0/0
(খণ্ড: ১) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: -)
تفسير الطبري جامع البيان - ط دار التربية والتراث   (ابن جرير الطبري)

القسم: التفسير


الكتاب: جامع البيان عن تأويل آي القرآن

المؤلف: أبو جعفر، محمد بن جرير الطبري (224 - 310هـ)

توزيع: دار التربية والتراث - مكة المكرمة - ص.ب: 7780

الطبعة: بدون تاريخ نشر

عدد الأجزاء: 24

1 - 16: مصورةٌ من تحقيق محمود محمد شاكر، الذي ينتهي بتفسير الآية 27 من سورة إبراهيم

17 - 24 (بقية التفسير) : إعادة صَف لطبعة الحلبي بنصها وحواشيها بلا أدنى إشارة!!

تنبيهات:

• قد نُسِبَتْ هذه الطبعةُ لـ «مؤسسة الرسالة» في «نسْخةٍ إلكترونية» مشهورة النشر سابقًا! وصوابها ما ذُكر بعاليه! فلْيُصحَّح.

• كما نَسَبَتْ تلك «النسْخة الإلكترونية» المنشورة سابقًا: تحقيق التفسير بأجزائه الــ24 كاملا لأحمد شاكر! فلْيُصحَّح أيضًا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাফসিরে তবারি জামিউল বয়ান - দারুত তারবিয়া ওয়াত তুরাস সংস্করণ   (ইবনে জারির আত-তবারি)

বিভাগ: তাফসির


গ্রন্থ: জামিউল বয়ান আন তাউইলি আইল কুরআন

লেখক: আবু জাফর, মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তবারি (২২৪ - ৩১০ হিজরি)

পরিবেশনায়: দারুত তারবিয়া ওয়াত তুরাস - মক্কা আল-মুকাররমা - পি.ও. বক্স: ৭৭৮০

সংস্করণ: প্রকাশের তারিখ বিহীন

খণ্ড সংখ্যা: ২৪

১ - ১৬: মাহমুদ মুহাম্মদ শাকিরের তাহকিককৃত সংস্করণের প্রতিলিপি, যা সুরা ইবরাহিমের ২৭ নম্বর আয়াতের তাফসির পর্যন্ত শেষ হয়েছে

১৭ - ২৪ (তাফসিরের অবশিষ্ট অংশ) : কোনো প্রকার ইঙ্গিত ছাড়াই হালাবি সংস্করণের মূল পাঠ ও টীকাগুলোর পুনঃমুদ্রণ করা হয়েছে!!

সতর্কবার্তা:

• ইতিপূর্বে বহুল প্রচারিত একটি «ইলেকট্রনিক সংস্করণে» এই মুদ্রণটিকে «মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ»-এর বলে উল্লেখ করা হয়েছে! তবে সঠিক তথ্যটি উপরে বর্ণিত হয়েছে! সুতরাং এটি সংশোধন করে নেওয়া উচিত.

• একইভাবে সেই পূর্বে প্রকাশিত «ইলেকট্রনিক সংস্করণটি» দাবি করেছে: ২৪টি খণ্ডের পূর্ণ তাফসিরের তাহকিক করেছেন আহমাদ শাকির! এটিও সংশোধন করা উচিত

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

بركة من الله وأمر

الحمد لله رب العالمين الرحمنِ الرحيم مَلِكِ يومِ الدين

والحمد لله الذي خلق السمواتِ والأرضَ وجعل الظلماتِ والنورَ.

والحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب، ولم يجعلْ له عِوَجًا.

والحمد لله الذي له ما في السمواتِ والأرضِ، وله الحمد في الآخرة، وهو الحكيمُ الخبيرُ.

والحمد لله الذي هدانا لهذا، وما كنَّا لنهتديَ لولا أنْ هدانا الله.

وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا ومولانا محمدٍ، رسول الله وخيرته من خلقه، خاتم النبيين، وأشرف المرسلين.

وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإِحسانٍ إلى يوم الدين.

"فصلَّى الله على نبيِّنا كلَّما ذكره الذاكرون، وغَفَل عن ذكره الغافلون. وصلى الله عليه في الأوَّلين والآخرين. أفضلَ وأكثرَ وأزكى ما صلَّى على أحدٍ من خلقه. وزكَّانا وإياكم بالصلاة عليه، أفضلَ ما زكَّى أحدًا من أمته بصلاته عليه، والسلام عليه ورحمة الله وبركاته" (1)
(1) اقتباس من كلام الشافعي، في كتابه (الرسالة)، رقم 39، بتحقيقنا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত ও আদেশ

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক।

এবং সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলোর উদ্ভব ঘটিয়েছেন।

এবং সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।

এবং সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই; এবং আখিরাতেও সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।

এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আল্লাহ আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনোই হেদায়েত পেতাম না।

আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক, যিনি আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম, নবীদের মোহর এবং রাসুলগণের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান।

এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং বিচার দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের সকলের প্রতিও।

"অতঃপর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক আমাদের নবীর ওপর—স্মরণকারীরা যখনই তাঁকে স্মরণ করে এবং গাফেলরা যখনই তাঁর স্মরণ থেকে বিমুখ থাকে। তাঁর প্রতি আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের মাঝে—এমন এক দরুদ যা সৃষ্টির মধ্যে অন্য কারো প্রতি বর্ষিত দরুদ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর, অধিকতর ও পবিত্রতর। আর তাঁর প্রতি এই দরুদ পাঠের উসিলায় তিনি আমাদের ও আপনাদের জীবনকে পবিত্র করুন; যেমন কোনো উম্মতকে তাঁর নবীর প্রতি দরুদ পাঠের মাধ্যমে তিনি পবিত্র করেছেন। এবং তাঁর প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।" (১)
(১) ইমাম শাফেঈর কিতাব 'আর-রিসালা' (নম্বর ৩৯) থেকে উদ্ধৃত, যা আমাদের দ্বারা সম্পাদিত ও যাচাইকৃত।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٦)
أما بعد:

فإن هذا التفسير الجليل، باكورة عمل عظيم، تقوم به (دار المعارف بمصر) ، لإحياء (تُراث الإسلام) ، وإخراج نفائس الكنوز. التي بقيتْ لنا من آثار سلفنا الصالح، وعلمائنا الأفذاذ. الذين خدموا دينَهم، وعُنُوا بكتاب ربّهم، وسنّة نبيّهم، وحفظِ لغتهم، بما لم تصنعه أمةٌ من الأمم، ولم يبلغْ غيرُهم مِعْشارَ ما وفّقهم الله إليه.

فكان أَوّلَ ما اخترنا، باكورةً لهذا المشروع الخطير: كتابُ (تفسير الطبري) . وما بي من حاجةٍ لبيان قيمته العلمية، وما فيه من مزايا يندر أَن توجدَ في تفسيرٍ غيرِه. وهو أعظم تفسير رأيناه، وأعلاه وأثبتُه. استحقَّ به مؤلفُه الحجةُ أن يسمَّى (إمامَ المفسّرين) .

وكنتُ أخشى الإقدامَ على الاضطلاع بإِخراجه وأُعْظِمُه، عن علمٍ بما يكتنفُ ذلك من صعوباتٍ، وما يقوم دونَه من عقباتٍ، وعن خبرةٍ بالكتاب دهرًا طويلا أربعين سنةً أو تزيد.

لولا أنْ قوَّى من عزمي، وشدَّ من أزْري، أخي الأصغر، الأستاذ محمود محمد شاكر. وهو - فيما أعلم - خير من يستطيع أن يحمل هذا العبء، وأن يقوم بهذا العمل حقَّ القيام، أو قريبًا من ذلك. لا أعرف أحدًا غيرَه له أهلا.

وما أريد أن أشهدَ لأخي أو أُثْنيَ عليه. ولكني أقرّ بما أعلم، وأشهد بما أَسْتَيْقن.
অতঃপর:

নিশ্চয়ই এই মহিমান্বিত তাফসীরটি এক মহান কর্মযজ্ঞের প্রথম ফসল, যা (মিশরের দারুল মাআরিফ) 'ইসলামি ঐতিহ্য' পুনরুজ্জীবিত করতে এবং আমাদের পুণ্যবান পূর্বসূরি ও অনন্যসাধারণ উলামায়ে কিরামের নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত মূল্যবান রত্নভাণ্ডারগুলো প্রকাশের লক্ষ্যে গ্রহণ করেছে। তাঁরা তাঁদের দ্বীনের খিদমত করেছেন এবং তাঁদের প্রতিপালকের কিতাব, নবীর সুন্নাহ ও নিজেদের ভাষার সংরক্ষণে এমন যত্নবান ছিলেন যা অন্য কোনো জাতি করতে পারেনি এবং অন্য কেউ তাঁদেরকে দেওয়া আল্লাহর এই তাওফিকের দশমাংশও অর্জন করতে পারেনি।

এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রথম ফসল হিসেবে আমরা যা নির্বাচন করেছি তা হলো: (তাফসীরে তাবারী) গ্রন্থটি। এর ইলমি মর্যাদা এবং এতে বিদ্যমান এমন সব বৈশিষ্ট্যের বিবরণ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন আমার নেই, যা অন্য কোনো তাফসীরে মেলা ভার। এটি আমাদের দেখা সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোচ্চ এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তাফসীর। এর মাধ্যমেই এর প্রামাণ্য লেখক 'ইমামুল মুফাসসিরীন' (মুফাসসিরদের ইমাম) হিসেবে ভূষিত হওয়ার অধিকার অর্জন করেছেন।

এই কিতাবটি সম্পাদনা ও প্রকাশের দায়িত্ব গ্রহণে আমি দ্বিধান্বিত ছিলাম এবং একে অত্যন্ত কঠিন মনে করছিলাম; কারণ দীর্ঘ চল্লিশ বছর বা তারও বেশি সময় এই কিতাবটি নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতায় এর সাথে জড়িয়ে থাকা নানাবিধ জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে আমি পূর্ণ অবগত ছিলাম।

তবে আমার ছোট ভাই উস্তাদ মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির আমার সংকল্পকে সুদৃঢ় করেছেন এবং আমাকে সাহস যুগিয়েছেন। আমার জানামতে, এই গুরুভার বহন করার এবং এই কাজটি যথাযথভাবে অথবা তার নিকটবর্তী মানে সম্পন্ন করার জন্য তিনিই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। এই কাজের উপযুক্ত হিসেবে আমি তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে চিনি না।

আমি আমার ভাইয়ের পক্ষে সাফাই গাইতে বা তাঁর প্রশংসা করতে চাচ্ছি না। বরং আমি যা জানি তা স্বীকার করছি এবং যা ধ্রুব সত্য বলে জানি তার সাক্ষ্য দিচ্ছি।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٧)
وقد أَبَى أخي السيد محمود إلا أن يُلْقِيَ عليّ بعضَ العبء، بالتعاون معه في مراجعة الكتاب، وبتخريج أحاديثه، ودَرْس أسانيده. وهذا - وحدَه - عملٌ فوقَ مقدوري. ولكنّي لم أستطع التخليَ عنه، فقبلتُ وعملتُ، متوكلا على الله، مستعينًا به.

وأسأل الله سبحانه الهدى والسداد، والرعاية والتوفيق. إنه سميع الدعاء. كتبه

أحمد محمد شاكر

عفا الله عنه بمنه القاهرة يوم الجمعة 4 جمادى الآخرة سنة 1374
আমার ভ্রাতা আস-সাইয়্যিদ মাহমুদ আমাকে এই কিতাবটির পরিমার্জন, এর হাদিসসমূহের তাখরিজ এবং এর সনদসমূহ পর্যালোচনায় তাঁর সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে কিছু দায়িত্ব প্রদানের ব্যাপারে অনড় ছিলেন। আর এককভাবে এটি ছিল আমার সামর্থ্যের অতীত একটি কাজ। কিন্তু আমি তাঁর অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারিনি, তাই আল্লাহর ওপর ভরসা করে এবং তাঁর নিকট সাহায্য চেয়ে আমি এটি গ্রহণ করেছি ও কাজ করেছি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট হিদায়াত, সঠিক পথ, তত্ত্বাবধান ও তাওফিক প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি দুআ শ্রবণকারী। এটি লিখেছেন

আহমদ মুহাম্মদ শাকির

আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তাঁকে ক্ষমা করুন। কায়রো, জুমাবার, ৪ জুমাদাল আখিরাহ, ১৩৭৪ হিজরি।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٨)
بسم الله الرحمن الرحيم

{تَبَارَكَ الَّذِي نزلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا * الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا * وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً لَا يَخْلُقُونَ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ وَلا يَمْلِكُونَ لأنْفُسِهِمْ ضَرًّا وَلا نَفْعًا وَلا يَمْلِكُونَ مَوْتًا وَلا حَيَاةً وَلا نُشُورًا * وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذَا إِلا إِفْكٌ افْتَرَاهُ وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ فَقَدْ جَاءُوا ظُلْمًا وَزُورًا * وَقَالُوا أَسَاطِيرُ الأوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلَى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلا * قُلْ أَنزلَهُ الَّذِي يَعْلَمُ السِّرَّ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ إِنَّهُ كَانَ غَفُورًا رَحِيمًا}

* * *

{قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الإنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا * وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلا كُفُورًا}

* * *

والحمد لله الذي أرسلَ رسولَه محمدًا صلى الله عليه وسلم بالهُدَى ودِينِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

{কতই না বরকতময় সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন। * যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্বের অধিপতি, তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং রাজত্বে তাঁর কোনো অংশীদার নেই; তিনি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন। * অথচ তারা তাঁর পরিবর্তে এমন সব উপাস্য গ্রহণ করেছে, যারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট; তারা নিজেদের অপকার বা উপকার করার কোনো ক্ষমতা রাখে না এবং মৃত্যু, জীবন কিংবা পুনরুত্থানের ওপরও কোনো কর্তৃত্ব রাখে না। * আর কাফিররা বলে, "এটি একটি মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়, যা সে উদ্ভাবন করেছে এবং অন্য এক সম্প্রদায় তাকে এতে সাহায্য করেছে।" বস্তুত তারা জুলুম ও চরম মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। * তারা আরও বলে, "এগুলো তো সেকালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; আর এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার কাছে পাঠ করে শোনানো হয়।" * বলুন, "এটি তিনিই অবতীর্ণ করেছেন, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রহস্য সম্পর্কে অবগত; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"}

* * *

{বলুন, "যদি এই কুরআনের মতো কিছু আনয়নের জন্য মানুষ ও জিন একত্র হয়, তবুও তারা এর মতো কিছু আনতে পারবে না—যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।" * আর আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সকল প্রকার দৃষ্টান্ত বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কুফরি করা ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করল না।}

* * *

আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٩)
الحقِّ ليُظْهِرَه عَلَى الدِّين كُلِّه وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْركونَ. {يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأرْضِ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ * هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الأمِّيِّينَ رَسُولا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ * وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ * ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ}

* * *

اللَّهُمّ إِنّا نبرأُ إليك من كُلِّ حَوْلٍ وقوَّةٍ، ونستَعينك ونَسْتَهديك، ونعوذُ برضاكَ من غَضَبِك، فاغفر لَنا وارْحَمنا وتبْ علينا إنّك أنْتَ التَّوَّابُ الرَّحيم. ربَّنا وَلا تجعلنَا من الذين فرَّقُوا دِينَهم وَكانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُون.

* * *

اللهُمَّ اجعلنا مسلمِينَ لك، وَافِين لك بالميثاق الذي أخذتَ علينا: أن نكون قوّامين بالقِسْط شُهَداءَ على الناس، اللهُمَّ اهدنا صراطَك المستقيم، صراطَ الذين أنعمت عليهم من النبيّين والصِّدِّيقين والشُّهَداء، الذين قالوا ربُّنا الله ثم استقاموا، وعلموا أنك أنت الجبّارُ الذي خَضَعتْ لجَبرُوتِه الجبَابرة، والعزيزُ الذي ذلّتْ لعزَّته الملوكُ الأعِزَّة، وخَشَعت لمهَابة سَطْوتِه ذوُو المهابة، فلم يُرهِبْهم بغيُ باغٍ ولا ظُلْم سفّاحٍ ظالم: {يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ} {وَلا تحْسَبَنَّ اللَّهَ
সত্য ধর্মসহকারে, যেন তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও অংশীবাদীরা তা অপছন্দ করে। {আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, যিনি রাজ্যাধিপতি, অতি পবিত্র, মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত (সুন্নাহ) শিক্ষা দেন; যদিও ইতিপূর্বে তারা স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল। আর তাদের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্যদের জন্যও (তিনি প্রেরিত), যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী।}

* * *

হে আল্লাহ! আমরা আমাদের নিজস্ব সকল শক্তি ও সামর্থ্য থেকে মুক্ত হয়ে আপনারই মুখাপেক্ষী হচ্ছি; আমরা আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং আপনার নিকট হিদায়াত যাঞ্চা করি। আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ থেকে আশ্রয় চাই। সুতরাং আপনি আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন এবং আমাদের তাওবা কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না, যারা তাদের ধর্মকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে; প্রতিটি দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত।

* * *

হে আল্লাহ! আমাদের আপনার অনুগত মুসলিম হিসেবে কবুল করুন এবং আমাদের নিকট থেকে আপনি যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন তা পূর্ণ করার তাওফিক দান করুন— আর তা হলো আমরা যেন ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং মানবজাতির জন্য সত্যের সাক্ষী হই। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন; সেই সমস্ত ব্যক্তিদের পথ, যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন— অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ (সিদ্দীকগণ) ও শহীদগণ; যারা বলেছে, 'আল্লাহই আমাদের প্রতিপালক', অতঃপর তারা এর ওপর অবিচল থেকেছে। এবং তারা জেনেছে যে, নিশ্চয়ই আপনি সেই মহাপরাক্রমশালী সত্তা, যাঁর প্রতাপের সামনে সমস্ত স্বৈরাচারীরা নতি স্বীকার করেছে; এবং আপনি সেই পরাক্রমশালী, যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের সামনে প্রতাপশালী রাজন্যবর্গ হীন হয়েছে। এবং যাঁর ক্ষমতার মহিমায় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছে। ফলে কোনো বিদ্রোহীর বিদ্রোহ বা কোনো রক্তপিপাসু জালিমের জুলুম তাদের ভীত করতে পারেনি: {যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদেরকে সুদৃঢ় বাণীর মাধ্যমে পার্থিব জীবনে ও পরকালে প্রতিষ্ঠিত রাখেন। আর আল্লাহ জালিমদেরকে বিভ্রান্ত করেন এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন।} {আর আপনি কখনো মনে করবেন না যে, আল্লাহ...
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٠)
غَافِلا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الأبْصَارُ * مُهْطِعِينَ مُقْنِعِي رُءُوسِهِمْ لَا يَرْتَدُّ إِلَيْهِمْ طَرْفُهُمْ وَأَفْئِدَتُهُمْ هَوَاءٌ}

* * *

اللهُم اغفر لأبي جعفر محمد بن جرير الطبري، وتغمّده برحمتك، واجعله من السابقين المقرَّبين في جنّات النعيم، فقد كان - ما عَلِمْنا- من الذين بَيَّنوا كتابَك للناس ولم يكتموه، ولم يشتَرُوا به ثَمَنًا قليلا من مَتاع هذه الحياةِ الدنيا؛ ومن الذين أدَّوْا ما لزمهم من حقِّك، وذادُوا عن سنة نبِّيك؛ ومن الذين ورَّثوا الخلَفَ من بعدهم علم ما عَلموا، وحَمَّلوهم أمانةَ ما حَمَلوا، وخلعُوا لك الأندادَ، وكفَروا بالطاغوتِ، ونَضَحوا عن دينك، وذبُّوا عن شريعتك، وأفضَوْا إليك ربَّنا وهمْ بميثاقك آخذون، وعلى عهدك محافظون، يرجون رَحْمتَك ويخافُون عذابَك. فاعفُ اللهمّ عنا وعنهم، واغفر لنَا ولهم، وارحمنا وارحمهم، أنت مولانَا فانصرنَا على القومِ الكافرين.

* * *

كان أبو جعفر رضي الله عنه يقول: "إِنّي لأعجبُ مَمنْ قرأ القرآن ولم يعلَم تأويلَه، كيف يلتذُّ بقراءته؟ ". ومنذ هداني الله إلى الاشتغال بطلب العلم، وأنا أصاحب أبا جعفر في كتابيه: كتاب التفسير، وكتاب التاريخ. فقرأتُ تفسيره صغيرًا وكبيرًا، وما قرأتُه مرَّةً إلا وأنا أسمعُ صوته يتخطّى إليّ القرون: إني لأعجب ممن قرأ القرآن ولم يعلم تأويله، كيف يلتذُّ بقراءته؟ فكنتُ أجدُ في تفسيره مصداقَ قوله رضي الله عنه.
অবিচারকারীরা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহকে কখনো উদাসীন মনে করবেন না; তিনি তো কেবল তাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন যেদিন চক্ষুসমূহ আতঙ্কে স্থির হয়ে যাবে। তারা মস্তক উপরে তুলে দৌড়াতে থাকবে, তাদের দৃষ্টি তাদের নিজেদের দিকে ফিরবে না এবং তাদের অন্তর হবে শূন্য।}

* * *

হে আল্লাহ! আপনি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির আত-তাবারীকে ক্ষমা করুন, তাঁকে আপনার রহমতে আবৃত করুন এবং তাঁকে জান্নাতুন নাঈমের নৈকট্যপ্রাপ্ত অগ্রবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদের জানামতে—তিনি ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা মানুষের নিকট আপনার কিতাব স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তা গোপন করেননি, আর এর বিনিময়ে এই পার্থিব জীবনের তুচ্ছ সামগ্রী গ্রহণ করেননি; এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা আপনার প্রাপ্য হক আদায় করেছেন এবং আপনার নবীর সুন্নাতকে রক্ষা করেছেন; এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অর্জিত জ্ঞানের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন এবং তাঁদের ওপর অর্পিত আমানত যথাযথভাবে ন্যস্ত করেছেন। তাঁরা আপনার সন্তুষ্টির নিমিত্তে সকল অংশীদারকে বর্জন করেছেন, তাগুতকে অস্বীকার করেছেন, আপনার দ্বীনের খেদমত করেছেন এবং আপনার শরিয়তকে হিফাজত করেছেন। হে আমাদের রব! তাঁরা আপনার কাছে এমন অবস্থায় পৌঁছেছেন যে তাঁরা আপনার অঙ্গীকারের ওপর সুদৃঢ় ছিলেন এবং আপনার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন; তাঁরা আপনার রহমতের প্রত্যাশী ছিলেন এবং আপনার আজাবকে ভয় পেতেন। হে আল্লাহ! আমাদের ও তাঁদের ক্ষমা করুন, আমাদের ও তাঁদের মার্জনা করুন এবং আমাদের ও তাঁদের ওপর রহম করুন; আপনিই আমাদের অভিভাবক, সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।

* * *

আবু জাফর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "আমি ঐ ব্যক্তির জন্য আশ্চর্যান্বিত হই যে কুরআন পাঠ করে অথচ এর ব্যাখ্যা জানে না, সে কীভাবে এর পাঠে স্বাদ পায়?" আল্লাহ যখন থেকে আমাকে জ্ঞান অন্বেষণে পথপ্রদর্শন করেছেন, তখন থেকেই আমি আবু জাফরের দুটি কিতাব—তাফসির এবং ইতিহাস গ্রন্থের সহচর হয়ে আছি। আমি শৈশবে ও পরিণত বয়সে তাঁর তাফসির পড়েছি; আর যতবারই আমি তা পাঠ করেছি, ততবারই মনে হয়েছে তাঁর কণ্ঠস্বর শতাব্দি পেরিয়ে আমার কাছে পৌঁছে বলছে: "আমি ঐ ব্যক্তির জন্য আশ্চর্যান্বিত হই যে কুরআন পাঠ করে অথচ এর ব্যাখ্যা জানে না, সে কীভাবে এর পাঠে স্বাদ পায়?" আমি তাঁর তাফসিরের মধ্যেই তাঁর এই উক্তির সত্যতা ও বাস্তবতা খুঁজে পেয়েছি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١١)
بيد أني كنتُ أجدُ من المشقّة في قراءتِه ما أجد.

كان يستوقفني في القراءةِ، كثرةُ الفُصُول في عبارته، وتباعُد أطراف الجُمَل. فلا يسلم لي المعنى حتى أعيد قراءة الفقرة منه مرتين أو ثلاثًا. وكان سبب ذلك أنّنا ألفنَا نهجًا من العبارة غيرَ الذي انتهج أبو جعفر، ولكن تبيَّن لي أيضًا أن قليلا من الترقيم في الكتابِ، خليقٌ أن يجعَل عبارته أبينَ. فلما فعلتُ ذلك في أنحاءٍ متفرقة من نسختي، وعدتُ بعدُ إلى قراءتِها، وجدتُها قد ذهب عنها ما كنت أجد من المشقّة. ولما راجعتُ كتب التفسير، وجدتُ بعضَهم ينقلُ عَنْه، فينسبُ إليه ما لم أجده في كتابه، فتبيَّنَ لي أن سبب ذلك هو هذه الجمل التي شقّت عليَّ قراءتها. يقرؤها القارئ، فربّما أخطأ مُرادَ أبي جعفرٍ، وربَّما أصابَ. فتمنَّيت يومئذٍ أن ينشر هذا الكتاب الجليلُ نشرةً صحيحة محقّقة مرقّمةً، حتى تسهُل قراءتُها على طالب العلم، وحتى تجنّبه كثيرًا من الزَّلل في فهم مُرَاد أبي جعفر.

ولكنْ تبيَّن لي على الزمن أن ما طبع من تفسير أبي جعفر، كانَ فيه خطأ كثير وتصحيفٌ وتحريف، ولما راجعتُ التفاسير القديمة التي تنقلُ عَنْه، وجدتُهم يتخطّونَ بعض هذه العبارات المصحفة أو المحرفة، فعلمتُ أن التصحيف قديم في النسخ المخطوطة. ولا غرو، فهو كتابٌ ضخْمٌ لَا يكادُ يسلُم كلّ الصواب لناسخه. وكان للذين طبعوه عذرٌ قائمٌ، وهو سقم مخطوطاته التي سلمت من الضياع، وضخامة الكتاب، واحتياجه إلى مراجعة مئات من الكتب، مع الصبْر على المشقة والبَصَر بمواضع
তবে এটি পাঠ করতে গিয়ে আমি যথেষ্ট কষ্ট অনুভব করতাম।

তাঁর রচনার শৈলীতে যতিচিহ্নের বা বিরতির আধিক্য এবং বাক্যসমূহের দীর্ঘসূত্রতা আমাকে পাঠের সময় বারবার থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করত। ফলে কোনো একটি অনুচ্ছেদ দুই বা তিনবার পাঠ না করা পর্যন্ত এর অর্থ আমার নিকট পরিষ্কার হতো না। এর কারণ ছিল এই যে, আমরা এমন এক রচনাশৈলীতে অভ্যস্ত হয়েছি যা আবু জাফরের অনুসৃত পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন; তবে আমার কাছে এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে, কিতাবটিতে সামান্য বিরামচিহ্নের প্রয়োগ তাঁর বক্তব্যকে অধিকতর স্পষ্ট করে তোলার জন্য যথেষ্ট ছিল। যখন আমি আমার পাণ্ডুলিপির বিভিন্ন স্থানে তা প্রয়োগ করলাম এবং পুনরায় পাঠে মনোনিবেশ করলাম, তখন দেখলাম যে আগে যে কষ্টের সম্মুখীন হতাম, তা দূরীভূত হয়েছে। যখন আমি অন্যান্য তাফসির গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করলাম, তখন দেখলাম কেউ কেউ তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করছেন এবং এমন কিছু তাঁর দিকে আরোপ করছেন যা আমি তাঁর কিতাবে পাইনি; তখন আমার নিকট স্পষ্ট হলো যে, এর মূল কারণ হলো সেই জটিল বাক্যসমূহ যা পাঠ করা আমার জন্য দুঃসাধ্য ছিল। পাঠক যখন তা পাঠ করেন, তখন কখনো তিনি আবু জাফরের উদ্দেশ্য বুঝতে ভুল করেন, আবার কখনো সঠিক অর্থটি অনুধাবন করতে সক্ষম হন। তাই সেদিন আমি কামনা করেছিলাম যেন এই মহান গ্রন্থটি একটি নির্ভুল, তাহকিককৃত এবং বিরামচিহ্নযুক্ত সংস্করণে প্রকাশিত হয়, যাতে তালিবে ইলমদের জন্য এটি পাঠ করা সহজ হয় এবং আবু জাফরের উদ্দেশ্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে তারা নানাবিধ পদস্খলন থেকে রক্ষা পায়।

কিন্তু কালক্রমে আমার নিকট প্রতিভাত হলো যে, আবু জাফরের তাফসিরের যা কিছু মুদ্রিত হয়েছে, তাতে প্রচুর ভুল, বর্ণবিপর্যয় ও বিকৃতি বিদ্যমান। আমি যখন প্রাচীন তাফসির গ্রন্থগুলো দেখলাম যা তাঁর থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছে, তখন লক্ষ্য করলাম যে তারা এই বিকৃত বা পরিবর্তিত বাক্যগুলোর কিছু অংশ এড়িয়ে গেছেন। এর থেকে আমি বুঝতে পারলাম যে, হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিগুলোতে এই বর্ণবিপর্যয় অনেক পুরনো। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ এটি একটি বিশাল কলেবরের গ্রন্থ, যার অনুলিপিকারীর পক্ষে সম্পূর্ণ নির্ভুল থাকা প্রায় অসম্ভব। যারা এটি মুদ্রণ করেছিলেন তাদের একটি সংগত ওযর ছিল; আর তা হলো—বিলুপ্তি থেকে রক্ষা পাওয়া পাণ্ডুলিপিগুলোর জীর্ণ দশা, কিতাবটির বিশালত্ব এবং শত শত কিতাব পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা; সেই সাথে কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণ এবং বিষয়ের নিগূঢ় স্থানে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার সক্ষমতা...
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٢)
الخَلَل. فأضمرتُ في نَفْسي أن أنشُر هذا الكتابَ، حتى أؤدّي بعض حقِّ الله عليَّ، وأشكرُ به نعمةً أنالُها - أنَا لَهَا غيرُ مستحقّ - من ربٍ لَا يؤدّي عبدٌ من عباده شكرَ نعمة ماضيةٍ من نعمه، إلا بنعْمة منه حادثةٍ توجِب عليه أن يؤدّي شكرها، هي إقدارُه على شكر النعمة التي سلفت؛ كما قال الشافعي رضي الله عنه.

وتصرَّم الزَّمن، وتفانت الأيّامُ، وأنا مستهلَكٌ فيما لَا يُغْني عنّي شيئًا يوم يقوم الناس لربّ العالمين. حتَّى أيقظَنِي عدوانُ العادِين، وظُلْم الظّالمين، وطغيانُ الجبابرة المتكبّرين، فعقدت العزمَ على طبع هذا التفسير الإمامِ، أتقرَّبُ به إلى ربِّ العالمين، ملك يوم الدين.

وأفضيتُ بما في نفسي إلى أخي الأكبر السيد أحمد محمد شاكر - أطال الله بقاءه، وأقبسني من علمه- فرأى أن تنشره "دار المعارف"، باكورةَ أعمالها في نشر (تُراث الإسلام) . ولم يمض إلا قليل حتى أعدَّت الدار عُدّتها لنشر هذا الكتاب الضخم، مشكورةً على ما بذلته في إحياء الكتاب العربيّ.

وكنت أحبُّ أن يكون العمل في نشر هذا الكتاب مشاركة بيني وبين أخي في كلّ صغيرةٍ وكبيرة، ولكن حالت دون ذلك كثرة عمله. وليتَه فَعَل، حتى أستفيد من علمهِ وهدايته، وأتجنّبَ ما أخاف من الخطإ والزلل، في كتابٍ قال فيه أبو عمر الزاهد، غلام ثعلب: "قابلتُ هذا الكتاب من أوّله إلى آخره، فما وجدتُ فيه حرفًا خطأً في نحو أو لغة". وأنَّى لمثلي أن يحقّق كلمة أبي عمر في كتاب أبي جعفر!
ত্রুটি-বিচ্যুতি। তাই আমি অন্তরে এই কিতাবটি প্রকাশের সংকল্প লালন করেছি, যাতে আমার ওপর অর্পিত আল্লাহর হকের কিঞ্চিৎ আদায় করতে পারি এবং এর মাধ্যমে এমন এক নেয়ামতের শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে পারি যা আমি লাভ করেছি—অথচ আমি তার যোগ্য ছিলাম না—এমন এক প্রতিপালকের পক্ষ থেকে, যাঁর বান্দাদের মধ্যে কেউ তাঁর অতীত কোনো নেয়ামতের শুকরিয়া কেবল তাঁরই পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এমন এক নতুন নেয়ামতের মাধ্যমেই আদায় করতে পারে যা পুনরায় তার ওপর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব করে দেয়; আর তা হলো পূর্ববর্তী নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের সামর্থ্য দান করা; যেমনটি ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন।

কাল অতিবাহিত হয়েছে, দিন ফুরিয়ে গেছে, আর আমি এমন সব কাজে নিমগ্ন ছিলাম যা জগতসমূহের প্রতিপালকের সামনে মানুষের দণ্ডায়মান হওয়ার দিনে আমার কোনো উপকারে আসবে না। অবশেষে সীমালঙ্ঘনকারীদের শত্রুতা, জালেমদের জুলুম এবং অহংকারী স্বৈরশাসকদের অবাধ্যতা আমাকে সজাগ করে তুলেছে। ফলে আমি এই মহান ইমামের তাফসীর গ্রন্থটি মুদ্রণের দৃঢ় সংকল্প করেছি, যার মাধ্যমে আমি জগতসমূহের প্রতিপালক ও বিচার দিবসের মালিকের নৈকট্য কামনা করি।

আমি আমার মনের কথা আমার বড় ভাই আস-সাইয়্যেদ আহমদ মুহাম্মদ শাকেরের—আল্লাহ তাঁর হায়াত দীর্ঘ করুন এবং আমাকে তাঁর ইলম থেকে উপকৃত করুন—কাছে ব্যক্ত করলাম। তিনি মত দিলেন যে, "দারুল মাআরিফ" এটি প্রকাশ করুক, যা হবে "ইসলামিক ঐতিহ্য" (তুরাতুল ইসলাম) প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম পদক্ষেপ। অল্প সময় পার হতে না হতেই এই প্রকাশনা সংস্থাটি এই বিশাল গ্রন্থটি প্রকাশের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলে। আরবি কিতাব পুনর্জীবনে তাদের এই ত্যাগের জন্য তারা ধন্যবাদের পাত্র।

আমি চেয়েছিলাম এই কিতাবটি প্রকাশের কাজে ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়ে আমার এবং আমার ভাইয়ের মাঝে অংশীদারিত্ব থাকুক; কিন্তু তাঁর কাজের আধিক্য তাতে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াল। হায়, তিনি যদি তা করতেন! তবে আমি তাঁর জ্ঞান ও দিকনির্দেশনা থেকে উপকৃত হতে পারতাম এবং ভুল ও বিচ্যুতির যে আশঙ্কা আমি করছি তা থেকে বেঁচে থাকতে পারতাম এমন এক কিতাবের ক্ষেত্রে, যার সম্পর্কে সা’লাবের শিষ্য আবু উমর আজ-জাহিদ বলেছেন: "আমি এই কিতাবটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মিলিয়ে দেখেছি, তাতে ব্যাকরণ বা ভাষার ক্ষেত্রে একটি অক্ষরও ভুল পাইনি।" আর আমার মতো নগণ্য ব্যক্তির পক্ষে কীভাবে সম্ভব আবু জাফরের কিতাবে আবু উমরের সেই বাণীর যথার্থতা প্রমাণ করা!
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٣)
ونحن أهل زمانِ أُوتوا من العجز والتهاون، أَضعافَ ما أُوتي أسلافُهم من الجدّ والقدرة!

فتفضل أخي أن ينظُرَ في أسانيد أبي جعفر، وهي كثيرة جدًّا، فيتكلّم عن بعض رجالها، حيثُ يتطلب التحقيق ذلك، ثم يخرِّج جميع ما فيه من أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم. فإن وجدَ بعد ذلك فراغًا نَظَر في عملي وراجعه واستدرك عليه. فشكرتُ له هذه اليدَ التي طوّقني بِها، وكم له عندي من يدٍ لَا أملك جزاءَها، عنْد الله جزاؤها وجزاءُ كلّ معروفٍ. وحسبُه من معروف أنّه سدّد خُطايَ صغيرًا، وأعانني كبيرًا.

وتوليتُ تصحيحَ نصّ الكتاب، وضبطه، ومقابلته على ما بين أيدينا من مخطوطاته ومطبوعاته، ومراجعته على كتب التفسير التي نقلت عنه. وعلّقتُ عليه، وبيّنت ما استغلقَ من عبارته، وشرحتُ شواهده من الشعر. وبذلتُ جُهْدي في ترقيمه وتفصيله. فكلّ ما كان في ذلك من إحسانٍ فمن الله، وكلّ ما فيه من زَلَلٍ فمنّي ومن عجزي، ولا حول ولا قوة إلا بالله.

والنسخ المخطوطة الكاملة من تفسير الطبري، لَا تكادُ تُوجَد، والذي مِنْها في دار الكتب أجزاءٌ مفردة من الجزء الأوّل، والجزء السادس عشر، ومنها مخطوطة واحدة كانت في خمسة وعشرين مجلَّدًا ضاع منها الجزء الثاني والثالث، وهي قديمةً غير معروفة التاريخ. وهي على ما فيها تكادُ تكون أصحّ النسخ. وهي محفوظة بالدار برقم: 100 تفسير.
আর আমরা এমন এক সময়ের মানুষ, যারা আমাদের পূর্বসূরিদের একাগ্রতা ও সামর্থ্যের তুলনায় বহুগুণ বেশি অক্ষমতা ও অবহেলার শিকার হয়েছি!

অতঃপর আমার ভাই অনুগ্রহ করে আবু জাফরের বর্ণিত সনদসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন—যা সংখ্যায় অনেক—এবং গবেষণার প্রয়োজনে যেখানে প্রয়োজন হয়েছে সেখানে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি এই গ্রন্থে বিদ্যমান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল হাদিসের তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) করেছেন। এরপর যদি তিনি সময় পেয়েছেন, তবে আমার কাজটি দেখেছেন, পর্যালোচনা করেছেন এবং পরিমার্জন করেছেন। তাঁর এই মহানুভবতার জন্য আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি; আমার প্রতি তাঁর এমন অনেক অনুগ্রহ রয়েছে যার বিনিময় দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই, এর প্রতিদান এবং সকল নেক কাজের প্রতিদান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। তাঁর সদাচরণের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তিনি শৈশবে আমার পথচলাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন এবং পরিণত বয়সে আমাকে সহায়তা করেছেন।

আমি গ্রন্থটির মূল পাঠ সংশোধন, বিন্যাস এবং আমাদের নিকট বিদ্যমান পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সংস্করণগুলোর সাথে এর তুলনামূলক পর্যালোচনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সেই সঙ্গে যেসব তাফসির গ্রন্থে এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গেও মিলিয়ে দেখেছি। আমি এতে টীকা যুক্ত করেছি, এর দুরূহ বাক্যগুলো ব্যাখ্যা করেছি এবং এর কাব্যের উদাহরণসমূহ (শাওয়াহিদ) বিশ্লেষণ করেছি। আমি এর অনুচ্ছেদ বিন্যাস ও বিস্তারিতিকরণে যথাসাধ্য শ্রম ব্যয় করেছি। এর মধ্যে যা কিছু কল্যাণকর তা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল-ত্রুটি তা আমার নিজের এবং আমার অক্ষমতার ফসল। আর আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই।

তাফসিরুত তাবারির পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি সচরাচর পাওয়া যায় না। 'দারুল কুতুব'-এ এর যা কিছু সংরক্ষিত আছে তা হলো—প্রথম খণ্ড ও ষোড়শ খণ্ডের কিছু বিচ্ছিন্ন অংশ। এ ছাড়াও একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা পঁচিশ খণ্ডে সমাপ্ত ছিল, কিন্তু সেখান থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড হারিয়ে গেছে; এটি অত্যন্ত প্রাচীন হলেও এর সঠিক রচনাকাল জানা যায়নি। বিদ্যমান অবস্থা সত্ত্বেও এটি প্রায় বিশুদ্ধতম কপি হিসেবে বিবেচিত। এটি উক্ত গ্রন্থাগারে '১০০ তাফসির' নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٤)
فجعلتها أمًّا لنشر هذا الكتاب. أما سائر المخطوطات فهي سقيمة رديئة، لم تنفع في كثير ولا قليل، فضْلا عن أنها قطع صغيرة منه.

فنهجتُ نهجًا آخر في تصحيح هذا التفسير، وذلك بمراجعة ما فيه من الآثار على كتاب "الدرّ المنثور" للسيوطي، "وفتح القدير" للشوكاني، فهما يكثران النقل عن تفسير أبي جعفر. أما ابن كثير في تفسيره، فإنه لم يقتصر على نقل الآثار، بل نقل بعض كلام أبي جعفر بنَصِّه في مواضع متفرقة، وكذلك نقل أبو حيان والقرطبي في مواضع قليلة من تفسيريهما. فقابلتُ المطبوع والمخطوط من تفسير أبي جعفر على هذه الكتب. وكنت في هذا الجزء الأوَّل من التفسير أذكر مرجع كلّ أثرٍ في هذه الكتب، ثم وجدتُ أن ذلك يطيل الكتاب على غير جدوى، فبدأت منذ الجزء الثاني أغفل ذكر المراجع، إِلا عند الاختلاف، أو التصحيح، أو غير ذلك مما يوجب بيان المراجع.

وراجعتُ كثيرًا ممّا في التفسير من الآثار، على سائر الكتب التي هي مظّنة لروايتها، وبخاصّة تاريخ الطبري نَفْسِه، ومن في طبقته من أصحاب الكتب التي تروي الآثار بالأسانيد. وبذلك استطعتُ أن أحرّر أكثرها في الطبري تحريرًا أرجو أن يكون حسنًا مقبولا.

أمّا ما تكلّم فيه من النحو واللغة، فقد راجعته على أصوله، من ذلك "مَجاز القرآن" لأبي عبيدة، "ومعاني القرآن" للفراء، وغيرهما ممّن يذكر أقوال أصحاب المعاني من الكوفيين والبصريين.

وأما شواهدُه فقد تتبعتُ ما استطعتُ منها في دواوين العربِ، ونسبت
আমি এটিকে এই কিতাবটি প্রকাশের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। বাকি পাণ্ডুলিপিগুলো ছিল ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের, যা কোনো কাজেই আসেনি; অধিকন্তু সেগুলো ছিল মূল গ্রন্থের অতি ক্ষুদ্র কিছু অংশ।

তাই আমি এই তাফসিরটি সংশোধনের ক্ষেত্রে ভিন্ন এক পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, আর তা হলো—এতে বিদ্যমান আছার (বর্ণনা) সমূহ সুয়ুতির 'আদ-দুররুল মানসুর' এবং শাওকানির 'ফাতহুল কাদির' গ্রন্থের সাথে মিলিয়ে দেখা; কেননা তাঁরা উভয়েই আবু জাফরের তাফসির থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। আর ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে কেবল বর্ণনা উদ্ধৃত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বিভিন্ন স্থানে তিনি আবু জাফরের বক্তব্য হুবহু শব্দে শব্দে উদ্ধৃত করেছেন। অনুরূপভাবে আবু হাইয়ান এবং কুরতুবিও তাঁদের তাফসিরদ্বয়ের স্বল্প কিছু স্থানে তা উদ্ধৃত করেছেন। ফলে আমি আবু জাফরের তাফসিরের মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি সংস্করণগুলোকে উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমি তাফসিরের এই প্রথম খণ্ডে উক্ত গ্রন্থসমূহে প্রতিটি বর্ণনার সূত্র উল্লেখ করতাম, পরে দেখলাম যে এতে অনর্থক কিতাবের কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে; তাই দ্বিতীয় খণ্ড থেকে আমি সূত্রের উল্লেখ পরিহার করতে শুরু করি—তবে মতভেদ, সংশোধন কিংবা অন্য কোনো কারণে সূত্রের বর্ণনা যেখানে অপরিহার্য, সেখানে তা উল্লেখ করেছি।

এছাড়া তাফসিরের বহু বর্ণনা আমি সেই সব কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখেছি যেখানে এগুলো বর্ণিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; বিশেষ করে স্বয়ং তাবারির নিজের 'তারিখ' এবং তাঁর সমসাময়িক সেই সব গ্রন্থকারদের কিতাব, যাঁরা সনদসহ বর্ণনাগুলো সংকলন করেন। এর মাধ্যমে আমি তাবারির অধিকাংশ বর্ণনাকে এমনভাবে পরিমার্জন করতে সক্ষম হয়েছি, যা সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমি আশা করি।

ব্যাকরণ ও ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনার বিষয়গুলো আমি এর মূল উৎসসমূহের আলোকে যাচাই করেছি; যেমন আবু উবায়দার 'মাজাযুল কুরআন', ফাররার 'মাআনিল কুরআন' এবং কুফিবাসী ও বসরাবাসী ভাষাবিদদের মতামত বর্ণনাকারী অন্যান্যদের কিতাবসমূহ।

আর কাব্যিক উদ্ধৃতি বা প্রমাণগুলোর ক্ষেত্রে আমি সাধ্যানুযায়ী আরব্য কাব্যসংগ্রহসমূহ (দীওয়ান) থেকে অনুসন্ধান চালিয়েছি এবং সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট কবির নামে ন্যস্ত করেছি...
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٥)
ما لم يكن منها منسوبًا، وشرحتُها، وحققت ما يَحتاجُ إلى تحقيق من قصائدها، مختصرًا في ذلك ما استطعت.

وقد رأيتُ في أثناء مراجعاتي أنّ كثيرًا ممن نقل عن الطبري، ربّما أخطأ في فهم مُرَاد الطبري، فاعترض عليه، لمّا استغلقَ عليه بعضُ عبارته. فقيدت بعضَ ما بدا لي خلالَ التعليق، ولم أستوعِبْ ذلك استيعَابًا مخافة الإطالة، وتركت كثيرًا مما وقفتُ عليه من ذلك في الجزء الأوّل، ولكني أرجو أنْ أستدرِك ما فاتني من ذلك في الأجزاء الباقية من التفسير إن شاء الله ربُّنَا سبحانه.

وبيّنتُ ما وقفتُ عليه من اصطلاح النحاة القدماء وغيرهم، ممّا استعمله الطبري، وخالفَه النحاةُ وغيرهم في اصطلاحهم، بعد ذلك، إلى اصطلاح مُسْتَحدَث. وربّما فاتني من ذلك شيءٌ، ولكني أرجو أنْ أبيّن ذلك فيما يأتي من الأجزاء. وقد وضعتُ فهرسًا خاصًّا بالمصطلحات، في آخر كلّ جزءٍ، حتى يتيسّر لطالب ذلك أن يجدَ ما استبهَمَ عليه من الاصطلاح في موضع، في جزءٍ آخر من الكتاب.
এগুলোর মধ্যে যা অনুল্লিখিত ছিল আমি সেগুলোর ব্যাখ্যা করেছি এবং এর অন্তর্ভুক্ত কবিতাগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোর যাচাই-বাছাই ও গবেষণার প্রয়োজন ছিল তা সম্পন্ন করেছি; এক্ষেত্রে আমি যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা বজায় রেখেছি।

পর্যালোচনাকালে আমি লক্ষ্য করেছি যে, যারা ইমাম তাবারী থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন তাঁদের অনেকেই সম্ভবত তাবারীর উদ্দেশ্য অনুধাবনে ভুল করেছেন এবং কোনো কোনো বক্তব্য তাঁদের নিকট দুর্বোধ্য ঠেকলে তাঁরা তাঁর সমালোচনা করেছেন। তাই টীকা প্রদানকালে আমার নিকট যা প্রতিভাত হয়েছে তা আমি লিপিবদ্ধ করেছি; তবে কলেবর দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় আমি তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রদান করিনি। এ সংক্রান্ত অনেক বিষয় আমি প্রথম খণ্ডে বাদ দিয়েছি, তবে আমি আশা রাখি যে, আমাদের মহান প্রতিপালক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি চান, তবে তাফসিরের অবশিষ্ট খণ্ডগুলোতে আমি এই অপূর্ণতাটুকু সংশোধন করে নিতে পারব।

প্রাচীন ব্যাকরণবিদ ও অন্যান্য আলিমগণের যেসব পরিভাষা ইমাম তাবারী ব্যবহার করেছেন এবং পরবর্তীকালের ব্যাকরণবিদ ও পণ্ডিতগণ যেগুলোর পরিবর্তে নবসৃষ্ট পরিভাষা গ্রহণ করেছেন, আমি সেগুলো ব্যাখ্যা করে দিয়েছি। হতে পারে এক্ষেত্রে আমার পক্ষ থেকে কোনো কিছু বাদ পড়ে গেছে, তবে আমি আশা করি যে আগামী খণ্ডগুলোতে আমি তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করব। আমি প্রত্যেক খণ্ডের শেষে পরিভাষার জন্য একটি বিশেষ নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যাতে কোনো জ্ঞানান্বেষী পাঠকের নিকট কোনো পরিভাষা এক স্থানে অস্পষ্ট মনে হলে তিনি গ্রন্থের অন্য খণ্ড থেকে তা সহজেই খুঁজে পেতে পারেন।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٦)
وكنتُ أحبُّ أن أبيّن ما انفردَ به الطبريّ من القول في تأويل بعض الآياتِ، وأشرح ما أَغْفَله المفسّرون غيرُه، ولكني خفتُ أن يكونَ ذلك سببًا في زيادة الكتاب طولا على طوله؛ مع أني أَرَى أن هذا أمرٌ يكشف عن كتاب الطبري، ويزيدنا معرفة بالطبري المفسّر، وبمنهجه الذي اشتقّه في التفسير، ولم اختلف المفسّرون من بعده، فأغفلوا ما حرصَ هو على بيانه؟

وكنتُ أحبُّ أيضًا أن أُسَهِّل على قارئ كتابه، فأجعل في آخرِ الآياتِ المتتابعة التي انتهى من تفسيرها، مُلَخَّصًا يجمَعُ ما تفرَّق في عشراتٍ من الصفحاتِ. وذلك أني رأيتُ نفسي قديمًا، ورأيت المفسِّرين الذين نقلوا عَنْهُ، كانوا يقرأون القطعة من التفسير مفصولةً عمَّا قبلها، أو كانوا يقرأونه متفرِّقًا. وهذه القراءةُ، كما تبيِّن لي، كانتْ سببًا في كثيرٍ من الخَلْط في معرفة مُرَادِ الطبري، وفي نسبة أقوالٍ إليه لم يقلْها. لأنَّه لما خاف التكرار لطول الكتابِ، اقتصَر في بعض المواضِع على ما لَا بُدَّ منه، ثقَةً منه بأنّه قد أبان فيما مضى من كتابه عن نهجه في تفسير الآيات المتصلة المعاني. والقارئ الملتمِس لمعنى آيةٍ من الآياتِ، ربَّما غَفَل عن هذا الترابُط بين الآية التي يقرؤها، والآيات التي سبقَ للطبري فيها بيانٌ يتّصل كل الاتصال ببيانه عن هذه الآية. ولكني حين بدأت أفعل ذلك، وجدت الأمر شاقًا عسيرًا، وأنه يحتاجُ إِلى تكرار بعضِ ما مضى، وإلى إِطالةٍ في البيانِ. وهذا شيءٌ يزيدُ التفسيرَ طولا وضخامة.

ولمَّا رأيتُ أن كثيرًا من العلماء كان يعيبُ على الطبري أنه حشَدَ في كتابِهِ كثيرًا من الرواية عن السالفين، الذين قرأوا الكُتُب، وذكروا في معاني القرآنِ ما ذكروا من الرواية عن أهل الكتابَيْن السالِفَيْن: التَّوراة والإنجيل - أحببتُ أن أكشف عن طريقة الطبري في الاستدلال بهذه الرواياتِ روايةً روايةً، وأبيّن كيف أخطأ الناسُ في فهم مقصده، وأنّه لم يَجْعل هذه الروايات قطُّ مهيمنةً على كتاب الله الذي لَا يأتيه الباطل من يديه ولا من خلفه. وأحببتُ أن أبيّن عند كُلِّ روايةٍ مقالة الطبريّ في إِسنادِها، وأنه إسنادٌ لَا تقوم به حُجَّةٌ في دين الله، ولا في تفسير كتابه،
আমি চেয়েছিলাম তাবারী কিছু আয়াতের তাফসীরে যেসব একক মত ব্যক্ত করেছেন তা স্পষ্ট করতে এবং অন্য মুফাসসিরগণ যা এড়িয়ে গিয়েছেন তা ব্যাখ্যা করতে; কিন্তু আমার ভয় হলো যে, এতে কিতাবটির কলেবর পূর্বের চেয়ে আরও বৃদ্ধি পাবে। যদিও আমি মনে করি যে, এটি তাবারীর কিতাবকে আরও উন্মোচিত করত এবং মুফাসসির হিসেবে তাবারী ও তাঁর উদ্ভাবিত তাফসীর পদ্ধতি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান আরও বৃদ্ধি করত। আর কেনই বা পরবর্তী মুফাসসিরগণ তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং তিনি যা স্পষ্ট করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, তারা কেন তা এড়িয়ে গিয়েছেন?

আমি আরও চেয়েছিলাম পাঠকের জন্য কিতাবটি সহজ করতে। তাই ধারাবাহিকভাবে যে আয়াতগুলোর তাফসীর শেষ হয়েছে, তার শেষে একটি সারসংক্ষেপ যুক্ত করতে চেয়েছিলাম যা বহু পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে থাকা আলোচনাকে একত্রিত করবে। এর কারণ হলো, আমি পূর্বে নিজের ক্ষেত্রে এবং তাবারী থেকে উদ্ধৃতি প্রদানকারী মুফাসসিরদের ক্ষেত্রেও দেখেছি যে, তারা তাফসীরের কোনো অংশ তার পূর্ববর্তী অংশের সাথে সম্পর্কহীনভাবে অথবা বিচ্ছিন্নভাবে পাঠ করতেন। আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ধরনের পাঠ পদ্ধতি তাবারীর উদ্দেশ্য অনুধাবনে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং তাঁর দিকে এমন সব বক্তব্য আরোপের কারণ হয়েছে যা তিনি বলেননি। কারণ, কিতাব দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় তিনি পুনরাবৃত্তি পরিহার করতে গিয়ে কিছু স্থানে কেবল অপরিহার্য বিষয়টুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। তিনি এই আত্মবিশ্বাসে ছিলেন যে, সমজাতীয় অর্থবোধক আয়াতের তাফসীরে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি তিনি কিতাবের পূর্ববর্তী অংশে বর্ণনা করে এসেছেন। কোনো আয়াতের অর্থ অনুসন্ধিৎসু পাঠক হয়তো বর্তমানে পঠিত আয়াতের সাথে পূর্ববর্তী আয়াতগুলোর সেই গভীর যোগসূত্র সম্পর্কে অসতর্ক থাকেন, যে আয়াতগুলোতে তাবারী ইতোমধ্যেই বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যা বর্তমান আয়াতের সাথে পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পর্কিত। কিন্তু যখন আমি এটি করতে শুরু করলাম, তখন আমি বিষয়টিকে অত্যন্ত কঠিন ও শ্রমসাধ্য হিসেবে পেলাম। এতে পূর্বের কিছু কথার পুনরাবৃত্তি এবং দীর্ঘ ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতো, যা এই তাফসীর গ্রন্থের কলেবর ও বিশালতাকে আরও বাড়িয়ে দিত।

আমি যখন দেখলাম যে, অনেক আলেম তাবারীর সমালোচনা করেন এই বলে যে, তিনি তাঁর কিতাবে পূর্ববর্তীদের থেকে প্রচুর বর্ণনা স্তূপীকৃত করেছেন যারা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ পাঠ করেছিলেন এবং কুরআনের অর্থের বর্ণনায় আহলে কিতাবদ্বয়ের (তাওরাত ও ইঞ্জিল) পূর্বতন বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছিলেন—তখন আমি প্রতিটি বর্ণনার ক্ষেত্রে তাবারীর দলীল পেশ করার পদ্ধতি উন্মোচিত করতে চেয়েছি। আমি স্পষ্ট করতে চেয়েছি যে, লোকেরা তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে কোথায় ভুল করেছে এবং তিনি কখনই এই বর্ণনাগুলোকে আল্লাহর কিতাবের ওপর কর্তৃত্বশীল বা নির্ধারক হিসেবে গ্রহণ করেননি, যে কিতাবে কোনো মিথ্যা সামনে বা পেছন থেকে প্রবেশ করতে পারে না। আমি প্রতিটি বর্ণনার ক্ষেত্রে তার সনদ সম্পর্কে তাবারীর বক্তব্য স্পষ্ট করতে চেয়েছি যে, এটি এমন সনদ যার মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনে বা তাঁর কিতাবের তাফসীরে কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় না।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٧)
وأن استدلاله بها كان يقوم مقام الاستدلالِ بالشِّعر القديم، على فهم معنى كلمة، أو للدلالة على سياقِ جملة. وقد علقتُ في هذا الجزء 1: 454، 458 وغيرهما من المواضع تعليقًا يبينُ عن نهج للطبري في الاستدلال بهذه الآثار، وتركتُ التعليقَ في أماكنَ كثيرة جدًّا، اعتمادًا على هذا التعليق. ورأيتُ أن أدَعَ ذلك حتى أكتب كتابًا عن "الطبري المفسِّر" بعد الفراغ من طبع هذا التفسير. لأني رأيتُ هناكَ أشياء كثيرةً، ينبغي بيانُها، عن نهج الطبري في تفسيره. ورأيتني يجدّ لي كُلَّ يوم جديدٌ في معرفة نهجه، كلَّما زدتُ معرفةً بكتابه، وإلفًا لطريقته. فاسأل الله أن يعنيني أن أفردَ له كتابًا في الكلام عن أسلوبه في التفسير، مع بيان الحجّة في موضع موضعٍ، على ما تبيّن لي من أسلوبه فيه. ورحمَ الله أبا جعفر، فإنه، كما قال، كان حدَّث نفسه بهذا التفسيرِ وهو صبيٌّ، واستخار الله في عمله، وسأله العونَ على ما نواه، ثلاثَ سنين قبل أن يعمله، فأعانه الله سبحانه. ثم لما أراد أن يملي تفسيره قال لأصحابه: أتنشطون لتفسير القرآن؟ قالوا: كم يكون قدرُه؟ فقال: ثلاثون ألف ورقة. فقالوا: هذا ممّا تفنَى فيه الأعمارُ قبل تمامه! فاختصره لهم في ثلاثة آلاف ورقةٍ. فكان هذا الاختصار سببًا في تركه البيانَ عمّا نجتهد نحنُ في بيانه عند كل آية. وهذا الاختصارُ بيّنٌ جدًّا لمن يتتبّع هذا التفسيرَ من أولِه إِلى آخره.

هذا وقد كنتُ رأيتُ أن أكتب ترجمةً للطبري أجْعَلُها مقدّمَةً للتفسير. ولكنّي وجدت الكتابة عن تفسيره في هذه الترجمة، لن تتيسّر لي
এবং এ সকল বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর প্রমাণ উপস্থাপন কোনো শব্দের অর্থ অনুধাবন কিংবা কোনো বাক্যের প্রেক্ষাপট নির্দেশ করার ক্ষেত্রে প্রাচীন কবিতার মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের স্থলাভিষিক্ত ছিল। আমি এই খণ্ডের ৪৫৪ ও ৪৫৮ পৃষ্ঠা এবং অন্যান্য স্থানে এমন কিছু টীকা প্রদান করেছি, যা এই আছার বা বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে তাবারির দলিল পেশ করার পদ্ধতিটি সুস্পষ্ট করে; আর এই টীকাগুলোর ওপর নির্ভর করে আমি অনেক স্থানেই মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছি। আমি সংকল্প করেছি যে, এই তাফসির মুদ্রণের কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর ‘আল-তাবারী আল-মুফাসসির’ (মুফাসসির হিসেবে তাবারী) শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা না করা পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই রেখে দেব। কারণ আমি সেখানে এমন অনেক বিষয় দেখেছি, যা তাবারির তাফসির রচনার পদ্ধতির প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আমি অনুভব করছি যে, যতই তাঁর কিতাব সম্পর্কে আমার জ্ঞান বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাঁর পদ্ধতির সাথে আমার সখ্যতা বাড়ছে, ততই প্রতিদিন তাঁর কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আমার কাছে নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে। তাই আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে তাঁর তাফসির শৈলী সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার তাওফিক দান করেন, যেখানে তাঁর পদ্ধতির আলোকে প্রতিটি স্থানের স্বপক্ষে দলিলাদি বিশদভাবে বর্ণিত হবে। আল্লাহ আবু জাফর (তাবারী)-এর ওপর রহম করুন; তিনি যেমনটি বলেছিলেন যে, শৈশব থেকেই তিনি মনে মনে এই তাফসির রচনার সংকল্প করেছিলেন এবং এই কাজ শুরুর পূর্বে তিন বছর ধরে তিনি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা ও সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন; অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে সাহায্য করেছেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর তাফসির শ্রুতিলিখনের ইচ্ছা করলেন, তখন তাঁর সঙ্গীদের বললেন: “তোমরা কি কুরআনের তাফসিরের জন্য উদ্যমী হবে?” তারা জিজ্ঞেস করলেন: “এর কলেবর কেমন হবে?” তিনি বললেন: “ত্রিশ হাজার পৃষ্ঠা।” তারা বললেন: “এ তো এমন এক কাজ যা সমাপ্ত হওয়ার আগেই জীবন নিঃশেষ হয়ে যাবে!” ফলে তিনি তাঁদের জন্য তা সংক্ষেপ করে তিন হাজার পৃষ্ঠায় নিয়ে এলেন। এই সংক্ষেপণই ছিল এমন এক কারণ, যার ফলে তিনি এমন সব ব্যাখ্যা বাদ দিয়েছেন যা আমরা বর্তমানে প্রতিটি আয়াতের ক্ষেত্রে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর এই সংক্ষেপণের বিষয়টি তাঁর জন্য অত্যন্ত স্পষ্ট, যিনি এই তাফসিরটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গভীর অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করবেন।

প্রসঙ্গতঃ আমি তাবারির একটি জীবনী রচনার কথা ভেবেছিলাম যা এই তাফসিরের ভূমিকা হিসেবে যুক্ত করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আমি অনুভব করলাম যে, এই জীবনীর ভেতরে তাঁর তাফসির সম্পর্কে বিস্তারিত লেখা আমার জন্য সহজসাধ্য হবে না।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٨)
إلا بعد الفراغ من كتابه، وكشف النقاب عمّا استبهم من منهاجِه في تفسيره. فأعرضتُ عن ذلك، وقلت أجمع ترجمةً للطبري، فجمعتُ كُلّ ما في الكتب المطبوعة والمخطوطة من ترجمة وأخبار، وما قيل في تصانيفه وتعدادها، فإذا هي قد تجاوزت ما يمكن أن يكونَ ترجمةً في صدر هذا التفسير، فآثرتُ أن أفردها كتابًا قائمًا بنفسه، سوف يخرجُ قريبًا بعون الله سبحانه.

أمّا الفهارسُ، فإِنّي كنت أريدُ أن أدعَها حتى أفرغَ من الكتاب كُلِّه، فأصدرها في مجلداتٍ مستقلّة، ولكن الكتابَ كبيرٌ، وحاجةُ الناسِ، وحاجتي أنَا، إلى مراجعة بعضه على بعض، وربط أوّله بآخره أوجبتْ أن أتعجَّل فأُفرد بعض الفهارس مع كُلّ جزء. فجعلت فهرسًا للآيات التي استدلّ بها في غير موضعها من التفسير. فقد تبيّن لي أنّه ربّما ذكر في تفسير الآية في هذا الموضع، قولا في الآية لم يذكرُه في موضعها من تفسير السورة التي هي منها.

وأفردت فهرسًا ثانيًا لألفاظ اللغة، لأنه كثير الإحالة على ما مضى في كتابه، وليكون هذا الفهرس مرجعًا لكل اللُّغَة التي رواها الطبري، وكثير منها ممّا لم يرد في المعاجم، أو جاء بيانه عن معانيها أجودَ من بيان أصحاب المعاجم. وهو فهرسٌ لَا بُدَّ أن يتم عند كُلّ جزء، حتى لَا يسقط عليّ شيءٌ من لغة الطبري.

وأفردت فهرسًا ثالثًا لمباحث العربيّة، لأنّه كثيرًا ما يحيلُ على هذه المواضِع، ولأنّ فيها نفعًا عظيمًا تبيّنتُه وأنا أعمل في هذا التفسير. وزدت
তার কিতাব সমাপ্ত করার এবং তাঁর তাফসীরের কর্মপদ্ধতির অস্পষ্ট বিষয়গুলো উন্মোচন করার পর ছাড়া এটি সম্ভব ছিল না। তাই আমি সেই সংকল্প থেকে নিবৃত্ত হলাম এবং সিদ্ধান্ত নিলাম যে ইমাম তাবারীর একটি জীবনী সংকলন করব। এরপর আমি মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি আকারে প্রাপ্ত কিতাবসমূহ থেকে তাঁর জীবনী ও বৃত্তান্ত এবং তাঁর রচনাবলি ও সেগুলোর সংখ্যা সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে, তার সবই সংগ্রহ করলাম। কিন্তু দেখা গেল যে, সংগৃহীত বিষয়াদি এই তাফসীরের শুরুতে সংযোজিত কোনো সাধারণ জীবনী হওয়ার সীমা অতিক্রম করে গেছে। তাই আমি সেটিকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে পৃথক করার সিদ্ধান্ত নিলাম, যা মহান আল্লাহর সাহায্যে শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।

আর নির্ঘণ্টসমূহের ব্যাপারে আমার ইচ্ছা ছিল যে, সেগুলো পুরো কিতাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখব এবং পরবর্তীতে স্বতন্ত্র খণ্ড হিসেবে প্রকাশ করব। কিন্তু কিতাবটি অত্যন্ত বিশাল, আর মানুষের এবং সেই সাথে আমার নিজেরও এক অংশের সাথে অন্য অংশের মিলিয়ে দেখার ও শুরুর সাথে শেষের সংযোগ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা আমাকে এই বিষয়ে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে যে, আমি প্রতিটি খণ্ডের সাথে কিছু নির্ঘণ্ট পৃথকভাবে যুক্ত করব। তাই আমি সেই আয়াতগুলোর একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি যেগুলোকে তিনি তাফসীরের মূল স্থানের বাইরে অন্য কোথাও দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। কারণ আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি হয়তো কোনো আয়াতের ব্যাখ্যায় এই স্থানে এমন কোনো উক্তি উল্লেখ করেছেন যা সংশ্লিষ্ট সূরার তাফসীরে সেই আয়াতের মূল স্থানে উল্লেখ করেননি।

আমি ভাষাতাত্ত্বিক শব্দাবলির জন্য একটি দ্বিতীয় নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি; কারণ তিনি কিতাবের পূর্ববর্তী আলোচনার ওপর প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেন। এছাড়া এই নির্ঘণ্টটি যেন তাবারী কর্তৃক বর্ণিত সকল ভাষাতাত্ত্বিক বিষয়ের একটি আকর হতে পারে; যার অনেকগুলোই অভিধানসমূহে পাওয়া যায় না, অথবা সেগুলোর অর্থের বর্ণনায় তিনি অভিধানপ্রণেতাদের চেয়েও অধিকতর নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। এটি এমন এক নির্ঘণ্ট যা প্রতিটি খণ্ডের সাথেই সম্পন্ন করা আবশ্যক, যাতে তাবারীর ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনার কোনো কিছুই আমার দৃষ্টিচ্যুত না হয়।

আমি আরবী ব্যাকরণ ও ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য একটি তৃতীয় নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি; কারণ তিনি প্রায়শই এসব প্রসঙ্গের অবতারণা করেন এবং এই তাফসীরে কাজ করার সময় আমি এগুলোর মহান উপকারিতা উপলব্ধি করেছি। এবং আমি আরও বৃদ্ধি করেছি...
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٩)
فهرسًا رابعًا للمصطلحات القديمة التي استحدث الناسُ غيرها، ليسْهُل على قارئ كتابه أن يجد تفسيرها في موضعها، فإِني لم أفسِّرها عند كُلّ موضع ذكرتْ فيه، لكثرة تكرارها في الكتاب. وفهرسًا خامسًا، هو ردوده على الفرق وأصحاب الأهواءِ.

وأفردتُ فهرسًا سادسًا للرجال الذي تكَلَّم عنهم أخي السيد أحمد في المواضع المتفرقة من التفسير، حتى يسهلُ على من يريد أن يحقّق إسنادًا أن يجد ضالّته. فإِنّه حفظه الله، لم يلتزم الكتابة على الرجال عند كُلّ إِسنادٍ. وهذا فهرسٌ لَا بُدّ منه مع كُلِّ جزءٍ حتى لَا تتكرّر الكتابة على الرجال في مواضع مختلفة من الكتاب، ولتصحيح أسماء الرجال حيث كانوا من التفسير.

أما الفهرس العام للكتاب، فقد اقتصرت فيه على ذِكْرِ ما سوى ذلك، ولم أذكر فيه بدأه في تفسير كُلّ آية، لأنّ آيات المصحف مرقمة، وأثبتنا أرقام الآيات في رأس الصفحات. فمن التمس تفسير آية، فليستخرج رقمها من المصحف، وليطلبْ رقمها في تفسير الطبري من رؤوس الصفحات.

* * *

هذا، وقد تركتُ أن أصْنَع للشعر فهرسًا مع كلِّ جزءٍ، فإني سأجعلُ لَهُ فهرسًا مفردًا بعد تمام طبع الكتابِ، على نمط اخترتُه لصناعته.

وأمَّا فهارس الكتاب عامَّة، فستكون بعد تمام الكتاب كله. وهي تشتمل فهارس أسانيد الطبري، على طراز أرجُو أن أكون موفقًا في اختياره وعمله. ثم فهرس الأعلام، وفهرس الأماكن، وفهرسُ المعاني،
চতুর্থ একটি নির্ঘণ্ট হলো সেই সকল প্রাচীন পরিভাষার জন্য যেগুলোর পরিবর্তে মানুষ নতুন শব্দ উদ্ভাবন করেছে, যাতে এই কিতাবের পাঠকের জন্য সেগুলোর ব্যাখ্যা স্ব স্ব স্থানে খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। কেননা কিতাবে এগুলোর অত্যধিক পুনরাবৃত্তির কারণে আমি প্রতিটি উল্লেখস্থলে সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করিনি। পঞ্চম নির্ঘণ্টটি হলো বিভিন্ন ভ্রান্ত দল ও প্রবৃত্তিপূজারীদের বিষয়ে তাঁর খণ্ডনসমূহ।

ষষ্ঠ একটি নির্ঘণ্ট আমি সেই সকল ব্যক্তিবর্গের জন্য স্বতন্ত্রভাবে তৈরি করেছি যাদের সম্পর্কে আমার ভাই আস-সাইয়্যিদ আহমাদ তাফসীরের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা করেছেন; যেন কেউ কোনো সনদ যাচাই করতে চাইলে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি সহজেই খুঁজে পায়। কেননা তিনি—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—প্রতিটি সনদের ক্ষেত্রে রাবীদের সম্পর্কে আলোচনা করার বাধ্যবাধকতা রক্ষা করেননি। কিতাবের বিভিন্ন স্থানে রাবীদের সম্পর্কে আলোচনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে এবং তাফসীরের যেখানেই রাবীদের নাম এসেছে তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে প্রতিটি খণ্ডের সাথে এই নির্ঘণ্টটি অপরিহার্য।

আর কিতাবের সাধারণ নির্ঘণ্টের ক্ষেত্রে আমি উপরোক্ত বিষয়গুলো ব্যতীত অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি। এতে আমি প্রতিটি আয়াতের তাফসীরের সূচনা উল্লেখ করিনি, কারণ কুরআন মাজীদের আয়াতসমূহ নম্বরযুক্ত এবং আমরা পৃষ্ঠাসমূহের উপরিভাগে আয়াতের নম্বরসমূহ স্থির করে দিয়েছি। সুতরাং কেউ কোনো আয়াতের তাফসীর সন্ধান করতে চাইলে তিনি যেন কুরআন মাজীদ থেকে তার নম্বরটি দেখে নেন এবং তাফসীরে তাবারীর পৃষ্ঠার শিরোনামে সেই নম্বরটি তালাশ করেন।

* * *

তদুপরি, আমি প্রতিটি খণ্ডের সাথে কবিতার জন্য নির্ঘণ্ট তৈরি করা পরিহার করেছি; কেননা কিতাবটির মুদ্রণ সম্পন্ন হওয়ার পর আমি এর জন্য আমার মনোনীত একটি বিশেষ পদ্ধতিতে পৃথক একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করব।

আর সামগ্রিকভাবে কিতাবের নির্ঘণ্টসমূহ পুরো কিতাবটি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে। এতে তাবারীর সনদসমূহের নির্ঘণ্ট অন্তর্ভুক্ত থাকবে এমন এক পদ্ধতিতে যা চয়ন ও সম্পাদনায় আমি সফলকাম হওয়ার আশা রাখি। এরপর থাকবে ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট, স্থানের নির্ঘণ্ট এবং বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٢٠)
والفهارس الجامعة لما أفردتُه من الفهارس مع كلِّ جزء. وهذا شيءٌ لَا بُدَّ منه، لضبط ما في التفسير من مناحي العلم المختلفة، وليتيسّر على الطالب أن يجد بُغْيته حيث شاء من كتاب الطبري، لأنّه كثير الإحالة في كتابه على ما مضى منه.

* * *

وبعد، فقد بذلتُ جهدي، وتحرَّيتُ الصوابَ ما استطعتُ، وأردتُ أن أجعَلَ نشرَ هذا الكتابِ الإمامِ في التفسير، زُلْفَى إِلى اللهِ خالصةً. ولكن كيف يخلُص في زماننا عملٌ من شائبة تشوبهُ! فأسألُ الله أن يتقبَّل مني ما أخلصتُ فيه، وأن يغفر لي ما خالطه مِنْ أمرِ هذه الدنيا، وأن يتغمّدني برحمته يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مالٌ وَلا بَنُونَ، إلا مَنْ أَتَى اللهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ. وأضرع إليه أن يغفر لَنَا ولإخوانِنا الَّذِينَ سَبَقُونَا بالإيمان، وآخرُ دَعْوَانا أنِ الحمدُ لله ربِّ العالمين. محمود محمد شاكر
এবং সেই সংকলিত নির্ঘণ্টসমূহ যা আমি প্রতিটি খণ্ডের সাথে পৃথকভাবে যুক্ত করেছি। এটি একটি অপরিহার্য বিষয়, যাতে তাফসিরের অন্তর্ভুক্ত জ্ঞানের বিভিন্ন দিক সুসংবদ্ধ করা যায় এবং শিক্ষার্থীর পক্ষে তাবারির কিতাব থেকে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়; কারণ তিনি তাঁর কিতাবে পূর্বালোচিত প্রসঙ্গের প্রতি অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

* * *

অতঃপর, আমি আমার সর্বোচ্চ শ্রম ব্যয় করেছি এবং সাধ্যমতো সঠিকটি অনুসরণের চেষ্টা করেছি। তাফসির শাস্ত্রের এই ইমামতুল্য কিতাবটির প্রকাশনাকে আমি কেবল আল্লাহর নৈকট্য লাভের একনিষ্ঠ মাধ্যম করতে চেয়েছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে কোনো আমল কি আর ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত থাকতে পারে! তাই আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার একনিষ্ঠ কাজগুলো কবুল করেন এবং এই পার্থিব বিষয়ের সংমিশ্রণে যা কিছু ঘটেছে তা ক্ষমা করেন; আর সেই দিনে আমাকে তাঁর রহমত দ্বারা আবৃত করেন যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে। আমি তাঁর কাছে বিনীত প্রার্থনা জানাই যেন তিনি আমাদের এবং ঈমানের পথে আমাদের অগ্রবর্তী ভাইদের ক্ষমা করে দেন। আমাদের শেষ আহ্বান হলো—সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। মাহমুদ মুহাম্মদ শাকির
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

بركة من الله وأمر

قرئ على أبي جعفر محمد بن جرير الطَّبري في سنة ست وثلثمئة، قال: الحمد لله الذي حَجَّت الألبابَ بدائعُ حِكَمه، وخَصَمت العقولَ لطائفُ حُججه (1) وقطعت عذرَ الملحدين عجائبُ صُنْعه، وهَتفتْ في أسماع العالمينَ ألسنُ أدلَّته، شاهدةٌ أنه الله الذي لَا إله إلا هو، الذي لَا عِدْلَ له معادل (2) ولا مثلَ له مماثل، ولا شريكَ له مُظاهِر، ولا وَلدَ له ولا والد، ولم يكن له صاحبةٌ ولا كفوًا أحدٌ؛ وأنه الجبار الذي خضعت لجبروته الجبابرة، والعزيز الذي ذلت لعزّته الملوكُ الأعزّة، وخشعت لمهابة سطوته ذَوُو المهابة، وأذعنَ له جميعُ الخلق بالطاعة طوْعًا وَكَرْهًا، كما قال الله جل ثناؤه وتقدست أسماؤه: {وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَظِلالُهُمْ بِالْغُدُوِّ وَالآصَالِ} [سورة الرعد: 15] . فكل موجود إلى وَحدانيته داع، وكل محسوس إلى رُبوبيته هاد، بما وسَمهم به من آثار الصنعة، من نقص وزيادة، وعجز وحاجة، وتصرف في عاهات عارضة، ومقارنة أحداث لازمة، لتكونَ له الحجة البالغة.

ثم أرْدف ما شهدتْ به من ذلك أدلَّتُه، وأكد ما استنارت في القلوب منه بهجته، برسلٍ ابتعثهم إلى من يشاء من عباده، دعاةً إلى ما اتضحت لديهم صحّته، وثبتت في العقول حجته، {لِئَلا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ} [سورة النساء: 165]
(1) حاجه يحاجه: نازعه الحجة، وحجه يحجه: غلبه على حجته. وخاصمه: جادله بالحجة والبرهان، وخصمه: غلبه وظهرت حجته على حجته. واللطائف: جمع لطيفة، وكل شيء دقيق محكم وغامض خفي، يحتاج إلى الرفق والتأني في إدراكه، فهو لطيف.

(2) العدل (بكسر العين وفتحها وسكون الدال) والعديل: النظير والمثيل. وعادله: ساواه وماثله.
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত ও নির্দেশ

৩০৬ হিজরি সনে আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারির সামনে পাঠ করা হয়েছে; তিনি বলেন: সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যাঁর হিকমতের অনন্য নির্দশনসমূহ মানুষের বোধশক্তিকে বাকরুদ্ধ করে দেয়, যাঁর সূক্ষ্ম দলিলসমূহ মানববুদ্ধির ওপর জয়লাভ করে (১), যাঁর সৃষ্টিজগতের বিস্ময়সমূহ নাস্তিকদের অজুহাতকে ছিন্ন করে দেয় এবং যাঁর প্রমাণের ভাষাসমূহ বিশ্ববাসীর কর্ণকুহরে উচ্চরবে ঘোষণা করে যে, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই; তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই (২), তাঁর কোনো সদৃশ নেই, তাঁর কোনো সাহায্যকারী অংশীদার নেই, তাঁর কোনো সন্তান বা পিতা নেই, তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই এবং তাঁর সমতুল্যও কেউ নেই। আর তিনি এমন প্রতাপশালী যে, প্রতাপশালীরা তাঁর মহত্ত্বের সামনে মস্তক অবনত করে। তিনি এমন পরাক্রমশালী যে, সম্মানিত রাজন্যবর্গ তাঁর সম্মানের সামনে তুচ্ছ ও লাঞ্ছিত হয়। আর মর্যাদাশালী ব্যক্তিবর্গ তাঁর কঠোরতার ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে এবং সকল সৃষ্টি তাঁর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেছে স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়; যেমনটি মহিমান্বিত আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা আল্লাহর প্রতি সিজদাবনত হয় ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় এবং তাদের ছায়াসমূহও সকালে ও সন্ধ্যায় (সিজদাবনত হয়)।" [সূরা আর-রা'দ: ১৫]। সুতরাং প্রতিটি বিদ্যমান বস্তু তাঁর একত্বের প্রতি আহ্বানকারী এবং প্রতিটি অনুভবযোগ্য বিষয় তাঁর প্রভুত্বের দিকে পথপ্রদর্শক; যা তিনি তাদের ওপর সৃষ্টির চিহ্নের মাধ্যমে ছাপিয়ে দিয়েছেন—যেমন হ্রাস-বৃদ্ধি, অক্ষমতা ও অভাবগ্রস্ততা, আকস্মিক বিপদ-আপদের পরিবর্তনশীলতা এবং নশ্বর ঘটনার সাহচর্য—যাতে তাঁর চূড়ান্ত দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়।

অতঃপর তিনি সেই সকল প্রমাণের ধারাবাহিকতায়—যার সাক্ষ্য সৃষ্টির নিদর্শনসমূহ দিচ্ছে—এবং অন্তরে যাঁর আলোর উজ্জ্বলতা দৃঢ়মূল হয়েছে, তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাঁর প্রতি ইচ্ছা রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। তাঁরা আহ্বানকারী ছিলেন সেই সত্যের দিকে যা তাঁদের কাছে সুস্পষ্ট হয়েছে এবং যার দলিল বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, "যাতে রাসূলদের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে।" [সূরা আন-নিসা: ১৬৫]
(১) 'হাজ্জাহু ইয়ুহাজ্জুহু' মানে দলিলের মাধ্যমে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া, আর 'হাজ্জাহু ইয়াহুজুহু' অর্থ দলিলে তাকে পরাজিত করা। 'খাসামাহু' অর্থ দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তার সাথে বিতর্ক করা, আর 'খাসামাহু' (খ এর ওপর ফাতহা ও স এর ওপর পেশ যোগে) অর্থ তাকে পরাজিত করা এবং অন্যের দলিলের ওপর নিজের দলিলের বিজয় লাভ করা। আর 'লাতায়েফ' শব্দটি 'লাতিফাহ' এর বহুবচন; প্রতিটি সূক্ষ্ম, সুনিপুণ এবং গভীর রহস্যপূর্ণ বিষয়—যা অনুধাবন করার জন্য কোমলতা ও ধৈর্য প্রয়োজন—তাকে 'লাতিফ' বলা হয়।

(২) 'ইদল' (আইন অক্ষরে কাসরা বা ফাতহা এবং দাল অক্ষরে সুকুন যোগে) এবং 'আদিল' শব্দের অর্থ হলো সমকক্ষ ও সদৃশ। আর 'আদালাহু' অর্থ তার সমান হওয়া বা তার অনুরূপ হওয়া।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٤)
وليذَّكَّر أولو النهي والحلم. فأمدَّهم بعوْنه، وأبانهم من سائر خلقه، بما دل به على صدقهم من الأدلة، وأيدهم به من الحجج البالغة والآي المعجزة، لئلا يقول القائل منهم (1) {مَا هَذَا إِلا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يَأْكُلُ مِمَّا تَأْكُلُونَ مِنْهُ وَيَشْرَبُ مِمَّا تَشْرَبُونَ * وَلَئِنْ أَطَعْتُمْ بَشَرًا مِثْلَكُمْ إِنَّكُمْ إِذًا لَخَاسِرُونَ} [سورة المؤمنون: 33-34] فجعلهم سفراءَ بينه وبين خلقه، وأمناءه على وحيه، واختصهم بفضله، واصطفاهم برسالته، ثم جعلهم -فيما خصهم به من مواهبه، ومنّ به عليهم من كراماته- مراتبَ مختلفة، ومنازل مُفترقة، ورفع بعضهم فوق بعض درجات، متفاضلات متباينات. فكرَّم بعضهم بالتكليم والنجوى، وأيَّد بعضهم برُوح القدس، وخصّه بإحياء الموتى، وإبراء أولى العاهة والعمى، وفضَّل نبينا محمدًا صلى الله عليه وسلم، من الدرجات بالعليا، ومن المراتب بالعُظمى. فحباه من أقسام كرامته بالقسم الأفضل (2) وخصه من درجات النبوّة بالحظ الأجزَل، ومن الأتباع والأصحاب بالنصيب الأوفر. وابتعثه بالدعوة التامة، والرسالة العامة، وحاطه وحيدًا، وعصمه فريدًا، من كل جبار عاند، وكل شيطان مارد (3) حتى أظهر به الدّين، وأوضح به السبيل، وأنهج به معالم الحق، وَمَحق به منار الشِّرك. وزهق به الباطلُ، واضمحل به الضلالُ وخُدَعُ الشيطان وعبادةُ الأصنام والأوثان (4) مؤيدًا بدلالة على الأيام باقية، وعلى الدهور والأزمان ثابتة، وعلى مَرِّ الشهور والسنين دائمة، يزداد ضياؤها على كرّ الدهور إشراقًا، وعلى مرّ الليالي والأيام
(1) في المطبوع: "القائل فيهم"، ومثل هذا التبديل كثير في المطبوع، سأغفل منه ما شئت لكثرته، وطلبا للاختصار في التعليق بما لا غناء فيه.

(2) الأقسام: جمع قسم (بكسر فسكون) ، وهو الحظ والنصيب من الخير.

(3) الجبار العنيد والعاند: الذي جار ومال عن طريق الحق، ثم عتا وطغا وجاوز قدره. والمارد: الذي مرن على الشر حتى بلغ الغاية، فتطاول عتوا وتجبرًا.

(4) في المخطوطة: "وجدع" بالجيم مضمومة، من جدع الأنف، وهو قطعها، كناية عن الإذلال. ولا أظنها جيدة هنا. والخدع جمع خدعة (بضم فسكون) : وهي ما يخدع به من المكر والختل.
যাতে প্রজ্ঞা ও সহনশীলতার অধিকারীরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে। অতঃপর তিনি তাদেরকে স্বীয় সাহায্য দ্বারা পুষ্ট করেছেন এবং তাঁর অন্যান্য সৃষ্টি থেকে তাদেরকে পৃথক করেছেন সেই সব প্রমাণের মাধ্যমে যা দ্বারা তিনি তাদের সত্যবাদিতা নির্দেশ করেছেন। তিনি তাদেরকে অকাট্য যুক্তি ও অলৌকিক নিদর্শনাবলী দ্বারা শক্তিশালী করেছেন, যাতে তাদের মধ্যকার কোনো বক্তা এ কথা বলতে না পারে (১) {এ তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ বৈ নয়, তোমরা যা খাও সে-ও তা-ই খায় এবং তোমরা যা পান কর সে-ও তা-ই পান করে। আর যদি তোমরা তোমাদের মতো একজন মানুষের আনুগত্য করো, তবে তোমরা নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।} [সূরা আল-মুমিনুন: ৩৩-৩৪] অতঃপর তিনি তাদেরকে তাঁর ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে দূত হিসেবে নিযুক্ত করেছেন এবং তাঁর ওহীর আমানতদার বানিয়েছেন। তিনি তাদেরকে তাঁর বিশেষ অনুগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাঁর রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন। এরপর তিনি তাদেরকে—তাঁর প্রদত্ত দান এবং মর্যাদার ক্ষেত্রে—বিভিন্ন স্তর ও পৃথক অবস্থানে স্থাপন করেছেন। তাদের কারো কারো মর্যাদাকে অন্যের উপরে উন্নত করেছেন, যা একে অপরের থেকে শ্রেষ্ঠ ও ভিন্নতর। তিনি তাদের কাউকে সরাসরি কথোপকথন ও একান্তে আলাপের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, কাউকে রুহুল কুদস (পবিত্র আত্মা) দ্বারা শক্তিশালী করেছেন এবং তাঁকে মৃতকে জীবিত করা ও জন্মান্ধ ও শ্বেতী রোগীকে নিরাময় করার বিশেষ ক্ষমতা দান করেছেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তিনি দান করেছেন সুউচ্চ স্তর এবং মহান মর্যাদা। তিনি তাঁকে তাঁর সম্মানের বিভিন্ন ভাগের মধ্যে সর্বোত্তম অংশ প্রদান করেছেন (২) এবং নবুওয়াতের স্তরের মধ্যে তাঁকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ভাগ দান করেছেন। অনুসারী ও সঙ্গীদের দিক থেকেও তাঁকে দিয়েছেন প্রাচুর্য। তিনি তাঁকে পূর্ণাঙ্গ দাওয়াত ও সর্বজনীন রিসালাতসহ প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁকে এককাবস্থায় রক্ষা করেছেন এবং প্রত্যেক জেদী স্বৈরাচার ও অবাধ্য শয়তান থেকে অনন্যভাবে সুরক্ষা প্রদান করেছেন (৩) পরিশেষে তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে বিজয়ী করেছেন, সঠিক পথকে স্পষ্ট করেছেন, সত্যের নিদর্শনগুলোকে সমুন্নত করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে শিরকের ভিত্তি নির্মূল করেছেন। তাঁর মাধ্যমে মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, পথভ্রষ্টতা, শয়তানের প্রতারণা এবং মূর্তি ও প্রতিমার পূজা দূরীভূত হয়েছে (৪) তিনি এমন এক প্রমাণের মাধ্যমে সমর্থিত, যা মহাকালের পরিক্রমায় স্থায়ী, যুগ-যুগান্তর ধরে সুদৃঢ় এবং মাস ও বছরের আবর্তনে চিরন্তন। সময়ের আবর্তনে তার জ্যোতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায় এবং রাত ও দিনের বিবর্তনে...
(১) মুদ্রণ কপিতে রয়েছে: "তাদের মধ্যে বক্তা", আর মুদ্রণ কপিতে এজাতীয় পরিবর্তন অনেক বেশি। আমি এর অনেকগুলোই বাদ দেব, কারণ টিকাগুলোতে অপ্রয়োজনীয় সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে এগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়।

(২) আকসাম: এটি 'কিসম'-এর বহুবচন, যার অর্থ কল্যাণের অংশ বা ভাগ্য।

(৩) জেদী স্বৈরাচার ও অবাধ্য: যে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, এরপর অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন করে নিজের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর 'মারিদ': যে মন্দের ওপর এমনভাবে অভ্যস্ত হয়েছে যে চরম সীমায় পৌঁছেছে এবং দম্ভ ও অহংকারের সাথে উদ্ধত হয়েছে।

(৪) পাণ্ডুলিপিতে 'জাদাআ' (জীম-এর পেশ সহযোগে) রয়েছে, যা নাক কেটে ফেলার অর্থ থেকে এসেছে, যা অপমানের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এখানে এটি যথার্থ বলে আমার মনে হয় না। আর 'খুদ' হলো 'খুদআ'-এর বহুবচন (খ-এর পেশ সহযোগে): এর অর্থ মকর ও প্রতারণা যা দিয়ে ধোঁকা দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٥)
ائتلاقًا، خِصِّيصَى من الله له بها دون سائر رسله (1) -الذين قهرتهم الجبابرة، واستذلَّتهم الأمم الفاجرة، فتعفَّتْ بعدهم منهم الآثار، وأخملت ذكرهم الليالي والأيام- ودون من كان منهم مُرْسلا إلى أمة دون أمة، وخاصّة دون عامةٍ، وجماعة دون كافَّة.

فالحمدُ لله الذي كرمنا بتصديقه، وشرّفنا باتِّباعه، وجعلنا من أهل الإقرار والإيمان به وبما دعا إليه وجاء به، صلى الله عليه وعلى آله وسلم، أزكى صلواته، وأفضلَ سلامه، وأتمَّ تحياته.

ثم أما بعد (2) فإنّ من جسيم ما خصّ الله به أمة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم من الفضيلة، وشرَّفهم به على سائر الأمم من المنازل الرفيعة، وحباهم به من الكرامة السنية، حفظَه ما حفظ عليهم -جلّ ذكره وتقدست أسماؤه- من وحيه وتنزيله، الذي جعله على حقيقة نبوة نبيهم صلى الله عليه وسلم دلالة، وعلى ما خصه به من الكرامة علامةً واضحة، وحجةً بالغة، أبانه به من كل كاذب ومفترٍ، وفصَل به بينهم وبين كل جاحد ومُلحِد، وفرَق به بينهم وبين كل كافر ومشرك؛ الذي لو اجتمع جميعُ من بين أقطارها، من جِنِّها وإنسها وصغيرها وكبيرها، على أن يأتوا بسورة من مثله لم يأتوا بمثله ولو كان بعضهم لبعض ظهيرًا (3) . فجعله لهم في دُجَى الظُّلَم نورًا ساطعًا، وفي سُدَف الشُّبَه شهابًا لامعًا (4) وفي مضَلة المسالك دليلا هاديًا، وإلى سبل النجاة والحق حاديًا، {يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [سورة المائدة: 16] . حرسه بعين
(1) في المطبوع: "تخصيصًا"، وهو تصرف من الطابعين. خصه بالشيء يخصه خصا وخصوصية (بفتح الخاء وضمها) وخصيصى: أفرده به دون غيره.

(2) حذف الطابعون قوله: "ثم"، ليجعلوا كلام الطبري دارجًا على ما ألفوا من الكلام.

(3) يضمن ما جاء في سورة البقرة: 23، ويونس: 38، والإسراء: 88.

(4) السدف: جمع سدفة، وهي ظلمة الليل يخالطها بعض الضوء، تكون في أول الليل وآخره، ما بين الظلمة إلى الشفق، وما بين الفجر إلى الصلاة.
একটি ঐকতান ও সুসমন্বয় হিসেবে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর জন্য এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা তিনি অন্য সকল রসূলের ঊর্ধ্বে তাঁকে দান করেছেন (১) —যাদেরকে প্রবল প্রতাপশালীরা পরাভূত করেছিল এবং পাপিষ্ঠ জাতিসমূহ লাঞ্ছিত করেছিল, ফলে তাদের পরে তাদের স্মৃতিচিহ্নগুলো মুছে গেছে এবং মহাকালের রাত ও দিন তাদের আলোচনাকে স্তিমিত করে দিয়েছে— এবং এটি সেই সব রসূলের ঊর্ধ্বে যাঁরা প্রেরিত হয়েছিলেন কেবল নির্দিষ্ট কোনো জাতির প্রতি, নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর প্রতি সাধারণের পরিবর্তে, অথবা কোনো বিশেষ দলের প্রতি সমগ্রের পরিবর্তে।

অতএব সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে আমাদের মর্যাদাবান করেছেন এবং তাঁর প্রতি ও তিনি যে আহ্বান নিয়ে এসেছেন ও যা নিয়ে এসেছেন, তার প্রতি স্বীকৃতি দানকারী ও ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ষিত হোক পবিত্রতম সালাত, শ্রেষ্ঠতম সালাম এবং পূর্ণতম অভিবাদন।

অতপর (২), মহান আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতকে যে বিশাল ফযিলত দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন, অন্যান্য উম্মতের ওপর যে উচ্চ মর্যাদা দ্বারা ভূষিত করেছেন এবং যে মহিমান্বিত সম্মানে অভিষিক্ত করেছেন—তার মধ্যে অন্যতম হলো, তিনি তাদের জন্য সংরক্ষণ করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ অহী ও তানযীল। যা তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নবুওয়াতের সত্যতার ওপর প্রমাণ হিসেবে, তাঁকে প্রদত্ত সম্মানের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও অকাট্য দলিল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে প্রত্যেক মিথ্যাবাদী ও অপবাদদাতা থেকে পৃথক করেছেন এবং এর দ্বারা তিনি তাঁদের ও প্রত্যেক অস্বীকারকারী ও নাস্তিকের মধ্যে ফয়সালা করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমেই তিনি তাঁদের ও প্রত্যেক কাফির ও মুশরিকের মাঝে পার্থক্য করে দিয়েছেন। যদি পৃথিবীর সকল প্রান্তের জিন, মানব, ছোট ও বড় সকলে একত্রিত হয়ে এর সদৃশ একটি সূরা আনয়নের চেষ্টা করত, তবে তারা তার অনুরূপ আনতে পারত না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হতো (৩)। আল্লাহ একে তাদের জন্য ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে এক উজ্জ্বল আলো হিসেবে, সংশয়ের আঁধারে এক দীপ্ত উল্কা হিসেবে (৪), গোলকধাঁধাপূর্ণ পথে এক পথপ্রদর্শক হিসেবে এবং মুক্তি ও সত্যের পথের দিশারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; {যার মাধ্যমে আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যে তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তিনি আপন ইচ্ছায় তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করেন} [সূরা আল-মায়িদাহ: ১৬]। তিনি একে তাঁর দৃষ্টি দিয়ে হেফাজত করেছেন...
(১) মুদ্রিত সংস্করণে "তাখসীসান" শব্দটি রয়েছে, যা মুদ্রাকরদের পক্ষ থেকে করা একটি পরিবর্তন। কোনো কিছু দিয়ে কাউকে বিশিষ্ট করার অর্থ হলো তাকে অন্যের পরিবর্তে এককভাবে তা দান করা।

(২) মুদ্রাকররা লেখকের "অতপর" (সুম্মা) শব্দটি বাদ দিয়েছেন, যাতে তাবারীর বক্তব্য তাঁদের পরিচিত প্রচলিত বাকভঙ্গির অনুরূপ হয়।

(৩) এটি সূরা আল-বাকারাহ: ২৩, ইউনুস: ৩৮ এবং আল-ইসরা: ৮৮ নম্বর আয়াতে যা বর্ণিত হয়েছে তার প্রতিফলন।

(৪) সুদাফ: এটি সুদফাহ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ রাতের এমন অন্ধকার যাতে কিছুটা আলোর মিশ্রণ থাকে। এটি রাতের শুরু ও শেষে হয়ে থাকে—অর্থাৎ অন্ধকার থেকে গোধূলি পর্যন্ত এবং ফজর থেকে সালাত পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানকে বুঝায়।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٦)
منه لَا تنام، وحاطه برُكن منه لَا يضام، لَا تَهِي على الأيام دعائمه، ولا تبيد على طول الأزمان معالمه، ولا يجوز عن قصد المحجَّة تابعه (1) ولا يضل عن سُبُل الهدى مُصَاحبه. من اتبعه فاز وهُدِى، ومن حاد عنه ضلَّ وغَوَى، فهو موئلهم الذي إليه عند الاختلاف يَئِلون، ومعقلهم الذي إليه في النوازل يعقلون (2) وحصنهم الذي به من وساوس الشيطان يتحصنون، وحكمة ربهم التي إليها يحتكمون، وفصْل قضائه بينهم الذي إليه ينتهون، وعن الرضى به يصدرون، وحبله الذي بالتمسك به من الهلكة يعتصمون.

اللهم فوفقنا لإصابة صواب القول في مُحْكَمه ومُتَشابهه، وحلاله وحرامه، وعامِّه وخاصِّه، ومجمَله ومفسَّره، وناسخه ومنسوخه، وظاهره وباطنه، وتأويل آية وتفسير مُشْكِله. وألهمنا التمسك به والاعتصام بمحكمه، والثبات على التسليم لمتشابهه. وأوزعنا الشكر على ما أنعمتَ به علينا من حفظه والعلم بحدوده. إنك سميع الدعاء قريب الإجابة. وصلى الله على محمد النبي وآله وسلم تسليما.

اعلموا عبادَ الله، رحمكم الله، أن أحقَّ ما صُرِفت إلى علمه العناية، وبُلِغت في معرفته الغاية، ما كان لله في العلم به رضًى، وللعالم به إلى سبيل الرشاد هدى، وأن أجمعَ ذلك لباغيه كتابُ الله الذي لا ريب فيه، وتنزيله الذي لا مِرْية فيه، الفائزُ بجزيل الذخر وسنىّ الأجر تاليه، الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، تنزيلٌ من حكيم حَميد (3) .

ونحن -في شرح تأويله، وبيان ما فيه من معانيه- منشئون إن شاء الله ذلك، كتابًا مستوعِبًا لكل ما بالناس إليه الحاجة من علمه، جامعًا، ومن سائر الكتب
(1) المحجة: الطريق. والقصد: استقامة الطريق وسهولته.

(2) وأل يئل وألا ووؤولا: لجأ طلبًا للنجاة. والموئل: الملجأ والمنجى. والمعقل: الحصن المنيع في رأس الجبل، وعقل إليه يعقل عقلا وعقولا: لجأ إليه وامتنع به. وفي المطبوعة "يعتقلون"، وفي المخطوطة مثلها غير منقوطة. ولم أجد "اعتقل" بمعنى عقل. وإن صحت في قياس العربية.

(3) تضمين آية سورة فصلت: 42.
তাঁর পক্ষ থেকে যা কখনো তন্দ্রাচ্ছন্ন হয় না এবং তিনি একে এমন এক শক্তিশালী স্তম্ভ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছেন যা কখনো পরাভূত হয় না। কালের আবর্তনে যার ভিত্তি দুর্বল হয় না এবং মহাকালের দীর্ঘ পরিক্রমায় যার নিদর্শনসমূহ বিলীন হয় না। এর অনুসারীরা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয় না (১) এবং এর সহযাত্রীরা হিদায়াতের পথ থেকে পথভ্রষ্ট হয় না। যে একে অনুসরণ করল সে সফল হলো ও সুপথ পেল, আর যে একে বর্জন করল সে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত হলো। এটিই তাদের সেই আশ্রয়স্থল যার দিকে মতভেদের সময় তারা প্রত্যাবর্তন করে এবং এটিই তাদের সেই দুর্গ যেখানে বিপদের সময় তারা আশ্রয় নেয় (২)। এটিই তাদের সেই সুদৃঢ় কেল্লা যার মাধ্যমে তারা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষিত থাকে, এটিই তাদের রবের সেই হিকমত যার আলোকে তারা বিচারকার্য পরিচালনা করে এবং এটিই তাদের মধ্যকার সেই চূড়ান্ত ফয়সালা যার মাধ্যমে তাদের বিবাদের অবসান ঘটে ও যার প্রতি সন্তুষ্টি নিয়ে তারা ফিরে আসে। এটিই আল্লাহর সেই রজ্জু যা ধারণ করার মাধ্যমে তারা ধ্বংস থেকে রক্ষা পায়।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এর সুস্পষ্ট ও অস্পষ্ট, হালাল ও হারাম, সাধারণ ও বিশেষ, সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত, রহিতকারী ও রহিতকৃত, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিষয়াবলী এবং আয়াতের ব্যাখ্যা ও এর জটিল বিষয়গুলোর বিশ্লেষণে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আর আমাদের এর প্রতি অবিচল থাকার, এর সুস্পষ্ট বিধানগুলো আঁকড়ে ধরার এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি সমর্পিত থাকার প্রেরণা দান করুন। আপনি আমাদেরকে এর সংরক্ষণ ও এর সীমারেখা সম্পর্কে জ্ঞান লাভের যে নিয়ামত দান করেছেন, তার শুকরিয়া আদায়ের তৌফিক দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও অতি নিকটবর্তী। আর আল্লাহর সালাত ও অফুরন্ত সালাম বর্ষিত হোক নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর।

হে আল্লাহর বান্দাগণ! আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন। জেনে রাখুন, জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য এবং যার উপলব্ধিতে চূড়ান্ত লক্ষ্য নিহিত হওয়া উচিত, তা হলো সেই বিষয় যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি রয়েছে এবং যা জ্ঞানী ব্যক্তিকে সঠিক পথের দিশা দেয়। আর এই সবকিছু অন্বেষণকারীর জন্য আল্লাহর কিতাবই সবচেয়ে বড় মাধ্যম, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি সেই অবতীর্ণ কিতাব যাতে কোনো সংশয় নেই। এর তিলাওয়াতকারী মহা পুরস্কার ও মর্যাদাপূর্ণ সওয়াব অর্জনকারী। এর সামনে কিংবা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা একে স্পর্শ করতে পারে না। এটি এক মহাপ্রজ্ঞাময় ও পরম প্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৩)।

আর আমরা—এর ব্যাখ্যা ও এতে নিহিত মর্মার্থ বর্ণনার ক্ষেত্রে—ইনশাআল্লাহ এমন একটি ব্যাপক গ্রন্থ রচনার উদ্যোগ নিয়েছি, যা মানুষের প্রয়োজনীয় সকল জ্ঞানের আধার হবে এবং অন্যান্য সকল গ্রন্থ থেকে...
(১) আল-মাহাজ্জাহ: অর্থ পথ। আল-কাসদ: পথের সরলতা ও সুগমত।

(2) আ-লা ইয়া-ঈলু ওয়াইলান ওয়া উয়ুউলার অর্থ হলো: মুক্তির সন্ধানে আশ্রয় নেওয়া। আল-মাউইল: আশ্রয়স্থল ও নাজাতের স্থান। আল-মাকিল: পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত দুর্ভেদ্য দুর্গ। আকাল ইলাইহি ইয়া'কিলু আকলান ওয়া উকুলান: তার কাছে আশ্রয় নেওয়া এবং তার মাধ্যমে সুরক্ষিত হওয়া। মুদ্রিত কপিতে "ইয়া'তাকিলুন" এসেছে এবং পাণ্ডুলিপিতেও নুকতাহীনভাবে অনুরূপ রয়েছে। তবে 'আকাল'-এর অর্থে 'ই'তাকালা' শব্দের ব্যবহার আমি পাইনি, যদিও আরবী ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী তা সঠিক হতে পারে।

(3) সূরা ফুসসিলাত-এর ৪২ নম্বর আয়াতের ভাবার্থ।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٧)
غيره في ذلك كافيًا. ومخبرون في كل ذلك بما انتهى إلينا من اتفاق الحجة فيما اتفقت عليه منه (1) واختلافها فيما اختلفت فيه منهُ. ومُبيِّنو عِلَل كل مذهب من مذاهبهم، ومُوَضِّحو الصحيح لدينا من ذلك، بأوجز ما أمكن من الإيجاز في ذلك، وأخصر ما أمكن من الاختصار فيه.

والله نسألُ عونه وتوفيقه لما يقرب من محَابِّهِ، ويبْعد من مَساخِطه. وصلى الله على صَفوته من خلقه وعلى آله وسلم تسليمًا كثيرًا.

وأولُ ما نبدأ به من القِيل في ذلك: الإبانةُ عن الأسباب التي البدايةُ بها أولى، وتقديمها قبل ما عداها أحْرى. وذلك: البيانُ عما في آي القرآن من المعاني التي من قِبَلها يدخل اللَّبْس على من لم يعان رياضةَ العلوم العربية، ولم تستحكم معرفتُه بتصاريف وجوه منطق الألسُن السليقية الطبيعية.
(1) في المطبوعة "عليه الأمة"، وهو تصرف لا خير فيه. والهاء في "منه" راجعة إلى كتاب الله.
অন্যান্যদের বক্তব্য এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। আমরা এসকল বিষয়ে আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে—তা সে প্রামাণ্য বিশেষজ্ঞগণের ঐকমত্যের (১) বিষয় হোক কিংবা তাঁদের মতভিন্নতার বিষয়—তা সবিস্তারে বর্ণনা করব। প্রতিটি মাযহাবের গূঢ় কারণসমূহ (ইল্লাত) আমরা বিশ্লেষণ করব এবং আমাদের নিকট যা সঠিক তা যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ আকারে উপস্থাপন করব।

আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর সাহায্য ও তাওফীক প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের এমন সব কর্মের দিকে পরিচালিত করেন যা তাঁর প্রিয় এবং যা তাঁর অসন্তুষ্টি থেকে আমাদের দূরে রাখে। আল্লাহর সৃষ্টিজগতের মধ্যে যিনি মনোনীত তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এ বিষয়ে আমরা যে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি, তার প্রথম বিষয় হলো: সেই সকল কারণের বর্ণনা করা যা দিয়ে সূচনা করাই সর্বোত্তম এবং যা অন্য সকল বিষয়ের আগে উপস্থাপন করা অধিকতর শ্রেয়। আর তা হলো: কুরআনের আয়াতের এমন সব অর্থের ব্যাখ্যা প্রদান করা, যে বিষয়ে সম্যক জ্ঞান না থাকার কারণে সেই ব্যক্তির মনে সংশয় ও অস্পষ্টতা তৈরি হয়, যে আরবি ভাষাবিজ্ঞান চর্চায় অভ্যস্ত নয় এবং যার জ্ঞান এই স্বভাবজাত ও সাবলীল ভাষার বাগধারার নানামুখী বিন্যাসে সুদৃঢ় নয়।
(১) মুদ্রিত সংস্করণে রয়েছে "এর ওপর উম্মাহ", যা একটি অনাবশ্যক রদবদল। আর "তা থেকে" শব্দে ব্যবহৃত সর্বনামটি আল্লাহর কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌(القولُ في البيانِ عن اتفاق معاني آي القرآن، ومعاني منطِق مَنْ نزل بلسانه القرآن من وَجْه البيان -والدّلالة على أن ذلك من الله تعالى ذكره هو الحكمة البالغة- مع الإبانةِ عن فضْل المعنَى الذي به بَايَن القرآنُ سائرَ الكلام)

قال أبو جعفر محمد بن جرير الطبريّ، رحمه الله:

إن من أعظم نعم الله تعالى ذكره على عباده، وجسيم مِنَّته على خلقه، ما منحهم من فَضْل البيان الذي به عن ضمائر صُدورهم يُبينون، وبه على عزائم نفوسهم يَدُلّون، فذَلَّل به منهم الألسن (1) وسهَّل به عليهم المستصعب. فبِهِ إياه يُوَحِّدون، وإيَّاه به يسَبِّحون ويقدِّسون، وإلى حاجاتهم به يتوصّلون، وبه بينهم يتَحاورُون، فيتعارفون ويتعاملون.

ثم جعلهم، جلّ ذكره -فيما منحهم من ذلك- طبقاتٍ، ورفع بعضهم فوق بعض درجاتٍ: فبَيْنَ خطيب مسْهِب، وذَلِقِ اللسان مُهْذِب، ومفْحَمٍ (2) عن نفسه لا يُبين، وَعىٍّ عن ضمير قلبه لا يعبَر. وجعل أعلاهم فيه رُتبة، وأرفعهم فيه درجةً، أبلغَهم فيما أرادَ به بَلاغًا، وأبينَهم عن نفسه به بيانَا. ثم عرّفهم في تنزيله ومحكم آيِ كتابه فضلَ ما حباهم به من البيان، على من
(1) ذلل الشيء: لينه وسهله ونفى عنه جفوته وصعوبته.

(2) أسهب الرجل: أكثر الكلام، فإذا أكثر الكلام في خطأ قالوا: رجل مسهب (بفتح الهاء) ، وإذا أكثر وأصاب فهو مسهب (بكسر الهاء) . وذلق اللسان: فصيح طليق لا يتوقف. وقوله "مهذب": من أهذب الطائر في طيرانه، والفرس في عدوه، والمتكلم في كلامه: أسرع وتابع، وفي حديث أبي ذر "فجعل يهذبُ الركوع" أي يسرع فيه ويتابعه. يقال: كلمنى فلان فأفحمته: أسكته فلم يطق جوابًا وانقطع، فهو مفحم. وفي المطبوعة "ومعجم عن نفسه.."
(কুরআনের আয়াতসমূহের অর্থের সামঞ্জস্য এবং যার ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে তার বাকরীতির অর্থের বর্ণনা—এবং এর মাধ্যমে এটি যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এক সুগভীর প্রজ্ঞা তার প্রমাণ—সেই সাথে কুরআনের সেই অর্থগত শ্রেষ্ঠত্বের বিশদ ব্যাখ্যা যার কারণে এটি অন্য সকল কালাম বা কথা থেকে স্বতন্ত্র)

আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার তাঁর বান্দাদের প্রতি মহান নিয়ামতসমূহের মধ্যে অন্যতম এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি তাঁর সুমহান অনুগ্রহ হলো—তিনি তাদেরকে ভাবপ্রকাশের (বায়ান) যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যার মাধ্যমে তারা তাদের অন্তরের নিভৃত চিন্তা ব্যক্ত করতে পারে এবং তাদের মনের দৃঢ় সংকল্পের কথা অন্যকে অবহিত করতে পারে। এর মাধ্যমে তিনি তাদের জিহ্বাকে বশীভূত করেছেন (১) এবং তাদের জন্য কঠিন বিষয়কে সহজ করে দিয়েছেন। এর সাহায্যেই তারা তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা দেয়, তাঁর তসবীহ ও পবিত্রতা বর্ণনা করে, নিজেদের প্রয়োজনসমূহ পূরণ করে এবং নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক কথোপকথন ও ভাববিনিময় করে, যার ফলে তারা একে অপরকে চিনতে পারে এবং লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে।

অতঃপর তিনি—তাঁর মহিমা সমুন্নত হোক—তাদেরকে প্রদত্ত এই বিশেষ গুণটির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করেছেন এবং তাদের কতককে কতকের ওপর উচ্চতর মর্যাদা দান করেছেন। ফলে তাদের মধ্যে কেউ অতি-বাকপটু বাগ্মী, কেউ ক্ষিপ্র ও সাবলীলভাষী, আবার কেউ নিজের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে অক্ষম (২) এবং স্বীয় হৃদয়ের কথা প্রকাশ করতে অক্ষম ও জবুথবু। তিনি এই গুণের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদমর্যাদা ও উচ্চতম স্তর তাকেই দান করেছেন, যে স্বীয় লক্ষ্য অর্জনে সবচেয়ে অলঙ্কারপূর্ণভাবে তার ভাব প্রকাশ করতে পারে এবং নিজের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে সবচেয়ে বেশি প্রাঞ্জল। এরপর তিনি তাঁর অবতীর্ণ কিতাব এবং তার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহের মাধ্যমে তাদেরকে অবহিত করেছেন যে, তিনি তাদেরকে ভাবপ্রকাশের যে যোগ্যতা দান করেছেন তার শ্রেষ্ঠত্ব কতখানি, যা অন্যান্য সৃষ্টিকে...
(১) কোনো কিছুকে 'যাল্লালা' (বশীভূত) করা মানে হলো একে কোমল ও সহজ করা এবং এর রূঢ়তা ও কাঠিন্য দূর করা।

(২) কোনো ব্যক্তি ‘আসহাবা’ (বেশি কথা বলা): যখন কেউ প্রচুর কথা বলে; যদি সে ভুল কথা বেশি বলে তবে তাকে ‘মুসহাব’ (হা-এর ওপর ফাতহা বা যবর দিয়ে) বলা হয়, আর যদি সে সঠিক কথা বেশি বলে তবে তাকে ‘মুসহিব’ (হা-এর নিচে কাসরা বা যের দিয়ে) বলা হয়। ‘যালিকুল লিসান’ অর্থ হলো বাকপটু ও ক্ষিপ্রভাষী যে তোতলায় না। লেখকের ‘মুহযিব’ শব্দটি এসেছে পাখির দ্রুত ও বিরামহীন উড্ডয়ন, ঘোড়ার দ্রুত দৌড় বা বক্তার দ্রুত ও অনবদ্য বক্তব্য থেকে; আবু যর (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে—‘তিনি রুকুতে দ্রুততা অবলম্বন করছিলেন’। বলা হয়—‘অমুক আমার সাথে কথা বলল আর আমি তাকে নির্বাক (আফহামতুহু) করে দিলাম’, অর্থাৎ আমি তাকে চুপ করিয়ে দিয়েছি ফলে সে আর উত্তর দিতে পারেনি এবং নিরুত্তর হয়ে গেছে, এমতাবস্থায় তাকে ‘মুফহাম’ বলা হয়। মূল পাণ্ডুলিপির মুদ্রিত সংস্করণে ‘মু’জাম’ শব্দটিও এসেছে।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ٩)
فضّلهم به عليه من ذى البَكَم والمُستَعْجِم اللسان (1) فقال تعالى ذكرُه: {أَوَمَنْ يُنَشَّأُ فِي الْحِلْيَةِ وَهُوَ فِي الْخِصَامِ غَيْرُ مُبِينٍ} [سورة الزخرف: 18] . فقد وَضَحَ إذا لذوي الأفهام، وتبين لأولي الألباب، أنّ فضلَ أهل البيان على أهل البَكَم والمستعجمِ اللسان، بفضل اقتدار هذا من نفسه على إبانة ما أراد إبانته عن نفسه ببيانه، واستعجام لسان هذا عما حاول إبانته بلسانه.

فإذْ كان ذلك كذلك -وكان المعنى الذي به باينَ الفاضلُ المفضولَ في ذلك، فصار به فاضلا والآخرُ مفضولا هو ما وصفنا من فضْل إبانة ذى البيان، عما قصّر عنه المستعجمُ اللسان، وكان ذلك مختلفَ الأقدار، متفاوتَ الغايات والنهايات- فلا شك أن أعلى منازل البيان درجةً، وأسنى مراتبه مرتبةً، أبلغُه في حاجة المُبِين عن نفسه، وأبينُه عن مراد قائله، وأقربُه من فهم سامعه. فإن تجاوز ذلك المقدار، وارتفع عن وُسْع الأنام، وعجز عن أن يأتي بمثله جميعُ العباد، كان حجةً وعَلَمًا لرسل الواحد القهار -كما كان حجةً وعَلَمًا لها إحياءُ الموتى وإبراءُ الأبرص وذوي العمى، بارتفاع ذلك عن مقادير أعلى منازل طبّ المتطببين (2) وأرفع مراتب عِلاج المعالجين، إلى ما يعجز عنه جميع العالَمِين. وكالذي كان لها حجةً وعَلَمًا قطعُ مسافة شهرين في الليلة الواحدة، بارتفاع ذلك عن وُسع الأنام، وتعذّر مثله على جميع العباد، وإن كانوا على قطع القليل من المسافة قادرين، ولليسير منه فاعلين.

فإذْ كان ما وصفْنا من ذلك كالذي وصفْنا، فبيّنٌ أنْ لا بيان أبْيَنُ، ولا حكمة أبلغُ، ولا منطقَ أعلى، ولا كلامَ أشرفُ- من بيان ومنطق تحدّى به
(1) كل من لا يقدر على الكلام فهو أعجم ومستعجم. استعجمت عليه قراءته: التبست عليه فلم يتهيأ له أن يمضي فيها، فسكت وانقطع عن القراءة.

(2) مقادير: جمع مقدار، وهو القوة، ومثله القدر والقدرة والمقدرة.
যিনি তাদের মাধ্যমে সেই বাকশক্তিহীন ও অস্পষ্টভাষী ব্যক্তিদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। (১) এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: "তবে কি তারা এমন কাউকে সাব্যস্ত করে, যাকে অলঙ্কারে লালন-পালন করা হয় এবং সে বিতর্কের সময় কথা বলতে অসমর্থ?" [সূরা আয-যুখরুফ: ১৮]। অতএব, বুদ্ধিমানদের কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে এবং প্রজ্ঞাবানদের নিকট উন্মোচিত হয়েছে যে, বাকশক্তিহীন ও অস্পষ্টভাষীদের ওপর বাকপটুদের শ্রেষ্ঠত্ব মূলত এই কারণেই যে, প্রথমোক্ত জন নিজের বক্তব্য ও অভিপ্রায় স্পষ্টভাবে প্রকাশে সক্ষম, আর শেষোক্ত জনের জিহ্বা যা প্রকাশ করতে চায় তা প্রকাশে অক্ষম ও আড়ষ্ট।

যখন বিষয়টি এমনই—অর্থাৎ, যার মাধ্যমে একজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি অন্যজনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে এবং শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হয়, তা হলো সেই স্পষ্ট প্রকাশভঙ্গি যা আমরা বর্ণনা করেছি, যা প্রকাশে অস্পষ্টভাষী ব্যক্তি ব্যর্থ হয়; এবং যেহেতু এর মান ও পর্যায় ভিন্ন ভিন্ন ও বৈচিত্র্যপূর্ণ—তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্ণনরীতির সর্বোচ্চ স্তর এবং মর্যাদার দিক থেকে এর উচ্চতম পর্যায় হলো তা-ই, যা বক্তার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে সর্বাধিক সাবলীল, বক্তার অভিপ্রায় প্রকাশে সর্বাধিক স্পষ্ট এবং শ্রোতার অনুধাবনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক নিকটবর্তী। অতঃপর যদি তা সেই মাত্রা অতিক্রম করে মানুষের সাধ্যের ঊর্ধ্বে চলে যায় এবং সমগ্র সৃষ্টিজগত এর অনুরূপ কিছু আনতে অক্ষম হয়, তবে তা হয় এক ও অদ্বিতীয় মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর রাসূলগণের জন্য অকাট্য প্রমাণ ও নিদর্শন—যেভাবে মৃতকে জীবিত করা এবং ধবল ও অন্ধদের রোগমুক্ত করা ছিল তাঁদের সত্যতার প্রমাণ ও নিদর্শন। কারণ তা ছিল চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা এবং নিরাময়কারীদের উচ্চতম চিকিৎসাবিজ্ঞানের ঊর্ধ্বে, যা করতে জগতের সকলেই অক্ষম। যেমন এক রাতে দুই মাসের পথ অতিক্রম করা ছিল তাঁদের জন্য অকাট্য প্রমাণ ও নিদর্শন, কারণ তা মানুষের সাধ্যের অতীত এবং সমস্ত বান্দার জন্য অসম্ভব; যদিও তারা সামান্য পথ অতিক্রম করতে সক্ষম এবং স্বল্প দূরত্বের ক্ষেত্রে তা সম্পন্ন করতে পারে।

যেহেতু আমরা যা বর্ণনা করেছি তা এমনই, তবে এটি স্পষ্ট যে—সেই বর্ণনা ও বাচনভঙ্গির চেয়ে অধিক স্পষ্ট কোনো বর্ণনা নেই, অধিক সাবলীল কোনো প্রজ্ঞা নেই, উচ্চতর কোনো যুক্তি নেই এবং অধিক মহিমান্বিত কোনো বাণী নেই—যা দ্বারা তিনি চ্যালেঞ্জ প্রদান করেছেন
(১) যে ব্যক্তি কথা বলতে সক্ষম নয় সে-ই ‘আজাম’ ও ‘মুসতাজিম’ (অস্পষ্টভাষী)। যখন কারও পাঠ (কিরাত) তার কাছে অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন বলা হয় তার ওপর পাঠ ‘ইস্তাজামা’ হয়েছে; অর্থাৎ বিষয়টি তার নিকট এমন জটিল হয়ে পড়েছে যে সে তা চালিয়ে যেতে পারছে না, ফলে সে চুপ হয়ে যায় এবং পাঠ বন্ধ করে দেয়।

(২) মাকাদীর: এটি ‘মিকদার’-এর বহুবচন, যার অর্থ শক্তি বা সামর্থ্য। অনুরূপভাবে আল-কাদর, আল-কুদরাহ এবং আল-মাকদুরাহ একই অর্থ বহন করে।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٠)
امرؤ قومًا في زمان هم فيه رؤساء صناعة الخطب والبلاغة، وقيلِ الشعرِ والفصَاحة، والسجع والكهانة، على كل خطيب منهم وبليغ (1) وشاعر منهم وفصيح، وكلّ ذي سجع وكهانة -فسفَّه أحلامهم، وقصَّر بعقولهم (2) وتبرأ من دينهم، ودعا جميعهم إلى اتباعه والقبول منه والتصديق به، والإقرار بأنه رسولٌ إليهم من ربهم. وأخبرهم أن دلالته على صدْق مقالته، وحجَّتَه على حقيقة نبوّته- ما أتاهم به من البيان، والحكمة والفرقان، بلسان مثل ألسنتهم، ومنطق موافقةٍ معانيه معانيَ منطقهم. ثم أنبأ جميعهم أنهم عن أن يأتوا بمثل بعضه عَجَزَة، ومن القدرة عليه نقَصَةٌ. فأقرّ جميعُهم بالعجز، وأذعنوا له بالتصديق، وشهدوا على أنفسهم بالنقص. إلا من تجاهل منهم وتعامى، واستكبر وتعاشى، فحاول تكلُّف ما قد علم أنه عنه عاجز، ورام ما قد تيقن أنه عليه غير قادر. فأبدى من ضعف عقله ما كان مستترًا، ومن عِيّ لسانه ما كان مصُونًا، فأتى بما لا يعجِزُ عنه الضعيف الأخرق، والجاهل الأحمق، فقال: "والطاحنات طحنًا، والعاجنات عجنًا، فالخابزات خبزًا، والثاردات ثَرْدًا، واللاقمات لَقْمًا"! (3) ونحو ذلك من الحماقات المشبهةِ دعواه الكاذبة.

فإذْ كان تفاضُلُ مراتب البيان، وتبايُنُ منازل درجات الكلام، بما وصفنا قبل -وكان الله تعالى ذكرُه وتقدست أسماؤه، أحكمَ الحكماء، وأحلمَ الحلماء،
(1) في المطبوعة: "كل خطيب .. " بحذف "على"، وفي المخطوطة "على خطيب .. " بحذف "كل". وكلتاهما لا يستقيم بها كلام. والصواب ما أثبتناه. وأراد الطبري أنهم رؤساء صناعة الخطب والبلاغة … على كل خطيب منهم وبليغ". يعني أن الذين تحداهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بالقرآن من العرب، كانوا رؤساء البيان والبلاغة على كل مبين وبليغ من سائر العرب.

(2) سفه أحلامهم: نسبهم إلى السفه، وهو خفة الحلم واضطراب الرأي وضعفه، وهو باب من الجهل. وفي المطبوعة: "وقصر معقولهم" والمعقول مصدر كالعقل، يقال: ما لفلان معقول، أي ما له عقل. وكأنه أراد بقوله "قصر": نسبهم إلى قصر العقل وقلته. وأما قوله "قصر بعقولهم"، فكأنه ضمن "قصر" معنى استخف بها، فعداه بالباء، أي عاب عقولهم واستقصرها واستخف بها. وأنا في شك من صواب هذا الحرف.

(3) من هذيان مسيلمة الكذاب لعنه الله. انظر تاريخ الطبري 3: 245 وسواه.
একজন ব্যক্তি এমন এক সম্প্রদায়ের মাঝে আবির্ভূত হলেন যারা ছিল বাগ্মিতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের শিল্পের কর্ণধার। বলা হয়ে থাকে যে, তারা কবিতা, প্রাঞ্জলতা, ছন্দোবদ্ধ গদ্য ও গণকবিদ্যার ক্ষেত্রে ছিল অগ্রগণ্য। তাদের মধ্যকার প্রত্যেক বাগ্মী, অলঙ্কারবিদ (১), কবি, প্রাঞ্জলভাষী এবং প্রত্যেক ছন্দোবদ্ধ গদ্যকার ও গণকের ওপর তিনি শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে—তাদের বিচারবুদ্ধিকে নির্বুদ্ধিতা বলে সাব্যস্ত করলেন, তাদের মেধাকে অপর্যাপ্ত প্রমাণ করলেন (২), তাদের ধর্ম থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন এবং তাদের সকলকে তাঁর অনুসরণ করতে, তাঁর আনীত বার্তাকে গ্রহণ ও বিশ্বাস করতে এবং তিনি যে তাদের রবের পক্ষ থেকে তাদের নিকট প্রেরিত রাসূল, তা স্বীকার করে নিতে আহ্বান জানালেন। তিনি তাদের অবহিত করলেন যে, তাঁর বাণীর সত্যতার প্রমাণ এবং তাঁর নবুওয়াতের প্রকৃতত্বের দলিল হলো সেই বর্ণনা, প্রজ্ঞা ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী কিতাব যা তিনি তাদের নিকট নিয়ে এসেছেন; যা তাদেরই ভাষার মতো ভাষায় এবং যার অর্থের বিন্যাস তাদেরই ভাষার অর্থের বিন্যাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। অতঃপর তিনি তাদের সকলকে জানিয়ে দিলেন যে, তারা এর সামান্য অংশের সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতেও অক্ষম এবং তা করতে সক্ষম হওয়ার ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ। তখন তাদের সকলে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করল, তাঁর প্রতি বিশ্বাসের আনুগত্য প্রকাশ করল এবং নিজেদের অপূর্ণতার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিল। তবে তাদের মধ্যে যারা সত্যকে উপেক্ষা করেছে ও অন্ধ সেজেছে, অহঙ্কার করেছে ও সত্য থেকে বিমুখ হয়েছে, তারা এমন কিছু করার কৃত্রিম চেষ্টা করেছে যার ব্যাপারে তারা জানত যে তারা অক্ষম, আর এমন কিছু অর্জনের ইচ্ছা পোষণ করেছে যার সামর্থ্য তাদের নেই বলে তারা নিশ্চিত ছিল। ফলে তারা তাদের বুদ্ধির সেই দুর্বলতা প্রকাশ করে দিল যা আগে ঢাকা ছিল এবং তাদের রসনার সেই জড়তা উন্মোচন করল যা আগে সুরক্ষিত ছিল। অতঃপর তারা এমন কিছু নিয়ে এল যা একজন আনাড়ি দুর্বল ব্যক্তি কিংবা নির্বোধ মূর্খও করতে অক্ষম নয়। সে (মুসায়লিমা) বলল: "শস্য চূর্ণকারীগণের শপথ যারা সজোরে চূর্ণ করে, খামির প্রস্তুতকারীগণের শপথ যারা খামির তৈরি করে, রুটি প্রস্তুতকারীগণের শপথ যারা রুটি সেঁকে এবং গ্রাস গ্রহণকারীগণের শপথ যারা গ্রাস নেয়!" (৩) আর এই জাতীয় আরও অনেক নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ প্রলাপ যা তার মিথ্যা দাবিরই অনুরূপ।

যেহেতু বয়ান বা বর্ণনার মর্যাদার তারতম্য এবং বাক্যের স্তরের ভিন্নতা বিদ্যমান যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি—এবং আল্লাহ তাআলা, যাঁর স্মরণ মহিমান্বিত এবং নামসমূহ পবিত্র, তিনি হলেন প্রাজ্ঞদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাজ্ঞ এবং ধৈর্যশীলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ধৈর্যশীল,
(১) মুদ্রিত কপিতে: "প্রত্যেক বাগ্মী..." শব্দ থেকে "উপরে" (আলা) শব্দটি বাদ দিয়ে, আর পাণ্ডুলিপিতে "বাগ্মীদের উপরে..." লিখে "প্রত্যেক" (কুল্লু) শব্দটি বাদ দিয়ে। কোনোটিই বাক্য গঠন ঠিক রাখে না। সঠিক পাঠ তা-ই যা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি। তাবারী রহ. বোঝাতে চেয়েছেন যে, তারা ছিল বাগ্মিতা ও অলঙ্কার শিল্পের নেতা... তাদের মধ্যকার প্রত্যেক বাগ্মী ও অলঙ্কারবিদের উপরে। অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবের যাদেরকে কুরআনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, তারা ছিল অন্য সকল আরব বাগ্মী ও অলঙ্কারবিদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রধান।

(২) 'সাফফাহা আহলামাহুম': অর্থাৎ তাদের নির্বুদ্ধিতার সাথে সম্পর্কিত করেছেন। 'সাফাহ' হলো সহনশীলতার অভাব, মতামতের অস্থিরতা ও দুর্বলতা, যা মূর্খতার একটি স্তর। মুদ্রিত কপিতে আছে: "ওয়া কাসসারা মাকুলাহুম"। 'মাকুল' শব্দটি 'আকল'-এর মতো মাসদার বা ক্রিয়ামূল। বলা হয়: 'অমুকের কোনো মাকুল নেই', অর্থাৎ তার কোনো বুদ্ধি নেই। যেন তিনি 'কাসসারা' শব্দের মাধ্যমে তাদেরকে বুদ্ধির সংকীর্ণতা ও স্বল্পতার দিকে নিসবত করেছেন। আর তাঁর কথা "কাসসারা বি-উকুলিহিম"-এর অর্থ যেন তিনি "কাসসারা" শব্দের মধ্যে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার অর্থ অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাই একে 'বা' অব্যয় দ্বারা যুক্ত করেছেন। অর্থাৎ তিনি তাদের বুদ্ধিকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন, সংকীর্ণ সাব্যস্ত করেছেন এবং তুচ্ছজ্ঞান করেছেন। তবে এই শব্দটির সঠিকতা নিয়ে আমার সংশয় আছে।

(৩) অভিশপ্ত মুসায়লিমা কাযযাবের প্রলাপ থেকে উদ্ধৃত। দেখুন: তারীখে তাবারী ৩: ২৪৫ এবং অন্যান্য গ্রন্থ।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١١)
- كان معلومًا أن أبينَ البيان بيانُه، وأفضلَ الكلام كلامه، وأن قدرَ فضْل بيانه، جلّ ذكره، على بيان جميع خلقه، كفضله على جميع عباده.

فإذْ كان كذلك -وكان غيرَ مبين منّا عن نفسه مَنْ خاطبَ غيره بما لا يفهمه عنه المخاطب- كان معلومًا أنه غير جائز أن يخاطبَ جل ذكره أحدٌا من خلقه إلا بما يفهمه المخاطَبُ، ولا يرسلَ إلى أحد منهم رسولا برسالة إلا بلسانٍ وبيانٍ يفهمه المرسَلُ إليه. لأن المخاطب والمرسَلَ إليه، إن لم يفهم ما خوطب به وأرسل به إليه، فحالهُ -قبل الخطاب وقبل مجيء الرسالة إليه وبعدَه- سواءٌ، إذ لم يفدْه الخطابُ والرسالةُ شيئًا كان به قبل ذلك جاهلا. والله جل ذكره يتعالى عن أن يخاطب خطابًا أو يرسل رسالةً لا توجب فائدة لمن خُوطب أو أرسلت إليه، لأن ذلك فينا من فعل أهل النقص والعبث، والله تعالى عن ذلك مُتَعالٍ. ولذلك قال جل ثناؤه في محكم تنزيله: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ} [سورة إبراهيم: 4] . وقال لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم: {وَمَا أَنزلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [سورة النحل: 64] . فغير جائز أن يكونَ به مهتديًا، منْ كانَ بما يُهْدَى إليه جاهلا.

فقد تبين إذًا -بما عليه دللنا من الدِّلالة- أن كلّ رسول لله جل ثناؤه أرسله إلى قوم، فإنما أرسله بلسان من أرسله إليه، وكلّ كتاب أنزله على نبي، ورسالة أرسلها إلى أمة، فإنما أنزله بلسان من أنزله أو أرسله إليه. فاتضح بما قلنا ووصفنا، أن كتاب الله الذي أنزله إلى نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، بلسان محمد صلى الله عليه وسلم. وإذْ كان لسان محمد صلى الله عليه وسلم عربيًّا، فبيِّنٌ أن القرآن عربيٌّ. وبذلك أيضًا نطق محكم تنزيل ربنا، فقال جل ذكره: {إِنَّا أَنزلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} [سورة يوسف: 2] . وقال: {وَإِنَّهُ
এটি সুনিশ্চিতভাবে জ্ঞাত যে, আল্লাহ তাআলার বর্ণনা সর্বাধিক স্পষ্ট এবং তাঁর বাণী সর্বোত্তম। সমগ্র সৃষ্টির বর্ণনার ওপর তাঁর বর্ণনার শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা ঠিক তেমনই, যেমন তাঁর সমস্ত বান্দার ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা।

যেহেতু বিষয়টি এমনই—এবং আমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই তার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে অক্ষম যে অন্যকে এমন ভাষায় সম্বোধন করে যা সম্বোধিত ব্যক্তি বুঝতে পারে না—সেহেতু এটি সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির কাউকে এমন কোনো ভাষায় সম্বোধন করা সমীচীন নয় যা সম্বোধিত ব্যক্তি বুঝতে সক্ষম নয়। আর তিনি তাদের কারও কাছে এমন কোনো রাসূলও প্রেরণ করেন না যার বার্তা ও ভাষা প্রেরিত জনপদ বা ব্যক্তি বুঝতে পারে না। কারণ, যাকে সম্বোধন করা হয়েছে বা যার নিকট রাসূল পাঠানো হয়েছে, সে যদি সেই সম্বোধন বা বার্তার মর্মই বুঝতে না পারে, তবে তার অবস্থা—সম্বোধনের পূর্বে এবং বার্তার আগমনের পূর্বে ও পরে—একই সমান থাকে। কেননা, এই সম্বোধন বা বার্তা তাকে এমন কোনো বিষয়ে জ্ঞান দান করল না যা সম্পর্কে সে ইতিপূর্বে অজ্ঞ ছিল। আর আল্লাহ তাআলা এমন নিরর্থক সম্বোধন করা বা বার্তা পাঠানো থেকে বহু ঊর্ধ্বে যা সম্বোধিত বা প্রাপকের কোনো উপকারে আসে না। কারণ, আমাদের মধ্যে এ জাতীয় কাজ ত্রুটিযুক্ত ও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়, অথচ আল্লাহ তাআলা এ ধরনের অপূর্ণতা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। আর এ কারণেই তিনি তাঁর সুদৃঢ় ও অকাট্য বাণীতে এরশাদ করেছেন: "আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে তিনি তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন" [সূরা ইবরাহীম: ৪]। তিনি তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লক্ষ্য করে আরও এরশাদ করেছেন: "আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তাদের নিকট সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দেন যেগুলোতে তারা মতভেদ করছে, আর এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত স্বরূপ" [সূরা আন-নাহল: ৬৪]। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যার মাধ্যমে পথনির্দেশ লাভ করবে, সেই বিষয়টি সম্পর্কে যদি সে অজ্ঞ থাকে, তবে তার পক্ষে হিদায়াতপ্রাপ্ত হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

অতএব, আমরা যে প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছি তা দ্বারা এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা যে রাসূলকেই কোনো সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছেন, তাকে তাদের ভাষাতেই পাঠিয়েছেন। আর যে কিতাবই কোনো নবীর ওপর নাযিল করেছেন এবং যে বার্তাই কোনো উম্মতের নিকট পাঠিয়েছেন, তা তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ বা প্রেরণ করেছেন। সুতরাং আমাদের আলোচনা ও বর্ণনা দ্বারা এটি সুনিশ্চিত হলো যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর যে কিতাব আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করেছেন, তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষাতেই নাযিল হয়েছে। আর যেহেতু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষা ছিল আরবি, তাই এটি সুষ্পষ্ট যে কুরআনও আরবি ভাষায়। আমাদের রবের সুদৃঢ় ও অকাট্য বাণীও এ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছে; তিনি এরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যেন তোমরা বুঝতে পারো" [সূরা ইউসুফ: ২]। তিনি আরও এরশাদ করেছেন: "আর নিশ্চয়ই এটি...
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٢)
لَتَنزيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ * نزلَ بِهِ الرُّوحُ الأمِينُ * عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ * بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [سورة الشعراء: 192-195] .

وإذْ كانت واضحةً صحةُ ما قلنا -بما عليه استشهدنا من الشواهد، ودللنا عليه من الدلائل- فالواجبُ أن تكون معاني كتاب الله المنزل على نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، لمعاني كلام العرب موافقةً، وظاهرُه لظاهر كلامها ملائمًا، وإن باينه كتابُ الله بالفضيلة التي فضَلَ بها سائرَ الكلام والبيان، بما قد تقدّم وَصْفُنَاهُ.

فإذْ كان ذلك كذلك، فبيِّن -إذْ كان موجودًا في كلام العرب الإيجازُ والاختصارُ، والاجتزاءُ بالإخفاء من الإظهار، وبالقلة من الإكثار في بعض الأحوال، واستعمالُ الإطالة والإكثار، والترداد والتكرار، وإظهارُ المعاني بالأسماء دون الكناية عنها، والإسرار في بعض الأوقات، والخبرُ عن الخاصّ في المراد بالعامّ الظاهر، وعن العامّ في المراد بالخاصّ الظاهر، وعن الكناية والمرادُ منه المصرَّح، وعن الصفة والمرادُ الموصوف، وعن الموصوف والمرادُ الصفة، وتقديمُ ما هو في المعنى مؤخر، وتأخيرُ ما هو في المعنى مقدّم، والاكتفاءُ ببعض من بعض، وبما يظهر عما يحذف، وإظهارُ ما حظه الحذف- (1) أن يكون ما في كتاب الله المنزل على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم من ذلك، في كلّ ذلك له نظيرًا، وله مِثْلا وشبيهًا.

ونحن مُبَيِّنو جميع ذلك في أماكنه، إن شاء الله ذلك وأمدّ منه بعونٍ وقوّة.
(1) قوله: "أن يكون.." مبتدأ قوله "فبين"، وما بينهما اعتراض طويل؛ وهذا دأب الطبري أبدًا، حتى كأنه لم يكن يخشى على قارئ أن يسوء فهمه أو تكل فطنته.
"নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল) তা নিয়ে অবতরণ করেছেন। আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।" [সূরা আশ-শুআরা: ১৯২-১৯৫] ।

যেহেতু আমরা যে সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নিদর্শন উপস্থাপন করেছি তার মাধ্যমে আমাদের বক্তব্যের যথার্থতা সুস্পষ্ট হয়েছে, তাই এটি অপরিহার্য যে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাবের অর্থসমূহ আরবদের বাকরীতির অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ হবে এবং এর বাহ্যিক শৈলী তাদের ভাষাশৈলীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে; যদিও আল্লাহর কিতাব সেই অনন্য শ্রেষ্ঠত্বের গুণে অন্যান্য সকল বক্তব্য ও অলঙ্কার থেকে পৃথক ও স্বতন্ত্র, যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।

বস্তুত বিষয়টি যখন এরূপই, তখন এটি সুস্পষ্ট যে—যেহেতু আরবদের ভাষারীতিতে সংক্ষেপণ ও সংক্ষিপ্তকরণ, প্রকাশের পরিবর্তে উহ্য রাখার মাধ্যমে উদ্দেশ্য সাধন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আধিক্যের বিপরীতে স্বল্পতার ব্যবহার বিদ্যমান; আবার দীর্ঘায়ন ও প্রসারণ, পুনরাবৃত্তি ও পুনঃকথন, রূপকের আশ্রয় না নিয়ে বিশেষ্য পদের মাধ্যমে অর্থের সোজাসুজি প্রকাশ এবং কোনো কোনো সময় তা গোপন রাখা; শব্দের বাহ্যিক ব্যাপকতা দ্বারা বিশেষ উদ্দেশ্য এবং বাহ্যিক বিশেষত্ব দ্বারা ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করা; পরোক্ষ সংকেত বা রূপকের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ প্রকাশ করা; গুণের উল্লেখে গুণী এবং গুণীর উল্লেখে গুণকে উদ্দেশ্য করা; অর্থের বিচারে যা পরে আসার কথা তা আগে আনা এবং যা আগে আসার কথা তা পরে স্থাপন করা; আংশিক উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গের উদ্দেশ্য সাধন করা, যা প্রকাশিত তার মাধ্যমে উহ্য বিষয়ের অভাব পূরণ করা এবং যা উহ্য থাকার কথা তাকে প্রকাশ করা বিদ্যমান—সেহেতু মহান আল্লাহর কিতাব যা তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, তার মধ্যেও এই সকল বিষয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুরূপ দৃষ্টান্ত, সদৃশ রূপ ও উপমা বিদ্যমান থাকা আবশ্যক।

আর আমরা ইনশাআল্লাহ এই সকল বিষয় সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব, যদি আল্লাহ তা চান এবং তাঁর পক্ষ থেকে সাহায্য ও শক্তি দান করেন।
(১) লেখকের উক্তি "হওয়া যে..." (أن يكون) হলো "সুস্পষ্ট যে" (فبين) বাক্যাংশের উদ্দেশ্য (Mubtada), আর এই দুইয়ের মধ্যবর্তী অংশটুকু একটি দীর্ঘ অন্তর্বর্তীকালীন বাক্য (اعتراض); এটি ইমাম তাবারির চিরন্তন লিখনশৈলী, যেন তিনি কখনোই এই আশঙ্কা করতেন না যে পাঠক ভুল বুঝবে অথবা তার প্রজ্ঞা ও মেধা ক্লান্ত হয়ে পড়বে।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌القول في البَيَان عن الأحرف التي اتفقت فيها ألفاظ العرب

وألفاظ غيرها من بعض أجناس الأمم

قال أبو جعفر: إن سألنا سائل فقال: إنك ذكرت أنه غيرُ جائز أن يخاطب الله تعالى ذكرهُ أحدًا من خلقه إلا بما يفهمه، وأن يرسل إليه رسالة إلا باللسان الذي يفقهه..

1- فما أنت قائل فيما حدثكم به محمد بُن حُميد الرازي، قال: حدثنا حَكّام بن سَلْم، قال: حدثنا عبْسة، عن أبي إسحاق، عن أبي الأحوص عن أبي موسى: {يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ} [سورة الحديد: 28] ، قال: الكفلان: ضعفان من الأجر، بلسان الحبشة (1) .

2- وفيما حدثكم به ابن حُمَيْد، قال: حدثنا حكام، عن عَنبسة، عن أبي إسحاق، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس: {إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ} [سورة المزمل: 6] قال: بلسان الحبشة إذا قامَ الرجلُ من الليل قالوا: نَشأ (2) .

3- وفيما حدّثكم به ابن حميد قال: حدّثنا حكام، قال: حدثنا عنبسة، عن أبي إسحاق، عن أبي ميسرة: {يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ} قال: سبِّحي، بلسان الحبشة (3) ؟

قال أبو جعفر: وكل ما قلنا في هذا الكتاب "حدّثكم" فقد حدثونا به.
(1) الخبر 1- يأتي بهذا الإسناد في تفسير سورة الحديد: 28 وفي إسناده هناك خطأ.

(2) الخبر 2- يأتي بإسناده في تفسير سورة المزمل: 6

(3) الخبر 3- يأتي بإسناده في تفسير سورة سبأ: 10
আরবদের ভাষা এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর কিছু ভাষার মধ্যে যেসব শব্দে মিল রয়েছে তার বর্ণনা বিষয়ক আলোচনা

আবু জাফর (তাবারী) বলেন: যদি কোনো প্রশ্নকারী আমাদের প্রশ্ন করেন এবং বলেন: আপনি তো উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির কাউকেও এমন কিছু দিয়ে সম্বোধন করা বৈধ নয় যা সে বুঝতে পারে না, এবং তাকে এমন ভাষা ব্যতীত কোনো বার্তা প্রেরণ করাও বৈধ নয় যা সে অনুধাবন করতে পারে না...

১- তবে মুহাম্মদ বিন হুমায়দ আর-রাজি আমাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন সে সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী? তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাক্কাম বিন সালম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আনবাসা বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে এবং তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন: {তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমতের দ্বিগুণ অংশ দান করবেন} [সূরা আল-হাদীদ: ২৮], তিনি বলেন: 'কিফলাইন' হলো প্রতিদানের দ্বিগুণ অংশ, এটি হাবশি (আবিসিনিয়ান) ভাষার শব্দ।

২- এবং ইবনে হুমায়দ আপনাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাক্কাম বর্ণনা করেছেন আনবাসা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন: {নিশ্চয়ই রাতে ইবাদতের জন্য জেগে ওঠা} [সূরা আল-মুয্যাম্মিল: ৬] তিনি বলেন: এটি হাবশি ভাষার শব্দ; যখন কোনো ব্যক্তি রাতে শয্যা ত্যাগ করে দাঁড়াত, তখন তারা বলত: 'নাশাআ'।

৩- এবং ইবনে হুমায়দ আপনাদের কাছে যা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাক্কাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আনবাসা বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি আবু মায়সারা থেকে বর্ণনা করেন: {হে পাহাড়সমূহ! তোমরা তার সঙ্গে পুনরাবৃত্তি (তাসবীহ) করো} তিনি বলেন: হাবশি ভাষায় এর অর্থ হলো তাসবীহ পাঠ করো।

আবু জাফর বলেন: এই গ্রন্থে আমরা যেখানেই "আপনাদের কাছে বর্ণনা করেছেন" বলেছি, তার অর্থ হলো তারা আমাদের কাছে তা বর্ণনা করেছেন।
(১) বর্ণনা ১- এই সনদেই সূরা আল-হাদীদ: ২৮-এর তাফসিরে আসবে, তবে সেখানে সনদে একটি ভুল রয়েছে।

(২) বর্ণনা ২- এটি তার সনদসহ সূরা আল-মুয্যাম্মিল: ৬-এর তাফসিরে আসবে।

(৩) বর্ণনা ৩- এটি তার সনদসহ সূরা সাবা: ১০-এর তাফসিরে আসবে।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٤)
4- وفيما حدّثكم به محمد بن خالد بن خِداش الأزديّ، قال: حدثنا سلم ابن قتيبة، قال: حدثنا حماد بن سلمة عن علي بن زيد، عن يوسف بن مهران، عن ابن عباس رضي الله عنهما أنه سأل عن قوله: {فَرَّتْ مِنْ قَسْوَرَةٍ} [سورة المدثر: 51] قال: هو بالعربية الأسد، وبالفارسية شار، وبالنبطية أريا، وبالحبشية قسورة (1) .

5- وفيما حدثكم به ابن حميد قال: حدّثنا يعقوب القمّى، عن جعفر بن أبي المغيرة، عن سعيد بن جُبَير قال: قالت قريش: لولا أنزل هذا القرآن أعجميٌّا وعربيًّا؟ فأنزل الله تعالى ذكره: {لَقَالُوا لَوْلا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ} [سورة فصلت: 44] فأنزل الله بعد هذه الآية في القرآن بكل لسان فيه. {حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ} [سورة هود: 82، وسورة الحجر: 74] قال: فارسية أعربت "سنك وكل (2) .

6- وفيما حدثكم به محمد بن بشار، قال: حدثنا عبد الرحمن بن مهديّ، قال: حدثنا إسرائيل، عن أبي إسحاق، عن أبي ميسرة، قال: في القرآن من كل لسان (3) .

وفيما أشبه ذلك من الأخبار التي يطولُ بذكرها الكتاب، مما يدل على أن فيه من غير لسان العرب؟

قيل له: إنّ الذي قالوه من ذلك غير خارج من معنى ما قلنا -من أجل أنهم لم يقولوا: هذه الأحرف وما أشبهها لم تكن للعرب كلامًا، ولا كان ذاك
(1) الخبر 4- يأتي بإسناده في تفسير سورة المدثر: 51

(2) الخبر 5- يأتي بإسناده في تفسير سورة فصلت: 44. ونص الخبر هناك: "فأنزل الله بعد هذه الآية كل لسان فيه.." وهي أجود. وفي الدر المنثور 5: 367: "وأنزل الله تعالى بعد هذه الآية فيه بكل لسان. حجارة..". ثم يأتي بإسناده مختصرًا في تفسير سورة هود: 82. وانظر سائر ما روى في "سجيل" في تفسير سورة الفيل: 4. وقوله "حجارة من سجيل".. كلام مستأنف، ضربه مثلا لما جاء في القرآن من الألسنة الأخرى.

(3) الخبر 6- لم أجده في مكان آخر بعد. وهو في الدر المنثور 5: 367 وفيه: "بكل لسان".
৪- এবং মুহাম্মদ ইবন খালিদ ইবন খিদাশ আল-আজদি যা আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাল্লাম ইবন কুতাইবা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবন সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আলি ইবন যায়িদ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবন মিহরান থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন: {তারা যেন পলায়নরত সিংহ হতে ভীত হয়ে পলায়নপর বন্য গাধা} [সূরা আল-মুদ্দাসসির: ৫১]। তিনি বললেন: এটি আরবি ভাষায় 'আল-আসাদ' (সিংহ), ফারসি ভাষায় 'শার', নবতীয় ভাষায় 'আরইয়া' এবং হাবশি ভাষায় 'কাসওয়ারা'।

৫- এবং ইবন হুমাইদ যা আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াকুব আল-কুম্মি বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবন আবিল মুগিরাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুরাইশরা বলেছিল: এই কুরআন কেন অনারবি ও আরবি (উভয় ভাষায়) নাযিল হলো না? তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {তারা কি বলে যে, কেন এর আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়নি? কিতাবটি কি অনারবি অথচ এর বাহক তো আরবি? আপনি বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও শিফা} [সূরা ফুসসিলাত: ৪৪]। অতঃপর আল্লাহ এই আয়াতের পর কুরআনে সব ভাষার শব্দই নাযিল করেছেন। যেমন: {পাথুরে কাদা} [সূরা হুদ: ৮২, এবং সূরা আল-হিজর: ৭৪]। তিনি (সাঈদ) বলেন: এটি ফারসি শব্দ যা আরবিকরণ করা হয়েছে, যার মূল হলো ‘সাঙ্ক ওয়া গিল’।

৬- এবং মুহাম্মদ ইবন বাশশার যা আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবন মাহদি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু মাইসারা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুরআনে প্রতিটি ভাষার শব্দ বিদ্যমান রয়েছে।

এবং এ জাতীয় আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে যা উল্লেখ করলে গ্রন্থটি দীর্ঘ হয়ে যাবে, যা কি প্রমাণ করে যে কুরআনে আরবি ভাষা ছাড়া অন্য ভাষার শব্দ রয়েছে?

তাকে উত্তরে বলা হবে: তারা এ বিষয়ে যা বলেছেন তা আমাদের বক্তব্যের মূল মর্মের বাইরে কিছু নয় - কারণ তারা এ কথা বলেননি যে, এই শব্দগুলো এবং এ জাতীয় অন্যান্য শব্দগুলো আরবদের ভাষার অন্তর্ভুক্ত ছিল না, কিংবা এটি এমন ছিল না যে—
(১) বর্ণনা ৪- এটি সূরা আল-মুদ্দাসসির: ৫১ এর তাফসিরে এর সনদসহ আসবে।

(২) বর্ণনা ৫- এটি সূরা ফুসসিলাত: ৪৪ এর তাফসিরে সনদসহ আসবে। সেখানে বর্ণনার পাঠ হলো: "অতঃপর আল্লাহ এই আয়াতের পর এতে প্রতিটি ভাষা অবতীর্ণ করেছেন..." এবং এটিই অধিকতর সঠিক। আদ-দুররুল মানসুর ৫: ৩৬৭ গ্রন্থে রয়েছে: "এবং আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের পর এতে প্রতিটি ভাষায়... পাথর... অবতীর্ণ করেছেন"। এরপর এটি সূরা হুদ: ৮২ এর তাফসিরে সংক্ষেপে সনদসহ আসবে। আর "সিজ্জিল" সম্পর্কে অন্যান্য যা বর্ণিত হয়েছে তার জন্য সূরা আল-ফিল: ৪ এর তাফসির দেখুন। আর তার বক্তব্য "পাথুরে কাদা"... এটি একটি নতুন বাক্য, যা কুরআনে অন্যান্য ভাষার শব্দের উপস্থিতির উদাহরণ হিসেবে তিনি পেশ করেছেন।

(৩) বর্ণনা ৬- আমি এটি এখনো অন্য কোথাও খুঁজে পাইনি। তবে এটি আদ-দুররুল মানসুর ৫: ৩৬৭ গ্রন্থে রয়েছে এবং সেখানে "প্রতিটি ভাষায়" শব্দাংশটি আছে।
(খণ্ড: ١) তাফসীরুত তবারী জামিউল বায়ান - ত দারুত তারবিয়াহ ওয়াত তুরাস (পৃষ্ঠা: ١٥)
لها منطقًا قبل نزول القرآن، ولا كانت بها العرب عارفةً قبل مجيء الفرقان- فيكون ذلك قولا لقولنا خِلافًا (1) . وإنما قال بعضهم: حرف كذا بلسان الحبشة معناهُ كذا، وحرفُ كذا بلسان العجم معناه كذا. ولم نستنكر أن يكون من الكلام ما يتفق فيه ألفاظ جميع أجناس الأمم المختلفة الألسن بمعنى واحد، فكيف بجنسين منها؟ كما وجدنا اتفاق كثير منه فيما قد علمناه من الألسن المختلفة، وذلك كالدرهم والدينار والدواة والقلم والقرْطاس، وغير ذلك -مما يتعب إحصاؤه وُيمِلّ تعداده، كرهنا إطالة الكتاب بذكره- مما اتفقت فيه الفارسية والعربية باللفظ والمعنى. ولعلّ ذلك كذلك في سائر الألسن التي نجهل منطقها ولا نعرف كلامها.

فلو أن قائلا قال -فيما ذكرنا من الأشياء التي عددْنا وأخبِرْنا اتفاقَه في اللفظ والمعنى بالفارسية والعربية، وما أشبهَ ذلك مما سكتنا عن ذكره-: ذلك كله فارسي لا عربي، أو ذلك كله عربي لا فارسي، أو قال: بعضه عربي وبعضه فارسي، أو قال: كان مخرج أصله من عند العرب فوقع إلى العجم فنطقوا به، أو قال: كان مخرج أصله من عند الفرس فوقع إلى العرب فأعربته - كان مستجهَلا (2) لأن العربَ ليست بأولى أن تكون كان مخرجُ أصل ذلك منها إلى العجم، ولا العجم أحقَّ أن تكون كان مخرج أصل ذلك منها إلى العرب، إذ كان استعمال ذلك بلفظ واحد ومعنى واحد موجودًا في الجنسين.

وإذْ كان ذلك موجودًا على ما وصفنا في الجنسين، فليس أحدُ الجنسين أولى بأن يكون أصلُ ذلك كان من عنده من الجنس الآخر. والمدّعي أن مخرج صل ذلك إنما كان من أحد الجنسين إلى الآخر، مدّعٍ أمرًا لا يوصَل إلى حقيقة صحّته إلا بخبر يوجب العلم، ويزيل الشكّ، ويقطع العذرَ صحتُه.
(1) خلاف: مخالف، وسيكثر مجيئها في كلام الطبري.

(2) قوله: "كان مستجهلا"، جواب قوله: "لو أن قائلا قال..". والفصل في عبارة الطبري يكون أطول من هذا، كما سيمر بك. واستجهل فلانًا: عده جاهلا، أو وجده جاهلا. والجهل هنا: فساد الرأي واضطرابه، لأنه مبني على التحكم المحض، كما ترى في رد الطبري.
কুরআন নাজিলের পূর্বে এর কোনো ভাষা ছিল না এবং ফুরকান (কুরআন) আসার আগে আরবরা সে সম্পর্কে অবগত ছিল না—তবে তা হবে আমাদের বক্তব্যের বিপরীত (১)। প্রকৃতপক্ষে তাদের কেউ কেউ বলেছেন: অমুক শব্দ হাবশি ভাষায় এই অর্থ প্রকাশ করে, আর অমুক শব্দ অনারব ভাষায় এই অর্থ প্রকাশ করে। আর আমরা এই সম্ভাবনাকে অস্বীকার করি না যে, বিভিন্ন ভাষাভাষী সকল জাতির ভাষার শব্দসমূহ কোনো একটি অভিন্ন অর্থের ক্ষেত্রে এক হয়ে যাবে; এমতাবস্থায় মাত্র দুটি জাতির ভাষার মধ্যে এমন মিল থাকা তো আরও স্বাভাবিক। যেমনটি আমরা বিভিন্ন ভাষার ক্ষেত্রে অনেক শব্দের মিল খুঁজে পেয়েছি যা আমরা জানি; যেমন—দিরহাম, দিনার, দোয়াত, কলম, কাগজ এবং আরও অনেক শব্দ, যার সংখ্যা নিরূপণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ক্লান্তিকর বিধায় কিতাব দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমরা তা উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি—যা ফারসি ও আরবি উভয় ভাষায় শব্দ ও অর্থের দিক থেকে অভিন্ন। সম্ভবত অন্যান্য ভাষার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই হতে পারে, যাদের ভাষা সম্পর্কে আমরা অজ্ঞ এবং যাদের কথা আমরা বুঝি না।

সুতরাং আমরা যেসব জিনিসের কথা উল্লেখ করেছি এবং ফারসি ও আরবি ভাষায় যাদের শব্দ ও অর্থের অভিন্নতার কথা বর্ণনা করেছি, কিংবা অনুরূপ যেসব শব্দ উল্লেখ করা থেকে আমরা নীরব থেকেছি, সে সম্পর্কে যদি কেউ বলে যে: ‘এসবই ফারসি, আরবি নয়’, অথবা ‘এসবই আরবি, ফারসি নয়’, কিংবা বলে: ‘এর কিছু অংশ আরবি এবং কিছু অংশ ফারসি’, অথবা বলে: ‘এর মূল উৎস ছিল আরবদের কাছে, অতঃপর তা অনারবদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা তা উচ্চারণ করেছে’, কিংবা বলে: ‘এর মূল উৎস ছিল পারসিকদের কাছে, অতঃপর তা আরবদের কাছে পৌঁছেছে এবং আরবরা একে আরবি রূপ দান করেছে’—তবে এমন বক্তাকে অজ্ঞ সাব্যস্ত করা হবে (২)। কারণ, এই মূল উৎসটি আরবদের থেকে অনারবদের কাছে গিয়েছে বলে দাবি করার জন্য আরবরা যেমন বিশেষ কোনো অগ্রাধিকার রাখে না, তেমনি অনারবদের থেকে তা আরবদের কাছে এসেছে বলে দাবি করার অধিকারও অনারবদের নেই; যেহেতু উভয় জাতির মধ্যেই একই শব্দ ও একই অর্থে এর ব্যবহার বিদ্যমান।

আর যেহেতু আমরা যেমনটি বর্ণনা করেছি, বিষয়টি উভয় জাতির মধ্যেই বিদ্যমান, তাই কোনো একটি জাতিকে অন্যটির তুলনায় এর মূল উৎস হওয়ার অধিকতর যোগ্য মনে করার সুযোগ নেই। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে, এর মূল উৎস মূলত এক জাতি থেকে অন্য জাতির কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে, সে এমন একটি বিষয়ের দাবিদার যার সত্যতার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব নয় কেবল এমন কোনো অকাট্য বর্ণনার (খবর) মাধ্যম ব্যতীত যা সুনিশ্চিত জ্ঞান দান করে, সকল সন্দেহ দূর করে এবং যার বিশুদ্ধতা সব ধরনের সংশয় নিরসন করে দেয়।
(১) খিলাফ: অর্থ বিরোধী বা বিপরীত। ইমাম তাবারির বক্তব্যে এর ব্যবহার প্রচুর দেখা যাবে।

(২) তাঁর উক্তি: "তাকে অজ্ঞ সাব্যস্ত করা হবে", এটি তাঁর পূর্ববর্তী বাক্য "যদি কোনো বক্তা বলে..." এর উত্তর (জাওয়াব)। ইমাম তাবারির বাচনভঙ্গিতে বাক্যের মধ্যবর্তী ব্যবধান এর চেয়েও দীর্ঘ হয়ে থাকে, যা সামনে আপনার গোচরীভূত হবে। আর কাউকে 'ইস্তাজহালা' করার অর্থ হলো তাকে অজ্ঞ গণ্য করা বা তাকে অজ্ঞ হিসেবে পাওয়া। এখানে 'জাহল' বা অজ্ঞতা বলতে মতামতের অসারতা ও অস্থিরতা বোঝানো হয়েছে, কারণ এটি নিছক মনগড়া ও ভিত্তিহীন মতামতের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেমনটি আপনি ইমাম তাবারির খণ্ডনমূলক বক্তব্যে দেখতে পাচ্ছেন।