(খণ্ড: ১) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: -)
إعادة الصلاة - ضمن «آثار المعلمي»   (عبد الرحمن المعلمي اليماني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: إعادة الصلاة

[آثار عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني (16)]

المؤلف: عبد الرحمن بن يحيى المُعَلِّمي اليماني (1313 - 1386 هـ)

المحقق: محمد عزير شمس

راجعه: محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1434 هـ

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 شوّال 1442

সালাত পুনরায় আদায় করা - «আসারুল মুয়াল্লিমি»-এর অন্তর্ভুক্ত   (আব্দুর রহমান আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলা


কিতাব: সালাত পুনরায় আদায় করা

[আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানির রচনাবলী (১৬)]

লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুয়াল্লিমি আল-ইয়ামানি (১৩১৩ - ১৩৮৬ হি.)

তাহকিক: মুহাম্মদ উযাইর শামস

পুনরীক্ষণ: মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর

প্রকাশক: দারু আলমিল ফাওয়ায়িদ প্রকাশনা ও বিতরণ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৪ হি.

শামেলার জন্য পেশ করেছে: ‘আতাআতুল ইলম’ ফাউন্ডেশন، আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ শাওয়াল ১৪৪২

(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
الرسالة السادسة

إعادة الصلاة
ষষ্ঠ পত্র

সালাত পুনরায় আদায়
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
[ق 10] إعادة الصلاة

أخرج أبو داود والنسائي وابن حِبّان في «صحيحه» وغيرهم(1) من طريق حسين بن ذَكْوان المعلِّم عن عمرو بن شعيب عن سليمان مولى ميمونة قال: أتيتُ ابنَ عمر على البلاط وهم يُصلُّون، فقلتُ: ألا تصلِّي معهم؟ قال: قد صليتُ، إني سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: «لا تُصَلُّوا صلاةً في يومٍ مرتينِ». لفظ أبي داود.

ولفظ النسائي: «لا تُعاد الصلاةُ في يومٍ مرتينِ».

وفي رواية لغيره(2): «والناس في صلاة العصر»، ذكره الدارقطني (ص 159)(3) وقال: تفرد به حسين المعلم عن عمرو بن شعيب.

وللطحاوي(4) من طريق عمرو بن شعيب أيضًا عن خالد بن أيمن المعافري قال: «كان أهلُ العوالي يُصلُّون في منازلهم، ويُصلُّون مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فنهاهم رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أن يُعيدوا الصلاةَ في يومٍ مرتين». قال عمرو: فذكرت ذلك لسعيد بن المسيب، فقال: صدق.

--------------------------------------------

(1) أبو داود (579) والنسائي (2/ 114) وابن حبان (2396). وأخرجه أيضًا أحمد (4689) وابن خزيمة (1641) والدارقطني (1/ 415، 416) والبيهقي في «السنن الكبرى» (2/ 303) بهذا الإسناد.

(2) هي رواية الدارقطني (1/ 416).

(3) (1/ 416) من طبعة عبد الله هاشم يماني.

(4) «شرح معاني الآثار» (1/ 317).
[পৃষ্ঠা ১০] সালাত পুনরায় আদায় করা

আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে ও অন্যান্যরা(১) হুসাইন বিন যাকওয়ান আল-মুয়াল্লিম-এর সূত্রে, তিনি আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি মাইমুনাহ-এর মুক্তদাস সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি বালাত নামক স্থানে ইবনে উমরের নিকট আসলাম, এমতাবস্থায় যে তারা সালাত আদায় করছিলেন। আমি বললাম: আপনি কি তাদের সাথে সালাত আদায় করবেন না? তিনি বললেন: আমি সালাত আদায় করে নিয়েছি। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «তোমরা একই দিনে একই সালাত দুইবার আদায় করো না।» এটি আবু দাউদের শব্দ (لفظ)।

আর নাসাঈ-র শব্দ (لفظ) হলো: «একই দিনে সালাত পুনরায় আদায় (تعاد) করা হবে না।»

অন্যের এক বর্ণনায় (رواية)(২) রয়েছে: «আর লোকেরা তখন আসরের সালাতে ছিল», এটি দারাকুতনী উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা ১৫৯)(৩) এবং তিনি বলেছেন: হুসাইন আল-মুয়াল্লিম আমর বিন শুআইব থেকে এটি বর্ণনায় একক (تفرد) হয়েছেন।

আর তহাবীর(৪) নিকট আমর বিন শুআইবের সূত্রে, তিনি খালিদ বিন আয়মান আল-মুআফিরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আওয়ালী এলাকার অধিবাসীরা তাদের আবাসস্থলে সালাত আদায় করতেন এবং পুনরায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথেও সালাত আদায় করতেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে একই দিনে দুইবার সালাত পুনরায় আদায় (يُعيدوا) করতে নিষেধ করলেন।» আমর বলেন: আমি সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিবের নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: সে সত্য বলেছে।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (৫৭৯), নাসাঈ (২/ ১১৪) এবং ইবনে হিব্বান (২৩৯৬)। এছাড়া আহমদ (৪৬৮৯), ইবনে খুজাইমাহ (১৬৪১), দারাকুতনী (১/ ৪১৫, ৪১৬) এবং বায়হাকী তাঁর ‘সুনান আল-কুবরা’ (২/ ৩০৩) গ্রন্থে এই সনদে (إسناد) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি দারাকুতনীর বর্ণনা (رواية) (১/ ৪১৬)।

(৩) আব্দুল্লাহ হাশিম ইয়ামানী সংস্করণের (১/ ৪১৬) পৃষ্ঠা।

(৪) ‘শারহু মাআনিল আসার’ (১/ ৩১৭)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫০)
أقول: أما الحديث الأول فترجم له أبو داود: «باب إذا صلى في جماعة ثم أدرك جماعة»، وترجم له النسائي «سقوط الصلاة عمن صلى مع الإمام في المسجد جماعةً»، أراد بذلك الجمعَ بين حديث ابن عمر وأحاديث الإعادة، وستأتي. وذلك أن حديث ابن عمر عامٌّ، وأحاديث الإعادة أخصُّ منه، وعبارة النسائي أفقه، كما ستعلم إن شاء الله تعالى.

وحمل بعضهم(1) حديث ابن عمر على النهي عن الإعادة على سبيل الفرض، وليس بواضح.

نعم، لفظه في رواية: «لا صلاة مكتوبة في يوم مرتين»(2) ، وهذا يحتمل معنى أنها إنما تكتب مرة، ولا تُكتب مرة أخرى، أي لا تُفرَض، فيكون حاصله أنه لا تُفرض إعادة الصلاة.

وأما مرسل خالد، وقد صدَّقه ابن المسيّب، فقوله: «مرتين» يحتمل أن يكون راجعًا إلى الصلاة، والتقدير: «أن يُعيدوا الصلاة، يصلوها في يوم مرتين»، فتكون كحديث ابن عمر باللفظ الأول.

ويحتمل أن يكون راجعًا إلى الإعادة، أي «إعادتين» وهذا هو الظاهر، فإن قولك: «أعدتُ الصلاةَ مرتين» ظاهره أنك صلَّيتَها ثمَّ أعدتَها ثم أعدتَها.

فإن قيل: الواقع من فعل القوم إنما هو أنهم كانوا يُصلُّون في منازلهم، ويصلُّون مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم.

--------------------------------------------

(1) هو البيهقي، انظر «السنن الكبرى» (2/ 303).

(2) في المصدر السابق.
আমি বলছি: প্রথম হাদিসটি সম্পর্কে আবু দাউদ শিরোনাম দিয়েছেন: «অধ্যায়: যখন কেউ জামাতে সালাত আদায় করার পর পুনরায় অন্য জামাত পায়», এবং নাসায়ি এর শিরোনাম দিয়েছেন «মসজিদে ইমামের সাথে জামাতে সালাত আদায়কারীর পক্ষ থেকে সালাতের আবশ্যকতা রহিত হওয়া»। এর মাধ্যমে তিনি ইবনে ওমরের হাদিস এবং পুনরায় পড়ার হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে চেয়েছেন, যা সামনে আসবে। বিষয়টি হলো, ইবনে ওমরের হাদিসটি ব্যাপক (عام), আর পুনরায় পড়ার হাদিসগুলো তার চেয়ে অধিকতর সুনির্দিষ্ট (أخص)। নাসায়ির অভিব্যক্তিটি অধিক ফিকহসম্মত, যেমনটি ইনশাআল্লাহ আপনি পরে জানতে পারবেন।

কেউ কেউ(১) ইবনে ওমরের হাদিসটিকে ফরজ (فرض) হিসেবে পুনরায় আদায়ের নিষেধের ওপর প্রয়োগ করেছেন, তবে এটি স্পষ্ট নয়।

হ্যাঁ, একটি বর্ণনায় এর শব্দগত পাঠ হলো: «এক দিনে কোনো নির্ধারিত (مكتوبة) সালাত দুইবার নেই», এবং এর অর্থ এমন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি কেবল একবারই লিপিবদ্ধ বা নির্ধারিত হয়, পুনরায় নয়; অর্থাৎ এটি ফরজ (فرض) করা হয় না। ফলে এর সারমর্ম দাঁড়ায় যে, সালাত পুনরায় আদায় করা ফরজ (فرض) নয়।

আর খালিদ থেকে বর্ণিত বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনাটির বিষয়ে—যাকে ইবনুল মুসাইয়িব সমর্থন করেছেন—সেখানে «দুইবার» কথাটি সালাতের দিকে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা রাখে, যার উহ্য রূপ হলো: «তারা সালাত পুনরায় আদায় করবে, অর্থাৎ দিনে তা দুইবার পড়বে»; এমতাবস্থায় এটি ইবনে ওমরের প্রথম পাঠের হাদিসের মতোই হবে।

আবার এটি পুনরায় আদায়ের (ইআদাহ) দিকে ফেরার সম্ভাবনাও রাখে, অর্থাৎ «দুইবার পুনরায় আদায় করা»; আর এটাই অধিক প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ। কারণ আপনার এই উক্তি: «আমি সালাতটি দুইবার পুনরায় আদায় করেছি»-এর বাহ্যিক অর্থ হলো আপনি তা একবার পড়েছেন, তারপর পুনরায় আদায় করেছেন এবং এরপর আবারও পুনরায় আদায় করেছেন।

যদি বলা হয়: লোকদের আমলের বাস্তবতা ছিল এই যে, তারা নিজ নিজ বাড়িতে সালাত আদায় করতেন এবং এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে সালাত আদায় করতেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন বায়হাকি, দেখুন «আস-সুনান আল-কুবরা» (২/৩০৩)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস থেকে।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫১)
قلت: نعم، ولكن كان علمهم بمشروعية إعادة الصلاة في الجملة مظنةَ أن يرغب بعضهم في إعادتها أكثر من مرة.

وحديث ابن عمر يحتمل هذا المعنى، بل لفظ النسائي ظاهر فيه، وهو: «لا تُعاد الصلاةُ في يوم مرتين».

وقد اختلف النقل عن ابن عمر؛ ففي «مصنَّف ابن أبي شيبة»(1): عن يونس عن الحكم عن الأعرج قال: أتيتُ على ابن عمر والناسُ في صلاتهم الظهر، فظننته في غير طُهرٍ، فقلت له: يا أبا عبد الرحمن! آتِيْك بطهر. قال: إني على طهارة، وقد صليتُ، فبأيِّهما أَحتسبُ. قال يونس: فذكرت ذلك للحسن، فقال: رحم الله أبا عبد الرحمن، يجعل الأولى المكتوبة، وهذه نافلةً.

وعن عبد الوهاب الثقفي عن عبد الله بن عثمان عن مجاهد قال: خرجتُ مع ابن عمر من دار عبد الله بن خالد، حتى إذا نظرنا إلى باب المسجد إذِ الناس في صلاة العصر، فلم يزل واقفًا حتى صلَّى الناس، وقال: إني صلّيتُ في البيت(2).

وعن أبي خالد الأحمر عن الضحاك بن عثمان عن نافع أن ابن عمر اشتغل ببناءٍ له، فصلَّى الظهر، ثم مرَّ بمسجدِ بني عوف وهم يصلّون، فصلَّى معهم(3).

--------------------------------------------

(1) رقم (6709).

(2) المصدر السابق (6739).

(3) المصدر السابق (7625).
আমি বললাম: হ্যাঁ, তবে সাধারণভাবে সালাত পুনরায় আদায় করার বৈধতা (مشروعية) সম্পর্কে তাদের জ্ঞান থাকায় এমন সম্ভাবনা ছিল যে, তাদের কেউ কেউ একাধিকবার তা পুনরায় আদায়ের আকাঙ্ক্ষা করতে পারে।

ইবনে উমরের হাদিসটি এই অর্থের সম্ভাবনা রাখে, বরং নাসায়ির শব্দ চয়ন এতে স্পষ্ট, আর তা হলো: «একই দিনে সালাত দুইবার পুনরায় আদায় করা হবে না (لا تُعاد الصلاة)».

ইবনে উমর থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতসমূহে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ-তে(১) বর্ণিত হয়েছে: ইউনুস থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি আরায থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরের নিকট আসলাম তখন লোকেরা যোহরের সালাত আদায় করছিল, আমি ধারণা করলাম যে তিনি পবিত্র অবস্থায় নেই। তাই আমি তাকে বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! আমি কি আপনার জন্য ওযুর পানি আনব? তিনি বললেন: আমি পবিত্র অবস্থায় আছি এবং আমি ইতিপূর্বেই সালাত আদায় করেছি, তবে কোনটির মাধ্যমে আমি সওয়াব প্রত্যাশা করব? ইউনুস বলেন: আমি বিষয়টি হাসানের নিকট উল্লেখ করলাম, তিনি বললেন: আল্লাহ আবু আবদুর রহমানের ওপর রহম করুন, তিনি প্রথমটিকে ফরয (المكتوبة) সাব্যস্ত করেন এবং এটিকে নফল (نافلة) গণ্য করেন।

আব্দুল ওয়াহহাব সাকাফী থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদের ঘর থেকে ইবনে উমরের সাথে বের হলাম, এমনকি আমরা যখন মসজিদের দরজার দিকে তাকালাম তখন লোকেরা আসরের সালাতে ছিল। এমতাবস্থায় তিনি দাঁড়িয়ে থাকলেন যতক্ষণ না লোকেরা সালাত শেষ করল এবং বললেন: আমি বাড়িতেই সালাত আদায় করেছি(২)।

আবু খালিদ আল-আহমার থেকে, তিনি দাহহাক ইবনে উসমান থেকে, তিনি নাফে থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে উমর তার একটি গৃহনির্মাণ কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তিনি যোহরের সালাত আদায় করলেন, এরপর তিনি বনু আউফ মসজিদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন তখন তারা সালাত আদায় করছিল, তিনি তাদের সাথেও সালাত আদায় করলেন(৩)।

--------------------------------------------

(১) নং (৬৭০৯)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৬৭৩৯)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৭৬২৫)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫২)
وفي «الموطأ»(1): عن نافع أن رجلًا سأل ابنَ عمر فقال: إني أُصلِّي في بيتي، ثم أُدرِكُ الصلاةَ مع الإمام، أفأُصلِّي معه؟ فقال له عبد الله بن عمر: نعم … ».

وفي «مصنف ابن أبي شيبة»(2): عن ابن نُمير عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر قال: «إذا صلَّى الرجل في بيته ثم أدرك جماعةً صلَّى معهم، إلا المغرب والفجر».

وفي «الموطأ»(3) عن نافع عن ابن عمر نحوه.

وفي هذه الآثار كالدلالة على أن أصل الحديث إنما هو النهي عن الإعادة مرتين، كما في رواية النسائي، لا عن الصلاة مرتين.

وبالجملة، فالذي استقرَّ عليه رأيُ ابن عمر مشروعية الإعادة مع الجماعة، وإنما استثنى المغرب والفجر؛ لأن المغرب وتر، وللنهي عن الصلاة بعد صلاة الفجر، وإنما لم يستثنِ العصر؛ لأن مذهبه جواز الصلاة بعد العصر حتى تصفرَّ، كما في «فتح الباري»(4).

ولننظر في الأدلة على مشروعية الإعادة:

1 - في «صحيح مسلم»(5) وغيره من حديث أبي ذر: قال لي

--------------------------------------------

(1) (1/ 133).

(2) رقم (6726).

(3) (1/ 133).

(4) (2/ 63).

(5) رقم (648).
এবং «মুয়াত্তা»(১) গ্রন্থে রয়েছে: নাফে' থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি ইবনে ওমরকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আমি আমার বাড়িতে সালাত আদায় করি, অতঃপর ইমামের সাথে সালাত (জামাত) পাই, আমি কি তাঁর সাথে সালাত আদায় করব?" আবদুল্লাহ ইবনে ওমর তাকে বললেন: "হ্যাঁ … "।

এবং «মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ»(২) গ্রন্থে রয়েছে: ইবনে নুমাইর থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তি তার বাড়িতে সালাত আদায় করে এবং পরে জামাত (جماعة) পায়, তবে সে তাদের সাথে সালাত আদায় করবে; মাগরিব ও ফজর ব্যতীত।"

এবং «মুয়াত্তা»(৩) গ্রন্থে নাফে' থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

আর এই আসারগুলোর (الآثار) মধ্যে এই নির্দেশনা রয়েছে যে, মূলত হাদিসটির মূল বিষয় হলো দুবার পুনরাবৃত্তি (الإعادة) করার নিষেধাজ্ঞা, যেমনটি নাসাঈ-র বর্ণনায় (رواية) রয়েছে; এটি দুবার সালাত আদায় করার ব্যাপারে নয়।

সারসংক্ষেপ এই যে, ইবনে ওমরের যে মতটি স্থির হয়েছে তা হলো জামাতের (الجماعة) সাথে সালাত পুনরাবৃত্তি (الإعادة) করা বৈধ (مشروعية), তবে তিনি কেবল মাগরিব ও ফজরকে এর ব্যতিক্রম ধরেছেন; কারণ মাগরিব হলো বিতর (وتر) এবং ফজরের সালাতের পর সালাত আদায়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর তিনি আসরকে ব্যতিক্রম করেননি কারণ তাঁর মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের পর সালাত আদায় করা বৈধ (جواز), যেমনটি «ফাতহুল বারী»(৪) গ্রন্থে রয়েছে।

এখন আমরা পুনরাবৃত্তি (الإعادة) বৈধ (مشروعية) হওয়ার দলীলগুলোর (الأدلة) দিকে দৃষ্টিপাত করি:

১ - «সহীহ মুসলিম»(৫) ও অন্যান্য গ্রন্থে আবু যার থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: তিনি আমাকে বললেন—

--------------------------------------------

(১) (১/ ১৩৩)।

(২) নম্বর (৬৭২৬)।

(৩) (১/ ১৩৩)।

(৪) (২/ ৬৩)।

(৫) নম্বর (৬৪৮)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «كيف أنت إذا كانت عليك أمراءُ يُؤخِّرون الصلاةَ عن وقتها، أو يُمِيتُون الصلاةَ عن وقتها؟ ». قال: قلت: فما تأمرني؟ قال: «صلِّ الصلاةَ لوقتها، فإن أدركتَها معهم فصَلِّ، فإنها لك نافلة».

وفي روايةٍ لمسلم(1): «صلِّ الصلاةَ لوقتها، فإن أدركتَ الصلاة معهم فصَلِّ، ولا تقلْ: إني قد صلَّيتُ، فلا أُصلِّي».

وبمعناه أحاديث عن ابن مسعود(2) وعبادة بن الصامت(3) وغيرهما، وليس فيها التقييد بخوف فتنة أو نحوه.

2 - أخرج ابن خزيمة وابن حبان في «صحيحيهما»(4)، والحاكم في «المستدرك»(5) وقال: صحيح كما في «تلخيص المستدرك» (1/ 244)، وابن السكن وصححه(6)، والترمذي(7) وقال: حسن صحيح، والنسائي(8) وأبو داود(9) وغيرهم عن يعلى بن عطاء عن جابر بن يزيد بن الأسود عن أبيه قال: «شهدتُ مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم حَجَّتَه، فصليتُ معه صلاة الصبح في

--------------------------------------------

(1) رقم (648/ 242).

(2) أخرجه مسلم (534).

(3) أخرجه أبو داود (433).

(4) ابن خزيمة (1279، 1638، 1713) وابن حبان (1564، 1565، 2395).

(5) (1/ 244، 245).

(6) نقل تصحيحه الحافظ في «التلخيص الحبير» (2/ 29).

(7) رقم (219).

(8) (2/ 112، 113).

(9) رقم (575، 576).
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমার কী অবস্থা হবে যখন তোমার ওপর এমন শাসকবর্গ নিযুক্ত হবে যারা সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বিত করবে, অথবা সালাতকে তার সময় থেকে মৃতপ্রায় করে ফেলবে?». তিনি বলেন: আমি বললাম: আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেন: «সালাতকে তার সঠিক সময়ে আদায় করে নাও, এরপর যদি তাদের সাথে সালাত পাও তবে (পুনরায়) আদায় করো; কেননা তা তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে»।

এবং মুসলিমের একটি বর্ণনায় এসেছে(১): «সালাতকে তার সঠিক সময়ে আদায় করে নাও। এরপর যদি তাদের সাথে সালাত পাও তবে আদায় করো, আর এ কথা বলো না যে: ‘আমি তো সালাত আদায় করে নিয়েছি, তাই আর আদায় করব না’»।

এবং একই অর্থে ইবনে মাসউদ(২) ও উবাদাহ বিন সামিত(৩) এবং অন্যান্যদের থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে, আর সেগুলোতে ফিতনার ভয় বা অনুরূপ কোনো সীমাবদ্ধতা উল্লেখ নেই।

২ - ইবনে খুজাইমা ও ইবনে হিব্বান তাদের 'সহিহাইন'-এ(৪), এবং আল-হাকিম 'মুসতাদরাক'-এ(৫) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি সঠিক (صحيح), যেমনটি 'তালখিসুল মুসতাদরাক'-এ (১/ ২৪৪) রয়েছে; এবং ইবনে আস-সাকান এটি বর্ণনা করেছেন ও একে সঠিক (صحيح) বলেছেন(৬); আর তিরমিজি(৭) বর্ণনা করে বলেছেন: এটি হাসান (حسن) ও সঠিক (صحيح); এবং আন-নাসাঈ(৮) ও আবু দাউদ(৯) এবং অন্যান্যরা ইয়ালা বিন আতা হতে, তিনি জাবির বিন ইয়াজিদ বিন আসওয়াদ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর হজে উপস্থিত ছিলাম, অতঃপর তাঁর সাথে ফজরের সালাত আদায় করি...

--------------------------------------------

(১) নং (৬৪৮/ ২৪২)।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৫৩৪)।

(৩) আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (৪৩৩)।

(৪) ইবনে খুজাইমা (১২৭৯, ১৬৩৮, ১৭১৩) এবং ইবনে হিব্বান (১৫৬৪, ১৫৬৫, ২৩৯৫)।

(৫) (১/ ২৪৪, ২৪৫)।

(৬) হাফিজ 'তালখিসুল হাবির'-এ (২/ ২৯) এর সঠিক (صحيح) হওয়ার বিষয়টি উদ্ধৃত করেছেন।

(৭) নং (২১৯)।

(৮) (২/ ১১২, ১১৩)।

(৯) নং (৫৭৫, ৫৭৬)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
مسجد الخيف، فلما قضى صلاتَه وانحرف إذا هو برجلين في أُخرى القوم لم يُصلِّيا معه، فقال: «عليَّ بهما»، فجِيءَ بهما تُرْعَدُ فَرائصُهما، فقال: «ما مَنَعَكما أن تُصلِّيا معنا؟ »، فقالا: يا رسول الله، كنَّا صلَّينا في رِحالِنا. قال: «فلا تفعلا، إذا صلَّيتما في رِحالكما، ثم أتيتُما مسجدَ جماعةٍ، فصلِّيا معهم، فإنها لكما نافلةٌ».

أقول: جابر بن يزيد بن الأسود، قال ابن المديني: لم يروِ عنه غير يعلى بن عطاء(1)، ولذلك قال الشافعي: «إسناده مجهول، نقله البيهقي(2). وقد وثَّقه النسائي(3)، وصحَّح حديثه جماعة كما مر. ولأئمة الحديث مذاهبُ في توثيق من لم يروِ عنه إلا واحد، ليس هذا موضعَ شرحها.

وقد أخرجه الدارقطني (ص 159)(4) بسندٍ رجاله موثَّقون عن بقيَّة حدثني إبراهيم (بن عبد الحميد) بن ذي حماية حدثني عبد الملك بن عُمير عن جابر بن يزيد عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم نحوه.

وإبراهيم، قال أبو زرعة(5): ما به بأس، وقال ابن حبان في أتباع التابعين من «الثقات»(6): من فقهاء أهل الشام، كان على قضاء أهل حمص.

--------------------------------------------

(1) انظر «تهذيب التهذيب» (2/ 46).

(2) في «السنن الكبرى» (2/ 302).

(3) انظر «التلخيص الحبير» (2/ 29).

(4) (1/ 414).

(5) انظر «الجرح والتعديل» (2/ 113).

(6) (6/ 13).
মসজিদুল খায়িফ; (একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে ছিলেন) অতঃপর যখন তিনি সালাত সম্পন্ন করে ফিরলেন, তখন দেখলেন কওমের পেছনের অংশে দুইজন লোক যারা তাঁর সাথে সালাত আদায় করেনি। তিনি বললেন: «তাদেরকে আমার নিকট নিয়ে এসো», অতঃপর তাদের নিয়ে আসা হলো এমতাবস্থায় যে (ভয়ে) তাদের ঘাড়ের মাংসপেশি কাঁপছিল। তিনি বললেন: «আমাদের সাথে সালাত আদায় করতে তোমাদের কিসে বাধা দিল?» তারা বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আমাদের ডেরায় সালাত আদায় করে নিয়েছি। তিনি বললেন: «এমনটি করো না; যখন তোমরা তোমাদের ডেরায় সালাত আদায় করার পর জামাতবদ্ধ কোনো মসজিদে আসবে, তখন তাদের সাথেও সালাত আদায় করো। কেননা তা তোমাদের জন্য নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য হবে।»

আমি বলছি: জাবির বিন ইয়াজিদ বিন আল-আসওয়াদ সম্পর্কে ইবনে আল-মাদিনি বলেছেন: ইয়ালা বিন আতা ব্যতিরেকে অন্য কেউ তার থেকে বর্ণনা করেননি। এ কারণেই শাফিঈ বলেছেন: «এর সনদ (إسناد) অজ্ঞাত (مجهول)», যা বাইহাকি বর্ণনা করেছেন। তবে নাসাঈ তাকে নির্ভরযোগ্য (وثَّقه) বলেছেন এবং একদল আলেম তার হাদিসকে সহিহ (صحَّح) বলেছেন যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যে বর্ণনাকারীর থেকে কেবল একজনই বর্ণনা করেছেন, তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করার (توثيق) ক্ষেত্রে হাদিস বিশারদ ইমামগণের একাধিক মূলনীতি রয়েছে, যা এখানে ব্যাখ্যা করার স্থান নয়।

আর দারাকুতনি এটি সংকলন করেছেন (পৃষ্ঠা ১৫৯) এমন এক সনদ (سند) দ্বারা যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (موثَّقون); বাকিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, ইবরাহিম (ইবনে আব্দুল হামিদ) বিন যি হিমায়াহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক বিন উমাইর আমার কাছে জাবির বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আর ইবরাহিম সম্পর্কে আবু যুরআ বলেছেন: «তার মাঝে কোনো সমস্যা নেই (ما به بأس)», এবং ইবনে হিব্বান তাবি-তাবিঈনদের আলোচনায় 'আস-সিকাত' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি শাম অঞ্চলের ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং হিমসবাসীদের বিচারকার্যের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন 'তহযীবুত তহযীব' (২/ ৪৬)।

(২) 'আস-সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে (২/ ৩০২)।

(৩) দেখুন 'আত-তালখিসুল হাবির' (২/ ২৯)।

(৪) (১/ ৪১৪)।

(৫) দেখুন 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' (২/ ১১৩)।

(৬) (৬/ ১৩)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
وهذه متابعة جيدة، وذكر الدارقطني وجهين آخرين(1)، فراجعه.

3 - مالك في «الموطأ»، وابن خزيمة في «صحيحه»، والحاكم في «المستدرك» وقال: صحيح، والنسائي(2) وغيرهم عن زيد بن أسلم عن بُسْر بن مِحْجَن الدِّيلي: أنه كان جالسًا مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، فأُوذِنَ(3) بالصلاة، فقام رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فصلَّى بهم، ثم رجعَ ومِحْجَنٌ في مجلسه كما هو، فقال له رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «ما منعَكَ أن تُصَلِّي؟ ألستَ برجلٍ مسلم؟ » قال: بلى يا رسول الله، ولكني يا رسول الله كنتُ قد صلَّيتُ في أهلي. قال: «فإذا جئتَ فصَلِّ مع الناس وإن كنتَ قد صلَّيتَ». لفظ الحاكم في المستدرك (1/ 244)، ثم قال: هذا حديث صحيح، ومالك بن أنس الحَكَم في حديث المدنيين، وقد احتجَّ به في «الموطأ».

أقول: لم يذكروا لبُسْرٍ إلا راويًا واحدًا هو زيد بن أسلم(4)، فحاله شبيهة بحال جابر بن يزيد، لكن رواية زيد مع جلالة محله تُقوِّي حالَه، وقد جاء عن زيد أنه سُئل عن حديثٍ فقيل له: عمَّن هذا؟ فقال: يا ابن أخي، لم نكن نجالس السفهاء(5).

--------------------------------------------

(1) انظر «سننه» (1/ 414).

(2) «الموطأ» (1/ 132) و «المستدرك» (1/ 244) والنسائي (2/ 112) ولم أجده عند ابن خزيمة. وأخرجه أيضًا أحمد (16395) وابن حبان (2405) والبيهقي (2/ 300).

(3) في الموطأ والمسند: «فأُذِّن».

(4) انظر «تهذيب التهذيب» (1/ 438).

(5) انظر «تهذيب التهذيب» (3/ 396).
আর এটি একটি ভালো (جيدة) সমান্তরাল বর্ণনা (متابعة); দারাকুতনি আরও দুটি সূত্রের কথা উল্লেখ করেছেন(১), সুতরাং তা দেখে নিন।

৩ - মালিক ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থে, ইবনে খুজায়মাহ তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে, হাকেম ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে এবং তিনি একে সঠিক (صحيح) বলেছেন, নাসাঈ(২) এবং অন্যান্যরা জায়েদ বিন আসলাম থেকে, তিনি বুসর বিন মিহজান আদ-দাইলি থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে বসা ছিলেন, অতঃপর সালাতের জন্য আহ্বান(৩) করা হলো। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন এবং তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি ফিরে আসলেন অথচ মিহজান তাঁর মজলিসে পূর্বের ন্যায় বসা ছিলেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন: «তোমাকে সালাত আদায় করা থেকে কিসে বাধা দিল? তুমি কি একজন মুসলিম ব্যক্তি নও?» তিনি বললেন: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল, কিন্তু আমি ইতিপূর্বে আমার পরিবারে সালাত আদায় করে নিয়েছিলাম। তিনি বললেন: «যখন তুমি আসবে, তখন মানুষের সাথে সালাত আদায় করে নিবে, যদিও তুমি আগে সালাত আদায় করে থাকো।» মুস্তাদরাক (১/ ২৪৪) গ্রন্থে হাকেমের শব্দাবলি এটিই, তারপর তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি সঠিক (صحيح)। আর মদিনাবাসীদের হাদিসের বর্ণনার ক্ষেত্রে মালিক বিন আনাস হলেন প্রামাণ্য ব্যক্তি, আর তিনি ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থে এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।

আমি বলছি: তাঁরা বুসরের জন্য জায়েদ বিন আসলাম ছাড়া অন্য কোনো বর্ণনাকারী (راوٍ)(৪) উল্লেখ করেননি; ফলে তাঁর অবস্থা জাবির বিন ইয়াজিদের অবস্থার সদৃশ। তবে জায়েদের সুউচ্চ মর্যাদার কারণে তাঁর বর্ণনাটি বুসরের অবস্থাকে শক্তিশালী করে। জায়েদ থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো: এটি কার থেকে বর্ণিত? তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, আমরা নির্বোধদের সাথে বসতাম না(৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন তাঁর ‘সুনান’ (১/ ৪১৪)।

(২) ‘মুয়াত্তা’ (১/ ১৩২), ‘মুস্তাদরাক’ (১/ ২৪৪) এবং নাসাঈ (২/ ১১২); তবে আমি এটি ইবনে খুজায়মাহ-এর নিকট পাইনি। আহমদ (১৬৩৯৫), ইবনে হিব্বান (২৪০৫) এবং বায়হাকি (২/ ৩০০) এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) মুয়াত্তা এবং মুসনাদ গ্রন্থে রয়েছে: «আজান দেওয়া হলো»।

(৪) দেখুন ‘তাহজিবুত তাহজিব’ (১/ ৪৩৮)।

(৫) দেখুন ‘তাহজিবুত তাহজিব’ (৩/ ৩৯৬)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
4 - أبو داود(1) وغيره من طريق سعيد بن السائب عن نوح [بن](2) صعصعة عن يزيد بن عامر قال: جئتُ … فقال له النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «إذا جئتَ إلى الصلاة فوجدتَ الناسَ، فصَلِّ معهم وإن كنتَ قد صلَّيتَ، تَكُنْ لك نافلةً، وهذه مكتوبة».

أقول: نوح بن صعصعة لم يُذكَر له راوٍ إلا سعيد بن السائب(3)، واستنكروا قوله: «وهذه مكتوبة».

5 - مالك في «الموطأ»(4) عن عَفِيف السَّهمي عن رجلٍ من بني أسد أنه سأل أبا أيوب الأنصاري فقال: إنّي أصلِّي في بيتي، ثم آتي المسجدَ، فأجدُ الإمامَ يُصلِّي، أفأُصلِّي معه؟ فقال أبو أيوب: نعم، فَصَلِّ معه، فإنَّ من صنَعَ ذلك فإن له سَهْمَ جَمْعٍ، أو مثلَ سَهْمِ جَمْعٍ.

وأخرجه أبو داود(5) بسند صحيح إلى بُكَير بن عبد الله بن الأشجِّ عن عَفِيف بن عمرو بن المسيّب، وفيه: فقال أبو أيوب: سألنا عن ذلك النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فقال: «فذلك له سهمُ جَمْعٍ».

وقال بعضهم: «يعقوب بن عمرو بن المسيب» بدل «عفيف»، كما في «تاريخ» البخاري (4/ 2/ 190)(6).

--------------------------------------------

(1) رقم (577).

(2) ساقطة من الأصل.

(3) انظر «تهذيب التهذيب» (10/ 485).

(4) (1/ 133).

(5) رقم (578).

(6) «التاريخ الكبير» (8/ 390).
4 - আবু দাউদ(১) ও অন্যান্যরা সাঈদ ইবনে আস-সাইব-এর সূত্রে নূহ [ইবনে](২) সা'সাআহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আমির থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আসলাম... তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «তুমি যখন সালাতে আসবে এবং দেখবে যে মানুষ (জামাতে) সালাত আদায় করছে, তখন তাদের সাথে সালাত আদায় করো, যদিও তুমি ইতিপূর্বে সালাত আদায় করে থাকো। এটি তোমার জন্য নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি (পূর্বেরটি) ফরয (مكتوبة) হিসেবে গণ্য হবে»।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: নূহ ইবনে সা'সাআহ-এর সাঈদ ইবনে আস-সাইব ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনাকারী (راوٍ) উল্লেখ করা হয়নি(৩) এবং তাঁরা তাঁর এ উক্তি: «এবং এটি হবে ফরয (مكتوبة)»-কে অগ্রহণযোগ্য বা মুনকার গণ্য করেছেন (استنكروا)।

5 - মালিক ‘মুয়াত্তা’(৪) গ্রন্থে আফীফ আস-সাহমি থেকে, তিনি বনু আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, সে আবু আইয়ুব আল-আনসারি-কে জিজ্ঞাসা করল: আমি আমার ঘরে সালাত আদায় করি, অতঃপর মসজিদে এসে ইমামকে সালাত আদায় করতে দেখি। আমি কি তাঁর সাথে সালাত আদায় করব? আবু আইয়ুব বললেন: হ্যাঁ, তাঁর সাথে সালাত আদায় করো। কারণ যে ব্যক্তি এরূপ করবে, সে জামাতের অংশ পাবে অথবা জামাতের অংশের অনুরূপ সওয়াব পাবে।

আবু দাউদ এটি(৫) বুকাঈর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল আশাজ্জ থেকে আফীফ ইবনে আমর ইবনুল মুসায়্যিব-এর সূত্রে একটি সহিহ (صحيح) সনদ (سند)-সহ বর্ণনা করেছেন। আর তাতে রয়েছে: আবু আইয়ুব বললেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: «তার জন্য জামাতের অংশ রয়েছে»।

কেউ কেউ বলেছেন: ‘আফীফ’-এর বদলে ‘ইয়াকুব ইবনে আমর ইবনুল মুসায়্যিব’ হবে, যেমনটি বুখারির ‘তারিখ’ (৪/২/১৯০)(৬) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (৫৭৭)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) দেখুন ‘তাহজিবুত তাহজিব’ (১০/৪৮৫)।

(৪) (১/১৩৩)।

(৫) নম্বর (৫৭৮)।

(৬) ‘আত-তারিখুল কাবির’ (৮/৩৯০)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
عفيف: وثَّقه النسائي(1)، ويكفيه رواية مالك وبُكير عنه، ومالك مشهور بأنه لا يروي إلا عن ثقة، وكذلك بُكير، قال عمرو بن الحارث(2): إذا رأيتَ بكير بن عبد الله روى عن رجلٍ فلا تسأل عنه، فهو الثقة الذي لا شكَّ فيه. ذكره في «التهذيب» في ترجمة بكير.

6 ــ أحمد في «المسند» (4/ 215)(3): ثنا يعقوب ثنا أبي عن ابن إسحاق قال: حدثني عمران بن أبي أنس عن حنظلة بن علي الأسلمي عن رجلٍ من بني الدِّيل قال: «صليتُ الظهر في بيتي، ثمّ خرجتُ بأباعِرَ لي لأُصْدِرَها إلى الراعي، فمررتُ برسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وهو يُصلِّي بالناس الظهرَ، فمضيتُ فلم أُصَلِّ معه، فلما أَصدَرتُ أباعرِي ورجعتُ ذُكِرَ ذلك لرسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فقال لي: «ما مَنَعَك يا فلانُ أن تُصلِّي معنا حينَ مررتَ بنا؟ » قال: قلت: يا رسول الله، إنّي قد كنتُ صلَّيتُ في بيتي، قال: «وإنْ».

[ق 11] أقول: الرجل من بني الدِّيل صحابي، ورجال السند كلهم ثقات، إلا أن في ابن إسحاق كلامًا، والراجح عندهم أنه ثقة يُدلِّس، وقد صرَّح هنا بالسماع، فزالت تهمة التدليس.

7 ــ أبو داود والترمذي(4) وقال: حديث حسن، وابن خزيمة وابن حبان في «صحيحيهما»(5)، والحاكم في «المستدرك» (1/ 209) وقال: صحيح

--------------------------------------------

(1) انظر «تهذيب التهذيب» (7/ 236).

(2) بل أحمد بن صالح المصري كما في «التهذيب» (1/ 492، 493).

(3) رقم (17890).

(4) أبو داود (574) والترمذي (220).

(5) ابن خزيمة (1632) وابن حبان (2397، 2398، 2399). وأخرجه أيضًا أحمد (11613، 11019) والدارمي (1/ 318) والبيهقي في «السنن الكبرى» (3/ 69).
আফিফ: নাসাঈ তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه)(১) বলেছেন এবং তাঁর থেকে মালিক ও বুকাইর-এর বর্ণনা করাই তাঁর জন্য যথেষ্ট। মালিক এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি ছাড়া কারো থেকে বর্ণনা করেন না এবং বুকাইরও তদ্রূপ। আমর ইবনুল হারিস(২) বলেন: যখন আপনি দেখবেন বুকাইর ইবনু আব্দুল্লাহ কোনো ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তার সম্পর্কে আর জিজ্ঞাসা করবেন না; কেননা তিনি এমন নির্ভরযোগ্য (الثقة) ব্যক্তি যার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। এটি ‘তাহযীব’ গ্রন্থে বুকাইর-এর জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

৬ ــ আহমাদ ‘মুসনাদ’-এ (৪/ ২১৫)(৩): ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা ইবনু ইসহাক থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমরান ইবনু আবি আনাস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন হানজালা ইবনু আলি আল-আসলামি থেকে, তিনি বনু আদ-দীল গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: «আমি আমার বাড়িতে যোহরের সালাত আদায় করলাম, অতঃপর আমার কিছু উট নিয়ে রাখালের কাছে ফেরত পাঠানোর জন্য বের হলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যখন তিনি লোকদের নিয়ে যোহরের সালাত আদায় করছিলেন। আমি চলে গেলাম এবং তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম না। যখন আমি উটগুলো ফেরত পাঠিয়ে ফিরে এলাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করা হলো। তিনি আমাকে বললেন: “হে অমুক! যখন তুমি আমাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলে, তখন আমাদের সাথে সালাত আদায় করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?” তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো বাড়িতেই সালাত আদায় করে নিয়েছিলাম। তিনি বললেন: “তা সত্ত্বেও (সালাত আদায় করতে হতো)।”»

[পৃ ১১] আমি বলছি: বনু আদ-দীল গোত্রের এই ব্যক্তি একজন সাহাবী (صحابي), আর এই সনদের সকল বর্ণনাকারীই নির্ভরযোগ্য (ثقات)। তবে ইবনু ইসহাকের ব্যাপারে কিছু বক্তব্য রয়েছে এবং তাঁদের নিকট অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত হলো তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে তিনি তাদলীস (يدلس) করতেন; আর এখানে তিনি সরাসরি শোনার কথা ব্যক্ত করেছেন, ফলে তাদলীসের (التدليس) অভিযোগ দূরীভূত হয়েছে।

৭ ــ আবু দাউদ ও তিরমিযী(৪) এবং তিনি বলেছেন: হাদিসটি হাসান (حسن)। ইবনু খুযায়মাহ ও ইবনু হিব্বান তাঁদের নিজ নিজ ‘সহীহ’ গ্রন্থে(৫) এবং হাকিম ‘আল-মুস্তাদরাক’-এ (১/ ২০৯) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: সহীহ (صحيح)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ‘তাহযীবুত তাহযীব’ (৭/ ২৩৬)।

(২) বরং তিনি আহমাদ ইবনু সালিহ আল-মিসরি, যেমনটি ‘তাহযীব’ (১/ ৪৯২, ৪৯৩) গ্রন্থে রয়েছে।

(৩) নম্বর (১৭৮৯০)।

(৪) আবু দাউদ (৫৭৪) এবং তিরমিযী (২২০)।

(৫) ইবনু খুযায়মাহ (১৬৩২) এবং ইবনু হিব্বান (২৩৯৭, ২৩৯৮, ২৩৯৯)। এছাড়াও আহমাদ (১১৬১৩, ১১০১৯), দারেমি (১/ ৩১৮) এবং বায়হাকি ‘আস-সুনান আল-কুবরা’ (৩/ ৬৯) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
على شرط مسلم، وغيرهم عن أبي سعيد الخدري قال: جاء رجل وقد صلَّى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بمدة، فقال: «أيكم يَتَّجِرُ على هذا؟ »، فقام رجل فصلَّى معه. لفظ الترمذي، ولفظ أبي داود والحاكم: «ألا رجلٌ يتصدق على هذا فيُصلِّي معه».

وجاء بمعناه من حديث أبي أمامة عند أحمد (5/ 254)(1)، ومن حديث أنس عند الدارقطني (ص 103)(2)، وفي «كنز العمال»(3) أنه أخرجه أبو عوانة والضياء في «المختارة»(4). وقال الترمذي(5): وفي الباب عن أبي أمامة وأبي موسى(6) والحكم بن عُمير(7).

--------------------------------------------

(1) رقم (22189، 22316). وإسناده ضعيف جدًّا، لضعف عبيد الله بن زحر وعلي بن يزيد الألهاني.

(2) (1/ 276).

(3) (7/ 643) برقم (20692).

(4) رقم (1670، 1671). وأخرجه أيضًا الطبراني في «المعجم الأوسط» (7282). وإسناده حسن.

(5) عقب الحديث (220).

(6) أخرجه ابن ماجه (972) والطحاوي في «شرح معاني الآثار» (1/ 308) والدارقطني (1/ 280) والحاكم في «المستدرك» (4/ 334) والبيهقي (3/ 69) بلفظ: «الاثنان فما فوقهما جماعة». وإسناده ضعيف جدًّا، الربيع بن بدر متروك، ووالده وجدّه مجهولان.

(7) في الأصل: «عمرو»، والتصويب من الترمذي. والحديث أخرجه ابن سعد في «الطبقات» (7/ 415) وابن عدي في «الكامل» (5/ 250) باللفظ المذكور. وفي إسناده عيسى بن إبراهيم القرشي، قال البخاري: «منكر الحديث».
ইমাম মুসলিমের শর্তানুযায়ী এবং অন্যান্যরা আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আসলেন এমতাবস্থায় যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত শেষ করার পর কিছু সময় পার হয়েছে। তিনি বললেন: «তোমাদের মধ্যে কে আছে যে এই ব্যক্তির সাথে সওয়াবের ব্যবসা করবে?» তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তার সাথে সালাত আদায় করলেন। এটি তিরমিজির শব্দ। আর আবু দাউদ ও হাকেমের শব্দ হলো: «এমন কোনো ব্যক্তি কি নেই যে এই ব্যক্তির ওপর সদকা করবে এবং তার সাথে সালাত আদায় করবে?»

আর এই অর্থের হাদিস আবু উমামা থেকে আহমাদ (৫/ ২৫৪)(১), এবং আনাস থেকে দারা কুতনি (পৃ. ১০৩)(২) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। 'কানযুল উম্মাল'(৩) গ্রন্থে রয়েছে যে, এটি আবু আওয়ানা এবং দিয়া 'আল-মুখতারা'(৪) গ্রন্থে সংকলন করেছেন। তিরমিজি(৫) বলেন: এই অধ্যায়ে আবু উমামা, আবু মুসা(৬) এবং হাকাম ইবনে উমায়ের(৭) থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) নং (২২১৮৯, ২২৩১৬)। এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدًّا), উবায়দুল্লাহ ইবনে যহর এবং আলী ইবনে ইয়াজিদ আল-আলহানির দুর্বলতার (ضعف) কারণে।

(২) (১/ ২৭৬)।

(৩) (৭/ ৬৪৩) নং (২০৬৯২)।

(৪) নং (১৬৭০, ১৬৭১)। এটি তাবারানিও 'আল-মুজামুল আওসাত' (৭২৮২) গ্রন্থে সংকলন করেছেন। এর সনদ হাসান (حسن)।

(৫) হাদিস নং ২২০-এর পরে।

(৬) এটি ইবনে মাজাহ (৯৭২), তাহাবি 'শারহু মাআনিল আসার' (১/ ৩০৮), দারা কুতনি (১/ ২৮০), হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক' (৪/ ৩৩৪) এবং বায়হাকি (৩/ ৬৯) গ্রন্থে এই শব্দে সংকলন করেছেন: «দুইজন বা তার অধিক ব্যক্তি হলো জামাত (جماعة)»। এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدًّا); রাবি ইবনে বদর বর্জনীয় (متروك), এবং তার পিতা ও দাদা অজ্ঞাত (مجهولان)।

(৭) মূলে ছিল: «আমর», সঠিকটি তিরমিজি থেকে নেওয়া হয়েছে। হাদিসটি ইবনে সাদ 'আত-তাবাকাত' (৭/ ৪১৫) এবং ইবনে আদি 'আল-কামিল' (৫/ ২৫০) গ্রন্থে উল্লিখিত শব্দে সংকলন করেছেন। এর সনদে ঈসা ইবনে ইব্রাহিম আল-কুরাশি রয়েছে, যার সম্পর্কে বুখারি বলেছেন: «তিনি মুনকারুল হাদিস (منكر الحديث)»।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
وجاء من مرسل أبي عثمان النهدي(1)، والحسن البصري. قال ابن أبي شيبة في «المصنف»(2): ثنا هُشيم نا خصيف بن يزيد التيمي(3) قال: نا الحسن أن رجلًا دخل المسجدَ وقد صلَّى النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فقال: «ألا رجلٌ(4) يقوم إلى هذا فيصلِّي معه؟ »، فقام أبو بكر فصلَّى معه، وكان قد صلَّى تلك الصلاة.

8 و 9 و 10 ــ حديث جابر في صلاة معاذ، وحديثه في صلاة الخوف، وحديث أبي بكرة في صلاة الخوف أيضًا، وستأتي إن شاء الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن أبي شيبة في المصنف برقم (7173).

(2) رقم (6723).

(3) كذا في نسخ «المصنّف»، والصواب: «خصيب بن زيد التميمي»، كما في «التقريب» وغيره من كتب الرجال.

(4) في الأصل: «رجلًا». والتصويب من «المصنّف».
এটি আবু উসমান আন-নাহদি(১) এবং হাসান বসরীর বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা থেকে এসেছে। ইবনে আবি শাইবাহ ‘আল-মুসান্নাফ’(২) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট খুসাইফ বিন ইয়াজিদ আত-তাইমি(৩) বর্ণনা করেছেন, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম সালাত সম্পন্ন করেছিলেন। তখন তিনি (নবীজি) বললেন: «এমন কি কোনো ব্যক্তি(৪) নেই যে এর সাথে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে?», তখন আবু বকর উঠে দাঁড়ালেন এবং তার সাথে সালাত আদায় করলেন, অথচ তিনি ইতিপূর্বেই সেই সালাত আদায় করেছিলেন।

৮, ৯ ও ১০ ــ মুয়াযের সালাত সংক্রান্ত জাবির বর্ণিত হাদিস, সালাতুল খাওফ (ভয়ের সালাত) সংক্রান্ত তাঁর বর্ণিত হাদিস এবং সালাতুল খাওফ সংক্রান্ত আবু বাকরাহ বর্ণিত হাদিসও; যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আবি শাইবাহ এটি আল-মুসান্নাফ গ্রন্থে (৭১৭৩) নম্বর হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(২) নম্বর (৬৭২৩)।

(৩) ‘আল-মুসান্নাফ’-এর পাণ্ডুলিপিগুলোতে এমনই রয়েছে, তবে সঠিক হলো: «খাসিব বিন যাইদ আত-তামিমি», যেমনটি ‘আত-তাকরীব’ ও অন্যান্য জীবনীগ্রন্থ (كتب الرجال)-এ রয়েছে।

(৪) মূল পাঠে ছিল: «রজুলান»। এটি ‘আল-মুসান্নাফ’ থেকে সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬০)
الفقه

لا يخفى أن الأصل عدم مشروعية الإعادة، وهذه الأحاديث إنما دلَّت على مشروعية الإعادة في صور:

الأولى: من صلَّى في بيته أو نحوه، ولو جماعةً، ثم أدرك الجماعة في المسجد.

وقولي: «ولو جماعةً» مأخوذ من عموم الأحاديث؛ إذ لم تُقيَّد الصلاة في الرحل بكونها فرادى.

الثانية: فيما إذا رأى إنسانًا يريد الصلاة وحده، فيتصدَّق عليه.

الثالثة: في الرجل يكون إمامًا راتبًا، فيصلِّي في غير مسجده، ثم يرجع إلى مسجده، فيصلِّي بهم.

الرابعة: في الخوف.

فما عدا هذه الصور باقٍ على الأصل من عدم مشروعية الإعادة، إلا أن يتفق ما هو في معنى واحدةٍ منها.

فأما حديث ابن عمر مرفوعًا: «لا تُصلُّوا صلاةً في يومٍ مرتين» أو «لا تُعاد الصلاة في يومٍ مرتين» أو «لا صلاةَ مكتوبة في يومٍ مرتين»، فإن كان باللفظ الثاني، ومعناه النهي عن إعادتها مرتين، بأن يصلِّيها ثم يعيدها ثم يعيدها، فلا مخالفةَ فيه لما تقدم، إلا أن يُتصوَّر في بعض الصور الأربع ما يستلزم مثل هذا، كأن يصلّي في بيته، ثم يعيد مع الإمام، ثم يريد أن يتصدق بإعادتها مع من يريد أن يصلِّي وحدَه.
ফিকহ

এটি অস্পষ্ট নয় যে, মূল নীতি হলো সালাত পুনরায় না পড়া। আর এই হাদিসগুলো কেবল কয়েকটি সুরতের ক্ষেত্রে পুনরায় পড়ার বৈধতা নির্দেশ করে:

প্রথমত: যে ব্যক্তি তার বাড়িতে বা অনুরূপ স্থানে সালাত আদায় করেছে, যদিও তা জামাত (جماعة)-এর সাথে হয়, অতঃপর সে মসজিদে গিয়ে পুনরায় জামাত (جماعة) পেল।

আমার কথা: «যদিও তা জামাত (جماعة)-এর সাথে হয়»—এটি হাদিসগুলোর ব্যাপকতা (عموم) থেকে সংগৃহীত; কেননা আবাসস্থলে সালাত একাকী (فرادى) হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করা হয়নি।

দ্বিতীয়ত: যখন কোনো ব্যক্তি এমন কাউকে দেখবে যে একাকী সালাত আদায়ের ইচ্ছা করছে, তখন সে তার প্রতি সদকা করার উদ্দেশ্যে (তার সাথে সালাত পড়বে)।

তৃতীয়ত: এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে নির্ধারিত ইমাম (إمام راتب), সে তার নিজের মসজিদ ব্যতীত অন্য কোথাও সালাত আদায় করল, অতঃপর তার নিজ মসজিদে ফিরে এসে তাদের নিয়ে সালাত আদায় করল।

চতুর্থত: ভীতি (الخوف)-কালীন অবস্থায়।

সুতরাং এই সুরতগুলো ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্র পুনরায় না পড়ার মূল নীতির ওপর বহাল থাকবে, যদি না অন্য কোনো বিষয় এদের কোনো একটির অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

আর ইবনে উমর (রা.) থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) বর্ণিত হাদিসটি: «তোমরা একদিনে একই সালাত দুবার পড়ো না» অথবা «একদিনে একই সালাত পুনরায় দুবার পড়া হবে না» অথবা «একদিনে কোনো ফরজ (مكتوبة) সালাত দুবার নেই»; যদি এটি দ্বিতীয় শব্দে বর্ণিত হয়ে থাকে এবং এর অর্থ হয় দুবার পুনরাবৃত্তি করতে নিষেধ করা—অর্থাৎ একবার পড়ল, তারপর পুনরায় পড়ল, অতঃপর আবার পুনরায় পড়ল—তবে পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে এর কোনো বৈপরীত্য নেই। তবে যদি উক্ত চারটি সুরতের কোনোটিতে এমন কিছু কল্পনা করা হয় যা এর আবশ্যকতা তৈরি করে, যেমন: কেউ তার বাড়িতে সালাত পড়ল, অতঃপর ইমামের সাথে তা পুনরায় পড়ল, এরপর সে পুনরায় এমন ব্যক্তির সাথে সদকা হিসেবে তা পড়ার ইচ্ছা করল যে একাকী সালাত পড়তে চায়।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬১)
وإن كان باللفظ الثالث: لا تُكْتَب أي لا تُفْرَض صلاةٌ واحدةٌ في يوم مرتين، وحاصله أن تكون إعادةُ صلاةٍ من المكتوبات مفروضةً كأصلها، فلا خلاف فيه أيضًا.

وإن كان باللفظ الأول: «لا تُصلُّوا صلاةً في يومٍ مرتين» فهو عام، وأحاديث الباب خاصة، فيعمل بها فيما دلَّت عليه، وما بقي فللعام.

وهذا فيما يظهر مُجمَعٌ عليه في الظهر والعشاء، واختلف الناس في الباقي.

أما الصبح والعصر، فللنهي عن الصلاة بعدهما.

وأما المغرب فقياسًا على الوتر.

والذي يترجح إعادة الصبح أيضًا للحديث الثاني، وكذلك العصر للحديث الأول، وقياسًا على الثاني من باب أولى؛ لأنه قد ورد جواز الصلاة بعد العصر في غير هذا.

وقد يقال: إنه بين طلوع الفجر وطلوع الشمس إنما المنهيُّ عنها ما عدا راتبةِ الصبح وفريضتِها، فهي خارجة عن النهي، فكذلك الصبح إذا أُعيدَتْ حيث تُشْرَع إعادتها، ونحوه يقال في إعادة العصر.

هذا، والأحاديث في الأوقات المكروهة تدلُّ أن الكراهة إنما تشتدُّ في وقت طلوع الشمس ووقت غروبها. وأما بين صلاة الصبح وطلوع الشمس، وبين صلاة العصر ووقت الغروب، فإنما هما كالحِمَى لسدِّ الذريعة.

فلو قيل: إن ما عدا الفريضتين مما له سببٌ متقدمٌ أو مقارنٌ إنما يمتنع عند الطلوع وعند الغروب، لكان مذهبًا يتفق به عامة الأدلة، كذا كان يخطر
আর যদি তা তৃতীয় শব্দে হয়: 'তা লিপিবদ্ধ হবে না', অর্থাৎ একদিনে একই সালাত দুইবার আবশ্যিক (مفروض) করা হবে না। এর সারকথা হলো, ফরয (مكتوبات) সালাতসমূহের কোনো সালাত পুনরায় আদায় করাকে তার মূল সালাতের মতোই আবশ্যিক (مفروض) গণ্য করা হবে; এ বিষয়েও কোনো মতবিরোধ নেই।

আর যদি তা প্রথম শব্দে হয়: "তোমরা একদিনে একই সালাত দুইবার আদায় করো না", তবে এটি সাধারণ (عام) অর্থবোধক, আর এই অধ্যায়ের হাদিসগুলো বিশেষ (خاصة) অর্থবোধক। সুতরাং হাদিসগুলো যা নির্দেশ করে সে ক্ষেত্রে সে অনুযায়ী আমল করা হবে, আর অবশিষ্ট বিষয়গুলো সাধারণ (عام) হুকুমের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আর এটি যোহর ও এশার ক্ষেত্রে বাহ্যত সর্বসম্মত (مجمع عليه), তবে অবশিষ্টগুলোর ক্ষেত্রে ইমামগণ মতভেদ করেছেন।

ফজর ও আসরের ব্যাপারে কথা হলো, এই দুই সালাতের পর সালাত আদায়ে নিষেধ (نهي) থাকার কারণে।

আর মাগরিবের ক্ষেত্রে বিতরের ওপর কিয়াস (قياسًا) করার কারণে।

দ্বিতীয় হাদিসের ভিত্তিতে ফজরের সালাত পুনরায় আদায় করাও অগ্রগণ্য (يترجح), অনুরূপভাবে প্রথম হাদিসের ভিত্তিতে আসরের সালাতও, এবং দ্বিতীয় হাদিসের ওপর কিয়াস (قياسًا) করার মাধ্যমে এটি অধিকতর উপযুক্ত (من باب أولى); কারণ এটি ছাড়াও অন্য ক্ষেত্রে আসরের পর সালাত আদায়ের বৈধতা (جواز) বর্ণিত হয়েছে।

বলা হয়ে থাকে যে: সুবহে সাদিক ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়ে কেবল ফজরের সুন্নাত (راتبة) ও ফরয (فريضة) ব্যতীত অন্য সালাত নিষিদ্ধ (المنهي عنها); সুতরাং এগুলো নিষেধের (النهي) বহির্ভূত। অনুরূপভাবে ফজরের সালাতও যখন পুনরায় আদায় করা হবে যেখানে পুনরায় আদায় করা বিধিবদ্ধ (تشرع), আসর পুনরায় আদায়ের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা হয়।

আর অপছন্দনীয় (مكروهة) সময় সংক্রান্ত হাদিসগুলো নির্দেশ করে যে, অপছন্দনীয়তা (الكراهة) কেবল সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় তীব্র হয়। আর ফজর সালাত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় এবং আসর সালাত ও সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময় কেবল অনিষ্টের পথ বন্ধের (سد الذريعة) জন্য সংরক্ষিত সীমানার মতো।

যদি বলা হয়: দুই ফরয ব্যতীত এমন সালাত যার অগ্রবর্তী (متقدم) বা সমসাময়িক (مقارن) কারণ (سبب) রয়েছে, তা কেবল সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নিষিদ্ধ হবে, তবে এটি এমন একটি মতাদর্শ (مذهبًا) হতো যার মাধ্যমে সাধারণ দলিলসমূহের মধ্যে সমন্বয় ঘটত, এমনটিই মনে উদয় হচ্ছিল।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬২)
لي، ثم رأيتُ بعض أجلَّة العصرِ نحا نحوه.

فأما المغرب فقد جاءت إعادتها في إمامة معاذ بقومه، كما يأتي، وكذلك في الخوف كما يأتي، وعموم الأدلة يقتضي إعادتَها بصفتها، وجاء عن جماعةٍ من السلف أنه يَشْفَعُها بركعة، كما قيل بنحوه في الوتر. وجاء عن بعضهم ما يدلُّ على التخيير بين أن يُعيدَها بصفتها، وأن يُعيدَها ويَشْفعَها بركعة.

والأقرب ــ والله أعلم ــ أنه يُعيدها بصفتها، ومما يُؤيِّد هذا احتمالُ أن يكون في صلاته الأولى خللٌ ضارٌّ لم يتنبه له، فتكون الثانية هي فرضَه على الحقيقة، أو تكون الثانية أكثرَ أجرًا، فيتفضل الله عز وجل بجعلها فريضتَه حتى يكون له فيها الثواب الفرض.

وهذا مجمل ما جاء عن ابن عمر وابن المسيِّب أن تعيين أيهما الفرض إلى الله عز وجل، ولا يُنافي هذا ما جاء من السنة، وفي كلام ابن عمر وغيره أن الثانية نافلة، فإن هذا ــ والله أعلم ــ مبنيٌّ على الظاهر من أنه قد صلَّى صلاةً صحيحة بَرِئتْ بها ذمتُه في الظاهر، فتدبَّر! والله أعلم.
আমার নিকট (এটি স্পষ্ট হয়েছে), অতঃপর আমি বর্তমান সময়ের কিছু বিশিষ্ট আলেমকেও সেই পথ অনুসরণ করতে দেখেছি।

মাগরিবের নামাজের বিষয়টি হলো, মুয়াজ (রা.)-এর নিজ গোত্রের ইমামতি করার বর্ণনায় তা পুনরায় আদায়ের বিষয়টি এসেছে, যেমনটি সামনে আলোচিত হবে; ঠিক তেমনিভাবে ভয়ের নামাজের ক্ষেত্রেও তা সামনে আসবে। আর সাধারণ দলিলসমূহ মাগরিবের নামাজকে তার নির্দিষ্ট পদ্ধতিতেই পুনরায় আদায়ের দাবি রাখে। তবে একদল পূর্বসূরি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এর সাথে আরও এক রাকাত যুক্ত করে একে জোড় করবেন, যেমনটি বিতর নামাজের ক্ষেত্রে অনুরূপ বলা হয়েছে। আবার তাঁদের কারো কারো থেকে এমন বর্ণনাও এসেছে যা তাকে তার নিজ আকৃতিতে পুনরায় আদায় করা অথবা পুনরায় আদায় করে তার সাথে আরও এক রাকাত যুক্ত করে একে জোড় করে নেওয়ার মধ্যে পছন্দ বা ইখতিয়ার থাকার প্রতি নির্দেশ করে।

আর অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—তিনি তা তার নিজ পদ্ধতিতেই পুনরায় আদায় করবেন। এই মতটিকে যা সমর্থন করে তা হলো এমন এক সম্ভাবনা যে, হতে পারে তার প্রথম নামাজে কোনো ক্ষতিকর ত্রুটি ছিল যা তিনি লক্ষ্য করেননি, ফলে দ্বিতীয় নামাজটিই বাস্তবে তার জন্য ফরজ হিসেবে গণ্য হবে। অথবা হতে পারে দ্বিতীয় নামাজটি অধিক সওয়াবপূর্ণ, যার ফলে মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে সেটাকেই তার ফরজ হিসেবে নির্ধারণ করবেন যাতে তিনি এতে ফরজ নামাজের সওয়াব লাভ করতে পারেন।

এটি ইবনে ওমর এবং ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত বিষয়ের সারকথা যে, এই দুই নামাজের মধ্যে কোনটি ফরজ হবে তা নির্ধারণ করা মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন। এটি সুন্নাহ থেকে বর্ণিত বিষয়ের পরিপন্থী নয়। আর ইবনে ওমর ও অন্যদের কথায় যে উল্লেখ আছে যে দ্বিতীয় নামাজটি নফল, তা—আল্লাহই ভালো জানেন—বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে; অর্থাৎ তিনি বাহ্যিকভাবে একটি সহিহ (صحيح) নামাজ আদায় করেছেন যার ফলে তিনি দৃশ্যত দায়মুক্ত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন! আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
‌‌فصل

هل يُعيد إمامًا
؟

*‌‌ أدلة المجيزين:

الأول: حديث جابر في قصة معاذ

رواه عن جابر جماعةٌ أجلُّهم عمرو بن دينار، ورواه عن عمرٍو جماعةٌ أجلُّهم ابن جريج.

قال الشافعي: أخبرنا عبد المجيد قال: أخبرني ابن جريج عن عمرو عن جابر قال: «كان معاذ يُصلِّي مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم العشاءَ، ثم ينطلق إلى قومه، فيصلِّيها بهم، هي له تطوع، وهي لهم المكتوبة». (الأم 1/ 153)(1).

ورواه عبد الرزاق في «مصنفه»(2) ــ كما يظهر من «الفتح»(3) وغيره ــ: أخبرنا ابن جريج قال: أخبرني عمرو.

وكذلك أخرجه الدارقطني (ص 102)(4) وغيره ــ من طريق عبد الرزاق.

وأخرجه الدارقطني(5) أيضَا: حدثنا أبو بكر النيسابوري نا إبراهيم بن مرزوق ثنا أبو عاصم عن ابن جريج ....

--------------------------------------------

(1) (2/ 347) ط. دار الوفاء.

(2) رقم (2266).

(3) (2/ 195، 196).

(4) (1/ 275).

(5) (1/ 274).
‌‌পরিচ্ছেদ

তিনি কি ইমাম হিসেবে (নামাজ) পুনরায় আদায় করবেন
?

*‌‌ যারা বৈধ মনে করেন তাদের দলীলসমূহ:

প্রথম: মুয়ায (রা.)-এর ঘটনা সম্পর্কে জাবিরের হাদিস

জাবিরের থেকে একদল এটি বর্ণনা করেছেন (رواه), যাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান হলেন আমর ইবনে দীনার; আর আমরের থেকে একদল এটি বর্ণনা করেছেন (رواه), যাদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান হলেন ইবনুল জুরাইজ।

শাফিঈ (রহ.) বলেন: আব্দুল মাজীদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: ইবনুল জুরাইজ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني), তিনি আমর থেকে, তিনি জাবিরের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «মুয়ায নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এশার নামাজ আদায় করতেন, তারপর তিনি তাঁর গোত্রের কাছে ফিরে যেতেন এবং তাদের নিয়ে সেই নামাজ আদায় করতেন; এটি তাঁর জন্য ছিল নফল (تطوع), আর তাদের জন্য ছিল ফরজ (المكتوبة) নামাজ»। (আল-উম্ম ১/ ১৫৩)(১)।

আব্দুর রাজ্জাক তাঁর ‘মুসান্নাফ’(২)-এ এটি বর্ণনা করেছেন (رواه) — যেমনটি ‘আল-ফাতহ’(৩) এবং অন্যান্য কিতাবে প্রকাশ পায় —: ইবনুল জুরাইজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا), তিনি বলেন: আমর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرني)।

অনুরূপভাবে দারাকুতনী (পৃ. ১০২)(৪) এবং অন্যান্যগণ আব্দুর রাজ্জাকের সূত্র (طريق) থেকে এটি সংকলন করেছেন (أخرجه)।

দারাকুতনী(৫) এটি আরও সংকলন করেছেন (أخرجه): আবু বকর আন-নিসাবুরী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ইব্রাহিম ইবনে মারজুক আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু আসিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনুল জুরাইজ থেকে ....

--------------------------------------------

(১) (২/ ৩৪৭) সংস্করণ (ط) দারুল ওয়াফা।

(২) নম্বর (২২৬৬)।

(৩) (২/ ১৯৫, ১৯৬)।

(৪) (১/ ২৭৫)।

(৫) (১/ ২৭৪)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
وقد طعن بعضم في زيادة «هي له تطوع» قال: قد رواه عن جابر جماعة غير عمرو ــ كما سيأتي ــ وعن عمرو جماعة غير ابن جريج ــ كما سيأتي ــ ولم يذكروا هذه الزيادة.

ثم قال بعضهم: إنما وجدت في رواية الشافعي، وقد علمت أنها ثابتة من غير طريقه.

وقال غيره: إنما هي في رواية ابن جريج، ويوشك أن تكون مدرجة، وجزم بعض المتأخرين أنه أدرجها ابن جريج، وقوى ذلك بموافقتها لمذهب ابن جريج.

أقول: إن أراد أن ابن جريج أدرجها عمدًا؛ لتلتبس بالحديث وتُحسَب منه، فهذه تهمة باطلة تنافي أصلَ العدالة، فضلًا عما عُرِف به ابن جريج من التقوى والجلالة.

فإن قيل: فإنه معروف بالتدليس.

قلت: تدليسه المعروف عنه أنه إذا قال: «قال فلان» احتمل أن لا يكون سمعه منه، وقد أخبر بذلك عن نفسه، أي أنه لا يلتزم إذا قال: «قال فلان» أن يكون سمعه منه، بل قد يقول فيما لم يسمعه ممن سمَّاه، وقال ــ كما في «تهذيب التهذيب»(1) ــ: إذا قلت: «قال عطاء» فأنا سمعتُه منه، وإن لم أقلْ: سمعتُ.

فأوضح أنه إنما يلتزم في قوله: «قال فلان» أن يكون سمعه من فلان إذا قال: «قال عطاء»، فأما في غيره فلا.

--------------------------------------------

(1) (6/ 406).
কেউ কেউ 'এটি তার জন্য নফল' অতিরিক্ত অংশটির (زيادة) ব্যাপারে আপত্তি (طعن) উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন: জাবির থেকে আমর ব্যতীত রাবীদের একটি দল (جماعة) এটি বর্ণনা করেছেন—যেমন সামনে আসবে—এবং আমর থেকে ইবনে জুরাইজ ব্যতীত একদল (جماعة) বর্ণনা করেছেন—যেমন সামনে আসবে—কিন্তু তারা এই অতিরিক্ত অংশটি (زيادة) উল্লেখ করেননি।

অতঃপর তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি কেবল শাফিঈর বর্ণনায় (رواية) পাওয়া গেছে, অথচ আপনি জেনেছেন যে এটি তাঁর সূত্র (طريق) ছাড়াও অন্য সূত্রে প্রমাণিত (ثابتة)।

অন্য একজন বলেছেন: এটি কেবল ইবনে জুরাইজের বর্ণনায় (رواية) রয়েছে এবং এটি প্রক্ষিপ্ত (مدرجة) হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পরবর্তী যুগের (متأخرون) কোনো কোনো আলিম দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, ইবনে জুরাইজ এটি প্রক্ষিপ্ত (أدرج) করেছেন এবং ইবনে জুরাইজের মাযহাবের সাথে এর মিল থাকায় তিনি এ মতকে শক্তিশালী করেছেন।

আমি বলি: তিনি যদি বুঝাতে চান যে ইবনে জুরাইজ এটি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রক্ষিপ্ত (أدرج) করেছেন—যাতে এটি হাদিসের সাথে মিশে যায় এবং হাদিসের অংশ বলে গণ্য হয়—তবে এটি একটি অসার অপবাদ, যা মৌলিক সততা ও নির্ভরযোগ্যতার (عدالة) পরিপন্থী। তাছাড়া ইবনে জুরাইজের তাকওয়া ও সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে যা জানা যায়, তার সাথেও এটি সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

যদি বলা হয়: তিনি তো তাদলিসের (تدليس) জন্য সুপরিচিত।

আমি বলব: তার পক্ষ থেকে বর্ণিত যে তাদলিস (تدليس) সুবিদিত তা হলো, যখন তিনি বলেন: 'অমুক বলেছেন', তখন সম্ভাবনা থাকে যে তিনি সরাসরি তার থেকে এটি শোনেননি। তিনি নিজেই এ সম্পর্কে খবর দিয়েছেন; অর্থাৎ তিনি যখন বলেন: 'অমুক বলেছেন', তখন তিনি তার থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন না। বরং তিনি অনেক সময় যার নাম উল্লেখ করেন তার থেকে না শুনেও এমনটি বলেন। তিনি বলেছেন—যেমন 'তাহযীবুত তাহযীব'-এ রয়েছে(১)—: 'যখন আমি বলি "আতা বলেছেন", তখন আমি তা সরাসরি তার থেকেই শুনেছি, যদিও আমি "শুনেছি" শব্দটি ব্যবহার না করি।'

সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তার 'অমুক বলেছেন' উক্তিতে কেবল তখনই সরাসরি শোনার বিষয়টি নিশ্চিত হয় যখন তিনি বলেন: 'আতা বলেছেন'; তবে অন্যদের ক্ষেত্রে এমনটি নয়।

--------------------------------------------

(১) (৬/ ৪০৬)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
[ق 12] وهكذا ينبغي أن تكون الحال في كل ثقةٍ عُرِف بالتدليس، فأما من يُدلِّس بدون أن يدلَّ على أنه يُدلِّس فالظاهر أن ذلك يَخدِش في عدالته.

والمقصود أن اعتياد ابن جريج أن يقول: «قال فلان» ولم يسمع من فلان بعد أن بيَّن أنه قد يقول ذلك فيما لم يسمعه، لا يستلزم أن يلبس شيئًا من كلامه بالحديث؛ ليحسب من الحديث.

وإن أراد أن ابن جريج زادها على وجه التفسير بحسب اعتقاده، كما يقع كثيرًا من أهل العلم، يذكر الرجل الآية، ثم يُتبِعها بشيء من عنده على وجه التفسير، وكذلك في الأحاديث، وقد بيَّن علماء الحديث نوع المدرج، وأن غالبه يكون على هذه الوجه= فيرُدُّه أن العادة في مثل هذا أن الشيخ إذا تكررت روايته للحديث إنما يتفق الإدراج في بعض الروايات، وبقية الروايات إما أن تسكتَ عنه، وإما أن تُفصِّل، فتُميِّز الحديثَ من كلام الشيخ.

وهذا الحديث قد روي عن ابن جريج من أوجهٍ كما علمتَ، وتلك الجملة متصلة بالقصة فيها كلها.

فالظاهر أنه إن كان هناك إدراج فهو من عمرو بن دينار؛ لأنه هو الذي تعددت عنه الروايات، ولم تقع الجملة المذكور إلا في رواية ابن جريج. فإن قيل بذلك، دُفِع بأن الإدراج خلاف الأصل، إذ الغالب مِن حال الثقة الضابط أنه إن أراد أن يُتبِعَ الحديثَ بشيء من عنده فصَّل ذلك وبيَّنه. وابن جريج إمام فقيه متقن، وهو بلديُّ عمرو، ولازمه مدةً، فمن البعيد أن يشتبه عليه الأمر في هذا بأن تكون تلك الجملة من كلام عمرو، فيحسبها ابن جريج من الحديث، ويستمرَّ عليه الوهم.
[পৃষ্ঠা ১২] প্রত্যেক নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী যিনি তদলিস (تدليس) করার জন্য পরিচিত, তাঁর ক্ষেত্রে এমনটিই হওয়া উচিত। কিন্তু যিনি তদলিস (تدليس) করেন অথচ তিনি যে তদলিস (تدليس) করছেন তা প্রকাশ করেন না, তবে প্রকাশ্যত তা তাঁর নির্ভরযোগ্যতার (عدالة) ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

উদ্দেশ্য হলো, ইবনে জুরাইজ-এর এই অভ্যাস যে তিনি বলেন: «অমুক বলেছেন», অথচ তিনি তা অমুকের থেকে শোনেননি—যেহেতু তিনি আগেই স্পষ্ট করেছেন যে তিনি যা শোনেননি সে ক্ষেত্রেও এমনটি বলতে পারেন—এর অর্থ এই নয় যে তিনি নিজের কোনো কথাকে হাদিসের সাথে এমনভাবে মিশিয়ে দেবেন যাতে তা হাদিসের অংশ মনে হয়।

আর যদি উদ্দেশ্য হয় যে, ইবনে জুরাইজ এটি নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী ব্যাখ্যার খাতিরে যোগ করেছেন—যেমনটি অনেক আলেমদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে যে, কোনো ব্যক্তি কোনো আয়াত উল্লেখ করার পর নিজ থেকে ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে কিছু যোগ করেন, এবং হাদিসের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে থাকে—তবে হাদিস বিশারদগণ মুদরাজ (مدرج) বা সংযোজিত বিষয়ের প্রকারভেদ স্পষ্ট করেছেন এবং এর অধিকাংশই এই পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। এর প্রত্যুত্তর হলো, সাধারণত এমন ক্ষেত্রে কোনো শাইখ (شيخ) যদি কোনো হাদিস বারবার বর্ণনা করেন, তবে এই সংযোজন (إدراج) কেবল কিছু বর্ণনায় (روايات) পরিলক্ষিত হয়; আর অবশিষ্ট বর্ণনাগুলোতে (روايات) হয় সে সম্পর্কে নীরবতা পালন করা হয়, অথবা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়, ফলে শাইখ (شيخ)-এর কথা থেকে হাদিসটি আলাদাভাবে চেনা যায়।

আর আপনি যেমনটি জেনেছেন, এই হাদিসটি ইবনে জুরাইজ থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং এই বাক্যটি সমস্ত বর্ণনার ঘটনার সাথে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত।

সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, যদি এখানে কোনো সংযোজন (إدراج) থেকে থাকে, তবে তা আমর ইবনে দীনারের পক্ষ থেকে হয়েছে; কারণ তাঁর থেকেই একাধিক বর্ণনা (روايات) পাওয়া যায়, অথচ উক্ত বাক্যটি কেবল ইবনে জুরাইজের বর্ণনায় (رواية) এসেছে। যদি এমনটি বলা হয়, তবে তার উত্তর এই যে, সংযোজন (إدراج) করা মূলনীতির পরিপন্থী। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন নির্ভরযোগ্য ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (ثقة ضابط) বর্ণনাকারীর অবস্থা হলো এই যে, তিনি যদি হাদিসের পর নিজ থেকে কিছু যোগ করতে চান, তবে তিনি তা পৃথকভাবে স্পষ্ট করে দেন। আর ইবনে জুরাইজ একজন ইমাম, ফকিহ এবং অত্যন্ত নিখুঁত বর্ণনাকারী; তিনি আমরের দেশি লোক এবং দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। সুতরাং এক্ষেত্রে তাঁর বিষয়টি গুলিয়ে ফেলা সুদূরপরাহত যে, বাক্যটি আমরের কথা হওয়া সত্ত্বেও ইবনে জুরাইজ একে হাদিসের অংশ মনে করবেন এবং এই বিভ্রম (وهم) তাঁর মাঝে অব্যাহত থাকবে।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
والحاصل: أن انفراد رواية ابن جريج بذكر تلك الجملة دون بقية الرواة عن عمرو ودون بقية الرواة عن جابر يُشعِر بالإدراج، والأصل المذكور ــ أي أن الغالب من حال العدل الضابط أن لا يُتبِع الحديثَ بشيء من كلامه بدون فصل أو بيان، والغالب من حال الفقيه المتقن التمييز بين ما يذكره الشيخ على أنه من الحديث، وما يزيده من عنده في الحديث ــ يُنافي الإدراجَ. فالميزان الترجيح بين هذين.

وقد يُرجَّح عدم الإدراج:

أولًا: بأن الإدراج في الأصل خلاف الظاهر الغالب، فلا يُصار إليه إلا بحجة واضحة، ولا يكفي ما يوقع في الشكّ والتردّد.

وثانيًا: لا يُستغرب أن ينفرد ابن جريج بالزيادة عن عمرو، فإنه بلديُّه ، قديم السماع منه، وهو فقيه يعقل قيمة هذه الزيادة فيعتني بحفظها، فأما من ليس بفقيه فقد يرى أن من صلَّى صلاة صحيحة ثم أعادها، لا يتصور فيه إلا أن تكون الأولى فرضه، والثانية نافلة، فيتوهم أن الزيادة المذكورة لا حاجة إليها.

وقد قال الشافعي(1): أخبرنا إبراهيم بن محمد عن ابن عَجْلان عن عبيد الله بن مِقْسَم عن جابر أن معاذ بن جبل كان يُصلِّي مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم العشاءَ، ثم يرجع إلى قومه فيصلِّي بهم العشاء، وهي له نافلة.

وإبراهيم بن محمد هو ابن أبي يحيى الأسلمي، كذَّبه جماعة، وكان الشافعي يُوثِّقه في حديثه، وكذلك وثَّقه ابن الأصبهاني، وقوَّاه ابن عُقدة

--------------------------------------------

(1) في «الأم» (2/ 347، 348).
সারসংক্ষেপ হলো: আমরের অন্যান্য বর্ণনাকারী এবং জাবির-এর অন্যান্য বর্ণনাকারীদের ব্যতীত কেবল ইবনে জুরায়জ-এর বর্ণনায় এই বাক্যটির একক উল্লেখ 'অনুপ্রবেশ (إدراج)'-এর সম্ভাবনা নির্দেশ করে। তবে উল্লিখিত মূলনীতিটি—অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন 'ন্যায়নিষ্ঠ (عدل)' ও 'নির্ভুল মুখস্থকারী (ضابط)' রাবির সাধারণ অবস্থা এমন হয় না যে, তিনি কোনো পার্থক্য বা বর্ণনা ছাড়াই হাদিসের সাথে নিজের কথা যুক্ত করে দেবেন; এবং একজন 'প্রাজ্ঞ ফকিহ (فقيه)' ও 'সুনিপুণ (متقن)' রাবির বৈশিষ্ট্য হলো শাইখ কর্তৃক হাদিস হিসেবে বর্ণিত অংশ এবং তিনি নিজে থেকে যা যুক্ত করেছেন—এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করা—তা 'অনুপ্রবেশ (إدراج)'-এর বিষয়টিকে নাকচ করে। সুতরাং এখানে মানদণ্ড হলো এই দুই বিষয়ের মধ্যে 'প্রাধান্য (ترجيح)' নির্ণয় করা।

কখনো কখনো 'অনুপ্রবেশ (إدراج)' না হওয়ার বিষয়টিকেই 'প্রাধান্য (ترجيح)' দেওয়া হয়:

প্রথমত: মূলত 'অনুপ্রবেশ (إدراج)' হওয়া বিষয়টি বাহ্যিক ও প্রবল অবস্থার পরিপন্থী। তাই অকাট্য প্রমাণ ব্যতীত এ মত গ্রহণ করা যায় না এবং কেবলমাত্র সন্দেহ ও সংশয় তৈরি হয় এমন বিষয় এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়।

দ্বিতীয়ত: আমরের নিকট থেকে অতিরিক্ত অংশ বর্ণনায় ইবনে জুরায়জ-এর 'একক হওয়া (انفراد)' আশ্চর্যের কিছু নয়। কারণ তিনি তাঁর দেশি এবং তাঁর থেকে অনেক আগে থেকেই হাদিস শ্রবণ করেছেন। তদুপরি তিনি একজন 'ফকিহ (فقيه)', যিনি এই অতিরিক্ত অংশের গুরুত্ব বোঝেন, তাই তিনি এটি সংরক্ষণে সচেষ্ট হয়েছেন। পক্ষান্তরে, যিনি 'ফকিহ (فقيه)' নন, তিনি হয়তো মনে করতে পারেন যে ব্যক্তি একবার সহিহভাবে নামাজ আদায় করে পুনরায় তা পড়েছেন, সেখানে প্রথমটি ফরজ এবং দ্বিতীয়টি নফল হওয়া ছাড়া অন্য কিছু কল্পনা করা সম্ভব নয়; ফলে তিনি ধারণা করতে পারেন যে উক্ত অতিরিক্ত অংশটির কোনো প্রয়োজন নেই।

ইমাম শাফেয়ি(1) বলেছেন: ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে আজলান থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে মিকসাম থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে, মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে এশার নামাজ পড়তেন, এরপর স্বজাতির কাছে ফিরে গিয়ে তাদের নিয়ে এশার নামাজ পড়তেন, যা তাঁর জন্য নফল ছিল।

আর ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ হলেন ইবনে আবি ইয়াহইয়া আল-আসলামি। একদল আলিম তাকে 'মিথ্যাবাদী (كذاب)' বলেছেন। তবে ইমাম শাফেয়ি তাঁর হাদিসের ক্ষেত্রে তাকে 'নির্ভরযোগ্য (ثقة)' মনে করতেন। একইভাবে ইবনুল আসবাহানিও তাকে 'নির্ভরযোগ্য (ثقة)' বলেছেন এবং ইবনে উকদাহ তাকে 'শক্তিশালী (تقوية)' হিসেবে গণ্য করেছেন।

--------------------------------------------

(1) 'আল-উম্ম' (২/ ৩৪৭, ৩৪৮) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
وابن عدي(1).

ويظهر أن إبراهيم كان ــ أولًا ــ متماسكًا، وذلك لما سمع منه الشافعي، ثم تغيَّر بعده.

وعلى كل حال، فرواية إبراهيم لا تصلح للحجة، وقد رواه غيره عن ابن عجلان، ولم يقل: «وهي له نافلة». راجع «مسند أحمد» (3/ 302)(2).

وقال بعضهم: هَب الجملة المذكورة ثبتت عن جابر فذلك ظن منه، ولا يلزم أن يكون مطابقًا للواقع، وهَبْ أن معاذًا أخبر جابرًا بذلك، فذلك رأي لمعاذ، ولا يلزم أن يكون النبي صلى الله عليه وآله وسلم عرف ذلك، وأقرَّه عليه.

وغير ذلك مما قالوه، وسيأتي النظر فيه جملة إن شاء الله تعالى.

ومنهم منصور بن زاذان: في «صحيح مسلم»(3) ولفظه: «أن معاذ بن جبل كان يصلي مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عشاء الآخرة، ثم يرجع إلى قومه، فيصلِّي بهم تلك الصلاةَ».

ومنهم سفيان بن عيينة: قال الشافعي: أخبرنا سفيان بن عيينة أنه سمع عمرو بن دينار يقول: سمعت جابر بن عبد الله يقول: كان معاذ بن جبل يصلِّي مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم العشاء أو العَتمةَ، ثم يرجع فيُصلِّيها بقومه في بني سلمة، قال: فأخَّر النبي صلى الله عليه وآله وسلم العشاء ذاتَ ليلةٍ. قال: فصلَّى معه معاذ. قال: فرجع فأمَّ قومَه فقرأ بسورة البقرة … فقال: يا رسول الله، إنك أخَّرتَ العشاء،

--------------------------------------------

(1) انظر «تهذيب التهذيب» (1/ 158 ــ 160).

(2) رقم (14241).

(3) رقم (465/ 180).
এবং ইবনে আদি(১)।

এবং প্রতীয়মান হয় যে ইব্রাহিম প্রাথমিক অবস্থায় সুদৃঢ় (متماسك) ছিলেন, যা শাফেয়ী তাঁর থেকে শ্রবণের সময় লক্ষ্য করেছিলেন; পরবর্তীতে তিনি পরিবর্তিত হয়ে যান।

আর যাই হোক, ইব্রাহিমের বর্ণনা প্রমাণযোগ্য (لا تصلح للحجة) নয়। ইবনে আজলান থেকে অন্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে «এটি তার জন্য নফল» বাক্যটি উল্লেখ নেই। দেখুন মুসনাদে আহমদ (৩/৩০২)(২)।

কেউ কেউ বলেছেন: ধরে নেওয়া যাক উল্লিখিত বাক্যটি জাবির থেকে প্রমাণিত (ثبتت), তবুও সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ধারণা হতে পারে, যা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যক নয়। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে মুয়ায জাবিরকে এই সংবাদ দিয়েছিলেন, তবে সেটি মুয়াযের নিজস্ব অভিমত; এতেও এটি আবশ্যক হয় না যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বিষয়টি জানতেন এবং এর ওপর সম্মতি (أقرَّه) প্রদান করেছিলেন।

এছাড়া আরও যা কিছু তারা বলেছেন, ইনশাআল্লাহ সামনে সে বিষয়ে সামগ্রিকভাবে আলোচনা আসবে।

তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মনসুর ইবনে যাদান: সহীহ মুসলিম-এ তাঁর বর্ণিত পাঠ (لفظ) হলো: «মুয়ায ইবনে জাবাল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে শেষ এশার নামাজ আদায় করতেন, অতঃপর নিজ গোত্রের নিকট ফিরে গিয়ে তাদের নিয়ে সেই নামাজ পড়তেন।»

তাদের মধ্যে রয়েছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ: শাফেয়ী বলেন: সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আমর ইবনে দীনারকে বলতে শুনেছেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি যে, মুয়ায ইবনে জাবাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে এশা বা আতামাহ (অন্ধকার রাতের নামাজ) আদায় করতেন, অতঃপর ফিরে গিয়ে বনু সালামাহ গোত্রে নিজ কওমের ইমামতি করতেন। জাবির বলেন: এক রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এশার নামাজ বিলম্বিত করলেন। তিনি বলেন: মুয়ায তাঁর সাথে নামাজ পড়লেন। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি ফিরে গিয়ে নিজ কওমের ইমামতি (أمَّ) করলেন এবং সূরা আল-বাকারাহ তিলাওয়াত করলেন... তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এশার নামাজ বিলম্বিত করেছিলেন,

--------------------------------------------

(১) দেখুন তাহযীবুত তাহযীব (১/১৫৮–১৬০)।

(২) নম্বর (১৪২৪১)।

(৩) নম্বর (৪৬৫/ ১৮০)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
وإن معاذًا صلَّى معك ثم رجع فأمَّنا، فافتتح بسورة البقرة، فلما رأيتُ ذلك تأخرتُ وصلَّيتُ، وإنما نحن أصحاب نواضِحَ نعمل بأيدينا، فأقبل النبي صلى الله عليه وآله وسلم على معاذ فقال: «أفتَّانٌ أنتَ يا معاذ؟ أفتَّانٌ أنت يا معاذ؟ اقرأْ بسورة كذا وسورة كذا» (الأم 1/ 152)(1).

ثم قال الشافعي: «وأخبرنا سفيان بن عيينة قال حدثنا أبو الزبير عن جابر مثله، وزاد … ».

الحميدي عن ابن عيينة عن عمرو وأبي الزبير معًا: أخرجه أبو عوانة في «صحيحه» (2/ 156) والبيهقي في «السنن» (3/ 112) عن الحميدي عن ابن عيينة عن عمرو فقط، ثم ذكر زيادة «أبي الزبير» التي رواها الشافعي، ذكره البيهقي أيضًا.

ورواه عن ابن عيينة عن عمرو فقط جماعة، منهم الإمام أحمد في «المسند» (3/ 308)(2)، ومن طريقه أبو داود(3).

ومنهم محمد بن منصور عند النسائي(4)، ومنهم محمد بن عبَّاد عند مسلم(5)، فلم يذكروا العشاء في أول الحديث، ولفظ مسلم: «كان معاذ يُصلِّي مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم ثم يأتي فيؤمُّ قومَه، فصلَّى ليلةً مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم العشاء … ».

--------------------------------------------

(1) (2/ 346) ط. دار الوفاء.

(2) رقم (14307).

(3) رقم (790).

(4) (2/ 102).

(5) رقم (465).
নিশ্চয়ই মুয়াজ আপনার সাথে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর ফিরে এসে আমাদের ইমামতি (أمَّ) করলেন। তিনি সূরা আল-বাকারা শুরু করলেন। যখন আমি তা দেখলাম, তখন আমি পেছনে সরে গেলাম এবং (একাকী) সালাত আদায় করলাম। আমরা মূলত পানিবাহী উটের মালিক, যারা নিজেদের হাতে কাজ করি। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মুয়াজের দিকে অগ্রসর হলেন এবং বললেন: «হে মুয়াজ! তুমি কি ফিতনাকারী (فتان)? হে মুয়াজ! তুমি কি ফিতনাকারী (فتان)? তুমি অমুক সূরা এবং অমুক সূরা পাঠ করো» (আল-উম্ম ১/১৫২)(১).

অতঃপর শাফিঈ বলেন: «আমাদেরকে সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না সংবাদ (أخبرنا) দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু জুবাইর জাবির থেকে আমাদের নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাতে বর্ধিত (زاد) করেছেন … ».

ইবনে উয়ায়না থেকে হুমাইদী, তিনি আমর এবং আবু জুবাইর উভয়ের সূত্রে (বর্ণনা করেছেন): আবু আওয়ানা তাঁর «সহীহ» গ্রন্থে (২/১৫৬) এবং বাইহাকী তাঁর «সুনান» গ্রন্থে (৩/১১২) হুমাইদী থেকে, তিনি ইবনে উয়ায়না থেকে, তিনি শুধুমাত্র আমরের সূত্রে এটি তাখরীজ (أخرجه) করেছেন। অতঃপর তিনি আবু জুবাইরের সেই বর্ধিত অংশ (زيادة) উল্লেখ করেছেন যা শাফিঈ বর্ণনা (رواها) করেছেন; বাইহাকীও এটি উল্লেখ করেছেন।

একদল বর্ণনাকারী (جماعة) ইবনে উয়ায়না থেকে শুধুমাত্র আমরের সূত্রে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন, তাঁদের মধ্যে ইমাম আহমাদ তাঁর «মুসনাদ» গ্রন্থে (৩/৩০৮)(২) এবং তাঁরই সূত্রে (طريقه) আবু দাউদ(৩) এটি উল্লেখ করেছেন।

তাঁদের মধ্যে নাসায়ীর নিকট মুহাম্মদ ইবনে মানসুর(৪) এবং মুসলিমের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ(৫) রয়েছেন। তাঁরা হাদিসের শুরুতে এশার সালাতের কথা উল্লেখ করেননি। মুসলিমের শব্দগত পাঠ (لفظ) হলো: «মুয়াজ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করতেন, অতঃপর ফিরে এসে তাঁর কওমের ইমামতি (يؤم) করতেন। এক রাতে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে এশার সালাত আদায় করলেন … ».

--------------------------------------------

(১) (২/৩৪৬) তাবা: দারুল ওয়াফা।

(২) নং (১৪৩০৭)।

(৩) নং (৭৯০)।

(৪) (২/১০২)।

(৫) নং (৪৬৫)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
وممن رواه عن عمرو: شعبة، في «صحيح البخاري»(1) باب إذا طوَّل الإمام، أخرجه عن بندار عن غندر عن شعبة عن عمرو قال: سمعت جابر بن عبد الله قال: كان معاذ بن جبل يُصلِّي مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ثم يرجع فيؤمُّ قومَه، فصلَّى العشاءَ فقرأ بالبقرة … ». وكذلك رواه أحمد في «المسند» (3/ 369)(2) عن غندر.

ومنهم سُلَيم بن حيّان عند البخاري في «الصحيح»(3) في الأدب باب من لم يرَ إكفارَ من قال ذلك متأوّلًا، ولفظه: «إن معاذ بن جبل كان يُصلِّي مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ثم يأتي قومَه فيصلِّي بهم الصلاة، فقرأ بهم البقرة … ».

ومنهم أيوب السختياني، وستأتي روايته بعدُ إن شاء الله تعالى.

 

‌‌فصل

وممن رواه عن جابر:
عبيد الله بن مِقْسم، قال أحمد في «المسند» (3/ 302)(4): ثنا يحيى عن ابن عجلان حدثني عبيد الله بن مِقْسم عن جابر بن عبد الله: «أن معاذ بن جبل كان يُصلِّي مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم العشاء، ثم يأتي قومَه، فيصلِّي بهم تلك الصلاةَ».

وكذلك أخرجه أبو داود(5) في باب إمامة من صلَّى بقومٍ، وقد صلَّى

--------------------------------------------

(1) رقم (701).

(2) رقم (14960).

(3) رقم (6106).

(4) رقم (14241).

(5) رقم (599).
যারা আমরের নিকট থেকে এটি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: শু'বাহ; তিনি সহীহ বুখারী-র(১) ‘যখন ইমাম দীর্ঘ করেন’ অনুচ্ছেদে এটি বুন্দার-এর নিকট থেকে, তিনি গুন্দার থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে এবং তিনি আমরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি (আমর) বলেন: আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: “মুয়াজ ইবনে জাবাল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করতেন, এরপর ফিরে গিয়ে তাঁর কওমের ইমামতি করতেন। তিনি এশার সালাত আদায় করলেন এবং তাতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করলেন...”। একইভাবে আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ (৩/৩৬৯)(২) গুন্দারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন সুলাইম ইবনে হাইয়ান; ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ-র(৩) আদাব (শিষ্টাচার) অধ্যায়ের ‘ব্যাখ্যাকারী হিসেবে যে এমন কথা বলে তাকে কাফির সাব্যস্ত না করা’ অনুচ্ছেদে এটি বর্ণনা করেছেন। এর শব্দগুলো হলো: “মুয়াজ ইবনে জাবাল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করতেন, এরপর তাঁর কওমের কাছে আসতেন এবং তাদের সালাত পড়াতেন। তিনি তাদের নিয়ে সূরা আল-বাকারা পাঠ করলেন...”।

তাদের মধ্যে আইয়ুব আস-সাখতিয়ানিও রয়েছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা তাঁর বর্ণনাটি সামনে আসবে।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

যারা জাবিরের নিকট থেকে এটি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:
উবাইদুল্লাহ ইবনে মিকসাম। আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ (৩/৩০২)(৪) বলেছেন: ইয়াহইয়া আমাদের নিকট ইবনে আজলানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে মিকসাম আমার নিকট জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: “মুয়াজ ইবনে জাবাল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এশার সালাত আদায় করতেন, এরপর তাঁর কওমের কাছে আসতেন এবং তাদের সেই সালাত পড়াতেন।”

একইভাবে আবু দাউদ(৫) ‘যে ব্যক্তি নিজে সালাত আদায় করার পর অন্য কওমের ইমামতি করে’ অনুচ্ছেদে এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (৭০১)।

(২) নম্বর (১৪৯৬০)।

(৩) নম্বর (৬১০৬)।

(৪) নম্বর (১৪২৪১)।

(৫) নম্বর (৫৯৯)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭০)
تلك الصلاة، عن عبيد الله بن عمر بن مَيْسَرة عن يحيى بن سعيد عن ابن عجلان. وأخرجه في باب تخفيف الصلاة(1): حدثنا يحيى بن حبيب بن عربي ثنا خالد بن الحارث ثنا محمد بن عجلان عن عبيد الله بن مِقْسم عن جابر، ذكر تلك القصة.

وقد ساقه بتمامه البيهقي في «السنن» (3/ 116)، قال: «كان معاذ يُصلِّي مع رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم العشاءَ، ثم يرجع فيصلِّي بأصحابه، فرجع ذات ليلة … ».

ومنهم أبو الزبير، وقد تقدم رواية ابن عيينة عنه مع روايته عن عمرو بن دينار.

ورواه الليث بن سعد عن أبي الزبير مختصرًا: «صلَّى معاذ بن جبل الأنصاري لأصحابه العشاءَ فطوَّل عليهم … ». أخرجه مسلم في «الصحيح»(2).

ومنهم أبو صالح، وروايته أيضًا مختصرة، قرنه النسائي(3)، باب خروج الرجل من صلاة الإمام … ، بمحارب، ولم يُسمِّ الصلاة.

وأخرجه أبو داود(4) باب تخفيف الصلاة عن أبي صالح فقط، أخصر من ذلك، ولم يُسمِّ جابرًا، بل قال: «عن أبي صالح عن بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وآله وسلم».

--------------------------------------------

(1) رقم (793).

(2) (465/ 179).

(3) في «سننه» (2/ 97، 98).

(4) رقم (792).
সেই সালাত সম্পর্কে, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাইসারা হতে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ হতে, তিনি ইবনে আজলান হতে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি এটি সালাত সংক্ষিপ্তকরণ অধ্যায়ে(১) উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه): আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে হাবীব ইবনে আরাবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন হারিস, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আজলান, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে মিকসাম হতে, তিনি জাবির হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি সেই ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন।

আর বায়হাকী তাঁর সুনান (৩/ ১১৬) গ্রন্থে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: «মুয়াজ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ইশার সালাত আদায় করতেন, তারপর ফিরে এসে তাঁর সাথীদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। এক রাতে তিনি ফিরে আসলেন ... »।

আর তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবুয যুবাইর, এবং তাঁর থেকে ইবনে উইয়ায়নার বর্ণনা ইতিপূর্বে তাঁর আমর ইবনে দীনার হতে বর্ণনার সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর লাইস ইবনে সাদ এটি আবুয যুবাইর হতে সংক্ষিপ্ত (مختصرًا) ভাবে বর্ণনা করেছেন: «মুয়াজ ইবনে জাবাল আল-আনসারী তাঁর সাথীদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করলেন এবং তাদের ওপর দীর্ঘ করলেন ... »। মুসলিম এটি তাঁর সহীহ(২) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه)।

আর তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু সালেহ, তাঁর বর্ণনাটিও সংক্ষিপ্ত (مختصرة), নাসাঈ(৩) ইমামের সালাত থেকে ব্যক্তির বেরিয়ে যাওয়া অধ্যায়ে ... মুহারিব-এর বর্ণনার সাথে একে যুক্ত করেছেন এবং তিনি সালাতের নাম উল্লেখ করেননি।

আর আবু দাউদ(৪) সালাত সংক্ষিপ্তকরণ অধ্যায়ে শুধুমাত্র আবু সালেহ হতে এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه), যা এর চেয়েও সংক্ষিপ্ততর (أخصر), এবং তিনি জাবির-এর নাম উল্লেখ করেননি, বরং বলেছেন: «আবু সালেহ হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন»।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (৭৯৩)।

(২) (৪৬৫/ ১৭৯)।

(৩) তাঁর সুনান (২/ ৯৭, ৯৮) গ্রন্থে।

(৪) নম্বর (৭৯২)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭১)
ومنهم محارب بن دثار: قال النسائي(1) في باب القراءة في العشاء الآخرة بـ (سبح اسم ربك الأعلى): أخبرنا محمد بن قدامة قال حدثنا جرير عن الأعمش عن محارب بن دِثار عن جابر قال: قام معاذ فصلَّى العشاء الآخرة فطوَّل، فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «أفتّانٌ يا معاذ؟ … ».

وأشار إليه البخاري في «الصحيح» قال(2): قال عمرو وعبيد الله بن مِقْسم وأبو الزبير عن جابر: «قرأ معاذ في العشاء بالبقرة»، وتابعه الأعمش عن محارب.

ورواه النسائي(3) في موضع آخر لكن مقرونًا بأبي صالح كما مر.

[ق 13] ومنهم عبد الرحمن بن جابر: قال أبو داود(4) والطيالسي في «مسنده» (ص)(5): «مرَّ حَزْم بن أبي كعب بمعاذ بن جبل، وهو يصلِّي بقومه صلاة العتمة، فافتتح بسورة طويلة … ».

--------------------------------------------

(1) في «سننه» (2/ 172).

(2) عقب الحديث (705).

(3) (2/ 97، 98).

(4) رقم (791).

(5) كذا في الأصل بدون ذكر رقم الصفحة، وعزاه إليه الحافظ في «الفتح» (2/ 193). ولم أجد الحديث في مسنده، وأخرجه البزار (كما في «كشف الأستار» رقم 483) من طريق الطيالسي عن طالب عن ابن جابر عن أبيه. انظر «الإصابة» (2/ 523).
তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন মুহারিব ইবন দিষার: নাসায়ি(১) 'এশার শেষ সালাতে (সাব্বিহ ইসমা রাব্বিকাল আ’লা) পাঠের পরিচ্ছেদ'-এ বলেছেন: মুহাম্মদ ইবন কুদামাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন জারির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ’মাশ থেকে, তিনি মুহারিব ইবন দিষার থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, জাবির বলেন: মু’আয দাঁড়িয়ে এশার শেষ সালাত আদায় করলেন এবং তা দীর্ঘ করলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে মু’আয! তুমি কি ফিতনাকারী (فتّان)? ..."।

বুখারি তার 'সহিহ'-এ এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তিনি বলেছেন(২): আমর, উবায়দুল্লাহ ইবন মিকসাম এবং আবু যুবাইর জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন: "মু’আয এশার সালাতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করেছিলেন", এবং আল-আ’মাশ মুহারিব থেকে এর অনুসরণ (تابعه) করেছেন।

নাসায়ি(৩) এটি অন্য এক স্থানে বর্ণনা করেছেন, তবে ইতিপূর্বে উল্লেখিত বর্ণনার ন্যায় আবু সালিহ-এর সাথে যুক্তভাবে (مقرونًا)।

[পৃষ্ঠা ১৩] এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবদুর রহমান ইবন জাবির: আবু দাউদ(৪) এবং তায়ালিসি তার 'মুসনাদ'-এ (পৃ.)(৫) বলেছেন: "হা্যম ইবন আবি কা’ব মু’আয ইবন জাবালের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি তার কওমকে নিয়ে এশার সালাত আদায় করছিলেন, তখন তিনি একটি দীর্ঘ সূরা পাঠ শুরু করলেন ..."।

--------------------------------------------

(১) তার 'সুনান'-এ (২/ ১৭২)।

(২) হাদিস নং (৭০৫)-এর পরে।

(৩) (২/ ৯৭, ৯৮)।

(৪) নম্বর (৭৯১)।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে পৃষ্ঠাসংখ্যা উল্লেখ ছাড়াই এভাবেই আছে, এবং হাফিয 'আল-ফাতহ'-এ (২/ ১৯৩) এর প্রতি এটি সম্বন্ধ (عزاه) করেছেন। আমি তার মুসনাদে হাদিসটি পাইনি, আর বাযযার (যেমনটি 'কাশফুল আসতার' নম্বর ৪৮৩-এ রয়েছে) তায়ালিসির সূত্রে তালিব থেকে, তিনি ইবন জাবির থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এটি বর্ণনা (أخرجه) করেছেন। দেখুন 'আল-ইসাবাহ' (২/ ৫২৩)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭২)
فصل

وقع في رواية الثلاثة الآخرين بعض الاختلاف:

أما أبو الزبير: فقد تقدم رواية ابن عيينة عنه، وكذلك رواية الليث، وفيها: «صلَّى معاذ بن جبل الأنصاري لأصحابه العشاء». ووقع في روايةٍ عنه عند عبد الرزاق: «المغرب» كذا نبَّه عليه ابن حجر في «فتح الباري»(1).

وأما محارب: فتقدم برواية الأعمش عنه: «قام معاذ فصلَّى العشاء الآخرة»، ورواه ابن مهدي عن الثوري عن محارب «المغرب»، ذكره النسائي(2) في باب القراءة في المغرب بـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى}.

وقال أحمد في «المسند» (3/ 300)(3): ثنا وكيع عن سفيان عن محارب .. عن جابر: «أن معاذًا صلَّى بأصحابه، فقرأ البقرة في الفجر، وقال عبد الرحمن ــ يعنى ابن مهدي ــ: المغرب».

وقال أبو داود الطيالسي في «مسنده» (ص 239)(4): حدثنا شعبة عن محارب قال: سمعت جابرًا يقول: انتهى رجل من الأنصار معه ناضحانِ له إلى معاذٍ وهو يصلِّي المغرب، فاستفتح معاذ بسورة البقرة أو النساء ــ قال شعبة: شكَّ محارب ــ، فلما رأى ذلك الرجل صلَّى، ثم انطلق، فبلغ الرجلَ أن معاذًا يقول: هو منافق، فأتى رسولَ الله صلى الله عليه وآله وسلم، فذكر ذلك له، فقال رسول

--------------------------------------------

(1) (2/ 193).

(2) (2/ 168).

(3) رقم (14202).

(4) رقم (1728).
অনুচ্ছেদ

শেষোক্ত তিনজনের বর্ণনায় (رواية) কিছুটা মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে:

আবুয যুবাইর-এর ব্যাপারে কথা হলো: ইতিপূর্বে তাঁর সূত্রে ইবনে উয়ায়নাহ ও লাইসের বর্ণনা (رواية) অতিক্রান্ত হয়েছে, যাতে রয়েছে: "মু'আয ইবনে জাবাল আল-আনসারী তাঁর সাথীদের নিয়ে এশার সালাত আদায় করেছেন।" আবদুর রাজ্জাকের নিকট তাঁর একটি বর্ণনায় (رواية) "মাগরিব" উল্লেখ রয়েছে; হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' গ্রন্থে এভাবেই বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন(১)।

আর মুহারিব-এর ব্যাপারে কথা হলো: তাঁর সূত্রে আ'মাশের বর্ণনা (رواية) ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে: "মু'আয দাঁড়িয়ে শেষ এশার সালাত আদায় করলেন", এবং ইবনে মাহদী এটি সুফিয়ান সাওরী থেকে ও তিনি মুহারিব থেকে "মাগরিব" হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন (رواه); ইমাম নাসাঈ এটি মাগরিব সালাতে {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} পাঠের অনুচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন(২)।

ইমাম আহমাদ 'মুসনাদ'-এ (৩/৩০০)(৩) বলেন: ওয়াকী আমাদের নিকট সুফিয়ান থেকে, তিনি মুহারিব থেকে... জাবির (রাযি.) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: "মু'আয তাঁর সাথীদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং ফজরে সূরা আল-বাকারা পাঠ করলেন; তবে আবদুর রহমান — অর্থাৎ ইবনে মাহদী — বলেছেন: মাগরিব।"

আবু দাউদ আত-তায়ালিসী তাঁর 'মুসনাদ'-এ (পৃষ্ঠা ২৩৯)(৪) বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট মুহারিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি জাবির (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি: জনৈক আনসারী ব্যক্তি তার দুটি পানিবাহী উট নিয়ে মু'আযের নিকট পৌঁছলেন যখন তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করছিলেন। অতঃপর মু'আয সূরা আল-বাকারা অথবা সূরা আন-নিসা শুরু করলেন — শু'বাহ বলেন: এটি মুহারিবের সংশয় (شك) —। ওই ব্যক্তি যখন এটি দেখলেন তখন তিনি (একাকী) সালাত আদায় করে চলে গেলেন। এরপর ওই ব্যক্তির নিকট সংবাদ পৌঁছল যে, মু'আয তাঁকে মুনাফিক (منافق) বলছেন। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ...

--------------------------------------------

(১) (২/ ১৯৩)।

(২) (২/ ১৬৮)।

(৩) নম্বর (১৪২০২)।

(৪) নম্বর (১৭২৮)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
الله: «يا معاذُ، أفتَّان أفتان، أو قال: فاتن، أَوَ لَا قرأتَ بـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى}، و {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى} أو {وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا} ــ قال شعبة: شكَّ محارب ــ وراءك ذو الحاجة والصغير، أو قال: الضعيف ــ شكَّ محارب».

وقد رواه أبو عَوانة في «صحيحه» (2/ 158) من طريق أبي النضر وأبي داود الطيالسي قالا: ثنا شعبة عن محارب قال: سمعت جابرًا قال: «أقبل رجلٌ بنا ضحينِ، وقد جَنَحَ الليلُ، فوافق معاذًا يصلِّي المغرب»، وذكر حديثه في هذا.

وأخرجه أحمد في «المسند» (3/ 299)(1) عن محمد بن جعفر وحجاج عن شعبة، ولفظه: «أقبل رجل من الأنصار ومعه ناضحانِ له، وقد جَنَحَتِ الشمسُ، ومعاذٌ يُصلِّي المغرب … » فساقه قريبًا من لفظ الطيالسي.

وأخرجه البخاري في «الصحيح»(2) عن آدم عن شعبة، وفيه: «أقبل رجل بناضحَينِ وقد جنح الليلُ، فوافق معاذًا يُصلِّي، فترك ناضِحَه وأقبل إلى معاذ، فقرأ بسورة البقرة أو النساء … فلولا صلَّيتَ بـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} ، {وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا}، {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى}». أحسب هذا في الحديث.

قال البخاري(3): وتابعه سعيد بن مسروق ومِسْعَر والشيباني. قال عمرو وعبيد الله بن مقسم وأبو الزبير عن جابر: «قرأ معاذ في العشاء بالبقرة»، وتابعه الأعمش عن محارب.

--------------------------------------------

(1) رقم (14190).

(2) رقم (705).

(3) بعد الحديث المذكور.
আল্লাহ: «হে মুয়াজ, তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী (فتان)? তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? অথবা তিনি বললেন: ফিতনা সৃষ্টিকারী। তুমি কেন {সবিহিসমা রব্বিকাল আ’লা}, {ওয়াল্লায়লি ইযা ইয়াগশা} অথবা {ওয়াশশামছি ওয়া দুহাহা} পাঠ করলে না? — শুবা বলেন: মুহারিব সন্দেহ করেছেন (شك) — তোমার পেছনে অভাবী এবং ছোট শিশু রয়েছে, অথবা তিনি বলেছেন: দুর্বল (الضعيف) ব্যক্তি রয়েছে — মুহারিব সন্দেহ করেছেন (شك)»।

আবু আওয়ানা এটি তাঁর ‘সহীহ’ (২/ ১৫৮) গ্রন্থে আবু নাদর এবং আবু দাউদ তায়ালিসি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে শুবা হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি মুহারিব থেকে, তিনি বলেন: আমি জাবির (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: «এক ব্যক্তি তার দুটি উট নিয়ে আগমন করল যখন রাত ঘনিয়ে এসেছিল। তখন সে মুয়াজ (রা.)-কে মাগরিবের সালাত আদায় করতে দেখল», এরপর তিনি এই প্রসঙ্গে তাঁর হাদিসটি উল্লেখ করেন।

ইমাম আহমাদ এটি ‘মুসনাদ’ (৩/ ২৯৯) গ্রন্থে(১) মুহাম্মদ ইবনে জাফর এবং হাজ্জাজ থেকে, তাঁরা শুবা থেকে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: «আনসারদের এক ব্যক্তি তার দুটি উট নিয়ে আসলো, যখন সূর্য হেলে পড়েছিল, আর মুয়াজ (রা.) মাগরিবের সালাত আদায় করছিলেন …» এরপর তিনি তায়ালিসির শব্দের কাছাকাছি বর্ণনা পেশ করেছেন।

ইমাম বুখারি এটি ‘সহীহ’ গ্রন্থে(২) আদম থেকে, তিনি শুবা থেকে বর্ণনা করেছেন। সেখানে রয়েছে: «এক ব্যক্তি তার দুটি উট নিয়ে আসলো যখন রাত নেমে এসেছিল। সে মুয়াজ (রা.)-কে সালাত পড়তে দেখল। সে তার উট দুটি রেখে মুয়াজের দিকে এগিয়ে আসলো। তিনি (মুয়াজ) সূরা আল-বাকারা অথবা সূরা আন-নিসা পাঠ করলেন … তুমি কেন {সবিহিসমা রব্বিকাল আ’লা}, {ওয়াশশামছি ওয়া দুহাহা}, {ওয়াল্লায়লি ইযা ইয়াগশা} দিয়ে সালাত পড়লে না?» আমার মনে হয় এটি হাদিসের অংশ।

ইমাম বুখারি বলেন(৩): সাঈদ ইবনে মাসরুক, মিসআর এবং শায়বানি তাঁর অনুসরণ করেছেন (تابعه)। আমর, উবায়দুল্লাহ ইবনে মিকসাম এবং আবু জুবাইর জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: «মুয়াজ (রা.) এশার সালাতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করেছিলেন», এবং আমাশ মুহারিব থেকে তাঁর অনুসরণ করেছেন (تابعه)।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (১৪১৯০)।

(২) নম্বর (৭০৫)।

(৩) উল্লিখিত হাদিসের পরে।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
وذكر الحافظ في «الفتح»(1) أن رواية مِسْعر عن محارب وصلها السرَّاج، وأنه وقع عنده «البقرة والنساء».

وأما رواية سعيد بن مسروق فعند أبي عوانة في «صحيحه» (2/ 158) وفي النسخة خطأ، ولفظها: «أن معاذًا أمَّ قومَه في صلاة المغرب، فمرَّ غلام من الأنصار … »، وذكر حديثه في هذا.

وأما عبد الرحمن بن جابر: فقال أبو داود(2) في باب تخفيف الصلاة: حدثنا موسى بن إسماعيل ثنا طالب بن حبيب، سمعت عبد الرحمن بن جابر يحدث عن حزم بن أبي كعب: أنه أتى معاذَ بن جبل وهو يُصلِّي بقومٍ صلاةَ المغرب ــ في هذا الخبر ــ قال: فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «يا معاذُ، لا تكن فتّانًا، فإنه يصلِّي وراءك الكبيرُ والضعيفُ وذو الحاجة والمسافر».

وفي «الفتح»(3) أبو يعلى بإسناد حسن من رواية عيسى بن جارية … عن جابر قال: «كان أُبي بن كعب يُصلِّي بأهل قباء، فاستفتح سورة طويلة، فدخل معه غلام من الأنصار .... » وفي آخره من كلام النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «إنَّ منكم منفِّرينَ … فإنَّ خلفكم الضعيفَ والكبيرَ والمريضَ وذا الحاجة».

وذكر الحافظ(4) أن هذه القصة هي نفس القصة التي في «الصحيحين»(5)

--------------------------------------------

(1) (2/ 201، 193). وهو في «مسند السرّاج» (175) تحقيق إرشاد الحق الأثري.

(2) رقم (791).

(3) (2/ 198). وهو في «مسند» أبي يعلى (1792).

(4) في المصدر السابق.

(5) البخاري (702) ومسلم (466).
হাফিজ 'আল-ফাতহ'-এ(১) উল্লেখ করেছেন যে, মুহারিব থেকে মিসআর-এর বর্ণিত বর্ণনাটি (رواية) আস-সাররাজ সংযুক্ত (وصل) করেছেন, এবং তাঁর নিকট সেখানে 'আল-বাকারাহ ও আন-নিসা' (সূরাদ্বয়ের নাম) উল্লেখ রয়েছে।

আর সাঈদ ইবনে মাসরূকের বর্ণনার (رواية) ব্যাপারে: এটি আবু আওয়ানার নিকট তাঁর 'সহীহ'-এ (২/ ১৫৮) বিদ্যমান, তবে পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) ভুল রয়েছে। এর শব্দগত পাঠ (لفظ) হলো: "মুয়াজ (রা.) মাগরিবের সালাতে তাঁর কওমের ইমামতি করছিলেন, তখন আনসারদের জনৈক যুবক সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন …", এবং এই বিষয়েই তাঁর হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।

আর আব্দুর রহমান ইবনে জাবিরের ব্যাপারে: আবু দাউদ(২) সালাত সংক্ষেপকরণ অধ্যায়ে বলেছেন: মূসা ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তালিব ইবনে হাবীব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনে জাবিরকে হাজম ইবনে আবি কাব থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি: তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালের নিকট আসলেন যখন তিনি লোকদের নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করছিলেন — এই বিবরণে (خبر) — তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে মুয়াজ, তুমি ফিতনাসৃষ্টিকারী হয়ো না; কারণ তোমার পেছনে বৃদ্ধ, দুর্বল (ضعيف), অভাবী এবং মুসাফির সালাত আদায় করে থাকে।"

এবং 'আল-ফাতহ'-এ(৩) রয়েছে, আবু ইয়ালা হাসান পর্যায়ের সনদ (إسناد حسن) সহকারে ঈসা ইবনে জারিয়াহর বর্ণনা (رواية) থেকে … জাবির (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "উবাই ইবনে কাব (রা.) কুবার অধিবাসীদের নিয়ে সালাত আদায় করছিলেন, তিনি একটি দীর্ঘ সূরা শুরু করলেন, এমতাবস্থায় আনসারদের এক যুবক তাঁর সাথে (সালাতে) শামিল হলো...." এবং এর শেষাংশে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী রয়েছে: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা (মানুষের মনে) অনীহা সৃষ্টি করে … কারণ তোমাদের পেছনে দুর্বল (ضعيف), বৃদ্ধ, অসুস্থ ও অভাবী লোক থাকে।"

হাফিজ(৪) উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনাটি হুবহু সেই ঘটনাই যা 'সহীহাইনে'(৫) বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) (২/ ২০১, ১৯৩)। এটি ইরশাদুল হক আল-আসারি-র সম্পাদনায় (تحقيق) 'মুসনাদ আস-সাররাজ'-এ (১৭৫) রয়েছে।

(২) নং (৭৯১)।

(৩) (২/ ১৯৮)। এটি আবু ইয়ালার 'মুসনাদ'-এ (১৭৯২) রয়েছে।

(৪) পূর্বোক্ত উৎসে।

(৫) বুখারী (৭০২) ও মুসলিম (৪৬৬)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
عن أبي مسعود الأنصاري: «أن رجلًا قال: والله يا رسول الله إني لأتأخر عن صلاة الغداة من أجل فلان مما يطيل بنا … ».

وفي «مسند أحمد» (5/ 355)(1): ثنا زيد بن الحُباب حدثنى حسين ثنا عبد الله بن بُريدة قال: سمعتُ أبي بُريدةَ يقول: إن معاذَ بن جبل يقول(2): صلَّى بأصحابه صلاةَ العشاء، فقرأ فيها بـ {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ}، فقام رجل … وأتى الرجل النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فاعتذر إليه، فقال: إني كنتُ أعمل في نخلٍ، فخِفتُ على الماء، فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «صَلِّ بـ {وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا} ونحوِها من السور».

وفي «المسند» أيضًا (3/ 124)(3): ثنا إسماعيل بن إبراهيم ثنا عبد العزيز بن صُهَيب ــ وقال مرة: أخبرنا عبد العزيز بن صُهيب ــ عن أنس بن مالك قال: كان معاذ بن جبل يؤمُّ قومَه، فدخل حرامٌ وهو يريد أن يسقي نخلَه، فدخل المسجدَ ليصلِّي مع القوم، فلما رأى معاذًا طوَّلَ تجوَّزَ في صلاته، ولَحِقَ بنَخْلِه يَسْقيه … فأقبل النبي صلى الله عليه وآله وسلم على معاذ، فقال: «أفتَّانٌ أنتَ؟ أفتَّان أنت؟ لا تُطوِّلْ بهم، اقرأ بـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى} ، {وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا} ونحوهما».

--------------------------------------------

(1) رقم (23008).

(2) كذا بزيادة «يقول» في الطبعة القديمة من «المسند». ولا توجد في الأصول الخطية والنسخة المحققة.

(3) رقم (12247).
আবু মাসউদ আল-আনসারী থেকে বর্ণিত: «এক ব্যক্তি বললেন: আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি অমুক ব্যক্তির কারণে ফজরের সালাতে পিছিয়ে থাকি, কারণ তিনি আমাদের নিয়ে কিরাত দীর্ঘ করেন … »।

এবং «মুসনাদ আহমাদ»-এ (৫/ ৩৫৫)(১) বর্ণিত হয়েছে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যায়েদ ইবনে আল-হুবাব, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني) হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা বুরাইদাহকে বলতে শুনেছি যে, মুয়াজ ইবনে জাবাল বলেন(২): তিনি তাঁর সাথীদের নিয়ে এশার সালাত আদায় করলেন এবং তাতে {ইকতারাবাতিস সা’আহ} (সূরা আল-কামার) পাঠ করলেন। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে গেলেন … এবং সেই ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলেন ও তাঁর কাছে ওজর পেশ করলেন। তিনি বললেন: আমি খেজুর বাগানে কাজ করছিলাম, ফলে পানির ব্যাপারে আশঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «তুমি {ওয়াশ শামসি ওয়া দুহাহা} এবং এ জাতীয় সূরাগুলো দিয়ে সালাত আদায় করো»।

এবং «মুসনাদ»-এ আরও (৩/ ১২৪)(৩) বর্ণিত হয়েছে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল আজিজ ইবনে সুহাইব — এবং তিনি একবার বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবদুল আজিজ ইবনে সুহাইব — আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুয়াজ ইবনে জাবাল তাঁর কওমের ইমামতি করতেন। এমতাবস্থায় হারাম প্রবেশ করলেন এবং তিনি তাঁর খেজুর বাগানে পানি সেচ দিতে চাচ্ছিলেন। ফলে তিনি লোকজনের সাথে সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে প্রবেশ করলেন। যখন তিনি দেখলেন যে মুয়াজ দীর্ঘ করছেন, তখন তিনি সংক্ষেপে (সালাত) শেষ করলেন এবং পানি সেচ দেওয়ার জন্য তাঁর খেজুর বাগানে চলে গেলেন … অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম মুয়াজের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং বললেন: «তুমি কি ফিতনাকারী? তুমি কি ফিতনাকারী? তাদের নিয়ে দীর্ঘ করো না; তুমি {সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আলা}, {ওয়াশ শামসি ওয়া দুহাহা} এবং এ জাতীয় সূরাগুলো পাঠ করো»।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (২৩০০৮)।

(২) «মুসনাদ»-এর পুরাতন মুদ্রণে «বলছেন» (يقول) শব্দের আধিক্যসহ এভাবেই রয়েছে। তবে এটি মূল পাণ্ডুলিপি এবং সম্পাদিত সংস্করণে নেই।

(৩) নম্বর (১২২৪৭)।
(খণ্ড: ১৬) ইয়াদাতুস সালাত - দিমনা আসারিল মুয়াল্লিমি (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
وفي «المسند» أيضًا (5/ 74)(1): ثنا عفّان ثنا وُهَيب ثنا عمرو بن يحيى عن معاذ بن رِفاعة الأنصاري عن رجل من بني سَلِمةَ يقال له: سُلَيم، أتى رسولَ الله صلى الله عليه وآله وسلم فقال: يا رسول الله، إن معاذ بن جبل يأتينا بعد ما ننام، ونكون في أعمالنا بالنهار، فيُنادِي بالصلاة، فنخرج إليه، فيُطوِّل علينا، فقال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «يا معاذ بن جبل، لا تكنْ فتَّانًا، إما أن تُصلِّي معي، وإما أن تُخفِّفَ على قومك» … ثم قال سليم: ستَرونَ غدًا إذا التقى القومُ إن شاء الله، قال: والناس يتجهزون إلى أُحُدٍ، فخرَج، وكان في الشهداء، رحمة الله ورضوانه عليه.

وذكره الحافظ في «الفتح»(2) ثم قال: وقد رواه الطحاوي والطبراني من هذا الوجه عن معاذ بن رفاعة أن رجلًا من بني سلمة .. فذكر مرسلًا، ورواه البزار من وجه آخر عن جابر، وسماه سليمًا أيضًا.

أقول: والسياق يُشبِه سياق رواية عبيد الله بن مِقْسَم عن جابر كما في «سنن» البيهقي (3/ 117)، لكن ليس في رواية ابن مقسم «إما أن تصلي معي، وإما أن تخفف على قومك».

ومعاذ بن رفاعة لم يدرك سليمًا؛ لأن سليمًا استشهد بأحد كما في القصة، ولكن يمكن أن يكون سمعها من جابر أو غيره. والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) رقم (20699).

(2) (2/ 194). وأخرجه الطحاوي في «شرح معاني الآثار» (1/ 409)، والطبراني في «الكبير» (7/ 67).
আর "মুসনাদ"-এও (৫/ ৭৪)(১) রয়েছে: আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উহাইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমর ইবনে ইয়াহইয়া মুয়ায ইবনে রিফাহ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বনু সালিমা গোত্রের সুলাইম নামক এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, মুয়ায ইবনে জাবাল আমাদের নিকট তখন আসেন যখন আমরা ঘুমিয়ে পড়ি, আর দিনের বেলা আমরা আমাদের কাজে ব্যস্ত থাকি। তিনি সালাতের জন্য আহ্বান করেন, তখন আমরা তাঁর দিকে বেরিয়ে আসি, কিন্তু তিনি আমাদের ওপর সালাত দীর্ঘ করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: «হে মুয়ায ইবনে জাবাল, তুমি ফিতনাকারী হয়ো না। হয় তুমি আমার সাথে সালাত আদায় করবে, নতুবা তোমার কওমের জন্য সালাত হালকা করবে» ... অতঃপর সুলাইম বললেন: ইনশাআল্লাহ, আগামীকাল যখন দুই দল (যুদ্ধে) মুখোমুখি হবে, তখন আপনারা দেখতে পাবেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকেরা উহুদ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরপর তিনি যুদ্ধে বের হলেন এবং শহীদদের অন্তর্ভুক্ত হলেন, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক।

হাফিজ (ইবনে হাজার) এটি "ফাতহ"-এ উল্লেখ করেছেন(২) এবং অতঃপর বলেছেন: তহাবী এবং তাবারানী এই সূত্র (وجه) থেকে মুয়ায ইবনে রিফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বনু সালিমা গোত্রের এক ব্যক্তি... অতঃপর তিনি একে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বাজ্জার অন্য একটি সূত্র (وجه) থেকে জাবির (রা.)-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সেখানেও তাঁর নাম সুলাইম উল্লেখ করেছেন।

আমি বলি: এই বর্ণনার প্রেক্ষাপট বায়হাক্বীর "সুনান" (৩/ ১১৭)-এ বর্ণিত উবাইদুল্লাহ ইবনে মিকসাম-এর জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনার প্রেক্ষাপটের সদৃশ। তবে ইবনে মিকসাম-এর বর্ণনায় «হয় তুমি আমার সাথে সালাত আদায় করো, নতুবা তোমার কওমের জন্য সালাত হালকা করো» এই কথাটি নেই।

আর মুয়ায ইবনে রিফাহ সুলাইমের সাক্ষাৎ পাননি; কারণ ঘটনায় যেমনটি এসেছে, সুলাইম উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। তবে সম্ভব যে তিনি এটি জাবির বা অন্য কারো নিকট থেকে শুনেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) নম্বর (২০৬৯৯)।

(২) (২/ ১৯৪)। এবং তহাবী "শারহু মাআনিল আসার" (১/ ৪০৯)-এ এবং তাবারানী "আল-কাবীর" (৭/ ৬৭)-এ এটি উদ্ধৃত করেছেন।