকারী সত্তা ব্যতীত অন্য কেউ এগুলো উদ্ভাবন ও পরিচালনা করতে পারেন না।

সুতরাং এই গ্রন্থটি ঈমানের জন্য এক মহান সহায়ক, যার স্তম্ভ হলো চিন্তা ও প্রজ্ঞা।

আমার বন্ধু, শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মাহমুদ সালেহ আল-ফালাকি পৃথিবীর এক প্রান্তে এই গ্রন্থটির সন্ধান পান। তিনি তখন এক নির্জন প্রবাস জীবনে ছিলেন, যেখানে একজন পরবাসী আল্লাহর সান্নিধ্য ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হয় না। তিনি এই গ্রন্থের মাঝে খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর আত্মার প্রশান্তি; আর তাঁর হৃদয়ে প্রোথিত সুদৃঢ় ঈমান সেই আত্মিক প্রশান্তিকে আরও বৃদ্ধি করেছিল। তাঁর রক্তে প্রবহমান সুপ্রাচীন বৈজ্ঞানিক মেজাজ বিজ্ঞানের নিগূঢ় সত্যসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল, যা তিনি তাঁর পিতামহ মহান মিশরীয় বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীর নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছিলেন।

বন্ধু আল-ফালাকি ঈমানদার হওয়ার পাশাপাশি একজন শক্তিমান লেখক ও বাগ্মীও বটেন। এই দুই গুণের সমন্বয়ে এই গ্রন্থটি মানুষের জন্য হেদায়েত ও রহমত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

আহমদ জাকি
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌مقدمة المؤلف
গ্রন্থকারের ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আল-ইলমু ইয়াদউ লিল-ঈমান (পৃষ্ঠা: ৪১)
بلغ العصر الذهبي للفلسفة الطبيعية ذروته فيما بين سنتي 1820 - 1850. وكانت تلك الفلسفة تبرهن على وجود خطة مرسومة في الخلق. بابداء عجائب الطبيعة وكان الفيلسوف الطبيعي يسترعى الانتباه إلى براءة تكوين العين البشرية بما تحويه من تنظيمات تلسكوبية ومكروسكوبية، وكان يذكر ما في مفاصل الإنسان من ليونة وتنظيم يدعوان إلى العجب. وكان يدهش لخفايا التكاثر، واحكام الوسائط التي يواصل الإنسان وكل كائن حي بها. وكان يبين العمليات الكيموية الفريدة التي تقوم بها الكائنات الحية، مثل هضم الطعام وتمثله، بعين فلسفته التقية، فيراها براهين قاطعة على وجود خطة وتدبير في الطبيعة، ومن ثم على وجود الخالق المدبر.

وقد ضرب بإلى PALEY مثلا من تاثره من وجود ساعة يد في طريقه، وقال ان جهازها الدقيق أقل سبباً للعجب بمراحل، من دلائل عديدة على دقة التصميم في الطبيعة، ودعاه ذلك إلى أن استرعى الأنظار إلى ان مثل هذه الاداة تثبت لأكثر الناس شكا، ان هناك عملية ذهنية طبقت على الميكانيكا، ثم قال اننا لو فرضنا ان هذه الساعة قد منحت القدرة على إيجاد ساعات اخرى، فان ذلك لا يكون معجزة تفوق معجزة توالد الإنسان والحيوان!
প্রাকৃতিক দর্শনের স্বর্ণযুগ ১৮২০ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তার চরম শিখরে পৌঁছেছিল। সেই দর্শন প্রকৃতির বিস্ময়কর নিদর্শনসমূহ উপস্থাপনের মাধ্যমে সৃষ্টির আড়ালে একটি সুপরিকল্পিত নকশার অস্তিত্ব প্রমাণ করত। একজন প্রাকৃতিক দার্শনিক মানুষের চোখের নিখুঁত গঠনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন, যা টেলিস্কোপিক ও মাইক্রোস্কোপিক উভয় প্রকার বিন্যাসে সমৃদ্ধ। তিনি মানুষের অস্থিসন্ধিগুলোর নমনীয়তা ও সুশৃঙ্খল বিন্যাসের কথা উল্লেখ করতেন যা বিস্ময় উদ্রেককারী। তিনি প্রজননের নিগূঢ় রহস্য এবং সেই সুনিপুণ মাধ্যমগুলোর প্রতি বিমোহিত হতেন, যার মাধ্যমে মানুষ ও প্রতিটি জীব তাদের বংশধারা রক্ষা করে। তিনি তাঁর ধর্মনিষ্ঠ দার্শনিক দৃষ্টিতে জীবদেহে সম্পন্ন হওয়া অনন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলো—যেমন খাদ্যের পরিপাক ও আত্তীকরণ—পর্যবেক্ষণ করতেন। তিনি এগুলোকে প্রকৃতির মাঝে বিদ্যমান পরিকল্পনা ও সুব্যবস্থার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য করতেন, যা মূলত একজন প্রজ্ঞাবান স্রষ্টা ও পরিকল্পনাকারীর অস্তিত্বেরই প্রমাণ দেয়।

প্যালি (PALEY) তাঁর চলার পথে একটি হাতঘড়ি খুঁজে পাওয়ার পর তাঁর প্রভাবিত হওয়ার একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, এই ঘড়ির সূক্ষ্ম যন্ত্রকৌশল প্রকৃতির নকশার সূক্ষ্মতার অসংখ্য নিদর্শনের তুলনায় অনেক কম বিস্ময়কর। এটি তাঁকে এই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে যে, এই ধরনের একটি সরঞ্জাম এমনকি চরম সংশয়বাদীদের কাছেও এটি প্রমাণ করে যে, সেখানে মেকানিক্স বা যন্ত্রকৌশলের ওপর প্রয়োগকৃত একটি সচেতন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া কার্যকর রয়েছে। এরপর তিনি বলেন যে, যদি আমরা ধরে নিই যে এই ঘড়িটিকে অন্য ঘড়ি তৈরি করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, তবে সেটি মানুষ ও প্রাণীর প্রজননের অলৌকিকত্বের চেয়ে বড় কোনো অলৌকিক ঘটনা হবে না!